Thursday, June 30, 2011

ফ্রান্সে পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য শত কোটি ইউরো

জাপানে ফুকুশিমায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিপর্যয়ের পর বিশ্বব্যাপী সতর্কতা সত্ত্বেও ফরাসি প্রেসিডেন্ট নিকোলা সারকোজি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির জন্য ১০০ কোটি ইউরো বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছেন।
তবে বিপুল পরিমাণ এই বিনিয়োগের একটা অংশ পারমাণবিক নিরাপত্তাবিষয়ক গবেষণার পেছনেও ব্যয় করা হবে।
ফরাসি পারমাণবিক প্রতিষ্ঠান আরিভা চুল্লির চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তির উন্নয়ন করছে। দেশটি মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ৮০ শতাংশ পূরণ করে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
সারকোজি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ‘ভবিষ্যতে পরমাণু কর্মসূচি, বিশেষ করে চতুর্থ প্রজন্মের প্রযুক্তি উন্নয়নে আমরা শত কোটি ইউরো বিনিয়োগ করতে যাচ্ছি।’
ফুকুশিমা বিপর্যয়ের পর চলতি বছরের গোড়ার দিকে ফ্রান্সের প্রতিবেশী রাষ্ট্র জার্মানি, সুইজারল্যান্ড ও ইতালি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কর্মসূচির বিপক্ষে ভোট দেয়।

গাজায় ত্রাণবাহী জাহাজ প্রবেশে বাধা দেবে ইসরায়েল

ইসরায়েল তার নৌবাহিনীকে গাজা ভূখণ্ডের বাসিন্দাদের জন্য আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী ১০টি জাহাজকে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ এড়ানোরও নির্দেশ দিয়েছে।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার গ্রিস থেকে ত্রাণবাহী জাহাজগুলো গাজা অভিমুখে রওনা হতে পারে। গত বছরের ৩১ মে গাজা অভিমুখী ত্রাণবাহী জাহাজের বহর ফ্রিডম ফ্লোটিলায় হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এতে নয়জন নিহত হয়। এ ঘটনায় বিশ্বজুড়ে সমালোচনার মুখে পড়ে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে গত সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ইসরায়েল আন্তর্জাতিক ত্রাণবাহী জাহাজকে গাজায় প্রবেশ করতে না দেওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। তবে জাহাজের লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষ যতটা সম্ভব এড়ানোর জন্য নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ত্রাণবাহী জাহাজে করে যারা অবৈধভাবে গাজায় প্রবেশের চেষ্টা করবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীনেতানিয়াহু। তবে সাংবাদিকেরা এই নির্দেশের বাইরে থাকবেন।
ইসরায়েলের মুখমাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল আভিতাল লেইবোভিৎজ বলেন, ‘সামরিক গোয়েন্দা সূত্রে আমরা তথ্য পেয়েছি, জাহাজে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হবে। এ ছাড়া ওই সব জাহাজে উগ্রপন্থী জঙ্গিরাও থাকবে বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তারা ইসরায়েলি সেনাদের হত্যা করতে চাইছে।’

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে টাটার আপিল

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার সরকারি কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদন আদালতে খারিজ হওয়ার পর টাটা মোটরস গতকাল মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেছে। গত সোমবার কলকাতা হাইকোর্ট টাটার ওই রিট আবেদন খারিজ করেন।
গতকাল সকালে নয়াদিল্লিতে সুপ্রিম কোর্টের অবসরকালীন ডিভিশন বেঞ্চে হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে টাটা মোটরস। আপিলে সিঙ্গুরের জমি-ফেরত কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। কিন্তু গতকাল সুপ্রিম কোর্টে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি আইনজীবী অনুপস্থিত থাকায় ডিভিশন বেঞ্চের বিচারপতি পি সত্যশিবম ও বিচারপতি এ কে পট্টনায়ক আজ বুধবার শুনানির দিন ধার্য করেন।
এর আগে সোমবার পশ্চিমবঙ্গ সরকার সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট পিটিশন দাখিল করে। পিটিশনে বলা হয়, সরকারকে না জানিয়ে সুপ্রিম কোর্ট যেন একতরফা কোনো সিদ্ধান্ত না নেন।

মার্গারেট থ্যাচারের হাতব্যাগ ২৫ হাজার পাউন্ডে বিক্রি

সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের বিখ্যাত হাতব্যাগ এক নিলামে ২৫ হাজার পাউন্ডে বিক্রি হয়েছে। গত সোমবার লন্ডনের ক্রিস্টিস নিলামঘরে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়। হাতব্যাগ বিক্রির এই অর্থ বিভিন্ন দাতব্য প্রতিষ্ঠানে দান করা হবে।
লৌহমানবী হিসেবে পরিচিত থ্যাচারের এই হাতব্যাগ ব্রিটিশ মন্ত্রীদের কাছে বেশ ভয়ের বস্তু ছিল। ১৯৭৯-৯০ সালের শাসনামলে থ্যাচার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠান যেমন—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ও সোভিয়েত নেতা মিখাইল গর্বাচেভের সঙ্গে বৈঠক করার সময় ওই কালো অ্যাস্প্রে হাতব্যাগ ব্যবহার করতেন।
থ্যাচারের মন্ত্রিসভায় ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা লর্ড ক্যানেথ বেকার ওই ব্যাগকে থ্যাচারের ‘গোপন অস্ত্র’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি স্মৃতিচারণকরে বলেন, কর্তৃত্বের প্রতীক হিসেবে থ্যাচার প্রায়ই তাঁর হাতব্যাগ মন্ত্রিসভার টেবিলে রাখতেন এবং ব্যাগ থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বের করতেন।

গ্রিসে ব্যয়সংকোচন পরিকল্পনার প্রতিবাদে দুই দিনের ধর্মঘট শুরু

গ্রিসে সরকারের ব্যয়সংকোচন পরিকল্পনার প্রতিবাদে গতকাল মঙ্গলবার ৪৮ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে প্রস্তাবিত ব্যয়সংকোচন প্যাকেজের ওপর পার্লামেন্টে ভোটাভুটির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জ পাপানদ্রু গত সোমবার বলেন, দুই হাজার ৮০০ কোটি ইউরোর ব্যয়সংকোচন প্যাকেজ পাস হলেই কেবল গ্রিস আবারও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।
সরকার যদি ভোটাভুটিতে হেরে যায়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এক হাজার ২০০ কোটি ইউরোর ঋণ স্থগিত করে দিতে পারে।
সরকারের ব্যয়সংকোচন পরিকল্পনার প্রতিবাদে গতকাল হাজার হাজার বিক্ষোভকারী রাজধানী এথেন্সের রাস্তায় নেমে আসে। প্রায় দুই হাজার মানুষ পার্লামেন্টের বাইরে সিনটাগমা স্কয়ারে বিক্ষোভ দেখায়। এ সময়তাঁরা ড্রাম বাজিয়ে সরকারে বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। প্রথমে ধর্মঘট শান্তিপূর্ণথাকলেও পরে সহিংসতায়রূপ নেয়।বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ পাল্টা ধর্মঘটিদের ওপর কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে।
পাঁচ হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্যকে গতকাল মঙ্গলবার এথেন্সের কেন্দ্রস্থলে মোতায়েন করা হয়।
ধর্মঘটে বেশির ভাগ পরিষেবার বিঘ্ন ঘটছে অথবা বন্ধ হয়ে গেছে। রাজধানীর গণপরিবহন-ব্যবস্থা অচল হয়েপড়েছে। চিকিৎসক, অ্যাম্বুলেন্সের চালক, সাংবাদিক, এমনকি অভিনেতা-অভিনেত্রীরাও ধর্মঘটে যোগ দেন।
ধর্মঘটের কারণে বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটেছে। এথেন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অনেকগুলো ফ্লাইট বাতিলকরা হয়েছে।
ট্রেন, বাস ও নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এথেন্সে শুধু পাতাল রেল চলাচল করছে। এথেন্সের মানুষ যাতে বিক্ষোভে যোগ দিতে পারে, সে জন্য পাতাল রেলের কর্মীরা ধর্মঘট না করার সিদ্ধান্ত নেন।
শ্রমিক ইউনিয়নগুলো বলছে, সরকারের ব্যয়সংকোচন পরিকল্পনা কার্যকর হলে কম বেতনের লোকজনের ওপর কর আরোপ করা হবে।
বিক্ষোভকারীরা বলছে, এমপিরা যাতে পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করতে না পারেন, সে জন্য তারা পার্লামেন্ট ভবন ঘিরে রাখবে। আজ বুধবার ও আগামীকাল বৃহস্পতিবার আলাদা ভোটাভুটির মাধ্যমে ব্যয়সংকোচন প্যাকেজ ও বাস্তবায়ন আইন পাস করার কথা।
জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, গ্রিসের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ সরকারের ব্যয়সংকোচন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে।ব্যাংকের কর্মী কলি পাতৌনা বলেন, ‘তারা যা করার চেষ্টা করছে, আমরা তার বিরোধিতা করছি।’
প্রধানমন্ত্রী পাপানদ্রু সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, ব্যয়সংকোচন প্রকল্প পাস না হওয়ার অর্থ হলো জাতীয় ‘কোষাগার’ কয়েক দিনের মধ্যেই শূন্য হয়ে যাওয়া। তিনি এমপিদের প্রতি ‘দেশপ্রেমমূলক দায়িত্ব’ পালনের আহ্বান জানান।

ভারতে রাজ্যপাল ও মন্ত্রিসভায় আশু পরিবর্তনের সম্ভাবনা

ভারতে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত প্রগতিশীল মোর্চা (ইউপিএ) সরকার কয়েকটি রাজ্যের রাজ্যপাল পদে এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই এই পরিবর্তন হতে পারে।
গুঞ্জন রয়েছে, তামিলনাড়ু, পাঞ্জাব, রাজস্থান, গোয়া, বিহার ও কর্ণাটক রাজ্যের রাজ্যপাল পদে পরিবর্তন হতে যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ পাতিল মন্ত্রিসভায় ফিরে আসার জোর চেষ্টা করছেন। আগামী ২২ জুলাই অনুষ্ঠেয় মহারাষ্ট্র রাজ্যসভার উপনির্বাচনে জয়লাভের আশা করছেন পাতিল। পৃথ্বীরাজ চৌহান এই পদ ছেড়ে দিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। মহারাষ্ট্র রাজ্যসভার সদস্য হতে আরও তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন এই রাজ্যের সাবেক মন্ত্রী রোহিদাস পাতিল, এআইসিসির সাধারণ সম্পাদক আনিস আহমেদ, সাবেক এমপি উত্তম সিং পাওয়ার ও রাজ্য কংগ্রেসের মুখপাত্র অনন্ত গ্যাডগিল।
সূত্র জানায়, উত্তরাখন্ড রাজ্যের রাজ্যপাল মার্গারেট আলভা তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজ্যপাল হিসেবে নিয়োগ পেতে পারেন। চলতি মাসেই তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল সুরজিত সিং বারনালার মেয়াদ শেষ হবে। এদিকে কর্ণাটকের বিতর্কিত রাজ্যপালএইচ আর ভরদ্বাজকে সরিয়ে অন্ধ্র প্রদেশের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী কে রোসাইয়াকে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে। এ ছাড়া বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় এই এ রাজ্যের রাজ্যপাল দেবানন্দ কনোয়ার পদত্যাগ করতে পারেন বলে জোর গুঞ্জন রয়েছে।
একটি সূত্র জানায়, শিবরাজ পাতিল কেন্দ্রীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন। বিদ্যুৎমন্ত্রী সুশীল কুমার সিন্ধকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি চিদাম্বরমকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হবে কি না, নিশ্চিত নয়। চিদাম্বরম নিজে এ পদে আর থাকতে চান না। তবে দল মনে করে, এই মুহূর্তে চিদাম্বরমকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে তা ক্ষতিকর হতে পারে।
মন্ত্রিসভা থেকে যাঁদের সরিয়ে দেওয়া হতে পারে তাঁরা হলেন: বস্ত্রমন্ত্রী দয়ানিধি মরন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পরিসংখ্যানমন্ত্রী এম এস গিল, উত্তর-পূর্বাঞ্চলবিষয়ক মন্ত্রী বি কে হান্ডিক, উপজাতিবিষয়ক মন্ত্রী কান্তিলাল ভুরিয়া, নগর উন্নয়ন মন্ত্রী কমল নাথ এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী জয়পাল রেড্ডি। অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগবিষয়ক মন্ত্রী বীরভদ্র সিংয়ের বিষয়টি অনিশ্চিত। সূত্র জানায়, অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে টেলিকম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী কপিল সিবাল এবং অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বেসরকারি বিমান চলাচল দপ্তরের দায়িত্ব পাওয়া প্রবাসীবিষয়ক মন্ত্রী ভয়ালার রাভির একটি করে দপ্তর কমিয়ে দেওয়া হতে পারে।
মন্ত্রিসভায় রদবদলে লাভবান হতে পারেন রাসায়নিক পদার্থ ও সারবিষয়ক মন্ত্রী শ্রীকান্ত জেনা, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ই আহমেদ ও প্রতিমন্ত্রী বেণীপ্রসাদ ভার্মা।

আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাখ্যান করেছে লিবিয়া

মুয়াম্মার গাদ্দাফির বিরুদ্ধে জারি করা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রত্যাখ্যান করেছে লিবিয়া। ত্রিপোলি বলেছে, গাদ্দাফির বিচার করার এখতিয়ার আইসিসির নেই।
এদিকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞা কমিটি গাদ্দাফির স্ত্রী সাফিয়ার বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। একই সঙ্গে বিদেশে থাকা তাঁর সব সম্পত্তি জব্দ করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে লিবীয় নেতা গাদ্দাফি, তাঁর ছেলে সাইফ আল-ইসলাম ও দেশটির গোয়েন্দাপ্রধান আবদুল্লাহ আল-সেনুচ্ছির বিরুদ্ধে গত সোমবার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত।
লিবিয়ার বিচারমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-কামুদি ত্রিপোলিতে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, ন্যাটো এখনো গাদ্দাফিকে হত্যা করার চেষ্টা করছে। ন্যাটোর এই বোমা হামলা থেকে দৃষ্টি ফেরাতেই আইসিসি তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। তিনি আরও বলেন, তাঁর দেশ রোম চুক্তিতে সই করেনি, যে চুক্তির ওপর ভিত্তি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই আদালতের বিচারও তাই তাঁরা মানছেন না।
তবে গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব ও লিবিয়ার বিদ্রোহীরা। লিবিয়ার বিদ্রোহীদের সংগঠন ন্যাশনাল ট্রানজিশনাল কাউন্সিলের প্রধান মুস্তাফা আবদেল জলিল বলেছেন, গাদ্দাফির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করায় ‘ন্যায়বিচার’ হয়েছে। এখন আলোচনায় বসার আর কোনো সুযোগ নেই। তিনি প্রতিজ্ঞা করেছেন, গাদ্দাফিকে যেকোনো মূল্যে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তবে তাঁকে ধরতে বিদেশি বাহিনীর প্রয়োজন হবে না বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
জলিল বলেন, গাদ্দাফির ঘনিষ্ঠ লোকজনের উচিত, তাঁকে পদত্যাগের পরামর্শ দেওয়া। এটা হলে গাদ্দাফি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা বেঁচে যাবেন। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি আরও বলেন, গাদ্দাফিকে কেউ লুকিয়ে রাখলে তাঁকেও খুঁজে বের করে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।
হোয়াইট হাউস বলেছে, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় লিবীয় নেতা ‘তাঁর বৈধতা হারিয়েছেন’। ন্যাটোর প্রধান অ্যান্ডার্স ফগ রাসমুসেন বলেছেন, আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে এটাই প্রমাণিত হয়েছে যে গাদ্দাফির শাসন বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত পর্তুগালের রাষ্ট্রদূত ও লিবিয়ায় অবরোধ কমিটির চেয়ারম্যান জোসে ফিলিপ মোরায়েস কাবরাল নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে নিষেধাজ্ঞার এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞা কমিটি তাদের কালো তালিকায় দুই ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাঁদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং সম্পদ জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞার তালিকায় কোন দুজনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, সে ব্যাপারে তিনি কিছু বলেননি। কিন্তু নিরাপত্তা পরিষদের একজন কূটনীতিক জানান, গাদ্দাফির স্ত্রী সাফিয়া এবং দেশটির পরিকল্পনা ও অর্থমন্ত্রী আবদুল হাফিদ জিলিতানির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

আফগানিস্তানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে হামলা

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে গতকাল মঙ্গলবার রাতে বন্দুকধারীরা হামলা চালিয়েছে। তালেবান এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
কাবুল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ জহির এএফপিকে এ খবর নিশ্চিত করেন। জহির বলেন, রাতে বেশ কিছু বন্দুকধারী হোটেলে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালাতে থাকে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ আহত হন বলে তিনি জানান।
ঘটনাস্থলের কাছে থাকা এএফপির একজন সাংবাদিক বলেছেন, তিনি কমপক্ষে একটি বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছেন। এ ছাড়া হোটেলের ভেতর থেকে ভারী গোলাবর্ষণেরও আওয়াজ শোনা গেছে। তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় হোটেলটি অন্ধকারে ঢেকে যায়। তিনি জানান, পুরো এলাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে রেখেছে।
কাবুলের এ হোটেলে সাধারণত বিদেশি অতিথি ও সরকারি কর্মকর্তারা থাকেন।
কাবুলের নিরাপত্তা কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে বিবিসি জানায়, হোটেলটির অভ্যন্তরে কমপক্ষে ছয়টি আত্মঘাতী হামলা হয়েছে।

স্থিরতার ওপর নির্ভর করছে সাফল্য: ফোরলান

কোপা আমেরিকায় রেকর্ড ১৪ বার চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে। আর্জেন্টিনাও তাই। ব্রাজিল কোপায় শিরোপা জেতে মাত্র আটবার। এদিক থেকে আর্জেন্টিনাকে নিয়ে মিডিয়ায় মাতামাতি হলে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই। মাতামাতি হতে পারে চারবারের চ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে নিয়েও। কিন্তু উরুগুয়েকে নিয়ে ভাবার কি কেউ নেই?
প্রশ্নটা উঠতেই পারে। কারণ, কোপায় রেকর্ড চ্যাম্পিয়ন দলটিই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার যোগ্যতা রাখে। অথচ উরুগুয়ের কথা শোনা যাচ্ছে না কোথাও। শান্ত, নীরব পরিবেশ উরুগুয়ে শিবিরেও।
‘উরুগুয়ের প্রস্তুতিতে স্থিরতা থাকবে। আমরা জানি, আমাদের দলে কোনো অপূর্ণতা নেই। স্থিরতার ওপরই নির্ভর করছে সাফল্য’—কোপা অভিযানে উরুগুয়ের মনোভাব প্রশ্নে এক রেডিও সাক্ষাৎকারে বলেন ডিয়েগো ফোরলান।
গত কয়েক মাস ধরে খেলার বাইরে আছেন ফোরলান। ইনজুরির কারণে নয়, ইচ্ছে করেই। কিন্তু এ দীর্ঘ বিরতি কি কোপায় সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে না? গত বছর অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে গোল্ডেন বল বিজয়ী ফোরলান বলছেন, ‘ব্যক্তিগত সমস্যার কারণে কয়েক মাস আমি খেলিনি। কোচের অনুমতি নিয়ে বিশ্রামে ছিলাম। কিন্তু এ বিশ্রাম আমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে সহায়তা করবে। কোপায় নতুন উদ্যমে খেলার সুযোগ পাব।’

মহিলা ক্রিকেটারদের অনুশীলন ক্যাম্প

চট্টগ্রাম বিভাগীয় মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে আজ শুরু হচ্ছে জাতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের মাসব্যাপী অনুশীলন ক্যাম্প। ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ৩২ ক্রিকেটার হলেন—শুকতারা, শায়লা, রুমানা, লতা, আয়েশা, সাথিরা, সুপ্তা, পান্না, সালমা, তাহিন, ফারজানা, চামেলি, সুবর্ণা, সুলতানা, নুজহাত, জাহানারা, রিতু, তাজিয়া, সোহেলি, তিথি, চম্পা, মোর্শেদা, ফাতেমা, লিলি, তৃপ্তি, শাহনাজ, শামীমা, সানজিদা, খাদিজাতুল, একা, রাশেদা ও শারমিন।

‘আয়ারল্যান্ড নিজেদের প্রমাণ করবে’

বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ক্রিকেটামোদীদের মনে ভিন্ন এক স্থানেই বসিয়ে দিয়েছে আয়ারল্যান্ড দলকে। আগামী বিশ্বকাপ ১০ দলের হবে বলে আইসিসির প্রাথমিক চিন্তা-ভাবনা সবচেয়ে বেশি ক্ষুব্ধ করেছিল তাদের। আইসিসির এই ভাবনার প্রতিবাদও জানিয়ে আসছিল তারা। অবশেষে প্রতিবাদে এসেছে সাফল্য। ২০১৫ সালে ১০ দলের বিশ্বকাপ ভাবনা থেকে আপাতত সরে এসেছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা।
আইসিসির এই সিদ্ধান্তে স্বস্তিই ঝড়ে পড়েছে আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলের কোচ সাবেক ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার ফিল সিমন্সের কণ্ঠে। তিনি বলেছেন, ‘আয়ারল্যান্ড যে বিশ্বকাপে খেলার যোগ্য—সেটা পারফরম্যান্স দিয়েই প্রমাণ করতে হবে।’
বর্তমানে আইসিসির ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে জিম্বাবুয়েরও ওপরে আয়ারল্যান্ডের অবস্থান। গত দুটি বিশ্বকাপে নজরকাড়া পারফরম্যান্স নিজেদের দায়িত্বের পরিধি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে বলে মনে করেন সিমন্স। তিনি বলেন, ‘আসল কাজ শুরুর সময় চলে এসেছে। আমাদের এখন আইসিসি ও ১০টি টেস্ট খেলুড়ে দেশকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে হবে যে আমরা সর্বোচ্চ স্তরে ক্রিকেট খেলার যোগ্য।’
সিমন্স মনে করেন, ‘২০০৭ বিশ্বকাপে সুপার আটে খেলেছি আমরা। এবারের বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিশাল সংগ্রহ তাড়া করে জিতেছি। নতুন লক্ষ্য হচ্ছে বিশ্বকাপের মতো আসরে সেমিফাইনাল-ফাইনাল পর্যায়ে খেলা। লক্ষ্যটা অনেক বড়, সন্দেহ নেই। কিন্তু আমাদের ওই পথেই হাঁটতে হবে। একটি দুটি আপসেট দিয়ে সত্যিকারের মর্যাদা পাওয়া সম্ভব নয়।’
আইরিশ ক্রিকেটের প্রধান নির্বাহী ওয়ারেন ডিওট্রম ১০ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের চিন্তা-ভাবনা থেকে আইসিসির সরে আসাকে তাদের ‘বোধোদয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আইসিসি যদি সত্যি সত্যি দশ দল নিয়ে বিশ্বকাপ আয়োজন করত, তাহলে আয়ারল্যান্ডের মতো উদীয়মান ক্রিকেট শক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হত। আইরিশ ক্রিকেটের ক্রমোন্নতি বাধাগ্রস্ত হতো। তিনি আরও বলেন, ‘আইসিসির সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের প্রতি আমাদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। আমরা এই খেলাটিতে আরও বিনিয়োগ করব। এর দর্শকপ্রিয়তা আরও বাড়বে।’
ডিওট্রাম বলেন, ২০১১ সালের বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সের জনপ্রিয়তা আইরিশদের মধ্যে শতকরা ৬৬ ভাগ বাড়িয়ে দিয়েছে। তারা এখন ক্রিকেটের প্রতি আগের চেয়ে অনেক বেশি আগ্রহী।

পাকিস্তানি নির্বাচকের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সুপারিশ

পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) সত্যিই অনিশ্চয়তায় ভরপুর। কার বিরুদ্ধে কখন কোন অভিযোগ তোলা হয়, শাস্তি দেওয়া হয়, আবার সেই অভিযোগ বা শাস্তি তুলেও নেওয়া হয়—বোঝা কঠিন। আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে জাতীয় দলের নির্বাচক মোহাম্মদ ইলিয়াসকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করেছিল পিসিবি। চলতি মাসের ৮ তারিখের ঘটনা এটি। আজ বুধবার ইলিয়াসের এই বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার সুপারিশ করেছে পিসিবিরই গঠিত এক শৃঙ্খলা কমিটি।
পিসিবি এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর কারণ ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছিল ইলিয়াসকে। তিনি তাঁর ব্যাখ্যায় স্বীকার করেন, ওই অনুষ্ঠানে যাওয়ার আগে বোর্ডের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল। ওই টক শো পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ব্যক্তিগত অভিযোগের ক্ষেত্রে কিছু মন্তব্য করেছেন ইলিয়াস। তবে পিসিবি বা দলের ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে আপত্তিকর কিছু বলেননি তিনি। এ অবস্থায় ইলিয়াসের বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার সুপারিশ করেছে শৃঙ্খলা কমিটি।
ইলিয়াসের বিরুদ্ধে বোর্ডের অভিযোগ ছিল দুটি। প্রথমত, বোর্ডের সঙ্গে আফ্রিদির দ্বন্দ্বে ইলিয়াসের সংশ্লিষ্টতা। দ্বিতীয়ত, সেই দ্বন্দ্ব নিয়ে আলোচনা করতে এক টিভি অনুষ্ঠানে তাঁর উপস্থিতি। ওই অনুষ্ঠানে আবার উপস্থিত ছিলেন আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় থাকা সালমান বাট। এই দুই ঘটনায় আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তোলে নির্বাচক ইলিয়াসকে দুটি কারণ দর্শাও নোটিশ পাঠায় পিসিবি। সেই নোটিশের জবাবও দেন তিনি। তবে ইলিয়াসের জবাব মনঃপূত না হওয়ায় সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয় তাঁকে।

এখনো অপেক্ষায় রানী হামিদ

গত ১৪ মে জাতীয় মহিলা দাবায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর বলেছিলেন, গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লেখাতে চান। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহিলা মাস্টার রানী হামিদের সেই স্বপ্ন কি পূরণ হবে? প্রায় দেড় মাস গড়িয়ে গেলেও ফেডারেশন থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফেডারেশনের এই ধীরগতিটা রানী হামিদও ভালোই জানেন, ‘ওরা মনে হয় আম-কাঁঠাল খাওয়ায় ব্যস্ত আছে।’
ফেডারেশনের ওপর তাই ভরসা করে বসে থাকছেন না জাতীয় মহিলা দাবায় ১৮ বারের চ্যাম্পিয়ন। গিনেস রেকর্ডসের ওয়েবসাইটে গিয়ে নিজেই আবেদন করার চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন, ‘ফেডারেশন যদি একান্তই আমাকে সহযোগিতা না করে, তাহলে আমি নিজেই গিনেস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করব। প্রথম দিকে তো ফেডারেশন বলেছিল ওরাই উদ্যোগ নেবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কিছু করেনি। আবার পরিষ্কার করে আমাকেও কিছু বলছে না।’
রানীর সাহায্যে আসতে পারেন জোবেরা রহমান লিনু। ১৬ বার জাতীয় মহিলা টেবিল টেনিস একক শিরোপা জিতে ২০০৩ সালে গিনেস বুকে নাম লিখিয়েছেন তিনি। লিনু জানালেন, ‘গিনেস বুকে নাম লেখাতে কোনো টাকা-পয়সা লাগবে না। শুধু ফেডারেশন থেকে দিতে হবে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের সার্টিফিকেট ও রেকর্ডগুলো। সঙ্গে এর প্রত্যক্ষদর্শী তিনজনের সার্টিফিকেট লাগবে। আমিও এভাবেই আবেদন করেছিলাম।’ লিনু তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে বলছেন, গিনেস বুকে নাম লেখাতে টাকা-পয়সা লাগে না। কিন্তু ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোকাদ্দেস হোসাইনের দাবি, লাগে: ‘এটা দুইভাবে করা যায়। দ্রুত সার্টিফিকেট চাইলে টাকা-পয়সা লাগে। কিন্তু আমরা সেভাবে করব না। অন্যভাবে ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন। এ ব্যাপারে ফেডারেশন থেকে সম্ভাব্য সব সহযোগিতাই করা হবে।’

১৪ দল নিয়েই ২০১৫ বিশ্বকাপ

যা ছিল, তা-ই থাকল। মাঝখানে শুধু একটু জলঘোলা হলো। সহযোগী দেশগুলোর প্রতিনিধিত্ব থাকছে ২০১৫ বিশ্বকাপে। একটি-দুটি নয়, থাকছে এবারের মতো চারটি সহযোগী দেশই। আগামী বিশ্বকাপেও তাই ১৪টি দলই থাকছে। হংকংয়ে আইসিসির বার্ষিক সভার তৃতীয় দিনে কাল নেওয়া হয়েছে এই সিদ্ধান্ত।
ওয়ানডে বিশ্বকাপে সহযোগী সদস্যদেশগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ালেও কমানো হয়েছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ১৬ দলের জায়গায় এখন ১২ দল খেলবে আগামী দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। ২০১২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হবে শ্রীলঙ্কায়, ২০১৪ বাংলাদেশে।
গত বিশ্বকাপের পরপর আইসিসি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরবর্তী দুটি বিশ্বকাপ হবে ১০ দল নিয়ে। ক্রিকেটবিশ্বে ব্যাপক সমালোচনার পর সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছিল আইসিসি। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় ২০১৯ বিশ্বকাপে অবশ্য ১০ দলই খেলবে। র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থানীয় ৮ দল খেলবে সরাসরি। বাকি দুটি দল নির্ধারিত হবে বাছাই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে। ওই বিশ্বকাপেই তাই প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের বাইরে থাকতে হতে পারে কোনো টেস্ট খেলুড়ে দেশকে!
তবে জোর গুঞ্জন, বিশ্বকাপে আবারও চারটি সহযোগী দেশকে নেওয়ার সিদ্ধান্ত ভোট পাওয়ার জন্য তাদের প্রতি ‘উপহার’! এবারের সভার সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই এখনো বাকি আছে এবং সেটির জন্য সহযোগীদের ভোট খুবই জরুরি। আইসিসির সভাপতি নির্বাচনের পর্যায়ক্রমিক পদ্ধতি বাদ দেওয়ার যে প্রস্তাব উঠেছে, সেটা পাস হতে ১০ টেস্ট খেলুড়ে দেশের আটটি এবং ৫০টি সহযোগী দেশের ৩৮টির ভোট প্রয়োজন। প্রস্তাবটা পাস হওয়া এখন শুধুই আনুষ্ঠানিকতা বলেই মনে হচ্ছে!

উল্টো চতুর্থ হলো আবাহনী

পেশাদার ফুটবল লিগে টানা চতুর্থ শিরোপা জয়ের অভিযানে নেমে চতুর্থ হলো ঢাকা আবাহনী। কাল শেষ ম্যাচে ব্রাদার্সকে ১-০ গোলে হারিয়েও তারা ভাগ্য বদলাতে পারেনি। চতুর্থ হয়েই শেষ করল লিগ। আবাহনীর ইতিহাসে এমন বাজে ফল হয়েছে আর মাত্র একবার। ১৯৮০ সালে ঢাকা লিগে চতুর্থ হয়েছিল আকাশি-নীলরা।
লিগের শেষ ম্যাচটি কাল হওয়ার কথা ছিল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে। কিন্তু আগের রাতের ভারী বর্ষণে মাঠ অনুপযুক্ত হয়ে পড়ায় ম্যাচটি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় কমলাপুরে। আগামীকাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাই ম্যাচটাও অবশ্য ভেন্যু বদলাতে ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু কমলাপুর স্টেডিয়ামও কাল খেলার জন্য ঠিক উপযুক্ত ছিল না।
কমলাপুরে তখন চলছিল ঢাকা জুনিয়র ও বিকেএসপির তৃতীয় বিভাগের ম্যাচ। মিনিট দশেক খেলাও গড়িয়েছিল। কিন্তু সেটি বন্ধ রেখে শুরু করা হয় আবাহনী-ব্রাদার্স ম্যাচ। থিকথিকে কাদা ভরা মাঠে কোনো দলই খেলতে পারছিল না স্বাভাবিক খেলা। আবাহনীর থুয়াম ফ্রাঙ্ক নষ্ট করেছেন অন্তত গোটা চারেক সুযোগ। সুযোগ নষ্ট করেছেন ব্রাদার্সের কিংসলেও। ৮০ মিনিটে আবাহনী গোলরক্ষক জিয়াকে একা পেয়েও বল বাইরে মারেন নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড। ঠিক দুই মিনিট পরই প্রতি-আক্রমণ থেকে গোল করেছেন আবাহনীর ঘানাইয়ান স্ট্রাইকার আউডু ইব্রাহিম। তাঁকে বল বানিয়ে দিয়েছিলেন আমিনু। বাকি সময়ে অনেক চেষ্টা সত্ত্বেও গোল শোধ করতে পারেনি ব্রাদার্স।
গত বছর ২৭ ডিসেম্বর শুরু হওয়া লিগ শেষ হতে পারত আরও আগেই। কিন্তু লিগ নানা কারণে বন্ধ থেকেছে বারবার। কুয়েতের বিপক্ষে অলিম্পিক প্রাক-বাছাই ম্যাচ, স্বাধীনতা কাপ, কম্বোডিয়ায় আবাহনীর এএফসি প্রেসিডেন্টস কাপে অংশ নেওয়া, বৃষ্টি, হরতাল অব্যাহতভাবে খেলা চলতে দেয়নি। বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আগে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংস্কারের জন্য ছেড়ে দিলেও খেলা চলেছে কমলাপুরে।
নানা নাটকীয়তায় ভরা লিগে দুই প্রধান দল আবাহনী-মোহামেডানের ভরাডুবি হয়েছে। আবাহনী হলো চতুর্থ, গতবারের রানার্সআপ মোহামেডান ষষ্ঠ। পাতানো খেলা নিয়ে সরগরম ছিল লিগ, এখনো পাতানো ম্যাচ খেলার অভিযোগে শিরোপা জয়ের উৎসব করতে পারছে না কোটি টাকার নবাগত দল শেখ জামাল। লিগটা জমেছিল ভালোই। কারা চ্যাম্পিয়ন হবে, সেটা শেষ চার রাউন্ডের আগেও বোঝা যায়নি। শেখ জামাল নিজেদের শেষ ম্যাচে গিয়েই শিরোপা নিশ্চিত করেছে। যদিও পাতানো খেলার অভিযোগ তাদের মাথার ওপর ঝুলছে।
বিদেশিদের দাপটের সাক্ষী লিগে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যতিক্রম বলতে মিঠুন চৌধুরী। ১২টি হ্যাটট্রিকের একটি করেছেন মুক্তিযোদ্ধার এই স্ট্রাইকার। গোলদাতা তালিকার সেরা পাঁচেও সবেধন নীলমণি মিঠুন। বেশির ভাগ ম্যাচে সাইডবেঞ্চে কাটিয়েছেন জাতীয় দলের খেলোয়াড় জাহিদ হাসান এমিলি, এনামুল, জাহিদ, আলফাজ, তৌহিদুল আলমরা। অনেক আক্ষেপেরই এক লিগ গেল তাদের।
কোচ নিয়েও কম নাটক হয়নি। লিগে প্রথম ম্যাচের পরই সার্বিয়ান কোচ জোরান কার্লোভিচকে কার্যত বিদায় করেছে শেখ জামাল। এরপর পাকির আলী এসেই তাদের দেখিয়েছেন সাফল্যের রাস্তা। আবাহনীর ইরানি কোচ আলী আকবর পোরমুসলিমিও লিগ শেষ না করে চলে গেছেন।

ঢাকায় এসে পাকিস্তানের হুংকার

আগামীকাল বাংলাদেশকে হারাতে না পারলে পাকিস্তান কোচ ইস্তফা দেবেন!
এটাকে তো বাংলাদেশের প্রতি পাকিস্তানের হুংকারই বলবেন। বিশ্বকাপ প্রাক-বাছাই ম্যাচ খেলার জন্য কাল ঢাকায় আসা পাকিস্তান কোচ তারিক লুৎফিকে দেখাল হাসি-খুশি, কিন্তু ভেতরে ভেতরে যেন জ্বলে-পুড়ে মরছিলেন!
কথা বলায় ক্লান্তি নেই। সেই ১৯৭৬ সালের প্রসঙ্গ টেনে আনলেন। সে বছর পিআইএর হয়ে ঢাকায় হারিয়ে গেছেন সালাউদ্দিনের আবাহনীকে। সেই স্মৃতি রোমন্থনের এক ফাঁকে আগামীকালের ম্যাচ প্রসঙ্গ উঠতেই তাঁর চোয়াল শক্ত! ‘আমি আমার খেলোয়াড়দের পরিষ্কার বলে দিয়েছি, বাংলাদেশকে হারাতে না পারলে আমাকে তোমরা হারাবে। আমি তোমাদের সঙ্গে থাকব না। ওরা কথা দিয়েছে, বাংলাদেশকে হারাবে’—স্থানীয় একটি হোটেলের লবিতে সাংবাদিকবেষ্টিত পাকিস্তান কোচের মুখে প্রতিজ্ঞার সুর।
কিন্তু এই প্রতিজ্ঞা কি পূরণ হতে দেবে বাংলাদেশ? ২০০৯ সালে ঢাকায় সাফ ফুটবলে দুই দেশের সর্বশেষ সাক্ষাৎটা ছিল ০-০। এর আগে ওদের মাটিতে ২০০৫ সাফ ফুটবলে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ। একটা সময় পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশকেই ফেবারিট ধরা হতো। কিন্তু সেই দিন আর নেই।
ঘরোয়া ফুটবল-কাঠামোয় বাংলাদেশ এগিয়ে, র‌্যাঙ্কিংয়েও ওপরে। কিন্তু এখন পাকিস্তান দল বাংলাদেশের কাছে সমীহ পাচ্ছে ওদের ‘বিদেশি’দের কারণে। ইউরোপে খেলা পাকিস্তানি বংশোদ্ভূতদের ভিড় এখন দলটিতে। গত সাফে ছিলেন ছয়জন ‘বিদেশি’। এবার চারজন—ফরোয়ার্ড আদনান ফারুক, ডিফেন্ডার আতিক বশির, জিসান রহমান ও মিডফিল্ডার আহমেদ আকবর খান। প্রথম তিনজন ইংল্যান্ডে, শেষের জন অস্ট্রেলিয়ায় খেলছেন। দলটির বড় তারকা জিসান এখন খেলছেন থাইল্যান্ডের মং সং দলে।
এই ‘বিদেশিরা’ই পাকিস্তানের মূল ভরসা। লুৎফি সেটিই জানাচ্ছেন, ‘জিসান, আদনানদের নিয়ে আমাদের দল বেশ শক্তিশালী। তাদের কাছ থেকে আমরা কমিটমেন্ট চাই।’ আদনানের কণ্ঠে দায়বদ্ধতার অনুরণন, ‘আমাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া আছে। বাংলাদেশকে হারানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।’
প্রতিপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ কেমন? লুৎফি অবশ্য শ্রদ্ধাই জানালেন, ‘বাংলাদেশকে আমি সম্মান করি। তারা ভালো দল।’ প্রসঙ্গক্রমে টেনে আনলেন দুই দলের ক্রিকেট, ‘বাংলাদেশের ফুটবলকে হত্যা করছে ক্রিকেট। আমাদের দেশেও তাই...।’
লাহোরে দুই দেশের ফিরতি ম্যাচ ৩ জুলাই। বাংলাদেশ দলের পাকিস্তান সফর কতটা নিরাপদ? পাকিস্তান কোচের মুখে একটু যেন বিরক্তি, ‘নিরাপত্তা নিয়ে কেন জিজ্ঞেস করছেন? আপনারা তো আর আমেরিকান না, বাংলাদেশিদের জন্য আমাদের দেশে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই।’
পাকিস্তান কতটা নিরাপদ বোঝাতে দিলেন আরেকটা উদাহরণ, ‘সম্প্রতি অলিম্পিক বাছাই ফুটবলে মালয়েশিয়া খেলে গেছে লাহোরে। কাজেই বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও হবে না (মালয়েশিয়ার সঙ্গে লাহোরে ০-০ ড্র করেছে পাকিস্তান। মালয়েশিয়ায় গিয়ে হেরেছে ২-০ গোলে)।
অধিনায়ক বিপ্লব: আমিনুল হক অবসর নেওয়ায় বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য। কাল রাতে বিকেএসপিতে টিম মিটিং শেষে বিপ্লবের নাম ঘোষণা করা হয়। আমিনুলের ছায়ায় ঢাকা পড়ে থাকা বিপ্লবের জন্য এটা বড় প্রাপ্তি।
ক্যাম্পে থাকা ২৪ জনের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডেনিস তরুণ জামাল ভূঁইয়া বাদ। বাকি ২৩ জনই আছেন স্কোয়াডে।
আগামীকাল সন্ধ্যা ৬টায় বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ম্যাচ। বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচের টিকিটের দাম ৩০ টাকা (গ্যালারি) ও ৫০ টাকা (ভিআইপি)।

ইনজুরিতে নাদাল

দারুণ এক লড়াইয়ে হুয়ান মার্টিন ডেল পোর্তোকে হারিয়ে উইম্বলডন চ্যাম্পিয়নের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেছেন রাফায়েল নাদাল। কিন্তু পোর্তোর বিপক্ষে লড়াইয়ের একপর্যায়ে পায়ে আঘাত পাওয়ায় একধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গিয়েছেন তিনি।
ম্যাচের উদ্বোধনী সেটের একেবারে শেষ পর্যায়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পান নাদাল। ১০ মিনিট ধরে শুশ্রূষাও করতে হয়েছে তাঁকে। আঘাত পেয়ে নাদাল নিজেই জানিয়েছেন, ‘ভবিতব্যের ওপর তাঁর কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।’ কেমন যেন হতাশা মাখা মন্তব্য।
‘আমি জানি না, ইনজুরিটা কী ধরনের। এ মুহূর্তে এমআরআই করার কথা ভাবছি। ওটার রিপোর্ট হাতে পেলে বুঝব, আসলে কী হয়েছে।’ চিন্তিত নাদাল।
তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাপারটি নিয়ে আমি অবশ্যই উদ্বিগ্ন। কাল (পড়ুন আজ মঙ্গলবার) পায়ে স্ক্যান করাতে হবে, তারপর দেখি ইনজুরির মাত্রাটা কেমন আর আমি বুধবারের মধ্যে সেরে উঠতে পারব কি না।’
২০০৯ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেন চ্যাম্পিয়ন হুয়ান মার্টিন দেল পোর্তোকে হারাতে কিন্তু যথেষ্টই বেগ পেতে হয়েছে নাদালকে। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচে নাদাল দুটো টাইব্রেকার বাধা পেরিয়েছেন অবশ্য নিজের খেলোয়াড়ি ক্যারিশমা দিয়েই। শেষ পর্যন্ত নাদালের জয়টা এসেছে ৭-৬ (৮/৬) ৩-৬ ৭-৬ (৭/৪) ৬-৪-এ।

স্কুল হ্যান্ডবলে সেরা নারিন্দা-স্কলাস্টিকা

ভেতরে চলছে উৎসব। পল্টন হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের রেলিং ধরে পথচারীরা বোঝার চেষ্টা করছে উৎসবের মাহাত্ম্য। ফুটপাতের খুচরা বিক্রেতারাও দাঁড়িয়ে সেই সারিতে। পোলার আইসক্রিম স্কুল হ্যান্ডবলের ফাইনালটিকে কাল আক্ষরিক অর্থেই উৎসবের দিন বানিয়ে ফেলেছিল রাজধানীর খুদে খেলোয়াড়েরা। গ্যালারিতে চলল দ্রিম দ্রিম ঢোলের বাড়ি, সঙ্গে যার যার দলের সমর্থনে কান ফাটানো চিৎকার।
ছেলেদের বিভাগে শেষ হাসি হাসল নারিন্দা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়, মেয়েদের বিভাগে স্কলাস্টিকা। কাল ছেলেদের ফাইনালে ১২-৮ গোলে নারিন্দা হারিয়েছে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলকে। মেয়েদের ফাইনালে সানিডেলকে ৪-৩ গোলে হারিয়েছে স্কলাস্টিকা। নারিন্দা পঞ্চমবারের মতো জিতল শিরোপা, চতুর্থবারের মতো স্কলাস্টিকা।
পরীক্ষার মধ্যেও সময় বের করে নিয়ে অনুশীলন সেরেছেন স্কলাস্টিকার মাঈরা হায়দার ও আনুশা আলমগীর। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর তাদের আনন্দটা একটু বেশিই। নবম শ্রেণীর ছাত্রী আনুশা জানাল, ‘পরীক্ষা আর পড়াশোনার এত চাপ থাকে, তার পরও একটা দিন অনুশীলনে ফাঁকি দিইনি।’ বালিকা বিভাগে সেরা হয়েছে স্কলাস্টিকার সামাহা, বালক বিভাগে নারিন্দার সানভির। খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন পৃষ্ঠপোষক পোলার আইসক্রিমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজিমউদ্দিন আহমেদ।

উইলিয়াম বোনেরা ফিরবেনই!

এবারের উইম্বলডনের সবচেয়ে বড় অঘটনটা ঘটে গেল কাল অল ইংল্যান্ড ক্লাবের সবুজ প্রাঙ্গণে। শিরোপার লড়াই থেকে বিদায় নিয়েছেন দুই উইলিয়াম বোন—ভেনাস ও সেরেনা। ২০০০ সাল থেকে উইম্বলডনের আসরে মেয়েদের নয়টি শিরোপা যারা এক বাড়িতে নিয়ে গেছেন, সেই দুই বোনের বিদায় জন্ম দিয়েছে নানা ধরনের জল্পনার। তবে কি বিদায় জানাতে হচ্ছে মেয়েদের টেনিসের একটি অধ্যায়। দুই বোন অবশ্য এ জল্পনা একেবারেই মেনে নিতে রাজি নন। বরং তাঁরা এসব কথার পিঠে চ্যালেঞ্জটা জানিয়ে দিয়েই ইংল্যান্ড ছাড়ছেন। বলেছেন, এবারের উইম্বলডনটা তাঁদের জন্য সুখকর না হলেও খুব তাড়াতাড়িই প্রতিপক্ষকে ‘বিপদে’ ফেলতে ফিরে আসবেন তাঁরা।
এবারের উইম্বলডনে দুই উইলিয়াম শিরোপা জিততে এসেছিলেন বটে, কিন্তু এ জন্য তাঁদের প্রস্তুতিটা কিন্তু মোটেও যুত্সই ছিল না। ইনজুরি ও অসুস্থতা উইলিয়াম বোনদের গত এক বছরে পিছিয়ে দিয়েছিল অনেকটাই। চলমান টেনিস দুনিয়ায় র্যাঙ্কিংটাও হারিয়ে ফেলেছিলেন তাঁরা। গতবার উইম্বলডন জেতার পর এক বছর কোনো ধরনের টেনিসে অংশ নেননি সেরেনা। ভেনাসও ইনজুরির কারণে অনিয়মিতই ছিলেন কোর্টে। এবার শুরুটা কিন্তু একেবারে মন্দ ছিল না দুই বোনের। তার পরও কাল তাঁরা হেরে গেলেন বারতোলি ও পিরঙ্কোভার কাছে। ভেনাস এ নিয়ে টানা দুবার হারলেন বুলগেরীয় টেনিস তারকা পিরঙ্কোভার কাছে।
কাল দিনটা উইলিয়াম পরিবারের জন্য দুঃখজনক ও হতাশার একটি দিন ছিল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। জেতার অভ্যাসটা যাঁদের বরাবরের, তাঁদের কাছে পরাজয় সত্যিই হূদয় ভেঙে দেওয়ার মতোই একটা ব্যাপার। তার পরও মাথা নিচু করতে নারাজ উইলিয়াম বোনেরা। বলেছেন, ‘এটাই তো সবকিছুর শেষ নয়। উইম্বলডনের পরাজয় কোনো কিছুরই সমাপ্তি নির্দেশ করে না। বরং এটি আমাদের নতুন আগমনের বার্তা-ধ্বনি হয়েই থাকুক।’ সেরেনার কণ্ঠে স্পষ্টই প্রতিজ্ঞার সুর।
সেরেনা আও বলেন, ‘এরপর আমি আমার টেনিসকে আরও উন্নত করার চেষ্টা চালিয়ে যাব। ভুলগুলো শুধরে নতুনভাবে নিজেকে প্রমাণের চেষ্টায় থাকব। আমার প্রতিদ্বন্দ্বীরা যারা আমায় চেনে, তারা জানেন, ব্যাপারটি তাদের জন্য কতটা ভয়াবহ।’ সবাইকে হুমকিই দিয়ে রাখলেন সেরেনা।
সেরেনার এ পরাজয় ও গত এক বছরের অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতি তাঁকে নিয়ে এসেছে র্যাঙ্কিংয়ের অনেকটাই নিচে। ব্যাপারটি এখন এমন দাঁড়িয়েছে যে আগামী ইউএস ওপেনে খেলাটাই অনিশ্চয়তার কালো মেঘে ঢাকা পড়ে গেছে। এখন এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সত্যিই সেরেনার প্রয়োজন একটি ‘ওয়াইল্ড কার্ড’। এই ওয়াইল্ড কার্ড হতে পারে শক্ত কোর্টের মৌসুম শুরু হওয়ার আগে কিছু খুচরো প্রতিযোগিতা খেলে র্যাঙ্কিং পয়েন্ট অর্জন।
সেরেনার পাশাপাশি ভেনাস উইলিয়ামসও জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই সবকিছুর শেষ নয়। তিনিও ফিরবেন এবং বেশ ভালোভাবেই।
ভেনাস কিছুটা অজুহাতের সুরেই বলেছেন, ‘ইনজুরি থেকে সেরে ওঠার পর খুব অল্পদিনের প্রস্তুতি নিয়ে আমি উইম্বলডনে খেলতে এসেছি। এখানে আমি যা খেলেছি, তার চেয়ে অনেক ভালো টেনিস খেলার সামর্থ্য আমার রয়েছে।’

ভালোর পসরা

ভালো চাই, ভালো
ভালো নেবেন গো ভালো?
আরও ভালো...
আরও ভালোর পসরা নিয়ে কলম ধরেছেন অনেকে। যতই কাজ করেন। তাঁদের কিছুই ভালো লাগে না। তাঁদের বক্তব্য হলো, ‘এই সরকার (আওয়ামী লীগ) কিছুই করছে না, মানুষের অনেক আশা ছিল, কিন্তু তা পূরণ হচ্ছে না। মানুষ হতাশ হয়ে যাচ্ছে, দেশ একদম ভালো চলছে না। দেশের অবস্থা খুবই খারাপ।’
লেখালেখি, মধ্যরাতের টেলিভিশনে টক শো, গোল টেবিল, লম্বা টেবিল, চৌকো টেবিল, সেমিনার—কোথায় নেই তাঁরা? তাঁদের এসব কথায় সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা প্রভাবও পড়ছে। বিভ্রান্ত হচ্ছে, অনেক সময় নিজের অজান্তে এই ডায়ালগ বলে দিচ্ছে। যাঁরা এটা করছেন, তাঁদের এই ‘বলার’ কথার ফুলঝুরি কি সব সময় অব্যাহত থাকে?
সব সরকারের আমলে? না না, তা শোনা যায় না। যেমন ধরুন, সামরিক সরকারের সময় তাঁদের কলমের কালি বা রিফিল থাকে না। কলম চলে না। মুখে কথা থাকে না। তখন বাঘের গর্জন বিড়ালের মিউ মিউয়ে পরিণত হয়। এখন যাঁদের কথায় টেলিভিশনের পর্দা ফেটে মনে হচ্ছে বেরিয়ে পড়বেন লাফ দিয়ে এক্কেবারে সরকারের ঘাড়ের ওপর। ‘সর্বনাশ’! পারলে এই মুহূর্তে সরকারের ঘাড়টাই ভেঙে দেবেন আরও ভালো কিছুর আশায়। এঁরাই আবার কখনো কখনো চুপ থাকেন।
তাঁদের ডায়ালগ বা বাক্যবিন্যাস অথবা উপদেশ শোনা যায়নি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর বা ৩ নভেম্বর জেলহত্যা, একের পর এক মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা, সিপাই-জনতার বিপ্লবের নামে একটার পর একটা ক্যু, তাণ্ডব ও হত্যাকাণ্ডে। অন্যায়ভাবে ফাঁসি বা ফায়ারিং স্কোয়াডে সামরিক অফিসার ও সেনাদের হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্যাতন, রিমান্ড ও হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সময় তাঁরা চুপ থেকেছেন। তাঁদের বিবেক জাগ্রত হয়নি ভালো না মন্দ, তা দেখার জন্য। বরং ঘাপটি মেরে নিজেকে বাঁচিয়ে রেখেছেন বাতাস কোন দিকে যায়, সেটা বুঝে নিয়ে সময়ের সুযোগে উদয় হওয়ার জন্য।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ পর্যন্ত সময়ে তাদের সোচ্চার হওয়ার একটা নির্দিষ্ট ক্ষণ ছিল, সেটা হলো মিলিটারি ডিক্টেটরদের রাজনীতি ও রাজনৈতিক নেতা কেনাবেচার সময়। যাঁরা নিজেদের উচ্চ দরে বিক্রি করতে পারলেন তাঁদের একধরনের সুর। আর যাঁরা কপালে কিছু জোটাতে পারলেন না তাঁদের সুর হলো দৃষ্টি আকর্ষণীয়-অর্থাৎ ‘আমরাও আছি, ক্রয় করুন, সেল-এ পাবেন।’ অর্থাৎ (‘use me’.)|
এরপর যাঁরা অবশিষ্ট থেকে গেলেন, তাঁরা তখন বাতাস ঘোরার সঙ্গে সঙ্গে সুর পাল্টিয়ে বিপ্লবী হয়ে গেলেন। এটা আমি ১৯৫৮ সালের জেনারেল আইয়ুব খানের মার্শাল ল জারির পর দেখেছি, আমাদের কত রাজনৈতিক ‘চাচার’ দল। যাঁরা আব্বা মন্ত্রী থাকা অবস্থায় নিজের বাড়িঘর সংসার ভুলে রাতদিন আমাদের বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়েছেন আর প্রশংসার ফুলঝুরি উড়িয়েছেন, তাঁরাই কেমন ডিগবাজি খেয়েছেন। সুর পাল্টিয়েছেন তাও দেখেছি। ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭৫, ১৯৮২, ১৯৯১ সালসহ বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপ দেখার সৌভাগ্য বা দুর্ভাগ্য আমাদের হয়েছে।
১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর যারা ভালো থেকে আরও ভালো, আরও ভালোও হয় না কেন বলে লেখালেখি করেছেন, মুখের বুলি আর কথার ফুলঝুরি ছড়িয়েছেন, সমালোচনায় জর্জরিত করেছেন, তাঁরাই সুর পাল্টিয়ে ফেলেছেন। যেমন একটা উদাহরণ দিচ্ছি:
১৯৯৬ সালে ৪০ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য ঘাটতি ছিল। খাদ্য উৎপাদন এক কোটি ৯০ লাখ মেট্রিক টন ছিল। ২০০০ সালের মধ্যে ঘাটতি মিটিয়ে চাল উৎপাদন দুই কোটি ৬৯ লাখ মেট্রিক টনে বৃদ্ধি করলাম। কী শুনেছি? ‘না, আরও একটু ভালো হতে পারত।’
পাঁচ বছরে আওয়ামী লীগ সরকার ৭৯ লাখ মেট্রিক টনের বেশি অতিরিক্ত খাদ্য উৎপাদন বাড়াল, তার পরও শুনে যেতে হলো, আরও একটু ভালো হতে পারত। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত চালের উৎপাদন কতটুকু বেড়েছিল? বিএনপি সরকারের পাঁচ বছরের মধ্যে চার বছর কোনো উৎপাদন বাড়েনি, বরং হ্রাস পেয়েছিল। অর্থাৎ উৎপাদন ছিল নেতিবাচক।
আর একটি উদাহরণ বিদ্যুতের ব্যাপারে। ১৯৯৬ সালে বিদ্যুৎ কম বেশি ১৬০০ মেগাওয়াট উৎপাদন হতো। চরম বিদ্যুৎ ঘাটতি। সঞ্চালন লাইনগুলো জরাজীর্ণ ছিল। দ্রুত সরকারি ও প্রথমবারের মতো করে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন বৃদ্ধি করলাম। সঞ্চালন লাইন উন্নত করার কাজ শুরু করলাম। চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করার জন্য নীতিমালা গ্রহণ ও প্রকল্প প্রণয়ন করে গেলাম। ২০০১ সালের জুলাই মাসে আওয়ামী লীগ সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে চার হাজার ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন বৃদ্ধি করলাম, তখন শুনেছি না ‘আরও ভালো করা যেত।’
কোনো তৃতীয় পক্ষের সাহায্য ছাড়া ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে গঙ্গা পানি চুক্তি করলাম। দীর্ঘদিনের একটা সমস্যার সমাধান হলো। দুই দশক ধরে চলা অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম সমস্যা সমাধান করে শান্তি চুক্তি করলাম। অথচ একশ্রেণীর কাছ থেকে কখনো এ বিষয়ে ভালো কথা শুনিনি।
২০০১ সালের পয়লা অক্টোবর নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বে চারদলীয় জোট ক্ষমতায় এল। কতটুকু বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করেছিল পাঁচ বছরে? যেসব প্রকল্পের কাজ শুরু করে গিয়েছিলাম, তার কয়েকটা শেষ হয়েছিল তাতে উৎপাদন যা বেড়েছিল তাও ধরে রাখতে পারেনি।
২০০৭ থেকে ২০০৮ পর্যন্ত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতায় ছিল, তারাও উৎপাদন বাড়াতে পারেনি। আমরা এসে পেলাম কত? তিন হাজার ১০০ মেগাওয়াট, যা রেখে গিয়েছিলাম তার থেকেও ১২০০ মেগাওয়াট কম। পাঁচ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা যে কিছু করতে পারেনি, সে সম্পর্কে এই ‘ভালোর আশাবাদীরা’ কী ভূমিকা পালন করেছিলেন? আরও ভালো করার জন্য ১/১১-এর পর যারা উচ্চ দরের ডিগ্রিসম্পন্ন ও ওজনদার ব্যক্তিবর্গ— তারাই বা কি উন্নতি করতে পেরেছিলেন?
সে কথায় পরে আসব, কারণ তারা তখন এ কথা বলেনি যে, আওয়ামী লীগ সরকার ভালো করেছিল, কাজেই নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসুক। তারা তখন আরও ভালো মানুষের সন্ধানে ব্যস্ত ছিল, সৎ মানুষের সন্ধানে সার্চ লাইট নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল গণতন্ত্রের সৎকার, অর্থাৎ কবর দেওয়া।
এই ধরনের আরও অনেক দৃষ্টান্ত আমরা দিতে পারব। সব থেকে মজার কথা হলো, এই আরও ভালোর সন্ধানকারীদের নিশ্চুপ থাকতে দেখেছি ২০০১ সালের নির্বাচনের উদ্দেশ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই। প্রশাসনের ১৩ জন সচিবের চাকরি থেকে বের করে দেওয়া নিয়ে যে শুরু, তা সামরিক-বেসামরিক প্রতিষ্ঠানকেও কীভাবে প্রভাবিত করেছে ও ভীতসন্ত্রস্ত করেছিল, তা তখনকার অবস্থা স্মরণ করলেই জানা যাবে। শপথ অনুষ্ঠান হলো বঙ্গভবনে, সচিবেরা উপস্থিত ছিলেন। ফিরে এসে আর নিজের অফিসে ঢুকতে পারলেন না, কারণ চাকরি নেই। রেডিও-টেলিভিশনের মাধ্যমেই ১৩ সচিবসহ অনেক অফিসারের চাকরি খেয়ে ফেলেছেন। শপথ নিয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা তাঁর পরিষদ গঠন করেননি। ১০ জন উপদেষ্টা নিয়োগ হয়নি তখনো, অফিসেও বসেননি, কারণ শপথ অনুষ্ঠান অফিস সময়সূচির পরে হয়েছিল। তখনই কীভাবে চাকরি থেকে অফিসারদের বরখাস্ত করে? এমনকি নিজের জিনিসপত্রগুলো গুছিয়েও আনার জন্য যে অফিসে যাবেন, তারও সুযোগ দেওয়া হয়নি।
গণভবনের টেলিফোন লাইনও কেটে দেওয়া হয়। আরও ভালোর ভক্তরা তখন এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ না করে বরং বাহবা দিয়েছিল।
প্রথম দিনের এই আচরণের মধ্য দিয়েই কিন্তু নির্বাচনের ফলাফল নির্ধারিত হয়েছিল। অথচ বাংলাদেশের ইতিহাসে যতবার ক্ষমতা পরিবর্তন হয়েছে ততবারই রক্তপাত ও সংঘাতের মধ্য দিয়ে হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে, শান্তিপূর্ণভাবে কখনো হয়নি। ১৯৯৬ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকার প্রথম পাঁচ বছর মেয়াদ শেষ করে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিল। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ ও প্রধান উপদেষ্টা লতিফুর রহমান যে পক্ষপাতদুষ্ট ও অসহিষ্ণু আচরণ দেখিয়েছিলেন, তাতে জাতি বিভ্রান্ত হয়েছিল। আওয়ামী লীগের যে গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল নিষ্ঠা ও বিশ্বাস, সে কারণেই গণতন্ত্রের স্বার্থে তখন আমরা নির্বাচন বয়কট করিনি। নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলাম। এত প্রতিকূল অবস্থার মধ্যেও ভোট পেয়েছিলাম সংখ্যার দিক থেকে বেশি কিন্তু সিট সংখ্যা ছিল কম।
আরও একটি কথা, সাহাবুদ্দীন ও লতিফুর রহমান দুজনই প্রধান বিচারপতি ছিলেন। আইনের ব্যবসাও করেছেন জীবিকার জন্য, আবার জাস্টিস হয়ে আইনের রক্ষাও করেছিলেন। কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর এখনো পেলাম না, সেটা হলো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্যদের অর্থাৎ জীবিত দুই কন্যার নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য একটা আইন পার্লামেন্টে পাস করেছিল, সেই আইন বলবৎ থাকা অবস্থায় এবং সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের ফোনের লাইন ও বিদ্যুতের লাইন কীভাবে কেটে দেয়? পানির লাইন কেটেছিল কি না বুঝতে পারিনি, কারণ পানির ট্যাংক তো ভরা থাকত, শেষ হতে সময় লাগে। একজন সাধারণ সরকারি কর্মচারীও সরকারি বাড়ি ছাড়ার জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় পায়, কিন্তু আমাকে সে সময়টুকুও দেওয়া হয়নি কেন? বিবেকবান বা আরও ভালোর দল কে কে তখন এ অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছিলেন?
আমার নামে ছড়ানো হলো, আমি গণভবন এক টাকা দিয়ে কিনে নিয়েছি, কিন্তু কেউ কি কোনো প্রমাণ দেখাতে পেরেছিল? পারেনি। কিন্তু মিথ্যা অপপ্রচারে ঠিকই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে চেয়েছিল। সত্যটা কিন্তু কেউ বলেনি বা কোনো ডকুমেন্টও দেখাতে পারেনি। আমি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছি, এ পর্যন্ত কোনো সরকারি প্লট নিইনি।
২০০১ থেকে ২০০৬ বিএনপির ক্ষমতার আমল—১৫ জুলাই ২০০১ সালে যেদিন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করল সেদিন থেকেই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের ওপর নেমে এল অমানবিক অত্যাচার। নির্বাচনের দিনে একদিকে বিএনপি ও জামায়াতের ক্যাডার দল, অপরদিকে সামরিক বাহিনী ও পুলিশের নির্যাতনে নেতা-কর্মীরা ঘরে ঘুমাতে পারেননি। রেহানার বাড়ি দখল করে যখন পুলিশ স্টেশন করা হলো, তখনো কারও কাছ থেকে এই অন্যায় কাজের প্রতিবাদ শোনা যায়নি। অপারেশন ক্লিন হার্ট নামে যে তাণ্ডব সেনাবাহিনী নামিয়ে করা হয়েছিল এবং মানুষ হত্যা করা হয়েছিল, তা নিশ্চয়ই মনে আছে। আওয়ামী লীগের রিসার্চ সেন্টার থেকে ১৫টা কম্পিউটার, ১০ হাজার বই, ৩০০ ফাইল, এক লাখ ফরম, নগদ টাকা নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেন্টারটা তালাবদ্ধ করে রাখা হয় পাঁচটা বছর। এটা কি গণতন্ত্রচর্চা? তাদের কাছ থেকে একটা প্রতিবাদও শুনিনি এর পরই শুরু হলো র‌্যাব গঠন ও ক্রসফায়ার। তখন তো সবাই র‌্যাবের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। কেবল আমিই স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন তুলেছিলাম ও প্রতিবাদ করেছিলাম, তখন এই বিবেকবানেরা আমার সমালোচনা করেছিল। কাজগুলো নাকি খুবই ভালো হচ্ছিল বলে মন্তব্য করেছিল। এখন অবশ্য উল্টোটা শুনি।
সাধারণ মানুষ আওয়ামী লীগকেই চায়, কিন্তু তাদের ভোট দেওয়ার উপায় নেই। ভোটকেন্দ্রের ধারেকাছেও যেতে পারেনি। বিশেষ করে, হিন্দু, খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ যারা আওয়ামী লীগ বা নৌকায় ভোট দেয়, তাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন করা হয়েছিল ২০০১ সালের নির্বাচন চলাকালীন। তার পরও জনগণের ভোট আমরাই পাই কিন্তু সিট ঠিক গুনেই দেওয়া হয়। সরকার গঠন করার আগে থেকেই বিএনপি ও জামায়াতের তাণ্ডব শুরু হলো। গ্যাং রেপ করেছে, ঠিক হানাদার পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী ১৯৭১ সালে যেভাবে নির্যাতন করেছিল, ঠিক সেভাবেই নির্যাতন চলছিল। একটা সুখবর হলো পূর্ণিমা ধর্ষণ কেসের আসামিরা সাজা পেয়েছে। সাধারণত, সামাজিক লজ্জার ভয়ে কোনো পরিবার মামলা করতে চায় না। পূর্ণিমা সাহস করেছে বলেই বিচার পেয়েছে। আমার মনে হয়, এই একটা দৃষ্টান্তই যথেষ্ট। হাঁড়ি ভরা ভাত একটা টিপলেই তো বোঝা যায় সব ভাত সিদ্ধ হয়েছে কি না। ঠিক তেমনি একটা মামলার রায়ই প্রমাণ করে, কী ধরনের নির্যাতন বিএনপি ও জামায়াত দেশের মানুষের ওপর করেছিল। আমি এর বিস্তারিত বিবরণ দিতে চাই না, কারণ এত বেশি ঘটনা যে এখানে সব উল্লেখও করা যাবে না, শুধু এটুকুই বলতে চাই, তখন দেখেছিলাম অনেক বিবেকবান চুপ করে আছেন। মুখে কথাও নেই। কলমের জোরও নেই। তাদের জোর বাড়ে শুধু আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে।
ঠিক স্বাধীনতার পর যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়তে সবাই ব্যস্ত। তখনো বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দা, খাদ্য ঘাটতি, দেশে দেশে দুর্ভিক্ষ চলছে। আর বাংলাদেশে তো ‘মড়ার ওপর খাঁড়ার ঘা’ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়া। দিনরাত পরিশ্রম করে শূন্যের ওপর যাত্রা শুরু করে দেশকে গড়ে তুলতে ব্যস্ত, তখন ‘আরও ভালোর’ দলের সমালোচনা শুনেছি। কিছু নাকি হচ্ছে না। তখনো দেখেছিলাম তাদের কলম ও মুখের জোর। আর পরিণতি মার্শাল ল জারি এবং স্বাধীনতাবিরোধী যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন। স্বাধীনতার মূল চেতনা থেকে দেশকে পিছিয়ে নেওয়া। ক্ষমতা দখলের ও ক্ষমতা নিষ্কণ্টক করার লক্ষ্যে মানুষ হত্যা। ১৯৭৫ সাল থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত সামরিক বাহিনীতে ১৯ ক্যু ও পাল্টা ক্যু হয়েছিল। দেশবাসীর অকল্যাণ হয়েছে, দেশ পিছিয়েছে। স্বাধীনতার ৪০ বছর পরও সেই ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তির প্রেতাত্মারা থেমে নেই। যতবার জনগণ তাদের পরাজিত করে, ততবার আবার তারা পরগাছার মতো বেড়ে ওঠে। এবার আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর তারা যেন মরিয়া হয়ে উঠেপড়ে লেগেছে।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন প্রহসনের নির্বাচন, ১৯-২০ মে সামরিক ক্যুর অপচেষ্টা হয়। সাবেক প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে সংঘটিত সামরিক ক্যু গণতন্ত্র ধ্বংসের চেষ্টা করেছিল। নির্বাচনের পর সরকার গঠন করতেও টালবাহানা করে আবদুর রহমান বিশ্বাস। এসব কারা এবং কেন করেছিল এসব কথা আমরা কেন বিস্মৃত হই?
দেশের অবস্থা কী? খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত আছে? ২০০১ সালে যে মোটা চাল মাত্র ১০ টাকা ছিল (আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে), সেই চাল ২০০৮ সালে ৪০-৪৫ টাকা দাম হয়েছিল, তা কমিয়ে ১৮ টাকায় আনা হয়। কৃষকের খরচ পোষানো হয়। প্রতি কেজি চাল ৩২-৩৪ টাকায় ঢাকার বাজারে এবং ঢাকার বাইরে ২৬-২৭ টাকায়ও পাওয়া যায়। সরকার ৪০-৫২ টাকায় বিদেশ থেকে চাল কিনে এনে মাত্র ২৪ টাকায় খোলাবাজারে বিক্রি করছে। ফেয়ার প্রাইস কার্ড, রেশন কার্ড, ভিজিএফ, ভিজিডিসহ বিভিন্ন উপায়ে খাদ্যনিরাপত্তা দিচ্ছে। না খেয়ে কেউ কষ্ট পাচ্ছে না। ৩৬ টাকায় বিক্রি হওয়া আটা ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
কাজেই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত আছে। আওয়ামী লীগ আমলে দেশে মঙ্গা হয় না।
সামাজিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত, মানুষ নানাভাবে সাহায্য পাচ্ছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মুক্তিযোদ্ধা, প্রতিবন্ধী, স্তন্যদানকারী মা, সন্তানসম্ভবা গরিব মা, স্কুলে গমনকারী গরিব শিশুর মাসহ এ ধরনের নানাভাবে সামাজিক নিরাপত্তা সৃষ্টিকারী আর্থিক অনুদান সরকার দিয়ে যাচ্ছে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে অবদান রাখছে। গরিব মানুষের কষ্ট লাঘব হচ্ছে। ১৯৯৮ সালের বন্যার পর আওয়ামী লীগ সরকার নয় মাস দুই কোটি লোককে বিনা পয়সায় খাইয়েছে। ১৯৯৬ সাল থেকে এসবই আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা। ইতিপূর্বে আর কোনো সরকার এদিকে দৃষ্টি দেয়নি।
শিক্ষার হার, ভর্তির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে, পাসের হার বাড়ছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য ২৩ কোটি ২২ লাখ বই বিনা পয়সায় বিতরণ করা হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানে সরকার বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রায় ৭১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুই বছরেই ১৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ অতিরিক্ত উৎপাদন করা হয়েছে।
গ্যাস উৎপাদন বেড়েছে, আরও বৃদ্ধির কাজ চলছে।
আইনশৃঙ্খলা অবস্থার উন্নতি হয়েছে, তার প্রমাণ আইসিসি ওয়ার্ল্ড কাপ, হজ, ঈদ, পূজা, বড়দিন, পয়লা বৈশাখ, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, মাতৃভাষা দিবস শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে। সবার বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয়েছে একদিকে, আর অপরদিকে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছি। মূল্যস্ফীতি ১১ ভাগ থেকে কমিয়ে ছয় ভাগে আনা হয়েছিল, এখন কিছুটা বেড়ে আট ভাগ হয়েছে। শ্রমিক ও দিনমজুরদের আয় বেড়েছে। সরকার সদা সচেষ্ট আছে এসব বিষয়ে। ১৫০০ টাকা যারা শ্রমের মূল্য পেত, তারা ৩০০০ টাকা পায়। ধান কাটার সময় ৩০০-৪০০ টাকা দিনে মজুরি পেয়েছে। রাস্তাঘাটের উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
অনেক কাজ, যা এই সরকার আসার আগে সাত বছরে হয়নি, তার থেকেও বেশি কাজ সরকার দুই বছরে করেছে এবং করে যাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার কাজও সুন্দরভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। ৪,৫০১টি ইউনিয়নে তথ্যকেন্দ্র খোলা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, টেন্ডার সর্বক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ ফিরে এসেছে। কোনো ঘটনা ঘটলে অপরাধী যে-ই হোক, সরকার সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে।
বিডিআর (বিজিবি) হত্যা ও বিদ্রোহের বিচার চলছে। জঙ্গিবাদ দমনে সরকার তৎপর ও সফল। যুদ্ধাপরাধীদেরও বিচার চলছে। সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এ পর্যন্ত কেউ করতে পারেনি। বরং সরকার দুর্নীতি ও দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বদ্ধপরিকর। এবার বোরো ফসল বাম্পার হওয়ায় কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে। ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ভর্তুকির টাকা সরাসরি পাচ্ছে। ডিজেলে ২০ শতাংশ সাবসিডি পাচ্ছে। হাওর এলাকায় ও এলাকাবিশেষে বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংক রিজার্ভ সর্বোচ্চ। রেমিট্যান্স বেড়েছে। দুই বছরে নয় লাখ মানুষ বিদেশে গেছে। ফিরে এসেছে এক লাখ, যা স্বাভাবিক।
সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থা বিশ্বমন্দা সত্ত্বেও যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি ছয় ভাগে ধরে রাখা হয়েছে, এবার বৃদ্ধি পেয়ে ৬ দশমিক ৭ ভাগে উন্নীত হয়েছে। প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকার দক্ষতার সঙ্গে দেশ পরিচালনা করছে।
চাকরিজীবীরা সন্তুষ্ট মনে চাকরি করে যাচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা এত শান্তিতে কোনো দিন ব্যবসা করতে পারেননি। একটু অতীতের দিকে তাকালে স্মরণ করতে পারবেন। একদিকে ছিল হাওয়া ভবনের কমিশন ও ভাগ দেওয়া, অপরদিকে তত্ত্বাবধায়কের সময় ছিল আতঙ্ক, মামলা, দেশছাড়া। অন্তত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সে আতঙ্কের পরিবেশ নেই। মুক্ত পরিবেশে শান্তিপূর্ণভাবে নির্বিঘ্নে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন। রপ্তানি-বাণিজ্যে যা টার্গেট ছিল তার থেকে বেশি রপ্তানি হচ্ছে। বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাচ্ছে বরং, জমির অভাবে জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। কাজেই সার্বিক দিক থেকে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মনে স্বস্তি আছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন, উপনির্বাচন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে।
এসব প্রশ্নের উত্তরের পরও আরও ভালোর দল বলবে, তার পরও দেশের অবস্থা ভালো নেই। এর কারণ কী? কারণ একটাই, অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকার থাকলে তাদের দাম থাকে। এই শ্রেণীটা জীবনে জনগণের মুখোমুখি হতে পারে না। ভোটে জিততে পারে না। কিন্তু ক্ষমতার লোভ ছাড়তে পারে না। তাই মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু অগণতান্ত্রিক বা অসাংবিধানিক সরকারের যে খোশামোদি, তোষামোদি ও চাটুকারের দলও প্রয়োজন হয়—এরা সেই দল। বিশেষ করে, মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী ও চেতনায় বিশ্বাসীরা ক্ষমতায় থাকলে দেশের মানুষের উপকার হয়। আর দেশে মানুষ যদি দরিদ্র না থাকে, তাহলে এই শ্রেণীর বাণিজ্য শেষ হয়ে যাবে, কারণ দরিদ্র্য মানুষগুলোই তো তাদের বড় পণ্য। যাদের নিয়ে তারা বাণিজ্য করে নিজেদের ভাগ্য গড়ে।
আমি বেঁচে থাকতে আমার দেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে আর খেলতে দেব না।
২২.৫.২০১১
টরন্টো, কানাডা
শেখ হাসিনা: প্রধানমন্ত্রী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

Wednesday, June 29, 2011

শুধু ইউরো নয়, গণতন্ত্রও হুমকির মুখে by অমর্ত্য সেন

গণতন্ত্রের অনুশীলনে দুনিয়াকে নেতৃত্ব দিয়েছে ইউরোপ। সেখানে আজ আর্থিক অগ্রাধিকারের পেছনের দরজা দিয়ে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা দুর্দশায় নিপতিত। অথচ, এ বিষয়টি যতটা মনোযোগ দাবি করে, ততটা পাচ্ছে না। এটা উদ্বেগজনক। আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রেটিং এজেন্সিগুলোর ভূমিকা বিপুলভাবে বেড়ে যাওয়ার ফলে ইউরোপের গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা কীভাবে উত্তরোত্তর দুর্বল হতে পারল—এসব গুরুতর বিষয় গুরুত্বের দাবি রাখে। ইউরোপের রাজনীতির জমিনে বহু জায়গায় এসব আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রেটিং এজেন্সি এখন অবাধে প্রভুত্ব ফলিয়ে বেড়ায়।
দুটি স্বতন্ত্র বিষয়কে আলাদা করে বিবেচনা জরুরি। প্রথমটা, গণতান্ত্রিক অগ্রাধিকারগুলোর অবস্থানবিষয়ক। ওয়াল্টার ব্যাজট ও জন স্টুয়ার্ট মিল যাকে দেখেছেন ‘আলাপ-আলোচনার পথে শাসন পরিচালনার’ প্রয়োজনীয়তা হিসেবে, সেটাও এর আওতাভুক্ত। ধরুন, আমরা মেনে নিলাম যে কী করতে হবে সে ব্যাপারে ক্ষমতাধর আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিদের বাস্তবসম্মত বোঝাপড়া আছে। তাহলে তা বরং গণতান্ত্রিক সংলাপে তাদের কথা শোনার দাবি জোরালো করবে। কিন্তু তাদের কথা শোনা আর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও রেটিং এজেন্সিগুলোকে কর্তৃত্ব করতে দেওয়া তো এক জিনিস নয়।
দ্বিতীয়ত, সঙ্গিন রাষ্ট্রগুলোর কাছ থেকে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিনায়কেরা যে আত্মত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছেন, তা সেসব দেশের চূড়ান্ত টেকসই এনে দেবে এবং আর্থিক একীভবনের সংস্কারশূন্য ছাঁচের ভেতরে ইউরো অব্যাহত থাকা এবং ইউরো ক্লাবের অপরিবর্তিত সদস্যপদ নিশ্চিত করবে—তেমনটা ঘটা বেশ কঠিন। রেটিং এজেন্সিগুলো যেভাবে আর্থিক সমস্যার কারণ নির্ণয় করে, তাতে যথার্থ সত্য উঠে আসে না। মনে রাখা ভালো যে ২০০৮ সালের অর্থনৈতিক সংকটের আগে আগে রেটিং এজেন্সিগুলো কর্তৃক আর্থিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রত্যয়নের রেকর্ড এতটাই জঘন্য ছিল যে মার্কিন কংগ্রেসে এদের বিচার করা উচিত কি না, তা নিয়ে আন্তরিক বিতর্ক হয়েছিল।
ইউরোপের বড় অংশই এখন সরকারের ব্যয় অনেক কমিয়ে দ্রুত ঘাটতি কমানোর চেষ্টারত। এ অবস্থায় যে নীতি নেওয়া হচ্ছে তার সম্ভাব্য প্রভাব সরকারের রাজস্ব সৃষ্টির ওপর কী হবে, তা বাস্তবভিত্তিকভাবে যাচাই-বাছাই করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘আত্মত্যাগ’-এর মতো উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধের নিশ্চয় মাদকতা আছে। এটাই ‘যথার্থ’ কাঁচুলির দর্শন: ‘এটা পরে ম্যাডামের যদি একটুও আরাম লাগে, তাহলে ম্যাডামের নিশ্চয়ই এর থেকে ছোট সাইজেরটা দরকার।’ অবশ্য, আর্থিক যথার্থতার দাবিকে যদি তাৎক্ষণিক ব্যয় হ্রাসের সঙ্গে যান্ত্রিকভাবে সম্পর্কিত করা হয়, তাহলে এর ফল হতে পারে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সোনার ডিম পাড়া হাঁসটাকেই মেরে ফেলা।
এই আশঙ্কা ব্রিটেন থেকে গ্রিস পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দেশের ক্ষেত্রে খাটে। গ্রিস বা পর্তুগালের মতো অপেক্ষাকৃত সঙ্গিন অবস্থায় পড়া দেশের ওপর কী ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া যায়, তার পক্ষে কতগুলো স্পষ্ট আপাতগ্রাহ্য অজুহাতের জোগান দেয় ঘাটতি কমানোর ক্ষেত্রে ‘রক্ত, ঘাম ও অশ্রু’ কৌশলের সর্বজনীনতা। এর ফলে, আর্থিক বাজারে সঞ্চারিত ভীতি মোকাবিলার মতো ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক স্বর ইউরোপের ভেতর দানা বাঁধা কঠিন হয়ে পড়ে।
বৃহত্তর রাজনৈতিক অন্তর্দৃষ্টি যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন স্পষ্টতর অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনা। সরকারের রাজস্ব সৃষ্টিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গুরুত্বকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা গভীরভাবে বিচার্য বিষয় হওয়া উচিত। প্রবৃদ্ধি ও সরকারের রাজস্বের মধ্যে দৃঢ় সূত্র থাকার বিষয়টি চীন ও ভারত থেকে শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল পর্যন্ত বিশ্বের বহু দেশে দেখা গেছে।
এ ক্ষেত্রেও ইতিহাস থেকে শেখার আছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-উত্তরকালে বহু দেশে সরকারের বিরাট ঋণের বোঝা বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই বোঝা শিগগিরই কমে যায় দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ফলে। অনুরূপভাবে, প্রেসিডেন্ট ক্লিনটন ক্ষমতায় এসেই ১৯৯২ সালে বিশাল ঘাটতির মুখে পড়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মেয়াদেই সেই সমস্যা অনেকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছিলেন। দ্রুতগতির অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এ কাজে বিরাট সহযোগিতা করেছে।
গণতন্ত্র হুমকিতে পড়ার আশঙ্কা ব্রিটেনের ক্ষেত্রে খাটে না। কেননা, এসব নীতি গ্রহণকারী সরকার গণতান্ত্রিক নির্বাচনে জিতে শক্তিশালী হয়ে এসেছে। নির্বাচনের সময় বলা হয়নি অথচ এখন বলা হচ্ছে এমন কোনো নীতি গ্রহণ করতে গেলে সেটা নিয়ে কিছু তর্ক-বিতর্ক হয়, সেই স্বাধীনতা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় নির্বাচনে বিজয়ীরা পেয়েই থাকে। তাতে আরও আলোচনার প্রয়োজনীয়তা কমে না, এমনকি ব্রিটেনের মতো জায়গাতেও। তবে, ব্রিটেনের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণপ্রবণ নীতি কেমন করে গ্রিসের ওপর আরও কঠোর নীতি আরোপের অজুহাত তৈরি করে, সেটাও চিহ্নিত করা দরকার।
ইউরোভুক্ত কয়েকটি দেশ এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে কেমন করে এল? অধিকতর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গীভবন ছাড়াই একটি যৌথ মুদ্রার দিকে ধাবিত হওয়ার খামখেয়াল অবশ্যই এর পেছনে কাজ করেছে—গ্রিস বা পর্তুগালের মতো দেশ অতীতে অর্থনৈতিক চুক্তি ভঙ্গ করার ঘটনা স্মরণে রাখা সত্ত্বেও। এখন গ্রিক সরকার রাজনৈতিক প্রতিরোধের মুখে। তা সত্ত্বেও সম্ভবপর সবকিছু করছে। কিন্তু গ্রিসের ওপর চাপিয়ে দেওয়া আবশ্যপালনীয় শর্তাবলি এথেন্স বেদনাক্লিষ্ট হূদয়ে মেনে নেওয়ার মধ্যেই শেষ হয়ে যায় না এসব ব্যবস্থা ও এসবের সময় নির্বাচন কতটা বিজ্ঞজনোচিত হয়েছে, তা ইউরোপের রাষ্ট্রগুলোর যাচাই করার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
ইউরোপের ঐক্যের জোরালো সমর্থক হওয়া সত্ত্বেও আমি ইউরোর বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলাম—সে কথা মনে করে এখন সান্ত্বনা খুঁজতে চাই না। ইউরোর ব্যাপারে আমার আশঙ্কা অংশত এ অঞ্চলের প্রতিটি দেশ তাদের আর্থিক নীতি ও বিনিময়মূল্য সমন্বয়ের স্বাধীনতা পরিত্যাগ করার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল। এই স্বাধীনতা অতীতে বহু দেশকে দারুণভাবে সহায়তা করেছে; আর্থিক বাজার স্থিতিশীল করার আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে গিয়ে মানুষের জীবনকে অস্থিতিশীল করে তোলার যে প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, সেটা ঠেকিয়েছে। সেই আর্থিক নীতির স্বাধীনতা পরিত্যাগ করা যেত যখন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে ইউরোপ একীভূত হয়ে উঠত (যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে যেমন একীভবন ঘটেছে)। কিন্তু ইউরো-অঞ্চলের আধাখেঁচড়া একীভবন বিপর্যয়ের পথই তৈরি করেছে। অসংলগ্ন আর্থিক একীভবনের এক সঙ্গিন কর্মসূচিকে ধারণ করতে তৈরি করা হয়েছে এক সম্মিলিত গণতান্ত্রিক ইউরোপের অপূর্ব রাজনৈতিক ধারণা।
এখন ইউরো-অঞ্চলের পুনর্বিন্যাসের সমস্যা হবে নানাবিধ। তবে কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে বুদ্ধিদীপ্ত আলোচনা হতে হবে। যে সংকীর্ণ চিন্তা অতীতে ভয়ানক ফল বয়ে এনেছে, সেই সংকীর্ণতাপ্রসূত অর্থনৈতিক ঝড়ে ইউরোপকে ভেসে যেতে দেওয়া যাবে না। রেটিং এজেন্সিগুলোর একতরফা হুকুম জারি করার অপ্রতিরুদ্ধ ক্ষমতা অনতিবিলম্বে কমানোর মাধ্যমে সেই প্রক্রিয়াটি শুরু হতে হবে। এসব এজেন্সির রেকর্ড জঘন্য হওয়ার পর এগুলোকে শৃঙ্খলার ভেতর নিয়ে আসা কঠিন। তবে সমাধানের কাজ চলার সময় (বিশেষত আন্তর্জাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়) অর্থনৈতিক আস্থার প্রশ্নে বড় পার্থক্য রচে দিতে পারে বৈধ সরকারের সুপ্রতিফলিত স্বর। ইউরোপের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের প্রান্তিকীকরণ ঠেকানো আশু কর্তব্য। ইউরোপের গণতন্ত্র ইউরোপের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সারা দুনিয়ার জন্যও।

দ্য গার্ডিয়ান থেকে নেওয়া। ইংরেজি থেকে অনুবাদ: আহসান হাবীব
অমর্ত্য সেন: নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ।

বিজিবির দোকানগুলো সমবায় বিভাগে

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ন্যায্যমূল্যের বিপণনকেন্দ্রগুলো পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগকে দিয়ে আবার চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে—এটি একটি ভালো খবর। কারণ, এই ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলো যে নিম্ন আয়ের মানুষের উপকারে লাগে, তা বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে লক্ষ করা গেছে। খোলাবাজারের তুলনায় অপেক্ষাকৃত কম দামে দ্রব্যসামগ্রী পাওয়া যেত ওই সব দোকানে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে সোমবার প্রথম আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, প্রথম পর্যায়ে রাজধানীর আটটি বিপণনকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হবে ওই মন্ত্রণালয়ের অধীন সমবায় অধিদপ্তরকে। তারপর পর্যায়ক্রমে সারা দেশের ১০০টি বিপণনকেন্দ্রের ক্ষেত্রেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এগুলো নিয়মিতভাবে পরিচালিত হবে সমবায় অধিদপ্তরের দ্বারা। এই উদ্যোগের ইতিবাচক সম্ভাবনার দিকটি হলো এই যে, সমবায় অধিদপ্তর যদি দোকানগুলোর জন্য সরাসরি উৎপাদকদের কাছ থেকে দ্রব্যসামগ্রী কেনে, তাহলে উৎপাদকেরা তাদের পণ্যের ন্যায্যমূল্য পেতে পারে। এমনিতে কৃষিপণ্যের পাইকারি বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের সংঘবদ্ধ কারসাজির কারণে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়। আর মধ্যস্বত্বভোগী পাইকারি বিক্রেতারা কম দামে পণ্য কিনে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য চড়া দামে বিক্রি করে। ফলে ক্রেতাসাধারণকে বেশি পয়সা গুনতে হয়। কৃষকদের তরফ থেকে কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য না পাওয়ার অভিযোগ, অন্য দিকে ভোক্তাসাধারণের দিক থেকে দ্রব্যসামগ্রীর উচ্চমূল্যের অভিযোগ—এ দুইয়ের মাঝখানে সংঘবদ্ধ মধ্যস্বত্বভোগীদের অনৈতিক মুনাফাখোরি কিছুটা হলেও হ্রাস পেতে পারে, যদি সমবায় অধিদপ্তর দক্ষতার সঙ্গে সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিজিবির ন্যায্যমূল্যের দোকানগুলো পরিচালনা করতে পারে।
প্রশ্নটি এখানেই—দক্ষতাপূর্ণ সুব্যবস্থাপনা। বাংলাদেশে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সাফল্যের দৃষ্টান্ত অত্যন্ত বিরল। সমবায় অধিদপ্তর সরকারের একটি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ কর্তৃপক্ষ। বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী; ওই বাহিনীর সদস্যদের দ্বারা দোকানগুলো যেমন সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালিত হয়েছে, সমবায় অধিদপ্তর কি তেমনটি নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে? সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, সমবায় সমিতির মাধ্যমে এই দোকানগুলো পরিচালিত হলে উৎপাদক ও ভোক্তা—উভয় পর্যায়েই ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে। এটি একটি জনমুখী প্রত্যাশা; এই প্রত্যাশা কীভাবে পূরণ করা যায়, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জিত হলে অন্ততপক্ষে কৃষিপণ্যের বাজার-ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে আনার একটা দৃষ্টান্ত স্থাপিত হতে পারে।

তাঁরা কোথায় যাবেন? এবং... by আশীষ কুমার চক্রবর্তী

গত ২৪ জুন প্রথম আলোতে প্রকাশিত শ্রদ্ধেয় আসিফ নজরুলের লেখাটির দিকে দৃষ্টিপাত করছি। দুটি কারণে লেখাটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছি। প্রথমত, লেখার শুরুতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঝুমুরের যে করুণ কাহিনির কথা লেখা হয়েছে, আমার বাড়িও সেখানে। দ্বিতীয়ত, অনেক দিন ধরে লিখতে ইচ্ছে হলেও পেশাগত ব্যস্ততার কারণে শুরু করতে পারছিলাম না। আসিফ নজরুলের তিক্ত বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গবেষণাধর্মী লেখায় অনুপ্রাণিত হয়ে এ নিয়ে আরও কিছু লেখার তাড়না অনুভব করলাম। চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের যে ব্যাধি মহামারি আকারে বাড়ছে, তা নির্মূল কিংবা না সারাতে না পারলে রোগীর চিকিৎসা তো দূরের কথা পুরো জাতি, দেশই নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) চলে যাবে, যেখান থেকে ফিরে আসা প্রায় অসম্ভব! অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এমন একটি সাহসী ও সচেতনতামূলক লেখা উপহার দেওয়ার জন্য।
আমি জানি না তাঁর এই লেখা কতজন ডাক্তার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সচেতন করেছে, তবে আমি একজন চিকিৎসক হিসেবে এই লেখার গুরুত্ব অনুধাবন করছি। মনে হচ্ছে এমন একজন অভিভাবক দরকার, যিনি এই স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা লাঘবের লাগাম ধরবেন। যে বিষয়গুলো আলোচিত হয়েছে তার মধ্যে চিকিৎসকদের দায়িত্বে অবহেলা, অজ্ঞানতা এবং ভুল চিকিৎসা অন্যতম। একটু ব্যাখ্যা করা যাক, দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টির সঙ্গে আমি একমত। আমি একটি হাসপাতালের প্রশাসকের চেয়ারে বসে যে বিষয়টা লক্ষ করছি তা হলো, হাতে গোনা কজন ছাড়া জুনিয়র ডাক্তাররা পেশার প্রতি চরম উদাসীন, রোগীর প্রতি অমনোযোগী! বেশির ভাগ ডাক্তার প্রাইভেট হাসপাতালের চাকরিকে কোনো চাকরি মনে করেন না। শুধু সময় পার করতে চান। একটি বেসরকারি হাসপাতালের প্রশাসনে কাজ করতে গিয়ে আমি আমাদের সহকর্মীদের নিয়ে এ ক্ষেত্রে বাদ সাধার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। মানসিকভাবে আমরা একরকম, কারণ আমরা জবাবদিহিতে বিশ্বাসী, দায়িত্বের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং যতটুকু সম্ভব রাউন্ড দিয়ে ফাঁক-ফোকর বের করতে চেষ্টা করি রোগীদের স্বার্থে, ফলে আমাদের কেউ পছন্দ করে না। তাতে কোনো আফসোস নেই আমার। কারণ, আজ আমি এই চিকিৎসা পেশার ঘুণপোকা সারানোর কথা লিখছি।
নব্য ডাক্তাররা মনোযোগ দিয়ে ইন্টার্নশিপ করছেন না, এমবিবিএস পাস করার পরই পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন পরীক্ষায় বসে পাস করে বড় ডাক্তার হয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা উপার্জন করার স্বপ্নে বিভোর! ‘ক্যারিয়ার’ নামক একটি বিশেষ শব্দের আড়ালে নির্যাতিত, নিপীড়িত হচ্ছে দেশের রোগীরা, যারা আমাদের মতো চিকিৎসকদের দিকে তাকিয়ে আছে তাদের জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে! আমাদের পূজনীয় ও সিনিয়র ডাক্তারদের ব্যাপারে আমি বলতে চাই, শুধু বড় বড় ডিগ্রির ভারে ন্যুব্জ হয়ে কোনো লাভ নেই! রোগীকে সময় দিতে হবে, রোগীর ইতিহাস শুনতে হবে, নিজ হাতে রোগীর ক্লিনিক্যাল এক্সামিনেশন করতে হবে। অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে বেশির ভাগ কনসালট্যান্ট রাউন্ডে এলে রোগীকে নিজে দেখেন না, ডিউটি ডাক্তারদের ওপর নির্ভর করেন। আমি এর ঘোরতর বিরোধী এবং এই কাজটি নিন্দনীয়। ফলে সঠিক রোগনির্ণয় বিলম্বিত হয়। রোগীরা এ দেশের চিকিৎসকদের ওপর আস্থা হারাচ্ছে দিন দিন। আর এই সুযোগ নিচ্ছেন পাশের দেশের চিকিৎসকেরা। কারণ ওখানকার চিকিৎসকদের ব্যবহার ভালো! এটিই মূল কারণ। অথচ এ দেশে বর্তমানে উন্নত বিশ্বের সব সুবিধা বিদ্যমান।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন গ্রাস করে রেখেছে এই মহান পেশাকে। কিছু কিছু ডাক্তার তাঁর পেশাগত পরিচয়ের পরিবর্তে ‘ডাক্তার-নেতা’ বলতে বেশি গর্ব বোধ করেন। এ মানসিকতার পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত কোনো কিছুরই সমাধান হবে না। তবে আমি নৈরাশ্যবাদী নই। সবিনয়ে কিছু পরামর্শ উপস্থাপন করতে চাই, যা সর্বক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে কিছু সমস্যার সমাধান হবে বলে আমি মনে করি:
প্রথমত,বিসিএসের (স্বাস্থ্য) মাধ্যমে যেসব ডাক্তার উত্তীর্ণ হবেন তাঁদের অন্যান্য নিয়মকানুনের পাশাপাশি ‘মুচলেকা’ নিতে হবে যে যেখানে তাঁর পোস্টিং সেখানে তিনি ঠিকমতো চাকরি করবেন এবং এতে কোনো দলীয় হস্তক্ষেপ করবেন না, অন্যথায় তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দ্বিতীয়ত, ডাক্তারদের কোনো সংগঠন থাকবে না। কারণ এতে দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়ন বৃদ্ধি পাবে। ডাক্তার-রোগী এই পরিচয় ব্যতীত ডাক্তারদের অন্য কোনো সাংগঠনিক পরিচয়ের প্রয়োজন নেই এবং অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
তৃতীয়ত, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলকে (বিএমডিসি) অধিকতর শক্তিশালী করে চিকিৎসকদের সব কাজের জবাবদিহি ও শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে উন্নত বিশ্বে চিকিৎসকদের অর্থনৈতিক দণ্ড, সনদ বাতিলসহ শাস্তি হলেও আমাদের দেশে তার কোনো উদাহরণ নেই! তাই দিন দিন বেড়ে চলেছে ডাক্তারদের পেশার প্রতি অমনোযোগিতা, দায়িত্বে অবহেলার মতো ভয়ংকর কাজ!! তাই অভিযুক্ত ডাক্তারদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা অতীব প্রয়োজন। অন্যথায় ভুয়া ডিগ্রিধারী ‘ওহাব’ কিংবা ‘ফিরোজ উদ্ দৌলার’ মতো সর্বরোগের মহৌষধ প্রস্তুতকারী স্বপ্নে বনে যাওয়া চিকিৎসকদের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে ক্রমাগত।
তবে আমি মনে করি, এ দেশের মানুষ যত সচেতন হবে, পত্রপত্রিকায় এ বিষয়গুলো নিয়ে যত বেশি লেখালেখি হবে, ততই এসব অভিযোগ কমে আসবে। একটা থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়জন ডাক্তারের মধ্যে কজন প্রতিদিন উপস্থিত থাকেন? তাহলে কি বিসিএসে (স্বাস্থ্য) উত্তীর্ণ হওয়া দেশ ও নিরীহ রোগীদের ঠকানোর বৈধ পন্থা? চিকিৎসকদের এই দৌরাত্ম্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে, বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মানে ডাক্তাররা আর কাউকে পরোয়া করছিলেন না! তাই এখনি সময় এসব অন্যায়-অবিচার থেকে পরিত্রাণের পথ খুঁজে বের করা। অন্যথায় এ দেশের মানুষের কাছে চিকিৎসকদের ভাবমূর্তি চিরতরে বিনষ্ট হয়ে যাবে, কলঙ্কিত হয়ে যাবে এই মহান পেশা!
ডা. আশীষ কুমার চক্রবর্তী: পরিচালক, আয়েশা মেমোরিয়াল স্পেশালাইজড হসপিটাল (প্রা.) লিমিটেড।

পাকিস্তানে এক তালেবান কমান্ডারের দলত্যাগ

পাকিস্তান তালেবানের একজন শীর্ষস্থানীয় কমান্ডার দল ত্যাগ করেছেন। ফজল সাইদ হাক্কানি নামে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) ওই কমান্ডার গত সোমবার জানান, দল ত্যাগের পর তিনি তেহরিক-ই-তালেবান ইসলামি (টিটিআই) নামে পৃথক একটি মার্কিনবিরোধী দল গঠন করেছেন।
টেলিভিশন চ্যানেল জিয়ো নিউজকে হাক্কানি জানান, মসজিদ ও বেসামরিক লোকজনের ওপর আত্মঘাতী হামলার প্রতিবাদস্বরূপ তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি টিটিপির কাউন্সিলের নেতাদের বার বার বলেছি, মসজিদ, বাজার ও বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে তাদের আত্মঘাতী হামলা বন্ধ করা উচিত।’
হাক্কানি বলেন, ‘আত্মঘাতী হামলার মাধ্যমে নিরপরাধ বেসামরিক লোকদের হত্যা করাটা ইসলাম সমর্থন করে না।’

ফারাক্কা বাঁধের স্লুইস গেট ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদের ঐতিহাসিক ফারাক্কা বাঁধের একটি স্লুইস গেট ভেঙে গেছে। ফলে ফারাক্কার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে।
গত রোববার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ ফারাক্কার ১৩ নম্বর গেটটি ভেঙে পড়ে। বাঁধটিতে মোট ১১৯টি গেট রয়েছে। এর মধ্যে ফিডার ক্যানেলের জন্য রয়েছে ১০টি গেট। আর পদ্মার দিকে পানি প্রবাহিত করার কাজে ব্যবহার করা হয় বাকি গেটগুলোকে।

শর্ত মানলে রামদেবকে অনশনে শরিক হতে দেবেন আন্না হাজারে

ভারতের বিশিষ্ট সমাজকর্মী আন্না হাজারে একটি জোরালো ও কার্যকর লোকপাল বিলের দাবিতে তাঁর পূর্বঘোষিত অনশন কর্মসূচিতে যোগগুরু স্বামী রামদেবকেও শরিক হতে দেবেন। তবে সে ক্ষেত্রে রামদেবকে কিছু শর্ত মানতে হবে। গত রোববার রাতে সাংবাদিকদের হাজারে এ কথা বলেন।
আগামী ১৬ আগস্ট নয়াদিল্লিতে যন্তর মন্তরে আন্না হাজারের অনশন শুরু করার কথা। এই অনশনে রামদেবও যোগ দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে হাজারে বলেন, ‘রামদেব আমার সঙ্গে অনশনে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তবে আমার কিছু শর্ত আছে। এসব শর্ত যদি তিনি মানেন, তাহলে আমার সঙ্গে তাঁর বসতে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করব।’
দুর্নীতির বিরুদ্ধে রামদেবের আন্দোলন ও অনশনে যাওয়ার বিষয়ে আন্না হাজারের সমর্থন রয়েছে। তবে পুলিশি অভিযান ঠেকাতে তিনি ১১ হাজার তরুণ-তরুণী নিয়ে একটি বাহিনী গড়ে তোলার যে ঘোষণা দিয়েছেন, এটি হাজারে ও তাঁর অনুসারীদের মনঃপুত হয়নি।

চার খেমাররুজ নেতার বিচার শুরু

যুদ্ধাপরাধসহ অন্যান্য অভিযোগে কম্বোডিয়ার চার শীর্ষ খেমাররুজ নেতার বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার কম্বোডিয়ার জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধাপরাধ আদালতে এ বিচার শুরু হয়। চার শীর্ষ নেতাকেই গতকাল আদালতে হাজির করা হয়। তাঁরা হলেন কম্বোডিয়ার সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান খিউ সাম্পান, রাজনীতিবিদ নুয়ন চিয়া, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেং স্যারি ও তাঁর স্ত্রী সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী লেং।
১৯৭৫ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত কম্বোডিয়ায় খেমাররুজ শাসনামলে নির্যাতন, হত্যা, অতিরিক্ত কাজের চাপ ও দুর্ভিক্ষে ২০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়। ওই মৃত্যুর ঘটনায় এই চার খেমাররুজ নেতার বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ, যুদ্ধাপরাধসহ নানা অভিযোগ আনা হয়। তাঁরা অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আদালতের কাঠগড়ায় তোলার পর ‘ব্রাদার নাম্বার টু’ নামে পরিচিত নুয়ন চিয়া ও খিউ সাম্পানকে রোগা ও দুর্বল দেখাচ্ছিল। এ সময় ৮৪ বছর বয়সী নুয়ন চিয়া বলেন, ‘এই বিচারে আমি খুশি নই।’ এরপর তিনি আচমকা আদালতকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। পরে বিচারকের অনুমতি নিয়ে তিনি আবারও আদালতকক্ষে প্রবেশ করেন।
নুয়ন চিয়ার আইনজীবী মিচিয়েল পেস্টম্যানের অভিযোগ, এই মামলার তদন্তে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং তদন্তে অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপ করেছে সরকার। তিনি বলেন, বিচারিক তদন্ত এতটাই পক্ষপাতদুষ্ট ছিল যে মামলার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া উচিত।
জটিল এই মামলার বিচারকাজ শেষ করতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
খেম নারেথ নামের এক ব্যক্তি বলেন, ন্যায়বিচারের জন্য এই বিচার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, তিনি চান, ওই চার নেতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হোক। খেমাররুজ শাসনামলে মা ও ভাইকে হারিয়েছিলেন খেম নারেথ।

টাটার স্থগিতাদেশ চেয়ে আবেদন খারিজ

পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার সিঙ্গুরে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার সরকারি কার্যক্রমের ওপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ চেয়ে টাটা মোটরসের করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্ট।
গতকাল সোমবার চার দিনের শুনানি শেষে বিচারপতি সৌমিত্র পালের আদালত টাটার রিট আবেদন খারিজ করে দেন। এর আগে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার টাটাকে ইজারা দেওয়া জমির ৪০০ একর অনিচ্ছুক কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে সরকার ১৪ জুন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় ‘সিঙ্গুর পুনর্বাসন ও উন্নয়ন বিল’ নামে একটি আইন পাস করে। এ আইন অনুসারে রাজ্য সরকার জমি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে জমি ফেরত কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশ চেয়ে গত সপ্তাহে হাইকোর্টে রিট আবেদন করে টাটা।
এদিকে রাজ্য সরকার এরই মধ্যে অনিচ্ছুক কৃষকদের জমি ফেরত দেওয়ার জন্য ৫০ জন জরিপকারীকে সিঙ্গুরে পাঠিয়েছে। আজ থেকে তাঁরা জমি ফেরত কার্যক্রম শুরু করবেন।
প্রসংগত, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সিঙ্গুরের অনিচ্ছুক কৃষকদের প্রায় ৪০০ একর জমি ফেরত দেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন।

‘সংকট উত্তরণে’ সিরিয়ায় ভিন্নমতাবলম্বীদের বৈঠক

সিরিয়ার চলমান সংকট নিরসনের উপায় খুঁজতে সে দেশের প্রায় ১৫০ জন ভিন্নমতাবলম্বী বৈঠক করেছেন। গতকাল সোমবার ঘোষণা দিয়ে রাজধানী দামেস্কের একটি হোটেলে তাঁরা আলোচনায় বসেন। পাঁচ দশক ধরে ক্ষমতায় থাকা বাথ পার্টির শাসনামলে এই প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ভিন্নমতাবলম্বীদের বৈঠক হলো।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, বৈঠকে যাঁরা অংশ নিয়েছেন, তাঁদের সবাই ভিন্নমতাবলম্বী ও সরকারের কট্টর সমালোচক, তবে তাঁদের কেউ রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন।
সিরিয়ার জাতীয় সংগীত গেয়ে তাঁরা বৈঠকের সূচনা করেন। এ ছাড়া গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া সামরিক ও বেসামরিক লোকদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে তাঁরা এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
মানবাধিকার সংস্থা সিরিয়ান লিগ ফর হিউম্যান রাইটসের সভাপতি আবদেল করিম রিহাবি বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় হিসেবে একটি জাতীয় কৌশলনীতির সূত্রপাত করতেই আমরা বৈঠকে বসতে যাচ্ছি।’ তিনি বলেন, রাজপথে যারা বিক্ষোভ করছে তাদের পক্ষ নিয়ে কথা বলা এ বৈঠকের উদ্দেশ্য নয়।
সরকারের সমালোচনা করার কারণে পাঁচ বছর জেল খেটে আসা মানবাধিকারকর্মী আনওয়ার বুন্নি বলেছেন, আগেভাগে ঘোষণা দিয়ে এ ধরনের বৈঠক করার ঘটনা সিরিয়াতে এটাই প্রথম।
এ বৈঠকের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়নি। তবে বৈঠকে সরকার কোনো রকম বাধা না দেওয়ায় এতে সরকারের মৌন সম্মতি রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আনওয়ার বুন্নি বলেন, জনগণকে যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করতে দেওয়া হয়, রাজনৈতিক বন্দীদের যদি মুক্তি দেওয়া হয় এবং বিরোধীদের মেনে নিয়ে বিক্ষোভ থামাতে যদি বল প্রয়োগ না করা হয়, তাহলে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের প্রস্তাবিত ‘জাতীয় সংলাপ’ মেনে নেওয়া ও তাতে সরকারবিরোধীদের যোগ দেওয়া উচিত।
প্রেসিডেন্ট আসাদ গত ২০ জুন জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বলেছেন, জাতীয় সংলাপের মাধ্যমে নতুন সংবিধানের সূচনা হতে পারে, এমনকি ক্ষমতাসীন বাথ পার্টির একতরফা ক্ষমতা গ্রহণেরও অবসান হতে পারে। আসাদ বলেছেন, বিশৃঙ্খলার মধ্যে তিনি কোনো সংস্কার করতে রাজি নন। তবে বিরোধীদের পক্ষ থেকে ওই দিনই ঘোষণা করা হয়, আসাদ ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কোনো সংলাপেই তাঁরা অংশ নেবেন না।
সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, দমন অভিযানের মুখে ইতিমধ্যে ১১ হাজার সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশ তুরস্কে এবং কয়েক শ লোক লেবাননে পালিয়ে গেছে। লেবাননে অবস্থানরত বিবিসির সাংবাদিক জিম ম্যুর বলেছেন, সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীদের অনেকেই ভাবছেন, একদিকে যখন সেনাবাহিনীর দমন-পীড়ন চলছে, তখন ভিন্নমতাবলম্বীদের এ বৈঠক সরকারি দমন-পীড়নকে বৈধতা এনে দিতে পারে।
সিরিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল বারাদা টিভির সম্পাদক মালিক আল আবদেহ্ বিবিসির ওয়ার্ল্ড টুডে অনুষ্ঠানে বলেছেন, এ ধরনের বৈঠকে সরকার অবশ্যই খুশি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘যাঁরা বৈঠকে যোগ দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে মাত্র তিন-চারজন জেল খেটেছেন। বাকিদের কেউই সরকারবিরোধী বলে স্বীকৃত ও পরিচিত নন। সুতরাং এটাকে বিরোধীদের বৈঠক বলা যাবে না। এটাকে বড়জোর সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের আলোচনা বলা যেতে পারে।

পাকিস্তান থেকে ব্রিটিশ সামরিক প্রশিক্ষকদের প্রত্যাহার করা হচ্ছে

পাকিস্তান থেকে ব্রিটিশ সামরিক প্রশিক্ষকদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল সোমবার এ কথা জানিয়েছে। পাকিস্তানের অনুরোধেই তাঁদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে পাকিস্তান ২০ জনের মতো সামরিক প্রশিক্ষককে প্রত্যাহারের অনুরোধ জানায়। তবে চলতি মাসের শুরুর দিকে ইসলামাবাদ থেকে যুক্তরাষ্ট্র শতাধিক সামরিক প্রশিক্ষককে প্রত্যাহারের পরই যুক্তরাজ্য তার প্রশিক্ষকদের প্রত্যাহারের এই সিদ্ধান্ত নিল।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, সাময়িকভাবে এই প্রত্যাহার করা হবে। পাকিস্তানের আমন্ত্রণেই যুক্তরাজ্য সামরিক ক্ষেত্রে এই প্রশিক্ষণ সহযোগিতা দিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের পরামর্শ অনুযায়ীই কাজ করা হয়। ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইলিয়াম হেগ পাকিস্তান সফরের মাত্র চার দিন পরই ওই সামরিক প্রশিক্ষকদের প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত হলো। এসব প্রশিক্ষক পাকিস্তানের আধা সামরিক বাহিনী ফ্রন্টিয়ার কোরের সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে কাজ করছে। এই আধা সামরিক বাহিনী আফগান সীমান্তের কাছে তালেবান জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

বন্ধ পারমাণবিক চুল্লিগুলো চালু করার বিপক্ষে বেশির ভাগ জাপানি

কিউবায় চিকিৎসাধীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের অবস্থা গুরুতর—এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে ভেনেজুয়েলার সরকার। তথ্যমন্ত্রী আন্দ্রেস ইজারা গতকাল সোমবার এএফপিকে জানান, তিনি (শাভেজ) সুস্থ হয়ে উঠছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে প্রকাশিত স্প্যানিশ ভাষার পত্রিকা এল নুয়েভো হেরাল্ড-এর এক খবরে শনিবার বলা হয়, ৫৬ বছর বয়সী শাভেজ মৃত্যুর কিনারে না পৌঁছলেও তাঁর অবস্থা গুরুতর। শাভেজ প্রস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন—এমন গুঞ্জনের ব্যাপারে ওই সূত্র কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।
ভেনেজুয়েলার সরকারের পক্ষ থেকে রোববার জানানো হয়, শাভেজের মেরুদণ্ডের গোড়ার দিকে হওয়া ফোড়া ১০ জুন কিউবায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ভেনেজুয়েলার সরকার শাভেজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অসুস্থ শাভেজের অনুপস্থিতি নিয়ে ভেনেজুয়েলায় উদ্বেগের পাশাপাশি নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে রাজধানী কারাকাসে বিরোধী আইনপ্রণেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করছেন, প্রেসিডেন্ট শাভেজ বিদেশ থেকে সরকার পরিচালনা করছেন, যা অসাংবিধানিক।
শাভেজের ভাই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, শাভেজ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কারাকাসে ফিরবেন।

শাভেজের গুরুতর অসুস্থতার খবর নাকচ ভেনেজুয়েলার

কিউবায় চিকিৎসাধীন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট হুগো শাভেজের অবস্থা গুরুতর—এমন খবর নাকচ করে দিয়েছে ভেনেজুয়েলার সরকার। তথ্যমন্ত্রী আন্দ্রেস ইজারা গতকাল সোমবার এএফপিকে জানান, তিনি (শাভেজ) সুস্থ হয়ে উঠছেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি থেকে প্রকাশিত স্প্যানিশ ভাষার পত্রিকা এল নুয়েভো হেরাল্ড-এর এক খবরে শনিবার বলা হয়, ৫৬ বছর বয়সী শাভেজ মৃত্যুর কিনারে না পৌঁছলেও তাঁর অবস্থা গুরুতর। শাভেজ প্রস্টেট ক্যানসারের চিকিৎসা নিচ্ছেন—এমন গুঞ্জনের ব্যাপারে ওই সূত্র কোনো মন্তব্য করতে চায়নি।
ভেনেজুয়েলার সরকারের পক্ষ থেকে রোববার জানানো হয়, শাভেজের মেরুদণ্ডের গোড়ার দিকে হওয়া ফোড়া ১০ জুন কিউবায় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে অপসারণ করা হয়। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
ভেনেজুয়েলার সরকার শাভেজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। অসুস্থ শাভেজের অনুপস্থিতি নিয়ে ভেনেজুয়েলায় উদ্বেগের পাশাপাশি নানা ধরনের গুঞ্জন রয়েছে।
এদিকে রাজধানী কারাকাসে বিরোধী আইনপ্রণেতারা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তাঁরা অভিযোগ করছেন, প্রেসিডেন্ট শাভেজ বিদেশ থেকে সরকার পরিচালনা করছেন, যা অসাংবিধানিক।
শাভেজের ভাই ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, শাভেজ আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কারাকাসে ফিরবেন।

১০০ দিনে লিবিয়ায় ন্যাটোর পাঁচ হাজারবার হামলা

লিবিয়ায় সরকার ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাত শুরুর পর বেসামরিক লোকজনকে রক্ষার নামে সেখানে অভিযান শুরু করে পশ্চিমা দেশগুলো। পরে সেই অভিযানের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয় পশ্চিমাদের সামরিক জোট ন্যাটোর হতে। ন্যাটোর অভিযানের ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে গতকাল সোমবার। তাদের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু লোক হতাহত হলেও দৃশ্যত কোনো সাফল্য এখনো পায়নি ন্যাটো বাহিনী।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ১৯৭৩ নম্বর প্রস্তাব পাস হওয়ার পর পরই গত ১৯ মার্চ লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলে প্রথম হামলা চালায় ফ্রান্সের জঙ্গি বিমান। শুরু হয় অপারেশন ওডিসি ডন। কিন্তু এর কয়েক দিনের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলো এই অভিযানের দায়িত্ব তুলে দেয় ন্যাটোর হাতে। তখন অভিযানের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘অপারেশন ইউনিফাইড প্রটেক্টর’।
এর পর থেকে লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলি ও এর আশপাশের এলাকা এবং পূর্বে ব্রেগা থেকে পশ্চিমে মিসরাতা পর্যন্ত এলাকায় এ পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজারবার হামলা চালিয়েছে ন্যাটো বাহিনী। অর্থাৎ গত ১০০ দিনে গড়ে প্রায় ৫০টি করে হামলা চালানো হয়েছে।
লিবিয়ার বেসামরিক লোকজনকে রক্ষার জন্য সেখানে অভিযানের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ নম্বর প্রস্তাবে। গাদ্দাফি বাহিনী যাতে বিদ্রোহীদের ওপর বিমান হামলা না চালাতে পারে, সে জন্য লিবিয়ার ওপর নো-ফ্লাই জোন আরোপ করে নিরাপত্তা পরিষদ। নো-ফ্লাই জোন বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয় ন্যাটোকে।
কিন্তু গত ১০০ দিনের অভিযানে ন্যাটো বাহিনীর দৃশ্যত কোনো সাফল্য নেই, যদিও তারা সাফল্য দাবি করে। গাদ্দাফি বাহিনী এখনো যথারীতি বিদ্রোহীদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। দুই পক্ষ সমানে লড়াই করে যাচ্ছে। এতে হতাহত হচ্ছে বেসামরিক লোকজন। একই সঙ্গে গাদ্দাফি বাহিনী ও তাদের সহযোগীদের ওপর হামলার কথা বলে ন্যাটো বাহিনী যেসব বিমান হামলা চালাচ্ছে, তাতেও মারা যাচ্ছে অনেক বেসামরিক নিরপরাধ মানুষ।
এর পরও ন্যাটো কর্তৃপক্ষ তাদের অভিযানের সাফল্য দাবি করছে। সংস্থার মুখপাত্র ওয়ানা লুঙ্গেসকু বলেন, ‘তিন মাস আগে গাদ্দাফি বাহিনীর হামলার হুমকির মুখে ছিল বেনগাজি শহর। মিসরাতা শহর তারা অবরুদ্ধ করে রেখেছিল। আর এখন সেখানে দেখুন, অবস্থার তুলনা করুন। গাদ্দাফি বাহিনী এখন আর ভয়াবহ কোনো হুমকি নয়, যদিও তারা টিকে আছে।’
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত লিবিয়ায় নিহত হয়েছে কয়েক হাজার মানুষ। দেশ ছেড়ে পালিয়েছে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ এবং দেশের মধ্যেই ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ।
কিন্তু এখনো পর্যন্ত লিবিয়ায় সংঘাত বন্ধের কোনো আশা দেখা যাচ্ছে না। আর এই দীর্ঘ অভিযান নিয়ে ন্যাটোর সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ইতালিসহ কয়েকটি দেশ এখন চাইছে সেখানে যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করা হোক।

আফগানিস্তানে রকেট হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান

আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই গত রোববার অভিযোগ করেছেন, তাঁর দেশের পূর্বাঞ্চলীয় দুটি প্রদেশে তিন সপ্তাহে ৪৭০টি রকেট হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এতে ১২টি শিশুসহ অন্তত ৩৬ জন নিহত হয়েছে।
তবে কারজাইয়ের এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বলেছে, পাকিস্তানের পক্ষ থেকে ইচ্ছাকৃত কোনো গোলা নিক্ষেপ করা হয়নি। সেনা মুখপাত্র মেজর জেনারেল আতাহার আব্বাস গতকাল সোমবার বলেছেন, আফগান সীমান্তের কাছে পাকিস্তান ভূখণ্ডে জঙ্গিদের লক্ষ্য করে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলাকালে দুর্ঘটনাবশত আফগান ভূখণ্ডে কয়েকটি রকেট চলে যেতে পারে।
আফগানিস্তানের সীমান্ত কর্মকর্তারা বলেছেন, কুনার ও নানগারহার প্রদেশে এ রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরপর সেখান থেকে প্রায় দুই হাজার পরিবার পালিয়ে গেছে।
সম্প্রতি ওই প্রদেশ দুটি থেকে ন্যাটো বাহিনী প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এই সুযোগে পাকিস্তানি তালেবানেরা সেখানকার বেসামরিক লোকজনের সঙ্গে মিশে গেছে। তাঁরা জানান, আফগান প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কারজাই বলেন, এই রকেট হামলার পেছনে পাকিস্তানের সরকারি বাহিনীর হাত রয়েছে। তাঁদের এক্ষুণি এটা বন্ধ করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আর যদি পাকিস্তান এটা করে না থাকে, তাহলে তাদের স্পষ্ট করা উচিত, কারা এই হামলার পেছনে দায়ী।’
আফগান প্রেসিডেন্ট বলেন, তেহরানে গত শনিবার সন্ত্রাসবাদবিরোধী সম্মেলনে এই রকেট হামলা নিয়ে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ জহির আজিমি এ হামলা প্রসঙ্গে কথা বলেন এবং সতর্ক করে দেন যে আফগানিস্তান এর পাল্টা জবাব দেবে। আজিমিকে বরাত দিয়ে এপি বলেছে, পাকিস্তান সরকারের বোঝা উচিত, বেসামরিক লোকজনকে হত্যার পরিণতি ভালো নয়।
আফগান প্রেসিডেন্ট রকেট হামলার বিষয়টি নিয়ে আফগানিস্তানে নিযুক্ত ন্যাটো কমান্ডার জেনারেল ডেভিড পেট্রাউস ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত কার্ল আইকেনবেরির সঙ্গেও আলোচনা করেছেন।
তবে একজন আফগান কর্মকর্তা বিবিসিকে জানান, পাকিস্তানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তাঁকে বলেছেন যে সীমান্ত এলাকায় তালেবানের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর লড়াই চলাকালে আফগান ভূখণ্ডে রকেট পড়েছে।
আফগান কর্মকর্তা আজিমি বলেন, পাকিস্তানের রকেট হামলার জবাবে আফগান নিরাপত্তা বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় খোস্ত ও পাকতিকা প্রদেশ থেকে পাকিস্তানে গত শুক্রবার অন্তত দুই দফা গোলা নিক্ষেপ করেছে।
আফগানিস্তানের সীমান্তে নিযুক্ত পুলিশ বাহিনীর মুখপাত্র ইদ্রিস মোহাম্মদ বলেছেন, ‘কুনার ও নানগাহারে ছোড়া রকেট পাকিস্তানের দিক থেকেই এসেছে। নিরীহ আফগানদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি অস্ত্র ব্যবহার করা হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকায় আফগান পুলিশকে ভারী অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে। আমরা শুধু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের অপেক্ষায় আছি।’
আজিমি জানান, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে পাকিস্তান সরকারের প্রতি এ গোলা নিক্ষেপের ঘটনা বন্ধ এবং ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে ২ মে আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেন হত্যাকাণ্ডের পর আফগানিস্তান ও পাকিস্তানে তালেবানের হামলা বেড়ে গেছে।

এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতে নগদ সহায়তা দাবি

দেশের রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্প খাতের অন্যতম পশ্চাৎসংযোগ শিল্প এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যে ১০ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে এ খাতের উদ্যোক্তারা।
বাংলাদেশ করোগেটেড কার্টন অ্যান্ড এক্সেসরিজ ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিসিএএমইএ) সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায়। অনুষ্ঠানে সমিতির সভাপতি রাফেজ আলম চৌধুরীসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সমিতি বলেছে, আগামী ২০১১-১২ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটে দারিদ্র্য নিরসন, বিদ্যুৎ, গ্যাস, কৃষি, ভৌত অবকাঠামোসহ উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাই এ বাজেট সঠিক সময়ে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনীতিতে নতুন দিকের সূচনা হতে পারে।
বিসিসিএএমইএর নেতারা বলেন, দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান এক নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে। গ্যাস ও বিদ্যুৎ-সংকটের কারণে শিল্পোদ্যোক্তারা তাঁদের কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছেন না। আবার বর্তমানে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচও অনেক বেড়ে গেছে।
এসব কারণে সরকার রপ্তানি-বাণিজ্যকে সুরক্ষা দিতে ও স্থিতিশীল রাখতে রপ্তানিমুখী কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে প্রণোদনা দিলেও এ খাত বঞ্চিত হয়েছে। অথচ এক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং খাত শতভাগ রপ্তানিমুখী।
সমিতি এ খাতের শিল্পকারখানার বাড়ি ভাড়ার ওপর আরোপিত ৯ শতাংশ মূসক প্রত্যাহারের এবং উৎসে দেড় শতাংশ হারে আয়কর কর্তনের বিধান রহিত করার প্রস্তাব করেছে। সমিতির নেতারা উৎসে কর কর্তনের হার কমিয়ে দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণের সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি তাঁরা বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর মতো বন্ড-সুবিধা চেয়েছেন। একই সঙ্গে শতভাগ রপ্তানিমুখী কার্টন ও এক্সেসরিজ খাতের প্রতিটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে একটি করে ডেলিভারি ভ্যান (পিকআপ) শুল্কমুক্তভাবে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানানো হয়।

অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ কৃষিঋণ বিতরণ

চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) যে পরিমাণ কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে, তা বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রার প্রায় সাড়ে ৮৯ শতাংশ। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
এতে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের ১১ মাসে ব্যাংকগুলো সামগ্রিকভাবে ১১ হাজার ২১০ কোটি ৩২ লাখ টাকা কৃষিঋণ হিসেবে বিতরণ করেছে। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে বিতরণ করা কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল নয় হাজার ৮৮৯ কোটি টাকা।
অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে কৃষিঋণ বিতরণে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ শতাংশ।
এ থেকে প্রতীয়মান হয়, কৃষিঋণ বিতরণের গতিময়তা খুব বাড়েনি। ফেব্রুয়ারি মাসে ৮৭৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকার কৃষিঋণ বিতরণের পর মার্চ মাসে তা বেড়ে হয় এক হাজার ১৬৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। তবে এপ্রিল মাসে তা সামান্য কমে হয় এক হাজার ১২৬ কোটি টাকা। আর মে মাসে তা আরও কমে হয়েছে ৯২৯ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
অর্থবছরের ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার ৮৯ শতাংশ ঋণ বিতরণ হওয়ায় বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে শেষ মাসে বাকি ১১ শতাংশ ঋণ বিতরণ করতে হবে। এবার কৃষিঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা ১২ হাজার ৬১৭ কোটি ৪০ লাখ টাকা, সেহেতু অর্থবছরের শেষ মাসে এক হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বিতরণ করতে হবে।
এ থেকে ধারণা করা যায় যে শেষ পর্যন্ত চলতি ২০১০-১১ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে না। তবে মোট বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি থাকবে।
আবার চলতি অর্থবছর ১১ মাসে বিতরণ করা কৃষিঋণ গত অর্থবছরের বিতরণ করা ঋণের চেয়ে দশমিক ৮৫ শতাংশ বেশি। ২০০৯-১০ অর্থবছরে কৃষিঋণ বাবদ ১১ হাজার ১১৬ কোটি ৮৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছিল। আর গত অর্থবছর কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৫১২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সাম্প্রতিককালে শুধু ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছিল।
পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় আরও দেখা যায়, ১১ মাসের মধ্যে সবচেয়ে বেশি কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে ডিসেম্বর মাসে, যার পরিমাণ এক হাজার ৫০৩ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। আর সবচেয়ে কম কৃষিঋণ বিতরণ করা হয়েছে আগস্ট মাসে, যার পরিমাণ ৬৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংক কৃষিঋণ বিতরণে গতিশীলতা বাড়ানোর জন্য অনেক দিন ধরেই নানা ধরনের নির্দেশনা দিয়ে আসছে। কৃষকদের কাছে ব্যাংকিং সেবা সহজে পৌঁছে দিতে ৯০ লাখের বেশি ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে।
সরকার ২০১১-১২ অর্থবছরে ১৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত তাঁর বাজেট বক্তৃতায় এ তথ্য উল্লেখ করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে আরও দেখা যায়, অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বকেয়া কৃষিঋণ আদায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১০ হাজার ৯২০ কোটি ১২ লাখ টাকা। আর ২০০৯-১০ অর্থবছরের একই সময়ে আদায় করা বকেয়া ঋণের পরিমাণ ছিল নয় হাজার ৪১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।
অর্থাৎ গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের তুলনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে বকেয়া কৃষিঋণ আদায় বেড়েছে ২০ শতাংশ।
এই সময়কালের মধ্যে মার্চ মাসে সর্বোচ্চ এক হাজার ৪৬৮ কোটি ৬১ লাখ টাকার বকেয়া কৃষিঋণ আদায় করা হয়েছে। আর জানুয়ারি মাসে সর্বনিম্ন ৬১০ কোটি ৭৩ লাখ টাকার কৃষিঋণ আদায় করা হয়েছে।

প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্সের শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা

প্রগতি লাইফ ইনস্যুরেন্স লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ ২০১০ সালের জন্য ১২ শতাংশ শেয়ার লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ১৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে যমুনা রিসোর্ট লিমিটেডে অনুষ্ঠিত হবে।

আবারও পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগের সুযোগ দাবি

পুঁজিবাজারের বর্তমান তারল্য-সংকট দূর করতে বন্ডের পাশাপাশি শেয়ারেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের দাবি করেছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)।
গতকাল সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) আয়োজিত মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতিরা এ দাবি করেন।
রাজধানীর সেগুনবাগিচায় রিপোর্টার্স ইউনিটির সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী, সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ, ডিআরইউয়ের সভাপতি মোস্তাক হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক জামাল উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে ডিএসইর সভাপতি শাকিল রিজভী বলেন, ‘বাজারে বর্তমানে তারল্য-সংকট রয়েছে। এ অবস্থা থেকে কাটিয়ে উঠতে আমরা প্রধানমন্ত্রীকে বন্ডের পাশাপাশি পুঁজিবাজারেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করেছি। প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা শুনেছেন।’
শাকিল রিজভী আরও বলেন, অপ্রদর্শিত অর্থ বন্ডে বিনিয়োগ করলে ১০ শতাংশ হারে কর দিতে হবে এটা ঠিক। তবে প্রতিবছর বিনিয়োগকারীকে সরকারের পক্ষ থেকে ১০ শতাংশ মুনাফা ফেরত দিতে হবে। আর শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করলে সরকারকে কোনো মুনাফা ফেরত দিতে হবে না।
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদও অপ্রদর্শিত অর্থ পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের পক্ষে মত দেন। তবে বাজার যাতে আবার অতি মূল্যায়িত না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
সিএসইর সভাপতি ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, ‘প্রথমেই আমাদের একটি লক্ষ্য স্থির করতে হবে। সরকারের একটি নির্দিষ্ট নীতি থাকতে হবে, যা কমপক্ষে পাঁচ মেয়াদি হতে হবে। এই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন যাতে না হয়, সে বিষয়টি খেয়াল করতে হবে।’
আওয়ামী লীগের আমলে পুঁজিবাজারে ধস নামে কেন? সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের উত্তরে শাকিল রিজভী বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশে নয়, পৃথিবীর অন্যান্য দেশের পুঁজিবাজারেও এ ঘটনা ঘটে। সেখানে তো আওয়ামী লীগ বা বিএনপি নেই।’ তিনি বলেন, উত্থান-পতন শেয়ারবাজারের ধর্ম। বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়তে বাড়তে বাজার অতি মূল্যায়িত হয় এবং একপর্যায়ে এ ধরনের ধসের সৃষ্টি হয়। এটা আওয়ামী লীগ বা বিএনপির দোষ নয়।
এ ছাড়া দুই স্টক এক্সচেঞ্জই প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপমুক্ত বলে জানান দুই স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতিরা।
আরেক প্রশ্নের জবাবে দুজনই বলেন, পুঁজিবাজারে কারসাজির অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িত ব্যক্তিদের অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী বলা ঠিক হবে না।
সূচক ও লেনদেন: দেশের দুই স্টক এক্সচেঞ্জেই গতকাল বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বেড়েছে। এর ফলে বেড়েছে সূচক। একই সঙ্গে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে গতকালের চেয়ে লেনদেন বেড়েছে।
ডিএসইতে সাধারণ সূচক দিন শেষে ৯২ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বেড়ে পাঁচ হাজার ৯৩৪ দশমিক ১৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৩টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৭৮টির, কমেছে ৬২টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১৩টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৮৩১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩২৫ কোটি টাকা বেশি।
অন্যদিকে সিএসইতে সার্বিক মূল্যসূচক ২৬৬ দশমিক ৯২ পয়েন্ট বেড়ে হয়েছে ১৬ হাজার ৫১৩ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১২৮টির, কমেছে ৬০টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে নয়টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম।
স্টক এক্সচেঞ্জটিতে গতকাল ৯৯ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের চেয়ে ৩১ কোটি টাকা বেশি।

কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্স, ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্স ও লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের লেনদেন স্থগিত

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) তালিকাভুক্ত কর্ণফুলী ইনস্যুরেন্স ও ন্যাশনাল লাইফ ইনস্যুরেন্সের লেনদেন আজকের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। আর লাফার্জ সুরমা সিমেন্টের লেনদেন অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর শেয়ারের দাম অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যাওয়ায় ডিএসইর ব্যবস্থাপনা বিভাগ লেনদেন স্থগিত করেছে। আজ মঙ্গলবার ডিএসই ওয়েবসাইটে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আজও ঊর্ধ্বমুখী পুঁজিবাজার

দেশের পুঁজিবাজারে আজ মঙ্গলবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। আজ দিনের লেনদেন শেষে দুই স্টক এক্সচেঞ্জে বেশির ভাগ শেয়ারের দাম বাড়ায় বেড়েছে সূচক। তবে গতকালের চেয়ে লেনদেন কিছুটা কমেছে।
এ দিকে পুঁজিবাজারবান্ধব বাজেটের দাবিতে আজ বেলা দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন বিনিয়োগকারীরা। বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের ব্যানারে বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ এ কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় বিনিয়োগকারীরা পুঁজিবাজারে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ, পুঁজিবাজারে বাংলাদেশ ব্যাংক ও এনবিআরের অযাচিত হস্তক্ষেপ বন্ধেরও দাবি করেন। এ সময় সংগঠনটির আহ্বায়ক মিজান উর রশীদ চৌধুরী, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুর রাজ্জাকসহ বিনিয়োগকারীরা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএসই সূত্রে জানা যায়, আজ দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইর সাধারণ মূল্যসূচক ৩৬.৩০ পয়েন্ট বেড়ে ৫,৯৭০.৪৮ পয়েন্টে দাঁড়ায়। ডিএসইতে লেনদেনের ১০ মিনিটের মাথায় সূচক ৬৬ পয়েন্ট বেড়ে যায়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে সূচক দিনের সর্বোচ্চ ৮২ পয়েন্ট বাড়ে। এরপর সূচক বাড়ার হার কিছুটা কমলেও দিন শেষে ৩৬.৩০ পয়েন্ট বাড়ে।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ২৫৫টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৯১টির, কমেছে ৫৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে সাতটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে আজ ৭৭১ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে ৬০ কোটি টাকা কম।
ডিএসইতে লেনদেনে শীর্ষে থাকা ১০ প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে—ইউসিবিএল, আফতাব অটো, ওয়ান ব্যাংক, এম আই সিমেন্ট, লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স, সাউথইস্ট ব্যাংক, বেক্সিমকো, সিটি ব্যাংক, এনবিএল ও গ্রামীণফোন।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সার্বিক মূল্যসূচক ১৭১.১৯ পয়েন্ট বেড়ে ১৬,৬৮৪.৫৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সিএসইতে লেনদেন হওয়া ১৯৯টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেড়েছে ১৫৩টির, কমেছে ৩৪টির ও অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারের দাম। স্টক এক্সচেঞ্জটিতে ৯৬ কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে, যা গতকালের চেয়ে তিন কোটি টাকা কম।

সাংবাদিকদের সঠিক জ্ঞান পুঁজিবাজার বিকাশে ভূমিকা রাখবে

সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (এসইসি) ও বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ক্যাপিটাল মার্কেটের (বিআইসিএম) চেয়ারম্যান অধ্যাপক এম খায়রুল হোসেন বলেছেন, সাংবাদিকদের সঠিক জ্ঞানার্জন পুঁজিবাজার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর পল্টনে ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্ট ফোরাম (সিএমজেএফ) ও বিআইসিএম যৌথভাবে এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে। পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত দুই মাসব্যাপী এই কর্মশালার উদ্বোধনকালে খায়রুল হোসেন এ কথা বলেন।
খায়রুল হোসেন বলেন, পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত কর্মশালা সাংবাদিকদের পুঁজিবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের কার্যক্রম কী হবে, তা জানতে সাহায্য করবে। একই সঙ্গে নতুন একটি কোম্পানি বাজারে আসার ক্ষেত্রে কোন কোন ধাপ পার করতে হবে, তাদের কী কী করণীয় রয়েছে, ইস্যুয়ারের কাজ কী প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে জানতে সাহায্য করবে। এ বিষয়গুলো জানা থাকলে একজন সাংবাদিক তাঁর লেখনির মাধ্যমে পুঁজিবাজার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সভাপতি শাকিল রিজভী, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের সভাপতি (সিএসই) ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ, বিআইসিএমের নির্বাহী সভাপতি আবদুল হান্নান জোয়ার্দার, পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মোল্লা মনসুর আহমেদ, সিএমজেএফের সভাপতি জিয়াউর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
শাকিল রিজভী তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল বিআইসিএমের মতো একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা। যার মাধ্যমে সাংবাদিক, বিনিয়োগকারীসহ শেয়ারবাজারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা শিক্ষা নিয়ে শক্তিশালী পুঁজিবাজার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।’
ফখর উদ্দিন আলী আহমেদ বলেন, পুঁজিবাজার এখন অনেকটা স্থিতিশীলতার দিকে এগোচ্ছে। ইদানীং বাজার খুব বেশি বাড়ছে বা কমছে না, এটা একটি ভালো দিক। তিনি আরও বলেন, ‘বাজার আরও খারাপ হতে পারত। বাজার এ অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকেরা অনেকাংশে সহায়তা করেছেন।’

মেসির স্বপ্নে কোপা গৌরব

ক্লাব দল বার্সেলোনার হয়ে প্রায় সবকিছুই জিতেছেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। তবে নিজ দেশের হয়েই কোনো কিছু না জেতার অপূর্ণতা নিয়ে দিনাতিপাত করতে হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের অন্যতম সেরা এই ফুটবল জাদুকরের। দেশের নীল-সাদা ডোরাকাটা জার্সিকে বলতে গেলে কিছুই ফিরিয়ে দিতে পারেননি। এ আক্ষেপ ঘোচানোর সুবর্ণ সুযোগ এই সুপারস্টারের সামনে। সুযোগটা লাতিন ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাকর প্রতিযোগিতা কোপা আমেরিকা।
১৯৯৩ সালে শেষবারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এরপরের ১৮ বছর আর্জেন্টিনা পরিণত হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে অপ্রাপ্তির দলে। বিশ্বের আলোচিত ও সেরা তারকারা দলে থাকলেও আর্জেন্টিনার প্রাপ্তির ঘর সত্যিই শূন্য।
মেসি এই অবস্থাটিরই পরিবর্তন চান। এবং এখনই। তাঁর মতে, এবারের কোপা আমেরিকার শিরোপাটা জেতা তাই আর্জেন্টিনার জন্য মহাগুরুত্বপূর্ণ।
বার্সেলোনার হয়ে দুর্দান্ত ও জাদুকরী পারফরম্যান্স মেসিকে তুলে দিয়েছে অনেক ওপরে। অনেকই তাঁকে এখনই সর্বকালের সেরাদের দলে রাখা শুরু করে দিয়েছেন। তবে মেসি মানেন, কোনো প্রশংসা, কোনো ব্যক্তিগত প্রাপ্তিই পূর্ণতা পাবে না যদি না দেশের হয়ে তিনি কিছু জিততে না পারেন।
মেসির মতো একজন খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বকাপ। তেমন লক্ষ্যই বুকে লালন করে রাখেন বিশ্বের সেরা ফুটবল তারকারা। তবে তিনি এই মুহূর্তে কোপা আমেরিকার বাইরে কিছু ভাবতে রাজি নন। ব্যাপারটা অনেকটা এমন যে আগে কোপা জিতি তারপরে অন্যকিছু ভাবা যাবে। ১৮ বছর আর্জেন্টিনার জাতীয় দল যে কোনো শিরোপাই জেতেনি। অথচ প্রতিটি প্রতিযোগিতাতেই তারা মাঠে নামে ফেবারিট হিসেবে।
‘আমি আর্জেন্টিনার মানুষের কাছ থেকে এখন যে ধরনের ভালোবাসা পাচ্ছি, তা আগে কখনো পাইনি। এ ধরনের ভালোবাসা আমি স্পেনে পেয়ে থাকি। আমি বার্সেলোনাকে সেই ভালোবাসার প্রতিদান দিয়েছি। এবার বড় কিছু করেই মাতৃভূমির ঋণ কিছুটা পরিশোধ করতে চাই। আমি যেমন বার্সেলোনার মেসি, ঠিক তেমনি, আমি একজন আর্জেন্টাইন ফুটবলার।’ মেসির কণ্ঠে কোপা জেতার প্রত্যয়।
মেসির মতে, আমরা সব সময়ই দেশের হয়ে খেলার আগে খুব অল্প সময় পেয়ে থাকি। প্রস্তুতিটা পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে না। তবে এবারের ব্যাপার আলাদা। সবদিক দিয়ে প্রস্তুত হয়েই আমরা কোপা আমেরিকা খেলতে নামব।’
মেসির কোপা জেতার তাড়নাটার অন্যতম কারণ হয়তো, আর্জেন্টিনা এবারের কোপা আমেরিকার স্বাগতিক। নিজদেশের মাটিতে, সমর্থকদের গগনবিদারী চিত্কারের সামনে লাতিন ফুটবল গৌরবের ভাগীদার হতে তো তিনি চাইবেনই।
বলিভিয়ার বিপক্ষে আগামী ১ জুলাই ম্যাচ দিয়ে আর্জেন্টিনা শুরু করবে কোপা অভিযাত্রা।

তারায় তারায় শুধু বোবা অন্ধকার... ব্য জুনান নাশিত

রুমানার দুই চোখে অন্ধকার। কোনোকালে সেখানে আলো ফুটবে কি না, তা ভবিতব্যই বলতে পারে। কিন্তু এখন ‘চিরজীবনের মোর ধ্রুবতারা-সম/ চিরপরিচয়-ভরা ঐ কালো চোখে’ যে বোবা অন্ধকার, তার ভার এত বেশি শুধু রুমানার জন্যই নয়, আমাদেরও বয়ে বেড়ানো ভীষণ দুঃসাধ্য। যে চোখ নিয়ে হাজারো কাব্য, সাহিত্য সে চোখ যখন মানুষরূপী হায়েনার হিংস্র ছোবলে রক্তাক্ত হয়ে পড়ে, তখন এ বেদনা, এ কষ্ট, এ দুঃখ আর ক্ষোভ রাখার জায়গা কোথায়? আমার অন্তত জানা নেই।
রুমানা মনজুর চিকিৎসায় ব্যর্থ হয়ে বিপুল বেদনা আর হতাশা সঙ্গে নিয়ে ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। ল্যাবএইড হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন। ডাক্তাররা তাঁর চোখ নিয়ে তেমন কোনো আশার আলো দেখাতে পারেননি। তাঁর বিশ্ব এখন আলোহীন গহিন অন্ধকারে ডুবে গেছে। কিন্তু কেন? কেন এমনটা হবে? কেন এমনটা হয়?
একবিংশ শতাব্দীর এ সভ্য দুনিয়ায় জীবনের পাল উড়িয়ে এ দেশের নারীরা যখন সব দিক জয়ে ব্যস্ত, তখন রুমানার ওপর চালানো বর্বরতার ব্যাখ্যা দেওয়া সত্যিই দুঃসাধ্য। বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ করেছি, রুমানার ওপর নির্দয় অত্যাচারের কাহিনি প্রকাশ পাওয়ার প্রথম দিকে কেউ কেউ এর যৌক্তিকতা খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন। বিশেষ করে, রুমানার স্বামী সাইদের আটকের পরপরই তিনি যে সহজ ও চিরাচরিত কাজটি করে বসলেন, তাতে অতি উৎসাহী কিছু লোক বলেই বসেছিলেন, ‘দেখেছেন, বলেছিলাম না? এ রকম কিছু না থাকলে কি আর স্বামী ও রকম করে?’ নির্বোধদের ভোঁতা আক্রমণে শুধু ক্ষত বাড়ে না, গায়ে জ্বালা ধরে। রি রি করে। আরে, এ তো এক অতি সস্তা আলাপন!
আমরা পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারছি কেবল এবারই প্রথম নয়, সাইদ রুমানার গায়ে বরাবরই হাত তুলতেন। ৫ জুনের জঘন্য এ ঘটনার দিন কয়েক আগেও তিরি রড দিয়ে রুমানাকে পিটিয়েছিলেন। এখন প্রশ্ন, রুমানা একজন উচ্চশিক্ষিত, মেধাবী ও স্বাবলম্বী হয়েও কেন নিজেকে রক্ষা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হলেন? কেন তিনি দিনের পর দিন এ অসভ্য আচরণ সহ্য করলেন? কেন তিনি অনেক আগেই অসহনীয় এ দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এলেন না? কেন তিনি সাহসী সিদ্ধান্ত নিতে পারলেন না? কেন তাঁর মতো আত্মমর্যাদাশীল নারীকেও শিউরে ওঠার মতো দুর্বোধ্য হামলার শিকার হতে হয়? কেন তিনি স্বামী-সংসারকেই চরম বলে ভেবে নিজের জীবনকে তার বেদিতলে সঁপে দিলেন? (চোখ যাওয়া জীবন যাওয়ারই সমার্থক)। কেন তিনি ছিলেন তথাকথিত ‘ভালো স্ত্রী’ আর জীবনে ‘সুখী দাম্পত্যের সিল’ আঁটাতে এত তন্ময়?
এই অনেকগুলো কেনর উত্তরে বলতে হয়, আমাদের প্রচলিত সমাজ ও পরিবারই এ জন্য মূলত দায়ী। সমাজ ও পরিবারের এক অদৃশ্য শৃঙ্খল ও চাপ শিক্ষিত, অশিক্ষিত, স্বাবলম্বী কিংবা সহায়হীন সব নারীকেই কমবেশি সহ্য করতে হয়। বলা যায়, করতে তাঁরা বাধ্য হন। কারণ একজন নারী তাঁর সংসার থেকে বেরিয়ে এসে সমাজে কোনো রকম মর্যাদা নিয়েই বাঁচতে পারেন না। তাঁকে বাঁচতে দেওয়া হয় না। এমনকি পরিবারও কোনোভাবেই চায় না মেয়ে তার স্বামীর সংসার থেকে বেরিয়ে আসুক। সে রুমানার মতো উচ্চশিক্ষিতই হোক আর সহায়-সম্বলহীন প্রান্তিক কোনো নারীই হোক। উভয়কে নিয়ে সমাজ ও পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য খুব একটা নজরে আসে না। তাই সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রুমানার মতো নারীদেরও পারিবারিক সম্মান, মর্যাদা আর প্রিয় সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের টালমাটাল পরিস্থিতির আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত স্বামী-সংসারের তথাকথিত ঘেরাটোপকেই মেনে নিতে হয়। যেমনটা নিয়েছিলেন রুমানাও।
দেশে নারীশিক্ষার হার বেড়েছে। নারীরা এখন কর্মে নিযুক্ত আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। দিন দিনই তাঁদের স্বাবলম্বী হওয়ার সংখ্যাও বাড়ছে। কিন্তু তলিয়ে দেখলে বোঝা যাবে নারী সম্পর্কে সমাজ ও পরিবারে নানা ধরনের যে ট্যাবু প্রচলিত ছিল, তা আজও বহাল তবিয়তেই রয়েছে। বদলায়নি এতটুকু। বাহ্যিক একটা পরিবর্তনের ঢেউ লক্ষ করা গেলেও অন্তঃস্রোতে বয়ে চলেছে প্রথাগত সেই প্রাচীন ধারা। ফলে পরিস্থিতি দিন দিনই সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় অবশ্যই কাউকে না কাউকে ভাবতে হবে।
লেখাটি শুরু করেছিলাম রুমানার দুটি চোখ নিয়ে। কারণ দিনের যাবতীয় কাজের ভিড়ে কেবলি রুমানার চোখ দুটির কথাই বেশি মনে পড়ে। ভারত থেকে ফিরে চোখে কালো চশমার রুমানা সংবাদ সম্মেলন করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। আমরা তা দেখেছি টিভিতে, পরদিনের পত্রপত্রিকায়।
শরীরের যেকোনো অঙ্গহানিই জীবনের জন্য সীমাহীন দুর্ভোগ নিয়ে আসে। কিন্তু চোখ? চোখ হারানোর মতো পীড়াদায়ক কিছু আছে বলে মনে হয় না। শরীরের প্রতিটি অঙ্গই অত্যন্ত মূল্যবান, সন্দেহ নেই। কিন্তু চোখের অস্তিত্ব আমার কাছে আরও বেশি গুরুত্ববহ। শরীরের কোনো কোনো অঙ্গের অভাব পূরণে বিকল্পের সাহায্য নিতে পারি। কিন্তু চোখের বিকল্প কী? জানা আছে কারও?
চোখের ব্যবহারিক ভূমিকার কথা বাদই দিলাম, তার যে অপরিসীম অন্তর্গত অবদান আমাদের প্রতি মুহূর্তের বেঁচে থাকায়, তা ভুলে যাই কী করে? রুমানা সম্ভবত আর কোনো দিনই দেখতে পাবেন না এই পৃথিবী আর প্রকৃতিকে, তার আপন সন্তানকে, বাবা, মা, আত্মীয়-পরিজন, বন্ধু-বান্ধবকে। দেখার গভীর আনন্দ থেকে তিনি হয়তো সারা জীবনের মতোই বঞ্চিত হতে যাচ্ছেন। এই রুমানার জন্য আমাদের কোনো সমবেদনাই কি যথেষ্ট বলে বিবেচিত হবে? হবে না জানি। কিন্তু এটুকু অন্তত গভীরভাবে প্রয়োজন, হাসান সাইদের এমন কোনো শাস্তি, যাতে দ্বিতীয় কোনো পুরুষ স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার আগে অন্তত একবার ভাববে। আর রুমানার ভেতরের গুমরে ওঠা কান্নার দমকে বিদীর্ণ হতে হতে আমরাও কিছু হলেও সান্ত্বনা কিংবা স্বস্তি পাব।
জুনান নাশিত: কবি ও সাংবাদিক।
nashit_junan@yahoo.com

ক্রিস্টিনার রানিংমেটের নাম ঘোষণা

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কিরচনার আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাঁর রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমাদো বুদুর নাম ঘোষণা করেছেন। কয়েক দিন আগে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন ফার্নান্দেজ।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আগামী ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে সহজে জয় পেতে যাচ্ছেন ফার্নান্দেজ। তিনি বামপন্থী নীতি আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর স্বামী ও দেশটির প্রয়াত প্রেসিডেন্ট নেস্তর কিরচনার আট বছর আগে ওই নীতি গ্রহণ করেন। নেস্তর কিরচনার গত বছর মারা যান।

ক্রিস্টিনার রানিংমেটের নাম ঘোষণা

আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিনা ফার্নান্দেজ ডি কিরচনার আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে তাঁর রানিংমেট বা ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অর্থমন্ত্রী আমাদো বুদুর নাম ঘোষণা করেছেন। কয়েক দিন আগে দ্বিতীয় দফায় প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন ফার্নান্দেজ।
বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, আগামী ২৩ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে সহজে জয় পেতে যাচ্ছেন ফার্নান্দেজ। তিনি বামপন্থী নীতি আরও সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাঁর স্বামী ও দেশটির প্রয়াত প্রেসিডেন্ট নেস্তর কিরচনার আট বছর আগে ওই নীতি গ্রহণ করেন। নেস্তর কিরচনার গত বছর মারা যান।

আইন প্রণয়নে সুশীল সমাজকে আর জড়ানো হবে না

ভারত সরকার বলেছে, ভবিষ্যতে আইন প্রণয়নের কাজে সুশীল সমাজকে আর জড়ানো হবে না। মানবাধিকারকর্মী আন্না হাজারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যৌথভাবে লোকপাল বিলের খসড়া তৈরির কাজের কিছুটা তিক্ত অভিজ্ঞতার পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের এ বক্তব্য এল।
মানবসম্পদ উন্নয়ন (এইচআরডি) মন্ত্রী ও খসড়া প্রণয়ন যৌথ কমিটির অন্যতম সদস্য কপিল সিবাল গতকাল রোববার এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিলের খসড়ায় পরিবর্তন আনা হবে।
পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিবাল আরও বলেন, ‘আমি একে নজির বলছি না। উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে সরকারকে এটা করতে হয়েছে। আমি মনে করি না, একে একটি নজির হিসেবে ধরা যেতে পারে। আমরা খোলা চোখেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।’
ভবিষ্যতে আইন প্রণয়ন-প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে আন্না হাজারের পথ ধরে অন্যান্য মানবাধিকারকর্মীর আন্দোলনের আশ্রয় নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমিও তা ভাবছি।’
উচ্চপর্যায়ে দুর্নীতির বিরুদ্ধে নজরদারির জন্য লোকপাল পদ সৃষ্টি করতে আইন প্রণয়নের জন্য মানবাধিকারকর্মী আন্না হাজারে অনশন কর্মসূচির মাধ্যমে ভারতজুড়ে আলোড়ন তুলেছেন।
আগামী ১৬ আগস্ট থেকে আন্না হাজারে আবারও আমরণ অনশনে যাওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করেননি সিবাল।
এদিকে আন্না হাজারে ভারতের উচ্চ আদালত ও প্রধানমন্ত্রীকে লোকপালের আওতায় আনার যে দাবি জানিয়েছেন, তা উড়িয়ে দিয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি জে এস ভার্মা। তিনি বলেছেন, এটা হবে সংবিধান পরিপন্থী। হাজারের আমরণ অনশন কর্মসূচির হুমকিকে তিনি ‘অগণতান্ত্রিক’ বলে আখ্যায়িত করেন।

আফ্রিকায় ঘটনাবহুল সফর শেষে ফিরলেন মিশেল ওবামা

দক্ষিণ আফ্রিকা ও বতসোয়ানায় ছয় দিনের সফর শেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার স্ত্রী ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা গতকাল রোববার ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। এই সফরে তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের নেতা নেলসন ম্যান্ডেলা ও অন্য নেতাদের সঙ্গে দেখা করেন। এ ছাড়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শিকারের জন্য সংরক্ষিত এলাকাসহ বিভিন্ন দর্শনীয় জায়গা ঘুরে দেখেন।
মিশেল ওবামা প্রথমে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং পরে বতসোয়ানা সফর করেন। মা মারিয়ান রবিনসন, দুই মেয়ে মালিয়া ও সাশা এবং তাদের দুই চাচাতো ভাইবোন মিশেলের সঙ্গে ছিল। ম্যান্ডেলা ছাড়াও মিশেল দক্ষিণ আফ্রিকার আরেক নেতা নোবেলবিজয়ীডেসমন্ড টুটুর সঙ্গে দেখা করেন। সফরের সময় মিশেল তাঁর মেয়েদের নিয়ে মাঠে ফুটবল খেলেছেন। ঘুরতে বেরিয়ে গ্রামে রাস্তার পাশের রেস্তোরাঁয় তাঁরা খেয়েছেন। সফরের সময় তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার তরুণীদের সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য উৎসাহ দেন।
বতসোয়ানার রাজধানী গ্যাবোরনের বিমানবন্দর থেকে গতকাল ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় বতসোয়ানায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল গ্যাভিন তাঁকে বিদায় জানান। দেশটির সহকারী অর্থমন্ত্রী গ্লোরিয়া সোমোলেকায়েও মিশেলকে বিদায় জানাতে বিমানবন্দরে হাজির ছিলেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, মিশেলের এই সফর বতসোয়ানাকে বিশ্ব মানচিত্রে তুলে ধরেছে।

তুরস্ক ও লেবানন সীমান্তে সিরীয় সেনাদের অভিযান

সিরিয়া কর্তৃপক্ষ সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের দমনে তুরস্ক ও লেবাননের সীমান্তবর্তী এলাকায় আরও সেনা পাঠিয়েছে। সেনারা গতকাল রোববার তুরস্কের সীমান্তবর্তী একটি গ্রাম এবং লেবাননের সীমান্তবর্তী একটি শহরে অভিযান চালিয়েছে।
সরকারবিরোধী আন্দোলনকারীরা জানান, সেনারা ট্যাংক নিয়ে তুরস্কের সীমান্তবর্তী আল-নাজিয়া গ্রাম এবং লেবাননের সীমান্তবর্তী কাসির শহরে হামলা চালিয়েছে। সেখানে তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলিবর্ষণ করেছে। হামলার মুখে শত শত মানুষ লেবাননে পালিয়ে গেছে। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়েছে।
আল-নাজিয়া গ্রামটির অবস্থান সিরিয়ার জিসার আল-শুগুর শহরের কাছাকাছি। ওই শহরে চলতি মাসেই বন্দুকধারীদের গুলিতে ১২০ জন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হওয়ার খবর প্রকাশের পর সেখানে সেনাবাহিনী পাঠায় সরকার।
গত কয়েক সপ্তাহে ওই এলাকা থেকে প্রায় ১২ হাজার মানুষ তুরস্কে পালিয়ে গেছে। সম্প্রতি সিরিয়া কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক এবং পালিয়ে যাওয়া লোকজনের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। কিন্তু তা সত্ত্বেও ওই এলাকার বাসিন্দারা ফিরে আসছে না।
এর আগে শনিবার দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের ওপর হামলা এবং একটি শেষকৃত্যানুষ্ঠানে গুলিবর্ষণ করলে অন্তত চারজন বেসামরিক লোক নিহত হয়।
লন্ডনভিত্তিক সিরিয়ার একটি মানবাধিকারগোষ্ঠী সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদেল রহমান বলেন, রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণে অবস্থিত কিসওয়াহ শহরে শনিবার ওই দাফন অনুষ্ঠানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে দুজন নিহত হয়। এ ছাড়া কাসির শহরে অপর দুই বেসামরিক লোককে গুলি করে হত্যা করা হয়।
অন্যদিকে আরও দক্ষিণে অবস্থিত কুসেইর শহরে শুক্রবার একটি বড় ধরনের বিক্ষোভে হামলা চালায় নিরাপত্তা বাহিনী এবং সরকারপন্থী আধা সামরিক বাহিনীর লোকজন। গত শনিবার সেখান থেকে শত শত লোক লেবাননে পালিয়ে যায়।
এদিকে কীভাবে এ সংকট কাটিয়ে ওঠা যায়, তা নিয়ে আজ সোমবার বিদ্রোহীরা একটি আলোচনায় বসার পরিকল্পনা নিয়েছে। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে সিরিয়ায়।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানায়, সরকারের অভিযানে এক হাজার ৩৪২ জন বেসামরিক লোক নিহত হয়েছে। এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর ৩৪২ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে প্রাদেশিক নির্বাচনে ভোট গ্রহণ

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত ‘আজাদ কাশ্মীর’-এ প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনে গতকাল রোববার ভোট গ্রহণ করা হয়েছে।
গতকাল পরিষদের ৪১টি আসনের মধ্যে ৩৮টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হয়। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ ও ভুয়া ভোটার নিবন্ধনের অভিযোগ ওঠার পর তিনটি আসনের নির্বাচন স্থগিত করা হয়।
নির্বাচনে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন), পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) ও মুসলিম কনফারেন্সের (এমসি) মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে।
আজাদ কাশ্মীরের আগের নির্বাচনগুলোতে মূলত পিপিপি ও এমসির মধ্যে লড়াই হয়েছে। সম্প্রতি এখানে পিএমএল-এনের কার্যক্রম শুরু হয়। পিএমএল-এনের কার্যক্রম শুরুর পর নির্বাচনী লড়াই ত্রিমুখী লড়াইয়ে রূপ নেয়।
এদিকে তিনটি আসনে নির্বাচন স্থগিত করার প্রতিবাদে গতকাল মুজাফফরাবাদ, অ্যাবোটাবাদ ও করাচিতে বিক্ষোভ করেন মুত্তাহিদা কওমি মুভমেন্টের (এমকিউএম) কর্মীরা।
নির্বাচন কমিশনের সচিব মোহাম্মদ ইউনুস মুঘল জানান, পাঁচ হাজার ৫৬৬টি ভোটকেন্দ্রে আট হাজার ৩৯১টি বুথে ভোট গ্রহণ করা হয়।