Friday, July 18, 2025
গোপালগঞ্জের ঘটনাকে আমরা কীভাবে দেখব by এ কে এম জাকারিয়া
আওয়ামী লীগ সমর্থক হামলাকারীদের ঠেকাতে পুলিশ, সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে বেগ পেতে হয়েছে। হামলাকারীরা ছিল দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত ও যথেষ্ট সংগঠিত। দলটির অনেক সমর্থক ও নেতা-কর্মী এনসিপিকে ঠেকাতে আশপাশের গ্রাম থেকে এসে গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন অলিগলিতে অবস্থান নিয়েছিলেন।
তাঁরা শহরজুড়ে দফায় দফায় বিভিন্ন স্থানে হামলা চালিয়েছেন, আগুন লাগিয়েছেন, ককটেল ফুটিয়েছেন। আক্রান্ত হয়েছে পুলিশ ও ইউএনওর গাড়ি। শেষ পর্যন্ত চড়াও হয়েছেন এনসিপির সমাবেশে ও গাড়িবহরে। পরিস্থিতি সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গুলি করতে হয়েছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জন মারা গেছেন। আহত হয়েছেন অনেকে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সূচনাপর্বের বর্ষপূর্তিতে গোপালগঞ্জে বুধবার যা ঘটল, তাকে আমরা কীভাবে দেখব? এই রক্তপাত কি এড়ানো যেত না? রাজনীতিতে এর প্রভাবই-বা কী?
এনসিপি ১৬ জুলাই গোপালগঞ্জে কর্মসূচি পালন করবে, সমাবেশ হবে—এটা আগেই ঠিক করা ছিল। বিভিন্ন জেলায় তারা ধারাবাহিকভাবে ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি পালন করে আসছে। তবে সব জেলা আর গোপালগঞ্জ এক নয়, এটা আওয়ামী লীগের কবজায় থাকা একটি অঞ্চল। অনেক দেশেই রাজনৈতিক নেতাদের জন্মস্থান বা নিজের এমন এলাকা থাকে, যেখানে তাঁদের প্রতি থাকে অন্ধ সমর্থন, তা তিনি উৎপীড়ক বা স্বৈরশাসক যা-ই হন না কেন। গোপালগঞ্জের ব্যাপারটিও পুরোপুরি তা-ই।
গণ-অভ্যুত্থানের পর তার কিছু আলামত আমরা সেখানে দেখেছি। তখন সেনাবাহিনীর ওপর হামলা হয়েছে, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা খুন হয়েছেন আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের হাতে।
এনসিপির গোপালগঞ্জে কর্মসূচি ঘিরে যে হাঙ্গামা হতে পারে, তা আগে থেকেই আলোচনায় ছিল। কিন্তু পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা যাঁদের দায়িত্ব, তাঁরা যে বিষয়টিকে যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে নেননি তা এখন প্রকাশ পাচ্ছে। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছেন, তাঁদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, কিন্তু এই মাত্রায় হবে, তা তাঁরা বুঝতে পারেননি। এর মানে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো হয় তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেনি অথবা গোয়েন্দা প্রতিবেদনের গুরুত্ব বুঝতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা তার উপদেষ্টা ব্যর্থ হয়েছেন।
গোপালগঞ্জে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকেরা কী করতে পারেন, তা আমাদের কারও জানা-বোঝার বাইরে নয়। এটা নানা মহলেই অনেক দিন ধরে আলোচিত যে দেশের মধ্যে ওই অঞ্চলটি এখন নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের পালিয়ে থাকার একটি নিরাপদ জায়গা। বিষয়টি সরকার জানে না, তা কী হয়!
এ ঘটনার দায় তাই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, তার উপদেষ্টা এবং সেই সূত্রে সরকারের।
এনসিপির জেলায় জেলায় জুলাই পদযাত্রা নানা মহলে প্রশংসিত হয়েছে। তাদের জনসমাবেশগুলোতেও লোকজনের জমায়েত বাড়ছে। যদিও কিছুদিন আগেও তাদের জমায়েতক্ষমতা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন।
ভারতের রাজনীতিতে রীতিমতো অপ্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠার জোগাড় হয়েছিল কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর। ভারতজুড়ে তাঁর ‘ভারত জোড়ো’ নামের পদযাত্রা কর্মসূচি সেই পরিস্থিতি আমূল পাল্টে দিয়েছে। এনসিপির ‘জুলাই পদযাত্রা’ দলটির জন্য তেমনই একটি কার্যকর রাজনৈতিক কর্মসূচি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পদযাত্রা এমন একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি, যা জনগণের কাছে যাওয়ার সুযোগ করে দেয়। সেই কর্মসূচি যে সহিংসতার মধ্যে পড়ল, তার দায় কি কিছুটা হলেও এনসিপির নেই?
‘জুলাই পদযাত্রা’ গোপালগঞ্জের ক্ষেত্রে কেন ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ হয়ে গেল? দুই দিন ধরে এনসিপির নেতারা এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেন মাঠ গরম করলেন? দেশের বাইরে থেকে গুজব ছড়ানো পতিত শক্তির জন্য আরও বেশি সুযোগ করে দিলেন না তাঁরা?
পতিত স্বৈরাচারী দলের কর্মী-সমর্থকদের মোকাবিলা ও বিরোধিতাকে একটি অঞ্চল বা জেলার বিরোধিতার দিকে ঠেলে দেওয়া কি জরুরি ছিল? ‘মুজিববাদ’ বলে যদি আদৌ কিছু থেকে থাকে, তার ‘কবর’ দেওয়ার ঘোষণা যেকোনো জেলা থেকেই দেওয়া যেতে পারে। এসব জনতুষ্টিবাদী বা মাঠ গরম করার কৌশল আর যাই হোক রাজনৈতিক পরিপক্বতার প্রমাণ দেয় না।
রাজনীতিতে নানা কৌশল নিতে হয়। অনেকে বলছেন, এ ঘটনার মধ্য দিয়ে এনসিপি রাজনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছে, আলোচনায় থাকতে পারছে। আওয়ামী লীগের হামলার শিকার হয়ে তারা জন-সহানুভূতি পেয়েছে। কিন্তু কিসের বিনিময়ে?
রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের দিক থেকে উল্টোভাবে বরং এনসিপির লাভবান হওয়ার সুযোগ ছিল বেশি। যদি এনসিপি ‘জুলাই পদযাত্রা’র অংশ হিসেবেই গোপালগঞ্জ আসত, এ নিয়ে আগেভাগে কোনো মাঠ গরম না করত এবং এরপরও যদি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা একই কাজ করত, তা হলে রাজনৈতিক লাভটি হতো আরও বেশি।
রাজনীতি একটা দীর্ঘ যাত্রা, এনসিপি সেই যাত্রা শুরু করেছে মাত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের মধ্যে একটি চরম ‘বর্তমান বিশ্বাসী’ ধারণা গেঁথে দিয়েছে। এখন বা এই মুহূর্ত ছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘ভবিষ্যৎ’ বলে কিছু নেই। অথচ রাজনৈতিক দলের মূল শক্তি হচ্ছে তার ভবিষ্যৎ দেখতে পারার ও বিবেচনা করার সক্ষমতা। এনসিপির ‘গোপালগঞ্জ কৌশল’ প্রমাণ করে তারা সম্ভবত এই তাৎক্ষণিকতার ফাঁদে পড়েছে।
গোপালগঞ্জের ঘটনা শুধু পাঁচটি প্রাণই কেড়ে নেয়নি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অন্তর্বর্তী সরকারের যোগ্যতা ও সামর্থ্যকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পরাজিত ও পতিত দলটির রাজনৈতিক শক্তি অর্জনের পথ তৈরি করছে। ফেব্রুয়ারি বা এপ্রিলে নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তাও দেখছেন নাগরিক সমাজের কেউ কেউ। নির্বাচন পেছানোর পক্ষে থাকা রাজনৈতিক শক্তির কাছে অবশ্য এ ঘটনা আশীর্বাদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে এ ঘটনা যে রাজনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতা তৈরি করতে যাচ্ছে, তা নিশ্চিত।
* এ কে এম জাকারিয়া, প্রথম আলোর উপসম্পাদক। ই-মেইল: akmzakaria@gmail.com
- মতামত লেখকের নিজস্ব
![]() |
| গোপালগঞ্জ শহরের পৌর পার্কে সমাবেশ শেষে এনসিপির নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা চালান আওয়ামী লীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পেশা যখন রাজনীতি by মহিউদ্দিন আহমদ
গ্রামে বর্ষার ছবি অন্য রকম। চাষি মুখিয়ে থাকেন বৃষ্টির জন্য। বৃষ্টি না হলে খেতের ফসল শুকিয়ে যায়। চাষির হাতে কলম নেই, তাঁর হাত দিয়ে পদ্য বের হয় না। তিনি কাস্তে-নিড়ানি নিয়ে মাঠে যান। নানা রকম গাছের চারা লাগান, আগাছা সাফ করেন, অথবা অলস বসে থাকেন।
শহর আর গ্রামের ছবি আলাদা। বছরখানেক ধরে শহরগুলোয় বেশ গরম। দেশে একটি বড় রকমের ওলট–পালট ঘটে গেছে। শহরে বসে তার ছোঁয়া পাওয়া যায়। গ্রামের মানুষ সেটি জানেন টেলিভিশনের খবর দেখে। যে সূচিপত্র ধরে শহরের জীবনচক্র, গ্রামে তার দেখা মেলে না। আন্দোলন, অভ্যুত্থান, জনসভা, সেমিনার, মানববন্ধন, অবরোধ—সবই শহুরে। কয়েক দিন একনাগাড়ে বৃষ্টি হলে কাঁচা মরিচের দামে আগুন লাগে, শাকসবজি পাওয়া যায় না অথবা পচে যায়। নাগরিকেরা গোস্বা হন। দাম কেন বাড়ল? খাদ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ চাই।
গ্রামে এসব নেই। তাঁরা জানেন, এ সময় শাকসবজির চাষ হয় কম। বেশি বৃষ্টি হলে সবজির খেত পানিতে তলিয়ে যায়। মরিচগাছ মরে যায়। কৃষিপণ্যের সরবরাহ যায় কমে। শহরের ভোক্তার চাহিদা কিংবা রসনা তো আর আটকে রাখা যায় না। সে ক্ষুব্ধ হয়। আমাদের দেশে গ্রিনহাউস বানিয়ে আবহাওয়াকে বশে রেখে সারা বছর সবজির চাষ হয় না। দাম তো বাড়বেই। চাষির যে অর্থনীতিজ্ঞান, শহরের ‘ফুলবাবু’দের তা নেই।
মৃত্যুরও শহর-গ্রামে রকমফের আছে। বিশেষ করে অপঘাতে মৃত্যুর। এ সময় শহরে সড়ক দুর্ঘটনা একটু বেশি হয়। বাস, ট্রাক, মোটরগাড়ি ও মোটরবাইকে ঠোক্কর লেগে রোজই মানুষ মারা যায়। গ্রামে গাড়িঘোড়া কম। সেখানে মানুষ মরে সাপের কামড়ে, পুকুরে ডুবে আর বাজ পড়ে। এখন কোভিডে ভুগে রোজই কিছু মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হন, কেউ কেউ মারা যান। গণমাধ্যমে তার পরিসংখ্যান দেওয়া হয়। পুকুরে ডুবে কিংবা বাজ পড়ে মরে তার চেয়েও বেশি। সেসব অতটা গুরুত্বের সঙ্গে গণমাধ্যমে আসে না।
এখন তো সারা দেশেই সাংবাদিক ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছেন। জেলা, উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও সংবাদদাতা আছেন। তাঁরা খবর পাঠান। শহর থেকে কোন নেতা গ্রামে এসে জনসংযোগ করছেন, কর্মিসভায় ভাষণ দিচ্ছেন, কোথায় দুই গ্রামের লোকেরা দেশি অস্ত্র নিয়ে দাঙ্গাহাঙ্গামা বাধাচ্ছেন, সেসব খবর শহরে বসে পাওয়া যায়। শহরে রাস্তার মোড়ে মোড়ে আবর্জনার স্তূপ জমে। কোথাও কোথাও ডাস্টবিন আছে, কোথাও নেই। শহরের স্বাস্থ্য আর সৌন্দর্য বাঁচাতে যাঁরা অপরিহার্য, আমরা একসময় তাঁদের মেথর বা সুইপার ইত্যাদি বলতাম। এখন আদর করে বলি পরিচ্ছন্নতাকর্মী। তাঁরা ধর্মঘট করলে শহর দুই দিনের মধ্যে নরক হয়ে যায়। গ্রামে এসবের বালাই নেই।
এ তো গেল প্রকৃতির কথা। শুধু আকাশ, বাতাস, আলো, পানি নিয়ে তো আর জীবন চলে না। শহরের অলিতে গলিতে একটা জিনিসের দেখা মেলে। সেটি হচ্ছে রাজনীতি। ভাই, ইলেকশন কবে? আচ্ছা, সংস্কারের খবর কী? বিএনপির সঙ্গে কি এনসিপি সিট ভাগাভাগি করবে না কি জামায়াতের সঙ্গে যাবে? ছোট দলের বড় নেতারা বেশ ঘোড়েল। কথা বলেন মেপে মেপে। বোঝা যায় না, তঁারা এদিকে না ওদিকে। একটি বটবৃক্ষ ধরে যদি মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর ওই বড় দালানটায় ঢোকা যায়? বয়স তো অনেক হলো। এটিই তো শেষ সুযোগ।
গ্রামে এসব আলাপ নেই বললেই চলে। আমাদের শেষ জনশুমারি অনুযায়ী দেশের ৩০ শতাংশ মানুষ থাকেন শহরে, ৭০ শতাংশ গ্রামে; কিন্তু দেশ চালান শহরের লোকেরা। কয়েক ঘণ্টা টানা বৃষ্টি হলে সংবাদ শিরোনাম হয় ‘বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ, পানিতে ডুবে গেছে রাস্তা, মওকা বুঝে রিকশা দ্বিগুণ বা তিন গুণ ভাড়া হাঁকছে, যাত্রীদের পেরেশানি’। সেই যে কবে কোন কবি লিখেছিলেন, ‘মত্ত দাদুরী ডাকে ডাহুকি ফাটি যাওত ছাতিয়া;’ কিংবা ‘এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়।’ কবির তো আর খেয়েদেয়ে কাজ নেই। তাঁকে তো আর ফাইল বগলদাবা করে অফিসে ছুটতে হয় না। একটা কিছু লিখে দিলেই হলো।
গ্রামের চাষা বৃষ্টি দেখে আনন্দে ভাসেন, তাঁর খেতের ফসলটা বেঁচে গেল বলে। সংস্কার, সংবিধান, শুল্ক—এসব শব্দ নিয়ে মল্লযুদ্ধ কিংবা আহাজারি নেই। তাঁরা জানেন কিংবা জানেন না, গ্রামগুলো হলো শহরের কলোনি। গ্রামের মানুষের হাড়ভাঙা খাটুনির সঞ্চয় চলে যায় শহরে। সেখানে গিয়ে সেটা লোপাট হয়, পাচার হয়ে যায় দেশের বাইরে। শহরের বাবুদের মনে আত্মপ্রসাদ—গ্রাম আর আগের গ্রাম নেই। সবার গতরে জামা আছে, পায়ে আছে স্যান্ডেল, হাতে মুঠোফোন। ধানি জমির ওপর দিয়ে রাস্তা হচ্ছে অজস্র। উন্নয়ন তো হচ্ছে।
গ্রামের লোকের আয় দুই টাকা বাড়লে শহরে বাড়ে ১০ টাকা। গ্রামের ছেলের কর্মসংস্থান হয় বাপের জমি বেচে আরব দেশে গিয়ে গতর খেটে অথবা গ্রামের রাস্তায় অটো চালিয়ে। শহরে কর্মসংস্থানের অভাব নেই। কাজ নেই? তাহলে দল করো। গায়ে রাজনীতির একটি লেবাস চাপালেই টাকা আসবে উড়ে উড়ে। ধরতে জানতে হয়। সবাই পারেন না।
একটি দলের ছাত্র, যুব, জেলে, তাঁতি কিংবা বুদ্ধিজীবী কমিটিতে একবার ঢুকতে পারলে, আর পায় কে? টাকা আসবে বানের জলের মতো। কাউকে যদি জিজ্ঞেস করেন—ভাই, আপনার পেশা কী? কেন, রাজনীতি! রাজনীতি কীভাবে পেশা হয়, আমার বোধে আসে না। একসময় এ দেশে দু-একটি দলে কিছু সার্বক্ষণিক কর্মী ছিলেন। দল থেকে তাঁরা ভাতা পেতেন। সে টাকা আসত বিদেশ থেকে কিংবা দেশের ভেতরে চাঁদা তুলে। চাঁদা দিতেন ব্যবসায়ী আর শিল্পপতিরা। অবশ্য কেউ কেউ ছিলেন, যাঁরা ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াতেন। তাঁদের সংখ্যা অল্প এবং এখন তাঁরা বিলীয়মান প্রজাতি।
রাজনৈতিক দলের কমিটিতে থাকলে বা ঠিকাদারি নিলে আর কোনো পেশা লাগে না। চাঁদাবাজি করেই জীবন কাটানো যায়। চাঁদা কোথায় নেই? একটি ভালো স্কুলে ছাত্র ভর্তি করালে, অফিসে কারও টেবিলে বন্দী থাকা ফাইল মুক্ত করে, হাসপাতালে বেড পেতে, অফিসে চাকরি পেতে, এমনকি দলের কমিটিতে ঢুকতেও চাঁদা দিতে হয়। এ ছাড়া আছে আরও নানান পথ। ফুটপাতে হকার বসিয়ে কিংবা কেউ নিজে নিজে বসে গেলে তার একটি ভাড়া, গাড়িঘোড়ার ওপর খাজনা, বাড়ি বানাতে গেলে বাড়ির মালিক বা ঠিকাদারের কাছ থেকে চাঁদা। চাঁদা না দিলে পাড়ার বড় ভাই পিটিয়ে হাড়গোড় ভেঙে দেয়। মেরেও ফেলে। চাঁদার বখরা নিয়ে হররোজ মারামারি, খুনাখুনি হয়।
আমরা এটার একটা জুতসই নাম পেয়েছি, ‘আন্ডারওয়ার্ল্ড’। এর প্রযোজক-পরিচালক হচ্ছেন একজন গডফাদার। কোন জেলায় বা কোন শহরের গডফাদার কে, লোকমুখে আমরা তার খবর পাই। গণমাধ্যমে সবটা আসে না। এই যেমন নিকট অতীতে ছিলেন ফেনীতে জয়নাল হাজারী, নারায়ণগঞ্জে ওসমান পরিবার, খুলনায় শেখ হেলাল, বরিশালে হাসানাত আবদুল্লাহ, পুরান ঢাকায় হাজি সেলিম, রাউজানে সাকা চৌধুরী—এ রকম অগুনতি। তাঁদের হুকুম ছাড়া গাছের পাতাও নড়ত না। তাঁরা রাজনীতির ফসল। রাজনীতি তাঁদের দিয়েছে দুহাত ভরে।
ক্ষমতার পালাবদল হলে গডফাদার বদলে যায়। তাদের কাজ এক, জবান আলাদা। আল্লাহ হাফেজ পার্টি, কিংবা খোদা হাফেজ পার্টি। শব্দের ব্যবহার দেখেই বোঝা যায়, কে কোন দলের। দলগুলো যদি গডফাদারদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না দিত, তাহলে এ দেশটা সোনার দেশ হয়ে যেত।
* মহিউদ্দিন আহমদ, লেখক ও গবেষক
- মতামত লেখকের নিজস্ব

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গণ–অভ্যুত্থানের পর জামায়াত শক্তিশালী, উত্থান দক্ষিণপন্থীদের: বদরুদ্দিন উমর
আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সভাপতি বদরুদ্দিন উমর। ‘সংস্কার নয়, জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে শ্রমিক–কৃষকের গণ–অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিন’ শিরোনামে এ সভার আয়োজন করে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিল।
বদরুদ্দিন উমর বলেন, ‘৫ আগস্টের পর জামায়াতে ইসলামী শক্তিশালী হয়েছে। এখন দক্ষিণপন্থীদের প্রভাব বেড়েছে। তাদের একটা উত্থান হয়েছে এখন। ছাত্রদের নেতৃত্বে যে পার্টি হয়েছে, সে পার্টির বক্তব্যে শ্রমিক, কৃষক ও মেহনতি মানুষ নিয়ে কোনো কথা নাই। তারা ভাবছে ধর্মকে ব্যবহার করবে। সে জন্য তাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক।’
বর্তমানে যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে তাতে বিএনপিকে সবচয়ে প্রগতিশীল মনে হচ্ছে মন্তব্য করে বদরুদ্দিন উমর বলেন, ‘দুঃখজনক হচ্ছে বাংলাদেশে এখন যে পরিস্থিতি হয়েছে তাতে মনে হচ্ছে বিএনপিকে সবচেয়ে প্রগতিশীল মনে হচ্ছে। তারাই কথাবার্তা বলছে।’
বদরুদ্দিন উমর বলেন, ‘ছাত্রদের নেতৃত্বে যে আন্দোলন হয়েছে সেটা যে একটা গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সে রকম কিছু নয়। গণ–অভ্যুত্থান যেটা বলা হচ্ছে, সেটা আসলে একটা বিস্ফোরণের মতো ব্যাপার। একটা হলো দীর্ঘদিনের গণ–আন্দোলনের শীর্ষে গিয়ে একটা অভ্যুত্থান, আরেকটা হলো কোনো আন্দোলন করতে না পেরে দীর্ঘদিনের একটা ক্ষোভ ধামাচাপা থাকার ফলে একটা পরিস্থিতি। বাংলাদেশে দ্বিতীয় ধরনের অবস্থা তৈরি হয়েছিল।’
এই অভ্যুত্থান গণতান্ত্রিক একটা কর্মসূচির অধীনে দীর্ঘ আন্দোলনের ফলে হয়নি মন্তব্য করে বদরুদ্দিন উমর বলেন, ছাত্রদের বক্তব্যে শ্রমিকদের কোনো কথা নেই, কৃষকের কোনো কথা নাই। তার কারণ হচ্ছে এ আন্দোলন তো কোনো শ্রেণিকাঠামোর বিরুদ্ধে আন্দোলন না। যে ব্যবসায়ী শ্রেণি এ দেশ শাসন করে আসছে ’৭২ সাল থেকে তারা এখনো আছে।
এ গণ–অভ্যুত্থানকে শাসকশ্রেণির অন্তর্দ্বন্দ্বের ফল হিসেবে আখ্যায়িত করেন বদরুদ্দিন উমর। অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এ সরকারও শাসকশ্রেণির খেদমতগার হিসেবে থাকায় এখানে এক বছরে এমন কিছু ঘটেনি, যেটাকে বলা যেতে আশাবাদী হওয়ার মতো ব্যাপার।’
তিনি বলেন, ‘সংস্কার সংস্কার করে সবাই চিৎকার করছে। সংস্কার চাইতে পারে তারা, যারা ব্যবস্থাকে স্বীকার করে নিয়েছে। যারা সংস্কার চায়, তারা এ ব্যবস্থার উচ্ছেদ চায় না। বিদ্যমান যে ব্যবস্থাটা আছে, সেটা উচ্ছেদ করার আন্দোলন করতে হবে। যে শ্রেণিশাসন আছে, সেটার উচ্ছেদ চাইতে হবে। যে পরিস্থিতি রয়ে গেছে, সেটা চললে এ দেশের কোনো উন্নতি হবে না।’
একটা নির্বাচনের জন্য সবাই দাঁড়িয়ে আছে মন্তব্য করে বদরুদ্দিন উমর বলেন, ‘নির্বাচন করে কী হবে? নির্বাচন করলে এ শাসনকাঠামোর মধ্যে থেকে একটা দল আসবে। গণ–অভ্যুত্থানের ফলে মানুষের মনে যে আশার সঞ্চার হয়েছিল, সে আশা অনুযায়ী কোনো পরিবর্তন হবে না।’
শ্রমিক–কৃষক ও মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রাম সফল করতে সংগঠন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘লেনিন বলেছিলেন, জনগণের সংগঠন ছাড়া কিছু নেই। যেমন সংগঠনের জনগণ ছাড়া কেউ থাকে না।’ বদরুদ্দিন উমর বলেন, মেহনতি মানুষের মুক্তি সংগ্রামকে সফল করতে হলে সংগঠন গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ফয়জুল হাকিম আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে বলেন, ‘দিল্লির মদদ পেয়ে বাংলাদেশকে ভারতের আশ্রিত দেশে পরিণত করেছিল আওয়ামী লীগ। এখন ভারতে বসে নানা ধরনের চক্রান্ত করছে তারা। মুক্তিযুদ্ধকে ফ্যাসিবাদের হাতিয়ারে পরিণত করেছিল আওয়ামী লীগ।’
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মিতু সরকারের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সংগঠক ভূলন ভৌমিক এবং বাংলাদেশ লেখক শিবিরের সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল।
![]() |
| ‘সংস্কার নয়, জনগণের সার্বিক মুক্তির লক্ষ্যে শ্রমিক–কৃষকের গণ–অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক প্রস্তুতি নিন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন লেখক ও বুদ্ধিজীবী বদরুদ্দিন উমর। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবে। ছবি: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভোট দিলাম সন্দ্বীপে, এমপি পেলাম মালদ্বীপে, এ কেমন কথা! by বি এম মইনুল হোসেন
‘দুধ, খেতে কেমন?’ সোলায়মান মিয়ার এ প্রশ্নের উত্তরে সে জবাব দেয়, ‘মধুর চেয়ে মিষ্টি। এই দুধ খাইয়া মধু খাইলে, মধু পাইনসা লাগব।’ দুধ খাওয়ানোর কারণ আঁচ করতে পেরে তৈয়ব বলে, ‘আরেক গ্লাস দুধ দিতে বলেন। এক গ্লাস দুধে পেট ভরে মন ভরে না।’
এই একই তৈয়বকে নির্বাচনের দিন আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী মনসুর এক শ টাকার নোট হাতে দিয়ে নির্বাচনের জন্য কাজ করতে বললে তৈয়ব অনুরোধ করে, ‘আর এক শটা টাকা দেন, অসুবিধার মধ্যে আছি।’
এমনকি পাগলের ভূমিকায় অভিনয় করা নাটকের আরেক চরিত্র ফজলুর হাতে যখন মনসুর টাকা তুলে দেয়, তখন ফজলুও স্লোগান দিতে থাকে, ‘ভোট দিবেন কিসে, ঘড়ি মার্কা বাক্সে।’ সমাজ ও জীবনকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারার অসামান্য গুণের অধিকারী হুমায়ূন আহমেদ নির্বাচনের প্রার্থী ও ভোটারের চিত্র তুলে এনেছেন দারুণ দক্ষতায়।
ভোটের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার সেই পুরোনো উপায়গুলোর সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত হয়েছে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। এআই দিয়ে তৈরি ভিডিওতে স্লোগান হয়েছে, ‘ভোট দিলাম সন্দ্বীপে, এমপি পেলাম মালদ্বীপে’ (প্রথম আলো, ১০ জুলাই ২০২৫)। মানুষকে দিয়ে কথা না বলিয়ে কথা বলানো যাচ্ছে এআই দিয়ে। নিজে দলের পক্ষে সমর্থন আদায়ের সঙ্গে সঙ্গে চলছে অন্য দলের বা প্রার্থীর সমর্থন কমিয়ে আনার চেষ্টা।
অনেক গঠনমূলক ও উদ্ভাবনী কাজের সঙ্গে সঙ্গে গুজব, প্রপাগান্ডা, অপতথ্য ছড়ানোর কার্যকরী এক মাধ্যম এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ফ্রি কিংবা সামান্য কয়েক ডলার খরচ করলেই বানানো যাচ্ছে কৃত্রিম অডিও, ভিডিও ও ছবি। ডিপফেক ও জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রায় অবিকল নকল করা যাচ্ছে কণ্ঠ, ছবি বা মুখাবয়ব। সাধারণ একজন ব্যবহারকারীর কাছে সেগুলো আসল নাকি নকল, সেটির পার্থক্য করা প্রায় অসম্ভব। উচ্চশিক্ষিত মানুষও অনায়াসে ধরা পড়ছেন সেই ফাঁদে। মিথ্যা ও অপতথ্য ছড়ানোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন। আর ঠিক বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জায়গাতেই সহায়ক শক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
সামনে জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনের প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সাইবার অ্যাটাক যে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। ইতিমধ্যে সেগুলো বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্বাচনকে প্রভাবিত করেছে। উদাহরণ হিসেবে রোমানিয়ার ডিসেম্বর ২০২৪ সালের নির্বাচনের কথাই ধরা যাক। ভোট গ্রহণের ঠিক দুই দিন আগে রোমানিয়ার সাংবিধানিক আদালত নজিরবিহীনভাবে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচন বাতিল করেন।
সেখানে ভোটের দুই সপ্তাহ আগে একজন প্রার্থীর সমর্থনে প্রায় ২৫ হাজার টিকটক অ্যাকাউন্ট সক্রিয় হয়ে ওঠে। এর মধ্যে প্রায় ৮০০টি অ্যাকাউন্ট ২০১৬ সালে তৈরি করা হয়েছিল এবং নির্বাচনের আগপর্যন্ত মূলত নিষ্ক্রিয় ছিল। (দ্য কনভারসেশন, ১৬ ডিসেম্বর ২০২৪)
তদন্তে জানা যায়, নির্বাচনী প্রচারের জন্য অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ করা হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের। এমনকি টিকটকের অভিযুক্ত করা হয়েছে নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে করা পোস্টকে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়ার জন্য। ইউরোপীয় কমিশন টিকটকের সুপারিশকারী (রেকমেন্ডার) সিস্টেমের বিস্তারিত জানাতে এবং তথ্য কারসাজি মোকাবিলায় টিকটক কী ব্যবস্থা গ্রহণ করে, সেটিও সরবরাহ করতে বলে।
টিকটক জানায়, নভেম্বরের শেষের দিকে রোমানিয়া থেকে পরিচালিত ৭৮টি অ্যাকাউন্টের একটি নেটওয়ার্ক তারা সরিয়ে দিয়েছে, যেসব অ্যাকাউন্ট একজন প্রার্থীর হয়ে প্রচারের পাশাপাশি ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছিল। টিকটক দাবি করে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে রোমানিয়ায় তারা প্রায় ৪৫ মিলিয়ন ভুয়া লাইক, ২৭ মিলিয়নেরও বেশি ভুয়া ফলো রিকোয়েস্ট সরিয়েছে এবং ৪ লাখের বেশি স্প্যাম অ্যাকাউন্ট তৈরি বন্ধ করেছে। সঙ্গে সঙ্গে রোমানিয়ার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ৮৫ হাজারের বেশি সাইবার-আক্রমণ হয়েছে, যেগুলো মূলত চালানো হয় নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে।
শুধু রোমানিয়া নয়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এ ধরনের আক্রমণ আরও বহু দেশেই হয়েছে। যেমন স্লোভাকিয়ার সাম্প্রতিক নির্বাচনের আগে একজন প্রার্থী এবং একজন মিডিয়া প্রতিনিধির মধ্যে কথোপকথন ভাইরাল হয়ে যায়, যেখানে ভোট কেনাসহ নির্বাচনে কারচুপি করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। অথচ কথোপকথনের ভুয়া রেকর্ডিংগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছিল (সিএনএন, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪)।
প্রশ্ন হলো, আমাদের আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য আমরা কতটুকু প্রস্তুত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কনটেন্ট তৈরি করা হলে সেটির ঘোষণা দেওয়া, নির্বাচনী বিজ্ঞাপন হলে সেটির উৎস ও বিজ্ঞাপণ প্রদানকারীর পরিচয় প্রদর্শন করা, দ্রুত অপতথ্য অপসারণ, নির্বাচনকালীন দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া ইত্যাদি নানা বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সবচেয়ে বড় কথা, এখন থেকেই গণমাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার–প্রচারণা শুরু করে দিতে হবে। ইতিমধ্যে দেখা গেছে, বিভিন্ন বিদেশি রাষ্ট্রের কাছে নির্বাচন কমিশন এআই ঝুঁকি মোকাবিলার সহায়তা চেয়েছে। তাদের অভিজ্ঞতা থেকে সহায়তা নেওয়া যেতেই পারে, কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে, সেটি যেন আবার শিয়ালের কাছে মুরগি রাখার মতো না হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ, সামগ্রিক পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা যেন দেশীয় প্রযুক্তিবিদদের হাতেই থাকে।
* বি এম মইনুল হোসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ও পরিচালক
- ই–মেইল: bmmainul@du.ac.bd
![]() |
| ভোটের রাজনীতি ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করার পুরোনো উপায়গুলোর সঙ্গে বর্তমানে যুক্ত হয়েছে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। ছবি: এআই ভিডিও থেকে নেওয়া |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শুধু কি দ্রুজদের রক্ষায় সিরিয়ায় হামলা করছে ইসরায়েল
কিন্তু নেতানিয়াহু যখন এ বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন তাঁর নিজের বাহিনী সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে বোমাবর্ষণ করছিল, হামলা চালাচ্ছিল দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে। আর এ হামলায় অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, দ্রুজদের রক্ষায় ইসরায়েল সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেছে।
২০১৮ সালের জাতিরাষ্ট্র আইনের প্রধান রূপকার বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এ আইন ইসরায়েলে দ্রুজসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীতে পরিণত করে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘আমার ভাইয়েরা, ইসরায়েলের দ্রুজ নাগরিকেরা, সিরিয়ার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সুয়েইদার পরিস্থিতি খুবই গুরুতর।’ তিনি সিরিয়া সরকারের প্রতি ইঙ্গিত করে দ্রুজদের আশ্বস্ত করেন, ‘আমরা আমাদের দ্রুজ ভাইদের রক্ষায় এবং সিরিয়ার শাসক দলগুলো নির্মূলে কাজ করছি।’
ইসরায়েলের দ্রুজ সংখ্যালঘু গোষ্ঠী
সুয়েইদায় দ্রুজ ও স্থানীয় বেদুইনদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বহুদিন ধরে চলছে।
সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর গত ডিসেম্বরে দেশটিতে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে। তারা সেখানে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। কিন্তু ইসরায়েলি সীমান্তের কাছে সিরীয় সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের বারংবার হুমকি তাদের এ প্রচেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সিরিয়ায় দ্রুজ সম্প্রদায়ের আনুমানিক সাত লাখ মানুষের বসবাস। অন্যদিকে, ইসরায়েলে তাঁদের সংখ্যা দেড় লাখ। ইসরায়েলি দ্রুজদের অনেকেই মনে করেন, ইসরায়েল রাষ্ট্র গঠনের সময় ১৯৪৮ সাল থেকে তাঁদের সঙ্গে ইহুদিদের একধরনের ‘রক্তের বন্ধন’ তৈরি হয়েছে। তবে ২০১৮ সালের জাতিরাষ্ট্র আইনের পর এ ভাবনায় ছেদ পড়েছে। এখন অনেক দ্রুজ মনে করেন, তাঁরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। তবে এখনো বেশির ভাগ দ্রুজ ইসরায়েলি রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত ও সেনাবাহিনীতেও নিয়মিত দায়িত্ব পালন করেন।
কানসাস বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক এবং দ্রুজ স্টাডিজ জার্নালের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক রামি জিদান বলেন, ইসরায়েলি দ্রুজরা নিজেদের একই সঙ্গে দ্রুজ, ইসরায়েলি ও আরব বলে মনে করেন। তাঁরা মনে করেন, ইহুদি ও দ্রুজ—উভয়ই সংখ্যালঘু হিসেবে নিপীড়নের শিকার। এ ঐতিহাসিক উপলব্ধি তাঁদের ইসরায়েলের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তি তৈরি করেছে।
রামি জিদানের মতে, এখন এ সম্পর্কের ভিত্তিতেই ইসরায়েলি দ্রুজরা চাইছেন, ইসরায়েল যেন সিরিয়ায় তাঁদের সম্প্রদায়ের লোকজনকে রক্ষা করে। যদিও সিরীয় দ্রুজরা ঐতিহ্যগতভাবে ইসরায়েলবিরোধী। কিন্তু তাঁদের কিছু নেতা সম্প্রতি ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছেন।
‘পুরোপুরি সুযোগসন্ধানী’
বাস্তবতা হলো, সুয়েইদায় দ্রুজদের কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সহিংসতা শুরুর বহু আগে থেকেই ইসরায়েল সিরিয়ায় হামলা করে আসছে।
১৪ বছরের গৃহযুদ্ধ শেষে স্বৈরশাসক বাশার আল-আসাদের পতনের পর থেকে ইসরায়েল সিরিয়ায় শত শত বার হামলা চালিয়েছে ও প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার (১৫৫ বর্গমাইল) এলাকা দখলে নিয়েছে। এ ছাড়া ১৯৬৭ সাল থেকে সিরিয়ার পশ্চিম গোলান মালভূমি নিয়ন্ত্রণ করছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলের শীর্ষ বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এ হামলাগুলো সম্ভবত পুরোপুরি দ্রুজদের রক্ষার উদ্দেশ্যে নয়; বরং এর পেছনে ইসরায়েলি সরকার ও সংকটে থাকা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই বেশি রয়েছে।
নিউইয়র্কে ইসরায়েলের সাবেক রাষ্ট্রদূত ও কনসাল জেনারেল আলোন পিনকাস আল–জাজিরাকে বলেন, ‘এটি পুরোপুরি সুযোগসন্ধানী বিষয়।’ আরেকটি আঞ্চলিক জাতিগোষ্ঠীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইসরায়েল কখনো কুর্দদের সাহায্য করেনি। তাই দ্রুজদের ক্ষেত্রে সহানুভূতির ভাব দেখানোটা মূলত ছলচাতুরী।
পিনকাস সিরিয়ায় ইসরায়েলি সাম্প্রতিক হামলার পেছনে কয়েকটি উদ্দেশ্য সম্পর্কে আলোকপাত করেছেন, যেমন নেতানিয়াহু যুদ্ধকালীন নেতা হিসেবে নতুন করে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে চাচ্ছেন। এর মাধ্যমে নিজের দুর্নীতির মামলার বিচার বিলম্বিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। পাশাপাশি গত ২১ মাসে শুধু সামরিক শক্তির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে পুনর্গঠনের ‘ভ্রান্ত ধারণাকে’ জোরদার করার চেষ্টা করছেন।
পিনকাস আরও বলেন, ‘নেতানিয়াহু চান না, সিরিয়ায় একটা শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার গড়ে উঠুক; বরং তিনি চান, একটি দুর্বল রাষ্ট্র; যার এক অংশ কুর্দদের নিয়ন্ত্রণে থাকবে, অন্য অংশ দ্রুজ ও বেদুইনদের দখলে থাকবে। ফলে ইসরায়েল দক্ষিণ সিরিয়ায় নিজের ইচ্ছামতো কাজ করতে পারবে।’
‘যুদ্ধ সবকিছু শুষে নিয়েছে’
গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাসের আক্রমণের পর থেকেই ইসরায়েল চরম সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বহু কেলেঙ্কারির মুখে আছে নেতানিয়াহু সরকার। এর মধ্যে সিরিয়ায় হামলা এ সংকটকে জিইয়ে রাখতে সহায়তা করবে।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল লেবানন, ইরান, ইয়েমেন ও সিরিয়ায় হামলা চালিয়ে আসছে।
সিরিয়ায় সাম্প্রতিক হামলা নিয়ে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওরি গোল্ডবার্গ বলেন, ‘মানুষ যুদ্ধের কারণে ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এমন নয়; বরং তারা আর গুরুত্ব দিচ্ছে না। এটা একধরনের উদাসীনতা।’ তিনি আরও বলেন, ‘যুদ্ধ মানুষকে সাময়িক অর্থ ও উত্তেজনা দেয়, কিন্তু তা বেশিক্ষণ থাকে না। এমনকি মানুষ ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধে কী হয়েছিল, তা-ও ভুলে গেছে।’
গোল্ডবার্গ আরও বলেন, ‘এখন যুদ্ধ শুরু করতে আর কোনো সতর্কতা বা আলোচনা লাগে না। নতুন নতুন বিপদের নাম করে বারবার নতুন জায়গায় লড়াই শুরু হচ্ছে।’ পরিশেষে তিনি বলেন, ‘ইসরায়েলিরা আসলে দ্রুজদের নিয়ে ভাবেনই না। এটা শুধু আরেকটা নতুন হুমকি, নতুন যুদ্ধক্ষেত্র। আর মানুষ এখন এমন মানসিকতায় পৌঁছেছে যে ‘‘ঠিক আছে, যা হচ্ছে হোক।’’ যুদ্ধ আমাদের সবকিছু শুষে নিয়েছে।’
![]() |
| সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে হামলার পর ধোঁয়া উড়ছে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রবন্ধ- শিক্ষার বিউপনিবেশায়ন by ন্গুগি ওয়া থিয়োং’ও এবং অনুবাদ: নূরুল কবীর
‘গ্যালিক লিগ’ খোদ আয়ারল্যান্ডে গ্যালিক বা আইরিশ ভাষার পুনরুজ্জীবনের জন্য নানা তত্পরতায় নিবেদিত একটি আইরিশ সংগঠন। আইরিশ জনগণের নিজস্ব ভাষা গ্যালিক, ইতিপূর্বে আধিপত্যশীল ইংরেজি ভাষার অধীন হয়ে পড়েছিল। পুরোদস্তুর সরকারি সমর্থনসহ নানা উদ্যোগ সত্ত্বেও মর্যাদা ও প্রভাবের দিক থেকে আইরিশ ভাষা এখনো ইংরেজির অধস্তন পর্যায়ে বিদ্যমান রয়েছে। আয়ারল্যান্ডের যত মানুষ আইরিশ ভাষায় কথা বলে, তার চেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ ইংরেজি ভাষা ব্যবহার করে। কতিপয় সুবিখ্যাত আইরিশ সাহিত্যিক, যেমন ডব্লিউ বি ইয়েটস ও জেমস জয়েস, ইংরেজি ভাষায় লিখেছেন এবং তাঁদের সমূহ সৃষ্টি ইংরেজি সাহিত্যের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভার হিসেবেই সর্বত্র অধীত হয়ে থাকে। ব্রিটেনসহ পৃথিবীর কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন কোনো ‘ইংরেজি বিভাগের’ কথা ভাবা যায় না, যেখানে কোর্স হিসেবে আইরিশ বংশোদ্ভূত এই লেখকদের সাহিত্যকর্ম অন্তর্ভুক্ত নয়। যেসব লেখক ইংরেজি সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করতে ব্যাপক অবদান রেখেছেন, এই দুজন তাঁদের অন্যতম।
গ্যালিক ও ইংরেজি ভাষার মধ্যে বিদ্যমান অসম ক্ষমতার সম্পর্কটি, যা এখন ইংরেজির অনুকূলে প্রতিষ্ঠিত রয়েছে, চিরদিনই এমন ছিল না। ত্রয়োদশ ও ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যবর্তী সময়ে, যখন ইংরেজরা আয়ারল্যান্ডে, বিশেষত তার মুনস্টের রাজ্যে বসতি স্থাপন করে, তখন ধ্রুপদি জ্ঞানচর্চার প্রশ্নে ইংরেজির চেয়ে আইরিশ ভাষা বেশি সমৃদ্ধ ছিল। স্বভাবতই আয়ারল্যান্ডে আদি বসতি স্থাপনকারী ইংরেজরা তখন তুলনামূলকভাবে বেশি প্রাণশক্তিসম্পন্ন আইরিশ ভাষার প্রতি আকৃষ্ট হয়। আইরিশ ভাষার প্রতি সেই ইংরেজদের আকর্ষণ ছিল নিতান্তই বাস্তবানুগ: ইংরেজ আবাদিরা যাঁদের ভেতর বসতি স্থাপন করেছিল, তাঁদের অধিকাংশের ভাষাই ছিল আইরিশ।
এ অবস্থায় ১৩৬৬ সালে লন্ডনভিত্তিক ইংরেজ সরকার আইরিশ বা গ্যালিক ভাষার দ্রোহাত্মক গ্রাস থেকে ইংরেজিকে রক্ষা করার জন্য তত্পর হয়ে ওঠে; আয়ারল্যান্ডের কিলকেনি নগরের জন্য জারি করে ‘কিলকেনি বিধিমালা’—যার বিভিন্ন ফরমানের অধীন একদিকে বসতি স্থাপনকারী ইংরেজ–অধ্যুষিত সেই অঞ্চলে ইংরেজি ভাষার ব্যবহার জোরদার করা হয়; অন্যদিকে আইরিশ ভাষার ব্যবহারকে রীতিমতো একটি ফৌজদারি অপরাধমূলক দুষ্কৃতি হিসেবে স্থির করা হয়। কিলকেনিতে বসবাসকারী কোনো ইংরেজ বা আইরিশ ব্যক্তি একে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য আইরিশ ভাষা ব্যবহার করলে অভিন্ন বিধিমালার অধীন তাঁদের জমি বাজেয়াপ্ত হয়ে যাওয়ার হুমকিও জারি রাখা হয়। ওদিকে ব্রিটিশ সরকারের এসব নীতিমালার তরফে সাহিত্যিক ও দার্শনিক ন্যায্যতা জোগানোর কাজে এগিয়ে আসেন মুনস্টের রাজ্যে বসতি গাড়া ‘দ্য ফেয়ারি কুইন’-খ্যাত ইংরেজ কবি এডমান্ড স্পেন্সার। স্পেন্সার তাঁর ১৫৯৬ সালে প্রকাশিত আ ভিউ অব দ্য প্রেজেন্ট স্টেইট অব আয়ারল্যান্ড পুস্তকে ‘যুক্তি’ প্রদর্শন করেন, ‘ভাষা ও নামকরণ পদ্ধতি হচ্ছে আইরিশ জনগোষ্ঠীর সামষ্টিক স্মৃতি বিলোপ-সাধনের সর্বোত্তম উপায়।’ তিনি লেখেন, ‘বিজেতা কর্তৃক বিজিতের ভাষাকে অবজ্ঞা করা এবং বিজিতের ওপর বিজেতার ভাষাকে জোর করে চাপিয়ে দেওয়াই জগতের স্বাভাবিক নিয়ম।’
খোদ আয়ারল্যান্ডে আইরিশ ভাষার প্রান্তিকতাপ্রাপ্তির ঘটনাটি অবশ্য মোটেও কোনো ধরনের স্বাভাবিক বিবর্তন প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে ঘটেনি, তা বরং (ইংরেজদের) সচেতন রাজনৈতিক পদক্ষেপ ও শিক্ষাসংক্রান্ত নীতিমালা বাস্তবায়নের ভেতর দিয়ে সংঘটিত হয়েছে।
আয়ারল্যান্ড ছিল ইংল্যান্ডের প্রথম বসতি স্থাপনকারী উপনিবেশ। পরবর্তীকালে ইংল্যান্ড কর্তৃক বিভিন্ন দেশের উপনিবেশায়নের ক্ষেত্রে আয়ারল্যান্ড একধরনের পরীক্ষাগার হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। আয়ারল্যান্ডসহ তার অন্য উপনিবেশগুলোয় ইংরেজরা যেসব ব্যবস্থা প্রবর্তন ও চর্চা করেছে, পৃথিবীর অপরাপর ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রগুলোও—তা হোক স্পেন, ফরাসি বা পর্তুগিজ—তাদের আপন আপন উপনিবেশগুলোয় অভিন্ন ব্যবস্থা ও চর্চা জারি রেখেছিল। জাপান কর্তৃক ১৯১০ থেকে ১৯৪৫ সাল পর্যন্ত কোরিয়া জবরদখলে রাখার সময়েও তা–ই ঘটেছে। কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ উপনিবেশায়নের ক্ষেত্রেও অভিন্ন ব্যবস্থা জারি ছিল, যেমন নরওয়ের শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক সে দেশের সামি জনগোষ্ঠীর ভাষার অবদমন। স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের অপরাপর দেশগুলোতেও, সামান্য রকমফের সাপেক্ষে, একই ঘটনা ঘটেছে। বিজিত জনগণের ভাষার অবদমন আর বিজেতার ভাষার উচ্চতর মর্যাদা দান ও তার আধিপত্যের বিষয়টি আবার শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত—যা কোনো ঔপনিবেশিক শক্তির বিজয় ও জবরদখল প্রক্রিয়াকে নিষ্কণ্টক রেখে জারি থাকে।
ভাষিক অবদমন প্রকল্পটি মোটেই কোনো নন্দনতাত্ত্বিক আনন্দের জন্য গৃহীত হয়নি। স্পেন্সার খুব ভালো করেই বুঝতেন যে আইরিশ ভাষা ও নামকরণ পদ্ধতির উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়াটি আখেরে আইরিশ জনগণের আত্মপরিচয় ভুলিয়ে দেবে, তাঁদের প্রতিরোধক্ষমতাকে দুর্বল করবে এবং তার ফলে আইরিশদের ওপর বিজয়ী আধিপত্য কায়েম করা ইংরেজদের জন্য সহজতর করে তুলবে। একটা গোটা জনগোষ্ঠীকে সামরিকভাবে পরাজিত করে তার ওপর আধিপত্য জারি রাখার ব্যয় ও কার্যকারিতার তুলনায় ভাষাগত বিজয়ের মাধ্যমে সেই জনগোষ্ঠীর ওপর আধিপত্য কায়েম রাখা অনেক কম ব্যয়বহুল এবং অনেক বেশি কার্যকর। দ্বিতীয় ক্ষেত্রে বিজয়ীকে শুধু বিজিত জনগোষ্ঠীর এলিট সমাজের মন ও মননকে অধিকার করার জন্য বিনিয়োগ করতে হয়, আর তারপর ওই এলিট গোষ্ঠী নিজেই অবশিষ্ট জনতার ভেতর অধীনতার বোধ ছড়িয়ে দেবে—বিজিত জনগোষ্ঠীর এলিট সম্প্রদায়টি বিজয়ী ঔপনিবেশিক শক্তির ভাষিক সেনাবাহিনীতে পরিণত হবে।
আধুনিক ব্রিটেনের সমৃদ্ধি ও শক্তিমত্তার পেছনে ভারত উপনিবেশের মুখ্য ভূমিকা থাকার কারণে ভারত এমনকি আয়ারল্যান্ডের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছিল, যার ফলাফল পরবর্তীকালে এশিয়া ও আফ্রিকার অপরাপর উপনিবেশগুলোয় রপ্তানি করা হয়। ১৮৩৪ থেকে ১৮৩৮ সাল পর্যন্ত ‘সুপ্রিম কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া’র সদস্য হিসেবে টমাস ব্যাবিংটন ম্যাকলে উপনিবেশিত ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ও দণ্ডবিধি প্রণয়নের মতো দুটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ প্রকল্প সম্পন্ন করেছিলেন। ম্যাকলে তাঁর ইতিহাসখ্যাত ‘মিনিটস অন ইন্ডিয়ান এডুকেশন’–এ, ১৮৩৫ সালে শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে ভারতে প্রচলিত সংস্কৃত ও ফারসি ভাষাকে ইংরেজি দিয়ে প্রতিস্থাপন করার জন্য ওকালতি করেছিলেন। সে ক্ষেত্রে তার ঘোষিত লক্ষ৵ ছিল ভারতবর্ষে এমন একটি ‘শ্রেণি’ গঠন করা, যার সদস্যরা ‘আমাদের এবং আমাদের দ্বারা শাসিত লক্ষ লক্ষ প্রজার ভেতর ভাষাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করবে—যারা রক্তমাংস আর গাত্রবর্ণে ভারতীয় হলেও রুচিবোধ, মতামত, নৈতিকতা ও বুদ্ধিবৃত্তির দিক থেকে হবে ইংরেজ’।
এ ঘটনার ঠিক ৮৭ বছর পর উপনিবেশিত কেনিয়ার ব্রিটিশ গভর্নর স্যার ফিলিপ মিশেলের মুখে ম্যাকলের কথা পুনরাবৃত্ত হয়। ‘কেনিয়া ল্যান্ড’ ও তার মুক্তিকামী ‘ফ্রিডম আর্মি’র—ব্রিটিশদের ভাষায় মাউ মাউ—বিরুদ্ধে পরিচালিত ব্রিটিশ সরকারের সামরিক অভিযানকে সহযোগিতা করার জন্য মিশেল আফ্রিকার শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি ভাষার প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেন। শিক্ষাব্যবস্থায় ইংরেজি প্রবর্তনের ফজিলত ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মিশেল বলেছিলেন, এই নতুন ভাষাশিক্ষা ‘এমন একটি সভ্য রাষ্ট্র গড়ে তুলতে সাহায্য করবে, যেখানে জন্মগত আদি পরিচয়নির্বিশেষে প্রত্যেকেই ব্রিটিশ মান ও মূল্যবোধের অধিকারী হবে, যেখানে প্রত্যেকেরই স্বার্থ নিহিত থাকবে—থাকবে অংশীদারত্ব’।
ক্যাপ্টেন রিচার্ড হেনরি প্র্যাট যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যের কারলিসল অঞ্চলে তাঁর কুখ্যাত কারলিসল ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্কুল প্রতিষ্ঠা করে, ১৮৭৯ সালে, যুক্তরাষ্ট্রের আদিবাসী শিশুদের জন্য তার নিজস্ব শিক্ষাপদ্ধতি চালু করেন। নিজের প্রতিষ্ঠিত বোর্ডিং স্কুলের পেছনে সক্রিয় শিক্ষা-দর্শন নিয়ে ১৮৯২ সালে রিচার্ড বলেন, ‘শিক্ষার্থীর বুকের ভেতরের আদি ইন্ডিয়ানটিকে হত্যা করো, আর মানুষটাকে রক্ষা করো।’ রিচার্ডের শিক্ষা কর্মসূচি এক অভিন্ন ঔপনিবেশিক বিন্যাসকেই অনুসরণ করেছে: কিছু মানুষকে তাঁদের মাতৃভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন করো, ঔপনিবেশিক প্রভুদের ভাষায় দীক্ষিত করে নতুনভাবে তাদের গড়ে তোলো, তারপর শাসিত জনগোষ্ঠীর ভেতর ছেড়ে দাও।
ওয়ালটার রোডনি তাঁর হাউ ইউরোপ আন্ডারডেভেলপড আফ্রিকা গ্রন্থে ফ্রান্সের বিভিন্ন উপনিবেশ ও তার বাইরে ফরাসি ভাষা প্রচারের সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে, ১৮৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত আলিয়ঁস ফ্রঁসেজের চূড়ান্ত লক্ষ৵ সম্পর্কে, সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য পিয়ের ফঁস্যাঁকে উদ্ধৃত করে বলেন, ‘ফরাসি সাম্রাজ্যের কেন্দ্রের সঙ্গে তার উপনিবেশগুলোকে একটা শক্ত মনস্তাত্ত্বিক বন্ধনে আবদ্ধ করা প্রয়োজন ছিল। কারণ, যেদিন উপনিবেশগুলো তাদের প্রগতিশীল মুক্তির ভেতর দিয়ে একটি সম্ভাব্য ফেডারেশনে সংঘবদ্ধ হবে, সেদিনও তারা যেন ভাষা, চিন্তা ও চেতনার দিক থেকে ফরাসিই থেকে যায়।’
স্পষ্টতই এসব কর্মকাণ্ডের একটি পরিষ্কার লক্ষ৵ ছিল: উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর এলিট সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষের মন ও মননের উপনিবেশায়নই ছিল সেই সাম্রাজ্যবাদী শিক্ষানীতির লক্ষ৵। বলার অপেক্ষা রাখে না, বাস্তবে সেই লক্ষ৵ পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হয়েছে। উপনিবেশ–উত্তর পরিবেশে আয়ারল্যান্ডের মতো স্বাধীনতা অর্জনের পরও প্রতিটি দেশের বুদ্ধিজীবী সমাজ স্বদেশি ভাষার তুলনায় ঔপনিবেশিক ভাষায় নিজেদের প্রকাশ করতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করে। আফ্রিকার ক্ষেত্রে মহাদেশটির এমনকি পরিচয়জ্ঞাপক বয়ানগুলোও নানা ইউরোপীয় ভঙ্গি ও ভাষায়—প্রধানত ইংরেজি, ফরাসি ও পর্তুগিজ—বর্ণিত হয়। এমনকি উপনিবেশ–উত্তর যেসব দেশের এলিট সম্প্রদায় জাতীয়তাবাদী মনোভাবাপন্ন এবং নিজেদের স্বাধীনতাকে সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর, তাঁরাও নিজেদের রাগ কিংবা আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রকাশের জন্য ঔপনিবেশিক ভাষাকেই বেছে নেন। আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ভাষাশিক্ষার জন্য বরাদ্দ অর্থের ৯০ শতাংশই নানা ঔপনিবেশিক ভাষা শিক্ষায় ব্যয় করা হয়, যদিও এসব দেশের জনগণের ৯০ শতাংশই আফ্রিকার বিভিন্ন ভাষা ব্যবহার করেন। আফ্রিকার কোনো কোনো সরকার, এমনকি আফ্রিকার ভাষাগুলোকে প্রগতি ও উন্নয়নের প্রতিবন্ধক হিসেবে বিবেচনা করেন। অন্যদিকে ঔপনিবেশিক ভাষাগুলোকেই তাঁরা বৈশ্বিক আধুনিকতার যুগে প্রবেশের সিংহদ্বার বলে বিশ্বাস করেন।
কোনো স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে এ কথা নিশ্চয় অদ্ভুত শোনাবে যে ফরাসি সাহিত্য কেবল জাপানি ভাষাতেই রচনা করা যেতে পারে, কিংবা ইংরেজি সাহিত্য জুলু ভাষায়—এমনি অদ্ভুত যেকোনো ফরাসি লেখকের সঙ্গে দেখা হলে আপনি তাঁর দিকে বিস্ময়ের সঙ্গে তাকিয়ে প্রশ্ন করলেন, ‘পৃথিবীতে এত ভাষা থাকতে আপনি ফরাসি ভাষায় কেন লিখছেন?’ কিংবা একজন ইংরেজ লেখককে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনি জুলু ভাষায় লিখছেন না কেন?’ ইতিহাসের পরিহাস এই আফ্রিকার কিংবা অপর যেকোনো উপনিবেশ–উত্তর দেশের লেখকদের ক্ষেত্রে, এখনো, এহেন অযৌক্তিক, অদ্ভুত আর অবাস্তব প্রত্যাশা জারি রয়েছে।
এমন অদ্ভুত ও অবাস্তব পরিস্থিতি সৃষ্টি হলো কী করে? ব্যাপারটা তো মোটেও এমন নয় যে ঔপনিবেশিক ভাষাগুলো অন্যান্য ভাষার অধিক কোনো ভাষা। যেকোনো পরিস্থিতিতে একাধিক ভাষাজ্ঞান যেকোনো ব্যক্তিকেই বিশেষভাবে ক্ষমতায়িত করে থাকে। কিন্তু উপনিবেশের ক্ষেত্রে কিংবা অনুরূপ অন্য কোনো পরিস্থিতিতে, যেখানে একটি আধিপত্যশীল ও আধিপত্যের শিকার দুটি শ্রেণি বিদ্যমান ছিল, ব্যাপারটা মোটেই এমন ইতিবাচক কিছু ছিল না। অর্থাৎ বিষয়টি কোনো উপনিবেশিত সমাজে বিদ্যমান কোনো ভাষার সঙ্গে মোটেই আরেকটি নতুন ভাষা যোগ করার মতো নিরীহ ব্যাপারমাত্র ছিল না। কেননা কোনো বিজিত সমাজে একটি নতুন ভাষা প্রবর্তন করাই বিজয়ী ঔপনিবেশিক শক্তির জন্য যথেষ্ট ছিল না, বরং নিজের ভাষাটিকে উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর ভাষার কবরের ওপর চাষ করেই কেবল তাকে ক্ষান্ত হতে হতো। আফ্রিকার ভাষাগুলোর মৃত্যুই সে অঞ্চলে ইউরোপীয় ভাষাগুলোকে জীবন দিয়েছে। ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক ভাষাগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠার জন্য উপনিবেশগুলোর নিজস্ব ভাষাগুলোকে প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে। আফ্রিকার ভাষাগুলোর বিস্মৃতিই ইউরোপীয় ভাষাগুলোর জাগৃতি নিশ্চিত করেছে।
ভাষার এই দুটি অবস্থা—বিস্মৃতি ও জাগৃতি—মোটেই সংশ্লিষ্ট ভাষাগুলোর অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে জড়িত নয়, বরং উপনিবেশিত অঞ্চলে ঔপনিবেশিক শক্তির ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সমাজের ভেতর সচেতনভাবে একটি মনোভঙ্গি তৈরির সঙ্গে সম্পর্কিত।
------২------
আফ্রিকার শিশুরা তাদের স্কুলে নিজেদের মধ্যে মাতৃভাষায় কথা বলে ধরা পড়ে গেলে কী ধরনের দৈহিক শাস্তির শিকার হতো, তা আমি আমার ডিকলোনাইজিং দ্য মাইন্ড গ্রন্থে আলোচনা করেছি। এ রকম ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শিশুটিকে তার ‘নির্বুদ্ধিতার’ পরিচয়জ্ঞাপক একটি প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে রাখতে বাধ্য করা হতো। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ‘অপরাধী’ শিশুটিকে নোংরা আবর্জনা গিলতেও বাধ্য করা হতো। এভাবে আফ্রিকার ভাষাচর্চাকে একটি অপরাধমূলক, বেদনাদায়ক, এমনকি নোংরামির সঙ্গে তুল্য তত্পরতা হিসেবে হাজির করা হতো। এ ধরনের কর্মকাল শুধু আফ্রিকা মহাদেশেই সীমাবদ্ধ ছিল না।
ডোভার স্যামুয়েলস নামের একজন মাওরি রাজনীতিক ওয়েটাঙ্গি ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ৵ দিতে গিয়ে, ২০১৫ সালে, নিউজিল্যান্ডের এক স্কুলে মাওরি ভাষায় কথা বলে ধরা পড়ে যাওয়ার পর যা ঘটত, তার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘নির্দিষ্ট শিক্ষার্থীটিকে টেনেহিঁচড়ে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত সবার সামনে নিয়ে আসা হতো...এবং তাকে শরীর বাঁকিয়ে সামনের দিকে ঝুঁকে দাঁড়াতে বলা হতো। তারপর, (শিক্ষক মহাশয়) তার পেছনে দাঁড়িয়ে জুতাসুদ্ধ পায়ে আধা ডজন লাথি মারত। ... এ রকম অবস্থায় আমার ঊরুর পেছন দিকটায় শুধু কালশিটেই পড়ে যেত না, অনেক সময় সেখান থেকে রক্তও বেরিয়ে আসত।’
ওদিকে নরওয়ের সামি জনগোষ্ঠী ১৮৭০ থেকে ১৯৭০ পর্যন্ত সময়টি—যে সময়কে সামিরা একটি ‘নৃশংস শতাব্দী’ হিসেবে মনে রেখেছে—এক অভিন্ন অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে অতিক্রম করেছে। নরওয়ের শাসকশ্রেণি সামি জনগোষ্ঠীকে স্বতঃস্ফূর্ত নরওয়েজিয়ান ভাষাভাষীতে পরিণত করার জন্য অভিন্ন ঔপনিবেশিক নির্মমতার চর্চা করেছে।
আয়ারল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের জনগণের ভেতর, তাঁদের আপন আপন ভাষার বিপরীতে ইংরেজির চর্চা বিস্তারের জন্য ইংরেজরাও বরাবর এই অভিন্ন সহিংসতা চর্চার পথ অবলম্বন করেছে। ওয়েলসের স্কুল প্রাঙ্গণে যে শিক্ষার্থীরা ওয়েলশ ভাষায় কথা বলত, তাদের গলায় ‘ওয়েলশ নয়’ লেখা প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে শ্রেণিকক্ষের সামনে দাঁড় করিয়ে রাখা হতো।
ভাষা, সংস্কৃতি ও চিন্তার ভেতর এই ‘মনস্তাত্ত্বিক বন্ধন’ সৃষ্টিতে বা অন্য কথায়, মননের উপনিবেশায়নে সহিংসতাই নির্ধারক ভূমিকা পালন করেছে। কারোর মনে হতে পারে যে ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি ও স্বাধীনতালাভের পর উদ্ভূত নতুন রাষ্ট্রগুলো, নিদেনপক্ষে, পুরোনো জমানার অসম ক্ষমতা–সম্পর্কগুলোকে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেবে। কিন্তু উপনিবেশিত মনন এ রকম প্রত্যাশিত পদক্ষেপের প্রতিবন্ধক হিসেবে হাজির থাকে। কেননা বাস্তব জগৎকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে নিজেকে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখার প্রবণতাটি উপনিবেশিত জনগণের ভেতর ইতিপূর্বেই আত্তীকৃত হয়ে যায়।
এটা হচ্ছে কন্ডিশনিং বা বশীকরণের একটি চিরায়ত উদাহরণ, যা হামেশাই আচরণগত মনোবিজ্ঞানের নির্দেশিকায় পাওয়া যায়। বশীকরণ হলো পুরস্কার প্রদান ও শাস্তি বিধানের একটি পদ্ধতি—অবাঞ্ছিত আচরণের জন্য শাস্তি ও বাঞ্ছিত আচরণের জন্য পুরস্কার। শিশুপালনে কিংবা পশুকে বশীভূত করার জন্য প্রায়ই নানা মাত্রায় এই পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়। বাঞ্ছিত আচরণের সঙ্গে ‘পুরস্কার’ প্রত্যয়টি জড়িত থাকার কারণে ‘আনন্দ’ যেমন, অবাঞ্ছিত আচরণের সঙ্গে ‘শাস্তি’র প্রসঙ্গ জড়িত থাকায় ‘বেদনা’ও তেমনি এই প্রক্রিয়ার এক অনিবার্য অনুষঙ্গ হিসেবে জারি থাকে। বশীকরণ প্রক্রিয়ার অধীনে স্বভাবতই সংশ্লিষ্ট শিশু কিংবা অন্য কোনো প্রাণী বেদনাদীর্ণ পরিসরে প্রবেশ না করার জন্য নিষিদ্ধ আচরণ চর্চা এড়িয়ে চলে এবং আনন্দময় পরিসরের দিকে অগ্রসর হওয়ার জন্য সিদ্ধ আচরণ চর্চায় উদ্বুদ্ধ হয়। শিক্ষালাভের ক্ষেত্রে দখলদার ঔপনিবেশিক শক্তির ভাষা ভালোভাবে আত্মস্থ করার জন্য কোনো শিক্ষার্থী মহিমান্বিত হয়, কিন্তু অপর নিন্দিত শিক্ষার্থীটি তার মাতৃভাষার এমনকি একটি শব্দ উচ্চারণ করতেই বিপদাপন্ন হয়ে পড়ে। স্পষ্টতই মাতৃভাষাচর্চার পরিসরটি শিক্ষার্থীর জন্য তখন বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে, ফলে সে তা এড়িয়ে চলে। অন্যদিকে দখলদার ভাষার পরিসরটি তার জন্য আনন্দদায়ক হিসেবে প্রতিভাত হয়, ফলে ওই ভাষাচর্চাই তার অন্বিষ্ট হয়ে ওঠে।
এই বশীকরণ প্রক্রিয়ার পরিণতি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভেতর একধরনের ‘পাভলভীয় চেতনা’র বিকাশ ঘটে। ফলে ‘পুরস্কার’ শব্দটি উচ্চারিত হওয়ামাত্রই আনন্দের আতিশয্যে তার মুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে, আর ‘শাস্তি’ শব্দের সঙ্গে সঙ্গে বেদনাবিদ্ধ হওয়ার আশঙ্কায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে যায়। এভাবে বশীকৃত কোনো জনগোষ্ঠীর প্রথম প্রজন্মের এই আতঙ্কজনক অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের ভেতর কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ছাড়াই একটি স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে সঞ্চারিত হতে পারে—তারা হয়তো বুঝতেই পারবে না, কেন স্বদেশি ভাষা ও সংস্কৃতি তার জন্য আতঙ্কজনক, আর কেনই–বা বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতি তার জন্য আনন্দদায়ক হিসেবে প্রতিভাত হয়। ভাষার ক্ষেত্রে উপনিবেশ–উত্তর সমাজের এলিট সম্প্রদায় ও শিক্ষাবিদেরা ধরেই নেয় যে ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক ভাষাগুলো অন্তর্গতভাবেই বৈশ্বিক চরিত্রমণ্ডিত, আর বুদ্ধিবৃত্তি ও সর্বজনীনতা ধারণ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি উপযোগী। এ রকম প্রচলিত অনুমান থেকেই বোঝা যায়, কেন আফ্রিকার ভাষাগুলোর দুষ্কৃতায়ন এখনো অব্যাহত রয়েছে। আফ্রিকার শিক্ষাবিদেরা তাঁদের এই আত্মঘাতী কর্মকাল সম্পর্কে নিজেরাই এখনো সচেতন নন। আফ্রিকারই কোনো সরকারের নির্দেশে আফ্রিকারই কেউ আফ্রিকান ভাষাভাষী কোনো আফ্রিকানকে এখনো শাস্তি দিয়ে চলেছে।
ঔপনিবেশিক শিক্ষাব্যবস্থা সৃষ্ট প্রাথমিক আতঙ্ক এভাবে প্রজন্মান্তরে সঞ্চারিত হয়। পূর্ববর্তী প্রজন্ম থেকে এই আতঙ্ক পরবর্তী প্রজন্ম উত্তরাধিকার হিসেবে লাভ করে। এভাবে অস্বাভাবিকতাই স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। তারপর শিক্ষার বাঞ্ছিত লক্ষ৵ হিসেবে এই স্বাভাবিক অস্বাভাবিকতার জাতীয়করণ ঘটে।
মননের উপনিবেশায়ন শিক্ষার জাতিগত ক্ষমতায়নপ্রয়াসী অর্থবহ সৃষ্টিশীলতা বিকাশের পথ রোধ করে দেয়। কোনো উপনিবেশিত জনগোষ্ঠীর বৈষম্যমূলক শিক্ষাব্যবস্থার ভেতর ওই জনগোষ্ঠীর ওপর ঔপনিবেশিক শক্তির নিয়ন্ত্রণপ্রক্রিয়া নিহিত থাকে। সে ক্ষেত্রে শিক্ষা মানুষের জ্ঞানেন্দ্রিক প্রক্রিয়াকে, এমনকি জ্ঞানকেও ধোঁয়াশাচ্ছন্ন করে দিতে পারে।
এবার আলোচনার এই পর্যায়ে, আমাদের শিক্ষা ও জ্ঞানের মধ্যকার পার্থক্য নিরূপণ করা প্রয়োজন। আমাদের ইতিমধ্যেই ‘জ্ঞাত’ কিছুর সঙ্গে, নানা মানবীয় তত্পরতার পারস্পরিক প্রভাব ও প্রদীপ্তির দ্বান্দ্বিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে নতুন কিছু নিরন্তর যুক্ত করে চলার ব্যাপারটিই হলো জ্ঞান। আমাদের স্বাভাবিক জ্ঞানেন্দ্রিক প্রক্রিয়া ‘জ্ঞাত’ পরিসর থেকে যাত্রা শুরু করে ‘অজ্ঞাত’ পরিসরের দিকে অগ্রসর হয়।
প্রতিটি নতুন পদক্ষেপই কিছু ‘অজানা’কে আমাদের জানিয়ে দেয়, অর্থাৎ আমাদের ইতিমধ্যে ‘জ্ঞাত’র সঙ্গে নতুন কিছু যোগ করে। এভাবেই দ্বান্দ্বিকভাবে যুক্ত পরম্পরার এক নিরন্তর অভিযাত্রায় নতুনভাবে ‘জ্ঞাত’ কিছু আমাদের ইতিপূর্বে ‘পরিজ্ঞাত’ বিষয়কে সমৃদ্ধ করে চলে। প্রত্যেকের স্থানিক অবস্থান থেকেই জগৎ সম্পর্কে তার জ্ঞানার্জন প্রক্রিয়া শুরু হয়।
অন্যদিকে শিক্ষা হলো কোনো বিদ্যমান সমাজে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য, সে সমাজে কর্মক্ষম থাকার জন্য মানুষকে প্রস্তুত করার একটি পদ্ধতি। শিক্ষার সঙ্গে ‘জ্ঞান’ বিতরণের ব্যাপারটি জড়িত থাকতে পারে, কিন্তু তা হলো শিক্ষকের বিশ্ব-দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা দিয়ে সীমাবদ্ধ জ্ঞান। একটি সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা রূপায়ণের ক্ষেত্রে, আধিপত্য ও অধীনতার, কিংবা প্রভু ও ভৃত্যের সম্পর্কে আবদ্ধ উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়াটি সতর্কভাবে পরীক্ষা করাটা গুরুত্বপূর্ণ। ঔপনিবেশিক শিক্ষা কখনোই সুষম কিংবা অন্তর্ভুক্তিমূলক ছিল না—নেতিবাচকতা থেকে পাথেয় সংগ্রহ করাই ছিল তার বৈশিষ্ট্য।
ঔপনিবেশিক প্রক্রিয়া, বরাবরই, স্বাভাবিক জ্ঞানেন্দ্রিক প্রক্রিয়াকে নাকচ করে অগ্রসর হয়েছে। উপনিবেশিত দেশগুলোতে বরাবর ইউরোপই—ইউরোপীয় নাম, তার ভূগোল, তার ইতিহাস ও তার জ্ঞান—ঔপনিবেশিক শিক্ষার যাত্রাবিন্দু হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। শিক্ষার উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়াটি বরাবরই উপনিবেশিত পরিসরে বিরাজমান জ্ঞানকে নাকচ করার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। আবার ভাষার ক্ষেত্রে, জ্ঞানের উত্স হিসেবে বুদ্ধিবৃত্তিক ও শৈল্পিক অনুসন্ধানের বাহন হিসেবে শুরুতেই স্থানীয় ভাষাগুলোর উপযোগিতাকে অস্বীকার করে উপনিবেশয়ান প্রক্রিয়া অগ্রসর হয়েছে। এভাবে আপন ভিত্তিভূমি থেকে মূলোত্পাটনের কারণে আপন পরিমণ্ডলের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক, আমাদের বিভিন্ন সামর্থ্য, এমনকি আমাদের নানা অর্জন সম্পর্কেও একধরনের স্থায়ী অনিশ্চয়তাবোধ সৃষ্টি করেছে।
এ অবস্থায় যেকোনো সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য বিউপনিবেশায়ন একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিকল্প নেই। ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা, যা চার শ বছর ধরে পৃথিবীকে বর্তমানের রূপ দিয়েছে, তা পুরোনো ঔপনিবেশিক ও উপনিবেশিত—উভয় প্রকার সমাজকেই ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ফলে উপনিবেশায়ন প্রক্রিয়াটি যা কিছু নাকচ করে অগ্রসর হয়েছিল, সেই সবকিছুকে নাকচ করেই কেবল বিউপনিবেশায়ন সংঘটিত হতে পারে। আমাদের স্থানিক বিন্দুতেই, অর্থাৎ আমরা যেখানে আছি, ঠিক সেখানেই আমাদের জ্ঞানের অভিজ্ঞতা শুরু হয়। আমাদের সব ভাষাই জ্ঞানের উত্স হিসেবে কার্যকর। আমরা সবাই নক্ষত্র ভালোবাসি, কিন্তু তাদের দেখার জন্য শারীরিক বা রূপকভাবে আমাদের ইউরোপে অভিপ্রয়াণের প্রয়োজন নেই।
পৃথিবীতে কিংবা যেকোনো দেশে অনেক ভাষা ও সংস্কৃতির, এমনকি অনেক ধর্মের, উপস্থিতি একটি সমস্যাজনক ব্যাপার—এই প্রচলিত অভিজ্ঞানকে আমাদের প্রত্যাখ্যান করতে হবে। মূল সমস্যা আসলে এগুলোর ভেতর বিদ্যমান ‘মর্যাদার স্তরানুক্রমতান্ত্রিক সম্পর্কের’ মধ্যে নিহিত। আমার ভাষা তোমার ভাষার চেয়ে উচ্চতর মর্যাদাসম্পন্ন, আমার সংস্কৃতি তোমার সংস্কৃতির চেয়ে উন্নততর, আমার ভাষা বৈশ্বিক গুণসম্পন্ন আর তোমার ভাষা নিতান্তই আঞ্চলিক, আর আমার ভাষা জানতে হলে তোমার ভাষা পরিত্যাগ করতে হবে—এমন সব ধারণাই সমস্যাজনক। আমার ঈশ্বর তোমার ঈশ্বরের চেয়ে বেশি ঐশ্বরিক—এই ধারণা নিজেই খুব অনৈশ্বরিক। এই দৃষ্টিভঙ্গি মানুষকে অন্যের ভাষার চেয়ে নিজের ভাষার সহজাত উত্কৃষ্টতায় বিশ্বাস করতে প্রণোদিত করে—যা আবার, জ্ঞান ও ক্ষমতার মানদণ্ড, অন্যের তুলনায় নিজের উচ্চতর মর্যাদা দাবি করতে ইন্ধন জোগায়। এই প্রপঞ্চকেই আমি বলি—ভাষিক সামন্ততন্ত্র।
এই ভাষিক সামন্ততন্ত্র থেকে মুক্ত হলে সব ভাষা, ছোট কিংবা বড়, গোটা মানবসমাজের কল্যাণে অবদান রাখতে পারে। সব ভাষাই ইতিহাস, সৌন্দর্য ও সম্ভাবনার অমূল্য ভান্ডার—এই সত্যনিষ্ঠ প্রত্যয়ের ভিত্তিতেই যাবতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা উচিত। ভাষাগুলোর ভেতর পারস্পরিক আদান-প্রদানমূলক আন্তসম্পর্ক জারি থাকলে প্রত্যেকেরই প্রত্যেককে কিছু দেওয়ার থাকে। এমনকি কোনো একটি ভাষা যদি অন্য ভাষাভাষী মানুষের ভেতর যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবেও আবির্ভূত হয়, সে ক্ষেত্রেও তা ওই নির্দিষ্ট ভাষাটির জাতীয়তা বা বৈশ্বিকতার অন্তর্নিহিত বৈশিষ্ট্যের গুণেই সংঘটিত হয়েছে—এমন কোনো অনুমিত ধারণার ভিত্তিতে গ্রাহ্য হওয়া উচিত নয়, বরং তা প্রয়োজন ও প্রয়োজনীয়তার ভিত্তিতে ঘটেছে বলেই বিবেচনা করা সংগত। সর্বোপরি ওই নির্দিষ্ট ভাষাটির বিকাশের জন্য অপরাপর ভাষাকে কবরস্থ করা উচিত নয়।
সুষম ও অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার জন্য একটি নতুন রণধ্বনি প্রয়োজন—মর্যাদার স্তরানুক্রমতন্ত্র নয়, আন্তসম্পর্ক নির্মাণ। আমাদের বোঝা প্রয়োজন যে ছোট-বড় সব ভাষারই একটি সাধারণ ভাষা আছে—অনুবাদ।
শিক্ষার তরফে কখনোই মানুষের ভাষিক ও সাংস্কৃতিক স্ববিচ্ছিন্নতা সৃষ্টিকারী ভূমিকা গ্রহণ করা উচিত নয়। আমি জগতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই, কিন্তু তার জন্য আমার নিজের ভিত্তিভূমিকে নাকচ করতে হবে না। আমার স্থানিক অবস্থান থেকেই আমি জগতের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। আমি মনে করি, শিক্ষার লক্ষ৵ হলো সেই জ্ঞান, যা মানুষকে তার আপন অবস্থানে রেখেই ক্ষমতায়ন করে—যা জগতের সঙ্গে আমাদের প্রকৃত যোগাযোগকে উন্মোচিত করে। আপন ভিত্তিভূমিতে অবস্থান করেই আমরা গোটা জগতের অন্বেষণ করি—সেই জগৎ থেকে এমন কিছু খুঁজে আনি, যা আমাদের ভিত্তিভূমিকে সমৃদ্ধ করে। জ্ঞানের বিন্যাস ও বিন্যস্ত জ্ঞানকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সুষম শিক্ষাব্যবস্থার ভেতর সঞ্চারিত করার জন্য এই দৃষ্টিভঙ্গির বাস্তবায়নই এখন পৃথিবীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
আমাদের যে ধারণাগুলো প্রত্যাখ্যান করতে হবে, তা হলো:
ঐশ্বর্য তো ঐশ্বর্যই নয়, যদি না তা পূতিগন্ধময় আবর্জনা থেকে স্ফুরিত হয়।
প্রাসাদ তো প্রাসাদই নয়, যদি না তা কারাগারের ওপর নির্মিত হয়।
কোটি টাকা অর্থহীন, যদি না লাখো গরিবের পকেট কেটে তা পুঞ্জীভূত হয়।
আমার প্রতিষ্ঠার জন্য অন্যদের তো বিলীন হতে হবে।
শিক্ষাকে এমন জ্ঞান সঞ্চারিত করতে হবে, যা আমাদের আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রাসাদের স্বপ্ন দেখার সামর্থ্য জোগায়—আমাদের একে অন্যের সত্তাকে বিকশিত করতে উদ্বুদ্ধ করে।
(শেষ)
![]() |
| গ্রাফিকস: প্রথম আলো |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুয়াবিয়াকে কখনও স্বীকৃতি দেননি ইমাম হাসান (আ)

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফ্রান্সে ৪০ বছর কারাভোগের পর এক ফিলিস্তিনপন্থী যোদ্ধাকে মুক্তির নির্দেশ
এতে বলা হয়, ১৯৮২ সালে প্যারিসে মার্কিন কূটনীতিক চার্লস রবার্ট রয় এবং ইসরাইলি কূটনীতিক ইয়াকভ ব্যারিসমান্টভকে হত্যা করেন আব্দাল্লাহ। এছাড়া ১৯৮৪ সালে মার্কিন কনস্যুল জেনারেল রবার্ট হোমকে হত্যার চেষ্টা করেন তিনি। ওই বছরই তাকে আটক করা হয়। পরে ১৯৮৭ সালে দোষী সাবস্ত হওয়ার পর তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত। আব্দাল্লাহ লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী রেভ্যুলশনারি বিগ্রেডের একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ফ্রান্সে যাবজ্জীবন পাওয়াদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কারাভোগ করা আসামী। দেশটির নিয়ম অনুযায়ী যাবজ্জীবন পাওয়া আসামীরা ৩০ বছরের কম সময়ের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যান। তবে তার ক্ষেত্রে সে নিয়মের ব্যাতয় ঘটেছে।
ভাইয়ের মুক্তির সংবাদে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন আব্দাল্লাহর ভাই রবার্ট আব্দাল্লাহ। বৃহস্পতিবার লেবাননে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমরা আনন্দিত। আমি কখনই ভাবিনি যে ফরাসি কর্তৃপক্ষ তাকে মুক্তি দেবে। বিশেষ করে বেশ কয়েকবার তার মুক্তির আবেদন খারিজ হওয়ার পর সত্যিই এটা আমাদের জন্য আনন্দের। তিনি আরও বলেন, অন্তত একবারের জন্য হলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের চাপ থেকে মুক্ত হতে পেরেছে ফ্রান্স।
এই মুক্তির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন আব্দাল্লাহর আইনজীবী জ্য-লুইস চ্যালানসেট। বলেছেন, তাকে আগে মুক্তি না দেয়াটা আইনের জয় অথবা রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি, দুটো বিষয়কেই নির্দেশ করে। আব্দাল্লাহকে লেবাননে ফেরত পাঠানোর সম্ভাবনাই বেশি।
বিপক্ষের আইনজীবীরা আব্দাল্লাহর মুক্তি ঠেকাতে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করতে পারেন। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে এই মুক্তি ঠেকানো সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। ২৫ বছর ধরে মুক্তির আবেদন করছেন আব্দাল্লাহ। তবে এখানে তার মুক্তির বিষয়ে ক্রমাগত ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও একটি বেসামরিক পক্ষ। লেবাননও তাকে মুক্ত করার চেষ্টা করেছে। দেশটি বারবার বলেছে তাকে কারাগার থেকে মুক্তি দেয়া উচিত। এছাড়া তাকে বৈরুতে ফিরিয়ে নেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দেশটি।
নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে গত নভেম্বরে শর্তসাপেক্ষে আব্দাল্লাহার মুক্তির আদেশ দেয় ফ্রান্সের একটি আদালত। তবে বিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, তিনি এখনও তার রাজনৈতিক মতাদর্শ পরিবর্তন করেন নি। তারা এ বিষয়ে আপিল করেন। ফলে আব্দাল্লাহর মুক্তির বিষয়টি তখন স্থগিত করা হয়।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্প কি বিশ্বের সব ডানপন্থী নিয়ে জোট গড়তে চান by জ্যঁ ভার্নার ম্যুলার
কিন্তু এখন এই চিত্র বদলাতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণ সে ধরনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প সম্প্রতি ব্রাজিলের ডানপন্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোকে রক্ষা করার জন্য ব্রাজিলে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। এটিকে তাঁর নতুন ধরনের কৌশল বলা যায়।
আরও বড় ব্যাপার হলো ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতা’র নামে ট্রাম্প এখন বিদেশি গণতন্ত্রগুলোর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করছেন। এটি আবার যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরের বড় কিছু স্বার্থ, বিশেষ করে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ডিরেগুলেশনের (কোনো ব্যবসা, শিল্প বা খাতে সরকার যে নিয়মকানুন বা নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে রেখেছিল, তা কমিয়ে দেওয়া বা পুরোপুরি তুলে ফেলা) ইচ্ছাকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করছে।
অনেকেই বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ডানপন্থা’ শব্দটা নিজেই বিরোধপূর্ণ—কারণ, প্রতিটি ডানপন্থী নেতা জাতীয়তাবাদী, তাই আন্তর্জাতিক জোট গড়া তাঁদের চরিত্রের সঙ্গে মেলে না। কিন্তু এই যুক্তি ঠিক নয়। ইতিহাসে এর ব্যতিক্রম আছে। আজকের ডানপন্থী জনতুষ্টিবাদীরাও বলছেন, তাঁরা ‘বিশ্বায়নবাদী’ ও তথাকথিত অবৈধ ‘উদার অভিজাত শ্রেণির’ বিরুদ্ধে একজোট।
এই ভাষা এবং এর সঙ্গে থাকা ষড়যন্ত্র তত্ত্ব (যার মধ্যে প্রায়ই অ্যান্টিসেমিটিক ভাবনা থাকে) সহজেই বিভিন্ন দেশের সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছে। এক দেশের ডানপন্থী নেতারা অন্য দেশের নেতাদের কাছ থেকে ‘খারাপ দৃষ্টান্ত’ও শিখছেন। যেমন নাগরিক সংগঠনগুলোকে ‘বিদেশি এজেন্ট’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার আইন বা গণতন্ত্র দমন করার নানা ফন্দি তাঁরা একে অপরের কাছ থেকে শিখে নিচ্ছেন।
এখনকার ডানপন্থীদের একটি আন্তর্জাতিক মতাদর্শিক কাঠামোও গড়ে উঠেছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে এখানে কোনো ‘পপুলিস্ট কমিনটার্ন’ নেই যে সবাইকে বাধ্যতামূলক আদর্শ দেবে কিন্তু সহযোগিতা সত্যিই হচ্ছে। যেমন ভিক্তর ওরবানের সরকার থেকে প্রচুর অর্থপুষ্ট হাঙ্গেরির কিছু ইনস্টিটিউট এখন যুক্তরাষ্ট্রের হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের সঙ্গে কাজ করছে। তবে এখন পর্যন্ত ডানপন্থী নেতাদের মধ্যে প্রকৃত সহমর্মিতা দেখা যায়নি।
কিন্তু ট্রাম্প এখন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে সেই পুরোনো ধারণা বদলে দিচ্ছেন। তিনি এখন আদর্শগতভাবে অন্য দেশগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছেন, যা বহুদিনের আন্তর্জাতিক রীতিনীতি উপেক্ষা করছে। ব্রাজিলের ক্ষেত্রে তিনি ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দিয়ে চাইছেন যেন বলসোনারোর বিরুদ্ধে চলমান ফেডারেল অপরাধের মামলা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এই শুল্ক আরোপের চিঠিতে ট্রাম্প ব্রাজিল সরকারকে ‘আমেরিকানদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর ধ্বংসাত্মক হামলা’ চালানোর জন্য অভিযুক্ত করেছেন। বিশেষ করে মার্কিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে ব্রাজিলে সেন্সর করার জন্য অভিযুক্ত করেছেন। এ থেকে বোঝা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের এই অর্থনৈতিক চাপের আরেকটি উদ্দেশ্য হলো বিদ্বেষমূলক বক্তব্য নিষিদ্ধ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ন্ত্রণ আরোপের চেষ্টা করা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া।
ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইউরোপীয়দের সমালোচনা করে বলেন, তারা ‘মতপ্রকাশের স্বাধীনতার’ প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল নয়। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্দ্রে দে মোরাসকে টার্গেট করেছে। এই বিচারপতি ইলন মাস্কের এক্স প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করেছিলেন এবং বলসোনারোর বিচারিক প্রক্রিয়ার নেতৃত্ব তিনিই দিচ্ছেন।
বলা চলে, বড় বড় প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন এবং ব্রাজিলের কঠোর নিয়মকানুনে খুশি নয়। ট্রাম্পপন্থীরা এখন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার নামে এই প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ সরিয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের চাপে রাখার কৌশল নিচ্ছেন।
* জ্যঁ ভার্নার ম্যুলার, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক
- স্বত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
July
(186)
-
▼
Jul 18
(9)
- গোপালগঞ্জের ঘটনাকে আমরা কীভাবে দেখব by এ কে এম জাক...
- পেশা যখন রাজনীতি by মহিউদ্দিন আহমদ
- গণ–অভ্যুত্থানের পর জামায়াত শক্তিশালী, উত্থান দক্ষি...
- ভোট দিলাম সন্দ্বীপে, এমপি পেলাম মালদ্বীপে, এ কেমন ...
- শুধু কি দ্রুজদের রক্ষায় সিরিয়ায় হামলা করছে ইসরায়েল
- প্রবন্ধ- শিক্ষার বিউপনিবেশায়ন by ন্গুগি ওয়া থিয়োং...
- মুয়াবিয়াকে কখনও স্বীকৃতি দেননি ইমাম হাসান (আ)
- ফ্রান্সে ৪০ বছর কারাভোগের পর এক ফিলিস্তিনপন্থী যোদ...
- ট্রাম্প কি বিশ্বের সব ডানপন্থী নিয়ে জোট গড়তে চান b...
-
▼
Jul 18
(9)
-
▼
July
(186)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...





