Saturday, August 28, 2010

বিদায় ‘আর্জেন্টিনার জাভি’

হারিয়েই গিয়েছিলেন আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে। মৃতপ্রায় ক্যারিয়ারটাকে পুনর্জীবন দিয়েছিলেন আলফিও বাসিলে। আর ডিয়েগো ম্যারাডোনা আবার তাঁকে নিয়ে এসেছিলেন পাদপ্রদীপের আলোয়। কিন্তু আসলে সেটা ছিল নিভে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো দপ করে জ্বলে ওঠা।
হুয়ান সেবাস্তিয়ান ভেরন নিজেও বুঝতে পারলেন, আলোর সময় শেষ হয়ে এসেছে। এবার সময় ‘বিদায়’ বলে দেওয়ার। হ্যাঁ, আকাশি-সাদা জার্সিকে বিদায় বলে দিলেন ৩৫ বছর বয়সী এই প্লে-মেকার। অবশ্য আরও কয়েক বছর ক্লাব ফুটবলে খেলার ইচ্ছে আছে তাঁর।
১৯৯৮, ২০০২ ও ২০১০ বিশ্বকাপ খেলা মাঝমাঠের এই শিল্পী নিজেকে আরেকটা বিশ্বকাপে কল্পনা করতে পারছেন না। নতুনদের জায়গা করে দিতে সরে গেলেন আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে, ‘আমার মনে হয়, সার্জিও বাতিস্তা আগামী বিশ্বকাপের জন্য দল গঠনের পরিকল্পনা করছে। আমি নিজেকে ওখানে কল্পনা করতে পারছি না। জাতীয় দলে আমার চক্রটা এখানেই শেষ হয়ে গেল।’ একটা চক্রই বটে! যে চক্রটা শুরু হয়েছিল সেই ১৯৯৬ সালে। ২০০২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার তথাকথিত ‘অপরাজেয় দলের’ অধিনায়কত্ব করেছেন। জাপান-কোরিয়া বিশ্বকাপে তারকাখচিত আর্জেন্টিনার বিপর্যয়ের বড় দায় দেওয়া হয় ভেরনকে। তাতেই শেষ হতে বসেছিল তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার।
নতুন কোচ হোসে পেকারম্যান মাঝমাঠে ভেরনের চেয়ে যোগ্য মনে করলেন হুয়ান রোমান রিকেলমেকে। ফলে ২০০৬ বিশ্বকাপটা দূর থেকেই দেখতে হয়েছে ভেরনকে। তত দিনে ভেরন একটু একটু করে নিজের সেরা সময়টাকে পেছনে ফেলে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, চেলসি, ইন্টার মিলান হয়ে আবার এস্তুদিয়ান্তেসে ফিরে এসেছেন। ২০০৬ বিশ্বকাপের পর জাতীয় দলের দায়িত্ব পেয়ে আবার ভেরনকে ডাক দিলেন আলফিও বাসিলে। এরপর দৃশ্যপটে এলেন ম্যারাডোনা। চোটের কারণে মাঝে আবার পথ হারিয়ে ফেলা ভেরনকে জাতীয় দলে ফেরালেন অবসরপ্রেমী রিকেলমের বদলে। শুরু হল অন্তিম পর্ব। এই পর্বে ম্যারাডোনা ভেরনকে আকাশে তুললেন ‘আর্জেন্টিনার জাভি’ বলে। লিওনেল মেসির সঙ্গে ভেরনের বন্ধুত্বকে কাজে লাগানোর জন্য তাঁকে মাঠে রাখতে নিজের জেদের কথা বললেন ম্যারাডোনা। কিন্তু লোকটি তো ম্যারাডোনা! কদিন পর ওই বিশ্বকাপেই তাই কী এক রহস্যময় কারণে দলের বাইরেই চলে গেলেন ভেরন। সেই যাওয়াই শেষ হয়ে গেল।
বিদায়বেলায়ও সেই রহস্যের উন্মোচন হলো না। বিদায়বেলায় শুধু বাস্তবতার কথা বলে গেলেন ভেরন, ‘আমি ফুটবল ভালোবাসি, উপভোগ করি এবং এখনো জাতীয় দলের প্রতি আমার টান আছে। কিন্তু আমাকে বাস্তববাদী হতে হবে। এখন আমার চেয়ে ভালো অনেক খেলোয়াড় উঠে আসছে। কোচ তাদের নিয়েই দল সাজাবেন।’

আমির-তোপের পর ট্রট-ব্রড

শেষ সেশনের শুরুতে মোহাম্মদ আমিরের হাতে বল তুলে না দিয়েই কি তবে ভুল করলেন সালমান বাট?
প্রথম দুটি সেশনের শুরুতেই ইংল্যান্ডকে কোণঠাসা করে ফেলেছিলেন আমির। কাল খেলা শুরুর মিনিট পনেরো পর আমিরের বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড়াল এ রকম—২.৩-২-০-৪! পুরো সেশনে পরে আর কোনো উইকেট পড়ল না। দ্বিতীয় সেশন শুরুর মিনিট দশেক পর আমিরের বোলিং বিশ্লেষণ—২-১-১-২। এই সেশনেও পরে আর কোনো উইকেট নেই। তৃতীয় সেশনের শুরুতে আমিরও নেই, উইকেটও নেই। বরং ১০২ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর যে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন ট্রট ও ব্রড, শেষ সেশনে সেটিকেই পূর্ণতা দিলেন অবিশ্বাস্য ঘুরে দাঁড়ানোর নতুন ইতিহাস গড়ে।
২৪৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দিন শেষ করেছেন দুজন, অষ্টম উইকেটে ইংল্যান্ডের প্রায় ৮০ বছরের পুরোনো রেকর্ড ছুঁতে আজ প্রয়োজন আর মাত্র ২ রান। সিরিজে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে ধারাবাহিক ব্যাটসম্যান জোনাথন ট্রট পেয়েছেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় আর লর্ডসে দ্বিতীয় সেঞ্চুরি। টেস্ট, ওয়ানডে, প্রথম শ্রেণী—সব ধরনের ক্রিকেট মিলিয়েই প্রথম সেঞ্চুরি পেয়েছেন স্টুয়ার্ট ব্রড। স্টুয়ার্টের ইনিংসটিতে গর্বে বুক ভরে যাওয়ার কথা বাবা সাবেক ইংল্যান্ড ওপেনার ক্রিস ব্রডের।
আগের টেস্টে ইংল্যান্ড ৯৪ রানে ৭ উইকেট হারানোর পর প্রিয়রের সঙ্গে ১১৯ রানের জুটি গড়েছিলেন। ব্রড কাল দাঁড়িয়ে গেলেন ট্রটের সঙ্গে। আগের টেস্টের মতো এবার আর সহযোগীর ভূমিকায় নয়, ২৪৪ রানের জুটিতে এই বাঁহাতি করেছেন ১২৫ রান, ট্রট ১০৪। একসময় ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার সমস্যার সমাধান মনে করা হয়েছিল ব্রডকে। কিন্তু গত কিছু দিনে যেন রান করতে ভুলেই গিয়েছিলেন। তবে আবার প্রমাণ দিচ্ছেন নিজের ব্যাটিং সামর্থ্যের। মাঝের খারাপ সময় কাটিয়ে ‘দক্ষিণ আফ্রিকান’ ট্রট তো এখন তিন নম্বরে ইংল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ভরসা।
ট্রট-ব্রডের কীর্তিতে চাপা পড়ে যাওয়ার জোগাড়, অথচ দিনটা হতে পারত শুধুই আমিরের। প্রথম দিনের অর্ধসমাপ্ত ওভারের শেষ বলে কাল তুলে নেন অ্যালিস্টার কুককে। পরের ওভারে প্রথম বলে আউট করেন পিটারসেনকে, দুই বল পরে পল কলিংউডকেও। ১ উইকেটে ৩৯ রান নিয়ে দিন শুরু করা ইংল্যান্ড চোখের পলকে ৪ উইকেটে ৩৯। পরের ওভারে আমির তুলে নিলেন এউইন মরগানকেও। এরপর ট্রট ও প্রিয়রের সাময়িক প্রতিরোধ। লাঞ্চের পর তৃতীয় ওভারে প্রিয়রকে আউট করে ৫৫ রানের জুটিটা ভেঙে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ৫ উইকেট পেয়ে যান আমির। ২ বল পর গালিতে আজহার আলীর দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার গ্রায়েম সোয়ান। ইংল্যান্ডের তখন দেড় শ নিয়েই শঙ্কা। অথচ সেই তারাই এখন চার শর পথে।

০, ০, ০
টেস্ট ক্রিকেটে ১৯৭১ ম্যাচের ইতিহাসে মাত্র পঞ্চমবার কোনো দলের চার, পাঁচ ও ছয় নম্বর ব্যাটসম্যান আউট হলেন শূন্য রানে।

কোদালকে কোদাল বলুন by হাসান ফেরদৌস

একুশে আগস্টের ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলা নিয়ে বাংলাদেশের পত্রপত্রিকার প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণ পড়ে আমার মনে হয়েছে, আমরা বোধ হয় কোদালকে কোদাল বলা ভুলে গেছি। তাকে অন্য কোনো নামে, যেমন লাউ বা কাঁঠাল বলতেই যেন আমাদের আনন্দ। সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যা ও চার জাতীয় নেতার কারান্তরালে হত্যার পর এত বড় রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড আমাদের ইতিহাসে ঘটেনি। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী কে, তার তদন্ত ও বিচার এখনো শেষ হয়নি। কিন্তু একটা কথা তো স্পষ্ট, এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছিল বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের আমলে। সংসদীয় ব্যবস্থায় সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও তার বাস্তবায়নের জন্য সব দায়দায়িত্ব বহন করে ক্ষমতাসীন সরকার। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সে সরকারের সাফল্য বা ব্যর্থতার দায়ভার অন্য কারও নয়, খোদ প্রধানমন্ত্রীর। অথচ আজ পর্যন্ত কোথাও দেখিনি এই সহজ সত্যটি তুলে কেউ খালেদা জিয়ার ভূমিকা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তুলেছে।
তিনি এ বিষয়ে কী জানতেন, কখন জানতে পেরেছেন এবং জানার পর সে ব্যাপারে কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন?
গত ২১ আগস্ট প্রথম আলো তার প্রথম পাতায় ২০০৪ সালের একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলার ঘটনার একটি তাত্পর্যপূর্ণ বিশ্লেষণ ছেপেছে। লিখেছেন সম্পাদক নিজে। সে মন্তব্য প্রতিবেদনের শিরোনাম: দায় এড়াতে পারে না বিএনপি নেতৃত্ব। পড়ে একটু হোঁচট খেলাম। বিএনপি একটি রাজনৈতিক দল। তাহলে কি এই দলের প্রধান বা তার মহাসচিবের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে? প্রতিবেদনের কোথাও অবশ্য দলপ্রধান বা তার মহাসচিব—কারও নামই উচ্চারিত হয়নি। দেশের অন্যান্য পত্রপত্রিকাতেও একই বিষয়ে নানা প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণও রয়েছে। অথচ কোথাও তত্কালীন সরকারপ্রধানের নাম উচ্চারিত হয়নি, তাঁর ব্যক্তিগত দায়-দায়িত্ব নিয়ে কোনো প্রশ্নও তোলেনি কেউ।
সরকারপ্রধানের দায়িত্ব নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হ্যারি ট্রুম্যান একটি কথা জনপ্রিয় করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘সরকারের সব সিদ্ধান্ত আমার গোচরে রেখেই নেওয়া হয়, আমার অসম্মতিতে কোনো সিদ্ধান্ত হয় না। ফলে সব দায়দায়িত্ব আমার।’ ‘দি বাক স্টপস উইথ মি’—এই কথাটা নিজেকে প্রতিনিয়ত মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য তিনি নিজের কাজ করার টেবিলে ওই কথা লেখা একটি ‘সাইন’ রেখে দিতেন। রাজনৈতিক ভাষণে অনেকবার নিজের দায়িত্ব উল্লেখ করে তিনি সে কথা স্মরণও করেছেন। ১৯৫৩ সালে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব থেকে বিদায় নেওয়ার সময় যে ভাষণ দেন, তাতেও বলেছিলেন, ‘ভালো-মন্দের সব দায়দায়িত্ব ছিল আমার। প্রেসিডেন্ট অর্থাৎ সরকারপ্রধান যিনি, তাঁকেই সব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়। তিনি চাইলেও অন্য কারও ওপর দায়দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে পারেন না। সিদ্ধান্ত তাঁকে নিতে হবে, দায়দায়িত্বও তাঁর।’
২০০৮ সালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় ট্রুম্যানের ওই ‘দি বাক স্টপস উইথ মি’ কথাটা ফের নতুন করে উঠেছিল। হিলারি ক্লিনটন ও বারাক ওবামার মধ্যে তখন ডেমোক্রেটিক পার্টির মনোনয়ন নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে। হিলারি দাবি করেছিলেন, তিনি নানা অভিজ্ঞতায় ধনী। রাত তিনটার সময় যখন জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য লাল ফোন বেজে উঠবে, তার জবাব দেওয়ার জন্য অধিক প্রস্তুত কে—তিনি, না বারাক ওবামা? তাঁর মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ ও ঝানু লোকজনের অভাব হবে না, তাঁদের সঙ্গে পরামর্শ বা মতবিনিময়ের সুযোগও তাঁর থাকবে। কিন্তু সে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সব দায়দায়িত্ব তাঁর একার, সাফল্য বা ব্যর্থতার দায়ভারও তাঁর। রাত তিনটার টেলিফোনের কথা তুলে হিলারি সেই কথাটাই বলতে চেয়েছিলেন। পরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়ে নিজের দায়ভারের কথা উল্লেখ করে ওবামাও বলেছিলেন ‘দি বাক স্টপস উইথ মি’—সব দায়দায়িত্ব আমার। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ডেট্রয়েটে নাইজেরীয় নাগরিক ওমর ফারুক আবদুল মুত্তালিব বোমা নিয়ে বিমানে উঠেছিলেন। ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটতে পারত, কিন্তু বিমানযাত্রীদের সচেতনতার কারণে বোমা বিস্ফোরণের আগেই ওমরকে ধরে ফেলা হয়। গোয়েন্দা বিভাগের বিভিন্ন শাখার সমন্বয়ের অভাবে ওমর বিমানে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলেন। এটি জাতীয় নিরাপত্তাব্যবস্থার একটি ব্যর্থতা। ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর প্রেসিডেন্ট ওবামা সে কথা স্বীকার করে জাতির উদ্দেশে এক ভাষণে বলেছিলেন, এই ব্যর্থতার সব দায়দায়িত্ব তাঁর। কারণ, ‘দি বাক স্টপস উইথ মি।’
২০০৪ সালের একুশে আগস্টের সন্ত্রাসী গ্রেনেড হামলা রোধে ব্যর্থতা তত্কালীন সরকারের। সে সরকারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে কি কেউ প্রশ্ন করেছিলেন, এই ব্যর্থতার দায়িত্ব থেকে আপনি কি অব্যাহতি পেতে পারেন?
এই খুন ধামাচাপা দিতে যে নাটক ফাঁদা হয়েছিল, তা এখন আমাদের সবার জানা হয়ে গেছে। দুটি সম্পূর্ণ নিরীহ মানুষ—জজ মিয়া ও পার্থ, তাদের ঘাড়ে এই সুপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের দায়িত্ব চাপাতে চেষ্টা করা হয়েছিল। সাবেক প্রধানমন্ত্রী, এই নাটকের গপ্পো কি আপনি জানতেন? অথবা সে গপ্পের সত্যাসত্য জানার কোনো চেষ্টা কি আপনি করেছিলেন? করে থাকলে তা কী? এসবই অতি ন্যায়সংগত প্রশ্ন। কই, খালেদা জিয়া নিজে কখনো এসব প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন বলে তো মনে হয় না। আইনের শাসন আছে, এমন দেশে পরিকল্পিত এই মিথ্যাচারের জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করে মামলা-মোকদ্দমা হতো। না, বাংলাদেশে এসবের কিছুই হয়নি। সেই দরিদ্র জজ মিয়া এখন পথের ভিখারি, তাঁর বিধবা মা নিজের শেষ সম্বল এক টুকরো জমি বিক্রি করে সংসার চালিয়েছেন। অথচ ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবেন বলে পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে যিনি প্রধানমন্ত্রীর শপথ নিয়েছিলেন, তাঁর কিছুই হয়নি। এমনকি সাংবাদিকদের প্রশ্নবাণও তাঁকে সহ্য করতে হয়নি।
কেন? দেশের সাংবাদিক ভাইয়েরা কি সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ভয় করেন?
দায়দায়িত্বের কথা উঠল বলে খালেদার জন্মদিনের কেচ্ছাটাও ফের মনে করতে হচ্ছে। একুশে আগস্টের সন্ত্রাসী হত্যাকাণ্ডের ষষ্ঠ বার্ষিকীর এক সপ্তাহ আগে বেগম জিয়া তাঁর ৬৬তম জন্মদিন পালন করলেন ১৫ আগস্ট। ব্যাপারটা নিন্দনীয়, তাঁর নিজের দলের লোকেরাই পত্রিকায় বিবৃতি দিয়ে তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন, ‘ম্যাডাম, জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের দিনটিতে ঘটা করে জন্মদিন পালন করবেন না।’ তিনি সে কথা শোনেননি। যথারীতি কেক কেটেছেন, একটি নয়, চার-চারটি কেক; যেগুলো তাঁর দলের সদস্য-সমর্থকেরা বয়ে এনেছিলেন। তিনি হাসিমুখে সে কেক নিজে খেয়েছেন, অন্যদেরও খেতে দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে বিস্তর কেচ্ছা-কাহিনি শুনেছি, তাঁর পাসপোর্টের কপি থেকে প্রবেশিকা পরীক্ষার সার্টিফিকেটও দেখেছি। প্রসঙ্গত বলে নিই, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জন্মস্থান ও তারিখ নিয়েও বিস্তর তর্ক-বিতর্ক হয়েছে। তিনি আমেরিকায় জন্মগ্রহণ করেননি, এমন অভিযোগ নানা মহল থেকে উঠেছে। হাস্যকর অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তা করা হয়েছে, এসবই জানা কথা। কিন্তু সে প্রশ্নের জবাব ওবামাকে দিতে হয়েছে। নিজের জন্ম সনদের (বার্থ সার্টিফিকেট) কপি তাঁকে নিজের ওয়েবসাইটে ছেপে দিয়ে বলতে হয়েছে, ‘দেখো, আমি কোথায় কবে জন্মগ্রহণ করেছি, এই তার প্রমাণ।’ কই, খালেদা জিয়ার কাছে তাঁর ১৫ আগস্টের জন্ম সনদের প্রমাণ চেয়ে কেউ কোনো দিন প্রশ্ন তুলেছেন? তাঁর একটি নয়, তিন-তিনটি জন্মদিনের সার্টিফিকেটের কপি আমরা দেখেছি। সবগুলো তো সত্যি হতে পারে না। কেউ কি কখনো খালেদা জিয়াকে প্রশ্ন করেছেন, ‘ম্যাডাম, সত্যি করে বলুন তো, আপনার জন্মদিন কবে? এই তিন সার্টিফিকেটের একটিতেও তো ১৫ আগস্টের নামগন্ধ নেই!’
(যাঁরা সেসব সার্টিফিকেটের কপি নিজ চোখে দেখতে চান, তাঁদের ইন্টারনেটে এই ঠিকানায় ঘুরে আসতে অনুরোধ করি: http://rezwanul.blogspot.com/2009/08/15th-of-august.html)
রাজনীতিবিদেরা মিথ্যা বলে পার পেয়েছেন, এ কোনো নতুন ব্যাপার নয়। কিন্তু মিথ্যা বলে হাতেনাতে ধরাও পড়েছেন, মুখ্যত তথ্যমাধ্যম সজাগ থাকার কারণে, সে কথাও আমরা জানি। উদাহরণ হিসেবে পাকিস্তানের একটি সাম্প্রতিক ঘটনা মনে করিয়ে দিচ্ছি। বেশি দিন আগের কথা নয়, এ বছর জুন মাসে লাহোর হাইকোর্ট মুদাসসির কাইয়ুম নাইহার নামে পাকিস্তান মুসলিম লীগের একজন সাংসদের সদস্যপদ বাতিল ঘোষণা করেন। কারণ? ভদ্রলোক নির্বাচন কমিশনের কাছে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মিথ্যা সার্টিফিকেট দাখিল করেছিলেন। ব্যাপারটা ফাঁস হতে না হতেই পত্রপত্রিকায় এক তুলকালাম কাণ্ড। রাজনীতিবিদেরা ব্যাপারটাকে ধামাচাপা দিতে চেয়েছিলেন। এক মন্ত্রী এমন কথাও বলেছিলেন, সার্টিফিকেট, সত্যি আর মিথ্যা হোক, একটা হলেই হলো। ব্যস, আর যায় কোথায়। ব্যাপারটা হয়তো ধামাচাপা পড়েই যেত, কিন্তু তথ্যমাধ্যমের কারণেই শেষমেশ তা আদালত পর্যন্ত গড়ায়।
এটি হয়তো দেশ-জাতির ভাগ্যনিয়ন্ত্রিত হয় এমন কোনো ব্যাপার নয়। খালেদা জিয়ার জন্মদিনের ব্যাপারটিও তাই। কিন্তু একটি ছোট মিথ্যা বলে তিনি যদি এমন অনায়াসে পার পেয়ে যান, তাহলে বড় কোনো মিথ্যা বলা তাঁকে ঠেকাবে কে? অন্য কেউ নয়, দেশের সরকারপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলেই এত কথা বলা। দেশের প্রধানমন্ত্রী, তা বর্তমানের হন বা প্রাক্তন—তিনি সে দেশের নৈতিক মানদণ্ডের প্রতীক। সে কারণে শুধু রাষ্ট্রীয় দায়দায়িত্বের ক্ষেত্রেই নয়, তাঁর ব্যক্তিগত আচরণও আমরা খুঁটিয়ে দেখি। আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের একটি ব্যক্তিগত স্খলন নিয়ে যে কী কাণ্ড হয়েছিল, তা আমাদের ভোলার কথা নয়। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহারের উদ্দেশেই প্রতিপক্ষ রিপাবলিকানরা সে স্খলনকে ব্যবহার করেছিল, কিন্তু নিজের ব্যবহারের জন্য ক্লিনটনকে জবাবদিহি ঠিকই করতে হয়েছিল।
আমাদের নেতা-নেত্রীরা নিজে থেকে তাঁদের ব্যর্থতার কোনো জবাবদিহি করবেন না, তা আমরা জানি।
জবাবদিহি আমাদের রাজনৈতিক সাংস্কৃতিতেই নেই, কারণ গণতন্ত্র ব্যাপারটাকে তাঁরা স্লোগান ছাড়া আর কিছু ভাবেন বলে মনে হয় না। কিন্তু আমরা, যারা তাঁদের হাতে ক্ষমতার রশি তুলে দিই, তারা অবশ্যই সে দাবি তুলব। আমাদের কণ্ঠস্বরকে শ্রুতিগোচর করার দায়িত্ব দেশের তথ্যমাধ্যমের। অনেক সময় এমন কথা বলতে শুনেছি, গত ২০ বছরে আমাদের গণতান্ত্রিক উদ্যাপনের অন্যতম বড় প্রমাণ নাকি দেশের মুক্ত তথ্যব্যবস্থা। কিন্তু এ কেমন ‘মুক্ত ব্যবস্থা’, যেখানে কঠিন প্রশ্ন করতে আমাদের সাংবাদিক বন্ধুরা এত দ্বিধান্বিত?
গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয় অব্যাহত গণতান্ত্রিক চর্চার ভেতর দিয়ে। মুক্ত তথ্যব্যবস্থার জন্যও চাই ক্রমাগত মুক্ত সাংবাদিকতার চর্চা। কোদালকে কোদাল বলা সে চর্চারই অংশ। আসুন না, বলেই দেখি কী হয়।
হাসান ফেরদৌস: প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

মাহে রমজানে অহংকার বর্জন by মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান

মানব চরিত্রে যেসব দোষ-ত্রুটি রয়েছে, তন্মধ্যে গর্ব ও অহংকার একটি অত্যন্ত জঘন্য স্বভাব। এটি ইসলামি নৈতিকতা ও মূলনীতির পরিপন্থী। অহংকার শুধু একটি কবিরা গুনাহই নয়; বরং এটি আরও অনেক কবিরা গুনাহের জন্মদাতা। কারণ, এটি মানুষকে সত্য উপলব্ধিতে বাধা দেয়, অন্ধকারের পথে পরিচালিত করে এবং পশুর স্তরে নামিয়ে দেয়। অহংকার মানে অহমিকা, দম্ভ, বড়াই, নিজেকে বড় মনে করা, গৌরববোধ করা প্রভৃতি। বিভিন্ন বিষয়ে নিজেকে অন্যদের চেয়ে বড়, উন্নত ও শ্রেষ্ঠ মনে করাকে অহংকার বলে। অহংকার মানুষের অন্তরে লুকায়িত থাকে এবং তার কথাবার্তা, চালচলন, আচার-আচরণ ও যাবতীয় কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে প্রকাশ পায়। আল্লাহ তাআলা অহংকারীকে মোটেই পছন্দ করেন না, তাই রোজাদারদের কখনো অহংকার করতে নেই। এই মর্মে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই তিনি (আল্লাহ) অহংকারীকে পছন্দ করেন না।’ (সূরা আন-নাহল, আয়াত-২৩)
মাহে রমজান মানুষের অভ্যন্তরীণ যাবতীয় গর্ব, অহংকার, কুপ্রবৃত্তি, নফসের দাসত্ব জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে ছারখার করে দেয় বলে এ মহিমান্বিত মাসের নাম ‘রমজান’। এ মাসে রোজাদারদের দম্ভ বা অহমিকা প্রদর্শন তাকে হীন ও নীচু এবং সমাজে ঘৃণ্য ও নিন্দনীয় করে তোলে। মানুষ বিভিন্ন সময় নানা বিষয়ে অহংকার করে থাকে, যা ইসলাম পরিপন্থী বিনয় ও নম্রতার সম্পূর্ণ বিপরীত। কোনো কোনো বিত্তশালী লোক তার অর্থবিত্ত ও ধনসম্পদের গর্ব করে। নারীরা সাধারণত রূপ-সৌন্দর্যের বড়াই করে থাকে। ক্ষমতাবান লোকেরা তাদের ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি ও পদমর্যাদার অহংকার করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে এসবের জন্য গর্ব বা অহংকার করার কিছুই নেই। প্রকাশ্য অহংকারের ব্যাপারে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘অহংকার বশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা কোরো না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ কোরো না; নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো উদ্ধত অহংকারীকে পছন্দ করেন না। তুমি চালচলনে মধ্যমপন্থা অবলম্বন কর এবং কণ্ঠস্বর নিচু কর।’ (সূরা লুকমান, আয়াত: ১৮-১৯)
পৃথিবীর সব মানুষ এক আল্লাহর সৃষ্টি। সুতরাং বংশের গৌরব মানুষের কৃত্রিম সৃষ্টি। ‘আশরাফুল মাখলুখাত’ বলে আল্লাহ দয়া করে সবকিছু তাঁর অধীন করে দিয়েছেন। সম্পদ মানুষের চিরস্থায়ী নয়। ধনসম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ, মানুষ আমানতদার মাত্র। সম্পদ মানুষের জন্য পরীক্ষার বস্তু; এসব নিয়ে গৌরব করার কিছু নেই। মানুষের রূপ-সৌন্দর্য আল্লাহ প্রদত্ত, যাকে যেমন খুশি সৃষ্টি করেছেন। ক্ষমতার অহংকার করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। প্রভাব-প্রতিপত্তি ও ক্ষমতা কারও চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত নয়। আজ যে রাজা, কাল সে প্রজা। এসব কিছুর প্রকৃত মালিক মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ রাব্বুল আলামিন, যিনি সর্বশক্তিমান। ক্ষমতার অহংকার করা তাঁরই সাজে, মানুষের নয়। আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘তুমি বলো, হে আল্লাহ, তুমি সাম্রাজ্যের মালিক! তুমি যাকে ইচ্ছা রাজত্ব দান করো এবং যার থেকে ইচ্ছা রাজত্ব ছিনিয়ে নাও, যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করো এবং যাকে ইচ্ছা অপমানিত করো, কল্যাণ তোমার হাতেই, নিশ্চয়ই তুমি প্রত্যেকের ওপর শক্তিশালী।’ (সূরা আলে ইমরান, আয়াত-২৬)
মানুষের জ্ঞান-বুদ্ধি, ধনসম্পদ, শক্তি-সামর্থ্য সবকিছুই অত্যন্ত সীমিত। কোনো মানুষ স্বয়ংসম্পূর্ণ ও অভাবমুক্ত নয়। সবারই কোনো না কোনো অভাব-অনটন ও অসম্পূর্ণতা আছে। একমাত্র আল্লাহই অভাবমুক্ত এবং স্বয়ংসম্পূর্ণ। তিনি অসীম ক্ষমতার অধিকারী। অহংকার গর্ব করা একমাত্র আল্লাহরই শোভা পায়, অন্য কারও নয়। হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত আছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘অহংকার আমার পরিচ্ছদ, এ পোশাক যে আমার কাছ থেকে কেড়ে নিতে চেষ্টা করে, তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করব।’ (মুসলিম)
প্রবাদ আছে, ‘অহংকার পতনের মূল’। এটি মানবজীবনে ধ্বংসের প্রধান কারণ। অহংকারের কুফল ও পরিণতি বর্ণনাতীত। অহংকারের কারণে ফেরেশতাদের এককালের সাথি ইবলিশ অভিশপ্ত শয়তানে পরিণত হয়েছিল। আল্লাহর রোষানলে পড়ে জান্নাত থেকে অপদস্থ হয়ে বিতাড়িত হয়েছিল। আদিমানব সর্বপ্রথম নবী হজরত আদম (আ.)-কে সম্মানসূচক সিজদা না করার কারণ জিজ্ঞাসা করায় সে অহংকার করে বলেছিল, ‘আমি আদমের চেয়ে উত্তম, কেননা আমি আগুনের তৈরি এবং আদম মাটির তৈরি।’ অর্থাৎ তার মধ্যে বর্ণবাদের অহংকার ও বিদ্বেষ দানাবেঁধে উঠেছিল। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন, ‘যখন আমি ফেরেশতাদের বললাম, ‘আদমকে সিজদা কর’, তখন ইবলিশ ব্যতীত সবাই সিজদা করল; সে অস্বীকার ও অহংকার করল এবং কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেল।’ (সূরা আল-বাকারা, আয়াত-৩৪) আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘ইবলিশ বলল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম, আপনি আমাকে আগুন থেকে এবং তাকে (আদমকে) মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত-১২) পবিত্র কোরআনে অসংখ্য আয়াতে বর্ণিত বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠী ধ্বংসের জন্য অহংকার একটি অন্যতম কারণ ছিল।
অহংকার মানে নিজেকে আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করা, অন্যদের নিজের তুলনায় ক্ষুদ্র ও অধম মনে করে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা, আল্লাহর আদেশের বিরুদ্ধে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে তার অবাধ্য হওয়া ও আদেশ অমান্য করা, এসবই অহংকারের লক্ষণ ও তার আওতাভুক্ত। ইসলামের সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন নিরহংকারের মূর্ত প্রতীক। তাঁর ওপর অকথ্য নির্যাতন করা হয়েছিল, তাঁকে হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল, তাঁকে জন্মভূমি মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করতে বাধ্য করা হয়েছিল; কিন্তু তিনি ধৈর্যহারা হননি। আবার আল্লাহ যখন মক্কা বিজয় দান করলেন তখনো তিনি আনন্দে আত্মহারা হয়ে অহংকার করলেন না; বরং বিনয় ও নম্রভাবে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে অত্যাচারীদের ক্ষমা করে দিলেন।
অহংকারীর কতিপয় বৈশিষ্ট্য হলো সে নিজে যা পছন্দ করে, অন্যকে তা পছন্দ করতে দেয় না। সাধারণত সে বিদ্বেষপরায়ণ হয়। কোনো উপদেশকারীর উপদেশ গ্রহণ করতে পারে না; বরং উল্টো তার ঠাট্টা-বিদ্রূপের শিকার হয়। অহংকার বিভিন্ন রূপ পরিগ্রহ করে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও জাতীয় জীবনে প্রবেশ করে বংশ, বর্ণ, ভাষা, দেশ, জাতীয়তা ও সম্পদের প্রাচুর্যের ওপর মানুষকে মাতিয়ে তুলেছে। যদিও এগুলো আল্লাহরই সৃষ্টি; তথাপি এগুলো কোনো মর্যাদার মানদণ্ড বা মাপকাঠি নয়। প্রকৃতপক্ষে অহংকারীরা আল্লাহর আনুগত্য করে না। তাদের জন্য প্রস্তুত রয়েছে কঠিন শাস্তি। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ‘এভাবে আল্লাহ প্রত্যেক অহংকারী ও স্বেচ্ছাচারীর অন্তরে মোহর লাগিয়ে দেন।’ (সূরা আল-মুমিন, আয়াত-৩৫) তাই জান্নাত লাভ করতে হলে রোজাদারদের অন্তরকে পরিচ্ছন্ন ও অহংকারমুক্ত করতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বাণী প্রদান করেছেন, ‘যার অন্তরে সামান্য পরিমাণ অহংকার আছে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।’ (মুসলিম)
ড. মুহাম্মদ আবদুল মুনিম খান: সহকারী অধ্যাপক, ইসলামিক একাডেমি, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয়। পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব হজরত মুহাম্মদ (সা.)।

তরুণেরাই বাংলাদেশকে বদলাতে পারবে by বদিউল আলম মজুমদার

‘তরুণ নামের জয়মুকুট শুধু তাহারই, যাহার শক্তি অপরিমাণ, গতিবেগ ঝঞ্ঝার ন্যায়, তেজ নির্মেঘ আষাঢ় মধ্যাহ্নের মার্তণ্ডপ্রায়, বিপুল যাহার আশা, ক্লান্তিহীন যাহার উত্সাহ, বিরাট যাহার ঔদার্য, অফুরন্ত যাহার প্রাণ, অটল যাহার সাধনা, মৃত্যু যাহার মুঠিতলে।’ এভাবেই তরুণ এবং তারুণ্যের বর্ণনা দিয়েছেন আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তাঁর দুর্দিনের যাত্রী গ্রন্থের ‘যৌবনের গান’ প্রবন্ধে।
নিঃসন্দেহে তরুণেরা শক্তিমান ও দুঃসাহসী। কারণ, রূঢ় ‘বাস্তবতার’ শৃঙ্খলে তারা আবদ্ধ হয়ে যায়নি। ‘অভিজ্ঞতাহীনতার’ কারণেই তারা প্রথাগত চিন্তার দাসে পরিণত হয়নি। জীবনসংগ্রামের ঘাত-প্রতিঘাতের প্রভাবে তারা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে পড়েনি বা ছাড় দেওয়ার মানসিকতা তাদের মধ্যে গড়ে ওঠেনি। তাই তারা নীতি ও নৈতিকতা দ্বারা পরিচালিত হতে পারে। ঝুঁকি নিতে পারে। ‘লিপ ফরোয়ার্ড’ বা অনন্য সফলতা অর্জন করতে পারে। দুঃসাধ্য সাধন করতে পারে। বস্তুত, অসাধারণ অর্জন তাদের জন্য বহু ক্ষেত্রে সাধারণ ব্যাপারমাত্র। বায়ান্ন থেকে শুরু করে নব্বই পর্যন্ত জাতীয় জীবনের ক্রান্তিলগ্নে আমাদের তরুণেরাই বহুবার তা প্রমাণ করেছে।
পক্ষান্তরে, বয়স্করা সাধারণত বাস্তবতার বেড়াজালে আটকা পড়ে যায়। পরিবার-পরিজনের প্রতি কর্তব্যপরায়ণতা তাদের পরিধিকে অনেক ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ করে তোলে। অভ্যস্ততা তাদের গণ্ডিবদ্ধ করে ফেলে। তাই ‘দায়িত্বশীলতা’র কারণেই তারা অনেক সময় ঝুঁকি নিতে পারে না। দুঃসাহসিকতা প্রদর্শন করা তাদের পক্ষে অনেক সময় দুরূহ হয়ে পড়ে। ‘ইক্রিমেন্টাল’ বা ক্ষুদ্র পরিবর্তনেই সাধারণত তাদের সন্তুষ্ট থাকতে হয়। তাই তো উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের মতো বহু মনীষী বার্ধক্যকে ধিক্কার দিয়ে বারবার তারুণ্যের জয়গান গেয়েছেন।
আমাদের তরুণেরা বর্তমানে কী ভাবছে তা জানার জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিলের উদ্যোগে ‘ডেটা ইন্টারন্যাশনাল’ সম্প্রতি ‘বাংলাদেশ: দ্য নেক্সট জেনারেশন’ বা বাংলাদেশের আগামী প্রজন্ম নিয়ে একটি জরিপ পরিচালনা করে। সারা দেশের ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়স্ক দুই হাজার ১৬৭ জন শহর ও গ্রামীণ ছেলেমেয়ে—যাদের ৯৮৩ জন (৪৭ দশমিক ৭ শতাংশ) নারী, ৭১৪ জন (৩৩ শতাংশ) ছাত্রছাত্রী এবং এক হাজার ১৭ জন (৪৭ শতাংশ) রাজধানীর বাইরের—এতে অংশ নেয়। জরিপের ফলাফল অত্যন্ত প্রণিধানযোগ্য এবং এ সম্পর্কে আমার অনুভূতি চারটি বিশেষণ দিয়ে ব্যক্ত করা যায়: সুসংবাদ, দুঃসংবাদ, সম্ভাবনা ও ঝুঁকি।
জরিপ থেকে সবচেয়ে বড় সুসংবাদ হলো, ৮৮ শতাংশ তরুণ-তরুণী সুখী বা অত্যন্ত সুখী এবং ৭০ শতাংশ মনে করে, দেশ সঠিক পথেই চলছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সুসংবাদ হলো, প্রায় সব উত্তরদাতাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী। কারণ, তাদের ৯৮ শতাংশ—ছেলে ৯৯ শতাংশ, মেয়ে ৯৭ শতাংশ—মনে করে, তরুণদের সমাজ গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া উচিত। আর ৯৫ শতাংশ উত্তরদাতা সমাজকর্মে যুক্ত হতে আগ্রহী। অর্থাৎ বাংলাদেশ সম্পর্কে তারা হাল ছেড়ে দেয়নি, তাই তারা একটি উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত হতে প্রস্তুত। তবে এসব মতামত গ্রহণের বিষয়ে কিছুটা সাবধানতা অবলম্বন করা আবশ্যক। কারণ, ‘আপনি সুখী না অসুখী’ এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হলে নিজেকে অসুখী বলে দাবি করা ভালো দেখায় না। তাই এসব ক্ষেত্রে উত্তর অন্তত কিছুটা হলেও ‘বায়াসড’ বা প্রভাবিত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়। তবু এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, সার্বিকভাবে বাংলাদেশের বর্তমান প্রজন্মের মনোভাব অত্যন্ত ইতিবাচক।
জরিপের ফলাফলের ভিত্তিতে একটি বড় দুঃসংবাদ হলো, যদিও প্রায় সব উত্তরদাতাই সমাজ উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে আগ্রহী, তবু মাত্র ৩০ শতাংশ—৪১ শতাংশ ছেলে এবং ১৮ শতাংশ মেয়ে—এসব কাজে জড়িত। এ ছাড়া যদিও ৩১ শতাংশ শহুরে উত্তরদাতা সমাজকর্মে জড়িত, শুধু ছয় শতাংশ গ্রামীণ উত্তরদাতা এর সঙ্গে সম্পৃক্ত। অর্থাৎ তরুণদের শক্তি ও সামর্থ্য বহুলাংশেই এখন অব্যবহূত। প্রসঙ্গত, তরুণদের দ্বারা পরিচালিত সমাজকর্ম বা আন্দোলনে জড়িত সংগঠনগুলো সম্পর্কে ৯৫ শতাংশ উত্তরদাতাই জানে না।
আরেকটি দুঃসংবাদ হলো, সমাজকর্মে নগণ্যসংখ্যক অংশগ্রহণকারীর অধিকাংশই প্রথাগত দান-খয়রাতমূলক কাজের সঙ্গে জড়িত। দান-অনুদান প্রদান সৃজনশীল কার্যক্রম নয় এবং এগুলোতে তাদের মেধার পরিপূর্ণ ব্যবহার ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ ঘটে না। এর মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সুযোগও সৃষ্টি হবে না। কারণ, ভিক্ষা দিয়ে ভিক্ষুক সৃষ্টি করা যায়, কাউকে নিজের পায়ে দাঁড় করানো যায় না।
আরেকটি নেতিবাচক সংবাদ হলো, উত্তরদাতাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ (৭৪ শতাংশ) রাজনীতির প্রতি বিমুখ। অর্থাৎ বিরাজমান নেতিবাচক ও দ্বন্দ্বাত্মক রাজনীতি তাদের আকর্ষণ করতে পারছে না এবং তারা এর সঙ্গে জড়িত হতে চায় না। নিঃসন্দেহে এটি একটি দুঃসংবাদ। কারণ, আমাদের রাজনীতির গুণগত মানে ভবিষ্যতে পরিবর্তন আনতে হলে তরুণদের এর সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে হবে। আরেকটি দুঃসংবাদ হলো, মাত্র ১৫ শতাংশ তরুণ ছাত্ররাজনীতি সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা পোষণ করে।
জরিপের ফলাফল অনেক সম্ভাবনার কথাও বলে। আগেই বলা হয়েছে, বাংলাদেশের তরুণদের প্রায় সবাই আগামী দিনের বাংলাদেশ গঠনের কাজে যুক্ত হতে প্রস্তুত, যদিও তাদের অতি ক্ষুদ্র অংশই বর্তমানে এ কাজের সঙ্গে জড়িত। আর তারুণ্যের এ আগ্রহকে কাজে লাগানো গেলে, তারাই বাংলাদেশকে বদলে দিতে পারবে। তারাই পারবে বাংলাদেশে এক অভূতপূর্ব ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে।
বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ তরুণ। তাদের সংখ্যা আনুমানিক সাড়ে পাঁচ কোটি। এদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে সমাজ গঠনমূলক কাজে নিয়মিত অংশগ্রহণের জন্য উজ্জীবিত করা গেলে সারা দেশে একটি বিরাট কর্মযজ্ঞ শুরু হতে পারে। আর এ ধরনের কর্মযজ্ঞ বাংলাদেশের জন্য একটি অমিত সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। কবি আজিজুল হাকিমের ভাষায়, ‘নিরুদ্ধ ব্যথা নয়নের জলে/রুখি যুগে যুগে তরুণেরা চলে/অতীত গড়েছে তারাই, তারা গড়িছে বর্তমান,/নতুন গড়িছে নতুন পৃথিবী ...’
আশার কথা যে আমাদের তরুণেরা এরই মধ্যে আগুয়ান হয়েছে—বাংলাদেশের জন্য একটি নতুন ভবিষ্যৎ গড়তে তারা কাজ শুরু করে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গত ৫ জুন ছাত্র-তরুণদের নেতৃত্বে পরিচালিত ‘ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারে’র লক্ষাধিক সদস্যের মধ্য থেকে হাজারখানেক সাভারের গণস্বাস্থ্য মিলনায়তনে একত্র হয়। নিজেদের পকেটের অর্থ ব্যয় করে সারা দেশ থেকে আগত এসব ছাত্রছাত্রী অধ্যাপক জিল্লুর রহমান সিদ্দিকী, অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ, হামিদা হোসেনসহ অনেক বরেণ্য ব্যক্তির উপস্থিতিতে সুস্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করে—তারা প্রতিদিন সমাজের জন্য অন্তত একটি ভালো কাজ করবে এবং এ লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে তারা একটি আন্দোলন গড়ে তুলছে।
প্রসঙ্গত, নিজেদের মেধা-সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ বিকাশ, ছাত্র-তরুণদের মধ্যে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতার মানসিকতা সৃষ্টি এবং তাদের নেতৃত্বের ক্ষমতায়নের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে আমাদের প্রণোদনায় ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারের সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের অনেক বরেণ্য ব্যক্তিই তাদের সহযোগিতা করছেন। বর্তমানে ব্রিটিশ কাউন্সিলও এদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গারের সদস্যরা তৃণমূল পর্যায়ে ছাত্রছাত্রীদের সংগঠিত করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে গণিত অলিম্পিয়াড আয়োজন, পাঠাগার ও বিজ্ঞান ক্লাব গঠন, গণশিক্ষা কার্যক্রম, ছাত্রী উত্ত্যক্তের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সৃষ্টি, পরিবেশ সংরক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে নানামুখী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
আমাদের জনসংখ্যায় তারুণ্যের আধিক্যের কারণে আরেকটি বিরাট সম্ভাবনার জায়গা হলো যে মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করে তাদের যদি ‘ডিজিটাল হাইওয়েতে’ পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে আমরা এক অপ্রতিরোধ্য জাতিতে পরিণত হব। কারণ, ‘নলেজ এক্সপ্লোশন’ বা জ্ঞানের বিস্ফোরণের এ যুগে প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় মানবসম্পদই একটি জাতির উন্নতি-সমৃদ্ধির জন্য সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।
জনসংখ্যায় তারুণ্যের আধিক্য জাতির জন্য চরম ঝুঁকিও সৃষ্টি করছে। তরুণদের গড়ে তুলতে এবং তাদের ইতিবাচক কাজের সঙ্গে জড়িত করতে না পারলে, তারা বখে যেতে পারে। তারা অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে, যা সমাজে শুধু অস্থিরতাই নয়, বড় ধরনের প্রলয় সৃষ্টি করতে পারে। এমনকি তারা উগ্রবাদের দিকেও ধাবিত হতে পারে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর ব্যাপক দারিদ্র্য এবং তাদের প্রতি ক্রমবর্ধমান বঞ্চনার কারণে এ ভয়াবহ আশঙ্কার কথা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
আমাদের তরুণদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ বর্তমানে গ্রামে বসবাস করে। তারা মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। বর্তমান বাস্তবতায় তাদের অধিকাংশ বড়জোর পিয়ন-চাপরাশির চাকরির আশা করতে পারে। বিরাজমান তদবির ও উেকাচের সংস্কৃতির কারণে তাও আবার অনেকের জন্য সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। ফলে গ্রামীণ তথাকথিত ‘শিক্ষিত’ তরুণদের একটি বিরাট অংশই এখন বেকার। অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, বেকারদের বড় অংশই সাধারণত অসামাজিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হয়।
আশার কথা যে আমাদের তরুণেরা এখনো বাংলাদেশ সম্পর্কে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করছে এবং তারা সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখতে উত্সুক। তবে তাদের মধ্যেও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে সন্দেহ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। তাদের প্রায় ৬০ শতাংশই এখন মনে করে যে আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে দুর্নীতির অবস্থা আরও খারাপ হবে বা হতে পারে। অর্থাৎ বিরাজমান সর্বগ্রাসী ও সর্বব্যাপী দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে আমাদের অদূর ভবিষ্যতে মুক্ত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা তারা দেখতে পায় না। তাদের প্রায় ৪২ শতাংশ বিদেশে পাড়ি জমাতে চায়, কারণ বর্তমান বাস্তবতায় সম্ভবত তারা নিজেদের মেধা ও কর্মোদ্যম কাজে লাগানোর সুযোগ খুঁজে পায় না।
অনেকে তরুণদের বিদেশে পাড়ি জমানোর আগ্রহের সঙ্গে নীতিবোধ ও দেশপ্রেমের সম্পর্ক দেখতে পান। তাঁদের পলায়নপর বলে আখ্যায়িত করতে চান। আমার মতে, এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ঠুনকো ‘জাতীয়তাবোধ’ থেকে উদ্ভূত। বর্তমানের বিশ্বায়নের যুগে এ ধরনের সস্তা আবেগের কোনো অবকাশ আছে বলে আমার মনে হয় না। বিশেষত, আমরা যখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আর্থিক পুঁজির অবাধ চলাচলের সঙ্গে সঙ্গে মানবসম্পদের অবাধ চলাফেরার ওপর বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার দাবি করছি। কপাট-জানালা বন্ধ করার পরিবর্তে বিশ্বায়নের জন্য তরুণদের প্রস্তুত করা আজ আমাদের জন্য জরুরি।
ব্রিটিশ কাউন্সিল পরিচালিত জরিপের ফলাফল আমাদের নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চিন্তার খোরাক জোগাতে পারে বলে আমার বিশ্বাস। আমি মনে করি যে জাতি হিসেবে আমরা একটি ‘ক্রস রোডে’র সামনাসামনি—আমাদের সামনে আজ দুটো বিপরীতমুখী পথ খোলা। একটি পথ হলো তরুণদের বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া এবং তাদের উত্পাদনশীল ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত করা। তাদের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন ও তাদের বিকাশের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা। এ কাজটি হবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্টের ভাষায়, তরুণদের জন্য যথাযথ ভবিষ্যৎ গড়তে না পারলেও কাঙ্ক্ষিত ভবিষ্যতের জন্য তাদের গড়ে তোলা। আর তা করা গেলে নিঃসন্দেহে জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যাব এবং আমাদের ভবিষ্যৎ বংশধর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যে বসবাস করার সুযোগ পাবে।
অপর পথটি হলো, তারুণ্যের সম্ভাবনাকে উপেক্ষা করা। তাদের অবহেলা করা। তাদের সঠিক পথে অগ্রসর হতে সহায়তা না করা। বরং তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার অব্যাহত রাখা। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে এ ধরনের উপেক্ষা ও অসহযোগিতার পরিণতি হবে ভয়াবহ। আজ আমাদের নীতিনির্ধারকেরা কোন পথটি ধরে এগোবেন তা নির্ভর করবে তাঁদের প্রজ্ঞা, বিচক্ষণতা ও সাহসিকতার ওপর। আর তার ওপরই নির্ভর করবে জাতি হিসেবে আমাদের সম্মিলিত ভবিষ্যৎ।
ড. বদিউল আলম মজুমদার, গ্লোবাল ভাইস প্রেসিডেন্ট ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, দ্য হাঙ্গার প্রজেক্ট-বাংলাদেশ।

জলাবদ্ধতার রাজধানী -এত অসুবিধায় নাগরিক জীবন চলবে কী করে?

ঢাকার নাগরিক ভোগান্তির তালিকায় জলাবদ্ধতা নতুন ঘটনা নয়। বছরের পর বছর দেখা যাচ্ছে, বৃষ্টি হলেই ঢাকার অনেক এলাকার পথ-ঘাট-মাঠ ডুবে যায়, সড়কে গাড়ির মিছিল স্থির দাঁড়িয়ে থাকে, ব্যস্ত ঢাকা আরও ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে। কিছুতেই যখন কিছু হয় না, তখন এক অচলাবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে ভুক্তভোগী লাখ লাখ মানুষ ভাগ্য কিংবা সরকারকে দোষারোপ করতে থাকে এবং সরকার ও নগর কর্তৃপক্ষ যথারীতি বোবা, বধির ও অন্ধ হয়ে দায়িত্ব এড়ায়। এভাবে বর্ষা আসে আর যায়, জলাবদ্ধতার কারণে জনভোগান্তি সীমা ছাড়াতে থাকে।
গত বুধবার দুপুরের বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার প্রায় সব প্রধান সড়ক ডুবে গিয়েছিল। এমনকি নিউমার্কেটের ভেতরের চত্বরও ডুবে যায়। অবস্থা দেখে মনে হয়, জলাবদ্ধতা কাটানোর চেষ্টা যেহেতু নেই, সেহেতু এ শহরে বৃষ্টিকেই নিষিদ্ধ করতে হয়। কিন্তু বন্যা প্রাকৃতিক হলেও নগরের জলাবদ্ধতা প্রাকৃতিক নয়। ঢাকা ও চট্টগ্রাম শহর যে প্রায়ই জলাবদ্ধতায় ভুগতে থাকে, তার কারণ নগরগুলোর পানিনিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা। ৪০০ বছর ধরে যে শহর রাজধানী, সে শহরে কার্যকর পানিনিষ্কাশনব্যবস্থা না থাকা এক বিরাট রাষ্ট্রীয় পরিহাস!
ঢাকার অবস্থান বন্যা-সমতলে। অর্থাৎ বন্যাপ্রবাহ এলাকা হওয়ায় এর ওপর দিয়ে পানি বয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা রাখা উচিত ছিল। ঢাকার বিভিন্ন খাল, ঝিল, জলাশয় ও নিচু এলাকা দিয়ে শুধু বন্যার পানিই বয়ে যেত না, বৃষ্টির পানিও ধারণ ও নিষ্কাশিত হতো। অথচ অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ ও ভরাটের মাধ্যমে স্বাভাবিক পানিনিষ্কাশনের উপায় রুদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি অব্যবস্থাপনা ও সংস্কারের অভাবে পানিনিষ্কাশনের নালাগুলোও হয়ে পড়েছে অকার্যকর। ঢাকাকে বন্যামুক্ত রাখতে এর পশ্চিমে ঢাকা রক্ষা বাঁধ তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু সেই বাঁধের ভেতরের আটকে থাকা পানি বের হওয়ার যথেষ্ট পথ না থাকায় জলাবদ্ধতা আরও বেড়ে যাচ্ছে।
ঢাকাকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে তাই বিশদ নগর পরিকল্পনা তথা ড্যাপ বাস্তবায়ন করতে হবে। প্রতিটি এলাকার মাইক্রো জোনিং করে সেখানকার পানিনিষ্কাশন-প্রণালি পূর্ণাঙ্গ করতে হবে। বন্যা-সমতলকে বন্যা-সমতল হিসেবেই রাখতে হবে, সেখানে আবাসন বা মার্কেট করা যাবে না; করা হয়ে থাকলে তা ভেঙে ফেলতে হবে। এ দায়িত্ব রাজউক, ওয়াসাসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থার যেমন, তেমনি ঢাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরও। একের পর এক বিভিন্ন দিক থেকে সংকটাপন্ন ঢাকাকে বাঁচাতে মামুলি খুটখাট নয়, দরকার বিপুল উদ্যোগ শুরু করা।

দুই প্রতিষ্ঠানের টাকা ফেরত -আইনানুগ পন্থা সব সময়ের জন্য সর্বোৎকৃষ্ট

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সরকার বিভিন্ন অভিযোগ তুলে যেসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা আদায় করেছিল, গত মঙ্গলবার সে রকম দুটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। ক্যাথেলি ডেটেট টি অ্যান্ড ল্যান্ড বাংলাদেশ লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানকে তাদের কাছ থেকে নেওয়া ২৩৭ কোটি টাকা এবং এস আলম স্টিল লিমিটেড নামের প্রতিষ্ঠানকে তাদের কাছ থেকে নেওয়া ৬০ কোটি টাকা তিন মাসের মধ্যে ফেরত দিতে আদালত সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দিয়েছেন। খবরটি গুরুত্বের সঙ্গে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।
এ বিষয়ে হাইকোর্টের রায়ের বক্তব্য লক্ষ করার বিষয়। রায় থেকে দুটি বিষয় পরিষ্কার হয়েছে। এক. ওই দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টাকা আদায় আইনানুগ হয়নি। দুই. দুর্নীতি ও গুরুতর অপরাধ দমন অভিযান চালাতে গিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ পথ নেয়নি। যদি কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নীতিসহ অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগ থাকে, তবে তা বিচারের জন্য আইন আছে, সে আইন প্রয়োগের ব্যবস্থাও আছে। সেসব এড়িয়ে টাকা আদায়ের কাজটি হয়েছে। এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
তবে মঙ্গলবারের রায়ে হাইকোর্টের মন্তব্য যথার্থ যে, সরকারি কোনো কর্তৃপক্ষের সংবিধানবহির্ভূত কোনো ক্ষমতা নেই। সব ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে সংবিধান অনুযায়ী। আমরা স্মরণ করতে পারি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দুর্নীতি ও গুরুতর অপরাধ দমনবিষয়ক উদ্যোগের সূচনায় জনসাধারণের মধ্যে এক ধরনের উত্সাহ দেখা গিয়েছিল। সরকার যেসব ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে সন্দেহভাজন দুর্নীতিবাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল, তাদের অনেকের বিষয়েই জনমনে নেতিবাচক ধারণা ছিল। আর দেশে যে দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে, তা তো আগের বছরগুলোতে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান থেকেই পরিষ্কার হয়েছিল। কিন্তু সমস্যা ছিল দুর্নীতি দমনের পদ্ধতি নিয়ে। দুর্নীতিসহ সব ধরনের অপরাধের বিচারের জন্য দেশে আইন রয়েছে; দেখা গেল যে আইনের বাইরে গিয়ে বা আইনকে পাশ কাটিয়ে দুর্নীতি দমনের বা শুদ্ধকরণের পথ কার্যকর হয়নি। কী আইনি যুক্তি দেখিয়ে সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেছিল, তা পরিষ্কার ছিল না। হাইকোর্টের রায়ে সংবিধানের সংশ্লিষ্ট কয়েকটি অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, কারও কাছে সরকারের অর্থ পাওনা না থাকলে সরকার কোনো অর্থ আদায় করতে পারে না।
আমাদের মনে হয়, আইনানুগ পন্থা সব সময়ের জন্য সর্বোত্কৃষ্ট। সংবিধানের নির্দেশনা ও সুস্পষ্ট আইনি হাতিয়ার বিদ্যমান থাকা অবস্থায় অন্যায়-অপরাধের প্রতিকার করতে সংবিধান ও আইনের বাইরে যাওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ভবিষ্যতে এটা মনে রাখলে জাতির কল্যাণ হবে।

কৃত্রিম কর্নিয়ায় দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেলেন তাঁরা

পরীক্ষাগারে তৈরি করা কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে সুইডেনের ১০ জন রোগীর দৃষ্টিশক্তি ভালো হয়েছে। সম্প্রতি সায়েন্স ট্রান্সলেশনাল মেডিসিন সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রে এ কথা জানানো হয়েছে। সুইডেনের লিনকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা কৃত্রিম কর্নিয়ার নিরাপত্তার দিকটি পরীক্ষার জন্য ওই ১০ জনের চোখে তা প্রতিস্থাপন করেন এবং দেখেন এর মাধ্যমে ওই চোখের রোগীদের দৃষ্টিশক্তিরও উন্নতি হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই প্রথম কৃত্রিম কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে রোগীর দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়েছে।
বিজ্ঞানীরা জানান, পরীক্ষাগারে সম্পূর্ণ কৃত্রিমভাবে এই কোষ (টিস্যু) তৈরি করা হয়েছে। রোগীদের চোখের ক্ষতিগ্রস্ত কোষ সরিয়ে সেখানে ‘বায়োসিনথেটিক’ এই কোষ প্রতিস্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে চোখের বিদ্যমান কোষ ও স্নায়ুগুলো ওই কৃত্রিম কর্নিয়াকে চোখের সঙ্গে মিলিয়ে নেয়। প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক ওই অস্ত্রোপচারের পর দেখা গেছে মানব চোখ থেকে নেওয়া কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মতোই সফল হয়েছে কৃত্রিম এই কর্নিয়া প্রতিস্থাপন।
লিনকোপিং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মে গ্রিফিথ বলেন, ‘অস্ত্রোপচারের ফল দেখে আমরা খুবই খুশি। এই পরীক্ষা প্রথমবারের মতো প্রমাণ করেছে, মানব চোখের সঙ্গে কৃত্রিম কর্নিয়ার সমন্বয় সম্ভব। গবেষণার আরও অগ্রগতি হলে কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে দৃষ্টিশক্তির উন্নয়ন সম্ভব এমন লাখ লাখ রোগী উপকৃত হবে।’
বিজ্ঞানীরা জানান, যে ১০ জনের চোখে কৃত্রিম কর্নিয়া স্থাপন করা হয় তাদের মধ্যে ছয়জন আগে যে দূরত্বে বস্তু দেখতে পেত, এখন তার চেয়ে চারগুণ বেশি দূরের বস্তু দেখতে পায়। বাকি চারজনেরও দৃষ্টিশক্তির উন্নতি হয়েছে।
ফাইব্রোজেন নামের একটি কোম্পানি ছত্রাক ‘ইস্ট’ ও মানব ডিএনএ সিকোয়েন্স ব্যবহার করে এই কৃত্রিম কর্নিয়া তৈরি করেছে।

চীনে গেছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং ইল

উত্তরসূরি নির্বাচন নিয়ে আলোচনার জন্য চীনে গেছেন উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং ইল। সঙ্গে আছেন ছোট ছেলে কিম জং উন। ধারণা করা হচ্ছে, উনের প্রতি চীনের সমর্থন আদায়ের জন্যই ইলের এই সফর। চীন উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং খাদ্য, জ্বালানিসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছুর জন্য সরাসরি চীনের ওপর নির্ভরশীল।
আগামী মাসে উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি বিশেষ বৈঠকে বসবে। ওই বৈঠকেই নির্ধারণ করা হবে, অন্যান্য দেশ থেকে বিচ্ছিন এই কমিউনিস্ট দেশটির পরবর্তী কর্ণধার কে হবেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, উত্তর কোরীয় পার্লামেন্ট শেষ পর্যন্ত ইলের ছেলে কিম জং উনকেই তাদের পরবর্তী নেতা হিসেবে বেছে নেবে।

মিয়ানমারে একতরফা নির্বাচনের আশঙ্কা

মিয়ানমারে ভোট বর্জন, কঠোর নির্বাচনী নীতিমালা ও একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ বিরোধী নেতার পদত্যাগে সে দেশে একতরফা নির্বাচনের জোরালো আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দুই দশক পর আগামী ৭ নভেম্বর মিয়ানমারে প্রথমবারের মতো যে নির্বাচন হতে যাচ্ছে, শেষ পর্যন্ত তা প্রহসনে পরিণত হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা বলেছেন, গণতন্ত্রপন্থী দলগুলো ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার কারণে জান্তা সরকারের মদদপুষ্ট দল যে আগামী নির্বাচনে সব কটি আসনে জয়ী হবে, সে বিষয়টি একরকম নিশ্চিত হয়ে গেছে।
ন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সের (এনডিএফ) খিন মুয়াঙ স্যুই গতকাল বৃহস্পতিবার আসন্ন নির্বাচনে দাঁড়াবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। গত সপ্তাহে ইউনিয়ন ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (ইউডিপি) নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়। ওই দলের প্রধান পিও মিন থেইন বর্তমান সরকারের অধীনে স্বচ্ছ নির্বাচন অসম্ভব দাবি করে ১৫ আগস্ট দলীয় প্রধানের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
অন্যদিকে বিরোধী নেত্রী অং সান সু চি গত মঙ্গলবার তাঁর সদ্য বিলুপ্ত দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেতাদের নির্বাচনে অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। নির্বাচনে দলের জন্য বিপুল অঙ্কের নিবন্ধন ফি রাখা, প্রচারণার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ, সামরিক এজেন্টদের ভয়ভীতি প্রদর্শন প্রভৃতি কারণ দেখিয়ে তাঁরা নির্বাচন থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গত সপ্তাহে ঘোষিত নির্বাচনী আচরণবিধিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীরা প্রচারণা সভা করতে অথবা পোস্টার ছাপাতে চাইলে আগে থেকে প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে এবং প্রচারণায় সামরিক কর্তৃপক্ষের যেকোনো ধরনের সমালোচনা অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। এ ছাড়া ওই বিধিতে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচনী মিছিলে পতাকা বহন এবং স্লোগান দেওয়ার ওপর প্রয়োজনে নিষেধাজ্ঞা আরোপেরও ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এসব কারণে সরকারবিরোধী গণতন্ত্রমনা দলগুলো নির্বাচন থেকে দূরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
থাইল্যান্ডে অবস্থানরত বর্মি শিক্ষাবিদ অঙ নাইং ও বলেছেন, জান্তাপ্রধান থান শয়ের একমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হলো বিরোধী দলগুলোর মধ্যে বিভক্তি অব্যাহত রেখে নিজের গদি নিষ্কণ্টক রাখা। এ ক্ষেত্রে সরকারের পরিকল্পনামতোই সবকিছু এগোচ্ছে।
বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে একমত পোষণ করে বহু বিশ্লেষক বলেছেন, সেনাবাহিনী থেকে সম্প্রতি অবসর নেওয়া কর্মকর্তাদের নিয়ে জান্তা সরকার দি ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি) গঠন করেছে। তাঁরা বলেছেন, সরকার যেসব নির্বাচনী বিধিবিধান জারি করেছে তাতে ইউএসডিপি যদি ভোটে কারচুপি না-ও করে, তবুও সব আসনে তাদের জয় হবে।

ফিলিপাইনে এবার বাস থামিয়ে চারজনকে হত্যা

গতকাল বৃহস্পতিবার ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে পুলিশের পোশাক পরা বন্দুকধারীরা একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে পুলিশের দুই মার্শালসহ চারজনকে গুলি করে হত্যা করেছে। কর্মকর্তারা এ কথা জানান।
ম্যানিলায় চাকরিচ্যুত এক পুলিশকর্মীর গুলিতে হংকংয়ের আট পর্যটক নিহত হওয়ার তিন দিন পর এ ঘটনা ঘটল। পুলিশ জানায়, হামলাকারীরা হত্যাকাণ্ডের পর বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়।

রাশিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে ইরানের পরমাণু জ্বালানি উত্পাদনের প্রস্তাব

ইরানের বুশেহেরে স্থাপিত পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্রে ও ভবিষ্যতে বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যবহারের জন্য মস্কোর সঙ্গে যৌথভাবে পরমাণু জ্বালানি উত্পাদনের প্রস্তাব দিয়েছে তেহরান। ইরানের অ্যাটমিক অ্যানার্জি অর্গানাইজেশনের প্রধান আলী আকবর সালেহির বরাত দিয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা এ তথ্য জানায়।
সালেহি বার্তা সংস্থা ইরনাকে বলেন, পরমাণু জ্বালানি উত্পাদনের লক্ষ্যে আমরা মস্কোকে একটি কনসোর্টিয়াম গঠনের প্রস্তাব দিয়েছি। কনসোর্টিয়াম অনুযায়ী, কিছু জ্বালানি রাশিয়ায় এবং কিছু জ্বালানি ইরানে উত্পাদন করা হবে। মস্কো প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখছে। সালেহি আরও বলেন, তেহরান তার ইউরেনিয়াম উত্পাদন ও তা পরমাণু জ্বালানিতে রূপান্তর করার সক্ষমতা বিশ্বকে দেখিয়ে দেবে।
গত সপ্তাহে ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে বুশেহেরে প্রথম পরমাণু বিদ্যুেকন্দ্রে রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহ করতে শুরু করেছে। আগামী ১০ বছর কেন্দ্রটিতে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ করার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য রাশিয়া ইরানের বিরুদ্ধে গত জুন মাসে আরোপিত সর্বশেষ অবরোধের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের অভিযোগ, বেসামরিক পরমাণু কর্মসূচির আড়ালে দেশটি পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার চেষ্টায় প্রাণ দিলেন তাঁরা

মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চলে একটি খামার থেকে যে ৭২টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে, তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনপ্রত্যাশী ছিলেন। সরকারি কর্মকর্তারা এ কথা জানান। উদ্ধার করা ৭২টি মৃতদেহের মধ্যে ৫৮টি পুরুষের, ১৪টি নারীর। কর্মকর্তারা বলেন, এই পুরুষ ও নারীরা দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকা থেকে এসেছেন।
তামাউলিপাস প্রদেশে সন্দেহভাজন একটি মাদক পাচারকারী চক্রের সঙ্গে গত মঙ্গলবার নৌবাহিনীর সদস্যদের বন্দুকযুদ্ধের পর সেনারা এই মৃতদেহগুলোর সন্ধান পায়।

মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপিত

মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকী উদ্যাপন করা হয়েছে গতকাল বৃহস্পতিবার। জন্মদিনে তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেছে কলকাতার মানুষ। ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট মাদার তেরেসা জন্মগ্রহণ করেন। অসুস্থ ও দরিদ্র ভারতীয়দের সেবায় নিজেকে উত্সর্গ করেছিলেন এই মহীয়সী নারী।
মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে কলকাতায় মিশনারিজ অব চ্যারিটির সদর দপ্তরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঁচির কার্ডিনাল টেলেসফোর প্লাসিডাস টোপ্পো। শত শত নান, যাজক ও স্বেচ্ছাসেবী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। ৬০ বছর আগে মাদার তেরেসা এই মিশনারিজ অব চ্যারিটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
দুই ঘণ্টার ওই অনুষ্ঠানে যোগ দেয় কলকাতার অনেক বস্তিবাসীও।
জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল কলকাতার শিয়ালদহ স্টেশনে মাদার এক্সপ্রেস ট্রেনের উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয়রেলমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। কলকাতায়মিশনারিজ অব চ্যারিটির দপ্তর ফুল ও মোমবাতি দিয়ে সাজানো হয়।
মিশনারিজ অব চ্যারিটির প্রধান সিস্টার মেরি প্রেমা অনুষ্ঠানে বলেন, মাদার তেরেসার জীবন ও কর্ম সব পেশার, ধর্মের ও জাতির ধনী, দরিদ্র, তরুণ ও বয়স্কদের অব্যাহতভাবে অনুপ্রেরণা জুগিয়ে যাবে।
মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মাদার তেরেসার সম্মানে মুদ্রা চালুর পরিকল্পনা করেছে ভারত সরকার।
এছাড়া আলবেনিয়া, মেসিডোনিয়া ও কসোভোতেও মাদার তেরেসার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

ভারতে পরমাণু বিলের সমালোচনায় ব্যবসায়ীরা

ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে গত বুধবার অনুমোদিত বেসামরিক পরমাণু প্রযুক্তি আমদানি-সংক্রান্ত বিলের সমালোচনা করেছেন দেশটির ব্যবসায়ীরা। তাঁরা বলেছেন, এই বিলে একটি কড়া শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
অনুমোদিত এ বিলের একটি ধারায় বলা হয়েছে, পরমাণু স্থাপনা প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পর্যন্ত কোনো দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে পরমাণু সরঞ্জাম ও কাঁচামাল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ক্ষতিপূরণ এবং বিনা মূল্যে সেবা দিতে বাধ্য থাকবে। তবে দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিরা কারও বিরুদ্ধে মামলা করতে পারবে না। এই শর্তের কারণে ভারতের পরমাণু খাতের বিকাশ ব্যাহত হবে বলে ব্যবসায়ীরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
ফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফআইসিসিআই) উপদেষ্টা অঞ্জন রায় বলেছেন, ‘এ শর্তের কারণে আমাদের পরমাণু উত্পাদন ক্ষমতা প্রভাবিত হবে। বিলটিতে সরবরাহকারীদের ক্ষেত্রে অনেক বর্ধিত বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’
অন্য প্রভাবশালী ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জি বলেন, ভারতের পরমাণু খাত বিকাশের ক্ষেত্রে বিলটিতে উল্লিখিত ‘দায়বদ্ধতা মেয়াদ’ বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে। কঠিন এ শর্তের কারণে ভারতে পরমাণু অবকাঠামোশিল্পের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ভারতীয় পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে বুধবার বহুল আলোচিত এ পরমাণু বিল অনুমোদিত হয়। বিলটি অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বিদেশি বেসরকারি পরমাণু প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ভারতে দেড় হাজার কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হলো।
২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পাদিত ভারতের ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তির অংশ হচ্ছে এই পরমাণু বিল। বিলটি নিয়ে ক্ষমতাসীন দল কংগ্রেস ও বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। পার্লামেন্টে দীর্ঘ বিতর্কের পর কণ্ঠভোটের মাধ্যমে বিলটি অনুমোদিত হয়।
প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং বলেছেন, এ বিল অনুমোদনের ফলে তিন দশকের বিতর্কের অবসান হয়েছে। নিম্নকক্ষে অনুমোদিত এ বিল এখন পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাঠানো হবে। সেখানে বিলটি অনায়াসে পাস হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

‘ওয়েতজি’ খুন হয়েছিল

আল্পস পর্বতের তুষারের নিচ থেকে পাঁচ হাজার বছরের পুরোনো বরফমানব (আইসম্যান) ‘ওয়েতজি’ খুন হয়েছিল বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। তাকে সম্ভবত কবর দেওয়া হয়েছিল। পর্বতের ইতালীয় অংশে পাওয়া ওয়েতজির মমি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, তীরের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছিল।
এই গবেষণায় নেতৃত্ব দেন রোমের ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব প্রিহিস্ট্রি অ্যান্ড এথনোলজির অধ্যাপক লুকা বনদিওলি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির গবেষকেরা মিলে এই দলটি গঠন করেন। গবেষণাবিষয়ক নিবন্ধ অ্যান্টিকুইটি সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। ১৯৯১ সালে ইতালি ও অস্ট্রিয়ার মধ্যবর্তী আল্পস সীমান্তে ওয়েতজির ওই মমি হওয়া লাশ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে ধারণা করা হয়েছিল, এটি আধুনিক যুগের কোনো পর্বতারোহীর মৃতদেহ।
মমিটি নিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানতে পারেন, মৃত্যুর কয়েক মাস পর ওয়েতজির লাশ পর্বতের একটি অংশে নিয়ে কবর দেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে সেখানেই লাশটি পাওয়া যায়।
বিজ্ঞানীদের মতে, যেখানে মমিটি পাওয়া গেছে, তা ওয়েতজির হত্যাকাণ্ডের দৃশ্যপট নয়। এটি স্রেফ একটি কবরস্থান। স্থানীয়ওটস উপত্যকা থেকে এর ডাকনাম দেওয়া হয় ‘ওয়েতজি’। এটি ইউরোপের প্রাকৃতিকভাবে সংরক্ষিত প্রাচীনতম মমি। ইউরোপে তাম্রযুগের এ রকম মমি আগে পাওয়া যায়নি।

প্রীতিলতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হোন

ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের নেত্রী ও মাস্টারদা সূর্য সেনের সহযোদ্ধা প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা প্রীতিলতার চেতনায় উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। কলকাতার বেথুন কলেজে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া জন্মশতবর্ষের অনুষ্ঠানে এই আহ্বান জানানো হয়। প্রীতিলতা ১৯৩০ থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত এই বেথুন কলেজের ছাত্রী ছিলেন। এখানেই অধ্যয়নকালীন তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন।
প্রীতিলতার জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে বেথুন কলেজ আয়োজন করেছে বছরব্যাপী নানা অনুষ্ঠানের, যার শুরু গতকাল। সকালে এর উদ্বোধন করেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী সুদর্শন রায় চৌধুরী, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সুরঞ্জন দাস, পশ্চিমবঙ্গের আর্কাইভের প্রধান অধ্যাপক অতীশ দাসগুপ্ত, বেথুন কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি অধ্যাপিকা ভারতী রায় প্রমুখ। এ ছাড়া বিশেষ আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন এবং নারীনেত্রী, গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক মালেকা বেগম।
মুখ্যমন্ত্রী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করে বলেন, প্রীতিলতার মতো দেশপ্রেমিক স্বাধীনতা সংগ্রামীর আজ বড় প্রয়োজন। পরে প্রীতিলতার সংগ্রামী জীবনের এক প্রদর্শনীরও উদ্বোধন করেন বুদ্ধদেব।
প্রসঙ্গত, ১৯৩২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পাহাড়তলীর ইউরোপিয়ানদের ঘাঁটিতে সাতজন সহযোদ্ধাকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন প্রীতিলতা পিস্তল, বন্দুক ও বোমা নিয়ে। ১৩ জনকে হত্যা ও ১১ জনকে আহত করেছিলেন তাঁরা। এরপর সহযোদ্ধারা ফিরে আসতে পারলেও তিনি ফিরে আসার পথে বাধা পেয়ে, ব্রিটিশদের হাতে ধরা না দিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শুরুর আগে মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য বেথুন কলেজে নবনির্মিত প্রীতিলতা ভবনের উদ্বোধন করেন।

‘সনস অব ইরাক’ এখন ‘সনস অব আমেরিকা’

যুদ্ধোত্তর ইরাকে আল কায়েদা দমন অভিযানে মার্কিন বাহিনীর পাশে যেসব সুন্নি মিলিশিয়া অস্ত্র হাতে দাঁড়িয়েছিল দখলদার বাহিনী আদর করে তাদের নাম দিয়েছিল ‘সনস অব ইরাক’। সুন্নি মিলিশিয়ারা ওই নাম গর্বের সঙ্গে গ্রহণও করেছিল। তারা ‘সাহ্ওয়া’ (জাগ্রত) বাহিনী নামেও পরিচিত। কিন্তু মার্কিন সেনারা ইরাক ছাড়তে শুরু করায় এখন পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। সনস অব ইরাক এখন ‘সনস অব আমেরিকা’ হিসেবে আখ্যায়িত হচ্ছে। প্রতিশোধপ্রবণ ইরাকিরা তাদের বিশ্বাসঘাতক ও মার্কিন বাহিনীর দালাল মনে করছে। মার্কিন বাহিনীর ছত্রচ্ছায়া সরে যাওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে তারা।
২০০৬ ও ২০০৭ সালে যখন ইরাকে শিয়া-সুন্নিদের মধ্যে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা তুমুল আকার ধারণ করে তখন সাহ্ওয়া বাহিনী গৃহযুদ্ধ বন্ধে বিশেষ ভূমিকা রাখে। ওই সময় ইরাকভিত্তিক আল কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে ওই বাহিনী সোচ্চার হয়। ওই বাহিনীর সর্বোচ্চ সদস্যসংখ্যা ছিল এক লাখ ১৮ হাজার। রাজধানী বাগদাদসহ ইরাকের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তারা মার্কিন বাহিনীর সহযোগী হিসেবে ছড়িয়ে ছিল।
চলতি মাসে সাহ্ওয়া বাহিনীর কয়েক ডজন সদস্যকে গুপ্ত ঘাতকেরা মেরে ফেলেছে। এ বাহিনীর চিহ্নিত নেতা-কর্মীর বাড়িতে যখন-তখন হামলা চালানো হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, যে ইরাককে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য তারা জানপ্রাণ দিয়ে লড়েছে, আজ সেই ইরাকের সরকার তাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।
বাগদাদের উত্তরাঞ্চলীয় সুন্নি অধ্যুষিত সালাহউদ্দীন প্রদেশের সামারা এলাকার সাহ্ওয়া বাহিনীর কমান্ডার মজিদ হাসানের বাড়িতে গত ১৩ আগস্ট সন্ত্রাসীরা বোমা হামলা চালায়। এতে তিনি নিজে এবং তাঁর পরিবারের তিন সদস্য গুরুতর আহত হন।
মজিদ বলেন, ‘মার্কিন বাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার করার আগেই আমাদের ওপর যদি এভাবে হামলা হয় তাহলে তারা চলে যাওয়ার পর কী অবস্থা হবে? সন্ত্রাসীরা আমাদের বলছে, ‘তোরা হলি সনস অব আমেরিকা (আমেরিকার পুত্র) । মার্কিন বাহিনী দেশ ছাড়ার পর তোদের একটাকেও জ্যান্ত ছাড়া হবে না।’
২০০৯ সালের এপ্রিলে সাহ্ওয়া বাহিনীর ২০ শতাংশ সদস্যকে সরকার পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। বাকিদের মধ্যে অনেককে অন্যান্য বেসামরিক ক্ষেত্রে চাকরি দেওয়ারও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রায় ৫০ হাজার সনস অব ইরাক নতুন চাকরির আশায় দিন গুনছে। তবে তাদের নেতারা বলছেন, চাকরি-বাকরির চেয়ে এখন তাদের যেটি বেশি প্রয়োজন সেটি হলো নিরাপত্তা।

যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার পরিকল্পনার সমালোচনা করলেন কারজাই

২০১১ সালের জুলাইয়ে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহার করার পরিকল্পনার সমালোচনা করেছেন প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই। কারজাই বলেছেন, এমন সিদ্ধান্ত তালেবান বিদ্রোহীদের মনোবলকে বৃদ্ধি করবে। তিনি বলেন, ‘যত দিন পাকিস্তানে তালেবানদের আশ্রয় থাকবে, তত দিন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করা সম্ভব নয়।’
কাবুলে যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস পরিদর্শক দলের সঙ্গে এক বৈঠকে কারজাই এসব কথা বলেন। পরে এ বিষয়ে তিনি সরকারি বিবৃতি দেন। এক বিবৃতিতে কারজাই বলেছেন, ‘যুদ্ধবিধ্বস্ত আফগানিস্তানের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এখনো প্রক্রিয়াধীন। কিন্তু ন্যাটোর মিলিটারি অভিযানে অসংখ্য বেসামরিক লোকের মৃত্যুর ফলে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ব্যাহত হচ্ছে।’ কারজাই পাকিস্তানের বিভিন্ন সীমান্তে সন্ত্রাস নির্মূলকে গুরুত্ব না দেওয়ার সমালোচনা করেন।
বিবিসির সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে কারজাই সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা রানজিন দাদফার স্পান্টা বলেছেন, ‘আফগানিস্তানে তালিবানবিরোধী যুদ্ধ যথেষ্ট নয়। এমনকি যদি আমরা তালেবান, আল-কায়েদা ও অন্যান্য সন্ত্রাসী দলকে পরাজিতও করি, তাদের প্রধান কেন্দ্রগুলোকে ধ্বংস করতে পারব না। যুদ্ধে জয়লাভ করা তাই অসম্ভব।’
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র তালেবান নির্মূলে ২০০৯ সালের ডিসেম্বর থেকে আফগানিস্তানে ৩০ হাজার অতিরিক্ত সেনা পাঠিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি পত্রিকা কারজাইর একজন উপদেষ্টা মোহাম্মদ জিয়া সালেহীর সিআইএ সম্পৃক্ততার ওপর প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি রীতিমতো সিআইএ থেকে ভাতা পেয়ে থাকেন।

স্কাইট্রাক্সের পুরস্কার পেল এমিরেটস

এমিরেটস এয়ারলাইন্স সম্প্রতি স্কাইট্রাক্স ওয়ার্ল্ড এয়ারলাইনের পুরস্কার লাভ করেছে। এ নিয়ে এমিরেটস ষষ্ঠবারের মতো ইনফ্লাইট বিনোদন ক্যাটাগরিতে সেরা বিমান সংস্থা হিসেবে এই পুরস্কার পেয়েছে।
এমিরেটস করপোরেট কমিউনিকেশন্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্যাট্রিক ব্রানেলি সম্প্রতি জার্মানির হামবুর্গে স্কাইট্রাক্সের চেয়ারম্যান অ্যাডওয়ার্ড প্লেইস্টেডের কাছ থেকে এই পুরস্কার গ্রহণ করেন।
বিমান পরিচালনার ক্ষেত্রে ইনফ্লাইট বিনোদনের জন্য এমিরেটস নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও মানের ওপর জোর দিয়ে চলেছে। ২০০৩ সাল থেকে ইনফ্লাইটে অডিও-ভিডিওসহ তথ্য, যোগাযোগ ও বিনোদন (আইস) ব্যবস্থা চালু করার পর থেকে এই সংস্থা প্রতিনিয়ত এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে।

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে রহিমআফরোজের শোরুম উদ্বোধন

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে গত মঙ্গলবার রহিমআফরোজ ডিস্ট্রিবিউশন প্রথমবারের মতো একটি এক্সক্লুসিভ ইলেকট্রনিকস শোরুমের উদ্বোধন করেছে।
শোরুমের উদ্বোধন করেন রহিমআফরোজ ডিস্ট্রিবিউশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুদাসসির মঈন। আরও উপস্থিত ছিলেন বিভাগীয় সিও পারভেজ সাইফুল ইসলাম, ইলেকট্রনিকস বিজনেস প্রধান ইয়ামিন শরীফ চৌধুরী, অটোমেটিভ বিজনেস প্রধান কাজী জাভেদ ইসলাম, ন্যাশনাল ইলেকট্রনিকসের স্বত্বাধিকারী মো. সোহেল প্রমুখ।
রহিমআফরোজ এক্সক্লুসিভ ইলেকট্রনিকস শোরুমে কোরিয়ান ব্র্যান্ড দেইউর এলসিডি টিভি, সিটিভি, এসি, রেফ্রিজারেটর, মাইক্রোওয়েভ ওভেন এবং ওয়াশিং মেশিনের পাশাপাশি জিই কনজ্যুমার লাইটিং, হেগারের ইলেকট্রনিকস পণ্যসামগ্রী এবং সেই সঙ্গে রহিমআফরোজের আইপিএস, ইউপিএস এবং ভিএস পাওয়া যাবে।
দেইউ সাম্প্রতিক ‘ঈদ বোনাস’ অফারটি শুধু রহিমআফরোজ এক্সক্লুসিভ ইলেকট্রনিকসের এ শোরুমের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, যেখানে ক্রেতারা স্ক্যাচ কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে আকর্ষণীয় উপহার অথবা নিশ্চিত ছাড়ের সুযোগ লাভ করবেন।

সাত দিনের নোটিশ ছাড়া এসএনডিতে সুদ হবে না

বিশেষ নোটিশ আমানত (স্পেশাল নোটিশ ডিপোজিট বা এসএনডি) হিসাব থেকে টাকা তোলার কমপক্ষে সাত দিন আগে নোটিশ না দিলে গ্রাহককে সে মাসে কোনো সুদ দেওয়া যাবে না। পেছনের তারিখ (ব্যাক ডেট) দিয়েও কোনো নোটিশ গ্রহণ করা যাবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক গতকাল বৃহস্পতিবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে এ নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে কেন্দ্রীয় ব্যাংক গত ১৬ মে এসএনডি হিসাব পরিচালনার জন্য একটি নীতিমালা ঘোষণা করে। নীতিমালায় এসএনডি হিসাব থেকে টাকা তোলার জন্য গ্রাহককে কমপক্ষে সাত দিনের নোটিশ দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়।
তার পরও গ্রাহকেরা নোটিশ ছাড়াই এই হিসাব থেকে টাকা তুলছেন—এমন তথ্য পাওয়ায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক গতকাল নতুন এই নির্দেশ জারি করেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের একটি সূত্র জানায়, তাদের নীতিমালা থাকার পরও দেখা যাচ্ছে, অনেকেই এই নিয়ম অনুসরণ করছে না। এ কারণে তারা সুদ বিতরণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ দিয়েছে।
এসএনডি হিসাবটি এক ধরনের ‘কারেন্ট একাউন্ট’ বা চলতি হিসাব। চলতি হিসাবে গ্রাহকদের কোনো সুদ দেওয়া হয় না। তবে এসএনডি হিসাবে সুদ দেওয়া হয়। এই হিসাবে সুদের হার সঞ্চয়ী হিসাব থেকে কম হতে হয়।
অন্য হিসাবের মতো এর জন্য পৃথক চেক বই রয়েছে। এসএনডি হিসাবে সাধারণত বড় অঙ্কের আমানত থাকে। আগাম নোটিশ ছাড়া এই হিসাব থেকে টাকা তুললে অনেক সময় ব্যাংক সমস্যায় পড়ে। এ কারণে নোটিশ ছাড়া টাকা তোলার ওপর শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
এসএনডিকে শর্ট টার্ম ডিপোজিট, কল অ্যাকাউন্টস ইত্যাদি নামে অভিহিত করে ব্যাংকভেদে এর ওপর সুদের হারে পার্থক্য তৈরির কিছু দৃষ্টান্ত রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জারি করা নীতিমালায় এ ধরনের হিসাবকে কেবল স্পেশাল নোটিশ ডেপোজিট (এসএনডি) হিসাব নামেই অভিহিত করতে বলা হয়েছে।
নীতিমালায় এই হিসাবে প্রাত্যহিক স্থিতির ওপর সুদ হিসাব করা এবং এই সুদ ষান্মাষিক ভিত্তিতে হিসাবে সংযুক্ত (ক্রেডিট) করার বিধান করা হয়েছে।
নীতিমালায় মেয়াদ সুনির্দিষ্ট না থাকায় সুদের হার আমানতের পরিমাণভেদের ভিত্তিতে কম-বেশি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রাহকভেদে বা মেয়াদের ভিন্নতার কারণে সুদের হারে কোনো পার্থক্য করা যাবে না।
এসএনডি হিসাবের ক্ষেত্রে গড় আমানত স্থিতির ভিত্তিতে পাঁচটি ভাগে সুদের হার ঘোষণা করতে হয় ব্যাংকগুলোকে। যেমন—এক কোটি টাকার কম, এক কোটি ও এর বেশি কিন্তু ২৫ কোটি টাকার কম, ২৫ কোটি ও এর বেশি কিন্তু ৫০ কোটির কম, ৫০ কোটি ও এর বেশি কিন্তু ১০০ কোটির কম এবং ১০০ কোটি ও এর বেশি।

তিন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত ছিল

অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার অভিযোগে আরও তিন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছিল গতকাল। কোম্পানিগুলো হলো: বেক্সিমকো সিনথেটিকস, ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং ও ঢাকা ফিশারিজ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ গতকাল বৃহস্পতিবার লেনদেন চলাকালীন বিভিন্ন সময়ে কোম্পানিগুলোর শেয়ার বেচাকেনা বন্ধ রাখে। গত এক সপ্তাহে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার লেনদেন স্থগিত করা হয়েছে।
ডিএসই বলছে, তারা বিভিন্ন সময় এসব কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে দাম বাড়ার পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ রয়েছে কি না, তা জানতে চেয়েছে। কিন্তু বরাবরের মতো তারা কিছুই জানাতে পারেনি।
গত বুধবার ঢাকা ফিশারিজ কর্তৃপক্ষের কাছে অপ্রকাশিত কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য আছে কি না, তা জানতে চায় ডিএসই। কিন্তু কোম্পানিটি নির্ধারিত সময়ে জবাব দিতে পারেনি। এ কারণে গতকাল দিনের শুরু থেকে কোম্পানিটির লেনদেন বন্ধ করে দেওয়া হয়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে কোম্পানির জবাব ডিএসইতে পৌঁছায়। এতে বলা হয়, শেয়ারের দাম বাড়ার মতো কোনো অপ্রকাশিত তথ্য নেই। এর ভিত্তিতে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে কোম্পানিটির শেয়ার লেনদেন আবার চালু করা হয়।
অন্যদিকে, ডিএসইর অনুসন্ধানের জবাবে বেক্সিমকো সিনথেটিকস এবং ঢাকা ডায়িং কর্তৃপক্ষও কোনো অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য না থাকার কথা জানায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও শেয়ারের মূল্য বাড়ার প্রবণতা থাকায় ১৫ মিনিটের জন্য এ দুই কোম্পানির লেনদেন স্থগিত করা হয়।
ডিএসই বলছে, বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজার পরিস্থিতি: আগের দিনের বড় ধরনের পতন কিছুটা সামলে উঠেছে পুঁজিবাজার। দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই গতকাল বৃহস্পতিবার শেয়ারের মূল্যসূচক সামান্য বেড়েছে। তবে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) গতকাল এক হাজার ২৪৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, আগের দিনের চেয়ে যা ৪৩৬ কোটি টাকা কম। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেন আগের দিনের চেয়ে ৩৭ কোটি টাকা কমে ১১০ কোটিতে নেমে এসেছে।
বাজার বিশ্লেষকেরা বলছেন, এসইসি ঋণ বিতরণ ও ব্যবস্থাপনায় কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তাই বেশির ভাগ ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান শেয়ার কেনার জন্য নতুন করে অর্থায়নে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। কারণ ইতিমধ্যে যেসব ক্ষেত্রে অতিরিক্তি অর্থায়ন করা হয়েছে, তা ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সমন্বয় করতে বলা হয়েছে। আর এসব কারণেই লেনদেন বেশ খানিকটা কমেছে।
এ ছাড়া এসইসি নতুন নির্দেশের পর বাজার পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা বুঝতে বিনিয়োগকারীরাও একটু অপেক্ষার নীতি গ্রহণ করেছে। আগামী রোববার এসইসি দুই স্টক এক্সচেঞ্জসহ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক করবে। এ বৈঠকে কী ধরনের দিকনির্দেশনা আসে, তা দেখার পরই বিনিয়োগকারীদের একটা বড় অংশ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ডিএসইতে গতকাল সাধারণ মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে প্রায় চার পয়েন্ট বেড়ে ছয় হাজার ৬৫৩ পয়েন্ট হয়েছে। সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক আগের দিনের চেয়ে ২৬ পয়েন্ট বেড়ে ১৯ হাজার ৭৬০ পয়েন্ট হয়েছে।

মরিনহো কিছু বলেননি

সবাই তো অবাক। হোসে মরিনহো এভাবে ফ্যাবিও ক্যাপেলোর সমালোচনা করলেন! তবে সবার চেয়ে অবাক হয়েছেন মনে হয় মরিনহো নিজেই। রিয়াল মাদ্রিদ কোচ বিস্মিত ইংলিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মিরর-এর কাণ্ড দেখে। যে কথা তিনি বলেননি, তা এমনভাবে ছেপে দিল ট্যাবলয়েডটি!
গত পরশু ডেইলি মিরর এমন একটা খবর ছাপে যে, মরিনহো ক্যাপেলোর সমালোচনা করে বলেছেন, ইংল্যান্ডের ব্যর্থতার কারণ তাদের ইতালিয়ান কোচ। ‘ক্যাপেলোকে দিয়ে ইংল্যান্ডের কিছু হবে না। ক্যাপেলো ইংল্যান্ডকে বড় কোনো শিরোপা জেতাতে পারবে না। খেলোয়াড়দের সঙ্গে তার সম্পর্কটা একমুখী। আসলে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুধু চিত্কার-চেঁচামেচি করে কিছু হয় না। ওরা যেন আপনাকে বিশেষ ভাবে, সে রকম কিছু হতে হবে’—মরিনহো ডেইলি মিররকে নাকি এমনটাই বলেছিলেন। পত্রিকাটি লিখেছে সেটাই।
এই খবর ছাপা হওয়ার পর কোচের পাশে দাঁড়িয়েছেন ইংল্যান্ডের ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড, ‘আমরা বিশ্বকাপে ভালো খেলিনি ঠিক, কিন্তু এতেই তিনি বাজে ম্যানেজার হয়ে যাননি। অনেক মানুষই খুব বেশি বুঝে ফেলে এবং খুব দ্রুত।’
মরিনহোর কথার সূত্র ধরে ফার্ডিনান্ডের আসলে ক্যাপেলোর পাশে না দাঁড়ালেও চলত। কারণ ডেইলি মিরর-এ খবরটি ছাপা হওয়ার পর বিস্মিত মরিনহো বলেছেন, ‘এটা পুরোপুরি মিথ্যা এবং বানোয়াট খবর।’ ডেইলি মিররকে এমন কথা না বলার বিষয়টি পরশু বিকেলে এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছেন তাঁর মুখপাত্র এলাদিও পারামেস, ‘ডেইলি মিরর-এ ছাপা হওয়া সাক্ষাত্কারটি মিথ্যা। হোসে মরিনহো এই পত্রিকাটির সঙ্গে কথাই বলেননি।’
বানোয়াট খবর ছাপার জন্য মরিনহো ডেইলি মিরর-এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবেন বলেও জানিয়েছেন পারামেস।

জিম্বাবুয়ের অ্যাওয়ার্ড নাইটে আসছেন লারা

ক্রিকেটের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন পেলে! চমকে উঠবেন না, ফুটবলসম্রাট পেলে হঠাৎ ক্রিকেটপ্রেমী হয়ে ওঠেননি। এই ‘পেলে’র নাম ব্রায়ান লারা, জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ওজিয়াস বিভুতে যাঁকে বলছেন ‘ক্রিকেটের পেলে।’ আগামী ৩ সেপ্টেম্বর হারারেতে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে শুধু সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিতই থাকবেন না, প্রধান বক্তাও লারা।
ফুটবলের পেলে না হোক, ‘ক্রিকেটের পেলের’ জিম্বাবুয়েতে যাওয়াকেও যথেষ্ট চমকপ্রদ বলতে হয়। খুব বেশি দিন হয়নি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক প্রকার ‘অচ্ছুত’ ছিল জিম্বাবুয়ে। তবে গত কিছুদিনে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। জিম্বাবুয়ের সাবেকেরা তো বটেই, বিশ্ব ক্রিকেটের সাবেক তারকারাও নানা দায়িত্ব নিয়ে জিম্বাবুয়েতে যাচ্ছেন। পুনর্গঠন-প্রক্রিয়ায় থাকা একটি দেশে লারার মতো একজনের উপস্থিতি দারুণ অনুপ্রেরণা জোগাবে সন্দেহ নেই। লারার সম্মতি পাওয়ার পর তাই উচ্ছ্বাসে ভেসে গেছেন বিভুতে, ‘ব্রায়ান লারার মতো একজন ব্যক্তিত্ব আমাদের মাঝে আসতে রাজি হওয়ায় আমরা সম্মানিত বোধ করছি। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেটের জন্য এটা বড় একটা সম্মানের ব্যাপার। ফুটবলের দিক থেকে বিবেচনা করলে ব্যাপারটা এমন যেন আমাদের বর্ষসেরা ফুটবলার পুরস্কার দিতে আসছেন পেলে।’
অতিথি হিসেবে লারার উপস্থিতিকে বিভুতে দেখছেন অনেক বৃহত্তর পরিসরে, ‘লারার সিদ্ধান্তে আমরা ধন্য হয়ে গেছি। কারণ এতে শুধু ওই অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানটিরই শোভা বাড়বে না; এটাও প্রমাণ করছে, জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথচলায় তিনি একজন সহযোগী। আমরা টেস্ট ক্রিকেটে ফেরার চেষ্টা করছি, এই সময় তাঁর বক্তব্য আমাদের জন্য হবে মূল্যবান।’

আবেদি পেলের আরেক ছেলে

মার্ক ওয়াহর জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছিল ভাই স্টিভ ওয়াহ বাদ পড়ায়। এ নিয়ে আফসোস করতে হয়নি, পরে দুই ভাই মিলে অনেক ইতিহাস তৈরি করেছেন। এবার জর্ডান আইয়ুকে জায়গা করে দিতে বাদ পড়লেন ইব্রাহিম আইয়ু। তবে ঘানা ফুটবল দলে আছেন তাঁদের আরেক ভাই আন্দ্রে আইয়ু।
হঠাৎ এই আইয়ু ভাইদের গল্প কেন? কারা তাঁরা? তাঁরা আবেদি আইয়ুর তিন ছেলে। এতেও বুঝতে পারলেন না? ইব্রাহিম, আন্দ্রে ও জর্ডানের বাবা ঘানার বিখ্যাত সেই আবেদি পেলে! আবেদি পেলের পরিবারটাই যেন ঘানা জাতীয় দলের একটা টুকরো ছবি।
আবেদি পেলের ভাই কাওয়ামে আইয়ুও ঘানার হয়ে ২৫ ম্যাচ খেলেছেন। তার মানে, জর্ডান এই পরিবারের পঞ্চম সদস্য হিসেবে জাতীয় দলে খেলতে যাচ্ছেন। স্বাভাবিকভাবেই তিনি মহা খুশি। এখন স্বপ্ন দেখছেন জাতীয় দলে তিন ভাই একসঙ্গে খেলার।
তিন ভাই শুধু কেন? সংখ্যাটা চারও হতে পারে। ইমানি আইয়ু নামের আবেদি পেলের আরেক ছেলেও তো ফুটবল খেলে।

জিমির জার্মান-যাত্রা নিয়ে ধোঁয়াশা

জার্মানিতে যাওয়ার কথা ১৮ জন হকি খেলোয়াড়ের। সবার ভিসাও হয়ে গেছে। আগামী পরশু রাতেই জার্মানির উদ্দেশে ঢাকা ছাড়বেন তাঁরা। তবে দলের সঙ্গে জার্মানি যাওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে রাসেল মাহমুদ জিমির। পারিবারিক কারণেই জার্মানি যেতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছেন জাতীয় দলের স্ট্রাইকার। কাল অনুশীলনের ফাঁকে জানালেন, ‘আমি এখনই বলতে পারছি না যে জার্মানি যাব। আমার বাবার স্ট্রোক করেছিল কদিন আগে। মাও অসুস্থ। সবার আগে আমার পরিবার। তাই বিষয়টা ভেবে দেখছি।’
তবে রাসেল মাহমুদ নাকি কোচ পিটার গেরহার্ডের কাছে জার্মানি যাওয়ার ব্যাপারে অনীহা প্রকাশ করেছেন আগেই। এ অবস্থায় জিমিকে ছাড়াই জার্মানি যেতে পারে বাংলাদেশ দল। ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক খোন্দকার জামিলউদ্দিন এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না, ‘আমি মাত্র শুনলাম খবরটা। তবে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারছি না। আমি যত দূর জানি, সে জার্মানি যাবে। পিটারকেও (কোচ) সেই কথাই বলেছে। তবে কেউ যদি একান্তই না যেতে চায় সেটা তার ব্যক্তিগত ব্যাপার।’
এই ১৮ জন বাদে এশিয়ান গেমসের জন্য ডাক পাওয়া ১১ জন খেলোয়াড়ের অনুশীলন নিয়মিতই চলবে। তবে আগামী ১ সেপ্টেম্বর আরও ২৫ জন খেলোয়াড়কে অনুশীলনের জন্য ডাকা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক মামুনুর রশীদ। সেখান থেকে ট্রায়ালের মাধ্যমে আরও ১৪ জনকে ক্যাম্পে নেওয়ার পরিকল্পনা নির্বাচক কমিটির।

সংবর্ধিত দুই ক্রীড়ালেখক

২ জুলাই বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে ১৯৯৫ সাল থেকে ক্রীড়ালেখকদের সংবর্ধনা দিয়ে আসছে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি। গত বছর পর্যন্ত ৩১ জন ক্রীড়ালেখককে তা দেওয়া হয়েছে। বিলম্বে হলেও এ বছরের অনুষ্ঠানটা হলো গতকাল। এবার সংবর্ধিত হলেন দুই ক্রীড়ালেখক আখতার হোসেন খান ও সেলিম নজরুল হক।
দুজনই এখন অন্য ভুবনের বাসিন্দা। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সাবেক সচিব আখতার হোসেন খান ২০০৬ সালের রাষ্ট্রপতির সচিব হিসেবে সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেছেন। সেলিম নজরুল হক বর্তমানে উত্তরা ব্যাংকের নির্বাহী মহাব্যবস্থাপক। তবে পেশাগত জীবনের শুরুতে তাঁরা ছিলেন ক্রীড়া সাংবাদিক। ১৯৬৯ সালে বাংলাদেশ অবজারভার-এ ক্রীড়া সাংবাদিকতার শুরু আখতার হোসেন খানের। সক্রিয় ক্রীড়া সাংবাদিকতার পাশাপাশি সাপ্তাহিক রোববার-এর ক্রীড়াপাতা সম্পাদনা করতেন সেলিম নজরুল হক।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অডিটরিয়ামে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই সংবর্ধনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ক্রীড়ালেখক সমিতির সভাপতি রেজাউর রহমান (সোহাগ)। স্বাগত বক্তব্য দেন সমিতির সাধারণ সম্পাদক আরিফ সোহেল। প্রধান অতিথি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার সংবর্ধিত দুজনের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার পর ব্লেজার পরিয়ে দেন।
আবেগাপ্লুত দুজনই বললেন, এটি তাঁদের জীবনে অনেক বড় পাওয়া। আখতার হোসেন খান এই সুযোগে একটা অনুরোধ রাখলেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর কাছে। ভবিষ্যতে এশিয়ান বা কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের চিন্তাভাবনা যেন এখন থেকেই শুরু করে দেয় সরকার।

লর্ডসে বৃষ্টির উৎপাত

গত ১২ দিন সূর্যের মুখ দেখেনি লন্ডন, লর্ডস টেস্টের ভাগ্য নিয়ে শঙ্কা তাই ছিলই। তা সত্যি বলে প্রমাণিত হলো প্রথম দিনেই। আগের রাতের ভারী বৃষ্টির জের আর আলোকস্বল্পতায় নির্ধারিত সময়ের ঘণ্টা তিনেক পরে শুরু হয়ে খেলা হতে পারল ঘণ্টাখানেক। আলোর অভাবে খেলা বন্ধ হওয়ার সময় অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসকে হারিয়ে ইংল্যান্ডের রান ছিল ৩৯। খেলোয়াড়েরা ড্রেসিংরুমে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আকাশ ভেঙে বৃষ্টি নামায় প্রথম দিনে আর খেলাই হয়নি।
ইংল্যান্ডে টস জেতাটা সব সময়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ। কাল গুরুত্ব আরও বেড়ে গিয়েছিল আবহাওয়ার জন্য। গোমড়ামুখো আকাশের নিচে সুইং বোলিংয়ের মুখোমুখি কে-ই বা হতে চায়! গুরুত্বপূর্ণ সেই টসটা জিতেছেন সালমান বাট। তবে যতটা ফায়দা তোলার কথা, ততটা তুলতে পারেনি তাঁর দল। এর কিছু দায় নিজেদের, কিছুটা ভাগ্যের। আসিফ-আমিরের বল অল্পের জন্য ইংলিশ ব্যাটসম্যানদের ব্যাটের কানা ছোঁয়নি অনেকবার। আর আমিরের যে বলটা অ্যালিস্টার কুকের ব্যাটের কানা ছুঁয়ে তৃতীয় স্লিপে গেল, সিরিজের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সেটা ফেলে দিলেন উমর আকমল। কুকের রান তখন ১।
কুক আর সুযোগ দেননি। তবে দুর্দান্ত এক বলে স্ট্রাউসকে আউট করে পাকিস্তানকে ব্রেক থ্রু এনে দেন আসিফ। পরের ওভারেই খেলা বন্ধ। এমন কন্ডিশনে বোলিং করতে না পারায় আফসোস বেশি হওয়ার কথা পাকিস্তানেরই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর: ১২.৩ ওভারে ৩৯/১ (স্ট্রাউস ১৩, কুক ১০ ব্যাটিং, ট্রট ৮ ব্যাটিং; আসিফ ১/১৭)।

‘গ্রুপ অব ডেথে’ রিয়াল-মিলান

মোনাকোতে কাল হয়ে গেল নতুন মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগের ড্র। বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলানের সঙ্গে ‘এ’ গ্রুপে দেখা হচ্ছে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা টটেনহাম হটস্পারের। রানার্স-আপ বায়ার্ন মিউনিখ পড়েছে ‘ই’ গ্রুপে। নয় বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদকে নিয়ে হোসে মরিনহো পরীক্ষা দেবেন সাতবারের চ্যাম্পিয়ন এসি মিলান ও চারবারের চ্যাম্পিয়ন আয়াক্সের সঙ্গে। এটিকে বলা হচ্ছে ‘গ্রুপ অব ডেথ’। তিনবারের চ্যাম্পিয়ন ম্যানইউর ‘সি’ গ্রুপে পড়েছে স্কটল্যান্ডের রেঞ্জার্স ও স্পেনের ভ্যালেন্সিয়া। ‘ডি’ গ্রুপে বার্সেলোনা পেয়েছে সহজ প্রতিপক্ষ—প্যানাথিনাইকস, কোপেন হেগেন। ‘এফ’ গ্রুপে চেলসির সঙ্গী ফরাসি দল মার্সেই। ‘এইচ’ গ্রুপে আর্সেনাল পেয়েছে শাখতার দোনেত্স্ক, স্পোর্টিং ব্রাগাকে। গ্রুপ পর্যায়ের প্রথম রাউন্ডের খেলা শুরু হবে ১৪ ও ১৫ সেপ্টেম্বর। ওয়েম্বলিতে ফাইনাল হবে আগামী বছর ২৮ মে। এএফপি।
কারা কোন গ্রুপে
গ্রুপ ‘এ’ ইন্টার মিলান , ভেরডার ব্রেমেন, টটেনহাম, টুয়েন্টে।
গ্রুপ ‘বি’ লিওঁ, বেনফিকা, শালকে, হ্যাপোয়েল তেল আবিব।
গ্রুপ ‘সি’ ম্যানইউ, ভ্যালেন্সিয়া, রেঞ্জার্স, বার্সাসপর।
গ্রুপ ‘ডি’ বার্সেলোনা, প্যানাথিনাইকস, কোপেনহেগেন, রুবিন কাজান।
গ্রুপ ‘ই’ বায়ার্ন মিউনিখ, রোমা, বাসেল, সিএফআর ক্লুজ।
গ্রুপ ‘এফ’ চেলসি, মার্সেই, স্পার্তাক মস্কো, জিলিনা।
গ্রুপ ‘জি’ এসি মিলান, রিয়াল মাদ্রিদ, আয়াক্স, অজেরি।
গ্রুপ ‘এইচ’ আর্সেনাল, শাখতার দোনেত্স্ক, স্পোর্টিং ব্রাগা, পার্টিজান বেলগ্রেড।

প্রমীলা ফুটবল দলের সঙ্গে পিউমা

অ্যাডিডাস, নাইকি, পিউমার মতো বিশ্বসেরা স্পনসর কোম্পানির সঙ্গে গাঁটছাড়া বাঁধার ব্যাপারটি এত দিন কল্পনাও করতেও পারেনি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তবে এবার সেই সুযোগ করে দিয়েছেন ফিফার পরামর্শক রোনাল্ড আর্নকুইচ। আসন্ন সাফ মহিলা ফুটবলে বাংলাদেশ দলের অফিসিয়াল স্পনসর হচ্ছে বিশ্বখ্যাত ক্রীড়া সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান পিউমা। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আল মুসাব্বির সাদী ব্যাপারটা গতকাল নিশ্চিত করেছেন।
পিউমা বাংলাদেশ দলকে প্রায় ৪০ হাজার ডলারের সমান ক্রীড়াসামগ্রী দেবে। এর মধ্যে রয়েছে টিম জার্সি, টি-শার্ট, জুতা, মোজা, ট্রেনিং বল এবং ইউনিফর্ম। আগামী ৩-১৫ ডিসেম্বর কক্সবাজারে অনুষ্ঠেয় প্রমীলা সাফ ফুটবলে পিউমার লোগো ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। তবে এখনো টুর্নামেন্টের টাইটেল স্পনসর পাওয়া যায়নি। পিউমার সঙ্গে সহযোগী স্পনসর হিসেবে থাকবে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘আমরা নেটওয়ার্ক’। তারা অংশগ্রহণকারী ৮ দলের সেরা আট খেলোয়াড়কে ল্যাপটপও পুরস্কার দেবে।

যেন বাড়ির ছেলের ফেরা

রোনালদিনহো গ্যালারির সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। চারদিক থেকে হর্ষধ্বনি উঠল। জ্বলে উঠল অজস্র ক্যামেরার ফ্লাশ। ম্যাচের আগে গা গরম করতে নামলেন রোনালদিনহো। ন্যু ক্যাম্পের গ্যালারি থেকে ভেসে এল চিত্কার—‘রোনি’, ‘রোনি’। এরপর বার্সা অধিনায়ক কার্লোস পুয়োলের সঙ্গে ল্যাপ অব অনার দিলেন রোনালদিনহো। ন্যু ক্যাম্প সমবেত কণ্ঠে গেয়ে উঠল রোনির জয়গান।
পরশু বার্সেলোনার সমর্থকেরা তাদের প্রিয় রোনালদিনহোকে এমন উষ্ণ ভালোবাসা দিয়েই বরণ করে নিয়েছিল। বার্সার বাত্সরিক আয়োজন হুয়ান গাম্পার ট্রফির এবারের ম্যাচের প্রতিপক্ষ ছিল এসি মিলান। মিলানের জার্সি গায়েই পুরোনো ক্লাবে পা রাখেন রোনালদিনহো। গাম্পার ট্রফির এবারকার আয়োজনটাকে মনে হচ্ছিল রোনালদিনহোময়।
হওয়ারই কথা। ২০০৩ সালে রোনালদিনহো যখন প্রথম বার্সায় নাম লেখান, তখন স্প্যানিশ লিগে বার্সার এমন রমরমা অবস্থা ছিল না। রোনালদিনহো এসে পাল্টে দিলেন চিত্রটা। জাদুকরি ছোঁয়ায় মুগ্ধ করলেন সবাইকে, বার্সাকে জেতালেন স্প্যানিশ লিগ, পরে চ্যাম্পিয়নস লিগও।
সমর্থকদের ভালোবাসার সঙ্গে অন্যরকম সম্মাননাও পেলেন রোনালদিনহো। হুয়ান গাম্পার ট্রফির আনুষ্ঠানিকতাই শুরু হয়েছিল রোনালদিনহোকে সম্মান জানিয়ে। ন্যু ক্যাম্পের বড় পর্দায় ভিডিওচিত্রে ভেসে উঠেছিল বার্সেলোনায় রোনালদিনহোর সেরা কীর্তিগুলো।
তবে পরশুর ম্যাচে এসি মিলানের জার্সি গায়ে তেমন কোনো কীর্তি গড়তে পারেননি রোনালদিনহো। বার্সেলোনা কোচ পেপ গার্দিওলা নিরীক্ষামূলক তরুণ দলকে মাঠে নামিয়েও সফল। তাঁর তরুণ দলই জিতে নিয়েছে ট্রফিটা। ১-১ গোলে ড্র ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। ৩-১ গোলে জিতেছে বার্সেলোনা।
নির্ধারিত সময়ের খেলার আলো নিজেদের ওপর টেনে নিয়েছেন বার্সেলোনার নতুন খেলোয়াড় ডেভিড ভিয়া, এসি মিলানের ফিলিপ্পো ইনজাগি ও আন্দ্রে পিরলো। বার্সার হয়ে প্রথম গোল করে বার্সাকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ভিয়া। সেই গোলটি শোধ করেছেন ইনজাগি। আর পিরলো খেলেছেন দারুণ।
শেষ অংশটা আবার নিজের করে নেন রোনালদিনহো। ৭৭ মিনিটে মার্কেলকে জায়গা করে দিতে মাঠ ছাড়তে হয়েছে তাঁকে। নেমে যাওয়ার সময় আসন থেকে উঠে দাঁড়িয়ে করতালিতে তাঁকে সম্মান জানিয়েছে বার্সার সমর্থকেরা।
এসি মিলানের সাদা জার্সির নিচে পরা সাদা টি-শার্টে লিখে আনা ‘বার্সা, আমি তোমাকে ভালোবাসি’ শব্দগুলো দেখে বার্সেলোনার সমর্থকেরা আপ্লুত। তারা বুঝল, রোনালদিনহো এখনো ভোলেননি বার্সেলোনাকে!

ক্রাউচে সওয়ার টটেনহাম

প্লে-অফের প্রথম লেগটা ইয়ং বয়েজের মাঠ থেকে হেরে এসেছিল ৩-২ গোলে। দ্বিতীয় লেগের আগে একটু দুশ্চিন্তার মধ্যেই ছিলেন টটেনহাম কোচ হ্যারি রেডন্যাপ। কিন্তু তাঁর সেই দুশ্চিন্তা দূর করে দিলেন ইংলিশ স্ট্রাইকার পিটার ক্রাউচ। দুর্দান্ত এক হ্যাটট্রিক করে দ্বিতীয় লেগে দলকে ৪-০ গোলে জিতিয়ে দিয়েছেন তিনি। দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৩ ব্যবধানে ইয়ং বয়েজকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়নস লিগের গ্রুপ পর্বে উঠে গেছে টটেনহাম।
ম্যাচের ৫ মিনিটেই গোল করেন ক্রাউচ। ৩২ মিনিটে দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন জার্মেইন ডিফো। ৬১ ও ৭৮ মিনিটের গোলে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করে ফেলেন ক্রাউচ। টটেনহামকে গ্রুপ পর্বে তুলে দেওয়া ক্রাউচ এবার আরও বড় কিছু করতে চান। সেই ‘বড় কিছু’, দৈত্য দলগুলোকে পেছনে ফেলে নকআউট পর্বে জায়গা করে নেওয়া।

উইকেটে কী আসে যায়

ব্যাটিংয়ের মতো কথাবার্তায়ও বরাবরই সোজাসাপ্টা বীরেন্দর শেবাগ। নিজে যেটা মনে করেন, সেটাই বলে ফেলেন। ডাম্বুলায় পরশু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর সেঞ্চুরিটি না হলে দলের কী অবস্থা হতো? শেবাগের উত্তর, ‘আগামীকালই আমাদের দেশের ফ্লাইট ধরতে হতো।’ অন্যরা রান পাচ্ছে না বলে কি বেশি দায়িত্ব নিয়ে খেলেছেন? ‘যেহেতু আমি ফর্মে আছি, ভাবলাম আমারই বেশি রান করা উচিত। আমি যদি বেশি স্ট্রাইক নিয়ে খেলি, তাহলে অন্যদের আউট হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়!’
পরিকল্পনায় কতটা সফল শেবাগ, সেটা তো সবাই দেখেছেন। ভারতের ২২৩ রানের ১১০-ই এসেছে সেদিন শেবাগের ব্যাট থেকে। নিউজিল্যান্ড করেছিল ১১৮, শেবাগের ইনিংসটি বাদ দিলে ভারতকে টপকেই যায় নিউজিল্যান্ড। কিন্তু ওই ব্যবধানটা গড়ে দেওয়ার জন্যই তো আছেন শেবাগ। ‘একাই দলকে জিতিয়েছেন’—কতজনের সম্পর্কেই তো কতবার বলা হয়েছে। এই টুর্নামেন্টের শেবাগের ক্ষেত্রে এটা শতভাগ সত্যি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি পর্যন্ত ভারতের ফাইনাল খেলার আশা বেঁচে ছিল শেবাগের জন্যই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অপরাজিত ৯৯ করে জিতিয়েছেন দলকে। দুই ম্যাচে শেবাগের ব্যাটে রান নেই, ভারতের জয় নেই। ‘অঘোষিত সেমিফাইনালে’ আবার শেবাগের ব্যাটে রান, জিতে ফাইনালে উঠল ভারত।
সতীর্থদের তো অবশ্যই, পুরো টুর্নামেন্টেই অন্যসব ব্যাটসম্যানকে বিব্রতকর অবস্থা ফেলে দিয়েছেন শেবাগ। মহেন্দ্র সিং ধোনি রাখঢাক না রেখেই বলেছেন, ‘বল এত বেশি মুভ করলে খেলা কঠিন।’ নিউজিল্যান্ডের সিমিং উইকেটে খেলে বড় হওয়া রস টেলরের কাছেও ডাম্বুলার উইকেটকে মনে হচ্ছে দুর্বোধ্য। মুখ ফুটে যারা কিছু বলছে না, তাদের হয়ে কথা বলছে পারফরম্যান্স। অথচ এই উইকেটেই শেবাগকে দেখে মনে হচ্ছে ব্যাটিংয়ের চেয়ে সহজ কাজ আর নেই। টুর্নামেন্টে শেবাগের রান ২৪০, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তিলকরত্নে দিলশানের রান ১২৯। ভারতে শেবাগের পরে সর্বোচ্চ ধোনির ৭৩, পুরো টুর্নামেন্ট মিলেই ৫০ করতে পারেননি আর কেউ!
এবারই অবশ্য প্রথম নয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এক যুগ কাটিয়ে দেওয়ার পরও বিশুদ্ধবাদীরা প্রায়ই যাঁর ব্যাটিংয়ে নানা ফাঁক খুঁজে পান, সেই শেবাগ কিন্তু বরাবরই কঠিন উইকেটে দারুণ সফল। ২০০২-০৩ মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সেই সিরিজটার কথা কে ভুলতে পারে? যে সিরিজ থেকে ০.৬৬ গড় নিয়ে ফিরেছিলেন শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলীর গড় ছিল ৮.২৮, লক্ষ্মণের ১৩.০০, সেই সিরিজেই অসাধারণ দুটি সেঞ্চুরি করেছিলেন শেবাগ। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে তাঁর সর্বোচ্চ গড় সুইং বোলারদের স্বর্গ নিউজিল্যান্ডেই, ৫৪.৩৬!
নিউজিল্যান্ডকে পেলেই অবশ্য চওড়া হয়ে যায় তাঁর ব্যাট। ২০০১ সালে কিউইদের বিপক্ষেই ৬৯ বলে সেঞ্চুরি করে বিশ্ব ক্রিকেটকে আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন, ২০০২-০৩ সিরিজের ওই সেঞ্চুরি দুটি তো আছেই, গত বছরই হ্যামিল্টনে করেছেন ৭৪ বলে অপরাজিত ১২৫। সব মিলিয়ে তাঁর ১৩ ওয়ানডে সেঞ্চুরির ৬টিই কিউইদের বিপক্ষে। শেবাগের সেঞ্চুরি মানেই প্রতিপক্ষের দুমড়েমুচড়ে যাওয়া, এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ ১৩ সেঞ্চুরির ১২টিতেই জিতেছে ভারত।
৯৩ বলে ১১০—পরশুর ইনিংসটাও ‘শেবাগীয় ইনিংস’। তবে শুরুতে ছিলেন বেশ সাবধানী। কারণটাও ব্যাখ্যা করলেন, ‘এদিন উইকেটের আচরণ অন্যদিনগুলোর চেয়ে একটু ভালো ছিল। বুঝতে পারছিলাম প্রথম কয়েকটা ওভার সতর্কভাবে পার করে দিতে পারলেই উইকেট ব্যাটিং উপযোগী হয়ে যাবে। এ জন্যই শুরুতে একটু ধরে খেলে পরে শট খেলা শুরু করেছি। জানতাম, শট খেলা শুরু করলেই বোলাররা আলগা বল করতে শুরু করবে।’
ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও নিশ্চয়ই এমন খেলতে চাইবেন শেবাগ। দলের জয়, শিরোপা এসবের সঙ্গে সেই ‘অপরাজিত ৯৯’-এর হিসাব চুকানোর ব্যাপারটাও তো আছে!