Wednesday, January 3, 2018

শাকিব-অপুকে সিটি করপোরেশনের তলব

এবার তারকা দম্পতি শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসকে তলব করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। গেলো ২৮ নভেম্বর স্ত্রী অপু বিশ্বাসকে তালাকের নোটিশ পাঠিয়েছেন শাকিব। তবে বিষয়টি নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি অপু।

আর তালাকের বিষয়ে শুনানির জন্যই শাকিব-অপুকে ডেকেছে ডিএনসিসি। আগামী ১৫ জানুযারি ডিএনসিসি'র অঞ্চল-৩-এর অফিসে এ শুনানি হবে। এজন্য গেলো ২৪ ডিসেম্বর শাকিব ও অপুর কাছে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ডিএনসিসি কর্মকর্তারা জানান, শাকিব খানের তালাকের নোটিশটি ডাক যোগে ডিএনসিসির কাছে পৌঁছানোর পর তারা নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করেছেন। সে অনুযায়ী আগামী ১৫ জানুয়ারি তাদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। এ জন্য গেলো ২৪ ডিসেম্বর শাকিব ও অপুর কাছে শুনানিতে হাজির হওয়ার জন্য নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলেও সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জানান।

ডিএনসিসি কর্মকর্তারা আরো বলেন, শুনানির দিনে যথারীতি তাদের বক্তব্য নেয়া হবে। তারা যদি আবার স্বামী-স্ত্রী হিসেবে থাকতে রাজি হন তাহলে তারা সংসার করবেন। অন্যথায় তাদেরকে আরো দুইবার নোটিশ দিয়ে শুনানি করা হবে।

এর মধ্যে তারা নিজেরা মিলমিশ করতে চাইলে ধর্মীয় রীতি মেনে তা করতে পারবেন, আর তা না করলে তিন বার শুনানির পর নিয়মানুযায়ী তালাক কার্যকর হয়ে যাবে।

২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের বিয়ে হয়।  প্রায় ৯ বছর গোপন থাকার পর টেলিভিশন লাইভে এসে বিয়ে ও সন্তানের খবর জানান অপু বিশ্বাস। এরপর থেকেই তাদের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিলো না। অবশেষে শাকিব খান অপুকে ডিভোর্স লেটার পাঠান।

ঐশ্বরিয়াকে মা দাবি, কে এই যুবক?


বলিউড তারকা ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চনকে নিজের মা দাবি করেছেন সঙ্গীত কুমার নামের এক যুবক। তিনি বলেন, ‘১৯৮৮ সালে আইভিএফ (টেস্ট টিউব বেবি) পদ্ধতিতে লন্ডনে জন্ম হয়েছে আমার। আর আমার মায়ের নাম ঐশ্বরিয়া রায়।’

২৯ বছর বয়সী এই যুবকের মন্তব্যকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে বলিউড পাড়ায়। বচ্চন পরিবারের পুত্রবধূ ঐশ্বরিয়া রায় বচ্চনের একমাত্র কন্যা আরাধ্যা। এই বিষয়টি সবাই জানেন। তবে কে এই যুবক, আর কেন ঐশ্বরিয়াকে নিজের মা দাবি করছেন?

সঙ্গীত কুমার দাবি করেন, ১৯৮৮ সালে লন্ডনে জন্মের পর তাকে কোদাভরমে নিয়ে আসা হয়। তিন বছর বয়স পর্যন্ত দিদিমা বৃন্দাকৃষ্ণরাজ রায়ের কাছে বড় হন তিনি। ২০১৭ সালের মার্চ মাসে দাদু কৃষ্ণরাজ রায়ের মৃত্যু হয়। তার কাকার নাম আদিত্য রায়।

কয়েকদিন আগে সংসদ সদস্য অমর সিং দাবি করেছিলেন অমিতাভ বচ্চন ও জয়া বচ্চন আলাদা বসবাস করেন। এবার সঙ্গীত কুমার দাবি করেছেন, ২০০৭ সালে অভিষেক বচ্চনের সঙ্গে বিয়ে হলেও ঐশ্বরিয়া তার সঙ্গে থাকেন না।

সঙ্গীত কুমার বলেন, আমি চাই আমার মা আমার সঙ্গে থাকুন। ২৭ বছর হয়ে গেল, আমি আমার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন।  তবে ঐশ্বরিয়া রায় যে সঙ্গীত কুমারের মা তার কোনো জোরালো প্রমাণ হাজির করতে পারেননি এই যুবক।

এর আগে তামিল তারকা ধানুশকে নিয়ে এমন এক কাণ্ড হয়েছিল। এক দম্পতি ধানুশকে তাদের সন্তান দাবি করেছিলেন। সেই বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছিল শোবিজপাড়ায়।

মৃত মানুষকে নিয়ে ভিডিও, লজ্জিত ইউটিউব তারকা

যুক্তরাষ্ট্রের ইউটিউব তারকা লোগান পল। জনপ্রিয় হতে মৃত মানুষের ভিডিও তৈরি করেছিলেন তিনি। পরে তার মনে হয়েছে, কাজটা ঠিক হয়নি। প্রকাশ্যেই তাই জানিয়েছেন, নিজের কাণ্ডের জন্য লজ্জিত তিনি। টুইটারে ভিডিও পোস্ট করে ক্ষমা চেয়েছেন এই ইউটিউব তারকা। খবর সিএনএন, বিবিসি।

জাপানে আত্মহত্যা করা এক ব্যক্তির ভিডিও পোস্ট করেছিলেন লোগান পল ও তার বন্ধুরা। মাউন্ট ফুজি এলাকায় অকিগাহারা জঙ্গলে প্রায়ই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে। সেখানেই একটি মৃতদেহ খুঁজে পাওয়ার পর ভিডিওধারণ করেন তারা। অনলাইনে ছাড়ার পর সবাই এর তীব্র সমালোচনা শুরু করেন। এটিকে অসম্মানজনক ও ঘৃণ্য বলেও মন্তব্য করেছেন।

পরে টুইটারে পোস্ট করা ভিডিওতে লোগান বলেন, ‘আমি আমার বিচারবুদ্ধির সঠিক প্রয়োগ করতে পারিনি। ক্ষমা পাওয়ারও যোগ্য আমি নই।’

উল্লেখ্য, লোগান আলেকজান্ডার পল একজন মার্কিন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিনোদনকারী ও অভিনেতা। তিনি প্রথম ইন্টারনেটে তার ভাইন ভিডিও দিয়ে খ্যাতি অর্জন করেন। পল পরে নিজেকে টেলিভিশন ধারাবাহিক এবং সিনেমায় অভিনয়ে যুক্ত করেন। তার টেলিভিশন কাজের মধ্যে ল্য এন্ড অর্ডার, স্পেশাল ভিক্টিম ইউনিট এবং কমেডি ধারাবাহিকের মধ্যে উইয়ার্ড লোনার্স অন্যতম। তার সিনেমার কাজের মধ্যে ডিস্টোপিয়ান কথা সাহিত্যের ইউটিউব রেড সিনেমাদ্য থিনিং এবং প্রাপ্তবয়স্ক কমেডি এয়ারপ্লেন মোড অন্যতম। তার ইউটিউব চ্যানেলগুলোর নাম হল লোগান পল ভ্লগস এবং দ্য অফিসিয়াল লোগান পল।


ইসরায়েলে ১৬ সেনার আত্মহত্যা!

ইসরায়েলে ২০১৬ সালে সেনাবাহিনীর অন্তত ৫৫ সদস্য মারা গেছেন। এদের মধ্যে ১৬ সেনা সদস্য আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার ইসরায়েল সেনাবাহিনীর এক পরিসংখ্যানের উঠে এসেছে এমন তথ্য। খবর আনাদোলু নিউজ এজেন্সি।

ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে চ্যানেল ১২ জানায়, ১২জন গাড়ি দুর্ঘটনায়, ৯জন গুলিতে ও অন্যান্যরা শারীরিক অসুস্থতা ও ফিলিস্তিনি হামলায় নিহত হয়েছেন।

এর আগের বছর ২০১৬ সালে দেশটির ৪১ সেনাসদস্য নিহত হয়। এদের মধ্যে ১৫ সেনাসদস্য আত্মহত্যা করেন। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ২০০০ সালের শুরুর দিকে সেনাবাহিনীর সদস্যদের আত্মহত্যার যে হার ছিল তা বর্তমানে ৫০ শতাংশ কমেছে।

আত্মহত্যার হার কমে এলেও সেনাসদস্যদের প্রাণহানির পরিমাণ আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে। ২০১৬ সালে ৪১ সেনার প্রাণহানি ঘটলেও তা আগের বছরের চেয়ে বেড়েছে ৩০ শতাংশ। ২০১৫ সালে দেশটির অন্তত ৩৬ সেনাসদস্য নিহত হয়।


কী হবে সেই ৫ জানুয়ারিতে?


ঘনিয়ে আসছে সেই ৫ জানুয়ারি। দিনটিকে ঘিরে শুরু হয়েছে জল্পনা কল্পনা। কী হবে সেদিন? নতুন কোনো শঙ্কা নেই তো।

দিনটিকে ঘিরে দেশের বৃহৎ দুই রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আবারো উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।

গেলো ৩ বছরের মতো দিনটিতে এবারো কর্মসূচি ঘোষণা করেছে প্রধান দুই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।

দিবসটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ আখ্যা দিয়ে রাজধানীসহ সারা দেশে কালো পতাকা মিছিল ও সমাবেশ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে সরকারবিরোধী দল বিএনপি।

অন্যদিকে একই দিনকে ‘গণতন্ত্রের বিজয় দিবস’ হিসেবে পালন করবে বলে ঘোষণা করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ।

দুদলের এ বাকবিতণ্ডা সংঘর্ষে রূপ নেয় কিনা, তা নিয়ে সব মহলে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ নির্বাচন বর্ষে এ নিয়ে খুব সতর্ক পদক্ষেপেই এগুচ্ছে।

ফিরে দেখা

২০১৪ সালের এই দিনটিতে অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে বিএনপিসহ বেশ কিছু রাজনৈতিক দল।

নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়ায় বিএনপির অনুসারি ও বামপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো এ নির্বাচন বয়কট করে।

তাদের বাইরে রেখেই একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

এরপর থেকে প্রতি বছরই বিএনপি দিনটিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কারা করছে সমাবেশ?

এবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশের অনুমতি চাইলেও বিএনপিকে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। জানা গেছে, ওই দিন ইউনাইটেড ইসলামিক পার্টি নামক একটি সংগঠনকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তারা সেখানে জঙ্গিবিরোধী ওলামা সমাবেশ করবে।

এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বিএনপি নেতারা। তারা বলছেন, তারা এই দিনকে ঘিরে কোনো সঙ্ঘাতে যেতে না চাইলেও সরকার একটি নাম গোত্রহীন দলকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান বরাদ্দ দিয়ে চরম নোংরামি করেছে।

আওয়ামী লীগ যা বলছে

আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ দলের ধানমন্ডি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’অ্যাখ্যায়িত করে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ ও সারা দেশে কালো পতাকা মিছিলের ডাক দিয়েছেন। সমাবেশের অনুমতি না পাওয়া সত্ত্বেও কর্মসূচি ঘোষণার মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে বিশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টির ছক এঁকেছে। তাই নেতাকর্মীদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ যা করবে

৫ জানুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চার বছর পূর্তি উপলক্ষে সারা দেশে ব্যাপক শোডাউনের প্রস্তুতি নিয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এ জন্য বিকালে জেলা-মহানগর ও উপজেলায় বিজয় মিছিলের আয়োজন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগের উদ্যোগে রাজধানীর গুলশানে ও গুলিস্তানে মিছিল পূর্ব সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।

এখানে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ও জাতীয় নেতারা বক্তব্য রাখবেন। আওয়ামী লীগের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সারা দেশে এ কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন করতে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্দেশ দিয়েছেন।

বিএনপি যা করবে

৫ জানুয়ারি ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ উপলক্ষে সারা দেশে রাজপথে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। ওইদিন দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি।

রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের পাশাপাশি সারা দেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়ে কালো পতাকা মিছিল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তবে সোহরাওয়ার্দীতে সমাবেশের অনুমতি না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

হালদা নদী থেকে মৃত ডলফিন উদ্ধার


হালদা নদীর গড়দুয়ারা এলাকা থেকে বুধবার একটি মৃত ডলফিন উদ্ধার করেছে স্থানীয়রা।

হাটহাজারী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণীবিদ্যা বিভাগকে অবহিত করলে তারা ডলফিনের আকৃতি দেখে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংরক্ষণের স্থান হবে না বলে জানান। এটিকে মাটি চাপা দিয়ে রাখার পরামর্শ প্রদান করেন তারা। মৃত ডলফিনটি প্রায় সাত ফিট লম্বা, ওজন ৪০ থেকে ৫০ কেজি।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগে ডলফিন সংরক্ষণের যে স্থান রয়েছে সেখানে পাঁচ ফিট আকৃতির ডলফিন রাখা যাবে। বড় সাইজের এ আকৃতির ডলফিন সংরক্ষণ করতে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা খরচ হবে। এইদিকে ডলফিনটি হাটহাজারী কলেজে সংরক্ষণ করতে চাইলেও আকৃতি বড় হওয়ায় সেখানেও সংরক্ষণ করা যায়নি।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণী বিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক মঞ্জুরুল কিবরিয়া বলেন, এক হিসাব অনুসারে বাংলাদেশে ১ হাজার ২৫০ টির মত ডলফিন রয়েছে। তারমধ্যে তিনশ’র মত হালদা নদীতে রয়েছে। এ প্রজাতির ডলফিনকে গাঙ্গেয় ডলফিন বলা হয়। এ ডলফিন পরিবেশ নির্দেশক। পরিবেশ উপযোগী হলে এ ডলফিন হালদা নদীতে থাকবে। অন্যথায় পরিবেশ যখন প্রতিকুল হবে ডলফিন এ নদীতে থাকবেনা।

তিনি বলেন, বিশ্বরে উন্নত দেশে এ জাতীয় ডলফিন সংরক্ষণের জন্য সরকারি ভাবে নানা উদ্যেগ গ্রহন করা হয়ে থাকে। গাঙ্গেয় ডলফিন জলজ স্তন্যপায়ি প্রাণী। এ প্রাণী অন্যান্য মাছের মত ডিম ছাড়ে না। এ গুলো বাচ্চা প্রসব করে। বাচ্চা গুলো মার দুধ পান করে বেঁচে থাকে। গত তিনমাস আগে কাগতিয়া এলাকায় ও একটি ডলফিন মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।



এভাবে যদি ডলফিন মারা যায় হালদা নদীতে এক সময় মাছের অভয়ারন্য থাকবে কিনা এতে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

চট্টগ্রামে পৃথক ঘটনায় পরিবহন ব্যবসায়ীসহ তিনজনের মৃত্যু


চট্টগ্রামে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে এক শ্রমিক ও সড়ক দুর্ঘটনায় পথচারীসহ পৃথক ঘটনায় তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। আজ বুধবার ভিন্ন ভিন্ন স্থানে পৃথক সময়ে ওই তিন ব্যক্তির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশ।

এদিকে, বুধবার বেলা ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন রোজ ভ্যালি আবাসিক এলাকায় নির্মাণাধীন ভবনের তৃতীয় তলা থেকে পড়ে এক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। নিহত সাহেব মিয়া (৩২) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার চিত্রা মহরতপুর এলাকার তাইনুছ মাওলার ছেলে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, রোজ ভ্যালি আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কে মো. বাচ্চুর নির্মাণাধীন বাড়িতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন সাহেব মিয়া। সাততলা বাড়ির তৃতীয় তলা থেকে পড়ে আহত হন তিনি। বেলা ২টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে, চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার মাঝিরঘাট এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় পিনন রায় (৩৫) নামে এক পরিবহন ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এলাকায় বাসচাপায় মোতালেব মিয়া (২৭) নামে এক ঠেলাগাড়ি চালকের সহকারীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ও দুপুরে পৃথক এই দুর্ঘটনা ঘটে।

সদরঘাট থানার ওসি মর্জিনা আক্তার বলেন, মাঝিরঘাট এলাকায় একটি ট্রাকটি মোটরসাইকেল আরোহী পরিবহন ব্যবসায়ী পিননকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি ছিটকে পড়ে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চমেক হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ট্রাকটি আটক করা হয়েছে।

এদিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক জহিরুল ইসলাম বলেন, বুধবার সকালে নগরীর বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল সংলগ্ন স্বাধীনতা পার্কের সামনে একটি বাস পেছন থেকে ঠেলাগাড়িকে ধাক্কা দিলে মোতালেব গুরুতর আহত হন। হাসপাতালে আনার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ওই বাস বা চালককে আটক করা যায়নি।

 

আবু রেজা নদভী সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনিত


চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য, ধর্ম মন্ত্রণালয় সম্পর্কীয় সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের গভর্ণর, আল্লামা ফজলুল্লাহ ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ইসলামিক স্কলার প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড এর শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনিত হয়েছেন। 

গত ২৬ ডিসেম্বর ২০১৭ সোস্যাল ইসলামি ব্যাংক লিমিটেড এর ৪০৯তম বোর্ড অব ডাইরেক্টরের সভায় প্রফেসর ড. আবু রেজা নদভী এমপি’কে ২(দুই) বছরের জন্য শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান মনোনিত করা হয়। 

এছাড়া তিনি ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড এর শরীয়াহ বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড এর শরীয়াহ বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রফেসর ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিচালিত শেখ জায়েদ বিন সুলতান আলে নাহিয়ান ট্রাস্টের সদস্য, ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য, ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক রিলিফ অর্গানাইজেশন বাংলাদেশ শাখার নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান, সৌদি আরবের রিয়াদস্থ ইন্টারন্যাশনাল লীগ ফর ইসলামিক লিটারেচার এর সদস্য হিসেবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।



মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল

সরকারের মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণে মঙ্গলবার শপথ নেন তিন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী। এর একদিন পর মন্ত্রিসভায় আবারো রদবদল আনা হয়েছে।  

আজ বুধবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের পর এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, আট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর দফতর পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।

এ কে এম শাহজাহান কামালকে বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী, রাশেদ খান মেননকে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে পানি সম্পদমন্ত্রী, আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে বন ও পরিবেশমন্ত্রী, তারানা হালিমকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শপথ নেন তিন মন্ত্রী ও এক প্রতিমন্ত্রী। বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ মন্ত্রিসভার নতুন চার সদস্যকে শপথবাক্য পাঠ করান। সেসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শপথ নেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, লক্ষ্মীপুরের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সভাপতি মোস্তাফা জব্বার। 
এছাড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন রাজবাড়ীর সংসদ সদস্য কাজী কেরামত আলী।

‘অবৈধ বাংলাদেশী’ অভিবাসীদের কোনো সাংবিধানিক অধিকার থাকবে না

এবার কথিত ‘অবৈধ বাংলাদেশী অভিবাসীদের’ বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করলেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল। তিনি বলেছেন, ‘অবৈধ বাংলাদেশী’ অভিবাসীদের কিছুতেই কোনো সাংবিধানিক অধিকার থাকবে না। তার সরকার এমন কোনো অধিকার দেবে না তাদের। এমন ‘বাংলাদেশীদের’ আসাম থেকে বের করে দেয়ার ক্ষেত্রে তিনি বা তার সাকার মানবিক কারণে কেন্দ্রীয় সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকবে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। এতে বলা হয়, রোববার দিবাগত মধ্যরাতে নাগরিকত্ব বিষয়ক ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন (এনআরসি)-এর প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
আতঙ্ক দেখা দিয়েছে বাংলাভাষী মুসলিমদের মধ্যে। বিভিন্ন রিপোর্টে আভাষ দেয়া হচ্ছে, এ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ৩০ থেকে ৪০ লাখ কথিত ‘বাংলাদেশী অভিবাসী’কে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে। যদি তা-ই ঘটে তাহলে রোহিঙ্গা ইস্যুর পর এটিই হবে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় ধাক্কা। এ নিয়ে কূটনৈতিক মহল, বিশেষজ্ঞদের মধ্যে সতর্কতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এমনই অবস্থায় মঙ্গলবার অবৈধ ‘বাংলাদেশী’ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোরতা উচ্চারণ করেছেন। বলেছেন, যেসব অভিবাসী এনআরসির চূড়ান্ত তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভূক্তি করাতে ব্যর্থ হবেন অর্থাৎ যারা এ তালিকা থেকে বাদ পড়বেন তাদের কোনো রকম সাংবিধানিক অধিকার দেবে না তার সরকার। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, যতক্ষণ পর্যন্ত এমন অবৈধ ‘বাংলাদেশীদের’ বের করে দেয়ার সিদ্ধান্ত না দেয় কেন্দ্রীয় সরকার ততক্ষণ পর্যন্ত মানবিক কারণে এসব মানুষকে ভারতে বসবাস করতে দেয়া হবে। এনআরসির প্রথম খসড়া তালিকা প্রকাশের ৪৮ ঘন্টারও কম সময়ের মধ্যে তিনি এমন বাণী উচ্চারণ করলেন। নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন ৩ কোটি ২৯ লাখ মানুষ। তার মধ্যে প্রথম খসড়ায় যাচাই করে নাম প্রকাশ করা হয়েছে এক কোটি ৯০ লাখের। বাকিদের বিষয়ে বছর শেষ হওয়ার আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে যাবে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জুনে আসামে প্রথম কোনো বিজেপি সরকার প্রধান হিসেবে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন সর্বানন্দ সনোয়াল। এর আগে সেখানে বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপি প্রতিশ্রুতি দেয়, তারা নির্বাচিত হলে আসাম থেকে অবৈধ অভিবাসীদের বের করে দেবে। বিশেষত এর মাধ্যমে সেখানে বাংলাভাষীদের দিকে ইঙ্গিত করা হয়। এর মধ্যে আবার বেশির ভাগই বাংলাভাষী মুসলিম। তাদেরকে বাংলাদেশের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। এ জন্য অবৈধ অভিবাসী সনাক্তকরণে এনআরসি নবায়নের কাজ শুরু করে সরকার। ১৯৫১ সালের পর এবারই প্রথম এই কাজটি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে টাইমস অব ইন্ডিয়াকে টেলিফোনে সাক্ষাতকার দেন সর্বানন্দ সনোয়াল। তিনি বলেন, যাদেরকে ‘বিদেশী’ হিসেবে ঘোষণা করা হবে তাদের কোনো সাংবিধানিক অধিকার থাকবে না। এমন কি কোনো মৌলিক অধিকার ও ভোটাধিকার থাকবে না। তাদের শুধু একটিই অধিকার থাকবে। তা হলো মানবাধিকার। এ বিষয়টিতে নিশ্চয়তা দেয়া হয়েছে জাতিসংঘ থেকে। এ মানবাধিকারের মধ্যে রয়েছে খাদ্য, আশ্রয় ও বস্ত্র পাওয়ার অধিকার। সর্বানন্দ সনোয়াল এনআরসি করার উদ্যোগকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। এর মাধ্যমে ভারতীয় ও বিদেশীদের মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণ করা হবে। তিনি বলেন, এনআরসির প্রথম যে খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে তাতে মোট আবেদনকারীর মধ্যে শতকরা প্রায় ৪০ ভাগের নাম রয়েছে। দ্বিতীয় তালিকাটি শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এই প্রক্রিয়া যখন শেষ হয়ে যাবে এবং তারপর যেসব মানুষের নাম এনআরসিতে থাকবে না, তারা বিচার বিভাগীয় প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে পারেন। তাদের ভারতীয় নাগরিকত্বের দাবি উত্থাপন করতে পারেন সেখানে। এনআরসিতে উল্লেখিত নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য যেসব ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে তা সেখানে উত্থাপন করতে হবে তাদের। সর্বানন্দ সনোয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো প্রত্যাবর্তন বিষয়ক চুক্তি নেই। ফলে অবৈধদের ফেরত পাঠানোর বিষয়টি পরে দেখা হবে। প্রথমত, আমাদের লক্ষ্য হলো বিদেশীদের আলাদা করা। তাদের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে এ বিষয়টি আসবে তারও পরে। তিনি দাবি করেন, এনআরসি করার ফলে আসামের মানুষের জীবনযাত্রা স্থায়ীভাবে পাল্টে যাবে। প্রায় ৪০ বছর ধরে আমাদের জনগণ দ্বিধাদ্বন্দ্ব ও অনিশ্চিত এক অবস্থার মধ্যে বসবাস করছে। এনআরসির ফলে তার অবসান ঘটবে। এটা হবে সবার জন্য একটি উইন-উইন পরিস্থিতি। কেউ কারো নাগরিকত্ব নিয়ে আর প্রশ্ন তুলবে না।

স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া আসামে নাগরিকত্ব নির্ধারণ

আসামে নাগরিকত্ব বিষয়ক ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেনস (এনআরসি)-এ অনেক বাংলাভাষী স্থানীয় মুসলিমের নাম ওঠেনি। এর মধ্যে রয়েছেন অল আসাম মাইনরিটি স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট আজিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক আইনুদ্দিন আহমেদ। বাদ পড়েছেন অনেক মুসলিম। এরই প্রেক্ষিতে ধর্মীয় পরিচয়ের বাইরে গিয়ে নাগরিকত্ব নির্ধারণের দাবি করছেন অনেকে। নাগরিকত্ব নির্ধারণ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে আসামে। বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী, উপজাতি এ নিয়ে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে।
অনলাইন ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও টাইমস অব ইন্ডিয়ায় খবরে এসব কথা বলা হয়েছে। আসামের উত্তরাঞ্চলে বাংলাভাষী মুসলিম বা অভিবাসীর সংখ্যা কম। এজন্য ওই অঞ্চলে নাগরিকত্ব নির্ধারণের তালিকা দ্রুত করা যাচ্ছে। কিন্তু নিম্নাঞ্চল বা দক্ষিণাঞ্চলের দিকে রয়েছেন প্রচুর বাংলাভাষী মুসলিম। তাদেরকে অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দাবি করা হয় স্থানীয়ভাবে। বলা হয়, তারা বাংলাদেশী অভিবাসী। তাদের শনাক্ত করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য শুরু হয়েছে নাগরিকত্বের রেজিস্ট্রার হালনাগাদ কার্যক্রম। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, রোববার রাতে প্রথম খসড়া তালিকাটি প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে ও পরে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে, এ প্রক্রিয়ায় অবৈধ হতে পারেন ৩০ থেকে ৪০ লাখ মুসলিম এবং তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। অজিত রাভা (৪৯) বলেন, বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসী শনাক্ত করতে গিয়ে এনআরসি আধুনিকায়ন করার সময় তা ধর্মের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়। এমনিতেই ভারত ঘোষণা দিয়েছে, তারা হিন্দু অভিবাসীদের বৈধতা দেবে। আসামের রাভা ও অন্যান্য আদি জাতিগোষ্ঠী সম্প্রদায় নিজেদের ভূমিপুত্র হিসেবে পরিচয় দেয়। তারা এ বিষয়ে সচেতন যে, ২০১৬ সালের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী পাস হলে তার আওতায় হিন্দু অভিবাসীরা বৈধতা পাবেন। অজিত রাভা গোয়ালপাড়ার শালপাড়ার একজন ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, এনআরসি নবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানাই আমরা। তবে খুব বেশি মনে হচ্ছে, যারা অভিবাসী তারা ধর্মীয় পরিচয়ে অভিবাসীই থেকে যাবেন। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ বা যেকোনো জাতিসত্তার ক্ষেত্রে একই নীতি গ্রহণ করা উচিত সরকারের। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস লিখেছে, দৃশ্যত ক্ষমতাসীন বিজেপি দ্বিমুখী আচরণ করছে। তারা মুসলিমদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দেখছে। অন্যদিকে হিন্দুদের দেশভাগের সময়ে ধর্মীয় কারণে নির্যাতিত শরণার্থী হিসেবে দেখছে। এনআরসি নিয়ে তাই আসামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। শালপাড়ার স্কুল শিক্ষক চিত্তরঞ্জন রাভা। তিনি মনে করেন আসামের মানুষ একটি সঠিক নাগরিকত্বের তালিকা পাবে। করবি উপজাতির সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী করবি কালচারাল সোসাইটির প্রেসিডেন্ট চন্দ্রসিং ক্রো একটি সঠিক তালিকার বিষয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে নাগরিকত্ব বিষয়ক একটি সরকারি এনআরসি পাবো আমরা। তাতে থাকবে না অভিবাসীদের নাম। এখানে উল্লেখ্য, বাংলাদেশী অভিবাসী হিসেবে যাদের দায়ী করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের প্রধান ক্ষোভ হলো অর্থনৈতিক। এ খাতে তারা ওইসব কথিত অভিবাসীদের কাছে পরাজিত হচ্ছে। এটাই রাভা ও অন্য উপজাতি সম্প্রদায়ের প্রধান সমস্যা। এ ছাড়া আসামে মুসলিম অভিবাসীদের সংখ্যা বৃদ্ধি এসব সম্প্রদায়ের কাছে বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। চন্দ্রসিং ক্রো আরো বলেন, করবি অ্যাংলং এলাকার রংপুর মাটিখোলায় ১৯৬০ এর দশক থেকে বসতি স্থাপন করা শুরু করেছে হিন্দু অভিবাসীরা। তাতে করবিদের জন্য প্রচুর সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের কাছে আমরা শুধু আমাদের জমিই হারাইনি। একই সঙ্গে আমাদের অর্থনৈতিক সুবিধাগুলোও তারা নিয়ে নিচ্ছে। স্থানীয় কবি উজ্জ্ব্বল পাওগাম। তিনি মিশিং উপজাতির সদস্য। একটি সঠিক এনআরসি পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, হ্যাঁ। আমি আস্থাশীল। নাগরিকত্বের দাবি করে করা আবেদনগুলো যাচাই করার ক্ষেত্রে এনআরসির কর্মকর্তাদের কোনো ভুল করা উচিত হবে না। একটি ভুলের জন্য একজন অবৈধ অভিবাসী হয়ে যেতে পারেন বৈধ ভারতীয়। অভিবাসীদের ফিরে যেতেই হবে। কারণ, তারা আমাদের অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির ওপর বড় প্রভাব ফেলছে। বোরো উপজাতির সদস্য প্রমোদ বোরো। তিনি অল বোরো স্টুডেন্টস ইউনিয়নের প্রেসিডেন্টও। তিনি বলেন, এনআরসি নিয়ে বোরোরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে। যেহেতু সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের নজরদারির অধীনে এনআরসি নবায়ন করা হচ্ছে তাই এ নিয়ে আমাদের কোনো সন্দেহ নেই। তারপরও আমাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করে। কারণ, রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক পর্যায়ে কি হচ্ছে সে বিষয়ে আমাদের কোনো ধারণা নেই। অন্যদিকে ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক না কেন, অভিবাসীদের দেশ থেকে বের করে দেয়া হোক- এমনটা চাইছে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (এএএসইউ)। এ সংগঠনের উপদেষ্টা সমুজ্জ্বল ভট্টাচার্য বলেন, আসাম চুক্তি বলে যে, যারা ১৯৭১ সালের ২৪শে মার্চের আগে আসামে এসেছিলেন তারা ধর্মীয় পরিচয় যা-ই হোক তারা আসামে থাকতে পারবে। কিন্তু এই তারিখের পরে যারাই আসামে এসেছেন তাদেরকে দেশে ফেরত পাঠাতে হবে। সরকারকে এ বিষয়টি জানাতে হবে এবং দ্রুততার সঙ্গে তা করতে হবে। ১৯৮৫ সালে সম্পাদিত আসাম অ্যাকর্ডের অধীনে এনআরসি নবায়ন করা হচ্ছে। ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী সরকারের সময়ে এতে স্বাক্ষর করেছে অল আসাম স্টুডেন্টস ইউনিয়ন। তার পর থেকেই এনআরসি নবায়ন নিয়ে সোচ্চার সমুজ্বল ভট্টাচার্য। টাইমস অব ইন্ডিয়া লিখেছে, রোববার রাতে ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেনস (এনআরসি) সংক্রান্ত প্রথম যে খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা যায়, বরাক ভ্যালি, লোয়ার ও রাজ্যের মধ্যাঞ্চলের তুলনায় আসামের উত্তরাঞ্চলে দ্রুতগতিতে নাগরিকত্ব শনাক্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। জোহর জেলায় মোট ৯ লাখ ৭০ হাজার আবেদনকারীর মধ্যে শতকরা ৮৭ ভাগের নামই রয়েছে প্রথম তালিকায়। দিব্রুগড় জেলায় আবেদন করা ১৩ লাখের মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগের নাম রয়েছে তালিকায়।

জেরুজালেম এক ঐতিহ্যবাহী শহর by মো. সাফাক হোসেন

মানবসভ্যতার বহু ঐতিহাসিক শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত এবং গুরুত্বপূর্ণ শহরের নাম জেরুজালেম। নানা ঐতিহাসিক ঘটনাবলী সহ মুসলমান, খ্রিস্টান এবং ইহুদি ধর্মের নানা অলৌকিক ঘটনা ও ধর্মীয় স্থাপনা এই একটি শহরের কেন্দ্রেই রয়েছে। জেরুজালেম হচ্ছে একটি শহর যেখানে এই তিনটি ধর্মের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ স্থান।
বিগত প্রায় ছয় হাজার বছর থেকে বর্তমান সময়কাল পর্যন্ত এই অঞ্চলটিকে ঘিরে নানা ধরনের উত্তেজনা, সংঘর্ষ এবং বহু রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সূচনারও অবসান ঘটেছে। তাছাড়াও ধর্মযুদ্ধ বহুবার সংঘটিত হয়েছে যা ইতিহাসের পাতায় পাতায় বর্ণিত রয়েছে।
জেরুজালেম ইহুদিদের জন্য সর্বপবিত্র স্থান করেন হজরত দাউদ (আ.) বা কিং ডেভিড। এই স্থানেই যিশু খ্রিষ্টের ৩৫০০ বছর পূর্বে জয় করে ১২টি গোত্রকে একত্রিত করে এই নগরী স্থাপন করেছিলেন।
তিনি মুসলমানদেরও একজন নবী এবং যে কিতাব তার ওপর নাজিল হয়েছিল সেটিকে অনুসরণ করেই ইহুদি ধর্মের প্রচলন শুরু হয়। তার পুত্র সোলায়মান (আ.)-এর সময়কার কিছু অলৌকিক ঘটনাবলীতে বর্ণিত যে, তিনি সর্বপ্রথম ইহুদিদের জন্য একটি উপাসনালয় স্থাপন করেন যার বর্তমান নাম টেম্পল অব সোলেমান। সেটিকে ঘিরে দেয়াল নির্মিত হয়েছিল এবং এ দেয়াল ধ্বংস হওয়ার পরও কিছু অংশ এখনো দৃশ্যমান এবং বর্তমানে ইহুদিদের জন্য একটি মহা পবিত্র স্থান যেখানে প্রার্থনা করে থাকে।
দ্বিতীয়ত এই অঞ্চল খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ধর্মানুসারে যিশুকে এখানেই ক্রুসিফাইড করে হত্যা করা হয়েছিল। আনুমানিক জেরুজালেমের ওই স্থানেই গির্জা তৈরি করা হয়েছিল যা খ্রিষ্টান ধর্মানুসারীদের জন্য মহাপবিত্র স্থান। সর্বশেষ, মুসলমানদের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হওয়ার বেশকিছু কারণ রয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রথমদিকে নামাজের পবিত্র দিক হিসেবে মসজিদুল আকসা নির্ধারিত হয়েছিল যা পরবর্তীতে শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজ গমনের পর নামাজ আদায়ের পূর্ণাঙ্গ নিয়ম ব্যবস্থা এবং নামাজকে উপহার হিসেবে মুসলমানদের জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছ থেকে নিয়ে এসেছিলেন। তিনি যেই স্থান থেকে মিরাজে গমনে করেছিলেন সেটি ছিল মসজিদুল আল-আকসা যা এই জেরুজালেমেই নির্মিত এবং যে পাথর ছিল নবীজীর সফর সঙ্গী; সেই পবিত্র পাথর সংরক্ষিত রয়েছে জেরুজালেমের সোনালী গম্বুজের নিচে যা এখন ডোম অব রকস্‌ নামে পরিচিত। এসব ঘটনাবলীর কারণে শহরটি তিনটি বৃহৎ ধর্মের অনুসারীদের জন্য মহাপবিত্র স্থান।
ইতিহাস মোতাবেক শহরটি প্রথম স্থাপনা করেন দাউদ (আ.) বা কিং ডেভিড। পরবর্তী সময় থেকে শুরু হয় সংঘাত, দখল এবং রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বিশেষ করে খ্রিষ্টধর্ম বিস্তৃত হওয়ার পরবর্তী বেশকিছু বছর পর থেকে। ৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ব্যাবিলনীয়দের হাতে ধ্বংস হয় নগরী এবং ইহুদিদের বিতাড়িত করা হয়। প্রায় পঞ্চাশ বছর পর পারস্য (বর্তমান ইরান) সম্রাট সাইরাস জেরুজালেম দখল করেন এবং ইহুদিদের পুনর্নিবাস করেন। পুনরায় ধ্বংসপ্রাপ্ত টেম্পল অব সোলেমান সহ বিভিন্ন স্থাপনার মেরামত করা হয়। তাছাড়াও পরবর্তীতে এই অঞ্চল বিভিন্ন সাম্রাজ্য, গোষ্ঠীর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। সকল ঘটনাকে একত্রিত করলে দাঁড়ায় এই শহর দুইবার ধ্বংস হয়, ৫২ বার আক্রমণ করা হয় এবং ৪৪ বার বিভিন্ন গোষ্ঠী ও সাম্রাজ্য দ্বারা দখল করা হয়। যার মধ্যে সর্ব উল্লেখযোগ্য ও ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ও বিখ্যাত হওয়ার কারণে লিপিবদ্ধ রয়েছে এমন শক্তি যারা এ শহর নিয়ন্ত্রণ করেছে তাদের মধ্যে রয়েছে রোমান, পারস্য রাজ্য, আরব, ফ্যাটিমিডস, সেলজুক তুর্ক, ক্রুসেডারস, মিশরের মামলুকস এবং পরবর্তীতে শক্তিশালী মুসলিম সাম্রাজ্য আইয়ুবীদ ও অটোম্যান সাম্রাজ্য এবং সর্বশেষ, ইসরাইল স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি।
মুসলমান শাসনামলের মধ্যে সর্ব উল্লেখযোগ্য রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয়েছিল ক্রুসেডার বনাম তৎকালীন দামাসকাসের রাজা সালাহউদ্দীন আইয়ুবীর সঙ্গে। তিনি জেরুজালেম জয়ের পর সকল ধর্মাবলম্বীদের বসবাসের অনুমতি দিয়েছিলেন কিন্তু পরবর্তীতে এই সাম্রাজ্যের দুর্বল প্রশাসনিক অবস্থার প্রেক্ষাপটে ১১৮৭ সালে জেরুজালেম হাতছাড়া হতে শুরু করে। ১২২৯ থেকে ১২৪৪ পর্যন্ত পুনরায় খ্রিষ্টানদের দখলে চলে যায়। তারপর আবার শুরু হয় সংঘাত, বিদ্রোহ সহ নানা অস্থিরতা।
১৫১৭ সালের কথা। তৎকালীন সময়ের সর্ব আলোচিত এবং শক্তিশালী অটোম্যান সাম্রাজ্য গোটা আরব অঞ্চল, ইউরোপের প্রায় অর্ধেক এবং অন্যান্য অঞ্চল তাদের সাম্রাজ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। সম্পূর্ণ প্যালেস্টাইন সহ জেরুজালেমও ছিল অটোম্যান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত। ১৯১৭ সালে অটোম্যান সাম্রাজ্যের পতনের মুহূর্ত পর্যন্ত। তৎকালীন সময়ের অটোম্যান ১০ম সুলতান সুলেমানের শাসনকাল থেকেই জেরুজালেমে সকল ধর্মের ও গোষ্ঠীর সহাবস্থানের পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। ইতিহাসের তথ্য মোতাবেক মধ্যযুগীয় সময় অটোম্যান রাজত্ব সময়কালই ছিল সর্বোত্তম সময় জেরুজালেমবাসীদের জন্য। সুলতান সুলেমানের সময়েই ধর্মীয় অঞ্চলগুলোর সুরক্ষার জন্য যে দেয়াল নির্মিত হয়েছিল তা এখনো দৃশ্যমান।
১৯১৭ সালের পর জেরুজালেম বৃটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির অধীনস্থ হওয়ার পর থেকে পুনরায় জেরুজালেম ঘিরে সংঘাত ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয় যা আজও থামেনি। রক্তাক্ত হতে থাকে জেরুজালেমের মাটি। সংঘাত চরমে উঠে ১৯৪০ সালে। বেলফোর ঘোষণার পর। ওই ঘোষণায় ইহুদিদের জন্য বৃটিশ দখলকৃত প্যালেস্টাইনে একটি স্বতন্ত্র রাষ্ট্রের ঘোষণা দেয়া হয়েছিল। এতে প্যালেস্টাইনে বসবাসরত গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। ১৯৪৮ সালে জেরুজালেমকে একবার ইসরাইলি রাষ্ট্রের রাজধানী করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ডেভিড বেন গোরিথন। যদিও জাতিসংঘের এক ঘোষণার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, প্যালেস্টাইনে দুটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ফিলিস্তিনিদের জন্য প্যালেস্টাইন এবং ইহুদিদের জন্য আলাদাভাবে ইসরাইল রাষ্ট্র এবং জেরুজালেম আন্তর্জাতিক অঞ্চল হিসেবে স্থাপিত হবে। যাই হোক জেরুজালেমকে ঘিরে আজ পর্যন্ত যত রক্তপাতের ইতিহাসের ঘটনা ঘটেছে দুনিয়ার আর কোথাও এমন নজির নেই। যেহেতু তিনটি ধর্মের ধর্মাবলম্বীদের জন্যই জেরুজালেম একটি গুরুত্বপূর্ণ নগরী এবং সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু তাই। এই নগরীকে বিশেষ আলাদা আলাদা অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া। যাতে সকলের যাতায়াত এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই অঞ্চল সকলের জন্য উন্মুক্ত হওয়া উচিত। যদিও কিছু কিছু দেশের মধ্যে বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিশ্বের বড় বড় প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক শান্তির কথা বিবেচনা করেন তাহলে তা বাস্তবায়নে সম্ভব। কিছু দিন পূর্বে জেরুজালেমকে ইসরাইলের পূর্ণাঙ্গ রাজধানী হিসেবে ডনাল্ড ট্রাম্পের একক ঘোষণার পর নতুনভাবে সমগ্র বিশ্বে অস্থিরতার সৃষ্টি হয়েছে।
হাজার বছরের এই পুরাতন শহরের সংঘাতময় পরিস্থিতির সহজে সমাধান হবে বলে সন্দেহ রয়েছে। বর্তমানের সৃষ্ট এই উত্তেজনা রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে শহরের ঐতিহ্য পরিপূর্ণভাবে ধ্বংস হতে পারে। বিলুপ্ত হতে পারে হাজার হাজার বছরের মানব সভ্যতার নিদর্শন।
লেখক: একজন তরুণ ব্যবসায়ী এবং ভ্রমণকারী

ভয়াবহ মানসিক সংকটে রোহিঙ্গা শিশুরা by হান্নাহ বীচ

জহুরা বেগম দ্রুত দৌড়াচ্ছিল। ধানক্ষেতের ভেতর দিয়ে দৌড়াচ্ছিল। দৌড়াচ্ছিল কর্দমাক্ত খালের ভেতর দিয়ে। কিন্তু কিভাবে তার মতো ১২ বছর বয়সী একটি বালিকা দৌড়ে বুলেট থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারে?
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধরা যখন গত আগস্টের শেষদিকে রোহিঙ্গাদের মুসলিম গ্রামগুলোতে নৃশংসতা চালায়, তাদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়, এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে, তখন মা-বাবা, চার ভাইবোনকে সঙ্গে নিয়ে জহুরুর ১৪ সদস্যের পরিবার দৌড়াচ্ছিল। তারা যথেষ্ট দৌড়েছিল। কিন্তু প্রত্যক্ষদর্শী ও মানবাধিকার গ্রুপগুলো মংডুতে গণহত্যার বিষয়ে তদন্ত করে বলেছে, তাদের সবাইকে হত্যা করা হয়েছে।
জহুরু যখন খালের ভেতর দিয়ে দৌড়ে পালাচ্ছিল তখন তাকেও গুলি করা হয়েছিল। তার গা ঘেঁষে চলে গেছে বুলেট। এভাবেই জহুরা ও তার ছোট ভাই খায়রুল আমিন নিরাপদে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পৌঁছাতে পেরেছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য এসব রোহিঙ্গার আদি আবাস। সেখানে বর্তমানে যে পরিমাণ রোহিঙ্গা অবস্থান করছেন তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি রোহিঙ্গা এখন অবস্থান করছেন বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরে। সেখান থেকে জহুরা বলেছে, দৌড়ানোর পথে আমার ভয় ছিল সেনাবাহিনী আমাকে ধরে ফেলবে। আমি ঘুম ভেঙে আতঙ্কে জেগে উঠি। মা-বাবার কথা চিন্তা করি। তারপর আমাকে অনেকটা সময় জেগে থাকতে হয়। রাখাইনে সহিংসতা সৃষ্টির পর থেকে কমপক্ষে ৬ লাখ ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নিয়েছেন বাংলাদেশে। আন্তর্জাতিক সহায়তা বিষয়ক সংগঠন সেভ দ্য চিলড্রেনের মতে, এর মধ্যে প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজারই হলো স্বল্প বয়সী শিশু-কিশোর। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে শতকরা কমপক্ষে ৩০ ভাগেরই বয়স হলো ৫ বছরের নিচে। বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরের সর্বত্রই শিশু-কিশোর। তারা সহায়তা পাওয়ার জন্য লড়াই করছে। সুয়েজ লাইনে ছোটাছুটি করছে। জগভর্তি পানি নিয়ে শরীরে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। অথবা তাদের মাথার ওপর আঁটি বাঁধা জ্বালানি কাঠ। দান করা কাপড় পরে আছে তাদের কেউ কেউ। তাদের এই পোশাক অদ্ভুত। পরনে আছে জ্যাকেট। আরো রয়েছে বাস্কেটবল খেলার শর্টস। অনেকের পরনে কিছুই নেই। ধুলোবালিতে একাকার তারা।
রোহিঙ্গাদের আশ্রয় শিবিরগুলোতে অন্য কিছু শোনা যাক বা না যাক, শিশুদের কাশির তীব্র শব্দ পাওয়া যাবে। এসব বাচ্চা শরণার্থীর অবস্থা খুবই শোচনীয়। সেভ দ্য চিলড্রেনের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা লালু রোট্রাপ হোলডট বলেছেন, এখানে আমরা দেখতে পাচ্ছি শিশুদের মধ্যে ভয়াবহ মানসিক স্বাস্থ্য সংকট বিস্তার লাভ করছে। তাদের মনে রয়েছে বিশাল ক্ষত। তারা চোখ বন্ধ করলেই দেখতে পায় নৃশংস হত্যাকাণ্ড। দেখতে পায় কিছু না নিয়ে একেবারে খালিহাতে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। লালু রোট্রাপ হোলডট বলেন, এদের মাঝে আপনি পাবেন ক্ষুধার্ত শিশু। পুষ্টিহীন। এটা একটি পুরো সম্প্রদায়ের জন্য চরম বিপর্যয়কর।
(নিউ ইয়র্ক টাইমস নিউজ সার্ভিসে প্রকাশিত লেখার অনুবাদ)

বাংলাদেশে কেমন আছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা by পিয়াস সরকার

নাইজেরিয়া থেকে বাংলাদেশে পড়তে এসেছেন ফয়সাল। তিনি ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী। আশা ইউনিভার্সিটিতে  পড়ছেন জিম্বাবুয়ের শিক্ষার্থী ওডোও রাক্সিক। শিকদার মেডিকেল কলেজে লেখাপড়া করছেন নেপালি শিক্ষার্থী অন্তিনিম প্রাচি। শুধু ফয়সাল, রাক্সিক কিংবা প্রাচি নন। প্রতিবছর এমন বহু শিক্ষার্থী তাদের লেখাপড়ার জন্য বেছে নিচ্ছেন বাংলাদেশকে।
কিন্তু এ দেশে তারা কেমন আছেন? কেমন কাটছে তাদের দিনকাল? বিদেশি এসব শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে পাওয়া গেছে সুখ-কষ্টের নানা স্মৃতি। তবে সবার কথায় প্রধান সমস্যা হিসেবে ফুটে উঠেছে আবাসন। বাংলাদেশে পড়তে আসার স্বপ্ন প্রথমেই ধাক্কা খায় বাসস্থান সমস্যার কাছে। সোমালিয়া, ভারত, মালদ্বীপ, ভুটান, তুরস্ক, পাকিস্তান, ইরান, কেনিয়া, জিম্বাবুয়ে, নেপাল ও নাইজেরিয়ার ২,২৮২ জন শিক্ষার্থী এ মুহূর্তে দেশের সরকারি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা করছেন। এর মধ্যে ১৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন ৩৫৫ জন বিদেশি শিক্ষার্থী। পাশাপাশি ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৪টিতে পড়ছেন ১,৯২৭ জন শিক্ষার্থী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্র মতে, ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে ৯৮৩ জন বিদেশি শিক্ষার্থী। এর আগে ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে এর সংখ্যা ছিল ৮৫০ জন। এসব শিক্ষার্থীকে আবাসন সমস্যার পাশাপাশি ভাষাগত সমস্যাও পড়তে হচ্ছে। এছাড়া খাদ্য এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কেউ কেউ ইভটিজিংকেও মোকাবিলা করার কথা জানিয়েছেন।
ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল বলেন, আমাদের বাসা ভাড়া নিতে ভীষণ বেগ পেতে হয়। যদিও পাই, ভাড়া রাখা হয় অনেক বেশি। আবার দিতে হচ্ছে তিন থেকে চার মাসের অগ্রিম ভাড়া। যেখানে সাধারণ ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে রাখা হয় মাত্র এক মাসের অগ্রিম ভাড়া। ফয়সাল বলেন, এক্ষেত্রেও দেয়া হচ্ছে নানা শর্ত। কাজের বুয়ার সমস্যা তো আছেই। ফলে রান্না থেকে শুরু করে সব নিজেকেই করতে হয়।
আশা ইউনিভার্সিটির জিম্বাবুয়ের ছাত্রী ওডোও রাক্সিক বলেন, আমরা ২৫ জন শ্যামলীর একটি বাড়িতে ৪টি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতাম। একটিতে মেয়েরা আর তিনটিতে ছেলেরা। সবাই ছিলাম বিভিন্ন দেশের নাগরিক। আমাদের পাশের ছেলেদের ফ্ল্যাটে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হয় তিন শিক্ষার্থী। পুলিশ আসার কারণে সেই রাতেই বাড়ি ছাড়ার নোটিশ দেন বাড়িওয়ালা। ছেলেদের সময় দেন মাত্র তিনদিন আর আমাদের নির্দেশ দেন চলতি মাস পর্যন্ত। ভয়াবহ দিন পার করেছি আমরা। ছেলেরা তিন দিনের মধ্যে বাড়ির ব্যবস্থা করতে না পারায় মেয়েদের ফ্ল্যাটে মালামাল রেখে বাড়ি ছেড়ে দেন। কেউ হোটেলে কেউবা বন্ধুর মেসে থেকে বাড়ি খোঁজা শুরু করেন। অনেক কষ্টে বাড়ি খুঁজে পাই। যারা পড়তে আসি তাদের মাঝে গুটিকয়েক শিক্ষার্থী অন্যায়ের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। অথচ ফল ভোগ করতে সবাইকে।
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সোমালিয়ান শিক্ষার্থী ওমর বলেন, আমরা সাধারণত প্যাকেটজাত পণ্য কিনি। কারণ এতে মূল্য লেখা থাকে। এসব সুপার শপই আমাদের ভরসা। সময় স্বল্পতা বা কোনো কারণে যদি খোলা বাজার থেকে এসব কিনতে হয় তখন আমরা ধরে নিই বেশি মূল্যে কিনলাম। ওমর বলেন, ইংরেজি না বোঝার কারণে ক্রেতার সঙ্গে কথা বলার ঝামেলা তো আছেই।
এদিকে উবার, পাঠাও ইত্যাদি সার্ভিস আসায় অনেক খুশি শিকদার মেডিকেল কলেজের নেপালি শিক্ষার্থী অন্তিনিম প্রাচি। তিনি বলেন, আগে কোথাও যাবার প্রয়োজন হলে ভরসা ছিল সিএনজি বা রিকশা। চালকদের গন্তব্য বোঝানো যেমন কঠিন তেমন ইচ্ছামতো ভাড়াও নেয়া হতো বেশি। আবার অনেক চালক ভাষা না বোঝায় আমাদের নিতে চান না।
অন্যদিকে ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির সোমালিয়ান শিক্ষার্থী বাশির বলেন, আমরা সাধারণত গণপরিবহনে উঠি না। কারণ সাধারণ যাত্রীরা আমাদের ভিন্ন দৃষ্টিতে দেখে, যা অস্বস্তিতে ফেলে দেয়।
শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ বলেছেন, পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় দীর্ঘ জটিলতায় পড়েন তারা। বাড়তি টাকাও গুনতে হয় অনেককে।
সোমালিয়ান ছাত্রী আরশিদা ইমরা সোয়াদ বলেন, আমরা সবাই ইংরেজিতে খুব একটা পারদর্শী না। বাংলাদেশিদের সঙ্গে কথা বলতে হয় ইংরেজিতে। যার ফলে প্রয়োজন ছাড়া কথা হয় কম। তবে তারা খুবই বন্ধুত্ব-প্রবণ ও কোনো প্রয়োজনে সাহায্য করতে পিছপা হন না। আবার অনেক শিক্ষার্থী আমাদের সঙ্গেও কথা বলেন না ইংরেজিতে দুর্বলতার কারণে।
রংপুর প্রাইম মেডিকেল কলেজের শ্রীলঙ্কান শিক্ষার্থী দিমুথ দানুশেকা বলেন, আমি এখানে একমাত্র লঙ্কান শিক্ষার্থী। আমাকে সব সময় ইংরেজিতে কথা বলতে হয়, যা খুব কষ্টকর। নিজের ভাষায় কথা বলার যে তৃপ্তি তা থেকে বঞ্চিত হই সব সময়।
ঈদের ছুটিতে প্রায় ফাঁকা হয়ে যায় রাজধানী ঢাকা। আবার সেমিস্টার ব্রেক, পূজার ছুটি, বৌদ্ধ পুর্ণিমা, বড়দিন পরিবার ছাড়া পালন করতে হয় তাদের। আনোয়ার খান মেডিকেল কলেজের ইরানি ছাত্র হোসেন আল মহিন বলেন, মূলত বিমান ভাড়ার কারণে ঈদের ছুটিতে দেশে যাওয়া হয় না। খুব কষ্ট হয়, হোস্টেলের প্রায় সবাই চলে যায় বাড়িতে। আমরা কয়েকজন মাত্র থাকি ঢাকায়। পরিবার ছাড়া ঈদ করতে খুবই অসহায় লাগে নিজেকে। অন্যদিকে বন্ধুত্বের নমুনা তৈরি করেছেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ বিভাগের শিক্ষার্থী কাব্য। তিনি তার ক্লাসের একমাত্র বিদেশি। তারপরও ব্যাপক জনপ্রিয়। সবার সঙ্গে বান্দরবান ভ্রমণেও গিয়েছিলেন। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলাদেশি এক সহপাঠীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছেন নাইজেরিয়ান এক যুবক। এ প্রেমিক জুটি জানান, আমাদের ভবিষ্যৎ কি তা জানি না। তবে সারা জীবন থাকতে চাই একসঙ্গে। নেপালি শিক্ষার্থী নলিনি বলেন, বাংলাদেশ আমার অনেক সুখস্মৃতির সঙ্গী।

মধ্যরাতে রাস্তায় এভ্রিল


আলোচিত জান্নাতুল নাঈম এভ্রিলকে এবার পাওয়া গেলো অন্যরূপে। এই সুন্দরী লেডি বাইকার শীতার্ত অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। রাতভর শীতার্ত মানুষের মাঝে বিলিয়েছেন গরম কাপড়।

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে আলোচনায় আসেন এভ্রিল। এর আগে লেডি বাইকার হিসেবে তার পরিচিতি ছিল। এবার শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সবাইকে আহ্বান জানান এভ্রিল।

এই মডেল-বাইকার বলেন, যারা বাইক চালান তারা রাস্তার পাশের মানুষগুলো অনেকে বেশি দেখেন। গাড়িতে বসে হয়তো সেগুলো তেমন দেখা যায় না। আর বাইক চালাতে গেলে বুঝতে পারি শীতের কষ্ট। তাই শীতার্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।

এভ্রিল জানান, গত ০২ ডিসেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে শুরু করে কমলাপুর পর্যন্ত শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছি। এরপর সারাদেশে পুরো শীতজুড়ে এই কাজটি করবো। একইসঙ্গে সবাইকে অনুরোধ করবো নিজের এলাকার মানুষটির পাশে দাঁড়ান।

আলোচিত এই মডেল বলেন, বছরের শুরুটা হোক ছোট ছোট ভালো কাজ দিয়ে। হয়তো, অনেকেই ভাবতে পারেন, এসব লোক দেখানো। ভাবুন না। আপনার একটুখানি লোক দেখানো কাজই যদি কারো উপকার হয়, কারো মুখে যদি এক চিলতে হাসি ফুটে। প্লিজ, করুন না এমন লোক দেখানো কাজ হাজারবার।


এই উদ্যোগে তার পাশে রয়েছে ইয়ামাহা মটরস বাংলাদেশ, এসিআই মটরস লিমিটেড, কেবি রাইডারস ও বাইক বিডি নামের তিনটি সংগঠন। এভ্রিল জানান, মূলত মানবিক তাড়না থেকেই এই উদ্যোগটি নেয়া হয়েছে।


ফিলিস্তিনে সাহায্য বন্ধের হুমকি ট্রাম্পের



শান্তিচুক্তির আলোচনায় ‘অনিচ্ছুক’ ফিলিস্তিনিদের সাহায্য বন্ধের হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সাহায্যের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের ‘কৃতজ্ঞতা কিংবা সম্মান পাচ্ছে না’।খবর বিবিসির।

জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় সবচেয়ে বিভাজিত ইস্যু ‘সরিয়ে রেখেই’ নতুন শান্তি আলোচনা শুরু করা সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

দশককালের মার্কিন নীতি পাল্টে ডিসেম্বরে এক বিতর্কিত ঘোষণায় জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন ট্রাম্প; তেল আবিব থেকে দূতাবাস জেরুজালেমে সরিয়ে নেওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।

এ ঘোষণার পরপরই অঞ্চলজুড়ে নতুন করে সহিংসতা শুরু হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের এ অবস্থানে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় ফিলিস্তিন। শান্তি প্রক্রিয়ায় মার্কিনিদের আর ‘নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারী’ হিসেবে বিবেচনা করা হবে না বলেও জানায় তারা।

নির্বাচনী প্রচারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে জাতিসংঘেও যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ‘একঘরে’ করে ফেলেন ট্রাম্প। নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্র বাদে সবাই ট্রাম্পের নতুন স্বীকৃতির বিরোধিতা করে।

সাহায্য বন্ধের হুমকির মধ্যেই সাধারণ পরিষদে মধ্যপ্রাচ্য এবং ইউরোপের ঘনিষ্ঠ মিত্রসহ ১২৮টি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানের বিপক্ষে ভোট দেয়। এরপরই জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থায় মার্কিন সাহায্য কমানোর ঘোষণা আসে।

নতুন বছরের শুরুতে পাকিস্তানে সাহায্য বন্ধের ঘোষণা দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প; কোটি কোটি ডলার সাহায্যের বিনিময়ে দেশটির কাছ থেকে ‘মিথ্যা ও প্রতারণা’ ছাড়া আর কিছুই মেলেনি বলে মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ওই টুইটের ধারাবাহিকতায় ফিলিস্তিনকেও সাহায্য বন্ধের হুমকি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কেবল পাকিস্তানই নয়, যাদেরকে কোনো কারণ ছাড়াই কোটি কোটি ডলার দিয়েছি আমরা। উদাহরণ হিসেবে বলতে পারি, ফিলিস্তিনিদের আমরা প্রতিবছর কয়েকশ কোটি ডলার দিয়েও কোনো কৃতজ্ঞতা বা সম্মান পাচ্ছি না। তারা ইসরায়েলের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা শান্তি আলোচনায়ও আগ্রহ দেখাচ্ছে না।’

উখিয়া ক্যাম্পে নিবন্ধিত ৯ লাখ রোহিঙ্গা

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ৯ লাখ ৩৫ হাজার ৭৫৮ জন নিবন্ধিত হয়েছে। ক্যাম্পের বাইরে আশেপাশে ও আশেপাশে যে সব রোহিঙ্গা রয়েছে তাদেরকেও নিবন্ধনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।

গত মঙ্গলবার পর্যন্ত উক্ত পরিমাণ রোহিঙ্গা নিবন্ধিত হয়েছেন বলে পাসপোর্ট অ্যান্ড ইমিগ্রেশন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবু নোমান মোহাম্মদ জাকের হোসেন জানিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, নিবন্ধনের কার্ড নিয়ে তারা নিয়মিত ত্রাণসামগ্রী উত্তোলন করছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে উখিয়া-টেকনাফের ১২ অস্থায়ী ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা এখন স্বাচ্ছন্দ্যে জীবনযাপন করছে।

তবে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন এলাকায় যেসব রোহিঙ্গা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে অবস্থান করছে তারা স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার নানা কৌশল অবলম্বন করছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এসব মানুষকে ক্যাম্পে ফিরিয়ে নিয়ে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন করা না হলে পরে তাদের প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

রাখাইনে পুলিশ পোস্ট ও সেনা ক্যাম্পে রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের হামলার পর থেকে মিয়ানমারে সেনা অভিযানের মুখে লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়।

গরুর মাংস আমদানির প্রস্তাব নাকচ

ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানির জন্য বাংলাদেশের কিছু ব্যবসায়ীর এক প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। খবর বিবিসি।

মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকসুদুল হাসান খান বলেছেন, এই আমদানির কোনো প্রয়োজন নেই এবং এতে দেশের পশু খামারিরা সঙ্কটে পড়বেন।

তিনি জানান, তারা তাদের আপত্তির কথা লিখিতভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে জানিয়ে দিয়েছেন।

এর আগে বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সমিতি এফবিসিসিআইয়ের সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বলেন, বাজারে গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের আমিষের চাহিদা মেটাতে ভারত থেকে গরুর মাংস আমদানি একটি বাস্তবসম্মত সমাধান হতে পারে। এ ব্যাপারে সরকারও যথেষ্ট উৎসাহী। কিন্তু তার এই বক্তব্যের কয়েকঘণ্টা পর প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে যে তারা এ ধরনের মাংস আমদানির বিপক্ষে।

মাকসুদুল হাসান খান বলেন, গত দু-তিন বছরে বাংলাদেশ মাংস উৎপাদনে অসামান্য উন্নতি করেছে। বর্তমানে বছরে বাংলাদেশের মাংসের চাহিদা ৭০ লাখ টন যার পুরোটাই এখন দেশে উৎপাদিত হচ্ছে। ফলে মাংস আমদানি করলে এই খাত সঙ্কটে পড়বে। আমদানির বদলে তারা এখন বরং মাংস রপ্তানির সুযোগ খুঁজছেন। মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে এখনো আমাদের কিছু সমস্যা রয়েছে, সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে।

পেরুতে বাস খাদে পড়ে নিহত ৪৬

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে মঙ্গলবার এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একটি যাত্রীবাহী বাস খাড়া পাহাড়ি সড়ক থেকে ১০০ ফুট নিচের পাথুরে সৈকতে পড়ে গেলে এ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।

দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির সত্যতা নিশ্চিত করেছে পেরুর পুলিশ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

৫৭ জন আরোহী নিয়ে রাজধানী লিমার উত্তরে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি সড়ক পার হওয়ার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রশান্ত মহাসাগরীয় সংকীর্ণ ওই সড়কটিকে পেরুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সড়ক বলে মনে করা হয়। স্থানীয়ভাবে সড়কটি ‘কুরভা দেল দিয়াবলো’ নামে পরিচিত। এই নামের বাংলা অর্থ দাঁড়ায় শয়তানের মোড়।

দুর্ঘটনার পর পাথুরে সৈকতে নিহতদের মরদেহ ছড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।

এক বিবৃতিতে এ প্রাণহানির ঘটনায় সমবেদনা জানিয়েছেন পেরুর প্রেসিডেন্ট পেদ্রো পাবলো।

চট্টগ্রামে বাসের ধাক্কায় ঠেলাগাড়ি চালক নিহত

চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এলাকায় বাসের ধাক্কায় মোতালেব (২৭) নামে এক ঠেলাগাড়ি চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।

নিহত মোতালেব ভোলা জেলার লালমোহন শরতোতা এলাকার বাসিন্দা তাজুল ইসলামের সন্তান। আহত সহকারী রমজান আলী(৫০) মানিকগঞ্জ জেলার দৌলতপুর এলাকার বাসিন্দা হোসেন মোল্লার ছেলে।

চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক শীলাব্রত দাস জানান, নগরীতে ১০ নম্বর রুটে চলাচলকারী একটি বাস বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল এলাকায় ঠেলাগাড়িকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহত রমজান আলী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

নির্বাচন করবো, বাইরে রাখা যাবে না: খালেদা

বিএনপিকে নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিনি বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনে যাবেই, চেষ্টা করেও নির্বাচনের বাইরে রাখা যাবে না। তবে সে নির্বাচন হতে হবে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। শেখ হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। আর সরকার যদি মনে করে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধরে নিয়ে জেলে রেখে নির্বাচন দেবে তাহলে সে নির্বাচন হবে না। কারণ বিএনপি অনেক বড় রাজনৈতিক দল এবং বিএনপি ছাড়া এদেশে কোনো নির্বাচন হবে না ।
জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। খালেদা জিয়া বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনে এরা তো ভোটই পায়নি। এদের তো পার্লামেন্টে থাকার যোগ্যতাও নেই। কাজেই বর্তমান পার্লামেন্ট ভেঙে দিতেই হবে। এই পার্লামেন্ট বহাল রেখে নির্বাচন হবে না। শেখ হাসিনার অধীনে নির্বাচন হবে না। আমরা নির্বাচনমুখী দল, নির্বাচনে যাবো। নির্বাচন করবো নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে, হাসিনার অধীনে নয়। সারা পৃথিবীর মানুষ বুঝে গেছে হাসিনার অধীনে কোনো নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, হবে না। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, জনগণ আওয়ামী লীগকে আর বিশ্বাস করে না। সত্যিকারে জনগণের ভোটে আওয়ামী লীগ কখনো ক্ষমতায় আসে না। তারা কারো না কারো কাঁধের ওপর ভর করে ক্ষমতায় বসেছে। আওয়ামী লীগ যতবার ক্ষমতায় এসেছে জনগণের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। গুম-খুন করেছে। খালেদা জিয়া বলেন, বাংলাদেশকে কারাগার বানিয়ে ফেলা হয়েছে। আমরা সবাই কারাবন্দি। এই কারাগার থেকে মুক্ত শুধু আওয়ামী লীগ ও হাসিনা। দেশে যে গণতন্ত্র নেই তারা তা আবারো প্রমাণ করে দিয়েছে। খালেদা জিয়া বলেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, বৈধ সরকার নেই, আইনের শাসন ও কথা বলার অধিকার নেই। তার প্রমাণ একটু আগে দেখলাম। অনেকদিন ধরে ছাত্ররা আলোচনা সভার প্রস্তুতি নিয়েছে। অনুমতি দিয়েছে, ভাড়াও নিয়েছে। অথচ হঠাৎ করে হলরুমে তালা লাগিয়ে দিলো। এটা কেমন আচরণ? আজকে দেশ এক ব্যক্তির দখলে, দেশ পিছিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগ তার জন্য দায়ী। খালেদা জিয়া বলেন, ৫ই জানুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমরা সমাবেশ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু তারা অন্য একটি দলকে সমাবেশ করার অনুমতি দিলো। আমাদের অন্য আরেকদিন সমাবেশের অনুমতি দিতে পারতো। এ ভেন্যুতে না দিয়ে আমরা প্রয়োজনে অন্য ভেন্যুতে আয়োজন করতাম। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা শৃঙ্খলা মেনে চলতে চাই। তারাই (সরকার) শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে। পুলিশ খারাপ নয়। তারা পুলিশকে খারাপ বানায়। আপনারা (পুলিশ) জনগণের সেবক। জনগণের সমস্যা সমাধানে আপনারা কাজ করবেন। আপনাদের সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। রাগ নেই। যাদেরকে বিনা কারণে আটক করেছেন তাদের ছেড়ে দিন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, শেখ হাসিনা জঙ্গি সৃষ্টি করেছে। আমরা যখন ক্ষমতায় ছিলাম তখন তারা জঙ্গি তৈরি করেছে। শায়েখ আবদুর রহমান, বাংলাভাই আওয়ামী লীগের আত্মীয়। বাংলাদেশের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা শান্তি চায়। সরকার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে জঙ্গি বানাচ্ছে। নিজেরা বোমা রাখে, অস্ত্র রাখে। তারপর যাকে ইচ্ছা তার বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তুলে নিয়ে যায়। কথায় কথায় কিছু হলে জঙ্গির ভয় দেখায়। তারা দিনের পর দিন আটক রেখে নিরপরাধ মানুষকে জঙ্গি সাজায়। কিন্তু সরকারের কারসাজি এদেশের মানুষ জেনে গেছে। তিনি বলেন, দেশের অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে। দ্রব্যমূল্যের বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের লবণ দিয়ে ভাত খাওয়ার আজ উপায় নেই। শেখ হাসিনার অধীনে দেশ আর চলছে না। সামনে এগিয়ে যাওয়ার বদলে পেছনের দিকে যাচ্ছে। হাসিনার অধীনে আরো কিছুদিন দেশ চললে কিছুই থাকবে না। এজন্য ছাত্র ও যুবসমাজকে জেগে উঠতে হবে। এ সময় ‘ভিশন-২০৩০’র কথা তুলে ধরে খালেদা জিয়া ভবিষ্যতে তার নানা প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, পদ্মা সেতুর স্বপ্ন দেখাচ্ছে সরকার। কিন্তু পদ্মা সেতু আওয়ামী লীগের আমলে হবে না। এ সেতু জোড়াতালি দিয়ে বানানো হচ্ছে। এ সেতুতে কেউ উঠবেন না। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিতে পারেনি, নেতৃত্ব দিতে পারেনি। জিয়াউর রহমান সেদিন, পরিবার, নিজের কথা চিন্তা না করে, দেশের কথা চিন্তা করে স্বাধীনতা ঘোষণা করে মুক্তিযুদ্ধে ডাক দিয়েছিলেন। এবং যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে নিজের দায়িত্বে চলে গিয়েছিলেন। সুতরাং যতই তারা অস্বীকার করুক, স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান, এটা ইতিহাসে লেখা হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় ভারত আমাদের সাহায্য করেছে। ভারতকে আমরা বন্ধুর মতো দেখতে চাই। বন্ধু হয়ে থাকতে চাই সবসময়। আমরা তাদের সাথে বন্ধুত্ব ও ভালো সম্পর্ক চাই। প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখানেও হাসিনার অত্যাচার শুরু হয়ে গেছে। প্রধান বিচারপতিকে অস্ত্রের জোরে পদত্যাগ করানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেন কাউকে প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়নি? কারণ এখনও তাদের মতলবটা ভালো নয়। কিন্তু ওই দিনও এই পদটা খালি রাখা যায় না। অর্থাৎ হাসিনা যা বলবে তাই করতে হবে। না হলে পদত্যাগ, মামলা হবে ও জেল। কিন্তু এক ব্যক্তির শাসন তো এদেশে চলতে পারে না। এগুলো আল্লাহ দেখছেন, আল্লাহ বিচার করবেন। তারা এত খারাপ করছে যে, বিচার আল্লাহতালার তরফ থেকেই হবে। আমাদের আর কিছু করতে হবে না। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু ছবি তুলে আন্দোলনে আছি, তা বললে হবে না। এগুলো আর চলবে না। আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করেছি। সবার পিছনে গোয়েন্দা নিয়োগ করা হয়েছে। বিএনপির নেতাদের পিছনেও গোয়েন্দা নিয়োগ করা হয়েছে। ছাত্রদল নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ঐক্য, ঈমান, শৃঙ্খলা ঠিক রাখতে হবে। এই তিনটি বিষয় রাখলে সব কিছু জয় করা সম্ভব। শুধু স্লোগান দিলে হবে না। স্লোগানের ধারা পরিবর্তন করতে হবে। আগের স্লোগান দিলে হবে না। সময়ের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী তা পরিবর্তন করতে হবে। আগামীতে যাকে যে পদে দেয়া হবে সেখানে কাজ করতে হবে। তোমরা এগিয়ে চলো। ২০১৮ সাল হবে গণতন্ত্রের বছর। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে আজ যা সংকট, তার মূলে আছে এখানে একটা জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না এ ধরনের একটি সরকার ক্ষমতায় বসে আছে। আজ থেকে এ সরকারের পতনের দিন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি অবিলম্বে পদত্যাগ করুন। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিন। এ সরকারকে এ মুহূর্তেই চলে যাওয়া উচিত। ছাত্রদলের সভাপতি রাজিব আহসানের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের সঞ্চালনায় ছাত্রসমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান বক্তব্য দেন। এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহিদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, কেন্দ্রীয় নেতা কামরুজ্জামান রতন, নাজিমউদ্দিন আলম, এবিএম মোশাররফ হোসেন, হাবিবুর রশীদ হাবিব, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, ছাত্রদলের সিনিয়র সহসভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন, সহসভাপতি এজমাল হোসেন পাইলট, আতিক আল হাসান মিন্টু, ফেরদৌস আহমেদ মুন্না, নাজমুল হাসান, আলমগীর হোসেন সোহান, যুগ্ম সম্পাদক মফিজুর রহমান আশিক, কাজী মোকতার হোসেন, বায়েজিদ আরেফিন, মুশফিকুর রহমান লেনিন ও ওমর ফারুক মুন্নাসহ ছাত্রদলের বর্তমান ও সাবেক নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 
দিনভর নাটকীয়তার পর সন্ধ্যায় অনুমতি
৩৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পুলিশের অনুমতি ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের অডিটোরিয়াম ভাড়া করে ছাত্রদল। অডিটোরিয়ামের ভাড়াও পরিশোধ করা হয়। সাজানো হয় মঞ্চ। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরে জড়ো হতে থাকে। তবে পুলিশ ও ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয় নিরাপত্তাজনিত কারণে সেখানে অনুষ্ঠান করা যাবে না। ছাত্রদল নেতারা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। কিন্তু পাশেই হাইকোর্টে প্রেসিডেন্টের অনুষ্ঠান থাকার কারণে পুলিশ অনুমতি দেয়নি। এ সময় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন চত্বরের ক্যাফেটেরিয়ার সামনে দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এ নিয়ে পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হলে শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ অবস্থান নেয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। পরে বিএনপি নেতারাও বারবার পুলিশ এবং অডিটোরিয়াম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে অডিটোরিয়াম কর্তৃপক্ষ জানায় বিকাল চারটার পর ছাত্রদল চাইলে অনুষ্ঠান করতে পারে। এদিকে সকাল থেকেই অডিটোরিয়ামের দরজায় ছিল তালা। সামনে সতর্ক পাহারায় ছিল পুলিশ। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা সভা করতে না দেয়ায় বেলা আড়াইটার দিকে ইনস্টিটিউশন মিলনায়তন প্রাঙ্গণে অবস্থান নেন ছাত্রদলের হাজারো নেতাকর্মী। অডিটোরিয়ামের মূল ফটকের সামনে কড়ই চত্বরে দাঁড়িয়ে বিএনপি ও ছাত্রদল নেতারা স্লোগান ও বক্তব্য দিতে শুরু করেন। ৪টা ২৫ মিনিটে সেখানে গিয়ে তাদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন খালেদা জিয়া। কিন্তু তখনো অনুমতি মেলেনি। এ সময় বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে পরামর্শ করে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও প্রচার সম্পাদক শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেন। কিন্তু তারাও নিরাশ হয়ে ফিরে আসেন। কিন্তু অনুমতি না পেলেও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ছিলেন অনড়। তিনি অডিটোরিয়ামের দরজার সামনে গাড়িতে বসে থাকেন। আর তাকে চারপাশ থেকে ঘিরে রেখে স্লোগান দিতে থাকে ছাত্রদলের কয়েক হাজার নেতাকর্মী। সময় তখন ৫টা ১৭। গাড়িতে খালেদা জিয়ার অপেক্ষার ৫০ মিনিটের পর মেলে অনুমতি। এ সময় শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী জানান, খালেদা জিয়ার সম্মানে অডিটোরিয়াম কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিয়েছে। এরপর নেতাকর্মীরা অডিটোরিয়ামে প্রবেশ করেন। দুপুর দুইটার অনুষ্ঠান শুরু হয় সাড়ে ৫টায়। তারপরও এটাকে সরকারের অগণতান্ত্রিক আচরণের বিরুদ্ধে বিজয়ী হিসেবে দেখছে বিএনপি। নতুন করে সমাবেশের অনুমতি দেয়ার প্রসঙ্গে পুলিশের রমনা বিভাগের ডিসি মারুফ হোসেন সরদার সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়াকে আইইবির ভেতরে ঢুকতে কেউ বাধা দেয়নি। নতুন করে অনুমতি দেয়ার কিছু নেই। এর আগে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নির্ধারিত ছাত্রসমাবেশ করতে না দেয়ার বিষয়ে জানাতে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়। সেখানে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আজকে ছাত্রদল... তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রমনার ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন অর্থাৎ পুলিশের অনুমোদন, ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সকাল ১০টার দিকে ছাত্রদলের নেতৃবৃন্দ মঞ্চ নির্মাণের জন্য গেলে প্রধান গেইটে তালা লাগিয়ে দেয়া হয়। একমাস আগে এই অনুমোদনের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে আজকে অনুষ্ঠান করতে না দেয়া, গড়িমসি করা- এটা অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে গণতান্ত্রিক যে অধিকারগুলো, সেই অধিকারকে খর্ব করার শামিল বলে আমরা মনে করি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী ও যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।