Saturday, May 31, 2025
হারেৎজ পত্রিকার বিশ্লেষণ: নাটকীয় যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে ঘিরে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন by আমির তিবোন
শেষ পর্যন্ত সকাল নাগাদ প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতি মেনে নেওয়ার ঘোষণা দেন। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই ইরান থেকে ছোড়া দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের উত্তরের বাসিন্দাদের আবারও বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠাতে বাধ্য করে। এর জবাবে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেন, আইডিএফ (ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী) জোরালো প্রতিশোধ নেবে এবং তেহরানের কেন্দ্রে শাসকগোষ্ঠীর টার্গেটগুলোর ওপর শক্তিশালী হামলার প্রতিশ্রুতি দেন।
অতএব, এই যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ এবং ইসরাইল, ইরান ও আঞ্চলিক অন্যান্য শক্তিগুলোর ওপর এর প্রভাব নিয়ে এখনো অনেক অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। এখানে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরা হলো, যেগুলো আগামী দিনের বাস্তবতা নির্ধারণে মুখ্য ভূমিকা রাখবে।
১. যুদ্ধবিরতির নির্ভুল শর্তগুলো কী?
আগে আন্তর্জাতিক আলোচনা মানে ছিল অভিজ্ঞ কূটনীতিক ও আইনজীবী প্রণীত দলিল। সেই যুগ শেষ। যেমন ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির চুক্তি সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্পই ঘোষণা দেন। এখানেও তাই হয়েছে। ট্রাম্পের বর্ণনা ছিল সরল— উভয় পক্ষ গুলি ছোড়া বন্ধ করবে, যুদ্ধ শেষ। তবে আমরা জানি, তিনি এই পোস্ট দেওয়ার আগে ওয়াশিংটন ও জেরুজালেমের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা চলেছে। পাশাপাশি, কাতার সরকার হোয়াইট হাউস ও তেহরানের মধ্যস্থতা করেছে। এই আলোচনার প্রকৃত বিষয়বস্তু এখনো গোপন। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে? কাতার ইরানকে কী দিয়েছে? কোনো পক্ষ কি ভবিষ্যতে নিজেদের আচরণ সীমিত করতে সম্মত হয়েছে? যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ হলে প্রতিশোধের কোনো সীমা নির্ধারণ হয়েছে? ইরান কি তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো ছাড় দিয়েছে? এসব প্রশ্ন এখনো অন্ধকারে রয়ে গেছে। ট্রাম্প বলেছেন, এই যুদ্ধবিরতি চিরদিন চলবে এবং ইসরাইল-ইরান আর কখনো যুদ্ধ করবে না। কিন্তু শর্তাবলী না জেনে তার এই দাবি সন্দেহজনকই বলা চলে।
২. ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর ক্ষতি কতটা?
ইসরাইল যুদ্ধ শুরু করে মূলত এক লক্ষ্য নিয়ে— ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি রুখে দেওয়া। এই উদ্দেশ্যেই ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রথম আঘাত, এরপর পারমাণবিক স্থাপনায় নিখুঁত হামলা এবং পরে ট্রাম্পের নির্দেশে ফরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রগুলোতে বোমাবর্ষণ করা হয়। তবে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি যে এসব স্থাপনার কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং সেগুলো পুনর্গঠনে ইরানের কত সময় লাগবে। ইরান দাবি করেছে, ফরদোর স্থাপনায় কেবল সামান্য ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ধ্বংস হয়েছে। এই দুই দাবি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তাই সাবধানতা অবলম্বন করাই ভালো। পারমাণবিক পর্যবেক্ষক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতি হয়েছে বটে, কিন্তু সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। যদি কোনো উপাদান রক্ষা পেয়ে থাকে এবং ইরান তা ব্যবহার করে পারমাণবিক কর্মসূচি এগিয়ে নেয়, তবে শান্তির সময়সীমা হয়তো খুবই অল্প হবে।
৩. ইরানের ৬০ ভাগ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোথায়?
এই প্রশ্নটি আগের প্রশ্নের সরাসরি ধারাবাহিকতা। ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণের আগেই কিছু ইউরেনিয়াম সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে উভয় পক্ষ এবং ইরানই দাবি করেছে। কিন্তু কতটা সরানো হয়েছে এবং তা কোথায় রাখা হয়েছে — সেটি এখনো অজানা। ইরান রক্ষা পাওয়া ইউরেনিয়ামকে বিজয়ের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের জন্য এটি একটি কৌশলগত বিপদ। কারণ, যদি স্বীকার করতে হয় যে ইউরেনিয়াম ধ্বংস হয়নি, তাহলে তাদের বিজয় ঘোষণার ভিত্তিই ভেঙে পড়বে। ইসরাইল ইরানের ভেতরে গোয়েন্দা অভিযান চালিয়ে এসব তথ্য জানার চেষ্টা করবে— এমনকি ইউরেনিয়াম জব্দ বা ধ্বংসও করতে পারে। এতে আবার যুদ্ধ শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
৪. যুদ্ধবিরতিতে ইয়েমেনের হুতিরাও কি অন্তর্ভুক্ত?
১২ দিনের ইসরাইল-ইরান যুদ্ধে হুতিরা বেশিরভাগ সময় নিষ্ক্রিয় ছিল। তাদের ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন ব্যবহার করতে হয়নি, কারণ ইরানই পুরো ইসরাইলের ঘুম হারাম করে দিয়েছিল। তবে এখন যুদ্ধ শেষ হলেও গাজার যুদ্ধ চলছেই। তাই প্রশ্ন উঠেছে— ইয়েমেন থেকে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র আসবে কি না। হুতিরা, যদিও ইসরাইলের সবচেয়ে দুর্বল শত্রু, গত ২০ মাসে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষতি করেছে। এলাত বন্দর বন্ধ করে দিয়েছে, বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার পর অনেক বিদেশি বিমান সংস্থা সরে গেছে। তাই হুতিরা এই যুদ্ধবিরতির অংশ কি না— এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতির কথা মাথায় রেখে।
৫. গাজার যুদ্ধের ওপর কী প্রভাব পড়বে?
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সম্ভবত এটি। ইরান ফ্রন্ট সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও, এখন ইসরাইল পুরোপুরি গাজার দিকে মনোযোগ দেবে, যেখানে হামাস এখনো ৫০ জন জিম্মি ধরে রেখেছে— যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জন জীবিত বলে ধারণা। ট্রাম্প কি নেতানিয়াহুর কাছ থেকে গাজায় যুদ্ধ শেষ করার প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন ইরান হামলার অনুমতির বিনিময়ে? ইসরাইল কি অবশেষে তাদের ইতিহাসের দীর্ঘতম যুদ্ধ শেষ করতে রাজি হবে?
একটি তত্ত্ব হলো— ইরানের দুর্বলতা দেখে হামাস আরও নমনীয় হবে। কিন্তু জিম্মিদের পরিবারের মধ্যে এক ভয় আছে— তারা আশঙ্কা করছে, আমেরিকা-ইসরাইল মিলে যেভাবে ইরানকে ফাঁকি দিয়েছে, তা দেখে হামাস আরও অবিশ্বাসী হয়ে পড়বে।
মিলিয়ন মিলিয়ন মানুষের জীবন এখন অনিশ্চয়তার মাঝে ঝুলে আছে।
(অনলাইন হারেৎজ থেকে অনুবাদ)

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলকে ঠেকাতে ছেলেকে পাঠিয়ে ইরানকে সতর্ক করল সৌদি বাদশা!
এ বার্তা তার ছোট ছেলে ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমানের মাধ্যমে সরাসরি তেহরানে পৌঁছে দেওয়া হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত ১৭ এপ্রিল তেহরানে ইরানের প্রেসিডেন্ট ভবনে এক গোপন বৈঠকে এ বার্তা পৌঁছে দেন প্রিন্স খালিদ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গুরুত্বপূর্ণ এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, সেনাপ্রধান মোহাম্মদ হোসেইন বাঘেরি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি।
সৌদি ও ইরানি সূত্র জানায়, বাদশা সালমান উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত পরমাণু চুক্তিকে গুরুত্ব না দেয়, তবে দেশটি ইসরায়েলি সামরিক হামলার মুখে পড়তে পারে। গোপন এ বার্তায় সৌদি বাদশা আরও ইঙ্গিত দেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ধৈর্য সীমিত এবং তিনি দ্রুত চুক্তিতে পৌঁছাতে চান।
সূত্রগুলো জানায়, খালিদ বিন সালমান ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে বলেন, যদি কূটনৈতিক আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে যায়, তবে ইসরায়েল তেহরানের পরমাণু স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজা ও লেবাননে ইসরায়েলের লাগাতার হামলায় ইরানের মিত্র হামাস ও হিজবুল্লাহ দুর্বল হয়ে পড়েছে। সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমে যাওয়া এবং পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে আঞ্চলিকভাবে ইরানের অবস্থানও তুলনামূলকভাবে দুর্বল। এই প্রেক্ষাপটে সৌদি আরব তাদের কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে।
কার্নেগি মিডল ইস্ট সেন্টার-এর ইরান বিষয়ক বিশ্লেষক মোহনাদ হেজ আলি বলেন, তেহরানের দুর্বলতা সৌদি আরবকে কূটনৈতিকভাবে প্রভাব খাটানোর সুযোগ দিয়েছে। সৌদি আরব স্পষ্টভাবে যুদ্ধ এড়াতে চায়, কারণ তা তাদের অর্থনীতি ও ভিশন ২০৩০ পরিকল্পনার ওপর বড় আঘাত হানতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দীর্ঘ বছরের তিক্ততা পেরিয়ে সৌদি আরব ও ইরান কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করে। তবে দুই দেশের মধ্যে বিশ্বাসের সংকট এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তাই তেহরানে প্রিন্স খালিদের সফরকে অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখছেন।
এ বিষয়ে সৌদি আরব কিংবা ইরান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
![]() |
| ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে সৌদি যুবরাজ এবং পাশে দেশটির সেনাপ্রধান। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজার মানুষেরা জোরপূর্বক অনাহারের শিকার, বিবিসিকে জাতিসংঘের কর্মকর্তা
বিবিসির পক্ষ থেকে ফ্লেচারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, এ ‘জোরপূর্বক অনাহার’ যুদ্ধাপরাধের পর্যায়ে পড়ে কিনা। উত্তরে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, এটা যুদ্ধাপরাধ হিসেবেই বিবেচিত হয়ে থাকে। অবশ্যই, এ বিষয়ে আদালত চূড়ান্ত রায় দেবেন। আর শেষ পর্যন্ত ইতিহাসই এর বিচার করবে।’
ফ্লেচার সম্প্রতি গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তাঁর করা সাম্প্রতিক একটি মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি সম্প্রতি বলেছিলেন, সহায়তা না পৌঁছালে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে গাজায় ১৪ হাজার শিশু মারা যেতে পারে। পরে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এ তথ্য সংশোধন করা হয়। ফ্লেচার স্বীকার করেছেন, ভাষা ব্যবহারে ‘নির্ভুল’ হওয়া জরুরি।
হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চলাকালে গত ২ মার্চ থেকে গাজায় কোনো ত্রাণ প্রবেশ করতে দিচ্ছিল না ইসরায়েল। প্রায় তিন মাসের অবরোধের পর গত সপ্তাহে উপত্যকাটিতে সীমিত পরিসরে খাবার, ওষুধ, জ্বালানি এবং আশ্রয় সামগ্রীর মতো ত্রাণগুলো সরবরাহের অনুমতি দেয় তারা। এরই মধ্যে ১৮ মার্চ থেকে যুদ্ধবিরতি ভেঙে গাজায় নতুন করে নির্বিচার হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল বলছে, গাজায় এখনো আটক থাকা ৫৮ জন জিম্মিকে মুক্ত করার জন্যই তারা চাপ প্রয়োগের এ কৌশল নিয়েছে। ধারণা করা হয়, ৫৮ জিম্মির মধ্যে অন্তত ২০ জন এখনো জীবিত।
অবরোধ শিথিল করার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত সংস্থা—গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের পরিচালনাধীন ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। জাতিসংঘ বলেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে গাজায় ত্রাণ দেওয়ার একটি জায়গায় ভিড়ের মধ্যে পড়ে ৪৭ জন আহত হয়েছেন। হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করতে জাতিসংঘ অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বিবিসিকে বলেন, ‘আমরা দেখছি সীমান্তে খাবার রাখা হয়েছে। কিন্তু সীমান্তের ওপারে গাজার মানুষেরা অনাহারে দিন কাটালেও, সে খাবার সেখানে পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না। আমরা শুনছি যে ইসরায়েলি মন্ত্রীরা বলছেন, গাজার মানুষদের ওপর চাপ তৈরি করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে।’
সম্প্রতি ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, ‘গাজার বাসিন্দারা যেন পুরোপুরি নিরুপায় হয়ে বুঝতে পারে যে তাদের কোনো আশা নেই, কিছুই পাওয়ার নেই। এবং তারা যেন অন্য কোথাও গিয়ে নতুন জীবন শুরু করার কথা ভাবতে শুরু করে।’
ফ্লেচার মনে করেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর উচিত স্মোট্রিচের বক্তব্যকে প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা আশা করি, বিশ্বের সব সরকারই আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পক্ষে দাঁড়াবে—এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সমাজের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট।’
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক প্রধান টম ফ্লেচার বলেন, ‘আমরা দেখছি সীমান্তে খাবার রাখা হয়েছে কিন্তু সীমান্তের ওপারে গাজার মানুষেরা অনাহারে দিন কাটালেও সে খাবার সেখানে পৌঁছাতে দেওয়া হচ্ছে না। এবং আমরা শুনছি যে ইসরায়েলি মন্ত্রীরা বলছে গাজার মানুষদের ওপর চাপ তৈরি করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে।ইসরায়েলের যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনা বাড়ছে। গত মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা কালাস বলেন, গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যতটুকু হামলা করা প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি মাত্রায় হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল। এর আগে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেৎর্স বলেন, ইসরায়েলের লক্ষ্য কী, তা তিনি এখন আর বুঝতে পারছেন না।
চলতি মাসের শুরুতে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার নেতারা গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ এবং অবিলম্বে গাজায় মানবিক সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিতে ইসরায়েল সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। এর জবাবে নেতানিয়াহু অভিযোগ করেন, এসব নেতা হামাসের পক্ষ নিচ্ছেন।
![]() |
| অবরোধ শিথিল হওয়ার পর খাবারের জন্য ফিলিস্তিনিরা গাজার হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন পরিচালিত সাহায্য বিতরণ কেন্দ্রগুলোতে ভিড় জমায়। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভেঙে পড়েছে আইনশৃংখলা, গাজায় অকল্পনীয় দৃশ্য: ‘সংকট নিরসনে পদক্ষেপ না নিলে ইসরাইলিদের নিষেধাজ্ঞা দেবে ফ্রান্স’
ওদিকে স্থানীয় চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা ও উদ্ধারকর্মীরা বলেছেন বৃহস্পতিবার গাজাজুড়ে হামলায় কমপক্ষে ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু বুরেইজ শরণার্থী শিবিরেই মারা গেছেন ২৩ জন। এর একদিন আগে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানায়, বুভুক্ষু মানুষ দিয়ের আল বালাহতে তাদের একটি গুদামে জোর করে ঢুকে পড়েন। তারা লুটেপুটে নিয়ে যান সেখানে জমা করা ত্রাণ সামগ্রী। এ সময় গুলিতে কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। তবে কে তাদেরকে গুলি করেছে তা পরিষ্কার নয়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সমর্থিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ)-এর একটি নতুন ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ হামলে পড়ার পর তাদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে কমপক্ষে ৫০ জনকে গুলি করা হয়। তাতে কতজন নিহত ও আহত হয়েছেন তা স্পষ্ট নয়। মঙ্গলবারের ওই ঘটনা সম্পর্কে ইসরাইলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা সতর্কতামূলকভাবে ফাঁকা গুলি ছুড়েছে।
ওদিকে বৃহস্পতিবার গাজার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা পুলিশকে আল সারায়া সংযোগস্থলে একটি মার্কেটের কাছে সশস্ত্র অবস্থায় দেখা গেছে। সেখানে অল্প কিছু দোকানে খাদ্য ও শাকসবজি বিক্রি করে। ওদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভয়াবহ কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায় ছিন্নভিন্ন দেহ, রক্ত এবং তাদের ব্যবহৃত জিনিসপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়, ইসরাইলের হামলায় এমন ঘটনা ঘটেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরাইলি দখলদাররা বেশ কিছু পুলিশ কর্মকর্তাকে টার্গেট করে বিমান থেকে হামলা চালায়। এ সময় ওই পুলিশ কর্মকর্তারা লুটপাট বন্ধে দায়িত্ব পালন করছিলেন। হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন শহীদ হয়েছেন। সঙ্গে বেসামরিক লোকজনও আছেন। এ বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনী সরাসরি কোনো উত্তর দেয়নি।
গত বছর থেকে গাজায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করে ইসরাইল। তখন থেকেই গাজায় ক্রমশ আইনশৃংখলার অবনতি ঘটতে থাকে। জানুয়ারিতে এক হামলায় ওই অঞ্চলের পুলিশ প্রধান ও তার ডেপুটি নিহত হন। ইসরাইলের এমন আচরণে বৃহস্পতিবার গাজার সব জায়গা আইন শৃংখলা ভেঙে পড়ে। মানুষ খাদ্যের জন্য পাগলের মতো আচরণ করতে থাকেন। রাফার কাছে জিএইচএফের ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে গিয়েছিলেন এমন একজন প্রত্যক্ষদর্শী বলেছেন, ভোর থেকেই সেখানে ত্রাণের আশায় জমায়েত হন হাজার হাজার মানুষ। তারা ত্রাণ পাওয়ার জন্য ওই কেন্দ্রের গেট দিয়ে প্রবেশ করার চেষ্টা করেন। এতে গেট ভেঙে যায়। স্থানীয় সময় সকাল আটটায় ইসরাইলি সেনারা ড্রোন ব্যবহার করে এসব মানুষকে সতর্ক করে। ঠিক ১০ মিনিটে সব ঠিক হয়ে আসে। কিন্তু আবারও মানুষের ঢল নামে গেটে। তারা ভিতরে প্রবেশ করে ত্রাণভর্তি বাক্স, আটার বস্তা নিয়ে যেতে থাকে।
জিএইচএফের ওই কেন্দ্র থেকে ধারণ করা ফুটেজে দেখা গেছে বৃহস্পতিবার ভোর থেকেই হাজার হাজার ফিলিস্তিনি ছুটে যাচ্ছেন সেখানে। কেউ ঘোড়ায় চালিত গাড়ি নিয়ে ছুটেছেন। কেউ বাইসাইকেলে। তাদেরকে আটা, ময়দা, ত্রাণ নিয়ে ছুটে যেতে দেখা যায়। কেউ বা মাথায় নিয়ে ছুটছিলেন।
‘গাজার সংকট নিরসনে পদক্ষেপ না নিলে ইসরাইলিদের নিষেধাজ্ঞা দেবে ফ্রান্স’
গাজার মানবিক সংকট নিরসনে ইসরাইল পদক্ষেপ না নিলে দেশটির নগারিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন। শুক্রবার সিঙ্গাপুর সফরকালে এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, তেল আবিবের সরকার গাজার মানবিক সংকট নিরসনে সাড়া না দিলে ইসরাইলিদের বিরুদ্ধে ‘নিষেধাজ্ঞা’ আসতে পারে। এমন এক সময় ফরাসি প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারি আসলো যখন ইসরাইলের তিন মাসব্যাপী অবরোধে প্রবল ক্ষুধার সম্মুখীন হচ্ছে গাজাবাসী। দুর্ভিক্ষের সতর্কবার্তা দিয়েছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো। এ খবর দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, ফরাসি প্রেসিডেন্টের এমন মন্তব্যে ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়িয়েছে। ম্যাক্রন বলেছেন, ক্রমবর্ধমান ক্ষুধায় দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হচ্ছে গাজাবাসী। এমন পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নিষ্ক্রিয় থাকতে পারে না।
সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লরেন্স ওংয়ের সঙ্গে এক যৌথ সেমিনারে এসব মন্তব্য করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। বলেছেন, মানবিক সাহায্য বন্ধ করে দিয়ে গাজাবাসীর যে পরিণতি করা হয়েছে তা অসহনীয়। তিনি আরও বলেন, মানবিক পরিস্থিতির সঙ্গে সামাঞ্জস্য রেখে আগামী দিনগুলোতে যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না পাওয়া যায় তাহলে আমাদের সম্মিলিত অবস্থান আরও কঠোর হবে। ফ্রান্সে ইসরাইলি নাগরিকদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করছে ইসরাইল। সম্প্রতি তারা এ বিষয়টি স্বীকার করে গাজায় ন্যূনতম খাদ্য ও ওষুধ সরবারের অনুমতি দিয়েছে। তবে এরমধ্যেও তাদের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
গাজায় ইসরাইল সমর্থিত মার্কিন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে হামাস
গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি চুক্তির জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছে হামাস। স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির এক জৈষ্ঠ কর্মকর্তা বিবিসিকে এ তথ্য জানান। বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের তরফে জানানো হয়, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের পরিকল্পনায় স্বাক্ষর করেছে ইসরাইল এবং এ বিষয়ে হামাসের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তারা। এদিকে ইসরাইলি গণমাধ্যম জানিয়েছে, ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি ও ইসরাইলি কারাগারে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তির বিনিময়ে দুটি পর্যায়ে ১০ জন জীবিত ও ১৮ জিম্মির লাশ হস্তান্তর করবে হামাস। তবে হামাস কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি যুদ্ধের অবসানসহ মূল দাবিগুলো পূরণ করেনি। ইসরাইল সরকার অবশ্য হামাসের বক্তব্য নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
বৃহস্পতিবার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জিম্মিদের পরিবারকে জানান, তিনি উইটকফের পরিকল্পনা মেনে নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে এক সংবাদ সম্মেলনে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিটকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হামাসের কাছে একটি যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব জমা দিয়েছেন। যা ইসরাইল সমর্থন করেছে। হামাসের কাছে পাঠানোর আগে ইসরাইল ওই প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছে। আমি নিশ্চিত, এই আলোচনা অব্যাহত আছে এবং আমরা আশা করি গাজায় একটি যুদ্ধবিরতি হবে। যাতে আমরা সব জিম্মিকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে পারি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মেয়েকে ওঝার কাছে বিক্রি, এক নারীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
বিশেষ করে মি. ভ্যান ও মিসেস স্মিথকে তিরস্কার করেন। তিনি বলেন, তারা তাদের কৃতকর্মের জন্য মোটেও অনুতপ্ত নয়। তাদের শাস্তি কম করার কোনো উপায় তারা রাখেনি। এছাড়া তাদের কর্মকাণ্ডে সালদানহার বাসিন্দাদের ওপর যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে সে বিষয়েও বলেন ওই বিচারক। স্থানীয় জনগণ যাতে রায় শুনতে পারেন এ জন্য সালদানহার একটি ক্রীড়াকেন্দ্রে বিচারের রায় দেয়া হয়। ওই সময় স্মিথ বা তার সহযোগিরা কোনো প্রকার প্রতিক্রিয়া দেখায়নি। তবে জশলিন স্মিথের মর্মান্তিক ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েন সেখানে উপস্থিত সবাই। ওয়েস্টার্ন কেপ পুলিশ কমিশনার থেম্বিসাইল পাতেকিলে বলেন, শিশুটিকে অনুসন্ধানের অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজন হলে দেশের বাইরেও অনুসন্ধান চালানো হবে। যতক্ষণ না তাকে পাওয়া যাবে ততক্ষণ আমরা অভিযান অব্যাহত রাখবো। আমরা দিন-রাত পরিশ্রম করছি।
এদিকে মেয়ের কাছে পুনরায় নাতনির সন্ধান চান জশলিনের নানি আমান্দা স্মিথ-ড্যানিয়েলস। তিনি বলেন, হয় তাকে ফিরিয়ে দাও নাহলে বলো সে কোথায় আছে। তিনি আরও বলেন, তাদেরকে যেই সাজায় দেওয়া হোক না কেন, তা তার নাতনিকে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। ড্যানিয়েলস বলেন, জশলিন নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার পরিবারটি ভেঙে পড়েছে। এ সময় মেয়ের ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, অন্যকে দোষারোপ করা বন্ধ করো। যা করার তুমিই করেছো। রায় দেয়ার সময় কমপক্ষে ৩০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়। র্যাকেল স্মিথ ও তার সহযোগিরা অবশ্য তাদের পক্ষে কোনো সাক্ষীকে ডাকতে অস্বীকৃতি জানায়। সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন, র্যাকেলের বন্ধু ও প্রতিবেশী লরেন্টিয়া লম্বার্ড। তিনি অভিযোগ করেন, র্যাকেল তাকে বলেছিলেন, আমি একটি বোকামি করেছি, জশলিনকে বিক্রি করে দিয়েছি। লম্বার্ড বলেন, জশলিনকে যার কাছে বিক্রি করা হয়েছে, সে তার চোখ ও চামড়ার জন্য তাকে ক্রয় করে। একজন স্থানীয় পাদ্রি সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ২০২৩ সালে তিন সন্তানের জনক র্যাকেলকে তার সন্তানদের বিক্রির বিষয়ে বলতে শোনেন। প্রত্যেকের মূল্য হাকান ১ হাজার ১০০ ডলার। জশলিনের শিক্ষক অভিযোগ করেন, র্যাকেল একবার বলেছিলো, জশলিন একটি কন্টেইনারে আছে। আমরা জাহাজে করে পশ্চিম আফ্রিকায় যাচ্ছি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Friday, May 30, 2025
পশ্চিম তীরে আরও ২২টি বসতি স্থাপনের ঘোষণা ইসরায়েলের: খাদ্যগুদামে ‘ক্ষুধার্ত মানুষের’ ঢল
গাজা হামলার ৫৯৯তম দিনে গতকাল অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে আরও ২২টি বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বসতি স্থাপনের ঘোষণা। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াল।
গতকাল সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গতকাল ভোরে উত্তর গাজার জাবালিয়ায় একটি কিন্ডারগার্টেন ও আজ্জাম পরিবারের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থীশিবিরের আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের কয়েক দফা বিমান হামলায় মারা গেছেন অন্তত ১৯ জন।
গতকাল মধ্য গাজার নেটজারিম করিডরে জিএইচএফের একটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের কারণ ও হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় মঙ্গল ও বুধবার জিএইচএফের কেন্দ্র থেকে খাবার আনতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সেখানে আরও প্রায় ৬২ জন আহত হয়েছেন।
জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো জিএইচএফকে বর্জন করেছে। তাদের অভিযোগ, মানবিক সহায়তা কোনো ধরনের পক্ষপাত ছাড়া প্রয়োজনের ভিত্তিতে বণ্টন করতে হয়। কিন্তু মানবিক সহায়তা দেওয়ার সেই নীতিকে লঙ্ঘন করছে জিএইচএফ।
অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ সহায়তা কর্মকর্তা জনাথন হুইটল জেরুজালেমে সাংবাদিকদের বলেন, নজরদারি করে নতুন পদ্ধতিতে ত্রাণ দিচ্ছে জিএইচএফ। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চনা করার নীতিকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।
জনাথন হুইটল আরও বলেন, জাতিসংঘ এই পরিকল্পনায় অংশ নিতে রাজি হয়নি। কারণ, বাস্তবতার দিক থেকে এটি অকার্যকর এবং মানবিক নীতির লঙ্ঘন। তারা ত্রাণকে গাজার নির্দিষ্ট এলাকা খালি করার বৃহত্তর ইসরায়েলি পরিকল্পনার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
গাজার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মঙ্গলবার থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জিএইচএফ।
খাদ্যগুদামে ‘ক্ষুধার্ত মানুষের’ ঢল
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলে দলে ‘ক্ষুধার্ত মানুষ’ বুধবার মধ্য গাজার একটি খাদ্যগুদামে ঢুকে পড়েছেন।
এ ঘটনায় দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, তারা বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দেইর আল-বালাহ শহরের আল-ঘাফারি গুদামে ক্ষুধার্ত লোকজন ঢুকে খাদ্যের বস্তা ও ময়দার প্যাকেট নিয়ে যাচ্ছেন। সেই সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলি কোথা থেকে এসেছে, তা তখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না।
ডব্লিউএফপি এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রায় তিন মাস ধরে চলা ইসরায়েলি অবরোধের পর মানবিক সংকট ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে’। গত সপ্তাহে এ অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।
ডব্লিউএফপি সতর্ক করে বলেছে, গাজায় অবিলম্বে খাদ্যসহায়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। মানুষকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁরা অনাহারে মরবেন না। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাহায্য সীমিত করার কারণে ক্ষুধার্ত মানুষের জীবন আরও হুমকির মুখে পড়ছে।
নতুন বসতি স্থাপন
অধিকৃত পশ্চিম তীরের জুদিয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে নতুন করে আরও ২২টি বসতি স্থাপন করবে ইসরায়েল। ‘রুট ৪৪৩’ ধরে এই সব বসতি গড়ে উঠবে। সড়কটি মোদিইন হয়ে জেরুজালেম ও তেল আবিবকে যুক্ত করেছে। নতুন বসতি স্থাপনের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে যেসব অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে, সেগুলোকেও অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। হামাস ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভবত দুই সপ্তাহ আগে মন্ত্রিপরিষদের এক গোপন বৈঠকে নতুন বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু জানানো হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ও ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গতকাল মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত জানান। স্মোট্রিচ নিজেই পশ্চিম তীরের কেদুমিম বসতিতে থাকেন।
কাটজ নতুন বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ‘কৌশলগত পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানো যাবে, যার প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হতে পারে।’
১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম, মিসরের কাছ থেকে গাজা এবং সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে নিয়েছিল ইসরায়েল। দীর্ঘদিন পর গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেও বাকি অঞ্চলগুলোতে বসতি নির্মাণ শুরু করে দেশটি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এসব অধিকৃত অঞ্চলে বসতি নির্মাণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে দেশটির প্রতিটি সরকার এসব এলাকায় বসতি নির্মাণ করেছে। ইসরায়েল সরকারের অনুমতি ছাড়াও সেখানে অনেক বসতি গড়ে উঠেছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এসব বসতির স্বীকৃতি দেয়নি।
১৯৬৭ সালের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬০টি বসতি নির্মাণ করেছে ইসরায়েল। এতে প্রায় সাত লাখ ইসরায়েলি বসবাস করেন।
ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের ঘোষণাকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ওই অঞ্চলকে অব্যাহতভাবে ‘সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার চক্রের দিকে টেনে নিচ্ছে’। তিনি আরও বলেন, ‘উগ্রবাদী ইসরায়েলি সরকার যাবতীয় উপায়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা রোধ করতে চেষ্টা করছে।’
![]() |
| ফিলিস্তিনি পুরুষেরা গম সংগ্রহ করছেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পর নিজের খেত থেকে গম সংগ্রহ করছেন এক ফিলিস্তিনি। ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে, ২৮ মে, ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গাজায় হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ারই নামান্তর: হামাস
ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের এক কর্মকর্তা এসব কথা বলেছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইসরায়েল ইতিমধ্যে ওই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য হামাসের কাছে পাঠিয়েছেন।
এদিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এ চুক্তি আমাদের জনগণের কোনো দাবিই পূরণ করে না। দাবিগুলোর অন্যতম হলো যুদ্ধ বন্ধ করা।’
তবু হামাস নেতারা পূর্ণ জাতীয় দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করছেন বলে উল্লেখ করেন নাইম।
ইসরায়েলের আগ বাড়িয়ে কোনো প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। নেতানিয়াহু হয়তো এ পরিকল্পনায় সম্মতি দিচ্ছেন। কারণ, তিনি জানেন, এটি হামাসের জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব হবে। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি যেন বিশ্ববাসীর কাছে হামাসকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।-------—আকিভা এলদার, ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক
নতুন ওই মার্কিন প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি রয়টার্সকে বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এ প্রস্তাবে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাদের গাজা উপত্যকা থেকে প্রত্যাহারের কথাও বলা নেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর বিষয়েও কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই।
নতুন প্রস্তাবটি অনুমোদন করার বিষয়টি ইসরায়েল সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের স্বজনদের বলেছেন, তিনি উইটকফের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন।
ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আকিভা এলদার আল–জাজিরাকে বলেছেন, ইসরায়েলের আগ বাড়িয়ে কোনো প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। নেতানিয়াহু হয়তো এ পরিকল্পনায় সম্মতি দিচ্ছেন। কারণ, তিনি জানেন, এটি হামাসের জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব হবে। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি যেন বিশ্ববাসীর কাছে হামাসকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
আকিভা এলদার বলেন, ‘এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে এবং নেতানিয়াহু তখন তাদের (হামাস) ওপর দোষ চাপিয়েছিলেন।’
হামাস ও ইসরায়েল—দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্যের কারণে গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতির চেষ্টা বারবার ভেস্তে গেছে। ইসরায়েলের দাবি, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির দাবি, ইসরায়েলি সেনাদের গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।
উইটকফের সাম্প্রতিকতম এ প্রস্তাব চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া আরেক প্রস্তাবের বিষয়াবলির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা সে সময় হামাস দাবি করেছিল, তারা উইটকফের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির ‘সাধারণ রূপরেখা’ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং এখন শুধু ‘চূড়ান্ত জবাবের’ অপেক্ষায় আছে।
হামাস এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘আমরা উইটকফের সঙ্গে একটি সাধারণ রূপরেখার বিষয়ে একমত হয়েছি, যা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, গাজা থেকে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও মানবিক সহায়তার নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশ নিশ্চিত করবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি পেশাদার কমিটি গঠনের বিষয়ও ওই সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত আছে।
চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দেবেন বলেও বলা হচ্ছিল।
তবে পরে উইটকফ এমন কোনো শর্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, যে শর্তগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’।
![]() |
| গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি ট্যাংক। ফাইল ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের কীভাবে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল: আল–জাজিরার এক্সপ্লেইনার
গত শনিবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত সাতজন ফিলিস্তিনির সাক্ষ্য যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, দুজন ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ওই চর্চার ব্যাপকতা স্বীকার করেছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়।
এ অভিযোগের জবাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের অভিযানে বেসামরিক লোকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং বেশ কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলছে।
আসুন, জেনে নেওয়া যাক, মানবঢাল কী? ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কতটা ব্যাপকভাবে এ অস্ত্র ব্যবহার করছে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কি শিগগিরই আরেকটি দমনাভিযান চালাতে পারে—এমন সব প্রশ্নের উত্তর।
মানবঢাল কী, ইসরায়েল কীভাবে এটি ব্যবহার করছে
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের (আইএইচএল) অধীন, ‘মানবঢাল’ বলতে বোঝায়—হামলা থেকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু রক্ষায় বেসামরিক বা অন্য সুরক্ষিত ব্যক্তিদের, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা।
ওই আইনে যুদ্ধের ময়দানে মানবঢালের ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু গাজায় গণহত্যার সময় ইসরায়েলি সেনারা এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ চলতি বছরের শুরুর দিকে এক সেনাসদস্যের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য প্রকাশ করে, যেখানে তিনি জানান, তাঁর ইউনিটে দিনে ‘ছয়বার’ ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো এবং এ প্রক্রিয়া কার্যত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে ‘স্বাভাবিক’ রীতি হয়ে উঠেছে।
গত আগস্টে হারেৎজ আরও প্রকাশ করে, গাজায় মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত ফিলিস্তিনিদের বয়স সাধারণত ২০-এর কোঠায় এবং কিছু ইউনিট এক সপ্তাহ পর্যন্ত তাদের ব্যবহার করেছে। ফিলিস্তিনি বন্দীদের চিহ্নিত করে (কাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে) টানেলের মুখ বা বিভিন্ন ভবনে পাঠানো নিয়ে গর্বও করেছে এসব ইউনিট।
‘এটি (ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা) এখন (ইসরায়েলের) সামরিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে’, বলেন ‘হিউম্যান শিল্ডস: এ হিস্ট্রি অব পিপল ইন দ্য লাইন অব ফায়ার’ গ্রন্থের সহরচয়িতা নিকোলা পেরুজিনি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বহু প্রমাণ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার পাশাপাশি অনেক ইসরায়েলি সেনা নিজেরাও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের “পশুখাদ্য” হিসেবে ব্যবহার করার প্রমাণ পোস্ট করেছেন; দৃশ্যত তাদের (ইসরায়েলি বাহিনী) যেন কোনো জবাবদিহি নেই।
এ বিষয়ে বহু প্রমাণ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার পাশাপাশি অনেক ইসরায়েলি সেনা নিজেরাও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের “পশুখাদ্য” হিসেবে ব্যবহার করার প্রমাণ পোস্ট করেছেন; দৃশ্যত তাদের (ইসরায়েলি বাহিনী) যেন কোনো জবাবদিহি নেই।-----—নিকোলা পেরুজিনি, ‘হিউম্যান শিল্ডস: এ হিস্ট্রি অব পিপল ইন দ্য লাইন অব ফায়ার’ গ্রন্থের সহরচয়িতা
‘গত কয়েক দশকে প্রমাণ হয়েছে যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তদন্ত প্রকৃতপক্ষে তদন্ত নয়’, বলেন পেরুজিনি। তিনি জানান, এই চর্চার (ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল করা) নথিভুক্তিকরণ শুরু হয় ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার (ফিলিস্তিনি অভ্যুত্থান) সময়। এ চর্চা জেনেভা কনভেনশনের প্রটোকল ১ অনুযায়ী নিষিদ্ধ।
‘ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যত যুদ্ধ হয়েছে, তার ইতিহাসে এবারের যুদ্ধেই মানবঢাল ব্যবহার করার সবচেয়ে বেশি প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, এ গণহত্যা সরাসরি সম্প্রচারিত (ভিডিও, ছবি ইত্যাদি মাধ্যমে) হচ্ছে’, বলেন পেরুজিনি। তিনি আরও বলেন, ‘অনুসন্ধান করে আমরা যা পেয়েছি, তা হলো—এককথায় এটি একটি পদ্ধতিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা।’
অভিযোগের জবাবে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া
এই সংঘাত চলাকালীন অভিযোগের জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাধারণ কৌশল ছিল মন্তব্য না করা, পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কথা বলা অথবা যখন অস্বীকার করার উপায় থাকেনি, তখন তদন্তের ঘোষণা দেওয়া।
আল–জাজিরার অনুসন্ধানী দল গত বছর ইসরায়েলকে বেশ কিছু অভিযোগের মুখোমুখি করলেও তারা সেসবের কোনো জবাব দেয়নি। দলটি কয়েক হাজার ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে; যার বেশির ভাগই ইসরায়েলি সেনাদের অনলাইনে পোস্ট করা। এসব ছবি ও ভিডিও এবং অন্যদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্ভাব্য একাধিক যুদ্ধাপরাধ, যেমন মানবঢালের ব্যবহারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।
ওই অনুসন্ধান থেকে তৈরি করা হয় প্রামাণ্যচিত্র। তাতে বর্ণিত ঘটনার মধ্যে ছিল জামাল আবু আল-ওলার কাহিনি। ইসরায়েলি বাহিনী তাঁকে বার্তাবাহক হিসেবে ব্যবহারে বাধ্য করে। ফুটেজে দেখা যায়, ওই তরুণ সাদা স্যুট পরিহিত, হাত বাঁধা ও মাথা হলুদ কাপড়ে মোড়া অবস্থায় খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে স্থানত্যাগ করতে বলছেন। তাঁর মা তাঁকে অনুসরণ করেন এবং নিজের চোখে দেখেন, কীভাবে এক স্নাইপারের গুলিতে তাঁর ছেলেটিকে পরে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনার ব্যাখ্যায় আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রডনি ডিকসন বলেন, আল-ওলাকে ‘সামরিক সম্পদ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ‘নানা দিক থেকেই কাউকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সংজ্ঞায় পড়ে।’
চলতি বছর গাজা শহরে ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মানবঢাল বানানোর অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, ‘আরও বিস্তারিত তথ্য’ প্রয়োজন।
ইসরায়েলি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হটেস্ট প্লেস ইন হেল’ ও ‘+৯৭২ সাময়িকী’র এক যৌথ প্রতিবেদনে ‘মসকুইটো প্রসিডিউর’ (মশা পদ্ধতি) নামে পরিচিত এক ভয়ংকর কৌশলের নতুন রূপ উঠে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি সেনারা জানিয়েছেন, এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওই বৃদ্ধের গলায় বিস্ফোরক তার পেঁচিয়ে দেন এবং বলেন, তিনি যদি কোনো ভুল করেন (কথামতো কাজ না করা), তবে তাঁর মাথা উড়িয়ে দেওয়া হবে।
এরপর ওই বৃদ্ধকে গাজার জেইতুন এলাকায় তাঁর বাড়ি ছেড়ে পালাতে বলা হয়। পরে অন্য একটি ইসরায়েলি ব্যাটালিয়নের গুলিতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী নিহত হন।
যাহোক, যখন অপরাধের অকাট্য প্রমাণ সামনে আসে এবং তা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে, তখন ইসরায়েলি বাহিনী ব্যতিক্রমী কিছু ঘটনাকে স্বীকার করে। যেমন, গত বছরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আহত ফিলিস্তিনি যুবক মুজাহিদ আজমিকে এক সামরিক জিপের বনেটে বেঁধে পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে অভিযান চালানো হচ্ছে।
এ ঘটনাকে ‘মানবঢাল ব্যবহারের বাস্তব উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ।
এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ওই অভিযানের সময় গুলিবিনিময়ে জড়ায় এবং সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় ধরে ফেলে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভিডিওটিতে দেখা সেনাদের আচরণ’ সেনাবাহিনীর ‘মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’ এবং এ ঘটনার তদন্ত করা হবে।
তবে পেরুজিনির পর্যবেক্ষণ হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের যেসব অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে; তার পেছনে অন্যতম কারণ হলো, আইন বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন না যে ইসরায়েল নিজেই নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঠিক তদন্ত করতে পারবে।
মানবঢাল ব্যবহারের নির্দেশ দেয় কে
বহু প্রমাণ থাকার পরও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আদৌ এই পদ্ধতিগত মানবঢাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে কি না, সেটি অনিশ্চিত। তবু তাদের জবাবদিহি করার জন্য চাপ বাড়ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবঢাল ব্যবহারের এ প্রথা অনেক দশক ধরেই চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ নামের গোপন তথ্য প্রকাশকারী একটি সংগঠন ২০০২ সালে পশ্চিম তীরের বেথলেহেমে নিযুক্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বর্ণিত ‘নেইবার প্রসিডিউর’ (প্রতিবেশী পদ্ধতি) নামের এক কৌশলের পক্ষে প্রমাণ তুলে ধরেছে।
‘আপনি একজন ফিলিস্তিনিকে আপনাকে সঙ্গ দেওয়ার আদেশ দেন। যে বাড়িতে ঢুকতে চান সেটির দরজা খুলতে, কড়া নাড়তে ও সেটিতে প্রবেশ করতে বলেন। উদ্দেশ্য খুব সহজ: যদি দরজা বিস্ফোরিত হয়, তবে ফিলিস্তিনিই উড়ে যাবে, আপনি (সেনারা) নন’, বলেন মেজর পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা।
২০০৫ সালে, ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়ে এ প্রথা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাঁচ বছর পর, দুই ইসরায়েলি সেনাকে গাজা শহরের তাল আল-হাওয়া এলাকায় নয় বছর বয়সী একটি শিশুকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বোমা বা বিস্ফোরকদ্রব্যের সন্দেহজনক ফাঁদ শনাক্ত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
মানবঢাল ব্যবহারের দায়ে ইসরায়েলে প্রথম কোনো দণ্ডাদেশ দেওয়ার জানা ঘটনা ছিল এটি। তবে এ ঘটনার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে মানবঢালের ব্যবহারকে যেন একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে গত ১৯ মাস ধরে চলা গাজা যুদ্ধে।
বাস্তবে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে মানবঢাল ব্যবহারের নির্দেশগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই আসতে পারে।
গত আগস্টে হারেৎজের এক অনুসন্ধানে কিছু সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়, সাবেক চিফ অব স্টাফ হারজি হালেভি শীর্ষপর্যায়ের ওই কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন, যিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়ে অবগত ছিলেন।
সম্প্রতি এপির প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, ২০০৪ সালের মাঝামাঝি গাজায় মানবঢাল ব্যবহারের প্রথা এতটাই সাধারণ হয়ে ওঠে যে, প্রতিটি পদাতিক ইউনিট তাদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো না কোনো ফিলিস্তিনিকে ঘর পরিষ্কার করার (সেনাদের থাকার জায়গা) কাজে ব্যবহার করে। এমনকি প্রায়ই ‘একটা মশা আনো’ বলে আদেশ দেওয়া হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক ইসরায়েলি সার্জেন্ট জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে গাজায় তাঁর ইউনিট মানবঢাল ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানাতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন তাঁদের বলা হয়, কোনো বিকল্প নেই। এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাঁদের বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই।
এপির এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দ্য জেরুজালেম পোস্টকে গত রোববার বলেছে, ‘যদি আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়’, তবে তারা অভিযোগগুলোর তদন্ত করবে।
চলতি বছরের মার্চে হারেৎজ জানায়, ইসরায়েলের সামরিক পুলিশ ছয়টি ঘটনার তদন্ত করছে, যেখানে সেনারা ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে, রেডক্রসের এক প্রতিবেদনে এ অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।
![]() |
| ইসরায়েলের একজন সেনাসদস্য। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিএনএনকে সাক্ষাৎকার: এটা যদি যুদ্ধাপরাধ না হয়, তবে কী—ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্টের প্রশ্ন
সিএনএনকে সাক্ষাৎকার: এটা যদি যুদ্ধাপরাধ না হয়, তবে কী—ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্টের প্রশ্ন
ওলমার্ট, বিশেষ করে গাজার ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর সর্বশেষ ১১ সপ্তাহের অবরোধ ও সেখানে হামলা জোরালো করা নিয়ে কথা বলেছেন। এ অবরোধের মধ্যে গাজায় কোনো ধরনের ত্রাণ ঢুকতে দেয়নি ইসরায়েল। ফলে সেখানে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপরন্তু, হামলা জোরদার করায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে সেখানে।
সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলমার্ট উল্টো প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা যদি যুদ্ধাপরাধ না হয়, তবে কী?’
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকারের চরম ডানপন্থী সদস্যরা যা করছেন, অন্য কোনোভাবে এর ব্যাখ্যা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্ট।
গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিগত হত্যা ও নিধনের যে অভিযোগ উঠেছে, বিদেশিদের কাছে এত দিন তা খণ্ডন করে আসছিলেন ওলমার্ট।
যখন গাজায় নারী ও শিশুদের হত্যার অভিযোগ ওঠে তখন ওলমার্ট কর্মকর্তাদের কাছে ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তাদের বাহিনী ইচ্ছা করে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে না বলে সাফাই দিয়েছিলেন। ওলমার্ট নিজেই এ কথা জানান।
১৯ মাস ধরে গাজা যুদ্ধ চলছে। ওলমার্ট মনে করেন, এ যুদ্ধ আরও এক বছর আগেই শেষ হওয়া উচিত ছিল। এখন এ যুদ্ধের পক্ষে তিনি আর কোনো যুক্তি তুলে ধরতে পারবেন না বলেও বিশ্বাস তাঁর।
আমরা এখন গাজায় যা করছি, তা হলো ধ্বংসযজ্ঞের যুদ্ধ। নির্বিচার, সীমাহীন, নিষ্ঠুর ও অপরাধমূলকভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।-------এহুদ ওলমার্ট, ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ওলমার্ট। ইসরায়েলের পত্রিকা হারেৎজে গত মঙ্গলবার ওলমার্টের একটি মতামত প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমরা এখন গাজায় যা করছি, তা হলো ধ্বংসযজ্ঞের যুদ্ধ। নির্বিচার, সীমাহীন, নিষ্ঠুর ও অপরাধমূলকভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।’
এই মতামত প্রকাশের পর সিএনএন ওলমার্টের সঙ্গে কথা বলে।
গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৮ হাজার জন নারী ও শিশু।
এ বছর জানুয়ারিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছিল, যুদ্ধে তারা ২০ হাজারের বেশি হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।
ওলমার্ট বলেন, ‘আমাদের এটা নিশ্চিত করা দরকার যে গাজায় যেসব মানুষ এ সংঘাতে জড়িত নন, তাঁরা যেন এই সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের কারণে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমি মনে করি, এ অভিযান পুরোপুরি অযৌক্তিক এবং এ মুহূর্তে এটি ইসরায়েল রাষ্ট্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে না।’
ওলমার্টের সমালোচনার মূল লক্ষ্য নেতানিয়াহু এবং তাঁর দুই কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন গভি ও বেজালেল স্মোট্রিচ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্ট সিএনএনকে বলেন, ‘আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব এ (নেতানিয়াহু) সরকার চলে যাবে। আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ ইসরায়েলি এ সরকারের নীতিমালা, বক্তব্য এবং এই সরকারের কারণে ইসরায়েল রাষ্ট্র ও দেশের জনগণের ন্যায়পরায়ণতার যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে ক্লান্ত ও বিরক্ত।’
ইসরায়েলে নানা জরিপে বারবার উঠে আসছে, দেশটির অধিকাংশ মানুষ গাজায় একটি বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি চান, যার মাধ্যমে গাজায় থাকা বাকি ৫৮ জিম্মিকে মুক্ত করা ও যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে।
ট্রাম্প একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারেন।---------এহুদ ওলমার্ট, ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী
কিন্তু নেতানিয়াহু যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ও জোর দিয়ে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান হামাস পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।
জিম্মিদের পরিবারের অনেকের মতো ওলমার্টও নেতানিয়াহুর ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন এবং গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে আছেন।
ওলমার্ট বলেন, ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারেন।
![]() |
| ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় ক্ষুধার্ত মানুষের ঢল, গুলি, নিহত ২
বার্তা সংস্থা এএফপি’র ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-গাফারি গুদামে প্রচণ্ড ভিড় থেকে মানুষ ঢুকে পড়ে। গুলির শব্দের মধ্যে ময়দার বস্তা ও খাদ্যের প্যাকেট নিয়ে যায়। গুলির উৎস কোথা থেকে তা তখনই পরিষ্কার ছিল না। এক বিবৃতিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে চলা ইসরাইলি অবরোধ, যা গত সপ্তাহে কিছুটা শিথিল হয়েছে, তার ফলে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে’। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই গুদামে আগেভাগেই খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল বিতরণের জন্য। তারা আরও জানায়- গাজায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি করা দরকার। এটাই একমাত্র উপায় যাতে মানুষ নিশ্চিত হতে পারে, তারা না খেয়ে মরবে না।
ডব্লিউএফপি বলেছে, আমরা বারবার সতর্ক করে দিয়েছিলাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও ক্রমাবনতিশীল। ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সীমিত করার ফলে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। ওদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বুধবার জানিয়েছে, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ১২১টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যেগুলোর মধ্যে ময়দা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী ছিল। গত সপ্তাহে ইসরাইল সীমিত পরিমাণে সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দিতে শুরু করে।
একটি বিতর্কিত মার্কিন ও ইসরাইল-সমর্থিত সংস্থা ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (ডিএইচএফ) একটি বেসরকারি ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা হিসেবে গঠন করা হয়েছে। এটি মার্কিন নিরাপত্তা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ব্যবহার করে এবং জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে। একে জাতিসংঘ ‘অকার্যকর ও অনৈতিক’ বলেছে। মার্কিন ও ইসরাইলি সরকার বলেছে, দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় স্থাপন করা জিএইচএফের চারটি বিতরণ কেন্দ্র হামাসের কাছ থেকে ত্রাণ লুট হওয়া ঠেকাচ্ছে, যদিও যোদ্ধা গোষ্ঠী হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে জিএইচএফের একটি বিতরণ কেন্দ্রে হামলার পর ৪৭ জন আহত হয়। আরেকজন জাতিসংঘ কর্মকর্তা বুধবার সাংবাদিকদের জানান, হতাশাগ্রস্ত জনতা জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাক থেকে সরাসরি পণ্য লুট করছে। দখল করে নেয়া ফিলিস্তিনি অঞ্চলের জন্য জাতিসংঘের মানবিক দপ্তরের প্রধান জোনাথন হুইটল জানান, বিশ্বস্ত মানবিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমন্বিত ত্রাণ লুটপাট করছে-এমন কোনো প্রমাণ হামাসের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রকৃত লুটপাট সংঘটিত করেছে অপরাধী চক্র, যাদের ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজার কারেম শালোম সীমান্ত এলাকায় কাজ করতে দিয়েছে।
জাতিসংঘ বলেছে, ইসরাইল ও হামাসের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময় যেভাবে ব্যাপক পরিমাণে ত্রাণ ঢুকেছিল, সেরকম ব্যবস্থা নিলে খাদ্য লুটপাটের ঝুঁকি কমবে এবং গাজা জুড়ে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত বিতরণ নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রজেক্ট এসথার: যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবাদ রক্ষায় রহস্যময় অস্ত্র by বেলেন ফের্নান্দেস
এই হেরিটেজ ফাউন্ডেশনই সেই গোষ্ঠী, যারা প্রজেক্ট ২০২৫ নামের একটি পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে। প্রজেক্টের লক্ষ্য—যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং ডানপন্থী একটি রাষ্ট্র গঠন।
বাইবেলের রানি এসথারের নামে নামকরণ করা হয়েছে এই প্রজেক্টের। এসথার মূলত এক ভয়ানক উদ্দেশ্য নিয়েই হাজির হয়েছে। আর তা হলো ইসরায়েলের বর্তমান গণহত্যার যেকোনো বিরোধিতাকে অপরাধ হিসেবে দাঁড় করানো। আর একে সামনে রেখে বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এমনকি নাগরিক অধিকারগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া।
নীতিপত্রের প্রথম ‘মূলবার্তা’ হলো ‘আমেরিকার ইসরায়েলবিরোধী, জায়নবাদবিরোধী এবং তথাকথিত ‘ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন’ আসলে এক বিশ্বব্যাপী হামাস সমর্থক নেটওয়ার্ক (গ্লোবাল হামাস সাপোর্ট নেটওয়ার্ক-এইচএসএন)-এর অংশ।‘
তবে মজার ব্যাপার হলো বাস্তবে এমন কোনো ‘গ্লোবাল হামাস সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’ বলে কিছু নেই। স্বাভাবিকভাবেই, এর সঙ্গে জড়িত বলে যেসব সংগঠনের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর অস্তিত্বও নিছক কল্পনা। জায়নবাদ আর ফিলিস্তিনি গণহত্যাবিরোধী সবাই এই কল্পনার আওতায় পড়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন জিউস ভয়েস ফর পিস পর্যন্ত হামাস সমর্থক বলে চিহ্নিত হয়েছে এই এসথার প্রজেক্টের তালিকায়।
প্রজেক্টের দ্বিতীয় মূলবার্তা আরও কৌতূহলোদ্দীপক। এই কথিত হামাস নেটওয়ার্ক নাকি ‘সেসব অ্যাকটিভিস্ট ও পৃষ্ঠপোষকদের দ্বারা সমর্থিত, যারা পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্র ধ্বংসে নিবেদিত’। এটি শুনে অবাক না হয়ে পারা যায় না। কারণ, যে থিঙ্কট্যাংক নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের পরিকল্পনায় ব্যস্ত। তারাই এখন গণতন্ত্র বাঁচানোর বুলি আওড়াচ্ছে!
এই রিপোর্টে ‘পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্র’ শব্দজোড়া অন্তত পাঁচবার এসেছে। অথচ ইসরায়েলি আগ্রাসনে যে হামাসশাসিত গাজা গত ১৯ মাস যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ধ্বংস হয়েছে, এ কথা কে না জানে! দুনিয়াজোড়া অস্ত্রশিল্পের মুনাফার চোখে দেখলে অবশ্য গণহত্যা তো পুঁজিবাদের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা!
প্রজেক্ট এসথারের ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটাই নাকি ইহুদিবিদ্বেষ। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী একটি ‘জাতীয় কৌশল’ চাইছে—এই কথিত হামাস-সমর্থক নেটওয়ার্কের প্রভাব সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে।
এই রিপোর্ট প্রকাশ পায় জো বাইডেন প্রশাসনের সময়েই। বাইডেন প্রশাসনকে রিপোর্টে ‘ইসরায়েল-বিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। যদিও বাস্তবে গাজায় ইসরায়েলের প্রতিটি অপরাধে তারা একেবারে সক্রিয় সহযাত্রী।
এই নীতিপত্রে বহু সুপারিশ রয়েছে। যেমন ‘যখন হোয়াইট হাউসে কোনো বন্ধু প্রশাসন থাকবে, তখন কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধ করতে হবে।’
সাত মাস পর নিউইয়র্ক টাইমস–এর একটি বিশ্লেষণ জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হোয়াইট হাউস এবং রিপাবলিকানরা প্রজেক্ট এসথারের অর্ধেকের বেশি সুপারিশ বাস্তবায়নের ডাক দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিরোধ বন্ধ না করলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তহবিল কেটে নেওয়ার হুমকি। এমনকি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করলেও বৈধ বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা।
এই রিপোর্ট অনুযায়ী, কথিত এই হামাস-সমর্থক নেটওয়ার্ক ও তাদের সংগঠনগুলো নাকি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈচিত্র্য, সমতা আর অন্তর্ভুক্তি এবং তথাকথিত মার্ক্সবাদী আদর্শের আড়ালে ‘জায়নবাদের বিরুদ্ধে’ বয়ান ছড়াচ্ছে। আর শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নয়, তারা নাকি মার্কিন গণমাধ্যমেও দাপটের সঙ্গে সক্রিয়। বড় হোক কিংবা ছোট—প্রতিটি বিক্ষোভই নাকি তারা সব জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে তুলে ধরতে সক্ষম।
এখানেই অবশ্য রিপোর্ট থেমে থাকেনি। তাদের মতে, এই নেটওয়ার্ক ও সংগঠনগুলো টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইহুদিবিদ্বেষী প্রচার’ অবাধে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ‘হুমকি’ দমন করতে প্রজেক্ট এসথারে রয়েছে বেশ কিছু চরম সুপারিশ।
যেমন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্লোবাল হামাস সাপোর্ট নেটওয়ার্ক-সমর্থক শিক্ষক-কর্মী অপসারণ, বিক্ষোভকারীদের এমনভাবে ভীত করা যাতে তাঁরা এইচএসওর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়াকেই ভয় পায়, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ কনটেন্ট নিষিদ্ধ করা। এর মানে ইসরায়েলিদের হাতে হওয়া গণহত্যা নিয়ে যেকোনো কিছুই ইহুদিবিরোধী হিসেবে গণ্য হবে।
তবু এসব জোরালো প্রচারণার মধ্যেও দ্য ফরোয়ার্ড পত্রিকার ডিসেম্বর সংখ্যায় জানানো হয়—এই প্রজেক্টে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইহুদি সংগঠন অংশ নেয়নি বা প্রকাশ্যে এর সমর্থন করেনি। মার্কিন ইহুদিদের এই সংবাদপত্র জানায়, হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ইহুদিদের সমর্থন পেতে হিমশিম খেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি গড়ে তোলা হয়েছে কয়েকটি ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান সংগঠনের মাধ্যমে। এর পুরো মনোযোগ শুধু বামপন্থী ইসরায়েল সমালোচকদের দিকেই। ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের ইহুদিবিরোধীদের নিয়ে তারা নিশ্চুপ।
এদিকে এই মাসেই মার্কিন ইহুদি নেতৃত্বের একটি খোলাচিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে বহু শক্তি এখন ‘ইহুদি নিরাপত্তা’র কথা বলে আসলে উচ্চশিক্ষা, আইনের শাসন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাাধীনতা ধ্বংস করতে চাইছে।
যদি ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই প্রজেক্ট এসথারকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে, তবে এর কারণ মূলত শ্বেতাঙ্গ খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদের এজেন্ডা। এই এজেন্ডা জায়নবাদের নাম ব্যবহার করে চরম ডানপন্থী লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। ইহুদিবিদ্বেষ বা ইহুদিপ্রীতির কথা সেখানে কেবল বাহানা।
* বেলেন ফের্নান্দেস কলাম লেখক, আল–জাজিরা
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি: অস্ত্র ক্রয় বৃদ্ধি -রয়টার্সের প্ৰতিবেদন
এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেন আর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, আমেরিকা-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা এবং পুরো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট—সব মিলিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উদ্যোগের চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।
ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড আর ভিয়েতনামের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান দেশগুলো ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অস্ত্র কেনা ও গবেষণায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালে এই খাতে মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। যদিও তাদের জিডিপির গড়ে মাত্র ১.৫% প্রতিরক্ষা খাতে খরচ হচ্ছে, যা গত এক দশক ধরে মোটামুটি একই আছে।
রয়টার্স আরো জানিয়েছে, রিপোর্টটি আরও বলছে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো এখনও সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নজরদারি প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল।
এই সপ্তাহান্তে সিঙ্গাপুরে হতে যাওয়া বার্ষিক শাংরি-লা ডায়ালগ সামরিক সম্মেলনে এসব ইস্যু নিয়েই আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা নীতি এবং তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর ঘিরে উত্তেজনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
রয়টার্সের ভাষ্য অনুযায়ী সে রিপোর্টটি আরো বলছে, সৌদি আরব আর সংযুক্ত আরব আমিরাতও এখন এই অঞ্চলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইউএই চীনের নোরিনকো আর ভারতের হিন্দুস্তান এরোনটিক্স-এর সঙ্গে কাজ করছে। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোও প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ উদ্যোগ ও লাইসেন্স চুক্তির মাধ্যমে তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে।
তবে এই ধরণের যৌথ প্রকল্প সব সময় সফল হয় না। ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে দুই দশক ধরে করা ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রকল্পের অভিজ্ঞতা এর উদাহরণ। এই অস্ত্র ভারত ব্যবহার করলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে আছে। প্রথমবার ২০২৪ সালে ফিলিপাইনে এ অস্ত্র ডেলিভারি শুরু হয়।
রয়টার্সের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে ব্রহ্মোসের ভবিষ্যৎ আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে। কারণ, রাশিয়া তখন হয়তো চীনের সঙ্গে হাইপারসনিক সংস্করণ তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দূরনিয়ন্ত্রিত সেক্স রোবট: পাল্টে দেবে জীবনধারা!
এই পটভূমিতে চীনের ডংগুয়ান শহরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিডমি নিয়ে এসেছে তাদের নতুন, অভিনব এবং কিছুটা বিতর্কিত পণ্য- একটি দূরনিয়ন্ত্রিত সেক্স রোবট। এর দাম প্রায় ১,৪০০ পাউন্ড (প্রায় ১,৯০০ ডলার)। রোবটটি ব্লুটুথের মাধ্যমে একটি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। মুটুয়াফান নামে পরিচিত অ্যাপের মাধ্যমে এর ব্যবহারকারী রোবটকে দিয়ে সব করাতে পারবেন। মানুষের মতোই আচরণ করাতে পারবেন এই রোবটকে দিয়ে। এই অ্যাপ পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্লাটফর্মে। অ্যাপে একটি “রুম” তৈরি করা যায়। সেখানে ১০ জন পর্যন্ত মানুষ যোগ দিতে পারে এবং রোবটটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে আছে ১০টি কম্পন মোড, ১০টি সাকশন মোড, ৬টি শব্দ মোড। বিভিন্ন ত্বকের রঙ, চুলের স্টাইল, চোখের রঙ, এমনকি পরী আকৃতির রোবটও পাওয়া যায়।
প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এটি দেহগত ঘনিষ্ঠতা ও ডিজিটাল ইন্টারঅ্যাকশনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। কিন্তু আশঙ্কাও রয়েছে। ইএসইটির সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক মুর সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের ইন্টারনেট অব থিংস ডিভাইসগুলোতে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকতে পারে। হ্যাকাররা যদি অ্যাপ বা রোবটের সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ডেটা চুরি করে ব্ল্যাকমেইল করাও সম্ভব। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, এই রোবটগুলি বাড়ির ভেতর নজরদারির মাধ্যমেও ব্যবহৃত হতে পারে, যদি তা দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা দিয়ে তৈরি হয়।
এ ধরনের পণ্য সমাজে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তার মধ্যে আছে নারী-পুরুষে শারীরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা। মানুষের সম্পর্কের স্বরূপ কীভাবে বদলাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
Thursday, May 29, 2025
পুতিন যে দুই জায়গায় ট্রাম্পকে পাত্তা দেন না by রজন মেনন
গত সপ্তাহের শেষ দিনে রাশিয়া ইউক্রেনে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এটি ছিল পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর অন্যতম বড় একটা আক্রমণ। সংঘাতটি যে হঠাৎ করেই থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই, এই আক্রমণ তারই প্রতিফলন।
এর কারণ হলো, ভ্লাদিমির পুতিন এখনো লুহানস্ক, দোনেৎস্ক, জাপোরিঝঝিয়া ও খেরসন—এ চার প্রদেশ দখলে নেওয়ার লক্ষ্য অবিচল রয়েছেন। বর্তমানে লুহানস্কের প্রায় পুরোটা এবং বাকি তিনটির বড় অংশের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে রাশিয়া।
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে যেসব অস্ত্র দিয়েছে, তা অন্য সব মিত্রদেশ মিলিয়ে যতটুকু দিয়েছে, তার চেয়ে বেশি। যদিও মানবিক ও অন্যান্য সহায়তা মিলিয়ে সামগ্রিকভাবে অন্য দেশগুলো মোট সহায়তায় এগিয়ে।
ট্রাম্পের ভুল হলো, তিনি নিজেকে অসাধারণ একজন চুক্তি নির্মাতা হিসেবে মনে করেন। পুতিনের সঙ্গে কথিত সখ্য এবং ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক প্রভাব—সব মিলিয়ে তিনি ভেবে নিয়েছিলেন, কূটনৈতিক সাফল্য অর্জন করবেনই। সম্ভবত তিনি ভেবে নিয়েছিলেন, এই চুক্তির বদৌলতে তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কারও পেয়ে যেতে পারেন।
কিন্তু গত কয়েক দিনে কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে যেভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তাতে পরিষ্কার যে একবিন্দু ছাড়ও দিতে চান না পুতিন। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চান। এ ঘটনায় ট্রাম্পের অবস্থান দুর্বল হলো।
এখন ট্রাম্প পুতিনের ওপর ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতিনকে নিয়ে লিখেছেন, ‘পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছেন’ এবং ‘অপ্রযোজনীয়ভাবে অনেক মানুষ হত্যা করছে’। ট্রাম্পকে যখন জিজ্ঞাসা করা রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়াতে চান কি না, তিনি উত্তর দিয়েছেন, ‘অবশ্যই’। কিন্তু এবারই প্রথম পুতিনকে সতর্ক করলেন না ট্রাম্প, কিংবা রাশিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিলেন না। গত মাসের শেষ দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে তিনি লিখেছিলেন, ‘ভ্লাদিমির থামো!’
ট্রাম্প–পুতিন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি একটি অনিবার্য প্রবণতা। পুতিন এখনো তাঁর ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ট্রাম্পের তোষামোদি ও ভয় দেখানো—দুটিকেই তিনি সমানভাবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
এ কারণেই পুতিন ট্রাম্পের ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে কোনো আগ্রহ দেখাননি। অথচ জেলেনস্কি সঙ্গে সঙ্গে সেটি গ্রহণ করেছিলেন। এপ্রিলের শেষে ট্রাম্প রাশিয়াকে হুমকি দেন যে যদি তারা ‘বেসামরিক এলাকা, শহর ও জনপদে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া বন্ধ না করে’ তবে দ্বিতীয় পর্যায়ের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। সেই হুমকিতেও পুতিন বিচলিত হননি। এই সতর্কবার্তা পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় ট্রাম্প–জেলেনস্কির সাক্ষাতের পর আসে। এটি ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্টকে কিছুটা আশাবাদী করলেও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট এতে বিচলিত হননি।
যা–ই হোক, ট্রাম্প শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া এবং কথার বাইরে গিয়ে এবার যদি সত্যি সত্যিই রাশিয়ার ওপর আরও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপও করেন, তারপরও যুদ্ধ থামবে না। এর পেছনে কমপক্ষে দুটি কারণ আছে।
প্রথমত, এই যুদ্ধ পুতিন ডেকে এনেছেন। নিজের লক্ষ্য পূরণে তিনি তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারকে বাজি ধরেছেন। যত মূল্য চুকাতে হোক না কেন, তিনি সেটা করবেনই। এই সংঘাতে কতজন রাশিয়ান সৈনিক হতাহত হয়েছেন, সেই হিসাব নিয়ে বিতর্ক আছে। তবে এ সংখ্যা ৯ লাখের কাছাকাছি। এর মধ্যে নিহতের সংখ্যা এক লাখের বেশি।
এই যুদ্ধ রাশিয়ার অর্থনীতিকে পুরোপুরি ধ্বংস না করলেও বড় চাপ তৈরি করেছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সামরিক ব্যয় বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। ২০২৪ সালে দেখা যাচ্ছে, মোট সরকারি ব্যয়ের ৩৫ শতাংশই সামরিক ব্যয়। চলতি বছর তা আরও বেড়ে ৩৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গত মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ, যার কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার ২১ শতাংশে অপরিবর্তিত রেখেছে।
পুতিনের ক্ষমতা এখনই হুমকির মুখে নেই। তবে রাশিয়ার জনগণ এত বড় ত্যাগ স্বীকার করার পর তিনি যদি অর্ধেক সাফল্য নিয়েই থেমে যান, তাহলে রাজনৈতিকভাবে তিনি দুর্বল হয়ে পড়বেন। ফলে এত রক্তপাত ও বিপুল ব্যয়ের পর পুতিন সহজে সমঝোতায় যাবেন—এমনটা আশা করা বৃথা।
দ্বিতীয়ত, পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প ইউরোপীয় নেতাদের বলেছেন যে পুতিন মনে করেন যে রাশিয়ান বাহিনী জিততে চলেছে। পুতিন সম্ভবত জানেন না, রাশিয়ান সেনাদের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্রটা। এই যুদ্ধে আনুমানিক ১৪ হাজার ট্যাংক, সাঁজোয়া যান ও গোলাবারুদ নিক্ষেপের ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর কারণ হলো, জেনারেলরা হয়তো এই খারাপ সংবাদ তাঁদের নেতাকে দিতে ভয় পান।
আবার এটাও হতে পারে যে পুতিনকে সব তথ্যই ভালোভাবে জাননো হয়েছে। কিন্তু তিনি এটা বিশ্বাস করেন যে যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক শক্তির আধিপত্য শেষ পর্যন্ত বিজয় এনে দেবে। তিনি হয়তো ধরেই নিয়েছেন, পশ্চিমারা এ যুদ্ধে ক্লান্ত হয়ে পড়বে। ট্রাম্প চুক্তি করার প্রচেষ্টা থেকে সরে যাবেন, এমনকি ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা দেওয়াও বন্ধ করে দেবেন।
যা–ই হোক না কেন, তাতে কিছু আসে যায় না। এ যুদ্ধ যদি আগামী ফেব্রুয়ারিত পঞ্চম বছরে পা দেয় এবং সেটা থামার কোনো লক্ষণ তখনও যদি দেখা না যায়, তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।
* রজন মেনন নিউইয়র্ক সিটি কলেজে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ইমেরিটাস অধ্যাপক
- দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে সংক্ষিপ্তাকারে অনূদিত
| এখন ট্রাম্প পুতিনের ওপর ক্ষুব্ধ। ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতিনকে নিয়ে লিখেছেন, ‘পুরোপুরি পাগল হয়ে গেছেন’। ছবি : রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১০ দেশে শান্তির পতাকা হাতে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা
বিশ্বশান্তি রক্ষার এ যাত্রায় ৩৫ বছরে জীবন দিয়েছেন ১৬৮ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫৭ জন। পেশাদারত্বের মাধ্যমে শান্তি রক্ষা মিশনে সৈন্য প্রেরণকারী শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। বর্তমানে বাংলাদেশ তৃতীয় শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ।
আজ বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। এদিন বিশ্বজুড়ে সম্মান জানানো হবে সেসব বীরকে, যাঁরা শান্তির পতাকা হাতে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে দায়িত্ব পালন করেছেন। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করছে।
ঢাকায় আজ সকালে শান্তিরক্ষীদের স্মরণের মাধ্যমে দিবসের কর্মসূচি শুরু হবে। পরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আহত শান্তিরক্ষীদের সংবর্ধনা এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর বিশেষ উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়েছে। এ বছর দুজন আহত শান্তিরক্ষীকে সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের পরিক্রমায় শান্তি রক্ষার ইতিহাসে জাতিসংঘের অন্যতম নির্ভরযোগ্য সঙ্গী হয়ে উঠেছে দেশের সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও বেসামরিক সদস্যরা। আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্যানুযায়ী, তিন দশকের বেশি সময়ে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি জাতিসংঘ মিশন সফলতার সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন। এ দীর্ঘযাত্রায় সশস্ত্র বাহিনীর অন্তত ১ লাখ ৭৮ হাজার ৭৪৩ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন বলে আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের ওয়েবসাইটে উল্লেখ করা হয়েছে।
শান্তির বার্তা নিয়ে ১০ দেশে বাংলাদেশ
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংঘাতপূর্ণ বা গৃহযুদ্ধের শিকার, গণহত্যা বা গণনির্বাসনের ঝুঁকিতে থাকা দেশ বা অঞ্চলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করা হয়। যুদ্ধপরবর্তী পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট দেশ বা অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনা, পুনর্গঠন, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বা শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নের প্রয়োজন, মানবিক সংকট মোকাবিলাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মোতায়েন করে।
বর্তমানে ১০টি দেশ বা স্থানে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা দায়িত্ব পালন করছেন। এগুলো হলো সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী সীমান্ত অঞ্চল আবেই, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র (সিএআর), সাইপ্রাস, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো), লেবানন, দক্ষিণ সুদান, উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিরোধপূর্ণ অঞ্চল পশ্চিম সাহারা, ইয়েমেন, লিবিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তর।
শান্তিরক্ষীরা মিশনগুলোতে সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষদের সহায়তায় কাজ করে। অবস্থানভেদে দুই পক্ষের মধ্যে অস্ত্রবিরতির শর্ত মানা হচ্ছে কি না, তা নজরে রাখা, যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে রিপোর্ট করা, সাবেক যোদ্ধাদের অস্ত্র জমা নেওয়া, তাঁদের সমাজে পুনঃস্থাপন করা এবং সমাজে শান্তি ও আস্থা ফিরিয়ে আনায় কাজ করে। কখনো কখনো স্থানীয় পুলিশ ও বিচারব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ ও সহায়তায় কাজ করে। অনেক ক্ষেত্রে স্কুল, হাসপাতাল, রাস্তা ইত্যাদি অবকাঠামো নির্মাণেও অংশগ্রহণ করেন শান্তিরক্ষীরা। এসব কাজ করতে গিয়ে তাঁদের নানা ধরনের চ্যালেঞ্জের মধ্যেও পড়তে হয়।
শান্তি রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশ
১৯৮৯ সালে নামিবিয়া মিশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় বাংলাদেশ পুলিশ। এ পর্যন্ত বিশ্বের ২৪টি দেশের ২৬টি মিশনে পুলিশের ২১ হাজার ৮১৫ জন শান্তিরক্ষী সদস্য অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ৩টি দেশে ১৯৯ জন পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন। সংঘাতপূর্ণ ও প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজের জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালনকালে এ পর্যন্ত ২৪ জন পুলিশ সদস্য শান্তিরক্ষা মিশনে জীবন উৎসর্গ করেছেন।
শান্তিরক্ষা মিশনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে কথা হয় মিশনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা পুলিশ সদর দপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক (অপারেশন্স) মো. রেজাউল করিমের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘যেসব দেশে আমরা কাজ করেছি, সেখাকার স্থানীয় জনসাধারণ এবং প্রশাসনের সঙ্গে আমাদের দৃঢ় আস্থা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে আমরা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, সুদান, আইভরিকোস্ট, পূর্ব তিমুর, বসনিয়া, কসোভো, লাইবেরিয়া, হাইতি, মালিসহ বিভিন্ন দেশে কাজ করতে পেরেছি। এখনো কাজ করছি।’
বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় নারী
আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের (এএফডি) এক হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ৭১৮ জন নারী শান্তিরক্ষী বিভিন্ন মিশনে অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সেনাবাহিনীর ১ হাজার ৫১৩ জন, নৌবাহিনীর ৫৪ জন এবং বিমান বাহিনীর ১৫১ জন।
এএফডি বলছে, জাতিসংঘ ২০২৫ সালের মধ্যে শান্তি রক্ষা মিশনে ২২ শতাংশ নারী স্টাফ অফিসার ও মিলিটারি অবজারভার নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে ১৮ শতাংশ নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে এবং এই হার আরও বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশের নারী পুলিশ সদস্যরা শান্তিরক্ষী মিশনে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বর্তমানে পুলিশের ৭১ জন নারী সদস্য বিভিন্ন মিশনে নিয়োজিত আছেন। এই নারীরা ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, দক্ষিণ সুদান ও সেন্ট্রাল আফ্রিকায় দায়িত্ব পালন করছেন।
গবেষণাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) আ ন ম মুনীরুজ্জামান প্রথম আলোকে বলেন, শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের দক্ষতা ও কর্মক্ষমতার ব্যাপক সুনাম রয়েছে। তবে মিশনের ধরন পাল্টে যাচ্ছে। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। সেটার সঙ্গে বাংলাদেশকে নতুনভাবে খাপ খাইয়ে নিতে হবে। বিশেষ করে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ছে। তিনি বলেন, যেসব অঞ্চলে শান্তিরক্ষী মিশন রয়েছে, সেখানকার ভাষা জানার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহারের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ জন্য প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়ে নজর দিতে হবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘এখনই গাজায় আগ্রাসন থামাও’- সরব হাজারো ইসরায়েলি সেনা
সম্প্রতি সরকার ও সেনাপ্রধান বরাবর পাঠানো এক খোলা চিঠিতে তারা এই আহ্বান জানান। মঙ্গলবার (২৭ মে) ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা হারেৎজ তাদের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিঠির বিষয়বস্তু নিশ্চিত করেছেন।
চিঠিতে স্বাক্ষরকারী ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছেন, গাজায় এই দীর্ঘমেয়াদি অভিযান এখন আর ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার প্রয়োজনে নয়, বরং এটি একটি রাজনৈতিক কৌশলে পরিণত হয়েছে- যা দেশের জনগণের বৃহৎ অংশের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে।
চিঠিতে বলা হয়, আমরা সাবেক ও বর্তমান রিজার্ভ অফিসার ও কমান্ডাররা এই রাজনৈতিক যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে, আমরা সরকারকে আহ্বান জানাচ্ছি যেন অবিলম্বে সব ইসরায়েলি জিম্মির নিরাপদে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হয়। এই চিঠিতে সেনার সতর্ক করেছেন, চলমান অভিযান কেবল জিম্মি নয়, ইসরায়েলি সেনা ও নিরীহ বেসামরিক মানুষদের জীবনকেও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এই যুদ্ধ কেবল নৈতিকভাবেই অগ্রহণযোগ্য নয়, বরং এটি ইসরায়েলের সামরিক স্বার্থকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তা যুদ্ধাপরাধ সংঘটনের দিকে গড়াতে পারে, যা ইসরায়েলের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে।
গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে একই দাবি নিয়ে সরকার ও সামরিক বাহিনীর উদ্দেশে আরেকটি খোলা চিঠি দিয়েছিলেন সহস্রাধিক রিজার্ভ সেনা। একইসঙ্গে একটি স্বাক্ষর অভিযানে পাঁচ দিনের ব্যবধানে অংশ নিয়েছেন এক লাখেরও বেশি ইসরায়েলি নাগরিক।
এদিকে গাজায় চলমান মানবিক সংকটের দ্রুত সমাধানে ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস ও ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেত্তেরি অর্পো। গত মঙ্গলবার (২৭ মে) হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত এক যৌথ আলোচনায় তারা ইসরায়েলের প্রতি গাজায় জরুরি ভিত্তিতে ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রসঙ্গত, প্রায় ২০ মাস ধরে গাজায় সামরিক আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। গত কয়েক সপ্তাহে তা আরও তীব্র হয়েছে। প্রায় ১১ সপ্তাহ ধরে অঞ্চলটিতে কার্যত ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ। সীমিত পরিসরে কিছু ত্রাণ ঢুকলেও তা অধিকাংশ ফিলিস্তিনির নাগালে পৌঁছাচ্ছে না। এমন বাস্তবতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা ইসরায়েলের এই বর্বর আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে আসছেন।
চলমান পরিস্থিতিতে ইসরায়েলি রিজার্ভ সেনাদের এই অভ্যন্তরীণ প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এটি প্রমাণ করে, দেশের ভেতর থেকেও গাজা যুদ্ধ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে-কেবল নৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেই নয়, কৌশলগত দিক থেকেও।
![]() |
| ধ্বংসস্তূপ গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের আগ্রাসনের একটি মুহূর্ত। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফিলিস্তিনে অবৈধ ইহুদি বসতির ‘গডমাদার’, গাজায় বসতি নিয়ে কী তাঁর ভাবনা by অস্কার রিকেট
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের নেত্রী ড্যানিয়েলা ওয়েইস সব সময়ই একজন জায়নবাদী। ৭৯ বছর বয়সী ড্যানিয়েলা নিজেই টেলিফোনে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ‘জায়নবাদ ছিল আমাদের পারিবারিক আলোচনার মূল বিষয়।’
ড্যানিয়েলা বসবাস করেন ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরের উত্তরে অবস্থিত একটি অবৈধ ইহুদি বসতিতে।
ড্যানিয়েলা বলেন, ‘আমি গর্বিত যে ঈশ্বর আমাকে একজন ইহুদি হিসেবে পাঠিয়েছেন। আমাদের মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসা, বাইবেলের প্রতি ভালোবাসা, ঈশ্বর আমাকে এই অপার আশা ও আত্মবিশ্বাস দিয়েছেন, যা অন্য কিছুর সঙ্গে বদলানো যায় না।’
এই উগ্র জায়নবাদী ড্যানিয়েলা ইহুদি বসতি আন্দোলনের এক পরিচিত মুখ। তিনি নিজেই বলেছেন, ৫০ বছর ধরে তিনি ‘ইসরায়েলের ভূমি গড়ে তোলার কাজে নিবেদিত’। তিনি দাবি করেন, ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের পর অধিকৃত পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা ১৪১টি বসতি ও ২২৪টি অবৈধ চৌকি গঠনে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।
আন্তর্জাতিক আইনে এসব বসতি অবৈধ। আর ১৯৯০-এর দশক থেকে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই তৈরি হওয়া চৌকিগুলো ইসরায়েলি আইনেও অবৈধ।
২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ—এই তিন মাসে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা সমন্বয় কার্যালয় (ওসিএইচএ) ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের ১ হাজার ৮০৪টি হামলা নথিভুক্ত করেছে। ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা নিজেরা অথবা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে হামলা চালিয়ে ১১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে।
ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর আক্রান্ত হয়েছে, গাড়ি পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে, পানির লাইন কেটে দেওয়া হয়েছে, ফলের বাগান ধ্বংস করা হয়েছে এবং রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা গাজামুখী ত্রাণবাহী গাড়িতেও হামলা চালিয়েছে। ওসিএইচএ বলেছে, ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা ও চলাচলে বাধার কারণে ৮৪৪ জন ফিলিস্তিনি বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
গত মাসে ড্যানিয়েলা বিবিসির লুইস থেরাউক্সের তৈরি প্রামাণ্যচিত্র ‘দ্য সেটেলার’-এ এক আলোচনায় হাজির হন। প্রামাণ্যচিত্রে তাঁকে ‘উগ্রপন্থী বসতি নেত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাজ্য সরকার তাঁর ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। কারণ, তিনি ‘ফিলিস্তিনিদের ওপর সহিংসতা ও হামলায় উসকানি এবং তাতে অংশ নিয়েছেন’, যা যুক্তরাজ্যের গাজা যুদ্ধ নিয়ে কঠোর অবস্থানের অংশ।
তবে থেরাউক্স যখন তাঁকে বলেন, আন্তর্জাতিক আইনে বসতি স্থাপনকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তখন তিনি হেসে বলেন, ‘এটা হালকা ধরনের অপরাধ।’
একসময় ড্যানিয়েলাকে ‘নেসেট ক্যাফেটেরিয়ার রানি’ বলা হতো। কারণ, তিনি নিয়মিত ইসরায়েলি পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ রাখতেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এবং বিশেষ করে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের পর থেকে তিনি আবার আলোচনায় আসেন। এখন তিনি এমন একটি আন্দোলনের মূল নেত্রী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন, যাঁদের বর্তমান নেতা ইতামার বেন–গভির ও বেজালেল স্মোট্রিচ। দুজনই ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী।
থেরাউক্স ফিলিস্তিনিদের জীবনের প্রতি ড্যানিয়েলার উগ্র আচরণকে ‘মনোবিকারগ্রস্ত’ বলে বর্ণনা করেছেন। ড্যানিয়েলা বলেছেন, বসতি স্থাপনকারীদের কাছে সহিংসতা বলে কিছু নেই।
বিশেষজ্ঞরা ড্যানিয়েলার প্রভাব নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেও একটি বিষয়ে একমত যে তিনি এখনো শক্তি ও আকর্ষণশক্তি ধরে রেখেছেন, যা তাঁকে সক্রিয়ভাবে কাজ করতে সাহায্য করছে।
ড্যানিয়েলা বলেন, ‘আমি গান গাই না, অভিনয়ও করি না। তবে যখন আমি বক্তৃতা দিই, তখন সেটা অনেকটা স্ট্যান্ড-আপ কমেডির মতো হয়। এটাই আমার স্বভাব। আমি যখন কথা বলি, মানুষ শুনতে পছন্দ করে। কারণ, আমি তা জীবন্তভাবে উপস্থাপন করি।’
এই ইহুদি নেত্রী বলেন, ‘ঈশ্বর আমাকে যা দিয়েছেন, সবই আমি ব্যবহার করি জায়নবাদী স্বপ্নকে এগিয়ে নিতে। আর আমি তা সম্পূর্ণ সচেতনভাবে করি।’
শান্তিকামী আন্দোলনের সংগঠন পিস নাউয়ের ‘সেটেলমেন্ট ওয়াচ’ প্রকল্পের পরিচালক হাগিত ওফরান মিডল ইস্ট আইকে বলেন, ড্যানিয়েলা দখলদারত্বকে ভালো জিনিস মনে করেন এবং তিনি তা নিয়ে গর্ব করেন।
হাগিত বলেন, ড্যানিয়েলা যা বিশ্বাস করেন, তা খুব স্পষ্ট ও সরাসরি বলেন। এ কারণেই তিনি বিখ্যাত। কারণ, তিনি তাঁর উদ্দেশ্য পরিষ্কার করে বলেন।
গাজা: এই জমির মালিক আমরা
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে—ড্যানিয়েলা ও ইসরায়েলের সরকারে তাঁর মিত্ররা এ অবস্থাকে ‘সুবর্ণ সময়’ বলে মনে করেন। পাঁচ দশক ধরে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের ইহুদিদের উপস্থিতি বৃদ্ধি করার পর এখন তাঁর চোখ গাজার দিকে।
ড্যানিয়েলা গর্ব করে বলেন, ‘এই পরিকল্পনা এত বিখ্যাত হয়ে গেছে যে মানুষ তেল আবিবে আমাকে থামিয়ে বলেন, “আমার জন্য গাজায় একটা জায়গা রাখবেন।” আমি বলি, “আমাদের ৯০০ পরিবারের তালিকায় নাম লিখিয়ে ফেলুন, আমরা একটা ভালো প্লট খুঁজে দেব।’
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ড্যানিয়েলার সংগঠন ‘নাখালা সেটেলমেন্ট মুভমেন্ট’ একটি সম্মেলনের আয়োজন করে। এতে ১১ জন মন্ত্রীসহ হাজারো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি অংশ নেন। সেই সম্মেলনের নাম ছিল—‘ইসরায়েলের বিজয়ের জন্য সম্মেলন, বসতি স্থাপন নিরাপত্তা নিয়ে আসে’। সেই সম্মেলনে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের উৎখাত করার আহ্বান জানানো হয় এবং সম্ভাব্য বসতি এলাকার মানচিত্র দেখানো হয়।
২০২৪ সালের নভেম্বরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ড্যানিয়েলাকে গাজার উত্তরাঞ্চলে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি সম্ভাব্য বসতি এলাকাগুলো পরিদর্শন করেন, যার মধ্যে ছিল পুরোনো বসতি ‘নেতজারিম’। ১৯৭২ সালে সেখানে প্রথম ইহুদি বসতি স্থাপন করা হয়েছিল। পরে ২০০৫ সালে গাজা থেকে সর্বশেষ বসতি স্থাপনকারীদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
ড্যানিয়েলা বলেন, পশ্চিম তীরের মতো গাজায়ও ইসরায়েলি সেনাদের অবস্থান দিয়ে বসতি স্থাপন শুরু হবে। তারপর সেনাবাহিনীর পাশে বসবাসকারী ‘ঘেরা কমিউনিটি’ হবে, তারপর গড়ে উঠবে শহর।
তবে ড্যানিয়েলার নিজের মিত্রদের মধ্যেও এই পরিকল্পনা নিয়ে বিরোধিতা রয়েছে।
এই উগ্রবাদী ইহুদি নারী বলেন, ‘আমার ভালো প্রতিবেশী বেজালেল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরের উন্নয়নের জন্য খুব ভালো কাজ করছেন। তবে গাজায় বসতি স্থাপন বিষয়ে আমি তাঁর ভূমিকা নিয়ে সন্তুষ্ট নই। আমি তাঁর কাছ থেকে আরও জোরালো ও স্পষ্ট অবস্থান আশা করি। আমি তাঁকে অনেকবার বলেছি, অন্তত গাজার উত্তরাংশে বসতি স্থাপনের বিষয়ে জোর দিন।’
নেতানিয়াহুর সমালোচনাও করেন ড্যানিয়েলা। অবশ্য তিনি বলেন, নেতানিয়াহুর সহকারীদের সঙ্গে সব সময় তাঁর যোগাযোগ করা সম্ভব। নেতানিয়াহু এতে ‘একটু ধীর’। তবে এই ইহুদি নারী বলেন, ‘আমি বুঝি তাঁর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আছে, বামপন্থী চাপ আছে। কিন্তু এই ধারণা এখন বাতাসে উড়ছে মুক্তভাবে।’
গাজায় ইসরায়েলের নৃশংস হামলায় ৫৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি মারা গেছেন। কিন্তু ২৩ লাখ মানুষের মধ্যে যাঁরা বেঁচে আছেন, তাঁরা কি সেখানে আর থাকবেন না?
ড্যানিয়েলা ইসরায়েলে হামাসের হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, তারা ৭ অক্টোবরের পর গাজার ওপর অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। তারা ইন্দোনেশিয়া, আফ্রিকা, পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চলে যাবে। এতে কিছুটা সময় লাগবে, তবে তারা তাদের অধিকার হারিয়েছে। সেই হত্যাকাণ্ড তাদের ইতিহাস বদলে দিয়েছে।
এর আগেও উগ্রবাদী এই ইহুদি নারী বলেছিলেন, ‘গাজায় কোনো আরব থাকবে না। যদি আমরা তাদের খাবার না দিই, তাহলে তারা চলে যাবে।’
গত অক্টোবরে গাজার সীমানায় একটি উৎসবমুখর সম্মেলনে ড্যানিয়েলা বলেছিলেন, ফিলিস্তিনিরা গাজা থেকে ‘অদৃশ্য’ হয়ে যাবে। সেদিন বেন–গভিরও একই কথা বলেছিলেন, ‘এই জমির মালিক আমরা।’
পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপন অনেক পুরোনো ব্যাপার হলেও ওফরান বলেন, ‘৭ অক্টোবরের আগে গাজায় বসতি স্থাপনের চিন্তা অকল্পনীয় ছিল।
‘জায়নবাদের ইতিহাস আমার ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো’
ড্যানিয়েলা ওয়েইসের জন্ম ১৯৪৫ সালে, তৎকালীন ব্রিটিশশাসিত ফিলিস্তিনের তেল আবিবের কাছে বনে ব্রাক শহরে। তিনি বড় হন একটি খামারে, একটি রক্ষণশীল ধর্মীয় ইহুদি পরিবেশে। পড়াশোনা করেন ধর্মীয় বিদ্যালয়ে। তখন তিনি ধর্মভিত্তিক জায়নবাদী আন্দোলনের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এই আন্দোলনের নেতারা নিজেদের মূলধারার ধর্মনিরপেক্ষ জায়নবাদ থেকে আলাদা মনে করতেন। কারণ, সে সময় ইসরায়েলের মূল সমাজ ও নেতৃত্বে ধর্মনিরপেক্ষ জায়নবাদের প্রাধান্য ছিল।
ড্যানিয়েলা বলেন, তাঁর প্রথম স্মৃতি ১৯৪৮ সালের মে মাসে যখন মিসরীয় বাহিনী তেল আবিব এলাকায় গোলাবর্ষণ করেছিল। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কয়েক দিন পর ওই ঘটনা ঘটেছিল।
এই নারী বলেন, ‘আমার মা–বাবা বিছানার নিচে কার্পেট বিছিয়ে আমাকে আর আমার ছোট বোনকে সেখানে শুয়ে থাকতে বলেছিলেন। এটা ছিল রোমাঞ্চকর, একটা অ্যাডভেঞ্চারের মতো। আমি কখনো ভয় পাইনি।’
ড্যানিয়েলার বাবার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। তাঁর মা এক বছর বয়সে পোল্যান্ড থেকে ফিলিস্তিনে এসেছিলেন। তিনি বলেন, তাঁর মা-বাবা ছিলেন ‘খুবই বুদ্ধিমান মানুষ’। তাঁরা প্রথমে জায়নবাদী সশস্ত্র গোষ্ঠী লেহির (স্টার্ন গ্যাং) সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর তাঁরা ডানপন্থী লিকুদ পার্টিতে যোগ দেন।
ড্যানিয়েলারা তিন বোন। তিনি বলেন, ‘আমরা যেন স্পার্টায় বড় হয়েছি।’
এখনো ড্যানিয়েলা ও তাঁর বোনেরা এই কথা বলে হাসেন। তিনি বলেন, ‘জীবন ছিল খুব কঠিন। আমরা এই বিশ্বাসে বড় হয়েছি যে আমাদের ঈশ্বরকে সব সময় ধন্যবাদ জানাতে হবে যে আমরা একটি স্বাধীন ইহুদি রাষ্ট্রে বাস করছি। এটা ছিল আমাদের পরিবারের চিরাচরিত পরিবেশ।’
ড্যানিয়েলা বলেন, তাঁদের পরিবারে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা এবং ইসরায়েল সম্পর্কে সচেতন থাকা ছিল বাধ্যতামূলক। সংবাদ শোনার সময় সেটাই ছিল পবিত্র সময়। তখন কেউ কথা বলতেন না।
বিশেষ করে উত্তেজনাপূর্ণ সময় এলে এই আবেগ আরও তীব্র হয়ে উঠত। যেমন ১৯৫৬ সালের সুয়েজ খাল সংকটের সময়, যখন ইসরায়েল, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য মিলে মিসরের নিয়ন্ত্রণে থাকা গাজা ও সিনাই উপদ্বীপে আক্রমণ করেছিল—তখনকার কথা তাঁর পরিষ্কার মনে আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতি মুহূর্তে আইডিএফের (ইসরায়েলি বাহিনী) অগ্রগতি অনুসরণ করতাম।’
ড্যানিয়েলা বলেন, ‘আমার জন্য জায়নবাদের ইতিহাস একটা ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো। আমি এটি এত তীব্রভাবে স্মরণ করি, যেন আমার কাছে এটি সব সময় খোলা বই।’
এই ব্যক্তিগত ডায়েরির সঙ্গে ড্যানিয়েলার বাইবেলের প্রতি ভালোবাসাও আছে। তাঁর দাবি, ইহুদি জাতির মাতৃভূমির সীমানা বাইবেলে নির্ধারিত। এর সীমানা পূর্বে ফোরাত নদী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে নীল নদ পর্যন্ত। অর্থাৎ তাঁর মতে, ফিলিস্তিনের বাইরেও সিরিয়া, ইরাক, জর্ডান, লেবানন ও মিসরের কিছু অংশ ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত।
রবিন হত্যাকাণ্ড: ‘আমাদের জন্য নতুন যুগের সূচনা’
যেহেতু ১৯৫৬ সালের সুয়েজ খাল সংকট তরুণ ড্যানিয়েলার মনে দাগ কাটে, ফলে ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ তাঁকে গভীরভাবে অনুপ্রাণিত করে। ওই যুদ্ধে ইসরায়েল আরব দেশগুলোর যৌথ বাহিনীকে পরাজিত করে গোলান মালভূমি, পশ্চিম তীর ও গাজা দখল করে।
এই যুদ্ধের পর জায়নবাদী ও রাবাই মোশে লেভিঙ্গার অধিকৃত এলাকায় ইহুদি বসতি গড়ে তোলেন। লেভিঙ্গার ১৯৮৮ সালে ছয় বছরের এক ফিলিস্তিনি শিশুকে মারধর করেন এবং একই বছর একজন ফিলিস্তিনিকে গুলি করে হত্যা করেন। এই অপরাধে তিনি জেল খাটেন। তবে পরে এই অপরাধীই ড্যানিয়েলার উপদেষ্টা হন।
লেভিঙ্গার আর ড্যানিয়েলা মিলে গড়ে তোলেন উগ্র জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠী ‘গুশ এমুনিম’। এই সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন ড্যানিয়েলা। এ আন্দোলন মিশ্র ছিল—এক দিক ছিল ধর্মীয় বিশ্বাসে পরিপূর্ণ (মেসিয়ানিক), অন্যদিকে ছিল রাজনৈতিক কৌশল ও বাস্তববাদ।
দুজনের এ সংগঠন বেশ সহিংসও ছিল।
১৯৮৭ সালের এপ্রিলে একজন ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী নিহত হলে এবং পরে ফিলিস্তিনিদের প্রথম ইন্তিফাদার আগে লেভিঙ্গার ও ড্যানিয়েলার নেতৃত্বে পশ্চিম তীরের কালকিলিয়ায় বসতি স্থাপনকারীরা হামলা চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের বাড়ি, গাড়ি ও বাগান ধ্বংস করেন।
কয়েক দিন ধরে চলা ওই সহিংসতার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পাঠানো হয়। এ ঘটনাকে হিব্রু ভাষায় ‘নাইট অব বোটলস’ বা ‘বোতলের রাত’ নামে ডাকা হয়। মানবাধিকার সংগঠন ইয়েশ দিন জানায়, ড্যানিয়েলা ‘জরিমানা ও স্থগিত দণ্ডে রক্ষা পান’, যা প্রমাণ করে ‘ইসরায়েলি আদালত সব সময় এ ধরনের দাঙ্গাবাজ বসতি স্থাপনকারীদের প্রতি সহানুভূতিশীল’।
ইসরায়েলি সাংবাদিক ও লেখক গেরশম গোরেনবার্গ বলেন, অনেক দিক থেকে ইসরায়েলের কট্টর জাতীয়তাবাদীরা ধর্মীয় বসতি আন্দোলনকে মূল ইস্যু বানিয়েছে।
ড্যানিয়েলা নিজে বসতি আন্দোলনের চরমপন্থী অংশে রয়েছেন। তিনি মূলধারার আন্দোলনের নেতৃত্বকে ‘অতি নমনীয়’ বলে সমালোচনা করেন।
নিজেদের সংগঠন গুশ এমুনিমের মধ্যেও তাঁর কঠোর ভঙ্গি নিয়ে সমালোচনা আছে। এরপরও তিনি ১৯৯৬ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত কেদুমিম অবৈধ ইহুদি বসতি এলাকার মেয়র ছিলেন।
২০১০ সালে ড্যানিয়েলা গঠন করেন ‘নাখালা সেটেলমেন্ট মুভমেন্ট’। এ সংগঠনের মাধ্যমে তিনি আগের মতোই ইসরায়েলের ভূখণ্ড সম্প্রসারণের কাজ চালিয়ে যান।
ড্যানিয়েলা আজও আগের মতোই এই লক্ষ্য নিয়ে উজ্জীবিত। তাঁর চার মেয়ে ও একাধিক নাতি-নাতনি আছে। ২০০৬ সালে তাঁর মেয়েজামাই আভ্রাহাম গাভিশ এক ফিলিস্তিনি বন্দুকধারীর হাতে নিহত হন। ওই হামলায় তাঁর জামাতার মা–বাবাও নিহত হন। তাঁর মেয়ে ও নাতনি টেবিলের নিচে লুকিয়ে বেঁচে যান।
মিডল ইস্ট আইয়ের সঙ্গে কথা বলার দিন ড্যানিয়েলা গাজা নিয়ে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ’ লেখার জন্য ভোর ৫টা পর্যন্ত জেগে ছিলেন।
মিডল ইস্ট আইকে ড্যানিয়েলা বলেন, ‘আমি মাত্র দুই ঘণ্টা ঘুমিয়েছি। এর পর থেকেই রাজনীতির কাজে লেগে পড়েছি, জুমে মিটিং, আলোচনা। সকালেই তিন ঘণ্টা কেটে গেছে।’ তাঁর স্বামী আমনোন ওয়েইস একজন সফল ব্যবসায়ী। তিনি পোলিওতে আক্রান্ত এবং প্যারালিম্পিকে অংশ নেওয়া অ্যাথলেট।
ড্যানিয়েলার বাড়ি ‘আশ্চর্যজনকভাবে অভিজাত’ এবং তাঁরা স্পষ্টতই ধনী। তাঁর সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে অনুদান পেয়ে আসছে। ২০২৩ সালে প্রকাশ পায়, ৯৯ বছর বয়সী ধনী নারী লেয়া ড্যাঙ্কনার নাখালাকে প্রায় ২০ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছেন।
আইজাক রবিনের সরকার ছাড়া ইসরায়েলের প্রায় প্রতিটি সরকারই ইহুদি বসতি আন্দোলনকে সমর্থন করেছে। ১৯৯৫ সালে এক উগ্র ডানপন্থী ইসরায়েলির হাতে খুন হন রবিন। ওই ঘাতক একজন ইহুদি বসতি স্থাপনকারী ছিলেন।
আইজাক রবিন একবার পশ্চিম তীরের ইহুদি বসতি আন্দোলনকে ‘ক্যানসার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।
ড্যানিয়েলা বলেন, রবিন খুন হওয়ার পর তিনি ভেবেছিলেন, ‘ইতিহাস বদলে গেছে, তাঁর (রবিন) ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা থেমে গেছে, আর আমাদের জন্য নতুন যুগের সূচনা হয়েছে।’
বসতি আন্দোলন আন্তর্জাতিক পরিসরেও ইসরায়েলের জন্য ঝামেলা সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েলি কূটনীতিক অ্যালন পিংকাস বলেন, ‘পশ্চিম তীর ছিল অধিকৃত। জেনেভা সনদ অনুযায়ী যুদ্ধ করে দখল করা জমিতে আপনি বসতি গড়তে পারেন না।’
এই কূটনীতিক বলেন, ‘বসতিগুলো ইসরায়েলি আইনে অবৈধ ছিল, সেগুলো আমি কীভাবে সমর্থন করব? সেগুলোকে আধুনিক রাজনীতির ভাষায় নয়, বাইবেলের ভাষায় ব্যাখ্যা করা যায়। কিন্তু সেটা যুক্তিসংগত নয়।’
মিডল ইস্ট আইয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের পরদিন ড্যানিয়েলা তাঁর পরিকল্পিত বসতি প্রকল্পের জন্য জায়গা দেখতে আবার গাজায় যান।
পিস নাউয়ের হাগিত ওফরান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ড্যানিয়েলা সত্যিই গাজায় ঢুকতে প্রস্তুত। এ সরকারের আমলে তাঁর যোগাযোগ ও সমর্থন অনেক বেশি। তাঁর মতো উগ্রবাদী ইহুদির চিন্তায় যুদ্ধ মানে সুযোগ। যুদ্ধের পরই মুক্তি আসে। এটাই তাঁর বিশ্বাস।’
গোরেনবার্গ বলেন, ড্যানিয়েলা মূলধারার মানুষের মতামতের প্রতিনিধিত্ব করেন না। আর স্মোট্রিচ একটি ছোট, কিন্তু অতিমাত্রায় প্রভাবশালী বসতি সমর্থক গোষ্ঠীর নেতা।
তবে গোরেনবার্গ এটাও স্বীকার করেন, আজকের দিনে পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় চরমপন্থী, বিশেষ করে ডানপন্থী আন্দোলনকে অবহেলা করা ঠিক হবে না।
ড্যানিয়েলার কাছে গাজায় বসতি স্থাপন যেন পূর্বনির্ধারিত একটি বিষয়। এটি ‘জায়ন ফিরে আসার’ অংশ, যার মাধ্যমে ইহুদি জাতির সেই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার অবসান ঘটবে, যা আজ থেকে ২ হাজার ৫০০ বছর আগে খ্রিষ্টপূর্ব ষষ্ঠ শতকে ব্যাবিলনীয়দের হাতে নির্বাসনের পর শুরু হয়েছিল।
এই উগ্রবাদী ইহুদি নারী বলেন, ‘এটা ঘটবেই। হতে পারে এক বছরে, হতে পারে তিন বছরে, কিন্তু এটা ঘটবে। এটা শুরু হয়ে গেছে।’
![]() |
| ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের নেত্রী ড্যানিয়েলা ওয়েইস। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
একজোট ইউরোপ কি নেতানিয়াহুকে থামাতে পারবে by ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান
নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকারের গাজায় চালানো নৃশংসতা, এবং পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণে অব্যাহত আগ্রাসন—এগুলো এখন আর পশ্চিমাদের ভূরাজনৈতিক কৌশলের অংশ নয়। সম্প্রতি পশ্চিমা বিশ্বে যেসব পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে, তাতে এই বিষয়টা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশ ঘোষণা করেছেন। এর পাশাপাশি তিনি পশ্চিম তীরে সহিংসতায় জড়িত কিছু বসতি স্থাপনকারী ও সংগঠনের ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করেছেন।
যুক্তরাজ্যের পদাঙ্ক অনুসরণ করে, নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইসরায়েলের অংশীদারিত্ব চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান। এই আহ্বান ইউরোপীয় ইউনিয়নের বহু সদস্যরাষ্ট্র সমর্থন করে। তারা প্রকাশ্যে ইসরায়েলের আগ্রাসনের নিন্দা জানায়।
এই প্রক্রিয়ার পরিণতিতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পথও তৈরি হতে পারে। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী তো আরও এক ধাপ এগিয়ে গিয়ে ইসরায়েলকে সরাসরি ‘গণহত্যাকারী রাষ্ট্র’ বলে অভিহিত করেছেন।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে সফরে গিয়েছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিসহ একদল কূটনীতিক। ইসরায়েলি বাহিনী তাদের প্রতি ‘সতর্কীকরণ গুলি’ ছোড়ে। এই প্রতিনিধিদলটি সেখানে গিয়েছিল পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানের ধ্বংসযজ্ঞ সরেজমিনে দেখতে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী পরে বিষয়টি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করে জানায় যে কূটনৈতিক বহরটি অনুমোদিত পথ থেকে সরে গিয়েছিল। কিন্তু এই ঘটনার পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও কানাডা—দুই পক্ষই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এবং একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানায়। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও পরবর্তীতে তাঁর নির্ধারিত ইসরায়েল সফর স্থগিত করেন।
সব মিলিয়ে এই ঘটনাগুলো ইঙ্গিত করে যে, ইসরায়েলের গণহত্যামূলক নীতির প্রতি পশ্চিমা জগতের দৃঢ় সমর্থনে এখন পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।
কূটনৈতিক চাপে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনুরোধে ইসরায়েল সামান্য কিছু ত্রাণবাহী ট্রাক গাজার দিকে ঢুকতে দিয়েছে। তবে জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এই সরবরাহকে ‘সমুদ্রে একফোঁটা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
পশ্চিমা বিশ্বে সমর্থনের স্রোত ঘুরে যাওয়ার লক্ষণ এখন স্পষ্ট। তবু ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু তাঁর আগের রাজনীতি ও যুদ্ধাপরাধ থেকে একচুলও সরে আসেননি।
ওয়াশিংটন ডিসিতে গত ২১ মে ক্যাপিটল জিউইশ মিউজিয়ামের বাইরে গুলিতে ইসরায়েলি দূতাবাসের দুই কর্মী নিহত হন। এই ঘটনাটি চলমান পরিস্থিতিতে নতুন মোড় এনে দেয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের সঙ্গে সংহতি জানাতে বাধ্য হন। এই হামলার পরপরই নেতানিয়াহু ও তাঁর সরকার ইউরোপের সমালোচনাকেই এ ধরনের ‘অ্যান্টি-সেমেটিক’ অপরাধের উসকানিদাতা হিসেবে দায়ী করে।
নেতানিয়াহু সরাসরি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য এবং কানাডাকে অভিযুক্ত করে বলেন, তারা সন্ত্রাসীদের সাহস জুগিয়ে চলেছে। তাঁর ভাষায়, ‘তারা চায় ইসরায়েল মাথা নিচু করে মেনে নিক যে হামাসের গণহত্যাকারী বাহিনী টিকে থাকবে, পুনর্গঠিত হবে এবং ৭ অক্টোবরের হত্যাযজ্ঞ আবার ঘটাবে।’
এই ধরনের বক্তব্যে অবাক হওয়ার কিছু নেই। নেতানিয়াহু বারবার ইহুদি জনগণের দুর্দশা এবং ‘ইহুদি-বিরোধী’ সংক্রান্ত ব্যাখ্যাকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে চলেছেন। উদ্দেশ্য একটাই—একটি কর্তৃত্ববাদী ও বর্ণবাদী রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে নিজের দুর্বল অবস্থানকে জোরদার করা।
তাহলে প্রশ্ন হলো—কী তাকে টিকিয়ে রেখেছে, এবং কী তাকে থামাতে পারে?
প্রথমত, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি এখনও পর্যন্ত নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পারেনি। কারণ বিরোধীরা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে। তারা নেতানিয়াহুর জোট সরকারের ওপর তেমন কোনো বাস্তব চাপ সৃষ্টি করতে পারেনি।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর সাম্প্রতিক এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬১ শতাংশ ইসরায়েলি নাগরিক যুদ্ধ বন্ধ করে জিম্মিদের মুক্তি দেখতে চান। বিপরীতে, মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ চান যুদ্ধ আরও বাড়িয়ে গাজা দখল করা হোক।
এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেত। তিনি ডানপন্থী মতাদর্শ ও যুদ্ধ নিয়ে সাধারণ জনগণের হতাশার মাঝে ভারসাম্য বজায় রেখে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা তৈরি করতে চাইছেন।
অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলান সরাসরি ইসরায়েলের বর্ণবাদী ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এমন চলতে থাকলে ইসরায়েল এক সময়ের দক্ষিণ আফ্রিকার মতো একঘরে হয়ে পড়বে।’
ইসরায়েলের এক রাজনীতিকের মুখে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে তুলনা আসাটা ঐতিহাসিক ও নৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আজকের ইসরায়েলকে বহু গবেষক ও বিশ্বজুড়ে অধিকারকর্মীরা দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক বর্ণবাদী শাসনব্যবস্থার সঙ্গে তুলনা করছেন। ১৯৯৪ সালে সেই ব্যবস্থা অভ্যন্তরীণ প্রতিরোধ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং গণআন্দোলনের সম্মিলিত চাপে ভেঙে পড়েছিল।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করার আগেই দক্ষিণ আফ্রিকায় এই বর্ণবাদ দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে চলেছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শীতল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে, সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে তৎকালীন ট্রুম্যান প্রশাসন দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমর্থন দিয়েছিল। এই সমর্থন চলেছিল পরবর্তী বহু মার্কিন সরকারের আমলেও।
১৯৬০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার সাদা পুলিশের গুলিতে ৬৯ জন কৃষ্ণাঙ্গ বিক্ষোভকারী নিহত হন। তখন একটি বড় পরিবর্তন আসে। এই শার্পভিল হত্যাকাণ্ডের পরই জাতিসংঘ দক্ষিণ আফ্রিকার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ডাক দেয়। তখন নিরাপত্তা পরিষদের যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও যুক্তরাস্ট্রের মতো প্রভাবশালী দেশগুলো অনুধাবন করতে থাকে যে আফ্রিকা মহাদেশে উপনিবেশবাদবিরোধী সংগ্রামের বাস্তবতা উপেক্ষা করা যাবে না।
তবে এই আন্তর্জাতিক অবস্থান বদলের পেছনে সবচেয়ে বড় চালিকা শক্তি ছিল বিশেষ করে ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে গড়ে ওঠা তৃণমূল আন্দোলন। এসব আন্দোলনের চাপেই পশ্চিমা সরকারগুলো অবশেষে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য হয়।
১৯৮৬ সালে মার্কিন কংগ্রেস পাশ করে ‘কমপ্রিহেনসিভ অ্যান্টি-আপারথেইড অ্যাক্ট’। এর ফলে বহু আন্তর্জাতিক কর্পোরেশন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে নিজেদের ব্যবসা গুটিয়ে নেয়। দেশটির অর্থনীতি ভয়াবহ ধাক্কা খায়।
এই প্রেক্ষাপটে আমাদের মনে রাখতে হবে আজকের ইউরোপজুড়ে ফিলিস্তিন প্রশ্নে চলমান ঐতিহাসিক প্রতিবাদগুলোর কথা। বিশেষ করে গত ১৫ মে নাকবা দিবসে লন্ডনে যে বিপুল জনসমাগম হয়েছিল, তা ছিল নজিরবিহীন। দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাস থেকে শিখে আমরা আজকের ফিলিস্তিন আন্দোলনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক কৌশল—বর্জন, বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা। আন্দোলনের এই শক্তিকে এখন যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে হবে।
ইসরায়েলের প্রভাবশালী পত্রিকা হা’আরেতজ নেতানিয়াহুকে দক্ষিণ আফ্রিকার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী পিটার বোথার সঙ্গে তুলনা করেছে। বোথার কঠোর দমননীতি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদী শাসনকে টিকিয়ে রেখেছিল। ১৯৮৯ সালে বোথা পদত্যাগ করলে সেই শাসনব্যবস্থার ভাঙ্গন ত্বরান্বিত হয়।
আজ স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা আন্দোলনের সামনে এক বিশাল বাধা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছেন। তিনটি স্তম্ভকে ভর করে তাঁর ক্ষমতা টিকে আছে। তাঁকে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের অবশ্যই সেগুলো চিনে নিতে হবে। পরিকল্পিতভাবে সেই স্তম্ভগুলো ভেঙে ফেলার দীর্ঘ লড়াইকে পরিচালনা করতে হবে।
প্রথমত, ইসরায়েলের মধ্যে শক্তিশালী বিরোধিতা এবং নতুন নেতৃত্বের উদ্ভব খুবই জরুরি। এই নতুন নেতৃত্ব অন্তত ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নকে রাষ্ট্রীয় কৌশল হিসেবে ব্যবহার করবে না। এমন একটি নেতৃত্বই কেবল ইসরায়েলের বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা পুনরুদ্ধারের পথে এগোতে পারে।
দ্বিতীয়ত, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে বিরোধিতার শিথিলতা। এই শিথিলতাই নেতানিয়াহুর অপরাধমূলক পদক্ষেপগুলোকে টিকে থাকার প্রধান রসদ জোগায়। যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইসরায়েলকে অস্ত্র সরবরাহ অব্যাহত রেখেছে। এর ফলে নেতানিয়াহুর দমননীতি দিন দিন আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।
তৃতীয়ত, ইউরোপীয় দেশগুলো, আঞ্চলিক শক্তিগুলো বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চাপ। এই তিনের সম্মিলিত প্রভাবও গত কয়েক দশকে নেতানিয়াহু বা তাঁর পূর্বসূরিদের যুদ্ধনীতি পরিবর্তনে কার্যকর কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি। কেবল গাজায় নয়, ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা যত যুদ্ধ করেছে, তার প্রতিটির পেছনেই এই আন্তর্জাতিক চাপ ছিল প্রায় নিষ্ফলা।
এই তিনটি স্তম্ভ—ইসরায়েলের ভেতরের নেতৃত্ব সংকট, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক চাপের ব্যর্থতা—এই তিনের ওপর ভর করেই নেতানিয়াহু দাঁড়িয়ে আছেন। একের পর এক বিশ্বজনমতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গাজায় দখল ও ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর নতুন যুদ্ধ পরিকল্পনা, ‘অপারেশন গিদেওন চারিয়টস,’ এই তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই অগ্রসর হচ্ছে।
সম্প্রতি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এই বিবৃতিতে সই করেন। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়—যদি ইসরায়েল যুদ্ধ বন্ধ না করে, তবে তারা ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি বিবেচনা করবে।
কিন্তু এখন পর্যন্ত এই ধরনের হুঁশিয়ারি কিংবা আগের সমর্থনের কোনো প্রত্যাহারই নেতানিয়াহুর নীতিতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারেনি।
এই প্রেক্ষাপটে আসন্ন ‘সৌদি-ফরাসি প্যালেস্টাইন সম্মেলন’ নতুন এক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিতে পারে। জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এই সম্মেলন আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর উদ্দেশ্য—প্যালেস্টাইনি রাষ্ট্র গঠনের প্রশ্নে বহুপক্ষীয় সংলাপ ও কূটনৈতিক চাপকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং গাজা সংকট মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াগুলোকে সমন্বিত করা।
ফ্রান্স ইতোমধ্যে ইঙ্গিত দিয়েছে যে তারা ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার পথে এগোতে পারে। যুক্তরাজ্যও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছে, যদিও বেশ হালকাভাবে। এরই মধ্যে ইউরোপজুড়ে ফিলিস্তিনপন্থী তৃণমূল আন্দোলন এবং ইসরায়েলবিরোধী জনমত দিন দিন বাড়ছে। ফলে ভূ-রাজনীতির খাতিরে ইউরোপীয় দেশগুলোর পক্ষে নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন সরকারকে আর সমর্থন করা হয়তো আগের মতো সহজ নয়।
তবে এই পাশা খেলাতে শেষ পর্যন্ত কে জিতবে তা এখনও বলা সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া, ইসরায়েলের অর্থনীতি বাণিজ্যিকভাবে বিপর্যস্ত করা এবং যুক্তরাষ্ট্র পুরোপুরি অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার পরই সে সম্পর্কে মন্তব্য করা যাবে।
* ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত
- ইংরেজি থেকে অনুবাদ জাভেদ হুসেন
![]() |
| সম্প্রতি ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও কানাডা এক যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রতি গাজায় যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1353)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
May
(344)
-
►
May 30
(8)
- পশ্চিম তীরে আরও ২২টি বসতি স্থাপনের ঘোষণা ইসরায়েলের...
- যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গাজায় হত্যাকাণ...
- যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের কীভাবে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার...
- সিএনএনকে সাক্ষাৎকার: এটা যদি যুদ্ধাপরাধ না হয়, তবে...
- গাজায় ক্ষুধার্ত মানুষের ঢল, গুলি, নিহত ২
- প্রজেক্ট এসথার: যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবাদ রক্ষায় রহস্...
- এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি: অস্ত্র ক্রয় ...
- দূরনিয়ন্ত্রিত সেক্স রোবট: পাল্টে দেবে জীবনধারা!
-
►
May 30
(8)
-
▼
May
(344)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)








