Friday, August 26, 2016

ইতালিতে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবন শুরু করার চেষ্টা

ভূমিকম্প আঘাত হানার পর একদিকে স্বজন হারানোর
শোক; অন্যদিকে শঙ্কা ও অনিশ্চয়তা। এই নিয়ে এই
দুই ইতালীয় নারীর মতো অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন
একটি আশ্রয়কেন্দ্রে। গতকালের ছবি। রয়টার্স
ইতালির মধ্যাঞ্চলে আঘাত হানা ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ২৫০-এ গিয়ে ঠেকেছে। ভূমিকম্পে গুঁড়িয়ে যাওয়া পাহাড়ি গ্রামগুলোর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে আরও মৃতদেহ পাওয়ার আশঙ্কা করছিলেন উদ্ধারকারীরা। এর মধ্যেই চলছে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করার চেষ্টা। ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে কতজনকে জীবিত উদ্ধার করা যাবে, তা নিয়ে শঙ্কায় আছেন উদ্ধারকারীরা। ভূমিকম্পের পর গৃহহারা হাজার হাজার মানুষ তাঁবুতে এমনকি নিজেদের গাড়িতে রাত কাটিয়েছে। অনেকেই বাড়িঘর হারিয়ে কাছের আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। বুধবারের ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্পের পর ৪ দশমিক ৫ মাত্রার পরাঘাত অনুভূত হয় বিভিন্ন জায়গায়।
ইতালির সরকারি সিভিল প্রটেকশন নেটওয়ার্ক বলছে, গতকাল পর্যন্ত গুরুতর অবস্থায় ২৬৪ জন মানুষকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী ও স্বেচ্ছাসেবীরা জীবিত আর কাউকে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন। তবে অনেকেই ২০০৯ সালের ভূমিকম্পের সময়ের কথা স্মরণ করেন। সেবার ৭২ ঘণ্টা পরও মানুষকে জীবিত পাওয়া গিয়েছিল। ধ্বংসস্তূপ থেকে গতকাল উদ্ধার করা হয়েছে স্কুলপড়ুয়া ছোট এক মেয়েশিশুকে। ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর গতকাল বৃহস্পতিবার পেসকারা দেল ত্রন্তো গ্রাম থেকে ওই শিশুকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েটির বয়স ১০-এর কম হবে। উদ্ধারকারীদের একজন বলেন, তিনি ১৭ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে শুনতে পান মৃদু শব্দ। সেখানে কিছু ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে দেখতে পান ছোট দুটি পা।
প্রবল ভূমিকম্প প্রত্যন্ত অনেক গ্রামে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেছে। পরিণত করেছে ভুতুড়ে গ্রামে। এমনই একটি জায়গা আরকুয়েতা। এর মেয়র আলেন্দ্রো পেত্রুসি বলেন, ‘আমরা যদি কোনো সহায়তা না পাই তবে আরকুয়েতা একেবারে ধ্বংস হয়ে যাবে।’ শুধু এ গ্রাম থেকেই ৫৭টি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আরকুয়েতার ১৫টি এলাকায় ঠিক কত মানুষ বসবাস করত, তার হিসাব আসলে নেই। শীতকালে এসব গ্রাম একেবারে জনশূন্য হয়ে যায়।’ এই ধ্বংস, মৃত্যু, ভীতির মধ্যেও ধ্বংস হয়ে যাওয়া জনপদগুলো নতুন করে গড়ে তোলার কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রী মাত্তিও রেনজি গতকাল এক জরুরি বৈঠকের পর বলেছেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এখন সবকিছু গড়ে তোলা। নতুন করে শুরু করা।’

শুধুই টাকার খেলা!

হিলারি ক্লিনটন,ডোনাল্ড ট্রাম্প
এ বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোট খরচ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে ছাড়িয়ে যাবে। দুই প্রধান প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী যত না ছুটছেন ভোটের পেছনে, তার চেয়ে বেশি অর্থের পেছনে। আপাতত এই খেলায় এগিয়ে আছেন হিলারি ক্লিনটন। জুলাই মাসে হিলারি ক্লিনটন চাঁদা তুলেছেন প্রায় ৯ কোটি ডলার। অন্যদিকে ট্রাম্প তুলেছেন প্রায় ৮ কোটি। আগস্ট মাসের হিসাব এখনো মেলেনি, তবে হিলারি যে হারে ‘ফান্ড রেইজিং ডিনারের’ আয়োজন করছেন, তা থেকে স্পষ্ট, তিনি বেশ কয়েক কদম এগিয়ে। হিলারি দাবি করেছেন, তাঁর তোলা অর্থের প্রায় অর্ধেকই এসেছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে, যারা গড়ে ২০০ ডলার করে চাঁদা পাঠিয়েছে। তবে জুলাই মাসের হিসাব থেকে দেখা যায়, এই পরিমাণ গড় চাঁদা দেওয়া মানুষের সংখ্যা ৪০ শতাংশেরও কম। তুলনায় ‘সমাজতন্ত্রী’ বার্নি স্যান্ডার্স বাছাই পর্বের নির্বাচনে যে ২৩ কোটি ২০ লাখ ডলার তুলেছিলেন, তার সিংহভাগই এসেছিল গড়ে ২৭ ডলার চাঁদা থেকে।
সাধারণ মানুষের কথা বললেও হিলারি ও ট্রাম্প উভয়েই এখন ছুটছেন মোটা টাকার পেছনে। গত সপ্তাহে হিলারির সমর্থনে হলিউডে যে তারকাখচিত ডিনারের আয়োজন করা হয়, তাতে প্রতি প্লেটের জন্য দাম ধরা হয়েছিল ৩৩ হাজার ৪০০ ডলার। এতে ‘হোস্ট’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কথা ছিল অভিনেতা লিওনার্দো ডি ক্যাপ্রিওর, তিনি আসতে না পারায় সে ভূমিকা গ্রহণ করেন পপ গায়ক জাস্টিন টিম্বারলেক ও অভিনেত্রী জেসিকা বিল। দুই সপ্তাহ আগে ফ্লোরিডায় হিলারির সমর্থনে একাধিক ফান্ড-রেইজিং ডিনারের আয়োজন করা হয়, এর মধ্যে মায়ামি বিচ শহরে আয়োজিত এক ডিনারে মাথাপিছু প্লেটের দাম ধরা হয়েছিল ৫০ হাজার ডলার। তবে এই ডিনারে হোস্টের হিসাবে দায়িত্ব পালনের সম্মান অর্জনের জন্য তাদের কমপক্ষে ১ লাখ ডলার চাঁদা দিতে হয়। খুবই ব্যক্তিগত পার্টি, ফলে কোনো সাংবাদিক সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। তবে লোকমুখে যে খবর বেরিয়েছে, তাতে দেখা যায়, হিলারি সেখানে দেওয়া ভাষণে যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক অসমতার কথা বলেছেন।
গত সপ্তাহে মিশিগানেও ফান্ড-রেইজিং ডিনারে অংশ নেন হিলারি। প্লেটপ্রতি ২৫ হাজার ডলার চাঁদার এমন একটি ডিনারে অতিথিদের গান গেয়ে শোনান বিখ্যাত গায়িকা আরিথা ফ্রাঙ্কলিন। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, সেখানে মোট অতিথির সংখ্যা ছিল ৭০। হিলারি ও ট্রাম্প উভয়েই তাঁদের শতকোটিপতি বন্ধুদের কাছে অর্থের আবেদন করেছেন। অধিকাংশ রিপাবলিকান ধনকুবের এবার ট্রাম্পকে এড়িয়ে চলছেন। হিলারির সেই সমস্যা নেই। জর্জ সরোস, ওয়ারেন বাফেটসহ প্রায় দুই ডজন শীর্ষ ধনকুবের পকেট খুলে তাঁকে চাঁদা দিয়ে সাহায্য করছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের এখনো প্রায় তিন মাস বাকি। যে হারে এই দুই প্রার্থী চাঁদা তুলছেন, তাতে অনেকের বিশ্বাস, এ বছর শুধু প্রেসিডেন্ট নির্বাচন খাতে যুক্তরাষ্ট্রে কম করে হলেও ৫০০ কোটি ডলার খরচ হবে।

কড়া পদক্ষেপ নিন, রোগীদের হয়রানি দূর করুন

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে এখন দালালদের দৌরাত্ম্য। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগী ও তাঁর আত্মীয়স্বজনেরা দালালদের হাতে নানাভাবে নাজেহাল হচ্ছেন। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে এখনো কড়া কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। বুধবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, হাসপাতালটির চিকিৎসাসেবা কিছু দালালের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে। রোগী ও তাঁদের স্বজনদের কাছে নিজেদের হাসপাতালের কর্মী পরিচয় দিয়ে ভর্তি, শয্যা পেতে এবং রোগ পরীক্ষাসহ নানা কাজে সহযোগিতার কথা বলে হাতিয়ে নেন টাকা। অনেক সময় বকশিশ নিয়ে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হয়রানিও করেন তাঁরা। কম দামে ওষুধ কিনে দেওয়ার কথা বলে টাকা নিয়ে আর ফিরে আসেন না অনেক দালাল। হাসপাতালটি কাগজে-কলমে ২৫০ শয্যার হলেও চলছে ১০০ শয্যার অবকাঠামো ও সরঞ্জামাদি নিয়ে। অথচ হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩০০ রোগী ভর্তি থাকেন।
বোঝা যায় দুর্বল অবকাঠামো ও জনবলসংকটে দালালেরা রোগীদের হয়রানি করার সুযোগ পাচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নানা পদক্ষেপ নিয়েও হাসপাতালকে দালালমুক্ত করা যাচ্ছে না। একটি সরকারি হাসপাতালের এমন চিত্র মেনে নেওয়া যায় না। দালালেরা প্রকাশ্যে তাঁদের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন, অথচ তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে না পারার কারণটি বোধগম্য নয়। গত শনিবার দালালবিরোধী এক অভিযানে মাত্র দুজন দালালকে আটক করে পুলিশ। নিয়মিত নজরদারি থাকলে দালালদের ঠেকানো কঠিন হওয়ার কথা নয়। এ ছাড়া হাসপাতালে ডাক্তারসহ প্রয়োজনীয় জনবলের অভাব দূর করতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ জরুরি। হাসপাতালের লোকজনের সঙ্গে দালালদের যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমরা আশা করব, হাসপাতালটিকে দালালদের দৌরাত্ম্য থেকে মুক্ত করাসহ হাসপাতালটির সমস্যা সমাধানে জরুরি পদক্ষেপ ও রোগীদের দুর্ভোগ দূর করার সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পুরোনো প্রতিবেশী, নতুন সম্পর্ক

অং সান সু চির চীন সফরের পরপরই ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ মিয়ানমার সফর করলেন। মিয়ানমারে বেসামরিক সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটাই প্রথম ভারতের কোনো নেতার উচ্চপর্যায়ের মিয়ানমার সফর। সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি ক্ষমতায় আসার পর মিয়ানমার এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। তবে জান্তা আমলের আইন অনুসারে সু চি প্রেসিডেন্ট হতে না পারলেও সরকারের ওপর তাঁর ব্যাপক প্রভাব রয়েছে। জান্তার আইন অনুসারে, যাঁর স্বামী বা সন্তানের বিদেশি নাগরিকত্ব আছে, তিনি দেশের নির্বাহী পদে আসীন হতে পারবেন না। আর সু চির ছেলেদের ব্রিটিশ নাগরিকত্ব রয়েছে। সুষমা স্বরাজের এই সফরের আগে ভারতের সেনারা মিয়ানমারের সীমানায় ঢুকে ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কাউন্সিল অব নাগাল্যান্ডের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এতে বোঝা যায়, এই দেশ দুটির মধ্যে সীমান্ত এলাকায় বিদ্রোহ মোকাবিলায় ঐকমত্য রয়েছে। স্বরাজের এই সফরে মিয়ানমার নিজের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে: সে তার ভূমি ভারতবিরোধী কাজে ব্যবহৃত হতে দেবে না। আর স্বরাজ সু চিকে আশ্বস্ত করেছেন, ভারত তাদের ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সব ধরনের সহযোগিতা’ করবে।
সব পরাশক্তিই এখন মিয়ানমারের দ্বারস্থ হচ্ছে, ফলে ভারতীয় কূটনীতির সামনে কঠিন সময়। ওদিকে সু চির চীন সফরের সময় চীন ও মিয়ানমার ‘রক্তের ভাই’ হিসেবে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ করার এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছে। তবে চীনের উদ্বেগের মূল কারণ হচ্ছে, ৩৬০ কোটি ডলারের মিতসোন বাঁধ প্রকল্প। পরিবেশবাদীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে মিয়ানমারের সাবেক প্রেসিডেন্ট থেইন সেইন এই বাঁধের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেন। যদিও সু চি তখন এর নির্মাণকাজ স্থগিতের দাবি জানিয়েছিলেন, এবার তিনি বেইজিংকে আশ্বস্ত করেছেন, দ্রুতই এর ফয়সালা করা হবে। কারণ, মিয়ানমারের উত্তরাঞ্চলের চীন সীমান্তে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের যে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো কাজ করছে, তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য চীনের সহায়তা জরুরি। যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের নতুন সরকারের ওপর সেনা প্রভাব ও রোহিঙ্গাসহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে মিয়ানমারের অবস্থানের কারণে উদ্বিগ্ন, তারা মিয়ানমারের ওপর থেকে প্রায় তিন দশকের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। ওবামা প্রশাসন মিয়ানমারের এই গণতান্ত্রিক উত্তরণকে তার পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে মনে করে। এদিকে ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। ভারত মিয়ানমারের সামরিক জান্তার ব্যাপক সমালোচনা করেছে। ভারতের ক্ষমতাশালীরা অং সান সু চির স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রশংসাও করেছেন।
তবে ১৯৯০-এর দশকের মধ্য ভাগে ভারত ‘লুক ইস্ট’ নীতি গ্রহণ করায় সে জান্তার সমালোচনা করা ছেড়ে দেয়। সু চির প্রতি মৌখিক সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে দেয়। ভারতের গণতন্ত্রপ্রীতির কারণে মিয়ানমার একসময় চীনের দিকে ঘেঁষে যায়। ভারত দ্রুতই বুঝে যায়, মিয়ানমারের সঙ্গে চীনের প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বালানি ও সহযোগিতা বেড়ে গেছে। চীন অস্ত্র থেকে শুরু করে খাদ্যশস্য সবই মিয়ানমারের কাছে বিক্রি করতে শুরু করে। চীনা কোম্পানিগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মিয়ানমারের গ্যাস ব্লকের ইজারা পেতে শুরু করে। তার কারণ হচ্ছে, চীন জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ানমার-বিষয়ক পদক্ষেপের বিরোধিতা করায় তারা এই পুরস্কার পায়। ভারত বুঝে যায়, মিয়ানমারে চীনের নৌশক্তির উপস্থিতি বাড়তে থাকলে ভারত মহাসাগরে তার শক্তি প্রদর্শন করা কঠিন হয়ে উঠবে। ফলে ভারত পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য হয়। মিয়ানমার-বিষয়ক তার বহু পুরোনো নীতি বদলে ফেলা ছাড়া ভারতের আর তেমন কিছু করার ছিল না। জান্তাকে একঘরে করার নীতি থেকে বেরিয়ে এসে সে তার সঙ্গে আরও বেশি করে যুক্ত হয়। তা ছাড়া, ভারতের কৌশলগত স্বার্থের জন্য মিয়ানমারকে কিছুটা গণতন্ত্রমুখী করা দরকার ছিল। ২০০৮ সালে নার্গিস সাইক্লোনের পর ভারত মিয়ানমারকে সহায়তা করলে সে দেশটির অভিজাত ক্ষমতাচক্রের আস্থা লাভ করে।
সে যে এটা হারাতে চায়নি, তা ঠিকই আছে। ফলে ভারত যে মিয়ানমারের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করেছে, তাতে বিস্ময়ের কিছু নেই। কয়েক বছরের আলোচনার পর ভারত ২০০৮ সালে সিতওয়ে বন্দর নির্মাণে রাজি হয়, যেটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার নতুন পথের সন্ধান দেয়, যাতে আর বাংলাদেশ হয়ে যেতে না হয়। এ ছাড়া থানলিন রিফাইনারির সংস্কারের জন্য ভারত মিয়ানমারকে দুই কোটি ডলারের ঋণ দেয়। ২০০১ সালে নির্মিত ১৬০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ভারত-মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক ছাড়াও ভারত দ্বিতীয় সড়ক প্রকল্পের কাজ করছে, সাগর সমৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণে বিনিয়োগ করেছে, যার লক্ষ্য হচ্ছে বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণ। আর পশ্চিম মিয়ানমারের শিউ গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পেও কাজ করছে সে। বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে মিয়ানমার নাগা বিদ্রোহীদের দমনে ভারতকে সহযোগিতা করেছে। মিয়ানমারের গণতান্ত্রিক উত্তরণ হওয়ায় ভারতের কৌশলগত কারিগরি সহায়তা করার সুযোগ আরও বেড়েছে। মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট থিন কিউ বলেছেন, ‘গণতন্ত্র বলতে আসলে কী বোঝায়, তা বুঝতে হবে ভারতকে দেখে।’ সুষমা স্বরাজের সফরের সময় তিনি কথা বলেছেন। কিন্তু কথা হচ্ছে, অতীতের মতো এখনো ভারত-মিয়ানমার সম্পর্ক শুধু গণতন্ত্র দ্বারা নির্ধারিত হবে না।
অনুবাদ: প্রতীক বর্ধন, দ্য হিন্দু থেকে নেওয়া।
হর্শ ভি পান্ট: লন্ডনের কিংস কলেজের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক।