Wednesday, April 24, 2019

পোশাক শিল্পের অবদান বাড়লেও পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক -অ্যাকশন এইডের প্রতিবেদন

পোশাক শিল্পখাত দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখলেও, পরিবেশের জন্য খুবই উদ্বেগজনক। শিল্পের ক্রমাগত বিকাশের ফলে উৎপাদিত বর্জ্যের কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পরিবেশ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এখন থেকেই সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। গত ২১ এপ্রিল ঢাকার ব্র্যাক সেন্টারে অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ এবং ফ্যাশন রেভোলিউশন আয়োজিত ‘ভয়েসেস অ্যান্ড সল্যুশনস’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আতিকুল ইসলাম। এছাড়া সেমিনারে বক্তব্য রাখেন জায়ান্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক হাসান, নিউ এজ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ ইব্রাহিম, অনন্ত গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিজিএমইএ পরিচালক শরীফ জহির এবং কিউটেক্স সল্যুশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তহুরা খানম। অ্যাকশন এইডের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবিরের সঞ্চালনায় সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ফ্যাশন রেভুল্যুশনের কান্ট্রি ডিরেক্টর নওশীন খায়ের।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশের উপর পোশাক শিল্পখাতের এই নেতিবাচক প্রভাব কমাতে উদ্ভাবনী উদ্যোগ ও প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে শিল্প কলকারখানার পানি, জ্বালানী ব্যবহার হ্রাস করে বর্জ্য নিষ্কাশন কমানো প্রয়োজন।
প্রবন্ধে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী ফ্যাশন শিল্পের প্রায় ৩ ট্রিলিয়ন ডলার সমমূল্যের বাজার রয়েছে। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। তবে এই ফ্যাশন খাতই আবার পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম দূষণকারী খাত। ফ্যাশন খাত বিশ্বের ২০ শতাংশ বর্জ্য পানি এবং ১০ শতাংশ কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণের জন্য দায়ী। একই সঙ্গে তুলা চাষ ২০ শতাংশ কীটনাশক বস্তু এবং ১০ শতাংশ কীটনাশক উৎপাদনের জন্য দায়ী। এ খাতে মাত্র ১৫ শতাংশ বর্জ্য পুনরায় ব্যবহার করা যায়। ফলে ৮৫ শতাংশ বর্জ্যই প্রকৃতিতে ফেরত আসে বলেও উল্লেখ্য করা প্রতিবেদনে।
এতে আরো বলা হয়, শিল্প কারখানার সকল ক্ষেত্র, যেমন কাটা, সেলাই, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও তৈরি পোশাক উৎপাদনে বায়ু, পানি ও মাটি দূষণ করে থাকে। বেশিরভাগ কারখানা নদীর তীরে অবস্থিত হওয়ায় তাদের বর্জ্য নদীতে ফেলা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ফিন্যান্স করপোরেশনের এক গবেষণা মতে, প্রতিবছর পোশাক শিল্প কারখানায় পোশাক ও তুলা ধৌতকরণ এবং রঙ-এর কাজে ১৫০০ বিলিয়ন লিটার পানি ব্যবহার করা হয়। কারখানাগুলো ব্যবহারের পর এই বিষাক্ত পানি নদী এবং খালে নিষ্কাশন করে। নওশীন খায়ের প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন ইউএনএফসিসি’র মতে, ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যাশন শিল্পের জন্য গ্রিনহাউজ গ্যাস এবং বর্জ্য নিঃসরণ বৃদ্ধি পাবে ৬০ শতাংশ।
২০৫০ সালের মধ্যে ভোক্তাদের চাহিদা মেটাতে প্রয়োজন হবে বর্তমানে বিদ্যমান প্রাকৃতিক সম্পদের তিনগুণ। তাই এ নেতিবাচক প্রভাব কমিয়ে আনতে টেকসই ফ্যাশন শিল্পের দিকে ধাবমান হওয়া জরুরি। ফারাহ কবির বলেন, পানি দূষণের ফলে একদিকে কমছে মাছের সংখ্যা অপরদিকে হ্রাস পাচ্ছে চাষের উপযোগী জমি। বেশিরভাগ স্থানীয় কৃষক ও মৎস্যজীবীদের জীবিকা এখন ঝুঁঁকিপূর্ণ। পরিস্থিতি সামাল দিতে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এছাড়া ফ্যাশন শিল্পের কারণে বাংলাদেশ তার ভূগর্ভস্থ পানির পরিমাণ হারাচ্ছে বলেও জানানো হয় সেমিনারে। তবে পোশাক শিল্পের সামগ্রিক প্রভাব এবং স্থায়ী প্রক্রিয়ার ওপর ব্যাপক গবেষণা নেই বলে জানান বক্তারা। স্বচ্ছতা এবং গবেষণার মাধ্যমে আরো প্রমাণভিত্তিক তথ্যের প্রয়োজন বলে মত দেন আলোচকরা।
প্রধান অতিথি মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, আমরা যখন গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করছিলাম তখন আমাদের এ সম্পর্কে সচেতনার শিক্ষা কেউ দেয়নি। আমি যখন নিজেই ৯০’র দিকে ব্যবসা শুরু করি তখন কিন্তু কেউ আমাকে বলেনি পানি কোন দিক দিয়ে প্রবাহিত করবো। তিনি বলেন, সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে শিল্পকারখানা থেকে নিষ্কাশিত বর্জ্যের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে। বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আরো উন্নত করতে হবে। মেয়র বলেন, অংশীদারদের মধ্যেই এখনো সচেতনতার অভাব রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বাস্তবায়নে পোশাক শিল্পখাতে কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। নিজেদের দায়িত্ব না এড়িয়ে নিজেদের ব্যবহারে ও মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে।
বিজিএমইএ-এর সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক হাসান জানান, বর্জ্য নিষ্কাশনের পরিমাণ কমিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। এজন্য কর্মচারী ও শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।
বিজিএমইএর সদ্য নির্বাচিত পরিচালক শরীফ জহির বলেন, কাঁচামাল দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করলে বর্জ্যের  পরিমাণ আরো কমিয়ে আনা সম্ভব। পরিবেশবান্ধব মেশিন ব্যবহারসহ ভালো উদ্যোগগুলো প্রচারের মাধ্যমে অংশীদারদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করে এই সমস্যার সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

শোকে স্তব্ধ শ্রীলঙ্কা আইএস’র দায় স্বীকার: নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১

প্রাণঘাতী সিরিজ বোমা হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩২১ জনে পৌঁছেছে। ইতিমধ্যেই গতকাল নিহতদের প্রথম দফার গণঅন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। নেগাম্বোতে অবস্থিত সেইন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জায় চোখের জলে নিহতদের শেষ বিদায় জানিয়েছেন শোকাতুর স্বজনেরা। এদিকে, রোববারের হামলার দায় স্বীকার করেছে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গোয়েন্দা সংস্থা সাইট ইন্টেলিজেন্স বলছে, নিজেদের ওয়েবসাইটে আইএস দু’দিন আগের হামলায় তাদের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছে। তবে নিজেদের দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ হাজির করেনি তারা। এর আগে শ্রীলঙ্কান প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুয়ান বিজেবর্ধনে দাবি করেন, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে গত মাসে চালানো হত্যাযজ্ঞের প্রতিশোধ নিতেই শ্রীলঙ্কার চার্চে সিরিজ বোমা হামলা চালানো হয়েছে। পার্লামেন্টে তিনি এই বক্তৃতা দেয়ার খানিক বাদেই আইএসের দায় স্বীকার করার খবর পাওয়া যায়।
তবে এর আগে বলা হচ্ছিল, হামলার সঙ্গে স্থানীয় কয়েকটি উগ্রপন্থি দল জড়িত।
ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, গতকাল পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৩২১ জনে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন আরো প্রায় ৫০০ জন। এদের মধ্যে অনেকের অবস্থাই গুরুতর। গতকাল নগোম্বোতে অবস্থিত সেইন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জায় নিহতদের প্রথম দফা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ ছাড়া, গতকাল জাতীয় শোক দিবস পালন করে শ্রীলঙ্কা। নতুন করে হামলার আশঙ্কায় জারি করা জরুরি অবস্থাও বহাল রয়েছে।
এর আগে, রোববারের হামলার জন্য স্থানীয় ন্যাশনাল তৌহিদ জামায়াতকে (এনটিজে) দায়ী করেছিল সরকার। তবে এই গ্রুপটির বড় কোনো হামলা চালানোর ইতিহাস নেই। গত বছর তারা বৌদ্ধ মূর্তি ভাঙচুর করেছিল এতটুকুই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাদের হামলার দায় স্বীকারের কথাও প্রচার করা হয়েছে। একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মঙ্গলবার পর্যন্ত হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক করা হয়েছে অন্তত ৪০ জনকে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে একজন সিরীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
রোববার কলম্বোর উত্তরে নেগোম্বোতে অবস্থিত সেইন্ট সেবাস্তিয়ান গির্জায় বোমা হামলা হয়। সেখানেই  গতকাল নিহতদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। হামলার সময়ের সঙ্গে মিল রেখে স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে গতকাল ৩ মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এ সময় জাতীয় পতাকা ছিল অর্ধনমিত। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশগ্রহণকারীরা নীরবতা পালন করার সময় মাথা নিচু করে শ্রদ্ধা জানান নিহত ও আহতদের প্রতি।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র খবরে বলা হয়, রোববারের হামলার পেছনে দেশের অভ্যন্তরীণ দুইটি ইসলামপন্থি সংগঠন দায়ী বলে ধারণা তদন্তকারীদের। তারা হলো ন্যাশনাল তাওহিদ জামায়াত (এনটিজে) ও জামা’আতুল মুজাহিদীন ইন্ডিয়া (জেএমআই)। দ্বিতীয় সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয় গত বছর। এটি খুব কম পরিচিত সংগঠন।
এ ছাড়া, সন্দেহভাজনদেরকে আদালতের নির্দেশ ছাড়াই গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দেশটির পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। এর আগে গৃহযুদ্ধের সময় এমন ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল তাদেরকে। অন্যদিকে, আগে থেকে সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও কেন হামলা থামাতে ব্যর্থ হয়েছে দেশটি তা নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তোলপাড় চলছে সরকারে। বিষয়টি পুলিশ প্রধান পুজুথ শীর্ষ কর্মকর্তাদের জানালেও তা প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহ বা মন্ত্রিপরিষদকে জানানো হয় নি বলে অভিযোগ। কিন্তু কেন? এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদের মুখপাত্র রজিথা সেনারত্নে। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে ও প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনার মধ্যে বিরোধ আছে। এ জন্যই হয়তো রণিল বিক্রমাসিংহকে নিরাপত্তার বিষয়ে ব্রিফিং করা হয় নি। বিষয়টি তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের নেতৃত্বে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে।  
শোকে স্তব্ধ শ্রীলঙ্কা
নজিরবিহীনভাবে এত বিপুল সংখ্যক মানুষ নিহত হওয়ায় শোকে স্তব্ধ হয়ে আছে গোটা শ্রীলঙ্কা। কাঁদছে পুরো দেশ। ওদিকে পুলিশ প্রধানের সতর্কতা সত্ত্বেও হামলা বন্ধ করতে ব্যর্থতার জন্য ক্ষমা চেয়েছে দেশটির সরকার। মঙ্গলবার সকালে প্রধানমন্ত্রী রণিল বিক্রমাসিংহে টুইট করে জানিয়েছেন, ইস্টার সানডে’তে নিরপরাধ এত মানুষের কাণ্ডজ্ঞানহীন প্রাণহানিতে জাতি হিসেবে আমরা শোক প্রকাশ করছি। এতে তিনি শ্রীলঙ্কার জরুরি বিভাগ ও নিরাপত্তা রক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দ্রুত সেবায় এগিয়ে আসার জন্য। রোববার ইস্টার সানডে’র প্রার্থনার সময় তিনটি গির্জা, তিনটি বিলাসবহুল হোটেল ও অন্য দুটি স্থানে ভয়াবহ বোমা হামলা চালানো হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন সিএনএন।
সোমবার সরকার স্বীকার করে তারা আগে থেকে সতর্কতা থাকা সত্ত্বেও ব্যর্থ হয়েছে। তাদের দাবি এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী একটি গ্রুপ জড়িত থাকতে পারে। মুখপাত্র রাজিথা সিনারত্নে বলেছেন, হামলার আগেই সরকার সতর্কতা পেয়েছিল। এর মধ্যে একটি সতর্কতায় ন্যাশনাল তাওহীদ জামা’আতের (এনটিজে) কথা বলা হয়েছিল। রজিথা সেনারত্নে একই সঙ্গে দেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রীও। তিনি বিশ্বাস করেন না যে, স্থানীয় একটি গ্রুপ একা এই হামলা চালিয়েছে। তার ভাষায়, এর সঙ্গে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক আছে। ওদিকে শ্রীলঙ্কার সামরিক মুখপাত্র সুমিত আতাপাত্তু বলেছেন, বোমা হামলায় জড়িত ৬ আত্মঘাতী। জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার করা ২৪ জনের মধ্যে ৯ জনকে ৬ই মে পর্যন্ত রিমান্ডে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া, রাজধানী কলম্বোর প্রধান বাসস্টেশনের বেসরকারি টার্মিনাল থেকে পুলিশ ৮৭টি ডেটোনেটর উদ্ধার করেছে। রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে একটি বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

এই কিশোরীর পরিণতি কী?

দুই কিশোরের ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে এক কিশোরী (১৩)। কিন্তু ওই দুই কিশোর তাকে ছুরি নিয়ে ভয় দেখানোয় এ ঘটনা শুরুতে কাউকে জানায়নি সে। এখন জনপ্রতিনিধিসহ গ্রামের মাতবরদের পেছনে ঘুরে বিচার না পেয়ে মেয়েকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন ওই কিশোরীর মা-বাবা। গ্রামের কেউ মেয়েটির সহায়তায় এগিয়ে আসছে না। ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার সিংরইল ইউনিয়নের একটি গ্রামে ওই ঘটনাটি ঘটে।
মেয়েটির পরিবার দরিদ্র। তার বাবা দিনমজুর। মা নরসিংদীতে নানা ছুটা কাজ করেন। ১৭ এপ্রিল করা একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই কিশোরী এখন প্রায় আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা। মেয়েটি নিজেকে ঘরের ভেতর লুকিয়ে রেখেছে।
মঙ্গলবার দুপুরে ওই গ্রামে গেলে মেয়েটি জানায়, কয়েক মাস আগে নিজ বসতঘর থেকে বের হয়ে সামনের বাড়িতে টেলিভিশন দেখার জন্য যাচ্ছিল। এ সময় অন্ধকারে তার গলায় ছুরি ধরে প্রতিবেশী দুই কিশোর। তারা তাকে ঘরের পেছন দিকে নিয়ে যায়। সেখানেই তাকে ধর্ষণের শিকার হতে হয়। এ সময় ছুরি দেখিয়ে শাসায় তারা। ঘটনা জানাজানি হলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। মেয়েটি ভয়ে ধর্ষণের ঘটনা কারও কাছে বলেনি। কিন্তু দেহে পরিবর্তন আসতে শুরু করলে ঘটনা জানাজানি হয়ে যায়।
ওই কিশোরীর বাবার ভাষ্য, মেয়ের অবস্থা তিনি এলাকার ইউপি সদস্য মো. সাইদুর রহমান, সাবেক সদস্য আবুল কালাম ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতাকে জানিয়ে প্রতিকার চান। তাঁদের পরামর্শে মেয়ের আলট্রাসনোগ্রাম করানো হয়। প্রতিবেদন দেখার পর জনপ্রতিনিধিরা সাহায্য করতে রাজি হননি। আইনি প্রতিকার নেওয়ার জন্যও তাঁরা কেউ এগিয়ে আসেননি।
ওই গ্রামের বাচ্চু মিয়া (৪৫), লাল মিয়া (৬৫) ও আজিম উদ্দিন বলেন, ‘অভিযোগ শুনে ঘটনার সঙ্গে জড়িত এক কিশোরকে স্থানীয় মাতবরেরা জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার কথা আমাদের জানিয়েছিলেন। কিন্তু পরে তাঁরা (জনপ্রতিনিধি ও নেতৃবৃন্দ) আর এগোননি।’ ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান বলেন, এ ঘটনা মীমাংসা করার মতো নয়। তাই তাঁরা পিছিয়ে গেছেন।
ওই দুই কিশোরকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। এক কিশোরের মা মোছা. ফরিদা খাতুন (৪০) বলেন, তাঁর ছেলে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তবে সে কোথায় গেছে, তা তিনি বলতে পারবেন না।
আরেক কিশোরের মা মোছা. নাসরিন আক্তার (৪২) দাবি করেন, ‘আমার ছেলে ছোট মানুষ। সে এসব কাজ কিছুতেই করতে পারে না।’
প্রতিবেশীদের ভাষ্য, কিশোরীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে পড়ার পর দুই কিশোর গা ঢাকা দিয়েছে।

শিশুদের জন্য ম্যালেরিয়ার পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন

ম্যালেরিয়া থেকে শিশুদের আংশিক সুরক্ষা দিতে বিশ্বে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হতে যাচ্ছে। মশাবাহিত এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আফ্রিকার দেশ মালাওয়িতে ব্যাপক হারে পরীক্ষামূলকভাবে এই ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হচ্ছে। এর আগে ছোট পরিসরে ভ্যাকসিনটি প্রয়োগ করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার বিবিসি অনলাইনের খবরে জানানো হয়, আরটিএস, এস ভ্যাকসিনটি ম্যালেরিয়া জীবাণু থেকে রোগ সংক্রমণে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ম্যালেরিয়া মশার কামড় থেকে ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে ছোট পরিসরে এই ভ্যাকসিন পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করে দেখা গেছে, ৫ থেকে ১৭ মাস বয়সী যে শিশুদের এই ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে, তাদের ৪০ শতাংশ ম্যালেরিয়া থেকে সুরক্ষিত ছিল।
ভয়াবহ এই রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সফলতার এক দশক পর তা আবারও বেড়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুসারে, বিশ্বে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা আর কমছে না। এর পুনরুত্থানে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুসারে, ২০১৭ সালে বিশ্বে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা ২১ কোটি ৯০ লাখ এবং মৃত মানুষের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৫ হাজার। ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটো ক্ষেত্রেই ৯০ শতাংশের বেশি ঘটছে আফ্রিকায়। সেখানে বিশেষ করে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
মালাওয়িতে ২০১৭ সালে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে। আরটিএস, এস ভ্যাকসিন ব্যাপক হারে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ শুরু করার ক্ষেত্রে মালাউয়ির পাশাপাশি বেছে নেওয়া হয়েছে কেনিয়া ও ঘানাকে। ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক ব্যবহারে এই দেশগুলোকে বেছে নেওয়ার কারণ হচ্ছে, দেশগুলো ইতিমধ্যে ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বড় ধরনের কর্মসূচি পরিচালনা করছে। মশারি ব্যবহারের ওপর জনসচেতনতা তৈরি করছে। তবে এরপরও দেশগুলোতে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা অনেক বেশি।
ভ্যাকসিনটি তৈরিতে তিন দশকেরও বেশি সময় লেগেছে। ওষুধ প্রতিষ্ঠান জিএসকের বিজ্ঞানীরা ১৯৮৭ সাল থেকে এটি তৈরি করছেন। পাথ ম্যালেরিয়া ভ্যাকসিন ইনিশিয়েটিভসহ বিভিন্ন সংস্থার সহায়তায় বছরের পর বছর ধরে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। এতে ব্যয় হয়েছে আনুমানিক ১০০ কোটি ডলার।
সবশেষ ভ্যাকসিনের এই পর্যায়ে কাজটির সমন্বয় করছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটির দাবি, এই প্রথম ভ্যাকসিনের মাধ্যমে শিশুদের কিছু সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
অন্যান্য রোগের ভ্যাকসিনের সঙ্গে তুলনা করলে ৪০ শতাংশ কার্যক্ষমতা খুব বড় কিছু নয়। তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বলছে, আরটিএস,এস সুরক্ষামূলক আরও ব্যবস্থাও যুক্ত করবে। যেমন মশারি ব্যবহার, পোকামাকড় নিধন ইত্যাদি কর্মসূচি ইতিমধ্যে চলছে। এই ভ্যাকসিন পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।
ভ্যাকসিনটি চারবার দিতে হবে। পরপর তিন মাসে একটি করে এবং চতুর্থ ডোজ দিতে হবে ১৮ মাস পর। পরীক্ষামূলক ভ্যাকসিন দেওয়ার এই পর্যায় ২০২৩ সালে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কিছুদিনের মধ্যে এই কর্মসূচি কেনিয়া ও ঘানায় শুরু করা হবে।

নারীরা যেভাবে স্বৈরতন্ত্রের পতন ঘটাল

সুদানে যে গণবিক্ষোভে ৩০ বছরের একনায়ক শাসনের অবসান হয়েছে তার নেতৃত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের হাতে নেই।
বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে সুদানিজ প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন (এসপিএ) নামে একটি পেশাজীবী সংগঠন। প্রধানত চিকিৎসক, স্বাস্থ্য কর্মী এবং আইনজীবীরা মিলে এই সংগঠনটি গড়ে তুলেছেন ।
নারীরা ছিল ৭০ ভাগ
সুদানের এবারের গণ-বিক্ষোভে নারীদের যে রকম ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে, তার নজির বিরল।
বলা হচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের ৭০ শতাংশই নারী। সমাজের সব অংশ থেকেই নারীরা প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন। রাস্তায় যেমন তারা সোচ্চার, সোশাল মিডিয়াতেও একইভাবে তৎপর।
এই নারীদের বিরাট একটি অংশ যে শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন চাইছেন তা নয়, সুদানে শারিয়া আইনের বদল দাবি করছেন তারা। সুদানের রক্ষণশীল সমাজে নারীদের বিরুদ্ধে নানা বৈষম্যমুলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে স্লোগান তুলছেন তারা।
সামাজিক সংস্কারের দাবিতে তোলা এক নারীর স্লোগানের ভিডিও টুইটারে এবং অন্যান্য সোশাল মিডিয়ায় লাখ লাখ বার শেয়ার হয়েছে। ঐ নারী এখন সুদানের গণ আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি "কানদাকা" বা "নুবিয়ান কুইন" খেতাব কুড়িয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের সিংহভাগই তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী। তবে বিভিন্ন বয়সের লোকজনও অংশ নিয়েছে।
বিক্ষোভ শুরু হলো কীভাবে?
ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল বাশিরের সরকারের ওপর গত কয়েক বছর ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সুদানের অর্থনীতি প্রচণ্ড চাপে পড়েছে। তেল রপ্তানি থেকে আয় দিন দিন কমছে।
২০১৭ সালে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০১১ সালে সাউথ সুদান বিচ্ছিন্ন স্বাধীন হয়ে গেলে অধিকাংশ তেল-ক্ষেত্র হারায় সুদান।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বেশ কিছু ব্যয় সঙ্কোচনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকার। অনেক ভর্তুকি কমানো হয় বা প্রত্যাহার করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য সুদানের মুদ্রার বড় ধরণের অবমূল্যায়ন করা হয়।
কিন্তু সরকারের এই কর্মসূচিতে হিতে-বিপরীত হয়। রুটি এবং জ্বালানি তেলের ভর্তুকি ওঠানোর পরিণতিতে সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড চাপে পড়ে ।
প্রথম দেশের পূর্বে বিক্ষোভ-অসন্তোষ শুরু হয়। দ্রুত সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী খার্তুমে।
কীভাবে বিক্ষোভের দাবি বিস্তৃত হলো?
প্রথমে বিক্ষোভের প্রধান ইস্যু ছিল অর্থনৈতিক দুর্দশা - বাজারের দাম, জিনিসপত্র না পাওয়া।
কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে বিক্ষোভের প্রধান দাবি হয়ে ওঠে প্রেসিডেন্ট বাশিরের পদত্যাগ, তার ৩০ বছরের শাসনের অবসান।
জনবিক্ষোভ চূড়ান্তে পৌঁছে ৬ এপ্রিল, যে দিনটি ছিল সুদানে আরেক স্বৈরাচারী শাসকের উৎখাতের বার্ষিকী। ১৯৮৫ সালে অহিংস এক গণ-বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন একনায়ক শাসক জাফর নিমেরি।
কারফিউ অবজ্ঞা করে হাজার হাজার লোক জড়ো হয় সুদানের সেনা সদর দপ্তরের কাছে।
সেনা সরকারে কী মানুষ খুশি?
এককথায় উত্তর - না।
বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বাশিরকে সরিয়ে ক্ষমতা নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরপরই সুদানিজ প্রফেশনাল অ্যাসোসিয়েশন (এসপিএ) কারফিউ ভেঙ্গে সেনা সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয়।
এসপিএ অভিযোগ করছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ কজন সেনা কর্মকর্তা সেনা অভ্যুত্থান করেছে। তাদের কথা- এই সেনা-শাসকরা থাকলে দেশে কোনো পরিবর্তনই হবে না।
সেনা কম্যান্ডাররা কী বলছেন?
প্রেসিডেন্ট বাশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরপরই সামরিক কাউন্সিলের প্রধান হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লে. জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফ। তিনি ঘোষণা দেন, তিন মাস সুদানে জরুরি অবস্থা থাকবে। তারপর, দু'বছর পর সাধারণ নির্বাচন দেয়া হবে।
কিন্তু বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার সামরিক কাউন্সিলের প্রধানের পদ থেকে জেনারেল আওয়াদ ইবন আউফ পদত্যাগ করেন।
সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আবদেল রাহমান বুরহানকে তার উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিক্ষোভ প্রশমিত করতে সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, দু'বছর নয়, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে, এক মাসের মধ্যেই বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া যেতে পারে।
সুদান সামরিক কাউন্সিলের রাজনৈতিক শাখার প্রধান লে. জেনারেলর ওমর জাইন আল-আবিদিন বলেছেন, "যারা বিক্ষোভ করছেন, তারাই সমাধানের রাস্তা বাতলে দেবেন। জনগণই রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সমাধানের রাস্তা দেখাবে।"
ওমর আল বাশিরের কী হবে?
সেনাবাহিনী বলছে, বাশির তাদের হাতে বন্দী। অভ্যুত্থানের পর থেকে তাকে দেখা যায়নি। দারফুরে গণহত্যার অভিযোগে অনেক আগেই আন্তর্জাতিক আদালতে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
তবে সেনাবাহিনী বলছে তাকে সুদানেই বিচার করা হবে।
সূত্র : বিবিসি

নিমেষে স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যু!

স্ত্রী আর দুই ছেলেমেয়েকে নিয়ে সিঙ্গাপুর থেকে ছুটি কাটাতে শ্রীলঙ্কায় গিয়েছিলেন যুক্তরাজ্যের বেন নিকোলসন। সাংগ্রি-লা-হোটেলের একটি টেবিলে বসে নাশতা খাচ্ছিলেন সবাই। বোমা বিস্ফোরণের পর এক নিমেষেই শেষ হয়ে যায় সব।
নিকোলসনের একটাই সান্ত্বনা, বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রী ও সন্তানেরা মারা যায়। মৃত্যুর সময় তাদের খুব যন্ত্রণা সইতে হয়নি।
শ্রীলঙ্কায় গত রোববার তিনটি গির্জা, হোটেল ও আরও কয়েকটি জায়গায় একের পর এক বিস্ফোরণ হয়। এতে নিহত হয় ৩১০ জন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫ জন ব্রিটিশ নাগরিক। তাঁদের মধ্যেই ছিলেন নিকোলসনের পরিবারের সদস্যরা।
নিকোলসন বলেন, তাঁর স্ত্রী অ্যানিটা ছিলেন অ্যাংলো আমেরিকান। ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতেন। তিনি খুবই মেধাবী, কেতাদুরস্ত, স্নেহশীল, অনুপ্রেরণাদাত্রী। তাঁদের ফুটফুটে দুটি সন্তান অ্যালাক্স (১৪) ও অ্যানাবেল (১১) ছিল।
নিকোলসন বলেন, অ্যালেক্স ও অ্যানাবেল ছিল খুবই চমকপ্রদ, বুদ্ধিমান, চিন্তাশীল শিশু। আমরা দুজনেই সন্তানদের জন্য গর্বিত। তিনি কলম্বোর মেডিকেল দলকে চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান।
শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার জেমস ডরিস নিকোলসন ও তাঁর পরিবার নিহত হওয়ার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

কালা মিয়ার কাটা পা এখনো উদ্ধার হয়নি

দিনদুপুরে শ’ শ’ লোকের সামনে পা কেটে নেয়া হয় কালা মিয়া (৪৫)-এর। একই সঙ্গে ছেলে বিপ্লব মিয়ার (১৯) দু’পায়ের রগও কেটে দেয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে বর্বরোচিত এ ঘটনার নায়ক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতি আবুল বাশার। পুলিশ কেটে নেয়া ওই পা উদ্ধার করতে  পারেনি এখনো। গ্রেপ্তার হয়নি স্বেচ্ছাসেবক লীগের ওই নেতা আর তার সহযোগীদের কেউই। ঘটনার শিকার কালা মিয়ার স্ত্রী সালমা আক্তার জানান, বাশারের হাত থেকে বাঁচার জন্য তারা গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় চলে গিয়েছিলেন। জমির ধান কাটার জন্য ঘটনার ৩/৪ দিন আগে বাড়িতে আসেন। এরপরই এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে ফেব্রুয়ারির ২২ তারিখ তাদের দুটি ঘরও আগুনে পুড়িয়ে দেয় বাশার। তবে বাঞ্ছারামপুর থানা পুলিশ ঠিক কি কারণে এ ঘটনা হয়েছে তা এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি।  
রূপসদীর দক্ষিণ কান্দাপাড়ার মালন ফকিরের বাড়িতে শ’ শ’ লোকের সামনে কালা মিয়ার ডান পা হাঁটু বরাবর কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর ওই কাটা পা নিয়ে বীরদর্পে চলে যায় বাশার আর তার দলবল। স্থানীয় একাধিক সূত্র প্রত্যক্ষদর্শীর উদ্ধৃতি দিয়ে জানান, ১৯শে এপ্রিল বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আবুল বাশার ও তার সহযোগীরা কালা মিয়া (৪৫) এবং তার ছেলে বিপ্লব মিয়াকে (১৯) বাড়ি থেকে ডেকে এনে প্রথমে টেঁটাবিদ্ধ করে। এরপর কালা মিয়াকে মাটিতে শুইয়ে ফেলে কোমরের ওপর উঠে বসে একজন। আরো কয়েকজন পা চেপে ধরলে দা ও চাপাতি দিয়ে হাঁটু বরাবর কুপিয়ে পা আলগা করা হয়। পায়ের হাড় আলাদা হওয়ার পর চামড়ার আবরণ টেনে ছিঁড়ে পা আলগা করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। এসময় কালা মিয়ার ছেলে বিপ্লবের দুই পায়ের রগও কেটে দেয় তারা।
সালমা জানান, পায়ে কোপ দিতে থাকার সময় তারা বলতে থাকে কেউ যদি তাদের নাম বলে তাহলে তাদেরও এই পরিণতি করবে। সালমা বলেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বাশারের সিমেন্ট ও বালু বিক্রির দোকানে তার ছেলে বিপ্লব কর্মচারী খাটতে রাজি না হওয়ায় সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তিনি আরো জানান, গত ৩ মাস ধরেই তাদেরকে হুমকি দেয়া হচ্ছিল। এরপরই তারা ঢাকায় চলে যান। কালা মিয়া ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে প্রথমে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে ঢাকায় প্রেরণ করেন। দুজনেই এখন ভর্তি রয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এ ঘটনায় গত রোববার আবুল বাশারকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নামে মামলা করেছেন কালা মিয়ার স্ত্রী সালমা আক্তার। মামলায় অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরো ১৫/২০ জনকে। তবে, ঘটনার পর ৪ দিন পার হলেও এখনো কালা মিয়ার কাটা পা উদ্ধার করতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ। কোনো আসামিও গ্রেপ্তার হয়নি।
বাঞ্ছারামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, বিশাল এলাকা। পা কেটে কোথায় রেখেছে সেটি তারা ট্রেস করতে পারছেন না। বাশারসহ মামলার আসামিদের ধরার জন্যও চেষ্টা করছেন তারা। জেলার উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারাও বিষয়টি নিয়ে তৎপর। তারা বাঞ্ছারামপুর ঘুরে গেছেন। র‌্যাবও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় ৪ ধাপ পিছিয়ে ১৫০তম বাংলাদেশ

এ বছরের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা সূচকে ৪ ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। গত বছর থাকা ১৪৬তম থেকে এ বছর বাংলাদেশের অবস্থান ১৫০তম। প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে এ সূচক প্রকাশ করে থাকে রিপোর্টার উইদাউট বর্ডার। এ বছর ১৮০টি দেশের মধ্যে গবেষণা চালিয়ে এ সূচক তৈরি করা হয়েছে। সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সবার থেকে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ। রিপোর্টার উইদাউট বর্ডারের এ বছরের সূচকে  বাংলাদেশ সমপর্কে বলা হয়েছে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে সাংবাদিকরা কঠোর নীতিমালার শিকার হচ্ছেন।
২০১৮ সালের শেষের দিকের নির্বাচনকালীন সময়ে নির্বিচারে ওয়েবসাইট বন্ধ, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দমনমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ভিত্তিহীন কারণে ১০০ দিনেরও বেশি কারাগারে ছিলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, যাকে বিচার বিভাগে সরকারের প্রভাবের চূড়ান্ত উদাহরণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সংস্থাটি।
২০১৮ সালের অক্টোবরে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করে নেতিবাচক প্রপাগান্ডার অভিযোগে ১৪ বছরের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। ইসলামপন্থি জঙ্গিরা বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষ সাংবাদিক ও ব্লগারদের হয়রানি ও হত্যা করছে বলে উল্লেখ করেছে রিপোর্টার উইদাউট বর্ডার (আরএসএফ)। 
এ বছরের সূচকে দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সবার থেকে এগিয়ে আছে ভুটান। দেশটি রয়েছে ৮০তম অবস্থানে। এ ছাড়া ভারত ১৪০তম, পাকিস্তান ১৪২তম, আফগানিস্তান ১২২তম, নেপাল ১০৬তম এবং শ্রীলঙ্কা রয়েছে ১২৬তম অবস্থানে।

বাড়ি মাতিয়ে রাখতো জায়ান: এমন মৃত্যু মানা যায় না by কাজী সোহাগ

খেলাধুলা আর হাসি আনন্দে পুরো বাড়ি মাতিয়ে রাখতো জায়ান চৌধুরী। বিকেল হলেই বনানীর দুই নম্বর রোডের ৯নং বাড়ির সামনের জায়গাতে শোনা যেতো তার চিৎকারের শব্দ। বল আর ব্যাট নিয়ে ছিল তার ছোটাছুটি। সবচেয়ে প্রিয় তার ক্রিকেট খেলা। মাঝে মাঝে নানা শেখ সেলিমকে টেনে নিয়ে আসতো ক্রিকেট খেলতে। বাধ্য করতো বল করাতে। নাতির এ আবদারে খুব ভালোভাবেই সাড়া দিতেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই শেখ সেলিম। মেতে উঠতেন ক্রিকেট খেলায়। তাদের সঙ্গে কখনও যোগ দিতেন শেখ সেলিমের স্ত্রীও। এসবই এখন স্মৃতি।
গত বুধবারও (১৭ই এপ্রিল) এ বাড়ির আঙ্গিনায় খেলায় মেতেছিল জায়ান চৌধুরী। পরদিনই বৃহস্পতিবার দুই ছেলে ও স্বামীকে নিয়ে শ্রীলঙ্কা সফরে যান শেখ সেলিমের মেয়ে শেখ আমেনা সুলতানা সোনিয়া। তারা ওঠেন সেখানকার পাঁচ তারকা হোটেল সাংগ্রিলা’য়। রোববার সকালে সেখানে সকালের নাস্তা করতে জায়ানকে সঙ্গে নিয়ে নিচে নামেন জামাতা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স। আর হোটেল কক্ষে ছোট ছেলেকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন সোনিয়া। এ সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে নিহত হয় জায়ান। মারাত্মক আহত হন প্রিন্স। চারদিন থেকে গতকাল সকাল ১১টায় দেশে ফেরার কথা ছিল জায়ানদের। জায়ান ঢাকায় সানবীম স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র। শ্রীলংকায় ঘটে যাওয়া বোমা হামলায় নির্মম মৃত্যুর শিকার হয়ে থেমে যায় জায়ানের সব চঞ্চলতা। মাত্র চার দিনের ব্যবধানেই নীরব হয়ে পড়েছে বনানীর শেখ সেলিমের বাসা। নাতিকে প্রচন্ড ভালোবাসতেন তিনি। তাদের নিয়ে একবাড়িতেই বসবাস ছিল তার।
জায়ানের চঞ্চলতা ছুঁয়ে যেতো প্রতিবেশিদেরও। তাই তো জায়ানের মৃত্যুর খবরে তারা ভিড় জমান শেখ সেলিমের বাসায়। স্মৃতিচারণ করেন নানা দিনের, নানা ঘটনার। ১০ নম্বর বাসার ড্রাইভার জাহিদ মানবজমিনকে জানান, ছেলেটার জন্য সত্যিই খুব খারাপ লাগছে। প্রতিদিন বিকেল হলেই সে বাড়ির সামনের জায়গাতে ক্রিকেট খেলায় মেতে উঠত। অনেক সময় বল বাইরে চলে আসত। আমি নিজে গিয়ে বলটা দিয়ে আসতাম। দেখতাম তার ক্রিকেট খেলা।
পাশে বড় মাঠ থাকলেও সেখানে সে খেলতে যেতো না। বাড়ির সামনের জায়গাটুকুই ছিল তার সবচেয়ে প্রিয়। বাড়ির কেয়ারটেকার, নিরাপত্তা রক্ষী আর পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সে ক্রিকেট খেলতে পছন্দ করত। মাঝে মাঝে দেখতাম বাবার হাত ধরে মসজিদে যাচ্ছে নামাজ পড়তে। তিনি বলেন, এরকম হাসিখুশি শিশুর মুত্যু মেনে নেয়া কঠিন। বিকেল হলেই মনে পড়বে জায়ানকে আর তার ক্রিকেট খেলাকে। প্রায় একই অনুভূতি জানান শেখ সেলিমের বাড়ির দুই কেয়ারটেকার। বিষন্ন মনে তারা বলেন, জায়ানের কারণে বিকেলের সময়টা আমাদেরও ভালো কাটত। বড় হয়ে সে ক্রিকেট খেলোয়াড় হতে চেয়েছিল। পড়াশোনা শেষ হতেই ওপর থেকে নিচে নেমে আসত। খেলায় মেতে উঠত আমাদের সঙ্গে। তারা জানান, শেখ সেলিম  স্যার ও ম্যাডাম এ শোক কিভাবে সইবেন জানি না। কারণ জায়ান ছিল তাদের সবচেয়ে বেশি আদরের, বেশি প্রিয়। তার যে কোন আবদার সহজেই পূরণ করতেন তারা। খেলা থেকে শুরু করে ঘাড়ে ওঠা, কোলে ওঠা এসবই ছিল তার আবদারের মূল বিষয়।
জায়ানের মৃত্যুতে শেখ সেলিমের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। গতকাল সকালে বনানীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকবিহ্বল সবাই। ১০-১২ জন হাফেজ বাসার নিচতলায় কোরআন খতম দিচ্ছেন। বাসার সামনে ও রাস্তার দুই পাশে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। নিকটাত্মীয় ছাড়া অন্য কাউকে বাসায় ঢুকতে দেয়া হয়নি। শেখ সেলিমের বড় ছেলে শেখ ফাহিমের ছেলে শেখ জায়াদান প্রায় সমবয়সী জায়ানের। মৃত্যুর বিষয়টি ঠিক না বুঝলেও তার মনে নানা প্রশ্ন। সে জানতে চায় কিভাবে মারা গেলো জায়ান। বোমায় মারা গেছে শুনে সে বললো-লাফ দিতে পারল না জায়ান। তাহলে তো বোমা তার গায়ে লাগত না। মাঝে মাঝে জায়ানের খেলার সঙ্গীও হতো জায়াদান। জায়ান চৌধুরীর মরদেহ আগামীকাল শ্রীলঙ্কা থেকে দেশে আনা হবে। এদিন আছর নামাজের পর বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি মাঠে তার জানাজা হবে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তবে হামলায় আহত শেখ সেলিমের জামাতা মশিউল হক চৌধুরী সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে এখনই দেশে আনা হচ্ছে না। গতকাল শেখ সেলিমের বাড়িতে তাকে সান্ত্বনা দিতে যান আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা ও সরকারের মন্ত্রীরা। তারা জানান, এরইমধ্যে ব্রুনাই সফরে থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ও শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফাহিম শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছেন। ঢাকা থেকে গতকাল সেখানে গিয়েছেন শেখ সেলিমের স্ত্রী ও আরেক ছেলে শেখ নাইম। নাতি নিহত হওয়ায় খবরে ভেঙে পড়েছেন শেখ সেলিম। নেতাকর্মীরা তাকে সান্ত্বনা দেয়ার চেষ্টা করছেন।
তার বাসায় আসেন সাবেক মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, শ্রীলঙ্কার ওই হামলায় শেখ সেলিমের জামাই প্রিন্স বাজেভাবে আহত হয়েছেন। তার পায়ে বড় ধরণের ক্ষতি হয়েছে। ১৫ দিনের মধ্যে তিনি মুভ করতে পারবেন না। তিনি বলেন ব্রেকফাস্ট করার জন্য জামাই এবং তার ছেলে জায়ান চৌধুরী হোটেলের নিচে অবস্থান করছিলেন। এসময় একজন দৌঁড়ে এসে আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে ঘটায়। এতে জায়ান নিহত হয়। হুইপ ইকবালুর রহিম বলেন, হামলার ঘটনার সময় জায়ানের মা সোনিয়া ছোট ছেলেকে নিয়ে অবস্থান করছিলেন হোটেল কক্ষে। কিন্তু বিস্ফোরণের ভয়াবহতা তাদেরকেও আঘাত করে। এতে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন শেখ সেলিমের মেয়ে সোনিয়া। এদিকে ব্রুনাইয়ে সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে জায়ান ও প্রিন্সের জন্য সকলের দোয়া কামনা করেন।

প্লাস্টিকের বদলে কলাপাতা!

প্লাস্টিক দূষণ কমাতে পুরো পৃথিবীই এখন বদ্ধপরিকর। প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে এবং পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে চেষ্টার কমতি নেই দেশগুলোর। প্লাস্টিক দূষণ বন্ধ করার এই চেষ্টায় এবার দারুণ এক পদক্ষেপ নিল থাইল্যান্ডের একটি সুপারমার্কেট। প্লাস্টিকের ব্যাগের বদলে ভোক্তাদের কলাপাতায় মুড়ে সবজি সরবরাহ করছে তারা!
উত্তর থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরের রিমপিং সুপারমার্কেট এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফেসবুকে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর সুপারমার্কেটটির এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘পারফেক্ট হোমস চিয়াংমাই’ নামের একটি পেজ থেকে ছবিগুলো শেয়ার করা হয়। ছবিগুলোতে দেখা গেছে, শসা, শাক, পেঁয়াজ কলিসহ নানা রকমের সবজি কলাপাতা দিয়ে মুড়ে আঁশ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। ক্রেতারা প্লাস্টিক ব্যাগের বদলে এই কলাপাতায় মুড়ে রাখা সবজিই কিনে নিচ্ছেন সানন্দে।
পারফেক্ট হোমস চিয়াংমাই এক ব্লগ পোস্টে লিখেছে, ‘রিমপিং সুপারমার্কেটে এমন একটি দৃশ্য দেখার পর আমরা সেটি শেয়ার না করে পারিনি। ক্রেতাদের জন্য দোকানে কাপড়ের ব্যাগ কেনা বা ধার নেওয়ার সুযোগ আছে। তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলো সতেজ কলাপাতায় মুড়ে আঁশ দিয়ে বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পর থেকে ১৭ হাজারের বেশিবার শেয়ার হয়েছে পোস্টটি। পোস্টের নিচে ৬০০–এর বেশি ইতিবাচক মন্তব্য এসেছে। ফেসবুকের পাশাপাশি টুইটারেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এই উদ্যোগ।
একজন লিখেছেন, ‘ধারণাটি অসম্ভব পছন্দ হয়েছে। আর কোনো প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার নয়।’ আরেক জনের বক্তব্য, ‘ছোট ছোট এই উদ্যোগই বড় পার্থক্য গড়ে দেয়। পরিবর্তন আসছে। সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় আছি।’
জাতিসংঘের মতে, প্লাস্টিক ব্যবহারের ফলে প্রতিবছর পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতিবছর প্রায় ৫ লাখ কোটি নবায়ন–অযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। গত ৭০ বছরে ৮০০ কোটি টনের বেশি প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদিত হয়েছে, যা সাগরতলে অবস্থিত জীববৈচিত্র্যকে মারাত্মক হুমকির মুখে ফেলছে।