Thursday, April 18, 2019

সংবিধান সংশোধন হচ্ছে মিশরে, ব্যাপক ক্ষমতা পাচ্ছেন সিসি ও সেনাবাহিনী

সংবিধান সংশোধন হচ্ছে মিশরে। এরই মধ্যে পার্লামেন্ট তা অনুমোদনও দিয়েছে। তবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য ৩০ দিনের মধ্যে গণভোটে দিতে হবে এ বিষয়টি। ধারণা করা হয়, গণভোটে তা অনুমোদন পাবে। তা হলেই দেশটির প্রেসিডেন্ট ও সাবেক সেনা প্রধান জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। বর্তমানে তিনি দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতাসীন। এই মেয়াদ শেষ হবে ২০২২ সালে। কিন্তু সংবিধান অনুমোদিত হলে তিনি আরো এক দফা প্রেসিডেন্ট হিসেবে থাকতে পারবেন।
তাতে তার বর্তমান মেয়াদ বৃদ্ধি পাবে আরো ৬ বছর। শুধু তা-ই নয়। এর ফলে প্রেসিডেন্ট সিসি বিচার বিভাগের ওপর আরো ক্ষমতা পাবেন। রাজনীতিতে সেনাবাহিনীর ভূমিকা শক্তিশালী করবেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতায় থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসনি মুবারক ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশে প্রথমবার গণতান্ত্রিকভাবে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন মুসলিম ব্রাদারহুডের মোহাম্মদ মুরসি। কিন্তু তার শাসনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখা দিলে ২০১৩ সালে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে দায়িত্ব নেন আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। সেই যে মসনদের স্বাদ তিনি পেয়েছেন তা অব্যাহত আছে। তখন থেকেই মানবাধিকার বিষয়ক গ্রুপগুলো বলছে, তিনি ভিন্ন মতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অপ্রত্যাশিতভাবে দমনপীড়ন চালাচ্ছেন। এর মাধ্যমে তিনি হাজার হাজার এমনকি লাখো মানুষকে আটক করেছেন।
২০১৪ সালে প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন আল সিসি। এরপর গত বছর নির্বাচনে তিনি পুনঃনির্বাচিত হন। বলা হয়, এ সময় তিনি শতকরা ৯৭ ভাগ ভোট পেয়েছেন। তার সামনে কোনো গুরুত্বর প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার মতো কেউ নেই। কারণ, যারাই এমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলার মতো ছিলেন তাদেরকে অযোগ্য করা হয়েছে অথবা গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেশটির পার্লামেন্টেও রয়েছে আল সিসির সমর্থকে ঠাসা। তাই বিরোধীরা প্রেসিডেন্টের জন্য এই পার্লামেন্টেকে ‘রাবার স্ট্যাম্প’ পার্লামেন্ট বলে সমালোচনা করে।
সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন এমন একজন এমপি হলেন মোহাম্মদ আবু হামেদ। তিনি বলেছেন, প্রেসিডেন্ট সিসি রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ কাজ করেছেন। তাকে সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নিতে দেয়া উচিত। প্রতিবেশী লিবিয়া ও সুদানের অসন্তোষের প্রেক্ষিতে তাকে এমন সুযোগ দেয়া উচিত।
কিন্তু উদার আল দাস্তুর পার্টির খালেদ দাউদ এই যুক্তিকে অগ্রাহ্য করেছেন। তিনি বলেছেন, সংবিধান সংশোধন করা হচ্ছে আল সিসির ক্ষমতাকে আরো কুক্ষিগত করার জন্য। ইন্টারনেট মনিটর বিষয়ক নেট ব্লকস বলছে, সংবিধান সংশোধনের বিরুদ্ধে যেসব ওয়েবসাইট প্রচারণা চালিয়েছিল এমন ৩৪০০০ ওয়েবসাইট আংশিক বা পূর্ণাঙ্গভাবে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ওইসব ওয়েবসাইটে সংবিধান সংশোধনের বিরুদ্ধে স্বাক্ষর করেছিলেন আড়াই লক্ষাধিক মানুষ।
কিভাবে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন?
মিশরের বর্তমান সংবিধানের ১৪০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, প্রেসিডেন্ট চার বছরের জন্য নির্বাচিত হবেন এবং তিনি এরপরে আর মাত্র একবার নির্বাচন করতে পারবেন বা নির্বাচিত হতে পারবেন। এই সংবিধানটি ২০১৪ সালে গণভোটে দিয়ে অনুমোদন করা হয়েছিল।
কিন্তু এটা সংশোধনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন এমপিরা গত মঙ্গলবার। ফলে এ সংশোধনের অধীনে প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর নয়, বাড়িয়ে করা হয়েছে ৬ বছর।
সংবিধানের ২৪১ অনুচ্ছেদে অন্তর্বর্তী সময়ের বিষয়ে আল সিসির বর্তমান মেয়াদ দুই বছর বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে তার ক্ষমতার মেয়াদ ২০২২ সালে শেষ হয়ে গেলেও তিনি ২০২৪ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে পারবেন। তারপর ২০২৪ সালে আবার নির্বাচিত হতে পারবেন ৬ বছরের জন্য। এর মধ্য দিয়ে তিনি ২০৩০ সালকে স্পর্শ করবেন। এ ছাড়া সংশোধিত সংবিধানের অধীনে প্রেসিডেন্ট এক বা একাধিক ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দিতে পারবেন।
সেনাবাহিনীর ভূমিকা কি?
আল সিসি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেয়ার পর অর্থনীতি ও বেসামরিক কর্মকান্ডে সেনাবাহিনীর ভূমিকা বাড়ানো হয়েছে। দেশে বড় অবকাঠামোগত প্রকল্পগুলোর দায়িত্বে রয়েছে তারা। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রয়েছেন জেনারেলরা।
সংবিধানের ২০০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন করে বলা হবে, দেশকে সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সেনাবাহিনীর দায়িত্ব হবে সংবিধান, গণতন্ত্রকে সংহত করা। রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে রক্ষা করা। জনগণের স্বার্থকে সমুন্নত রাখা। সব মানুষের অধিকার ও স্বাধীনতাকে রক্ষা করা।

চাপের মুখে মধ্যবিত্ত -ওইসিডির প্রতিবেদন

মধ্যবিত্ত শ্রেণিই গণতন্ত্রের ভিত্তি।
মধ্যবিত্তের উপার্জন থমকে গেছে।
পশ্চিমা রাজনীতিতে প্রভাব পড়বে।

সারা পৃথিবীতেই কিছু মানুষের হাতে সম্পদ কুক্ষিগত হচ্ছে। মধ্যবিত্ত শ্রেণি সংকুচিত হচ্ছে। বাড়ছে অতিধনীর সংখ্যা।
বিশ্বের ৩৬টি ধনী দেশের সংগঠন অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ওইসিডি) এক প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা সংস্থা ওয়েলথ এক্সের হিসাবে, অতিধনীর সংখ্যা বাড়ার হারের দিক দিয়ে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ।
ওইসিডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক পরিসরে মধ্যবিত্তের উপার্জন থমকে গেছে। মূলত অতিধনীদের সম্পদ বাড়ার কারণে তারা চাপে পড়ছে।
‘আন্ডার প্রেশার: দ্য স্কুইজড মিডল ক্লাস’ (চাপের মুখে মধ্যবিত্ত সংকুচিত হচ্ছে) শীর্ষক ওই প্রতিবেদন গত সপ্তাহে প্রকাশ করা হয়। এতে ধনী দেশগুলোতে মধ্যবিত্ত শ্রেণির সংকোচন ও অতিধনীদের উত্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, উন্নত দেশগুলো থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণি একরকম হারিয়ে যাচ্ছে।
ওইসিডি বলছে, যেহেতু মধ্যবিত্ত মানুষেরাই গণতন্ত্রের ভিত্তি, সেহেতু পশ্চিমা দেশগুলোতে এর রাজনৈতিক প্রভাব পড়বে। রাজনীতিতে যখন জনতুষ্টিবাদের প্রভাব বাড়ছে এবং চরমপন্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে, তখন ঐতিহ্যগতভাবে এই মধ্যপন্থী মধ্যবিত্তের মনে ‘পিছিয়ে পড়ার’ বোধ সৃষ্টি হচ্ছে। তারা যেন সমাজের মূল স্রোতোধারার বাইরে চলে যাচ্ছে। এ কারণে তাদের মধ্যে ‘ক্ষমতাকাঠামো’বিরোধী রাজনীতিতে সমর্থন দেওয়ার প্রবণতা বাড়ছে।
ওইসিডির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মধ্যবিত্ত মানুষেরাই সমাজের মূল চলনশক্তি। ব্রিটেনের ৬০ শতাংশ মানুষ মধ্যবিত্ত। ফলে এই সমাজ যদি মনে করতে শুরু করে যে সমৃদ্ধি তাদের অধরা থেকে যাচ্ছে, তাহলে সমাজে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হতে পারে।
ওইসিডি আন্তর্জাতিক পরিসরের এক পরিবর্তনশীল অর্থনৈতিক মডেল হাজির করেছে। এতে তারা দেখিয়েছে, অতিধনীদের সম্পদ বাড়লেও মধ্যবিত্তদের আয় বাড়ার হার হতাশাজনক। ক্ষেত্রবিশেষে তারা পিছিয়েও পড়ছে। ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ১০ শতাংশ শীর্ষ ধনীর আয় মধ্যম আয়ের মানুষের চেয়ে এক-তৃতীয়াংশ বেশি হারে বেড়েছে।
ওইসিডির হিসাবে, যুক্তরাজ্যের এক-তৃতীয়াংশের বেশি মধ্যবিত্ত পরিবার মাস শেষে খরচের হিসাব মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। আর গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ ১ শতাংশ ধনীর বার্ষিক আয় ১১ থেকে ২০ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে মধ্যম আয়ের মানুষের আয় গত এক দশকে খুব সামান্যই বেড়েছে।
আবাসন খরচ
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিজের একটা বাড়ি ও উচ্চশিক্ষা হচ্ছে মধ্যবিত্তের স্বপ্ন। কিন্তু এগুলো ধীরে ধীরে ব্যয়বহুল হয়ে যাচ্ছে। সম্পদের দাম নাগালের বাইরে চলে যাওয়া তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে। স্বাভাবিকভাবেই অনেক অভিভাবক সন্তানের মাথা গোঁজার একটা ঠাঁই রেখে যেতে চান। মধ্যবিত্তের আরেকটি চাওয়া হচ্ছে নিরাপদ চাকরি। কিন্তু নিরাপদ/নিশ্চিত চাকরিও যেন সোনার হরিণ হয়ে যাচ্ছে।
ওইসিডির সাধারণ সম্পাদক অ্যাঞ্জেল গুরিয়া বলেন, মধ্যবিত্তের অবস্থা এখন মাঝসমুদ্রে ঝড়ের কবলে পড়া নৌকার যাত্রীদের মতো।
অন্যদিকে ওইসিডি আরেকটি প্রজন্মগত পার্থক্য দেখিয়েছে। তারা বলেছে, মধ্যবিত্ত শ্রেণিতে তরুণদের সংখ্যা কমেছে। বৈষম্য মানুষকে সম্পদ ও দারিদ্র্যের চূড়ান্ত জায়গায় নিয়ে যাচ্ছে। মাঝামাঝি কিছু থাকছে না। সে কারণে সহস্রাব্দের প্রজন্মের যে তরুণদের বয়স এখন ২০-এর কোটায়, তাঁদের পক্ষে মধ্যবিত্তের কাতারে আসা কঠিন। যেটা তাঁদের আগের বেবি বুমার (যাদের জন্ম ১৯৪৬-৬৪ সালের মধ্যে) প্রজন্মের মানুষের পক্ষে ততটা কঠিন ছিল না।
বাংলাদেশের অবস্থা
যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ গবেষণা সংস্থা ওয়েলথ এক্সের হিসাবে, অতিধনীর সংখ্যা বাড়ার হারের দিক দিয়ে বিশ্বের বড় অর্থনীতির দেশগুলোকে পেছনে ফেলেছে বাংলাদেশ। ২০১২ সাল থেকে পরবর্তী পাঁচ বছরে দেশে ধনকুবেরের সংখ্যা বেড়েছে গড়ে ১৭ শতাংশ। এ হার যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান, ভারতসহ ৭৫টি বড় অর্থনীতির দেশের চেয়ে বেশি। একই সংস্থার আরেক হিসাবে দেখা যায়, ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।
অবশ্য দেশে দরিদ্র মানুষের আয় কমছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপ-২০১৬ অনুযায়ী ২০১০ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে দেশে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবারের আয় প্রায় ৫৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সময় সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে ৫৯ শতাংশ।

চাঁদে নামার আগেই বিধ্বস্ত ইসরাইলি মহাকাশযান

বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে মহাকাশযান অবতরণ করাতে চেয়েছিল ইসরাইল। কিন্তু তাদের সেই মিশন পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। চাঁদে পা রাখার আগেই গত বৃহস্পতিবার ইসরাইলের পাঠানো মহাকাশযানটি পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়।
ইসরাইলের হলেও মূলত ব্যক্তিগত অর্থায়নেই পরিচালিত হয়েছিল চাঁদে মহাকাশযান পাঠানোর এ মিশন। এই মিশনের উদ্দেশ্য ছিল চন্দ্র-পৃষ্ঠের ছবি তোলা এবং বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা। এ প্রকল্পে ১০ কোটি ডলার খরচ করা হয়েছিল। মূলত ভবিষ্যতে স্বল্প খরচে মহাকাশযান পরিচালনা করার জন্য এ পরীক্ষা চালানো হয়েছিল।
ইসরাইল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের স্পেস বিষয়ক জিএম অফার দোরোন বলেন, আমরা এক্ষত্রে ব্যর্থ হয়েছি। অপ্রত্যাশিতভাবে সফলভাবে অবতরণ করতে ব্যর্থ হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বেরেশিট নামের ইসরাইলি মহাকাশযানটির মূল ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় তা ঠিকভাবে চাঁদের মাটিতে অবতরণ করতে পারেনি। প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, চাঁদের পৃষ্ঠে বেরেশিট সফট-ল্যান্ডিয়ের চেষ্টা করেছিল। তবে কিছু টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে শেষ পর্যন্ত তা আর সম্ভব হয়নি এবং এক পর্যায়ে সেটি বিধ্বস্ত হয়।
প্রকল্পটির প্রধান সমন্বয়কারী মরিস কান বেরেশিট বিধ্বস্ত হওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা এতে ব্যর্থ হয়েছি। তবে আমরা চেষ্টা করেছিলাম।
বেরেশিট বিধ্বস্ত হওয়ার বিষয়টিও সরাসরি পর্যবেক্ষণ করছিলেন এ প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্টরা। মহাকাশযান ধ্বংসের বিষয়টি দেখে অনেকেই অশ্রুসজল হয়ে পড়েন। তেল আবিবের কাছে অবস্থিত নিয়ন্ত্রণকক্ষে বসে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছিলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুও। তিনি প্রকল্পের সাথে যুক্ত সবাইকে সান্ত¦না দিয়ে বলেন, তোমরা যেহেতু প্রথমবার সফল হওনি, আবার চেষ্টা করো।
ইসরাইল আশা করছিল, বিশ্বের চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে মহাকাশযান অবতরণ করাবে তারা। কিন্তু মিশনটি ব্যর্থ হওয়ায় তাদের অপেক্ষা আরো দীর্ঘ হলো।
প্রসঙ্গত, এখন পর্যন্ত সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন সফলতার সঙ্গে চাঁদে মহাকাশযান পাঠাতে সক্ষম হয়েছে। দেশগুলো সরকারি ব্যবস্থাপনায় এসব মিশন পরিচালনা করে। অন্যদিকে ইসরাইল ব্যক্তিগত ব্যবস্থাপনায় এ উদ্যোগ নিয়েছিল।

‘আমরা ভারত ভাঙতে চাইলে, ভারতের অস্তিত্বই থাকতো না’

এবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উদ্দেশ্যে পাল্টা তোপ দাগলেন কাশ্মিরের ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহ। একদিন আগে নরেন্দ্র মোদি বলেছিলেন, আবদুল্লাহ ও মুফতি মেহবুবা ভারত ভাঙার চেষ্টা করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ন্যাশনাল কনফারেন্সের সভাপতি ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, আমার পরিবার যদি ভারত ভাঙার চেষ্টা করতো, তাহলে ভারত বলতে কোন দেশই থাকত না।
রোববার কাশ্মিরের কানতুহায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, মেহবুবা ও আবদুল্লাহর পরিবার কাশ্মিরের তিন প্রজন্মকে ধ্বংস করেছে। আমি তাদের ভারত ভাঙার সুযোগ দেব না।
এর প্রতিক্রিয়ায় ফারুক আবদুল্লাহ বলেন, নরেন্দ্র মোদিই ভারতকে বিভক্ত করার চেষ্টা করছেন; কিন্তু তিনি সফল হবে না। তিনি আরো বলেন, আমাদের দল সকল মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছে। সে মুসলমান, হিন্দু, শিখ, খ্রিস্টান কিংবা বৌদ্ধ তা বিচার না করেই আমাদের লড়াই চলবে সবার জন্য। মোদি তার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেও ভারতে বিভক্ত করতে সক্ষম হবে না। আমি তাকে বলছে তাই, আপনিই ভেঙে যাবেন, ভারত নয়। আপনি আবদুল্লাহর পরিবারকে ভারত ভাঙার চেষ্টায় অভিযুক্ত করছেন, তারা যদি ভারত ভাঙতে চাইতো তাহলে ভারত বলতে এখন কোন দেশই থাকতো না।
শ্রমিকদের এক সমাবেশে বক্তৃতা করতে গিয়ে কাশ্মিরের সাবেক এই মুখ্যমন্ত্রী বলেন, মোদির মনে রাখা উচিত ১৯৯৬ সালে যখন কেউ এখানে ভোটে লড়তে চায়নি তখন আমিই এগিয়ে এসেছি। অনেক নিষেধ সত্ত্বেও আমি জনগনের অধিকারে কথা বলতে চেয়েছি। আপনার সেটি ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
প্রসঙ্গত ফারুক আবদুল্লাহ কাশ্মিরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও বর্তমানে জম্মু থেকে নির্বাচিত লোকসভা এমপি। তার বাবা শেখ আবদুল্লাহ ছিলেন কাশ্মিরের তৃতীয় মুখ্যমন্ত্রী(১৯৭৫-৭৭)। আবার ফারুক আবদুল্লাহর ছেলে ওমর আবদুল্লাহ ২০০৯ সালে গঠিত সরকারে কাশ্মিরের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, বর্তমানে যিনি কাশ্মিরের বিরোধীদলীয় নেতা। অর্থাৎ এই পরিবার তিনি পুরুষ ধরেই কাশ্মির পার্লামেন্টে নেতৃত্ব দিয়েছে। তিনজনই মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন।

২ দিনে ২ শাসককে টেনে নামালো সুদানিরা, ধসে গেল ৩০ বছরের স্বৈরতন্ত্র

সুদানে যে গণবিক্ষোভে বৃহস্পতিবার ৩০ বছরের একনায়ক শাসনের অবসান হয়েছে তার নেতৃত্ব কোনো রাজনৈতিক দলের হাত নেই। বিক্ষোভের নেতৃত্ব দিচ্ছে সুদানিজ প্রফেশনাল এসোসিয়েশন (এসপিএ) নামে একটি পেশাজীবী সংগঠন। প্রধানত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং আইনজীবীরা মিলে এই সংগঠনটি গড়ে তুলেছেন ।
নারীরা ছিল ৭০ ভাগ
সুদানের এবারের গণ-বিক্ষোভে নারীদের যে রকম ব্যাপক অংশগ্রহণ দেখা গেছে, তার নজির বিরল। বলা হচ্ছে, বিক্ষোভকারীদের ৭০ শতাংশই নারী। সমাজের সব অংশ থেকেই নারীরা প্রত্যক্ষভাবে অংশ নিয়েছেন। রাস্তায় যেমন তারা সোচ্চার, সোশ্যাল মিডিয়াতেও একইভাবে তৎপর। এই নারীদের বিরাট একটি অংশ যে শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন চাইছেন তা নয়, সুদানে শরীয়া আইনের বদল দাবি করছেন তারা। সুদানের রক্ষণশীল সমাজে নারীদের বিরুদ্ধে নানা বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে স্লোগান তুলছেন তারা।
সামাজিক সংস্কারের দাবিতে তোলা এক নারীর স্লোগানের ভিডিও টুইটারে এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়ায় লাখ লাখ বার শেয়ার হয়েছে।
ওই নারী এখন সুদানের গণ-আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তিনি ‘কানদাকা’ বা ‘নুবিয়ান কুইন’ খেতাব কুড়িয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের সিংহভাগই তরুণ-তরুণী, যুবক-যুবতী। তবে বিভিন্ন বয়সের লোকজনও অংশ নিয়েছে।
বিক্ষোভ শুরু হলো কীভাবে?
ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের সরকারের ওপর গত কয়েক বছর ধরে চলা মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় সুদানের অর্থনীতি প্রচণ্ড চাপে পড়েছে। তেল রপ্তানি থেকে আয় দিন দিন কমছে। ২০১৭ সালে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। ২০১১ সালে সাউথ সুদান বিচ্ছিন্ন স্বাধীন হয়ে গেলে অধিকাংশ তেলক্ষেত্র হারায় সুদান। পরিস্থিতি সামাল দিতে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে বেশকিছু ব্যয় সঙ্কোচনের কর্মসূচি ঘোষণা করে সরকার। অনেক ভর্তুকি কমানো হয় বা প্রত্যাহার করা হয়। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের জন্য সুদানের মুদ্রার বড় ধরনের অবমূল্যায়ন করা হয়।
কিন্তু সরকারের এই কর্মসূচিতে হিতে-বিপরীত হয়। রুটি এবং জ্বালানি তেলের ভর্তুকি ওঠানোর পরিণতিতে সাধারণ মানুষ প্রচণ্ড চাপে পড়ে। প্রথম দেশের পূর্বে বিক্ষোভ-অসন্তোষ শুরু হয়। দ্রুত সেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে রাজধানী খার্তুমে।
কীভাবে বিক্ষোভের দাবি বিস্তৃত হলো?
প্রথমে বিক্ষোভের প্রধান ইস্যু ছিল অর্থনৈতিক দুর্দশা- বাজারের দাম, জিনিসপত্র না পাওয়া। কিন্তু কিছুদিনের মধ্যে বিক্ষোভের প্রধান দাবি হয়ে ওঠে প্রেসিডেন্ট বশিরের পদত্যাগ, তার ৩০ বছরের শাসনের অবসান। জনবিক্ষোভ চূড়ান্তে পৌঁছে ৬ই এপ্রিল, যে দিনটি ছিল সুদানে আরেক স্বৈরাচারী শাসকের উৎখাতের বার্ষিকী। ১৯৮৫ সালে অহিংস এক গণ-বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিলেন তৎকালীন একনায়ক শাসক জাফর নিমেরি। কারফিউ অবজ্ঞা করে হাজার হাজার লোক জড়ো হয় সুদানের সেনা সদর দপ্তরের কাছে।
সেনা সরকারে কি মানুষ খুশি?
এককথায় উত্তর- না। বৃহস্পতিবার সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে সরিয়ে ক্ষমতা নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পরপরই সুদানিজ প্রফেশনাল এসোসিয়েশন (এসপিএ) কারফিউ ভেঙে সেনা সদর দপ্তরের বাইরে অবস্থান ধর্মঘটের ডাক দেয়। এসপিএ অভিযোগ করছে, ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ কজন সেনা কর্মকর্তা সেনা অভ্যুত্থান করেছে। তাদের কথা- এই সেনা-শাসকরা থাকলে দেশে কোনো পরিবর্তনই হবে না।
সেনা কমান্ডাররা কী বলছেন?
প্রেসিডেন্ট বশিরকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরপরই সামরিক কাউন্সিলের প্রধান হন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লে. জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফ। তিনি ঘোষণা দেন, তিন মাস সুদানে জরুরি অবস্থা থাকবে। তারপর, দু’বছর পর সাধারণ নির্বাচন দেয়া হবে। কিন্তু বিক্ষোভ অব্যাহত থাকায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শুক্রবার সামরিক কাউন্সিলের প্রধানের পদ থেকে জেনারেল আওয়াদ ইবনে আউফ পদত্যাগ করেন। সামরিক বাহিনীর লেফটেন্যান্ট জেনারেল আবদেল ফাত্তাহ আবদেল রাহমান বুরহানকে তার উত্তরসূরি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিক্ষোভ প্রশমিত করতে সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, দু’বছর নয়, পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে, এক মাসের মধ্যেই বেসামরিক সরকারের হাতে ক্ষমতা তুলে দেয়া যেতে পারে। সুদান সামরিক কাউন্সিলের রাজনৈতিক শাখার প্রধান লে. জেনারেলর ওমর জাইন আল-আবিদিন বলেছেন, ‘যারা বিক্ষোভ করছেন, তারাই সমাধানের রাস্তা বাতলে দেবেন। জনগণই রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক সমাধানের রাস্তা দেখাবে।’
ওমর আল বশিরের কী হবে?
সেনাবাহিনী বলছে, মি. বশির তাদের হাতে বন্দি। অভ্যুত্থানের পর থেকে তাকে দেখা যায়নি। দারফুরে গণহত্যার অভিযোগে অনেক আগেই আন্তর্জাতিক আদালতে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী বলছে তার সুদানেই বিচার করা হবে।

বিতর্ক, ক্ষমা চাইলেন ফেরদৌস

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দেশ ছাড়ার নোটিশ পেয়ে বাংলাদেশি অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ মঙ্গলবার রাতের বিমানে ঢাকায় এসেছেন। গতকাল ফেরদৌস তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর প্রচারণায় অংশ নেয়া ঠিক হয়নি। ওদিকে ফেরদৌস ঢাকায় ফিরে এলেও পশ্চিমবঙ্গে বিদেশিদের নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহার করা নিয়ে রাজনৈতিক চাপান উতোর এখনো বহাল রয়েছে।
পানি  আরো গড়াবে বলেই রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা। বুধবার দুপুরেই বিজেপির পক্ষ থেকে এবার টিভির জনপ্রিয় বাংলাদেশি অভিনেতা গাজী আবদুন নূরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানো হয়েছে। নূরের বিরুদ্ধেও ফেরদৌসের মতোই কড়া  ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে বলে জানা গেছে। ইতিমধ্যেই কলকাতার ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিস (এফআরআরও) থেকে নূরের ভিসা সম্পর্কিত বিশদ তথ্য চেয়ে পাঠিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।
সেই রিপোর্ট পাবার পই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে সূত্র জানিয়েছে। গত মঙ্গলবার বিজেপি বাংলাদেশি অভিনেতা ফেরদৌসের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানিয়েছিল। এর পরেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক থেকে ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে তাকে ভারত ছেড়ে চলে যাবার নোটিশ দেয়া হয়েছিল। বুধবার রাজ্যের নির্বাচনী আধিকারিকদের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে এসে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলা ধারাবাহিকের অভিনেতা গাজী নূরকে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্রের সঙ্গে দমদম কেন্দ্রের প্রার্থী সৌগত রায়ের সমর্থনে প্রচারে দেখা গেছে।  দেশের আইন ভেঙে দেশদ্রোহিতার সমান অপরাধ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা  সৌগত রায়ের প্রার্থী পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছি।
সম্প্রতি উত্তর ২৪ পরগণার কামারহাটিতে এক নির্বাচনী প্রচারে জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘করুণাময়ী রানী রাসমণি’র রাজা রাজচন্দ্রের অভিনেতা গাজী আবদুন নূর নির্বাচনী প্রচারে উপস্থিত ছিলেন। নূরও বাংলাদেশের নাগরিক। তবে নির্বাচনে বাংলাদেশি অভিনেতাদের অংশগ্রহণ নিয়ে বিতর্ক দেখা দেয়ার পরিপ্রেক্ষিতে নূর বলেছেন, তিনি মদন মিত্রকে মায়ের পাঠানো মিষ্টি পৌঁছে দিতে কামারহাটি গিয়েছিলেন। সেখানেই তিনি গাড়িতে উঠেছিলেন মদন মিত্রের সঙ্গে। তবে তিনি কোনো নির্বাচনী প্রচার করেন নি। বিতর্ক থেকে তাকে মুক্ত রাখার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এদিন রাত পর্যন্ত অবশ্য নূরের বিরুদ্ধে সরকারের কোনো ব্যবস্থা গ্রহণের খবর জানা যায় নি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ভিসা বিধি ভঙ্গ করার অপরাধে নূরেরও ভিসা বাতিল করে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে। কেননা, একই অপরাধে অপরাধী নূরও। তবে বিজেপির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি অভিনেতাদের প্রচারণায় ব্যবহার করার পেছনে বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তৃণমূলের যোগসাজশের সম্ভাবনার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক রাহুল সিংহ এ ব্যাপারে কিছু না বললেও বিদেশিদের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে  এনআইএ তদন্ত চেয়ে কেন্দ্রীয় সরকারকে চিঠি দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলেই পশ্চিমবঙ্গে  জেএমবি’র মডিউলের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। জানা গিয়েছিল, রাজ্যের বিভিন্ন মাদরাসায় জেএমবি’র জঙ্গিরা ঘাঁটি তৈরি করেছে।
এদিকে, বাংলাদেশি অভিনেতাদের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা নিয়ে বিতর্ক তীব্র হওয়ার পর তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টি থেকে দূরে সরে থাকতে চাইছে। তৃণমূল কংগ্রেস নেতা  মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশি অভিনেতাদের প্রচারে আসার জন্য কোনো আমন্ত্রণ জানানো  হয়নি। তারা যদি স্বেচ্ছায় যোগ দিয়ে থাকে তাতে দলের কিছু করার নেই। মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমও বাংলাদেশি অভিনেতাদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া নিয়ে বলেছেন, অকারণে জলঘোলা করছে বিজেপি। কে কার হয়ে প্রচার করলো, তা নিয়ে কারও কিছু যায় আসে না। কিন্তু বিজেপির পায়ের তলার মাটি সরে গেছে। তাই তারা জলঘোলা করছে। তবে তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, নির্বাচনী প্রচারে কে থাকবেন আর থাকবেন না, তার কোনো আইন  নেই আমাদের দেশে।
গত  রোববার ও সোমবার রায়গঞ্জে তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কানাইয়ালাল আগরওয়ালের সমর্থনে রোডশোতে যোগ দিয়ে প্রার্থীর হয়ে ভোটও চেয়েছিলেন ফেরদৌস। এর পরই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে হুলস্থুল পড়ে যায়। বিদেশি নাগরিককে দিয়ে প্রচার চালানোকে নজিরবিহীন বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে। তবে রায়গঞ্জের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী কানাইয়ালাল বিতর্ক ঝেড়ে ফেলে বলেছেন, ফেরদৌস তার সমর্থনে হেমতাবাদ ও রায়গঞ্জে  রোডশো করে প্রচার চালিয়েছেন বলে তার জানা নেই। জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনে বিজেপির অভিযোগের পরেই ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক তদন্ত শুরু করেছিল।
সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো থেকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছিল। রিপোর্ট হাতে আসার পরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক প্রচারে অংশ  নেয়ার অভিযোগে মঙ্গলবার রাতে ফেরদৌসের ভিসা বাতিল করে তাকে ভারত ছাড়ার নোটিশ দিয়েছে। সেই সঙ্গে ফেরদৌসকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে আগামী দিনে ফেরদৌসের ভারতে আসার ভিসা পাওয়া মোটেই সহজ হবে না বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নির্দেশ ঘোষণার আগেই কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন ফেরদৌসকে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়া ঠিক কাজ হয়নি জানিয়ে তাকে রাতের মধ্যেই ঢাকায় ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিল।
জানা গেছে, ফেরদৌস ভারতে কাজের অনুমোদনপত্র পেয়েছিলেন। সেই মতো তিনি বিজনেস ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। ২০২২ সাল পর্যন্ত তার ভিসার মেয়াদ ছিল বলে জানা গেছে। তবে হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফেরদৌস জানিয়েছেন, তিনি শুটিংয়ের কাজে রায়গঞ্জে ছিলেন। সেই সময় অনুরোধ পেয়ে তিনি রোডশোতে হাজির হয়েছিলেন। শুধু ফেরদৌস নন, তৃণমূল কংগ্রেস নেতা মদন মিত্রের সঙ্গে প্রার্থী  সৌগত রায়ের সমর্থনে প্রচারে  নেমেছিলেন অভিনেতা গাজী আবদুন নূর। নূরও বাংলাদেশের নাগরিক।
বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ বলেছেন, ফেরদৌস সহ দুই বাংলাদেশি অভিনেতাকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা উচিত ছিল। যে তৃণমূল নেতা বা কর্মীরা তাদের ডেকে এনেছেন, তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা করা উচিত। এদিকে দিল্লিতে রাজ্যসভার বিজেপি সদস্য স্বপন দাশগুপ্ত বলেছেন, এই ঘটনাকে ছোট করে দেখলে চলবে না। কারণ, এই উদাহরণ থেকে গেলে পাকিস্তান থেকেও  কেউ এসে এখানে ভোটের প্রচারে নেমে পড়তে পারেন। এদিকে রাজ্যের অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী অফিসার সঞ্জয় বসু বলেছেন, এই ঘটনায় জেলা নির্বাচন অফিসার তথা জেলা প্রশাসকের রিপোর্ট চাওয়া হয়। সেই রিপোর্ট পাঠিয়ে দেয়া হয় নির্বাচন কমিশনে। কমিশন সূত্রের ব্যাখ্যা, কোনো রাজনৈতিক দল বা প্রার্থীর হয়ে বিদেশিদের প্রচারের বিষয়টি নির্বাচনী বিধিভঙ্গ কিনা, সেটা কোথাও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। সমপ্রতি  কোথাও এই ধরনের বিষয় সামনে আসেনি। 
ভুলের জন্য ক্ষমা চাইলেন ফেরদৌস
পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেয়ায় চিত্রনায়ক ফেরদৌসকে কালো তালিকাভুক্ত করে ভারত। একই সঙ্গে ভিসা বাতিল করে জরুরিভাবে তাকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয় মঙ্গলবার রাতেই। দুই বাংলার জনপ্রিয় এই নায়ক দেশে ফিরলেও ভারতে তাকে নিয়ে চলছে বিতর্ক। ভারত সরকারের তার বিরুদ্ধে নেয়া ব্যবস্থাসহ সামগ্রিক বিষয় নিয়ে এক বিবৃতিতে ক্ষমা চেয়েছেন ফেরদৌস।
গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে চিত্রনায়ক ফেরদৌস বলেন, আমি স্বাধীন বাংলাদেশের নাগরিক। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য একটি দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ কোনোভাবেই উচিত হয়নি। আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি।
গণমাধ্যমে ফেরদৌসের পাঠানো বিবৃতিটি হুবহু প্রকাশিত হলো:
আমি চিত্রনায়ক ফেরদৌস। অভিনয়শিল্প আমার একমাত্র নেশা ও পেশা। অভিনয়শিল্পের মাধ্যমে বাংলা ভাষাভাষী সকলের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরিতে সর্বদা কাজ করার চেষ্টা করেছি। আমার ভাবতে ভালো লাগে, দুই বাংলার মানুষ আমাকে সমানভাবে ভালোবাসেন। দুই বাংলার মানুষের সংস্কৃতি ও জীবনাচারে অনেক সাদৃশ্য রয়েছে। আবার ভারত বহু কৃষ্টি-কালচারের সমন্বয়ে সমৃদ্ধ একটি দেশ। ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ভারতের অবদান আমরা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করি। পাশাপাশি ভারতের জনগণের ত্যাগ-তিতিক্ষা আমাদের চিরঋণী করে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বহুদিনের। এখানের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক শিল্পী, সাহিত্যিক আমার বন্ধু। যাদের সঙ্গে আমি সব সময়ে হৃদ্যতা অনুভব করি। এ জন্য বিভিন্ন সময় কারণে অকারণে আমি এখানে চলে আসি।’
ভারতে জাতীয় নির্বাচন হচ্ছে। বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশের এই নির্বাচন পূর্বের মতো সারা বিশ্বে সাড়া ফেলেছে। এই সময়টায় আমি ভারতে অবস্থান করছিলাম। সকলের মতো আমারও আগ্রহের জায়গায় ছিল এই নির্বাচন। ফলে ভাবাবেগে তাড়িত হয়ে পশ্চিমবঙ্গের একটি নির্বাচনী প্রচারণায় আমি আমার সহকর্মীদের সঙ্গে অংশগ্রহণ করি। এটা পূর্বপরিকল্পনার কোনো অংশ ছিল না। শুধুমাত্র আবেগের বশবর্তী হয়ে আমি অংশগ্রহণ করেছি। কারও প্রতি বিশেষ আনুগত্য প্রদর্শন বা কোনো বিশেষ দলের প্রচারণার লক্ষ্যে নয়, আবার কারও প্রতি অসম্মান প্রদর্শন করাও আমার উদ্দেশ্য নয়। ভারতের সকল রাজনৈতিক দল এবং নেতার প্রতি আমার সম্মান রয়েছে। আমি ভারতের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।
আমি আগেও বলেছি পশ্চিমবঙ্গের মানুষের প্রতি আমার ভালোবাসা আমাকে আবেগ তাড়িত করেছে। আমি বুঝতে পেরেছি, আবেগের বশবর্তী হয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে এই নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ করাটা আমার ভুল ছিল। যেটা থেকে অনেক ভ্রান্তি তৈরি হয়েছে এবং অনেকে ভুলভাবে নিয়েছেন। আমি স্বাধীন বাংলাদেশের একজন নাগরিক। একটি স্বাধীন দেশের নাগরিক হিসেবে অন্য একটি দেশের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণ কোনোভাবেই উচিত হয়নি। আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আশা করি, সংশ্লিষ্ট সকলে আমার অনিচ্ছাকৃত ভুলকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

এপিএসের লেখা প্রতিবেদনে প্রতিমন্ত্রীর সই নিয়ম নেই তবুও... by দীন ইসলাম

নিজের সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মো. আতিকুর রহমানের লেখা প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন প্রতিবেদনে সই করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন। শুধু তাই নয়, নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে প্রতিমন্ত্রীর এপিএস প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে চলেছেন। অনুপস্থিত শিক্ষকদের নিয়ে নানা মন্তব্য লিখছেন। এনিয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত শিক্ষা কর্মকর্তা ও শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ। প্রতিমন্ত্রী ও এপিএসের স্বাক্ষরিত প্রতিবেদন যাচাই করে দেখা যায়, দুটি প্রতিবেদনই একজন ব্যক্তির হাতের লেখা। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, গত ৯ই মার্চ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন নাখালপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান।
পরিদর্শনে গিয়ে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন লিখতে এপিএসকে ডাকেন প্রতিমন্ত্রী। তার নির্দেশনা অনুযায়ি প্রতিমন্ত্রী’র নাম ও পদবী উল্লেখ করে এপিএস লেখেন, ০৯/০৩/২০১৯ হঠাৎ বিদ্যালয় পরির্দশন করে দেখতে পেলাম রিতা রানী সরকার, সহকারি শিক্ষিকা ২০১৭ সাল থেকে অদ্য পর্যন্ত অনুপস্থিত।
হাজিরা খাতায় দেখা যায় তিনি মুন্সিগঞ্জে ডেপুটেশনে আছেন। কিন্তু কোন কাগজপত্র অফিসিয়ালি নেই।
রিতা রানী সরকার মুন্সিগঞ্জের ডিপিইও-এর স্ত্রী। ডিপিইও-এর স্ত্রী হিসেবে সে খুব ক্ষমতাধর তাই তিনি স্বামীর সঙ্গে ঘুরে বেড়ান। ঘটনা ফাঁস হওয়ায় ডিপিইও মুন্সিগঞ্জ তাপস কুমার অধিকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে উপ-পরিচালক (ডিডি)- কে দিয়ে ব্যাকডেটে একটি আদেশ করিয়েছেন। জেলা চেঞ্জ-এ ডিডি’র ডেপুটেশন দেয়ার ক্ষমতা নেই। তাই ডিপিইও ঢাকা জরুরি ভিত্তিতে রিতাকে সাসপেন্ড করুন এবং টিইও +এটিইওকে শোকজ করুন।’ প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর প্রতিবেদন লেখার পর তাতে এপিএস নিজেই সিল মারেন। বিষয়টি সর্ম্পকে জানতে চাইলে এপিএস আতিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে প্রতিবেদনটি আমি লিখে দিয়েছি। সেখানেই প্রতিমন্ত্রী সই করেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ি রিতাকে এরই মধ্যে সাসপেন্ড করা হয়েছে। একই সঙ্গে টিইও ও এটিইওকে শোকজ করা হয়েছে। এখন তারা শোকজের জবাব দেননি। এদিকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সহকারি একান্ত সচিব (এপিএস)-দের সরকারি অফিস পরিদর্শনের নিয়ম নেই। এ নিয়মের ব্যতয় ঘটিয়ে ১৩ই মার্চ প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর এপিএস মো. আতিকুর রহমান। এরপর বিদ্যালয়ের পরিদর্শন বইতে নিজের নাম ও পদবী উল্লেখ করে তিনি লেখেন, ‘মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশিত হয়ে ১৩/৩/১৯ ইং দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বিজি প্রেস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতা পর্যালোচনা করে দেখতে পাই, অত্র বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা হাফসা তামান্না চৈতি গত ০১/১০/২০১৮ ইং থেকে অদ্য ১৩/৩/২০১৯ ইং পর্যন্ত স্কুলে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত রয়েছেন।
তেজগাঁও থানা শিক্ষা অফিসার মইনুল হোসেন সাহেবের মাধ্যমে জানতে পারলাম শিক্ষিকতা তামান্না চৈতি এখন পর্যন্ত সাসপেন্ড হয় নাই। তাই এ বিষয়ে মাননীয় প্রতিমন্ত্রী মহোদয়কে ফোনে আমি বিষয়টি অবহিত করলে তিনি আমাকে পরির্দশন খাতায় বিষয়টি লিপিবদ্ধ করে তামান্না চৈতিকে সাসপেন্ড করে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার জন্য ডিপিইও ঢাকাকে অনুরোধ করতে বলেন। বিধায় আমি ডিপিইও ঢাকাকে অনুরোধ করছি জরুরি ভিত্তিতে তামান্না চৈতিকে সাসপেন্ড করে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা নিন এবং মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরকে অবহিত করুন। এদিকে বিদ্যালয়টি’র হাজিরা খাতায় হাফসা তামান্না চৈতির ঘরে এপিএস লিখেছেন, বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত, ফাঁকিবাজ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হাফসা তামান্না চৈতি এরই মধ্যে চাকুরি থেকে অব্যাহতি চেয়ে ডিপিইও’র কাছে চিঠি দিয়েছেন। এখনও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়নি। এ বিষয়ে এপিএস আতিকুর রহমান মানবজমিনকে বলেন, প্রতিমন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশে বিদ্যালয়টি আমি পরির্দশনে যাই। আমি পরিদর্শন প্রতিবেদনেও সেই কথাটি উল্লেখ করি।
মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এপিএসদের মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কাজের তদারকিতে কোন ভূমিকা থাকবে না। তারা মন্ত্রীসভার সদস্যদের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন। এর আগে একান্ত সচিব (পিএস)রা মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের পক্ষে নোট লিখতেন। এজন্য ২০০৩ সালের ৩ রা সেপ্টেম্বর একটি আদেশ জারি করে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগ। সাবেক মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. সা’দত হুসাইন স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, কতিপয় মন্ত্রণালয়ের নথিতে সচিবের নোটের উপর মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীদের একান্ত সচিবরা নোট লিখেন; সচিবকে নির্দেশ দেন। এটা সচিবালয়ের রীতি-পদ্ধতির পরিপন্থি। এই আচরণ প্রশাসনিক শৃঙ্খলার সংহারক। এই ধরনের গর্হিত কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর একান্ত সচিবদের অনুরোধ করা হল। কোন একান্ত সচিব এই ধরনের নোট লিখলে মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সচিব বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রী/উপমন্ত্রীর নজরে আনবেন এবং একান্ত সচিবকে নথিতে নোট না লেখার জন্য উপদেশ দেবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের এমন নির্দেশনার কথা জানা নেই মন্ত্রিসভার বেশিরভাগ সদস্যদের পিএস-এপিএসদের।

বিদেশ মন্ত্রণালয়ে ১০০ দিন by মিজানুর রহমান

“এটা সত্য, বর্ডার সিল করা ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে আমরা কিছুই করতে পারিনি। তবে কথা-বার্তা বলছি, বলবো, দেখি কী হয়।” সরকারের ১০০ দিনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসাবে নিজের কাজের মূল্যায়ন এভাবেই   তুলে ধরলেন ড. একে আবদুল মোমেন। জীবনের প্রথম সংসদ সদস্য হয়ে সরকারের বিদেশনীতি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পাওয়া শিক্ষাবিদ কাম কূটনীতিক ড. মোমেন অবশ্য মানবজমিনের সঙ্গে আলাপে তার সীমাবদ্ধতার কথা যেমন বলেন তেমনি উদ্যোগ এবং চেষ্টার কথাও জানান। বলেন, আমরা সবাই মিলে চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু আমাদের চেষ্টা ও উদ্যোগের ফল পেতে সময় লাগবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছরের ৭ই জানুয়ারি যাত্রা শুরু করা সরকারের মূল প্রাধিকার নির্ধারিত হয়েছিল ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি বা অর্থনৈতিক কূটনীতি। যার ফোকাসে ছিল ৪টি বিষয়। বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ আকর্ষণ, শ্রমবাজারের উন্নয়ন এবং কনস্যুলার সেবার মান বৃদ্ধি।
বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে জার্মানী এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে অন্তত ৫টি করে চুক্তি সই হয়েছে। সৌদি আরবের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ সফর করেছে। দেশটির বড় বিনিয়োগ আশা করছে ঢাকা।
৬ বছর ধরে বাংলাদেশীদের জন্য বন্ধ আমিরাতের শ্রমবাজার পুরোপুরি উন্মুক্ত না হলেও ১৯ ক্যাটাগরিতে তারা কর্মী নিতে নতুন করে আগ্রহ দেখিয়েছে। এ সংক্রান্ত ঘোষণাও এসেছে। ভূটান বাংলাদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর সদ্য সমাপ্ত সফরে। বিষয় দুটিকে কূটনৈতিক সাফল্য হিসাবে দেখছেন মন্ত্রীসহ অন্যরা। কনস্যুলার সেবায় খানিক পরিবর্তন এসেছে। বিদেশস্থ মিশনগুলোতে সপ্তাহ জুড়ে ২৪ ঘন্টা হট লাইন চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রবাসী হয়রানী বন্ধে সিসিটিভি লাগানো এবং মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে। সেবায় গতি আনতে অ্যাপস চালু হয়েছে। ডকুমেন্ট সত্যায়নে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে আগে থেকে চলামান বা কূটনৈতিক কার্যক্রমের রুটিন বিষয়াদিতে নতুন সরকারের আমলে খুব একটা গতি যে আসেনি বা গতি এলেও ফল দৃশ্যমান না হওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করেন মন্ত্রী এবং অন্য কূটনীতিকরা। মোটা দাগে ওই বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী ভারতের দীর্ঘ সময় ধরে ঝুলে থাকা বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা চুক্তি নিয়ে নতুন করে কোন আলোচনা শুরু না হওয়া। যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর ড. মোমেন গুডউইল বা পরিচিতমূলক প্রথম বিদেশ সফরে ভারতে গেছেন। উভয়ের তরফে সফরটি ‘ফলপ্রসূ’ বলেও দাবি করা হয়েছে।
পূর্বের দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক বরাবরই ভাল। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুতে এখনও চীন ও রাশিয়ার অবস্থানে কোন পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়নি ঢাকাইয়া কূটনীতি। তবে পূর্বের দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও জোরদারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ‘লুক ইস্ট’ পলিসি বাস্তবায়নে সরকারের পূর্ণ মনোযোগ রয়েছে। এর অংশ হিসাবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের বেইজিং সফর এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফরের আমন্ত্রণ এবং প্রস্তাব আলোচনায় আছে।
পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে সরকারের সম্পর্কে ‘শীতল ভাব’ বিরাজ করছে নানা কারণে। যদিও বাণিজ্য এবং অন্য রুটিন কার্যক্রমে বেশ গতি রয়েছে। কার্যকর গণতন্ত্র, নির্বাচন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালীকরণ, মানবাধিকার পরিস্থিতি, মুক্তমতের চর্চা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে পশ্চিমা দুনিয়ার চাওয়া এবং বাংলাদেশের অবস্থান প্রশ্নে ভিন্নতা রয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উদ্বেগও আছে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্র, বৃটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা দুনিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক বাড়াতে কূটনৈতিক চেষ্টার কোন কমতিই ছিল না গত ১০০ দিনে।
ভোট প্রশ্নে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বিদেশী উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু তাতে ‘উদ্বিগ্নদের’ অবস্থানে খুব একটা পরিবর্তন এসেছে মনে করেছেন না ঢাকার পেশাদাররা। বরং ট্রাম্পের চিঠি থেকে শুরু করে ঢাকা সফরকারী পশ্চিমা প্রতিনিধিরা প্রায় সবাই বিষয়গুলো জাগ্রত রাখার চেষ্টা করেছেন হয়ত টুইট বার্তায় কিংবা দূতাবাস মারফত প্রচারিত বিবৃতিতে। নির্বাচনের পরপরই ওয়াশিংটনে ‘রাজনৈতিক সফর’ করেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক। তিনি এ নিয়ে তাদের উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করেন।
চলতি মাসে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। হোস্ট মাইক পম্পেও’র সঙ্গে বৈঠক ছাড়াও স্টেট ডিপার্টমেন্টের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপ-প্রধান, সিনেটর এবং আমেরিকান দাতব্য সংস্থার শীর্ষ পর্যায়ে বৈঠক হয় তার। ওই সব বৈঠকে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য মতে বৈঠকগুলোতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা, রোহিঙ্গা সংকট এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মোকাবিলা, বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরত আনাসহ ইস্যু ভিত্তিক অত্যন্ত কার্যকর এবং ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। যার ফল বাংলাদেশ পাবে ধীরে ধীরে। কিন্তু ওই সফরে যে ৩ টি বিষয় ফোকাস ছিল প্রথমত: বাংলাদেশ প্রশ্নে মার্কিনীদের মনোভাবে পরিবর্তন। বিশেষতঃ ভোট এবং নতুন সরকারের কার্যক্রম বিষয়ে  ইতিবাচক ধারণা দেয়ার পাশাপাশি সম্পর্কের মতভিন্নতা দূর করে দেশটির বাজারে বাংলাদেশী পণ্যে শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকারের সূযোগ সৃষ্টি, বড় বিনিয়োগ আকর্ষণসহ বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে মার্কিনীদের সমর্থন এবং সহযোগিতা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত: বঙ্গবন্ধুর খুনি রাশেদ চৌধুরীকে ফেরানো এবং তার বিরুদ্ধে আদালতের দেয়া দণ্ড কার্যকরে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা পাওয়া। তৃতীয়ত: বাংলাদেশ যে মার্কিন নগরিকসহ সব বিদেশীদের জন্য নিরাপদ এবং এখানে যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে সেটি বুঝানো। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন পর্যায়ে ড. মোমেন এ নিয়ে আলোচনা করেন এবং মার্কিনীদের তরফে অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক রেসপন্স বা জবাব রয়েছে বলে দাবি করেন।  কিন্তু তিনি ওয়াশিংটনে থাকা অবস্থায় মার্কিন নাগরিকদের জন্য অতি ঝুকিপূর্ণ ৩৫টি দেশকে ‘কে’ ক্যাটাগরিভুক্ত করে স্টেট ডিপার্টমেন্ট নতুন করে যে ভ্রমণ সতর্কবার্তা জারি করে সেটাতে বাংলাদেশের নাম ওঠে যাওয়া এবং বঙ্গবন্ধুর খুনিকে ফেরাতে প্রশাসনিক চেষ্টা না করে আইনী লড়াই শুরু করতে মার্কিনমন্ত্রীর নতুন পরামর্শ মন্ত্রীর সফরের অর্জনকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দেয়। অবশ্য পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিরাপত্তা সতর্কতাকে সামান্য বিষয় হিসবেই দেখছেন। গতকাল আলাপেও তিনি মানবজমিনকে বলেন, এটা কিছু না। আমাদের মধ্যে ভাল আলোচনা হয়েছে। তার দাবি কেবল পূর্ব নয়, পশ্চিমা দুনিয়া, কাছের এবং দূরের সবার সঙ্গেই বাংলাদেশের ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে চলেছে।

ওয়াসার ৬২ ভাগ গ্রাহক দুর্নীতির শিকার

ঢাকা ওয়াসার গ্রাহকদের মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ অনিয়ম, হয়রানি ও দুর্নীতির শিকার হন বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।  গতকাল ঢাকা ওয়াসার অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টে এ তথ্য  প্রকাশ করে সংস্থাটি। ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারে টিআইবির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ‘ঢাকা ওয়াসা: সুশাসনের চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক এ প্রতিবেদনে অনিয়ম দুর্নীতির চিত্রের পাশাপাশি গ্রাহক সেবার বিভিন্ন ঘাটতির দিকও তোলে ধরা হয়।
রিপোর্টে বলা হয়, পানির সংযোগের জন্য ২০০ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয় ওয়াসার গ্রাহকদের। এছাড়া পয়:লাইনের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ৩০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, গাড়িতে করে জরুরি পানি সরবরাহের জন্য ২০০ থেকে ১৫০০ টাকা, মিটার ক্রয়/পরিবর্তনের জন্য এক হাজার থেকে ১৫ হাজার, মিটার রিডিং ও বিল সংক্রান্ত কাজের জন্য ৫০ থেকে তিন হাজার এবং গভীর নলকূপ স্থাপনে এক থেকে দুই লাখ টাকা ঘুষ দিতে হয়। এছাড়া পাইপলাইনের মাধ্যমে ঢাকা ওয়াসা যে পানি সরবরাহ করে, তা ফুটিয়ে পানযোগ্য করতে ৩৩২ কোটি টাকার গ্যাস খরচ হয় বলে জানিয়েছে টিআইবি।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ঢাকা ওয়াসা পাইপলাইনের মাধ্যমে এখনো সুপেয় পানি সরবরাহ করতে পারছে না। এ কারণে ওয়াসার ৯১ শতাংশ গ্রাহক খাবার পানি ফুটিয়ে পান করেন। আর ওয়াসার পানি ফোটাতে প্রতিবছর যে পরিমাণ গ্যাস ব্যবহার করা হয়, তার দাম ৩৩২ কোটি টাকা।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মো. শাহানুর রহমান ও মো. শহিদুল ইসলাম। এসময় টিআইবির ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতি এডভোকেট সুলতানা কামাল উপস্থিত ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পানি পানের কারণে (জুলাই ২০১৭-জুন ২০১৮) পর্যন্ত সময়ের মধ্যে আবাসিক ও এলআইসি এলাকায় ২৪.৬ শতাংশ মানুষ পানিবাহিত  রোগে আক্রান্ত  হয়েছে। প্রতিবেদনে ৩৪.৫ শতাংশ গ্রাহক বছরে সবসময় পানির গুনগত মান খারাপ হওয়ার কথা বলেছেন।  ঢাকা ওয়াসার পানির মান ৫১.৫ শতাংশ অপরিষ্কার। আর দুর্গন্ধযুক্ত পানির পরিমাণ হচ্ছে ৪১.৪ শতাংশ।
প্রতিবেদন তৈরিতে টিআইবি ওয়াসার ১০টি জোনের ২ হাজার ৭ শত ৬৮ জন সংযোগ গ্রহণকারী থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সেখানে ২০.৬ শতাংশ গ্রাহক বছরে সবসময় পানি সরবরাহে ঘাটতির কথা বলেছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- পানির সংকটপূর্ণ এলাকাগুলো হচ্ছে, সূত্রাপুর, জুরাইন, মতিঝিল, কদমতলি, চকবাজার, হাজারিবাগ, ইসলামবাগ, নওয়াবপুর, সিদ্দিকবাজার, ওয়াটার ওয়ার্কাস রোড, বড়বাগ, আহমেদ নগর,  শেওড়াপাড়া, ফার্মগেট, রসুলবাগ, মাদারটেক, নন্দীপাড়া, মোহাম্মদবাগ, পলাশপুর, মুরাদপুর, জগন্নাথপুর, উত্তরা-৬, ইব্রাহিমপুর, কচুক্ষেত, মানিকদি, মিরপুর-১১, নাখালপাড়া, ভাসানটেক ও বস্তি এলাকাসমূহ। টিআইবির প্রতিবেদনে চাহিদা অনুযায়ী পানি না পাওয়ার হার বস্তি এলাকায় সবচেয়ে বেশি। বস্তি এলাকায় ৭১.৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। এছাড়া আবাসিক এলাকায় ৪৫.৮ শতাংশ, বাণিজ্যিক এলাকায় ৩৪.৯ শতাংশ ও শিল্প এলাকায় ১৯ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। সার্বিক  সেবা গ্রহীতাদের ৪৪.৮ শতাংশ চাহিদা অনুযায়ী পানি পান না। এদিকে রাজধানীতে প্রতিদিন প্রায় ১৪ লক্ষ ঘনমিটার পয়:বর্জ্য তৈরি হয়। কিন্তু পয়:পরিশোধনের একটি মাত্র ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট রয়েছে। যার সক্ষমতা ১ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার হলেও প্রতিদিন মাত্র ৫০হাজার ঘনমিটার পরিশোধন হয়। বাকি প্রায় ১৩ লাখ ৫০ হাজার ঘনমিটার অপরিশোধিত অবস্থায় বিভিন্ন খাল হয়ে পার্শ্ববর্তী নদীগুলোতে চলে যায়।
টিআইবির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানটিতে পছন্দের ব্যক্তিদের সুবিধা দিতে গিয়ে ২০১৫ সালে ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে নিয়ম অনুযাযী আবেদন প্রার্থীর সবোর্চচ বয়স ৫৯ বছর হলেও তা শিথিল করে ৬০ বছর করা হয়। ঠিক পরের বছর উপ-ব্যবস্থপনা পরিচালক পদে নিয়োগের বয়স বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়ে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। চুক্তি ভিত্তিক পদে নিয়োগে মন্ত্রণালয় অযাচিত হস্তক্ষেপ করে। ২০১৩ সালে ব্যবস্থপনা পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে বোর্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ছাড়াই নিয়োগ দেয়া হয়।
টিআইবির গবেষণা প্রতিবেদন অনুযায়ী ওয়াসায় রয়েছে জনবলের ঘাটতি। সবমিলিয়ে এখানে প্রায় ৩১ ভাগ পদ খালি রয়েছে। ৪ হাজার ৬৬৭টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৩ হাজর ২৪৯ জন।  ২০১৬ সাল থেকে চারটি উপ-ব্যবস্থপনা পরিচালক পদের মধ্যে তিনটি পদই শূন্য, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ২১টি পদের মধ্যে ৬টি শূন্য। কমিউনিটি প্রোগ্রাম ও কনজ্যুমার রিলেশন বিভাগে প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত জনবল লক্ষ্য করার মতো। অন্যদিকে ৮০৬টি সচল পাম্প পরিচালনার জন্য ২৪শ পাম আপ অপারেটর প্রয়োজন। অপারেটর আছে মাত্র ৪৫২জন। পাম্প অপারেটরদের দৈনিক ২২ ঘন্টা কাজ করার অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে রাজস্ব পরিদর্শকের ৩১০টি পদের বিপরীত ১৪০টি পদই খালি রয়েছে।
গবেষণার পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার পানির চাহিদা পূরণে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব পানির উৎপাদন ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসার সক্ষমতা ও উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। নিয়োগ, গ্রাহকসেবা ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ঘাটতি আছে। এ থেকে উত্তরণে পানি ও পয়োনিষ্কাশন সেবার মূল্য নির্ধারণে  রেগুলেটরি কমিশন গঠনের সুপারিশ করেছে টিআইবি । এছাড়া ব্যবহার অনুযায়ী সেবার মূল্য নির্ধারণ, নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত ব্যক্তিদের সমন্বয়ে  বোর্ড গঠন, ড্রেনেজ ব্যবস্থা একক কর্তৃপক্ষের অধীনে রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।

স্বাধীন দেশে কুয়াশাচ্ছন্ন গণতন্ত্র কখনও কাম্য নয়: মাহবুব তালুকদার

স্বাধীন দেশে কুয়াশাচ্ছন্ন গণতন্ত্র কখনও কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। বলেন, যারা গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস করেন না, তারা ভোটের উৎসবকে কলুষিত করতে চান, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান। বুধবার সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ইলেকট্রোরাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে ভোটার তালিকা হালনাগাদ-২০১৯ উপলক্ষে প্রশিক্ষকদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ উপস্থিত ছিলেন।
মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘ভোট’ দুই অক্ষরের একটি ছোট শব্দ। ছোট শব্দ হলেও এর ব্যাপ্তি অত্যন্ত বিস্তৃত ও ব্যাপক। ভোটের সঙ্গে আরও দু’টি শব্দ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটি হলো নির্বাচন, অন্যটি গণতন্ত্র।
তিনি বলেন, যদি আরও একটু বিশদভাবে ‘ভোট’ শব্দটিকে বিশ্লেষণ করি, তাহলে অনিবার্যভাবে যে শব্দটি আমাদের সামনে উদ্ভাসিত হয়, সেটি হলো স্বাধীনতা। স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও নির্বাচন এ তিনটি চার অক্ষরের শব্দ ‘ভোট’-এর পটভূমি রচনা করেছে।
আলোচিত এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, আমার মতে, ভোট কেবল ব্যাপক পরিসরের বিশাল ব্যাপ্তির শব্দ নয়, এটি জনগণের রক্ষাকবচ।
ভোটের মাধ্যমে জনগণ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অংশগ্রহণ করে থাকে। তা জাতীয় পর্যায়ে বা স্থানীয় পর্যায়ের উভয়স্তরেই হতে পারে।
তিনি বলেন, ভোট হচ্ছে স্বাধীন দেশে জনগণের সার্বভৌমত্বের প্রতীক একটি পবিত্র আমানত।  ভোটের মাধ্যমেই ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি বেছে নেয়ার সুযোগ পান এবং এতে জনগণের আশা-আকাঙ্খা প্রতিফলিত হয়, আমরা যাকে বলি নির্বাচন। নির্বাচন হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার একমাত্র অবলম্বন। যারা গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেন না, তারা ভোটের উৎসবকে কলুষিত করতে চান, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে চান। আমরা যে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য ও আইনানুগ নির্বাচনের কথা বলি, ভোটের পবিত্রতা বিনষ্ট করে তা সম্ভব নয়। ভোট সুষ্ঠু না হলে নির্বাচন ও গণতন্ত্রের কোনো ঔজ্জ্বল্য থাকে না। স্বাধীন দেশে অস্বচ্ছ নির্বাচন তথা কুয়াশাচ্ছন্ন গণতন্ত্র কখনও কাম্য নয়।
তিনি আরও বলেন, এ বছর ১লা মার্চ প্রথমবারের মতো আমরা জাতীয় ভোটার দিবস পালন করেছি। এর প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল ‘ভোটার হব, ভোট দেব’। কথাটা খুব সাদামাটা মনে হলেও এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। ১৮ বছর হলেই একজন নাগরিক ভোটার হওয়ার উপযুক্ততা অর্জন করেন। কিন্তু ‘ভোট দেব’ কথাটার সঙ্গে রাজনৈতিক ও পারিপার্শ্বিক অবস্থার সম্পর্ক রয়েছে। সামান্য ভোট দেয়ার জন্যই তো আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের অসামান্য আয়োজন। একজন ভোটার নিবিঘ্নে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজের পছন্দ অনুযায়ী প্রার্থীকে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরবেন, এইটুকু চাওয়া অনেক সময় স্বাভাবিকভাবে পূরণ করা সম্ভব হয় না। ভোট প্রদানের  নেতিবাচক ঘটনাক্রম অনেক সময় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদের শিরোনাম পর্যন্ত হয়।
এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও শুদ্ধ হওয়ার পূর্বশর্ত হলো শুদ্ধ ভোটার তালিকা। ভুয়া ভোটারদের কাগুজে উপস্থিতি নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রহসনে পরিণত করে। এছাড়া ভোটার তালিকায় মৃত ও স্থানান্তরিত ভোটারদের উপস্থিতি সুষ্ঠু নির্বাচনের অন্তরায়। এ জন্যই নির্বাচন কমিশন ভোটারতালিকা সম্পর্কে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সঠিক ও স্বচ্ছ ভোটারতালিকা তৈরির মাধ্যমে আপনারা একটি জাতীয় দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা করি।

‘লিবিয়ার বিদ্রোহী নেতাকে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে সৌদি আরব’

লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলী দখল করতে উদ্যত বিদ্রোহী নেতা জেনারেল খলিফা হাফতারকে সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে সৌদি আরব। মার্কিন দৈনিক ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক অনুসন্ধানি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। জেনারেল হাফতারের অনুগত সেনারা নিজেদেরকে দেশের জাতীয় সেনাবাহিনী হিসেবে দাবি করে বর্তমানে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি ত্রিপোলি সরকারকে উৎখাতের লক্ষ্যে রাজধানী দখলের অভিযানে নেমেছে।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, গত ৪ এপ্রিল পূর্বাঞ্চলীয় বেনগাজি শহর থেকে রাজধানী ত্রিপোলি অভিমুখে সামরিক বহর নিয়ে নেমে পড়ার আগে জেনারেল হাফতার সৌদি আরব সফর করেন এবং সেখান থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে দেশে ফেরেন।
দৈনিকটি সৌদি আরবের পদস্থ সামরিক ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে আরো জানিয়েছে, লিবিয়ায় রক্তক্ষয়ী অভিযান চালানোর জন্য সৌদি আরবের গোয়েন্দা প্রধান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরাসরি জেনারেল হাফতারের হাতে কয়েক মিলিয়ন ডলার তুলে দিয়েছেন।
খলিফা হাফতার তার সৌদি আরব সফরে যুবরাজ মোহাম্মাদ বিন সালমানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে।
লিবিয়ায় সশস্ত্র গণ-অভ্যুত্থানের জের ধরে ২০১১ সালে ক্ষমতাচ্যুত ও নিহত হন ৪২ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি। এরপর রাজধানী ত্রিপোলিতে প্রতিষ্ঠিত সরকারকে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দিলেও দেশের তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপ নিজ নিজ এলাকার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে।
জেনারেল খলিফা হাফতার এতদিন পূর্বাঞ্চলীয় বেনগাজি শহরের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছিলেন। চলতি মাসের গোড়ার দিকে তিনি ত্রিপোলি দখলের অভিযানে নামেন। আমেরিকাসহ পশ্চিমা দেশগুলো ত্রিপোলি-ভিত্তিক সরকারকে স্বীকৃতি দিলেও তারা জেনারেল হাফতারের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছে।