Sunday, February 5, 2017

হামলার পর ল্যুভ জাদুঘর ফের খুলেছে

হামলার ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর দর্শনার্থীদের জন্য ফ্রান্সের প্যারিসের ল্যুভ জাদুঘর ফের খুলেছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে নয়টায় ল্যুভ জাদুঘর দর্শনার্থীদের জন্য ফের খোলে। সকালে জাদুঘরের প্রধান ফটকের সামনে বেশ কিছু দর্শনার্থীকে জড়ো হতে দেখা গেছে।
হামলার পর জাদুঘর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত শুক্রবার ল্যুভ জাদুঘরের বাইরে টহল সেনার ওপর ছুরি নিয়ে হামলা চালান এক ব্যক্তি। এ সময় হামলাকারীকে গুলি করে আহত করা হয়। দেশটির কর্তৃপক্ষ এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ কাজ বলে অভিহিত করেছে। ফ্রান্সের তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, হামলাকারী মিসরের নাগরিক। তাঁর নাম আবদুল্লাহ রেদা আল-হাম্মামি। বয়স ২৯ বছর। তিনি ভ্রমণ ভিসা নিয়ে এক সপ্তাহ আগে প্যারিসে যান।

মুসলিমদের ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে ট্রাম্পের আপিল

মুসলিমপ্রধান সাত দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার ওপর আদালতের দেওয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেছে দেশটির বিচার বিভাগ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এক নির্বাহী আদেশে ওই নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। স্থানীয় সময় গত শুক্রবার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের ফেডারেল বিচারক জেমস রবার্ট ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেন। প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প জেমস রবার্টের আদালতের ওই স্থগিতাদেশকে হাস্যকর বলে মন্তব্য করেন। তিনি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবেন বলে জানান। বিবিসির খবরে জানানো হয়, স্থানীয় সময় গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করে। আপিলকারীদের মধ্যে ট্রাম্প ছাড়াও হোমল্যান্ড সিকিউরিটি মন্ত্রী জন কেলি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন রয়েছেন। আপিলে ট্রাম্প প্রশাসন জানায়, যুক্তরাষ্ট্রকে নিরাপদ রাখতে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া দরকার। এর আগে একাধিক টুইটে ট্রাম্প বিচারক জেমস রবার্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের সমালোচনা করেন। আদালতের স্থগিতাদেশের ফলে সাতটি মুসলিম দেশের নাগরিকেরা এখন যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার আইনি বৈধতা পেয়েছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা ওই দেশগুলোর ভ্রমণকারীদের তাঁদের ফ্লাইটে বহন করা হবে বলে জানিয়েছে। গত ২৭ জানুয়ারি ট্রাম্পের দেওয়া নির্বাহী আদেশে ইরান, ইরাক, সিরিয়া, ইয়েমেন, লিবিয়া, সোমালিয়া ও সুদানের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের ওপর ৯০ দিনের জন্য নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এ দেশগুলোর ভিসা পাওয়া লোকজনও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারছিলেন না। অনেকে শেষ মুহূর্তে বিমানবন্দরে এসে আটক হন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের শরণার্থী গ্রহণের কর্মসূচি ১২০ দিনের জন্য স্থগিত করা হয়। যুদ্ধকবলিত সিরিয়ার শরণার্থীদের ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ অনির্দিষ্টকাল। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের ফলে ওই সাত দেশে দেওয়া প্রায় ৬০ হাজার মার্কিন ভিসা বাতিল হয়ে গিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কাস্টমস বিভাগ বলেছে, ওই ভিসাগুলো এখন আবার ইস্যু করা হবে আর সে ভিসা পাওয়া ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণও করতে পারবেন।

কী ছিল তাঁর মনে?

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বেশ সাড়া ফেলেছে সুইডেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রী ইসাবেলা লোভিনের একটি ছবি। এতে তিনি শুধু একদল নারী সহকর্মী পরিবেষ্টিত অবস্থায় কাগজপত্রে স্বাক্ষর করছেন। হঠাৎ এমন একটা ছবি কেন তিনি প্রকাশ করলেন, তা নিয়ে চলছে জল্পনাকল্পনা। অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে,
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিদ্রূপ করাই কি সুইডিশ উপপ্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য ছিল? ইসাবেলা লোভিন আলোচিত ছবিটিতে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক নতুন একটি আইনে স্বাক্ষর করেন। গত শুক্রবারের এ আইনে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের সময় লোভিন জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকাতে ইউরোপীয় দেশগুলোকে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আর নেতৃত্ব দেওয়ার অবস্থানে নেই।’ একে নারী সহকর্মীদের ঘিরে থাকা ছবি, তার ওপর জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের কথা উল্লেখ করে ইউরোপকে এমন আহ্বান—সব মিলিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামটা এসেই যাচ্ছে জল্পনায়। ট্রাম্প বরাবরই জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত বৈজ্ঞানিক তথ্যের বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করে এসেছেন। তা ছাড়া তাঁর ঘনিষ্ঠ কর্মীদলের মধ্যে নারীদের কম সংখ্যা গুঞ্জনকে কেবল জোরালোই করেছে। প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই ট্রাম্প একের পর এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করছেন।
এগুলোর মধ্যে গর্ভপাতবিরোধী এক নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষরের সময় তোলা ছবি বিশেষভাবে দৃষ্টি আকর্ষণ করে। ছবিটিতে দেখা যায়, হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা ট্রাম্পের আশপাশে দাঁড়িয়ে আছেন। সেখানে কোনো নারী সদস্য নেই। এদিকে ফেসবুকে পোস্ট করার ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই ইসাবেলা লোভিনের ছবিতে হাজার হাজার লাইক পড়ে। শেয়ারও হয় হাজারখানেক বার। এক ফেসবুক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘দারুণ ছবি! আশা করছি, মহাসাগরের অপর পাড়ের ব্যক্তিটিকে ছবিটি পাঠিয়েছেন।’ ট্রাম্পের নির্বাচনী স্লোগান ‘মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন’-এর অনুকরণে আরেকজন লিখেছেন, ‘মেক দ্য প্ল্যানেট গ্রেট অ্যাগেইন (এ গ্রহটাকে আবারও মহান করে তুলুন)’। টুইটারেও ইসাবেলা লোভিনের ছবিটি বেশ সাড়া ফেলেছে। সামাজিক যোগাযোগের এই মাধ্যমেও ব্যবহারকারীরা প্রশংসায় ভাসিয়েছেন তাঁকে। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আইনে স্বাক্ষরের সময় তোলা ছবিটি প্রকাশ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে যেভাবে একহাত নিলেন সুইডিশ উপপ্রধানমন্ত্রী, তা আমার খুব ভালো লেগেছে।’

ট্রাম্পের হাতে স্ট্যাচু অব লিবার্টির মুণ্ডু!

যুক্তরাষ্ট্রের সুপরিচিত স্থাপত্য স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের প্রতীক স্ট্যাচু অব লিবার্টির মুণ্ডুপাত করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—  এমন একটি আঁকা ছবি প্রচ্ছদে ব্যবহার করেছে প্রভাবশালী জার্মান সাময়িকী ডের স্পিগেল। বিষয়টি আলোচনার ঝড় তুলেছে। ডের স্পিগেল সাময়িকীর গতকাল শনিবারের সংখ্যার প্রচ্ছদে ছবিটি ব্যবহার করা হয়। ছবিতে দেখা যায়, ট্রাম্পের আদলের সুট-টাই পরা এক ব্যক্তির বাঁ হাতে রক্তাক্ত ছোরা। তার ডান হাতে স্ট্যাচু অব লিবার্টির ‘লেডি লিবার্টির’ ধড়হীন মাথা। কাটা মুণ্ডু থেকে রক্ত ঝরছে। ছবিটির নিচে লেখা, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ (সবার আগে আমেরিকা)। ছবির মানুষটির চুল ট্রাম্পের আদলে।
মুখমণ্ডলে কোনো চোখ নেই। প্রচ্ছদের শিল্পী এডেল রড্রিগেজ ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, ‘এটা গণতন্ত্রের শিরশ্ছেদকরণ, পবিত্র প্রতীকগুলোর শিরশ্ছেদকরণ।’ এডেল রড্রিগেজ ১৯৮০ সালে রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে কিউবা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন। তাঁর প্রচ্ছদটি টুইটার এবং জার্মানি ও আন্তর্জাতিক প্রচারমাধ্যমে ঝড় তুলেছে। জার্মানির ফ্রি ডেমোক্র্যাটস সদস্য ও ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার গ্রাফ লাম্বসডরফ একে ‘রুচিহীন’ আখ্যা দিয়েছেন। জার্মানির সাম্প্রতিক উদার শরণার্থী নীতির ওপর ট্রাম্প ও তাঁর সহযোগীদের টানা নিন্দার পরিপ্রেক্ষিতে এ প্রচ্ছদ আঁকার ঘটনা ঘটল।

ইরানের ওপর ট্রাম্পের অবরোধ: এরপর কী?

ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালানো ও ইয়েমেনের শিয়া হুতি বিদ্রোহীদের সমর্থনের জবাব হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে আবার অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। অবরোধের বিধানগুলোর মূলে রয়েছে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি। যেসব গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠান ওই কর্মসূচির রসদ সরবরাহ করে, তাদের অবরোধের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন নতুন অবরোধের আওতায় থাকা খুব কমসংখ্যক ব্যক্তি বা দেশই যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবসা করে। ফলে এর প্রত্যক্ষ প্রভাব বের করা সহজসাধ্য হবে না। তবে এ অবরোধ আরোপের মার্কিন সিদ্ধান্ত তেহরানে নতুন বার্তা পাঠাচ্ছে। তা হচ্ছে, ওয়াশিংটনে হাওয়া বদল হচ্ছে। ইরান সম্পর্কে আগের সরকারের অবস্থানে নেই ট্রাম্প প্রশাসন। ওবামার প্রশাসন ইরানের সঙ্গে সম্পর্কটাকে দেখছিল আলোচনা ও সমঝোতার আলোকে। ওবামা তেহরানের পরমাণু কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করেছেন। আঞ্চলিক পরিসরে কট্টরপন্থী সংগঠন হামাস ও হিজবুল্লাহকে সাহায্য করে ইরান। সিরিয়ার বাশার আল-আসাদের পক্ষাবলম্বন করেছে দেশটি। ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সহযোগিতা করছে ইরান। প্রতিবেশী ইরাকেও নিজেদের প্রভাবের বলয় বাড়াতে চায় দেশটি। এর সব কটিই মার্কিন স্বার্থবিরোধী। এত কিছুর পরও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে আটকাতে দেশটির সঙ্গে পরমাণু চুক্তি করেন ওবামা। যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমা মিত্ররা চুক্তির ব্যাপারে ইতিবাচক ছিলেন। কিন্তু ইসরায়েল, সৌদি আরব ও উপসাগরীয় দেশগুলোতে এ নিয়ে বেশ উদ্বেগ ছিল। তাদের আশা ছিল, ট্রাম্প ক্ষমতায় এসে চুক্তিটি বাতিল করে দেবেন। অনেকটা তাই হচ্ছে। তেহরানের ওপর এসেছে নতুন অবরোধ। কিন্তু চুক্তি বাতিলের বিষয়টি যত সহজ মনে করা হচ্ছে, আদতে ততটা সহজ হবে না। সম্প্রতি ইসরায়েলে এক সম্মেলনে বিশেষজ্ঞরা অভিমত দিয়েছেন, একটি খারাপ চুক্তি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হওয়া অন্তত কোনো চুক্তি না থাকার চেয়ে ভালো। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব ক্রমশ বেড়ে চলা যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের জন্য আশঙ্কার বিষয়। আশপাশের দেশগুলোতে ইরানের প্রভাব বলয় বাড়ার মানে হলো দেশটি ইসরায়েলের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছে। বাস্তবতা হচ্ছে, বর্তমান অবস্থার পেছনে মার্কিন সামরিক বাহিনীর বড় ভূমিকা আছে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে উৎখাতের মাধ্যমে ইরানের প্রভাব বলয় বাড়ানোর দরজা খুলে দেয় ওয়াশিংটন। আবার ইরাকে জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়াইয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একধরনের মিত্র। সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওবামা প্রশাসনের ব্যর্থতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সুন্নি গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়সারা গোছের উদ্যোগ শিয়া শক্তিগুলোকে আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গির আমূল পরিবর্তনের নীতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। এই অবরোধ সেটিরই প্রথম পদক্ষেপ।
ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের আন্তর্জাতিক সমর্থন পাবে, তা একটা বড় প্রশ্ন। মার্কিন প্রশাসনের অবশ্য একটা যুক্তি আছে। সেটা হচ্ছে, পরমাণু অস্ত্রবাহী কোনো ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা না করতে ইরানের প্রতি জাতিসংঘে গৃহীত প্রস্তাব। যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা তথ্য অনুসারে ইরানের পরীক্ষা করা নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে পরমাণু অস্ত্রসহ আঘাত হানতে সক্ষম। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলছে, তারা পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর বিধিনিষেধ মেনে চলতে এবং আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করার মতো আচরণ করলে ইরানকে ‘জবাবদিহি করাবে’। কিন্তু ‘জবাবদিহি করাবে’ বলতে ট্রাম্প প্রশাসন কী বোঝাতে চাইছে, তা স্পষ্ট নয়। পারস্য উপসাগরীয় জলরাশিতে এই দুটি দেশের যুদ্ধজাহাজ প্রতিদিন খুব কাছাকাছি আসে। উত্তেজনা থেকে বড় ধরনের সংঘাত বেধে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র কি তবে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের পথেই চলছে? দেশটির বাগাড়ম্বরে হয়তো সেটাই মনে হবে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বাস্তব কার্যকলাপ আর ইরান তার কী জবাব দেয়, তার ওপরই নির্ভর করবে সবকিছু।

ট্রাম্পকে নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের উদ্বেগ প্রকাশ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতারা মাল্টায় তাঁদের বিশেষ শীর্ষ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, বিশ্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরোপের ঐক্যবদ্ধ তৎপরতা প্রয়োজন। উত্তর আফ্রিকার দেশ লিবিয়া থেকে শরণার্থী ও অভিবাসীদের ব্যাপকহারে সমুদ্রপথে ইতালিতে প্রবেশ ঠেকাতে ইইউর ২৮টি দেশ একটি পরিকল্পনায় সর্বসম্মত সমর্থন দিয়েছে। এর আওতায় ওই জনস্রোত রুখতে লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনীকে ইইউ ২১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলারের সমমূল্যের সহায়তা দেবে। তবে ইইউর এ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রশাসনের কর্মকাণ্ডই বাকি সব আলোচনা ছাপিয়ে গেছে। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ বলেছেন, যুক্তরাজ্যের ইইউ ছেড়ে যাওয়ার (ব্রেক্সিট) সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘অগ্রহণযোগ্য’ মন্তব্য করেছেন। ইইউর ব্যাপারে তাঁর নাক গলানো উচিত নয়। অন্য নেতারা বলেছেন, তাঁরা আটলান্টিকের অপর পারের সঙ্গে সুসম্পর্ক অটুট রাখতে চান। তবে ইইউ থেকে আরও দেশের বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষে এবং ন্যাটোকে ‘সেকেলে’ বলতে পারেন, এমন একজন মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে বাস্তবমুখী হতেই হয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে, জার্মানির চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল ও ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদ ট্রাম্পের সঙ্গে নিজেদের আলাপের অভিজ্ঞতা জোটের অন্য নেতাদের সঙ্গে বিনিময় করেছেন। মে তাঁর সাম্প্রতিক ওয়াশিংটন সফরের কথা উল্লেখ করে বলেন, ন্যাটো জোটের প্রতি ট্রাম্প ‘শতভাগ অঙ্গীকারবদ্ধ’ আছেন। ইইউর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাস্ক বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে ইইউর জন্য প্রধান প্রধান হুমকির মধ্যে রাশিয়া, চীন এবং ইসলামি কট্টরপন্থার পাশাপাশি ট্রাম্পও রয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সুসম্পর্ককে ইইউ সবচেয়ে বেশি রাজনৈতিক অগ্রাধিকার দেয়। তবে ইউরোপীয়দের এখন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ সাময়িক নিষিদ্ধ ঘোষণা করে ট্রাম্প ইউরোপে বিশেষ উদ্বেগ তৈরি করেছেন। সম্মেলনে উপস্থিত অস্ট্রিয়ার চ্যান্সেলর ক্রিস্টিয়ান কার্ন বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত সমস্যাসংকুল’ আখ্যা দিয়েছেন। আর বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী শার্ল মিশেল টাইম সাময়িকীকে এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইইউর এখন খুব জোরদার সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এসেছে। গত কয়েক মাসে ব্রেক্সিট, ট্রাম্পের বিজয় প্রভৃতি বড় পরিবর্তন ঘটেছে। এর মানে, এবার ইউরোপকে নড়েচড়ে বসতে হবে। অভিবাসী ও শরণার্থীদের নিয়ে ইইউর সংকট এখনো রয়ে গেছে। মাল্টা সম্মেলনে ইউরোপীয় নেতারা লিবিয়া হয়ে নৌপথে অভিবাসীদের আগমনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। ভূমধ্যসাগরের ওই পথে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় গত বছর অন্তত ১ লাখ ৮১ হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েছে। ইইউর পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিবাসীদের আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমায় পৌঁছানোর আগেই আটকানোর জন্য লিবিয়ার উপকূলরক্ষী বাহিনীকে আরও বেশি সামর্থ্য অর্জনে সাহায্য করতে হবে। ইতালি ইতিমধ্যে লিবিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে একটি চুক্তি করেছে।

চলে গেলেন লুলার স্ত্রী

ব্রাজিলের সাবেক ফার্স্ট লেডি মারিসা লেতেসিয়া দ্য সিলভা (৬৬) মারা গেছেন। তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দ্য সিলভার স্ত্রী ছিলেন। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর নিজেই জানান লুলা দ্য সিলভা। লুলা বলেন, মস্তিকে রক্তক্ষরণের কারণে কয়েক দিন আগে তাঁর স্ত্রীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
তখন থেকেই আশঙ্কাজনক অবস্থা ছিল তাঁর। গত শুক্রবার তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত ঘোষণা করা হয়। গতকাল শনিবার বন্দরনগর সাও পাওলোতে সাবেক এই ফার্স্ট লেডির শেষকৃত্য অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।