Showing posts with label হরতাল. Show all posts
Showing posts with label হরতাল. Show all posts

Wednesday, December 31, 2014

৪৮ ঘণ্টার হরতাল চলছে, রাজধানীতে লরিতে আগুন

বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্য দিয়ে আজ সকাল ৬টা থেকে শুরু হয়েছে জামায়াতের ডাকা ৪৮ ঘন্টার হরতাল। হরতালের সমর্থনে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল বের করেছে জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা। ভোরে রাজধানীর গে-ারিয়া এলাকায় একটি লরিতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে হরতালের প্রথম তিন ঘণ্টায় তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। অপ্রীতিকর ঘটনা ঠেকাতে ভোর থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড়গুলোয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। রাজধানীর সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। রাজধানীর সড়কগুলোতে ব্যক্তিগত গাড়ি খুব একটা দেখা যায়নি। তবে অল্প সংখ্য গণপরিবহন, অটোরিকশা ও রিকশা চলছে। তবে ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। উল্লেখ্য, জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের ফাঁসির রায়ের প্রতিবাদে বুধ ও বৃহস্পতিবার ৪৮ ঘণ্টার হরতাল ডাকে দলটি।

Tuesday, December 30, 2014

২ দিনের হরতাল ডেকেছে জামায়াত

দলের সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদ-ের আদেশের পর দুই দিনের হরতাল ডেকেছে জামায়াত। আজহারকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যার সরকারি ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে এ হরতাল ডাকা হয়েছে বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে জামায়াত। এতে বলা হয়েছে, আগামীকাল ভোর ছয়টা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত হরতাল চলবে। একইভাবে পরের দিন ভোর ছয়টা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত হরতাল থাকবে। এ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ী, হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ী হরতালের আওতামুক্ত থাকবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত আমীর মকবুল আহমাদ  এক বিবৃতিতে বলেন, সরকার পরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করছে। সরকারের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের শিকার জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জেনারেল জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম। সরকার মিথ্যা, বায়বীয় ও কাল্পনিক অভিযোগে জনাব এটিএম আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা দায়ের করে নিজেদের দলীয় লোকদের দ্বারা আদালতে মিথ্যা স্বাক্ষ্য প্রদান করে। আদালত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায়, সাজানো সাক্ষীর ভিত্তিতে আজ তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদ-ের যে রায় ঘোষণা করেছেন তা একটি ন্যায়ভ্রষ্ট রায়। এ রায়ে জনাব এটিএম আজহারুল ইসলাম ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ রায়ের বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আপীল করবেন। উচ্চ আদালত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করলে তিনি খালাস পাবেন বলে আমরা গভীরভাবে বিশ্বাস করি।
সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে যে প্রহসনের আয়োজন করেছে, দেশে-বিদেশে তার কোন গ্রহণযোগ্যতা নেই। সরকারের মন্ত্রী ও দলীয় নেতাদের বক্তব্যে প্রতীয়মান হয় যে, আদালতের বিচার কার্যক্রম সরকারের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের প্রতিবাদ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচী সরকারী ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের বিরুদ্ধে। আর সরকারের যে কোন ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো আমাদের সাংবিধানিক অধিকার। সরকার ট্রাইব্যুনালে পরিচালিত বিচার কার্যক্রমকে নানাভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, সরকার বিচারের নামে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে হত্যা করার জন্য যে ষড়যন্ত্র করছে তা জনগণ নিরবে মেনে নিতে পারে না।

Monday, December 29, 2014

মালিবাগে জামায়াতের মিছিলে আওয়ামী লীগের হামলা

রাজধানীর মালিবাগে ২০ দলীয় জোটের ডাকা হরতালের সমর্থনে  জামায়াত-শিবিরের মিছিলে হামলা করেছে আওয়ামী লীগ ও পুলিশ। সোমবার সকাল ৮টার দিকে মিছিলটি আবুল হোটেলের সামনে গেলে আওয়ামী লীগের কর্মীর হামলা চালায়। এতে উভয় পক্ষে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার প্রাক্কালে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৮টার দিকে চৌধুরীপাড়া শহীদি মসজিদের সামনে থেকে শাতাধিক জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মী একটি মিছিল নিয়ে আবুল হোটেলের দিকে এগিয়ে আসে। এসয় সেখানে অবস্থান করা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ হয়। একপর্যায়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে রাবার বুলেট ও ফাঁকা গুলি ছুড়ে। এসময় পাঁচজন আহত  হয়েছেন।
আওয়ামী লীগের স্থানীয় এক নেতা জানান, মানুষের জানমাল রক্ষার্থে আওয়ামী লীগের কর্মীরা আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছিল। জামায়াত-শিবির একটি মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় তাদের কর্মীদের ওপর হামলা চালালে পাল্টা  প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়। পুলিশ সেখান থেকে ৪ পথচারীকে আটক করে।
রমনা থানা পুলিশের এসআই একে আজাদ জানান, চৌধুরীপাড়া এলাকায় জামায়াত ও আওয়ামী লীগ কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কাউকে আটক করার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

বিক্ষোভ-সংঘর্ষে চলছে ২০ দলীয় জোটের হরতাল

বিক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল-পিকেটিংয়ে সারাদেশে চলছে ২০ দলীয় জোটের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল। সোমবার সকালে হরতালের শুরুতে রাজধানীর মিরপুর, খিলগাঁওয়ে পুলিশের সাথে সংঘর্ষ হয়েছে বিএনপি জামায়াত কর্মীদের।মালিবাগে জামায়াত-শিবিরের মিছিলে হামলা চালিয়েছে আওয়ামী লীগ। এসময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে জামায়াত কর্মীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পুলিশ ৪ জনকে আটক করেছে বলে স্থানীয়রা জানায়। এছাড়া চট্টগ্রামের মেহেদিবাগে হরতালের সমর্থনে মিছিলে পুলিশের বাধাকে কেন্দ্র করে  সংঘর্ষ হয়েছে। এসময় অন্তত ১০টি যানবাহন ভাংচুর করা হয়েছে। গাজীপুরে বিএনপি চেয়ারপার্সনের সমাবেশস্থলে ১৪৪ ধারা জারির প্রতিবাদ ও বিএনপিসহ জোটের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে গত শনিবার ২০ দলীয় জোট এ হরতাল আহ্বান করে। হরতালে রাজধানীতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনি গড়ে তুলেছে। প্রতিটি মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশি সতর্ক প্রহরা রয়েছে। এছাড়া বিজিবিসহ র‌্যাব-পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এমন তৎপরতার মধ্যেও বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা রাজধানীর খিলগাঁও, পল্টন, মিরপুর, মগবাজার, মালিবাগসহ বেশ কয়েকটি স্থানে মিছিল করেছে। মিরপুরের পল্লবি এলাকায় মিছিলে পুলিশের লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করলে বিএনপি-জামায়াত কর্মীদের সাথে পুলিশের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া হয়।
এছাড়া খিলগাঁওয়ে শিবিরের মিছিলে রাবার বুলেট নিক্ষেপ করেছে পুলিশ। এসময় উভয় পক্ষে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে শিবির কর্মী সন্দেহে পুলিশ দুজনকে আটক করে। পল্টন এলাকা থেকে সকাল ৯টার দিকে সন্দেহভাজন দুজন আটক করে পুলিশ।
হরতালে রাজধানীতে ব্যক্তিগত যান চলাচল বন্ধ। কিছু গণপরিবহণ চলাচল করতে দেখা গেছে। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রী কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের পরে ছেড়ে যেতে দেখা যায়।
এছাড়া গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস স্ট্যান্ড থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি। একই সঙ্গে ঢাকায় দূরপাল্লার কোন বাস প্রবেশ করেনি।
এদিকে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, কুমিল্ল, নাটোরসহ বেশ কয়েকটি স্থানে হরতালের সমর্থনে মিছিলে পুলিশের ধাওয়ার ঘটনায় সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে।
আমাদের প্রতিনিধিরা জানায়, হরতালে দূরপাল্লার ও আভ্যন্তরিণ কোন যান চলাচল করছে না। কিছু কিছু দোকান-পাট খুললেও বেশীর ভাগ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে।

Friday, November 7, 2014

শেষ দিনেও নিরুত্তাপ হরতাল

জামায়াতের ডাকা টানা ৪৮ ঘণ্টার হরতালের শেষ দিনেও কোনো উত্তাপ ছিল না। অনেকটা ঢিলেঢালাভাবে পালিত হয়েছে এ কর্মসূচি। তবে হরতালের কারণে দেশের অর্থনীতি মারাÍক ক্ষতির মুখে পড়েছে। প্রতিদিনের হরতালে কয়েকশ কোটির টাকার ক্ষতি হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। হরতালে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। পরিবহন বন্ধ থাকায় তৈরি পোশাকও সময়মতো রফতানি করা যায়নি। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে বারবার হরতাল না দেয়ার দাবি তোলা হলেও রাজনৈতিক দলগুলো তা আমলেই নিচ্ছে না। হরতালের কবলে পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইতিমধ্যে জেএসসি ও জেডিসির বেশ কয়েকটি পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীসহ সারা দেশে কয়েকটি যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ, ঝটিকা মিছিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল জামায়াত-শিবিরের কার্যক্রম। যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল সতর্ক অবস্থানে। সারা দেশ থেকে শতাধিক জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে উচ্চ আদালতে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রাখা ও দলটির কর্মপরিষদের সদস্য মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ড দেয়ার প্রতিবাদে বুধবার ভোর থেকে আজ ভোর পর্যন্ত এ হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করে দলটি।সকাল থেকে রাজধানীতে যানবাহনের সংখ্যা আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বেশি ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তা আরও বাড়তে থাকে। দুপুরের পর রাজধানীর অনেক স্থানে যানজট লক্ষ্য করা যায়। রাজধানীর অলি-গলির দোকানপাট ছিল খোলা। দুপুরের পর বড় বড় শপিংমলও খুলতে থাকে। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বিমাসহ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠাগুলোর কার্যক্রম ছিল স্বাভাবিক।হরতালের প্রথম প্রহরে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ঝটিকা মিছিল করে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। দুপুরে ধানমণ্ডিতে হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ৫ জন আহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ৩ জনকে গ্রেফতার করে। বাড্ডায় মিছিল সমাবেশ করে জামায়াত-শিবির। এছাড়া তেজগাঁও কলেজ ও মহাখালীতে ছাত্রশিবির মিছিল বের করে। এ সময় শিবিরের ক্যাডাররা রাস্তায় টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে আতংক সৃষ্টি করে।সারা দেশে হরতাল : দেশের বিভিন্ন স্থানে ঢিলেঢালাভাবে হরতাল শেষ হয়েছে। এ সময় জামায়াত-শিবিরের শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। যুগান্তর ব্যুরো, স্টাফ রিপোর্টার ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-বরিশাল : ভোরে বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গড়িয়ারপাড় এলাকায় প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে পিকেটাররা। পরে নতুনবাজার এলাকায় একটি মিছিল বের করা হয়। এ সময় ধাওয়া করে জামায়াত-শিবিরের দুজনকে আটক করে পুলিশ। দূরপাল্লার সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ ছিল। অভ্যন্তরীণ রুটে বাস ও লঞ্চ চলাচল করলেও যাত্রী সংখ্যা কম ছিল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীতে দোকানপাট খুলতে শুরু করে। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা এবং স্কুল-কলেজ যথারীতি খুলেছে।চট্টগ্রাম : দেওয়ান বাজার এলাকায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের হরতালবিরোধী মিছিলে গুলিবর্ষণ হয়েছে। ছাত্রলীগ এজন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছে। তবে সিএমপির কোতোয়ালি থানার ওসি একেএম মহিউদ্দিন সেলিম জানান, মিছিলে কেউ হামলা বা গুলি করেনি। ছাত্রলীগের দুগ্র“পের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনার জের ধরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া হয়েছে। নগরীতে দোকানপাট ছিল খোলা। ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক ছিল। তবে দূরপাল্লার যানবাহন তেমন একটা চলাচল করেনি। নগরী ও জেলায় পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে বিজিবি।সিলেট : বুধবার রাতে নগরীর বিভিন্ন স্থানে নাশকতা চালিয়েছে জামায়াত-শিবির। তারা ২০-২৫টি যানবাহন ভাংচুর ও একটি প্রাইভেট কারে আগুন দিয়েছে। শাহপরাণ এলাকায় হরতাল সমর্থকদের ঢিলের আঘাতে আহত হয়েছেন এক অটোরিকশা চালক। বৃহস্পতিবার বিকালে নগরীর শিবগঞ্জে একটি সিএনজি অটোরিকশায় আগুন ধরিয়ে দেয় জামায়াত-শিবির কর্মীরা।রাজশাহী : সকাল ৭টার দিকে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের নেতৃত্বে নগরীর মনিচত্বর থেকে হরতালের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। হেতেমখাঁ এলাকায় পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটায় তারা। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত মহানগরীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ২৭ জনকে আটক করা হয়েছে।বগুড়া : শহরতলির সাবগ্রাম, চারমাথা ও ছিলিমপুর এলাকায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা ঝটিকা মিছিল বের করে। বুধবার পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল হামলার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের ৯২ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। কাহালুর বাবলাতলা এলাকায় পুলিশ শিবিরের চার সভাপতিসহ ১৬ জনকে গ্রেফতার করেছে।গাজীপুর : হরতালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার অভিযোগে পৃথক দুটি মামলায় বিএনপি ও জামায়াতের ৮৫ জনের নামোল্লেখসহ ৩৭ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে মোট ১২২ জনের নামে মামলা হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের কর্মীসহ ৪১ জনকে আটক করেছে।ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় : হরতালের কারণে পরিবহননির্ভর এ ক্যাম্পাসের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিল বন্ধ। এতে বিভিন্ন বিভাগের অর্ধশতাধিক চূড়ান্ত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।বরগুনা ও বামনা : উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বোমা ও বোমা তৈরির উপকরণসহ বামনায় ৩ জামায়াতকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে ফেরিঘাট এলাকা থেকে আবদুল লতিফ ওরফে বাবুল ও গিয়াস উদ্দীন এবং বৃহস্পতিবার সকালে লিটনকে আটক করে পুলিশ।কলাপাড়া : বুধবার রাতে কুয়াকাটা সৈকত থেকে মিরাজ নামে এক শিবিরকর্মীকে আটক করে কুয়াকাটা নৌপুলিশ ফাঁড়িতে সোপর্দ করা হয়েছে। এ সময় তার ব্যাগ থেকে লিফলেট ও জিহাদি বই উদ্ধার করা হয়।মানিকগঞ্জ : ঘিওর ও সিংগাইর থেকে জামায়াত এবং বিএনপির ৩ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়। তারা হল- রশিদ, শুকুর আলী ও ইসমাইল হোসেন।কুলাউড়া : হরতালের সমর্থনে মিছিল বের করে জামায়াত-শিবির। এ সময় উপজেলা জামায়াতের আমীর আবদুল বারীসহ ৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।নোয়াখালী : সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় উভয় গ্র“পের ২০ জন আহত হয়েছে। পুলিশ ৫০/৬০ রাউন্ড টিয়ার শেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

Tuesday, November 30, 2010

আমরা উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত

কাল মঙ্গলবার বিএনপি আহূত হরতালকে কেন্দ্র করে সারা দেশে যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তাতে শান্তিকামী সব নাগরিকের সঙ্গে আমরাও উদ্বিগ্ন, উৎকণ্ঠিত। বিরোধী দল যত অজুহাতই দেখাক না কেন, হরতাল-অবরোধের মতো ধ্বংসাত্মক কর্মসূচি পালনের কোনো যুক্তি নেই। হরতালে সরকারের পতন হয় না, জনগণের দুর্ভোগ বাড়ে, জাতীয় সম্পদ বিনষ্ট হয়, স্থবির হয়ে পড়ে অর্থনীতির চাকা। মাত্র কয়েক দিন আগেই দলীয় চেয়ারপারসনকে বাড়ি থেকে ‘উচ্ছেদ’-এর প্রতিবাদে বিএনপি এক দিন সকাল-সন্ধ্যা হরতাল পালন করেছে। মাত্র ১৫-১৬ দিনের ব্যবধানে আবার হরতাল আহ্বান কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিরোধী দল যে দাবিতে হরতাল পালন করে, মিছিল-সমাবেশ ডেকে জানাতে চায়, সে দাবি কেন সংসদে গিয়ে জানায় না?
যেকোনো হরতাল সামনে রেখে সরকার ও বিরোধী দল মুখোমুখি অবস্থানে থাকে। বিরোধী দল হরতালের পক্ষে এবং সরকার বিপক্ষে নানামুখী তৎপরতা চালায়। সেই সঙ্গে নেতা-নেত্রীদের উসকানিমূলক কথাবার্তা জনমনে ভীতির সঞ্চার করে। এবারও হরতাল সামনে রেখে সারা দেশে উত্তেজনা লক্ষ করা যাচ্ছে। বিরোধী দল রাস্তাঘাট বন্ধ করে বিভিন্ন স্থানে সমাবেশ ও মিছিল করছে। অন্যদিকে বিরোধী দলের মিছিলে পুলিশের বাধা এবং পাইকারি গ্রেপ্তারের ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরতাল সামনে রেখে কাউকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা আছে, তাদেরই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের এই যুক্তি সর্বৈব সত্য নয়। বিরোধী দলের এসব নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে যদি আগে থেকেই মামলা থেকে থাকে, তাহলে এত িদন গ্রেপ্তার করা হলো না কেন? এর পাশাপাশি সরকার ‘নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে’ আনসার ভিডিপি নামিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক করেছেন ঢাকার সাংসদদের সঙ্গে। রাস্তায় আনসার ভিডিপি নামিয়ে হরতাল ঠেকানো যায় না। সাংসদদেরও এ ব্যাপারে তেমন কিছু করার নেই। বিরোধী দল যদি রাস্তায় গাড়ি পোড়ায়, ভাঙচুর করে, হরতাল পালনে জবরদস্তি চালায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তা অবশ্যই দমন করবে। তবে বাড়াবাড়ি কম্য নয়।
আমরা মনে করি, দেশের সব শ্রেণী ও পেশার মানুষ হরতাল-অবরোধের বিরোধী। ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশাজীবী বিরোধী দলকে হরতালের বিকল্প কর্মসূচি নেওয়ার জন্য বলেছেন। বিরোধী দল সেই আহ্বান আমলে নেয়নি। তারা ঘন ঘন হরতাল ডেকে জনগণের আস্থা ও সহানুভূতি হারিয়েছে। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন কিছু করা ঠিক হবে না, যাতে বিরোধী দল আবারও হরতাল ডাকার সুযোগ পায়। অতএব সরকারকে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে। জনজীবনে শান্তি রক্ষায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিশ্চয়ই কঠোর ভূমিকা পালন করবে, কিন্তু কোনো আচরণ যাতে বিরোধী দলের প্রতি প্রতিহিংসামূলক না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। দেশবাসী নৈরাজ্য বা বাড়াবাড়ি চায় না। তারা শান্তি চায়, অগ্রগতি চায়।

Thursday, July 1, 2010

বাড়াবাড়ির হরতাল, কাড়াকাড়ির রাজনীতি by সোহরাব হাসান

রোববারের হরতালে যে দুই পক্ষই বাড়াবাড়ি করেছে, সে ব্যাপারে সন্দেহ নেই। সাড়ে তিন বছরের মাথায় প্রথম হরতাল নিয়ে বিরোধী দল বিএনপি ছিল মহা উদ্বেগের মধ্যে। হরতাল সফল করতে তারা মরিয়া হয়ে উঠেছিল। যেকোনো মূল্যে হরতাল সফল করে তুলতেই হবে। এ কারণেই দলীয় নেতারা পাড়ায় পাড়ায় গণসংযোগ করেছেন। বিনম্র কণ্ঠে শ্রমজীবী মানুষকে ‘ভাই’ বলে সম্বোধন করেছেন। প্রচারপত্র বিলি করে হরতালের কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। যদিও ক্ষমতায় থাকতে আমরা তাঁদের অন্য চেহারা দেখেছি। সে সময় বিএনপির নেতারা ধরাকে সরা জ্ঞান করেছেন, এখন বিনয়ের অবতার সেজেছেন। আর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগের নেতারাও দ্রুত অতীত ভুলে গেছেন। কথায় কথায় রণহুঙ্কার ছাড়ছেন।
হরতাল নিয়ে সরকারি দলের উদ্বেগও কম ছিল না। মহাজোটের আকাশছোঁয়া জনসমর্থনে সামান্য ঘাটতি পড়েছে, সেটি মানা যায় না। কয়েক দিন আগে থেকেই মন্ত্রীরা হরতালের বিরুদ্ধে জোর গলায় প্রচার চালাতে থাকলেন। টিভির সংবাদে, টক শোতে হরতালের ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ প্রচার হতে থাকল। এসব প্রচারণা বিএনপিকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে। কিন্তু তার পরও সম্ভবত হরতাল আহ্বানকারীদের কেউ কেউ নিশ্চিত হতে পারেননি। তাঁরা মধ্যরাতে গাড়ি ভাঙচুর করে, বাসে আগুন জ্বালিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিল। ফলে হরতালটি আর শান্তিপূর্ণ থাকেনি।
সরকারের মন্ত্রীরা, সরকারি দলের নেতারাও দাবি করেছিলেন, তাঁরা বিরোধী দলকে বাধা দেবেন না। দলীয় কর্মীদের রাস্তায় নামাবেন না। তবে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষায় যা করণীয়, প্রশাসন তা-ই করবে। কেউ জোর করে দোকান বা গাড়ি চলাচল বন্ধ করতে চাইলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বাধা দেবে, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
কিন্তু দুর্ভাগ্য, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ভাষায় ‘কেউ কথা রাখেনি’। না সরকারি দল, না বিরোধী দল। এতে তাদের গোঁয়ার্তুমি বহাল রয়েছে বটে; ক্ষতি হয়েছে দেশের, জনগণের। এক পক্ষ অন্য পক্ষকে শায়েস্তা করছে, দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। আর সাধারণ মানুষের আতঙ্ক বাড়ছে। আবার কি আমরা হরতাল-যুগে ফিরে আসছি? আবার কি রাস্তাঘাটে বেঘোরে মানুষ মারা যাবে? আবার কি রাজপথে আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া চলতে থাকবে?
রোববারের হরতালটি সারা দেশে মোটামুটি শান্তিপূর্ণ থাকলেও হঠাৎ ঢাকায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠল কেন? এর পেছনে কি শুধু দুই দলের অতি-উৎসাহীরা সক্রিয় ছিল, না অন্য কোনো মহল? আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছিলেন, তাঁরা দলীয় কর্মীদের রাস্তায় নামাবেন না। তার পরও ছাত্রলীগ কেন রাস্তায় নামল? কে তাদের নামাল? বিএনপির নেতারাও বলেছিলেন, হরতাল শান্তিপূর্ণ হবে। কিন্তু মধ্যরাতে কারা গাড়ি ভাঙচুর করল? কারা গাড়িতে আগুন লাগাল?
শোনা যায়, রাজনীতি এখন আর রাজনীতিকদের হাতে নেই। কর্মীরাও নেতাদের কথা শোনেন না। নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতিতে মিল নেই। একেকজন একেক কথা বলেন। তাহলে রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছে কে? রাজনীতিকেরা, নাকি অন্য কেউ? দেশের রাজনীতি সুস্থ থাকলে যাঁদের গুরুত্ব থাকে না, গণতন্ত্র সচল থাকলে যাঁরা অপাঙেক্তয় হয়ে যান, তাঁরাই কি রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন? নিজেদের গুরুত্ব বাড়াতেই কি মধ্যরাতে গাড়িতে আগুন দেওয়া হলো? বিরোধী দলের সমাবেশে হামলা চালানো হলো? শাহবাগ ও বাড্ডায় ছাত্রলীগের কর্মীরা কার নির্দেশে হরতাল-সমর্থকদের ওপর হামলা চালালেন? সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দায়িত্ব অস্বীকার করেছেন। কিন্তু তিনি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেননি। শাহবাগে হামলার ঘটনায় বিএনপির কর্মীরা আসামি হলে ছাত্রলীগকে বাদ দেওয়া হলো কেন? সেখানে পিকেটিংয়ের দায়িত্বে ছিলেন শহীদ উদ্দীন চৌধুরী। তিনি কেবল বিএনপির নেতা নন, সাংসদও। একজন সাংসদের নিরাপত্তা দেওয়া কি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব নয়? তারা সে দায়িত্ব পালন না করে তাঁকে যেভাবে টেনেহিঁচড়ে হাসপাতাল থেকে গাড়িতে তুলে নিল, তা কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না। এভাবে আওয়ামী লীগের আমলে বিএনপির সাংসদেরা এবং বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগের সাংসদেরা লাঞ্ছিত হবেন? এই গণতন্ত্রই কি আমরা চেয়েছিলাম?
ছাত্রলীগের হামলায় শহীদ উদ্দীন চৌধুরী আহত হলে বিএনপির কর্মীরাও পাল্টা হামলা করেন, পরে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গেও তাঁদের সংঘর্ষ হয়। পুলিশ কোনো পক্ষকে নিবৃত্ত না করে হরতালের সমর্থক নেতা-কর্মীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। এ ছাড়া র‌্যাবের সদস্যরা বিএনপির নেতা মির্জা আব্বাসের বাড়িতে ঢুকে যেভাবে সেখানে আশ্রয় গ্রহণকারী নারী, পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তা লজ্জাজনক।
হরতালে এই প্রথম র‌্যাব নামানো হলো। বিএনপির আমলে আওয়ামী লীগ নেতারা র‌্যাবকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করতেন। এখন একই কাজ তাঁরাও করছেন। তাহলে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে পার্থক্য কোথায়? বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের রাস্তায় লাঠিপেটা করে র‌্যাব-পুলিশ হাতের সুখ মেটালেও সরকারের লাভ হয়নি। হরতালে সংঘাত-সংঘর্ষ না হলে বিরোধী দলের বলার কিছু থাকত না। প্রতিবাদে নতুন কর্মসূচি নিতে পারত না। এখন তারা সংসদে যাওয়ার জন্য নতুন দাবিনামা পেশ করেছে। অনেকটা নিশ্চিত করেই বলা যায়, সরকার সে দাবি মানবে না। বিরোধী দল সরকারের দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে আবার হরতাল ডাকবে। আবার সংঘাত-সংঘর্ষ হবে। আবার গাড়ি ভাঙচুর করা হবে। আবার পুলিশ লাঠিপেটা করবে। আবার বিরোধী দল নতুন দাবিনামা পেশ করবে। চক্রাকারে এটি চলতেই থাকবে?
স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা আরেকটু সতর্ক হতে পারতেন। এর মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে হলেও তাঁদের বাড়াবাড়ির কথা স্বীকার করেছেন। সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেছেন, বিএনপি নেতার বাড়িতে ঢুকে পুলিশ বা র‌্যাব যা করেছে, তা নিন্দনীয়। বঙ্গবন্ধুর দল আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকতে এ কাজ করতে পারে না। তবুও করেছে। সরকার কি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে?
বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মির্জা আব্বাসের বাসায় গেছেন সেখানে আহত ব্যক্তিদের দেখতে। কিন্তু তিনি শনিবার রাতে গাড়িতে বিএনপির কর্মীদের অগ্নিসংযোগে আহত গাড়িচালক ও তাঁর সহযোগীকে দেখতে যাননি। দেখতে যাননি হরতাল পালনকারীদের ইটের আঘাতে গুরুতর আহত গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীকে। কেন? সরকারের মন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে হাসপাতালে অগ্নিদগ্ধ ব্যক্তিদের দেখতে গেছেন। কিন্তু বিএনপির আহত সাংসদ ও নেতা-কর্মীদের সম্পর্কে একটি কথা বলেননি।
স্পিকার আবদুল হামিদ সাংসদ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী চিকিৎসার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা-মোকদ্দমা যা-ই থাক না কেন, সবার আগে চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। যথার্থ বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। আরও ভালো হতো যদি স্পিকার আহত সাংসদকে হাসপাতালে দেখতে যেতেন। একজন সাংসদের প্রতি স্পিকারের দায়িত্ব আছে। দায়িত্ব আছে সংসদ নেত্রীরও। রাজনীতিকে সুস্থ রাখতে হলে সরকার ও দলকে আলাদা রাখতে হবে। অবশ্য আওয়ামী লীগের নেতারা বলতে পারেন, বিএনপির আমলেও তাঁদের সাংসদদের লাঠিপেটা করা হয়েছিল। বিএনপি করেছিল বলে আওয়ামী লীগেরও একই কাজ করতে হবে?
হরতালের ‘সাফল্য’ ও ‘অসাফল্য’ নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের নেতারা যখন বাহাস করছেন তখন সিলেট, রংপুর ও কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা বন্যায় প্লাবিত, লাখ লাখ মানুষ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে। এর আগে বন্যায় হাওর এলাকার ফসল ভেসে গেছে, আইলা-আক্রান্ত মানুষ এখনো খোলা আকাশের নিচে বাস করছে। তাদের কথা কেউ ভাবছেন না। এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা ও জার্মানির সেমিফাইনালে ওঠার যেমন সম্ভাবনা নেই, তেমনি আওয়ামী লীগ, বিএনপিও একসঙ্গে থাকতে পারবে না। এক দল সংসদে থাকলে আরেক দল রাজপথে। অন্যান্য দেশের গণতন্ত্র হলো একযোগে কাজ করা, পরস্পরকে সহায়তা করা, জাতীয় স্বার্থে একমত হওয়া। আমাদের দেশে গণতন্ত্র হলো নিজের নাক কেটে পরের যাত্রা ভঙ্গ। নিজের গুণকীর্তনের পাশাপাশি অপরের মুখ ম্লান করে দেওয়া। ক্ষমতায় থাকতে সবকিছু দখল করে নেওয়া এবং বিরোধী দলে থাকতে পরের বার দখলের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো। আর তার উপযুক্ত স্থান হিসেবে বেছে নেয় রাজপথকে। জনজীবনে বিপর্যয় আসুক, দেশ গোল্লায় যাক, তাতে তাদের কিছু আসে যায় না। তাদের একটাই লক্ষ্য—ক্ষমতায় থাকা বা ক্ষমতায় যাওয়া। ক্ষমতার জন্য মারামারি, ক্ষমতার জন্য কাড়াকাড়ি। যে পুলিশ এখন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী ও মির্জা আব্বাসকে লাঠিপেটা করেছে, বিএনপির আমলে সেই পুলিশই নাসিম-মায়াদের ঠেঙিয়েছে।
আওয়ামী লীগ সরকারে আছে, মহা প্রতাপে দেশ চালাচ্ছে। কিন্তু দল কতটা আছে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। আওয়ামী লীগ যা বলে, ছাত্রলীগ শোনে না; আর নেতারা যা বলেন, কর্মীরা মানেন না। জেলায় জেলায় নেতাদের বিরুদ্ধে ‘বিদ্রোহ’ আছে। আছে নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব। কিন্তু সেসব মেটানোর কোনো উদ্যোগ নেই। দল কীভাবে চলছে, তা নিয়ে কারও মাথা ব্যথা নেই। মন্ত্রীরা মন্ত্রণালয়ে ব্যস্ত, সাংসদেরা তদবিরবাজিতে। মন্ত্রী না হতে পারা নেতারা মনোবেদনায় ভুগছেন। মাঝে মাঝে ক্ষুব্ধও হচ্ছেন। ওই পর্যন্তই।
হরতালে দুই পক্ষই বাড়াবাড়ি করেছে। এটি আমাদের অসহিষ্ণু রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ। কেউ কাউকে সহ্য করছে না। ক্ষমতাসীনেরা মনে করে, যেহেতু থানা-পুলিশ-র‌্যাব-বিডিআর তাদের হাতে আছে, অতএব বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনার প্রয়োজন নেই। আর বিরোধী দল মনে করে, সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের জবাব তারা রাজপথেই দেবে, সংসদে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। সরকার যা করবে তার বিপক্ষে দাঁড়াতে হবে। দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে হবে, উন্নয়ন ব্যাহত করতে হবে। মানুষের কষ্ট হয় হোক, দেশ রসাতলে যায় যাক, ক্ষমতার সোনার হরিণ তার পেতেই হবে।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

Sunday, September 13, 2009

আবার হরতাল-জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী আন্দোলনের কৌশল বর্জন করুন

মহাজোট সরকারের আমলে হরতালের অভিষেক হতে যাচ্ছে ১৪ সেপ্টেম্বর। তবে প্রধান বিরোধী দল নয়, এর সূত্রপাত করল বামপন্থী দলগুলোর সমন্বয়ে গঠিত তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুত্-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটি। যখন ঈদের বাজারগুলো কেবল জমজমাট হতে শুরু করেছে, তখন রাজধানীতে আধা বেলা হরতাল আহ্বান নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ঈদের ভরা মৌসুমে হরতাল আহ্বানের কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষতির আশঙ্কা বিরাজ করছে। ঈদে বাড়ি ফেরা লোকজন যে এ হরতালের কারণে দুর্ভোগের মুখে পড়বে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে আমরা দেখেছি, মানুষ হরতাল চায় না। আন্দোলনের হাতিয়ার হিসেবে এখন আর হরতালের তেমন কার্যকারিতা দেখা যায় না। সাম্প্রতিককালে হরতাল করে কোনো দাবি আদায় হয়েছে—এমন উদাহরণও নেই। দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে, জনগণের ভোগান্তি বাড়বে এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। হরতালের নেতিবাচক ফলের কথা আমরা অতীতে বারবার বলেছি, এখনো সেই কথা পুনর্ব্যক্ত করছি।
ঈদ মৌসুমে হরতালের ঘোষণা আসবে, এটা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। ২ সেপ্টেম্বর আন্দোলনকারীদের ওপর নিন্দনীয় পুলিশি হামলার ঘটনায় সরকার দুঃখ প্রকাশ করেছিল, সেই পরিপ্রেক্ষিতে হরতালের ঘোষণা ছিল অনেকটাই আচমকা। পুলিশি হামলার কারণে আন্দোলনকারীদের প্রতি জনগণের যে সহানুভূতি তৈরি হয়েছিল, এই হরতাল তাতেও ধস নামাতে পারে।
হরতাল আহ্বান নিয়ে এরই মধ্যে আন্দোলনকারীদের মধ্যেও বিভক্তি লক্ষ করা গেছে। ওয়ার্কার্স পার্টি হরতাল সমর্থন করেনি। জাতীয় কমিটির অন্য শরিকেরা বলতে পারে, হরতালের বিকল্প কী? আমরা বলব, আন্দোলন ও দাবি আদায়ের আরও পন্থা আছে। সারা দেশে তারা বিক্ষোভ মিছিলের যে কর্মসূচি দিয়েছে, আন্দোলনের ধরন হিসেবে তা সমর্থনযোগ্য। হরতালের মতো জনদুর্ভোগ সৃষ্টিকারী আন্দোলনের কৌশল বর্জন করে বিকল্প কর্মসূচির সন্ধান করতে হবে।
যেকোনো ইস্যুতে আন্দোলন-সংগ্রাম করা মানুষের নাগরিক অধিকার। কিন্তু স্বতঃস্ফূর্ত জনসমর্থনের লক্ষণীয় বহিঃপ্রকাশ ছাড়া শুধু জনগণকে জিম্মি করে কোনো আন্দোলনের ফসল ঘরে তোলা যায় না। মনে রাখতে হবে, হরতালের প্রথম আঘাত আসে শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকার ওপর। কেবল কথা ও গায়ের জোরে জনগণের ওপর যখন হরতাল চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন এর প্রত্যক্ষ ক্ষতির শিকার শ্রমজীবী মানুষ এ আন্দোলন থেকে দূরে সরে যেতে পারে। আন্দোলনে সাফল্য অর্জনের স্বার্থেই হরতালের মতো আত্মবিনাশী কর্মসূচি পরিহার করা উচিত। দেশের অর্থনীতি ও উন্নয়নের স্বার্থে, জনদুর্ভোগ কমাতে হরতালের রাজনীতির অবসান ঘটাতে হবে—এ নিয়ে দ্বিমত প্রকাশের কোনো সুযোগ নেই।
আমরা বিশেষভাবে উদ্বিগ্ন এই কারণেও যে, এই একটি আধাবেলার হরতাল কিনা জাতীয় রাজনীতিতে দুঃস্বপ্নের হরতালসর্বস্ব সময়ের সূচনা ঘটায়। জাতীয় কমিটির জাতীয় স্বার্থ রক্ষার যে বৈধ উদ্বেগ তাকে নিশ্চয় আমরা গুরুত্বপূর্ণ মনে করি। কিন্তু হরতাল নামের কৌশলটিকে নয়। তাই ঘোষিত হরতাল প্রত্যাহার করাই হবে বিচক্ষণতা। এ ক্ষেত্রে জাতীয় কমিটির নেতারা দূরদর্শিতার পরিচয় দেবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।