Showing posts with label বন্য প্রাণী. Show all posts
Showing posts with label বন্য প্রাণী. Show all posts

Friday, September 25, 2026

প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা বন্ধে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইক যে সিদ্ধান্ত নিল by হাসান ইমাম

প্রকাশ ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের মঞ্চে এখন থেকে ফার (প্রাণীর পশমে তৈরি উপকরণ) ব্যবহার নিষিদ্ধ। এই নিয়ম ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের আয়োজক দ্য কাউন্সিল অব ফ্যাশন ডিজাইনারস অব আমেরিকা (সিএফডিএ) দাপ্তরিকভাবে বিষয়টি ঘোষণা করেছে। সিএফডিএর সঙ্গে এই উদ্যোগে শামিল হয়েছে হিউম্যান ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেলস অ্যান্ড কালেকটিভ ফ্যাশন জাস্টিস।

সিএফডিএ জানিয়েছে, তাদের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে অংশগ্রহণকারীদের পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার জন্যই স্প্রিং/সামার ২০২৭ কালেকশনের মৌসুমটি (সেপ্টেম্বর ২০২৬) বেছে নেওয়া হয়েছে। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে হতে যাওয়া নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইকের রানওয়েতে ফারের ব্যবহার দেখা গেলেও যেতে পারে।

যদিও বেশ কয়েক বছর ধরে এই মঞ্চে ফারের ব্যবহার খুবই কম দেখা গেছে। তারপরও দাপ্তরিক সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়েছে প্রাণী অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। মনে করা হচ্ছে, এতে নিরীহ প্রাণীর প্রতি নিষ্ঠুরতা কমবে।

সিএফডিএ এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আশা করছি এ সিদ্ধান্তের ফলে মার্কিন ডিজাইনারদের প্রাণিকুল সম্পর্কে আরও গভীরভাবে ভাবতে সাহায্য করবে।’

নতুন এই নিয়মে (ফারের ব্যবহার–সংক্রান্ত), যেসব প্রাণীকে কেবল পশমের জন্য মেরে ফেলা হয় (যেমন মিঙ্ক, শিয়াল, খরগোশ, কারাকুল ভেড়া, চিনচিলা, কায়োটি, কমন র‍্যাকুন ডগ), সেসব প্রাণীর পশমসহ চামড়ার আবরণ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে।

তবে আদিবাসীদের যাঁরা ঐতিহ্যবাহী শিকারপদ্ধতির মাধ্যমে প্রাণীর চামড়া সংগ্রহ করেন, তাঁদের জন্য কিছুটা ব্যতিক্রম নীতি থাকবে।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরেই প্রাণীর পশমসহ নির্দয়ভাবে চামড়া সংগ্রহ করে ফ্যাশন পণ্য তৈরির বিষয়ে সমালোচনা করে আসছেন প্রাণিপ্রেমীরা। তাঁদের ডাকে সাড়া দিয়ে সেরা চার ফ্যাশন উইকের মধ্যে প্রথমেই লন্ডন ফ্যাশন উইক ২০১৮ সাল থেকে ফার ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। এবার সেই পথে পা বাড়াল নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইক।

গুচি, কোচ, শ্যানেলের মতো লাক্সারি ব্র্যান্ডগুলোয়ও সাত বছর ধরে বন্ধ আছে ফারের ব্যবহার। তবে মিলান ও প্যারিস ফ্যাশন উইকে এখনো ফারের ব্যবহার চোখে পড়ে।
বিশ্বখ্যাত মিডিয়া প্রতিষ্ঠান কোড নেস্ট (যাদের মালিকানায় আছে ‘ভোগ’, ‘গ্ল্যামার’ ও ‘ভ্যানিটি ফেয়ার’–এর মতো ম্যাগাজিন), ‘এল’ ও ‘ইনস্টাইল’ ম্যাগাজিন সম্পাদকীয় নীতি তৈরি করে ফারের প্রচারণা এবং বিজ্ঞাপন বন্ধ রেখেছে।

সূত্র: ভোগ

প্রাণীর পশমে তৈরি পোশাকে রানওয়েতে মডেল
নিউ ইয়র্ক ফ্যাশন উইকের মঞ্চে আর এমন পোশাক দেখা যাবে না। ছবি: ইনস্টাগ্রাম থেকে

Saturday, February 1, 2025

চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে মেছোবিড়াল by আবু আজাদ

মেছোবিড়াল। শান্ত ও লাজুক স্বভাবের নিরীহ এক বন্যপ্রাণী। এক সময় যার বিচরণ ছিল দেশের সর্বত্র। হাওর, বাঁওড়, বিলসহ জলাভূমি এলাকা ছিল প্রাণীটির নিরাপদ আশ্রয়। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ বন্যপ্রাণীটিকে মানুষ শত্রুজ্ঞান করছে, হত্যা করা হচ্ছে গণহারে। এতে অচিরেই বিলুপ্তির ঝুঁকিতে আছে প্রাণীটি। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় দ্রুত মেছোবিড়াল সংরক্ষণের উদ্যোগ নিতে হবে; নয়তো অচিরেই হারিয়ে যাবে প্রাণ-প্রকৃতির এই বন্ধু।

দেশের বনাঞ্চলে যে আট প্রজাতির বুনো বিড়ালের বাস, তার একটি এই মেছো বিড়াল (Fishing Cat)। স্থানীয় নাম বাঘুইলা। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ অনেক গণমাধ্যমেও প্রাণীটিকে মেছোবাঘ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হচ্ছে। নামের সঙ্গে বাঘ যুক্ত হওয়ার কারণেই হয়তো প্রাণীটি সম্পর্কে মানুষের নেতিবাচক মনোভাব গড়ে উঠেছে। এ ঘটনাটিই হয়তো বিড়ালটির সর্বনাশকে ত্বরান্বিত করেছে।

এমন পরিস্থিতিতে দেশে আজ ১ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো মেছোবিড়াল দিবস পালিত হচ্ছে। মূলত উপকারী এ প্রাণীটির গুরুত্ব তুলে ধরার পাশাপাশি এটি সংরক্ষণে মানুষকে সচেতন করতে দিবসটি পালনের উদ্যোগ নিয়েছে বন বিভাগ।

বিড়ালকে বাঘ আখ্যা, হয়ে গেল শত্রু

বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্রই মেছোবিড়ালের বিচরণ রয়েছে। জলাভূমি আছে এমন এলাকায় বেশি দেখা যায়। প্রাণীটি জলাশয়ের মরা ও রোগাক্রান্ত মাছ খেয়ে মাছের রোগ নিয়ন্ত্রণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া ব্যাঙ, কাঁকড়া, ছোট পাখি ছাড়াও পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে কৃষকের উপকার করে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মানুষের সঙ্গে মেছোবিড়ালের দ্বন্দ্ব বাড়ছে। এতে প্রায়ই আক্রান্ত হচ্ছে প্রাণীটি। হত্যা করা হচ্ছে নির্মমভাবে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় ২০০৫ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত মেছোবিড়াল সম্পর্কিত ৩৬১টি সংবাদ সংগ্রহ করা হয়। এর ১৬০টি সংবাদই ছিল মেছোবিড়াল হত্যার। যার ৪৬ শতাংশ সংবাদে বলা হয়, মেছোবিড়াল দেখামাত্র ধাওয়া করেছে মানুষ। ৮৩ শতাংশ সংবাদে মেছোবিড়ালকে বাঘ বা বাঘের বাচ্চা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। গবেষণাটি কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘স্টুডেন্ট কনফারেন্স অন কনজারভেশন সায়েন্স’ পুরস্কার জেতে।

বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা জোহরা মিলা কালবেলাকে বলেন, প্রাণীটির প্রকৃত নাম মেছোবিড়াল হলেও অনেকে একে মেছোবাঘ নামেও ডাকে। বাঘ নামে ডাকার কারণে শুধু শুধু আতঙ্ক ছড়িয়েছে। প্রাণীটি মানুষকে আক্রমণ করে না, বরং মানুষ দেখলেই পালিয়ে যায়। কিন্তু এ ধরনের একটি নাম নিরীহ বিড়ালটিকে আরও বিপদগ্রস্ত করে তুলেছে। জনবসতি স্থাপন, বন ও জলাভূমি ধ্বংস, পিটিয়ে হত্যা ইত্যাদি কারণে বিগত কয়েক দশকে এই প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে।

আড়মোড়া ভেঙেছিল বন বিভাগ

প্রকৃতিতে মেছোবিড়ালের সংখ্যা দ্রুত কমে যাওয়ার বিষয়টি কয়েক বছর আগে বন বিভাগের নজরে আসে। প্রাণীটির অস্তিত্ব নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়ে সরকারি এই সংস্থাটি। সীমিত আকারে হলেও শুরু হয় গবেষণা।

২০২৩ সালের ২৫ মার্চ সিলেটে একটি পুরুষ মেছো বিড়ালের গলায় স্যাটেলাইট কলার বসিয়ে প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। উদ্দেশ্য- প্রাণীটির গতিবিধি ও জীবনধারা সম্পর্কে জানা। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে হাওরে থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে প্রাণীটি কোথায় যায়। যাতে ভবিষ্যতে সে এলাকায় বিড়ালটির নিরাপত্তার জন্য নজরদারি বাড়ানো সম্ভব হয়। কিন্তু মাত্র ২৮ দিনের মধ্যে বিড়ালটিকে হত্যা করেন এক কৃষক। এরপর সেখানেই থেমে যায় বন বিভাগ।

এ বিষয়ে গবেষণা দলের প্রধান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এমএ আজিজ কালবেলাকে বলেন, স্যাটেলাইট কলার পরানো মেছোবিড়ালটি প্রকৃতিতে ছেড়ে দেবার এক মাসও পেরোয়নি অথচ সেটিকে হত্যা করা হয়। এটিই প্রমাণ করে প্রাণীটির অস্তিত্ব কতটা হুমকির মুখে রয়েছে।

আছে সমন্বয়হীনতা ও স্বার্থের সাংঘর্ষ

হাওরাঞ্চলে মেছোবিড়ালের আধিক্য বেশি। কিন্তু হাওরের দেখভাল করে পরিবেশ অধিদপ্তর। আবার মেছোবিড়াল বন বিভাগের সম্পত্তি। তাই প্রাণীটি নিয়ে চিন্তিতও নয় পরিবেশ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে নেই তাদের কোনো প্রশিক্ষণও! পরিবেশ ও বন, এই দুই বিভাগের সমন্বয়হীনতার অভাবও মেছোবিড়ালকে সংকটে ঠেলে দিয়েছে।

এ বিষয়ে অধ্যাপক এমএ আজিজ হতাশা প্রকাশ করে বলেন, একই মন্ত্রণালয়ের বিভাগের দুটি সমন্বয়হীনতার জন্য একটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কঠিন হয়ে উঠেছে, এটি বিস্ময়কর!

তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের অসহযোগিতার বিষয়টি এড়িয়ে যান বন অধিদপ্তরের বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ। তিনি বরং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত করেন। এই বন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে হাওরে হাঁসের চাষাবাদ অতিমাত্রায় বেড়েছে। এতে সেখানকার স্বাভাবিক প্রতিবেশ ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিযায়ী পাখি, মেছোবিড়ালের অস্তিত্বসহ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে।

আইন ও প্রয়োগের দুর্বলতা

মেছোবিড়ালকে বিশ্বব্যাপী সংকটাপন্ন হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন)। প্রাণীটি দেশের আইনে সংরক্ষিত। ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী আইনেও মেছোবিড়াল হত্যা বা এর কোনো ক্ষতিকরা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নজির নেই বললেই চলে।

যদিও অধ্যাপক আজিজ মনে করেন, শুধু আইন দিয়ে মেছোবিড়াল রক্ষা করা সম্ভব নয়। সবার আগে প্রয়োজন স্থানীয় মানুষকে প্রাণীটির উপকারিতা বোঝানো, সংরক্ষণে তাদের সম্পৃক্ত করা। আর এ জন্য বন বিভাগকে আদাজল খেয়ে নামতে হবে। আর এখানেই ব্যাপক ঘাটতি আছে বলে মনে করেন এই গবেষক।

নেই কোনো প্রকল্প, পরিকল্পনাও

২০২৩ সালে শুরু হওয়া গবেষণাটি থেমে যাওয়ার পর আর কোনো উদ্যোগ নেয়নি বন বিভাগ। এই মুহূর্তে নেই কোনো প্রকল্প। এমনকি বিড়ালটি সংরক্ষণে সুর্নিদিষ্ট কোনো পরিকল্পনাও করেনি সরকারি সংস্থাটি। তবে মেছোবিড়াল সংরক্ষণে উদ্যোগ জরুরি হয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেছেন বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ।

তিনি বলেন, মেছোবিড়ালের কলার পরানোর পর গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে ওই গবেষণাটি থেমে যায়। তবে এরপর নতুন করে আর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। যদিও এ নিয়ে আমরা পরিকল্পনা করছি।

ইমরান আহমেদ বলেন, আসলে বন বিভাগের পরিকল্পনা ও প্রকল্পগুলো বড়প্রাণী বিশেষ করে মহাবিপন্ন প্রাণীগুলো নিয়ে আবর্তিত। তবে এখন সময় এসেছে ছোটপ্রাণীগুলোকে নিয়ে ভাবার।

তবে কি বিলুপ্ত হয়ে যাবে মেছোবিড়াল?

জাপানের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থায়নে ২০১৭ সাল থেকে প্রাণীটি নিয়ে গবেষণা করছেন অধ্যাপক আজিজ। তারমতে, দেশে মাংসাশী প্রাণীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি হত্যা করা হয় মেছোবিড়াল। হত্যার শিকার সব প্রজাতির বন্যপ্রাণীর মধ্যেও এটি প্রথম দিকেই আছে।

তিনি বলেন, বড় বন্যপ্রাণীর জন্য নানা প্রকল্প পরিচালনা করছে বন বিভাগ। কিন্তু মেছোবিড়াল ছোটপ্রাণী হওয়ায় হয়তো সেভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। নেই প্রচার-প্রচারণাও। এরই ফাঁকে প্রাণীটি হারিয়ে যেতে বসেছে।

‘সারা দেশে যেভাবে গণহারে প্রাণীটিকে হত্যা করা হচ্ছে, তাতে দ্রুত বিজ্ঞানভিত্তিক ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে দ্রুতই দেশ থেকে চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে মেছোবিড়াল,’ যোগ করেন অধ্যাপক। 

চিরতরে হারিয়ে যাচ্ছে মেছোবিড়াল

Wednesday, January 31, 2018

যমজ হাতির বাচ্চার মৃতদেহ উদ্ধার

শ্রীলঙ্কায় বন্যপ্রাণীর একটি পার্কে হাতির দুটি যমজ বাচ্চার মরদেহ পাওয়া গেছে। বলা হচ্ছ ে, জন্মের নির্ধারিত সময়ের আগেই এই দুটি বাচ্চার জন্ম হয়েছে। বন্যপ্রাণী কর্মকর্তারা বিবিসির সিনহালা বিভাগকে বলেছেন, জন্মের সময়েই তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। তারা বলছেন, হাতির যমজ বাচ্চা জন্ম দেয়ার ঘটনা খুব বিরল। কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের জানা মতে, শ্রীলঙ্কায় তাদের হেফাজতে থাকা কোনো মা হাতি এর আগে কখনো যমজ বাচ্চার জন্ম দেয়নি। কর্মকর্তারা আরো বলছেন, এমনকি বনে জঙ্গলেও কোনো হাতি যখন যমজ শিশুর জন্ম দেয় তখন তাদের বেঁচে থাকার হারও হয় খুব কম। পূর্ব শ্রীলঙ্কার মাদুরু-ওয়া ন্যাশনাল পার্কে এই দুটো হাতির বাচ্চার মৃতদেহ পাওয়া গেছে। বন্যপ্রাণী চিকিৎসক নিহাল পুস্পাকুমারা, যিনি যমজ বাচ্চা দুটোর ময়না তদন্ত করেছেন, তিনি বলেছেন, আরো পরীক্ষার জন্যে এদের মৃতদেহ এখন রাজধানী কলম্বোতে নিয়ে যাওয়া হবে। এই একই ধরনের মৃত্যুর খবর এর আগেও দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড এবং ভারত থেকে পাওয়া গেছে। শ্রীলঙ্কায় পশু চিকিৎসক সমিতির সদস্য ভিজিথা পেরেরা বিবিসির সিনহালা বিভাগকে বলেছেন, এর আগেও শ্রীলঙ্কার জঙ্গলে এরকম দুটি ঘটনা ঘটেছে বলে তারা জানেন। চার বছর আগে দক্ষিণ শ্রীলঙ্কার হাম্বানটোটায় দুটো যমজ শিশুর জন্ম হয়েছিল এবং মা হাতি ও হাতির পাল একটিকে ফেলে রেখে চলে গিয়েছিলো। "গ্রামবাসীরা মা হাতি এবং হাতির পালকে দেখেছে একটি বাচ্চাকে সাথে নিয়ে চলে যেতে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর তারা পরিত্যক্ত আরো একটি বাচ্চাকে দেখতে পায়। ওই বাচ্চাটিকে সাহায্য করার জন্যে আমরা সেখানে ছুটে গিয়েছিলাম কিন্তু তাকে বাঁচাতে পারিনি," বলেন তিনি। ভিজিথা পেরেরা বলছেন, জন্মের সময় এরা সুস্থ থাকলেও, পুষ্টির চাহিদার কারণে পরিত্যক্ত হাতির বাচ্চাটির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতির গর্ভধারণ কাল সাধারণত ২২ মাস হয়ে থাকে। পশু চিকিৎসক ভিজিথা পেরেরা বলেছেন, একটি হাতির বাচ্চা সাধারণত জন্ম হওয়ার দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যেই সে নিজে থেকে উঠে দাঁড়াতে পারে। তবে কখনো কখনো আরো কয়েক ঘণ্টা সময় লেগে যেতে পারে। ভিজিথা পেরেরা বলছেন, এরকম পরিস্থিতিতে মা হাতিকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে সে তার বাচ্চাটির সাথে থেকে যাবে, নাকি বাচ্চাটিকে ফেলে হাতির পালের সাথে সেও চলে যাবে। "প্রকৃতি এরকমই। মা হাতিটির একই সাথে যেমন তার বাচ্চাটির দরকার, তেমনি তার হাতির পালেরও দরকার। তখন তাকে একটিকে বেছে নিতে হয়," বলেন তিনি। ধারণা করা হয়, শ্রীলঙ্কায় বর্তমানে ৭,০০০ এরও বেশি হাতি রয়েছে। দেশটিতে এই প্রাণীটিকে 'পবিত্র' হিসেবে বিবেচনা করা হয় এবং এটিকে রক্ষার জন্যে আইনও রয়েছে। বলা হচ্ছে, ১৯০০ সালে শ্রীলঙ্কায় হাতির সংখ্যা ছিল ১০,০০০ থেকে ১৫,০০০।

Sunday, January 28, 2018

বিশ্বের প্রবীণতম গরিলাটির মৃত্যু

পৃথিবীর সবচেয়ে প্রবীণতম গরিলার মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স হয়েছিল ৬০ বছর। বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর চিড়িয়াখানায় বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যু হয় ভিলা নামের ওই গরিলার। বর্তমান বিশ্বে সব চেয়ে বেশি বছর ধরে বেঁচেছিল এই ভিলা।
১৯৫৭ সালে আফ্রিকার কঙ্গোয় জন্ম হয় এই স্ত্রী গরিলাটির। এর দু’বছর পর ১৯৫৭ সালে নিয়ে আসা হয় চিড়িয়াখানায়। এর পর ১৯৭৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার এই সাফারি পার্কে নিয়ে আসা হয়। সেই থেকেই ভিলা রয়ে গিয়েছিল এখানে। বিজ্ঞানীদের মতে গরিলার গড় আয়ু সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত হয়ে থাকে। এর পর তারা রোগাক্রান্ত হয়ে বা নিজেদের মধ্যে মারামারি করে অথবা অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়।

Wednesday, April 28, 2010

বাঘের গ্রামে ঢোকা ঠেকানোর এখনই সময় by খসরু চৌধুরী

দীর্ঘদিন সুন্দরবনের বাঘের পিছু লেগে একটি বিষয় লক্ষ করেছি, গ্রীষ্মের এই প্রচণ্ড দাবদাহের কালে সুন্দরবনের বাঘ জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে ঢুকে গরু, মহিষ, কুকুর মারে; নিজেরাও গ্রামবাসীর পিটুনিতে মারা যায়।
সুন্দরবন, বিশেষ করে চাঁদপাই রেঞ্জের জয়মণি থেকে নাংলী পর্যন্ত প্রায় ৪০ কিলোমিটার এলাকা একেবারে বনসংলগ্ন। এলাকার খালগুলো শুকনো। গ্রামবাসী গরু-মহিষ জঙ্গলে ঢোকায়। কিছু শূকর ছাড়া বাঘের স্বাভাবিক খাদ্য নেই বললেই চলে। জঙ্গলের ভেতরে বড় গাছ কম, কিন্তু জঙ্গল বলা, কেয়াকাঁটা, আসামিলতা, হরগেজা, লতাসুন্দরী, কুটুমলতায় আকীর্ণ। বাতাসহীন তীব্র দাবদাহে তলার জঙ্গলের আবহাওয়া অসহনীয় গরম।
এই গরমে অতিষ্ঠ হয়ে স্থানিক বাঘ বিকেলের দিকে একটু ঠান্ডা হাওয়ার আশায় জঙ্গলের সীমানার ফাঁকা এলাকায় চলে আসে। এই বাঘ গ্রামবাসী, বিশেষ করে গরুর রাখালদের চোখে প্রায়ই পড়ে। বাঘ জঙ্গলের সীমানায় হাঁটাচলা করার সময় লোকালয়ের গরু-মহিষের খাটাল দেখে খাদ্যের খোঁজে হামলা চালায়।
এ অবস্থায় করণীয় হচ্ছে, বাঘ বনের ধারে দিনের বেলা দেখা গেলেই গ্রামবাসীর উচিত বন বিভাগের কর্মীদের সহায়তায় ঢোল, পটকা ব্যবহার করে হইহুল্লোড় করে বাঘকে গভীর জঙ্গলে ঢুকিয়ে দেওয়া। গ্রামের তরুণদের দিয়ে পাহারার ব্যবস্থা করা। গরু-মহিষের খাটালগুলো শক্ত করে তৈরি করা। বাঘ একবার গ্রামে ঢুকে গরু-মহিষ মারতে পারলে তাকে ঠেকানো প্রায় অসম্ভব। এ অবস্থায় পৌঁছানোর আগেই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। তাতে মানুষ ও বাঘ—দুয়েরই উপকার হবে
খসরু চৌধুরী: বন বিশেষজ্ঞ।