Saturday, May 10, 2025
পাক-ভারত উত্তেজনা : অতীতে কারা পেয়েছে সুবিধা, এবার সামনে কে? by উমর শরীফ সোহাগ
কিন্তু এই আবেগের উত্তাপে যে চেহারাটি আড়ালে পড়ে যায়, তা হলো সাধারণ মানুষের দুর্দশা এবং ক্ষমতাকেন্দ্রের কৌশলী হিসাব।
যখন রাষ্ট্রগুলো যুদ্ধ বা সশস্ত্র সংঘাতের পথ ধরে, তখন জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো পেছনে পড়ে যায়। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, জ্বালানি—এসব মৌলিক খাতে বরাদ্দ কমে গিয়ে বেড়ে যায় সামরিক বাজেট।
দুই দেশের সরকার ও রাজনীতিকরা যুদ্ধাবস্থার আবহ ব্যবহার করে নিজেদের ব্যর্থতা ঢেকে ফেলেন। ফলত, অদৃশ্য এক চক্র—রাজনীতিবিদ, সামরিক শক্তি, আন্তর্জাতিক অস্ত্র কোম্পানি ও কর্পোরেট মিডিয়া—এই উত্তেজনা থেকে লাভবান হয়।
যুদ্ধ প্রস্তুতির নামে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র চুক্তি হয়, সেনাবাহিনীর ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, আর রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের “দেশরক্ষার প্রতীক” হিসেবে তুলে ধরে জনসমর্থন বাড়িয়ে তোলে।
প্রথমে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি বর্তমানে সংকটাপন্ন। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচন ছিল নজিরবিহীন সেনা হস্তক্ষেপ ও কারচুপির উদাহরণ। ইমরান খান কারাবন্দি, তার দলের প্রতীক বাতিল, সমর্থকদের দমন-পীড়ন সত্ত্বেও জনসমর্থন রুখে রাখা যায়নি। সেনাসমর্থিত জোট সরকার ক্ষমতায় বসলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অনিশ্চিত।
পাকিস্তানের সেনা নিয়ে দেশটির এক বিচারপতি বলেছিলেন ‘বিশ্বের সেনাবাহিনী যেখানে শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করে, পাকিস্তানের সেনাবাহিনী সেখানে জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ক্ষমতা ধরে রাখে।’
এদিকে অর্থনীতিতেও দেশটি হিমশিম খাচ্ছে। মুদ্রাস্ফীতি, বৈদেশিক ঋণের চাপ, বেকারত্ব, বেলুচিস্তান বিদ্রোহ, আফগান সীমান্ত সমস্যা ও সাম্প্রদায়িক সহিংসতা একসঙ্গে পাকিস্তানকে আঘাত করছে। চীনের সঙ্গে অংশীদারিত্বে থাকা বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পও নিরাপত্তাজনিত কারণে বাধাগ্রস্ত।
এই প্রেক্ষাপটে সীমান্ত উত্তেজনা সৃষ্টি করে ক্ষয়ের পথে থাকা সেনাবাহিনী ও ক্ষমতাসীন গোষ্ঠী নিজেদের কর্তৃত্ব টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।
অপরদিকে ২০১৯ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে পুলওয়ামা হামলা এবং বালাকোট বিমান হামলা বিজেপির পক্ষে মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিল। নিহত সেনাদের ছবি দিয়ে প্রচার চালিয়ে জাতীয়তাবাদের সঙ্গে ধর্মীয় রক্ষকের জোয়ার তুলে বিজেপি বিপুল ভোটে জেতে। অথচ ২০২৫ সালে এসেও হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত হয়নি, গোয়েন্দা গাফিলতির দায় কেউ নেয়নি।
২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়ে জোট সরকার গঠন করেছে। ঠিক এরপরেই কাশ্মীরের পেহেলগামে পর্যটকদের ওপর জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিহত হন। তখনও প্রশ্ন ওঠে—এত সেনা ও নজরদারির মধ্যেও হামলাটি কীভাবে সম্ভব হলো?
এই ঘটনার পর পুরনো চিত্রই আবার ফুটে ওঠে: পাকিস্তানকে দায়ী করে প্রতিশোধের হুঙ্কার, সীমান্তে বিমান হামলা, আর গণমাধ্যমে যুদ্ধোন্মাদ প্রচার। অথচ আক্রমণের আগে গোয়েন্দা সতর্কতা উপেক্ষা, নিরাপত্তার ফাঁকফোকর—এসব নিয়ে কোনো আলোচনা হয় না।
এরকম পরিস্থিতিতে দুই দেশের রাষ্ট্রীয় ও কর্পোরেট মিডিয়াগুলো যেন প্রতিযোগিতায় লিপ্ত—কে বেশি দেশপ্রেমিক প্রমাণ করতে পারে, কে শত্রু রাষ্ট্রকে বেশি ঘৃণা দেখাতে পারে। ফলে, খবরের শিরোনামে থাকে প্রতিশোধের ভাষা, আর রিপোর্টে থাকে সামরিক সফলতার ঢাকঢোল।
ভারতের দাবি, তাদের বিমান হামলায় ১০০ জঙ্গি নিহত হয়েছে। পাকিস্তানের পাল্টা বক্তব্য, নিহতদের মধ্যে নারী, শিশু, বৃদ্ধসহ ৩১ জন নিরীহ নাগরিক ছিলেন। ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পাল্টা গুলিতে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়। অপরদিকে ভারতের হামলায় ৩ বছরের এক কন্যা শিশুর মৃত্যু হয় প্রশ্ন ওঠে—এই শিশুরা কীভাবে জঙ্গি হলো?
সত্য হারিয়ে যায়, বিভ্রান্তি জন্ম নেয়, আর জাতি যুদ্ধপ্রবণ এক মানসিক আবহে ঢুকে পড়ে। ভয়ের রাজনীতির মাঝে সাধারণ মানুষের কণ্ঠ নিস্তব্ধ হয়ে যায়।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়—পাক-ভারত উত্তেজনার নাটকে মূল অভিনেতা সাধারণ মানুষ, আর তারা শুধুই বলিদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। কেউ প্রকৃত বিজয়ী হয় না; জয় পায় কেবল ক্ষমতার পেছনে থাকা অপারেশনে দক্ষ গোষ্ঠী। সাময়িক রাজনৈতিক সুবিধা অর্জিত হলেও দীর্ঘমেয়াদে তা গরিব, শ্রমজীবী, ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য হয় আত্মঘাতী।
উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা—দারিদ্র্য, শিক্ষার অভাব, স্বাস্থ্যসেবার দুরবস্থা, নারীর নিরাপত্তাহীনতা—সব পিছিয়ে পড়ে। সামনের সারিতে চলে আসে জাতীয়তাবাদী শ্লোগান, অস্ত্র ও আতঙ্ক।
ভারত-পাকিস্তান আজকের উত্তেজনাময় আবহে আমাদের স্মরণ রাখা জরুরি : যারা যুদ্ধ চায়, তারা যুদ্ধ করতে যায় না; আর যারা যুদ্ধ চায় না, তারা যুদ্ধের বলি হয়।
এই সত্য মেনে উপমহাদেশের নেতৃত্ব যদি সত্যিকারের উন্নয়ন চায়, তবে যুদ্ধ নয়—প্রয়োজন সমঝোতা, বিশ্বাস, অর্থনৈতিক ও মানবিক অগ্রাধিকার। অন্যথায়, ভবিষ্যতেও এই অঞ্চলের জনগণ রক্তের বিনিময়ে কেবল ক্ষমতাকেন্দ্রের নাটকে দর্শক হয়েই থাকবে।
![]() |
| প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
শাহবাগ ব্লকেড: আ.লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে
একই দাবিতে আজ শনিবার বেলা তিনটায় শাহবাগে গণজমায়েত কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সারা দেশের জুলাই অভ্যুত্থানের স্থানগুলোতেও গণজমায়েত কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। এই আন্দোলনের উদ্যোক্তারা বলেছেন, শাহবাগ থেকে তাঁদের ‘দ্বিতীয় অভ্যুত্থান পর্ব’ শুরু হবে।
গতকাল রাতেও শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি চলছিল। নানা স্লোগান ও বক্তব্যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবি জানাচ্ছিলেন বিক্ষোভকারীরা। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহর আহ্বানে গত বৃহস্পতিবার রাতে যমুনার সামনে অবস্থানের মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শুরু হয়। ওই রাতে ও গতকাল শাহবাগের কর্মসূচিতে ইসলামী আন্দোলন, জামায়াতে ইসলামী, খেলাফত মজলিস, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা যোগ দিয়েছেন। আছেন ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, খেলাফত ছাত্র মজলিস, ইনকিলাব মঞ্চ, জুলাই ঐক্যসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও।
এই বিক্ষোভ চলার মধ্যেই গতকাল সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে তিনটি দাবির কথা লিখে ফেসবুকে পোস্ট দেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দাবিগুলো হচ্ছে আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে নিষিদ্ধ করতে হবে; আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে আওয়ামী লীগের দলগত বিচারের বিধান যুক্ত করতে হবে এবং জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে। এরপর এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অনেকেই একই পোস্ট দিয়েছেন।
পরে নাহিদ ইসলাম আরেকটি পোস্টে লিখেছেন, শাহবাগের অবস্থান চলমান থাকবে। ঢাকা শহরের বিভিন্ন স্থানে ব্লকেড চালু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে সারা দেশ আবারও ঢাকা শহরে মার্চ করবে।
এদিকে গতকাল রাত ১১টার দিকে শাহবাগে অবরোধ কর্মসূচি থেকে হাসনাত আবদুল্লাহ আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করাসহ তিন দফা দাবি তুলে ধরে গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, তিন দফা দাবিতে শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি আগামীকাল শনিবার (আজ) বেলা তিনটার দিকে শাহবাগে গণজমায়েত কর্মসূচি পালন করা হবে।
হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, সারা ঢাকায় জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি যাঁরা আওয়ামী লীগের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হয়েছেন; পিলখানা হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, শাপলা চত্বরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের স্বজন; মোদিবিরোধী আন্দোলনের শিকার যাঁরা হয়েছেন—সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে শাহবাগে গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। এ সময় তিনি সারা দেশে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রতিটি পয়েন্টেও (স্থান) গণজমায়েত কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
গতকাল রাত একটায় এই প্রতিবেদন লেখার সময় শাহবাগে সড়ক অবরোধ চলছিল। সেখানে এলইডি স্ক্রিনে জুলাই অভ্যুত্থানের বিভিন্ন প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হচ্ছিল। এর ফাঁকে ফাঁকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে স্লোগান দিচ্ছিলেন বিক্ষোভকারীরা।
এর আগে শাহবাগ চত্বরে বিজ্ঞাপন বোর্ডের নিচে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দেন এনসিপির নেতারা। অন্য দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরাও আলাদা জায়গায় অবস্থান করে স্লোগান দেন। তার আগে সন্ধ্যায় বিক্ষোভকারীরা সড়কের ওপর মাগরিবের নামাজ আদায় করেন।
বিক্ষোভে ‘আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না’, ‘এই মুহূর্তে ব্যান চাই, আওয়ামী লীগের ব্যান চাই’, ‘একটা একটা লীগ ধর, ধইরা ধইরা জেলে ভর’, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’, ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ প্রভৃতি স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
বিক্ষোভকারীদের হাতে জাতীয় পতাকাসহ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিসংবলিত পোস্টার দেখা যায়। অনেকে মাথায় জাতীয় পতাকা, কেউ কেউ কালেমাখচিত পতাকা বেঁধে এসেছেন। অনেকের হাতেই ছিল কালেমা লেখা পতাকা। ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাথায় সংগঠনের নাম লেখা পতাকা বাঁধা ছিল।
মুফতি মুহাম্মদ জসিমুদ্দিন রহমানী, আসিফ আদনান, ডা. মেহেদী ও তাঁদের অনুসারীদেরও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচিতে মাইকে বক্তব্য চলছে। সেখানে জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদ মাহমুদুর রহমান খানের স্ত্রী মরিয়ম খানম বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা আমাদের প্রাণের দাবি।’
রাত নয়টার দিকে শাহবাগে এনসিপি নেতা সারজিস আলম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে দেরি করলে শুধু শাহবাগ নয়, সারা বাংলা ব্লকেড করে দেবেন তাঁরা। তিনি সরকারের কাছে জুলাই ঘোষণাপত্র প্রকাশেরও দাবি জানান।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী প্রথম আলোকে বলেন, দলের পক্ষ থেকে নয়, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সাধারণ জনতা হিসেবে তিনি শাহবাগে এসেছেন।
শাহবাগ অবরোধ
আওয়ামী লীগের বিচার ও দলটির রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধের বিষয়ে সুস্পষ্ট পথনকশা ঘোষণার দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে যমুনার সামনে অবস্থান নেওয়ার ঘোষণা দেন হাসনাত আবদুল্লাহ। রাত ১০টার পর থেকে তাঁর নেতৃত্বে যমুনার সামনে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমে হাসনাতের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির কিছু নেতা-কর্মী যোগ দেন।
পরে রাত একটার দিকে মিছিল নিয়ে যমুনার সামনে যান এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তাঁদের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন। রাত একটার পর হেফাজতে ইসলামের বেশ কিছু নেতা-কর্মী যমুনার সামনে যান। রাত দেড়টার দিকে এবি পার্টির কিছু নেতা-কর্মী উপস্থিত হন। রাত দুইটার দিকে যান ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা।
যমুনার সামনে রাতভর বিক্ষোভ চলার পর গতকাল সকালে সেখানে যোগ দেন জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীরা। সকাল সাড়ে আটটার দিকে যমুনার সামনে চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে হাসনাত আবদুল্লাহ ও এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঘোষণা দেন, জুমার নামাজের পর যমুনার পূর্ব পাশে ফোয়ারার (মিন্টো রোডের মোড়) সামনে বড় জমায়েত করা হবে।
এ ঘোষণা দেওয়ার সময় জামায়াতের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ ইসলামপন্থী কয়েকটি দলের নেতা-কর্মীরা হাসনাত ও নাসীরুদ্দীনের সঙ্গে ছিলেন। এ ঘোষণার পর পাঁচটি পিকআপ ভ্যান একত্র করে মঞ্চ তৈরি করা হয়।
দুপুর ১২টার দিকে যমুনার সামনে থেকে মঞ্চের সামনে চলে আসেন আন্দোলনকারীরা। জুমার নামাজের পর থেকে মুসল্লি এবং বিভিন্ন দল ও সংগঠনের নেতা-কর্মীরা মঞ্চের সামনে জড়ো হতে থাকেন। মঞ্চ থেকে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। বেলা ২টা ৪০ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথমেই পবিত্র কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব আশরাফ উদ্দীন মাহাদী।
এরপর ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর বক্তব্য দেন। ইসলামী যুব মজলিসের সভাপতি তাওহীদুল ইসলাম তুহিনসহ আরও কয়েকজন তরুণ নেতার বক্তব্যের পর বিভিন্ন দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের বক্তব্য শুরু হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আওয়ামী ফ্যাসিস্টরা কীভাবে পালিয়ে যাচ্ছে, প্রধান উপদেষ্টার কাছে সেই প্রশ্ন রাখেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন। তিনি বলেন, তাঁরা প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্কার শেষে এবং আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের বিচারের পর একটি সুন্দর-সুষ্ঠু নির্বাচন চান। তাঁরা আগে স্থানীয় নির্বাচন এবং তার পরে জাতীয় সংসদ নির্বাচন চান।
হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, আওয়ামী লীগকে যত দিন নিষিদ্ধ না করা হবে, তত দিন তাঁরা ঘরে ফিরে যাবেন না।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সর্বদলীয় সভা ডাকুন। রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সামাজিকভাবে, সর্বাত্মকভাবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে।’
জুলাই অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের মধ্যে খোকন চন্দ্র বর্মণ কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। খুনি হাসিনার ফাঁসি চাই।’
জমায়েতে আসা বিপুলসংখ্যক মানুষকে প্রচণ্ড গরমে কিছুটা স্বস্তি দিতে ভ্রাম্যমাণ গাড়ি ও ট্যাংকে করে বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করেছিল ঢাকা ওয়াসা। বেলা তিনটা থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের স্প্রে ক্যাননে করে কর্মসূচিস্থলে পানি ছিটানো হয়। কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্সে অস্থায়ী মেডিকেল বুথও প্রস্তুত ছিল।
সমাপনী বক্তব্যে এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কোনোভাবেই রাজনৈতিক দল নয়। ইতিহাসের স্তরে স্তরে আওয়ামী লীগের হাতে রক্ত লেগে রয়েছে।...ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনীতিবিদদের প্রতি আমাদের সম্মান ও শ্রদ্ধা রয়েছে। আপনাদের দীর্ঘ দেড় দশকের লড়াই-সংগ্রামকে আমরা শ্রদ্ধা জানাই। একই সঙ্গে এই জিনিসটি আপনাদের কাছে আহ্বান, আওয়ামী লীগের চ্যাপ্টারটা ৫ আগস্ট ক্লোজ হয়ে গেছে, এটাকে রি-ওপেন করার চেষ্টা কইরেন না।’
হাসনাত আবদুল্লাহ ঘোষণা দেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন না আসা পর্যন্ত তাঁরা শাহবাগে অবস্থান করবেন। এখান থেকে দ্বিতীয় অভ্যুত্থানপর্ব শুরু হবে। গতকাল বিকেল ৪টা ৩৫ মিনিটে হাসনাতের এ ঘোষণার পর শাহবাগ অভিমুখে মিছিল নিয়ে রওনা হন বিক্ষোভকারীরা। বিকেল পৌনে পাঁচটার পর শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হয়।
ঢাকার বাইরে বিক্ষোভ
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বৃহস্পতিবার রাত ও গতকাল চট্টগ্রাম, খুলনা, রংপুর, কুমিল্লা, নড়াইল, কুড়িগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুর এবং রাজশাহী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ হয়েছে। গতকাল চট্টগ্রাম নগরে এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলন, ছাত্র মজলিস মিছিল-সমাবেশ করে।
খুলনা নগরের শিববাড়ি মোড়ে গতকাল বিকেল চারটা থেকে ব্লকেড কর্মসূচিতে এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন। সিলেটে বিকেলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এনসিপির স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। বৃহস্পতিবার রাতভর একই কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
রংপুরে গতকাল বেলা দুইটার পর জিলা স্কুল থেকে মিছিল বের করা হয়। এতে এনসিপি, জামায়াতে ইসলামী, গণ অধিকার পরিষদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও যুবদলের নেতা–কর্মীরা অংশ নেন। পরে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনের সড়কে বিক্ষোভ করেন তাঁরা।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটা থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা। এ ছাড়া গতকাল বিকেলে কুমিল্লা নগরের পুবালি চত্বরে মিছিল-সমাবেশ হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ শামসুজ্জোহা চত্বর এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে বিক্ষোভ করেন একদল শিক্ষার্থী। গতকাল দুপুরে নগরের তালাইমারীর বিজয় ২৪ চত্বরে শিক্ষার্থীরা আবারও বিক্ষোভ করেন। সেখানে সংহতি প্রকাশ করেন হেফাজতে ইসলাম, ইসলামী ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা।
একই দাবিতে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী।
এ ছাড়া নড়াইল, কুড়িগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষ্মীপুরেও গতকাল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
| আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা। গতকাল বিকেলে। সাজিদ হোসেন |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
পাকিস্তানে হামলা ভারতকে বড় দ্বিধায় ফেলেছে by চিয়েতিজ্ঞ্য বাজপেয়ী
ব্রিটেনের সঙ্গে এই চুক্তি তিন বছর ধরে আলোচনার পর হয়েছে। এটি এমন কয়েকটি চুক্তির একটি, যেগুলো ভারত এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও করছে। এই চুক্তিগুলো ভারতের আন্তর্জাতিক অবস্থানের প্রতিফলন। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাচ্ছে, একটি উদীয়মান শক্তি হিসেবে ভারতের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে।
কিন্তু সেই উন্নয়ন আর উত্থানের মধ্যেই ভারত আবার ফিরে গেছে পুরোনো ঝামেলায়। দেশটি পাকিস্তানের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে ও পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারত সামরিক অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযান দেখিয়ে দেয়, ভারত এখনো নিজের পারিপার্শ্বিক অস্থিরতার মধ্যে আটকে আছে এবং ইতিহাসের কবল থেকে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারেনি।
নয়াদিল্লি বলছে, তারা চায় এই সংঘাত যেন দুই পারমাণবিক দেশের মধ্যে সীমিত থাকে। ভারত দাবি করছে, তাদের সামরিক অভিযান শুধু জঙ্গিদের অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে; সামরিক ঘাঁটিকে নয়। অবশ্য এতে বেসামরিক হতাহতের খবরও পাওয়া গেছে। ভারতের ভাষায়, এটি একটি ‘নির্ভুল, সীমিত এবং শান্তভাবে করা হামলা’, যার উদ্দেশ্য হলো প্রতিশোধ নয়, বরং জঙ্গি দমন।
এই হামলা আসলেই ‘উত্তেজনা না বাড়ানো’ ছিল কি না, তা এখন নির্ভর করছে পাকিস্তানের জবাবের ওপর। এখনো পরিস্থিতি খুবই ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ হঠাৎ করে যেকোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বাধতে পারে।
যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে বাইরে থেকে খুব বেশি চাপ নেই, আর দুই দেশই নিজেদের জনগণের মন জয়ের জন্য এবং অতিরিক্ত দেশপ্রেম দেখানোর জন্য জোরালো সামরিক অবস্থান নিচ্ছে।
আগে যুক্তরাষ্ট্র এই ধরনের উত্তেজনা কমাতে বড় ভূমিকা রাখত। কিন্তু এখনকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। তিনি বর্তমান সংঘর্ষকে শুধু ‘হতাশার বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেন এবং বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তান নিজেরা ‘যেভাবে হোক একটা সমাধানে পৌঁছাবে’।
আজকের দুনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বরাজনীতিকে তাদের ‘প্রভাববলয়ের’ দৃষ্টিতে দেখে। যেমন ট্রাম্প কানাডা, গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খাল নিয়ে দাবি তুলেছেন আর ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলাকে ইউরোপের সমস্যা হিসেবে দেখেছেন। এসব দেখে বোঝা যায়, দক্ষিণ এশিয়ার সমস্যা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন খুব একটা মাথা ঘামাতে চায় না।
ভারত ও পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তিনটি যুদ্ধ করেছে। এর দুটিই হয়েছে কাশ্মীর নিয়ে। পাকিস্তানের জন্য কাশ্মীর খুবই গুরুত্বপূর্ণ, কারণ দেশটির প্রায় ৮০ শতাংশ চাষযোগ্য জমি কাশ্মীর দিয়ে বয়ে যাওয়া সিন্ধু নদের পানির ওপর নির্ভর করে। এ জন্য ভারত যখন সেই পানিসংক্রান্ত পুরোনো চুক্তি (সিন্ধু পানিচুক্তি) স্থগিত করে, তখন পাকিস্তান একে নিজেদের অস্তিত্বের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে।
কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার এক সপ্তাহ আগে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনীর কাশ্মীরকে পাকিস্তানের ‘জগুলার ভেইন’ বা প্রধান রক্তবাহী শিরা বলে উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে কাশ্মীরে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ পদার্থের খোঁজ পাওয়ায় এই অঞ্চল ভারতের দৃষ্টিতেও এখন আরও বেশি কৌশলগত গুরুত্ব পেয়েছে। তবে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান এই উত্তেজনার মূল জায়গা হলো পরিচয়ের প্রশ্ন—যেটার শিকড় ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সেই গভীর ক্ষত থেকে এসেছে, যে বিভাজনের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান সৃষ্টি হয়েছিল।
পাকিস্তান নামক রাষ্ট্রটির ভেতরে একটা বিশেষ ধরনের পরিচয় গড়ে উঠেছে—যেটা অনেকটাই ‘ভারত বিরোধিতা’কে ভিত্তি করে। আর এই পরিচয়কে সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী করেছে সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। পাকিস্তানে আসল ক্ষমতা রাজনীতিবিদদের হাতে নেই। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বা প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি আনুষ্ঠানিক নেতা হলেও দেশের আসল নিয়ন্ত্রণ থাকে সেনাবাহিনী প্রধান আসিম মুনীর আর আইএসআই প্রধান মোহাম্মদ আসিম মালিকের হাতে। অর্থাৎ সিদ্ধান্ত নেন তাঁরাই, আর সরকার থাকে নামমাত্র।
পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত কোনো বেসামরিক প্রধানমন্ত্রীই তাঁর পূর্ণ মেয়াদ (অর্থাৎ পাঁচ বছর) সম্পূর্ণ করতে পারেননি। কাউকে হয় সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, কারও বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, কেউ সেনাবাহিনীর ইশারায় পদত্যাগ করেছেন। যদি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক ভালো হতো, তাহলে পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর এত ক্ষমতা থাকার দরকার পড়ত না। কারণ, তখন জনগণ প্রশ্ন করত—যখন শত্রু নেই, যুদ্ধ নেই, তখন সেনাবাহিনী রাজনীতি আর ব্যবসায় এত ঢুকে পড়বে কেন?
ভারতের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালে নরেন্দ্র মোদির সরকার কাশ্মীরের বিশেষ স্বায়ত্তশাসনের মর্যাদা (অনুচ্ছেদ ৩৭০) বাতিল করে দেয় এবং জম্মু ও কাশ্মীরকে ভাগ করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে। সেখানকার ক্ষমতা সরাসরি দিল্লির নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
ভারতের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে কাশ্মীরের পরিস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ করা হয়েছে। তারা বলছে, এখন সেখানে পর্যটন বেড়েছে, বিনিয়োগ এসেছে, আর গত বছর নির্বাচনও মোটামুটি শান্তিপূর্ণ হয়েছে। কিন্তু গত মাসের ভয়াবহ জঙ্গি হামলা এবং ভারত ও পাকিস্তানের পাল্টাপাল্টি সামরিক প্রতিক্রিয়া প্রমাণ করছে, কাশ্মীর এখনো মোটেও স্বাভাবিক হয়নি।
এর পাশাপাশি সাধারণ কাশ্মীরিদের ক্ষোভ এখনো রয়ে গেছে। কারণ, ধীরে ধীরে কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন ও আলাদা পরিচয় (চাই তা ভারত–শাসিত হোক বা পাকিস্তান-শাসিত) দুই জায়গাতেই ক্ষয়ে যাচ্ছে। সোজা কথায়, সরকার কিছু উন্নয়নের কথা বললেও বাস্তবে কাশ্মীর এখনো সমস্যায় জর্জরিত এবং জনগণের নিজেদের অধিকার নিয়ে অসন্তোষ এখনো রয়ে গেছে।
এই উত্তেজনা শিগগিরই কমে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এটা অনেকটা ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত, তাইওয়ান প্রণালির দুই পারে উত্তেজনা কিংবা ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের মতো—যেগুলোর শিকড় অনেক পুরোনো ইতিহাসে ও জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে গেঁথে আছে।
ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যে ঝামেলা চলছে, সেটা হুট করে থেমে যাবে, এমনটা ভাবার সুযোগ নেই। এই বিরোধ অনেক পুরোনো। এর পেছনে ইতিহাসের গভীর ক্ষত আর নিজেদের দেশ হিসেবে কে কার মতো, সেই প্রশ্নে টানাপোড়েন রয়েছে।
ভারত এখন চায়, সে যেন পৃথিবীর বড় শক্তি হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করতে পারে। দেশ হিসেবে তারা অনেক দূর এগোচ্ছে—অর্থনীতি বড় হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বাড়ছে। কিন্তু প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে এই যুদ্ধসদৃশ সম্পর্ক, বিশেষ করে কাশ্মীর নিয়ে বিরোধ, সেই উন্নয়নের গতিকে আটকে দিচ্ছে।
যতক্ষণ না এই সমস্যাগুলো শান্তভাবে মেটে, ততক্ষণ পর্যন্ত ভারতের বড় হয়ে ওঠার স্বপ্ন মাঝেমধ্যে ধাক্কা খেতেই থাকবে। কারণ, বাইরের দুনিয়ায় বড় কিছু করার আগে নিজের পাশের সমস্যাগুলো ঠিক না করলে সেই স্বপ্ন ধরা দেওয়া কঠিন।
* ড. চিয়েতিজ্ঞ্য বাজপেয়ী ব্রিটিশ থিঙ্কট্যাংক চ্যাটাম হাউসের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ফেলো।
_ দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া, অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ভারত ও পাকিস্তান ১৯৪৭ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে তিনটি যুদ্ধ করেছে। গ্রাফিক্স: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন নিয়ে নতুন কর্মসূচি
শুক্রবার (৯ মে) রাত এগারোটায় শাহবাগে চলমান আন্দোলনে এই ঘোষণা দেন তিনি।
হাসনাত বলেন, আগামীকাল শনিবার তিনটায় শাহবাগে গণজমায়েত ঘোষণা করছি। সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে এই গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে। দেশের প্রত্যেকটি পয়েন্টে যেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ব্লক করা হয়েছিল সেসব পয়েন্টে এই গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হবে।
তিন দফা দাবি উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। আমাদের তিন দফা হলো, জুলাইয়ের ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে, আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা করে এর অঙ্গসংগঠনসহ নিষিদ্ধ করতে হবে এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগকে দলগতভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
বক্তব্যে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন , আমরা সরকারের আর কোনো গড়িমসি সহ্য করতে চাই না। দিনের পর দিন যদি শাহবাগে থাকতে হয় তাহলে আমরা এখানে আছি। আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জুলাইয়ে যেভাবে আমরা একতাবদ্ধ হয়েছিলাম সেভাবে আবার রাস্তায় নেমে আসুন। আমাদের ভাইদের যে মনোবল আছে আমরা দিনের পর দিন প্রয়োজন হলে এখানে অবস্থান করবো কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত আমরা ফিরে যাব না।
![]() |
| শাহবাগে চলমান আন্দোলনে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন হাসনাত আব্দুল্লাহ। ছবি : কালবেলা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
উদ্বেগটা নিজেদের মধ্যকার বিভাজন নিয়ে by মাহমুদুর রহমান মান্না
আগস্ট অভ্যুত্থানের বেলায় এ রকমই হয়েছে, তা আমি বলব না। অনেক বেশি রক্তঝরা ছিল এ অভ্যুত্থান। তাই স্মৃতি থেকে খুব সহজে হারিয়ে যাবে না। আর এই অভ্যুত্থানে যাঁরা রাজপথে লড়াই করেছিলেন, তাঁরা এখনো তরুণ। জুলাই-আগস্টের জানবাজি লড়াইয়ের স্মৃতিগুলো এখনো তাঁদের মস্তিষ্কে। এ–ও সত্য যে এই তরুণ মন ও মস্তিষ্কে আবেগ যত বেশি কাজ করে, বয়স হলে তা আর করে না।
ওই আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণ ও শিক্ষার্থীরা অভ্যুত্থানের বিজয়ের পর তার নতিজা দেখে এখন বিক্ষুব্ধ। তাঁরা সময়-সময় বিভিন্ন রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন, যাতে মনে হচ্ছে তাঁরা সরকারের অনেক কার্যক্রমেই সন্তুষ্ট নন। রাগ করে কখনো কখনো এ রকম কথাও বলছেন, কথা অনুযায়ী কাজ না হলে তাঁরা নির্বাচন বর্জন করবেন। পাঠক আমার কথার সঙ্গে হয়তো একমত হবেন, মানুষ এখন সন্দিগ্ধ চোখে প্রশ্ন করে, ভাই কী হচ্ছে দেশে? ভোট ঠিকমতো হবে তো?
অথচ সরকার একটি যথাযথ গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য কাজ করে যাচ্ছে। ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে, তারা ১৬৬টি প্রশ্ন দিয়েছে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশে। তাদের দেওয়া জবাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ হবে এ মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে।
তারপর আবার দ্বিতীয় পর্যায়ে আলোচনা হবে, যাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য দূর করা যায় এবং একটি ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কার্যকর করা যায়, যাতে সত্যি সত্যি একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। এ জন্য ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা তাদের মধ্যকার মতপার্থক্য কমিয়ে আনতে পারে। তারপরও মানুষ আশাবাদী হতে পারছে না যে তাদের চাওয়া অনুযায়ী একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে? অথচ অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ইতিমধ্যে বলেছেন, এত চমৎকার অনুষ্ঠান হবে এবার বাংলাদেশে যে সারা বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রইবে।
কোনো সন্দেহ নেই বর্তমান সরকার এবং তাদের নিয়োজিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সংস্কার প্রশ্নে দৃশ্যত দিবারাত্রি পরিশ্রম করছে। এ জন্য তারা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ১৬৬টি প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যার ওপর দলগুলো তাদের মন্তব্য বা মতামত পেশ করছে। একেকটা দল যেভাবে তাদের মতামত প্রকাশ করছে, তাতে কমপক্ষে এক শর ওপর প্রশ্নে দলগুলো ঐকমত্য প্রকাশ করেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি একটি মৌলিক বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেছে। সেটা হচ্ছে, সংবিধান সংশোধনের প্রশ্নে তারা মনে করছে সংসদকে এড়িয়ে গিয়ে এটা করা সম্ভব নয়।
রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য হচ্ছে, সে বিষয়ে অল্প একটু আলোচনা করে নেওয়া ভালো হবে। ছোটখাটো দু-চারটি বিষয়ের কথা বলি। যেমন প্রধানমন্ত্রী দুবারের বেশি থাকতে পারবেন কি না, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ও এর উচ্চকক্ষের গঠন, সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব ইত্যাদি।
আমার মতে, এগুলো নিয়ে তেমন চিন্তিত হওয়ার বিষয় নেই। এগুলো নিয়ে হয়তো আলাপ-আলোচনা করে সমাধানে আসা যাবে। কিন্তু আদর্শ বা চিন্তাগতভাবে সরাসরি বিপরীতমুখী ভাবধারার সংস্কারের কথা বলছেন কেউ কেউ। যেমন কেউ কেউ খেলাফত প্রতিষ্ঠা করতে চান, কিংবা ইসলামিক রাষ্ট্র গঠন করতে চান; বহুত্ববাদের বিরোধিতা করেন। বিপরীত পক্ষে অনেকেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলেন, গণতান্ত্রিক ও সেক্যুলার রাষ্ট্রের কথা বলেন। এগুলোর নিষ্পত্তি হবে কীভাবে?
এগুলো হলো বিশ্বাসের ব্যাপার এবং বিশ্বাসের জন্য মানুষ জীবন দিয়ে দিতে পারে। না, আমি এ কথা বলছি না যে পরিস্থিতির ততটা অবনতি হয়েছে। কিন্তু নারীনীতি নিয়ে আমরা ধৈর্যের অভাব দেখেছি। স্পষ্টত নারীদের অপমান করে কথা বলা হয়েছে। অথচ এই নারীরা বিগত স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। ঐকমত্য কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান ৭ তারিখে নাগরিক ঐক্যের সঙ্গে আলোচনাকালে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আহ্বান জানিয়েছেন মৌলিক বিষয়ে যেসব মতপার্থক্য আছে, সেগুলো নিয়েও নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করতে। সে রকম আলোচনা কি হবে?
আগস্টের অভ্যুত্থানের পর এটা আশা করে গিয়েছিল যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন দেখা যাবে। এখন পরস্পরের প্রতি ভালোবাসা–শ্রদ্ধা বেড়ে যাবে, আমাদের আচরণে–উচ্চারণে তার প্রকাশ ঘটবে; আমরা কাউকে স্বৈরাচারের ভাষায় হুমকি দিয়ে কথা বলব না। কাউকে ভয় দেখাব না, অপমান করব না। বরং সব ব্যাপারেই আমরা ধৈর্যশীল হব। সেই যে গণতন্ত্রের অমোঘ বাণী আছে; আমি তোমার কথার সঙ্গে একমত হতে না পারি, কিন্তু তোমার কথা বলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য প্রয়োজনে আমি জীবন দিতে রাজি আছি। এ রকম মনোভাব গড়ে উঠবে রাজনীতির অঙ্গনে।
কিন্তু সে রকম কোনো উদ্যোগ যে আজ পর্যন্ত গ্রহণ করা হয়েছে, তার কোনো খবর আমরা জানি না। বরং একরকম পাল্টাপাল্টি শুরু হয়েছে তা দেখছে জনগণ এবং তাতেই তাদের উদ্বেগ বাড়ছে। ইতিমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হানাহানি হয়েছে, নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে মানুষ মারা গেছে। কোথাও নবগঠিত এনসিপি অভিযোগ করেছে, তাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে, সভা করতে দেওয়া হচ্ছে না এবং প্রশাসন একটি বিশেষ দলকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করছে।
জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী ছাত্রনেতৃত্বের উদ্যোগে গঠিত নতুন দল এনসিপি। সংগতভাবে তাদের মধ্যেই সম্ভবত এই অভ্যুত্থান নিয়ে অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া মানুষগুলোর জন্য দরদ বেশি। অন্যদের দরদ যে কম, সেটা আমি বলছি না।
কিন্তু এটাও সত্য, বয়স ও অভিজ্ঞতার কারণেই বয়স্করা দরদ বুকের মধ্যে চেপে রাখতে পারেন। এমনকি মাঝেমধ্যে কথায়ও সংযত থাকতে পারেন। হয়তো তরুণেরা ততখানি পারেন না। কিন্তু বিষয়টা যখন রাজনীতি, তখন তা প্রেম-ভালোবাসার আবেগ দিয়ে নির্ধারিত হয় না। যে পৈশাচিকতা, নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতা দিয়ে পরাজিত স্বৈরাচার ক্ষমতা টিকে রাখতে পাখির মতো গুলি করে মানুষ হত্যা করেছিল, আজ বিজয়ের পর সেই রক্তের প্রতিশোধ চাই। এটাই সংগত, ন্যায্য। এই চাওয়ার মধ্যে কোনো দোষ নেই। কিন্তু এই না হলে দেশে নির্বাচন হবে না, গণতন্ত্র আসবে না—এই চাওয়ার মধ্যে ভুল আছে। এনসিপি এ রকম করেই বলেছে এবং কোনো কোনো দল তাদেরকে এই বক্তব্যে সমর্থন করেছে। মনে হচ্ছে নির্দিষ্ট চিন্তার ভিত্তিতে একটা ঐক্য প্রচেষ্টা চলছে।
৫ তারিখে প্রেসক্লাবে ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্ট বাংলাদেশের (ডিকাব) এক অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়ার পক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। তিনি এ–ও বলেন, নির্বাচন কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এ জন্য কাউকে চাপ দেবে না।
সে তো ভালো কথা। কিন্তু একটু পর্যাপ্ত সময় মানে কী? মিলার কি একটু সেই ভাষায় কথা বললেন না, যাঁরা বিলম্বে নির্বাচন চান?
কিন্তু আমার উদ্বেগ সেটা নিয়ে নয়। আমার উদ্বেগ নিজেদের মধ্যে যে বিভাজন দেখা যাচ্ছে, সেটা নিয়ে। অধ্যাপক ইউনূস বলেছেন, তিনি কোনো সংস্কার চাপিয়ে দেবেন না। যতখানি পর্যন্ত ঐকমত্য হবে, ততখানি পর্যন্ত সংস্কার করবেন এবং তারই ভিত্তিতে নির্বাচন হবে। কিন্তু এখন তো নির্বাচনের সময় নিয়েই সরাসরি মতপার্থক্য হচ্ছে। কী করবেন মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর সরকার? আলী রীয়াজ বলেছেন, মৌলিক বিষয়ে মতপার্থক্য দূর করার জন্য কথা বলুন নিজেদের মধ্যে। তাতেও যদি ঐকমত্য না হয়?
* মাহমুদুর রহমান মান্না নাগরিক ঐক্যের সভাপতি
[মতামত লেখকের নিজস্ব]

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
জুলাই অভ্যুত্থান: হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ওরা, মিলছে না অর্থ by সাজ্জাদ হোসেন
গতকাল বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সাবেক পিজি হাসপাতাল), জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) গিয়ে দেখা যায় জুলাই আন্দোলনে আহত হয়ে এখনো হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে প্রায় দেড়শ’ রোগী। বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, ৪০০ জনের মতো জুলাই যোদ্ধা এখানে চিকিৎসা নিয়েছেন। অনেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরলেও হাসপাতালের তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার ২টি ওয়ার্ডে ৫৫ জন রোগী এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আর নিটোর সূত্র জানায়, সেখানে চিকিৎসা নেয়া ১ হাজার জুলাই যোদ্ধার মধ্যে ৭২ জন এখনো চিকিৎসাধীন আছেন।
গাজীপুর নাওজোড় কাউন্সিলর অফিসের সামনে গত ৪ঠা আগস্ট পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হন টাঙ্গাইলের মধুপুরের বাসিন্দা মো. সোহানুর রহমান। অসুস্থ শরীর নিয়ে ৫ই আগস্ট আবার আন্দোলনে গিয়ে ফের আহত হন তিনি। এরপর সোহানুর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিছুদিন চিকিৎসা নিয়ে গত ৬ মাস ধরে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোহানুর মানবজমিনকে বলেন, রেডিয়াল নার্ভ সংক্রান্ত কয়েকটি পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল থেকে লিখে দিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এমআরআই করার মেশিনসহ কয়েকটি মেশিন নষ্ট থাকায় বেসরকারি হাসপাতালে এই পরীক্ষাগুলো করাতে প্রায় ২২ হাজার টাকা লাগবে। কিন্তু সে টাকা আমার নাই। কারণ পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি আমি। বিভিন্ন হাসপাতালে দীর্ঘ ৯ মাসের চিকিৎসা শেষে প্রায় নিঃস্ব অবস্থা আমার। তিনি বলেন, আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় এখানকার মেশিন ঠিক হওয়া পর্যন্ত আমাকে অপেক্ষা করতে হবে। ব্যথায় পা নাড়াতে পারছি না। জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে শুধু প্রথম ধাপের টাকা পেয়েছি। সোহান বলেন, আমিসহ কিছু জুলাই যোদ্ধা দ্বিতীয় ধাপের টাকার জন্য প্রতিনিয়ত জুলাই ফাউন্ডেশনে বারবার যোগাযোগ করেও আর্থিক সহায়তা পাচ্ছি না। আমি টাকার জন্য চিকিৎসা করাতে পারছি না। অথচ অনেক ভুয়া আহত বিভিন্নভাবে জুলাই ফাউন্ডেশন থেকে টাকা নিয়ে গেছে। আর আমাদের পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।
গত ৪ঠা আগস্ট খুলনা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের বাসার সামনে গুলিবিদ্ধ হওয়া নাঈম শিকদার নামে আরেক জুলাই যোদ্ধা। তার পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মেরুদণ্ড ভেঙে পিঠ দিয়ে গুলি বের হয়ে যায়। লিভারেও একাধিক গুলি আটকা পড়ে। এক নেভি অফিসারের সহায়তায় চিকিৎসা নিয়ে কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে আসেন ঢাকা মেডিকেলে। সেখান থেকে গত ১৫ই মার্চ বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন তিনি। ব্যথায় কাতর নাঈমকে কিছুদিন ধরে উচ্চ নির্ভরতা ইউনিট (এইচডিও) নিবিড় পরিচর্যায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। গতকাল বাংলাদেশ মেডিকেলের কেবিন ভবনের ৪ তলায় হুইলচেয়ারে বসে থাকা নাঈমের সঙ্গে কথা হয় মানবজমিনের। তিনি বলেন, আমি চিকিৎসার ব্যয় চালিয়ে নিতে অক্ষম। আমার লিভারে প্রচণ্ড যন্ত্রণা হচ্ছে। কিন্তু চিকিৎসার ব্যয়ভার নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। আমি এই পর্যন্ত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ থেকে প্রথম ধাপের টাকা ছাড়া আর কোনো টাকা পাই নাই। জুলাই ফাউন্ডেশনে গেলে বলে যারা গুরুতর অসুস্থ শুধু তারাই দ্বিতীয় ধাপের টাকা পাবে। আমার শরীরের প্রায় অর্ধেক অংশ গুলিতে ঝাঁজরা হয়ে গেছে। পিঠ জুড়ে রয়েছে ক্ষতচিহ্নের দাগ। হাসপাতালের এইচডিও তে চিকিৎসা নিচ্ছি। ব্যথা সহ্য করতে না পেরে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে থাকছি। আর কীভাবে আমাকে প্রমাণ করতে হবে যে আমিও গুরুতর অসুস্থ। সহায়তা পেতে আমি গত ৬ই এপ্রিল খুলনা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু কোনো সহায়তাই পাচ্ছি না। আমি ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ থেকে দ্রুত দ্বিতীয় ধাপের টাকা দেয়ার জোর দাবি জানাই।
জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মো. সৌরভ ইসলাম। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। গত ১৯শে জুলাই মিরপুর-১০ এ ডান পায়ে গুলিবিদ্ধ হন সৌরভ। সেই থেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য দৌড়াচ্ছেন। কৃষক বাবা একটি জমি বন্ধক দিয়ে ৩ লাখ টাকা জোগাড় করে। গত ৫ই নভেম্বর থেকে নিটোরে ভর্তি তিনি। মানবজমিনের সঙ্গে চিকিৎসা নিতে বিভিন্ন বিড়ম্বনার কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন সৌরভ। গত ঈদে রংপুরে নিজের গ্রামের বাড়িতে গেলে পা ফুলে মারাত্মক ব্যথা অনুভব হয় তার। পরে আবার নিটোরে আসলে ডাক্তার জানান, রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে থেরাপি নিতে হবে। ‘বিম্যাক উইথ পিপিআর মিক্সড সেলুলার থেরাপি’ নেয়াসহ চিকিৎসার জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা লাগবে বলে জানান সৌরভ। ঋণগ্রস্ত এ জুলাই যোদ্ধা চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন। ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ থেকে দ্বিতীয় ধাপের টাকার জন্য গেলে তাকে ১ লাখ টাকার চেক দেয়া হয়। এই টাকা দিয়ে সৌরভের চিকিৎসা ব্যয় মেটানো প্রায় অসম্ভব বলে জানান তিনি। অভিযোগের সুরে মানবজমিনকে তিনি বলেন, গুরুতর আহত বিবেচনায় অনেকে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’ থেকে কয়েক লাখ টাকা নিলেও, আমাকে শুধু এক লাখ টাকার চেক দেয়া হয়। তিনি ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’কে আরও অধিকতর তদন্ত করে তার চিকিৎসার ব্যয় বিবেচনায় আরও টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি করার দাবি জানান।
সৌরভ বলেন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য কার্ড দেয়া হয়। এই কার্ডের আওতায় দেশের সরকারি- বেসরকারি হাসপাতালে গেলে দেয়া হবে চিকিৎসা সহায়তা। কিন্তু আমি ফিজিওথেরাপি দেয়ার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে গেলে তারা জানায় সরকারি স্বাস্থ্য কার্ড সম্পর্কে কিছুই জানেন না তারা। মো. আলমগীর হোসেন নামে আরেক জুলাই যোদ্ধা জানান, রংপুর মেডিকেলে চিকিৎসার জন্য গেলে তাকেও একই কথা বলা হয়। তারা সরকারের কাছে এই স্বাস্থ্য কার্ড পুরোপুরি চালু করার দাবি জানান।
বৃহস্পতিবার ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ মানবজমিনকে বলেন, আমরা সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে ১০০ কোটি টাকা এবং অন্যান্য সহায়তা প্রায় ২৫ কোটি টাকা নিয়ে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’-এর কার্যক্রম শুরু করেছিলাম। সর্বশেষ অডিট অনুযায়ী আমরা ৭৫০ জন শহীদ পরিবার এবং ৫ হাজার ৯০১ জন আহত পরিবারকে ‘জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন’- এর পক্ষ থেকে সহায়তা প্রদান করেছি। এখনো কিছু আহত যোদ্ধা প্রথম ধাপের টাকা পায় নাই। আমরা চেষ্টা করছি পর্যায়ক্রমে তাদের হাতে সহায়তা তুলে দিতে। এ ছাড়াও গুরুত্ব বিবেচনায় প্রায় ৪০০ জনের মতো আহত জুলাই যোদ্ধাকে দ্বিতীয় ধাপের টাকা দেয়া হয়েছে। আমরা ফান্ড সংগ্রহ করছি। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করে আবার সহায়তা চাওয়া হবে। আমাদের ফান্ড বৃদ্ধি পেলে অফিসিয়ালি সবাইকে টাকা দেয়া শুরু করবো।
এসব অভিযোগের ব্যাপারে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিশেষ সেলের দলনেতা মো. মশিউর রহমান মানবজমিনকে বলেন, আমরা জুলাই আন্দোলনের আহত-নিহতদের সরকারি গেজেট অনুযায়ী সহায়তা দেয়া শুরু করেছি। সিরিয়াল অনুযায়ী সবাইকে দেয়া হবে এই সহায়তা। এ ছাড়াও আগামী জুলাই মাসের মধ্যে আন্দোলনের আহত-নিহতদের গেজেট তালিকা অনুযায়ী মাসিক ভাতা দেয়া চালু হবে।
হাসপাতালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে স্বাস্থ্য কার্ড অনুযায়ী সেবা না দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এই কার্ডের আওতায় দেশের সরকারি- বেসরকারি হাসপাতালে অবশ্যই চিকিৎসা সহায়তা দিতে হবে। যদি কোনো হাসপাতাল চিকিৎসাসেবা না দেয়, আমাদের কাছে অভিযোগ করলে আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিবো।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ ব্লকেড
ওদিকে উপদেষ্টা পরিষদের পরবর্তী বৈঠকে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, এ বিষয়ে করণীয় নিয়ে বিদেশী বন্ধু রাষ্ট্রের সঙ্গেও পরামর্শ করা হবে।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে এনসিপি’র মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ’র ডাকে সাড়া দিয়ে যমুনার সামনে জড়ো হতে থাকেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা। রাত ১টার দিকে মিছিল নিয়ে যমুনার সামনে যান এনসিপি’র আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্য সচিব আখতার হোসেন। তাদের সঙ্গে দলের কেন্দ্রীয় নেতারাও ছিলেন। রাত দুইটার কিছুক্ষণ আগে যমুনার সামনে মাইকে স্লোগান ধরেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় যমুনার আশপাশ স্ল্লোগানে স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে। ‘ব্যান করো ব্যান করো, আওয়ামী লীগকে ব্যান করো’, ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে’ এবং ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, আওয়ামী লীগ নো মোর’। রাত ১টার পর হেফাজতে ইসলামের বেশ কিছু নেতাকর্মী যমুনার সামনে যান। তারা এনসিপি’র নেতাকর্মীদের পাশে থেকেই আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবি জানান। রাত দেড়টার দিকে এবি পার্টির কিছু নেতাকর্মী সেখানে যোগ দেন। রাত ২টায় যোগ দেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা। এ ছাড়া বিক্ষোভে যোগ দেন গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ, জুলাই ঐক্য, ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরাও। রাত গভীরের সঙ্গে সঙ্গে নেতাকর্মীদের জমায়েত বড় হতে থাকে। রাত ২টার পর কয়েক হাজার নেতাকর্মীর অবস্থান ও স্লোগানে উত্তাল হয় যমুনা এলাকা। রাতভর নেতাকর্মীরা সেখানেই অবস্থান নেন। সকাল সাড়ে আটটার দিকে যমুনার সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এই জমায়েতের ঘোষণা দেন এনসিপি’র দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ ও এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী।
শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে পাঁচটি পিকআপ ভ্যান একত্র করে সমাবেশের জন্য যমুনার পাশে ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের পাশের ফোয়ারার সামনে ‘জমায়েত মঞ্চ’ করা তৈরি করা হয়। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে আয়োজিত এই জমায়েতে সবাইকে অংশ নেয়ার আহ্বানও জানান জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। মঞ্চের সামনেই আন্দোলনকারীরা জুমার নামাজ আদায় করেন। নামাজের পর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে সমাবেশে নেতাকর্মীরা যোগ দিতে থাকেন। মহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার নেতাকর্মী সেখানে জড়ো হন। বিকাল পৌনে তিনটায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল সংলগ্ন সড়কে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা আশরাফ মাহাদী। সমাবেশ মঞ্চে অবস্থান ছিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সারজিস আলম। ছাত্রশিবিরের সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ফরহাদ ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতাসহ আরও অনেকে। তখন মঞ্চ থেকে স্লোগান আসে ‘কণ্ঠে আবার লাগা জোর, আওয়ামী লীগের কবর খোঁড়’, ‘গড়িমসি বন্ধ করো, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করো’, ‘ব্যান ব্যান আওয়ামী লীগ, ‘লীগ ধর জেলে ভর’, ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, আওয়ামী লীগ নো মোর’। সমাবেশে এনসিপি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ইসলামী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সাধারণ ছাত্র ও নাগরিকদেরও প্ল্যাকার্ড-ফেস্টুন হাতে যোগ দিতে দেখা যায়। কেউ কেউ মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছান। এরপর একে একে বক্তব্য দেন বিভিন্ন দলের নেতাকর্মীরা।
আহত যোদ্ধা মাযহারুল ইসলাম আপন বলেন, আমরা কেউ ভালো নেই। এখনো আওয়ামী লীগের দোসররা ঘুরে বেড়াচ্ছে। জুলাই স্বীকৃতির ব্যাপারে কোনো লক্ষণ দেখছি না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। জুলাই সনদ দিতে হবে। যতক্ষণ এটা না হচ্ছে ততক্ষণ আমরা যাচ্ছি না। জুলাই যোদ্ধা খোকন চন্দ্র বর্মন বলেন, আমার মুখ ক্ষত। জুলাই আন্দোলনে এমন অনেক যোদ্ধা কমবেশি অনেক কিছু হারিয়েছেন আহত হয়েছেন, অনেকে শহীদ হয়েছেন। আমরা এর বিচার চাই। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে হবে। আমার সুস্থ হতে কতোদিন লাগবে সেটা সৃষ্টিকর্তাই জানেন। আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে হবে। অনেক নেতাকর্মী আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনে পাঁয়তারা চালাচ্ছে। আমাদের শরীরে বিন্দুমাত্র রক্ত থাকা পর্যন্ত আওয়ামী লীগকে বাংলার মাটিতে রাজনীতি করতে দেয়া হবে না। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে হবে। বিচার এবং নিষিদ্ধ না করা পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন থামবে না। শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকতের বোন সাবরিনা আফরোজ শিমন্তি বলেন, যারা আহত-নিহত এদের সংখ্যা কী আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের জন্য যথেষ্ট না? আওয়ামী লীগের ঠিকানা এই বাংলায় হবে না। তারা মিছিল করে এখনো। তারা কীভাবে এত সাহস পায়। যারা পালালো তারা কীভাবে পালালো? প্রত্যেকটা খুনির জনসম্মুখে ফাঁসি দেয়া হোক।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী বলেন, ড. ইউনূস সাহেব যেদিন ক্ষমতায় বসেন সেদিন তিনি বলেছিলেন ছাত্ররা আমাকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। আজকে মনে করিয়ে দেই সারা বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আপনাকে বলছে, এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করবেন। সন্ত্রাসী ছাত্রলীগকে নির্বাহী আদেশে যে কারণে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তাহলে ছাত্রলীগের বাপ, মা আওয়ামী লীগকে কেন নিষিদ্ধ করা যাবে না। আপনাদের মাধ্যমে আসিফ নজরুল সাহেবকে একটা পরামর্শ দেই। জুলাই জনতা বেঁচে থাকতে বাংলাদেশের কোনো নির্বাচনের ব্যালটে নৌকা মার্কা থাকবে না।
হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, বক্তব্য স্পষ্ট যতদিন আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ না করা হবে ততদিন ঘরে ফিরে যাবো না। ড. ইউনূসের ক্যাবিনেটের সদস্যরা গাদ্দারি করছেন আমাদের সঙ্গে। আওয়ামী লীগকে পালাতে আপনারা সাহায্য করছেন। হাজারো আলেমকে নির্যাতন করেছে। আওয়ামী লীগ পিলখানা হত্যাকাণ্ড চালিয়ে জাতির সূর্য সন্তানদের হত্যা করেছে। ভারতের আগ্রাসনবাদী মতামতে গণহত্যা করেছে। এদেশের ছাত্রসমাজের ওপর গণহত্যা চালিয়েছে। যাদের অন্তরে আওয়ামী লীগের জন্য দুকদুক করছে তারা দিল্লি চলে যান। রাজপথ ছাড়বো না আওয়ামী লীগ খতম না হওয়া পর্যন্ত। ড. ইউনূস যতক্ষণ আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ ঘোষণা না দেবেন কেউ ফিরবে না। বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, অবিলম্বে আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। প্রথম সংস্কার হলো আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা। সমস্ত রাজনৈতিক দলকে এখানে দেখতে চাই। যারা আসবেন না, তারা তাদের পথ রচনা করবেন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, গণহত্যাকারী দল হিসেবে আওয়ামীকে নিষিদ্ধ ও বিচার না করা পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বেন না। আমাদের লড়াই মাত্র শুরু হয়েছে। যতক্ষণ-না আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ আমরা রাজপথ ছাড়বো না। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ১০০টা ফেরাউন একসঙ্গে করলেও একটা হাসিনা পাওয়া যাবে না। আওয়ামী লীগকে কোন কারণে রাজনৈতিক দল বলা হয়? আমরা শুনতে পাচ্ছি প্রধান উপদেষ্টা নাকি রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসার চেষ্টা করছেন। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসে তিনি নাকি আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। এনসিপি’র এ নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ কোনোভাবে রাজনৈতিক দল নয়। ১৯৭৪ সালে আওয়ামী লীগ বাকশাল তৈরি করে এ দেশে গণতন্ত্রের পরিবর্তে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করেছিল। আওয়ামী লীগের লুটপাটের কারণে দুর্ভিক্ষের কারণে ১৫ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা গিয়েছিল। আওয়ামী লীগের হাতে এ দেশের মানুষের রক্ত লেগে আছে। আওয়ামী লীগ ভারতের সহায়তায় দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদের হত্যা করেছিল। তিনি আরও বলেন, ইন্টেরিমের কানে আমাদের দাবি পৌঁছায়নি। তাই আমরা সমাবেশস্থল থেকে শাহবাগ অবরোধে যাচ্ছি। দাবি না আদায় পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবো।
হাসনাতের ঘোষণার পর বিকাল পৌনে ৫টার দিকে তারই নেতৃত্বে আন্দোলনকারীরা শাহবাগ অবরোধ করেন। সেখানেও হাজার হাজার মানুষের মুখে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের স্লোগান। শুক্রবার বিকালে সরজমিন দেখা যায়, বন্ধ শাহবাগ মোড়। জনতারা দলে দলে ভাগ হয়ে প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। তাদের হাতে জাতীয় পতাকাসহ সারা বাংলায় খবর দে, আওয়ামী লীগের হবে না, সংবিধানে সংশোধনী আনো গণহত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত দল নিষিদ্ধের অনুচ্ছেদ সংযোজন করো, শাপলার খুনি আওয়ামী লীগের বিচার করতে হবে ইত্যাদি পোস্টার দেখা যায়। আন্দোলনে জাতীয় নাগরিক পার্টি, ছাত্রশিবির, খেলাফতে মজলিস, ইসলামী শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, ইসলামী ঐক্যজোট, খেলাফত আন্দোলনসহ অনেকে। আন্দোলনকারীরা মাগরিবের নামাজ আদায় করেন। নামাজ তারা কয়েক ভাগে ভাগ হয়ে আদায় করেন। আন্দোলনকারীরা বলছেন, আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করেই তারা সড়ক ছাড়বেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: নিয়ন্ত্রণ রেখার দু’পাড়ে শঙ্কিত মানুষ, পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ক্ষতি কল্পনাতীত
জম্মু ও কাশ্মীরে নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্যবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, ড্রোন হামলা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা হয়েছে এবং নিয়ন্ত্রণ রেখায় উপযুক্ত জবাব দেয়া হয়েছে। পাকিস্তান আত্মরক্ষার অধিকার হিসেবে ভারতের প্রত্যাঘাতের জবাবে বুধবার রাতের পর বৃহস্পতিবার রাতে ভারতের বিভিন্ন শহরের সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত। এরপরেই ভারত পাল্টা হামলা চালিয়েছে। একযোগে ইসলামাবাদ, লাহোর, করাচি, শিয়ালকোট, পেশোয়ার সহ পাকিস্তানের ১২টি শহরে হামলা চালায় তারা। পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা ইসরাইলি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে বলা হয়েছে, ভারতের ১৫টি শহরকে লক্ষ্যবস্তু করার ব্যর্থ প্রচেষ্টার কয়েক ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার রাত ৯টা নাগাদ পাকিস্তান জম্মু ও কাশ্মীরের কিছু অংশে তীব্র আক্রমণ শুরু করে। নিয়ন্ত্রণ রেখা এবং আন্তর্জাতিক সীমান্ত বরাবর সীমান্তবর্তী এলাকা- আরএস পুরা, আরনিয়া, সাম্বা, হীরানগরে তীব্র গোলাবর্ষণ করা হয়। জম্মু ও কাশ্মীরের শীতকালীন রাজধানী জম্মুতে বিমান হামলার চেষ্টা হয়েছে। আরএস পুরা, আরনিয়া, সাম্বা, হীরানগরে ভারী সামরিক স্থাপনা রয়েছে।
সংবাদ সংস্থা সূত্রে বলা হয়েছে, আটটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে; তবে ভারতের বিমান প্রতিরক্ষা ইউনিট সেগুলোকে সফলভাবে প্রতিহত করে বলে ভারত দাবি করেছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার দূরে পাঞ্জাবের পাঠানকোটও পাকিস্তানের তীব্র গোলাবর্ষণের শিকার হয়েছে। শহরটি একটি কৌশলগত এলাকা এবং জম্মুর প্রবেশপথ হিসেবে কাজ করে। জম্মু ও কাশ্মীরের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো সম্পূর্ণ উচ্চ সতর্কতার আওতায় রয়েছে। পাঞ্জাবের চণ্ডীগড়, ফিরোজপুর, মোহালি এবং গুরুদাসপুর এবং পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী আরেকটি রাজ্য রাজস্থানের কিছু অংশে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রক জানিয়েছে, জম্মু, পঠানকোট, উধমপুরে পাকিস্তানের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে। কেউ হতাহত হননি বলেও জানানো হয়েছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রক দাবি করেছে, প্রতিটি হামলার চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দেয়া হয়েছে। পাকিস্তানের হামলার আবহে ভারতের ২৪টি বিমানবন্দর বন্ধ রাখার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে অমৃতসর, চণ্ডীগড়, শ্রীনগর, লুধিয়ানা, ভুন্টার, কিষেণগড়, পাতিয়ালা, সিমলা, কাংড়া-গগ্গল, ভাতিণ্ডা, জয়সলমের, যোধপুর, বিকানের, হলওয়ারা, পঠানকোট, জম্মু, লেহ্?, মুন্দ্রা, জামনগর, হিরাসর, পোরবন্দর, কেশোড়, কান্দলা, ভূজ। এদিকে, দ্রুত উত্তেজনা প্রশমিত করতে মার্কিন নিরাপত্তা উপদেষ্টা মার্কো রুবিও রাতেই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এজে জয়শঙ্করকে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন। আমেরিকার বিদেশ দপ্তরের মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস জানিয়েছেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে কথা বলেছেন। হিংসা থামানোর ডাক দিয়েছেন। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে আলোচনার জন্য সব রকম চেষ্টার আশ্বাস দিয়েছেন রুবিও।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ আমাদের বিষয় নয়: মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স এই মন্তব্য করেন। ফক্স নিউজের ‘দ্য স্টোরি উইথ মার্থা ম্যাককালাম’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রধারী এ দুই দেশের মধ্যে কোনো সংঘাত যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন নয় এবং সেখানকার কোনো যুদ্ধ ‘আমাদের বিষয় নয়’। ভান্স বলেন, আমরা চাই বিষয়টি যত দ্রুত সম্ভব শান্ত হোক। তবে দেশগুলোর ওপর আমাদের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু তাদের উত্তেজনা কমাতে উৎসাহ দিতে পারি, কিন্তু এমন একটি যুদ্ধে জড়াতে পারি না, যা মূলত আমাদের বিষয় নয় এবং যেটি নিয়ন্ত্রণ করার মতো অবস্থানে আমরা নেই। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বৈশ্বিক কূটনৈতিক অঙ্গনে রাশিয়া-ইউক্রেন এবং হামাস-ইসরাইল যুদ্ধ নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। এমন পরিস্থিতিতে দক্ষিণ এশিয়ার এ অঞ্চলে উত্তেজনা শুরু হলেও, বিশ্লেষক ও সাবেক কিছু মার্কিন কর্মকর্তা মনে করছেন, প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত ও পাকিস্তানকে নিজেদের মতো করে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে দিতে পারে ওয়াশিংটন। এতে মার্কিন পক্ষ থেকে সরাসরি কোনো চাপ আসার সম্ভাবনা কম। ভারতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠতা সামপ্রতিক বছরগুলোতে আরও বেড়েছে, বিশেষ করে চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব মোকাবিলায় নয়াদিল্লিকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে ওয়াশিংটন। অপরদিকে, ২০২১ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর পাকিস্তানের ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব কিছুটা কমলেও দেশটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রতা এখনো বহাল রয়েছে।
ভারতের ‘আগ্রাসনে’ পাকিস্তানের সর্বোচ্চ প্রস্তুতি ও জবাবের হুঁশিয়ারি: ভারতের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর পাকিস্তানের সামরিক, রাজনৈতিক ও স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ প্রস্তুতির ঘোষণা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল এবং আইএসপিআরের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী একযোগে ভারতের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। দেশের নিরাপত্তা ও সেবামূলক কাঠামোকে সম্পূর্ণ সচল রাখার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেন, জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকার পাকিস্তানের রয়েছে। তিনি ভারতের হামলায় ৩১ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকের শাহাদাত এবং ৫৭ জনের আহত হওয়ার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-কে জানান, পাকিস্তান নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বোচ্চ মূল্য দিতে প্রস্তুত।
পাকিস্তানের প্রতি এরদোগানের সহমর্মিতা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান। তিনি পাকিস্তানের জনগণ ও সরকারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বলেছেন, উত্তেজনা বন্ধে সব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে তুরস্ক। তবে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা-পাল্টা হামলার পর এই সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমাদের যেসব ভাই জীবন হারিয়েছেন আল্লাহর কাছে তাদের জন্য প্রার্থনা করি। পাকিস্তানের বন্ধুপ্রতিম জনগণ ও সরকারের প্রতি সহমর্মিতা জানাই।
ডনের সম্পাদকীয়: পারমাণবিক যুদ্ধ হলে ক্ষতি কল্পনাতীত, সংযত হওয়ার এখনই সময়
ভারত ও পাকিস্তান একে অপরের সঙ্গে শত্রুতায় জড়িয়ে পড়ায় দক্ষিণ এশিয়ায় ভয় ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিমানবন্দরগুলো বন্ধ রয়েছে। পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। বাজার ব্যবস্থা প্রান্তসীমায়। বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইসরাইলে তৈরি ভারতের ২৫টি ড্রোন গুলি করে তারা ভূপাতিত করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতের ড্রোন হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকে। ৭ই মে শুরুতেই আজাদ জম্মু কাশ্মীর ও পাঞ্জাবে আগ্রাসী হামলা চালিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লি উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে সিন্ধু সহ বিভিন্ন স্থানে বৃহস্পতিবার ড্রোন হামলা জোরালো করেছে। ভারতীয় মিডিয়ায় দাবি করা হয়েছে যে, ভারতশাসিত জম্মু ও কাশ্মীরে বিভিন্ন টার্গেটে হামলা করেছে পাকিস্তান। তবে পাকিস্তান সরকার তা অস্বীকার করেছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো পেহেলগাম হামলার অপ্রমাণিত অভিযোগের ভিত্তিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে হামলা শুরু করেছে ভারত। তারা কথিত ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করছে। জবাবে পাকিস্তান শুরুতে তাদের ৫টি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে।
ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, তার দেশ সংলাপের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান চায়। অন্যদিকে তার সেনাবাহিনী উত্তেজনা বৃদ্ধি না করার পক্ষে কথা বলেছে। কিন্তু প্রকৃত সত্য হলো, এখনো উস্কানিমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। পাকিস্তানে এখনো তারা বেসামরিক লোকজনের জীবনকে বিপন্ন করছে। ফলে তাদের সংলাপ এবং উত্তেজনা না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি উচ্চ মাত্রায় প্রশ্নবিদ্ধ।
বৃহস্পতিবার একটি ইতিবাচক ঘটনা ঘটেছে উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দারের বিবৃতিতে। তিনি বলেছেন, দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং ডিজিএমও’দের মধ্যে যোগাযোগ হচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো বিদেশি বন্ধুরা যখন সংযত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন, তখন সংকট নিরসনে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে একটি স্পষ্ট উদাসীনতা দেখা গেছে। এই উদাসীনতা পারমাণবিক শক্তিধর প্রতিবেশীদের জন্য শুধু বিভ্রান্তিকরই নয়। একই সঙ্গে এই উত্তেজনা শুধু এই দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। একই সঙ্গে তা পুরো দক্ষিণ এশিয়া এমনকি মধ্যপ্রাচ্যকে আক্রান্ত করতে পারে।
তাই ইসলামাবাদ এবং নয়াদিল্লির সঙ্গে জাতিসংঘ এবং যেসব দেশের ভালো সম্পর্ক আছে তাদের উচিত এই উত্তাপকে ঠাণ্ডা করার জন্য ভূমিকা পালন করা। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দুই দেশের প্রতিই সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে কথা বলেছেন ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। উপসাগরীয় দেশগুলো, ইরান এবং অন্যরা সহ বিদেশি শক্তিগুলোর উচিত একটি কূটনৈতিক সমাধানের জন্য তাদের প্রচেষ্টা দ্বিগুণ করা।
উভয় দেশেই উগ্রপন্থা স্পষ্ট। কিন্তু ভারতীয় মিডিয়া, সাংস্কৃতিক এবং রাজনৈতিক পরিমণ্ডল তাদের দেশের সংঘর্ষ নিয়ে মেতে আছে। সম্ভবত তারা যুদ্ধকে বলিউডের অ্যাকশন ফিল্মের মতো ভাবছে। কিন্তু প্রকৃত বাস্তবতা তার চেয়ে অনেক বেশি অন্ধকারময়। এমনকি যদি একটি সাধারণ পর্যায়ের যুদ্ধ হয় তাহলে অসংখ্য মানুষের প্রাণহানি এবং অপরিসীম ক্ষতি হবে উভয়পক্ষে। উপরন্তু পারমাণবিক যুদ্ধ হলে কী ঘটে তা কল্পনার অতীত। তাই শুভবুদ্ধির উদয় হোক। যুদ্ধের দিকে এই যাত্রা বন্ধ হোক। বিদেশি প্রচেষ্টার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে এবং ডিজিএমও’দের মধ্যে যোগাযোগ অবশ্যই অব্যাহত থাকা উচিত। এর লক্ষ্য হওয়া উচিত উত্তেজনা হ্রাস করা এবং আরও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাওয়া।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মুরিদকে হামলা: সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি নাকি মসজিদ? -আল জাজিরা
ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি দাবি করেন, হামলার লক্ষ্য ছিল ‘সন্ত্রাসী অবকাঠামো’ এবং শুধু সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেই নিশানা করা হয়েছে। কিন্তু পাকিস্তান জানিয়েছে, এ হামলায় বিপুল সংখ্যক বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। হামলার পর মুরিদকের যে ভবনটির ছাদ ধসে পড়ে তা ছিল সরকারি স্বাস্থ্য ও শিক্ষা কমপ্লেক্সের প্রশাসনিক ভবন। এই কমপ্লেক্সে একটি হাসপাতাল, দুটি স্কুল, একটি হোস্টেল এবং একটি বড় মাদরাসা আছে। সেখানে ৩,০০০-এর বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। এখানে ৮০টি আবাসিক ভবনে প্রায় ৩০০ জন বাস করেন। তাদের বেশিরভাগই সরকারি কর্মচারী। হামলায় প্রশাসনিক ভবনের পাশাপাশি একটি মসজিদও আঘাতপ্রাপ্ত হয়। তিনজন কর্মচারী নিহত হন। তাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। আহত হন আরও একজন।
আমরা আগেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম
ইসলামাবাদ থেকে চার ঘণ্টার দূরত্বে অবস্থিত প্রায় আড়াই লাখ জনসংখ্যার ছোট শহর মুরিদকে। লাহোর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। সরকারি কর্মকর্তা তৌসিফ হাসান বলেন, মুরিদকেই মঙ্গলবার রাতের প্রথম লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়েছিল। তার ভাষায়, আমি ঠিক রাত বারোটার কিছু পরে দুটি বিশাল বিস্ফোরণের শব্দ শুনি। আমরা জানতাম এটা হতে পারে এবং আমরা প্রস্তুত ছিলাম। হাসান এবং তার সহকর্মী উসমান জালিস জানান, পেহেলগাম হামলার পর পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ মুরিদকে হামলার সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল হিসেবে বিবেচনা করে এবং বাসিন্দাদের জায়গা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। নিহতরা ছিলেন সেসময় সেখানে থাকা অল্প কিছু কর্মচারি।
বারান্দার একপাশে একটি টেবিলে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ রাখা ছিল। এখনও ধাতব টুকরাগুলোতে বিস্ফোরকের গন্ধ এবং উত্তাপ অনুভূত হচ্ছিল। যদিও হাসান ও জালিস জোর দিয়ে বলেন, প্রতিষ্ঠানটি পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে। কিন্তু এর ইতিহাস আরও জটিল।
শিক্ষা না কি উগ্রবাদ?
১৯৮৮ সালে জামায়াত-উদ-দাওয়া প্রতিষ্ঠাতা হাফিজ সাঈদ এই কমপ্লেক্সটি প্রতিষ্ঠা করেন। জামায়াত উদ দাওয়া আন্তর্জাতিকভাবে লস্করে তৈয়বার ফ্রন্ট হিসেবে বিবেচিত। এখানে প্রতিষ্ঠিত মাদরাসার নাম জামিয়া দাওয়াহ ইসলামি। ভারত হাফিজ সাঈদ ও লস্করে তৈয়বাকে একাধিক সন্ত্রাসী হামলার জন্য দায়ী করে, বিশেষ করে মুম্বই হামলা। কমপ্লেক্সে থাকা ৫১ বছর বয়সী ধর্মীয় শিক্ষক আবিদ হোসেন ভারতের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এই স্থাপনাটি সবসময়ই একটি শিক্ষাকেন্দ্র। ছেলে-মেয়েরা এখানে পড়াশোনা করে। আমি নিজে তিন দশক ধরে এখানে শিক্ষকতা করছি। তিনি আরও বলেন, আমাদের শিক্ষার্থীদের সাঁতার, ঘোড়ায় চড়া বা শারীরিক অনুশীলনের সুযোগ থাকলে, তা কি সন্ত্রাসী প্রশিক্ষণের প্রমাণ?
২০১৯ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে পাকিস্তান সরকার জামায়াত উদ দাওয়ার কাছ থেকে কমপ্লেক্সটি নিজেদের দখলে নেয়। তখন থেকেই কারিকুলাম ও শিক্ষা কার্যক্রম সরকারি তত্ত্বাবধানে চলে। মসজিদের পেছনে একটি গলি দিয়ে দেখা যায়, দুটি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। সৌর প্যানেল ও ভাঙা ইট সর্বত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। একজন স্থানীয় বাসিন্দা আলী জাফর বলেন, কয়েকদিন আগে আমাদের জায়গা ছাড়তে বলা হয়েছে। তাই পরিবার নিয়ে আত্মীয়ের বাসায় চলে যাই। ভারত যে এখানে হামলা চালাবে, সেটা নিশ্চিত ছিল। সরকারি কর্মকর্তা হাসান জানান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষা কার্যক্রম এরই মধ্যে বন্ধ করা হয়েছিল এবং কঠোর নজরদারিতে ছিল। ধর্মীয় শিক্ষক হোসেন বলেন, সরকার দখলের পর হাফিজ সাঈদ আর কমপ্লেক্সে আসেননি। তিনি আগে নিয়মিত আসতোন। কিন্তু ২০০০ সালের পর থেকে আর আসেননি।
হাফিজ সাঈদকে ২০১৯ সালে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০২২ সালে সন্ত্রাসী অর্থায়নের দুটি মামলায় ৩১ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত তিনি। এর আগেই তিনি ২০২০ সালে ১৫ বছরের একটি রায়ে সাজাপ্রাপ্ত হন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আইভী গ্রেপ্তার নানা প্রশ্ন by বিল্লাল হোসেন রবিন
অন্যদিকে ৫ই আগস্টে আওয়ামী লীগের চরম রাজনৈতিক বিপর্যয়ের পর গুঞ্জন ওঠে, সাবেক রাষ্ট্রপ্রতি আব্দুল হামিদকে আহ্বায়ক ও নাসিকের সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে সদস্য সচিব করে আওয়ামী লীগের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি গঠিত হবে। তাদের নেতৃত্বে রিফর্ম আওয়ামী লীগের যাত্রা শুরু হবে। এমন গুঞ্জনের মধ্যেই বুধবার রাতে দেশ ছাড়ে দুই মেয়াদে দায়িত্ব পালন করা সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সেই ক্ষেত্রে ডা. আইভীও গোপনে দেশ ছাড়তে পারে। এমন আশঙ্কায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এমনটাই মনে করছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা।
এদিকে আইভীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহ্বায়ক রফিউর রাব্বি, নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল, গণসংহতি আন্দোলনের জেলা সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম সুজন এবং কবি ও সাহিত্যিক সাহেদ কায়েসসহ অনেকেই।
কারাগারে আইভী
এদিকে গ্রেপ্তারের পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুলিবিদ্ধ হয়ে পোশাক শ্রমিক মিনারুল ইসলামের নিহত হওয়ার ঘটনায় সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে সকাল ১০টার দিকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঈনউদ্দিন কাদিরের আদালতে সেলিনা হায়াৎ আইভীকে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক। পরে তাকে কাশিমপুর কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ কাইউম খান জানান, মিনারুল হত্যা মামলায় সাবেক মেয়র সেলিনা হায়াৎ ১২ নম্বর আসামি। এই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। ২৬শে মে মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করা হয়েছে।
যেভাবে গ্রেপ্তার হন আইভী
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সেলিনা হায়াৎকে গ্রেপ্তারের জন্য শহরের দেওভোগ এলাকায় তার বাড়ি চুনকা কুঠিরের সামনে যায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম। পুলিশ দেখে দারোয়ান গেট খুলতে না চাইলে আইভী নিজেই গেট খুলে দিলে পুলিশ বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। আইভীকে গ্রেপ্তার করতে বাড়িতে পুলিশ, এই খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সাধারণ মানুষ ও আইভীর কর্মী সমর্থকরা ছুটে বাড়ির দিকে। তারা আইভীর বাড়ির দিকে যাওয়ার চারটি রাস্তায় বাঁশ, ঠেলাগাড়ি, ভ্যানগাড়ি ও বালু ফেলে সড়ক অবরোধ করেন। আশপাশের এলাকার মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে সকলকে আইভীর বাড়ির দিকে রওয়ানা দেয়ার আহ্বান জানান। বিপুলসংখ্যক নারী পুরুষ ও দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা পুলিশকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) তারেক আল মেহেদীর নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ অবরোধ সৃষ্টিকারী লোকজনকে বুঝিয়ে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তখন বাড়ির ভেতরে পুলিশ ছাড়াও আইভীর পরিবারের সদস্য ও গণমাধ্যমকর্মীরা অবস্থান নেয়। পুলিশের কর্মকর্তারা আইভীর সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে কথা বলেন। আইভী পুলিশকে বলেন, তিনি দিনের বেলা ছাড়া পুলিশের সঙ্গে যাবেন না। রাতভর বাড়ির ভেতরে পুলিশ এবং বাড়ির বাইরে আইভীর জনতার বিক্ষোভ চলতে থাকে। একপর্যায়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে প্রায় সাড়ে ছয় ঘণ্টা পর শুক্রবার ভোর পৌনে ৬টার দিকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
গাড়ি বহরে হামলা
এদিকে আইভীকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বহনকারী গাড়ির ওপর হামলা হয়। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের বিবি রোডের কালীর বাজার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় র্যাব ও পুলিশের গাড়ি লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ এবং ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। এতে পুলিশের দুই সদস্যসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। দ্রুত পুলিশ তাকে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে হামলার বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল-ক) রকিব উদ্দিন জানান, হামলার সময় ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুলিশের একজন সাব-ইন্সপেক্টরসহ দুই পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে।
আইভীর বক্তব্য
গ্রেপ্তারের সময় আইভী গণমাধ্যমের কাছে অভিযোগ করেন বর্তমান সরকার বৈষম্যের কথা বলে ক্ষমতায় এসে আমার সঙ্গে বৈষম্যমূলক কাজ করছে। কোনো অন্যায় না করেও কোনো রকম ওয়ারেন্ট ছাড়াই আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাচ্ছে। নিজেকে জয় বাংলার লোক উল্লেখ করে এ সময় জয়বাংলা স্লোগানও দেন সেলিনা হায়াৎ আইভী।
তিনি বলেন, জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলা যদি অপরাধ হয়ে থাকে তাহলে আমি অপরাধী। কিন্তু নারায়ণগঞ্জে ২১ বছরের সেবায় কোনো দল কিংবা ব্যক্তিকে আঘাত করার মতো কিছু কখনো করিনি। যখনি নারায়ণগঞ্জে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তখনি প্রতিবাদ করেছি। কোনো অপরাধ না করেও অপরাধী হিসেবে আমাকে গ্রেপ্তার করা বৈষম্য বলে দাবি করেন তিনি। বিগত সময়ের মতো নারায়ণগঞ্জবাসীকে পাশে থাকার আহ্বান জানান আইভী।
তিনি বলেন, পুলিশ রাতের বেলায় এসেছে আমি রাতের বেলায় বের হতে চাইনি। তারা সারারাত আমার বাড়িতে অবস্থান করেছে। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি ওনাদের কষ্ট দিয়েছি। আমার মহল্লার লোকজন সারারাত এখানে অবস্থান নিয়েছে। আমি আমার এলাকাবাসী ও মহল্লাবাসীকে ধন্যবাদ দিতে চাই। আপনারা কোনো উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করেন নাই। শান্ত ছিলেন। আমি আপনাদের মেয়ে, আপনাদের সন্তান। আমার প্রতি যে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা দেখিয়েছেন আমি আজীবন আপনাদের এই ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও সম্মানের কথা মনে রাখবো। আমার এলাকাবাসী জানেন আমি আলী আহম্মদ চুনকার সন্তান। আমার বাবা দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে রাজনীতি করেছে। আমার যদি অপরাধ হয়ে থাকে ‘জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলার কারণে তাহলে আমি সেই অপরাধে অপরাধী হতে চাই। এই জন্য যদি আমার বিচার হয়, হবে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ শহরে ২১ বছর নারায়ণগঞ্জবাসীকে সেবা দিয়েছি। কেউ কোনোদিন বলতে পারবে না। আমি কোনো প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে অন্য কোনো দলের প্রতি আঘাত করেছি। অথবা কারও সঙ্গে কোনো বৈষম্যমূলক আচরণ করেছি। দল মতের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের দলের মধ্যে থেকের মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করেছি। বিরোধ ও মতভেদ সত্ত্বেও নারায়ণগঞ্জবাসীর জন্য এমন কোনো জায়গা নাই যেখানে প্রতিবাদ করি নাই।
এ সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে আইভী বলেন, আপনারা জানেন, এক মাস হয় নাই। আমার অত্যন্ত আদরের ছোট ভাই আলী আহম্মদ রেজা রিপনকে আমরা হারিয়েছি। সেই ভাইয়ের শোক এখনো ভুলতে পারি নাই। তিনটা ছোট ছোট নাবালক বাচ্চা। চার বছর আগে তাদের মাও মারা গেছে। যেখানে আমার বড় ভাই নাই বোন নাই। তার মাঝখান দিয়ে আমাকে এইভাবে কি কারণে অ্যারেস্ট করা হলো, আমি কি জুলুমবাজ, হত্যাকারী, চাঁদাবাজি করেছি, আমার কি কোনো রেকর্ড আছে যে আমি কোনোদিন কোনো বিরোধী দলকে আঘাত করেছি। তাহলে কিসের জন্য কি কারণে কোন ষড়যন্ত্রের কারণে, কার স্বার্থে আমাকে অ্যারেস্ট করা হলো?
আমিও প্রশাসনের কাছে জানতে চাই, বর্তমানে যারা সরকারে আছেন, তারা সাম্যের কথা বলেছেন, বৈষম্যের বিরুদ্ধে আপনারা আন্দোলন করেছেন। সরকার হটিয়ে নতুন সরকার এসেছেন। তাহলে কি এই বৈষম্য? তাহলে ওনেস্ট রাজনীতির কি মূল্যায়ন?
আমি তো বাড়িতেই ছিলাম। আমি তো পালাইনি। তাহলে এভাবে আমাকে অ্যারেস্ট করতে হলো কেন? সেই জবাব জনগণের কাছে চাই। জনগণই দিবে।
আইভীর গ্রেপ্তারে রফিউর রাব্বির প্রতিক্রিয়া
নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেত্রী ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়েছেন সহযোদ্ধা রফিউর রাব্বি। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করা এক স্ট্যাটাসে তিনি এই নিন্দা জানান।
রফিউর রাব্বি তার স্ট্যাটাসে বলেন, ‘ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আমরা এই গ্রেপ্তারের নিন্দা জানাই। নারায়ণগঞ্জকে নরক বানিয়ে রাখা শামীম ওসমানকে সরকারের বাহিনী সসম্মানে দেশ থেকে পালাতে সহায়তা করলো, তার পরিবারকে বিএনপি’র নেতারা পালাতে সহায়তা করলো আর আইভীকে করা হলো গ্রেপ্তার।’
আইভীর বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যা মামলা প্রসঙ্গে রফিউর রাব্বি বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে। তিনি শামীম ওসমানকে সঙ্গে নিয়ে হত্যা করেছেন। যে শামীম ওসমানের সঙ্গে তার সাপে-নেউলের সম্পর্ক, তাকে সঙ্গে নিয়ে আইভী হত্যা করেছেন? একদিকে সরকার বলছে, মামলা হলেই কাউকে গ্রেপ্তার করা যাবে না। তদন্ত করে প্রমাণ পেলে গ্রেপ্তার। আবার এমনি রাতভর বাড়ি ঘিরে রেখে সকালে গ্রেপ্তার।’
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েল আইভীকে গ্রেপ্তারের নিন্দা জানিয়ে বলেন, আইভী আওয়ামী লীগ করেন এটা সত্যি। আবার এটাও সত্যি, নারায়ণগঞ্জে যারা আওয়ামী লীগ করেছে সেই দুর্বৃত্তশক্তির বিরুদ্ধে তার সাহসী প্রতিবাদও ছিল। ফলে জনগণের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় জায়গায় তিনি ছিলেন। আওয়ামী লীগের সত্যিকারের যারা খুনি, সত্যিকারের দোষী তাদের পালিয়ে যেতে সরকার সহায়তা করেছে। আর জনগণ যাকে নির্দোষ মনে করে তাকে এমনভাবে গ্রেপ্তার করাটা যুক্ত সঙ্গত মনে করি না।
তবে তিনি যদি অপরাধ করে থাকেন সেই অপরাধের শাস্তি চাই। কিন্তু অযথা যেন হয়রানি করা না হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে অনুরোধ জানাই।
গণসংহতি আন্দোলন
গণসংহতি আন্দোলনের নারায়ণগঞ্জ জেলার সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম সুজন বলেন, সেলিনা হায়াৎ আইভী নারায়ণগঞ্জে গুম-খুন-সন্ত্রাসের প্রতীক ছিল না। এমনকি গত ১৭ বছরে বিএনপি কিংবা বিরোধী মত হিসেবে আমরা যারা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে জানবাজি রাখা লড়াই চালিয়েছি, তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে ১টি মামলাও করে নাই। প্রতিপক্ষকে নির্মূল কিংবা দমন-পীড়ন আইভীর রাজনীতি ছিল না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ডিপিডিসি’র বেলায়েতের টাকার পাহাড় by রাশিম মোল্লা
সাবেক এই চিফ ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনের পরিবারের অবৈধ সম্পদের অনুসন্ধান করছে দুদক । গত ১লা ডিসেম্বর ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে দুদকে আসা অভিযোগ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংস্থাটির সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে অনুসন্ধানের প্রয়োজনে অভিযোগসংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চেয়ে ব্যাংক, বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ (রাজউক) ৭০টির বেশি সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) সাবেক প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী শামসুন নাহার অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। অনুসন্ধানের প্রয়োজনে আপনার দপ্তরে থাকা রেকর্ডপত্র দ্রুত সময়ের মধ্যে দুদকে পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হলো। বেলায়েত হোসেন ও তার স্ত্রী শামসুন নাহারের পাশাপাশি এই দম্পতির তিন সন্তান নাভিল হোসেন তামীম, ফারিহা হোসেন মুমু, তাজফিকুর হোসেন তানজিফের নামে কোনো সম্পত্তি আছে কিনা- সেটাও জানাতে বলা হয়েছে এই চিঠিতে। এ বিষয়ে সহকারী পরিচালক হাফিজুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, আমরা তার অভিযোগের বিষয়ে গুরুরত্বসহকারে অনুসন্ধান করছি। শিগগিরই প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন ডিপিডিসি’র সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন এবং তার গৃহিণী স্ত্রী শামসুন নাহার। পিরোজপুর জেলার ভাণ্ডারিয়া উপজেলার লক্ষীপুর গ্রামের আব্দুল আলী এবং রাবেয়া বেগমের অভাবের সংসারে জন্ম নেয়া বেলায়েত হোসেনের। বেলায়েত হোসেনের নামে ঢাকার অভিজাত এলাকা ধানমণ্ডিতে রোড নম্বর ৩/এ বাড়ি নম্বর-৫৬ পাশাপাশি রয়েছে ১৮০০ বর্গফুটের দুটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট (৩/এ/২ ও ৩/বি) আয়কর রিটার্নে যার মূল্য দেখিয়েছেন চুরানব্বই লাখ আঠারো হাজার ষাট টাকা। প্রকৃতপক্ষে ফ্ল্যাট দু’টির বাজারমূল্য কমপক্ষে সাড়ে চার কোটি টাকা। অনুরূপভাবে খিলগাঁও থানা উলন মৌজার ০৮২৫ অযুতাংশের অর্ধেক ৪১২.৫ অযুতাংশ যার মূল্য দেখিয়েছেন দুই লাখ ত্রিশ হাজার টাকা যার বাজারমূল্য প্রায় কোটি টাকা। মৌজা উলন থানা খিলগাঁও ঢাকা ২.৮ কাঠা নাল জমির মূল্য দেখিয়েছেন ছয় লাখ বাহাত্তর হাজার টাকা। প্রকৃতপক্ষে যার বাজারমূল্য এক কোটি পঁচিশ লাখ টাকা।
আয়কর রিটার্নে উল্লেখ করেনি এমন অনেক সম্পদও রয়েছে তাদের। ঢাকাসহ আফতাব নগরে রয়েছে ৫ কাঠা ও ১০ কাঠার দু’টি প্লট। ঢাকার ডেমরা, আশুলিয়া, কেরানীগঞ্জ এবং গাজীপুরে রয়েছে নিকট আত্মীয়স্বজনের নামে কেনা কয়েক বিঘা জমি, ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে কোটি কোটি টাকা, তার মধ্যে সঞ্চয়পত্রই রয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার। ঢাকা মেট্রো গ ২৬-৫৪৮৩ এক্স করোলা একটি দামি গাড়ি, নিকট স্বজনদেরকে দিয়ে করাচ্ছেন বিভিন্ন ব্যবসাবাণিজ্য। গৃহিণী স্ত্রীর শামসুন নাহারের নামে কিনেছেন একাধিক জমি, স্ত্রীর নামে বিভিন্ন ব্যাংকে রেখেছেন কয়েক লাখ টাকার এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র। বেলায়েত হোসেন চিকিৎসা করান সিঙ্গাপুর ও ভারতের ব্যয়বহুল হাসপাতালে। কেবল কন্যা ফারিয়া হোসেন মুমু এবং স্ত্রীর নামে রয়েছে তিনশ’ ভরি স্বর্ণালংকার। তিনি ও তার পরিবার ব্যবহার করেন দুটি গাড়ি। একটি তার নিজের নামে ঢাকা মেট্রো গ ২৬-৫৪৮৩ এক্স করোলা বিআরটিএ রেজিস্ট্রেশন করা থাকলেও অন্য গাড়িটি ঢাকা গ ১৯-৪৮৩৮ এক্স করোলা গৃহিণী স্ত্রী শামসুন নাহারের নামে ক্রয় করে বিআরটিএতে রেজিস্ট্রেশন করে পরবর্তীতে আমেরিকা প্রবাসী আপন চাচা শ্বশুর মো. ইয়াকুব আলী শরিফের ছেলে বেলায়েত হোসেনের চাচাতো শ্যালক রুবায়েত শরিফের নামে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে বেলায়েত হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা গাড়িটি ব্যবহার করেন। ইয়াকুব শরিফ সপরিবারে আমেরিকায় স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত সুযোগসন্ধানী অর্থলোভী দুর্নীতিবাজ বেলায়েত হোসেন চাকরিজীবনে যখন যে সরকার ক্ষমতায় ছিল তার একনিষ্ঠ সমর্থক হয়ে বাগিয়ে নিয়েছেন লোভনীয় পদ, দু’হাতে কামিয়েছেন টাকা, গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। আয়কর রিটার্ন দাখিলে বেলায়েত হোসেন তার সম্পদ ও অর্থের যে পরিমাণ দেখিয়েছেন প্রকৃতপক্ষে তার রয়েছে কয়েকশ’ গুণ বেশি। বেলায়েত হোসেনের গৃহিণী স্ত্রী এবং স্বামীর আয়ের ওপর নির্ভরশীল শামসুন নাহারের দৃশ্যমান কোনো আয় না থাকলেও তার রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। তিনিও স্বামী বেলায়েত হোসেনের মতো আয়কর রিটার্নে নিয়েছেন জালিয়াতির আশ্রয়। আয়কর রিটার্নে তার সম্পদ ও অর্থের পরিমাণ যা দেখানো হয়েছে প্রায় ঊনষাট লাখ টাকা প্রকৃতপক্ষে তার নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ অথচ তিনি গৃহিণী। শামসুন নাহারের নামে ৪৪/এ হাজীপাড়ায় এবং হাজী লেন রামপুরায় রয়েছে ২ কোটি টাকার জমি। বিভিন্ন ব্যাংকে নিজের নামে, পুত্রের নামে ও নিকট আত্মীয়দের নামে রয়েছে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র। গার্মেন্টসের ব্যবসা করান আপন বোন নাজমুন নাহার ও ভগ্নিপতি কামরুজ্জামানকে দিয়ে। বেলায়েত হোসেন ও শামসুন নাহার দম্পতির বিরুদ্ধে রয়েছে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ। ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন ও শামসুন নাহারের জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের বিষয়ে জানতে চেয়ে তাদের মোবাইল নম্বরে বার বার ফোন দিয়ে এবং মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ছাত্ররা রাজি নয়, এটা মিথ্যা
গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, দল হিসেবে বিচারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরা হলে একজন উপদেষ্টার জবাব ছিল ন্যুরেমবার্গ ট্রায়ালের মতো পশ্চাৎপদ উদাহরণ আমরা আমলে নিতে পারি কিনা। এ যুক্তি যিনি দিয়েছিলেন, একটি দলের এক্টিভিস্টরা আজ সমানে তার পক্ষে স্ট্যাটাস দিয়ে যাচ্ছেন ছাত্রদের কুপোকাত করতে। অথচ, উনার সঙ্গে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। মিছে বিরোধ লাগানোর অপচেষ্টা করে কোনো লাভ নেই।
তথ্য উপদেষ্টা লেখেন, দু’জন আইন ব্যাকগ্রাউন্ডের উপদেষ্টা (একজন ইতিমধ্যে মারা গিয়েছেন) ও আমাদের বক্তব্যের পক্ষে ছিলেন। সংস্কৃতি উপদেষ্টাও পক্ষে ছিলেন। বৃহস্পতিবার বিকালে কথা হয়েছে। দল হিসেবে লীগের বিচারের প্রভিশন অচিরেই যুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছেন উক্ত উপদেষ্টা। উনাকে ধন্যবাদ।’
তিনি লেখেন, মিথ্যা বলা বন্ধ করুন। ঘোষণাপত্র নিয়ে আপনাদের দুই মাস টালবাহানা নিয়ে আমরা বলবো। ছাত্রদের দল ঘোষণার প্রাক্কালে আপনারা দলীয় বয়ানের একটি ঘোষণাপত্র নিয়ে আলোচনা শুরু করেছিলেন। সমস্যা নেই, আমরাও চাই সবাই স্বীকৃত হোক। কিন্তু, এখন সেটাও হতে দিবেন না। দোষ আমাদেরও কম না। আমরা আপনাদের দলীয় প্রধানের আশ্বাসে আস্থা রেখেছিলাম।
ডিসেম্বর টু জুনের মধ্যে নির্বাচন হবে জানিয়ে মাহফুজ আলম লেখেন, আমরা নির্বাচন পেছাতে চাই না। আপনারা যদি মনে করেন, ছাত্ররা নিজেদের আদর্শ ও পরিকল্পনা নিতে পারে না বরং এখান থেকে ওখান থেকে অহি আসলে আমরা কিছু করি, তাহলে আপনারা হয় ছাত্রদের খাটো করে দেখছেন, নয়তো ছাত্রদের ডিলেজিটিমাইজ করার পরিকল্পনায় আছেন। সেই আগস্ট থেকেই আমরা জাতির জন্য যা ভালো মনে করেছি, সবার পরামর্শ নিয়েই করেছি। বরং, উক্ত দলকেই আমরা বেশি ভরসা করেছি। সবার আগে উনাদের সঙ্গে পরামর্শ করেছি। ভরসার বিনিময়ে পেয়েছি অশ্বডিম্ব। সব দোষ এখন ছাত্র উপদেষ্টা নন্দঘোষ!
অন্তর্বর্তী সরকারের এই উপদেষ্টা লেখেন, আমরা উক্ত দলকে বিশ্বাস করতে চাই। উক্ত দলের প্রধানকে বিশ্বাস করতে চাই। উনি আমাদের বিশ্বাসের মূল্য দিয়ে লীগ নিষিদ্ধ প্রশ্নে ও ঘোষণাপত্র প্রকাশে দেশপ্রেমিক ও প্রাগমাটিক ভূমিকা রাখবেন বলেই আস্থা রাখি। উক্ত দলকে নিয়ে কে কী বলবে জানি না কিন্তু আমরা চাই উক্ত দল ছাত্রদের সঙ্গে নিয়ে দেশের পক্ষে, অভ্যুত্থানের শত্রুদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ঐকমত্যের নেতৃত্ব দিক। দেশপ্রেমিক ও সার্বভৌমত্বের পক্ষের শক্তি হিসেবে নেতৃত্ব দিলে ছাত্ররা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় উনাদের সঙ্গে চলবেন।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি লেখেন, ঐক্যবদ্ধ হোন। নেতৃত্ব দিন। এ প্রজন্মকে হতাশ করবেন না। এ প্রজন্ম এ দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া: ‘পৃথিবীর সেরা বইগুলো থেকেই আনন্দ খুঁজে নিতে হবে’
বইপড়াকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদের মাঝে বইপড়া নিয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। আলোকিত মানুষের সন্ধানে সাতচল্লিশ বছর ধরে সারা দেশে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য নানাবিধ উৎকর্ষ কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। দুই দিনব্যাপী বইপড়া কর্মসূচির প্রথম দিনে গতকাল কৃতিত্বের জন্য ঢাকা মহানগরের ২ হাজার ৫০০শ’ ৬৩ জন শিক্ষার্থীকে পুরস্কার তুলে দেয় বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র। বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ মিলনায়তনে বর্ণিল আয়োজনে রাজধানীর শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হয়।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের ভিন্ন ভিন্ন পর্ব অতিথি ছিলেন, সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার, বাংলা একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক, দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি অধ্যাপক মুহাম্মদ আলী নকী, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের, সাবেক সচিব খন্দকার মো. আসাদুজ্জামান, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক আফসানা বেগম, গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ ও বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের পরিচালক শামীম আল মামুন প্রমুখ।
বাংলা একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক বলেন, বইকে গুরুত্ব না দিলে মানুষের সভ্যতা উন্নতির দিকে যাবে না। স্ক্রিনে পড়া আর ছাপা কাগজে পড়ার মধ্যে ভিন্নতা আছে। এখানে মতপার্থক্যও আছে। অনেকেই বলেন, বই মানুষকে ভেঙে নতুন করে গঠন করে। তিনি বলেন, বইয়ের মধ্যে যে ভালোমন্দ আছে, তা বিচার করতে হবে। মহাত্মা গান্ধী একটা কথা বলেছেন, বেশি বই পড়ে মানুষ ভালো মানুষ হয় না। ভালো মানুষ হয় ভালো বই পড়লে। বইয়ের মধ্যে ভালো-মন্দ বিচার করতে হবে।
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার শিক্ষার্থীদের বলেন, আজকে যারা এখানে এসেছেন, তারা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হলে আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর বহু কমিশন গঠন করলেও শিক্ষা সংস্কারে কোনো কমিশন করেনি। সরকার শিক্ষাবৈষম্য দূর করার কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। তাই সরকার এ বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা কাঠামো তৈরি করবে আশা করি।
যাদুশিল্পী জুয়েল আইচ আর্নেস্ট হেমিংওয়ের একটি বিখ্যাত উক্তির উল্লেখ করে বলেন, বইয়ের চাইতে বিশ্বস্ত বন্ধু আর কেউ নেই, কিছু নেই। তাই ছাত্রছাত্রীদের বেশি বেশি করে বই পড়তে হবে।
তৃতীয় পর্বের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মানবজমিন প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের সূচনালগ্নের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার যখন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু করেছেন, তখন উনাকে অনেকেই পাগল বলেছেন। কিন্তু তিনি লক্ষ্য থেকে একবারও সরেননি। দীর্ঘ পথ চলায় সততা ছিল তার সঙ্গী। তিনি মনে করতেন, আমি একদিন লক্ষ্যে পৌঁছাবই। তিনি পৌঁছাতে পেরেছেন।
মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, সায়ীদ স্যার আমাদের শক্তি, আমাদের সাহস। আমরা একজন অবিভাবক পেয়েছি। আর তিনি আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের স্লোগান ‘আলোকিত মানুষ চাই।’ স্যার বলবেন, এটা কোনো মতাদর্শ নয়। কিন্তু আমি বলবো, এটার মতাদর্শ অবশ্যই আছে। সমাজে ‘আলোকিত মানুষ’ নেই বলেই তিনি ‘আলোকিত মানুষ’ চেয়েছেন।
মোবাইল ফোন ব্যবহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন- অনেকেই বলেন, মোবাইল ফোন মানুষের শত্রু। হ্যাঁ, এটা শত্রু, আবার বন্ধু। ভালো জিনিসও মোবাইল ফোনে পাওয়া যায়, সেটা দেখতে হবে। এটি বই পড়ার সহায়ক হতে পারে ।
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ প্রচারবিমুখ মানুষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক পুরস্কারই তিনি পেয়েছেন, কিন্তু স্যারের আরও বড় পুরস্কার পাওয়ার কথা। আমি বিশ্বাস করি, তিনি ভবিষ্যতে আরও বড় পুরস্কার পাবেন।
অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, রবীন্দ্রনাথের একটা কথা আছে, আমাদের জন্য ৬ ফুটই যথেষ্ট। কিন্তু মানুষ তো ৬/৭ ফিটের মধ্যে বাঁচতে পারে না। মানুষের ভেতরে অসীম একটা শক্তি আছে। যা প্রকাশিত হয় অন্যের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যম। তা হয় একমাত্র বইয়ের মাধ্যমে। অন্যের সঙ্গে পরিচয়ের মাধ্যমে নিজের মধ্যে যে সৃজনশীলতা ও সম্ভাবনা থাকে তা প্রকাশিত হতে পারে। জীবনটাও তেমনই। শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্য যা প্রয়োজন, তা হলেই মানুষ বাঁচতে পারে না।
গ্রামীণফোনের চিফ করপোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার তানভীর মোহাম্মদ বলেন, তরুণদের জ্ঞানের বিকাশ এবং মানসিক উৎকর্ষতার জন্য বই পড়ার বিকল্প নেই। তাই আলোকিত মানুষ গড়ার অংশ হিসেবে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র যে বইপড়া কর্মসূচি হাতে নিয়েছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এমন একটি উদ্যোগের অংশ হতে পেরে আমরাও গর্বিত।
উল্লেখ্য, ২০২৪ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা মহানগরের ৭৫টি স্কুলের প্রায় ২০,০০০ ছাত্রছাত্রী বইপড়া কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে। এসব স্কুলের ৫ হাজার ৯৪ জন শিক্ষার্থী মূল্যায়নপর্বে বিজয়ী হয়েছে। বিজয়ী শিক্ষার্থীদের ১১৫৭ জন ছাত্র ও ৩৯৩৭ জন ছাত্রী।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে-পাকিস্তানের লড়াই নিয়ে চীনে এই উত্তেজনা কেন by সানা হাশমি
চীনে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে পাকিস্তানকে ঘিরে। চীনের সোশ্যাল মিডিয়া ওয়েইবোতে ‘Pakistan_shoots_down_6 _Indian_jets’ নামের একটি হ্যাশট্যাগ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ৯ কোটির বেশি বার দেখা হয়েছে।
চীনের কিছু বড় সংবাদমাধ্যম এমনভাবে সংবাদ প্রচার করছে, যা পাকিস্তানকে উৎসাহিত করবে বলে মনে হয়। যেমন গুয়ানচা লিখেছে, ‘পাকিস্তান ৬টি ভারতীয় যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে, যার মধ্যে ৩টি রাফাল’ এবং ১৬৩ নেটইজ লিখেছে, ‘প্রথম লড়াইতেই পাকিস্তানের জয়’।
এভাবে খবর প্রকাশ করা দেখে বোঝা যায়, চীনে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি বদলে যাচ্ছে। আগে চীনে পাকিস্তানকে দুর্বল একটি দেশ মনে করা হতো। তবে এখন তাকে শক্তিশালী এক সামরিক শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমনকি পাকিস্তানকে ভারতের সমান বলে ভাবা হচ্ছে।
পেহেলগামে জঙ্গি হামলার পর চীনের বিশ্লেষকেরা ভারতের সামরিক প্রস্তুতি নিয়ে বেশি করে আলোচনা করছেন। তাঁরা বলছেন, পাকিস্তান এখন যুদ্ধে যেতে প্রস্তুত।
পাকিস্তানের জেএফ-১৭ জেট বিমানে চীনে তৈরি পিএল-১০ মিসাইল বসানো হয়েছে। এটি যেন চীনের অস্ত্রশক্তি দেখানোর একটা উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও চীন বহু বছর ধরে কোনো বড় যুদ্ধ করেনি, তারপরও তাদের তৈরি অস্ত্র ব্যবহারে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
কথাগুলো শুধু সংবাদে প্রচারিত হচ্ছে না, গবেষক ও বিশেষজ্ঞরাও এ কথা বলছেন। লং শিংচুন, হুই সুইশেং এবং লিউ জংইসহ চীনের অনেক বিশেষজ্ঞ বারবার বলছেন, ভারতই দক্ষিণ এশিয়ায় অশান্তির মূল কারণ। তাঁদের মতে, পাকিস্তান শুধু আত্মরক্ষার চেষ্টা করছে।
ফুডান বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক লিন মিনওয়াং বলেছেন, নরেন্দ্র মোদি অনেক আগ্রাসী কথা বলছিলেন, তাই পাকিস্তানের হামলা ‘অপরিহার্য’ হয়ে উঠেছিল। তিনি লিখেছেন, ভারতের আক্রমণের জবাবে পাকিস্তান যদি কিছু না করত, তাহলে সেটি তাদের জন্য লজ্জার হতো।
ভারত মনে করছে, কাশ্মীরে সম্প্রতি যে হামলা হয়েছে, তার লক্ষ্য ছিল হিন্দু জনগোষ্ঠী। কিন্তু লিন বলছেন, এই হামলার পেছনে যে পাকিস্তান আছে, সেটা পরিষ্কার নয়। তিনি বলছেন, ‘কাশ্মীর রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামে যে গোষ্ঠী হামলা চালিয়েছে, তারা স্থানীয় বিদ্রোহী দল, যদিও বাস্তবে তাদের লস্কর-ই-তাইয়েবার সঙ্গে সম্পর্ক আছে। অবশ্য বিষয়টি লিন এড়িয়ে গেছেন।
চীনের অনেক জায়গায় পাকিস্তানকে এখন আধুনিক ও শক্তিশালী একটি দেশ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। ‘India_opens_fire_on_Pakistan_without_provocation’ নামের একটি হ্যাশট্যাগে অনেক আলোচনা হয়েছে। এতে বলা হচ্ছে, পাকিস্তান বড় ধরনের যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি পাকিস্তানের রাশিয়ায় নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত চীনের সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, দরকার হলে পাকিস্তান পারমাণবিক অস্ত্রও ব্যবহার করবে। তাঁর ভাষায়, ‘আমরা আমাদের সব ধরনের শক্তি ব্যবহার করব, চাই সেটা সাধারণ যুদ্ধ হোক বা পারমাণবিক।’
যখন এই অপারেশন নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে, তখন একটি বড় প্রশ্ন সামনে আসছে—চীন কি কোনো বড় যুদ্ধ হলে পাকিস্তানকে সমর্থন দেবে? কিছু বিশ্লেষক বলছেন, ভারতের সঙ্গে পাকিস্তান এবং চীনের সীমান্ত বিরোধ এখনো মেটেনি। তাঁদের মতে, ভারতের কিছু কাজ আসলেই উসকানি।
একজন মন্তব্যকারী লিখেছেন, ‘ভারত কি ১৯৬২ সালের শিক্ষা ভুলে গেছে?’ এ ধরনের মন্তব্য থেকে বোঝা যায়, অনেকেই মনে করছেন, চীনের সহায়তা পাকিস্তানকে ভারতের সামরিক শক্তির সঙ্গে পাল্লা দিতে সাহায্য করছে।
পাকিস্তান আকারে ছোট হলেও এখন অনেকেই মনে করছেন, তাদের সেনাবাহিনী প্রযুক্তিগতভাবে অনেক আধুনিক এবং কৌশলগতভাবে দক্ষ হয়ে উঠেছে।
ভারতের বিশাল সেনাবাহিনী (যার সদস্য ১৪ লাখের বেশি এবং ভারতের ২০২৫ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট ৬.৮১ লাখ কোটি রুপি) চীনা বিশ্লেষকদের লেখায় মাঝেমধ্যেই খণ্ডিত ও বিক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে।
বলা হচ্ছে, পুরোনো সোভিয়েত যুগের ট্যাংক, পশ্চিমা দেশগুলোর যুদ্ধবিমান আর নিজেদের তৈরি কিছু অস্ত্রের একটা অদ্ভুত মিশেলই হলো ভারতের সেনাবাহিনী। এতে একধরনের সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে, যা যুদ্ধক্ষেত্রে কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। তার বিপরীতে পাকিস্তানের সামরিক সরঞ্জামকে অনেক বেশি ‘ইন্টিগ্রেটেড’ ও লক্ষ্যভেদী হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
চীনের বিশ্লেষণগুলো অবশ্য স্বীকার করে নিচ্ছে যে ভারত তার সামরিক খাতে কিছু আধুনিকায়ন করেছে। যেমন তারা কাশ্মীরে টি-৯০ ট্যাংক মোতায়েন করেছে; মেটেওর মিসাইলসহ রাফাল যুদ্ধবিমান নামিয়েছে। কিন্তু এগুলোও তারা ব্যাখ্যা করছে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভিত্তিক ভয় দেখানোর কৌশলের জবাব হিসেবে।
২০১৯ সালের সেই ঘটনার কথা বারবার আসছে, যখন পাকিস্তান একটি ভারতীয় মিগ-২১ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করে পাইলটকে আটক করেছিল। এটিকে এখনো চীনা আলোচনায় একটা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে ধরা হয়।
চীনের সহায়তায় পাকিস্তান এখন এসএইচ-১৫ কামান এবং জে-১০সি যুদ্ধবিমান হাতে পেয়েছে। যদিও ভারত এখনো সংখ্যায় এগিয়ে, তবে চীনের বিশ্লেষকেরা বলছেন, বেইজিংয়ের সহায়তায় পাকিস্তান কৌশলগতভাবে ভারসাম্য এনে ফেলছে।
সাংহাই অবজারভার নামের একটি চীনা পত্রিকায় লেখা হয়েছে, পাকিস্তান যেসব অস্ত্র পরীক্ষা করছে (মে মাসে ফাতাহ মিসাইল আর আবদালি অস্ত্র সিস্টেমের ট্রায়াল), সেগুলো তারা ভারতের ২০১৯ সালের পর করা যুদ্ধবিমান আধুনিকীকরণের সরাসরি জবাব হিসেবে করেছে। চীনা বিশ্লেষণে ভারতের যুদ্ধবিমানের হামলাকে সেই সময়ের ‘অপমান’ ও ‘লজ্জার অভিজ্ঞতা’ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
পাকিস্তানকে চীনের কৌশলগত সমর্থন
চীন অনেক দিন ধরেই পাকিস্তানকে ভারতের ভারসাম্য রক্ষাকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ হিসেবে দেখে আসছে। এই ভাবনার পেছনে রয়েছে বেইজিংয়ের সামরিক ও অর্থনৈতিক সহায়তা। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সময় চীন পাকিস্তানকে জে-৬ যুদ্ধবিমান ও কামান দিয়েছিল, যাতে তারা ভারতের সামরিক ব্যবস্থার পাল্টা জবাব দিতে পারে। এখনো চীনা বিশ্লেষকেরা পাকিস্তানকে এমন এক কৌশলগত মিত্র হিসেবে দেখেন যে কূটনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সরবরাহভিত্তিক সহায়তা পাচ্ছে চীনের কাছ থেকে; যদিও চীন সরাসরি কোনো যুদ্ধে জড়াতে চায় না।
চীনের বিশ্লেষণে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সম্ভাবনা এখন আর শুধু দুই দেশের বিষয় নয়, বরং চীনা অস্ত্রের ক্ষমতা প্রমাণ করারও এটি একটি সুযোগ। পাকিস্তান যে জে-১০ সিই যুদ্ধবিমান ও ওয়াইজে অ্যান্টি-শিপ মিসাইল মোতায়েন করেছে, তা নাকি ভারতের ফরাসি রাফাল জেট ও নিজস্ব বিমানবাহী রণতরীর জবাব।
ভারতের সেনাবাহিনী এবং প্রতিরক্ষা বাজেট বড় হলেও, চীনের বিশ্লেষকেরা মনে করেন, পাকিস্তান এখন বিমান শক্তির ওপর জোর দিচ্ছে, আর চীনের প্রযুক্তি দিয়ে তারা এই ঘাটতি পূরণ করতে পারছে।
তবে কিছু চীনা বিশ্লেষক স্বীকার করেন, পাকিস্তানের স্থলবাহিনী এখনো দুর্বল। বিশেষ করে যখন ভারত ড্রোন (ইউএভি) ও এফপিভি ড্রোনে বেশি বিনিয়োগ করছে, তখন পাকিস্তানের স্থলবাহিনীর দুর্বলতা দেখা যাচ্ছে। তবু পাকিস্তান নিয়ে সামগ্রিকভাবে চীনের মনোভাব আশাবাদী। তাদের মতে, সংস্কার আর চীনের দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা পাকিস্তানকে ধীরে ধীরে ভারতের সঙ্গে ব্যবধান কমাতে সাহায্য করবে।
পক্ষপাতদুষ্ট আলোচনার ধরন
চীনের আলোচনায় ভারত-পাকিস্তান সম্ভাব্য যুদ্ধে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ বা বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি প্রায় একেবারে উপেক্ষিত; বরং পুরো আলোচনায় পাকিস্তানকে বিজয়ী ও ক্রমবর্ধমান সামরিক শক্তি হিসেবে দেখানো হচ্ছে, যার পেছনে রয়েছে চীনের অংশীদারত্ব। চীনকে শুধু মিত্র নয়, বরং এক প্রভাবশালী চালিকা শক্তি হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যার অস্ত্র ও প্রযুক্তিকে যুদ্ধের গতিপথ বদলে দেওয়ার উপাদান হিসেবে দেখানো হচ্ছে।
এই পরিপ্রেক্ষিতে ‘অপারেশন সিঁদুর’ এখন চীনা আলোচনায় কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। চীনা সামাজিক মাধ্যমে এ ঘটনাকে পাকিস্তানের কোনো ক্ষতি নয়, বরং একটি কৌশলগত মোড় বলেই দেখা হচ্ছে।
একজন উইবো ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘পাকিস্তান একটি ভারতীয় বিমান ভূপাতিত করেছে। এটি বৈশ্বিক সামরিক কৌশলের দিক থেকে এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত এবং চীনের শক্তির প্রমাণ।’ আরেকজন লিখেছেন, ‘জে-১০সিই বিমান, ওয়াইজে মিসাইল আর ভবিষ্যতে আসা জে-৩৫ ও ০৫৪বি ফ্রিগেটের মাধ্যমে পাকিস্তান পরিষ্কারভাবে প্রাধান্য পাবে।’
বার্তাটি পরিষ্কার—চীনের সহায়তায় পাকিস্তান শুধু ভারতের সঙ্গে পাল্লা দিতেই নয়, ভারতকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও রাখে।
এই উত্তেজনার মধ্যে চীন ক্রমে পাকিস্তানকে এমন এক প্রক্সি মিত্র হিসেবে তুলে ধরছে, যে কিনা ভারতীয় উপমহাদেশের কৌশলগত পরিবেশ গঠনে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখছে। এটি এখন আর শুধু ভারত-পাকিস্তানের শত্রুতা নয়; এটি হয়ে উঠেছে এক পরীক্ষার ময়দান, যেখানে ভারতের দেশীয় ও পশ্চিমা প্রযুক্তির মিশ্র ব্যবস্থা চীনা অস্ত্রের মুখোমুখি হচ্ছে। চীনের জন্য এটা আঞ্চলিক প্রাধান্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং তাদের সামরিক প্রযুক্তি প্রদর্শনের সুযোগ।
আর ভারতের কাছে এই বার্তা একেবারে স্পষ্ট—চীন কখনোই নিরপেক্ষ ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।
* সানা হাশমি তাইওয়ান-এশিয়া এক্সচেঞ্জ ফাউন্ডেশনের ফেলো।
দ্য প্রিন্ট থেকে নেওয়া, ইংরেজি থেকে অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ
![]() |
| ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের শ্রীনগরের কাছে বিধ্বস্ত একটি যুদ্ধবিমান দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৭ মে। ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানের লড়াইয়ে নজর বিশ্বের সামরিক শক্তিগুলোর
গত বুধবার চীনের তৈরি পাকিস্তানি যুদ্ধবিমান ভারতের অন্তত দুটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে বলে রয়টার্সকে জানান দুই মার্কিন কর্মকর্তা। এটি বেইজিংয়ের উন্নত যুদ্ধবিমানের জন্য সম্ভাব্য একটি বড় অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ভারত ও পাকিস্তানের পাইলটদের মাঝ আকাশের এই লড়াই পাইলটদের দক্ষতা, যুদ্ধবিমান এবং আকাশ থেকে আকাশে উৎক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্রের কার্যকারিতা সরাসরি সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে পর্যালোচনা করার বিরল সুযোগ এনে দিয়েছে বিভিন্ন দেশের সামরিক বাহিনীর জন্য। এই অভিজ্ঞতা তারা নিজেদের বিমানবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করতে কাজে লাগাবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, উন্নত অস্ত্রের বাস্তব ব্যবহারের বিশ্লেষণ চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়েই করা হবে। বিশেষ করে এই দেশ দুটি তাইওয়ান কিংবা বৃহত্তর ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
নাম না প্রকাশ করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, পাকিস্তান চীনের তৈরি জে-১০ যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে ভারতীয় যুদ্ধবিমানের বিরুদ্ধে আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে এ ব্যাপারে তাঁদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চীনের তৈরি পিএল–১৫ আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং ইউরোপীয় সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এমবিডিএ নির্মিত রাডার-নিয়ন্ত্রিত মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্রের তুলনামূলক কার্যকারিতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে।
ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (আইআইএসএস) সামরিক উড়োজাহাজবিষয়ক জ্যেষ্ঠ গবেষক ডগলাস ব্যারি বলেন, চীন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের আকাশযুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহলে এ ঘটনাটির প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকবে। তারা যতটা সম্ভব বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করবে। এর মধ্যে রয়েছে লড়াইয়ের কৌশল এবং কারিগরি সক্ষমতা প্রয়োগের নৈপুণ্য ও পদ্ধতি, ব্যবহৃত সরঞ্জাম, কোনটি কাজ করেছে আর কোনটি ব্যর্থ হয়েছে এমন বিষয়।
ব্যারি আরও বলেন, ‘এখানে সম্ভবত পশ্চিমা বিশ্বের সবচেয়ে সক্ষম অস্ত্রের বিরুদ্ধে চীনের সবচেয়ে সক্ষম অস্ত্রের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছিল।’ ফরাসি ও আমেরিকান কর্তৃপক্ষও ভারতের পক্ষ থেকে এমন গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার আশায় থাকবে বলে মনে করেন তিনি।
ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানের এই লড়াইয়ের বিষয়ে রাফাল নির্মাতা কোম্পানি দাসোঁ এভিয়েশন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
পশ্চিমা বিশ্লেষক ও সমরাস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো অস্পষ্ট রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে রাফাল যুদ্ধবিমানটি আদৌ মিটিওর ক্ষেপণাস্ত্র বহন করছিল কি না এবং পাইলটরা কী ধরনের ও কতটা প্রশিক্ষণ পেয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির পার্থক্য নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক ও ক্যাপিটাল আলফা পার্টনার্সের ম্যানেজিং পার্টনার বাইরন ক্যালান বলেন, ‘কোনটি কাজ করেছে আর কোনটি করেনি, সে বিষয়ে পর্যালোচনা চলবে।’
এই প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক বলেন, ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে নিজেদের অস্ত্র কতটা সাফল্য পাচ্ছে, সে বিষয়ে মার্কিন অস্ত্র নির্মাতা কোম্পানিগুলো নিয়মিত জানতে পারছে। তিনি বলেন, ‘তাই আমি পুরোপুরি আশা করি, ভারতের ইউরোপীয় সরবরাহকারীরাও একই ধরনের তথ্য পাবে। আর পাকিস্তান ও চীনও সম্ভবত তাদের মধ্যে এ ধরনের তথ্য ভাগাভাগি করছে। যদি পিএল–১৫ প্রকৃতপক্ষে ঘোষিত সক্ষমতা অনুযায়ী বা এর চেয়েও ভালো সাফল্য পেয়ে থাকে, তাহলে চীন নিশ্চয়ই সেটি জানতে আগ্রহী থাকবে।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভ্যানওয়ালা, বাইকার আর ব্যাটারি রিকশা: সমস্যা না সম্ভাবনা? by শায়খ আহমদ
ভাড়ায়চালিত সংখ্যাতিরিক্ত মোটরবাইকের উপস্থিতি নগরীর যানজট প্রকট করে তুলছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে দুর্ঘটনা। দুই কোটি নগরবাসীর গণপরিবহনের চাহিদা মেটাতে বড় বাস ও মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হচ্ছে। অথচ সেখানেই মাত্র একজন যাত্রী পরিবহনের উপযোগী মোটরবাইক মহানগরের পরিবহনব্যবস্থাকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছেন। বিশ্বের জনবহুল মেট্রোশহরে যেখানে বাইকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে, সেখানে আমাদের নগর প্রশাসন অনেকটা নীরবেই অন্যান্য বাহনের সঙ্গে বাইকের সহাবস্থান সহ্য করে নিচ্ছেন।
ব্যাটারি–চালিত রিকশার সংখ্যা বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো প্রতিদিন বাড়ছে। এই রিকশার আধিক্যে এখন পায়ে চালানো রিকশা প্রায় দেখাই যায় না। ব্যাটারি রিকশায় চালকের আসনব্যবস্থা ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার কারণে প্রতিদিন কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটছে। তা ছাড়া ব্যাটারি রিকশার গ্যারেজগুলোতে অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করা হয়। আগামী গ্রীষ্মকালে বিদ্যুতের চাহিদা যখন বাড়বে, তখন লোডশেডিং-এ এর প্রভাব পড়বার শঙ্কা রয়েছে। ফলে বৈধ ও নিয়মিত বিল পরিশোধকারী বিদ্যুতের গ্রাহকেরা গরমে নাকাল হবেন।
এদিকে রাজপথ থেকে রাজধানীর প্রায় প্রতিটি অলিগলি এখন ফেরিওয়ালাদের নিয়ন্ত্রণে। আড়ত থেকে পাইকার হয়ে কয়েক হাত বদল হয়ে পণ্য ওঠে ফেরিওয়ালাদের ভ্যানে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির অন্যতম কারণ ভ্রাম্যমাণ ফেরিওয়ালা। বাজারে যাওয়ার পরিবহন খরচ বাঁচাতে গিয়ে নগরবাসী অনেক সময় এঁদের থেকে পণ্য কিনে প্রতারিতও হচ্ছেন।
দূষণ, খাদ্যে ভেজাল, বস্তির নিম্নমানের আবাসন, যানজটসহ নানা সমস্যার পরও বাইকার, রিকশাচালক ও ফেরিওয়ালারা প্রতিদিন নগরের জনসংখ্যা বৃদ্ধি করে চলেছেন। কিন্তু কেন? মহানগরে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেশি। এ জন্য কর্মজীবী মানুষেরা বেশি আয়ের আশায় গ্রাম থেকে শহরে ছুটে আসেন।
বাইকারদের অধিকাংশই শিক্ষিত। প্রয়োজনীয় পেশাদারি দক্ষতা ও কাঙ্ক্ষিত চাকরির সুযোগ না থাকায় শিক্ষিত বেকাররা পারিবারিক সাহায্য বা কিস্তির সুবিধা নিয়ে মোটরবাইক কেনেন। গ্রামে সবাই সবাইকে চেনেন। শিক্ষিত হয়ে চাকরি না পাওয়া এবং মোটরবাইক চালনা পেশা হিসেবে বেছে নেওয়া আমাদের গ্রামীণ সমাজে এখনো অবমাননাকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ জন্য গ্রামীণ উচ্চশিক্ষিত বেকারদের একটি বড় অংশ এলাকার মানুষদের কটাক্ষ থেকে রেহাই পেতে মহানগরে বাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছে। এখানে কেউ কাউকে নিয়ে মাথা ঘামান না।
গ্রামীণ শিক্ষিত বেকার যুবকদের একাংশ পারিবারিক সহায়তা বা ঋণ নিয়ে আজকাল ব্যাটারি রিকশা কিনছেন। গ্রামাঞ্চলে বা ছোট শহরে আয় কম বলে তাঁরা বেশি আয়ের আশায় মহানগরে ভিড় বাড়াচ্ছেন। ফলে বাড়ছে ব্যাটারি রিকশা, বাড়ছে যানজট। গ্রামীণ বেকারদের আরেকটি অংশ স্বল্প পুঁজি নিয়ে রাস্তার ধারে ভ্যান বা চৌকি বসিয়ে শাকসবজি, ফল-ফুল থেকে প্রায় সব পণ্যই বিক্রি করছেন।
ঢাকা শহরে প্রতিদিন ফেরিওয়ালারা কত কোটি টাকার পণ্য বিক্রি করেন, তার নির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। তবে কিছু ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের সঙ্গে আলাপ–আলোচনা করে প্রাক্কলন করা যায় যে ঢাকা মহানগরের ফেরিওয়ালাদের সম্মিলিত বাৎসরিক বিক্রয় কয়েক বিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ।
ব্যাটারি রিকশা ও বাইকারদের মতো অপ্রাতিষ্ঠানিক কর্মজীবীদের সংখ্যা হিসাবে যোগ করলে দেখা যাবে, জিডিপিতে তাদের বিশাল অবদান রয়েছে। আবার এসব অবৈধ ও অনিবন্ধিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড জিইয়ে রাখতে চাঁদাবাজি, দখলদারি, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রাজনীতিতে কালো টাকার যে বিশাল লেনদেন পরিচালিত হয়, তার অঙ্কও কম নয়।
বেকারত্ব দারিদ্র্য সৃষ্টি করে। দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে মানুষ এমন অনেক পেশা বেছে নেন, যেগুলো আবার পরিবেশ দূষিত করে। সুতরাং বেকারত্বের সঙ্গে দারিদ্র্য ও দূষণের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বেকাররা একসময় পরিবার ও সমাজের ওপর বোঝা হয়ে দাঁড়ান। হতাশায় নিমজ্জিত বেকারদের মাদক গ্রহণ, মাদক পাচার, অনৈতিক ব্যবসা ও সন্ত্রাসের মতো সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হওয়ার প্রচুর উদাহরণ রয়েছে। সেদিক দিয়ে বিচার করলে রাইডার, ব্যাটারি রিকশাচালক ও ফেরিওয়ালারা ইতিবাচক ও উৎপাদনমুখী কাজ করে পরিবার ও অর্থনীতিকে সচল রাখছেন।
একজন বেকার মাদকের আহ্বানে সাড়া না দিয়ে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে হালাল উপার্জন করে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দিচ্ছেন, চিকিৎসাসহ সব খরচ মেটাচ্ছেন, এটা অবশ্যই প্রশংসনীয় বিষয়। আমাদের উচিত, এ রকম জীবনযোদ্ধাদের উৎসাহিত করা, সম্মান করা।
কিন্তু গ্রামীণ বেকার জনগোষ্ঠী যদি রাজধানীতে অভিবাসন অব্যাহত রাখেন, তবে আর কয়েক দশকের মধ্যেই ঢাকার পতন ঘটবে। ঢাকা এই বিশাল জনসংখ্যা আর ধারণ করতে পারবে না। পানীয় জল, পয়োনিষ্কাশন, গণপরিবহন, বিদ্যুৎ সঞ্চালন, জ্বালানি, নিরাপত্তাব্যবস্থাসহ সব নাগরিক অবকাঠামো ভেঙে পড়বে। ভবিষ্যতের ঢাকার জন্য চরম সংকট অপেক্ষা করছে। নগরবাসীর ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত সিটি করপোরেশনের নগরবিদেরা এবং নগরপিতারা কি অশনিসংকেত শুনতে পারছেন? নাকি জলাশয় ভরাট করে, প্রকৃতিকে বিপন্ন করে নগরকে আরও বর্ধিত করার পরিকল্পনা নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যেখানে বেশি ঘটবে, সেখানেই শ্রমের চাহিদা সৃষ্টি হবে। আর চাহিদা থাকলে জোগান আসবেই। বেকারত্ব বাংলাদেশের অন্যতম বড় সমস্যা। দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে গ্রামীণ জনপদের উচ্চশিক্ষিত, অর্ধশিক্ষিত, অশিক্ষিত মানুষ কাজের আসায় ঢাকায় ছুটে এসেছে। এই বিশাল আকারের জনগোষ্ঠীকে সীমিত জায়গায় ঠাই করে দিতে গিয়ে নগরের পরিবেশ প্রতিদিন বিপন্ন হচ্ছে।
আজকে ঢাকা যে মহাসংকটের দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে, তার মূল কারণ রাজধানী কেন্দ্রিক উন্নয়ন মহাপরিকল্পনা। অর্থনীতি ও উন্নয়ন বিকেন্দ্রীকরণ না করার কুফল এখন আমরা ভোগ করছি। এখনো যদি গ্রামকেন্দ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করে সেখানে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা না হয়, তবে নগরমুখী জনস্রোত বন্ধ হবে না, ঢাকার পতনও ঠেকানো যাবে না।
শ্রমের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থায় শ্রমকে অত্যন্ত অবমূল্যায়ন করা হয়। মেধা খাটিয়ে, শ্রম দিয়ে, নৈতিকতার সঙ্গে উপার্জনের উৎসাহ আমাদের সমাজ দেয় না। সে জন্য আমাদের তরুণ-তরুণীরা ইংরেজদের ফেলে দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থায় লেখাপড়া করে সাহেব হতে চান। টেবিলে বসে কলমের খোঁচায় অর্থ উপার্জন করতে চান। এ জন্য সবাই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে উৎসাহী। রাষ্ট্রও একটি উচ্চশিক্ষাব্যবস্থা প্রচলন করে রেখেছে, যার সঙ্গে কর্মমুখী ও বাজারমুখী দক্ষতার বিশাল ব্যবধান রয়েছে। ফলে প্রতিবছর লাখ লাখ উচ্চশিক্ষিত গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছে; কিন্তু প্রয়োজনীয় দক্ষ কর্মী তৈরি হচ্ছে না। দক্ষ কর্মীর অভাব পূরণে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনতে হচ্ছে। এটা কি আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার দীনতার বহিঃপ্রকাশ নয়? এই অব্যবস্থাপনা থেকে কি বের হওয়ার পথ বের করা উচিত নয়?
দেশের বিশাল শ্রমশক্তিকে কাজে লাগাতে হলে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজিয়ে কৃষি, শিল্প ও সেবাভিত্তিক করতে হবে। কারিগরি শিক্ষাকে দ্রুত ছড়িয়ে দিতে হবে। একটি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপরীতে দুটি করে কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে কঠোরভাবে মান নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাংলাদেশ ও বৈশ্বিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্বমানের দক্ষ কর্মী গড়ে তুলতে হবে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পন্ন হওয়ার জন্য গ্রামীণ যুবশক্তিকে কৃষি উদ্যোক্তা হতে উৎসাহিত করতে হবে।
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নত হলে কৃষি উৎপাদন ও বিপণন সহজ হবে। কৃষি উদ্যোক্তারা গ্রামে বসেই ভালো আয় করবেন। ফলে শহরমুখী মানুষের ঢল কমবে। কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর জোড় দিতে হবে, এতে বিশ্ববাজারে আমাদের দক্ষ কর্মীর চাহিদা বাড়বে। উচ্চশিক্ষা কেবল মেধাবীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।
এ জন্য সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কলেজগুলোতেও কেন্দ্রীয়ভাবে ভর্তি পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে। সব বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে কর্মমুখী উচ্চশিক্ষা, বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্স–নির্ভর উৎপাদনমুখী কোর্স চালু করতে হবে। শিক্ষা যেন নৈতিকতা, শৃঙ্খলা, নিষ্ঠা, শিষ্টাচার ও দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে, দ্রুত সেই কৌশলপত্র তৈরি করা এখন সময়ের দাবি।
* ড. শায়খ আহমদ লেখক, গবেষক, সহকারী অধ্যাপক (অ্যাডজান্ট ফ্যাকাল্টি), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়
drshayokhahmad@gmail.com
![]() |
| ‘ব্যাটারি–চালিত রিকশার সংখ্যা বাঁধভাঙা জোয়ারের মতো প্রতিদিন বাড়ছে।’ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1406)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
May
(344)
-
▼
May 10
(17)
- পাক-ভারত উত্তেজনা : অতীতে কারা পেয়েছে সুবিধা, এবার...
- শাহবাগ ব্লকেড: আ.লীগ নিষিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ...
- পাকিস্তানে হামলা ভারতকে বড় দ্বিধায় ফেলেছে by চিয়েত...
- আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলন নিয়ে নতুন কর্মসূচি
- উদ্বেগটা নিজেদের মধ্যকার বিভাজন নিয়ে by মাহমুদুর র...
- জুলাই অভ্যুত্থান: হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ওরা, মিলছে ন...
- আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ ব্লকেড
- ভারত-পাকিস্তান সংঘাত: নিয়ন্ত্রণ রেখার দু’পাড়ে শঙ্ক...
- মুরিদকে হামলা: সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি নাকি মসজিদ? -আল ...
- আইভী গ্রেপ্তার নানা প্রশ্ন by বিল্লাল হোসেন রবিন
- ডিপিডিসি’র বেলায়েতের টাকার পাহাড় by রাশিম মোল্লা
- আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে ছাত্...
- বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া: ‘পৃথিবীর সেরা বইগুলো...
- ভারতে-পাকিস্তানের লড়াই নিয়ে চীনে এই উত্তেজনা কেন b...
- ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধবিমানের লড়াইয়ে নজর বিশ্বের...
- ভ্যানওয়ালা, বাইকার আর ব্যাটারি রিকশা: সমস্যা না সম...
- ভারতের গণমাধ্যম কার্টুন নেটওয়ার্কে পরিণত হয়েছে: বল...
-
▼
May 10
(17)
-
▼
May
(344)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...




