Monday, August 5, 2019

বেনজির ‘অস্থিরতা’ কাশ্মীরে, মাঝরাতে গৃহবন্দি ওমর আবদুল্লা-মেহবুবা মুফতি

কাশ্মীরের সামরিক অস্থিরতার মধ্যেই মাঝরাতে বেনজির সিদ্ধান্ত প্রশাসনের। গৃহবন্দি করা হল রাজ্যের তিন সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি এবং সাজ্জাদ লোনকে। রাতেই শ্রীনগর ও জম্মুতে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। রাজ্যের অধিকাংশ জায়গায় বন্ধ স্কুল-কলেজ। শ্রীনগরে কার্যত অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি হয়েছে কারফিউ। বন্ধ মোবাইল-ইন্টারনেট পরিষেবাও।

রবিবার রাতেই তীব্র উত্তেজনা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে সর্বদলীয় বৈঠকে বসেন বিজেপি ছাড়া উপত্যকার অন্য রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিরা। ন্যাশনাল কনফারেন্স সুপ্রিমো ফারুক আবদুল্লার গাপকার রোডের বাসভবনের লনে বৈঠকে বসেন নেতানেত্রীরা। সেখানে ঐক্যমত হয়, যে কোনও মূল্যে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদা (৩৫এ, ৩৭০ ধারা) বজায় রাখতে হবে। তাঁরা সবাই যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ৩৭০ দারা ও ৩৫ এ ধারা অবলুপ্ত করার, তা সংশোধন করার বা সেগুলির কোনওরকম বদল ঘটানোর কোনওরকম চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। জম্মু ও কাশ্মীরে সাধারণ মানুষের  বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের আগ্রাসন চালানো কিছুতেই মেনে নেওয়া হবে না। জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্ত্বশাসন অটুট রাখতে হবে। জম্মু কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্র যা যা রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, তা সব কিছু উপত্যকার রাজনৈতিক দলগুলিকে জানাতে হবে। রাজ্যের মানুষের শান্তিও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এমন কোনওপদক্ষেপ কেন্দ্র নিতে পারবে না।

এই বৈঠকের কয়েক ঘণ্টা পরই ওমর আবদুল্লা টুইট করেন, তিনি আশঙ্কা করছেন তাঁকে গৃহবন্দি করা হবে। রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি এবং সাজ্জাদ লোনকে গৃহবন্দি করার কথা ঘোষণা করা হয়। রাজ্যের কোনও প্রান্তে আর কোনও মিটিং-মিছিল করা যাবে না। উপত্যকার প্রভাবশালী নেতারা যাতে কোনওভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে বা দলীয় কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার, এমনটাই দাবি বিরোধীদের। গৃহবন্দি হওয়ার পর মেহবুবা মুফতির টুইট, “আমাদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এভাবে গৃহবন্দি করে রাখাটা মেনে নেওয়া যায় না। গোটা পৃথিবী দেখছে কাশ্মীরে কীভাবে মানুষের কণ্ঠস্বর দামিয়ে রাখা হচ্ছে।” ওমর আবদুল্লা আবার কাশ্মীরের পাশাপাশি, জম্মু এবং লাদাখের মানুষকেও শান্ত থাকতে অনুরোধ করছেন। তিনি বলছেন, “কাশ্মীরবাসীকে বলছি, আমরা জানি না আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করে আছে। তবে, আমি বিশ্বাস করি আল্লাহ যা করেন মঙ্গলের জন্য করেন। সবাই ভাল থাকুন, আর দয়া করে শান্ত থাকুন।”

নিজেই উড়ে ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি

জেটচালিত হুভারবোর্ডে করে প্রথমবারের মতো ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিলেন ফরাসি ফ্রাঙ্কি জাপাটা। পায়ের সঙ্গে হুভারবোর্ড লাগিয়ে তিনি যখন ইংলিশ চ্যানেলের ওপর দিয়ে উড়ছিলেন তখন দূর থেকে কেউ তাকে দেখে মনে করেছিলেন কোনো পাখি উড়ছে। হুভারবোর্ড চালিত হয়েছিল জেটইঞ্জিনে। তাতে জ্বালানি সরবরাহ করতে জাপাটা তার পিঠে নিয়েছিলেন ব্যাকপ্যাক। তার ভিতর ভরা ছিল জ্বালানি। রোববার তিনি ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেয়ার সময় দু’পাশ থেকে তাকে পাহারা দিয়েছে দুটি হেলিকপ্টার। উদ্দেশ্য, যদি তিনি কোনো দুর্ঘটনার শিকার হন, যদি পানিতে পড়ে যান তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করা। ৪০ বছর বয়সী জাপাটা তার এই যাত্রা শুরু করেন ফ্রান্সের ক্যালে এলাকার সাঙ্গাতে সমুদ্র সৈকত থেকে।
শেষ করেন বৃটেনের ডোভারে হোয়াইট ক্লিফসে। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাপাটার স্ত্রী কিস্টাল। এ নিয়ে বৃটিশ একটি পত্রিকা লিখেছে, জাপাটা উড়ার কয়েক সেকেন্ড পরেই তিনি আকাশে অনেকটা উঁচুতে উঠে যান। এ সময় তাকে মনে হচ্ছিল মারটি ম্যাকফ্লাইয়ের মতো। এটি হলো ‘ব্যাক টু দ্য ফিউচার’ ছবির একটি চরিত্র, যাতে অভিনয় করেছেন মাইকেল জে ফক্স।
পুরো ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিতে জাপাটার সময় লাগে ২৩ মিনিট। তিনি সেইন্ট মার্গারেটস উপসাগরের কাছে অবতরণ করে বলেন, খোলামেলাভাবে বলছি খুব এক চমৎকার অনুভূতি কাজ করছে। অবিশ্বাস্য এই সফলতায় তিনি কেঁদে ফেলেন।

এমন মৃত্যু আর কত? by মরিয়ম চম্পা

‘একটি বাসায় চারটি পাখি, কত যে আনন্দে থাকি’। কিন্তু তাদের যে আর আনন্দে থাকা হলো না। চারটি পাখির একটি চলে গেছে না ফেরার  দেশে। ঘাতক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া ছোট্ট রাইয়ান সরকারের বাবা-মা এখন পাগল প্রায়। মা কখনো ছেলের কক্ষে যান। ছেলের স্কুলের আইডি কার্ড, স্কুল ড্রেস বুকে জড়িয়ে চিৎকার করে কান্না করেন। পুত্র শোকে পাথর হয়ে গেছেন রাইয়ানের বাবাও। কারো সঙ্গে কথা বলতে গেলেই শিশুদের মতো কেঁদে ফেলেন।
আর ছেলে মেয়ের জন্য দোয়া চান। ছোট বোন মালিহা বিনতে সরকার বাবাকে বার বার তাগিদ দেয় ভাইকে আইসিইউতে দেখতে যাবে। সে এখনো জানে না যে তার সার্বক্ষণিক খেলার সঙ্গী প্রিয় ভাইটি আর নেই। গত শুক্রবার দুপুরে ১১ বছর ৬ মাস বয়সী রাইয়ান ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।

রাইয়ানের বাবা এসিআই কনজ্যুমার ব্র্যান্ডের জোনাল সেলস ম্যানেজার মমিন সরকার বলেন, ১১ বছর ৬ মাস বয়সী একটি বাচ্চাকে হারিয়ে একজন মা কেমন থাকতে পারে। তার মা জান্নাত আরা জাহান এখন পাগলপ্রায়। হাসপাতালে বার বার মুর্ছা যাচ্ছে। ছটফট করছে। গতকাল সকালে তাকে বাসায় নিয়ে যাই। বাসায় গেলে সে কখনো ছেলের স্কুলের জামা বুকে চেপে করে কাঁদছে। কখনো ব্যাগ। কখনো মোজা। ছেলের স্কুলের আইডিকার্ড ধরে বারবার তাতে চুমু খাচ্ছে। রাইয়ানের ব্যবহৃত বই-খাতা, কলম সব হাতিয়ে হাতিয়ে দেখছে। আমি বলেছি, থাক এ বাসায় ডেঙ্গু আছে। দ্বিতীয়বার মেয়েকে ডেঙ্গু মশায় কামড়ালে আমরা মেয়েকেও হারাবো। তার চেয়ে বরং আমরা অন্য বাসায় যাই। এসময় সে বলে, আমি এই বাসা ছাড়বো না। এখানেই থাকবো। কারণ এখানে আমার ছেলের স্মৃতি আছে। কোথায় যাব। কই নিয়ে যাবে। বাসা থেকে মেয়ের কাছে হাসপাতালে আসার পথে বলে, চলো ওর স্কুলের সামনে থেকে দেখে আসি। রাইয়ানের মৃত্যুতে শোক জানাতে স্কুলের সামনে বড় করে ব্যানার টাঙ্গিয়ে রেখেছে। রাইয়ান রাজধানীর সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। ওইখানে নেমে ওর মা ব্যানারে ছেলের ছবিতে হাত বুলাচ্ছে আর কান্না করছে। বলে, আমি প্রতিদিন স্কুলের সামনে এসে দাঁড়িয়ে থাকবো।

তিনি বলেন, ছেলেকে যখন ভোর রাতে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে যায় তখন শেষবার তার সঙ্গে কথা হয়। এসময় সে কোনো কথা বলেনি। শান্ত ছিল। শুধু তাকিয়ে ছিল। আমি তাকে আদর করে দিয়ে বলেছি, যাও বাবা, আল্লাহ ভরসা। আর কথা হয়নি আমার বাবার সঙ্গে। রাইয়ানের সাইন্সফিকশনের প্রতি খুব আগ্রহ ছিল। সে মঙ্গলগ্রহ, তারকারাজি, এই সংক্রান্ত প্রচুর ভিডিও দেখতো। দু্‌ই ভাই বোন সারাক্ষণ বাসা মাতিয়ে রাখতো। বাসার মধ্যে ব্যাট বল নিয়ে খেলতো। অফিস থেকে ফেরার পর আমার মোটরসাইকেলের শব্দ শুনে ভাই-বোন ছুটে আসতো। প্রতিযোগীতা করতো কে কার আগে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরবে। আমার হাত থেকে বাজারের ব্যাগ নিবে।
আমি আমার মেয়েকে কি বলবো। ছোট মেয়ে মালিহা এখনো জানে না তার ভাই বেঁচে নেই। সে বার বার বলে চলো নিচে যাই। এনআইসিইউতে ভাইয়ার সঙ্গে দেখা করে আসি। ছেলে মারা যাওয়ার আগে চিকিৎসক আশা দিয়েছিলেন। কিন্তু তাকে তো আর বাঁচানো গেল না। আমাদের প্রতিটি মুহূর্ত এখন কাটছে আতঙ্কের মধ্যে। মেয়েকে সুস্থ করে যেন বাড়ি ফিরতে পারি। সকলের দোয়া চাই। আর যেন কোনো বাবা মায়ের বুক খালি না হয় আমাদের মতন। এটাই প্রার্থনা করি।

৩০ জুলাই ডেঙ্গু পজিটিভ বলে রিপোর্ট পাওয়া যায় রাইয়ানের। এর মধ্যেই তার অবস্থা খারাপ হতে শুরু করে। স্কয়ার হাসপাতালে নেয়ার পর দ্রুত চিকিৎসা শুরু করেন চিকিৎসকেরা। ৩১শে জুলাই রাত তিনটার দিকে রাইয়ানকে এনআইসিইউতে ভর্তি করা হয়। ১লা আগস্ট তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। ২রা আগস্ট দুপুরে মারা যায় রাইয়ান।

আরএসএস মুখপত্রে সেই ৪৯ বিশিষ্ট ব্যক্তির কড়া সমালোচনা

অপর্ণা সেন, আদুর গোপালকৃষ্ণন, রামচন্দ্র গুহ, অনুরাগ কাশ্যপ, সুমিত সরকারের মতো কৃতি মানুষরা জয় শ্রীরাম স্লোগান, অসহিষ্ণুতা, গণপিটুনি সহ একাধিক ইস্যুতে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়ে সম্প্রতি খোলা চিঠি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে।

বিভিন্ন ক্ষেত্রের ৪৯ জন বিশিষ্ট মানুষের লেখা খোলা চিঠির ইস্যুতে তাদের আক্রমণ করে এবার সম্পাদকীয় প্রকাশিত হলো আরএসএসের মুখপত্র অর্গানাইজারে।

গত ২৯ শে জুলাই অর্গানাইজারে প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে খোলা চিঠি পাঠানো ব্যক্তিত্বদের ‘দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজের সুবিধাভোগী’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। সমালোচনা করা হয়েছে বিদ্বজ্জনরা বেছে বেছে কয়েকটি ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে।

অর্গানাইজারের সম্পাদকীয়তে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যখন দেশ উন্নতির শিখরে যাত্রা করছে, বিদ্বজ্জনরা কেন সেই সময়কেই বেছে নিলেন সরকার বিরোধিতার জন্য। তাহলে কি মিশন শক্তি কিংবা চাঁদ অভিযানের সাফল্যে আসলে তারা দুশ্চিন্তায় ভুগছেন?

সম্পাদকীয়তে লেখা হয়েছে, বিদ্বজ্জনরা জয় শ্রীরাম স্লোগানকে উসকানিমূলক মনে করলেন, অথচ আল্লাহু-আকবর নিয়ে কিচ্ছুটি বললেন না। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, জয় শ্রীরাম ধ্বনি দিয়ে গণপিটুনির বেশিরভাগ ঘটনাই মিথ্যা।

বিদ্বজ্জনদের তালিকায় বাংলা এবং কেরালার মানুষ কেন বেশি, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আরএসএসের মুখপত্র। লেখা হয়েছে, এই জন্যই বাংলা ও কেরালায় কোনো গণপিটুনি বা রাজনৈতিক সন্ত্রাসের ঘটনার উল্লেখ চিঠিতে নেই। পাশাপাশি বাংলা থেকে চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা থেকে আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে অর্গানাইজারের সম্পাদকীয়তে। লেখা হয়েছে, আর তাই দুর্নীতিগ্রস্ত সমাজের এই সুবিধাভোগীরা এই সময় বেছে নিয়ে মোদীর বিরোধিতা আরম্ভ করেছেন।

পাশাপাশি হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র এবং ঝাড়খণ্ডে আসন্ন বিধানসভা ভোটের জন্যই বিদ্বজ্জনরা এভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতায় সোচ্চার হয়েছেন বলে লেখা হয়েছে। ৪৯ জন বিশিষ্ট মানুষ খোলা চিঠির মাধ্যমে যে ঘটনাবলীর অবতারণা করেছেন, তা চূড়ান্ত পর্যায়ের একচোখামিতে ভর্তি এবং এই চিঠির বিষয়বস্তু বিশ্বের নজরে ভারতের মর্যাদা খাটো করছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে। এই চিঠির পর গণপিটুনি কিংবা সম্প্রদায়ভিত্তিক ঘৃণার রাজনীতি বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে আরএসএসের মুখপত্রে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।
>>>সাউথ এশিয়ান মনিটর

১৮ বছর পর স্ত্রী ও সন্তানের স্বীকৃতি: যশোর কারাভ্যন্তরে মালা ইসলাম দম্পতির বিয়ে

১৮ বছর পর স্ত্রী সন্তানের স্বীকৃতি প্রদানকারী ইসলামের মুক্তি মেলেনি। মুক্তির আশায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে দিন কাটছে তার। আর কারাফটকের বাইরে অপেক্ষা করছেন স্ত্রী, সন্তান আর আত্মীয়স্বজনরা। কারা কর্তৃপক্ষ বলছেন, উচ্চ আদালতের রায়ের কপি তাদের কাছে না পৌঁছানো পর্যন্ত এ ব্যাপারে তাদের কিছু করার নেই। তবে আদালতের আদেশ পৌঁছানো মাত্রই ইসলামকে কারামুক্ত করার যাবতীয় প্রস্তুতি তারা নিয়ে রেখেছেন। একই সঙ্গে এই দম্পতির বিবাহ-উত্তর সংবর্ধনার যাবতীয় আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কারা কর্তৃপক্ষ। জেলার আবু তালেব জানান, আমার চাকরি জীবনে এই রকম একটি ঘটনার সাক্ষী হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। তাই ঘটনাটিকে আরো স্মরণীয় করে রাখতে ইসলাম দম্পতির বিবাহ-উত্তর সংবর্ধনার আয়োজন করা হচ্ছে।
কেনা হচ্ছে বিয়ের সব রকম পোশাক। ইসলাম ও তার স্ত্রী মালাকে নতুন করে বর-বউ সাজিয়ে তুলে দেয়া হবে তাদের একমাত্র সন্তান মিলনের হাতে। এদিকে ইসলাম দম্পতিকে ঘিরে তাদের নিজ গ্রামেও আনন্দ উৎসবের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান কারাফটকে অপেক্ষমাণ তাদের স্বজনরা। আর পিতামাতার মিলন দেখার জন্য ছেলে মিলনেরও প্রস্তুতির কমতি নেই। সে ইতিমধ্যে পিতার জন্য শেরওয়ানি আর মায়ের জন্য লাল বেনারসি কিনেছেন। সাজাবেন ফুলের বাসর। মিলন জানান, ১৮ বছর পিতার স্বীকৃতি পাইনি। আমার মা পায়নি স্বামীর অধিকার। এখন উচ্চ আদালতের রায়ে তা সম্ভব হয়েছে। আদালতের নির্দেশে দ্বিতীয় দফায় আমার মা ও বাবার বিয়ে হয়েছে কারাগারে। এই ঘটনাটি আমিও স্মরণীয় করে রাখতে চাই। এজন্য একজন নতুন দম্পতির বিয়েতে যা যা হয় তার সবই করা হবে আমার মা আর বাবাকে ঘিরে। এখন অপেক্ষা শুধু বাবা কবে কারামুক্ত হবেন। মা ও আমি প্রতিদিন কারাগারের প্রধান ফটকে অপেক্ষা করছি। কবে বাবার বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবো তা সৃষ্টিকর্তাই ভালো জানেন। তবে অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চাচ্ছে না।
ঝিনাইদহের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আজিজ মৃধার ছেলে ইসলাম। দীর্ঘদিন প্রেম করার পর ২০০০ সালের ১৩ই ফেব্রুয়ারি পালিয়ে ইসলাম ও মালা স্থানীয় এক মৌলভীর মাধ্যমে গোপনে বিয়ে করে। মালা একই গ্রামের আবদুর রহমানের মেয়ে। মালাকে ইসলাম নিজের বাড়িতে তুলতে সাহস পাননি পরিবারের ভয়ে। কিন্তু বিয়ের পর থেকে ইসলাম ও মালা দম্পতি বিভিন্ন স্থানে শারীরিকভাবে মিলিত হতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিয়ের পর পরই মালা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ইসলাম তাকে অস্বীকৃতি জানায়। গর্ভের সন্তানের পিতৃপরিচয়ের দাবি নিয়ে মালা ইসলামের বাড়ি গেলে তাকে ঘাড়ে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়া হয়। কুলটা-নষ্টা বলে মালাকে তিরস্কার করে ইসলামের পরিবারের লোকেরা। লোকলজ্জার ভয়ে মালা গর্ভের সন্তানসহ বহুবার আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে গিয়েও সাত-পাঁচ ভেবে তা করেননি। শেষ পর্যন্ত ১০ মাস ১০ দিন পর ২০০১ সালের ২১শে জানুয়ারি স্বাভাবিক নিয়মে মালার কোলজুড়ে আসে এক ফুটফুটে পুত্রসন্তান। নাম রাখেন মিলন। মিলন ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মালার পিতা বাদী হয়ে ইসলামের বিরুদ্ধে ২০০১ সালে ধর্ষণের একটি মামলা করেন ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে। আদালতের নির্দেশে পুলিশ ইসলামকে আটক করে। কিন্তু ইসলাম আদালতেও মালা ও তার সন্তানকে অস্বীকার করে। ফলে মালার আবেদনের প্রেক্ষিতে পুত্র মিলনের ডিএনএ টেস্ট করা হলে তার পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হয়। আদালত ওই মামলায় ইসলামকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। এই রায়ের বিরুদ্ধে ইসলাম আপিল করলে রায় বহাল রাখেন উচ্চ আদালত। উচ্চ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আবেদন করলে সেখানেও ইসলামের সাজার রায় বহাল থাকে। পরে আপিল রিভিউ আবেদন করেন যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ইসলাম। ইসলামের করা রিভিউ শুনানিতে আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির বেঞ্চে মালা ও মিলনের স্বীকৃতির বিষয়টি সামনে আনেন। ১৮ বছর পর ইসলামের আইনজীবী রুহুল কুদ্দুস কাজল আপিল বিভাগকে জানান মালা ইসলামেরই স্ত্রী। আর মিলন যে ইসলামের সন্তান সেটা উচ্চ আদালতের আদেশের পর ডিএনএ প্রতিবেদনেও প্রমাণিত। বর্তমানে ইসলাম মালাকে স্ত্রীর মর্যাদা দিতে চাই। মিলনকে সন্তানের স্বীকৃতি দিয়ে স্ত্রী ও সন্তানকে সে নিজ বাড়িতে তুলে নিতে চায়। ইসলামের আইনজীবীর এই বক্তব্য শোনার পর গত রোববার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এক আদেশে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষকে কারাভ্যন্তরে ইসলাম ও মালার পুনরায় বিবাহ পড়ানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলারকে আগামী ২৯শে আগস্ট এ বিষয়ে অগ্রগতি জানাতে নির্দেশ দেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবু তালেব বলেন, যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ইসলাম আদালতে জামিনের জন্য আবেদন করেন। আদালত শর্ত দেন মালাকে স্ত্রী ও মিলনকে সন্তানের স্বীকৃতি দিলে জামিন দেয়া হবে। আদালতের শর্তে ইসলাম রাজি হন। এরপর আদালতের নির্দেশে জেলা প্রশাসকের অনুমতিক্রমে বুধবার কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সুপার, দু’পক্ষের আত্মীয়স্বজন ও তাদের ছেলে মিলনের উপস্থিতিতে ইসলাম ও মালার বিয়ে দেয়া হয়। বিয়ের কাবিন উচ্চ আদালতে জমা দেন।
এ বিষয়ে গতকাল বিকালে জেলার আবু তালেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, উচ্চ আদালতের আদেশ হাতে পৌঁছানো মাত্রই ইসলামেক কারামুক্ত করা হবে। তার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখা হয়েছে। এছাড়া এমন একটি ঘটনাকে আরো স্মরণীয় করে রাখতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জামিনে মুক্ত হলে ইসলামকে নতুন পোশাকে বরের বেশে সাজানো হবে। মালাকে সাজানো হবে বউয়ের বেশে। তার পর কারাগারের সামনের উন্মুক্ত মঞ্চে তাদের বিবাহ-উত্তর সংবর্ধনা প্রদান করা হবে। এরপর ফুল দিয়ে সাজানো বিয়ের গাড়িতে করে বর-বউ ও তাদের একমাত্র পুত্রকে বাড়িতে পাঠানো হবে। এ ধরনের প্রস্তুতি জেল কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে।

সাবেক ২ মুখ্যমন্ত্রী গৃহবন্দি, ইন্টারনেট-ফোন বন্ধ, র‌্যালিতে নিষেধাজ্ঞা, কাশ্মিরে উত্তেজনা

কাশ্মিরে নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতার মধ্যে গৃহবন্দি করা হয়েছে জম্মু ও কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে। রোববার আরো গৃহবন্দি করা হয়েছে সাজাদ লোন’কে। এ তিনজনই জম্মু ও কাশ্মিরে সবচেয়ে সুপরিচিত রাজনীতিক। অনেক স্থানে মোবাইল ইন্টারনেট ও ল্যান্ডফোন সংযোগ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। জনসমাবেশ ও র‌্যালি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জম্মু-কাশ্মিরে নিরাপত্তা নিয়ে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে। সরকার ওই এলাকা থেকে অবিলম্বে পর্যটক ও হিন্দু উপাসকদের চলে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। এর ফলে জম্মু-কাশ্মিরে এক অনিশ্চিত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
সংবিধানের অধীনে রাজ্যের বিশেষ মর্যাদার যে পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, নিরাপত্তার নামে এমন ব্যবস্থা নেয়ায়, তা নিয়ে নানা রকম কথা শোনা যাচ্ছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন জি নিউজ, এনডিটিভি।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে রোববার দিনের শুরুতে মেহবুবা মুফতি, ওমর আবদুল্লাহ ও রাজ্যের সব রাজনৈতিক দলের নেতারা একটি বৈঠক করে প্রস্তাব গ্রহণ করেন। যদি জম্মু ও কাশ্মিরের মানুষের বিশেষ মর্যাদার পরিবর্তন করা হয় তাহলে এর বিরুদ্ধে সরকারের বিরুদ্ধে করুণ পরিণতির হুঁশিয়ারি দেয়া হয় এতে। অন্যদিকে দিল্লিতে শীর্ষ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ঘন্টাব্যাপী ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল, স্বরাষ্ট্র সচিব রাজিব গাউবা ও অন্য সিনিয়র নেতারা। স্থানীয় সময় সোমবার সকাল সাড়ে ৯টায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দিল্লির বাসভবনে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রীপরিষদের।

ওদিকে গৃহবন্দি অবস্থা থেকেই টুইট করেছেন ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতি। তারা টুইটার ব্যবহার করে কাশ্মিরের মানুষকে শান্ত ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদেরকে গৃহবন্দি করার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রোববার দিবাগত রাতে ওমর আবদুল্লাহ টুইট করেছেন। তাতে তিনি বলেছেন, আমরা জানি না আমাদের ভাগ্যে কি আছে। আমার মনে হচ্ছে আমাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। ওমর আবদুল্লাহ কাশ্মিরের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা। তিনি জনগণকে যেকোনো পরিস্থিতিতে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বলেছেন, তারা যেন কোনো অবস্থায়ই সহিংসতায় লিপ্ত না হন। তিনি টুইটে আরো বলেছেন, যারা রাজ্যের উত্তম স্বার্থ চায় না তারাই সহিংসতার আশ্রয় নেয়। ভারত বা জম্মু-কাশ্মির এমনটা চায় না। মাথা ঠা-া রাখুন। আল্লাহ আপনাদের সঙ্গে থাকবেন।
উল্লেখ্য, অমরনাথ যাত্রাকে সামনে রেখে কাশ্মিরে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে সরকার। সেখানে অবস্থানকারী পর্যটক ও হিন্দু উপাসকদের অবিলম্বে কাশ্মির ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ কাশ্মির ছাড়ছিলেন। সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার সেনা সদস্য। এমন অবস্থায় কারগিল, লাদাখ এবং জম্মুতে যারা বসবাস করছেন তাদের উদ্দেশে ওমর আবদুল্লাহ বলেছেন, যদিও তিনি জানেন না রাজ্যের ভাগ্যে কি ঘটতে চলেছে, তবে তিনি আশঙ্কা করতে পারছেন, ভাল কিছু দেখা যাচ্ছে না। তার ভাষায়, যখনই কাশ্মির ইস্যুতে আমি দৃষ্টি দিই তখনই আমাকে আরো কিছু শব্দ যোগ করতে হয়। সেটা হলো কারগিল, লাদাখ ও জম্মু। যা ঘটছে তাতে আপনারা অনেকেই হতাশ হবেন এটা আমি জানি। তবু আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। শান্ত থাকুন।
তিনি আরেক টুইটে বলেছেন, কাশ্মিরি জনগণের উদ্দেশে বলছি, আমরা জানি না আমাদের কি ঘটতে চলেছে। তবে আমি বিশ্বাস করি সর্বশক্তিমান আল্লাহ যা করেন তা সব সময়ই আমাদের ভালোর জন্য করেন। তা হয়তো এখন আমরা দেখতে পাবো না। কিন্তু তা নিয়ে অবশ্যই সন্দেহ পোষণ করা যাবে না। সবার মঙ্গল কামনা করছি। নিরাপদে থাকুন। সর্বোপরি শান্ত থাকুন।

অন্যদিকে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের গৃহবন্দি রাখার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রধান মেহবুবা মুফতি। তিনি অভিযোগ করেন রাজ্যের জনগণ ও তাদের কণ্ঠকে স্তব্ধ করে দেয়া হয়েছে। তিনি ভারতকে জেগে উঠার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, কতটা নিষ্ঠুর বিষয় এটা যে, আমাদের মতো নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, যারা শান্তির জন্য লড়াই করে, তাদেরকে গৃহবন্দি রাখা হয়েছে। কাশ্মিরের জনগণ ও তাদের কণ্ঠকে কিভাবে স্তব্ধ করে রাখা হচ্ছে তা বিশ্ব দেখছে। তিনি সব কাশ্মিরিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আমাদের অধিকার অর্জনের ক্ষেত্রে কোনো কিছুই আমাদেরকে বিচ্যুত করতে পারবে না।

অনির্দিষ্ট কারফিউয়ের খবরে কাশ্মিরে আতঙ্ক

থমথমে জম্মু-কাশ্মির। সোমবার থেকে সেখানে অনির্দিষ্টকালের কারফিউ জারি হতে পারে এমন রিপোর্টে চারদিকে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় অধিবাসীরা ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। জরুরি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহের জন্য দু’চারজনকে দেখা গেছে বাইরে। উপত্যকার স্পর্শকাতর এলাকা ও শ্রীনগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা যেমন সিভিল সেক্রেটারিয়েট, পুলিশ সদর দফতর, বিমান বন্দর ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। রোববার সারাদিন শ্রীনগরের জওয়াহারনগর, রাজবাগ, লাল চক ও করণনগর এলাকায় বেশির ভাগ দোকানপাট বন্ধ ছিল। কয়েকদিন পরেই ঈদুল আযহা হলেও মানুষের মধ্যে আনন্দ নেই। তাদেরকে ঘরে বন্দি অবস্থায় কাটাতে হচ্ছে।
পেট্রোল পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন। বেশির ভাগ পেট্রোল পাম্পে এরই মধ্যে জ্বালানি ফুরিয়ে গেছে। সামনে কি ভয়াবহতা অপেক্ষা করছে তা নিয়ে সবার মধ্যে উদ্বেগ, আতঙ্ক। এরই মধ্যে কাশ্মিরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে শীর্ষ স্থানীয় অন্যান্য রাজনীতিককে। অনেক স্থানে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট ও ল্যান্ডফোনের সংযোগ। ফলে আতঙ্ক আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মধ্যে পুলিশ ও আধা সামরিক বাহিনী কাশ্মির উপত্যকায় উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। প্রচলিত টেলিকম নেটওয়ার্ককে পাশ কাটিয়ে যোগাযোগের জন্য পুলিশ স্টেশনগুলোকে রোববার সরবরাহ করা হয়েছে স্যাটেলাইট ফোন। বিভিন্ন রিপোর্টে বলা হচ্ছে, অমরনাথ যাত্রার সময় পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গিরা সন্ত্রাসী হামলা চালাতে পারে বলে এমন সতর্কতা অবলম্বন করেছে ভারত সরকার। কিন্তু অন্য রিপোর্টে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মিরের জনগণের বিশেষ মর্যাদার পরিবর্তন করতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। এ বিষয়টি নিশ্চিত করতে সরকার আগেভাগে সেখানে উপযুক্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকধারীর গুলিতে রক্তাক্ত দিনগুলো

যুক্তরাষ্ট্রে গত ২৪ ঘণ্টায় দুটি হামলায় বন্দুকধারীর গুলিতে ২৯ জন নিহত হয়েছেন। শনিবার সকাল ১১টার দিকে টেক্সাসে ওয়ালমার্টের একটি স্টোরে বন্দুকধারীর গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত হন। ওদিকে এর ১৩ ঘণ্টা পর ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ডেটনে গোলাগুলিতে বন্দুকধারীসহ ৯ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। স্থানীয় সময় রাত ১টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
মাত্র ১৩ ঘণ্টারও কম ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রে দুই বন্দুক হামলায় ২৯ জন নিহত হয়েছেন। ছবি: এএফপি
বেশ কয়েক বছর ধরেই যুক্তরাষ্ট্র একের পর এক এ ধরনের হামলার সম্মুখীন হচ্ছে। সাধারণ নাগরিকেরা জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রতিনিয়ত সংকট অনুভব করেছেন। সময়ের পরিক্রমায় যুক্তরাষ্ট্রে সংঘটিত গত কয়েক বছরের উল্লেখযোগ্য হামলাগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক—
২০১২ সাল
কলোরাডো সিনেমা: জুলাই মাসে কলোরাডো শহরের অরোরা থিয়েটারে এক অনুষ্ঠানে তরুণ বন্দুকধারীর গুলিতে ১২ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় ৭০ জনেরও বেশি মানুষ সেদিন আহত হয়েছিল।
স্যান্ডি হুক: ডিসেম্বর মাসে স্যান্ডি হুক এলিমেন্টারি স্কুলে অ্যাডাম ল্যানজা নামের এক ২০ বছর বয়সী তরুণ ২০ জন শিশুসহ মোট ২৬ জনকে হত্যা করেন। এই হত্যাকাণ্ডের আগে তিনি নিজের মাকে হত্যা করেছিলেন। পরে ওই তরুণ আত্মহত্যা করেছিলেন।
২০১৫ সাল
ক্যালিফোর্নিয়া অফিস পার্টি: ডিসেম্বর মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার সানবার্নারডিনো শহরের একটি সামাজিক সেবা কেন্দ্রে বড়দিনের পার্টিতে এক উগ্রপন্থী মুসলিম দম্পতি হামলা চালান। এতে ১৪ জন নিহত ও ২২ জন আহত হয়। আক্রমণকারীরা পুলিশের হাতে মারা যায়।
২০১৬ সাল
ফ্লোরিডা ক্লাব: জুন মাসে অরল্যান্ডো শহরের একটি নৈশক্লাবে এক অস্ত্রধারী ঢুকে গোলাগুলি শুরু করেন। ওই ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৪৯। ইসলামপন্থী জঙ্গিদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল বলে দাবি করেছিলেন আক্রমণকারী। পরে পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যু হয়।
২০১৭ সালে ভেগাস কনসার্ট হামলায় ৫৮ জন নিহত হয়। ছবি: এএফপি
২০১৭ সাল
ভেগাস কনসার্ট: ৬৪ বছর বয়সী এক অবসরপ্রাপ্ত অ্যাকাউন্ট্যান্ট কনসার্টের ভিড়ে হামলা চালান। এতে ৫৮ জন নিহত হয়। এই হামলায় অন্তত ৫৫০ জন আহত হয়। এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বর্বর হত্যাকাণ্ড বলে মনে করা হয়।
টেক্সাস চার্চ: নভেম্বর মাসে টেক্সাসের একটি স্থানীয় চার্চে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ২৬ বছর বয়সী এক আততায়ীর হাতে ২৫ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। আক্রমণকারী পরে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। তবে নিজের গাড়িতেই তাঁর মৃতদেহ পাওয়া যায়। গুলির আঘাতের ধরন দেখে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধরে নেয় পুলিশ।
২০১৮ ফ্লোরিডা হাই স্কুলে সাবেক এ শিক্ষার্থী হামলা চালায়। এতে ওই স্কুলের ১৪ জন শিক্ষার্থী নিহত হয়। ছবি: এএফপি
২০১৮ সাল
ফ্লোরিডা হাইস্কুল: মার্জরি স্টোনম্যান ডগলাস হাইস্কুলের এক সাবেক শিক্ষার্থী ফেব্রুয়ারি মাসে স্কুলে গিয়ে ১৪ জন শিক্ষার্থী ও তিনজন কর্মচারীকে হত্যা করে। হামলার বেশ কিছু দিন আগে ওই শিক্ষার্থীকে নিয়মভঙ্গের কারণে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিল।
ক্যালিফোর্নিয়া বার: ২৮ বছর বয়সী এক মেরিন সদস্য ক্যালিফোর্নিয়ার একটি মিউজিক বারে হামলা চালান। এতে ১২ জন নিহত হয়। হামলাকারী কিছুদিন পর আত্মহত্যা করেন।
পিটসবার্গের উপাসনালয়: অক্টোবর মাসে পিটসবার্গে অবস্থিত ‘ট্রি অব লাইফ’ নামের একটি ইহুদি উপাসনালয়ে প্রার্থনা চলাকালে ৪৬ বছর বয়সী এক বন্দুকধারী হামলা চালান। এই হামলায় ১১ জন নিহত হন। ইহুদিবিদ্বেষী মনোভাব এই হত্যাকাণ্ডের মূল ইন্ধন বলে ধারণা করা হয়।
সান্তা ফে’র হাইস্কুল: ১৭ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্র একটি শটগান ও রিভলবার নিয়ে নিজের স্কুলেই হামলা চালায়। এতে আটজন শিক্ষার্থীসহ মোট ১২ জন নিহত হয়। অস্ত্রগুলো হত্যাকারীর বাবার নামে নিবন্ধন করা ছিল। হত্যাকারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।
২০১৯ সাল
ভার্জিনিয়া সমুদ্রসৈকত: ৪০ বছর বয়সী এক প্রকৌশলী ভার্জিনিয়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন একটি পৌর ভবনে ১২ জনকে হত্যা করেন। পরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে তিনি মারা যান।
>>>তথ্যসূত্র: ডন

কাশ্মীরের পরিস্থিতি আরও জটিল: ১৪৪ ধারা জারি, নেতারা গৃহবন্দী, বন্ধ স্কুল-কলেজ

ভারত শাসিত কাশ্মীরে পরিস্থিতি রবিবার রাতে আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

রাজধানী শ্রীনগর আর জম্মু অঞ্চলে ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সব স্কুল-কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকজন রাজনৈতিক নেতাকে গৃহবন্দী করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গোটা রাজ্যে মোবাইল টেলিফোন আর ইন্টারনেট সেবা আংশিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

সোমবার সকালে ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভা একটি বৈঠকে বসতে চলেছে, যেখানে কাশ্মীর নিয়েই মূলত আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

সংবাদ সংস্থা এ এন আই জানাচ্ছে, "৫ অগাস্ট মধ্যরাত থেকে শ্রীনগরে ১৪৪ ধারা অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে অনির্দিষ্টকালের জন্য। সাধারণ মানুষ চলাচল করতে পারবেন না। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।"

"শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে বিপদ তৈরি হয়েছে", সে কারণে জম্মু জেলাতেও সোমবার সকাল ৬টা থেকে ১৪৪ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে বলে বিবিসির সংবাদদাতারা জানাচ্ছেন।
শ্রীনগরে সেনা টহলের মধ্যেই সাধারণ মানুষের দৈনন্দির জীবনযাপন
রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা টুইট করে জানিয়েছেন যে তাকে সম্ভবত গৃহবন্দী করা হতে পারে। তিনি জানিয়েছেন অন্যান্য মূল ধারার রাজনৈতিক নেতাদের ক্ষেত্রেও সম্ভবত একই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

"সত্যিটা কী, তা জানার কোনও উপায় নেই। কিন্তু যদি এটাই সত্যি হয়, তাহলে যা আসতে চলেছে, সেটা কেটে গেলে নিশ্চয়ই দেখা হবে সবার সঙ্গে," টুইট করেছেন মি. আবদুল্লা।

ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলি জানাচ্ছে, শুধু মি. ওমর আবদুল্লা নয়, আরেক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এবং সাজ্জাদ লোনকেও গৃহবন্দী করা হচ্ছে।

মেহবুবা মুফতি টুইট করে জানিয়েছেন, "এই কঠিন পরিস্থিতিতে আমি আশ্বাস দিতে চাই, যাই হোক, আমরা সবাই একসঙ্গে আছি। আমাদের যেটা অধিকার, সেটা পাওয়ার লড়াই থেকে কোনও কিছুই আমাদের সরিয়ে আনতে পারবে না!"

মূলধারার সব দলগুলিই সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তারা বলেছেন কোনও পরিস্থিতিতেই যেন আইন নিজের হাতে না তুলে নেন জনগণ।
কাশ্মীরে পর্যটকদের ব্যাগ তল্লাশি করছে নিরাপত্তা রক্ষীরা
রাত দেড়টা নাগাদ শ্রীনগরে বিবিসি সংবাদদাতা মাজিত জাহাঙ্গীর নিশ্চিত করেছেন যে ওমর আবদুল্লা, মেহবুবা মুফতি আর সাজ্জাদ লোনকে গৃহবন্দী করা হয়েছে।

স্থানীয় সাংবাদিকরা জানাচ্ছেন, এক অভূতপূর্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থায় মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা শ্রীনগর শহরকে। শহর ছাড়া গ্রামীণ এলাকাতেও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জায়গায় জায়গায় পুলিশ চৌকি তৈরি করা হয়েছে।

ভারত শাসিত জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের সাংবিধানিক রক্ষাকবচ দেয় যেই ৩৫এ আর ৩৭০ ধারা, সে দুটি সরিয়ে নেওয়া হতে পারে, এই নিয়ে আশঙ্কা আর গুজব ছড়ানোর পরেই রাজ্যের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলি প্রথমে রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের সঙ্গে দেখা করে। তারপরে ওই দলগুলি রবিবার একটি সর্বদলীয় বৈঠকেও মিলিত হয়েছিল।

ওই বৈঠকে যে প্রস্তাব পাশ করা হয় সে ব্যাপারে সাংবাদিকদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আবদুল্লা বলেন, "ধারা ৩৫এ আর ৩৭০ বা জম্মু-কাশ্মীরের স্বতন্ত্রতা বজায় রাখে অন্য যেসব সাংবিধানিক রক্ষাকবচ আছে, সেগুলি বজায় রাখতে সব দল একসঙ্গে কাজ করবে।"

গত কয়েকদিন ধরেই ভারত শাসিত কাশ্মীরে বাড়তি ২৮ হাজার কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা রক্ষী পাঠানোর সিদ্ধান্ত, হিন্দুদের পবিত্র অমরনাথ যাত্রা বন্ধ করে ওই রাজ্য থেকে সব তীর্থযাত্রী আর পর্যটকদের রাজ্য ছেড়ে দ্রুত চলে যাওয়ার পরামর্শ - এসবের পরে সেখানে ব্যাপক গুঞ্জন চলছে।
দলে দলে কাশ্মীর ছাড়ছেন পর্যটকরা
ভারত শাসিত কাশ্মীরের প্রশাসন আর ভারতীয় সেনাবাহিনী বলছে, অমরনাথ যাত্রাপথ থেকে পাকিস্তানে তৈরি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যও বলছে যে সন্ত্রাসী হামলা চলতে পারে অমরনাথ যাত্রার ওপরে।

এরপরেই নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে তীর্থযাত্রী আর পর্যটকদের রাজ্য ছাড়ার পরামর্শ দেয় প্রশাসন।

তারপর থেকেই নানা ধরণের গুজব আর আশঙ্কা ছড়াচ্ছে মানুষের মধ্যে। কেউ প্রশ্ন করছেন জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে তিনভাগে ভাগ করে কাশ্মীর আর লাদাখকে কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল হিসাবে ঘোষণা করা হবে কী না, বা জম্মুকে পৃথক রাজ্য করা হবে কী না!

তীর্থযাত্রী আর পর্যটকদের রাজ্য ছাড়ার পরামর্শ দেওয়ার পর থেকেই সাধারণ মানুষ পেট্রল পাম্প, এ টি এম আর রেশন দোকানগুলিতে ভিড় করেছিলেন রসদ যোগাড় করে রাখার জন্য।

সোমবার সকালে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হতে চলেছে, যেখানে কাশ্মীর নিয়েই আলোচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

হট প্যান্ট পরে ঝড় তুললেন জয়া

সৌন্দর্য যার কাছে কবিতার মতো তিনি জয়া আহসান। বয়সকে ছাপিয়ে তিনি দিন দিন নিজেকে আকর্ষণীয় করে তুলছেন। শরীর ও সৌন্দর্য নিয়ে তার নিমগ্ন চর্চাই এর মূল রহস্য।

জয়ার সমসাময়িক অভিনেত্রীদের নব্বই ভাগই অভিনয়ে নিয়মিত নন। আর দশটা বাঙালি নারীর মতো বয়সের কাছে হার মেনেছেন তারা। থিতু হয়েছেন সংসারে। কালেভদ্রে তারা অভিনয়ে আসেন বোন-ভাবীর চরিত্রে।

তবে জয়া এখনো অনবদ্য। তাকে এখনো দেখা যায় সিনেমার মূল চরিত্রে। অভিনয় গুণ তো তার রয়েছেই, সৌন্দর্যেও তিনি বশ করে চলেছেন দুই বাংলার দর্শকদের। জয়া আহসান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বেশ জনপ্রিয়।

নিয়মিতই তিনি ফেসবুক, ইনস্ট্রাগ্রামে পোস্ট করেন নানা ছবি ও স্ট্যাটাস। বিভিন্ন সতর্কতামূলক কাজেও তিনি অংশ নেন সোশ্যাল মিডিয়াতে। তবে বেশিরভাগ সময় ছবি পোস্ট করেই আলোচিত হন তিনি।

তেমনি সম্প্রতি একটি ছবি দিয়ে সবার নজর কেড়েছেন জয়া। সেখানে অভিনেত্রীকে দেখা গেছে হাফ প্যান্ট পরনে।

অফ হোয়াইট হাফ প্যান্ট ও সাদা শার্টে ফটোশুটের ছবিটি দিয়ে তিনি চমকে দিলেন সকলকে। জয়াকে বেশিরভাগ শাড়িতেই দেখা যায়। ওয়েস্টার্ন পোশাকের জয়াও দৃষ্টিনন্দন। তবে শর্ট প্যান্ট পরা জয়া এবার নিজের আগের চেনা রূপটাকে ভেঙে দিতে চাইলেন যেন।

এই ছবিটি এখন বহুল চর্চিত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। এখানে সাধারণ ভক্তদের পাশাপাশি অনেক অভিনেত্রীরাও জয়ার রূপ ও লুকের প্রশংসা করেছেন।

এদিকে টলিউডে একের পর এক ছবি করে চলেছেন জয়া। সর্বশেষ শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘কণ্ঠ’ ছবিতে একজন জনপ্রিয় ডাক্তারের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন তিনি। শিগগিরই তাকে দেখা যাবে আরও কিছু চমৎকার গল্পের ছবির চমক জাগানিয়া চরিত্রে।

এরশাদ শিকদার-নয়ন বন্ড যেন আর ফিরে না আসে! by মোঃ সদরুল কাদির

অপরাধ করার পর মুচলেকা বা জামিনে মুক্ত করে অপরাধীদের নতুন করে সুযোগ করে দেয়া আমাদের ঐতিহ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধীরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে লিয়াজু রেখে বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে অনেক বড় মাপের অপরাধী খুব সহজেই ছাড়া বা জামিন পায়। যেখানে ১৫৪ ধারায় অভিযুক্ত সন্দেহভাজন অপরাধীরাও সুবিধা না পেয়ে জেলহাজতে চলে যায়।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে যাওয়ার পর অপরাধীর বিচার শুরু হয়ে থাকে। কিন্তু যখন অপরাধী অপরাধ করে প্রকাশ্য দিবালোকে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় তখন সে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রাজনৈতিক নেতা বা জনপ্রতিনিধিদের এজেন্ট বা ডান হাত বলে বিবেচিত হয়। যার ফলশ্রুতিতে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া কঠিন হয়।

এইসব অপরাধীরা সমাজকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেদের অপকর্ম বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে। কারণ তারা জানে কোন সমস্যা হলে বড় ভাই-মামা-চাচা-খালু নামক জনপ্রতিনিধিরা তাদেরকে সাদা কাগজে মুচলেকা বা জামিনকারীর স্বাক্ষর দিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে যাবে।

বিশ্বজিতের পরিবার কি বিচার পেয়েছে? রিফাতের পরিবার কি দেখে যেতে পারবে তাদের সন্তান হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের শাস্তি? সাগর-রুনি, তনুর মত একসময় সবাই ছবি হয়ে যাবে। হয়তো মুড়ির ঠোঙা না হলে পেয়ারা মাখানো কাগজের টুকরোতে তাদের সন্ধান মিলবে।

তাই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আমাদের আহ্বান অপরাধীদের কোন রকম ছাড় না দিয়ে সাথে সাথেই বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করা। অনেকেই ক্রসফায়ারের বিরোধীতা করেন। আপনারাই বলেন ক্রসফায়ার এইসব ক্ষেত্রে কতটুকু জরুরী? ক্রসফায়ারের ভয়ে অনেক অপরাধী আছে যারা আজ‌ও দেশে ফিরে আসে নি।

দেশে আর কোন এরশাদ শিকদার-নয়ন বন্ড’রা যেন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সেজন্য আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। আপনার আশেপাশে কোনো অস্বাভাবিক কিছু দেখা মাত্রই আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে খবর দিন। তাতে দেশ ও দশের কল্যাণ হবে।

>>>লেখক : মোঃ সদরুল কাদির (সাংবাদিক ও কলামিস্ট)

স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিয়ন্ত্রণে বলার পরই রেকর্ড: ডেঙ্গু নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১৮৭০ জন হাসপাতালে ভর্তি by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর এমন বক্তব্য দেয়ার পরের দিনই হাসপাতালে রোগী ভর্তির নতুন রেকর্ড হয়েছে। বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। শনিবার স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানিয়েছিলেন, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে। তবে গতকাল সর্বোচ্চ রোগী ভর্তি হয়েছেন হাসপাতালে। ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ১৮৭০ রোগী। এ হিসাবে ঘণ্টায় ভর্তি হচ্ছেন প্রায় ৭৮ জন। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই এক হাজার ৫৩ জন রোগী এবং  ঢাকার বাইরে ৮১৭ জন ভর্তি হয়েছেন বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
গতকাল রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা ও চাঁদপুরে মারা গেছেন আরও তিন জন। বেসরকারি হিসাবে এ পর্যন্ত ৬০ জনেরও বেশি মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। সরকারি হিসেবে যদিও মৃতের সংখ্যা ১৮ বলা হচ্ছে। গতকাল রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে অতিরিক্ত আইজিপি শাহাবুদ্দীন কোরেশীর সহধর্মিণী সৈয়দা আক্তার (৫৪) মারা গেছেন। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) সোহেল রানা। জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালে মারা গেছেন শান্তা নামের আরেক তরুণী।

এদিকে অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুসারে, আগস্ট মাসের চার দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৬ হাজার ৯৬৭ জন। গত জুলাই মাসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হন ১৫ হাজার ৬৫০ জন। এই সংখ্যা জুন মাসে ছিল এক হাজার ৮৬৩ জন। মে মাসে ছিল ১৯৩ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৩৮৮ জন। বর্তমানে ভর্তি আছেন ৭ হাজার ৩৯৮ জন। ঢাকার বাইরে জেলা-উপজেলায় প্রতিদিনই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসছেন ডেঙ্গু রোগীরা। রাজধানীর বাইরের ৬৪ জেলা থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ৫ হাজার ৭২৩ জন। ৩রা আগস্ট পর্যন্ত ছিল ৪ হাজার ৯০৫ জন। তার আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ১৯০ জন। ১লা আগস্ট এই সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৪৬৪ জন। ঢাকার বাইরে চিকিৎসাধীন আছেন ২ হাজার ৪২৯ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ২৯৪ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ৬৪টি জেলায় ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। অধিদপ্তর সূত্র বলছে, ডেঙ্গু জ্বরের চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৭ হাজার ৩৭৭ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭ হাজার ৩৯৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান মতে, আগস্ট মাসে চরদিনে ৬ হাজার ৯৬৭ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চলতি মাসে গড়ে এক হাজার ৭৪১ জনের উপরে। গত জুলাই মাসেই আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ১৫ হাজার ৬৪৮ জন। গড়ে প্রতিদিন ৫০৪ জনের উপরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। জুন মাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এক হাজার ৮৬৩ জন। আর মে মাসে এই সংখ্যা ছিল ১৯৩ জন। রাজধানীর বাইরে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হিসাবে ঢাকা জেলা থেকে ৩৮৯ জন, গাজীপুর থেকে ২০৪ জন, মুন্সীগঞ্জ ৫৩ জন, কিশোরগঞ্জ ২১৫ জন, নারায়ণগঞ্জ ৮৬ জন, গোপালগঞ্জ ৩৮ জন, মাদারীপুর ৬১ জন, মানিকগঞ্জ ১৩৮ জন, নরসিংদী ৭৮ জন, রাজবাড়ী থেকে ৭১ জন, শরীয়তপুর ৫২ জন, টাঙ্গাইল ১৪০ জন, ফরিদপুর ১৭ জন, ময়মনসিংহ ৩৯৭ জন, জামালপুর ৮৫ জন, শেরপুর ২৭ জন, নেত্রকোনায় ১৪ জন, চট্টগ্রাম থেকে ৩৫৪ জন, ফেনীতে ১৭১ জন, কুমিল্লা ১২২ জন, চাঁদপুর থেকে ১৮৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬২ জন, নোয়াখালীতে ১১৩ জন, কক্সবাজার ৪৪ জন, লক্ষ্মীপুর ৭২ জন, খাগড়াছড়ি ২০ জন, রাঙ্গামাটিতে ৭ জন, বান্দরবন একজন, খুলনায় ২৫৯ জন, কুষ্টিয়া থেকে ১২৬ জন, মাগুরা ৩২ জন, নড়াইল ২৮ জন, যশোর ১৮৫ জন, ঝিনাইদহ থেকে ৬০ জন, বাগেরহাট ১৫ জন, সাতক্ষীরা ৫৪ জন, চুয়াডাঙ্গা থেকে ২৯ জন, মেহেরপুর ১৭ জন, রাজশাহী থেকে ১৪৮ জন, বগুড়া ২২৩ জন, পাবনা ৬৭ জন, সিরাজগঞ্জ ১১৯ জন, নওগাঁয় ৩৯ জন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ৩৮ জন, নাটোর ১৬ জন, জয়পুরহাট ১১ জন, রংপুর ১৬৫ জন, লালমনিরহাট ৯ জন, কুড়িগ্রাম ২৯ জন, গাইবান্ধায় ২৩ জন, নীলফামারী ২৯ জন, দিনাজপুরে ৬০ জন, পঞ্চগড় ৩ জন, ঠাকুরগাঁও ৩৩ জন, বরিশাল থেকে ২৯৮ জন, পটুয়াখালী ৫৩ জন, ভোলা ৩১ জন, পিরোজপুর ২১ জন, ঝালকাঠি ১১ জন, বরগুনা ৫০ জন, সিলেট থেকে ১৭১ জন, সুনামগঞ্জ ১১ জন, হবিগঞ্জ ২২ জন, মৌলভীবাজার ৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬৯৭ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৪২৮জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১৪৮ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৩৬৯জন, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে ১৭৪ জন, বারডেম হাসপাতালে ৬৩ জন, বিএসএমএমইউতে ১৬৩ জন, পুলিশ হাসপাতাল রাজারবাগ ১৪৫ জন, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে ৩৮০ জন, বিজিবি হাসপাতালে ২৮ জন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ১৮৩ জন, কুর্মিটোলায় ৩১৯ জন,রাজধানীর ধানমন্ডি বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১৬৪ জন, ইবনে সিনা হাসপাতালে ৮২ জন, স্কয়ার হাসপাতালে ৭৫ জন, কমফোর্ট নার্সিংয়ে ১০ জন, শমরিতায় ৫২ জন, ল্যাব এইডে ৫৫ জন, সেন্ট্রাল হাসপাতালে ১৩০ জন, হাই কেয়ার হাসপাতালে ৪৮ জন, হেলথ এন্ড হোপে ২৬ জন, গ্রীনলাইফে ৯০ জন, ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কাকরাইলে ১১০ জন, ইউনাইটেড হাসপাতালে ৯৮ জন, খিদমা হাসপাতালে ২৫ জন, শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ৫৮ জন, সিরাজুল ইসলাম মেডিকেলে ১০২ জন, এ্যাপোলো হাসপাতালে ৮৯ জন, আদ-দ্বীন হাসপাতালে ১২৭ জন, সালাউদ্দিন হাসপাতালে ৫৪ জন, পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৬২ জন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ৯৩ জন, বিআরবি হাসপাতালে ৩৩ জন, আজগর আলীতে ৮০ জন, বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৩৯ জন, উত্তরা আধুনিকে ৮৮ জন, আনোয়ার খান মর্ডানে ৮২ জন ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

তিস্তার ব্যাপারে জয়শঙ্কর মোমেনকে যা বলেছেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন জানিয়েছেন, ব্যাংককে ভারতের বিদেশমন্ত্রী  ড. এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকে তিনি প্রায় চূড়ান্ত হওয়ার পরও ঝুলে থাকা তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে মোদি সরকারের নয়া বিদেশমন্ত্রী বলেছেন, হ্যাঁ, এটি চূড়ান্ত হয়ে আছে ঠিক, কিন্তু চুক্তি সইয়ের চূড়ান্ত তারিখ এখনই দেয়া যাচ্ছে না। কারণ, তিস্তা কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন না। সীমান্ত লাগোয়া ভারতের আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাংলাদেশের কাছে জমি চাওয়ার চাঞ্চল্যকর খবরের বিষয়ে মন্ত্রী মোমেন কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। বলেন, আমরা এখনও এ বিষয়ে কোনো চিঠিপত্র পাইনি। এ বিষয়ে আমার কোনো জ্ঞান নেই। গত সপ্তাহে ব্যাংককে একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিতে গিয়েছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, কানাডা, মিয়ানমারসহ বিভিন্ন দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে তার আনুষ্ঠানিক বৈঠক-মতবিনিময় হয়েছে।
ঢাকায় ফেরার পর গতকাল প্রথম কর্মদিবসে অনির্ধারিতভাবে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। সেখানে নানা বিষয়ে জানতে চান সাংবাদিকরা।

প্রশ্ন আসে অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিল্লি সফর, চলতি মাসে ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের ঢাকা সফর, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন এবং ১১ বছরেও বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের ফেরত আনতে না পারা রাজনৈতিক না কূটনৈতিক ব্যর্থতা? সেই বিতর্ক নিয়েও। আগরতলা বিমানবন্দর সম্প্রসারণে বাংলাদেশের কাছে জমি চাওয়া সংক্রান্ত সংবাদের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন সাংবাদিকরা। জবাবে মন্ত্রী নিজে এ বিষয়ে জানেন না দাবি করে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে যাচ্ছেন। তার সঙ্গে এ নিয়ে কথা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন দিল্লি সফরে তিস্তা চুক্তির কোনো সুখবর মিলবে কি-না? এমন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, মনে হয় না। তবে অভিন্ন ৫৪টি নদী নিয়ে আলোচনা হবে। মন্ত্রী বলেন, প্রতিবেশী দেশ হলে অনেক ইস্যু থাকে। অনেক সমস্যাও থাকে। কিন্তু ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত উষ্ণ, তাই অনেক সমস্যা হলেও সমাধান হয়ে যায়। আলোচনায় সমাধান আসে। মন্ত্রী নিজে থেকেই দাবি করেন- তার আলোচনার পর সীমান্তে হত্যা কমে এসেছে। তার ভাষায় ‘এটা গুড নিউজ’। চলতি মাসেই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হবে এমনটি জানিয়ে ড. মোমেন বলেন, প্রত্যাবাসনের জন্য আমরা প্রস্তুত। মিয়ানমারও এটা চায়। ভারতের পরামর্শ সংখ্যায় কম হলেও এ মাসেই যেন আমরা রোহিঙ্গাদের ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করি। দিল্লি জানিয়েছে, রাখাইনে তারা আড়াই শ’ বাড়ি তৈরি করে দিয়েছে। সেখানে হাজার খানেক লোক থাকতে পারবে। চীন ১ হাজার বাড়ি তৈরি করে দিচ্ছে। সেখানেও তাদের থাকতে কোনো অসুবিধা হবে না।

নাম বদল করে থাকতে পারে বঙ্গবন্ধুর খুনিরা: এদিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃত খুনিদের ফেরত আনার বিষয়ে ১১ বছরেও তাৎপর্যপূর্ণ অগ্রগতি নেই, কারও কারও অবস্থানও অস্পষ্ট? কেন এমনটা হচ্ছে? জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোমেন বলেন, সবচেয়ে বড় কথা সরকার একটি স্বচ্ছ বিচার করতে পেরেছে। যেখানে আসামিরাও সমান আইনি সুযোগ পেয়েছে। তিনি দাবি করেন, এমন বিচার ইউরোপিয়ানরাও করতে পারেনি। এটাকে সরকারের বড় সাফল্য হিসাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার চায় দু-একজনকে আগামী বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মশর্তবার্ষিকীর আগেই ফেরত এনে রায় কার্যকর করতে। এটা সরকারের ইচ্ছা, সেভাবেই চেষ্টা চলছে। সরকার আইনি প্রক্রিয়ায়ই তাদের ফেরত আনতে চায় জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আমরা ইসরাইলিদের মতো রাস্তা থেকে কাউকে ধরে, কিডনাপ করে আনতে চাই না। তাই আমরা ওই সব দেশ, যেখানে খুনিরা রয়েছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করছি।

তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের ৪ মাসের মধ্যে তিনি ওয়াশিংটনে গেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গে তার আমন্ত্রণে বৈঠক করেছেন। সেই বৈঠকে তিনি আইনের শাসন এবং গুড গভর্নেন্সের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরাতে মার্কিন সরকারের সহায়তা চেয়েছেন। পম্পেও বিষয়টি দেখবেন বলে তাকে কথা দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, পরশু ব্যাংককে মাইক পম্পেও’র সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে। তিনি নিজে থেকেই বলেছেন, দয়া করে আমাকে রাশেদ চৌধুরীর বিষয়ে কিছু জিজ্ঞাসা করো না। এতেই বুঝা যায় তার অঙ্গীকারের কথা তার স্মরণে আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ব্যাংককে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গেও তার বৈঠক হয়েছে। সেখানেও তিনি প্রায় অভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

মন্ত্রীর দাবি- খুনি নূর চৌধুরীকে আশ্রয় প্রসঙ্গে কানাডার মন্ত্রীকে বলেছেন, তোমার দেশ শয়তানের দেশ হয়ে যাচ্ছে, মার্ডারারের দেশ হয়ে যাচ্ছে। জবাবে কানাডার মন্ত্রী তার দেশের আইনি বাধার বিষয়টি তুলে ধরে বলেছেন, দেশে ফেরার পর এ নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি। তবে বিষয়টি যে তার এখতিয়ারে নেই এমনকি এতে প্রশাসনের কোনো কর্তৃত্ব নেই সেটি জানিয়েছেন। প্রশ্ন আসে, কেন সরকার এই যুগেও খুনিদের অবস্থান চিহ্নিত করতে পারছে না? এখন তো ইন্টারপোলেরও সহায়তা নেয়া যায়। জবাবে মন্ত্রী বলেন, খুনিরা ৭৫ পরবর্তী সরকারের কাছ থেকে কেবল অর্থই পায়নি তারা দূতাবাসে চাকরিসহ নানা সুবিধাও পেয়েছে। সে ক্ষেত্রে তারা নামও পরিবর্তন করে থাকতে পারে। তাদের হাতে নানা রকম পাসপোর্টও থাকার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে তাদের অবস্থান শনাক্ত করা কঠিন। তারপরও বারবার মন্ত্রী বলেন, আমাদের ইচ্ছা আগামী বছরের মধ্যে দুজনকে ফেরত আনার। আমরা সেই চেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। আশা রাখি সফল হবো।

২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে পাঁচ জনের মৃত্যু

অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রী সৈয়দা আক্তার
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপির স্ত্রী, ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের এক ছাত্রী, ঢাকা মেডিক্যালে নরসিংদীর এক কলেজছাত্রী, চাঁদপুরের মতলবের নারী ইউপি সদস্য ও মাগুরাতে এক গৃহবধূ মারা গেছেন। আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক ও জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি (ফিন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিভাগ) শাহাবুদ্দিন কোরেশীর স্ত্রী মারা গেছেন। তার নাম সৈয়দা আক্তার (৫৫)। রবিবার (৪ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পুলিশ সদর দফতরের এআইজি (মিডিয়া) মো. সোহেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

সৈয়দা আক্তার শনিবার (৩ আগস্ট) স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রাজারবাগ পুলিশ লাইনস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, সৈয়দা আক্তারের গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায়। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে সন্তান রয়েছে। ঢাকায় পরিবারের সঙ্গে রাজারবাগের পুলিশ অফিসার্স বাসভবন মেঘনায় বাস করতেন।

ইডেন মহিলা কলেজছাত্রীর মৃত্যু

জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডা. সামিউল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ঢাকার ইডেন মহিলা কলেজের ছাত্রী শান্তা আক্তারের (২০) মৃত্যু হয়। রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে তিনি মারা যান। শান্তা আমাদের হাসপাতালে এসেছিল শনিবার বিকালে। তিনি ২২ ঘণ্টা আমাদের হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। শক সিনড্রোমে তার মৃত্যু হয়।’ শান্তাদের বাড়ি গাজীপুরে।

তিনি ইডেন কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। শান্তা পরিবারের সাথে ঢাকার হাজারীবাগ এলাকায় থাকতেন বলে তার প্রাইভেট শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন।

শান্তার বাবা ও ভাইও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বলে মামুন জানিয়েছেন।

ঢামেকে কলেজছাত্রীর মৃত্যু

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) ডেঙ্গু জ্বরে দিপালী আকতার (২৩) নামের  একজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৪ আগস্ট) বিকাল ৩টা ১৮ মিনিটে ঢামেকের হাই ডিপেনডেন্সি ইউনিটে (এইচডিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ঢামেকে ডেঙ্গু জ্বরে ১২ জনের মৃত্যু হলো।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তার বাড়ি নরসিংদী জেলার মনহরদী উপজেলায়। তিনি পাইজ গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে। চার বোন, দুই ভাইয়ের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। বর্তমানে স্বামীর সঙ্গে রামপুরার বনশ্রীতে থাকতেন। দিপালী অনার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামীর নাম মো. কামাল হোসেন।

ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন)  ডা. নাছির উদ্দীন বলেন, ‘দিপালী ভর্তি হওয়ার সময়ই শকে ছিলেন। তাকে ১ আগস্ট ঢামেকে ভর্তি করা হয়।’

চাঁদপুরে নারী ইউপি সদস্যের মৃত্যু

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার খাদেরগাঁও ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য (মেম্বার) লাভলী বেগম (৪০)। শনিবার (৩ আগস্ট) রাতে ঢাকার শমরিতা হাসপাতালে তিনি মারা যান।

লাভলীর স্বামী আবুল বাশার জানান, তারা সম্প্রতি ঢাকায় একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখান থেকে চাঁদুপরে ফেরার পর বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) ২টার দিকে তার জ্বর আসে। তাকে প্রথমে মতলব হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চাঁদপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। তারা শহরের গ্রিন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঁচটি পরীক্ষা করতে বলেন। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়ার পর তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এখানে তিন দিন চিকিৎসা এবং পরীক্ষা চলে। পরে অবস্থা বেগতিক দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেন। শনিবার (৩ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে শমরিতা হাসপাতালে ভর্তি করার ২ ঘণ্টা পর আইসিইউতে তিনি মারা যান। মরদেহ মতলবের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়েছে। এরপর নাগদা বাজার বালুর মাঠে জানাজা শেষে তাকে পরিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

তিনি খাদের গাঁও ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত সদস্য। তার তিন মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে।

খাদেরগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান সৈয়দ মঞ্জুর হোসেন বলেন, ‘সম্ভবত তিনি ২৫ জুলাই তার এক নিকটাত্মীয়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে ঢাকায় গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি প্রথমে জ্বর অনুভব করেন। পরে তিনি মতলব এসে গ্রাম্য ডাক্তারের কাছ থেকে কিছু চিকিৎসা নেন। এরপরও তার জ্বর অপরিবর্তিত থাকায় তিনি মতলব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডেঙ্গু আশঙ্কা করে তাকে চাঁদপুর সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন। আমরা তার মৃত্যুতে শোকাহত।’

এ প্রসঙ্গে মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা খবর পেয়ে মেম্বারের বাড়িতে গিয়েছি। আমরা জেনেছি, তিনি ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে মশার কামড়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। পরে ঢাকায়ই তার মৃত্যু হয়েছে। ইতোমধ্যে মতলবে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম করেছি। মানুষজনকে সচেতন করছি। এছাড়া ঢাকায় কারও বাড়ি না থাকলে আপাতত সেখানে কেউ যেন না যায়, সেই পরামর্শ দিচ্ছি।’

মাগুরার গৃহবধূর ঢাকায় মৃত্যু

ডেঙ্গু জ্বরে অক্রান্ত মাগুরার জয়া সাহা নামে এক গৃহবধূ ঢাকায় মারা গেছেন। রবিবার (৪ আগস্ট) ভোরে তিনি মারা যান। তার বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার বেরোইল পলিতা ইউনিয়নে।

মাগুরার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ কুমার সাহা জানান, ‘‘ওই নারীর মৃত্যুর খবর পেয়ে সেখানে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধি পাঠানো হয়। তারা আমাকে জানিয়েছেন, ‘ঢাকার অ্যাপোলো হাসপাতালে তিনি মারা গেছেন।’ ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার পর ওই নারীকে মাগুরা হাসপাতালে আনা হয়নি। ’’ জয়া সাহা পুটিয়া গ্রামের চঞ্চল সাহার স্ত্রী।

জয়ার পরিবার জানায়, তার জ্বর হলে শনিবার (৩ আগস্ট) সকালে ফরিদপুরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার ভোর সাড়ে তিনটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

উল্লেখ্য, সরকারি হিসাবে শনিবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১৮ জন। এরমধ্যে এপ্রিলে দুই জন, জুনে তিন জন এবং জুলাইয়ে মারা যান ১৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম জানায়, এ বছরের জানুয়ারি থেকে শনিবার (৩ আগস্ট) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২২ হাজার ৯১৯ জন। এরমধ্যে এ মাসের প্রথম তিন দিনেই আক্রান্ত হন পাঁচ হাজার ৮৫ জন।

পর্যটন শিল্পকে চাঙ্গা করতে ফ্রি ভিসা দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা

শ্রীলঙ্কা
পর্যটন শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে বিশ্বের প্রায় অর্ধশত দেশের ভ্রমণপ্রেমীদের এক মাসের ফ্রি ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা। দেশটির সরকার  ৩১ জুলাই বুধবার ঘোষণাটি দিয়েছে। ১ আগস্ট থেকে শুরু হয়ে এই সুবিধা কার্যকর থাকবে আগামী ছয় মাস।

শ্রীলঙ্কার পর্যটনমন্ত্রী জন অমরাতুঙ্গা জানান, পর্যটক কিংবা অন্য যেকোনও কাজে আসা ব্যক্তিরা ফ্রি ভিসা অন অ্যারাইভাল পাবেন অথবা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘সরকারের আশা, এ উদ্যোগের ফলে পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। যদি তা না হয় তাহলে আমরা সুবিধাটি তুলে নেবো।’

ফ্রি ভিসা অন অ্যারাইভাল সুবিধা দেওয়ার কারণে শ্রীলঙ্কা সরকার ৪৩০ কোটি রুপি রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হবে। সাধারণত একমাসের ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য ৩৫ মার্কিন ডলার নিয়ে থাকে দেশটি। দক্ষিণ এশিয়ার ভ্রমণপ্রেমীরা অবশ্য ২০ মার্কিন ডলার দিয়ে শ্রীলঙ্কার ট্যুরিস্ট ভিসা পেয়ে থাকেন।

গত এপ্রিলে ইস্টার সানডেতে শ্রীলঙ্কার তিনটি গির্জা ও তিনটি হোটেলে সাত আত্মঘাতীর বোমা হামলার ২৬৩ জনের প্রাণহানির ঘটনায় শ্রীলঙ্কার পর্যটনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এর মধ্যে ছিলেন চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের ৪৫ জন।

ভয়াবহ হামলার পর অনেক পর্যটক আগেভাগে শ্রীলঙ্কা ছেড়েছেন। অনেকে তাদের হোটেলসহ অন্যান্য বুকিং বাতিল করেন। এ কারণে পর্যটন শিল্পে নেমে আসে স্থবিরতা। পর্যটনই দ্বীপরাষ্ট্রটির তৃতীয়-বৃহত্তম আয়ের উৎস। শ্রীলঙ্কার জিডিপির ৪ দশমিক ৯ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। দেশটির প্রায় পাঁচ লাখ বাসিন্দা সরাসরি ও ২০ লাখ মানুষ পরোক্ষভাবে পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত।

সরকারি তথ্যানুযায়ী, এ বছরের জুলাইয়ে গত বছরের তুলনায় পর্যটক সংখ্যা কমেছে ৪৫ শতাংশ। যদিও জুন মাসে ৬৩ হাজার ৭২ জন বিদেশি বেড়াতে এলেও জুলাইয়ে তা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার। ধারণা করা হচ্ছে, এ বছর সরকার পর্যটন থেকে ৫০০ কোটি মার্কিন ডলার প্রত্যাশা করলেও ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার রাজস্ব পাওয়া যাবে।

পর্যটনের বিকাশে শ্রীলঙ্কা সরকার আরও কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ছয় মাসের জন্য এয়ারলাইন গ্রাউন্ড চার্জ, উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম ও উড্ডয়ন (ডিপারচার) ফি কমিয়ে আনা। এছাড়া পর্যটন ব্যবসার ঋণের কিস্তি পরিশোধ একবছরের জন্য স্থগিত রাখার পাশাপাশি নতুন ঋণে সুদের হার হ্রাস করা হয়েছে। হোটেলগুলো ৬০ শতাংশ ছাড়ে আকর্ষণীয় প্যাকেজ দিচ্ছে।

শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে আশ্বস্ত করেছেন, তাদের দেশ এখন পর্যটকদের জন্য নিরাপদ। শ্রীলঙ্কায় এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়েছে। তিনি বলেন, ভ্রমণের বেলায় শ্রীলঙ্কাকে মানুষের জন্য নিরাপদ হিসেবে তুলে ধরছি আমরা। একইসঙ্গে তাদের জন্য বিশেষ ছাড় রাখা হয়েছে যা অনেকদিন মেলেনি।’

২০১৮ সালে ২৩ লাখ পর্যটক শ্রীলঙ্কায় বেড়িয়েছেন। তাদের জন্য প্রতি সপ্তাহে ২৯টি বিমান সংস্থা ৩০০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু ভয়াবহ বোমা হামলার পর সপ্তাহে ৪১টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছিল। সব মিলিয়ে আট হাজার যাত্রীর আসন শূন্য দেখা গেছে।

>>>সূত্র: এবিসি নিউজ

ডেঙ্গু জ্বর: হাসপাতালে রোগীর উপচে পড়া ভীড়, আক্রান্ত হওয়ার আতঙ্ক নিয়ে কাজ করছেন ডাক্তার-নার্সরা

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কর্মরত এক নার্স
বাংলাদেশে ডেঙ্গু রোগ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ার পর শতশত মানুষ এখন ছুটছেন হাসপাতালগুলোতে - কেউ রোগী হিসেবে ভর্তি হতে, কেউবা ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে।
তবে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবার ভয় এখন শুধু সাধারণ মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, এ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে হাসপাতালের ডাক্তার আর নার্সদের মধ্যেও।
পরিস্থিতির ব্যাপকতা বোঝা যায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদন দেখে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সারাদেশে ১৭০০'র বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে দেখা গেল দায়িত্বরত নার্সরা রোগীদের বারবার তাগাদা দিচ্ছেন মশারি টাঙানোর জন্য।
নার্স মনি আক্তার বলেন, "আমরা নিজেরাও তো ভয়ে আছি। যেমন এই পেশেন্ট মশারি টানালো না। তাহলে কী হবে? মশা কামড় দিবে। তখন পাশের আরেকটি ব্যক্তি আক্রান্ত হতে পারে। এই যে আমরা কাজ করতেছি, সেজন্য আমরাও তো সেফ না।"
সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডাক্তার এবং নার্সরা এখন বিপুল সংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। প্রতি মুহূর্তেই রোগী আসছেন এসব হাসপাতালে।
সোহরাওয়ার্দি হাসপাতালের একজন চিকিৎসক বিবিসি বাংলাকে বলেন, সাধারণ তারা একদিনে যত সংখ্যক রোগী দেখতেন, এখন তার তিনগুণ বেশী রোগী দেখতে হচ্ছে।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হবার আশংকা নিয়ে তিনি নিজেও উদ্বিগ্ন।
ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ার পর অন্তত দুইজন ডাক্তারের মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হয়েছে গণমাধ্যমে। এ বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে।
সব হাসপাতালে রোগী ভর্তি হলেও সবচেয়ে বেশী রোগী ছুটছেন সরকারী হাসপাতালগুলোতে। এসব হাসপাতালে রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। হাসপাতালের বারান্দায়ও রোগীদের ঠাই হওয়া মুশকিল।
"এটা আপনারা এখন জাস্টিফাই করবেন যে ডাক্তাররা আসলে কাজ করেন নাকি করেন না?" - প্রশ্ন তোলেন চিকিৎসক আইরিন নবী।
শুধু সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল নয়, তার কাছেই ঢাকা শিশু হাসপাতালেও একই চিত্র।
এই হাসপাতালে ওয়ান-স্টপ সেন্টারের সাথে কথা বলে জানা গেল, প্রতিদিন প্রায় দেড়শোর মতো শিশুকে আনা হচ্ছে। তাদের বাবা-মা শিশুর শারীরিক অবস্থা বর্ণনা করে জানতে চান, শিশুটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে কিনা?
শিশু হাসপাতালের এক ডাক্তার বিবিসি বাংলাকে বলেন, "বিষয়টা যদিও আমাদের জন্য খুবই কষ্টকর, তারপরেও তো আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।"
শিশু হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ সেন্টার থেকে জানানো হয়, প্রতিদিন যত শিশু আসছে তাদের মধ্যে ৫০ থেকে ৬০টি শিশুর রক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এই সন্দেহে।
সরকারি হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন শতশত মানুষ আসছেন ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে। ফলে রক্ত পরীক্ষার জন্য চাপ বেড়েছে কয়েক গুণ।
এমন প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন হাসপাতালে শুধু রক্ত পরীক্ষার জন্যই ল্যাবরেটরিতে বাড়তি লোকবল নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও প্রয়োজনের তুলনায় সেটি অনেক কম বলে মনে করছেন হাসপাতালের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।
ফলে হাসপাতালের ডাক্তার এবং নার্সদের এখন অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হচ্ছে।
"পেশেন্ট বাড়ার সাথে-সাথে কাজ বাড়বে, এটাই তো নরমাল। কিন্তু ডেঙ্গু পেশেন্ট আসার কারণে কাজ দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে," বলছিলেন নার্স মনি আক্তার।
ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতাল-মুখী স্রোত থামছেই না। এ সংখ্যা প্রতিদিন বেড়েই যাচ্ছে। এমন প্রেক্ষাপটে আর ১০-১১ দিন পরেই বাংলাদেশে ঈদ-উল-আযহা উদযাপিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঈদের ছুটির সময়ে হাসপাতালের জরুরী কার্যক্রম সীমিতভাবে হলেও চালু থাকে।
তবে ডেঙ্গু পরিস্থিতি দেখে হাসপাতালগুলোর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, আসন্ন ঈদের সময়টাতেও হয়তো অনেক চিকিৎসক ও নার্সের শেষ পর্যন্ত ছুটি মিলবে না, কারণ অবস্থা সামাল দিতে এরই মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে যুক্ত সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
ডাক্তার আইরিন নবী।

ভয়ঙ্কর প্রতারক মৌলভীবাজারের জাহাঙ্গীর-মাসুদ

মৌলভীবাজারের ভয়ঙ্কর প্রতারক জাহাঙ্গীর ও মাসুদ। এলাকায় প্রতারণার শেষ নেই তাদের। প্রতারণার হরেক রকম ব্যবসা তাদের। বিদেশে বিনিয়োগ, ঋণ প্রদান, চাকরি  দেয়া, মানবপাচারসহ নানা ব্যবসা তাদের। লোভনীয় অফার দিয়ে ইতিমধ্যে মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জসহ কয়েকটি এলাকার মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ১০ কোটি টাকা। ‘পরিচিত টাউট’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া এই দুই প্রতারক টাকা হাতিয়ে নেয়ার পর থেকে লাপাত্তা এলাকা। কোথাও তাদের খোঁজ নেই। তাদের দ্বারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন শতাধিক মানুষ।
একলাখ থেকে শুরু করে কোটি এমন প্রতারণার নজিরও আছে তাদের। অবশেষে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছে প্রতারক জাহাঙ্গীর ও মাসুদ। আর গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব সদস্যরা তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ জাল স্ট্যাম্প উদ্ধার করেছে। এদিকে- গ্রেপ্তারের পর র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে জাহাঙ্গীর ও মাসুদ। জাহাঙ্গীর আলম। বয়স ৪০ কিংবা ৪২ বছর। বাড়ি  মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগৎপুর গ্রামে। তার পিতা মৃত সোনা উল্লাহ। শ্রীমঙ্গল শহরে রয়েছে তার মামার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। আছে হোটেলও। আর মাসুদ রানার বাড়ি পার্শ্ববর্তী হবিগঞ্জ উপজেলার বাহুবল উপজেলার হাজীমাদাম গ্রামে। তার পিতার নাম মাসুদ রানা। তাদের গ্রেপ্তারের পরপরই প্রতারণার শিকার হওয়া লোকজন ভিড় জমান শ্রীমঙ্গল র‌্যাব ক্যাম্পে। সেখানেও তারা তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অনেক অভিযোগ দেন। আগেই কেউ কেউ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। তারাও ছুটে যান র‌্যাব ক্যাম্পে। সিলেটের র‌্যাব-৯ এর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- প্রতারণার বেশ কয়েকটি অভিযোগ আসার পর তারা জাহাঙ্গীর ও মাসুদের প্রতারণা নিয়ে অনুসন্ধানে নামে। এতে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রতারণার পর প্রায় একবছর আগেই ছেড়ে দেয় এলাকা। পাল্টে ফেলে মোবাইল নম্বরও। প্রায় ১০ কোটি টাকার হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ থাকার কারণে তারা গোপনে বসবাস করতো। অবস্থান নেয় রাজধানী ঢাকায়। গত শুক্রবার বিকালে র‌্যাব সদস্যরা বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের একটি দল এএসপি মো. আবদুুল খালেক ও এএসপি এ কে এম কামরুজ্জামানের নেতৃত্বে ঢাকার পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটক করা হয়। এরপর তাদের নিয়ে আসা হয় শ্রীমঙ্গলে। সেখান থেকে তাদের আনা হয় সিলেটের র‌্যাব-৯ এর সদর দপ্তরে। গতকাল দুপুরে র‌্যাবের মিডিয়ার অফিসার মনিরুজ্জামান এ নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন। জানান নানা তথ্য। র‌্যাব জানায়- আটককৃতরা মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও অন্যান্য উপজেলায় প্রতারণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। তাদের প্রতারণার একটি ছিল তিন হাজার কোটি টাকার দুর্লভ বস্তু ক্রয় করা। প্রায় বছর খানেক আগে তারা মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল এলাকায় ঘোষণা দেয়- তিন হাজার কোটি টাকার একটি দুর্লভ বস্তু আমেরিকায় বিক্রি হয়েছে এবং বর্তমান সরকার এর সঙ্গে গোপনভাবে সম্পৃক্ত আছে। কিন্তু এই টাকা আনতে হলে ৩০০ জন সদস্যসহ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকে ১০০ কোটি টাকার ফান্ড গঠন করে আমেরিকা সরকারকে দেখাতে হবে। এতে সদস্য হতে হলে গোপনীয়তা রক্ষা করে ১ লাখ টাকা এবং তিনশ’ টাকার স্ট্যাম্পে নিজের স্বাক্ষর, ভোটার আইডি কার্ড, ছবিসহ যাবতীয় ডকুমেন্ট দিতে হবে। সদস্য হওয়ার বিনিময়ে তাদেরকে লন্ডন, আমেরিকা, কানাডা, সিঙ্গাপুরসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ফ্ল্যাট বাড়ি দেয়া হবে। এই ঘোষণায় তারা মৌলভীবাজার জেলা থেকে প্রায় ১০ কোটি টাকা প্রতারণা করে হাতিয়ে নিয়েছে। তাদের এই লোভনীয় ঘোষণায় অনেকেই সরল বিশ্বাসে হাতে তুলে দেন টাকা। কথামতো স্ট্যাস্পে লিখিত চুক্তিও হয়। এভাবে লোকদের ঠকানোর পাশাপাশি তারা আরো একাধিক ধান্ধাও চালায়। এর মধ্যে একটি ছিল চাকরি পাইয়ে দেয়া। শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ এলাকায় তারা ঘোষণা দেয়- নতুন একটি কোম্পানি এলাকায় আসছে। ওই কোম্পানিতে প্রায় ২০০ জন লোককে চাকরি দেয়া হবে। এজন্য তারা প্রতিজনের চাকরির জন্য এক লাখ টাকা হারে আদায় করে। শ্রীমঙ্গলে জাহাঙ্গীরের মামার হোটেল ব্যবসা রয়েছে। ওই হোটেল থেকেই সে প্রতারণা জাল পাতে।
চাকরিতে লোক ঢুকিয়ে দেয়ার ঘোষণাকালেই তারা শতকরা দুইভাগ সুদে টাকা ঋণ দেয়ার ঘোষণা দেয়। কিন্তু ঋণের আগে জামানত হিসেবে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে জানায়। কোটি টাকা ঋণ পাওয়ার আশায় অনেকেই অগ্রিম ৫ লাখ টাকা তুলে দেয়। এভাবে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি তাদের প্রতারণার শিকার হয়েছে।

ঢাকায় আসা-যাওয়ায় সতর্ক মানুষ by শুভ্র দেব

ডেঙ্গু আতঙ্কে ঢাকায় আসতে এবং সামনের ঈদে বাড়ি ফিরতে সতর্ক মানুষ। ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়ায় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া  ঢাকা আসছেন না অনেকে। আবার যারা ঈদে বাড়ি যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তারাও হিসেব-নিকেষ কষছেন পরিস্থিতি সামনে রেখে। এ কারণে বাস এবং ট্রেনের অগ্রিম টিকিট কাটেননি অনেকে। ঢাকার বাস কাউন্টার, রেল স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে এখনও অবিক্রিত অনেক টিকেট রয়েছে। পরিবহণ মালিক, শ্রমিক ও কাউন্টার মাস্টার, স্টেশন ম্যানেজার ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন সর্বত্রই এখন ডেঙ্গু আতঙ্ক। ডেঙ্গু আক্রান্তরা সহজেই সেরে উঠছেন না।
ডেঙ্গুর ভয়াবহতায় মৃতের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। এসব কারণে মানুষ ঢাকা আসতে নিরুৎসায়িত হচ্ছে। অথচ যাত্রীদের সুরক্ষায় প্রতিটা বাস ছাড়ার আগে মশার ওষুধ স্প্রে করা হচ্ছে। কাউন্টারে অপেক্ষারত যাত্রীদের মশা থেকে সুরক্ষার জন্য ওষুধ দেয়া হচ্ছে। সরজমিন গতকাল ঢাকার গাবতলী, সায়েদাবাদ, মহাখালী বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায় ঢাকার বাইরে থেকে আসা বাসগুলোতে যাত্রীদের সংখ্যা কম ছিল। দুরপাল্লার বাসের যাত্রীরা জানিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া এখন কেউ ঢাকায় আসছেন না। বিশেষ করে বিদেশগামী, অসুস্থ, সরকারি কোন সংস্থায় কাজের উদ্দেশ্য অনেকেই আসছেন। তবে ভ্রমণের উদ্দেশ্য বা আত্মীয় স্বজনের বাসায় থাকার উদ্দেশ্য কেউ আসছেন না। গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে বগুড়া থেকে আসা যাত্রী মোহন শিকদার বলেন, আমি যে বাসটাতে এসেছি বাসের অর্ধেক সিটও পূর্ণ হয়নি। মহাখালী বাস টার্মিনালে টাঙ্গাইল থেকে আসা যাত্রী আলম বলেন, ঢাকা-টাঙ্গাইল রুটের বাসগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় অনেক কম ছিল। একইভাবে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল, কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে একই চিত্র দেখা গেছে।
এনা পরিবহনের ঢাকা-সিলেট রুটের কাউন্টার ব্যবস্থাপক মফিজুল ইসলাম বলেন, সিলেট অঞ্চল থেকে যাত্রী কিছুটা আসলেও ঢাকা থেকে যাওয়ার যাত্রী খুবই কম। আশা করছি ঈদের সময় যাত্রী কিছুটা বাড়বে। বিকাশ পরিবহণের কাউন্টার মাস্টার আব্দুর রাজ্জাক বলেন, যাত্রী এখন খুবই কম আসা যাওয়া করছে। তবে কি কারণে করছে না সেটা বুঝতেছি না। মহাখালি বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মালেক বলেন, যাত্রীর চাপ খুবই কম। ডেঙ্গু ও বন্যার কারণে যাত্রীরা ঢাকায় আসতেছে না। এমনকি ঢাকার বাইরের যাত্রীর সংখ্যাও কম। আশা করছি ঈদ আসলে সব ঠিক হয়ে যাবে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ যেমন নাই তেমনি ঢাকার বাইরেও কম যাচ্ছে। শুধু ডেঙ্গু না দেশের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা হয়েছে তাই পরিস্থিতি এমন হয়েছে। তিনি বলেন, ডেঙ্গু নিয়েও আমরা কাজ করছি। আমরা সবাইকে ডেকে বলেছি বাস ছাড়ার আগে যেন স্প্রে করা হয়। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক হোসাইন আহম্মেদ মজুমদার বলেন, ঢাকার বাইরের যাত্রীরা ঢাকা আসছেন না ভয়ে। কারণ অনেকেই মনে করছেন ঢাকা গেলে ডেঙ্গু আক্রান্ত হবেন। আবার ঢাকার বাসিন্দারা চিন্তা করছেন এই সময় ঢাকার বাইরে গেলে যদি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় তবে গ্রামে ভাল চিকিৎসা মিলবে না। তাই যে যেখানে আছে সেখানেই বসে আছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় যাত্রীদের জন্য মালিকরা কি ধরনের ব্যবস্থা নিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রতিটা বাসে যেমন মশক নিধন স্প্রে করা হচ্ছে তেমনি ঢাকার, মহাখালি, সায়েদাবাদ, গাবতলী ও গুলিস্তানের বাস কাউন্টারে মশার ওষুধ মারা হচ্ছে। যাতে বাসের অপেক্ষারত যাত্রীদের এডিস মশা না কামড়ায়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ চলাচল যাত্রী পরিবহণ সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক পাটোয়ারি বলেন, অন্য সময়ের তুলনায় যাত্রীর চাপ কম। তবে কেন কমেছে তা বলতে পারব না। শ্রীনগর-৩ সুপারভাইজর রুহুল আমীন বলেন, ডেঙ্গুর কারণে একটা ভয় কাজ করতেছে তাই যাত্রীরা আসা যাওয়া কম করছেন।

কাশ্মির ইস্যুতে ট্রাম্পকে মধ্যস্থতার আহ্বান পাকিস্তানের

কাশ্মির ইস্যুতে মধ্যস্থতা করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। অঞ্চলটিকে কেন্দ্র করে পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক নতুন উত্তেজনার মধ্যেই এমন আহ্বান জানালো ইসলামাবাদ। ৪ আগস্ট রবিবার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, কাশ্মির নিয়ে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা আঞ্চলিক সংকটে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতার জন্য এখনই সঠিক সময়।
এমন সময়ে ইমরান খান এ মন্তব্য করলেন যার মাত্র একদিন আগে ভারতের বিরুদ্ধে কাশ্মিরে অবৈধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছিল পাকিস্তান। ওই ঘটনায় দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন আরও ১১ জন। তবে অবৈধ ক্লাস্টার বোমা ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিল্লি।

রবিবার টুইটারে দেওয়া পোস্টে ইমরান খান বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কাশ্মিরে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এখন পরিস্থিতি খারাপ হয়ে পড়ার পাশাপাশি নিয়ন্ত্রণরেখায় দখলদার ভারতীয় বাহিনীর আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে ট্রাম্পের মধ্যস্থতার জন্য এখনই সঠিক সময়।

কাশ্মির সংকটকে কেন্দ্র করে একটি বিস্ফোরন্মুখ আঞ্চলিক সংকটের আশঙ্কার কথাও জানান ইমরান খান।

ইমরান খানের এ টুইটের ব্যাপারে অবশ্য তাৎক্ষণিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতের কোনও মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে গত জুলাইয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প জানান, কাশ্মির সংকট নিরসনে মধ্যস্থতা করতে তার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে স্থিতিশীলতা আনতেই মোদি এ অনুরোধ জানিয়েছেন। পরে ট্রাম্পের ওই বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করে দিল্লি।

জুলাইয়ে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ওই বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘২ সপ্তাহ আগেই মোদির সঙ্গে দেখা হয়েছিল। আমরা এ বিষয়ে (কাশ্মির) কথা বলেছিলাম। উনি তখন বলেছিলেন, আপনি (ট্রাম্প) কি মধ্যস্থতাকারী হবেন? আমি বললাম, কিসের? তখন উনি বললেন, কাশ্মির সমস্যা মেটানোর জন্য। কারণ এই সমস্যা বছরের পর বছর ধরে চলছে। আমি খুব অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম, কতদিন ধরে রয়েছে এই সমস্যা?’ ট্রাম্প যখন এসব কথা বলছিলেন, তখন তার পাশেই ছিলেন ইমরান খান। ট্রাম্পের কথা শুনে ইমরান বললেন, ‘৭০ বছর ধরে এই সমস্যা অব্যাহত রয়েছে।’

কাশ্মির ইস্যুতে ট্রাম্পের মন্তব্যের আগে ইমরান খান বলেন, ‘ট্রাম্প বিশ্বের অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যক্তি। আমেরিকা অত্যন্ত শক্তিশালী দেশ। উপমহাদেশে শান্তি স্থাপনে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে…আমার পক্ষ থেকে বলতে পারি, আমরা অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা কোনও সমাধান বের করতে পারিনি। আশা করছি মার্কিন প্রেসিডেন্ট দু’দেশের সম্পর্ক শক্তিশালী করতে উদ্যোগী হবেন।’ এরপর ট্রাম্প বলেন, ‘আমার মনে হয়, উভয়েই (ভারত-পাকিস্তান) চায়, এ সমস্যার সমাধান হোক। আমরা সবাই তা-ই চাই। আর আমি যদি সাহায্য করতে পারি, আমি মধ্যস্থতাকারী হতে রাজি।’ তখন ইমরান বলেন, ‘যদি আপনি পারেন, তাহলে মধ্যস্থতা করে এ সমস্যার সমাধান করুন।’

ইমরানের কথা শুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটা সমাধান হওয়া দরকার। উনিও (নরেন্দ্র মোদি) আমাকে একই কথা বলেছেন। দেখা যাক, কী করতে পারি। কাশ্মির সম্পর্কে অনেক কিছু শুনেছি। খুব সুন্দর নাম। বিশ্বের অন্যতম সুন্দর জায়গা এটি। কিন্তু এখন চারদিকে শুধু বোমা। যেখানেই আপনি যান, বোমা রয়েছে। ভয়ঙ্কর অবস্থা। যদি আমি কিছু সাহায্য করতে পারি, তাহলে আমাকে জানান।’ সূত্র: রয়টার্স, টুইটার।

মুসলিমের ডেলিভারি করা খাবার ফেরত নিয়ে ভারতে বিতর্কের ঝড় by অমিতাভ ভট্টশালী

এক অহিন্দুকে কেন তার খাবার ডেলিভারি করতে পাঠানো হয়েছে, এই প্রশ্ন তুলে খাবারের অর্ডার বাতিল করে দিয়েছিলেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের এক বাসিন্দা। অর্ডার বাতিল করার কথা তিনি ঘোষণা করেন টুইটারে।
তার উত্তরে 'জোম্যাটো' নামের ওই জনপ্রিয় ফুড ডেলিভারি অ্যাপ টুইট করেই জানিয়েছে ''খাবারের কোনও ধর্ম হয় না।''
এ নিয়ে বুধবার ভারতীয়দের টুইট হ্যান্ডেলগুলি সরগরম হয়ে ওঠে।
জোম্যাটোর টুইটের পরে ওই সংস্থাটির প্রধান আরও রূঢ় ভাষায় জবাব দিয়েছেন। দীপিন্দর গোয়েল লেখেন যে এধরনের অর্ডারের ফলে যদি ব্যবসার ক্ষতি হয়, তাও মেনে নিতে তারা রাজি।
মধ্যপ্রদেশের জবলপুরের বাসিন্দা পণ্ডিত অমিত শুক্লা নামের এক ব্যক্তি, যার টুইটার হ্যান্ডেলের নাম 'নমো সরকার', তিনি মঙ্গলবার রাতে জোম্যাটোর মাধ্যমে অর্ডার দিয়েছিলেন কিছু খাবারের। খাবার ডেলিভারির দায়িত্ব পড়ে একজন মুসলিমের ওপর। জানতে পেরেই সাথে সাথে অপত্তি করেন অমিত শুক্লা।
জোম্যাটোর টুইট- "খাবারের কোনও ধর্ম হয় না। খাবারই একটা ধর্ম।"
জোম্যাটো কাস্টমার কেয়ারের সঙ্গে চ্যাটের যে স্ক্রিনশট তিনি টুইট করেছেন, তাতে দেখা যাচ্ছে মি. শুক্লা লিখেছেন, "আমাদের শ্রাবণ মাস চলছে। একজন মুসলমানের ডেলিভারি করা খাবারের প্রয়োজন নেই।"
এরপরে জোম্যাটোকে তিনি বলেন অন্য কাউকে দিয়ে ডেলিভারি দেওয়া হোক তার খাবার। পবিত্র শ্রাবণ মাসে তারা শুদ্ধ নিরামিষ রেস্তোঁরা থেকে খাবার আনান। তাই ডেলিভারি বয়কে পাল্টানো হোক, নাহলে অর্ডার বাতিল করবেন তিনি। জোম্যাটোর অ্যাপ আনইনস্টল করারও হুমকি দেন।
এরপরেই জোম্যাটো জবাব দেয়, "আমরা রাইডারদের [ডেলিভারি বয়] মধ্যে বিভাজন করি না।"
মি. শুক্লা গোটা ঘটনা টুইট করে সবাইকে জানানোর পরে আজ (বুধবার) পাল্টা উত্তর দিয়েছে জোম্যাটো। তারা বলেছে, "খাবারের কোনও ধর্ম হয় না। খাবারটাই একটা ধর্ম।"
এরপরেই নিজের সংস্থার পক্ষ নিয়ে জোম্যাটোর কর্ণধার দীপিন্দর গোয়েল লেখেন, "ভারতীয়ত্বের ধারণার জন্য আমরা গর্বিত এবং আমাদের ক্রেতা এবং পার্টনারদের বৈচিত্রের জন্যও। আমাদের সেই চিন্তাধারাকে আঘাত দেয়, এরকম কোনও ব্যবসা যদি আমরা নাও পাই, তাতে কোনও ক্ষতি হবে না।"
এরপরেই শুরু হয় টু্‌ইটারে বাকযুদ্ধ।
এখনও পর্যন্ত জোম্যাটোর টুইটটি ১৬ হাজারেরও বেশিবার রিটুইট করা হয়েছে, লাইক পড়েছে প্রায় ৪৬ হাজার।
অনেক মান্যগণ্য ব্যক্তি জোম্যাটোর টুইটকে অভিন্দন জানিয়েছেন, যাদের মধ্যে কংগ্রেস নেত্রী স্বরা ভাস্কর যেমন আছেন, তেমনই আছেন জম্মু-কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা বা প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস ওয়াই কুরেশি।
একজন মুসলিম তার খাবার ডেলিভারি করছে জানতে পেরে অর্ডার বাতিল করে টুইটারে তা ঘোষণা পন্ডিত অমিত শুক্লা নামের একজন
নানা ধরণের মন্তব্য করা হয়েছে জোম্যাটো আর মি. শুক্লার টু্‌ইট যুদ্ধে।
"ধর্মের নামে যেধরণের ঘৃণা ছড়ানো বেড়ে চলেছে, সেই সময়ে কর্পোরেট দুনিয়ার এরকম কড়া কথার উদাহরণ প্রায় দেখাই যায় না," লিখেছেন 'স্যাম সেজ' নামে একজন।
একজন তির্যক মন্তব্য করেছেন, "এরপর থেকে দেখে নেবেন যে খাবারটা একজন হিন্দু চাষ করেছে কিনা, ট্রাকে করে একজন হিন্দু তা নিয়ে এসেছে কিনা, বিক্রি করেছে যে সে হিন্দু কিনা বা যে রান্না করল, সে হিন্দু কিনা! ধর্মের ব্যাপার তো!"
শেখ ফারহাদ নামের একজনের মন্তব্য, "মুসলিম দেশ থেকে আনা পেট্রল ডিজেল বয়কট করে সাইকেলে চাপুন।"
অভিনভ শর্মা নামে একজনের মন্তব্য, "ওর গাড়ি, বাইক, ট্রেন বা প্লেনে চড়া উচিত নয়। তন্দুরি খাবার, জিলিপি, সিঙ্গাড়া এগুলোও খাওয়া উচিত নয়! মুসলমানী পরিচয় আছে, এমন সবকিছু বর্জন করা উচিত ওর।"
সিম্মি আহুজার মন্তব্য, "স্যার, এই টুইটারটাও তো অহিন্দুর! আপনার ঘরে যে সবজি আছে, খুঁজে দেখুন অহিন্দুরই চাষ করা হয়তো, বা দুধ-ও। আর যে ভাষায় আপনি লিখেছেন, সেটাও তো অ-হিন্দু ভাষা। হিন্দুদের মূল ভাষা সংস্কৃত। তাতেই লিখুন!"
মিজ আহুজার এই মন্তব্যে আবার শুরু হয়েছে আরেক বিতর্ক।
কুঁওর পি এক এস রানা নামের একজন জবাব দিয়েছেন, "ম্যাডাম, আপনার জ্ঞানের ভাণ্ডার একটু প্রসারিত করুন। কোন্‌ মুসলমান চাষাবাদ করে? ভারতে ২% মুসলমানও চাষ করে না। কমিশনখোরের কাজ করে। সব সব্জিই হিন্দুরা চাষ করে আর সব্জি বাজারে মুসলমানরা সেগুলো বিক্রি করে।"
সিম্মি আহুজা উত্তরে লিখেছেন, "২০১১-র জনগণনায় ৪৬% হিন্দু চাষাবাদ করেন। বাকি চাষের কাজ অহিন্দুরা করে। অর্থাৎ ৫৫%।"
ফুড ডেলিভারি অ্যাপ জোম্যাটো ভারতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে

কাশ্মীরে সহিংসতার বলি শিশুরা

সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির মধ্যে সংঘর্ষে একাধিক দেশের মতো ভারতেও শিশুরা সংঘাতের শিকার হচ্ছে। গত মঙ্গলবার এ মর্মে একটি রিপোর্ট পেশ করেছিলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তাতে আরও বিশেষ ভাবে বলা হয়েছিল জম্মু ও কাশ্মীর এবং মাওবাদী সমস্যার পরিপ্রেক্ষিতেই সংঘাতের শিকার হয় শিশুরা। তবে রিপোর্টের বিরোধিতা করেছে ভারত।

গত মঙ্গলবার 'অ্যানুয়াল রিপোর্ট অফ দ্য সেক্রেটারি জেনারেল অন চিলড্রেন অ্যান্ড আর্মড কর্নফ্লিক্ট' শীর্ষক রিপোর্টে একটি বিশেষ অংশে ভারতের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অংশের নাম দেওয়া হয়েছে 'সিচ্যুয়েশন নট অন দ্য অ্যাজেন্ডা অফ দ্য সিকিউরিটি কাউন্সিল অর আদার সিচুয়েশনস।' সেটিকেই নিরাপত্তা পরিষদে খোলা বিতর্কে হাতিয়ার করেন ভারতের ফার্স্ট সেক্রেটারি পৌলোমী ত্রিপাঠী।

গত শুক্রবার আয়োজিত তিনি বলেন, 'নিরাপত্তা পরিষদের স্পষ্ট মত সত্ত্বেও মহাসচিবের রিপোর্টে এমন কিছু পরিস্থিতির উল্লেখ রয়েছে যা কিনা মোটেও সশস্ত্র সংঘর্ষের পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনীয় নয়, এটি আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতাবস্থা রক্ষার ক্ষেত্রেও বিপজ্জনক নয়। তারপরেও বিষয়গুলি বেছে বেছে মতামত প্রকাশ করলে তাতে রাজনৈতিক রং চড়ে এবং তাতে আখেরে সেই উদ্দেশ্যগুলিই কাঙ্খিত পরিসর পেয়ে যায়। মাঝখানে বিশ্বশান্তির পক্ষে আসলে বিপজ্জনক যে বিষয়গুলি রয়েছে, সেগুলি আলোচনার প্রেক্ষাপট হারায়।'

রিপোর্টটিতে দাবি করা হয়েছে, 'হিজবুল মুজাহিদিন এবং আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের মতো জঙ্গি সংগঠনগুলি পাঁচ জন শিশুকে নিয়োগ করেছে।' নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে গত ডিসেম্বরে লস্কর-ই-তৈয়বার দুই 'নাবালক জঙ্গির' মৃত্যু হয়। রিপোর্টে এ-ও বলা হয়, 'মাওবাদীরাও যে নিয়মিতভাবে শিশুদের নিয়োগ করে থাকে, সে খবরও রয়েছে।' তাতে কাঠুয়ার গণধর্ষিতা শিশুটির কথাও বলা হয়েছে। তবে পাশাপাশি সরকার যে ভাবে শিশু-সুরক্ষায় পদক্ষেপ করেছে, তাকেও স্বাগত জানিয়েছেন গুতেরেস।

এবারের কোরবানির চামড়ার কী হবে by শফিকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। কমপ্লায়েন্সের কারণে বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন অনেক ক্রেতা। গত বছর কেনা চামড়ার ৫০ শতাংশ এখনও অব্যবহৃত রয়ে গেছে। নতুন চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক থেকে পাওয়া ঋণও পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সব মিলিয়ে এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনার বিষয়ে তেমন আগ্রহ নেই ব্যবসায়ীদের। নতুন চামড়া কেনা হবে কি হবে না, এ ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে এবারের কোরবানির পশুর চামড়ার কী হবে?

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো—ইপিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছর চামড়াজাত পণ্য রফতানি আয়ের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছিল ১৩৮ কোটি ডলার। তা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৭-১৮ অর্থবছর চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে বাংলাদেশ আয় করেছে ১০৮ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। এ আয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ২১ দশমিক ৩৪ শতাংশ কম। এর আগের বছর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এ খাতে আয় হয়েছিল ১২৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, নানা কারণে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও চীনে চামড়ার বাজার পড়ে গেছে। এছাড়া সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর মালিকরা ঋণ পেতে নানামুখী সমস্যা মুখোমুখি হচ্ছেন। যেমন, সাভার চামড়া নগরীতে যেসব শিল্প মালিক প্লট পেয়েছেন অথচ মালিকানা বুঝে পাননি, তাদের ব্যাংক ঋণ পেতে সমস্যা হচ্ছে। ফলে আসন্ন কোরবানির ঈদে চামড়া সংগ্রহে ব্যবসায়ীরা সংকটের আশঙ্কা করছেন।

জানতে চাইলে বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান শাহীন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, আসলেই চামড়া খাতের অবস্থা ভালো নয়। সর্বত্র চামড়াজাত পণ্যের অর্ডার কমে গেছে। বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের বড় বাজার হিসেবে পরিচিত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা কমে গেছে।

তিনি জানান, চামড়া কেনার জন্য গতবছর ব্যাংক থেকে যে ৪৭০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছিল, সেই টাকা তাদের জন্য পর্যাপ্ত ছিল না। চামড়া কেনার জন্য ব্যাংক যে প্রক্রিয়ায় ঋণ দেয় তা সহজ নয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে শাহীন আহমেদ বলেন, ‘গত বছর কিনেছি অথচ ব্যবহার করতে পারিনি, এমন চামড়ার পরিমাণ ৫০ শতাংশ। তাই এ বছর আমাদের চামড়ার চাহিদা তেমন নেই। অর্ডারও কম। কমপ্লায়েন্সের বিষয়ে ক্রেতারাও অসন্তুষ্ট।’ তাই এ বছর যদি কাঁচা চামড়া রফতানি হয় সেক্ষেত্রে কোনও আপত্তি নেই বলে জানান তিনি।

শাহীন আহমেদ বলেন, চামড়া খাতের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ সাভারের ট্যানারি পল্লির কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারকে পুরোপুরি কার্যকর করতে না পারা। একদিকে সরকারের টাকাও নষ্ট হলো, অন্যদিকে পল্লির পাশে ধলেশ্বরী নদীও নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘শুনেছি, এটিকে কার্যকর করতে কিছু মেশিনপত্র কেনা হয়েছে। তা যদি সঠিক হয় তাহলে এ বছরের শেষ দিকে এটিকে আংশিক চালু করা সম্ভব হবে বলে মনে হয়।’

জানতে চাইলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মফিজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমরা চামড়া খাতের রফতানি বাড়াতে নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছি। আমরা চামড়াজাত পণ্যের রফতানি বাড়াতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা যতই বলুক, চামড়া খাতের রফতানি বাড়বে। চীন বা যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি চামড়াজাত পণ্যের চাহিদা বা অর্ডার কমে গেলেও সমস্যা হবে না। কারণ, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় আমাদের চামড়াজাত পণ্যের বিশাল বাজার সম্ভাবনা রয়েছে।’

অপর এক প্রশ্নের জবাবে বাণিজ্য সচিব বলেন, ‘এ বছর কোরবানির পশুর চামড়া কেনার বিষয়ে সব উদ্যোগই নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা যা লাগবে তা দেওয়া হবে। আমরা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করছি। আরও আলোচনা করবো।’

তিনি জানান, কোরবানির পশুর চামড়া যাতে ভালোভাবে মান বাজায় রেখে সংগ্রহ করা হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে এবং এ জন্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রমও গ্রহণ করা হচ্ছে।

বাণিজ্য সচিব বলেন, কাঁচা চামড়া রফতানি করা হবে কি হবে না, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি।

জানতে চাইলে শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘চামড়া শিল্পের উন্নয়নে সরকার সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং নেবো। সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আরও হবে। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের কাজ যেটুকু বাকি আছে তা অবিলম্বে শেষ হবে।’

এক প্রশ্নের জবাবে শিল্পমন্ত্রী জানান, চামড়াজাত পণ্যের বাজার বিশ্বজুড়েই মন্দা। বাংলাদেশ এর বাইরে নয়। তবে বিশ্বে নতুন বাজার ও নতুন চাহিদা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া চামড়াজাত পণ্যের বহুমুখীকরণ হয়েছে, আরও হবে। এখন চামড়া দিয়ে শুধু জুতা বা ব্যাগ নয়, অনেক কিছুই তৈরি করা হচ্ছে। বিশ্বে যার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

জানা গেছে, প্রতিবছর কোরবানির সময় গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মিলিয়ে মোট ৯০ থেকে ৯৫ লাখ পিস চামড়া পাওয়া যায়। যা সারাবছরের সরবরাহের প্রায় ৯০ শতাংশ। তাই চামড়া শিল্পের ব্যাবসায়ীরা কোরবানির সময় তাদের প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সারাবিশ্বে চামড়াজাত পণ্যের বাজার ২২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। এতে বাংলাদেশের অংশীদারত্ব অবশ্য খুবই কম। এ খাতের উন্নয়নে সরকার ২০১৭ সালকে ‘চামড়া বছর’ হিসেবে ঘোষণা করেছিল।

প্রথমবারের মতো সামরিক স্কুল চালুর পরিকল্পনা করেছে ভারতের আরএসএস

ভারতের ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) আদর্শিক মূল সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (আরএসএস) সহযোগী একটি প্রতিষ্ঠান এমন একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েছে, যেটার সাথে সামরিক বাহিনীর যোগসূত্র রয়েছে।

স্কুলটির নামকরণ করা হয়েছে সাবেক আরএসএস প্রধান প্রফেসর রাজেন্দ্র সিংয়ের নাম অনুসারে, যিনি রাজ্জু ভাইয়া নামেই বেশি পরিচিত। উত্তর প্রদেশের বুলান্দশাহরের শিকারপুরে এই স্কুলটি গড়ে তোলা হচ্ছে। সরকারী ও বেসরকারী স্কুলের জন্য সেন্ট্রাল বোর্ড অব সেকেন্ডারি এডুকেশানের যে সিলেবাস রয়েছে, সেটাই এখানে অনুসরণ করা হবে। একাডেমিক শিক্ষার বাইরে শিক্ষার্থীদের শারীরিক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে যাতে তারা গ্রাজুয়েশানের পর সামরিক বাহিনীতে যোগ দিতে পারে।

স্কুলের পরিচিতিপত্রে লেখা রয়েছে যে, ভারতের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে প্রায় ১০,০০০ কর্মকর্তার ঘাটতি রয়েছে এবং এখন যে সব রাষ্ট্রায়ত্ব সেনা স্কুল রয়েছে, তারা এই চাহিদা মেটাতে পারছে না।

স্কুলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ড. অজয় কুমার গয়াল বলেন, “দেশে প্রথমবারের মতো নিরীক্ষা হিসেবে এই স্কুলটি চালু করছি আমরা এবং ভবিষ্যতে এই মডেলটা দেশের অন্যান্য জায়গায় কপি করা যেতে পারে”। স্কুলটি আরএসএসের সহ-প্রতিষ্ঠান বিদ্যা মন্দিরের অধীনে পরিচালিত হবে। পুরো দেশে এই প্রতিষ্ঠানের অধীনে বর্তমানে ২০,০০০ এর বেশি স্কুল পরিচালিত হচ্ছে।

প্রথম বছরে ১৬০ জন শিক্ষার্থী নেয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে স্কুলটি। এর মধ্যে ৫৬ জন নেয়া হবে সাবেক সেনা কর্মকর্তাদের পরিবার থেকে।

গয়াল বলেন, এই স্কুলের শিক্ষার্থীরা যাতে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীতে যোগ দিতে পারে, সেজন্য একটা সুনির্দিষ্ট কারিকুলামের প্রস্তাব দিবেন সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। যদিও নিয়মিত প্রশিক্ষক হিসেবে সামরিক বাহিনীর প্রশিক্ষিত কাউকে নিয়োগ দেয়ার পরিকল্পনা স্কুল কর্তৃপক্ষের নেই।

স্কুল ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। এতে আলাদা একাডেমিক ভবন, শিক্ষার্থীদের জন্য হোস্টেল, শিক্ষক ও স্টাফদের জন্য আবাসিক ভবন, মেডিকেল সুবিধা ও বিশাল একটা স্টেডিয়াম থাকবে। এই পুরো স্কুল প্রকল্পের জন্য ব্যায় হবে প্রায় ৪০ কোটি রুপি।

আরএসএস শক্তভাবে সেনা শিক্ষা ও প্রশিক্ষণকে সমর্থন করে। গয়াল বলেন, “এই স্কুল শিশুদের দেশকে সেবা করার স্বপ্ন পূরণ করবে যেহেতু তারা ভবিষ্যতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য হওয়ার সুযোগ পাবে”।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ একটি ডানপন্থী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। ভারতের সমাজে জাতীয়তাবাদী মানসিকতা তৈরির জন্য তারা কাজ করে থাকে। বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে পরিণত হয়েছে এটি। এর সহযোগি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা শিক্ষা ও দাতব্য সেবা নিয়ে কাজ করে।