Monday, December 27, 2010

নো ইভ টিজিং ও সাম্প্রতিক কথাবার্তা by ফরিদা আখতার

আমি বেশ কিছুদিন ধরেই ভাবছি, ইভ টিজিং নিয়ে লিখব। প্রতিদিনের ঘটনা যা চারদিকে ঘটছে, তা আমাকে খুব কষ্ট দিচ্ছে, কিন্তু লিখতে গিয়ে এগোতে পারছি না। ভেবে কূল পাচ্ছি না, কেন ছেলেরা মেয়েদের এমন করে উত্ত্যক্ত করছে, আর মেয়েরাই বা কেন নিজের জীবন কেড়ে নিচ্ছে। নারী নির্যাতন এমনকি উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি নতুন কিছু না হওয়া সত্ত্বেও কেন এই উদ্বেগজনক পরিস্থিতি? ব্যর্থতার গ্লানিতে ভুগছি।
বিষয়টি নিয়ে কেন লিখতে বসেছি, তার একটি কারণ আছে। সেদিন গাড়িতে করে যাচ্ছিলাম, যানজট লেগে আছে। দেখি, সামনের যাত্রীবাহী বাসের পেছনে লেখা রয়েছে, ‘No ইভ টিজিং’। প্রথমে কিছু মনে হয়নি, স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছি। কিন্তু যানজটের সময় বেশি হওয়ার কারণে আমার চোখ বারবার সে লেখার ওপর আছড়ে পড়তে লাগল। খেয়াল করলাম, কথা পুরোটাই ইংরেজি হলেও লেখা হয়েছে অর্ধেক ইংরেজি অক্ষরে ‘No’ আর অর্ধেক বাংলা অক্ষরে ‘ইভ টিজিং’। এবার আমার ভ্রু কুঁচকাল। এ কাজটি খুবই সৎ উদ্দেশ্যে করা হয়েছে। বলা যায়, বাসের মালিক সচেতন মানুষ। তিনি বা তাঁর সহকর্মীরা ইভ টিজিং রুখতে চান, তাই এটা লিখেছেন। তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। কিন্তু কেন দুই রকম ভাষার অক্ষর ব্যবহার করা হলো, এ কৌতূহল আমার হচ্ছে। তাই একটু ব্যাখ্যার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশে সাক্ষরতার হার এবং বিশেষ করে ইংরেজি জানার হার কত কম, তা জানা সত্ত্বেও এভাবে সচেতন করার চেষ্টার পেছনে কী কারণ থাকতে পারে?
এ বছরের শুরু থেকেই দেখছি, স্কুলগামী মেয়েদের এলাকার ছেলেরা উত্ত্যক্ত করছে এবং এতে বেশ কিছু মেয়ে সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। খবর হিসেবে গুরুত্ব পাওয়া শুরু করল তখন থেকেই। ভালো কথা। কিন্তু কে বা কারা এ ঘটনাকে ইভ টিজিং নামকরণ করল, তা আমি খুঁজে দেখতে চাই। আমি ইংরেজি স্কুলে পড়ে এমন একটি ছেলের কাছে জানতে চেয়েছিলাম, ইভ টিজিং কী? সে একটু হেসে বলল, মনে হয় মেয়েদের উত্ত্যক্ত করা। কিন্তু ইভ কী? সোজা উত্তর, সে জানে না। আবার বললাম, উত্ত্যক্ত করার অর্থ কী? তখন তার কাছে এই বাংলা অনেক কঠিন মনে হলো, জানি না। কিন্তু টিজ মানে বোঝো অবশ্যই। বলল, বিরক্ত করা আর কি। অর্থাৎ ইভ বোঝে না, কিন্তু টিজ বোঝে। আত্মহত্যার ঘটনার ছবি দেখে বোঝে এই ইভ টিজিংয়ের শিকার হচ্ছে মেয়েরা।
আমি শুরু থেকেই জানার চেষ্টা করেছি, ইভ টিজিং কথাটি কোত্থেকে এল। আমি জানি, ইভ টিজিং নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে। সব লেখা আমি পড়িনি। কাজেই কেউ যদি এর মধ্যে এ বিষয়ে আলোকপাত করে থাকেন, পুনরাবৃত্তির জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। অর্থ খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই অবাক হয়েছি, এ শব্দ ব্যবহার ইউরোপ-আমেরিকার মতো খ্রিষ্টধর্মপ্রধান ও ইংরেজি ভাষার ব্যবহারকারী কোনো দেশে নয়, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশেই ব্যবহূত হচ্ছে। উইকিপিডিয়ায় বলা হচ্ছে ইন্ডিয়ান ইংলিশ। মেয়েদের প্রতি পথে-ঘাটে যৌন হয়রানিমূলক উক্তিকেই ইভ টিজিং বলে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। এ কথার সঙ্গে শুধু উক্তির সম্পর্ক, কোনো শারীরিক আক্রমণ ধরা হচ্ছে না। মেয়েদের স্কুল বা কলেজের সামনে অল্প বয়সী ছেলেদের অপরাধের মধ্যে ইভ টিজিং যুক্ত হয়েছে। তারা ইভদের টিজ করে, কিন্তু তারা অ্যাডাম নয়, তারা রোমিওর মতো আচরণ করে। ভারতের নারীবাদীরা এ ধরনের ঘটনাকে ইভ টিজিং না বলার কথাও অনেকবার বলেছেন। ভারতে দীর্ঘদিন ধরে, ১৯৬০ সাল থেকেই মেয়েদের ওপর এ ধরনের উত্ত্যক্তকরণ চলছে, বিশেষ করে যখন থেকে মেয়েদের লেখাপড়া বেড়ে গেছে, একা চলাফেরা করছে, চাকরি করছে, তখন থেকেই এই বিরক্তি তারা সহ্য করে আসছে। বাংলাদেশে পোশাক কারখানার মেয়েরা বলে, ‘আহা, আমরা তো এই বিরক্তি সহ্য করতে করতে নিজেরাই নিজেদের রক্ষার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের বেলায় বলা হয় মাস্তান, স্কুলের মেয়েদের বেলায় বখাটে—এরা কী সব এক নয়? আমাদের বেলায় কারও উদ্বেগ দেখি না কেন?’
সাম্প্রতিককালে, ২০০৭ সালে ইভ টিজিং কথাটি পরিচিতি পেয়েছে দিল্লির একজন কলেজপড়ুয়া মেয়ে পার্ল গুপ্তার মৃত্যুর কারণে। এর আগে ১৯৯৮ সালে চেন্নাইয়ে শারিকা শাহ আত্মহত্যা করেছিল। পরপর প্রায় আধা ডজন মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। ঢাকা শহরে পিংকীর আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে ২০১০ সালের ১৯ জানুয়ারি। মুরাদ নামে এলাকার স্থানীয় বখাটে ছেলের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে পিংকী আত্মহত্যা করেছিল। তারপর আরও বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছিল, পত্রিকায় বখাটের অত্যাচার কিংবা উৎপাতের কথা ছিল, কিন্তু ইভ টিজিং হিসেবে বলা হয়নি। এরপর একে একে অনেক মেয়ে নিজের প্রাণ দিয়েছে। হত্যা করা হয়েছে মেয়ের মা-বাবাকেও। প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন স্কুলশিক্ষক ও একটি মেয়ের মা। কখন একফাঁকে ইভ টিজিং শিরোনাম হতে শুরু করল, তা খতিয়ে না দেখে সবাই ইভ টিজিং বলতে শুরু করল। এমনকি আইন পর্যন্ত হয়ে গেল। ভ্রাম্যমাণ আদালত এখন ‘বখাটেদের’ দণ্ড দিতেও শুরু করেছেন। এটা সমাধান কি না, জানি না। ইংরেজির প্রাধান্য শুধু ঘটনা ব্যাখ্যায় নয়, এর প্রতিকারের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে। যেমন—মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শিরীন শারমিন চৌধুরী বিবিসির এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ইভ টিজিংয়ের ব্যাপারে সরকারের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে যে ভাষা জর্জ বুশ ব্যবহার করেছিলেন, তেমন ভাষা শুনে আমি চমকে উঠেছিলাম। সাধারণ মানুষ জিরো টলারেন্স (বাংলায় কী বলা হচ্ছে, জানি না) বোঝে কি না, জানি না। এটা শুধু শব্দের অর্থ বোঝা নয়, এর সঙ্গে জড়িত আন্তর্জাতিক রাজনীতিও বুঝতে হবে। কিন্তু বাংলাদেশের সব ছেলেই কি বখাটে? তাহলে জিরো টলারেন্স নীতিতে আসলে কাদের ধরা হবে?
যা হোক, এখন ভ্রাম্যমাণ আদালত অনেক বখাটেকে শাস্তি দিচ্ছেন, কিন্তু সবাই দোষী কি না, তার প্রমাণ কে করছে? সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সেলিনা বাহার জামানের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, নারী নির্যাতন রোধ আইনের সুযোগে দেশে একদিকে বহু মিথ্যা মামলা হচ্ছে, অন্যদিকে সত্য মামলা সঠিক তদন্তের অভাবে এবং আইনের মারপ্যাঁচে টিকছে না। এ অবস্থায় শুধু নারী নন, নারী-পুরুষনির্বিশেষে সবাই এক নির্যাতনমূলক নৈরাজ্যের দুর্ভাবনায় দিশেহারা (প্রথম আলো, ৪ ডিসেম্বর, ২০১০)। দীর্ঘদিন নারী আন্দোলনের ফসল নারী নির্যাতন নিরোধের আইন যদি অপব্যবহূত হয়, তাহলে ইভ টিজিং-বিরোধী আইন নিরপরাধ অল্প বয়সী ছেলেদের জন্য এক ভীতিকর পরিস্থিতির যেন সৃষ্টি না করে, তা-ই আশা করছি। আবার যে মেয়েরা এখন নানা ধরনের আক্রমণের শিকার হচ্ছে, তাদের নিরাপত্তা দিতে যেন সরকার ও সমাজ ব্যর্থ না হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনও আইনের কথা যেমন বলেছেন, তেমনি মিথ্যা মামলার জন্য কঠোর শাস্তির কথা বলে দিয়েছেন।
শেষে বলব, আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইভ টিজিং প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে খুব বাজেভাবে। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেত্রী নারী হওয়ার কারণে উভয় পক্ষের রাজনৈতিক নেতারা যেসব উক্তি করেন, তা ইভ টিজিংকেও হার মানায়। বিরোধীদলীয় নেত্রীর বাড়ি ছাড়ার পর সরকারদলীয় একজন শীর্ষস্থানীয় নেতা পরিষ্কার বলে দিলেন, উনি কেঁদেছেন, কিন্তু তাঁর লিপস্টিক ঠিক ছিল ইত্যাদি। শুনে আমি লজ্জা পেয়েছি। এই পরিস্থিতি বদলাতে হবে, অবশ্যই।
ফরিদা আখতার: নারীনেত্রী, উন্নয়নকর্মী।

নজরদারি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে ইরান

শত্রুর গতিবিধির ওপর নজরদারির লক্ষ্যে কয়েক মাসের মধ্যে ‘ফজ্র’ নামে একটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে ইরান। গতকাল শনিবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আহমাদ ভাহিদির বরাত দিয়ে প্রকাশিত ইরানি বার্তা সংস্থা ইরনার প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়।ভাহিদি বলেন, একই সময় ইরান মহাশূন্যে রাসাদ-১ (পর্যবেক্ষণ) নামে আরেকটি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে।প্রতিরক্ষামন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরান বিভিন্ন স্যাটেলাইট তৈরি করছে। ইরানি বছরের (মার্চ, ২০১১) শেষ নাগাদ ফজ্র ও রাসাদ উৎক্ষেপণ করা হবে। ফজ্র চলবে সৌরশক্তিতে।

সৌদি আরবে নারীদের জন্য কল সেন্টার

সৌদি আরবে এই প্রথম কেবল নারীদের জন্য টেলিফোন কল সেন্টার চালু করা হয়েছে। সেখানে নারীরা কাজ করছেন। ক্যানো ট্রাভেল নামে একটি প্রতিষ্ঠান এ উদ্যোগ নিয়েছে। আরব নিউজের বরাত দিয়ে সিনহুয়া এ তথ্য জানিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে শীর্ষস্থানীয় ট্রাভেল কোম্পানি ক্যানো ট্রাভেলের পরিচালক আলী আবদুল্লাহ ক্যানো জানিয়েছেন, টেলিফোনসেবা দিতে ২০ জন নারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। গ্রাহকেরা ইতিমধ্যে ওই কল সেন্টারের সেবায় মুগ্ধ। এতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে।
সৌদি আরবের মোট লোকসংখ্যা এক কোটি ৮৫ লাখ। তাদের মধ্যে অন্তত ৯০ লাখই নারী। দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে নারীদের কেবল মেয়েদের স্কুলে পড়ানোর অনুমতি ছিল। সম্প্রতি নারীদের চিকিৎসাসহ কয়েকটি পেশায় কাজ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি ইকুয়েডরের

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ইকুয়েডর। দেশটির প্রেসিডেন্ট রাফায়েল কোরেয়া গত শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতিপত্রে সই করেন। এর আগে বলিভিয়া, ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়।ইকুয়েডরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইকুয়েডরের সরকার ১৯৬৭ সালের সীমানা অনুযায়ী ফিলিস্তিনকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, একটি স্বাধীন দেশ প্রতিষ্ঠার জন্য ফিলিস্তিনি জনগণের দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে এ স্বীকৃতি দেওয়া হলো। ইকুয়েডর মনে করে, এতে ফিলিস্তিনের সংকট নিরসন হবে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরে আসবে। মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানিয়েছে, ইকুয়েডরের এ আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতিপত্র ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও জাতিসংঘে ফিলিস্তিনি প্রতিনিধির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।এ মাসের শুরুর দিকে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা ও উরুগুয়ে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়।

ক্ষমতা না ছাড়লে বাগবোকে জোর করে সরানো হবে

ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা আইভরি কোস্টের প্রেসিডেন্ট লঅন্ত বাগবো আপসে সরে না দাঁড়ালে তাঁকে জোর করে সরিয়ে দেওয়া হবে। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর আঞ্চলিক সংগঠন ইকোয়াসের নেতারা। নাইজেরিয়ার রাজধানী আবুজায় জরুরি শীর্ষ বৈঠকে আইভরি কোস্টের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার পর সদস্য দেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানেরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ ব্যাপারে বাগবোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার জন্য ইকোয়াসের একটি প্রতিনিধিদলের গতকাল শনিবার আইভরি কোস্টে যাওয়ার কথা। গত ২৮ নভেম্বর অনুষ্ঠিত সে দেশের বিতর্কিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিরোধীদলীয় নেতা আলাসেন ওয়েতাহাকে জয়ী বলে স্বীকৃতি দিয়েছে ইকোয়াস। জাতিসংঘসহ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংগঠনও ওয়েতাহাকে সমর্থন দিয়েছে। সেনাবাহিনীর সমর্থন নিয়ে বাগবো ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। ওয়েতাহা এর মধ্যে বাগবোর পাশ থেকে সরে আসতে সেনাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আবুজায় শীর্ষ বৈঠকের পর পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলোর নেতারা এক বিবৃতিতে বলেন, বাগবো যাতে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা ত্যাগ করেন, এ ব্যাপারে তাঁকে বোঝাতে এটাই হচ্ছে তাঁদের শেষ চেষ্টা। সহিংস ঘটনা ক্রমে বাড়তে থাকায় আইভরি কোস্টে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন নেতারা। তাঁরা বলেন, ভাড়াটে সেনাদের দিয়ে নৃশংস ঘটনা ঘটানোর ফলে সে দেশে এক দিকে যেমন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ছে, অন্য দিকে তেমনি বাড়ছে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাগবো যদি তাঁদের কথা না শোনেন, তাহলে আইভরি কোস্টের জনগণের স্বার্থে তাঁরা একটিই ব্যবস্থা নেবেন। তা হচ্ছে—বৈধভাবে বল প্রয়োগ।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, সে দেশের ব্যাপারে ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নির্ধারণে সদস্য দেশগুলোর সেনাপ্রধানদের নিয়ে একটি বৈঠক করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আইভরি কোস্টের সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনাগুলো নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন পশ্চিম আফ্রিকার নেতারা। এ ব্যাপারে তাঁরা বলেন, এসব ঘটনার জন্য যারা দায়ী, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অপরাধে শিগগিরই তাদের আন্তর্জাতিক আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। জাতিসংঘের মহাসচিব এর মধ্যে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আইভরি কোস্টের পরিস্থিতি দিন দিন যেভাবে অবনতির দিকে যাচ্ছে, এতে সে দেশে ২০০২ সালের মতো গৃহযুদ্ধ শুরু হতে পারে।
এ মাসের শুরুর দিকে ইকোয়াসের অপর এক জরুরি বৈঠকে আইভরি কোস্টকে সংগঠন থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। একই সঙ্গে বাগবোকে পদত্যাগের আহ্বান জানানো হয়।

ফিলিপাইন ও নাইজেরিয়ায় গির্জায় হামলা, নিহত ১৪

বড়দিনের উৎসবে নাইজেরিয়া ও ফিলিপাইনে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উপাসনালয় গির্জায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের নেতারা এ ঘৃণ্য ঘটনার নিন্দা জানিয়ে শান্তি ও সহাবস্থানের আহ্বান জানিয়েছেন।
বড়দিনের আগের দিন গত শুক্রবার রাতে নাইজেরিয়ার জশ শহরে একটি গির্জায় বোমা হামলায় আটজন নিহত ও আটজন আহত হয়। গতকাল শনিবার মাইদুগুরি শহরে তিনটি গির্জায় চালানো বোমা হামলায় ছয়জন নিহত হয়।
এ দুটি হামলার সঙ্গেই কে বা কারা জড়িত সে সম্পর্কে পুলিশ কিছুই জানাতে পারেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান এসআইটিই বলেছে, আত্মস্বীকৃত একজন মুসলিম যোদ্ধা অডিওবার্তায় বড়দিনের উৎসবে হামলা চালানোর হুমকি দেওয়ার পরপরই এসব হামলার ঘটনা ঘটেছে।
এদিকে ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় একটি গির্জায় গতকাল শনিবার বোমা হামলা চালানো হয়েছে। এতে গির্জার যাজকসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। আবু সায়াফ জঙ্গিগোষ্ঠীর অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত জলো দ্বীপে সংঘটিত এ হামলার সঙ্গে কে বা কারা জড়িত সে সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানা যায়নি। তবে আবু সায়াফের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন আল-কায়েদার সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দেশটির সামরিক মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট র‌্যানডল্ফ কাবাংবাং বলেছেন, বড়দিনের উৎসব চলাকালে সকাল সাতটা ১৫ মিনিটে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ছয়জন আহত হয়েছে। তিনি বলেন, আবু সায়াফ জঙ্গিগোষ্ঠী এ হামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। কেননা, তারা ক্যাথলিক গির্জায় একইভাবে অতীতেও হামলা চালিয়েছে।
আল-কায়েদার হুমকি সত্ত্বেও ইরাকের রাজধানী বাগদাদের সেন্ট যোসেফ গির্জায় গতকাল প্রায় ৪০ জন ভক্ত উপস্থিত হন। গির্জার প্রধান যাজক ফাদার সাদ সিরপ হান্না বলেছেন, ‘ভয় পেয়ো না...আজ সেটাই হলো আমাদের বার্তা।’
এসব হামলা ও হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে নির্যাতনকারীদের শাস্তি চেয়ে ও মানুষের মধ্যে সত্যিকারের ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার আহ্বান জানিয়ে প্রার্থনা করেছেন পোপ ষোড়শ বেনেডিক্ট। বড়দিন উপলক্ষে রোমে দেওয়া এক ভাষণে পোপ এ প্রার্থনা করেছেন।
ব্রিটেনে আর্চবিশপ রোয়ান উইলিয়ামস বিশ্বের যেসব মানুষ খ্রিষ্টধর্মে বিশ্বাসের কারণে নির্যাতনের শিকার, তাঁদের স্মরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘যাঁরা আজ নির্যাতিত, তাঁদের প্রতি আমরা সহমর্মিতা অনুভব করতে পারি। এ রকম পরিস্থিতিতে নির্যাতিত লোকজন অন্তত এটা জেনে নিজেদের শক্তিশালী ভাবার সুযোগ পাবেন যে তাঁদের আমরা ভুলিনি।

বেশির ভাগ সুইডিশ রাজার পদত্যাগ চান

সুইডেনের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ নাগরিক চান, সে দেশের রাজা কার্ল ষোড়শ গুস্তাভ সিংহাসন ত্যাগ করুন এবং তাঁর বড় মেয়ে প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়াকে সিংহাসনে আরোহণের সুযোগ করে দিন। আফটনব্লাডেট পত্রিকার জনমত জরিপে এ তথ্য মিলেছে। জরিপের ফল গতকাল শনিবার প্রকাশ করা হয়েছে।
পত্রিকাটি সে দেশের এক হাজার নাগরিকের মত জরিপ করে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৩ শতাংশ নাগরিক মনে করেন, রাজার উচিত, আগামী ১০ বছরের মধ্যে পদত্যাগ করা এবং তাঁর ৩৩ বছর বয়সী প্রিন্সেসকে সিংহাসনে আরোহণের পথ ছেড়ে দেওয়া। ৩০ শতাংশ মনে করেন, মৃত্যুর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত রাজার সিংহাসন ত্যাগ করা ঠিক হবে না। সাত শতাংশ এ ব্যাপারে কোনো মতামত দেননি।
রাজার আত্মজীবনী প্রকাশের পর এ জনমত জরিপ চালানো হয়। আত্মজীবনীতে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী ক্যামিলা হেনেমার্কসহ কয়েকজন তরুণীর সঙ্গে রাজার প্রণয়ের নানা কাহিনি প্রকাশ পায়।
৬৪ বছর বয়সী রাজা ১৯৭৩ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৭ বছর।
রিয়েলিটি টিভি তারকার সঙ্গে প্রিন্স কার্ল ফিলিপের প্রণয় কাহিনিসহ রাজপরিবারের সদস্যদের নিয়ে নানা খবর গত কয়েক মাসে গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়।
রাজা কার্ল ও রানি সিলভিয়ার ধরে প্রিন্সেস ভিক্টোরিয়া গত গ্রীষ্মে তাঁর সাবেক শারীরিক প্রশিক্ষককে বিয়ে করেন। জনমত জরিপের ফলে দেখা যায়, রাজপরিবারের সদস্যদের মধ্যে ভিক্টোরিয়াই সবচেয়ে জনপ্রিয়।

আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্ক যৌথ সামরিক মহড়া চালাবে

আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও তুরস্ক আগামী বছরের এপ্রিলে যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজন করবে। গত শুক্রবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে ত্রিদেশীয় আলোচনায় ওই তিন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরা এ ব্যাপারে একমত হয়েছেন।
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে ইসলামি জঙ্গিদের দমনে পারস্পরিক সহায়তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তুরস্ক ওই দুই দেশকে নিয়ে আলোচনার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। আলোচনায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ও আফগান প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই যোগ দেন।
আলোচনার পর একটি টেলিভিশন চ্যানেলে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ গুল বলেন, ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২০১১ সালের এপ্রিল মাসে যৌথ সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ‘ইস্তাম্বুলের আলোচনাকে সামনে রেখে তিন দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তারা পৃথক বৈঠক করেছেন। আলোচনা ফলপ্রসূ হওয়ায় আমরা আনন্দিত।’ তবে সামরিক মহড়ার পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।
প্রেসিডেন্ট আবদুল্লাহ জানান, উচ্চপর্যায়ের সামরিক কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিশেষজ্ঞদের মধ্যকার এ আলোচনা সন্ত্রাস ও মৌলবাদবিরোধী অভিযানে ব্যাপক অবদান রাখবে। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা একটি সফল মহড়ার প্রতীক্ষায় আছি, যা আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডকে প্রসারিত করবে।’ আলোচনার পর একটি যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, আগামী ১৯ থেকে ২৭ মার্চ ইস্তাম্বুলে ত্রিপক্ষীয় সামরিক মহড়া অনুষ্ঠিত হবে।
তালেবান বিদ্রোহীরা পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকা থেকে পাশ্চাত্য-সমর্থিত আফগান সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চালিয়ে আসছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তারা আশির দশকে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত বাহিনীকে বিতাড়িত করার জন্য যেভাবে তালেবান সৃষ্টি করেছিল, সেই প্রক্রিয়া তারা অব্যাহত রেখেছে।

পাকিস্তানের আইপিএল-প্রত্যাশা

আইপিএলের গত দুই আসরে খেলতে পারেননি পাকিস্তানি কোনো ক্রিকেটার। এবারও খেলার সম্ভাবনা নেই। কারণ, নিলামে কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের নাম নেই। ক্রিকেটের বেশির ভাগ তারকা যখন মিলিয়ন ডলারের এই টুর্নামেন্টে খেলে বেশ কামিয়ে নিচ্ছেন, শহীদ আফ্রিদিদের মতো তারকারা স্রেফ দর্শক হয়ে বসে থাকছেন।
এরই মধ্যে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অবশ্য একটি উদ্যোগ নিয়েছে। ২০১১ আইপিএলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের নিতে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) চিঠি দিয়েছে পিসিবি। পিসিবির প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) সুবহান আহমেদ জানিয়েছেন, ‘আমরা ভারতীয় বোর্ডকে লিখিতভাবে জানিয়েছি, আইপিএলে আমাদের কোনো খেলোয়াড়কে নেওয়া হলে তাঁকে আমরা অনাপত্তিপত্র দিয়ে দেব। আমরা চাই পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা এখানে খেলুক। এটাই আমাদের অবস্থান। তবে এ ব্যাপারে ভারতীয় বোর্ডের সঙ্গেও কথা বলতে হবে।’
২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি হয়। তখন থেকে পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটীয় সম্পর্কও ছিন্ন করে ভারত। ক্রিকেটারদের খেলার ছাড়পত্র পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় থাকায় আইপিএলের প্রথম আসরে খেলা ১১ পাকিস্তানি ক্রিকেটারকে ছেড়ে দেয় তাদের দলগুলো।
দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নতি না হওয়ায় এবারের নিলামেও কোনো পাকিস্তানি খেলোয়াড়ের নাম ওঠেনি। তবে পিসিবি দেরিতে হলেও একটা কূটনৈতিক প্রচেষ্টা শুরু করল। যদিও শুধু এক বোর্ডের অনাপত্তিই যথেষ্ট নয়। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকেও দিতে হবে ছাড়পত্র। তাহলেই অংশ নিতে পারবেন আফ্রিদিরা। বিসিসিআই অবশ্য এ ব্যাপারে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

পাকিস্তানের বিপক্ষে নিউজিল্যান্ডের জয়

অবশেষে নিউজিল্যান্ড একটি জয় পেল। জয়টা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে হলেও এই মুহূর্তে তা ছিল কিউই ক্রিকেটের জন্য বহু প্রার্থিত, বহু কাঙ্ক্ষিত। তার পরও এই জয় পাকিস্তানের বিপক্ষে আসায় তা ফিরিয়ে দিয়েছে হারানো আত্মবিশ্বাস।
জয়ের পাশাপাশি আরেকটি বিষয় নিউজিল্যান্ডের আনন্দের মাত্রা বাড়িয়েছে বহুগুণ। টিম সাউদি দ্বিতীয় নিউজিল্যান্ড বোলার হিসেবে আজকের ম্যাচে তুলে নিয়েছেন হ্যাটট্রিক। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত ইতিহাসে এটি ছিল তৃতীয় হ্যাটট্রিক।পাকিস্তানের নিউজিল্যান্ড সফরের প্রথম ম্যাচ ছিল আজ। টসে জিতে নিউজিল্যান্ডের বদলি অধিনায়ক রস টেইলর প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন। ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের শুরুটা একেবারেই মন্দ ছিল না। প্রথম উইকেট জুটিতে শহিদ আফ্রিদি ও মোহাম্মদ হাফিজ ৩.৬ ওভারেই ৩৭ রান তুলে নেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে প্রথম আঘাত হানেন কাইল মিলস। তাঁর বলে আফ্রিদি ধরা পড়েন সাউদির হাতে। এরপর ৫৮ রানে পড়ে দ্বিতীয় উইকেট। আহমেদ শেহজাদ আউট হন সাউদির বলে। দলীয় ৬২ রানের মাথায় বিপর্যয় নেমে আসে পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনে। টিম সাউদি এ সময়ই নিজের হ্যাটট্রিক পূরণ করেন ইউনুস খান, মোহাম্মদ হাফিজ ও উমর আকমলকে আউট করে। ৬২-২ থেকে পাকিস্তান পরিণত হয় ৬২-৫ এ। এরপর আবদুল রাজ্জাক ৬৮ ও ফাওয়াদ আলম ৮৪ রানে আউট হয়ে গেলে ম্যাচ থেকে এক প্রকার ছিটকে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের শেষ দিকে বোলার উমর গুলের ৩১ বলে ৩০ আর ওয়াহাব রিয়াজের ২১ বলে ৩০ পাকিস্তানকে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে উদ্ধার করে নিয়ে যায় সম্মানজনক সংগ্রহের পথে। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সাউদি ১৮ রানে নেন ৫ উইকেট। এর পাশাপাশি কাইল মিলসের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেট, ৩৭ রানের খরচায়। সব মিলিয়ে পাকিস্তান স্কোরবোর্ডে দাঁড় করায় ৯ উইকেটে ১৪৩ রান।
জয়ের জন্য ১৪৪ রানের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে খেলতে নেমে গাপটিলের ৫৪ রান নিউজিল্যান্ডের জয়ের রাস্তা পরিষ্কার করে দেয়। এর পাশাপাশি রস টেইলরের অপরাজিত ৩৯ ও জেমস ফ্রাঙ্কলিনের ১৯ নিউজিল্যান্ডকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যায়। পাকিস্তানের পক্ষে স্পিডস্টার শোয়েব আকতার ৩৮ রানে ৩ উইকেট নিলেও দলের পরাজয় ঠেকাতে পারেননি। মোহাম্মদ হাফিজ নেন ১ উইকেট।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১৪৩/৯ (২০ ওভার)
উমর গুল ৩০, ওয়াহাব রিয়াজ ৩০*
সাউদি ৫/১৮, মিলস ৩/৩৭
নিউজিল্যান্ড ১৪৬/৫ (১৭.১ ওভার)
গাপটিল ৫৪, রস টেইলর ৩৯*
নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে জয়ী

ম্যানইউ, ম্যানসিটির জয়

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে প্রত্যাশিত জয় পেয়েছে ম্যানইউ ও ম্যানসিটি। আজ রোববার রাতের খেলায় ম্যানইউ ২-০ গোলে সান্ডারল্যান্ডকে ও ম্যানসিটি ৩-১ গোলে নিউক্যাসলকে হারায়।
অপর খেলায় স্টোক ২-০ গোলে ব্ল্যাকবার্নকে, বোল্টন একই ব্যবধানে ওয়েস্টব্রমকে ও উইগান ২-১ গোলে উলভসকে হারায়। এর আগে ফুলহামকে ৩-১ গোলে হারায় ওয়েস্টহাম।

আন্তর্জাতিক- জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ বনাম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র by অনিন্দ্য আরিফ

খন কোনো অন্যায় যুদ্ধ বা আগ্রাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়, তার অনেক আগে থেকেই সত্যের বিরুদ্ধে আগ্রাসকদের যুদ্ধ চলে। যুদ্ধ শেষ হলেও সত্যের বিরুদ্ধে এই যুদ্ধ থামে না। গত অক্টোবর মাসে লন্ডনে সাংবাদিকদের ডেকে এ কথা বলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। রাতারাতি তিনি পৃথিবীজুড়ে বিখ্যাত হয়ে উঠেন, এই বক্তব্যের সমর্থনে যুদ্ধবাজদের মধ্যকার প্রেরিত গোপন সরকারি বার্তা ফাঁস করে দেয়, যার নাম উইকিলিকস। ইরাক যুদ্ধ নিয়ে তিন লাখ ৯১ হাজার ৮৩২টি গোপন বার্তা ও দলিল তিনি জনসমক্ষে তুলে ধরেছেন।

আলোচনা- ইভ টিজিং : জরুরি ভিত্তিতে যা করণীয় by ডা. তাজুল ইসলাম

কার্ল মার্কসের একটি বিখ্যাত উক্তি ছিল, 'এত দিন দার্শনিকরা সমাজ ও জগৎকে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে এসেছেন, এখন প্রয়োজন একে বদলানো।' ইভ টিজিং বিষয়েও যথেষ্ট আলাপ-আলোচনা হয়েছে, এখন জরুরি হয়ে পড়েছে কার্যকর কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা। শিক্ষামন্ত্রী ইভ টিজিংকে ইতিমধ্যেই একটি সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কাজ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছেন। এটি একটি যথার্থ ও সময়োপযোগী ঘোষণা।

মুক্তিযুদ্ধ- প্রতিশ্রুতির দিন by মাসুদা ভাট্টি

ল্লিশ বছর বয়স হলো স্বাধীনতার, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর যাঁর জন্ম, তিনিও আজ পা দিতে যাচ্ছেন ৪০ বছরে। একজন ব্যক্তিমানুষের জীবন দিয়ে ভাবার চেষ্টা করি বিষয়টি। প্রথম ১০ বছর শিশুকাল, এ সময় সে তার চারপাশে যা কিছু দেখে, তা থেকে শেখে, পরবর্তী জীবনে তা ব্যবহারের জন্য জমা রাখে মস্তিষ্কের স্মৃতিকোষে। তাহলে প্রথম ১০ বছর বাংলাদেশ কী শিখেছে?

মুক্তিযুদ্ধ- শোকের মাস, বিজয়ের মাস by মোস্তফা কামাল

নিশ শ একাত্তর। মার্চ থেকে ডিসেম্বর। মাত্র ৯ মাস। এই ৯ মাসে দেশে অনেক কিছুই ঘটেছিল। হায়েনাদের কালো থাবায় লণ্ডভণ্ড হয়েছিল এই দেশ, মাটি ও মানুষ। সারা দেশ দাপিয়ে বেড়িয়েছিল পাকিস্তানি সেনাদের দল। অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমাদের দাবিয়ে রাখতে চেয়েছিল ওরা। চেয়েছিল বুটের তলায় পিষে মারতে। মেরেছেও অনেককে। অনেক কিছু হারিয়েছি আমরা।

আন্তর্জাতিক- চীনা প্রধানমন্ত্রীর পাক-ভারত সফর : একটি পর্যালোচনা by মুহম্মদ মাছুম বিলস্নাহ

ন্তর্জাতিক রাজনৈতিক, সামরিক ্এবং বাণিজ্যিক অঙ্গনে চীন ও ভারতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব বর্তমান বিশ্বে একটি আলোচিত বিষয় । এশিয়ার এই দুই বৃহৎ প্রতিবেশীর মধ্যে কৌশলগত কারণে তিক্ত সম্পর্ক বিরাজ করছে বহুদিন ধরেই ।তা ছাড়া ভারত পাকিস্তানের মধ্যে তিক্ত সম্পর্ক এবং পাকিস্তানকে চীনের সমর্থন ভারত চীনের মধ্যে তিক্ততার আর একটি কারণ।

রাজনৈতিক আলোচনা- দায়িত্বশীলদের দায়িত্বহীন মন্তব্য by ডা. ওয়াহিদ নবী

ডিসেম্বর দলীয় কার্যালয়ে সমমনাদের সঙ্গে বৈঠককালে বিএনপি ও বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া মন্তব্য করেন, 'অথচ প্রধানমন্ত্রীর আদেশেই তখন এই সেনা কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়' (আমাদের সময়, ৪ ডিসেম্বর ২০১০)। একজন প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এত বড় একটা অভিযোগ করার আগে তিনি অগ্র-পশ্চাৎ ভেবে দেখেছেন বলে আমরা আশা করি। কারণ, তিনি নিশ্চয়ই জানেন, এটা একটা অত্যন্ত গুরুতর অভিযোগ। এই অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রধানমন্ত্রীকে বিচারের সম্মুখীন হতে হবে।