Sunday, January 10, 2010

সততার এই মূল্য by বিশ্বজিত্ চৌধুরী

রাজনীতি ও রাজনীতিকদের কথায় কথায় তুলোধোনা করি আমরা। নিশ্চয় যুক্তিসংগত কারণও আছে এর। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার সুযোগ এখানে নেই। শুধু মোটা দাগে বলা চলে, সমাজ ও রাষ্ট্রের যাবতীয় দুর্দশার দায় যে এই নেশা ও পেশার ব্যক্তিদের ওপর অনেকটাই বর্তায়, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু এই প্রচলিত ধারণার বাইরে অবস্থান করেন এমন রাজনীতিক ও রাজনীতি যে আমাদের সমাজে এখনো আছে, সে কথা কি ভুলতে বসেছি আমরা? তাঁদের ত্যাগ ও অবদানের কতটা প্রতিদান দেয় এই দেশ? জানি, ব্যতিক্রম কখনোই নিয়ম নয়, কিন্তু এই উজ্জ্বল ব্যতিক্রম যদি প্রকৃত মর্যাদা থেকে বঞ্চিত হয়; তাহলে দেশপ্রেম, সততা ও সদিচ্ছার মতো শব্দগুলো একসময় অভিধানের বাইরে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।
এ কথাগুলো বলা হলো একটা আবেগ থেকে। একজন সত্ ও ত্যাগী রাজনীতিকের জীবন ও পরিণতি এই আবেগের উত্স।
রাজনীতিক হিসেবে মোহাম্মদ ইউসুফ সফল, না ব্যর্থ—এ কথা নির্দ্বিধায় বলতে পারছি না। মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করা, নিজের চেতনা ও কর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা এবং সর্বোপরি জনসমর্থন আদায় করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করা যদি রাজনীতিকের জীবনের সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়, তাহলে তিনি নিশ্চয়ই সফল।
মোহাম্মদ ইউসুফ ১৯৯১ সালে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। এ তথ্য তাঁর কৃতিত্ব বর্ণনার জন্য যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে উল্লেখ করতে হবে, তাঁর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী ফজলুল কাদের চৌধুরীর পরিবারের একজন সদস্য, ইতিপূর্বে যাঁরা ছিলেন প্রায় অপরাজেয়।
এর আগে অনেক মুক্তিযোদ্ধার কথা আমরা শুনেছি, যাঁরা পেটের দায়ে রিকশা চালিয়েছেন, অভুক্ত-অর্ধভুক্ত থেকেছেন, যথার্থ চিকিত্সার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরেছেন। কিন্তু একজন নির্বাচিত সাংসদ এ রকম দুরবস্থায় পড়তে পারেন, সে রকম শুনিনি কখনো। ক্ষমতার এত কাছাকাছি থাকলে দারিদ্র্য দূরে সরে যাবে—এটাই তো ছিল স্বাভাবিক। কিন্তু মোহাম্মদ ইউসুফ তার ব্যতিক্রম। ব্যতিক্রম বলেই হয়তো তাঁর জীবনের পরিণতি করুণ।
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে এক কৃষক পরিবারে জন্মেছিলেন মোহাম্মদ ইউসুফ। স্থানীয় একটি স্কুল থেকে এসএসসি পাস করার পর রাঙ্গুনিয়া কলেজে ভর্তি হন। তখন থেকেই বাম ধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন তিনি। একাধিকবার কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ও জিএস নির্বাচিত হয়েছেন। ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রাঙ্গুনিয়ার গরিব কৃষকদের জমি নিলাম-বিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে সামরিক আইনের বিচারে কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন তিনি। এই মামলার শিরোনাম ছিল ‘রাষ্ট্র বনাম মোহাম্মদ ইউসুফ ও অন্যান্য’। একাত্তরের স্বাধীনতা সংগ্রামেও বড় ভূমিকা ছিল তাঁর। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই এ দেশের বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব অগ্রজ সহকর্মী প্রয়াত চৌধুরী হারুনর রশিদের তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের হেফাজত থেকে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে এসে রাঙ্গুনিয়া কলেজে সহযোদ্ধাদের কাছে বিলি করেছিলেন তিনি।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে রাঙ্গুনিয়া কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করে নিজের আর্থিক নিরাপত্তা ও উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন ছেড়ে শ্রমিক রাজনীতি করার জন্য তিনি যোগ দিয়েছিলেন কর্ণফুলী পাটকলে। এ সময় আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন কমিউনিস্ট পার্টির রাজনীতির সঙ্গে। বেশ কয়েকবার পাটকল সিবিএর সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি।
রাঙ্গুনিয়ায় একসময় কাদের চৌধুরী পরিবারের দাপট এতটাই ছিল যে আওয়ামী লীগ-বিএনপির মতো বড় দলগুলোর ছিল প্রার্থী-সংকট। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তাই আওয়ামী লীগ প্রার্থী করেছিল তত্কালীন কমিউনিস্ট নেতা মোহাম্মদ ইউসুফকে। তখনকার আটদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে ইউসুফ প্রথমবারের মতো পরাজিত করেন কাদের চৌধুরী পরিবারের প্রার্থীকে। তখনকার এনডিপির প্রার্থী (বর্তমান বিএনপির নেতা) গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী তাঁর কাছে হেরেছিলেন আট হাজার ভোটের ব্যবধানে। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর এলাকায় বহুধাবিভক্ত দলটিকে একটি সাংগঠনিক ভিত্তিও দিয়েছিলেন। তাঁর সম্পর্কে পত্রিকান্তরে এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেছেন, সাংসদ হয়ে যেখানে অনেকে কোটি টাকার মালিক হয়েছেন, গুলশান-বনানীতে বাড়ি করেছেন, সেখানে মোহাম্মদ ইউসুফ যে নিজের জন্য শহর বা গ্রামে একখণ্ড জমি কিনতে পারলেন না, তাতেই তো প্রমাণিত হয়, কী অসম্ভব সততার পরীক্ষা দিয়েছেন তিনি।
একসময় যে ছোট ভাইয়ের জন্য একটি চাকরির তদবির করতে রাজি হননি, আজ তাঁরই অভাবের সংসারে চরম দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন চিরকুমার মোহাম্মদ ইউসুফ।
প্রায় বিনা চিকিত্সায় ধুঁকে ধুঁকে মরছেন তিনি। শরীরের ডান পাশ সম্পূর্ণ অবশ। অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা করতে পারেন না। কথা বলেন প্রায় অবোধ্য ভাষায়। কয়েক মাস আগে মাইল্ড স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে ভর্তি করানো হয়েছিল তাঁকে। ২৮ দিন চিকিত্সার পর ফিরিয়ে আনা হয়। কিন্তু অর্থাভাবে উন্নত চিকিত্সা করানো সম্ভব হয়নি। ছোট ভাই সেকান্দরও দরিদ্র। প্রতিদিন প্রায় ৪০০ টাকার ওষুধের ব্যয় বহন করা তাঁর পক্ষে দুঃসাধ্য। অর্থাভাবে ইউসুফের মোবাইল ফোনটিও বিক্রি করতে হয়েছে। সেকান্দর বলেছেন, ‘জানি, মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন হবে তাঁর। কিন্তু তাতে লাভটা কী? বরং রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় চিকিত্সার ব্যবস্থা করলে এই মানুষটির শেষ জীবনটা এত দুর্বিষহ হতো না।’
বর্তমান সাংসদদের জন্য বিদেশ থেকে গাড়ি আমদানি করা হবে, না দেশীয় প্রতিষ্ঠানের সংযোজন করা গাড়ি দেওয়া হবে—এই নিয়ে যখন সরকার গলদঘর্ম, তখন মোহাম্মদ ইউসুফের মতো একজন সাবেক সাংসদ বিনা চিকিত্সায় মারা যাবেন, এর চেয়ে বড় দুর্ভাগ্য সরকার ও রাষ্ট্রের জন্য আর কী হতে পারে?
সত্ রাজনীতিক এখনকার সমাজে এক বিরল প্রজাতি। পরিচর্যার অভাবে বিরল প্রজাতির মানুষ যেখানে বিলুপ্ত, সেখানে সত্ মানুষের খোঁজে আমাদের অরণ্যে রোদন অর্থহীন।
সত্ রাজনীতিকদের পরিণতি যদি হয় এমনই করুণ, কোন মুখে অসত্-দুর্নীতিবাজদের সমালোচনা করব আমরা?
বিশ্বজিত্ চৌধুরী: কবি, লেখক ও সাংবাদিক।
bishwa_chy@yahoo.com

বিরাজমান নির্বাণের নিশ্চয়তাও by দীপংকর চন্দ

রাত অনেক। সে কারণেই সৈকতে ছিল না খুব বেশি পর্যটকের উপস্থিতি। যে কয়েকজন ছিল এতক্ষণ, একমনে তারা গান শুনছিল একজন অন্ধ বাউলের। বাউলের হাতে একতারা ছিল। একটি ছোট্ট মেয়ে বসে ছিল বাউলের মলিন পোশাক স্পর্শ করে। ছোট্ট মেয়েটির ঘুম পেয়েছিল খুব। পাবে না-ই বা কেন? সেই সকালে বেরিয়েছে তারা। দুপুরে খাওয়া হয়েছে নামেমাত্র। আধপেটা মেয়েটির কথা মাথায় রেখেই শেষবারের মতো গাইল বাউল—‘সময় গেলে সাধন হবে না...’। সময় থাকতেই সময়ের কাজ শেষ করার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক করে উঠে পড়ল বাউল। অন্ধ বাউল চলে যাওয়ার মিনিট পনেরোর মধ্যেই সৈকত ফাঁকা। আকাশভরা তারার নিচে আমি আর রানা রইলাম কেবল। কোথায় যাব আমরা সৈকত ছেড়ে! আমাদের রাত্রিবাসের নির্ধারিত স্থান যে সৈকতেই গড়ে ওঠা এলজিইডির বাংলোর দ্বিতল কক্ষে! তাই আমরা ঘুমাতে গেলাম রাতের তৃতীয় প্রহরে। সাগরের উত্তাল তরঙ্গ সাক্ষী রেখে ঘুমালাম। স্বাভাবিকভাবেই পরদিন বেশ বেলা করে বিছানা ছাড়লাম। তারপর তাড়াহুড়ো করে ছুটলাম এ অঞ্চলের আদি বাসিন্দাদের খোঁজ নিতে।
কুয়াকাটার আদি বাসিন্দা হিসেবে চিহ্নিত করা যায় কাদের? নিঃসন্দেহে রাখাইনদের। কারণ, ফ্রেডরিক ম্যানরিক নামের একজন প্রসিদ্ধ ভূ-পর্যটকের ১৬৪১ খ্রিষ্টাব্দের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী পটুয়াখালী, বরগুনার দক্ষিণাঞ্চল সে সময় জনবসতিহীন ছিল। খাপড়াভাঙ্গা, লতাচাপলি, বড় বাইশদিয়া, রাঙ্গাবালীসহ বিভিন্ন উপকূলীয় অঞ্চল তখন ছিল বনজঙ্গলে পূর্ণ। বর্মী ভাষায় লিখিত ওয়াজোঁয়ে রাজওয়ে নামের একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থমতে, সপ্তদশ শতকের শেষ পাদে আরাকানে রাজনৈতিক অরাজকতার সৃষ্টি হলে ক্যাপ্টেন প্যো অং, উ গোস্বাগ্রী ও অক্যো চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৫০টি রাখাইন পরিবার নৌকাযোগে বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে উপস্থিত হয় গলাচিপা উপজেলার রাঙ্গাবালী দ্বীপে। জনমানবহীন, জঙ্গলাকীর্ণ সেই দ্বীপাঞ্চল পরিষ্কার করে বসতি গড়ে তোলে তারা। আনুমানিক ১৭৮৫ খ্রিষ্টাব্দে রাঙ্গাবালীতে এই নতুন বসতি গড়ে তোলার পর আরও দক্ষিণে অগ্রসর হতে হতে রাখাইনেরা একদিন এসে পৌঁছায় কলাপাড়ার শেষ প্রান্তের সমুদ্রের নিকটবর্তী স্থানে। জনমানবহীন অতি মনোরম এই স্থানটি ভীষণ মুগ্ধ করে তাদের। তারা ভাবে, বঙ্গোপসাগরের এই কূলেই ভাগ্যের পরিবর্তন হবে তাদের। তাই রাখাইনেরা এই স্থানটির নাম রাখে ‘ক্যাংছাই’। রাখাইন ভাষায় ‘ক্যাং’ অর্থ ‘ভাগ্য’, ‘ছাই’ অর্থ ‘কূল’। কিন্তু এই ভাগ্যকূলে প্রথম দিকে রাখাইনেরা পানীয় জলের নিদারুণ সমস্যায় পড়ে। সুপেয় জলের জন্য মরিয়া হয়ে একের পর এক কুয়া কাটে তারা। অবশেষে সৈকতসংলগ্ন একটি কুয়ায় খুঁজে পায় বহু কাঙ্ক্ষিত সুপেয় জল। জল প্রাপ্তির ঐতিহাসিক সূত্র ধরেই একসময় এই অঞ্চলের বাংলা নামকরণ করা হয় ‘কুয়াকাটা’।
‘রাখাইনদের খনিত সেই আদি কুয়াটি এখনো রয়েছে কুয়াকাটায়’—জানালেন সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে আসা মো. ইউনুসুর রহমান। কলাপাড়া উপজেলা রিসোর্স সেন্টারে ইনস্ট্রাকটর পদে কর্মরত এই যুবকের নির্দেশনা অনুযায়ী কুয়াকাটা বাজারের দিকে অগ্রসর হলাম আমরা। বাজারের খুব কাছেই প্রেসক্লাব, কৃষি ব্যাংক। কর্মব্যস্ত এই প্রতিষ্ঠান দুটো পেছনে ফেলে আমরা পৌঁছালাম কুয়াকাটা রাখাইন মহিলা মার্কেটের সামনে। মার্কেটের পশ্চিম প্রান্তে রাখাইন তরুণী মা চো-এর দোকান। সেই দোকান অতিক্রম করে কিছুটা পথ পেরোলেই নিচু দেয়াল দিয়ে ঘেরা খানিকটা উঁচু জায়গা। লোহার গ্রিলে তৈরি একটা গেট সরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম আমরা। হাতের বাঁ দিকে নাতিদীর্ঘ শীর্ষবিশিষ্ট অষ্টভুজাকৃতি ছাউনি। সেই ছাউনির কেন্দ্রস্থলে স্টিলের ফ্রেম দিয়ে ঘেরা একটি বাঁধানো কুয়া। হ্যাঁ, এটিই সেই কুয়া, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে কুয়াকাটার নামকরণের ইতিহাস। আমরা কিছুক্ষণ দাঁড়ালাম কুয়াটির সামনে, জীবনের নগণ্য অভিজ্ঞতার সঙ্গে আরও একটি নতুন অধ্যায় যোজন করে নিতে নিতে কুয়াটির প্রান্ত ছুঁয়ে ওপরে উঠে যাওয়া একটি অপরিসর সিঁড়ির দিকে মনোযোগ কেন্দ্রীভূত করলাম। বেশ কিছু ধাপযুক্ত এই সিঁড়িটির শেষ প্রান্তে ইন্দোচীন স্থাপত্যরীতিতে তৈরি একটি বৌদ্ধবিহার। দুই শতাধিক বছরের পুরোনো এই বিহারটি শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহার নামেই পরিচিত স্থানীয় জনসাধারণের কাছে। কাঠ ও টিনে নির্মিত বিহারটি বর্তমানে পরিত্যক্ত অবস্থায় দণ্ডায়মান। কারণ, এর ঠিক পশ্চিম কোণেই আধুনিক স্থাপত্যরীতিতে তৈরি হয়েছে শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধবিহারের নতুন ভবন। অত্যন্ত আকর্ষণীয় এই নতুন ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতেই সাড়ে ৩৭ মণ ওজনের অষ্টধাতুতে নির্মিত ধ্যানমগ্ন বুদ্ধমূর্তির মুখোমুখি হলাম আমরা। একটি সুবিশাল কক্ষের শেষ প্রান্তে চার ধাপবিশিষ্ট বেদির ওপর উপবিষ্ট বুদ্ধমূর্তিটির সামনে প্রার্থনারত রাখাইন পূজারি মা তেন। পূর্ণ শ্রদ্ধায় মাথা নত করে আমরা দাঁড়ালাম তাঁর কাছেই। প্রার্থনা শেষ করে স্মিতহাস্যে আমাদের দিকে তাকালেন প্রৌঢ়া পূজারি। কুশল জিজ্ঞেস করলেন এমনভাবে যেন আমাদের মধ্যে যুগ-যুগান্তের আত্মীয়তার বন্ধন বিরাজমান। মা তেনের সরল ব্যবহারে জাতি-ধর্ম-বর্ণভেদের ভ্রান্ত দূরত্ব দূর হলো নিমিষেই। আমরা মেতে উঠলাম কথোপকথনে। দীর্ঘ এই কথোপকথনের ফাঁকে ফাঁকে কতবার যে আমাদের দৃষ্টি নিবদ্ধ হলো মহামতি বুদ্ধের মুখশ্রীতে! মহামূল্যবান এক মুগ্ধতা, পরার্থকাতর এক স্নিগ্ধতা বিরাজমান সেখানে! বিরাজমান দুঃখবিনাশী আশ্বাস, বিরাজমান নির্বাণের নিশ্চয়তাও!

খসরু চৌধুরী -আমরা কী করছি আর আসলে কী করা উচিত

কোপেনহেগেন সম্মেলন আপাত ব্যর্থ হলেও পৃথিবীর সম্যক জলবায়ু নিয়ে এই সম্মেলন সারা পৃথিবীতে একটা সাড়া ফেলেছে। দেশগুলো এটাও জানতে পেরেছে, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় বাংলাদেশে আমরা কী করছি!
একটি দেশের জলবায়ু, বিশেষ করে উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম নিয়ামক শক্তি হচ্ছে সে দেশের বনভূমি। বর্তমান অবস্থায় বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী দেশের মোট আয়তনের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এলাকায় বনভূমি রয়েছে। বাস্তব অবস্থা অন্য রকম। বন বিভাগের দখলে সম্ভবত ৫ শতাংশ এলাকার বেশি নেই। আর বড় গাছের ছায়া রয়েছে, এমন এলাকা ৩ শতাংশের বেশি হবে না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে একজন বাংলাদেশি হলেন পৃথিবীর সেই হতভাগ্য ব্যক্তিটি, যাঁর বনভাগ্যে পড়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে কম বন এলাকা।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপই যে বনভূমি কমে যাওয়ার মূল কারণ, এটা সবাই জানেন। কিন্তু বর্তমানে যে দ্রুততায় বনভূমি শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাতে শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে দোষারোপ করা যায় না। গত তিন মাসের পত্রপত্রিকা নাড়াচাড়া করলেই সবার চোখে পড়বে, এ বছর শুকনো মৌসুমের শুরু থেকেই আমাদের মিশ্র বৃষ্টিপাতের পাহাড়ি জঙ্গলগুলোর গাছপালা দেদার কাটা হচ্ছে। এ সময়টায় বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড় থেকে গাছ কাটা যেমন সহজ, তেমনি গাছ বহনের ট্রাক ও বনের কাঁচা রাস্তাগুলো ব্যবহার করা যায় স্বচ্ছন্দে। গাছ কাটা হচ্ছে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের, চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের, ফাঁসিয়াখালী অভয়ারণ্যের, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের, কক্সবাজারের মেদা কাচাপিয়া জাতীয় উদ্যানের, টেকনাফ গেম রিজার্ভের। সাজেক উপত্যকা, পাবলাখালীর দুর্গমতার জন্য সেখানে কী হচ্ছে, তার খবর খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে পাবলাখালীতে সীমান্ত-লাগোয়া কিছু এলাকা ছাড়া বন তেমন একটা নেই। পত্রপত্রিকার তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গাছ কাটার হোতারা হচ্ছেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা দলমতনির্বিশেষে কাজটি করে থাকেন।
আমরা যদি আমাদের তলানিতে ঠেকে যাওয়া বনসম্পদ রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের প্রয়োজন শক্তিশালী কার্যকর একটি বন বিভাগ। আমাদের বন এলাকা এবং বনের ওপর চাপের তুলনায় বন বিভাগের জনবল, অস্ত্রবল, পরিবহন নিদারুণভাবে কম। সরকারি অর্থ বরাদ্দও খুবই কম। মাঠপর্যায়ের কর্মচারীরা সমাজবিচ্ছিন্ন, জনবিচ্ছিন্নভাবে জীবন যাপন করেন। তাঁদের প্রস্তুত থাকতে হয় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা। স্নানাহার অনিশ্চিত, চিকিত্সা সুদূরপরাহত। তাঁদের পারিবারিক জীবন বলতে কিছু নেই। স্বাস্থ্যকর বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব কর্মচারীর ছেলেমেয়েদের শিক্ষারও কোনো ব্যবস্থা নেই। এলাকাগুলো জনবিরল হওয়ায় প্রতিটি এলাকায়ই রয়েছে সশস্ত্র ডাকাতের দল। সন্ত্রাসী দলগুলো তাদের প্রশিক্ষণ শিবির হিসেবে বনের এলাকাগুলো বেছে নেয়। শুধু সুন্দরবন এলাকার সমস্যার দিকে তাকালেই সারা দেশের অবস্থার একটি চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
জল ও স্থল মিলিয়ে বাংলাদেশে সুন্দরবনের মোট এলাকা রয়েছে ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এ এলাকার দেখাশোনা করার জন্য বন বিভাগের জনবল রয়েছে মাত্র এক হাজার ১০০ জন। এ এলাকার বনজ সম্পদের ওপর প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষভাবে জড়িত দক্ষিণ বাংলার প্রায় তিন কোটি মানুষ। বন বিভাগের টহল ফাঁড়িগুলোতে কোনো যান্ত্রিক যানবাহন নেই। স্টেশন অফিসগুলোতে যেসব নৌযান আছে, সেগুলো অধিকাংশই নষ্ট। সুন্দরবনে নেওয়া নানা প্রকল্পের পরিত্যক্ত নৌযান এগুলো। খুবই দুর্বলভাবে নির্মিত এগুলো। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি তেলের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই।
পুরো সুন্দরবন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে ৩০ থেকে ৪০টি ছোট-বড় ডাকাত দল। ডাকাত দলের ভয়ে বন বিভাগ দুর্গম এলাকার প্রায় ১০টি টহল ফাঁড়িতে অস্ত্র রাখা বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো কোনো টহল ফাঁড়ি ডাকাত দল বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করে। অস্ত্রবল, লোকবল, যানবাহনবলে বলীয়ান এসব ডাকাত দলের বিরুদ্ধে ক্যাম্পগুলোর চার-পাঁচজন বনকর্মীর পক্ষে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব তো হয়ই না, উপরন্তু তাদের আশ্রয়দাতা হতে বাধ্য হতে হয়। ২০০৫ সালে সামান্য কিছু চায়নিজ রাইফেল দেওয়া ছাড়া বন বিভাগ বনকর্মীদের কোনো সাহায্যই করতে পারেনি। অথচ ডাকাত দল ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার সন্ত্রাসী দলগুলোর আধুনিক অস্ত্রপাতি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, সুন্দরবনের বনচারী ব্যবসায়ীরা বন বিভাগকে যে রাজস্ব দেন, ডাকাতদের দিতে হয় তার চেয়ে বেশি। সুন্দরবনের কর্মচারীরা খাদ্য হিসেবে শুধু গোনের সময় জেলেদের কাছ থেকে মাছ পান। তরিতরকারিও জেলেরাই আনেন। বাকি সময়টা শুধু আলু দিয়েই ভাত খেতে হয়। সকালে বন কর্মচারীরা টহলে বের হলে বন ফাঁঁড়িগুলো অরক্ষিত থাকে। জেলে-বাওয়ালি আশপাশে থাকলে বন অফিসের পাশে রাত কাটান। না থাকলে নিরালা, নিঝুম অন্ধকার। পানীয় জল বলতে তাঁরা পান বন অফিসের লাগোয়া একটি ছোট পুকুরের আধা-লোনা জল। জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ভেসে গেলে সেই জলও পানের উপযুক্ত থাকে না। ক্যাম্পগুলোর কক্ষগুলো জরাজীর্ণ। এগুলো সংস্কারের জন্য সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই। তাঁদের চলাচলের জন্য রয়েছে খুবই ছোট নড়বড়ে একটি হাতে-বাওয়া ডিঙি। কাঠচোর, মাছচোর, হরিণচোরদের ধরতে পারলেও তাঁদের বিপদ। এই চোরদের কোর্টে চালান করার যানবাহনও তাঁদের নেই। কোর্টে চালান দিতে পারলেও আরেক বিপদ। তখন তাঁদের সাক্ষ্য দিতে যেতে হয় কোর্টে। তাঁদের যাতায়াত, খাই-খরচারও কোনো বরাদ্দ নেই। বেতন-ভাতাও সামান্য। অধিকাংশ কর্মচারী জলবাহিত রোগে ভোগেন। তাঁদের ট্রেনিংয়ের মানও নিচু। স্বভাবতই তাঁদের নৈতিকতার অবস্থাও শোচনীয়।
এ অবস্থায় নড়বড়ে একদল মানুষের কাছ থেকে আমরা কী করে আশা করব, তাঁরা লোভের বশবর্তী হবেন না। যে বিপুল প্রতিকূল প্রতিবন্ধকতা তাঁদের সামনে, সেখানে কী করে আশা করব যে তাঁরা উচ্চ নৈতিকতার আদর্শ স্থাপন করবেন।
বন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনার জন্য অন্তত তিন হাজার বনকর্মী দরকার। সেই সঙ্গে তাঁদের স্বাভাবিক আবাসন, যোগাযোগ, অস্ত্রায়ন উন্নত করা দরকার। সেই সঙ্গে দরকার উন্নত ট্রেনিং। সুন্দরবন-সংলগ্ন অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা—নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিডিআর, পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে বন বিভাগের সহজ সমন্বয় দরকার।
ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষে যখন ঠগিদের মারাত্মক উত্পাত শুরু হয়েছিল, ব্রিটিশ সরকার তখন ঠগি দমনের জন্য সেনাবাহিনীর মেজর হেনরি স্লিম্যানকে একটি বাহিনী দিয়ে নিযুক্ত করেছিল। স্লিম্যান এই মারাত্মক বাহিনী দমন করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
ঢাকা শহরে বসে সুন্দরবনে ডাকাতের অত্যাচার বোঝা যায় না। বুঝতে হলে সুন্দরবনে যেতে হবে। তখন সহজেই অনুমেয় হবে, এখানেও স্লিম্যানের বাহিনীর মতো একটি বাহিনীর কিছুকাল কাজ করা দরকার।
দেশের শুকনো এলাকার বনাঞ্চলগুলোয় বন বিভাগের অবস্থা সুন্দরবনের চেয়ে উন্নত নয়। এ অবস্থায় বন রক্ষা করতে হলে একটি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে আমাদের বনগুলোর সম্যক অবস্থা জানতে হবে। কমিটির সুপারিশে বন বিভাগ পুনর্বিন্যাস করতে হবে। বন বিভাগের মেরুদণ্ড সোজা করার জন্য সরকারের আর্থিক বরাদ্দ অনেক বাড়াতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কোনো ক্ষেত্রে বন উজাড় ধরা পড়ে গেলে দু-একজন কর্মকর্তা ও কতিপয় কর্মচারীর শাস্তি দেওয়া হয়েছে কালেভদ্রে। বর্তমানের অসুস্থ এই বন বিভাগ তার চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। এতে বন ব্যবস্থাপনার কোনো লাভ হয়নি।
সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রী বন উজাড়ের বিষয়ে অবগত হয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। বন উজাড়ের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির জন্য জাতীয় সংসদে বিল পেশ করার কথা ভাবছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ অবশ্যই ধন্যবাদার্হ। কিন্তু বন বিভাগকে শক্তিশালী করা না হলে তাদের কাছে কৈফিয়ত পাওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার আমাদের থাকে না। এ বিষয়টিরও সুরাহা হওয়া দরকার।
খসরু চৌধুরী: বন বিশেষজ্ঞ।

ওয়াহিদ নবী -আওয়ামী লীগ ও বিএনপি দ্বন্দ্ব বনাম জাতীয় প্রত্যাশা

হেগেলের উক্তি উদ্ধৃত করে বার্নার্ড শ’ বলেছিলেন, ‘আমি হেগেলের সঙ্গে একমত, যখন তিনি বলেন, ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে এই যে মানুষ ইতিহাস থেকে কিছু শেখে না।’ কথাগুলো তাঁরা বিদ্রূপ করে বলেছিলেন। ইতিহাসের শিক্ষা অবশ্যই প্রয়োজন আমাদের সমস্যা বুঝতে। এম এম আকাশ ইতিহাস থেকে যে তথ্যগুলো তুলে ধরেছিলেন, সে সম্বন্ধে আমার কোনো দ্বিমত নেই। তবে সীমিত পরিসরে সব কথা বলা যায়নি। এই সুযোগটি নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই।
ধর্মকে রাজনীতিতে ব্যবহার, আমাদের দুই জোটের একজোটের কৌশল। আমাদের স্বাধীনতার চার স্তম্ভের দুটি সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা এরা মেনে নেবে না—এটাই স্বাভাবিক এবং মেনে নেবে না বলেই এরা জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করবে। আমাদের প্রশ্ন, স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি এই মূলনীতিগুলো জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করেছে কি? অনিবার্য কারণেই স্বাধীনতাযুদ্ধের শুরু হঠাত্ করেই হয়েছিল। এ জন্য ভৌগোলিক স্বাধীনতা ছাড়া অন্য কিছু আলোচনা করার সুযোগ ছিল না। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এ নীতিগুলো জনগণের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়নি। পাকিস্তান আমলের ধর্মীয় রাজনীতির মোহ থেকে মানুষ রাতারাতি মুক্ত হয়ে যাবে, এটা আশা করা যায় না। আসলে ‘সেক্যুলার’ কথাটার বাংলা প্রতিশব্দ হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা কথাটা ব্যবহার না করে ‘পার্থিব’ বা জাগতিক কথাগুলো ব্যবহার করলে ভালো হতো। আসলে এ কথাটি সবাইকে বলা উচিত যে, সেক্যুলার কথাটি যিনি প্রথম ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছিলেন, তিনি স্পেনের মুসলমান দার্শনিক আবু রুশদ।
স্বাধীনতা-উত্তর সরকারের ব্যর্থতার বিশদ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। জাতীয় মুক্তি আন্দোলনের নেতারা পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে সফল হননি। বেন বেল্লা, নক্রুমা, ওবোতে শোয়েকারনো এর উদাহরণ। মেকিয়াভেলি তাঁর প্রিন্স গ্রন্থে লিখেছিলেন, ‘শাসককে হতে হবে সিংহের মতো হিংস্র (ফিয়ার্স) ও শিয়ালের মতো ধূর্ত।’ শেখ মুজিব ছিলেন সিংহের মতো কিন্তু হিংস্র ছিলেন না। শিয়ালের মতো ধূর্তও তিনি ছিলেন না।
পাকিস্তান আমলে রাজনীতিতে আমলা ও সেনাবাহিনীর প্রাধান্য থাকায় রাজনীতিবিদেরা দেশ শাসনের অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারেননি। আমরা এই দুর্ভাগ্যের শিকার হয়েছি। স্বাধীনতার কাছে আমাদের অনেকের প্রত্যাশা অবাস্তব ছিল। পাকিস্তানিরা সবকিছু লুট করে নিয়ে যাচ্ছিল। স্বাধীনতার পর ওই সম্পদগুলো আমরা পেয়ে যাব—এমন ধারণাও অনেকে করেছিল। স্বাধীনতার পর তীব্রবেগে ধনী হওয়ার চেষ্টায় লেগে গেলেন একদল, যাঁরা নিকৃষ্ট উদাহরণ সৃষ্টি করলেন জাতির সামনে। ‘চাটার দল সব খেয়ে শেষ করে দেয়’ বঙ্গবন্ধুর কথাটা আর্তচিত্কারের মতো শুনিয়েছিল। সি এস লুইস তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ ফোর লাভস-এ উল্লেখ করেছেন, ‘আমাদের ইতিহাসের সব অংশই গৌরবের নয়।’ দেশের জন্য গৌরবের নয়, এমন সব কথার আলোচনা সাহসের সঙ্গে আমাদের প্রয়োজনে করা উচিত।
একুশের সংগ্রামীরা আমাদের মধ্যে জাতীয় অহংকারবোধ এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু অনেকের মধ্যে বহুদিনের পরাধীনতাজনিত হীনম্মন্যতাবোধ থেকে গেছে। এর একটা লক্ষণ হচ্ছে, চাটুকারিতা। বঙ্গবন্ধু জুলিওকুরি পুরস্কার পেলে দিনের পর দিন অসংখ্য মিছিল আসতে থাকে তাঁকে অভিনন্দন জানাতে, অথচ যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে প্রধানমন্ত্রীর হাতে কত কাজ।
আমলারা তুলনামূলকভাবে অভিজ্ঞ ছিলেন। কিন্তু তাঁরা রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সহ্য করতে পারলেন না। বাগড়া দেওয়া তাঁদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়াল। সেনাবাহিনীর কর্মচারীরা তীব্রবেগে পদোন্নতি পেলেন। মেজর থেকে মেজর জেনারেল হতে তাঁদের দু-তিন বছরের বেশি অপেক্ষা করতে হলো না। একজনের যা পাওনা তার চেয়ে বেশি পেলে তার মাথা গরম হয়ে যায়। কয়েকজনের তা-ই হলো।
আওয়ামী লীগের এক অংশ বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের আওয়াজ তুলে বাজার গরম করে ফেলল। হাজার হাজার তরুণ সে ডাকে সাড়া দিল। কিন্তু তাদের নেতৃত্ব ছিল দিশেহারা। অন্যদিকে কলকারখানা জাতীয়করণের পর সেগুলো ভালোভাবে চলল না। দিশেহারা মুক্তিসেনাদের একদল নৈরাশ্যের অন্ধকারে পথ হারিয়ে ফেলল। একদলীয় সরকার গঠনের প্রয়োজন সম্পর্কে জনসাধারণকে তেমন কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। সরকারের শত্রুরা এই সুযোগ নিয়েছিল।
সেনাবাহিনীর একদল জুনিয়র অফিসার নির্মম হত্যাকাণ্ড চালাল। এর পরের ইতিহাস দিশেহারা রক্তপাতের আর সেনা-কর্তাদের ক্ষমতালিপ্সার ইতিহাস। সাময়িকভাবে বিজয়ী জিয়া স্বাধীনতার আদর্শবিরোধী সব ধারা সংবিধানে ঢুকিয়ে দিলেন। তাঁর নেতৃত্বে স্বাধীনতাবিরোধীরা একত্র হলো। সব সেনা-নেতাই ক্ষমতা দখলের পর ঘোষণা দেন। বিভিন্ন দেশে তাঁরা কেবল নামগুলো বদলে দেন। সব সেনা-নেতা যা করেন, জিয়াও তা-ই করেছেন। সরকারি অর্থ ব্যয় করে ও সরকারি সংগঠনকে ব্যবহার করে তিনি দল গঠন করেছেন। রাজনীতিবিদদের জেলে পুরে নিজের ঢাকঢোল পিটিয়েছেন। যেহেতু রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে ঢালাওভাবে, তাই তাঁর সাধুতার কথা প্রচার করা হলো। জিয়া সরকারি অর্থ খরচ করেছেন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে কিন্তু এটাকে অনেকে দুর্নীতি মনে করে না। তবুও তাঁকে ঘিরে সততার একটা প্রচার হয়েছে। জিয়া এখন গত, তাই তাঁর গুণাগুণের ওপর নির্ভর করলে চলবে না বিএনপির। ভাগ্যের কী পরিহাস! তাঁর সন্তানেরা দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত।
এম এম আকাশ বাংলাদেশের রাজনীতির তিনটি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছেন। অতীতের বিশ্লেষণ করলে এই তিনটিকে অবশ্যই যুক্তিসংগত মনে হয়। তবে ঠিক কী ঘটবে, কে বলতে পারে?
সবাই বিএনপি ও আওয়ামী লীগ নিয়ে হতাশ। এর কারণ অবশ্য রয়েছে। বাংলাদেশে প্রকৃত বুর্জোয়া কয়জন আছেন। উত্পাদনের মাধ্যম কতটা তাদের নিয়ন্ত্রণে? ঋণখেলাপির মাধ্যমে কি প্রকৃত বুর্জোয়া হওয়া যায়? আমাদের নেতাদের সামাজিক আচরণ কি বুর্জোয়াদের মতো? আমার তো মনে হয় রাজনৈতিক কর্মীরা নেতাদের সামন্তদের মতো মনে করেন। আর নেতারা নব্য ধনীদের মতো আচরণ করেন। শুধু রাজনীতির ক্ষেত্রে নয়, আমাদের সামগ্রিক সামাজিক আচরণ এমনি।
এম এম আকাশ বামপন্থীদের সম্বন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছেন। আদর্শের প্রতিষ্ঠা, মানুষের কল্যাণের প্রতি দৃষ্টি, অক্লান্ত পরিশ্রম, সততা ও আত্মত্যাগের জন্য কমিউনিস্ট নেতারা ছিলেন সবার শ্রদ্ধার পাত্র। তাঁরাই অনেক আন্দোলনের ভিত্তি গড়ে তোলেন। আওয়ামী লীগের কর্মীরা আন্দোলন করেন সেই ভিত্তির ওপর। আমাদের আজকের সমাজে বামপন্থীদের স্থান কোথায়? এত ত্যাগ-তিতিক্ষার পর কেন বামপন্থীরা বুর্জোয়া দলগুলোর ওপর নির্ভরশীল? কেউ কেউ বলেন, আমাদের জনগণ অত্যন্ত ধার্মিক বলে বাম আন্দোলন বিস্তৃত হচ্ছে না। কেউ বলেন, দারিদ্র্য আমাদের বহু বছর ধরে চলছে, তাই দারিদ্র্য দূর করতে কারও তাড়া নেই। আমার মনে হয়, এ ব্যাপারে আরও আলোচনা হওয়া উচিত। একবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়, পরের বার বিএনপি এবং তারপর অরাজনৈতিক শক্তির ক্ষমতা দখল—এই বিষাক্ত চক্রের বাইরে আসতে হলে বামের শক্তির ঐক্য জরুরিভাবে প্রয়োজন। যদি বাম শক্তি এটা করতে সক্ষম না হয়, তবে জনগণ হয়তো মনে করবে যে আত্ম-অহমিকাই এই অনৈক্যের প্রকৃত কারণ।
ওয়াহিদ নবী: প্রাবন্ধিক ও প্রবাসী চিকিত্সক।

আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অসন্তোষ -ভারত by কুলদীপ নায়ার

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মতো না হলেও ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গোলযোগ চলছেই। ভারতীয় অঞ্চলগুলোতে যে আগুন জ্বলছে, তা মূলত রাজনৈতিক। পাকিস্তানের মতো ধর্মের নামে অসন্তোষের ধুয়া এখানে দেখা যাচ্ছে না। তাহলেও দুটি দেশই এমন সমস্যার মুখে পড়েছে যার সমাধান শুধু বল প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়। বিক্ষুব্ধ জনগণ চায় উন্নয়ন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এই আকাঙ্ক্ষাগুলোকে বরণ করে নিতে হবে এবং নীতি প্রণীত হতে হবে এসবের ভিত্তিতেই।
আসাম থেকে সম্প্রতি আমি মোটামুটি দুশ্চিন্তা নিয়ে ফিরেছি। দীর্ঘদিন ধরে অজস্র বিক্ষোভে রাজ্যটি তপ্ত হয়ে আছে। আসামে ‘বিদেশি খেদাও’ আন্দোলনের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সেখানকার আলোড়নের কথা আমার মনে পড়ছে। মূলত সেটা ছিল বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের বিরুদ্ধে আন্দোলন। এই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন অল আসাম স্টুডেন্ট ইউনিয়ন (এএএসইউ) সে সময় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে আলোচনায় বসে এবং রাজীব গান্ধী প্রতিশ্রুতি দেন যে, ‘বিদেশিদের’ চিহ্নিত করা হবে এবং ভোটার তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ যাবে। এবং চূড়ান্তভাবে তাদের আসাম থেকে বহিষ্কার করা হবে। সে রকম কিছু কখনো ঘটেনি। বাস্তবত, অসমিয়াদের অবস্থান মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশে নেমে গিয়েছিল। এমনকি এ বিষয়ে চুক্তি হলেও আমার সন্দেহ রয়ে যায় যে, এটা কখনো বাস্তবায়িত হবে না। কেন্দ্রীয় সরকার অভিবাসীদের বিভিন্ন রাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু কোনো রাজ্যই তাদের পুনর্বাসনে রাজি হয়নি। কয়েক বছরের বিরতির পর, এটা পরিষ্কার হয়ে গেল যে ‘বিদেশিদের’ বের করে দেওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। নয়াদিল্লির উচিত জীবিকার সন্ধানে যারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে এসেছে, তাদের কাজের অনুমতিপত্র দেওয়া। তারাও চায় তাদের মাতৃভূমিতে ফিরে যেতে, কিন্তু যেহেতু তাদের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই, সেহেতু তারা রয়ে গেল এবং দীর্ঘমেয়াদি লাঞ্ছনার শিকার হলো।
নয়াদিল্লি-এএএসইউ চুক্তি থেকেই ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসাম বা উলফার জন্ম। এই ফ্রন্ট নিজেকে সার্বভৌম আসাম রাষ্ট্রের পর্যায়ে উন্নীত করেছে এবং খোলাখুলি ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। এই সহিংসতার জন্য আসামে এবং অন্য যেসব জায়গায়, বিশেষত ভুটানের পাদদেশে এবং মিয়ানমার সীমান্তে যেখানে উলফা ক্যাডারদের ঘাঁটি রয়েছে, সেখানে নিহত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
উলফার চ্যালেঞ্জ কাবু হয়ে যায় যখন সংগঠনটির সভাপতি অরবিন্দ রাজখোয়া এবং তাত্ত্বিক ভীমকান্ত বুড়াগোহাইনকে বাংলাদেশ সরকার ভারতের হাতে তুলে দেয়। এই অঞ্চলে ক্রিয়াশীল পাঁচটি বিদ্রোহী সংগঠন দিল্লির প্রতি ঢাকার সহযোগিতাকে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ হিসেবে চিহ্নিত করে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু এসবে ঢাকা মোটেই বিচলিত না হয়ে বরং জানিয়েছে, বাংলাদেশের মাটি থেকে তারা ভারতীয় সশস্ত্র সংগঠনগুলোকে উপড়ে ফেলবে।
সন্দেহ নেই যে আসামের রাজ্য সরকার উলফার সঙ্গে সংলাপে বসার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু তারা সার্বভৌমত্বের দাবি না ছাড়ায় সমস্যা হয়েছে। সম্ভবত, আটক নেতারা সংলাপে বসার আগে তাঁদের নেতা পরেশ বড়ুয়ার সঙ্গে মিলিত হতে চান। কিন্তু উলফা উপলব্ধি করতে পারছে না যে, যতক্ষণ তারা সার্বভৌমত্বের দাবি আঁকড়ে থাকবে, ততক্ষণ কোনো ভারতীয় সরকার তাদের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতা নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হবে না। কারণ, আরও কয়েকটি ভারতীয় রাজ্যে স্বাধীনতার আন্দোলন চলছে।
সম্প্রতি আসামের রাজধানী গুয়াহাটি সফরের পর আমাকে আরও চিন্তিত করে তুলেছে অসম গণপরিষদের ভূমিকা। তারাই শাসক কংগ্রেস দলের প্রধান বিরোধী দল। অসম গণপরিষদ স্বাধীনতার দাবি না করলেও উলফার দিক থেকে শর্তহীনভাবে আলোচনায় বসার অবস্থান তারা সমর্থন করে। উলফার প্রতি রাজ্যে যে সহানুভূতি রয়েছে তা থেকে লাভবান হতে চায় অসম গণপরিষদ। গুয়াহাটিতে আমি নিজেই এটা দেখে অবাক হয়েছি। সেখানে একটি সেমিনারে আমি যখন বললাম যে, উলফার নেতাদের হাতকড়া পরানো উচিত নয়, সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত শ্রোতারা বিপুল করতালি দিয়ে আমাকে অভিনন্দিত করল। আসামের মানুষ কিংবা দক্ষিণ এশিয়ার জনগণ মনে হয় না এটা বুঝছে যে, যারা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বন্দুক হাতে নেয়, রাষ্ট্র তাদের কোনো সুযোগ দেবে না। কেননা, তার মানে হলো আস্ত রাজনীতিটাই ধ্বংস হয়ে যাওয়া। তখন অন্যরাও একই পথ অবলম্বন করবে।
নাগাদের স্বাধীনতা আন্দোলন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত উলফার। তাদের নেতা ফিজো একইভাবে সার্বভৌমত্বের দাবি তুলেছিলেন এবং লন্ডনে থেকে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছিলেন। সে সময় যখন যুক্তরাজ্যে ভারতীয় হাইকমিশনারের দায়িত্বে ছিলাম, তখন ফিজো মারা গেছেন। ফিজোর মৃত্যুর পর তাঁর সহযোদ্ধা খোদাও-ইয়ানথান আমার সঙ্গে দেখা করেন।
নাগাল্যান্ডে বিদ্রোহ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইয়ানথান লন্ডনে বাস করে আসছিলেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন যে, তিনি নাগাল্যান্ডে গিয়ে তাঁর সহযোদ্ধাদের বোঝাতে চান, তাঁদের সহিংসতার পথ ছেড়ে দিয়ে ঐক্যবদ্ধ ভারতের কাঠামোর মধ্যেই সমাধানের পথ সন্ধান করা উচিত। তিনি আমাকে বলেন, ফিজো মৃত্যুর আগে সশস্ত্র পন্থা ত্যাগ করার কথা বলেছিলেন। আমার আস্থা ছিল যে, ইয়ানথান চরমপন্থীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে পারবেন। আমি চাই, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল যদি ফিজোর কাছ থেকে এটা শিখতে পারত!
আমি মনে করি, উত্তর-পূর্বাঞ্চল বিষয়ে ভারতের নীতি বাস্তববাদী নয়। জওহরলাল নেহরু এই অঞ্চলকে আলাদাই রেখেছিলেন, যাতে এখানকার মানুষ তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষা করে জীবনযাপন করতে পারে। অবশ্য যেকোনো সরকারের জন্য এটা কঠিন সিদ্ধান্ত। তবে তার আগে কেন্দ্রকে নিশ্চিত করতে হবে, এই এলাকাকে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা যাবে না এবং কেবল মানসিক বন্ধনই নয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের ধারা বন্ধ করা চলবে না।
সত্যি যে পাকিস্তানকেও তালেবান-হুমকি উচ্ছেদ করতে হবে। কিন্তু ইসলামাবাদকেও বুঝতে হবে, যে পদ্ধতিতে তারা শাসন চালাচ্ছে তা বাদবাকি দেশের সঙ্গে কেন্দ্রের মানসিক বন্ধন জোরদার করতে সক্ষম হবে না।
ইংরেজি থেকে অনূদিত
কুলদীপ নায়ার: ভারতীয় সাংবাদিক।

আমরা কী করছি আর আসলে কী করা উচিত

কোপেনহেগেন সম্মেলন আপাত ব্যর্থ হলেও পৃথিবীর সম্যক জলবায়ু নিয়ে এই সম্মেলন সারা পৃথিবীতে একটা সাড়া ফেলেছে। দেশগুলো এটাও জানতে পেরেছে, পৃথিবীর উষ্ণতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে চলেছে বাংলাদেশ। এ অবস্থায় বাংলাদেশে আমরা কী করছি!
একটি দেশের জলবায়ু, বিশেষ করে উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের অন্যতম নিয়ামক শক্তি হচ্ছে সে দেশের বনভূমি। বর্তমান অবস্থায় বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী দেশের মোট আয়তনের ৯ দশমিক ৮ শতাংশ এলাকায় বনভূমি রয়েছে। বাস্তব অবস্থা অন্য রকম। বন বিভাগের দখলে সম্ভবত ৫ শতাংশ এলাকার বেশি নেই। আর বড় গাছের ছায়া রয়েছে, এমন এলাকা ৩ শতাংশের বেশি হবে না। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে একজন বাংলাদেশি হলেন পৃথিবীর সেই হতভাগ্য ব্যক্তিটি, যাঁর বনভাগ্যে পড়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে কম বন এলাকা।
ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপই যে বনভূমি কমে যাওয়ার মূল কারণ, এটা সবাই জানেন। কিন্তু বর্তমানে যে দ্রুততায় বনভূমি শেষ হয়ে যাচ্ছে, তাতে শুধু জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে দোষারোপ করা যায় না। গত তিন মাসের পত্রপত্রিকা নাড়াচাড়া করলেই সবার চোখে পড়বে, এ বছর শুকনো মৌসুমের শুরু থেকেই আমাদের মিশ্র বৃষ্টিপাতের পাহাড়ি জঙ্গলগুলোর গাছপালা দেদার কাটা হচ্ছে। এ সময়টায় বৃষ্টি না হওয়ায় পাহাড় থেকে গাছ কাটা যেমন সহজ, তেমনি গাছ বহনের ট্রাক ও বনের কাঁচা রাস্তাগুলো ব্যবহার করা যায় স্বচ্ছন্দে। গাছ কাটা হচ্ছে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের, চুনারুঘাটের রেমা-কালেঙ্গা অভয়ারণ্যের, ফাঁসিয়াখালী অভয়ারণ্যের, কাপ্তাই জাতীয় উদ্যানের, কক্সবাজারের মেদা কাচাপিয়া জাতীয় উদ্যানের, টেকনাফ গেম রিজার্ভের। সাজেক উপত্যকা, পাবলাখালীর দুর্গমতার জন্য সেখানে কী হচ্ছে, তার খবর খুব একটা পাওয়া যায় না। তবে পাবলাখালীতে সীমান্ত-লাগোয়া কিছু এলাকা ছাড়া বন তেমন একটা নেই। পত্রপত্রিকার তদন্তে দেখা যাচ্ছে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই গাছ কাটার হোতারা হচ্ছেন স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও বন বিভাগের মাঠপর্যায়ের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারী। এই রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা দলমতনির্বিশেষে কাজটি করে থাকেন।
আমরা যদি আমাদের তলানিতে ঠেকে যাওয়া বনসম্পদ রক্ষা করতে চাই, তাহলে আমাদের প্রয়োজন শক্তিশালী কার্যকর একটি বন বিভাগ। আমাদের বন এলাকা এবং বনের ওপর চাপের তুলনায় বন বিভাগের জনবল, অস্ত্রবল, পরিবহন নিদারুণভাবে কম। সরকারি অর্থ বরাদ্দও খুবই কম। মাঠপর্যায়ের কর্মচারীরা সমাজবিচ্ছিন্ন, জনবিচ্ছিন্নভাবে জীবন যাপন করেন। তাঁদের প্রস্তুত থাকতে হয় দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা। স্নানাহার অনিশ্চিত, চিকিত্সা সুদূরপরাহত। তাঁদের পারিবারিক জীবন বলতে কিছু নেই। স্বাস্থ্যকর বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই। এসব কর্মচারীর ছেলেমেয়েদের শিক্ষারও কোনো ব্যবস্থা নেই। এলাকাগুলো জনবিরল হওয়ায় প্রতিটি এলাকায়ই রয়েছে সশস্ত্র ডাকাতের দল। সন্ত্রাসী দলগুলো তাদের প্রশিক্ষণ শিবির হিসেবে বনের এলাকাগুলো বেছে নেয়। শুধু সুন্দরবন এলাকার সমস্যার দিকে তাকালেই সারা দেশের অবস্থার একটি চিত্র পাওয়া যেতে পারে।
জল ও স্থল মিলিয়ে বাংলাদেশে সুন্দরবনের মোট এলাকা রয়েছে ছয় হাজার ১৭ বর্গকিলোমিটার। এ এলাকার দেখাশোনা করার জন্য বন বিভাগের জনবল রয়েছে মাত্র এক হাজার ১০০ জন। এ এলাকার বনজ সম্পদের ওপর প্রত্যক্ষ ও অপ্রত্যক্ষভাবে জড়িত দক্ষিণ বাংলার প্রায় তিন কোটি মানুষ। বন বিভাগের টহল ফাঁড়িগুলোতে কোনো যান্ত্রিক যানবাহন নেই। স্টেশন অফিসগুলোতে যেসব নৌযান আছে, সেগুলো অধিকাংশই নষ্ট। সুন্দরবনে নেওয়া নানা প্রকল্পের পরিত্যক্ত নৌযান এগুলো। খুবই দুর্বলভাবে নির্মিত এগুলো। এগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ ও জ্বালানি তেলের জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ নেই।
পুরো সুন্দরবন এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে ৩০ থেকে ৪০টি ছোট-বড় ডাকাত দল। ডাকাত দলের ভয়ে বন বিভাগ দুর্গম এলাকার প্রায় ১০টি টহল ফাঁড়িতে অস্ত্র রাখা বন্ধ করে দিয়েছে। কোনো কোনো টহল ফাঁড়ি ডাকাত দল বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করে। অস্ত্রবল, লোকবল, যানবাহনবলে বলীয়ান এসব ডাকাত দলের বিরুদ্ধে ক্যাম্পগুলোর চার-পাঁচজন বনকর্মীর পক্ষে কোনো প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব তো হয়ই না, উপরন্তু তাদের আশ্রয়দাতা হতে বাধ্য হতে হয়। ২০০৫ সালে সামান্য কিছু চায়নিজ রাইফেল দেওয়া ছাড়া বন বিভাগ বনকর্মীদের কোনো সাহায্যই করতে পারেনি। অথচ ডাকাত দল ব্যবহার করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকার সন্ত্রাসী দলগুলোর আধুনিক অস্ত্রপাতি। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, সুন্দরবনের বনচারী ব্যবসায়ীরা বন বিভাগকে যে রাজস্ব দেন, ডাকাতদের দিতে হয় তার চেয়ে বেশি। সুন্দরবনের কর্মচারীরা খাদ্য হিসেবে শুধু গোনের সময় জেলেদের কাছ থেকে মাছ পান। তরিতরকারিও জেলেরাই আনেন। বাকি সময়টা শুধু আলু দিয়েই ভাত খেতে হয়। সকালে বন কর্মচারীরা টহলে বের হলে বন ফাঁঁড়িগুলো অরক্ষিত থাকে। জেলে-বাওয়ালি আশপাশে থাকলে বন অফিসের পাশে রাত কাটান। না থাকলে নিরালা, নিঝুম অন্ধকার। পানীয় জল বলতে তাঁরা পান বন অফিসের লাগোয়া একটি ছোট পুকুরের আধা-লোনা জল। জলোচ্ছ্বাসের পানিতে ভেসে গেলে সেই জলও পানের উপযুক্ত থাকে না। ক্যাম্পগুলোর কক্ষগুলো জরাজীর্ণ। এগুলো সংস্কারের জন্য সরকারের কোনো বরাদ্দ নেই। তাঁদের চলাচলের জন্য রয়েছে খুবই ছোট নড়বড়ে একটি হাতে-বাওয়া ডিঙি। কাঠচোর, মাছচোর, হরিণচোরদের ধরতে পারলেও তাঁদের বিপদ। এই চোরদের কোর্টে চালান করার যানবাহনও তাঁদের নেই। কোর্টে চালান দিতে পারলেও আরেক বিপদ। তখন তাঁদের সাক্ষ্য দিতে যেতে হয় কোর্টে। তাঁদের যাতায়াত, খাই-খরচারও কোনো বরাদ্দ নেই। বেতন-ভাতাও সামান্য। অধিকাংশ কর্মচারী জলবাহিত রোগে ভোগেন। তাঁদের ট্রেনিংয়ের মানও নিচু। স্বভাবতই তাঁদের নৈতিকতার অবস্থাও শোচনীয়।
এ অবস্থায় নড়বড়ে একদল মানুষের কাছ থেকে আমরা কী করে আশা করব, তাঁরা লোভের বশবর্তী হবেন না। যে বিপুল প্রতিকূল প্রতিবন্ধকতা তাঁদের সামনে, সেখানে কী করে আশা করব যে তাঁরা উচ্চ নৈতিকতার আদর্শ স্থাপন করবেন।
বন বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দরবনের ব্যবস্থাপনার জন্য অন্তত তিন হাজার বনকর্মী দরকার। সেই সঙ্গে তাঁদের স্বাভাবিক আবাসন, যোগাযোগ, অস্ত্রায়ন উন্নত করা দরকার। সেই সঙ্গে দরকার উন্নত ট্রেনিং। সুন্দরবন-সংলগ্ন অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা—নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, বিডিআর, পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে বন বিভাগের সহজ সমন্বয় দরকার।
ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষে যখন ঠগিদের মারাত্মক উত্পাত শুরু হয়েছিল, ব্রিটিশ সরকার তখন ঠগি দমনের জন্য সেনাবাহিনীর মেজর হেনরি স্লিম্যানকে একটি বাহিনী দিয়ে নিযুক্ত করেছিল। স্লিম্যান এই মারাত্মক বাহিনী দমন করতে সমর্থ হয়েছিলেন।
ঢাকা শহরে বসে সুন্দরবনে ডাকাতের অত্যাচার বোঝা যায় না। বুঝতে হলে সুন্দরবনে যেতে হবে। তখন সহজেই অনুমেয় হবে, এখানেও স্লিম্যানের বাহিনীর মতো একটি বাহিনীর কিছুকাল কাজ করা দরকার।
দেশের শুকনো এলাকার বনাঞ্চলগুলোয় বন বিভাগের অবস্থা সুন্দরবনের চেয়ে উন্নত নয়। এ অবস্থায় বন রক্ষা করতে হলে একটি মাল্টি ডিসিপ্লিনারি কমিটির মাধ্যমে আমাদের বনগুলোর সম্যক অবস্থা জানতে হবে। কমিটির সুপারিশে বন বিভাগ পুনর্বিন্যাস করতে হবে। বন বিভাগের মেরুদণ্ড সোজা করার জন্য সরকারের আর্থিক বরাদ্দ অনেক বাড়াতে হবে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, কোনো ক্ষেত্রে বন উজাড় ধরা পড়ে গেলে দু-একজন কর্মকর্তা ও কতিপয় কর্মচারীর শাস্তি দেওয়া হয়েছে কালেভদ্রে। বর্তমানের অসুস্থ এই বন বিভাগ তার চেয়ে বেশি কিছু করার ক্ষমতা রাখে না। এতে বন ব্যবস্থাপনার কোনো লাভ হয়নি।
সম্প্রতি খবরে প্রকাশ, প্রধানমন্ত্রী বন উজাড়ের বিষয়ে অবগত হয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছেন। বন উজাড়ের অপকর্মের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির জন্য জাতীয় সংসদে বিল পেশ করার কথা ভাবছেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগ অবশ্যই ধন্যবাদার্হ। কিন্তু বন বিভাগকে শক্তিশালী করা না হলে তাদের কাছে কৈফিয়ত পাওয়ার কোনো নৈতিক অধিকার আমাদের থাকে না। এ বিষয়টিরও সুরাহা হওয়া দরকার।
খসরু চৌধুরী: বন বিশেষজ্ঞ।

ভর্তিতে বাড়তি অর্থ আদায় -শিক্ষার্থীদের ওপর জুলুমের এই ব্যবস্থা বন্ধ হোক

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো রসিদ ছাড়াই বাড়তি অর্থ আদায় করছে। ভর্তির জন্য প্রশাসন যে ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার অতিরিক্ত এ অর্থ আদায়ে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। স্বেচ্ছাচারিতার এক প্রদর্শনী করে বিভাগগুলো এ অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো আগাম ঘোষণার প্রয়োজন পর্যন্ত বোধ করেনি। শিক্ষার্থীদের আগে অবহিত করা হয়নি। ভর্তির ফরম সংগ্রহ করতে গেলে বিভাগে বাড়তি অর্থ জমা দেওয়ার পরই তা মেলে।
শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তি হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। সেই প্রয়োজনকে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে একপ্রকার জিম্মি করে এ অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের অনৈতিক চর্চার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে চললে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তা এক অশনিসংকেত।
বিভিন্ন বিভাগ নিজেদের খেয়ালখুশিমতো এভাবে জনপ্রতি এক থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি অর্থ আদায় করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল তহবিলের বাইরের এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তাও জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীদের অধিকার আছে তাঁদের অর্থ কোন প্রক্রিয়ায়, কী কাজে ব্যয় হচ্ছে তা জানার। অথচ শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা।
পুরো প্রক্রিয়াটিতে যে বড় রকমের শুভংকরের ফাঁকি আছে, তা সহজেই ধারণা করা যায়। আগের বছরগুলোতে কয়েকটি বিভাগ এভাবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা বলে অর্থ আদায় করেছে। সেই অর্থ কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই সত্য অনেকটা প্রকাশ পেয়েছে নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষকের কথায়, ‘...এই অর্থ দিয়ে চা-নাশতা খেতেন অনেকে।’
এ বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত। কিন্তু বিভাগগুলোর এমন স্বেচ্ছাচারী আচরণ কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা ভ্রান্ত, শিক্ষার্থীর ওপর জুলুমের। আমরা আশা করি, বিভাগগুলো এভাবে অর্থ আদায় অবিলম্বে বন্ধ করবে এবং এদের কর্মকাণ্ডে আর্থিক স্বচ্ছতা রাখবে।

ভর্তিতে বাড়তি অর্থ আদায়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বর্ষে ভর্তির সময় সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো রসিদ ছাড়াই বাড়তি অর্থ আদায় করছে। ভর্তির জন্য প্রশাসন যে ফি নির্ধারণ করে দিয়েছে, তার অতিরিক্ত এ অর্থ আদায়ে কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। স্বেচ্ছাচারিতার এক প্রদর্শনী করে বিভাগগুলো এ অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে কোনো আগাম ঘোষণার প্রয়োজন পর্যন্ত বোধ করেনি। শিক্ষার্থীদের আগে অবহিত করা হয়নি। ভর্তির ফরম সংগ্রহ করতে গেলে বিভাগে বাড়তি অর্থ জমা দেওয়ার পরই তা মেলে।
শিক্ষার্থীর জন্য ভর্তি হওয়াটা অত্যন্ত জরুরি। সেই প্রয়োজনকে ব্যবহার করে শিক্ষার্থীকে একপ্রকার জিম্মি করে এ অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ ধরনের অনৈতিক চর্চার প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ বিশ্ববিদ্যালয়ে চললে আমাদের ভবিষ্যতের জন্য তা এক অশনিসংকেত।
বিভিন্ন বিভাগ নিজেদের খেয়ালখুশিমতো এভাবে জনপ্রতি এক থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়তি অর্থ আদায় করছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল তহবিলের বাইরের এই অর্থ কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তাও জানানো হয়নি। শিক্ষার্থীদের অধিকার আছে তাঁদের অর্থ কোন প্রক্রিয়ায়, কী কাজে ব্যয় হচ্ছে তা জানার। অথচ শিক্ষার্থীদের পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে তাঁদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যয়ের বোঝা।
পুরো প্রক্রিয়াটিতে যে বড় রকমের শুভংকরের ফাঁকি আছে, তা সহজেই ধারণা করা যায়। আগের বছরগুলোতে কয়েকটি বিভাগ এভাবে শিক্ষার্থীদের স্বার্থের কথা বলে অর্থ আদায় করেছে। সেই অর্থ কী কাজে ব্যবহার করা হয়েছে, সেই সত্য অনেকটা প্রকাশ পেয়েছে নৃবিজ্ঞান বিভাগের একজন শিক্ষকের কথায়, ‘...এই অর্থ দিয়ে চা-নাশতা খেতেন অনেকে।’
এ বিশ্ববিদ্যালয় স্বায়ত্তশাসিত। কিন্তু বিভাগগুলোর এমন স্বেচ্ছাচারী আচরণ কোনোমতেই মেনে নেওয়া যায় না। এভাবে অর্থ আদায়ের ব্যবস্থা ভ্রান্ত, শিক্ষার্থীর ওপর জুলুমের। আমরা আশা করি, বিভাগগুলো এভাবে অর্থ আদায় অবিলম্বে বন্ধ করবে এবং এদের কর্মকাণ্ডে আর্থিক স্বচ্ছতা রাখবে।

রক্তপাতের ধারার প্রত্যাবর্তন -সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের টনক নড়ছে কি

শিক্ষাঙ্গনে দখলদারি ও সন্ত্রাসের যে কালো মেঘ গত এক বছর ধরে ছাড়া-ছাড়াভাবে বিরাজ করছিল, এখন তা বজ্রপাতের মতো নেমে এল। আবারও সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ঝরে গেল তাজা এক ছাত্রের প্রাণ। রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রমৈত্রীর এক নেতা নিহত হয়েছেন। আশা করা হয়েছিল, নতুন সরকারের দিনবদলের প্রত্যয়ে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের কলঙ্কিত ধারার অবসান হবে, কিন্তু সেই আশা মনে হয় দিনকে দিন যেন মরীচিকার মতো অধরাই হয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষাঙ্গনে অশান্তি গত বছর জুড়েই থেমে থেমে ঘটতে দেখা গেছে। নতুন বছরের শুরুতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে কয়েকজন শিক্ষককে প্রহূতও হতে দেখা গেছে। আর এখন ঘটল ছাত্রের হাতে ছাত্র খুনের ঘটনা। এ রকম ধারা চলতে থাকলে আশঙ্কা জাগে, আমরা কি তবে আবার দখলদারি আর সন্ত্রাসের অন্ধকারেই ফিরে যাচ্ছি?
ঘটনার অভিঘাতে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বন্ধ হয়ে গেছে, শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসেছে পুলিশি প্রহরা। অন্যদিকে ছাত্রলীগ তাদের সাত সদস্যকে এর জন্য বহিষ্কারও করেছে। কিন্তু প্রকৃত শাস্তি হতে হবে আদালতে, সে ব্যাপারে যেন কোনো ছাড় না দেওয়া হয়।
ঘটনাটি মর্মান্তিক, অগ্রহণযোগ্য এবং ক্ষমতাবলে ধরাকে সরা জ্ঞান করার নজির। বলা বাহুল্য, এই ক্ষমতা পেশিশক্তির এবং এর উত্স সরকারে আসীন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাঙ্গনের প্রশাসন এদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকে, এদের ভয়ে ভীত থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা এদের বেয়াড়াপনাকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মদদ দিয়ে থাকে। হত্যা, সন্ত্রাস আর নৈরাজ্য এসবেরই ফল।
গত কয়েক দশকে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের সঙ্গে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে লাগাতারভাবে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। এদের প্রধান কাজ যদি সন্ত্রাস ও দখলদারিই হয়ে যায়, তবে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের কাছে এদের কোনো প্রয়োজন আছে কি না, ভেবে দেখা বাঞ্ছনীয়। সমস্যার গোড়া যেখানে, হাত দিতে হবে সেখানেই। সবার আগে পুলিশ ও শিক্ষাঙ্গনের প্রশাসনকে সন্ত্রাসীদের দমনের কাজে নিরপেক্ষ ও দৃঢ় হতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকেই।
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস নিকৃষ্ট প্রকৃতির সন্ত্রাস। সরকার যদি এর সঙ্গে আপস করে, তবে শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির যে ধ্বজা তারা তুলে ধরতে চায়, তার সঙ্গেই প্রতারণা হবে। অতীতে মানুষ এ রকম আচরণ ভালোভাবে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না।

রক্তপাতের ধারার প্রত্যাবর্তন

শিক্ষাঙ্গনে দখলদারি ও সন্ত্রাসের যে কালো মেঘ গত এক বছর ধরে ছাড়া-ছাড়াভাবে বিরাজ করছিল, এখন তা বজ্রপাতের মতো নেমে এল। আবারও সন্ত্রাসের শিকার হয়ে ঝরে গেল তাজা এক ছাত্রের প্রাণ। রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ছাত্রলীগের হামলায় ছাত্রমৈত্রীর এক নেতা নিহত হয়েছেন। আশা করা হয়েছিল, নতুন সরকারের দিনবদলের প্রত্যয়ে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের কলঙ্কিত ধারার অবসান হবে, কিন্তু সেই আশা মনে হয় দিনকে দিন যেন মরীচিকার মতো অধরাই হয়ে যাচ্ছে।
শিক্ষাঙ্গনে অশান্তি গত বছর জুড়েই থেমে থেমে ঘটতে দেখা গেছে। নতুন বছরের শুরুতেই রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সন্ত্রাসীদের হাতে কয়েকজন শিক্ষককে প্রহূতও হতে দেখা গেছে। আর এখন ঘটল ছাত্রের হাতে ছাত্র খুনের ঘটনা। এ রকম ধারা চলতে থাকলে আশঙ্কা জাগে, আমরা কি তবে আবার দখলদারি আর সন্ত্রাসের অন্ধকারেই ফিরে যাচ্ছি?
ঘটনার অভিঘাতে রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট বন্ধ হয়ে গেছে, শহরের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বসেছে পুলিশি প্রহরা। অন্যদিকে ছাত্রলীগ তাদের সাত সদস্যকে এর জন্য বহিষ্কারও করেছে। কিন্তু প্রকৃত শাস্তি হতে হবে আদালতে, সে ব্যাপারে যেন কোনো ছাড় না দেওয়া হয়।
ঘটনাটি মর্মান্তিক, অগ্রহণযোগ্য এবং ক্ষমতাবলে ধরাকে সরা জ্ঞান করার নজির। বলা বাহুল্য, এই ক্ষমতা পেশিশক্তির এবং এর উত্স সরকারে আসীন রাজনৈতিক দলের আশ্রয়-প্রশ্রয়। অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষাঙ্গনের প্রশাসন এদের প্রশ্রয় দিয়ে থাকে, এদের ভয়ে ভীত থাকে এবং অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলের ক্ষমতাবান ব্যক্তিরা এদের বেয়াড়াপনাকে নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য মদদ দিয়ে থাকে। হত্যা, সন্ত্রাস আর নৈরাজ্য এসবেরই ফল।
গত কয়েক দশকে শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের সঙ্গে ছাত্রলীগ, ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরকে লাগাতারভাবে জড়িত থাকতে দেখা গেছে। এদের প্রধান কাজ যদি সন্ত্রাস ও দখলদারিই হয়ে যায়, তবে বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের কাছে এদের কোনো প্রয়োজন আছে কি না, ভেবে দেখা বাঞ্ছনীয়। সমস্যার গোড়া যেখানে, হাত দিতে হবে সেখানেই। সবার আগে পুলিশ ও শিক্ষাঙ্গনের প্রশাসনকে সন্ত্রাসীদের দমনের কাজে নিরপেক্ষ ও দৃঢ় হতে হবে। রাজনৈতিক নেতৃত্ব যদি এই কাজে বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তবে তার দায়িত্ব নিতে হবে সরকারকেই।
শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাস নিকৃষ্ট প্রকৃতির সন্ত্রাস। সরকার যদি এর সঙ্গে আপস করে, তবে শিক্ষা, শান্তি ও প্রগতির যে ধ্বজা তারা তুলে ধরতে চায়, তার সঙ্গেই প্রতারণা হবে। অতীতে মানুষ এ রকম আচরণ ভালোভাবে নেয়নি, ভবিষ্যতেও নেবে না।

অবশেষে রেলের চাকরি হারালেন পরেশ বড়ুয়া!

ভারতের আসাম রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সামরিক বাহিনীর প্রধান পরেশ বড়ুয়া দীর্ঘ ৩২ বছর পর তাঁর রেলের চাকরি হারালেন।
পরেশ বড়ুয়া একসময় একজন নামী খেলোয়াড় ছিলেন। আর ওই খেলাধুলার সুবাদে তিনি ২১ বছর বয়সে ১৯৭৮ সালে উত্তর-পূর্ব রেলে বিশেষ কোটায় একটি চাকরি পেয়েছিলেন আসামের তিনসুকিয়া রেলস্টেশনে। রেলের হয়ে তখন তিনি ফুটবলও খেলতেন। এখন আর তিনি ফুটবল খেলেন না। এখন তিনি উলফার সামরিক বাহিনীর প্রধান। অথচ তাঁর নাম রয়ে গেছে উত্তর-পূর্ব রেলের চাকরির খাতায়।
তিন দশক ধরে তিনি রেলের চাকরিতে গরহাজির। বেতনের খাতাও শূন্য। কিন্তু চাকরিটা এখনো আছে। মূলত ১৯৮০ সালে তিনি ওই চাকরি ফেলে যোগ দিয়েছিলেন সংগঠনের কাজে। সরকারি চাকরি বলে চাকরির খাতা থেকে কেউ নাম কাটেননি। এ খবর সংবাদপত্রে প্রকাশ পাওয়ার পর রেল কর্তৃপক্ষ সজাগ হয়। তারপর চাকরির তালিকা থেকে পরেশ বড়ুয়ার নাম বাদ দেওয়া হয়।

গিনিতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উদ্যোগকে স্বাগত যুক্তরাষ্ট্রের

গিনিতে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং বেসামরিক শাসনব্যবস্থায় উত্তরণের লক্ষ্যে জান্তা নেতার উদ্যোগকে বৃহস্পতিবার স্বাগত জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটিতে এক বছরেরও বেশি সময় আগে সামরিক বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছিল।
পররাষ্ট্র বিভাগের মুখপাত্র পি জে ক্রাউলি সাংবাদিকদের বলেন, ‘গিনিতে একটি অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের জন্য পরিকল্পনা ঘোষণা করায় আমরা জেনারেল সেকুবা কোনাতেকে স্বাগত জানাচ্ছি। আমরা এ নতুন অগ্রযাত্রা দেখে আনন্দিত।’

ভারতে গাড়ি বিক্রি ৪০ ভাগ বেড়েছে

ভারতে গত ডিসেম্বরে গাড়ি বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সে দেশের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (এসআইএএম) জানায়, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে মোট এক লাখ ১৫ হাজার ২৬৮টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চাহিদা কম থাকায় ২০০৮ সালে কম গাড়ি বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সরকারের প্রণোদনা এবং সহজ ব্যাংকঋণের কারণে ২০০৯ সালে গাড়ি বিক্রি বেশি হয়েছে।

ফ্রান্স কট্টর এক ইমামকে মিশরে বিতাড়িত করেছে

ফ্রান্স বৃহস্পতিবার একজন কট্টর ইমামকে মিসরে বিতাড়িত করেছে। কয়েক মাস ধরে তিনি তাঁর অনুসারীদের প্যারিসের বিভিন্ন মসজিদে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য উত্সাহ জোগাচ্ছিলেন।
সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আলি ইব্রাহিম আল-সুদানিকে বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যায়িত করে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মিসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থা ওই বিপজ্জনক লোকটিকে শনাক্ত করেছে। তিনি সেইন-সেন্ট-ডেনিস এলাকার কয়েকটি মসজিদে বেশ কয়েক মাস ধরে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে নসিহত করছিলেন। তিনি দেশের সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন এবং সহিংসতার উসকানি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এমন ঘটনায় আগেও অনেক ইমামকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওহাইও ও লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যে খুনের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত তিনজনের মৃত্যুদণ্ড বৃহস্পতিবার কার্যকর করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এটাই প্রথম ঘটনা। প্রাণঘাতী ইনজেকশন দিয়ে তাঁদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
ওহাইওতে ধর্মান্তরিত মুসলিম বর্ন ভার্নন স্মিথকে ইনজেকশন দেওয়ার আট মিনিট পরই স্থানীয় সময় ১০টা ২৮ মিনিটে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ওহাইওর টোলেডো নিবাসী ২৮ বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি নাগরিককে হত্যার জন্য তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়।
টেক্সাসে কেনেথ মোসলে নামের ৫১ বছর বয়সী এক আফ্রো-আমেরিকানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৯৭ সালে একটি ব্যাংক ডাকাতির সময় এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তাকে হত্যার দায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড হয়। তাঁকে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ছয়টা ১৬ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়।
টেক্সাসে এ বছর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এটি প্রথম ঘটনা। গত বছর এ রাজ্যে ২৪ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ১৯৭৬ সালে সুপ্রিম কোর্ট এ রাজ্যে পুনরায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার অনুমতি দেওয়ার পর থেকে এখানে ৪৪৮ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
লুইজিয়ানায় অপর এক সাজাপ্রাপ্ত জেরাল্ড বোর্ডেলনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০০৬ সালে ১২ বছর বয়সী সেময়েকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে তাঁর মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। লুইজিয়ানার স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল জানায়, তাঁকে সন্ধ্যা ছয়টা ৩২ মিনিটে মৃত ঘোষণা করা হয়।
বোর্ডেলনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর লুইজিয়ানায় ২০০২ সালের পর প্রথম এবং ১৯৭৬ সালের পর ২৮তম ঘটনা। এ রাজ্যে আরও ৮৩জন দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫টি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে।

ফ্রান্স কট্টর এক ইমামকে মিশরে বিতাড়িত করেছে

ফ্রান্স বৃহস্পতিবার একজন কট্টর ইমামকে মিসরে বিতাড়িত করেছে। কয়েক মাস ধরে তিনি তাঁর অনুসারীদের প্যারিসের বিভিন্ন মসজিদে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য উত্সাহ জোগাচ্ছিলেন।
সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, আলি ইব্রাহিম আল-সুদানিকে বিপজ্জনক হিসেবে আখ্যায়িত করে আটক করা হয়। পরে তাঁকে মিসরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গোয়েন্দা সংস্থা ওই বিপজ্জনক লোকটিকে শনাক্ত করেছে। তিনি সেইন-সেন্ট-ডেনিস এলাকার কয়েকটি মসজিদে বেশ কয়েক মাস ধরে পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের আহ্বান জানিয়ে নসিহত করছিলেন। তিনি দেশের সামাজিক মূল্যবোধের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন এবং সহিংসতার উসকানি দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। এমন ঘটনায় আগেও অনেক ইমামকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ভারতে গাড়ি বিক্রি ৪০ ভাগ বেড়েছে

ভারতে গত ডিসেম্বরে গাড়ি বিক্রি ৪০ শতাংশ বেড়েছে। সে দেশের গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন গতকাল শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সোসাইটি অব ইন্ডিয়ান অটোমোবাইল ম্যানুফ্যাকচারার্স (এসআইএএম) জানায়, ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে মোট এক লাখ ১৫ হাজার ২৬৮টি গাড়ি বিক্রি হয়েছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৪০ শতাংশ বেশি।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, চাহিদা কম থাকায় ২০০৮ সালে কম গাড়ি বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে গত বছরের শেষ দিকে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, সরকারের প্রণোদনা এবং সহজ ব্যাংকঋণের কারণে ২০০৯ সালে গাড়ি বিক্রি বেশি হয়েছে

অবশেষে রেলের চাকরি হারালেন পরেশ বড়ুয়া!

ভারতের আসাম রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী জঙ্গি সংগঠন ইউনাইটেড লিবারেশন ফ্রন্ট অব আসামের (উলফা) সামরিক বাহিনীর প্রধান পরেশ বড়ুয়া দীর্ঘ ৩২ বছর পর তাঁর রেলের চাকরি হারালেন।
পরেশ বড়ুয়া একসময় একজন নামী খেলোয়াড় ছিলেন। আর ওই খেলাধুলার সুবাদে তিনি ২১ বছর বয়সে ১৯৭৮ সালে উত্তর-পূর্ব রেলে বিশেষ কোটায় একটি চাকরি পেয়েছিলেন আসামের তিনসুকিয়া রেলস্টেশনে। রেলের হয়ে তখন তিনি ফুটবলও খেলতেন। এখন আর তিনি ফুটবল খেলেন না। এখন তিনি উলফার সামরিক বাহিনীর প্রধান। অথচ তাঁর নাম রয়ে গেছে উত্তর-পূর্ব রেলের চাকরির খাতায়।
তিন দশক ধরে তিনি রেলের চাকরিতে গরহাজির। বেতনের খাতাও শূন্য। কিন্তু চাকরিটা এখনো আছে। মূলত ১৯৮০ সালে তিনি ওই চাকরি ফেলে যোগ দিয়েছিলেন সংগঠনের কাজে। সরকারি চাকরি বলে চাকরির খাতা থেকে কেউ নাম কাটেননি। এ খবর সংবাদপত্রে প্রকাশ পাওয়ার পর রেল কর্তৃপক্ষ সজাগ হয়। তারপর চাকরির তালিকা থেকে পরেশ বড়ুয়ার নাম বাদ দেওয়া হয়।

ব্রিটেনে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা আরও কমেছে

ব্রিটেনে জনপ্রিয়তার নিরিখে বিরোধী শিবির কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ে ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্ব নিয়ে যখন তাঁর নিজ দলেই প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক তখনই গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক জনমত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। খবর এএফপির।
গত বুধবার লেবার পার্টির দুজন প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্বের ব্যাপারে ভোটাভুটির আহ্বান জানানোর পরপরই তাত্ক্ষণিকভাবে এ জরিপ করা হয়। ইন্টারনেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইউগভ’ এ জরিপ পরিচালনা করে।
জরিপে দেখা গেছে, ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন দুই পয়েন্ট বেড়ে ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। আর গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা এক পয়েন্ট কমে ৩০ শতাংশে নেমেছে। ২০০৭ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার নেতৃত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন ব্রাউন। এরপর নানা কারণে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। কিছুদিন ধরে লেবার পার্টির সমর্থন কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল।
বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দুই হাজার ৮৩২ জনের ওপর জরিপ পরিচালনা করে ইউগভ। উল্লেখ্য, দুই সাবেক মন্ত্রীর আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার গোপন ভোটাভুটিতে লেবার পার্টির অনেক প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী ব্রাউনের পক্ষে নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। আগামী জুনে ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

ব্রিটেনে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা আরও কমেছে

ব্রিটেনে জনপ্রিয়তার নিরিখে বিরোধী শিবির কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ে ১২ পয়েন্ট পিছিয়ে রয়েছে ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি। প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্ব নিয়ে যখন তাঁর নিজ দলেই প্রশ্ন উঠেছে, ঠিক তখনই গতকাল শুক্রবার প্রকাশিত এক জনমত জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। খবর এএফপির।
গত বুধবার লেবার পার্টির দুজন প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক মন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্বের ব্যাপারে ভোটাভুটির আহ্বান জানানোর পরপরই তাত্ক্ষণিকভাবে এ জরিপ করা হয়। ইন্টারনেটভিত্তিক আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইউগভ’ এ জরিপ পরিচালনা করে।
জরিপে দেখা গেছে, ডেভিড ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল কনজারভেটিভ পার্টির সমর্থন দুই পয়েন্ট বেড়ে ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে। আর গর্ডন ব্রাউনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা এক পয়েন্ট কমে ৩০ শতাংশে নেমেছে। ২০০৭ সালে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেশ কয়েকবার নেতৃত্ব নিয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন ব্রাউন। এরপর নানা কারণে লেবার পার্টির জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। কিছুদিন ধরে লেবার পার্টির সমর্থন কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে ছিল।
বুধবার বিকেল থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত দুই হাজার ৮৩২ জনের ওপর জরিপ পরিচালনা করে ইউগভ। উল্লেখ্য, দুই সাবেক মন্ত্রীর আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার গোপন ভোটাভুটিতে লেবার পার্টির অনেক প্রভাবশালী নেতা ও মন্ত্রী ব্রাউনের পক্ষে নিজেদের সমর্থন ব্যক্ত করেন। আগামী জুনে ব্রিটেনে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।

কিম জুনিয়রের জন্মদিনে ছিল সরকারি ছুটি

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং ইলের ছোট ছেলে কিম জং উনের জন্মদিনকে গতকাল শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হিসেবে উদ্যাপন করছে উত্তর কোরিয়াবাসী। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে কমিউনিস্টশাসিত উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যত্ নেতা হিসেবে কিম জুনিয়র আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।

যুদ্ধাপরাধের তদন্ত নিয়ে নতুন করে চাপের মুখে শ্রীলঙ্কা

যুদ্ধাপরাধের একটি নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য নতুন করে চাপের মুখে পড়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। গত বছর তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত লড়াইয়ের সময় সেনাসদস্যরা তামিল বন্দীদের হত্যা করছে, এমন একটি ভিডিওচিত্রকে জাতিসংঘ সত্য বলে নিশ্চিত করায় এই চাপের মুখে পড়ল কলম্বো। পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো ২০০৯ সালের শুরুর দিকে তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সময় শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী যে যুদ্ধাপরাধ করেছে, তার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে আসছে। খবর এএফপির।
জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রতিনিধি ফিলিপ অ্যালস্টন গত বৃহস্পতিবার জানান, শ্রীলঙ্কান বাহিনী নিরস্ত্র তামিল বিদ্রোহীদের হত্যা করছে এমন দৃশ্যসংবলিত যে ভিডিও চিত্র আগে প্রচারিত হয়েছে তা সত্য। যুদ্ধাপরাধের তদন্তের বিষয়টি মেনে নেওয়ার জন্য তিনি কলম্বোর প্রতি আহ্বান জানান।
গত আগস্টে ব্রিটেনের চ্যানেল ফোর টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিও চিত্রে দেখানো হয়েছিল, সেনাসদস্যরা লিবারেশন টাইগারস অব তামিল ইলমের (এলটিটিই) নিরস্ত্র সদস্যদের গুলি করে হত্যা করছে। চ্যানেল ফোর জানিয়েছিল তারা শ্রীলঙ্কার ‘জার্নালিস্ট ফর শ্রীলঙ্কা’ নামের একটি গ্রুপের কাছ থেকে ভিডিওটি পেয়েছে। তবে এটির সত্যাসত্য পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি।
অ্যালস্টন জানান, তিনজন নিরপেক্ষ বিশেষজ্ঞের পরীক্ষায় ভিডিও চিত্রটি সঠিক বলে প্রমাণিত হয়েছে। অবশ্য এর আগে শ্রীলঙ্কার চার বিশেষজ্ঞ পরীক্ষা-নীরিক্ষা করে ভিডিও চিত্রটি ভুয়া বলে জানিয়েছিলেন।
অ্যালস্টন বলেন, ‘ভিডিও চিত্রটি যে সঠিক তা প্রমাণিত হওয়ায় যুদ্ধাপরাধ ও অন্যান্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করার জন্য আমি শ্রীলঙ্কা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। এ ব্যাপারে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন গঠনের জন্য শ্রীলঙ্কার উচিত জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানানো।’ তবে শ্রীলঙ্কার মানবাধিকার মন্ত্রী মাহিন্দ সামারাসিঙ্গে গতকাল শুক্রবার আবারও দাবি করেছেন, ওই ভিডিও চিত্রটি ভুয়া। আর অ্যালস্টন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
সামারাসিঙ্গে বলেন, ‘ফিলিফ অ্যালস্টন শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একটি আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধের তদন্ত চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। তিনি যে পথে এগোচ্ছেন তা নিয়ে আমাদের আপত্তি আছে। তাঁর উচিত এ সংক্রান্ত তথ্য প্রথমেই আমাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা।’
২০০৯ সালের শুরুর দিকে দেশের উত্তরাঞ্চলে তামিল বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরু করে শ্রীলঙ্কার সেনাবাহিনী। ওই বছরের মে মাসে এসে বিদ্রোহীদের পরাজয় হয়। এর মাধ্যমে দেশটিতে দীর্ঘ সংঘাতের অবসান ঘটে।
তবে চূড়ান্ত যুদ্ধ শুরুর প্রথম থেকেই পশ্চিমা দেশ এবং মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ তোলে, সেখানে বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। জাতিসংঘের হিসাবমতে, চূড়ান্ত যুদ্ধের প্রথম চার মাসে নিহত হয় প্রায় সাত হাজার বেসামরিক নাগরিক। যুদ্ধাপরাধ ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তোলে জাতিসংঘ, বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এবং কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। তবে যুদ্ধাপরাধ তদন্তের দাবি বরাবর প্রত্যাখ্যান করে আসছে শ্রীলঙ্কা সরকার। তারা বলছে, যুদ্ধের সময় কোনো বেসামরিক ও বিচার-বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি।

টোকিওর অবস্থান স্পষ্ট করতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

মার্কিন-জাপান মিত্রতা সম্পর্কে টোকিওর অবস্থান স্পষ্ট করতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানাবে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি জাপানের ফুতেনমায় মার্কিন বিমানঘাঁটি ওকিনাওয়ায় সরিয়ে নিতে জাপান সরকারের সহায়তা কামনা করা হবে।
আগামী মঙ্গলবার হাওয়াইয়ে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বিষয়টি তুলে ধরবেন। ওই বৈঠকের মধ্য দিয়ে হিলারির চতুর্থবার এশিয়া সফর শুরু হবে।

ক্রোয়েশিয়ায় প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন কাল

ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশে আগ্রহী ক্রোয়েশিয়ার প্রেসিডেন্ট পদের চূড়ান্ত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কাল রোববার।
জরিপ অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এসডিপি) প্রার্থী আইনের অধ্যাপক ইভো জোসিপোভিক (৫২) এগিয়ে আছেন। তবে কাল চূড়ান্ত পর্বের নির্বাচনে রাজধানী জাগরেভের জনপ্রিয় মেয়র প্রেসিডেন্ট প্রার্থী মিলান ব্যানডিকেরও (৫৪) কিছুটা সম্ভাবনা রয়েছে। খবর এএফপির।
বিভিন্ন জরিপ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট পদে গত ২৭ ডিসেম্বরের প্রথম পর্বের নির্বাচনে জোসিপোভিক প্রতিদ্বন্দ্বী মিলানের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি ভোট পান। প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচনের ঘোষণা দিলে গত নভেম্বরে জোসিপোভিকের দল এসডিপি থেকে মিলানকে বহিষ্কার করা হয়।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, জোসিপোভিকের পক্ষে নতুন সমর্থকদের ভোট পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কালকের নির্বাচনে অনেক ভোট ব্যানডিকের পক্ষে যেতে পারে। কেননা, প্রথম দফায় মাত্র ৪৪ শতাংশ ভোটার ভোট দিয়েছেন।
নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নে ঢোকার অন্যতম উপায় হিসেবে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান জোরদার এবং দেশকে গভীর অর্থনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে উভয় প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
‘ক্রোয়েশিয়ার জন্য ন্যায়বিচার’ স্লোগান নিয়ে নির্বাচনী প্রচার চালানো জোসিপোভিক বলেন, ‘ক্রোয়েশিয়াবাসী যদি আমাকে পছন্দ করে, তবে তারা উপযুক্ত একজন ব্যক্তি ও প্রকল্প পাবে, যা অর্জন করা হবে।’
ব্যানডিক রাজধানীর মেয়র হিসেবে তাঁর প্রমাণিত যোগ্যতা তুলে ধরে প্রচার চালাচ্ছেন।

কিম জুনিয়রের জন্মদিনে ছিল সরকারি ছুটি

উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং ইলের ছোট ছেলে কিম জং উনের জন্মদিনকে গতকাল শুক্রবার সরকারি ছুটির দিন হিসেবে উদ্যাপন করছে উত্তর কোরিয়াবাসী। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে কমিউনিস্টশাসিত উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যত্ নেতা হিসেবে কিম জুনিয়র আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন।

মিয়ানমারের দুই কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গোপন যোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য পাচারের দায়ে দেশটির একটি আদালত দুই কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ কথা বলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ‘তথ্য পাচারের জন্য দুজন কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকজনের ১৫ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইনসেইন কারাগারের একটি বিশেষ আদালত তাঁদের এই দণ্ডাদেশ দেন।’
সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন উইন নাইং কিয়াও ও থোরা কিয়াও এবং কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন পিয়ান সেইন। তবে সূত্র এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদ সাময়িকী ইরাবতী জানায়, উইন নাইং কিয়াও হলেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং থোরা কিয়াও ও পিয়ান সেইন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করতেন। ইরাবতী জানায়, মিয়ানমারের থার্ড ইন কমান্ড জেনারেল শোয়ে মানের উত্তর কোরিয়া সফরসংক্রান্ত তথ্য ও ছবি প্রবাসী গণতন্ত্রপন্থী সংবাদমাধ্যমে সরবরাহ করার জন্য তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সাময়িকীটি আরও জানায়, ওই সফরটি ছিল সামরিক অস্ত্র সংগ্রহ, সুড়ঙ্গ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা ও অন্যান্য বিষয়সংক্রান্ত।
গত জুন মাসে মিয়ানমারের প্রবাসী গণতন্ত্রকামী কর্মীরা কিছু ছবি প্রকাশ করে বলে যে এগুলো মিয়ানমারের ভেতরে উত্তর কোরীয় বিশেষজ্ঞদের গড়ে তোলা গোপন সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের ছবি। এতে পরমাণু অস্ত্রসমৃদ্ধ পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে মিয়ানমারের যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

টোকিওর অবস্থান স্পষ্ট করতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান

মার্কিন-জাপান মিত্রতা সম্পর্কে টোকিওর অবস্থান স্পষ্ট করতে জাপানের প্রতি আহ্বান জানাবে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি জাপানের ফুতেনমায় মার্কিন বিমানঘাঁটি ওকিনাওয়ায় সরিয়ে নিতে জাপান সরকারের সহায়তা কামনা করা হবে।
আগামী মঙ্গলবার হাওয়াইয়ে জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাতসুয়া ওকাদার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন বিষয়টি তুলে ধরবেন। ওই বৈঠকের মধ্য দিয়ে হিলারির চতুর্থবার এশিয়া সফর শুরু হবে।

ঠান্ডা ও তুষারপাতে ইউরোপে পরিবহনব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা

প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারপাতে ইউরোপের জনজীবন বিপর্যস্ত। গোটা মহাদেশজুড়ে পরিবহনব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। বিঘ্নিত হয়েছে ইউরোস্টার রেল পরিষেবা।
ব্রিটেনে ঠান্ডা এতটাই তীব্র যে তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রিরও নিচে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ আবহাওয়া দপ্তরের প্রধান রিচার্ড ইয়াং বলেন, দেশের অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা দিনে হিমাঙ্কের ওপরে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে। রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ছে। খবর এএফপির।
গত কয়েক দশকের মধ্যে এই মৌসুমে ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা পড়ছে। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংকট মোকাবিলায় গত বৃহস্পতিবার প্রায় ১০০টি বড় প্রতিষ্ঠানের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
ইউরোস্টার রেল পরিষেবা আবারও বিঘ্নিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ব্রাসেলস ও লন্ডনের মধ্যে চলাচলকারী একটি ট্রেন দুই ঘণ্টার জন্য সুড়ঙ্গ পথে আটকে পড়ে।
ইউরোপজুড়ে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অনেকগুলো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। প্যারিসের দক্ষিণের ওর্লি বিমানবন্দরের বহির্গামী ফ্লাইটগুলো বাতিল কিংবা বিলম্বিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাওয়া একটি বিমানকে অন্য বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটেনে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রায় ৮০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে ইজি জেট এয়ারলাইনস। অধিকাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয় গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দরে অনেকগুলো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আবার অনেক ফ্লাইট বিলম্বে ছেড়েছে।

চার্লি চ্যাপলিনকে নিয়ে তৈরি হচ্ছে কার্টুন

আবার ফিরে আসছেন কৌতুকাভিনেতা ও চলচ্চিত্র পরিচালক চার্লি চ্যাপলিন। তবে বাস্তব চরিত্রে নয়, কার্টুনের চরিত্রে দেখা যাবে তাঁকে। টেলিভিশনে প্রচারের জন্য তাঁকে নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ১০৪ পর্বের কার্টুন। প্রতিটি কার্টুনের দৈর্ঘ্য হবে ছয় মিনিট।
ভারতের হায়দরাবাদের এনিমেশন ও বিশেষ দৃশ্য তৈরির প্রতিষ্ঠান ডিকিউ এন্টারটেইনমেন্ট, ফ্রান্সের মিডিয়া গ্রুপ মেথড এনিমেশন ও এমকেটুর যৌথ উদ্যোগে এ কার্টুন তৈরি হচ্ছে। প্রকল্পের খরচ ধরা হয়েছে ১০০ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এরই মধ্যে কার্টুন তৈরির অনুমতি মিলেছে।
গতকাল শুক্রবার মুম্বাইতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কার্টুন তৈরির পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানায় ডিকিউ এন্টারটেইনমেন্ট। খবর এএফপির।
এর আগে গত নভেম্বরে প্যারিসে মেথড এনিমেশনের কর্মকর্তারা বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, ছয় বা এর বেশি বয়সের শিশুদের উদ্দেশে স্বল্পদৈর্ঘ্যের ওই এনিমেশন তৈরি করা হচ্ছে। তবে তাতে কোনো সংলাপ থাকবে না। চ্যাপলিনের তৈরি প্রায় ৭০টি স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্র থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পর্বগুলোর চিত্র ও অভিনয়ের দৃশ্য তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যাবে, চ্যাপলিনের বিখ্যাত কালো রঙের লম্বা গোল টুপি, ভবঘুরে চরিত্র, ছোট গোঁফ, ঢোলা প্যান্ট ও ছড়ি। ২০১১ সাল থেকে ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানিতে কার্টুনের পর্বগুলো প্রদর্শনের ব্যাপারে আলোচনা চলছে।
মেথড এনিমেশন জানায়, চ্যাপলিনের সত্যিকারের জগত্ বোঝার জন্য এ নিয়ে এক বছরের বেশি সময় ধরে কাজ হচ্ছে। এতে সত্যিকারের জীবন্ত বর্ণনা হয় তো থাকবে না, তবে এর চেয়ে বেশি কিছু হবে। আধুনিকভাবে উপস্থাপন করা হবে চ্যাপলিনকে।
নির্বাক চলচ্চিত্রের যুগের অন্যতম প্রভাবশালী ও জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা ও পরিচালক চ্যাপলিন মারা যান ১৯৭৭ সালে। দ্য কিড (১৯২১), দ্য গোল্ড রাশ (১৯২৫), সিটি লাইটস (১৯৩১), মডার্ন টাইমস (১৯৩৬) ও দ্য গ্রেট ডিক্টেটর (১৯৪০) তাঁর জনপ্রিয় কাজগুলোর অন্যতম।

মিয়ানমারের দুই কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন সামরিক জান্তা ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে গোপন যোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য পাচারের দায়ে দেশটির একটি আদালত দুই কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার সরকারি সূত্রে এ কথা বলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্র জানায়, ‘তথ্য পাচারের জন্য দুজন কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড এবং আরেকজনের ১৫ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ইনসেইন কারাগারের একটি বিশেষ আদালত তাঁদের এই দণ্ডাদেশ দেন।’
সূত্র জানায়, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা হলেন উইন নাইং কিয়াও ও থোরা কিয়াও এবং কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন পিয়ান সেইন। তবে সূত্র এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। থাইল্যান্ডভিত্তিক সংবাদ সাময়িকী ইরাবতী জানায়, উইন নাইং কিয়াও হলেন সাবেক সামরিক কর্মকর্তা এবং থোরা কিয়াও ও পিয়ান সেইন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাজ করতেন। ইরাবতী জানায়, মিয়ানমারের থার্ড ইন কমান্ড জেনারেল শোয়ে মানের উত্তর কোরিয়া সফরসংক্রান্ত তথ্য ও ছবি প্রবাসী গণতন্ত্রপন্থী সংবাদমাধ্যমে সরবরাহ করার জন্য তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
সাময়িকীটি আরও জানায়, ওই সফরটি ছিল সামরিক অস্ত্র সংগ্রহ, সুড়ঙ্গ নির্মাণ নিয়ে আলোচনা ও অন্যান্য বিষয়সংক্রান্ত।
গত জুন মাসে মিয়ানমারের প্রবাসী গণতন্ত্রকামী কর্মীরা কিছু ছবি প্রকাশ করে বলে যে এগুলো মিয়ানমারের ভেতরে উত্তর কোরীয় বিশেষজ্ঞদের গড়ে তোলা গোপন সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্কের ছবি। এতে পরমাণু অস্ত্রসমৃদ্ধ পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে মিয়ানমারের যোগাযোগ নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

নিরাপত্তা-ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিলেন ওবামা

বিমানে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র আগে থেকে শনাক্ত করতে না পারার ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমারই দায়িত্ব দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে চূড়ান্ত দায়ভারটা আমার ওপরই বর্তায়।’
বড়দিনের প্রাক্কালে মার্কিন বিমানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে গত বৃহস্পতিবার দুটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশকালে প্রেসিডেন্ট ওবামা এসব কথা বলেন। ওবামা আরও বলেন, তদন্ত থেকে জানা যাচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দারা আগে থেকেই জানত যে অভিযুক্ত ওমর ফারুক আবদুল মোতালিব একজন সন্ত্রাসী। তারা এটাও জানতে পেরেছিল যে ইয়েমেনে আল-কায়েদা শাখা হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে তারা এ দুটি ভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যকে এক সূত্রে গাঁথতে পারেনি।
গত ২৫ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটগামী নর্থওয়েস্ট এয়ারলাইনসের একটি বিমানে বিস্ফোরক নিয়ে ওঠেন ওমর। বিমানটি ডেট্রয়েট বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণ আগে শরীরে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, ‘আমি মোটেই অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাই না। বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভুল শুধরে নিতে আমি এ থেকে শিক্ষা নিতেই আগ্রহী।’
তবে ওবামা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা-ব্যর্থতার দায় কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং এটি বিভিন্ন সংস্থার ‘পদ্ধতিগত’ ব্যর্থতা। এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় বিদ্যমান পদ্ধতিগুলো বদলে ফেলার জন্য তিনি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ওবামা জানান, এ ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং গোয়েন্দাদের কর্মকাণ্ড কয়েকটি দিক দিয়ে তখন ভেঙে পড়েছিল। এ কারণেই ওমর পোশাকের মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে বিমানে উঠতে পেরেছিলেন।
আরব উপদ্বীপ অঞ্চলে আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কিছু করতে না পারা এবং গোয়েন্দা তথ্য সঠিকভাবে পর্যালোচনা না করতে পারার জন্য ওবামা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসীদের তালিকায় যেসব সন্ত্রাসীর নাম আছে, তাদের ঠিকমতো চিহ্নিত করতে না পারার কারণেই ওমর যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে উঠতে পেরেছিলেন বলে তিনি জানান।
এসব ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতা শুধরে নেওয়ার জন্য গোয়েন্দা তথ্য আরও সতর্কভাবে পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ওই তথ্য ভাগাভাগির নির্দেশ দেন ওবামা।
এ ছাড়া আল-কায়েদা যাতে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে না পারে, সে জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান আল-কায়েদাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এটিও স্পস্ট যে সংগঠনটি তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আফ্রিকা ও অন্যান্য স্থান থেকেও নতুন ব্যক্তিদের দলে টানতে চাইছে।’
বিমানবন্দরে বসছে ৩০০ স্ক্যানার
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি জেনেট নেপোলিতানো জানিয়েছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় অন্য দেশগুলোকেও নিজেদের দেশে কার্যকর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নেপোলিতানো জানান, নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৩০০ পূর্ণাঙ্গ দেহ তল্লাশি স্ক্যানার বসানোর ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাইজেরিয়ার প্রস্তাব
নাইজেরিয়া জানিয়েছে, হামলার পরিকল্পনাকারী অভিযুক্ত ওমরকে গত ২৪ ডিসেম্বর লাগোস বিমানবন্দরে তল্লাশি করেছিলেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। ওই তল্লাশির ভিডিও চিত্র মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নাইজেরিয়া।
নাইজেরিয়ার বিচারমন্ত্রী মিখাইল আনদোয়াকা গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, ‘ভিভিও চিত্র থেকে প্রমাণিত হবে, আমাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছিলেন।

প্রাচীন মিসরীয় প্রসাধনী চোখের রোগও নিরাময় করত

প্রাচীন মিসরের চমকপ্রদ চোখের প্রসাধনী ব্যবহারকারীদের শুধু শয়তানের কুনজর থেকেই রক্ষা করত না, চোখের রোগ থেকেও তাদের রক্ষা করত। গত বৃহস্পতিবার ফরাসি বিজ্ঞানীরা এ কথা বলেছেন।
গবেষক ফিলিপ ওয়াল্টার বলেন, প্রায় চার হাজার বছর আগে প্রাচীন মিসরীয়রা চোখ কালো ও শ্রীমণ্ডিত করার জন্য এক ধরনের প্রসাধনী ব্যবহার করত, যা সিসা ও সিসা-লবণের মিশ্রণ দিয়ে তৈরি করা হতো। এই প্রসাধনী তৈরি করতে অনেক সময় এক মাস পর্যন্ত সময় লেগে যেত। গবেষক ফিলিপ ওয়াল্টার ফ্রান্সের ল্যুভর জাদুঘরের একটি গবেষক দলের উপপ্রধান।
ধারণা করা হয় যে সিসা মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু ল্যুভর জাদুঘরের গবেষকদের ফলাফল ওই ধারণার বিপরীত। গবেষকেরা বলছেন, খুব স্বল্পমাত্রার সিসা কোষ ধ্বংস করে না। এ বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য গবেষকেরা বিশ্লেষণনির্ভর রসায়ন ব্যবহার করেন।
কম মাত্রায় সিসা ব্যবহার কোষ ধ্বংস করার পরিবর্তে নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করে। এই অণু রোগ প্রতিরোধব্যবস্থা সক্রিয় করে তোলে, যা চোখের সংক্রমণের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে।

ম্যারাডোনার টিভি

টিভি উপস্থাপক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। কিউবার রাষ্ট্রপতি ফিদেল কাস্ত্রো থেকে শুরু করে ফুটবল কিংবদন্তি পেলের পর্যন্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন। এবার আস্ত টিভি চ্যানেলই খোলার পরিকল্পনা করছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। পাশাপাশি ইন্টারনেট চ্যানেলও থাকবে তাঁর। ‘অন অ্যান্ড অফ হোল্ডিংস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই ঘোষণা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহেই টিভি আর ইন্টারনেট চ্যানেল চালু হবে বলে জানিয়েছে তারা। তবে চ্যানেলটি কোন ধরনের হবে, কোথায় সেটি দেখা যাবে—এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

আত্মবিশ্বাস হারিয়ে গেছে নাদালের

গত আট মাসে কোনো এটিপি ট্যুর জেতা হয়নি নাদালের। অনেক দিন পর আবারও ট্রফি-খরা ঘোচাতে বদ্ধপরিকর বিশ্বের দুই নম্বর তারকা। বেলজিয়ান খেলোয়াড় স্টিভ দারচিসকে হারিয়ে কাতার ওপেনের সেমিফাইনালেও উঠে গেছেন। পরশু নাদাল প্রথম সেটে দারচিসকে ৬-১ গেমে উড়িয়ে দিলেও দ্বিতীয় সেট পুরো খেলতে হয়নি তাঁকে। ২-০-তে এগিয়ে থাকা নাদালের কাছে নয়, ইনজুরির কাছে হার মেনে খেলা থেকে সরে দাঁড়ান দারচিস।
বছরটা দারুণভাবে শুরু করা নাদাল পাখির চোখ করেছেন অস্ট্রেলিয়ান ওপেনকে। প্রস্তুতি টুর্নামেন্টগুলো ভালোই খেলছেন। তারপরও কোথায় যেন একটু আত্মবিশ্বাসের অভাব রয়েই গেছে তাঁর। হারানো সেই আত্মবিশ্বাসটাই যে খুঁজে পাচ্ছেন না! একের পর এক সমস্যা জড়িয়ে ধরছিল নাদালকে। একবার হাঁটুর ইনজুরি তো পরে পাকস্থলীতে সমস্যা। তাঁর বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদও কম প্রভাব ফেলেনি ক্যারিয়ারে। এসব সমস্যা পেছনে ফেলেই এগিয়ে যেতে চান ছয়টি গ্র্যান্ড স্লামের মালিক, ‘অনেক সমস্যায় আমার আত্মবিশ্বাসটা একটু হলেও টলে গেছে। কিন্তু এটাই জীবন। আপনাকে সমস্যাগুলো মেনে নিয়েই ফিরে আসতে হবে। আমি চেষ্টাও করছি। দেখি আগামী ছয় মাসে কী করতে পারি।’
বিশ্বের দুই নম্বর তারকার পড়তি ফর্মে মিডিয়া একটু বেশিই অসহিষ্ণু হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। তবে এসব নিয়ে কিছুই ভাবছেন না এই স্প্যানিয়ার্ড, ‘যে যার মতো বলতে পারে কিন্তু আমি তাদের বিরুদ্ধে কিছুই বলব না। আমি সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে জিতিনি। কিন্তু এটা টেনিস, আপনি সব সময় আপনার শতভাগ দিতে পারবেন না। তবে আমি টুর্নামেন্ট জেতার জন্য চেষ্টা করছি এবং জিততে প্রস্তুত। কিন্তু আপনি কখনোই জানেন না কী ঘটবে। আপনাকে প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং আপনার সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।’
আপাতত চাচা কোচ টনির তত্ত্বাবধানে কঠোর অনুশীলন করে চলেছেন নাদাল। নিজের খেলার ভিডিও দেখছেন খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। লক্ষ্য একটাই—আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ান ওপেন।

দুর্বলতার সুযোগ নিতে চান সিডল

সিডনির দুঃস্বপ্ন নিশ্চয়ই আরও কিছুদিন তাড়িয়ে বেড়াবে পাকিস্তানকে। আর এটাকে পুঁজি করে এবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে চান সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম নায়ক পিটার সিডল।
‘প্রথম ইনিংসে ২০০ রানে এগিয়ে থেকেও জিততে না পেরে ওরা বড় একটা সুযোগ নষ্ট করেছে। ব্যাট হাতে শেষ দিকে আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালাম, এরপর হরিজ ও জনসনের বোলিং...নিশ্চিতভাবেই আগামী কিছুদিন এসব তাদের তাড়িয়ে বেড়াবে এবং হোবার্টে তাদের মাথায়ও এসব থাকবে। এ সুযোগটাকে আমরা অবশ্যই কাজে লাগাব’—বলেছেন প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশের সম্ভাবনায় রোমাঞ্চিত সিডল। হোবার্টে ১৪ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে সিরিজের শেষ টেস্ট। এই ম্যাচ জিততে পারলে ২০০৬-০৭ অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পর এটাই হবে এক সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বেশি টেস্ট জয়।
তবে ব্যাট হাতে তো প্রত্যাশার চেয়েও বেশি করেছেন, কিন্তু আসল কাজ যেটি, একটু যেন ভাটা পড়েছে সেই বোলিংয়েই! গত চার টেস্টে নিয়েছেন মাত্র ৬ উইকেট। তবে এটা নিয়ে চিন্তিত নন ২৫ বছর বয়সী পেসার, ‘এসব নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই, চিন্তা করলে তো আর উইকেট আসবে না। আমার বিশ্বাস, আমি ঘুরে দাঁড়াব। শুধু মাঠে গিয়ে নিজের কাজটা ঠিক-ঠাক করতে হবে আমাকে। হয়তো পরের মাচেই আমি অনেক উইকেট পেয়ে যাব!’
অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় জয় ভবিষ্যত্ নিয়ে আশাবাদী করে তুলেছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেকদেরও। সাবেক উইকেটকিপার ইয়ান হিলি ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে আমাদের ভবিষ্যত্ ভালো। আমাদের গভীরতা অনেক, তাই সামনে আরও উন্নতি হবেই।’ সাবেক অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল এই জয়ে দেখতে পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার চিরায়ত ছবিটাই, ‘অস্ট্রেলিয়া অনেক ক্রিকেটারকে হারিয়েছে, তবে তারা এখনো জানে কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে জিততে হয়।’
শেষ টেস্টের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া দল। সাইমন ক্যাটিচের ইনজুরি এখনো পুরোপুরি সারেনি, এ টেস্টেও তাই তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় আছে।

ঠান্ডা ও তুষারপাতে ইউরোপে পরিবহনব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা

প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারপাতে ইউরোপের জনজীবন বিপর্যস্ত। গোটা মহাদেশজুড়ে পরিবহনব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে বিশৃঙ্খলা। বিঘ্নিত হয়েছে ইউরোস্টার রেল পরিষেবা।
ব্রিটেনে ঠান্ডা এতটাই তীব্র যে তাপমাত্রা মাইনাস ১৮ ডিগ্রিরও নিচে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ আবহাওয়া দপ্তরের প্রধান রিচার্ড ইয়াং বলেন, দেশের অধিকাংশ জায়গায় তাপমাত্রা দিনে হিমাঙ্কের ওপরে উঠতে হিমশিম খাচ্ছে। রাতে প্রচণ্ড ঠান্ডা পড়ছে। খবর এএফপির।
গত কয়েক দশকের মধ্যে এই মৌসুমে ব্রিটেনে সবচেয়ে বেশি ঠান্ডা পড়ছে। প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে ইউরোপে জ্বালানি সরবরাহ নিয়েও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংকট মোকাবিলায় গত বৃহস্পতিবার প্রায় ১০০টি বড় প্রতিষ্ঠানের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
ইউরোস্টার রেল পরিষেবা আবারও বিঘ্নিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার ব্রাসেলস ও লন্ডনের মধ্যে চলাচলকারী একটি ট্রেন দুই ঘণ্টার জন্য সুড়ঙ্গ পথে আটকে পড়ে।
ইউরোপজুড়ে বিমান চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে ফ্রান্স, ব্রিটেন ও আয়ারল্যান্ডের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অনেকগুলো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। প্যারিসের দক্ষিণের ওর্লি বিমানবন্দরের বহির্গামী ফ্লাইটগুলো বাতিল কিংবা বিলম্বিত করা হয়েছে। বিমানবন্দরে অবতরণ করতে যাওয়া একটি বিমানকে অন্য বিমানবন্দরের দিকে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ব্রিটেনে প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে প্রায় ৮০টি ফ্লাইট বাতিল করেছে ইজি জেট এয়ারলাইনস। অধিকাংশ ফ্লাইট বাতিল করা হয় গ্যাটউইক বিমানবন্দর থেকে। আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন বিমানবন্দরে অনেকগুলো ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আবার অনেক ফ্লাইট বিলম্বে ছেড়েছে।

হকি খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ ভারতে

তাঁদের এখন থাকার কথা ছিল হকি ক্যাম্পে। কিন্তু ক্যাম্প ছেড়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায়ে আন্দোলন শুরু করেছেন ভারতের হকি খেলোয়াড়েরা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে শুরু হবে বিশ্বকাপ হকি। কিন্তু এর আগে খেলোয়াড়েরা পাওনা বেতনের দাবিতে হকি ক্যাম্প বর্জন করে বিপাকে ফেলে দিয়েছে হকি ফেডারেশনকে।
ভারত হকি দলের অধিনায়ক রাজপাল সিং জানিয়েছেন, ‘আমরা আমাদের পাওনা টাকা না পাওয়া পর্যন্ত হকি ক্যাম্প বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে আমরা প্রতিটি টুর্নামেন্টের পরপরই সব টাকা পেয়ে যেতাম। কিন্তু এখন আর সেটি হচ্ছে না। এই বিষয়গুলো আমরা বেশ কয়েকবার হকি ফেডারেশনকে জানিয়েছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পুরো পাওনা পাওয়ার পরই ক্যাম্পে রিপোর্ট করব।’
তবে হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সভাপতি এ কে মাত্তু খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করেছেন, সাত দিনের মধ্যেই তাঁদের সব পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হবে।

নিরাপত্তা-ব্যর্থতার দায় কাঁধে নিলেন ওবামা

বিমানে সন্ত্রাসী হামলার ষড়যন্ত্র আগে থেকে শনাক্ত করতে না পারার ব্যর্থতার দায় নিজের কাঁধে তুলে নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। তিনি বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমারই দায়িত্ব দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সে ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলে চূড়ান্ত দায়ভারটা আমার ওপরই বর্তায়।’
বড়দিনের প্রাক্কালে মার্কিন বিমানে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে হোয়াইট হাউসে গত বৃহস্পতিবার দুটি গোয়েন্দা প্রতিবেদন প্রকাশকালে প্রেসিডেন্ট ওবামা এসব কথা বলেন। ওবামা আরও বলেন, তদন্ত থেকে জানা যাচ্ছে, মার্কিন গোয়েন্দারা আগে থেকেই জানত যে অভিযুক্ত ওমর ফারুক আবদুল মোতালিব একজন সন্ত্রাসী। তারা এটাও জানতে পেরেছিল যে ইয়েমেনে আল-কায়েদা শাখা হামলার পরিকল্পনা করছে। তবে তারা এ দুটি ভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যকে এক সূত্রে গাঁথতে পারেনি।
গত ২৫ ডিসেম্বর নেদারল্যান্ডের আমস্টারডাম থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ডেট্রয়েটগামী নর্থওয়েস্ট এয়ারলাইনসের একটি বিমানে বিস্ফোরক নিয়ে ওঠেন ওমর। বিমানটি ডেট্রয়েট বিমানবন্দরে অবতরণের কিছুক্ষণ আগে শরীরে লুকিয়ে রাখা বিস্ফোরকের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সেটি উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ওবামা বলেন, ‘আমি মোটেই অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপাতে চাই না। বরং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভুল শুধরে নিতে আমি এ থেকে শিক্ষা নিতেই আগ্রহী।’
তবে ওবামা জানিয়েছেন, নিরাপত্তা-ব্যর্থতার দায় কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; বরং এটি বিভিন্ন সংস্থার ‘পদ্ধতিগত’ ব্যর্থতা। এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় বিদ্যমান পদ্ধতিগুলো বদলে ফেলার জন্য তিনি নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছেন।
ওবামা জানান, এ ঘটনায় প্রমাণিত হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং গোয়েন্দাদের কর্মকাণ্ড কয়েকটি দিক দিয়ে তখন ভেঙে পড়েছিল। এ কারণেই ওমর পোশাকের মধ্যে বিস্ফোরক লুকিয়ে বিমানে উঠতে পেরেছিলেন।
আরব উপদ্বীপ অঞ্চলে আল-কায়েদা জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে কিছু করতে না পারা এবং গোয়েন্দা তথ্য সঠিকভাবে পর্যালোচনা না করতে পারার জন্য ওবামা গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সমালোচনা করেন। যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাসীদের তালিকায় যেসব সন্ত্রাসীর নাম আছে, তাদের ঠিকমতো চিহ্নিত করতে না পারার কারণেই ওমর যুক্তরাষ্ট্রগামী বিমানে উঠতে পেরেছিলেন বলে তিনি জানান।
এসব ভুলত্রুটি ও ব্যর্থতা শুধরে নেওয়ার জন্য গোয়েন্দা তথ্য আরও সতর্কভাবে পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে ওই তথ্য ভাগাভাগির নির্দেশ দেন ওবামা।
এ ছাড়া আল-কায়েদা যাতে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে না পারে, সে জন্য নতুন কৌশল গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ওবামা। তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান আল-কায়েদাকে প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে এটিও স্পস্ট যে সংগঠনটি তাদের লক্ষ্য অর্জনের জন্য শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, আফ্রিকা ও অন্যান্য স্থান থেকেও নতুন ব্যক্তিদের দলে টানতে চাইছে।’
বিমানবন্দরে বসছে ৩০০ স্ক্যানার
যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটির সেক্রেটারি জেনেট নেপোলিতানো জানিয়েছেন, নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করতে নতুন নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও মার্কিন জনগণের নিরাপত্তা রক্ষায় অন্য দেশগুলোকেও নিজেদের দেশে কার্যকর নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
নেপোলিতানো জানান, নিরাপত্তা জোরদার করতে বিভিন্ন বিমানবন্দরে ৩০০ পূর্ণাঙ্গ দেহ তল্লাশি স্ক্যানার বসানোর ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাইজেরিয়ার প্রস্তাব
নাইজেরিয়া জানিয়েছে, হামলার পরিকল্পনাকারী অভিযুক্ত ওমরকে গত ২৪ ডিসেম্বর লাগোস বিমানবন্দরে তল্লাশি করেছিলেন নিরাপত্তা কর্মকর্তারা। ওই তল্লাশির ভিডিও চিত্র মার্কিন গোয়েন্দাদের কাছে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে নাইজেরিয়া।
নাইজেরিয়ার বিচারমন্ত্রী মিখাইল আনদোয়াকা গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের জানান, ‘ভিভিও চিত্র থেকে প্রমাণিত হবে, আমাদের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা তাঁদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছিলেন।’

কারণ খুঁজে ফিরছেন ওয়াসিম আকরাম

কলকাতায় এসেছেন আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটের আরেকটি সংকটে কি আর চুপ থাকতে পারেন! ওয়াসিম আকরাম তাই কথা বলেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়েও। সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক এখনো খুঁজে ফিরছেন ইউনুস খান অধিনায়ক না থাকার কারণ। আর পাশে দাঁড়িয়েছেন সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা কামরান আকমলেরও।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হচ্ছে আজই। ডেভ হোয়াটমোরকে মূল কোচ আর ওয়াসিম আকরামকে বোলিং কোচের দায়িত্ব দিয়েছে এবার শাহরুখ খানের দল। সপ্তাহখানেকের লম্বা ক্যাম্পটি মূলত বাংলার স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে। সিডনি টেস্টের নাটকীয় পরাজয়ে পাকিস্তানের পুরো ক্রিকেট মহলে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল আকরামকেও। ক্যাম্পে এসেই সাবেক বাঁহাতি পেসার জানালেন ইউনুসের ব্যাপারটা এখনো বুঝতে পারছেন না তিনি, ‘ইউনুস খান কেন দলের অধিনায়ক নন, এটা এখনো আমার কাছে বড় এক রহস্য। ব্যাপারটা তো কোনোভাবেই আমার মাথায় ঢোকে না।’
অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফের মতো সমালোচকদের প্রিয় লক্ষ্যবস্তু এখন উইকেটকিপার কামরান আকমল। সিডনিতে এক মাইক হাসিরই তিনটি ক্যাচ ফেলার পর আকমলকে দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও উঠেছে জোরেশোরে। তবে সাবেক অধিনায়ককে পাশেই পাচ্ছেন আকমল, ‘একটা ম্যাচে যা হলো, সেটার জন্য কামরান আকমলের সমালোচনা করা ঠিক নয়। সে ভালো ক্রিকেটার। পাকিস্তানের হয়ে ওর রেকর্ড দেখুন। ওকে নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা ওর প্রাপ্য নয়।’
নাইট রাইডার্সে ডেভ হোয়াটমোর ও সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে একত্রে কাজ করা নিয়ে রোমাঞ্চিত ৪১৪ টেস্ট ও ৫০৩ ওয়ানডে উইকেটের মালিক, ‘হোয়াটমোর-সৌরভের সঙ্গে একত্রে কাজ করাটা হবে দারুণ। ওরা থাকায় আমার চাপটা খুব বেশি থাকবে না। গত দুই মৌসুমে দলের ফলাফল মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। এবার তাই আমরা দলের সেরা সমন্বয়টা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।’

মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধের প্রতি সমর্থনকে দুর্বল করছে -প্রেসিডেন্ট জারদারির বিবৃতি

পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি বলেছেন, পাকিস্তানের মাটিতে জঙ্গিদের ওপর মার্কিন চালকবিহীন বিমানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতীয় ঐকমত্যকে ক্রমশ খাটো বা দুর্বল করছে। পাকিস্তানের আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ১৩ জঙ্গি নিহত হওয়ার এক দিন পর গত বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।
যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান সিনেটর ও সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জন ম্যাককেইনের নেতৃত্বাধীন সিনেটরদের একটি প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে পাকিস্তানি প্রেসিডেন্ট জারদারি এসব কথা বলেন। গত বৃহস্পতিবার সিনেটর ম্যাককেইন আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে বলেন, পাকিস্তানে সন্দেহভাজন সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মার্কিন কৌশলের একটি কার্যকর অংশ এবং ওই কৌশল প্রয়োগ অব্যাহত থাকবে।
ম্যাককেইনের মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া বিবৃতিতে জারদারি মার্কিন প্রতিনিধিদলের উদ্দেশে বলেন, এ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জাতীয় ঐকমত্যকে ক্রমশ দুর্বল করবে। এ অবস্থায় পারস্পরিক স্বার্থ, সম্মান ও আস্থার ওপর ভিত্তি করে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কৌশলগত দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারির প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
পাকিস্তানকে চালকবিহীন বিমানের প্রযুক্তি হস্তান্তর করতে মার্কিন নীতিনির্ধারকদের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জারদারি; যাতে করে বিদেশি সেনাদের পরিবর্তে পাকিস্তানের জাতীয় নিরাপত্তা বাহিনী নিজেরাই জঙ্গিদের লক্ষ্য করে হামলা চালাতে পারে। বিদেশি হামলা দেশের সার্বভৌমত্বকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গত আট বছরে সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে পাকিস্তানের খরচ হয়েছে তিন হাজার ৫০০ কোটি ডলার, যা পাকিস্তানের অর্থনীতিকে প্রায় পঙ্গু করে দিয়েছে।
জঙ্গিবাদ মোকাবিলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে রয়েছে পাকিস্তান। আফগানিস্তানে হামলা চালানোর জন্য পাকিস্তানের মাটি ব্যবহার করে আসছে সন্দেহভাজন তালেবান জঙ্গিরা। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, এ পর্যন্ত চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় জঙ্গি নিহত হয়েছে।
বিস্ফোরণে সাতজন নিহত: করাচির একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছে। বিস্ফোরণে বাড়িটি বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। সন্দেহভাজন জঙ্গিরা বাড়িটি ব্যবহার করত। গতকাল দুর্ঘটনাবশত বোমা তৈরির সরঞ্জাম থেকে ওই বিস্ফোরণ হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিধ্বস্ত বাড়ি থেকে বন্দুক, গ্রেনেড ও আত্মঘাতী হামলার উপাদান উদ্ধার করা হয়েছে। বোমা নিষ্ক্রিয়করণ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে রয়েছেন।
জ্যেষ্ঠ পুলিশ কর্মকর্তা আবদুল মজিদ দোস্তি বলেন, ‘বিস্ফোরণে কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছে। আমরা এ পর্যন্ত ছয়টি লাশ উদ্ধার করেছি। বাকি লাশটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।’ করাচির পুলিশপ্রধান ওয়াসিম আহমেদ বলেন, ‘মনে হচ্ছে, বাড়ির ভেতরে মজুদ রাখা বিস্ফোরক থেকে ওই বিস্ফোরণ ঘটেছে।’ এএফপি।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ: পাকিস্তানে মার্কিন দূতাবাস অভিযোগ করেছে, দেশটিতে তাদের কূটনীতিকদের হেনস্তা করা হচ্ছে। মার্কিন দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, একটি উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সফরের প্রস্তুতির জন্য বুধবার বেলুচিস্তান সফরের সময় মার্কিন কনস্যুলেটের দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা ও তাদের পুলিশ রক্ষীদের আটক করা হয়। বিবৃতিতে মার্কিন দূতাবাসের গাড়ি এবং কর্মী-সংশ্লিষ্ট এই ধরনের ঘটনা পরিহার করার জন্য পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

ম্যারাডোনার টিভি

টিভি উপস্থাপক হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। কিউবার রাষ্ট্রপতি ফিদেল কাস্ত্রো থেকে শুরু করে ফুটবল কিংবদন্তি পেলের পর্যন্ত সাক্ষাত্কার নিয়েছেন। এবার আস্ত টিভি চ্যানেলই খোলার পরিকল্পনা করছেন ডিয়েগো ম্যারাডোনা। পাশাপাশি ইন্টারনেট চ্যানেলও থাকবে তাঁর। ‘অন অ্যান্ড অফ হোল্ডিংস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান এই ঘোষণা দিয়েছে। আগামী সপ্তাহেই টিভি আর ইন্টারনেট চ্যানেল চালু হবে বলে জানিয়েছে তারা। তবে চ্যানেলটি কোন ধরনের হবে, কোথায় সেটি দেখা যাবে—এ সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

কেয়ার্নসের মামলাকে ‘স্বাগত’ জানাচ্ছেন মোদি

একে তো আইপিএলের খেলোয়াড় নিলাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। এর ওপর বাদ দেওয়ার কারণ হিসেবে লোলিত মোদি জানিয়েছেন, ক্রিস কেয়ার্নসের বিরুদ্ধে আছে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ। আইপিএল-প্রধানের ওপর তাই চটেছেন নিউজিল্যান্ডের এই সাবেক তারকা। ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা’র অভিযোগে মোদির বিরুদ্ধে মামলা ঠুকে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ৬২টি টেস্ট আর ২১৫টি ওয়ানডে খেলা এই অলরাউন্ডার। এদিকে কেয়ার্নসের মামলার এই উদ্যোগকে ‘স্বাগত’ জানিয়েছেন মোদি।
আইসিএল থেকে ফেরা কেয়ার্নসও আর সব খেলোয়াড়ের মতো নিবন্ধন করেছিলেন। গত শনিবার আইপিএলে নিবন্ধিত ৯৭ জন খেলোয়াড়ের তালিকাতেও ছিল তাঁর নাম। কিন্তু সেখান থেকে এই ৩৯ বছর বয়সীকে বাদ দেওয়া হয়। কারণ হিসেবে মোদি তাঁর টুইটারে (সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট) আর ক্রিকইনফোকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে জানান, কেয়ার্নসের বিরুদ্ধে আছে ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ।
কিন্তু কেয়ার্নস বলেছেন, ‘লোলিত মোদি যে অভিযোগ এনেছেন এটা কলঙ্কজনক এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা। এ ধরনের একটা মিথ্যা খবর বিশ্বব্যাপী প্রচার করা অবমাননাকর। মোদির অভিযোগ ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে চরম হতাশাজনক। আমার ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হয়েছে। আমার ভবিষ্যত্ এভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দিতে পারি না। আমি আমার আইনজীবীদের নির্দেশ দিয়েছি মোদির বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ দায়ের করতে।’ জবাবে মোদি বলেছেন, ‘কেয়ার্নস যদি আমার বিরুদ্ধে মামলা করতে চান, তাঁকে স্বাগত জানাই।’

দুর্বলতার সুযোগ নিতে চান সিডল

সিডনির দুঃস্বপ্ন নিশ্চয়ই আরও কিছুদিন তাড়িয়ে বেড়াবে পাকিস্তানকে। আর এটাকে পুঁজি করে এবার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে চান সিডনিতে অস্ট্রেলিয়ার ঘুরে দাঁড়ানোর অন্যতম নায়ক পিটার সিডল।
‘প্রথম ইনিংসে ২০০ রানে এগিয়ে থেকেও জিততে না পেরে ওরা বড় একটা সুযোগ নষ্ট করেছে। ব্যাট হাতে শেষ দিকে আমরা যেভাবে ঘুরে দাঁড়ালাম, এরপর হরিজ ও জনসনের বোলিং...নিশ্চিতভাবেই আগামী কিছুদিন এসব তাদের তাড়িয়ে বেড়াবে এবং হোবার্টে তাদের মাথায়ও এসব থাকবে। এ সুযোগটাকে আমরা অবশ্যই কাজে লাগাব’—বলেছেন প্রতিপক্ষকে হোয়াইটওয়াশের সম্ভাবনায় রোমাঞ্চিত সিডল। হোবার্টে ১৪ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে সিরিজের শেষ টেস্ট। এই ম্যাচ জিততে পারলে ২০০৬-০৭ অ্যাশেজে ইংল্যান্ডকে হোয়াইটওয়াশ করার পর এটাই হবে এক সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বেশি টেস্ট জয়।
তবে ব্যাট হাতে তো প্রত্যাশার চেয়েও বেশি করেছেন, কিন্তু আসল কাজ যেটি, একটু যেন ভাটা পড়েছে সেই বোলিংয়েই! গত চার টেস্টে নিয়েছেন মাত্র ৬ উইকেট। তবে এটা নিয়ে চিন্তিত নন ২৫ বছর বয়সী পেসার, ‘এসব নিয়ে চিন্তা করে লাভ নেই, চিন্তা করলে তো আর উইকেট আসবে না। আমার বিশ্বাস, আমি ঘুরে দাঁড়াব। শুধু মাঠে গিয়ে নিজের কাজটা ঠিক-ঠাক করতে হবে আমাকে। হয়তো পরের মাচেই আমি অনেক উইকেট পেয়ে যাব!’
অস্ট্রেলিয়ার নাটকীয় জয় ভবিষ্যত্ নিয়ে আশাবাদী করে তুলেছে অস্ট্রেলিয়ার সাবেকদেরও। সাবেক উইকেটকিপার ইয়ান হিলি ডেইলি টেলিগ্রাফকে বলেন, ‘অন্য যেকোনো দেশের চেয়ে আমাদের ভবিষ্যত্ ভালো। আমাদের গভীরতা অনেক, তাই সামনে আরও উন্নতি হবেই।’ সাবেক অধিনায়ক ইয়ান চ্যাপেল এই জয়ে দেখতে পেয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার চিরায়ত ছবিটাই, ‘অস্ট্রেলিয়া অনেক ক্রিকেটারকে হারিয়েছে, তবে তারা এখনো জানে কঠিন পরিস্থিতিতে কীভাবে জিততে হয়।’
শেষ টেস্টের জন্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া দল। সাইমন ক্যাটিচের ইনজুরি এখনো পুরোপুরি সারেনি, এ টেস্টেও তাই তাঁর খেলা নিয়ে সংশয় আছে।

হকি খেলোয়াড়দের বিদ্রোহ ভারতে

তাঁদের এখন থাকার কথা ছিল হকি ক্যাম্পে। কিন্তু ক্যাম্প ছেড়ে নিজেদের দাবি-দাওয়া আদায়ে আন্দোলন শুরু করেছেন ভারতের হকি খেলোয়াড়েরা। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লিতে শুরু হবে বিশ্বকাপ হকি। কিন্তু এর আগে খেলোয়াড়েরা পাওনা বেতনের দাবিতে হকি ক্যাম্প বর্জন করে বিপাকে ফেলে দিয়েছে হকি ফেডারেশনকে।
ভারত হকি দলের অধিনায়ক রাজপাল সিং জানিয়েছেন, ‘আমরা আমাদের পাওনা টাকা না পাওয়া পর্যন্ত হকি ক্যাম্প বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে বসে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে আমরা প্রতিটি টুর্নামেন্টের পরপরই সব টাকা পেয়ে যেতাম। কিন্তু এখন আর সেটি হচ্ছে না। এই বিষয়গুলো আমরা বেশ কয়েকবার হকি ফেডারেশনকে জানিয়েছি, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। পুরো পাওনা পাওয়ার পরই ক্যাম্পে রিপোর্ট করব।’
তবে হকি ফেডারেশনের পক্ষ থেকে সভাপতি এ কে মাত্তু খেলোয়াড়দের আশ্বস্ত করেছেন, সাত দিনের মধ্যেই তাঁদের সব পাওনা মিটিয়ে দেওয়া হবে।

রিকেলমেফিরছেনই না

একটা সংকটের সমাধান করে ফেলেছে আর্জেন্টিনা। কার্লোস বিলার্দোর সঙ্গে ঝামেলা মিটেছে ডিয়েগো ম্যারাডোনার। আরেকটা ঝামেলা মিটিয়ে ফেললেই তো হয়।
আরেকটা ঝামেলা বলতে ম্যারাডোনা বনাম হুয়ান রোমান রিকেলমে দ্বন্দ্ব। যে দ্বন্দ্বের বলিদান, গত বছর মার্চে রিকেলমের আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা। লিওনেল মেসি যে ‘মেসি’র মতো খেলতে পারছেন না, এর পেছনেও বড় কারণ রিকেলমের না-থাকা। বার্সেলোনা দলে আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা যেমন, আর্জেন্টিনা দলেও মেসির সঙ্গে দারুণ জমেছিল রিকেলমের জুটি। যার ভালো প্রমাণ ২০০৭ কোপা আমেরিকা আর ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিক।
কিন্তু ২০১০ বিশ্বকাপে দেখা যাবে না এই জুটিকে। একসময় ‘নতুন ম্যারাডোনা’ বলা হতো যাঁকে, সেই রিকেলমে জানিয়ে দিয়েছেন ম্যারাডোনার সঙ্গে কোনো আপস নয়, ‘জাতীয় দলের অধ্যায় আমার জন্য শেষ হয়ে গেছে। বিশ্বকাপটা আমি তাই টেলিভিশনে দেখব। ম্যারাডোনা আর আমি একইভাবে চিন্তাভাবনা করি না। আমাদের নৈতিক অবস্থান ভিন্ন। তিনি কোচ থাকা অবস্থায় জাতীয় দলে খেলা সম্ভব নয় আমার পক্ষে।’
ওদিকে ম্যারাডোনাও জানিয়েছেন, রিকেলমের জন্য মায়াকান্না কাঁদবেন না তিনিও, ‘আমি খুবই ব্যথিত, রিকেলমে আমার দলে খেলতে অনাগ্রহী। কিন্তু যা হয়েছে তার জন্য আমি কাঁদব না।’
কিন্তু সম্পর্কের বরফ এতটা জমল কীভাবে? আর্জেন্টিনার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম দুটো প্রীতি ম্যাচে স্কটল্যান্ড ও ফ্রান্সকে হারিয়ে দারুণ শুরু করেছিলেন ম্যারাডোনা। ওই দলে রিকেলমেকে নেননি কোচ। সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাঁর দলের কম্বিনেশন না ভেঙে রিকেলমেকে কীভাবে জায়গা দেওয়া যায় এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভোরেই ঘুম ভেঙে যাচ্ছে তাঁর। ম্যারাডোনাকে আরও বেশি ‘ঘুমানোর সুযোগ’ করে দিয়ে অভিমানে তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো অবসরে চলে যান রিকেলমে।
কিন্তু বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে যুঝতে থাকা আর্জেন্টিনা প্রতিটি ম্যাচে শূন্যতা অনুভব করেছে প্রথম তিন ম্যাচে চার গোল করা রিকেলমের। খাদের কিনার থেকে বেঁচে যাওয়া আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের বৈতরণী পার হওয়ার ইতিহাস সবার জানা। প্রিয় দলটার এমন দৈন্যদশা দেখে সমর্থকদের হূদয়ে হাহাকার। অনেকেরই জোর দাবি, মাঝমাঠের কারিগর রিকেলমেকে ফিরিয়ে আনা হোক।

কারণ খুঁজে ফিরছেন ওয়াসিম আকরাম

কলকাতায় এসেছেন আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রস্তুতি ক্যাম্পের জন্য। কিন্তু পাকিস্তান ক্রিকেটের আরেকটি সংকটে কি আর চুপ থাকতে পারেন! ওয়াসিম আকরাম তাই কথা বলেছেন পাকিস্তানের ক্রিকেট নিয়েও। সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক এখনো খুঁজে ফিরছেন ইউনুস খান অধিনায়ক না থাকার কারণ। আর পাশে দাঁড়িয়েছেন সমালোচনার কেন্দ্রে থাকা কামরান আকমলেরও।
কলকাতা নাইট রাইডার্সের প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতি ক্যাম্প শুরু হচ্ছে আজই। ডেভ হোয়াটমোরকে মূল কোচ আর ওয়াসিম আকরামকে বোলিং কোচের দায়িত্ব দিয়েছে এবার শাহরুখ খানের দল। সপ্তাহখানেকের লম্বা ক্যাম্পটি মূলত বাংলার স্থানীয় ক্রিকেটারদের নিয়ে। সিডনি টেস্টের নাটকীয় পরাজয়ে পাকিস্তানের পুরো ক্রিকেট মহলে তোলপাড় শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল আকরামকেও। ক্যাম্পে এসেই সাবেক বাঁহাতি পেসার জানালেন ইউনুসের ব্যাপারটা এখনো বুঝতে পারছেন না তিনি, ‘ইউনুস খান কেন দলের অধিনায়ক নন, এটা এখনো আমার কাছে বড় এক রহস্য। ব্যাপারটা তো কোনোভাবেই আমার মাথায় ঢোকে না।’
অধিনায়ক মোহাম্মদ ইউসুফের মতো সমালোচকদের প্রিয় লক্ষ্যবস্তু এখন উইকেটকিপার কামরান আকমল। সিডনিতে এক মাইক হাসিরই তিনটি ক্যাচ ফেলার পর আকমলকে দল থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও উঠেছে জোরেশোরে। তবে সাবেক অধিনায়ককে পাশেই পাচ্ছেন আকমল, ‘একটা ম্যাচে যা হলো, সেটার জন্য কামরান আকমলের সমালোচনা করা ঠিক নয়। সে ভালো ক্রিকেটার। পাকিস্তানের হয়ে ওর রেকর্ড দেখুন। ওকে নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, তা ওর প্রাপ্য নয়।’
নাইট রাইডার্সে ডেভ হোয়াটমোর ও সৌরভ গাঙ্গুলীর সঙ্গে একত্রে কাজ করা নিয়ে রোমাঞ্চিত ৪১৪ টেস্ট ও ৫০৩ ওয়ানডে উইকেটের মালিক, ‘হোয়াটমোর-সৌরভের সঙ্গে একত্রে কাজ করাটা হবে দারুণ। ওরা থাকায় আমার চাপটা খুব বেশি থাকবে না। গত দুই মৌসুমে দলের ফলাফল মোটেও সন্তোষজনক ছিল না। এবার তাই আমরা দলের সেরা সমন্বয়টা খুঁজে বের করার চেষ্টা করব।

১১ বল ঠেকিয়ে কিংবদন্তি অনিয়নস!

একজন উইকেট আগলে রেখেছিলেন পৌনে পাঁচ ঘণ্টা। আরেক জন প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা উইকেটে থেকে সামলেছেন ১৮৮টি বল। তার পরও ইয়ান বেল কিংবা পল কলিংউড নয়, ইংল্যান্ডে নায়কের মর্যাদা পাচ্ছেন গ্রাহাম অনিয়নস। অথচ মাত্র ১১টি বল ঠেকিয়েছেন তিনি। তবে আরও নির্দিষ্ট করে বললে শেষ ওভার। পঞ্চম দিনের শেষ ওভারটি অনিয়নস ঠেকিয়েছেন বলেই তো ম্যাচটা ড্র করতে পেরেছে ইংল্যান্ড। সেঞ্চুরিয়নের পর কেপটাউনেও হারতে হারতে ম্যাচ বাঁচাল ইংল্যান্ড। ধরে রাখল সিরিজের ১-০ লিড।
অনেক দিক দিয়েই সেঞ্চুরিয়ন টেস্টের গতি অনুসরণ করেছে কেপটাউন। এখানেও হঠাত্ই একটা উইকেট নিষ্প্রাণ ম্যাচে ছড়িয়ে দিয়েছিল উত্তেজনার রেণু। ১২৮তম ওভারে কলিংউডের বিদায়ের মধ্য দিয়ে শুধু বেলের সঙ্গে তাঁর ৫৭ ওভারের জুটিটাই ভাঙেনি, ইংল্যান্ডের ইনিংসে সেটাই ছিল আকস্মিক ধসের শুরু। দিনের খেলার তখনো সাড়ে চৌদ্দ ওভার বাকি। ইংল্যান্ডের হাতে চার উইকেট।
উইকেট সংখ্যাটা তিনে নেমে আসে ১৩০তম ওভারে ম্যাট প্রিয়রের বিদায়ে। জেপি ডুমিনির পর পর দুই ওভারে কলিংউড-প্রিয়র ফিরে যাওয়ার পর ইংল্যান্ড তখন পরাজয়ের শঙ্কায় কাঁপছে। সেই কাঁপাকাঁপিতেই চার বলের মধ্যে স্টুয়ার্ট ব্রড আর ইয়ানের বেলের বিদায়। ইংল্যান্ডের নবম উইকেটের পতন। দিনের শেষ ১৭টা বলকেও তখন ইংল্যান্ডের মনে হচ্ছিল অনেক দূরের পথ।
গ্রায়েম সোয়ান আর অনিয়নস উত্তেজনায় ঠাসা সেই পরিস্থিতিতে মাথা ঠান্ডা রেখে একের পর এক বল পার করে দিলেন। বিশেষ করে অনিয়নস শেষ ওভারটা পার করে দিয়ে আবারও মনে করিয়ে দিলেন, মাথা ঠান্ডা রাখার দাওয়াই তিনি ডারহাম-সতীর্থ কলিংউডের কাছ থেকেই পেয়েছেন।
ফলে চার টেস্টের সিরিজে দুটো ম্যাচ জেতার একদম দ্বারপ্রান্ত থেকে ফিরে আসা দক্ষিণ আফ্রিকাকে শেষ টেস্টটা খেলতে যেতে হচ্ছে সিরিজ পরাজয়ের শঙ্কা নিয়েই। ১৪ জানুয়ারি জোহানেসবার্গে শুরু হতে যাওয়া টেস্টে তাই মানসিক একটা চাপও সঙ্গী হবে গ্রায়েম স্মিথদের। পরশু ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক স্বীকার করে নিলেন সে কথা, ‘সিরিজজুড়ে ইংল্যান্ড দেখিয়ে দিয়েছে, মানসিকভাবে ওরা কতটা দৃঢ়চেতা। প্রতিটা ইঞ্চি জায়গার জন্য আমাদের লড়াই করতে হয়েছে।’
নিজের হতাশাটুকুও লুকানোর চেষ্টা করলেন না এই টেস্টেই অ্যালান বোর্ডারের পর ইতিহাসের দ্বিতীয় অধিনায়ক হিসেবে টেস্টে ছয় হাজার রানের মাইলফলক ছোঁয়া স্মিথ, ‘আমরা শেষ আঘাতটা হানতে পারিনি। এটা বিরাট হতাশার।’ তবে কাউকে দোষারোপও করেননি স্মিথ, ‘শেষ ১৫টি ওভারে প্রত্যেকে নিজের সর্বোচ্চটুকু ঢেলে দিয়ে চেষ্টা করেছে।’
ইংল্যান্ডের আর এই সিরিজে হারার শঙ্কা নেই। দক্ষিণ আফ্রিকা জিতলেও সিরিজটা ১-১-এ ড্র হয়ে যাবে। তিন টেস্টের দুটিতে বড় বাঁচা বেঁচে যাওয়ার জন্য সতীর্থদের প্রতি কৃতজ্ঞতাই জানালেন অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। বিশেষ করে স্নায়ুর চরম পরীক্ষা দিয়ে পাস করা অনিয়নসের প্রতি। ইংলিশ অধিনায়কের চোখে অনিয়নস ‘কিংবদন্তি’!

‘ভালো বল করিনি, এটাই আসল কথা’

বোলিং নিয়ে প্রথমে কিছু বলতেই চাইলেন না। প্রতিদিন একই কথা...সাকিব আল হাসানও বোধহয় বলতে বলতে ক্লান্ত। কিন্তু বাংলাদেশ ২৪৯ রান করার পরও যখন শ্রীলঙ্কা ৯ উইকেটে ম্যাচ জেতে, প্রশ্নটা তো বোলিং নিয়েই উঠবে আগে। সাকিবও শেষ পর্যন্ত স্বীকার করে নিলেন, ‘...ভালো বল করিনি, এটাই আসল কথা।’
শিশিরের প্রভাব, নাকি বোলাররাই পারেননি—এটাই ছিল প্রশ্ন। প্রথমে বলতে না চাইলেও সাকিব পরে দুটোর কথাই বললেন, ‘বোলিং নিয়ে কিছু বলার নেই। প্রতিদিন আসলে একই কথা তো...শিশিরে তো সমস্যা থাকেই। তবে আমার মনে হয়, আমাদের স্পিনার-পেসার সবাই উইকেটের দুই পাশে ওদের (শ্রীলঙ্কা) অনেক বেশি সুযোগ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এ রকম সুযোগ দেওয়া যাবে না। সুযোগ দিলেই ওরা কাজে লাগাবে। ভালো বল করিনি, এটাই আসল কথা।’ বোলিং ব্যর্থতার কথা বললে প্রাসঙ্গিকভাবেই আসে মাশরাফি বিন মুর্তজার অনুপস্থিতির কথা। কাল সাকিবও বললেন, ‘আমার মনে হয় না, উনি থাকলেও এ উইকেটে খুব পার্থক্য হতো। তার পরও উনি ভালো লিডার। ওনার উপস্থিতি খুব ভালো একটা ভূমিকা রাখে দলে। মাশরাফি ভাইয়ের উপস্থিতি অবশ্যই জরুরি।’
বোলিংয়ের ঠিক উল্টো কথা বললেন সাকিব ব্যাটিং নিয়ে। প্রথম দুই ম্যাচে ২৬০ আর ২৯৬, কাল ২৪৯। সাকিবকে ব্যাটিং নিয়ে সন্তুষ্টই মনে হচ্ছে, ‘আমাদের দলটা এখন আর মানসিকভাবে নত হয় না। দেখে মনে হচ্ছে না যে দলটা জিততে আসেনি, খেলতে আসেনি। আমরাও মাঠে এনজয় করছি। বোলিং-ফিল্ডিংয়ে অতটা দিতে না পারলেও ব্যাটিং নিয়ে আমি খুব আশাবাদী। আশা করি এটা ধরে রাখতে পারব।’ এই সিরিজে বাংলাদেশের ব্যাটিং অন্য একটা আলোর রেখাও ফুটিয়ে তুলেছে বলে মনে করেন সাকিব, ‘বাংলাদেশের ক্রিকেট এখন আগের অবস্থায় নেই। এটা শুধু মুখের কথা নয়, আমরা পারফরম্যান্সেও তা দেখাচ্ছি। তবে কাল ম্যাচ শেষে আরও ৩০ রানের আক্ষেপ ঝরল তাঁর কণ্ঠে, ‘আমার মনে হয়, আমাদের ৩০ রান কম হয়েছে। যে রকম শুরু ছিল, তাতে আরও ৩০ রান হওয়া উচিত ছিল। পাওয়ার প্লেতে আমরা অনেক উইকেট হারিয়েছি। ওখানে আমরা স্মার্ট ক্রিকেট খেলিনি।’
সাকিব বোলিংয়ের সমালোচনা করলেও বাংলাদেশ বোলাররা পাশে পাচ্ছেন শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনেকে, ‘রুবেল এখনো অনভিজ্ঞ, তার পরও ও ভালো চেষ্টা করেছে। স্পিনাররা অভিজ্ঞ। তবে শিশিরের কারণে বল গ্রিপ করাই কঠিন হচ্ছে। আমাদের পরিকল্পনা ছিল শুরুতে খুব বেশি ঝুঁকি না নেওয়া। জানতাম, উইকেটে স্থির হলে রান করা সহজ হবে। আমরা সে পরিকল্পনা অনুযায়ীই খেলেছি। বোলিং নিয়ে মন্তব্য করতে চাই না। কারণ এ কন্ডিশনে আমাদের চাপে ফেলার কাজটা সহজ ছিল না তাদের জন্য।’ ম্যান অব দ্য ম্যাচ উপুল থারাঙ্গাও বললেন, শিশির পড়তে শুরু করার পর ব্যাটিংটা অনেক সহজ হয়ে গিয়েছিল তাদের জন্য।
পর পর তিন ম্যাচ জিতে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে খেলা নিশ্চিত হয়ে গেছে শ্রীলঙ্কার। তবে এখনই ফাইনাল নিয়ে ভাবছে না তারা, তাদের চিন্তাচেতনায় কেবলই ভারতের বিপক্ষে আগামীকালের ম্যাচ। ‘ভারতকে ভালো দল হিসেবে আমরা শ্রদ্ধা করি। ছয় মাস ধরে খুব ভালো খেলছে তারা। ফাইনালের আগে তাদের বিপক্ষে আরেকটা ম্যাচ আছে। আগে সেটিতে ভালো খেলতে চাই। ফাইনাল তো একটাই...তখনই এটা নিয়ে ভাবব। এখন আমরা খুব ভালো ক্রিকেট খেলছি। পরের ম্যাচেও তাই খেলতে চাই।’ ম্যানেজার ব্রেন্ডন কুরুপ্পু শ্রীলঙ্কার জন্য একটা সুসংবাদ শোনালেন কাল। কুঁচকির ইনজুরিতে পড়া তিলকরত্নে দিলশান এখন অনেকটাই সুস্থ। কালকের ম্যাচেই তাঁকে দেখা পাওয়ার জোর সম্ভাবনা। কালই সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা জয়াবর্ধনে যেন এমন একটা খবরেরই অপেক্ষায় ছিলেন, ‘ওকে পেলে তো খুবই ভালো হয়। ও এলে হয়তো আমি পরের ম্যাচে ওপেন করতে পারব না (হেসে)। তবে দিলশান দারুণ ফর্মে আছে। সেও ফিরে আসতে চায়। ২০০৯ সালটা দারুণ কাটানোর পর ২০১০ সালেও খুব ভালো শুরু করেছে।’

মাঠের মুখ

একটু আগেও ছিলেন উত্ফুল্ল, দুই হাতের তালি থামছিলই না। এখন তাঁর দৃষ্টি মাঠে নয়, ডান দিকে। উদ্বিগ্ন চোখে তাকিয়ে বড় পর্দার দিকে। মোহাম্মদ আশরাফুলের ‘জীবন’ তখন টিভি আম্পায়ারের হাতে। টেনশনেই হোক কিংবা আরও একটু ভালো করে দেখার জন্য, রোদচশমাটা চোখ থেকে খুলে রাখলেন কপালের ওপর। পর্দায় ভেসে উঠল ‘আউট।’ হতাশ ভঙ্গিতে ঘুরে তাকিয়ে বললেন, ‘আরে, একটু ভালো করে দৌড়ালে কী হয়!’
আশরাফুল তো চেষ্টা করেছেনই, তাই না? ‘তা তো করেছেনই, ইচ্ছা করে তো আর আউট হননি। দর্শকেরা তো হতাশা থেকে এমন একটু-আধটু বলেই’—একটু যেন লজ্জিত হয়ে বললেন ইশরাত মালিহা। পরের কথাতেই পরিষ্কার, আশরাফুলের ভক্ত বলেই বলেছেন অমন কথা, ‘আশরাফুল আমার সবচেয়ে প্রিয় ক্রিকেটার। ও ভালো খেললে বাংলাদেশ জেতে। বড় দলের সঙ্গে ওর যতগুলো ভালো ইনিংস আছে, বাংলাদেশে আর কার আছে?’
এই আশরাফুল-ভক্ত পেশায় চিকিত্সক, কাজ করেন হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে। এক দিনের জন্য মানবসেবা থেকে ছুটি নিয়ে ভাইবোনকে নিয়ে চলে এসেছেন খেলা দেখতে। ঢাকার মাঠে ক্রিকেট হচ্ছে, না এসে কি পারা যায়! একটা সময় ক্রিকেট দেখতে নিয়মিতই আসতেন মাঠে। ইনডিপেনডেন্স কাপ, বিশ্ব একাদশ বনাম এশিয়া একাদশ থেকে শুরু করে অনেক ম্যাচ দেখছেন বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। তবে পেশাগত জীবনে ঢুকে যাওয়ায় এখন আর আগের মতো মাঠে আসার সময় হয় না। মিরপুর স্টেডিয়ামে এসেছেন এই প্রথম।
যতক্ষণ খেলা চলছে, এক মুহূর্ত মাঠ থেকে চোখ সরাচ্ছেন না। হঠাত্ করে আবারও হতাশা, আউট ইমরুল কায়েস। কয়েক সেকেন্ড চুপ থাকার পরই আবার তালি দিয়ে উঠলেন, ‘আরে সাকিব নামতেছে। ক্যাপ্টেনের ব্যাটিং দেখব...।’