Friday, May 30, 2025

পশ্চিম তীরে আরও ২২টি বসতি স্থাপনের ঘোষণা ইসরায়েলের: খাদ্যগুদামে ‘ক্ষুধার্ত মানুষের’ ঢল

দুই দিনে গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশনের (জিএইচএফ) একটি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবারও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের উদ্যোগে সম্প্রতি চালু হওয়া ফাউন্ডেশনটির ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থার অভিযোগ, জিএইচএফ গাজায় ত্রাণ বিতরণে নিরপেক্ষতার নীতি লঙ্ঘন করছে এবং ত্রাণ বিতরণের মাধ্যমে গাজা খালি করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।

গাজা হামলার ৫৯৯তম দিনে গতকাল অধিকৃত পশ্চিম তীরে নতুন করে আরও ২২টি বসতি স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। কয়েক দশকের মধ্যে এটি ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় বসতি স্থাপনের ঘোষণা। এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও কঠিন হয়ে দাঁড়াল।

গতকাল সকাল পর্যন্ত পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় গাজার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ফিলিস্তিনের সরকারি সংবাদ সংস্থা ওয়াফা জানিয়েছে, গতকাল ভোরে উত্তর গাজার জাবালিয়ায় একটি কিন্ডারগার্টেন ও আজ্জাম পরিবারের বাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, মধ্য গাজার বুরেইজ শরণার্থীশিবিরের আবাসিক ভবনে ইসরায়েলের কয়েক দফা বিমান হামলায় মারা গেছেন অন্তত ১৯ জন।

গতকাল মধ্য গাজার নেটজারিম করিডরে জিএইচএফের একটি ত্রাণ কেন্দ্রের কাছে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। বিস্ফোরণের কারণ ও হতাহতের খবর তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

গাজার সরকারি সংবাদমাধ্যম কার্যালয় জানিয়েছে, দক্ষিণ গাজায় মঙ্গল ও বুধবার জিএইচএফের কেন্দ্র থেকে খাবার আনতে গিয়ে ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে সেখানে আরও প্রায় ৬২ জন আহত হয়েছেন।

জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলো জিএইচএফকে বর্জন করেছে। তাদের অভিযোগ, মানবিক সহায়তা কোনো ধরনের পক্ষপাত ছাড়া প্রয়োজনের ভিত্তিতে বণ্টন করতে হয়। কিন্তু মানবিক সহায়তা দেওয়ার সেই নীতিকে লঙ্ঘন করছে জিএইচএফ।

অধিকৃত ফিলিস্তিন অঞ্চলে জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ সহায়তা কর্মকর্তা জনাথন হুইটল জেরুজালেমে সাংবাদিকদের বলেন, নজরদারি করে নতুন পদ্ধতিতে ত্রাণ দিচ্ছে জিএইচএফ। এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনিদের পরিকল্পিতভাবে বঞ্চনা করার নীতিকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে।

জনাথন হুইটল আরও বলেন, জাতিসংঘ এই পরিকল্পনায় অংশ নিতে রাজি হয়নি। কারণ, বাস্তবতার দিক থেকে এটি অকার্যকর এবং মানবিক নীতির লঙ্ঘন। তারা ত্রাণকে গাজার নির্দিষ্ট এলাকা খালি করার বৃহত্তর ইসরায়েলি পরিকল্পনার একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।

গাজার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় মঙ্গলবার থেকে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জিএইচএফ।

খাদ্যগুদামে ‘ক্ষুধার্ত মানুষের’ ঢল

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বরাতে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দলে দলে ‘ক্ষুধার্ত মানুষ’ বুধবার মধ্য গাজার একটি খাদ্যগুদামে ঢুকে পড়েছেন।

এ ঘটনায় দুজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, তারা বিস্তারিত তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখছে।

বার্তা সংস্থা এএফপির ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, দেইর আল-বালাহ শহরের আল-ঘাফারি গুদামে ক্ষুধার্ত লোকজন ঢুকে খাদ্যের বস্তা ও ময়দার প্যাকেট নিয়ে যাচ্ছেন। সেই সময় গুলির শব্দ শোনা যায়। গুলি কোথা থেকে এসেছে, তা তখন স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না।

ডব্লিউএফপি এক বিবৃতিতে বলেছে, প্রায় তিন মাস ধরে চলা ইসরায়েলি অবরোধের পর মানবিক সংকট ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে’। গত সপ্তাহে এ অবরোধ কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

ডব্লিউএফপি সতর্ক করে বলেছে, গাজায় অবিলম্বে খাদ্যসহায়তা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। মানুষকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাঁরা অনাহারে মরবেন না। পরিস্থিতি দ্রুত খারাপের দিকে যাচ্ছে। সাহায্য সীমিত করার কারণে ক্ষুধার্ত মানুষের জীবন আরও হুমকির মুখে পড়ছে।

নতুন বসতি স্থাপন

অধিকৃত পশ্চিম তীরের জুদিয়া ও সামারিয়া অঞ্চলে নতুন করে আরও ২২টি বসতি স্থাপন করবে ইসরায়েল। ‘রুট ৪৪৩’ ধরে এই সব বসতি গড়ে উঠবে। সড়কটি মোদিইন হয়ে জেরুজালেম ও তেল আবিবকে যুক্ত করেছে। নতুন বসতি স্থাপনের পাশাপাশি গত কয়েক বছরে পূর্ব জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরে যেসব অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে, সেগুলোকেও অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েল। হামাস ও ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভবত দুই সপ্তাহ আগে মন্ত্রিপরিষদের এক গোপন বৈঠকে নতুন বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু জানানো হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ও ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গতকাল মন্ত্রিসভার এই সিদ্ধান্ত জানান। স্মোট্রিচ নিজেই পশ্চিম তীরের কেদুমিম বসতিতে থাকেন।

কাটজ নতুন বসতি স্থাপনের সিদ্ধান্তকে ‘কৌশলগত পদক্ষেপ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘এর মধ্য দিয়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকানো যাবে, যার প্রতিষ্ঠা ইসরায়েলের জন্য হুমকি হতে পারে।’

১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধে জর্ডানের কাছ থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম, মিসরের কাছ থেকে গাজা এবং সিরিয়ার কাছ থেকে গোলান মালভূমি দখল করে নিয়েছিল ইসরায়েল। দীর্ঘদিন পর গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেও বাকি অঞ্চলগুলোতে বসতি নির্মাণ শুরু করে দেশটি। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী, এসব অধিকৃত অঞ্চলে বসতি নির্মাণ নিষিদ্ধ। কিন্তু আন্তর্জাতিক আইনের কোনো তোয়াক্কা না করে দেশটির প্রতিটি সরকার এসব এলাকায় বসতি নির্মাণ করেছে। ইসরায়েল সরকারের অনুমতি ছাড়াও সেখানে অনেক বসতি গড়ে উঠেছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এসব বসতির স্বীকৃতি দেয়নি।

১৯৬৭ সালের পর থেকে পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৬০টি বসতি নির্মাণ করেছে ইসরায়েল। এতে প্রায় সাত লাখ ইসরায়েলি বসবাস করেন।

ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র ইসরায়েলের বসতি স্থাপনের ঘোষণাকে ‘বিপজ্জনক উসকানি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল ওই অঞ্চলকে অব্যাহতভাবে ‘সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার চক্রের দিকে টেনে নিচ্ছে’। তিনি আরও বলেন, ‘উগ্রবাদী ইসরায়েলি সরকার যাবতীয় উপায়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা রোধ করতে চেষ্টা করছে।’

ফিলিস্তিনি পুরুষেরা গম সংগ্রহ করছেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পর নিজের খেত থেকে গম সংগ্রহ করছেন এক ফিলিস্তিনি। ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে, ২৮ মে, ২০২৫
ফিলিস্তিনি পুরুষেরা গম সংগ্রহ করছেন, ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের হামলার পর নিজের খেত থেকে গম সংগ্রহ করছেন এক ফিলিস্তিনি। ইসরায়েল অধিকৃত পশ্চিম তীরে, ২৮ মে, ২০২৫ ছবি: রয়টার্স

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব গাজায় হত্যাকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ারই নামান্তর: হামাস

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ইসরায়েলের সঙ্গে হামাসের যে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে, তা এখনো ‘আলোচনার পর্যায়ে’ রেখেছে হামাস। তবে তারা মনে করে প্রস্তাবটি এখন যে অবস্থায় আছে, তা শুধু গাজায় ‘হত্যা ও দুর্ভিক্ষের ধারাবাহিকতাকেই’ নিশ্চিত করবে।

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের এক কর্মকর্তা এসব কথা বলেছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, ইসরায়েল ইতিমধ্যে ওই যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য হামাসের কাছে পাঠিয়েছেন।

এদিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, ‘এ চুক্তি আমাদের জনগণের কোনো দাবিই পূরণ করে না। দাবিগুলোর অন্যতম হলো যুদ্ধ বন্ধ করা।’

তবু হামাস নেতারা পূর্ণ জাতীয় দায়িত্ববোধ নিয়ে প্রস্তাবটি যাচাই-বাছাই করছেন বলে উল্লেখ করেন নাইম।

       ইসরায়েলের আগ বাড়িয়ে কোনো প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। নেতানিয়াহু হয়তো এ পরিকল্পনায় সম্মতি দিচ্ছেন। কারণ, তিনি জানেন, এটি হামাসের জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব হবে। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি যেন বিশ্ববাসীর কাছে হামাসকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।
      -------—আকিভা এলদার, ইসরায়েলি রাজনৈতিক বিশ্লেষক

নতুন ওই মার্কিন প্রস্তাবের বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি। তবে হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি রয়টার্সকে বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এ প্রস্তাবে গাজায় যুদ্ধ বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দেয়নি ইসরায়েল। ইসরায়েলি সেনাদের গাজা উপত্যকা থেকে প্রত্যাহারের কথাও বলা নেই। যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় মানবিক সাহায্য পৌঁছানোর বিষয়েও কোনো স্পষ্ট নিশ্চয়তা নেই।

নতুন প্রস্তাবটি অনুমোদন করার বিষয়টি ইসরায়েল সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

বিভিন্ন ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু গাজায় জিম্মি থাকা ব্যক্তিদের স্বজনদের বলেছেন, তিনি উইটকফের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মেনে নিতে প্রস্তুত আছেন।

ইসরায়েলের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আকিভা এলদার আল–জাজিরাকে বলেছেন, ইসরায়েলের আগ বাড়িয়ে কোনো প্রস্তাবে সম্মতি দেওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক। নেতানিয়াহু হয়তো এ পরিকল্পনায় সম্মতি দিচ্ছেন। কারণ, তিনি জানেন, এটি হামাসের জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব হবে। আর এর মধ্য দিয়ে তিনি যেন বিশ্ববাসীর কাছে হামাসকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে উপস্থাপন করতে পারেন এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পান।

আকিভা এলদার বলেন, ‘এমন ঘটনা আগেও ঘটেছে এবং নেতানিয়াহু তখন তাদের (হামাস) ওপর দোষ চাপিয়েছিলেন।’

হামাস ও ইসরায়েল—দুই পক্ষের মধ্যে গভীর মতপার্থক্যের কারণে গাজায় নতুন যুদ্ধবিরতির চেষ্টা বারবার ভেস্তে গেছে। ইসরায়েলের দাবি, হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির দাবি, ইসরায়েলি সেনাদের গাজা থেকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করতে হবে।

উইটকফের সাম্প্রতিকতম এ প্রস্তাব চলতি সপ্তাহের শুরুতে দেওয়া আরেক প্রস্তাবের বিষয়াবলির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। কেননা সে সময় হামাস দাবি করেছিল, তারা উইটকফের সঙ্গে একটি যুদ্ধবিরতির ‘সাধারণ রূপরেখা’ নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে এবং এখন শুধু ‘চূড়ান্ত জবাবের’ অপেক্ষায় আছে।

হামাস এক বিবৃতিতে বলেছিল, ‘আমরা উইটকফের সঙ্গে একটি সাধারণ রূপরেখার বিষয়ে একমত হয়েছি, যা একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, গাজা থেকে ইসরায়েলি দখলদার বাহিনীর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও মানবিক সহায়তার নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশ নিশ্চিত করবে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর গাজার প্রশাসন পরিচালনার জন্য একটি পেশাদার কমিটি গঠনের বিষয়ও ওই সমঝোতায় অন্তর্ভুক্ত আছে।

চুক্তির অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৬০ দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করার নিশ্চয়তা দেবেন বলেও বলা হচ্ছিল।

তবে পরে উইটকফ এমন কোনো শর্ত থাকার কথা অস্বীকার করেন। তিনি রয়টার্সকে বলেন, যে শর্তগুলোর কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো ‘পুরোপুরি অগ্রহণযোগ্য’।

গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি ট্যাংক
গাজা সীমান্তে ইসরায়েলি ট্যাংক। ফাইল ছবি: এএফপি

যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের কীভাবে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল: আল–জাজিরার এক্সপ্লেইনার

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ফিলিস্তিনিদের ‘পদ্ধতিগত’ মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে—এমন তথ্য উঠে এসেছে। গাজায় গত ১৯ মাস ধরে চলমান যুদ্ধ ও অধিকৃত পশ্চিম তীরে সমান্তরাল অভিযানগুলোর মধ্যে এক বেআইনি চর্চার দিকে নতুন করে আলোকপাত করেছে এটি। ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ইসরায়েলের ব্যবহার করা এখন প্রায় স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

গত শনিবার প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে গাজা ও পশ্চিম তীরে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত সাতজন ফিলিস্তিনির সাক্ষ্য যুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, দুজন ইসরায়েলি সেনা কর্মকর্তা ওই চর্চার ব্যাপকতা স্বীকার করেছেন, যা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ অভিযোগের জবাবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তাদের অভিযানে বেসামরিক লোকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ এবং বেশ কয়েকটি অভিযোগের তদন্ত চলছে।

আসুন, জেনে নেওয়া যাক, মানবঢাল কী? ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী কতটা ব্যাপকভাবে এ অস্ত্র ব্যবহার করছে। ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েল কি শিগগিরই আরেকটি দমনাভিযান চালাতে পারে—এমন সব প্রশ্নের উত্তর।

মানবঢাল কী, ইসরায়েল কীভাবে এটি ব্যবহার করছে

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের (আইএইচএল) অধীন, ‘মানবঢাল’ বলতে বোঝায়—হামলা থেকে সামরিক লক্ষ্যবস্তু রক্ষায় বেসামরিক বা অন্য সুরক্ষিত ব্যক্তিদের, ইচ্ছাকৃত বা অনিচ্ছাকৃতভাবে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা।

ওই আইনে যুদ্ধের ময়দানে মানবঢালের ব্যবহার নিষিদ্ধ। কিন্তু গাজায় গণহত্যার সময় ইসরায়েলি সেনারা এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইসরায়েলি সংবাদপত্র হারেৎজ চলতি বছরের শুরুর দিকে এক সেনাসদস্যের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য প্রকাশ করে, যেখানে তিনি জানান, তাঁর ইউনিটে দিনে ‘ছয়বার’ ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হতো এবং এ প্রক্রিয়া কার্যত ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে ‘স্বাভাবিক’ রীতি হয়ে উঠেছে।

গত আগস্টে হারেৎজ আরও প্রকাশ করে, গাজায় মানবঢাল হিসেবে ব্যবহৃত ফিলিস্তিনিদের বয়স সাধারণত ২০-এর কোঠায় এবং কিছু ইউনিট এক সপ্তাহ পর্যন্ত তাদের ব্যবহার করেছে। ফিলিস্তিনি বন্দীদের চিহ্নিত করে (কাদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হবে) টানেলের মুখ বা বিভিন্ন ভবনে পাঠানো নিয়ে গর্বও করেছে এসব ইউনিট।

‘এটি (ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করা) এখন (ইসরায়েলের) সামরিক সংস্কৃতির অংশ হয়ে উঠেছে’, বলেন ‘হিউম্যান শিল্ডস: এ হিস্ট্রি অব পিপল ইন দ্য লাইন অব ফায়ার’ গ্রন্থের সহরচয়িতা নিকোলা পেরুজিনি। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে বহু প্রমাণ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার পাশাপাশি অনেক ইসরায়েলি সেনা নিজেরাও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের “পশুখাদ্য” হিসেবে ব্যবহার করার প্রমাণ পোস্ট করেছেন; দৃশ্যত তাদের (ইসরায়েলি বাহিনী) যেন কোনো জবাবদিহি নেই।

      এ বিষয়ে বহু প্রমাণ রয়েছে। মানবাধিকার সংস্থার পাশাপাশি অনেক ইসরায়েলি সেনা নিজেরাও সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত সামাজিক মাধ্যমে ফিলিস্তিনিদের “পশুখাদ্য” হিসেবে ব্যবহার করার প্রমাণ পোস্ট করেছেন; দৃশ্যত তাদের (ইসরায়েলি বাহিনী) যেন কোনো জবাবদিহি নেই।
    -----—নিকোলা পেরুজিনি, ‘হিউম্যান শিল্ডস: এ হিস্ট্রি অব পিপল ইন দ্য লাইন অব ফায়ার’ গ্রন্থের সহরচয়িতা

‘গত কয়েক দশকে প্রমাণ হয়েছে যে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তদন্ত প্রকৃতপক্ষে তদন্ত নয়’, বলেন পেরুজিনি। তিনি জানান, এই চর্চার (ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল করা) নথিভুক্তিকরণ শুরু হয় ২০০০-এর দশকের গোড়ার দিকে দ্বিতীয় ইন্তিফাদার (ফিলিস্তিনি অভ্যুত্থান) সময়। এ চর্চা জেনেভা কনভেনশনের প্রটোকল ১ অনুযায়ী নিষিদ্ধ।

‘ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে যত যুদ্ধ হয়েছে, তার ইতিহাসে এবারের যুদ্ধেই মানবঢাল ব্যবহার করার সবচেয়ে বেশি প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। কারণ, এ গণহত্যা সরাসরি সম্প্রচারিত (ভিডিও, ছবি ইত্যাদি মাধ্যমে) হচ্ছে’, বলেন পেরুজিনি। তিনি আরও বলেন, ‘অনুসন্ধান করে আমরা যা পেয়েছি, তা হলো—এককথায় এটি একটি পদ্ধতিগত বা প্রাতিষ্ঠানিক চর্চা।’

অভিযোগের জবাবে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া


এই সংঘাত চলাকালীন অভিযোগের জবাবে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সাধারণ কৌশল ছিল মন্তব্য না করা, পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার কথা বলা অথবা যখন অস্বীকার করার উপায় থাকেনি, তখন তদন্তের ঘোষণা দেওয়া।

আল–জাজিরার অনুসন্ধানী দল গত বছর ইসরায়েলকে বেশ কিছু অভিযোগের মুখোমুখি করলেও তারা সেসবের কোনো জবাব দেয়নি। দলটি কয়েক হাজার ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করেছে; যার বেশির ভাগই ইসরায়েলি সেনাদের অনলাইনে পোস্ট করা। এসব ছবি ও ভিডিও এবং অন্যদের সাক্ষ্যের মাধ্যমে ইসরায়েলি বাহিনীর সম্ভাব্য একাধিক যুদ্ধাপরাধ, যেমন মানবঢালের ব্যবহারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

ওই অনুসন্ধান থেকে তৈরি করা হয় প্রামাণ্যচিত্র। তাতে বর্ণিত ঘটনার মধ্যে ছিল জামাল আবু আল-ওলার কাহিনি। ইসরায়েলি বাহিনী তাঁকে বার্তাবাহক হিসেবে ব্যবহারে বাধ্য করে। ফুটেজে দেখা যায়, ওই তরুণ সাদা স্যুট পরিহিত, হাত বাঁধা ও মাথা হলুদ কাপড়ে মোড়া অবস্থায় খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে স্থানত্যাগ করতে বলছেন। তাঁর মা তাঁকে অনুসরণ করেন এবং নিজের চোখে দেখেন, কীভাবে এক স্নাইপারের গুলিতে তাঁর ছেলেটিকে পরে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনার ব্যাখ্যায় আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ রডনি ডিকসন বলেন, আল-ওলাকে ‘সামরিক সম্পদ’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ‘নানা দিক থেকেই কাউকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সংজ্ঞায় পড়ে।’

চলতি বছর গাজা শহরে ৮০ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে মানবঢাল বানানোর অভিযোগ নিয়ে তদন্তের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তারা বলেছে, ‘আরও বিস্তারিত তথ্য’ প্রয়োজন।

ইসরায়েলি অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হটেস্ট প্লেস ইন হেল’ ও ‍‘+৯৭২ সাময়িকী’র এক যৌথ প্রতিবেদনে ‘মসকুইটো প্রসিডিউর’ (মশা পদ্ধতি) নামে পরিচিত এক ভয়ংকর কৌশলের নতুন রূপ উঠে আসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি সেনারা জানিয়েছেন, এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওই বৃদ্ধের গলায় বিস্ফোরক তার পেঁচিয়ে দেন এবং বলেন, তিনি যদি কোনো ভুল করেন (কথামতো কাজ না করা), তবে তাঁর মাথা উড়িয়ে দেওয়া হবে।

এরপর ওই বৃদ্ধকে গাজার জেইতুন এলাকায় তাঁর বাড়ি ছেড়ে পালাতে বলা হয়। পরে অন্য একটি ইসরায়েলি ব্যাটালিয়নের গুলিতে তিনি ও তাঁর স্ত্রী নিহত হন।

যাহোক, যখন অপরাধের অকাট্য প্রমাণ সামনে আসে এবং তা জনমনে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি করে, তখন ইসরায়েলি বাহিনী ব্যতিক্রমী কিছু ঘটনাকে স্বীকার করে। যেমন, গত বছরের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আহত ফিলিস্তিনি যুবক মুজাহিদ আজমিকে এক সামরিক জিপের বনেটে বেঁধে পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে অভিযান চালানো হচ্ছে।

এ ঘটনাকে ‘মানবঢাল ব্যবহারের বাস্তব উদাহরণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন জাতিসংঘের অধিকৃত ফিলিস্তিন ভূখণ্ডবিষয়ক বিশেষ দূত ফ্রান্সেস্কা আলবানিজ।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বলেছে, তারা ওই অভিযানের সময় গুলিবিনিময়ে জড়ায় এবং সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে আহত অবস্থায় ধরে ফেলে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘ভিডিওটিতে দেখা সেনাদের আচরণ’ সেনাবাহিনীর ‘মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়’ এবং এ ঘটনার তদন্ত করা হবে।

তবে পেরুজিনির পর্যবেক্ষণ হলো, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) যুদ্ধাপরাধের যেসব অভিযোগে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে; তার পেছনে অন্যতম কারণ হলো, আইন বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন না যে ইসরায়েল নিজেই নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগের সঠিক তদন্ত করতে পারবে।

মানবঢাল ব্যবহারের নির্দেশ দেয় কে

বহু প্রমাণ থাকার পরও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী আদৌ এই পদ্ধতিগত মানবঢাল ব্যবহারের বিরুদ্ধে অভিযান চালাবে কি না, সেটি অনিশ্চিত। তবু তাদের জবাবদিহি করার জন্য চাপ বাড়ছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে মানবঢাল ব্যবহারের এ প্রথা অনেক দশক ধরেই চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। ‘ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স’ নামের গোপন তথ্য প্রকাশকারী একটি সংগঠন ২০০২ সালে পশ্চিম তীরের বেথলেহেমে নিযুক্ত একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বর্ণিত ‘নেইবার প্রসিডিউর’ (প্রতিবেশী পদ্ধতি) নামের এক কৌশলের পক্ষে প্রমাণ তুলে ধরেছে।

‘আপনি একজন ফিলিস্তিনিকে আপনাকে সঙ্গ দেওয়ার আদেশ দেন। যে বাড়িতে ঢুকতে চান সেটির দরজা খুলতে, কড়া নাড়তে ও সেটিতে প্রবেশ করতে বলেন। উদ্দেশ্য খুব সহজ: যদি দরজা বিস্ফোরিত হয়, তবে ফিলিস্তিনিই উড়ে যাবে, আপনি (সেনারা) নন’, বলেন মেজর পদমর্যাদার ওই কর্মকর্তা।

২০০৫ সালে, ইসরায়েলের সর্বোচ্চ আদালতের এক রায়ে এ প্রথা স্পষ্টভাবে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাঁচ বছর পর, দুই ইসরায়েলি সেনাকে গাজা শহরের তাল আল-হাওয়া এলাকায় নয় বছর বয়সী একটি শিশুকে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে বোমা বা বিস্ফোরকদ্রব্যের সন্দেহজনক ফাঁদ শনাক্ত করার দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।

মানবঢাল ব্যবহারের দায়ে ইসরায়েলে প্রথম কোনো দণ্ডাদেশ দেওয়ার জানা ঘটনা ছিল এটি। তবে এ ঘটনার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে মানবঢালের ব্যবহারকে যেন একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে, বিশেষ করে গত ১৯ মাস ধরে চলা গাজা যুদ্ধে।

বাস্তবে এমন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে মানবঢাল ব্যবহারের নির্দেশগুলো ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেই আসতে পারে।

গত আগস্টে হারেৎজের এক অনুসন্ধানে কিছু সূত্র উদ্ধৃত করে বলা হয়, সাবেক চিফ অব স্টাফ হারজি হালেভি শীর্ষপর্যায়ের ওই কর্মকর্তাদের একজন ছিলেন, যিনি গাজায় ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়ে অবগত ছিলেন।

সম্প্রতি এপির প্রকাশিত প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার বরাতে বলা হয়, ২০০৪ সালের মাঝামাঝি গাজায় মানবঢাল ব্যবহারের প্রথা এতটাই সাধারণ হয়ে ওঠে যে, প্রতিটি পদাতিক ইউনিট তাদের দায়িত্বের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই কোনো না কোনো ফিলিস্তিনিকে ঘর পরিষ্কার করার (সেনাদের থাকার জায়গা) কাজে ব্যবহার করে। এমনকি প্রায়ই ‘একটা মশা আনো’ বলে আদেশ দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এক ইসরায়েলি সার্জেন্ট জানিয়েছেন, ২০২৪ সালে গাজায় তাঁর ইউনিট মানবঢাল ব্যবহারে অস্বীকৃতি জানাতে চেয়েছিল। কিন্তু তখন তাঁদের বলা হয়, কোনো বিকল্প নেই। এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা তাঁদের বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার দরকার নেই।

এপির এ প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দ্য জেরুজালেম পোস্টকে গত রোববার বলেছে, ‘যদি আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়’, তবে তারা অভিযোগগুলোর তদন্ত করবে।

চলতি বছরের মার্চে হারেৎজ জানায়, ইসরায়েলের সামরিক পুলিশ ছয়টি ঘটনার তদন্ত করছে, যেখানে সেনারা ফিলিস্তিনিদের মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর আগে, রেডক্রসের এক প্রতিবেদনে এ অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছিল।

ইসরায়েলের একজন সেনাসদস্য
ইসরায়েলের একজন সেনাসদস্য। ফাইল ছবি: রয়টার্স

সিএনএনকে সাক্ষাৎকার: এটা যদি যুদ্ধাপরাধ না হয়, তবে কী—ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্টের প্রশ্ন

ইসরায়েলের বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ড নিয়ে আবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট। সিএনএনকে তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ তিনি আর খণ্ডন করতে পারছেন না।

ওলমার্ট, বিশেষ করে গাজার ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর সর্বশেষ ১১ সপ্তাহের অবরোধ ও সেখানে হামলা জোরালো করা নিয়ে কথা বলেছেন। এ অবরোধের মধ্যে গাজায় কোনো ধরনের ত্রাণ ঢুকতে দেয়নি ইসরায়েল। ফলে সেখানে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। উপরন্তু, হামলা জোরদার করায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে সেখানে।

সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওলমার্ট উল্টো প্রশ্ন তোলেন, ‘এটা যদি যুদ্ধাপরাধ না হয়, তবে কী?’

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তাঁর সরকারের চরম ডানপন্থী সদস্যরা যা করছেন, অন্য কোনোভাবে এর ব্যাখ্যা করা যায় না বলেও মন্তব্য করেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্ট।

গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে জাতিগত হত্যা ও নিধনের যে অভিযোগ উঠেছে, বিদেশিদের কাছে এত দিন তা খণ্ডন করে আসছিলেন ওলমার্ট।

যখন গাজায় নারী ও শিশুদের হত্যার অভিযোগ ওঠে তখন ওলমার্ট কর্মকর্তাদের কাছে ও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের পক্ষে যুক্তি হিসেবে তাদের বাহিনী ইচ্ছা করে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে না বলে সাফাই দিয়েছিলেন। ওলমার্ট নিজেই এ কথা জানান।

১৯ মাস ধরে গাজা যুদ্ধ চলছে। ওলমার্ট মনে করেন, এ যুদ্ধ আরও এক বছর আগেই শেষ হওয়া উচিত ছিল। এখন এ যুদ্ধের পক্ষে তিনি আর কোনো যুক্তি তুলে ধরতে পারবেন না বলেও বিশ্বাস তাঁর।

    আমরা এখন গাজায় যা করছি, তা হলো ধ্বংসযজ্ঞের যুদ্ধ। নির্বিচার, সীমাহীন, নিষ্ঠুর ও অপরাধমূলকভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।
     -------এহুদ ওলমার্ট, ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

২০০৬ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ওলমার্ট। ইসরায়েলের পত্রিকা হারেৎজে গত মঙ্গলবার ওলমার্টের একটি মতামত প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি লেখেন, ‘আমরা এখন গাজায় যা করছি, তা হলো ধ্বংসযজ্ঞের যুদ্ধ। নির্বিচার, সীমাহীন, নিষ্ঠুর ও অপরাধমূলকভাবে নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে।’

এই মতামত প্রকাশের পর সিএনএন ওলমার্টের সঙ্গে কথা বলে।

গাজা যুদ্ধে এ পর্যন্ত ৫৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তাঁদের মধ্যে অন্তত ২৮ হাজার জন নারী ও শিশু।

এ বছর জানুয়ারিতে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) বলেছিল, যুদ্ধে তারা ২০ হাজারের বেশি হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।

ওলমার্ট বলেন, ‘আমাদের এটা নিশ্চিত করা দরকার যে গাজায় যেসব মানুষ এ সংঘাতে জড়িত নন, তাঁরা যেন এই সামরিক অভিযান সম্প্রসারণের কারণে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আমি মনে করি, এ অভিযান পুরোপুরি অযৌক্তিক এবং এ মুহূর্তে এটি ইসরায়েল রাষ্ট্রের কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছে না।’

ওলমার্টের সমালোচনার মূল লক্ষ্য নেতানিয়াহু এবং তাঁর দুই কট্টর ডানপন্থী মন্ত্রী ইতামার বেন গভি ও বেজালেল স্মোট্রিচ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ওলমার্ট সিএনএনকে বলেন, ‘আশা করি, যত দ্রুত সম্ভব এ (নেতানিয়াহু) সরকার চলে যাবে। আমি বিশ্বাস করি, অধিকাংশ ইসরায়েলি এ সরকারের নীতিমালা, বক্তব্য এবং এই সরকারের কারণে ইসরায়েল রাষ্ট্র ও দেশের জনগণের ন্যায়পরায়ণতার যে ভয়াবহ ক্ষতি হয়েছে, তা নিয়ে ক্লান্ত ও বিরক্ত।’

ইসরায়েলে নানা জরিপে বারবার উঠে আসছে, দেশটির অধিকাংশ মানুষ গাজায় একটি বিস্তৃত যুদ্ধবিরতি চান, যার মাধ্যমে গাজায় থাকা বাকি ৫৮ জিম্মিকে মুক্ত করা ও যুদ্ধের অবসান ঘটানো সম্ভব হবে।

    ট্রাম্প একমাত্র ব্যক্তি, যিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারেন।
    ---------এহুদ ওলমার্ট, ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী

কিন্তু নেতানিয়াহু যুদ্ধ শেষ করার ব্যাপারে কোনো প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ও জোর দিয়ে বলেছেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান হামাস পরাজিত না হওয়া পর্যন্ত চলবে।

জিম্মিদের পরিবারের অনেকের মতো ওলমার্টও নেতানিয়াহুর ওপর থেকে আস্থা হারিয়েছেন এবং গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দিকে তাকিয়ে আছেন।

ওলমার্ট বলেন, ট্রাম্পই একমাত্র ব্যক্তি যিনি নেতানিয়াহুকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য করতে পারেন।

ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট
ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এহুদ ওলমার্ট। ফাইল ছবি: রয়টার্স

গাজায় ক্ষুধার্ত মানুষের ঢল, গুলি, নিহত ২

কবি সুকান্তের সেই বিখ্যাত কবিতা ‘হে মহাজীবন’। তারই বিখ্যাত একটি লাইন- ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়’। হ্যাঁ, মানুষের বা কোনো প্রাণীর যখন ক্ষুধা লাগে তখন তার কাছে আদর্শ, নৈতিকতা, লজ্জা, সম্মান, আইন কোনো কিছুর কোনো মূল্য থাকে না। সে যেকোনোভাবে খাদ্য খোঁজে। ঠিক এমনই এক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে গাজায়। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) জানিয়েছে, গাজার কেন্দ্রীয় অঞ্চলের একটি খাদ্য গুদামে ‘ক্ষুধার্ত মানুষের ঢল’ হামলা চালিয়েছে এবং খাদ্য সরবরাহ লুট করেছে। এই ঘটনায় দু’জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। বার বার জাতিসংঘ সহ বিভিন্ন মানবিক সংগঠন, মানবাধিকার বিষয়ক সংগঠন, বিভিন্ন দেশ হুঁশিয়ার করছে এ বিষয়ে। তারা বলছে, গাজায় খাদ্য শেষ। মানুষ বাঁচিয়ে রাখা যাচ্ছে না। সেই মানুষ যখন সামান্য খাদ্যের খবর পাচ্ছে, তখন তারা আইনের বেড়াজালকে ছিন্ন করে হামলে পড়ছে। ইসরাইলের নৃশংসতায় গাজায় একটি জাতি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তারা যখন গাজায় ত্রাণ সরবরাহ পৌঁছানোর অনুমতি দিয়েছে, তখন যে পরিমাণ ত্রাণ সেখানে পৌঁছাচ্ছে  তাকে জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস এক চামচ বলে উল্লেখ করেছেন। বার বার বলা হচ্ছে, গাজা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে। আসলে দ্বারপ্রান্তে না বলে এটাকে এখন দুর্ভিক্ষ বলাই উচিত। কারণ, সেখানে মানুষের খাবার নেই। কোনো জিনিসপত্র নেই। সামান্য যা আছে, তার দাম আকাশছোঁয়া।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, দেইর আল-বালাহ এলাকার আল-গাফারি গুদামে প্রচণ্ড ভিড় থেকে মানুষ ঢুকে পড়ে। গুলির শব্দের মধ্যে ময়দার বস্তা ও খাদ্যের প্যাকেট নিয়ে যায়। গুলির উৎস কোথা থেকে তা তখনই পরিষ্কার ছিল না। এক বিবৃতিতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি জানায়, প্রায় তিন মাস ধরে চলা ইসরাইলি অবরোধ, যা গত সপ্তাহে কিছুটা শিথিল হয়েছে, তার ফলে গাজার মানবিক পরিস্থিতি ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে’। সংস্থাটি জানিয়েছে, ওই গুদামে আগেভাগেই খাদ্য সংরক্ষণ করা হয়েছিল বিতরণের জন্য। তারা আরও জানায়- গাজায় জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা বৃদ্ধি করা দরকার। এটাই একমাত্র উপায় যাতে মানুষ নিশ্চিত হতে পারে, তারা না খেয়ে মরবে না।

ডব্লিউএফপি বলেছে, আমরা বারবার সতর্ক করে দিয়েছিলাম পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ও ক্রমাবনতিশীল। ক্ষুধার্ত মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা সীমিত করার ফলে বিপদের আশঙ্কা রয়েছে। ওদিকে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ বুধবার জানিয়েছে, জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ১২১টি ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যেগুলোর মধ্যে ময়দা ও অন্যান্য খাদ্যসামগ্রী ছিল। গত সপ্তাহে ইসরাইল সীমিত পরিমাণে সাহায্য প্রবেশের অনুমতি দিতে শুরু করে।

একটি বিতর্কিত মার্কিন ও ইসরাইল-সমর্থিত সংস্থা ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (ডিএইচএফ) একটি বেসরকারি ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা হিসেবে গঠন করা হয়েছে। এটি মার্কিন নিরাপত্তা চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের ব্যবহার করে এবং জাতিসংঘকে উপেক্ষা করে। একে জাতিসংঘ ‘অকার্যকর ও অনৈতিক’ বলেছে। মার্কিন ও ইসরাইলি সরকার বলেছে, দক্ষিণ ও মধ্য গাজায় স্থাপন করা জিএইচএফের চারটি বিতরণ কেন্দ্র হামাসের কাছ থেকে ত্রাণ লুট হওয়া ঠেকাচ্ছে, যদিও  যোদ্ধা গোষ্ঠী হামাস এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। জাতিসংঘের মানবাধিকার অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে জিএইচএফের একটি বিতরণ কেন্দ্রে হামলার পর ৪৭ জন আহত হয়। আরেকজন জাতিসংঘ কর্মকর্তা বুধবার সাংবাদিকদের জানান, হতাশাগ্রস্ত জনতা জাতিসংঘের ত্রাণবাহী ট্রাক থেকে সরাসরি পণ্য লুট করছে। দখল করে নেয়া ফিলিস্তিনি অঞ্চলের জন্য জাতিসংঘের মানবিক দপ্তরের প্রধান জোনাথন হুইটল জানান, বিশ্বস্ত মানবিক চ্যানেলের মাধ্যমে সমন্বিত ত্রাণ লুটপাট করছে-এমন কোনো প্রমাণ হামাসের বিরুদ্ধে পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রকৃত লুটপাট সংঘটিত করেছে অপরাধী চক্র, যাদের ইসরাইলি সেনাবাহিনী গাজার কারেম শালোম সীমান্ত এলাকায় কাজ করতে দিয়েছে।

জাতিসংঘ বলেছে, ইসরাইল ও হামাসের সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির সময় যেভাবে ব্যাপক পরিমাণে ত্রাণ ঢুকেছিল, সেরকম ব্যবস্থা নিলে খাদ্য লুটপাটের ঝুঁকি কমবে এবং গাজা জুড়ে তাদের সুপ্রতিষ্ঠিত বিতরণ নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি কাজে লাগানো যাবে।

mzamin

প্রজেক্ট এসথার: যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবাদ রক্ষায় রহস্যময় অস্ত্র by বেলেন ফের্নান্দেস

২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকায় মার্কিন সহায়তায় ইসরায়েলের গণহত্যা শুরুর এক বছর পূর্ণ হলো। ইতিমধ্যে ৫৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। সেদিনই যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ডানপন্থী থিঙ্কট্যাংক হেরিটেজ ফাউন্ডেশন একটি নীতিপত্র প্রকাশ করেছিল। এর নাম প্রজেক্ট এসথার: ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলায় একটি জাতীয় কৌশল।

এই হেরিটেজ ফাউন্ডেশনই সেই গোষ্ঠী, যারা প্রজেক্ট ২০২৫ নামের একটি পরিকল্পনা নিয়ে এসেছে। প্রজেক্টের লক্ষ্য—যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাহী ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং ডানপন্থী একটি রাষ্ট্র গঠন।

বাইবেলের রানি এসথারের নামে নামকরণ করা হয়েছে এই প্রজেক্টের। এসথার মূলত এক ভয়ানক উদ্দেশ্য নিয়েই হাজির হয়েছে। আর তা হলো ইসরায়েলের বর্তমান গণহত্যার যেকোনো বিরোধিতাকে অপরাধ হিসেবে দাঁড় করানো। আর একে সামনে রেখে বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এমনকি নাগরিক অধিকারগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া।

নীতিপত্রের প্রথম ‘মূলবার্তা’ হলো ‘আমেরিকার ইসরায়েলবিরোধী, জায়নবাদবিরোধী এবং তথাকথিত ‘ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন’ আসলে এক বিশ্বব্যাপী হামাস সমর্থক নেটওয়ার্ক (গ্লোবাল হামাস সাপোর্ট নেটওয়ার্ক-এইচএসএন)-এর অংশ।‘

তবে মজার ব্যাপার হলো বাস্তবে এমন কোনো ‘গ্লোবাল হামাস সাপোর্ট নেটওয়ার্ক’ বলে কিছু নেই। স্বাভাবিকভাবেই, এর সঙ্গে জড়িত বলে যেসব সংগঠনের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলোর অস্তিত্বও নিছক কল্পনা। জায়নবাদ আর ফিলিস্তিনি গণহত্যাবিরোধী সবাই এই কল্পনার আওতায় পড়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী ইহুদি সংগঠন জিউস ভয়েস ফর পিস পর্যন্ত হামাস সমর্থক বলে চিহ্নিত হয়েছে এই এসথার প্রজেক্টের তালিকায়।

প্রজেক্টের  দ্বিতীয় মূলবার্তা আরও কৌতূহলোদ্দীপক। এই কথিত হামাস নেটওয়ার্ক নাকি ‘সেসব অ্যাকটিভিস্ট ও পৃষ্ঠপোষকদের দ্বারা সমর্থিত, যারা পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্র ধ্বংসে নিবেদিত’। এটি শুনে অবাক না হয়ে পারা যায় না। কারণ, যে থিঙ্কট্যাংক নিজেই যুক্তরাষ্ট্রের গণতন্ত্রকে ধ্বংসের পরিকল্পনায় ব্যস্ত। তারাই এখন গণতন্ত্র বাঁচানোর বুলি আওড়াচ্ছে!

এই রিপোর্টে ‘পুঁজিবাদ ও গণতন্ত্র’ শব্দজোড়া অন্তত পাঁচবার এসেছে। অথচ ইসরায়েলি আগ্রাসনে যে হামাসশাসিত গাজা গত ১৯ মাস যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ধ্বংস হয়েছে, এ কথা কে না জানে! দুনিয়াজোড়া অস্ত্রশিল্পের মুনাফার চোখে দেখলে অবশ্য গণহত্যা তো পুঁজিবাদের সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসা!

প্রজেক্ট এসথারের ভাষায়, ফিলিস্তিনিদের গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করাটাই নাকি ইহুদিবিদ্বেষ। তাই তারা যুক্তরাষ্ট্রব্যাপী একটি ‘জাতীয় কৌশল’ চাইছে—এই কথিত হামাস-সমর্থক নেটওয়ার্কের প্রভাব সমাজ থেকে নির্মূল করতে হবে।

এই রিপোর্ট প্রকাশ পায় জো বাইডেন প্রশাসনের সময়েই। বাইডেন প্রশাসনকে রিপোর্টে ‘ইসরায়েল-বিরোধী’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে। যদিও বাস্তবে গাজায় ইসরায়েলের প্রতিটি অপরাধে তারা একেবারে সক্রিয় সহযাত্রী।

এই নীতিপত্রে বহু সুপারিশ রয়েছে। যেমন ‘যখন হোয়াইট হাউসে কোনো বন্ধু প্রশাসন থাকবে, তখন কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষ প্রতিরোধ করতে হবে।’

সাত মাস পর নিউইয়র্ক টাইমস–এর একটি বিশ্লেষণ জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হোয়াইট হাউস এবং রিপাবলিকানরা প্রজেক্ট এসথারের অর্ধেকের বেশি সুপারিশ বাস্তবায়নের ডাক দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনপন্থী প্রতিরোধ বন্ধ না করলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তহবিল কেটে নেওয়ার হুমকি। এমনকি ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করলেও বৈধ বাসিন্দাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা।

এই রিপোর্ট অনুযায়ী, কথিত এই হামাস-সমর্থক নেটওয়ার্ক ও তাদের সংগঠনগুলো নাকি যুক্তরাষ্ট্রের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বৈচিত্র্য, সমতা আর অন্তর্ভুক্তি এবং তথাকথিত মার্ক্সবাদী আদর্শের আড়ালে ‘জায়নবাদের বিরুদ্ধে’ বয়ান ছড়াচ্ছে। আর শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই নয়, তারা নাকি মার্কিন গণমাধ্যমেও দাপটের সঙ্গে সক্রিয়। বড় হোক কিংবা ছোট—প্রতিটি বিক্ষোভই নাকি তারা সব জাতীয় টেলিভিশন চ্যানেলে তুলে ধরতে সক্ষম।

এখানেই অবশ্য রিপোর্ট থেমে থাকেনি। তাদের মতে, এই নেটওয়ার্ক ও সংগঠনগুলো টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ইহুদিবিদ্বেষী প্রচার’ অবাধে ছড়িয়ে দিচ্ছে। এসব ‘হুমকি’ দমন করতে প্রজেক্ট এসথারে রয়েছে বেশ কিছু চরম সুপারিশ।

যেমন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্লোবাল হামাস সাপোর্ট নেটওয়ার্ক-সমর্থক শিক্ষক-কর্মী অপসারণ, বিক্ষোভকারীদের এমনভাবে ভীত করা যাতে তাঁরা এইচএসওর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়াকেই ভয় পায়, সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ কনটেন্ট নিষিদ্ধ করা। এর মানে ইসরায়েলিদের হাতে হওয়া গণহত্যা নিয়ে যেকোনো কিছুই ইহুদিবিরোধী হিসেবে গণ্য হবে।

তবু এসব জোরালো প্রচারণার মধ্যেও দ্য ফরোয়ার্ড পত্রিকার ডিসেম্বর সংখ্যায় জানানো হয়—এই প্রজেক্টে কোনো গুরুত্বপূর্ণ ইহুদি সংগঠন অংশ নেয়নি বা প্রকাশ্যে এর সমর্থন করেনি। মার্কিন ইহুদিদের এই সংবাদপত্র জানায়, হেরিটেজ ফাউন্ডেশন ইহুদিদের সমর্থন পেতে হিমশিম খেয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি গড়ে তোলা হয়েছে কয়েকটি ইভানজেলিক্যাল খ্রিষ্টান সংগঠনের মাধ্যমে। এর পুরো মনোযোগ শুধু বামপন্থী ইসরায়েল সমালোচকদের দিকেই। ডানপন্থী শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদীদের ইহুদিবিরোধীদের নিয়ে তারা নিশ্চুপ।

এদিকে এই মাসেই মার্কিন ইহুদি নেতৃত্বের একটি খোলাচিঠিতে সতর্ক করে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে বহু শক্তি এখন ‘ইহুদি নিরাপত্তা’র কথা বলে আসলে উচ্চশিক্ষা, আইনের শাসন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা এবং বাকস্বাাধীনতা ধ্বংস করতে চাইছে।

যদি ট্রাম্প প্রশাসন এখন এই প্রজেক্ট এসথারকে অন্ধভাবে অনুসরণ করে, তবে এর কারণ মূলত শ্বেতাঙ্গ খ্রিষ্টান জাতীয়তাবাদের এজেন্ডা। এই এজেন্ডা জায়নবাদের নাম ব্যবহার করে চরম ডানপন্থী লক্ষ্য হাসিল করতে চায়। ইহুদিবিদ্বেষ বা ইহুদিপ্রীতির কথা সেখানে কেবল বাহানা।

* বেলেন ফের্নান্দেস কলাম লেখক, আল–জাজিরা
- আল–জাজিরা থেকে নেওয়া ইংরেজির অনুবাদ

এশিয়ায় নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি: অস্ত্র ক্রয় বৃদ্ধি -রয়টার্সের প্ৰতিবেদন

এশিয়ার অনেক দেশ এখন তাদের নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি দেখে অস্ত্র কেনা এবং সামরিক গবেষণায় খরচ বাড়াচ্ছে। তারা একদিকে বিদেশি কোম্পানিগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব করছে, অন্যদিকে নিজেদের প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার চেষ্টাও করছে—বলেন লন্ডন-ভিত্তিক আন্তর্জাতিক কৌশলগত গবেষণা সংস্থা আইআইএসএস-এর এক নতুন রিপোর্টে।

এই রিপোর্ট অনুযায়ী, ইউক্রেন আর মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ, আমেরিকা-চীন প্রতিদ্বন্দ্বিতার তীব্রতা এবং পুরো এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের নিরাপত্তা সংকট—সব মিলিয়ে প্রতিরক্ষা খাতে যৌথ উদ্যোগের চাহিদা বাড়ছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম রয়টার্স।

ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড আর ভিয়েতনামের মতো দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রধান দেশগুলো ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে অস্ত্র কেনা ও গবেষণায় ২.৭ বিলিয়ন ডলার খরচ বাড়িয়েছে। সব মিলিয়ে ২০২৪ সালে এই খাতে মোট খরচ দাঁড়িয়েছে ১০.৫ বিলিয়ন ডলার। যদিও তাদের জিডিপির গড়ে মাত্র ১.৫% প্রতিরক্ষা খাতে খরচ হচ্ছে, যা গত এক দশক ধরে মোটামুটি একই আছে।

রয়টার্স আরো জানিয়েছে, রিপোর্টটি আরও বলছে, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো এখনও সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নজরদারি প্রযুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জামের জন্য আমদানির উপর নির্ভরশীল।

এই সপ্তাহান্তে সিঙ্গাপুরে হতে যাওয়া বার্ষিক শাংরি-লা ডায়ালগ সামরিক সম্মেলনে এসব ইস্যু নিয়েই আলোচনা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে ইউক্রেন যুদ্ধ, ট্রাম্প প্রশাসনের নিরাপত্তা নীতি এবং তাইওয়ান ও দক্ষিণ চীন সাগর ঘিরে উত্তেজনার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

রয়টার্সের ভাষ্য অনুযায়ী সে রিপোর্টটি আরো বলছে, সৌদি আরব আর সংযুক্ত আরব আমিরাতও এখন এই অঞ্চলে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ইউএই চীনের নোরিনকো আর ভারতের হিন্দুস্তান এরোনটিক্স-এর সঙ্গে কাজ করছে। ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোও প্রযুক্তি স্থানান্তর, যৌথ উদ্যোগ ও লাইসেন্স চুক্তির মাধ্যমে তাদের প্রভাব বাড়াচ্ছে।

তবে এই ধরণের যৌথ প্রকল্প সব সময় সফল হয় না। ভারতের রাশিয়ার সঙ্গে দুই দশক ধরে করা ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির প্রকল্পের অভিজ্ঞতা এর উদাহরণ। এই অস্ত্র ভারত ব্যবহার করলেও রপ্তানির ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে আছে। প্রথমবার ২০২৪ সালে ফিলিপাইনে এ অস্ত্র ডেলিভারি শুরু হয়।

রয়টার্সের রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, রাশিয়া ও চীনের ঘনিষ্ঠতা বাড়লে ব্রহ্মোসের ভবিষ্যৎ আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে। কারণ, রাশিয়া তখন হয়তো চীনের সঙ্গে হাইপারসনিক সংস্করণ তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিতে পারে।

mzamin

দূরনিয়ন্ত্রিত সেক্স রোবট: পাল্টে দেবে জীবনধারা!

রোবট আবিষ্কার পাল্টে দিয়েছে পৃথিবীর মানুষের আচার-আচরণ, কাজের ধারা। এতদিন কারখানা, দোকানপাটে কাজ করতো রোবট। কিন্তু এখন তারা পুরুষের শয্যাসঙ্গী হিসেবেও ব্যবহার হচ্ছে। এক্ষেত্রে রোবটকে বানানো হচ্ছে অবিকল মানুষের মতো আকৃতি দিয়ে। বিশেষ করে সিনেমাতেও তারা অভিনয় করছে। ‘অস্টিন পাওয়ারস’ থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক সিনেমা ‘সাবসার্ভিয়েন্স’ পর্যন্ত পুরুষের শয্যাসঙ্গী হিসেবে রোবট ব্যবহৃত হচ্ছে। এর সাধারণ নাম সেস্ক রোবট। বহুদিন ধরেই ফিল্মি কালচারে জায়গা করে নিয়েছে তারা। তবে এখন আর কল্পনার বিষয় নয়, এই প্রযুক্তি ধীরে ধীরে বাস্তব জগতে ঢুকে পড়ছে। এমনকি বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন যে, ২০৫০ সালের মধ্যে মানুষ এবং রোবটের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক, মানুষ-মানুষের শারীরিক সম্পর্কের চেয়েও বেশি তীক্ষ্ণ ও শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।

এই পটভূমিতে চীনের ডংগুয়ান শহরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রিডমি নিয়ে এসেছে তাদের নতুন, অভিনব এবং কিছুটা বিতর্কিত পণ্য- একটি দূরনিয়ন্ত্রিত সেক্স রোবট। এর দাম প্রায় ১,৪০০ পাউন্ড (প্রায় ১,৯০০ ডলার)। রোবটটি ব্লুটুথের মাধ্যমে একটি মোবাইল অ্যাপের সঙ্গে সংযুক্ত করা যায়। মুটুয়াফান নামে পরিচিত অ্যাপের মাধ্যমে এর ব্যবহারকারী রোবটকে দিয়ে সব করাতে পারবেন। মানুষের মতোই আচরণ করাতে পারবেন এই রোবটকে দিয়ে। এই অ্যাপ পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন প্লাটফর্মে। অ্যাপে একটি “রুম” তৈরি করা যায়। সেখানে ১০ জন পর্যন্ত মানুষ যোগ দিতে পারে এবং রোবটটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। এতে আছে ১০টি কম্পন মোড, ১০টি সাকশন মোড, ৬টি শব্দ মোড। বিভিন্ন ত্বকের রঙ, চুলের স্টাইল, চোখের রঙ, এমনকি পরী আকৃতির রোবটও পাওয়া যায়।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এটি দেহগত ঘনিষ্ঠতা ও ডিজিটাল ইন্টারঅ্যাকশনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে। কিন্তু আশঙ্কাও রয়েছে। ইএসইটির সাইবার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক মুর সতর্ক করেছেন। তিনি বলেছেন, এ ধরনের ইন্টারনেট অব থিংস ডিভাইসগুলোতে নিরাপত্তার ঘাটতি থাকতে পারে। হ্যাকাররা যদি অ্যাপ বা রোবটের সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারে, তাহলে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ডেটা চুরি করে ব্ল্যাকমেইল করাও সম্ভব। আরও উদ্বেগের বিষয় হল, এই রোবটগুলি বাড়ির ভেতর নজরদারির মাধ্যমেও ব্যবহৃত হতে পারে, যদি তা দুর্বল সাইবার নিরাপত্তা দিয়ে তৈরি হয়।
এ ধরনের পণ্য সমাজে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তার মধ্যে আছে নারী-পুরুষে শারীরিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ, প্রযুক্তির ব্যবহার, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা। মানুষের সম্পর্কের স্বরূপ কীভাবে বদলাচ্ছে তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। 

mzamin