Thursday, April 2, 2015

বস্ত্র খাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ৩০ বাধা by শাহ আলম খান

তৈরি পোশাক শিল্প ও সার্বিক বস্ত্র খাতের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ৩০ প্রতিবন্ধকতা শনাক্ত করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও সংগঠনের ১২ সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি নিয়ে গঠিত কোর গ্র“প কমিটি এ শনাক্তের কাজটি করেছে। এতে অবকাঠামোগত সমস্যাসহ নীতিসহায়তা, আইন ও বিধিবিধান সম্পর্কিত নানাবিধ দুর্বলতা সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান শুভাসীস বোসের সভাপতিত্বে ২০১৩ সালের ২৬ নভেম্বর অনুষ্ঠিত এক পরামর্শ গ্রহণ সভায় এ কোর গ্র“প কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সূত্রমতে, ওই সভায় দেশের রফতানিমুখী তৈরি পোশাক ও বস্ত্র খাতে আর্থিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এমন ক্ষেত্রগুরোতে বিদ্যমান বিধি-বিধান, নীতিগত ও অবকাঠামোগত বাধা চিহ্নিত এবং তা অপসারণ বিষয়ক সুনির্দিষ্ট মতামত দিয়ে এ কমিটিকে অর্থবহ একটি প্রতিবেদন তৈরির পরামর্শ দেয়া হয়। এ লক্ষ্যে সরকারি প্রতিনিধি হিসেবে ইপিবির মহাপরিচালক বেগম মাফরূহা সুলতানাকে আহ্বায়ক ও পরিচালক (পণ্য) মোহাম্মদ আবদুর রউফকে সদস্য-সচিব করা হয়। এতে ইপিবির প্রতিনিধি ছাড়াও কোর গ্র“প কমিটিতে সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করেছেন এনবিআর, বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইন্সটিটিউট, বাংলাদেশ ব্যাংক, এফবিসিসিআই, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিএসটিএমপিআইএ ও বিটিএলএমইএ-এর প্রতিনিধিরা। এরা সবাই যার যার অবস্থান ও দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নিজ নিজ ক্ষেত্রের প্রতিবন্ধকতাগুলো তুলে ধরেন। এরপর দীর্ঘ যাচাই-বাছাইয়ের পর কমিটি সর্বসম্মতভাবে এই ৩০ প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে।
জানা গেছে, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে বিদ্যমান এসব প্রতিবন্ধকতার বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য কোর গ্র“প কমিটি সম্প্রতি এ খাতের মুখ্য মন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে ওই প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন যুগান্তরকে জানান, কোর গ্র“প কমিটির প্রতিবেদন তাদের কাছে এসেছে। এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত সমস্যাগুলোর বাস্তবতা ও গভীরতা পর্যালোচনা করতে ইতিমধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় একটি সভাও করেছে। এগুলোর আরও পর্যালোচনার প্রয়োজন হবে। এরপরই তারা পরবর্তী পদক্ষেপে যেতে পারবেন।
এ বিষয়ে বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম জানান, প্রতিনিয়ত আমরা এসব প্রতিবন্ধকতা মাথায় নিয়েই আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করে যাচ্ছি। কিন্তু এতো সমস্যার বোঝা বহন করে রফতানি বাজারে আর কতকাল প্রতিযোগী সক্ষমতা ধরে রাখা যাবে? তিনি বলেন, এ কমিটি অত্যন্ত দূরদর্শিতা দেখিয়েছে এবং রক্তক্ষরণ হওয়া সত্ত্বে¡ও উদ্যোক্তাদের না বলা কথাগুলো প্রতিবেদনে তুলে আনা হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া ৩০ প্রতিবন্ধকতা : শুল্ক বন্ড ব্যবহারের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক শিল্পে অডিটের জন্য রফতানি কার্যাদি শেষে দলিলাদি দাখিলের নির্ধারিত সময়সীমা তিন মাস নির্ধারণ, যা বিদ্যমান ব্যবস্থাপনায় অপর্যাপ্ত। এসআরও নং ১৫৭-আইন/২০১২/২৩৮৫/কাস্টম-এর অধীনে আমদানিকৃত মূলধনী যন্ত্রপাতির বিপরীতে দাখিলকৃত অঙ্গীকারনামা তিন বছর অব্যাহতির পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে অবমুক্ত করার বিধান বিদ্যমান থাকা। কাস্টম অ্যাক্ট, ১৯৬৯-এর ধারা ৯১ মোতাবেক তৈরি পোশাক শিল্পের বন্ডে ওয়্যার হাউসের লাইসেন্স তদারকির জন্য ‘শুল্ক মূল্যায়ন ও নিরীক্ষা কমিশনারেট’কে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান। মূল রফতানি আদেশের বিপরীতে একাধিক প্রতিষ্ঠান থেকে ব্যাক টু ব্যাক ঋণপত্রের বিপরীতে কাঁচামাল সংগ্রহের ক্ষেত্রে মূল রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের মতো কাঁচামাল সরবরাহকারী সব প্রচ্ছন্ন রফতানিকারক প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও উৎসে আয়কর কেটে রাখায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। হোম টেক্সটাইল ও বস্ত্র রফতানিকারকদের আয়কর অধ্যাদেশের ৫৩ বিবি ধারা মোতাবেক কর্তিত আয়কর চূড়ান্ত দায় হিসেবে গণ্য না করা। বস্ত্র শিল্পে ব্যবহৃত গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের ওপর প্রদত্ত মূসক প্রদান ও প্রত্যর্পণসংক্রান্ত জটিলতা। কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও রফতানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পণ্য এবেং সেবার মূসক প্রদানের বিধান প্রবর্তন। শিল্প ঋণের ওপর আর্থিক সুদহার ও জটিল শর্তাদির কারণে গার্মেন্ট পল্লীতে স্থানান্তর অথবা শিল্পকে পুরোপুরি কমপ্লায়েন্ট করার ক্ষেত্রে বিএমআরইকরণ বাধাগ্রস্ত হওয়া। কমপ্লায়েন্ট করার বাধ্যবাধকতার কারণে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি। জেলা ও থানা পর্যায়ে উৎপাদন এলাকা বিকেন্দ্রীকরণের অভাব ও যেসব এলাকায় বিকেন্দ্রীকরণ হয়েছে সেখানে বন্ড এলাকা হিসেবে ঘোষিত না হওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংকের এফই সার্কুলার নং-১৩ এর আদেশ রহিতকরণ। দেশীয় কাঁচামাল দ্বারা উৎপাদিত বস্ত্র সামগ্রী রফতানির বিপরীতে নগদ সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ ব্যাক টু ব্যাক এলসির বাধ্যবাধকতা- যা রফতানি মূল্য বৃদ্ধিরও একটি কারণ। ইন ল্যান্ড ব্যাক টু ব্যাক এলসির রফতানি কাঁচামালের অভ্যন্তরীণ সরবরাহের ক্ষেত্রে বন্ড রেজিস্ট্রারে ওই কাঁচামাল ইন বন্ড ও এক্স বন্ড হিসেবে এন্টির বাধ্যবাধকতার কারণে নগদ সহায়তা প্রাপ্তিতে বঞ্চিত হওয়া। কম লাভজনক পুঁজিঘন শিল্পের কাক্সিক্ষত সম্প্রসারণের অভাবে বস্ত্রসামগ্রীর খাতের প্রতিযোগিতার ক্ষমতা হ্রাস। বিএসটিএমপিআইএ এর আর্থিক সীমাবদ্ধতা। টেক্সটাইল খাতে মেরিন পলিসিতে উচ্চ প্রিমিয়াম নির্ধারণ। অভ্যন্তরীণ বিল ক্রয় ও স্বীকৃতি প্রদানে বিলম্ব। রফতানি ঋণের ওপর অতিরিক্ত সুদ ধার্যকরণ। বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক বিআরপিডি সার্কুলার:০১ বর্ণিত পিসি-এর নির্ধারিত ৭ শতাংশ সুদহারে ঋণ প্রদানে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর অনীহা। ফোর্সড লোনের ওপর অতিরিক্ত সুদ আদায়। প্রতিযোগী দেশগুলোর বিদ্যমান সুবিধাদির তুলনায় বাংলাদেশের হোম ও স্পেশালাইজড টেক্সটাইলের প্রাপ্য সুবিধাদি কম হওয়া। যথাসময়ে ও যথাযথ মানের রফতানি সেবা প্রদানে সরকারি রফতানি সহায়ক প্রতিষ্ঠানের সীমাবদ্ধতা। পোশাক ও বস্ত্র খাতের অধিকাংশ কারখানার ইটিপি সুবিধাদির অভাব ও তার পরিপ্রেক্ষিতে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন। শ্রমিকের দক্ষতা বৃদ্ধিতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকা। স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা কেন্দ্রের অভাব। বাণিজ্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণভাবে সমুদ্র বন্দর ও বন্দর সংযোগ সুবিধা সম্প্রসারিত না হওয়া। বাংলাদেশী সুতার অযৌক্তিক মূল্য বৃদ্ধির জন্য বস্ত্র ও তৈরি পোশাক সামগ্রীর মূল্য বৃদ্ধি। দেশে তুলার উৎপাদন কম হওয়া এবং তুলা উৎপাদনকারী দেশগুলো কর্তৃক তুলার পরিবর্তে সুতা ও কাপড় তৈরি এবং রফতানিতে আগ্রহী হয়ে উঠায় দেশে বস্ত্রসামগ্রীর কাঁচামালে ঘাটতির আশংকা। বাংলাদেশ প্রথম সারির রফতানিকারক হওয়া সত্ত্বেও এদেশী রফতানিকারকের নিজস্ব ব্র্যান্ডের পণ্য রফতানি বাজারগুলোতে বিপণন না হওয়ায় বঞ্চনার শিকার উচ্চ রফতানি মূল্য থেকে এবং সর্বশেষ পণ্যের মান ও মান সনদ প্রদান উপযোগী প্রতিষ্ঠানের অনুপস্থিতি এবং উপযুক্ত মানের সরঞ্জামাদির অভাব প্রভৃতি।

প্রার্থীদের বাসায় বাসায় পুলিশের হানা by আলাউদ্দিন আরিফ

পুলিশের গ্রেফতার আতংকে নির্বাচনী এলাকায় যেতে পারছেন না ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থীরা। পুলিশ প্রায় প্রতিরাতেই প্রার্থীদের বাসায় বাসায় গিয়ে হানা দিচ্ছে। আত্মগোপনে থেকেই তাদের প্রচারণা চালাতে হচ্ছে। কোনো কোনো প্রার্থীকে আটক করে অর্থ আদায়েরও অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর থেকে তাদের বাসায় হানা দিচ্ছে পুলিশ। তাদের অবস্থান জানার জন্য পরিবারের সদস্যদেরও চাপ দেয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় নির্বাচনে সব প্রার্থীর সমান সুবিধা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম বলেন, কোনো প্রার্থীর নামে মামলা থাকলেই তার মনোনয়নপত্র বাতিল হবে না। কেউ সাজাপ্রাপ্ত আসামি হলে তখনই মনোনয়নপত্র বাতিল করা হবে। আর কেউ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হলে বা আদালত থেকে পরোয়ানা জারির পর পলাতক থাকলে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবেন। তাছাড়া কারো বিরুদ্ধে মামলা থাকলেও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালাতে পারেন।
একই বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবি পুুলিশের উপপুলিশ কমিশনার জাহাঙ্গীর মাতুব্বর যুগান্তরকে বলেন, ডিবি কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযান করছে না। সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ অভিযান পরিচালনা করতে পারে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনার গাজী শাহনেওয়াজ মঙ্গলবার বলেছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে কাউকে গ্রেফতার করতে চাইলে কমিশনের অনুমতি লাগবে না। ফলে মনোনয়নপত্র জমা দিলেও নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করতে পারছেন না বহু প্রার্থী।
৩০ ও ৩১ মার্চ রাজধানীতে অন্তত ৪০ জন বিএনপি সমর্থক কমিশনার প্রার্থীর বাসায় হানা দিয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের ৯৩টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে ২০ দলীয় জোটের তিন শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত আসনের মহিলা প্রার্থীরাও রয়েছেন। তারা বাদ যাচ্ছেন না পুলিশি হয়রানি থেকে।
৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রার্থী জানান, তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে সেগুলো যথাযথ পূরণ করছিলেন। ওই সময় পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে যায়। রিমান্ডে নেয়াসহ নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা দাবি করে। পরে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে ছাড়া পান তিনি। এরপরও তার বাড়িতে কয়েকবার পুলিশ তল্লাশি করেছে বলে জানান ওই প্রার্থী। এরপর থেকে নির্বাচনে এক রকম অনীহা প্রকাশ করেছেন তিনি।
ঢাকা দক্ষিণের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী বিএনপি নেতা হামিদুল হক পুলিশি হয়রানি প্রসঙ্গে বলেন, ভাই এসব কথা বলতে গেলে গায়ের পশম দাঁড়িয়ে যায়। শুধু একটু বেঁচে থাকার জন্য বাড়িঘর বেইচাও টাকা দিছি। প্রতিদিন বাড়িতে ও এলাকায় পোশাকে এবং সাদা পোশাকে পুলিশ আসে। এলাকার দলীয় কর্মীরা মসজিদে নামাজের পর লিফলেট দিতে গেলে সরকারদলীয় ক্যাডাররা পিটিয়েছে। পুলিশের কাছে মামলা করতে গিয়েও কোনো লাভ হয়নি। এসব হলে নির্বাচনী প্রচারণা কিভাবে চালাব।
এ ওয়ার্ডের মায়াকানন এলাকার বিসমিল্লাহ স্টোরের মালিক (মুদি দোকান) হাবিবুর রহমান জানান, প্রতিরাতেই পুলিশ আসে। টহলের সময় ছাত্রদলের কর্মীদের দেখলেই ধাওয়া করে বা ধরে নিয়ে যায়। ছাত্রদলের কর্মীরাও পুলিশ দেখলে এলাকায় থাকে না। কিন্তু ছাত্রলীগের কর্মীরা নিজ দলের কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ঢাকা দক্ষিণের ৬ নম্বর ওয়ার্ড প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর কমিটির সদস্য শামসুল হুদা জানান, মনোনয়নপত্র কেনার পর সোমবার তার এলাকায় পুলিশ-র‌্যাব বিশেষ অভিযান চালায়। অভিযানের খবর শুনেই দলের নেতাকর্মী সবাই এলাকা ছেড়ে চলে যায়। কারণ বিএনপির প্রায় সব নেতাকর্মীর নামেই মামলা আছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়ার জন্য কোনো কর্মী পাওয়া যাচ্ছে না। কর্মী ছাড়া নির্বাচন করবেন কি করে। দক্ষিণ মুগদার বিএনপি কর্মী জাকির হোসেন জানান, পুলিশের ভয়ে তারা এলাকা ছাড়া। প্রায় সব নেতাকর্মীর নামে, হরতাল-অবরোধে নাশকতা, ভাংচুর, বোমা বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা রয়েছে। এসব মামলার আতংকে তারা এলাকায় যেতে পারছেন না।
ঢাকা দক্ষিণ ১০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী ও বিএনপি নেতা হারুণ-অর-রশিদ হারুণ জানান, দীর্ঘদিন থেকেই পুলিশের ভয়ে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। পল্টনের বাসায় প্রায়শই পুলিশ হানা দিচ্ছে। এলাকায় যেসব কর্মী-সমর্থক আছে তাদের দেখামাত্রই সরকারদলীয় লোকজন পুলিশকে খবর দিচ্ছে। ফলে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। ঢাকা দক্ষিণের ৪নং ওয়ার্ড বিএনপি সমর্থক কাউন্সিলর প্রার্থী মোরসালিনের বাসায় তল্লাশি করেছে পুলিশ। তিনি জানান, রোববার কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর রাতে তার বাসাবোর বাসায় তল্লাশি অভিযান চালায় পুলিশ। তবে ওই সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। ঢাকা উত্তর ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন যুবদল নেতা হাজী মোহাম্মদ ইউসুফ। তিনি জানান, তিন মাস ধরে বাসায় থাকতে পারছেন না। আত্মগোপনে থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেন। কয়েক দফায় তার বাসায় অভিযান চালিয়েছে আইনশৃংখলা বাহিনী। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর তার রায়েরবাজার গদিঘরে ও শেরেবাংলা রোডের বাসায় পুলিশ গেছে। পুলিশ তার অবস্থান ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে নানা তথ্য জানতে চেয়েছে। প্রার্থী হওয়ার পর থেকে বাসার সামনে মাইক্রোবাসে করে কিছু লোক ঘোরাফেরা করে।
প্রার্থীদের অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মতিঝিল থানার ওসি ফরমান আলী যুগান্তরকে বলেন, চার্জশিটভুক্ত বা মামলার আসামি গ্রেফতার পুলিশের রুটিন ওয়ার্ক। দাগী সন্ত্রাসীদের কেউ প্রার্থী হলে পুলিশ অভিযান চালাবে। তবে কোনো প্রার্থীকে হয়রানির অভিযোগ সঠিক নয়। খিলগাঁও থানার ওসি জিয়া মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, কোনো প্রার্থীকে হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে পুলিশকে জানান। কেউ সেভাবে অভিযোগ করছে না।

ক্যামব্রিজ ভার্সিটির নিচে গণকবর

ইতিহাসের কোথাও এ ঘটনার উল্লেখ নেই ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের মাটির তলাতেই রয়েছে গণকবর। বিশ্ববিদ্যালয়টির অধীনে রয়েছে প্রায় ৩১টি কলেজ। কলেজগুলোর অধীনে রয়েছে অনেক স্কুল।
নৃতাত্ত্বিকরা বর্তমানে পুরনো ডিভাইনিটি স্কুলের মাটির তলায় খননকার্য চালাচ্ছেন। এ মাটির তলাতেই প্রায় ১৩শ’ মানুষের একটি গণকবর পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১৫১১ সালের দিকে তাদের এখানে সামাধিস্থ করা হয়। কিন্তু এত মানুষকে একসঙ্গে কী কারণে গণকবর দেয়া হয়েছিল তা আজও রহস্যে ঘেরা। গবেষকরা জানাচ্ছেন, মেডিয়েভ্যাল হাসপাতালের তলদেশ থেকে পাওয়া মৃতদেহের হাড় এখন পরীক্ষা করা হচ্ছে। ব্রিটেনে আবিষ্কৃত গণকবরগুলোর মধ্যে এটাই সবচেয়ে প্রাচীন। ডিএনএ পরীক্ষার পরই মূলত সঠিকভাবে বলা সম্ভব হবে লাশগুলো কাদের। পুরনো ডিভাইনিটি স্কুলের মেঝে খুঁড়ে এ খননকার্য চালানো হচ্ছে। ৬ মাস ধরে খননকার্য চালানোর পর সম্পূর্ণ অক্ষত ৪০০টি লাশের কংকাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আরও ৯০০টি কংকাল রয়েছে।
ক্যামব্রিজের নৃতাত্ত্বিক দলের সদস্য ক্রেক চেসফোর্ড বলেন, আমরা জানতাম যে, এ এলাকায় একটি কবরস্থান ছিল। প্রাপ্ত বেশিরভাগ কংকাল মানুষের বয়স ২৫ থেকে ৪৫-এর মধ্যে। লাশগুলো নেটে জড়িয়ে এক স্থানে জড়ো করে কবর দেয়া হয়েছিল। ওয়েবসাইট।

বিএনপির ৪৪ জেলা অফিসে তালা by হাবিবুর রহমান খান

বিএনপির অফিসের ভেতরে ভুতুড়ে পরিবেশ,
ধুলাবালির আস্তরণ, পত্রিকার স্তূপ; পড়ার কেউ নেই
দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪৪টিতেই তালাবদ্ধ আছে বিএনপির কার্যালয় (অফিস)। পাশাপাশি নয়াপল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও ঢাকা মহানগর বিএনপি কার্যালয়ের মূল ফটকে তিন মাস ধরে তালা ঝুলছে। এছাড়া তিন মাস থেকে এক বছর ধরে বন্ধ রয়েছে অধিকাংশ উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় অবস্থিত কার্যালয়গুলোও। আর দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কয়েকটি অফিস খোলা থাকলেও সেগুলোও কার্যত বন্ধ। সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরা থাকায় গ্রেফতারের আশঙ্কায় সেখানে যান না নেতাকর্মীরা। দলীয় কার্যালয়কে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার ‘প্রাণকেন্দ্র’ বলা হলেও এ মুহূর্তে এটি থেকে সম্পূর্ণ বঞ্চিত দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি- মন্তব্য বিএনপির নীতিনির্ধারকদের।
বিএনপির সূত্র ও যুগান্তরের নিজস্ব অনুসন্ধানে জানা গেছে, কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালা লাগিয়ে দিয়েছে পুলিশ। আর ঢাকা মহানগর বিএনপি অফিসে পুলিশ তালা লাগিয়ে চাবি নেতাদের কাছে দিয়ে দেয়। কিন্তু পরবর্তীকালে দলের পক্ষ থেকে কেউ আর অফিস খোলেননি। এছাড়া নেতাকর্মীরা অফিসে যাওয়া-আসা না করায় দেশের ৪৩টি জেলা অফিসের মূল ফটকে তালা ঝুলছে। আর আট জেলা অফিস খোলা থাকলেও সেখানে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরা রয়েছে। গ্রেফতারের আশঙ্কায় নেতাকর্মীরা না যাওয়ায় কার্যত নিষ্ক্রিয় রয়েছে অফিসগুলো। তবে ভিন্ন চিত্র ১১ জেলায়। সেখানে নেতাকর্মীদের পদচারণা স্বাভাবিক। জেলাগুলো হচ্ছে- ময়মনসিংহ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, লালমনিরহাট, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, পাবনা, রাজবাড়ী, পিরোজপুর ও ফরিদপুর।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, বিভিন্ন উপজেলা, থানা ও পৌরসভায় অবস্থিত কার্যালয়গুলোর কিছু পুলিশ তালাবদ্ধ করে দিয়েছে, আবার কিছু খোলা থাকলেও পুলিশ অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কোথাও কোথাও অফিস খুলতে চাইলেও পুলিশি বাধায় পিছু হটছেন নেতাকর্মীরা। কোথাও আবার অফিস খোলার লোকও নেই। ফলে কার্যালয় ঘিরে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হচ্ছে না। চলমান আন্দোলনে কোথাও কোথাও ক্ষমতাসীন দলের ক্যাডাররা বিএনপি কার্যালয় জ্বালিয়ে দিয়েছে। তবে দলটির প্রতিষ্ঠার এত বছর পরও কোনো কোনো জেলা বা উপজেলায় বিএনপির দলীয় কার্যালয় নেই। আবার কার্যালয় থাকলেও গ্রুপিংয়ের কারণে তা বন্ধ। কারও বাসা বা ব্যবসায়িক অফিস কিংবা হোটেল রেস্তোরাঁয় বসে দলীয় কাজ চালাচ্ছেন। এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে প্রবেশে রয়েছে কড়াকড়ি। স্বাভাবিকভাবে সেখানে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, রাজনৈতিক দলের প্রাণকেন্দ্র হচ্ছে দলীয় কার্যালয়। সেখানে বসেই দলীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি তিন মাস ধরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় তালাবদ্ধ। পুলিশ কার্যালয়ের চাবিও দিচ্ছে না আবার বলছে তারা কোনো বাধা দিচ্ছে না।
তিনি বলেন, শুধু কেন্দ্রীয় কার্যালয় নয়, দেশের অনেক অফিসই পুলিশ বন্ধ করে দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মামলা দিয়ে নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। অনেকে গ্রেফতারের ভয়ে কার্যালয়ে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে বিএনপির মতো বড় দলের কার্যালয় বন্ধ করে রাখার পরিণাম কখনও শুভ হবে না। অবিলম্বে দলের সব কার্যালয় খুলে দেয়া ও পুলিশি পাহারা প্রত্যাহার করে নেতাকর্মীদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করার সুযোগ দেয়ার জন্য সরকারের কাছে আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
মঙ্গলবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, অফিসের মূল কলাপসিবল গেটে তালা লাগানো। দীর্ঘদিনের পড়ে থাকা সংবাদপত্রের ওপর ধুলা-ময়লার আস্তর জমে আছে। পত্রিকার পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গা থেকে পাঠানো বেশকিছু চিঠিও সেখানে পড়ে রয়েছে। কার্যালয়ের নিচতলায় বেশকিছু পুলিশ সদস্য বসে পাহারা দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে আলাপকালে জানা গেল, কয়েকটি শিফটে ভাগ হয়ে তারা কার্যালয় পাহারা দেন। এছাড়া সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার লোকজনও সেখানে পালা করে দায়িত্ব পালন করছেন। বিএনপি নেতাকর্মী সন্দেহ হলেই তাদের জিজ্ঞাসা করা হচ্ছে। আবার কাউকে কাউকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাই গ্রেফতারের ভয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা কার্যালয় এড়িয়ে চলছেন।
৩ মার্চ রাত থেকে কার্যালয়ের মূল গেটে তালা। ওই রাতে কার্যালয়ের ভেতর থেকে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে আটক করে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল। একই সময় কার্যালয়ের ভেতরে অবস্থান করা সব নেতাকর্মী এমনকি কর্মচারীদের বের করে গেটে তালা দিয়ে চাবি নিয়ে চলে যায় পুলিশ।
জানতে চাইলে কার্যালয়ের কর্মচারী দলিল উদ্দিন বুধবার যুগান্তরকে বলেন, ‘রিজভী স্যারকে আটক করার পর থেকে কার্যালয়ে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি। স্বাধীনতা দিবসের আগের দিন তালা খোলার জন্য পল্টন থানায় চাবির জন্য যাই। কিন্তু চাবি না দিতে ওপরের নির্দেশ আছে বলে ওসি স্যার আমাকে জানান।’
তিনি আরও বলেন, কার্যালয় বন্ধ থাকায় প্রায় তিন মাস ধরে পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও টেলিফোন বিল বকেয়া পড়েছে। কার্যালয়ের ১৪ জন কর্মচারীর বেতনও বন্ধ। অনেকের ঢাকায় থাকার জায়গা না থাকায় তারা গ্রামের বাড়ি চলে গেছেন।
একই দিন নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের উল্টোপাশে ভাসানী ভবনে মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় সেটাও তালাবদ্ধ। কার্যালয়ের নিচে কয়েকজন পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। মহানগর কার্যালয়ের অফিস সহকারী মো. মানিক মিয়া বুধবার যুগান্তরকে বলেন, মহানগর কার্যালয়ের তালা লাগিয়ে পুলিশ চাবি আমাদের দিয়ে বলেন, অনুমতি ছাড়া অফিস খোলা যাবে না। এরপর মহানগরের দফতরের দায়িত্বপ্রাপ্ত শামসুল আলম কার্যালয় খুলতে গেলে পুলিশ তাকে আটক করে। এ সময় শাহাবুদ্দিন নামে একজন অফিস সহকারীকেও আটক করা হয়। কার্যালয় যাতে না খুলি এজন্য আমাদের নানাভাবে ভয়ভীতিও দেখায় পুলিশ।
তিনি বলেন, কার্যালয় বন্ধ থাকা ও মহানগর নেতারা প্রকাশ্যে আসতে না পারায় তিন মাস ধরে তারা কোনো বেতন পান না। কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় তার দোকানটিও খুলতে দেয়া হচ্ছে না। দোকানের ভেতর অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি পুলিশের হয়রানির মধ্য দিয়ে কোনো মতে চলছেন বলে জানান মানিক।
জানতে চাইলে মতিঝিল বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপুলিশ কমিশনার আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় কে তালা দিয়েছে বা কারা খুলছে কোনোটাই আমার জানা নেই। আমার কাজ হল আইনশৃংখলা দেখা। আইনশৃংখলা রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নেয়া দরকার আমরা সেটাই করছি। তালা দেয়া বা খোলার বিষয়ে পুলিশের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
যুগান্তরের ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য
চট্টগ্রাম নগর ও জেলা অফিস তালাবদ্ধ : নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দায়ের, পুলিশি অভিযান ও গ্রেফতার আতংকে তিন পার্বত্য জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রামসহ পাঁচ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিএনপি অফিসের কার্যক্রম নেই বললেই চলে। অধিকাংশ অফিসই রয়েছে টানা প্রায় তিন মাস ধরে তালাবদ্ধ। কোথাও কোথাও অফিস খুলতে চাইলেও পুলিশি বাধায় পিছু হটছেন নেতাকর্মীরা। কোথাও আবার অফিস খেলার লোকও নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রাম মহানগরীর নুর আহমদ সড়কের নাসিমন ভবনে অবস্থিত চট্টগ্রাম উত্তর ও নগর বিএনপি কার্যালয় ৫ জানুয়ারির পর থেকেই পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। নগরীর দোস্ত বিল্ডিং-এ অবস্থিত চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির কার্যালয়টিও বন্ধ রয়েছে ৫ জানুয়ারির পর থেকে। এদিকে কক্সবাজারসহ তিন পার্বত্য জেলায় বিএনপি কার্যালয়গুলোও প্রায় বন্ধ রয়েছে। রাঙ্গামাটি জেলা বিএনপির কার্যালয় গ্র“পিংয়ের কারণে প্রায় সময় বন্ধ থাকে। ৫ জানুয়ারির পর থেকে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে বান্দরবান জেলা বিএনপির কার্যালয়। তবে পৌরসভা ও উপজেলা বিএনপির কার্যালয়গুলো মাঝে মাঝে খোলা হয়। খাগড়াছড়ি জেলা বিএনপির কার্যালয়টি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে ৫ জানুয়ারির পর থেকে।
জেলার ১৪টি উপজেলার মধ্যে মিরসরাই উপজেলা বিএনপি কার্যালয় খোলা হয় কেন্দ্রীয় কর্মসূচিকে ঘিরে। সীতাকুণ্ড উপজেলায় বিএনপির দলীয় কোনো কার্যালয় নেই। হাটহাজারী, পটিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি থাকলে দলীয় কার্যালয় খোলা হয়। এর বাইরে অফিস খুলতে গেলে পুলিশের চাপে বন্ধ করে দিতে হয়। ৫ জানুয়ারির পর থেকে ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, সাতকানিয়া উপজেলা বিএনপি কার্যালয়টি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। রাঙ্গুনিয়া, আনোয়ারা উপজেলায় কোনো অফিসই নেই। শত বাধা-বিপত্তিতেও চট্টগ্রামের ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন সন্দ্বীপে নিয়মিত খোলা হয় বিএনপির কার্যালয়।
রাজশাহী বিভাগে বিএনপির সব অফিসই অবরুদ্ধ : প্রায় তিন মাস ধরে রাজশাহী বিভাগের জেলাগুলোর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অফিসগুলো কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। এসব জেলার উপজেলা ও আঞ্চলিক অফিসগুলোও খুলতে পারে না নেতাকর্মীরা। বিভাগীয় শহর রাজশাহীর ভুবনমোহন পার্ক সংলগ্ন মালোপাড়ায় মহানগর বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের অফিস। ৫ জানুয়ারির রাত থেকে ফেব্র“য়ারির শেষ নাগাদ মহানগর বিএনপির এ কার্যালয়টি অবরুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। মাঝে মাঝে অফিসটি আগে খোলা হলেও অধিকাংশ নেতাকর্মী গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে থাকায় অফিসটি গত একমাস ধরে খোলাই হয় না। পিয়ন চাপরাসি কেউই আর অফিসমুখী হয়নি। ফলে শুধু দলীয় সাইনবোর্ডই এখন শোভা পাচ্ছে।
অন্যদিকে নগরীর চালপট্টিতে জেলা বিএনপির একটি অফিস থাকলেও গত এক বছরেও অফিসটি খোলা হয় না। জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফা রাজশাহীতে অবস্থান করলে মাঝেমধ্যে অফিসটি খোলা হতো।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপি নেতা সাজেদুর রহমান মার্কনী বলেন, পুলিশ কোনো নেতাকর্মীকেই অফিসমুখী হতে দেয় না। অফিসের আশপাশে পেলেই ধরে নিয়ে নাশকতার মামলায় দিয়ে দিচ্ছে।
নাটোর শহরের আলাইপুরে অবস্থিত বিএনপি অফিসের সামনে দিনের পুরো সময়ই পুলিশ পাহারা থাকে। রাতের দিকে পুলিশ চলে গেলেও অফিস খোলার মতো পরিবেশ নেই, জানালেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল হক। বিএনপি অফিস অবরুদ্ধ রাখা প্রসঙ্গে নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি অফিস খোলাই থাকে। তবে আইনশৃংখলা রক্ষার স্বার্থে অফিস থেকে দূরে পুলিশের একটি দল থাকে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিএনপি অফিসও কার্যত অবরুদ্ধ রয়েছে তিন মাস ধরে। তবে মাঝেমধ্যে অফিসটি খোলা হয়। পৌর শহরের পাঠানপাড়া এলাকার বিএনপির এ অফিসটি সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির অফিস হিসেবেই পরিচিত। জেলা বিএনপি নামে কোনো অফিস নেই বলে জানালেন নেতাকর্মীরা। অন্য এলাকার মতো বিএনপি অফিসে কোনো পুলিশ থাকে না বলেও তারা জানান।
নওগাঁ জেলা বিএনপির অফিসটি শহরের কেডির মোড়ে। সেখানেও নেই নেতাকর্মীদের আনাগোনা।
জয়পুরহাটের অফিস পুড়ে গেছে : ২৪ ফেব্রুয়ারি ১৪ দলের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার পর আওয়ামী লীগ সমর্থকরা রেলগেট এলাকায় অবস্থিত জয়পুরহাট জেলা বিএনপির অফিসে আগুন দেয়। এরপর থেকে কার্যালয়ে কোনো নেতাকর্মীকে দেখা যাচ্ছে না। গ্রেফতারের ভয়ে বেশিরভাগ নেতাকর্মীই আত্মগোপনে রয়েছেন।
বগুড়ায় ৮৫ দিন ধরে অফিস তালাবদ্ধ : কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর থেকে শহরের নবাববাড়ী সড়কে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠন, শহর জামায়াত এবং টেম্পল রোডে শহর বিএনপি অফিস তালাবদ্ধ। ৪ মার্চ রাতে পুলিশের উপস্থিতিতে নবাববাড়ী সড়কে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা পেট্রল ঢেলে বিএনপি অফিসে আগুন ও ভাংচুর করে। জোটের দায়িত্বশীল অধিকাংশ নেতা আত্মগোপনে। পুলিশি দমনপীড়ন ও হয়রানি এড়াতে নেতাকর্মীরা পার্টি অফিসে যাচ্ছেন না। বগুড়া জেলা বিএনপির দফতর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান রাজু জানান, পুলিশ শুধু গ্রেফতার নয়; দায়িত্বশীল নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশির নামে তাণ্ডব চালাচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশি দমনপীড়ন ও বাধার কারণে ২০ দলীয় জোটের পার্টি অফিস খোলা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বগুড়া পুলিশের এএসপি (মিডিয়া) গাজিউর রহমান সাগর জানান, দলীয় অফিসে যেতে কাউকে বাধা দেননি; কোনো নেতাকর্মীকে হয়রানিও করা হয়নি। নাশকতা মামলার আসামিদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।
আড়াই মাস ধরে তালাবদ্ধ যশোর বিএনপি কার্যালয় : যশোর জেলা বিএনপির কার্যালয় তালাবদ্ধ প্রায় আড়াই মাস ধরে। শহরের লালদীঘি পাড়ের দলীয় কার্যালয়ে এখন সুনসান নীরবতা। জিয়াউর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে দোয়া মাহফিলের অনুষ্ঠান থেকে জেলা বিএনপির ১১ শীর্ষ নেতাকে আটকের পর আগের মতো নেই দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি। মঙ্গলবার সরেজমিন শহরের লালদীঘি পাড়ের বিএনপির কার্যালয়ে গিয়ে দেখা গেছে, দোতলা ভবনের দরজায় তালা ঝুলছে। কার্যালয়ের সামনে পুলিশি পাহারা। জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় দলীয় নেতাকর্মীদের জড়ানো হচ্ছে। এজন্য গ্রেফতার এড়াতে দলীয় নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে যাচ্ছেন না।
ঝিনাইদহ কার্যালয় জ্বালিয়ে দিয়েছে : ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির কার্যালয় বন্ধ। এক মাস আগেও নেতাকর্মীদের কলতানে মুখোরিত ছিল এ কার্যালয়। শহরের প্রাণকেন্দ্রে কেপি বসু সড়কের একটি ব্যক্তি মালিকানাধীন মার্কেটে বিএনপির কার্যালয়টি ১৯ ফেব্রুয়ারি আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। আগুনে কার্যালয়টির চেয়ার, টেবিল, ফ্যানসহ আসবাবপত্র পুড়ে যায়। জেলা বিএনপির সভাপতি মসিউর রহমান অভিযোগ করেন, সরকারদলীয় লোকরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয় ।
চুয়াডাঙ্গা কার্যালয় পুলিশের দখলে : চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপি অফিসটি তালাবদ্ধ ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। ফলে কার্যালয়ে কোনো কর্মসূচি পালন করতে পারেন না তারা। জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল জব্বার সোনা যুগান্তরকে বলেন, পুলিশ আমাদের অফিসে সার্বক্ষণিক অবস্থান করে। সেখানে আমাদের বসতে দেয় না পুলিশ। এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান মুনসী অভিযোগ অস্বীকার করে যুগান্তরকে বলেন, বিএনপির অফিসে পুলিশ প্রহরা নেই। এমনিতেই পুলিশ বিশ্রামে থাকতে পারে।
মেহেরপুর : মেহেরপুর জেলা বিএনপি দু’ভাগে বিভক্ত। একটি সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ গ্রুপ। অপরটি ইলিয়াস-আনছারুল গ্রুপ। মাসুদ অরুণ গ্রুপের কার্যালয় প্রধান সড়কে। অপরটি থানা সড়কে। ইলিয়াস-আনছারুল গ্রুপ ৫ জানুয়ারির পর কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচি পালন করেনি পুলিশ আতংকে। সাবেক এমপি মাসুদ অরুণ জানান, পুলিশ দলীয় কার্যালয়ে কোনো কর্মসূচি পালন করতে দেয় না। এজন্য নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের প্রবেশ মুখগুলোতে বিক্ষোভ মিছিল করে।
খুলনা বিভাগের ৫ জেলায় গ্রেফতারের ভয়ে কার্যালয় বন্ধ : পুলিশের বাধা ও গ্রেফতারের ভয়ে গত প্রায় দু’মাস ধরে খুলনা বিভাগের ৫ জেলায় বিএনপির নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় বন্ধ রেখেছে। নেতাকর্মীদের গ্রেফতার শুরুর পর থেকে পুলিশের বাধা ও গ্রেফতারের ভয়ে নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় বন্ধ করে রেখেছে। তবে পুলিশের অনুমতি নিয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে দলীয় কার্যালয় কিছু সময়ের জন্য খোলা হচ্ছে। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সরেজমিন খুলনা নগরীর কেডি ঘোষ রোডে খুলনা জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়ে দেখা যায়, কার্যালয়ের প্রধান ফটকে দুটি তালা ঝোলানো রয়েছে। নগর বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক সামছুজ্জামান চঞ্চলের সঙ্গে মোবাইল ফোনে জানান, আরাফাত রহমান কোকোর জানাজার পর থেকে পুলিশের বাধা ও গ্রেফতারের ভয়ে নেতাকর্মীরা কার্যালয়ে আসতে পারছেন না। এরপর থেকে দলীয় কার্যালয়টি বাধ্য হয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে।
আন্দেলনের শুরুর দিকে মাগুরা জেলা উপজেলা পর্যায়ের অফিস খোলা থাকলেও পরে গ্রেফতার এড়াতে নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দেয়ায় জেলা অফিস অনেক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। তবে শালিখা, শ্রীপুর ও মহম্মদপুর এলাকার উপজেলা পর্যায়ের বিএনপি অফিস বিকালের দিকে খোলা হয়। সাতক্ষীরায় জেলা বিএনপির কোনো অফিস নেই। এখানে ওখানে কারও বাড়িতে ও আমতলা মোড়ে দলীয় নেতা মাসুমবিল্লাহ শাহীনের নিজস্ব অফিসে অস্থায়ীভাবে যে কার্যক্রম চলত তাও বন্ধ হয়ে গেছে। জেলার সবগুলো উপজেলায়ও দলীয় অফিসে তালা ঝুলছে।
নড়াইল জেলার তিনটি উপজেলা সদরের ৪ অফিস তিনটি পৌরসভা ও ইউনিয়নসহ মোট ৩৩টি দলীয় কার্যালয় রয়েছে। প্রায় সবগুলো দলীয় কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। এ বিষয়ে নড়াইল জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকবাল হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতার আতংকে দলীয় নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে রয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় অনেক নেতা জেলহাজতে থাকায় দলীয় কার্যালয়গুলো বন্ধ রয়েছে।
বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট, চিতলমারী ও শরণখোলা উপজেলায় বিএনপির অফিসে কয়েক দফা হামলা ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এখন এই তিন উপজেলায় কার্যত বিএনপির কোনো অফিস নেই। এছাড়া অন্য উপজেলার মধ্যে মংলা, রামাপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া , মোল্লারহাটে বিএনপির অফিস থাকলেও পুলিশি বাধায় সেখানে নিয়মিত দলীয় নেতাকর্মীরা সভা বা দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারে না। একমাত্র জেলা সদরের বিএনপির কার্যালয়ে কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে পুলিশ শর্তসাপেক্ষে কার্যক্রম পরিচালনা করতে দেয়। এমন অভিযোগ জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ সালামের। তিনি বলেন, পার্টি অফিসে দলীয় নেতাকর্মীদের যাতায়াতে পুলিশ হস্তক্ষেপ করে।
বরিশালে বিএনপির প্রতিটি জেলা উপজেলার কার্যালয় তালা, ভাংচুর : গ্রেফতার আতংকে বরিশাল জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভাগের প্রায় সব জেলা ও উপজেলার কার্যালয়ে বন্ধ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছে নেতাকর্মীরা। বরিশাল জেলা বিএনপির কার্যালয় মাঝে মধ্যে খোলা হলেও অধিকাংশ সময়ই থাকে তালাবদ্ধ। অবরোধ-হরতাল কর্মসূচি শুরুর প্রথম দিকে পটুয়াখালী বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত বিএনপির অফিস খোলা হয়নি। অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় কার্যালয়টি। তালাবদ্ধ রয়েছে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির কার্যালয়ও। এদিকে ৯ মার্চ নলছিটি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পরদিন উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাংচুর চালায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে কোনো বিএনপি নেতাকর্মীকে ওই কার্যালয়ে দেখা যায়নি। পুলিশ প্রহরায় রয়েছে ভোলা ও বরগুনার জেলা কার্যালয়। তবে এসব মন্দের মাঝে মোটামোটি ভালো আছে পিরোজপুর জেলা বিএনপির কার্যালয়। বেশিরভাগ সময় তালাবদ্ধ থাকলেও মাঝে মাঝে অফিসে আসেন হাতেগোনা কয়েকজন বিএনপি নেতা।
কুমিল্লায় কার্যালয় তালাবদ্ধ : আত্মগোপনে থেকে কার্যক্রম : নগরীর কান্দির পাড়ে অবস্থিত জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়টি তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। কুমিল্লা মহানগর, দক্ষিণ ও উত্তর জেলাসহ ১৬টি উপজেলা বিএনপির কার্যালয়গুলো অনেকটাই নিরুত্তাপ, নেতাকর্মীশূন্য ও তালাবদ্ধ। জেলা সদরের কান্দির পাড়ে দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপির কার্যালয়টিতে বিগত ১ বছর যাবত তালা ঝুলছে। শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের যেসব কার্যালয় রয়েছে গত ১ বছর যাবত সবকটিতেই তালা ঝুলছে। একই অবস্থা বিরাজ করছে চান্দিনা উপজেলা সদরে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির কার্যালয়েও। অপরদিকে জেলার ১৬ উপজেলার মধ্যে প্রতিটি উপজেলার সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য উপজেলা সদরে একটি করে উপজেলা বিএনপির কার্যালয় থাকলেও বেশিরভাগই ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর থেকে তালা খুলেনি। এ ব্যাপারে কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি খোরশেদ আলম বলেন, পুলিশি হয়রানি মামলা হামলা ও নির্যাতনের ভয়ে নেতাকর্মীরা এখন দলীয় কার্যালয়ে আসতে সাহস পায় না। তিনি বলেন, আমরা সম্প্রতি কার্যালয় খুলে স্বাধীনতা দিবস পালন করেছি।
সিলেটে বিএনপির নিজস্ব কোনো কার্যালয় নেই : বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হলেও সিলেট বিভাগে কোনো দলীয় অফিস নেই বিএনপির। দলীয় অফিস না থাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম চলে নেতাদের ড্রয়িংরুম বা বৈঠকখানায়। বিভাগের রাজনীতিতে কয়েকটি বলয় রয়েছে। প্রত্যেকটি বলয়ের নেতৃত্বে যারা থাকেন তাদের বাসা বা অন্য কোথায় দলীয় কার্যক্রম চালান। কিন্তু আজকাল পুলিশের ভয়ে ড্রয়িং রুমেও বৈঠক করতে সাহস পাচ্ছে না।
সুনামগঞ্জেও বিএনপির কোনো স্থানীয় দলীয় কার্যালয় নেই। এক সময় শহরের ট্রাফিক পয়েন্ট ও টাউন হল মার্কেটের সামনে দলের অস্থায়ী কার্যালয় থাকলেও সময়ের ব্যবধানে যখন যিনি দলের সভাপতি কিংবা আহ্বায়ক পদে আসীন হয়েছেন তখন তারা তাদের নিজেদের বাসা কিংবা শহরের কোনো মার্কেটের ভেতর অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় খুলে বসেন। তবে পদ হারানোর পর সেই সব কার্যালয় কিংবা বাসা বাড়িও দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের জন্য অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে।
মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের সদরে বিএনপির নিজস্ব কোনো কার্যালয় না থাকলেও নেতাদের আবাসিক এলাকা থেকে দলের দুই অংশের সাংগঠনিক তৎপরতা চালানো হতো। এখন ওই দুটি এলাকা নেতাকর্মী শূন্য। জেলা সভাপতি এম নাসের রহমান এলাকায় গেলে বাহারমর্দন গ্রামের বাড়িটিই মূলত কার্যালয়ে পরিণত হয়। নাসেরবিরোধী বলে পরিচিত খালেদা রাব্বানী অংশের সাংগঠনিক কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে শহরের শাহ মোস্তাফা সড়কে অবস্থিত তার বাড়িতে।
হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির বর্তমানে কোনো কার্যালয় নেই। ফলে শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিংবা নেতাদের বাসায় বসেই একাধিক ভাগে বিভক্ত এ দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছিল এতদিন। কিন্তু এখন তা-ও নেই। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান দখল করে কেন্দ্র কার্যালয় খোলা হলেও পরে তা হাতছাড়া হয়। সবশেষ ২০০১ সালে বিএনপি কোর্ট মসজিদ-সংলগ্ন এলাকায় জেলা পরিষদের মালিকানাধীন একটি বিল্ডিং দখল নিয়ে দলের কার্যালয়ে রূপান্তরিত করেন। বিগত ১/১১-এর সরকারের সময় এ বিল্ডিংটি থেকেও তাদের উচ্ছেদ করা হয়। সে থেকেই দলটির আর কোনো কার্যালয় নেই।
রংপুর বিভাগের কার্যালয়গুলো পুলিশের নিয়ন্ত্রণে : রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় বিএনপির প্রথম থেকে তৃতীয় সারির দলীয় নেতাকর্মীরা পুলিশি আতংকে বাড়িছাড়া। দলীয় কার্যালয়গুলো পুলিশ সর্বদা ঘিরে থাকে। পুলিশের ভাষায় অপেক্ষাকৃত গুরুত্বহীন দলীয় কিছু নেতাকর্মী অফিসে আসেন কেন্দ্রীয় রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করতে। তাও আবার স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমঝোতা করে তারা অফিসে আসেন। তবুও তাদের মাঝে গ্রেফতার-ভীতি সর্বদা কাজ করে।
দিনাজপুর জেলার দলীয় কার্যালয় পুলিশ তালাবন্ধ না করলেও নিজেরাই বন্ধ রেখেছে। পুলিশ প্রতিদিনই কার্যালয়ের প্রধান ফটকে বসে দায়িত্ব পালন করছে। এ ব্যাপারে পৌর বিএনপি নেতা বখতিয়ার আহম্মেদ কচি জানান, পুলিশ আইনশৃংখলা রক্ষার নামে বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিল মিটিং করতে না দিয়ে গণহারে ধরপাকড় শুরু করায় তারা তাদের কার্যালয় খুলতে পারছে না। পুলিশ দলীয় কার্যালয় ঘিরে সর্বদা সতর্ক পাহারা রেখেছে।
গাইবান্ধা জেলা বিএনপির কার্যালয় মাঝে মধ্যে খোলা থাকলেও দলীয় নেতাকর্মীদের উপস্থিতি নেই। গাইবান্ধায় পেট্রলবোমা হামলায় হতহতের ঘটনার পর থেকে সেখানে পুলিশ মরিয়া হয়ে ওঠে। জেলা বিএনপির সভাপতি গাওছল আজম ডলার জানান, তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। কুড়িগ্রামের দলীয় কার্যালয় মাঝে মধ্যে খোলা থাকলেও নেতাকর্মীদের উপস্থিতি দেখা যায় না। পুলিশি পাহারায় থাকে দলীয় কার্যালয়। নীলফামারী, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার বিএনপির দলীয় কার্যালয়গুলো একইভাবে চলছে। গুরুত্বপূর্ণ নেতকর্মীরা দলের কার্যালয়ে আসেন না। পুলিশ সর্বদা দলীয় কার্যালয় ঘিরে থাকে।
ময়মনসিংহ শহরের জেলা বিএনপি অফিস খোলা থাকলেও ১২ উপজেলায় বন্ধ : ময়মনসিংহ জেলা সদর ছাড়া ময়মনসিংহ জেলার অন্য ১২টি উপজেলায় বিএনপির অফিস থাকলেও গত ৫ জানুয়ারির পর থেকে বেশিরভাগ অফিস বন্ধ রয়েছে। শুধু ময়মনসিংহ জেলা বিএনপি (সদর দক্ষিণ) জেলা অফিস খোলা থাকে এবং প্রতিদিনই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দের নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল ও মিটিং চলে। তবে তাও আবার সীমিত এলাকায়। আবু ওয়াহাব আকন্দ বলেন, অনেক জায়গায় অফিস বন্ধ থাকে তার কারণ গ্রেফতার আতংক। জেলার ফুলবাড়ীয়া, মুক্তাগাছা, নান্দাইল, গফরগাঁয়ে বিএনপির অফিস থাকলেও তা বন্ধ। নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিয়েছেন।
হালুয়াঘাট, ফুলপুর, ত্রিশাল ও তারাকান্দায় বিএনপির অফিস থাকলেও কার্যক্রম নেই। ঈশ্বরগঞ্জে বিএনপির দুই গ্রুপের অফিস থাকলেও মূলত তা বন্ধ থাকে। ঢাকা থেকে যখন নেতারা আসেন তখন তা খোলা হয়। ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মঈনুল হক জানান, ময়মনসিংহ জেলায় পুলিশের পক্ষ থেকে কোথাও বিএনপির অফিস বন্ধ করা বা তালা দেয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না।
কিশোরগঞ্জ সদরসহ প্রত্যেকটি উপজেলা কার্যালয় বন্ধ রয়েছে। জেলা সভাপতি এলাকায় না থাকায় সদরে আন্দোলন কর্মসূচি তেমন চোখে পড়ে না। গ্রেফতারের ভয়ে নেতাকর্মীরা আÍগোপনে থাকায় কার্যালয়গুলো বন্ধ রয়েছে। অনেক এলাকায় কার্যালয় পুলিশ পাহারা দিচ্ছে।
বৃহত্তর ফরিদপুরের প্রায় সব কার্যালয় বন্ধ : বৃহত্তর ফরিদপুরের ৫ জেলার মোট ২৯টি উপজেলার বেশিরভাগ কার্যালয় বন্ধ। আবার অনেক এলাকায় দলীয় অফিসই নেই। দলের সভাপতি কিংবা সাধারণ সম্পাদকের বাসা কিংবা হোটেল-রেস্তোরাঁয় তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়ে থাকে। ফরিদপুর সদরসহ ৯টি উপজেলার মধ্যে ফরিদপুর শহরে বিএনপির দলীয় কোনো অফিস নেই। শহরে বিএনপির এক গ্রুপ সাবেক মন্ত্রী চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফের কমলাপুরে ময়েজ মঞ্জিলের বাড়িতে এবং অপর গ্রুপ জেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল হক শাহাজাদা মিয়ার ঝিলটুলীর বাড়িতে দলীয় মিটিং করে থাকেন। অন্য ৮টি উপজেলার মধ্যে বোয়ালমারী, মধুখালী, আলফাডাঙ্গা, চরভদ্রাসন, সদরপুর উপজেলায় অফিস থাকলেও বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে। এ ছাড়া ভাঙ্গা, সালথা, নগরকান্দা উপজেলায় বিএনপির দলীয় কোনো অফিস নেই।
রাজবাড়ী সদরসহ ৫টি উপজেলার মধ্যে রাজবাড়ী সদর, বালিয়াকান্দি, পাংশা, কালুখালীতে দলীয় অফিস রয়েছে। তবে গোয়ালন্দ উপজেলায় দলীয় অফিস না থাকলেও দলীয় কর্মকাণ্ড সাংগঠনিক সম্পাদকের বাড়িতে হয় বলে জানা গেছে। রাজবাড়ী সদরে অফিস খোলা রাখা সম্ভব হলেও অন্যান্য উপজেলার অফিসগুলো বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকে।
গোপালগঞ্জ সদরসহ ৫টি উপজেলা টুঙ্গীপাড়া, কোটালিপাড়া, কাশিয়ানী, মুকসুদপুরের মধ্যে শুধু গোপালগঞ্জ সদরে বিএনপির ২টি অফিস থাকলেও তা বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। মাদারীপুর সদরসহ ৪ উপজেলা কালকিনি, রাজৈর, শিবচরের মধ্যে শুধু কালকিনি ও শিবচর উপজেলায় দলীয় অফিস রয়েছে। মাদারীপুর সদরে জেলা বিএনপির কোনো অফিস নেই। যদিও কালকিনিতে উপজেলাসংলগ্ন ও শিবচর উপজেলার পাচ্চরের অফিস নেতাকর্মীদের মামলা ও পুলিশি হয়রানির কারণে বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে বলে জানা গেছে। শরীয়তপুর সদরসহ ৬টি উপজেলার মধ্যে জেলা শহরের কোর্টসংলগ্ন, ডামুড্যা উপজেলা বাজার রোডে, নড়িয়া উপজেলার বাজার দুধপট্টি, গোসাইরহাট ব্যাংক রোডের কাঁচাবাজারের নিকট বিএনপির অফিস থাকলে তা কখনোই খোলা হয় না। আর ভেদরগঞ্জ উপজেলা ও জাজিরা উপজেলায় বিএনপির অফিস নেই।

ইয়েমেনে অসহায় দিন কাটাচ্ছেন বাংলাদেশীরা, ইয়েমেনে বাংলাদেশীদের উদ্ধারে সহায়তা দেবে ভারত

মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধের কবলে পড়া দেশ ইয়েমেনে যেসব বাংলাদেশী আটকা পড়েছেন তারা বলছেন সেখানে তারা এক রকম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন।
প্রায় ১১ বছর ধরে সানায় বসবাস করছেন জহিরুল ইসলাম বিবিসি বাংলাকে জানান গত কয়েক দিন ধরে সেখানে মূর্হ মূর্হ বিমান হামলা হচ্ছে।
ইয়েমেনে বাংলাদেশের কোন দূতাবাস নেই। সেক্ষেত্রে কুয়েতের দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে তাদের।
মি. ইসলাম বলছিলেন কুয়েত দূতাবাস থেকে ফোন করে কয়েকজনের খোঁজ নেওযা হয়েছে। তবে এতে মোটেই আশস্ত হতে পারছেন না সেখানকার বাংলাদেশিরা।
দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে সহযোগিতা পেতে প্রতিদিন ভারতের দূতাবাসের সামনে লাইনে দাড়িয়ে রয়েছেন কয়েকশ বাংলাদেশী।
মি. ইসলাম বলছিলেন সানাতে রান্না করার জন্য গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় তারা শুকনা খাবার রাখছেন সাথে।
সব অফিস আদালত বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংক বন্ধ, আর তাই সব রকম আর্থিক আদান প্রদান বন্ধ হয়ে আছে।
শ্রমিক যারা রয়েছেন তারা বেতন নিতে পারছেন না বলে তিনি জানান।
এছাড়া বিমান হামলা সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ফজরের আযান পর্যন্ত চলে। তিনি বলছিলেন এ অবস্থায় এক রকম অসহায় অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন তারা।
সে দেশের হুতি শিয়া বিদ্রোহীরা সুন্নি সরকারকে উৎখাতের পর তাদের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করেছে প্রতিবেশী সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন এক সামরিক জোট।
ঢাকার কর্তৃপক্ষ বলছে, ইয়েমেনে মোট বাংলাদেশীর সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। কিন্তু সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন এই সংখ্যা তার তিনগুণ বেশি হবে।
এদিকে নিরাপদে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সরকার আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএম এবং ভারত সরকারের সাথে কথাবার্তা বলছে।
ইয়েমেনে বাংলাদেশীদের উদ্ধারে সহায়তা দেবে ভারত
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনের মৃত্যুকূপে আটকা পড়া বাংলাদেশীদের উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহায়তা দেবে ভারত। দেশটিতে বাংলাদেশের দূতাবাস না থাকায় সেখানে আটকা পড়াদের উদ্ধারে ভারতের সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে পররাষ্ট্র সচিব মো. শহিদুল হক বলেছেন, দেশটির সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিক আলাপে সহায়তার বিষয়ে ভারতের সম্মতি মিলেছে বলেও গতকাল দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান তিনি। এদিকে সংবাদ সম্মেলন শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাই কমিশন টুইটার বার্তায় ইয়েমেন থেকে বাংলাদেশী কর্মীদের উদ্ধারে সহায়তায় দিল্লির সিদ্ধান্তের বিষয়টি প্রকাশ করে। তাছাড়া, ইয়েমেনের পার্শ্ববর্তী ওমানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত শেখ সিকান্দার আলী সমপ্রতি ঢাকাকে পাঠানো এক বার্তায়ও দেশটিতে আটকা পড়া কর্মী উদ্ধারে ভারতের সহায়তা পাওয়া যাবে জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা চেয়েছেন। একাধিক কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, আটকা পড়া বাংলাদেশীদের উদ্ধারে কায়রোস্থ আইওএম আঞ্চলিক অফিসসহ ইয়েমেনের আশপাশের দেশগুলোর বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে চেষ্টা করছে সরকার। সানায় নিযুক্ত অনারারি কনসালের সঙ্গে ঢাকা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে পরিস্থিতি বুঝার জন্য। কিন্তু দেশটিতে কোন কমার্শিয়াল ফ্লাইট না থাকা এবং সেখানে স্পেশাল ফ্লাইট পরিচালনায় সৌদি কর্তৃপক্ষের আগাম অনুমতির প্রয়োজন হওয়ায় বাংলাদেশীদের উদ্ধার করা জটিল হয়ে পড়েছে। ওমানসহ বিভিন্ন দূতাবাসের পাঠানো রিপোর্টে দেশটির এডেন বন্দরে এই মুহূর্তে ভারতের জাহাজ রয়েছে এমন বার্তা পাওয়ার পর ঢাকার তরফে ভারতের সহায়তা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে গতকালের সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, কেবল ভারত নয়, শ্রমিক উদ্ধারের বিষয়ে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম), সৌদি আরব ও কুয়েতের দূতাবাসের সঙ্গে এ নিয়ে ঢাকার যোগাযোগ ও আলোচনা চলছে। দেশটিতে যুদ্ধ শুরুর আগে দেড় থেকে তিন হাজার বাংলাদেশী ছিলেন জানিয়ে সচিব বলেন, বেশির ভাগ বাংলাদেশী এডেন এলাকায় রয়েছেন। এখনও ইয়েমেন সরকারের নিয়ন্ত্রণে থাকা ওই এলাকা ‘তুলনামূলকভাবে নিরাপদ এলাকা’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ভারত নীতিগতভাবে রাজি হয়েছে। তারা বলেছে, নিজেদের সব নাগরিককে ফিরিয়ে আনার পর এবং আটকা পড়া বাংলাদেশীরা শনাক্ত হয়ে  গেলে ভারত সহযোগিতা করতে পারে। কুয়েতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ইয়েমেনের বাড়তি দায়িত্ব  দেয়া আছে। কিন্তু দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব অনেক  বেশি হওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিতে আশপাশের সৌদি, মিশর ও ওমান দূতাবাসের কর্মকর্তাদের কাজে লাগাচ্ছে সরকার। তবে এখনও সেখানে কোন কর্মকর্তা যাননি। এ প্রসঙ্গে সচিব বলেন, “আমরা ইয়েমেনে আমাদের কর্মকর্তাদের পাঠানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে  সেখানে যাওয়ার একমাত্র উপায় হলো সমুদ্রপথ। আমরা আশা করছি, আমরা লোক পাঠাতে পারব।” আটকা পড়া বাংলাদেশীরা যাতে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন সে জন্য সানা ও কুয়েতে কয়েকটি  ‘হেল্পলাইন’ নম্বর চালু করা হয়েছে বলে পররাষ্ট্র দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, যে কোন পরিস্থিতিতে যে কেউ কুয়েতে বাংলাদেশী দূতাবাসের মোবাইল নম্বর ০০৯৬৫ ৫০৫৭ ০৭৫৪, টেলিফোন ০০৯৬৫ ২৪৯১ ৩২০১ এবং  ধসনধংংধফড়ৎ.শঁধিরঃ@সড়ভধ.মড়া.নফ ু ই-মেইলে যোগাযোগ করতে পারবেন। একইসঙ্গে দূতাবাসের কাউন্সিলর এস এম মাহবুবুল আলমের সঙ্গে ০০৯৬৫ ৯৪৯৩ ৪৩৬৩ মোবাইল নম্বরে বা সধযনঁন৫০@ুধযড়ড়.পড়স ই-মেইলে  যোগাযোগ করতে পারেন। দেশটিতে বাংলাদেশের অনারারি কনসাল জেনারেল সালেহ আল ঘালেবির সঙ্গে ০০৯৬৭ ৭৩৩ ৮৫৬ ৯৯৮ মোবাইল নম্বরে ও  এঐঅখঊইও@ণ.ঘঊঞ.ণঊ ই-মেইলে এবং  কনসাল জেনারেলের ছেলে মোহাম্মদ আল ঘালেবির সঙ্গে ০০৯৬৭ ৭৩৫ ৮০০ ২৪৭   মোবাইল নম্বরে  এবং গড়যধসবফ.ধষমযধষবনর@মরু.ফব  ই-মেইলে সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশীদের যোগাযোগ করতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশে আটকে পড়া বিহারিদের পাকিস্তান ফিরিয়ে নেবে না বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠি সম্পর্কে সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমি এ নিয়ে কোন মন্তব্য করতে চাই না।
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে দেশের ৪ কোটি লোক: জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বিশ্বের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশ। সমুদ্রে এক মিটার পানি বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের ২-৪ কোটি মানুষ বাস্তুহারা হবেন। গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব শহিদুল হক এ তথ্য জানান। ‘রিজিওনাল ডায়ালগ অন অ্যা গ্লোবাল ইস্যু, ক্লাইমেট চেঞ্জ ডিজাস্টার অ্যান্ড হিউম্যান  মোবাইলিটি ইন সাউথ এশিয়া ইন দ্য ইন্ডিয়ান ওশেন রিজিওন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে সচিব বলেন, ২০০৮ থেকে বিশ্বে প্রতিবছর ২৭ মিলিয়ন মানুষ জলবায়ু সংকটের কারণে বাস্তুচ্যুত হচ্ছেন। সংকট মোকাবিলায় সবার সম্মিলিত প্রয়াস প্রত্যাশা করেন তিনি। দুপুরের ওই আয়োজনে ঢাকায় নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত খ্রিশ্চান ফোর্সি, নরওয়ের চার্চ দ্য অ্যাফেয়ার্সের হাগার্নি হাগ এবং আইওএম বাংলাদেশ প্রধান শরদ দাসসহ পররাষ্ট্র দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ‘দি মেনসন ইনিশিয়েটিভ’র উদ্যোগে আগামী ৩-৫ই এপ্রিল খুলনায় জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক এক সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৫টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশ  নেবেন। দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে-ভারত, মিয়ানমার, নেপাল, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, আফগানিস্তান, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মরিশাস, ওমান, মাদাগাস্কার ও ফিলিপাইন।

যেকোনো প্রকারে সিটি নির্বাচনে জিততে হবে: মন্ত্রী মোশাররফ by একরামুল হক

আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নেতা-কর্মীদের কাজ করার আহ্বান জানিয়ে চট্টগ্রামে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেন বলেছেন, ‘তিনটি সিটি করপোরেশনে অবশ্যই যেকোনো প্রকারে হোক আমাদের জিততে হবে।’
গতকাল মঙ্গলবার চট্টগ্রামের জিইসি মোড় এলাকার একটি হোটেলে সিটি নির্বাচনে দলের নির্বাচনী কৌশল ঠিক করা নিয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বৈঠকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, ছয়জন সাংসদসহ নগর আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তবে বৈঠকে মেয়র প্রার্থী আ জ ম নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।
মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা কিন্তু বিগত কয়েকটি সিটি নির্বাচনে পরাজিত হয়েছি। এখন তিনটি সিটি করপোরেশনে আমাদের অবশ্যই যেকোনো প্রকারে হোক জিততে হবে। জিততে হবে এ জন্য যে, ১৫০ জন পেট্রলবোমায় নিহত হয়েছে। যদি পরাজিত হই তাহলে পেট্রলবোমার রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবে।...এই রাজনীতি কেউ পছন্দ করছে না। তিন সিটি করপোরেশনে আমাদের জিততে হবে...।’
বৈঠকে দুই প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর ও সাইফুজ্জামান চৌধুরী, সাংসদ এম এ লতিফ, মাঈন উদ্দীন খান বাদল, নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সাংসদ নুরুল ইসলাম বিএসসিসহ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা বক্তব্য দেন।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি সমর্থিত তিন মেয়র প্রার্থীকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযাগে গত সোমবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী, সরকারের কোনো মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী বা উপমন্ত্রী নির্বাচনপূর্ব সময়ে নির্বাচনী প্রচারণায় বা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন না।
গতকালের সভায় মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘সব ভোটারের কাছে যেতে হবে। অনেকে বলেন, এরা আমাদের রিজার্ভ ভোট, ওখানে না গেলেও চলবে। কিন্তু প্রত্যেকের কাছে যেতে হবে। প্রত্যেকের কাছে গেলে তাঁরা ভোট কনফার্ম (নিশ্চিত) করবেন। প্রত্যেকে মনে করবেন যে, নিজেই প্রার্থী। আমাকে জয়যুক্ত হতে হবে।’ মন্ত্রীর বক্তব্যের রেকর্ড প্রথম আলোর কাছে রয়েছে।
বৈঠকে দেওয়া বক্তব্য আচরণবিধির লঙ্ঘন কি না, তা জানতে মুঠোফোনে মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাঁর ফোন বন্ধ থাকায় বক্তব্য জানা যায়নি।
বৈঠকের পর ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘সিটি নির্বাচন নিয়ে দলীয়ভাবে বসেছি। নির্বাচনের কৌশল নিয়ে কথাবার্তা হয়েছে। বৈঠকে একাধিকবার নির্বাচিত অভিজ্ঞ ব্যক্তিরা ছিলেন। তাঁরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করেছেন।’
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর। নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীকে বৈঠকের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি দুঃখিত। কিছু বলার নেই।’ সাবেক সাংসদ নুরুল ইসলাম কোনো কথা না বলে গাড়িতে উঠে যান।
নির্বাচনী ওই বৈঠকে মন্ত্রীদের অংশ নেওয়া ও বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ মুঠোফোনে প্রথম আলোকে জানান, বৈঠকটি রুদ্ধদ্বার হওয়ায় এর মাধ্যমে সরাসরি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হয়েছে, তা বলা যায় না। তবে মন্ত্রীরা কোনো সিদ্ধান্ত দিলে ও তার বাস্তবায়ন করতে হলে এটি নির্বাচনকে প্রভাবিত করে। তা ছাড়া, যেকোনো প্রকারে জিততে চাওয়া সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। এই বক্তব্য প্রশাসনকেও প্রভাবিত করতে পারে।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন জাসদের সাংসদ মাঈন উদ্দীন খান বাদল, আওয়ামী লীগের সাংসদ এম এ লতিফ, শামসুল হক চৌধুরী, দিদারুল আলম, মাহফুজুর রহমান মিতা, আশেক উল্লাহ, চট্টগ্রাম নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, কোষাধ্যক্ষ ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেমউদ্দিন আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, উত্তরের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম, তিন শতাধিক নেতা-কর্মী।
বৈঠকের বিষয়ে চট্টগ্রামের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবদুল বাতেন বলেন, কী বৈঠক করেছেন, কাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন, আদৌ বৈঠক করেছেন কি না, সে ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বৈমানিক হওয়ার স্বপ্নের মৃত্যু

নিহত তামান্না রহমান
রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি অ্যান্ড সিভিল অ্যাভিয়েশনের একটি প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে প্রশিক্ষাণার্থী বৈমানিক নিহত হয়েছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন বিমানের ক্যাপ্টেন।
নিহত প্রশিক্ষাণার্থী বৈমানিকের নাম তামান্না রহমান (২১)। তাঁর বাবার নাম আনিছুর রহমান। ঢাকায় তাঁদের বাসা। গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে। বিমানের আহত ক্যাপ্টেন হলেন লে. কর্নেল (অব.) সাইদ কামাল (৫০)। দুর্ঘটনার পর তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে রাজশাহীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) ভর্তি করা হয়। পরে বিমানযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়। তাঁর শরীরের ৫০ শতাংশ পুড়ে গেছে।
ফ্লাইং একাডেমি সূত্রে জানা গেছে, তামান্না রাজশাহীতে পারসোন্যাল পাইলট লাইসেন্স (পিপিএল) কোর্সে ভর্তি হন। নিয়ম অনুযায়ী এই কোর্সে এককভাবে ৫০ ঘণ্টা বিমান চালাতে পারলে একটি সনদ দেওয়া হয়। এরপর কমার্শিয়াল পাইলট লাইসেন্স (সিপিএল) কোর্সে ভর্তি হতে হয়। গত মঙ্গলবার তামান্নাকে পিপিএল কোর্সের অধীনে এককভাবে বিমান চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। গতকাল দুপুরে তিনি বিমানে ওঠেন। তাঁর সঙ্গে বিমানে ওঠেন প্রশিক্ষক সাইদ কামাল। সিভিল অ্যাভিয়েশনের জ্যেষ্ঠ উপপরিদর্শক এনামুল কবির জানান, গতকাল বেলা একটা ৫৮ মিনিটে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। উড্ডয়নের পরপর ‘টার্ন’ নিতে গিয়ে বিমানটি রানওয়ের পূর্ব পাশে গিয়ে পড়ে। সঙ্গে সঙ্গে বিমানটিতে আগুন ধরে যায়। রানওয়ের পূর্বদিকের দেয়াল ঘেঁষে পবা উপজেলার নওহাটা পৌর এলাকার চালিকীপাড়া মহল্লা। এই মহল্লার রিকশাচালক মোহাম্মদ ডাবলু (২৮) ও লুৎফর রহমান ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। ডাবলু জানান, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার শব্দ শুনে তিনি দেয়াল টপকে বিধ্বস্ত বিমানের কাছে যান। তিনি বলেন, এ সময় বিমানের মাঝখান থেকে প্রশিক্ষণার্থী বৈমানিক মেয়েটি হাত ইশারা করে তাঁকে ডাকছিলেন আর চিৎকার করে বলছিলেন, ‘আমাকে বাঁচান, আমাকে বাঁচান’। বিমানটি তখন জ্বলছিল। তার মাঝখানে ছিলেন মেয়েটি। তাঁদের কাছাকাছি কোনো পানি ছিল না, তাই আগুনের কাছে ভিড়তে পারছিলেন না। পুরুষ লোকটি (প্রশিক্ষক) বিমানের জানালার কাচ ভেঙে বেরিয়ে আসেন। তাঁর শরীরে আগুন ছিল। তাঁরা মাটিতে গড়াগড়ি করিয়ে ওই আগুন নেভান।
রাজশাহীর হজরত শাহ মখদুম বিমানবন্দরে ১ এপ্রিল, ২০১৫ বুধবার
বিধ্বস্ত হওয়া প্রশিক্ষণ বিমানের একাংশ। বৈমানিক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে
ওই বিমানে উঠে বসেছিলেন তরুণী তামান্না রহমান । বিমানের ভেতরেই
পুড়ে মারা গেছেন তিনি। গুরুতর আহত হয়েছেন তাঁর সঙ্গে থাকা
প্রশিক্ষক লে. কর্নেল (অব.) সাইদ কামাল l ছবি: প্রথম আলো
লুৎফর রহমান জানান, প্রায় ২০ মিনিট পরে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি আসে। তাদের পাইপ লাগাতে আরও কয়েক মিনিট দেরি হয়। ফায়ার সার্ভিস যখন আগুন নিভিয়ে ফেলে, তখন বিমানের ভেতরেই মেয়েটি পুড়ে কয়লা হয়ে যান।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, যেখানে বিমানটি প্রথমে আছড়ে পড়ে, সেখানে বিমানের সামনের চাকাটি ভেঙে পড়ে রয়েছে। খানিকটা জায়গার মাটি চাষ দেওয়ার মতো গর্ত হয়ে গেছে। সেখান থেকে প্রায় ৫০ হাত দূরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে রয়েছে। এর ককপিট, ইঞ্জিন ও পাখা পুড়ে আলাদা হয়ে গেছে। ইঞ্জিনের ভেতরে পুড়ে অঙ্গার হওয়া তামান্না রহমানের শরীরটা এমনভাবে আটকে আছে যে দূর থেকে তা ইঞ্জিনেরই অংশবিশেষ মনে হচ্ছে। কাছে গিয়ে দেখলে বোঝা যায়, তার মাথাটি মাটিতে ঠেকে আছে। বেলা তিনটা ৫৭ মিনিটের সময় ঢাকা থেকে একটি বিমান এসে নামে। বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ওই বিমানে করে আহত প্রশিক্ষক সাইদ কামালকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
ঘটনার পরপরই রাজশাহী জেলা প্রশাসক মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কায়সারুল ইসলামসহ র্যা পিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যা ব), পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা সেখানে যান। বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে তামান্নার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে নেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনা তদন্তের জন্য সিভিল অ্যাভিয়েশনের ফ্লাইট সেফটি অ্যান্ড রেগুলেশনের পরিচালক নাজমুল আনামকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি বিকেলেই একটি হেলিকপ্টারে করে রাজশাহীতে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে।
টাঙ্গাইলে শোকের ছায়া: টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান, প্রশিক্ষণার্থী বৈমানিক তামান্নার মৃত্যুতে তাঁর গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইল সদর উপজেলার গালায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। এই গ্রামের চিকিৎসক আনিছুর রহমানের মেয়ে তামান্না। তামান্নার বাবার বাল্যবন্ধু কানাই চক্রবর্তী জানান, তামান্না সব সময় তাঁর বাবার সঙ্গে চাকরিস্থলেই থাকতেন। তাঁর এক ভাইও চিকিৎসক। গতকাল বিকেলে গালায় গিয়ে জানা যায়, বিকেলের মধ্যেই পুরো গ্রামে মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। বিকেলে প্রবল বৃষ্টি উপেক্ষা করে অনেকেই তামান্নাদের বাড়িতে যায় লাশ গ্রামে আনা হবে কি না, কখন দাফন হবে—এমন নানা প্রশ্ন নিয়ে। ওই বাড়িতে অবস্থানরত তামান্নার ফুফু মিনি আক্তার জানান, লাশ কোথায় দাফন করা হবে, সে সিদ্ধান্ত তখন পর্যন্ত তাঁরা জানতে পারেননি।

সজনে ডাঁটায় সচ্ছলতা by হরি কিশোর চাকমা

বাগান থেকে আনা সজনে ডাঁটা আঁটি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে
সরবরাহের জন্য। রাঙামাটির কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গায়
এই ফসল ফলিয়ে ভাগ্য বদল করছেন চাষিরা l সুপ্রিয় চাকমা
কাপ্তাই উপজেলার ওয়াগ্গা ইউনিয়নের লোকজনের কাছে একসময় সজনেগাছের কদর ছিল না। তবে এই গাছ এখন আদিবাসীদের পরিবারে সচ্ছলতা এনেছে। বছরে লাখ লাখ টাকার সজনে ডাঁটার ফলন হয়। এখান থেকে সারা দেশেই সরবরাহ করা হচ্ছে সজনে ডাঁটা।
সংশ্লিষ্ট কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সজনে ডাঁটার ফলন হয় ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত। এর মধ্যে ফেব্রুয়ারির মাঝমাঝি থেকে এপ্রিলের মাঝামাঝি দুই মাস ভরা মৌসুম। এ সময় ওয়াগ্গা ইউনিয়ন থেকে প্রতিদিন গড়ে ১০ টনের বেশি সজনে ডাঁটা ঢাকা, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুরসহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ হয়। সজনে ডাঁটা বিক্রি হয় প্রতি কেজি সর্বোচ্চ ১০০–৭০ টাকায়।
কাপ্তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির জানান, উপজেলায় প্রায় ১১০ একর জায়গায় সজনেগাছের বাগান হয়। ওয়াগ্গা ইউনিয়নে ৫৫ একরে সজনেগাছের বাগান আছে। প্রতিটি সজনেগাছে গড়ে ২৫ কেজি করে ডাঁটার ফলন হয়।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ ঘাগড়া-বড়ইছড়ি সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাগানিরা স্থানীয়ভাবে ‘এজেন্ট’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের কাছে সজনে ডাঁটা নিয়ে আসছেন। বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ব্যবসায়ীরা পিকআপ ভ্যান এনে সেগুলো তুলে নিচ্ছেন এবং হিসাব করে নগদ টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
ব্যবসায়ী মো. রাজ্জাক, ইউসুফ ও মো. ওয়াসিম শেখ জানান, তাঁদের প্রত্যেকের স্থানীয় ‘এজেন্ট’ আছে। ‘এজেন্টরা’ বাগানিদের সজনে ডাঁটা কিনে সড়কের পাশে রাখেন। তাঁরা গাড়ি এনে সেগুলো নিয়ে যান। পাঁচ-ছয় বছর ধরে তাঁরা এই মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মুরালীপাড়ায় কাপ্তাই কর্ণফুলী ডিগ্রি কলেজের বিএসএস দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র উথোয়াই সিং মারমা জানান, তিনি চার বছর ধরে ‘এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছেন। ভরা মৌসুমে প্রতিদিন গড়ে এক টন ডাঁটা ব্যবসায়ীকে দেন। প্রতি কেজিতে পাঁচ টাকা কমিশন পান। বছরে দুই লাখ টাকার বেশি আয় হয়। চার বছর ধরে ওই টাকায় পড়াশোনা করছেন। দক্ষিণ দেবতাছড়ি গ্রামের বিমল তঞ্চঙ্গ্যা (৩৮) জানান, তাঁর নিজের এক হাজারের বেশি সজনেগাছ রয়েছে। সেগুলোর ডাঁটা বিক্রি করে বছরে দেড় লাখ টাকার বেশি আয় হয়। এ ছাড়া একজন ব্যবসায়ীর ‘এজেন্ট’ হিসেবেও কাজ করেন।
সাপছড়ি এলাকার প্রমোদ তঞ্চঙ্গ্যা (৩০) বলেন, ‘আমি মাত্র কয়েক দিন আগে বাগানের সজনে ডাঁটা বিক্রি শুরু করেছি। আশা করি এ বছর তিন হাজার কেজি ডাঁটা বিক্রি করতে পারব।’
তালুকদারপাড়ার বাসিন্দা রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য অজিত তালুকদারসহ স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ওয়াগ্গা ইউনিয়নে প্রচুর সজনেগাছ জন্মে। কিন্তু ব্যবসায়ীরা আসার আগে সজনেগাছের কদর ছিল না। সজনেগাছ শুকনা মাটিতে সহজে বেঁচে থাকে বলে বাড়ি বা বাগানের সীমানা এবং শাকসবজির খেতের বেড়ার খুঁটি হিসেবে ব্যবহার হয়। গাছ বড় হয়ে গেলে কেটে দিতে হতো। কিন্তু ছয়-সাত বছর আগে ব্যবসায়ীরা এসে সজনে ডাঁটা নিয়ে যাওয়া শুরু করার পর গাছের কদর বেড়ে যায়।
বাগানিরা জানান, যেকোনো বড় গাছের ডাল কেটে লাগানোর এক বছরের মধ্যে ডাঁটার ফলন হয়। গাছ বড় হলে ফলন বাড়ে। সজনেগাছ ৪০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত বাঁচে। বাগানের আগাছা কেটে দেওয়া ছাড়া সজনে বাগানে খরচ হয় না।

‘সুপ্রিম কোর্টে আ.লীগকে ধ্বংস করছেন অ্যাটর্নি জেনারেল’

এমন দাবি হাস্যকর: অ্যাটর্নি জেনারেল
অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সুপ্রিম কোর্টে আওয়ামী লীগকে ধ্বংস করছেন বলে দাবি করেছেন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সম্পাদক আওয়ামী লীগসমর্থিত আইনজীবী মোমতাজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অ্যাটর্নি জেনারেলের নীলনকশা হচ্ছে, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থিত ল রিপোর্টার্স ফোরামের কার্যালয়ে গতকাল বুধবার অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোমতাজ উদ্দিন এ দাবি করেন। তবে তাঁর এ দাবিকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল।
গত ১৫ ও ১৬ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত আইনজীবীদের প্যানেল সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ থেকে সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন মোমতাজ। প্রায় ৪০০ ভোটের ব্যবধানে তাঁকে পরাজিত করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো সম্পাদক নির্বাচিত হন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সাবেক সাংসদ মাহবুবউদ্দিন খোকন।
সংবাদ সম্মেলনে মোমতাজ উদ্দিন দাবি করেন, মাহবুবে আলম ও মাহবুব উদ্দিন খোকনের ষড়যন্ত্রের জন্য তিনি ও তাঁর প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা নির্বাচনে হেরেছেন। আওয়ামী লীগসমর্থিত আইনজীবীরা যে এর আগের ছয়টি নির্বাচনে হেরেছে, তার জন্যও অ্যাটর্নি জেনারেল দায়ী। তিনি যত দিন অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে অপসারিত না হবেন, তত দিন সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতিতে আওয়ামী লীগ পাস করতে পারবে না। মোমতাজ উদ্দিন আরও বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল সবাইকে বলেছেন সভাপতি প্রার্থীকে ভোট দিতে। কিন্তু আমার বিষয়ে জানতে চাইলে বলেছেন মেহেদী (মোমতাজ উদ্দিন) তো একবার সেক্রেটারি হয়েছে। নির্বাচনের পর তিনি বিভিন্নজনের কাছে বলেছেন, “মেহেদীকে সাইজ করবে না তো কাকে সাইজ করবে”। অ্যাটর্নি জেনারেলের ইঙ্গিতে আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ৩০০ আইনজীবী আমাকে ভোট না দিয়ে মাহবুব উদ্দিন খোকনকে ভোট দিয়েছে। তাঁদের দুজনের যৌথ ষড়যন্ত্রের ফলে বার কাউন্সিল ধ্বংস হচ্ছে।’ জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘সমিতির সবাই জানে আমি নির্বাচনগুলোতে কীভাবে বন্ধুবান্ধব ও সহকর্মীদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ করেছি। আমার বিশ্বাস, বিশেষ কোনো মহলের প্ররোচনায় তিনি (মোমতাজ উদ্দিন) এগুলো করছেন।’
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে একটা স্বার্থান্বেষী মহল আছে, যারা আমার বিরোধিতার জন্য তেমন সুবিধা করতে পারছে না। সেটা সম্পত্তির ব্যাপারেই হোক, আর জামিনের ব্যাপারেই হোক। আমার অফিসে যেসব দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা আছে, তারাও খুব বিপদে আছে। আমি তাদের চাপে রেখেছি। এ জন্য আমার অফিসের ভেতরে ভেতরে একটা বিদ্রোহ আছে। তারাই হয়তো এগুলো করাচ্ছে।’ তবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত আর কিছু জানাতে চাননি অ্যাটর্নি জেনারেল।
বক্তব্য জানতে মাহবুব উদ্দিন খোকনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

দক্ষিণে আব্বাস, উত্তরে কে-চিন্তায় বিএনপি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রার্থী নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে বিএনপি। চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় সেখানে উপযুক্ত প্রার্থী নিয়ে চিন্তিত দলটি। তবে তারা এখনো আশাবাদী, আপিল করে মিন্টু শেষ পর্যন্ত প্রার্থী হিসেবে বৈধতা পাবেন।
বিএনপির সূত্র জানায়, আপিল শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্তরে প্রার্থীকে দলীয় সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে না। অন্যদিকে দক্ষিণে মির্জা আব্বাসকে সমর্থন দেওয়ার বিষয়টি প্রায় চূড়ান্ত। তবে সেখানে কোন্দল মাথা চাড়া দিতে পারে। এখন পর্যন্ত বিএনপির তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা দক্ষিণের বৈধ প্রার্থী।
মিন্টুর সমর্থক আবদুর রাজ্জাক উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার না হওয়ায় তাঁর মনোনয়নপত্র বাতিল করে নির্বাচন কমিশন। এ ঘটনায় হতাশ ও বিব্রত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এটাকে নির্বাচনের আগেই দলের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে দলের ভেতরে-বাইরে নানা কথা হচ্ছে।
বিএনপির সূত্র জানায়, শুরু থেকেই ঢাকা উত্তরে বিএনপির একক প্রার্থী ছিলেন মিন্টু। যে কারণে অন্য কেউ ওই এলাকা থেকে মনোনয়নপত্র পর্যন্ত নেননি। তবে দলের শীর্ষ পর্যায়ের আশঙ্কা ছিল, মিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিলও করা হতে পারে। সে জন্য খালেদা জিয়ার অনুমতিক্রমেই মনোনয়ন কিনেছিলেন মিন্টুর ছেলে তাবিথ আউয়াল। বিএনপি যেভাবে আশঙ্কা করেছিল, সেভাবে না হলেও নিজের ভুলে মিন্টুর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তবে তাঁর ছেলের মনোনয়ন বৈধ। ওই এলাকায় বিএনপির অন্য কোনো নেতা মনোনয়ন নেননি। তবে বিএনপি জোটে না থাকলেও সমমনা দল হিসেবে পরিচিত বিকল্প ধারার যুগ্ম মহাসচিব মাহি বি চৌধুরী ঢাকা উত্তর থেকে বৈধ প্রার্থী হিসেবে টিকে আছেন। তিনি বিএনপির সাবেক মহাসচিব বর্তমানে বিকল্পধারার সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ছেলে। মাহি নিজেও বিএনপি-দলীয় সাংসদ ছিলেন। তাই এখন বিএনপির কেউ কেউ বিকল্প ধারার মাহিকে বিকল্প হিসেবে দেখছেন। তবে এ নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।
বিএনপির সূত্র জানায়, আপিলে মিন্টুর প্রার্থিতা বৈধতা না পেলে তাঁর ছেলে বিএনপির সমর্থন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকবেন। এখন পর্যন্ত বিএনপির চেয়ারপারসন মিন্টু বা তাঁর ইচ্ছার বাইরে তেমন কিছু ভাবছেন না। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা আশা করছেন মিন্টুর আবেদন বিবেচনা করা হবে। না হলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে মনে করেন মিন্টুর ছেলে তাবিথকে দলের সমর্থন দেওয়া উচিত।
কিন্তু যে বিষয়টি চিন্তার হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো, রাজনীতিতে তাবিথ আউয়ালের কোনো পরিচিতি বা অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। মিন্টুর ছেলে হলেও তাঁর বিকল্প কোনভাবেই তাবিথকে ভাবা যাচ্ছে না। তা ছাড়া উত্তর থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যবসায়ী নেতা আনিসুল হক।
জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জমির উদ্দীন সরকার বলেন, আপিলের মাধ্যমে মিন্টুর প্রার্থিতা বৈধতা পাবে বলে তাঁরা আশা করছেন।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণে যাঁদের মনোনয়ন পত্র বৈধ হয়েছে তাঁদের মধ্যে তিনজন আছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা। তাঁরা হলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, অর্থবিষয়ক সম্পাদক এম এ সালাম ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আসাদুজ্জামান রিপন। সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ থেকে মির্জা আব্বাসকে বিএনপি সমর্থন দেবে—এমনটি প্রায় চূড়ান্ত। তবে এখানে কিছু কোন্দল আছে। মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকা ও বর্তমান আহ্বায়ক মির্জা আব্বাসের পুরোনো দ্বন্দ্ব আবার আলোচনায় এসেছে। আব্বাস সমর্থকদের সন্দেহ এম এ সালামকে প্রার্থী করেছেন খোকা। কারণ সালামের মনোনয়ন-সংক্রান্ত সব কাজ যিনি করেছেন তিনি খোকার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। ‘শত নাগরিক’-এর দু-একজন সালামের পক্ষে বিএনপির চেয়ারপারসনকে বলেছেন।

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যা- ১৫ দিন ধরে চলে প্রশিক্ষণ

ব্লগার ওয়াশিকুর রহমানকে হত্যার ১৫ দিন আগে থেকে প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ চলে। প্রশিক্ষণ পর্যায়ে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে আগ্নেয়াস্ত্র, চাপাতিসহ একজন ধরাও পড়েন। তবে তাঁর কাছ থেকে কোনো তথ্য বের করতে পারেনি পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মনিরুল ইসলাম গতকাল বুধবার এসব তথ্য জানান। ওয়াশিকুর হত্যা মামলাটি তদন্ত করছে ডিবি। তদন্তকারীরা মনে করছেন, হত্যাকারীরা উগ্রপন্থী সংগঠন আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের কোনো গোপন দলের (স্লিপার সেল) সদস্য। গত সোমবার সকালে রাজধানীর দক্ষিণ বেগুনবাড়ীতে প্রকাশ্যে সড়কে কুপিয়ে হত্যা করা হয় ওয়াশিকুর রহমানকে। ঘটনাস্থল থেকেই স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জিকরুল্লাহ ও আরিফুল ইসলাম নামে দুই তরুণকে ধরে ফেলে। গতকাল থেকে তাঁদের আট দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে ডিবি।
জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুজন ডিবিকে জানিয়েছেন, জিকরুল্লাহ চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি মাদ্রাসায় পড়ছেন। আর আরিফুল একই মাদ্রাসা থেকে দাওরা হাদিসে পাস করে ঢাকার একটি মাদ্রাসায় উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হয়েছেন। তাঁরা পাঁচজন যাত্রাবাড়ী এলাকার একটি মেসে থাকতেন। এঁদের মধ্যে চারজন সরাসরি ওয়াশিকুর হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। আরিফুল ও জিকরুল্লাহ ধরা পড়লেও আবু তাহের এবং আরও একজন পালিয়ে যান। এঁদের (পাঁচজনের) একজন সাইফুল ইসলাম।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার মনিরুল বলেন, যাত্রাবাড়ীর ওই মেসে এবং আশপাশের এলাকায় হত্যাকাণ্ডের ১৫ দিন আগে থেকে তাঁদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়। মানুষকে কীভাবে কোপাতে হবে, কোপ দেওয়ার সময় নিজেরা যেন আহত না হন, চাপাতি নিয়ে চলাফেরায় অভ্যস্ত করতে এবং ভয় কাটাতে তাঁদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ জন্য হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন আগে থেকে তাঁদের সব সময় চাপাতি নিয়ে চলাফেরা করতে বলা হয়। এই পর্যায়ে অস্ত্র নিয়ে ঘোরাঘুরির সময় ২৪ মার্চ সকালে সাইফুল যাত্রাবাড়ী পুলিশের কাছে ধরা পড়েন। তবে তাঁর কাছ থেকে পুলিশ কোনো তথ্য বের করতে পারেনি। আরিফুল ও জিকরুল্লাহ ধরা পড়ার পরে তাঁদের সম্পর্কের বিষয়টি পরিষ্কার হয়। পুলিশ যাত্রাবাড়ীতে তাঁদের থাকার জায়গাটি খুঁজে পেয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবনী শংকর কর জানান, সাইফুলকে এখন তৃতীয় দফায় রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশের তল্লাশিচৌকিতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র, একটি চাপাতিসহ তিনি গ্রেপ্তার হন।
মনিরুল আরও জানান, গ্রেপ্তার হওয়া দুজন মাসুম নামে একজনের কথা বলেছেন। তিনি যাত্রাবাড়ীর ওই মেসে গিয়ে তাঁদের প্রশিক্ষণ দিতেন। খুন করতে যাওয়ার সময় কেউই সঙ্গে মুঠোফোন নেননি। গ্রেপ্তার আরিফুল খুন করতে যাওয়ার আগে একজনের কাছে মুঠোফোন জমা রেখে গিয়েছিলেন। পুলিশ সেই মুঠোফোনটি উদ্ধার করেছে।
ডিবির যুগ্ম কমিশনার আরও বলেন, এঁরা আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের তাত্ত্বিক নেতা জসীমউদ্দীন রাহমানীর অনুসারী বলে মনে হচ্ছে। এই সংগঠনেরই কোনো স্লিপার সেলের সদস্য এঁরা। এই স্লিপার সেলগুলো সাধারণত পাঁচ-ছয়জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয়। ওই সেলের বাইরে সংগঠনের আর কাউকে তাঁরা চেনেন না। শুধু সেলের সমন্বয়কের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ থাকে। সেলের ভেতরের সদস্যরা তাঁদের অন্য সঙ্গীদের বিষয়ে অনাবশ্যক কৌতূহল দেখান না। একে অন্যের নাম-পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন না। এর ফলে একজন ধরা পড়লেও তিনি সবার তথ্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিতে পারেন না।
ডিবির ধারণা, মাসুম এই সেলের সমন্বয়ক। তবে মাসুম তাঁর আসল নাম নয়, বানানো নাম। এর আগে ব্লগার রাজীব হত্যার ঘটনায় স্লিপার সেলের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হলেও এর সমন্বয়ক এবং হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী রেদওয়ানুল আজাদ রানাকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। রানার বিস্তারিত পরিচয় অনেক পরে পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, রানা এখন দেশের বাইরে পালিয়ে রয়েছেন।
আরিফুল জেএমবির সদস্য ছিলেন: ডিবি সূত্র জানায়, ২০১২ সালে নরসিংদীর রায়পুরায় নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ধরা পড়েছিলেন আরিফুল। পরে তিনি জামিনে বেরিয়ে যান। ওই মামলায় ২৬ জনের সঙ্গে অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি আরিফুল।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, রায়পুরা থানার খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১ আগস্ট রায়পুরায় ধরা পড়ে একদল জঙ্গি। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা হয়। সেই মামলায় আরিফ হোসেন ওরফে বিল্লাহ ওরফে বিল্লাহ মুজিবুল হক নামে একজনের নাম রয়েছে।
আরিফুলের আনসারউল্লাহ বাংলা টিমে যোগ দেওয়া প্রসঙ্গে ডিবির যুগ্ম কমিশনার বলেন, নরসিংদী থেকে জামিনে বের হয়ে আরিফুল রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মাওলানা জসীমউদ্দীন রাহমানীর মসজিদে যাওয়া শুরু করেন। বিশেষ করে শুক্রবারের বিশেষ বয়ানে তিনি অংশ নিতেন। তখন থেকে তিনি রাহমানীর অনুসারী হন।
কর্মকর্তারা বলছেন, এখন পর্যন্ত আরিফুল ও জিকরুল্লাহ আর কোনো ঘটনায় নিজেদের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেননি।

মিন্টু-পিন্টুর মনোনয়ন বাতিল, আপিলের প্রস্তুতি

ঢাকা সিটি করপোরেশনের উত্তরে মেয়র পদপ্রার্থী বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল আউয়াল মিন্টু ও দক্ষিণে বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহম্মেদ পিন্টুর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। গতকাল প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রথম দিনে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। এদিন ঢাকা উত্তরে আরও একজন এবং দক্ষিণে পিন্টু ছাড়া আরও দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। বিএনপির দুই নেতার প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবীরা। তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে আপিলের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলম জানান, আবদুল আউয়াল মিন্টুর সমর্থক আবদুর রাজ্জাক ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা না হওয়ায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। আরেক মেয়র প্রার্থী নাঈম হাসান ঋণখেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। যেসব প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে তারা তিন দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারোয়ার মোর্শেদ জানান, নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুসহ তিনজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বিডিআর বিদ্রোহের মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় পিন্টুর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
এদিকে মনোনয়নপত্র বাতিলের পর গতকাল দুপুর থেকেই আবদুল আউয়াল মিন্টুর আইনজীবীরা তৎপর ছিলেন। বিকাল ৪টায় রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ ৯ আইনজীবী। বিকাল সাড়ে ৪টায় ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের একটি আইনজীবী দল মিন্টুর মনোনয়ন বাতিল পুনর্বিবেচনার জন্য রিটার্নিং অফিসারের সঙ্গে দেখা করতে চাইলে কার্যালয়ের প্রধান ফটকে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। এ সময় কর্তব্যরত পুলিশ অফিসার প্রবেশপথে বাধা দিয়ে আইনজীবীদের বলেন, ‘এখন ওপরে যাওয়ার নির্দেশ নেই।’ আইনজীবীদের পক্ষ থেকে প্রায় আধঘণ্টা অনুরোধের পর কর্তব্যরত পুলিশ ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মাসুদ আহমেদ তালুকদারকে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলমের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেন। পরে মিন্টুর দুই আইনজীবী দেখা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহ আলমের সঙ্গে। এ সময় দুই আইনজীবী আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দেন। সেই সঙ্গে প্রায় ১০ মিনিট আলাপ হয় উভয় পক্ষের। এ সময় আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বৈধ দাবি করে দুই আইনজীবী আইনের ব্যাখ্যাও তুলে ধরেন রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে। জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, ‘আপনারা আবেদন করেছেন। আমিও শুনেছি। আপনাদের আবেদনপত্র রাখলাম। কিন্তু প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে এটি আমার আওতার বাইরে চলে গেছে। এখন পুরো বিষয়টি আপিল বিভাগের কাছে। প্রার্থীর বৈধতা নিয়ে আপনারা আপিল করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে আমার আর কিছু করার নেই। এদিকে মো. শাহ আলমের এমন বক্তব্যের পর সাংবাদিকদের উদ্দেশে ব্যারিস্টার খোকন বলেন, আইনজীবী হিসেবে আমরা আইনানুগভাবেই আজ লিখিত আবেদন নিয়ে দেখা করতে এসেছি। অথচ শুরুতেই বাধা পেয়েছি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। এটা খুবই দুঃখজনক। তিনি আরও বলেন, আইনকে ফলো না করে মাইনর গ্রাউন্ডে উনি (মো. শাহ আলম) আবদুল আউয়াল মিন্টু সাহেবের প্রার্থিতা বাতিল করে দিয়েছেন। তিনি আজ (গতকাল) এখানে বসেছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের যোগ্যতা বিবেচনার জন্য। মিন্টু সাহেব প্রার্থী হিসেবে কোনভাবেই অযোগ্য নন। তার যোগ্যতা নিয়ে যদি প্রশ্ন উঠতো অথবা প্রার্থিতা বাতিল হতো তাহলে আমাদের বলার কিছু ছিল না। মিন্টু সাহেবের আয়কর রিটার্নের কাগজ দিয়েছেন। তিনি ঋণখেলাপি নন। তিনি সাজাপ্রাপ্ত আসামি নন। তিনি ফেরারি আসামি নন। তার নাগরিকত্ব কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রেও কোন সমস্যা নেই। একজন প্রার্থী হিসেবে তার একটা অযোগ্যতাও খুঁজে পাননি রিটার্নিং অফিসার। অথচ ছোট্ট একটি মামুলি ভুলের অজুহাতে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হলো। এটা আইনবহির্ভূত। আমরা সেটিসফাইড না। অন্যদিকে এ সময় সাংবাদিকদের কাছে আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার সিটি করপোরেশন আইনের রেফারেন্স তুলে ধরেন। যেখানে ১৪-এর (আ) ধারাতে লেখা আছে- ‘রিটার্নিং অফিসার গুরুতর নহে এইরূপ কোন ত্রুটির কারণে কোন মনোনয়নপত্র বাতিল করিবেন না এবং অনুরূপ ত্রুটি অবিলম্বে সংশোধন করিবার জন্য সুযোগ প্রদান করিতে পারিবেন।’ একই সঙ্গে (ই) ধারাতে লেখা আছে- ‘রিটার্নিং অফিসার ভোটার তালিকায় লিপিবদ্ধ কোন বিষয়ের শুদ্ধতা বা বৈধতা সম্পর্কে তদন্ত করিতে পারিবেন না।’ সাংবাদিকদের উদ্দেশে এ আইনের উল্লেখ করে আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালুকদার বলেন, ‘তাহলে কি কারণে কোন আইনের ভিত্তিতে আবদুল আউয়াল মিন্টুর প্রার্থিতা বাতিল করা হলো? এর বিরুদ্ধে অবশ্যই আমরা আপিল করবো এবং আইন অনুযায়ী আপিল আমাদের পক্ষেই আসবে।
অন্যদিকে মনোনয়ন বৈধতা ঘোষণা করা হয় মিন্টুপুত্র তাবিথ আউয়াল ছাড়াও আনিসুল হক, শামছুল আলম চৌধুরী, চৌধুরী ইরাদ আহমদ সিদ্দিকী, আবদুল্লাহ আল ক্বাফী, ববি হাজ্জাজ, এ ওয়াই এম কামরুল ইসলাম, বাহাউদ্দিন আহমেদ, নাদের চৌধুরী, কাজী মো. শহীদুল্লাহ, মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ, সারাহ বেগম কবরী, মো. আনিসুজ্জামান খোকন, মো. জামান ভূঞা, শেখ শহিদুজ্জামান, মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী, মাহী বদরুদ্দোজা চৌধুরী, শেখ মো. ফজলে বারী মাসউদ ও মোস্তফা আজাদী।
এদিকে ঢাকা সিটি করপোরেশন দক্ষিণে (ডিএনসিসি) বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নাসিরউদ্দিন আহমেদ পিন্টুর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী সাঈদ খোকন, বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী একই দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, অর্থবিষয়ক সম্পাদক আবদুস সালামের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল সকালে গুলিস্তানের ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে ঢাকা দক্ষিণ আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং অফিসার মিহির সারওয়ার মোর্শেদ এ তথ্য জানান। নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টু যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামি এ কারণে তার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। দক্ষিণে মেয়র পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ২৬ জনের মধ্যে পিন্টু ছাড়াও ঋণখেলাপি হওয়ায় মো. বাবুল সরদার চাখারী এবং আয়কর রিটার্ন জমা না দেয়া মো. রেজাউল করিম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়।
গতকাল সকাল থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মহানগর নাট্যমঞ্চের কাজী বশির মিলনায়তনে ঢাকা দক্ষিণে মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করা প্রার্থীদের মধ্যে কাদের মনোনয়ন বৈধ ও কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন তা ধারবাহিকভাবে ঘোষণা করেন রিটার্নিং অফিসার মিহির সারওয়ার মোর্শেদ। প্রথমে মেয়র, পরে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও সবশেষে সাধারণ কাউন্সিলর পদে নির্বাচনে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনে যোগ্য ও অযোগ্যদের নাম ঘোষণা করেন তিনি। দক্ষিণে মেয়র পদে নির্বাচনে আগ্রহী ও মনোনয়নপত্র দাখিল করা ২৬ প্রার্থীর মধ্যে ২৩, সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ১৫৩ জনের মধ্যে ১২২ জনের মনোনয়ন বৈধ (৩১ জন অযোগ্য) বলে ঘোষণা করা হয়। এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৫৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে গতকাল ১২টি ওয়ার্ডে ১২০ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ (১৫ জন অযোগ্য) ঘোষণা করা হয়। দক্ষিণে মোট ৬৩২ প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। আজ সাধারণ কাউন্সিলর পদে বাকি ৪৫টি ওয়ার্ডের যোগ্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। সকালে নিজের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সাঈদ খোকন সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আশা করি উৎসবমুখর পরিবেশে সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিএনপির সমর্থন প্রত্যাশী প্রার্থীদের মনোনয়ন বহাল থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করে বিএনপিপন্থি আইনজীবী মাসুদ আহমেদ তালকুদার বলেন, এখন পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে আমরা সন্তোষ্ট। পিন্টুর মনোনয়নপত্র অবৈধ ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, তার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন কোন সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। তিনি বলেন, দণ্ডপ্রাপ্ত কোন আসামি যদি আপিল করেন তাহলে তার দণ্ড বহাল থাকে না। তবে পিন্টু এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। আশা করি তার আপিল কমিশনে গ্রহণযোগ্য হবে।
দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে সম্মেলনে দক্ষিণের রিটার্নিং কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ বলেন, সরকারের বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠান থেকে আমরা প্রার্থীদের বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করেছি। তবে যাদের অযোগ্য বলে ঘোষণা করা হয়েছে তারা ৩ দিনের মধ্যে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার বরাবর আপিল করতে পারবেন।

নাটক সিনেমায় পুলিশ দেখাতে অনুমতি লাগবে

নাটক সিনেমায় যেমন থাকে নায়ক, নায়িকা, খলচরিত্র তেমনি দেখা যায় পুলিশের চরিত্র। সেখানে যেমন থাকে সৎ পুলিশ কর্মকর্তার নানা সফলতার অভিযানের গল্প কখনো আবার দেখা যায় অসৎ পুলিশ কর্মকর্তার নানা দূর্নীতির কাহিনী। কিন্তু এখন থেকে পুলিশের চরিত্রে অভিনয় ও পোশাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলার কথা বলছে বাংলাদেশের পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার এস এন জাহাঙ্গীর আলম সরকার বিবিসি বাংলাকে জানান এখন থেকে নাটক-সিনেমায় পুলিশের চরিত্র দেখাতে হলে পুলিশ কর্তৃপক্ষের পূর্বানুমতি নিতে হবে।
বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি, চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতিতে এ-সংক্রান্ত চিঠি পাঠানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মি. সরকার জানান, প্রায়ই নাটক ও সিনেমায় পুলিশের পোশাক পরে অভিনেতা-অভিনেত্রীরা অভিনয় করেন।
ক্ষেত্রবিশেষে পুলিশের পদবির সঙ্গে পরিহিত পোশাকের মিল দেখা যায় না।
আবার নির্মাতারা পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো অনুমতি নেন না।
পুলিশের পদবির সঙ্গে পোশাক ব্যবহারের বিষয়ে সরকার অনুমোদিত একটি ড্রেস রুল রয়েছে।
ড্রেস রুল অনুযায়ী পুলিশ সদস্যরা র‌্যাংক ব্যাজ ব্যবহার করে পোশাক পরেন।
নাটক সিনেমায় পুলিশের নেতিবাচক ও হাস্যরসাত্মক উপস্থাপন জনমনে এই সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ভুল ধারণা জন্ম নেয় বলে তিনি মনে করেন।
সূত্র: বিবিসি বাংলা

ডা. শামারুখ হত্যা: স্বামী হুমায়ুনের জামিন বহাল

ডা. শামারুখ মাহজাবিন হত্যা মামলার আসামি তার স্বামী হুমায়ুন সুলতানের হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বে তিন বিচারকের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। এর আগে গত ২রা মার্চ হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ থেকে জামিন পান হুমায়ুন। এর দুই দিনের মাথায় রাষ্ট্রপক্ষ হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে চেম্বার আদালতে গেলে বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী জামিন স্থগিত করে আবেদনটি পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন এবং নিয়মিত আপিল করতে বলেন। এরপর গত ৯ই মার্চ প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারকের বেঞ্চ দুই পক্ষের বক্তব্য শুনে হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত করেন। এ বিষয়ে শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করেন। ফলে হুমায়ুনের মুক্তিতে আর কোন বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী। গত ১৩রা নভেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিপু সুলতানের বাসা থেকে ডা. শামারুখকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সে সময় হমায়ুনের পরিবার দাবি করে শামারুখ আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে শামারুখের পরিবার অভিযোগ করে তাকে হত্যা করা হয়েছে।

সিটি নির্বাচনে সরকার হস্তক্ষেপ করবে না

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার ধ্বংসাত্মক ও মানুষ হত্যার রাজনীতিই বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে। আর এটাই হবে তার তথাকথিত আন্দোলনের যৌক্তিক পরিণতি। দেশের মানুষই জঙ্গি নেত্রী খালেদা জিয়ার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাহসের সঙ্গে মোকাবিলা করছে, এই জঙ্গি নেত্রীর কথা জনগণ মানে না। তার দলের নেতারাও খালেদা জিয়ার কথা শুনেন না, তার ফোন পর্যন্ত ধরেন না। খালেদা জিয়া আদালতে আত্মসমর্পণ না করলে থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাওয়া মাত্রই পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। গতকাল সংসদে প্রশ্নোত্তর-পর্বে প্রধানমন্ত্রী একথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে এ সংক্রান্ত প্রশ্নটি উত্থাপন করেন সরকারি দলের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমদ। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালু রাখুন, স্বাভাবিক যান চলাচল অব্যাহত রাখুন, অন্যায়কারীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলুন। আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আসন্ন তিন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী দেয়ায় বিএনপিকে স্বাগত জানান। নির্বাচন থেকে পালানোর অজুহাত না খোঁজার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচনে সরকার কোন ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচনে সম্পূর্ণ সুষ্ঠু পরিবেশ বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশন নির্বাচন পরিচালনা করবে, আর সরকার ইসি’র চাহিদামত সর্বাত্মক সহযোগিতা দেবে। বিএনপির ‘লেভেল প্লেইং ফিল্ড’ দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লেভেল প্লেইং ফিল্ডের সুরের পেছনে কোন বে-সুর কাজ করছে, সেটা বোধগম্য নয়। লেভেল প্লেইং ফিল্ড বলতে আসলে তারা কী চাচ্ছে? আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা, যানবাহনে আগুন, রেলগাড়িতে আগুন দিয়ে মানুষ হত্যার সময় কী তাদের (বিএনপি-জামায়াত) জনগণের কথা মনে পড়েনি? তিনি বলেন, আসলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন, কি করবেন না, এ নিয়ে বিএনপি নেত্রী দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভুগছেন। তিনি বলেছিলেন বর্তমান সরকারের অধীনে কোন নির্বাচন অংশ নিবেন না। কিন্তু আগেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছে, এখনও করছে। তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়েছে, সিটি নির্বাচনে প্রার্থী দিয়েছে। এখন লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের সুর তুলে নির্বাচন থেকে পিছু হঠার পথ খুঁজছে কিনা, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়।
খালেদা জিয়ার সম্পদ বাজেয়াপ্ত: অবরোধ-হরতালের হুকুমদাতা খালেদা জিয়াসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে নিহত-আহতদের ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে কিনা, সরকারি দলের সংসদ সদস্য মনিরুল ইসলামের এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী আইন-কানুন, আদালত-সংবিধান কিছুই মানেন না। কিন্তু আমরা আইন মানি, আইনকে রক্ষা করি। তাই আইন তার নিজস্বগতিতেই চলবে। আইন ও আদালত যে নির্দেশনা দেবে, সেই নির্দেশ আমরা মেনে চলবো। আদালত যদি বলে অবরোধ-হরতাল আহ্বানকারী বিএনপি নেত্রীসহ অন্যদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করে নাশকতায় নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দিতে, আমরা তাই করবো। তবে আইনের বাইরে যাওয়ার আমাদের কোন সুযোগ নেই। শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি-জামায়াত নেত্রী খালেদা জিয়া গত ১৩ই মার্চ সংবাদ সম্মেলনে তার হিংস্ররূপ আবারও প্রকাশ করেছেন। এতগুলো মানুষ মারা গেল অথচ তিনি তার বক্তব্যে তাদের প্রতি সমবেদনাটুকুও জানাননি। আসলে এই নিরীহ মানুষগুলোকে খালেদা জিয়া হত্যা করেছেন। তাই সমবেদনা জানানোর মানসিক শক্তিটুকুও তার ছিল না। জঙ্গি নেত্রীর কথা দেশের জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংসদ নেতা বলেন, জনগণের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা বিধান, শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখার জন্য পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করছে। নাশকতামূলক ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গোষ্ঠী, অর্থায়নকারী ও পরিকল্পনাকারীদের কর্মকাণ্ড সংক্রান্ত তথ্যাদি সংগ্রহের বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থাসমূহ নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া, সকল জঙ্গি, আসামি গ্রেপ্তার, অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক এবং মাদকদ্রব্যসহ সকল ধরনের অবৈধ মালামাল উদ্ধারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে।
আগামীতে স্থানীয় নির্বাচনও দলীয়ভাবে: আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও দলীয়ভাবে করা হবে কিনা- সরকারি দলের শামসুল হক চৌধুরীর এমন সম্পূরক প্রশ্নের সঙ্গে একমত পোষণ করে সংসদ নেতা বলেন, আমাদের দেশে স্থানীয় নির্বাচনগুলো দলীয়ভাবে না হলেও ফলাফল ঘোষণার সময় তা দলীয়ভাবেই লেখা হয়। ভারত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পৃথিবীর অধিকাংশ  দেশেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমাদের দেশেও স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয়ভাবে প্রার্থী মনোনয়ন ও প্রচার করার বিধান থাকা প্রয়োজন বলে আমি মনে করি। সংসদ সদস্যরা চাইলে এব্যাপারে বিদ্যমান আইন সংশোধন করে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
যেকোন ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত: বর্ধমানে ধৃত জঙ্গিরা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকেও হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিল- এব্যাপারে সংসদ নেতার নিরাপত্তার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে সরকারি দলের একেএম শামীম ওসমানের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, হায়াত-মউত, ক্ষমতা দেয়া ও কেড়ে নেয়ার মালিক আল্লাহ। আমি দেশ ও জনগণের জন্য রাজনীতি করি, নিজের জন্য নয়। প্রতিনিয়ত মৃত্যুভয় নিয়ে চললে তো দেশের এতো উন্নয়ন করতে পারতাম না। তাই আমি মৃত্যুকে ভয় পাই না। বারবার আমার ওপর আঘাত এসেছে, ভবিষ্যতেও হয়তো আসবে। প্রতিনিয়তই শুনছি আমাকে হত্যা করা হবে! কে কখন মারবে এই দুশ্চিন্তা নিয়ে চললে তো দেশ ও জনগণের জন্য কিছু করতে পারবো না। এতোবার চেষ্টা করেও বিএনপি নেত্রী ও বিএনপি-জামায়াত আমাকে মারতে (হত্যা) পারলো না, এই দুঃখ তো তাদের। এই দুশ্চিন্তা আমি করি না। দেশ ও জনগণের কল্যাণে জীবনে যত বড় ঝুঁকি নিতে হয়, আমি তা নিতে প্রস্তুত। বিএনএফ’র চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের দুর্ভাগ্য, একজন নেত্রী আন্দোলনের নামে মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করছেন, সম্পদ বিনষ্ট করছেন, আর আমরা জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছি। একজন নেতানেত্রীর কাজই হচ্ছে জনগণের কল্যাণ ও উন্নয়ন সাধন করা। কিন্তু যিনি আগে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, তিনি জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে তাদেরকে হত্যা করছেন! দেশের জনগণের প্রতি তার ন্যূনতম দায়িত্ববোধ নেই। আর তিনি দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না বলেই একাত্তরের মতোই দেশের মানুষকে হত্যা করছেন, জ্বালাও-পোড়াও চালাচ্ছেন। তবে দেশের মানুষ জঙ্গি নেত্রী খালেদা জিয়াকে প্রত্যাখ্যান করে নাশকতা দমনে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলেই আমরা সবকিছু মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছি। আওয়ামী লীগের সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের মূল প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী রাজনৈতিক কর্মসূচির নামে জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তিনি (খালেদা জিয়া) সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন আন্দোলন  যৌক্তিক পর্যায়ে না যাওয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। তার এই বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি নেত্রীর এসব কর্মসূচিই বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করে দিবে, আর এটাই হবে তার তথাকথিত আন্দোলনের যৌক্তিক পরিণতি।? সংসদ নেতা বলেন, দেশের মানুষই জঙ্গি  নেত্রী খালেদা জিয়ার ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সাহসের সঙ্গে  মোকাবিলা করছে। জনগণই তার সন্ত্রাসের উপযুক্ত জবাব দিচ্ছে। দেশের মানুষ জঙ্গি নেত্রীর কথা মানেন না। তার দলের নেতারাও খালেদা জিয়ার কথা শুনেন না, তার ফোন পর্যন্ত ধরেন না। তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াত নেত্রী দেশের আইন মানেন না। কোর্ট তার (খালেদা) বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিয়েছে অথচ সাবেক প্রধানমন্ত্রী হয়েও তিনি আইন অমান্য করছেন। তিনি (খালেদা জিয়া) যদি কোর্টে আত্মসমর্পণ না করেন, তবে থানায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা যাওয়া মাত্র পুলিশ আইনানুগ ব্যবস্থা নিবে। সরকারি দলের সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত ৮৫ দিন ধরে হরতাল-অবরোধের নামে নিরীহ ও সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। হরতাল-অবরোধের কারণে ক্রয়াদেশ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। চলমান অবৈধ হরতাল-অবরোধের কারণে গার্মেন্টস সেক্টরে উৎপাদন কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি সাপ্লাই চেইন ব্যবস্থাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, পরিবহন ব্যবস্থা হওয়ায় এই সেক্টরের কাঁচামাল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে এবং ক্রয়াদেশ অনুযায়ী সময়মতো উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে বিদেশী ক্রেতা বা তাদের ক্রয়াদেশ বাতিল করে অন্য দেশে স্থানান্তর করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে তৈরী পোশাক সেক্টরে নিয়োজিত বিপুল সংখ্যক শ্রমিক কর্মহীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মেঘনায় ট্রলারডুবির ঘটনায় নিহত বেড়ে ৫

ঝড়ো-হাওয়ায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বসুরচর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বালুভর্তি বাল্কহেড ও যাত্রীবাহী ট্রলারের মধ্যে সংঘর্ষে নিখোঁজ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছে আরও অন্তত ৫-৭ জন। আজ বেলা ১২টা পর্যন্ত শিশুসহ ৫ জনের লাশ মেঘনায় ভেসে উঠলে ডুবুরিরা তা উদ্ধার করে। প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাত ৯টায় গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ফেরিঘাট থেকে একটি ইঞ্জিন নৌকা (ট্রলার)যোগে ৫০-৬০ জন যাত্রী চাঁদপুরের মতলব (উত্তর) থানার বেলতলী সোলায়মান ফকির (লেংটার) মাজারে যাওয়ার পথে বসুরচর সংলগ্ন মেঘনা নদী অতিক্রম করার সময় ‘মা বাবার দোয়া’ নামের বালুভর্তি একটি বাল্কহেড যাত্রীবাহী ট্রলারটিকে ধাক্কা দিলে সেটি নদীতে ডুবে যায়। এ সময় ১০-১২  জন যাত্রী নিখোঁজ হয়। নিখোঁজ যাত্রীদের মধ্যে বেলা ১২টা পর্যন্ত ৪ যুবকের লাশ (৩৪), (২২) ও এক কন্যা শিশুর (৪) লাশ উদ্ধার হয়েছে। শিশুর নাম মারিয়া। সে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার মনির হোসেনের কন্যা। অপর ২ যুবকের পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। গজারিয়ো থানার এসআই মো. হাবিবুর রহমান জানান, ডুবুরিদল সকাল থেকে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। আংশিক ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার ও ঘাতক কার্গোটি জব্দ করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত মেঘনাপাড়ে নিখোঁজদের স্বজনদের চোখে পড়ছে না। সে কারনে নিখোঁজের সংখ্যা এখন ৫-৭ জন হতে পারে। উদ্ধারকৃত লাশ ভাষানচর এলাকায় রাখা হয়েছে।  তিনি জানান, ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজদের উদ্ধারে সকাল থেকেই অভিযান শুরু হয়েছে। কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের ১০ সদস্যের একটি দল এবং গজারিয়া থানা পুলিশসহ ৪ সদস্যের একটি ডুবুরি দল নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে।

সাদা চামড়ার কারণেই সোনিয়া সভানেত্রী

সোনিয়া গান্ধী সম্পর্কে কটূক্তি করে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ কিশোর বলেছেন, ‘সাদা চামড়ার কারণেই সোনিয়া কংগ্রেস সভানেত্রী হয়েছেন।’ বিহারের এই এমপি প্রশ্ন ছুড়ে বলেছেন, ‘রাজীব গান্ধী যদি কোনো নাইজেরিয়ানকে বিয়ে করতেন বা সোনিয়ার গায়ের চামড়া সাদা না হতো, তবে কি তাকে নেতা বলে মানত কংগ্রেস?’ মঙ্গলবার বিহারের হাজিপুর জেলায় এক জনসভায় এমন বক্তব্য রাখেন গিরিরাজ। টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টুডে। তার এই কটাক্ষে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ক্ষমা চাইতে হবে বলে দাবি জানিয়েছে কংগ্রেস।
কংগ্রেস নেতা আরপিএন সিং বলেছেন, ‘সোনিয়া গান্ধী সম্পর্কে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যের কঠোর নিন্দা করছি। এটা শুধু সোনিয়া গান্ধীকে নয়, গোটা নারী সমাজের প্রতিই কটূক্তি।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘শুধু গিরিরাজই নন, বিজেপির আরও অনেকে এ ধরনের মন্তব্য করছেন। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ক্ষমা চাইতে হবে।’ সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাতও গিরিরাজের মন্তব্যের জন্য সমালোচনা করেছেন মোদির। বৃন্দা কারাতও বলেন, ‘এমন বর্ণবিদ্বেষী মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করছি। কোন সাহসে তিনি ওই কথা বলেন! আমার মনে হয়, এ ধরনের নেতাদের তৈরি করছেন মোদিই। কী করে ওনার মন্ত্রীরা এমন মন্তব্য করেন!’ উল্লেখ্য, এর আগেও এ ধরনের মন্তব্য করেছেন গিরিরাজ। সমালোচিতও হয়েছেন তিনি। গত লোকসভা ভোটের সময় ঝাড়খন্ডে ভোট প্রচারে তিনি বলেছিলেন, ‘মোদির বিরোধিতা করছেন যারা, ভোটের পর তাদের পাকিস্তান চলে যেতে হবে।’

আর্জেন্টিনার আরেকটি মেসিবিহীন জয়

এল ক্লাসিকোতে ডান-পায়ে হালকা চোট পেয়েছিলেন। দলের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সফরে এলেও রোববার এল সালভাদরের বিপক্ষে খেলেননি লিওনেল মেসি। সেই চোট না সারায় বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোরে ইকুয়েডরের বিপক্ষেও মাঠে নামতে পারলেন না আর্জেন্টিনা অধিনায়ক। তাতে অবশ্য আর্জেন্টিনার জয়যাত্রায় ছেদ পড়েনি। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে মেসিকে ছাড়াই ইকুয়েডরের বিপক্ষে ২-১ গোলে জয়ী হয় বিশ্বকাপ রানার্সআপরা। কোপা আমেরিকার আগে দলের প্রাণভোমরাকে ছাড়াই টানা দুটি প্রীতি ম্যাচ জিতে আÍবিশ্বাসের রসদ বাড়িয়ে নিল আর্জেন্টিনা।
মেসির ম্যাজিক শো দেখতে কনকনে ঠাণ্ডা আবহাওয়া ও তুষার ঝড় উপেক্ষা করে মাঠে এসেছিলেন প্রায় ৫০ হাজার দর্শক। সার্গিও আগুয়েরো ও জাভিয়ের পাস্তোরের গোলে আর্জেন্টিনা জিতলেও একরাশ হতাশা নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে সমর্থকদের। তবে মেসির অনুপস্থিতিতে নিজেকে মেলে ধরার সুযোগটা দারুণভাবেই কাজে লাগিয়েছেন পাস্তোরে। দেশের জার্সিতে ১৭তম ম্যাচে এসে প্রথম গোলের দেখা পেলেন ২৫ বছর বয়সী পিএসজি মিডফিল্ডার। দলের প্রথম গোলেও অবদান ছিল তার। আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশে এদিন ১০টি পারিবর্তন এনেছিলেন কোচ জেরার্ডো মার্টিনো। আট মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন আগুয়েরো। অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়ার কর্নার থেকে পাস্তোরের বানিয়ে দেয়া বলে দারুণ এক হেডে ইকুয়েডরের জাল কাঁপান ম্যানসিটি ফরোয়ার্ড। দেশের হয়ে ৬০ ম্যাচে এটি আগুয়েরোর ২২তম গোল। এরপর ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও লক্ষভেদে ব্যর্থ হন মার্কোস রোহো ও ডি মারিয়া।
২৪ মিনিটে ইকুয়েডরকে সমতায় ফেরান মিলার বোলানোস। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আর্জেন্টিনার সঙ্গে আর পেরে ওঠেনি ইকুয়েডর। ৫৮ মিনিটে লুকাস বিগলিয়ার পাস থেকে অফ-সাইডের ফাঁদ এড়িয়ে জয়সূচক গোলটি করেন পাস্তোরে। ম্যাচ শেষে মেসির চোট প্রসঙ্গে মার্টিনো বলেন, ‘ব্যথার কারণে বুট পরতে সমস্যা হচ্ছিল মেসির। কোনোভাবেই তাকে খেলানো সম্ভব ছিল না।’ আসলে ১১ জুন চিলিতে শুরু হতে যাওয়া কোপা আমেরিকার আগে মেসিকে নিয়ে কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি মার্টিনো। কোপা যুদ্ধে নামার আগে ৬ জুন বলিভিয়ার সঙ্গে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকার সব দলই এখন কোপার প্রস্তুতিতে বস্ত। পরশু যুক্তরাষ্ট্রে আরেক প্রীতি ম্যাচে মেক্সিকোর কাছে ১-০ গোলে হেরেছে প্যারাগুয়ে। একই ব্যবধানে পেরুর বিপক্ষে জিতেছে ভেনিজুয়েলা। ওয়েবসাইট।

পুরান ঢাকার সমস্যা জলাবদ্ধতা by আশীষ-উর-রহমান

বর্ষা মৌসুম আসছে। দুর্ভোগেরও দিন আসছে পুরান ঢাকার
বাসিন্দাদের। গতকাল সকালে সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক এলাকায়
জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। জলমগ্ন হোসেনী দালান রোডে পথচারীদের
দুর্ভোগের ছবিটি দুপুরের দিকে তোলা l হাসান রাজা
সকালে এক পসলা মাঝারি ধরনের বৃষ্টি হয়ে গেছে। দুপুর পর্যন্ত সেই পানি নামেনি। আগামসিহ লেন মাঝেমধ্যেই ডুবে আছে ঘোলা পানির তলায়। সেদিকে তাকিয়ে কাশেম ইলেকট্রনিকসের মালিক আবুল কাশেম হতাশ হয়ে বলছিলেন, ‘মেয়র তো অনেক দেখলাম। আমাগো এই মহল্লায় পানি ওঠা কেউ বন্ধ করতে পারল না।’
গতকাল বুধবার দুপুরে যখন তাঁর সঙ্গে কথা হচ্ছিল আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচন ও তাঁদের এলাকার সমস্যা নিয়ে, তখন তাঁর দোকানের সামনের পথ জলমগ্ন। আবুল কাশেম জানালেন, নগর ভবনের প্রায় গা-ঘেঁষা এলাকা হলেও আগামসিহ লেন, কাজী আলাউদ্দিন রোড, আবুল হাসনাত রোড, নিমতলীর অধিকাংশ এলাকায় পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বহুকাল ধরে। সামান্য বৃষ্টিতেই এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এই যে বর্ষা মৌসুম আসছে, এখন এলাকাবাসীর দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। পুরান ঢাকার প্রধান সমস্যাই হলো বর্ষায় জলাবদ্ধতা।
ঢাকা সিটি করপোরেশনের (দক্ষিণ) ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড শুরু হয়েছে নগর ভবনের পশ্চিম পাশের নিমতলী, নবাব কাটরা, কায়েতটুলী, আগামসিহ লেন, আবুল হাসনাত রোড, কাজী আলাউদ্দিন রোড, বংশাল ও নাজিমুদ্দিন রোডের একাংশ নিয়ে। গতকাল দুপুরে এসব এলাকায় ঘুরে দেখা গেল বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও গলিগুলো ছিল জলমগ্ন। কাজী আলাউদ্দিন রোড, আগামসিহ লেন, নিমতলী মোড়ে স্তূপ হয়ে আছে গৃহস্থালি ময়লা-আবর্জনা। নবাব কাটরার রমজান আলী জানালেন, পানি নিয়ে তাঁদের দুই ধরনের সমস্যা। জলাবদ্ধতা আর পানীয় জলে দুর্গন্ধ। বিভিন্ন স্থানে সুয়ারেজের সঙ্গে ওয়াসার পানি সরবরাহের লাইন মিলে গেছে। ফলে পানিতে দুর্গন্ধ। সারা বছরই তাঁদের খাওয়ার পানি কিনতে হয়। নিমতলীর দোকান কর্মচারী মো. রিপন জানালেন, ২০১০ সালের ৩ জুন রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরও এলাকা থেকে রাসায়নিকের গুদাম অপসারিত হয়নি। ওই অগ্নিকাণ্ডে তাঁর মা, ভাই, বোন, খালা, মামিসহ মোট ছয়জন মারা যান। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের পরপরই রাসায়নিকের গুদাম বন্ধ করে দেওয়ার দাবি উঠেছিল। কিন্তু পরে গুদাম আর সরানো হয়নি। এখনো প্রার্থীরা প্রচারে নামেননি। প্রচারণা শুরু হলে এবার তাঁরা প্রার্থীদের কাছে আবার দাবিটি তুলবেন।
চানখাঁর পুল থেকে নাজিমুদ্দিন রোডের একাংশ হয়ে পশ্চিমে হোসেনী দালান রোড, তাঁতখানা লেন, গিরদা উর্দু রোডের একাংশ, হরনাথ ঘোষ রোড, অরফানেস রোড, বকশীবাজার রোড, আমলাপাড়া (বুয়েট) এলাকা নিয়ে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড। দেখা গেল, নাজিমুদ্দিন রোডে নীরব হোটেলের সামনে, হোসেনী দালান রোডের কেন্দ্রীয় কারাগারসংলগ্ন এলাকা, বকশীবাজার চৌরাস্তার মোড় জলমগ্ন হয়ে আছে। আবর্জনার স্তূপ নবাব বাগিচার মোড়ে।
কথা হলো হোসেনী দালান সমাজকল্যাণ সংস্থা ও পঞ্চায়েতের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো। প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এর প্রধান কারণ, দফায় দফায় সড়কগুলোতে কার্পেটিং করায় সংযুক্ত গলি থেকে সড়কগুলো দুই থেকে তিন ফুট পর্যন্ত উঁচু হয়ে গেছে। ফলে গলির ভেতরে পানি আটকে যাচ্ছে। উপরন্তু সড়কের দুই পাশের দোকানগুলো নর্দমা বন্ধ করে পাকা সিঁড়ি তৈরি করেছে। ফলে নর্দমার প্রবাহও বন্ধ। এবার সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের কাছে তাদের প্রধান দাবি থাকবে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা উন্নত করা ও নিয়মিত আবর্জনা সরানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।