Showing posts with label জাভেদ ইকবাল. Show all posts
Showing posts with label জাভেদ ইকবাল. Show all posts

Thursday, November 21, 2024

বিএনপি’র মামলা বাণিজ্যের ঘটনায় উত্তপ্ত রংপুর by জাভেদ ইকবাল

রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে দলের পরিস্থিতি। পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে শুরু হয়েছে তোলপাড়। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে রংপুরে হতাহতকে ঘিরে বিএনপি’র বিরুদ্ধে নিরীহ, নিরপরাধ মানুষজনকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানি ও বাণিজ্যের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে নগরবাসী। ক্ষুব্ধ সচেতন নাগরিক রবিউল ইসলাম বলেন, দেশ থেকে এক চোরকে তাড়িয়ে এখন ডাকাতের হাতে পড়েছি। বিব্রতবোধ করে খোদ ক্ষোভ প্রকাশ করে ছাত্রদলের সাবেক কারমাইকেল কলেজের জিএস বিএনপি নেতা শহিদুল ইসলাম মিজুসহ একাধিক নেতাকর্মীরা। তারা মানবজমিনকে বলেন, দু’চারজনের জন্য দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। তারা কেন্দ্রীয় নেতাদের হস্তক্ষেপ কামনা করে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এদিকে গতকাল রংপুর মহানগর বিএনপি আহ্বায়কের মামলা বাণিজ্যের প্রতিবাদ করায় রোষানলে ফেলে মিথ্যা অপ-প্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাওছার জামান বাবলা। তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৩ই নভেম্বর বিএনপিকর্মী মামুনুর রশীদ মামুন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে ১৮১ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

আওয়ামী লীগ ছাড়া নিরীহ, নিরপরাধ মানুষসহ রংপুর ও পার্শ্ববর্তী জেলার বাসিন্দাদের মামলার বাদী কেন করা হয়েছে জিজ্ঞাসা করলে মামুন জানান- তিনি ২৫ জনের নাম দিলেও মহানগর আহ্বায়ক সামাসুজ্জামান সামু অন্যদের আসামি করে মামলায় সই করাতে বাধ্য করেন। এ কথোপকথনের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। তিনি বলেন, বিএনপি নেতা সামু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলি চালানো মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার উৎপল কুমার, উপ-পুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেনসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়েছেন। কাওছার জামান বাবলা বলেন, বিএনপি’র রাজনীতি করার কারণে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে আমি তাজহাট ও ডিবি অফিস পোড়ানোর মামলায় জেল খেটেছি। বিএনপি’র আহ্বায়ক সামু তো জেল খাটে নাই। রংপুর, ঢাকা, খুলনায় আমার বিরুদ্ধে ৭টি রাজনৈতিক মামলা হয়েছে। বিএনপি করার কারণে খুলনায় আমার জুটমিল দখল হয়েছে। অথচ প্রতিপক্ষ বলে দলে আমার কোনো অবদান নাই। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মাহিগঞ্জের পরেশনাথ মন্দিরের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা রামকৃষ্ণ সোমানী, সহ-সভাপতি বরুণ কান্তি সাহা, বিকাশ চন্দ্র মহন্ত, মহানগর বিএনপি’র সদস্য সেলিম চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতাকর্মী। এর আগে মিথ্যা অভিযোগ, হয়রানি ও মামলা বাণিজ্যের হোতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে হুঙ্কার দিয়েছেন রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ২৫নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর নুরুন্নবী ফুলু।

এক  সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে সাংবাদিকদের বলেন, আমি সাবেক রংপুর পৌরসভা ও বর্তমান রংপুর সিটি কর্পোরেশনের পরপর পাঁচবার নির্বাচিত কাউন্সিলর। জনপ্রতিনিধি হিসেবে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে ওয়ার্ডবাসীকে সেবা দিয়ে আসছি। আমি কখনও কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না, বর্তমানেও নেই। অথচ গত ১৯শে জুলাই রংপুর সিটি কর্পোরেশনের সামনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহতের ঘটনায় মামুনুর রশীদ মামুন রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। যেখানে আওয়ামী লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ রংপুর নগরী, জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী জেলার ব্যক্তিদের আসামি করা হয়। মামলায় আমাকে ১৪৭ নং আসামি করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের বিপক্ষে আমার অংশগ্রহণ ছিল না, যা ওয়ার্ডবাসী সকলেই অবগত রয়েছেন। ফুলু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে জানতে পেরেছি মামলার বাদী মামুনুর রশীদ মামুন বিএনপি করেন এবং রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু এ মামলার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, স্বার্থান্বেষী মহল আমাকে হয়রানিসহ অবৈধ সুবিধা হাসিলের উদ্দেশ্যে আমাকে জড়িয়েছে। তিনি কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যে আমার নাম প্রত্যাহারসহ আমার মতো নিরপরাধ, নিরীহ মানুষের হয়রানি বন্ধ না হলে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। উল্লেখ্য, রংপুর মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামুর বিরুদ্ধে মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন নেতাকর্মীরা। এর প্রতিবাদে বিএনপি কার্যালয়ে মহানগরের আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে এক সংবাদ সম্মেলন করেন।

mzamin


Wednesday, October 9, 2024

চোখে বুলেটবিদ্ধ আবেদের পরিবারকে কে দেখবে? by জাভেদ ইকবাল

১৯শে জুলাই বৃহস্পতিবার। ছাত্র-জনতার আন্দোলনে উত্তাল রংপুর। দফায় দফায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছিল নগরীতে। সুপার মার্কেটে নিয়মিত মাস্ক বিক্রি করে সংসার চালানো আবেদ সেদিনও বেরিয়েছেন, তবে সেদিন শুধু মাস্ক বিক্রির উদ্দেশ্যে নয়, আবেদ বেরিয়েছেন ছাত্রদের পাশে দাঁড়াতেও। সেদিন ছাত্রদের বিক্ষোভ-স্লোগানের সঙ্গে মিশেছিল তারও প্রতিবাদী চিৎকার। হঠাৎ বিক্ষোভে পুলিশ রাবার বুলেট ছোড়ে। বেশ কয়েকটি রাবার বুলেট লাগে আবেদের শরীরে। তারই একটি আঘাত করে চোখে। তাকে নেয়া হয় হাসপাতালে। সেদিন থেকেই আবেদের চোখে পৃথিবীর একটিই রং, সেটি কালো।

রংপুর নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার আবেদুল ইসলাম আবেদ লুঙ্গি-গেঞ্জি ও কালো চশমা চোখে বসে আছেন তার জীর্ণ-শীর্ণ বাড়ির উঠানে। পাশে বসে স্ত্রী মৌসুমী বেগম। উঠানে খেলা করছে আবেদের দেড় বছরের শিশু। কিন্তু এর কিছুই দেখতে পারছেন না আবেদ।  বৃদ্ধ বাবা-মাসহ ৫ জনের সংসার আবেদের। আবেদ জানান, ১৯শে জুলাই নগরীর সুপার মার্কেটের সামনে মাস্ক বিক্রি করছিলেন তিনি। বিকালে ছাত্ররা শান্তিপূর্ণ মিছিল নিয়ে আসলে সিটি করপোরেশনের সামনে পুলিশ বাধা দেয় এবং ছাত্রদের ওপর গুলি ছোড়ে। শান্তিপূর্ণ মিছিলে হামলা দেখে অন্যদের মতো আবেদও ছাত্রদের পাশে দাঁড়ান। এতে তার শরীরে ও চোখে রাবার বুলেট লাগে। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আবেদের শরীরের রাবার বুলেট অপসারণ করা হলেও চোখের আলো ফেরানো সম্ভব হয়নি। গত ২১শে জুলাই চিকিৎসকের পরামর্শে ঋণ করে পরিবারের সদস্যরা জাতীয় চক্ষু হাসপাতালে আবেদকে ভর্তি করে। দু’দিন চিকিৎসা করে দৃষ্টিশক্তি না ফেরায় ঢাকার ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়। সেখানে ২৪শে জুলাই পর্যন্ত তার চিকিৎসা চলে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন আবেদ চিরতরে অন্ধ হয়ে গেছে। তবে কর্নিয়া স্থাপন করা গেলে তার দৃষ্টিশক্তি ফিরে আসতে পারে। এতে প্রয়োজন বিপুল অঙ্কের টাকা। একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি দৃষ্টি হারানোয় আবেদের পরিবার দিশাহারা হয়ে পড়েন। তার ওপর ঋণ করে আবেদের চিকিৎসা করানোয় পাওনাদাররা টাকার জন্য প্রতিদিন চাপ দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী আবেদ বলেন, কতোদিন হলো আমার শিশু সন্তান, বৃদ্ধ বাবা-মা’র মুখ দেখি না। আর তাদের মুখ দেখতে পারবো কিনা, এটি ভেবে খুবই খারাপ লাগে। স্ত্রী মৌসুমী বেগম বলেন, আমার স্বামীর উপার্জন দিয়ে সংসার চলতো। এখন বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি, আমার সন্তান ও আমাকে কে দেখবে। বাবা নুরুল হক বলেন, ঢাকায় ডাক্তাররা বলছে কর্নিয়া যদি স্থাপন করা যায় তবে আবেদ চোখে দেখতে পারবে। সেজন্য অনেক টাকা লাগবে। আমি সেই টাকা কোথায় পাবো। গায়ে তো শক্তি নাই যে কাজ করে টাকা যোগাড় করবো। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি তারা যেন আমার ছেলের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এই সংসারের ৫ জনকে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে সহযোগিতা করে। মা রবেদুন নেছা বলেন, আমাদের বাড়ির ভিটা ছাড়া আর কোনো সম্পদ নাই। আবেদের চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা খরচ হয়েছে। সরকার আমাদের দিকে যেন দৃষ্টি দেয়।

mzamin

Sunday, August 18, 2024

আবু সাঈদ হত্যার তদন্ত নিয়ে সংশয় by জাভেদ ইকবাল

আবু সাঈদ। কোটা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগী রংপুরের এই শিক্ষার্থী। যার রক্তের বিনিময়ে এসেছে নতুন স্বাধীনতা। ন্যায্য দাবি আদায়ে বেরোবি’র বিপ্লবী শিক্ষার্থী। বন্দুকের নলের সামনে বুক চিতিয়ে দিয়েছিলেন। প্রকাশ্য দিবালোকে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান। তার নিহতের ঘটনায়  বারুদ জ্বলে উঠেছিল সারা দেশের ছাত্র-জনতার বুকে। অসহযোগ আন্দোলনে পতন হয়েছে শেখ হাসিনার সাম্রাজ্যের। সূচনা হয়েছে নতুন এক ইতিহাসের। সেই মহানায়কের হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে দেখা দিয়েছে সংশয়।

মৃত্যুর এক মাসেও আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড নিয়ে হয়নি কোনো মামলা। পুলিশের করা তাজহাট থানার আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের অংশে তদন্ত করছে পিবিআই। তবে কোটা আন্দোলনের সময় দায়ের করা পুলিশের মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন আইন উপদেষ্টা। ঘোষণা অনুাযায়ী তাজহাট থানার মামলাটি প্রত্যাহার হলে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত ও বিচার বন্ধ হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। অবিলম্বে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা, তদন্তের জন্য কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

আবু সাঈদ হত্যায় সুনির্দিষ্ট মামলা হয়নি: গত ১৬ই জুলাই আন্দোলনে বেরোবি শিক্ষার্থী ও পুলিশের সংঘর্ষে নিরস্ত্র আবু সাঈদের মৃত্যু হয়। পরদিন ১৭ই জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ফাঁড়ির ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় পরস্পর যোগসাজশে বেআইনি জনতাবদ্ধে সাধারণ ও মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সরকারি কাজে বাধার সৃষ্টি করে গুরুতর জখম, চুরি, ভাঙচুর, ক্ষতিসাধন, অগ্নিসংযোগ ও নিরীহ ছাত্রকে হত্যার অপরাধে মেট্রোপলিটন তাজহাট থানায় মামলা করেন। এতে আসামি করা হয় অজ্ঞতানামা উচ্ছৃঙ্খল দুই থেকে তিন হাজার আন্দোলনকারী ছাত্র নামধারী দুর্বৃত্তসহ বিএনপি, জামায়াত-শিবির সমর্থিত নেতাকর্মীকে। মামলার বিবরণে উল্লেখ করা হয়‘ বিভিন্ন দিক থেকে আন্দোলনকারীদের ছোড়া গোলাগুলি ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে একজন শিক্ষার্থী রাস্তায় পড়ে যায়। তখন সহপাঠীরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ ও বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কোনো কমিটিই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়নি। সেইসঙ্গে আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কিংবা আবু সাঈদের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করা হয়নি। আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় মাহিম নামে এক নাবালক কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে মেট্রোপলিটন পুলিশ। দু’সপ্তাহ জেল খাটার পর আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্তি পায় ওই কিশোর। এদিকে গত ৩রা আগস্ট আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় অপেশাদার আচরণের অভিযোগে এএসআই আমীর হোসেন ও তাজহাট থানার কনস্টেবল সুজন চন্দ্রকে সাময়িক বরখাস্ত করে মেট্রোপলিটন পুলিশ। গত ১২ই আগস্ট তাজহাট থানার মামলার আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের অংশটির তদন্তের ভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), রংপুর। পরদিন আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের সময় দায়িত্বে থাকা রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানকে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।  

আবু সাঈদ হত্যার বিচার নিয়ে সংশয়: গত ১৪ই আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে জানান, কোটা পদ্ধতি সংস্কার ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে সারা দেশে পুলিশের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা আগামী ৩১শে আগস্টের মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে। এতে করে পুলিশের করা তাজহাট থানার মামলাটি প্রত্যাহার হলে আবু সাঈদের হত্যার ঘটনায় আর কোনো মামলা থাকবে না। সচেতনদের মতে, আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কোনো সুনির্দিষ্ট মামলা না হওয়ায় এটির সঠিক বিচার নিশ্চিত হওয়া কঠিন হয়ে যাবে। পুলিশের দায়ের করা মামলা, পুলিশের একটি বিভাগ তদন্ত করায় এটির সঠিক তদন্ত নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। সেই সঙ্গে পরিবার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবু সাঈদের হত্যার ঘটনায় মামলা না হলে তৃতীয় পক্ষ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মামলা করে বিভিন্ন মহলকে মামলায় জড়ানোর হুমকি নিয়ে বাণিজ্যে মেতে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে।

পিবিআই যা বলছে: আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডে পিবিআই রংপুর অফিসের এসআই জিল্লুর রহমান মামলাটি তদন্ত শুরু করেছেন। পিবিআই বলছে, আইন উপদেষ্টার নির্দেশে পুলিশের করা মামলাগুলো খারিজ হলেও আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলাটি থেকে যাবে। পিবিআই রংপুরের পুলিশ সুপার এবিএম জাকির হোসেন বলেন, আবু সাঈদের পরিবার কিংবা অন্য কোনো পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়নি। যদি বিজ্ঞ আদালত কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মামলা হয় তবে আমরা অবশ্যই বস্তুনিষ্ঠতার সঙ্গে তদন্ত করবো। তবে তাজহাট থানায় দায়ের করা মামলার আবু সাঈদের অংশের তদন্ত ভার পেয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি।

আবু সাঈদ হত্যার বিচারে সোচ্চার শিক্ষার্থীরা: গত ১৪ই আগস্ট থেকে চার দফা দাবিতে ‘প্রতিরোধ সপ্তাহ’ পালন করছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। প্রতিদিনের কর্মসূচিতে আবু সাঈদসহ কোটা আন্দোলনে নিহত শিক্ষার্থীদের সঠিক বিচার ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে আসছেন তারা। ৪ দফা দাবি আদায়সহ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছেড়ে না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। রংপুর সরকারি কলেজের ছাত্র মনিরুজ্জামান বলেন, দেশবাসী দেখেছে আবু সাঈদকে কীভাবে পুলিশ লীগ গুলি করে হত্যা করেছে। শিক্ষার্থী তাসিন বলেন, আবু সাঈদ ভাইয়ের মৃত্যু স্বৈরাচার সরকার হটাও বিপ্লবকে ত্বরান্বিত করেছে। আমরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন রংপুর দাবি জানাচ্ছি যেন আবু সাঈদ ভাইয়ের পরিবার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একটি মামলা দায়ের করে। এরপরেও কেউ মামলা করতে এগিয়ে না আসলে ছাত্রদের পক্ষ থেকে আবু সাঈদ হত্যা মামলা দায়ের করে খুনিদের বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

Sunday, August 11, 2024

আবু সাঈদের বাড়িতে আপ্লুত প্রধান উপদেষ্টা by জাভেদ ইকবাল

আবু সাঈদ। পুলিশের বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে শহীদ হওয়া এই তরুণের সাহস আর প্রতিবাদী ক্ষোভ ধারণ করে বিজয় এসেছে ছাত্র-জনতার। সাঈদের পর আন্দোলনে জীবন দিয়েছেন আরও কয়েকশ’ ছাত্র-জনতা।  তাদের আত্মত্যাগের পথ ধরে গঠিত হয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। দায়িত্ব নেয়ার পর আনুষ্ঠানিক অফিস শুরুর আগেই গতকাল প্রথম রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের বাড়িতে ছুটে গিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি সাঈদের বাবা-মা’সহ পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেয়ার সময় আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। সাঈদের কবর জিয়ারত ও মোনাজাতের পর সেখানে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন ড. ইউনূস। যে পতাকা হাতে ছাত্র-জনতা আন্দোলন করে বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন সেই পতাকা তুলে দেন আবু সাঈদের বাবার হাতে।

প্রায় আধাঘণ্টা আলাপচারিতায় আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন, আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী, আবু হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা ৮ দফা দাবি সংবলিত একটি আবেদন ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেন। এতে আবু সাঈদসহ ছাত্র-জনতার হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা, আবু সাঈদের স্মরণে ১৬ই জুলাইকে শহীদ আবু সাঈদ দিবস ঘোষণা করা, আবু সাঈদের স্মরণে পীরগঞ্জে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, একটি পাবলিক গ্রন্থাগার, স্মৃতি সংরক্ষণাগার, একটি মসজিদ ও এতিমখানা নির্মাণ, আবু সাঈদের নামে তার নিজস্ব এলাকায় বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা, সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় শহীদি মর্যাদায় ভূষিত করা এবং অষ্টম বীরশ্রেষ্ঠ হিসেবে ঘোষণা করা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পটভূমি মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা, তরুণদের জন্য একটি স্টেডিয়াম নির্মাণ, জাফরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে আবু সাঈদের সমাধিস্থল সংলগ্ন রাস্তাটি জাফরপাড়া মাদ্রাসা পর্যন্ত প্রশস্তকরণের দাবি জানানো হয়।

এ সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, সকলকে ঐক্যবদ্ধ করাই বর্তমান সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ। নতুন স্বাধীনতা দিতে আবু সাঈদ যে স্বপ্নের জন্য বুক পেতে দিয়েছিল, আমাদের কাজ হলো- সেই স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।

এটা গোটা জাতির কর্তব্য। আমি শুধু এখানে এসে কবর জিয়ারত করলাম, চলে গেলাম তা- না। এটা সারা জাতিকে বলতে চাই। যে লক্ষ্য নিয়ে বুক পেতে দিয়েছিল, যার কারণে কোটি কোটি ছেলে-মেয়ে বন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে গিয়েছিল। ভয় পায় নাই। আবু সাঈদের জন্য আমরা যে নতুন বাংলাদেশ পেলাম, সেটি গড়ার দায়িত্ব আমাদের। তার কথা স্মরণ হবে- এই কাজ করার মধ্য দিয়ে।

তিনি বলেন, জাতি ঐক্যবদ্ধ হলে অতি দ্রুতই বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, একটি মুক্তির জন্য আবু সাঈদ বুক ফুলিয়ে দাঁড়িয়েছিল। ছবি দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। একটা মানুষ বন্দুকের সামনে হাত উঁচিয়ে দাঁড়িয়ে বলছে- মারেন। গুলি করেছে, একটু হেলে উঠে আবার  দাঁড়িয়েছে। পরে আবার একটা গুলি করেছে। আবু সাঈদ এখন পীরগঞ্জের না, তিনি এখন সারা বিশ্বের। আবু সাঈদ যে কাজ করেছে এটি নিয়ে যুগ-যুগান্তর কবিতা হবে, উপন্যাস হবে, নাটক হবে। মানুষ তাকে সারা জীবন স্মরণ করবে। এই সেই লোক এখানে শুয়ে আছে। তিনি বলেন, যারা ছোট ছোট ছেলে-মেয়ে বড় হবে, স্কুলে আবু সাঈদের কথা পড়বে। নিজে নিজে প্রস্তুত হবে। আমিও ন্যায়ের জন্য লড়বো, আমিও বুক পেতে দিবো। আবু সাঈদ এখন ঘরে ঘরে। প্রত্যেক ঘরে আবু সাঈদ রয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা এ মাটির সন্তান। এটা আবু সাঈদের বাংলাদেশ। এটা এক বাংলাদেশ, দুই  বাংলাদেশ না। দেশ নিয়ে পার্থক্যকারীদের বিরুদ্ধে আমরা আবু সাঈদের মতো রুখে দাঁড়াবো। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। তার মর্মস্পর্শী বক্তব্যের সময়ে সকলের চোখে অশ্রু চলে আসে। এ সময় আবেগতাড়িত হয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন আন্দোলন সমন্বয়কারী ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা নাহিদসহ অন্যরা। এরপর তিনি আবু সাঈদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন ও রংপুরের সমন্বয়কারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোটা আন্দোলনে আহতদের দেখতে যান।
বিকালে রংপুর সার্কিট হাউজে প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করে ক্রয়ক্ষমতার আওতায় আনাই লক্ষ্য উল্লেখ করে সকলের সহযোগিতা চান।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নিরাপরাধীদের কোনো হয়রানি নয়। তাদেরকে ফুলের টোকাও দেয়া হবে না। আমরা অপরাধীদের বিচার করবো। দেশে সহিংসতা বন্ধ হলে ১৭ কোটি মানুষকে আরও বহু উপরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, দেখা যাবে কতোদিনে ভালো হয়। এখন আপনারাই বিচার করেন কতোদিন হলে ভালো হবে। এটা তো কেউ এখনো বলে নাই।  

তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই একটি পরিবার, সবাইকে উপরে উঠানোর চেষ্টা করবো। এখানে কেউ আমাদের বিদেশি আক্রমণকারী নেই, আমরা-আমরাই। একটি পরিবারে ভাইয়ে ভাইয়ে ঝগড়া হতে পারে, তাই বলে সম্পর্ক নষ্ট হয় না। আমরা একটি পরিবার হয়ে ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই।

এর আগে বেলা আড়াইটায় রংপুর সার্কিট হাউজে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি।   
দুপুর পৌনে ২টায় রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে যান প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিশ্ববিদ্যায়ের প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন তিনি। সেখানে তিনি শিক্ষার্থীদের নানা দাবিসহ আগামীর বাংলাদেশ গড়তে তাদের প্রত্যাশার কথা শোনেন। এ সময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, নতুন বাংলাদেশ তরুণদের বাংলাদেশ। তরুণদের এখন কেউ টেনে রাখতে পারবে না। পথ পরিষ্কার করতে হবে। বেগম রোকেয়া নারীদের মুক্ত করেছেন। এখন রংপুর পুরো বাংলাদেশকে মুক্ত করবে।

এর আগে সকাল ১১টায় তিনি হেলিকপ্টারে করে রংপুর পীরগঞ্জের মেরিন একাডেমিতে আসেন। এরপর সড়ক পথে উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের জাফরপুর বাবনপাড়া গ্রামে কোটা আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদের বাড়িতে যান। সেখানে তার কবর জিয়ারতসহ পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার জাকির হোসেন, ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক সারজিস আলমসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

Friday, August 2, 2024

আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১৬ দিন পর শিশু মাহিমের জামিন: আদালত চত্বরে মানুষের ঢল by জাভেদ ইকবাল

রংপুরে পুলিশের গুলিতে নিহত শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১৬ দিন জেল খাটার পর অপ্রাপ্ত বয়স্ক শিশু আলফি শাহরিয়ার মাহিম জামিনে মুক্তি পেয়েছে। গতকাল আলোচিত এ মামলার শুনানিতে শিক্ষার্থী, কৌতুহলী মানুষের ঢল নামে আদালত চত্বরে।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মাহিমের পরিবারকে আশ্বস্ত করেছেন মাহিমের মুক্তিতে সার্বিক সহায়তা করা হবে। গতকাল দুপুরে রংপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মাহিমের আইনজীবীরা জামিনের জন্য আবেদন করেন। আদালতের বিচারক মো. মোস্তফা কামাল মাহিমের জামিন আবেদন মঞ্জুর করেন। এ সময় মাহিমের বাবা শাহজালাল, মা আঞ্জুম আরা ও বোন সানজানা আক্তার স্নেহাসহ তাদের স্বজনরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মাহিমের আইনজীবী জোবাইদুল ইসলাম বলেন, মাহিমকে জামিন দেয়া হয়েছে। এখনো সে মামলা থেকে অব্যাহতি পায়নি। সে মামলার আসামি হিসেবেই রয়েছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অনেক বড় বড় কথা বলেন। তাদের প্রশাসন আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় কোনো মামলা না করায় পুলিশ সুযোগ পেয়ে সেই মামলাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে শিশু মাহিমকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে। আজ মিডিয়া, আইনজীবী, সচেতন মহল ও আন্তর্জাতিক মহলের চাপের মুখে মাহিম ছাড়া পেলো। তা না হলে এই মামলা থেকে তার মুক্তি কঠিন হয়ে যেতো। মাহিমের বোন সানজানা আক্তার স্নেহা বলেন, গতকাল পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, আমার ভাইকে কোনো মামলায় রাখবেন না। আজ তাকে জামিন দেয়া হলো। আমরা এতে খুশি। আমরা চাই মামলা নিয়ে মাহিমসহ আমার পরিবার যেন আর ট্রমাটাইজ হয়ে না পড়ে। মাহিমের মা আঞ্জুমান আরা ময়না বলেন, মাহিমের স্বপ্ন ছিল বুয়েটে পড়া। প্রকৌশলী হওয়া। আমার ছেলে কি অন্যায় করেছে? বাড়ির সামনে থেকে আমার ছেলেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আমার ছেলেকে বিনা অপরাধে গ্রেপ্তারসহ জেলহাজতে পাঠানোর সঙ্গে জড়িতদের আমি বিচার চাই।

মাহিমের বাবা মো. শাহজালাল বলেন, আমি মামলা থেকে মাহিমের অব্যাহতি চাচ্ছি। পুলিশ কমিশনার বলেছিলেন, আমাদের আর কোর্টে আসতে হবে না। আমি আপনারদের মাধ্যমে জানাই তার এই কথা যেন বাস্তবায়ন হয়।  এ ব্যাপারে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তাজহাট থানা আক্রমণের সময় থানার সামনে থেকে পুলিশ মাহিমকে গ্রেপ্তার করে। সেই সময় তার বয়স সম্পর্কে জানা সম্ভব হয়নি। তার বয়স ১৭ হলেও দেখানো হয়েছে ২০ বছর। আমি বিষয়টি জানতে পেরে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলি এবং মাহিমের মুক্তিতে সার্বিক সহযোগিতা করার কথা জানাই। আশা করছি আদালতের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মাহিম মামলা থেকে মুক্তি পাবে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার দুপুর ১টার দিকে মাহিমের বড় বোন সানজানা আক্তার স্নেহা তার ফেসবুকে ছোটভাই পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্র আলফি শাহরিয়ার মাহিম (১৬)কে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় পুলিশ গ্রেপ্তারসহ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠিয়েছে উল্লেখ করেন। ভাইয়ের মুক্তির জন্য তিনি সকলের কাছে সহযোগিতা চান। ফেসবুকের এ পোস্টটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে তা বিভিন্ন মহলের নজরে আসে। এরপর সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও নিন্দা দেখা যায়।

Thursday, July 18, 2019

এরশাদ ছাড়া জাপা: উদ্বিগ্ন রংপুরের নেতাকর্মীরা যা ভাবছেন by পিয়াস সরকার ও জাভেদ ইকবাল

জাতীয় পার্টির ঘাঁটি রংপুর। রংপুরবাসীর বিপুল সমর্থন নিয়ে পার্টির চেয়ারম্যান এরশাদ নির্বাচিত হয়েছেন। রাজনীতির অঙ্গনে দলটির টিকে থাকার ক্ষেত্রেও বড় ভূমিকা রেখেছে রংপুরের মানুষ। সাবেক সেনা শাসক এরশাদের শেষ বিদায়েও সীমাহীন শ্রদ্ধা আর ভালবাসা দেখিয়েছে তার জন্মস্থানের মানুষ। তাদের চাপে দল সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে রংপুরে সমাহিত করা হয়েছে এরশাদকে। এরশাদের মৃত্যুতে দলে যে শুন্যতা তৈরি হয়েছে তা কিভাবে কাটবে। দলের ভবিষ্যৎইবা কী? সারা দেশের মতো এমন প্রশ্ন রংপুরের মানুষের মুখে মুখে। নানা শ্রেণি পেশার মানুষ ও জাতীয় পার্টির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে উদ্বেগের ছাপ লক্ষ্য করা গেছে।
তারা জানিয়েছেন এতো দিন রংপুরে জাতীয় পার্টি যে দাপট দেখিয়ে এসেছে শিগগিরই এর অবসান হতে যাচ্ছে। বিগত কয়েকটি নির্বাচনে জাপার সম্রাজ্য ক্ষয়ের লক্ষণ ফুটে উঠেছিল। এবার তা আরও ম্রিয়মান হতে যাচ্ছে। এছাড়া পার্টির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে নেতাকর্মীরা শঙ্কিত।

মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, জাপা অধ্যুষিত রংপুরের সিটি মেয়র। তিনি এখন এই এলাকার অভিভাবক। নেতাকর্মীদের মাঝে বিভক্তির রেখা স্পষ্ট হয়নি। তৃণমূল নেতাদের একাট্টা করে রেখেছেন মেয়র মোস্তফা।

তবে জাতীয় পর্যায়ে বিভক্তিতে তারা চিন্তিত। দুই গ্রুপে বিভক্ত জাতীয় পার্টি এক গ্রুপের নেতা রওশন এরশাদ আরেক গ্রুপের জিএম কাদের। যদিও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের দাবি দলে কোন বিভক্তি নেই। তবে রংপুরবাসী আছেন এরশাদের দিক নির্দেশনার মধ্যে। এরশাদ ছোটভাইকে উত্তরসুরি করে গেছেন। রংপুরের নেতাকর্মীরা তাকে সামনে রেখেই রাজনীতি করতে চান। মোস্তফা বলেন, এরশাদের মৃত্যু আমাদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। চলে যেতে হয় সবাইকে। কেউ চিরকাল বেঁচে থাকেন না। তবে আমরা তার মূলনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি জি এম কাদেরকে নেতা করে গেছেন আমরা তার দেখানো নীতিতেই চলবো।

একই সুরে কথা বলেন নগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী রাজ্জাক। বলেন, আমাদের রংপুরে আমরা এরশাদের নীতিতেই আছি। আর রংপুরের মানুষ এরশাদের কতটুকু আপন তা দেশবাসী প্রমাণ পেয়েছেন।
এরশাদের মৃত্যুতে কে লড়তে যাচ্ছেন রংপুর ৩ (সদর) আসনে? নেতা-কর্মীদের কথা- এখনো সেই ভাবনাটার সময় আসেনি।

মেয়রের একান্ত সচিব ও মহানগর জাপার দপ্তর সম্পাদক কাজী জাহিদ হোসেন বলেন, এরশাদের মৃত্যুর পর জাতীয় পার্টির সমর্থন আরো দ্বিগুণ হয়েছে। যার প্রমাণ আপনারা পেয়েছেন। তরুণ সমাজের ভালোবাসাটা একটু কম ছিলো এরশাদের প্রতি। তারাও এখন জাতীয় পার্টিতে ভিড়ছে। কারণ তারা জানতে পেরেছে এরশাদের শাসন আমলের চিত্র। এরশাদের নেয়া নীতির সুফল। তিনি আরো বলেন, জাতীয় পার্টির বিভক্তির কোন চিহ্ন রংপুরে নেই। ইনশাআল্লাহ হবেও না। সাধারণ জনগণের ভালোবাসা এরশাদ ও জাতীয় পার্টির মাঝে অক্ষুন্ন থাকবে।

নেতারা এসব বললেও সাধারণ জনগণের আলোচনায় জাতীয় পার্টির ভবিষ্যত। নগরীর কেরাণীপাড়ার বাসিন্দা শিক্ষার্থী শাকিল চৌধুরী বলেন, কৃষক, শ্রমজীবী মানুষের মাঝে এরশাদের জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। তারা শুধু লাঙল মার্কাটাকে চেনে। আর চেনে এরশাদকে। তারা লাঙলকে সর্মথন করেই যাবেন।

জাপা মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙা বলেন, আমাদের জাতীয় পার্টির মাঝে কোনো বিভক্তি নেই। আমরা সকলে একত্রে আছি আমরা দলকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর। এছাড়া বিরোধীদলীয় নেতা কে হবেন তা আমরা সর্ব সম্মতক্রমে সিদ্ধান্ত নেব।

রংপুরের স্কুল শিক্ষক এনামুল রহমান বলেন, রংপুরে এরশাদের কারণে জিএম কাদেরের জনপ্রিয়তা আছে। রংপুরের মানুষ রওশন বিরোধী এটা মানতেই হবে।

রংপুর সরকারী কলজের ছাত্র সমাজের নেতা জুবাইদুল ইসলাম বলেন, রংপুরে আমাদের রাজনৈতিক অবস্থান বরাবরই ভালো। তবে সাংগঠনিক ভাবে আরো মজবুত হওয়া দরকার। আমরা আমাদের দলকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমাদের দলে কোনো বিভক্তি চাই না। জেলা ছাত্র সমাজের আহবায়ক আশরাফুল হক জবা বলেন, আমরা একত্রে আছি। জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয়ভাবে যে সিদ্ধান্ত হবে আমরা মানতে রাজি। ইয়াসির আহমেদ বলেন, আমরা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত মানতে প্রস্তুত। তবে কোনো রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র মেনে নেয়া হবে না।

Tuesday, January 15, 2019

রংপুরে শতকোটি টাকার মধু উৎপাদনের সম্ভাবনা by জাভেদ ইকবাল

রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় সরিষা ক্ষেত এবং লিচু বাগানে পরিকল্পিতভাবে মৌমাছির চাষ করা হলে মধু উৎপাদনের মাধ্যমে বছরে শতকোটি টাকা আয়ের অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে বলে কৃষি বিশেষজ্ঞগণ অভিমত পোষণ করেছেন। এর ফলে একদিকে বিপুলসংখ্যক বেকার পুরুষ ও নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি চাষির বাড়তি আয়ের সাথী ফসল হিসেবে নতুন সম্ভাবনাময় পণ্য হিসেবে তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিশাল এক সহায়ক শক্তির সৃষ্টি হবে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্র জানিয়েছে, রংপুর অঞ্চলের রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী জেলায় বিপুল পরিমাণ লিচু বাগান এবং বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির চাষ করে প্রতি বছর শতকোটি টাকা মূল্যের মধু উৎপন্ন করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের কারিগরি সহযোগিতায় গত কয়েক বছর ধরে এসব জেলায় বিভিন্ন সরিষা ক্ষেত এবং লিচু বাগানে মৌমাছির চাষ করার পাশাপাশি চাষিরা সাথী ফসল হিসেবে বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের মৌমাছি চাষ সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞ জনান, প্রতিটি মৌবক্সে প্রতি মওসুমে ন্যূনতম ৪ থেকে ৫ কেজি করে মধু পাওয়া যায়। এছাড়া মৌচাষের প্রকল্পভুক্ত সরিষা ক্ষেতের ফলনও অন্তত ২০ ভাগ বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি ওই এলাকায় বিভিন্ন ফলের গাছের মুকুল এবং ফসলের ক্ষেতে মৌমাছির ব্যাপক সমাগমের মাধ্যমে প্রচুর পরাগায়নের সৃষ্টি হয়।
এ কারণে ওইসব ফলের বাগান এবং ক্ষেতের ফলনও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। এই কর্মসূচির আওতায় গত অর্থ বছরে এসব জেলার বিভিন্ন সরিষা ক্ষেতে ৫ হাজারের বেশি মৌ বক্স স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা ধরে এই অঞ্চলে ৩ হাজার ৩১৪টি মৌমাছির বক্স স্থাপন কারা হয়েছে। এর মাধ্যমে চাষিরা সাথী ফসল হিসেবে বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পেরে অর্থনৈতিকভাবে প্রচুর লাভবান হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় কুড়িগ্রাম এবং গাইবান্ধা জেলায় সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন হয়েছে বলে জানা গেছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগের রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, লালমনিরহাট এবং নীলফামারী এই ৫ জেলায় গত রবি মৌসুমে প্রায় ৩২ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়। এসব সরিষা ক্ষেতের মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে মধু উৎপন্নের লক্ষ্যমাত্রা  নিয়ে ৫ হাজার  ৫৫টি মৌমাছির বক্স স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে গোটা মওসুম জুরে এসব সরিষা ক্ষেতে ৩ হাজার ৩১৪টি মৌ বক্স স্থাপন করে গত মৌসুমে ৫৫ হাজার ২০০ কেজির বেশি পরিমাণ মধু উৎপন্ন হয়েছে বলে  সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে চাষকৃত সকল সরিষা ক্ষেত মৌচাষ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে কেবল এসব সরিষা ক্ষেত থেকেই প্রতি মৌসুমে অন্তত ৪ লাখ কেজির বেশি মধু উৎপন্নের মাধ্যমে প্রায় ২০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব হতো। এছাড়া এই অঞ্চলের লিচু বাগানের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে মৌমাছির চাষ করে আরও অন্তত ২০ থেকে ২৫ লাখ কেজি মধু উৎপন্ন করা সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে প্রায় শতকোটি টাকা মূল্যের মধু উৎপন্নের অপার সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এসব উৎপাদিত মধু দেশের স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে একদিকে যেমন বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। অপর দিকে পশ্চাৎপদ এবং  অবহেলিত এই অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তির এক অপার ভাণ্ডারও তৈরি হবে। প্রাপ্ত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের গত মৌসুমে রংপুর জেলায় সরিষা চাষ করা হয়েছে ৭ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে ১০৬ হেক্টর জমির সরিষা ক্ষেতে ৯৮টি মৌ বক্স স্থাপন করে ২০৫ কেজি এবং জেলার ৪৬৪ হেক্টর জমিতিে চাষকৃত লিচু বাগানের মধ্যে ৪৫ হেক্টরে ৭২৫টি মৌ বক্স স্থাপন করে ৯ হাজার ৭১০ কেজি মধু উৎপন্ন হয়েছে। কুড়িগ্রাম জেলায় ১২ হাজার ৮৫৩ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৪৬৯ হেক্টর সরিষা ক্ষেতে ২ হাজার ৪০১টি মৌ বক্স স্থাপন করে ৫২ হাজার ৭৪০ কেজি। গাইবান্ধা জেলায় ৬ হাজার ৯৯০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫০ হেক্টর সরিষা ক্ষেতে ৬০৩টি মৌ বক্স স্থাপন করে ২ হাজার ৫০ কেজি। নীলফামারী জেলায় ৪ হাজার ১৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এর মধে ১৩১ হেক্টর সরিষা ক্ষেতে ৩৯টি মৌ বক্স স্থাপন করে ১৫৫ কেজি। লালমনিরহাট জেলায় ১ হাজার ৭৯৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৫ হেক্টর সরিষা ক্ষেতে ২০৫টি মৌ বক্স স্থাপন করে ৮৫ কেজি মধু উৎপন্ন হয়েছে। মৌমাছি চাষে কৃষকদের সহায়তার জন্য কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে। মৌমাছি চাষের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট এলাকার চাষিরা সাথী ফসল হিসেবে বাড়তি আয়ের সুযোগ পেয়েছে। সৃষ্টি হয়েছে নতুন কর্মসংস্থানের। সীমিত পর্যায়ে মৌমাছি চাষে সাফল্য অর্জিত হওয়ায় রংপুর বিভাগের ৫ জেলায় গত রবি মৌসুমে প্রায় পৌনে ৩ কোটির বেশি টাকা মূল্যের ৫৫ হাজার কেজিরও বেশি মধু উৎপন্ন হয়েছে। কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর রংপুরের উপপরিচালক ডক্টর মোহাম্মদ সরওয়ারুল হক জানান, রংপুর অঞ্চলে লিচু এবং সরিষা ক্ষেতে মৌচাষ ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে মৌচাষ ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে ব্যাপক সাফল্যের কাজ করছে। ফলে চাষিরাও এতে ক্রমান্বয়ে উৎসাহিত হচ্ছে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী চড় এলাকা সহ বির্স্তীন সরিষার ফসলের মাঠে মৌচাষে চাষিরা উৎসাহিত হয়ে তা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে দক্ষ মৌয়ালের অভাবে অনেকেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে মৌচাষে এগিয়ে আসতে পারছে না বলে তিনি জানান। দেশের উত্তরাঞ্চলের সিরাজগঞ্জ এবং বগুড়ার কিছু এলাকায় দক্ষ মৌয়াল আছে তারাই প্রত্যেক মৌসুমে এসে সীমিত পর্যায়ে এই এলাকায় মৌয়ালের দায়িত্ব পালন করে থাকে। সিরাজগঞ্জের মৌসুমি মৌয়াল চান মিয়া জানান, প্রত্যেক গ্রীষ্ম মৌসুমে তারা এই অঞ্চলে মধু সংগ্রহের জন্য আসেন। সাধারণত এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে মধু সংগ্রহ শুরু হয়। মৌয়ালরা অভিযোগ করে জানান, আমাদের দেশে লিচু বাগানে মৌচাষ বা মধু সংগ্রহের জন্য কোনো নিয়ম শৃঙ্খলা নেই। বাজারজাত করার ব্যাপারেও কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই। এ ব্যাপারে সুষ্ঠু বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে কেবল মৌচাষ করেই রংপুর অঞ্চলের চাষিরা আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ স্বাবলম্বী হতে পারবে।

Thursday, May 31, 2018

এবারও বিশেষ ট্রেন বরাদ্দের বাইরে রংপুর: দুর্ভোগ বাড়বে ঘরমুখো মানুষের by জাভেদ ইকবাল

ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রার অন্যতম মাধ্যম রেল। নির্বিঘ্নে প্রিয়জনদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করতে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ রেলওয়ে ৭ জোড়া বিশেষ ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই বিশেষ ট্রেন বিভাগীয় নগরী রংপুরের ভাগে একটিও পড়েনি। এতে করে ঘরমুখো মানুষের যাত্রায় দুর্ভোগ বাড়বে। ঈদ করতে ঘরে আসা এবং পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়া প্রত্যাশী মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বিশেষ ট্রেনের মধ্যে রয়েছে দেওয়ানগঞ্জ স্পেশাল (ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ-ঢাকা), চাঁদপুর স্পেশাল-১ (চট্টগ্রাম-চাঁদপুর-চট্টগ্রাম), চাঁদপুর স্পেশাল-২ (চট্টগ্রাম-চঁদপুর-চট্টগ্রাম), রাজশাহী স্পেশাল (রাজশাহী-ঢাকা-রাজশাহী), পার্বতীপুর স্পেশাল (পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর) শোলাকিয়া স্পেশাল-১ (ভৈরব-কিশোরগঞ্জ-ভৈরব) এবং শোলাকিয়া স্পেশাল-২ (ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ)। ঈদের আগে ১৩ থেকে ১৫ এবং ঈদের পর ১৮ থেকে ২৪ জুন পর্যন্ত এই টেন চলাচল করবে। এর মধ্যে রংপুর বিভাগের দেড়কোটি মানুষ পাবে একটি ট্রেন। সেটি হলো পার্বতীপুর-ঢাকা-পার্বতীপুর রুটে পার্বতীপুর স্পেশাল ট্রেন। তবে বিভাগীয় শহর রংপুর থেকে কোন বিশেষ ট্রেন চলাচল করবে না। ফলে রংপুরের পাশাপাশি লালমনিরহাট,কুড়িগ্রাম,গাইবান্ধা, নীলফামারী জেলার মানুষ বঞ্চিত হবে ঈদে ট্রেন যাত্রা থেকে। রেল সূত্র জানায় রংপুর এক্সপ্রেস, বরেন্দ্র এক্সপ্রেস, লালমনি এক্সপ্রেস, নীলসাগরসহ ৪২ টি আন্ত নগর ট্রেন চলাচল করছে উত্তরাঞ্চলে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন গড়ে ৪’শ যাত্রী যাতাযাত করেন। প্রতিটি ট্রেনে কম পক্ষে বগি থাকে ৯টি। উত্তরাঞ্চলের এই ৪২ টি ট্রেনে প্রতিদিন ১৬ থেকে ১৭ হাজার যাত্রী রাজধানিসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। রেলওয়ের একটি সূত্র জানায় ঈদ উপলক্ষে যাত্রী সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। যাত্রীদের চাপ কমাতে উদ্যোগ নেয়া হয় বিশেষ ট্রেনের। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের বেশির ভাগই উত্তরাঞ্চলেরও হলেও এই বিশেষ ট্রেনের বরাদ্দের সময় বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে। রংপুর মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট রেজাউল ইসলাম মিলন জানান, ১৪টি বিশেষ ট্রেনের মধ্যে কম পক্ষে ১ টি ট্রেন রংপুরে দেয়া উচিত ছিল। অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ স্বাচ্ছন্দে ট্রেনে চলাচল করতে পারতো। কিন্তু ট্রেনের সংখ্যা সীমিত হওয়ায় অনেক নিম্ন আয়ের মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাসের ছাদে করে ঘরে ফিরবেন। এছাড়া সড়ক পথে বাস ড্রাইভারদের যাত্রী আনা নেয়ার চাপে প্রতি বছরই ঈদের সময় সড়ক দূর্ঘটনা অধিক পরিমাণে ঘটে। সেই দিক হতে ট্রেন যাত্রা অত্যন্ত নিরাপদ। তিনি রেল বিভাগের কাছে ট্রেন বৃদ্ধির দাবি জানান। নগরীর ব্যবসায়ী আজগার আলী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তরাঞ্চলে দুটি বিভাগীয় শহর কিন্তু এর একটি রংপুর বিশেষ ট্রেনের আওতায় পড়েনি। রেলের এ ধরনের সিদ্ধান্তে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে তিনি জানান। ঢাকায় একটি বেসরকারী কোম্পানীতে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার এম. এ কায়েস জানান, প্রতি বছর বাড়ি ঈদ করতে আসি। সড়কগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে বাসে বাড়ি ফিরতে অনেক দূর্ভোগ পোহাতে হয়। আবার ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে ভোগান্তি তো আছেই। তাই ঈদে বিশেষ রেল হলে আমাদের যাত্রাও নিরাপদ হয় সেই সাথে সঠিক সময়ে কর্মস্থলে পৌছানোর সম্ভাবনাও থাকে। তাই দ্রুত কর্তৃপক্ষ বিশেষ ট্রেন রংপুরে বরাদ্দ দিবে এমনটাই আমরা আশা করছি। রংপুর রেলস্টেশন মাস্টার সারওয়ার হোসেন জানান, ঈদ উপলক্ষে রংপুরে এখন পর্যন্ত কোন বাড়তি কোন ট্রেনের সুবিধা পায়নি। রংপুর এক্সপ্রেসে এখন ৯ টি বগি নিয়ে চলাচল করছে। ঈদ উপলক্ষে আলাদা বগি বাড়ার সম্ভবনা ক্ষীণ। পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের চিফ কমার্শিয়াল ম্যানেজার (সিসিএম) মিহির কান্তি গুহ জানান, বিষয়টি সরকারের সিদ্ধান্ত। এখানে পশ্চিমাঞ্চলীয় রেলের করার কিছু নেই। তিনি জানান রংপুর ও রাজশাহী বিভাগে আরো একটি বিশেষ ট্রেন হলে ভালো হতো।

Sunday, May 6, 2018

রংপুরে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস চলছে দাপ্তরিক কাজ by জাভেদ ইকবাল

রংপুর ভূমিকম্প প্রবণ এলাকার মধ্যে অন্যতম। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস এবং কর্মকাণ্ড পরিচালনা কারও জন্য নিরাপদ নয়। ৪৭টি  ঝুঁকিপর্ণ ভবনে এখনও  অসংখ্য মানুষের বসবাসের পাশাপাশি চলছে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ড।
রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক) থেকে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে তাতে সাইবোর্ড দিয়ে ভবন ব্যবহার না করার জন্য নাগরিকদের সতর্ক করা সত্ত্বেও তা মানা হচ্ছে না। এতে করে বড় ধরনের ভূমিকম্পে প্রাণহানির আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞের দাবি, যেসব কারণে ভূমিকম্প সৃষ্টি হয় মাটিতে থাকা ফল্ট তার মধ্যে অন্যতম। সেই ফল্ট (ফাটল) রংপুরের নিচে অবস্থিত। এদিকে অনেক ভবনের বয়স শতবর্ষ পেরিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ভবনগুলো ১৮৬৪ থেকে ১৯৮২ সালের মধ্যে নির্মিত হয়েছে। রংপুর সিটি করপোরেশন ও গণপূর্ত অফিস থেকে ৪৭টি ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি সরকারি ও ৩০টি ব্যক্তি মালিকানাধীন। ভবনগুলো আবাসিক ও অফিস ভবন। এগুলোর মধ্যে জেলা জজ আদালত, জেলা ও দায়রা জজের বাসভবন, সার্কিট হাউজ, জোনাল সেটেলমেন্ট রেকর্ড রুম, সদর ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট, জেলা প্রশাসনের বাসভবন, পুলিশ গার্ড সেড, ট্রেজারি ভবন পুরাতন,  এডিএম কোর্ট ভবন ও তার রেকর্ড রুম, রেডক্রিসেন্ট ভবন, সিভিল সার্জনের বাসভবন, রংপুর কেন্দ্রীয় কারগার মূল ফাটক, অফিস কাম জেনারেল বাসভান, কারা হাসপাতাল,  জেল টয়লেট, সদর হাসপাতার পুরাতন অফিস, সদর হাসপাতালের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীদের বাসভবন, নগরীর গুপ্তপাড়ায় শাহজাহান আলীর চারতলা বিশিষ্ট ভবন, একই পাড়ার অ্যাডভোকেট কমল মজুমদারের দুই তলা বিশিষ্ট বাসভবন, কামাল কাছনায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কেন্দ্রের বাড়িভবন, সাতগাড়া পশ্চিম পর্যটন এলাকার শিরিন আহমেদের জরাজীর্ণ ভবন, পার্বতীপুর বজলুর রশিদের দুই তলা বিশিষ্ট বাসভবন, ধাপ মেডিকেলের পশ্চিম পাশে কেল্লাবন্দ যুগীপাড়ার ডা. খন্দকার আখতারুজ্জামানের আটতলা বিশিষ্ট ভবন, সরদারপাড়ার মো. সোহেলের ভবন, মুন্সিপাড়ার মো. আনামের একতলা ভবন, একই এলাকার মৃত হাজী ইছাহাক অপুর দুই তলা বিশিষ্ট ভবন, কেরামত আলী রোডের মো. মতিউর রহমানের সাততলা বিশিষ্ট ভবন, মাহফুজাার রহমান ইসমাইলের আট তলাবিশিষ্ট বাসভবন, রাধাবল্লভ এলাকার সাবেক প্রধানমন্ত্রী মশিউর রহমান যাদু মিয়ার বাসভবন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুরাতন ডায়াবেটিস সমিতি, ডা. সাইদুজ্জামান রোবেলের বাসভবন, পাকপাড়ায় রাজার বাসভবন, উত্তর মুলাটোল সরকারি প্রাথমিক স্কুল, মুলাটোলে আজাদুল ইসলামের বাসভবন, মন্টু মিয়ার বাসভবন, লক্ষ্মী সিনেমা হল, মাস্টারপাড়ার ছাত্রবাস, গুপ্তপাড়ার ঢাকা ইঞ্জিলিয়ারিং ওয়ার্কসপ, বায়তুল সাজেদা জামে মসজিদ, জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কারমাইকেল কলেজ এক নম্বর অ্যাকাডেমিক ভবন, দুই নম্বর প্রশাসনিক ভবন, বেগম রোকেয়া ছাত্রীনিবাস, সরকারি বেগম রোকেয়া কলেজের তারামন বিবি ছাত্রীনিবাস, রংপুর পলিটেক ইনস্টিটিউটের অ্যাকাডেমিক ভবন, ছাত্রনিবাস, চারটি শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বাসভবন, রংপুর সরকারি কলেজের অ্যাকাডেমিক ভবন, মোসলেম উদ্দিন ছাত্রবাস, বেতপট্টি এলাকার মৃত গোলাম মিয়ার একতলা বিশিষ্ট ভবন, পুলিশ সুপারের বাসভবন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অধিকাংশ ভবনগুলোয় ঝুঁকি নিয়েই লোকজনের বসবাস ও অফিসের কার্যক্রম চলছে। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ভবনগুলোয় ঝুঁকিপূর্ণ সংবলিত সাইন বোর্ড টাঙিয়ে দেয়া হলেও কেউই তা মানছেন না। সামসুল ইসলাম বলেন, রংপুরের অন্যতম জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ। ভবনটির ছাদ, পিলার এবং দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে। অথচ প্রতিদিনই শত শত মানুষ প্রয়োজনীয় পণ্য কেনাবেচা করতে মার্কেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিবাহিত করছেন। এদিকে রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের পরিচালক ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তার চাকরি জীবন শেষ করলেন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে থেকে। প্রথমে সিভিল সার্জন থাকাকালেও তিনি ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ছিলেন। এ ছাড়াও সাবেক সদর হাসপাতালের ঝুঁকিপূর্ণ কোয়ার্টারগুলোয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিম্ন শ্রেণির সরকারি কর্মচারীরা এখনো বাস করছেন।
রংপুর আবহাওয়া অফিসে অবস্থিত ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন,  মূলত যেসব কারণে ভূমিকম্প সৃষ্ট হয় এর মধ্যে মাটির ফাটল (ফল্ট) অন্যতম। বাংলাদেশে ২টি ফল্টের অস্তিত্ব আছে এরমধ্যে রংপুর ময়মনসিংহ এবং সিলেট ফল্ট অন্যটি হচ্ছে ভারতের ত্রিপুরা হয়ে খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি হয়ে মিয়ানমার। ফলে রংপুর জেলা সরাসরি প্রথম ফল্টের আওতায়।
রসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আখতার আজাদ জানান,  সারা দেশে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার জন্য যে কমিটি আছে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে কাজ করছে। এরই অংশ হিসেবে রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করার পাশাপাশি বসবাস বন্ধে মানুষকে সচেতন করতে সাইনবোর্ড টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। এর পরও যারা বসবাস করছেন তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে তা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। রংপুর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. লতিফুল ইসলাম বলেন, প্রতি বছরে গণপূর্ত বিভাগ থেকে শতবর্ষী ভবনগুলো কী পর্যায়ে আছে তা পরীক্ষা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তা অবগত করা হয়। সুউচ্চ ভবন নির্মাণের সময় সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি শতবর্ষী ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসবাস অনাকাঙ্ক্ষিত প্রাণহানি ঘটাতে পারে।

Tuesday, April 10, 2018

সেই বাড়িতে কোচিং সেন্টার খুলতে চেয়েছিলেন স্নিগ্ধা by জাভেদ ইকবাল

রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের পিপি রথীশচন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনাকে হত্যার পর তার শিক্ষিকা স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক ও কথিত  প্রেমিক শিক্ষক কামরুল ইসলাম মরদেহ গুম করার স্থান হিসেবে বেছে নেন তার বড় ভাই ঢাকায় বসবাসরত খাদেমুল ইসলামের নির্মাণাধীন  বাড়ি। ওই বাড়িতেই মরদেহ গুম করার সিদ্ধান্ত হিসেবে ভিন্ন কথা বলে স্কুলের দুই ছাত্রকে দিয়ে গর্ত খুঁড়িয়ে নেন এবং লাশ গর্তে রেখে মাটি চাপা দেন। স্নিগ্ধা ও কামরুলের পরিকল্পনা ছিল সেখানে তিনি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কোচিং সেন্টার খুলবেন।
এ জন্য আগে থেকে ছাত্রছাত্রীদের বলেন, আমরা কোচিং সেন্টার খুলবো তোমরা সেখানে ক্লাস করবে। তাদের পরিকল্পনা ছিল পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই কামরুল ওই বাড়িটি সংস্কারের নামে সেখানে মেঝে প্লাস্টার করে নিতেন এবং কেউ যাতে বুঝতে না পারে সেজন্য কোচিং ক্লাস শুরু করে দিতেন। অ্যাড. রথীশ হত্যার ঘটনায় জড়িত রিমান্ডে থাকা কামরুল ইসলাম পুলিশকে এ তথ্য জানান। পুলিশ জানায়, অ্যাড. রথীশ ভৌমিকের হত্যাকাণ্ডের বেশকিছু আলামত জব্দ করা হয়েছে। আরো তদন্ত চলছে, তদন্ত হলেই সাংবাদিকদের কাছে তা উপস্থাপন করা হবে। সূত্র আরো জানায়, অ্যাড. রথীশ হত্যার পর নিখোঁজ রথীশের আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে স্নিগ্ধা ভৌমিকের সঙ্গে দেখা করতে তার বাসায় গিয়েছিল কামরুল ইসলাম। স্নিগ্ধাকে সান্ত্বনা দিয়ে তার হাতে তুলে দেন খাবারের জন্য বিভিন্ন ফলমূল। খুনের ঘটনায় কেউ যেন তাকে সন্দেহ করতে না পারে সেজন্য এই ঘটনার সঙ্গে জঙ্গি সম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রচার করেছিলেন তিনি।
উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর বাবুপাড়ার বাড়ি থেকে ৩০শে মার্চ নিখোঁজ হন আইনজীবী রথীশচন্দ্র ভৌমিক। তিনি জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও এবং মাজারের খাদেম হত্যা মামলার সরকারি আইনজীবী ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এ ঘটনার জন্য সকলে জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিদের দায়ী করে আওয়ামী লীগ, আইনজীবী সমিতি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, ক্ষত্রিয় সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্দোলন শুরু করেন। নিখোঁজ রথীশের সন্ধানে মাঠে নামে র‌্যাব, পুলিশ, পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে আইনজীবীর স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক এবং তার সহকর্মী স্কুলশিক্ষক কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ষষ্ঠ দিন ৪ঠা এপ্রিল হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের করা হয়। স্নিগ্ধা ভৌমিক র‌্যাবকে জানায়, পারিবারিক কলহ, সন্দেহ ও অশান্তির কারণে সে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে তার কথিত প্রেমিক কামরুলকে নিয়ে স্বামী অ্যাড. রথীশচন্দ্র ভৌমিককে ভাতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত স্নিগ্ধা ও কামরুলসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে কামরুলকে ১০ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয় এবং ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি নেয় স্নিগ্ধার।

Monday, April 9, 2018

কারাগারে যেমন কাটছে স্নিগ্ধার সময় by জাভেদ ইকবাল

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির পর নিহত আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক বাবু সোনার স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিককে বৃহস্পতিবার রাতে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেখানে তাকে প্রায় ১শ’ মহিলা বন্দির সঙ্গে একটি কক্ষে রাখা হয়েছে। কারাগার সূত্রে জানা যায়, স্নিগ্ধা বেশির ভাগ সময় উদাস মনে রবীন্দ্র সংগীত গাইছেন। আবার কখনো দীর্ঘশ্বাস ফেলছেন। মাঝে মধ্যে অপর বন্দি নারীর কাছে পান-সুপারি চেয়ে খাচ্ছেন। তবে জেলখানার খাবার স্বাভাবিক ভাবেই গ্রহণ করছেন। যে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছে সেই কক্ষের অন্য বন্দিরাও তাকে কিছুটা বাঁকা দৃষ্টিতে দেখতে শুরু করেছে। অনেক মহিলা বন্দিই তাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে। রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আমজাদ হোসেন জানান, স্নিগ্ধা কারাগারে মহিলা ওয়ার্ডে ভালো আছেন। এদিকে গতকাল দিনভর রংপুর নগরীতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, পুলিশি হেফাজতে কামরুল মারা গেছে। তবে বিষয়টি কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল মিয়া স্রেফ গুজব বলে জানান। তিনি বলেন, কামরুল আমাদের হেফাজতে আছে। রিমান্ডে সে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। পরে তা প্রকাশ করা হবে। অপরদিকে শনিবার রথীশের বাবুপাড়াস্থ বাসভবনে তার শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ, ক্ষত্রিয় সমিতি, পূজা উদযাপন পরিষদ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, আইনজীবী সমিতি, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ তার আত্মার শান্তি কামনা করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে বাবু সোনার পুত্র ঢাকার একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিষয়ের ছাত্র দীপ্ত ভৌমিক সাংবাদিকদের বলেন, বাবার এমন পরিণতি হবে ভাবতেই পারি না। বাবা এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন তা কোনোদিনও কল্পনা করিনি। বাবা চলে যাওয়ার দায়ে মাকেও হারাবো তাও ভাবতে পারিনি। উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর বাবুপাড়ার বাড়ি থেকে ৩০শে মার্চ নিখোঁজ হন আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক।
দুই পুলিশ ক্লোজড: ওদিকে অ্যাড রথীশের মামলায় দায়িত্বে অবহেলা ও তথ্য গোপন করার অভিযোগে দুই এসআইকে রংপুর পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে। এরা হলেন- এসআই তরিকুল ইসলাম তারেক, ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই দীবাকর।

Saturday, April 7, 2018

থোকায় থোকায় ‘হাঁড়িভাঙা’ স্বপ্ন দেখছেন বাগান মালিকরা by জাভেদ ইকবাল ও রেজাউল করিম পান্না

রংপুরের মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জসহ আট উপজেলায় থোকায় থোকায় হাঁড়িভাঙা আমের মুকুল ধরেছে। এখন বাতাসে দোল খাচ্ছে হাঁড়িভাঙ্গার গুটি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আম উৎপাদনে অতীতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছেন ব্যবসায়ী, কৃষি বিভাগ ও বাগান মালিকেরা। সে হিসেবে এবারে শুধুমাত্র রংপুরেই একশ’ ৫ কোটি টাকার আম উৎপাদন সম্ভব বলে জানান স্থানীয় কৃষি বিভাগ। বাগান মালিকদের অভিযোগ শুধুমাত্র ধান বা অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রে কৃষি বিভাগ তৎপর থাকলেও আমের মতো এই বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মাঠ পর্যায়ে কৃষি বিভাগের কোনো দিক-নির্দেশনা বা তদারকি চোখে পড়ে না। তবে কৃষকদের এ অভিযোগ মানতে নারাজ কৃষি বিভাগের কর্তা ব্যক্তিরা। তারা জানান, কৃষকদের পাশে থেকেই সঠিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। যার কারণে হাঁড়িভাঙার বিপ্লব ঘটছে রংপুর অঞ্চলে।
সরজমিন রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার খোড়াগাছ, বালুয়া মাসিমপুর, ময়েনপুর, রাণীপুকুর, ছড়ান, বড়বালা, লতীবপুর ও বদরগঞ্জ উপজেলার কুতুবপুর, গোপালপুর, লোহানীপাড়া, কালুপাড়া, বিষ্ণুপুরসহ রংপুর সদর উপজেলার সদ্যপুষ্করনী ও চন্দনপাঠ ইউনিয়নে গিয়ে দেখা যায় হাঁড়িভাঙা আম চাষের বিপ্লব। এসব এলাকায় এখন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা আমের পরিচর্যা করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমের গুটি আটকাতে তারা গাছে ছিটাচ্ছে ওষুধ। মিঠাপুকুর ও বদরগঞ্জে এখন যেদিকেই চোখ যায়, সেই দিকেই শুধু হাঁড়িভাঙ্গার বাগান আর বাগান। হাঁড়িভাঙা আমের গুটি দেখে এখন মন কাঁড়ছে পথচারীদের। রংপুর কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে শুধু রংপুর জেলায় বাগান পর্যায়ে ১ হাজার ৫৫২ হেক্টর এবং বাসাবাড়ি ও ক্ষুদ্র পরিসরে তিন হাজার ১১৪ হেক্টর জমিতে আমের বাগান হয়েছে। রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় এই আম বাগানের পরিমাণ প্রায় ৪৫ হাজার ৫০০ হেক্টর। এই পরিমাণ জমিতে প্রায় ৪১ লাখ ৭৪ হাজার গাছ রয়েছে। যা থেকে গড়ে ৫ মণ করে আম উৎপাদনের মাধ্যমে দুই লাখ ২৫ হাজার মণ আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। আর রংপুরের বদরগঞ্জ, মিঠাপুকুর ও সদর উপজেলাসহ আট উপজেলায় এবারে ১৭ হাজার ৫০০ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। আমের ভরা মৌসুমে প্রতিকেজি আম ৬০ টাকা দর হলে যার পরিমাণ দাঁড়ায় একশ’ ৫ কোটি টাকা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে প্রাকৃতিক কোনো দুর্যোগ না হলে এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।    
বাগান মালিক ও আমের মৌসুমী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আমের মুকুল আসার আগ মুহূর্ত গুটি হওয়ার সময়ে নানা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এতে আম পচে ঝরে পড়ে। এই মুহূর্তে আমের যে কোনো ধরনের পচন রোগ ঠেকাতে ও গুটি নিশ্চিত করতে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং ওষুধ কোম্পানির ওপর ভর করে ছিটানো হচ্ছে ওষুধ। তবে চাষিদের অভিযোগ কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা এখন পর্যন্ত বাগানে বাগানে গিয়ে তাদের সঠিক পরামর্শ দিচ্ছেন না। তবে এ  অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কৃষি কর্মকর্তারা। তারা বলছেন, গাছের গোড়ায় সেচ দেয়ার পরামর্শ দিলে এতে চাষিরা রাজি হচ্ছে না। কিন্তু তারা গাছে গাছে আম আটকানোর জন্য নিজেদের সনাতন পদ্ধতিই ব্যবহার করছেন। এতে আমাদের সঙ্গে তাদের মতের মিল হচ্ছে না। এ কারণে তারা অযথাই কৃষি বিভাগকে দোষারোপ করছেন।  হাঁড়িভাঙা আমের মাতৃগাছের জনক মৃত নফল উদ্দিন পাইকারের ছেলে খোড়াগাছা ইউনিয়নের তেকানী গ্রামের আমচাষি আমজাদ হোসেন পাইকার (৫৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে উল্টো কথা বলেন। তিনি জানান, ‘এবার বাহে গাছোত স্মরণকালের মুকুল ধরছে। কিন্তু আম আটকানো যাওচে না। আর কৃষি বিভাগের কোনো লোক (বিএস) আসি কোন পরামর্শ দেয় নাই। হামার নিজের অভিজ্ঞতা কাজে নাগেয়া আমের যত্ন করুচি। এখন ঝড়-বৃষ্টিতে আমের যে কি হইবে আগাম বলা যাচ্ছে না।’ মিঠাপুকুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খোরশেদ আলম বলেন, এবারে শুধুমাত্র মিঠাপুকুরে ১ হাজার হেক্টর জমিতে হাঁড়িভাঙ্গার বাগান করা হয়েছে। প্রতি হেক্টরে ১৩ থেকে ১৫ টন আম উৎপাদন সম্ভব হবে। তিনি বলেন, চাষিদের পাশে থেকেই সঠিক পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। আমের এ বিপুল সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে কৃষি বিভাগ তৎপর রয়েছে। 
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. সরওয়ারুল হক বলেন, ‘এবারে রংপুরে আমের রেকর্ড পরিমাণ মুকুল ধরেছিল। বিশেষ করে হাঁড়িভাঙা আম উৎপাদনে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছি। এবারে একশ’ কোটি টাকার উপরে আম উৎপাদন হবে। আমের পরিচর্যা করতে দল গঠন করে দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে তারা উঠান বৈঠক করে চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছেন এবং পাশে আছেন।’

Friday, April 6, 2018

যেভাবে পরকীয়ায় স্নিগ্ধা-কামরুল by জাভেদ ইকবাল

একটি পরকীয়া। ভেঙে চুরমার দুটি সাজানো সংসার। স্ত্রী স্নিগ্ধা ও তার প্রেমিক কামরুল মিলে অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে খুনের ঘটনায় বিস্মিত-হতবাক রংপুরের মানুষ। সর্বত্র ক্ষোভ-ধিক্কার। দু’ জন দু’ ধর্মের। পরিবার-সন্তান রয়েছে দু’ জনেরই। তবুও তাদের এই প্রেম-পরকীয়ার ঘটনার চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
দু’ জনই দীর্ঘকাল ধরে চাকরি করতেন তাজহাট উচ্চ   বিদ্যালয়ে। গতকাল সে স্কুলে গিয়ে দেখা যায় এক অন্যরকম পরিবেশ। স্কুলের শিক্ষিকা ফেরদৌসী আরা পলি বলেন, যেভাবে এ দু’শিক্ষক মেলামেশা করতো তাতে আমরা সহকর্মী হিসেবে তেমন কিছু মনে করতাম না। গণমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। ওদিকে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে দু’সন্তানের জননী স্নিগ্ধা ভৌমিক ও এক সন্তানের জনক কামরুল ইসলামের পরকীয়া প্রেমের গল্প। প্রায়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির পর সব শিক্ষকদের পরে  বের হতো স্নিগ্ধা ও কামরুল। প্রায়ই তারা মোটরসাইকেলে করে দূরে নিভৃত স্থানে গিয়ে সময় পার করতো। অ্যাড. রথীশ ভৌমিকের দুই সন্তানের মধ্যে এল.এল.বি অনার্স পড়ুয়া পুত্র ঢাকায় থাকতেন। নবম শ্রেণি পড়ুয়া কন্যা থাকতো বাসায়। কন্যা স্কুলে চলে যাওয়ার পর কামরুল পেছনের দরজা দিয়ে স্নিগ্ধার বাসায় গিয়ে গোপনে অবৈধ মেলামেশা করতো। বিষয়টি রথীশ ভৌমিক আঁচ করতে পারলে তাদের সংসারে অশান্তি নেমে আসে। এদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, ১৮৯৪ সালে গড়ে ওঠা তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে ১৯৯৪ সালে অ্যাড. রথিশ চন্দ্র ভৌমিকের স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক ধর্মীয় শিক্ষক এবং কামিল পাস করা কামরুল ইসলাম একই সঙ্গে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেন। স্নিগ্ধা ভৌমিক শান্ত স্বভাবের হলেও কামরুল ইসলাম চতুর ও চঞ্চল প্রকৃতির। হাসি, ঠাট্টা করতো সবার সঙ্গে। দীর্ঘদিন চলার পথে শিক্ষক স্নিগ্ধা ও কামরুলের মধ্যে একটি সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্কের কারণে স্নিগ্ধার দাপ্তরিক যাবতীয় কাজকর্ম কামরুল করে দিতো। বিনিময়ে স্নিগ্ধা বাড়ি থেকে টিফিন বক্সে করে কামরুলের জন্য খিচুড়ি, ছানা, পায়েসসহ ফলমূল নিয়ে এসে তাকে খাওয়াতো। তার সহকর্মীরা প্রশ্ন করলেও স্নিগ্ধা বলতো আমার কাজ করে দেয় বিধায় তাকে নাস্তা খাওয়াই। এসব বিষয় জানতে পারেন স্নিগ্ধার স্বামী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। তিনি শিক্ষক কামরুলকে সাবধান করে দেন। এ থেকে তাদের  মেলামেশা বন্ধ হয়ে যায়। সেই থেকে মোবাইল ফোনে কামরুল আর স্নিগ্ধা পরিকল্পনা করে কীভাবে আগের সম্পর্ক ফিরিয়ে আনা যায়। তারা দিনে কখনো ৩০-৩৫ বারও কথা বলেছেন। এসব বিষয় নিয়ে রথীশের পরিবারে নেমে আসে চরম অশান্তি। দেখা দেয় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য ও বিরোধ। স্নিগ্ধা প্রায়ই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে স্বামীকে গালমন্দও করতো।
সম্প্রতি তাজহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক কামরুলের বেপরোয়া চলাফেরা ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে রথীশ প্রধান শিক্ষিকাকে শোকজ করার তাগিদ দেন। এরই প্রেক্ষিতে প্রধান শিক্ষিকা ৪ঠা মার্চ তাকে শোকজ করে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে উত্তর দিতে বলেন। শোকজ নোটিশ পাওয়ার পর কামরুল তার চিঠির জবাব দিলেও সন্তোষজনক না হওয়ায় ম্যানেজিং কমিটির নির্দেশে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির আহ্বায়ক করা হয় অভিভাবক সদস্য বিপুল সরকারকে। অপর দুই সদস্য হলেন- শিক্ষক প্রতিনিধি মতিউর রহমান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক বেলাল হোসেন। ২৮শে মার্চ ওই তদন্ত কমিটি কামরুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরই মধ্যে ঘটে যায় ২৯শে মার্চ রাতে রথীশের হত্যার ঘটনা। শিক্ষক শাহরুল হুদাসহ অন্যরা বলেন, ৩০শে মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি অ্যাড. রথীশ চন্দ্র ভৌমিক নিখোঁজ সংবাদ শুনে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ৩১শে মার্চ সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করি। ওই কর্মসূচিতে কামরুলও উপস্থিত ছিল এবং সে স্বাভাবিকভাবে কর্মসূচি পালন করে। তার চোখ- মুখ দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে, সে এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
এদিকে নিহত রথীশের হত্যাকাণ্ড ঘটনার রহস্য গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদপত্রে প্রকাশের পর রংপুরে জাতীয় ও স্থানীয় সব পত্রিকা দিনের অর্ধবেলায় বিক্রি হয়ে যায়। সর্বত্রই স্নিগ্ধা ও কামরুলকে নিয়ে চলে সমালোচনা।
রংপুর নগরীর বাবুপাড়ার বাড়ি থেকে ৩০শে মার্চ নিখোঁজ হন আইনজীবী রথীশ চন্দ্র ভৌমিক। তিনি জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও এবং মাজারের খাদেম হত্যা মামলার সরকারি আইনজীবী ছিলেন। নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে এ ঘটনার জন্য জামায়াত-শিবির ও জঙ্গিদের দায়ী করে আওয়ামী লীগ, আইনজীবী সমিতি, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্যপরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ, ক্ষত্রিয় সমিতি, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন আন্দোলনে নামে। সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, স্মারকলিপি প্রদান, সংবাদ সম্মেলন, গণঅনশন থেকে শুরু করে সব ধরনের আন্দোলনে তোলপাড় শুরু হয় প্রশাসনে। নিখোঁজ রথীশের সন্ধানে মাঠে নামে র‌্যাব, পুলিশ, পিবিআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা। মোবাইল ফোনের কল লিস্টের সূত্র ধরে আইনজীবীর স্ত্রী স্নিগ্ধা ভৌমিক এবং তার সহকর্মী স্কুলশিক্ষক কামরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে ষষ্ঠ দিন ৪ঠা এপ্রিল হত্যাকাণ্ডের রহস্য বের করা হয়। স্নিগ্ধা ভৌমিক র‌্যাবকে জানায়, পরিবারিক কলহ, সন্দেহ ও অশান্তির কারণে সে পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে স্বামী রথীশ চন্দ্র ভৌমিককে ভাতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। তাকে এ কাজে সহায়তা করে তার কথিত প্রেমিক কামরুল।

Saturday, June 3, 2017

আইনি জটিলতায় রমেক হিমঘরে ৪ বছর ধরে ৪ লাশ by জাভেদ ইকবাল

রংপুর মেডিকেল  কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে ৪ বছর ধরে পড়ে থাকা নিপা রানীসহ চার লাশের তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ায় হাসপাতালসহ প্রশাসন মহলে সর্বত্রই ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। আইনগত জটিলতার কারণে বছরকে বছর ধরে লাশ পড়ে থাকায় এখন সেটি কংকালে পরিণত হয়েছে। যা দেখে চেনার উপায়ও নেই। এদিকে রমেক হাসপাতালে মৃত নিপা রানীর ফাইল কোথায় তা কেউ খুঁজে পাচ্ছে না। হাসপাতালের পরিচালক ওয়ার্ড মাস্টারকে দায়ী করলেও ওয়ার্ড মাস্টার হাসপাতালের প্রশাসনকে দায়ী করছে। এনিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে চলছে পাল্টা পাল্টি অভিযোগ। সরজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার বামনিয়া এলাকার অক্ষয় কুমারের মেয়ে নিপা রানী।
নিপা পার্শ্ববর্তী বোরাগাড়ি গ্রামের জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন কবীর রাজুর প্র্রেমে পড়ে গত ২০১৩ সালে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করে। এ বিয়ের বিষয়টি মেনে নেননি নিপার বাবা অক্ষয় কুমার। তিনি এ ঘটনায় রাজুকে আসামি করে অপহরণ মামলা করেন। পুলিশ রাজুকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠালে নিপার বাবা জোর করে মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যান। এরই মধ্যে জামিনে মুক্তি পায় রাজু। ওদিকে নিপার পিতা তার মেয়ের ওপর শুরু করে নির্যাতন। একপর্যায়ে নিপা বিষ পান করে অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। প্রেমিকার মৃত্যু খবর শুনে রাজুও বিষ পান করে আত্মহত্যা করে। শুরু হয় নিপার লাশ নিয়ে টানাটানি। হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের কারণে দ্বন্দ্ব লেগে যায়। লাশের দুইজন দাবিদার হওয়ায় আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়। মেয়ের লাশ নিয়ে সৎকার করতে চেয়েছেন হিন্দু সমপ্রদায়ের বাবা, অপরদিকে পুত্রবধূর লাশ নিয়ে দাফন করতে চেয়েছেন মুসলিম শ্বশুর। নিপা রানীর বাবা অক্ষয় কুমার তার মেয়ের লাশ দাবি করে আদালতে মামলা করেন। অন্যদিকে তার স্বামী রাজুর বাবা জহুরুল ইসলামও পুত্র বধূর লাশ দাবি করেন। ফলে মামলার নিষপত্তি না হওয়া পর্যন্ত লাশ কার জিম্মায় দেয়া হবে তা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না বলে জানান আদালত। সেই থেকে নিপার লাশ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেথ হাউজে রাখা হয়। এ মামলা এখন হাইকোর্টে বিচারাধীন। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মাহমুদ হাসান। তিনি বলেন, নীপার বাবা ও রাজুর বাবা দুজনেই লাশ দাবি করছেন। আদালতের সিদ্ধান্ত ছাড়া কাউকেই লাশ দেয়া যাবে না। এদিকে ডেড হাউজের সব ফ্রিজ নষ্ট থাকায় লাশগুলো কংকাল হয়ে গেছে। এখন লাশগুলো শনাক্ত করার উপায় নেই। ওদিকে আরো দেখা যায়, হাসপাতালের ডেথ হাউজ দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে রাখা ৩টি বেওয়ারিশ লাশের মধ্যে একজন নারী ও দুই জন পুরুষ। এর মধ্যে গত ৩০শে এপ্রিল ২০১৫ সালে এক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়। ৩রা মে ২০১৫ ইং তারিখে তিনি মারা যান। ওই ব্যক্তির কোনো নাম ঠিকানা না থাকায় হাসপাতালের ডেড হাউজে তার লাশ রেখে দেয় হাসপাতাল কতৃপক্ষ। ২০১৫ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর এক নারী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। তার লাশও বেওয়ারিশ হিসেবে ডেথ হাউজে রেখে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্য লাশটি কবে থেকে ডেথ হাউজে পড়ে আছে তার দিন তারিখ সাল কিছুই বলতে পারেনি হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারসহ সর্দ্দার অফিস। ছেলের পিতা জহুরুল ইসলাম জানান, নীলফামারী আদালতে নিপা এফিডেভিট করে মুসলিম হয়ে তার ছেলেকে বিয়ে করে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তারা দুইজনই মারা গেছে। তিনি তার পুত্রবধূর লাশ দ্রুত দাফনের অনুমতি চান। ডোমার উপজেলার বামনিয়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড সদস্য খুরশিদ আলম তিতাস ও গোদাগাড়ী ইউপি সদস্য রাশেদুজ্জামান জানান, আইনি জটিলতায় প্রায় ৪ বছর লাশ হিমঘরে পড়ে থাকাটা দুঃখজনক। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মউদুদ হোসেন জানান, এ মাসেই এখানে যোগদান করেছেন। লাশগুলো কেন দীর্ঘ দিন ধরে পড়ে আছে সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না। কাগজ পত্র দেখে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

Wednesday, July 8, 2015

ঈদকে সামনে রেখে বেনারসি পল্লীর শ্রমিকদের নির্ঘুম রাত by জাভেদ ইকবাল

এগিয়ে আসছে ঈদ। নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে বেনারসি পল্লীর শ্রমিকরা। তাঁতের খটখট শব্দে চলছে শাড়ি বানানোর কাজ। রাতদিন যেন একাকার হয়ে গেছে। রংপুরের বেনারসি পল্লী সরব। এ শিল্পের উন্নয়নে আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প সংস্থা (বিসিক)। সরকারের এ সহযোগিতা পেয়ে নতুন করে বাস্তবায়নের রূপ নিয়েছে প্রকল্পটি।
সরজমিন অনুসন্ধানকালে জানা যায়, এক সময় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার গজঘণ্টা ইউনিয়নের তালকু হাবু গ্রামের বেনারসি পল্লীর নাম ছিল দেশময়। ২০০৫ সালে প্রায় ১০০ তাঁতি ওই এলাকায় বেনারসিপল্লী গড়ে তোলে। এখানকার পণ্যের মান ছিল দেশের অন্যান্য স্থানের চেয়ে অনেক ভাল। বিপণন ও আর্থিক সমস্যার কারণে এক সময় মুখ থুবড়ে পড়ে এ শিল্প। আস্তে আস্তে বন্ধ হয়ে যায় বেশির ভাগ কারখানা। বেকার হয়ে পড়েন এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় ৫০০ কারিগর। তাদের কথা চিন্তা করেই এই শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে সরকার উদ্যোগ নেয়। এ জন্য সরকার ২ কোটি ৩৭ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়। এ টাকা দিয়ে ৪০টি তাঁত বসানো হয়েছে। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মানুষের চাহিদা ও রুচির প্রতি নজর রেখে কারিগরদের যুগোপযোগী প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এরপর তারাই অত্যাধুনিক বেনারসি শাড়ি ও অন্যান্য কাপড় তৈরি করছেন। তাঁতের খট খট শব্দে এখন মুখর হয়ে উঠছে বেনারসি পল্লীর পরিবেশ। সূত্রটি আরও জানায়, তাঁত শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ কাজ শুরু হয়েছে। তাঁত মালিকদের সুদমুক্ত ঋণ দেয়া হচ্ছে। ওই এলাকায় ৬৭টি পরিবারের মধ্যে সমন্বয় করে তাঁত স্থাপনের জন্য ৬৮০ বর্গফুট আয়তনের ৪০টি শেড নির্মাণ করার কাজ শুরু হয়েছে। সেগুলোতে চলছে বেনারসি শাড়ি তৈরির কাজ। এরপর সেখানেই থাকছে বেনারসি শাড়ির প্রদর্শনী কেন্দ্র। তাঁত মালিক রোস্তম মিয়া জানান, এক সময় তার নিজের ৩০টি তাঁত ছিল। পুঁজি সংকট, কাঁচামাল এবং বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে সব বন্ধ হয়ে যায়। এখন তিনি নিঃস্ব। সরকার এ শিল্পের দিকে নজর দেয়ায় আবার শিল্পটি ঘুরে দাঁড়িযেছে। বেনারসি তৈরির কাজে মুখরিত হয়ে উঠছে পুরো এলাকা।  গঙ্গাচড়ার তালুক হাবু এলাকার রহমান উইভিং তাঁত শিল্পের মালিক ফরিদা আখতারের কারখানায় গিয়ে দেখা গেছে কারিগরদের তাঁত চালানোর খুটখাট শব্দ। তাদের এদিক সেদিক তাকানোর যেন সময় নেই। ওই কারখানায় কথা হয়, কারিগর রোস্তম মিয়ার সঙ্গে। তিনি বলেন, ঈদকে সামনে রেখে বেনারসি শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে আমাদের রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে। কারিগর রেশমা জানান, ভাই এখন কথা বলার সময় নেই। তিনি জানান, এখানে আমরা তৈরি করছি বুটি জামে বাহার, বেলবুটি, সাটান, নকশি, ফুলকলিসহ বিভিন্ন প্রকাশের শাড়ি। এ কারখানার মালিক ফরিদা আখতার জানান, তার এখানে ৮টি তাঁত রয়েছে। ঈদ উপলক্ষে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ২৪ ঘণ্টাই চলছে কাজ। এক সপ্তাহে যেখানে ১৬টি শাড়ি তৈরি হতো সেখানে এখন ৩০টি শাড়ি হচ্ছে। এসব শাড়ি ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত বিপণি বিতানে সরবরাহ করা হচ্ছে। একই এলাকার নিশাত বেনারসি ফ্যাক্টরির মালিক কুদ্দুস মিয়া জানান, এখানকার বেনারসি পল্লী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এতে করে এ অঞ্চলের বেকার লোকজনের বেকারত্ব দূর হবে। এ এলাকার নামও ছড়িয়ে পড়বে দেশ-বিদেশে। তার তাঁত রয়েছে ২০টি।  প্রশিক্ষণার্থী লক্ষিটারি ইউনিয়নের আমেনা, মোহসেনা, ফাতেমা এবং কবিতা বেগম জানান, বেনারসি শাড়িসহ অন্যান্য কাপড় তৈরির জন্য ৬০ দিনের প্রশিক্ষণ শেষ হয়েছে। এখন তারা বানাতে পারছেন বেনারসি শাড়ি। এতে করে তাদের বেকারত্ব ও দরিদ্রতা ঘুচবে। আনোয়ার ও ফরিদা জানান, একেকজন কারিগরের একেকটি শাড়ি তৈরি করতে তিন দিন থেকে চার দিন সময় লেগে যায়। একটি শাড়ি তৈরি বাবদ তাদের দেয়া হয় ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা। তাদের বানানো ওই শাড়িই বাজারে বিক্রি হয় ২ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। নাসরিন জানায়, এক সময় বেকার ছিলাম। মাঝে মাঝে অন্যের জমিতে মজুরির কাজ করতাম। এতে অভাব অনটনের সংসারে ভালভাবে দুবেলা খাবারও জুটতো না। কিন্তু বেনারসির উপর প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন সংসার ভালই চলছে।

Monday, July 6, 2015

রংপুরে ব্যস্ত চুমকি, পাথর এবং পুঁতি বসানোর কারিগররা by জাভেদ ইকবাল

ঈদের আনন্দকে বাড়ানোর লক্ষ্যে রংপুর জমজমাট হয়ে উঠেছে জামা, শাড়িতে চুমকি, পাথর এবং পুঁতি বসানোর কাজ। নাওয়া-খাওয়া ভুলে সূক্ষ্মভাবে রাত-দিন চলছে এ কাজ। এ কাজের সঙ্গে জড়িয়ে আছে রংপুরের রবাটসনগঞ্জ, আলমনগর, বাবুপাড়া, তাজহাট, মাহিগঞ্জ, জুম্মাপাড়াসহ নগরীর বিভিন্নস্থানে ৩ শতাধিক অসচ্ছল পরিবার। স্বামী পরিত্যক্ত ও স্বামীহারা  পরিবারের গৃহবধূ ও গরিব পরিবারের গৃহিণী এবং মেয়েরা সংসারের কাজের ফাঁকে, অবসরে এবং লেখাপড়ার পাশাপাশি শাড়ি, জামা এবং ওড়নায় সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য চুমকি, পাথর এবং পুঁতি বসিয়ে আকর্ষণীয় করে তোলার কাজ করছেন। এতে করে অভাব-অনটনের সংসারে সচ্ছলতা আসছে তাদের। বাড়তি আয় করে মেয়েরা তাদের লেখাপড়ার খরচসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাজ সারছেন। এদিকে শাড়িতে পাথর চুমকি এবং পুঁতি বসানোর পর ওই ওড়না, জামা ও শাড়িগুলো রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন নামীদামি বিপণিবিতাদের শো-রুমে তিনগুণ বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। বৃহস্পতিবার নগরীর রবার্টসনগঞ্জ ও মাহিগঞ্জ ঘুরে দেখা যায়, রাস্তার দু’পাশে গাছতলায়, বাড়ির গলিতে, আঙিনায় ৪-৫ জন করে এক সঙ্গে শাড়িতে চুমকি বসানোর কাজ করছে। বাহারি নকশায় বিভিন্ন চুমকি ও পুঁতি বসিয়ে সাধারণ একটি শাড়িকে করছে আর্কষণীয়। বাড়িয়ে দিচ্ছে শাড়ির মান। আয়শা (৩৫) জানায়, এ কাজ করেই তিন ছেলেমেয়ের সংসারের চালার তিনি। স্বামী অনেক দিন আগে তাকে ছেড়ে চলে গেছে। তিনি জানান, মূলত থ্রিপিস, ওড়না, শাড়িতে তারা আকর্ষণীয় চুমকি বসানোর কাজ করতে হয়। একটি শাড়িতে চুমকি ও পুঁতি বসিয়ে ২৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত পান। এটা ঈদ উপলক্ষে। ঈদ চলে গেলে আরও কম টাকা দেয়া হয়। তিনি জানান, এখনতো রাত-দিনই চলছে কাজ। খাওয়ারও সময় পাই না। রবার্টসনগঞ্জ এলাকার ছাত্রী তাহমিদা (১৮) বলেন, বিভিন্ন শো-রুমের মালিকরা তাদের কাছে শাড়ি, পুঁতি, চুমকি ইত্যাদি সরবরাহ করে। তারা শুধু বিভিন্ন আকর্ষণীয় বস্তু শাড়ি, জামা ও ওড়নায় মালিকদের দেওয়া নকশা অনুযায়ী শাড়িতে স্থাপন করেন। বিভিন্ন শাড়িতে কাজের বিভিন্ন মজুরি আছে আবার কাজের তারতম্যের উপরও মজুরি কমবেশি হয়ে থাকে বলে। একটি সূতি শাড়িতে কাজ করলে ১৫০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা পাওয়া যায়। আবার জরজেট শাড়িতে কাজ করলে ৩০০ টাকা পাওযা যায়। তবে কাতান শাড়ির মজুরি ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। লেহেঙ্গা এবং থ্রিপিসের কাজের মজুরি নির্ভর করে কাপড়ের উপর ভিত্তি করে। মাহিগঞ্জ এলাকার আফসারী বেগম বলেন, সাধারণ একজন  মহিলা  একটি সুতি শাড়ি ১ থেকে ২ দিনে, জরজেট শাড়ি ১ সপ্তাহ এবং কাতান শাড়ি ১০ দিনে করা সম্ভব। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরাও  এ কাজে সহায়তা করে থাকেন। শিক্ষার্থী লাবনী বলেন, প্রায় ৫ বছর ধরে তার বোন এবং মায়ের দেখাদেখি সে ও এ কাজ করছে। এতে তার যে আয় হয় তা লেখাপড়ার কাছে ব্যয় করে। কারমাইকেল কলেজের অনার্স পড়–য়া ছালমা বেগম জানান, তিনি লেখাপড়ার ফাঁকে ফাঁকে জাম ও শাড়িতে চুমকি বসানোর কাজ করেন। এতে প্রতি মাসে তার ৩ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা আয় হয়। এ টাকা তিনি প্রাইভেট পড়া এবং সংসারের জন্য ব্যয় করেন। ব্যবসায়ী আবদুল হামিদ ও কাওসার জানান, ঈদে চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি, জামা ও ওড়না ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় বড় মার্কেটের দোকানিদের সরবরাহ করতে পারছি না। আমরা সব কিছুই মহিলাদের সরবরাহ করি। আর তারা রাত-দিন কাজ করেও সময়মতো এসব কাজ ডেলিভারি দিতে পারেন না। এখন কাজের চাপ অনেক বেড়ে গেছে। তারা জানান তাদের মতো অনেকে রংপুরে এসে এসব কাজ করে নিয়ে যায়। কারণ এখানে কম টাকা কাজ ভাল পাওয়া যায়। এ কাজ করে রংপুরে ৩ শতাধিক বেশি পরিবারের মহিলা সংসার চালাচ্ছেন। রংপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম তোতা জানান, শাড়ি, জামা ও ওড়নার চুমকি বসানোর কাজ করে অনেক মহিলা স্বাবলম্বী হয়েছেন। এতে করে বেকারত্বের অভিশাপ থেকে এখানকার বিভিন্ন বয়সী মানুষ মুক্ত হচ্ছে। সরকারের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে এটি একটি সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। এ কাজ আরও ব্যাপকহারে বাড়াতে সরকারি- বেসরকারিভাবে উদ্যোগ নিয়ে একটি প্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে উঠলে ভালো হতো। অনেক স্কুল-কলেজ পড়–য়া মেয়ে এ কাজ করে তাদের শিক্ষার ব্যয় নির্বাহ করছে। এটা অত্যন্ত ভাল। তবে শ্রম অনুযায়ী মজুরির দিকে ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য রাখা উচিত।

Thursday, June 25, 2015

রংপুরে জেলা প্রশাসক সিভিল সার্জনসহ ৭১ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ by জাভেদ ইকবাল

রংপুর জেলা প্রশাসক, সিভিল সার্জন ও বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের বাসভবন, জেলখানা হাসপাতালসহ ৭১ ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ভূমিকম্পে ফাটল দেখা দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে ঢাকায় সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। তাদের পরামর্শে জেলা প্রশাসক দ্বিতীয় তলার বাসভবন ছেড়ে দিয়ে নিচতলায় এসে বসবাস করছেন। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, রংপুর বিভাগে দুটি জেলায় ভূমিকম্পে ৬৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যার ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকার ওপরে। এতে করে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবনের বাইরে খোলা মাঠে রোদ বৃষ্টি উপেক্ষা করে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এছাড়া ভূমিকম্পে আরও অনেক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তা এখনও তাদের ক্ষতির তালিকায় আসেনি। প্রাথমিক শিক্ষা রংপুর বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্যানুযায়ী জানা যায়, ২৫, ২৬ ও ২৭শে এপ্রিল এবং ১২ই মে ভূমিকম্পে রংপুর জেলার ৪২টি এবং গাইবান্ধা জেলায় ২৫টি বিদ্যালয় ভবনের ছাদ, দেওয়াল এবং ইটের গাঁথুনিতে ফাটল দেখা দিয়েছে। ভূমিকম্পের রংপুর জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদের বাসভনের ছাদ এবং দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এছাড়া সিভিল সার্জন এবং বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের বাসভবন এবং জেলাখানার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরপর গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বাহাদুর আলী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসব ভবন ঝুুঁকিপূর্ণ বলে ঘোষণা করেন। যে কোন সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে তাই এসব ভবনে কাউকে না থাকারও পরামর্শ দেন। এরপর জেলা প্রশাসক তার বাসভবনের দ্বিতীয় তলা ছেড়ে নিচতলায় বসবাস করছেন। জেলা প্রশাসক ফরিদ আহাম্মদ জানান, ঝুঁকি নিয়েই নিচতলায় বসবাস করছি। বিষয়টি ঢাকায় জানানো হয়েছে। অপরদিকে, রংপুর জেলা প্রাথমিক অফিসার এম খলিলুর রহমান জানান, রংপুরে ৪২টি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে গংগাচড়া উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে, চেংমারী মান্দ্রাই, মান্দ্রাইন, খলেয়া গঞ্জিপুর, উত্তর কিশামত গনেশ, কুতুব, আলে কিশামত দক্ষিণপাড়া, কিশামত কুতুব, পূর্ব খলেয়া, পাইকান জুম্মাপাড়া এবং পশ্চিম খাপড়িখাল। তারাগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় হচ্ছে মধুরামপুর, কুর্শা দর্জিপাড়া, ইমামগঞ্জহাট, বরাতি, সয়ার ধোলাইঘাট, চিলাপাক, কাংলাচড়া, বুড়িহাট এবং সয়ার দামোপুর চাকলার পাড়। পীরগঞ্জ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে রাজে শিবপুর, কাঞ্চনপুর, কুমেদপুর, শেরপুর, ফরিদপুর, ঘোষপুর এবং রসুলপুর, মাদারপুর, মকিমপুর-১, ঘোনা চতরা, হিজলা গাড়ি, পল্লী মঙ্গল, দশমৌজা, বড় ফলিয়া, বড় মজিদপুর এবং আবদুল্লাপুর। পীরগাছা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় হচ্ছে হরিরামপুর হাজী এলাহী বকস এবং চৌধুরানী ১ নং। বদরগঞ্জ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয় হচ্ছে কালিজানি, ঘাটবিল, দামোদরপুর পোদ্দারপাড়া, দক্ষিণ বাওচন্ডী এবং ধর্মপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার একেএম আমিরুল ইসালাম স্বাক্ষরিত পত্রে ২৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ক্ষতিগ্র্রস্ত বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে জামাদারেরর চর, ভাটির চর, কাঠগড়া, বামন ডাঙ্গা বালিকা এবং জামালের হাট। সদর উপজেলার পশ্চিপাড়া, দাড়িয়ারপুর, পূর্ব গোবিন্দপুর, বাদিয়াখালী, ভগবানপুর, ফুলছড়ি, আবদুল্লাহ মেমোরিয়াল, আট গড়গড়িয়া এবং শাহবাজের পাড়া। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যালয়গুলো হলো বিশুবাড়ি, বালুয়া, গুমানিগঞ্জ, উত্তর ছয়ঘড়িয়া, উত্তর সিংগা, উত্তর পোগাইল নয়াপাড়া, আখিরা, কৌচাকৃষ্ণপুর, ক্রোড়গাছা সুইচ গেট এবং কাজলা। প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত এসব বিদ্যালয়ের ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা হবে। চেংমারী মাদ্রাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছালমা বেগম, আতিকা জানান ও রুবেল মিয়া জানায় ভূমিকম্পে তাদের বিদ্যালয় ভবনের ছাদ অনেকটা খসে পড়েছে। দেয়ালেও ধরেছে ফাটল। তাই তারা ভয়ে বিদ্যালয় ক্লাসরুমের ভেতরে যাচ্ছে না। বাইরে বসে ক্লাস করছে। মাদ্রাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফিফা, লতিফা বেগম, হামিদ মিয়া জানায়, আমরা ভয়ে ক্লাস রুমের ভেতরে প্রবেশ করি না, যদি ছাদ ভেঙে মাথায় পড়ে। তাই রোদে কষ্ট হলেও গাছতলায় ও মাঠে ক্লাস করছি আমরা। রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মাদ্রাইন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম জানান, ভূমিকম্পে বিদ্যালয়টির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যালয় ভবনটি দেবে গেছে। অনেক স্থানে ছাদ খুলে পড়েছে। তাই দুর্ঘটনা এড়াতে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কক্ষের বাইরে ক্লাস করতে হচ্ছে। যে কোন সময় ভবনটি ধসে পড়তে পারে। তিনি দ্রুত বিদ্যালয়টি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ তালুকদার জানান, এখন পর্যন্ত শুধু রংপুর ও গাইবান্ধা জেলায় ভূমিকম্পে প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনের ক্ষতির বিষয়টি তারা পেরেছেন। বিষয়টি তারা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অবহিত করেছেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে সভাও হয়েছে বলে তিনি জানান। খুব দ্রুত বিদ্যালয় ভবন মেরামতের জন্য ক্ষতিপূরণের অর্থ পাওয়া যাবে।

Tuesday, May 26, 2015

রংপুরে জনজীবন অতিষ্ঠ, বিদ্যুৎ অফিস ভাংচুর by জাভেদ ইকবাল

রংপুরে লোডশেডিংয়ে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দিন-রাত সমান তালে চলছে বিদ্যুতের ভেলকিবাজি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ থাকছে না। এতে করে একদিকে যেমন কলকারখানার উৎপাদনসহ ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা নেমে এসেছে অপরদিকে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটছে। এমন কি মধ্য রাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের কারণে স্থানীয় দৈনিক পত্রিকাগুলো ছাপাতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিদ্যুতের আসা-যাওয়া এমন লুকোচুরি খেলা যেন দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে জ্যৈষ্ঠর দাবদাহ ভ্যাপসা গরম তার উপর লোডশেডিং। এ দুই মিলে ফুঁসে উঠেছে রংপুরবাসী। অবস্থা হয়ে উঠেছে বেসামাল। পরিস্থিতি উত্তপ্ত আকার ধারণ করার কারণে ইতিমধ্যে দুবার হামলা চালানো হয়েছে বিদ্যুৎ অফিসে। ভাঙচুর করা হয়েছে ব্যাপক। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধসহ বিক্ষোভ করেছে সর্বস্তরের মানুষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদ্যুতের লোডশেডিং বন্ধের দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় নগরীর লালবাগ শান্তিনগর এলাকার কারমাইকেল কলেজ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে রংপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে দরজা-জানালা ভাঙচুর করেছে। এরপর তারা সড়ক অবরোধ করে রাখে। এ সময় রাস্তার দু’পাশের শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যানজটের সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগে কর্মরত এজাজুল ইসলাম নামে এক আনসার কর্মকর্তাকে আহত করে। পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করলে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলে র‌্যাবকে আহ্বান করা হয়। পরে সকলের হস্তক্ষেপে সমস্যা সমাধানের আশ্বাসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আর এসব কারণে আতঙ্কে ভুগছে বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। রংপুর বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোস্তাফিজার রহমান বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। এরপরও আমাদের আতঙ্কে ভুগতে হচ্ছে। উত্তেজিত জনতা ফ্যামিলি কোয়ার্টারসহ অফিসে হামলা করেছে। এতে আমরা নিরাপত্তাহীনতা বোধ করছি। রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুল কাদের জিলানী বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে যে ঘটনা ঘটেছে তা পুনরাবৃত্তি না হয় সেদিকে পুলিশের কড়া ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। রংপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, রংপুর নগরীর বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র রয়েছে দুটি। এর মধ্যে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র-১ এবং কটকিপাড়া এলাকায় বিতরণ কেন্দ্র-২। এ দুুটি বিতরণ কেন্দ্রের মাধ্যমে রংপুর নগরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়ে থাকে। দুটি কেন্দ্রের মধ্যে ২৫ মেগাওয়াট করে দুটি কেন্দ্রে প্রতিদিন বিদ্যুতের চাহিদা ৫০ মেগাওয়াট। আর গ্রাহক সংখ্যা রয়েছে প্রায় ৬৫ হাজার। এ দুই কেন্দ্রের মধ্যে বিতরণ কেন্দ্র-১ এ গ্রাহক ২৯ হাজার ও বিতরণ কেন্দ্র-২ এ ৩৬ হাজার।  ভোগান্তির শিকার নগরীর গুপ্তপাড়া এলাকার মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সদরুল আলম দুলু জানান, বহুদিন থেকে শুধু শুনেই আসছি এ সমস্যা আর থাকবে না। খুব শিগগির এ সমস্যার সমাধান হবে। কিন্তু ঠিক আর হয় না। এক বছর আগেও এমন কথা বলা হয়েছে। সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি চক্র এসব করে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলছে। মাহিগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী হাশেম আলী জানান, বিদ্যুৎ কখন আসবে আর কখন থাকবে না তা নিয়ে আমরা বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছি। ঠিকভাবে ব্যবসা করতে পারছি না। অনেক দিন থেকেই শুনে আসছি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ট্রান্সফরমার বসানো হচ্ছে। সেবার কথা বলা হলেও তেমন কোন সেবা নেই। সারা দিনে অন্তত ১৫ থেকে ১৬ বার বিদ্যুৎ যায় আবার আসে। কবি সোহরাব হোসেন দুলাল হারানো দিনের মাহমুদুন্নবীর গাওয়া গানের সুর ধরে বলেন, এ আঁধার কখনও যাবে না মুছে, আমার পৃথিবী থেকে এ গান শুনে ছিলাম। প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন বিদ্যুতের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে। তারপরও চলছে সমানতালে লোডশেডিং। তাই আমিও গানের সুরে বলতে চাই ‘এ আঁধার কখনও যাবে না মুছে আমার বাংলাদেশ থেকে।’ রংপুর বিদ্যুৎ বিতরণ-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মর্তুজা জানায়, এ বিতরণ কেন্দ্রে ৪০ এমভিএ (মেগাভোল্ট অ্যাম্পায়ার) দুটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার থাকায় এর আওতায় এলাকাগুলোর বিদ্যুৎ বিতরণে তেমন অসুবিধা হয় না। তবে ট্রান্সফরমারসহ কিছু কাজের জন্য মাঝে মধ্যে মাইকযোগে প্রচার চালিয়ে বন্ধ রাখা হয় বিদ্যুৎ। এদিকে, বিতরণ কেন্দ্র-১ এর আওতাভুক্ত এলাকাগুলোয় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে অন্তত দুবার। এর ফলে প্রচণ্ড গরমে গ্রাহকদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে নগরীর মাহিগঞ্জ, সাতমাথা, খাসবাগ, নূরপুর, গুপ্তপাড়া, কামালকাছনা, শালবন, শালবন মিস্ত্রিপাড়া, জুম্মাপাড়া, সেন্ট্রাল রোড, কলেজ রোড, শাপলা, বৈরাগীপাড়া, রবার্টসগঞ্জ, মণ্ডলপাড়া, তাজহাট, বাবুপাড়া, গোসাইবাড়ী, বড় রংপুর। এ বিতরণ কেন্দ্রের গ্রাহক ৩৬ হাজার। এব্যাপারে বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্র-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণি বলেন, ১৯৯২ সালে এ কেন্দ্রে ২০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন যে ট্রান্সফরমার বসানো হয়েছে বর্তমানে  তা দিয়ে আর চলছে না। কেননা, এর চেয়ে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ বেশি। লোড নিতে পারছে না  ট্রান্সফরমারটি। তাই ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এ সমস্যা সমাধানে নগরের মাহিগঞ্জে আরও একটি ২০ এমভিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার বসানো হচ্ছে। কাজ প্রায় শেষের দিকে। এটি চালু হলে এ সমস্যা আর থাকবে না।

Friday, October 17, 2014

নিয়ন্ত্রণহীন রংপুর আওয়ামী লীগ by জাভেদ ইকবাল

আওয়ামী লীগ রংপুরে কোন্দল বৃত্তেই ঘুরছে। দলের রাজনীতি ছেড়ে নেতাকর্মীরা তদবির, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, দখলবাজিতে মেতে উঠেছে। নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে দলের নেতাকর্মীরা। জেলা প্রশাসন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১৫ই আগস্ট শোকদিবসকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন থেকে ৩ টন চাল তুলে নামমাত্র বঙ্গবন্ধু স্মরণে শোকসভা করে বাকি টাকা লোপাট করেছে মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা। এছাড়া তদবিরের লেনদেনকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে লাঞ্ছিত করা হয়েছে তথ্য গবেষণা সম্পাদক এজাজ মাহামুদ রঞ্জুকে। ছাত্রলীগ মেডিকেল কলেজ শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের চাঁদাবাজি, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে রংপুর মেডিকেল কলেজে ৪৩ ছাত্রলীগ নেতাকর্মী পদত্যাগ করে। অভিযোগে জানা যায়, কমিটি গঠনের পর থেকে সভাপতি মাহমুদুর রহমান রিফাত ও সাধারণ সম্পাদক তৌফিক হাসানসহ তাদের অনুসারীরা বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার এবং চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠে। ফলে কলেজে দলের কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়ে। এ কারণে ছাত্রলীগ মেডিকেল কলেজ শাখার ৬৩ সদস্যের কমিটির মধ্যে ৪৩ জন নেতাকর্মী লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা দেলোয়ার তালুকদার বলেন, দলের যে অবস্থা বিরাজ করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তিনি বলেন, কতিপয় নেতাকর্মীর জন্য পুরো দলের নেতাকর্মীর বদনাম হচ্ছে। দলে কোন বিরোধ ও কোন্দল নেই এমন দাবি করে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট রেজাউল করিম রাজু বলেন, দলের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলছে। বিভিন্ন অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, বড় দল হিসেবে অভিযোগ উঠতেই পারে। তবে আমাদের কাছে এমন অভিযোগ আসেনি, যা দলের জন্য শুভকর নয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছে। দলের কার্যক্রমে স্থবিরতা নেমে এসেছে। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি না হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় আসার পর কতিপয় নেতাকর্মীরা দলের চেয়ে ব্যক্তি উন্নয়নে মেতে উঠেছে। টেন্ডারবাজি, তদবিরবাজিসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত। রংপুরে দলের এমন অবস্থার কথা জানতে পেরে নাখোশ হয়েছেন দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আর তাই দলকে সুসংগঠিত করতে রংপুর বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরীকে নির্দেশ দিয়েছেন। রংপুর সিটি করপোরেশন মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু, এমপি এইচএন আশিকুর রহমান, টিপু মুন্সিসহ শীর্ষ নেতা থাকা সত্ত্বেও দলের এমন বেহাল অবস্থার জন্য নেতাকর্মীরা তাদেরকেও দায়ী করেন। নেতাকর্মীরা জানান, মেয়র ও এমপিরা দলের তদারকি করে অবস্থান শক্ত করতে পারেন। কিন্তু কোন্দল ও বিরোধের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। রসিক মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রংপুর সিটি নির্বাচনে দলের কতিপয় নেতাকর্মী আমার বিরুদ্ধে দলের মহানগর সভাপতি সাফিয়ার রহমানকে প্রতিদ্বন্দ্বী করে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। তারা আমাকে আগে থেকেই ডেডহর্স ঘোষণা করেছে। ফলে দলের প্রতি কোন আগ্রহ নেই। ক্ষোভের সঙ্গে অভিযোগ করে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা ডা. দেলোয়ার হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতি করেও দলের নেতাদের মন জয় করতে পারিনি। নব্য আওয়ামী লীগ নেতারা উপজেলা নির্বাচনে আমার বিরুদ্ধে প্রার্থী দিয়ে আমাকে ঠেকানো আন্দোলন করে সার্থক হয়েছে। ওদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের নেতাকর্মীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, কোন্দল, বিরোধসহ গ্রুপিং চলে আসছে। দলে কখন সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হয়েছে তা এখন কেউ সঠিক করে বলতে পারছে না। তবে অনুমান করে জানান, এক যুগেরও বেশি সময় পার হয়েছে। কিন্তু সম্মেলনের মাধ্যমে কোন কমিটি হয়নি।

Saturday, October 11, 2014

বেকায়দায় এরশাদ by জাভেদ ইকবাল

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রংপুরে বেকায়দায় পড়েছেন। দলের পদ থেকে অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রতিপক্ষ স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা সমর্থকদের কাছ থেকে দলীয় কার্যালয় দখলে নিতে পারছেন না এরশাদ সমর্থকরা। তার সামনে দফায় দফায় হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। নীরব ভূমিকা পালন করছে পুলিশ প্রশাসন। বিক্ষুব্ধ এরশাদ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন, জাতীয় পার্টি ও এরশাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। রাঙ্গা আমার দলের হতে পারে না। তিনি বলেন, আমি দলের চেয়ারম্যান। যে কমিটি করেছি ওই কমিটিই চূড়ান্ত। এর কোন পরিবর্তন হবে না। দলকে সুসংগঠিত করতে যা যা করা দরকার তাই করা হবে। কারও হাতে দলের কর্তৃত্ব দেয়া হবে না। দলের স্বার্থে আমাকে কঠোর হতে হবে। ওদিকে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, আর যাই হোক যারা রংপুরে তৃণমূল জাতীয় পার্টি গঠন করে দলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে সেই মোস্তফা, মানিক ও ইয়াসিরসহ অন্যদেরকে কোনভাবেই মেনে নেবে না জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। ওদিকে জাতীয় পার্টির নবগঠিত মহানগর কমিটি আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, তৃণমূল জাতীয় পার্টি গঠন করার পেছনে নেপথ্যে ছিলেন মসিউর রহমান রাঙ্গা। তার কারণে এটি হয়েছিল। দল ও এরশাদকে ভালবাসি বলেই তৃণমূল জাতীয় পার্টির মাধ্যমে রংপুরে দলের অবস্থান ধরে রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ষড়যন্ত্র করে আমাদেরকে দল থেকে দূরে রেখে তারা দলের অস্তিত্বকে বিলীন করে ফেলেছে। যার প্রমাণ সংসদ ও উপজেলা নির্বাচন। ঈদ উপলক্ষে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ গত ৩রা অক্টোবর রংপুরে এলে তার সামনে দু’গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি, ভাঙচুরসহ ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
উল্লেখ্য, গত ১০ই সেপ্টেম্বর জাপা কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং রংপুর জেলা ও মহানগর কমিটির সভাপতির পদ থেকে প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে বাদ দিয়ে রংপুর জেলা ও মহানগর আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন মাস্টারকে আহ্বায়ক ও বিলুপ্ত কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল মাসুদ চৌধুরী নান্টুকে যুগ্ম আহবায়ক এবং সাবেক এমপি এরশাদের ভাতিজা হোসাইন মকবুল শাহরিয়ারকে সদস্য সচিব করে জেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কৃত সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফাকে আহবায়ক, এসএম ইয়াসিরকে সদস্য সচিব করে মহানগর কমিটি গঠন করা হয়। স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গাকে স্বপদ ফিরিয়ে দেয়ার দাবিতে দলীয় কার্যালয় দখলে নেয় রাঙ্গা সমর্থকরা  বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে। ফলে দেখা দেয় টানটান উত্তেজনা। এ নিয়ে গত ২০শে সেপ্টেম্বর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে দু’গ্রুপ সমাবেশ আহ্বান করায় সেখানে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। পরে শাপলা চত্বরে মোস্তফা গ্রুপ সমাবেশ করতে চাইলে প্রতিপক্ষ বাধা দেয়। এতে সংঘর্ষে ৩০ জন আহত হয়।