Wednesday, November 27, 2024

ইউক্রেনের ভূখণ্ড দখলে শুরু থেকেই দ্রুত গতিতে আগাচ্ছে রাশিয়া

ইউক্রেনে হামলার প্রথম দিন থেকেই ভূখণ্ড দখলে তুমুল গতিতে আগাচ্ছে রুশ বাহিনী। বিশ্লেষক এবং যুদ্ধ বিষয়ক ব্লগাররা বলছেন, ২০২২ সাল থেকেই ইউক্রেনের ভূখণ্ডে দ্রুত গতিতে অগ্রসর হচ্ছে মস্কো। তারা গত মাসে ইউক্রেনের যে পরিমাণ ভূখণ্ড দখলে নিয়েছে তা লন্ডনের আয়তনের অর্ধেকের সমান। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

এতে বলা হয়, ২০২২ সালের শুরুর দিকে ইউক্রেনের পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ অংশে প্রবেশ করেছিল রুশ সেনারা। গত জুলাই মাসে যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির আগ পর্যন্ত মস্কো বাহিনী ইউক্রেনের প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার এলাকা দখলে নেয়।

পশ্চিমা কর্মকর্তারা মনে করেন রাশিয়া-ইউক্রেন উভয়েই যুদ্ধের ভয়াবহ স্তরে রয়েছে। কেননা রাশিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ হচ্ছে ইউক্রেনের বিরুদ্ধে মস্কো বাহিনীর সঙ্গে যোগ দিয়েছে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সৈন্য। অন্যদিকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য দূর পাল্লার ভারী মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের অনুমতি পেয়েছে কিয়েভ। এমন পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষই যুদ্ধের সবচেয়ে ভয়ংকর স্তরে প্রবেশ করেছে বলে ধারণা পশ্চিমা কর্মকর্তাদের।

রাশান যোদ্ধাদের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যদের যোগদানের বিষয়ে এখনও নিশ্চুপ রয়েছে মস্কো। তারা এখনও এ বিষয়টি স্বীকারও করেনি বা অস্বীকারও করেনি। তবে ইউক্রেনকে ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেয়ার পর গত সপ্তাহে কিয়েভকে লক্ষ্য করে হাইপারসনিক আন্তঃমহাদেশীয় মিসাইল ছুড়েছে মস্কো। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এটিই ইউক্রেনের মাটিতে মস্কোর সবচেয়ে বড় রেঞ্জের হামলা বলে অভিযোগ করেছে ইউক্রেন।

রুশ স্বাধীন সংবাদমাধ্যম এজেন্টস্টভো এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ইউক্রেনের অঞ্চল দখলে রাশিয়া নতুন সাপ্তাহিক এবং মাসিক রেকর্ড স্পর্শ করেছে। কেননা গত সপ্তাহে রুশ বাহিনী ইউক্রেনের প্রায় ২৩৫ বর্গকিলোমিটার দখল করে নিয়েছে, যা ২০২৪ সালে এক সপ্তাহের হিসেবে সর্বোচ্চ। ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর সঙ্গে সম্পৃক্ত গ্রুপডিপস্টেটের তথ্য উদ্ধৃত করে এজেন্টস্টভো বলেছে, নভেম্বরে রুশ বাহিনী ৬০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখল করে নিয়েছে। মঙ্গলবার রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, খারকিভের একটি গ্রাম দখলে নিয়েছে তাদের সেনারা। কোপাঙ্কি ও দোনেস্কের কিছু ভূখণ্ড দখলের কথা জানিয়েছে মন্ত্রণালয়টি।

mzamin

বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বিভক্ত না হতে মাহাথির মোহাম্মদের আহ্বান

মালয়েশিয়ার কিংবদন্তি নেতা ও আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার তুন মাহাথির মোহাম্মদ বাংলাদেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বকে বিভক্তি এড়িয়ে ঐকমত্যের ভিত্তিতে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। মালয়েশিয়ার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাজনীতিবিদ তানশ্রী সৈয়দ হামিদ আলবারের আত্মজীবনীমূলক বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। কুয়ালালামপুরের রয়াল লেক ক্লাবে ২৭ নভেম্বর উক্ত প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ের সময় আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ের পিএইচডি গবেষক ও বেসরকারী থিংক ট্যাংক আইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলাউদ্দীন, মাহাথিরের কাছে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন- বাংলাদেশের জনগণ সাহসিকতার সাথে একজন অজনপ্রিয় ও স্বৈরাচার শাসককে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। এখন তাদের সামনে সুযোগ এসেছে বাংলাদেশকে নতুনভাবে গঠন করার। এ সময়ে নতুন করে বিভক্তি এড়িয়ে, ব্যক্তির দিকে না তাকিয়ে দেশের দিকে তাকিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

একই সময়ে তানশ্রী হামিদ আলবার বলেন, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। বাংলাদেশের পরিশ্রমী জনগণের প্রচেষ্টায় দেশটি সবদিক থেকেই এগিয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের সামনে বিরল সুযোগ এসেছে পুনর্গঠনের। টেকসই গণতন্ত্রের জন্য তিনি আয় ও সম্পদের বৈষম্য কমিয়ে আনার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জোরারোপ করেন। তিনি একই সাথে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইমেজ পরিবর্তন করার জন্যও কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান। দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক জোট আসিয়ানে বাংলাদেশের জয়েন করার বিষয়েও তিনি তার পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।

mzamin

২ হাজার বছরের পুরনো মিশরীয় পাত্রে স্তন্যদুগ্ধ ও রক্তের নমুনা

দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক সম্প্রতি ১৯৮৪ সালে টাম্পা মিউজিয়াম অফ আর্টকে দান করা ২,০০০ বছরের পুরানো মিশরীয় পাত্রের নেপথ্যের রহস্য উন্মোচন করেছেন। ফ্লোরিডার গবেষক ডেভিড তানাসি এবং তার দল ওই পাত্র পরীক্ষা করে জানতে পেরেছেন যে ভ্রম ঘটাতে পারে এমন উত্তেজক পানীয় সেই সময়ে মিশরে তৈরি হত। এই ধরনের আধারে রাখা হত সেই পানীয়। এই পানীয় তন্ত্রমন্ত্র ও জাদুবিদ্যায় ব্যবহার করা হত বলে দাবি করেছেন গবেষকেরা। পাত্রের শীর্ষে রয়েছে এক প্রাচীন মিশরীয় দেবতার ছবি, যাকে  অনেক দম্পতি সন্তানলাভের আশায় পুজো করতেন। বিজ্ঞানীরা পাত্রের  ভিতরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণার নমুনা নিয়ে উন্নত ডিএনএ এবং রাসায়নিক বিশ্লেষণ করেন। সেখান থেকে জানা গেছে যে পানীয়টি আসলে বিরল পদার্থ দিয়ে তৈরি একটি ‘ককটেল’। একটি প্রতিবেদনে ফক্স নিউজ দাবি করেছে যে, পানীয়টি সিরিয়ান রু, ব্লু ওয়াটার লিলি, ক্লিওম প্রজাতির মতো ঔষধি এবং সাইকোট্রপিক পদার্থের মিশ্রণ যা মধু, রাজকীয় জেলি, তিল বীজ, পাইন বাদাম, ভূমধ্যসাগরীয় পাইন থেকে তেল এবং লিকোরিসের সাথে মেশানো হয়েছিল। এছাড়াও স্তন্যদুগ্ধ, রক্ত ও লালার নমুনা মিলেছে সেই পাত্রে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস ছিল যে, এটি কোনো প্রাচীন রীতিতে ব্যবহৃত হয়েছিল। গবেষক  তানাসি মনে করেন , সেই সময়ে  ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী লোকেরা কোনো  দেবতার কাছ থেকে স্বপ্ন পাওয়ার আশায় সুরা জাতীয় জিনিস পান করে কোনো  পবিত্র স্থানে ঘুমাতো। এসবই ধর্মের সাথে সম্পৃক্ত আচারের অংশ ছিল। তানাসি এবং তাঁর দল ২০২১ সাল থেকে এই পাত্রটি নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। অবশেষে তার রহস্য ভেদ হলো। রহস্যময় পাত্রটি টাম্পা মিউজিয়াম অফ আর্টে প্রদর্শিত হবে । বিজ্ঞানীরা আমস্টারডামের একটি যাদুঘরে রাখা আরেকটি পাত্রের  অনুরূপ বিশ্লেষণ করার পরিকল্পনা করছেন।

সূত্র : হিন্দুস্থান টাইমস

mzamin

সবাই চলে গেলেও ডি-চক ছাড়ব না, শপথ বুশরার

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে না নিয়ে ঘরে ফিরবেন না বলে শপথ করেছেন তার স্ত্রী বুশরা বিবি। তিনি বলেছেন, সবাই চলে গেলেও ডি-চক তিনি ছাড়বেন না। যদি ছাড়তে হয় তবে তিনিই হবেন শেষ নারী।

ডি-চক অভিমুখে রোড মার্চের একপর্যায়ে দেওয়া বক্তব্যে মিছিলকারীদের উদ্দেশ্যে বুশরা বিবি বলেন, তিনি তার স্বামী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানকে ব্যতীত ডি-চক ছেড়ে যাওয়া শেষ নারী হবেন।

তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি দিন যে- খান আমাদের সাথে না আসা পর্যন্ত আপনি ডি-চক ছাড়বেন না।

প্রাক্তন ফার্স্ট লেডি প্রশ্ন তোলেন, আমরা যখন একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছিলাম তখন কেন আমাদের ওপর আক্রমণ করা হলো? কেন গুলি ছোড়া হলো? আপনি কি জানেন না খান সত্য ও ন্যায়ের জন্য লড়াই করছেন?

ইমরান খানের মুক্তি ও সরকারের পদত্যাগের দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ডাকে এ বিক্ষোভ হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা সারা দেশ থেকে রোড মার্চ নিয়ে এসে রাজধানী ইসলামাবাদের প্রাণকেন্দ্র ডি-চকে অবস্থানের ঘোষণা দেন। কিন্তু মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেওয়ার চেষ্টা করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে দফায় দফায় তাদের সংঘর্ষ হয়।

বহু বাধা উপেক্ষা করে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সমর্থকরা দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের প্রাণকেন্দ্র ডি-চকে জড়ো হয়েছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনী রেঞ্জার্স তাদের লক্ষ্য করে তাজা গুলি ছুড়ে। এতে মুহূর্তে সমাবেশস্থল ইসলামাবাদের ডি-চক জনশূন্য হয়ে যায়। কিন্তু গুলি ও টিয়ার গ্যাসের মধ্যেই আবারও জড়ো হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে ডি-চক থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে আন্দোলনকারীরা আশপাশের এলাকায় অবস্থান নেন। সেখান থেকে ছোট ছোট দলে তারা আবারও ডি-চকের দিকে এগোচ্ছেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরপর গুলির শব্দ পাওয়া যাচ্ছে। এ ছাড়া টিয়ার গ্যাস ছুড়ছে পুলিশ।

এদিকে ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবির নেতৃত্বে বৃহত্তর গাড়িবহর ডি-চক থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে রয়েছে। আধা সামরিক বাহিনীর গুলি ছোড়ার খবরে গাড়িবহরটির গতি কমিয়ে দিয়েছেন তারা। কিন্তু কর্মসূচি বাতিল করেননি। তারা যে কোনো মূল্যে ডি-চক দখলের ঘোষণা দিয়েছেন।

রোড মার্চের একপর্যায়ে বক্তব্য দেন বুশরা বিবি। ছবি : সংগৃহীত
রোড মার্চের একপর্যায়ে বক্তব্য দেন বুশরা বিবি। ছবি : সংগৃহীত

পিছু হটতে বাধ্য হলো ইসরায়েল, এলো যুদ্ধ বিরতির ঘোষণা

লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে এই ঘোষণা দেন তিনি। খবর আল জাজিরা

নেতানিয়াহু বলেন, যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি পূর্ণাঙ্গ অনুমোদনের জন্য ইসরায়েলের পার্লামেন্টে উত্থাপন করা হবে। পাশাপাশি সম্পূর্ণ রূপরেখাও পার্লামেন্টে তুলে ধরা হবে। এ সময় উত্তরাঞ্চলীয় এলাকার বাসিন্দাদের ঘরে ফেরার আহ্বানও জানান তিনি।

নেতানিয়াহু দাবি করেন, বর্তমানে আগের মতো শক্তিশালী নেই হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি বাহিনী তাদের কয়েক দশক পিছিয়ে দিয়েছে। তেলআবিব যুদ্ধে লক্ষ্য পূরণ করেছে। এ সময় চুক্তি অমান্য করলে কঠোর জবাব দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এর আগে গত সোমবার যুদ্ধবিরতির নীতিগত অনুমোদন দেন নেতানিয়াহু। যুদ্ধবিরতি এই চুক্তিটি বাস্তবায়ন হলে দুইপক্ষের মধ্যে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতের অবসান হবে। 

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ছবি : সংগৃহীত

চট্টগ্রামে আদালত চত্বরে সংঘাত আইনজীবীকে কুপিয়ে হত্যা

বাংলাদেশ সনাতনী জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত এলাকায় ব্যাপক সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। হামলা ও সংঘর্ষের সময় আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যা করেছে চিন্ময় সমর্থকরা। এ ছাড়া আদালত এলাকায় ব্যাপক ভাঙচুরও চালিয়েছে তারা। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে আদালত ভবনের প্রবেশমুখে রঙ্গম কনভেনশন হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সাইফুল ইসলাম চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় চুনতি ইউনিয়নের জামাল হোসেনের পুত্র। তিনি চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সহকারী প্রসিকিউটর ছিলেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৩০ জন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভরত সনাতনীরা আদালত চত্বরে প্রায় তিন ঘণ্টা পুলিশের প্রিজন ভ্যান আটকে রাখেন। এক পর্যায়ে পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ করে। এরপর চিন্ময় সমর্থকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে বের হয়ে রঙ্গম কনভেনশন হলের সামনে অবস্থান নেন। এর মধ্যে আদালত প্রাঙ্গণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুপস্থিতিতে  স্থানীয় ও আইনজীবীদের সঙ্গে তাদের  সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করে।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ফজলুল কাদের বলেন, বিকাল পৌনে ৪টার দিকে কোর্ট হিলে সনাতন জাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় আদালত কারাগারে প্রেরণ করার আদেশ প্রদান করেন। এসময় ইসকনের লোকজন আসামি বহনকারী প্রিজন ভ্যান অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের সরিরে দেয়ার সময় মোটরসাইকেল, গাড়ি ভাঙচুর ও মসজিদ ভাঙচুর  করে। একপর্যায়ে তারা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নিয়ে নিকটস্থ রঙ্গম টাওয়ারের সামনে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে চমেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, চিন্ময়ের অনুসারীদের যারা আদালতে বিক্ষোভ করেছেন তারাই সাইফুলকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। সাইফুল হত্যার প্রতিবাদে আজ আদালতের কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা করেছেন আইনজীবীরা। সকাল ১১টায় জমি’আতুল ফালাহ মাঠে নিহত আইনজীবীর জানাজা হবে। বিকালে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে নগরীতে বিক্ষোভ করার ঘোষণা দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। রাতে এ রিপোর্ট লেখার সময়ও নিউমার্কেট মোড়ে হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছিলেন ছাত্র-জনতা।

জানা যায়, জামিন শুনানির পর বেলা ১২টা ২০ মিনিটে চিন্ময়কে পুলিশের প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তখন তার সমর্থকরা প্রিজন ভ্যানটি ঘেরাও করে ও আটকে রাখে। আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার সড়কটিতে পুরাতন পিকআপ ভ্যান দিয়ে পথ রোধ করা হয়। পুলিশ তাদের অনুরোধ করে ও বুঝিয়ে সরিয়ে দিতে চাইলেও তারা পথ অবরোধ করে রাখেন। পুলিশের প্রিজন ভ্যানটির চাকা পাংচার করে দেয়া হয়। এরপর বেলা ২টা ৫০ মিনিটে সাউন্ড গ্রেনেড ফাটিয়ে এবং লাঠিচার্জ করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়া হয়। পরে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশকে পুলিশের একটি পিকআপে করে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় পুলিশের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ, এপিবিএনের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সনাতনী ইসকন সমর্থকদের ছত্রভঙ্গ করতে ধাওয়া দিলে আদালত এলাকা ত্যাগ করার সময় তারা মোটরসাইকেল, গাড়ি ও আদালত মসজিদ মার্কেটের নিচতলা লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়েন। তাদের ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েক জন আহত হয়েছেন। লালদীঘি চত্বরের নাসির উদ্দিন নামে একজন পিঠা ব্যবসায়ীর মাথা ফেটে যায়। এসময় ইসকন সমর্থকদের হাতে রাম-দা ও লাঠিসোটা ছিল। ইসকন কর্মীরা এসময় চট্টগ্রাম আদালত মসজিদেও ভাঙচুর চালায়। এই ঘটনার জেরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন আইনজীবী ও স্থানীয়রা।

জানা যায়, সংঘর্ষের ঘটনায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ছাড়াও আহত হয়ে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৯ জন। তবে এই ১৯ জনের সকলেই আশঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল মন্নান। তিনি বলেন, ‘কেউ মাথায় আঘাত পেয়েছেন, কেউ হাতে, কেউ শরীরের অন্যান্য জায়গায় আঘাত পেয়ে আহত হয়েছেন। তাদেরকে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।’

এর আগে  মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে চিন্ময়কে কঠোর নিরাপত্তার সঙ্গে আদালতে আনা হয়। এরপর বেলা পৌনে ১২টার দিকে চট্টগ্রাম ৬ষ্ঠ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম  জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর  আদেশ দেন। আদেশের পরপরই এজলাসের বাইরে বিক্ষোভ শুরু করেন চিন্ময় সমর্থকরা।

বেলা সোয়া ১২টার দিকে প্রিজন ভ্যানের ভেতর থেকেই চিন্ময় কৃষ্ণ তার ভক্ত-অনুসারীদের শান্ত হওয়ার আহ্বান জানান। হ্যান্ডমাইকে তিনি বলেন, আমরা রাষ্ট্র ও সরকারের বিরুদ্ধে নই। ৫ই আগস্ট অভ্যুত্থানে যে রাষ্ট্র নির্মাণের আশা করা হয়েছে আমরা সনাতনীরা তার অংশীদার। সুতরাং রাষ্ট্র অস্থিতিশীল হয় এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নষ্ট হয় আমরা এমন কিছু করবো না। আবেগকে সংযত করে শক্তিতে পরিণত করে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করবেন।

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের ৮ দফা দাবি মৌলিক দাবি। এটা অযৌক্তিক দাবি নয়। এটা পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত আপনারা আন্দোলন চালাবেন। কিন্তু দয়া করে রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা এবং পরস্পর সৌহার্দ্যপূর্ণ অবস্থান নিশ্চিত করবেন। এটা আমি আপনাদের কাছে আশা করছি।

প্রসঙ্গত, গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সমপ্রদায়ের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ। গত ২৫শে অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে জনসভার পর ৩০শে অক্টোবর রাতে তাকেসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়। এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় লংমার্চের ঘোষণাও দিয়েছিল সনাতনী জাগরণ মঞ্চ। পরে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। সর্বশেষ গতকাল  বিকালে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশ পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সদস্যরা তাকে গ্রেপ্তার করেন। 

mzamin

ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে

বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টিতে প্রতিনিয়ত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, দেশের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে গণমাধ্যমকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। মঙ্গলবার তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির প্রতিনিধিদলের সঙ্গে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সাংবাদিকতাকে নতুন করে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করে তথ্য ও সমপ্রচার উপদেষ্টা বলেন, সরকার গণমাধ্যমকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিয়েছে। এই স্বাধীনতাকে কাজে লাগিয়ে সাংবাদিকতা কীভাবে গড়ে উঠবে, এ বিষয়টি বাংলাদেশের সাংবাদিকেরা নির্ধারণ করবেন। সরকার গণমাধ্যমের যেকোনো ধরনের গঠনমূলক সমালোচনাকে ইতিবাচকভাবে নিচ্ছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, গঠনমূলক সমালোচনা সরকারের জন্য উপকারী। এর মাধ্যমে সরকার নিজেকে শুধরে নিতে পারে।  

গণমাধ্যমকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে সরকার ইতিমধ্যে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন গঠন করেছে উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, এ কমিশন গণমাধ্যমের অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের নিকট প্রতিবেদন দেবে। কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সরকার গণমাধ্যম সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সাংবাদিকদের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ের অনেক সাংবাদিক আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করেছেন। তবে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম কর্তৃপক্ষের কারণে সবক্ষেত্রে আন্দোলনের সংবাদ গণমাধ্যমে প্রচার হয়নি। সমপ্রতি কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রচারিত অসত্য তথ্য প্রসঙ্গে নাহিদ বলেন, গণমাধ্যমে অসত্য তথ্য ও গুজব প্রচারের ফলে মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছে এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হচ্ছে। গণমাধ্যমের অন্যতম দায়িত্ব হলো সত্যকে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা। সত্য প্রচারে গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কোনো বিকল্প নেই।

গত ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে গণমাধ্যমের ভূমিকা প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, গত ১৫ বছরে গণমাধ্যমের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও খবরে কী বলা হবে, সে বিষয়ে মানুষ অনেকটা ধারণা করতে পেরেছিলেন। বিগত সরকার গণমাধ্যমের ওপর নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। সে সময় অনেক সাংবাদিক দলীয় কর্মীর মতো কাজ করেছে। এসব কারণে গণমাধ্যমের ওপর জনগণের আস্থা অনেক কমে গিয়েছিল। মতবিনিময় সভায় তথ্য ও সমপ্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবা ফারজানা বলেন, গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারের পূর্বে আবশ্যিকভাবে সত্যতা যাচাই করতে হবে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের পর গণমাধ্যমের দায়িত্ব অনেক বেড়ে গেছে। তিনি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের আত্মত্যাগ গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মতবিনিময় সভায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নেতৃবৃন্দ বলেন, এখন গণমাধ্যমকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করার সময় এসেছে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে। সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নসহ গণমাধ্যমের উন্নয়নে সরকারের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।

mzamin


কূটনৈতিক জোন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গাড়ি লাপাত্তা by মিজানুর রহমান ও সুদীপ অধিকারী

কূটনৈতিক জোন খ্যাত গুলশান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডিউটিরত একটি গাড়ি লাপাত্তা। ৯৬ ঘণ্টা আগের অর্থাৎ শনিবার রাতের ঘটনা এটি। কিন্তু এখনো গাড়িটির অবস্থান শনাক্ত করা কিংবা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লোগো এবং সরকারি স্টিকার সংবলিত সাদা রঙের টয়োটা প্রিমিও-১৭ মডেলের প্রাইভেটকারটি লাপাত্তা হওয়ার বিষয়ে ঘটনার পরদিন গুলশান থানায় একটি মামলা হয়েছে। যার নম্বর-২২/২৪-১১-২৪। পেনাল কোডের ৩৭৯ ধারায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ তারেক মাহমুদ। মানবজমিনকে তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল এবং এর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অপরাধীদের শনাক্ত করার পথে অনেক দূর এগিয়েছেন তারা। তিনি আশা করেন দ্রুততম সময়ের মধ্যেই গাড়িটি উদ্ধারে সক্ষম হবে পুলিশ।

গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর দাখিল করা এজাহারে গাড়ির তত্ত্ব্বাবধায়ক ও মামলার বাদী শাহাদাত হোসেন জানান, গত ২৩শে নভেম্বর আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে গুলশান-২, রোড নং-৯৬, বাড়ি নং-১৭ এর সামনের পাকা সড়কে অস্থায়ী পার্কিং অবস্থায় ছিল তার গাড়িটি। যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (RO &‌ MA) দপ্তরের দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত ছিল। সাদা রংয়ের PREMIO-১৭ মডেলের প্রাইভেট কার এটি। যার চেসিস নম্বর- NZT২৬০-৩১৯৯৪২৫, ইঞ্জিন নম্বর- IZT-৮৩৬১৬১৮, রেজিস্ট্রেশন নম্বর-ঢাকা মেট্রো.-গ-৪২-৯১৪৮। বাদী জানান, তার গাড়ির ড্রাইভার ছিলেন মো. ওয়াসিম নলী (৩৭), পিতা-মো. হান্নান নলী, স্থায়ী ঠিকানা- হরিনাথপুর (জেটিকাডা), থানা-হিজলা, জেলা-বরিশাল বর্তমান সাং- হোল্ডিং নং-৭২/খ, পশ্চিম আগারগাঁও, থানা-মোহাম্মদপুর, জেলা-ঢাকা। ঘটনার বিষয়ে তিনি  লিখেন- গাড়িটি RAASAD BAIVAB (গুলশান-২, রোড নং-৯৬, বাড়ি নং-১৭)-এর সামনে পাকা রাস্তার উপর রেখে একটু দূরে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে যান ড্রাইভার ওয়াসিম। ফিরে এসে দেখেন যেখানে গাড়িটি রেখে গেছিলেন সেখানে নেই। তার দাবি অজ্ঞাতনামা চোররা গাড়িটি চুরি করে নিয়ে গেছে। এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন ড্রাইভার ওয়াশিম গাড়িটি আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও না পেয়ে তাকে মোবাইল ফোনে বিষয়টি জানান। সেই ফোন পেয়ে তিনি তৎক্ষণাৎ ঘটনাস্থলে পৌঁছান। নিজেও আশপাশের লোকজনদের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু কেউই গাড়িটির বিষয় কোনো তথ্য দিতে পারেননি। বাসায় ফিরে তিনি ঘটনার বিষয়ে পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং থানায় হাজির হয়ে এজাহার দায়ের করেন। যাতে খানিকটা বিলম্ব হয়।

mzamin

সবাইকে সজাগ থাকতে হবে -তারেক রহমান

দেশে গণতন্ত্র বজায় রাখতে পারলে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশকে নিয়ে যারা ষড়যন্ত্র করছে তারা কিন্তু বসে নেই, এর জন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। মঙ্গলবার বিকালে  সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির আয়োজনে সিলেট বিভাগের নেতাদের জন্য ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতের ৩১ দফা’  ও জনসম্পৃক্ত সাংগঠনিক বিভাগীয় কর্মশালায় ভার্চ্যুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা সকল দলের পক্ষ থেকে ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছে। এটির মধ্যে রাষ্ট্রকাঠামোর অধিকাংশই আছে। আরও যত প্রস্তাব আসবে তা যুক্তিসঙ্গত হলে যুক্ত করা হবে। আজকে বিভাগ পর্যায়ে ৩১ দফা নিয়ে আলোচনার পর জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে হবে। বইয়ে অনেক কিছু সুন্দরভাবে লিখা থাকে, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করতে হয় মানুষকে। তাই ভালো নিয়ত থাকলে আমরা ভালো কিছু করতে পারবো। তিনি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্র চলার পথে বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বিগত ১৬ বছরে বহু মানুষ গুম ও খুনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ শহীদ হয়েছেন। তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতাকে বজায় রাখলে জবাবদিহিতা তৈরি হবে। এজন্য যেকোনো মূল্যে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অব্যাহত রাখতে হবে। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, পতিত স্বৈরাচারের সময়ে যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করেছে তারা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তাদের প্রতিহত করতে আমাদেরকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও তাদের লেজ রেখে গেছে এবং তারা ষড়যন্ত্র করছে, তারা কিন্তু বসে নেই।

আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে শক্তি, দেশের মানুষ আমাদের সঙ্গে রয়েছে। মানুষ মনে করে বিএনপি’র কাছে গণতন্ত্র ও বাকস্বাধীনতা নিরাপদ। এজন্য মানুষ বিএনপি’র দিকে তাকিয়ে আছে। জনগণের এই আস্থাকে ধরে রাখার দায়িত্ব আমাদের। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, আজকে দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল বিএনপি। দল কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশ ও দেশের গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই আসুন আমরা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী নিজেদেরকে গড়ে তোলার চেষ্টা করি। পলাতক স্বৈরাচারের অত্যাচার ও নির্যাতন সহ্য করে যারা টিকে আছেন তারা আগামীতেও টিকে থাকবেন বলে আমি মনে করি। বিএনপির শীর্ষ নেতা জোর দিয়ে বলেন, আমাদেরকে গণতন্ত্রের পক্ষে থাকতেই হবে, গণতন্ত্রকে চালু রাখতে হবে। যেখানে যে নির্বাচন হউক সেটি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াতে হতে হবে। বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউসের সভাপতিত্বে ও প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেনের সঞ্চালনায় দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রশিক্ষণ প্রদানকালে তারেক রহমান দলের নির্বাহী কমিটির সদস্য এম. নাসের রহমান ও সিলেট জেলা বিএনপি’র সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতার ৩১ দফা কর্মসূচির ওপর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। প্রশিক্ষণে প্যানেল আলোচক ছিলেন- ডা. মওদুদ আলমগীর, বিএনপি মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক ডা. মহিউদ্দিন আলমগীর পাবেল, কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবা হাবিবা, সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট নেওয়াজ হালিমা আর্লি এবং প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক রেহানা আক্তার রানু। কর্মশালায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি’র প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার আনিসুর রহমান তালুকদার, নির্বাহী কমিটির সদস্য (দপ্তরের দায়িত্বে) আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও মিফতাহ্‌ সিদ্দিকী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ও ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান ডা. সাখাওয়াত হাসান জীবন, সহ-সম্পাদক শাম্মী আক্তার ও আব্দুর রাজ্জাক, নির্বাহী কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী, মিজানুর রহমান চৌধুরী, মহানগর বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ুন, সিলেট জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নজিবুর রহমান নজিব।

mzamin

সঙ্গী ও স্বজনদের হাতেই প্রতিদিন ১৪০ নারী খুন : জাতিসংঘ

বিশ্বজুড়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ও স্বজনদের হাতে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ জন নারী ও মেয়ে প্রাণ হারাচ্ছেন, যা ২০২৩ সালে নারীর প্রতি সহিংসতার একটি চরম বাস্তবতা হয়ে উঠেছে।

সোমবার (২৫ নভেম্বর) জাতিসংঘের দুটি সংস্থার একটি যৌথ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। খবর এপি।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর (২০২৩) এই ধরনের খুনের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫১,১০০, যা ২০২২ সালের ৪৮,৮০০ খুনের চেয়ে বেশি। ২৫ নভেম্বর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিশ্বজুড়ে নারী ও মেয়েদের প্রতি সহিংসতার বৃদ্ধি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা : সর্বত্রই বিপদ
জাতিসংঘের ইউএন ওমেন এবং মাদক ও অপরাধসংক্রান্ত দপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সহিংসতার চরম রূপের প্রভাব বিশ্বের সব অঞ্চলেই বিস্তৃত। এদিকে, প্রতিবেদনটি নিশ্চিত করে বলছে, এ সংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ হলো আরও তথ্যের প্রবাহ, তবে খুনের সংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পায়নি।

বাড়ি হয়ে উঠছে সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, নারী ও কিশোরীরা সর্বত্র লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হচ্ছে এবং বাড়ি নারীদের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হয়ে উঠছে। ইউএন ওমেনের উপনির্বাহী প্রধান নায়ারাদজায়ি গুমবোঞ্জভান্দারের মতে, সংকীর্ণ লৈঙ্গিক মনোভাব ও সামাজিক নিয়মই এসব সহিংসতার মূল কারণ, যা নারীর ওপর ক্ষমতার প্রয়োগের সাথে সম্পর্কিত।

আফ্রিকায় সবচেয়ে বেশি খুন প্রতিবেদনে আফ্রিকার দেশগুলোতে এই সহিংসতার সংখ্যা বেশি বলে উল্লেখ করা হয়। ২০২৩ সালে আফ্রিকায় ২১,৭০০ নারী ও মেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ও স্বজনদের হাতে খুন হয়েছেন। প্রতি লাখে এই সংখ্যা ২.৯, যা বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক বেশি। আমেরিকায় প্রতি লাখে ১.৬, ওশেনিয়ায় ১.৫, এশিয়ায় ০.৮ এবং ইউরোপে ০.৬।

বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার এই চরম রূপ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে গেছে।

প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত
প্রতীকী ছবি। সংগৃহীত



কারাগারে চিন্ময়

রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় গ্রেপ্তার বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলাম শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট মোড়ে অবস্থিত স্বাধীনতা স্তম্ভে জাতীয় পতাকার অবমাননার অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণের বিরুদ্ধে এ মামলা হয়। আসামিপক্ষের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ডিভিশনেরও  আদেশ দেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা ও ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, কারাবিধি অনুযায়ী সে ব্যবস্থা নিতে জেল সুপারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এদিকে জামিন নামঞ্জুর করার পর তাকে কারাগারে নেয়ার সময় চিন্ময় কৃষ্ণের সমর্থকরা তিন ঘণ্টা প্রিজন ভ্যান আটকে রাখেন। এসময় আদালত এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

সোমবার বিকালে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে চট্টগ্রামে নেয়া হয়।
গত ৩১শে অক্টোবর নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় চিন্ময় কৃষ্ণসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে মামলা করেন। পরে ফিরোজ খানকে বিএনপি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ৫ই আগস্ট বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান সংঘটিত হওয়ার পর নগরের নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্টে স্তম্ভের ওপর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা একটি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে, যা এখনো সেখানে রয়েছে। ২৫শে অক্টোবর বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে লালদীঘির মাঠে একটি মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ ওই সমাবেশে যোগ দেন। ওই দিন চন্দন কুমার ধরসহ ৯ জন আসামির ইন্ধনে বাকি আসামিরা নিউমার্কেট মোড়ের জিরো পয়েন্ট স্তম্ভ ও আশপাশে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপর ধর্মীয় গোষ্ঠী ইসকনের গেরুয়া রঙের ধর্মীয় পতাকা উত্তোলন করে সেখানে স্থাপন করেন। এ নিয়ে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

mzamin