Friday, June 7, 2019

ভারত-পাক সীমান্তে ৪১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে ১৪ হাজার বাঙ্কার

জম্মু-কাশ্মিরের ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে ৪১৫ কোটি ৭৩ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হচ্ছে ১৪ হাজার ৪০০টি বাঙ্কার। বর্ডার এরিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রোজেক্ট (বিএডিপি) প্রকল্পে ওই কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে।
রাজৌরির কালসিয়ান এলাকায় সীমান্তবর্তী স্থানীয় একটি স্কুলের জমিতে এরইমধ্যে প্রথম বাঙ্কারটি তৈরি হওয়ায় স্কুলের ছাত্ররা গত ৬ জুন বুধবার ওই বাঙ্কারটি সেনাবাহিনীকে উৎসর্গ করেছে। সেনাবাহিনীর নর্দার্ন কমান্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ৭৫ শতাংশ বাঙ্কার তৈরির কাজ শেষ হয়ে যাবে। স্থানীয় অনেক বাসিন্দাই বাঙ্কার তৈরির জন্য তাদের জমি দিয়েছে।
গণমাধ্যমে প্রকাশ, পাকিস্তান প্রায়ই সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করায় সীমান্তের বাসিন্দাদের আশ্রয়ের জন্য তৈরি হচ্ছে কমিউনিটি বাঙ্কার। সেনা সূত্রের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ২ হাজার ৯৩৬ বার সংঘর্ষবিরতি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনা। গুলি এবং বোমার আঘাতে ৬১ জন মারা গেছে। আহত হয়েছেন ২৫০ জন। হতাহতের মধ্যে সাধারণ মানুষের পাশপাশি সেনা কর্মকর্তা ও কর্মীরাও রয়েছেন। সেজন্য সীমান্তে পাহারারত নিরাপত্তা বাহিনী ও সীমান্তবর্তী মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে বাঙ্কার তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার।
পুঞ্চ, রাজৌরি, খাটুয়া ও সাম্বা জেলায় স্বতন্ত্র ও কমিউনিটি বাঙ্কার তৈরি করা হবে। সরকারি সূত্রের খবর, উভয়পক্ষের গোলাগুলি বর্ষণের মধ্যে পড়ে যাতে জম্মু-কাশ্মিরের বেসামরিক নাগরিকদের প্রাণহানি না হয়, সেই লক্ষ্যেই এসব বাঙ্কার নির্মাণ করা হচ্ছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির সময়, বাঙ্কারগুলোর প্রত্যেকটিতে যাতে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ জন মানুষ থাকতে পারেন সেভাবেই এগুলো নির্মাণ করা হবে।
ভারতের ও পাকিস্তানের মধ্যে ৩ হাজার ৩২৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এরমধ্যে ২২১ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও ৭৪০ কিলোমিটার নিয়ন্ত্রণরেখা (এলওসি) আছে।

বিদ্রোহের মুখে মোদি সরকার!

প্রবল পরাক্রমী নতুন সরকারের ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় দলের মধ্যে প্রথম বড় ‘বিদ্রোহের’ মুখে পড়লেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। যার জেরে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পিছু হটতে হলো তাকে। প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার আটটি কমিটির মধ্যে দু’টি বাদে সব ক’টি থেকে রাজনাথ সিংকে বাদ দিলেন। আবার রাতের মধ্যেই ওই দু’টির পাশাপাশি আরো চারটি কমিটিতে রাজনাথকে ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হলেন প্রধানমন্ত্রী।
গত কাল থেকেই মন্ত্রিসভার কমিটিগুলোর বিন্যাস ধাপে ধাপে ঘোষণা করছিল মোদি সরকার। তাতে স্বরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনা রাজনাথ সিংহের ডানা ছাঁটা হচ্ছিল অল্প অল্প করে। আর তার থেকেও বেশি গতিতে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ওজন বাড়ানো হচ্ছিল। গত দু’দিনে পর্যায়ক্রমে মোট আটটি কমিটি ঘোষণার পরে দেখা গেল, সব ক’টিতেই রয়েছেন অমিত। এমনকি দু’টির নেতৃত্বও দিচ্ছেন তিনি। নির্মলা সীতারামনের মতো নেত্রীও সাতটি কমিটিতে রয়েছেন। পীযূষ গয়াল রয়েছেন পাঁচটিতে। কিন্তু খাতায়-কলমে সরকারের ‘নম্বর টু’ রাজনাথ রয়েছেন দু’টিতে। মন্ত্রিসভার রাজনৈতিক বিষয়ের মতো কমিটি থেকেও বাদ পড়েছেন তিনি।
বিজেপির এক নেতার কথায়, মোদি জমানায় রাজনীতি বিষয়ক কমিটির আলাদা কোনো মূল্য নেই। কারণ, যাবতীয় সিদ্ধান্ত মোদি-শাহই নেন। তা সত্ত্বেও যে কমিটিতে দেশের রাজনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা, যেটিকে চিরাচরিতভাবে ‘সুপার ক্যাবিনেট’ বলা হয়— সেখানে প্রথমে রাজনাথকে না-রাখা অবশ্যই একটি বার্তা। অথচ সেই কমিটিতে মোদি-শাহ ছাড়াও নির্মলা, পীযূষ, নিতিন গডকড়ী, রবিশঙ্কর প্রসাদের পাশাপাশি রামবিলাস পাসোয়ান, হরসিমরত কৌর বাদল, অরবিন্দ সবন্তের মতো শরিক দলের নেতাদের রাখা হয়েছিল।
বার্তা স্পষ্ট। সুষমা স্বরাজ মন্ত্রিসভায় ডাক পাননি। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে অরুণ জেটলি মন্ত্রিসভায় যোগ দেননি। তার আপত্তিতে পীযূষকে অর্থ মন্ত্রণালয় না-দেয়া হলেও ঘুরপথে গুরুত্ব বাড়ানো হচ্ছে। সঙ্ঘ-ঘনিষ্ঠ গডকড়ীরও ঠাঁই হয়নি প্রধান চার মন্ত্রণালয়ে। আর রাজনাথের কাছ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেড়ে প্রতিরক্ষায় ঠেলে দেয়া হয়েছে তাকে। বিজেপির অনেকের দাবি, রাজনাথ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাখতে চাইলে মোদি সেখান থেকে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কাশ্মীরের বিষয়টি আলাদা করে অমিতের হাতে তুলে দিতে চেয়েছিলেন।
অসন্তোষ বাড়ছিল তখন থেকেই। সেটি চরমে উঠল গুরুত্বপূর্ণ কমিটিগুলো থেকে রাজনাথ বাদ পড়ায়। কংগ্রেসও প্রশ্ন তুলল, রাজনাথের মতো অভিজ্ঞ মন্ত্রীকে কেন কাজে লাগানো হচ্ছে না? বিজেপি সূত্রের মতে, দিনভর পরিস্থিতি এতটাই জটিল হয়ে ওঠে যে, ঘনিষ্ঠ মহলে রাজনাথ বলেন, এর পরে তার মন্ত্রিসভায় থাকার কোনো অর্থ হয় না। আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গেও তিনি কথা বলেন। দিনভর বিতর্ক আর বিদ্রোহের আঁচ পেয়ে সন্ধ্যার পরে পিছু হটতে হয় মোদিকে। গত এক সপ্তাহ ধরে যিনি অমিতকে সঙ্গে নিয়ে তিন শ' পারের ‘দাপট’ দেখাচ্ছেন।
রাজনাথের দফতর থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, তিনি আদৌ ইস্তফা দিতে চাননি। সঙ্ঘের হস্তক্ষেপেরও প্রশ্ন নেই। কিন্তু এই যুক্তির পরও প্রশ্ন থেকে যায়, রাজনাথকে বাদ দিয়ে মোদি কমিটি গড়েছিলেন কেন এবং সন্ধ্যা হতে না-হতেই সেই কমিটি নতুন করে সাজাতে হলো কেন? কেনই বা অমিতকে সরিয়ে একটি কমিটির দায়িত্ব রাজনাথের হাতেই তুলে দিতে হলো? কেনই বা আটটির মধ্যে ছ’টিতেই রাজনাথকে রাখতে বাধ্য হলেন মোদি?
দিনভর উত্তেজনা দেখে বৃহস্পতিবার দলের সদর দফতরেও কোনো বড় নেতা পা বাড়াননি। সাংবাদিকদের মুখোমুখিও হননি কোনো নেতা। কিন্তু দলের অনেকেই মানছেন, তিন শ'রও বেশি আসন নিয়ে আসা মোদিকে যদি প্রথমেই দলের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের মুখে পড়তে হয়, তা হলে এর পরিণতি কোথায়? কংগ্রেসের মতো বিরোধী দলের নেতারা মনে করছেন, এ তো সবে শুরু। লালকৃষ্ণ আডবাণী, মুরলীমনোহর জোশীর পরে সুষমা-জেটলিকেও কোণঠাসা করে দিয়েছে মোদি-শাহ জুটি। জেটলি চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রীকে বলেছিলেন, অসুস্থতার কারণে ‘কিছু সময়ের’ জন্য তিনি মন্ত্রিসভার কোনো দায়িত্ব নিতে পারবেন না। কিন্তু এখন মন্ত্রিসভায় যাবতীয় আর্থিক বিষয়েও নজরদারি শুরু করেছেন অমিত শাহ, নিজের মন্ত্রণালয়ের বাকি সব মন্ত্রীকেও ডেকে পাঠাচ্ছেন। এবং প্রধানমন্ত্রীও যাবতীয় দায়িত্ব তার হাতে সঁপে দিচ্ছেন। এর পরে জেটলি সুস্থ হলেও তার ফিরে আসার যাবতীয় পথ বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে বলেই মনে করছেন বিরোধী দলের নেতারা।
সূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা

‘কাতার ইমিগ্রেশন আমাকে আটক করেনি’ -পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ by কমল জোহা খান

প্রথম আলো, ০৭ জুন: পাসপোর্ট ছাড়া কাতারে গেলেও দোহার হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিমানের পাইলট ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করেনি। কাতারে অবতরণের পর পাসপোর্ট না পেয়ে বিমান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন তিনি। এরপর হামাদ ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের ভেতরে হোটেলে ছিলেন। বাংলাদেশ থেকে পাসপোর্ট যাওয়ার পর ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন ফজল মাহমুদ। এখন তিনি কাতারেই অবস্থান করেছেন। খুব শিগগিরই দেশে ফিরবেন বলে জানান ফজল মাহমুদ।
আজ শুক্রবার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে এসব কথা বলেন তিনি।
নিজের ভুলের কারণে ঘটনাটি ঘটেছে জানিয়ে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত ৩ জুন ডলার এনডোর্স করতে ঢাকার একটি ব্যাংকে গিয়েছিলাম। ব্যক্তিগত একটি ছোট ব্যাগে পাসপোর্টটি ছিল। ব্যাংকের কাজ শেষ করে শাহজালাল বিমানবন্দরে ফ্লাইট অপারেশন অফিসে যাই। সেখানে ব্যাগটি রেখে আসি। অফিসের সহকর্মীরা ব্যাগটি দেখে আমার লকারে রেখে দেন।’
ফজল মাহমুদ জানান, ৫ জুন রাতে ফ্লাইটে ঢাকা থেকে দোহায় যান তিনি। ঢাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে তাঁর দুই আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। এরপর পাসপোর্টও দেখতে চাওয়া হয়নি। রাতে দোহায় বিমান অবতরণের পর অফিশিয়াল ব্যাগ থেকে খুঁজতে গিয়ে পাসপোর্ট পাননি। তখন দোহা এয়ারপোর্টে বিমানের স্টেশন ম্যানেজারের সঙ্গে যোগযোগ করেন। এ ছাড়া ঢাকায় বিমান অফিসে কথা বলেন। তখন লকারে থাকা তাঁর ব্যক্তিগত ছোট ব্যাগে পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানাতে পারেন। পরে অন্য ফ্লাইটে পাসপোর্টটি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পাসপোর্ট না থাকায় তিনি দোহা বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে যাননি। বিমানবন্দরের ভেতরে অরিক্স এয়ারপোর্ট হোটেলে ছিলেন। পরদিন ৬ জুন পাসপোর্ট পেয়ে ইমিগ্রেশন সম্পন্ন করান। কাতার ইমিগ্রেশনের পক্ষ থেকে পাসপোর্টের বিষয়ে ফজল মাহমুদের কাছে কিছু জানতে চাওয়া হয়নি বা আলাদা করে জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি। এমনকি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছেও কোনো অভিযোগ করেনি।
বিমান সূত্রে জানা গেছে, ফজল মাহমুদ প্রায় ৩০ বছর ধরে বিমানের পাইলট হিসেবে ফ্লাইট পরিচালনা করছেন। অভিজ্ঞতার কারণে বিমানের ভিভিআইপি ফ্লাইটগুলো তিনিই পরিচালনা করে থাকেন।
ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ বলেন, ‘আমার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে এ ধরনের ভুল কখনো হয়নি। পাসপোর্ট না থাকলে বিদেশের বিমানবন্দরগুলো থেকে ওই যাত্রীকে ফিরতি ফ্লাইটে ফেরত পাঠানো হয়ে থাকে। ফ্লাইটে না ওঠা পর্যন্ত ইমিগ্রেশন থেকে বিমানবন্দরের নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে থাকতে হয়। ৬ মে দোহা বিমানবন্দরে পাসপোর্ট না থাকায় আমি ওখানকার ইমিগ্রেশন যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত অরিক্স এয়ারপোর্ট হোটেল থাকি। পাসপোর্ট পেয়ে ৬ জুন রাতে ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করি।’
বিমানের ফ্লাইট পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট এমন কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের যেকোনো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ফ্লাইট ছাড়ার আগে পাইলট, কেবিন ক্রুদের জেনারেল ডিক্লারেশন ফরম পূরণ করতে হয়। এই ফরমে পাসপোর্ট নম্বর, জন্মতারিখ, গন্তব্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ করতে হয়। এ ছাড়া তাঁদের ব্যক্তিগত পাসপোর্ট অবশ্যই সঙ্গে নিতে হয়। এরপর বিদেশে পৌঁছানোর পর ওই দেশের বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট দেখিয়ে বিমানবন্দর থেকে বের হতে হয়।
ফিনল্যান্ড সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আনতে গতকাল বুধবার রাতে বিমানের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকা ছেড়ে কাতারের উদ্দেশে রওনা দেন ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ। কিন্তু পাসপোর্ট না থাকায় দোহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের স্টাফদের জন্য নির্ধারিত হোটেলে যেতে পারেননি তিনি। এরপর কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাঁকে আটক করেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদকে আটক করেনি বলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়। এ ব্যাপারের বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ প্রথম আলোকে বলেন, পাসপোর্টবিহীন থাকার কারণে ফজল মাহমুদকে কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আটক করেনি। এ বিষয়ে ভুল তথ্য এসেছে।
এ ব্যাপারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মুহিবুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদের পাসপোর্টটি কাতারে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর বদলে বিকল্প পাইলট কাতারে যাচ্ছেন। যিনি ওখানে রয়ে গেছেন, তাঁর দেশে ফিরে আসতে হলেও তো পাসপোর্টটি পাঠিয়ে দিতে হবে। তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না? জানতে চাইলে বিমানসচিব বলেন, ‘তাঁকে পানিশমেন্ট (শাস্তি) দিতে হলেও তো পাসপোর্টটি পাঠাতে হবে। তিনি দেশে ফিরে আসার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় কাতার ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে ‘আটক’ হয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পক্ষ থেকে আজ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট ক্যাপ্টেনসহ পাসপোর্টবিহীন বিমানে ভ্রমণ এবং ঢাকার হজরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য আন্তমন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। চার সদস্যের এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ নাসিমা বেগমকে।
কমিটিকে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীর পাসপোর্টবিহীন অবস্থায় দোহা ভ্রমণের কারণ অনুসন্ধান, হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষে দায়িত্ব অবহেলার বিষয়ে দায়দায়িত্ব নিরূপণ এবং বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের কার্যপদ্ধতির ত্রুটি নিরূপণ করতে বলা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে গঠিত কমিটিতে তিন কর্মদিবসের মধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে একটি প্রতিবেদন দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বহন করতে কাতার যাওয়া উড়োজাহাজের পাইলটের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে ক্যাপ্টেন ফজল মাহমুদ চৌধুরীকে। তাঁর পরিবর্তে বিমানের জ্যেষ্ঠ পাইলট ক্যাপ্টেন আমিনুল ইসলামের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আজই তাঁর কাতার যাওয়ার কথা রয়েছে।

আরব দেশগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ‘ধ্বংসাত্মক’ নীতি গ্রহণ করেছে: রাশিয়া

রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ
আমেরিকা ও পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ইরানবিরোধী ‘ধ্বংসাত্মক’ তৎপরতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাশিয়া বলেছে, এ ধরনের পদক্ষেপে সংকট আরো ঘনীভূত হবে। রাশিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ বার্তা সংস্থা স্পুৎনিককে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে এবং আরব দেশগুলো এ কাজে ওয়াশিংটনকে উৎসাহ যোগাচ্ছে। রিয়াবকভের মতে, এর ফলে পারস্য উপসাগরে সংঘাতের উসকানি বাড়ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের গোড়ার দিকে ক্ষমতা গ্রহণ করে ইরানের বিরুদ্ধে যে মারমুখো নীতি গ্রহণ করেন তার প্রতি পারস্য উপসাগরীয় আরব দেশগুলো সমর্থন জানায়। বিশেষ করে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকা বেরিয়ে গিয়ে তেহরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করলে আরব দেশগুলো বিশ্ব বাজারে ইরানের তেলের ঘাটতি পূরণ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।
এ সম্পর্কে রুশ উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ইরানের তেল রপ্তানি ও পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে ওয়াশিংটন ও আরব দেশগুলো যে নীতি গ্রহণ করেছে তা ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন।’ তবে রাশিয়া মধ্যপ্রাচ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের চেষ্টা করছে বলেও জানান তিনি।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ আরব দেশগুলোকে অনাক্রমণ চুক্তি স্বাক্ষরের যে প্রস্তাব দিয়েছেন সেকথা উল্লেখ করে রিয়াবকভ বলেন, রাশিয়া এরইমধ্যে এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছে।

অদূর ভবিষ্যতে আমি-আপনিসহ বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে নিয়ে তৈরি হবে ‘বৈশ্বিক মহামস্তিষ্ক!’

অদূর ভবিষ্যতে মানুষের মস্তিষ্কের সঙ্গে কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হবে। এতে আমি-আপনিসহ বিশ্বের প্রতিটি মানুষকে নিয়ে তৈরি হবে ‘বৈশ্বিক মহামস্তিষ্ক।’ ফন্ট্রটিয়ারস ইন নিউরোসায়েন্স নামের বিজ্ঞান সাময়িকীতে এ সংক্রান্ত একটি নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
‘হিউম্যান ব্রেন/ক্লাউড ইন্টারফেস’ শীর্ষক এ নিবন্ধে বলা হয়েছে কম্পিউটার এবং জৈবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজিতে অভাবনীয় সাফল্যের পথ ধরে এমনটি ঘটবে। আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই এমন প্রযুক্তি বাস্তব রূপ পাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
এ জন্য ন্যানোপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইসহ কম্পিউটার খাতের অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী প্রযুক্তির কল্যাণে এমনটি সম্ভব হয়ে উঠবে। আজ কম্পিউটার বা স্মার্টফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট থেকে বিনা ঝামেলায় তথ্য আহরণ করি। ভবিষ্যতে একই ভাবে মানব মস্তিষ্কের সঙ্গে ইন্টারনেটের সরাসরি সংযোগ স্থাপন সম্ভব হবে এবং একই ভাবে বিনা বাধায় তথ্য আহরণ করতে পারবে মানুষ।
এ সংক্রান্ত গবেষণায় জড়িত অন্যতম ব্যক্তিত্ব হলেন রবার্ট ফেরিটাস জুনিয়র। তিনি বলেছেন, মানব মস্তিষ্কে স্থাপন করা হবে কিছু ন্যাটোবোট বা ন্যাটো প্রযুক্তিতে তৈরি অতি ক্ষুদ্রকায় রোবট। এগুলো মানুষের মন-মানসের সঙ্গে সুপার কম্পিউটারের যোগাযোগ রক্ষার কাজ করবে। ফলে ম্যাট্রিক্স সিনেমার ধাঁচে তথ্যপ্রবাহ মানুষের মন-মানসে নামিয়ে নেয়া সম্ভব হয়ে উঠবে।
এ সব ন্যানোবোট মানুষের রক্তপ্রবাহের পথ বেয়ে শেষ পর্যন্ত মস্তিষ্কের কোষরাজিতে সুনির্দিষ্টভাবে নিজেদের অবস্থান করে নেবে। এ কথা আমরা অনেকেই জানি যে,  মানুষের রক্তপ্রবাহের সব উপাদানই মস্তিষ্কে ঢুকতে পারে না। এখানে ব্লাড-ব্রেইন-ব্যারিয়ার হিসেবে পরিচিত একটি বাঁধার দেয়াল তুলে দেয়া আছে। কিন্তু এসব অতি ক্ষুদ্রাকৃতির যন্ত্র যে বাধা পার হয়ে যেতে সক্ষম হবে।
এদিকে, একাধিক কম্পিউটারের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা কম্পিউটার নেটওয়ার্কের কথাও আমার জানি। বা এ ধরণের ব্যবস্থা জ্ঞাত বা অজ্ঞাতসারে ব্যবহারও করছি। কিন্তু একাধিক মানুষের মস্তিষ্ক অবলম্বনে ‘ব্রেইন নেটওয়ার্ক’ সৃষ্টির প্রাথমিক কাজে এরই মধ্যে সফল হয়েছেন গবেষকরা। সে তথ্যও অনেকের অজানা নয়। এর মাধ্যমে টাটরিসের মতো খেলাও সফল ভাবে খেলা গেছে। এ জন্য ইইজি’র মাধ্যমে একাধিক ব্যক্তির মস্তিষ্কের যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছিল। আর এ যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের।
ন্যানোপ্রযুক্তি এ কাজে সফল ভাবে ব্যবহারের আগে অবশ্য মানুষের দেহে এর প্রভাব এবং কুপ্রভাব নিয়ে বহু ধাপের কঠিন পরীক্ষা চালাতে হবে।  কিন্তু শেষ পর্যন্ত এ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে অদূর ভবিষ্যতে একদিকে ব্যক্তি মানুষের মস্তিষ্কের আওতায়  গোটা ইন্টারনেটের তথ্য ভাণ্ডার এসে যাবে। আর অন্যদিকে বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা মানুষ পরিবারের সব সদস্যকে নিয়ে একযোগে চিন্তা-ভাবনা করার সুযোগও সৃষ্টি হবে। এ ভাবেই একদিন সৃষ্টি হবে বিশ্ব-মানুষের প্রতিটি মস্তিষ্কের সহযোগিতায় ‘বৈশ্বিক মহামস্তিষ্ক’ বা ‘গ্লোবাল সুপারব্রেন।’

জলবায়ু পরির্তন প্রশ্নে ট্রাম্পকে বোঝাতে ব্যর্থ হলেন প্রিন্স চার্লস

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ঝুঁকিগুলো নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লস। বুধবার (৫ জুন) ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ৭৫ মিনিট ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে ট্রাম্পকে সতর্ক করার চেষ্টা করেন তিনি। তবে ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ‘পরিচ্ছন্ন’ দেশ। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সংকটের জন্য উল্টো অন্য দেশগুলোকে দায়ী করেছেন তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্র্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
মুনাফাবাজ শিল্পোন্নত দুনিয়ার কার্বনের ফলে পৃথিবী দিনকে দিন এগিয়ে যাচ্ছে মহাবিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে। তবু থামছে না মুনাফার আকাক্ষা। লোভের বিষাক্ত কার্বন ছড়িয়ে পড়ছে বায়ুমণ্ডলের ওজন স্তরে। ফল হিসেবে বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধিজনিত জলবায়ু পরিবর্তন ত্বরান্বিত হচ্ছে। ত্বরান্বিত হচ্ছে পৃথিবী ধ্বংসের আশঙ্কাও। মেরু অঞ্চলের বিপন্ন পরিস্থিতি, জাতিসংঘের আন্তঃরাষ্ট্রীয় জলবায়ু প্যানেলের ধারাবাহিক সতর্কতা, বিজ্ঞানীদের হুমকি কোনো কিছুই থামাতে পারছে না শিল্পোন্নত বিশ্বকে। অন্য পরাশক্তিগুলো এ নিয়ে কিছুটা ভাবতে রাজি হলেও বিশ্বক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তি ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার আগে-পরে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এসব নিয়ে ভাবতেই রাজি নন তিনি। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা স্বীকার করতেই নারাজ ট্রাম্প। বিজ্ঞানীরা তার ভয়ে মুখ খুলছে না বলেও খবর বেরিয়েছি বহু আগেই। এবার ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসও ট্রাম্পকে এ প্রশ্নে বোঝাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বুধবার যুক্তরাজ্য সফরে থাকা ট্রাম্প আইটিভির গুড মর্নিং ব্রিটেন অনুষ্ঠানকে সাক্ষাৎকার দেন। সে সময় তিনি জানান প্রিন্স চার্লসের সঙ্গে তার ১৫ মিনিটের জন্য সাক্ষাতের কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সে সাক্ষাৎ পর্ব ৯০ মিনিটে গড়ায়। বেশিরভাগ সময় প্রিন্স চার্লসই কথা বলেছেন বলে জানান তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তিনি (চার্লস) জলবায়ু সংক্রান্ত আলোচনার মধ্যেই ছিলেন। এটা আমার কাছেও দারুণ লেগেছে। তবে তিনি যা চান এবং যা নিযে ভাবছেন তা হলো ভবিষ্যত। তিনি নিশ্চিত করতে চাইছেন, ভবিষ্যত প্রজন্ম যে জলবায়ু দেখতে পাবে তা হবে ভালো জলবায়ু, যা দুর্যোগকে ঠেকাবে। আমিও এর সঙ্গে একমত পোষণ করেছি।’
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের আরও অনেক কিছু করার আছে বলে চার্লস দাবি করলেও এর সঙ্গে একমত হননি বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি ওনাকে বলেছি যে সব পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে যুক্তরাষ্ট্র এখন সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন জলবায়ুর দেশগুলোর একটি। এটি আরও পরিচ্ছন্ন হচ্ছে, কারণ আমি জানি যে আমাদের সর্বোৎকৃষ্ট, পরিচ্ছন্ন পানি চাই। একে একেবারে স্বচ্ছ হতে হবে।’
জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য উল্টো অন্য দেশগুলোকে দায়ী করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘চীন, ভারত, রাশিয়াসহ অনেক দেশের বাতাস শিুদ্ধ নয়, পানি ভালো নয়, সেখানে দূষণ অনেক। নির্দিষ্ট কিছু শহরে গেলে আপনারা শ্বাসও নিতে পারবেন না, সেখানকার বাতাস দিন দিন আরও দুসিত হচ্ছে। তারা তাদের দায়িত্ব পালন করছে না।’

মেঘালয়ের রাজ্যপালের বিতর্কিত টুইটের প্রতিবাদে তৃণমূলের ধর্না-অবস্থান

তৃণমূলের ধর্না-অবস্থান কর্মসূচি
ভারতের মেঘালয়ের রাজ্যপাল ও সাবেক বিজেপি নেতা তথাগত রায়ের বিতর্কিত টুইটের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল বঙ্গজননী ব্রিগেড ধর্না-অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে। বৃহস্পতিবার পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কোলকাতার হাজরা মোড়ে ধর্না-অবস্থানের নেতৃত্ব দেন তৃণমূলের এমপি কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা।
হিন্দি ভাষার বিরোধীদের সমালোচনা করতে গিয়ে সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার বার্তায় বিতর্কিত টুইট করেন সাবেক বিজেপি নেতা ও মেঘালয়ের রাজ্যপাল তথাগত রায়। 
তথাগত রায়ের বক্তব্য, ‘তামিলনাড়ু বাদে ভারতের সব জায়গার লোকই মোটামুটি হিন্দি বোঝেন। অপরপক্ষে শহুরে বুদ্ধিজীবী ছাড়া ইংরেজি কেউ বুঝবেন না। যাঁরা ঠিক করেছে পশ্চিমবঙ্গের বাইরে এক পাও ফেলবেন না, তারা ছাড়া বাকিদের বাস্তবটা মেনে নিতে হলে হিন্দি শিখতে হবে। না হলে পস্তাতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এখন বাঙালি ছেলেরা হরিয়ানা থেকে কেরালা পর্যন্ত সব জায়গায় ঘর ঝাঁট দেয়, বাঙালি মেয়েরা মুম্বাইতে বার-ডান্স করে, যা আগে অকল্পনীয় ছিল।’
তথাগত বাবু ঘুরিয়ে বাঙালি মেয়েরা মুম্বাইতে বার-ডান্স করতে পারলে, হিন্দি শিখতে আপত্তি কোথায়? এই প্রশ্ন তুলেছেন বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। এর প্রতিবাদে আজ তৃণমূলের বঙ্গজননী ব্রিগেড প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে।
রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য তার ভাষণে বলেন, ‘যেকোনো মহিলার যেকোনো পেশায় কাজ করার অধিকার আছে। সেই পেশার উপরে যারা এ ধরণের আক্রমণ করেন তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা পুঁথিগত থাকতে পারে। কিন্তু আসল শিক্ষার একটা অংশও তাদের আছে বলে আমরা মনে করি না।’
তিনি বলেন, ‘শুধু বিরুদ্ধাচরণ করাই কী বিজেপির সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে? কারণ উনি (তথাগত বাবু) একটা প্রদেশের রাজ্যপাল হলেও তিনি আসলে আরএএসের সদস্য ছিলেন। এখন আছে কি না জানি না। উনি বিজেপির হয়ে কথা বলেন। একজন যখন রাজ্যপাল হন তখন তিনি কোনও দলের থাকেন না। তা সত্ত্বেও আমরা দেখেছি বিভিন্ন সময়ে ওনাকে এ ধরণের কথা বলতে। যেজন্য বাধ্য হয়ে এক প্রদেশ থেকে আর এক প্রদেশে স্থানান্তরিত করতে হয়। সেজন্য আমরা তার বিরুদ্ধে বঙ্গজননী প্রতিবাদ সংগঠিত করেছে বলে তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
কেন্দ্রীয় সরকারের সাম্প্রতিক শিক্ষা নীতির খসড়ায় অহিন্দীভাষী রাজ্যে হিন্দি ভাষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব ওঠায় বিরোধীদের চাপের মুখে সরকার পিছু হটেছে। পশ্চিমবঙ্গও ওই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। কিন্তু তথাগত বাবু হিন্দির পক্ষে বিতর্কিত মন্তব্যে সাফাই দেয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা শুরু হয়েছে।

‘হতাশ হওয়ার কিছু নেই, স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে মানুষ দাঁড়িয়ে যায়’ মাহমুদুর রহমান মান্না by আব্দুল আলীম

স্বৈরাচার, গণতন্ত্রহীনতা বা রাজনৈতিক দুরবস্থার জন্য হতাশ হওয়ার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেন, যুগে যুগে সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ, মানুষের শক্তি, সমাজের শক্তি দাঁড়িয়ে যায়। এবারও তারা দাঁড়িয়ে যাবে। মাবনবজমিনের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় তিনি এসব কথা বলেন। তিনি কথা বলেন, সমকালীন রাজনীতি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নির্বাচিত এমপিদের সংসদে যোগ দেয়া, ঐক্যফ্রন্টের বর্তমান ও ভবিষ্যৎসহ তার ছোট বেলার ঈদ ও বর্তমান ঈদ নিয়ে।
মানবজমিন: অনেকদিন হল ঐক্যফ্রন্টের তেমন কোনো কর্মসূচি নেই। রমজান মাসে সব দল নিজ উদ্যোগে ইফতার আয়োজন করলেও ঐক্যফ্রন্টের কিছু ছিল না। আসলে কোন পথে ঐক্যফ্রন্টের রাজনীতি?
মান্না: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে ইফতার পার্টির একটা প্রোগ্রাম নেয়া হয়েছিল।
কিন্তু সেটা আলোচনার বাইরে চলে গেছে। আমরা আলোচনা করেছি কিন্তু সেটাকে কেউ কিছু মনে করেনি। দিনগুলোও পার হয়ে গেছে। সাড়ে ৪ মাস আগ থেকে এই যে নিরবচ্ছিন্ন নিরবতা, বসে থাকা, এর কোনো রাজনৈতিক ব্যাখ্যা নেই। এর একটাই ব্যাখ্যা হতে পারে যে, আমরা এই সময়টাকে রেস্পন্স করতে পারছি না। অথবা করছি না। আমাদের ঐক্যফ্রন্টে যারা আছেন তারা যে ভাবনাগুলো ভাবেন, সেই ভাবনাগুলোর মধ্যে খুব একটা সমন্বয় নেই। ফলে কেউ হয়তো মনে করছেন ৩০ তারিখ যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আর খুব বেশি কিছু করা যাবে না। সুতরাং কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। দেখতে হবে। কেউ হয়তো মনে করছেন যেটুকুই সুযোগ পাওয়া যায় সংসদের মধ্যে সেটা গ্রহণ করার চেষ্টা করতে হবে। আর অধিকাংশের চিন্তার মধ্যে আছে আন্দোলন ছাড়া এখানে কিছু করা যাবেনা। কিন্তু সেই আন্দোলনের কর্মসূচি দিয়ে আমরা মাঠে আসতে পারিনি। এ বিষয়ে কোনো আলোচনাও আমাদের মধ্যে হয়নি। এই জন্য এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না। বিষয়গুলো স্থিত অবস্থায় আছে। ঈদের পরে যদি এটা ভাঙে কোনো করাণে। তখন দেখতে হবে কি হয়।
মানবজমিন: ঈদের পরে বিএনপির পক্ষ থেকে বৃহত্তর জোট করার কথা গণমাধ্যমে আসছে। এবিষয়ে আপনার কিছু জানা আছে কিনা?
মান্না: জোটের বাইরে তো এখন কেউ নেই। বাম গণতান্ত্রিক জোট বা ইসলামী আন্দোলনসহ যারা আছে তাদের নিয়ে বৃহত্তর জোট করতে পারে। তবে আমার সঙ্গে বা আমার দলের সঙ্গে এ ব্যাপারে কারো কোনো আলোচনা হয়নি এখনো।
মানবজমিন: সরকার বিরোধী আন্দোলন কি আগামী ৫ বছর আগের মতোই চলবে? নাকি নতুন কোন খবর আছেÑ
মান্না: ৫ বছর সরকার ক্ষমতায় থাকবে কিনা সেটা বলতে পারিনা। ৫ বছরের মাত্র ৫ মাস গেছে। এখনো অনেক সময় বাকি। কিন্তু এই মুহুর্তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে খুব নড়াচড়া নেই।
মানবজমিন: গণফোরাম ও বিএনপির নির্বাচিতদের শপথের বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টে সুস্পষ্ট কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা?
মান্না: না। শুধু সুস্পষ্ট আলোচনাই না। এ বিষয়ে কোনো ধরনের আলোচনাই হয়নি।
মানবজমিন: আলোচনা না হওয়া নিয়ে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দলগুলোর মধ্যে কোনো ক্ষোভ আছে কিনা?
মান্না: এটা ক্ষোভের ব্যাপার তো না। এই দুটো দলের প্রতিনিধিদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তারা নিজেরাই নিয়েছেন। তারা অন্য কারো সঙ্গে আলোচনা করে তো সিদ্ধান্ত নেননি। মনে করেন-জোটের সিদ্ধান্ত ছিল নির্বাচন মানিনা। সংসদ মানিনা। এখান থেকে তাদের সিদ্ধান্ত আলাদা হয়ে গেল তো। এই ফিলিংসটা আছে। এই শপথের ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ হলো এই দুটো দল নিজেদের মতো চলবে। এখানে প্রকাশ্যে বিরোধ দেখা দেয়ার বিষয় না। প্রশ্ন হল বিরোধ দেখা দেয়ার ইস্যু আছে কিনা। সেই ইস্যু তো আছে। যে রকম বিএনপির নেতারা সংসদে যোগ দিলেন। তাতে তাদের দলের মধ্য থেকেই কথা বলছেন। আমরা কি বলব? এখানে তাদের প্রতিনিধিত্ব করবে হলো দল। সেই দলই যদি দুই রকম তিন রকম কথা বলে তখন এটার উত্তর আমরা কি দেব? ফলে আমরা অপেক্ষা করছি বিএনপি আলাদা আলাদা না বলে সবাই মিলে একটা কিছু বলুক। সেটা তারা কতদিনে বলবে তা জানিনা। আগে তাদের নিজেদের ঘর সামলাবেন। তার পর তারা কথা বলবেন। এখন যদি প্রশ্ন করেন তাদের ঐক্য নিয়ে, তাহলে তাদের নিজেদেরই যখন ঐক্য থাকবে না। তখন জবাব দেবে কিভাবে?
মানবজমিন: সাম্প্রতিক সময়ে এ কে খন্দকারের ক্ষমা চাওয়া নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি হয়েছে। এতো বছর পর এমন হল কেন আপনার দৃষ্টিতে?
মান্না: এই ব্যাপারে উনার এখন বলার প্রয়োজন পড়ল কেন? অনেকগুলো বছর চলে গেছে। তিনি মন্ত্রী ছিলেন, সেটা নিয়ে কম্প্রমাইজ করেননি। কিন্তু এখন হঠাৎ বললেন কেন? এবিষয়ে আমি কিছু জানিনা। তাই এ বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।
মানবজমিন: সার্বিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে কি বলবেন?
মান্না: ইতিহাসের এক ধরনের পাক চক্রের মধ্যে, এক ধরনের হতাশা চক্রের মধ্যে এখন সমগ্র জাতি নিমজ্জিত হয়েছে। কিন্তু তারা সেটা থেকে বেরিয়ে আসতে চায়। পৃথিবীতে ফ্যাসিবাদ বা স্বৈরাতন্ত্র নতুন কিছু না। অনেকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকেছে। তারপরও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াই হয়েছে। স্বৈরতন্ত্র বলেন, গণতন্ত্রহীনতা বলেন, ভোট ডাকাতির মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া বলেন। এগুলো টিকবে না। আমি মনে করি এর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াই করা দরকার। এই ঐক্যবদ্ধতা ফিরে আসবে। হতাশ হওয়ার কিছু নেই। আশার কথা হল অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষ, মানুষের শক্তি, সমাজের শক্তি দাঁড়িয়ে যায়, যাবে।
মানবজমিন: আগেরকার দিনে আপনারা যেমন ঈদ কাটাতেন সেই তুলনায় আপনার দৃষ্টিতে এখনকার ঈদ কেমন?
মান্না: ছোট বেলা তো ছোট বেলাই। এমনকি যৌবন কালটাও আলাদা। তখন জীবনটাই দেখার মতো। উপভোগ করার মতো। সব জায়গায় আনন্দে ভেসে বেড়ায়। কিন্তু যখন বয়স হয়ে গেল তখন এই আনন্দগুলো অবান্তর মনে হয় না। মূল্যহীন মনে হয় না। কিন্তু ছোট বেলার মতো করে রেসúন্স করা যায় না।

চারপাশে একই আওয়াজ ‘আমার মোবাইল নাই’ by উদিসা ইসলাম

চিড়িয়াখানার সামনে দর্শনার্থীদের ভিড়
ঈদের পর দিন (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর বিনোদনকেন্দ্রগুলো পরিণত হয়েছে জনসমুদ্রে। চিড়িয়াখানার সামনে সেই জনসমুদ্র থেকে একটু পরপর ভেসে আসছে আওয়াজ ‘এই আমার মোবাইল নাই’। কেউ বলে উঠছেন, ‘মা ব্যাগে মোবাইল নেই’, কেউ বলছেন, ‘আরে পকেটে মানিব্যাগ নেই’। ঘুরতে গিয়ে মন খারাপ করে একপাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে অনেককে। তারা বলছেন, এত মানুষকে সারিবদ্ধ করে সুশৃঙ্খলভাবে প্রবেশের ব্যবস্থা করে দেওয়ার কোনও আয়োজন নেই এসব বিনোদনকেন্দ্রে। এভাবে ভিড়ের মধ্যে অতি প্রয়োজনীয় জিনিস খোয়া গেলে আগামীতে মানুষ  এসব বিনোদনকেন্দ্র আসারই আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে।
ঈদের পুরো দিনটিই অনেকের কেটেছে ঘরবন্দি অবস্থায়। সারাদিনই ছিল থেমে থেমে বৃষ্টি আর সন্ধ্যায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা। বৃহস্পতিবার সকালে বৃষ্টি না থাকায় মানুষ সপরিবারে হাজির হয়েছে জাতীয় চিড়িয়াখানা, শিশুমেলা ও চন্দ্রিমা উদ্যানের লেকপাড়ে। কিন্তু এত মানুষের জন্য যে পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা দরকার, তা দেখা যায়নি। সকালে চিড়িয়াখানার গেটের সামনে যে চত্বর, সেখান থেকে গেট পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রচণ্ড ভিড়ের ভেতর থেকে  বিশ মিনিটে অনন্ত দশ বার শোনা গেছে ‘আমার মোবাইল নাই’।
পল্লবী থেকে সপরিবারে চিড়িয়াখানায় এসেছেন তৌহিদুর রহমান। চিড়িয়াখানা এলাকায় প্রবেশের অনেক আগে থেকে একটা লাইনে দাঁড়িয়েছেন তারা। কিন্তু কোনটা প্রকৃত লাইন, কোনটা নয়, তা জানেন না তিনি। কাকে জিজ্ঞাসা করলে ঠিক উত্তরটা পাওয়া যাবে, তাও জানেন না।এরইমধ্যে তার মোবাইলফোনটি খোয়া যায়।
‘কীভাবে মোবাইলফোন হারালেন’—জানতে চাইলে তৌহিদ বলেন, ‘আমার প্যান্টের পকেটে ছিল। কিন্তু এত ভিড়, কার গায়ে ধাক্কা লাগছে, কাকে কে ধরছে ঠিক নাই। এরই মধ্যে আমি টের পেলাম, কেউ একজন ধাক্কা দিয়েছে। আরেকজন আমাকে তুলতে গিয়ে সম্ভবত মোবাইলটা বের করে নিয়েছে।’
দর্শনার্থী মেহজাবিন হাসান মুক্তা বললেন আরেক পদ্ধতির কথা। চিড়িয়াখানায় ঢোকার আগে বাম দিকে যেদিক দিয়ে গাড়ি প্রবেশ করে পার্কিংয়ের দিকে যায়, সেদিকে মানুষজনের ঢোকার কথা নয়। ব্যারিকেডও দেওয়া আছে লোহার। কিন্তু মোড়টা ঘুরে চিড়িয়াখানার সামনের চত্বরটার কাছে আসতেই কিছু ছেলে ইচ্ছে করে ওই ব্যারিকেডে গাড়ির সঙ্গে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। না বুঝে একটু আগে যাওয়া যাবে ভেবে সেখানে ঢুকে আর নড়াচড়া করতে পারছেন না অনেকে।ওইরকমই পরিস্থিতিতে পড়ে দেখলাম, আমার সাইড ব্যাগের চেইন খোলা। ভেতরে রাখা মোবাইলফোন নেই।’
সারাবছরই আর লোকজন এই এলাকায় দেখা যায় না উল্লেখ করে শাহ আলী থানার ওসি (তদন্ত) আব্দুর রশীদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ঈদের এই তিন চারদিন বরাবরই খুব ভিড় হয়। সে কারণে আমাদের বেশ প্রস্তুতি ছিল। তারপরও এ ধরনের ঘটনা ঘটে যেতে পারে।এখন পর্যন্ত এই বিষযে কেউ থানায় অভিযোগ করেনি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আজকে অনেক ভিড়।’ তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছেন বলেও জানান ‍ওসি।
ছবি: নাসিরুল ইসলাম

মৃত্যুমুখী ইরানের পরমাণু সমঝোতা! একে বাঁচান!: চীন ও রশিয়া

রাশিয়া ও চীন আবারও ইরানের পরমাণু বিষয়ক সমঝোতা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছে এবং ইরানের ওপর একতরফা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে।
মস্কোয় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তাদের এই অবস্থানের কথা ঘোষণা করেন। তারা পরমাণু সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে সংশ্লিষ্ট সব দেশের প্রতি আহ্বান জানান। পরমাণু বিষয়ক জাতিসংঘের নজরদারি সংস্থা আইএইএ'র সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী ইরান এখনও পরমাণু সমঝোতা মেনে চলছে বলে পুতিন ও পিং উল্লেখ করেছেন। 
ইরানের পরমাণু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সমঝোতার ব্যাপারে ইউরোপও কিছুটা চীন ও রাশিয়ার মতই উদ্বিগ্ন। ইউরোপের তিন শক্তি ব্রিটেন, ফ্রান্স ও জার্মানি এবং ইউরোপীয় জোট মনে করে এই সমঝোতা বাতিল বা বানচাল হয়ে গেলে তা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। চীনা প্রেসিডেন্ট এই সমঝোতা রক্ষা করাকে পশ্চিম এশিয়ার শান্তি রক্ষা এবং পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তির জন্য খুব জরুরি বলে উল্লেখ করেছেন।
আন্তর্জাতিক নানা সংকট সমাধানের ক্ষেত্রে ইরানের পরমাণু সমঝোতাটি একটি উৎসাহব্যঞ্জক মডেল হিসেবে স্বীকৃত। কিন্তু ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন সরকার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুমোদিত এই  সমঝোতা থেকে গত বছরের মে মাসে একতরফাভাবে বের হয়ে যায়। অবশ্য মার্কিন সরকারসহ পাশ্চাত্য ওই সমঝোতার খুব কম দিকই বাস্তবায়ন করছিল এবং ওবামার শাসনামলে স্বাক্ষরিত ওই সমঝোতা লঙ্ঘন করে ওয়াশিংটন ইরানের ওপর নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করছিল। কিন্তু ট্রাম্পের ওই পদক্ষেপ এই সমঝোতাকে প্রায় পুরোপুরি অচল করে দিয়েছে।
চীন ও রাশিয়ার নেতৃবৃন্দ সেই থেকে নানা সময়ে বিভিন্ন উপলক্ষে মার্কিন সরকারে ইরান-বিদ্বেষী এই পদক্ষেপের নিন্দা ও বিরোধিতা করে আসছে। মস্কো ও চীন মার্কিন সরকারের এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করে ওই সমঝোতা রক্ষা করাকে খুবই জরুরি বলে মন্তব্য করছে।
পরমাণু সমঝোতার ব্যাপারে মার্কিন সরকারের স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের জবাবে ইউরোপ দায়সারা গোছের চেয়েও কম মাত্রার কিছু মৌখিক নিন্দাবাদ জানানো ছাড়া কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ফলে গত ১৫ মে থেকে ইরানও ওই সমঝোতারই ধারা মোতাবেক কিছু কিছু বাড়তি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন স্থগিত করেছে। তাই এই সমঝোতা ক্রমেই ধসে পড়তে পারে বলে মস্কো হুঁশিয়ারি দিয়েছে।  এ প্রসঙ্গে রুশ উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকোভ বলেছেন, ইরানের পরমাণু বিষয়ক আন্তর্জাতিক সমঝোতা এখন আইসিইউ বা বিশেষ কেয়ার ইউনিটে রয়েছে!
অন্য কথায় চীন ও রাশিয়ার মত ইউরোপও যদি ইরানের পরমাণু সমঝোতা রক্ষার জন্য কার্যকর ও দ্রুত পদক্ষেপ নিতে এগিয়ে না আসে তাহলে আন্তর্জাতিক এই সমঝোতার অকাল মৃত্যু অনিবার্য হয়ে উঠবে।

যেভাবে পতন হয়েছিল এক লৌহমানবীর

ব্রিটেনসহ পুরো বিশ্বে আয়রন লেডি বা লৌহমানবীর কথা বললে এক বাক্যে ওঠে আসে মার্গারেট থ্যাচারের নাম। তার উত্থানটি যেমন ছিল চমকপ্রদ, তেমনি পতনটিও ছিল দুঃখজনক।
ব্রিটেনের রাজনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসে একটা বিপ্লব এনেছিল ১৯৭৯-এর সাধারণ নির্বাচন। ৪ মে ১৯৭৯-এর ঐ নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে পশ্চিম ইউরোপের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। তখন তিনি বিশ বছর ধরে ডানপন্থী কনজারভেটিভ দলের এমপি- ওই সময়ের জন্য এটা ছিল খুবই বিরল একটি ঘটনা। তখন ব্রিটেনের রাজনীতিতে হাতে-গোণা যে কয়েকজন নারী ছিলেন তাদের ‘ব্যতিক্রমী’ বলে গণ্য করা হতো।
এমনকি মার্গারেট থ্যাচার নিজেও কখনো ক্ষমতায় তার এই উত্থানের সম্ভাবনা চিন্তা করতে পারেননি। শুধু নিজের কেন কোনো নারী যে ওই পর্যন্ত যেতে পারে তাই তিনি বিশ্বাস করতেন না। তিনি নিজেই একসময় মন্তব্য করেছিলেন, আমার জীবদ্দশায় মনে হয় না ব্রিটেনে কোনো নারী প্রধানমন্ত্রী হবেন।
থ্যাচারের ব্যক্তিগত সচিব ক্যারোলাইন স্লোকক বিবিসিকে বলেছেন, ১৯৭৯ সালে নির্বাচনের সময় সময় তিনি কিন্তু মোটেই মার্গারেট থ্যাচারের ভক্ত ছিলেন না। বরং তার মনে হতো ‘হাবভাবে ও আচরণে’ থ্যাচার বড়ই সেকেলে। তার চেহারাটা আকষর্ণীয় হলেও তিনি পুরোন স্টাইলের টুইডের পোশাক পরতেন, তিনি টুপি পরতেন আর কথা বলতেন খানিক কৃত্রিমভাবে- যেটা আমরা পছন্দ করতাম না।
এমনকি ১৯৭৯-এর নির্বাচনী প্রচারণায় থ্যাচারের বক্তৃতা মোটেই পছন্দ করতেন না ক্যারোলাইন স্লোকক। তিনি বলেন, টিভিতে থ্যাচারকে দেখলেই টিভি আমি বন্ধ করে দিতাম- তার কথার ধরন আমার বিরক্তিকর লাগত।
যেভাবে উত্থান থ্যাচারের
ক্যারোলাইনের মত, নারীবাদী মেয়েদের থ্যাচারকে পছন্দ হওয়াটাই কিন্তু ছিল স্বাভাবিক। তিনি বলেন, ক্ষমতাশালী নারী বললেই মানুষের মনে যেসব নেতিবাচক বিষয় চলে আসত - থ্যাচারের মধ্যে সেগুলো ছিল বলে আমার মনে হতো। আমার চোখে তিনি ছিলেন অনেকটা স্কুল হেডমিস্ট্রেসের মত- নারীবাদী ও আক্রমণাত্মক।
যমজ সন্তানের মা, অক্সফোর্ড থেকে দু’দুটো অনার্স ডিগ্রি অর্জন করা মার্গারেট থ্যাচার চ্যালেঞ্জ পছন্দ করতেন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি কনজারভেটিভ দলের মধ্যে তখন একটা বিভেদ চলছে। এর সুযোগ নিয়ে তিনি দলের নেত্রী পদে জয়ী হলেন। নানা ধরনের প্রতিকূলতা অবশ্যই ছিল। তারপরও বিষয়টি অনেককেই অবাক করেছিল।
ক্যারোলাইন স্লোকক বলেন, সে সময় মার্গারেট থ্যাচারের এই জয়টা ছিল অভাবনীয়। কনজারভেটিভ পার্টির মত রক্ষণশীল দল যে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রীর জন্য দরজা খুলে দেবে তা কেউ ভাবতে পারেনি। তার চারপাশে অনেক পুরুষ কিন্তু পরিস্থিতিটা মেনে নিতে পারেন নি। অনেকে তার নেতৃত্ব মানতে চান নি। আবার অনেকেই ভেবেছিলেন ক্ষমতায় তিনি বেশিদিন টিকবেন না।
জনগণ চাইছিল পরিবর্তন
সত্তরের দশকে শিক্ষামন্ত্রী হিসাবে বড় ধরনের ব্যয় সঙ্কোচন করে থ্যাচার তখনই বিতর্কিত হয়ে উঠেন। এরপর ৭৯ সালে তার আমূল সংস্কারবাদী নীতি ব্রিটেনের মানুষকে দুই বিপরীত মেরুতে ভাগ করে ফেলে। ব্রিটেনে তখন অসন্তোষের হাওয়া চারদিকে। বেকারত্ব বাড়ছে, ঘন ঘন বিদ্যুৎ সঙ্কট, একের পর এক ধর্মঘটে নাজেহাল দেশ। নানা কারণে দেশের মানুষ ছিল দ্বিধাবিভক্ত, ক্ষুব্ধ। এ অবস্থায় তারা চাইছিল নতুন কিছু।
মানুষ সে সময় চাইছিল বড় ধরনের পরিবর্তন। মার্গারেট থ্যাচার জনগণের এই মনোভাবটা ধরতে পেরেছিলেন। তিনি শুধু যে একজন নারী ছিলেন তাই নয়, বরং রক্ষণশীলতাকে তিনি একটা নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন।
থ্যাচার ক্ষমতায় আসার কয়েক বছর পর তার ব্যক্তিগত সচিব হিসাবে ক্যারোলাইনের নাম প্রস্তাব করা হলে তিনি অবাক হয়ে যান। কারণ তিনি জানতেন মেয়েদের সঙ্গে কাজ করা পছন্দ করতেন না থ্যাচার।
কিন্তু প্রথমদিন দেখা হওয়ার পর আমি বেশ অবাকই হয়েছিলাম। তিনি যখন সিঁড়ি দিয়ে নেমে আমার দিকে আসছেন, প্রথমেই চোখ পড়ল তার পায়ের দিকে- তার হিলতোলা জুতোর দিকে। তার হাতে ছিল ফুলদানিতে নীল রঙের ফুল। আমাকে বললেন- ‘ক্যারোলাইন তোমার জন্য ফুলগুলো নিয়ে এলাম- মনে হল তোমার ভাল লাগবে’। ব্যাপারটা আমায় বেশ মুগ্ধ করেছিল।
ক্যারোলাইন বলেন, মার্গারেট থ্যাচার সবসময় কাজ করেছেন পুরুষদের সঙ্গে। আমার ধারণা তিনি সব পুরুষের মধ্যে মাত্র একা নারী হয়ে থাকতে পছন্দ করতেন। তিনি নারীদের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পরিবেশে কাজ করতে অপছন্দ করতেন। কিন্তু যেখানে মেয়েরা তার থেকে কম ক্ষমতাশালী সেখানে মেয়েদের সাথে তিনি বন্ধুসুলভ আচরণ করতেন। কাজেই নারী মাত্রই যে তিনি অপছন্দ করতেন বিষয়টা তা নয়।’
ক্যারোলাইন স্লোকক বলেন, জনগণের সামনে তিনি নিজেকে একজন পুরুষ রাজনীতিবিদের মত করেই উপস্থাপন করতে চাইতেন- অবশ্য সেটা কিছুটা পুরুষ সহকর্মীদের পরামর্শেই। কণ্ঠে, পোশাকে তিনি সেটা প্রকাশের চেষ্টা করতেন। যদিও অতটা কঠিন তিনি আসলেই ছিলেন না।
একজন লৌহমানবী
অনেকেই তার উচ্চগ্রামে কথা বলার স্টাইলের সমালোচনা করতেন। কিন্তু ক্যারোলাইন বলেন, যখনই তিনি প্রধানমন্ত্রীর সাথে পার্লামেন্টে হাউস অব কমন্সে গেছেন, তিনি দেখেছেন চারপাশে পুরুষঘেরা পরিবেশে- মার্গারেট থ্যাচারকে তার বক্তব্য তুলে ধরতে কীভাবে পুরুষদের ওপর গলা চড়িয়ে কথা বলতে হচ্ছে।
কোনো বক্তৃতা দেওয়ার আগে তিনি খুবই নিষ্ঠার সঙ্গে প্রস্তুতি নিতেন, সব তথ্য রপ্ত করতেন, যাতে কোথাও সামান্য ভুলত্রুটিও না হয়। সেটাই ছিল থ্যাচারের কৌশল। পুরুষদের ছাপিয়ে একজন নারী হিসাবে নিজের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি যে বিষয়ে কথা বলতেন তার খুঁটিনাটি সব রাখতেন নিজের নখদর্পণে।
ক্যারোলাইন আরো বলেন, খুবই কর্মঠ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন মার্গারেট থ্যাচার। তিনি একমাত্র মানুষ, যাকে দেখেছি হাতে হুইস্কির গ্লাস নিয়ে একটা বাক্যের মাঝখানে ঘুমিয়ে পড়েছেন- তারপর জেগে উঠে সেই অসমাপ্ত বাক্যটা- যেখানে থেমেছিলেন সেখান থেকে আবার শুরু করছেন।"
মূলত এ সময়ই তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছিলেন আয়রন লেডি বা লৌহমানবী নামে। ট্রেড ইউনিয়নগুলোর মোকাবেলা করেছেন তিনি কঠিন হাতে, অজনপ্রিয় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার করেছেন, সামরিক টাস্ক ফোর্স পাঠিয়েছেন দক্ষিণ আটলান্টিকে এবং সশস্ত্র গোষ্ঠি আয়ারল্যান্ড রিপাবলিকান আর্মির বোমা হামলা থেকে প্রাণে বেঁচেছেন।
যেভাবে পতনের দিকে লৌহমানবী
থ্যাচার নীতির কারণে যারা কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন, আশির দশকে তারা থ্যাচারের পতনে সোচ্চার হয়ে ওঠেন। এ সময় আবাসিক এলাকার রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পোল-ট্যাক্স নামে তিনি নতুন এক করব্যবস্থা চালু করলে লন্ডনের রাস্তায় রাস্তায় সহিংস বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায়।
ক্ষুব্ধ জনতা প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে চড়াও হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় সরকারের ভেতর কিছুটা একঘরে হয়ে পড়েন মার্গারেট থ্যাচার। একমাত্র তার দপ্তরে যারা কাজ করতেন তারাই তখন ছিলেন তার সমর্থক। অবস্থার পরিবর্তানে রাজনৈতিক জীবনে যবনিকা নেমে আসে থ্যাচারের। তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা এক এক করে সবাই তাকে পদত্যাগ করতে বলেন।
তার পদত্যাগ ছিল একটা ঐতিহাসিক ঘটনা। তার পদত্যাগের ঘোষণা ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। এ ঘোষণা পড়তে গিয়ে তার গলা কেঁপে যায়। তিনি কাঁদতে শুরু করলেন। তখন একজন মন্ত্রী বললেন- আপনাকে আর পড়তে হবে না। কিন্তু মার্গারেট থ্যাচার পুরোটা পড়ে শেষ করেন।
মার্গারেট থ্যাচার রানির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে এসে যখন ডাউনিং স্ট্রিটে তার বাসভবন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন তখন তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। কারণ থ্যাচার পুরো বিষয়টিকে চরম একটি অপমান হিসাবে নিয়েছিলেন। তার কাছে এটা ছিল মন্ত্রিসভার সদস্যদের দিক থেকে বিশ্বাসঘাতকতা, যা মেনে নেয়া তার জন্য কঠিন হয়েছিল। যা কিছু তিনি অর্জন করেছিলেন, তার এ ধরনের পরিসমাপ্তি তিনি আশা করেন নি।
সূত্র : বিবিসি
পদত্যাগের ঘোষণা দেয়ার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন মার্গারেট থ্যাচার। পরে সরকারি বাসভবন ছেড়ে যাওয়ার সময় আবারো অশ্রুসজল হয়ে পড়েন তিনি - ছবি : সংগৃহীত

আসাদ সরকারের ওপর দোষ চাপাতে সন্ত্রাসীরা আবারও রাসায়নিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে: রাশিয়া

রাশিয়া বলেছে, বিদেশী মদদপুষ্ট তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসীরা সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রাসায়নিক হামলার পরিকল্পনা করছে যাতে আসাদ সরকারের ওপর এর দোষ চাপিয়ে দিয়ে ওই অজুহাতে আরব এই দেশটির ওপর পশ্চিমা আগ্রাসনের পথ খুলে দেয়া যায়।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা গত বুধবার এই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
তিনি মস্কোয় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, রাসায়নিক হামলা চালাতে সিরিয়ার মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ 'হামা'র একটি এলাকায় একটি ভাসমান হাসপাতাল ও কথিত বেসামরিক প্রতিরক্ষা গ্রুপ 'হোয়াইট হেলমেট' সদস্যদের তৎপরতা দেখা গেছে।ওই এলাকায় গ্যাস মাস্ক, ফিল্টার ও রাসায়নিক তৎপরতার কাজে ব্যবহৃত বিশেষ পোশাক এবং যন্ত্রপাতি ও চিকিৎসা-সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।
জাখারোভা এই অঞ্চলে সিরিয়ার আসাদ সরকারের নামে রাসায়নিক হামলার ঘটনা ঘটানো হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এবং এর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক সমাজের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি সিরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলে হামা, ইদলিব ও লাতাকিয়া প্রদেশে সন্ত্রাসীদের বিপজ্জনক ও উস্কানিমূলক তৎপরতার কথা তুলে ধরে বলেন, এসব তৎপরতা সিরিয়ার বেসামরিক নাগরিক, সেনাবাহিনী ও রাশিয়ার পরিচালিত হুমাইমিম বিমানঘাঁটির ওপর হুমকি সৃষ্টি করেছে, তাই এসব তৎপরতা সহ্য করা হবে না।
গত বছরের ১৪ এপ্রিল দামেস্কের কাছে দ্যুমা শহরে সন্দেহজনক এক রাসায়নিক হামলা চলার অজুহাতে ব্রিটেন, ফ্রান্স ও মার্কিন সরকার সিরিয়ার ওপর বিমান হামলা চালায়। সিরিয়ার সরকারি সেনারা ওই রাসায়নিক হামলা চালিয়েছে বলে ওয়াশিংটন ও তার মিত্ররা দাবি করলেও সিরিয়া সরকার তা নাকচ করে দেয়। আন্তর্জাতিক তদন্তেও পশ্চিমা ওই দাবি প্রমাণিত না হওয়া সত্ত্বেও এবং নিরপেক্ষ তদন্ত অনুষ্ঠানের আগেই পাশ্চাত্য সিরিয়ার ওপর ওই আগ্রাসন চালায়।
এর আগে সিরিয়ার খান শাইখুন অঞ্চলেও একই ধরনের রহস্যজনক রাসায়নিক হামলার ঘটনার জন্য সিরিয়ার আসাদ সরকারকে দায়ী করেছিল পশ্চিমা শক্তিগুলো। সিরিয়ার আসাদ সরকার ইসরাইলি-বিরোধী হওয়ায় এই সরকারের বিরুদ্ধে নানা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে লেলিয়ে দিয়েছে পশ্চিমা শক্তিগুলো ও তাদের সেবাদাস এবং অনুগত কয়েকটি সরকার। 
সিরিয়া বিদেশী মদদপুষ্ট সন্ত্রাসীরা প্রায়ই রাসায়নিক হামলার ঘটনা ঘটিয়ে বা ওই ধরনের হামলার কৃত্রিশ দৃশ্য সাজিয়ে তা আসাদ সরকারের সেনাদের কাজ বলে সংবাদ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করেছে। ব্রিটেন সরকারের নিয়ন্ত্রিত বিবিসি একবার ইরাকে ২০০৩ সালে মার্কিন হামলায় নিহত বহু লাশের ছবিকে সিরিয়ায় আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক হামলা বলে চালিয়ে দিয়েছিল। 
সিরিয়া ২০১৪ সালে তার সব রাসায়নিক অস্ত্র মার্কিন সরকার এবং রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকারী সংস্থা ওপিসিডাবলিও'র পরিচালিত যৌথ মিশনের কাছে তুলে দেয়। সিরিয়া রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের কথা সব সময়ই জোরালোভাবে অস্বীকার করে এসেছে।

কেমন আছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা? by শাহেদ শফিক

জেহানের (ছদ্মনাম) বয়স ৯ বছর। বলা চলে, রাজধানীর মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে বর্জ্যের মধ্যেই বেড়ে উঠছে সে। থাকে পাশের একটি ঝুঁপড়ি ঘরে। সারাদিন ল্যান্ডফিলে আনা বর্জ্যে খোঁজে নানা জিনিসপত্র। সেসব বিক্রি করে যা পাওয়া যায় তা দিয়েই চলে তাদের সংসার।
জেহান দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্যের মধ্যে বসবাস করায় ভুগছে নানা রোগে। বাংলা ট্রিবিউনকে সে জানায়, একটি প্রাইভেট কোম্পানির ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে সে ময়লা সংগ্রহ করে সিটি করপোরেশনের ডাস্টবিনে নিয়ে যায়। এরপর বাকি সময় সে এই ল্যান্ডফিলেই কাটায়। ল্যান্ডফিলের দুর্গন্ধ এখন সহ্য হয়ে গেছে বলেও জানায় সে।
জেহানের মা জানান, তার ছেলেসহ এ কাজে নিয়োজিতদের অনেকেই চর্মরোগ, শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগে ভুগছে। অনেকে ওষুধও খেয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। ডাক্তাররা তাদের পরিচ্ছন্ন জীবনযাপনের পরামর্শ দেন।
শুধু জেহান নয়, তার মতো এমন আরও অনেক শিশু নগরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কাজে নিয়োজিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভ্যান সার্ভিসের মাধ্যমে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করার জন্য বিভিন্ন সংগঠনকে দায়িত্ব দিয়েছে সিটি করপোরেশন। এসব সংগঠনের অধিকাংশ ভ্যানে শিশুরা নিয়োজিত থাকে। দৈনিক তাদের ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে। বর্জ্যের গন্ধে নিজেদের মানিয়ে নিতে তারা ড্যান্ডিসহ নানা রকম নেশায় জড়িয়ে পড়ে। এছাড়া, নারীদের জন্য নেই মাতৃত্বকালীন ছুটি। ছুটি নিলেও নিজের বদলি হিসেবে অন্য আরেকজনকে কাজ করতে হয়।
সরেজমিন দেখা গেছে, মাতুয়াইল ও আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি) নিজস্ব পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশাপাশি অনেক নারী ও শিশু কাজ করে। বর্জ্য ব্যবস্থার কাজে নিয়োজিত এসব কর্মীর ঈদ বা বিশেষ দিনগুলোতেও কোনও ছুটি নেই। শারীরিক সুরক্ষার জন্য কোনও ব্যবস্থাপনা নেই। নেই গ্লাভস, মাস্ক, বুটজুতা বা হেলমেট। এ কারণে তারা হেপাটাইটিস বি ভাইরাস, টিটেনাস এবং এইচআইভি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে বলে জানান বিশেষজ্ঞরা। হতে পারে তাদের পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ। এছাড়া নাক-মুখ সুরক্ষিত না থাকায় নিঃশ্বাসের সঙ্গে দেহের ভেতরে ঢুকছে মারাত্মক সব জীবাণু।
জানা গেছে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) দৈনিক মজুরিভিত্তিক তিন হাজার ৯৭৬ জনসহ মোট ৫ হাজার ২৪৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে। এরমধ্যে ২ হাজার ৪৪৮ জন নারী কর্মী। আবাসন সুবিধা পেলেও তারা চিকিৎসাসেবা বলতে কিছুই পান না।
ডিএসসিসি সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটি তাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সুবিধা দিতে ১৩টি ১০ তলা ও ৯টি ৬ তলা ভবন নির্মাণ করেছে। এরমধ্যে ১০ তলা ৪টি ভবন উদ্বোধন করা হয়েছে। তাদের কেউ মারা গেলে ৫ থেকে ৭ হাজার করে টাকা দেওয়া হয়। এছাড়া তাদের ওয়ারিশদের মেয়রের ঐচ্ছিক তহবিল থেকে দেওয়া হয় ৫০ হাজার টাকা। এছাড়া কেউ চাইলে তার পরিবর্তে পরিবারের সন্তানদের পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে চাকরি দেওয়া হয়। কেউ অসুস্থ হলে করপোরেশনের নিজস্ব হাসপাতালগুলোতে দেওয়া হয় ফ্রি চিকিৎসা।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রায় ৪ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী রয়েছে। তাদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে কোনও তথ্য দিতে রাজি হননি সংস্থার নির্বাহী প্রকৌশলী ও অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) এস এম শফিকুর রহমান। সংস্থাটির মেয়র অতিকুল ইসলামও বিস্তারিত তথ্য না দিতে পারলেও বলেন, ‘আমরা তাদের জন্য কাজ করছি। আগের চেয়ে পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। কয়েকটি হাসপাতালের মাধ্যমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
১৫ বছর ধরে ডিএনসিসির আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে কাজ করেন আমির মিয়া। তিনি বলেন, ‘আগের চেয়ে একটু সুযোগ-সুবিধা বাড়লেও আমরা তা নিতে পারি না। সারাক্ষণ কাজের মধ্যে থাকতে হয়। গ্লাভস, বুটজুতা ও মাস্ক পাই না। পায়ের হাঁটু পর্যন্ত অংশের বিভিন্ন স্থানে ক্ষত হয়ে গেছে। গন্ধে থাকা যায় না। এ কারণে নিয়মিত খাওয়ার চাহিদাও থাকে না।’
ডিএনসিসির একজন পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক বলেন, ‘এখানে কোনও মানুষ আসে না। শাস্তিস্বরূপ এখানে (ল্যান্ডফিলে) বদলি করা হয়। আমাদের জন্য অনেক সুযোগ-সুবিধার কথা মুখে বলা হয়। কিন্তু বাস্তবে আমরা কি তা পাই?’
পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সংগঠন স্ক্যাভেঞ্জার্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবদুল লতিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শুধু ১ হাজার ২৬৭ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী স্কেলভুক্ত। বাকিরা দৈনিক বেতন ছাড়া আর কিছুই পান না। ঈদের সময়ও আমাদের বর্জ্যের সঙ্গে কাটাতে হয়।’ প্রধানমন্ত্রীর কাছে তারা তাদের দাবিদাওয়া জানিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
ডিএসসিসির অতিরিক্ত প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা খন্দকার মিল্লাতুল ইসলাম বাংলা ট্রবিউনকে বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সুযোগ-সুবিধা আগের চেয়ে অনেক উন্নত হয়েছে। তাদের বেতন দ্বিগুণ হয়েছে। থাকার জন্য অত্যাধুনিক ভবনে ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থায়ী কর্মীরা নিয়ম অনুযায়ী সব সুযোগ পাচ্ছেন। যারা দৈনিক মজুরিতে কাজ করেন তারা এসব পাচ্ছেন না।’
তিনি জানান, গ্লাভস, মাস্ক, বুট ও হেলমেটসহ অন্যান্য জিনিস জাইকার অর্থায়নে তাদের দেওয়া হয়। এসব বিষয়ে কয়েকটি এনজিও তাদের দায়িত্ব নিতে চায় বলেও জানান তিনি।

এত বড় মুক্তা!

অলংকার তৈরির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হওয়ায় মুক্তার গড়পড়তা আকৃতি সম্পর্কে কমবেশি সবার ধারণা আছে। সাধারণত হাতের আংটি, কানের দুল কিংবা লকেটে শোভা পায় ছোট বা মাঝারি আকারের মুক্তা। কিন্তু কেউ যদি বলেন যে, তাঁর কাছে আছে প্রায় ২৭ কেজি ওজনের বিশাল মুক্তা? সে ক্ষেত্রে চোখ কপালে ওঠারই কথা!
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, কানাডার এক নাগরিক এমন আকারের একটি মুক্তার সন্ধান দিয়েছেন, যা রীতিমতো বিস্ময়কর। আব্রাহাম রেয়েজ নামের ওই ব্যক্তির কাছে যে মুক্তা আছে, সেটির ওজন ২৭ কেজি ৬৫ গ্রাম। ধারণা করা হচ্ছে, এটি এখন পর্যন্ত পৃথিবীতে পাওয়া সবচেয়ে বড় মুক্তা। এর নাম রাখা হয়েছে ‘গিগা পার্ল’।
সিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগে লাও–জু নামের মুক্তাটিকে সবচেয়ে বড় মুক্তা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। তবে আব্রাহামের কাছে থাকা ওই মুক্তা লাও–জু থেকে আকারে চার গুণ বড়। সাদা ও ক্রিম রঙের মুক্তাটি রীতিমতো একটা শিশুর আকারের সমান। আব্রাহাম এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন। মুক্তাটি প্রায় ১ হাজার বছরের পুরোনো বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আব্রাহাম বলছেন, মেয়েকে উপহার দেওয়ার জন্য তাঁর দাদা ফিলিপাইনের জেলেদের কাছ থেকে ১৯৫৯ সালের দিকে একটি দৈত্যকার ঝিনুকের মধ্যে করে ওই মুক্তাটি এনেছিলেন। মুক্তাটি এত দিন ঝিনুকটির মধ্যে লুকানো অবস্থায় ছিল।
আব্রাহাম সিবিসিকে বলেন, এটি মুক্তার মতো দেখতে নয়। তাই পরিবারের কেউ কখনো এর গুরুত্ব বুঝতে পারেনি। এমনকি ওটার দিকে ভালোভাবে তাকায়ওনি।
আব্রাহাম বলেন, ২০১৬ সালের দিকে যখন তাঁর ফুফু সম্পত্তি হস্তান্তর শুরু করে তখন এটা আব্রাহামের কাছে আসে। তবে সেই সময় তিনি এর প্রতি মনোযোগ দেননি। সম্প্রতি কিছুদিন হলো আব্রাহাম একজন ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ দিয়ে এটি পরীক্ষা করান। তখন জানা যায় যে, এটি মুক্তা। এর বাজারমূল্য আনুমানিক ৬ থেকে ৯ কোটি ডলার হবে বলে জানিয়েছেন ওই ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞ।
তবে আব্রাহাম মুক্তাটি বিক্রি করতে চান না​। মুক্তাটিকে ২২ ক্যারেট সোনা দিয়ে তৈরি একটা অক্টোপাসে ঘিরে রেখেছেন তিনি। বিক্রির পরিবর্তে তিনি এটিকে বিভিন্ন জাদুঘরে রেখে দর্শকদের দেখার সুযোগ করে দিতে বেশি আগ্রহী। আব্রাহাম বিশ্বাস করেন যে, এমন কিছুর অস্তিত্ব রয়েছে—তা গোটা বিশ্বের জানা উচিত।

মাইকেল জ্যাকসনের সুনাম কি হুমকির মুখে?

অনেক দশক ধরে মাইকেল জ্যাকসনকে ডাকা হয়েছে 'পপ সম্রাট' নামে। তিনি হলেন সর্বকালের সেরা তারকাদের একজন। কিন্তু 'লিভিং নেভারল্যান্ড' নামের একটি তথ্যচিত্র প্রচারের পর তার সেই সুনাম এখন প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
এ সপ্তাহে প্রচারিত ওই অনুষ্ঠানে দেখানো হয়েছে যে, জেমস সেফচাক এবং ওয়েড রবসন নামের দুইজন ব্যক্তি দাবি করেছেন, শিশু থাকাকালে তাদের নির্যাতন করেছেন এই গায়ক।
যদিও মাইকেল জ্যাকসনের পরিবার ওই অভিযোগ অস্বীকার করেছে, কিন্তু এই অভিযোগ তার নামের ওপর বিশাল এক কালো ছায়া তৈরি করেছে।
দোষী অথবা নির্দোষ?
ওই তথ্যচিত্রে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে অনেককে বিব্রত এবং অস্বস্তিতে ফেলবে। ওই দুইজন ব্যক্তি মাইকেল জ্যাকসনের দ্বারা নির্যাতনের যে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন, তা অনেককেই হতবাক করে দিতে পারে।
তবে এই গায়ক দোষী নাকি নির্দোষ, তা নিয়ে সেলিব্রেটি এবং দর্শকদের মধ্যে বিভক্ত মতামত তৈরি হয়েছে। অনেকে বলছেন, ওই তথ্যচিত্রে মাইকেল জ্যাকসনকে একজন শিশু যৌন নির্যাতনকারী হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তবে অন্যরা এখনো তার পক্ষে রয়েছেন এবং মনে করেন যে, তিনি নির্দোষ।
তবে পিআর কোম্পানি রাইট অ্যাঙ্গেলসের প্রতিষ্ঠাতা পল ব্লানচার্ড মনে করেন, মাইকেল জ্যাকসনের উত্তরাধিকারের ওপর এর কি প্রভাব পড়বে, তা এখনি বলা কঠিন।
মাইকেল জ্যাকসনের পরিবার কী বলছে?
জ্যাকসনের ব্যাপারে এসব অভিযোগ শক্তভাবে নাকচ করে দিয়েছে তার পরিবার। তারা বলছে, এসব অভিযোগের উদ্দেশ্য হচ্ছে জ্যাকসনের সম্পত্তি থেকে অর্থ হাতিয়ে নেয়া।
তার ভাগ্নে তাজ জ্যাকসন বলেছেন, মাইকেল জ্যাকসন বেঁচে থাকলে এসব অভিযোগ শুনে কেঁদে ফেলতেন। তবে জ্যাকসনের মা এবং বোন এখনো এসব অভিযোগ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি।
তার মেয়ে প্যারিস জ্যাকসন ওই তথ্যচিত্র প্রচারের পর থেকেই মিডিয়ার বাইরে রয়েছেন এবং এ বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।
তবে বৃহস্পতিবার একটি টুইট বার্তায় তিনি তার সমর্থকদের শান্ত থাকার আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন,‘আমি নিজে যতটা না নিয়েছি, তার চেয়ে তোমরা আমার জীবনকে বেশি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছো।’
তিনি বলছেন,‘অবিচার এবং হতাশার বিষয়ে আমি জানি এবং কিন্তু ক্ষোভ বা রাগের বদলে শান্ত মনকে ধরে রাখা বেশি যুক্তি সঙ্গত....বরং মনকে কোমল করলেই বেশি ভালো লাগে।’
ওই তথ্যচিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রদর্শন করার এইচবিও-র বিরুদ্ধে ১০০ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছে মাইকেল জ্যাকসনের এস্টেট।
তার গান কি আর কেউ শুনবে?
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং কানাডাসহ বিশ্বের বেশ কিছু রেডিও স্টেশন মাইকেল জ্যাকসনের গান প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের রেডিও স্টেশনগুলো এখনো এ ধরণের পদক্ষেপ নেয়নি।
বিবিসি বলছে, তারাও ওই গায়ককে নিষিদ্ধ করেনি এবং তার গানগুলো বিবিসির অনুষ্ঠানে চলতে পারে।
তবে মাস্ট ওয়াচ বিবিসি পডকাস্টের উপস্থাপক স্কট ব্রায়ান বলেছেন, তথ্যচিত্রটি দেখার পর তিনি তার আইফোন থেকে মাইকেল জ্যাকসনের ১৫টি গান মুছে ফেলেছেন।
তিনি বলেন,‘কয়েকদিন পরে আমি একটি ক্যাফেতে বসে ল্যাপটপে কাজ করছিলাম আর তখন মাইকেল জ্যাকসনের একটি গান বাজতে শুরু করে। তখন আমি হেডফোন তুলে কানে লাগাতে বাধ্য হলাম, কারণ আমি কাজ মন দিতে পারছিলাম না। আমার খানিকটা অস্বস্তি লাগছিল।’
তবে রেডিও-১ শ্রোতা ক্রিস্টিন মনে করেন, মানুষ এখনো মাইকেল জ্যাকসনের গান শুনবে। তিনি বলেন,‘তিনি হচ্ছেন পপ সম্রাট। আমি এমনকি ভাবতেও পারিনা যে, কতজন গায়ক তাকে নিজের রোল মডেল হিসেবে নিয়েছে।’
তিনি আরো বলেন,‘তার চমৎকার কিছু একক গান আর অ্যালবাম আছে। সুতরাং আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে জানার সুযোগ দিতে হবে যে, তাদের অতীত গানগুলো কোথা থেকে এসেছে?’
মাইকেল জ্যাকসনের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য কি মুছে যাবে?
সিম্পসনের একটি পর্বে লিওন কম্পোওস্কির জন্য ১৯৯১ সালে কণ্ঠ দিয়েছিলেন মাইকেল জ্যাকসন। তবে ওই এপিসোডটি এখন সব স্ট্রিমিং সার্ভিস থেকে সরিয়ে নেয়া হচ্ছে। সিম্পসনের নির্বাহী প্রযোজক জেমস এল ব্রুকস বলছেন, ''আমাদের সামনে এই একটি মাত্র পথই খোলা রয়েছে।''
ব্রিটেনের জাতীয় ফুটবল জাদুঘর থেকে মাইকেল জ্যাকসনের একটি ভাস্কর্য সরিয়ে ফেলা হয়েছে। তাজ জ্যাকসন নিউজবিটকে বলেছেন, অভিযোগগুলো ক্ষতিকর, তবে তার মামার নামডাকের ওপর সেটি দীর্ঘমেয়াদি কোন প্রভাব ফেলবে বলে তিনি মনে করেন না।
তবে জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডি ব্রার মনে করেন, এই তথ্যচিত্রের ফলে মাইকেল জ্যাকসনের ব্রান্ড ইমেজের ওপর দীর্ঘমেয়াদি একটি ছাপ থেকে যাবে। আর ইন্টারনেটের কারণে মাইকেল জ্যাকসনের নামের সঙ্গে এসব অভিযোগ সবসময়েই দেখা যাবে।
‘আমি তার গান শুনে শুনে বড় হয়েছি এবং আমার তিনটি ছোট সন্তান রয়েছে। কিন্তু এত কিছু জানার পরেও তাদের আমি জ্যাকসনের গান শুনতে দেবো কিনা,তা নিয়ে আমাকে আবার ভাবতে হবে। তবে আমি মনে করি, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের হয়তো তাকে ভুলেই যাবে অথবা তিনি হয়তো তিনি গুরুত্বহীন হয়ে যাবেন।’

যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানরা বেশি বৈষম্যের শিকার : ৮২ ভাগ মার্কিনির ধারণা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অন্য কোনো গোষ্ঠীর তুলনায় মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের মুখোমুখি। পিউ রিসার্স সেন্টারের এক জরিপে এমন তথ্য ওঠে আসে। জরিপে অংশ নেয়াদের মধ্যে শতকরা কমপক্ষে ৮২ ভাগ বলেছেন, হিস্প্যানিক, সমকামী পুরুষ বা নারীর মতো অন্য আরো গ্রুপের তুলনায় মুসলমনরা অনেক বেশি বৈষম্যের শিকার। এর চেয়ে সামান্য কম অর্থাৎ শতকরা ৮০ ভাগ বলেছেন, কৃষ্ণাঙ্গরাও কিছুটা বৈষম্যের শিকার।
মিনেসোটা থেকে নির্বাচিত ডেমোক্র্যাট দলের প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য, মুসলিম নারী ইলহান ওমরকে নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের টুইটের পর এই জরিপের ফল প্রকাশ করা হয়েছে। জরিপটি করা হয়েছে ট্রাম্পের ওই টুইটের আগে। ট্রাম্প তার টুইটে ইলহান ওমরের একটি বক্তব্যের ভিডিও যুক্ত করেছেন। ওই ভিডিওতে যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিমদের দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হিসেবে দেখা হয় বলে নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন ইলহান ওমর। তার এই ভিডিওটির সাথে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় সন্ত্রাসী হামলার ক্লিপ যুক্ত করেছেন। ক্যাপশনে ট্রাম্প লিখেছেন, আমরা কোনো দিন ভুলে যাবো না।
ট্রাম্পের এই টুইটকে অনেকেই দেখছেন মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর আক্রমণ হিসেবে। ইলহান দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্টের এমন টুইটের পর অনেক বেশি হত্যার হুমকি পেয়েছেন তিনি। কংগ্রেসনাল বল্টাক ককাস বলেছে, ইলহান ওমরের জীবনকে বিপদে ফেলে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ডেমোক্র্যাট ও ডেমোক্র্যাটপন্থী নিরপেক্ষদের তিন-চতুর্থাংশ বলেছেন, মুসলিমরা অনেক বেশি বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। ২০১৩ সালে এমনটা মনে করতেন তাদের শতকরা ৫৬ ভাগ। ওদিকে রিপাবলিকান ও রিপাবলিকানপন্থী নিরপেক্ষরা প্রায় একই অবস্থানে আছেন। ২০১৩ সালে তারা এমনটা মনে করতেন শতকরা ৩১ ভাগ। বর্তমানে এ হার ৩৪।
সূত্র : আনাদোলু

ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধবিমানের পথরোধ করলো রাশিয়া

ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে একটি মার্কিন বিমান প্রতিহত করেছে রাশিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় থাকার পরও রুশ বিমান তাদের প্রতিহত করেছে এবং আন্তর্জাতিক নিয়ম মানেনি। অন্যদিকে রাশিয়ার দাবি, ‍বিমানটিকে তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই সরিয়ে এনেছেন।
মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রশাসন জানায়, মার্কিন বিমান পি-এইটএ পোসাইডন ভূমধ্যসাগরের ওপর দিয়ে আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় প্রবেশ করে। তখনই রওশ এসইউ-৩৫ বিমান ১৭৫ মিনিটের মধ্যে তিনবার পথরোধ করে। এর মধ্যে দ্বিতীয় চেষ্টাটি খুবই অনিরাপদ ছিলো বলে দাবি করে তারা। তারা জানায়. তাদের বিমানের সামনে দিয়ে উচ্চ গতিতে রুশ বিমানটি অতিক্রম করে। এতে করে তাদের চালক ও ক্রু ঝুঁকির মুখে পড়েছিলো।
যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, রুশ বিমানটিও আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছিলো। ফলে তাদের এমন আচরণ দায়িত্বজ্ঞানহীন। আমরা আশা করি তারা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে এমন আচরণ করবেন। অনিরাপদ আচরণে সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হয়।
হবে রুশ সেনাবাহিনী এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করে, সবধরনের কার্যক্রম আন্তর্জাতিক আইন মেনেই করা হয়েছে। আকাশসীমায় প্রবেশ করা মার্কিন বিমানটিকে ‘সব ধরনের সতর্কতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা মেনে’ নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বিমানটি আন্তর্জাতিক আকাশসীমায় অবস্থান করছিলো। ‘অনিরাপদ ও অপেশাদার’ কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে একে প্রতিহত করা হয়েছে।
বেশ কিছুদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া উত্তেজনা চলছে। দুই সপ্তাহ আগেই এমন একটি ঘটনা ঘটেছিলো। গদ মাসে মিার্কিন এফ-২২ বিমান চারটি রুশ বোমারু বিমান ও দুইটি এসইউ-৩৫ ফাইটার জেটকে প্রতিহত করে। আলাস্কা উপকূলের আন্তর্জাতিক সীমারেখা থেকে সেগুলো সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।