Saturday, June 27, 2026
রামমন্দিরের অর্থ আত্মসাতের দায় কি যোগী-মোদি সরকার একে অন্যের ওপর চাপাতে চাইছে by সৌম্য বন্দ্যোপাধ্যায়
রুপি ও গয়না চুরির এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগে রাজনীতি সরগরম। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), আম আদমি পার্টি (এপিপি), তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থীরা দাবি জানাচ্ছে, সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে তদন্ত চালাতে হবে। নইলে চুনোপুঁটিরা ধরা পড়বে, বড় বড় হোতারা অধরা থেকে যাবে।
অযোধ্যাকাণ্ড নিয়ে বিজেপির অভ্যন্তরেও চলছে মারাত্মক টানাপড়েন। আগামী বছর উত্তর প্রদেশের বিধানসভার নির্বাচন। বিরোধীরা এই চুরির জন্য রাজ্যের বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কোণঠাসা করতে চাইলেও মুখ্যমন্ত্রীর অনুগামীরা দায়ভার থেকে দিল্লিকে ছাড় দিতে রাজি নন।
যোগীদের দাবি, অযোধ্যায় ট্রাস্ট গঠনসহ সব সিদ্ধান্তই কেন্দ্রীয় স্তরে নেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্যোগে গঠিত হয়েছিল ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’। ট্রাস্টের ১৫ সদস্যের মধ্যে ১২ জনই ছিলেন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত।
যোগীর অনুগামীদের আরও দাবি, ট্রাস্টের অন্যতম সদস্য ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নৃপেন্দ্র মিশ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অত্যন্ত আস্থাভাজন ঘনিষ্ঠ এই আমলার ওপরেই ছিল মন্দির নির্মাণের দায়িত্ব। তিনিই ছিলেন মন্দির নির্মাণ কমিটির চেয়ারম্যান। কাজেই দুর্নীতির দায়ভার বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এড়াতে পারে না।
অযোধ্যায় বিতর্কিত রামমন্দির নির্মাণের সময় থেকে বিতর্ক লেগেই রয়েছে। কিন্তু সেই বিতর্ক গোটা দেশকে কখনো এমনভাবে তোলপাড় করেনি। এবারের দুর্নীতি দেশ-বিদেশের ভক্তদের দেওয়া দানের অর্থ ও সামগ্রী চুরির। কত কোটি টাকা নগদ ও কত কোটির গয়না চুরি হয়েছে, এখনো তার পূর্ণ হিসাব কারও কাছে নেই। অনুমান, মন্দিরের কোষাগার থেকে চুরি হয়েছে কয়েক শ কোটি টাকা।
অবশ্য বিরোধীদের অভিযোগ, আত্মসাৎ করা হয়েছে কয়েক হাজার কোটি রুপি। চুরির পরিমাণ কত, তা জানার সঠিক উপায় না থাকার কারণ, দানের অর্থ ও সামগ্রীর হিসাব রাখার কোনো বন্দোবস্তই মন্দির কর্তৃপক্ষ ঠিকমতো করেনি। কাজেই কে কত সোনার গয়না দিচ্ছে, কে কত রুপা দিচ্ছে, কে কত রুপি দান করছে—তা জানার উপায় ছিল না।
সমাজবাদী পার্টির (এসপি) পক্ষ থেকে প্রথম রামমন্দিরের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তোলা হয়। কিন্তু মন্দির পরিচালনা কমিটির কেউ কিংবা রাজ্য সরকার প্রাথমিকভাবে তা গায়ে মাখেনি। বিষয়টি ক্রমেই ঘোরালো হয়ে ওঠে।
একটি হিসাব নিরীক্ষক সংস্থা যখন জানায়, ট্রাস্টের কাজকর্ম অত্যন্ত অপেশাদার ও দানসামগ্রীর কোনো রেকর্ডই নেই। যখন চুরির অভিযোগে বিরোধীরা একযোগে সরব হতে থাকে, তখন রাজ্য সরকার এক বিশেষ তদন্তকারী সংস্থা (এসআইটি) গঠন করে অভিযোগ খতিয়ে দেখতে। গত শুক্রবার যে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তা ওই এসআইটিরই উদ্যোগে।
উত্তর প্রদেশ রাজ্য সরকারের কাছে ‘এসআইটি’র জমা পড়া প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুরু থেকেই মন্দির পরিচালন কমিটির লোকজন ধারাবাহিকভাবে অনুদান চুরি করে গেছেন। প্রতিদিন দানসামগ্রী গোনা হয়। সে সময় কখনো সিসি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হতো। কখনো এমনভাবে ক্যামেরা আড়াল করা হতো, যাতে চুরি ধরা না পড়ে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দানের অর্থকড়ি, গয়না লুকিয়ে রাখা হতো মন্দিরের শৌচাগারে। অভিযোগ, দৈনিক লাখ লাখ টাকা জমা পড়লেও হিসাবে দেখা যেত ক্রমেই তা কমতে কমতে কয়েক হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে।
তদন্তে দেখা গেছে, মন্দিরের দায়িত্বে থাকা কেউ কেউ উত্তরাখন্ডের বিভিন্ন এলাকায় অবকাশযাপন কেন্দ্র তৈরি করে ব্যবসা ফেঁদেছেন। কেউ কেউ শপিং মল খুলে ফেলেছেন।
মজাটা হলো, যাঁদের ধরা হয়েছে, তাঁদের অধিকাংশ মন্দিরে জমা পড়া অর্থ ও দানসামগ্রী গোনার কাজের সঙ্গে যুক্ত। বিরোধীরা সরব এ কারণেই। তাঁদের অভিযোগ, চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রকে কেন এখনো গ্রেপ্তার করা হয়নি। কেন তাঁদের বিরুদ্ধে পুলিশ এখনো কোনো এফআইআর করেনি। কেন মূল অভিযুক্ত ব্যক্তিদের ছেড়ে রাখা হয়েছে। কেনই–বা ট্রাস্ট ও মন্দির পরিচালন কমিটির শীর্ষ কর্তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না?
চম্পত রাই ও অনিল মিশ্র দুজনেই বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) শীর্ষ নেতা। যাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁদের কেউ চম্পতের গাড়িচালক ছিলেন, কেউ কেউ আবার অনিলের আত্মীয়। অভিযোগ রয়েছে, চুরি হচ্ছে জেনেও তাঁরা কেউ কোনো ব্যবস্থা নেননি। অথচ তাঁদের বিরুদ্ধেই পুলিশ এফআইআর করেনি।
এ কারণেই বিরোধীরা অযোধ্যাকাণ্ডকে নতুনভাবে রাজনৈতিক হাতিয়ার করে তুলতে চাইছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, রাঘববোয়ালদের আড়াল করতেই চুনোপুঁটিদের ধরা হয়েছে। কংগ্রেস নেতা রাজিব শুক্লা সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেছেন, চাঁইদের আশীর্বাদ ছাড়া অনুগতদের পক্ষে এভাবে কোটি কোটি টাকা চুরি করা সম্ভব নয়।
কংগ্রেসের কে সি বেনুগোপাল বলেছেন, হিন্দুত্বের স্বঘোষিত অভিভাবকদের মুখোশ খুলে গেছে। ভগবানের নাম নিয়ে ভগবানের সম্পত্তি চুরি করতে তাঁদের বাধে না। এই পাপের মাশুল তাঁদের দিতেই হবে।
রামমন্দিরের অর্থ চুরি নিয়ে সরব আম আদমি পার্টি (এপিপি), তৃণমূল কংগ্রেস ও বামপন্থীরাও। উদ্ধব গোষ্ঠী শিবসেনা নেতা ও রাজ্যসভার সদস্য সঞ্জয় রাউত বলেছেন, মন্দির নির্মাণের সময় উদ্ধব ঠাকরে এক কোটি রুপি নগদ ও চার কেজি রুপার ইট মন্দিরে দান করেছিলেন। মন্দির কর্তৃপক্ষ আজও তার রসিদ দেয়নি।
সঞ্জয়ের অভিযোগ, হাজার হাজার কোটি রুপি আত্মসাৎ করা হয়েছে, তারই কিছু অংশ বিজেপি খরচ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস ও শিবসেনা সংসদ সদস্যদের ভাঙাতে।
আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেছেন, মন্দিরের চাঁদা চোরদের প্রকাশ্যে ফাঁসিতে ঝোলানো দরকার। তাঁর প্রশ্ন, চম্পত রাইদের গ্রেপ্তার করতে প্রধানমন্ত্রীর এত অনীহা কেন? কোথায় আটকাচ্ছে? কোটি কোটি রুপি চুরি সত্ত্বেও কেন এই নীরবতা?
রাজনৈতিকভাবে বিষয়টি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে যাচ্ছে বুঝতে পারছেন মুখ্যমন্ত্রী হিন্দুত্ববাদী নেতা যোগী আদিত্যনাথ। এসআইটি গঠনের নির্দেশ তাঁরই। আটজনকে গ্রেপ্তারের পর তিনি বলেছেন, অপরাধীরা ছাড়া পাবে না। তবে বিরোধীরা যেন রামভক্তদের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেন। ভক্তদের বিশ্বাস নিয়ে তাঁরা যেন ছিনিমিনি না খেলেন।
অযোধ্যার রামমন্দিরে আজ যে চুরি ধরা পড়েছে, তার সূত্রপাত মন্দির তৈরির সময় থেকেই। বারবার মন্দির তৈরি নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। কিন্তু রাজ্য বা কেন্দ্রীয় বিজেপি সরকার কোনো অভিযোগই দানা বাঁধতে দেয়নি। ২০২১ সালে মন্দির তৈরির জন্য ট্রাস্টের জমি কেনাকে কেন্দ্র করে আর্থিক দুর্নীতির বিরাট অভিযোগ উঠেছিল।
অভিযোগ ছিল, কিছু ভূস্বামী ও জমি কেনাবেচা ব্যবসায়ী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দুই কোটি রুপিতে জমি কিনে মন্দির কর্তৃপক্ষের কাছে ২০ কোটিতে বিক্রি করেছিল। সেই অভিযোগেরও তির ছিল বিজেপির দিকে। দলের ঘনিষ্ঠ চম্পত রাই ও অনিল মিশ্রের দিকে। অনিল মিশ্র ও তৎকালীন অযোধ্যার মেয়র হৃষিকেশ উপাধ্যায় ওই জমি লেনদেনের সাক্ষী ছিলেন। আম আদমি পার্টির নেতা সঞ্জয় সিং ও সমাজবাদী পার্টি ওই জমি লেনদেনের সিবিআই তদন্ত দাবি করেছিলেন।
বিরোধীরা এখনো রাজ্য সরকারের তদন্তের ওপর ভরসা রাখতে রাজি নন। তাঁদের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের তদারকিতে নতুনভাবে তদন্ত হোক। নইলে রাঘববোয়ালেরা পার পেয়ে যাবেন। মরবে চুনোপুঁটিরা।
রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথকে কোণঠাসা করতে বিরোধীরা সচেষ্ট। বিরোধীদের সেই চেষ্টা বিজেপির অভ্যন্তরের যোগী আদিত্যনাথ বনাম অমিত শাহর রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে অন্য মাত্রা দিতে পারে।
![]() |
| উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ফাইল ছবি: এএনআই |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে বিক্ষোভ
শুক্রবার ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তিতে ইসরায়েল ও লেবানন উভয় দেশ ‘শান্তিপূর্ণভাবে একে অপরের অস্তিত্বের অধিকার’ স্বীকার করেছে। পাশাপাশি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে।
তবে হিজবুল্লাহর দাবি, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলকে সম্পূর্ণভাবে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। এই শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা চুক্তি মেনে নেবে না।
চুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার মধ্যরাতে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন, আগুন ধরিয়ে দেন। বিক্ষোভকারীদের হাতে হিজবুল্লাহ ও ইরানের পতাকা দেখা যায়। একই সময়ে অস্ত্রধারী হিজবুল্লাহ-সমর্থকেরা মোটরযানের বহর নিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শহরের বিভিন্ন স্থানে সেনা মোতায়েন করা হয় এবং নিরাপত্তা বাহিনী একাধিক তল্লাশিচৌকি স্থাপন করে।
হিজবুল্লাহর সংসদ সদস্য হাসান ফাদলাল্লাহ সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে গৃহযুদ্ধের পথ বেছে না নিলে ওয়াশিংটনে স্বাক্ষরিত এই চুক্তি বাস্তবায়ন করা লেবানন সরকারের পক্ষে সম্ভব হবে না।
বৈরুত থেকে আরটির প্রতিবেদক আলী রিদা সেবেইতি জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ ও তাদের মিত্ররা এই চুক্তিকে অপমানজনক বলে মনে করছে। তাঁদের বিশ্বাস, এর ফলে লেবাননের যেসব অঞ্চল এখনো ইসরায়েলের দখলে রয়েছে, সেখানে সামরিক তৎপরতা চালানোর ক্ষেত্রে ইসরায়েল আরও বেশি স্বাধীনতা পাবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল একযোগে ইরানে আগ্রাসন শুরু করে। দুই দিন পর ২ মার্চ লেবাননে আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান হামলার পাশাপাশি স্থল অভিযান চালিয়ে বিশাল অংশ দখল করে নিয়েছেন ইসরায়েলের সেনারা। তাঁদের আগ্রাসনের মুখে লেবাননের ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
![]() |
| চুক্তির প্রতিবাদে শুক্রবার মধ্যরাতে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের বিভিন্ন এলাকায় মানুষ রাস্তায় নেমে আসেন, আগুন ধরিয়ে দেন। ছবি: আরটির ভিডিও থেকে স্ক্রিনশট |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন শুভেন্দু
অর্থাৎ এ আইন কার্যকর হলে ভারতে হিন্দুদের মধ্যে ভিন্ন ধর্ম গ্রহণের যে প্রবণাতা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল তা আর ইচ্ছামত তারা গ্রহণ করতে পারবেন না। এ বিষয়ে রাষ্ট্র যে সিদ্ধান্ত নেবে সে আলোকে তাদের সিন্ধান্ত নিতে হবে।
শুক্রবার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে ‘বন্দে মাতরম’-এর সার্ধশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের ফলে পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরের প্রবণতা এবং জনসংখ্যার ভারসাম্যে পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে। তার মতে, এ পরিস্থিতি রাজ্যের সামাজিক কাঠামো ও দেশের নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগের কারণ।
তিনি বলেন, কিছু সময়ের মধ্যেই পশ্চিমবঙ্গে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইন, অভিন্ন দেওয়ানি বিধি এবং এনআরসি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শুভেন্দুর দাবি, বিজেপি সরকার সীমান্ত এলাকায় অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিয়েছে এবং অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের শনাক্ত ও ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে আটক কেন্দ্রও গড়ে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, যারা অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করে দেশের সংস্কৃতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে।
নাগরিকত্ব (সংশোধন) আইন বা সিএএ প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়া হিন্দুরা অনুপ্রবেশকারী নন। সিএএ অনুযায়ী তারা ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকারী।
বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি বলেন, যারা ভারতে বসবাস করেও দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে অসম্মান করে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বিরোধিতা করে বা পেহেলগাম ইস্যুতে নীরব থেকে শুধু মানবতার কথা বলে, তাদের এমন কর্মকাণ্ড পশ্চিমবঙ্গে বরদাশত করা হবে না।
সূত্র: এনডিটিভি

About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
৬ মাস পার হলেই কি শিশুকে মাংস খাওয়ানো যাবে? by রাফিয়া আলম
মাংস থেকে আমিষ, আয়রন, ভিটামিন বি১২, জিংক ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়। শিশুর বৃদ্ধি ও বিকাশে এসব উপাদান কাজে লাগে। ছোট্ট শিশুকে মাংস খাওয়ানো প্রসঙ্গে পরামর্শ দিলেন মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শিশুবিশেষজ্ঞ ও সহকারী অধ্যাপক ডা. তাসনুভা খান।
অভ্যস্ততা
ছয় মাস বয়স পার হলেই মুরগির মাংস দেওয়া যায়। তবে হাঁস, গরু বা খাসির মাংস এক বছর পার হলে খাওয়ানো ভালো। এসব মাংস হজম হতে একটু বেশি সময় লাগে। সব ধরনের মাংস সব শিশুর সহ্য না-ও হতে পারে।
যেকোনো নতুন খাবারে শিশু ধীরে ধীরে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। মাংসের বেলাতেও তা–ই। শিশুকে যেকোনো নতুন খাবারই খুব অল্প পরিমাণে শুরু করতে হয়। অনেক বাড়িতেই ছোট্ট শিশুকে সুজি ও নরম খিচুড়ির মতো খাবার দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে শিশু পরিবারের সাধারণ খাবারের স্বাদের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে।
শিশুকে শুরুতেই নরম খিচুড়ি বা নরম ভাতের সঙ্গে অল্প পরিমাণে মাংস মিশিয়ে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে ধীরে ধীরে মাংসের পরিমাণ বাড়ানো যেতে পারে।
খেয়াল রাখুন
* শিশুকে মাংস দিলে অবশ্যই খুব ভালোভাবে সেদ্ধ করতে হবে। আধসেদ্ধ মাংস দেওয়া যাবে না।
* শিশুকে মাংস দেওয়ার পর সে তা খেতে পারছে কি না, তা–ও দেখতে হবে।
* যে শিশু মাত্র খেতে শিখেছে, তাকে মিহি করে মাংস দিতে হবে। শুরুর দিকে ব্লেন্ড করে দেওয়া যেতে পারে।
* সেদ্ধ করার পর হাত দিয়ে চটকে নরম করে দিলেও ছোট শিশু তা খেতে পারবে।
* মুরগি আর সবজি দিয়ে পুষ্টিকর স্যুপও করে দিতে পারেন।
* মাংসের শক্ত টুকরা বা হাড়ের টুকরা দেওয়া যাবে না। এসব অংশ শিশুর গলায় আটকে যেতে পারে।
* যেকোনো মাংসের চর্বি বা শক্ত চামড়ার অংশ ফেলে দিন। ফার্মের মুরগিতেও চর্বি থাকে।
* যেকোনো নতুন খাবার শুরু করার তিন দিনের মধ্যে অন্য আরেকটি খাবার শুরু না করাই ভালো। শিশুর কোনো খাবারে অ্যালার্জি থাকলে এভাবে তা বোঝা সহজ হয়।
* শিশু একটু বড় হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বসিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো। এতে সে নানান রকম খাবারের প্রতি আগ্রহী হবে। এভাবে সে অল্প অল্প করে মাংসের নানান পদে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।
* যে বয়সে শিশু নিজ হাতে খাবার ধরতে পারে, সেই বয়সে হাতে মুরগির লম্বা হাড় তার হাতে দেওয়া যেতে পারে। এভাবে সে একটু একটু করে চুষে খেতে শিখবে। উৎসাহও পাবে।
![]() |
| শিশুকে যেকোনো নতুন খাবারই খুব অল্প পরিমাণে শুরু করতে হয়। ছবি: পেক্সেলস |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সরানোর কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাহরাইনে অবস্থিত কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন নৌঘাঁটি সংস্কারের পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে কুয়েত ও সৌদি আরবে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে আনা হতে পারে।
মার্কিন প্রশাসনের দুই কর্মকর্তা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন চাইলে এই অঞ্চলের কিছু সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে স্থানান্তর করতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যে বাহরাইনে পঞ্চম মার্কিন নৌবহরের সদর দপ্তরটি বারবার আক্রান্ত হয়।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, এ হামলায় মার্কিন কমান্ড সদর দপ্তর এবং আরও অন্তত এক ডজন স্থাপনা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে পেন্টাগন (মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর) এখন পর্যন্ত এ ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি।
এদিকে এ যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন নাগরিকদের মনোভাবেও ব্যাপক পরিবর্তন লক্ষ করা গেছে। সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়েছে, যা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ (এমওইউ) নামে পরিচিত। এ চুক্তি অনুযায়ী, স্থায়ীভাবে যুদ্ধ শেষ করার শর্তাবলি নিয়ে আলোচনার জন্য ৬০ দিন যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
এ সমঝোতার পর যুক্তরাষ্ট্রের কুইনিপিয়াক বিশ্ববিদ্যালয়ের দেশব্যাপী পরিচালিত এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার মনে করেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ লাভজনক হয়নি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ‘ইরানি সরকারের আসন্ন হুমকি দূর করতে’ এ যুদ্ধ শুরু করেন। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও সামরিক অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করাই ছিল অভিযানের মূল লক্ষ্য।
তবে কুইনিপিয়াকের জরিপ বলছে, চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির কারণে লক্ষ্য অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সক্ষমতা নিয়ে জনগণের মনে সংশয় তৈরি হয়েছে।
জরিপে অংশ নেওয়া ৬১ শতাংশ মানুষ বিশ্বাস করেন, এ চুক্তির পরও ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করার সম্ভাবনা পুরোপুরি রয়ে গেছে। এ ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকানদের মধ্যে বড় কোনো মতভেদ নেই।
উভয় শিবিরেরই অধিকাংশ সমর্থক মনে করেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে পারে।
![]() |
| সৌদি আরবে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত ই-৩এস উড়োজাহাজ। ফাইল ছবি: রয়টার্স |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শরীরে পটাশিয়াম কেন বেড়ে যায়, নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী by অধ্যাপক ডা. এ কে এম মূসা
রক্তের সেরাম ক্রিয়েটিনিন ও ইলেকট্রোলাইট পরীক্ষা করে এটি বোঝা যায়। ইসিজি-হাইপারক্যালিমিয়ার কারণে কিছু ইসিজির নির্দিষ্ট পরিবর্তন পাওয়া যায়, যা চিকিৎসায় সাহায্য করে। এ ছাড়া প্রস্রাবের পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও অসমোলারিটি রোগ নির্ণয়ে দেখা হয়।
পটাশিয়াম বাড়ার কারণ
* কিডনির অকার্যকারিতায় পটাশিয়াম প্রস্রাবের সঙ্গে নির্গত না হয়ে শরীরে জমতে থাকে। দীর্ঘস্থায়ী কিডনির রোগ, বিশেষ করে স্টেজ ৪ ও ৫, হঠাৎ করে সৃষ্ট কিডনি ফেইলিওর, কিডনি ট্রান্সপ্ল্যান্ট-পরবর্তী জটিলতায় বা ডায়াবেটিক নেফ্রোপ্যাথি হলে এমন হয়।
* গুরুতর আঘাতে টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হলে ও রক্তকোষ ভেঙে গেলে। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, যেমন অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির রোগ হলে।
* কিছু ওষুধ যেমন উচ্চ রক্তচাপ বা হার্টের চিকিৎসায় ব্যবহৃত এসিই ইনহিবিটরস, এআরবি, পটাশিয়াম-স্পেয়ারিং ডাইইউরেটিকস এবং ব্যথানাশক ওষুধ রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে। অতিরিক্ত পটাশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ।
লক্ষণ কী
* পটাশিয়াম বেড়ে গেলে অনেক সময় কোনো লক্ষণ থাকে না। তবে বুক ধড়ফড়, বুকে ব্যথা বা হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে। পেশিতে দুর্বলতা, অবশ ভাব বা খিঁচুনি, বমি ভাব, অতিরিক্ত ক্লান্তি, শ্বাসকষ্ট ইত্যাদি হতে পারে।
* হাইপারক্যালিমিয়ার জটিলতা-কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট অর্থাৎ হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়া। পক্ষাঘাত।
খাবার নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি
* যেসব খাবার খাওয়া যাবে না—ডাবের পানি, কলা, আলু, টমেটো, আরও কিছু ফল ও শাকসবজি।
* যেসব সবজি খাওয়া যাবে—ঝিঙে, চিচিঙ্গা, চালকুমড়া, পটোল, ডাঁটা, লাউ, মুলা, শসা, শিম।
* যেসব ফল খাওয়া যাবে—পেয়ারা, পেঁপে, আপেল, নাশপাতি, আনারস, বেল, জামরুল।
* যেসব শাক খাওয়া যাবে—ডাঁটাশাক, লাউশাক, কলমিশাক, লালশাক।
তবে একজন ডায়েটেশিয়ানের পরামর্শে খাদ্য গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। কোনো ওষুধের কারণে হাইপারক্যালিমিয়া হলে, তা পরিবর্তন করতে হবে।
* অধ্যাপক ডা. এ কে এম মূসা, মেডিসিন বিভাগ চেম্বার: আলোক হেলথকেয়ার, মিরপুর-১০, ঢাকা
![]() |
| পটাশিয়াম বেড়ে গেলে বুকে ব্যথা বা হৃৎস্পন্দন অনিয়মিত হতে পারে। ছবি: পেক্সেলস |
About: Kutubi Cox
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রংপুরে ‘লিভিং ব্লু’র কারখানায় তৈরি হচ্ছে প্রাকৃতিক নীল রং by রয়া মুনতাসীর
রাজেন্দ্রপুরে যখন পৌঁছালাম, রোদের তাপে চারদিক তখন ঝলসে যাচ্ছিল। কোনো দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। গাড়ি থেকে নামতেই চোখে পড়ল ছোট ছোট মাচা। তার ওপর পাতা ট্রেতে নীল রঙের গাদের দিকে তাকিয়ে চোখ যেন আরাম পেল।
এই আরাম মনকেও ছুঁয়ে গেল যখন নীল রঙের নকশা করা শাড়িগুলো দেখলাম। কারখানার একদিকে নীল পাতা জাগ দেওয়া হচ্ছে, আরেক পাশে বড় চুলায় নীল জ্বাল দিচ্ছেন কর্মীরা। আরেক দিকে গাদটাকে ট্রেতে করে রোদে শুকানো হচ্ছে।
চারদিকে চলছে পোশাকে প্রাকৃতিকভাবে টাই-ডাই করার প্রস্তুতি। গোছানো, ছিমছাম এই পরিবেশেই বানানো হচ্ছে অভিজাত নানা পণ্য।
বাংলাদেশে অনেক বছর ধরেই টাই-ডাই নিয়ে কাজ হচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান সুনামও কুড়িয়েছে। ‘লিভিং ব্লু’ তাদের মধ্যে অন্যতম। ২০০৮ সালে কেয়ার বাংলাদেশের একটি প্রজেক্ট হিসেবে যাত্রা শুরু করে লিভিং ব্লু।
বর্তমানে এটি স্বতন্ত্র উদ্যোগ। রংপুরের রাজেন্দ্রপুরের গোয়ালপাড়া এলাকায় তাদের নিজস্ব কারখানাতেই তৈরি হচ্ছে প্রাকৃতিক নীল রং।
একসময় এই নীল ছিল কৃষকের বঞ্চনা ও নিপীড়নের উৎস। সেটাই এখন হয়ে উঠেছে অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় এক উপকরণ। তবে নীলের বাইরেও নানা রং ব্যবহার করে লিভিং ব্লু।
কারখানায় টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরের ভেতর রাখা বড় বড় ট্রাংকগুলো খুলতেই তার কিছু ঝলক দেখা গেল, যখন ‘নকশা’র ফটোশুটের জন্য নানা রঙের শাড়ি, স্কার্ফ, স্টোল, কাঁথা বের করছিলেন শিল্পীরা।
লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর এলাকার প্রায় ২০০ শিল্পী শুধু টাই-ডাইই নয়, বুনে চলেছেন নানা নকশার কাঁথা। রপ্তানি হচ্ছে ফ্রান্স, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায়। জানা গেল কাঁথা, স্টোল, স্কার্ফ, পোশাক, শাল, টোট ব্যাগের পাশাপাশি নীলের কেক বা গুঁড়াও বিক্রি করা হয় নিয়মিত।
ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ইতালি থেকে গ্রাহকেরা নিয়মিত কেক বা ডাস্ট আকারে কেনেন নীল। এ বছর এখন পর্যন্ত এক হাজার কেজি নীল বিক্রি হয়ে গেছে।
লালমনিরহাট, গাইবান্ধা, নীলফামারী, দিনাজপুর এলাকার শিল্পীদের কাজের ভাগ করা আছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, কাঁথা স্টিচিংয়ের মধ্যে ‘সাদার ওপর সাদা’ কাঁথার কাজ দিনাজপুর এলাকায় করা হয়।
সেখানকার সাইতারা ইউনিয়নের শিল্পীরা এ কাজের জন্য বিখ্যাত। সাদা কাপড়ের ওপর কাজ করার জন্য তাঁরা বিশেষ ব্যবস্থা নেন, যাতে কোনো দাগ না পড়ে কাজ করার সময়। কাঁথার ওপর ডব্লিউ ডব্লিউ ডিজাইন ভালো করে লালমনিরহাটে।
রংপুরের শিল্পীরা আবার বহুমুখী। এখানে দাবার নকশা, শিবরির ডিজাইন, শাড়ির ওপর সব ধরনের কাঁথা স্টিচ করা হয়। এখান থেকে ফরমাশ দিয়ে পণ্য বানিয়ে নেন দেশীয় নামীদামি বেশ কিছু দোকান।
পণ্যের ওপর নকশাগুলো কীভাবে নির্ধারণ করেন? উত্তরে লিভিং ব্লুর চিফ কো-অর্ডিনেটর গোলাম রাব্বানী জানান, ‘লিভিং ব্লু যে পণ্যই বানায়, সেখানে বাংলাদেশ থাকে। বিশেষ করে দেশের বাইরের পণ্যগুলোতে ঐতিহ্যবাহী নকশার ওপর প্রাধান্য দিই আমরা। বেশির ভাগ সময় আমাদের দেওয়া নকশাই পছন্দ করেন বাইরের গ্রাহকেরা। কিছু সময় আমরা তাঁদের দেওয়া নকশার ওপর কাজ করি।’
কথা বলতে বলতেই বারান্দার এক কোণে বসা শিল্পীদের ওপর চোখ চলে যায়। পা ছড়িয়ে গুটগুট করে গল্প করতে করতে সুই-সুতায় ৩২ গজের সাদা কাঁথার ওপর ফুল, লতাপাতার নকশা ফোটাচ্ছিলেন তাঁরা। এ নকশা যে অনেক চিন্তাভাবনা করে সব সময় আসে, তা–ও নয়। কাজের অভিজ্ঞতায় হাতের টানেও চলে আসে অনেক সুন্দর নকশা।
আছে আরও ১১ রং
লিভিং ব্লুর কাজের অনেক বড় একটা অংশজুড়ে থাকে নীল। তবে এই নীলের বাইরে আরও ১১টি রং নিয়ে তারা কাজ করে। মেরুন, সবুজ, কালো, লাল, কমলা, জলপাই, সোনালি, ছাই, বেগুনি ইত্যাদি রং আছে। প্রতিটি রঙের উপকরণই প্রাকৃতিক। যেমন ডালিমের খোসা আর হরীতকী থেকে পাওয়া যায় সোনালি রং।
নীলের হরীতকী ও ডালিমের খোসার মিশ্রণে পাওয়া যায় সবুজ রং। সবুজ রঙের যেকোনো পণ্য বানাতে এ কারণে সবচেয়ে বেশি খরচ হয়, জানালেন রাব্বনী। কারণ, এখানে তিনবার ডাই করতে হয়। মঞ্জিষ্ঠার ডাল থেকে পাওয়া যায় মেরুন রং।
পেঁয়াজের খোসা থেকে আসে বাদামি রং। মঞ্জিষ্ঠার ডাল আর নীল রং থেকে আসে কালো রং। কলার মোচা থেকে পাওয়া যায় ছাই রং।
কাজের জন্য সাধারণত নানা কাউন্টের সুতায় বানানো রাজশাহী সিল্ক আর কুমিল্লার খাদি বেছে নেওয়া হয়। নতুন যোগ হয়েছে টাঙ্গাইলের নরম সুতির শাড়ি। প্রচ্ছদের ছবির জন্য সায়রা আক্তার জাহানকে সেটাই পরানো হলো।
সুতির শাড়িটি এতই হালকা যে দুপুরের কড়া রোদেও পরে আরাম পেলেন। বেশ ফুরফুরে মেজাজেই ছবি তুললেন নীলের গাদ বিছানো ট্রের সামনে দাঁড়িয়ে।
অর্থনীতি
কারখানার পাশেই ধানখেত। নীলের গাদ ছাঁকার পর যে পানি বের হয়, সেটা নাকি এখানে দিয়ে দেওয়া হয়। ভালো সার হিসেবে কাজ করে। কোনো রকম কেমিক্যাল ডাই ব্যবহার করা হয় না বলেই জানা গেল। প্রতিষ্ঠানটিতে স্থায়ী কর্মী আছেন ৩০ জন। কাজের ওপর ভিত্তি করে এ সংখ্যা ২০০-ও ছাড়িয়ে যায়।
শিল্পীরা ছাড়াও ২০০ কৃষক পরিবার পাতা সংগ্রহের কাজ করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছে। দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষ, বিশেষ করে নারীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরি, স্থানীয় ঐতিহ্য ও নকশাকে পুনর্জাগরিত করা, প্রাকৃতিক উপায়ে কাজ করা এবং কারিগর-কৃষক—সবার ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার ওপর জোর দেয় লিভিং ব্লু।
![]() |
| সুতির শাড়ি আর সিল্কের স্কার্ফে ইন্ডিগোর নকশা। মডেল হয়েছেন সায়রা আকতার জাহান। শাড়ি: লিভিং ব্লু, সাজ: শাহানাজ মেকওভার, রংপুর, স্থান: লিভিং ব্লুর কারখানা, রাজেন্দ্রপুর, রংপুর। ছবি: সুমন ইউসুফ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আরিয়ানাকে জড়িয়ে ধরায় ৯ দিনের কারাদণ্ড
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গায়িকা যখন লালগালিচায় সহশিল্পীদের সঙ্গে হেঁটে যাচ্ছেন, তখন দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরছেন জনসন ওয়েন। যখন ওই ব্যক্তি আরিয়ানার গলায় হাত রাখে, তখনই সিন্থিয়া এরিভো ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তারক্ষীর সহায়তায় তাকে বাধা দেন। অনুষ্ঠানস্থলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। দেখা যায়, হতবাক আরিয়ানাকে সান্ত্বনা দিচ্ছেন তার সহশিল্পীরা। সামাজিকমাধ্যমে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। জানা যায়, নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে তারকাদের অনুষ্ঠানে ঢুকে পড়ার ইতিহাস জনসন ওয়েনের নতুন নয়।
এর আগে, কেটি পেরি, দ্য উইকেন্ড ও দ্য চেইনস্মোকার্সের কনসার্টেও মঞ্চে উঠে পড়েছিলেন তিনি। বিবিসি নিউজ জানায়, সিঙ্গাপুরের একটি আদালত সেই ব্যক্তিকে ৯ দিনের কারাদণ্ড দিয়েছে। আদালতের ভাষ্য, তিনি প্রিমিয়ারে দুই বার অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছেন। এরপর নিরাপত্তারক্ষীরা তাকে আটকে দেয়। পরেরদিন তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং জনসাধারণকে উপদ্রবের অভিযোগে মামলা করা হয়। পরে দোষও স্বীকার করেন ওই ব্যক্তি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
-
▼
2026
(1347)
-
▼
June
(267)
-
▼
Jun 27
(8)
- রামমন্দিরের অর্থ আত্মসাতের দায় কি যোগী-মোদি সরকার ...
- ইসরায়েলের সঙ্গে চুক্তির প্রতিবাদে লেবাননের রাজধান...
- ভারতে ধর্মান্তরবিরোধী কঠোর আইনের ঘোষণা দিলেন শুভেন্দু
- ৬ মাস পার হলেই কি শিশুকে মাংস খাওয়ানো যাবে? by রাফ...
- ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক ঘাঁটি ইসরায়েলে সর...
- শরীরে পটাশিয়াম কেন বেড়ে যায়, নিয়ন্ত্রণে করণীয় কী b...
- রংপুরে ‘লিভিং ব্লু’র কারখানায় তৈরি হচ্ছে প্রাকৃতিক...
- আরিয়ানাকে জড়িয়ে ধরায় ৯ দিনের কারাদণ্ড
-
▼
Jun 27
(8)
-
▼
June
(267)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





