Sunday, February 26, 2017

ওয়াশিং মেশিনে পড়ে জমজ বাচ্চার নির্মম মৃত্যু



তিন বছর বয়সী জমজ দু’সন্তানের মৃত্যু হয়েছে ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে পড়ে। এমন মৃত্যুতে পিতামাতা পাগলপ্রায়। এলাকায় শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই চিরদিনের জন্য হারিয়ে গেল দুটি সন্তান। কেউ স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না বিষয়টিকে। ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লির অবন্তিকায় রোহিনী নামের একটি হাউজিং কমপ্লেক্সে। শনিবার বিকালে সেখানকার এক মা রাখি তার দু’সন্তান লক্ষ ও নিশুকে বাসায় রেখে নিচে যান ওয়াশিং পাউডার কিনতে। এ সময় বাসায় আর কেউ ছিল না। তিনি ফিরে দু’সন্তানকে না পেয়ে হন্যে হয়ে এ বাসায় ও বাসায় খোঁজেন। কোত্থাও না পেয়ে তিনি স্বামী রবীন্দ্ররকে ফোন করেন। তিনি একটি ইন্সুরেন্স কোম্পানির ম্যানেজার। খবর পেয়ে ১০ মিনিটের মধ্যে বাসায় ফিরে যান। স্বামী-স্ত্রী মিলে অনেকক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেন। কোথাও তাদেরকে না পেয়ে রবীন্দ্রর ওয়াশিং মেশিনের ভিতরে উঁকি দেন। তখনই তার সামনে ভেসে ওঠে ভাগ্যের নির্মম পরিহাস। তিনি দেখতে পান ওয়াশিং মেশিনের পানির ভিতরে মাথা নিচের দিকে দিয়ে মৃত পড়ে আছে দু’সন্তান। এ খবর দিয়েছে অনলাইন টাইমস অব ইন্ডিয়া। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মনে করছে এটা একটি দুর্ঘটনা। তবে তারা সব দিক থেকে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা বলেছেন, বাচ্চা দুটির মৃত্যু হয়েছে পানিতে ডুবে। লাশের ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে একটি সরকারি হাসপাতালে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, লক্ষ ও নিশু নামের এই জমজ দু’সন্তান স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটের সময় বাথরুমের পাশেই খেলছিল। এ সময় ওয়াশিং মেশিনের কাছে ময়লা কাপড় স্তূপ করে রাখেন তাদের মা রাখি। এক পর্যায়ে তিনি ওয়াশিং মেশিনে পানি ভরে নিচের দোকানে যান গুঁড়ো সাবান কিনতে। তিনি ফিরে যান ৬ মিনিটের মধ্যে। এ সময় সন্তানদের খুঁজে না পেয়ে তিনি স্বামীকে ফোন করেন। তিনি বাসায় ফিরে ওয়াশিং মেশিনের ভিতর থেকে উদ্ধার করেন সন্তানের নিথর দেহ। তা নিয়ে দ্রুত ছুটে যান একটি বেসরকারি হাসপাতালে। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাড়ি অবরুদ্ধ করে রাখা সেই দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে



বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলা খুলনার পাইকগাছায় একটি বাড়ির চলাচলের রাস্তা দেয়াল তুলে অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ আসার পর আজ সেই দেয়াল ভাঙ্গতে শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় একজন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আজিজের বাড়ির চলাচলের রাস্তায় গতবছরের জানুয়ারিতে কয়েক ফুট উঁচু দেয়াল তুলে বন্ধ করে দেয়া হয়। এজন্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে তাদের পাল্টাপাল্টি মামলাও হয়।
মি. আজিজের ছেলে আসাদুল ইসলাম জানান, বিবিসি বাংলা এবং অন্যান্য গণমাধ্যমে এসংক্রান্ত খবর প্রকাশের পর আজ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসে দেয়াল ভাঙ্গার নির্দেশ দেন।পাইকগাছার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফকরুল হাসান জানান, তারা এসে মি. আজিজের দলিলপত্র দেখেছেন এবং বিরোধীপক্ষের বক্তব্যও শুনেছেন। এরপর দেয়াল ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেন। পুরো দেয়ালটিই ভেঙ্গে ফেলা হবে বলে জানান মি. হাসান।
স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাও সেখানে উপস্থিত রয়েছেন।এর আগে মি. আজিজের পরিবার অভিযোগ করেছিল, বাড়ি থেকে বের হতে হলে মইয়ের সাহায্যে প্রাচীর ডিঙোতে হয়। বাড়ির বয়স্ক এবং শিশুদের জন্য বিষয়টি খুবই ঝূঁকিপূর্ণ এবং অমানবিক। দেয়ালের নীচে গর্ত খুড়েও আসা যাওয়া করছিলেন তারা।
সাইফুল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ি থেকে চলাচলের দুই দিকেই এখন দেয়াল ভেঙ্গে চলাচলের পথ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা

গুম বন্ধে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি জাতিসংঘের ওয়ার্কিং গ্রুপের আহ্বান

গুম বন্ধের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের একটি গ্রুপ। তারা বলেছে, বাংলাদেশে গুমের ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ধারা বন্ধ করতে এখনই সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। এমন আহ্বান জানিয়েছে ইউএন ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস। জেনেভা থেকে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক অফিস অব দ্য হাইকমিশনার-এর ওয়েবসাইটে দেয়া এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, কয়েক বছরের তুলনায় বাংলাদেশে গুম বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন এখানে কমপক্ষে ৪০ জন মানুষ নিখোঁজ আছে। এ সংখ্যা বাড়ছে। বেশকিছু গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের জন্য র‌্যাবকে দায়ী করেছে নিরপেক্ষ সংবাদ মাধ্যমগুলো। এর মধ্যে সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের লোকজন। বিবৃতিতে বলা হয়, আইনপ্রয়োগকারী ও নিরাপত্তাবিষয়ক সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে কাউকে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ অবস্থায় ওই বিবৃতিতে আরো বলা হয়, গুম হলো একটি জঘন্য অপরাধ ও মানবাধিকারের মর্যাদার বিরুদ্ধে এক অপরাধ। এর পক্ষে সাফাই গাওয়ার কোনো যুক্তিই থাকতে পারে না। ওই বিবৃতিতে গত বছর তিনজনকে আলাদাভাবে তুলে নেয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়। বলা হয়, তাদেরকে রাজধানী ঢাকা থেকে তুলে নেয়া হয়েছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, ওই তিনজনই বিরোধী রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। এ সব ব্যক্তির সবারই পিতা বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে শাস্তি ভোগ করেছে। গুম ওইসব ব্যক্তি ও অন্যান্য গুম হওয়া ব্যক্তিরা কে কোথায়, কি অবস্থায় আছেন তা অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের কাছে জানতে চেয়েছে জাতিসংঘের ওই ওয়ার্কিং গ্রুপ। এক্ষেত্রে ১৯৯২ সালে প্রণীত গুম থেকে সব ব্যক্তিকে রক্ষা করাবিষয়ক জাতিসংঘের ঘোষণা বাস্তবায়নে সরকারকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। ওয়ার্কিং গ্রুপের এ আহ্বান অনুমোদন দিয়েছে নির্যাতন ও নিষ্ঠুরতাবিরোধী জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর নিলস মেলজার, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ ও সংগঠনের স্বাধীনতার অধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর মাইনা কিয়াই, খেয়ালখুশি মতো মৃত্যুদণ্ড, বিচারবহির্ভূত মৃত্যুদণ্ডবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর মিসেস অ্যাগনেস ক্যালামার্ড, বিচারক ও আইনজীবীর স্বাধীনতাবিষয়ক স্পেশাল র‌্যাপোর্টিউর দিয়েগো গার্সিয়া সায়ান। উল্লেখ্য, বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের নিরপেক্ষ ৫ জন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে গঠিত হয় ইউএন ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিজঅ্যাপেয়ারেন্সেস। এর চেয়ারম্যান হলেন র‌্যাপোর্টিউর মিসেস হোউরিস এসস্লামি (মরক্কো), ভাইস চেয়ার বার্নার্ড দুহাইমি (কানাডা), সদস্য তাই-উং বাইক  কোরিয়া), এরিয়েল দুলিটজকি (আর্জেন্টিনা) ও হেরিকাস মিকাভিসিয়াস (লিথুয়ানিয়া)।