Sunday, May 18, 2014

সম্পর্ক এগিয়ে নিতে উদ্যোগী বাংলাদেশ-মোদি ও রাজনাথকে শেখ হাসিনার চিঠি by রাহীদ এজাজ

গত শুক্রবার ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির বিপুল বিজয়ের ছবিটা স্পষ্ট হয়ে গেলে দুপুরেই বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদি ও দলের সভাপতি রাজনাথ সিংকে অভিনন্দন জানিয়ে চিঠি পাঠান শেখ হাসিনা। দুই চিঠির মূল বক্তব্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করা। ঢাকার উচ্চপর্যায়ের সরকারি সূত্রে জানা গেছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুরেই ভারতের ভাবী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে শুভেচ্ছা বার্তা পাঠান। একই দিন শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগ সভানেত্রী হিসেবে বিজেপি সভাপতি রাজনাথ সিংকেও চিঠি পাঠান। দুই চিঠিতেই নির্বাচনে জয়লাভের জন্য বিজেপি নেতাদের শুভেচ্ছা জানান শেখ হাসিনা। তিনি তাঁদের দুজনকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

ভারতে ঐতিহ্যের রাজনীতির অবসান? by কামাল আহমেদ

সাম্প্রতিক কয়েকটি মাস ধরে বিশ্বের নানা প্রােন্ত চলছে উৎসব—গণতন্ত্রের উৎসব। নির্বাচনের উৎসব। নির্বাচন হয়েছে আফগানিস্তান, ইরাক, আলজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে। ইউরোপজুড়েও আগামী সপ্তাহে একটি (ইউরোপীয় পার্লামেন্ট) নির্বাচনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও ইরাকের কথা একেবারেই আলাদা।

ভারতে ঐতিহ্যের রাজনীতির অবসান?

সাম্প্রতিক কয়েকটি মাস ধরে বিশ্বের নানা প্রােন্ত চলছে উৎসব—গণতন্ত্রের উৎসব। নির্বাচনের উৎসব। নির্বাচন হয়েছে আফগানিস্তান, ইরাক, আলজেরিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারতে। ইউরোপজুড়েও আগামী সপ্তাহে একটি (ইউরোপীয় পার্লামেন্ট) নির্বাচনের কথা রয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তান ও ইরাকের কথা একেবারেই আলাদা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক উৎসবটি হয়ে গেল ভারতে। সাড়ে ৮২ কোটি ভোটারের উৎসব। নির্বাচিত হলেন প্রায় সোয়া শ কোটি মানুষের নতুন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিবেশীর এই আনন্দে স্বভাবতই বাংলাদেশিদের উৎফুল্ল হওয়ার কথা। কিন্তু, অনেকেই সেখানে কিছুটা বিষাদের ছায়া দেখছেন। কারণ, তাঁরা তাঁদের ভোটের উৎসবটি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তাঁদের ধারণা, ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন প্রহসন মঞ্চায়নের অন্যতম প্রধান কারণ ওই বৃহৎ প্রতিবেশীর সমর্থন। সারা বিশ্বের অন্য কেউ সমর্থন না করলেও তাঁরা ওই একতরফা নির্বাচনকে সমর্থন করেছেন। এঁদের বিশ্বাস, ওই সমর্থনটুকু না পেলে একতরফা নির্বাচন থেকে পিছিয়ে গিয়ে বাংলাদেশের ক্ষমতাসীনেরা সবার অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে বাধ্য হতেন। সুতরাং, নয় সপ্তাহ ধরে ভারতবাসীর ভোট দেওয়ার উৎসব দেখে ছোট প্রতিবেশীর ভোটবঞ্চিত অনেক নাগরিকের কিছুটা মর্মপীড়া হতেই পারে। ভারতের সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনের অবশ্য অন্য একটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। আর তা হলো দেশটির স্বাধীনতার পর এই প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলনের ঐতিহ্য ও কৃতিত্বের রাজনৈতিক পুঁজি ভোটের বাজারে এবার আর কাজ করেনি। ব্রিটিশ উপনিবেশের নিগড় থেকে ভারতের মুক্তিলাভের আন্দোলনে মূল নেতৃত্ব ও কৃতিত্বের দাবিদার যে রাজনৈতিক দল, সেটি হচ্ছে কংগ্রেস এবং তার নেতৃত্বে থাকা নেহরু পরিবার। নেহরু পরিবার এবং কংগ্রেস গত ৬৭ বছরে নানা ধরনের সাময়িক বিপর্যয় বা বিপত্তির মুখে পড়লেও তার বিকল্প হিসেবে কোনো সর্বভারতীয় রাজনৈতিক শক্তির উত্থান এর আগে ঘটেনি।
বিশাল এই দেশটির বিভিন্ন প্রােন্ত নানা ধরনের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক সাফল্য অনেক ক্ষেত্রেই এ ধরনের সর্বভারতীয় বিকল্প গড়ে ওঠার পথে অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় জনতা পার্টি, বিজেপি এর আগে একাধিকবার ক্ষমতায় এলেও দেশটির বেশ কয়েকটি অঞ্চলে তাদের অবস্থান ছিল একেবারে দুর্বল অথবা শূন্য। কিন্তু, এবার সর্বভারতীয় পটভূমিতে তাদের যে নাটকীয় সাফল্য ও উত্থান, তার মধ্য দিয়ে দেশটির রাজনীতিতে কংগ্রেসের একচেটিয়া আধিপত্যের যে অবসান ঘটল, তাতে সন্দেহের আর কোনো অবকাশ নেই। বিজেপির এই বিজয়ের নায়ক যে হিন্দু জাতীয়তাবাদের ধারক, কর্মঠ এবং উন্নয়নমুখী রাজনীতিক নরেন্দ্র মোদি, তাতে সন্দেহ নেই। ‘গুজরাটের কসাই’ খেতাব সত্ত্বেও নরেন্দ্র মোদি ভারতের কোটি কোটি ভোটারকে উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন ও সমৃদ্ধির স্বপ্ন দেখিয়েছেন। চা-ওয়ালা থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো বড় হওয়ার স্বপ্ন। ফলে, ধর্মীয় আবেগকে কাজে লাগানোর পাশাপাশি একটি নতুন ভারতের স্বপ্নে ভারতবাসীকে উজ্জীবিত করায় সফল হয়েছেন মি. মোদি এবং তাঁর দল বিজেপি। ভারতের রাজনীতিতে নরেন্দ্র মোদির বিজয় যে রূপান্তরের (ইংরেজিতে মোডিফিকেশন) সূচনা করেছে তাকে অনেকে ‘ভারতের মোদিফিকেশন’ বলেই অভিহিত করছেন। মোদিমত্ত ভারতে সাত দশক আগের স্বাধীনতার কৃতিত্ব ও উত্তরাধিকারের রাজনীতি এবার আর হালে পানি পায়নি। এমনকি, আসনসংখ্যা (১০ শতাংশেরও নিচে) এতই কম যে এককভাবে কংগ্রেসের সংসদীয় বিরোধী দলের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পাওয়াটাই তাদের জন্য দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তার কারণ, দুর্নীতি (জামাই রবার্ট ভদ্রের শতকোটিপতি হওয়ার অভিযোগ), অপশাসন, আত্মম্ভরিতা ও জনবিচ্ছিন্নতা। জোটের ছোট শিরক ও আঞ্চলিক দলগুলোর চাপের কাছে জিম্মি হওয়ার কারণে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকারের শাসনব্যবস্থা ছিল দুর্বল (যেটা বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্যর্থতাতেও দৃশ্যমান)।
নেপথ্য থেকে নেহরু পরিবারের নির্দেশনায় পরিচালিত সরকারের সব ব্যর্থতার দায় তাই শেষ পর্যন্ত বর্তেছে স্বল্প ও মৃদুভাষী সজ্জন ব্যক্তি মনমোহন সিংয়ের ঘাড়ে। ভারতের রাজনীতিতে এই অভাবনীয় পরিবর্তনের এক সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম যুক্তিনির্ভর ব্যাখ্যা পাওয়া যায় গার্ডিয়ান পত্রিকার সাম্প্রতিক এক সম্পাদকীয়তে (৫ মে ২০১৪)। এতে বলা হয়েছে, উপনিবেশের নিগড় থেকে মুক্তি পাওয়া কোনো দেশে প্রকৃত অর্থেই যদি রাজনীতি প্রত্যাশা করতে হয়, তাহলে প্রয়োজন ‘স্বাধীনতা’ থেকে মুক্তি অর্থাৎ স্বাধীনতার রাজনীতি থেকে মুক্তি। স্বাধীনতার রাজনীতির এই জটিল সমীকরণ ব্যাখ্যা করে বলা হয় যে পাশ্চাত্যের সাম্রাজ্যগুলো থেকে স্বাধীনতা লাভের পর বিশ্বের নানা প্রােন্ত বিভিন্ন দেশেই এটি পরিলক্ষিত হয়েছে। স্বাধীনতা আন্দোলনে যে দলের জন্ম অথবা উত্থান ঘটেছে, সেই দলটিই সে দেশে স্বাধীনতা-উত্তর রাজনীতিতে প্রাধান্য বজায় রেখেছে। সম্পাদকীয়তে বলা হয় যে এটা যেমন স্বাভাবিক তেমনি অস্বাভাবিক। স্বাভাবিক, কেননা, যাঁরা দেশটির স্বাধীনতার জন্য লড়াই ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের প্রতি সবাই কৃতজ্ঞবোধ করে এবং তাঁরা শ্রদ্ধা অর্জন করেন। ফলে, রাজনীতিতে নতুন কারও আবির্ভাবের বিপরীতে তাঁরা কিছুটা বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকেন। তবে, এই উত্তরাধিকারের অস্বাভাবিকতা হচ্ছে এই যে রাজনীতিতে নতুন শক্তির উত্থান কঠিন হয়ে পড়ে এবং তাদের অধিকতর প্রতিকূলতা মোকািবলা করতে হয়। দলভিত্তিক রাজনীতিতে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা কঠিন হয়ে পড়ে। ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা ও আলজেরিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে পত্রিকার সম্পাদকীয়তে বলা হয়,
ভারতে স্বাধীনতা আন্দোলনের দল কংগ্রেসের এই একচ্ছত্র প্রভাব দূর হতে কেটে গেছে কয়েক দশক। পত্রিকাটি বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকা বা আলজেরিয়ায় সে রকম সম্ভাবনা এখনো সুদূরপরাহত। ব্যাপক দুর্নীতি, অব্যাহত দারিদ্র্যের চাপ, বেকারত্ব সত্ত্বেও সেখানে আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসের (এএনসি) আবারও নির্বাচনে জয়ী হয়েছে এবং দল যদি বিকল্প বিবেচনা না করে, তাহলে দুর্নীতির অভিযোগ ও অপশাসনের জন্য বহুল সমালোচিত জ্যাকব জুমা প্রেসিডেন্ট পদে পুনর্নির্বাচিত হবেন বলেই সবার ধারণা। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির একটি বড় অভিযোগ হচ্ছে, নিরাপত্তা বাড়ানোর অজুহাতে নিজের ব্যক্তিগত বাসভবনের উন্নয়নে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের দুই কোটি ৩০ লাখ ডলার ব্যয়। আলজেরিয়ায় সে রকম কোনো দল না থাকলেও স্বাধীনতাসংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী কতিপয় সেনাপতির শিখণ্ডী নিষ্ঠুরতার জন্য নিন্দিত এবং অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট আবদেল আজিজ বুথেফ্লিকা। ৫০ বছর ধরে দেশটিতে যা চলছে, তা গণতন্ত্রের নামে মশকরা বা সাজানো নাটক। গার্ডিয়ান তার সম্পাদকীয়তে বলেছে যে এসব দেশের গতিপথ যা তুলে ধরেছে তা হলো, যেসব জাতি স্বাধীনতার পূজা করছে, তারা তা করছে তাদের দুর্ভোগের বিনিময়ে। আর, তাই প্রকৃত রাজনীতির উত্থানের জন্য প্রয়োজন ‘স্বাধীনতা’ থেকে স্বাধীনতা। পত্রিকাটির এই বিশ্লেষণ বাস্তবে আরও অনেক দেশের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
দুই. হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির উত্থানে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সমুন্নত রাখার অঙ্গীকারের ভবিষ্যৎ এখন কী, সেই প্রশ্ন এখন অনেকটাই অবান্তর। বরং, এখনকার প্রধান দুশ্চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার এই বিষবাষ্প ভারতের বাইরে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় কতটা দূষণ ঘটাবে, সেই শঙ্কা। এই উদ্বেগের মূলে রয়েছে প্রতিবেশীদের রাজনীতিতে ভারতের প্রভাব, যার সর্বসাম্প্রতিক দৃষ্টান্ত বাংলাদেশ। দেশটিতে ইসলামপন্থী রাজনীতির উত্থানের আশঙ্কায় ভারতের নীতিনির্ধারকদের উদ্বেগ এতটাই তীব্র ছিল যে প্রতিবেশীর অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে খোলামেলা হস্তক্ষেপের দৃষ্টান্ত স্থাপনেও তাঁরা পিছপা হননি। জাতীয় পার্টির প্রধান জেনারেল এরশাদের সঙ্গে বৈঠকে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিবের খোলামেলা মন্তব্য ছিল রীতিমতো এক বিস্ময়। মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিকে নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার কারণটি খুব সোজা। কেননা, নরেন্দ্র মোদি যেমন বাজপেিয় নন, তেমনি মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপিও সেই বিজেপি নয়। নরেন্দ্র মোদি গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী হয়েও মুসলিম নিধনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে না পারায় বাজপেিয় ব্যথিত হয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাজধর্মের (শাসকের ধর্ম) রীতি মেনে সব নাগরিকের প্রতি সমতার নীতি অনুসরণে মুখ্যমন্ত্রী ব্যর্থ হয়েছেন। তিনি এমনকি মি. মোদিকে দল থেকে বহিষ্কার না করলে নিজে দল থেকে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছিলেন।
কামাল আহমেদ: প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি, লন্ডন৷

আলোয় আলোয় পর্যটন

২০০৬ সালে আমার একটি পর্যটনবিষয়ক বই ছাপা হয়েছিল, যার শিরোনাম ছিল আলো-আঁধারে বাংলাদেশের পর্যটন। সে সময় বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত তৎকালীন পর্যটনমন্ত্রীসহ অন্যরা বইটির ব্যাপক প্রশংসার পাশাপাশি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে একদিন পর্যটনের এই অমানিশা কেটে আলোয় ভরে উঠবে দেশের পর্যটনশিল্প এবং তখন আমার পরবর্তী বইয়ের শিরোনাম হবে আলোয় আলোয় বাংলাদেশের পর্যটন। কথাগুলো বলছি এ কারণে যে দুই-তিন মাস ধরে বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প নিয়ে বিভিন্ন মহলে নানা ধরনের কথাবার্তা উচ্চারিত হচ্ছে। কি টিভি টক শো, কি সরকাির বিভিন্ন পর্যটন-সংক্রান্ত সভা, কি পত্র-পত্রিকায় লেখালেখি—সর্বত্রই এখন পর্যটনশিল্পের জয়জয়কার। স্বাধীনতার পর গত ৪৩ বছরে যে পর্যটনশিল্প ছিল সব সরকারের প্রায়োরিটি লিস্টের নিচে, তা হঠাৎ এত গুরুত্ব পেল—এ সত্যিই আনন্দের। বিশেষ করে আমরা—যারা এ শিল্পের মাঠপর্যায়ের নির্মাণশ্রমিক—তাদের তো আনন্দ হওয়ারই কথা। আমরা বারবার শুনে এসেছি যে বিগত কোনো সরকারই পর্যটনশিল্পের ব্যাপারে আগ্রহী ছিল না। কিংবা অন্যভাবে বলা যায়, পর্যটনশিল্পের ব্যাপারে তাদের ধারণাটাই ছিল নেতিবাচক। ১৯৯২ সালে বিএনপি সরকারের আমলে প্রথম পর্যটন নীতিমালা প্রণীত হয়েছিল, এরই আলোকে একটি ন্যাশনাল টুরিজম কাউন্সিল হয়েছিল, যার প্রধান হচ্ছেন স্বয়ং দেশের প্রধানমন্ত্রী। দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে, এর প্রায় নয় বছর পর ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এই কাউন্সিলের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। এরও প্রায় নয় বছর পর ২০১০ সালে এই কাউন্সিলের দ্বিতীয় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। সে বিবেচনায় ২০১৯ সালে তৃতীয় সভাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
সুতরাং সরকারের সূিচতে পর্যটনশিল্পের কোথায় অবস্থান। কিন্তু হঠাৎই এ বছরের শুরুতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পর্যটনবিষয়ক বিভিন্ন সরকাির সংস্থার আমন্ত্রণে সভায় যোগদানের ডাক পড়ে। সেখানেই প্রথম জানতে পারি, বর্তমান সরকার এবারের অর্থবছরে পর্যটনশিল্পকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। এবারের জাতীয় বাজেটে অর্থমন্ত্রী পর্যটনশিল্পের ওপর একটি বিশেষ পরিপত্র উপস্থাপন করবেন। এর জন্য পর্যটন-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পর্যটন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের এসব জরুির বৈঠক। এর মধ্যে সবচেয়ে চমকপ্রদ খবর হচ্ছে, ৮ মে প্রধানমন্ত্রী বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে অফিস এবং সভা করে দেশের পর্যটনশিল্পকে গতিশীল করার নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া ১০ মে এফবিসিসিআই ও এনটিভির যৌথ উদ্যোগে সরাসরি অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আবারও এ বছরের বাজেটে পর্যটনশিল্পের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া এবং বাজেট বরাদ্দের ঘোষণা দেন। সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, পর্যটনশিল্পের ওপরে সরকারের নজর পড়েছে। আমরা, বেসরকারি পর্যটন সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়, পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং এনবিআরে আমাদের প্রস্তাবগুলো পেশ করেছি। পাঠকদের সুবিধার্থে দু-তিনটি প্রস্তাব উল্লেখ করতে চাই: প্রথমত, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক (নথি নং জারাবো/আঃ অঃ বি/কর-৭/০২/২০১১(অংশ-১/১৫০) ২৮/০৭/২০১১ তারিখের আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪-এর ৫২(Q) ধারার আদেশটি বাংলাদেশের বিকাশমান পর্যটনশিল্পের উন্নয়ন এবং বিকাশের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধক বিধায় তা রহিত করার জন্য অনুরোধ করছি। কারণ, একজন টুর অপারেটর কোনো ভ্রমণ পরিচালনার জন্য

টানাপোড়েন বাড়বে না কমবে?

নরেন্দ্র মোদি
ভারতের নির্বাচনে বিজেপির বিজয়ের ফলে এটা নিশ্চিত যে নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন। ১০ বছর পরে ভারতের ক্ষমতাঁয় পরিবর্তনের ফলে ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কোনো পরিবর্তন ঘটবে কি না, সেই প্রশ্ন এখন অনেকেরই মনে। এই প্রশ্নের প্রধান কারণ এটা নয় যে দেশের ধর্মভিত্তিক দক্ষিণপন্থী দল ভারতীয় জনতাঁ পার্টি (বিজেপি) ক্ষমতাঁসীন হচ্ছে। প্রশ্ন ওঠার কারণ বিজেপির নেতাঁ হিসেবে যিনি প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন, তাঁর বিষয়ে অনেকেরই আপত্তি রয়েছে। গুজরাটে ২০০২ সালে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ওপরে হামলা ও হত্যাযজ্ঞের সময় মোদি ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এই ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্ত্বেও তিনি এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও কোনো রকম দায়িত্ব স্বীকার করেননি। যদিও আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ করার মতো যথেষ্ট প্রমাণাদি মেলেনি, কিন্তু তাঁর কট্টরপন্থী অবস্থান বিষয়ে কোনো রকম ভিন্নমত নেই। গুজরাট দাঙ্গায় সংশ্লিষ্টতাঁর অভিযোগ থাকায় যুক্তরাষ্ট্র ২০০৫ সালে নরেন্দ্র মোদির ভিসা বাতিল করে দেওয়ার কারণে অনেকেই ভাবেন যে এখন মোদি সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক কী দঁাড়াবে।
কোনো অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি হবে কি না। যদিও এখন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসন নিলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসার বিষয়টি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়বে, কেননা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদির ভিসার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকতাঁমাত্র। মোদি তাঁর বিরুদ্ধে নেওয়া এই ব্যবস্থা কতটা মনে রাখবেন, সেটা অবশ্যই ভিন্ন প্রশ্ন। যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কের ব্যাপারে প্রশ্ন উঠছে তাঁর আরেকটি কারণ হলো, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে এই দুই দেশের মধ্যে একধরনের প্রকাশ্য টানাপোড়েন চলছে। নিউইয়র্কে একজন ভারতীয় কূটনীতিককে গ্রেপ্তাতাঁরের মধ্য দিয়ে বিষয়টি প্রকাশ্য রূপ লাভ করে। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ভারত এমন সব পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা থেকে বোঝা যায় যে আসন্ন নির্বাচনের জন্য অভ্যন্তরীণ রাজনীতি দিয়ে সরকার প্রভাবিত হয়েছে। কিন্তু তাঁতে এটাও স্পষ্ট হয় যে এটার পেছনে অনেক দিন ধরে অপ্রকাশ্য টানাপোড়েন চলছিল। বাংলাদেশের নির্বাচন বিষয়ে মতপার্থক্য গত বছর গ্রীষ্মকাল থেকেই জানা যায়। তদুপরি মার্কিন ব্যবসায়ীরা অনেক দিন ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে ভারত পেটেন্ট আইন এবং আন্তর্জাতিক ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি রাইটস বা মেধাসম্পত্তি অধিকার ভঙ্গ করে চলেছে। ভারতের ওষুধশিল্পের বিরুদ্ধেই সবচেয়ে বড় অভিযোগ মার্কিন ব্যবসায়ীদের। একসময় ভারতকে প্রায়োরিটি ফরেন কান্ট্রি হিসেবে তাঁলিকাভুক্ত করার জন্যও মার্কিন শিল্প উৎপাদকেরা দাবি তুলেছিলেন; এই তাঁলিকাভুক্ত হলে ভারতের কোনো কোনো শিল্পের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা সম্ভব হবে। এগুলো ছাড়াও ভারতের সঙ্গে ২০০৮ সালে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক সহযোগিতাঁ চুক্তির বাস্তবায়নে ওবামা প্রশাসন খুব বেশি অগ্রসর হয়নি। কয়েক বছর ধরেই দুই দেশের সম্পর্কে যে

ভাড়াটে মানুষের দেশ

কিছুদিন আগে সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে ‘ভাড়া খাটছে ছাত্রলীগ’। ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাঁ টাকার বিনিময়ে অপহরণ করে মানুষকে বন্দী রাখছেন খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসে। এর আগে নারায়ণগঞ্জে সাত খুনের ঘটনার পর মানুষ হত্যার কাজে ভাড়া খাটেন র‌্যাবের কোনো কোনো সদস্য, এমন সাক্ষ্য-আলামত পাওয়া গেছে। অভিযোগমতে, এসব হীন অপরাধের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে সরকারি গাড়ি, কার‌্যালয়, নৌকা এমনকি সরকারি রশি! ছাত্রসমাজ আমাদের ভবিষ্যৎ, ছাত্রলীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জ্বলন্ত মশাল।
র‌্যাব অপরাধ দমনে গঠিত বিশেষায়িত বাহিনী। এদের কেউ কেউ যদি অপরাধ করার কাজে ভাড়া খাটে, তাঁহলে আমাদের খুব বিচলিত হওয়া উচিত। কিন্তু আসলেই কি খুব বিচলিত আমরা সবাই? নারায়ণগঞ্জে সাতটি লাশ একসঙ্গে ভেসে উঠে আমাদের চেতনায় আছড়ে না পড়লে কিংবা প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে নিহত নজরুলের শ্বশুর মুখ না খুললে র‌্যাবের ভাড়া খাটা নিয়ে এতটা বিচলিত কি হতাঁম আমরা? এ ঘটনার পরপরই ছাত্রলীগ ভাড়ায় অপহরণ না করলে আদৌ কি এভাবে আলোচিত হতো বিষয়টি?আমার ধারণা, এসব কিছুই হতো না। হতো না যে তাঁর একটা কারণ সম্ভবত কোনো না কোনোভাবে ভাড়া খাটতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি আমরা অনেকে। অপহরণ, খুন বা গুম সরাসরি করি না আমরা অনেকেই, দুর্নীতিতেই সরাসরি অংশগ্রহণ নেই অনেকের। কিন্তু এসব অপরাধ এবং আরও অনেক অপরাধকে প্রশ্রয় দিয়ে, ধামাচাপা দিয়ে, লঘু করে দেখিয়ে কিংবা নানাভাবে তাঁকে উৎসাহিত করে থাকি আমরা অনেকেই। আর তাঁ যদি হয় কোনো পদ-পদবি, খেতাঁব, ব্যবসা, লাইসেন্স, প্রভাব-প্রতিপত্তির লোভে; তাঁহলে আমরাও কি অনেকে ভাড়া খাটি না ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থে! ভাড়াটে লোকের সংখ্যা বাড়ছে দেশে।
বিবেক-বুদ্ধি-নৈতিকতাঁ বিসর্জন দিয়ে ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থে ভাড়া খাটা লোক আমাদের চারপাশে অনেক বেশি বেড়ে যাচ্ছে বলে নারায়ণগঞ্জের মতো ঘটনা ঘটছে। নারায়ণগঞ্জে এত বড় ঘটনা ঘটার পর তাঁর বিচার হবে কি না, তাঁর বিচার করার মতো সদিচ্ছা বা সামর্থ্য এই রাষ্ট্রের আছে কি না, তাঁ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমাদের অনেকের বিবেক প্রজ্বলিত হচ্ছে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড নিয়েও তাঁ-ই হয়েছিল। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সবচেয়ে সোচ্চার ছিলেন যে সাংবাদিক নেতাঁ, তিনি পরে উচ্চপদ আর নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন সরকারের কাছ থেকে। তাঁর উচ্চকণ্ঠ থেমে গেছে। তাঁর প্রজাতির আরও অনেকের কণ্ঠের তেজ কমেছে নানা সুযোগ-সুবিধা পেয়ে। আগের আমল খুঁজলে ঠিক এমন না হলেও কাছাকাছি ঘটনা খুঁজে পাওয়া যাবে। সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড যদি ধামাচাপা দেওয়া যায়, সাত খুনের মামলাকেও একদিন ধামাচাপা দেওয়া যাবে। অন্তত অনেকের আশঙ্কা এমনই। এই ধামাচাপা দেওয়ার কাজে ভাড়া খাটা লোকের অভাব হবে না। এ কাজে যে ভাড়াটেরা প্রকাশ্যে বা গোপনে ভূমিকা রাখতে পারবেন, তিনি বা তাঁরা পুরস্কৃত হবেন। নতুন অঘটন, নতুন চাঞ্চল্য, নতুন উত্তেজনা, নতুন বিতর্কে

মোদিকে মায়ের আশীর্বাদ

দলের জয়ের বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল
দুপুরে আশীর্বাদ নিতে মায়ের বাসায় যান নরেন্দ্র মোদি। রয়টার্স
৬৩ বছর বয়সী ছেলে নরেন্দ্র মোদির মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করছেন এক বৃদ্ধা৷ তিনি ভারতের সম্ভাব্য নতুন প্রধানমন্ত্রীর মা হীরাবেন৷ মায়ের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্তের সেই দৃশ্য নিজে স্মার্টফোনে তুলে (সেলফি) টুইটারে প্রকাশ করেছেন মোদি৷ দেশের প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন—এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়ার পরপরই মোদি গুজরাট রাজ্যের বাসভবন থেকে বের হয়ে মায়ের আশীর্বাদ নিতে যান৷ গুজরাট রাজ্যের গান্ধীনগরের বাড়িতে গিয়ে মায়ের পা ছুঁয়ে প্রণাম করেন৷
মোদি দেখা করতে যাওয়ার আগে প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন ৯৫ বছর বয়সী হীরাবেন৷ মোদির ছেলেবেলায় তাঁর মা সংসারের খরচ জোগাতে প্রতিবেশীদের বাড়িতে কাজ করেছেন৷ অটোরিকশায় চড়ে এবার লোকসভা নির্বাচনে ভোট দিতে কেন্দ্রে যান৷ হীরাবেন গতকাল শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘মোদির জন্য আমার আশীর্বাদ রয়েছে৷ আশা করি, সে গুজরাটের মতোই সারা দেশের উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিতে পারবে৷’ মোদি নিজের টুইটারে লিখেছেন, ‘ভারত জয়ী হয়েছে! এটা ভারতেরই জয়৷ শিগগিরই সুদিন আসছে৷’ এনিডটিভি ও জি নিউজ৷

চা-বিক্রেতা থেকে প্রধানমন্ত্রী

নরেন্দ্র মোদি
 বয়স ৬৩ বছর৷
 রাজ্য গুজরাটের মেসানা জেলার নিম্নবর্ণের একটি হিন্দু পরিবারে ১৯৫০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জন্ম৷ ছোটবেলায় রাজ্যের ভাদনগর রেলস্টেশনে বাবা দামোদারদাসের সঙ্গে চা বিক্রি করতেন৷
 তরুণ বয়সে পরিবারের ইচ্ছায় বিয়ে করেন৷ তবে দাম্পত্য জীবন বেশি দিন স্থায়ী হয়নি৷ এত দিন গোপন রাখলেও এবার হলফনামায় নিজেকে বিবাহিত হিসেবে উল্লেখ করেন৷
 ভারতের কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) সাবেক নেতা৷ আরএসএসের ‘প্রচারক’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন ১৯৭১ সালে ৷ আর বিজেপির মূলধারার রাজনীতিতে সরাসরি সম্পৃক্ত হন ১৯৮৭-৮৮ সালে৷
 রাজনীতিতে যোগ দিলেও পড়াশোনা চালিয়ে যান মোদি৷ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করার পর গুজরাট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নেন৷
 ২০০১ সালে তিনি গুজরাট রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন৷ ১৩ বছর ধরে এ পদে আছেন৷
 মোদির আমলেই ২০০২ সালে গুজরাটে ভয়াবহ দাঙ্গা হয়৷ এতে প্রাণ হারায় এক হাজারের বেশি মানুষ৷
 ২০১৪ সালে লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হন মোদি৷ ব্যবসাবান্ধব প্রশাসক হিসেবে নিজ রাজ্যে উন্নয়ন ও সুশাসনের রেকর্ডে ভর করে এবারের লোকসভা নির্বাচনে প্রচারণা চালান৷

উড়ে গেলেন বাঘা প্রার্থীরা

মীরা কুমার
কালবৈশাখীর মৌসুমে ভারতে লোকসভা নির্বাচনে ঝড় বয়ে দিয়ে বিজয়ী হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)৷ এ মোদি-ঝড়ে উড়ে গেলেন প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ আরও কয়েকটি দলের বাঘা বাঘা সব নেতা৷ তবে পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে মন্দ কপাল অরুণ জেটলির৷ ইতিহাস সৃষ্টি করে জিতল তাঁর দল, আর তিনিই কি না হেরে বসলেন৷ মন্দকপালি বিজেপির অরুণ জেটলি হেরেছেন পাঞ্জাবের অমৃতসরে৷ ২০০৯ সালে রাজ্যসভায় বিরোধীদলীয় নেতা হওয়ার পর তিনি দলের সাধারণ সম্পাদকের পদ ছেড়ে দেন৷ জেটলি কুপোকাত হয়েছেন ক্যাপ্টেন অমরিন্দ্রর সিংয়ের কাছে৷ তিনি ২০০২ থেকে পাঁচ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন৷ বিজেপি থেকে বহিষ্কৃত জ্যেষ্ঠ নেতা যশোবন্ত সিং রাজস্থানের বারমার আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়েও জিততে পারেননি৷ সারা েদশে আলোচিত প্রার্থীদের অন্যতম অরবিন্দ কেজরিওয়াল হেরেছেন উত্তর প্রদেশের বারানসিতে৷ সম্ভবত এই এক আসনে মুখোমুখি হলেন জাতীয় পর্যায়ের দুটি দলের প্রধান দুই নেতা৷ এ লড়াইয়ে আম আদমি পার্টির (এএপি) প্রধান কেজরিওয়ালকে হারিয়ে জিতেছেন বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি৷ কংগ্রেস নেতা মনিশঙ্কর আয়ার হেরেছেন তামিলনাড়ুর মায়িলাদুথুরাই আসনে৷ ইউপিএ সরকারে প্রথম মেয়াদে তিনি খনিজ ও প্রাকৃতিক গ্যাসমন্ত্রী এবং পরের মেয়াদে যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী ছিলেন৷
একই রাজ্যের নিলগিরিজ আসনে হেরেছেন ইউপিএ সরকারের সাবেক েটলিকম মন্ত্রী এ রাজা৷ টুজি টেলিকম কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে সরকারকে বিপদে ফেলে সরে যেতে হয় দ্রাবিড় মুনেত্রা কাজাগাম (ডিএমকে) দলের এই নেতাকে৷ ইউপিএ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ বিশাল ব্যবধানে হেরেছেন উত্তর প্রদেশের ফর্রুখাবাদে৷ এ আসনে জিতেছেন বিজেপির মুকেশ রাজপুত৷ কংগ্রেস সরকারের আইন ও বিচারমন্ত্রী কপিল সিবাল হেরেছেন দিল্লির চাঁদনি চক আসনে৷ বিজেপির হর্ষবর্ধন পরাজিত করেছেন তাঁকে৷ পাঞ্জাবের চণ্ডীগড় আসনে বিজেপির প্রার্থী অভিনেত্রী কিরণ খেরের কাছে হেরেছেন কংগ্রেস নেতা সাবেক রেলমন্ত্রী পবন বানসাল৷ একই রাজ্যের আনন্দপুর সাহাব আসনে কংগ্রেস নেতা সাবেক মন্ত্রী আম্বিকা সোনি৷ লোকসভার বিদায়ী স্পিকার কংগ্রেসের মীরা কুমার হেরেছেন বিহারের সাসারাম আসনে৷ জম্মু ও কাশ্মীরের উধমপুরে েহরেছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গুলাম নবী আজাদ৷ এ রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ন্যাশনাল কনফারেন্স দলের নেতা ফারুক আবদুল্লাহও জিততে পারেননি৷ তিনি নির্বাচন করেন শ্রীনগর আসনে৷ উত্তর প্রদেশের বাগপাতে হেরেছেন রাষ্ট্রীয় লোকদলের নেতা কেন্দ্রীয় বেসামরিক বিমান চলাচলমন্ত্রী অজিৎ সিং৷ বিহারে রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রধান সাবেক মুখ্যমন্ত্রী লালুপ্রসাদ যাদবের স্ত্রী রাবড়ি দেবী এবং মেয়ে মিশা ভারতী দুজনই হেরেছেন৷ জি নিউজ ও এনডিটিভি৷

তারকা প্রার্থীদের জ্বলা-নেভা

বিনোদ খান্না, হেমা মালিনি, মুনমুন সেন ও দেব
এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিপুলভাবে বিজয়ী বিজেপির তারকা প্রার্থীদেরও অনেকেই জয়ের মালা পরেছেন৷ অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গে বিজয়ী তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা প্রার্থীদের জয়জয়কার। তবে দলের শোচনীয় পরাজয়ের শিকার হয়েছেন কংগ্রেসের তারকারাও৷ বিজেপির প্রার্থী অভিনেত্রী কিরণ খের চণ্ডীগড় থেকে কংগ্রেসের শক্তিশালী প্রার্থী পবন বনশালকে হারিয়েছেন। পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর আসনে বিজেপির প্রার্থী অভিনেতা বিনোদ খান্না কংগ্রেসের প্রতাপ সিং বাজুয়াকে হারিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের মুনমুন সেন সিপিএমের বাসুদেব আচার্যকে হারিয়েছেন। বীরভূমে অভিনেত্রী শতাব্দী রায় হারিয়েছেন সিপিএমের এলাহী কামার মাহমুদকে৷
অভিনেতা তাপস পাল কৃষ্ণনগর আসনে হারিয়েছেন সিপিএমের শান্তনু ঝাকে৷ মেদিনীপুরে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অভিনেত্রী সন্ধ্যা রায় হারালেন সিপিএমের প্রবোধ পান্ডাকে৷ ঘাটাল আসেন জিতেছেন তৃণমূলের প্রার্থী নায়ক দেব৷ বহরমপুর আসনে কংগ্রেসের বর্তমান সাংসদ ও মন্ত্রী অধীর রঞ্জন চৌধুরীর কাছে হেরেছেন তৃণমূল প্রার্থী গায়ক ইন্দ্রনীল সেন৷ দার্জিলিং আসনে জিততে পারেননি তৃণমূল প্রার্থী ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া৷ হেরেছেন বিজেপির এস এস আহলুওয়ালের কাছে৷ আসানসোল আসনেও বিজেপির প্রার্থী গায়ক বাবুল সুপ্রিয় তৃণমূলের দোলা সেনকে হারিয়েছেন। শ্রীরামপুর আসন থেকে বিজেপির প্রার্থী গায়ক বাপ্পী লাহিড়ী হেরেছেন৷ বিজেপির আরেক তারকা প্রার্থী জাদুকর পিসি সরকার বিপুল ব্যবধানে হেরে গেছেন রাজ্যের বারাসাত আসন থেকে। বিহারের পাটনা সাহেব আসনে বিজেপির বর্তমান সাংসদ অভিনেতা শত্রুঘ্ন সিনহা বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন৷ উত্তর প্রদেশের মথুরায় বিজেপির প্রার্থী অভিনেত্রী হেমা মালিনী জয় পেলেন৷ ভারতজুড়ে কেবল হারের সংবাদই আছে কংগ্রেসের তারকাদের। উত্তর প্রদেশের মিরাট আসনে মাত্র ১৩ হাজার ভোট পেয়ে চতুর্থ হয়েছেন কংগ্রেস প্রার্থী অভিনেত্রী নাগমা। গািজয়াবাদ আসন থেকে কংগ্রেস প্রার্থী অভিনেতা রাজ বব্বর বিজেপির প্রার্থী সাবেক সেনাপ্রধান বিজয় কুমার সিংয়ের কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছেন৷ অভিনেত্রী রাষ্ট্রীয় লোকদলের প্রার্থী জয়াপ্রদা হেরে গেছেন উত্তর প্রদেশের বিজনোর আসন থেকে। পিটিআই, এনডিটিভি৷