Sunday, April 20, 2014

ছাত্রলীগ ভালো, না ছাত্রদল? by বিশ্বজিৎ চৌধুরী

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হতে ইচ্ছুক এমন ছয়জন নেতৃস্থানীয়কে মঞ্চে ডেকে প্রশ্ন করেছিলেন, ছাত্রলীগের দলীয় সংগীতটি জানা আছে কি না। সবাই ছিলেন নিরুত্তর। তাঁদের কাছে সংগঠনের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে জানতে চান তিনি। তখনো তাঁরা নীরব থেকেছেন। খুবই বিস্মিত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি।

চিকিৎসকের উপাখ্যান by আতাউর রহমান

প্রত্যেক ক্রিকেটারের পেশাগত জীবনে কখনো কখনো একটি খরা বা বন্ধ্যত্ব পিরিয়ড আসে, যেমন দেখা গেল সদ্যসমাপ্ত টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ টুর্নামেন্টে। তেমনি প্রত্যেক লেখকও কখনো কখনো বন্ধ্যত্বের কবলে পড়েন। সাম্প্রতিক প্রলম্বিত রোগমুক্তির পর আমার অবস্থাও দাঁড়িয়েছিল তা-ই। যখন লেখালেখির ভূত-ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করছিলাম, তখন হঠাৎ আমার মনে এই ভাবনার উদয় হলো যে চিকিৎসকদের উপাখ্যান দিয়েই নাহয় বরফ গলানোর চেষ্টা করা যাক।

সাংবিধানিক কর্তৃত্ব নিশ্চিত করুন- সিইসির স্বীকারোক্তি

দেড় মাস ছুটি কাটিয়ে দেশে ফিরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, তাতে তাঁর এই সাংবিধানিক পদটির মর্যাদা মোটেই বাড়েনি বলে আমরা ধারণা করি। গত বুধবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সিইসি বলেছেন, ‘যেটা হয়েছে, তা আমি থাকলেও হতো, না থাকলেও হতো।’ এসব কথার মধ্য দিয়ে তিনি যেমন নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করেছেন, তেমনি সাংবিধানিক দায়িত্ব এড়িয়ে গেছেন।

গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তি হতাশাব্যঞ্জক- বিশেষ সাক্ষাৎকারে : নাসির উদ্দীন ইউসুফ by এ কে এম জাকারিয়া

বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফের জন্ম ঢাকায়, ১৯৫০ সালে। একজন নাট্য, সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবেই বর্তমানে বেশি পরিচিত। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ গ্রাম থিয়েটার ও ঢাকা থিয়েটারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের মূল সংগঠক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে শাহবাগের আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন এই আন্দোলন, এর বর্তমান দশা ও সাম্প্রতিক বিভক্তি নিয়ে।  সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম জাকারিয়া

নারীর বয়স নির্ধারণে পুরুষ চিকিত্সক নয়: হাইকোর্ট

নারীর বয়স নির্ধারণের পরীক্ষায় পুরুষ চিকিত্সকদের অংশ না নিতে বলেছেন হাইকোর্ট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে এ কথা বলেছেন আদালত। ধর্ষণের শিকার নারীর (বয়স) পরীক্ষায় আদালতের নির্দেশ অনুসারে নারী চিকিত্সক নিয়োগ না দেওয়ায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে আজ (২০ এপ্রিল) আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। ২ এপ্রিল ওই নির্দেশ দেন আদালত। নির্দেশ অনুসারে আজ আদালতে হাজির হন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দীন মোহাম্মদ নুরুল হক। এ সময় তাঁকে এ কথা বলেন আদালত।

চলছে ‘অমর’ মার্কেসের শেষ বিদায়ের প্রস্তুতি

কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতায় শুক্রবার গাব্রিয়েল
গার্সিয়া মার্কেসের ছবি আঁকায় ব্যস্ত এক শিল্পী।
এবার বিদায়ের পালা। কলম্বিয়ায় জন্ম নিলেও জীবনের ৮৭ বছরের ৫৪ বছরই কাটিয়েছেন মেক্সিকোয়। সেই দ্বিতীয় মাতৃভূমিতেই চিরনিবাস গড়তে যাচ্ছেন গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস। কলম্বিয়ার বিশ্বনন্দিত এই সাহিত্যিকের মেক্সিকো সিটিতেই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিবার। তবে কলম্বিয়া সরকার প্রকাশ্যে দাবি না করলেও মনেপ্রাণে চাইছিল, জন্মভূমি কলম্বিয়াতেই মার্কেসের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হোক। কলম্বিয়ার সংস্কৃতিমন্ত্রী মারিয়ানা গার্সেস বলেছিলেন, মার্কেসের পরিবার মেক্সিকোতে তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করলে সেই সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের পূর্ণ শ্রদ্ধা থাকবে। মার্কেসের পরিবার জানায়, ১৯৬০ সালের পর যে মেক্সিকো সিটিতে মার্কেসের বসবাস, দাহ করার পর সেই প্রিয় শহরেই তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে। সম্পূর্ণ পারিবারিক পরিবেশে অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হলেও পরে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন ভক্ত-অনুরাগীরা। তবে ঠিক কবে কখন এই অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া হবে, সে সম্পর্কে মার্কেসের পরিবার স্পষ্ট কিছু জানায়নি। কলম্বিয়া ও মেক্সিকোয় শোক: লাতিন আমেরিকার গণমানুষের এই লেখকের বিদায়ে শোকে মুহ্যমান কলম্বিয়া ও মেক্সিকো। কাল সোমবার মেক্সিকো সিটির বেলাস আর্টস কালচারাল প্যালেসে সর্বস্তরের মানুষের জন্য শ্রদ্ধা নিবেদনের আয়োজন করা হয়েছে। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট হুয়ান ম্যানুয়েল সান্তোস অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। থাকবেন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতোও।
মেক্সিকো সিটির শোকাতুর অধিবাসীরা ব্যক্তিগতভাবে প্রিয় লেখকের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। কেউ গান গেয়ে, কেউ মার্কেসের বাড়ির সামনে মোমবাতি জ্বালিয়ে, কেউবা গোলাপের পসরা সাজিয়ে সাহিত্যের এই মহানায়ককে স্মরণ করছেন। একই দৃশ্য মার্কেসের শৈশবের শহর কলম্বিয়ার আরাকাতাকায়ও। ভক্তরা তাঁর বাড়ির সামনে তাঁর ছবি হাতে কেউবা তাঁর পছন্দের হলুদ ফুল নিয়ে শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন। জাদুকরি সৃষ্টি ওয়ান হানড্রেড ইয়ার্স অব সলিটিউড-এর স্রষ্টার জন্য তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছে কলম্বিয়া সরকার। দেশটিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হচ্ছে। পত্রিকাগুলো প্রকাশ করছে বিশেষ ক্রোড়পত্র। শৈশবের শহর আরাকাতাকায় চলছে লোকসংগীত গেয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন। বোগোতার ইল এসপেকটেডর পত্রিকায় কয়েক বছর সাংবাদিকতা করেছিলেন মার্কেস। পত্রিকাটি তাঁদের সাবেক সহকর্মীর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে শিরোনামে বলেছে ‘অমর’। গত ১৭ এপ্রিল লাখো ভক্তকে কাঁদিয়ে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন জাদুবাস্তবতার এই নিপুণ অমর শিল্পী। এএফপি।

কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা গিলানির কাছে মোদির দূত!

সৈয়দ আলী শাহ গিলানি
কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন হুররিয়ত কনফারেন্সের একাংশের নেতা সৈয়দ আলী শাহ গিলানি দাবি করেছেন, তাঁর কাছে গোপনে দূত পাঠিয়েছিলেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী নরেন্দ্র মোদি। তবে বিজেপি তাঁর দাবি অস্বীকার করে বলেছে, মিথ্যা বিবৃতির জন্য গিলানির ক্ষমা চাওয়া উচিত। মোদি কাশ্মীরের জামায়াতে ইসলামীসহ দুটি মধ্যপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদী গ্রুপের কাছেও দূত পাঠিয়েছিলন বলে দাবি করেন গিলানি। তবে জামায়াত এ ধরনের খবর নাকচ করে দিয়েছে। কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে নিজ বাসভবনে গত শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে হুররিয়ত নেতা গিলানি বলেন, নরেন্দ্র মোদি কাশ্মীর সমস্যা সমাধানে একটি প্রতিশ্রুতি পেতে গত ২২ মার্চ তাঁর কাছে গোপনে দুজন দূত পাঠিয়েছিলেন। তবে ওই প্রস্তাব তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন এবং মোদির দূতদের বলে দিয়েছেন, মোদি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের সদস্য ছিলেন। তাঁর দলের নীতি তাঁরা জানেন। তবে গিলানির দাবিকে ভিত্তিহীন মন্তব্য করে বিজেপির এক বিবৃতিতে বলা হয়, মোদির কোনো দূত গিলানির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেনি বা করার চেষ্টাও করেনি। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ—এ বিষয়ে বিজেপির অবস্থান একেবারে স্পষ্ট। এ বিষয়ে ছাড় দেওয়া বা আলোচনা করার কোনো সুযোগ নেই।
বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা রবি শঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘গিলানির বক্তব্য মিথ্যা। আমি আশ্বস্ত করছি, বিজেপির কোনো প্রতিনিধি তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি।’ অন্যদিকে কাশ্মীর জামায়াতের প্রধান মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওয়ানি বলেন, ‘মোদি বা বিজেপির কোনো প্রতিনিধি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তবে তাঁরা গিলানির সঙ্গে দেখা করে থাকতে পারেন। কারণ, তিনি একজন বড় নেতা।’ ‘পেছন থেকে সরকার চালানোর খেসারত সোনিয়া-রাহুলকে দিতে হবে’: প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের সাবেক উপদেষ্টা সঞ্জয় বারুর আলোচিত বই দি অ্যাকসিডেন্টাল প্রাইম মিনিস্টার-এ করা দাবি নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী ও তাঁর ছেলে রাহুল গান্ধীর কড়া সমালোচনা করেছেন মোদি। আসামে গতকাল এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, ‘কে প্রকৃত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, (বইটিতে) সেটা পরিষ্কার। মনমোহন সিং কী বলেছেন, তাতে কিছু যায়-আসে না। এ জন্য মা-ছেলে (সোনিয়া-রাহুল) উভয়কে খেসারত দিতে হবে।’ মমতার সহযোগিতার প্রত্যাশা মোদির: ‘আমি আশা করছি, সিঙ্গুর সমস্যা সমাধানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর (মমতা বন্দ্যোপাধায়ের) কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পাব। কেবল সিঙ্গুরই নয়, রাজ্যটিতে একটি শিল্পবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির জন্য রাজ্য সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা পাওয়ার আশা করছি।’ একটি বাংলা দৈনিককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোদি এ কথা বলেছেন। টাইমস অব ইন্ডিয়া, পিটিআই ও আইএএনএস।

ভারতে নৌ ও সেনাপ্রধান নিয়োগ নিয়ে উত্তপ্ত রাজনীতি

ভারতের নৌবাহিনীপ্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা মেনে চলার দীর্ঘদিনের রেওয়াজ কংগ্রেস সরকার লঙ্ঘন করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নৌবাহিনীর পর এখন সেনাবাহিনীর ক্ষেত্রে কী ঘটবে, তা দেখতে সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও কৌতূহল দেখা দিয়েছে। ভারতের বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল বিক্রম সিং আগামী ৩১ জুলাই অবসর নিচ্ছেন। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী সেনাপ্রধান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিজেপি আগামী ১৬ মের আগে ‘তড়িঘড়ি’ সেনাপ্রধান নিয়োগ না দিতে সরকারকে সতর্ক করে দিয়েছে। ১৬ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার কথা রয়েছে। আইএনএস সিন্ধুরত্ন নামের একটি ডুবোজাহাজ দুর্ঘটনার পর অ্যাডমিরাল ডি কে যোশী গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আকস্মিক পদত্যাগ করেন। জ্যেষ্ঠতা অনুসারে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় নৌ-কমান্ডার ভাইস অ্যাডমিরাল শেখর সিনহার নতুন নৌবাহিনীপ্রধান হওয়ার কথা ছিল। তবে সরকার তাঁর কনিষ্ঠ নৌ স্টাফের উপপ্রধান রবিন ধাওয়ানকে গত বৃহস্পতিবার নৌবাহিনীপ্রধান করে।
সূত্র জানায়, হতাশ শেখর সিনহা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়কে একটি চিঠি দিয়েছেন। এতে তিনি সরকারকে জানান, তাঁর চেয়ে ছয় মাসের কনিষ্ঠ রবিনের অধীনে তিনি চাকরি করতে পারবেন না। সরকার তাঁর প্রতি ‘সুবিচার’ করতে না পারলে তিনি ‘স্বেচ্ছায় অবসর’ নেবেন। নৌবাহিনীর পর এখন ভারতের সেনাবাহিনীতেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বর্তমান প্রধানের অবসরে যাওয়ার দুই মাস আগেই নতুন সেনাপ্রধানের নাম ঘোষণা করা হয়। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকেই বেছে নেওয়া হয়। সে হিসেবে উপ সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল দলবির সিংকে সেনাপ্রধান করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির জ্যেষ্ঠ নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, ‘পরবর্তী সেনাপ্রধান বা লোকপাল নির্বাচনের মতো বড় বিষয়ে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, আমরা একটা নির্বাচনের মাঝপথে রয়েছি। যেখানে আচরণবিধির মডেল কার্যকর রয়েছে, সেখানে অন্তত ১৬ মে পর্যন্ত এসব বিষয় বন্ধ রাখতে হবে।’ পিটিআই।

বাবা ও ছেলে দুজনার সাথেই যৌন সম্পর্ক ছিলো জিয়া খানের??

বাবা ও ছেলের সাথে একসাথে সম্পর্ক রক্ষা করতে গিয়ে খুন হন জিয়া খান। মৃত্যুর সময় সময় মদ্যপ ছিলেন জিয়া খান-এমনটাই জানাচ্ছে ফরেনসিক প্রতিবেদন। গত ৩ জুন নিজেদের ফ্ল্যাটে নিহত হন বলিউডের উঠতি এই অভিনয়শিল্পী। এরপর জল কম ঘোলা হলো না! বলিউডের অভিনেত্রী জিয়া খানের একই সঙ্গে যৌন সম্পর্ক ছিল প্রেমিক সুরুজ খান ও তার বাবা বলিউডের বিতর্কিত অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলির সঙ্গে। এটা ঢাকতে সুরুজের বাবা আদিত্য পাঞ্চোলি জিয়া খানকে খুন করিয়েছেন কী না, এ প্রশ্ন উঠেছে।

জিয়া খান মৃত্যুবরণ করেন গত ৩ জুন রাতে। সেদিন তার অ্যাপার্টমেন্টে হাজির হয়েছিলেন অভিনেতা আদিত্য পাঞ্চোলি।গত ৩ জুন মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগে জিয়া সর্বশেষ ফোনে কথা বলেছিলেন প্রেমিক সুরজের সঙ্গে। তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়েছিল। এমনকি জীবনের শেষ চিঠিতে প্রেমিক সুরজের বিষয়ে নানা গুরুতর অভিযোগ করে গেছেন জিয়া।

সেগুলোর মধ্যে প্রতারণা, ধর্ষণ ও গর্ভপাতের মতো বিষয়ও ছিল। জিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক থাকলেও বয়সে ২০ বছরের বড় এক নারীর সঙ্গে প্রণয়ে জড়িয়ে পড়েছিলেন সুরজ। পাঞ্চোলি পরিবারে গয়না সরবরাহ করতেন ওই নারী। সুরজের অনেক অত্যাচার মুখ বুজে সইলেও প্রেমিকের কাছ থেকে প্রতারণার বিষয়টি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারেননি জিয়া। তবে সুরুজের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা চিঠিতে উল্লেখ থাকলেও তার বাবা আদিত্যের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা নেই।

ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, সম্প্রতি ৩ জুন রাতের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগ্রহ করা ছবি প্রকাশ করেছেন জিয়ার মা অভিনেত্রী রাবেয়া আমিন। প্রকাশিত ছবিতে আদিত্যর অস্বাভাবিক আচরণ লক্ষ করা গেছে। এতে অনেকের সন্দেহ, ছেলের প্রেমিকার সঙ্গে আদিত্য পাঞ্চোলিরও যৌন সম্পর্ক ছিল।

ভারতের জুহু বিচ-সংলগ্ন সাগর সংগীত অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন জিয়া খান। ৩ জুন রাতে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। কয়েকদিন পর প্রেমিক সুরজ পাঞ্চোলিকে দায়ী করে জিয়ার লেখা সুইসাইড নোট পাওয়া যায়। শুরু থেকেই জিয়ার মৃত্যুর জন্য সুরজ ও তার বাবা আদিত্য পাঞ্চোলিকে দায়ী করে আসছেন রাবেয়া আমিন। জিয়ার মৃত্যু-রহস্য নতুন মোড় নেয় ১ অক্টোবর। ওই দিন জিয়া খানকে হত্যার অভিযোগে বোম্বের উচ্চ আদালতে মামলা করেন রাবেয়া। তার মেয়েকে হত্যার পর আত্মহত্যার নাটক সাজানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

একটি পার্টি থেকে ৩ জুন রাতে রাবেয়াকে সাগর সংগীত অ্যাপার্টমেন্টে পৌঁছে দিয়েছিলেন আদিত্য পাঞ্চোলি। রাবেয়ার সঙ্গে মুন্নু ও আঞ্জু নামে আরও দুজনকেও জিয়ার বাসায় পৌঁছে দেন আদিত্য। তিনি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের সামনে তাদের নামিয়ে দিয়ে সেখান থেকে চলে না গিয়ে ভবনের আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে থাকেন।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ভেতরে ঢুকবেন কি না, তা নিয়ে ইতস্তত করছেন আদিত্য। একপর্যায়ে তিনি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের ভেতরে ঢুকতে থাকেন। কিন্তু সিসিটিভি ক্যামেরা দেখে সেখান থেকে বের হয়ে যান তিনি। সে সময় তার আচরণ স্বাভাবিক ছিল না। তাকে দেখে বিভ্রান্ত মনে হচ্ছিল। কারও সঙ্গে ফোনেও কথা বলতে দেখা যায় তাকে সম্প্রতি এক খবরে এমনটিই জানিয়েছে ওয়ান ইন্ডিয়া।

দুই দিন পর জিয়ার আত্মহত্যায় প্ররোচনার দায়ে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬ ধারায় সুরজকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিছুদিন জেলের চার দেয়ালে বন্দী থাকার পর জামিনে মুক্তি পান সুরজ পাঞ্চোলি।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ঘরেল আদমি @বাবা ভয়ঙ্কর রাজাকার তাই অপহরণ?

শুরু থেকেই সরব ফেসবুক। বেলা'র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এ বি সিদ্দিকের অপহরণ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লেখালেখি চলছে সেই অপহরণের দিন থেকেই। যখন অপহৃত ছিলেন তখনও যেমন সোচ্চার ছিলেন ফেসবুক ব্যবহারকারীরা। ফিরে আসার পরেও সরব তারা। দিচ্ছেন নানা প্রতিক্রিয়া। ছড়াচ্ছেন উত্তাপ।  ঘটনার পক্ষে বিপক্ষে মত আসছে। কারে মনে প্রশ্ন জাগছে। কেউ যা কিছু বলা হচ্ছে সব মেনে নিচ্ছেন কেউ চাইছেন অমিমাংসিত কিছু প্রসঙ্গের উত্তর। কেউ এই ঘটনাকে 'নাটক' আখ্যা দিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে নানান যুক্তি তুলে ধরেছেন, আবার অন্যপক্ষ এমন একটি বিষয় নিয়ে কটাক্ষ করায় কড়া সমালোচনা করেছেন প্রতিপক্ষের মন্তব্যকারীদের। কারো কারো স্ট্যাটাস রসিকতায় ভরা।

মাঝে মাঝে হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ার শব্দ শুনেছি by নূরুজ্জামান লাবু

অপহরণকারীদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী এবি সিদ্দিক ভুলতে পারছে না সেই ৩৫ ঘণ্টার দুঃসহ স্মৃতি। এই সময়ে কখন কি ঘটেছিল তা স্মৃতি আওড়ে বলার চেষ্টা করছেন স্বজনদের কাছে। জানাচ্ছেন গণমাধ্যমকর্মীদেরও। গতকাল সেন্ট্রাল রোডের বাসায় একান্ত আলাপচারিতায় এবি সিদ্দিক জানিয়েছেন অপহরণ ঘটনার আরও কিছু তথ্য। তিনি বলেন, অপহরণের পর তাকে যে বাসায় নিয়ে রাখা হয়েছিল ওই বাসার ওপর দিয়ে তিনি বেশ কয়েকবার হেলিকপ্টার উড়ে যাওয়ার শব্দ শুনেছেন।

সরকারের হাতে সময় কম তাদের বিদায় নিতেই হবে: খালেদা জিয়া

সরকারের উদ্দেশে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, আপনাদের হাতে সময় খুব কম। বেশিদিন টিকতে পারবেন না। আপনাদের বিদায় নিতেই হবে। বিদায়ের পর জনগণের কাছে সব কর্মকাণ্ডের হিসাব দিতে হবে। গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে শ্রমিক দলের জাতীয় সম্মেলন ও সপ্তম কেন্দ্রীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠানে দেয়া প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন ইমরান, অব্যাহতি দিলেন ব্লগাররাও by সোলায়মান তুষার

শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ডা. ইমরান এইচ সরকার চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ছিলেন। সমপ্রতি সেখান থেকে ইস্তেফা দিয়েছেন। চাকরি ছাড়ার পর তিনি দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তিনি যেকোন মুহূর্তে দেশ ছাড়তে পারেন। তার প্রথম টার্গেট কানাডা। এছাড়া ইউরোপ বা মধ্যপ্রাচ্যের কোন একটি দেশে যেতে পারেন তিনি।

সাহসী নায়লা by সাইফ চন্দন

শোবিজে আজকাল অনেক ক্ষেত্রেই সুন্দর মুখশ্রীর প্রয়োজন হয় না অথবা পারফরমেন্স তেমন একটা জানা লাগে না। শুধু আকর্ষণীয় একটি ফিগার হলেই চলে। আর সেই ফিগারে পোশাক যত খুল্লাম খুল্লা করা যায়, ততই যেন চাহিদা বেশি। এদিক দিয়ে র‌্যাম্প মডেলরা নিঃসন্দেহে এগিয়ে। আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন পোশাক প্রদর্শনী অথবা ফ্যাশন শো’তে তাদের প্রায়শই স্বল্প বসনে উপস্থিত হতে দেখা যায়।

অবরুদ্ধ ধানমন্ডি মাঠ

উচ্চ আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে যাঁরা ধানমন্ডি মাঠে স্থাপনা নির্মাণ করছিলেন তাঁদের কিছু হয়নি, বরং যাঁরা আদালতের আদেশের অনুকূলে থেকে সেই মাঠে প্রবেশ করেছিলেন, তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। বাংলাদেশে মাঠ, অরণ্য, নদী রক্ষার সংগ্রাম এখন আর নিছক ‘পরিবেশবাদ’ নয়, তা এখন নিঃশ্বাস নেওয়ার সংগ্রামে পর্যবসিত হয়েছে। ভূমিখেকোদের বহুরূপ, তার এক রূপ হলো খেলার মাঠকে ক্লাবের সম্পত্তি বানিয়ে তা আত্মসাৎ করা। ঢাকার ধানমন্ডির শেখ জামাল ক্লাব মাঠের বেলায় সেটাই ঘটেছে। ধানমন্ডি মাঠ নামে পরিচিত সবুজ ভূমিটি একসময় উন্মুক্ত ছিল। কিন্তু ২০০৯ সালে ধানমন্ডি ক্লাবের নাম পরিবর্তন করে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড করার পরপরই মাঠটি ঘিরে ফেলা হয়। বন্ধ হয়ে যায় সর্বসাধারণের বিচরণ ও খেলাধুলা। সময়ে সময়ে এখানে কিছু টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়, চলে নানা রকম মেলা। এভাবে সর্বজনের ভূমি পরিণত হয় গোষ্ঠীবিশেষের স্বার্থের লীলাভূমিতে। ব্যবহূত হয় বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যের নাম। দলের ভাবমূর্তি, শহীদের স্মৃতি আর সরকারি ক্ষমতাকে এভাবে জনগণের অকল্যাণে ব্যবহার করা অনৈতিক ও বেআইনি; যার প্রকাশ ঘটে উচ্চ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ধানমন্ডি মাঠে সর্বজনের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়ার মাধ্যমে। প্রশ্ন হচ্ছে, ধানমন্ডিবাসীর মাঠ কোন প্রক্রিয়ায় লিমিটেড কোম্পানির হয়ে গেল?
আদালত যে নির্দেশনা দিয়েছেন, তা কেন সরকার বাস্তবায়ন করেনি? কেন মাঠের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করা হয়নি? কেন গেটের তালা ভেঙে পরিবেশবাদী জনতাকে সেখানে প্রবেশ করতে হলো? কেন সর্বসাধারণের ভূমিতে প্রবেশের দায়ে মামলা গ্রহণ করা হলো? একসময় উত্তর আমেরিকায় স্বর্ণলোভীদের উদগ্র আগ্রাসী অভিযান চলত। এর নাম হয়েছিল ‘গোল্ড রাশ’। বাংলাদেশে এখন চলছে ‘ল্যান্ড রাশ’। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতার যোগসাজশে একশ্রেণীর ব্যবসায়ী, ল্যান্ড ডেভেলপার, রাজনীতিবিদ ও আমলা সর্বজনের জমি, খাসজমি, নদী-নালা-বন-পাহাড় গ্রাস করে চলেছে। ভূমির মূল্য আকাশচুম্বী হওয়ার কারণও এটাই যে ভূমি দখল ও বিক্রিই হলো সহজে বড়লোক হওয়ার উপায়। ধানমন্ডি মাঠসহ সারা দেশে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকা খেলার মাঠগুলো আসলে সর্বসাধারণের এজমালি মালিকানাধীন সম্পত্তি। এর ওপর ব্যক্তির বা গোষ্ঠীর বা কোম্পানির মালিকানা চাপিয়ে দেওয়া লুণ্ঠনেরই আরেক নাম। আইন ও সরকারের নির্বাহী বিভাগ কি এতই দুর্বল যে তারা এই অন্যায়ের দর্শক কিংবা সহযোগীতে পরিণত হচ্ছে? অবিলম্বে ধানমন্ডি মাঠ অবমুক্ত করে দেওয়া হোক। রাজধানীর এই বিরল সবুজ অঙ্গনে শিশু-কিশোরসহ সর্বশ্রেণী ও পেশার মানুষদের বিচরণের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হোক। ক্লাব কর্তৃপক্ষের ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। শুধু এই মাঠটি নয়, রাজধানীর সব মাঠ ও ক্রীড়াঙ্গনকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হোক। সিটি করপোরেশন, গণপূর্ত বিভাগসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জবাবদিহি ও আইনের প্রতি আনুগত্য প্রতিষ্ঠাই প্রত্যাশিত।

ছাত্রলীগ ভালো, না ছাত্রদল?

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি হতে ইচ্ছুক এমন ছয়জন নেতৃস্থানীয়কে মঞ্চে ডেকে প্রশ্ন করেছিলেন, ছাত্রলীগের দলীয় সংগীতটি জানা আছে কি না। সবাই ছিলেন নিরুত্তর। তাঁদের কাছে সংগঠনের গঠনতন্ত্র সম্পর্কে জানতে চান তিনি। তখনো তাঁরা নীরব থেকেছেন। খুবই বিস্মিত হয়েছিলেন কেন্দ্রীয় সভাপতি। তবে আমরা এ সংবাদ পাঠ করে তাঁর মতো বিস্মিত হতে পারিনি। কারণ, শুধু বিশ্ববিদ্যালয় শাখা নয়, এখন ছাত্রলীগের নেতৃত্বে যাঁরা আসতে চান, তাঁদের কাছে দলীয় সংগীত বা গঠনতন্ত্র সম্পর্কে জানার চেয়েও অনেক মূল্যবান হয়ে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো নির্মাণ বা সংস্কারকাজে নিযুক্ত ঠিকাদারের নাম জানা। রেলওয়ের কাজের টেন্ডার জমা দেওয়ার সর্বশেষ তারিখটি তাঁদের মনে রাখতে হয়, এই টেন্ডার বাগিয়ে নেওয়ার জন্য দলের ভেতর আরও কেউ ঘাপটি মেরে বসে আছেন কি না, তাঁদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিতে হয়। নগরের বিলবোর্ড দখল করা, এ কাজে প্রতিদ্বন্দ্বীদের ঠেকানোর জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ইত্যাকার অনেক কাজে ব্যস্ত থাকতে হয় তাঁদের। ফলে দলীয় সংগীত বা গঠনতন্ত্রের মতো নিরীহ বিষয় নিয়ে ভাবার অবকাশ কোথায় তাঁদের? ক্ষুব্ধ ও হতাশ কেন্দ্রীয় সভাপতি বলেছেন, ‘সংগঠন সম্পর্কে জ্ঞান না থাকা ১০০ জনের চেয়ে এ সম্পর্কে জ্ঞান আছে এমন ১০ জনই যথেষ্ট।’ খুবই ভালো কথা, কিন্তু সেই ১০ জনের সন্ধান দেবে কে? বদিউজ্জামান সোহাগ যেদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী সম্মেলনে যোগ দিতে এসেছেন, তার কদিন আগে এই বিশ্ববিদ্যালয়েই ঘটে গেছে আরও একটি বিস্ময়কর ঘটনা। যদিও ছাত্ররাজনীতির, বিশেষ করে ছাত্রলীগের রাজনীতির নানা রূপ ও রং দেখে আমরা ক্রমেই বিস্মিত হওয়ার ক্ষমতা হারাচ্ছি, তবু এ ঘটনাকে বিস্ময়কর বলে মানতে হচ্ছে এ কারণে যে সাবেক একজন সভাপতিকে ক্যাম্পাসে এভাবে বরণের (?)
ঘটনা অন্তত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে আর কখনোই ঘটেনি। ৬ এপ্রিল একটি স্মরণসভায় যোগ দিতে এসেছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি নাসির হায়দার করিম (তিনি বর্তমানে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপকমিটির সহসভাপতি)। ট্যাক্সিযোগে ক্যাম্পাসে পৌঁছা মাত্র ছাত্রলীগের একাংশের কর্মীরা তাঁকে মারধর করে তাঁর পরনের শার্ট ছিঁড়ে ফেলেন এবং তাঁর গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেন। এ ছবি ছাপা হয়েছে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায়। ছাত্রসংগঠনের নেতা ও কর্মীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সম্পর্ক যে আজ আর অবশিষ্ট নেই, এ ঘটনা তার প্রমাণ। তবে ব্যক্তিবিশেষ বড় কথা নয়, একজন সাবেক সভাপতি তো সংগঠনের ইতিহাসেরও অংশ। তাঁকে এভাবে অপমান করে আসলে ছাত্রলীগের এই কর্মীরা তাঁদের ইতিহাসের মুখেই কালি লেপে দিয়েছেন। অবশ্য, যাঁরা দলীয় সংগীত ও দলের গঠনতন্ত্র সম্পর্কেই জানেন না, তাঁদের মধ্যে ইতিহাস-চেতনা কতটা কার্যকর তা অনুমেয়। সিনিয়র নেতাদের লাঞ্ছিত করা, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজিসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ড না ছাড়লে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ইউনিট বাতিল করার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির কেন্দ্রীয় সভাপতি। যাঁদের উদ্দেশে এই হুঁশিয়ারি তাঁরা বিষয়টিকে কতটা আমলে নেবেন জানি না। কারণ, ইতিপূর্বে এ রকম কোনো ঘটনার জন্য সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দৃষ্টান্ত নেই। ২০১১ সালের জুন মাসে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের আংশিক কমিটির ঘোষণা দিয়েছিল সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সংসদ। এরও আট মাস পরে ২১৯ সদস্যের এক বিশাল পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠিত হয়।
এক বছর মেয়াদি কমিটির কার্যকাল শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। গত দুই বছরে অন্তত ৮০ বার সংঘর্ষে জড়িয়েছেন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এত সব সংঘাতের ঘটনার তদন্ত ও শাস্তি যেখানো হলো না, সেখানে নতুন ‘হুঁশিয়ারি’ নতুন কোনো অর্থ বহন করার কথা তো নয়। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের এই ‘বিপুল কর্মতৎপরতা’র বিপরীতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের বর্তমান অবস্থা একেবারেই ম্রিয়মাণ। প্রায় আড়াই বছর আগে সভাপতি, সহসভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নিয়ে তিন সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করে জানানো হয়েছিল, কিছুদিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হবে। সেই কমিটির নাম-নিশানা পাওয়া গেল না আরও একটি বছর। এক বছর পর দলের ক্ষুব্ধ একটি অংশ পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার ব্যর্থতার জন্য সভাপতি তৌহিদুল ইসলামকে দায়ী করে চড়াও হয়েছিল তাঁর ওপর। সতীর্থদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে সেই যে ক্যাম্পাস ছেড়েছিলেন সভাপতি আর কখনোই ওমুখো হননি তিনি। তিন সদস্যের কমিটির তিনজনেরই ছাত্রত্ব শেষ হয়েছে অনেক আগে। ফলে তাঁরাও কেউ যান না ক্যাম্পাসে। কার্যত ছাত্রদলের কোনো কার্যক্রম এখন আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই বললেই চলে। এদিক থেকে বিবেচনা করলে ছাত্রদলের ‘শূন্য গোয়ালটি’ই আপাতত ভালো। শুধু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন, দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের তেমন কোনো অবস্থান বা কার্যক্রম আছে বলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় না। শিক্ষার্থীদের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া বা সংগঠনকে শক্তিশালী করে তোলার ব্যাপারে নেতা-কর্মীদের বিশেষ আগ্রহ আছে বলেও মনে হয় না।
এই অনাগ্রহের কারণ খুঁজতে হবে অন্যত্র। দীর্ঘদিন দল ক্ষমতাসীন না থাকায় টেন্ডার, চাঁদাবাজি বা অন্যান্য লাভজনক কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা পাচ্ছে না ছাত্রদল। ভাগ-বাঁটোয়ারার বিষয় যেখানে নেই, সেখানে কোন্দল-সংঘাত-সংঘর্ষও নেই। তবে দল ক্ষমতায় যেতে পারলে তাঁরা যে পুনরায় সক্রিয় হয়ে উঠবেন, তার আলামত মাঝেমধ্যে পাওয়া যায়। দিন কয়েক আগে চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের সাংগঠনিক সপ্তাহ ও সদস্য সংগ্রহ কর্মসূচি উপলক্ষে কাজীর দেউড়ি নাসিমন ভবন কার্যালয়ের সামনে নেতা-কর্মীরা ত্রিমুখী সংঘর্ষে জড়িয়ে নিজেদের দলীয় কর্মীকে রক্তাক্ত করে জানান দিয়েছেন, তাঁরা আছেন। এ সময় বিএনপির মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেনকেও নাজেহাল করেন ছাত্রদলের একাংশের কর্মীরা। কিছুদিন আগে মহানগর ছাত্রদলের কমিটি ঘোষণার পর রাজপথে বিক্ষোভ, দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের গাড়িতে আগুন দেওয়াসহ নানা উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেছেন নেতা-কর্মীরা। নতুন কমিটিকে ‘বাবা কমিটি’ ঘোষণা করে তাকে প্রতিহত করার উদ্যোগ-আয়োজনও করা হয়েছে তখন। এখনো নগর ছাত্রদলের যেকোনো কর্মসূচিতেই সেই পুরোনো ছাইচাপা আগুনই জ্বলে উঠতে দেখি আমরা। তবু সব মিলিয়ে, ছাত্রলীগের বর্তমান কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করলে ছাত্রদলকে অপেক্ষাকৃত ভালোই বলতে হবে। তবে আওয়ামী লীগের এই ক্ষমতাকালে ছাত্রলীগের প্রকৃত স্বরূপ আমরা যেমন দেখতে পাচ্ছি, তেমনি ছাত্রদলের আসল চেহারাটি দেখার জন্যও অপেক্ষা করতে হবে বিএনপি ক্ষমতায় আসা পর্যন্ত।
বিশ্বজিৎ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwabd@yahoo.com

গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তি হতাশাব্যঞ্জক

নাসির উদ্দীন ইউসুফ
বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা নাসির উদ্দীন ইউসুফের জন্ম ঢাকায়, ১৯৫০ সালে। একজন নাট্য, সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব হিসেবেই বর্তমানে বেশি পরিচিত। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসির উদ্দীন ইউসুফ গ্রাম থিয়েটার ও ঢাকা থিয়েটারসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের মূল সংগঠক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে সোচ্চার একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে শাহবাগের আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত হয়ে পড়েন। প্রথম আলোর সঙ্গে সাক্ষাৎকারে তিনি কথা বলেছেন এই আন্দোলন, এর বর্তমান দশা ও সাম্প্রতিক বিভক্তি নিয়ে।
 সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এ কে এম জাকারিয়া

প্রথম আলো  আজকে গণজাগরণ মঞ্চের যে বিরোধ, এর কারণ কী বলে মনে করেন?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  দেশের মানুষ যে আবেগ নিয়ে এই গণজাগরণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছিল, এর নেতৃত্ব তার মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হচ্ছেন বলেই আজ এই বিভক্তি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে অন্যায় ও অনাচারের বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি জাগরণ হতে পারে, এটা তো আমাদের কারোর ধারণার মধ্যেই ছিল না। জনগণ, বিশেষ করে তরুণেরা এর সঙ্গে যেভাবে যুক্ত হয়েছেন, তা ছিল অভাবিত। কোনো নেতৃত্ব থেকে পরিকল্পনা করে তো আর এই গণজাগরণ হয়নি, ঘটনা ঘটে গেছে। কিন্তু এরপর এর যে সাংগঠনিক ও কর্মসূচিনির্ভর কাঠামো প্রয়োজন ছিল, তা করা যায়নি। ফলে এই বিরোধ।
প্রথম আলো  আপনি নিজেও তো এই গণজাগরণ মঞ্চের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শুরু থেকে জড়িত ছিলেন।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  ৫ ফেব্রুয়ারি যখন কাদের মোল্লার রায় ঘোষণা করা হয়, তখনই ট্রাইব্যুনালের বাইরে এসে বলেছিলাম যে আমরা শহীদ পরিবার ও মুক্তিযোদ্ধারা এই রায় মানি না। শাহবাগে যখন এর প্রতিবাদে লোকজন জড়ো হয়েছে, তখন নিজের তাগিদেই সেখানে গিয়েছি। যাঁরা এটাকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছেন তাঁরা আমাকে ডেকেছেন। আমি তাঁদের সঙ্গে থেকেছি, পরামর্শ দিয়েছি। তখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সব কটি ছাত্রসংগঠন এর সঙ্গে যুক্ত ছিল, তাদের নেতারাও ছিলেন। বিভিন্ন পেশাজীবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছে এই জাগরণকে এগিয়ে নিতে। একে একটি সাংগঠনিক রূপ দেওয়ার জন্য ‘গণজাগরণ মঞ্চ’ তৈরি করা, ইমরান এইচ সরকারকে এর মুখপাত্র করা—এগুলো সবই সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই ঠিক করা হয়েছে। এই সময়গুলোতে আমি এর সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত থেকেছি।
প্রথম আলো  অনেকে বলেন যে আপনি সরকারের তরফ থেকে এই মঞ্চে যুক্ত হয়েছেন।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমার নিজের তাগিদেই গিয়েছি। হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা যে কারণে গেছেন, আমিও সেই একই কারণে শাহবাগে গেছি। কাদের মোল্লার রায় প্রত্যাখ্যান করেছি। শাহবাগের এই আন্দোলনকে আমি একটি বিস্ফোরণ বলে মনে করি। অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মানুষের ক্ষোভের বিস্ফোরণ। কেউই জানত না এটা এই আকার ধারণ করবে, সরকারেরও তা জানার কথা নয়। তবে এটা ঠিক যে শুরু থেকেই এই আন্দোলনে যুক্ততার কারণে সরকার বিভিন্ন সময়ে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তারা কী করতে পারে, সে সম্পর্কে জানতে চেয়েছে।
প্রথম আলো  আপনি কী পরামর্শ দিয়েছেন?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ: আমরা নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার সহায়তা চেয়েছি। সরকার সেটা করেছেও। শাহবাগের আন্দোলনে সরকারের যে সহযোগিতা তা প্রত্যক্ষ নয়। অনেকে আন্দোলনের কর্মীদের পানি বা খাবার পাঠানোর কথা বলেন। এসব বিভিন্ন মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই পাঠিয়েছেন। এর মধ্যে সরকার-সমর্থক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যেমন ছিল, তেমনি এর বাইরেও ছিল।
প্রথম আলো  শাহবাগের আন্দোলনকে সরকার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাওয়ার কারণেই আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল, কিন্তু সরকার এর নিয়ন্ত্রণ নিতে চায়নি। তবে এটাও ঠিক যে সরকার এখান থেকে তার বিরোধিতার বিষয়টিকেও মানতে পারেনি। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে একবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ঘেরাও করার কথা উঠেছিল। খুব স্বাভাবিক কারণেই ছাত্রলীগ তা মেনে নেয়নি। তারা বিরোধিতা করেছে। ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অনুষ্ঠান নিয়েও সংগঠকদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছিল। অনেক ছাত্রসংগঠন এর সঙ্গে যুক্ত ছিল, প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। মঞ্চের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যখন মিলছে না, তখন আমরা দেখলাম ছাত্রলীগ সরে গেছে। এতে আন্দোলন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি তো মনে করি, নিজেদের স্বার্থে হলেও সরকারের উচিত ছিল এই আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে এখনো যুক্ত থাকা। অংশগ্রহণ কমিয়ে দিয়ে সরকার ভুল করেছে।
প্রথম আলো  যদি বলি প্রয়োজন ফুরিয়েছে বলেই সরকার সরে গেছে।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  শাহবাগের গণজাগরণ যে চেতনা নিয়ে হয়েছে, তার প্রয়োজন আওয়ামী লীগের জন্য ফুরিয়ে গেছে বলে মনে হয় না। এই আন্দোলনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সক্রিয়ভাবে জড়িত থাকা উচিত ছিল। অতীতে দেখেছি যে আওয়ামী লীগ যখন গণ-আদালত ছেড়েছে, তখন আন্দোলন ছোট হয়েছে। আমি মনে করি, আওয়ামী লীগসহ বাম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী সবারই উচিত মিলেমিশে এই আন্দোলনে যুক্ত থাকা।
প্রথম আলো  শাহবাগ আন্দোলনের সময় সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সক্রিয় ভূমিকার কথা শোনা যায়।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  তাদের উপস্থিতি ছিল এবং তা চোখে পড়েছে। তারা বিভিন্ন সময় আমাদের সঙ্গে কথা বলেছে। আমাদের সুবিধা-অসুবিধার কথা জেনেছে। বিভিন্ন সময়ে আমাদের তথ্যও দিয়েছে। নিরাপত্তার ব্যাপারে আমাদের পরামর্শ দিয়েছে।
প্রথম আলো  গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তি এখন এই পর্যায়ে এসে পৌঁছেছে যে এর মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারকে অন্য পক্ষ অব্যাহতি দিয়েছে। শুরুতে তাঁর মুখপাত্র হওয়ার বিষয়টি কি সর্বসম্মত ছিল?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  ইমরান ব্লগার ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের একটি সংগঠনের আহ্বায়ক ছিলেন। শাহবাগের আন্দোলনের সূচনা করার ক্ষেত্রে তাঁরা সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে যদিও শুরুতে ছাত্রলীগসহ বাম ছাত্রসংগঠনগুলো এই আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিল, কিন্তু নেতা বা মুখপাত্র হিসেবে ইমরানকেই বেছে নেওয়া হয়। একটি নতুন মুখ, ক্লিন ইমেজ—এসবও বিবেচনায় ছিল। সবাই মিলে আলোচনা করেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আজা যাঁরা তাঁর বিরোধিতা করছেন, তাঁকে অব্যাহতি দিয়েছেন, তাঁরাও শুরু থেকে ইমরানের নেতৃত্বে আন্দোলন করেছেন।
প্রথম আলো  ইমরানকে অব্যাহতি দেওয়ার বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  ইমরান গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র হয়েছেন একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। এভাবে তাঁকে অব্যাহতি দেওয়া ঠিক হয়নি। নেতৃত্ব বা আন্দোলন নিয়ে কোনো সমস্যা বা ভুল-বোঝাবুঝি হয়ে থাকলে তা নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারত। শুরুতে যাঁরা জড়িত ছিলেন, সবাইকে ডেকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেত। গণজাগরণ মঞ্চ এমন একটি মঞ্চ, যেখানে বিভিন্ন দল ও মতের লোকজন রয়েছেন। তাই একধরনের যৌথ সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এখন এর কার্যক্রম পরিচালিত হওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।
প্রথম আলো  গণজাগরণ মঞ্চের আন্দোলনের সময় বিভিন্ন সূত্র থেকে আসা অর্থ ও এর ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকের মতে চাঁদাবাজি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনাও ঘটেছে। আপনার মন্তব্য কী?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ খুবই দুঃখজনক। বড় কোনো ধরনের আর্থিক সহায়তা আসার ঘটনা ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। তবে জবাবদিহির জন্য অর্থের পরিমাণ যা-ই হোক, এর হিসাব থাকা দরকার এবং পাওয়া অর্থ ও ব্যয় নথিবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। অর্থই সবচেয়ে বড় সন্দেহ ও অবিশ্বাস তৈরি করে। কিন্তু এ ধরনের কিছু হয়েছে বলে আমি মনে করি না। ইমরান বলেছেন যে হিসাব রাখা হয়েছে এবং তা প্রকাশ করা হবে। সে ক্ষেত্রে সন্দেহ ও অবিশ্বাস কেটে যাবে। তবে আমাদের জানার বাইরে যদি কেউ মঞ্চের নামে অর্থ নিয়ে থাকে, তার দায় তো গণজাগরণ মঞ্চ নিতে পারে না।
প্রথম আলো  এখন তো গণজাগরণ মঞ্চ বিভক্ত হয়েছে, দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি চলছে। আবার শাহবাগের আন্দোলন অনেক আগেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। শুরুতে এর কৌশলে কোনো ভুল ছিল বলে মনে করেন কি?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  আমি মনে করি যে শাহবাগের আন্দোলন বা সেখানে অবস্থান করে যে আন্দোলন হয়েছে, তা দীর্ঘায়িত করা উচিত হয়নি। সংসদে যখন আইন পাস করে আপিল করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তখনই উচিত ছিল রাস্তায় অবস্থান নেওয়ার আন্দোলন থেকে সরে আসা। বলা উচিত ছিল যে আমাদের প্রাথমিক দাবি আদায় হয়েছে, ফলে শাহবাগে অবস্থানের বিষয়টি থেকে আমরা সরে আসছি; তবে সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে, প্রয়োজনে আবার আমরা মাঠে নামব। কিন্তু যখন এ ধরনের প্রস্তাব এসেছে তখন বিরোধিতা হয়েছে। আমি নিজেও বিরোধিতার শিকার হয়েছি।
প্রথম আলো  শাহবাগ আন্দোলন থিতিয়ে যাওয়া বা বিতর্কিত হওয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছু কি কাজ করেনি?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  আগেই বলেছি, শাহবাগের আন্দোলন কোনো সংগঠিত কাঠামো থেকে হয়নি। কোনো নেতার ডাকে সাড়া দিয়ে কেউ এখানে আসেনি। এটা ছিল জনগণের ক্ষোভের প্রকাশ। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন ও অসংখ্য পেশাজীবী সংগঠন এর পেছনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। কিন্তু চূড়ান্ত বিচারে একটি সমন্বিত কাঠামো দাঁড় করে একে একটি সাংগঠনিক রূপ দেওয়া যায়নি। গণজাগরণ মঞ্চের বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠীর ধারাবাহিক মিথ্যা প্রচারণা আছে, যাতে মহল বিশেষ সফলও হয়েছে—সবকিছু মিলিয়েই রাস্তার আন্দোলনটি থিতিয়ে যায়।
প্রথম আলো  সরকার হেফাজতের ভয়ে ভীত হয়ে শাহবাগ থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছে বলে মনে করেন কি?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  এটা ঠিক নয়। তবে সরকার সম্ভবত মনে করেছে যে শাহবাগকে সমর্থন ও চলতে দিতে থাকলে বিপরীত শক্তিও বাড়তে থাকবে। সরকার যদি কোনো পক্ষের সঙ্গেই জড়িত না থাকে, তবে দুই পক্ষকেই সামাল দেওয়া সহজ হবে। জামায়াতের উত্থান ও ধর্মীয় রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য সরকারের জন্য চিন্তার কারণ। ফলে সরকারকে তো নানা কৌশল নিতেই হবে।
প্রথম আলো  গণজাগরণ মঞ্চের বিভক্তি কি সে ধরনের কোনো কৌশল?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  এ ক্ষেত্রে সরকারের কোনো কৌশল বা চাপ কাজ করেছে বলে মনে করি না। গণজাগরণ মঞ্চ থেকে ছাত্রলীগ অনেক আগেই সরে গেছে। তবে গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সম্প্রতি সরকার যে আচরণ করেছে, তা উচিত হয়নি। মঞ্চের কর্মীদের ওপর এ ধরনের লাঠিপেটা কি এড়ানো
যেত না? গণজাগরণ মঞ্চ থেকে যা উচ্চারিত হয়েছে, তা তো আওয়ামী লীগের পক্ষেই যাওয়ার কথা।
প্রথম আলো  শাহবাগের আন্দোলনকে আপনি একটি বিস্ফোরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর প্রতিক্রিয়া কী হয়েছে সমাজে? আর গণজাগরণ মঞ্চের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েই আপনার মতামত কী?
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  গণজাগরণ মঞ্চের বর্তমান পরিস্থিতি জাতিকে আশাহত করেছে। যখন গণজাগরণ মঞ্চ নিয়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে, তখন আমি উত্তরবঙ্গে ছিলাম। লোকজন আমাকে প্রশ্ন করেছে, বলেছে, আপনারা তো সব শেষ করে দিলেন। আমি আশা করি, সবাই মিলে এই পরিস্থিতি সামলে ওঠা যাবে। তবে শাহবাগের আন্দোলন যে বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, তার প্রভাব আগামী দিনের বাংলাদেশ টের পাবে। এই আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত হয়েছিলেন যে লাখো-কোটি মানুষ, যে তরুণেরা—তাঁরাই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন। তাঁরা হয়তো এখন সংগঠিত অবস্থায় নেই, কিন্তু শাহবাগ যে আলো ছড়িয়েছে, তা তাঁরা অস্বীকার করবেন কীভাবে? যে স্কুলছাত্রটি শাহবাগে এসেছিল, সে একে ভুলে যাবে কেমনে?
প্রথম আলো  অনেক ধন্যবাদ।
নাসির উদ্দীন ইউসুফ  আপনাকে ধন্যবাদ।

আবু বকর ফিরলেন, বাকিরা? by আসিফ নজরুল

শুক্রবার পত্রিকা খুলে পাওয়া গেল পরম আনন্দ আর স্বস্তির একটি সংবাদ। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিক (এবি) ফিরে এসেছেন অপহূত হওয়ার ৩৫ ঘণ্টা পর। এই রহস্যময় অপহরণ ঘটনার কোনো কূল-কিনারা অবশ্য এখনো হয়নি। তবু এবি ভাগ্যবান, আমরা যারা এই ঘটনায় বিচলিত হয়ে ছিলাম, আমরাও ভাগ্যবান যে তিনি সুস্থ অবস্থায় ফিরেছেন তাঁর পরিবারের কাছে।