Tuesday, January 20, 2015

খালেদার বিচার হবে, সংলাপ নয়: হাসিনা

হরতাল-অবরোধে নাশকতায় প্রাণহানির জন্য বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দায়ী করে তার বিচারের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, “কোনো জাতীয় ইস্যু নয়, ব্যক্তিগত কারণে উনি (খালেদা)  খুন করে যাচ্ছেন। খুনির বিচার যা হওয়া উচিত, সেই বিচার হবে।” একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের সংলাপের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, খুনিদের সঙ্গে কোনো আলোচনা নয়। মঙ্গলবার দশম সংসদের পঞ্চম অধিবেশনে দেয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তার বক্তব্যের আগে সংসদে অনির্ধারিত আলোচনায় আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্যরা নাশকতার অভিযোগে বিএনপির চেয়ারপারসনের বিচারের দাবি তোলেন। শেখ হাসিনা বলেন, “খালেদা জিয়া যা করছে, তা আন্দোলন নয়, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, জঙ্গি কার্যকলাপ। বাংলাদেশে কোনো জঙ্গির স্থান হবে না। জঙ্গি উৎখাত করব। আমরা ধৈর্য ধরে সহনশীলতার সঙ্গে এগুচ্ছি। জনগণের নিরাপত্তা দিতে যা যা করতে হয়, করব।” গণতন্ত্র ‘রক্ষার’ জন্য আন্দোলনের কথা বলে বিএনপির নেত্রী জনগণকে ‘হত্যা’ করছেন্- এমন মন্তব্য করে সংসদ নেতা বলেন,“উনি (খালেদা) মানুষের ওপর জুলুম করছেন। কোনো জুলুম বরদাশত করা যাবে না।” নাশকতাকারীদের প্রতিরোধে জনগণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “যারা মানুষ হত্যা করবে- প্রত্যেক পাড়ায় মহল্লায় সন্ত্রাস-জঙ্গিবিরোধী কমিটি করে শান্তি-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতা করে রুখে দাঁড়ান। যারা জড়িত, ধরিয়ে দিবেন।” প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা বাংলাদেশকে জঙ্গিদের জায়গা করে দিতে পারি না। যেখানে মুসলমান সেখানে কেউ কেউ গোলমাল পাকাচ্ছে। বাংলাদেশের ৯০ ভাগ মানুষ মুসলমান, এখানে সবাই শান্তিপূর্ণভাবে আছে। সংখ্যালঘুরা নিরাপদে আছে। যে যার ধর্ম পালন করছে। এটা অনেকের পছন্দ নয়। অন্তত আমি বেঁচে থাকতে বাংলাদেশকে জঙ্গিবাদী দেশ হতে দেব না। তাতে যা-ই আসুক না কেন।” এর আগে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, “৫ জানুয়ারি নির্বাচন বন্ধে যে নৈরাজ্য করেছে, সে সময় ব্যবস্থা নিলে আজ এ অবস্থা হতো না। এখনো সময় রয়েছে। অবিলম্বে বিএনপিকে জঙ্গি সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করে নিষিদ্ধ করা হোক। অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে গ্রেপ্তার করে রাষ্ট্রদ্রোহ, মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচার করা হোক।” সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, “তার জন্য ১৬ কোটি মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। এ পর্যন্ত ৩০টি মানুষ মারা গেছে। ৩০টি খুনের মামলা হবে। প্রতি মামলার খুনের আসামি হবে খালেদা জিয়া। এ মামলা যদি করতে না পারেন, তা হবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা।” খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিটি ঘটনার সঙ্গে বিএনপি-জামাতের শীর্ষনেতা বেগম খালেদা জিয়াসহ সবাইকে অভিযুক্ত করতে হবে।” বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, “খালেদা জিয়ার আন্দোলন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। এক সময় পাকিস্তানের ইয়াহিয়া খান খুন করেছিল ৩০ লক্ষ শহীদকে, আজকেও বেগম খালেদা জিয়া খুনের নির্দেশ দিয়ে খুনির খাতায় নাম লিখিয়েছেন।” তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী বলেন, “উনি খুনি। উনি মানুষ নামের কলঙ্ক। কোনো অবস্থায় এ খুনির সঙ্গে আলোচনা হবে না, সমঝোতা হবে না।”

বরিশালে ঢাকাগামী দুই লঞ্চে আগুন, ফেনীতে পেট্রলবোমায় দগ্ধ ৩

বরিশাল লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার ১০ মিনিট আগে ২টি লঞ্চে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় দুই লঞ্চে থাকা দুই সহস্রাধিক যাত্রীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এতে কোন হতাহতের ঘটনা   ঘটেনি। নৌ ফাড়ির এস আই নজরুল জানান, রাত পোনে ৯টায় বৃহদাকার বিলাসবহুল এমভি সুন্দরবন-৭, ও পারাবত ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ লঞ্চ দুটিতে ২ সহস্রাধিক যাত্রী ছিল। হঠাৎ সুন্দরবন-৭ লঞ্চের তৃতীয় তলার ৩১৬ এবং পারাবত-১০ লঞ্চের ২য় তলায় ২০১ নম্বর কেবিনের ভিতর থেকে ধোয়া বেরুতে দেখা যায়। এ সময় কেবিন ও লঞ্চ ঘাটের যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত লঞ্চের কর্মচারী ও ঘাটে থাকা পুলিশ সদস্যরা কেবিন দুটির বিছানাপত্র নদীতে ফেলে দেয়। এরপর লঞ্চ দুটি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। এস আই নজরুল জানান, ঐ কেবিন দুটি কারা ভাড়া নিয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হবে। তার ধারণা অবরোধ সমর্থকরা এ আগুন দিয়েছে। নজরুল ইসলাম আরও বলেন, আগুনের পরপরই বরিশার নৌবন্দরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সুন্দরবন-৭ লঞ্চের কাউন্টার ম্যানেজার জাকির হোসেন জানান, ৩১৬ নং কেবিনের বাইরে তালা দেয়া ছিল। হঠাৎ আগুনের সংবাদ পেয়ে সবাই সেখানে ছুটে যায়। তালা ভেঙ্গে আগুন নিয়ন্ত্রণের আগেই কেবনিটি পুরোপুরি পুড়ে যায়। একটু দেরি হলেই পুরও লঞ্চেই আগুন ছড়িয়ে পড়ত। পেট্রল ঢেলে এ আগুন দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। এমভি সুন্দরবন লঞ্চের স্বত্বাধিকারী ও আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, তিনি লঞ্চের কেবিনে দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনের খবর পেয়েছেন। এক্ষেত্রে আইনগত কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে কিনা এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কার বিরুদ্ধে নেব?
ফেনীতে পেট্রলবোমায় দগ্ধ ৩
ফেনীর দাগনভূঞায় দুর্বৃত্তের ছোড়া পেট্রলবোমায় সিএনজি অটোরিকসার চালকসহ তিনজন দগ্ধ হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে ফেনী-বসুরহাট সড়কের দাগনভূঁঞা উপজেলার দুধমুখা বাজারের পাশে এ ঘটনা ঘটে। একই সময় দুর্বৃত্তরা ফেনী পৌরসভার কাউন্সিল মোহাম্মদ মানিকের প্রাইভেটকারে ককটেল হামলা করেছে। প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ফেনী-কোম্পানীগঞ্জ সড়কের দুধমুখার বাজারের পাশে কুমার পোল এলাকায় দুর্বৃত্তরা একটি সিএনজি অটোরিকসায় পেট্রলবোমা নিক্ষেপ করে। এসময় সিএনজি অটোরিকসা পুড়ে যায়। সিএনজিতে থাকা চালক ও অটোরিসার মালিক শাহাজাহান পিন্টু, যাত্রী সাদ্দাম হোসেন ও মানিক মজুমদার দগ্ধ হন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দাগনভূঞা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে সাদ্দাম হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ফেনী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।  থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল ফয়সাল জানান, আগুনে দগ্ধ দুই জনকে ফেনী সদর হাসপাতালে ও এক জনকে দাগনভূঁঞা হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এদিকে রাত সাড়ে আটটার দিকে ফেনী পৌরসভার ১৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিল মোহাম্মদ মানিকের প্রাইভেটকারে ককটেল হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। শহরের লাল পোল থেকে ফেনী ফেরার পথে প্রাইভেটকারটি সেন্ট্রল স্কুলের সামনে পৌঁছলে দুর্বৃত্তরা গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়ে মারে। এতে তার গাড়ির গ্লাস ভেঙ্গে যায়।

কুতুবদিয়া শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভা অনুষ্টিত

কুতুবদিয়া শিক্ষক-কর্মচারী ক্রেডিট ইউনিয়নের বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুষ্টিত র‌্যাফেল ড্রতে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দিচ্ছেন চেয়ারম্যান এম.এম.হাছান কুতুবী

‘আমাদেরও মেরে ফেলেন’

(রাজধানীর খিলগাঁও এলাকায় পুলিশের গোয়েন্দা শাখার সদস্যদের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নুরুজ্জামান জনি নামের ছাত্রদলের এক নেতা নিহত হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেলে জনির মরদেহ দেখে স্বজনের আহাজারি। ছবি: ফোকাস বাংলা) ‘আমার ছেলে কী দোষ করেছে? ওকে কেন মারা হলো? আমাদের বাঁচিয়ে রেখে কী লাভ? আমাদেরও মেরে ফেলেন। আল্লাহ ওদের বিচার করবে।’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে ছেলের লাশ নিতে এসে এভাবে আর্তনাদ করছিলেন ছাত্রদল নেতা নুরুজ্জামান জনির (৩০) মা নিলুফার পারভীন। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে ডিবির সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ গুলিবিদ্ধ হন জনি। এরপর আহত অবস্থায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জনিকে মৃত ঘোষণা করেন।
জনির ফুফাতো ভাই শহীদুল ইসলামের দেওয়া তথ্যমতে, জনির বাবা ইয়াকুব আলী। জনি হাবিবুল্লাহ বাহার কলেজে পড়তেন। তিনি খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বছর খানেক আগে জনি বিয়ে করেছেন। তাঁর স্ত্রী মুনিরা পারভীন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।
শহীদুল ইসলামের ভাষ্য, গাড়ি পোড়ানোর মামলায় আটক ছোট ভাই মনিরুজ্জামানের সঙ্গে দেখা করতে গতকাল দুপুরে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যান জনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে আরও দুজন ছিলেন। বেলা একটার দিকে মুঠোফোনে জনির সঙ্গে পরিবারের সর্বশেষ কথা হয়। এর পর থেকে জনি নিখোঁজ ছিলেন এবং তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। জনির সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের নাম জানাতে পারেননি শহীদুল।
শহীদুলের দাবি, পুলিশের দেওয়া গাড়ি পোড়ানো মামলা বাদে জনির নামে অন্য কোনো মামলা ছিল না। মামলার পর থেকে প্রাণভয়ে স্বজনদের বাসায় পালিয়ে বেড়াতেন জনি। তাঁর সঙ্গে কারাগারে যাওয়া ওই দুই ব্যক্তিরও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।
এর আগে সকালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (দক্ষিণ) উপকমিশনার কৃষ্ণপদ রায় বলেন, জনি ছাত্রদলের নেতা বলে জানা গেছে। রাজধানীর মৎস্য ভবনের সামনে পুলিশের ওপর সর্বশেষ বোমা হামলার সঙ্গে তিনি জড়িত ছিলেন।
ডিবির (দক্ষিণ) দেওয়া তথ্যমতে, গতকাল নাজিমউদ্দিন রোড থেকে ডিবি জনিকে আটক করে। এরপর রাত আড়াইটার দিকে তাঁকে নিয়ে খিলগাঁও জোড়পুকুর বালুর মাঠের প্রধান ফটক এলাকায় অভিযানে যায় ডিবি। এ সময় প্রতিপক্ষরা ডিবিকে লক্ষ্য করে ককটেল ছুড়লে ডিবির সঙ্গে তাদের ‘বন্দুকযুদ্ধ’ হয়।
ডিবির দাবি, ‘বন্দুকযুদ্ধ’ চলাকালে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে নুরুজ্জামান গুলিবিদ্ধ হন। ঘটনাস্থল থেকে ককটেল, গুলি ও বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
খিলগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দিনের ভাষ্য, ভোররাত পৌনে চারটার দিকে গুলিবিদ্ধ জনিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায় পুলিশ। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসা কর্মকর্তা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ওই ব্যক্তির শরীরে ১৫ টি গুলির চিহ্ন রয়েছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-১-এর পুলিশ ক্যাম্পের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মোজাম্মেল হক জানান, জনির লাশ কলেজ মর্গে রাখা হয়েছে।

‘দেখলেই গুলি:কোর্টের বিচার আর দরকার নেই’ -সমাজকল্যাণমন্ত্রী

নাশকতাকারীদের দেখামাত্র গুলি করার ব্যাপারে সরকার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সৈয়দ মহসিন আলী। মঙ্গলবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবরোধ চলাকালে নাশকতায় অগ্নিদগ্ধদের দেখতে গিয়ে তিনি একথা বলেন। জনগনের নিরাপত্তা দিতে সরকারের ব্যর্থতা স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে চাই। এটা আর বেশি দিন চলতে পারে না। এক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা ব্যবস্থা নিবো। আমরা পাড়ায়-পাড়ায়, মহল্লায়-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তুলবো, তাদের শাস্তি দিবে। কোর্টের বিচার আর দরকার নেই।
মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আর চেপে থাকতে পারে না। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা এর ব্যবস্থা নিচ্ছি। আমরা এগুলো পার্লামেন্টে তুলব। গণতন্ত্র আছে, গণতন্ত্র রক্ষা করব না? আমরা এখন সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছি শ্যুট অ্যাট সাইট। যেভাবে হয় যুদ্ধক্ষেত্রে, সেভাবে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে যাচ্ছি।’
মন্ত্রী বলেন আরও, ‘এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, বেদনাদায়ক। আমরা যখন এর জন্য আইন করতে যাই, তখন আপনারা মানবতার কথা বলেন। আর মানবতা যে ভূলুণ্ঠিত হয়, তখন এটা নিয়ে, সরকারের জন্য বেদনা দেখান না।’
এর আগে ১৫ জানুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ আক্রান্ত হলে দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ব্যবহারের কথা বলেন।
এদিকে আজ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন, যারা বোমা ছুড়বে ও গাড়িতে আগুন দেবে, তাদের ধরিয়ে দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে। তবে পুরস্কারের মূল্য কত হবে, তা পরে জানানো হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

‘সহিংসতা বন্ধে সরকারের সঙ্গে আছি’ -রওশন এরশাদ

দেশে চলমান নৈরাজ্য বন্ধ করতে প্রয়োজনে পাড়ায়-মহল্লায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা বলেছেন বিরোধী দলীয় নেতা রওশন এরশাদ। মঙ্গলবার সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে তিনি বলেন, যে কোন মূল্যে নৈরাজ্য প্রতিহত করতে হবে। যে কোন দাবি আদায়ের মূল হাতিয়ার হরতাল, অবরোধ। কিন্তু বর্তমানে হরতাল অবরোধের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা হচ্ছে। একের পর এক মানুষ পুড়িয়ে মারছে। অনেক প্রতিষ্ঠানে আগুন দিচ্ছে। এটা কোন আন্দোলন নয়, এটা সন্ত্রাস। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বিরোধী দলের নেতা বলেন, চলমান সহিংসতা প্রতিরোধে আপনি যে পদক্ষেপ নেবেন আমাদের পক্ষ থেকে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। এ সময় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন। হরতাল, অবরোধে ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৫/১৬ দিনে ২৫-৩০ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। সহিংসতায় ২০০-৩০০ লোকের ক্ষতি হয়েছে। বেশকিছু মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। এর দায়-দায়িত্ব কার? এদের কে দেখবে? লাখ লাখ শ্রমিক অনাহারে দিনাতিপাত করছে। গার্মেন্টস সেক্টরে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড কোন রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি হতে পারে না। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছি। রওশন আরও বলেন, আমরা দেশের স্বার্থে কেন এক হতে পারি না?। প্রতিহিংসা-বিদ্বেষের রাজনীতি দিয়ে কোন কিছু আদায় করা যায় না, অর্জন করা যায় না। ফ্রান্সের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ৫০টি দেশের নেতারা একমত হয়েছিলেন সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই করার। সেই আন্দোলনে ১০ লাখের বেশি মানুষ প্রতিবাদ করেছিল। আমরা কেন পারি না?। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রসঙ্গে বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধী, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সব দেশেই হয়। সেই ধারাবাহিকতায় আমাদের দেশেও হচ্ছে। তার প্রতিবাদে তো আন্দোলন হতে পারে না।

দগ্ধ সাফিরের কান্নার শেষ কোথায়? by মানসুরা হোসাইন

(রাজধানীর সিটি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন সাফির। ছবিটি আজ সকালে তোলা। ছবি: জাহিদুল করিম) আড়াই বছরের ছোট্ট শিশু সাফির। পেট্রলবোমায় দগ্ধ এইটুকুন শরীরে এখন যন্ত্রণা ছাড়া আর কিছু নেই। তার ছোট ছোট বায়না, দুদ্দাড় ছোটাছুটি, খিলখিল হাসি-সব বিলীন হয়েছে সর্বভুক আগুনের তাপে। হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে সারাক্ষণ সে কাঁদছে, আর ছটফট করছে সীমাহীন যন্ত্রণায়। এই দহন-পীড়নে তার একটাই আকুতি-যন্ত্রণা থেকে কখন মিলবে মুক্তি?  সাফিরকে ধরা যায় না, ছোঁয়া যায় না, বোলানো যায় না স্নেহের পরশ। দুটো সান্ত্বনা কথা যাঁরা বলবেন, সেই বাবা-মাও আহত। এ অবস্থায়ই তাঁরা বারবার ছুটে যাচ্ছেন সোনামণির কাছে। চাঁদমামার ছেলেভোলানো ছড়া বা পছন্দের প্রজাপতির গল্প শুনিয়ে খানিকটা শান্ত করতে চাইছেন অতি আদরের খোকাকে। কিন্তু এ অভিনয় করতে গিয়ে তাঁরা নিজেরাই বাকরুদ্ধ হয়ে যাচ্ছেন, ভেঙে পড়ছেন কান্নায়। নিজেরা চিকিৎসক হয়েও দগ্ধ সন্তানের এ পরিস্থিতির কাছে তাঁরা অসহায়। আজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর লালমাটিয়ায় সিটি হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে গিয়ে এ দৃশ্য দেখা যায়। চিকিৎসক দম্পতি সাইফুল ইসলাম ও শারমিন সিদ্দিকা সেখানে সাফিরের কান্না থামানোর চেষ্টা করছিলেন। গত রোববার রাত সাড়ে নয়টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরে পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়েছে সাফির। তার শরীরের ১৭ শতাংশ পুড়ে গেছে। ছেলের শরীরের আগুন নেভাতে গেলে সাইফুল ইসলামের হাত পুড়েছে ৫ শতাংশ। হাতের হাড়েও চিড় ধরেছে। শারমিন সিদ্দিকার কপালে জখম হয়েছে। কপালের খানিকটা ও চোখের কোণ পুড়েছে। একটা হাতও ভেঙেছে। রোববার রাতেই এই পরিবারের তিনজন সিটি হাসপাতালে ভর্তি হন। এখন পুরো পরিবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সাফির বারবার মা ও বাবাকে ধরতে চাইছে। কিন্তু দুই হাতে ব্যান্ডেজ থাকায় পারছে না। একই সঙ্গে সাফিরের মায়ের ডান হাত বাঁধা। বাবার বাঁধা বাঁ হাত। ডান হাতেও ব্যান্ডেজ। তাঁরাই বা ছেলেকে কীভাবে ধরবেন? কীভাবে আদর করবেন?
সাফির একটানা কান্নার পর একটু ঘুমিয়ে যায়, খানিক পর চমকে পাশ ফেরে। দেখে নেয় বাবা-মা আছে কি না। আবার শুরু হয় কান্না। শারমিনের ভাষ্য, ভর্তি হওয়ার পর আজই তিনি ছেলেকে প্রথম দেখার সুযোগ পেয়েছেন। মাত্র চার মাস বয়সী আরেক ছেলে এখন আছে নারায়ণগঞ্জে শারমিনের মায়ের কাছে।
১৫ দিন আগেই সাফিরের পা গরম পানিতে পুড়ে যায়। সেই পা আবার দগ্ধ হয়েছে। এখন দুই হাত, পুরো মুখ, এক পা-সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ব্যান্ডেজ বাঁধা। ছেলের অবস্থা দেখে যখন বাবা-মা বারবার বলছিলেন, ‘আল্লাহ, তুমি ছেলেকে ভালো করে দাও।’
শারমিন সিদ্দিকা কথা বলার শুরুতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তিনি বলেন, কথা বলে কী হবে? অজানা উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা এসব বন্ধ করুন।’ তিনি জানান, রোববার সাফিরের পোড়া পায়ের শেষ ড্রেসিং ছিল। পায়ের পোড়া জায়গা দেখে সে যাতে ভয় না পায়, এ জন্য মোটা মোজা দিয়ে তাকে জুতা পরিয়ে রাখার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এই জুতা-মোজা কিনেই তাঁরা ঢাকা থেকে নারায়ণগঞ্জে মায়ের কাছে যাচ্ছিলেন। শারমিন সিদ্দিকা বলেন, ‘নতুন কেডস আমার ছেলের খুব পছন্দ হয়েছে। কেনার পর সে কী খুশি! ও মাত্র কথা গুছিয়ে বলা শুরু করেছে। খুব দুরন্ত ছেলে আমার। আমরা বাসে উঠলাম। তারপর...’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা শুধু আমার বাচ্চা না, সব বাচ্চার কষ্টের কথা লেখেন। ওদের কষ্ট সবাই দেখুক।’ সিটি হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের চিফ কনসালট্যান্ট মো. শহিদুল বারী প্রথম আলোকে বলেন, সাফির যে আশঙ্কামুক্ত, তা বলা যাবে না। তবে অবস্থা স্থিতিশীল আছে। ঘটনার পরপরই দ্রুত ঢাকায় চলে আসার ফলে দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়েছে। এখন পর্যন্ত লাইফ সাপোর্ট লাগেনি। যে পা আগে পুড়েছিল, সেই পা আবার পুড়েছে। সেই পায়ে অস্ত্রোপচার লাগতে পারে।
শহিদুল বারী বলেন, ‘চিকিৎসক দম্পতির কাছ থেকে যতটুকু জানতে পেরেছি, সেই অনুযায়ী ঘটনার সময় সাইফুল জানালা দিয়ে স্ত্রীকে ধাক্কা দিয়ে নিচে ফেলে দেন। এতে তিনি আগুন থেকে বেঁচে যান। তবে হাত ভেঙে যায়। অন্যদিকে সাইফুল বাচ্চা নিয়ে বের হতে গেলে হাত থেকে পিছলে পড়ে যায় ছেলে। ততক্ষণে ছেলের শরীরে আগুন ধরে যায়। সেই আগুন নেভাতে গেলে সাইফুলের হাতও পুড়ে যায়।’
সাইফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘অনেক পোড়া পুড়ছি, আর পুড়তে চাই না। যেটাই করেন, এসব বন্ধ করেন। আমরা একটু বাঁচতে চাই। সরকার কী আমার ছেলেসহ যারা অবরোধের আগুনে পুড়ছে, তাদের সবার চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে?’ আমাদের নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, ঘটনার পর বাস মালিক অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে একটি মামলা করেছেন। তবে এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

বড় দুই দলকে সমঝোতায় আসার আহবান টিআইবির

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ক্ষমতা কেন্দ্রিক রাজনৈতিক সহিংসতা ও বলপ্রয়োগের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি  মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছে, একদিকে সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার হরণ হচ্ছে। পাশাপাশি দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার পথে ঝুঁকি বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সকল প্রকার বলপ্রয়োগ, সহিংস ও অগণতান্ত্রিক আচরণ পরিহার করে শান্তিপূর্ণ উপায়ে সমঝোতার পথ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি। বিবৃতিতে টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণতন্ত্রের নামে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক পক্ষ শক্তি প্রদর্শন ও বল প্রয়োগের প্রতিযোগিতায় অবতীর্ণ হওয়ায় শিশু, নারী ও তরুণসহ সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিষ্ঠুরভাবে খর্ব হচ্ছে। জনগণের স্বাভাবিক জীবন যাপন থেকে শুরু করে স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকার ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। এক পক্ষ যে কোন মূল্যে ক্ষমতায় টিকে থাকতে, অন্য পক্ষ যেকোন প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় যেতে মরিয়া হয়ে জনগণ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন করছেন। রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ জবাবদিহিতা ও আইনের শাসনের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব ভূলুন্ঠিত হচ্ছে। যা দেশের গণতন্ত্র ও সুশাসনের সম্ভাবনার জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। এতে বলা হয়, জনসভা, মিছিল ও মানববন্ধনসহ সকল শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি সকল নাগরিক ও সংগঠনের গণতান্ত্রিক অধিকার। তবে সাধারণ মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে আন্দোলনের নামে একদিকে সহিংস কর্মসূচি এবং অন্যদিকে পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের মতো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক আইনের ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হবার হুমকি যেমন লাখো শহীদের রক্তে অর্জিত স্বাধীনতার চেতনার পরিপন্থী তেমনি রাজনৈতিক অঙ্গনে উগ্র অগণতান্ত্রিক শক্তির বিকাশের চাবিকাঠি। তিনি বলেন, বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের স্বার্থরক্ষায় দুই নেত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা অর্জন অত্যন্ত জরুরি। সংকট থেকে উত্তরণের চাবিকাঠি দুই নেত্রীর হাতেই রয়েছে। একইসঙ্গে উভয় পক্ষের নেতৃস্থানীয় অবস্থানে অধিষ্ঠিতজনদের সংহত ও দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। তাদের রাজনীতি যে বাস্তবেই জনগণের স্বার্থে, জনগণের অধিকার খর্ব করার জন্য নয়, জনগণকে জিম্মি করে শক্তি পরীক্ষার জন্য নয়, তার প্রমাণ দেবার সময় এখনই।
ড. জামান বলেন, দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকট দেশের সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে শুধু পেছনে ঠেলে দিচ্ছে তাই নয়, বরং সুস্থ রাজনৈতিক সংস্কৃতির চর্চার অভাবে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে রাজনীতিকে এক বিভৎস রূপে তুলে ধরে রাজনীতি বিমূখতার বীজ বপন করা হচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের কর্মকান্ড উগ্র, সহিংস এবং অগণতান্ত্রিক শক্তিকে আরও বিকাশের সুযোগ করে দেবে উল্লেখ করে টিআইবি দেশের স্বার্থে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বিশেষ করে বড় দুটি দলকে সমঝোতা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানান।

পেট্রোল বোমায় পুড়ছে জীবন, পুড়ছে মানুষ, পুড়ছে মানবতা

পেট্রোল বোমায় পুড়ছে জীবন, পুড়ছে মানুষ, পুড়ছে মানবতা

শিশুর কষ্ট বোঝেনা তারা!
কোলের শিশুও বাঁচতে পারছেন না জ্বালাও-পোড়াওয়ে হাত থেকে৷ প্রতিপক্ষের আদর্শকে ভুল প্রমাণ করে শ্রেয়তর আদর্শ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা নয়, প্রতিপক্ষকে আঘাত করে, হত্যা করে লক্ষ্যে পৌঁছানোর চেষ্টা অনেক দেখেছে বাংলাদেশের মানুষ৷ স্বাধীন দেশে নিরীহ মানুষকে নির্বিচারে পোড়ানোও দেখতে হচ্ছে৷ ৩ নভেম্বর আট বছরের সুমি দাদীর সঙ্গে নেত্রকোনা থেকে ঢাকা আসছিল৷ জয়দেবপুর চৌরাস্তায় তাদের বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়৷
বোবা কান্না...
নির্মমতার আরেকটি ছবি হয়ে আছে মজিবরের পোড়া শরীর৷ মজিবর বাকপ্রতিবন্ধী৷ কুমিল্লার দেবিদ্বারের এক ট্রাকের হেলপার৷ পিকেটারদের বোমা হামলায় বাসের সঙ্গে তাঁর শরীরও পুড়েছে৷ সবাই শুনে বুঝবে এমনভাবে কথা তিনি বলতে পারেন না, বোবা কান্নায় শুধু পারেন অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে, আর্তনাদ করতে আর এ অন্যায়ের প্রতিকার আশা করতে৷
মেয়েকে দেখতে গিয়ে মা হাসপাতালে
জাহানারা বেগম৷ বয়স ৫২৷ পেশা – ফেরি করে কাপড় বিক্রি করা৷ হরতাল-অবরোধ থাকলে বিক্রি কমে যায় বলেই হয়তো সেদিন কাপড় নিয়ে বাড়ি বাড়ি না ঘুরে জাহানারা গিয়েছিলেন শ্যামপুরে৷ সেখানে তাঁর মেয়ের বাড়ি৷ মেয়েকে দেখে অটো রিক্সায় ফেরার সময়েই বিপদ৷ বিরোধী দলের কিছু সমর্থক সেই অটোরিক্সাতেও ছুড়ে মারে পেট্রোল বোমা৷ সন্তানের প্রতি অপত্য স্নেহের মূল্য আগুনে পুড়ে চুকাচ্ছেন জাহানারা বেগম!
তালহার অসহায়ত্ব
২৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে বাসে পেট্রোল বোমা ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা৷ শরীরের ৩০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ায় আবু তালহা সেই থেকে ১ নম্বর বার্ন ইউনিটে৷
রাজমিস্ত্রী
রাজমিস্ত্রী ও ঠিকাদার আবুল কালাম আজাদের শরীর পুড়েছে গত ১২ নভেম্বর৷ সেদিন ঢাকার রায়েরবাগেও একটি চলন্ত বাসে ছোড়া হয় পেট্রোল বোমা৷ সেই থেকে তাঁরও ঠিকানা ঢাকা মেডিকেল কলেজের ১ নম্বর বার্ন ইউনিট৷
বাসচালক
২৮ নভেম্বর সন্ধ্যায় শাহবাগে পেট্রোল বোমা ছুড়ে পোড়ানো সেই বাসটি চালাচ্ছিলেন মাহবুব৷ যাত্রীদের মতো তাঁর শরীরও পুড়েছে৷ তাঁর দেয়া তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনতা যু্দ্ধের সময়, অর্থাৎ ১৯৭১ সালেই জন্ম মাহবুবের৷ স্বাধীনতার ৪২ বছর পর দেশ পুড়ছে, তিনিও পুড়েছেন৷
ঘুমের মাঝেই আগুন...
৭ ডিসেম্বর মুন্সীগঞ্জ জেলার মাওয়া ফেরিঘাটে বাসে ঘুমাচ্ছিলেন হেলপার আলমগীর৷ থামানো বাসেই দেয়া হয় আগুন৷ পোড়া দেহ নিয়ে এখন তিনি হাসপাতালে৷
লেগুনার যাত্রী
১০ নভেম্বর ঢাকার লক্ষীবাজারে পেট্রোল বোমা ছুড়ে পোড়ানো হয় একটি লেগুনা৷ লেগুনা পুড়ে শেষ, লেগুনার যাত্রী কামাল হোসেন ভাগ্যগুণে বেঁচে গেছেন৷ তবে শরীরের ৩৫ ভাগেরও বেশি অংশ পুড়ে গেছে৷ ৩৬ বছরের এ তরুণ লড়ছেন মৃত্যুর সঙ্গে৷ চিকিৎসকদের চেষ্টা এবং সুস্থ মানসিকতার প্রতিটি মানুষের শুভকামনায় তিনি শিগগিরই হয়তো ফিরবেন স্বাভাবিক জীবনে৷ কিন্তু এই দুর্ভোগ, এই দুঃস্বপ্নের দিনগুলো কি কোনোদিন ভুলতে পারবেন?
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র
বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শুভও ছিলেন রায়েরবাগের সেই বাসে৷ তাই ১২ নভেম্বর থেকে তিনিও পোড়া শরীর নিয়ে পড়ে আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিছানায়৷
সারি সারি পোড়া মানুষ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১ নম্বর বার্ন ইউনিট এখন হরতাল-অবরোধের নামে পোড়ানো জীবিকার তাগিদ কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনে রাস্তায় নামা মানুষে ভরে গেছে৷
ছবি ও প্রতিবেদন

রেহাই পাচ্ছে না শিশুরাও- রাজনৈতিক সহিংসতায় ১৩ দিনে প্রাণ গেছে পাঁচ শিশুর by শরিফুল হাসান

(মা-বাবার সঙ্গে বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে রোববার রাতে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম যাচ্ছিল দিপায়ন। পথে তাদের গাড়িতে ককটেল হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে বাবা-মায়ের সঙ্গে সে-ও আহত হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তোলা ছবি: জুয়েল শীল) আড়াই বছরের ছেলে সাফিরকে কোলে নিয়ে গত রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন চিকিৎসক দম্পতি সাইফুল ইসলাম ও শারমিন আহমেদ। বাসে হঠাৎ পেট্রলবোমা হামলায় শিশুটির গায়ে আগুন লেগে যায়। ওই অবস্থায় ছেলেকে নিয়ে বাসের জানালা দিয়ে লাফিয়ে পড়েন সাইফুল। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাফির জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। এর চার দিন আগে রংপুরে বাসে পেট্রলবোমা হামলায় প্রাণ হারিয়েছে আড়াই বছরের এক শিশুসহ পাঁচজন। এভাবে রাজনৈতিক সহিংসতার শিকার হয়ে হতাহত হচ্ছে শিশুরা। চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে পাঁচ শিশু, আহত হয়েছে অন্তত ১৫ জন। শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো বলছে, অবরোধ চলাকালে বাছবিচার না করে বাস-ট্রাকে হামলা চালানোর কারণে শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। রাজনৈতিক সহিংসতার আগুনে আড়াই বছরের শিশু মায়ের কোলেই পুড়ে অঙ্গার হচ্ছে। ককটেল হামলায় চোখ হারিয়ে পুরো জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছে এসএসসি পরীক্ষার্থী। বেসরকারি সংস্থা মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের (এমজিএফ) কর্মসূচি সমন্বয়ক আবদুল্লাহ আল মামুন গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, ‘২০১৩ সালে আমরা দেখেছি রাজনৈতিক সহিংসতার ভয়াবহ শিকার হয়েছে শিশুরা। ওই বছর রাজনৈতিক সহিংসতায় আক্রান্ত হয় ১৫৬ শিশু। এর মধ্যে ৪১ জন নিহত ও ১০৭ জন গুরুতর আহত হয়। গত বছর এই সহিংসতা প্রায় শূন্যে নেমে এসেছিল। কিন্তু ২০১৫ সালে আমরা আবারও সেই পুরোনো সহিংসতা দেখতে পাচ্ছি। কোনো সভ্য দেশে এভাবে শিশুদের ওপর হামলা হতে পারে না।’
এই অবরোধের প্রথম দিন থেকেই আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা। মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার পথে রংপুরের মিঠাপুকুরে যাত্রাবাহী একটি বাসে পেট্রলবোমা হামলায় মায়ের কোলেই এক শিশু জীবন্ত দগ্ধ হয়। বাসটিতে থাকা ১৮ বছরের জেসমিন আক্তারও দগ্ধ হয়ে মারা যায়। আহত হয় বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকা ১১ বছরের শিশু ফারজানা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শেখটোলায় ১৫ জানুয়ারি অবরোধকারীরা স্কুলছাত্র রাজন আলীকে পিটিয়ে আহত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পরদিন রাতে সে মারা যায়। ১৫ জানুয়ারি গাজীপুরের কালিয়াকৈরে বাসে ঘুমন্ত অবস্থায় দগ্ধ হয়ে মারা যান ১৮ বছরের তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বাসচালকের সহকারী ছিলেন। বরিশালের উজিরপুরে রোববার ভোরে ট্রাকে পেট্রলবোমা হামলায় দগ্ধ হয়ে মারা যায় চালকের সহকারী সোহাগ বিশ্বাস (১৭)। একই দিন পুরান ঢাকায় ককটেল হামলায় আহত হয় শিশু রহিমা (৮)।
এর আগে ৫ জানুয়ারি ফেনী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী শাহরিয়ার ও মিনহাজুল প্রাইভেট পড়ে রিকশায় করে বাসায় ফেরার পথে অবরোধ-সমর্থকদের ককটেল হামলায় আহত হয়। মিনহাজুলকে ঢাকায় ও শাহরিয়ারকে চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতালে পাঠানো হয়। অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ডান চোখে আর কোনো দিন দেখবে না শাহরিয়ার। আঘাত লেগেছে মিনহাজুলের চোখেও। আগামী ২ ফেব্রুয়ারি শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষা দেওয়া অনিশ্চিত হয়ে গেছে দুজনেরই। আকস্মিক এ ঘটনায় মুষড়ে পড়েছেন শাহরিয়ারের মা রোজি রুশনা। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমরা তো কোনো রাজনীতি করি না। তবে কেন আমাদের এমন হবে?’ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মিনহাজের মা জেসমিন রহমান বলেন, ‘ক্ষমতা নিয়ে কাড়াকাড়িতে আমার কী লাভ? গণতন্ত্র এল কি এল না, তাতে আমার কী? আমার ছেলের তো প্রাণ বাঁচে না।’
রোববার রাতে আহত সাফিরের মা শারমিন আহমেদ বলেন, ‘এ কোন রাজনীতি? এভাবে আমাদের জীবন্ত পুড়িয়ে মারার চেষ্টা কেন হবে?’
বর্তমান পরিস্থিতিতে সব শিশুর বাবা-মায়েরাই আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে পড়ুয়াদের বাবা-মায়েরা। রাজনৈতিক সহিংসতায় শিশুদের ব্যবহারও করা হয়। ২০১৩ সালে সহিংসতায় শিশু-কিশোরদের ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের সভাপতি এমরানুল হক চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা ২০১৩ সালের চিত্রই আবার দেখতে পাচ্ছি। একে তো হরতাল-অবরোধে শিশুদের লেখাপড়া প্রায় বন্ধ হয়ে আছে, এখন আবার রাজনৈতিক সহিংসতারও শিকার হচ্ছে তারা। কোনো সভ্য দেশে শিশুদের ওপর এভাবে হামলা হতে পারে না। আর যে শিশু আহত হচ্ছে বা ঘটনা দেখছে, সে মানসিকভাবেও আঘাত পাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে অনুরোধ, আপনারা শিশুদের বিষয়ে অন্তত সচেতন হোন।’

সন্ধ্যার পর সরগরম খালেদার কার্যালয়

দীর্ঘ ১৬ দিন অবরুদ্ধ থাকার পর হঠাৎ করেই সরগরম হয়ে ওঠে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার গুলশান রাজনৈতিক কার্যালয়। গতকাল কার্যালয়টির সামনে ছিল অন্যরকম পরিবেশ। ছিল না পুলিশি নিরাপত্তার কড়াকড়ি, জলকামানের ব্যারিকেড ও জিজ্ঞাসাবাদের বিড়ম্বনা। কোন ধরনের বাধা না থাকায় কার্যালয়ে হাজির হন বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের নেতারা। সন্ধ্যার পর কার্যালয়ের সামনে ভিড় করেন দলের কর্মী-সমর্থকরাও। হাসি ফোটে ৮৬ নম্বর রোডের বাসিন্দাদের মুখেও। রোববার রাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই অবরুদ্ধ খালেদা জিয়ার কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় আড়াআড়িভাবে রাখা দুটি পুলিশভ্যান ও একটি জলকামানের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় পুলিশ। প্রত্যাহার করা হয় কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের। ওই সড়কের দুইপ্রান্তে পুলিশের তল্লাশি চৌকিও সরানো হয়। সড়কটি দিয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা যান চলাচলও শুরু হয়।  তবে বহাল রাখা হয় সাদা পোশাকের পুলিশ। রাত থেকে কার্যালয়টির নিরাপত্তার দায়িত্ব নেন সিএসএফের সদস্যরা। কার্যালয়টির প্রধান ফটকে মোতায়েন করা হয় সিএসএফের একটি গাড়ি। এদিকে সকাল হতেই সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে কৌতুহল ছড়িয়ে পড়ে অবরুদ্ধ খালেদা জিয়া কার্যালয় থেকে বের হবেন কিনা। গণমাধ্যম কর্মীদের ভিড়ও বাড়তে থাকে। বিকাল সাড়ে ৪টার পর থেকে কার্যালয়ে প্রবেশ করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গণি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান. ব্রি. জে. (অব.) আসম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, বেগম সারওয়ারী রহমান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ড. আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খান, মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্মের সভাপতি শামা ওবায়েদসহ বেশ কয়েকজন মহিলা নেত্রী। এতে কৌতুহল আরও বেড়ে যায়। সাড়ে ৫টা থেকে দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া কার্যালয়ে থাকার ঘোষণা দিলে সবার কৌতুহল উবে যায়। এদিকে সন্ধ্যার দিকে সংবাদ সংগ্রহ করতে যাওয়া  গণমাধ্যম কর্মীদের কার্যালয়ে প্রবেশ করতে বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। কার্যালয়ে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করেন সিএসএফ সদস্যরা। চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইং সদস্যরা সাংবাদিকদের পরিচয় নিশ্চিত করার পরই  প্রবেশের অনুমতি দেন তারা। সংবাদ সম্মেলন শুরু হলে কার্যালয়ের গেটে ডেইলি স্টার, যায়যায়দিন, নয়াদিগন্তসহ বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের সাংবাদিককে ঢুকতে দেয়নি সিএসএফ সদস্যরা। কার্যালয়ে ঢুকতে না পেরে সংবাদ সম্মেলন শেষে চেয়ারপারসেরন মিডিয়া উইং সদস্যদের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন তারা। এদিকে সন্ধ্যার কার্যালয়টির সামনে জড়ো হন কয়েক শতাধিক দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থক। ভিড় জমান উৎসুক মানুষও। দীর্ঘ ১৬ দিন ধরে কার্যালয়টিতে খালেদা জিয়া অবরুদ্ধ থাকলেও পুলিশি কড়াকড়ির কারণে ওই এলাকায় ঘেঁষতে পারেননি তারা। এতদিন বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে সবার পুলিশের অনুমতি নিতে হতো। ওদিকে পুলিশি ব্যারিকেড প্রত্যাহার করায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন ৮৬ নম্বর সড়কের বাসিন্দারা। জিজ্ঞাসাবাদের নামে অযাচিত বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়নি তাদের। অবাধে চলাফেরা করতে পারছেন তারা। রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে কার্যালয় থেকে বের হয়ে যান স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। তবে এখনও কার্যালয়ে অবস্থান করছেন খালেদা জিয়া। গত ৩রা জানুয়ারি রাত থেকে কার্যালয়টির দোতলায় দুটি কক্ষেই দিন কাটাচ্ছেন তিনি। তার সঙ্গে কার্যালয়টিতে এখনও অবস্থান করছেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব আল-আমিন ডিউ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা ও আরেক মহিলা নেত্রী  হেনা আলাউদ্দিন, চেয়ারপারসনের প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী লে. কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদ, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের সদস্য শামসুদ্দিন দিদার, শায়রুল কবির খানসহ কার্যালয়ের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। উল্লেখ্য, গত ৩রা জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় কার্যালয়ে আসেন খালেদা জিয়া। এর পরপরই কার্যালয়ের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অর্ধশতাধিক নারী পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয় কার্যালয়ের সামনে। কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান ও উত্তর পাশে আরেকটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অসুস্থ দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দেখতে যেতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের পথরোধ করে পুলিশ। প্রায় আধাঘণ্টা গাড়িতে বসে থেকে ফের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন তিনি। পূর্ব ঘোষিত সমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে ৫ই জানুয়ারি রাত ১২টার পর থেকেই একে একে কার্যালয়ের সামনের রাস্তার দুইপাশে এনে রাখা হয় ১১টি ইট ও বালুভর্তি ট্রাক। এরপর থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ৫ই জানুয়ারি দুপুরে কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ। বিকাল পৌনে ৪টায় কার্যালয়ের দোতলা  থেকে নিচে নামেন তিনি। এ সময় বের হওয়ার চেষ্টা করলে খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে পেপার সেপ্র ছোড়ে পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা গাড়ি থেকে বের হয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন।  দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিকে ওই দিন সন্ধ্যার পর পেপার স্প্রের গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রাতেই একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিনিধি দল কার্যালয়ে প্রবেশ তাকে চিকিৎসা দেন। ৬ই জানুয়ারি কার্যালয়ের দুই পাশে বালু ও ইটের ট্রাক সরিয়ে নেয়া হয়।

২০১৮ বিশ্বকাপে সরাসরি বাছাই পর্বে খেলবে বাংলাদেশ

এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশনের নতুন নিয়ম অনুযায়ী সরাসরি বিশ্বকাপের বাছাই পর্বে খেলতে পারবে বাংলাদেশ। এশিয়ার শীর্ষ ৩৪ দল খেলবে ২০১৮ বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে। বাংলাদেশের সর্বশেষ র‌্যাংকিং অনুযায়ী এশিয়ার ৩৪তম দল হলো বাংলাদেশ। তাই ২০১৮ বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাই পর্বে আর খেলতে হচ্ছে না বাংলাদেশকে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী,
বর্তমান এশিয়ান কনফেডারেশনের ৪৬টি দলের বাকি ১২টি দলকে প্রাক বাছাই পর্বে খেলতে হবে। এই প্রাক বাছাই পর্ব থেকে ৬টি দল যোগ দেবে শীর্ষ ৩৪ দলের তালিকায়। এই ৪০টি দলকে নিয়ে ৮টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব। সেই অনুসারে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফা ১০টি ম্যাচ ডে নির্ধারণ করে দিয়েছে। যেগুলো ২০১৫ জুন থেকে ২০১৬ জুন পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়ে হোম এবং অ্যাওয়ে ভিত্তিতে প্রতিটি দলকে ৮টি ম্যাচ খেলতে হবে। এর অর্থ দাঁড়াচ্ছে বাংলাদেশের আগামী ২০১৬ জুন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ নিশ্চিত।

দেশে ফিরেই শুটিং শুরু করেছি

*দীর্ঘ সময় দেশের বাইরে ছিলেন কেন?
**একটি ধারাবাহিক নাটকের শুটিংয়ের জন্য থ্যাইলান্ড গিয়েছিলাম। ৫২ পর্বের নাটকটি সম্পূর্ণ ওখানেই শুটিং হয়েছে। তাই একটু বেশি সময় থাকতে হয়েছে।
*দেশে ব্যস্ততা কেমন যাচ্ছে?
**১৫ জানুয়ারি দেশে এসেছি। পরের দিন থেকেই শুটিং শুরু করেছি। বিশ্রাম নেয়ার সময় পাইনি। শুটিংয়ের ডেট আগে থেকেই দেয়া ছিল।
*কোন কোন ধারাবাহিক প্রচার হচ্ছে?
**নতুন ধারাবাহিক নাটক ‘উত্তরপুরুষ’ প্রচার শুরু হয়েছে। এছাড়া চোরকাঁটা, ক্ষণিকালয়, নিঃসঙ্গ পানকৌড়ি, মামলাবাজ, চেয়ারম্যান বাড়ি ধারাবাহিকগুলো প্রচার হচ্ছে। প্রচারের অপেক্ষায় আছে প্রেমের ১৪৪ ধারা, চাঁদ অমাবস্যা, স্বপ্ন, হোসেন মিয়ার দোকানে আসা মানুষ ধারাবাহিক নাটক।
*স্টেজ শোর খবর কী?
**নাটকের শুটিংয়ের পাশাপাশি নাচ নিয়েও ব্যস্ত আছি। শীতকালে প্রচুর স্টেজ প্রোগ্রাম হয়। তাই বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নাচ করতে হচ্ছে। কিন্তু দেশের রাজনৈতিক খারাপ অবস্থার জন্য অনেক শোয়ের তারিখ পরিবর্তন হচ্ছে। এ নিয়ে একটু ঝামেলায় আছি।
*লাইফ স্টেজ শোতে নাচ করার অনুভূতি কেমন?
**যখন দর্শক সামনে উপস্থিত থাকে এবং পারফর্মেন্স দেখে প্রসংশা বা আনন্দ প্রকাশ করে সে ভালো লাগা ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। নিজের পরিশ্রমের স্বীকৃতি পাওয়ার মজাটাই ভিন্ন।
*নতুন বিজ্ঞাপনে অপনাকে দেখা যাচ্ছে না কেন?
**কাজের প্রস্তাব পাচ্ছি। কিন্তু সময়ের অভাবে করতে পারছি না। বিজ্ঞাপন হল দর্শকদের কাছে যাওয়ার একটি ভালো মাধ্যম। কিন্তু ভালো পণ্যের বিজ্ঞাপন করতে চাই। ভালো পণ্যের প্রস্তাব এলে বিবেচনা করব। বিএম ইমরান

দগ্ধ সাফির নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে -ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে ২৩ দিনে ২৮ জন ভর্তি

(চিকিৎসক দম্পতি সাইফুল ইসলাম ও শারমিন আহমেদের সঙ্গে ছেলে সাফির l পারিবারিক অ্যালবাম থেকে নেওয়া ছবি) সপ্তাহ দুয়েক আগে গরম পানিতে পা পুড়ে গিয়েছিল চিকিৎসক দম্পতি সাইফুল ইসলাম ও শারমিন আহমেদের আড়াই বছরের ছেলে সাফিরের। বার্ন ইউনিট থেকে চিকিৎসা নিয়ে নারায়ণগঞ্জে ফেরার পথে আবার অবরোধের আগুনে পুড়তে হলো ছোট্ট এই শিশুটিকে। গতকাল সোমবার সাফিরকে নেওয়া হয়েছে একটি বেসরকারি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে। হাসপাতালটির চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, সাফিরের মাথা, গলা, ডান হাত, দুই পা পুড়ে গেছে। তার শরীরের ১৭ শতাংশই পোড়া। সাফিরের মামা মশিউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর বাবা ফুসফুসের ক্যানসারে ভুগছেন। বাবা খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ায় শারমিন প্রায়ই নারায়ণগঞ্জে বাবার বাসায় থাকেন। এ ছাড়া সাফিরের একটি ভাই হয়েছে সম্প্রতি। গতকাল (সোমবার) মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে শারমিনের আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে কাজে ফেরার কথা। তাই রোববার স্বামী সাইফুল ইসলামসহ সাফিরকে নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে থেকে নারায়ণগঞ্জের বাসে উঠেছিলেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে বাসে পেট্রলবোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা।
শারমিনের স্বজনেরা জানান, বাসে পেট্রলবোমা ছোড়া হয়েছে বুঝতে পেরে প্রথমেই সাইফুল ইসলাম স্ত্রীকে জানালা দিয়ে ঠেলে বাইরে বের করে দেন। পড়ে গিয়ে তাঁর হাত ভেঙে যায়। পরে সাইফুল সাফিরকে নিয়ে নেমে আসেন। ততক্ষণে সাফিরের গায়ে আগুন ধরে গেছে। সাইফুল বাস থেকে নেমে হাত দিয়ে সন্তানের শরীরের আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এতে তাঁর নিজেরও দুই হাত পুড়ে যায়।
শারমিনের মামা ফারুক হোসেন খান বলেন, মায়ের হাত ভাঙা, বাবার দুই হাত পোড়া। সন্তানকে তাঁরা একটু ছুঁয়েও দেখতে পারছেন না। শারমিন সারা দিন শুধু কাঁদছেন।
ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে এখন ভর্তি ১৭:
বার্ন ইউনিটের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, হরতাল-অবরোধে আগুন ও পেট্রলবোমায় দগ্ধ হয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে গতকাল পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজের বার্ন ইউনিটে মোট ২৮ জন ভর্তি হন। এদের মধ্যে গতকাল পর্যন্ত ছিলেন ১৭ জন। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন দগ্ধদের মধ্যে চারজন নারী ও একজন শিশু রয়েছে। পাবনার আবু তাহেরের (৭০) শ্বাসতন্ত্রসহ শরীরের ১৪ শতাংশ পুড়েছে। তাঁকে রাখা হয়েছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে।
আবু তাহেরের বড় ছেলে রতন ফকির প্রথম আলোকে বলেন, ‘মা অসুস্থ ছিলেন। দুই ভাই মা-বাবাকে আনতে পাবনায় গিয়েছিল। গাবতলী থেকে আসার পথে বাসের মধ্যে পেট্রলবোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এটি বাবার মুখে গিয়ে পড়ে। তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে এক ভাইয়ের একটি পাও ভেঙেছে। আরেক ভাইয়ের হাত পুড়েছে। আমাদের পুরো পরিবার শেষ।’
এ ছাড়া নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রয়েছেন রাজশাহীর পুঠিয়ার ট্রাকচালক সিদ্দিক, বিল্লাল ও রাজারবাগ পুলিশ লাইনের কনস্টেবল মোরশেদ আলম। এই তিনজনেরও শ্বাসতন্ত্র পুড়ে গেছে।
মাসুমের (১৫) বাড়ি নরসিংদীতে। তার শ্বাসতন্ত্রসহ শরীরের ২০ শতাংশ পুড়ে গেছে। দরিদ্র পরিবারের ছেলে সে। ১৩ বছর বয়স থেকে বাসের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করে। সকাল সাতটায় বেরোয়, ফেরে রাত ১০টায়। ১৪ জানুয়ারি শহরের পল্লী বিদ্যুতের কার্যালয়ের কাছে রাত পৌনে ১০টায় বাসে পেট্রলবোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা।
মাসুমের বাবা আলেকচান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি রিকশা চালাই। সংসার চালাতে পারি না। মাসুমকে পড়াতেও পারি নাই। তবে ওর রোজগারে ছোট তিন বোন পড়ালেখা করে।’
গত রোববার রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে দগ্ধ ইডেন কলেজের দুই ছাত্রী শারমীন আক্তার ও জয়নাব আক্তারকে ছেড়ে দিয়েছে বার্ন ইউনিট। তবে দুজনকেই নিয়মিত হাসপাতালে এসে সেবা নিতে হবে।
নিন্দা, ক্ষোভ: চিকিৎসক দম্পতি ও তাঁদের সন্তানের ওপর হামলায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান ও মহাসচিব এম ইকবাল আর্সলান। গতকাল এঁদের দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের পরিচালক জুলফিকার আলী ও সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী আ ফ ম রুহুল হক।
ইডেনের দুই ছাত্রী দগ্ধ হওয়ার ঘটনায় গতকাল কলেজের সামনে প্রতিবাদ বিক্ষোভ করেছে ছাত্রীরা। তারা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সরকারকে। তারা আগুনে পুড়িয়ে মারার রাজনীতি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানায়।

বাড়ির উঠানে ৮ ফুট কুমির, তাও পোষ্য!

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি বাড়ির পেছনের দিকের উঠানে দুটি বিড়ালের মৃতদেহের অবশিষ্টাংশের পাশে ৮ ফুট দীর্ঘ একটি কুমির পাওয়া গেছে। ১৯৭০-এর দশক থেকে জ্যাক্সসন নামের কুমিরটি ওই বাড়ির পোষ্য। কুমিরটিকে পুষছিলেন রন গোরেকির (৫৩) বোনের স্বামী। গত বছর তার মৃত্যুর পর রন তার বোনকে কুমিরটির দেখাশোনায় সাহায্য করছেন। তল্লাশির অনুমতি নিয়ে পশু নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তারা কুমিরটিকে খুঁজে বের করেন এবং এর বয়স প্রায় ৪০ বছর বলে জানান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। মার্ক বলেন, পশু অধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলো অপরাধ তদন্তে নেমেছে। গত ৪০ বছরের মধ্যে কোন ছোট পোষা প্রাণী হারিয়েছেন, এমন বাসিন্দাদের যোগাযোগের অনুরোধ জানিয়েছেন। কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, গত ৪০ বছরে বিভিন্ন সময়ে কুমিরটির খাদ্যে পরিণত হয়ে থাকতে পারে ওই এলাকার বাসিন্দাদের নানা পোষ্য প্রাণী। লস অ্যাঞ্জেলেসে বিনা অনুমতিতে বন্য প্রাণী রাখা অবৈধ। গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বা কোন অভিযোগও গঠন করা হয়নি। রন গোরেকি এক সাক্ষাৎকারে জানান, কুমিরটির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য তিনি তার বোনকে সাহায্য করেছিলেন। রন বলেন, আমরা কুমিরটিকে একটি ভালো আবাসস্থল দেয়ার চেষ্টা করেছি। তিনি জানান, তার বোনের স্বামী কুমিরটির জন্য ‘গর্ব ও আনন্দ’ অনুভব করতেন। মুরগি, হট ডগ, এ জাতীয় বিভিন্ন খাবার খেতে দেয়া হতো কুমিরটিকে। তবে জীবিত কোন কিছু খেতে দেয়া হতো না জ্যাক্সসনকে। এদিকে নিজেদের পোষা বিড়ালগুলোকে জীবন্ত অবস্থায় কুমিরটিকে খেতে দেয়া হচ্ছে, এমন অভিযোগ অস্বীকার করেন রন। তিনি বলেন, তেমনটা ঘটেনি। কখনোই এ ধরনের অভিযোগ আসেনি, কখনও এ ধরনের সমস্যাও হয়নি। গত বছরও কর্মকর্তারা বাড়িটিতে তল্লাশি চালিয়ে কোন কুমিরের উপস্থিতি দেখতে পাননি। এ সপ্তাহে যখন তারা ফের বাড়িটিতে গেলেন, তখন বাড়িটির বাসিন্দারা তাদের ভেতরে ঢুকতে দেননি। সে কারণে কর্মকর্তারা তল্লাশির পরোয়ানা নিয়েই বাড়িটিতে ঢোকেন এবং কুমিরটির সন্ধান পান।

৫ দিনে ক্রসফায়ারে ৩ বিরোধী নেতা নিহত

বিরোধী জোটের অবরোধের মধ্যে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে ক্রসফায়ার। গত পাঁচদিনে ক্রসফায়ারের শিকার হয়েছেন বিরোধী জোটের তিন নেতা। তাদের মধ্যে দু’জন ছাত্রদল আর একজন জামায়াত নেতা। ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন দু’জন। আর র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হয়েছেন এক ছাত্রদল নেতা। ডিবির ক্রসফায়ারের সর্বশেষ শিকার খিলগাঁও থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান জনি। গত রাতে খিলগাঁও জোড়াপুকুর মাঠে ডিবি পুলিশের ক্রসফায়ারে নিহত হন তিনি। নিহত জনির বাবা ইয়াকুব আলী জানান, ছোট ভাই মনিরুজ্জামানকে দেখতে সোমবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে যায় জনি। সেখান থেকে সাদা পোশাকধারী পুলিশ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। এর আগে সোমবার দিবাগত রাতে নড়াইলের পৌর কাউন্সিলর ইমরুল কায়েস ঢাকায় ডিবির ক্রসফায়ারে নিহত হন। বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন তিনি। সোমবার রাত সাড়ে ৩টার দিকে মতিঝিলের এজিবি কলোনির কাঁচাবাজার এলাকায় ক্রসফায়ারে নিহত হয়ে অজ্ঞাত হিসেবে সেখানে ছিল তার লাশ। একটি নয়, দু’টি নয়, ১০টি বুলেটে বিদ্ধ হয় তার বুক। পরে পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা ঢাকায় আসেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তারা তার লাশ শনাক্ত করেন। পরিবারের অভিযোগ, গ্রেপ্তারের পর ঠা-ামাথায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে যৌথবাহিনীর অভিযানের মধ্যে চাঁপাই নবাবগঞ্জের কানসাটে র‌্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত হন আরেক ছাত্রদল নেতা। নিহত মতিউর রহমান শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। বিএনপির দাবি, গ্রেপ্তারের পর পরিকল্পিতভাবে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলা বিএনপি সভাপতি অধ্যাপক মো. শাহজাহান মিঞা বলেন, মতিউর রহমানকে সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আটক করে। এরপর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে। তার বিরুদ্ধে থানায় কোন মামলা বা একটি জিডিও ছিল না।

অবরোধে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, ‘দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়’ -হানিফ

বিরোধী জোটের অনির্দিষ্টকাল অবরোধের ১৫তম দিনেও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে সহিংসতার খবর পাওয়া যাচ্ছে। রাজশাহীতে নিরাপত্তাবাহিনীর পাহারায় থাকা বাসে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপে মা-মেয়ে অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। রাজধানীর শনির আখড়ার কাজলারপাড় এলাকায় মুক্তিযুদ্ধ  প্রজন্ম লীগের কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। একই সময়ে ওই এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। সকালে শাহজাদপুরে সড়ক অবরোধ করে শিবির কর্মীরা। এসময় কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। গভীর রাতে খিলগাঁওয়ে একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। ওদিকে, গত রাত সোয়া ১২টার দিকে রাজশাহীর ভদ্রা ভাংড়িপট্টি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর পাহারায় থাকা গাড়িবহরের মধ্যে পেট্রোল বোমা হামলা চালানো হয়। এতে ঢাকাগামী একটি বাসে আগুন লেগে গেলে দগ্ধ হন আম্বিয়া বেগম (৪৫) ও তার মেয়ে রিফাত (১৭)। তাদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।
‘দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়’ -হানিফ
দেশে কোন রাজনৈতিক সংকট নেই বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। তিনি বলেছেন, বর্তমানে দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দেশকে ব্যর্থ বানাতে ‘উন্মাদ’ হয়ে গেছেন। সোমবার তিনি ফের মানুষ মারার রাজনীতির আহ্বান জানিয়েছেন। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দায় সরকারের ওপর চাপিয়ে খালেদা জিয়া ‘নির্লজ্জ মিথ্যাচার’ করছেন। তিনি মানুষ হত্যার নিষ্ঠুর রাজনীতি করছেন। দেশে কোন রাজনৈতিক সংকট নেই মন্তব্য করে সংবাদ সম্মেলনে হানিফ বলেন, পেট্রল বোমা দিয়ে মানুষ মারা কী রাজনৈতিক সংকট? খালেদা জিয়া কী এগুলোকে রাজনৈতিক কর্মকা- মনে করেন? এগুলোতো সন্ত্রাসী কর্মকা-। এসব কর্মকা- বন্ধে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নিয়েছে। হানিফ বলেন, দেশের পরিস্থিতি অস্বাভাবিক নয়। জঙ্গিবাদী ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নিয়ন্ত্রণ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী করবে। এখন যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তা দ্রুতই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। বিএনপির সভা-সমাবেশ করা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোথায় বিএনপিকে সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না? গত এক বছরে খালেদা জিয়া ১১টি জনসভা করেছেন। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে বোমাবাজি হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এজন্য আমরা বলেছি, জড়িতদের পাশাপাশি হুকুমদাতাদেরও বিচার হবে। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অবরোধের ১৫ দিন আজ- ৫১টি যানবাহনে আগুন, ভাঙচুর, আটক ২২৫

বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের টানা অবরোধের ১৪তম দিন গতকাল সোমবার ফেনীতে ২০টি পণ্যবাহী ট্রাকসহ ২৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেছে অবরোধ-সমর্থকেরা। রাজধানীতে তিনটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া শাহবাগে ককটেলের আঘাতে এক বাসচালক আহত হয়েছেন। নারায়ণগঞ্জে আবারও যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। বগুড়ায় তিনটি ট্রাকে আগুন ও পত্রিকাবাহী একটি পিকআপে ককটেল হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। রংপুরে আসামি ধরতে পুলিশি অভিযানকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জামায়াতের এক নেতা। অবরোধ কর্মসূচির মধ্যে গতকাল ১২ জেলায় সহিংসতার ঘটনা ঘটে। গতকাল রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত আগুন দেওয়া হয়েছে ১৭টি গাড়িতে। ভাঙচুর করা হয় আরও ৩৪টি। আটক করা হয়েছে কমপক্ষে ২২৯ জনকে। বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ই-মেইলে গতকাল সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে চট্টগ্রাম বিভাগে আজ মঙ্গলবার ভোর ছয়টা থেকে কাল বুধবার সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত টানা ৩৬ ঘণ্টার হরতাল ডেকেছে ২০-দলীয় জোট। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে তাঁর কার্যালয়ে ‘অবরুদ্ধ’ রাখা, চট্টগ্রামসহ দেশব্যাপী ২০ দলের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার এবং মামলা দিয়ে হয়রানির প্রতিবাদে এ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
৫ জানুয়ারির ‘একতরফা’ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগের দাবিতে ৬ জানুয়ারি থেকে চলছে অবরোধ। তবে ৪ জানুয়ারি থেকেই শুরু সংঘাতের। এই দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত ১৬ দিনে সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন। আহত পাঁচ শতাধিক। এ সময়ে আগুন দেওয়া হয় ২৫৬টি যানবাহনে, ভাঙচুর করা হয় অন্তত ৩৪১টি।
রাজধানীর চিত্র: গতকাল বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে মধুমিতা সিনেমা হলের সামনে জনতা ব্যাংকের ভাড়া করা একটি স্টাফ বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। রাত পৌনে নয়টার দিকে মিরপুরের কালশীতে পূরবী সিনেমা হলের উল্টো দিকে বিহঙ্গ পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও গাড়িটি পুড়ে যায়। রাত ১২টার দিকে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের ওপরে তুরাগ পরিবহনের বাসে দুর্বৃত্তরা অগ্নিসংযোগ করে।
রাত সাড়ে আটটার দিকে শাহবাগ মোড়ে মিরপুরগামী ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাসে ককটেল ছুড়ে মারে দুর্বৃত্তরা। এতে বাসচালক রাশেদুল ইসলাম আহত হন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নূর মোহাম্মদ নামে এক তরুণকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করে। শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবদুল আজিম বলেন, ককটেল মেরে পালানোর সময় নূর মোহাম্মদকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে পায়ে গুলি লেগে পড়ে গেলে পুলিশ তাঁকে ধরে ফেলে। এরপর তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আবদুল আজিম দাবি করেন, আটক ব্যক্তি ভাসমান ও মাদকাসক্ত।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ধানমন্ডি ১৩ নম্বরের তেহারি গলির সামনে একটি কারে আগুন ধরানোর চেষ্টা করেন চার-পাঁচজন যুবক। এ সময় জনতা ধাওয়া করে দুজনকে ধরে পিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পৌনে আটটার দিকে কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের সময় টহল পুলিশ আন নূর (২০), আমিনুল হাসান শাহীন (২০) নামের দুজনকে হাতেনাতে আটক করে। তাঁরা শিবিরের কর্মী বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের মধ্যে আন নূর চট্টগ্রামের হাটহাজারীর একটি কওমি মাদ্রাসার ছাত্র।
ঢাকার বাইরের চিত্র
নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাঢ়ায় রোববার রাতে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়ে আটজনকে আহত করার পরদিনই গতকাল আরেকটি যাত্রীবাহী বাস ও একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল দুপুর ১২টার কিছু পরে নগরের মাসদাইর গাবতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় আহত হন বাসের তিন যাত্রী। আহত ব্যক্তিদের নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আনন্দ পরিবহনের একটি বাস চাষাঢ়া থেকে ঢাকায় যাওয়ার পথে গাবতলী মোড়ে একদল দুর্বৃত্ত এতে হামলা চালায়। তারা বাসে ভাঙচুর শেষে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সময় একটি ট্রাকেও আগুন দেয় তারা। চট্টগ্রামের ২ নম্বর গেট এলাকায় জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) কার্যালয়ের সামনে গত রাত সোয়া আটটার দিকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যা সাতটার দিকে ডিসি হিলের মূল ফটকের সামনেও ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।
ফেনী শহরের তাকিয়া রোড, ইসলামপুর রোড ও শাখা রোডের পাইকারি বাজার এলাকায় গতকাল ১৫-২০ জন যুবক পণ্যবোঝাই ২০টি ট্রাক, একটি পিকআপ ভ্যান, চারটি অটোরিকশাসহ ২৫টি যানবাহন ভাঙচুর করেছেন। জেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লালপুল ও ফতেপুর এলাকায় দুটি ট্রাকেও আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের পাঁচ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে গত রাত নয়টার দিকে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন দুই যুবক। পরে বাসভবনের নিরাপত্তাকর্মী ও কয়েকজন পথচারী ওয়াসিম আহমেদ নামের এক যুবককে ধরে পুলিশে দেন। তবে এ ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে ওয়াসিম বলেন, ‘আমি কিছু করিনি। শব্দ শুনে আতঙ্কে দৌড় দিয়েছিলাম। তাই সন্দেহ করে আমাকে ধরা হয়েছে।’
ঘটনাস্থল থেকে আরেকটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বগুড়ায় প্রথম আলোর ছাপাখানার ফটকে পত্রিকাবাহী একটি গাড়ি লক্ষ্য করে ককটেল হামলা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত দেড়টার দিকে ছাপাখানা থেকে প্রথম আলো পত্রিকা নিয়ে দিনাজপুরগামী একটি পিকআপ ভ্যান বের হওয়ার পরপরই এই ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। এদিকে গতকাল বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত তিন ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রাত আটটার দিকে মহাসড়কের সাজাপুর-ফুলতলা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা সবজিবাহী একটি ট্রাকে পেট্রলবোমা ছুড়ে মারা হয়। এর আগে বিকেল পাঁচটার দিকে মহাসড়কের মাটিডালি এলাকায় চালবোঝাই একটি ট্রাকে এবং নিশিন্দারা এলাকায় গ্যারেজে দাঁড়িয়ে থাকা একটি খালি ট্রাকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
যশোরের বকচর এলাকায় গত রোববার বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গতকাল মামলা করেছে পুলিশ। মামলায় ৪১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়। এদিকে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠান থেকে জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদসহ ১১ নেতা-কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া জেলার অন্যান্য স্থানে অভিযান চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। চারটি বাড়িতে পুলিশ ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রংপুরের মিঠাপুকুরের দমদমা ইসলামবাগ এলাকায় গতকাল রাত আড়াইটার দিকে আসামিদের ধরার অভিযানকালে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন জামায়াত নেতা বুলবুল আহমেদ (৩৫)। তাঁকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি দলটির দমদমা শাখার সাধারণ সম্পাদক বলে জানা গেছে। এদিকে পুলিশি অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩৮ জনকে। গাইবান্ধায় বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের ১৭ নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের গতকাল আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের মানিকগঞ্জ সদরে রোববার রাতে ও গতকাল ভোরে দুটি যানবাহনে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া মহাসড়কে গাছ ফেলে অবরোধ সৃষ্টি করে অবরোধকারীরা। সিঙ্গাইর উপজেলা থেকে বিএনপির দুই কর্মীকে আটক করে পুলিশ। লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে গতকাল সকালে আটটি গাড়ি ভাঙচুর করেছে অবরোধ-সমর্থকেরা। রামগতি-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের চরলরেঞ্চ বাজার ও ফুরকানিয়া মাদ্রাসার অদূরে কবরস্থান এলাকায় এসব ভাঙচুর করা হয়।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে রোববার রাতে একটি বিয়ের গাড়িতে ককটেল হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় চারজন যাত্রী গুরুতর আহত হন। সাতকানিয়ায় ছাত্রশিবিরের পাঁচ কর্মীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁদের বিরুদ্ধে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফে বিএনপি-জামায়াতের দুই নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রাজশাহীর মতিহার থানার কাপাসিয়া এলাকায় গত রাতে একটি ট্রাকে আগুন দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জেলা বিএনপির সভাপতি নাদিম মোস্তফাকে রোববার রাতে রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথ বাহিনী।
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে উপজেলা বিএনপির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য খোকা মিয়া ও আলম মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার মোলামগাড়ী বাজারে রোববার সন্ধ্যা সাতটার দিকে হরতাল-সমর্থক ও এর বিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৫ জন আহত হন। পুলিশ ছয়টি ফাঁকা গুলি করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ ছয় হরতাল-সমর্থককে আটক করেছে।
বরিশালের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ বিএনপি-জামায়াতের তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে পুলিশ ও বিজিবির যৌথ অভিযানে ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল হাকিমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বরগুনায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ুন হাসানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া অন্যরা হলেন জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মুরাদুজ্জামান, জেলা কৃষক দলের সদস্য তোফাজ্জেল হোসেন ও ছাত্রদলের কর্মী মাসুম বিল্লাহ।
নোয়াখালী শহরের জামে মসজিদ মোড় এলাকায় গতকাল একটি অটোরিকশায় অগ্নিসংযোগ করেছেন পিকেটাররা। এ ছাড়া বেগমগঞ্জ উপজেলার বাংলাবাজার এলাকায় মুরগির খাবারবাহী একটি ট্রাকে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে বিএনপি-জামায়াতের ১৫ কর্মী-সমর্থককে আটক করে পুলিশ। নড়াইলের লোহাগড়ায় বিএনপি ও যুবদলের দুই নেতাকে আটক করেছে পুলিশ।
লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থেকে বিএনপি ও ছাত্রদলের দুই নেতাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
সাতক্ষীরায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিএনপি-জামায়াতের ১৭ কর্মীসহ ৩৭ জন।
মাগুরায় জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আলতাফ হোসেনসহ সংগঠনটির ছয় নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
খুলনা নগরের সদর থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি খোরশেদ জাহানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের ৩২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তাঁদের মধ্যে ২৩ জন মামলার আসামি এবং নয়জন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী।
{প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন: প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী, রংপুর, বরগুনা, সাতক্ষীরা ও ভৈরব; যশোর, ফেনী, নোয়াখালী ও খুলনা অফিস; চুয়াডাঙ্গা, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, মানিকগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মাগুরা, পাটগ্রাম (লালমনিরহাট), টেকনাফ (কক্সবাজার), সাতকানিয়া ও পটিয়া (চট্টগ্রাম), গৌরনদী (বরিশাল), রামগতি (লক্ষ্মীপুর), লোহাগড়া (নড়াইল) ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি}

অনুমতি ছাড়াই চাঁপাই নবাবগঞ্জে অভিযান by দীন ইসলাম

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত অনুমতি ছাড়াই চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। অভিযানে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের বাড়িঘর তছনছ করার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় ৩৫টি বাড়িঘর ও এর আসবাবপত্রে ভাঙচুর চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, লিখিতভাবে অনুমতি চেয়ে অভিযান পরিচালনা সম্পর্কে চিঠির বিপরীতে লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অনুমতি পাননি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার। এ কারণে গত ১৫ই জানুয়ারি যৌথ বাহিনী’র চাঁপাই নবাবগঞ্জে অভিযান পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চাঁপাই নবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে যৌথ অভিযান পরিচালনার অনুরোধ জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে গত ১২ই জানুয়ারি ফ্যাক্স মারফত একটি জরুরি চিঠি দেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ। ওই দিনই অতীব জরুরি লিখে ফাইলটি অনুমোদনের জন্য সিনিয়র সচিব ও স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়। গতকাল খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এখনও পর্যন্ত ফাইলটি সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছেনি। তাই শিবগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার জন্য অনুমতিও দেয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না পাওয়ার পরও শিবগঞ্জে যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর আগে ১২ই জানুয়ারি বিভাগীয় কমিশনার হেলালুদ্দীন আহমদ স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলাধীন সোনা মসজিদ স্থল বন্দরটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর। এ বন্দর দিয়ে প্রতিদিনই পণ্যবাহী শত শত ট্রাক বাংলাদেশ ও ভারত অভ্যন্তরে যাতায়াত করে। কিন্তু ইদানীং অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এসব পণ্যবাহী ট্রাক চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জে প্রায়শই নাশকতা সৃষ্টিকারীদের হামলার শিকার হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের ক্ষতিসহ প্রাণহানির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। এতে বলা হয়েছে, দেশের অন্যান্য এলাকায় অপরাধমূলক তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা গেলেও শিবগঞ্জের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। স্থানীয় অধিবাসীদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি, এমনকি অনেক নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিও একই বিশ্বাস নিয়ে কাজ করেন। অতীতের রেকর্ড বিবেচনায় দেখা যায় বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ওই এলাকার জনগণের সক্রিয় সহযোগিতার কারণে অন্যান্য এলাকার তুলনায় সেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা তথা অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেগ পেতে হয়। তাছাড়া, এলাকার অধিকাংশ জনগণ কিছুটা উচ্ছৃঙ্খল প্রকৃতির। এ কারণে গতানুগতিক প্রক্রিয়ার বাইরে যৌথ অভিযান পরিচালনা ছাড়া ওই এলাকায় সংঘটিত অপরাধ দমন করা কষ্টকর হয়ে পড়বে। আর এ এলাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ না করা গেলে নাশকতামূলক তৎপরতা আরও বেড়ে যাবে, যার প্রভাব দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পড়বে। এমন অবস্থায় চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় জরুরিভিত্তিতে সাতক্ষীরার মতো সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনাপূর্বক অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে তাদেরকে আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো। এর আগে ২০১৪ সালে সাতক্ষীরা জেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনার নামে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর অভিযোগ রয়েছে। ওই অভিযানে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের খোঁজার তল্লাশির নামে বাড়িঘর তছনছ করা হয়। এরপরও নতুন করে আরেকটি জেলায় যৌথ অভিযান পরিচালনার জন্য চিঠি দেন বিভাগীয় কমিশনার। যে চিঠির ভিত্তিতে অনুমতি মেলার আগেই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গোলাপের কাঁটা ‘অবরোধ’ by আব্দুল কুদ্দুস ও এস এম হানিফ

(চকরিয়ার পশ্চিম বরইতলী গ্রামের ফুলচাষি আবুল কালাম। এক একর জায়গায় গোলাপের বাগান গড়ে তুলেছেন তিনি। বিক্রির জন্য প্রতিদিন খাঁচি ভরে গোলাপ সংগ্রহ করেন। কিন্তু ক্রেতার দেখা মেলে না। রোববার তোলা ছবি l প্রথম আলো) চারপাশের আগুন, বারুদ, আর্তনাদের মাঝেও কক্সবাজারের চকরিয়ার বরইতলী বেশ ব্যতিক্রম। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে বরইতলী ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামে এখন গোলাপের সুবাস। ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হতে, সুমিষ্ট ঘ্রাণ নিতে আশপাশের এলাকার মানুষ ছুটে আসছেন এখানে। সৌন্দর্যে, সুমিষ্ট ঘ্রাণে দর্শনার্থীরা ব্যাকুল হচ্ছেন ঠিকই। তবে গোলাপ ‘হাসি’ ফোটাতে পারেনি বাগানমালিক, চাষি, মালি, শ্রমিকের মুখে। টানা অবরোধে বাগানের ফুল বাগানেই ঝরে পড়ছে। তাঁদের ভাষায় গোলাপের কাঁটা হয়ে উঠেছে ‘অবরোধ’। চাষিরা জানান, ঋণের টাকায় গোলাপবাগান করে এখন তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। অথচ এই বাগানচাষিদের অধিকাংশই কয়েক বছর আগেও আগে তামাক চাষ করতেন। বরইতলী গোলাপবাগান মালিক সমিতির আহ্বায়ক মঈনুল ইসলাম জানান, ইউনিয়নের ১১৫টি বাগানের ৮ লাখ ৪০ হাজার গাছে ২৫ লাখের বেশি গোলাপ ফুটেছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা চলতে থাকলে সব ফুল ঝরে পড়বে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পশ্চিম পাশে বরইতলী গ্রামের আবুল কালামের বাগানটি এক একরের। তাঁর বাগানে সাত হাজার গাছ। এর মধ্যে ৫ হাজার গাছে ২০ হাজারের বেশি গোলাপ ফুটেছে। আবুল কালাম জানান, গত ডিসেম্বর মাসে প্রতিটি গোলাপ বিক্রি হয়েছে চার টাকায়। এখন মাত্র ৫০ পয়সা। তা-ও ক্রেতা নেই। প্রতিদিন বাগান থেকে গড়ে দেড় হাজার ফুল কেটে ফেলতে হচ্ছে। অবরোধ চলতে থাকলে পুরো বাগানের সব ফুল বাগানেই মরে শেষ হয়ে যাবে। কালামের বাগানের পাশের বাগানটি রবিউল হোসেনের। এক কানি জমির ওপর গড়ে তোলা এই বাগানে সাড়ে তিন হাজার গোলাপগাছ রয়েছে। তিনি জানান, চট্টগ্রাম শহরের চেরাগী পাহাড়ে ফুল সরবরাহ করে পরিবহন খরচও তোলা যাচ্ছে না। গোলাপ নিয়ে বরইতলীর মানুষ বিপাকে পড়েছেন। শুধু বাগানের মালিকেরাই নন, ভালো নেই বাগানশ্রমিকেরাও। পশ্চিম বরইতলীর গৃহবধূ সলিমা বেগম জানান, গাছ থেকে গোলাপ কেটে দিনে ২০০ টাকা মজুরি পেতেন। ১৫ দিন ধরে গোলাপ কাটা বন্ধ রয়েছে। বিভিন্ন বাগানে শ্রমিকের কাজ করতেন দেড় হাজার পুরুষ। তাঁরা এখন বেকার। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আতিক উল্লাহ জানান, বরইতলী ইউনিয়নের ১২০ একর জমিতে গোলাপের বাগান গড়ে তুলেছেন গ্রামের মানুষ। অবরোধে ফুলের চাহিদা কম থাকায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বাগানশ্রমিক জহির আহমদ জানান, ডিসেম্বর থেকে মার্চ ফুলের ব্যবসা বেশি হয়। গোলাপের বাম্পার ফলন হলেও টানা অবরোধে সব শেষ হয়ে যাচ্ছে। বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়া উদ্দিন চৌধুরী বলেন, তামাক চাষ ছেড়ে ইউনিয়নের মানুষ ফুল চাষে এসেছেন। এলাকার ৮০ ভাগ মানুষ ফুলের ব্যবসা করছেন। কিন্তু রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে -নাশকতার জন্য সরকারকে দায়ী করলেন খালেদা

চলমান অবরোধ কর্মসূচি পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন ও ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া। টানা ১৬ দিন নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ থাকার পর গতকাল সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। রোববার গভীর রাতে অকষ্মাৎ পুলিশ তার কার্যালয়ের সামনে থেকে ব্যারিকেড তুলে নিলে গতকাল দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করে তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। খালেদা জিয়া অবরোধ অব্যাহত রাখতে দেশবাসীর প্রতি এবং দ্রুত সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন আয়োজনে আলোচনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে সারা দেশে বিভিন্ন নৈরাজ্যের ঘটনায় সরকার জড়িত অভিযোগ করে তিনি বলেন, বিরোধী জোটের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে দেশ-বিদেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ক্ষমতাসীনরা নাশকতা ও অন্তর্ঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে খালেদা জিয়া বলেন, জনগণের প্রতিবাদের নিয়মতান্ত্রিক সব পথ সরকার রুদ্ধ করে দেয়ার পর আমরা বাধ্য হয়ে সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছি। কর্মসূচি চলছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তা চলতে থাকবে। সব প্রতিকূলতার মধ্যে, নির্যাতন সয়ে অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার জন্য বিএনপিসহ ২০ দলের সব স্তরের নেতা-কর্মী ও দেশবাসীর প্রতি আমরা উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীনরা যদি শুভবুদ্ধি প্রণোদিত হয়ে আমার কার্যালয় থেকে গতকাল (রোববার) গভীর রাতে বিনা ঘোষণায় অবরোধ প্রত্যাহার করে নিয়ে থাকে তাহলে আমি তা স্বাগত জানাই। আমি তাদের হিংসা ও নাশকতা, অন্তর্ঘাত ও জুলুমের পথ থেকে সরে আসার আহ্বান জানাই। অত্যাচার, দমন অভিযান, গণগ্রেপ্তার বন্ধ করুন। মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা বন্দিদের মুক্তি দিন। গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক অধিকারের ওপর থেকে সব বাধা তুলে নিন। যে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছেন তা স্বাভাবিক করুন। মানুষকে স্বস্তি ও শান্তি দিন। উস্কানি, ষড়যন্ত্র ও মিথ্যাচারের অপরাজনীতি বন্ধ করুন। জনগণের ভোট দেয়ার যে অধিকার কেড়ে নিয়েছেন তা ফিরিয়ে দিন এবং অবিলম্বে গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অনুষ্ঠানের পদক্ষেপ নিন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আপনারা জানেন, আমাকে এখানে অবরুদ্ধ করে রাখার আগেই ক্ষমতাসীনরা সারা দেশকে অবরুদ্ধ করে ফেলেছিল। ঢাকাকে সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছিল সব যান চলাচল বন্ধ করে দিয়ে। এরপর আমি গত ৫ই জানুয়ারি এই কার্যালয় থেকে বেরুবার চেষ্টা করলে আমাদের তালাবন্দি করে রাখা হয়। ট্রাক, জলকামান, সাঁজোয়া যান দিয়ে সড়ক অবরোধ করা হয়। অবরুদ্ধ অবস্থায় আমাদের ওপর নিষিদ্ধ পেপার স্প্রে ছোড়া হয়। এর বিষক্রিয়ায় আমরা অসুস্থ হয়ে পড়ি। কি অমানবিক আচরণ আমাদের ওপর করা হয়েছে তা আপনারা দেখেছেন। আমি বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাই না। খালেদা জিয়া বলেন, আপনারা জানেন- অতীতের ধারাবাহিকতায় গত এক বছর ধরে আমাদের এবং দেশবাসীর ন্যূনতম অধিকারগুলো কিভাবে হরণ করা হয়েছে। কিভাবে জুলুম-নির্যাতন, গুম-খুন, হামলা-মামলা চালানো হয়েছে। কেমন জঘন্য ও উস্কানিমূলক ভাষায় আমাদের ক্রমাগত আক্রমণ করা হয়েছে। তার পরেও আমরা বারবার একটি গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য আলোচনার আহ্বান জানিয়েছি। আলোচনার ভিত্তি হিসেবে ৭ দফা প্রস্তাব পেশ করেছি। তারা আমাদের আহ্বান ও প্রস্তাবকে তাৎক্ষণিকভাবে নাকচ করে দিয়ে অস্ত্রের ভাষায় সব দমিয়ে দেয়ার পথ বেছে নিয়েছে। তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মীর্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ সারা দেশে নেতা-কর্মীদের গণহারে গ্রেপ্তার করেছে। সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করেছে। মিছিলের ওপর গুলি করেছে। টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করেছে। জনগণের প্রতিবাদের নিয়মতান্ত্রিক সব পথ রুদ্ধ করে দিয়েছে। এ অবস্থায় আমরা বাধ্য হয়ে সারা দেশে শান্তিপূর্ণভাবে অবরোধ কর্মসূচি পালনের ডাক দিয়েছি। কর্মসূচি চলছে এবং পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত তা চলতে থাকবে। খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালনের কোন সুযোগ না দিতে ক্ষমতাসীনরা মরিয়া হয়ে উঠেছে। সারা দেশে বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীরা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে শান্তিপূর্ণ বিরাট মিছিল নিয়ে রাস্তায় নামছেন। সঙ্গে সঙ্গে মিছিলে গুলি চালানো হচ্ছে। কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করা হচ্ছে। পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় ক্ষমতাসীনদের মদতপুষ্ট সন্ত্রাসীরাও হামলা করছে। এর মধ্যে গুলিতে বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকে আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, আমরা তাদের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি। আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সম্পর্কে দেশ-বিদেশে বিভ্রান্তি সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ক্ষমতাসীনরা নাশকতা ও অন্তর্ঘাতের পথ বেছে নিয়েছে। পুলিশি প্রহরার মধ্যে নারী, শিশু, ছাত্রছাত্রীদের বহনকারী যানবাহনে পেট্রল বোমা মেরে অনেক নিরপরাধ মানুষকে হতাহত ও দগ্ধ করা হয়েছে। এসব পৈশাচিক বর্বরতার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপি ও ২০ দল নিরীহ নিরপরাধ জনগণকে হত্যা ও তাদের ওপর আক্রমণে বিশ্বাস করে না। জনগণকে পুড়িয়ে মারার নৃশংস অপতৎপরতায় বিশ্বাস করে না। মানুষের জীবনের বিনিময়ে আমরা রাজনীতি করতে চাই না। কখনও করিনি। কিন্তু আওয়ামী লীগই অতীতে যাত্রীবাসে গান পাউডার দিয়ে আগুনে মানুষ পুড়িয়ে মারা, বোমা মেরে ও লগি বৈঠার তাণ্ডব চালিয়ে মানুষ হত্যা এবং পুলিশ খুনের অপরাজনীতি করেছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এখনও তারাই সুপরিকল্পিতভাবে এসব নৃশংস ঘটনা ঘটাচ্ছে। এর মাধ্যমে বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীদের হত্যা, গ্রেপ্তার ও অত্যাচারের পথ প্রশস্ত করছে। খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ঘাতক বোমাবাজদের গ্রেপ্তার না করে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ঘর-বাড়িতে হানা দিয়ে তাদের আটক করা হচ্ছে। মহিলাসহ পরিবারের সদস্যদের হেনস্তা করা হচ্ছে। যৌথবাহিনীর অভিযানের নামে বিভিন্ন জনপদে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হচ্ছে। এসব হত্যা-নির্যাতনের ঘটনায় জড়িতদের আগামী দিনে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অতীত নিরপেক্ষ ঐতিহ্য বহাল রেখে আইনসম্মতভাবে কর্তব্য পালনের আহ্বান জানাচ্ছি। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় এখনও তালাবন্ধ। দলের নেতাকর্মীরা কেউ নিরাপদে বাসায় থাকতে পারে না। হত্যার উদ্দেশ্যে রিয়াজ রহমানের ওপর গুলি করা হয়েছে। তার গাড়ি পোড়ানো হয়েছে। বিএনপি নেতা সাবিহউদ্দিনের গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। আমাদের দলের অনেক সিনিয়র নেতার বাসা ও অফিসে গুলি ও বোমা হামলা হয়েছে। আমাদের দলের অফিস অনেক জায়গায় পোড়ানো হয়েছে। কাউকে ধরা হয়নি। তিনি বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা অনেক জায়গায় অস্ত্র, বোমা ও গুলিসহ ধরা পড়েছে। তাদের সবাইকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশের চলমান পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন পর্যায়ে যে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে তার প্রতি আমি সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। দেশের চলমান সঙ্কট নিছক কোন আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়। এটি রাজনৈতিক সঙ্কট। এর রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আমরা আবারও আহ্বান জানাচ্ছি। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতেই খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমি প্রথমেই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে আপনাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। গত ১৬ দিন ধরে আমার এই অফিসের সামনে খোলা আকাশের নিচে তীব্র শীত, বৃষ্টি ও কুয়াশা উপেক্ষা করে রাস্তায় নির্ঘুম রাত কাটিয়েছেন। ২৪ ঘণ্টা পেশাগত কর্তব্য পালন করেছেন। নানা কড়াকড়ি ও সেন্সরশিপ উপেক্ষা করে সবাইকে দ্রুত সংবাদ পৌঁছে দিয়েছেন। টিভি সেটের সামনে বসে কিংবা সংবাদপত্রের পৃষ্ঠায় আমাদের অবস্থা সম্পর্কে খোঁজখবর রাখার জন্য উৎকণ্ঠিত দেশবাসীর প্রতিও আমি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, দেশী-বিদেশী বন্ধুরা, অন্যান্য ব্যক্তি ও সংগঠন উদ্বেগ ও সহানুভূতি প্রকাশ করেছেন। তাদের সবাইকে ধন্যবাদ। আমাদের দল-জোটের নেতাকর্মী সারা দেশে যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে চলেছেন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করছেন ধন্যবাদ তাদেরকেও।
পাঁচ প্রশ্নের উত্তর খালেদার
কার্যালয়ের সামনে থেকে অবরোধ প্রত্যাহারের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ দল কোন সমাবেশের অনুমতি চাইবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, আমাদের একটি কর্মসূচি চলছে। এ কর্মসূচি চলবে। পরবর্তী ঘোষণা না দেয়া পর্যন্ত অবরোধ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কি দাবি সেটা আমি আমার বক্তব্যে বলেছি। আমরা চেয়েছি সবার অংশগ্রহণে একটি নির্বাচন। আর ভোট দেয়ার অধিকার। আমরা ভোট দেয়ার অধিকার ছিনিয়ে আনতে চেয়েছি। সাংবাদিকদের প্রশ্নে প্রভাবিত হয়ে অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন বলে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার ব্যাপারে খালেদা জিয়া বলেন, কোন সাংবাদিক আমাকে পীড়াপীড়ি করেনি। সাংবাদিকদের যে দায়িত্ব তারা তা পালন করেছেন। আমাদের অবরোধ কর্মসূচি দিতে বাধ্য করেছে সরকার, সাংবাদিকরা নয়। অবরোধ তুলে নেয়ার পর এখন বাসায় যাবেন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, এটা আমার অফিস। অফিসে আমার কাজ আছে। আমি আমার কাজ করব। এছাড়া আমার যখন যেখানে ইচ্ছে সেখানে যাব। যদি যেতে পারি, যদি বাধা দেয়া না হয় তখন বোঝা যাবে অবরোধ প্রত্যাহার হয়েছে কি না। ২০ দল অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার আগে কিছু হয়নি কিন্তু পরে সারা দেশে জ্বালাও পোড়াও হচ্ছে তাই তার দায়ভার জোটের শীর্ষ নেতা হিসেবে তিনি কেন নেবেন না? একজন সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগই সব সময় এসব কাজ করে। কেন, তারা আগে করেনি? আওয়ামী লীগ আগেই বিভিন্ন জেলায় আমাদের কার্যালয় পুড়িয়েছে, আমাদের নেতাকর্মীদের গুলি করে হত্যা করেছে, রাজপথে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। করেনি? আমরা কখনও গানপাউডার ও বোমা ব্যবহার করি নি। আওয়ামী লীগ অতীতেও এসব করেছে, এখন পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে করছে। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আরএ গনি, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আ স ম হান্নান শাহ, ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, সারওয়ারী রহমান, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান ও ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
হঠাৎ সরে গেল ব্যারিকেড
গতরাত আড়াইটার দিকে হঠাৎ করেই দীর্ঘ ১৬ দিন পর খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ের সামনে থেকে বিনা ঘোষণায় ব্যারিকেড তুলে নিয়েছে পুলিশ। কার্যালয়ের সামনের রাস্তায় কয়েক গজ উত্তর দিকে আড়াআড়িভাবে রাখা দুটি পুলিশভ্যান ও দক্ষিণ দিকে রাখা একটি জলকামানের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয় পুলিশ। প্রত্যাহার করা হয় কার্যালয়ের সামনে মোতায়েন করা নারী ও পুরুষ পুলিশ সদস্যদের। ৮৬ নম্বর সড়কের দুই প্রান্তে পুলিশের তল্লাশি চৌকিও সরানো হয়। তবে মোতায়েন রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ। পুলিশে ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়ার পর কার্যালয়ের ভেতর থেকে একটি ও বাইরে থেকে আরেকটি গাড়ি গেটের সামনে আড়াআড়ি করে দাঁড় করায় খালেদা জিয়ার নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিএসএফ। এদিকে ভোর ৫টার দিকে ফের পুলিশ মোতায়েন করা হয় সেখানে। তবে এবার পুলিশ উত্তর দিকে ১০০ মিটার দূরে পার্কের কোনায় ও দক্ষিণে একটি গলির ভেতরে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর সেখানে একটি বাসে করে নারী পুলিশ সদস্যদের মোতায়েন করা হয়। তারাও কার্যালয়ের কিছুদূরে অবস্থান নেন। এর পর থেকে কার্যালয়টির নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা। দিনভর তারা ছিলেন সতর্ক অবস্থানে। দিনভর গুমোঢ় পরিস্থিতির মধ্যে পার হলেও সন্ধ্যার পর খালেদা জিয়ার কার্যালয়ে যান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। দীর্ঘদিন পর সন্ধ্যায় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। কার্যালয়টিতে অবস্থানরত দলের ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান বলেন, গতরাত ৪টা পর্যন্ত ম্যাডামের সঙ্গে আমরা জেগে ছিলাম। কার্যালয়ের সামনে থেকে পুলিশের ব্যারিকেড সরালেও বিরোধী জোটকে দমন করতে অমানবিক নির্যাতন চালাচ্ছে সরকার। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৭৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মাজারে শ্রদ্ধা জানাতে অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের বাধা দিচ্ছে। তিনি বলেন, আমাদের অবরোধ কর্মসূচি চলছে। কর্মসূচি চলাকালে  ম্যাডাম কার্যালয়েই অবস্থান করবেন। রাতে সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবেন। এদিকে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের পাশাপাশি নতুন করে মোতায়ন করা হয়েছে র‌্যাব। প্রস্তুত রাখা হয় এপিসি কার, প্রিজন ভ্যান, সাঁজোয়া যান ও পুলিশ ভ্যান। গুলশান কার্যালয়ের সামনে থেকে অবরোধ তুলে নেয়ার পর খালেদা জিয়া নয়াপল্টন যেতে পারেন এমন সংবাদ থেকেই নয়াপল্টনের নিরাপত্তা বাড়ানো হয় বলে জানা গেছে সংশ্লিষ্ট সূত্রে।
আপাতত কার্যালয়েই থাকছেন খালেদা
জলকামান ও পুলিশ ভ্যানের ব্যারিকেড সরিয়ে নেয়া হলেও আপাতত গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়েই থাকছেন বিরোধী জোটের শীর্ষ নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। গতকাল সন্ধ্যায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে খালেদা জিয়া নিজেই সে ইঙ্গিত দেন। উল্লেখ্য, গত ৩রা জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় কার্যালয়ে আসেন খালেদা জিয়া। এর পরপরই কার্যালয়ের সামনে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অর্ধশতাধিক নারী পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করা হয় কার্যালয়ের সামনে। কার্যালয়ের দক্ষিণ পাশে একটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান ও উত্তর পাশে আরেকটি জলকামান ও পুলিশ ভ্যান দিয়ে ব্যারিকেড। ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অসুস্থ দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদকে দেখতে যেতে চাইলে বিএনপি চেয়ারপারসনের পথরোধ করে পুলিশ। প্রায় আধাঘণ্টা গাড়িতে বসে থেকে ফের কার্যালয়ে ঢুকে পড়েন তিনি। পূর্ব ঘোষিত ৫ই জানুয়ারির সমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে শনিবার রাত ১২টার পর থেকেই একে একে কার্যালয়ের সামনের রাস্তার দুই পাশে এনে রাখা হয় ১১টি ইট ও বালুভর্তি ট্রাক। এরপর থেকেই কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনবারের এই সাবেক প্রধানমন্ত্রী। ৫ই জানুয়ারি দুপুরে কার্যালয়ের মূল ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেয় পুলিশ। বিকাল পৌনে ৪টায় কার্যালয়ের দোতলা থেকে নিচে নামেন তিনি। এ সময় বের হওয়ার চেষ্টা করলে খালেদা জিয়ার গাড়ি লক্ষ্য করে পেপার সেপ্র ছোড়ে পুলিশ। প্রায় এক ঘণ্টা গাড়ি থেকে বের হয়ে উপস্থিত গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন। দেশব্যাপী অনির্দিষ্টকালের অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এদিকে ওই দিন সন্ধ্যার পর পেপার সেপ্রর গ্যাসে অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। রাতেই একটি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতিনিধি দল কার্যালয়ে প্রবেশ তাকে চিকিৎসা দেন। ৬ই জানুয়ারি কার্যালয়ের দুই পাশে বালু ও ইটের ট্রাক সরিয়ে নেয়া হয়। ৩রা জানুয়ারি থেকে কার্যালয়ে অবরুদ্ধ রয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল কাইয়ুম, প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল, বিশেষ সহকারী শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, মাহবুব আল-আমিন ডিউ, মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক শিরিন সুলতানা, চেয়ারপারসনের প্রধান নিরাপত্তা সমন্বয়কারী লে. কর্নেল (অব.) আবদুল মজিদসহ মহিলা দলের কয়েকজন নেত্রী।

পাখি- কয়েকটি অসহায় ছানার কথা by শরীফ খান

(বাগেরহাটের বাদোখালী বিলে অসহায় তিনটি কালিমছানা l ছবি: লেখক) দুর্ভাগা পাখি দম্পতির সৌভাগ্য এইটুকু যে, বিলের মাঝের এক টুকরা হোগলা বনের পাশের একচিলতে নলখাগড়া বনে বাসা বানিয়ে, ছয়টি ডিম পেড়ে চারটি ছানা ফোটাতে পেরেছিল। কিন্তু সৌভাগ্যটুকু চরম দুর্ভাগ্যে পরিণত হলো তখন—যখন ছানারা একটু বড় হয়ে মায়ের পেছনে পেছনে চরতে শুরু করল। এক দুপুরে গরুর জন্য ঘাস কাটতে তালের ডোঙ্গায় চড়ে এক বালক এল, নজরে পড়ে গেল মা-বাবা পাখিসহ চারটি কুচকুচে কালো ছানা—যেন বা মুরগির ছানা। ডোঙ্গা ঘোরাল সে। কেননা, ধাওয়া করে এই ছানাদের বা মা-বাবা পাখিকে ধরা সম্ভব নয় মোটেও, ধুরন্ধর-চতুর ও বুদ্ধিমান পাখি এরা। বিলপাড়ের এক এয়ারগানধারী শিকারিকে ডোঙ্গায় বসিয়ে আবার ফিরে এল, ধানবনে ডোঙ্গা ঢুকিয়ে মাথা নামিয়ে বসে অল্পক্ষণের অপেক্ষায় এয়ারগানের গুলিতে মা পাখিটিকে পেড়ে ফেলল তরুণ শিকারি, বাবা পাখি ভয়ে উড়াল দিয়ে কোন দিকে যে গেল—ঘাবড়ে গেছে ওটা বউয়ের ছটফটানি দেখে। একটি ছানাও লুটিয়ে পড়েছে। অসহায় ছানা তিনটিকে হাঁটুজলে নেমে ধাওয়া করল দুজনই—হোগলা-নলখাগড়া ও ছিটকা গাছের ঝোপঝাড় তছনছ করার সময় ছানা তিনটি ভয়ে জল ছেড়ে শুকনো জায়গায় দৌড়ে পাড়ি দিয়ে নেমে পড়ল ওপাশের ধানবনে। ওপরে শঙ্খচিলের চক্কর ছিল—ছিল তার ডাইভের প্রস্তুতিও, কিন্তু সুযোগ সে পায়নি। বিলটির নাম বাদোখালীর বিল। ভেতরে বহু মাছের ঘের। ধানের আবাদ হয় বহু বিঘা জায়গাজুড়ে। বাগেরহাট সদর থানায় এটির অবস্থান। অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে এই বিখ্যাত বিলটির পর্যায়ক্রমিক বদলে যাওয়া দেখেছি। এ বছরও দেখলাম। নামার মতো জায়গা নেই—তবু পাখিরা নামে! খাবার নেই-ই বলতে গেলে—পাখিরা নামে কেন তবু? নিরাপত্তার বালাই নেই, তবু কেন ওরা সুখের নীড় গড়ে ছানা ফোটানোর আশায়! গুলি খায়—তবু কেন ওরা গুলির সামনে বুক পেতে দেয় বাদোখালীর বিলে নেমে? এসব প্রশ্নের একটাই উত্তর—নামার মতো জায়গা নেই কোথাও—কোথাও নেই নিরাপত্তা, খাদ্যসম্ভার। যেমন ওই কুচকুচে কালো ছানা তিনটি যদি বাবাকে খুঁজে না পায়— কিংবা বাবা খুঁজে না পায় ছানাদের, তাহলে বাঁচবে না ছানা তিনটি। কেননা, মা-বাবার প্রশিক্ষণ ছাড়া কোনো পাখির ছানাই শিখতে পারে না নির্মম প্রকৃতির পাঠ, খাবার চেনে না, শত্রু-মিত্র চেনে না। ওদের বাবাও যে বন্দুকের গুলি এড়িয়ে বেঁচে থাকবে, সে নিশ্চয়তাও নেই। হাওর-বাঁওড়-বিল-মাঠের হোগলা-নলখাগড়াসহ অন্যান্য ঝোপের বাসিন্দা এই পাখিটির নাম কালিম। কায়েম নামেও পরিচিত। খুলনা-গোপালগঞ্জ-বাগেরহাটে এটিকে বলা হয় ‘বুরি’। এটির ইংরেজি নাম Purple Swamphen. বৈজ্ঞানিক নাম Porphyrio Porphyrio। ওজন ৬৫০ গ্রাম। একনজরে নীলচে-বেগুনি রঙের পাখি এটি। লেজের তলা সাদা। অনেকটাই উটপাখির মতো দৌড়াতে পারে এরা শুকনো জায়গা দিয়ে। ঠোঁটে যেন এদের হীরার ধার! কামড় দিয়ে মানুষের হাত-পায়ের চামড়া ফুটো করে দিতে পারে। আজও বাগেরহাটসহ গোপালগঞ্জ এলাকার হাটবাজারে গোপনে-সদরে বিক্রি হতে দেখা যায় এদের, বিক্রেতারা ওদেরই শরীরের একটা বড় পালক টেনে তুলে নাকের ভেতরে ঢুকিয়ে দিয়ে নিচের ঠোঁটের তলা দিয়ে ঘুরিয়ে এনে আবারও ঢুকিয়ে দেয় নাকের ছিদ্রের ভেতর। এতে এরা ঠোঁট ফাঁক করে কামড় দিতে পারে না আর। মূল খাদ্য এদের জলজ ঝোপঝাড়ের বিভিন্ন পোকাপতঙ্গ, কচি পাতাসহ মাছ-ব্যাঙ ইত্যাদি। এদের কণ্ঠস্বরটা সুরেলা—ধানের ফাঁপা নাড়া দিয়ে বাঁশি বানিয়ে সেই বাঁশিতে ফুঁ দিলে যে রকম শব্দ হয়, অনেকটাই মিলে যায় বুরির কণ্ঠের সঙ্গে। জলজ ঝোপঝাড়ে বাসা করে। ডিম পাড়ে তিন-সাতটি। ডিম ফোটে ১৮-২৩ দিনে। দেশের হাওরাঞ্চলে আজও কিছু পোষা বুরি দেখা যায়। অথচ বন্য প্রাণী আইনে এদের ধরা-মারা-পোষা দণ্ডনীয় অপরাধ। বাগেরহাটের বাদোখালী বিলের দিকে যদি নজর দেয় যথাযথ কর্তৃপক্ষ, তাহলে ওই বিলের পাখিবৈচিত্র্য হয়তোবা টিকে থাকতে পারবে আরও কিছুকাল।

আপাতত না–ও বাড়তে পারে বিদ্যুতের দাম- গণশুনানি শুরু হচ্ছে আজ

চলতি জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম না-ও বাড়তে পারে। যদিও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাঁচটি বিতরণ কোম্পানি ১ জানুয়ারি থেকেই পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছিল এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি)। আপাতত মূল্যবৃদ্ধি বিলম্বিত হলেও এর আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রধান অংশ গণশুনানি আজ মঙ্গলবার শুরু হচ্ছে। শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি বাদ দিয়ে এই শুনানি একটানা চলবে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত ঘোষণার জন্য বিইআরসির হাতে ৯০ কার্যদিবস সময় থাকবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের অব্যাহত মূল্যহ্রাস ও দেশে বর্তমান সহিংস রাজনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যবৃদ্ধি বিলম্বিত হওয়ার কারণ বলে জানা গেছে। ২০০৮ সাল থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রধান কারণ উচ্চমূল্যের তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন। এবারের শুনানির বিভিন্ন পর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১ জন শিক্ষক অংশ নেবেন। বিইআরসির আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাঁদের মনোনীত করেছে। এ ছাড়া ব্যক্তিগত আগ্রহে অংশ নিতে নাম তালিকাভুক্ত হয়েছে আরও চারজনের। তাঁদের মধ্যে আছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক নুরুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এম এম আকাশ এবং এ কে ডি খায়ের মোহাম্মদ খান ও মো. আলী আজিম নামের দুই ব্যক্তি। অন্যান্য বারের মতো কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব), এফবিসিসিআই, এমসিসিআই, ডিসিসিআই, বিটিএমএ এবং কয়েকটি বামপন্থী রাজনৈতিক দল—সিপিবি, বাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, ন্যাপ ও নাগরিক ঐক্যের প্রতিনিধিরা শুনানিতে অংশ নিতে নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে সিপিবি-বাসদ বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর জন্য শুনানি করতে লিখিত আহ্বান জানিয়েছে বিইআরসিকে। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির দুজন সাংসদ টিপু সুলতান ও ইয়াসিন আলী বিইআরসির কাছে লিখিতভাবে একই আহ্বান জানিয়েছেন। আজ সকাল ১০টায় কারওয়ান বাজারের টিসিবি মিলনায়তনে গণশুনানি হবে বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানোর জন্য পিডিবির দেওয়া প্রস্তাবের ওপর। পিডিবি ১৮ দশমিক ১২ শতাংশ (ইউনিটপ্রতি প্রায় ৮৪ পয়সা) দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ২০০৮ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১২ সালের ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মোট ছয়বার বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়ানো হয়। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের পাইকারি দাম গড়ে প্রায় ৪ টাকা ৬৪ পয়সা। কাল বুধবার সকালে শুনানি হবে বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার বাড়ানোর জন্য পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) প্রস্তাবের ওপর। সংস্থাটি ৭০ দশমিক ৭৭ শতাংশ সঞ্চালন মূল্যহার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। বর্তমানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সঞ্চালন মূল্যহার প্রায় ২২ পয়সা। এর আগে একবার এই হার বাড়ানো হয়েছিল। গ্রাহক পর্যায়ে দাম বাড়ানোর শুনানি প্রথম শুরু হবে আগামীকাল বিকেলে। তখন পশ্চিমাঞ্চল বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ওজোপাডিকো) প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। তারা ২১ দশমিক ৩১ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে পিডিবির বিতরণ অঞ্চল ও বিকেলে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) প্রস্তাবের ওপর শুনানি হবে। পিডিবি ২২ শতাংশ ও ডিপিডিসি ১৭ দশমিক ৮৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। ২৫ জানুয়ারি সকালে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) ও বিকেলে ঢাকা বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানির (ডেসকো) প্রস্তাবের ওপর শুনানির মধ্য দিয়ে গণশুনানি শেষ হবে। আরইবি ২৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ এবং ডেসকো ১৭ দশমিক ৪৫ শতাংশ দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।

অবৈধ বাজার বসিয়ে চাঁদাবাজি by অরূপ রায়

(সাভারের হেমায়েতপুরে ফুটপা​ত ও মহাসড়কে বসানো হয়েছে অবৈধ বাজার। সম্প্রতি তোলা ছবি l প্রথম আলো) ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর থেকে সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্থানে প্রতিদিন বসছে অবৈধ বাজার। সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গায় বসানো এসব বাজারে রয়েছে প্রায় আট হাজার ভাসমান দোকান। ওই সব দোকান থেকে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা চাঁদা হিসেবে প্রতিদিন আদায় করছেন অন্তত ১৫ লাখ টাকা। এই চাঁদার ভাগ যাচ্ছে সরকারদলীয় নেতা আর পুলিশের পকেটে। আর যাত্রী ও পথচারীরা শিকার হচ্ছেন ভোগান্তির। ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সদ্য সাবেক সহসভাপতি আশরাফ উদ্দিন খান গত শুক্রবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘দলের একশ্রেণির নেতা-কর্মী বাজার বসিয়ে এ চাঁদাবাজি করছে। এদের মধ্যে স্থানীয় সাংসদের আত্মীয়স্বজনও রয়েছেন।’
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গত বছর অন্তত ১০ বার পরিদর্শন করে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের নির্দেশ দেন। পরে নামকাওয়াস্তে উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়। সাভার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী অবস্থান পাল্টে ফেলেন। অভিযান পরিচালনাকারী সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সওজ কর্তৃপক্ষকে মন্ত্রী তিরস্কার করেন। এর পরই হাল ছেড়ে দেয় স্থানীয় প্রশাসন। আর এই সুযোগে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন হকাররা (বিভিন্ন পণ্যের খুচরা বিক্রেতা)। দেড় মাসের বেশি সময় ধরে সাভারের হেমায়েতপুর, গেন্ডা ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ভাসমান দোকানের সংখ্যা বেড়ে গেছে। গেন্ডা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীছাউনিতেও দোকান বসানো হয়েছে। সাভার বাসস্ট্যান্ড, হেমায়েতপুর, উলাইল ও গেন্ডায় অবৈধ দোকান সম্প্রসারিত হয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলে এসেছে। হেমায়েতপুরে বিশৃঙ্খলা: ঢাকার গাবতলী আর সাভার পৌর এলাকার মাঝামাঝি স্থানে হেমায়েতপুর বাসস্ট্যান্ড। এখানে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর ও ঢাকার কেরানীগঞ্জের সড়ক মিশেছে মহাসড়কে। কিন্তু মহাসড়কের ওপর ও মহাসড়ক ঘেঁষে সওজের জমিতে গড়ে উঠেছে প্রায় দেড় হাজার ভাসমান দোকান। দোকানিরা জানান, আকার আর ব্যবসার ধরনভেদে প্রতিটি দোকান থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। এখানে এসে থামলে চাঁদা দিতে হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা, পিকআপ ভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও ইজিবাইক চালকদেরও। ব্যবসায়ী ও যানবাহন শ্রমিকদের কয়েকজন জানান, এসব চাঁদা তোলেন মুকুর, বাচ্চু, সানোয়ার, মোবারকসহ কয়েকজন তরুণ। বাচ্চু বলেন, ‘আমরা তো ভাই বেতনে কাজ করি। টাকা তো নিয়া যায় ট্রাফিক পুলিশ আর নেতারা।’ নেতাদের নাম জানতে চাইলে মুকুর বলেন, ‘আমরা ছোট কর্মচারী। এইসব জিজ্ঞাসা কইরা বিপদে ফালাইয়েন না ভাই।’
গেন্ডায় যাত্রীছাউনি দখল: সাভার উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের বিপরীতে গেন্ডা বাসস্ট্যান্ড যাত্রীছাউনি। অবৈধ দোকান বসিয়ে এটি দখল করে ফেলা হয়েছে। শুধু ছাউনি নয়, মহাসড়ক ও এর পাশের খালি জায়গাও ফাঁকা নেই। এখানে দেড় শতাধিক দোকান বসিয়ে যাত্রী ও যান চলাচল সংকুচিত করে ফেলা হয়েছে। দোকানদারেরা জানান, দোকান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করেন সাভার পৌর যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম। চাঁদার হার দোকানভেদে ১০০ থেকে ২০০ টাকা। জানতে চাইলে আমিনুল বলেন, ‘জায়গা ফাঁকা থাকায় সওজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে কিছু দোকানপাট তোলা হয়েছে। ওই সব দোকানপাটের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য আমার লোকজন কিছু চাঁদা আদায় করে থাকে।’
সাভার বাসস্ট্যা‌ন্ডে হাঁটা যায় না: বাজার বসানোর কোনো জায়গা না থাকলেও ‘বাসস্ট্যান্ড কাঁচাবাজার’ নামে ইজারা দিয়েছে সাভার পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। পুরো বাজারটিই গড়ে উঠেছে ফুটপাত ও মহাসড়ক দখল করে। সাভারের আড়াপাড়ার আতিকুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাংলা ১৪২১ সনের জন্য ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকায় কাঁচাবাজার ইজারা নেন। পরে ইজারার শর্ত ভেঙে সরকারি দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে উপ (সাব) ইজারা দেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা ফুটপাতসহ মহাসড়ক ও সড়কসংলগ্ন সওজের জমিতে ইচ্ছেমতো বাজার বসিয়ে ইজারার নামে চাঁদা আদায় করছেন। বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের উভয় পাশে সবজি, মসলা, মাছ, মাংস, ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের প্রায় ছয় হাজার ভাসমান দোকান বসানো হয়েছে। ব্যবসায়ীরা বলেন, বেশ কয়েকজন তরুণ প্রতিদিন ১০০ থেকে ৩০০ টাকা হারে চাঁদা আদায় করেন। তাঁরা হকার্স লীগ ও যুবলীগের নেতা-কর্মী বলে পরিচয় দেন। সোহেল নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদা আদায় করেন। জানতে চাইলে সোহেল বলেন, এক আপার হয়ে তিনি চাঁদা নেন। ওই আপাই সিটি সেন্টারের সামনে পদচারী সেতুর আশপাশে অর্ধশত দোকান বসিয়েছেন। তবে কে সেই আপা, তা তিনি বলতে রাজি হননি।
কর্মকর্তারা যা বলেন: পুলিশের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির ভাগ নেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে সাভার থানার ওসি মো. আবদুল মোতালেব মিয়া বলেন, ‘আমি এ থানায় সম্প্রতি যোগ দিয়েছি। এ রকম অভিযোগ আমিও পেয়েছি। খতিয়ে দেখব। নানা কারণে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা সম্ভব না হলেও জনসাধারণের হাঁটাচলায় যাতে বিঘ্ন না ঘটে, সে ব্যবস্থা করা হবে।’
সওজের কল্যাণপুর উপবিভাগের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. সামসুজ্জোহা বলেন, কয়েক মাস আগে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সাভার বাসস্ট্যান্ড থেকে অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এ জন্য ব্যবাসয়ীরা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। ওই ঘটনায় সওজের এক কর্মকর্তাকেই বদলি হতে হয়েছে। এ কারণে এসব অবৈধ বাজার উচ্ছেদে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। নানা ঝামেলার মধ্যেও অবৈধ বাজার উচ্ছেদে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকাল সোমবার রাতে স্থানীয় সাংসদ এনামুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে ইউএনও ও ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এবার বন্ধ করে দেয়া হলো হোয়াটস অ্যাপ মাই পিপল ও লাইন

ভাইবার ও ট্যাঙ্গোর পর এবার বন্ধ হলো হোয়াটস অ্যাপ, মাই পিপল ও লাইন নামের আরও তিনটি ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং ও ভিওআইপি অ্যাপ্লিকেশন। নিরাপত্তাজনিত কারণে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি গতকাল সোমবার ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়েগুলোকে (আইআইজি) এই তিনটি অ্যাপ বন্ধের নির্দেশনা পাঠায়। একাধিক আইআইজি প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, আগামী ২১শে জানুয়ারি মধ্যরাত পর্যন্ত এসব অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান। এর আগে রোববার সকাল থেকে ভাইবার ও ট্যাঙ্গো ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে’ বন্ধ রাখার নির্দেশনা আসে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর কোন পদক্ষেপ নয়। কারণ প্রযুক্তি বন্ধ করে মনিটর করাটা অসম্ভব বলেই মনে করেন তারা। তরুণরা বিকল্প উপায়ে এসব অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করতে পারে। বিটিআরসি জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুরোধের ভিত্তিতে এসব অ্যাপ্লিকেশন সাময়িকভাবে বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। বিএনপি জোটের অবরোধের মধ্যে এসব অ্যাপ ব্যবহার করে নাশকতাকারীরা যোগাযোগ রাখছে বলে গোয়েন্দাদের তথ্য। এদিকে গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সোমবার দুপুর ২.৫৯ এ গ্রামীণফোন এবং অন্যান্য মোবাইল অপারেটর, হোয়াটসঅ্যাপ, লাইন এবং মাই পিপল সেবা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করার জন্য বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন  রেগুলেটরি কমিশন (বিটিআরসি)-এর লিখিত নির্দেশনা পায়। একই সময় বিটিআরসি, গ্রামীণফোন এবং অন্যান্য  মোবাইল অপারেটরকে আগেই বন্ধ করা ভাইবার এবং ট্যাংগো সেবা আগামী ২১শে জানুয়ারি ২০১৫ এর রাত ১১.৫৯ পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে গ্রামীণফোন শুধু আইপিভিত্তিক মেসেজিং সেবা আংশিকভাবে বন্ধ করতে পারে। তবে গ্রাহকগণ আগামী কয়েকদিন উল্লিখিত সেবাগুলো ব্যবহারে বাধার সম্মুখীন হতে পারেন। গ্রামীণফোন যোগাযোগের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে এবং এ বিষয়ে গ্রাহকদের অসুবিধার কারণে আন্তরিকভাবে দুঃখিত। এদিকে কলম্বোভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার সিনিয়র রিসার্চ ফেলো আবু সাঈদ খান বিবিসিকে বলেন, এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশন্স কুটির শিল্পের মতো। কোডার আছে এমন ১০/১২ জন ছাত্র যদি মনে করে অ্যাপস তৈরি করবে, সেটা তারা করেও ফেলতে পারে। প্রযুক্তির সক্ষমতার বিষয়ে ধারণা না থাকার কারণেই আমলাতান্ত্রিক এসব সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া হয় উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। তিনি জানান, যারা একটু প্রযুক্তি সচেতন তারা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় সেটা তারা জানেন। তিনি বলেন, এটা কোন গোপন বিষয় নয়, এটা স্বাভাবিক একটি বিষয়। সরকারি প্রশাসনযন্ত্রে যারা আছেন তারা প্রযুক্তির বাস্তবতা নিয়ে অজ্ঞ থাকেন বলেই এ ধরনের হাস্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন বলে মন্তব্য করেন। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীতে এমন কোন টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা নেই যেখানে আড়িপাতা যায় না। এটি কারিগরি সক্ষমতার উপর নির্ভর করে। তবে কোথাও কেউ বলে না কোনটায় তারা আড়ি পাতবে। তিনি বলেন কারও অবস্থান ট্রাকিং করতে হলে যে ডিভাইস বা যন্ত্রের কথা বলছেন সেটা ট্র্যাক করা এক ধরনের প্রযুক্তি। তবে এ ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয় না। পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্কে এ ধরনের অ্যাপ্লিকেশনের উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলো। তরুণরা অত্যন্ত চালাক। জিপিএন প্যানেলিং করে সরকারের নিষেধাজ্ঞা বাইপাস করে তারা বিদেশে কথা বলে, ভাইবারে কথা বলে। প্রসঙ্গত, কথা বলা, চ্যাট করা, ছবি ও ভিডিও বার্তা পাঠানোর ক্ষেত্রে এসব সফটওয়্যার গ্রাহকরা বেশ পছন্দ করেন। থ্রি-জি, ফোর-জি এবং ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে কাজ করে থাকে এসব সফটওয়্যার।