Thursday, May 9, 2013

নওয়াজ শরিফ ও ইমরান খান এগিয়ে, নেতৃত্বহীনপিপিপি

পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে আগামী শনিবার ভোট দেবে জনগণ। তালেবানের হুমকিতে স্বাভাবিক নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারেনি অনেক দলই। পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) সেই তালেবানের হুমকির শিকার। নেতৃত্বহীন দল চলছে দিকনির্দেশনাহীন। এই সুযোগে নির্বাচনের মাঠে এগিয়ে গেছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগের (পিএমএল-এন) এবং সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। তাই নির্বাচনে এই দুই দলের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। প্রেসিডেন্ট পদে থাকায় পিপিপির কো-চেয়ারম্যান আসিফ আলী জারদারি প্রচারণায় নামতে পারছেন না। অন্যদিকে জারদারি-বেনজির দম্পতির ছেলে দলের চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো বয়স কম হওয়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেননি। ফলে পিপিপি এক প্রকার অভিভাবকহীনভাবে প্রচারণা চালাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এ মুহূর্তে নওয়াজ শরিফই এগিয়ে আছেন। নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করতে পারলে তিনিই হবেন পাকিস্তানের প্রথম রাজনীতিক, যিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার গৌরব অর্জন করবেন। নওয়াজ প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন ১৯৯০ সালে। ১৯৯৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে বরখাস্ত করা হয়। এরপর ১৯৯৭ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৯ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয় তাঁকে। অন্যদিকে সাবেক ক্রিকেটার ইমরানের দল ২০০২ সালে সাধারণ নির্বাচনে একটি মাত্র আসন পেয়েছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচন বর্জন করেছিলেন ইমরান। পাকিস্তানে মার্কিন ড্রোন (মানুষবিহীন বিমান) হামলা এবং কট্টরপন্থীদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে দারুণ জনপ্রিয়তা পান তিনি। এরপর তারকা ক্রিকেটারের ভাবমূর্তি ও দুর্নীতিবিরোধী কথা বলে তরুণদেরও প্রভাবিত করতে সক্ষম হন ইমরান। তাঁর ভাষায়, জনসমর্থনের ‘সুনামি’ তাঁকে নির্বাচনে জয়ী করবে। ইমরান নির্বাচনী প্রচারণায় বিগত সরকারের ব্যর্থতার বিভিন্ন ইস্যু ও নীতি তুলে ধরছেন। একই সঙ্গে দেশ থেকে দুর্নীতি নির্মূল করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তবে প্রথাগতভাবে দেখা যায়, ভোটাররা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া রাজনীতিকদেরই পছন্দ করেন বেশি। ভোটও তাঁদেরই দেন। এই দিক বিবেচনায় ইমরান কিছুটা পিছিয়ে পড়তে পারেন। নওয়াজ তাঁর প্রচারণায় রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে নিজেকে দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন। উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক উন্নয়নে তাঁর ভূমিকা। প্রচারণায় ইমরান ও নওয়াজ—দুই নেতাই তালেবানের সঙ্গে সরকারের আলোচনায় বসার পক্ষে কথা বলছেন। পাকিস্তানে মার্কিন হামলার বিরুদ্ধেও নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরছেন। তবে তাঁরা সরকার গঠন করলে তালেবান বা অন্যান্য কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর প্রতি তাঁদের নীতি কী হবে, তা স্পষ্ট করছেন না। এএফপি।

বিশ্বে তরুণ বেকার সাত কোটির বেশি

সারা বিশ্বে সাত কোটি ৩০ লাখের বেশি তরুণ বেকার। এ পরিস্থিতি আরও খারাপের দিকে যেতে পারে। জাতিসংঘের শ্রমবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল লেবার অর্গানাইজেশন (আইএলও) গতকাল বুধবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। আইএলও বলেছে, ২০১২ ও ২০১৩ সালে বিশ্বমন্দা কাটিয়ে ওঠার প্রক্রিয়া দুর্বল হওয়ায় তরুণদের চাকরির সংকট আরও শোচনীয় হয়েছে। আর বিদ্যমান চাকরির জন্য তরুণ কর্মপ্রার্থীদের সারিও দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হয়েছে। ১৬০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে আইএলও জানায়, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী বেকারের সংখ্যা হবে সাত কোটি ৩৪ লাখ। এ সংখ্যা ২০০৭ সালের তুলনায় ৩৫ লাখ বেশি। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সারা বিশ্বে তরুণ বেকারের বর্তমান হার ১২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বাড়তে বাড়তে ২০১৮ সালে গিয়ে দাঁড়াবে ১২ দশমিক ৮ শতাংশে। তখন বেকার তরুণের সংখ্যা হবে আরও প্রায় ২০ লাখ বেশি। আইএলও উল্লেখ করেছে, বিশ্বের বর্তমান ভঙ্গুর অর্থনীতির অন্যতম প্রধান শিকার তরুণেরা। আরও বেশি বয়সীদের তুলনায় তাঁদের বেকার হওয়ার আশঙ্কা প্রায় তিন গুণ বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বের বেকারত্বের চিত্র এক নয়। বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা—এই তিনটি অঞ্চলের পরিস্থিতি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এসব অঞ্চলে তরুণ বেকারদের সংখ্যা ২০০৮ সাল থেকে হুড়হুড় করে বেড়ে চলেছে। আইএলও বলছে, ইউরোপের পরিস্থিতি ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এএফপি।

গ্রেপ্তার হওয়া তিন ভাইকে জেরা করছে মার্কিন পুলিশ

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ড শহরে নিখোঁজ হওয়ার প্রায় এক দশক পর তিন নারীসহ এক শিশু উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। আদালত ওই তিন ভাইয়ের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ দায়ের করতে ১২ ঘণ্টা সময় দিয়েছেন। পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া তিন ভাইয়ের পরিচয় প্রকাশ করেছে। তাঁদের একজন স্কুলবাস চালক অ্যারিয়েল কাস্ত্রো। অন্য দুজন হলেন পেড্রো ও অনিল। তিন নারীকে উদ্ধারে পুলিশ অভিযান শুরু করলে কাস্ত্রো পালিয়ে যান। পরে তাঁকে স্থানীয় একটি রেস্তোরাঁ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। অন্য দুজনকে কখন, কোন জায়গা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়, পুলিশ তা জানায়নি। ২০০৩ সালে ১৬ বছর বয়সে নিখোঁজ হন আমান্ডা বেরি। তার এক বছর পর ১৪ বছর বয়সে নিখোঁজ হন জিনা ডেজেসাস। আর ২০০২ সালে মিচেল নাইট নিখোঁজ হন ২০ বছর বয়সে। গত সোমবার তিনজনকে উদ্ধারের পর তাঁদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সুস্থ হয়ে ওঠায় পরদিন তিনজনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। ক্লিভল্যান্ড পুলিশের মুখপাত্র জেনিফার সিয়াসিয়া জানান, পুরো ঘটনা তদন্ত করতে সময় লাগবে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেপ্তার হওয়া তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে বুধবার (গতকাল) সন্ধ্যার মধ্যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আনা হবে। মার্কিন কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) প্রতিনিধি স্টিফেন অ্যান্টনি বলেন, ‘দুঃস্বপ্নের অবসান হয়েছে। তিন নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁরা বেঁচে থাকার লড়াইয়ের নতুন সংজ্ঞা আমাদের সামনে তুলে ধরেছেন।’ বিবিসি।

কর্ণাটকে জয়ী কংগ্রেস বিজেপির ভরাডুবি

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন কংগ্রেস দল। নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) ভরাডুবি হয়েছে। তুলনামূলক ভালো করেছে জনতা দল (জেডি-এস)। গতকাল বুধবার প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিধানসভার মোট ২২৫টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে ৪০টি। অন্যদিকে কংগ্রেস পেয়েছে ১২০ আসন। জেডি-এস অন্তত ৩৯টি আসনে জয়ী হয়েছে। এগিয়ে রয়েছে একটি আসনে। স্থানীয় নতুন রাজনৈতিক দল কর্ণাটক জনতা পার্টি (কেজেপি) ছয় আসনে জয়ী ও এক আসনে এগিয়ে রয়েছে। অন্যান্য দল ১৬টি আসন পেয়েছে। কর্ণাটকের নির্বাচনে গত রোববার ভোট গ্রহণ হয়। রাজ্যটিতে গত পাঁচ বছর ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। তবে একাধিক অনিয়ম ও ৩০০ কোটি মার্কিন ডলারের কয়লাখনি কেলেঙ্কারির ঘটনায় তাদের সরকার ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। দলটির তিনজন মুখ্যমন্ত্রী গত পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করেন। বি এস ইয়াদুরাপ্পা নামের একজন প্রভাবশালী নেতা ৩৬ জন আইনপ্রণেতাকে নিয়ে একপর্যায়ে বিজেপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে নতুন দল জেডি-এস গঠন করেন। তবে কেন্দ্রে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সরকার রেলওয়ে ও কয়লাখনি কেলেঙ্কারি নিয়ে চাপের মুখে থাকায় কর্ণাটকের নির্বাচনে এর কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করা হয়েছিল। ফলাফল ‘প্রত্যাশিত’ বলে কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা সিদ্ধারামাইয়াহ মন্তব্য করেন। রাজ্যের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে তিনিই এগিয়ে রয়েছেন। কংগ্রেসের মুখপাত্র অভিষেক সিংভি বলেন, জনগণ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করেছে। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বিজেপির নেতা সদানন্দ গৌড়া বলেন, তাঁরা পরিস্থিতি কাজে লাগাতে পারেননি এবং কর্ণাটকে বিজেপির উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়টি জনগণের কাছে তুলে ধরতে পারেননি। রয়টার্স ও আইএএনএস।

সিবিআইয়ের কাজে হস্তক্ষেপের সমালোচনাআদালতের

কয়লাখনি কেলেঙ্কারি নিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআইয়ের প্রতিবেদনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সুপ্রিম কোর্ট। আদালত ওই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ ও বাস্তবসম্মত তদন্তের জন্য সিবিআইকে নির্দেশ দিয়েছেন। কয়লাখনি কেলেঙ্কারি নিয়ে সিবিআইয়ের তদন্তে সরকারের হস্তক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, সরকারি কর্মকর্তাদের পরামর্শমতো ওই প্রতিবেদনের প্রকৃত ঘটনা বদলে ফেলা হয়েছে। সিবিআইয়ের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্ট সংস্থাটিকে ‘খাঁচাবন্দী তোতাপাখি’ হিসেবে অভিহিত করেন। সিবিআইকে অবশ্যই নিরপেক্ষ হতে হবে উল্লেখ করে আদালত বলেন, ‘সিবিআইয়ের কার্যক্রমকে অবশ্যই সব ধরনের বাহ্যিক চাপ থেকে মুক্ত রাখতে হবে। এটা করা না হলে আমরা হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হব।’ আইনমন্ত্রী অশ্বিনী কুমারকে উদ্দেশ করে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, ওই মন্ত্রী সিবিআইকে তদন্ত করার কথা বলতে পারেন; কিন্তু তিনি তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। সিবিআইয়ের কাজ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সলাপরামর্শ করা নয়, বরং প্রকৃত সত্য বের করতে তাঁদের জেরা করা। আদালত বলেন, সব ধরনের নিয়ন্ত্রণ ও চাপের মুখে কীভাবে কাজ করতে হয়, সিবিআইকে অবশ্যই সেটা জানতে হবে। তদন্ত প্রতিবেদন দেখেছেন এমন দুজন যুগ্ম সচিবের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আদালত বলেন, ‘এই দুজন কেন সিবিআই কার্যালয়ে গিয়েছিলেন? সেখানে তাঁদের কাজই বা কী? পার্লামেন্ট মুলতবি: ভারতের পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশন গতকাল বুধবার অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং, রেলমন্ত্রী অশ্বিনী কুমার ও আইনমন্ত্রী পি কে বানসালের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধী দলের সদস্যদের হট্টগোলের মধ্যে পার্লামেন্টের দ্বিতীয় অধিবেশন মুলতবি করা হয়। গত ২২ এপ্রিল পার্লামেন্টের বাজেট অধিবেশন শুরু হয়। তবে নির্ধারিত সময়ের দুই দিন আগেই অধিবেশন মুলতবি করা হয়। হঠাৎ করে অধিবেশন মুলতবি করায় জাতীয় খাদ্যনিরাপত্তা ও ভূমি গ্রহণবিষয়ক বিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিলগুলো পার্লামেন্টে পাস করা যায়নি। তবে অর্থ বিলের বিষয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলের সদস্যরা ওয়াকআউট করার পর এ বিষয়ে আলোচনা হয়। সরকার পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ লোকসভায় খাদ্যনিরাপত্তা বিল পাসের জন্য বিরোধী দলের সমর্থন লাভের চেষ্টাও করেছে। তবে বিরোধী দল বলেছে, যদি কংগ্রেস অশ্বিনী কুমার ও পি কে বানসালকে অপসারণ করে, তাহলে তারা বিলে সমর্থন দেবে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।

রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ

রাশিয়ার প্রভাবশালী উপপ্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিস্লাভ সুরকভ (৪৮) পদত্যাগ করেছেন। রাশিয়ার কঠোরনিয়ন্ত্রিত রাজনীতির কৌশল নির্ধারণে তাঁর ভূমিকা ছিল বলে ধারণা করা হয়। গতকাল বুধবার ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, সুরকভ স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। সুরকভ ২০১১ সালের ডিসেম্বরে ক্রেমলিনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বরখাস্ত হন। এর পর থেকে তিনি উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সুরকভ ১৯৯৯ সাল থেকে ক্রেমলিন প্রশাসনে কাজ করছেন। তিনি এমন এক সময় পদত্যাগ করলেন, যখন স্কলকোভো হাইটেক তহবিল নিয়ে তদন্ত চলছে। তিনি স্কলকোভো হাইটেকের সুপার-ভাইজরি বোর্ডে ছিলেন। এএফপি।

ইসরায়েলি সম্মেলন বর্জনের ঘোষণা দিলেন হকিং

বিশ্বখ্যাত পদার্থবিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং ইসরায়েলের একটি সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি দখলদারির প্রতিবাদে তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট শিমন পেরেজ এ সম্মেলন ডেকেছেন। যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ গতকাল বুধবার হকিংয়ের সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়েছে। হকিংয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সম্মেলনের আয়োজকদের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় ‘ফেসিং টুমরো’ শীর্ষক সম্মেলনে যোগ দিতে স্টিফেন হকিং ইতিপূর্বে সম্মতি জানিয়েছিলেন। নতুন সব ধারণা নিয়ে আলোচনা করতে সম্মেলনে কয়েক শ বিশিষ্ট আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। চার সপ্তাহ আগে সম্মেলনে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন হকিং। কিন্তু এর পর থেকেই তাঁর কাছে চিঠি ও ই-মেইলের ঢল নামে। এসব চিঠিতে তাঁকে ইসরায়েলে না যাওয়ার অনুরোধ জানানো হয়। সম্মেলনে তাঁর বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীদের তালিকা থেকে হকিং তাঁর নাম প্রত্যাহার করে নেন। তাঁর এই সিদ্ধান্ত ফিলিস্তিনপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে আরও উৎসাহ জোগাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সম্মেলন বর্জন করা নিয়ে হকিং প্রকাশ্য কোনো বিবৃতি না দিলেও ইউনিভার্সিটিজ অব প্যালেস্টাইন-সংক্রান্ত ব্রিটিশ কমিটির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, সম্মেলন বর্জনের বিষয়টি তাঁর স্বাধীন সিদ্ধান্তের ব্যাপার। রয়টার্স।

সাইট হ্যাক করে থাই প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইংলাক সিনাওয়াত্রার কার্যালয়ের ওয়েবসাইট গতকাল বুধবার হ্যাকিংয়ের শিকার হয়েছে। হ্যাকাররা সাইটে প্রধানমন্ত্রীকে অপমান করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য দেয়। ওয়েবসাইটে ইংলাকের হাসিখুশির একটি ছবি দিয়ে পাশে লেখা হয়েছে, ‘আমি নোংরা, মূঢ়।’ এর আগে লেখা হয়েছে, ‘আমি জানি, আমিই থাইল্যান্ডের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্য প্রধানমন্ত্রী।’ লেখাটির নিচে ‘আনলিমিটেড হ্যাক টিম’-এর স্বাক্ষর রয়েছে। হ্যাকিংয়ের পরপরই সরকার ওয়েবসাইটটি বন্ধ করে দেয়। হ্যাকারদের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দিয়ে বলা হয়, জড়িতদের কঠিন শাস্তির মুখোমুখি করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর সেক্রেটারি জেনারেল সুরনন্দ ভেজ্জাজিওয়া সাংবাদিকদের বলেন, এটা কিশোরদের কাজ হতে পারে অথবা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এটা করা হতে পারে। তিনি বলেন, ওয়েবসাইট হ্যাকিং করা সহজ...কিন্তু ভুলে গেলে চলবে না, কে বা কারা এটা করেছে—তা খুঁজে বের করাটা কঠিন কাজ নয়। এএফপি।

সর্বজিৎ ও সানাউল্লাহর ওপর হামলায় নিন্দা এসএএইচআরের

পাকিস্তানের কারাগারে সর্বজিত সিং এবং ভারতের কারাগারে সানাউল্লাহর ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংস্থা সাউথ এশিয়ানস ফর হিউম্যান রাইটস (এসএএইচআর)। গত ২৬ এপ্রিল পাকিস্তানের কারাগারে ভারতীয় বন্দী সর্বজিতের ওপর অন্য কারাবন্দীরা হামলা চালান। পরে ২ মে হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর ৩ মে ভারতের জম্মুর উপকণ্ঠে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত কোট বলওয়াল কারাগারে পাকিস্তানি বন্দী সানাউল্লাহর ওপর এক বন্দী হামলা চালান। এসএএইচআরের বৃিবতিতে বলা হয়, ‘এখন আমাদের শান্ত ও স্থির থাকতে হবে। সংযম দেখাতে হবে। ন্যায়বিচার ও শিষ্টাচারের গুণাবলি সমুন্নত রাখতে হবে।’ এ ছাড়া প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি ও সহিংসতা কোনো সমস্যার সমাধান হতে পারে না বলে বিবৃতিতে জোরালো মত প্রকাশ করে এসএএইচআর। বিজ্ঞপ্তি।

হেলিকপ্টার by সৈয়দ আবুল মকসুদ

হেলিকপ্টারে ভ্রমণের যে কী সুখ, তা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ না হলে উপভোগ করার সৌভাগ্য আমার মতো বিত্তহীনের হতো না। সে এক বিরল সৌভাগ্য! তবে এখনকার অনেক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা যে ধরনের ফড়িংয়ের মতো হেলিকপ্টারে চড়েন, আমি চড়েছি তার চেয়ে অনেক বড় আকারের হেলিকপ্টারে। নেতা হিসেবে নয়, কর্মী হিসেবে।
বুঝতে পারছি না, হেলিকপ্টারে চড়ার স্মৃতি এখন কেন হঠাৎ মনে পড়ছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের নিয়ে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন। এসে নতুন স্বাধীন দেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যোগাযোগেরব্যবস্থা ছিল বির্পযস্ত। নদী ও সড়কপথে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগত। প্রত্যন্ত এলাকায় যাতায়াতের জন্য একমাত্র ভরসা ছিল হেলিকপ্টার। রুশ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশকে ত্রাণকাজ পরিচালনার জন্য বেশ কয়েকটি ঢাউস আকারের হেলিকপ্টার দিয়েছিল। সেগুলোতে মালামাল পরিবহন করা যেত। যাত্রী গেলে যেতে পারত ২৫-৩০ জন। ষোলোই ডিসেম্বরের পরে পূর্বাণী হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে খোলা হয়েছিল মিডিয়া সেল। সেখানে আমরা যারা যুক্ত ছিলাম, মন্ত্রীদের সফরসঙ্গী হয়েছি ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির প্রথম দিকে। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন স্নেহশীল পারিবারিক মানুষ। কখনো সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনও সঙ্গে থাকতেন, তাঁর মেয়েদের কেউ, এমনকি বন্ধুবান্ধবের ছেলেমেয়েদের কেউ বা তাঁর সঙ্গে যেতেন। এর মধ্যে পাকিস্তানি কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু এলেন। তিনি জেলায় জেলায় যেতেন হেলিকপ্টার বা সি-প্লেনে। সাড়ে তিনটি বছর তাঁদের সঙ্গে হেলিকপ্টার ও ক্ষুদ্রাকৃতি সি-প্লেনে ওড়ার সৌভাগ্য হয়েছে।
এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় জার্নি বাই হেলিকপ্টারের রোমাঞ্চকর অনুভূতি আলাদা। তখন নিজের মধ্যে কাজ করে একধরনের অহংকার। হেলিকপ্টার থেকে দেখা যায়, নিচে মানুষগুলো মাঠেঘাটে কাজ করছে ঘাম ঝরিয়ে। জেলেরা মাছ ধরছে নদী ও খালবিলে। ছেলেমেয়েরা মাঠে কোলাহল করে খেলছে। গ্রামের মেয়েরা নদীতে পানি আনতে যাচ্ছে কলসি কাঁখে। কেউ নিজের খেতের উৎপাদিত পণ্য মাথায় বয়ে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামের হাটে। তাদের মাথার ওপর দিয়ে আমি যাচ্ছি উড়ে। সে কি কম আনন্দ ও আহ্লাদের কথা! রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং খুব বড় নেতারাই হেলিকপ্টারে চড়েন, সাধারণ হতভাগ্যরা নয়। সব নেতার হেলিকপ্টারে যাতায়াতে সৌভাগ্য হয় না। বিশ্বের ইতিহাস সৃষ্টিকারী তিন নেতা হলেন মহাত্মা গান্ধী, ভি. আই. লেনিন এবং মাও ঝেদোঙ। তাঁরা যুগান্তকারী গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কোটি কোটি অনুসারীকে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাঁরা কেউই হেলিকপ্টারে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পাননি। গান্ধীজি মাটির ওপর দিয়ে মানুষের সঙ্গে চলতেই পছন্দ করতেন। হেলিকপ্টারে চড়া তো দূরের কথা, মাটি থেকে এক ফুট উপরে ওড়ার প্রয়োজন তাঁর হয়নি। ধারে-কাছে হলে যেতেন হেঁটে। দূরে হলে যেকোনো ধরনের গাড়িতে, লঞ্চ, স্টিমার বা ট্রেনে। রেলগাড়িতে যেতেন তৃতীয় শ্রেণীতে। বিশাল সব গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন মওলানা ভাসানী। হেলিকপ্টারের প্রয়োজন হয়নি। পায়ে হেঁটেছেন। নৌকায় যাতায়াতের সুযোগ পেলে খুব খুশি হতেন। ট্রেনের প্রথম শ্রেণীতে খুব কমই যাতায়াত করেছেন। ইসলামি বিপ্লবের আইকন আয়াতুল্লাহ খোমেনিও হেলিকপ্টারে ঘুরে ইরানিদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাননি। মাটিতে বসেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। রেজা শাহ পাহলবির মতো পরাক্রান্ত শাসককে তাঁর রানিসহ দেশ থেকে তাড়িয়ে দেন। শাহকে বিতাড়িত করার পরই তিনি নিজে ফিরে আসেন স্বদেশে ফরাসি বিপ্লবীদের দেশ থেকে। ফরাসি বিপ্লবের দেশেই আবিষ্কৃত হয় হেলিকপ্টার প্রথম মহাযুদ্ধের পর। উদ্ভাবকদের সবাই ছিলেন নাসারা, কেউ বা ইহুদি, কেউ নাস্তিক। আমাদের দেশে এখন ট্যাক্সি-মাইক্রোবাসের মতো হেলিকপ্টারও ভাড়ায় পাওয়া যায়। তাই অনেকে বিয়েও করতে যান হেলিকপ্টারে চড়ে। বিপ্লব করতেও যান হেলিকপ্টারে। তবে হেলিকপ্টারের ভাড়াটা খুব বেশি। তাই মনে করি, অত ভাড়া দিয়ে আমাদের মতো মুসলমানদের নাসারাদের তৈরি হেলিকপ্টারে না চড়াই ভালো।
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

সিরিয়ার সংকট সমাধানে সম্মত যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া

কয়েক মাসের টানাপোড়েন শেষে সিরিয়ার রক্তপাত বন্ধে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া। এ জন্য সিরিয়ায় সরকার ও বিদ্রোহীদের ওপর প্রভাবশালী এ দুটি দেশ চাপ দেবে। এ ছাড়া সিরিয়ায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন করার প্রস্তাবও দিয়েছে তারা। সিরিয়ার বিদ্রোহীরা বলেছে, সিরিয়া ও ইসরায়েলের সীমান্তবর্তী গোলান মালভূমি থেকে তারা জাতিসংঘের চার শান্তিরক্ষীকে অপহরণ করেছে। গত দুই মাসে ওই অঞ্চলে শান্তিরক্ষীদের অপহরণ করার এটা দ্বিতীয় ঘটনা। গত মঙ্গলবার রাশিয়া সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি। পরে ওই দিনই তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লাভরভ বলেন, ‘রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে সংকটের রাজনৈতিক সমাধান খুঁজে বের করতে চাপ দেবে—এ বিষয়ে আমরা সমঝোতায় পৌঁছেছি।’ তিনি বলেন, সিরিয়ার সরকার ও বিদ্রোহীদের আলোচনার টেবিলে বসানোর জন্য রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র সর্বশক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত। সংবাদ সম্মেলনে কেরি ও লাভরভ বলেন, তাঁরা আশা করছেন, জেনেভা চুক্তির বাস্তবায়নে চলতি মাসের শেষ নাগাদ আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজনে সমর্থ হবেন। সিরিয়ার সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যে গত জুনে বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলো জেনেভায় ওই চুক্তি করে। জন কেরি বলেন, আরব লিগের দূত কফি আনানের মধ্যস্থতায় জেনেভা চুক্তি সই করা হয়। ছয় দফার ওই চুক্তিকে সিরিয়ার সংকট সমাধানের ‘রোডম্যাপ’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত। এটা হলে সিরিয়ার রক্তপাত, হানাহানি ও হত্যাকাণ্ড বন্ধ হতে পারে। এএফপি।

সিরিয়ায় ইন্টারনেট নেই

দ্বিতীয় দিনের মতো গতকাল বুধবারও ইন্টারনেট সংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন ছিল সিরিয়া। সেই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে টেলিফোন সংযোগ অচল হয়ে পড়েছে। এ জন্য অপটিক্যাল ফাইবার কেবেলর ত্রুটিকে দায়ী করেছে দেশটির সরকারি বার্তা সংস্থা সানা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ও প্রযুক্তি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, গত নভেম্বরেও সিরিয়ায় একই ধরনের অবস্থার সৃষ্টি হয়েছিল। যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সানা বলেছে, অপটিক্যাল ফাইবার কেব্লসের ত্রুটির কারণে গত মঙ্গলবার ইন্টারনেট-সেবা ও রাজ্যগুলোর ভেতরে টেলিফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। যত দ্রুত সম্ভব ত্রুটি শনাক্ত করে সংযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টা চলছে। এএফপি।

সিরিয়ায় পশ্চিমারা যুদ্ধকরছে

দামেস্কোর আকাশে বোমা-বারুদের ঝলকানি। দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার আরেকটি ইসরায়েলি বিমান হামলা—ইসরায়েলের সমর্থকেরা তো বলবেনই ‘কী দুঃসাহসী’ অভিযান। বাশার আল-আসাদের অস্ত্রভান্ডার আর সামরিক স্থাপনায় বোমা পড়ল। আর ইসরায়েলিদের বলা গল্পটা ইতিমধ্যে সর্বত্র প্রচারিত হওয়ার সুবাদে সবার জানা: ইসরায়েলিরা নাকি ইরানের তৈরি ফতেহ-১১০ মিসাইল লেবাননের হিজবুল্লাহর কাছে পাঠানোর উদ্দেশ্যে জাহাজের একটা চালান ঠেকাতে চেয়েছিল; এই চালানটা নাকি পাঠাচ্ছিল সিরিয়ার সরকার। এই অভিযোগের পক্ষে তারা কমপক্ষে একটি তথ্যসূত্র উল্লেখ করেছে। সেটা হলো একটি ‘পশ্চিমা গোয়েন্দাসূত্র’। যদিও তাদের নাম বলা হয়নি। নাম বলার আসলে দরকার হয় না। এবং এখান থেকে পুরোনো প্রশ্নটা আবার উঠল যে যখন সিরীয় সরকার নিজের জীবনের জন্য স্বদেশেই লড়াই করে যাচ্ছে, তখন কী কারণে তারা উন্নত ধরনের মিসাইল সিরিয়ার বাইরে পাঠাতে যাবে? এদিকে সিরীয়রা নিজেরাই নিশ্চিত করেছে যে হামলা হয়েছে তাদের সামরিক স্থাপনায় আর হামলা করেছে ইসরায়েল। সিরিয়ায় বিদ্রোহ শুরুর পর এ রকম ঘটনা এটাই প্রথম নয়। ফতেহ ১১০ মিসাইল—কমপক্ষে নতুন সংস্করণ তো হবেই—আড়াই শ কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে পারে। তাহলে তা অবশ্যই দক্ষিণ লেবানন থেকে উড়ে তেলআবিবে হামলা করতে পারবে। তার আগে অবশ্য হিজবুল্লাহকে বাস্তবিক পক্ষেই এ রকম মিসাইল পেতে হবে। গত পরশু মার্কিন কর্তৃপক্ষও দাবি করেছে যে সিরিয়া এ রকম মিসাইল লেবাননে পাঠাতে চায়। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছিল, সিরিয়ানরা সিরিয়ার বিদ্রোহীদের ওপর ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য এ রকম মিসাইল ছুড়ছে। এসব অভিযোগের অর্থ হলো, সিরীয় সরকার যখন নিজের দেশের ভয়াবহ যুদ্ধে এসব অস্ত্র ব্যবহার করছে, সে রকম সময়ে তারা অস্ত্রগুলো দেশের বাইরে পাঠাতে চাইছে। তাহলে আরও প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে অভিযোগকারীদের। সিরীয় সেনাবাহিনী যখন তাদের শত্রুদের বিরুদ্ধে ব্যাপক হারে মিগ বিমান ব্যবহার করছে, যাতে বেসামরিক জনসাধারণেরও ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তাহলে কেন তারা তাদের জেট বিমানগুলো ইসরায়েলি বিমানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করে নিজেদের রক্ষা করছে না? সিরিয়ার আকাশকে ইসরায়েলি হামলার হাত থেকে রক্ষার দায়িত্বটা তো সিরীয় বিমানবাহিনীরই হওয়ার কথা? নাকি সিরিয়ার মিগগুলো আমেরিকায় নির্মিত প্রযুক্তিগতভাবে সেরা ইসরায়েলি বিমানগুলোর সঙ্গে টেক্কা দিতে পারেনি? নাকি ইসরায়েলিরা এ ব্যাপারে অনেক এগিয়ে? আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, ইসরায়েল যে সিরিয়ার যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছে, সেটা তো এখন বাস্তবতা। ইসরায়েল বলতে পারে, তারা কেবল হিজবুল্লাহগামী অস্ত্রগুলোকেই নিশানা করেছে। আসলে এই অস্ত্রগুলোই তো বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো। সরকারি বাহিনীর অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার উদ্দেশ্য একটাই, বিদ্রোহী জঙ্গিরা যাতে বাশার আল-আসাদের সরকারকে উচ্ছেদ করতে পারে, তার পথ সুগম করা। আর যেহেতু ইসরায়েল নিজেকে পশ্চিমা রাষ্ট্র মনে করে—মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জিগরি দোস্ত, পরম বন্ধু ইত্যাদি ইত্যাদি—এর মানে হচ্ছে ‘আমরা পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো’ এই যুদ্ধে জড়িয়ে গেছি, সরাসরি আকাশ থেকে হামলা চালাচ্ছি। দেখি এবার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলি বিমান হামলার নিন্দা করে কি না। আমার সন্দেহ আছে। যদি আমাদের সরকারগুলো নীরব থাকে, তাহলে এর মানে দাঁড়াবে যে এই হামলায় তাদের সায় আছে। নীরবতা, স্যার টমাস ম্যুরের ভাষায়, সম্মতির সমার্থক। অথচ কিনা ইরান আর হিজবুল্লাহকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে তারা সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে। সত্যি করছে বটে, কিন্তু আমরা যতটা ভাবি ততটা নয়। এবং কাতার আর সৌদি আরব বিদ্রোহী জঙ্গিদের অস্ত্রের জোগান দিয়ে যাচ্ছে, এটাও সত্যি, কিন্তু সিরীয় বিদ্রোহীরা বলবে, পাচ্ছি বটে তবে ততটা নয়। এবং এ-ও সত্যি, ইসরায়েল এই যুদ্ধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে। আমরা পশ্চিমারা এখন সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে জড়িত হয়ে গেছি। ব্রিটেনের দি ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত রবার্ট ফিস্ক: ব্রিটিশসাংবাদিক। � < � � �?� �� করা হয়েছে। বাকি সাড়ে পাঁচ সহস্রাধিক গ্রন্থাগারিকের চাকরি এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ইতিমধ্যে এমপিওবিহীন অনেক সহকারী গ্রন্থাগারিকের সরকারি চাকরির বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েছেন।এ অবস্থায় এমপিওবিহীন সহকারী গ্রন্থাগারিকদের চাকরি যাতে অতি শিগগির এমপিওভুক্ত করা হয়, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হাফিজুর রহমান ফুলজোড় রহিম জাফর উচ্চবিদ্যালয় মাদারগঞ্জ, জামালপুর।

চোখের জলের লাগল জোয়ার by শাহাদুজ্জামান

সাভার ধ্বংসযজ্ঞকে কেন্দ্র করে কটা দিন পুরো জাতি চোখের জলে ভেসেছে। মনে পড়ছিল রবীন্দ্রনাথের পঙিক্ত, ‘ও চাঁদ, চোখের জলের লাগল জোয়ার, দুখের পারাবারে’। সাভারের বাতাস থেকে লাশের গন্ধ মিলিয়ে যাচ্ছে ক্রমশ। তবু ইট, পাথর, কংক্রিটের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসা মুখগুলো পিছু ছাড়ে না। এই বীভৎস ধ্বংসযজ্ঞের জন্য দায়ী হিসেবে পোশাকশিল্পের কিছু অতি লোভী মালিক, কতিপয় দুর্বৃত্তকে চিহ্নিত করে বিচারের আওতায় আনা হয়েছে। কিন্তু বরাবরের মতো সমস্যার কেবল এই ‘ব্যক্তিকরণের’ ফাঁকিতে আর কতকাল কাটবে আমাদের? সাভারের এই ছোট ছবি থেকে আরও বড় ছবি, ইংরেজিতে যাকে বলে ‘বিগ পিকচার’, তার দিকেও তো চোখ রাখতে হবে। এই যে লোভ, যা শ্রমিকদের ভাঙা দালানের মৃত্যুপুরীতে কাজ করতে পাঠায়, জ্বলন্ত কারখানার ভেতর শ্রমিকদের রেখে দরজায় তালা লাগিয়ে দেয়, তা শুধু ব্যক্তির ভেতর সৃষ্টি হয় না। এর শিকড় রয়েছে আরও গভীরে, রয়েছে সেই ব্যবস্থায়, যা ব্যক্তির লাগামহীন লোভকে অবাধে ছুটে চলবার সুযোগ করে দেয়। মুনাফার জন্য ব্যক্তির এই লোভের জন্ম হওয়ার একটা শাস্ত্র আছে, বিজ্ঞান আছে, ইতিহাস আছে। সমাজবিজ্ঞানীরা ঢাউস বইপত্র লিখে দেখিয়ে গেছেন, কীভাবে পুঁজি যখন লাগামহীন থাকে, তখন অবিরাম মুনাফা অর্জনই হয়ে ওঠে এর মৌলিক ধর্ম। দেখা গেছে, যেসব রাষ্ট্র পুঁজির লাগাম টেনে ধরতে পারে, সেখানে দেখা দেয় পোষ মানা পুঁজি। যেখানে তা পারে না, সেখানে মাথা তোলে বর্বর পুঁজি। বলা বাহুল্য, এ দেশে বহুকাল থেকেই লকলকিয়ে বেড়ে উঠছে বর্বর ধারার পুঁজি। অথচ আমাদের দেশে স্বাধীনতার পর প্রাথমিক পর্বে পুঁজির এই অবাধ গতিকে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এমনকি মুনাফাকেন্দ্রিক পুঁজির চাকা সম্পূর্ণ ঘুরিয়ে দেওয়ার ইচ্ছায় সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের চেষ্টাও হয়েছে এখানে। কিন্তু সেসব চেষ্টা নানা ষড়যন্ত্র, হত্যা ইত্যাদির মধ্য দিয়ে নস্যাৎ করা হয়েছে। তারপর ক্রমশ এমন একটা ব্যবস্থার দিকে দেশ গেছে, যেখানে পুঁজির আর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তৈরি করা হয়েছে অবাধ এক বাজার, যেখানে যে কেউ যেকোনো উপায়ে নেমে পড়তে পারে শুধু অন্তহীন মুনাফার লড়াইয়ে। এমন একটা ব্যবস্থায় পুঁজি অবধারিত হয়ে পড়ে লুটেরা, বর্বর। এই লুটেরা পুঁজি কী করে আমাদের রাজনীতির সিংহাসনে গিয়ে ক্রমশ বসেছে, আমরা তা দেখেছি। যাঁরা এই অন্তহীন মুনাফা মেশিনের কারিগর, তাঁরাই একে একে হয়েছেন রাজনীতির মূল মাঠের খেলোয়াড়। মুক্ত বাজারের চৌকস ব্যবসায়ীরাই ধীরে ধীরে হয়েছেন দেশের রাজনীতির নিয়ন্তা। বর্বর পুঁজির ফাঁকফোকর দিয়ে যাঁরা অবিরাম লাভবান হন, তাঁদের হাতেই যদি রাষ্ট্রের চরিত্র নির্ধারণের দায়িত্ব থাকে, তাহলে তাঁরা কোন দুঃখেই বা পুঁজির লাগাম টেনে ধরবেন? ফলে খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই পুঁজি হয়ে উঠবে আরও বন্য, আরও রক্তপিপাসু। মুনাফাকেন্দ্রিক পুঁজি নিয়ন্ত্রণের কথা এখন কেবল শোনা যায় বাম রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে। কিন্তু বামগণ তাঁদের ভেতরকার মত ও পথের সূক্ষ্ম তর্কে-বিতর্কে, দলে-উপদলে বিভক্ত হয়ে ছিন্নভিন্ন। নিপীড়িত মানুষের কল্যাণের প্রশ্নে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হওয়া সত্ত্বেও নানা ব্যর্থতায় তাঁদের নাম জুটেছে নাস্তিক হিসেবে। তাঁরা কখনো রাজনীতির মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হবেন কি না, তা ভবিষ্যৎই বলবে। তবে সাভারে যে বাণিজ্য-সন্ত্রাস আমরা দেখলাম, এর নিষ্পত্তির জন্য আমাদের রাষ্ট্রকাঠামোর সেই বড় ছবিটার দিকে তাকাতেই হবে। আমরা জানি, ইতিহাসে পুঁজির পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে সমাজতান্ত্রিক ধারার সমাজ গড়ার চেষ্টা হয়েছে কিন্তু বিপর্যয় নেমেছে সেখানে। ভাবা হয়েছিল, সমাজতান্ত্রিক ধারার পতনের পর বুঝি মুক্তবাজার অর্থনীতিই স্বর্গরাজ্য তৈরি করবে পৃথিবীতে, কিন্তু বিপর্যয় নেমেছে সেখানেও। পুঁজিবাদী বিশ্ব ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে এখন। দুই ধারার সাফল্য, ব্যর্থতা মিলিয়ে পুঁজিকে বাগে আনার নানা রকম চেষ্টা চলছে পৃথিবীর দেশে দেশে। কারণ, ইতিমধ্যে এই শিক্ষা হয়েছে সবার যে পুঁজিকে বাগে না আনলে তা এমন বর্বর হয়ে ওঠে, যা ব্যাপক ধস নামায় অর্থনীতিতে। জাপানি ব্যতিক্রমী সমাজবিজ্ঞানী হিরোসি তাসাকার একটা লেকচার ক্লাসের ইউটিউবে দেখছিলাম, ক্লাসে এসে ঘরের সব বাতি নিভিয়ে অন্ধকারে তিনি রূপকথার গল্প বলছেন ছাত্রদের। গল্পটা দীর্ঘ হলেও তার নির্যাসটা এ রকম: অনেক অনেক দিন আগের কথা। গ্লোবারিয়া নামের এক রাজ্যে ছিল ছোট্ট এক গ্রাম, যার নাম জাপোনিয়া। সে গ্রামে থাকত কেনজি আর চিকো নামের দুই ভাইবোন। গ্লোবারিয়া রাজ্যে ছিল আমারিয়া, ইউরোয়া, রুসুয়া, চীনুয়া, এসিওয়া, আফ্রিয়া এমনি আরও অনেক গ্রাম। গ্লোবারিয়ার অধিবাসীরা বিশ্বাস করত, এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ড চলে টাকার শক্তিতে। তারা শুধু টাকার পেছনে ছুটত। তাদের সমাজ যে নিয়মে চলত, তার নাম ছিল বর্বর পুঁজিবাদ। তারপর একদিন আমারিয়া গ্রামের এক বড়লোক ব্যবসায়ী এসে সব গ্রামে গ্রামে কী এক ভুয়া জিনিস ফেরি করে গেলেন। সেই আমারিয়া গ্রামের ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হতে থাকল গ্লোবারিয়ার গ্রামের পর গ্রাম। জাপোনিয়া গ্রামের কেনজি আর চিকোর মা-বাবাও সর্বস্ব হারালেন। কেনজি আর চিকো গ্রামের মোড়লের কাছে গিয়ে জানতে চাইল, কী করে এই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়া যায়। মোড়ল ভেবে বললেন, এ অবস্থা থেকে উদ্ধার পেতে আমাদের এই বর্বর পুঁজিবাদ ভেঙে বিজ্ঞ পুঁজিবাদ গড়তে হবে। কী করে পুঁজিবাদকে বিজ্ঞ করা যাবে—জানতে চাইল কেনজি। মোড়ল বললেন, সে কথা তোমাদের হয়তো বলতে পারবেন কোনো অর্থনীতিবিদ। কেনজি ও চিকো তখন গেল বিখ্যাত সব অর্থনীতিবিদের কাছে। এক অর্থনীতিবিদ বললেন, পুঁজিকে আরও নিয়ন্ত্রণ করলেই তা হয়ে উঠবে বিজ্ঞ। আবার অন্যজন বললেন, পুঁজিকে বিজ্ঞ হতে হলে নিয়ন্ত্রণ নয়, তাকে মুক্ত করে দিতে হবে। চিকো আর কেনজি পড়ে গেল ধাঁধায়। তারা আবার গেল মোড়লের কাছে। মোড়ল বললেন, তোমরা বরং জঙ্গলে যে সন্ন্যাসী আছেন, তাঁকে গিয়ে জিজ্ঞাসা করো। চিকো আর কেনজি এবার সেই সন্ন্যাসীর কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করল, আপনি কি আমাদের জানাবেন, বিজ্ঞ পুঁজিবাদ কাকে বলে? সন্ন্যাসী বললেন, বিজ্ঞ পুঁজিবাদ কাকে বলে জানতে হলে তোমাদের জানতে হবে বিজ্ঞ মন কাকে বলে। কাকে বলে বিজ্ঞ মন—জিজ্ঞাসা করে কেনজি আর চিকো। সন্ন্যাসী বললেন, বিজ্ঞ মন অদৃশ্য মূল্যকে দেখতে পায়। সাধারণ মানুষের প্রজ্ঞা, নিজস্ব জনপদের সদ্গুণ, পারস্পরিক সহমর্মিতা—এসবই হচ্ছে অদৃশ্য মূল্য। বিজ্ঞ মন যখন সেসব অদৃশ্য মূল্য দেখতে পায়, তখন বিজ্ঞ পুঁজিবাদ সেসব অদৃশ্য পুঁজিকে মূল্য দিতে শুরু করে। চিকো তখন খুশি হয়ে কেনজিকে বলে, তাহলে চলো, আমরা গ্রামের সবাইকে এই অদৃশ্য পুঁজির কথা জানাই, সবাইকে মিলে গড়ে তুলি এক নতুন অদৃশ্য পুঁজিবাদ। সন্ন্যাসী বলেন, দাঁড়াও। তোমরা গ্রামে ফিরে গিয়ে যে মাটির ওপর দাঁড়াবে, সেটার দিকে ভালো করে তাকাবে। কেন? জানতে চায় কেনজি আর চিকো। সন্ন্যাসী তখন বললেন, কারণ, তোমাদের জাপোনিয়া গ্রামের মাটিতে ওই সব অদৃশ্য পুঁজি অঢেল ছড়িয়ে আছে। নিজের মাটির সেসব অদৃশ্য পুঁজি সংগ্রহ করেই তোমরা গড়ে তুলতে পারো তোমাদের নিজস্ব জোপানিয়ান বিজ্ঞ অদৃশ্য পুঁজিবাদ। আমারিয়া গ্রামের ভণ্ড ফেরিওয়ালার খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব হওয়ার আগে আমাদের নিজেদের অদৃশ্য পুঁজিগুলো খুঁজে নেওয়া দরকার। সাধারণ মানুষের প্রজ্ঞা, নিজস্ব জনপদের সদ্গুণ আর পারস্পরিক সহমর্মিতার অদৃশ্য পুঁজির অঢেল ছড়াছড়ি আমরা দেখেছি এই সাভারের চরাচরেই। ভাবতে হবে, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অদৃশ্য পুঁজিগুলো কুড়িয়ে আগামী বাংলাদেশকে কোন পথে নিয়ে যাব আমরা—বিজ্ঞ পুিঁজবাদের পথে, নাকি বিজ্ঞ নতুন কোনো সমাজতন্ত্রের পথে? জীবনানন্দের একটা কবিতার বক্তব্য এ রকম, ‘একটা পৃথিবী নষ্ট হয়েছে আমাদের আগে, আরেকটা পৃথিবী গড়বার জন্য লাগে, সকালের আকাশের মতো বয়স’। যাদের এখন সকালের আকাশের মতো বয়স, তাদের সাভারের মতো টুকরো ছবির সূত্র ধরে দেশের সেই বড় ছবিটা নিয়ে ভাবতে হবে। তা না হলে সীমাহীন লোভের যে ঘূর্ণিঝড় দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দেশের চারদিকে, তাতে এভাবেই আরও অগণিত ফাটল ধরবে দেয়ালে দেয়ালে। এই দুঃখের পারাবারে আরও অগণিতবার নামবে চোখের জলের জোয়ার। শাহাদুজ্জামান: কথাসাহিত্যিক।zaman567@yahoo.com

শুভ বাংলাদেশেরপদধ্বনি by আবুলমোমেন

বাংলা প্রবাদ বলে, বিপদে বন্ধুর পরিচয়। এ-ও আমরা জানি, বাঙালি এক আবেগপ্রবণ জাতি। কারও বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়ার অভ্যাস তার বহুদিনের। সমাজ বরাবর সংঘবদ্ধ ছিল এবং দারিদ্র্যের মধ্যেও মানবতাবোধ কখনো হারায়নি বাঙালি। সাভারে ভবনধসের ঘটনায় সেনাসদস্য, দমকল সদস্য, চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিঃস্বার্থ মানবসেবার অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্থানীয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আর সেখানকার চিকিৎসক-ছাত্রদের কথাও না বললেই নয়। তাঁরা প্রত্যেকে অকাতরে সর্বস্ব দিয়ে সেবাকাজে আত্মনিয়োগ করেছেন। আমরা জানি, এর একটা উল্টো পিঠও আছে। সোহেল রানা ও ভবনের পোশাকশিল্প কারখানার মালিকদের প্রসঙ্গ আসবেই। চরম লোভ তাঁদের সাধারণ বিবেচনা ও মানবতাবোধ হরণ করে নিয়েছিল। সমাজে সোহেল রানারা স্বয়ম্ভু নন, তাঁদের বেড়ে ওঠার অবলম্বন থাকে। বরাবরের মতো এ ক্ষেত্রেও ক্ষমতাসীন দলের নেতাই তাঁর অবলম্বন ছিল। আমরা জানি, সমাজে দুর্নীতি আছে, ক্ষমতার অপব্যবহার চলে, বঞ্চনা ও বৈষম্য ব্যাপক, আইন না মানার প্রবণতা বেড়েই চলেছে। এর বাইরে দারিদ্র্য, কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস, জঙ্গিপ্রবণতার মতো সমস্যাও আছে। দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি বেশ খারাপ, বিচারবহির্ভূত খুন ও গুমের ঘটনা উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে, নারীর স্বাধীনতা নানাভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, সংখ্যালঘুরাও বারবার হামলার শিকার হচ্ছেন। কান পাতলে চারদিকে নানা অশুভ দুঃসংবাদ শুনতে পাই। এত কিছুর মধ্যেও কিন্তু বাংলাদেশ উন্নয়ন ও সামাজিক সূচকে এগিয়ে চলেছে। সম্ভাবনার অন্যতর বারতাও আমরা পাচ্ছি। এই বছর অল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি ঘটনায় যেন শুভ বাংলাদেশের সন্ধান পাওয়া গেল। ফেব্রুয়ারিতে যখন শাহবাগে গণজাগরণ মঞ্চের সূচনা হলো, তাতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেগে উঠেছিল। এ ছিল একদল দেশপ্রেমিক তরুণ-তরুণীর দলীয় রাজনীতির বাইরে এসে জাগরণ। বলা যায় বাংলাদেশের নবজাগরণ, যা সূচনা করেছিল নতুন সম্ভাবনার। আমাদের ক্ষমতার রাজনীতির দুই শরিক বড় রাজনৈতিক দল এ সম্ভাবনাকে দুভাবে দেখল। তবে রাজনৈতিক প্রজ্ঞা প্রদর্শনের কঠিন পরীক্ষা দুই দলের মধ্যে বিএনপির জন্য ছিল বেশি। বিএনপি নেতৃত্ব প্রথম দিকে এ জাগরণের প্রতি কিছুটা আগ্রহ প্রদর্শন করেছিল। কিন্তু ভরসা করতে পারেনি। আর খালেদা জিয়া গতানুগতিকতার বাইরে এ জাগরণের অন্যতর যে ব্যঞ্জনা ও সম্ভাবনা, তা ধরতে পারেননি। ফলে এটিকে আওয়ামী লীগের একটি চাল হিসেবে ধরে নিয়ে এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন। এ অবস্থান কেবল গণজাগরণ মঞ্চের মহত্তর উদ্দেশ্য ও সম্ভাবনাকে বিতর্কিত করে তুলল তা নয়, তাঁর নিজের দলকেও ঠেলে দিল জামায়াত ও ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর সঙ্গে ঐক্যের দিকে। আমরা দেখছি, সেই ঐক্য এখন রাজনৈতিক কৌশল ছাপিয়ে আদর্শিক বন্ধনে রূপ নিয়ে বেশ জোরদার ও কার্যকর হয়েছে। বিএনপি এখন জামায়াতের মতোই পুরোদস্তুর গণজাগরণ মঞ্চের প্রতিপক্ষ। এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে মাঠে নেমেছে হেফাজতে ইসলাম। মূলত কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এ সংগঠন ইসলামি সমাজব্যবস্থা কায়েমের নামে খোলাখুলি সরকারের বিরুদ্ধে নেমে পড়েছে। সরকারবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গী হিসেবে জামায়াত ও বিএনপি এদের মদদ দিচ্ছে। ফলে এখন প্রায় অস্তিত্বের প্রশ্নেই গণজাগরণ মঞ্চকেও আওয়ামী লীগের সহযোগিতা নিতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগও যেন এ সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। এ হলো আমাদের গতানুগতিক রাজনীতির গৎবাঁধা পথ। কিন্তু আবারও বলব, গণজাগরণ মঞ্চ অন্য সম্ভাবনা নিয়ে তৈরি হয়েছিল। বড় দুই দলের গৎবাঁধা রাজনীতি তার সে সম্ভাবনা ক্ষুণ্ন করেছে।  এ পরিণতি দেশের জন্য ভালো হলো না। দুঃখের সঙ্গে কেবল বলতে হবে, বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে বেরোনোর যে সুযোগ গণজাগরণ মঞ্চকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত স্তিমিত হয়ে এল। কিন্তু বাংলাদেশ তো আর মরবে না, ব্যর্থ রাষ্ট্র হবে না। অন্য কোনো উপলক্ষে অন্য কোনো পরিস্থিতিতে শুভ বাংলাদেশের জাগরণ আবারও ঘটবে। আর দেখতে দেখতে তা ঘটে গেল সাভারে ভবন বিপর্যয়কে কেন্দ্র করে। আমরা দেখেছি, এ মানবিক ট্র্যাজেডির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তরুণ-তরুণীসহ সর্বস্তরের মানুষ আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও মানবপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। অসংখ্য মানবিক কাহিনির জন্ম দিয়েছে এ ঘটনা, আর তাতে দেশের সর্বস্তরের মানুষের যোগ ঘটেছে স্বতঃস্ফূর্ত আন্তরিকতায়। আবারও আমরা শুভ বাংলাদেশের জাগরণ দেখলাম, তাকে কেন্দ্র করে মানুষের ঐক্যবদ্ধ ভূমিকাও দেখলাম। একটা বিষয় পরিষ্কার বোঝা যায়, নানা ব্যর্থতা আর দুর্নীতি-দারিদ্র্যের কেচ্ছার জঞ্জাল ডিঙিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আজ মহৎ কিছু করতে চায়। মহৎ কাজে শরিক হতে চায়। ক্ষুদ্রতা, স্বার্থপরতা, লোভ, প্রতারণা, নিষ্ঠুরতার যে বৃত্ত, তা ভেঙে দিতে চায় তারা। প্রধান দুই রাজনৈতিক দলকে কেন্দ্র করেই কিন্তু এসব নেতিবাচক প্রবণতা টিকে আছে। তাদের মধ্যকার আদর্শিক বিরোধের সুযোগে এবং তাদের সংঘাতের উপলক্ষে সমাজে নানা নেতিবাচক প্রবণতা বাড়ছে দিনে দিনে। এ দুই দলকে কেন্দ্র করে দেশ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে, সংঘাতের মধ্যে জড়িয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেশের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ, এতকালের এ গতানুগতিক ক্ষমতার রাজনীতি নিয়ে বিরক্ত। এ থেকে ভালো কিছু তারা আশা করছে না। যারা আদর্শের প্রশ্নে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করে এগোতে চায়, তারা দুই প্রধান রাজনৈতিক বিকল্পের মধ্যে হয়তো আওয়ামী লীগকে ভোট দেয় কিংবা এ সরল দ্বিধাবিভক্ত রাজনীতিতে তার ভূমিকা আদর্শিক বিচারে আওয়ামী লীগের পক্ষে যায়। কিন্তু সেও আদতে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকেন্দ্রিক দূষিত দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনীতির ওপর বিন্দুমাত্র ভরসা করে না। আমার ধারণা, গণজাগরণ মঞ্চের তরুণদের যে আন্দোলন বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির দোটানায় আজ আওয়ামীপন্থী হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে, তাকেও আদতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ-সমর্থক বলে মনে করার কোনো কারণ নেই, এমনকি তাদের মনে বর্তমান আওয়ামী লীগ আর সে কাজে সক্ষম কি না, সে প্রশ্নও গভীর হওয়ার কথা। আজ যারা সাভার ট্র্যাজেডিতে মানবতার সেবায় ঝাঁপিয়ে পড়েছে, তারাই মূলত শুভ বাংলাদেশের দূত। তারা বিএনপি নয়, জামায়াত নয়, আওয়ামী লীগও নয়। শুভ বাংলাদেশের দূতেরা একটি বারতাই সবার কাছে পৌঁছাতে চাইছে, আর তা হলো, গতানুগতিক ধারার ক্ষমতার রাজনীতির দিন শেষ। এ দিয়ে দেশের মানুষের বা গণতন্ত্রের আর কোনো সেবা করা সম্ভব নয়। আজ নতুন দিনে নতুন রাজনীতির এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রয়োজন। তারা বারবার সেই বারতা আমাদের দিতে চাইছে। দুই দলের দখলদারির যে রাজনীতি চলছে, তা কাউকে নিজ দখলে সম্পূর্ণ না পাওয়া পর্যন্ত স্বস্তিবোধ করে না। এ রাজনীতি বশ্যতা-আনুগত্য-দাসত্বের রাজনীতি, এ রাজনীতি জানে না বিশ্বাস ও বন্ধুতা, স্বপ্ন ও সৌহার্দ্য, প্রেম ও মৈত্রীর মতো ইতিবাচক গুণাবলি। এ রাজনীতি লোভ ও দাপটের মতো দানবের কাছে বন্দী। এ রাজনীতি মানবকে হয় দানব বানায়, নয়তো বামন বানিয়ে ছাড়িয়ে দেয়। এ রাজনীতি যে বন্ধ্যা, আমাদের সব সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করে দিচ্ছে, মানুষের স্বপ্নকে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে, সেটা তরুণসমাজ বুঝতে পারে। তারা আজ জেগে উঠেছে। হয়তো শাহবাগ ঘিরে সৃষ্ট প্রাথমিক উন্মাদনায় ভাটা পড়েছে। কারণ, সমাজের বাস্তবতায় এটাই ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু তাদের সেই স্পৃহা, সেই আবেগ, সেই স্বপ্নে একটুও ভাটা পড়েনি। তারা জেগে আছে, সক্রিয় আছে, যেখানে প্রয়োজন সেখানে যুক্তির আয়ুধ নিয়ে হাজির হচ্ছে। বিএনপি-জামায়াত-হেফাজত সুস্পষ্টভাবে নিজেদের জন্য তামাদি হয়ে যাওয়া রাজনীতি আঁকড়ে ধরেছে। আওয়ামী লীগের চলমান রাজনীতিও তামাদি হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আদর্শিক অঙ্গীকারকে কেবল মুখের বুলিতে বা শুধুই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে সীমাবদ্ধ না রেখে দৈনন্দিন দলীয় রাজনীতিতে যদি প্রয়োগ করতে পারে, তবে হয়তো শেষরক্ষা হতে পারে। অতীতে বঙ্গবন্ধু পরিস্থিতি ও বাস্তবতার দাবি বুঝে রাজনীতিতে সৃজনশীলতার পরিচয় দিতে পেরেছেন, দলের আদর্শকে ক্রমেই প্রতিক্রিয়া থেকে প্রগতির পথে নিয়ে এসেছিলেন। আজকের নেতৃত্বের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো, তামাদি হয়ে যাওয়া রাজনীতির বৃত্ত থেকে বেরিয়ে এসে আগুয়ান শুভ বাংলাদেশের যাত্রায় শামিল হয়ে দিনবদলের প্রকৃত কাজটি করা। একটা আশা জাগে, যখন দেখি প্রাথমিক পর্যায়ে গতানুগতিক প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্য ব্যক্ত করার পরে প্রধানমন্ত্রী পরিস্থিতির গভীরতা অনুধাবন করে উদ্ধারকাজ ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণে সরকারকে সঠিক পথে পরিচালনা করতে পেরেছেন। এ সরকারের প্রথম পর্যায়ে বিডিআর বিদ্রোহ যেমন, তেমনি শেষ পর্যায়ে সাভার ট্র্যাজেডি বিরাট ঝুঁকি ও বিপর্যয় হিসেবে এলেও শেখ হাসিনা যথেষ্ট প্রজ্ঞার সঙ্গেই দুবারই পরিস্থিতি সামলেছেন। তিনি কি জনগণের, বিশেষত তরুণসমাজের ইশারা বুঝতে পারছেন? আমরা আশা করতে চাই। নয়তো বাংলাদেশে নতুন দিনের রাজনীতি ও রাজনৈতিক দলের কথা ভাবতে শুরু করবে তরুণসমাজ। আবুল মোমেন: কবি, প্রাবন্ধিক ওসাংবাদিক।

বাংলাদেশে পোশাকশিল্পেরভবিষ্যৎ

সাভারে ভবনধসে সৃষ্ট মানব-বিপর্যয়ের পর সংগত কারণেই দেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই শিল্পে কি পোশাক তৈরি হয়, না শিল্পকর্মীদের অনিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে বাধ্য করে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়? সাভারের ঘটনায় সারা বিশ্বে বড় বড় ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। ভ্যাটিকানের পোপ বাংলাদেশে পোশাকশিল্পে দাসপ্রথা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, বাংলাদেশের পোশাক কারখানার অনেক মালিক পশ্চিমা ব্যবসায়ীদের মতো ধনাঢ্য, অথচ কারখানার শ্রমিকদের খুবই কম মজুরি দেন। এসব অভিযোগ অসত্য নয়। উপরন্তু, প্রতিবছর ঈদের আগে বকেয়া বেতন-বোনাসের জন্য শ্রমিকদের রাস্তায় নামতে হয়। প্রতিবার অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও ভুল-ত্রুটি দূর করার কথা বলা হলেও তা কার্যকর হয়নি। নিহত শ্রমিকদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, আহত শ্রমিকদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করা হয়নি। আইনি ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় পরবর্তীকালে পোশাকশিল্পের মালিকেরা শ্রমের পরিবেশ উন্নত করা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার প্রতি প্রয়োজনীয় মাত্রায় মনোযোগী হননি। এই তিক্ত বাস্তবতার পটভূমিতে এখন বিশ্বের নামীদামি ব্র্যান্ড বাংলাদেশ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বছরে দুই হাজার কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে যে শিল্প দেশের অর্থনীতিতে প্রাণ সঞ্চার করছে এবং যার ওপর ৪০ লাখ শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের জীবন-জীবিকা নির্ভরশীল, সেই শিল্পকে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। এ জন্য সর্বাগ্রে দরকার শ্রমিকদের নিরাপত্তা, কাজের উন্নত পরিবেশ ও মজুরি নিশ্চিত করা। আইএলওর উপমহাপরিচালক গিলবার্ট হুংবো বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বর্জন বা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ না করার জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ব্র্যান্ডগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসন্ন বিপর্যয় এড়ানোর যে উদ্যোগ নিয়েছেন, আমরা তাকে স্বাগত জানাই। কিন্তু প্রাথমিক দায়িত্ব আমাদেরই। সরকার ও বিজিএমইএর পক্ষ থেকে নিয়মিত তদারকি, অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং দোষী উদ্যোক্তাদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে। আমরা মনে করি, শ্রম ও শ্রমিকের নিরাপত্তা দেওয়া গেলে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশি পোশাকশিল্পের হারানো ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে না। � * a �� p� nt-size:13.0pt;mso-bidi-font-size:10.0pt;font-family: "Sulekha Sundar";mso-bidi-font-family:SolaimanLipi'>, ইসরায়েল যে সিরিয়ার যুদ্ধে হস্তক্ষেপ করেছে, সেটা তো এখন বাস্তবতা। ইসরায়েল বলতে পারে, তারা কেবল হিজবুল্লাহগামী অস্ত্রগুলোকেই নিশানা করেছে। আসলে এই অস্ত্রগুলোই তো বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হতো। সরকারি বাহিনীর অস্ত্রভান্ডার ধ্বংস করার উদ্দেশ্য একটাই, বিদ্রোহী জঙ্গিরা যাতে বাশার আল-আসাদের সরকারকে উচ্ছেদ করতে পারে, তার পথ সুগম করা। আর যেহেতু ইসরায়েল নিজেকে পশ্চিমা রাষ্ট্র মনে করে—মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর জিগরি দোস্ত, পরম বন্ধু ইত্যাদি ইত্যাদি—এর মানে হচ্ছে ‘আমরা পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো’ এই যুদ্ধে জড়িয়ে গেছি, সরাসরি আকাশ থেকে হামলা চালাচ্ছি।দেখি এবার, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলি বিমান হামলার নিন্দা করে কি না। আমার সন্দেহ আছে। যদি আমাদের সরকারগুলো নীরব থাকে, তাহলে এর মানে দাঁড়াবে যে এই হামলায় তাদের সায় আছে। নীরবতা, স্যার টমাস ম্যুরের ভাষায়, সম্মতির সমার্থক। অথচ কিনা ইরান আর হিজবুল্লাহকে অভিযোগ করা হচ্ছে যে তারা সিরিয়ায় হস্তক্ষেপ করছে। সত্যি করছে বটে, কিন্তু আমরা যতটা ভাবি ততটা নয়। এবং কাতার আর সৌদি আরব বিদ্রোহী জঙ্গিদের অস্ত্রের জোগান দিয়ে যাচ্ছে, এটাও সত্যি, কিন্তু সিরীয় বিদ্রোহীরা বলবে, পাচ্ছি বটে তবে ততটা নয়। এবং এ-ও সত্যি, ইসরায়েল এই যুদ্ধে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছে। আমরা পশ্চিমারা এখন সিরীয় সরকারের বিরুদ্ধে সামরিকভাবে জড়িত হয়ে গেছি। ব্রিটেনের দি ইনডিপেনডেন্ট থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনূদিত রবার্ট ফিস্ক: ব্রিটিশসাংবাদিক। � < � � �?� �� করা হয়েছে। বাকি সাড়ে পাঁচ সহস্রাধিক গ্রন্থাগারিকের চাকরি এখন পর্যন্ত এমপিওভুক্ত করা হয়নি। ইতিমধ্যে এমপিওবিহীন অনেক সহকারী গ্রন্থাগারিকের সরকারি চাকরির বয়সসীমা শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা অত্যন্ত হতাশ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় এমপিওবিহীন সহকারী গ্রন্থাগারিকদের চাকরি যাতে অতি শিগগির এমপিওভুক্ত করা হয়, সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হাফিজুর রহমান ফুলজোড় রহিম জাফর উচ্চবিদ্যালয় মাদারগঞ্জ, জামালপুর।

সহিংসতার কবলে অর্থনীতি

দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা-সংঘাত বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সহিংসতা। জ্বালাও-পোড়াও আর ভাঙচুর প্রায় নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে উঠেছে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যেও বড় ধরনের আঘাত নেমে এসেছে। সাম্প্রতিক সহিংসতার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে বাণিজ্যিক স্থাপনাগুলো। এমনভাবে সহিংসতা করা হচ্ছে যেন ব্যবসা-বাণিজ্য বাধাপ্রাপ্ত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ধ্বংস হয়, ব্যাহত হয় যোগাযোগব্যবস্থা। এর মধ্য দিয়ে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও আক্রান্ত হচ্ছে। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। সর্বশেষ গত রোববার রাজধানীতে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে যেভাবে ছোট-বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, দোকানপাট ও ব্যাংক-বিমায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে অনেকটা পরিকল্পিতভাবেই অর্থনীতিকে পঙ্গু করার পথ বেছে নিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।  বস্তুত কয়েক মাস ধরে হরতাল-অবরোধসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচি যেভাবে বিস্তার লাভ করেছে, তাতে ভবিষ্যতে পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার আশঙ্কাই জোরদার হয়েছে। এর জন্য অনেক বেশি মাশুল গুনতে হবে সামগ্রিকভাবে অর্থনীতিকে। এমনিতেই সরকারের ক্ষমতার শেষ ভাগে এসে মূলত অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাজনিত অদক্ষতা-দুর্বলতার প্রভাবে অর্থনীতির গতি শ্লথ হয়ে পড়েছে। একের পর এক কেলেঙ্কারি আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা নষ্ট করে দিয়েছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির হার নিম্নমুখী হয়ে গেছে। চলতি অর্থবছর শেষে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা তো অর্জিত হবেই না, বরং তা সাড়ে ৬ শতাংশের নিচেও নেমে আসতে পারে। দেশি-বিদেশি একাধিক প্রতিষ্ঠান এ রকম পূর্বাভাসই দিয়েছে। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, বিশেষত খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। এটা নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমিয়ে দিচ্ছে। রপ্তানি আয়ও অর্থবছরের ১০ মাস ধরে লক্ষ্যমাত্রা ছুঁতে পারছে না। এই অবস্থায় এক হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের রেকর্ডে তুষ্টি খোঁজা অর্থহীন।  গতি-মন্থর অর্থনীতিতে সহিংসতার আগুন আগামী দিনে নতুন বিনিয়োগ তো আনবেই না, বরং বিদ্যমান বিনিয়োগ ধরে রাখাকেই ঝুঁকির মুখে ফেলবে। অন্যদিকে ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কার্যত পথে বসে গেছেন। এই বিপর্যয় তাদের নিম্ন জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলবে। আবার হামলা-ভাঙচুর ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তাব্যবস্থাকে বাড়তি ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। এটা ব্যবসার ব্যয় বাড়িয়ে দেবে।  এই বাস্তবতায় সরকারের প্রথম করণীয় হবে, মতিঝিলের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক-বাণিজ্য এলাকায় কোনো ধরনের সমাবেশ করতে না দেওয়া। ব্যবসায়ীদের তরফেও অনুরূপ অনুরোধ ছিল। তাতে কর্ণপাত না করে প্রথমে বিএনপি, পরে হেফাজতে ইসলামকে সমাবেশ করার অনুমতি দেওয়া মারাত্মক ভুল বলেই আমাদের ধারণা। অন্য জায়গায় সমাবেশ করলে যে সহিংসতা হতো না, তা জোর দিয়ে বলা যায় না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে সরকারের আগাম সতর্কতা ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ প্রয়োজন হয়। দ্বিতীয়ত, সব রাজনৈতিক দলের উচিত হবে এমনভাবে কর্মসূচি পরিচালনা করা, যেন ব্যবসা-বাণিজ্যে, মানুষের জীবিকা নির্বাহে আঘাত না আসে। এ জন্য দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার প্রয়োজন।