Showing posts with label ইসরায়েল. Show all posts
Showing posts with label ইসরায়েল. Show all posts

Thursday, August 27, 2026

ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ

আল-জাজিরাঃ ইসরাইল কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখলে নিলেও ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স।

তিনি বলেন, ‘আমরা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সন্ডার্স এ কথা বলেন। এ সময় কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র দখল নিয়ে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিভিন্ন দাবিরও জবাব দেন তিনি।

ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের দাবি, কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি ইহুদি ন্যাশনাল ফান্ডের মালিকানাধীন। পরিকল্পিত একটি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য জায়গাটি জেরুজালেম পৌরসভাকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া ২০২৪ সালের অক্টোবরে পাস হওয়া একটি আইনের কথাও উল্লেখ করেছে তারা। ওই আইনে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যক্রম সীমিত করার কথা বলা হয়।

ইউএনআরডব্লিউএ অবশ্য এসব দাবি দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। সংস্থাটির বক্তব্য, কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র জাতিসংঘের একটি স্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় এটি সুরক্ষিত।

সন্ডার্স বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর দায়িত্ব জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ সরাসরি দিয়েছে। ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক সংকটের সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংস্থাটির কাজ হলো ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মানবিক ও জনসেবা দেওয়া।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি মানবিক সংস্থা। আমরা উন্নয়নমূলক কাজও করি। গুরুত্বপূর্ণ সেবা দেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে।’

সন্ডার্স জানান, সাধারণ পরিষদ অন্য কোনো সিদ্ধান্ত না নেওয়া পর্যন্ত অথবা ফিলিস্তিন প্রশ্নের একটি স্থায়ী সমাধান না হওয়া পর্যন্ত ইউএনআরডব্লিউএ তার কাজ চালিয়ে যাবে।

ইসরাইলি বাহিনীর অভিযানের পর কর্মী ও স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে নিরাপত্তা মূল্যায়ন, কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং ঝুঁকি কমানোর ব্যবস্থা রয়েছে।

তবে জাতিসংঘের স্থাপনায় ইসরাইলি বাহিনীর বলপ্রয়োগের সমালোচনা করেছেন সন্ডার্স। তার মতে, এ ধরনের বলপ্রয়োগের পথ বেছে নেওয়া ঠিক হয়নি। এসব সমস্যার সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই করতে হবে।

সন্ডার্স বলেন, ইসরাইলি ও ফিলিস্তিনিদের মুখোমুখি বসে এসব সমস্যা সমাধানের সময় অনেক আগেই এসেছে।

ইউএনআরডব্লিউএর ভবিষ্যৎ নিয়ে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমরা কোথাও যাওয়ার পরিকল্পনা করছি না।’ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

ফিলিস্তিনে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে ইউএনআরডব্লিউএ
ছবি: সংগৃহীত

ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল -:ইউএনআরডব্লিউএ প্রধান

ইসরাইল জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএকে বিলুপ্ত করে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিই ‘মুছে ফেলতে’ চায় বলে মন্তব্য করেছেন সংস্থাটির প্রধান ক্রিশ্চিয়ান সন্ডার্স।

তার মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের উপস্থিতি বিলীন করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই ইউএনআরডব্লিউএর একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিযান চালানো হয়েছে।

আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সন্ডার্স এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের কাছে কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্রে ইসরাইলি বাহিনীর অভিযান শুধু একটি স্থাপনা দখলের ঘটনা নয়। এর পেছনে আরো বড় লক্ষ্য রয়েছে।

মঙ্গলবার কাফর আকাব এলাকায় অবস্থিত ওই প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি দখলে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। অভিযানে ইউএনআরডব্লিউএর কর্মীরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। এ সময় ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া গুলিতে অন্তত সাতজন ফিলিস্তিনি আহত হন।

অভিযানে অংশ নেন ইসরাইলের কট্টরপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। সেখানে তিনি ঘোষণা দেন, ‘জেরুজালেম ও ইসরাইলে এই সংস্থার কোনো জায়গা নেই।’

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও এই অভিযান ও স্থাপনা খালি করার সিদ্ধান্তের পক্ষে অবস্থান নেন। তিনি দাবি করেন, ইসরাইলি আইনের আওতায় এ পদক্ষেপ বৈধ। একই সঙ্গে ইউএনআরডব্লিউএর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় হামাসকে সহায়তা করার অভিযোগ তোলেন তিনি।

তবে ইউএনআরডব্লিউএর প্রধান সন্ডার্সের বক্তব্য, এর লক্ষ্য আরো গভীরে।

তার ভাষ্য, সংস্থাটিকে অর্থসংকটে ফেলে বিলুপ্ত করা গেলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যুটিও আর থাকবে না—এমনটাই আশা করছে ইসরাইল।

সন্ডার্স বলেন, ইউএনআরডব্লিউএর অর্থায়ন বন্ধ করে সংস্থাটিকে বিলুপ্ত করা হলে ফিলিস্তিনি শরণার্থী সমস্যাটি ‘শেষ হয়ে যাবে’। একই সঙ্গে শরণার্থীদের নিজ ভূমিতে ফিরে যাওয়ার অধিকার, পুনরুদ্ধার এবং ক্ষতিপূরণের দাবিও আর থাকবে না।

কালান্দিয়া প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয় তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন সন্ডার্স। তিনি বলেন, কেন্দ্রটি স্থানীয় তরুণদের জন্য শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিল।

তার ভাষ্য, কেন্দ্রটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ৩৪০ তরুণ প্রয়োজনীয় শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হবে। এই কর্মসূচি তরুণদের দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি পূর্ণাঙ্গ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন গড়ার সুযোগ করে দিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সন্ডার্স বলেন, প্রশিক্ষণকেন্দ্রটি হারানোর অর্থ শুধু একটি শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে শত শত তরুণের শিক্ষা, দক্ষতা অর্জন এবং ভবিষ্যৎ গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও বন্ধ হয়ে গেল।

ফিলিস্তিনি শরণার্থী ইস্যু ‘মুছে ফেলতে’ চায় ইসরাইল
ছবি: এপি

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জাতিসংঘে কাতার

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ঘটাতে হবে বলে জানিয়েছে কাতার। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক অধিবেশনে এ কথা বলেছেন জাতিসংঘে কাতারের রাষ্ট্রদূত আলিয়া আহমেদ সাইফ আল-থানি। খবর আলজাজিরা।

গাজা ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা নিয়ে আয়োজিত ওই অধিবেশনে আরব গোষ্ঠীর পক্ষে বক্তব্য দেন আল-থানি। তিনি বলেন, ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান না ঘটালে ন্যায়সংগত, পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই শান্তি অর্জন করা সম্ভব নয়।

তিনি গাজা ও পশ্চিম তীরে ইসরাইলের চলমান ‘গুরুতর লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানান। আল-থানি বলেন, এর মধ্যে রয়েছে একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র এবং ২০২৫ সালের ব্যাপক পরিকল্পনা—যুদ্ধ বন্ধ, জিম্মিদের মুক্তি এবং গাজা উপত্যকা পুনর্গঠনের জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন একটি বহুপাক্ষিক চুক্তি—উভয়কেই ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান।

আল-থানি বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়নে সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে মৌলিকভাবে দুর্বল করা হচ্ছে। এ কারণে তিনি পরিকল্পনাটির পূর্ণ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, ফিলিস্তিনিদের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকে স্বাগত জানান কাতারের এই রাষ্ট্রদূত।

ইসরাইলি দখলদারিত্বের অবসান ছাড়া শান্তি আসবে না: জাতিসংঘে কাতার

ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি তাদেরই দেশ

কয়েকদিন আগে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দেশটির অন্যতম প্রাচীন মিত্র ব্রিটেন সম্পর্কে একটি চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন। যেখানে নেতানিয়াহু ইসরাইলি আর্মি রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ব্রিটেনকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অফ ব্রিটেন’ এবং ‘পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনকারী প্রথম ইসলামিক প্রজাতন্ত্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এর মাধ্যমে মূলত তিনি একটি সতর্কবাণী দিয়েছিলেন। কিন্তু এই সতর্কবার্তা ব্রিটেন শহর সম্পর্কে জানার চেয়ে বরং এই উক্তিটির পেছনের রাজনীতিকেই বের করে আনে।

মুসলিমদের দৃশ্যমানতা ও ‘ইসলামীকরণ’ বিতর্ক

ব্রিটেন একটি বৈচিত্র্যময় গণতন্ত্র, যেখানে মুসলিমরা মোট জনসংখ্যার প্রায় ছয় শতাংশ। রাজনীতি, সংস্কৃতি, পেশাগত ক্ষেত্র এবং জনজীবনে তাদের ক্রমবর্ধমান দৃশ্যমানতা হলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বসতি স্থাপন, নাগরিকত্ব এবং অংশগ্রহণের এক স্বাভাবিক পরিণতি।

কিন্তু মুসলিম-বিরোধী আতঙ্কের রাজনীতিতে, দৃশ্যমানতাকে আধিপত্য, বৈচিত্র্যকে ‘ইসলামীকরণ’ এবং অংশগ্রহণকে অনুপ্রবেশ হিসেবে নতুন রূপ দেওয়া হয়। এর অন্তর্নিহিত প্রস্তাবনাটি বেশ অদ্ভুত: যখন একটি গণতন্ত্রে মুসলমানরা যথেষ্ট দৃশ্যমান হয়ে ওঠে, তখন গণতন্ত্র নিজেই কোনোভাবে মুসলিম হয়ে যায়।

ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বাছাই করা আতঙ্ক

এই বাছাই প্রক্রিয়াটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ব্রিটেনে সম্প্রতি ঋষি সুনাকের মতো একজন প্র্যাক্টিসিং হিন্দু প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, নেতানিয়াহু এবং তার আদর্শগত মিত্ররা তখন ব্রিটেনের মধ্যে কেনো ‘হিন্দুকরণ’ আঁচ করতে পারেননি। এমনকি ওয়েস্টমিনস্টার যে একটি হিন্দু প্রজাতন্ত্রে পরিণত হচ্ছে, সে বিষয়ে কোনো সতর্কবার্তা ছিল না।

সুনাকের স্থলাভিষিক্ত হন কিয়ার স্টারমার, যার স্ত্রী ইহুদি এবং সন্তানরা ইহুদি ঐতিহ্য অনুসারে বেড়ে উঠেছে। এবারও ‘ব্রিটেনের ইহুদিকরণ’ নিয়ে কোনো কথা হয়নি, কিংবা টেমস নদীর তীরে একটি ইহুদি প্রজাতন্ত্র গড়ে ওঠার কোনো জল্পনাও শোনা যায়নি।

ব্রিটেনের বর্তমান নেতৃত্ব দিচ্ছেন অ্যান্ডি বার্নহ্যাম, যিনি একজন ক্যাথলিক। এখন পর্যন্ত, ‘ব্রিটেনের ক্যাথলিকীকরণ’ দৃশ্যত নেতানিয়াহুরও দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে।

জাতিগত বৈচিত্র্য

কিন্তু মুসলিমরা রাজনীতি বা পেশাগত ক্ষেত্রে দৃশ্যমান হলেই তাকে ‘ইসলামীকরণ’ বা ‘অনুপ্রবেশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হয়। মুসলিম মেয়র, এমপি, ডাক্তার, আইনজীবী এবং ভোটাররা কেবল অংশগ্রহণের প্রমাণ নয়, বরং ‘ইসলামীকরণের’ প্রমাণ হয়ে ওঠে। তাদের দৃশ্যমানতা হয়ে দাঁড়ায় জনসংখ্যাতাত্ত্বিক হুমকি; তাদের রাজনৈতিক প্রভাব হয়ে ওঠে অনুপ্রবেশ।

মনে হচ্ছে, ধর্মীয় বহুত্ববাদ বহুত্ববাদই থেকে যায়—যতক্ষণ না সেই ধর্মটি ইসলাম হয়।

ব্রিটেনে মুসলিমদের বাস্তব অবস্থান

বাস্তবতা ততটা চাঞ্চল্যকর নয়। ব্রিটেনে প্রায় চল্লিশ লাখ মুসলিম বসবাস করেন, যা একটি ক্ষুদ্র সংখ্যালঘু মাত্র। সেখানে কোনো উল্লেখযোগ্য আন্দোলন নেই যা একটি ইসলামিক রাষ্ট্র বা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

ব্রিটিশ রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং আইন সম্পূর্ণ ব্রিটিশই রয়েছে; সংসদ কোনো শুরা কাউন্সিল দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়নি এবং ব্রিটিশ আইনও ইসলামিক আইন দ্বারা উচ্ছেদ করা হয়নি।

পরিবর্তনটি মূলত দৃশ্যমানতার ক্ষেত্রে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৯ সালের তথ্য অনুযায়ী ইংল্যান্ডে প্রায় ১৩,০০০ মুসলিম ডাক্তার কর্মরত ছিলেন, যা মোট চিকিৎসকদের প্রায় ১০% (জনসংখ্যার অনুপাতের প্রায় দ্বিগুণ)। তারা নির্বাচনে ভোট দেন এবং তাদের সন্তান ও নাতি-নাতনিরা ইংরেজিকে প্রথম ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে ব্রিটেনকেই তাদের নিজের বাড়ি মনে করে।

এটিকে ইসলামী দখলের প্রমাণ হিসেবে চিত্রিত করা মানে নাগরিকত্বকে বিজয়ের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা—এবং এই বিভ্রান্তির একটি ইতিহাস রয়েছে।

ইউরোপের ইতিহাসে ইসলামের দীর্ঘ উপস্থিতি

ইউরোপের ইতিহাসে ইসলাম কোনো নতুন বিষয় নয়। সহস্রাধিক বছর ধরে যুদ্ধ, বাণিজ্য, পাণ্ডিত্য, অভিবাসন, কূটনীতি এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে ইউরোপ ও মুসলিম বিশ্বের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে।

আল-আন্দালুসে বহু শতাব্দী ধরে মুসলিম সভ্যতার বিকাশ ঘটেছিল। খ্রিস্টান ইউরোপের রাজনৈতিক কল্পনায় আরব ও অটোমানরা বারবার আবির্ভূত হয়েছিল। পোয়াতিয়ে থেকে ভিয়েনা পর্যন্ত, এই মুসলিম ‘অন্য’ সত্তাটি ইউরোপকে তার আত্মপরিচয় নির্ধারণে সহায়তা করেছিল।

সুতরাং ইসলাম কখনোই ইউরোপীয় ইতিহাসের বাইরে ছিল না। এটি ছিল সেই শক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম, যার বিরুদ্ধে এবং যার সঙ্গে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে ইউরোপ নিজেকে গড়ে তুলেছিল।

যুদ্ধোত্তর অভিবাসন ও ইউরোপ পুনর্গঠন

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সেই সম্পর্কটি মৌলিকভাবে বদলে যায়। বিধ্বস্ত অর্থনীতি পুনর্গঠনকারী ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের উপনিবেশ ও সাবেক উপনিবেশগুলো থেকে শ্রমিক নিয়ে আসে। ব্রিটেন দক্ষিণ এশিয়া ও অন্যান্য স্থান থেকে অভিবাসী গ্রহণ করে; ফ্রান্স উত্তর আফ্রিকা থেকে; এবং অন্যান্য ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলো তাদের নিজস্ব ঔপনিবেশিক প্রভাবাধীন অঞ্চল বা শ্রম সংগ্রহের এলাকা থেকে শ্রমিক নেয়।

এইসব পুরুষ ও মহিলা কারখানা, পরিবহন ব্যবস্থা, হাসপাতাল এবং সরকারি পরিষেবাগুলিতে কাজ করতেন। তাঁরা প্রায়শই সমাজের প্রান্তিক অবস্থানে থেকেও ইউরোপ পুনর্গঠনে সহায়তা করেছিলেন।

কিন্তু সেটাও গল্পের শুরু ছিল না।

যুদ্ধ, আত্মত্যাগ ও ব্রিটিশ ইতিহাসে মুসলিমদের ভূমিকা

যুদ্ধোত্তর অভিবাসন ব্রিটেনকে বদলে দেওয়ার অনেক আগেই, মুসলমানরা ব্রিটিশ ও মিত্রশক্তির পাশাপাশি বিপুল সংখ্যায় যুদ্ধ করেছিল এবং প্রাণ দিয়েছিল। সংসদে উদ্ধৃত হিসাব অনুযায়ী, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তাদের অবদান ছিল কমপক্ষে ২৫ লক্ষ সৈন্য ও শ্রমিক এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৫৫ লক্ষ, এবং ধারণা করা হয় যে এই দুই সংঘাত জুড়ে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল।

মুসলিম সৈন্যরা ফ্রান্স ও বেলজিয়ামের পরিখায়, উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে এবং সুদূর প্রাচ্যের যুদ্ধাভিযানে লড়াই করেছিল। শুধুমাত্র প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়ই ব্রিটিশ ভারত থেকে চার লক্ষেরও বেশি মুসলিম যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিল।

তাদের এই আত্মত্যাগ এমন এক সমসাময়িক রাজনীতির পাশে বেমানান মনে হয়, যা খুব সহজেই মুসলমানদের নবাগত, বহিরাগত অথবা এমন এক জনগোষ্ঠী হিসেবে চিহ্নিত করে যাদের অন্তর্ভুক্তির প্রমাণ ক্রমাগত দিতে হয়। মুসলমানরা ব্রিটিশ ইতিহাসে নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত কোনো ভিনগ্রহী সত্তা নয়। তারা এর যুদ্ধগুলোতে লড়তে, এর স্বাধীনতা রক্ষা করতে এবং এর ইতিহাস গঠনে সাহায্য করেছে।

অভিবাসী থেকে নাগরিক

তারা থিতু হলেন। তাদের সন্তান জন্মালো, তারপর নাতি-নাতনি। সেই ‘অভিবাসী’ নাগরিক হয়ে উঠলেন।

এই রূপান্তরটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আজকের অধিকাংশ কথাবার্তাই আগমনের পরিভাষায় আটকে আছে, যেন মুসলিম পটভূমির লক্ষ লক্ষ ইউরোপীয় এইমাত্র একটি নৌকা থেকে নেমেছেন এবং যেকোনো মুহূর্তে তাদের অন্য কোথাও ফিরে যেতে প্ররোচিত করা যেতে পারে।

কিন্তু চতুর্থ প্রজন্মের একজন লন্ডনবাসী ঠিক কোথায় “ফিরে” যাবে? ব্রিটেনই তো তার বাড়ি। এটাই সেই বাস্তবতা, যার সঙ্গে চিরস্থায়ী পরদেশীত্বের রাজনীতি লড়াই করতে হিমশিম খায়।

আধুনিক ব্রিটেন ও বহুত্ববাদ

আধুনিক ব্রিটেন কোনো অপরিবর্তনীয় সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার নয়, যা এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে অবিকৃতভাবে চলে আসে। এটি এমন একটি সমাজ যা এর অধিবাসীরাই ক্রমাগত রূপদান করে। খ্রিস্টান, ইহুদি, মুসলিম, হিন্দু, শিখ, ধর্মনিরপেক্ষ এবং অধার্মিকদের জীবনযাত্রা এখন একই জাতীয় পরিসরে একে অপরের সাথে মিশে গেছে।

আর একীকরণ মানে কখনোই এই নয় যে সংখ্যালঘুরা অপরিবর্তিত সংখ্যাগরিষ্ঠ সংস্কৃতির সাথে কেবল বিলীন হয়ে যাবে। এটি উভয় দিকেই কাজ করে।

নাগরিকত্ব, পরিচয় ও অন্তর্ভুক্তি

এই কারণেই “ইসলামিক রিপাবলিক অফ ব্রিটেন” কথাটি শুধু উপহাসের চেয়েও বেশি কিছু দাবি করে। এর অযৌক্তিকতার আড়ালে নাগরিকত্বের এক গভীর বর্জনমূলক ধারণা নিহিত রয়েছে: যে কিছু নাগরিক স্বাভাবিকভাবেই জাতির অন্তর্ভুক্ত, আর অন্যরা স্থায়ী অতিথি হয়ে থাকে, যাদের রাজনৈতিক দৃশ্যমানতার জন্য ব্যাখ্যার প্রয়োজন হয়।

একজন মুসলমান আপাতদৃষ্টিতে ব্রিটিশ হতে পারেন—যদি তার ব্রিটিশ পরিচয় যথেষ্ট পরিমাণে অস্পষ্ট থাকে।

কিন্তু নাগরিকত্ব এভাবে কাজ করে না। সংসদে একজন ব্রিটিশ মুসলিম নির্বাচিত হওয়াটা এই প্রমাণ দেয় না যে মুসলিমরা ব্রিটেন দখল করে নিয়েছে। বরং এটি প্রমাণ করে যে ব্রিটিশ মুসলিমরা ভোট দেয় এবং নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে।

জাতীয় স্বাস্থ্য সেবায় একজন মুসলিম ডাক্তার থাকা ইসলামীকরণের প্রমাণ নয়। গির্জা, সিনাগগ বা মন্দিরের পাশে একটি মসজিদ থাকাও বিজয়ের প্রমাণ নয়।

কোনো মুসলিম পরিবার, যাদের দাদা-দাদি বা নানা-নানি পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, সোমালিয়া বা মরক্কো থেকে এসেছিলেন, তারা তাদের জাতীয় উত্তরাধিকারের পাশাপাশি একটি ধর্মীয় উত্তরাধিকার ধরে রাখার কারণে কম ব্রিটিশ হয়ে যান না।

আধুনিক ব্রিটেন

বহুত্ববাদ মানে ব্রিটেনের বিলুপ্তি নয়। এটিই সমসাময়িক ব্রিটেন – এবং মুসলিমদের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক উপস্থিতিকেও সেইভাবেই বোঝা উচিত। বিভিন্ন সম্প্রদায় যখন প্রতিষ্ঠিত, শিক্ষিত ও সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়, তখন তাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ স্বাভাবিকভাবেই বৃদ্ধি পায়। গণতান্ত্রিক সমাজজুড়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর ক্ষেত্রে এই একই প্রক্রিয়া বারবার ঘটেছে।

সূত্র:মিডল ইস্ট আই

ব্রিটেনে ইসলামি প্রজাতন্ত্র গড়ছেন না মুসলিমরা—এটি তাদেরই দেশ
ছবি: সংগৃহীত।

Wednesday, August 26, 2026

ইসরাইলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প

সৌদি আরবের সঙ্গে প্রস্তাবিত বেসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি সহায়তা চুক্তি চূড়ান্ত পর্যালোচনার জন্য মার্কিন কংগ্রেসে পাঠিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করার জন্য একটি বড় শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তিনি। ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সৌদি আরব যদি ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক না করে, তাহলে এই চুক্তি কোনোভাবেই আলোর মুখ দেখবে না।

মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে মার্কিন প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তি গত জুলাই মাসে চূড়ান্ত হয়েছিল। এর আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবে বেসামরিক পারমাণবিক অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তি রপ্তানির সুযোগ পাবে। যুক্তরাষ্ট্রের এপি১০০০ মডেলের পারমাণবিক চুল্লি নির্মাণের জন্য কয়েক হাজার কোটি ডলারের এই প্রকল্পে লাভবান হবে কানাডাভিত্তিক ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের যৌথ মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েস্টিংহাউস’।

কংগ্রেসের সূত্রের বরাতে জানা গেছে, চুক্তিটি সোমবার মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং এটি বুধবার সংশ্লিষ্ট কমিটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।

আইন অনুযায়ী, চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য কংগ্রেসের হাতে ৯০টি অধিবেশন দিবস সময় থাকবে। এই মেয়াদের মধ্যে কংগ্রেস যদি কোনো আপত্তি বা প্রস্তাব পাস না করে, তবে চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হয়ে যাবে। তবে কংগ্রেস এটিকে প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প তার ভেটো ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। আর ট্রাম্পের সেই ভেটোকে বাতিল করতে হলে কংগ্রেসে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হবে।

মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ট্রাম্পের অবস্থান স্পষ্ট—সৌদি আরব মার্কিন মধ্যস্থতায় আয়োজিত ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে’ যোগ দিয়ে ইসরাইলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলেই কেবল চুক্তিটি বাস্তবায়িত হবে। ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদেই ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঐতিহাসিক উদ্যোগ নিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সময়ও সৌদির সঙ্গে এই চুক্তির চেষ্টা হয়েছিল এবং সেখানেও ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার শর্তটি ছিল। ২০২৩ সালে সৌদি-ইসরাইল কূটনৈতিক সম্পর্কের একটি জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ওই বছরের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলি হামলা শুরু হওয়ার পর সব হিসাব বদলে যায়। বর্তমানে রিয়াদ তাদের অবস্থানে অনড় থেকে স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি ‘অপরিবর্তনীয় ও স্পষ্ট পথ’ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা ইসরাইলকে কোনো কূটনৈতিক স্বীকৃতি দেবে না।

যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তি ঘিরে বিতর্কের ঝড়

এদিকে চুক্তিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক পার্টির আইনপ্রণেতা ও পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে কাজ করা বিশ্লেষকরা এই চুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাদের অভিযোগ, ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মার্কিন পারমাণবিক চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াকরণের ওপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা ছিল, যা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ হিসেবে গণ্য হয়। কিন্তু সৌদির সঙ্গে প্রস্তাবিত নতুন এই চুক্তিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের ওপর সরাসরি কোনো কঠোর আইনি নিষেধাজ্ঞা রাখা হয়নি, যা ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ খুলে দিতে পারে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, আইন অনুযায়ী চুক্তিতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও বিস্তার রোধের সকল শর্তই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিন্তু নন-প্রলিফারেশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের প্রধান হেনরি সোকোলস্কি মনে করেন, কংগ্রেসে এটি জমা দেওয়ার মাধ্যমে ট্রাম্প একটি বিপজ্জনক পথ তৈরি করেছেন। এর ফলে ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়া বা ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মতো গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছাড়াই কংগ্রেস থেকে চুক্তিটি পাস হয়ে যাওয়ার একটি আইনি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

ইসরাইলকে স্বীকৃতির শর্তে সৌদির সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি করবেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: এএফপি

জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যালয় দখল করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল ইসরাইলি মন্ত্রী

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ পরিচালিত একটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রে অভিযান চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এ সময় কেন্দ্রটির কর্মীদের বের করে দেওয়া হয়। পরে এর প্রাঙ্গণে ইসরাইলের পতাকা উত্তোলন করা হয়।

ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক উগ্রপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এ ঘটনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। অভিযান ও পতাকা উত্তোলনের পর তিনি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।

ইউএনআরডব্লিউএ জানিয়েছে, এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সরাসরি লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরাও ঘটনাটিকে একইভাবে দেখছেন।

অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে জাতিসংঘের একটি সংস্থার পরিচালিত স্থাপনায় ইসরাইলি বাহিনীর প্রবেশ এবং কর্মীদের সেখান থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাকে গুরুতর বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সংস্থার কার্যক্রমে এ ধরনের হস্তক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক আইনি প্রশ্ন উঠেছে।

ইউএনআরডব্লিউএ ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের জন্য শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মানবিক সহায়তা দিয়ে থাকে। সংস্থাটির স্থাপনায় অভিযান চালানো এবং সেখানে ইসরাইলের পতাকা তোলার ঘটনা তাই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইসরাইলের উগ্রপন্থি রাজনীতিক বেন-গভির দীর্ঘদিন ধরে ফিলিস্তিনিদের বিষয়ে কঠোর অবস্থানের জন্য পরিচিত। পূর্ব জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএ-এর এই স্থাপনায় অভিযানকে তার প্রকাশ্য সমর্থন সেই অবস্থানেরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

ইউএনআরডব্লিউএ ও আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য অনুযায়ী, জাতিসংঘের সংস্থার পরিচালিত স্থাপনায় এ ধরনের অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

জেরুজালেমে ইউএনআরডব্লিউএর কার্যালয় দখল করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করল ইসরাইলি মন্ত্রী
ইতামার বেন-গভির। ছবি: আল-জাজিরা

Monday, August 24, 2026

গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে ইসরাইলের হুমকি

গাজা উপত্যকায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো বন্ধ না হলে গুপ্তহত্যা বাড়ানো ও আবাসিক এলাকা খালি করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ। যদিও ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজার কাছে উদ্ধার করা চারটি ঘুড়িতে কোনো সন্দেহজনক বস্তু পাওয়া যায়নি এবং এগুলো জনসাধারণের জন্য কোনো ঝুঁকিও তৈরি করেনি।

গাজার বাস্তুচ্যুত শিবিরগুলোতে শিশুরা বিনোদনের জন্য নিয়মিত ঘুড়ি ওড়ায়। সুতা ছিঁড়ে গেলে বাতাসে ভেসে ঘুড়ি সীমান্তের ওপারে ইসরাইলি এলাকায় পৌঁছাতে পারে।

ঘুড়ি, বেলুন বা ড্রোন উৎক্ষেপণ অব্যাহত থাকলে হত্যাকাণ্ড বাড়ানো এবং সংশ্লিষ্ট আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের সরিয়ে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ। রোববার কাৎজ বলেন, বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক, ‘ঘুড়ি ড্রোনের মতোই’।

হামাসের মুখপাত্র হাজেম কাসেম বলেন, শিশুদের খেলনাকে আগ্রাসন চালানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরাইল।

ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং এক লাখ ৭৪ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন; ধ্বংস হয়েছে উপত্যকার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো।

সূত্র: আনাদোলু

গাজায় শিশুদের ঘুড়ি ওড়ানো নিয়ে ইসরাইলের হুমকি
ছবি: সংগৃহীত।

উত্তেজনা প্রশমনে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মোসাদপ্রধানের বৈঠক

সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলার পর দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের উদ্যোগ হিসেবে সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শাইবানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের প্রধান রোমান গোফম্যান।

অ্যাক্সিওসের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল জানিয়েছে, রোববার (২৩ আগস্ট) এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকটি কোথায় হয়েছে, তা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বৈঠক সম্পর্কে অবগত দুটি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হামলার পর সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে তৈরি হওয়া উত্তেজনা কমাতেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের সম্ভাবনা নিয়ে দামেস্ককে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সিরিয়া ওই সতর্কবার্তায় সাড়া না দেওয়ায় হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে জেরুজালেম।

এই হামলার পর সিরিয়া ও ইসরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে তুরস্ক এবং তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাকও ইসরায়েলের হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন।

বৈঠকের বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় অ্যাক্সিওসের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখপাত্রের কাছ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আল-শাইবানি বলেন, আমরা বর্তমানে ইসরায়েলকে বিশ্বাস করি না।

ইসরায়েল গত সপ্তাহে সিরিয়ার আবু আল দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায় বলেও জানান তিনি।

সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দামেস্ক আশা করছে শিগগিরই আলোচনা আবার শুরু হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের ওপর ক্রমাগত চাপ দিচ্ছে, যাতে তারা আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে।

ইসরায়েল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামরিক শক্তির ওপর নির্ভর করছে বলেও অভিযোগ করেন আল শাইবানি। তার দাবি, এ ধরনের শক্তি প্রয়োগে ইসরায়েল সফল হয়নি।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

আসাদ আল শাইবানি ও রোমান গোফম্যান। ছবি : গেটি ইমেজেস
আসাদ আল শাইবানি ও রোমান গোফম্যান। ছবি : গেটি ইমেজেস

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আহ্বান ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ সাবেক কূটনীতিকের

আল–জাজিরাঃ ইসরায়েলের ওপর যৌথভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপে নিজ নিজ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যের ১০২ জন সাবেক কূটনীতিক। তাঁরা সতর্ক করে বলেন, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের আগ্রাসী নীতি স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনা চিরতরে মুছে দিচ্ছে।

গতকাল শনিবার ফরাসি সংবাদমাধ্যম ল্য মঁদ-এ প্রকাশিত এক খোলাচিঠিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনে আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের সমানাধিকার নিশ্চিত করতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত জেরেমি গ্রিনস্টক ও এমির জোন্স প্যারি, ফ্রান্সের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সাবেক পরিচালক ইভ অবিন দে লা মেসুজিয়ের, ডেনিস বোচার্ড প্রমুখ। তাঁদের অনেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে দীর্ঘদিন কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

চিঠিতে বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ও পুলিশের পরোক্ষ মদদে উগ্র ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের চরম সহিংসতা জাতিগত নিধনের শামিল। বিশ্ব এখন ইসরায়েলকে প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে দেখে না।’

ইরান, কাতার ও ইয়েমেনে নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত নিকোলাস হপটনও চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি আল–জাজিরাকে বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি সম্প্রসারণের নতুন তোড়জোড় শুরু হওয়ায় এ চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে এমনভাবে নতুন বসতি গড়ার পাঁয়তারা করছে, যা ভবিষ্যতে সেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের কোনো সুযোগই রাখবে না।

গাজায় ইসরায়েলের দীর্ঘ সামরিক অভিযানের প্রেক্ষাপটে এ চিঠি সামনে এল। গত বছরের অক্টোবরে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা থামেনি। উপত্যকাটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুদ্ধবিরতির পর থেকেও এ পর্যন্ত অন্তত ১ হাজার ২৮৫ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছেন।

‘কথা নয়, এবার কাজ চাই’

লিবিয়ায় নিযুক্ত সাবেক ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত পিটার মিলেট আল–জাজিরাকে বলেন, এই চিঠির মূল উদ্দেশ্য হলো শুধু কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তব পদক্ষেপের দাবি জানানো।

পিটার মিলেট বলেন, ‘আমরা কথা নয়, কাজ দেখতে চাই। গত কয়েক মাস ও বছর ধরে আমাদের মন্ত্রীরা শুধু নিন্দা আর সমালোচনা করে বিবৃতিই দিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এখন ইসরায়েলের ওপর বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ এবং গাজায় সাহায্য পাঠানোর ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় এসেছে।’

২০২৫ সালে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। সাবেক কূটনীতিকেরা বলেন, সেই স্বীকৃতিকে এখন জরুরি পদক্ষেপের মাধ্যমে বাস্তবে রূপ দিতে হবে।

চিঠিতে স্বাক্ষরকারী কূটনীতিকেরা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ফিলিস্তিন, সিরিয়া ও লেবাননে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ঔপনিবেশিক শাসনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, এ অঞ্চলের বর্তমান সীমানা নির্ধারণে তাদের ঐতিহাসিক দায় রয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের দুই দেশই বিশ্বাস করে যে যারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দায়ী, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত।’

চিঠিতে ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে কয়েকটি পদক্ষেপ একসঙ্গে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের বাণিজ্যচুক্তি স্থগিত করা এবং ইসরায়েলে অস্ত্র সরবরাহ ও সামরিক সহযোগিতা বন্ধ করা।

এ ছাড়া চিঠিতে ইসরায়েলি বসতিতে বাণিজ্য বন্ধ, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে বিদেশিদের সম্পত্তি কেনায় নিষেধাজ্ঞা এবং জাতিসংঘের ত্রাণ সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএসহ অন্যান্য সংস্থার মাধ্যমে গাজায় মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। গাজায় সাংবাদিক, কূটনীতিক ও আইনপ্রণেতাদের নিরাপদে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে চিঠিতে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, আইন ভঙ্গের জন্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে আইনের শাসন রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং সহিংসতাও বন্ধ হবে।

‘আমরা এভাবে চলতে দিতে পারি না’

মিলেট আরও কঠোর পদক্ষেপ চান। তিনি ফিলিস্তিন ইস্যুতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানাতে এবং ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিতে তাঁর সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মিলেটের অভিযোগ, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীরা ফিলিস্তিনিদের জর্ডান নদী পার হয়ে জর্ডানে চলে যেতে বাধ্য করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা এভাবে চলতে দিতে পারি না।’

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এ আহ্বানে কান দেবেন কি না—এমন প্রশ্নে মিলেট সংশয় প্রকাশ করলেও বলেন, ‘চাপ সৃষ্টি করা জরুরি। বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞা যদি ইসরায়েলের অর্থনীতিতে আঘাত হানে, তবে এক বড় প্রভাব সেখানে পড়তে বাধ্য।’

গাজা সিটির পশ্চিমে শাতি শরণার্থীশিবির-সংলগ্ন ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এক ফিলিস্তিনি শিশু
গাজা সিটির পশ্চিমে শাতি শরণার্থীশিবির-সংলগ্ন ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে এক ফিলিস্তিনি শিশু। ফাইল ছবি: এএফপি

Sunday, August 23, 2026

গাজা থেকে উড়ে আসা ঘুড়ির বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ ইসরায়েলের

গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলের দিকে উড়ে আসা ঘুড়ি ওড়ানোর ঘটনায় সেনাবাহিনীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। খবর দ্য টাইমস অব ইসরায়েলের।

সাম্প্রতিক কয়েক দিনে গাজা থেকে ওড়ানো অন্তত চারটি ঘুড়ি ইসরায়েলের নাহাল ওজ কিবুতসে গিয়ে পড়েছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ঘুড়িগুলোতে সন্দেহজনক কিছু পাওয়া যায়নি এবং এতে সাধারণ মানুষের জন্য কোনো ঝুঁকিও ছিল না।

তবে দক্ষিণ ইসরায়েলে অতীতে গাজা থেকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন পাঠানোর ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘুড়ি ও বেলুনের মাধ্যমে সীমান্তবর্তী এলাকায় আগুন লাগানোর অভিযোগও রয়েছে।

এক বিবৃতিতে কাটজ বলেন, পশ্চিম নেগেভের ইসরায়েলি বসতিগুলোর দিকে গাজা থেকে যেকোনো ধরনের উড্ডয়ন বা নিক্ষেপের ঘটনা মোকাবিলায় আমি সেনাবাহিনীকে অবিলম্বে ও কঠোরভাবে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছি।

তিনি বলেন, গাজা থেকে যেকোনো কিছু পাঠানোর ঘটনাকে তিনি সব দিক থেকেই যুদ্ধের কর্মকাণ্ড হিসেবে দেখছেন এবং ইসরায়েলি বসতিগুলোর পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

কাটজ আরও বলেন, বেলুনকে ঘুড়ি হিসেবে বিবেচনা করা হবে, আর ঘুড়িকে ড্রোন হিসেবে; এর সঙ্গে বিস্ফোরক থাকুক বা না থাকুক।

তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা এ ধরনের কিছু আয়োজন, উৎক্ষেপণ বা এতে সহায়তা করবে, তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে এবং সর্বোচ্চ কঠোরতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

২০১৮ সাল থেকে গাজার ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ইসরায়েলের দিকে দাহ্য পদার্থ বহনকারী ঘুড়ি ও বেলুন ওড়ানোর অভিযোগ রয়েছে। এসবের কারণে সীমান্তবর্তী ইসরায়েলি বসতি ও বিস্তীর্ণ এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল।

সূত্র : দ্য টাইমস অব ইসরায়েল

গাজা থেকে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি হাতে নিয়ে দেখছেন ইসরায়েলি সেনা। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া
গাজা থেকে উড়ে আসা একটি ঘুড়ি হাতে নিয়ে দেখছেন ইসরায়েলি সেনা। ছবি : সোশ্যাল মিডিয়া

ক্ষমতায় থাকতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হতে দেবো না: নেতানিয়াহু

যতদিন প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন, ততদিন গাজা বা অধিকৃত পশ্চিম তীরে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠন করতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরাইলের আরব মুসলিম পার্টি ‘ইউনাইটেড আরব লিস্টের’ নেতা মানসুর আব্বাসের বক্তব্যের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। মনসুর আব্বাস এর আগে বলেছিলেন, ফিলিস্তিন ইতোমধ্যেই একটি রাষ্ট্র হিসেবে বিদ্যমান এবং বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ একে স্বীকৃতি দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রতিও ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার আরব শহর তাইবেতে নিজ দলের সাধারণ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় আব্বাস বলেন, তার দল ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করছে।

তিনি বলেন, ‘ফিলিস্তিন রাষ্ট্র বিদ্যমান এবং বিশ্ব তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে।’ একই সঙ্গে তিনি ওয়াশিংটন ও তেলআবিবকে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়ার আহ্বান জানান।

অন্যদিকে নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমি যতদিন প্রধানমন্ত্রী থাকব, ততদিন ইরানের নিয়ন্ত্রণাধীন কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে না—গাজায়ও নয়, জুডিয়া ও সামারিয়াতেও নয়।’ পশ্চিম তীরকে বোঝাতে তিনি বাইবেলীয় ‘জুডিয়া ও সামারিয়া’ শব্দটি ব্যবহার করেন।

নেতানিয়াহুর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন আগামী ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন জনমত জরিপে পিছিয়ে আছে তার জোট।

বর্তমানে লিকুদ পার্টির দখলে ৩২টি আসন থাকলেও সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দলটির জনপ্রিয়তায় উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেছে। শুক্রবার প্রকাশিত একটি জরিপে লিকুদকে মাত্র ২০টি আসন পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু

ক্ষমতায় থাকতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র হতে দেবো না: নেতানিয়াহু

ইউরোপের ‘ফাঁপা নিন্দায়’ শক্তিশালী হচ্ছে ইসরাইল

আল-জাজিরাঃ ইউরোপের দেশগুলোর নিন্দা বা সমালোচনাকে ইসরাইল গুরুত্ব দেয় না। বরং এ ধরনের নিন্দা ইসরাইল সরকারের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করে। এমন মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের সাবেক কূটনীতিক অ্যালন পিনকাস।

আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পিনকাস বলেন, ইসরাইল সরকারের কাছে এসব নিন্দা খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। বরং এর প্রভাব উল্টো। ইউরোপীয় দেশগুলোর এমন সমালোচনা ইসরাইল সরকারকে তাদের পুরোনো একটি যুক্তি তুলে ধরার সুযোগ করে দেয়।

পিনকাস বলেন, এসব নিন্দার পর ইসরাইল সরকার বলতে পারে, ‘পুরো বিশ্ব আমাদের বিরুদ্ধে। সবাই ইহুদিবিদ্বেষী। ইসরাইলবিরোধী একটি পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সবাই আমাদের ঘৃণা করে।’

ইসরাইলের এই সাবেক কূটনীতিকের মন্তব্যের আগে বৃহস্পতিবার ইউরোপের কয়েকটি দেশ ও কানাডা একটি যৌথ বিবৃতি দেয়। এতে ইসরাইলের ‘ই ওয়ান’ বসতি প্রকল্পের সমালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে এর সম্ভাব্য ‘আইনি ও সুনামগত পরিণতি’ সম্পর্কে সতর্ক করা হয়।

‘ই ওয়ান’ প্রকল্পটি পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এ প্রকল্প নিয়ে ইসরাইলের সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরোধ দীর্ঘদিনের।

পিনকাস ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্কে ইসরাইলের কনসাল জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তার মতে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর সংসদ বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শুধু বক্তব্য ও নিন্দা জানানো হলে তাতে ইসরায়েল সরকারের ওপর কোনো বাস্তব চাপ তৈরি হয় না।

তিনি বলেন, যতক্ষণ এসব পদক্ষেপ শুধু বক্তব্য এবং ‘ফাঁপা নিন্দার’ মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, ততক্ষণ ইসরাইল সরকার তা নিয়ে চিন্তিত নয়।

পিনকাসের বক্তব্যে মূলত ইসরাইলের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাম্প্রতিক সমালোচনার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

তার মতে, শুধু নিন্দা বা সতর্কবার্তা না দিয়ে বাস্তব পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এসব সমালোচনা ইসরাইলের নীতিতে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। বরং এসব নিন্দাকে ইসরাইল সরকার নিজেদের পক্ষে রাজনৈতিক বক্তব্য তৈরিতে ব্যবহার করতে পারে।

ইউরোপের ‘ফাঁপা নিন্দায়’ শক্তিশালী হচ্ছে ইসরাইল
ছবি: আল-জাজিরা

তুরস্কের পরিকল্পনা নস্যাৎ করতেই সিরিয়ার বিমানঘাঁটিতে হামলা ইসরায়েলের

তুরস্ক সিরিয়ার একটি বিমানঘাঁটিতে এমন এক কার্যক্রম চালানোর পরিকল্পনা করছে, যা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হতে পারে। গোয়েন্দাদের এমন তথ্যের ভিত্তিতেই সিরিয়ার আবু আল দুহুর বিমানঘাঁটিতে গত সপ্তাহে হামলার সুপারিশ করেছিল ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এ দাবি করেছেন। খবর আল জাজিরার।

কাটজ বলেন, হামলার অনুমোদন দেওয়ার আগে সিরিয়া সরকারকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে সতর্ক করেছিল ইসরায়েল। একই সঙ্গে এ-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য মার্কিন কর্মকর্তাদেরও দেওয়া হয়। তবে সিরিয়ার পক্ষ থেকে ইসরায়েলের দাবির বিষয়ে কোনো সাড়া না পাওয়ার পর হামলা চালানো হয়।

যদিও ইসরায়েলের এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলার আগে বা হামলার সময় আবু আল দুহুর ঘাঁটিতে কোনো তুর্কি সামরিক প্রতিনিধি দল ছিল না।

সিরিয়াও জানিয়েছে, আবু আল দুহুরে তুরস্কের সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না। তবে সামরিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য তুরস্কের কর্মকর্তারা ওই স্থাপনা পরিদর্শন করেছিলেন।

গত ১৮ আগস্ট উত্তর-পশ্চিম সিরিয়ার ওই বিমানঘাঁটিতে আট দফা বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হামলায় বিমানঘাঁটির রানওয়ে ও অস্ত্র-সরঞ্জাম সংরক্ষণের স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক ইসরায়েলের এই হামলাকে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তুরস্ক, ইসরায়েল ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে একটি সমন্বয়ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে কাজ করছে তারা।

তবে ব্যারাকের মন্তব্যেরও সমালোচনা করেছেন কাটজ। তার দাবি, ব্যারাকের প্রতিক্রিয়ায় অনেক ভুল তথ্য রয়েছে এবং গোলান মালভূমি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গেও তার কিছু বক্তব্য সাংঘর্ষিক।

সূত্র : আল জাজিরা

সিরিয়ার আবু আল দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে প্রহরারত একজন সিরীয় সৈন্য। ছবি: এএফপি
সিরিয়ার আবু আল দুহুর সামরিক বিমানঘাঁটিতে প্রহরারত একজন সিরীয় সৈন্য। ছবি: এএফপি

Saturday, August 22, 2026

দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাল ইসরাইল বাহিনী

আল-জাজিরাঃ দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় ইসরাইলি বাহিনীর গোলাবর্ষণ ও ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। শনিবার ভোরে দেশটির কয়েকটি শহর ও গ্রামের ওপর ভারী গোলাবর্ষণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে লেবাননের জাতীয় বার্তা সংস্থা (এনএনএ)।

এনএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শনিবার ভোরে আল-মানসুরি শহর, বাইত আল-সাইয়াদের আশপাশের এলাকা এবং মাজদাল জৌনের উপকণ্ঠে ইসরাইলি বাহিনী ভারী কামানের গোলা নিক্ষেপ করে।

রাতভর ওই তিন শহর ও গ্রামের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলেও জানিয়েছে এনএনএ।

সংস্থাটির ভাষ্য, এসব এলাকায় ‘কোনো বাড়িই অক্ষত থাকেনি’।

এ ছাড়া হাদ্দাথা, বেইত ইয়াহুন ও আইতা আল-জাবাল এলাকায়ও একই ধরনের ধ্বংসযজ্ঞের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি কাছাকাছি উপত্যকাগুলোর দিকে মেশিনগানের গুলিও ছোড়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

দক্ষিণ লেবাননের আলি আল-তাহির উচ্চভূমির আশপাশেও ইসরাইলি বাহিনী বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন একজন সংবাদদাতা।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননের পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন শহর ও গ্রামের আকাশে ইসরাইলি ড্রোনের অবিরাম উড্ডয়নের খবরও পাওয়া গেছে।

ইসরাইলি বাহিনীর এসব হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

দক্ষিণ লেবাননে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাল ইসরাইল বাহিনী
ফাইল ছবি

ইয়েমেন নিয়ে যেভাবে খেলছে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল by শাদি ইব্রাহিম

বহু বছর ধরে ইয়েমেনের যুদ্ধ এমন এক সংঘাতে রূপ নিয়েছে, যা আসলে কোনো বিজয়ীর খোঁজ করছে না। এটি এখন এক ক্ষয়িষ্ণু লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিটি পক্ষই চায় তার প্রতিদ্বন্দ্বীকে দুর্বল করতে—তবে এমন কোনো জয় নয়, যা পুরো অঞ্চল সামলে উঠতে পারবে না।

বিষয়টি ১৯৯৯ সালে মার্কিন কৌশলবিদ এডওয়ার্ড লুটওয়াকের ‘গিভ ওয়ার আ চান্স’ শীর্ষক নিবন্ধে তোলা সেই তত্ত্বের কথা মনে করিয়ে দেয়, যা ২০১৩ সালে সিরিয়া সংকটের সময় প্রয়োগ করা হয়েছিল—সব যুদ্ধের সমাপ্তি মানেই শান্তি নয়, আবার সব বিজয়েও কাঙ্ক্ষিত ফল আসে না।

কখনো কখনো কৌশলগত স্বার্থ লুকিয়ে থাকে কাউকে জিততে না দেওয়ার মধ্যে, যাতে একটি ভারসাম্য বজায় থাকে এবং কেউ প্রতিপক্ষকে একেবারে চূর্ণ করতে না পারে। সিরিয়া প্রসঙ্গে লুটওয়াক যুক্তি দিয়েছিলেন, সরকারি বাহিনীর জয় মানে ইরানের শক্তিশালী হওয়া, আর তার পতন মানে ‘নিয়ন্ত্রণহীন জিহাদিদের’ উত্থান। মার্কিন ও ইসরায়েলি দৃষ্টিকোণ থেকে সে সময় তাই সংঘাতকে অনির্দিষ্টকালের জন্য অচল অবস্থায় রাখাই ছিল সবচেয়ে অনুকূল পথ।

এক দশকের বেশি সময় পর ইয়েমেন যেন সেই তত্ত্বেরই এক বাস্তব মহড়া দিচ্ছে; যদিও তা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করা হয় না। ইয়েমেনের সংঘাত প্রথাগত যুদ্ধ হিসেবে থমকে গেলেও জমিনে এর মীমাংসা হয়নি।

২০১৫ সালের মার্চে হুতিরা সানা দখল করার পর সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হস্তক্ষেপের মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে পুনর্বাসিত করা। কিন্তু এই যুদ্ধ ইয়েমেনকে না ফিরিয়ে নিতে পেরেছে আগের জায়গায়, না পৌঁছাতে পেরেছে কোনো চূড়ান্ত উপসংহারে।

হুতিরা কখনোই পুরো দেশ দখল করতে পারেনি, আবার জোট বাহিনীও তাদের সানা থেকে সরাতে পারেনি।

২০২২ সালের মধ্যে যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনগুলো স্থবির হয়ে পড়ে এবং একটি যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তবে দেশের উত্তর-পশ্চিমের বড় অংশ এখনো হুতিদের নিয়ন্ত্রণে। এটি কিন্তু শান্তি নয়, এটি আসলে সংঘাতকে কেবল থামিয়ে রাখা।

শূন্যতা পূরণের সমীকরণ

হুতিদের পূর্ণাঙ্গ বিজয়ের অর্থ হলো সৌদি আরবের এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ সীমান্তে ইরানঘেঁষা এক সশস্ত্র শক্তির স্থায়ী অবস্থান।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য এর অর্থ বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ বাব আল-মানদেবের ওপর চরম ঝুঁকি। তা ছাড়া হুতি-নিয়ন্ত্রিত ইয়েমেন হতে পারে অঞ্চলের মধ্যে ইরানের এক শক্তিশালী সামরিক ঘাঁটি।

অন্যদিকে হুতিদের একেবারে নির্মূল করাও বেশ কঠিন। তারা কেবল ইরানের প্রক্সি বা ছায়া শক্তি নয়। ইয়েমেনের সামাজিক, রাজনৈতিক ও উপজাতীয় কাঠামোর সঙ্গে তারা গভীরভাবে যুক্ত।

আসল জটিল প্রশ্ন হলো, হুতিদের পতন হলে সেই রাজনৈতিক ও সামরিক শূন্যতা পূরণ করবে কে? ইয়েমেন কখনোই একক রাজনৈতিক সত্তা ছিল না। এখানে স্বীকৃত সরকার, নানা উপজাতীয় গোষ্ঠী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত–সমর্থিত দক্ষিণাঞ্চলীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীরা সক্রিয়।

এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ২০২৫ সালের শেষের দিকে ও ২০২৬ সালের শুরুতে প্রকাশ্য রূপ নেয়, যখন এডেন ও পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশে প্রসারিত হতে যাওয়া দক্ষিণ অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের (এসটিসি) বিরুদ্ধে সৌদি আরব সামরিক পদক্ষেপ নেয় এবং এর পেছনে আমিরাতের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ জানায়। পাশাপাশি মুসলিম ব্রাদারহুড-ঘেঁষা ‘ইসলাহ’ পার্টিকে দমন করার বিষয়ে রিয়াদ ও আবুধাবির মূল্যায়নেও স্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে।

এখানে প্রতিটি পক্ষের হিসাব আলাদা। হুতি ও ইরান; ইয়েমেন সরকার, সৌদি আরব ও স্থানীয় জোট; আরব আমিরাত; যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল—এমনকি আল-কায়েদা, সবার কাছেই ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ ও বন্ধু-শত্রুর সংজ্ঞা ভিন্ন।  

২০১৫ সাল থেকে মার্কিন নীতিতে যে দোলাচল দেখা গেছে, তা এই ফ্রেমওয়ার্ক দিয়েই ব্যাখ্যা করা যায়। ওয়াশিংটন কখনো সৌদি আরবকে অস্ত্র দিয়েছে, আবার কখনো সমর্থন গুটিয়ে নিয়েছে; কখনো আবার ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের বরফ গলাতে চেয়েছে। এতে ওয়াশিংটনের প্রতি রিয়াদের আস্থা নড়ে যায়, এমনকি তাদের গ্রিস থেকেও প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ধার করতে হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি সৌদি বিজয় নিশ্চিত করার চেয়ে ক্ষমতার ভারসাম্য নিয়ন্ত্রণের চেষ্টাকেই স্পষ্ট করে।

২০২৫ সালের মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র হুতিদের ওপর হামলা জোরদার করে, আবার ওমানের মধ্যস্থতায় হুতিরা মার্কিন জাহাজে হামলা বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিলে তারাও সেই আক্রমণ থামিয়ে দেয়। এখানে লক্ষ্য হুতি শাসন বা যুদ্ধের অবসান ঘটানো ছিল না; কেবল সংঘাতের একটি নির্দিষ্ট আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

নিয়ন্ত্রিত বিভাজন

২০২৩ সালের অক্টোবরের পর গাজা যুদ্ধের জেরে হুতিদের সম্পৃক্ততা তাদের এক আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত করেছে। তারা পুরো ইয়েমেন না জিতলেও বিশ্ববাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারছে; অন্যদিকে সরকার পুরোপুরি পরাজিত না হলেও রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যর্থ।

এই বৈপরীত্য ‘বিজয়’ শব্দটিকে প্রায় অর্থহীন করে তুলেছে। ফলে ওয়াশিংটন চায় না হুতিরা একচ্ছত্র ক্ষমতার অধিকারী হোক, আবার তাদের প্রতিপক্ষদেরও অলআউট যুদ্ধে যেতে দিতে চায় না। এতে বহিরাগত শক্তিগুলোর হস্তক্ষেপের খরচ কমে যায়, যদিও ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব কেবল নামেই টিকে থাকে।

ওয়াশিংটন জেনেশুনে লুটওয়াকের তত্ত্ব প্রয়োগ করেছে কি না, তা বড় কথা নয়; তবে এই ফ্রেমওয়ার্ক সুদান, লিবিয়া, ইরাক ও লেবাননের ঘটনা বুঝতেও সাহায্য করে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি নীতি সংঘাত সমাধানের চেয়ে সমাজগুলোকে বিভক্ত ও দুর্বল করে রাখার কাজই বেশি করেছে।

হুতিদের পূর্ণ বিজয় যেমন রিয়াদ সীমান্ত বিপন্ন করবে, তেমনি তাদের পুরো পতন ঘটাতে প্রয়োজন এক দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল যুদ্ধ। আবার দেশভাগ এক সংকট মেটাতে গিয়ে জন্ম দেবে নতুন সংঘাতের।

বর্তমান অচলাবস্থায় প্রতিটি পক্ষই কিছু না কিছু সুবিধা পাচ্ছে—হুতিদের হাতে সানা, সরকারের হাতে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, সৌদির জন্য হুতি রাষ্ট্রের প্রতিহত অবস্থা, আর ইরানের হাতে যুদ্ধের নিয়ন্ত্রক কার্ড। তবে এই ভারসাম্য অত্যন্ত ভঙ্গুর।

আঞ্চলিক সমীকরণেও এর প্রভাব দৃশ্যমান। নতুন উদীয়মান তুরস্ক-সৌদি-পাকিস্তান অক্ষ এখনো কোনো যৌথ সামরিক জোট নয়; রিয়াদের হয়ে আঙ্কারা বা ইসলামাবাদ যুদ্ধে নামবে কি না, তা অনিশ্চিত।

মার্কিন নিরাপত্তার ওপর পুরো নির্ভর না করে কম খরচে অস্ত্র পাওয়া এবং ইসরায়েল ও ইরানকে ভারসাম্যে রাখার জন্যই সম্ভবত এই দেশগুলোর দিকে রিয়াদ ঝুঁকছে।
এর মানে কি উপসাগরীয় দেশগুলো মার্কিন নিরাপত্তার প্রতি আস্থা হারাচ্ছে?

অনেকাংশে তা–ই। তবে অঞ্চলটিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব এখনো অটুট। তাহলে কি এই অক্ষ মার্কিন স্বার্থের বিরুদ্ধে যাচ্ছে? একেবারেই নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সম্ভবত এটিই চায়, যাতে অন্য শক্তিগুলো অঞ্চলটির আঞ্চলিক সংঘাত ও ঝুঁকি সামলানোর দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেয়।

এই জোট ইসরায়েলবিরোধী—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ নেই। এটি বরং ইয়েমেনের সেই ঝুলে থাকা যুদ্ধের যুক্তিকেই তুলে ধরে—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ড্রাইভিং সিটে না বসে আড়ালে থেকেই যুদ্ধের সীমা ঠিক করে দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, আর অন্যরা বহন করে তার মাশুল।

* শাদি ইব্রাহিম, ইস্তাম্বুল সাবাহাত্তিন জাইম ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর ইসলাম অ্যান্ড গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের গবেষণা সহযোগী। মিডল ইস্ট আই থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।

বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি বাড়ির সামনে বসে আছেন এক ব্যক্তি। সানা, ইয়েমেন। ৬ জুন, ২০১৮
বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি বাড়ির সামনে বসে আছেন এক ব্যক্তি। সানা, ইয়েমেন। ৬ জুন, ২০১৮ ছবি: রয়টার্স।

ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের গুলিতে ১৭ বছরের ফিলিস্তিনি নিহত

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের গুলিতে ১৭ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি কিশোর নিহত হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) খিরবেত হামরুশ এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম করিম সান্দ শালালদেহ। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গুলিতে গুরুতর আহত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। খবর আল জাজিরার।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সশস্ত্র ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের বড় একটি দল খিরবেত হামরুশ এলাকায় ফিলিস্তিনিদের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় তারা বাসিন্দাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। হামলায় একটি বাড়িতে আগুনও ধরে যায়।

হামলার সময় করিম শালালদাহের বুকে গুলি লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার মৃত্যুর খবর জানায় ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

একই ঘটনায় ৭০ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনিও গুলিতে আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

এদিকে হেবরনের দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলায় আরও অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি যানবাহন ও সরঞ্জামে আগুন দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াফা।

নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, হেবরনের দক্ষিণে দেইর শামস এলাকায় একদল সশস্ত্র বসতিস্থাপনকারী ফিলিস্তিনিদের বাড়িতে পাথর ছুড়ে হামলা চালায়। এতে পাঁচজন আহত হন। এ সময় কয়েকটি ভেড়াও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে।

হামলাকারীরা ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির একটি অ্যাম্বুলেন্সেও হামলা চালায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয় অধিকারকর্মী ওসামা মাখামরা ওয়াফাকে বলেন, বসতিস্থাপনকারীদের একটি দল মাসাফের ইয়াত্তার শা‘ব আল-বাতিম এলাকায় ইব্রাহিম আল-জাবারিনের বাড়িতে ঢুকে সম্পত্তি ভাঙচুর করে। পরে ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় প্রবেশ করে ইব্রাহিম আল-জাবারিন ও তার ছেলে জিবরিলকে গ্রেপ্তার করে।

এ ছাড়া নিরাপত্তা সূত্র জানায়, হেবরনের উত্তরে বেইত উম্মার শহরেও ইসরায়েলি সেনারা কয়েকটি বাড়িতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতিস্থাপনকারীদের হামলা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। ফিলিস্তিনিরা অভিযোগ করে আসছেন, এসব হামলার সময় অনেক ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বাহিনীর উপস্থিতি বা সহায়তা থাকে।

সূত্র : আল জাজিরা 

নিহত করিম শালালদাহ। ছবি : আল কুদস ইউকে
নিহত করিম শালালদাহ। ছবি : আল কুদস ইউকে

ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলাম বিদ্বেষকে হাতিয়ার করছে ইসরাইল

আল জাজিরার নিবন্ধঃ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম বিদ্বেষ উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের ডানপন্থি রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে ইসরাইল নিজেকে ‘কট্টরপন্থি ইসলাম’-এর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের রক্ষাকবচ হিসেবে তুলে ধরছে।

যুক্তরাষ্ট্রে সাম্প্রতিক সময়ে মুসলিমবিদ্বেষী বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রচারণা বেড়েছে। ‘শরিয়া-ফ্রি আমেরিকা ককাস’-এর মতো উদ্যোগ এবং মুসলিমদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি মসজিদে হামলার ঘটনাও উদ্বেগ বাড়িয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী ও অভিবাসীদের বিরুদ্ধেও বিদ্বেষমূলক রাজনীতি জোরদার হয়েছে।

এই পরিস্থিতির পেছনে সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়কার অবস্থানের সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর বুশ একটি মসজিদে গিয়ে বলেছিলেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। কিন্তু বর্তমান মার্কিন ডানপন্থি রাজনীতিতে এমন অন্তর্ভুক্তিমূলক বার্তা অনেকটাই অনুপস্থিত।

ইসরাইলও এই রাজনৈতিক পরিবেশকে কাজে লাগাচ্ছে বলে মতামত নিবন্ধটিতে দাবি করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারিতে জেরুজালেমে ইসরাইল আয়োজিত একটি ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী সম্মেলনে ইউরোপের বিভিন্ন কট্টর ডানপন্থি দলের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। নেতানিয়াহু সেখানে ‘র‌্যাডিক্যাল ইসলামের আগ্রাসন’-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব রাজনৈতিক শক্তিকে মিত্র হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেন।

বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই প্রবণতার পেছনে ট্রাম্পপন্থি রাজনীতির পাশাপাশি ইসরাইলের জনসংযোগ ও ‘হাসবারা’ প্রচারণারও ভূমিকা রয়েছে। ইসরাইলি সরকার পশ্চিমা দেশগুলোতে ইসলাম ও মুসলিম অভিবাসীদের ঘিরে ভয় তৈরি করে নিজেদের নিরাপত্তা ও অস্তিত্বের প্রশ্নকে সামনে আনতে চাইছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কানাডাতেও ইসরাইল-সমর্থিত একটি প্রভাব বিস্তারকারী প্রচারণার মাধ্যমে মুসলিম অভিবাসীদের হুমকি হিসেবে তুলে ধরার অভিযোগ উঠেছিল।

ইসরাইলের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি, বিশেষ করে গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর দেশটি সমালোচকদের মোকাবিলায় আরো আগ্রাসী প্রচারণার পথ বেছে নিয়েছে। এ প্রচারণায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কট্টর ডানপন্থিদের সঙ্গে ইসরাইলের সম্পর্কও দৃঢ় হচ্ছে।

তবে ইসলামোফোবিয়া উসকে দিয়ে ইসরাইল পশ্চিমা জনসমর্থন পুনরুদ্ধার করতে পারবে কি না, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে মুসলিমসহ বিভিন্ন সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ছে। মুসলিম প্রার্থীদের নির্বাচনী সাফল্যও দেখাচ্ছে যে ইসলামোফোবিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রতিরোধ তৈরি হচ্ছে।

নিবন্ধের শেষ দিকে বলা হয়, ভয় ও বিদ্বেষ সাময়িকভাবে রাজনৈতিক সমর্থন বাড়াতে পারলেও তা পশ্চিমা সমাজে বিভাজন ও সহিংসতা আরো বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ইসরাইল যদি পশ্চিমা সমর্থন ধরে রাখতে চায়, তাহলে ইসলামোফোবিয়াকে উসকে দেওয়ার পরিবর্তে সমতা, শান্তি ও রাজনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোই বেশি কার্যকর হতে পারে। পশ্চিমা দেশগুলোরও উচিত বিদেশি প্রভাব ও প্রচারণার বিষয়টি উপলব্ধি করে নিজেদের বহুত্ববাদী মূল্যবোধ রক্ষা করা।

ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে ইসলাম বিদ্বেষকে হাতিয়ার করছে ইসরাইল
ছবি: সংগৃহীত।

ট্রাম্পের প্রস্তাবে নেতানিয়াহুর ভেটো by সাঈদ আরিকাত

গাজা উপত্যকায় চলমান সংকট নিরসনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, হামাস পুরোপুরি নিরস্ত্র এবং ইসরাইলের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। এজন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনাও ইসরাইলের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি রোডম্যাপ ও গাজার পুনর্গঠন প্রক্রিয়া হামাসকে সুবিধা দিতে পারে বলে নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের কট্টরপন্থি শরিকরা মনে করে। নেতানিয়াহুর এই বক্তব্য ট্রাম্পের গাজা প্রস্তাবে সরাসরি ভেটো দেওয়ারই শামিল। এর মাধ্যমে কার্যত ইসরাইলকে নিয়ন্ত্রণে রাখার ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতাই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ট্রাম্প মনে করতেন আমেরিকার শক্তি প্রয়োগের ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা অতিরিক্ত সতর্কতা দেখিয়েছেন। তার মতে, মিত্র, প্রতিপক্ষ এবং আমলারা ওয়াশিংটনকে উপেক্ষা করতে শিখে গেছে, কারণ ওয়াশিংটন ভুলে গেছে কীভাবে অন্যদের বাধ্য করতে হয়। এজন্য গাজা প্রস্তাবের মাধ্যমে এর বিপরীত চিত্রই তুলে ধরার কথা ছিল, যেখানে ট্রাম্প একটি রূপরেখা চাপিয়ে দেবেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো তা মেনে নেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে সেই অপরিহার্য শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে বলে দাবি করে আসছে।

কিন্তু তার সেই রূপরেখাকে নেতানিয়াহুর দ্রুত প্রত্যাখ্যান শুধু আলোচনার একটি কৌশল ছিল না, বরং এটি ছিল মূলত একটি আগাম ভেটো। এর লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পের উদ্যোগটি গতি পাওয়ার আগেই সেটিকে দুর্বল করা। এই বিরোধকে একজন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী ও মার্কিন প্রেসিডেন্টের মধ্যে সাধারণ মতপার্থক্য হিসেবে দেখা যেতে পারে, কিন্তু তাতে বিষয়টির বৃহত্তর তাৎপর্য আড়ালে পড়ে যায়। হামাসকে ‘প্রকৃত অর্থে’ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার করা যাবে না—নেতানিয়াহুর এই অনড় অবস্থান ট্রাম্পের প্রস্তাবের মূল ভিত্তিতেই আঘাত করেছে। একই সঙ্গে এটি এমন একটি প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে, যা ওয়াশিংটন কয়েক দশক ধরে এড়িয়ে চলেছে। সেই প্রশ্নটি হচ্ছে—যখন কোনো পরাশক্তি তার মিত্রকে নিজস্ব কূটনীতির শর্তাবলি নির্ধারণের সুযোগ দেয়, তখন বাস্তবে কী ঘটে?

ট্রাম্পের ১৫ দফা রূপরেখা পারস্পরিক পদক্ষেপের ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এর আওতায় একটি অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার অধীনে হামাস অস্ত্র সমর্পণ করবে, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার প্রক্রিয়া ও ফিলিস্তিনি নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে উঠতে শুরু করবে এবং নতুন ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইসরাইলি বাহিনী গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাবে। কিন্তু নেতানিয়াহু ট্রাম্পের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে কার্যত সেই সমীকরণ বদলে দিয়েছেন। তার যুক্তি হলো, হামাসকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরাইল কোনো অর্থবহ সেনা প্রত্যাহার করতে পারে না। কিন্তু ‘সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ’ বলতে কী বোঝায়, তা কে নির্ধারণ করবে এবং কে তা যাচাই করবে? আর তখন কী হবে যখন ইসরাইল দাবি করবে যে, হামাস কোথাও অস্ত্র লুকিয়ে রেখেছে অথবা নতুন কোনো হুমকি দেখা দিয়েছে?

প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর যদি ইসরাইল সরকারের হাতেই থাকে, তবে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি এমন এক মানদণ্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, যা শুধু ইসরাইলই নির্ধারণ ও পরিবর্তন করবে। এটি ট্রাম্পের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে একটি স্থায়ী ভেটো বা বাধার সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী ইসরাইলকে আন্তর্জাতিক ও ফিলিস্তিনি অন্তর্বর্তী কাঠামোর কাছে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে হবে। অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর অবস্থান অনুযায়ী ইসরাইল কখন তাদের সামরিক কর্তৃত্বের অবসান ঘটাবে, সেটি তারাই ঠিক করবে। হামাসের হুমকি কখন দূর হয়েছে, তা যদি ইসরাইল একাই নির্ধারণ করে, তবে উত্তরণ প্রক্রিয়া কখন শুরু হবে, তাও দেশটিই ঠিক করবে। এর ফলে নিরস্ত্রীকরণের মোড়কে গাজায় ইসরাইলের নিরাপত্তা উপস্থিতি অনির্দিষ্টকাল বজায় থাকবে।

ট্রাম্প-নেতানিয়াহুর এই মতপার্থক্য সংঘাতকে আরো তীব্র করবে। ট্রাম্প চান গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে। তিনি এমন একটি কূটনৈতিক সাফল্য চান, যা তার নিজের অর্জন হিসেবে চিহ্নিত হবে এবং প্রমাণ করবে যে, প্রচলিত কূটনীতি যেখানে ব্যর্থ, সেখানে মার্কিন শক্তি সফল হয়েছে। কিন্তু নেতানিয়াহুর হিসাব সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার কাছে, ইসরাইলি বিজয়ের সংজ্ঞার সঙ্গে যুদ্ধ অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। এমন কোনো সমঝোতা—যার মাধ্যমে লড়াইও থামল, হামাসের হাতে কিছু সক্ষমতাও রয়ে গেল অথবা ফিলিস্তিনি ও আন্তর্জাতিক পক্ষের হাতে উল্লেখযোগ্য ক্ষমতা হস্তান্তরিত হলো, সে রকম কিছু মানবে ইসরাইল। এটিকে নেতানিয়াহুর সরকারের উগ্রপন্থি মিত্ররা যুদ্ধের মূল লক্ষ্য থেকে সরে আসা বা পরাজয় হিসেবে তুলে ধরবে।

ট্রাম্প সাফল্যের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেন লেনদেন বা বিনিময়ভিত্তিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আর নেতানিয়াহু তা দেখেন সর্বোচ্চ অর্জনের দৃষ্টিকোণ থেকে। তারা মিত্র হলেও তাদের চূড়ান্ত লক্ষ্য এক নয়। ফলে এমন এক সংঘাতের সৃষ্টি হয়, যেখানে একদিকে আছেন এমন এক প্রেসিডেন্ট, যিনি সমাধান চাইছেন, অন্যদিকে এমন এক প্রধানমন্ত্রী যার রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকে আছে সেই সমাধানটি ঠেকিয়ে রাখার ওপর। ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত স্বার্থের সংঘাত ঠিক এখানেই।

নেতানিয়াহু একটি বিষয় ভালোভাবেই বোঝেন, যা ইসরাইলের আগের সরকারগুলো প্রয়োগ করেছে। আর তা হলো ইসরাইল যদি অনড় অবস্থান নেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের বেঁধে দেওয়া ‘রেড লাইন’ বা কঠোর সীমারেখা আলোচনা সাপেক্ষে নমনীয় হয়। তাদের এই কৌশলটি হলো—সময়ক্ষেপণ করা, আপত্তি জানানো, নিরাপত্তার দোহাই দেওয়া, রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টের পিছু হটার জন্য অপেক্ষা করা। এভাবেই তারা যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অবস্থান থেকে পিছু হটতে বাধ্য করে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে যুগ যুগ ধরে সামরিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু তারপরও ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্রের সব কথা বা শর্ত কখনোই মেনে চলেনি। ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যানের মাধ্যমে তা আবার প্রমাণ হলো। সবসময়ই দেখা গেছে, সংঘাতের রাজনৈতিক মূল্য যখন বেড়ে গেছে, তখন যুক্তরাষ্ট্র শেষ পর্যন্ত ইসরাইল সরকারের কাছে নতি স্বীকার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র এমন এক মিত্রকে অর্থায়ন করে চলেছে যে নিয়মিতভাবে মার্কিন নীতি অগ্রাহ্য করে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র এজন্য ইসরাইলের ওপর অর্থবহ চাপ সৃষ্টির পরিবর্তে শুধু গোপনে অনুরোধ করে থাকে। নেতানিয়াহু দীর্ঘদিনের এই ধারা অব্যাহত থাকার ওপরই ভরসা করছেন।

ট্রাম্প এ ধরনের রাজনৈতিক স্থবিরতা ভাঙার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এটি করতে হলে শুধু নেতানিয়াহুকেই নয়, বরং দেশটির সেই অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কাঠামোকেও চ্যালেঞ্জ জানাতে হবে, যা ইসরাইল সরকারের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ সৃষ্টি করাকে কঠিন করে রেখেছে। কথার সঙ্গে কাজের মিল রাখতে ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যর্থতা নেতানিয়াহুকে এই বার্তাই দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটনের ঘোষিত লক্ষ্য অমান্য করলে কোনো মাশুল গুনতে হয় না। যুক্তরাষ্ট্রের এই নিষ্ক্রিয়তা ইসরাইলের অনমনীয় মনোভাব বজায় রাখাকে বরাবরই উৎসাহিত করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের সামনে এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা। ইসরাইল যদি তার গাজা পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করা অব্যাহত রাখে, তবে তিনি বা তার প্রশাসন কী করবে? এর উত্তর পাওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার বাস্তব প্রয়োগ প্রয়োজন। এর মধ্যে থাকতে পারে সামরিক সহায়তার সঙ্গে শর্ত জুড়ে দেওয়া, অস্ত্র সরবরাহ ধীর করা অথবা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া যে, ইসরাইলি নীতি যখন যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ঘোষিত লক্ষ্যকে সরাসরি বাধাগ্রস্ত করে, তখন সহায়তা আর সহজে পাওয়া যাবে না।

রাজনৈতিক এই ঝুঁকি নেওয়ার সদিচ্ছা ছাড়া মার্কিন নেতৃত্বের বুলি শুধু লোকদেখানো নাটক ছাড়া আর কিছু নয়। ‘ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে’—এই বয়ান সামনে রেখে হামাসকে ধ্বংস করা ও গাজা উপত্যকা চিরদিন দখলে রাখার জন্য ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া লাইসেন্সই বরং বহাল থাকবে। ট্রাম্প যদি ইসরাইলের পক্ষের এই বয়ানে পরিবর্তন আনতে না পারেন, তবে তা এটাই প্রমাণ করবে, ইসরাইলি নেতারা বড় কোনো শাস্তির ভয় ছাড়াই মার্কিন কূটনীতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারেন। মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো—তাদের ক্ষমতার অভাব নয়, বরং সেই ক্ষমতা প্রয়োগের রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব। ক্ষমতা প্রয়োগের সদিচ্ছা ছাড়া ক্ষমতা শুধুই লোকদেখানো অভিনয়। গাজার ক্ষেত্রে ট্রাম্পের সেই অভিনয় ক্রমেই উন্মোচিত হচ্ছে।

* আলজাজিরা অবলম্বনে মোতালেব জামালী

ট্রাম্পের প্রস্তাবে নেতানিয়াহুর ভেটো
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু

ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের, জার্মানিতে নিন্দার ঝড়

গাজায় ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান জানিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। তার মন্তব্যের পর জার্মানিতে রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে ইহুদি ও খ্রিষ্টান ধর্মীয় সংগঠনগুলোও নিন্দায় সরব হয়েছে। একই সঙ্গে বেন-গভিরের ওপর জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবিও জোরালো হয়েছে।

সোমবার এক বক্তব্যে বেন-গভির বলেন, গাজায় ‘সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্য করে’ হত্যাকাণ্ড চালানো উচিত। প্রতি রাতে ৩০ থেকে ৪০ জন ফিলিস্তিনিকে ‘সরিয়ে ফেলা’ উচিত। শুধু তাৎক্ষণিক হুমকি তৈরি করা সশস্ত্র ফিলিস্তিনিই নয়, গাজায় এমন মানুষও রয়েছেন, যাদের বেঁচে থাকা উচিত নয়—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।

‘এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়’

বেন-গভিরের বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস। ছুটিতে থাকা সত্ত্বেও বুধবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এ ধরনের বক্তব্য আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

ম্যার্ৎসের মুখপাত্র জানান, চ্যান্সেলর অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরাইলের বসতি সম্প্রসারণের গতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে গাজায় ইসরাইলের নতুন করে ভূখণ্ড দখলের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

ম্যার্ৎসের মতে, দখলদার শক্তি হিসেবে ইসরাইলকে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করতে হবে, তাদের সম্পত্তির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে এবং গাজায় জনপ্রশাসন ও মানবিক সহায়তা চালু রাখতে হবে।

‘এবার সীমা অতিক্রম করেছে’

বেন-গভিরের মন্তব্যের এক দিন আগেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান জার্মানির অর্থমন্ত্রী ও চ্যান্সেলরের ডেপুটি লার্স ক্লিংবাইল। তিনি বলেন, জার্মান সরকার কোনোভাবেই এ ধরনের বক্তব্য মেনে নিতে পারে না।

ক্লিংবাইল জানান, বেন-গভিরকে ইউরোপীয় পর্যায়ে নিষিদ্ধ করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। ইসরাইল রাষ্ট্রের প্রতি জার্মানির পূর্ণ সংহতি থাকলেও এমন বক্তব্যের ক্ষেত্রে নীরব থাকার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, এবার এমন একটি সীমা অতিক্রম করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

ইউরোপীয় পার্লামেন্টে জার্মানির রক্ষণশীল ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ইউনিয়নের (সিডিইউ) সদস্য হিল্ডগার্ড বেন্টেলেও বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেন, ইউরোপে কোনো ব্যক্তিকে রাজনৈতিক বা অন্য কোনো কারণে নির্মূল বা নিশ্চিহ্ন করতে চাওয়া সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।

ইসরাইলে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের দাবি

জার্মানির বিরোধী দল গ্রিন পার্টিও বেন-গভিরের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছে। দলটির নেত্রী ফ্রান্সিসকা ব্রান্টনার জার্মান সরকারকে বেন-গভিরের জার্মানিতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ইউরোপীয় পর্যায়েও আরোপের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

ব্রান্টনার বলেন, বেন-গভিরের উগ্র বক্তব্য নতুন নয়। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো বক্তব্যের কারণে এবার তিনি নতুন করে আলোচনায় এলেও অতীতেও এমন বক্তব্য দিয়েছেন। ফলে যেসব দেশ ইতিমধ্যে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, জার্মানিরও তাদের অনুসরণ করা উচিত।

জার্মানির লেফট পার্টিও বেন-গভিরের বক্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছে। দলটির নেতা লেয়া রাইজনার ইসরাইলি মন্ত্রীর পাশাপাশি ইসরাইল সরকারের বিরুদ্ধেও কঠোর পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ইসরাইলে সব ধরনের অস্ত্র রপ্তানি বন্ধের দাবি তুলেছেন তিনি।

ইহুদি ও খ্রিষ্টান সংগঠনগুলোরও নিন্দা

বেন-গভিরের বক্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে জার্মানির ইহুদিদের কেন্দ্রীয় পরিষদ। সংগঠনটির সভাপতি ইয়োসেফ শুস্টার বলেন, এই বক্তব্য ইহুদি মূল্যবোধের সম্পূর্ণ পরিপন্থি এবং এর ফলে ইসরাইলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে।

বেন-গভিরের আচরণকে ‘অত্যন্ত লজ্জাজনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন’ আখ্যা দিয়ে শুস্টার বলেন, এ ঘটনা উগ্র ডানপন্থি শক্তিগুলোর বিপজ্জনক রূপও তুলে ধরেছে।

জার্মানির প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ কাউন্সিলের চেয়ারপার্সন কার্স্টেন ফেয়াহ্রসও মন্তব্যটির তীব্র সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বেন-গভিরের বক্তব্যকে ‘মানবতার ওপর আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা রয়েছে—এই বিশ্বাস সব ধর্মের মানুষের মধ্যে থাকা প্রয়োজন। মানুষের এই মর্যাদা কেউ দিতে পারে না, আবার কেড়ে নিতেও পারে না।

যেসব দেশে নিষিদ্ধ বেন-গভির

অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতিমধ্যে বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। এর ফলে এসব দেশে তার প্রবেশে বাধা রয়েছে।

জার্মানির বুন্ডেস্টাগে রক্ষণশীল সংসদীয় দলের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক মুখপাত্র ইয়ুর্গেন হার্ড্টও ইইউকে বেন-গভিরের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, মানবিক মর্যাদা ও মানবাধিকারের সর্বজনীন স্বীকৃতির বার্তা দিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের এমন পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। হার্ড্ট একই সঙ্গে ইসরাইলের মন্ত্রিসভা থেকেও বেন-গভিরকে বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন।

বেন-গভিরের সর্বশেষ মন্তব্যের পর জার্মানিতে যে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, তাতে ইসরাইলি মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ইউরোপীয় পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞার দাবি নতুন করে জোরালো হয়ে উঠেছে।

সূত্র: ডয়চে ভেলে

ফিলিস্তিনিদের হত্যার আহ্বান বেন-গভিরের, জার্মানিতে নিন্দার ঝড়
ইসরাইলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নতুন বসতির কারণে ‘কবর’ হতে পারে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের আকাঙ্ক্ষার

সিএনএনঃ ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীরে আন্তর্জাতিকভাবে নিন্দিত একটি বসতি স্থাপন পরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নিয়েছে ইসরায়েল। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে পশ্চিম তীর বিভক্ত হয়ে যেতে পারে। এতে দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনার ‘কবর’ রচিত হতে পারে।

ইসরায়েলের আবাসন মন্ত্রণালয় জেরুজালেমের কাছে ‘ই–ওয়ান’ এলাকায় ১ হাজার ২০০টির বেশি আবাসন ইউনিট নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছে। এর মাধ্যমে পূর্ব জেরুজালেম থেকে পশ্চিম তীর পর্যন্ত ইহুদি বসতিগুলোর একটি ধারাবাহিক ব্লক গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এই বসতি পশ্চিম তীরকে উত্তর ও দক্ষিণ অংশে বিভক্ত করবে। এতে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমও পশ্চিম তীরের বাকি অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। অথচ পূর্ব জেরুজালেমকে সম্ভাব্য ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের রাজধানী বিবেচনা করা হয়।

ইসরায়েলে আগামী অক্টোবরের শেষে জাতীয় নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। এর এক সপ্তাহ আগে নতুন আবাসন নির্মাণের দরপত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হবে।

ইসরায়েলি বসতি পর্যবেক্ষণকারী সংগঠন পিস নাউ গত মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘এটি শেষ মুহূর্তের একটি পদক্ষেপ। (নেতানিয়াহু) সরকারের মেয়াদের শেষ সময়ে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলে সংঘাত ও রক্তপাত চলমান রাখার নীতি হিসেবে এটি করা হচ্ছে।’

বছরের পর বছর আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও চাপের কারণে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে জেরুজালেমের কাছে ই–ওয়ান এলাকায় কোনো পরিকল্পনা বা নির্মাণকাজ এগোয়নি। তবে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসরায়েল সরকার পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের অনুমোদন দ্রুত এগিয়ে নিয়েছে।

কিছু পশ্চিমা দেশ বসতি স্থাপন আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। গত মে মাসে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানিসহ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানিকে পশ্চিম তীর ও ই–ওয়ান এলাকায় বসতি নির্মাণে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে দিয়েছে। তারা এ ক্ষেত্রে ‘আইনি ও সুনামগত ঝুঁকির’ কথা উল্লেখ করেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক যৌথ বিবৃতিতে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য, নরওয়ে ও নেদারল্যান্ডসের নেতারা একই সতর্কতা পুনর্ব্যক্ত করেন। তাঁরা বলেন, ‘পশ্চিম তীরে এখন গুরুতর অস্থিতিশীল পরিস্থিতি চলছে। বেসামরিক মানুষের ওপর বসতি স্থাপনকারীদের নজিরবিহীন সহিংসতা ও ফিলিস্তিনি অর্থনীতির ওপর কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত আরও উদ্বেগজনক।’

ইসরায়েল গত বছর ই–ওয়ান পরিকল্পনাটির চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। দেশটির কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তখন বলেছিলেন, ‘স্লোগান দিয়ে নয়, পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের বিষয়টি আলোচনার টেবিল থেকে মুছে দেওয়া হচ্ছে।’

ই–ওয়ান পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অগ্রহণযোগ্য ও ধ্বংসাত্মক পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড। এর জবাবে নিষেধাজ্ঞাসহ অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়ে তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান ধ্বংস করা হচ্ছে। যুক্তরাজ্য তা মেনে নেবে না।’

এর জবাবে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সার গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ইহুদি জনগণ তাদের ঐতিহাসিক ছোট্ট মাতৃভূমির কোথায় বসবাস করতে পারবে, সে বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উপদেশ দেওয়া হাস্যকর।’

অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের সব বসতিকে আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ বলে মনে করে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য। এ ধরনের মনোভাব সত্ত্বেও গত কয়েক বছরে অবৈধ ইহুদি বসতি স্থাপনকারীরা অনুমোদনহীন কয়েক ডজন বসতি গড়ে তুলেছেন। পরে এসব বসতির জন্য ইসরায়েল সরকারের অনুমোদনও আদায় করেছেন তাঁরা।

জাতিসংঘে নিয়োজিত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত রিয়াদ মনসুর বলেন, ই–ওয়ান এলাকায় নির্মাণকাজ এগিয়ে নেওয়ার ইসরায়েলের সিদ্ধান্ত ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক, দায়িত্বজ্ঞানহীন ও হুমকিস্বরূপ’। সিএনএনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।’

এদিকে মিসরও ইসরায়েলের দরপত্রের তীব্র সমালোচনা করেছে। একই সঙ্গে পরিকল্পনাটি বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।

এক বিবৃতিতে মিসর বলেছে, ‘অবৈধভাবে বসতি সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের আইনগত মর্যাদা ও জনমিতিক (জনসংখ্যার গঠন) কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে বাস্তবতা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা আমরা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। এসব পদক্ষেপ দ্বিরাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নের সম্ভাবনাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’

ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের খান আল-আহমার বেদুইন গ্রামের দৃশ্য। গ্রামটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলের। ২৩ জানুয়ারি ২০২৩
ইসরায়েলের দখলে থাকা পশ্চিম তীরের খান আল-আহমার বেদুইন গ্রামের দৃশ্য। গ্রামটি ভেঙে ফেলার পরিকল্পনা রয়েছে ইসরায়েলের। ২৩ জানুয়ারি ২০২৩ ফাইল ছবি: রয়টার্স