Friday, May 22, 2015
তিনি বেঁচে আছেন, এটাই যথেষ্ট! by আসিফ নজরুল
![]() |
| চোখ ও হাত বেঁধে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমেদকে শিলংয়ে নেওয়া হয়েছে |
সালাহ উদ্দিনের এই ‘স্মৃতিবিভ্রম’ ডাক্তাররা নাকি বিশ্বাস করছেন না ভারতে। তবে এটি অব্যাহত রাখাই সম্ভবত মঙ্গলজনক হবে তাঁর জন্য। এর আগে এ বি সিদ্দিকী ফিরে এসেছিলেন গুমবাহিনী থেকে। ফিরে এসে কারও কাছে অভিযোগ করেননি, কারও বিচার চাননি, কারও বিচার হয়ওনি। প্রাণ ফিরে পাওয়ার আনন্দে এ বি সিদ্দিকী মুখ বন্ধ করে দিয়েছেন। অন্যায়ের প্রতিবাদী কণ্ঠ হিসেবে আন্তর্জাতিক খ্যাতি রয়েছে তাঁর স্ত্রী রিজওয়ানা হাসানের। কিন্তু তিনি নিজের জীবনে এত বড় অন্যায়ের বিচারের দাবিতে সোচ্চার হতে পারেননি। যে দেশে গুম আর ক্রসফায়ার প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে, সেখানে এ বি সিদ্দিকীর ফিরে আসাতেই ধন্য হয়েছে তাঁর পরিবার এবং তাঁর সব শুভাকাঙ্ক্ষী।
সালাহ উদ্দিনও হয়তো তাই বাঁচার আনন্দে সবকিছু ভুলে যেতে প্রস্তুত আছেন। তাঁর পরিবারও এ নিয়ে কোনো কিছু বলতে চায় না, হয়তো বলবেও না কোনো দিন। এর কারণ আছে। চৌধুরী আলম আর ইলিয়াস আলী কয়েক বছরে ফিরে আসেননি। নাসিরউদ্দিন পিন্টুর জেল থেকে মেয়র নির্বাচন করার মতো উদ্দীপনা ছিল। কিন্তু জেলেই তিনি বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন এক সপ্তাহের মধ্যে। কোনো কিছুর বিচার হয়নি, ‘২০৪১ সাল’ পর্যন্ত হওয়ার তেমন সম্ভাবনাও নেই। এমন এক পরিস্থিতিতে সালাহ উদ্দিনের হদিস যে পাওয়া গেল, সেটিই তো অনেক তাঁর জন্য! আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকালে কোনো দিনও তাই আর তাঁর ৬২ দিনের স্মৃতি ফিরে আসবে বলে মনে হয় না।
বরং তাঁর ‘স্মৃতিবিভ্রম’ গুমের শিকার ব্যক্তিদের প্রাণে বাঁচার জন্য এক অভিনব সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এ দেশে গুমের বিচার হবে না। যত দিন আওয়ামী লীগের একাধিপত্য সুনিশ্চিত না হবে, তত দিন হয়তো গুমও বন্ধ হবে না। তবে গুম করে মেরে লাশসুদ্ধ নিশ্চিহ্ন করার চেয়ে এ বি সিদ্দিকী বা সালাহ উদ্দিন বা আরও আগের সুখরঞ্জন বালীর পদ্ধতিতে অন্তত জীবিত রাখার চেষ্টা সরকার এখন সবার ক্ষেত্রে করতে পারে।
এই বিচারহীনতার দেশে এখন তা-ই হবে পরম পাওয়া! প্রাণে না মেরে যাকে গুম করা হবে, তাকে বেশ কিছুদিন আটকে রাখা হোক! পরে গুমকৃত ব্যক্তির স্মৃতিবিভ্রম ঘটবে বা এবং তার মুখ বন্ধ থাকবে—এই নিশ্চয়তা পেলে তাকে এ বি সিদ্দিকীর মতো পরিবারের কাছে ফেরত দেওয়া যেতে পারে। কিংবা সালাহ উদ্দিন বা সুখরঞ্জন বালীর মতো বিপজ্জনক কেউ হলে তাঁকে ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের যৌথ ব্যবস্থাপনায় ভারতে আটক রাখা যেতে পারে। প্রয়োজনে ফরেনারস অ্যাক্টে বিচার করে সেখানে কয়েক বছরের জন্য জেলেও রাখা যেতে পারে!
এসবের জন্য কোনো দায় সরকারকে নিতে হবে না। সরকার গুম করেছে এটি স্বীকার করারও প্রয়োজন নেই। এর দায় বিএনপি-জামায়াতের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হোক! তবু শুধু গুমের শিকার ব্যক্তির জীবনের নিরাপত্তা দেওয়া হোক। অবসান ঘটানো হোক তার পরিবারের দুঃসহ যন্ত্রণার দিনযাপনের।
সর্বোচ্চ নিপীড়ন হচ্ছে কাউকে মেরে ফেলা, তার মৃত্যুর সংবাদ এবং মৃতদেহ গুম করে ফেলা। এর অবসান হোক!
২...
এ দেশের শাসকেরা সুশাসন দিতে ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য অতীতে বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে। আইনি, রাজনৈতিক বা সামাজিক কারণে কোনো পদক্ষেপ অকার্যকর বা বিতর্কিত হয়ে উঠলে আরও কঠোর পদক্ষেপ এসেছে। গুম এর সর্বশেষ এবং সবচেয়ে ভয়াবহ সংস্করণ।
অতীতে দীর্ঘদিন সরকার বিরোধী দলের আন্দোলন দমনের চেষ্টা করেছে প্রিভেনশন ডিটেনশন বা নিবর্তনমূলক আটকাদেশ দিয়ে। এই আটকাদেশ দেওয়ার জন্য ১৯৭৩ সালে সংবিধান সংশোধন করা হয়, ১৯৭৪ সালে প্রণয়ন করা হয় বিশেষ ক্ষমতা আইন। ডিটেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের সাধারণভাবে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির মতো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে হাজির হওয়ার সাংবিধানিক অধিকার থাকে না। তাকে কেন আটক করা হলো তা ‘জনস্বার্থে’ জানানোর বাধ্যবাধকতা থাকে না। একাধারে ছয় মাস আটকাদেশের পর এটি আরও বৃদ্ধি হবে কি না, তা–ও নির্ধারণ করার ক্ষমতা রয়েছে সরকার কর্তৃক গঠিত অ্যাডভাইজরি বোর্ডের।
অত্যাচারী শাসকদের ডিটেনশন কৌশলে বাদ সাধে এরশাদ আমলের সুপ্রিম কোর্ট। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুসারে দায়েরকৃত একের পর এক হেবিয়াস কর্পাস মামলায় প্রিভেনটিভ ডিটেনশনকে অবৈধ ঘোষণা করে এর প্রয়োগের সুযোগকে অনেকাংশে বন্ধ করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।
খালেদা জিয়ার দ্বিতীয় আমলে ভিন্নমতাবলম্বী আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন করার জন্য নির্যাতন পদ্ধতি হয় কঠোরতর। চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি এ সময় ক্রসফায়ারের নামে নবসৃষ্ট র্যা বের হাতে খুন করা হয় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের। ক্রসফায়ারের নতুন নতুন গল্প বানানো কঠিন, প্রত্যক্ষদর্শীর ঝামেলা থাকে এবং সবচেয়ে যা সমস্যা, হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তির শরীরে থাকে হত্যাকাণ্ডের নানা আলামত। এসব ঝামেলা এড়ানোর জন্যই কি না কে জানে, শেখ হাসিনার দ্বিতীয় আমল থেকে ক্রসফায়ারের পাশাপাশি শুরু হয় গুমের তাণ্ডব। গুম করে কারও জীবন-দেহ-অস্তিত্ব নিশ্চিহ্ন করার এই রক্তজল করা প্রবণতার শিকার হয়েছে গত পাঁচ বছরে বহু মানুষ!
গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবার আহাজারি করলে সরকার স্রেফ কিছুই জানে বলে তার দায়িত্ব সেরেছে, কখনো এসব নিয়ে হাসি-ঠাট্টা করেছে। এই দেশে আইন-আদালত আছে, পুলিশ গোয়েন্দা আছে, সংবাদপত্র-সুশীল সমাজ আছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে গুমের কোনো বিচার হয়নি বা গুমের জন্য কারা দায়ী, এই রহস্য উদ্ঘাটিত হয়নি। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের ঘটনায় শরীরের সঙ্গে বাঁধা ইট খুলে পরে লাশ ভেসে উঠলে এবং হাইকোর্ট একটি সাহসী সিদ্ধান্ত দিলে এতে র্যা বের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জড়িত থাকার তথ্য উদ্ভাসিত হয়। এর ঠিক পরপরই সরকার সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী এনে প্রায় একদলীয় বর্তমান সংসদে উচ্চ আদালতের বিচারকদের যথেচ্ছ সমালোচনা এবং চাকরিচ্যুত করার সুযোগ সৃষ্টি করে। র্যা বের ক্ষমতা, দাপট এবং রাজনৈতিক খবরদারি হয়ে ওঠে আরও প্রকাশ্য।
এখন যা পরিস্থিতি, আমার মনে হয় না গুমের বিরুদ্ধে বিচারিক, রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মতো কোনো শক্তি আছে দেশে। গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবার হয়তো তার প্রত্যাবর্তনের প্রত্যাশা করে, কিন্তু এটি হবে এই বিশ্বাস সম্ভবত তাদের আর নেই। ভুক্তভোগী পরিবারদের সমাবেশে তাই বলতে শোনা যায়, গুম করা ব্যক্তিকে কোথায় পুঁতে রাখা হয়েছে তা অন্তত জানানো হোক। সালাহ উদ্দিনের পুনরুত্থানের চরম নাটকীয় ঘটনার পর হয়তো এখন নতুন করে আশায় বুক বাঁধবে গুমের শিকার এই পরিবারগুলো। তারা আশা করবে, কোনো একদিন মেঘালয় কিংবা অরুণাচল—কোথাও উদ্ভ্রান্ত বেশে খোঁজ পাওয়া যাবে হারিয়ে যাওয়া স্বজনের। পাওয়া গেলে তিনি বা তাঁর পরিবার কাউকে দুষবে না এ জন্য, প্রয়োজনে স্মৃতিভ্রষ্ট হবেন, নাটক সাজিয়েছেন বলে উল্টো অভিযুক্ত হবেন, তবু তাঁর প্রাণরক্ষা হোক!
৩...
বিএনপি অভিযোগ করেছিল সালাহ উদ্দিনকে সরকারি বাহিনী ধরে নিয়ে গিয়েছে। সালাহ উদ্দিনের সন্ধানের খবরের পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন: প্রমাণ হলো বিএনপি মিথ্যাচার করেছে। প্রথম আলো অনলাইন পাঠক জরিপে প্রশ্ন করেছিল, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কি যৌক্তিক? ৯ হাজার ৬৩৪ জন উত্তরদাতার মধ্যে ‘না’ বলেছিল ৭ হাজার ১৯২ জন। আমরা এসব উত্তরদাতাকে ‘রাবিশ’ হিসেবে উড়িয়ে দিতে প্রস্তুত আছি। সালাহ উদ্দিন নিখোঁজ হওয়ার মাত্র তিন দিন আগে পুলিশ সালাহ উদ্দিনের দুজন ড্রাইভার ও একজন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছিল, তাঁর খোঁজে র্যা ব বেশ কয়েক জায়গায় হানা দিয়েছিল। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছিলেন, সরকারি বাহিনীর লোকজন সালাহ উদ্দিনকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে তুলে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁদের কেউ কেউ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি গাড়ি ঘটনাস্থলের কাছে ছিল বলেও জানিয়েছিলেন। আমরা এসব প্রসঙ্গ ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী’ হিসেবে ভুলে যেতে রাজি আছি।
আমাদের কিছু প্রশ্নও ছিল। বিএনপির নেত্রী সুনির্দিষ্টভাবে র্যা বের কাছেই সালাহ উদ্দিন আছেন বলে অভিযোগ করার দুই দিনের মধ্যে তাঁর খোঁজ পাওয়া গেল কেন? নিজের ইচ্ছেয় সীমান্ত পাড়ি দিলে সালাহ উদ্দিন কেন যাবেন পাসপোর্ট, মালামাল, অর্থকড়ি, প্রস্তুতি ছাড়া? কেন এবং কীভাবে নূর হোসেন, সালাহ উদ্দিন বা সুখরঞ্জন বালীর হদিস মেলে ভারতে? এসব প্রশ্নও ‘উসকানিমূলক’ হিসেবে আমরা ভুলে যেতে রাজি আছি। তবু বেঁচে থাক সালাহ উদ্দিন এবং তাঁর মতো গুমের শিকার মানুষেরা।
এই পোড়া দেশে এখন এর চেয়ে বেশি চাওয়ার আর কিছু নেই!
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাহাথির মডেল এবং উন্নয়নের গণতন্ত্র by রুশাদ ফরিদী
বেশ কিছুদিন ধরেই দেশে এই নতুন সুর শোনা যাচ্ছে। সেটার মূল বক্তব্য হলো যে আরে ভাই গণতন্ত্র-টনতন্ত্র দিয়ে কী হবে? উন্নয়ন হলো আসল কথা। আমাদের পূর্ব এশিয়ান বাঘের বাচ্চারা আছে না। ওদের কি কস্মিনকালে গণতন্ত্র ছিল? সেই মডেলে চালাতে গেলে সেই রকম একজন মাহাথিরও তো দরকার আছে। পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য নেতার বদলে মাহাথিরকে নিয়ে আমাদের দেশে কেন এত লাফালাফি, সেটার কারণ মনে হয় পূর্ব এশিয়ান বাঘদের মধ্যে একমাত্র মুসলিম নেতা বলে।
এটা ঠিক যে নব্বইয়ের দশক থেকে আমাদের গণতন্ত্রের পথে অভিযাত্রা কখনোই সুখকর ছিল না। আমাদের নির্বাচন মোটামুটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ ছিল, কিন্তু সেটা ছিল তথাকথিত এক দিনের গণতন্ত্র। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং চর্চা অভ্যন্তরীণ দলীয় কাঠামো বা দেশ পরিচালনায় কখনোই ছিল না।
সব রাজনৈতিক নেতৃত্বই চেয়েছে নির্বাচিত হয়ে একনায়কের মতোই দেশ চালাতে। নব্বইয়ের পর থেকে আমরা লক্ষ করি যে একের পর এক পর্যায়ক্রমিক নির্বাচিত সরকার কীভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করে চলেছে। যার পরিণতি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো এখন মোটামুটি ধূলিসাৎ।
কিন্তু গণতন্ত্র উপেক্ষা করে বাংলাদেশ চটজলদি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর হয়ে যাবে—এ রকম স্বপ্ন দেখানোটাও কতটুকু বাস্তবসম্মত, সেটাও চিন্তার বিষয়। পূর্ব এশিয়ার ইতিহাস, সভ্যতা ও সংস্কৃতি দক্ষিণ এশিয়ার থেকে অনেক ক্ষেত্রেই অন্য রকম। এ ছাড়া যারা বাংলাদেশে এই মডেলের প্রবক্তা, তারা একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা ভুলে যায়, সেটা হলো যে পূর্ব এশিয়ার এই সব দেশে হয়তো নির্বাচনমুখী, বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল না। কিন্তু সেই সব দেশে আইনের শাসন, ব্যক্তির অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং সম্পদের সুরক্ষা—সবই নিশ্চিত করা হয়েছিল। এই গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলো ছাড়া এই সব নির্বাচনমুখী গণতন্ত্র অর্থহীন এবং মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরের উদাহরণ টানাটাও অনেকখানিই অবাস্তব।
ফরিদ জাকারিয়া ১৯৯৬ সালে ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এ প্রকাশিত প্রবন্ধে বলেছেন যে একটা রাজনৈতিক ব্যবস্থাকে বিচার করতে হবে সাংবিধানিক শাসনব্যবস্থার দৃষ্টিকোণ থেকে। অর্থনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা না থাকলে শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় না। কোনো সরকার যদি সীমিত গণতন্ত্রের মধ্যে আস্তে আস্তে এই সব স্বাধীনতা বাড়ায়, তাহলে এগুলোকে একনায়কতন্ত্র বলা যাবে না। সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে তা-ই হয়েছে এবং সেখানকার লোকজন জীবন অনেক শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্বাধীনতার মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছে ইরাক, লিবিয়া, কিংবা স্লোভাকিয়া অথবা ঘানার একনায়কতন্ত্রের চেয়ে।
সাংবিধানিক উদারনৈতিক শাসনব্যবস্থার ভিত্তি ছাড়া গণতন্ত্র আসলে একটা কাগুজে গণতন্ত্রই রয়ে যায়। সেখানে সুশাসনের অভাব, উগ্র জাতীয়তাবাদ, জাতিগত দাঙ্গা, এমনকি যুদ্ধ লাগারও ঘটনা রয়েছে। সমাজতন্ত্রের পতন ঘটার পরপরই সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুগোস্লাভিয়াতে যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়, তাতে জাতীয়তাবাদী বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ক্ষমতায় চলে আসে এবং দেশ ভেঙে যায়। দ্রুত ভেঙে যাওয়া এই সব দেশে সংখ্যালঘুদের অধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা নিশ্চিত না থাকায় সেখানে অবর্ণনীয় বিশৃঙ্খলা, নারকীয় অত্যাচার সংঘটিত হয়। অধুনা বিশ্বে আরব বসন্তের ফলে যেসব সরকার নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে ক্ষমতায় এসেছে, সেখানে এই রকম সাংবিধানিক শাসনকাঠামোর অভাবের কারণে তারাও জনগণের কল্যাণ বয়ে আনতে পারেনি।
এটা একটু অদ্ভুত যে বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নির্বাচনমুখী গণতন্ত্রের এত প্রচার করে। কারণ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থার একটা প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এটা কতটা গণতান্ত্রিক সেটা নয়, বরং এটা কতটা অগণতান্ত্রিক। এখানে অনেক রকম সীমাবদ্ধতা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে নির্বাচিত গরিষ্ঠের ওপর। এই দেশের সংবিধান যেটি আধুনিক বিশ্বে অনেক গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়, সেটির পেছনে মূল দর্শন হলো রাজনৈতিক নেতৃত্বের হাতে কোনোভাবেই ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হতে পারবে না। ক্ষমতাশালী মানুষকে বিশ্বাস করা যায় না—এই আশঙ্কার ওপর ভিত্তি করেই মূলত এই সংবিধান রচিত।
এখন এমন একটা যুগ চলছে, যেখানে দৃশ্যমান চিত্তাকর্ষক কোনো কিছু দেখানো না গেলে সেটির আবেদন তৈরি হয় না। সেদিক থেকে নির্বাচনের খুব দৃশ্যমান একটা প্রতিক্রিয়া আছে। এটা দেখানো যায় যে নির্বাচনের আয়োজন হচ্ছে, মুক্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচন হচ্ছে, কিন্তু সংবিধান বা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হচ্ছে কি না, সেটা আসলে দৃশ্যমান নয়। তাই গণতন্ত্রের অতি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান আইনের শাসনের বিষয়টি নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যে চাপা পড়ে যায়।
আমরা এখন গণতন্ত্রের যুগে বসবাস করছি, বিশ্বের চারদিকে গণতন্ত্রের জয়জয়কার। গণতন্ত্রের বিজয় উৎসবে একবিংশ শতাব্দীতে এখন যে সমস্যা, সেটা হলো গণতন্ত্রের ভেতরে সমস্যা, নির্বাচনমুখী গণতন্ত্রের সঙ্গে একনায়কতন্ত্রের আমদানি। এই সমস্যার সঙ্গে মোকাবিলা করা অনেক কঠিন, কারণ নির্বাচিত রাজনৈতিক ব্যবস্থা বলে এর একটা গ্রহণযোগ্যতা আছে।
এই ধরনের গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকি হলো যে এটা সত্যিকারের গণতন্ত্রকে প্রশ্নবিদ্ধ করে ফেলে। আর তার ফলে যেটা হয়, মানুষ তখন বলা শুরু করে যে গণতন্ত্র আসলে কাজ করছে না, অন্য কিছু দরকার। তখন একনায়কতন্ত্রের পক্ষে সাফাই গাওয়া শুরু হয়। গণতন্ত্রে এই সমস্যা নতুন কিছু না, বিভিন্ন সময়ে যখনই গণতন্ত্রের ঢেউ উঠেছে, তখনই দেখা গেছে যে এর মধ্যে কোনো না কোনো সমস্যা বিদ্যমান। যার ফলে উচ্চাভিলাষী রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর অশান্ত জনতা সব সময় বিকল্প খুঁজেছে। এর সবচেয়ে বড় উদাহরণ দুই বিশ্বযুদ্ধের মধ্যের সময়টা। এই সময়ে যেসব হিটলার টাইপের একনায়ক এসেছে, তারা খুবই জনপ্রিয় ছিল এবং কেউ কেউ নির্বাচিত ছিল। সেই সব হিটলারি একনায়কতন্ত্রের ফলাফল কী হয়েছে, তা তো সবারই জানা।
সাংবিধানিক শাসন ছাড়া গণতন্ত্র খুবই ভয়ংকর জিনিস, সেটা আমরা বাংলাদেশিরাও হাড়ে হাড়ে জেনে ফেলেছি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে গণতন্ত্র ছুড়ে ফেলে এখন পূর্ব এশিয়ার মডেলের দিকে ছুটতে হবে। সবার আগে সংবিধান এবং আইনের কাঠামোর মধ্যে একজন নাগরিকের যেসব মৌলিক অধিকার রয়েছে, সেগুলো নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, উদারনৈতিক সংবিধানকেন্দ্রিক আইনের শাসন ছাড়া গণতন্ত্র বলেন আর মাহাথির স্টাইল একনায়কতন্ত্র বলেন, সবই নিপীড়নমূলক স্বৈরশাসকে পরিণত হয়।
মাহাথির মোহাম্মদ এ কথা ভালোভাবে জানতেন বলেই সে পথে হাঁটেননি। কিন্তু মোহাম্মদ নাসিম বা তাঁর ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক নেতৃত্বও কি বিষয়টি জানেন? দুঃখের বিষয়, আপাতদৃষ্টিতে সেই রকম কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না!
ড. রুশাদ ফরিদী: শিক্ষক, অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
rushad.16@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পেশাজীবী সংগঠনে নির্বাচন জটিলতা by আলী রীয়াজ
সংশ্লিষ্ট পেশার বাইরের সাধারণ লোকজন যে এই দুই নির্বাচন নিয়ে খুব বেশি উৎসাহী, এমন মনে করার কারণ নেই। যেসব নির্বাচন নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের উৎসাহ থাকে এবং যাতে সবার অংশগ্রহণের সুযোগ থাকার কথা, গত কয়েক বছরে সেগুলোর যে বেহাল দশা দাঁড়িয়েছে, তাতে করে যেকোনো নির্বাচন নিয়েই উৎসাহে ঘাটতি পড়ার কথা। এ ধরনের পেশাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ, উৎসাহ আগেও ছিল না, এখনো থাকার কারণ নেই। কিন্তু তা সত্ত্বেও এই দুই নির্বাচন নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা আলোচনার দাবি করে এই কারণে যে এসব ঘটনার মধ্যে কিছু প্রবণতা দৃশ্যমান এবং সেগুলো খুব ইতিবাচক মনে হয় না।
জাতীয় প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ডিসেম্বরে। কিন্তু কয়েক দফা পেছানোর পর ২৯ মে যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল এখন তাও বাতিল হয়ে গেছে। এপ্রিল মাস থেকেই বিভিন্ন গণমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছিল যে রাজনৈতিক দলের অনুসারী হিসেবে বিভক্ত সাংবাদিকেরা নিজেদের মধ্যে ‘সমঝোতা’ করে একটি প্যানেল তৈরি করবেন।
সহজ ভাষায়, আওয়ামী লীগের প্রতি অনুগত সাংবাদিকেরা জাতীয় রাজনীতিতে তাঁদের প্রতিপক্ষ বিএনপি-জামায়াতের প্রতি অনুগত ব্যক্তিদের সঙ্গে আপসরফার মাধ্যমে একটি প্যানেল তৈরি করবেন। রাজনীতিতে আপস-সমঝোতা না হলেও প্রেসক্লাবের কমিটি নির্বাচনে আলাপ-আলোচনা এবং তাঁর ইতিবাচক ফলাফলকে বাইরে থেকে দেখে ইতিবাচক বলেই মনে করা যায়। বিশেষ করে যখন বাস্তবতা এই যে দেশের সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো দলীয় পরিচয়ে বিভক্ত, সেখানে জাতীয় এই প্রতিষ্ঠানটিতে সাংবাদিকেরা অন্তত দেখা-সাক্ষাৎ করতে, একত্র হতে যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেটাকে আপাতদৃষ্টিতে ইতিবাচক বলেই গণ্য করা উচিত। মন্দের ভালো বলেই একে বিবেচনা করতে হবে; কেননা একজন সাংবাদিক কী করে দলীয় পরিচয়ে পরিচিত হন এবং তা প্রচারে উৎসাহী হন, সেটা আমার বোধগম্যের বাইরে।
তবে এ ব্যাপারে সাংবাদিকদের আলাদা করে চিহ্নিত করা সমীচীন নয়; যে সমাজে শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, এমনকি সরকারি কর্মচারীদের পরিচয় দলের ভিত্তিতে, সেখানে সাংবাদিকেরা বাদ থাকবেন এমন ভাবাটা নির্বুদ্ধিতা মাত্র। বিভিন্ন পেশায় যুক্ত ব্যক্তিরা হয়তো দলীয় আনুগত্যের কারণ দেখানোর চেষ্টা করতে পারবেন, কিন্তু ‘এক শ’ বা ‘হাজার’ ‘বুদ্ধিজীবীর’ সমন্বয়ে গঠিত কমিটির সদস্যরা কোনো ‘যুক্তি’ দিতে পারবেন কি না, সেটা ভাবার বিষয়। কিন্তু প্রেসক্লাবের নির্বাচনে জটিলতা এই দলীয় পরিচয়ের কারণে সৃষ্টি হয়নি। জটিলতা দেখা দিয়েছে যখন নির্বাচনে এই ‘সমঝোতার’ বাইরে কেউ কেউ প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা করেছেন। বিভিন্ন সূত্রে বলা হচ্ছে যে সমঝোতার মাধ্যমে প্যানেল তৈরি হলে নির্বাচনের দরকার হবে না; জনশ্রুতি এই রকম যে নির্বাচন পরিচালনা পরিষদকে এই প্যানেলকে বিজয়ী ঘোষণার চাপও এসেছিল বলে তাঁরা পদত্যাগ করেছেন। এসবের সত্যাসত্য যাচাই করার বিষয়টি আপাতত বাইরে থাকুক; কিন্তু একটি বিষয় তো স্পষ্ট যে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সত্ত্বেও সাংবাদিকেরা চাইলে ‘সমঝোতা’ করতে পারেন।
আগেও বলেছি, সমঝোতা দোষের বিষয় নয়। অনেকে এই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, আদর্শিকভাবে বিপরীত মেরুর পক্ষের মধ্যে সমঝোতায় কোনো কোনো পক্ষের আদর্শিক সততা, বিশুদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। শুধু তা-ই নয়, অনেকে সরকার–সমর্থকদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের ‘সমঝোতা’কে ভবিষ্যৎ রাজনীতির ইঙ্গিত বলে বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সেই সম্ভাবনা বা আশঙ্কার বিষয়; এ ধরনের জল্পনার বিষয়কে আমি আপাতত বিবেচনার বাইরেই রাখতে চাই।
কিন্তু আমার মনে প্রশ্ন, দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার অর্থ কেন এমন দাঁড়াবে যে এর বাইরে আর কারও কিছু বলার থাকবে না? তার চেয়েও বড় বিষয় হলো যে সমঝোতা কার্যকর করতে না পারলেই নির্বাচন বাদ দিয়ে দিতে হবে কেন? নির্বাচনপ্রক্রিয়া, যাতে একজন ভোটারের পছন্দের সুযোগ তৈরি হয়, তা বাদ দেওয়ার অর্থ কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অনাস্থা। যে সাংবাদিকেরা প্রতিদিন দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ে কথা বলেন, তাঁরা নিজেরাই যদি নিজেদের মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যর্থ বা অনুৎসাহী হন, তবে তাঁরা কী করে রাজনৈতিক দলের অভ্যন্তরে গণতন্ত্রের জন্য, দেশে স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের জন্য বা দেশে গণতন্ত্রের জন্য দাবি তোলেন?
ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত নির্বাচন করতে না পারার বিষয়টি নিঃসন্দেহে তাঁদের নিজস্ব পেশার বিষয়, তাতে নাগরিকদের দৈনন্দিন জীবনে প্রভাব ফেলে না, কিন্তু সমাজে নির্বাচনকে একটি প্রভাবমুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা হিসেবে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে সমস্যা কত গভীর, সেটা বোঝা যায় এই পরিস্থিতিকে ভালো করে লক্ষ করলেই।
এই একই বিবেচনাতেই বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের নির্বাচনের দিকে মনোযোগ দেওয়া যেতে পারে। সেখানে এই রকম ‘সমঝোতা’র কোনো লক্ষণ নেই। কিন্তু জটিলতা দেখা দিয়েছে ভোটার তালিকা নিয়ে। তালিকায় বিভিন্ন জটিলতার কারণে নির্বাচন ইতিমধ্যেই ২০ মে থেকে ২৭ মে পেছানো হয়।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে যে ভোটার তালিকায় হাজার খানেক সদস্য একাধিকবার ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। ভোটার তালিকার ‘স্বচ্ছতা’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আইনজীবীদের কয়েকজন। সেগুলো যে একেবারে অগ্রহণযোগ্য নয়, সেটা বোঝা যায় নির্বাচন পেছানোয়। এর সঙ্গে সর্বশেষ যুক্ত হয়েছে নির্বাচন স্থগিত চেয়ে হাইকোর্টে করা রিট; যার সঙ্গে ভোটার তালিকার বিষয় যুক্ত নয়। আজ এই বিষয়ে আদেশ দেওয়ার কথা।
নির্বাচনে নির্ভরযোগ্য ভোটার তালিকার বিষয়ে আইনজীবীদের বোঝানোর ধৃষ্টতা দেখানোর ইচ্ছে আমার নেই। কিন্তু যে বিষয়ে তাঁদের এবং অন্যদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে চাই তা হলো প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচন, প্রক্রিয়া হিসেবে তার বিভিন্ন দিককে বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার বিষয়ে আইনজীবীরা দেশের সাধারণ নাগরিক এবং নির্বাচন কমিশনের জন্য খুব বেশি আশার আলো দেখাতে পারলেন কি না, সেটা ভেবে দেখুন।
আইনজীবী ও সাংবাদিকদের নির্বাচন নিয়ে এসব কথা বলার পাশাপাশি এটা স্মরণ করা ছাড়া উপায় নেই যে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়টি এখন ইতিহাসের বিষয়। ১৯৯১ সালে দেশে ‘গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা’ পেলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে সেই থেকে সুষ্ঠু গণতন্ত্রের চর্চার একটি অন্যতম উপায় ‘নির্বাচন তিরোহিত’ হয়েছে। তার কারণ যা-ই থাকুক, পরিণতি ভালো হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং ক্ষমতাসীন ব্যক্তিরা (গত আড়াই দশকে যাঁরাই ক্ষমতায় থেকেছেন) যে বার্তা পাঠিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের একাংশ যে তা বুঝতে পেরেছে, সেটা তাঁদের আচরণেই স্পষ্ট।
যে সমাজের অগ্রসর, অন্ততপক্ষে সবচেয়ে সরব অংশের সদস্যদের মধ্যে প্রতিষ্ঠান হিসেবে নির্বাচনকে গড়ে তোলার ব্যাপারে তাগিদ অনুপস্থিত, যেখানে সমঝোতার অর্থ ভাগাভাগি এবং অন্যদের কণ্ঠস্বরের ব্যাপারে কর্ণপাত না করা, সেখানে জাতীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন। জাতীয় নির্বাচনের বিবেচনায় এসব ‘ছোটখাটো’ নির্বাচনের জটিলতার মধ্যে সেই ইঙ্গিত স্পষ্ট।
আলী রীয়াজ: যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: ধূসর ইতিহাস ভুলতে চায় জার্মানি by সরাফ আহমেদ
তিনটি মহাদেশে পাঁচ বছর আট মাস ধরে চলা যে ভয়াবহ ও নৃশংস যুদ্ধ ছয় কোটি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল, যে যুদ্ধে ৬০ লাখ মানুষকে বন্দিশিবিরে প্রাণ দিতে হয়েছিল, ধ্বংস হয়েছিল বহু শহর-নগর-জনপদ, বিংশ শতাব্দীর সেই সভ্যতা সংহারকারী যুদ্ধ, ফ্যাসিবাদের উত্থান ও তা নিয়ে আলোচনা ইউরোপে এখনো বিদ্যমান।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকে ঘিরে মিত্র বাহিনীর অন্যতম সহযোগী দেশ ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পক্ষ হয়ে উপনিবেশ অবিভক্ত ভারতকে জড়িয়ে দেওয়া এবং তাদের পক্ষে ২৫ লাখ ভারতীয় সেনা সংগ্রহ, যাঁদের মধ্যে বহু বাঙালি সেনা ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ার নানা রণাঙ্গনে সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেছিলেন এবং প্রাণদান করেছিলেন, তাঁদের সেই ত্যাগের ইতিহাস ইউরোপে খুব কমই আলোচিত হয়। একইভাবে যুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪৩ সালে অবিভক্ত বাংলায় ওই যুদ্ধের কারণেই যে ভয়াবহ মন্বন্তর ঘটেছিল, যাতে ৩০ লাখ লোকের মৃত্যু হয়েছিল, সেই ঘটনাও আজ যুদ্ধের ইতিহাসে বিস্মৃতপ্রায়। ভারতে সেই সময়কার সমরনায়ক ফিল্ড মার্শাল আর্চবাল্ড ওয়েভেল ও তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিওপ্যাল্ড অ্যামেরির প্রস্তাবে বাংলার মন্বন্তরে সাহায্য ও সহায়তার কথা বলা হলেও গ্রেট ব্রিটেনের যুদ্ধকালীন প্রধানমন্ত্রী ও ভারত–বিদ্বেষী বলে পরিচিত উইনস্টন চার্চিল সেই প্রস্তাব আমলে নেননি। সঠিক সময়ে সেই সাহায্য এলে হয়তো অবিভক্ত বাংলার মন্বন্তরে এত মানুষের প্রাণহানি ঘটত না।
প্রতিবছর এপ্রিল মাস এলেই শুরু হয়ে যায় ইউরোপ মহাদেশজুড়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে নানা স্মরণসভা,বন্দিশিবির মুক্ত দিবস। ইউরোপজুড়ে পত্রপত্রিকা ও টেলিভিশনের সংবাদে উঠে আসে যুদ্ধের বিয়োগান্ত মর্মস্পর্শী নানা অজানা স্মৃতি আর ঘটনা।
ম্যাক্স আইসেনকে ১৫ বছর বয়সে পরিবারের সবার সঙ্গে ধৃত হয়ে নাৎসি বাহিনী কর্তৃক অধিকৃত হাঙ্গেরি থেকে বন্দীবোঝাই ট্রেনযোগে পোল্যান্ডের আউৎসুইৎতজ বন্দিশিবিরে আসতে হয়েছিল। ট্রেন থেকে নামার পরই বন্দী বাছাইপর্বে তাঁর বাবা আর চাচাকে আলাদা করা হয়েছিল। যাওয়ার সময় তাঁর বাবা ম্যাক্সকে বলেছিলেন, ‘তুই বেঁচে থাকলে বিশ্ববাসীকে নাৎসি বাহিনী কর্তৃক আমাদের অসহনীয় বন্দিজীবনের কথা জানাবি,’ এরপর অসহায় বাবা পুরোনো এক বন্দীকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আমার পরিবারের সঙ্গে আবার কখন মিলনের সুযোগ ঘটবে?’ সেই বন্দী তখন নরকপুরীসম বন্দীদের হত্যার জন্য ব্যবহৃত গ্যাস চেম্বারের লম্বা চিমনির ধোঁয়ার দিকে হাত তুলে বলেছিলেন, ‘ওই চিমনির ধোঁয়ার মাঝে তোমার পরিবারের মিলন ঘটবে।’
ম্যাক্স আইসেন এই কুখ্যাত আউৎসুইৎতজ বন্দিশিবিরে তাঁর ছোট বোন, দুই ভাই, বাবা–মা, চাচা-চাচিসহ দাদা-দাদিকে চিরতরের জন্য হারিয়ে ফেলেন; মে মাসে এই বন্দিশিবিরটি মুক্ত হলে মৃতপ্রায় অবস্থায় তিনি মুক্ত হন। আউৎসুইৎতজ বন্দিশিবিরে ৭০ বছর আগে পরিবারের সবাইকে হারিয়ে নিঃস্ব ম্যাক্স আইসেন ৮৬ বছর বয়সে জীবনসায়াহ্নে বাবার কথামতো এই মর্মভেদী সাক্ষ্য দিয়েছেন গত মাসের ২১ এপ্রিল জার্মানির লুনেবুর্গে সদ্য শুরু হওয়া আউৎসুইৎতজ বন্দিশিবিরে কর্মরত হিসাবরক্ষক যুদ্ধাপরাধী ৯৩ বছর বয়সী অসকার গ্রোয়েনিংয়ের বিরুদ্ধে শুনানিতে।
এমন হাজার হাজার যুদ্ধবিজড়িত ঘটনা আজও শোনা যাবে ইউরোপের নানা দেশে ঘরে ঘরে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই যুদ্ধের হোতা দেশ জার্মানি বিভক্ত হয়ে যায়, বিভক্ত হয়ে যায় সারা ইউরোপ পূর্ব আর পশ্চিমে।
যুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত জার্মানিসহ পশ্চিম ইউরোপের ১৬টি দেশ চার বছর ধরে আমেরিকার মার্শাল উন্নয়ন পরিকল্পনার অধীন অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতায় প্রাথমিক সংকট কাটিয়ে উঠেছিল। অপর দিকে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন সমাজতন্ত্রের অনুসারী পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশগুলোতে উন্নয়ন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। এরপর নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত পূর্ব আর পশ্চিমের সমাজতান্ত্রিক ও পুঁজিবাদী দেশগুলোর মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ছিল শীতল স্নায়ুযুদ্ধ। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন ঘটলে শীতল স্নায়ুযুদ্ধের অনেকটাই অবসান ঘটে। আর ১৯৯০ সালে আবার ঐক্য ঘটে পূর্ব আর পশ্চিম জার্মানির।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসি জার্মানির পরাজয় দেশটিকে ইউরোপসহ বিশ্বজুড়ে অনেকটাই একঘরে করে দেয়। হিটলারের নাৎসি বাহিনী ইউরোপজুড়ে তাণ্ডব চালিয়েছিল; ধ্বংস-নির্যাতন-হত্যা, লাখ লাখ বন্দীকে আটক করে নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে হত্যার ইতিহাস পৃথিবীর সব নির্মমতাকে ম্লান করে দিয়েছিল। ১৫ বছরের শাসনামলে হিটলার নিজ দেশেও অন্য ধর্ম, বর্ণ ও অন্য রাজনৈতিক মতাবলম্বীর ওপর অকথ্য নির্যাতন চালিয়েছিল। অনেক রাজনীতিক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, বিজ্ঞানীসহ নানা পেশার মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোয় পালিয়ে হিটলারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করে, সেই চেষ্টা দেশের ভেতরেও হয়েছিল, তবে নাৎসি জার্মানি তাদের মিথ্যা প্রচার-প্রোপাগান্ডায় সম্মোহিত বহু মানুষকেই তাদের অনুসারী করতে সমর্থ হয়েছিল।
বিশ্বযুদ্ধোত্তর জার্মানির প্রথম চ্যান্সেলর কনরাড আডেনআওয়ার প্রতিবেশী ফ্রান্সের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরিতার অবসান ঘটিয়ে ১৯৬৩ সালে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। একই ধারাবাহিকতায় আরেক চ্যান্সেলর উইলি ব্রান্ড ১৯৭০ সালে আগের প্রতিবেশী পোল্যান্ড সফরে গিয়ে ওয়ারসোতে নিহত ইহুদিদের স্মৃতিস্তম্ভে হাঁটু গেড়ে বসে ফ্যাসিস্ট জার্মানির হত্যা-ধ্বংসযজ্ঞের জন্য সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
৭০ বছর আগের ফ্যাসিবাদী জার্মান প্রজন্মের সঙ্গে আজকের জার্মান প্রজন্মকে কোনোভাবেই মেলানো যাবে না। তবু ৭০ বছর ধরেই সব মূলধারার দল–মতনির্বিশেষে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অপরাধবোধ কাঁধে নিয়েই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন নীতি ও নিজেদের গণতান্ত্রিক ধারা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন অব্যাহত রেখেছে।
যে জার্মান জাতি বিশ্ব সভ্যতার ইতিহাসে শিল্প, সাহিত্য, দর্শন, বিজ্ঞানসহ নানা ক্ষেত্রে অপরিসীম অবদান রেখেছে; তথাপি বিংশ শতাব্দীতে দু-দুটি মহাযুদ্ধ করে তারা তাদের ললাটে কালিমা লেপন করেছে। তবে জার্মানির যুদ্ধ-পরবর্তী প্রজন্ম ৭০ বছর ধরেই তাদের সেই ধূসর ইতিহাসের আত্মসংকট থেকে বেরিয়ে আসার প্রচেষ্টায় রত আছে।
সরাফ আহমেদ: প্রথম আলোর জার্মানি প্রতিনিধি।
Sharaf.ahmed@gmx.net
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নিউইয়র্কে বইমেলা by হাসান ফেরদৌস
একই দিন এস্টোরিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো এক মঙ্গল শোভাযাত্রা। কয়েক শ মানুষ—গুনে দেখলে দেখা যাবে ছেলেদের চেয়ে মেয়েদের সংখ্যাই সেখানে বেশি—হরেক রকম বাহারি পোশাকে ঢোল-করতাল নিয়ে সোল্লাসে রাস্তা প্রদক্ষিণ করছে। সঙ্গে নানা রঙের, নানা ভাবের মুখোশ। ছোট ছেলেমেয়েরা, যারা এ দেশে বড় হয়েছে—বাংলাদেশের কোনো স্মৃতি তাদের নেই—তারা দল বেঁধে নেচে চলেছে। রাস্তার পাশ থেকে অথবা উঁচু ভবনের জানালার ফাঁক দিয়ে নানা জাতের, নানা বর্ণের মানুষ হাততালি দিচ্ছে, ক্লিক ক্লিক ছবি তুলছে। ঢোলের তালে তালে নাচতে লেগে গেছে ভিনদেশি মানুষ। হ্যাঁ, আমার বাংলাদেশকেই এরা করতালি দিয়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছে।
নিউইয়র্কের বইমেলা ঘিরেও এই শহরের বুকে তৈরি হবে এক টুকরো বাংলাদেশ। দুই বাংলা থেকে আসছেন লেখক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবী। উত্তর আমেরিকার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে ভিড় করবেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্য ভালোবাসেন, এমন অনেক মানুষ। এখন এ দেশের প্রায় প্রতিটি বড় শহরেই বাঙালির বাস, কিন্তু একসঙ্গে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যপ্রেমী মানুষের এমন সমাবেশ অন্য কোথাও নেই। অনেকে আছেন, যাঁরা দেশ ছেড়েছেন ৩০ বছর বা তার চেয়েও আগে। কিন্তু বুকের মধ্যে বাংলা নামের দেশটাকে তাঁরা ঠিকই ধরে রেখেছেন। তাঁদের কেউ চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, স্কুলশিক্ষক অথবা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। অন্য কোনো পরিচয়ে নয়, নিজের বাঙালি আত্মপরিচয় নিয়েই এই মেলায় সম্মিলিত হবেন এক আনন্দ সমাবর্তনে।
এই মেলা প্রথমাবধি খুব সচেতনভাবে দুই বাংলার মানুষকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করেছে। রাজনৈতিক ভেদরেখায় আমরা বিভক্ত হলেও ভাষা ও সংস্কৃতির পরিচয়ে আমরা সবাই বাঙালি। রবীন্দ্রনাথ, নজরুল ও শামসুর রাহমান—তাঁরা প্রত্যেকেই আমাদের অভিন্ন উত্তরাধিকার। এই মেলায় একই মঞ্চে পাশাপাশি কবিতা পড়েছেন সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শহীদ কাদরী ও সৈয়দ শামসুল হক। বাংলা ভাষার দুই প্রধান কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ ও সমরেশ মজুমদার, একই মঞ্চে সাহিত্যের আড্ডা জমিয়েছেন। গান গেয়েছেন দুই বাংলার সেরা শিল্পী। তাঁদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন উত্তর আমেরিকায় বসবাসরত বাঙালি লেখক, শিল্পী, গায়ক-গায়িকা।
এবারের মেলায় প্রধান অতিথি হয়ে আসছেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। পরিণত বয়সে দীর্ঘ ভ্রমণ তাঁর ভালো লাগে না। আমাকে বলেছেন, শরীর এখন বিশ্রাম চায়। কিন্তু প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণ উপেক্ষা করতে পারেননি। ঢাকা থেকে আরও আসছেন ড. অনুপম সেন, রামেন্দু মজুমদার ও আরও কয়েকজন নবীন-প্রবীণ লেখক, শিল্পী। অধ্যাপক রেহমান সোবহান ও অধ্যাপক রওনক জাহানও মেলায় উপস্থিত থাকবেন। তাঁরা দুজনেই ‘আগামী দিনের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নেবেন।
এবারের মেলার এক বিশেষ আকর্ষণ একাত্তরে আমাদের সহযোদ্ধা লেয়ার লেভিন। তারেক মাসুদ নির্মিত চলচ্চিত্র মুক্তির গান তাঁর ক্যামেরায় তোলা। বাংলাদেশ ও তার মানুষের তিনি অকৃত্রিম বন্ধু, প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে তাঁকে প্রবাসীরা কাছে পান। এবার মেলার পক্ষ থেকে তাঁকে সম্মাননা জানানো হবে। তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে প্রবাসী বাঙালিদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন।
আরেক আকর্ষণ নবীন প্রজন্মের প্রতিনিধিদের পরিবেশনায় ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’। একাত্তরে এই শহরের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বসেছিল জর্জ হ্যারিসন-রবিশঙ্করের উদ্যোগে যুদ্ধরত বাঙালিদের জন্য সংহতি কনসার্ট। সে ঘটনার ৪৫ বছর পর তাঁদের গাওয়া গান দিয়েই নতুন প্রজন্মের বাঙালি তরুণ-তরুণীরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে সেই দুঃসময়ের বন্ধুদের।
ঢাকা ও কলকাতা থেকে এবারে প্রায় ১৫ জন পুস্তক প্রকাশক যোগ দিচ্ছেন। প্রবাসী বাঙালিরা তাঁদের আগমনের জন্য গভীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। শুধু যে নতুন বই হাতে মিলবে সে জন্য নয়, যাঁরা লেখেন, তাঁরা মেলার ফাঁকে ফাঁকে জেনে নেবেন ঢাকা থেকে বই প্রকাশের নিয়মাবলি, তার অলিখিত শর্ত। শুধু এই মেলা উপলক্ষে ঢাকার ‘সময়’ প্রকাশন থেকে বেরিয়েছে একটি উপন্যাস। কে জানে, হয়তো আগামী মেলার জন্য আরও কয়েকটি বইয়ের চুক্তি এখানেই হয়ে যাবে।
সারা বছর অপেক্ষায় থেকেছে প্রবাসী বাঙালিরা এই মেলার। সারা বছরে মোটে তিনটি দিন, অথচ তারই প্রতীক্ষায়, তারই আয়োজনে ব্যস্ত থেকেছে তারা। আপনারা যাঁরা দূরে বসে এই লেখা পড়ছেন, আমি জানি আপনারাও এই মেলার অলক্ষ্য দর্শক। বাঙালি এই ‘ধারণাটি’ শুধু ভূগোলের অঙ্কে আর আটকে রাখা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ও পশ্চিম বাংলা ছাড়িয়ে সে এখন সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বাংলা ভাষার শিকড় তাকে এক অভিন্ন মালায় গেঁথে নিয়েছে। বিশ্বের যেখানেই সে থাকুক, সে মালার সুবাস তার হৃদয় ভরাবেই। অন্যথায় তাকে বাঙালি বলি কী করে!
হাসান ফেরদৌস: যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বুকার পেলেন লাসলো
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মোদিকে কেজরিওয়ালের অভিযোগ ভরা চিঠি
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জোর করে কিশোরী বিয়ে করলেন চেচনিয়ার পুলিশপ্রধান!
প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল যে গুচিগভের বয়স ৫৭ বছর। পরে তিনি নিজে বলেছেন, তার বয়স ৪৭। কিন্তু রাশিয়ায় জোর করে বিয়ে করা, অল্পবয়সীকে বিয়ে করা কিংবা বহুবিবাহ কোনোটাই আইনসম্মত নয়। এ বিয়ে নিয়ে রাশিয়ার গণমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে কাদিরভ সংশ্লিষ্ট দম্পতির ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে অনধিকার চর্চা না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানান। গত মাসের শেষদিকে ‘নোভায়া গেজেটা’ নামের একটি অনুসন্ধানী সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের পর এ কেলেংকারির বিষয়টি সামনে আসে। খবরে বলা হয়,
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সালাহ উদ্দিন যে কারণে শিলংয়ে গিয়েছিলেন by শাত শামীম
![]() |
| প্রচ্ছদ: মাহফুজ রহমান |
সালাহ উদ্দিন আহমদ ১০ মার্চ রাতে তাঁর বাল্যবন্ধুদের সঙ্গে ঢাকার রাস্তায় ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। বেরিয়ে দেখেন, ঢাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তার আগে এক মাস ধরে প্রতি শনিবার রাতে প্রথম দফায় ৭২ ঘণ্টা এবং মঙ্গলবার রাতে দ্বিতীয় দফায় আরও ৪৮ ঘণ্টা করে অবরোধের ওপর হরতালের বিবৃতি পাঠ করে আসছিলেন তিনি। তাই সালাহ উদ্দিন ভেবে দেখলেন, ওসব হরতাল–অবরোধের ডাক দিয়ে কী লাভ হলো! পরিস্থিতি তো স্বাভাবিক! তাই তিনি হতাশ হয়ে পড়লেন। বন্ধুদের বিদায় জানিয়ে চুপিচুপি রওনা হলেন সিলেটের উদ্দেশে, ঢাকার বাইরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে।
সিলেট যেতে যেতে সালাহ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘ যানজটে পড়লেন। যানজটের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হতাশাও বাড়ছিল। সিলেটে গিয়ে তাঁর মনে পড়ল, মোবাইল ফোনে চার্জ নেই, সঙ্গে চার্জারও নেই! ততক্ষণে ভোর হয়ে গেছে। পত্রিকা খুলেই তাঁর আক্কেলগুড়ুম! পত্রিকা লিখেছে—‘সালাহ উদ্দিন আহমদ নিখোঁজ! ঘটনার আগের রাতে একদল সাদাপোশাকধারী পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার।’ সালাহ উদ্দিন বুঝে ফেললেন সরকারকে বিপদে ফেলার এই সুযোগ। মোবাইল ফোন ফেলে দিয়ে তিনি ঘুরে বেড়াতে লাগলেন সিলেটের রাতারগুল, জাফলং ও বিছনাকান্দির মতো দর্শনীয় স্থানে। এদিকে নিজেদের ইমেজ রক্ষার্থে সালাহ উদ্দিনকে খুঁজে বের করতে চিরুনি অভিযানে নেমে পড়ল সরকার।
অমন অবস্থায় পুলিশের হাতে ধরা পড়লে নিজের ও দলের ইজ্জত পুরোপুরি পাংচার হয়ে যাবে ভেবে রাতের অন্ধকারে সালাহ উদ্দিন জাফলং থেকে সাঁতরে ভারতের সীমানায় উঠলেন! সকালে কাপড় শুকানোর পর সুন্দর দেখে একটা ট্যাক্সি ক্যাব ভাড়া করে বেড়াতে গেলেন শিলংয়ে। মাস দুয়েক সফরের পর তাঁর সব টাকা ফুরিয়ে গেল। অমন পরিস্থিতিতে তিনি কী করবেন, কোথায় টাকা পাবেন, কীভাবে আবার দেশে ফিরবেন—এসব চিন্তা করতে করতে হারিয়ে ফেললেন মানসিক ভারসাম্য! ভর্তি হলেন হাসপাতালে। কদিন বাদেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাপ দিতে লাগল তাদের পাওনা টাকার জন্য। উপায় না পেয়ে হাসপাতালের লোকজন যোগাযোগ করল বাংলাদেশে অবস্থানরত তাঁর স্ত্রীর সঙ্গে!
এ ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি হয়ে গেল ফাটা বেলুনের মতো! আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও বিশাল চাপে। দেশব্যাপী তন্ন তন্ন করে খুঁজে হাজারটা পদ্ম পাওয়া গেলেও এক সালাহ উদ্দিন ছিলেন লাপাত্তা! আর সেই লাপাত্তা মানুষটাই নাকি শিলংয়ে! এদিকে সালাহ উদ্দিনের স্ত্রীর ধারণাই ছিল না হাসপাতালের বিল এত টাকা উঠবে। কিন্তু কী আর করা, অবশেষে ঠিক করলেন মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমেই ওই হাসপাতালে টাকা পাঠাবেন তিনি। পরক্ষণেই মনে পড়ল, ভারতে তো এভাবে টাকা পাঠানো যায় না! তাহলে কীভাবে টাকা পাঠানো যায়? পরামর্শের জন্য তিনি ছুটলেন খালেদা জিয়ার কাছে। নেত্রী কোনো সমাধান দিতে না পারায় সালাহ উদ্দিনের স্ত্রী গণমাধ্যমের কাছে সব খুলে বললেন! এটাই হলো আসল ঘটনা!
বিএনপির ব্যাখ্যা
আমরা যখন প্রায় সফল একটা আন্দোলনের দ্বারপ্রান্তে, ঠিক তখন নিশ্চিত পরাজয় থেকে সরকার নিজেদের রক্ষা করতে রাতের আঁধারে গ্রেপ্তার করে আমাদের যুগ্ম মহাসচিব সালাহ উদ্দিন আহমদকে। বন্দী অবস্থায় সরকার তাঁর ওপর ক্রমাগত শারীরিক ও মানসিক নিযার্তন চালিয়েছে। তাঁকে রাখা হয়েছিল গোপন জায়গায়, চোখ বাঁধা অবস্থায়। এই সরকার জুলুম–নির্যাতন চালিয়ে আমাদের প্রায় সফল আন্দোলন সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে। আর ঠিক এই সময়টাতেই তারা সালাহ উদ্দিন আহমদকে চেতনানাশক ইনজেকশন দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে মেঘালয়ের শিলংয়ে ফেলে আসে! দুমাস টানা নির্যাতনের কারণে তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। এসবই সরকারের উচ্চমহলের সূক্ষ্ম চক্রান্ত! আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এই বাকশালী সরকারের পতন চাই!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
করপোরেশনের গোপন ক্ষমতা দখল by জোসেফ ই স্টিগলিৎজ
এটা বোঝা কঠিন কর্ম নয়। এসব চুক্তি নিছক বাণিজ্য, বিনিয়োগজনিত সুশাসন ও বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এগুলো সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আইনি, বিচারিক ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোকেও প্রভাবিত করে। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের মতামত ও তার মাধ্যমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বালাই এখানে নেই।
সম্ভবত বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি এই চুক্তির সবচেয়ে বিদ্বেষজনক ও অসৎ দিক। অবশ্যই বিনিয়োগকারীদের দুষ্ট সরকারের কোপানল থেকে বাঁচাতে হবে, যে সরকার তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে চায়। কিন্তু এসব ধারা শুধু এ বিষয়কে কেন্দ্র করেই প্রণীত হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে দখলচ্যুতির ঘটনা তেমন একটা ঘটেনি। আর যে বিনিয়োগকারীরা নিজেদের সুরক্ষিত রাখতে চায়, তারা বিশ্বব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান মাল্টিল্যাটেরাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সি থেকে বিমা নিতে পারে। এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য সরকারও তেমন বিমা দিয়ে থাকে। তথাপি, যুক্তরাষ্ট্র টিপিপিতেও ও রকম ধারা রাখার দাবি করছে, যদিও তার অনেক ‘সহযোগীরই’ সম্পদ সুরক্ষা ও বিচারিক ব্যবস্থা তার নিজের মতোই ভালো।
এসব ধারার আসল উদ্দেশ্য হচ্ছে স্বাস্থ্য, পরিবেশ, নিরাপত্তা, এমনকি আর্থিক বিধিবিধানে রাশ টেনে ধরা, যেসব বিধান যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও নাগরিকদের রক্ষা করতে পারে। নিয়ন্ত্রণ আইনে পরিবর্তনের কারণে ক্ষতি হলে কোম্পানিগুলো সংশ্লিষ্ট সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের মামলা করতে পারে।
এটা শুধু তাত্ত্বিক সম্ভাবনা নয়। উরুগুয়ে ও অস্ট্রেলিয়া সিগারেটের মোড়কে সতর্কবার্তা লাগানোর বিধান করায় আমেরিকান সিগারেট কোম্পানি ফিলিপ মরিস দেশ দুটির বিরুদ্ধে মামলা করতে যাচ্ছে। হ্যাঁ, স্বীকার করছি দেশ দুটি যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে গিয়ে সিগারেটের মোড়কে ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাববিষয়ক গ্রাফিক চিত্র যুক্ত করা বাধ্যতামূলক করেছিল।
এই মোড়কে আচ্ছাদিত করার ব্যাপারটি কাজে লেগেছে। এটা ধূমপান নিরুৎসাহিত করছে। সে কারণে মরিস এখন ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।
ভবিষ্যতে, আমরা যদি দেখি যে অন্য কোনো পণ্য স্বাস্থ্য সমস্যা (যেমন অ্যাসবেসটসের কথা ভাবুন) সৃষ্টি করছে, তাহলে সেটা আমাদের ওপর যে মূল্য চাপিয়ে দিচ্ছে, তার জন্য মামলার মুখোমুখি না হয়ে উল্টো তারা মানুষ মারার ওপর বিধিনিষেধ আরোপের অভিযোগে সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে। কোনো দেশের সরকার যদি গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের ওপর আরও শক্ত বিধান আরোপ করে, তাহলেও একই ব্যাপার ঘটতে পারে।
আমি যখন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের কাউন্সিল অব ইকোনমিক অ্যাডভাইজার্সের চেয়ারম্যান ছিলাম, তখন পরিবেশবিরোধীরা একই রকম বিধান প্রণয়নের চেষ্টা করেছিল। যেটার নাম ছিল ‘রেগুলেটরি টেকিংস’ বা আইনি আদায়। তারা জানত, একবার আইন পাস হয়ে গেলে এসব বিধান স্থগিত হয়ে যেত, কারণ সরকারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ দেওয়া সম্ভব নয়। সৌভাগ্যের ব্যাপার হচ্ছে, আমরা এই উদ্যোগ বন্ধ করতে পেরেছি, আদালত ও মার্কিন কংগ্রেস উভয় জায়গাতেই।
কিন্তু এখন আবার সেই একই গোষ্ঠী বাণিজ্য বিলে এমন ধারা ঢুকিয়ে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার রাশ টেনে ধরার চেষ্টা করছে, যার বিষয়বস্তু মূলত লোকচক্ষুর আড়ালে রাখা হয়েছে (করপোরেশনের চোখের আড়ালে নয়, তারা এটা ঢোকানোর জন্য তৎপরতা চালিয়েই যাচ্ছে)। আমরা এসব জানতে পারছি ফাঁসের কারণে, আর সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার মাধ্যমে। সরকারি কর্মকর্তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি অধিক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
মার্কিন সরকারব্যবস্থার মৌলিক দিক হচ্ছে এর নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থা, এই আইনি মানদণ্ড বহু বছর ধরে গড়ে উঠেছে। এর ভিত্তি হচ্ছে স্বচ্ছতা, নজির ও প্রতিকূল রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সুযোগ। এসব কিছুই ঠেলে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। কারণ, নতুন চুক্তিতে ব্যক্তিগত, অস্বচ্ছ ও খুবই ব্যয়বহুল সালিসির কথা বলা হয়েছে। তার পরও এই ব্যবস্থাপনার মধ্যে বিবদমান স্বার্থের ব্যাপার রয়েছে, যেমন মধ্যস্থতাকারী এক মামলায় বিচারক আবার আরেক মামলায় আইনজীবী হিসেবে কাজ করতে পারেন।
এই বিচার-প্রক্রিয়া এতই ব্যয়বহুল যে উরুগুয়েকে ফিলিপ মরিসের বিরুদ্ধে আত্মরক্ষায় মাইকেল ব্লুমবার্গ ও অন্য ধনী মার্কিনদের দ্বারস্থ হতে হয়েছে। আর করপোরেশন মামলা করতে পারবে, কিন্তু অন্যরা তা করতে পারবে না। যেমন, শ্রম ও পরিবেশগত মানদণ্ডের ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ হলেও নাগরিক, ইউনিয়ন, সুশীল সমাজের প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ নেই।
যদি মৌলিক নীতি ভঙ্গকারী একপক্ষীয় বিরোধ নিষ্পত্তিকারী ব্যবস্থা থাকে, তাহলে এটাই হচ্ছে সেটা। সে কারণেই আমি যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড, ইয়েল, বার্কলে প্রভৃতি বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ আইনি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে চিঠি লিখতে চাই, এসব চুক্তি আমাদের বিচারিক ব্যবস্থার জন্য কতটা হানিকর।
যুক্তরাষ্ট্রে এ চুক্তির যারা সমর্থক, তারা দেখাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হলেও যুক্তরাষ্ট্র একটিতেও হারেনি। যদিও করপোরেশনগুলো কেবল শিখতে শুরু করেছে, কীভাবে এই চুক্তি নিজেদের সুবিধামতো ব্যবহার করা যায়।
আর নিম্ন বেতনভুক্ত সরকারি আইনজীবীরা যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপানের উচ্চ বেতনভুক্ত আইনজীবীদের সমকক্ষ হতে পারে না। আরও খারাপ ব্যাপার হচ্ছে, উন্নত দেশগুলোর করপোরেশনগুলো সদস্যদেশগুলোতে সাবসিডিয়ারি তৈরি করতে পারে, যার মাধ্যমে তারা নিজেদের দেশে ফের বিনিয়োগ করতে পারে। এরপর তারা মামলাও করতে পারে, এর মাধ্যমে তারা বিধিবিধান রুদ্ধ করে দিতে পারে।
সম্পত্তি সুরক্ষার আরও ভালো ব্যবস্থার প্রয়োজন হলে আর এই বেসরকারি ও ব্যয়বহুল সালিসি ব্যবস্থা রাষ্ট্রীয় বিচারিক ব্যবস্থার চেয়ে উন্নত হয়, তাহলে শুধু ধনী করপোরেশনগুলোর জন্য আইন পরিবর্তন করলে চলবে না, জনগণ ও ছোট ব্যবসার জন্যও তা করতে হবে।
মানুষের সমাজ ও অর্থনীতি নির্ধারণ করে বিধিবিধান। এসব বিধিবিধান দর–কষাকষির আপেক্ষিক ক্ষমতা হ্রাস করে, অর্থাৎ অসমতার ঝান্ডা উড়তেই থাকে, বিশ্বজুড়েই। প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি ধনী করপোরেশনগুলোকে তথাকথিত বাণিজ্য চুক্তির গোপন ধারাগুলো ব্যবহার করতে দেব, যার মাধ্যমে ২১ শতকে আমরা কীভাবে বসবাস করব, তার দিকনির্দেশনা দেবে তারা। আমি আশা করি, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মানুষ এই প্রশ্নের জবাবে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে বলবেন, ‘না’।
ইংরেজি থেকে অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন; স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট
জোসেফ ই স্টিগলিৎজ: নোবেলজয়ী মার্কিন অর্থনীতিবিদ।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিদ্যুৎ-জ্বালানি সাশ্রয়ে পিছিয়ে আমরা by মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী
দেশে বিত্তশালী পরিবারগুলোতে গাড়ির ছড়াছড়ি। গাড়ি কেনা ও ব্যবহারে লাগামহীন অর্থের ও জ্বালানির অপচয় হচ্ছে। মাত্র ১০০ গ্রাম কাঁচা মরিচ বা একটা পাউরুটি কিনতে বাজারে ছুটছে গাড়ি। বাড়িতে-অফিসে ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর (কম্পিউটার, আইপ্যাড, ল্যাপটপ, মোবাইল, মাইক্রোওয়েভ) চার্জারটি সকেটের সঙ্গে অবিরাম অবিচ্ছিন্ন রেখে আমরা বিদ্যুতের অপচয় ঘটাচ্ছি। এসির ব্যবহারেও রয়েছে অজ্ঞতা ও অবহেলা। এসির এয়ার ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে অন্তত ৫ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় হয়। অবিরাম না চালিয়ে বিরতি দিলে এসির ব্যবহারেও বিদ্যুতের সাশ্রয় হয়। মাত্র ১০০-১৫০ বর্গফুটের ছোট ছোট দোকানে একসঙ্গে এক বা দুই ডজন বাতি ব্যবহৃত হচ্ছে। অতিরিক্ত বাতি ব্যবহার করলে কক্ষের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। তা শীতল করতে প্রয়োজন হয় এসি বা ফ্যানের ব্যবহার।
রাজধানী ঢাকায় বহু অ্যাপার্টমেন্টের বারান্দা ও সিঁড়িঘরের বাতি জ্বলে সকাল সাত-আটটা পর্যন্ত, অথচ প্রাকৃতিক আলোয় তখন ভরে যায় চারপাশ। শীতকালে উষ্ণ পানির ব্যবহার শেষে বাথরুমের গিজারটি চালু থাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রায়ই বাতি-ফ্যান-এসি চালু রেখে নামাজে, সভায় কিংবা মধ্যাহ্নভোজে চলে যান। ঘুমন্ত এ জাতিকে জাগাবে কে? বগুড়ায় এডিসি থাকা অবস্থায় প্রাতর্ভ্রমণে বের হয়ে দেখতাম, সকাল সাতটা পর্যন্ত পৌরসভার সড়কবাতিগুলো জ্বলছে। পরে পৌর মেয়রকে চিঠি দিয়ে এ অপচয় বন্ধ করেছি। সম্প্রতি সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তার কক্ষে দেখি, ভরদুপুরে সূর্যের আলোয় উদ্ভাসিত অথচ একসঙ্গে ছয়টি গুচ্ছ টিউব বাতি জ্বলছে, তাৎক্ষণিক তাঁকে সাশ্রয়ী হওয়ার পথনির্দেশনা দিই। বহু সরকারি-বেসরকারি অফিসের জানালা ভারী পর্দা দিয়ে আবৃত রেখে কৃত্রিম অন্ধকারে ঢেকে ডজন ডজন বাতি জ্বালানো হয়। দিনের বেলা পর্দা সরিয়ে বাতির ব্যবহার কমালে সাশ্রয় হয় প্রচুর বিদ্যুৎ।
২০১১ সালে জাপানে প্রবল শক্তির ভূমিকম্প-সুনামির আঘাতে বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিলে বিদ্যুতে রেশনিং শুরু হয় এবং দুর্যোগ-পরবর্তী কয়েক মাস এসির তাপমাত্রা ২৪০ ডিগ্রিতে সীমিত রাখা হয়। জাপানিরা সরকারি নির্দেশনা সর্বান্তকরণে প্রতিপালন করে। অথচ বাংলাদেশে রাত আটটার পর শপিংমল, মার্কেট বন্ধ রাখার নির্দেশনা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা দিয়েও পুরোপুরি কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। দোকানে-প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ কতটি বাতি ব্যবহৃত হবে, তা বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক রেশনিং করার সময় এসেছে। সেবা খাতে সুশাসন নেই বলে আমরা সমালোচনায় মুখর হই। কিন্তু নাগরিক হিসেবে প্রতি পদে পদে কেন আমাদের আইন অমান্যতা ও অপচয় প্রবণতা, তা সামাজিক বিশ্লেষণে খুঁজে পাই না। সিএফএল বাতির ব্যবহারেও প্রায় ১০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব। চুলা থেকে তুলে এনেই গরম গরম খাবার তাৎক্ষণিক রেফ্রিজারেটরে সংরক্ষণ করা অনুচিত। কারণ, গরম খাবার শীতল হতে প্রচুর বিদ্যুতের প্রয়োজন।
সম্প্রতি প্রযুক্তির কল্যাণে বাজারে আসছে ‘গ্রাফিন’ নামক উপাদানে তৈরি বিদ্যুৎসাশ্রয়ী বাল্ব। কাচের মতো স্বচ্ছ এ উপাদান ইস্পাত অপেক্ষা প্রায় ২০০ শতাংশ শক্ত। কানাডার এক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তায় এ প্রযুক্তি চালু করছে। বাল্বের ফিলামেন্টেই ‘গ্রাফিন’ নামক উপাদানটি থাকবে, যা বিদ্যুৎসাশ্রয়ী, টেকসই ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক। ‘এসটি মাইক্রোইলেট্রনিকস’ নামক সুইস সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ ব্যবহার কমিয়ে ৬০ মিলিয়ন ডলারের বেশি সাশ্রয় করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশে ‘এনার্জিপ্যাক’ নামক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে প্রশংসনীয়। জাতিসংঘের ৬৮তম অধিবেশনে ২০১৫ সালকে ‘আন্তর্জাতিক আলোকবর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
বিদ্যুৎসাশ্রয়ী নানা প্রযুক্তি যেমন সিএফএল বাতি, স্বয়ংক্রিয় মোটর-কক্টেরালার, পাওয়ার সিস্টেম ক্যাপাসিটরের ব্যবহার এবং সার্বিকভাবে লোড ব্যবস্থাপনা ত্রুটিমুক্ত রাখতে পারলে দৈনিক ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব, এতে বিদ্যুৎবঞ্চিত জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন গবেষণা ইনস্টিটিউটের এক সমীক্ষা অনুযায়ী, সড়কপথের চেয়ে আকাশপথের পরিবহন ব্যবস্থা অনেক জ্বালানিসাশ্রয়ী। যানবাহনে এক মাইল ভ্রমণে যেখানে জ্বালানির প্রয়োজন ৪ হাজার ২১১ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট, সেখানে একই দূরত্বে বিমানযাত্রায় প্রয়োজন ২ হাজার ৪৬৫ ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট। বিমান নির্মাতাদের তৈরি নতুন মডেলের বিমানগুলো এখন অধিক জ্বালানিসাশ্রয়ী। অথচ সড়কপথে বাস, ট্রাক, লরি, কাভার্ড ভ্যানে পোড়ানো হচ্ছে লাখ লাখ লিটার জ্বালানি তেল। যানবাহনের ইঞ্জিন ক্ষমতা এবং আকারেও নির্ভর করছে জ্বালানি ব্যয়। যে কারণে জাপান এখন জ্বালানিসাশ্রয়ী গাড়ি নির্মাণের অগ্রদূত। বিমানে যাত্রাপথ যত দীর্ঘ হবে, জ্বালানি ব্যয়ও তত হ্রাস পাবে। যাত্রাপথ কম হলে ঘটবে তার বিপরীত। এসব নিয়ে এখন পশ্চিমা বিশ্বে চলছে প্রতিনিয়ত গবেষণা ও সমীক্ষা, যার লক্ষ্য জ্বালানি সাশ্রয়। অথচ বাংলাদেশে অপচয় ও অপব্যবহারে আমরা কত বিবেকহীন, উদাসীন।
সাভারে সিভিল সার্ভিসের মৌলিক প্রশিক্ষণ কোর্সে দেখেছি, কিছু কর্মকর্তা ছুটির দিনে সিলিং ফ্যান চালু রেখে কক্ষে তালা দিয়ে সারা দিন বাইরে থাকতেন। বিষয়টি অনৈতিক হিসেবে কর্তৃপক্ষের গোচরে এনেছিলাম। তাঁদের সতর্ক করে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বিদ্যুৎ অপচয়ের জন্য সর্বস্তরে সাশ্রয়ী মনোভাবের প্রয়োজন। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সাবধান না হলে বড় ধরনের মূল্য দিতে হবে আমাদের। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে দ্রুত সমগ্র বাংলাদেশকে প্রিপেইড মিটারিংয়ের আওতায় আনা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদ্যুতের অপব্যবহার ও অপচয় রোধে বিদ্যমান বিদ্যুৎ আইনে জরিমানার বিধান সংযোজন করে তা ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় আনতে হবে। অপচয়ের ব্যাপারে আত্মোপলব্ধি না এলে নিতে হবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। অপচয় ও চুরি থেকে নিরাপদ রাখতে হবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সম্পদকে।
মোহাম্মাদ মুনীর চৌধুরী: (স্পেশাল টাস্কফোর্স প্রধান) ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
mmunirc@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
চার ঘাটে বিক্রি বাংলাদেশিরা by টিপু সুলতান
ভুক্তভোগীরা জানান, শেষ ধাপ হলো সবচেয়ে জঘন্য ও কষ্টের। মুক্তিপণ দিতে না পারলে এখানেই জীবনের শেষ।
‘জঙ্গল ক্যাম্প’ নামে পরিচিতি পাওয়া শেষ ধাপ থেকে বিভিন্ন সময়ে মুক্তি পাওয়া ও উদ্ধার হওয়া অনেক বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের রোহিঙ্গা এখন থাইল্যান্ডের বন্দিশালায় আছেন। এমন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী এবং পাচারকারী চক্র সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সংখলা প্রদেশের স্থানীয় বাসিন্দা এবং ধরা পড়া দালালদের পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে দোভাষীর কাজ করা একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে পাচারের রুট, ঘাটে ঘাটে হাতবদল ও মানুষ বেচাকেনার চিত্র পাওয়া গেছে।
প্রথম ঘাট: বাংলাদেশিদের পাচারের ক্ষেত্রে প্রথম ঘাট হলো কক্সবাজারের টেকনাফ। বিভিন্ন এলাকা থেকে মাঠপর্যায়ের দালালেরা লোকজন এনে টেকনাফের ছোট ইঞ্জিন নৌকায় তুলে দেন। জনপ্রতি দালালেরা পান ১০ হাজার টাকা। টেকনাফ উপকূল থেকে ছোট নৌকায় এসব লোকেক নেওয়া হয় সমুদ্রে থাকা বড় ইঞ্জিন নৌকায়। মাছ ধরা ট্রলার বা ট্রলারের আদলে কাঠের তৈরি এসব বড় নৌকাকে পাচারকারীরা বলে ‘শিপ’ বা জাহাজ।
এসব জাহাজ বা বড় নৌকা যদি বাংলাদেশ জলসীমার কাছাকাছি থাকে, তাহলে টেকনাফের ছোট নৌকাগুলো ৪–৬ ঘণ্টা চলার পর সেখানে পৌঁছায়। আর যদি বাংলাদেশের জলসীমার বাইরে থাকে, তাহলে এক দিন এক রাত চলতে হয়। একেকটি ছোট নৌকায় ১০–১৫ জন করে নেওয়া হয়। এ সময় মানুষগুলোকে নৌকায় শুইয়ে রেখে গায়ের ওপর মাছ ধরার জাল বিছিয়ে দেওয়া হয়।
দ্বিতীয় ধাপ: বড় নৌকায় তুলে দিলে ছোট নৌকার মালিকেরা জনপ্রতি পান ১০ হাজার থাই বাথের সমান ২৫ হাজার টাকা। একইভাবে মিয়ানমারের দালালেরা আরাকান উপকূল থেকে ছোট নৌকায় রোহিঙ্গাদের এনে বড় নৌকায় বিক্রি করে মিয়ানমারের মুদ্রায় দুই লাখ কিয়াত (বাংলাদেশি ১৪ হাজার টাকার সমান)।
বড় নৌকায় ৩০০ থেকে ৫০০ জন পর্যন্ত লোক নেওয়া হয়। ভর্তি না হওয়া পর্যন্ত বড় নৌকা ছাড়ে না। এ জন্য এক থেকে দুই মাসও অপেক্ষা করা হয়।
পাচারকারীদের-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, এই দীর্ঘ সময় বড় নৌকাগুলো থাকে মিয়ানমারের জলসীমায় সে দেশের নৌবাহিনীর সঙ্গে আঁতাত করে। এ জন্য নৌকাপ্রতি মিয়ানমারের নৌবাহিনীকে দিতে হয় ওই দেশি মুদ্রায় তিন লাখ কিয়াত (বাংলাদেশি ২১ হাজার টাকার সমান)। ১৫ দিন রাখার জন্য এ টাকা দেওয়া হলেও নৌকাগুলো সাধারণত দুই মাস পর্যন্ত রাখে।
একবার বড় নৌকায় উঠে গেলে আর ফেরার সুযোগ নেই। সেখানে অনেকটা বন্দিদশায় থাকেন সবাই। গাদাগাদি করে রাখা হয়। খাবার দেওয়া হয় সামান্য ভাত ও মরিচ। পানিও অপর্যাপ্ত। কেউ অসুস্থ হলে সাগরে ফেলে দেওয়া হয়। সংখলার ডিটেনশন ক্যাম্পে থাকা আরাকানের জাফর আহমদ বললেন, তাঁদের নৌকা থেকে অসুস্থ দুজনকে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
নৌকায় পাহারায় থাকে সশস্ত্র পাহারাদার। সংখ্যায় পাঁচ-ছয়জন। কারও কারও হাতে অস্ত্রও থাকে। কেউ কোনো বিষয়ে বাগ্বিতণ্ডা করলে প্রহরীরা মেরে সাগরে ফেলে দেয়।
এ ধরনের চক্রের সঙ্গে কিছুদিন কাজ করেছেন এবং এখন সংখলার পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করছেন—এমন একজন রোহিঙ্গা এই প্রতিবেদককে বলেন, চার-পাঁচজন লোক দিয়ে চার-পাঁচ শ লোককে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ নয়। এ জন্য প্রত্যেক নৌকায় শুরুতেই এক-দুজনকে হত্যা করে সবার মধ্যে আতঙ্ক ধরিয়ে দেওয়া হয়।
একেকটি নৌকায় বিভিন্ন চক্রের পাঠানো মানুষ থাকে। নৌকায় সংশ্লিষ্ট চক্রের একজন করে প্রতিনিধি থাকে। তারা নৌকায় তুলেই এক দফা নির্যাতন করে এসব মানুষকে দিয়ে দেশে স্বজনদের ফোন করায় এবং টাকা দাবি করে।
তৃতীয় ধাপ: নৌকা পূর্ণ হওয়ার পর সেটি যাত্রা শুরু করে। টানা সাত দিন, সাত রাত চলার পর থাইল্যান্ডের উপকূলে পৌঁছায়। সেখানে আন্তর্জাতিক জলসীমায় থামে। এরপর ছোট নৌকায় করে স্থলভূমিতে তোলা হয়।
থাই উপকূলে বড় জাহাজ থেকে এসব মানুষকে বিক্রি করা হয় এখানকার চক্রের কাছে। পাচারকারীদের ভাষায় ‘এজেন্টের’ কাছে। এজেন্টরা জনপ্রতি ১৫ হাজার বাথ পরিশোধ করে বড় নৌকাকে।
এই এজেন্টদের ব্যবস্থাপনায় সবাইকে স্থলভাগে তোলা হয়। বেশির ভাগ সময় দক্ষিণ থাইল্যান্ডের সংখলার রাত্তফুম, সতুন, রেনং ও ফুকেটের পাঙ্না উপকূলের পাহাড় বা জঙ্গল এলাকা দিয়ে পাচার করা মানুষদের তোলা হয়। এর বাইরে রেইয়ং উপকূলও পাচারকারী চক্র রুট হিসেবে ব্যবহার করেছে, তবে সেটা অনেক কম।
এর মধ্যে ছোট নৌকায় যদি সতুন উপকূলে তোলা হয়, তারপর দুই ঘণ্টা হেঁটে রাস্তা পাওয়া যায়। সেখানে পিকআপ ভ্যান থাকে। তাতে করে মানুষগুলোকে নেওয়া হয় কোয়ানডন নামক সংখলা প্রদেশের পাহাড়ি এলাকায়। এটা দুই ঘণ্টার যাত্রা। এরপর এক দিন এক রাত হাঁটিয়ে নেওয়া হয় মালয়েশিয়ার সীমান্তের খুব কাছে বাদাম বেসার জঙ্গলে পাচারকারীদের ক্যাম্পে।
রাত্তাফুম দিয়ে তুললে গাড়িতে প্রায় চার ঘণ্টার যাত্রায় পৌঁছানো হয় কোয়ানডন জঙ্গলে। এরপর এক দিন এক রাত হাঁটা পথ।
রেনং উপকূলে উঠলে দুই থেকে চার ঘণ্টা হাঁটতে হয়। তারপর রাস্তা মেলে। সেখানে আগে থেকে গাড়ি থাকে। ওই সব গাড়িতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা চলার পর বাদাম বেসার পৌঁছায়। সড়কপথে পুরো পথ এসব লোককে পিকআপ ভ্যানের পেছনে শুইয়ে রাখা হয়। আর পাঙ্না নামলে প্রথমে সাগর তীর থেকে দুই থেকে চার ঘণ্টা হাঁটতে হয়। তারপর গাড়িতে আট ঘণ্টা চড়ে বাদাম বেসার।
চতুর্থ ধাপ: এজেন্টরা বড় নৌকা থেকে এসব মানুষকে এনে বাদাম বেসার জঙ্গল ক্যাম্পে জনপ্রতি ২৩ হাজার বাথ (এক বাথ বাংলাদেশি প্রায় আড়াই টাকা) বিক্রি করে। এখানে যারা ক্রেতা, এরাই মূল চক্র। পাচারকারীদের ভাষায় ‘মাফিয়া’। মাফিয়ার সংখ্যা বেশি নয়। এরা বাংলাদেশ, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের। এই মাফিয়ারাই মিলেমিশে বড় নৌকা ভাড়া করে পাঠায়। তাদের অধীন মাঝারি, ছোট ও মাঠপর্যায়ের দালালেরা চারটি পর্যায়ে কাজ করে।
জঙ্গলে স্থাপন করা ক্যাম্পের ব্যবস্থাপনা আলাদা। ক্যাম্পে রাখার জন্য দিতে হয় জনপ্রতি ১০ হাজার বাথ। এ টাকায় থাকা, পাহারা, খাবার দেওয়া ও মালয়েশিয়া সীমান্ত পার করে ক্যাম্প পরিচালনাকারীরা। একজন ব্যক্তি এক দিন থাকুক আর এক বছর থাকুক ভাড়া ১০ হাজার বাথ।
একেকটি ক্যাম্পে কয়েকজন মাফিয়ার কেনা মানুষ থাকে। সঙ্গে প্রত্যেক মাফিয়ার একজন বা দুজন প্রতিনিধি থাকে। এদের কাজ হলো নির্যাতন করে ফোনে স্বজনদের সঙ্গে কথা বলিয়ে মুক্তিপণ আদায় করা।
এর মধ্যে মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের কাছ থেকে ন্যূনতম ৬০ হাজার বাথ সমপরিমাণ আর বাংলাদেশিদের কাছ থেকে ২ লাখ ২০ হাজার থেকে ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা পর্যন্ত আদায় করে। এ ক্ষেত্রে মাফিয়াদের প্রতিনিধিরা কেনা মানুষদের মারধর করে। টাকা না দেওয়া পর্যন্ত মুক্তি নেই।
কেউ মরলেও দালালের লোকসান নেই: পুলিশের সোর্স ও বাদাম বেসারের বাসিন্দা পাচারকারী চক্রের সাবেক ওই সদস্য বললেন, ক্যাম্প থেকে কেউ পালালে বা পুলিশের হাতে আটক হলে লোকসান হয়। কিন্তু মারা গেলে লোকসান নেই। কারণ, কেউ মারা গেলে ওই ব্যক্তি বাবদ ক্যাম্পের ভাড়া দিতে হবে না।
এ কারণে আমৃত্যু জঙ্গল ক্যাম্পে রাখা হয়। তবে জঙ্গল ক্যাম্প সব সময় এক জায়গায় থাকে না। মাঝে মাঝে সরানো হয়। অনেকটা ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্প। ক্যাম্পগুলো মূলত মোটা পলিথিনের চাল আর খুঁটি দিয়ে চারপাশে কাঠ বা বাঁশ দিয়ে খুপরির মতো তৈরি। কোনো কোনো ক্যাম্পে শুধু পলিথিনের চাল দেওয়া। ক্যাম্পে একই ব্যক্তিদের সব সময় একসঙ্গে রাখা হয় না। বিভিন্ন ক্যাম্পে অদলবদল করা হয়। নারীদের রাখা হয় পৃথক ক্যাম্পে।
এসব ক্যাম্পে নির্যাতনে কিংবা অনাহার-অর্ধাহারে অনেকে মারা যান। অনেকে হাঁটতে পারেন না। তাঁদের এক ক্যাম্প থেকে আরেক ক্যাম্পে লুঙ্গিতে বসিয়ে চার কোনায় চারজন ধরে বহন করা হয়। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের ব্যাংকক কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, তাঁরা এমন অনেককে পেয়েছেন, যাঁরা হাঁটতে পারেন না। এরা মূলত ভিটামিন বি-এর অভাবে বেরি বেরি রোগে আক্রান্ত হয়ে এ দশা হয়েছে। অনেকে মারা গেছেন জ্বরে।
কথা হয় সংখলার বন্দিশালায় থাকা কিশোরগঞ্জের সবুজ নামে এক যুবকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ক্যাম্পে খাবার বলতে দুই বেলা পলিথিনে দুই মুঠো সাদা ভাত ও শসা। সঙ্গে বড়জোর মরিচ। সারা দিনে দুই বেলা এক গ্লাস পরিমাণে পানি দেওয়া হয়। হাত ধোয়া, মুখ ধোয়া, কুলি করার সুযোগ নেই। শৌচকর্মের জন্য জঙ্গলে এক জায়গায় গর্ত করে প্লাস্টিক দিয়ে ঘেরা দেওয়া। মাটির ঢিলা হচ্ছে পরিষ্কার হওয়ার সম্বল। আর মারধর তো আছেই। রাত হলে মেয়েদের ক্যাম্প থেকে চিৎকার শোনা যেত।
সবুজ বলেন, ‘মুখে বলে বোঝাতে পারব নারে ভাই, এটা একটা দোজখ, দুনিয়ার দোজখখানা।’
চার ধাপেই পৃথক ব্যবস্থাপনা: বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দালালের মাধ্যমে লোক সংগ্রহ থেকে শুরু করে চার ধাপে মানুষ কেনাবেচা, জলে-স্থলে পরিবহন, মালয়েশিয়ায় পাঠানো—সবই পৃথক ব্যবস্থাপনায় হলেও সব পর্যায়ে মাফিয়াদের অংশীদারি আছে। সব পর্যায়ের লাভের টাকার ভাগ তাদের কাছে আসে। যেমন জঙ্গল ক্যাম্প পরিচালনা করে থাই মাফিয়ারা, তাদের সঙ্গে ক্যাম্পে অংশীদারি আছে বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের মাফিয়াদের। আবার বড় নৌকা ভাড়া করা, থাইল্যান্ডের উপকূলে এনে ছোট নৌকায় বিক্রি—সব ক্ষেত্রেই সবার অংশীদারি আছে। উদ্ধার হওয়া আরাকানের লোকদের ত্রাণ সাহায্যে নিয়োজিত রোহিঙ্গা সোসাইটি ইন থাইল্যান্ডের সভাপতি মো. আনোয়ারের মতে, অনেকটা গ্রুপ অব কোম্পানিজের মতো চলছে এ নেটওয়ার্ক।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রোহিঙ্গা সঙ্কট বিচ্ছিন্ন কোন ট্র্যাজেডি নয় by তাহমিমা আনাম
আমরা সবাই এসব শরণার্থীর ছবি দেখেছি। নৌকাগুলোতে তাদের কঙ্কালসার শরীরের চিত্র দেখেছি। তাদের শরীরের ক্ষতচিহ্ন আমরা দেখেছি, যেগুলো তারা খাবার পানির সঙ্কট নিয়ে লড়াইয়ে জড়িয়ে অর্জন করেছে। সাগরে তাদের পরিত্যাগ করা আর একের পর এক দেশ তাদের প্রত্যাখ্যান করার হৃদয়বিদারক গল্প আমরা পড়েছি।
ধারণা করা হয় ৮ হাজারের মতো শরণার্থী বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যবর্তী সমুদ্রে ভেসে বেড়াচ্ছেন। এদের বেশির ভাগই মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের। সেখানে তারা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়েরর সদস্য হিসেবে নাগরিকত্বের মৌলিক অধিকার প্রত্যাখ্যাত। বাকিরা অর্থনৈতিক কারণে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া অভিবাসী।
রোহিঙ্গা শরণার্থীরা প্রথম যখন বাংলাদেশে আসা শুরু করে সে সময়ের কথা আমার মনে আছে। এটা ছিল ১৯৮২ সাল। মিয়ানমারে একটি আইনের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের অধিকার হরণ নেয়ার পরের ঘটনা। ওই আইন দেশটির ১৩৫টি ‘জাতীয় জনগোষ্ঠীর’ একটি হিসেবে রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। রাষ্ট্র আরোপিত দমন-পীড়নের মুখোমুখি হয়ে তারা পালিয়ে সীমান্ত পেরুনো শুরু করে।
এর পরের বছরগুলোতে, তাদেরকে নিজেদের ভূমি থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা একচেটিয়া কর এবং জোরপূর্বক শ্রমের শিকার হয়েছে। এছাড়া অনুমোদন ছাড়া সফর বা বিয়ে করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এমনকি দু’সন্তানের বেশি হওয়াটাও তাদের জন্য অবৈধ। নির্মম বিড়ম্বনার বিষয় হলো মিয়ানমার সরকার এখন রোহিঙ্গাদের ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ বলা শুরু করেছে, যদিও তাদের কয়েক প্রজন্ম দেশটিতে বাস করে আসছে।
বাংলাদেশে এখন নিবন্ধিত ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছে। কিন্তু ইউএনএইচসিআর-এর অনুমান, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যকার সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোতে আরও ২ লাখের মতো বসবাস করছে। বাংলাদেশ সম্পদের সীমাবদ্ধতার অজুহাত/যুক্তি দেখিয়েছে। বলেছে, দরিদ্র দেশ হিসেবে আমাদের শরণার্থীদের ঢল মোকাবিলা করার মতো ব্যবস্থা নেই। কিন্তু আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সহায়তা করতে অনেক কিছু করতে পারি।
সবচেয়ে ন্যক্কারজনক হলো, পশ্চিমা দেশগুলো অং সান সু চির প্রতি এতটাই অনুগত হয়ে পড়েছেন যে, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের এমন পরিণতির সময়ে তার লজ্জাজনক অবস্থান পর্যন্ত তারা অবজ্ঞা করে যাচ্ছে। মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ এমন কোন অনুষ্ঠানে যোগ দেবে না, যেখানে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি থাকবে। মালয়েশিয়া ও থাই কর্তৃপক্ষ আর কোন শরণার্থী গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এতে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মানুষের যে অভিন্ন একটি পরিচয় আছে তার প্রতি কোন তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।
কিন্তু বাংলাদেশ বা বার্মা, অথবা উদ্ধারকারী জাহাজ পাঠাতে অস্বীকৃতি জানানো দেশগুলোকে দায় চাপানোর মাধ্যমে আমরা এতটুকুই যেতে পারি। রোহিঙ্গাদের অবস্থার উন্নতির একমাত্র উপায় হচ্ছে, এ অঞ্চলের সকল দেশের ওপর সমন্বিত আন্তর্জাতিক ও বহুপাক্ষিক চাপ দেয়া। অভিবাসীদের বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর দৃষ্টিপাতের সময় এসেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে বর্তমানে বিশ্বে যে কোন সময়ের চেয়েও বাস্তুহীনদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। নিপীড়ন, দারিদ্র্যতা ও সংঘর্ষের ফলে মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আশ্রয়ের খোঁজে নিজের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলছে তারা। রোহিঙ্গারা বলছে, বার্মায় নিশ্চিত মৃত্যুর অপেক্ষায় থাকার বদলে, তারা বরং মানব পাচারকারীদের সঙ্গে গিয়ে সুযোগ নেবে। প্রায় ২৫ হাজার রোহিঙ্গা এ বছর সাগর পাড়ি দিয়েছে।
সত্য হচ্ছেÑ আমরা অভিবাসনের যুগে প্রবেশ করছি। তাই আমাদের অবশ্যই সমতা ও নৈতিকতার বোধ ঠিক করতে হবে। সে অনুযায়ী ঠিক করতে হবে আমাদের জাতীয় সীমান্তের ধারণাকেও। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে আমাদের ওপর শরণার্থী সঙ্কট সৃষ্টি হতে যাচ্ছে। যেটি মানব-ইতিহাসে অভূতপূর্ব। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের রাজধানী শহরে প্রতিমাসে ৫০ হাজার মানুষ প্রবেশ করে। কেননা, বৃদ্ধি পেতে থাকা সাগরের উচ্চতা তাদের গ্রামগুলোকে বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে। তাদের চাষের জমিকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
আমাদের সমষ্টিগত ভবিষ্যতের হালকা ঝলক দেখার সুযোগ করে দিয়েছে ভাসমান শরণার্থীরা। ভবিষ্যতে, বাংলাদেশের মতো দুর্ভাগা দেশগুলো হবে হয়তো প্রথম ভিকটিম। কিন্তু দ্রুতই ধনবান দেশগুলোও চরম আবহাওয়াগত অবস্থা ও ক্রমবর্ধমান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতার কারণে ভুগতে শুরু করবে। আমরা এখনও জানি না, ঠিক কীভাবে জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের প্রতিটি দেশকে আঘাত করবে। এ অনিশ্চয়তা বিবেচনায়, পার¯পরিক স¤পদ নিয়ে আমাদের উচিত আগ্রাসী প্রচেষ্টা নেয়া।
আমি হয়তো এমন একটি ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখতে পারি। কিন্তু আমি জানি এটা সহজে আসবে না। আমরা হয়তো অভিবাসীদের প্রতি আচরণে সুদূরপ্রসারী ও বহুজাতিক পরিবর্তন আনবো। কিন্তু তার আগেই নৌকায় ভাসমান হাজার হাজার মানুষকে নিজেদের প্রাণ হারাতে হবে।
আমাদের ওপর যা আঘাত হানতে যাচ্ছে, তার ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতি অত্যন্ত কম। আমাদের কোন রাজনৈতিক স্বদিচ্ছা নেই। নেই নৈতিক সাহস। ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় একটি সামগ্রিক বোধও নেই আমাদের। ওই মানুষদের ছবিগুলোকে আমাদের প্রতি যুদ্ধে যাওয়ার আহ্বান হতে দিন।
(তাহমিমা আনাম বাংলাদেশী লেখিকা, উপন্যাসিক ও কলামনিস্ট। তার প্রথম উপন্যাস ‘এ গোল্ডেন এইজ’ প্রকাশিত হয় ২০০৭ সালে)
(১৯শে মে অনলাইন দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভিআইপিদের কাশিমপুর জীবন by ইকবাল আহমদ সরকার
কাশিমপুর কারাগারে বন্দি বিএনপি নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অধ্যাপক এম এ মান্নান, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও আবদুস সালাম পিন্টু। তাদের মধ্যে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং লুৎফুজ্জামান বাবর ডিভিশন সুবিধা হারিয়েছেন। কাশিমপুর কারাগারেই বন্দি আছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এখনও তিনি অসুস্থ বলে জানা গেছে। আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও সাবেক জ্বালানি উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুর রহিম, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, বহুল আলোচিত ব্যবসায়ী গিয়াসউদ্দিন আল মামুনও রয়েছেন কাশিমপুর কারাগারে।
জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, মাওলানা আবদুস সুবহান, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, এ টি এম আজহারুল ইসলাম এবং নির্বাহী পরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলী রয়েছেন কারাগারে। তারা রয়েছেন কাশিমপুর কারাগারের পার্ট-১, পার্ট-২ এবং হাইসিকিউরিটি কারাগারে। কেউ আছেন ভিআইপি সেলে, কেউ আছেন সাধারণ সেলে। মৃত্যুদণ্ডের রায়প্রাপ্তরা আছেন কারাগারের কনডেম সেলে।
কাশিমপুর কারাগারের পার্ট-২-এ থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে গত সপ্তাহে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে আবারও আনা হয় কাশিমপুর কারাগারে। তার শারীরিক অবস্থা নিয়ে আশঙ্কায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। এক বছরের বেশি সময় ধরে কাশিমপুর কারাগারের পার্ট-১-এ থাকা ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন সম্প্রতি মাথা ঘুরে পড়ে যান। হার্টের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিসসহ বেশ কয়েকটি রোগে আক্রান্ত তিনি। তার ছেলে ড. খন্দকার মারুফ মানবজমিনকে বলেন, মাথা ঘুরে পড়ে গেলেও তার কোন ধরনের জখম বা ক্ষতি হয়নি। তার অসুস্থতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে ওষুধপত্র নিয়মিত সরবরাহ করা হয়। তবে অন্যসব জটিল রোগের জন্য হাসপাতালে রেখে উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র অধ্যাপক এম এ মান্নান কাশিমপুর কারাগারে আছেন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়। তার পারিবারিক সূত্র জানায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যাসহ নানা রোগে ভুগছিলেন। কারাগারে শারীরিক অবস্থার খুবই অবনতি হলে গত মাসে তাকে ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠায় কারা কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা দিয়ে আবারও আনা হয় কাশিমপুরে। আবার অসুস্থ অবস্থায়ই নেয়া হয় রিমান্ডে। তার স্বজনদের দাবি, কারাগারে খাওয়া-দাওয়া ও ওষুধ সেবনের অনিয়মের কারণে তিনি আরও মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে তাকে প্রতিদিন চারবার ইনসুলিন গ্রহণ করতে হয়। ফুলে গেছে তার দুই পা। চারদলীয় জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা-মামলার আসামি হয়ে ও ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে বন্দি আছেন কাশিমপুর কারাগারে। দীর্ঘদিন থেকে নানা ধরনের জটিল রোগে আক্রান্ত তিনি। কাশিমপুর পার্ট-১-এ বন্দি গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপসহ নানা রোগে আক্রান্ত। কয়েক দফা রিমান্ডের পর কাশিমপুর কারাগারে থাকা সাবেক ছাত্রনেতা বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে চিকিৎসা দেয়া হয় কারা হাসপাতালে। শারীরিক অবস্থা ভাল নেই মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডাদেশপ্রাপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর। তাকেও একাধিকবার হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেয়া হয়। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় কারাগারে আটক থাকা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সালাম পিন্টুও শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে জানা গেছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যৌথবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়া এবং পরে চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, অর্থপাচার, কর ফাঁকিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ২০টিরও বেশি মামলার আসামি গিয়াসউদ্দিন আল মামুনও নানা রোগে আক্রান্ত।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে সড়ক নিজেই সরব by এ কে এম ফয়সাল
![]() |
| পিরোজপুর জেলার চরখালী–মঠবািড়য়া–পাথরঘাটা সড়কের তুষখালী গুচ্ছগ্রাম এলাকার চিত্র l ছবি: প্রথম আলো |
খানাখন্দে বেহাল এই সড়ক দিয়েই চলছে দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাকসহ ছোট-বড় সব যানবাহন। একমাত্র সড়ক হওয়ায় সীমাহীন ভোগান্তি সহ্য করে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়েই মানুষকে চলাচল করতে হচ্ছে। ঘটছে দুর্ঘটনাও।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া ও বরগুনার পাথরঘাটার সঙ্গে ঢাকাসহ সব বিভাগীয় শহরের যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। চরখালী-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা নামের এই সড়কটির দৈর্ঘ্য ৫৯ কিলোমিটার। কিন্তু প্রশস্ত মাত্র ১২ ফুট। পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ার চরখালী থেকে মঠবাড়িয়া হয়ে পাথরঘাটা পর্যন্ত সড়কটিকে আরও প্রশস্ত করে আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের।
সে দাবি পূরণ হয়নি। উল্টো সংস্কার না হওয়ায় আসন্ন বর্ষা মৌসুমে সড়কের অবস্থা কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কায় তাঁরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের মঠবাড়িয়া উপজেলার গুদিঘাটা থেকে ঝাউতলা বাজার পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার অংশে পিচ-খোয়া উঠে গেছে, পদে পদে খানাখন্দ। তুষখালীর গুচ্ছগ্রাম অংশে দেখা গেল সড়কের কেবল মাঝখানে পিচের একটি ধারা অবশিষ্ট আছে। সেই অংশ দিয়ে কোনোমতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা হোঁচট খেয়ে খেয়ে চলছে।
নথিপত্রের হিসাবে, সড়কটির পিরোজপুর অংশের ২৯ কিলোমিটার ও পাথরঘাটা অংশের ৩০ কিলোমিটার গত এক যুগে কয়েকবার সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের পর কয়েক মাস যানবাহন চলাচলের উপযোগী থাকে। কিন্তু বর্ষা এলেই যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে এটি।
ঢাকা থেকে পাথরঘাটাগামী রুমিন পরিবহনের বাসচালক আসাদুজ্জামান জানান, সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের দূরপাল্লার বাস, পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের (বিএফডিসি) মাছবাহী ট্রাক, সবজিবাহী ট্রাকসহ স্থানীয় কয়েক শ যানবাহন চলে। গর্তে পড়ে গাড়ির যন্ত্রাংশ ভেঙে যায়। দুর্ঘটনাও ঘটে।
সওজের পিরোজপুর কার্যালয়ের উপসহকারী প্রকৌশলী মতিউর রহমান বলেন, মঠবাড়িয়ার সিঅ্যান্ডবি থেকে ঝাউতলা পর্যন্ত¯২৮ কিলোমিটার সড়ক মাত্র ১২ ফুট চওড়া হওয়ায় একটি গাড়ি আরেকটি গাড়িকে পাশ কাটাতে গেলে সড়কের ঢালে নেমে যেতে হয়। এ কারণে সড়কের দুই পাশ ভেঙে গর্তের সৃষ্টি হয়। এ ছাড়া গাড়ি পাশ কাটানোর সময় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চরখালী থেকে মাদার্শী পর্যন্ত¯সড়কে ইটের খোয়া ফেলা হয়েছে। সেই খোয়াও যানবাহনের চাকার ঘর্ষণে চুরমার। সড়ক দিয়ে বাস ও মোটরসাইকেল চলার সময় ওড়া ধুলা যাত্রী ও পথচারীদের জন্য বাড়তি দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
পিরোজপুরের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, সড়কটির চরখালী থেকে মাদার্শী পর্যন্ত সাত কিলোমিটার অংশ সংস্কারের জন্য গত বছরের ৪ ডিসেম্বর ডন রেবিস জেবী ও মাসুদ খান নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রায়োরিটি মেইনটেন্যান্স প্রোগ্রামের (পিএমপি) আওতায় এই সাত কিলোমিটারসহ জেলার বিভিন্ন সড়কের মোট ৩২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কারের জন্য প্রতিষ্ঠান দুটিকে ১৩ কোটি টাকার এ কাজ দেওয়া হয়। ছয় মাসে (জুন) কাজ শেষ করার কথা।
স্থানীয় লোকজন জানান, ঠিকাদার কয়েক মাস আগে কিছু খোয়া ফেলেছেন। যানবাহনের চাপে সেই খোয়া ভেঙে যাচ্ছে। বর্ষার আগে সংস্কারকাজ শেষ না হলে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।
দেখা গেল, সড়কের ঝাউতলা থেকে গুদিঘাটা পর্যন্ত অসংখ্য গর্ত। ঝাউতলা থেকে গুলিসাখালী পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার অংশের বেশির ভাগে সড়কের দুই পাশে (শোল্ডার) মাটি নেই। সড়কের সিঅ্যান্ডবি, দক্ষিণ গুলিসাখালী, বহেড়াতলা ও গুদিঘাটা সেতুও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব সেতুর ভেঙে যাওয়া পাটাতনের প্লেটগুলো জোড়াতালি দেওয়া রয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের দাবি, মঠবাড়িয়া থেকে চরখালী পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার সড়ক দুই বছর ধরেই বেহাল। এ কারণে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে।
চলতি বছরের এপ্রিলে শাহজাহান আলী কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে গুদিঘাটা থেকে ঝাউতলা পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার ৭০০ মিটার অংশ চার মাসের মধ্যে সংস্কারের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। এটিও পিএমপির আওতায়। এটি আড়াই কোটি টাকার কাজ। তবে কাজ এখনো শুরু হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহজাহান আলী কনস্ট্রাকশনের কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান বলেন, শিগগিরই কাজ শুরু হবে।
সওজের পিরোজপুরের কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলে রাব্বে বলেন, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের মৌখিক তাগাদাও দেওয়া হচ্ছে।
মঠবাড়িয়া পৌর বাজারের ব্যবসায়ী এম এ আউয়াল বলেন, পণ্য পরিবহনে ব্যবসায়ীরা এ সড়কের ওপর নির্ভরশীল। সড়ক বেহাল হওয়ায় পণ্য পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। মঠবাড়িয়া কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী মো. জামাল বলেন, তাঁরা প্রতিদিন যশোর, খুলনা থেকে সবজি এনে বিক্রি করেন। সড়কের কারণে ট্রাকভাড়া বেশি বলে সবজির দামও বেশি রাখতে হয়।
মঠবাড়িয়া পৌর শহরের সবুজ নগর গ্রামের বাসিন্দা ও আইনজীবী সোহেল খান, শিক্ষার্থী সানজিদা জেবিনসহ কয়েকজন বললেন, তাঁদের কাছে এটি ‘প্রতিশ্রুতির সড়ক’। কারণ, ২০০১ সাল থেকে বিভিন্ন সময়ে সরকারপ্রধানসহ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সড়কটি আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এলাকার সাংসদেরাও বিষয়টি সংসদে তুলেছেন। মঠবাড়িয়ায় ২০০৭ সালে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। তবে দাবি পূরণ হয়নি।
নির্বাহী প্রকৌশলী ফজলে রাব্বে প্রথম আলোকে জানান, সড়কটিকে ১৮ ফুট প্রশস্ত ও আঞ্চলিক মহাসড়কে উন্নীত করার একটি প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো সাড়া মেলেনি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আমরা সমরাস্ত্রও রপ্তানি করবো
সাধারণ মানুষও যেন সুফল পায়: ব্যবসায়ীদের জন্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিতের আশ্বাস দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এর সুফল যাতে সাধারণ মানুষও পায় সেদিকে লক্ষ্য রেখে কাজ করতে হবে। ভারতের পার্লামেন্টে ‘সীমান্ত বিল’ পাসে ছিটমহল বিনিময়ের বাধা কাটায় বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে। তার জন্য সকল সুযোগ আমরা সৃষ্টি করে দেব। কিন্তু এর সুফলটা একাই ভোগ করবেন না, সাধারণ মানুষ যেন ভোগ করতে পারে- সেদিকে একটু বিশেষভাবে দেখবেন। দেশের স্বার্থের কথা চিন্তা করে ব্যবসায়ীদের কাজ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, আমি এতটুকু বলবো- দেশের কথা চিন্তা করেই সকলে যেন ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। কে কতো বেশি লাভ করলেন সেটা বড় কথা না। দেশের জন্য কতটুকু করতে পারলেন, সেটাই বড় কথা। এই দিকে একটু তাকাতে হবে। গতকাল বিকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠানে নতুন বাজেটে ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন প্রণোদনা দেয়ার ইঙ্গিত দিয়ে সরকার প্রধান বলেন, আমরা আরও কিছু প্রণোদনা দেব। সেটা আমরা এখন বলব না। আমরা চার তারিখে বাজেট দেব। বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলবেন। ভারতের পার্লামেন্টে সীমান্ত বিল পাস হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সমস্যার সমাধান করেছি। এখন আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সমপ্রসারণ করা এবং একটা সম্পর্ক গড়ে তোলা এমনভাবে যেন একটা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সেটা যেন নিশ্চিত হয়। সেই সঙ্গে আমরা প্রত্যেকেই স্বাধীন দেশ। ছোট-বড় সেটা বড় কথা নয়। স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ আমাদের। সেই স্বাধীন-সার্বভৌম দেশ হিসাবে সমমর্যাদা নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বক্তব্য রাখেন। শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ। সংগঠনের সহসভাপতি মনোয়ারা হাকিম আলী ও মো. হেলালউদ্দিনও মঞ্চে ছিলেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, ঢাকার দুই মেয়র এবং এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতিসহ বিভিন্ন চেম্বারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মাকড়সা বৃষ্টি!
![]() |
| অস্ট্রেলিয়ার গুলবার্নের আকাশ থেকে ঝরছে কোটি কোটি মাকড়সার বাচ্চা। ছবি: অস্ট্রেলিয়ার ডেইলি স্টারের সৌজন্যে |
দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাকড়সা বৃষ্টির কারণে গুলবার্নের বাসিন্দারা বিস্মিত হলেও বিজ্ঞানীরা অতটা বিস্মিত নন। কারণ, তাঁরা বলছেন, এই মাকড়সা বৃষ্টি আগেও দেখা গেছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ব্রাজিল ও অস্ট্রেলিয়ার ওয়াগা ওয়াগা শহরেও এই মাকড়সা বৃষ্টি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
![]() |
| ২০১২ সালের মার্চ মাসে অস্ট্রেলিয়ার ওয়াগা ওয়াগা শহরে মাকড়সা বৃষ্টি হয়। সে সময় চারদিক ছেয়ে যায় মাকড়সার জালে। ছবি: ন্যাশনাল জিওগ্রাফির সৌজন্যে |
অস্ট্রেলিয়ার জাদুঘরের প্রকৃতিবিজ্ঞানী মার্টিন রবিনসন বলেন, এটাকে বেলুনিং বলে। ডিম পাড়ার আগে মাকড়সা সূক্ষ্ম রেশমের মতো কিছু একটা তৈরি করে। আর এর ভেতরেই থাকে ডিম। এই রেশমের মতো বস্তুটি দিয়ে তারা উড়ে উড়ে বহুদূর যেতে পারে। এ জন্য তাদের আট পায়ে হাঁটার দরকার হয় না। আর উড়ে যাওয়ার সময় ডিম ফুটে কোটি কোটি বাচ্চা বের হয়। শূন্য থেকে সেই বাচ্চাগুলো নামতে থাকে বলে তা মাকড়সা বৃষ্টির মতো মনে হয়। এটা সব সময় হয় না। আর এই মাকড়সা বৃষ্টি মানুষের জন্য ক্ষতিকরও নয়।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বেতনের ১০০% বিপদ বোনাস by কাসাফাদ্দৌজা নোমান
: আরে, হয়েছে কী!
: বাবা, এবার কিন্তু আমাকে গিটারটা কিনে দিতেই হবে। বেতন বেড়েছে। এবার আর ‘না’ করতে পারবে না কিন্তু!
আজ রহিম সাহেবের মন ভালো। ভেবে দেখলেন, ছেলেটা শখ করেছে, একটা গিটার কিনে দেওয়াই যায়। কিন্তু ঝামেলা বেধে গেল সেই খবরটা তাঁর মেয়ের কানে যাওয়ায়। মেয়েও এবার বায়না ধরল। ভাইকে যদি গিটার কিনে দেওয়া হয়, তাহলে সে–ও একটা ট্যাবের দাবিদার। এই অধিকার থেকে তাকে কেউ বঞ্চিত করতে পারবে না। অতএব রহিম সাহেব কন্যাকে ট্যাব কিনে দেওয়ার কথাও দিয়ে দিলেন।
পরদিন সকালে রহিম সাহেবের ঘুম ভাঙল বড় ছেলের ডাকে। বেতন বেড়েছে, সে–ও কিছু চায়। তবে তার চাওয়া অন্যদের মতো নয়। সে চায় একটু সিঙ্গাপুর ঘুরে আসতে। ঘুমের ঘোরে সে ব্যাপারেও তিনি কথা দিয়ে ফেললেন। অফিসের জন্য বের হবেন, বুয়া এসে হাজির, ‘খালুজান, যদি কিছু টাকা দিতেন এই মাসে উপকার হইত। শুনছি, আফনের বেতন বাড়ছে।’ রহিম সাহেব কিছু না বলে বেরিয়ে গেলেন। দারোয়ান লম্বা একটা সালাম দিয়ে বলল, ‘স্যার, দ্যাশে যামু, যদি কিছু ট্যাকা দিতেন।’
‘পরে দেখা যাবে’ বলে বাসা থেকে বেরিয়ে রহিম সাহেব দুটো ফেরিওয়ালাকে দেখলেন। সবজি আর মাছ বিক্রি করছে। সবুজ সবজি স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তা ছাড়া মাছগুলোও দেখতে বেশ তাজা লাগছে। তাই মাছওয়ালাকে হাতের ইশারায় কাছে ডাকলেন।
: রুই মাছ কত?
: কেজি ২৮০ টাকা।
: গতকালই তো ২৫০ ছিল!
: হ, আছিল। আইজকা তো আপনাগো বেতন বাড়ছে। আইজকা থেইকা বাড়তি।
রহিম সাহেব মাছ না কিনে সবজি দাম করতে শুরু করলেন। সেখানেও বেতন বাড়া উপলক্ষে দাম বাড়তি। রেগেমেগে রিকশা ডাকলেন তিনি, ‘কারওয়ান বাজার যাবে?’
: যামু।
: কত?
: ৫০ টাকা।
: ৩০ টাকার ভাড়া ৫০ টাকা চাও কেন?
: শুনছি, আইজকা থেইকা আপনাগো বেতন বাড়ছে। আমগোরে না দিলে খামু ক্যামনে?
রহিম সাহেব রিকশায় উঠলেন না। গতকাল ৪৫০ টাকা দিয়ে যে মিষ্টি কিনেছিলেন সেটা আপাতত তঁার কাছে অপচয় মনে হচ্ছে। সমস্ত রাগ উঠছে সরকারের ওপর। বেতন বাড়াও ভালো কথা, সেটা আবার ঢোল পিটিয়ে জানানোর কী দরকার! রাগ কমাতে চায়ের অর্ডার দিলেন রহিম সাহেব। খুব মন দিয়ে চা পান করলেন। এই একটা জায়গা আছে, যেখানে দাম খুব সহজে বাড়ে না। এসব ভাবতে ভাবতে চা শেষে পকেট থেকে পাঁচ টাকা বের করে চায়ের বিল দিতেই দোকানদার দাঁত বের করে হেসে দিল, ‘মামা, আরও দুই টাকা।’
: কেন?
: বেতন বাড়ছে, আমগোরে ঠকায়া লাভ আছে?
বেঁচে থাকার সমস্ত ইচ্ছা চলে গেল রহিম সাহেবের। দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেন, এই পৃথিবীতে আর বেঁচে থাকবেন না। বিষ খেয়ে মরে যাবেন। এক্ষুনি! দোকানে গিয়ে ইঁদুর মারার বিষ চাইলেন।
: কত দাম?
: ১০০ টাকা, একদম নির্ভেজাল বিষ!
: গায়ে তো লেখা ৫০ টাকা!
: আগের লেখা তো। সরকার বেতন বাড়াইছে তাই ২০ টাকা বাড়তি!
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1337)
- ► 2025 (3280)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
-
▼
2015
(11541)
-
▼
May
(1015)
-
▼
May 22
(48)
- তিনি বেঁচে আছেন, এটাই যথেষ্ট! by আসিফ নজরুল
- মাহাথির মডেল এবং উন্নয়নের গণতন্ত্র by রুশাদ ফরিদী
- পেশাজীবী সংগঠনে নির্বাচন জটিলতা by আলী রীয়াজ
- দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ: ধূসর ইতিহাস ভুলতে চায় জার্মানি...
- নিউইয়র্কে বইমেলা by হাসান ফেরদৌস
- বুকার পেলেন লাসলো
- মোদিকে কেজরিওয়ালের অভিযোগ ভরা চিঠি
- জোর করে কিশোরী বিয়ে করলেন চেচনিয়ার পুলিশপ্রধান!
- সালাহ উদ্দিন যে কারণে শিলংয়ে গিয়েছিলেন by শাত শামীম
- করপোরেশনের গোপন ক্ষমতা দখল by জোসেফ ই স্টিগলিৎজ
- বিদ্যুৎ-জ্বালানি সাশ্রয়ে পিছিয়ে আমরা by মোহাম্মাদ...
- চার ঘাটে বিক্রি বাংলাদেশিরা by টিপু সুলতান
- রোহিঙ্গা সঙ্কট বিচ্ছিন্ন কোন ট্র্যাজেডি নয় by তাহম...
- ভিআইপিদের কাশিমপুর জীবন by ইকবাল আহমদ সরকার
- যে সড়ক নিজেই সরব by এ কে এম ফয়সাল
- আমরা সমরাস্ত্রও রপ্তানি করবো
- মাকড়সা বৃষ্টি!
- বেতনের ১০০% বিপদ বোনাস by কাসাফাদ্দৌজা নোমান
- প্রতি মিনিটে আয় ৪৭ কোটি টাকা!
- ভবিষ্যতে উচ্চশিক্ষার মাধ্যম হবে অনলাইন by রিয়াদুল...
- ২০০ শব্দের প্রবন্ধ লিখে ৪ লাখ ডলারের বাড়ি ১ ডলারে ...
- সালাহউদ্দিন আহমেদ-এর আইন প্রক্রিয়া অনিশ্চিত হয়ে ...
- শ্যালিকার ডেটিং ফাঁদ দুলাভাই রিমান্ডে by আশরাফুল ই...
- দালালদের ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ -সরজমিন মাদরাসা বোর্ড...
- টিআইবির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করবে ইসি
- হত্যার হুমকিতে আমি ভীত নই -জাফর ইকবাল
- নিয়ম মানে না বিকাশ ১ জনের ৮৭ অ্যাকাউন্ট by হামিদ ব...
- ‘রোহিঙ্গা সংকট সুনামির চেয়েও ভয়াবহ’
- স্ত্রী ছিলেন লাদেনের ‘চোখের মণি’
- বিচ্ছেদের ভয় থেকে খুন, অতঃপর
- বায়তুল মোকাররম মসজিদে ইমামের পদোন্নতি নিয়ে নানা অভ...
- ঢাকা শহর মেয়েদের জন্য কতটা নিরাপদ -বিবিসি
- সহায়তা দেবে যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধারে নাজিব রাজাকের নির...
- সালাহউদ্দিন সেই ছবিটা খুঁজছেন- উন্নত চিকিৎসায় হাসপ...
- দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশা
- চোখের সামনে অজ্ঞান পার্টির ছলাকলা by সামছুর রহমান
- ভারতে সমকামী পুত্রের জন্য পাত্র চেয়ে মায়ের বিজ্ঞাপন
- ফেরত যাচ্ছে জাপানের ঋণ- তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে...
- জনপ্রশাসনে ৬৩ পদে রদবদল
- মুক্তিপণ না দিলে তাঁর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করা হত...
- অপরাধে জড়াচ্ছেন কূটনীতিকরা, উদ্বিগ্ন সরকার
- বিশ্বের সর্ববৃহৎ মন্দির নির্মাণে মুসলিমদের জমি দান
- নিবিড় পরিচর্যায় সালাহউদ্দিন by একেএম মহিম
- ১০ বিশিষ্ট জনকে হুমকির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দ...
- সিলেটে ২০ দিনে ৫ খুন, উদ্বেগ by ওয়েছ খছরু
- কাউন্সিল ঘিরে প্রকাশ্য দ্বন্দ্বে ছাত্রলীগ
- ‘ভালো নেই, দোয়া চাই’ by রাহীদ এজাজ
- মুরসির মৃত্যুদণ্ড দুঃখজনক -সম্পাদকীয় মন্তব্য নিউইয়...
-
▼
May 22
(48)
-
▼
May
(1015)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...


















