Friday, September 18, 2026

মদ খাওয়ার টাকা দাবি, না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর

ভারতের উত্তরপ্রদেশের কৌশাম্বি জেলায় এক মুসলিম মহিষ ব্যবসায়ীকে স্থানীয় কয়েকজনের মারধরের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। গত বুধবার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

ভিডিওতে আফশার আলী নামের ওই ব্যবসায়ীকে মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে এক ব্যক্তি বারবার মারধর করছেন। একপর্যায়ে হামলাকারী তাকে ক্ষমা চাইতে বলেন । আলী ক্ষমা চাওয়ার পরও তাকে চড় ও ঘুষি মারতে থাকেন ওই ব্যক্তি। এ সময় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী হামলা থামানোর চেষ্টা করেন।

আফশার আলীর জানান, শ্বশুরবাড়ি থেকে ফেরার পথে কারারি থানার জামদুয়া এলাকার কাছে তার ওপর হামলা হয়। হামলার আগে মূল অভিযুক্ত তার কাছে মদ খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করেন। তাকে বলা হয়, ‘তুমি এত আয় করো, আমাদের একটু মদও খাওয়াতে পারো না?’ এরপরই তাকে মারধর শুরু করা হয়।

আলী জানান, পরে আরো কয়েকজন ওই হামলায় যোগ দেন। তারা তাকে বেধড়ক মারধর করার পাশাপাশি তার কাছে থাকা ৪ হাজার ৫০০ রুপি নিয়ে পালিয়ে যান।

ঘটনার পর কারারি থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন আলী। পরে তিনি কৌশাম্বির পুলিশ সুপারের সঙ্গে দেখা করে ঘটনার বিচার ও হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর কৌশাম্বি পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে এবং এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

সূত্র: মুসলিম মিরর

মদ খাওয়ার টাকা দাবি, না দেওয়ায় উত্তরপ্রদেশে মুসলিম ব্যবসায়ীকে মারধর
ছবি: সংগৃহীত।

তীব্র অর্থ সংকটে ইসরাইলের সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, অতিরিক্ত ২৫ বিলিয়ন শেকেল (প্রায় ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার) বরাদ্দ না পেলে গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবানন—এই তিন ফ্রন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থা বজায় রাখা সম্ভব হবে না। বৃহস্পতিবার আর্মি রেডিওর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

সেনাবাহিনীর আশঙ্কা, অর্থের ঘাটতির কারণে সেনা নিয়োগ, অস্ত্র ও গোলাবারুদ কেনা, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং ভারী সাঁজোয়া যান মেরামতের মতো কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। লেবাননে শীতকালীন সামরিক প্রস্তুতিও পর্যাপ্ত নয় বলে সেনাবাহিনী জানিয়েছে।

এদিকে প্রতিরক্ষা বাজেট নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু সরকারের সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিরোধ চলছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় যে অর্থ চেয়েছে তা রাষ্ট্রীয় বাজেটে কোনো প্রভাব না ফেলেই সরবরাহ করা সম্ভব। তিনি প্রস্তাব করেন যে, ক্ষমতাসীন জোটের জন্য বরাদ্দকৃত তহবিল থেকেই এই অর্থ সংস্থান করা যেতে পারে।

ইসরাইলের ২০২৬ সালের প্রতিরক্ষা বাজেট আগে প্রায় ১৪৩ বিলিয়ন শেকেল থাকলেও ইরান ও লেবাননে সামরিক অভিযানের পর তা বাড়িয়ে প্রায় ১৮৩ বিলিয়ন শেকেল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে বাড়তি অর্থের একটি বড় অংশ এখনো সেনাবাহিনীর হাতে পৌঁছায়নি।

সেনাপ্রধান ইয়াল জামিরও সম্প্রতি বলেছেন, বিভিন্ন ফ্রন্টে সামরিক অভিযানের পাশাপাশি সেনাবাহিনী বর্তমানে বাজেট নিয়েও সংকটে রয়েছে।

গাজায় গণহত্যা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর ও লেবাননে হামলার পাশাপাশি, গত বছর থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ইরানের বিরুদ্ধে দুটি যুদ্ধ চালিয়েছে। এছাড়া তারা ইয়েমেন ও কাতারেও আঘাত হেনেছে এবং সিরিয়ায় প্রায় প্রতিদিনই স্থল অভিযান ও কামানের গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।

কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিন এবং লেবানন ও সিরিয়ার বিভিন্ন ভূখণ্ড দখল করে রেখেছে ইসরাইল । তারা এসব এলাকা থেকে সরে আসতে কিংবা জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাবনা অনুযায়ী একটি স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সুযোগ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

সূত্র: আনাদোলু

তীব্র অর্থ সংকটে ইসরাইলের সেনাবাহিনী, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত ভুল মনে করেন ৬০ শতাংশ মার্কিন ভোটার

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করেন যুক্তরাষ্ট্রের ৬০ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার। একই সঙ্গে ৭১ শতাংশ ভোটার মনে করেন, ইরান যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কোনো স্পষ্ট কৌশল নেই। ফক্স নিউজের নতুন এক জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধ শেষ করার কৌশল নিয়ে অনাস্থা সবচেয়ে বেশি ডেমোক্র্যাট ভোটারদের মধ্যে। তাদের ৯৫ শতাংশ এমন মত দিয়েছেন। স্বতন্ত্র ভোটারদের ৮৩ শতাংশ এবং রিপাবলিকান ভোটারদের ৪৩ শতাংশও একই মত পোষণ করেন।

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে ভুল বলেছেন ৬০ শতাংশ ভোটার। বিপরীতে ৩৭ শতাংশ এটিকে সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। জুনের জরিপে ৫৮ শতাংশ ভোটার সামরিক পদক্ষেপকে ভুল বলেছিলেন। অর্থাৎ এ বিষয়ে বিরোধিতার হার বেড়েছে।

দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র কম নিরাপদ হয়ে পড়বে বলেও মনে করছেন ভোটারদের একটি বড় অংশ। এ ধরনের মত দেওয়া ভোটারের হার এপ্রিলে ৩৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৭ শতাংশ হয়েছে। অন্যদিকে ৩২ শতাংশ মনে করেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্র আরও নিরাপদ হবে।

জরিপে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামগ্রিক কর্মদক্ষতায় অনুমোদনের হার ৩৯ শতাংশ পাওয়া গেছে। তার প্রতি অসন্তুষ্ট ৬১ শতাংশ ভোটার। পররাষ্ট্রনীতিতে ট্রাম্পের অনুমোদনের হার আরও কমে ৩৭ শতাংশে নেমেছে, যা তার দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বনিম্ন।

ফক্স নিউজের এই জরিপটি ১১ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত ১ হাজার ২১১ জন নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে পরিচালিত হয়। জরিপের নমুনার ত্রুটিসীমা প্লাস বা মাইনাস ৩ শতাংশ পয়েন্ট। ফক্স নিউজ জানিয়েছে, উপগোষ্ঠীগুলোর ফলাফলে ত্রুটির সীমা আরও বেশি হতে পারে।

সূত্র: ফক্স নিউজ

ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স
ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: রয়টার্স

চাঁদে যুদ্ধের প্রস্তুতি যুক্তরাষ্ট্রের

চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের লড়াই এবার ছাড়িয়ে গেল পৃথিবীর সীমানাও! পৃথিবীর কক্ষপথ পেরিয়ে এবার চাঁদের আশপাশকেও সম্ভাব্য যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, মহাকাশে এরই মধ্যে অস্ত্র মোতায়েনের কথা প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটন। আর মার্কিন সামরিক নেতৃত্ব বলছে, চাঁদের কাছাকাছি মহাকাশেও যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে সেনাদের।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একদিকে মহাকাশকে অস্ত্রমুক্ত রাখার আন্তর্জাতিক চুক্তিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস-অস্ত্র মোতায়েন, অন্যদিকে চীনের কড়া হুঁশিয়ারি। যেটা আমরা শুধু এতদিন 'স্টার ওয়ার্স' বা কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় দেখেছি, এবার ঠিক সেটাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। কিন্তু মহাকাশে এমন কী ঘটতে যাচ্ছে যার জন্য ২৫ হাজার সেনার এক বিশাল স্পেস ফোর্স তৈরি করছে আমেরিকা? সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদন থেকে উঠে এসেছে এক নতুন মহাজাগতিক যুদ্ধের পূর্বাভাস।

যুক্তরাষ্ট্রের এই বড় ধরনের সামরিক পরিকল্পনার কথা উঠে আসে ওয়াশিংটনের বাইরে বুধবার আয়োজিত ‘এয়ার, স্পেস অ্যান্ড সাইবার কনফারেন্স’-এ। সম্মেলনে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন এবং স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগনন মহাকাশের নতুন এই যুদ্ধের ফ্রন্টের কথা জানান। এই চরম পদক্ষেপের নেপথ্যে রয়েছে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। স্পেস ফোর্সের কমব্যাট ফোর্সেস কমান্ডের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল গ্রেগরি গ্যাগননের মতে, চীন মহাকাশে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ যুদ্ধকে মহাকাশে ছড়িয়ে দিতে চায়। আর মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষায় প্রস্তুত থাকতে সাহায্য করাই স্পেস ফোর্সের কাজ। এর কয়েক দিন আগেই বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেইঙ্ক প্রথমবারের মতো প্রকাশ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র কক্ষপথে কার্যকর মহাকাশ নিয়ন্ত্রণ অস্ত্র মোতায়েন করেছে।

আগামী পাঁচ বছরে নিজেদের ‘স্পেস ফোর্স’ দ্বিগুণ করে ২৫ হাজারে উন্নীত করার মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে তারা, যার বড় অংশই মোতায়েন থাকবে সরাসরি যুদ্ধের কমব্যাট কমান্ডে। মার্কিন সামরিক নেতৃত্বের দাবি, চীনের মতো সম্ভাব্য শত্রুরা মহাকাশের বিভিন্ন অংশে সক্রিয়ভাবে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে মহাকাশ সংকট মোকাবিলায় ২০২৪ সালেই নিজস্ব সামরিক মহাকাশ বাহিনী গড়ে তুলেছিল বেইজিং। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, তারা যুদ্ধকে মহাকাশে বিস্তৃত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র মোতায়েনের ঘোষণার তীব্র সমালোচনা করেছে চীন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, চীন সব সময় মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের পক্ষে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে মহাকাশে সামরিক উত্তেজনা বাড়ানো বন্ধ করতে হবে।

সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, যুক্তরাষ্ট্রের এই নীতি ১৯৬৭ সালের আন্তর্জাতিক ‘আউটার স্পেস ট্রিটি’-কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখাচ্ছে, যেখানে মহাকাশকে সব ধরনের সামরিকীকরণ থেকে মুক্ত রাখার কথা বলা হয়েছিল। তবুও পিছপা হচ্ছে না আমেরিকা। মহাকাশে সামরিকীকরণ প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও রাশিয়া একটি মহাকাশভিত্তিক অস্ত্র তৈরি করছে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিবেদনের পর উদ্বেগ বাড়ছে। আমেরিকা চাঁদের চারপাশে যুদ্ধের ছক কষছে, তখন বিশ্ব রাজনীতির সমীকরণ কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটা নিয়ে উদ্বেগে সারা বিশ্ব।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

বাব আল-মান্দাবে যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে ইতালি

বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইতালি। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) যৌথ সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা না করেই ইতালি এ পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ক্রোসেত্তো বলেন, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা ইতালির রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ অচল হয়ে পড়লে এর অর্থনৈতিক প্রভাব হবে গুরুতর।

বাব আল-মান্দাব প্রণালি লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে এটি বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ। সুয়েজ খাল দিয়ে যাতায়াতকারী তেল, গ্যাস ও কনটেইনারবাহী জাহাজের জন্যও প্রণালিটি গুরুত্বপূর্ণ।

তবে গত কয়েক সপ্তাহে বাব আল-মান্দাবের কৌশলগত গুরুত্ব নতুন করে সামনে এসেছে। ইরান-সমর্থিত হুতি আন্দোলন ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লোহিত সাগর উপকূলে দ্রুত সামরিক অভিযান চালিয়ে পুরো উপকূলীয় এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি দ্বীপও তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

এ পরিস্থিতিতে বাব আল-মান্দাব দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, দেশটি নিজেদের বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে এককভাবে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সূত্র: আলজাজিরা

বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ। ছবি: এএফপি
বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ। ছবি: এএফপি

শীতে ত্বকের যত্নে মধু কীভাবে উপকার করে by সুরাইয়া সরওয়ার

শীত এলেই রুক্ষ হয়ে পড়ে ত্বক। আর মধু ত্বককে রাখে নরম। এ সময় তাই মধু হতে পারে কার্যকর একটি উপায়। মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান, যা ত্বকের ব্রণ ও বয়সের ছাপ কমাতে সহায়তা করে। এ ছাড়া মধুতে থাকা এক্সফোলিয়েটর ত্বকের মৃত কোষ দূর করে।

ত্বকের প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতেও সাহায্য করে মধু। মধু দিয়ে সহজেই তৈরি করা যায় ত্বকবান্ধব কিছু ফেসপ্যাক।

বিন্দিয়া এক্সক্লুসিভ বিউটি কেয়ারের রূপবিশেষজ্ঞ শারমিন কচি জানান রূপচর্চায় মধু ব্যবহারের কিছু উপায়—

* ১ চা-চামচ টক দই ও ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে প্যাক বানিয়ে নিন। প্যাকটি ত্বকে ১৫ মিনিট রেখে ধুয়ে ফেলুন। ত্বক উজ্জ্বল ও মসৃণ দেখাবে।

* ১ চা-চামচ মুলতানি মাটির সঙ্গে ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এরপর প্যাকটিতে সামান্য গোলাপজল যোগ করুন। ত্বকে মেখে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করে ধুয়ে ফেলুন। এটি মুখের টি-জোন, অর্থাৎ নাক, কপাল ও থুতনির তেলতেলে ভাব কমাবে, ত্বককে করবে টান টান।

* ১ চা-চামচ মধু ও ২-৩ ফোঁটা লেবুর রস একসঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে দিন। কিছুক্ষণ রেখে পানি দিয়ে ধুয়ে নিন। প্যাকটি ত্বকের দাগ হালকা করতেও সহায়তা করে।

* শুষ্ক ও নিস্তেজ ত্বকের আর্দ্রতা ফিরিয়ে আনতে ১ চা-চামচ অ্যালোভেরা জেল ও ১ চা-চামচ মধু মিশিয়ে নিন। প্যাকটি মুখে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

* ১ চা-চামচ ওটসগুঁড়া, ১ চা-চামচ মধু ও সামান্য পানি মিশিয়ে স্ক্রাব তৈরি করুন। স্ক্রাব ব্যবহারের আগে প্রথমে মুখ পানি দিয়ে ভিজিয়ে নিন। এরপর স্ক্রাব হাতে নিয়ে চক্রাকারে মুখের ত্বকে ঘষুন। মনে রাখবেন, ত্বকে খুব জোরে স্ক্রাব ঘষা যাবে না। ৪-৫ মিনিট স্ক্রাবিং করার পর ধুয়ে ফেলুন। এটি মৃত কোষ দূর করে ত্বককে কোমল করে। চাইলে মুখের পাশাপাশি হাত-পায়ের ত্বকেও স্ক্রাবটি ব্যবহার করতে পারেন।

* ১ চা-চামচ দুধ ও ১ চা-চামচ মধু একসঙ্গে মেশান। এটি মুখে লাগিয়ে কিছুক্ষণ রেখে ধুয়ে ফেলুন। প্যাকটি শীতের রুক্ষ ত্বককে নরম করে, ফিরিয়ে আনে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা।

ত্বকের যত্নে মধু ব্যবহারের নিয়ম

* সপ্তাহে ২-৩ বার যেকোনো প্যাক ব্যবহার করুন।

* সব সময় প্যাক ব্যবহারের আগে ত্বক পরিষ্কার করে নিন।

* সাধারণ প্যাক ব্যবহার করে ত্বকে ১৫-২০ মিনিট রাখা উচিত। এর চেয়ে খুব বেশি সময় প্যাক ত্বকে রাখবেন না।

* যেকোনো উপাদান প্রথমবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্যাচ টেস্ট করে নিন।

* প্যাক ধোয়ার পর ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করুন।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-12-02%2Fimgnn2iu%2F_SY_2988.JPG?rect=606%2C0%2C3266%2C2177&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
মধুতে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপাদান। মডেল: হৃদি। কৃতজ্ঞতা: শোভন মেকওভার। ছবি: সুমন ইউসুফ

জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ভিসা দিল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধাবস্থার মধ্যেই নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে ইরানের শীর্ষ নেতাদের ভিসা দিয়েছে ওয়াশিংটন। আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে ইরানের প্রতিনিধিদল অংশ নেবে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র বৃহস্পতিবার আলজাজিরাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রতিনিধিদলে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগী কর্মকর্তারা থাকবেন বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র বলেন, আয়োজক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইরান সরকারের মূল প্রতিনিধিদল জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে অংশ নিতে পারবে। তবে এবার প্রতিনিধিদলের আকার সীমিত রাখা হবে।

এ ছাড়া ইরানি প্রতিনিধিদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ এবং বিলাসপণ্য কেনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা থাকবে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। এসব ব্যবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া হচ্ছে বলে দপ্তরটি জানিয়েছে।

এবারের ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধের কোনো সুস্পষ্ট সমাধানের পথ এখনো দেখা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু করা এবং ওয়াশিংটন-তেহরানের আলোচনা ফের শুরুর বিষয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে।

বিশ্বের সমুদ্রপথে জ্বালানি পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির ওপর নির্ভরশীল। প্রণালিটির কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে এবং তেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শেষের দিকে এগোচ্ছে। তিনি তেহরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তার প্রশাসনের সরাসরি আলোচনা হয়েছে বলেও দাবি করেছেন। তবে একই সময়ে ইয়েমেনের বাব আল-মান্দাব প্রণালি ঘিরে হুতি বাহিনী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে লড়াই অব্যাহত রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে ইরানের প্রেসিডেন্ট ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর জাতিসংঘ অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিতির অনুমতি দেওয়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেও কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করছে।

সূত্র: আলজাজিরা

মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: এএফপি
মাসুদ পেজেশকিয়ান। ছবি: এএফপি

সৌদি-হুতি পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ৫

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩টি শিশু রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যে জানা গেছে। খবর আল জাজিরার।

সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইফ গভর্নরেটে হুতিদের একটি ড্রোন বাধা দিয়ে ধ্বংস করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষ পড়ে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। নিহত ব্যক্তি সৌদি আরবে বসবাসকারী একজন ইয়েমেনি নাগরিক।

চলতি মাসে হুতিদের হামলা জোরদার হওয়ার পর সৌদি আরবে এটিই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বৃহস্পতিবার ইয়েমেনে সৌদি আরবের হামলার অভিযোগ করেছে হুতিরা। তাদের দাবি, সৌদি যুদ্ধবিমান তাইজ প্রদেশের ৩টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে।

হুতিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেল আলমাসিরাহ জানিয়েছে, ইয়েমেনের আবস শহরে সৌদি হামলায় একজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং আরেকজন আহত হয়েছেন।

পরে হুতিদের সমর্থক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর হামলায় তিন শিশু নিহত এবং বেশ কয়েকজন ইয়েমেনি আহত হয়েছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের বাহিনীকে বোঝাতে তারা ‘সৌদি-সমর্থিত ভাড়াটে বাহিনী’ শব্দটি ব্যবহার করেছে।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে হামলা-পাল্টা হামলা বেড়েছে। এতে ইয়েমেনের সংঘাতের পাশাপাশি সৌদি আরবের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সূত্র: আল জাজিরা

সৌদিতে ড্রোন হামলার পর। ছবি: আল জাজিরা
সৌদিতে ড্রোন হামলার পর। ছবি: আল জাজিরা

ইউরোপ থেকে ২৫ হাজারের বেশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের কথা ভাবছে পেন্টাগন

ইউরোপে মোতায়েন প্রায় ২৫ হাজার বা তারও বেশি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মহাদেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কমে যেতে পারে।

বৃহস্পতিবার এনবিসি নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন মার্কিন ও পশ্চিমা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, সেনা প্রত্যাহারের সংখ্যা সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমানে ইউরোপে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন।

তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে এনবিসি। ইউরোপে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক উপস্থিতি থাকা দেশগুলোর মধ্যে জার্মানি, ইতালি ও স্পেন রয়েছে। প্রস্তাবিত সেনা কমানোর ফলে এসব দেশ প্রভাবিত হতে পারে।

ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পেন্টাগনের ছয় মাসের পর্যালোচনার অংশ হিসেবে এসব বিকল্প বিবেচনা করা হচ্ছে। ইউএস ইউরোপিয়ান কমান্ডের প্রধান ও ন্যাটোর সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকেভিচ শুক্রবার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে প্রাথমিক বিশ্লেষণ তুলে ধরতে পারেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই পর্যালোচনায় বিমান, নৌ ও স্থলবাহিনী নিয়ে একাধিক বিকল্প তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি কিছু মার্কিন সেনা ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে পুনর্মোতায়েনের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

আগামী ৬ নভেম্বর হেগসেথের কাছে চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার কথা রয়েছে। এরপর কোনো প্রস্তাব প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে বলে আসছে, ইউরোপীয় দেশগুলোর নিজেদের প্রচলিত প্রতিরক্ষার জন্য আরও বেশি দায়িত্ব নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সম্পদ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে আরও বেশি কাজে লাগানোর ওপর জোর দিয়ে আসছে প্রশাসন।

তবে ইউরোপে মার্কিন সেনা কমানোর সম্ভাবনায় কয়েকজন মার্কিন আইনপ্রণেতা ও ইউরোপীয় সরকারের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত সেনা প্রত্যাহার করা হলে রাশিয়াকে প্রতিরোধে ন্যাটোর সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এনবিসি আরও জানিয়েছে, ইউরোপে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে পর্যালোচনার প্রক্রিয়া নিয়ে পেন্টাগন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। গত জুনে পেন্টাগন ন্যাটোর প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সম্ভাব্য বড় আকারের সেনা কমানোর বিষয়ে অবহিত করার প্রস্তুতি নিলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এতে হস্তক্ষেপ করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরই মধ্যে কয়েকজন মার্কিন সিনেটর রুবিওর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, ইউরোপে মার্কিন সামরিক অবস্থান নিয়ে পর্যালোচনায় পররাষ্ট্র দপ্তর ও দেশটির কূটনীতিকদের পূর্ণাঙ্গভাবে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে।

সূত্র: এনবিসি নিউজ

পোল্যান্ডে মার্কিন বাহিনী। ছবি: গেটে ইমেজেস
পোল্যান্ডে মার্কিন বাহিনী। ছবি: গেটে ইমেজেস

মক্কাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে সৌদি: হুতি নেতা

মক্কাকে রাজনৈতিক ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যবহার করে সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন হুতিদের নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি। বৃহস্পতিবার এক ঘণ্টার ভাষণে তিনি সৌদি আরবের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন।

তার বক্তব্য আলজাজিরার প্রতিবেদনে উদ্ধৃত করা হয়েছে।

আল-হুতি বলেন, সৌদি আরব মক্কাকে ‘নিপীড়নের প্রতীক’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি একে মিথ্যা ও প্রতারণামূলক প্রচেষ্টা বলে উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি সৌদি আরব অভিযোগ করেছে, আনসার আল্লাহ গোষ্ঠী মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা করেছে। তবে আল-হুতি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মুসলিম বিশ্বের প্রতি সৌদি আরবের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে ইয়েমেনের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

হুতি নেতা বলেন, ইয়েমেনে সৌদি আরবের আগ্রাসনের এটি ১২তম বছর। তার দাবি, বর্তমান সংঘাতের এই পর্যায় সৌদি আরবই শুরু করেছে। মক্কা ও অন্যান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি সামরিক অভিযান চালানোর পর ইয়েমেনে পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হয় বলেও দাবি করেন তিনি।

আল-হুতির ভাষ্য অনুযায়ী, সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি সামরিক অভিযান এবং পরবর্তী সময়ে মোচা দখল ও আনসার আল্লাহর অগ্রযাত্রার মধ্য দিয়ে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এর ধারাবাহিকতায় আনসার আল্লাহ দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে মোচা, ধাবাব ও বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ নেয় বলে দাবি করেন তিনি।

হুতি নেতা বলেন, সৌদি আরব ইয়েমেনকে আত্মরক্ষামূলক অবস্থানে যেতে বাধ্য করেছে। তার দাবি, বর্তমানে ইয়েমেনে হুতিদের সামরিক তৎপরতা এমন একটি দেশের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ, যারা ইয়েমেনকে অধীন ও নিপীড়িত অবস্থায় রাখতে চায়।

আল-হুতি আরও অভিযোগ করেন, সৌদি আরবের সামরিক কর্মকাণ্ডের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ‘জায়নবাদীরা’ নেতৃত্ব দিচ্ছে। তার দাবি, তারাই সৌদি আরবের ওপর রাজনৈতিক নীতি চাপিয়ে দিচ্ছে এবং সামরিকভাবে পদক্ষেপ নিতে প্রভাবিত করছে।

সূত্র: আলজাজিরা

পবিত্র কাবা শরিফ। ছবি: সংগৃহীত
পবিত্র কাবা শরিফ। ছবি: সংগৃহীত

বছর শেষের আগেই ৩ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা ইরানের

চলতি বছরের শেষ নাগাদ তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা করেছে ইরান। রাশিয়ার সহযোগিতায় পায়া, জাফর ও কাওসার নামের এসব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী সাত্তার হাশেমি।

মেহের নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বুধবার এক বক্তব্যে হাশেমি বলেন, মহাকাশ শিল্পের উন্নয়ন ইরান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তিনটি ইরানি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, পায়া, জাফর ও কাওসার স্যাটেলাইট তিনটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে তৈরি করা হয়েছে।

ইরান একাধিক উৎক্ষেপণ অবকাঠামো প্রকল্পের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানান হাশেমি। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে দেশটির কিছু মহাকাশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

হাশেমি জানান, চাবাহার স্পেস সেন্টারের প্রথম ধাপের নির্মাণকাজ ৯৮ শতাংশ শেষ হয়েছে। এর আগে প্রকল্পটির অগ্রগতি ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। কেন্দ্রটি যোগাযোগ ও রিমোট সেন্সিং স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর জন্য কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে কাজ করবে বলে জানান তিনি।

এ ছাড়া নাহিদ-২ স্যাটেলাইটকে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন ইরানের যোগাযোগমন্ত্রী। তার দাবি, এই স্যাটেলাইটটি প্রথমবারের মতো কু-ব্যান্ড প্রযুক্তিতে তৈরি করা হয়েছে। এর উন্নয়নকাজে একজন নারী নির্বাহী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। স্যাটেলাইটটি টেলিযোগাযোগের কাজে ব্যবহার করা হবে।

হাশেমি আরও জানান, নক্ষত্রমণ্ডলে ইরানের ২৪টি স্যাটেলাইট রয়েছে। এর মধ্যে ১৮টি মূল স্যাটেলাইট এবং ছয়টি রিজার্ভ হিসেবে রাখা হয়েছে।

চলতি বছর এসবের মধ্যে তিনটি স্যাটেলাইট একসঙ্গে কক্ষপথে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাকি স্যাটেলাইটগুলো পরবর্তী বছরগুলোতে পর্যায়ক্রমে উৎক্ষেপণ করা হবে বলে জানান তিনি।

সূত্র: মেহের নিউজ এজেন্সি

একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। ছবি: মেহের নিউজ এজেন্সি
একটি উৎক্ষেপণ কেন্দ্র। ছবি: মেহের নিউজ এজেন্সি

গাড়িচালককে ঘুষি দিলেন সুদীপা

প্রকাশ ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ঃ বিতর্ক পিছু ছাড়ে না পশ্চিমবঙ্গের সঞ্চালক সুদীপা চট্টোপাধ্যায়ের। বাংলাদেশে একটি রান্নার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে রীতিমতো ভারতের মানুষের তোপের মুখে পড়েছিলেন সুদীপা। এ ছাড়া অতিথি এলে ফ্রিজ পরিষ্কার করেন সুদীপা, হাস্যরস করে এমন কথা বলেও মানুষের কটাক্ষের শিকার হন। এবার আরেক কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলেছেন একসময় জি বাংলার রান্নাঘরের তুমুল জনপ্রিয় এই সঞ্চালক। যদিও জি বাংলার সঞ্চালনা বহু আগেই ছেড়েছেন তিনি।

এবার আর কোনো অনুষ্ঠানকেন্দ্রিক বিতর্ক নয়, এক গাড়িচালকের সঙ্গে ভয়ানক ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেছেন সুদীপা, গাড়িচালকের সঙ্গে রীতিমতো মারামারি করছেন তিনি। ঘটনার সাক্ষী ছেলে আদিদেব চট্টোপাধ্যায়।

ছেলেকে নিয়ে বালিগঞ্জ থেকে নিউটাউনে দাদার বাড়ি যাচ্ছিলেন সুদীপা। ব্যক্তিগত গাড়ি নয়, অ্যাপ ক্যাবে চড়ে যাচ্ছিলেন মা-ছেলে। মাঝপথে মিষ্টির দোকানের সামনে চালককে দাঁড়াতে বলার পরই বাধে যত বিপত্তি।

সুদীপা গণমাধ্যমকে জানান, তিনি চালককে পাঁচ মিনিটের জন্য মিষ্টির দোকানে দাঁড় করাতে বলেছিলেন। উত্তরে চালক বলেছেন, আরও একটা স্টপ যোগ করতে। কিন্তু দুই মিনিটের জন্য সেটা করতে রাজি হননি সঞ্চালক। তা-ও সুদীপা ক্যাব চালককে বলেন, সেটা কীভাবে করতে হয়, তিনি জানেন না, সে কারণে চালককে এ বিষয়ের সমাধান করতে বলেন। এরপরই শুরু হয় বাগ্‌বিতণ্ডা।

সুদীপার আরও অভিযোগ, বন্ডেল রোড দিয়ে বালিগঞ্জ হয়ে নিউটাউন যেতে চালককে বলেন সুদীপা। তাঁর ভাষায়, সেখানেও ঝামেলা সৃষ্টি করেন চালক। সুদীপা বলেছেন, ‘গাড়ি অন্যদিকে নিয়ে চলে যাচ্ছিল। আমাকে খারাপ ভাষায় আক্রমণ করে। চালক বলেছে, মজা দেখাব। এমনকি তেড়ে মারতে আসেন, তখন আর চুপ থাকতে পারিনি, ওর পিঠে ঘুষি দিয়েছি।’

শুধু তা-ই নয়, চালক সুদীপাকে হিন্দিতে কথা বলতে বলেছেন। যার কারণ, তিনি নাকি বাংলা বলতে পারেন না। সবকিছু মিলিয়ে চালককে ঘুষি মেরে প্রতিবাদ করেছেন সুদীপা।
যদিও চালকের সঙ্গে মায়ের এমন বাগ্‌বিতণ্ডা, মারামারি দেখে খুব ভয় পেয়ে গেছে ছেলে আদিদেব। সুদীপা জানান, সেই ভয় থেকে নাকি এখনো ছেলে বের হতে পারেনি। ওই চালকের গাড়ির নম্বর মনে রেখেছেন সুদীপা। থানায় অভিযোগও জানাবেন তিনি।

সুদীপা চ্যাটার্জি। ইনস্টাগ্রাম থেকে
সুদীপা চ্যাটার্জি। ইনস্টাগ্রাম থেকে