Monday, June 14, 2010

অবশেষে উদ্ধার করা হলো মার্কিন নাবিক স্যান্ডারল্যান্ডকে

মার্কিন কিশোরী নাবিক অ্যাবি স্যান্ডারল্যান্ডকে অবশেষে উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল শনিবার ভোরে ভারত মহাসাগরের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে তাকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় স্যান্ডারল্যান্ড তার ক্ষতিগ্রস্ত নৌযানটিতেই ছিল। অস্ট্রেলিয়া কর্তৃপক্ষ তার উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
অস্ট্রেলিয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ফ্রান্সের একটি মাছ ধরার নৌযান গতকাল ভোর সাতটা ৪৫ মিনিটে স্যান্ডারল্যান্ডকে তার ইয়ট থেকে উদ্ধার করে। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার একটি বিমান তার অবস্থান নির্ণয় করে। সমুদ্রপথে বিশ্ব ভ্রমণের উদ্দেশে স্যান্ডারল্যান্ড (১৬) ইয়ট নিয়ে গত জানুয়ারি মাসে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে যাত্রা শুরু করে।

ইয়েমেনে আদিবাসীরা তেলের পাইপ উড়িয়ে দিয়েছে

দক্ষিণ ইয়েমেনে আদিবাসীরা গতকাল শনিবার একটি তেলের পাইপলাইন উড়িয়ে দিয়েছে। তাদের এক প্রধানের বাড়িতে হামলার প্রতিশোধে তারা এই হামলা করেছে। তাদের ওই প্রধানের বিরুদ্ধে আল-কায়েদার সদস্যদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রথমে হামলাকারীরা একটি বুলডোজার দিয়ে পাইপলাইনের ওপরের মাটি সরিয়ে ফেলে এবং এর পর তারা বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এটি উড়িয়ে দেয়।

পরমাণু অস্ত্র তৈরির কথা অস্বীকার করেছে মিয়ানমার

উত্তর কোরিয়ার সহযোগিতায় মিয়ানমার পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছে বলে পশ্চিমা গণমাধ্যমে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, দেশটির সামরিক সরকার তা অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, পরমাণু অস্ত্র তৈরি করার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই। পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে মিয়ানমারের ক্রমবর্ধমান সামরিক সম্পর্কের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশের পরই জান্তার পক্ষ থেকে গতকাল শনিবার এ ধরনের বিবৃতি দেওয়া হলো।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, মিয়ানমারের পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টাসংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলো ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা জাতিসংঘের সদস্য। বিশ্বসংস্থার সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের ঘোষণা ও সিদ্ধান্তের প্রতি মিয়ানমার সব সময় শ্রদ্ধাশীল। পরমাণু শক্তিধর দেশ হওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের মধ্যে এ বছরের শেষ দিকে যে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল, তাতে ব্যাঘাত ঘটানোর জন্যই ওই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, মিয়ানমারে এ বছর নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চালু হতে যাচ্ছে। দেশের গোটা রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে খাটো করার জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ওই অভিযোগ আনা হয়েছে।
নরওয়েভিত্তিক সংবাদগোষ্ঠী ডেমোক্রেটিক ভয়েস অব বার্মা (ডিভিবি) মিয়ানমারের পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টাসংক্রান্ত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রচার করে। এতে মিয়ানমারের সপক্ষত্যাগী একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তার সাক্ষাত্কার প্রচার করা হয়। সেই থিন নামের ওই সেনা কর্মকর্তা জানান, তাঁরা পরমাণু বোমা তৈরির চেষ্টা করছেন।

মায়ের সঙ্গে সন্তানের বন্ধন বাড়াতে ব্রিটিশ এমপির প্রস্তাব

সন্তান লালনপালন করার জন্য ব্রিটেনের অসচ্ছল মায়েরা সরকারের কাছ থেকে প্রায় এক লাখ পাউন্ড অর্থ বা বিভিন্ন সহযোগিতা পেয়ে থাকেন। তবে সেটা তাঁরা পান সন্তানের ১৯ বছর বয়স পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে। কিন্তু সন্তানের সঙ্গে মায়ের বন্ধন আরও জোরদার করতে নতুন প্রস্তাব দিয়েছেন লেবার দলের এক এমপি। ফ্রাঙ্ক ফিল্ড নামে ওই এমপির প্রস্তাব অনুযায়ী সন্তানের প্রথম দুই বছর বয়সের মধ্যে ওই অর্থের এক-চতুর্থাংশ অর্থ ২৫ হাজার পাউন্ড দিতে হবে। তাহলে সন্তান জন্মের পর আবার কাজে ফিরে যাওয়ার জন্য মায়েদের তাড়া থাকবে না। এতে মায়েরা বাড়িতে সন্তানকে আরও বেশি সময় দিতে পারবেন, সন্তানের সঙ্গে তাঁদের বন্ধন আরও জোরালো হবে।
ফ্রাঙ্ক ফিল্ড দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকাকে বলেন, অনেক কর্মজীবী মা সন্তান জন্মের প্রথম দুই বছর কাজে ফিরে যেতে চান না। তাঁরা তখন সন্তানকে বেশি বেশি সময় দিতে চান। তিনি আরও বলেন, এ জন্য মায়েরা সম্ভবত এই প্রস্তাব পছন্দ করবেন। মোট অর্থের এক-চতুর্থাংশ তাঁরা ওই সময় তুলে নিতে চাইবেন।
সন্তান জন্মের পর মায়েদের দ্রুত কাজে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে উত্সাহ দেওয়ায় সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছিল সাবেক লেবার সরকার। গত সেপ্টেম্বরে একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব মা কাজে থাকেন তাঁদের সন্তানের স্বাস্থ্য বাড়িতে থাকা মায়েদের সন্তানের স্বাস্থ্যের চেয়ে খারাপ।
সাংসদ ফিল্ড ১৯ বছরের পরিবর্তে ১৩ বছরের মধ্যে মায়েদের দেওয়া সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সামরিক হামলার হুমকি উত্তর কোরিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া। মূলত প্রচারণা চালানোর জন্য সীমান্তে দক্ষিণ কোরিয়ার স্থাপন করা লাউড স্পিকারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই তাদের এই হুমকি। গতকাল শনিবার উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘প্রতিপক্ষ দলের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ চালানোর হাতিয়ারগুলো ধ্বংসে উত্তর কোরিয়ার বিপ্লবী সামরিক বাহিনী সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালাবে। তাদের মনে রাখা উচিত, উত্তর কোরিয়ার সামরিক হামলা সিউলকে অগ্নিসমুদ্রে পরিণত করবে।’
পিয়ংইয়ংয়ের ক্ষমতাসীন শাসক শ্রেণীর বিরুদ্ধে প্রচারণা চালাতে দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায় ১১টি লাউড স্পিকার স্থাপন করেছে সিউল। এর আগে ২০০৪ সালে এ ধরনের প্রচারণার হাতিয়ারগুলো বন্ধ করেছিল তারা। গত মার্চে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি যুদ্ধজাহাজডুবির ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। একটি বহুজাতিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই যুদ্ধজাহাজডুবির জন্য উত্তর কোরিয়া দায়ী। কিন্তু উত্তর কোরিয়া ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধের হুমকি দিয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ প্রকাশিত গতকালের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘দক্ষিণ কোরিয়ার এই পদক্ষেপ শান্তি ও পুনর্মিলনের বিষয়ে ২০০০ সালে স্বাক্ষরিত আন্তঃকোরীয় ঘোষণার বরখেলাপ এবং সরাসরি একটি যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এ কারণে সিউলের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ওই হাতিয়ারগুলো ধ্বংসে সর্বাত্মক সামরিক হামলা চালাবে ডিপিআরকে।’
এদিকে গত শুক্রবার পার্লামেন্টের এক শুনানিতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী কিম তায়ে-ইয়াং বলেন, উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তের পর লাউড স্পিকারগুলো থেকে প্রচারণা চালানো শুরু হবে। তবে পিয়ংইয়ংয়ের এই হুমকির পরপরই দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই মুহূর্তে এ ব্যাপারে তারা কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবে না।
হুমকি দিলেও উত্তর কোরিয়ার সামরিক বাহিনীতে তেমন কোনো তত্পরতা দেখা যায়নি। এর আগেও উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়াকে ধ্বংস করে ফেলার হুমকি দিয়েছে। কিন্তু ১৯৫০-৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে দুই অংশের মধ্যে সে ধরনের বড় কোনো সামরিক সংঘাত হয়নি। দক্ষিণ কোরিয়া সীমান্তে নজরদারি বাড়িয়েছে।

পরমাণু চুক্তি মেনে নিলে অচলাবস্থা নিরসন সম্ভব: ইরান

ত্রিপক্ষীয় পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ইরান। দেশটি বলেছে, এ চুক্তি মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়েই তেহরানের সঙ্গে পশ্চিমা দেশগুলোর সৃষ্ট অচলাবস্থার নিরসন করা সম্ভব। এদিকে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় ইসরায়েলের বোমা হামলা চালানোর সুবিধার্থে সৌদি আরব তার আকাশসীমা পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
ইরানের আণবিক শক্তি সংস্থার প্রধান আলি আকবর সালেহি বলেছেন, ‘ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনে পশ্চিমা বিশ্বের উচিত ব্রাজিল ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় করা ত্রিপক্ষীয় পরমাণু জ্বালানি বিনিময় চুক্তিটি মেনে নেওয়া।’ সংকট নিরসনের পথে তিনি উদ্ভূত পরিস্থিতিকে পশ্চিমা বিশ্বের ‘নিজস্ব সৃষ্টি প্রতিকূলতা’ বলে অভিহিত করেছেন।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত বুধবার ইরানের বিরুদ্ধে চতুর্থ দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদ জাতিসংঘের এ পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, বিশ্বের পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো কেবল নিজেদের স্বার্থে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হীন মানসিকতা থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। তারা চায় না, অন্য কেউ এ অস্ত্রের মালিক হোক। এমনকি অন্যরা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে পরমাণু জ্বালানি ব্যবহার করুক, তাও তারা চায় না।
ব্রিটেনের প্রভাবশালী পত্রিকা দ্য টাইমস গতকাল শনিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলেছে, ইরানে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে সৌদি আরব তাদের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েলকে। এ ক্ষেত্রে ইসরায়েলি বিমানবহরের যেন কোনো সমস্যা না হয়, সে জন্য রিয়াদ নিজস্ব বিমানবাহিনী দিয়ে পরীক্ষাও চালিয়েছে। সৌদি আকাশসীমায় রাডারের নিয়ন্ত্রণমুক্ত হয়ে এবং ভূপাতিত করার ঝুঁকি এড়িয়ে ইসরায়েল যেন নিরাপদে ইরানে হামলা চালাতে পারে, সে-সংক্রান্ত সফল পরীক্ষা চালিয়েছে রিয়াদ।
পত্রিকাটি জানায়, মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ অনুযায়ীই এ পরীক্ষা চালানো হয়েছে। সৌদি আরবের উত্তরাঞ্চলীয় আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে পারবে ইসরায়েল। সৌদি আকাশ ব্যবহারের ফলে ইরানের সঙ্গে ইসরায়েলের আকাশসীমার দূরত্ব কমে যাবে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট গেটস আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তিন বছরের মধ্যে পারমাণবিক বোমা তৈরি করার মতো পর্যাপ্ত পরিমাণে ইউরেনিয়াম-সমৃদ্ধ করে থাকতে পারে ইরান। তিনি বলেন, এমনকি আগামী বছরের মধ্যেই এ বোমা তৈরি করা হতে পারে।
ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকের পর গেটস গত শুক্রবার এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ আরোপের আগে ইসরায়েলের সঙ্গে আলোচনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১০২

বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনের পর পোর্ট অব স্পেনে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দ্বিতীয় দিনটি ভালোই কেটেছে দক্ষিণ আফ্রিকানদের। ১০৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা সফরকারীদের উদ্ধার করেন প্রিন্স (৫৭) ও ডি ভিলিয়ার্স (৬৮)। ষষ্ঠ উইকেটে ১২২ রানের জুটি গড়েন দুজন। এরপর মার্ক বাউচারের হাফ সেঞ্চুরিতে (৬৯) দিন শেষে ৩৫২ রান তোলে তারা। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট পেয়েছেন স্পিনার সুলেমান বেন। আর অভিষেকে ৩ উইকেট নিয়েছেন আরেক স্পিনার শিলিংফোর্ড। জবাবে খেলতে নেমে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৪৭.১ ওভারে ১০২ রানেই গুটিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস। সর্বোচ্চ ২৯ রান করেছেন নার্সিং দেওনারাইন। ডেল স্টেইন ৫টি ও মরনে মরকেল ৪টি উইকেট নিয়েছেন। অন্যটি ক্যালিসের। তাদের অবশ্য ফলোঅন করায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্যাট করতে নেমেছে দ্বিতীয় ইনিংসে।

দু দলের একই প্রেরণা

জার্মানিতে গত বিশ্বকাপে দুটি দলই ছিল। তবে সার্বিয়া-ঘানা দুই দল দুই রকমের অভিজ্ঞতা নিয়েই শেষ করেছিল জার্মানি ২০০৬ বিশ্বকাপ। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে আজ নিজেদের প্রথম বিশ্বকাপে যখন এই দুটি দল মুখোমুখি, দুই শিবিরেই ফিরে ফিরে আসছে ২০০৬ বিশ্বকাপ। সার্বিয়া চায়, গত বিশ্বকাপের ব্যর্থতা ভুলিয়ে দেওয়া পারফরম্যান্স করতে। আর ঘানা জার্মানি বিশ্বকাপে পাওয়া সাফল্যে চায় রং চড়াতে।
প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই গতবার ফুটবল-বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল ঘানা। উঠে গিয়েছিল তারা দ্বিতীয় রাউন্ডে। ঘানা দলে সেই সুখস্মৃতির চর্বণ, প্রেরণা বলতেও এটাই। নিজ মহাদেশের বিশ্বকাপে এবার ২০০৬-কে ছাড়িয়ে যাওয়ার সংকল্প ঘানা দলে। ইন্টার মিলানের মিডফিল্ডার সুলে মুনতারি যেমন বলেছেন, ‘এবার আমাদের লক্ষ্য সেমিফাইনাল।’
লক্ষ্য পূরণে ঘানা নিজেদের সেভাবে গড়ে তুলেছে। তবে খুব পরিশ্রমও করেছে। তবে ‘ডি’ গ্রুপ থেকে দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ও সার্বিয়ার মধ্যে যেকোনো দুটি দলকে পেছনে ফেলতে হবে ঘানাকে। অনেকেরই ধারণা, জার্মানি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে যাবে পরবর্তী রাউন্ডে। লড়াইটা হবে দ্বিতীয় স্থানের জন্য। ঘানাও হয়তো সেটাই ধরে নিয়েছে। তাই তো ডিফেন্ডার সারপেই বলেছেন, আজকের ম্যাচটিই ঘানার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সার্বিয়া দলের চিন্তাটাও একই রকম। গত বিশ্বকাপে মন্টেনেগ্রোর সঙ্গে একসঙ্গে খেলা সার্বিয়া ডুবেছিল গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে যাওয়ার লজ্জায়। সবচেয়ে লজ্জা হয়ে এসেছিল আর্জেন্টিনার কাছে ০-৬ গোলে পরাজয়টা। ওই লজ্জা ভুলতে এবার কিছু একটা করতে চায় সার্বিয়ানরা। সেই কিছু একটা বলতে দ্বিতীয় রাউন্ডকে পাখির চোখ করেছে তারা। আর নির্দিষ্ট করা লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে আজ ঘানার বিপক্ষে ভালো করতে হবে সার্বিয়াকে। অধিনায়ক দেজান স্তানকোভিচও বলছেন সেটা।
এই বিশ্বকাপটা গতবারের মতো হবে না বলেই বিশ্বাস স্তানকোভিচের। তবে ঘানার বিপক্ষে ম্যাচটিকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন সার্বিয়ার অধিনায়ক, ‘ঘানার বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ওরা আফ্রিকার সেরা দল এবং গতিময় ফুটবল খেলে।’
 সার্বিয়া-ঘানা
নেমানিয়া ভিদিচ
বর্তমান বিশ্বের সেরা সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের একজন। ডিফেন্স-অফেন্স দুই জায়গাতেই হেডে পারদর্শী। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতা আর সুঠাম দেহটাও ভিদিচকে দেয় বাড়তি সুবিধা। দলে থেকেও গত বিশ্বকাপে একটি ম্যাচও খেলা হয়নি নিষেধাজ্ঞা ও ইনজুরিতে। এবার নিশ্চয়ই সে আক্ষেপ ঘোচাতে চাইবেন!
স্টেফেন আপিয়াহ
বয়সভিত্তিক সব দল ও অলিম্পিকে খেলেছেন। ২০০৬ সালে ঘানার প্রথম বিশ্বকাপে ছিলেন অধিনায়ক, যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তাঁর গোলেই জিতে দ্বিতীয় রাউন্ডে গিয়েছিল ঘানা। আর্মব্যান্ড এবারও থাকছে তাঁর হাতে। ঘানাকে আবার দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে জ্বলে উঠতে হবে অধিনায়ককে।

এশিয়া কাপে গেল বাংলাদেশ দল

বিশ্বকাপ ফুটবলের ডামাডোলের মধ্যেই শ্রীলঙ্কার ডাম্বুলায় ১৫ জুন থেকে শুরু হচ্ছে এশিয়া কাপ ক্রিকেট। চার দলের এই টুর্নামেন্টে খেলতে কাল রাতেই শ্রীলঙ্কা রওনা হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল।
ভালো-মন্দে মেশানো ইংল্যান্ড সফরের পর এশিয়া কাপে বাংলাদেশ অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী, শ্রীলঙ্কা যাওয়ার আগে এ কথা বলে গেছেন বাংলাদেশ দলের বাঁহাতি ওপেনার তামিম ইকবাল। তামিমের বিশ্বাস, এশিয়া কাপে অন্য বাংলাদেশকেই দেখবে সবাই, ‘কেন জানি মনে হচ্ছে, এবার অনেক কিছু বদলে যাবে। আমরা ভালো কিছু করতে পারব এশিয়া কাপে।’ রনগিরি ডাম্বুলা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ১৬ জুন ভারতের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল। একই মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ ১৮ জুন, পাকিস্তানের বিপক্ষে ২১ জুন। টুর্নামেন্টের ফাইনাল ২৪ জুন।
ইংল্যান্ডে খেলে আসা দুই টেস্টের সিরিজে বাংলাদেশ দলের যা কিছু অর্জন, তার বেশির ভাগটাই তামিমের হাত ধরে। লর্ডস টেস্টে ফিফটি আর সেঞ্চুরি, সেঞ্চুরি ওল্ড ট্রাফোর্ডেও। কাল এই পারফরম্যান্সের পুরস্কারও পেলেন তিনি। প্রতিটি সেঞ্চুরির জন্য ২ লাখ টাকা করে আর একটি ফিফটির জন্য ১ লাখ—বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে মোট ৫ লাখ টাকা পুরস্কার পেয়েছেন তামিম। এ ছাড়া জুনায়েদ সিদ্দিক দুই ফিফটির জন্য পেয়েছেন ২ লাখ টাকা, ইমরুল কায়েস এক ফিফটির জন্য এক লাখ টাকা, ৫ উইকেট পাওয়ার জন্য ২ লাখ টাকা করে পেয়েছেন সাকিব আল হাসান ও শাহাদাত হোসেন।
বোর্ডের পক্ষ থেকে বিসিবির সভাপতি আ হ ম মোস্তফা কামাল বিশেষ ব্যবস্থায় তামিম-সাকিবদের এই পুরস্কার দিয়েছেন। ইংল্যান্ড সফরের সফল ক্রিকেটাররা এর বাইরেও পাবেন কিছু পুরস্কার। প্রতিটি সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেটের জন্য দেওয়া হবে ১ হাজার পাউন্ড করে, ফিফটির জন্য ৫০০ পাউন্ড। ক্রিকেটারদের এখন আর আগের মতো ঢালাওভাবে পারফরম্যান্স বোনাস দেওয়া না হলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের জন্য পুরস্কার দিচ্ছে

উৎসবে থমকে যাচ্ছে ব্রাজিল

বিশ্বকাপ গত পরশু শুরু হয়ে গেছে। কিন্তু ব্রাজিলে এখনো উৎসবটা জমে ওঠেনি। জমবে, আগামী মঙ্গলবার থেকেই জমবে। কেমন উৎসব হবে, কল্পনা করুন।
সমুদ্রসৈকতগুলোতে সাম্বা নাচ হবে, বার-রেস্টুরেন্টে দল বেঁধে খেলা দেখা হবে, জয়ের পর সারা দেশে উন্মাতাল নাচ হবে। কিন্তু এসবের চেয়ে বেশি হবে থমকে যাওয়া। বলা হচ্ছে, মঙ্গলবার থেকে কার্যত থেমে যাবে ব্রাজিলের অফিস-আদালত-স্কুল-কলেজের কাজ, এমনকি রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম!
এরই মধ্যে সে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংককে ব্রাজিলের ম্যাচের দিন আগে আগে ছুটি দিয়ে দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে। মুদ্রাবাজারের কার্যক্রম চলবে সীমিত আকারে। এ ছাড়া বেশির ভাগ সরকারি অফিসে ব্রাজিলের খেলার দিনগুলোতে পুরোপুরি ছুটি ঘোষণা করে দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঘোষণা দিয়েছে, তারাও ছুটি দিয়ে দেবে ম্যাচের দিন। আবার কিছু প্রতিষ্ঠান আগে আগে অফিস শেষ করে দেবে। যেসব প্রতিষ্ঠান তাও পারছে না, তারা অফিসেই বড় পর্দায় খেলা দেখার ব্যবস্থা করছে।
দেশটির আইনপ্রণেতারা এরই মধ্যে তেল আইন সংস্কারের বিল পাস করায় হাঁপ ছেড়ে বেঁচেছেন বিনিয়োগকারীরা। বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে দিয়েছিলেন বিশ্বকাপের আগেভাগে এ বিলটি পাস না হলে বিশ্বকাপজটে পড়ে যেত তা। কারণ, ব্রাজিলের খেলার দিন কংগ্রেস বন্ধ থাকবে। আর আইনপ্রণেতারাও বিশ্বকাপের সময়টাকে অনানুষ্ঠানিক ছুটি হিসেবেই দেখেন।
এই দারুণ স্থবিরতা ব্রাজিলের অর্থনীতিকে বিধ্বস্ত করে ফেলবে না? ভয় পাওয়ার কিছু নেই। অর্থনীতিবিদেরা হিসাব কষে দেখেছেন, এই সময়ে কিছু অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে যাবে বটে, বিপরীতে আবার দারুণ চাঙা হয়ে উঠছে কিছু অর্থনীতি।
সবচেয়ে বেশি চাঙা হয়ে উঠছে দেশের ইলেকট্রনিকস ব্যবসা। হু হু করে বাড়ছে প্লাজমা টেলিভিশন থেকে শুরু করে সাধারণ টেলিভিশনসহ বিভিন্ন বিনোদনভিত্তিক পণ্যের বিক্রি। ‘ইলেকট্রোশপিং’ নামের একটি ইলেকট্রনিকস জিনিসপত্রের পাইকারি বিক্রেতা কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফার্নান্দো ফ্রেতিয়াস বলেছেন, তাঁদের বিক্রি এই সময়ে ৩০ শতাংশ বেড়ে যাবে। তিনি বলেন, ‘কাপ-সংক্রান্ত বিক্রি-বাট্টা সত্যি অনেক বেশি। বিশেষত, সর্বশেষ প্রজন্মের ডিজিটাল টেলিভিশনের বিক্রি খুব বেড়ে গেছে। কারণ, এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির খেলা সম্প্রচার হচ্ছে।’
এ ছাড়া বাড়ছে খাবার ও বিয়ারের মতো পণ্যের বিক্রিও। বাড়ছে বার ও রেস্তোরাঁগুলোয় বেচাকেনা। এসব স্থানে বসানো হয়েছে বড় পর্দার টিভি। এখনই তাদের সেরা টেবিলগুলো, যেখান থেকে টেলিভিশন সবচেয়ে ভালোভাবে দেখা যায়, সেগুলো এক মাসের জন্য আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
এত কিছুর পরও সাবেক ফুটবলার সক্রেটিসের মতো কেউ কেউ অনুমান করছেন, এবার বিশ্বকাপে ব্রাজিল ঠিক আগের মতো মেতে উঠবে না। আগের মতো সাম্বায় নাচবে না সৈকতগুলো। কারণ, ব্রাজিলিয়ানরা নাকি দুঙ্গার এই দলের ফুটবলে খুশি হতে পারছে না।
কিন্তু সক্রেটিসের সঙ্গে একমত হতে পারলেন না এরই মধ্যে কোপাকাবানা সৈকতে নাচ শুরু করে দেওয়া স্থানীয় শ্রমিক আন্তেনর আসিস। রিও ডি জেনেরিওর এই সৈকতে বসানো হয়েছে বিশাল ডিজিটাল স্ক্রিন। সেই স্ক্রিনে দক্ষিণ আফ্রিকা ও মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচ দেখতে দেখতে আসিস বললেন, ‘অন্যবার তো লোকে যা চায়, সে রকম খেলোয়াড়রাই ছিল দলে, তখন আমরা জিততে পারিনি। খেলা ভালো না কুিসত—বিশ্বকাপে এসব ভাবার খুব বেশি সময় নেই। গোল পেতে হবে, এটাই বড় কথা।’
দুঙ্গার পক্ষেও তাহলে সমর্থন আছে।

জার্মানি জিতবে ২-০ গোলে

টেকনিক্যাল দিক দিয়ে আলজেরিয়া হয়তো আহামরি গোছের নয়। কিন্তু সেই ঘাটতি তারা পুষিয়ে দিতে পারে প্রাণপণ দৌড় আর জীবন বাজি রেখে খেলার মানসিকতা দিয়ে। বিশ্বকাপের একমাত্র আফ্রিকান কোচ সাদানে আছেন ওদের পথ দেখাতে। যদিও তাঁর প্রস্তুতি বিঘ্নিত হয়েছে ইনজুরির আক্রমণে। অধিনায়ক ইয়াজিদ মনসৌরিকে বসিয়ে খেলাতে হচ্ছে হাসান ইয়েবদাকে। বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্টের জন্য প্রস্তুতিটা খুব একটা ভালো হলো না।
মাত্র ২০ লাখ মানুষের একটি দেশ স্লোভেনিয়া, কিন্তু ওরা দুর্দান্ত খেলছে বাছাই পর্বে। চেক প্রজাতন্ত্র, পোল্যান্ডের মতো দলের সঙ্গে একই গ্রুপে পড়েছিল। সেখান থেকে উঠে এসে রাশিয়াকে প্লে-অফে হারিয়ে চূড়ান্ত পর্বের টিকিট পেয়েছে তারা। দলে বড় কোনো তারকা নেই। তবে অধিনায়ক ছাড়াও অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার রবার্ট কোরেন, কোলোন স্ট্রাইকার নোভাকোভিচ এবং গোলরক্ষক হানদানোভিচ ওদের মূল খেলোয়াড়। যদিও বাস্তবতা হলো স্লোভেনিয়া আর আলজেরিয়া এই গ্রুপের তৃতীয় আর চতুর্থ দল হিসেবে বাদ পড়বে প্রথম রাউন্ডেই।
কৌতুহল জাগানিয়া একটি ম্যাচে জার্মানি মুখোমুখি হচ্ছে শক্ত প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়ার। আমার অনুমান এই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া গোল বাঁচানোর লক্ষ্য নিয়ে খেলবে এবং জার্মানিকে হতাশ করতে চাইবে। সেই হতাশার ফায়দা তারা নিতে চাইবে সেট পিস আর পাল্টা আক্রমণে গোল করে। অন্যদিকে জার্মানি সুশৃঙ্খল আর ধৈর্য্যের মিশেল নিয়ে খেলবে, দুই উইংয়ে পোডলিস্ক আর মারিনকে দিয়ে বার বার আক্রমণ চালিয়ে যাবে, বক্সে উড়ে আসবে দুর্দান্ত সব ক্রস।
জার্মানির এই দলটা অভিজ্ঞতা আর তারুণ্য দিয়ে গড়া। তরুণদের অনেকেই গত মৌসুমে অনুর্ধ ২১ ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জেতা দলে ছিল। ৪-২-৩-১ ফরম্যাট নিয়ে খেলছে জার্মানি, ফলে আমি আশা করছি, ওজিল আর মারিন বেশ প্রভাব রাখবে আর সামি খেদিরা বালাকের অনুপস্থিতির ফলে পেয়ে যাওয়া সুযোগটা পুরোপুরি কাজে লাগাবে। অস্ট্রেলিয়ার জন্য এভারটন মিডফিল্ডার টিম কাহিল গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় এবং জার্মানির জন্য হুমকি। গোলরক্ষকত সোয়ার্জার প্রাপ্য সমীহ কখনো পায়নি। এ ছাড়া লুকাস নিল, এমারটন আর কেওয়েল অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। আমার পূর্বানুমান হলো, জার্মানি ম্যাচটা ২-০ গোলে জিতবে।
সার্বিয়া-ঘানা ম্যাচটির দুই প্রতিপক্ষই সমান শক্তিধর বলে ম্যাচটা যে কারো দিকেই যেতে পারে। ম্যানইউয়ের ভিদিচ আর চেলসির ইভানোভিচ আছে বলে সাবির্য়ানদের রক্ষণ খুবই দৃঢ়। মাঝমাঠেও ইন্টার মিলানের স্ট্যানকোভিচের মতো খেলোয়াড় আছে। আর স্ট্রাইকার নিকোলা জিগিচ টুর্নামেন্টের অন্যতম তারকা হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। ম্যাচটা তারা ফেবারিট হিসেবে হয়তো শুরু করবে, কিন্তু ওই পর্যন্তই। ঘানাও শক্তিশালী কিন্তু বয়সে তরুণ। এসিয়েনকে ইনজুরির কারণে হারিয়ে ফেলাটা শেষ পর্যন্ত ওদের প্রত্যাশায় বড় ধরনের আঘাত হয়ে দেখা দিতে পারে। অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার পান্টসিল আর মেসশাহ তো বটেই, গত বছঠর ফিফা অনুর্ধ ২০ বিশ্বকাপ জেতা তরুণ তারকা মিডফিল্ডার বোয়েটাং আর অ্যাপিয়ার ওপরও দল অনেক বেশি নির্ভর করবে। আফ্রিকান দল হিসেবে ওদের সবচেয়ে সুবিধা হলো, দলের পেছনে থাকবে বিরাট সমর্থন। এবং পরিবেশটাও থাকবে ওদের পক্ষে মানানসই।

এবারও সেই আলজেরিয়া

বিশ্বকাপে নিজেদের অভিষেক ম্যাচেই হইচই ফেলে দিয়েছিল আলজেরিয়া। ১৯৮২ বিশ্বকাপে জার্মানির বিপক্ষে ২-১ জয়—বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসে অন্যতম বড় অঘটন।
ওই বিশ্বকাপে আলজেরিয়া থেমে যায় প্রথম রাউন্ডেই। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাওয়ার ভালো সুযোগ ছিল সামনে। জার্মানি-অস্ট্রিয়া ম্যাচে অস্ট্রিয়া জিতলে বা ড্র করলে জার্মানি বাদ পড়ে যেত, আলজেরিয়া চলে যেত দ্বিতীয় রাউন্ডে। অভিযোগ আছে, ওই ম্যাচে অস্ট্রিয়া ছেড়ে দিয়েছে জার্মানিকে। দ্বিতীয় রাউন্ডে জার্মানির সঙ্গী অস্ট্রিয়া। আলোড়ন তুলেও আলজেরিয়ার কিছু করার রইল না। গোলগড়ে বিদায়।
সেই আলজেরিয়া ১৯৮৬ বিশ্বকাপ খেলার পর হারিয়ে গেল। অবশেষে ২৪ বছর পর প্রত্যাবর্তন। ’৮২-এর মতো আজ আরেকটা স্মরণীয় ‘অভিষেক’ চাইছে আলজেরিয়া। তবে বড় কোনো প্রতিপক্ষ নেই সামনে। ‘ডেজার্ট ফক্স’দের প্রত্যাবর্তন ম্যাচের প্রতিপক্ষ স্লোভেনিয়া, বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা যাদের খুবই কম।
যুগোস্লাভিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর স্লোভেনিয়া বিশ্বকাপে প্রথম খেলেছে ২০০২ সালে। স্মরণীয় ছিল না অভিষেকটা। তিন ম্যাচেই হার। গত বিশ্বকাপের বাছাইপর্বেই বিদায় নেওয়া দলটি এবার ফিরে এসে প্রথমেই চাইছে জয়ের খাতায় একটা দাগ ফেলতে। সেটা না হলে দেশে ফিরে যাওয়াটা হবে হতাশার। চূড়ান্ত পর্বে আসতে কী লড়াই-ই না করতে হয়েছে! রাশিয়ার বিপক্ষে প্লে-অফে এসেছে সেই কাঙ্ক্ষিত বিশ্বকাপ টিকিট।
বার্তা সংস্থাগুলো জানাচ্ছে, প্রস্তুতি ম্যাচে সার্বিয়া, আয়ারল্যান্ডের কাছে ০-৩ হার আলজেরিয়ার মনোবলে দিয়েছে বড় ধাক্কা। তার ওপর ঝামেলা বেধেছে অধিনায়ক ইয়াজিদ মানসুরিকে নিয়ে। বাজে ফর্ম ও আচরণের কারণে আজ তাঁকে দলে রাখছেন না কোচ। সুযোগটা নিশ্চয়ই নিতে চাইবে স্লোভেনিয়া।
আলজেরিয়া-স্লোভেনিয়া
কারিম জিয়ানি
মূলত মিডফিল্ডার, তবে খেলতে পারেন যেকোনো পজিশনেই, সঙ্গে প্রয়োজনের সময় গোল করতে পারার ক্ষমতা কারিম জিয়ানিকে করে তুলেছে আলজেরিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলার। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে আসা আলজেরিয়ার স্বপ্ন এবার শেষ ১৬, আর স্বপ্নপূরণে সবচেয়ে বড় ভরসা ভলফ্সবুর্গের এই তারকা।
মিলিভোজে নোভাকোভিচ
বাছাইপর্বে করেছেন পাঁচ গোল, সব মিলিয়ে তিনি স্লোভেনিয়ার ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা। দিন দশেক আগে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও করেছেন দুই গোল। বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম জয় পেতে হলে আজ বড় ভূমিকা রাখতে হবে ৬ ফুট ৪ চার ইঞ্চি লম্বা এই স্ট্রাইকারকে।

ইংল্যান্ড-যুক্তরাষ্ট্র ড্র

ইংল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকায় গেছে ৪৪ বছরের শিরোপা-খরা ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়ে। সেই স্বপ্নে বড় ধাক্কাই লেগেছে কাল। নিজেদের প্রথম গ্রুপ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রকে সামনে পাওয়ায় দুটি লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড—শিরোপা অভিযান ভালোভাবে শুরু করা এবং একটি অপমানের প্রতিশোধ নেওয়া। ১৯৫০-এর বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ০-১ গোলে হেরে যাওয়ার প্রতিশোধ ইংল্যান্ড নিতে পারেনি। স্টিভেন জেরার্ডের ৪ মিনিটের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল তারা, তবে ক্লিন্ট ডেম্পসির ৪০ মিনিটের গোলে ম্যাচে ফেরে যুক্তরাষ্ট্র।