Tuesday, January 12, 2016
খালেদা জিয়ার সাথে সৌদি প্রিন্সের সাক্ষাত
আজ মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টায় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসভবনে এই সাক্ষাত অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, উপদেষ্টা রিয়াজ রহমান, মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন, সাবিহউদ্দিন আহমেদ ও চেয়ারপারসনের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত এনামুল হক চৌধুরী।
সাক্ষাতকালে বিএনপির তরফ থেকে সৌদি আরবের সাথে বাংলাদেশ ও বিশেষভাবে বিএনপির সাথে হৃদ্যতাপূর্ণ ঐতিহাসিক সম্পর্কের কথা তুলে ধরা হয়। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে বলে সৌদি যুবরাজকে জানায় বিএনপি।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘মৃত্যু-আতঙ্কে’ ভুগছেন মুসা বিন শমসের! by মোর্শেদ নোমান
![]() |
| মুসা বিন শমসের |
আজ মঙ্গলবার এ বিষয়ে চিকিৎসকের সনদ যুক্ত করে দুদককে চিঠি দিয়েছেন মুসা বিন শমসের। চিঠির অনুলিপি দুদক চেয়ারম্যান, সংস্থার দুই কমিশনার, অনুসন্ধান ও তদন্ত বিভাগের মহাপরিচালক, একই বিভাগের পরিচালক এবং অনুসন্ধান কর্মকর্তা ও দুদকের পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলীকে দিয়েছেন। চিঠিতে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দুই থেকে তিন মাস পেছানোর আবেদন করা হয়েছে।
দুদকের একাধিক কর্মকর্তা প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কাল বুধবার মুসা বিন শমসেরকে তৃতীয়বারের মতো জিজ্ঞাসাবাদের তারিখ নির্ধারিত ছিল।
মুসা বিন শমসেরের আবেদনটি দুদকে জমা দেন তাঁর মালিকানাধীন জনশক্তি প্রতিষ্ঠান ড্যাটকো প্রাইভেট লিমিটেডের উপমহাব্যবস্থাপক এ টি এম মাহবুব মোর্শেদ। আবেদন জমা দেওয়ার পর দুদক থেকে বের হওয়ার সময় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘স্যার (মুসা বিন শমসের) কমপক্ষে দুই থেকে তিন মাস সময় পেছানোর আবেদন করেছেন।’ কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, স্যার মৃত্যু-আতঙ্কে থাকেন। ডাক্তারি ভাষায় যেটাকে ডেথ ফোবিয়া বলে। এ ছাড়া তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস আছে।
মুসা বিন শমসের কখন মৃত্যু-আতঙ্কে থাকেন? জানতে চাইলে ড্যাটকোর এ কর্মকর্তা বলেন, ‘স্যার যখন ঘুমান তখন তাঁর মনে হয় তিনি হয়তো মারা যেতে পারেন। সুইস ব্যাংকে তাঁর বিপুল পরিমাণ টাকা জব্দ থাকায় এ টাকা কবে অবমুক্ত হয়, এসব চিন্তায় হয়তো স্যারের এমন হচ্ছে।’
বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরের কথিত বিপুল পরিমাণ সম্পদের রহস্য উদ্ঘাটন করতে ৪ জানুয়ারি তাঁকে আবারও তলব করে চিঠি দেয় দুদক। পরিচালক মীর জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত ওই তলবি নোটিশে তাঁকে ১৩ জানুয়ারি বেলা ১১টায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়।
দুদক সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৭ জুন দুদকে দেওয়া সম্পদ বিবরণীতে মুসা বিন শমসেরের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী সুইস ব্যাংকে তাঁর ১২ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় ৯৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৭৮ টাকা হিসাবে) ‘ফ্রিজ’ অবস্থায় রয়েছে। এ ছাড়াও সুইস ব্যাংকের ভল্টে ৯০ মিলিয়ন ডলার দামের (বাংলাদেশি প্রায় ৭০০ কোটি টাকা) অলংকার জমা রয়েছে।
গাজীপুর ও সাভারে তাঁর নামে প্রায় ১ হাজার ২০০ বিঘা সম্পত্তি রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন মুসা। বর্তমান বাজার দরে এসব জমির দাম ১ হাজার ২০০ কোটি টাকারও বেশি। অধিকাংশ সময় দেশের বাইরে থাকায় এসব সম্পত্তির খাজনা পরিশোধ করে নামজারি করা সম্ভব হয়নি বলে জানান মুসা।
মুসার দেওয়া তথ্য যাচাই করতে দুদকের চাহিদা অনুযায়ী সুইজারল্যান্ডের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুইস ন্যাশনাল ব্যাংকের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু চিঠির উত্তরে ব্যাংকটি জানিয়েছে, সেখানে ওই নামে কোনো হিসাব নেই। তাই ওই ব্যক্তির নামে কোনো সম্পদও নেই। সুইজারল্যান্ড কর্তৃপক্ষের জবাব পাওয়ার পর প্রকৃত তথ্য জানতে মুসাকে আবারও দুদকে তলব করা হয়।
সূত্র জানায়, মুসা বিন শমসেরকে এর আগে দুই দফা জিজ্ঞাসাবাদ করেও সুইস ব্যাংকের হিসাব নম্বর জানতে পারেনি দুদক। এবারের জিজ্ঞাসাবাদে প্রকৃত তথ্য না জানালে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্য প্রদানে অসহযোগিতার অভিযোগে মামলা করা হতে পারে। এ অপরাধে তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। মামলার পর আইন অনুযায়ী অনুসন্ধানও চলতে থাকবে। অনুসন্ধানে নামে-বেনামে অবৈধ সম্পদ পাওয়া গেলে পরে জ্ঞাত আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আরেকটি মামলা করা হবে। এ মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।
২০১৪ সালের জুন মাসে বিজনেস এশিয়া নামের একটি সাময়িকীতে মুসাকে নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্রে ওই বছরের ৩ নভেম্বর তাঁর সম্পদ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। ১৮ ডিসেম্বর প্রায় ৪০ জন ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর বহর নিয়ে দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে হাজির হন তিনি। পরে দুদকের অনুসন্ধান দলটি মুসার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ড্যাটকোতে গিয়ে তাঁকে আবারও জিজ্ঞাসাবাদ করে।
জিজ্ঞাসাবাদে মুসা দাবি করেন, ৪২ বছর বিদেশে বৈধভাবে ব্যবসার মাধ্যমেই তিনি ১২ বিলিয়ন ডলার উপার্জন করেছেন। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, মিসর, সিরিয়া, পাকিস্তানসহ অনেক দেশের সরকারি প্রতিরক্ষা ক্রয়সংক্রান্ত পাওনা পরিশোধের অর্থ ওই সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মাধ্যমে সুইস ব্যাংকে তাঁর হিসাবে জমা হয়েছে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ সক্ষমতা by বদিউল আলম মজুমদার
উপরিউক্ত চিঠিতে জনাব আসাদুজ্জামান দাবি করেছেন যে ‘প্রথম আলোর ৬ ডিসেম্বর সংখ্যায় “নির্বাচন নিয়ে কিছু সংশয়” শিরোনামে লেখায় বদিউল আলম মজুমদার ভোটার তালিকা ও পৌরসভা নির্বাচন নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছেন।’ আমি জনাব আসাদুজ্জামানের বক্তব্যে হতাশ হয়েছি। কারণ, ওই লেখায় আমি কোনো অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করিনি। বরং ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার ক্ষেত্রে আইন ভঙ্গ ও ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে এবং নিজেদের মতো ব্যাখ্যা দাঁড় করিয়ে কমিশন মিথ্যা ও বিভ্রান্তির আশ্রয় নিয়েছে।
আমি লিখেছিলাম, ‘নতুন ভোটারদের (১ জানুয়ারি ২০১৫ যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে) পৌর নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার দাবি উঠেছে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আইন লঙ্ঘন করে ২০১৫ সালের জানুয়ারির পরিবর্তে জুলাই-আগস্ট মাসে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করায় এসব ভোটার আসন্ন নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন।’ এ বক্তব্য অসত্য তো নয়ই, বিভ্রান্তিকরও নয়।
ভোটার তালিকা আইন ২০০৯-এর ১১ (১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কম্পিউটার ডেটাবেজে সংরক্ষিত বিদ্যমান সকল ভোটার তালিকা, প্রতি বৎসর ২ জানুয়ারি হইতে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়কালের মধ্যে, নির্ধারিত পদ্ধতিতে, নিম্নোক্তভাবে হালনাগাদ করা হইবে যথা: (ক) পূর্বের বৎসরের ২ জানুয়ারি হইতে যিনি ১৮ বৎসর বয়স পূর্ণ হইবার কারণে ভোটার হইবার যোগ্য হইয়াছেন অথবা যোগ্য ছিলেন, কিন্তু ধারা ১০ এর অধীনে তালিকাভুক্ত হন নাই, তাঁহাকে ভোটার তালিকাভুক্ত করা হইবে।’ অর্থাৎ ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁরা আইনানুযায়ী ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসে পরিচালিত হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন।
কিন্তু জনাব আসাদুজ্জামানের চিঠিতে দাবি করা হয়, ‘২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, এরূপ ৯৩ হাজার ২০০ জন ২০১৪ সালের হালনাগাদ ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এই নতুন ভোটারদের অনেকেই তাঁদের এলাকায় ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন এবং আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনেও অংশগ্রহণ ও ভোট দিতে পারবেন।’ লক্ষ করুন, জনাব আসাদুজ্জামানের দাবি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি যাঁদের ১৮ পূর্ণ হয়েছে, তাঁরা ২০১৪ সালের হালনাগাদ করা তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং বিভিন্ন নির্বাচনে ভোটও দিয়েছেন। অর্থাৎ নির্বাচন কমিশনের সৌজন্যে ৯৩ হাজার ২০০ ভোটার ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছেন!
কারও বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হলে তাকে আইনের ১১ (১) (ক) ধারা অনুযায়ী ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা যায় না। তাই নির্বাচন কমিশন যদি ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি যাঁদের ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, সে রকম ৯৩ হাজার ২০০ জনকে ২০১৪ সালের হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় ভোটার করে থাকে, তাহলে কমিশন সুস্পষ্টভাবে আইন ভঙ্গ করেছে। আর কমিশনের আইনভঙ্গের কারণে অযাচিতভাবে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়ে যদি এসব ব্যক্তি, জনাব আসাদুজ্জামানের দাবি অনুযায়ী, ২০১৫ সালের বিভিন্ন নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন, কমিশনকে সেই অন্যায়ের দায়ও নিতে হবে।
লক্ষণীয়, আইনের ১১ (১) (ক) ধারায় সুস্পষ্ট করা আছে যে ২০১৪ সালের ২ জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে যাঁদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁরা ২০১৫ সালের হালনাগাদ করা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। আর ২০১৫ সালের হালনাগাদ কার্যক্রম কমিশন ২০১৫ সালের জানুয়ারি মাসের পরিবর্তে—তাও আইনের ১১ (১) ধারা লঙ্ঘন করে—জুলাই মাসে শুরু করেছে, যা চূড়ান্ত হবে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। অর্থাৎ ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি যাঁদের ১৮ বছর পূর্ণ হয়েছে, তাঁদের চলমান হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাই ভোটার হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশন দু-দুবার ভোটার তালিকা আইন লঙ্ঘন করেছেন—একবার আইনানুযায়ী জানুয়ারির পরিবর্তে জুলাই মাসে ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু করে; আরেকবার ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হয়নি, এমন ব্যক্তিদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে।
প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম নিয়ে কমিশন অন্যভাবেও আইন ভঙ্গ করেছে। আইনের ৭ (৭) ধারা অনুযায়ী, ‘ভোটার তালিকা নির্ধারিত পদ্ধতিতে তথ্য নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে সর্বসাধারণের জন্য সংরক্ষিত থাকিবে এবং হালনাগাদকৃত তালিকা দ্বারা উহা প্রতিস্থাপিত হইবে।’ কিন্তু কমিশনের ওয়েবসাইটে সর্বশেষ ২০১৪ সালের হালনাগাদের এক পৃষ্ঠার সারসংক্ষেপ ছাড়া ভোটার তালিকার আর কেনো তথ্য নেই। এ কারণে নাগরিক হিসেবে আমাদের কোনোভাবেই হালনাগাদের সঠিকতা যাচাই করার কোনো সুযোগ নেই। তাই আমরা অনুসন্ধান করে দেখতে পারি না কীভাবে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও ভোটার হওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিরা ভোটার তালিকায় যুক্ত হলো। নাকি এতে অন্য ধরনের কোনো কারসাজি আছে!
প্রসঙ্গত, কমিশন দাবি করছে যে ২০১৫ সালের ১ জানুয়ারি ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ামাত্র ৯৩ হাজার ২০০ জন ভোটার ২০১৪ সালের হালনাগাদ করা ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু ২০১৫ সালের হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি নতুন ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৪ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় ৪৬ লাখ ৯৫ হাজার ৬৫০ ভোটার যুক্ত হয়েছিলেন। জানা গেছে, এবার জুলাই-আগস্ট মাসে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য নেওয়ার পর প্রায় ৪৩ লাখ সম্ভাব্য নতুন ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন (১ অক্টোবর পর্যন্ত)। অবশ্য ২০১৫ সালের তালিকা চূড়ান্ত হবে ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের শেষে। তর্কের খাতিরে
যদি ধরে নেওয়াও হয় যে নতুন ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৯৩ হাজার ২০০ জন ২০১৪ সালের তালিকায়—যদিও অযাচিতভাবে—যুক্ত হওয়ার কারণে পৌর নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন, তাহলে বাকি প্রায় ৪২ লাখ নতুন ভোটােরর কী হবে? তাঁরা তো আইন ভঙ্গ করে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা দেরিতে হালনাগাদ শুরু করার কারণে আসন্ন নির্বাচনে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন, এটাই ছিল আমার আগের উপসম্পাদকীয়র বক্তব্য। জনাব আসাদুজ্জামান এ ব্যাপারে কমিশনের আইন লঙ্ঘন ও ব্যর্থতার কথা স্বীকার না করে জনমনে মিছেমিছি বিভ্রান্তিই সৃষ্টি করেছেন।
জনাব আসাদুজ্জামান তাঁর চিঠিতে আরও দাবি করেছেন, ‘বদিউল আলম মজুমদার ভোটার তালিকায় জেন্ডার গ্যাপ বিষয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তাও বস্তুনিষ্ঠ নয়। ২০১৪ সালের হালনাগাদে নারীর চেয়ে পুরুষ ভোটার কোনো কোনো এলাকায় কিছু বেশি হয়েছে, তবে তা জাতীয়ভাবে খুব বেশি নয়।’ আর আমি লিখেছিলাম, ২০১৫ সালের ২ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত খসড়া সাপ্লিমেন্টারি তালিকা অনুযায়ী, ২০১৪ সালের হালনাগাদ কার্যক্রমে যুক্ত হওয়া প্রায় ৪৭ লাখ নতুন ভোটারের মধ্যে ‘জেন্ডার গ্যাপ’ ছিল ১২ শতাংশ, অর্থাৎ ৫৬ জন পুরুষের বিপরীতে ৪৪ জন নারী, যা অবাস্তব। ফলে যে ভোটার তালিকা নিয়ে আসন্ন পৌর নির্বাচন হবে, তা ত্রুটিযুক্ত।
জনাব আসাদুজ্জামান এ বিষয় সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন। বরং তিনি দাবি করেছেন, ‘১৫ জুন ২০১৫ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের ডেটাবেইস অনুযায়ী পুরুষ ও নারী মোট ভোটারের শতকরা হার যথাক্রমে ৫০ দশমিক ৩৯ এবং ৪৯ দশমিক ৬১...’। কিন্তু ২০০৮ সালের সেনাবাহিনীর সহায়তায় তৈরি ভোটার তালিকা, যা ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সবচেয়ে নিখুঁত, তাতে নারী ভোটার ছিল পুরুষ ভোটার থেকে ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৬০০ বেশি এবং ভোটার তালিকায় নারী-পুরুষের বিভাজন বা ‘জেন্ডার গ্যাপ’ ছিল +১.৭৪ %।
ভোটার তালিকায় পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যা বেশি হওয়ার প্রধান কারণ, আমাদের প্রায় এক কোটি নাগরিক বিদেশে কর্মরত, যাঁদের প্রায় সবাই পুরুষ এবং তাঁদের অধিকাংশই, আবারও কমিশনের ব্যর্থতার কারণে, ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নন। তাই জনসংখ্যায় নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান সমান হলেও বাস্তবতার কারণে ভোটার তালিকায় পুরুষের তুলনায় নারী ভোটারের সংখ্যাই বেশি হওয়ার কথা।
পরিশেষে, একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে একটি সুষ্ঠু ভোটার তালিকা তৈরি করা নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব। কিন্তু এ ব্যাপারে কমিশন আইনকানুন ও বিধিবিধানের কোনো রকম তোয়াক্কাই যেন করছে না! বরং কমিশন
যেন একধরনের তুঘলকি কর্মকাণ্ডে লিপ্ত, যা কমিশনের সক্ষমতাকে প্রশ্নবিদ্ধ না করে পারে না।
বদিউল আলম মজুমদার: সম্পাদক, সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক (৬ জানুয়ারি ২০১৬)।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন পাঠানকোট ভিন্ন by গৌতম দাস
![]() |
| পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ভারতের পাঠানকোট বিমানঘাঁটিতে ছয় জঙ্গী হামলা সামলাতে চারদিন |
প্রথমত কারা এরা? পরিচয় কী? প্রথম চার-পাঁচ দিন অনুমান করে ভারতীয় মিডিয়া ভাষ্যে বলা হচ্ছিল, এরা পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মির থেকে সীমান্ত পেরিয়ে এসেছে। কিন্তু কোন সীমান্ত আর কারা তা এতে নির্দিষ্ট করে বলা হচ্ছিল না। এ বিষয়ে সর্বশেষ গত ৮ জানুয়ারি ভারতীয় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগের যে বর্ণনা পাকিস্তানকে দেয় তাতে সুনির্দিষ্ট করে পাকিস্তানি তিন ব্যক্তির নাম উল্লেখ করা থাকলেও কোন এলাকা দিয়ে এরা অনুপ্রবেশ করেছিল সুনির্দিষ্টভাবে তার উল্লেখ এখনো কোথাও নেই।
ঘটনার মূল স্টোরিটা অর্থাৎ কী হয়েছিল, কিভাবে ঘটনাটা ঘটেছিল মোটাদাগে ও সারকথায় সে বর্ণনাটা হলো, হামলার আগের দিন তারা গুরুদাসপুর সীমান্ত দিয়ে বিনাবাধায় পাঠানকোটে প্রবেশ করে । এরপর আগে থেকে ঠিক করে রাখা কোনো গাড়িতে করে তারা শহরে প্রবেশ করে। এরপর পাঞ্জাব পুলিশের এক এসপির গাড়ি তারা ছিনতাই করে। গাড়িতে থাকা এসপি ও তার এক সহকারীকে ছেড়ে দিলেও তৃতীয়জন এসপির বন্ধুকে হত্যা করে। সেই গাড়িতে করে বিমানঘাঁটি পর্যন্ত যায়, এসপির ফোন থেকে পাকিস্তানের কয়েকটা নম্বরে ফোন করে। এরপর বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। ওপরে যে বর্ণনাটা দেয়া হলো, এটা ভারত সরকারের ভাষ্য নয় অর্থাৎ ঘটনা সংশ্লিষ্টদের স্টেটমেন্ট নিয়ে তা যাচাই করে খাড়া করা কোনো সরকারি ভাষ্য নয়। এই বর্ণনায় বহু ফাঁকফোকর আছে। ভারতের মিডিয়াই সে বিষয়ে সোচ্চার। কিন্তু যেটা গুরুত্বপূর্ণ তা হলো গাড়ি ছিনতাইয়ের পরও প্রশাসন এসপির অভিযোগকে হালকা করে নিয়েছিল, এটা যে পরে পাঠানকোটে হামলার সাথে সম্পর্কিত তা মনে করা বা ভেবে দেখা হয়নি। পাঠানকোটের ঘটনার ভেতরে এ রকম অসংখ্য নিরাপত্তাবিষয়ক ব্যর্থতা ও ত্রুটিতে পরিপূর্ণ। দ্বিতীয় কিন্তু সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো, ভারতের ভাষায় ‘জঙ্গিরা’ বিমানঘাঁটিতে অনুপ্রবেশ করেছে এটা জানার পর মোকাবেলার জন্য পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে কোন বাহিনীকে দিয়ে এটা মোকাবেলা করা হবে এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দেভালের নেতৃত্বের কমিটি নাকানিচুবানি ও হিমশিম অবস্থায় পড়েছিল। বিমানঘাঁটির আশপাশে আরো পাঁচটা আর্মি ক্যান্টনমেন্ট অবস্থিত হলেও তাদের কাউকে অপারেশনের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। না দেয়া হয় দিল্লিতে অন্তত ১০০ কিমি দূরে থাকা কমান্ডো বাহিনীকে। এরপর আবার ভারতের আর্মি নাকি কমান্ডো বাহিনীর অফিসার কার নেতৃত্বে কে থাকবে এবং সঠিক যোগ্যতার বাহিনী বেছে নেয়া হয়েছে কি না এ নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অযথা সময়ক্ষেপণ করা হয়। যেটা হামলা-উত্তর পরিস্থিতিতে আর্মি বনাম কমান্ডো শুধু নয়, ভারতের বিভিন্ন বাহিনী পরস্পর পরস্পরের সাথে দায় ঠেলাঠেলির বিশাল বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছে।
একটা ছোট তথ্যের দিক হলো, হামলাকারীরা সংখ্যায় চারজন ধরে নিয়ে প্রতিরোধ ও দমনব্যবস্থা সাজানো হয়েছিল। কারণ চারজন ছিনতাইকারী এসপির গাড়ি নিয়ে পালিয়েছিল। ফলে অপারেশন শেষ ঘোষণা করা হয় ওই চারজনের লাশ পাওয়ার পর। কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার গোলাগুলির ঘটনায় জানা যায় যে, তাদের আরো সঙ্গী তখনো আছে। পরে আরো অপারেশন শেষে আরো দু’জনের লাশ পাওয়া যায়। এভাবে প্রতিটা পর্যায়ে সামরিক অথবা বেসামরিক তৎপরতার মধ্যে অদক্ষতা, অপেশাদারিত্বের ছাপ দেখা যায়। সর্বশেষ গতকালের রিপোর্ট হলো, সীমান্ত পাহারার দায়িত্বে থাকা ভারতীয় বিএসএফ তাদের বসের কাছে এক তদন্ত রিপোর্ট পেশ করেছে এই বলে যে, তাদের দায়িত্বে থাকা কোনো এলাকা দিয়েই জঙ্গিরা ভারতে প্রবেশ করেনি, তারা তদন্ত করে দেখেছে। ফলে জঙ্গিদের প্রবেশ আর্মির অধীনন্থ কোনো এলাকা হতে পারে। অর্থাৎ প্রচ্ছন্নে বলা হয় বিএসএফের দোষ-দায় নেই। এটাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। সামগ্রিকভাবে ভারতের প্রতিরক্ষায় থাকা নানা বাহিনী খুবই আমলাতান্ত্রিক অর্থে অদক্ষ, এমন অভিযোগের কথা শোনা যেত। এখন একে অপরের ওপর দায় চাপিয়ে নিজেকে মুক্ত করার চেষ্টা হতে দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ অপারেশনাল বিজনেস রুলে কাজ ভাগ, কমান্ড ভাগ ও সব কিছুর সমন্বয়ের দিক থেকে বিশাল ব্যর্থতা রয়েছে। এ দিক থেকে এখানে তা চরম নাদানির পরিচয় বহন করে। আর ঠিক এটাই দেখাতে চেয়েছিল হামলাকারীরা।

হামলা শেষে দায় স্বীকার করে পাকিস্তান-কাশ্মির থেকে সংগৃহীত বিবৃতি থেকে জানা যাচ্ছে, হামলা করেছে ‘ইউনাইটেড জিহাদ কাউন্সিল’। এটা অনেকগুলো সশস্ত্র গ্রুপের সমন্বয় সংগঠন; বিশেষত গ্রুপগুলোর অভ্যন্তরীণ পারস্পরিক বিবাদ মিটানোর উদ্দেশ্য থেকে এর জন্ম। কিন্তু ভারতে হামলার দিক থেকে এই ‘কাউন্সিল’ যে শুধু এই প্রথম তাই নয়, এর আগে ‘কাউন্সিল’ সীমান্ত পেরিয়ে অপারেশন করে না বা করতে চায় না, এই নীতি মেনে চলত। আর এর বরখেলাপ কেউ করলে তেমন অনেক সদস্য ‘কাউন্সিল’ এর আগে বের করে দিয়েছে, এমন রেকর্ড আছে। এখন কাউন্সিল নিজেই ভারতে এমন অপারেশন করার কথা না। ফলে এরা আসলেই তা করেছে কি না এই বিতর্ক উঠেছে। ফলে ভারতও এমন মনে করে যে, জয়শ মোহাম্মদ এই কাজ করে কোনো কারণে জিহাদ কাউন্সিলের নামে চালাচ্ছে, বলে মিডিয়া অনুমান করে রিপোর্ট লিখছে। কিন্তু এসব দিকের চেয়ে বড় একটা বিষয় হলো, দায় স্বীকার করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কাশ্মিরকেন্দ্রিক সশস্ত্র দলগুলো যে পাকিস্তান সরকারের ইচ্ছা ও সহযোগিতা ছাড়া নিজেরাই ভারতের যেকোনো সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ ও অপারেশন চালানোর সামর্থ্য রাখে সেটা দেখানোই নাকি এই হামলার উদ্দেশ্য ছিল। কথা হয়তো ফেলনা নয়। এ ছাড়া চার-ছয়জন ‘জঙ্গির’ হামলা সামলাতে ১০৭ জন কমান্ডো পাঠানো হয়েছিল এ বিষয়টাকেও এর পয়েন্ট মনে করা যায়। তবে স্বভাবতই এসব কথাবার্তা ভারতের কোনো বাহিনী বা গোয়েন্দা বিভাগের ভালো লাগার কারণ নেই। আবার তাদের নাস্তানাবুদ সমন্বয়হীনতাও প্রকাশ্য বলে এটা তাদের পক্ষে কথা বলছে না।
কাশ্মির ইস্যুতে ভারত ও পাকিস্তানের পারস্পরিক বিতর্ক এবং দুই অবস্থান হলো, ভারত মনে করে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরকে ভারতের পার্মানেন্ট অংশ ধরে নিয়ে বিতর্ক ও দ্বন্দ্ব শেষ করা হোক। এটা হলো সারকথা, তবে মনের কথা বাইরে বলার মতো কথা নয়। ফলে আবার ‘পুরো কাশ্মির ভারতের’ এই দাবি কৌশলগতভাবে ভারত ছেড়ে দেয়নি, জারি রেখেছে। তবে সাধারণভাবে কাশ্মির ইস্যু নিয়ে কারো সাথে কোনো আলাপের কিছু নেই বলে ভারত বিশ্বাস করে। কিন্তু মুখে তা উল্লেখ না করে বরং ইস্যুটা ফেলে রাখলেই সম্ভবত এক সময় ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মির ভারতের পার্মানেন্ট অংশ ধরে সমাধান এসে যেতে পারে আশা করে। আর এর বিপরীতে পাকিস্তানের অবস্থান হলো, কাশ্মিরকে ইস্যু মেনে ভারতকে কথা বলাতে হবে। কাশ্মিরের স্বাধীনতার জন্য লড়ছে পাকিস্তাননিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের সশস্ত্র গ্রুপগুলো। কাশ্মির স্বাধীন করে আনলে তো এরা পাকিস্তানে যোগ দেবে এই নীতিতে এগোনো। গ্রুপগুলোর মাধ্যমে ভারতকে চাপ দেয়ার সুযোগ নেয়া।
এভাবেই চলছিল। কিন্তু এ ধরনের এই স্টেলমেট পরিস্থিতির ভেতর নতুন ফ্যাক্টর হাজির হয়, সম্ভাব্য আইএসের উপস্থিতি। এতে ভারতের চাহিদা ও কামনা হলো, ভারত-পাকিস্তান (পারলে বাংলাদেশসহ) সবাই মিলে আইএস বিরোধী সব ধরনের সহযোগিতা ও সমন্বয়ের এক প্রতিরোধ ব্যবস্থা তৈরি করতে। আমেরিকার অবস্থানও এটাই। এ ব্যাপারে পাকিস্তানের অবস্থান প্রায় একই, তবে একটা বাড়তি দিক ছাড়া। তা হলো কাশ্মির ইস্যুকেও এর ভেতরে সাথে রাখতে হবে। এ ব্যাপারে অন্তত কৌশলগতভাবে মোদির ভারত পাকিস্তানের সাথে সায় দিয়েছে। প্যারিসে নওয়াজ-মোদি আলাপ, ব্যাংককে নিরাপত্তা উপদেষ্টা পর্যায়ে বৈঠক, পাকিস্তানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে বৈঠক এবং সর্বশেষ মোদির আচমকা পাকিস্তান সফর, এগুলো ভারতের এই সায় দেয়া উদ্যোগের কারণেই হতে পেরেছে। সামনের ১৪ জানুয়ারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে এরই ফলোআপ বৈঠক হওয়ার কথা। ওদিকে নওয়াজ ও আর্মি প্রশাসন দু’পক্ষের সাথেই ভারত ডিল করতে চায়, এনগেজ হতে চায়, ভারতের এই ইচ্ছাও পূরণ হয়েছে। কারণ বর্তমান পাকিস্থানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা সেনাপ্রধান রাহিলের ঘনিষ্ঠ এক সাবেক জেনারেল। ফলে সঠিকভাবেই মোদি পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সাথেও কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে, মনে করা যেতে পারে। কেবল নওয়াজের রাজনৈতিক নেতৃত্ব নয়, সামরিক স্টাবলিশমেন্টের সমর্থন এর পেছনে আছে তা মোদি ধরে নিয়েছেন।
পাকিস্তানের সাথে মোদির এই অবস্থানের বিষয়ে ভারতীয় কংগ্রেসের অবস্থান শুধু শীতল বা রক্ষণশীল নয় বরং মারাত্মক নেতিবাচক। যেন কংগ্রেস পাকিস্তানের সাথে ভারতের কোনো সম্পর্কেরই বিরোধী। অজুহাত হলো, এগুলো করে কিছুই হয় না কারণ পাকিস্তান বিশ্বস্ত নয়। আসলে এগুলো কংগ্রেসের সরকারের আমলে বিজেপির অবস্থানের মতোই- পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বলে মুসলমান বিদ্বেষী ড্রাম পিটিয়ে অবস্থান নিয়ে লোক ক্ষেপিয়ে ভোটের বাক্সে তা যতটা কাজে লাগানো যায়, এটাই ভারতের যেকোনো বিরোধী দলের উপযুক্ত অবস্থান মনে করত বিজেপি। আজ কংগ্রেস একই অবস্থান অনুসরণ করছে।
তাই পাঠানকোট হামলা কংগ্রেস নিজের জন্য বিরাট পড়ে পাওয়া সুযোগ এসেছে বলে দেখছে। আগে বাজপেয়ীর সরকারের আমলে তার বাস-কূটনীতিতে লাহোর গমনের পর পরই কার্গিল যুদ্ধ হয়েছিল। অর্থাৎ তুকতাকের বিশ্বাস মতো যেন বাজপেয়ি নিজেই কার্গিল যুদ্ধ ডেকে এনেছিল। অতএব মোদির নওয়াজের জন্মদিনে পাকিস্তান সফরই পাঠানকোট হামলা মোদি ডেকে আনল, এই ছিল কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া। আর মোদির জন্য এমন মন্তব্য ততটাই অসহযোগিতা আর বিরূপ পরিস্থিতির। কিন্তু তবু মোদি ও তার সরকার ধৈর্য ধরা ঠিক মনে করেছিল। পাঠানকোট হামলার জন্য মোদি সরকার পাকিস্তানকে দায়ী করেনি, অভিযুক্ত করে এখনো কোনো বিবৃতি দেয়নি। নওয়াজ সরকারও এই হামলার ব্যাপারে মোদি সরকারকে সহযোগিতা করবে বলে দু’বার ফোন করে আশ্বস্ত করেছে বলে ভারতীয় মিডিয়ার খবর। পাঠানকোট হামলার পর এ ক্ষেত্রে আমাদের আগের অভিজ্ঞতাগুলো থেকে ভিন্নতর দিক এগুলোই। এগুলো কি আইএস ইস্যুতে ভারতের সিরিয়াস কমিটেড অবস্থানের প্রতিফলন? মোদি-নওয়াজের সহযোগিতা যে আপাত পথ আছে বলে মনে হচ্ছে, এটা কত দূর টিকবে? সময়ই তা বলবে!
goutamdas1958@hotmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রতিদিন একজন ছাত্রীর জন্য খোলা হয় রেলস্টেশন
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংবিধান সংস্কার ও ক্ষমায় শ্রীলঙ্কার শ্রীবৃদ্ধি by মিজানুর রহমান খান
![]() |
| প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা ক্ষমা করেছেন তাঁকে হত্যাচেষ্টাকারী সাবেক তামিল বিদ্রোহীকে |
এরশাদের পতনের পরে উচিত ছিল বিচারপতি মুনিমের নিয়োগকে অবৈধ ঘোষণা করা, একই যুক্তিতে আমরা কিন্তু জিয়া-এরশাদকে অবৈধ বলি। শিরানিকে সরানোর পরে রাজাপক্ষের মুনিম হয়েছিলেন মোহন। নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা মোহনকে অবৈধ বিবেচনায় শিরানিকে প্রধান বিচারপতি পদে পুনর্বহাল করেন। কিন্তু প্রধান বিচারপতি অপূর্ব দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। পরদিনই (২৯ জানুয়ারি ২০১৫) তিনি পদত্যাগ করলে নতুন প্রধান বিচারপতি হিসেবে আসেন কে. শ্রীপবন। গত এক বছরে শ্রীলঙ্কার রাজনীতিতে এমন অনেক কিছু গুণগত পরিবর্তন এসেছে, যা অবশিষ্ট বিশ্ব আগ্রহভরে লক্ষ করছে।
শ্রীলঙ্কা থেকে পাওয়া তিনটি খবর আমাদের আকৃষ্ট করেছে। প্রথমত, প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা তাঁকে হত্যাচেষ্টার দায়ে দণ্ডিত ব্যক্তিকে ক্ষমা করেছেন। দ্বিতীয়ত, তিনি স্বীকারও করেছেন যে এক ব্যক্তির হাতে নিরঙ্কুশ ক্ষমতা থাকা গণতন্ত্রের জন্য হুমকি। তৃতীয়ত, জাতিসংঘ দাবি করেছে যে শ্রীলঙ্কাকে গৃহযুদ্ধকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে একটি ট্রাইব্যুনাল গঠন করতে হবে।
আমরা আশাবাদী হয়ে লক্ষ করছি যে, একসময়ের অন্যতম গোলযোগপূর্ণ আমাদের এই কাছের দেশটিতে নেতার গুণে গণতন্ত্রের সুবাতাস বইছে। এ সপ্তাহে সিরিসেনা আবারও বলেছেন, তিনি এ বছরেই সংসদকে গণপরিষদে রূপান্তর করবেন। দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু করবেন। এর মোড়কে ছদ্মবেশী রাষ্ট্রপতি শাসনটা তিনি ধরে রাখবেন না। তাঁর এই মনোভাব আমাদের এরশাদের পতনের পরে রাষ্ট্রপতি পদ্ধতি থেকে ‘প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় ব্যবস্থা’ প্রবর্তনের ঘটনা মনে করিয়ে দিয়েছে। ১৯৯০ সালে বাংলাদেশে সংবিধান সংস্কার মুখ্য ইস্যু ছিল না। ছিল এরশাদের পতন। তদুপরি সংস্কারের নামে নামসর্বস্ব সংসদীয় গণতন্ত্র আনা হলো। রাষ্ট্রপতি শব্দ মুছে প্রধানমন্ত্রী লিখে মানুষকে নতুন করে বিভ্রান্ত করা হলো। কারণ, ‘সংসদীয় ব্যবস্থার’ নামে সামরিক জামানায় বিকশিত হওয়া রাষ্ট্রপতি পদ্ধতিটাই রেখে দেওয়া হয়েছিল। এ কারণে আমরা দেখি, রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সাইনবোর্ড মুছে সেখানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় লেখা হয়েছে।
সিরিসেনার দেশটিতে দাবি উঠেছে, এমন করে একটি নতুন সংবিধান তৈরি করতে হবে, যাতে সেটা গৃহযুদ্ধের পুনরাবৃত্তি রোধ করতে পারে। ক্ষমতার ভাগাভাগি নিয়েই সংখ্যালঘু তামিলদের সঙ্গে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিদের ১৯৮৩ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত ২৬ বছর মেয়াদি একটি গৃহযুদ্ধের সূচনা ঘটেছিল। কিন্তু যেটা লক্ষণীয়, সেটা হলো সিরিসেনা ভেবেচিন্তে এমন সব পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছেন, যার সঙ্গে গান্ধীজি, ম্যান্ডেলা ও অং সান সু চির অনুসৃত পথ এবং নীতি-আদর্শের মিল রয়েছে। ৩৬ বছর বয়সী সাবেক তামিল টাইগার শিবরাজ জেনিভান ১০ বছর ডিটেনশনে থেকে গত বছরে সিরিসেনাকে হত্যাচেষ্টার দায়ে ১০ বছর সাজাপ্রাপ্ত হন। ৯ জানুয়ারি সিরিসেনা সরকারের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মঞ্চে দণ্ডিতের সঙ্গে প্রেসিডেন্টকে করমর্দনরত দেখা গেছে। শিবরাজ সিরিসেনাকে অভিনন্দন জানান। এটা আশার কথা যে এ অঞ্চলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ক্ষমা করার মতো ঔদার্য প্রশংসনীয়ভাবে জায়গা করে নিচ্ছে।
আরও একটি বিষয় লক্ষণীয়, নেপালের মতোই এই দ্বীপরাষ্ট্রের সংবিধানে জাতিগত সংখ্যালঘুদের সমান মর্যাদা প্রদানের দাবি উঠেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলিরা তামিলদের জীবনের কিছু ক্ষেত্রে বাঙালির জীবনের পাঞ্জাবি শাসকগোষ্ঠী হয়ে উঠেছিল। পাঞ্জাবিরা ফেডারেল কাঠামো মানতে চায়নি। কারণ, তাহলে বাঙালিদের রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হয়। সিংহলিরাও ফেডারেল নয়, ইউনিটারি বা এককেন্দ্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়েছে। ১৯৪৮ সালে স্বাধীনতাপ্রাপ্ত দেশটি বর্তমানে মূলত ১৯৭৮ সালের সংবিধান দিয়ে চলছে। বৌদ্ধধর্মকে রাষ্ট্র বা সরকারি ধর্ম ঘোষণা না করে তারা শুধু বলেছে, বৌদ্ধধর্ম অগ্রগণ্য হবে। আবার এটাও ঠিক যে ভারত, নেপালসহ বিশ্বের অন্য বহু দেশের মতো সংবিধানেই তারা বিরোধী দলের নেতাকে বিশেষ মর্যাদা প্রদানের প্রবণতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশে এমন দাবি এখনো জনপ্রিয় নয় যে সাংবিধানিক পদগুলোতে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের মতামত থাকা বা তার সঙ্গে পরামর্শ থাকাটা গণতন্ত্রের দাবি।
শ্রীলঙ্কায় একটি নতুন সাংবিধানিক পরিষদ গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনসহ সব ধরনের কমিশনের নিয়োগ হবে এই পরিষদের সুপারিশে। প্রতি তিন মাসে একটি সভা হবে। সেখানে প্রধানমন্ত্রী ও স্পিকারের পরেই বিরোধী দলের নেতাকে রাখা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতা মিলে পাঁচজনকে (নির্দলীয় নিরপেক্ষ হবেন তিনজন) মনোনয়ন দেবেন। ছোট দল ও স্বতন্ত্র এমপিদের কণ্ঠস্বরকে মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। কারণ, তারাও ওই পরিষদে একজনকে মনোনয়ন দিতে পারবেন। সংবিধানই বলছে, এর উদ্দেশ্য সমাজের বৈচিত্র্য ও বহুত্ববাদ লালন ও পরিচর্যা করা। নেপালের নতুন সংবিধানেও এমন বিধান আছে। এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে তুলনা করতে পারি, এমন কোনো রক্ষাকবচ আমাদের সংবিধানে নেই।
আমরা এর আগে নেলসন ম্যান্ডেলার রিকনসিলিয়েশন প্রক্রিয়া আগ্রহভরে লক্ষ করেছিলাম। কিন্তু তা থেকে কতটা শিখেছি কিংবা শিখতে চাইছি, সেই প্রশ্নে নানা মত ও পথ থাকবে, কিন্তু এবারে আমরা আরও ঘরের কাছে সংঘাত–পরবর্তী আপস ও সমঝোতার প্রক্রিয়া দেখতে পারব। বেহাত হওয়া ভূমি তার মূল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া কঠিন। আমরা অর্পিত সম্পত্তি আইন বাস্তবায়ন করতে পারি না। দেখি সংসদীয় কমিটির অরণ্যে রোদন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ভূমি কমিশন কাগুজে কমিশন রয়ে গেছে। আর সিরিসেনা বলছেন, তিনি জাতিগত হানাহানিতে লিপ্ত থাকা জাতির ঐক্য স্থাপন করবেন। সবচেয়ে বড় বাধা ভূমি সমস্যা নিরসন করা।
গত মাসে সিরিসেনা গৃহযুদ্ধে সব থেকে ক্ষতবিক্ষত উত্তরাঞ্চলীয় শহর জাফনা সফর করেন। তিনি দেখেন, একটি উদ্বাস্তু শিবিরে ২৫ বছর ধরে প্রায় ১ হাজার ৩০০ পরিবার বাস করেছিল। গোলযোগপূর্ণ এলাকার বেসরকারি জমি সামরিক বাহিনীর দখলে চলে গেছে। সিরিসেনা বলেছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এসব জমিতে পুনর্বাসন শুরু হবে। এ মাসেই তিনি জাফনায় প্রায় ৭০০ একর জমি হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছেন। এক লাখ যুদ্ধ–ভুক্তভোগীকে ভূমি দেওয়া ছিল তাঁর নির্বাচনী অঙ্গীকার। এটা সুখকর যে তিনি সাবেক বিদ্রোহীদের সঙ্গে একটি বিশ্বাসযোগ্য শান্তিচুক্তি করেছেন। আশা করব, তিনি দক্ষিণ এশীয় কোনো কোনো নেতার মতো জমি ফিরিয়ে দেওয়ার চুক্তি ভঙ্গ করবেন না। সংখ্যালঘু তামিল ও মুসলমানদের সমর্থনে সিরিসেনা গত বছরের জানুয়ারিতে নির্বাচিত হন।
সিরিসেনা কী করে যুদ্ধাপরাধের বিচার ও রিকনসিলিয়েশন করেন, সেটা দেখার বিষয়। ২৫ বছরের নয়, ‘চূড়ান্ত পর্বের’ যুদ্ধাপরাধকে বিবেচনায় নেওয়া হবে। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এটা ‘ইনস্ট্যান্ট নুডলস’ নয়। তাঁর কথায়, ‘আমরা জবাবদিহি প্রক্রিয়ার ব্যাপারে কোনো তাড়াহুড়ো করতে পারি না। আমাদের দায়িত্বশীল এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।’ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে সিরিসেনা সরকারি সৈন্য ও তামিল বিদ্রোহীদের দ্বারা সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের তদন্তের আশ্বাস দিচ্ছেন।
সিরিসেনার বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির কিছু অভিযোগ উঠেছে। কারণ, তাঁর ভাই ও জামাতাকে টেলিকম ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ে চাকরি দিয়েছেন। প্রটোকলের ছন্দপতন ঘটিয়ে মেয়েকে বিদেশে সরকারি প্রতিনিধিদলে ঠাঁই দিয়েছেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেনি। তাই দক্ষিণ এশীয় রাজনীতি বিবেচনায় নিলে এটুকু খুব দোষের নয়, যদিও না হলেই ভালো হতো। তবে তিনি গত এক বছরে অনেক বড় মাপের কাজ করেছেন। ক্ষমতা গ্রহণের চার মাসের মধ্যে সংবিধানের ১৯তম বিল পাস করে তিনি বিস্ময়করভাবে ক্ষমতার প্রতি নির্মোহ মনোভাবের বিরল বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছেন।
সংবিধানে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ ছিল ছয় বছরের। এটা এক বছর কমিয়েছেন, বিধান করেছেন দুবারের বেশি কেউ প্রেসিডেন্ট হবেন না। আর নিজে ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি আর প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থী হবেন না। গত এপ্রিলে ১৯তম সংশোধনী পাস হয়। তবে এর বৈধতা বিল পাসের পরে নয়, সুপ্রিম কোর্ট বিল পাসের আগেই পরীক্ষা করেছেন। প্রধান বিচারপতি শ্রীপবনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের একটি বেঞ্চ বলেছেন, প্রস্তাবিত সব সংশোধনী সাংবিধানিক।
তবে কতিপয় বিধানের জন্য গণভোট লাগবে। এর মধ্যে রয়েছে এক্সিকিউটিভ প্রেসিডেন্সির বিলুপ্তি। আগে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী থাকলেও তার প্রধান ছিলেন প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট সেখান থেকে সরে যাবেন। যদিও সুপ্রিম কোর্টের ১৮ পৃষ্ঠার রায় পড়ে মনে হলো বিচারকেরা ব্যক্তির হাতে লেপটে থাকা নির্বাহী ক্ষমতাকে হুমকি মনে করছেন না। তাঁরা বলেছেন, ‘প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নির্বাহী ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইন প্রণয়ন ক্ষমতাকে চিহ্নিত ও “পার্সোনালাইজড” করা ঠিক হবে না। সব সময় মনে রাখতে হবে এই ক্ষমতার উৎস জনগণ।’ আমাদের ত্রয়োদশ সংশোধনীর রায়েও প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা নির্বাহী ক্ষমতাকে (এক্সিকিউটিভ প্রাইম মিনিস্ট্রি) এভাবেই দেখা হয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সিরিসেনার অবস্থানই সমর্থনযোগ্য। প্রধান নির্বাহী ও রাষ্ট্রপ্রধান রাষ্ট্রপতি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার পরামর্শে তিনি তা প্রয়োগ করবেন। এবারে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনা আরও কিছু ক্ষেত্রে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। নিজেকে তিনি রাবার স্ট্যাম্প করেননি।
১৯তম সংশোধনী অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টিতে ইসির সঙ্গে আলোচনা করে রাষ্ট্রপতিকেই বিশেষ ভূমিকা পালনের ম্যান্ডেট দিয়েছে। আমরা লক্ষ করব, এই কাজটা করতে সংবিধান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেনি।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দক্ষিণে মার্কিন যুদ্ধবিমানের মহড়া
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কাশ্মীরে গভর্নর শাসন জারি
জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ সাঈদের মৃত্যুর পর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে রয়েছেন তার মেয়ে এবং পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতি। তারই পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়ার কথা রয়েছে। তিনি হবেন কাশ্মীরের প্রথম নারী ও ১৩তম মুখ্যমন্ত্রী। যদিও তিনি তাৎক্ষণিকভাবে মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্বভার সামলাতে রাজি না হওয়াতে রাজ্যে গভর্নরের শাসন জারি করতে হয়েছে। রোববার চার দিনের শোক পালন শেষ হওয়ার পরেই মেহবুবা মুফতি এ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার অসুস্থতাজনিত কারণে ৭৯ বছর বয়সী মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মুহাম্মদ সাঈদ দিল্লির এইমস হাসপাতালে মারা জান। তারপর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর আসন খালি থাকায় রাজ্যে সাংবিধানিক শূন্যতা সৃষ্টি হয়।
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে হস্তশিল্প
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নয়া সংবিধানের পথে শ্রীলঙ্কা
![]() |
| প্রেসিডেন্ট মাইথ্রিপালা সিরিসেনা |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিক্রির শীর্ষে ইসরায়েলি ফিলিস্তিনির প্রেমকাহিনি
![]() |
| বিক্রির শীর্ষে ইসরায়েলি ফিলিস্তিনির প্রেমকাহিনি |
About: ATM COX
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
প্রয়োজন নিরপেক্ষ নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন by জি. মুনীর
আওয়ামী লীগ যেখানে বিজয়ী হয়েছে ১৬৮টি মেয়র পদে, সেখানে বিএনপি পাবে ১৯টি- এ পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট হয়ে গেছে এটি কী ধরনের নির্বাচন হয়েছে। অনেকের মন্তব্য, রীতিমতো ৫ জানুয়ারির নির্বাচনকে লজ্জার মুখে ফেলে দিয়েছে। তবুও তৃপ্তির ঢেঁকুর সরকারি দলের নেতানেত্রী ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের মুখে। নির্বাচন কমিশন বলেছে- এ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই কমিশনের কাছে প্রশ্ন করতে হয়- নির্বাচন যদি অবাধ ও সুষ্ঠুই হয়ে থাকে, তবে কেন ২০টি পৌরসভার নির্বাচনী ফল বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে কমিশন স্থগিত ঘোষণা করতে বাধ্য হলো। অপর দিকে সরকারি দলের নেতাদের এককথা- এ নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু হয়েছে। বিএনপি জনবিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সরকারি দলের ঘোর সমর্থক এক বুদ্ধিজীবী তো রীতিমতো তত্ত্বই দিয়ে বসেছেন- বেগম জিয়া মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এ পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির ভোট ব্যাপকভাবে কমে গেছে। কী সহজ তত্ত্বায়ন! এসব শুনে অবাক হওয়া ছাড়া আর কিছুই থাকে না।
আমরা যদি একটু গভীরভাবে আলোচ্য পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে যাই, তবে আমাদের বিস্ময়ের মাত্রাটাই আরো শতভাগ বেড়ে যাবে। সহযোগী দৈনিক প্রথম আলো গত ৬ জানুয়ারি পৌর নির্বাচনের ফল বিশ্লেষণ করে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যারা এ প্রতিবেদনটি পড়েছেন তারা নিশ্চয়ই এবারের পৌর নির্বাচনের আসল চেহারা নিশ্চিতভাবেই অনুধাবন করতে পেরেছেন। এই ফলাফল বিশ্লেষণ এতটাই সরল যে, এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ অনুধাবনের জন্য তেমন কোনো বিদ্যাবুদ্ধি, মেধা-মননের প্রয়োজন হবে না। সাধারণজনও তা সহজেই বোধে নিতে পারবেন।
উল্লিখিত প্রতিবেদন মতে- ভোট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৩১টি পৌরসভায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ৮০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। আর বিএনপি অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে কম ভোট পেয়েছে। উল্লিখিত ৩১টি পৌরসভার ১৪টিতে আওয়ামী লীগ পেয়েছে ৯০ শতাংশের বেশি ভোট। এগুলোসহ ২০৭টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ গড়ে ৫৩.৫৪ শতাংশ ভোট পেয়েছে। আর ২০৪টি পৌরসভায় বিএনপির পাওয়া ভোটের গড় হাড় ২৭.৬৭ শতাংশ। এ ছাড়া ২৮টি পৌরসভায় বিএনপি পেয়েছে ১০ শতাংশেরও কম ভোট। নির্বাচন বিশ্লেষকেরা এ ফলকে অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন। এবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাওয়া ভোটের পরিসংখ্যান অতীতের পরিসংখ্যানের সাথে তুলনা করে কমিশন সচিবালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই নির্বাচনের এই ফলকে অবিশ্বাস্য বলে মনে করছেন। ২০০৮ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পেয়েছিল যথাক্রমে ৪৮.০৪ ও ৩২.৫০ শতাংশ ভোট। ২০১৪ সালের বিতর্কিত ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ৭২.৫৯ শতাংশ ভোট পেয়েছিল, ওই নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। বিএনপি ইতোমধ্যে এবারের পৌরসভার নির্বাচনের ফল প্রত্যাখ্যান করেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় নির্বাচন বিশেষজ্ঞ তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, তথ্য-উপাত্তই বলে দিচ্ছে এ নির্বাচনে ভোটের দিন বাস্তবে কী ঘটেছে। বিশেষ বিশেষ পৌরসভায় ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী যে ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছেন, তা বিশ্বাস করা কঠিন।
যে ১৪টি পৌরসভায় আওয়ামী লীগ ৯০ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়েছে, সেগুলো হলো : সন্দ্বীপ ৯৭.৮১ শতাংশ, কাজিপুর ৯৬.৮২, গফরগাঁও ৯৫.৫৭, বারইয়ারহাট ৯৫.৫১, মিরসরাই ৯৩.৪৮, রাউজান ৯০.৩৫, গৌরনদী ৯৪.৮০, মুলাদি ৯০.২৭, বানারীপাড়া ৯০.৪৬, রায়পুর ৯২.৭২, নলছিটি ৯১.৬৫, ভোলা ৯০.০০, বোরহানউদ্দিন ৯০.৪০ ও দৌলতখান ৯১.১৩ শতাংশ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, এ ধরনের তথ্য প্রমাণ করে এ নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি। সাবেক নির্বাচন কমিশনার এম শাখাওয়াত হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ ৯০ শতাংশের বেশি আর বিএনপি ৬ শতাংশেরও কম ভোট পাবে, এটি মোটেও বিশ্বাসযোগ্য নয়।
আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীরা ৮০ শতাংশ বা তার চেয়েও বেশি ভোট পেয়েছেন মোরেলগঞ্জ, কচুয়া, রাঙ্গুনিয়া, সাতকানিয়া, চান্দিনা, দাউদকান্দি, দাগনভূঞা, দেওয়ানগঞ্জ, জামালপুর, রামগঞ্জ, রামগতি, মুন্সীগঞ্জ, কলাপাড়া, স্বরূপকাঠি, পাংশা, গোপালপুর ও মাধবপুরে।
ভোটের এ পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ এমপি বলেন, তারা এখনো সব তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করেননি। বিশ্লেষণের পর এ ব্যাপারে মন্তব্য করা যাবে। নির্বাচন কমিশনার মো: শাহনেওয়াজও একই ধরনের কথা বলেন।
বিএনপি ৫০ শতাংশের ওপর ভোট পেয়েছে মাত্র পাঁচটি পৌরসভায় : বগুড়ার গাবতলী, দিনাজপুর, শ্রীপুর, সৈয়দপুর ও পঞ্চগড়ে। বিএনপির প্রার্থীরা ২৪টি পৌরসভায় ভোট পেয়েছেন এক হাজারেরও কম। ১১টি পৌরসভায় বিএনপির ভোট পাঁচ শ’রও কম। ১০ শতাংশের চেয়ে কম ভোট পেয়েছে বিএনপি এমন পৌরসভার মধ্যে আছে : কেশবহাট ০.৯০, কাজিপুর ১.০৪, চৌদ্দগ্রাম ১.৬৮, গোয়ালন্দ ১.৮৮, জাজিরা ১.৯০, সন্দ্বীপ ২.১০, হাতিয়া ২.১৯, কালিয়া ২.৯২ ও করিমগঞ্জ ২.৯৭।
এ তো গেল এবারের পৌরসভা নির্বাচনের ফলাফলের পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণ। এর বাইরে নির্বাচনের দৃশ্যমান চিত্র কেমন ছিল, তা-ও দেশের মানুষ কিঞ্চিত জানতে পারে দেশের মুদ্রণ ও গণমাধ্যম সূত্রে। মোটা দাগের অভিযোগের মধ্যে সরকার সমর্থক প্রার্থীদের লোকেরা প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। কেন্দ্র দখল করে একতরফাভাবে ব্যালট পেপারে সিল মেরে ভোটবাক্স ভর্তি করেছে। ব্যালট বাক্স ও ব্যালট পেপার ছিনতাই করেছে। প্রতিপক্ষের এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দিয়েছে, এ নিয়ে কেন্দ্রের বাইরে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলেছে। এতে আহত ও নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। অভিযোগ উঠেছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন এসব কাজে সরকারি দলের প্রার্থীর সমর্থকদের কোথাও সক্রিয় আবার কোথাও নিষ্ক্রিয় সমর্থন দিয়েছে। অনেক ভোটার কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেননি কিংবা কেন্দ্রে যেতে পর্যন্ত পারেননি। নানা অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলার কারণে নির্বাচন কমিশন ২০টি পৌরসভায় নির্বাচনের ফল পর্যন্ত ঘোষণা করতে পারেনি। এসব পৌরসভায় ভোটগ্রহণ কিংবা ফলাফল ঘোষণা স্থগিত করতে হয়েছে। এসব কিছুর পর সরকারি দলের মুখপাত্ররা যখন বলেন ভোট শতভাগ সুষ্ঠু হয়েছে এবং সরকারের সাথে সুর মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনও যদি বলে নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে, তবে এটুকু নিশ্চিত বলে দেয়া যায়, এ সরকারের অধীনে এবং এই নির্বাচন কমিশনকে দিয়ে আর যাই হোক, সুষ্ঠু, অবাধ-নিরপেক্ষ নির্বাচন কখনোই সম্ভব নয়।
সরকারের বাইরে যারা আছেন, এরা সবাই বলছেন এ কথাটিই। কিন্তু সরকারপক্ষ বলছে, আগামী সব নির্বাচন হতে হবে শেখ হাসিনার সরকারের অধীনেই। এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান এবং ৫ জানুয়ারির অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন ও এর পরবর্তী প্রতিটি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিরপেক্ষ বিশ্লেষণে অবাধ ও সুষ্ঠু করতে না পারাÑ এর মধ্যেই নিহিত রয়েছে দেশে চলমান রাজনৈতিক সঙ্কট। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাপার হচ্ছে, সরকারপক্ষ এই সঙ্কটের বিষয়টিকেই অস্বীকার করে চলেছে বরাবর। সরকার বলছে, দেশে কোনো সঙ্কট নেই, অথচ বাস্তবতা হচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আসলে সরকার উন্নয়নের দোহাই দিয়ে দেশ থেকে গণতন্ত্রকে বিদায় করে চলেছে। এ জন্য সরকারপক্ষ অবলম্বন করেছে প্রতিহিংসার রাজনীতি।
এই বাস্তবতার প্রতি স্বীকৃতি জানিয়েই বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় কন্যা শেখ রেহানার স্বামী অধ্যাপক ড. শফিক সিদ্দিকী গত ৫ জানুয়ারি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাভিশনে স্পষ্ট করেই বলেছেন- প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দেশ-সমাজকে পরিশুদ্ধ করা দরকার। দেশের চলমান রাজনীতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. সিদ্দিকী নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবিও জানান। এর অর্থ তিনি মনে করেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ নয়। তিনি বলেছেন, প্রতিহিংসার রাজনীতি থেকে দেশ ও সমাজকে পরিশুদ্ধ করা দরকার। কারণ, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে। শিল্প-সংস্কৃতির দিক থেকে এগিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু দুঃখজনক হলো- ‘বলতে খারাপ লাগে, আমাদের রাজনীতি দিন দিন খারাপের দিকে যাচ্ছে। আমরা অপজিশন সহ্য করতে পারি না। অপজিশনে থাকলে টেনে নামাব। আমি অনুভব করি, আমাদের সবচেয়ে প্রথম দরকার নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ হওয়া। নির্বাচন কমিশন হবে ভারতের মতো শক্তিশালী। সে নির্বাচন কমিশনকে সরকারি ও বিরোধী উভয় দলই মেনে নেবে। গ্রহণযোগ্য নির্বাচন কমিশন দরকার। আমি রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করব, রাস্তায় মারামারি না করে বরং নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করুন। এখন দরকার ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশন। পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন বিরোধী দলের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। কিন্তু আমরা পারিনি তেমন নির্বাচন কমিশন গঠন করতে।’ ড. সিদ্দিকীর অভিমত আমরা সমর্থন করি, তবে আমাদের প্রথম কাজ হবে বর্তমান ‘মেরুদণ্ডহীন নির্বাচন কমিশন’কে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব তাড়ানো। তোতাপাখির মতো সরকারপক্ষের লিপ সার্ভিস দিয়ে চলা এ নির্বাচন কমিশন ড. সিদ্দিকীর প্রত্যাশিত নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন নিশ্চয়ই নয়।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে কার্যত বিরোধী দলবিহীন একটি সংসদ বাংলাদেশে বিরাজ করছে বলে বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা দাবি করছেন। বিরোধী রাজনৈতিক মহলে সরকারকে অগণতান্ত্রিক হিসেবেও আখ্যায়িত করা হচ্ছে। কিন্তু সরকারপক্ষ বলছে এর উল্টোটি- সরকার গণতান্ত্রিকভাবেই দেশ শাসন করছে। যা কিছু করা হচ্ছে, সবই করা হচ্ছে সাংবিধান অনুযায়ী। এতে বলা যায়, সরকারের অবস্থান ও বিরোধী মহলের অবস্থান পরস্পর দুই বিপরীত মেরুতে। তাহলে বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের উপায় কী?
দলকানারা ছাড়া সবাই মনে করেন, সরকারপক্ষের এ দাবির পেছনে যৌক্তিকতা নেই। সরকার যদি গণতান্ত্রিক সড়ক ধরে হাঁটত, তবে আমাদের আজ কার্যত বিরোধী দলবিহীন সংসদ দেশে নানা বিতর্ক নিয়ে বিরাজ করত না। ৫ জানুয়ারির মতো ভোটারবিহীন প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন এমন একটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন করতে হতো না, যা একমাত্র ভারত ছাড়া আর কোনো দেশের কাছেই গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়নি। সে নির্বাচনের আগেই সিদ্ধান্ত হয়ে যায় কোন দল সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। কারণ, এ নির্বাচনের ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৪টি আসনের প্রার্থীরাই বিজয়ী হয়েছেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। ৫ জানুয়ারির পরবর্তী নির্বাচনগুলোর চিত্রও কারো জন্য সুখকর ছিল না। যেমনটি সুখকর নয় সদ্যসমাপ্ত পৌর নির্বাচনটিও।
সরকারের অংশ এবং একই সাথে বিরোধী দল, এমন অদ্ভুত দল হচ্ছে আমাদের জাতীয় পার্টি। সরকারের অংশ হয়েও জাতীয় পার্টির নেতা ও সাবেক মন্ত্রী জি এম কাদের নিজে মনে করেন, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ কার্যত বিরোধীদলবিহীন। তিনি সম্প্রতি বলেছেন, যদিও গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে বিরোধী দলের নামকরণ করা হয়েছে, তবুও এ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি সরকারের কোনো প্রস্তাবে না ভোট দেয়নি। এটাকে একদলীয় সংসদ বলা যায়। জাতীয় পার্টি চাপের মুখে এ অবস্থানে এসেছে উল্লেখ করে জি এম কাদের বলেন, এ সরকার তার গণতান্ত্রিক চরিত্র হারিয়েছে। তার ভাষায়, বর্তমানে বাংলাদশে গণতন্ত্র নেই। একটার পর একটা নির্বাচন খারাপ হচ্ছে। মত প্রকাশের স্বাধীনতা যথেষ্ট সঙ্কুচিত করা হয়েছে এবং এখনো হচ্ছে। এটা তো নিশ্চিতভাবেই স্বৈরশাসন। অপর দিকে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, অবিলম্বে সরকার থেকে জাতীয় পার্টির বের হয়ে আসা উচিত। দলের প্রধান জেনারেল এরশাদও মাঝে মধ্যে বলছেন, জাতীয় পার্টি সরকার থেকে শিগগিরই বের হয়ে আসবে। কিন্তু এক অদৃশ্য সুতোর টানে তিনি তা বাস্তবায়ন করতে পারছেন না বা করছেন না। সে যাই হোক, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কথা বলে ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের আগে সরকার মধ্যবর্তী নির্বাচন দেয়ার কথা বলেছিল। যদিও এখন দলটি বলছে, ২০১৯ সালের আগে জাতীয় নির্বাচন নয়। এ প্রসঙ্গে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, সরকার এটি বলেছিল। ১৬ কোটি মানুষ আমাদের, কিন্তু মৌলিক বিষয়ে ঐকমত্য আছে। এখানে কেউ অন্য কিছু চায় না। কার্যকর গণতন্ত্র চায়। ড. হোসেন বলেন, পাকিস্তান আমল কিংবা বাংলাদেশ আমলে যখনই বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, তখন কিন্তু নানা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সব সমস্যার সমাধান সম্ভব। আজকে একটা কথা বলা হচ্ছে, উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। অবশ্যই উন্নয়ন গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলে সংবিধানের মূলনীতি বাদ দিয়ে তো উন্নয়ন হবে না। সংবিধানের মূলনীতির মধ্যেই আছে গণতন্ত্র।
সরকার যদি বাস্তবতা মেনে নেয়, তবে স্বীকার করতেই হবে দেশ গণতন্ত্রের মহাসড়ক থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। এর ফলে এখন চলছে শুধু প্রতিহিংসার বাস্তবায়ন। এভাবে চলতে থাকলে প্রতিহিংসা জন্ম দেবে নতুন নতুন মাত্রার প্রতিহিংসা। তাই অসহিষ্ণু রাজনীতির পথ ছেড়ে, দমনপীড়নের পথ ছেড়ে ফিরে আসতে হবে সহনশীল তথা সহিষ্ণু রাজনীতির সড়কে। অথচ এ ক্ষেত্রে ড. সিদ্দিকীর সাথে সুর মিলিয়ে বলতে চাই, আমাদের এখনই দরকার ‘অ্যা ফেয়ার অ্যান্ড ফ্রি ইলেকশন’। সেই সাথে প্রয়োজন মেরুদণ্ডসর্বস্ব নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন। অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ জাতীয় নির্বাচন আমাদের গণতন্ত্রের সড়কে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে পারে।
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সময় যাচ্ছে, খরচ ও দুর্ভোগ বাড়ছে by শরিফুল হাসান
প্রধানমন্ত্রী, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী, ঢাকা দক্ষিণের মেয়রসহ সরকারের অনেক নীতিনির্ধারক এই ফ্লাইওভারের কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য তাগাদা দিয়েছেন। কিন্তু কাজ হয়নি। এখন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ফ্লাইওভারের দুটি অংশের কাজ শেষ করার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এ বছরের ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। বাকি কাজ শেষ হওয়ার সময় বলা হচ্ছে আগামী ডিসেম্বর।
সর্বশেষ আলোচনায় এসেছে ফ্লাইওভারের নকশার ত্রুটি। তবে এর জন্য কার কী দায়, তা নিয়ে কোনো কথা হচ্ছে না। এই ফ্লাইওভারটি ঢাকার যানজট কমানোর বদলে বাড়িয়ে দিতে পারে—এমন আশঙ্কাও করছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে এসব সমস্যা মানতে নারাজ তদারকি প্রতিষ্ঠান স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।
মগবাজার-মৌচাক সমন্বিত ফ্লাইওভারটির কাজ হচ্ছে তিন ভাগে। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত অংশের কাজ ৯০ শতাংশ, ইস্কাটন থেকে মৌচাক পর্যন্ত অংশের কাজ ৮৫ শতাংশ এবং রামপুরা থেকে মালিবাগ-মৌচাক হয়ে রাজারবাগ-শান্তিনগরের কাজের মাত্র ৪৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর মধ্যে শেষের দুই অংশের কাজ করছে তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। অভিযোগ উঠেছে, তাদের কারণেই কাজ বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।
কবে নাগাদ কাজ শেষ হবে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেক গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি এবং ইস্কাটন থেকে মৌচাক পর্যন্ত কাজটি শেষ করার জন্য ২৬ মার্চ পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যেই তাদের কাজটি শেষ করতে হবে। তবে রামপুরা থেকে মালিবাগ-মৌচাক হয়ে রাজারবাগ-শান্তিনগরের কাজটি শেষ হবে চলতি বছরের ডিসেম্বরে।
![]() |
| মগবাজার-মৌচাক উড়ালসড়কের মালিবাগ-রাজারবাগ-শান্তিনগর অংশের অধিকাংশ পিলারই এখনো মাটি ফুঁড়ে দাঁড়ায়নি। ছবিটি মালিবাগ মোড় থেকে তোলা |
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতরাস্তার ৬৯ নম্বর পিলারের কাছে ঢালাই চলছে। সাতরাস্তা ধরে হলি ফ্যামিলি পর্যন্ত সবগুলো পিলার নির্মাণ, ঢাল বসানো হয়ে গেছে। এই কাজের বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কেউ কথা বলতে রাজি হননি।
তবে ফ্লাইওভারের প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম বলেছেন, ‘এই অংশের কাজ ৯০ ভাগ শেষ হয়েছে। ২৬ মার্চের আগেই এটা উদ্বোধন করা সম্ভব হবে।’
ইস্কাটন থেকে মৌচাক, দুর্ভোগের শেষ নেই: ফ্লাইওভারের বাংলামোটরের ইস্কাটন থেকে মগবাজার মোড় হয়ে মৌচাক পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটারের ২০০ কোটি টাকার কাজটি যৌথভাবে পায় চীনা কোম্পানি এমসিসিসি-এসইএল-ইউডিসি। তবে উপঠিকাদার হিসেবে কাজটি করছে তমা কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। ২০১৪ সালের ডিসেম্বর এবং পরে গত বছরের ডিসেম্বরের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও হয়নি। প্রকল্প পরিচালক গতকাল জানালেন, ৮৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বাংলামোটর অংশের ২৪০ থেকে ২৪৪ নম্বর পর্যন্ত পিলারের ঢাল এখনো বসেনি। ২১৩ নম্বর পিলারের সামনে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এখানে ফ্লাইওভারের নিচে কাঁচাবাজার বসে গেছে। বাংলামোটরের মোটর পার্টস ব্যবসায়ী দুলাল মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, ‘চার বছর ধরে কাজ হচ্ছে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য প্রায় বন্ধ। আল্লাহই জানে কবে কাজ শেষ হবে, কবে আমরা শান্তি পাব।’
ফ্লাইওভারের মগবাজার মোড় পেরিয়ে মৌচাকের দিকে যেতে আড়ংয়ের আগে রাস্তার বেহাল দশা। এখানে গাড়ি আটকে যাচ্ছে। শীতের মধ্যেও এই রাস্তায় কাদাপানি। ২০২ থেকে ২০৭ নম্বর পিলার পর্যন্ত একই দশা। এখানে আটকে থাকা প্রাইভেট কারের চালক মতিন সরকার বলেন, ‘ইস্কাটনের স্কুল থেকে স্যারের মেয়েকে নিয়ে প্রতিদিন মৌচাক যাই। এত কষ্ট হয়, মনে হয় গাড়ি চালানো বাদ দিয়ে দিই।’ পাশ থেকে কয়েকজন রিকশাওয়ালাও এ সময় ফ্লাইওভারের কাজ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
![]() |
| ইস্কাটন থেকে মৌচাক অংশের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছর। কিন্তু এখনো তা শেষ হয়নি। ছবিটি ইস্কাটন থেকে তোলা |
সরেজমিনে দেখা গেছে, মালিবাগ মোড়, রাজারবাগ পুলিশ লাইন ও শান্তিনগরের অন্তত আটটি পিলার এলাকায় সবে মাটি খোঁড়াখুঁড়ি চলছে। এ ছাড়া অধিকাংশ পিলারের রড বাঁধাই শেষ হয়নি। মৌচাক মোড়ে কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘নানা সমস্যায় কাজ করা কঠিন। তাই দেরি।’ একই কথা জানালেন শান্তিনগরের সামনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসান।
তবে স্থানীয় লোকজন ক্ষুব্ধ মতামত জানালেন। শান্তিনগরের বাসিন্দা ও একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম বলেন, এই ফ্লাইওভারের কাজ নিয়ে এত দুর্ভোগ হচ্ছে যে নিজের বাড়ি না হলে এলাকা ছেড়ে চলে যেতাম।
অভিযোগ উঠেছে, তমার কারণে এই ফ্লাইওভারের কাজের দেরি হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেওয়া হয়নি। তবে প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম বললেন, ‘আমরা তাদের বারবার কাজ শেষ করার জন্য তাগাদা দিয়ে চিঠি দিয়েছি।’ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল মালেকও একই কথা জানালেন।
![]() |
| সাতরাস্তা থেকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল গত বছর। কিন্তু এখনো চলছে শেষ সময়ের কাজ। এফডিসির মোড় থেকে তোলা ছবি -সাইফুল ইসলাম |
যানজট কমবে না বাড়বে: বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের মতো বাঁ পাশে বসে চালিত যানের কথা মাথায় রেখে করা নকশায় এই ফ্লাইওভার নির্মাণ করা হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে ডান হাতে চালিত যানের জন্য ব্যবহার করতে হবে। ফলে অনেক সমস্যা তৈরি হবে বলে মনে করছেন সড়ক যোগাযোগ নিয়ে কাজ করেন এমন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি কোম্পানি সমীক্ষা করে এই উড়ালসড়েকর নকশা করে। আট বছর পর ২০১৩ সালে এই নকশা ধরেই কাজ শুরু হয়। কিন্তু তত দিনে এই প্রকল্প এলাকার পাশে হাতিরঝিল গড়ে উঠেছে। এ ছাড়া প্রকল্পস্থলের মাটির নিচে বিভিন্ন সেবা সংস্থার পাইপ ও তার বসে গেছে। এসব যাচাই-বাছাই না করেই কার্যাদেশ দেওয়ায় কাজ শুরুর পর বারবার নকশা পরিবর্তন করতে হয়।
জানতে চাইলে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘শহরের ভেতরে ফ্লাইওভার কখনোই সমাধান নয়। এটি যানজট কমায় না বরং বাড়ায়। ২০০৩-০৪ সালে ফ্লাইওভারের নকশা করা হয়। এই সময়ে নকশাটি অনেক বেশি আধুনিক করার সুযোগ ছিল। সেটি হয়নি। আমাদের কাছে যখন এই ফ্লাইওভারের কাঠামোগাত নকশা (স্ট্রাকচারাল ডিজাইন) নিয়ে পরামর্শ চাওয়া হয়, আমরা যতটুকু সংশোধনের সুযোগ ছিল সেটি করে দিয়েছি।’

উড়ালসড়কের নির্মাণত্রুটির বিষয়ে জানতে চাইলে শামসুল হক বলেন, ‘শান্তিনগর, রাজারবাগ, মগবাজারসহ প্রতিটি ওঠা-নামার জায়গায় র্যাম্প অনেক বেশি জায়গা নিয়েছে। এর ফলে উড়ালসড়কের নিচের রাস্তা দিয়ে গণপরিবহনের চলতে সমস্যা হবে। ফলে নগরবাসীর যতটুকু উপকার হতে পারত তা হবে না।’
তবে প্রকল্প পরিচাক নাজমুল আলম বলেন, ‘সবার সামনেই এই ফ্লাইওভার হয়েছে। সবাই দেখেছে। নানা কথা বলা হয়েছে। ৬০টি পিলারে ত্রুটি। এগুলো ভাঙতে হবে। এসবের কোনো ভিত্তি নেই। বাম দিক থেকে গাড়ি উঠবে, ডান দিক দিয়ে নামবে। কোনো সমস্যা হবে না।’
খরচও বাড়ছে: ২০১১ সালে একনেকে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পের চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়। ২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। প্রথম ধাপে প্রকল্পের খরচ ছিল ৩৪৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। দ্বিতীয় ধাপে এ খরচ নির্ধারণ করা হয় ৭৭২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। তবে এখন প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২১৮ দশমিক ৮৯ কোটি টাকা। ধরন বলছে, সময় যত যাবে, এই খরচ আরও বাড়িয়ে নেবে ঠিকাদার।
তবে প্রকল্প পরিচালক নাজমুল আলম মনে করেন, এই ফ্লাইওভারটি ‘সবচেয়ে সস্তায় হচ্ছে’।
খরচ ও জনদুর্ভোগের বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, ‘একনেকের পরের সভায় খরচের বিষয়টি চূড়ান্ত হবে। তবে এই ফ্লাইওভারের কাজ এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। দ্রুত এই কাজ শেষ করতে সবাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ২৬ মার্চের আগেই আমরা এটি উদ্বোধন করতে চাই।’
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নির্বাচন কমিশনের প্রহসন আর কতকাল? by ইকতেদার আহমেদ
![]() |
| নির্বাচনে অনেক কেন্দ্রে সংঘর্ষ ঘটলেও ইসি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে |
বাংলাদেশ রাষ্ট্রটির জন্মের দিকে ফিরে তাকালে দেখা যায়, জনমতের প্রতিফলনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভকারী দলটিকে রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করতে না দেয়ার কারণেই এ দেশের মানুষ মুক্তি তথা স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। স্বাধীনতা-পরবর্তী এ দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল জনমতের প্রতিফলনে যখন যে দল সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হবে, তখন সে দল রাষ্ট্রক্ষমতা পরিচালনা করবে। এ সত্যটি স্থানীয় নির্বাচনের চেয়ে জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেশি প্রযোজ্য।
বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন দলের অধীন যতগুলো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, এর কোনোটিতেই ক্ষমতাসীন দল জনমতের প্রকৃত প্রতিফলনে বিজয়ী হতে পারেনি। স্থানীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে, ক্ষমতাসীন দলের ইচ্ছার প্রতিফলনে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ফলাফল নির্ধারিত হয়েছে।
আমাদের দেশে জাতীয় ও স্থানীয় উভয় নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব সাংবিধানিক ও আইনগতভাবে নির্বাচন কমিশনের ওপর ন্যস্ত করা হলেও দলীয় সরকারের আমলে কোনো নির্বাচন কমিশনকে কখনো স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে এ দায়িত্বটি পালন করতে দেখা যায়নি। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নবম সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী দলীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়োগ পায়। দলীয় সরকারের অধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন দশম সংসদ নির্বাচন, তৎপরবর্তী উপজেলা পরিষদ নির্বাচন, ঢাকার বিভাজিত ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন এবং সদ্যসমাপ্ত ২৩৫টি পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের দায়িত্ব পালন করে।
দশম সংসদ নির্বাচন দেশের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি বর্জন করায় এবং সে নির্বাচনে সংসদের মোট আসনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি আসনের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ায় গণতন্ত্রের সংজ্ঞানুযায়ী আদৌ সেটি নির্বাচন ছিল কি না এটি প্রশ্নবিদ্ধ। অতঃপর ছয় ধাপে যে উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় তাতে প্রধান বিরোধী দল অংশ নিয়েছিল, কিন্তু প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল যে হারে আসনপ্রাপ্ত হয়েছিল, পরবর্তীকালে চারটি ধাপে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আসন পাওয়া ব্যাপক কমে যায়। প্রধান বিরোধী দলের আসন পাওয়ার ক্ষেত্রে জনমতের সাথে এ ধরনের অসামঞ্জস্য তারতম্যের কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দেশবাসী নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে পায়নি। এরপর তিনটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গেল কেন্দ্র দখল, জাল ভোট দেয়া, প্রতিপক্ষ প্রার্থীর এজেন্টদের ভোটকক্ষ থেকে বের করে দেয়া, ব্যালট ছিনিয়ে নিয়ে সিল মারা ও প্রতিদ্বন্দ্বী দলের নেতাকর্র্মীসহ সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেয়াসহ বিভিন্নœ অনিয়মের কারণে আনুষ্ঠানিক ভোটগ্রহণ পর্ব শুরু হওয়ার ২-৩ ঘণ্টার মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী দলের প্রার্থীরা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়।
আমাদের দেশসহ পৃথিবীর সবখানে জাতীয় নির্বাচনের চেয়ে স্থানীয় নির্বাচন অধিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়। আর সে নির্বাচনে দলীয় প্রতীক ব্যবহারের অনমুতি দেয়া হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাত্রা যে বাড়ে তা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের নির্বাচন অবলোকনে প্রত্যক্ষ করা গেছে। বাংলাদেশে এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন, যদিও কমিশনারদের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য ছিল না।
সদ্যসমাপ্ত ২৩৪টি পৌরসভা নির্বাচনে আটজন মেয়র প্রার্থী ও শতাধিক কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত সবাই ক্ষমতাসীন দলের অথবা এর অঙ্গসংগঠনগুলোর সদস্য। এ ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এত অধিকসংখ্যক প্রার্থীর নির্বাচিত হওয়া অস্বাভাবিক। নির্বাচন কমিশনের উচিত ছিল শুরুতেই বিষয়টি খতিয়ে দেখে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তা না করায় প্রথম থেকেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা বিষয়ে দেশবাসী সন্ধিহান ছিল।
আমাদের দেশে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন সুষ্ঠু হয় না এবং নির্বাচন কমিশন দলীয় সরকারের আজ্ঞাবহ হিসেবে কাজ করে, এ অভিযোগের ব্যাপারে বিরোধী দলের মধ্যে কখনো ভিন্নতা পরিলক্ষিত হয়নি। দশম সংসদ নির্বাচনসহ এর অব্যবহিত পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন এবং বিভাজিত ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন যে কলুষিত, অস্বচ্ছ ও অনিয়মে ভরপুর ছিল তা দেশের অভ্যন্তরে ও বহির্বিশ্বে নির্বাচনগুলোর গ্রহণযোগ্যতা এবং বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা বিষয়ে নানাবিধ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এসব প্রশ্নের উত্থাপিত বিষয় খণ্ডন করতে গিয়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিষয়ে সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে, সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষার্থে এ নির্বাচনটি করা হয়েছে এবং অচিরেই সব দলের অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। কিন্তু সে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হওয়ার পর প্রায় দুই বছর সময় চলে গেলেও অচিরেই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশ্বাস মুখের বাণীর মধ্যেই আবদ্ধ রয়েছে।
বাংলাদেশের ১০টি সংসদীয় নির্বাচনের ইতিহাসে যে চারটি নির্বাচন অনিয়ম ও কলুষতায় পরিপূর্ণ, এগুলো হলো- তৃতীয়, চতুর্থ, ষষ্ঠ ও দশম সংসদ নির্বাচন। তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানকালীন নির্বাচন কমিশন থাকলেও ফলাফল ঘোষণার কাজটি তৎকালীন সামরিক শাসক আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের মাধ্যমে সম্পন্ন করেছিলেন। ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনটি দশম সংসদ নির্বাচনের মতো একদলীয় ও ভোটারবিহীন ছিল। দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের সময় ও এর আগে যে ধরনের সহিংসতা হয়েছিল, ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচন এবং সেটি অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেও অনুরূপ সহিংসতা প্রত্যক্ষ করা গিয়েছিল। ষষ্ঠ ও দশম সংসদ নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা পোস্টবক্স বৈ অন্য কিছু ছিল না। এ দু’টি নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্বে নিয়োজিত বিভিন্ন জেলার জেলা প্রশাসকেরা ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীদের সহায়তায় কমিশন বরাবর যে ফলাফল প্রেরণ করেছেন, কোনো ধরনের যাচাই-বাছাই ছাড়াই ওই ফলাফলকে সঠিক ধরে নির্বাচন কমিশন বিজয়ীর নাম ঘোষণা ও গেজেট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মধ্য দিয়ে তার দায়িত্ব সম্পন্ন করে।
দশম সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগেও আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, নিছক সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা প্রতিপালনের জন্য তারা এ নির্বাচনটির ব্যবস্থা করেছেন এবং অচিরেই তারা সব দলের অংশ নেয়ার মধ্য দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।
ষষ্ঠ ও দশম সংসদ নির্বাচন উভয়টিই অনিয়ম ও কলুষতায় ভরপুর ছিল। এ দু’টির মধ্যে যে মৌলিক পার্থক্য তা হলো- প্রথমটি অনুষ্ঠিত হওয়া পরবর্তী তৎকালীন ক্ষমতাসীন সরকার তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবং জনগণের আকাক্সক্ষা ও বিরোধী দলের দাবির প্রতি সম্মান দেখিয়ে স্বল্পতম সময়ের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন পরবর্তী সংসদ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় অশেষ অবদান রাখেন। অপর দিকে দ্বিতীয়টি অনুষ্ঠিত হওয়া পরবর্তী ক্ষমতাসীন সরকার জনগণের আকাক্সক্ষাকে জলাঞ্জলি দিয়ে এবং বিরোধী দলের দাবি অবজ্ঞা ও উপেক্ষা করে দীর্ঘ দুই বছর পরও নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম না করে সংসদের নির্ধারিত মেয়াদ পূর্ণ করার অপচেষ্টায় লিপ্ত থেকে দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করে চলেছে।
নির্বাচন কমিশনকে সংবিধান ও বিভিন্ন নির্বাচনী আইনের অধীন যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে, তা সংসদ নির্বাচনসহ যেকোনো স্থানীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দক্ষতার সাথে পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত। যেকোনো নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন কমিশন সরকারের কাছ থেকে তার অধীনে থাকা যেকোনো ধরনের জনবলের সহায়তা চাইতে পারে। এবার নির্বাচনকালীন সেনা মোতায়নের দাবি উত্থাপিত হয়েছিল, কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকেও সে দাবি অগ্রাহ্য করা হয়।
বর্তমান নির্বাচন কমিশন যাদের সমন্বয়ে গঠিত, এরা সবাই তাদের পেশাভিত্তিক কর্মজীবন থেকে অবসরে যাওয়ার পর সরকারের আকাক্সক্ষায় নিয়োগ পেয়েছেন। সরকারের আকাক্সক্ষায় নিয়োগ পাওয়ার কারণে তারা সরকারের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবেন এটি স্বাভাবিক, কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, তাদের আচরণ বিরোধী দলের প্রতি পক্ষপাতদুষ্ট হবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আচরণ যে পক্ষপাতদুষ্ট, এ প্রশ্নে কোনো বিতর্ক নেই। আর এ পক্ষপাতদুষ্টতার কারণে ক্ষমতাসীন দল ছাড়া অপর সব রাজনৈতিক দল ও দেশবাসীর কাছে তাদের গ্রহণযোগ্যতা শূন্য। বিরোধী দল এদের আজ্ঞাবহ ও মেরুদণ্ডহীন আখ্যা দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি বিরোধী দলের কিছু নেতা গণতন্ত্র ও মানবতাকে কলুষিত করার জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তাদের বিচার দাবি করেছেন। এ দাবির প্রতি দেশের সাধারণ জনমানুষের সমর্থনের বিষয়টি স্পষ্ট। আশার কথা, প্রধানমন্ত্রীর ছোটবোন শেখ রেহানার স্বামী ড. শফিক আহম্মেদ সিদ্দিক বিবেকবান ও ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ব্যক্তি সমন্বয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন প্রতিষ্ঠার ওপর সবিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তার এ বক্তব্য থেকে অনুধাবন করা যায়, বর্তমান নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্টতার বিষয়টি সরকারের জন্যও বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি করেছে।
দশম সংসদ নির্বাচনসহ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীন অনুষ্ঠিত নির্বাচনগুলো কী মাত্রায় অস্বচ্ছ ও কলুষিত, দেশবাসীর মধ্যে অনেকে তা প্রত্যক্ষভাবে এবং অনেকে গণমাধ্যমের বদৌলতে অবলোকন করতে সমর্থ হয়েছেন। এরূপ অস্বচ্ছ ও কলুষিত নির্বাচন পরিচালনার সাথে যারা সম্পৃক্ত তাদের জীবনের এ পর্যায়ে এসে অনিয়ম ও অস্বচ্ছ কার্যকলাপের সহযোগী হওয়া অপ্রত্যাশিত। কিন্তু সবাইকে হতবাক ও বিস্মিত করে তাদের জন্য যা অত্যাশিত তারা তা-ই করে চলেছেন।
২০০৮ সালের ডিসেম্বরে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে যে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল, ওই নির্বাচনে এ দেশের প্রধান দু’টি রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়েছিল। এর দীর্ঘ সাত বছর পর সদ্যসমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে উভয় দল দলীয় প্রতীকের ভিত্তিতে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হয়। বর্তমান সরকার ও বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীন অনুষ্ঠিত দশম সংসদ নির্বাচন, তৎপরবর্তী অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচন ও বিভাজিত ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচন মারাত্মকভাবে বিতর্কিত হওয়ায় দেশবাসীর মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল অন্তত সদ্যসমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে অনুষ্ঠানের সুযোগ দিয়ে দলীয় সরকার ও দলীয় নির্বাচন কমিশনের অধীন যে সুষ্ঠু নিবাচন সম্ভব, এ সত্যটি প্রতিষ্ঠার প্রয়াস নেবেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, সত্যটি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় দলীয় সরকার ও দলীয় নির্বাচন কমিশনের অধীন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যে সম্ভব নয়, বিরোধী দলের এ দাবিটি সব ধরনের বিতর্ক পরিহারপূর্বক প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।
সদ্যসমাপ্ত পৌরসভা নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন অতীতের অনুরূপ নির্বাচনে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে তার দ্বিগুণ অর্থ, অর্থাৎ প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। নির্বাচনী ব্যয়ের এ সম্পূর্ণ অর্থ দেশের সাধারণ জনগণের দেয়া করের টাকা। একটি কলুষিত, ত্রুটিপূর্ণ ও বিতর্কিত নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের যারা সহায়তা দিয়েছেন তারা সবাই মূলত অন্যায়ের পক্ষে নিজেদের অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। আর স্পষ্টত এর মধ্য দিয়ে দলীয় সরকার ও দলীয় নির্বাচন কমিশনের অধীন অনুষ্ঠিত যেকোনো নির্বাচন জনগণের ভোটের নামে যে প্রহসন ছাড়া আর কিছু নয় তারই বার্তাবহ।
লেখক : সাবেক জজ; সংবিধান, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক
iktederahmed@yahoo.com
About: Anonymous
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1429)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
-
▼
2016
(3416)
-
▼
January
(576)
-
▼
Jan 12
(23)
- খালেদা জিয়ার সাথে সৌদি প্রিন্সের সাক্ষাত
- ‘মৃত্যু-আতঙ্কে’ ভুগছেন মুসা বিন শমসের! by মোর্শেদ...
- নির্বাচন কমিশনের প্রশ্নবিদ্ধ সক্ষমতা by বদিউল আলম ...
- কেন পাঠানকোট ভিন্ন by গৌতম দাস
- প্রতিদিন একজন ছাত্রীর জন্য খোলা হয় রেলস্টেশন
- সংবিধান সংস্কার ও ক্ষমায় শ্রীলঙ্কার শ্রীবৃদ্ধি by ...
- দক্ষিণে মার্কিন যুদ্ধবিমানের মহড়া
- কাশ্মীরে গভর্নর শাসন জারি
- সিরিয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে হস্তশিল্প
- নয়া সংবিধানের পথে শ্রীলঙ্কা
- বিক্রির শীর্ষে ইসরায়েলি ফিলিস্তিনির প্রেমকাহিনি
- প্রয়োজন নিরপেক্ষ নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশন by জি. ...
- সময় যাচ্ছে, খরচ ও দুর্ভোগ বাড়ছে by শরিফুল হাসান
- নির্বাচন কমিশনের প্রহসন আর কতকাল? by ইকতেদার আহমেদ
- শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে অচল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় by ...
- মোদি ও নওয়াজ পরীক্ষায় পাস করতে পারবেন? by হামিদ মির
- ‘আমারে যৌনকর্মী বানাইছে কে?’ by মানসুরা হোসাইন
- ৬ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে নানা প্রশ...
- জঙ্গি-সুরে নাচ নয় আলোচনা চলুক by সৌম্য বন্দ্যোপা...
- বাম না তৃণমূল—দোলাচলে কংগ্রেস by অমর সাহা
- ‘আগামীতে গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই বড় চ্যালেঞ্জ’ by কাজ...
- ভূমিকাহীন বিরোধী দল by কাজী সোহাগ
- ‘আরো কয়েকটি মেয়াদে শেখ হাসিনাকে দায়িত্ব পালনের সুয...
-
▼
Jan 12
(23)
-
▼
January
(576)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...















