Saturday, October 10, 2009

আজ আসছে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯

প্রায় এক মাসের সফরে আজ সকালে বাংলাদেশে আসছে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল। সফরে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সঙ্গে একটি যুব টেস্ট ও সাতটি ওয়ানডে খেলবে তারা।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্টেডিয়ামে চার দিনের একমাত্র যুব টেস্টটি শুরু হবে আগামী ১৬ অক্টোবর। একই মাঠে ২৩ অক্টোবর সিরিজের প্রথম ওয়ানডে। ২৬, ২৭, ২৯ ও ৩১ অক্টোবর পরের চারটি ওয়ানডে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা স্টেডিয়ামে। ২ ও ৪ নভেম্বর মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের শেষ দুটি ওয়ানডে।
বাংলাদেশ সফরের জন্য এর মধ্যেই ১৭ সদস্যের অনূর্ধ্ব-১৯ দল ঘোষণা করেছে ইংল্যান্ড। সাবেক প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটার মিক নিউওয়েল দলের কোচ। সিরিজের জন্য মাহমুদুল হাসানকে অধিনায়ক ও অমিত মজুমদারকে সহ-অধিনায়ক করে আগেই ঘোষণা হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।

সব বিভাগীয় শহরেই এসএ গেমসের খেলা

এসএ গেমসের ২৩টি খেলাই ঢাকায় আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের। কিন্তু কিছু খেলা ঢাকার বাইরে বিশেষ করে বিভাগীয় শহরগুলোয় নিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছেন গেমসের প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যাতে আগামী ২৯ জানুয়ারি থেকে ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় গেমসটা ঢাকার বাইরের মানুষও উপভোগ করতে পারে।
ফেডারেশনের আপত্তি থাকলেও কুস্তি বরিশালে, সাইক্লিং খুলনায়, স্কোয়াশ রাজশাহীতে, উশু সিলেটে আয়োজনের সিদ্ধান্ত হয়েছে গেমসের স্টিয়ারিংয়ের কমিটির সভায়। অনূর্ধ্ব-২১ ক্রিকেটের উদ্বোধনী আর সমাপনী হবে ঢাকায়, চট্টগ্রামে হতে পারে বাকি সব ম্যাচ। অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলের দু-একটি ম্যাচ চট্টগ্রামে নেওয়ারও চিন্তা আছে। চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়ামকে ভেন্যু ধরেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে এমএ আজিজ স্টেডিয়াম ফুটবলের জন্য এই মুহূর্তে তৈরি নয়। আগামী দুই মাসের মধ্যে স্টেডিয়ামকে ফুটবলের উপযোগী করে তোলা যাবে কি না, তা নিয়ে আয়োজকেরাই সংশয় প্রকাশ করছেন। ফুটবলের মূল আয়োজনের জন্য ঢাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামই তাই শেষ ভরসা।
ঢাকায় ফেডারেশনের নিজস্ব কোর্ট না থাকায় স্কোয়াশ নেওয়া হচ্ছে রাজশাহী। ঢাকায় কোর্ট তৈরি করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও জমি নিয়ে সমস্যা থাকায় উদ্যোগটা থেমে গেছে। এ অবস্থায় ঢাকা ক্লাব বা গুলশান ক্লাবের চেয়ে রাজশাহী জাফর ইমাম টেনিস কমপ্লেক্সের কোর্টকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।

টি-টোয়েন্টির নতুন লড়াই আজ শুরু

আজ ভারতের বেঙ্গালুরুতে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়নস লিগ টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে কোন দলগুলো খেলছে তা নিয়ে ক্রিকেটামোদীদের আগ্রহ ও কৌতুহলের কমতি নেই। ক্রিকেট ইতিহাসে এই প্রথম ক্লাব, রাজ্য অথবা ফ্র্যাঞ্চাইজগুলোকে নিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক ক্রিকেট টুর্নামেন্ট হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে দলগুলো কিসের ভিত্তিতে খেলছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি থাকলেও মূলত পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ে বাদে বাকি সাতটি টেস্ট দলেরই ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি লিগের সেরাদলগুলো এই প্রতিযোগিতার শোভাবর্ধন করেছে। জনপ্রিয়তার বিচারেই বোধহয় ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি আসর আইপিএলের তিনটি দল বেঙ্গালুরু রয়েল চ্যালেঞ্জ, ডেকান চার্জার্স ও দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলছে। অন্যদলগুলো হচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার ফ্র্যাঞ্চাইজ কেপ কোবরাস ও ঈগলস, অস্ট্রেলিয়ার রাজ্যদল নিউসাউথ ওয়েলস ও ভিক্টোরিয়া , ইংল্যান্ডের কাউন্টি দল সাসেক্স ও সামারসেট, নিউজিল্যান্ডের রাজ্যদল ওটাগো ও শ্রীলঙ্কার ক্লাব ওয়াইয়াম্বা এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের ত্রিনিদাদ ও টোব্যাগো ।
বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়েতে স্বীকৃত কোনো ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা না থাকা ও মুম্বাই হামলার পর পাকিস্তানিদের ভারতীয় ভিসার দ্বার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই তিনটি দেশের কোনো দল চ্যাম্পিয়নস লিগে নেই।
চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপিং
গ্রুপ-এ- ডেকান চার্জার্স (ভারত),সামারসেট (ইংল্যান্ড), ত্রিনিদাদ এন্ড টোব্যাগো (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
গ্রুপ-বি- নিউ সাউথ ওয়েলস (অস্ট্রেলিয়া), সাসেক্স (ইংল্যান্ড), ঈগলস(দক্ষিণ আফ্রিকা)
গ্রুপ-সি- বেঙ্গালুরু রয়েল চ্যালেঞ্জার্স (ভারত), কেপ কোবরাস(দক্ষিণ আফ্রিকা), ওটাগো(নিউজিল্যান্ড)
গ্রুপ-ডি- দিল্লি ডেয়ারডেভিলস(ভারত), ভিক্টোরিয়া(অস্ট্রেলিয়া), ওয়াইয়াম্বা (শ্রীলঙ্কা)
আজ বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে চ্যাম্পিয়নস লিগের উদ্বোধনী ম্যাচে গ্রুপ সি তে ভারতের বেঙ্গালুরুর রয়েল চ্যালেঞ্জার্স মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ কোবরাস এর। আইপিএল রানার্সআপ রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রো-টোয়েন্টি লিগের চ্যাম্পিয়ন কোবরাস এর মধ্যকার আজকের ম্যাচটি স্টার স্পোর্টস বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩০ মিনিটে সরাসরি সম্প্রচার করবে।
একনজরে আজকের ম্যাচে দু’দলে যেসব তারকা খেলোয়াড়রা খেলছেন
বেঙ্গালুরু রয়েল চ্যালেঞ্জার্স: অনিল কুম্বলে, মার্ক বাউচার, জ্যাক ক্যালিস, রাহুল দ্রাবিড়, ডেল স্টেইন, রস টেইলর, রবিন উথাপ্পা
কেপ কোবরাস: জাস্টিন ল্যঙ্গার ভেল্ট, ওনটং, মন্ডে জন্ডেকি, জেপি ডুমেনি

অপেক্ষা, একমুঠো রোদ্দুরের -চারদিক by কামরুন নাহার

অনেক স্বপ্ন শাহীনুরের চোখে।
ঠিক বললাম তো?
শাহীনুর তো চোখেই দেখতে পায় না, ওর চোখে কীভাবে ঠাঁই পাবে স্বপ্ন?
ওর মা তাই প্রায়ই দীর্ঘশ্বাস ফেলেন। ভাবেন, আমার বারো বছর বয়সী মেয়েটা কীভাবে পৃথিবী দেখবে, আকাশ দেখবে, ডানা মেলে ভাসবে কল্পনায়?
যাকে নিয়ে এত ভাবনা, সে কিন্তু এসব নিয়ে একদম ভাবে না। ছোট ভাইকে নিয়ে বসে থাকে ঘরের এক কোণে। মা যখন কাজ করেন, তখন ভাইটা জ্বালায়, অগত্যা ওর স্থান হয় বোনের কোল। ভাইকে নিয়ে বসে থাকে শাহীনুর। সময় কেটে যায়। শাহীনুরের কাছে দিন আর রাতের কোনো পার্থক্য নেই, তাই যেভাবেই সময় কাটুক, তা নিয়ে ওর ভাবনা নেই।
এভাবেই কেটে যাচ্ছিল ওর দিন। কিন্তু একদিন ওকে আনা হলো চিকিত্সকের কাছে। চিকিত্সক বললেন, ওর চোখ আর ভালো হবে না। শাহীনুরকে বলা হলো, চোখ ভালো না হলেও ও এখন পড়াশোনা করতে পারবে। ব্রেইল পদ্ধতিতে পড়াশোনা করে ও করতে পারবে স্বাভাবিক জীবনযাপন। সেটাই এখন করছে শাহীনুর। সে কারণেই এখন অনেক স্বপ্ন ওর চোখে।
আজ বিশ্ব দৃষ্টি দিবস। আমরা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিশুদের নিয়ে কথা বলব আজ।
চাইল্ড সাইট ফাউন্ডেশন (সিএসএফ) এ ধরনের শিশুদের নিয়ে কাজ করছে অনেক দিন ধরে। অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছেলেশিশুদের নিয়ে অভিভাবকদের যতটা আগ্রহ, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মেয়েদের নিয়ে ততটা নয়। এখানেও একটা বৈষম্য থেকে যাচ্ছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজার শিশু দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী রয়েছে, ১২ হাজার শিশু ছানির কারণে অন্ধত্ব বয়ে বেড়াচ্ছে। সিএসএফ ২০০০ সাল থেকে বাংলাদেশের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের খুঁজে বের করা, বিনামূল্যে চিকিত্সা-সুবিধা প্রদান করা, পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা, একীভূত শিক্ষার আওতায় নিয়ে আসা এবং শিশুদের চক্ষু পরিচর্যাসহ তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে কাজ করছে।
সিএসএফ আত্মপ্রকাশ করে গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে। ২০০১-০৩ সাল পর্যন্ত ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর আই হেলথ (আইসিইএইচ) লন্ডনের আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাংলাদেশে প্রথম গবেষণা পরিচালনা করেন ডা. এম এ মুহিত। তিনি আইসিইএইচ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল রিসার্চ ফেলো। গবেষণার মাধ্যমে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের শনাক্তকরণের জন্য একটি যুগান্তকারী এবং সহজ পদ্ধতি আবিষ্কার করেন তিনি। তা হলো কি ইনফরমেন্ট মেথড।
২০০৬ সাল থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর পুনর্বাসনের জন্য কাজ করে আসছে সিএসএফ। বর্তমানে নওগাঁ এবং সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি উপজেলার ৩৫০ জন শিশুর পুনর্বাসনের জন্য কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই কার্যক্রমের আওতায় একজন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুর প্রাত্যহিক জীবনে চলাফেরাসহ তার সাধারণ জীবনযাপনের জন্য যে কর্মদক্ষতা প্রয়োজন তা তৈরি করার জন্য প্রয়োজনীয় গৃহভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। ২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের খুঁজে বের করার জন্য নিজস্ব উদ্ভাবিত পদ্ধতি কি ইনফরমেন্ট মেথড ব্যবহার করে আসছে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি যেমন—চেয়ারম্যান, মেম্বার, স্কুলশিক্ষক, ইমাম, চৌকিদার, স্বেচ্ছাসেবক, এনজিও কর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী এক কথায় যেসব মানুষের কাছে তার এলাকার তথ্য থাকে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের শনাক্তকরণ কৌশলের ওপর।
গবেষণার মাধ্যমে বাংলাদেশে কত ধরনের এবং তার পরিমাণ কত, এ ছাড়া কী কী কারণে প্রতিবন্ধী হচ্ছে তা নিরূপণ করার জন্য ২০০৮-২০১২ সাল পর্যন্ত গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই গবেষণার কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর আই হেলথ লন্ডন।
যত দ্রুত শিশুর ছানির অপারেশন করা যায় তত তার জন্য মঙ্গল আর এই লক্ষ্যকে বাস্তবায়ন করার জন্য ঢাকায় একটি অত্যাধুনিক চোখের হাসপাতাল (ওয়াহিদা মতিন মেমোরিয়াল সিএসএফ চাইল্ড ভিশন সেন্টার) স্থাপন করে সিএসএফ। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুরা সিএসএফ হাসপাতালে এসে বিনামূল্যে অপারেশন করাতে পারবে। চাইল্ড সাইট ফাউন্ডেশন আগামী তিন বছরে কমপক্ষে ৭৫০ জন শিশুর দেড় হাজার চোখ বিনামূল্যে অপারেশন করার পরিকল্পনা নিয়েছে।
২০০৪ সালে সমমনা ৬০টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রচেষ্টায় চাইল্ড সাইট নেটওয়ার্ক গঠিত হয়েছে। বর্তমানে চাইল্ড সাইট নেটওয়ার্কের সদস্যরা দেশের ৩২ জেলার ৫১টি উপজেলায় ছড়িয়ে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে।
সিএসএফ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য একীভূত শিক্ষা বেছে নেয়। এতে করে শিশুটি তার বাড়িতে থেকে তার পাশের সাধারণ স্কুলে পড়ালেখার সুযোগ পাবে এবং তার আশপাশের মানুষের মধ্যে তাদের পড়ালেখার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি হবে। একীভূত শিক্ষার আওতায় সিএসএফ বর্তমানে ২০০ জন শিশুকে স্কুলে ভর্তি করতে সমর্থ হয়েছে নওগাঁ এবং সিরাজগঞ্জ জেলার ছয়টি উপজেলায়।
সিএসএফ দেশের মানুষের মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হেলথ কমিউনিকেশন কার্যক্রম পরিচলনা করছে। এই কার্যক্রমের মধ্যে প্রতিবছর চাইল্ড সাইট জার্নালিস্ট ফেলোশিপ দেওয়া, টেলিভিশন ও রেডিওতে বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচার করা, বিশ্ব দৃষ্টি দিবসসহ বিভিন্ন দিবস উদযাপন করা, পোস্টার ও লিফলেট বিলি করা, দৃষ্টি প্রতিবন্ধিতা-বিষয়ক সেমিনার ও আলোচনা সভা করা, দৃষ্টিমেলা ও দৃষ্টিযাত্রার মাধ্যমে সবার মধ্যে শিশুর দৃষ্টির সুরক্ষার তথ্য প্রচার চলেছে। সর্বোপরি চাইল্ড সাইট ফাউন্ডেশন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য একটি অধিকারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করার জন্য সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একমুঠো রোদ্দুর ওদের জীবন ভরিয়ে দিক।

আইনের বাস্তবায়ন কত দূর -তথ্য অধিকার by মশিউল আলম

রাজধানীর কল্যাণপুরে জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউটের নিজস্ব ভবনের তৃতীয় তলায় পাঁচটি কক্ষ নিয়ে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ তথ্য কমিশন। এ বছর ২৯ মার্চ তথ্য অধিকার আইন জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে অর্থাত্ ১ জুলাই থেকে আইনটি কার্যকর হয়েছে। সাবেক সচিব এম আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের তথ্য কমিশনও গঠিত হয়েছে আইনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে। আরেকজন তথ্য কমিশনারও একজন অবসরপ্রাপ্ত সচিব—মোহাম্মদ আবু তাহের। আইনের সুস্পষ্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, কমিশনের একজন সদস্য নারী: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম।
প্রধান তথ্য কমিশনার (সিআইসি) এম আজিজুর রহমান জানালেন, তথ্য অধিকার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তথ্য কমিশনের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সরকার একটি বিধির খসড়া তৈরি করেছে। সেটি অল্পদিনের মধ্যেই অনুমোদন পাবে। এর পর তথ্য কমিশন নিজে একটি প্রবিধানমালা তৈরি করবে। ইতিমধ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর, বিভাগে তথ্য প্রদানের জন্য একজন করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তথ্য কমিশন এখনো পুরো মাত্রায় কাজ শুরু করতে পারেনি, কারণ তার লোকবল নিয়োগ চূড়ান্ত হয়নি। তথ্য কমিশন ৭৮ জন লোকবলবিশিষ্ট একটি সাংগঠনিক কাঠামো সরকারের কাছে প্রস্তাব করেছে। কমিশনের নিজস্ব কার্যালয়ের জন্যও জায়গা খোঁজা হচ্ছে। সিআইসি জানালেন, আগারগাঁওয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি তলায় আট হাজার বর্গফুটের একটি কার্যালয় সাজানোর প্রক্রিয়া অচিরেই শুরু হবে। সেখানে কমিশন অস্থায়ীভাবে কিছু সময় কাজ করবে, তারপর আগারগাঁওয়েই দুই বিঘার জমির ওপর স্থায়ী কার্যালয়ের ভবন নির্মাণের চিন্তাভাবনা চলছে।
তথ্য কমিশনের অবকাঠামোগত ভিতগুলো গড়ে তুলতে কিছুটা সময় লাগবে; তাই বলে কমিশন নিষ্ক্রিয় বসে নেই, জানালেন প্রধান তথ্য কমিশনার। জানতে চাইলাম, কী ধরনের কাজ তাঁরা এখন করছেন। তিনি জানালেন, তথ্য অধিকার আইনটি সম্পর্কে জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তা ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষের সঙ্গে বৈঠক, আলাপ-আলোচনা, মতবিনিময় ইত্যাদি চলছে। গত মাসে তথ্য কমিশনাররা দেশের চারটি জেলায় এ ধরনের বৈঠক করেছেন। এ মাসে আরও ১২টি জেলা তাঁদের সফর করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ওদিকে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা, যারা বেশ কয়েক বছর ধরে তথ্য অধিকার আইন প্রণয়ন ও পাসের জন্য জনমত সংগঠনসহ নানা ধরনের উদ্যোগ ও কর্মসূচি চালিয়ে এসেছে, তাদের আয়োজনে ও ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের আর্থিক সহযোগিতায় ছয়জন সরকারি কর্মকর্তা সম্প্রতি ভারত সফর করে এসেছেন। ভারতের তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতাগুলো জানা-বোঝা ছিল তাঁদের এই সফরের উদ্দেশ্য। তথ্য মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয় থেকে উচ্চপর্যায়ের মোট ছয়জন কর্মকর্তা ভারতের তথ্য কমিশনের প্রধান কার্যালয়, কয়েকটি প্রশিক্ষণকেন্দ্রসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা ঘুরে দেখেছেন, অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের চেষ্টা করেছেন। আমাদের প্রধান তথ্য কমিশনার জানালেন, সফরকার ওই সরকারি কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা জানার জন্য তাঁরা তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসার উদ্যোগ নেবেন। তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের কাজে নানা পর্যায়ে সহযোগিতার লক্ষ্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের প্রশিক্ষণের আয়োজন করছে বলেও জানা গেল। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নেতৃত্বে বিভিন্ন সংস্থা, গবেষক, সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজ্ঞ, এনজিও-কর্মীদের সমন্বয়ে ‘তথ্য অধিকার ফোরাম’ নামে একটি নাগরিক প্ল্যাটফরম রয়েছে। তথ্য অধিকার আইন পাসের ক্ষেত্রে তারা জনমত সৃষ্টিসহ নানামুখী ভূমিকা রেখেছে। আইনটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যেও তারা কিছু উদ্যোগ নেবে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) ঢাকার বাইরে বিভিন্ন শহরে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করার জন্য সম্প্রতি কিছু সভা-বৈঠক করেছে। এই সংস্থাটি তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে তথ্য প্রদানের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের এবং যাঁরা তথ্যের জন্য আবেদন করবেন, সেসব নাগরিকদের মধ্যে ‘ক্যাপাসিটি বিল্ডিং’ বা সামর্থ্য সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণমূলক কর্মসূচির উদ্যোগ নেবে। এ ছাড়া তথ্য কমিশনকে কার্যকর করায়, এর প্রবিধানমালা প্রণয়নে সহযোগিতা দিতেও টিআইবি কিছু উদ্যোগ নেবে বলে জানালেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান।
তথ্য অধিকার আইন একটি সর্বজনীন আইন। এ আইনের কোনো প্রতিপক্ষ নেই। একমাত্র প্রতিপক্ষ বলে মনে করা হয় যে আমলাতন্ত্রকে, সৌভাগ্যক্রমে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সময়ে তথ্য অধিকার আইন বিষয়ে সেই আমলাতন্ত্রের দিক থেকেও বেশ ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। তথ্য গোপন রাখার মধ্য দিয়ে প্রশ্নাতীতভাবে ক্ষমতা ভোগের দিন শেষ হয়ে গেছে—এই উপলব্ধি কমবেশি সবার মধ্যেই সঞ্চারিত হচ্ছে। সবাই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন যে জনগণকে তথ্য জানতে দিতে হবে।
কিন্তু তথ্য অধিকার আইনের মধ্য দিয়ে প্রত্যেক নাগরিক যে একটি বড় আইনি হাতিয়ারের মালিক হয়েছে—এই সচেতনতার অভাব প্রকটভাবে রয়ে গেছে। কী কাজে, কী পদ্ধতিতে আইনটিকে ব্যবহার করা যায় এটি অনেকেই জানেন না। তথ্য কমিশনার মোহাম্মদ আবু তাহের বললেন, আইনটি সম্পর্কে শুধু সাধারণ মানুষই নয়, সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেও পুরোপুরি স্বচ্ছ ধারণার অভাব রয়েছে।
তথ্য অধিকার আইনের খবরটি পৌঁছেছে জেলা পর্যায়ের শিক্ষিত শ্রেণী পর্যন্ত। তৃণমূল পর্যায়ের কোটি কোটি মানুষ এ সম্পর্কে বস্তুত কিছুই জানে না। রাষ্ট্র ও সরকার কীভাবে চলছে, জনগণের অর্থ কীভাবে খরচ করা হচ্ছে, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য কত অর্থ বরাদ্দ আসছে, কীভাবে সেগুলো ব্যয় হচ্ছে—এসব তথ্য জানার অধিকার যে তাদের আছে, এ ধারণাটিই তাদের নেই।
আমাদের দেশে তথ্য অধিকার আইনের আন্দোলন চলেছে শিক্ষিত নাগরিক-সমাজের নেতৃত্বে। এই আইনটি পেতে খুব বেশি সংগ্রাম করতে হয়েছে, এমনও নয়। আসলে ২০০২ সালে আইন কমিশন যখন তথ্য অধিকার আইনের একটি খসড়া কার্যপত্র তৈরি করে, তখন এর পক্ষে নাগরিক-সমাজে কোনো আন্দোলন ছিল না। বলা চলে, সরকার নিজে থেকেই এমন একটি আইন প্রণয়নের কথা ভাবতে শুরু করেছিল (সম্ভবত আমাদের বিদেশি উন্নয়ন সহযোগীদের তাগাদায়)। তার পরে অবশ্য সরকারের গড়িমসি চলেছে বেশ কয়েক বছর। ফখরুদ্দীন আহমদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সদিচ্ছা এবং সেই সদিচ্ছার প্রতি বর্তমান নির্বাচিত সরকারের সমর্থনের ফলে আমরা আইনটি পেয়েছি। প্রতিবেশী ভারত, যা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে খ্যাত, যেখানে গণতন্ত্রের বয়স ৬০ বছর পেরিয়েছে, সেখানে তথ্য অধিকার আইন পাস হয়েছে অনেক লড়াই-সংগ্রামের পরিণতিতে। ভারতে তথ্য অধিকার আন্দোলনের সূচনা করেছিল একদম তৃণমূল পর্যায়ের দরিদ্র মানুষেরা। যেসব দরিদ্র মানুষ বছরের একটা বড় সময় ধরে বেকার থাকে, কোনো কাজ পায় না, কাজ পেলেও ঠিকমতো মজুরি পায় না, যাদের নামে মজুরির টাকা তুলে নিয়ে যায় পঞ্চায়েতের মেম্বার-চেয়ারম্যান, যাদের রেশনের চিনি বিক্রি করে দেয় চিনির ডিলার, সেই সব মানুষ বুঝতে পেরেছিল এসব অন্যায়-অনাচার বন্ধ করতে হলে, জীবন ও জীবিকার মৌলিক অধিকারগুলো রক্ষা করতে হলে প্রথমেই প্রয়োজন তথ্য জানার অধিকার। রাজস্থানের দরিদ্র মানুষদের সেই তথ্য অধিকার আদায়ের আন্দোলন সারা ভারতে ছড়িয়ে পড়েছিল; তারই চূড়ান্ত ফসল তাদের তথ্য অধিকার আইন।
ভারতের প্রধান তথ্য কমিশনার ওজাহাত হাবিবুল্লাহ দায়িত্ব গ্রহণের কিছু সময় পরে বাংলাদেশ সফরে এলে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিল। তাঁর কাছে জানতে চেয়েছিলাম, তথ্য কমিশনের কাজে তাঁরা কী কী অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি প্রথমেই বলেছিলেন, নাগরিকদের আপিলের শুনানি করতে তাঁরা পাঁচজন তথ্য কমিশনার হিমশিম খেয়ে যাচ্ছেন। কারণ প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বিভিন্ন তথ্য চেয়ে সরকারের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, প্রত্যাখ্যাত হয়ে আপিল করতে আসছে তথ্য কমিশনের কাছে। অর্থাত্ ভারতে তথ্য অধিকার আইন বলবত্ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সে দেশের নাগরিকেরা ব্যাপক সংখ্যায় সে আইন ব্যবহার শুরু করে।
আমাদের তথ্য কমিশন বিধিমালা অনুমোদনের অপেক্ষা করছে। খুব শিগগিরই তা অনুমোদিত হবে। কিন্তু সেটা হলেই যে মানুষ দলে দলে তথ্য চেয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দরখাস্ত নিয়ে যাবে, এমন আলামত নেই। তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাজ্য বা ভারত যে সমস্যার মুখোমুখি খুব বেশি হয়নি, আমাদের সামনে প্রধান সমস্যাই সেটা: আইন সম্পর্কে ধারণার অভাব। তাই এখন আমাদের প্রথম ও প্রধান পদক্ষেপ হওয়া উচিত এ আইন সম্পর্কে সব পর্যায়ের মানুষের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সম্ভাব্য সব ধরনের উপায় অন্বেষণ করা। তথ্য কমিশনের তিনজন সদস্যের পক্ষে সারা দেশ ঘুরে ঘুরে মানুষকে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে অবহিত করা সম্ভব হবে না। সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়, বেতার-টিভি, বেসরকারি তথ্যমাধ্যম, এনজিওসহ সবাই মিলে এখন শুরু করা উচিত তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে অবহিতকরণের এক জাতীয় পর্যায়ের অভিযান।
মশিউল আলম: সাহিত্যিক ও সাংবাদিক।

চ্যানেল নেবেন-গো চ্যা-নে-ল! -সময়ের প্রতিবিম্ব by এবিএম মূসা

বৈঠকের স্থান: একজন মন্ত্রীর সরকারি বাসভবন। আলোচ্য বিষয়: সদ্য অনুমতিপ্রাপ্ত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অংশীদারি তথা মালিকানা বিক্রয়। উপস্থিত ব্যক্তিবর্গ: ১. মন্ত্রী মহোদয়, ২. একজন প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর দুজন নিকটাত্মীয়, যাঁরা তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে নতুন ১০টি অনুমতিপ্রাপ্ত বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের একটি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন। ৩. একটি প্রথম শ্রেণীর জাতীয় দৈনিকের প্রকাশক-শিল্পপতি। ৪. প্রতিবেদক স্বয়ং যিনি মন্ত্রী ও প্রকাশক-শিল্পপতির বিশেষ অনুরোধে উপস্থিত ছিলেন। তিনি অর্থাত্ আমি নিজেও প্রায় দুই বছরের অধিক সময় অপেক্ষা করছি একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেলের অনুমতির জন্য। জনশ্রুতি হচ্ছে, চ্যানেল বণ্টনে প্রাপ্তির দলীয় আনুগত্যের নিরিখে যোগ্য বিবেচিত হইনি। কারণ চ্যানেলের লাইসেন্সপ্রাপ্তির ‘যোগ্যতা বিবেচনার’ মানদণ্ড নাকি ছিল ‘নির্ভেজাল’ আওয়ামী লীগার বা অন্ধ সমর্থক হতে হবে, নিঃসংশয়ে ‘আমাদের লোক’।
আলোচনা-বৈঠকে কথিত চ্যানেলের লাইসেন্সপ্রাপ্তদের পক্ষে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে প্রকাশক-শিল্পপতির লেনদেন নিয়ে আলোচনা চলছে। নিজস্ব চ্যানেলটি পাইনি বলে আভাস দেওয়া হলো, তার পরও কোন বিবেচনায় আমাকে অন্য চ্যানেলের একজন অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলো বুঝলাম না। আমার এই ব্যবসায়িক আলোচনায় কোনো আগ্রহ ছিল না। বৈঠক ছেড়ে চলে গেলাম দোতলায়, স্নেহাস্পদ মন্ত্রী মহোদয়ের সুশীলা স্ত্রীর সঙ্গে গল্প করতে। কিছুক্ষণ পর নিচে নেমে জানলাম, লেনদেন-আলোচনা ভেঙে গেছে। কয়েক দিন পর পত্রিকার প্রকাশক-শিল্পপতি টেলিফোন করে জানালেন, আওয়ামী লীগের একজন উচ্চপর্যায়ের নেত্রীর ছেলে অংশীদারে ভিত্তিতে আরেকটি প্রস্তাবিত চ্যানেলে পুরো অর্থ লগ্নি করে অর্ধেক মালিকানা নেওয়ার প্রস্তাব করেছেন। আরও তিন-চারজন বেসরকারি চ্যানেলের লাইসেন্সপ্রাপ্তির দাবিদার তাঁদের পসরা নিয়ে শিল্পপতি-ব্যবসায়ীদের দরজায় টোকা দিচ্ছেন বলেও খবর পেয়েছি। প্রসঙ্গত বলতে হচ্ছে যে ১০টি চ্যানেলের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে, এর মধ্যে একটি আমার সংবিধিবদ্ধ ‘একাত্তর’ নামটিও দখল করেছেন। শুনে অবাক হইনি। বর্তমান সরকারের একদল সর্বগ্রাসী বিশাল নদী, জমি-জিরাত ও বাড়িঘর দখল করছে, এ তো মাত্র তুচ্ছ একটি ‘নাম’।
মনে হচ্ছে, নতুন বেসরকারি চ্যানেলের লাইসেন্স প্রদান নিয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ে তেলেসমাতি কারবার চলছে। সব শুনে ভাবছি, কী মধু না-জানি বেসরকারি চ্যানেলে! বর্তমানে যে আটটি বেসরকারি চ্যানেল চালু আছে, একটি ব্যতীত বাকি সবই কোটি কোটি টাকা লোকসানে চলছে। একটি বাদে বাকিগুলো দলীয় আনুগত্যের বিবেচনায় বিএনপির সরকারের আমলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত। এর চারটিই কোটি কোটি টাকার বিনিময়ে হাতবদল হয়ে গেছে। একটি বিএনপি ঘরানার মালিকের কাছ থেকে আওয়ামীপন্থী দুই সাংসদ কিনে নিয়েছেন। এসব চ্যানেল সওদাগিরির বিশেষত্ব হচ্ছে, বিএনপির আমলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত রুগ্ণ চ্যানেলগুলো কিনে নিয়েছেন একই রাজনৈতিক মতাদর্শে বিশ্বাসী শিল্পপতিরা। বর্তমান আওয়ামী লীগ ঘরানার লাইসেন্সপ্রাপ্ত বলে প্রচারিত চ্যানেল ফেরিওয়ালারা সমমতাবলম্বীদের কেউ প্রস্তাবিত বেসরকারি চ্যানেলের স্বত্ব কিনবেন কি না তা নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। খোঁজখবর নিয়ে জেনেছি, তথাকথিত অনুমোদনপ্রাপ্ত একটি চ্যানেলের সম্ভাব্য ক্রেতা হচ্ছেন যাঁর বিরুদ্ধে একাত্তরে গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে এমন একজন শীর্ষস্থানীয় বিএনপির নেতা। হাওয়া থেকে পাওয়া খবরটি সত্যি কি না জানি না, তবে বৈঠকে তাঁর অনুসারী কয়েকজনের উপস্থিতিতে আমার মনেও সেদিন এমন একটি সন্দেহ উঁকি মেরেছিল।
১০টি বেসরকারি চ্যানেলের অনুমতি যে সরকারি দলের প্রতি নিখাদ আনুগত্যের ভিত্তিতে বিলি করা হয়েছে, তাতে আপত্তির কোনো কারণ নেই। বেসরকারি চ্যানেল বিতরণের কোনো বাঁধাধরা নিয়মকানুন বা নীতিমালা নেই। তদুপরি বর্তমানে ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে সংবাদপত্রের চেয়েও অধিকতর প্রভাবশালী মনে করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি-কৌশল প্রয়োগের কারণে বেসরকারি টেলিভিশনেরও দর্শক রয়েছে সুদূর গ্রাম-গঞ্জে। চোখে দেখা আর কানে শোনা যেকোনো সংবাদ বা রাজনৈতিক মতামত ছাপার অক্ষরে দেওয়া তথ্য ও তত্ত্বের চেয়ে সাধারণ্যে অধিকতর প্রভাব ফেলছে। এ কারণে যেকোনো সরকার বা ক্ষমতাসীন দল ইলেকট্রনিক মাধ্যমে তাঁদের মতের প্রতিফলন ও গৃহীত কার্যক্রমের প্রচার-প্রচারণাকে গুরুত্ব দেবেন বৈকি। অপর দিকে বর্তমানে কোনো ক্ষমতাধরের পক্ষে কোনো গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। এ ধরনের কোনো ব্যবস্থা নিলে দেশে-বিদেশে মহা হইচই শুরু হবে। তাই অনুগত দলীয় আপনজনদের বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের অনুমতি প্রদানে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত সেই অনুমতিপত্র নিয়ে সওদা হচ্ছে, তা তথ্য মন্ত্রণালয় কিংবা যিনি এ ক্ষেত্রে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন অথবা নেবেন তিনি জানেন কি না জানি না।
প্রধানমন্ত্রীর না-জানার কথা নয়। মাস তিনেক আগে আমার নিজস্ব টেলিভিশন চ্যানেলের আবেদনের ভাগ্য জানতে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। আলাপকালে আমার কাছে আফসোস করলেন, তাঁর বিগত সরকার নিজেদের মানে দলের প্রতি অনুগত লোকদের অনেকগুলো ব্যাংক আর বীমা কোম্পানির অনুমতি দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত দুটি ছাড়া সবগুলো ‘তাঁদের’ রইল না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পরোক্ষে জানালেন, চ্যানেলের ক্ষেত্রে এ সমস্যাটি যেন না হয় তাই অনুমতি প্রদানে সতর্ক থাকতে হচ্ছে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, সেসব ব্যাংক-বীমার মতোই চ্যানেলগুলো বিকিকিনির বাজারে শেষ পর্যন্ত আর ‘আমাদের’ থাকছে না। এর কারণ বোধহয় অন্ধ আনুগত্য না থাকলেও দুর্বলতা রয়েছে এমন পেশাজীবী অথবা সম্প্রচার-বিশেষজ্ঞ ঐতিহ্যবাহী দলটিতে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
আরও কথা আছে, গণমাধ্যম নিয়ে সংবাদপত্র প্রকাশ অথবা টিভি চ্যানেলের অনুমতি প্রদানে যেকোনো ক্ষমতাসীন সরকার যে নীতি বা রীতি অনুসরণ করুক, সরকারি ছাপ পড়লে সেগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা থাকে না। এমনকি সরকারের কট্টর নির্ভেজাল পরম বশংবদ অনুসারীদের মধ্যেও নয়। অধুনালুপ্ত ট্রাস্ট পত্রিকা আর বাংলাদেশ টেলিভিশন সম্পর্কে জনগণের এই মনোভাবটি প্রস্তাবিত চ্যানেলের ভাগ্যবান অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও তা জানেন বৈকি। আবার মাসে কোটি টাকা লোকসান দেওয়ার ক্ষমতাও তাঁদের নেই। তাই তো কথিত ভাগ্যবানদের অনেকেই ভাবছেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ‘নগদ যা পাও হাত পেতে নাও।’ এসব কারণে হাতে পাওয়ার আগেই তাঁরা চ্যানেল পসরা নিয়ে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। হায়রে, সওদাগিরিতে ‘আমাদের’ চ্যানেলগুলো শেষ পর্যন্ত ‘তাঁদের’ হয়ে যাচ্ছে!
এবিএম মূসা: সাংবাদিক।

ভারতে সোয়াইন ফ্লুতে এ পর্যন্ত ৩৬৬ জন মারা গেছে

ভারতে এখনো সোয়াইন ফ্লু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। গত বুধবার ভারতে সোয়াইন ফ্লুতে মারা গেছে আরও সাতজন। এর মধ্যে কেরালায় চার, কর্ণাটকে দুই ও মহারাষ্ট্রে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ভারতে সোয়াইন ফ্লুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৬৬। আক্রান্ত হয়েছে ১১ হাজার ৩৫৪ জন।

ভারতের মহারাজাদের মূল্যবান সামগ্রীর প্রদর্শনী লন্ডনে

ভারতের রাজা-মহারাজাদের জৌলুশপূর্ণ বিভিন্ন জিনিসপত্র এখন প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাজ্যে। লন্ডনের বিখ্যাত ভিক্টোরিয়া অ্যান্ড অ্যালবার্ট মিউজিয়ামে এসব রাজকীয় জিনিসের প্রদর্শনী শুরু হবে কাল শনিবার থেকে। চলবে আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি পর্যন্ত। মহারাজাদের রাজসিংহাসন থেকে শুরু করে মূল্যবান অলংকার, শাড়ি, এমনকি তাদের ব্যবহারের মোটরগাড়ি পর্যন্ত প্রদর্শনীতে স্থান পাবে। খবর এএফপির।
জাদুঘরের পরিচালক মার্ক জোনস বলেন, এর আগে কখনো এই জাদুঘরে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়নি। প্রদর্শনীতে এমন কিছু দুর্লভ জিনিস স্থান পাচ্ছে, যা ভারত প্রথমবারের মতো জাদুঘরকে দিয়েছে।
জোনস আরও বলেন, ভারতীয় রাজা-মহারাজারা শিল্পকলার বড় পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। শুধু দেশেই নয়, পশ্চিমা দেশের শিল্পকলায়ও তাঁদের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। এই প্রদর্শনী সে বিষয়গুলোই তুলে ধরবে।

শিক্ষানীতির সূত্রে দুটি প্রসঙ্গ -যুক্তি তর্ক গল্প by আবুল মোমেন

একটি জাতীয় শিক্ষানীতির অভাবের কথা বহুকাল ধরেই বলাবলি হচ্ছে। কিন্তু মূলত রাজনৈতিক মতাদর্শগত বিভাজনের কারণে এ অভাব দূর করা সম্ভব হয়নি। স্বাধীনতার পর থেকেই শিক্ষানীতি প্রণয়নের চেষ্টা চলছে এবং বারবার নীতি প্রণীত হলেও কোনোটিই বাস্তবায়ন করা যায়নি। এভাবে আটটি প্রতিবেদন হিমাগারে জমা রয়েছে। একটু অতীত ঘাঁটলে দেখা যাবে, পাকিস্তান আমলেও শিক্ষানীতি নিয়ে এমন ব্যর্থ প্রয়াসের সংখ্যা কম ছিল না।
স্বাধীনতার পরপর একটি গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল সংবিধান রচিত হলেও অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সেটি যে বারবার কাটাছেঁড়া করা হয়েছে, তার পেছনেও রাজনৈতিক মতাদর্শের ভূমিকাই আসল। ইসলামের গোঁড়া ও জঙ্গি মতাদর্শের ভিত্তিতে একটি কট্টর গোষ্ঠী দেশে আছে, আর আছে ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী রাজনীতির বিপরীতে মুসলিম জাতীয়তাভিত্তিক রাজনীতি।
যুগোপযোগী বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষানীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের পথে উপরোল্লিখিত গোষ্ঠী ও তাঁদের সমর্থকদের দিক থেকে বাধা এসেছে বারবার।

২.
ইতিমধ্যে অনেক সময় গড়িয়েছে, বুড়িগঙ্গা-কর্ণফুলী দিয়ে অনেক পানি বয়ে গেছে, সমস্যায় জর্জরিত দেশবাসীর পিঠ যেমন দেয়ালে ঠেকেছে, তেমনি অনেক বিষয়ে চোখও খুলেছে।
একসময় ইংরেজি শিক্ষার প্রতি ইসলামপন্থীদের বিরূপতা ছিল, বর্তমানে তা কেটে গিয়ে বড় একটি অংশের মধ্যে ইংরেজি মাধ্যমের প্রতিই প্রবল আকর্ষণ জমেছে। সেক্যুলার বিষয়সমূহ পঠন-পাঠনেও আগেকার অন্ধ বিরূপতা কেটেছে। বলা যায়, ইহজীবনকে সুন্দর ও সার্থক করার গুরুত্ব অনেকেই বুঝতে পারছেন এবং সেই সূত্রে তাঁরা যুগোপযোগী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা মানছেন।
সেদিক থেকে নতুন একটি শিক্ষানীতি প্রণয়নের জন্য এটাই সঠিক সময় ছিল। বলা যায়, জাতির গরিষ্ঠাংশ মানুষ সন্তানদের জন্য বিজ্ঞানভিত্তিক আধুনিক শিক্ষা পেতে মানসিকভাবে প্রস্তুত এখন।

৩.
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে দিনবদলের ডাক দিয়ে। পরিবর্তনের জন্য সরকারের সদিচ্ছার বড় প্রমাণ—ক্ষমতায় এসেই একটি শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি গঠন, তিন মাসের মধ্যে নতুন শিক্ষানীতির চূড়ান্ত খসড়া প্রণয়ন (এর মূল কৃতিত্ব অবশ্যই কমিটির), এ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার জ্ঞাপন।
সরকার এটি চূড়ান্ত রূপ দিতে যোগ্য ও আগ্রহী মানুষের মতামত নিতে চায়। তাই শিক্ষানীতিটি ওয়েবসাইটে দিয়েছে এবং মতামত পাঠানোর জন্য একাধিক ই-মেইল-ঠিকানা দিয়ে উন্মুক্ত আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
দেখা যাচ্ছে, সরকার নীতি প্রণয়ন ও তা বাস্তবায়নের কাজে অযথা সময় নষ্ট করতে চায় না, আবার তা করতে গিয়ে কারও মতামতকে বিবেচনার বাইরেও রাখতে চায় না। এটা আমাদের দেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের সাম্প্রতিক প্রবণতার বিপরীতে সরকারের একটি পরিবর্তনকামী শুভ পদক্ষেপ।

৪.
শিক্ষানীতিটি মূলত শিক্ষার লক্ষ্যাদর্শভিত্তিক এবং দিকনির্দেশনামূলক একটি দলিল। এর ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দসহ বিস্তারিত পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তৈরি করবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভাগ, দপ্তর, অধিদপ্তরসমূহ। তখন ধীরে ধীরে স্পষ্ট হবে এ শিক্ষানীতি বাস্তবায়নে সরকার কী কী চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হবে। চূড়ান্ত খসড়া শিক্ষানীতি পর্যালোচনা করে এ প্রসঙ্গে কিছুটা ধারণা দেওয়া যেতে পারে। আমার বিবেচনায় যে দুটি মূল সমস্যা রয়েছে, এখানে সেটুকুই আলোচনা করব। সংবিধানের মূল নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষানীতিতে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে—‘প্রাথমিক শিক্ষা হবে সর্বজনীন, বাধ্যতামূলক, বৈজ্ঞানিক এবং সকলের জন্য একই রকমের।’
বর্তমানে ইংরেজি-বাংলা-মাদ্রাসা এই মূল তিন ধারা ছাড়াও প্রাথমিক শিক্ষার রয়েছে এক ডজনের মতো উপধারা। ধনী-দরিদ্রের ব্যাপক-প্রবল ব্যবধান ছাড়াও ধর্ম, সংস্কার, সংস্কৃতি, লিঙ্গ, অঞ্চল, রাজনীতি ইত্যাদি নানা সূত্রে বিভাজনের কারণে এ সমাজ বিবদমান, দুর্বল, ভঙ্গুর, গোঁড়া এবং অবশ্যই ক্ষয়িষ্ণু। তিনটি উপাদান সমাজে জাগরণ, উদ্যম এবং ঐক্য সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাহলো কার্যকর সামাজিক সংস্কার আন্দোলন, সাংস্কৃতিক বিপ্লব ও রাজনৈতিক জাগরণ। এর কোনো একটির বা দুটি বা সব কটির যৌথ ভূমিকা ব্যতীত শ্রেণীবিভক্ত অসম ও বৈষম্যপীড়িত সমাজে সাম্যের মনোভাব ও পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে না। কেবল সরকারি উদেযাগ তথা আমলাতান্ত্রিক নির্দেশনায় এ কাজ সম্ভব নয়।
আমাদেরই ইতিহাস থেকে যদি আমরা শিক্ষা নিই তাহলে দেখব, বায়ান্ন থেকে সূচিত সাংস্কৃতিক স্বাধিকার, রাজনৈতিক অধিকার এবং সমাজপ্রগতির চেতনার জোরে কেবল মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন দেশই পাইনি আমরা, পেয়েছিলাম বাহাত্তরের সংবিধান, কুদরাত-এ-খুদা কমিশন শিক্ষা প্রতিবেদন এবং মুক্ত সাংস্কৃতিক বাতাবরণ। স্বাধীন দেশ ছাড়া আর কোনোটিই আমরা ধরে রাখতে পারিনি। কারণ ১৯৭১ সালে যেন চূড়া স্পর্শ করে রাজনীতি, সমাজ, সংস্কৃতি সর্বক্ষেত্রে আমাদের পতনের সূচনা হয় স্বাধীনতার পর থেকেই। তাই দিনবদলের হাতিয়ার যদি হয় উপযুক্ত শিক্ষা, তাহলে তা প্রচলন ও অব্যাহত রাখার জন্য চাই সামাজিক-সাংস্কৃতিক-রাজনৈতিক সমর্থন। সেটা সমাজ থেকে তৈরি হতে হবে। নতুবা তর্কে-বিতর্কে এবং পরিশেষে বিভ্রান্তিতে ব্যর্থতায় নিঃশেষ হবে সব প্রয়াস।
সমাজের ইতিবাচক শুভশক্তিকে চিহ্নিত করতে হবে, আরও ইতিবাচক শক্তির বিকাশে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে সহায়তা দিতে হবে এবং পরিবর্তনের/নতুনের পক্ষে জোরালো আবেদন সৃষ্টি করতে হবে। এ ব্যাপারে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে, যাতে অত্যুত্সাহী দলীয় ক্যাডাররা এ ধরনের উদ্যোগকে বিতর্কিত, বিপথগামী বা অসার্থক করে না তোলে। এ ব্যাপারে ক্ষমতাসীন দলের সংগত আচরণই কাম্য।

৫.
ভালো শিক্ষানীতি, সুষ্ঠু পরিকল্পনা, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ সত্ত্বেও শিক্ষার সংস্কার ও শিক্ষার মানোন্নয়নের সব প্রয়াস ব্যর্থ হতে পারে, যদি শিক্ষক এ কাজের উপযুক্ত না হন।
এখন দেশে মানসম্পন্ন শিক্ষার চাহিদা ও সচেতনতা তৈরি হয়েছে, দিনে দিনে এ চাহিদা বাড়ছে, কিন্তু যাঁরা শিক্ষাদানের কাজটি করছেন, তাঁদের মান ও মর্যাদা রক্ষা হচ্ছে কিনা সেদিকে আমরা নজর দেইনি। একসময় সমাজে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণে আগ্রহী ও সমর্থ মানুষের সংখ্যা ছিল অল্প, শিক্ষক ও শিক্ষিত মানুষের জীবনযাপন ছিল সাদামাটা, শিক্ষকতা ছিল মানুষ তৈরির ব্রত, চাকরি নয়, বাঁধা বেতনের কাজ নয়। তাই সুশিক্ষিত আদর্শবান মানুষেরা এ কাজে আত্মনিয়োগ করে বাংলায় সুশিক্ষিত একটি শ্রেণী তৈরি করেছিলেন।
আজ জনসংখ্যার চাপ বেড়েছে, মানুষের আগ্রহ ও রাষ্ট্রের অঙ্গীকার মিলে প্রাথমিক পর্যায়ের ছাত্রসংখ্যা (অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ধরলে) বেড়ে হয়েছে প্রায় সোয়া দুই কোটি। ফলে স্কুল লাগছে অনেক, শিক্ষক লাগছে বিপুল। শিক্ষানীতি অনুযায়ী ছাত্র-শিক্ষক হার ১ ঃ ৩০ ধরলে প্রাথমিক পর্যায়েই শিক্ষক প্রয়োজন প্রায় সোয়া সাত লাখ।
এদিকে বাজারমূল্যের তুলনায় অতি কম বেতন, শিক্ষাবহির্ভূত সরকারি নানা কাজের চাপ, শিক্ষার অনুপযোগী ও অকার্যকর ছাত্র-শিক্ষক হার (১ ঃ ১০০ও আছে) অপরিসর শ্রেণীকক্ষ, অপ্রতুল আসবাব, স্কুল সময়ের স্বল্পতা, অসচেতন অভিভাবক, রাজনৈতিক চাপ, স্থানীয় টাউট-মাস্তানদের দৌরাত্ম্য, বিভিন্ন রকম সরকারি কর্মকর্তার অধস্তনতা মিলে ‘শিক্ষক’ নামের প্রতিষ্ঠানের নিদারুণ ও সকরুণ অবক্ষয় হয়েছে, যা আমরা সম্মিলিতভাবে হতে দিয়েছি।
এককালে শিক্ষকেরাই, স্কুলশিক্ষকও ছিলেন সমাজের মাথা ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তি। তাঁদের অভিভাবক ও মুরব্বি হিসেবে মানত সমাজ। এ অবস্থা পাল্টে গেছে। বিদ্বানকে ডিঙিয়ে ক্ষমতাবানই সমাজের মাথা হয়ে বসেছেন। আর অর্থ ও ক্ষমতা জোট বেঁধে সমাজ ও রাষ্ট্রের সকল সম্পদ ও সুযোগকে কুক্ষিগত করে নিচ্ছে। শিক্ষক সম্প্রদায় এর বাইরে রয়েছেন, স্কুলশিক্ষক চলে গেছেন সমাজের একেবারে নিচের স্তরে। দারিদ্র্য ও ক্ষমতাহীন অবস্থা শিক্ষকের অবক্ষয়কে নিশ্চিত ও ত্বরান্বিত করেছে। মানতেই হবে দীর্ঘদিনের এই সামগ্রিক অবক্ষয়ের শিকার এই সমাজ জ্ঞান ও মননের স্থবিরতা ও অবক্ষয়ে ভুগছে। এর ফলে স্কুলশিক্ষকেরা চিন্তা-চেতনায় অনেকাংশে তামাদি ও গতানুগতিক হয়ে পড়েছেন। আমাদের শিক্ষার ব্যর্থতার এটি একটি বড় কারণ। এটি সরকারের জন্য নতুন শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দেবে। কারণ এ সমস্যা মূলত মানবিক, সংবেদনশীলতা ও সমঝোতার মনোভাব নিয়েই এতকালের ঔদাসীন্য ও অন্যায়ের প্রতিকার করতে হবে।
এই চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবিলা করা যাবে?
অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, একজন যোগ্য ছাত্রবত্সল স্কুলগতপ্রাণ বিদ্যানুরাগী প্রধান শিক্ষক একাই একটি স্কুলের শিক্ষার ও সহশিক্ষা কার্যক্রমের মানের চমকপ্রদ উন্নয়ন ঘটাতে পারেন, স্কুলে তৈরি করতে পারেন উদ্দীপনাময় ইতিবাচক বাতাবরণ।
এই অভিজ্ঞতা থেকে স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের জন্য একটি স্বতন্ত্র ক্যাডার, মান, যোগ্যতার সূচক নির্ধারিত হতে পারে। প্রধান শিক্ষকের চাই মেধা, ডিগ্রি, বিদ্যানুরাগ, ছাত্রবাত্সল্য, সাংগঠনিক দক্ষতা, প্রশাসনিক যোগ্যতা, নেতৃত্বগুণ, অভিভাবকদের সন্তুষ্ট করার ক্ষমতা।
যোগ্য প্রধান শিক্ষকের বেতন অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী প্রফেসরের সমান হওয়া উচিত।
শিক্ষকদের বেতন-ভাতা উন্নত করে নতুন শিক্ষক নেওয়ার সময় মেধাবী, সৃজনশীল, উদ্যমী ছাত্রবত্সল তরুণদের নেওয়া উচিত। শিক্ষকদের দল হিসেবে উজ্জীবিত রাখা ও তাঁদের অব্যাহত জ্ঞানচর্চার মধ্যে রাখার জন্য প্রধান শিক্ষকের পরিচালনায় সাপ্তাহিক পাঠচক্র থাকতে হবে। শিক্ষা বিভাগ প্রতিবছর শিক্ষকদের সেই বছরে পড়ার জন্য নির্বাচিত ১০টি বইয়ের তালিকা প্রকাশ করবে এবং প্রতিটি স্কুলে প্রতিটি বইয়ের দুই কপি করে সরবরাহ করবে। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে শিক্ষকদের পাঠচক্র বসবে দুই ঘণ্টার জন্য। তিন ভাগে এটি বিভক্ত থাকবে—মাসের নির্বাচিত গ্রন্থের ওপর আলোচনা (আমন্ত্রিত আলোচকও আসতে পারেন), নির্বাচিত গ্রন্থের নির্বাচিত অংশবিশেষ পাঠ এবং স্কুল ও পাঠ-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়ে আলোচনা। মাসে একবার পাঠচক্রের পরে অভিভাবকদের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে, যেখানে সাধারণভাবে ও নির্দিষ্ট ছাত্রভিত্তিক মুক্ত আলোচনা হতে পারে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের জন্য একটি মাসিক জার্নাল প্রকাশ করতে পারেন, যা স্কুলের মাধ্যমে শিক্ষকেরা পড়বেন এবং শিক্ষা সম্পর্কিত সর্বশেষ চিন্তাভাবনা ও তথ্যের সঙ্গে পরিচিত হবেন।
রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের স্কুল কমিটির প্রধান করলে এমপিওভুক্তি বা উন্নয়নকাজে সুবিধা হয় বটে, কিন্তু শিক্ষকের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং স্কুলের সুষ্ঠু শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশ ক্ষুণ্ন হয়। শিশুদের ক্ষমতার দাপট-দৌরাত্ম্য থেকে দূরে ও আড়ালে রাখাই বাঞ্ছনীয়। তারা শিক্ষকের নিবিড় পরিচর্যায় এক ধরনের স্বকীয় পরিবেশে স্বাচ্ছন্দ্যে সাবলীলভাবে বেড়ে উঠবে, সেটাই মঙ্গল। সেদিক থেকে প্রধান শিক্ষকের মতোই কমিটির প্রধান হিসেবে এলাকার উচ্চ শিক্ষিত শিক্ষাবিদ, অন্যান্য পেশাজীবী শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিকেই দায়িত্ব দেওয়া উচিত। স্কুলে বাগাড়ম্বর বা উচ্চকিত তত্পরতার চেয়ে অনুশীলন, সৃজন ও বিকাশের মতো নিবেদিত চিত্তের নিষ্ঠাপূর্ণ সক্রিয়তাই দরকার।
প্রতিটি স্কুলেই ন্যূনপক্ষে ৫০০ বইয়ের পাঠাগার, বিজ্ঞান গণশিক্ষাকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার কিট একটি এবং একটি ভালো হারমোনিয়াম দরকার। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত নয়টি শ্রেণীর একটি স্কুলে যদি প্রতি শ্রেণীতে দুটি শাখা থাকে তাহলে ১ ঃ ৩০ হারে (ধরা যাক প্রতি শাখায় ছাত্র থাকবে ৩০ জন) মোট ছাত্র হবে ৪৮০, আর শিক্ষক থাকবেন ১৬ জন। বর্তমান আমরা যে বাস্তবতায় আছি তাতে নয় বছরেও এ সংখ্যায় পৌঁছানো প্রায় অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে কিছুটা সহজ ও কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে ‘শিক্ষাকর্মী’ নিয়োগ। প্রতিটি স্কুলে একজন প্রধান শিক্ষক ও আটজন সহকারী শিক্ষক, প্রাক-প্রাথমিকের দুজন বিশেষ প্রশিক্ষিত শিক্ষক এবং আটজন করে শিক্ষাকর্মী থাকবেন। পশ্চিমের অনেক দেশে ‘এ’ লেভেল শেষ করার পর দুই বছরের বাধ্যতামূলক সামরিক প্রশিক্ষণ অথবা সমাজকর্মে সেবা দিতে হয়।
আমরা জাতীয় অগ্রগতির জন্য অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য তরুণদের দেশ গড়ার মহান ব্রতে উদ্বুদ্ধ করে দুই বছরের জন্য শিক্ষাকর্মী (বা ব্রতী শিক্ষক) হিসেবে জাতীয় সেবা কার্যক্রমে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে পারি। যারা মাধ্যমিক পরীক্ষায় (আগেকার এইচএসসি) বাংলা, ইংরেজি, গণিতে ৪+ সহ গ্রেড বি+ পাবে, তারা শিক্ষাকর্মী হওয়ার জন্য জাতীয় সেবা কার্যক্রমের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে তালিকাভুক্ত হবে। তাদের শিক্ষকতায় সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দিয়ে নির্ধারিত স্কুলে পাঠানো হবে। তাদের নির্দিষ্ট অঙ্কের মাসিক সম্মানি ভাতাও দেওয়া হবে।
দেশের ক্ষয়িষ্ণু বিপর্যস্ত শিক্ষাব্যবস্থাকে সংস্কার করে যুগোপযোগী, মানসম্পন্ন এবং আনন্দময় করে তুলতে চাইলে এই শিক্ষানীতিকে সামনে রেখে সরকারকে এ দুটো কাজ করতে হবে বলে মনে করি—১. জনগণের মধ্যে এগিয়ে যাওয়ার ও জানা-শেখার জন্য ঐকান্তিক আগ্রহ সৃষ্টি করে মানসম্পন্ন শিক্ষার পক্ষে উদ্দীপনাময় জাতীয় জাগরণ। ২. স্কুলে যোগ্য ও অভিজ্ঞ প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে একদল মেধাবী, উদ্যমী, পরিশ্রমী, ছাত্রবত্সল শিক্ষক ও তরুণ শিক্ষাকর্মীর নিয়োগ।
তাহলেই পিছিয়ে পড়া এ দেশ এগিয়ে যাওয়া দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিতে পারবে, পাঁচ বছরের মধ্যে অবক্ষয় কাটিয়ে প্রাণের জোয়ারে জেগে উঠবে সমাজ, সংকট কাটবে রাষ্ট্রেরও।
সবার জন্য মানসম্পন্ন প্রাথমিক শিক্ষাই হোক আমাদের আগামী পাঁচ বছরের অগ্রাধিকারভিত্তিক জাতীয় এজেন্ডা। জাতীয় সম্পদ (এ পাঁচ বছর জিডিপির ১০ শতাংশ, উন্নয়ন বাজেটের ৩০ শতাংশ), মানবসম্পদ এবং রাজনৈতিক সদিচ্ছা এই কাজে, এই সময়কালের জন্য জোগান দিতে হবে। তাহলেই পরিবর্তনের পথে একটি বড় পদক্ষেপ দেওয়া হবে।
আবুল মোমেন: কবি, প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক।

নিজেকে ‘নারীবাদী’ বললেন দালাই লামা

তিব্বতের নির্বাসিত আধ্যাত্মিক নেতা দালাই লামা বলেছেন, তিনি একজন নারীবাদী হিসেবে বিবেচিত হতে পারেন। এ ছাড়া বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও বৃহত্তর ভূমিকা রাখার জন্য নারীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানিয়েছেন।
গত বুধবার ওয়াশিংটনে একটি পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে জেন্ডার বিষয়ে দালাই লামা নিজের এই মতামত ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে দালাই লামা নিজের সাম্প্রতিক একটি অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। তিনি জানান, সম্প্রতি নিজের একটি দীর্ঘ ফ্লাইট যাত্রায় দেখেছেন, একজন মা সারা রাত জেগে সন্তানের যত্ন নিয়েছেন এবং ঘুমে ঢুলুঢুলু লাল চোখে বিমান থেকে নামছেন। অন্যদিকে ওই সন্তানের বাবা সারা রাত ঘুমিয়েছেন।
দালাই লামা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে নারীদের প্রতি সব সময় আমার আহ্বান থাকবে, এই মানবিক মূল্যবোধ উত্সাহিত করার জন্য তাদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা উচিত।’
দালাই লামা বলেন, ‘আমি যখন এ বিষয়ে কথা বলছি, তখন কেউ কেউ আমাকে নারীবাদী হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।’
নিজের সম্পর্কে আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসনের প্রশংসাসূচক মন্তব্যেরও উল্লেখ করেন দালাই লামা। তিনি জানান, সাবেক ওই প্রেসিডেন্ট তাঁকে ‘নারীবাদী দালাই লামা’ হিসেবে বিবেচনা করতেন।

‘প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষাকারী আইন অসাংবিধানিক’

প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময় কাউকে বিচারের সম্মুখীন করা যাবে না—এমন একটি আইনকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছেন ইতালির সাংবিধানিক আদালত। আর এতে করে ইতালির বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বারলুসকোনিকে (৭৩) এখন অন্তত তিনটি মামলায় আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হতে পারে। তবে বারলুসকোনি জানিয়েছেন, আদালতের রায় যা-ই হোক, তিনি পদত্যাগ করবেন না।
গত বুধবার এক আদেশে সাংবিধানিক আদালত জানান, প্রধানমন্ত্রীকে রক্ষাকারী এই আইনটি অসাংবিধানিক। কারণ আইনের চোখে দেশের সব নাগরিক সমান—সংবিধানের এই নীতিমালার পরিপন্থী ওই আইন। ২০০৮ সালে বারলুসকোনির নেতৃত্বাধীন সরকার ওই আইন অনুমোদন করে। সে সময় মিলানে একটি মামলায় বারলুসকোনির বিচার চলছিল।
আদালতের আদেশের প্রতিক্রিয়ায় বারলুসকোনি বলেছেন, তিনি জানতেন, এমন ধরনের রায়ই দেওয়া হবে। কারণ বাম ধারার বিচারকেরা আদালত নিয়ন্ত্রণ করছেন। তবে তিনি পদত্যাগ করবেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা অবশ্যই পাঁচ বছরের জন্য দেশ চালাব।’ বিরোধীরা অবশ্য এরই মধ্যে তাঁকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার সময় বারলুসকোনির বিরুদ্ধে কমপক্ষে তিনটি মামলা বিচারাধীন ছিল। এর মধ্যে দুর্নীতি ও ঘুষ দেওয়ার মামলা রয়েছে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সাংবিধানিক আদালত বারলুসকোনির এ ধরনের উদ্যোগ প্রতিহত করলেন। এর আগে ২০০৪ সালেও এ ধরনের একটি আইন চালু করার চেষ্টা করেন তিনি।
সম্প্রতি বেশ কয়েকটি যৌন কেলেঙ্কারিতে জড়িত থাকার খবর প্রকাশ হওয়ার পর বারলুসকোনির জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছে।

আইনকানুন কি অকার্যকর হয়ে পড়েছে -‘ভূমিদস্যু’দের দৌরাত্ম্য

‘হাউজিং প্রকল্পের মালিকেরা বিপুল অর্থবিত্তের অধিকারী। লোকমুখে শোনা যায়, তাদের হাত এত লম্বা যে তা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়।’ এই কথাগুলো বলেছেন সরকারের একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, জাতীয় সংসদের অধিবেশনে। অবৈধভাবে ভূমি দখল ও জলাভূমি ভরাট করে বাণিজ্যিক আবাসিক প্রকল্প গড়ে তোলা প্রসঙ্গে একাধিক সাংসদের উত্থাপিত প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আরও কিছু কথা বলেছেন, যা বেশ প্রণিধানযোগ্য।
যেমন, তিনি বলেছেন যে হাউজিং প্রকল্প করার নামে খাল-বিল-জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে। এটা ভূমিদস্যুদের কাজ। হাইকোর্টের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীও দখল হওয়া ভূমি উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁরা উদ্ধারের চেষ্টা করছেন, তবে এটা খুবই কঠিন কাজ। মন্ত্রী মহোদয় যাদের ‘ভূমিদস্যু’ বলছেন, তাদের বিপুল অর্থবিত্তের কথাও তিনি উল্লেখ করে বলেছেন যে তাদের হাত অনেক লম্বা। কিন্তু এ ধরনের কথাবার্তায় বক্তার অসহায়ত্বের প্রকাশ ঘটে। এসব ভূমিদস্যুর কাছে সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করতে পারে, কিন্তু সরকার বা রাষ্ট্রের পরিচালকদের উক্তি কেন এমনটি হবে? ‘তাদের হাত হাইকোর্ট পর্যন্ত পৌঁছায়’—এই কথা বলে মাননীয় মন্ত্রী জনগণের কাছে কী বার্তা পৌঁছাতে চান? সেই সব হাত হাইকোর্টে পৌঁছে কী করে? বিপুল অর্থবিত্তের মালিক ভূমিদস্যুদের লম্বা হাতের সঙ্গে হাইকোর্টের কী সম্পর্ক থাকতে পারে?
বছরের পর বছর ধরে এই ভূমিদুস্যরা অবৈধভাবে ভূমি দখল করে তাদের আবাসন-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। নিচু ও জলমগ্ন ভূমি ভরাট করার বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট আইন থাকা সত্ত্বেও তারা এসব করে চলেছে। রাজউক, পরিবেশ অধিদপ্তর ও সরকারের সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই এগুলো ঘটে চলেছে; কোনো ভূমিদস্যু বাধা পেয়ে তার অবৈধ ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছে—এমন দৃষ্টান্ত নেই। বরং দিনে দিনে ঢাকার চারপাশের নিচু জলাভূমিগুলো ভরে উঠছে বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নিজেই মন্তব্য করেছেন, এভাবে চলতে থাকলে ঢাকা অচিরেই বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।
হাইকোর্ট ও প্রধানমন্ত্রী অবৈধভাবে দখল করা ভূমি উদ্ধারের নির্দেশ দিয়েছেন; মাননীয় মন্ত্রীর উক্তি অনুযায়ী, উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। কিন্তু এই ক্ষেত্রে সফলতা কতটুকু? ‘কাজটা খুব কঠিন’ বলে তো সরকারের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। এই মুহূর্তে অনেক বাণিজ্যিক আবাসন প্রকল্প রয়েছে যেগুলোর স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে নিচু জলাভূমিতে, যা ভরাট করা আইনত নিষিদ্ধ। অনেক আবাসন প্রকল্প পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেয়নি, রাজউকের অনুমোদন পায়নি, অথচ সেগুলোর কাজ এগিয়ে চলেছে; সংবাদমাধ্যমে সেসব প্রকল্পে প্লট বিক্রির চটকদার বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে, মানুষ প্লটের বুকিংও দিচ্ছে।
এগুলো বন্ধ করতে বিদ্যমান আইনের যথাযথ প্রয়োগই যথেষ্ট। কিন্তু বন্ধ হচ্ছে না কেন? ‘ভূমিদস্যু’দের লম্বা হাতের কাছে কি রাষ্ট্রের আইনকানুন, সরকার ও বিচারব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়েছে?

কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসের কাছে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৭

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার এক আত্মঘাতী গাড়িবোমা হামলায় ১৭ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৮৪ জন। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান। গত দুই মাসে কাবুলে এটি পঞ্চম আত্মঘাতী হামলা। তালেবান জঙ্গিরা এ হামলার দায়িত্ব স্বীকার করেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জেমারাই বাশারি বলেন, হামলায় দূতাবাসের আশপাশের কয়েক ডজন দোকান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ১৭ জন নিহত ও ৮৪ জন আহত হয়েছে। হতাহত ব্যক্তিদের অধিকাংশই সাধারণ নাগরিক।
এক বিবৃতিতে এই হামলাকে ‘বর্বরোচিত’ উল্লেখ করে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই বলেন, আফগানিস্তানের নিরস্ত্র নাগরিকদের ওপর এই সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছে।
এ হামলার ব্যাপারে নয়াদিল্লিতে ভারতীয় পররাষ্ট্রসচিব নিরুপমা রাও বলেন, ভারতীয় দূতাবাসই এ হামলার লক্ষ্য ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শী এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, গতকাল স্থানীয় সময়সকাল সাড়ে আটটার দিকে দূতাবাস প্রাঙ্গণের কাছে গাড়িবোমাটি বিস্ফোরিত হয়। সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকা কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। গাড়ির টুকরো ও ধ্বংসাবশেষ রাস্তার চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। একশরও বেশি দোকানে জানালার কাচ ভেঙে পড়ে।
২০০৮ সালের জুলাই মাসেও কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় ৬০ জন নিহত হয়। ওই হামলার জন্য পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তালেবান জঙ্গিদের দায়ী করা হয়। এতে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
কাবুলে সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি সামরিক ও বেসামরিক স্থাপনাগুলো জঙ্গি হামলার শিকার হচ্ছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর একটি আত্মঘাতী হামলায় ছয়জন ইতালীয় সেনাসদস্য নিহত হন। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর আরেকটি আত্মঘাতী হামলায় তিনজন নিহত হয়। এ ছাড়া নির্বাচনের আগে ১৮ আগস্ট ন্যাটোর একটি গাড়িবহরের ওপর আত্মঘাতী হামলা চালানো হয়।
২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর অভিযান শুরুর পর চলতি বছর রেকর্ড-সংখ্যক বিদেশি সেনাসদস্যের মৃত্যু হয়েছে। এই সংখ্যা চার শতাধিক।

গিনিতে সেনা অভিযানের ঘটনা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন

গিনির জান্তা সরকার গত মাসে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সেনাসদস্যদের গুলিবর্ষণের ঘটনা তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করেছে। ওই অভিযানে ১৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়। খবর এএফপির।
গত বুধবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বিচার মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ কমিশন গঠনের কথা জানানো হয়।
কমিশনে মোট ৩১ জন সদস্য থাকবেন। এতে চারজন রাজনৈতিক দলের, তিনজন সুশীল সমাজের, তিনজন সেনাবাহিনীর ও তিনজন মানবাধিকার সংগঠনের সদস্য থাকবেন। বাকিরা আইনজীবী, বিচারক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর রাজধানী কনাক্রিতে সরকারবিরোধী এক বিক্ষোভে সেনাবাহিনী গুলি চালায়। জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, এতে দেড় শতাধিক লোক নিহত হয়েছে। তবে জান্তা সরকার বলেছে, মাত্র ৫৬ জন মারা গেছে।

দুর্নীতির সুযোগ বাড়বে -গণখাতে ক্রয় আইন সংশোধন



সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ছত্রচ্ছায়ায় সারা দেশে সরকারি কেনাকাটায় প্রভাব বিস্তারের অস্বস্তিকর খবর বেশ পাওয়া যাচ্ছিল। এ অবস্থায় আমরা উদ্বেগের সঙ্গে অপেক্ষায় ছিলাম, শাসক দল আওয়ামী লীগের অতীতের ভুল ও অভিজ্ঞতার আলোকে সরকারি কেনাকাটায় কী ধরনের অধিকতর স্বচ্ছ পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় তা দেখার জন্য। কিন্তু মন্ত্রিসভার সাম্প্রতিক একটি সিদ্ধান্ত আমাদের আরও বিচলিত করেছে।
৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে গণখাতে ক্রয় আইন সংশোধনের একটি প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর তিনটি সারকথা হলো, দুই কোটি টাকা পর্যন্ত সরকারি কেনাকাটায় সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো পূর্ব-অভিজ্ঞতা লাগবে না; দ্বিতীয়ত, এ কাজ বিলিবণ্টন হবে লটারির মাধ্যমে; তৃতীয়ত, প্রাক্কলিত ব্যয়ের পাঁচ শতাংশের অতিরিক্ত কম দরে কেউ দর প্রস্তাব করলে তা বাতিল হবে। এর মধ্যে শেষোক্ত সিদ্ধান্ত সম্পর্কে একটি সদুত্তর পাওয়া গেছে। বলা হয়েছে, অসুস্থ প্রতিযোগিতা বন্ধ করার লক্ষ্যেই এই হার বেঁধে দেওয়া হলো। লক্ষণীয় যে, মন্ত্রিসভার ওই বৈঠক শেষে একটি প্রেস ব্রিফিং হয়; কিন্তু সেখানে দুই কোটি টাকার কাজের জন্য কেন অভিজ্ঞতা শিথিল করা হলো, সে বিষয়ে কোনো কারণ বলা হলো না। অথচ প্রস্তাবিত এই সংশোধনীর বিষয়ে দাতারা আগেভাগেই আপত্তি দিয়েছিল। তা ছাড়া দুর্নীতির কারণেই লটারির ব্যবস্থা একসময় বাতিল করা হয়েছিল। এ কথাও সবারই জানা যে, সরকারি কেনাকাটায় ব্যাপকভিত্তিক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণেই দাতাদের পরামর্শ অনুযায়ী সরকারি ক্রয় আইন বা পিপিআর প্রণীত হয়েছিল।
গত মে ও জুন মাসে বিশ্বব্যাংক ও এডিবি পৃথকভাবে চিঠি দিয়ে সরকারকে তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল। এখন যেটা জানা ও বোঝার বিষয় তা হলো, মন্ত্রিসভা কী ধরনের পরিস্থিতি ও বাধ্যবাধকতার পরিপ্রেক্ষিতে দুই কোটি টাকার কাজের জন্য অভিজ্ঞতা শিথিল করল। লটারির ব্যবস্থা চালু করা সম্পর্কে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে যে একই ধরনের দরপত্রদাতার সংখ্যা বেশি হলে তাদের মধ্য থেকে লটারি করে ঠিকাদার বাছাই করে নেওয়া হবে। তাহলে দেখা যাচ্ছে, দক্ষতা ও যোগ্যতার আর কোনো দরকার নেই। চলতি অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা সরকারি কেনাকাটায় ব্যয় হবে। সুতরাং প্রস্তাবিত আইন পাস হলে ওই পরিমাণ টাকার কাজ বণ্টনে অনভিজ্ঞতা ও অদৃষ্টবাদই হবে চালিকাশক্তি। বর্তমান যুগে এ ধরনের ব্যবস্থাপনা অকল্পনীয়। সে কারণেই আমরা ক্রয় আইন সংশোধনের ওই প্রস্তাব বাতিলে টিআইবিসহ বিভিন্ন মহলের দাবিকে উপেক্ষা করতে পারি না। টিআইবি ৬ অক্টোবর এক বিবৃতিতে বলেছে, এর ফলে দলীয় প্রভাবভিত্তিক টেন্ডারে অরাজকতা ও দুর্নীতি উত্সাহিত হবে, উন্নয়নকাজের স্বচ্ছতা ও গুণগত মান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
আমরা বিদ্যমান আইনে প্রস্তাবিত সংশোধনী আনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাই। তবে দাতাদের পরামর্শে যে পিপিআর চালু করা হয়েছিল, তাও কিন্তু দুর্নীতি ও দলবাজি রোধে যথেষ্ট কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়নি। টেন্ডারবাজি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগেই সংসদে একটি খোলামেলা আলোচনা ও সে মতে উপযুক্ত প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি রাখে।

শর্ত সাপেক্ষে ক্ষমতা ছাড়তে রাজি মিশেলেত্তি

হন্ডুরাসের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেসিডেন্ট রবার্তো মিশেলেত্তি বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া ক্ষমতায় ফিরে আসার দাবি থেকে সরে এলে তিনিও ক্ষমতা ছেড়ে দিতে রাজি আছেন। গত বুধবার অর্গানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের সময় এ কথা বলেন তিনি। মিশেলেত্তি বলেন, ‘সংকট সমাধানের পথে আমি বাধা হয়ে থাকলে সরে দাঁড়াতে রাজি আছি। কিন্তু শর্ত হচ্ছে, এই লোকটিকেও (জেলায়া) সরে দাঁড়াতে হবে।’
গত ২৮ আগস্ট এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায় হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী। ওই দিনই অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন সে দেশের কংগ্রেসের তত্কালীন স্পিকার মিশেলেত্তি। এর পর থেকে সেখানে রাজনৈতিক সংকট চলছে। গত ২১ আগস্ট গোপনে দেশে ফেরেন জেলায়া। এরপর সংকট সমাধানে নতুন করে সমঝোতার উদ্যোগ নেয় ওএএস। এরই অংশ হিসেবে বুধবার ওএএসের মহাসচিব হোসে মিগুয়েল ইনসুলজা রাজধানী তেগুচিগালপায় আসেন। দুপুরে একটি হোটেলে তাঁর নেতৃত্বে ওএএসের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিশেলেত্তির আলোচনা শুরু হয়।
বৈঠকে মিশেলেত্তি বলেন, আগামী ২৯ নভেম্বরের নির্বাচন থামানোর কোনো সুযোগ নেই। তবে আন্তর্জাতিক সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বর্তমান সরকারের অধীনে ওই নির্বাচন হলে তা স্বীকৃতি পাবে না। ওএএসের প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে রয়েছেন লাতিন আমেরিকার পাঁচজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, তিনজন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের কর্মকর্তা টমাস শ্যানন।
ওএএসের মহাসচিব বলেন, ‘আমরা এখানে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগ শুনতে আসিনি। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার একটি সুনির্দিষ্ট সমাধানে পৌঁছানোই আমাদের লক্ষ্য।’ বৈঠকে জেলায়ার প্রতিনিধিরা দাবি জানিয়েছেন, ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নিঃশর্তভাবে জেলায়াকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করতে হবে। এই শর্ত মানতে দেরি হলে নভেম্বরের নির্বাচন পিছিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন তাঁরা।
এদিকে স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলে এক সাক্ষাত্কারে জেলায়া বলেন, ‘নীতিগত অবস্থান থেকে আমরা সরে আসব না। আমাদের অবস্থান হচ্ছে, আমাকে ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়া।’

বিশ্বে প্রতি চারজনের একজন মুসলমান

বিশ্বে ৬০০ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে ১৫৭ কোটিই ইসলাম ধর্মের অনুসারী। এর মধ্যে ৬০ শতাংশ মুসলমান বাস করে এশিয়া মহাদেশে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পিউ ফোরাম অন রিলিজিয়াস অ্যান্ড পাবলিক লাইফ এ গবেষণা চালায়। তিন বছর ধরে বিশ্বের ২৩২টি দেশ ও অঞ্চল থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গত বুধবার গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।
এতে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় ২০ শতাংশ মুসলমান জনগোষ্ঠী বাস করে। ইউরোপে বাস করে ২ দশমিক ৪ শতাংশ ও যুক্তরাষ্ট্রে দশমিক তিন শতাংশ। ১৫ শতাংশের বেশি মুসলমানের বাস আফ্রিকার সাহারা প্রান্তীয় অঞ্চলে। গবেষণার তথ্য থেকে আরও জানা গেছে, লেবাননের চেয়ে জার্মানিতে বেশি মুসলমান বাস করে। আর রাশিয়ার মুসলমান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা জর্ডান ও লিবিয়ার মোট মুসলমান জনগোষ্ঠীর চেয়ে বেশি।
গবেষকেরা প্রায় দেড় হাজার উত্স থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন। উত্সগুলোর মধ্যে ছিল জনসংখ্যা সমীক্ষা, জনসংখ্যাতাত্ত্বিক গবেষণা, সাধারণ জনসংখ্যা জরিপ ইত্যাদি। গবেষণার ফল সম্পর্কে জ্যেষ্ঠ গবেষক ব্রায়ান গ্রিম বলেন, গবেষণার ফল দেখে তিনি অবাক হয়েছেন। মুসলমান জনগোষ্ঠীর সংখ্যা যা আশা করা হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক আমানি জামাল বলেন, ‘আরবরাই মুসলিম এবং মুসলিমরাই আরব’ গবেষণার ফল থেকে এ ধারণা ভেঙে গেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৩০ কোটির বেশি মুসলমান বিশ্বের এমন সব দেশে বাস করে, যেখানে ইসলাম সংখাগরিষ্ঠের ধর্ম নয়। গবেষণায় আরও বলা হয়, বিশ্বে মুসলমান জনগোষ্ঠীর ১০ থেকে ১৩ শতাংশ শিয়া ও ৮৭ থেকে ৯০ শতাংশ সুন্নি সম্প্রদায়ভুক্ত। বেশির ভাগ শিয়া ইরান, পাকিস্তান ও ইরাকে বাস করে।

এবার চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আহ্বান আল-কায়েদার

সংখ্যালঘু উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর হামলার জবাবে চীনের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক দিয়েছে আল-কায়েদা। এক ভিডিও-বার্তায় সংগঠনটির শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার আবু ইয়াইহা আল লিবি উইঘুরদের প্রতি চীনা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে জিহাদের আহ্বান জানান। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসবাদ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইনটেলসেন্টার এ কথা জানিয়েছে।
২০ মিনিটের এক ভিডিও-বার্তায় আফগানিস্তানে আল-কায়েদার শীর্ষস্থানীয় এই কমান্ডার উইঘুরদের ওপর নির্যাতনের প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘চীনের নাস্তিকেরা পূর্ব তুর্কিস্তানে উইঘুর মুসলমানদের ওপর ঘৃণ্য, নিষ্ঠুর ও বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে। তারা সেখানে হাজার হাজার মুসলমানকে হত্যা করেছে। কিন্তু কেউ তাদের প্রকৃত সংখ্যা জানে না।’ তিনি বলেন, ‘বিশ্বের সমগ্র মুসলমানের এখন পবিত্র দায়িত্ব হলো পূর্ব তুর্কিস্তানে তাদের আহত ভাইদের পাশে দাঁড়ানো।’
আল-কায়েদা চীনের মুসলিম অধ্যুষিত প্রদেশ জিনজিয়াংকে ‘পূর্ব তুর্কিস্তান’ হিসেবে অভিহিত করে থাকে।
ইনটেলসেন্টার জানায়, গত মঙ্গলবার আল-কায়েদার গণমাধ্যম শাখা আল-সাহাব এই ভিডিও-বার্তা প্রকাশ করে। গত জুলাইয়ের শেষ দিকে অথবা আগস্টের শুরুতে এই ভিডিও-বার্তা রেকর্ড করা হয়ে থাকতে পারে।
লিবি বলেন, ‘তুর্কিস্তানের মুসলমানদের জানা উচিত, তাদের ওপর চীনা সরকারের অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন বন্ধ করা সম্ভব নয়। এ থেকে পুনরুদ্ধারেরও কোনো উপায় নেই। কিন্তু তাদের যত দ্রুত সম্ভব সত্যিকারের বিশ্বাসে ফিরে আসা উচিত। তুর্কিস্তানের মুসলমানদের জিহাদের জন্য প্রস্তুত হওয়া দরকার।’
লিবি আরও বলেন, ‘জিনজিয়াংয়ে মুসলমানেরা বৈষম্যের শিকার। এ কারণে আফগানিস্তানে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের যে পরিণতি হয়েছিল, চীনা কমিউনিস্টদেরও সেই একই ভাগ্য বরণ করতে হবে।’
লিবি বলেন, ‘চীনা সরকার তুর্কিস্তানের মুসলমানদের বিশ্বের অন্য মুসলিম দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন রাখার সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে। তারা মুসলমানদের সেই দেশ থেকে নিশ্চিহ্ন করতে তাদের ওপর ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তারা মুসলমানদের বিলুপ্ত করে দেওয়ার পাঁয়তারা করছে।’
জিনজিয়াং প্রদেশের উইঘুর সম্প্রদায়ের অভিযোগ, চীনা সরকার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের দমনের নামে সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয়ভাবে তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ বলেছে, গত ৫ জুলাই শুরু হওয়া জিনজিয়াংয়ে চীনা আদিবাসী গোষ্ঠী হান ও উইঘুর মুসলমানদের মধ্যে সংঘর্ষে ১৮৪ জন নিহত হয়। সংঘর্ষে আহত হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি। তাদের বেশির ভাগই হান জাতিগোষ্ঠীর বলে চীনা সরকার দাবি করেছে।

মার্কিন সাহায্য নিয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে তুমুল বিতর্ক

মার্কিন সাহায্য গ্রহণ করা নিয়ে পাকিস্তান সরকার বেকায়দায় পড়েছে। পাকিস্তানের বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, যেসব শর্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সহায়তা দিয়েছে, তা মেনে নেওয়ার মতো নয়। এসব শর্ত মেনে সাহায্য গ্রহণ করলে তা দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের ক্ষতি করবে। এ নিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের পার্লামেন্টে তুমুল বিতর্ক হয়। প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি সব পক্ষকে ওই সাহায্য গ্রহণে একমত করার ব্যাপারে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পাকিস্তান কৌশল নিয়ে একই দিন ওয়াশিংটনে শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কুরেশি পশ্চিমা বাজার, সামরিক প্রযুক্তিসহ সব ক্ষেত্রে পাকিস্তানের প্রবেশাধিকার চেয়েছেন। তিনি পাকিস্তানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রকে আস্থা রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত সাপেক্ষে দেওয়া সাহায্য নিয়ে কোনো উদ্বেগের সৃষ্টি হয়নি—এমন দাবি করে কুরেশি বলেছেন, ‘পাকিস্তানের দোদুল্যমান অর্থনীতিতে আরও সহায়তা প্রয়োজন, বিশেষ করে পশ্চিমা বাজারে পাকিস্তানি পণ্যের প্রবেশাধিকার খুবই দরকার। আমরা যে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছি এটি তার চেয়েও বড়। আমরা বলছি না যে আমাদের সবাই ভাগবাটোয়ারা করে অর্থ সহায়তা করুক। এর চেয়ে আমরা পশ্চিমা বাজারে বেশি করে প্রবেশাধিকার চাইছি।’
প্রেসিডেন্ট ওবামা বলেছেন, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে মুসলিম চরমপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, বর্ধিত এই সাহায্য ও বাণিজ্য এর হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। উল্লেখ্য, সম্প্রতি মার্কিন কংগ্রেস আগামী পাঁচ বছরে পাকিস্তানের জন্য অর্থসহায়তা তিন গুণ করে একটি বিল পাস করেছে। এই সহায়তার পরিমাণ সাড়ে সাত শ কোটি ডলার। তবে যুক্তরাষ্ট্র শর্ত হিসেবে বলেছে, সহায়তা লাভের জন্য পাকিস্তানকে তাদের পরমাণু কর্মসূচি কাটছাঁট এবং জঙ্গিবিরোধী লড়াই আরও জোরদার করতে হবে।
মার্কিন সহায়তা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল বিতর্কের মধ্যে গতকাল পার্লামেন্টের অধিবেশন শুরু হয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ের জন্য সহায়তার নামে যে সাহায্য দিচ্ছে, তাতে আপত্তিকর শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এভাবে ওই সহায়তা নিলে তা হবে দেশের স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের জন্য ক্ষতিকর। খোদ সেনাবাহিনীর মধ্যেও এ নিয়ে আপত্তি রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানি বলেন, যদি এ বিষয় নিয়ে পার্লামেন্ট কিংবা সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে কোনো আপত্তি থেকে থাকে, তাহলে এটা নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হবে। পার্লামেন্টে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করে সবাইকে মতৈক্যে আনা হবে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের নিয়ে পাকিস্তানি সেনাপ্রধান জেনারেল আশফাক কায়ানি বৈঠক করেছেন। কায়ানি ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। ওই বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মার্কিন সহায়তার জন্য জুড়ে দেওয়া শর্ত দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ভারতের মহারাষ্ট্রে মাওবাদী হামলায় ১৮ পুলিশ নিহত

ভারতের মাওবাদী প্রভাবিত রাজ্য মহারাষ্ট্রে গতকাল বৃহস্পতিবার মাওবাদীওদর সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১৮ জন পুলিশ নিহত হয়েছে। এছাড়া একইদিনে মাওবাদীরা মহারাষ্ট্রের গাদচিরোলি জেলায় পুলিশের চর সন্দেহে গলা কেটে হত্যা করেছে আরও দুইজনকে।
তবে পুলিশ দাবি করেছে মাওবাদীদের সঙ্গে তাঁদের সংঘর্ষের ঘটনায় মাওবাদীদের ১৫ জন নিহত হয়েছে।
পরে ওই এলাকায় ভারতীয় আধা-সামরিক বাহিনী বিএসএফ এর সৈন্যরা এসে সর্বাত্মক অভিযান চালায়। তাঁরা পরবর্তীতে সেখান থেকে আহত ২৭ পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে। গত ফেব্রুয়ারি মাসেও এই রাজ্যে মাওবাদী হামলায় ৩১ পুলিশ নিহত হয়েছিল।
গাদচিরোলি জেলার পুলিশ সুপার এস জয়কুমার জানান ঔ এলাকায় মাওবাদীদের ধরতে পুলিশ ও বিএসএফ যৌথ অভিযান শুরু করেছে। আগামী ১৩ অক্টোবর মহারাষ্ট্রে বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মহারাষ্ট্রে মাওবাদী তত্পরতা বেড়ে যাওয়ায় চিন্তিত পুলিশ প্রশাসন

অমনিবাসের শেয়ারড এটিএমে যুক্ত হলো ইউসিবিএল

ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত অমনিবাসের এটিএম নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের গ্রাহকেরা। এখন থেকে ইউসিবিএলের গ্রাহকেরা দেশব্যাপী অমনিবাসের ২৭৩টিরও বেশি শেয়ারড এটিএম নেটওয়ার্ক ব্যবহার করতে পারবেন।
অমনিবাস হচ্ছে এমন একটি ব্যবস্থাপনা, যেটি সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এটিএম ও পিওএস নেটওয়ার্কের সমন্বয় করে।
ইউসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম শাহজাহান ভূঁইয়া এবং ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মূহায়মেনের উপস্থিতিতে ইউসিবিএলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক শফিকুল আলম এবং ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
ইউসিবিএলের সংযুক্তির মধ্য দিয়ে অমনিবাসে অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা হলো চারটি—ব্র্যাক ব্যাংক, আইটিসিএল (১৪ সদস্য ব্যাংকের সমন্বয়ে গঠিত), ওয়ান ব্যাংক ও ইউসিবিএল। এই একক প্লাটফর্মের মধ্য দিয়ে অমনিবাসে অন্তর্ভুক্ত ১৭টি সদস্য ব্যাংকের যেকোনোটির গ্রাহক সপ্তাহের সাত দিনই যেকোনো সময় তাঁর প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবেন।

প্রথম বিএসআরএস মিউচুয়াল ফান্ডের সম্পদমূল্য ঘোষণা

প্রথম বিএসআরএস মিউচুয়াল ফান্ডের গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত (সাময়িক) নিট সম্পদমূল্য ঘোষণা করা হয়েছে।
সে অনুযায়ী ১০০ টাকা মূল্যমানের প্রতিটি সার্টিফিকেটের ক্রয়মূল্যের ভিত্তিতে নিট সম্পদমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৪১ টাকা ৯৬ পয়সা।
এ ছাড়া বাজারমূল্যের ভিত্তিতে প্রতিটি সার্টিফিকেটের নিট সম্পদমূল্য দাঁড়ায় ৯৬৪ টাকা নয় পয়

কুষ্টিয়ায় এনসিসি ব্যাংকের ৫৯তম শাখা উদ্বোধন

রথম দিন থেকেই অনলাইন সুবিধা নিয়ে কুষ্টিয়ায় ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স (এনসিসি) ব্যাংকের ৫৯তম শাখার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে শাখার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী।
ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ নূরুল আমিনের সভাপতিত্বে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান এম হারুনুর রশিদ, অডিট কমিটির চেয়ারম্যান এম ওয়াজিউল্লাহ ভূঁইয়া, পরিচালক এম এ কাশেম ও আনোয়ার পাশা।
অন্যান্যের মধ্যে বিআরবি কেবল্স ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান, কুষ্টিয়া চেম্বারের সভাপতি আশরাফ উদ্দিন, কুষ্টিয়া সদর উপজেলার চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসাইনসহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহীরা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। ধন্যবাদ জানান ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হাফিজ আহমেদ।
প্রধান অতিথির ভাষণে চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী বলেন, কুষ্টিয়ার যেমন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে, তেমনি এটি ব্যবসাপ্রধান এলাকা। এ অঞ্চলে রয়েছে কৃষি ও শিল্পের অনেক সম্ভাবনাময় খাত। এসব সম্ভাবনাময় খাতকে এগিয়ে নিতে আধুনিক ব্যাংকিং-সুবিধা নিয়ে কুষ্টিয়ায় এনসিসি ব্যাংকের নতুন শাখা খোলা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৯.৯%

যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতি এক লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হয়েছে, যা কিনা দেশটির মোট দেশজ উত্পাদনের (জিডিপি) প্রায় ৯ দশমিক ৯০ শতাংশ।
৩০ সেপ্টেম্বর শেষ হওয়া ২০০৮-০৯ অর্থবছরের জন্য বাজেট ঘাটতির এই হিসাব নির্ণয় করা হয়েছে। আর এই ঘাটতি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর আমেরিকার ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
তবে ঘাটতির প্রকৃত হিসাবটি এ মাসের শেষ দিকে আমেরিকার অর্থ মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করবে। এক লাখ ৪০ হাজার কোটি ডলারের সমপরিমাণ ঘাটতির হিসাবটি মার্কিন কংগ্রেসের প্রাক্কলন।
সরকারি ব্যয় বৃদ্ধি ও কর আয় কমে যাওয়া দেশটির বাজেট ঘাটতি স্ফীত করে তুলেছে।
এর আগের বছর যুক্তরাষ্ট্রের বাজেট ঘাটতির পরিমাণ ছিল ৪৫ হাজার ৯০০ কোটি ডলার।
এবার অবশ্য বাজেট ঘাটতি এক লাখ ৬০ হাজার কোটি ডলারে উন্নীত হবে বলে অনুমান করা হয়েছিল। পরে তা সংশোধন করে কিছুটা কমানো হয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, এবার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ হলো মন্দায় আক্রান্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্ধারের জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া।
মন্দা মোকাবিলায় মার্কিন সরকার ৭৮ হাজার ৭০০ কোটি ডলারের উদ্দীপনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছিল।
ইতিমধ্যে এই বিরাট আকারের ঘাটতি গোটা আমেরিকাকে চিন্তায় ফেলে দিয়েছে। বিদেশিরা মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে অনেকের মনে।
অর্থনীতিবিদেরা বলছেন, বিনিয়োগ আকর্ষণ বজায় রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সুদের হার বাড়ানোর মতো পদক্ষেপ নিতে পারে।
এদিকে উচ্চহারে ঘাটতি নিয়ে ইতিমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রিপাবলিকানরা অভিযোগ করেছেন, এটি ওবামা প্রশাসনের আয় ও ব্যয়ের বিপদের দিক উন্মোচিত করেছে।
অন্যদিকে হোয়াইট হাউস থেকে বলা হচ্ছে, বুশ প্রশাসনের রেখে যাওয়া আর্থিক সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া গেছে।

সেবা খাতে রপ্তানি নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ

প্রথমবারের মতো দেশের সেবা খাতে রপ্তানির বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত রপ্তানিনীতিতেও সেবা খাত রপ্তানির বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে, যা ইতিমধ্যেই অনুমোদিত হয়েছে।
জানা গেছে, সেবা খাত রপ্তানির ব্যাপারে সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে। তবে বেশ কয়েকটি মন্ত্রণালয় সেবা খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেমন- স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, টেলিযোগাযোগ, শিক্ষা ও পর্যটন ইত্যাদি।
সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানেও দেশের সেবা খাত থেকে রপ্তানি হচ্ছে। কিন্তু এ সম্পর্কে সমন্বিত কোনো নীতিমালা নেই। তবে একেক মন্ত্রণালয় একেকভাবে সেবা খাত রপ্তানির ব্যাপারে সুপারিশ করে থাকে। এতে অনেক ক্ষেত্রেই সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়। অন্যদিকে ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ জনগণকে।
সম্প্রতি সেবা খাতসংক্রান্ত বিষয়ে দেশের অবস্থান নিরূপণ করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি কোর কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ওই কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। আর দ্বিতীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় গত বুধবার।
বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুসারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাছে সেবা খাতসংশ্লিষ্ট যেসব বিধিবিধান রয়েছে, তা আগামী ২০ অক্টোবরের মধ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সেবা খাত রপ্তানির বিদ্যমান বিধিবিধান কী এবং এসব বিধিবিধান কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে ব্যাপারে মন্ত্রণালয়গুলো যাতে সুপারিশসংবলিত মতামত পাঠায়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বাজার সম্প্রসারণ ও বাজার বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি। তাই পণ্য খাতের পাশাপাশি সেবা খাতকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সে কারণেই প্রতিবছর রপ্তানিনীতি শুধু পণ্য খাতের জন্য প্রণয়ন করা হলেও প্রথমবারের মতো এবার সেবা খাতকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আগামী দিনে রপ্তানি বহুমুখীকরণের ক্ষেত্রে সেবা খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে তাঁরা মনে করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে জানান, প্রথম দফায় সার্কভুক্ত দেশগুলোতে সেবা খাত রপ্তানির ব্যাপারে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ জন্যই এসব দেশের ব্যাপারে নিয়মনীতি তৈরির কাজে আগে হাত দেওয়া হয়েছে। মাত্র দুটি বৈঠক হয়েছে, সামনে আরও হবে।
তারপর অন্যান্য দেশের ব্যাপারেও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শীর্ষপর্যায়ের ওই কর্মকর্তা। তিনি জানান, সব মিলিয়েই প্রণয়ন করা হবে একটি সমন্বিত সেবা খাত রপ্তানি নীতিমালা। এ জন্য বেশি দিন সময়ও নেওয়া হবে না।
সাধারণভাবে সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত প্রধান উপখাতগুলো হলো: পর্যটন, শিক্ষা, চিকিত্সা ও আর্থিক সেবা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুসারে, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে সেবা খাতে রপ্তানি বাবদ আয় হয়েছে ১৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আমদানি বাবদ ব্যয় হয়েছে ৩৪৫ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ভালো করলেও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো শাস্তি দিচ্ছে

বিশ্বমন্দার মধ্যেও বাংলাদেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ভারসাম্য নষ্ট হয়নি। লেনদেনের ভারসাম্যে কোনো সংকট তৈরি হয়নি। এর পরও আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে শাস্তি দিচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বিশ্বব্যাংক-আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায় এসব অভিযোগ তোলেন। তুরস্কের রাজধানী ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সভার সমাপনী দিনে গত বুধবার তিনি এসব কথা বলেন।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সতর্কতামূলক বাণিজ্য অর্থায়ন ও ঋণ ব্যবস্থাপনার কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি কোনো আর্থিক সংকটে পড়েনি। কিন্তু তেল, সার ও খাদ্য আমদানির জন্য বাংলাদেশের স্বল্প মেয়াদে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রার প্রয়োজন হয়।
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশকে বাণিজ্য কার্যক্রম সম্পাদনের জন্য অর্থায়ন না করায় স্বল্প মেয়াদে উচ্চ সুদে বাংলাদেশকে ঋণ করতে হয়।
বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের মতো প্রতিষ্ঠানের উচিত বাংলাদেশের মতো অর্থনীতিকে অনুদান ও স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া।
অর্থমন্ত্রী একই সঙ্গে বড় কোনো শর্ত আরোপ না করেই এসব অর্থ দেওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, এতে নিম্ন আয়ের ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর অর্থনীতি প্রকৃত খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ করতে পারে।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের বিপুল রায় নিয়ে ক্ষমতায় এসেছে। সরকার নির্বাচনের আগে যে ইশতেহার প্রকাশ করেছিল, তাতে পরিষ্কার প্রতিশ্রুতি ছিল ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত, প্রযুক্তিনির্ভর ও মধ্য আয়ের দেশে রূপান্তর করা। ওই সময়ে বাংলাদেশ তার স্বাধীনতার ৫০ বছর পূরণ করবে। এ জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তাঁর সকল সময় ও পরিশ্রমে আত্মনিয়োগ করেছেন।
মুহিত আরও বলেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য সুশাসন প্রতিষ্ঠার ওপরও জোর দিয়েছে সরকার। তবে এ জন্য কাউকে আতঙ্কিত না করে জনপ্রশাসনের সংস্কার, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সামাজিক শক্তি গতিশীল করাকে প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, একই সঙ্গে জাতীয় ইস্যুতে সংসদে বিতর্ক, জনগণের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিকে জোর দিয়েছে সরকার।
আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, সরকার তার লক্ষ্য অর্জনের জন্য ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দ্বিতীয় দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি) নিয়ে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনায় সরকার এখন প্রস্তুত।
মুহিত বলেন, বিশ্বমন্দার মধ্যেও বাংলাদেশ তার প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনী বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। রপ্তানি খাতকে ধরে রাখার জন্য নেওয়া হয়েছে উদ্দীপনামূলক সহায়তা প্যাকেজ। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারে বাংলাদেশের বৃহত্ আকারে সংশ্লিষ্টতা না থাকায় বাংলাদেশ প্রথম দফার ধাক্কা এড়াতে পেরেছে এবং প্রায় ছয় শতাংশের কাছাকাছি প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পেরেছে।
তবে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতি যদি ঘুরে দাঁড়াতে না পারে, তাহলে দ্বিতীয় দফার ধাক্কায় আক্রান্ত হতে পারে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যেই রপ্তানি-আয়ের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং জনশক্তি রপ্তানি কমে যাওয়ার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের হয়েছে।
তবে প্রবাসী-আয় কমেনি উল্লেখ করে এর কারণ হিসেবে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানোর ব্যবস্থাপনায় উন্নতি এসেছে।
অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, মন্দার প্রভাবে রাজস্ব প্রবাহ কমে গেছে এবং বিনিয়োগে কোনো গতি নেই। তবে করের গভীরতা বাড়ানো এবং করের আওতা বাড়ানোতে কিছু ফল আসতে পারে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে যে বিনিয়োগ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তার ওপর প্রবৃদ্ধি নির্ভর করছে।
মুহিত অবকাঠামোর প্রতিবন্ধকতা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুত্ সরবরাহের নাজুক অবস্থা অর্থনীতিকে অগ্রসর হতে দিচ্ছে না বলে হতাশা প্রকাশ করেন।
সরকার অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য যে বিশাল পরিকল্পনা নিয়েছে তাতে উন্নয়ন সহযোগী ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ৬ ও ৭ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উপলক্ষে কড়া নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হলেও রাজপথে হাজার হাজার মানুষ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।

ফিরলেন পিটারসেন, বাদ হার্মিসন

তাঁকে দলে ফিরে পেতে আকুল ছিলেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের দলে কেভিন পিটারসেনের নাম দেখে নিশ্চয়ই স্বস্তি পাবেন ইংলিশ অধিনায়ক। এখনো পুরোপুরি সেরে ওঠেননি, তবে আশা করা হচ্ছে সফর শুরু হওয়ার আগেই ইনজুরি পুরোপুরি কাটিয়ে উঠবেন গত অ্যাশেজের মাঝপথ থেকে মাঠের বাইরে থাকা পিটারসেন। আগামী নভেম্বরে চার টেস্ট, পাঁচ ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবে ইংল্যান্ড।
আরও একবার দল থেকে বাদ পড়েছেন স্টিভ হার্মিসন। এই ফাস্ট বোলারের জায়গা নিয়েছেন তাঁর ডারহাম-সতীর্থ লিয়াম প্লাঙ্কেট। অনুমিতভাবেই রবি বোপারার জায়গা নিয়েছেন জোনাথন ট্রট। বাদ পড়েছেন ওয়াইস শাহও। ওয়ানডে দলে ফিরেছেন সাজিদ মাহমুদ ও অ্যালিস্টার কুক। আর প্রথমবারের মতো টেস্ট দলে ডাক পেয়েছেন অলরাউন্ডার লুক রাইট ও উইকেটকিপার স্টিভ ডেভিস। ওয়েবসাইট।
দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের ইংল্যান্ড দল
টেস্ট: অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস (অধিনায়ক), জেমস অ্যান্ডারসন, ইয়ান বেল, স্টুয়ার্ট ব্রড, অ্যালিস্টার কুক, পল কলিংউড, স্টিভ ডেভিস (উইকেটকিপার), গ্রাহাম অনিয়নস, কেভিন পিটারসেন, লিয়াম প্লাঙ্কেট, ম্যাট প্রিয়র (উইকেটকিপার), আদিল রশিদ, রায়ান সাইডবটম, গ্রায়েম সোয়ান, জোনাথন ট্রট, লুক রাইট।
ওয়ানডে: অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস (অধিনায়ক), জেমস অ্যান্ডারসন, টিম ব্রেসনান, স্টুয়ার্ট ব্রড, পল কলিংউড, অ্যালিস্টার কুক, জো ডেনলি, সাজিদ মাহমুদ, এউইন মরগান, গ্রাহাম অনিয়নস, কেভিন পিটারসেন, ম্যাট প্রিয়র (উইকেটকিপার), আদিল রশিদ, গ্রায়েম সোয়ান, জোনাথন ট্রট, লুক রাইট।

ম্যারাডোনাকে সতীর্থদের সমর্থন

স্কটল্যান্ড-পরীক্ষা দিয়ে শুরু। এরপর তাঁর প্রতিটি ম্যাচকেই ধরা হয়েছে একেকটা পরীক্ষা। এমনি করেই প্রায় এক বছর পার করলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। এবার সত্যিকার পরীক্ষার সামনেই দাঁড়িয়ে আর্জেন্টিনার কোচ। বাংলাদেশ সময় রোববার ভোর পাঁচটায় বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে পেরুর মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপ-স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এ ম্যাচে জিততেই হবে ম্যারাডোনার দলকে।
দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে ১৬ ম্যাচে ২২ পয়েন্ট নিয়ে পঞ্চম স্থানে আর্জেন্টিনা। এ অঞ্চল থেকে সরাসরি বিশ্বকাপে যাবে চারটি দল। পঞ্চম দলটি প্লে-অফ ম্যাচ খেলবে কনক্যাকাফ অঞ্চলের চতুর্থ স্থানের দলের সঙ্গে। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্ব শেষ হতে আর মাত্র দু রাউন্ড বাকি। ম্যারাডোনার দল খাদের কিনারেই দাঁড়িয়ে আছে। পা হড়কালেই দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তারা দর্শক।
এই পরিস্থিতির জন্য কোচ ম্যারাডোনাকেই কাঠগড়ায় তুলছে বেশির ভাগ আর্জেন্টাইন সমর্থক। ম্যারাডোনা এতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। পেরু আর উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে দলে ইনজুরির আঘাত তাঁর জন্য বড় চিন্তার বিষয়। এর মধ্যে দলের মহাপরিচালক কার্লোস বিলার্দো ঘানার বিপক্ষে গত প্রীতি ম্যাচের দল ঘোষণা করে এই বার্তা দিয়েছেন যে কোচ হিসেবে ম্যারাডোনার একক কর্তৃত্ব খর্ব হয়েছে।
ব্যাপারটিতে ভীষণ ক্ষুব্ধ ম্যারাডোনা কোচের চাকরি ছেড়ে দেওয়ারই হুমকি দিয়েছেন। তবে এই খবরে চারদিক থেকে যে প্রতিক্রিয়া এসেছে, তাতে আবার নিজেকে সুখী মনে করতে পারেন আর্জেন্টাইন ‘ফুটবল ঈশ্বর’। এই দুর্দিনে গুরুর পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর শিষ্যরা। পাশে দাঁড়িয়েছেন সাবেক সতীর্থ জর্জ ভালদানো আর আর্জেন্টিনার অন্যতম জনপ্রিয় কোচ র্যামন ডায়াজ।
ম্যারাডোনা এবং তাঁর দল বুয়েনস এইরেসেই আছে এখন। এখানেই পেরুর বিপক্ষে খেলবে আর্জেন্টিনা। গত পরশু অনুশীলন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময়ই হাভিয়ের মাসচেরানো ও হুয়ান ভেরন কোচের প্রতি তাঁদের সমর্থনের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। ‘ম্যারাডোনার প্রতি আমাদের পুরো সমর্থন আছে। তিনি কোচ এবং কী করছেন এটা তিনি জানেন’—বলেছেন লিভারপুল মিডফিল্ডার মাসচেরানো। আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখে পেরু ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ প্লে-মেকার ভেরন বলেছেন, ‘ডিয়েগো সন্তুষ্ট নন বা কিছু বিষয় পছন্দ করছেন না। তিনি চাকরিটা চালিয়ে যেতে কিছু শর্ত আরোপ করেছেন, এটা খারাপ কিছু নয়।’
আর্জেন্টিনার ১৯৮২ বিশ্বকাপ দলের সদস্য এবং সাবেক রিভার প্লেট কোচ র্যামন ডায়াজ। খেলোয়াড়ি জীবনে ম্যারাডোনা-ডায়াজ খুব একটা ভালো সম্পর্ক ছিল না। ডায়াজের ছিয়াশি আর নব্বয়েরই বিশ্বকাপে খেলা হয়নি নাকি ম্যারাডোনার কারণেই। কিন্তু দুর্দিনে ম্যারাডোনা ঠিকই পাশে পেলেন ডায়াজকে। ‘আমাদের যেটা করতে হবে, সেটা ম্যারাডোনা এবং জাতীয় দলকে সমর্থন দেওয়া। আমাদের বাছাইপর্ব উতরাতে হবে এবং এ জন্যই ম্যারাডোনার পাশে থাকতে হবে’—বলেছেন ডায়াজ। তবে পেরু ও উরুগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ম্যারাডোনার চাকরি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়াটা ঠিক হয়নি বলেই মনে করেন তিনি।
জর্জ ভালদানোর ব্যাপারটা অবশ্য ভিন্ন। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদের মহাপরিচালক ভালদানো খেলোয়াড়ি জীবনে ভালো বন্ধু ছিলেন ম্যারাডোনার। তাঁর বিশ্বাস, ম্যারাডোনা ঠিকই আর্জেন্টিনাকে উতরে দেবেন, ‘আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপে নিয়ে যাওয়া তার জন্য এখন বড় এক চ্যালেঞ্জ। তবে আমার মনে হয় সমস্যা ছাড়াই সে এটা পারবে।

মেসিকে ইন্টারে চান ফিগো

বার্সার সঙ্গে লিওনেল মেসির বন্ধনটা কতটা মজবুত তা ভালোই জানা আছে লুইস ফিগোর। এই পর্তুগিজ তবুও নিজের সর্বশেষ ক্লাব ইন্টার মিলানে দেখতে চান মেসিকে। কারণ ফিগোর কোনো সন্দেহই নেই যে মেসিই বর্তমান বিশ্বের সেরা ফুটবলার। ইন্টারের হয়েই গত মৌসুমে ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছেন ২০০১ সালের ফিফা বর্ষসেরা এবং ২০০০ সালের ব্যালন ডি অর বিজয়ী ফিগো।
১৯৯৫ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত বার্সায় খেলা ফিগো জানিয়েছেন, মেসিকে ইন্টারের জার্সিতে দেখা তাঁর স্বপ্ন, ‘লিওনেল সবার সেরা এবং এটা প্রশ্নাতীত। দলের সঙ্গে তাঁর বোঝাপড়া এখন আগের মৌসুমের চেয়েও ভালো। মেসিকে ইন্টারে খেলতে দেখা আমার স্বপ্ন।’ ইন্টারের হয়ে ক্যারিয়ার শেষ করার পর ফিগো বলেছিলেন, ‘আমি ফুটবল ছাড়ছি, কিন্তু ইন্টার ছাড়ব না।’ তাঁর সেই কথার প্রতিফলন যেন পাওয়া গেল মেসিকে ইন্টারে দেখতে চাওয়ার আকুলতায়।
ইন্টার ও বার্সা ছাড়াও ২০ বছরের ক্লাব ক্যারিয়ারে ৬ বছর স্পোর্টিং সিপি এবং ৫ বছর রিয়াল মাদ্রিদে খেলে সেখানে গড়ে তুলেছিলেন গ্যালাকটিকোস। পর্তুগালের হয়ে ১২৭ ম্যাচে ৩২ গোল করা এই মিডফিল্ডারের ধারণা, ইব্রাহিমোভিচ-ইতোর অদলবদলে লাভবানই হয়েছে নেরাজ্জুরিরা, ‘আমি ইতোকে সত্যিই পছন্দ করি। রিয়ালে খেলার সময় ইতোর ফর্ম আমি দেখেছি। ইন্টারের হয়ে জ্লাতান (ইব্রাহিমোভিচ) তিনটি দারুণ মৌসুম কাটিয়েছে, ক্লাবকে দিয়েছেও অনেক। সে যখন ছিল তখন ইন্টার তার ওপর নির্ভর করেছে কিন্তু এখন আর তা নেই।’

ফুটবলের এত আয়োজন, মাঠ কোথায়?

আর্থিক সংকট নয়, বাফুফের কাছে এখন সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার নাম মাঠ।
বাফুফের সবেধন নীলমণি মাঠ বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দিনে দুটি করে খেলা চালাতে গিয়ে সেটির অবস্থা এখন বেহাল। বৃষ্টির কারণে মাঠ কাদায় থিকথিক করছে। স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য এরই মধ্যে বারকয়েক ফেডারেশন কাপ বন্ধ করে মাঠটাকে একটু রেহাই দেওয়া হয়েছে বটে। কিন্তু প্রতিদিনই হচ্ছে বৃষ্টি, এ অবস্থায় সামনে যে কী ঘটবে কেউ বলতে পারছে না।
বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন কাল বিকেলে কর্মকর্তাদের নিয়ে বসেছিলেন মাঠের ব্যাপারে আলোচনা করতে। কী সিদ্ধান্ত হলো জানতে চাইলে বললেন, ‘আমি আসলে কোনো কূল-কিনারা পাচ্ছি না। প্রকৃতির ওপর তো কারও হাত নেই। কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে কীভাবে যে খেলা এগিয়ে নেব, বুঝতে পারছি না।’
সাফ সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পরদিন সালাউদ্দিন বলেছেন, দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলকে চাঙা করতে বেশ কিছু টুর্নামেন্ট তিনি করবেন। বেশির ভাগই ঢাকায় করার ইচ্ছা তাঁর। কিন্তু কোথায় করবেন? সালাউদ্দিন যত পরিকল্পনাই করুন, মাঠ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকলে সব পরিকল্পনাই মুখ থুবড়ে পড়তে বাধ্য। সালাউদ্দিন বললেন, ‘সরকারকে চিঠি দিয়ে বলব, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ সংস্কার করে দিন। না দিলে আমাদের পক্ষে খেলা চালানোই আর সম্ভব নয়। আমরা হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকব।’
সামনে ব্যস্ত সূচি। ডিসেম্বরে সাফ ফুটবল, জানুয়ারিতে এসএ গেমস। আছে ঘরোয়া খেলা। কমলাপুর স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কয়েক মাস আগে। এখনো সেটি তৈরি হয়নি খেলার জন্য। এ জন্য বন্ধ হয়ে আছে সিনিয়র ডিভিশন লিগ। শুধু আন্তর্জাতিক ফুটবল আর ফেডারেশন কাপ, বি-লিগ খেললেই তো আর খেলোয়াড় তৈরি হয়ে যাবে না, বলছেন ফুটবল-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। নিচের দিকের লিগগুলো মাঠের অভাবে বন্ধ থাকায় এক কর্মকর্তা ক্ষোভের সঙ্গে বললেন, ‘সবাই ব্যস্ত পেশাদার লিগ নিয়ে। বাকি লিগগুলো যে হচ্ছে না, সেদিকে কারোরই নজর নেই। মাঠ নেই বলে থমকে আছে সব।’
নতুন মাঠ দূরে থাক, হাতের পাঁচ হয়ে থাকা বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের মাঠ গত মৌসুমে মোটামুটি ভালো থাকলেও এবার এটির অবস্থা খুবই খারাপ। ৬ সেপ্টেম্বর আবাহনী-মুক্তিযোদ্ধা ম্যাচটা হয়েছে থিকথিকে কাদা মাঠে। আবাহনী অধিনায়ক বিপ্লব ওই দিন খেলার পরে বলেছিলেন, ‘সংস্কারের পর গত বছরও মাঠটা ভালোই ছিল। কিন্তু এবার বৃষ্টিতে এত কাদা হবে ভাবতেই পারিনি। মনে হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের চেয়ে আমাদের আবাহনী মাঠটা ভালো।’
বলাই বাহুল্য, মাঠের দুরবস্থার জন্য প্রাথমিক দায় বৃষ্টির। আবহাওয়ার পূর্বাভাস বলছে, বৃষ্টি আরও হতে পারে। বৃষ্টির বাগড়ায় দুবার সিটিসেল ফেডারেশন কাপ পিছিয়েছে। গত এক মাসে ফেডারেশন কাপের মাত্র গ্রুপ পর্ব শেষ হয়েছে। ৭ তারিখের পরিবর্তে কোয়ার্টার ফাইনাল পর্ব ১১ তারিখ শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু বৃষ্টি সেটি হতে দেবে তো? বৃষ্টি হতেই পারে। কিন্তু জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ তাদের দায়টা এড়াবে কী করে? অর্ধশতাব্দীরও বেশি পুরোনো মাঠের পানি নিষ্কাশন-ব্যবস্থা কেন এখনো প্রস্তরযুগে পড়ে থাকবে?
ঘরোয়া ফুটবলের ভবিষ্যত্ কী তাহলে? মুক্তিযোদ্ধার কোচ গোলাম সারোয়ার টিপুর কাছে এই প্রশ্নের উত্তর নেই, ‘কী হবে বুঝতে পারছি না। বৃষ্টি হচ্ছেই, এ অবস্থায় মাঠ তৈরি না করে খেলা শুরু করা ঠিক হবে না। মাঠের অবস্থা খুবই খারাপ। তার ওপর শুনছি, জাতীয় দলের ক্যাম্পের জন্য খেলোয়াড় চায় কোচ। ক্লাবগুলো সমস্যায় পড়বে।’
৪ থেকে ১৪ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় সাফ ফুটবলের জন্য ১ নভেম্বর থেকেই জাতীয় দলের প্রস্তুতি শুরু করতে চায় বাফুফে জাতীয় দল ব্যবস্থাপনা কমিটি। সে ক্ষেত্রে ফেডারেশন কাপ শেষ করে বি-লিগ সম্ভবত সাফ ফুটবলের আগে শুরু করা যাবে না। জানুয়ারিতে এসএ গেমস, ৩-১৩ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় চ্যালেঞ্জ কাপ, বি-লিগ কবে শেষ হবে বলা কঠিন। রয়েছে সুপার কাপ—এতগুলো টুর্নামেন্ট কোথায় হবে? বিকল্প মাঠই যে এর সমাধান, সেটা না বললেও চলছে। তাই বাফুফেকে মোহামেডান কর্মকর্তা লোকমান হোসেনের পরামর্শ, ‘বিকল্প একটা মাঠ বের করুন। এক মাঠে গোটা মৌসুম চালানো সম্ভব নয়।’
বিকল্প মাঠ সুদূরপরাহতই মনে হচ্ছে, বিদেশি খেলোয়াড়দের জন্য আগেই ছাড়পত্র লাগবে, এই জটিলতায় আর্মি স্টেডিয়াম ব্যবহার করা গেল না। ফুটবলের এত আয়োজন, খেলা হবে কোথায় সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

দলবদল নিয়ে ফেডারেশনে হ-য-ব-র-ল

হকির দলবদলের তৃতীয় দিনেও ফেডারেশনের বিবর্ণ চেহারা। বড় ক্লাবগুলোর কেউই আসেনি। শুধু সাধারণ বীমায় নাম লিখিয়েছেন মোহামেডানের গোলাম হাফেজ রব্বানি ও বাংলাদেশ স্পোর্টিংয়ের অমর বড়ুয়া।
জাতীয় দল দেশে নেই, বিকেএসপি দল আগামী মাসে ভারতে যাবে নেহরু কাপে খেলতে, একই সময় মিয়ানমারে এইচএফ কাপে খেলতে যাবে যুবদল। দলবদলে আবাহনী-মোহামেডানের অনাগ্রহের কারণটা বোঝাই যায়।
কাল মেরিনার্স ইয়াং ক্লাব ফেডারেশনকে চিঠি দিয়েছে জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের অবস্থানের ব্যাপারে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানতে। আবাহনীও দুই-এক দিনের মধ্যে এ রকম চিঠি দিতে পারে। ক্লাবগুলোর এমন অবস্থানে ফেডারেশন পরশু এক জরুরি সভাও করেছে। সম্পাদক খন্দকার জামিলউদ্দিন জানিয়েছেন, ‘প্রয়োজন হলে বিকেএসপি নেহরু কাপে যাবে না। মিয়ানমারে পাঠানো হবে না যুবদলকে। তবুও লিগ চলবে।’ জার্মানিতে থাকা ১৮ খেলোয়াড়ের ১৬ জনকেই এসএ গেমসের জন্য ক্যাম্পে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফেডারেশন। এই খেলোয়াড়দের তাই লিগে খেলার সুযোগ নেই। তাদের ছাড়াই হবে দলবদল।
আবাহনীর হকি কর্মকর্তা শহীদুল্লাহ জানিয়েছেন, ‘লিগ কমিটিতে এমন কিছু লোক রয়েছে যারা দ্বিতীয় বিভাগ থেকে এসেছে। আইনকানুন কিছু জানে না। গঠনতন্ত্র বোঝে না। এরা একটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা পাকিয়ে ফেলেছে। আমরা দুই-এক দিনের মধ্যে চিঠি দিতে পারি ফেডারেশনকে।’ মোহামেডান কর্মকর্তা সাজেদ আদেল জানালেন, ‘আমি বাইলজ পড়েছি। এমন কিছু বিষয় আছে যেগুলো আইনবিরোধী। আবাহনী-মোহামেডানের মতো ক্লাব না এলে কি দলবদল হবে? না হকিতে কোনো জৌলুশ থাকবে?’ মোহামেডান ক্লাব সূত্রে অবশ্য জানা গেছে, সাজেদ আদেলকে সরিয়ে প্রতাপ শঙ্কর হাজরাকে দল গঠনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে শেষ দিকে হয়তো দলবদলে অংশ নিতে পারে মোহামেডান।