Tuesday, October 27, 2015

‘টাকা চাই না, ছেলে হত্যার বিচার চাই’

পুরান ঢাকার হোসেনি দালান এলাকায় তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতিকালে বোমা হামলার ঘটনায় নিহত কিশোর সাজ্জাদ হোসেন সানজুর পরিবারের জন্য সরকার ২০ হাজার টাকা অনুদান দিতে চাইছে। এ খবর জানিয়ে নিহত কিশোরের মা রাশেদা বেগম বলেন, ‘আমি সরকারের কাছে টাকা চাই না। ছেলে সানজু হত্যার বিচার চাই। আমার ছেলের মতো করুণ মৃত্যু অন্য কারও ভাগ্যে যেন না ঘটে।’
আজ মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা উত্তর পাড়া হাবিব নগর এলাকায় নিহত সাজ্জাদের বাসায় খোঁজ নিতে গেলে তার মা প্রথম আলোকে এসব কথা বলেন।
সাজ্জাদের মা আরও বলেন, নাতনি সাজিয়া সুলতানা স্নেহা ও ছেলের শাশুড়ি আয়শা বেগম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। তাদের চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন। আহতদের ঠিকভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি যথাযথ চিকিৎ​সার জন্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। বলেন, ‘আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।’
সাজ্জাদের বাবা মো. নাসির বলেন, ছেলের লেখাপড়ার খরচ জোগাতে তিনি পুরান ঢাকার একটি রেক্সিনের দোকানে চাকরি করতেন। ছেলে মারা গেল। কার জন্য তিনি চাকরি করবেন?—সে প্রশ্ন করে নিজেই বললেন, ‘এখন আর চাকরি করব না।’ সরকারের অনুদানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার টাকার দরকার নেই।’ তিনি এই টাকা আহতদের চিকিৎ​সার জন্য দিতে বলেছেন।
সাজ্জাদ যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল, সেই চড়াইল নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ে আজ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

কৃত্রিম চীনা দ্বীপের কাছে টহলদারি মার্কিন রণতরীর, 'তাইওয়ান আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন'

চীনাদের বানানো কৃত্রিম দ্বীপ নিয়ে আমেরিকা ও লালচিনের মধ্যে সম্পর্ক প্রতিনিয়ত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠছে। পরিস্থিতি সরজমিনে দেখতে সোমবার গভীর রাতেমার্কিন নৌবহরের একটি ডেস্ট্রয়ার দক্ষিণ চীন সাগরে ঢুকেছে। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগকে উদ্ধৃত করে এই খবর নিউ ইয়র্ক টাইমসের।
জানা গেছে, ল্যাসেন নামের গাইডেড মিসাইলবাহী ডেস্ট্রয়ারটি কৃত্রিম দ্বীপের ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে ঢুকে পড়েছে। মার্কিন নৌবাহিনী স্পষ্টতই জানিয়েছে, যেহেতু ওই পানিসীমা বিতর্কিত, তাই চিনা নৌবাহিনীকে আগাম সে খবর প্রয়োজন তারা বোধ করেনি। অর্থাৎ, এই কৃত্রিম দ্বীপ নিয়ে বেইজিংকে এবার সরাসরি একটি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিল ওবামা প্রশাসন৷
চীন সাগরে ঢুকে পড়ার এই ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বেইজিং। চীনের সরকারি সংবাদ মাধ্যম সিসিটিভিকে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-র হুঁশিয়ারি, “যেকোনো বেপরোয়া সিদ্ধান্ত নেয়ার আগে দু’বার ভাবুন।”
সেই হুঁশিয়ারি উড়িয়ে দিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা মুখপাত্র জন কারবি বলেছেন, “আন্তর্জাতিক পানিসীমায় মহড়া চালাতে কারো কাছে অনুমতি চাওয়ার প্রশ্নই ওঠে না।”
দক্ষিণ চীন সাগর ও পূর্ব চীন সাগরের একটি বড় এলাকা বহুদিন ধরেই নিজেদের পানিসীমা বলে দাবি করছে চীন। বস্তুত সেই মাও সে তুংয়ের সময় থেকে৷
'তাইওয়ান আক্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীন'
তাইওয়ানের সামরিক বাহিনী মঙ্গলবার বলেছে, চীন সক্রিয়ভাবে তার সামরিক বাহিনীর শক্তি বৃদ্ধি করে চলেছে এবং ২০২০ সাল নাগাদ তারা তাইওয়ান আক্রমণ করার মতো শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
তাইওয়ানের চলতি বছরের প্রতিরক্ষা রিপোর্টে বলা হয়, ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সম্পর্ক সত্ত্বেও চীন ব্যাপক পরিসরে যুদ্ধ-সামর্থ্য বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে, যা সমুদ্র প্রণালীর উভয় পাশে একটি সামরিক সংঘাতের হুমকি জিইয়ে রাখবে।’
এতে বলা হয়, ‘চীনের মূল ভূ-খণ্ডের সামরিক ব্যয় বৃদ্ধির হার গত দশকে গড়ে ডাবল ডিজিটে উন্নীত হয়েছে, যা একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কম।’
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রকাশিত এ দ্বি-বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, এ অঞ্চলে কেনো ধরনের আগ্রাসনে বিদেশী বাহিনীর হস্তক্ষেপ ঠেকাতে চীন তার নৌ ও বিমান বাহিনীকেও শক্তিশালী করে তুলছে।
এতে বলা হয়, চীন বিশ্বাস করে যে, তারা তাইওয়ান আক্রমণ করলে বিদেশী হস্তক্ষেপই হবে তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয়।
উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালে এক গৃহযুদ্ধের পর চীন ও তাইওয়ান ভাগ হয়ে যায়।
তাইওয়ানের বর্তমান চীনপন্থী প্রেসিডেন্ট মা ইং-জিয়াউ ২০০৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে দু’দেশের সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে।
চীন এখনো তাইওয়ানকে তাদের বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া ভূ-খণ্ড হিসেবেই বিবেচনা করে থাকে। তাইওয়ান আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করলে চীন শক্তি প্রয়োগ করবে না এমন ঘোষণা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বর্ধিত হারে অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের কারণে তাইওয়ানের পাহারা শিথিল হওয়ার আশংকা রয়েছে।

অবশেষে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো অবৈধ দোকানপাট

রাজশাহী নিউমার্কেটের সামনে ফুটপাতের
ওপরের ২৩টি অবৈধ দোকান গতকাল উচ্ছেদ
করেছে সিটি করপোরেশন l প্রথম আলো
রাজশাহী নিউমার্কেটের নকশা ভেঙে প্রধান ফটকের দুই পাশে গড়ে তোলা অবৈধ দোকানগুলো পাঁচ বছর পর গতকাল সোমবার উচ্ছেদ করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে তিন দফা নোটিশ দেওয়ার পরও দোকানগুলো সরিয়ে না নেওয়ায় এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলো।
সকাল ১০টার দিকে শুরু হওয়া ওই অভিযানে নেতৃত্ব দেন রাজশাহীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোর্তুজা আল মুহিত। অভিযানে সহযোগিতা করে র‌্যাব ও পুলিশ।
মার্কেট ঘিরে এসব অবৈধ দোকান নিয়ে ২৩ অক্টোবর প্রথম আলোয় ‘রাজশাহী নিউমার্কেট ঘিরে অবৈধ দোকান: পাঁচ বছর পর উচ্ছেদ নোটিশ’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়।
সিটি করপোরেশন সূত্র জানায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর দোকানগুলো সাত কার্যদিবসের মধ্যে সরিয়ে নিতে নোটিশ দেওয়া হয়। কিন্তু তখন একটি দোকানও সরানো হয়নি। পরে ২২ সেপ্টেম্বর আবার নোটিশ দিয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে দোকান সরিয়ে নিতে বলা হয়। এবারও কোনো সাড়া নেই। এরপর ৮ অক্টোবর চূড়ান্ত নোটিশ দেয় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ।
সূত্রটি জানায়, এরপর গতকাল উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের দুই দিন আগে এলাকায় মাইকিং করে দোকানের মালামাল সরিয়ে নিতে বলা হয়। দোকানিরা তাঁদের মালামাল সরিয়ে নিলেও কয়েকটি দোকান ছাড়া আর কেউই দোকানের সাজসজ্জা খুলে নেয়নি।
এ বিষয়ে কয়েকজন দোকানমালিক বলেন, তাঁরা আশা করেছিলেন, শেষ পর্যন্ত অভিযান না-ও হতে পারে। কিন্তু অভিযানের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তাঁরা তড়িঘড়ি করে দোকানের সাজসজ্জা খুলে নেন।
অভিযান চালিয়ে মোট ২৩টি দোকান বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় নিউমার্কেটের সামনের একটি লেনের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়। শত শত মানুষ রাস্তায় দাঁড়িয়ে অভিযানের দৃশ্য দেখে।
২০০৯ সালে নিউমার্কেটের পশ্চিম পাশে ‘দারুচিনি প্লাজা’র কাজ শুরু হয়। ৩৬ মাসে এর নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। নিউমার্কেটের কাঁচা বাজারের জায়গায় নয়তলা এ মার্কেটের নির্মাণকাজ শুরুর ফলে কিছু সবজি ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হন। এই ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সাময়িকভাবে পুনর্বাসনের জন্য সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল।
ওই ঘোষণার সুযোগে মার্কেটের বাইরের পূর্ব পাশের দেয়াল ঘেঁষে ২৩টি দোকান গড়ে ওঠে। উত্তর পাশেও তৈরি হয় আরও কয়েকটি দোকান। এর মধ্যে দু-একটি সবজির দোকান ছাড়া অন্যগুলো ইলেকট্রনিকস সামগ্রীর দোকান। সে সময় অভিযোগ উঠেছিল, প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত সবজি ব্যবসায়ীরা দোকান পাননি। একটি প্রভাবশালী মহল ‘পজিশন’ দখল করে অন্য ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেয়। রহস্যজনক কারণে এত দিন দোকানগুলো ভাঙা হয়নি।

অবকাঠামো উন্নয়নে পিছিয়ে বাংলাদেশ by মামুন আব্দুল্লাহ

ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা সক্ষমতার বিচারে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ সবচেয়ে পিছিয়ে। আর অবকাঠামোগত দিকে দিয়ে এশিয়ার ১৩টি দেশেরে মধ্যে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে। এরমধ্যে অবকাঠমোগতভাবে পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে পিছিয়ে থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক দিক দিয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। এজন্য সার্বিক বিবেচনায় ব্যবসায়িক সক্ষমতায় বাংলাদেশ এশিয়াতে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। সম্প্রতি দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য তুলে ধরা হয়। বিশব্যাংক বলছে, গত কয়েক বছরে সড়ক, রেল ও বন্দর উন্নয়নে বাংলাদেশ প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করেছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোনো প্রতিফলন নেই। অবকাঠামো উন্নয়নে দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ।
এ বিষয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান যুগান্তরকে বলেন, সরকার দেশের অবকাঠামো ব্যবস্থার উন্নয়নে ব্যাপক বিনিয়োগ করছে। পদ্মা সেতু, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ চার লেন, স্থলবন্দর এবং রেল খাতের উন্নয়নে বড় বড় প্রকল্পের বাস্তবায়ন চলছে। খুব শিগগিরই এসব প্রকল্পের সুফল জনগণ পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যথা সময়ে প্রকল্পের কাজ শেষ করতে তদারকি করা হচ্ছে। যে কোনো প্রকার অনিয়ম ঠেকাতে নজরদারি জোড়দার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের স্কোর ৭-এর মধ্যে ২ দশমিক ৬। এ অবস্থান এশিয়ার মধ্যে দ্বিতীয়। এক্ষেত্রে নেপাল ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার বাকি সব দেশের স্কোর বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। নেপালের স্কোর ২ দশমিক ২। দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশেগুলোর মধ্যে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের স্কোর ৩ দশমিক ৭, শ্রীলংকার ৪ দশমিক ২, ভুটানের ৩ দশমিক ৪, আর পাকিস্তানের অভস্থান ২ দশমিক ৭। আর পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া, চীন, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়াসহ সবাই অবকাঠামো খাতে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। অন্যদিকে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতায় বাংলাদেশের অবস্থান এশিয়াতে সর্বনিুে। এ সূচকে বাংলাদেশের স্কোর ৭ এর মধ্যে ২ দশমিক ৯। দক্ষিণ এশিয়ার বাকি ৫টি দেশের মধ্যে ভারত ও শ্রীলংকার স্কোর ৪ দশমিক ১। নেপাল অবকাঠামোতে পিছিয়ে থাকলেও এ সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। নেপালের স্কোর ৩ দশমিক ৪, ভুটানের অবস্থান ৪ দশমিক ৬, পাকিস্তানের স্কোর ৩ দশমিক ৩। একইসঙ্গে পূর্ব এশিয়ার ৭টি দেশের তুলনায়ও বাংলাদেশের অবস্থান নিুে। এর মধ্য দক্ষিণ কোরিয়ার স্কোর ৩ দশমিক ৯, চীনের ৪ দশমিক ২, থাইল্যান্ডের ৩ দশমিক ৭, ইন্দোনেশিয়ার ৪ দশমিক ১, ফিলিপাইনের ৩ দশমিক ৮, ভিয়েতনামের ৩ দশমিক ৭ ও কম্বোডিয়ার ৩ দশমিক ৩। বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা প্রতিবেদন ২০১৫-১৬ থেকে এসব তথ্য প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগে স্থবিরতা অনেক দিনের। এ স্থবিরতা না কাটিয়ে উঠার পেছনে প্রাতিষ্ঠানিক ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা একটি বড় কারণ। তিনি বলেন, বিনিয়োগের তুলনায় অবকাঠামো উন্নয়ন যে হচ্ছে না, তা দৃশ্যমান বাস্তবতা। এর কিছু অংশ অপচয় হতে পারে। অদক্ষতার কারণেও বিনিয়োগের সুষ্ঠু ব্যবহার না হতে পারে। আবার দুর্নীতিও থাকতে পারে। তবে দুর্নীতি হয়েছে কিনা তা সুনির্দিষ্ট করে বলা কঠিন। তবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাংক তার প্রতিবেদনে বলছে, উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য সামষ্টিক অর্থনীতিতে নীতি সহায়তা দিতে হবে। এজন্য দ্রুত আর্থিক খাতে বেশকিছু সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতে জবাবদিহিতা আরও বাড়াতে হবে। এছাড়া বিনিয়োগ বাড়াতে চলমান সংস্কার কার্যক্রমের গতিশীলতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারূপ করা হয়েছে।

ইতালীয় নাগরিক হত্যা: ৪ সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার, নেপথ্যে ‘বড় ভাই’

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ডিএমপির কমিশনার
আছাদুজ্জামান মিয়া (ডানে)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন
ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি)
মনিরুল ইসলাম l ছবি: প্রথম আলো
ঘটনার ২৮ দিন পর ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানাল পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে একজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন।
সিজার হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের কথা জানিয়ে গতকাল সোমবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, কথিত বড় ভাইয়ের লক্ষ্য ছিল বিদেশি নাগরিক খুন করে দেশকে চাপের মধ্যে ফেলা। তাঁকে খোঁজা হচ্ছে। তবে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, গত রোববার রাজধানীর গুলশান ও বাড্ডায় অভিযান চালিয়ে ইতালির নাগরিক সিজার হত্যায় জড়িত অভিযোগে মো. রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেল ওরফে বিদ্যুৎ রাসেল (৩৫), মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ভাগনে রাসেল ওরফে কালা রাসেল (৪০), তামজিদ আহম্মেদ ওরফে রুবেল ওরফে মোবাইল রুবেল ওরফে শুটার রুবেল (৩৫) ও মো. শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গুলশান থানায় দায়ের করা সিজার তাবেলা হত্যা মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তাঁদের মধ্যে রাসেল চৌধুরীকে গুলশান, মিনহাজুল আরেফিনকে বাড্ডার সাতারকুল, তামজিদ ও শাখাওয়াতকে মধ্য বাড্ডা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশান ২-এর ৯০ নম্বর সড়কের গভর্নর হাউসের সীমানাপ্রাচীরের বাইরের ফুটপাতে সিজারকে (৫১) গুলি করে হত্যা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, গ্রেপ্তার তামজিদ, রাসেল চৌধুরী ও শাখাওয়াত হোসেন হত্যায় সরাসরি অংশ নেন। মিনহাজুলের তথ্য ও দেখানো মতো হত্যায় ব্যবহৃত এফজেডএস সাদা রঙের মোটরসাইকেলটি মধ্য বাড্ডায় শাখাওয়াতের বাসার গ্যারেজ থেকে জব্দ করা হয়। এ সময় শাখাওয়াতকে গ্রেপ্তার করা হয়। মিনহাজুল ও রাসেল চৌধুরী মাদকাসক্ত। বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এর আগেও তাঁরা কারাভোগ করেছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে অনেক মামলা আছে।
পুলিশ কমিশনার বলেন, তামজিদ দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও ঠান্ডা মাথার খুনি। তাঁর অপরাধের খতিয়ান পুলিশের কাছে আছে। শাখাওয়াত ইয়াবা ব্যবসায়ী ও অস্ত্র সরবরাহে যুক্ত।
আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে অপরাধের ধরন, প্রকৃতি বিশ্লেষণ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিশ্বস্ত গুপ্তচর নিয়োগ করা হয়। একই সঙ্গে খুনিদের প্রযুক্তি, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা (সিসি) ফুটেজের সহায়তা নিয়ে নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা হয়েছে। মোটরসাইকেলের মালিক শাখাওয়াত জিজ্ঞাসাবাদে বলেন, মিনহাজুল একটি অপারেশনে যাওয়ার কথা বলে অনুরোধ করে তাঁর মোটরসাইকেলটি নিয়ে যান। মিনহাজুলের সঙ্গে শাখাওয়াতের সুসম্পর্ক। রাতে আবার মিনহাজুল তাঁকে মোটরসাইকেলটি ফেরতও দেন।
ডিএমপি কমিশনার আসামিদের বরাত দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিবরণ তুলে ধরেন। জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা বলেছেন, ২৮ সেপ্টেম্বর হত্যাকাণ্ডের আগে রাসেল চৌধুরী গুলশান ২-এর ৯০ নম্বর সড়কের পূর্ব দিকে উত্তর সিটি করপোরেশনের একটি আঞ্চলিক কার্যালয়ের অফিসের সামনে অপেক্ষা করেন। পরে মিনহাজুল ও তামজিদ মোটরসাইকেলে এসে রাসেল চৌধুরীর সঙ্গে একত্র হন। ৯০ নম্বর সড়ক ধরে পূর্ব দিক দিয়ে সিজারকে পশ্চিমে যেতে দেখেন রাসেল চৌধুরী ও মিনহাজুল এই বিদেশি নাগরিককে হত্যার জন্য তামজিদকে দেখিয়ে দেন। পরে তাঁরা তিনজনে মোটরসাইকেলে এই বিদেশিকে অনুসরণ করে ৯০ ও ৮৩ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে মোটরসাইকেলটি থামান। তখন তামজিদ সিজারকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়েন। এতে সিজার মাটিতে শুয়ে পড়েন। তখন তামজিদ দৌড়ে দুজনের পেছনে মোটরসাইকেলে উঠে পালিয়ে যান।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির কমিশনার বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা বলেন, একজন বড় ভাই বিদেশিকে খুন করার জন্য তাঁদের ভাড়ায় নিয়োগ করেন। খুনের আগে তাঁদের অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়। বাকি টাকা দেওয়ার কথা থাকলেও আর দেওয়া হয়নি। পুলিশের তৎপরতার কারণে তাঁরা পালিয়ে ছিলেন। তিনি বলেন, তাঁদের কাছ থেকে পাওয়া সেই তথ্য যাচাই-বাছাই করে বড় ভাইকে শনাক্ত ও অবস্থান নিশ্চিত হয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন, ওই বড় ভাইয়ের পেছনে মদদদাতা ও লাভবান হচ্ছেন কারা, সেই বিষয়গুলো নিবিড় তদন্ত করে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রটি উদ্ধারে তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বড় ভাইকে গ্রেপ্তার করতে পারলে এর পেছনে কারা আছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সিজার তাবেলা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা (বাঁ থেকে)
তামজিদ আহম্মেদ ওরফে রুবেল, শাখাওয়াত হোসেন
ওরফে শরিফ, রাসেল চৌধুরী ও মিনহাজুল
আরিফিন ওরফে রাসেল l ছবি: প্রথম আলো
সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নোত্তর
প্রশ্ন: একজন বিদেশির লাশ ফেলা, নাকি এটা টার্গেট কিলিং ছিল, এ জন্য গ্রেপ্তারকৃতরা কত টাকা পেয়েছেন?
ডিএমপি কমিশনার: গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন, এটা টার্গেটিং কিলিং না। বাংলাদেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি ও বিদেশি একজন নাগরিককে খুন করলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হবে। এতে সরকার চাপ ও বেকায়দায় পড়ে যাবে। বিদেশি নাগরিক, বিশেষ করে পশ্চিমা নাগরিকেরা নিরাপদ নয় বলে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে চাপে ফেলার অপকৌশল হিসেবে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে। তিনজনের তথ্যে টাকার অঙ্কের গরমিল আছে। তাঁদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সব প্রশ্নের জবাব মিলবে।
প্রশ্ন: কথিত বড় ভাইয়ের সঙ্গে জঙ্গি, না কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা আছে?
ডিএমপি কমিশনার: সিজার হত্যা মামলায় জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার তথ্য-প্রমাণ ও আলামত এখন পর্যন্ত মেলেনি। আইএস এই কাজ করেছে বলে যে প্রচার চালিয়েছে, সে বিষয়ে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে তাঁরা নিশ্চিত হয়েছেন, প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করতে আইএস নাটক সাজানো হয়েছে। পুলিশের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে, একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী, পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকারকে চাপে ফেলে তাদের অন্যায় ও অসাধু উদ্দেশ্য চরিতার্থ করার জন্য আইএসের ঘাড়ে দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
প্রশ্ন: ১০ দিন আগে রাসেল চৌধুরীকে আটক করে আজ (গতকাল) উপস্থাপন করা হয়েছে, তাঁদের বাসায় ডিবি পরিদর্শক তাঁর মোবাইল নম্বরও দিয়ে এসেছেন। বিষয়টি যদি ব্যাখ্যা করতেন।
ডিএমপি কমিশনার: এটা তথ্যনির্ভর নয়। পুলিশের তৎপরতার কারণে আসামিরা পালিয়ে থাকতে পারেন। গত রোববার তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রশ্ন: হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা কত দিনের, কবে থেকে টার্গেট করা হয়েছিল?
ডিএমপি কমিশনার: আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সাত ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদে এক ভাড়াটে খুনি একযোগে সব স্বীকার করবে, তা প্রত্যাশা করা যায় না। এখন পর্যন্ত তাঁরা যে তথ্য দিয়েছেন তাঁদের টার্গেট সিজার তাবেলা ছিলেন না। কারণ তাঁদের বড় ভাইয়ের নির্দেশ ছিল, বাংলাদেশে বিদেশিরা নিরাপদে নেই। এতে সরকারকে চাপে ফেলানো যাবে। তাঁদের লক্ষ্য ছিল বিদেশি নাগরিক।
এক আসামির স্বীকারোক্তি
সিজার তাবেলা হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার চারজনকে গতকাল আদালতে পাঠানো হয়। তাঁদের মধ্যে চাক্কি রাসেল, ভাগনে রাসেল ও শরীফকে ১০ দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম মো. মাহবুবুর রহমান তিন আসামির রিমান্ড বিষয়ে শুনানি শেষে প্রত্যেককে আট দিন করে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দেন।
আর তামজিদ আহম্মেদ আদালতে জবানবন্দি দিতে রাজি হন। গতকাল বিকেলে ঢাকার মহানগর হাকিম শাহারিয়ার মাহমুদ আদনান তাঁর খাসকামরায় তামজিদের জবানবন্দি গ্রহণ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত।
আদালত সূত্র জানায়, আসামি তামজিদ আদালতে সিজার তাবেলা হত্যার কথা স্বীকার করেন। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, চাক্কি রাসেল ও ভাগনে রাসেল ওরফে কালা রাসেল দুজনে বন্ধু।
জবানবন্দিতে তামজিদ আহম্মেদ বলেছেন, ‘ঘটনার দিন হত্যাকাণ্ডের স্থলে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন রাসেল চৌধুরী ওরফে চাক্কি রাসেল। মিনহাজুল আরেফিন রাসেল ওরফে ভাগনে রাসেল ওরফে কালা রাসেল মোটরসাইকেল চালিয়ে আমাকে নিয়ে আসে। আমি মোটরসাইকেল থেকে নামি। তখন চাক্কি রাসেল ইশারা দিয়ে সিজার তাবেলাকে দেখিয়ে দেয়। তখন আমি তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর চারটি গুলি করি। এরপর আমরা মোটরসাইকেলযোগে বাড্ডার একটি মাঠে যাই।’
নিজের জড়িত থাকার ব্যাপারে তামজিদ বলেন, ‘কালা রাসেলকে বড় ভাই হিসেবে জানি। কোরবানি ঈদের কয়েক দিন আগে কালা রাসেলের কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়াবা কিনে নিই। এর বিনিময়ে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা। ঈদের আগে ইয়াবা কেনা বাবদ ১০ হাজার টাকা পরিশোধ করি। বাকি থাকে ৪০ হাজার টাকা। ঈদের দিন আমাকে কালা রাসেল বলে, বাকি টাকা দিতে হবে না। একটা কাজ করে দিতে হবে।’
তামজিদ আরও বলেছেন, চাক্কি রাসেল ও কালা রাসেল ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ঈদের পরদিন কালা রাসেল তাঁকে চাক্কি রাসেলের কাছে নিয়ে যান। তখন চাক্কি রাসেল বলেন, গুলশান এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে হবে। একজনকে গুলি করে হত্যা করতে হবে।
সিজার তাবেলাকে হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র প্রসঙ্গে তামজিদ বলেন, ‘আমি যে পিস্তল দিয়ে গুলি করে হত্যা করেছি তা মধ্য বাড্ডার ভাঙারি সোহেলের। সোহেলের কাছ থেকে এই অস্ত্র নিয়ে আসে চাক্কি রাসেল। গুলি করার পর ওই অস্ত্র আবার চাক্কি রাসেলের কাছে ফেরত দিই। চাক্কি রাসেল আবার ভাঙারি সোহেলের কাছে ফেরত দেয়।’
পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) ফরিদ মিয়া আসামি তামজিদ আহম্মেদ ওরফে শুটার রুবেলের জবানবন্দি দিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।
ওরা জড়িত নয়, দাবি স্বজনদের
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) গ্রেপ্তার করা মিনহাজুল আরিফিন ওরফে রাসেল (৪০), শাখাওয়াত হোসেন ওরফে শরিফ (৩৫), রাসেল চৌধুরী (৩৫) ও তামজিদ আহম্মেদ ওরফে রুবেল (৩৫) ইতালির নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যায় জড়িত নন বলে দাবি করেছেন তাঁদের স্বজনেরা।
মিনহাজুল আরিফিন সপরিবারে রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় থাকেন। তাঁর বাবা সিরাজুল ইসলাম গতকাল সোমবার প্রথম আলোকে বলেন, মিনহাজুল পুরোনো আসবাবের ব্যবসা করেন। ১২ অক্টোবর এলাকার রাস্তা থেকে ডিবি পরিচয়ে তাঁকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর ডিবি কার্যালয়ে খোঁজ নিতে গেলে বলা হয়, মিনহাজুল নামের কাউকে আটক করা হয়নি। তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে ১৬ অক্টোবর বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাঁর তিন ছেলে-চার মেয়ের মধ্যে মিনহাজুল সবার ছোট। বছর পাঁচেক আগে মিনহাজুলকে বিয়ে করানো হয়। এর তিন মাস পর মিনহাজুলের স্ত্রী মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন। বর্তমানে তিনি পাবনার মানসিক হাসপাতালে আছেন। স্ত্রীর অসুস্থতার পর মিনহাজুল মাদকসক্ত হয়ে পড়েন। তাঁকে স্থানীয় একটি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা করিয়ে কিছুটা সুস্থ করে তোলা হয়েছে। দেড় বছর আগে পাঁচটি ইয়াবা রাখার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় একটি মামলা হয়েছিল। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি কারাগারে গিয়েছিলেন। এরপর জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, মিনহাজুল মাদক ব্যবসায় জড়িত নন। মানুষ খুন করা তো দূরের কথা, মুরগি জবাই করার মতো সাহসও তাঁর নেই। গতকাল টিভি দেখে ছেলে গ্রেপ্তার হওয়ার বিষয়টি জেনেছেন। তিনি বলির পাঁঠা হয়েছেন। ছেলে গ্রেপ্তারের খবরে মিনহাজুলের পক্ষাঘাতগ্রস্ত মা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
গ্রেপ্তার করা শাখাওয়াত হোসেনও মধ্য বাড্ডায় থাকতেন। গতকাল রাতে বাড়িটি তালাবদ্ধ দেখা যায়। তবে পাশেই আরেকটি বাড়ি আছে তাঁদের। ওই বাড়িতে থাকেন তাঁর ভাই মো. সোহাগ। তিনি বলেন, ১৪ অক্টোরব রাতে মোটরসাইকেলসহ শাখাওয়াতকে ডিবি পরিচয়ে আটক করে নিয়ে যায় কয়েকজন ব্যক্তি। এরপর ডিবি কার্যালয়ে গেলে বলা হয়, ডিবি শাখাওয়াতকে আটক করেনি।
সোহাগ বলেন, মধ্য বাড্ডায় তাঁদের একাধিক বাড়ি আছে। এসব বাড়ির ভাড়া তুলে শাখাওয়াত চলতেন। শাখাওয়াত স্থানীয় বিএনপির কর্মী। দুই বছর আগে স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হওয়ার পর তিনি আর বিয়ে করেননি। তিনি বলেন, গতকাল টিভিতে শাখাওয়াতকে গ্রেপ্তারের কথা জেনেছেন। এতে তিনি বেঁচে আছেন দেখে কিছুটা স্বস্তি পেয়েছে তাঁদের পরিবার। তবে তিনি মনে করেন, তাঁর ভাই নির্দোষ। এলাকার মানুষের বিভিন্ন ধরনের উপকার করতেন তিনি।
রাসেল চৌধুরীকে ১০ অক্টোবর দক্ষিণ বাড্ডার বাসা থেকে ডিবি পরিচয়ে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে তাঁর পরিবার। তাঁর মা আফরোজা আক্তার বলেন, রাসেল বিএনপির সমর্থক, কোনো পদে নেই। বিএনপির মিছিল-সমাবেশে যেতেন। আগে বিদ্যুৎ বিভাগে ঠিকাদারি করলেও কয়েক বছর ধরে বেকার। এলাকায় ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা আছে। এ ছাড়া কোনো থানায় জিডি বা মামলা নেই। তিনি মনে করেন, তাঁর ছেলে মানুষ খুনে জড়িত নন। রাসেলের বাবা শাহজাহান চৌধুরী বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী।
তামজিদ আহম্মেদের মা শিরিজান বেগম ও মামা তৌহিদ মিয়া বলেন, ১২ অক্টোবর সন্ধ্যায় বাসা থেকে বের হওয়ার পর থেকে তামজিদ নিখোঁজ ছিলেন। বিভিন্ন স্থানে ও ডিবি কার্যালয়ে গিয়েও তাঁর সন্ধান মেলেনি। পরে নিখোঁজের ঘটনায় বাড্ডা থানায় জিডি করা হয়। গতকাল টিভিতে দেখেছেন, তামজিদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁরা বলেন, তামজিদের বিরুদ্ধে কোনো থানায় মামলা কিংবা জিডি নেই। তাঁরা কোনোভাবেই বিশ্বাস করেন না, তামজিদ মানুষ খুন করেছেন।
তৌহিদ মিয়া বলেন, চার বছর বয়সে তামজিদের বাবা মারা যান। এরপর তাঁর কাছে বেড়ে ওঠেন তিনি। মুঠোফোন মেরামত ও বৈদ্যুতিক কাজ করতেন তিনি। রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। গ্রেপ্তারের খবর জেনে তামজিদের মা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন।
সিজার হত্যায় সন্দেহভাজন হিসেবে তদন্তকারীদের শনাক্ত করা তামজিদ ও রাসেল চৌধুরীর বিষয়ে প্রথম আলোতে প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিল।
গত ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় গুলশানে সিজারকে (৫১) গুলি করে হত্যা করা হয়।

সাদ্দাম-গাদ্দাফি থাকলে বিশ্ব এখনকার চেয়ে ভালো হতো

ডোনাল্ড ট্রাম্প
সাদ্দাম হোসেন ও মুয়াম্মার গাদ্দাফির মতো স্বৈরশাসকেরা তাঁদের দেশে এখনো ক্ষমতায় থাকলে এই বিশ্ব বসবাসের জন্য আরও ভালো জায়গা হতো বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাজনীতিক ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী ট্রাম্প টেলিভিশন চ্যানেল সিএনএনের ‘স্টেট অব ইউনিয়ন’ নামের আলোচনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ওই মন্তব্য করেন। গত সপ্তাহে ওই অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের কারণে মধ্যপ্রাচ্য অশান্ত হয়ে উঠেছে।
অনুষ্ঠানে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ইরাকের ক্ষমতাচ্যুত (পরে ফাঁসি) প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম ও লিবিয়ার ক্ষমতাচ্যুত হয়ে নিহত প্রেসিডেন্ট গাদ্দাফি এখনো দেশ দুটির নেতা থাকলে তা বিশ্বের জন্য কি ভালো হতো? জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘এক শ ভাগ।’ রিপাবলিকান পার্টি থেকে নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশের শাসনামলে ২০০৩ সালে মার্কিন নেতৃত্বাধীন অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হন ইরাকের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম। ২০০৬ সালে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১১ সালের অক্টোবরে পশ্চিমাদের সহায়তায় লিবিয়ার চার দশকের শাসক গাদ্দাফিকে ক্ষমতাচ্যুত ও হত্যা করে দেশটির বিদ্রোহীরা। পুঁজিপতি আবাসন ব্যবসায়ী ট্রাম্প বলেন, ‘সাদ্দাম বা গাদ্দাফির সময়কালের চেয়ে এখনকার পরিস্থিত অনেক বেশি খারাপ। লিবিয়া এখন বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে রয়েছে। ইরাকও তাই। সিরিয়ায়ও দুর্যোগ চলছে। পুরো মধ্যপ্রাচ্যই বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে পড়েছে।’ ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বলছি না যে তিনি (সাদ্দাম) ভালো লোক ছিলেন। তিনি ভয়ংকর লোক ছিলেন।

কৌতুক অভিনেতা থেকে রাষ্ট্রপ্রধান

জিমি মোরালেস
রাজনীতির কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। ছিলেন কৌতুক অভিনেতা। সেই পরিচিতি নিয়েই নামলেন দেশের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের লড়াইয়ে। বিপুল ভোটে জিতেও গেলেন। হয়ে যাচ্ছেন গুয়াতেমালার রাষ্ট্রপ্রধান! গুয়াতেমালায় গত রোববার অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কৌতুক অভিনেতা ও টিভি ব্যক্তিত্ব জিমি মোরালেস ৬৮ শতাংশ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক ফার্স্ট লেডি সানদ্রা তরেস পেয়েছেন ৩২ শতাংশ ভোট। দেশটির নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, মোট ৯৭ শতাংশ কেন্দ্রের ভোট গণনায় করে এই ফল পাওয়া গেছে। দুর্নীতির কেলেঙ্কারির কারণে গত ৩ সেপ্টেম্বর পদত্যাগে বাধ্য হন প্রেসিডেন্ট অত্তো পেরেজে।
এর তিন দিন পর প্রথম দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। রোববার দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে জয়ী হলেন মোরালেস। জয় নিশ্চিত হওয়ার পর জাতীয় টেলিভিশনে জনগণের উদ্দেশে মোরালেস বলেন, ‘এই নির্বাচনে আপনারা আমাকে প্রেসিডেন্ট মনোনীত করেছেন। আমি একটি ক্ষমতা পেয়েছি, যে ক্ষমতা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষমতা...’ আমি সর্বশক্তি দিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করব।’ টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে সানদ্রা তরেস পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘জনগণ তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী ভোট দিয়েছেন এবং আমরা জনগণের পছন্দকে শ্রদ্ধা করি। আমরা মোরালেসের সাফল্য কামনা করি।’

বউ ভাগাভাগি পরামর্শে অধ্যাপক একঘরে!

দরিদ্র কয়েক পুরুষ মিলে একজন নারীকে বিয়ে করার পরামর্শ দিয়ে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন চীনের এক অধ্যাপক। এমনকি সামাজিকভাবেও অনেকটা একঘরে হয়ে পড়েছেন ওই অধ্যাপক। ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক শি জৌশির দেয়া এ প্রস্তাবটিকে অনৈতিক, পুরুষকেন্দ্রিক এবং লৈঙ্গিক বৈষম্য তৈরিকারী উল্লেখ করে চলছে সমালোচনা। সেসব সমালোচনার পাল্টা জবাবও দিচ্ছেন ওই অধ্যাপক। খবর বিবিসির। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি লৈঙ্গিক অসমতার দেশগুলোর একটি চীন। দেশটিতে প্রতি ১০০ জন নারীর বিপরীতে পুরুষের সংখ্যা ১১৮। এক সন্তান নীতি এবং ছেলে সন্তানের প্রতি সাংস্কৃতিক প্রাধান্যের কারণে এ অসমতা প্রবল হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এক নিবন্ধে জৌশি বলেন, ২০২০ সাল নাগাদ চীনের ৩ কোটি থেকে ৪ কোটি মানুষ অবিবাহিত থাকার আশংকা রয়েছে। প্রয়োজনের চেয়ে নারী কম থাকায় এ সংকট তৈরি হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। পরে নিবন্ধটি সেখানকার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
ওই নিবন্ধে সংকট সমাধানে কয়েক পুরুষ মিলে এক নারীকে বিয়ে করার পরামর্শ দেন জৌশি। তিনি বলেন, ‘উচ্চ আয়ের পুরুষরা খুব সহজেই জীবনসঙ্গী খুঁজে পান। কিন্তু নিু আয়ের পুরুষদের কী হবে? এক্ষেত্রে কয়েকজন মিলে একজন স্ত্রী খোঁজার জন্য নেমে পড়তে পারেন। এটা কোনো আকাশ-কুসুম কল্পনার কথা আমি বলছি না। কিছু দুর্গম আর দরিদ্র এলাকায় সব ভাই মিলে এক নারীকে বিয়ে করার প্রবণতা আছে এবং তারা বেশ সুখে বসবাস করে।’ এদিকে চীনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত জৌশির সেই নিবন্ধটি নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সাধারণ নাগরিকরা ও নারী অধিকার সংগঠনের নেতারা। এদিকে নিবন্ধ প্রকাশের পর নিজেও ক্ষুব্ধ ফোনকল ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিরূপ মন্তব্য পেয়েছেন বলে জানান জৌশি। তবে নিজের সে প্রস্তাবে এখনও অনড় আছেন বলে দাবি করেন তিনি। তার দাবি, দিশাহীন ওই ৩ কোটি অবিবাহিত পুরুষ ধর্ষণ, হত্যা, বোমা হামলা শুরু করে দিতে পারে।

সস্তা দরে রফতানির তেলেসমাতি

উৎপাদিত পণ্যের কাক্সিক্ষত দাম যায় না কৃষকের পকেটে। এ কারণে কয়েক হাত বদল হওয়ার পরও দেশের যে কোনো কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্যের রফতানি মূল্য আমদানিকারক দেশের স্থানীয় দাম অপেক্ষা কম বলে বিবেচিত হচ্ছে। আমদানিকারক দেশের ভাষায় এটি পরিষ্কার ডাম্পিং। ইতিমধ্যে বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশকে এ পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানিতে কম দরের অভিযোগে ইরান, মিসর ও ব্রাজিলের মতো বড় বাজারে অ্যান্টি ডাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়তে হয়েছে। এবার আরেক শীর্ষ আমদানিকারক ভারতের বাজারেও সেই একই ফাঁদে পড়ার উপক্রম হয়েছে বাংলাদেশী পাট পণ্যের। সম্প্রতি দেশটি ডাম্পিংয়ের অভিযোগ তুলে বাংলাদেশের পাট ও পাটজাত পণ্যের রফতানি বাধাগ্রস্ত করতে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এখন এ পণ্য আমদানির ওপর কি পরিমাণ অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক বসানো যায়, বসালে এর আর্থিক পরিমাণ কেমন হবে, এর প্রভাবই কতটা পড়বে- তা যাচাই-বাছাই শুরু হয়েছে।
শুধু তাই নয়, বাংলাদেশ এ পাট ভর্তুকি মূল্যে ভারতে রফতানি হচ্ছে কিনা, তা খুঁজে বের করতে তদন্তও শুরু করেছে দেশটি। যদিও এ ব্যাপারে ভারতের কাছে প্রাথমিকভাবে এ ধরনের পর্যাপ্ত তথ্য রয়েছে বলে দাবিও করা হয়েছে। এখন তার উপরই চলছে অধিকতর তদন্তের কাজ। শেষ পর্যন্ত ডাম্পিংয়ের এ অভিযোগ ভারত সরকার বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার কাছে প্রমাণ করতে পারলে বাংলাদেশের পাট পণ্য রফতানির ওপর তারা এ অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক বসানোর মতো কঠোর সিদ্ধান্তে যাবে। এতে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে পড়বে বাংলাদেশী পাটের ভবিষ্যৎ নিয়ে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বিদেশে সস্তা দরে পণ্য রফতানি করছে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের আশায়। এতে রফতানি কতটা বাড়ছে সেটি নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে পাট ও পাটজাত পণ্যের বাজার ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসার মধ্যদিয়ে। এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী কম দরে কিনে ষোলোআনা লাভ নিশ্চিত করেই রফতানির পথে হাঁটছে। এরপরও যদি ওই রফতানি মূল্য সেই দেশের বাজার অপেক্ষা কম হয়ে থাকে বুঝতে হবে কৃষককে তারা কতটা ঠকিয়েছে। আর সস্তা দরের তেলেসমাতির স্লোগান তুলে দেশের ভাবমূর্তি কতটা বিনষ্ট করছে। সংশ্লিষ্টরা আরও বলছেন, এর আগে ব্র্যান্ডিংয়ের পরিবর্তে তৈরি পোশাক খাতে সস্তা শ্রমের তেলেসমাতির ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। এরই ফলশ্রুতিতে রানা প্লাজা, তাজরীন ও স্প্রেকট্রামের মতো অঘটন ডেকে আনা হয়েছে। অথচ এদেশের তৈরি পোশাক বিশ্বের যে কোনো দেশের তুলনায় মানসম্মত হওয়ার পরও এর ব্র্যান্ডিং হচ্ছে না। এখানে ব্র্যান্ডিং হয়েছে সস্তা শ্রমের।
এতে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এ সুযোগ কম দামের পণ্য আরও কম দামে কেনার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে ক্রেতারা। ওদিকে অ্যান্টি ডাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ে ইতিমধ্যে ব্রাজিলের মতো বড় চাহিদাকারী রফতানি বাজার হারিয়েছে বাংলাদেশ। এ ক্রেতা দেশটির সরকার ১৯৯১ সালে ‘অ্যান্টি ডাম্পিং ডিউটি’ আরোপ করে বাংলাদেশী পাটের ওপর। এরপর থেকেই সেখানে রফতানি কমতে শুরু করেছে। থাইল্যান্ড মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতায় ভারত থেকে পাটের বস্তা শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করলেও স্বল্পোন্নত দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেয়া ৬৯৯৮ পণ্যের তালিকায় রাখা হয়নি পাটের বস্তাকে। ফলে ভারতীয় বস্তার কাছে দামে মার খাচ্ছে বাংলাদেশের পাটের বস্তা। এ দ্বিতীয় বৃহত্তম বাজার চীনে বাংলাদেশের পাট, পাটপণ্য শুল্ক ও কোটামুক্ত রফতানি সুবিধা ভোগ করলেও রফতানি কমছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে চীনে এ পণ্যের রফতানির ছিল ১২ কোটি ৫ লাখ ডলার। তারপর থেকে প্রতিবছর কমতে কমতে গত ২০১৪-১৫ অর্থবছরে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ২১ লাখ ডলারে। গত ৫ বছরে পাকিস্তানেও বাংলাদেশের পাট ও পাট পণ্য রফতানি অর্ধেকে নেমেছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে পাকিস্তানে পাট ও পাটপণ্য রফতানির পরিমাণ ছিল সাত কোটি ১৯ লাখ ডলার, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ১৫ লাখ ডলারে।

ব্যাংকের ভল্টে সীমার অতিরিক্ত টাকা না রাখার নির্দেশ

ব্যাংকগুলোর ভল্টে সীমার অতিরিক্ত টাকা না রাখার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পাশাপাশি যেসব ব্যাংকের ভল্টে সীমার অতিরিক্ত অর্থ রয়েছে তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের ইন্টিগ্রেটেড সুপারভিশন ম্যানেজমেন্ট সেল থেকে সম্প্রতি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে এ সংক্রান্ত একটি চিঠি দেয়া হয়েছে। চিঠিতে ভল্ট ম্যানেজমেন্ট নীতিমালা অনুসরণপূর্বক বেঁধে দেয়া সীমার বাইরে অতিরিক্ত নগদ অর্থ না রাখার জন্য ব্যাংকগুলোকে বলা হয়েছে। অতিরিক্ত নগদ অর্থ রাখার কারণে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক ম. মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, বেঁধে দেয়া সীমার অতিরিক্ত অর্থ রাখা যে কোনো ব্যাংকের ভল্ট ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার শামিল। এছাড়া ভল্ট ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত একটি নীতিমালা আছে।
ওই নীতিমালা অনুযায়ী কোনো ভল্টে কত নগদ অর্থ রাখা যাবে, শাখার অতিরিক্ত অর্থ কোথায় রাখতে হবে তারও গাইডলাইন রয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে কোনো কোনো ব্যাংকের ভল্টে সীমার বেশি অর্থ রাখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, গত সর্বশেষ সেপ্টেম্বরে যশোরে অগ্রণী ব্যাংকের ভল্ট ভেঙে ২১ লাখ টাকা লুট হয়। এর আগে চাঞ্চল্যকর সুড়ঙ্গ খুঁড়ে কিশোরগঞ্জে সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় ১৭ কোটি টাকা চুরি হয়। কিশোরগঞ্জের ঘটনার দেড় মাস পর সুড়ঙ্গ কেটে চুরির ঘটনা ঘটে বগুড়ার আদমদীঘিতে। এছাড়া জয়পুরহাটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভল্ট থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনা রোধে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে ভল্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে সব ব্যাংককে নির্দেশ দেয়া হয়। ব্যাংকের ভল্ট ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, প্রত্যেকটি ভল্টের নগদ অর্থ রাখার একটি নির্দিষ্ট সীমা থাকে। ওই সীমার বেশি অর্থ সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা হলে তা প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের মেইন শাখায় (ওই শাখা যে আঞ্চলিক শাখার অধীনে কাজ করে) পাঠাতে হয়। সেখানকার ভল্টের সীমা অতিক্রম করলে ওই এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস অথবা সোনালী ব্যাংকের চেস্ট শাখায় (বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিবর্তে সোনালী ব্যাংকের যে শাখা কাজ করে) রাখতে হয়। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, সোনালী, অগ্রণী, রূপালী ব্যাংকের বিভিন্ন ভল্টের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ রাখার ঘটনা বেশি ঘটছে। তারা যুগান্তরকে বলেছেন, এমনও দেখা গেছে, শাখার ভল্টের সীমা মাত্র এক লাখ টাকা। কিন্তু রাখা হয়েছে ৫৭৬ কোটি টাকা।

আগাম নির্বাচনে রাজি আসাদ

সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ আকস্মিক সফরে মস্কোতে
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ তার দেশে পরবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠানে প্রস্তুত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন। রোববার দামেস্কে এমপিদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। ওই বৈঠকে থাকা রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পার্লামেন্ট সদস্য আলেকজান্দার ইয়ুশেঙ্কো সিরিয়া থেকে জানান, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট সংবিধান সংশোধন, সংসদীয় নির্বাচন এবং জনগণ প্রয়োজন মনে করলে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আলোচনা করতেও রাজি রয়েছেন। নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আসাদ আত্মবিশ্বাসী বলেও তিনি জানান।
আলোচনাকালে আসাদ বলেন, এই সন্ত্রাসবাদবিরোধী লড়াই সার্বভৌমত্ব এবং সহযোগিতার ওপর নির্ভর আগামীর বিশ্ব গড়ার ভিত্তি নির্মাণ করবে। তিনি রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি রোগোজিন, রুশ পার্লামেন্ট ডুমার স্পিকার সের্গেই নারিশকিন এবং ডুমা সভাপতি ভ্যালেন্টিনা মাতভিয়েঙ্কোর সিরিয়া আগমনের প্রতীক্ষা করছেন বলে জানান। আসাদ রুশ বিমান হামলার অভাবনীয় সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন। শনিবার রুশ পার্লামেন্ট সদস্যদের সঙ্গে সিরীয় নেতাদের আলোচনার পর রাশিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা তাস এ খবর প্রকাশ করে। গত শুক্রবার রুশ প্রতিনিধিরা ওষুধ এবং শিশু খাদ্য বোঝাই ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দামেস্কে পৌঁছান।
রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির অপর এক পার্লামেন্ট সদস্য সের্গেই গাভরিলভ বলেন, আসাদ আমাদের সরকারের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তিনি পানি সরবরাহ, ত্রাণ সহায়তা, তেল-গ্যাস ক্ষেত্রের উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
উল্লেখ্য, ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে সিরিয়ায় বিমান হামলা শুরু করে রাশিয়া। মস্কো বলছে, এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০০টি সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। রাশিয়ার দাবি, তাদের অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর অভিযোগ, আইএসের বিরুদ্ধে বিমান হামলা চালানোর কথা বলা হলেও রাশিয়া মূলত প্রেসিডেন্ট আসাদের বিরোধিতাকারী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে। এরই মধ্যে যুক্তরাজ্য ও তুরস্কসহ কিছু দেশ প্রেসিডেন্ট আসাদের সমর্থনে চালানো রাশিয়ার বিমান হামলাকে একটি ভুল সিদ্ধান্ত বলে আখ্যায়িত করেছে।
রাশিয়ার প্রস্তাব সিরিয়ার বিদ্রোহীদের নাকচ : সিরিয়ায় নির্বাচন দেয়া সংক্রান্ত রাশিয়ার প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির অধীনস্ত বিদ্রোহী সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে আসাদ সরকারকে সহায়তায় রাশিয়াকে আগে বোমা হামলা বন্ধ করতে হবে বলেও উল্লেখ করেছে তারা। খবর রয়টার্সের।
রাশিয়ার নির্বাচনের ফর্মুলার বিষয়ে ফুরসান আল হক নামক সংগঠনের প্রধান ফারেস বায়ুস বলেন, এর মানে হচ্ছে, আসাদকে অন্তর্বর্তীকালের জন্য ক্ষমতায় রাখা। সহায়তার ব্যাপারে তিনি বলেন, রাশিয়াকে প্রথমে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির সদর দফতরগুলোতে বোমা হামলা চালানো বন্ধ করতে হবে। এরপর তারা সহায়তার ব্যাপারে প্রস্তাব দিক। অবশ্য আমাদের পক্ষ থেকে সহায়তা চাওয়া হয়নি।
সৌদি বাদশাহ- কেরি বৈঠক : মধ্যপ্রাচ্য সফরে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি সৌদির বাদশাহ সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সিরিয়ায় পুনরায় শান্তি প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রধানদের সঙ্গে আলোচনার একটি অংশ ছিল সৌদি বাদশার সঙ্গে কেরির এ সাক্ষাৎ।
শনিবার রাতে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের বাইরে বাদশাহর খামারে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন কেরি। ওই বৈঠক সম্পর্কে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ ব্যতীত একটি সমন্বিত এবং স্থিতিশীল সিরিয়ার বিষয়ে কেরি এবং বাদশাহ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

ভূমিকম্পে উল্টে যেতে পারে ভূত্বক

বড় ধরনের ভূমিকম্পে উল্টে যেতে পারে ভূত্বক। এতে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার এলাকা কয়েক সপ্তাহের জন্য প্রয়োজনীয় চাপ সহ্য করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বিজ্ঞানীদের নতুন এক গবেষণায় এ তথ্য বেরিয়ে এসেছে। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইন্সটিটিউট অব টেকনোলোজির (এমআইটি) ভূমি, বায়ুমণ্ডল ও গ্রহবিজ্ঞান বিভাগের গবেষক দল ভূমিকম্পের প্রভাবের এই তথ্য উদঘাটন করেছেন। গবেষকদলের প্রধান লস অ্যালামস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরির সদস্য কেভিন চাও বলেন, ভূমিকম্প পৃথিবীর ভূত্বকের মৌলিক ইলাস্টিক বৈশিষ্ট্য বদলে দিতে পারে। এর ফলে ৬ হাজার কিমি. এলাকা তার স্বাভাবিক চাপগ্রহণ ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। বিজ্ঞানী দল ২০১২ সালে সংঘটিত উত্তর সুমাত্রা ও ভারত মহাসাগরীয় ভূমিকম্প বিশ্লেষণ করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হন। সম্প্রতি সায়েন্স অ্যাডভান্স জার্নালে এই গবেষণা প্রকাশিত হয়। চাও বলেন, যখন ভারত মহাসাগরীয় এলাকায় পরপর ৫.৫ মাত্রার চেয়ে বড় দুটো ভূমিকম্প হয়, তখন পৃষ্ঠ তরঙ্গ আঘাতের বিস্তৃতি জাপানেও পৌঁছে গেছে এবং ভূত্বকের মৌলিক বৈশিষ্ট্য বদলে গেছে। সে সময় ওই দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৮.৬ ও ৫.৫।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভূমিকম্প ঝুঁকি কেন?
দক্ষিণ এশিয়ার ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও নেপাল অঞ্চল ভূমিকম্পপ্রবণ এলাকা বলে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। এ অঞ্চলের ভূ-অভ্যন্তরে দ্রুত পরিবর্তন ঘটছে এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি বাড়ছে। সাউথ এশিয়ান ডিজাস্টার নলেজ নেটওয়ার্ক প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিধস অগ্ন্যুৎপাতের মতো প্রাকৃতিক কারণ কিংবা সাগরতলের চ্যুতির কারণে এ অঞ্চলে ভূমিকম্পের আশংকা প্রবল। ভূ-বিশেষজ্ঞদের মতে গোটা ভূপৃষ্ঠই কয়েকটি স্তরে বিভক্ত। আবার প্রতিটি স্তর একাধিক প্লেটে বিভক্ত। এসব বিশাল আকারের টেকটোনিক প্লেটগুলো যখন একের সঙ্গে অপরে ধাক্কা খায় তখন কেঁপে ওঠে মাটির নিচের তলদেশ। কয়েক বছর ধরেই ভূ-গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কয়েকটি দেশ মারাত্মক ভূমিকম্প ঝুঁকিতে রয়েছে। সিসমিক প্লেটের ঘূর্ণন সাইকেলের কারণে সব অঞ্চলেই দেড়শ’ বছরের নিয়মিত বিরতিতে ৮ থেকে ১০ মাত্রার ন্যূনতম একটি ভূমিকস্প আঘাত হানে। স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যায় উচ্চতর গবেষণার ছাত্র ওয়ারেন ক্যাল্ডওয়েল বলেছেন, ‘ভূমিকম্প সম্পর্কে আগাম ভবিষ্যদ্বাণী করা সম্ভব নয়। কিন্তু সিসমোগ্রাফের তথ্য জানাচ্ছে, ভূমিকম্পের ঝুঁকির পরিমাণ বেশ বিস্তৃত। যেহেতু, এ অঞ্চল তুলনামূলক বেশি ঘনবসতিপূর্ণ, তাই আগাম সতর্কবার্তা ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সাহায্য করতে পারে।’
মার্কিন ভূ-তাত্ত্বিক গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস বলছে, পৃথিবীব্যাপী মাটি খনন বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূমিকম্পের আশংকা বাড়ছে। তেল, গ্যাস ও সম্পদের অনুসন্ধানে ভূমি খনন ও ভূ-অভ্যন্তরে গভীর সমুদ্রবন্দর প্রতিষ্ঠার মতো কাজে ভূগর্ভের গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিজ্ঞানীদের গবেষণা অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগর ও এশিয়ায় দুটি সিসমিক প্লেট রয়েছে। একটির নাম ইউরেশিয়া প্লেট, আরেকটি ইন্ডিয়া প্লেট। হিমালয় এ দুটি প্লেটকে আলাদা করেছে। প্লেট দুটির মিলনস্থলের নামকরণ করা হয়েছে ক্যাসকেডিয়ান সাবডাকশন জোন। দুই প্লেটের মধ্যবর্তী অংশে হিমালয়ের অবস্থান। বিশ্বব্যাপী ভূমিকম্পের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা সংগঠন জিওহ্যাজার্ডস ইন্টারন্যাশনালের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক সমন্বয়ক হ্যারি ঘি কয়েক মাস আগে নেপালে ভূমিকম্পের পর এক সাক্ষাৎকারে বলেন, বঙ্গোপসাগরের মাথা ঘেঁষে অবস্থিত বেঙ্গল বেসিনের প্রধান অংশ বাংলাদেশ, যা ইন্ডিয়া প্লেটে উত্তর-পূর্বদেশ নিয়ে গঠিত এবং ইন্ডিয়া-বার্মা-তিব্বত প্লেটের সংযোগস্থলের খুব কাছাকাছি অবস্থিত। এরকম ভূতাত্ত্বিক অবস্থানের জন্য বাংলাদেশ ভূমিকম্প ও সুনামির জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যে প্রধান চারটি ফল্ট (চ্যুতি) আছে সেগুলোই ভূমিকম্পের উৎসস্থল হিসেবে কাজ করার আশংকা রয়েছে।

ডিসেম্বরে আসছে অপূর্বের গ্যাংস্টার রিটার্নস

প্রথমবারের মতো সিনেপর্দায় আসছেন টিভি তারকা অপূর্ব। তাও আবার মারদাঙ্গা ছবি নিয়ে। টিভি তারকাদের দিয়ে অ্যাকশন ছবি হয় না- এ ধারণা আমূল বদলে দিতে চান তিনি। এ লক্ষ্যেই তৈরি হয়েছে ‘গ্যাংস্টার রিটার্নস’। আশিকুর রহমান পরিচালিত এ ছবিটি ৪ ডিসেম্বর মুক্তি পাবে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ টিভি অভিনেতা সজলকে নিয়ে আরেক টিভি নির্মাতা তন্ময় তানসেন ‘রান আউট’ নামে একটি ছবি মুক্তি দিয়েছিলেন। কিন্তু ছবিটি চিত্র দর্শকদের কাছ থেকে পিছলে পড়ে ‘আউট’ হয়ে গেছে।
সহকর্মীর পথ ধরে অপূর্বের অবস্থাও তথৈবচ হবে কিনা এমন প্রশ্ন নিয়ে মোটেও চিন্তিত নন অপূর্ব। তিনি বলেন, ‘আমি কাজ করেছি শতভাগ মেধা দিয়ে। দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা দিয়ে সবকিছু করার চেষ্টা করেছি। চলচ্চিত্রের ভাষা আমি বুঝি। এটাও জানি নাটক আর চলচ্চিত্র এক নয়। তাই পুরোপুরি বাণিজ্যিক ভাবনা থেকেই এ ছবিতে অভিনয় করেছি। আশা করছি দর্শক যদি পুরো ছবিটা দেখেন তাহলে মোটেও নিরাশ হবেন না।’ ছবিতে অপূর্বর বিপরীতে অভিনয় করেছেন জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। আন্ডারওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম নিয়ে গল্প তৈরি হয়েছে। ছবিতে দেখা যাবে, পারিবারিক অসচ্ছলতার কারণে একটি ছেলে অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। এ কারণে তাকে আপনজনদের হারাতে হয়। অস্তিত্ব রক্ষায় ক্রমেই প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে উঠে ছেলেটি। এ চরিত্রেই অভিনয় করেছেন অপূর্ব।

রাজকন্যা আসছে সাকিব-শিশিরের ঘরে

বাবা হচ্ছেন তিনি, এ খবর পুরনো। নতুন খবর হল, কন্যাসন্তানের বাবা হচ্ছেন সাকিব আল হাসান। রাজকন্যা আসছে তার ঘরে। এই সুখবর দিয়েছেন স্বয়ং সাকিব। সোমবার সকালে নিজের ফেসবুক ফ্যান পেজে জানিয়েছেন, সব ঠিক থাকলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে ছোট্ট অপ্সরা আসবে তাদের ঘর আলো করতে। সাকিব-শিশির তারই অপেক্ষায়। তর সইছে না তাদের। সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে এখন সাকিব যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে স্ত্রীর পাশে থাকা সাকিব সোমবার বাংলাদেশ সময় সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে নিজের ফেসবুক ফ্যান পেজে লিখেছেন, ‘কাউন্ডডাউন শুরু হয়ে গেছে আমাদের রাজকুমারীর জন্য ...।’ এর মধ্য দিয়ে ভক্তদের সাকিব জানালেন, কন্যাসন্তানের প্রতীক্ষায় দিন গুনছেন তারা। ছবিটি পোস্ট করার পর অসংখ্য ভক্ত হবু বাবা-মা ও অনাগত নবজাতককে শুভ কামনা জানিয়ে মন্তব্য করেছেন।
আলী আহসান আকিব নামে এক ভক্ত ছবির কমেন্ট বক্সে লিখেছেন, ‘ওয়াও!!! সকাল সকাল এই শুভ সংবাদ শুনে ভালোই লাগল ...। অনেক শুভ কামনা রইল আমাদের রাজকন্যার জন্য। অনেক কিউট হবে রাজকন্যা, সেই কামনাই করছি।’ রুমানা হক নামে সাকিবের এক ভক্ত লিখেছেন, ‘আমি হতাশ। ভেবেছিলাম ছেলে হবে। সে সাকিবের চেয়ে বড় ক্রিকেটার হবে। কিন্তু ...!! যাই হোক, তবুও শুভ কামনা থাকল রাজকন্যার জন্য।’ জুলাইয়ে হঠাৎ গুঞ্জন উঠেছিল, বাবা হচ্ছেন সাকিব। কিছুদিন পর অবশ্য বিষয়টির সত্যতা নিজেই নিশ্চিত করেছিলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ২০১২ সালের স্মরণীয় ১২.১২.১২ তারিখে শিশিরের সঙ্গে দাম্পত্যের আঙিনায় প্রবেশ করেন সাকিব। দীর্ঘদিনের প্রণয় রূপ নেয় পরিণয়ে। এ বছরের ১২.১২.১৫ তারিখে তাদের তৃতীয় বিবাহবার্ষিকী। তার আগেই বাবা-মা হতে যাচ্ছেন সাকিব-শিশির।

বিমানবন্দরে সতর্কতা

নাশকতার আশঙ্কায় হযরত শাহজালাল, শাহ আমানত ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সতর্কতা জারি করেছে সরকার। এসব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সব ধরনের দর্শনার্থীর প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিমানবন্দরগুলোতে চলমান সংস্কার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নাশকতার আশঙ্কা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। তবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোন সতর্কতা জারি করা হয়নি। আগের ঢিলেঢালা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সকাল ১০টা থেকে বিমানবন্দরে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। এপিবিএনের সিনিয়র এএসপি আলমগীর হোসেন শিমুল নিরাপত্তা বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বিমানবন্দরে নিয়োজিত এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মৌখিক নির্দেশের ভিত্তিতে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পাশাপাশি যাত্রীদের কঠোর তল্লাশিসহ দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সঙ্গে প্রতিটি স্পর্শকাতর জায়গায় তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এপিবিএনের সিনিয়র এএসপি আলমগীর হোসেন শিমুল জানান, সকাল থেকে বিমানবন্দরের ভেতরে যাত্রী ছাড়া কোন দর্শনার্থীকে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। দেশের সার্বিক অবস্থা বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসান জানান, আমরা বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে নাশকতামূলক ঘটনা ঘটতে পারে বলে তথ্য পেয়েছি। এ কারণে বাড়তি সতর্কতা নেয়া হয়েছে। বিমানবন্দরে যাতায়াত করা যাত্রী ও বিদেশী যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা পুনর্বিন্যাস করা একটি রুটিন ওয়ার্ক। এটা কিছু দিন পর পর করা হয়ে থাকে। এরই মধ্যে আমরা সব ধরনের দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছি। পাশাপাশি সুপারভিশন বাড়ানো হয়েছে।
এদিকে বিমান মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা ম. শেফায়েত হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কোন প্রকার অ্যালার্ট জারি করা হয়নি। তা সত্ত্বেও কোন কোন টিভি চ্যানেল ও অনলাইন গণমাধ্যমে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে মর্মে সংবাদ প্রচার হচ্ছে। বিষয়টি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিন্যস্ত করতে এবং সংস্কার ও মেরামত কাজ সম্পাদন করার জন্য সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত রাখা হয়েছে।
রেড অ্যালার্ট নয়, আমরাই হুঁশিয়ার হচ্ছি: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, কোন রেড অ্যালার্ট নয়, আমরাই হুঁশিয়ার হচ্ছি। গতকাল বিকালে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেননের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমার মনে হয়েছে এয়ারপোর্টে (শাহজালাল) যেভাবে চলাফেরা করি সেখানে সিকিউরিটি আরেকটু বাড়ানো দরকার। সেজন্যই এখানে একটু আলাপ-আলোচনা করে আমরা এটাকে আরেকটু স্টেংদেং করেছি, আর কিছু না। কোন রেড অ্যালার্ট বা অন্য কিছু না। নিরাপত্তা ব্যবস্থা হঠাৎ কেন শক্তিশালী করা হচ্ছেÑ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের এখানে মনে হয় কিছু ঢিলেঢালা ছিল,  সেগুলো ঠিক করার জন্য আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলাম। কোন নাশকতার আশঙ্কা থেকে নিরাপত্তা  জোরদার করা হচ্ছে কিনা- এমন প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যে ধরনের সিস্টেম আমরা চিন্তা করছি তা সব বিদেশী এয়ারপোর্টে চালু আছে। বরং আমাদের এয়ারপোর্টে যে ইচ্ছা সেই চলে যেত। সেটা যাতে না যায় সে বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তিনি বলেন, কোন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট এভাবে চলে না। সব কিছুরই একটা সিস্টেম আছে। আমরা একটু ঢেলে সাজাচ্ছি। অ্যালার্ট কোন বিষয় নয়। আমরাই হুঁশিয়ার হচ্ছি। এটা রুটিনওয়ার্ক। আজ থেকে ?শুরু হলো, এটা কন্টিনিউ থাকবে। এভাবেই চলবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে হঠাৎ এ উদ্যোগ একটু প্রশ্ন জাগায় কিনাÑ এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের নিরাপত্তা ফোর্স সব সময়ই অ্যালার্ট রয়েছে, সবকিছু দেখছে। আপনারা খুব ভাল করে  দেখছেন আমরা সবগুলোকে ধরে ফেলছি। সবগুলোকে শনাক্ত করছি। আমি আগেও বলেছি, আমি সব আপনাদের জানাব। পুলিশ কমিশনার জানিয়েছে, ধীরে ধীরে সবই আমরা জানাবো।
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশেপাশে পুলিশের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জারি করেছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। গতকাল সোমবার  থেকে দেশের অন্যতম প্রধান এই বিমানবন্দরে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ। চলছে তল্লাশি। পুলিশ বলছে, নাশকতা হতে পারে এমন তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে। এছাড়া হতে পারে বিমান বন্দরে হামলাও।
এ বিষয়ে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন, অর্থ ও ট্রাফিক) এ কে এম শহিদুর রহমান জানান, ‘নগরীতে বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা বা যাত্রীবাহী বিমান ছিনতাই হতে পারে। এমন তথ্য আমরা পেয়েছি। তাই পুরো নগরীতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এদিকে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অধিকাংশ যাত্রীই মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, কাতার, দুবাই, ওমানের যাত্রী। এসব যাত্রী বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তাদের তল্লাশি করা হচ্ছে। আবার বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে যাত্রী প্রবেশেও তল্লাশি করছে পুলিশ। এছাড়া পুরো বিমানবন্দরে রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। রয়েছে সাদা পোশাকের পুলিশ সহ বিভিন্ন  গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও।
সিলেট অফিস জানায়, সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও নেয়া হয়েছে বিশেষ সতর্ক ব্যবস্থা। গতকাল সকাল থেকে বিমানবন্দরের ভেতর কোন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। ওসমানী বিমানবন্দরে আগে থেকেই নিরাপত্তার ব্যাপারে বেশ কড়াকড়ি ছিল। এবার সেই কড়াকড়ি পেয়েছে নতুন মাত্রা। তবে গত রোববার পর্যন্ত বিমানবন্দরে দর্শনার্থী প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছিল। কিন্তু গতকাল থেকে কোন দর্শনার্থী প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। এমনকি বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি নেই এমন কোন প্রশাসনিক কর্মকর্তাকেও ঢুকতে বাধা দেয়া হচ্ছে। সকালে দুইজন পুলিশ সদস্য অনুমতি ছাড়া বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের প্রবেশে বাধা দেয়। সকালে ওসমানী বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও  গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে বিমানবন্দরে নেয়া হয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বলেন, ওসমানীতে আগে থেকেই নিরাপত্তার কড়াকড়ি ছিল। তবে গতকাল থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
রাজশাহী শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার
স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী থেকে জানান, রাজশাহী শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল থেকে এই নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। এর আগে এয়ারপোর্টের নিরাপত্তা দেখতো সিভিল এভিয়েশনের সদস্যরা। তবে গতকাল এর সঙ্গে যোগ হয় পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। বিমান নামার আগে থেকে শুরু হয়ে ছেড়ে যাওয়ার আগ মুহূর্ত পর্যন্ত এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় থাকবে।
রাজশাহী শাহ্ মখদুম বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সেতাফুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সিভিল এভিয়েশনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছে। রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার তানভীর হায়দার চৌধুরী বলেন, বিমানবন্দরে যে কোন ধরনের অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতি এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রাজশাহী শাহ্ মখদুম বিমানবন্দর থেকে শুধু ঢাকা রুটে বিমান চলাচল করে। এখান থেকে বাংলাদেশ বিমান ও ইউএস বাংলা যাত্রী পরিবহন করে।

২০১৬ হবে পর্যটন বর্ষ: প্রধানমন্ত্রী

ঢাকায় দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক বৌদ্ধ ঐতিহ্য ও পর্যটন সম্মেলন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করতে সরকার ২০১৬ সাল পর্যটন বর্ষ হিসেবে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে পর্যটন শিল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে তিনি বক্তব্য দেন।
আজ মঙ্গলবার সকালে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, ২০১৬ হবে ভিজিট বাংলাদেশ ইয়ার।
সার্কভুক্ত দেশের মধ্যে ভুটান, নেপাল, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের (বিবিআইএন) মোটর ভেইকেল এগ্রিমেন্ট (এমবিএ) চুক্তি সই হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। সরকার আশা করছে, এর ফলে এ অঞ্চলের পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে। পর্যটকদের আসা যাওয়া বাড়বে। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণে কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার সাবরাংয়ে এক্সক্লুসিভ টুরিস্ট জোন গড়ে তোলার কাজ চলছে। এতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। এর পাশে বিশেষ একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হবে বলে তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কক্সবাজার, সেন্টমার্টিন, কুয়াকাটাসহ দেশের সব পর্যটন এলাকায় সরকার উন্নয়নকাজ করছে। কক্সবাজার থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে মেরিন ড্রাইভ নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি প্রচার ও বিপণনের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। বাংলাদেশ টুরিজম বোর্ড এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থা (ইউএনডব্লিউটিও) ও বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে। জাতিসংঘের বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রধান থেকে শুরু করে বিশ্বের ১৩টি দেশের পর্যটনমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এতে অংশ নিয়েছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইউএনডব্লিউটিওর মহাসচিব তালিব রাফাই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন। ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমারসহ ১৩টি দেশের পর্যটনমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন।

ইটভাটায় পুড়ছে শিশুদের স্বপ্ন by মো. মিজানুর রহমান দুলাল

ইটভাটায় শিশু শ্রমিকরা (ফাইল ছবি)
হাতীবান্ধার উত্তর সিঙ্গীমারী গ্রামের আব্বাস আলী। স্ত্রী আর তিন শিশু সন্তানকে নিয়ে ৬ মাসের জন্য যাচ্ছেন নরসিংদীর ইট ভাটার শ্রমিক হিসেবে। এতে করে সংসারের আয় রোজগার বাড়লেও ইটভাটায় চাপা পড়ছে কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা জীবন। শুধু আব্বাস আলীই নন উপজেলার হাজার হাজার পরিবার প্রায় প্রতিদিনই তাদের শিশু শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইটভাটায় পাড়ি জমাচ্ছে স্থানীয় বড়খাতা রেলগেট এলাকা থেকে। সেখানে দূরপাল্লার বাসে করে তাদের চলে যাওয়ার দৃশ্য সবাই দেখলেও শুধু চোখে পড়ছে না সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের। ফলে প্রতিবছর অঙ্কুরেই ঝড়ে যাচ্ছে অসংখ্য শিক্ষার্থী। সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, ১২ বছর বয়সের শিশু মিলন ও তার ছোট ভাই জুয়েল (১০) বাবা-মায়ের সঙ্গে ইটভাটায় যাচ্ছে। কথা হলে ওই দুই সহোদর জানায়, এর আগেও তারা দুই ভাই ৬ মাসের জন্য ইটভাটায় যায়। কিন্তু সেখান থেকে ফিরে পড়াশোনায় আর মন বসেনি তাদের। ফলে মিলন পঞ্চম আর জুয়েল চতুর্থ শ্রেণী পর্যন্ত পড়ালেখা করে বিদ্যালয়ের পাঠ ইতি টেনেছে। তবে এ বছর ইটভাটায় গমনে নতুন সদস্য হিসেবে যোগ হয়েছে তাদের ছোট্ট ভাই শুভ (৮)। শুভ স্থানীয় এক বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। জানতে চাইলে ওই তিন শিশুর বাবা আব্বাস আলী বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ৫ জনের সংসার চলে না বলেই সর্দারের কাছে থেকে ৪০ হাজার টাকা অগ্রিম নিয়েছি। নরসিংদীতে ৬ মাস ইট তৈরি করে ওই টাকা শোধ করে আরও কিছু টাকা আয় করার জন্যই সেখানে যাচ্ছি।’ কিন্তু এতে করে আপনার সন্তানরা তো শিক্ষা জীবন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে- এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দিতে না পেরে বাসে উঠে পড়েন তিনি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিবছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে লালমনিরহাট জেলার হাতীবান্ধা, কাকিনা, আদিতমারী, বাউরা এলাকা থেকে অভাবের তাড়নায় নিু আয়ের পরিবারগুলো সপরিবারে ইটভাটায় যায়। এসব পরিবার তাদের জীবন বাঁচাতে ইটভাটায় নিয়োজিত সর্দারের নিকট থেকে আগাম টাকাও নিয়ে থাকেন। যার পরিমাণ জনপ্রতি প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আবার গ্রুপভিত্তিক ৮০ থেকে ১ লাখ টাকাও অগ্রিম নেয়া হয় বলেও জানা গেছে। ইটভাটায় কাজে যাওয়া ওইসব মানুষজন জানিয়েছেন, একটি ইট তৈরিতে প্রায় চার জন শ্রমিকের প্রয়োজন হয়। এতে প্রথম জন কাঁদামাটি সংগ্রহ করে। দ্বিতীয় জন ওই কাঁদামাটি সারি সারি করে মাঠে ফেলেন। তৃতীয় জন তা একটি ইটের পরিমাণ মুষ্ঠি করে দেন। আর চতুর্থ জন ফর্মা (ইট তৈরিতে কাঠের যন্ত্র) দিয়ে পরিপূর্ণ কাঁচা ইট প্রস্তুত করে থাকেন। এভাবে চার জন মিলে দৈনিক ৪-৫ হাজার ইট তৈরি করতে পারেন। ফলে চার সদস্যের একটি পরিবার প্রতিদিন এক হাজারেরও অধিক টাকা আয় করতে পারেন। সে কারণেই লালমনিরহাটের বিভিন্ন এলাকার শ্রমিক শ্রেণীর লোকজন তাদের শিশু শিক্ষার্থীসহ নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার ইটভাটাগুলোতে সপরিবারে পাড়ি জমাচ্ছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। এদিকে হাতীবান্ধা উপজেলার বড়খাতা, ফকিরপাড়া, গড্ডিমারী, সানিয়াজান ও সিংঙ্গীমারী ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, ওই সব এলাকা থেকে এ বছর সর্বোচ্চ সংখ্যক লোক ইটভাটায় যাচ্ছেন। ফলে ওই সব এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিশু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে এসেছে। কিন্তু কোন স্কুলে কতজন ছাত্রছাত্রী অনুপস্থিত রয়েছেন সে ব্যাপারে মুখ খুলতে নারাজ শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তবে স্থানীয়রা বলছেন, যেসব পরিবার ইটভাটায় যাচ্ছে তাদের প্রত্যেকের সঙ্গে ৮ থেকে ১২ বছরের শিশু রয়েছে। এসব শিশু বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছেও বলে জানান এলাকাবাসী। বড়খাতা ইউপি সদস্য আবেদ আলীর ভাষ্য মতে, উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার নারী ও পুরুষ ইটভাটার কাজে রয়েছে। এরা ৬ মাস পর এলাকায় ফিরবেন। রোববার দুপুরে এ ব্যাপারে জানতে হাতীবান্ধা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান আতিকুর রহমানের মুঠো ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। পরে তার কার্যালয়ে গিয়ে জানা যায়, তিনি কয়েক দিন ধরে অফিসে আসছেন না।

শিয়া সমাবেশে গ্রেনেড: অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় নতুন উদ্বেগ by এম সাখাওয়াত হোসেন

দেশের দুই প্রান্তের দুই জায়গায় দুই বিদেশি নাগরিক হত্যা নিয়ে কূটনৈতিক মহলের উদ্বিগ্নতা ও সরকারের বিড়ম্বনার রেশ কাটতে না-কাটতেই রাজধানী ঢাকায় পর পর দুটি ঘটনা ঘটে গেল। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগজাগানিয়া হলো হোসেনি দালানে শিয়া সম্প্রদায়ের আশুরা পালনের উদ্যোগে তাজিয়া মিছিল প্রস্তুতকালে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী ওই সময় সেখানে পুলিশের প্রহরা তো ছিলই, এমনকি সাদা পোশাকেও পুলিশের উপস্থিতি ছিল। জানা গেছে, পুলিশের নিষেধ থাকা সত্ত্বেও ওই সময় তাজিয়া মিছিল বের করার প্রয়াস নেওয়া হয়েছিল। হামলায় একজনের প্রাণহানি ও শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
শিয়া সমাবেশে হামলা বাংলাদেশে এক অভাবনীয় বিষয়। কারণ শত শত বছর ধরে এই অঞ্চলে শিয়া-সুন্নির মধ্যে কোনো তফাত খুঁজতে কেউ যায়নি, আক্রমণ তো দূরের কথা। বাংলায় সুলতানি আমল থেকে শুরু করে সিরাজউদ্দৌলা পর্যন্ত অনেক শাসক ছিলেন শিয়া সম্প্রদায়ের। তখন যেমন এ বিভাজন নিয়ে বাংলা অঞ্চলে প্রশ্ন ওঠেনি, তেমনি পূর্ব পাকিস্তান থাকার সময় থেকে অক্টোবর ২৩, ২০১৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণের মাথায় এ ধরনের কোনো বিষয় এসেছে বলে মনে হয়নি। এমনিতে বাংলাদেশে শিয়া মুসলমানদের সংখ্যা উপমহাদেশের যেকোনো রাষ্ট্র থেকে কম এবং এই সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে উগ্রপন্থী হওয়ার কোনো অভিযোগ শোনা যায়নি। সে কারণেই এই হামলা একধরনের বিনা মেঘে বজ্রপাতের মতো মনে হয়েছে, বিশেষ করে দেশে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার পেছনে ‘জঙ্গি আছে, জঙ্গি নেই’ বিতর্ক যখন তুঙ্গে। সরকারের সব ধরনের চেষ্টা সত্ত্বেও বিদেশিরা আশ্বস্ত হতে পারছেন না।
আন্তমুসলমান বিবাদের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই শিয়া-সুন্নির বিভেদ দারুণভাবে বিভক্ত করেছে তথাকথিত সমগ্র মুসলিম বিশ্বকে। পাকিস্তান থেকে ইয়েমেন পর্যন্ত এই বিভাজন এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন যে এই বিভাজনের পেছনে বিশ্বের একক শক্তিধর রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের মধ্যপ্রাচ্যে ভ্রান্ত পররাষ্ট্রনীতির অবদান রয়েছে। ইতিহাসের পাতায় শিয়া-সুন্নি বিবাদ থাকলেও তা বিংশ ও একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ের মতো নয়। পাকিস্তানে শিয়া-সুন্নি বিবাদকে বৃহত্তর আঙ্গিকে উদয় হতে দেখা গেছে আফগানিস্তান থেকে সোভিয়েত ইউনিয়নের চলে যাওয়ার পর।
পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি বিভেদ তৈরি হওয়ার পেছনে তিনটি কারণ চিহ্নিত। প্রথমত, ১৯৭৯ সালে রেজা শাহ পাহলভির উৎখাতের পর শিয়া ধর্মীয় রাষ্ট্রের উত্থান এবং যুক্তরাষ্ট্র তথা পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে বিবাদ, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জিম্মি সংকট; দ্বিতীয়ত, প্রায় একই সময়ে ডিসেম্বর ১৯৭৯ সালে আফগানিস্তানে সোভিয়েত দখলদারি এবং পশ্চিমা বিশ্ব, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পৃষ্ঠপোষকতায় সুন্নি মুসলমান রাষ্ট্রগুলোর সহায়তায় জিহাদ ঘোষণা। ওই জিহাদের সম্মুখে ছিল সুন্নি-অধ্যুষিত পাকিস্তান এবং আধ্যাত্মিক ও আর্থিক প্রেরণায় ছিল সৌদি আরব। প্রায় এক ডজন মুজাহিদ সংগঠন, যারা সোভিয়েত ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত ছিল, তাদের মধ্যে আটটি গোষ্ঠীকে পাকিস্তানের মাধ্যমে অস্ত্র, বাসস্থান ও অর্থের জোগান দেওয়া হয়েছিল। এদের প্রায় সবাই ছিল সুন্নিগোষ্ঠী, এমনকি ওসামা বিন লাদেনের আল-কায়েদাও ছিল সুন্নিগোষ্ঠীর সংগঠন, যার মধ্য থেকে পরবর্তী পর্যায়ে জন্ম নেয় হরকাতুল জিহাদ, লস্কর-ই-তাইয়েবাসহ একাধিক সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত গোষ্ঠী। বাংলাদেশেও গঠিত হয় হরকাতুল জিহাদ বা হুজি (বি), যার অনুপ্রেরণায় জন্ম জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ। ওই একই আদর্শে আরও কিছু সংগঠন গড়ে ওঠে, যার মধ্য শীর্ষে রয়েছে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম এবং আরও কিছু ছোট চরমপন্থী দল।
মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি বিবাদ উসকে দেওয়ার পেছনে রয়েছে আফগানযুদ্ধে ইরানের ভূমিকা এবং চারটি মুজাহিদীন দলকে সহযোগিতা দেওয়া। এর সবই শিয়া-অধ্যুষিত ইরানসংলগ্ন পশ্চিম আফগানিস্তানের মুজাহিদীন সংগঠন। এরা ছিল শিয়া হাজারা ও আজিক গোত্রের মুজাহিদীন। এখনো ইরানের কারণে আফগানিস্তানে শিয়া-সুন্নি বিভেদ বিদ্যমান। ইরান তৎকালীন নর্দান অ্যালায়েন্সকে সহযোগিতা করায় তালেবানরা ক্ষমতায় আসার পর একজন ইরানি কূটনীতিকসহ মাজার-ই-শরিফে বহু হাজারা শিয়াকে নিধন করে।
তৃতীয়ত, ১৯৮০ থেকে ১৯৮৮ পর্যন্ত সাদ্দাম হোসেনের নেতৃত্বে এবং সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে ইরাক-ইরান যুদ্ধ। যুক্তরাষ্ট্র সাদ্দাম হোসেনকে দিয়ে ইরানের ক্ষমতাকে খর্ব করতে চেয়েছিল, যা ওই সময়ে ইরানের শিয়া শক্তিকে দমাতে পারত। সৌদি আরবসহ সুন্নি আরব রাষ্ট্রগুলো সাদ্দাম হোসেনকে এ কারণেই মূলত সহযোগিতা করেছিল। ইরাকযুদ্ধের কারণে আফগানিস্তানে শিয়া শক্তির উত্থান ঘটাতে পারেনি। এসব পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের ভূমিকার কারণে সেখানে সুন্নি শক্তি তালেবানদের উত্থান ঘটে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় লাদেনের ভূমিকা। পাকিস্তানের সুন্নি জিহাদি গোষ্ঠীকে শিয়াদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে আশির দশক থেকেই শিয়া-অধ্যুষিত করাচি ও বেলুচিস্তান তথা পাঞ্জাবের কিছু অংশে গোষ্ঠিগত বিবাদ ও দাঙ্গা–হাঙ্গামা চলতে থাকে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের প্রেক্ষাপটেরও রয়েছে শিয়া-সুন্নির আধিপত্যের লড়াই। একদিকে সুন্নি রাষ্ট্রশক্তি সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলো; অপর দিকে ইরান, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরাকের শিয়াপ্রধান সরকার। স্মরণযোগ্য যে সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় ইরাকে শিয়া শক্তির উত্থান হওয়ায় ওই অঞ্চলে ইরানের প্রভাব বেড়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ইরাকে শিয়া-সুন্নি সংঘাত, যার ভয়াবহতা সম্বন্ধে কমবেশি সবাই অবগত।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের এক প্রান্তে ইরান, অপর প্রান্তে সৌদি আরব। এ সংঘাতের মধ্যেই জন্ম নিয়েছে এযাবৎকালের সবচেয়ে সংগঠিত সুন্নি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)। এদের মূল লক্ষ্য মধ্যপ্রাচ্যে তথা সিরিয়া ও ইরাকে শিয়া শক্তির উৎখাত। অপর দিকে ইয়েমেনে শিয়া শক্তি দমনে সৌদি আরবের শক্তি প্রদর্শন। ইয়েমেনের পরিস্থিতির জন্য সৌদি আরব অনবরত ইরাককে দায়ী করছে। এমনকি বাহরাইনে খলিফা পরিবারের শাসনের অবসান চেয়ে ১৯৯০-এর দশকে এবং ২০১১ সালে যে অভ্যুত্থানের চেষ্টা হয়, সেটাকেও শিয়া অভ্যুত্থানের প্রচেষ্টা বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছিল। ওই অভ্যুত্থান ঠেকাতে সৌদি আরব তার সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেছিল। বাহরাইনে প্রায় ৬৫ শতাংশ শিয়া মুসলমান।
যা-ই হোক, বর্তমানে শুধু সৌদি আরবই নয়, আইএসের অন্যতম লক্ষ্য সুন্নি-অধ্যুষিত অঞ্চল গঠন এবং শিয়াদের উৎখাত। আইএসের ঘোষিত তথাকথিত ইসলামি খেলাফত হবে সুন্নি-অধ্যুষিত। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শিয়া-সুন্নি বিভাজনে পড়েছে পাকিস্তান থেকে মধ্যপ্রাচ্য। আইএস অনেকটাই ওয়াহাবি মতবাদে দীক্ষিত। তবে ওয়াহাবিদের চেয়ে এক ধাপ ওপরে।
পাকিস্তানের বেলুচিস্তানে হাজারা শিয়া-অধ্যুষিত অঞ্চলে দেওবন্দি কট্টরপন্থী গোষ্ঠীর অনবরত হামলায় জর্জরিত বেলুচিস্তানের প্রত্যন্ত অঞ্চল, যার মধ্যে রাজধানী কোয়েটা অন্যতম। পাকিস্তানে শিয়া-সুন্নি দাঙ্গা চলছে তিন দশক ধরে। সাউথ এশিয়া টেররিজম পোর্টালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৮৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ শিয়া মুসলমান নিহত ও ৭ হাজার ৭০০ জন আহত হয়েছেন। এবারও (অক্টোবর ২২, ২০১৫) মহররমের দশম দিনের প্রাক্কালে বেলুচিস্তানের ভাগ নামক শহরে মসজিদে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও ২০ জন শিয়া সম্প্রদায়ের সদস্য আহত হয়েছেন। এখন এ হামলার পেছনে কাদের হাত রয়েছে, তা পরিষ্কার না হলে তালেবানদের একাংশ, যারা আইএসের নেতৃত্বে আনুগত্য প্রকাশ করেছে, তাদের সন্দেহ করা হচ্ছে।
পাকিস্তানের শিয়া মসজিদে হামলার এক দিন পরই বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম শিয়া ইমামবাড়ায় আশুরার প্রাক্কালে এই হামলা হয়েছে। এই হামলা বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপরই শুধু নয়, দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তাতে আরেকটি নতুন উদ্বেগের কারণ যুক্ত করেছে। যদিও ওই হামলার পর আশুরার অনুষ্ঠান নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে, তথাপি আমাদের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় যে অশনিসংকেত রয়েছে, তার মাত্রা আরও বাড়বে।
ইমামবাড়ার এ হামলার ঘটনা বিদেশিদের উৎকণ্ঠা না কমিয়ে বরং বাড়িয়ে দিতে পারে। এ ধরনের হামলার আগাম কোনো তথ্য আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে কতখানি ছিল, সে তথ্য জানা না থাকলেও পুলিশের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ধারণা করা যায় যে কিছু তথ্য নিশ্চয়ই ছিল। এ ঘটনাকে যত সহজ ভাবা যায়, তেমনটি নয়। ধরন দেখে মনে হয় যে এতে ধর্মীয় ভিন্নপন্থীদের হাত আছে। অতীতের কয়েকটি হত্যাকাণ্ড, যা ভিন্ন মতাবলম্বী হওয়ার কারণে ঘটেছে বলে ধারণা করা যায়, তার সঙ্গে এর যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা–ও খতিয়ে দেখার বিষয়। এ ঘটনায় আইএস দায়িত্ব স্বীকার করেছে বলে যে খবর বের হয়েছে, তার সত্যতাও নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কাজেই এ ঘটনার গভীরে তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে এ সবই দেশকে অস্থির অবস্থায় নিয়ে যাবে। প্রয়োজন নির্মোহ তদন্ত। কোনো সম্প্রদায়ের ওপর হামলা স্বাধীন বাংলাদেশে মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এ ধরনের হামলার নিন্দা জানাই।
এম সাখাওয়াত হোসেন: অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, সাবেক নির্বাচন কমিশনার ও কলাম লেখক৷
hhintlbd@yahoo.com

শাহজালালসহ সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে
নিরাপত্তা জোরদারের পর শুধু যাত্রীদের
ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছে -যুগান্তর
নাশকতার আশংকায় ঢাকার হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ সব বিমানবন্দরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমানবন্দর, সিলেটের ওসমানী ও রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দর রয়েছে। নিরাপত্তা কড়াকড়ির অংশ হিসেবে বিমানবন্দরগুলোতে দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এছাড়া যাত্রীদেরও ব্যাপক তল্লাশির পর ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে। শাহজালালের নিরাপত্তা বিভাগসহ, সিলেট ও কয়েকটি বিমানবন্দরে কর্মরত সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীর ছুটি বাতিল করা হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সব ধরনের সংস্কার কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এ কাজে নিয়োজিত কর্মীদের ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে শাহজালালের ভেতরে অবস্থিত সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রবেশেও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। বিমানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডেলিং ও কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের কাজে নিয়োজিত সিএন্ডএফ এজেন্ট স্টাফদেরও বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাধ্য হয়ে বিমান কর্তৃপক্ষ জরুরি ভিত্তিতে বিমানের অন্য বিভাগ থেকে কর্মী এনে কার্গো হ্যান্ডেলিংয়ের কাজে লাগিয়েছে। রোববার রাত থেকে এই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ বলছে, নাশকতার বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিমানবন্দর থানা পুলিশ জানিয়েছে, সম্প্রতি দু’জন বিদেশী নাগরিক হত্যা এবং আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হোসনি দালানে বোমা হামলার প্রেক্ষাপটে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
এদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী রাশেদ খান মেনন এ বিষয়ে বলেন, শাহজালালে কোনো ধরনের এলার্ট জারি করা হয়নি। তারপরও কিছু পত্রিকা, টিভি ও অনলাইন মিডিয়া রেড এলার্ট জারির কথা জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে। বিষয়টি জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। প্রকৃতপক্ষে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিন্যস্ত করতে এবং সংস্কার ও মেরামত কাজ সম্পাদন করতে সাময়িকভাবে দর্শনার্থীদের প্রবেশ স্থগিত করা হয়েছে।
অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাংবাদিকদের বলেছেন, শাহজালালসহ কোনো বিমানবন্দরেই রেড এলার্ট জারি করা হয়নি। তবে সর্বত্র সতর্কতাবস্থা জারি করা হয়েছে। তিনি বলেন, পৃথিবীর সব ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের নিজস্ব সিকিউরিটি ব্যবস্থা আছে। সবার নিজস্ব অথরিটি আছে। আমরাও তাদের ফলো করছি।
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন জাকির হাসান যুগান্তরকে জানান, রুটিন কাজ অনুযায়ী শাহজালালসহ সব বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ তদারকি বাড়ানো হয়েছে। বিমানবন্দরের অভ্যন্তরে সব ধরনের সংস্কার কাজে নিয়োজিত লোকজনের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তা অফিসারদের সুপারভিশন বাড়ানো হয়েছে।
বিমানের সিকিউরিটি শাখার জেনারেল ম্যানেজার মমিনুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন থেকে বিমানের কার্গো শাখায় আর সিএন্ডএফ স্টাফদের প্রবেশ করতে দেয়া হবে না। এ কারণে জরুরি ভিত্তিতে কার্গো শাখায় বিমানের নিজস্ব জনবল নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিমানবন্দরে দর্শনার্থী কিংবা যাত্রীদের সঙ্গে আসা স্বজনদের এখন আগের মতো টিকিট কেটে ভেতরে ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না। রাজধানীজুড়েই এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলছেন বিমানবন্দর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হওয়ার কারণেই এই বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা কতদিন বলবৎ থাকবে সে বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। কয়েক সপ্তাহ আগে শাহজালাল বিমানবন্দরে বাংলাদেশের একটি অভ্যন্তরীণ এয়ারলাইন্সের চট্টগ্রামগামী ফ্লাইটে বোর্ডিং পাস ছাড়াই একজন নারী উঠে পড়েন। বিমান উড্ডয়নের আগ মুহূর্তে বিষয়টি নজরে আসে এবং সেই নারীকে পুলিশে হস্তান্তর করা হয়। ওই ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তোলেন।
শাহ আমানতে দর্শনার্থী প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা : চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ নগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিমানবন্দরে সব ধরনের দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় যাত্রী ও যাত্রীদের আত্মীয়-স্বজনকেও সতর্ক দৃষ্টিতে রাখা হয়েছে।
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক উইং কমান্ডার মো. রিয়াজুল কবির বলেন, টার্মিনাল ভবনের গ্যালারি ও কনকর্ড হলে সব ধরনের দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। যাত্রীদের সঙ্গে থাকা দর্শনার্থীদের চলাচলের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।
সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) দেবদাস ভট্টাচার্য্য যুগান্তরকে বলেন, হোসনি দালানে বোমা হামলা, বিদেশী নাগরিক হত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায়সহ সামগ্রিক পরিস্থিতির কারণে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ নগরীর নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে থানা ও ফাঁড়ি পুলিশকে।
ওসমানী বিমানবন্দরে বাড়তি সতর্কতা, কর্মীদের ছুটি বাতিল : সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও আশপাশের এলাকার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ছুটি বাতিল করা হয়েছে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের কথা নিশ্চিত করে জানান, একটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তায় যা প্রয়োজন সে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সোমবার সকালেও এ নিয়ে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এটিকে রুটিন ওয়ার্ক বলে দাবি করেন তিনি। ওসমানীতে রেড এলার্ট জারি করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি আসেনি। তবে আমরা নিরাপত্তা ও সতর্কতা জোরদার করেছি।
সোমবার সকাল থেকে বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে যাত্রীদের ব্যাপকভাবে তল্লাশি করা হচ্ছে। দর্শনার্থীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। বাতিল করা হয় বিমানবন্দরের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি।
সূত্র জানায়, বিমানবন্দরকেন্দ্রিক নাশকতার পরিকল্পনা করছে একটি গোষ্ঠী এমন তথ্য রয়েছে গোয়েন্দাদের কাছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আইন-শৃংখলা বাহিনীর এক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ পুলিশ কমিশনার মো. রহমত উল্লাহ জানান, বিমানবন্দর এলাকার বাইরে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।
শাহমখদুম বিমানবন্দরে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার : রাজশাহীর শাহমখদুম বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সোমবার থেকে জোরদার করা হয়েছে। এর আগে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা দেখভাল করতেন সিভিল এভিয়েশনের সদস্যরা। সোমবার এর সঙ্গে যোগ হয় পুলিশ ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক সেতাফুর রহমান বলেন, সিভিল এভিয়েশনের পাশাপাশি আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (সদর) তানভীর হায়দার চৌধুরী বলেন, বিমানবন্দরে যে কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজশাহী শাহমখদুম বিমানবন্দর থেকে শুধু ঢাকা রুটে বিমান চলাচল করে।

ভূমিকম্পে হতাহত বেড়েছে, উদ্ধারকাজ চলছে

পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে গতকাল সোমবার আঘাত হানা ভূমিকম্পে হতাহতের সংখ্যা বেড়েছে।
সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, ৭ দশমিক ৫ তীব্রতার ওই ভূমিকম্পে প্রায় ২৮০ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় দুই হাজার মানুষ। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। উদ্ধারকাজ চলছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানে। সেখানে অন্তত ২১৪ জন নিহত হয়েছে, আহত হাজারো মানুষ। আফগানিস্তানে স্কুলের ১২ জন মেয়ে শিক্ষার্থীসহ নিহত হয়েছে অন্তত ৬৩ জন, আহত হয়েছে অনেকে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া অনলাইনের প্রতিবেদনে জানানো হয়, ভূকম্পন ভারতেও অনুভূত হয়েছে। উত্তর ভারতে চারজন নিহত হয়েছে।
হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা করছেন পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের কর্মকর্তারা।
দেশ দুটির কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার তৎপরতার গতি বাড়ানো হয়েছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যন্ত পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের আশপাশের এলাকাগুলোর প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির খবর আসতে কয়েক দিন লেগে যেতে পারে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী বলেছেন, সবচেয়ে অগ্রাধিকার পাবে জীবন বাঁচানোর কাজ। দিন-রাত উদ্ধারকাজ চলবে।
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তা দিতে কাজ করছে পাকিস্তান ও আফগান সরকার। ভারত, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল আফগানিস্তানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বাদাখশান প্রদেশের জুরম জেলা। এলাকাটি হিন্দুকুশ পাহাড়ি অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। রাজধানী কাবুল থেকে ২৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে এলাকাটি অবস্থিত।
বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের খবরে জানানো হয়, এক মিনিট স্থায়িত্বের ওই ভূমিকম্পের সময় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মানুষজন ঘরবাড়ি ও ভবন ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসে। ভূমিকম্পে অনেক ভবন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। অনেক এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে অনেক মানুষ।

‘আটক আইনজীবীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন বা মুক্তি দিন’

আইনজীবী আসাদ উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে অভিযোগ গঠন বা মুক্তি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে নিউ ইয়র্ক ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। জামায়াতে ইসলামীর সিনিয়র নেতা মতিউর রহমান নিজামির বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আসামিপক্ষের আইনজীবী দলের মধ্যে অন্যতম আসাদ উদ্দিন। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত সিনিয়র দুই জামায়াত নেতার আপিল ও রিভিউ শুনানি হওয়ার দু’সপ্তাহ আগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, আপিলের আগ দিয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবীকে ভীতিপ্রদর্শন ত্রুটিপূর্ণ বিচারপ্রক্রিয়ার ওপর আরেকটি আঘাত। ২২শে অক্টোবর আসাদ উদ্দিন সিরাজগঞ্জে তার নিজ বাড়িতে যাওয়ার সময় আটক হন। এক প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, বেলা আড়াইটার দিকে তিনি যে বাসে করে যাচ্ছিলেন, যমুনা সেতু পার করার পর পুলিশ সে বাসটি থামিয়ে দেয়। উর্দি পরিহিত এবং সাদা পোশাকের দু ধরনের পুলিশই ছিল। নিজেদের গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিচয় দিয়ে তারা আসাদ উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। প্রত্যক্ষদর্শীরা তার পরিবারকে অবহিত করলে তারা পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার চেষ্টা করে। পুলিশ সে আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। আসাদ উদ্দিনকে সিরাজগঞ্জ থানার গোয়েন্দা বিভাগে আটক রাখা হয়েছে তার পরিবারের কাছে এমন বিশ্বাসযোগ্য তথ্যপ্রমাণ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ তাদের হেফাজতে আসাদের থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে। একইদিন সন্ধ্যায় পুলিশ আসামিপক্ষের আরেকজন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরের বাড়িতে অভিযান চালায়। শিশির বাড়িতে না থাকায় তারা চলে যান। কিছুক্ষণ পর সাদা পোশাকের পুলিশ ডিবি পরিচয়ে আবার শিশিরের বাড়িতে ঢুকে তার ড্রাইভারকে আটক করে। তাকে ছাড়ার আগে কয়েক ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ২৫শে অক্টোবর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ উদ্দিনকে হাজির করা হয়। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আরও সময় প্রার্থনা করে বলে, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ‘সরকারকে উৎখাত করতে এবং যুদ্ধাপরাধ মামলা ব্যহত করার’ পরিকল্পনা করছে। ২৬শে অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেট ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আসাদ উদ্দিনের দুদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেছেন, আসাদ উদ্দিনের গ্রেপ্তার এবং শিশিরের বাড়িতে অভিযান অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ঠুনকো অজুহাতে এ গ্রেপ্তার আর অভিযান যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ভীতি প্রদর্শনের প্রচেষ্টা বলে প্রতীয়মান হয়। এটা আইনের শাসনের গুরুতর লঙ্ঘন। তিনি আরও বলেন, গুরুত্বপূর্ণ শুনানির আগে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের ওপর সাম্প্রতিক এসব হামলা যুদ্ধপরাধ বিচার প্রক্রিয়ার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর বড় ধরনের আঘাত। আমরা দীর্ঘদিন ধরে ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আসছি। তবে সেটা সুষ্ঠু বিচারপ্রক্রিয়া বিসর্জন দিয়ে আসা উচিত নয়।