Tuesday, June 1, 2010

ডিজিটাল সরকারের এ কেমন আচরণ by পল্লব মোহাইমেন

সরকারের পরামর্শে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ২৯ মে ফেসবুক বন্ধ করে দিয়েছে। ফেসবুক কী? ইন্টারনেটের একটা ওয়েবসাইট। সামাজিক যোগাযোগের (সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং) তুমুল জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। এর প্রভাব শুধু ওয়েবসাইট বা ইন্টারনেটের মধ্যেই আর সীমিত নয়। আধুনিক জীবনযাপনে, সামাজিকতার একটি অংশ হয়ে উঠেছে ফেসবুক। গোটা দুনিয়ায় ৪০ কোটির বেশি মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করে, রীতিমতো নিজের একটি আলাদা পাতা (অ্যাকাউন্ট) খুলে। আর এই বাংলাদেশে যেখানে মোট জনসংখ্যার মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করে, সেই দেশেও ফেসবুকের ব্যবহারকারী প্রায় নয় লাখ। চালু হওয়ার মাত্র ছয় বছরের মধ্যেই ফেসবুকের এই ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণ নিয়ে দেশে দেশে গবেষণা চলে প্রতিনিয়ত। সহজভাবে বলতে গেলে, মানুষের সহজাত সামাজিক প্রবৃত্তির কারণেই ফেসবুক জনপ্রিয়। এই ফেসবুকে খুঁজে পাওয়া যায় শৈশবের সেই বন্ধুটিকে, যার সঙ্গে হয়তো দেখা নেই অনেক বছর। আবার নতুন নতুন বন্ধু পাওয়া যায়। এই ফেসবুকের মাধ্যমে নিজের আবেগ, উচ্ছ্বাস বা বেদনা ভাগাভাগি করে নেওয়া যায়। নিজের সদ্যোজাত সন্তানের বা নতুন জীবনের ছবিটিও ফেসবুকে প্রকাশ করে সবাইকে জানানো যায়। এই ফেসবুক অনেক সময় হয়ে ওঠে সংবাদ সংগ্রহের, বিজ্ঞাপন প্রচারের মাধ্যম। সেই ফেসবুক আজ বাংলাদেশে বন্ধ।
এর আগে ১৯ মে পাকিস্তানে ফেসবুক বন্ধ করার আদেশ দেন একটি আদালত। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে এমন একটি পৃষ্ঠা থাকায় একজন পাকিস্তানি নাগরিক আদালতে মামলা করেন। সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ৩১ মে পর্যন্ত ফেসবুক বন্ধ করার আদেশ দেন। আবার ২০ থেকে ২৭ মে ভিডিও দেখার ওয়েবসাইট ইউটিউব বন্ধ করে রাখে পাকিস্তান। তবে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এই পৃষ্ঠাটি অপসারণ করেছে দ্রুততার সঙ্গেই। অর্থাৎ ইস্যু শেষ। এরপর বাংলাদেশে কতিপয় মৌলবাদীর দাবির মুখে ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা’র কারণ দেখিয়ে ফেসবুক বন্ধ করে সরকার কী বার্তা দিল বহির্বিশ্বে? আমাদের নতুন প্রজন্মই বা কী বার্তা পেল ডিজিটাল বাংলাদেশ আর দিনবদলের সরকারের কাছ থেকে?
২৯ মে বিকেল থেকেই অনেকে ফোনে জানাচ্ছিলেন, ‘ফেসবুকে ঢুকতে সমস্যা হচ্ছে, খোঁজ নেন তো’। সন্ধ্যা সাতটা, সোয়া সাতটা পর্যন্ত ঢোকাও গেল। কিন্তু এর পরই ফেসবুকে বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেল। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, এখন বাংলাদেশ থেকে ইন্টারনেটে যুক্ত হওয়ার যে দুটি পথ (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) আছে, সেই দুটি পথের মালিক বাংলাদেশ টেলিকম কোম্পানি লিমিটেড এবং ম্যাঙ্গো টেলিসার্ভিসেস লিমিটেডকে ফেসবুকের ওয়েব ঠিকানায় বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ করার পথ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বিটিআরসি। টেলিযোগাযোগের ক্ষেত্রটিতে সহায়ক শক্তি হয়ে ওঠার কথা ছিল এই বিটিআরসির। কিন্তু এখন সংস্থাটির কাজে উল্টোটাই প্রকাশ পাচ্ছে। বাংলাদেশের ইন্টারনেট যোগাযোগের প্রায় সবটাই ফাইবার অপটিক সাবমেরিন কেব্ল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে হয়ে থাকে। তাই ফেসবুক এখন প্রায় পুরোটাই বন্ধ। যে গুটিকয়েক ভিস্যাট এখনো আছে, সেসব দিয়ে ইন্টারনেট সেবা দেওয়া হয় না বললেই চলে। এই ভিস্যাটগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে ১৯ জুন থেকে।
বাংলাদেশে যেদিন ফেসবুক বন্ধ হলো সেদিন (২৯ মে) ভোরে ফেসবুকে দুই নেত্রীসহ রাজনীতিবিদদের কারও কারও ব্যঙ্গচিত্র প্রকাশের অভিযোগে মাহাবুব আলম রডিন নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগের দিন শুক্রবার কিছু মৌলবাদী ইসলাম ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ড ফেসবুকে পরিচালিত হচ্ছে—এমন অভিযোগ এনে ফেসবুক বন্ধ করার দাবি জানায় রাজপথে। আর সংবাদমাধ্যমে বিটিআরসির চেয়ারম্যানের যে বক্তব্য পাওয়া গেল, তাতে মৌলবাদীদের দাবির কথাই যেন উঠে এল। তিনি জানালেন, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানতে পারে এমন কিছু ব্যঙ্গচিত্র ও ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করা হচ্ছিল। এসব ব্যঙ্গচিত্র যাতে প্রকাশ না হতে পারে, সে জন্য বিটিআরসি এর শাখা সংযোগগুলো (লিঙ্ক) বন্ধ করার চেষ্টা করে। কিন্তু এটা করতে না পারায় সরাসরি ফেসবুক সাময়িক বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।’
যাঁরা ফেসবুক ব্যবহার করেন বা কিছুটা খোঁজখবর রাখেন, তাঁরা জানেন কোনো আপত্তিকর, ভুয়া পাতা (অ্যাকাউন্ট) বা ছবি থাকলে ফেসবুক কর্তৃপক্ষকে জানানো যায় (রিপোর্ট)। আর জানানোর ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই সেই পাতা অপসারণ করে দেয় ফেসবুক। ফেসবুকের নীতিমালায় লেখা আছে, কোনো দেশের বিরুদ্ধে বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানে, এমন কোনো লেখা, স্ট্যাটাস বা ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করা যাবে না। যদি করা হয় তবে সে ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। ফেসবুক বন্ধের এ ঘটনা থেকে বলা যায়, সরকারের যেসব তথ্যপ্রযুক্তিবিদ বা পরামর্শক রয়েছেন, তাঁরা তাঁদের ব্যর্থতা ঢাকতেই মাথাব্যথার ওষুধ না দিয়ে মাথাটাই কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন। এসব তথ্যপ্রযুক্তিবিদ বা পরামর্শকের দক্ষতার একটা নমুনা দেখা যায় মার্চ মাসে। ৬৪টি জেলার ওয়েবপোর্টালের (জেলা তথ্য বাতায়ন) মধ্যে ১৯টি একই দিনে হ্যাক হয়ে যায়। কোথা থেকে কে এই হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত ছিল, তা এসব ‘এক্সপার্টরা’ এখনো বের করতে পারেননি। আর সরকারি ওয়েবসাইটগুলোর নিরাপত্তাব্যবস্থা কত নাজুক, তা নতুন করে বলার দরকার নেই। নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে র‌্যাবের ওয়েবসাইট হ্যাক হয়েছিল ২০০৮ সালে। ২০০২ সালে জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটের নিবন্ধন সময়মতো নবায়ন না করার কারণে হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল।
প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাব আর নিজেদের অদক্ষতা ঢাকতে আমরা বিশ্বের কাছে কী বার্তা পাঠালাম!
প্রযুক্তি কখনোই ঠেকিয়ে রাখা যায় না। বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে নেতাদের ব্যঙ্গচিত্রের প্রকাশ কি থামানো যাবে? বরং কোথায় কী আঁকা হচ্ছে বা লেখা হচ্ছে, তা জানারও উপায় থাকছে না। বিশ্বের সব রাষ্ট্রপ্রধান, নেতা বা তারকাদের নিয়ে নানা রকম ব্যঙ্গ সবসময়ই করা হয় ইন্টারনেটে। কিন্তু স্বৈরশাসন বা রক্ষণশীল মৌলবাদী রাষ্ট্র ছাড়া কোনো দেশই ওয়েবসাইট বন্ধ করার কথা ভাবে না। মুক্ত পৃথিবীতে বন্ধ বিষয়টাই অচল। বন্ধ করে এগোনো যায় না। রাস্তাঘাটে ছিনতাই হয় বলে রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া যেমন যায় না, তেমনি প্রযুক্তি বন্ধ করাও সম্ভব নয়। ফেসবুক বন্ধ, কিন্তু প্রক্সি সার্ভার দিয়ে ফেসবুকে ঢোকা যাচ্ছে। তাই এই সময়ে এসে, মত প্রকাশের স্বাধীনতার এ যুগে সবার কাছে এই দেশটি সম্পর্কে ভুল বার্তা দেওয়ার কোনো মানে হয় না। বাংলাদেশ পাকিস্তানের মতো রক্ষণশীল একটি রাষ্ট্র—এটা তুলে ধরা দেশের জন্য একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। তাই ফেসবুক খুলে দেওয়া হোক এবং বলা হোক, প্রযুক্তির স্বতঃস্ফূর্ত ব্যবহারের ওপর কখনোই যেন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ করা না হয়।
পল্লব মোহাইমেন: সাংবাদিক

শিক্ষা না নিলে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে by বদিউল আলম মজুমদার

ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নিলে ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি ঘটে, অনেক সময় আরও ভয়াবহ আকারে—এটিই অনেক ক্ষেত্রে ইতিহাসের শিক্ষা। তবে হেগেলের মতে, ইতিহাসের শিক্ষা হলো, ইতিহাস থেকে আসলে কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না। আমাদের ক্ষেত্রে এটি সম্ভবত আরও প্রকটভাবে সত্য। এর মাশুল জাতি হিসেবে আজ আমরা দিচ্ছি এবং ভবিষ্যতে হয়তো আরও নগ্নভাবে আমাদের তা দিতে হবে।
স্মরণ আছে ১৯৭০-৭১ সালের কথা? ১৯৭০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত পাকিস্তান জাতীয় পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছিল। জাতীয় সংসদের ৩১৩টি আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ১৬৭টি আসনে বিজয়ী হয়েছিল। ছয় দফার ভিত্তিতে পূর্ব পাকিস্তানের ১৬৯টি আসনের মধ্যে দলটি দুটি বাদে সবগুলো আসন লাভ করেছিল। বলা বাহুল্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেই এ অর্জন সম্ভব হয়েছিল। পক্ষান্তরে জুলফিকার আলী ভুট্টোর পিপল্স ্পার্টি ৮৬টি আসন নিয়ে পশ্চিম পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধুরই সরকার গঠন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা। কিন্তু ভুট্টো ও সেনাবাহিনীর দুরভিসন্ধির কারণে বঙ্গবন্ধুকে অন্যায়ভাবে বঞ্চিত এবং বাঙালিদের ন্যায্য অধিকারকে পদদলিত করা হয়, যার মাধ্যমে সংবিধানও চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়। আর তা করেই ষড়যন্ত্রকারীরা ক্ষান্ত হয়নি, তারা পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার নামে পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র জনগণের ওপর সেনাবাহিনীকে লেলিয়ে দেয়। লাখ লাখ বাঙালিকে নির্মমভাবে হত্যা করে। অসংখ্য মা-বোনের ইজ্জত হরণ করে। তবুও পাকিস্তানের অস্তিত্ব রক্ষা করা যায়নি। অর্থাৎ অন্যায় ও জোর করে কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার পরিণাম মঙ্গলকর হয়নি।
প্রায় দেড় বছর আগে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের মাধ্যমে তিনজন ব্যক্তি—একজন চেয়ারম্যান ও দুজন ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলায়, সংবিধানের ৫৯(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ‘স্থানীয় শাসন’ পরিচালনার লক্ষ্যে। জনগণ তাঁদের নির্বাচিত করেছে ‘প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের কার্য’ তত্ত্বাবধান, ‘জনশৃঙ্খলা রক্ষা’ এবং ‘জনসাধারণের কার্য (Public Service) ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন-সম্পর্কিত পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন’ [অনুচ্ছেদ ৫৯(২)] করার দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য। আর তা করা হয়েছে যাতে, সংবিধানের ১১ অনুচ্ছেদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী, প্রশাসনের প্রত্যেক একাংশ বা স্তরে জনপ্রতিনিধিদের তথা গণতান্ত্রিক শাসন কায়েম হয়।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় অনুযায়ী, উপজেলা তথা স্থানীয় সরকারের আইন প্রণয়ন করতে গিয়ে সংবিধানের এসব, বিশেষত ৫৯ ও ৬০ অনুচ্ছেদ উপেক্ষা করা যাবে না [কুদরত-ই-এলাহি পনির বনাম বাংলদেশ ও অন্যান্য, ৪৪ডিএলআর(এডি)(১৯৯২)]।
পক্ষান্তরে প্রত্যেক একক আঞ্চলিক নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত ৩০০ জন এবং সংরক্ষিত আসন থেকে নির্বাচিত ৪৫ জন নারী সদস্যের ওপর, সংবিধানের ৬৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রজাতন্ত্রের ‘আইন প্রণয়ন ক্ষমতা’ প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৭(১) অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট করে বলে দেওয়া হয়েছে যে, সংবিধানে যাঁকে যে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, জনগণের পক্ষে, সংবিধানের অধীনে এবং কর্তৃত্বে, তিনি শুধু সে দায়িত্বই পালন করবেন। সংবিধানে ক্ষমতার এমন বিভাজনের নীতি (Principles of Separation of Powers) অন্তর্ভুক্ত করার কারণেই বাংলাদেশ হাইকোর্ট আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বনাম বাংলাদেশ [১৬বিএলটি(এইচসিডি)(২০০৮)] মামলার রায়ে সুনির্দিষ্টভাবে রায় দেন: ‘একজন সংসদ সদস্যের জেলা বা অন্যান্য প্রশাসনিক একাংশে উন্নয়ন বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা ও দায়িত্ব নেই। অতএব, মামলার বাদী, যিনি একজন সংসদ সদস্য, পিরোজপুর জেলা সম্পর্কে তাঁর কোনো দায়দায়িত্ব নেই।’
সংবিধানের এমন সুস্পষ্ট বিধান এবং আদালতের দ্বিধাহীন রায় সত্ত্বেও আমাদের নবম জাতীয় সংসদ তার প্রথম অধিবেশনে যে উপজেলা আইন পাস করে, তার মাধ্যমে ৩০০ সাধারণ আসন থেকে নির্বাচিত মাননীয় সংসদ সদস্যদের উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা করে উপদেষ্টার পরামর্শ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়। এ বিধানের মাধ্যমে সংবিধান পদদলিত করে এবং উচ্চ আদালতের রায়কে উপেক্ষা করে সংসদ সদস্যগণ কোটারি স্বার্থে অন্যায়ভাবে উপজেলা পরিষদের ওপর তাঁদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেন। দুর্ভাগ্যবশত, এ ক্ষেত্রে আমাদের নেতারা অতীতে অন্যায়ভাবে ক্ষমতা দখলের পরিণতির ইতিহাস বেমালুম ভুলে গিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্তও প্রণিধানযোগ্য। গণমাধ্যমের খবর থেকে আমরা জেনেছি যে, মন্ত্রিসভা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের উপজেলার মুখ্য নির্বাহী হিসেবে নিয়োগ প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, এ সিদ্ধান্তও হবে সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। কারণ সংবিধানের সুস্পষ্ট অঙ্গীকার, ‘প্রজাতন্ত্র হইবে একটি গণতন্ত্র’ (অনুচ্ছেদ-১১)—বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রত্যেক একাংশে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের শাসন প্রতিষ্ঠা করা বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধান নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ওপর ‘স্থানীয় শাসন’-এর দায়িত্ব অর্পণ করেছে, প্রশাসন ও সরকারি কর্মচারীদের কার্য পরিচালনা যার অন্তর্ভুক্ত। উপরন্তু, উপজেলার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানরা জনগণের ভোটে নির্বাহী দায়িত্ব পালনের জন্য ইতিমধ্যেই নির্বাচিত হয়েছেন। তাই আইন সংশোধন করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মুখ্য নির্বাহীর দায়িত্ব দিলে বর্তমানের বিরাজমান দ্বন্দ্বাত্মক পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আমাদের আশঙ্কা। আমরা কি তা-ই চাই? তাতে কি কারও সম্মান বাড়বে? জনগণের কল্যাণ হবে?
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য যে, মাঠপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের এখন এমনিতেই সম্মানের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা দুরূহ হয়ে পড়েছে এবং তাঁদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা করা হলে এ অবস্থার কোনোভাবেই উন্নতি হবে না; বরং এর মাধ্যমে উপজেলা পরিষদ অকার্যকর হয়ে যাবে। আমরা মনে করি, ভারতের মনি শংকর আয়ার ও তাঁর কয়েকজন সহকর্মীর মতো, যাঁরা যুগ্ম সচিব থাকাকালীন ভারতীয় সংবিধানের স্থানীয় সরকার সম্পর্কিত যুগান্তকারী ৭৩ ও ৭৪ সংশোধনী পাসের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন, আমাদেরও আজ এ ধরনের দূরদর্শী ও প্রজ্ঞাশীল একদল সরকারি কর্মকর্তা প্রয়োজন।
আমাদের প্রতিবেশী ভারতের ইতিহাস থেকে আমাদের আরও গুরত্বপূর্ণ শিক্ষা গ্রহণ করার আছে। আমাদের মতো ভারতের রাজনীতিতেও সন্ত্রাস, দুর্নীতি তথা দুর্বৃত্তায়ন বিরাজমান। সেখানেও ধর্মকে রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং সে দেশেও উগ্রবাদ ক্রমাগতভাবে বিস্তার লাভ করছে। ভারতের রাজনীতিও দ্বন্দ্ব, হানাহানি ও সহিংসতায় ভরপুর। তা সত্ত্বেও ভারতের দীর্ঘ ৬৩ বছরের ইতিহাসে অনির্বাচিত অগণতান্ত্রিক শক্তি কর্তৃক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উৎখাত হয়নি, যদিও নির্বাচিত ইন্দিরা গান্ধী ১৯৭৫-৭৭ সালে জরুরি অবস্থা জারি করেছিলেন, তাও স্বল্পকালের জন্য—তিনি দুই বছরের মাথায় নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।
ভারতে কেন কখনো অনির্বাচিত সরকার দ্বারা নির্বাচিত সরকার উৎখাত হয়নি? এর মূল কারণ হলো, স্বাধীনতার সূচনালগ্ন থেকেই পণ্ডিত নেহরুর প্রজ্ঞাশীল নেতৃত্বে সেখানে ক্ষমতার বিভাজন নীতি অনুসরণে, কতগুলো স্বাধীন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা এবং এগুলোকে ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী করা হয়, যা পাকিস্তানে করা হয়নি। স্বাধীন বিচার বিভাগ ও নির্বাচন কমিশন এসব প্রতিষ্ঠানের অন্যতম। শুরু থেকে লোকসভা ও রাজ্যসভাকে কার্যকর ও কলুষমুক্ত প্রতিষ্ঠানে পরিণত করারও উদ্যোগ নেওয়া হয়। যেমন, ১৯৫১ সালে এইজি মুডগাল এক সংসদ সদস্যকে অর্থের বিনিময়ে প্রশ্ন করার কারণে লোকসভা থেকে বহিষ্কার করা হয়। এ ছাড়া ভারতের সরকারি কর্মকমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও তথ্য কমিশন অত্যন্ত শক্তিশালী। এসব কার্যকর প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত ভারতে সমস্যা সমাধানের ও রাজনৈতিক বিরোধ মীমাংসার প্রচেষ্টা চালানো হয়, রাজপথে নয়। উদাহরণস্বরূপ, নির্বাচনে দুর্নীতিমূলক আচরণের জন্য এলাহাবাদ হাইকোর্টই ইন্দিরা গান্ধীর লোকসভার সদস্যপদ বাতিল করেন, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও কার্যকরতারই প্রতিফলন।
মিছিল, হরতাল, অবরোধ, ধর্মঘট ইত্যাদি অনিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বাস্তবে কোনো সমস্যার সমাধান হয় না, বরং এগুলোর মাধ্যমে সমস্যা আরও ব্যাপক ও প্রকট আকার ধারণ করে। বিরোধী দলের রাজপথের আন্দোলন প্রতিহত করতে গিয়ে সরকারও রাজপথে তা মোকাবিলা করার নামে সাধারণত দমননীতির আশ্রয় নেয়, যা অনেক ক্ষেত্রেই দ্বন্দ্ব-সহিংসতায় রূপ নেয়। এভাবে অবস্থা নিয়ন্ত্রণহীন পর্যায়ে চলে যেতে পারে, যা অনির্বাচিত ব্যক্তিদের ক্ষমতা দখলের জন্য উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে দেয়।
ভারতের গণতান্ত্রিক পদ্ধতির ধারাবাহিকতা রক্ষার পেছনে সরকারের বাইরেও আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যা নাগরিক সমাজ হিসেবে পরিচিত এবং গণমাধ্যম যার অংশ। নষ্ট রাজনীতির দুষ্ট ছোবলে ভারতীয় নাগরিক সমাজ বিভক্ত হয়নি। ফায়দাতন্ত্রের বিষাক্ত থাবাও সেখানে ব্যাপকভাবে বিস্তৃত নয়, যা নাগরিকের নিরপেক্ষ আচরণের পথে একটি বড় বাধা। সেখানে ক্ষমতাসীনদের পক্ষ থেকেও হুমকি-ধমকি নেই। ফলে ভারতীয় নাগরিক সমাজ অত্যন্ত বলিষ্ঠ এবং সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণ ও নাগরিকের অধিকার হরণের পথে অত্যন্ত উচ্চকণ্ঠ। পক্ষান্তরে বাংলাদেশে নিরপেক্ষ নাগরিক সমাজ, যাকে সুশীল সমাজ বলে প্রতিনিয়ত গাল দেওয়া হয়, আজ অত্যন্ত করুণ অবস্থায় এবং সংগত কারণেই তারা নাগরিকের অধিকার সংরক্ষণে যথার্থ ভূমিকা রাখতে পারছে না। আর এর পরিণাম মঙ্গলজনক নয়। কারণ বলিষ্ঠ নাগরিক সমাজ ছাড়া পৃথিবীর কোথাও গণতন্ত্র কার্যকারতা লাভ করেনি।
এটি সুস্পষ্ট যে একটি গ্রহণযোগ্য আইনি কাঠামো, কতগুলো কার্যকর প্রতিষ্ঠান ও সোচ্চার নাগরিক সমাজের কারণে ভারতীয় গণতন্ত্র অগণতান্ত্রিক শক্তিকে প্রতিহত করতে পেরেছে। তাই গণতন্ত্রকে সুসংহত ও দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করাতে হলে আমাদেরও কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করতে হবে এবং রাজপথের আন্দোলনের পরিবর্তে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় সমস্যা সমাধানের পথে এগোতে হবে। যেমন, বিচার বিভাগের ওপর আস্থা রেখে মামলা প্রত্যাহারের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে সংস্কার-প্রক্রিয়া অব্যাহত রেখে প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও কার্যকর করতে হবে।
পৃথিবীর দীর্ঘ গণতান্ত্রিক ইতিহাস থেকেও আমাদের শিক্ষা গ্রহণ করতে হবে। পাশ্চাত্যের, বিশেষত ইউরোপের দেশসমূহে আজ যে গণতন্ত্রের চর্চা করা হয়, তা নির্বাচন দিয়ে শুরু হয়নি। সেসব দেশে নাগরিক সমাজের এবং অসংখ্য পণ্ডিতের শত শত বছরের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টার ফলে প্রথমে আইনের শাসন ও নাগরিকদের বাক্-স্বাধীনতাসহ কতগুলো গুরুত্বপূর্ণ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে কতগুলো প্রতিষ্ঠান সৃষ্টির মাধ্যমে, ক্ষমতার বিভাজন নীতি অনুসরণে, সামন্তবাদী প্রভুদের ক্ষমতা খর্ব করা হয়। তার পরই আস্তে আস্তে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা হয়, যা বিংশ শতাব্দীতে এসে সর্বজনীন ভোটাধিকারে রূপ নেয়। তাই বিরাজমান নির্বাচনসর্বস্ব ‘এক দিনের গণতন্ত্র’-এর বলয় থেকে বেরিয়ে এসে সত্যিকারের গণতন্ত্রচর্চা করতে হলে আমাদেরও নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও প্রতিষ্ঠান গড়ার এবং কার্যকর করার দিকে মনোনিবেশ করতে হবে।
ড. বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।

গুয়ানতানামো থেকে বন্দীদের গ্রহণে রাজি মেরকেল

কিউবার গুয়ানতানামো বেতে মার্কিন বন্দিশিবির থেকে মুক্তি পাওয়া বন্দীদের গ্রহণে রাজি হয়েছেন জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মেরকেল। এর আগে এসব বন্দীকে গ্রহণে তিনি রাজি হননি। যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে বন্দী নিয়ে তাদের চাপ কমাতে এখন রাজি হয়েছেন তিনি। গতকাল শনিবার সাপ্তাহিক ফোকাস-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ কথা জানা যায়। খবর এএফপির।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চ্যান্সেলরের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন পার্টির নেতাদের সঙ্গে সম্প্রতি এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টমাস ডি মেইজয়ের বলেন, মেরকেল চান যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করুক জার্মানি।
অতিসম্প্রতি জার্মানিকে তিনজন বন্দী নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। বন্দীদের মধ্যে একজন সিরীয়, একজন ফিলিস্তিনি ও একজন জর্ডানি। তবে মেরকেল ঠিক কতজন বন্দীকে নিতে ইচ্ছুক, তা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

নেপালে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বৈঠক

জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের জন্য নেপালের প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দলের নেতারা গতকাল রোববার বৈঠক করেছেন। দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রী মাধব কুমার নেপাল পদত্যাগ করতে রাজি হওয়ার পর তাঁরা এ বৈঠকে বসলেন। এর আগে গত শুক্রবার সংবিধান প্রণয়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো গণপরিষদের মেয়াদ আরও এক বছরের জন্য বাড়াতে রাজি হয়।
বৈঠকে নেপালি কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল) এবং মাওবাদী দলের নেতারা অংশ নেন। ইউএমএল নেতা প্রদীপ গাওয়ালি জানান, শুক্রবার যেসব বিষয়ে মতৈক্য হয়েছে গতকালের বৈঠকে সে বিষয়গুলোও আলোচনায় স্থান পায়। তবে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ ও একটি জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠন নিয়েই তাঁরা বেশি আলোচনা করেন। আলোচনায় কোনো মতৈক্য হয়েছে কি না, সে ব্যাপারে অবশ্য তিনি মুখ খোলেননি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বিষ্ণু রিজাল বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগে প্রস্তুত রয়েছন। এ ব্যাপারে সন্দেহের কোনো অবকাশ নেই। তবে বিরোধীরা যেভাবে চাচ্ছে তিনি সেভাবে ক্ষমতা ছাড়বেন না। পদত্যাগের আগে তিনি উদ্ভূত রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধান চান। এ ছাড়া শান্তিপ্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাওবাদীদের সঙ্গে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত চুক্তির সফল বাস্তবায়নও চান তিনি। চুক্তি অনুযায়ী মাওবাদী গেরিলা ও তাদের সহযোগী সংগঠন ইয়াং কমিউনিস্ট লীগের সদস্যদের জাতীয় সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
মাওবাদী গেরিলারা এক দশকের গৃহযুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে ২০০৬ সালে অস্ত্র সমর্পণ করে। কিন্তু বিগত কয়েক বছর ধরে তারা অভিযোগ করে আসছে যে শান্তিচুক্তির অনেক শর্ত এখনো পূরণ করা হয়নি।

নিহতের সংখ্যা ১৫০ জনে উন্নীত

পশ্চিমবঙ্গের মাওবাদী অধ্যুষিত পশ্চিম মেদিনীপুরের ঝাড়গ্রামের কাছে ট্রেন দুর্ঘটনায় গতকাল রোববার পর্যন্ত ১৫০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। গতকাল সকালে দুর্ঘটনাকবলিত মালবাহী ট্রেনের বগি থেকে আরও বেশ কয়েকটি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। এখনো ২৫ জন যাত্রী নিখোঁজ।
রেল সূত্র জানায়, গতকাল উদ্ধারকাজের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে। রেললাইন মেরামতের পর গতকাল ভোররাত থেকে এ লাইনে আবার ট্রেন চলাচল শুরু করেছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসক এন এস নিগম জানান, মৃতদেহগুলো মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রাখা হয়েছে। তবে অধিকাংশ মৃতদেহ এমনভাবে বিকৃত হয়ে গেছে যে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এসব মৃতদেহের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাজ্য পুলিশের অভিযোগ, এ দুর্ঘটনার পেছনে মাওবাদীদের হাত থাকতে পারে।
হাওড়া থেকে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া জ্ঞানেশ্বরী সুপারফাস্ট ট্রেনটি গত বৃহস্পতিবার রাতে ঝাড়গ্রামের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ১৩টি বগি লাইনচ্যুত হয়। পাঁচটি কামরা উল্টে গিয়ে পাশের লাইনে পড়ে। এ সময় পাশের লাইন দিয়ে একটি মালগাড়ি এসে বগিগুলোকে ধাক্কা দেয়। এর ফলে বগিগুলো দুমড়ে-মুচড়ে যায়। পুলিশ ধারণা করছে, মাওবাদীরা জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে উড়িয়ে দিতে লাইনের একাংশে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল।
কলকাতার একটি পত্রিকা সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলেছে, এ নিয়ে ভারতে এক বছরে ১২৪টি ট্রেন দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৬৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে মাওবাদীদের ট্রেনে হামলা চালানোর কারণে।

পশ্চিমবঙ্গের ৮১টি পৌরসভার নির্বাচনে ভোট গ্রহণ

দু-একটি বিক্ষিপ্ত রাজনৈতিক সংঘর্ষ ছাড়া গতকাল রোববার কলকাতা পৌর করপোরেশনসহ পশ্চিমবঙ্গের ১৬টি জেলার ৮১টি পৌরসভায় শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ হয়েছে। সকাল সাতটা থেকে ভোট গ্রহণ শুরু হয়ে শেষ হয় বিকেল তিনটায়। এ দিন কলকাতা পৌর করপোরেশনের ১৪১টি ওয়ার্ড এবং বিধাননগর পৌরসভার ২৩টি ওয়ার্ডেও ভোট গ্রহণ করা হয়েছে। তবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বিকল হয়ে পড়ায় বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে ভোট গ্রহণ বিলম্বিত হয়। এ ছাড়া বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে সিপিএম-তৃণমূল কংগ্রেসের সংঘর্ষও হয়।
বেহালা, বেলেঘাটা, মেটিয়াবুরুজ, পাইকপাড়া ও পাটুলিতে সংঘর্ষ হয়। মেটিয়াবুরুজে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এই হামলায় দুজন আহত হয়। পুটিয়ারিতে একটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর এক জওয়ান গুলি ছুড়লে একজন আহত হয়। এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁ, নৈহাটি, জগদ্দল, কাঁচরাপাড়া, সিউরি, জঙ্গিপাড়া, বালি, ইংলিশ বাজার, লিলুয়া, তারকেশ্বর ও জামুরিয়ায় সিপিএম-তৃণমূল সংঘর্ষ হয়েছে। জামুরিয়ায় সংঘর্ষে দুজন পুলিশসহ সাতজন গ্রামবাসী আহত হয়েছে। এখানে তৃণমূলের সমর্থকেরা দুটি পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। তারকেশ্বর ও সিউরিতে পুলিশ সংঘর্ষ থামাতে লাঠিচার্জ করে। তারকেশ্বরে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়। এখানে পুলিশ শূন্যে গুলি ছোড়ে এবং কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায়।
এবারের এই পৌর নির্বাচনকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা রাজ্যের রাজনীতি। বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেস মনে করছে, এই নির্বাচনেই ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে যাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাট থেকে সিপিআইএম। মানুষ ভোট দেবে পরিবর্তনের পক্ষে। যদিও এই নির্বাচন বামফ্রন্টের কাছে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবুও তারা মনে করছে, জনগণ তাদের পক্ষেই রয়েছে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের এই ৮১টি পৌরসভার মধ্যে ৫৫টির ক্ষমতায় রয়েছে বামফ্রন্ট। আর বিরোধীরা রয়েছে ২৬টি পৌরসভায়। এর মধ্যে কংগ্রেস ১১ ও তৃণমূল আটটি পৌরসভায় ক্ষমতায় রয়েছে। অন্য সাতটিতে কংগ্রেস-তৃণমূল জোট ও বাম বিরোধী জোট। কলকাতা পৌর করপোরেশন এবং বিধাননগর পৌরসভায় অবশ্য ক্ষমতায় রয়েছে বামফ্রন্ট।

জাপানের ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে গেল এসডিপি

জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইয়োকিয়ো হাতোইয়ামার নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে গেছে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এসডিপি)। গত রোববার দলটি এ সিদ্ধান্ত নেয়।
জাপানের ওকিনাওয়া দ্বীপে মার্কিন ঘাঁটি রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তির বিরোধিতা করায় প্রধানমন্ত্রী হাতোইয়ামা গত শুক্রবার এসডিপির নেতা মিজুহো ফুকুসিমাকে ভোক্তা মন্ত্রীর পদ থেকে অপসারণ করেন। এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলটি ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এসডিপির ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল সিমানি প্রিফেকচার।
ছোট দল এসডিপি জোট সরকার থেকে বেরিয়ে গেলেও প্রধানমন্ত্রী হাতোইয়ামার সরকারে কোনো প্রভাব পড়বে না। তবে পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচনে এটি হাতোইয়ামার দলের জন্য নেতিবাচক হতে পারে। আগামী ১১ জুলাই পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষের নির্বাচন হতে পারে।
গত বছর নির্বাচনী প্রচার চালানোর সময় হাতোইয়ামা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নির্বাচিত হলে তিনি এ বছরের মে মাসের মধ্যে ওই দ্বীপ থেকে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি স্থানান্তর করবেন। কিন্তু সম্প্রতি ওই প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসেন হাতোইয়ামা। এ জন্য তিনি ওকিনাওয়ার জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশও করেন।
তবে হাতোইয়ামার জোট ও বিরোধী দলের নেতারা জনগণকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসায় তাঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন।

কৃষ্ণার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ওবামা উপস্থিত থাকবেন

সফররত একজন মন্ত্রীর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্টের উপস্থিত থাকা খুবই দুর্লভ ঘটনা। এবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এই দুর্লভ দৃশ্যের অবতারণা হতে চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস এম কৃষ্ণাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, যিনি ভারত-মার্কিন সম্পর্কের বিষয়টি খুব ভালো বোঝেন বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা।
হোয়াইট হাউস সূত্রে বলা হয়েছে, কৃষ্ণাকে স্বাগত জানাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগামী বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউস থেকে পররাষ্ট্র দপ্তরে আসবেন। প্রথম ভারত-মার্কিন কৌশলগত আলোচনায় যোগ দিতে ওই দিনই ওয়াশিংটন যাচ্ছেন কৃষ্ণা। হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ওবামা বোঝাতে চাইছেন তিনি ভারতের সঙ্গে আগামী দিনগুলোতে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে চান।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রবার্ট ব্লেক সাংবাদিকদের জানান, ওবামা প্রশাসন আমেরিকার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ মনে করে। আর এ জন্যই প্রেসিডেন্ট হওয়ার কিছুদিনের মাথায় তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংকে যুক্তরাষ্ট্র সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ায় পরিত্যক্ত শিশুদের জন্য বিশেষ কেন্দ্র

মালয়েশিয়ায় ইদানীং পরিত্যক্ত শিশুর সংখ্যা বেড়ে গেছে। বিষয়টি সে দেশের সরকারকে ভীষণ ভাবিয়ে তুলেছে। তবে উপায় বাতলেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। তারা এমন একটি বিশেষ কেন্দ্র (বেবি হ্যাচ) চালু করেছে, যেখানে মায়েরা তাঁদের অনাকাঙ্ক্ষিত সন্তানকে নিরাপদে রেখে যেতে পারবেন।
‘অরফ্যান কেয়ার’ নামের এ প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার সেলানগর প্রদেশের পেতালিং জায়ায় এ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। মায়েরা তাঁদের পরিচয় গোপন রেখে নবজাতককে এ কেন্দ্রে রেখে যেতে পারবেন। নবজাতককে রাখার জন্য কেন্দ্রে স্বাস্থ্যসম্মত একটি কক্ষ রয়েছে। এ কক্ষের সঙ্গে ছোট একটি দরজাও রয়েছে। নবজাতককে রেখে মা চলে যাওয়ার পর দরজাটি বন্ধ হয়ে যাবে। এবং নবজাতকের উপস্থিতির বিষয়টা নিশ্চিত হওয়ার জন্য একটি সতর্ক ঘণ্টা বাজবে। ঘণ্টা শুনে কেন্দ্রের কর্মীরা ওই কক্ষে গিয়ে শিশুটির দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
দেশটির নারী ও পরিবার উন্নয়ন-বিষয়ক মন্ত্রী শাহরিজাত আবদুল জলিল বলেছেন, এ কেন্দ্র চালু করার ফলে বেপরোয়া মায়েরা তাঁদের সন্তানদের হত্যা বা রাস্তাঘাটে ফেলে দেওয়ার পথ থেকে ফিরে আসবেন।
তাঁরা সন্তানকে বাঁচিয়ে রাখার বিকল্প একটা সুযোগ পেলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের এমন ধারণা করা উচিত নয় যে এর ফলে বিবাহ-পূর্ব যৌনসম্পর্ক
উৎসাহিত হবে।’
কর্মকর্তারা জানান, ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ৪০৭টি শিশু পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত পাওয়া গেছে ২৪টি শিশু। রাস্তার পাশে অথবা আবর্জনার স্তূপে এসব নবজাতককে পাওয়া যায়।
গত মার্চে রাস্তার পাশ থেকে একটি নবজাতককে উদ্ধার করা হয়। শিশুটির বাঁ হাত ছিল মারাত্মক ক্ষতবিক্ষত। একটি কুকুর শিশুটির হাত কামড়েছে। এ খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের পর পরিত্যক্ত নবজাতকদের নিরাপত্তা নিয়ে সর্বমহলে আলোড়ন পড়ে যায়।
অরফ্যান কেয়ার জানায়, পরিত্যক্ত শিশুদের দত্তক নেওয়ার জন্য অনেক মা-বাবা আগ্রহ দেখিয়েছেন। তালিকায় এ রকম অন্তত ২০০ জন মা-বাবা রয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাঁদের আশ্বস্ত করা হয়েছে, নবজাতকদের দত্তক নেওয়ার পর তাদের আবার প্রকৃত মা-বাবার কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকবে না।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি আদনান মোহাম্মদ তাহির বলেন, ‘বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের মাধ্যমে জন্ম দেওয়া সন্তানদের নিয়ে অনেক সময় মায়েরা বিপাকে পড়েন। তাঁরা জানেন না যে এ সন্তানকে নিয়ে তাঁরা কোথায় যাবেন, কী করবেন।’
জার্মানি, পাকিস্তান ও জাপানেও এ ধরনের কেন্দ্র চালু রয়েছে।

চীনের সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ জাপান ও দ. কোরিয়া

উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে চীনের সমর্থন আদায় করতে ব্যর্থ হয়েছে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। গতকাল রোববার চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের অংশগ্রহণে সিউলে দুই দিনব্যাপী সম্মেলন শেষ হয়। পরে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে চীনের প্রধানমন্ত্রী ওয়েন জিয়াবাও তাঁর দেশের অবস্থান তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে ওয়েন জিয়াবাও বলেন, ‘এই মুহূর্তে সব পক্ষের শান্ত থাকা উচিত। আমরা এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চাই। পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনায় আমরা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের স্বার্থে এটা করতে হবে।’
তবে সংবাদ সম্মেলনে ওয়েন জিয়াবাও উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিন্দা প্রস্তাব বা নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে চীনের অবস্থান কী হবে, সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলেননি। গত শুক্রবার সিউলে পৌঁছার পর জিয়াবাও বলেন, তাঁরা যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন খতিয়ে দেখবেন। এর পরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এ ঘটনায় জড়িতদের রক্ষা করার কোনো পরিকল্পনা চীনের নেই বলেও জানান তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিউং বাক গতকাল বলেন, ‘সিউল যুদ্ধকে ভয় পায় না। কিন্তু আমরা যুদ্ধে জড়াতে চাই না।’ তিনি বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে সুপরামর্শ ও আন্তরিক সহযোগিতা চাই।’
পিয়ংইয়ংয়ে সমাবেশ
উত্তর কোরিয়ার রাজধানী পিয়ংইয়ংয়ে গতকাল দক্ষিণ কোরিয়াবিরোধী সমাবেশ হয়েছে। এতে যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে সীমান্তে উত্তেজনা বৃদ্ধিতে দক্ষিণ কোরিয়াকে দায়ী করা হয়। সমাবেশে লক্ষাধিক মানুষ অংশ নেয়।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে জানানো হয়, পিয়ংইয়ংয়ের ‘কিম ইল সুং’ স্কয়ারে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশের মঞ্চ, বিভিন্ন পোস্টার ও স্লোগানে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি মিউং বাকের নিন্দা করা হয়। তাঁকে বিশ্বাসঘাতক বলেও আখ্যা দেওয়া হয়।
সমাবেশে নেতৃত্বদানকারী চো ইয়ং রিম তাঁর ভাষণে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া এবং তার মদদদাতা যুক্তরাষ্ট্রের কারণে এই অঞ্চলে যুদ্ধ-পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সময় সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় দেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। চো ইয়ং দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজডুবির ঘটনায় উত্তর কোরিয়ার জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ পীতসাগরে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে যায়। এতে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়। ২০ মে পাঁচ জাতির সমন্বয়ে গঠিত একটি তদন্ত দলের প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার টর্পেডোর আঘাতে ওই যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনা ঘটে। উত্তর কোরিয়া অবশ্য বারবার এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ নির্মাণের পক্ষে নিউইয়র্কের মেয়র

নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ নির্মাণকে সমর্থন করেছেন শহরটির মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ। ১৩ তলা ওই মসজিদে ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রও থাকবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নাগরিক ওই এলাকায় মসজিদ নির্মাণের বিরোধিতা করছে।
মেয়র ব্লুমবার্গ বলেন, গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি দেওয়া উচিত। কারণ, কোনো একটি ঘটনার সঙ্গে একটি ধর্মের যোগসূত্র খোঁজা সরকারের উচিত হবে না। তিনি বলেন, এটা সমৃদ্ধির চিহ্ন। এখানে সিনাগগ বা গির্জাও হতে পারত। এ বিষয়টি নিয়ে কারও হইচই করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, এখানে মসজিদ নির্মাণের অধিকার মুসলমানদের আছে।
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। পরে ওই জায়গাটি গ্রাউন্ড জিরো নামে পরিচিতি পায়। এর কাছেই ১০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয়ে ১৩ তলা মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণের কথা চলছে। কুয়েতি বংশোদ্ভূত ইমাম ফেইসাল আবদুল রউফ নামের এক ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণের অর্থ দিচ্ছেন।
নিউইয়র্ক কমিউনিটি বোর্ড গত সপ্তাহে গ্রাউন্ড জিরোর কাছে মসজিদ ও ইসলামি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি অনুমোদন দেয়। বোর্ডে মসজিদ নির্মাণের প্রস্তাব পাস হয় ২৯-১ ভোটে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড় পুঁজি

সিরিজ শেষ হয়ে গেছে প্রথম তিন ম্যাচ হেরেই। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লড়াইটা এখন হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়ানোর। সেই লড়াইয়ে ব্যাটিংটা অন্তত দারুণ করেছে ক্রিস গেইলের দল।
টস জিতে ডমিনিকায় কাল ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর ৫০ ওভারে ৬ উইকেটে ৩০৩ রান তুলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। জবাবে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১২.৩ ওভারে গ্রায়েম স্মিথের (২৩) উইকেট হারিয়ে ৭৮ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ব্যাট করছিলেন আমলা (৪৫*) ও ক্যালিস (৭*)।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বড়সড় ইনিংসটা গড়ে উঠেছে অনেকগুলো মাঝারি মাপের ব্যক্তিগত ইনিংসে। ফিফটি করেছেন ডেল রিচার্ডস (৫৯) চন্দরপল (৬৬)। ডোয়াইন (৪৬) ও ড্যারেন (৪৫) ব্রাভোও ভালো অবদান রেখেছেন।

কুলাইন এসি রাগবি

কাল পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত ফাইনালে বাংলাদেশ জে স্পোর্টস রাগবি দলকে ১৭-১২ পয়েন্টে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে সোনারগাঁ নয়াপুর রাগবি দল। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে ৬টি দল। আয়োজক ছিল বাংলাদেশ রাগবি অ্যাসোসিয়েশন।

ফেদেরার-ভক্তের নাম নাদাল

শুধু টেনিস খেলোয়াড় হিসেবেই বড় নন, মানুষ হিসেবেও যে রাফায়েল নাদাল অনেক বড় মনের এবং বিনয়ী, এর প্রমাণ এর আগেও অনেকবার দিয়েছেন। আরও একবার পাওয়া গেল পরশু। মুখোমুখি লড়াইয়ে নাদাল এগিয়ে আছেন দ্বিগুণ ব্যবধানে, কিন্তু এই স্প্যানিয়ার্ড নিজে মেনে নিচ্ছেন রজার ফেদেরারের শ্রেষ্ঠত্ব, বলছেন দুজনের কোনো তুলনাই চলে না।
‘কেউ যদি বলে আমি রজারের চেয়ে ভালো, তাহলে সে টেনিসের কিছুই বোঝে না। রজার ১৬টি গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছে, আমি ছয়টি, ওর সঙ্গে কোনো তুলনাই তো চলে না। এমনকি ওর রেকর্ড ভাঙাটাও মনে হয় অসম্ভব’—পরশু ফ্রেঞ্চ ওপেনের চতুর্থ রাউন্ডে উঠে বলেছেন নাদাল। দুজনের গত সাত লড়াইয়ের ছয়টিতেই জিতেছেন নাদাল, সব মিলিয়ে এগিয়ে তিনি ১৪-৭ ব্যবধানে। নাদাল বলছেন, ‘আমি দুই নম্বরে আছি বছর পাঁচেক, তাঁকে আমি হারাতেই পারি। দুই নম্বর খেলোয়াড় এক নম্বরকে হারাতেই পারে। তবে ভুলে যাবেন না আমি ক্লে-কোর্টেই ওকে বেশি হারিয়েছি। তা ছাড়া অন্য কোর্টের চেয়ে ক্লেতেও আমরা বেশি খেলেছি।