Thursday, April 20, 2017

বাবরি মসজিদ ধ্বংস : যেভাবে রং পাল্টেছিলেন বাজপেয়ী

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের আগের দিন তার বিস্ফোরক বক্তৃতা যেমন শিহরণ জাগিয়েছিল, তেমনই বাবরি ধ্বংসের পর তা নিয়ে দুঃখপ্রকাশও আলোড়ন জাগিয়েছিল৷ আলোচনার কেন্দ্রে থাকা ব্যক্তিটি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী৷ ২৫ বছর পর সুপ্রিম কোর্ট যখন বাবরি ধ্বংস মামলায় লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলি মনোহর যোশী ও উমা ভারতীর বিরুদ্ধে শুনানি শুরুর নির্দেশ দিয়েছে, তখন স্বাভাবিকভাবেই উঠে আসছে বাজপেয়ীর নামও৷ ১৯৯২-এ বাবরি ধ্বংসের আগের দিন ভজন, কীর্তন গেয়ে হিন্দু করসেবকদের রাম জন্মভূমি কেড়ে নেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন বাজপেয়ীও৷ দাঙ্গায় উস্কানি দেওয়ার অভিযোগ তার বিরুদ্ধেও উঠেছিল৷ সে দিন জলপ্লাবনের মতো জনসমাগমকে উদ্দেশ করে বাজপেয়ী বলেছিলেন, ‘অযোধ্যায় করসেবা করা আদালতের নির্দেশের অবমাননা নয়৷ বরং কর সেবা করেই আমরা সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মান্য করব৷’ বিতর্কিত ভূমিতে কোনো ধরনের নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছিল কোর্ট৷ তা মেনে নিয়েই বাজপেয়ীর পরামর্শ ছিল, অন্যভাবে ওই ভূমিতে অধিকার স্থাপন করতে হবে৷
গান, ভজন, যজ্ঞের মাধ্যমে সেই মঞ্চ প্রস্ত্তত করতে হবে৷ বাবরি মসজিদ ভেঙে দেওয়ার পরোক্ষ ইঙ্গিতেই বলেছিলেন, ‘ধারালো পাথর বেরিয়ে এসেছে, সেখানে কেউ বসতে পারবেন না৷ সেই ভূমিকে সমান করা প্রয়োজন, বসার উপযুক্ত করে গড়ে তোলা প্রয়োজন৷’ এর পর দিনই, ৬ ডিসেম্বর বাবরি ধ্বংস৷ আর তার পর সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ অন্য সুর শোনা গিয়েছিল বাজপেয়ীর গলায়৷ বলেছিলেন, ‘খুবই দুর্ভাগ্যজনক৷ এটা ঘটা উচিত ছিল না৷ আমরা এই ঘটনা আটকানোর চেষ্টা করেছিলাম, কিন্ত্ত সফল হয়নি৷ আমরা দুঃখিত৷’ বাবরি ধ্বংস আটকাতে না পারার কারণ জিজ্ঞাসা করেছিলেন সাংবাদিক৷ উত্তর মিলেছিল, ‘করসেবকদের একাংশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল৷ বিতর্কিত নির্মাণের কোনো ক্ষতি ওরা করবে না বলে যে আশ্বাস দিয়েছিল, তা পালন করেনি৷’ বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলায় কী ভাবে রাজনীতিকরা সুর বদলেছেন, তার অন্যতম প্রমাণ হিসেবে বাজপেয়ীর এই ভিডিওকে তুলে ধরা হয়৷ মামলার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে ফিরে এল সেই স্মৃতিই৷

বিএনপিকে নির্বাচনে আনার চেষ্টা করুন: ফখরুল

বিএনপিকে কীভাবে নির্বাচনে আনা যায়, সে চেষ্টা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, নিবন্ধন বাতিলের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ সভায় এ কথা বলেন তিনি। এম ইলিয়াস আলীসহ দলের নেতা কর্মীদের গুম খুনের প্রতিবাদে সকাল সাড়ে ১০টায় দলের এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে বিএনপি। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান। সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনে যেতে চায়। বিএনপি একটি নির্বাচনমুখী দল। কিন্তু সে পথ তৈরি করতে হবে। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকে কলকাঠি নাড়বে আর নির্বাচন করবে, তা হবে না, তা হবে না।
নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হবে না। বিএনপি ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে পারে না।’ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জায়গায় জায়গায় নতুন কমিটি করা হচ্ছে। সবাই সংগঠিত হয়ে মহল্লায় মহল্লায় কমিটি করতে হবে। বিএনপির দুর্গ গড়ে তুলতে হবে।  প্রধানমন্ত্রীর শেখ হাসিনার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের মানুষকে পঙ্গু করে, দেশের রাজনীতিকে প্রতিবন্ধী করে প্রধানমন্ত্রী অটিজম বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিতে ভুটান গিয়েছিলেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকেও ব্যর্থ দাবি করে তিনি বলেন, এ সরকারের পেছনে জনগণ থাকলে প্রধানমন্ত্রী তিস্তা চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অন্য কোনো চুক্তি করতেন না। এ সরকার জনবিচ্ছিন্ন বলে গুম খুন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। তিনি অভিযোগ করেন, ইলিয়াস আলীসহ বিএনপির পাঁচ শতাধিক নেতা কর্মীকে গুম করা হয়েছে।

মাঠে নামতে পারাই ঢাকা মহানগর বিএনপির চ্যালেঞ্জ

সংগঠন গোছানো এবং নেতা-কর্মীদের নিয়ে মাঠে নামতে পারা হবে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নতুন নেতৃত্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ। দলটির নেতা-কর্মীরা বলছেন, এর আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই নেতা সাদেক হোসেন খোকা ও মির্জা আব্বাস এ ক্ষেত্রে কার্যত ব্যর্থ হয়েছেন। বর্তমান প্রেক্ষাপট, অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব ও কমিটি নিয়ে কিছু সংখ্যক নেতা-কর্মীর হতাশার কারণে শেষ পর্যন্ত নতুন কমিটি কতটুকু সফল হবে তা নিয়ে অনেকে সন্দিহান। অবশ্য বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশা করেন, ঢাকা মহানগর বিএনপির নতুন কমিটি সামনের দিনে আন্দোলন সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। গতকাল নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এই কমিটি করা হয়েছে। এদের আন্দোলন সংগ্রামের অভিজ্ঞতা আছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য প্রথম আলোকে বলেন, সামনের দিনে আন্দোলন সফল করতে হলে ঢাকায় তা জোরদার করতে হবে। এ চিন্তা থেকে নতুন কমিটি করা হয়েছে।
কমিটি কিছুটা গুছিয়ে ওঠার পর বিএনপি ক্রমান্বয়ে কর্মসূচিতে যাবে। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণের কমিটি (আংশিক) ঘোষণা করে বিএনপি। উত্তরের সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে সাবেক কমিশনার আব্দুল কাইয়ুমকে। বিদেশি নাগরিক সিজার তাবেলা হত্যা মামলার আসামি কাইয়ুম দীর্ঘদিন থেকে বিদেশে অবস্থান করছেন। দলটির নেতারা মনে করেন, শিগগির তাঁর দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম। উত্তরের সাধারণ সম্পাদক আহসান উল্লাহ হাসানও আসা যাওয়ার মধ্যে বা আত্মগোপনে থাকেন। এ অবস্থায় উত্তরে নতুন কমিটি করা বা আন্দোলন চাঙা করা কঠিন হবে।  এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপি ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বিদেশ থেকে মোবাইল ফোনে প্রথম আলোকে বলেন, বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে শারীরিকভাবে উপস্থিত না থেকেও নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা বা দিক নির্দেশনা দেওয়া কঠিন কিছু নয়। তাঁর সঙ্গে নেতা-কর্মীদের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের মূল চ্যালেঞ্জ মানুষের ভোটের অধিকারের আন্দোলন সফল করা। প্রায় দুই দশক ধরে ঢাকা মহানগর বিএনপির রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকা এবং মির্জা আব্বাস। ১৯৯৬ সালে খোকা মহানগর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন। সর্বশেষ ২০১১ সালে ১৪ মে তাঁকে আহ্বায়ক করে কমিটি হয়। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচন প্রতিহতের আন্দোলনে এই কমিটির ভূমিকা নিয়ে দলে প্রশ্ন ওঠে। কারণ ঢাকায় নেতা-কর্মীদের মাঠে দেখা যায়নি। খালেদা জিয়াও ঢাকা কমিটিকে ব্যর্থ বলেছিলেন। এ অবস্থায় ২০১৪ সালের ১২ মার্চ সংবাদ সম্মেলন করে মহানগরের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন খোকা। ওই বছরের ১৮ জুলাই খোকার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী মির্জা আব্বাসকে আহ্বায়ক ও হাবিব উন নবী খানকে সদস্যসচিব করে নতুন কমিটি করা হয়।
ওই কমিটিকে এক মাসের মধ্যে মহানগরের সব ওয়ার্ড ও থানায় কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তারা তা পারেনি। রাজপথে তেমন কোনো কর্মসূচিতেও ওই কমিটিকে দেখা যায়নি। বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন কমিটিতেও খোকা এবং আব্বাসের সমর্থকদের প্রাধান্য আছে। তবে খোকার অনুসারী হিসেবে পরিচিতরা তুলনামূলক বেশি ও গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েছেন। এর বাইরে স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য, একজন ভাইস চেয়ারম্যানের অনুসারীরা কমিটিতে প্রাধান্য পেয়েছেন। খোকা-আব্বাসের অনুসারীদের অবস্থান কেমন হয়, তা-ও নতুন দুই কমিটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ প্রায় দুই দশক ধরে এই দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে কোন্দল আছে। দীর্ঘদিন থেকে ওয়ার্ড বা থানায় নতুন কমিটি না হওয়ায় জট লেগে আছে। জানতে চাইলে হাবিব উন নবী খান সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, তাঁদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো তৃণমূল পর্যন্ত সংগঠন শক্তিশালী করা। গণতন্ত্রহীনতা, মানবাধিকার লঙ্ঘন-এসবের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলে রাজপথে আন্দোলন তৈরি করা এবং ভোটারবিহীন কোনো নির্বাচন হলে তা প্রতিরোধ করা। সে ক্ষেত্রে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা সফল হবেন বলে আশা করেন।
ক্ষোভ হতাশা: নতুন কমিটিতে জায়গা না পেয়ে বা প্রত্যাশিত পদ না পেয়ে মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীদের অনেকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়েছেন। মহানগর বিএনপির একটি সূত্র জানায়, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন কমিশনার কমিটিতে পদ পাননি। এটি নিয়ে তাঁদের ক্ষোভ আছে। তবে যেহেতু এখনো কমিটি পূর্ণাঙ্গ হয়নি তাই তাঁরা এখনো আশাবাদী। আবার কেউ কেউ পদ পেয়েও খুশি নন। নবীউল্লাহ নবী ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী ছিলেন। কমিটিতে তাঁকে সহসভাপতি করা হয়েছে। এ নিয়ে তিনি ক্ষুব্ধ। পাশাপাশি তাঁর অনুসারী অনেকেও হতাশ হয়েছেন। নবী বিএনপি থেকে পদত্যাগ করার চিন্তা করছেন। জানতে চাইলে নবীউল্লাহ নবী প্রথম আলোকে বলেন, আন্দোলন সংগ্রামের জন্য নতুন কমিটি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়েছে। তবে তিনি শারীরিক অসুস্থতা ও ব্যক্তিগত কারণে দু-এক দিনের মধ্যে পদত্যাগ করবেন। নেতা-কর্মীদের ক্ষোভ-হতাশার বিষয়ে হাবিব উন নবী বলেন, নতুন কমিটি হলে কিছু সমস্যা থাকে। সবার সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধান করা হবে। আর উত্তরের সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম বলেন, তিনি সেভাবে কোন ক্ষোভ হতাশা দেখছেন না। নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে।

ওদের দেখে আঁতকে উঠতে হয়

ওঁদের শরীর ঝলসে গেছে। যন্ত্রণায় ছটফট করছেন। দেখলে আঁতকে উঠতে হয়। বিষণ্ন স্বজনেরা পাশে বসে আছেন। চলছে চিকিৎসকদের ছুটোছুটি আর ব্যস্ততা। দিনাজপুর শহরের যমুনা অটো রাইস মিলে গতকাল বুধবার সকালে বয়লার বিস্ফোরণে গুরুতর আহত শ্রমিকেরা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন। সেখানে গিয়েই এমন চিত্র দেখা গেল। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরিফুল (৩০) মারা যান। গতকাল মারা যান রঞ্জিনা (৪০) ও মোখলেস (৪৮)। এ নিয়ে মৃত শ্রমিকের সংখ্যা দাঁড়াল তিনে। বয়লার বিস্ফোরণে চিকিৎসাধীন দগ্ধ শ্রমিকেরা হলেন রঞ্জিত (৫০), মুকুল (৪৫), মুন্না (৩২), রোস্তম (৪৫), শরিফুল (১৯), উদয় চন্দ্র (২২), দুলাল (৩৫), সাইদুল (৪০), বীরেন্দ্র (৫০), মাজেদুল (৩৫), শফিকুল (৪৫), এনামুল (৪৫), দেলোয়ার (৫০), বাদল (৩৬), আনিসুল (৪৫), মনোরঞ্জন (৩৬)। তাঁদের মধ্যে ১৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। হতাহত ব্যক্তিদের বেশির ভাগই বয়লারের শ্রমিক। বার্ন ইউনিটের দায়িত্বে নিয়োজিত চিকিৎসক মারুফুল ইসলাম বলেন, ১৩ জনের শরীরের ৭০ থেকে ৯০ শতাংশ ঝলসে গেছে। আর অন্যদের ২০ থেকে ৪০ শতাংশ ঝলসে গেছে। বার্ন ইউনিটে দগ্ধ দুলালকে কোলে নিয়ে আগলে বসে আছেন তাঁর মামা উজ্জ্বল রায়।
দুলালের শরীরের এমনই অবস্থা যে বিছানায় শুইয়ে রাখা সম্ভব নয়। মামার কোলে বসে দুলাল যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। মুখে কোনো কথা নেই। মামা বললেন, সারা রাত ধরে এভাবেই বসে ছিলেন। তিনিও ঘুমাতে পারেননি। এমনি করে পালাক্রমে কাউকে না কাউকে ধরে থাকতে হচ্ছে। মুন্নাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। জ্ঞান নেই। স্ত্রী লিলি বেগম স্বামীর মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছেন। স্বামীই একমাত্র উপার্জনক্ষম। তিন সন্তান নিয়ে ভবিষ্যতে কী হবে, তা ভাবতে গেলে বুকটা ধড়ফড় করে ওঠে। অল্প দগ্ধ শফিকুলের শয্যায় ঘুমিয়েছে তাঁরই তিন বছরের একমাত্র সন্তান। পাশে থাকা স্ত্রী পারভীন আক্তার বলেন, ‘স্বামীর এমন অবস্থায় সংসার কীভাবে চলবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছি।’ দগ্ধ সাইদুল ইসলামের হাত ধরে বসে আছেন স্ত্রী পারভীন খাতুন। তিনি বলেন, ‘আমি এখন বড় অসহায়। স্বামীর এমন অবস্থায় চোখ-মুখ ঝাপসা হয়ে আসছে।’ বার্ন ইউনিটের দায়িত্বে নিয়োজিত সহকারী অধ্যাপক মারুফুল ইসলাম বলেন, দগ্ধ শ্রমিকদের চিকিৎসার যাবতীয় ওষুধ হাসপাতাল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে। হাসপাতালে পরিচালক মউদুদ আহমেদ বলেন, জরুরি চিকিৎসক দলের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

কৃষ্ণা কাবেরী হত্যা মামলায় বিচার শুরু

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে কলেজশিক্ষিকা কৃষ্ণা কাবেরী বিশ্বাস হত্যা মামলার একমাত্র আসামি কে এম জহিরুল ইসলামের বিচার শুরু হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করে ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নুরুদ্দিন আজ বৃহস্পতিবার আদেশ দেন। ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ মোহাম্মদপুরের নিজ বাসায় খুন হন কৃষ্ণা কাবেরী। গত বছরের ৩০ মে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন। অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি হলেন কে এম জহিরুল ইসলাম। আর মামলা থেকে মারুফ হায়দার নামের এক আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শেখ বাহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় জহিরুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়।
নিজেকে তিনি নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান। আদালতে উপস্থিত কৃষ্ণা কাবেরীর ভগ্নিপতি বিপ্লব বিশ্বাস প্রথম আলোকে বলেন, নৃশংসভাবে কৃষ্ণাকে খুন করা হয়েছে। তিনি আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান। মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ রাতে কৃষ্ণা কাবেরীর স্বামী সিতাংশু শেখর বিশ্বাসকে কেক ও ফুল নিয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে তাঁর মোহাম্মদপুরের ইকবাল রোডের বাসায় যান সিতাংশুর পূর্বপরিচিত কে এম জহিরুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তি। জহিরুল একপর্যায়ে সিতাংশু (৪৮), কৃষ্ণা কাবেরী (৩৫) ও দুই মেয়ে শ্রোভনা বিশ্বাস (১৫) ও অদ্বিতীয়া বিশ্বাসকে (৮) হাতুড়িপেটা করে বাসায় আগুন ধরিয়ে দেন। ওই ঘটনায় আহত ও অগ্নিদগ্ধ কৃষ্ণা কাবেরী পরে মারা যান। তিনি আদাবরের মিশন ইন্টারন্যাশনাল কলেজের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রভাষক ছিলেন। নিহত কৃষ্ণা কাবেরীর স্বামী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) উপপরিচালক সিতাংশু শেখর বিশ্বাস।

কীভাবে বাল্যবিবাহ ঠেকানো সম্ভব

মানুষকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে কে? এই প্রশ্নের সবচেয়ে স্বাভাবিক উত্তর হলো মা-বাবা। তাঁরা সন্তানের মঙ্গল কামনা করেন। কখনো কখনো তাঁরা সন্তানের মঙ্গলের স্বার্থে নিজের ক্ষতিও মেনে নেন। আসলে সন্তান জন্মদানের পর থেকে মানুষ বেঁচে থাকে ও কাজকর্ম করে যতটা নিজের জন্য, তার চেয়ে বেশি সন্তানের জন্য। সন্তানকে মানুষ করার মধ্য দিয়েই প্রত্যেক মা-বাবা নিজের জীবনের সার্থকতা খুঁজে পান।  কিন্তু বাংলাদেশের সমাজে বাল্যবিবাহ নামে একটা ব্যাপার আছে, যার মাধ্যমে মা-বাবা সন্তানের মঙ্গল করতে চেয়ে অমঙ্গল করেন। অল্প বয়সী মেয়েকে বিয়ে দিলে তার ক্ষতি করা হয়—এই সত্য অনেক মা-বাবা উপলব্ধি করতে পারেন না। গ্রামাঞ্চলের যেসব পরিবার অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে দেয়, তাদের অশিক্ষা ও অজ্ঞতার সীমা নেই। তারা জানে না, নারী পূর্ণ নারীত্বের বয়সে পৌঁছার আগে তার বিয়ে দিলে সন্তান ধারণ ও প্রসবের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে প্রসূতিমৃত্যুর হার বেশি হওয়ার অন্যতম বড় কারণ প্রসূতির বয়স কম। সন্তান জন্ম দেওয়ার সময়েই অনেক কিশোরী মারা যায়। যারা মারা যায় না, তাদের স্বাস্থ্য খুব খারাপ হয়। মায়ের স্বাস্থ্য খারাপ হলে নবজাতকের স্বাস্থ্যও ভালো হওয়ার কোনো উপায় থাকে না। আরও একটা বৈজ্ঞানিক সত্য হলো, কোনো কিশোরী গর্ভবতী হলে সন্তান জন্মদানের আগ পর্যন্ত সে নানা রকমের স্বাস্থ্যগত সমস্যা ও জটিলতায় ভোগে। সন্তান প্রসবের সময় মৃত্যুর ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি কিশোরী মায়েদের মধ্যে। অল্প বয়সী ও অপুষ্ট মায়ের গর্ভের সন্তান পর্যাপ্ত পুষ্টি পায় না। জন্মের সময় তার ওজন ও উচ্চতা হয় স্বাভাবিকের চেয়ে কম। সে কারণে আমাদের দেশে খর্বাকৃতি ও কৃশকায় নবজাতকের সংখ্যা অনেক বেশি।
কম ওজন আর কম উচ্চতা নিয়ে যে শিশুর জন্ম হয়, তার মা নিজেই ভগ্নস্বাস্থ্য হওয়ার কারণে শিশুটি জন্মের পরে বুকের দুধ পায় না; যারা পায়, তারা পর্যাপ্ত পরিমাণে পায় না। এসব শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ভীষণভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। আমাদের দেশে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির মাত্রা সবচেয়ে বেশি। তাদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও স্বাভাবিকের চেয়ে কম। তাই তারা ঘন ঘন অসুখে ভোগে। শিশুমৃত্যুর হারও সবচেয়ে বেশি এই বয়সী শিশুদের মধ্যেই।  এভাবে এটা তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, বাল্যবিবাহের ফলে কিশোরী মা ও তার সন্তান উভয়েরই মৃত্যুর ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। মৃত্যু না হলে তাদের স্বাস্থ্য হয় অত্যন্ত খারাপ। আর যে মানুষের স্বাস্থ্য খারাপ, তার ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হতে পারে না। এসব বিষয়ে সচেতনতার অভাবের কারণে বাল্যবিবাহের প্রকোপ আমাদের দেশে এত বেশি। তবে এসব ছাড়াও কিছু কারণ আছে। সেগুলোর একটা হলো দারিদ্র্য, অন্যটা নিরাপত্তাহীনতার বোধ। অনেক দরিদ্র মা-বাবা কিশোরী মেয়েকে দ্রুত বিয়ে দিয়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে চান এই জন্য যে এর ফলে মেয়ের ভরণপোষণ, লেখাপড়া ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক ব্যয়ভার থেকে তাঁরা মুক্ত হতে পারবেন। গরিব পরিবারের মেয়েশিশু যখন একটু বড় হয়, অর্থাৎ কৈশোরে পা রাখে, তখন তার নিরাপত্তার জন্য মা-বাবার চিন্তা শুরু হয়। বখাটেদের উপদ্রব, প্রেমের প্রস্তাব ইত্যাদির কথা ভেবে মা-বাবা দ্রুতই মেয়েকে বিয়ে দিতে চান। তাঁরা মনে করেন, মেয়ের বিয়ে হলে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। বিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে কিশোরী মেয়েকে ঘরের ভেতরে আটকে ফেলার পথও সৃষ্টি হয়।
এ রকম পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটা বিরাট অভিশাপ হিসেবে থেকেই যাচ্ছে। বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে সরকার নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। সেই আইনের একটা ধারায় বলা হয়েছে, বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো মেয়ের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগেই মা-বাবার সম্মতিতে বিয়ে দেওয়া যাবে। কিন্তু যে দেশে মা-বাবারা কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার জন্য একপায়ে খাড়া হয়ে থাকেন, তাঁদের সম্মতির কথা বলাই বাহুল্য। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইনের এই ধারাটির ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে; অনেকে এই ধারা বাতিল করার দাবি জানিয়েছেন। এই দাবি যুক্তিসংগত। কারণ, বিশেষ ধারাটি থাকলে এ আইনের যথাযথ প্রয়োগ সম্ভব হবে না। যেসব মা-বাবা কিশোরী মেয়েকে বিয়ে দিতে চান, বিশেষ বিধান তাঁদের জন্য একটা সুবিধাজনক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হবে। তাই বিধানটি বাতিল করা অত্যন্ত জরুরি। বাংলাদেশের সামাজিক, সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাল্যবিবাহ বন্ধ করার পক্ষে অনুকূল নয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও বাল্যবিবাহ কমতে শুরু করেছে। বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে একটা সামাজিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। ঝালকাঠির রাজাপুরের কিশোরী শারমিন আক্তার নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকাতে গিয়ে বুদ্ধিমত্তা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে। এ জন্য সে স্বদেশে ও বিদেশে পুরস্কৃত হয়েছে। বিশ্বের ১৩ জন সাহসী নারীর একজন হিসেবে তাকে পুরস্কৃত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র বিভাগ। সম্প্রতি ময়মনসিংহের ত্রিশালের এক মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী সোনিয়া আক্তারও অসাধারণ বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজের বাল্যবিবাহ ঠেকিয়েছে। তার বাবা দরিদ্র কাঠমিস্ত্রি, সংসারে অভাব-অনটন। তিনি মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন।
কিন্তু ১৩ বছর বয়সী সোনিয়া মাদ্রাসার অ্যাসেমব্লিতে শপথবাক্য পাঠ করায়, বাল্যবিবাহকে ‘না’ বলে। নিজের বাল্যবিবাহ সে মেনে নিতে পারে না। সে বাবা-মাকে বোঝানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। তখন সোনিয়া তার এক শিক্ষককে ফোন করে সব ঘটনা জানায়। পরদিন সেই শিক্ষক সোনিয়াদের বাড়ি গিয়ে সোনিয়াকে মাদ্রাসায় নিয়ে আসেন এবং অধ্যক্ষকে সব খুলে বলেন। অধ্যক্ষ তখন ত্রিশাল উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) ঘটনাটি জানান। ইউএনও সাহেব সোনিয়াকে নিজের কার্যালয়ে নিয়ে যান এবং সোনিয়ার বাবাকে সেখানে ডেকে আনেন। তিনি তাঁকে বলেন, এত অল্প বয়সে মেয়ের বিয়ে দেওয়া যাবে না, দিলে আইন ভঙ্গ করা হবে এবং আইন ভঙ্গ করার দায়ে তাঁর শাস্তি হবে। এভাবে সোনিয়ার বাল্যবিবাহ রোধ হয়। ইউএনও সাহেব সোনিয়াকে দুটি নতুন জামা কিনে দেন এবং বইখাতা কিনে দেওয়ারও আশ্বাস দেন। আর মাদ্রাসার শিক্ষকেরা আশ্বাস দেন, সোনিয়াকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ দেওয়া হবে। সোনিয়ার কাঠমিস্ত্রি বাবা সাংবাদিকদের বলেন, তিনি দরিদ্র মানুষ, সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে। তাঁর বিবেচনায় মেয়ে বড় হয়েছে, তিনি সারা দিন বাড়িতে থাকেন না। কখন কী হয়, এই ভয়ে তিনি মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এখন যখন দেখতে পাচ্ছেন যে স্বয়ং ইউএনও, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও অন্য শিক্ষকেরা যখন তাঁর মেয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তখন তিনি আর মেয়ের বাল্যবিবাহ দিতে চান না। এটা একটা অসাধারণ দৃষ্টান্ত। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল মানুষেরা একটি কিশোরীর বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে এগিয়ে এসেছেন। কিশোরীর বাবার ওপর তাঁদের কোনো জবরদস্তিও করতে হয়নি। আরও একটা উৎসাহব্যঞ্জক দৃষ্টান্ত হলো ময়মনসিংহের নান্দাইল পাইলট বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম ও নবম শ্রেণির সাত ছাত্রীর গড়ে তোলা সংগঠন ‘ঘাসফুল’। তারা ইতিমধ্যে তিনটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করেছে। এ জন্য তারা আইন-আদালতের আশ্রয় নিতে যায়নি। প্রথমে তারা চেষ্টা করেছে মেয়েদের বাল্যবিবাহ দিতে ইচ্ছুক অভিভাবকদের বোঝাতে যে বাল্যবিবাহ শুধু বেআইনি কাজই নয়, এর ফলে মেয়েদের জীবন নষ্ট হয়। কিন্তু অভিভাবকেরা যখন তাদের কথায় গুরুত্ব দেননি, তখন এই মেয়েরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পুরো ঘটনা জানিয়েছেন, প্রধান শিক্ষক মেয়েদের পরামর্শ দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদনপত্র লিখতে। মেয়েরা আবেদনপত্র জমা দিলে প্রশাসন বাল্যবিবাহ বন্ধ করেছে। এ সময় এই মেয়েরাও প্রশাসনের সঙ্গে ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ঘাসফুলের মতো সংগঠন দেশের প্রতিটি উপজেলায় গড়ে উঠলে এবং দেশের সব উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিদ্যালয়-মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকেরা ওপরের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে বাল্যবিবাহ বন্ধ করার কাজে তৎপর হলে বাংলাদেশের আর বেশি দিন এই অভিশাপ থাকবে না।
মশিউল আলম: সাংবাদিক ও সাহিত্যিক
mashiul. alam@gmail. com

রাষ্ট্রের দুই অঙ্গের দূরত্ব প্রসঙ্গে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার মধ্যকার সাম্প্রতিক প্রকাশ্য সংলাপকে অনেকে নেতিবাচক হিসেবে দেখে থাকতে পারেন। তবে এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয় নির্বাহী বিভাগ ও বিচার বিভাগের মধ্যে একটা গঠনমূলক সংলাপের দরকার আছে। এর একটা উপযুক্ত অবয়ব বের করতে হবে। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘কিছুদিন আগে সরকার বিচার বিভাগ–সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিচার বিভাগের অভিভাবক হিসেবে প্রধান বিচারপতিকে কোনো কিছুই অবহিত করা হয়নি।’ কিন্তু আমরা নিশ্চিত নই যে, এই কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত কী কী। কারণ, বিচার বিভাগ বা সরকার কেউ তা স্পষ্ট করছে না। প্রধান বিচারপতি দাবি করেছেন, ‘সম্পূর্ণ ভুল তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে সরকারপ্রধানের কাছে সত্য গোপন করে সিদ্ধান্তগুলো হাসিল করা হয়েছে।’ এটি গুরুতর অভিযোগ। কারণ, সাধারণ জনগণের কাছে এটা বিশ্বাসযোগ্য হবে, এই দাবির সপক্ষে প্রধান বিচারপতির কাছে উপযুক্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। আর সেটা থাকলে ভবিষ্যতে ওই সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ হতে পারে। সে জন্য বিচার বিভাগের এটা জানানো উচিত যে এই সিদ্ধান্তগুলো কী কী।
তথ্য গোপন করার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের যদি প্রচলিত আইনে শনাক্ত করা সম্ভব হয়, তাহলে হয়তো ‘সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে দূরত্ব তৈরির অপচেষ্টায় লিপ্ত’ ‘একটি মহলের’ পরিচয় জনগণের কাছে পরিষ্কার হতে পারে। অন্যদিকে ‘ক্ষমতা কারও কিন্তু কম নয়’ মর্মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যা বলেছেন, তা তিনি কেন বলেছেন, সে বিষয়টি জনগণের কাছে পরিষ্কার হওয়ার দাবি রাখে। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে বিচার বিভাগ ১৬তম সংশোধনী বাতিলের মতো মাইলফলক রায় দিয়েছেন। মন্ত্রীদের আদালত অবমাননার যে রায় আদালত দিয়েছেন, তাতে অন্য যেকোনো গণতন্ত্রে সরকার চরম বিপদে পড়ত। নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের মামলায় তদন্তের নির্দেশের ঘটনায় সরকারের অস্বস্তি চাপা থাকেনি। প্রধানমন্ত্রী ‘তিন অঙ্গের মধ্যে সমন্বয় সাধন’ বলতে গিয়ে বলেছেন, ‘প্রতিটি আইন জনস্বার্থে পাস’ করা হয়, আর তা যদি ‘দুজনে বসে’ নাকচ করেন, তাহলে আর ‘কিছুই করার থাকল না’। প্রধানমন্ত্রী মানবেন যে, ইনডেমনিটি বিলসহ সংবিধানের পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম ও ত্রয়োদশ সংশোধনী জনস্বার্থে এবং আইনসংগতভাবে পাস হয়নি বিবেচনায় ‘দুজনে বসে’ নাকচ করেছেন। আওয়ামী লীগ তাকে স্বাগত জানিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, হাইকোর্টের বিচারক নিয়োগে প্রধান বিচারপতির আগাম সুপারিশ করার অধিকার ছিল না। কিন্তু তিনি কোনো ‘অযাচিত’ সুপারিশ করেছেন বলে সরকারকে কেউ যথাযথ পদক্ষেপ নিতে বারিত করছে না। সরকারই হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগে বিচারক নিয়োগ বন্ধ রেখেছে। ন্যায়বিচারের প্রতীক ‘লেডি জাস্টিসের’ ভাস্কর্য স্থাপন ও সরানো নিয়ে মত-দ্বিমত অনেকের মতে অস্বাভাবিক নয়।
কিন্তু যেটা অস্বাভাবিক, সেটা হলো বিরূপতা প্রকাশ করতে গিয়ে সরকার অসতর্ক থেকেছে। প্রতিষ্ঠানের গায়ে তার কী প্রভাব পড়তে পারে, সে বিষয়ে সরকারের অমনোযোগ অস্পষ্ট থাকেনি। এসবই ধর্মান্ধ ও সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দুঃখজনকভাবে উৎসাহিত করেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। তবে সন্দেহ নেই যে, আদালত এবং সরকারের মধ্যকার টানাপোড়েনের ফলে বিচারব্যবস্থায় জনস্বার্থ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। লাখ লাখ মানুষ বিচারবঞ্চিত হচ্ছে। বর্তমান প্রধান বিচারপতি শপথ নেওয়ার পর থেকেই নানা ঘটনায় বিচার বিভাগের সঙ্গে সরকারের ‘দূরত্ব’ লক্ষ করা যাচ্ছে। বিচার বিভাগের প্রতি সরকারের সার্বিক দৃষ্টিভঙ্গি বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, বর্তমান প্রধান বিচারপতির কিছু উক্তি সরকারকে বিভিন্ন সময়ে বিব্রত করেছে। আর এই দৃশ্যমান বিব্রত হওয়ার আড়ালে চাপা থাকছে বিচার বিভাগের প্রতি নির্বাহী বিভাগের অবহেলা। অবশ্য প্রধান বিচারপতি বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সরকারের কাছে জিম্মি বলে কখনো কখনো উষ্মা প্রকাশ করলেও প্রায়ই জোরের সঙ্গে বলেছেন যে আদালত সম্পূর্ণ স্বাধীন। প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসাও করেছেন তিনি। সেটা কতটা সমীচীন, সেই প্রশ্নও উঠেছে। বহুদিন বাদে আমরা একজন সরব প্রধান বিচারপতি পেয়েছি। তাঁর কোনো কোনো সিদ্ধান্ত বা বক্তব্যের কোনো কোনো অংশ সম্পর্কে মতদ্বৈধতা থাকতে পারে। কিন্তু তিনি সার্বিকভাবে যা করতে চাইছেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত লড়াই নয়। সরকারের সঙ্গে তাঁর চলমান ‘দূরত্ব’কে নিছক ব্যক্তিগত কোনো বিষয়-আশয় হিসেবে দেখানো হলে সেটা নির্বাহী স্তম্ভকে অন্যায্য সুবিধা দেবে। জনস্বার্থের প্রতিকূলে যাবে।
মাসদার হোসেন মামলার রায় বাস্তবায়নের মতো বিচার বিভাগের সংস্কারে কতগুলো অত্যন্ত মৌলিক বিষয় রয়েছে, যা নির্বাহী বিভাগ কখনো সুরাহা করবে না। আবার কতগুলো সংস্কার রয়েছে, যা প্রধানত বার ও বেঞ্চ করবে। সুপ্রিম কোর্ট বারে বিএনপি তরিকার কমিটির জয়জয়কার হলে কী হবে, তারা স্পিকটি নট হয়ে আছে ও থাকবে। বিএনপির আইনজীবী নেতারা যথারীতি মুখর থাকেন জিয়া পরিবারের ‘রিলিফ’ পাওয়া–না পাওয়া নিয়ে। প্রধান বিচারপতিকে সংবিধান তাঁর একক ইচ্ছায় বেঞ্চ গঠন ও পুনর্গঠনের এখতিয়ার দিয়েছে। হাইকোর্ট ও আপিল বিভাগের কোনো বিচারক কখন কোন দায়িত্ব পালন করবেন, তা প্রধান বিচারপতি ঠিক করে দেন। তবে প্রধান বিচারপতির এই এখতিয়ার এককভাবে প্রয়োগ করা উচিত নয় বলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা এর আগে জোরালো মত দিয়েছেন। প্রধান বিচারপতির বিচার বিভাগ সংস্কারের প্রয়াস প্রধানত অধস্তন আদালত–নির্ভর। তার ওপর তিনি পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছেন। উচ্চ আদালতে প্রধান বিচারপতি নির্দিষ্ট সময়ে রায় দেওয়া নিয়ে উদ্যোগী ছিলেন। একটি রায়ে বলা হয়েছে, অনধিক ছয় মাসের মধ্যে রায় দিতে হবে। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এ বিষয়ে আর সরব নন বলেই মনে হয়। আলোচিত শৃঙ্খলাবিধিসহ অধস্তন আদালতে বদলি ও পদায়ন নিয়ে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিচারপতির ‘দূরত্ব’ বলে যা অনুমেয়, তার সবটাতেই বিচার বিভাগের সমষ্টিগত মতামত রয়েছে। সরকারের সঙ্গে বড় বিরোধ বিচারক বদলি নিয়ে। গত মাসে এক চিঠিতে অনধিক ১৬ জনের একটি বদলি প্রস্তাবের সবটাই ‘না’ করে দেওয়া হয়েছে। প্রধান বিচারপতি একা এই সিদ্ধান্ত নেননি।
নিয়েছে চার বিচারকের সমন্বয়ে করা জিএ কমিটি। শৃঙ্খলাবিধি ফুলকোর্ট ও আপিল বিভাগের সিদ্ধান্ত। প্রধান বিচারপতির স্বপ্নের প্রকল্প ছিল ই-জুডিশিয়ারি চালু করা। সেটা ভেস্তে যেতে বসেছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় গঠন শিকেয় তোলা আছে। জেলা জজ পদে পদোন্নতির বিষয়ে ফুলকোর্টে সর্বসম্মতক্রমে নেওয়া সিদ্ধান্ত সরকার মানতে অপারগ থাকছে। তাই ছয় মাসের বেশি সময় ধরে জেলা জজ নিয়োগে কঠিন অচলাবস্থা চলছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, বর্তমান প্রধান বিচারপতি থাকতে এটা আর কাটবে না। দেশের ৪৬ নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালে অর্ধেকের বেশি বিচারক পদ খালি। সেখানে হাজার হাজার মামলার বিচার বন্ধ রয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট অধস্তন আদালতে বিচারকসংখ্যা দ্বিগুণ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তা থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বছরে ১০০ জনের বেশি জেলা জজ পদ খালি হবে। এটা কখন কীভাবে পূরণ করা হবে, তা কারও জানা নেই। আমরা কথায় কথায় বলি তিনটি অঙ্গ। ড. আলী রীয়াজ অ্যারিস্টটল ও মন্টেস্কুর বরাতে বলেছেন, স্বাধীন ও পৃথক অঙ্গ গড়ার চিন্তাটা ওঁদের। বাজেটের ভিত্তিতে যদি বিচার করি, তবে এই প্রশ্ন খুবই স্বাভাবিক যে বাংলাদেশে বিচার বিভাগকে আমরা ‘অঙ্গ’ বলব কি না? সমগুরুত্বসম্পন্ন ‘অঙ্গ’ মানলে বছরে মাত্র ১৪৬ কোটি টাকা দেওয়া সম্ভব? বার্ষিক মাত্র ১৪৬ কোটি টাকার বাজেট, যা দেশের অনেক সিটি করপোরেশনের বাজেটের চেয়েও কম,
তা দিয়ে ১৬ কোটি মানুষের দেশের ‘স্বাধীন ও শক্তিশালী’ বিচার বিভাগকে চালানো হচ্ছে। দৈনিক কজলিস্ট (যাতে মামলার তালিকা ছাপা হয়) এখন অনলাইনে চমৎকারভাবে মিলছে। প্রধান বিচারপতি এর মুদ্রণ বন্ধে উদ্যোগী হলে আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েন। যে সরকার গোটা বিচার বিভাগ চালাতে ১৪৬ কোটি টাকা দেয়, সেই সরকারই কজলিস্ট ছাপাতে কার্যত আইনজীবীদের বছরে ভর্তুকি দিয়ে আসছে ৫০ কোটি টাকার বেশি। বারের প্রতিনিধিদল বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়ে নীরব থাকলেও প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে এ বিষয়ে তারা মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিয়েছিল। ক্যাম্পাসে বহুতল বার ভবন হবে, প্রধান বিচারপতি এ জন্য কিছু দরকারি লিখিত শর্ত দিয়েছিলেন। বারের তা মনঃপূত হয়নি। তাই বারের অনেকের কাছে তিনি অজনপ্রিয়। ঐতিহ্যগতভাবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার প্রশ্নে বারের ভূমিকা সব থেকে অগ্রণী থাকে। কিন্তু সেটা অনুপস্থিত বললে কম বলা হবে। তো এই হচ্ছে বিচার বিভাগ ও নির্বাহী বিভাগের দ্বন্দ্বের প্রেক্ষাপট। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিচারক নিয়োগে ‘কোনো রকম কিছু হলে সেটা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সমাধান করাটাই ভালো। এ ক্ষেত্রে সরকারের কিছু করণীয় থাকলে নিশ্চয়ই সেটা করা হবে।’
আমরা শেখ হাসিনার এই মনোভাবকে স্বাগত জানাই। তবে সেটা আলোচনার মনোভাব ব্যক্ত করার জন্য, কারণ প্রধানমন্ত্রী আলবত জানেন রাষ্ট্রপতির এ ক্ষেত্রে কিছু করার ক্ষমতা নেই। সুতরাং, বিরোধকে বড় করে না তুলে কী করে ‘দূরত্ব’ কমানো যায়, সে বিষয়ে একটা যথা-উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। যেসব সমস্যা দেখা দিয়েছে, তার কোনো একটিকেও প্রধান বিচারপতির ব্যক্তিগত স্বার্থের বিষয় বলে গণ্য করা বা জনগণের চোখে তেমনভাবে প্রতিপন্ন হতে দেওয়ার কোনো চেষ্টার সুদূরপ্রসারী প্রভাব থাকতে পারে। এমন কতগুলো বিষয় নিয়ে টানাপোড়েন দৃশ্যমান, যার দু-একটি বাদে কোনোটিই বর্তমান প্রধান বিচারপতির বর্তমান পদে থাকা–না থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। বিষয়গুলো একান্তভাবেই বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত। সুতরাং, সব সমস্যার সমাধানে কেউ যদি ২০১৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বর্তমান প্রধান বিচারপতির অবসরে যাওয়ার দিকে নজর রাখেন, তাহলে সেটা ঠিক হবে না। আর তিনি অবসরে গেলেই যদি একটা সুনসান নীরবতা নেমে আসে, তাহলে তা আমাদের চিন্তামুক্ত নয়, আরও চিন্তাযুক্ত করবে।
মিজানুর রহমান খান: সাংবাদিক৷
mrkhanbd@gmail.com

৮০তেও আশাবাদী ড. কামাল হোসেন

১৯৯৪ সালে পিএইচডি করতে গেছি লন্ডনে। আমার সুপারভাইজার ফিলিপ স্যান্ডস তখনই আন্তর্জাতিক পরিবেশ আইন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। আইনজীবী হিসেবেও তিনি আটলান্টিকের দুই পারের দেশগুলোতে বিখ্যাত ছিলেন। মহাব্যস্ত এই মানুষটার সঙ্গে পরিচয়ের দিনটিতেই তিনি ড. কামাল হোসেনের কথা তোলেন। আমি বলি, চিনি তাঁকে, তাঁর সাক্ষাৎকারও নিয়েছি আমি। ফিলিপ এমনিতেই নিরাশ ছিলেন আমার ব্যাপারে। একজন পিএইচডি স্টুডেন্ট হিসেবে আমার ভাসা-ভাসা জ্ঞান তাঁকে একদমই খুশি করতে পারেনি। কিন্তু কামাল হোসেনকে চিনি শোনামাত্র তাঁর চোখমুখ উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। প্রথমবারের মতো আমাকে গুরুত্ব দিয়ে কথা বলতে শুরু করেন তিনি। বিদেশে পড়তে গিয়ে, পরে ফেলো হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বা বিভিন্ন কনফারেন্সে গিয়ে বহুবার এ ধরনের অভিজ্ঞতা হয়েছে। লন্ডনে ইন্টারন্যাশনাল ল অ্যাসোসিয়েশন, বনে এনভায়রনমেন্টাল ল অ্যাসোসিয়েশন, হেগে ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিস—সব জায়গায় অসীম শ্রদ্ধা আর সম্মানের সঙ্গে তাঁর নাম উচ্চারণ করেন বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় আইন বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবীরা।
বিশ্বময় আইন আর মানবাধিকার জগতে বাংলাদেশ মানে একটি নামই শুধু। তিনি ড. কামাল হোসেন। আমাদের কাছে তিনি সুপরিচিত বাংলাদেশের সংবিধানের প্রণেতা হিসেবে। ১৯৭২ সালে তাঁর নেতৃত্বে প্রণীত এই সংবিধানটি ছিল সে সময়কালের শ্রেষ্ঠ একটি সংবিধান। এতে ছিল সুশাসন আর মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সহায়ক বহু বিধান (যেমন: মূলনীতি, মানবাধিকার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, পার্লামেন্টারি কমিটির কাছে মন্ত্রীদের জবাবদিহি, শক্তিশালী স্থানীয় শাসন ইত্যাদি)। পরে এই সংবিধানকে প্রত্যেক রাষ্ট্রনায়ক কাটাছেঁড়া করে ক্ষতবিক্ষত করেছেন, সংবিধানের মূল চেতনাকে দলিত করে কালো আইন জারি করেছেন। কিন্তু ড. কামাল হোসেন সংবিধান নির্মাণের সঙ্গেই কেবল যুক্ত ছিলেন, এর বিনাশের সঙ্গে কখনো নয়। শুধু সংবিধান রচনার ক্ষেত্রে নয়, ড. কামালের পুরোটা জীবন কেটেছে এই ধারাতেই। তাঁর রাজনীতি, আইন পেশা বা সমাজচিন্তা—সবই মানুষের কল্যাণের জন্য, কখনো অশুভ বা অমঙ্গলকর কিছুর জন্য নয়। বরং যা কিছু খারাপ তার বিরুদ্ধে তিনি বারবার রুখে দাঁড়িয়েছেন, মানুষের কাছে আশা-ভরসা আর বিবেকের অনন্য প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছেন। গুম, খুন, অন্যায়, শোষণ আর গণতন্ত্র হরণের বিরুদ্ধে নিরন্তর যুদ্ধে কেটেছে তাঁর জীবনের অধিকাংশ সময়। এই কিংবদন্তিতুল্য মানুষটার ৮০তম জন্মদিন আজ। আমাদের স্বাধীনতাসংগ্রামের কিংবদন্তিরা কেউ বেঁচে থাকেননি বহু বছর। না বঙ্গবন্ধু, না তাজউদ্দীন, না অন্য কেউ। আমাদের সৌভাগ্য ড. কামাল হোসেন আছেন। কিংবদন্তি হয়ে বহু বছর টিকে থাকা অসাধারণ একটি বিষয়। তিনি সেই অসাধারণ মানুষটি হয়েই রয়েছেন বাংলাদেশের হৃদয়ে, বাংলাদেশের মানুষের কাছে।
২. ড. কামাল হোসেনের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবনকে আমরা মোটামুটি তিন ভাগে ভাগ করতে পারি। প্রথম ভাগের সূচনায় তিনি একজন পুরোদস্তুর আইনজীবী। অক্সফোর্ড থেকে পিএইচডি আর বিসিএল, লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল করে ফিরে এসে তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৫৯ সালে। অল্প কয়েক বছরে তিনি একজন তুখোড় আইনজীবী হিসেবে নিজের অবস্থান গড়ে নেন। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় লড়তে গিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য একজন রাজনৈতিক সহযোগীতেও পরিণত হন। তিনি সত্তরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে বিজয়ী হয়েছিলেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর যে কমিটিকে দেশের সংবিধান প্রণয়নের দায়িত্ব দেন বঙ্গবন্ধু, তার সভাপতি করা হয় মাত্র ৩৫ বছর বয়সী কামাল হোসেনকে। এরপর তিনি বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে কাছের একজন মানুষ হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের (আইন, জ্বালানি ও খনিজ এবং পররাষ্ট্র) দায়িত্ব পালন করেছেন; বহু ভালো ভালো আইন ও নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রেখেছেন। বঙ্গবন্ধুর নির্মম হত্যাকাণ্ড তাঁর জীবনের গতিপ্রবাহকে থমকে দেয়। তিনি কোনো দিনই এই হত্যাকাণ্ড মেনে নিতে পারেননি। এই হত্যাকাণ্ডের পর তিনি কয়েক বছর আর দেশেই থাকেননি। এ সময় বিদেশে খ্যাতিমান বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা ও গবেষণায় নিয়োজিত ছিলেন, আইনবেত্তা হিসেবে তিনি আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন শুরু করেন। এরপর দেশে ফিরে এসে আওয়ামী লীগের পুনর্গঠনে সম্পৃক্ত হন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজে নিবিষ্ট হন, আইন পেশায় আরও ঘনিষ্ঠভাবে জড়িয়ে পড়েন। ড. কামাল হোসেনের তৃতীয় পর্বের কর্মজীবনের শুরু ১৯৯০-পরবর্তী সময়ে। নব্বইয়ের গণ-আন্দোলনে তিনি রাস্তায় এবং আদালতে সমানভাবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু এরপর গণতন্ত্র, সুশাসন আর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন ধীরে ধীরে ফিকে হতে শুরু হলে তিনিও রাজনীতিতে তাঁর সংগ্রাম আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বেশি ব্যস্ত হয়ে পড়েন মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক জ্বালানি, সমুদ্র ও পরিবেশ আইনের একজন অগ্রগণ্য আইনবিশারদ হিসেবে। বয়স তাঁকে কাবু করতে পারেনি। স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা পারেনি হতোদ্যম করতে। এখনো এই দেশে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার যেকোনো উদ্যোগে তিনিই সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। এই লড়াইয়ে সবচেয়ে নিরবচ্ছিন্ন, একনিষ্ঠ এবং নির্লোভ থেকেছেন তিনি।
৩. ড. কামাল হোসেন একজন রাশভারী চেহারার বিশালদেহী মানুষ। তাঁকে দেখে ঠিক বোঝা যায় না কতটা সংবেদনশীল আর বিশাল হৃদয়ের মানুষ তিনি। অথচ তাঁর সারাটা জীবনই কেটেছে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে, তাদের জন্য বিনা পারিশ্রমিকে আদালতে লড়ে। শিক্ষক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী থেকে শুরু করে বস্তিবাসী, বিনা বিচারে আটক অসহায় মানুষ, সুবিধাবঞ্চিত নারী-শিশুসহ বহু মানুষ নির্যাতন, হয়রানি এবং শোষণ থেকে মুক্তি পেয়েছে তাঁর নিজের বা তাঁর প্রতিষ্ঠিত সংগঠনগুলোর মাধ্যমে। দেশকে তিনি হাজার হাজার কোটি টাকার মামলায় জয়ী করেছেন সিমিটার এবং শেভরনের মতো জায়ান্ট বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলায় লড়ে। দেশের মানুষকে তিনি উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরেছেন সারা বিশ্বের বিভিন্ন ফোরামে। বাংলাদেশে যেকোনো সুস্থ ধারার রাজনৈতিক, সামাজিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক আন্দোলনে তিনি অগ্রগণ্য একজন মানুষ হিসেবে স্বীকৃত ও সম্মানিত হয়েছেন। সংবিধান ছাড়াও বহু গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করেছেন। মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মামলায় প্রধান ভূমিকা তিনি পালন করেছেন। তাঁর হাতে গড়ে উঠেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, ব্লাস্ট, টিআইবি, বিলিয়া, সেইলসসহ বাংলাদেশের খ্যাতিমান সংস্থাগুলো। ড. কামাল হোসেনের ঈর্ষণীয় বহু অর্জন রয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও। তিনি জাতিসংঘ, কমনওয়েলথসহ শীর্ষস্থানীয় বহু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে নেতৃস্থানীয় বা পরামর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন। বিশ্ববিখ্যাত কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের (অক্সফোর্ড, আমস্টারডাম, ডান্ডিসহ) শিক্ষক কিংবা ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন, পৃথিবীর বহু দেশের জন্য খসড়া আইন প্রণয়ন করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আরবিট্রেশনের চেয়ারম্যান ও গবেষণা জার্নালের সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সমুদ্রসীমা নিয়ে রাষ্ট্রসমূহের বিরোধে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি তাঁর অতুলনীয় মেধা, বাগ্মিতা ও ব্যক্তিত্বের কারণে অনন্য উচ্চতায় আসীন হয়েছেন। বাংলাদেশকে নিজের কীর্তির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গৌরবান্বিত করেছেন।
৪.ড. কামাল হোসেন দেশের আর মানুষের প্রতি তাঁর দায়িত্ব পালন করেছেন। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর পরে আর কোনো রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারক কি তঁাকে যোগ্য সম্মান দিতে পেরেছে? ড. কামাল হোসেনকে একবার ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারক করার উদ্যোগ নিয়েছিল ইউরোপের কয়েকটি দেশ। বাংলাদেশ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে তা হয়নি। রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ নিলে তাঁর মাপের একজন মানুষকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবেও হয়তো দেখতে পেতাম আমরা। সেটি কোনো আমলেই করা হয়নি। প্রতিটি আমলেই তিনি অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন বলেই হয়তো তা হয়নি। এসব নিয়ে কোনো দুঃখবোধ নেই তাঁর। তিনি নিজের প্রসঙ্গে কথাই বলতে চান না। কোনো এক পড়ন্ত বিকেলে তাঁর চেম্বারে গেলে তিনি বরং বইয়ের স্তূপ থেকে মুখ তুলে দেশের খবর জানতে চান। একসময় নিজেই বিভিন্ন প্রসঙ্গে বলতে বলতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তাঁর সব কথায় অনিবার্যভাবেই আসে বঙ্গবন্ধুর প্রসঙ্গ। বঙ্গবন্ধু চাইতেন, বঙ্গবন্ধু বলতেন, বঙ্গবন্ধু জানতেন—কোনো দিন এসব ছাড়া কথা বলতে দেখিনি তাঁকে একান্ত আলাপে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ কোথায় হারিয়ে গেছে—এটাই তাঁর একমাত্র দুঃখ। কিন্তু তিনি মৌলিকভাবে আশাবাদী মানুষ। কোনো দিন এক টিভি রিপোর্টার বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী পড়েছে, কিছু তরুণ রামপালের বিরুদ্ধে মিছিল করেছে, কেউ একজন মানুষের অধিকার নিয়ে লিখেছে—এগুলো বলতে বলতে এখনো আশায় চকচক করে ওঠে তাঁর চোখমুখ। তিনি জানেন না শিশুর মতো সরল এই আশাবাদ কতটা স্বপ্নময় কিংবা অপরাধী করে তোলে আমাদের! ৮০ বছর বয়স হয়েছে তাঁর। অথচ তিনি কামাল হোসেন বলেই এটাও অপ্রতুল মনে হয়। মনে হয় অনন্তকাল যেন বেঁচে থাকেন তিনি এবং তাঁর মতো মানুষেরা।
আসিফ নজরুল: অধ্যাপক, আইন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

উচ্ছেদ নয় সড়ক উন্মুক্ত করছি: আনিসুল

রাজধানীর গুলশানের কূটনৈতিক এলাকায় ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন উচ্ছেদ অভিযান চালাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে রাশিয়ান দূতাবাসের পাশের ফুটপাত ঘিরে রাখা বেড়া এবং রাস্তাজুড়ে রাখা ফুলের গাছ সরানো হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আনিসুল হক বলেন, ‘আমরা এটাকে উচ্ছেদ বলব না। সড়ক এবং ফুটপাত আমরা উন্মুক্ত করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দূতাবাসগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা তাদের বুঝিয়েছি, এটা জনগণের রাস্তা। জনগণের ফুটপাত।
এখান দিয়ে হাঁটা তাদের সাংবিধানিক অধিকার। তারা বিষয়টি বুঝেছে।’ দূতাবাসগুলোর নিরাপত্তার বিষয়টিও আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে মেয়র জানান। তিনি বলেন, সর্বাগ্রে জনগণের অধিকারের দিকে নজর দিতে হচ্ছে। রাশিয়ান দূতাবাসের পর সৌদি আরবের দূতাবাসের পাশে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। সৌদি দূতাবাসের সীমানাপ্রাচীরের পাশেও একইভাবে রাস্তা দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। মেয়র আনিসুল হক আরও বলেন, ‘এটা আমাদের অব্যাহত প্রক্রিয়া। দূতাবাসের যে তল্লাশিচৌকিগুলো রাস্তা দখল করে আছে, সেগুলোও সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।’ পাশের রাস্তা ও ফুটপাত আটকে বেশ কিছু স্থাপনা রেখেছে আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল স্কুল কর্তৃপক্ষ। সেটিও সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে বলে জানান মেয়র আনিসুল হক। তিনি জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ স্থাপনাগুলো ছুটির পর সরিয়ে নেবে বলে জানিয়েছে।

মার্কিন আকাশে রুশ বোমারু বিমানের অনুপ্রবেশ

আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেই ২৪ ঘন্টার ব্যবধানে দু’বার রুশ বোমারু বিমান ঢুকে পড়ল মার্কিন আকাশসীমায়। গত মঙ্গলবার দু’টি রুশ টিইউ-৯৫ বিয়ার বোমারু বিমানকে আলাস্কা উপকূল থেকে ৪১ মাইল দূরে টহল দিতে দেখা যায়। এর আগে সোমবারও ওই একই ধরনের রুশ বিমানকে তাড়া করে ফেরত পাঠিয়েছে দুটি মার্কিন এফ-২২ ফাইটার জেট।  মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কথা স্বীকার করে নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সিএনএন। দ্বিতীয়বার রুশ বোমারু বিমান আলাস্কা উপকূলের কাছে দেখা গেলে একটি মার্কিন ই-৩ নজরদারি বিমান তাদের তাড়া করে। তবে দু’বারই রাশিয়া একই বিমান পাঠিয়েছিল কি না,
সেটা এখনও স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। মঙ্গলবার দুটি টিইউ-৯৫ বোমারু বিমান আলাস্কার বিমানঘাঁটির খুব কাছ দিয়ে উড়ে যায়। এর আগে আলাস্কার ‘আইডেন্টিফিকেশন জোন’-এর এত কাছাকাছি কোনো রুশ বিমান কখনো আসেনি। তবে এই ঘটনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ মার্কিন সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই উচ্চপদস্থ কর্তা এই ঘটনাকে ‘মামুলি’ বলে উল্লেখ করেছেন। যদিও সেনার আরেকটি সূত্রের দাবি, বোমারু বিমান পাঠিয়ে আমেরিকাকে সতর্ক করলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মার্কিন আকাশসীমার খুব কাছ দিয়ে উড়ে গিয়ে পেশিশক্তির আস্ফালন দেখিয়ে গেল রুশ বায়ুসেনা। এই ঘটনার পর আলাস্কায় আকাশপথে অতিরিক্ত নজরদারি চালাচ্ছে মার্কিন যুদ্ধবিমান।

পিরোজপুরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে মামলা

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী (জিয়ানগর) উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় হানাদার পাক বাহিনীর সাথে মিলে স্থানীয় মুক্তিকামী মানুষ হত্যা , বাড়ি ঘর লুটপাট ,অগ্নিসংযোগ , সংখ্যালঘুদের ধর্মান্তরিত করা ও নারী ধর্ষণসহ মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আব্দুল মান্নান খা ওরফে মন্নাফ খা (৭৭) নামে এক জনের  বিরুদ্ধে  মামলা দায়ের করা হয়েছে। ইন্দুরকানী উপজেলার রামচন্দ্রপুর গ্রামের বাসিন্দা দেলোয়ার ফরাজি বাদি হয়ে বুধবার দুপুরে পিরোজপুরের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুজ্জামানের আদালতে মামলাটি দায়ের করেছেন। মামলায় আসামির বিরুদ্ধে ১৯ টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানাগেছে ১৯৭১ সালে আব্দুল মান্নান খা ওরফে মন্নাফ খা বাড়িঘর লুটপাট ,অগ্নি সংযোগ, সংখ্যালঘুদের ধর্মান্তরিত করা ও নারী ধর্ষণসহ পাক হানাদার বাহিনীর সহায়তায় গাবগাছিয়া গ্রামের মোতাহার মীরের ছেলে ওয়াজেদ মীর ও ধনাঞ্জয় হালদারের ছেলে গনেশ হালদারকে হত্যা করেন। বাদির আইনজীবী ওয়াহিদ হাসান বাবু বলেন পিরোজপুর জেলা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নামে যে বই প্রকাশ হয়েছে সে বইয়ের ৩৩৭ পৃষ্ঠায় ২২ নম্বর ক্রমিকে কুখ্যাত রাজাকার হিসাবে আসামির নাম রয়েছে। যা মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি আরো জানান ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত মান্নান খার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।

শ্যামনগরে ভাটার শ্রমিক বজ্রপাতে নিহত

শ্যামনগরের আমিনুর রহমান আমিন(২২) নামে এক ইট ভাটা শ্রমিক বজ্রপাতে নিহত হয়েছে। সে হাওয়াল ভাঙ্গী গ্রামের আঃ সাত্তার গাজী ওরফে কালু গাজীর ২য় পুত্র। গত ১৯ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টার দিকে বরিশালের হিজলার এম.বি.এন নামীয় ব্রিক ফিল্ডে বাসায় শয়ন রত অবস্থায় বজ্রপাতে আমিন নিহত হয়। এ সময় আমিনের সহোদর ভাই কবির,জাবের আলি ও শংকর মন্ডল ইট ভাটা শ্রমিক আহত হয়। গত বৃহস্পতিবার আমিনের লাশ গ্রামের বাড়ীতে নিয়ে আসলে এলাকায় শোকের ছায়া বিরাজ করে। এ সময় আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু,সাংবাদিকসহ সর্বস্তরের মানুষ লাশ দেখতে ভিড় জমায়। ভাটার সরদার ইয়াছিন আলী জানান, আমিন ছিল সৎ, কর্মঠ ও আনুগত্যশীল, একাধারে সে কয়েক বৎসর তার সাথে কাজ করায় ব্যবসায় সাফল্য পেয়েছেন বলে ক্রন্দন রত কন্ঠে অভিমত ব্যক্ত করেন।বিকালে তাকে তাদের পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়।

বিএনপিকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না : মির্জা ফখরুল

বিএনপিকে ছাড়া দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায় বিদেশে গিয়ে বিভিন্ন সমাবেশে অংশ নিচ্ছেন। ভূটানে প্রতিবন্ধী সম্মেলনে গিয়েছেন। কিন্তু তিনি নিজের দেশের রাজনীতিকে পুরোপুরিভাবে প্রতিবন্ধী করে রেখেছেন। মানুষকে পঙ্গু করে দিয়েছেন। সেদিকে তার কোনো খেয়াল নেই। আসলে এই সরকারের অপকীর্তি বলে শেষ করা যাবে না। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর সম্পূর্ণরূপে একটি ব্যর্থ সফর। সেখানে তিনি শুধু দিয়েই এসেছেন। কোনো কিছু নিয়ে আসতে পারেননি। এজন্যই তিনি বলেছেন, ‘ম্যায় পানি মাঙ্গা, লেকিন বিজলি মিলেগা, কুচ তো মিলা’। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যেই প্রমাণিত যে তিনি যা চেয়েছিলেন, তা পাননি। তার ভারত সফর একটি ব্যর্থ সফর। কারণ তার পেছনে জনগণ নেই। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন। বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৫ বছর অতিবাহিত হওয়ায় এই সভার আয়োজন করে বিএনপি। এতে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। মির্জা ফখরুল বলেন, গুম, খুন, হত্যা যেন আওয়ামী সরকারের নির্যাতনের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। কারণ তারা মনে করছে এভাবে নিপীড়ন নির্যাতন করে ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু এভাবে ক্ষমতায় থাকা যায় না। এই সরকার গত কয়েক বছর দেশের মানুষের ওপর ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছে। অথচ সভ্য বিশ্বে এই গুম খুন আর নেই। এই সরকার জনগণের অধিকার রক্ষা করতে পারেনি।
তারা আমাদের জীবনের অধিকার, ভোটের অধিকার ও নিরাপত্তা দিতে পারেনি। তিনি বলেন, আজকে ইলিয়াস আলী নিখোঁজের ৫ বছর হয়ে গেছে। একদিন দুদিন নয় পাঁচ বছর। এভাবে অসংখ্য নেতাকর্মীকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকেরা গুম করে রেখেছে। তাদের পরিবারের অনেকে দীর্ঘকাল ধরে স্বজনের অপেক্ষায় আছেন। অনেকে এই পৃথিবী ছেড়ে চলেও গেছেন। তিনি বলেন, বিএনপিকে নিবন্ধনের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। বরং বিএনপিকে কিভাবে নির্বাচনে নেয়া যায় সেই ব্যবস্থা করুন। তিনি বলেন, এই সরকারের গণভিত্তি নেই। তাই তারা ভারতের কাছে চুক্তির নামে সব কিছু বিলিয়ে দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। যদি তাদের সাথে দেশের জনগণ থাকতো, জনগণের ভোটে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতেন তাহলে তিনি তিস্তার পানি চুক্তি ছাড়া অন্য চুক্তি সই করতেননা। তিনি এ ব্যাপারে দরকষাকষির ক্ষমতা হারিয়েছেন। কারণ তার সেই শক্তি নেই। সরকারের গুম খুন ও মামলার রাজনীতির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ভবিষ্যতে এদের বিচার করা হবে।

বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন মূসা বিন শমশের

বিতর্কিত ধনকুবের মূসা বিন শমশের বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছেন বলে বুধবার শুল্ক গোয়েন্দাদের কাছে দেয়া এক চিঠিতে তিনি জানিয়েছেন। চিঠির সাথে তিনি ডাক্তারের সার্টিফিকেটও জমা দিয়েছেন। ওই চিঠির একটি কপি বিবিসি বাংলার হাতে এসেছে। এতে তিনি দাবি করছেন যে, তার মুখের একপাশ পক্ষাঘাতগ্রস্ত। তার বাকশক্তি মারাত্মকভাবে লোপ পেয়েছে। তিনি ভালোভাবে কথা বলতে পারছেন না। সে কারণে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভীষণভাবে পর্যুদস্ত। ডাক্তার তাকে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিতে পরামর্শ দিয়েছেন এবং বিশ্রাম নিতে বলেছেন বলে চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন। সে কারণে শুল্ক গোয়েন্দা তদন্ত দলের সামনে সশরীরে হাজির হতে তিন মাস সময় প্রার্থনা করেন মূসা বিন শমশের। একটি বিলাসবহুল গাড়ির শুল্ক ফাঁকি ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত তদন্তের সূত্রে ২০শে এপ্রিল মূসা বিন শমশেরের শুল্ক গোয়েন্দা দফতরে হাজির হওয়ার কথা ছিল।
গত ২১শে মার্চ শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা তার মালিকানাধীন একটি বিলাসবহুল রেঞ্জ রোভার গাড়ি আটক করেন বলে জানানো হয়েছিল। কর্মকর্তারা বলছেন, এই গাড়িটি ভুয়া আমদানি দলিল দিয়ে অন্য একটি নম্বর দিয়ে ভোলা থেকে রেজিস্ট্রেশন করা হয় অন্য এক ব্যক্তির নামে। রেজিস্ট্রেশনের সময় গাড়িটির রঙ সাদা থাকলেও উদ্ধারকৃত গাড়িটি হচ্ছে কালো রঙের। কর্মকর্তারা বলছেন, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে এই গাড়ির শুল্ক পরিশোধের প্রমাণ হিসেবে যে বিল অব এন্ট্রি দেখানো হয়েছে, সেটি ভুয়া। শুল্ক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ২১শে মার্চ এই গাড়ি আটক নিয়ে সারাদিন ধরে রীতিমত নাটক চলে। মূসা বিন শমশেরকে সেদিন সকাল আটটায় গাড়িটি হস্তান্তরের নোটিশ দেয়া হয়। কিন্তু তারা গাড়িটি ধানমন্ডিতে এক আত্মীয়ের বাড়িতে সরিয়ে ফেলেন। সেখান থেকেই বিকেলে গাড়িটি জব্দ করেন শুল্ক কর্মকর্তারা। কর্মকর্তারা জানান মূসা বিন শমশেরের বিরুদ্ধে শুল্ক আইন এবং অর্থ পাচার আইনে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে শুল্ক দফতর। এ ব্যাপারে মূসা বিন শমশেরের বক্তব্য জানার জন্য তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে পাওয়া যায়নি। বিবিসি

স্কুলের বেতন হিসেবে গরু-ছাগল গ্রহণ

মুদ্রা বিনিময় প্রথা শুরুর আগে মানুষ দ্রব্য বিনিময় করতো। এক সেবার বিনিময়ে অন্য সেবা গ্রহণ করতো। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীতেও সেই দ্রব্য বিনিময় প্রথা চালু করেছে জিম্বাবুয়ে সরকার। চলমান নগদ অর্থ সংকটের কারণে জিম্বাবুয়ের স্কুলগুলো নগদ অর্থের পরিবর্তে বেতন হিসেবে গরু-ছাগল গ্রহণ করবে। খবর বিবিসির।
শিক্ষামন্ত্রী লাজারুস ডোকোরা বলেছেন, পিতা-মাতাদের কাছে থেকে স্কুলের বেতন আদায় করার সময় স্কুলগুলোকে নমনীয় হতে হবে। শুধু গবাদি পশুই নয়, নানা ধরনের সেবাও বেতনের বিকল্প হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন। উদাহরণ দিয়ে লাজারুস ডোকোরা বলেন, 'কেউ যদি রাজমিস্ত্রির কাজ করে, তাহলে তাকে দিয়ে স্কুলে রাজমিস্ত্রির কাজ করিয়ে নেয়া যেতে পারে।' কোনো কোনো স্কুল ইতিমধ্যে নগদ অর্থের বদলে গবাদিপশু নেয়া শুরুও করেছে। গত সপ্তাহে দেশটির সংসদে এমন একটি আইন পাস হয়েছে, যাতে মোটরগাড়ি বা যন্ত্রপাতির মতো অস্থাবর সম্পত্তিকে ব্যাংকে জামানত হিসেবে রাখা যাবে। এরপর থেকেই জিম্বাবুয়ের ব্যাংকগুলো গবাদিপশু অর্থাৎ গরু, ছাগল, ভেড়াকে জামানত হিসেবে গ্রহণ করতে শুরু করেছে। জিম্বাবুয়েতে নগদ অর্থের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হলে মানুষকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। জিম্বাবুয়েতে বিনিয়োগ সংকট এবং বেকারত্বই এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মার্কিন শহরে উ.কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের 'আঘাত'

চলমান উত্তেজনার মধ্যে উত্তর কোরিয়া একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা নিয়ে তোলপাড় চলছে। এতে দেখানো হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহরে আঘাত হেনে তা ধ্বংস করে দিয়েছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের। উত্তর কোরিয়ার প্রতিষ্ঠাতা কিম দ্বিতীয় সুং এর সম্মানে গত রোববার আয়োজিত এক মিউজিক্যাল শোতে ওই ভিডিওটি প্রদর্শিত হয়।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানায়, উত্তর কোরিয়ার ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি শহরে উড্ডীয়মান পতাকাকে আঘাত করলে তাতে আগুন ধরে ধ্বংস হয়ে যায়। মার্কিন পতাকা ধ্বংসের সময় হলভর্তি সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থরা হর্ষধ্বনি দিতে থাকেন। তাদের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনও ভিডিওটি উপভোগ করেন। এমন এক সময় ভিডিওটি প্রকাশ করল, যখন ষষ্ঠ দফা পরমাণু ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে উত্তর কোরিয়া। বিশ্লেষকদের ধারণা, ভিডিওটির ফলে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা আরেক ধাপ বৃদ্ধি পাবে। তবে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে এ ধরনের ভিডিও প্রকাশ এই প্রথম নয়। ২০১৩ ও ২০১৬ সালেও তারা এমন ভিডিও প্রকাশ করেছিল।

বর্তমান অর্থনীতির কিছু সাধারণ চিত্র

রিদিতা ও আফজাল পরিবারের সব মিলিয়ে সদস্য ৫ জন। দু’জনই চাকরি করছেন; মধ্যবিত্তের ভাবনায় পরিচালিত হয়ে আসছে তাদের যাপিত জীবন। মাকে সেবা-যত্ন করা আর ছেলেমেয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন ভালোভাবেই। সঞ্চয় প্রবণতা শুরু হয়েছে দেড় দশক আগে যৌথ জীবন চলার শুরু থেকে। প্রথম ভরসা ছিল ব্যাংক; এর পরে ঝুঁকল সঞ্চয়পত্রে। একবার বন্ধু-বান্ধব আর সহকর্মীদের পাল্লায় পড়ে শেয়ারবাজারে পা রেখেছিলেন এই দম্পতি। কিন্তু বেশিদিন লাগেনি, তিলে তিলে করা সঞ্চয় হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে। বেনিফিশিয়ারি অ্যাকাউন্টের তলানিতে কয়েকশ’ শেয়ার থাকলেও, তার খোঁজ রাখেন না রিদিতা-আফজাল পরিবার। কোথায় রাখবেন জমানো টাকা- এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছে পরিবারটি। খোঁজ পেয়েছিলেন সমবায় সমিতির, কিন্তু মন খুব একটা সায় দেয়নি। এরই মধ্যে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, বিভিন্ন সমবায় সমিতির অনিয়ম আর কেলেংকারির খবর। এখন খুঁজে বেড়াচ্ছেন ভালো ফিন্যান্সিয়াল প্রডাক্ট আর কী আছে। যেখানে আছে আকৃষ্ট হওয়ার মতো মুনাফা আর নিরাপত্তা। অবস্থাটা এমন দাঁড়িয়েছে, আর্থিক নিরাপত্তা মিললে কাক্সিক্ষত মুনাফা মিলছে না। আর বাড়তি মুনাফা পেলে, প্রাতিষ্ঠানিক নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যাচ্ছে। তবে এসব বিষয় নিয়ে কে ভাববে?
নীতিনির্ধারকদের কি এত সময় আছে, কোথাকার কোন রিদিতা-আফজাল পরিবার কেন সঞ্চয়বিমুখ হয়ে পড়ছেন। সঞ্চয় ও বিনিয়োগের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। কিন্তু সঞ্চয় প্রবণতা বাড়ানোর কোনো ভাবনা আছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়। গবেষণা সংস্থা উন্নয়ন অন্বেষণের পর্যালোচনা প্রতিবেদন বলছে, অর্থনীতিতে সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হার প্রায় স্থবির। এতে সম্প্রতি উচ্চ ব্যবধান পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই পার্থক্য পুঁজি পাচারকে নির্দেশ করে বলে মনে করে সংস্থাটি। এখন গাণিতিক হিসাব পর্যালোচনা করে দেখা যাক। ব্যাংক আমানতের সুদহার এখন তলানিতে। মাসিক সঞ্চয়ী স্কিম ভিন্নতায় ৪ থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ সুদ পাওয়া যাচ্ছে। আর মেয়াদের আগে ভাঙিয়ে ফেললে মিলবে সাড়ে ৩ শতাংশ সুদ। তবে মেয়াদি আমানতে ৬ থেকে সাড়ে ৮ শতাংশ হারে সুদ পাওয়া যাচ্ছে। এই সুদের ওপর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে কর ও অন্যান্য সার্ভিস চার্জ কেটে নেয়া হয়। সেখানেও চলে যায় বেশ টাকা। গেল ফেব্রুয়ারিতে ব্যাংক খাতের আমানতের গড় সুদহার দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। অথচ ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমানতের গড় সুদহার ছিল ৮ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ২০১৩ সালের ওই সুদহার অপরিবর্তিত থাকলে বর্তমানে দেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে যে পরিমাণ আমানত জমা রয়েছে তার বিপরীতে এখন যে পরিমাণ সুদ বা মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে তার থেকে আরও ৩০ হাজার কোটি টাকা বেশি সুদ পেত আমানতকারীরা। সঞ্চয়পত্র কিনে একটু বেশি মুনাফা মিলছে। তবে যারা মাসে মাসে কিছু কিছু টাকা সঞ্চয় করতে চেষ্টা করছে, তাদের বিনিয়োগের পথ অনেকটা সংকুচিত হয়ে এসেছে। সঞ্চয়পত্রে এক লাখ টাকার কম বিনিয়োগ করা যায় না। তাই বাধ্য হয়েই ব্যাংকের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে ক্ষুদ্র সঞ্চয়ীদের। ব্যাংকের সুদহারে সন্তুষ্ট না থাকায় অনেকেই এখন ঝুঁকিপূর্ণ খাতে বিনিয়োগে ঝুঁকছে।
শেয়ারবাজারের প্রতি এখনও পুরোপুরি আস্থা ফিরে আসেনি। অনেকেই একটু বাড়তি মুনাফার আশায় সমবায়ে টাকা খাটাচ্ছে। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ না করার জন্য সতর্কীকরণ বিজ্ঞাপনও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতের বিপরীতে দেয়া সুদহারের তুলনায় মূল্যস্ফীতির হার বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে গড় মূল্যস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৪১ শতাংশ। এতে ব্যাংকে টাকা রেখে কোনো লাভ হচ্ছে না। বরং মূল্যস্ফীতির হার বিবেচনায় মূল অর্থও কমে যাচ্ছে। প্রশ্ন হচ্ছে, বাজারে কি বিনিয়োগ আকর্ষণে কোনো ফিন্যান্সিয়াল প্রডাক্ট থাকবে না? কিন্তু কারা আনবে? ব্যাংক, বীমা, ক্ষুদ্রঋণের প্রতিষ্ঠান, বন্ড ম্যানেজার, লিজিং কোম্পানি, সমবায় সমিতিরই আনার কথা। কিন্তু তেমন উদ্যোগ নেই কেন? বিষয়টি ভাবার দাবি রাখে। প্রডাক্ট ডিজাইনেও আনা প্রয়োজন নতুনত্ব। ব্যাংকিং খাত তো এখন খেলাপি ঋণের ভারে অনেকটাই নুয়ে পড়েছে। সরকারি ব্যাংকের অবস্থা বেশ নাজুক। ক্রমবর্ধমান হারে খেলাপি ঋণের কারণে নিজেদের মূলধনও খেয়ে ফেলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো। মূলধনের এ ঘাটতি পূরণে গত পাঁচ বছরেই সাড়ে ১২ হাজার কোটি টাকার জোগান দিয়েছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোকে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা জোগান দিলেও চলতি অর্থবছরের বাজেটে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর জন্য ২ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যদিও এরই মধ্যে সরকারের কাছে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি মূলধন জোগান চেয়ে আবেদন এসেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬৩ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সিআইবি ডাটাবেজে রক্ষিত ঋণ তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়,
গেল নভেম্বরে ঋণখেলাপি ব্যক্তি বা কোম্পানির সংখ্যা ছিল দুই লাখ ১৩ হাজার ৫৩২। অথচ বাংলাদেশে ক্ষুদ্রঋণের বাজার প্রায় ৮০ হাজার কোটি টাকার। অর্থাৎ যে টাকা ব্যাংক আদায় করতে পারছে না, সে পরিমাণ অর্থ দিয়ে কোটি ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীকে অর্থের যোগ দিয়ে আসছে মাইক্রো ফাইন্যান্স ইন্সটিটিউট- এমএফআইগুলো। বীমা খাতের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি এখনও তৈরি হয়নি। উদ্যোক্তারা বীমা করেও যথাসময়ে সেবা পাচ্ছে না। এ নিয়ে দফায় দফায় ত্রিপক্ষীয় বৈঠক করতে হচ্ছে। এমন বীমা কোম্পানিও রয়েছে, যারা বলছে, সম্পদ বিক্রি ছাড়া গ্রাহকের দায় মেটাতে পারবে না। সাধারণ বীমার ক্ষেত্রে এমনটা ঘটলেও, জীবন বীমায় আছে অন্য ধরনের বিড়ম্বনা। মাঠ পর্যায়ে সবল তদারকি না থাকায় দাবি পরিশোধে গড়িমসির অভিযোগ বেশ পুরনো। তবে ভালো যে কোম্পানি নেই, তা কিন্তু নয়। মন্দের আধিক্যে ভালো কোম্পানির সাফল্য নিয়েও সন্দিহান হয়ে পড়ছেন অনেকে। ‘Combing social and financial performance: A paradox’ নামে একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়েছিল ২০১১ সালের গ্লোবাল মাইক্রোক্রেডিট সামিটে। ওই প্রতিবেদন বলছে, বেশকিছু ক্ষুদ্র অর্থায়নের সংস্থায় ব্যাপক হারে গ্রাহক ড্রপ আউট হচ্ছে। বাড়ছে খেলাপিও। এ জন্যে প্রডাক্ট ডিজাইনে গুরুত্ব দেয়ার পরামর্শ উঠে আসে। বলা হয়, গ্রাহকদের ভাবনার প্রতিফলন না থাকা প্রডাক্টে জটিলতা তৈরি হয়। কোস্টট্রাস্টসহ বেশ কয়েকটি এমএফআই অবশ্য দাবি করে আসছে, তৃণমূলের ভাবনা প্রতিফলিত হচ্ছে প্রডাক্ট তৈরিতে। তবে যে কোনো ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি নির্ভর করে তার মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও ফাইন্যান্সিয়াল প্রডাক্টের ওপর। তবে নিরন্তর পথযাত্রায় মানতে হবে পরিপালনীয় শর্ত, প্রতিযোগিতা আর ব্যবসা মডেলের নিয়ত পরিবর্তন। আর প্রযুক্তির স্রোতে গা তো ভাসাতেই হবে। তবে অনেক সময়ই অতি মুনাফার লোভে অসুস্থ ও অনৈতিক চর্চা উৎসাহিত হচ্ছে। শুধু ব্যাংকগুলোর মধ্যেই নয়, বরং ব্যাংক বনাম অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও হচ্ছে।
আর্থিক খাতে এখন নিদারুণভাবেই দক্ষ মানবসম্পদের অভাব। ব্যাংকিং পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের শুধু পুরনো বা প্রচলিত সেবা দিলেই চলে না, নিত্যনতুন পণ্যসেবাও প্রবর্তন করতে হয়। সংখ্যা বাড়লেও নতুন ব্যাংকগুলো গতানুগতিকভাবে কাজ করছে। এসব নতুন ব্যাংক পুরনো ব্যাংকের মতোই টাকাওয়ালাদের ঋণ দিচ্ছে। তারা নতুন পণ্য ও সেবা এনে ব্যাংকিংয়ের বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে আওতায় আনার দিকে মনোযোগী নয়। আর এমএফআইগুলো নতুন প্রডাক্টের ক্ষেত্রে খুব একটা বিকশিত হতে পারছে না। বলছে, আইনি জটিলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে সামনে আরও সুযোগ সম্প্রসারিত হবে। বলা হচ্ছে, সদস্যদের বাইরে থেকে সঞ্চয় সংগ্রহ করতে পারলে দরিদ্র মানুষকে কম সুদে অর্থের জোগান দিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে প্রায় চার দশকের পথচলায় বেশ অভিজ্ঞতাও অর্জন করেছে এসব এমএফআই। এ জন্য বাড়তি প্রশিক্ষণের প্রয়োজন। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, কাজাখস্তান, সুদান বলিভিয়াসহ অনেক দেশই এ ধরনের সঞ্চয় সংগ্রহ করে নতুন নতুন প্রডাক্ট চালু করেছে। মাইক্রো ইন্স্যুরেন্স এখনও জনপ্রিয় করা যায়নি বাংলাদেশে। যদিও আইনি সীমাবদ্ধতা উত্তরণে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলেছে অনেকদিন ধরে। বিশ্বব্যাংক অর্থায়ন করলেও খুব বেশি সফল প্রয়োগ হয়নি শস্য বীমার মতো পণ্যসেবা। মাইক্রো বিজনেস কার্ড, মাইক্রো লিজিং, পেনশন ফান্ড ব্যবস্থাপনায় নতুন ভাবনা বা প্রয়োগ কোনোটাই করছে না আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশেন নিয়ে বেশ হৈচৈ চলছে। ছোট-বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সম্পদ ব্যবস্থাপনার জন্য থাকতে পারে সাবসিডিয়ারি কোম্পানি। প্রবাসে থাকা বা অনুপস্থিত মালিকের পক্ষে কৃষি জমি আর বাড়িঘর ভাড়া ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজের দায়িত্ব নেয়ার মতো প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাও বেশ জরুরি হয়ে পড়েছে। এখন গবাদি পশুর বীমা করছে এমএফআইগুলো। পণ্য বাজারজাতেও এ ধরনের বীমাসেবা যুক্ত হতে পরে। যে অর্থ ঋণ দেয়া হয়, তা বীমার আওতায় এলে কস্ট অব ফান্ড হয়তো কিছুটা বাড়বে। কিন্তু আখেরে লাভবান হবেন গ্রাহক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান।
সাজ্জাদ আলম খান : সাংবাদিক
sirajgonjbd@gmail.com

এই সমঝোতার পরিণতিতে জাতি কী পাবে?

কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকারের এক ধরনের ‘সমঝোতার’ পর যে প্রশ্নটি এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে তা হচ্ছে, এই ‘সমঝোতার’ শেষ কোথায়? শুধু ‘দাওরায়ে হাদিস’কে মাস্টার্সের (ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবি) সমমান দিয়েই কি এ সমঝোতা শেষ হবে? নাকি এই সমঝোতা একটি স্থায়ী ভিত্তি পাবে? গত ১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সম্পৃক্ত সিনিয়র আলেমদের উপস্থিতিতে বক্তৃতা করেন। সেখানে তিনি হেফাজতে ইসলামের দাবি মেনে দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান হিসেবে ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার পর খুব দ্রুততার সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করে। ফলে কওমি মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেয়া হল। একইসঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট ভবনের সামনে যে গ্রিক ভাস্কর্য স্থাপন করা হয়েছে, হেফাজতে ইসলাম যা সরিয়ে নেয়ার দাবি করে আসছিল, তার প্রতিও প্রধানমন্ত্রী সমর্থন জানান। তিনি হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের আশ্বাস দেন, এ ব্যাপারে তিনি প্রধান বিচারপতির সঙ্গে কথা বলবেন। হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে এই যে ‘সমঝোতা’, তা প্রধানমন্ত্রীর তথা সরকারের আগের অবস্থানের ঠিক উল্টো। ২০১৩ সালের মে মাসে হেফাজতে ইসলাম ঢাকায় এক মহাসমাবেশ ডেকেছিল। ওই সমাবেশ নানা কারণে ‘বিতর্কিত’ হয়েছিল। হেফাজতের কর্মীরা ঢাকায় তাণ্ডব চালিয়েছিল।
তাদের কর্মীরা বায়তুল মোকাররম এলাকায় ফুটপাতের দোকানে থাকা কোরআন শরিফ পুড়িয়েছিল বলে সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়। ওই মহাসমাবেশ সরকার উৎখাতের এক ষড়যন্ত্র ছিল বলেও সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ ওঠে বিএনপির বিরুদ্ধেও। খালেদা জিয়া হেফাজতের মহাসমাবেশের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন এবং ওই সময় মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থানরত হেফাজতের নেতা-কর্মীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে দলের সিনিয়র নেতাদের সেখানে পাঠিয়েছিলেন। এমনকি জাতীয় পার্টিও তাদের সমর্থন জানিয়েছিল। সরকার শাপলা চত্বরে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ‘কঠোর ব্যবস্থা’ (‘অপারেশন সিকিউর শাপলা’) নিলে শেষ পর্যন্ত হেফাজতের মহাসমাবেশ পণ্ড হয়ে যায়। ওই অভিযানে কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি বলে সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হলেও লন্ডনের দি ইকোনমিস্ট ৫০ ও টেলিগ্রাফ ৩৬ জনের (২১ মে ২০১৩) মৃত্যুর দাবি করেছিল। যদিও এর সত্যতা প্রমাণিত হয়নি। তবে বাস্তবতা হচ্ছে, সরকার তখন হেফাজতে ইসলামের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছিল। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল, যা আজও চলমান। শুধু তাই নয়, ওই সময় শাপলা চত্বরে অবস্থানরতদের বিরুদ্ধে অভিযান ‘লাইভ সম্প্রচারের’ অভিযোগে দুটি টিভি চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। এরপর থেকে সরকারের সঙ্গে হেফাজতের সম্পর্ক কখনও ভালো ছিল না। হেফাজত মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের বিচারের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে- এমন অভিযোগ বারবার সরকারের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের মুখ থেকে উচ্চারিত হয়েছে। এখন দেখা গেল সরকার তাদের সঙ্গেই সমঝোতা করছে। এর ব্যাখ্যা আমরা কীভাবে করব?
হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক সংগঠন নয়। ২০১০ সালে জন্ম নেয়া এ সংগঠনটি মূলত কওমি মাদ্রাসাকেন্দ্র্রিক। মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্ররাই এ সংগঠনটির সঙ্গে জড়িত। সংগঠনটি তথাকথিত রাজনৈতিক সংগঠন না হলেও তাদের কর্মকাণ্ড রাজনৈতিক। তাদের যে ১৩ দফা দাবি, তার মাঝেও আছে রাজনীতি। সংগঠনটি গড়ে ওঠে দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসা ও এর প্রিন্সিপাল আল্লামা শাহ আহমেদ শফীকে কেন্দ্র করে। আল্লামা শফীর প্রচুর মুরিদ আছেন দেশজুড়ে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মাদ্রাসা শিক্ষকরা তার ছাত্র। বিদেশেও তার মুরিদ আছে। তাকে কেন্দ্র করে এবং তাকে সামনে রেখে হেফাজত সংগঠিত হয় এবং একসময় একটি বড় সংগঠনে পরিণত হয়। ২০১৩ সালের মে মাসে ঢাকায় সমাবেশ ডেকে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছিল কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক এই সংগঠনটিকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই। সরকার এ সংগঠনটিকে হাতে রাখার উদ্দেশ্যে আল্লামা শফীর ছেলে আনাস মাদানীকে ব্যবহার করে। অভিযোগ আছে, মাদানী সরকারের কাছ থেকে অনেক সুযোগ-সুবিধা নিয়েছেন। এখন সরকার হেফাজতের সঙ্গে যে সমঝোতায় গেছে, তার পেছনে ধর্মীয় কারণ যতটুকু না আছে, তার চেয়ে বেশি আছে রাজনৈতিক কারণ। সরকার মূলত এখন জামায়াতে ইসলামী ও অন্যান্য সরকারবিরোধী ইসলাম-পছন্দ দলের বিকল্প হিসেবে হেফাজতে ইসলামকে ব্যবহার করছে। দেশের সংসদীয় রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলোর তেমন কোনো ‘অবস্থান’ না থাকলেও হেফাজতের একটা বিশাল জনসমর্থন রয়েছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে রয়েছে অনেক মাদ্রাসা। এসব মাদ্রাসায় কর্মরত শিক্ষক ও ছাত্ররা হেফাজতের সমর্থক। হেফাজতের ডাকে এরা সাড়া দেয়। বলা হয়, প্রায় ১৪ লাখ ছাত্রছাত্রী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। আর এদের আত্মীয়-স্বজনের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ। ফলে বিশাল এক জনগোষ্ঠী হেফাজতে ইসলামের সমর্থক হয়ে পড়েছে।
সুতরাং সরকার অত্যন্ত সুকৌশলে আগামী নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে একটি ‘সুসম্পর্ক’ গড়ে তুলতে চাইছে। সরকারের টার্গেট মূলত ইসলামী দলগুলোকে আস্থায় নেয়া। পাঠক, স্মরণ করতে পারেন ২০০৬ সালেও সরকার খেলাফতে মজলিসের সঙ্গে ৫ দফা চুক্তি করেছিল। সরকার সমর্থক বুদ্ধিবীজীদের একটা বড় অভিযোগ, সরকার ইসলামপন্থীদের খুশি করার জন্যই সংবিধানে ‘রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম’ বহাল রেখেছিল। সংবিধানের প্রথম ভাগে ২(ক) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রধর্ম ইসলাম...’। আবার দ্বিতীয় ভাগের ৮(১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা রাষ্ট্রের পরিচালনায় মূলনীতি বলিয়া গণ্য হইবে।’ একদিকে রাষ্ট্রধর্ম, অন্যদিকে ধর্মনিরপেক্ষতা- এটা যে সাংঘর্ষিক, সরকার সমর্থক বুদ্ধিজীবীরা এটা বারবার বলার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সরকারপ্রধান চেয়েছেন ইসলামপন্থীদের সমর্থন নিশ্চিত করতে। যে কারণে দেখা যায় পাঠ্যপুস্তকেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছিল শুধু হেফাজত সমর্থকদের খুশি করার জন্য। একসময় বিএনপি তথা ২০ দল হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকে সমর্থন করেছিল। এখন সেটা ইতিহাস। হেফাজতে ইসলাম এখন আর বিএনপি তথা ২০ দলের সঙ্গে নেই। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে হেফাজতের ‘সমঝোতা’ নিয়ে ১৪ দলের অনেকেই নাখোশ হয়েছেন। তিনজন মন্ত্রীর মন্তব্য পত্রপত্রিকায় ছাপা হয়েছে। তাতে তারা যে অসন্তুষ্ট, তা প্রকাশিত হয়েছে। রাশেদ খান মেনন বলেছেন, হেফাজতের সঙ্গে সরকারের সমঝোতার ফলে অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক চেতনাবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আসাদুজ্জামান নূর বলেছেন,
তার কাছে এটা বোধগম্য নয় কেন সরকার হেফাজতের সঙ্গে সমঝোতা করল। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর মন্তব্যও অনেকটা তেমনি। হেফাজত বাংলা নববর্ষ পালনের বদলে হিজরি নববর্ষ পালনের যে আহ্বান জানিয়েছে, তিনি তার সমালোচনা করে তার ভাষায় ‘তেঁতুল হুজুর’দের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করেন। ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় একদিকে সরকারের যেমন সমালোচনা করা হয়েছে, অন্যদিকে ওই তিন মন্ত্রীও সমালোচিত হয়েছেন। মন্ত্রিসভায় এখন তাদের থাকার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন রাখা হয়েছে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, গণজাগরণ মঞ্চের সঙ্গে সম্পৃক্ত নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু, যাকে আওয়ামী লীগ সমর্থক বলেই ধরে নেয়া হয়, বলেছেন, আওয়ামী লীগের সঙ্গে হেফাজতের এই ‘সমঝোতা’ এ দেশে সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঘটাবে। তবে গণজাগরণ মঞ্চ এ ব্যাপারে কোনো কর্মসূচি দেয়নি। ইমরান এইচ সরকারের কোনো মন্তব্যও আমার চোখে পড়েনি। হেফাজতের সঙ্গে এই ‘সমঝোতার’ পেছনে সরকারের উদ্দেশ্য যাই থাকুক না কেন, প্রশ্ন হচ্ছে, এর ফলে জাতি কী পাবে? সরকারপ্রধানের ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কওমি মাদ্রাসা বোর্ডের সর্বোচ্চ ডিগ্রি দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান দেয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই ঘোষণা সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বড় বিতর্কের সৃষ্টি করবে। ইতিমধ্যে সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়েছে, কওমি স্বীকৃতি বাতিলের দাবিতে সুন্নিরা মাঠে নামবে। সুন্নিরা দাবি তুলেছে, আলীয়া ও কওমি মাদ্রাসা একত্রিত করে একটা বোর্ড গঠন করা হোক। দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমান দেয়ায় শিক্ষার মান নিয়ে একটা প্রশ্ন উঠবে।
কওমি মাদ্রাসা ও এর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে শিক্ষাবিদদের মধ্যে প্রশ্ন আছে। মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন না থাকলেও কওমি মাদ্রাসা নিয়ে প্রশ্ন আছে। কওমি মাদ্রাসা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে না। এখানে কী পড়ানো হয়, কারা এখানে পড়ান, তারও নিয়ন্ত্রণ নেই সরকারের। তবে আলীয়া মাদ্রাসা সরকার নিয়ন্ত্রণ করে। এদের জন্য আলাদা শিক্ষা বোর্ডও আছে। অন্যদিকে কওমি মাদ্রাসা নিয়ন্ত্রণ করে কিছু ব্যক্তি। ওইসব ব্যক্তির কেউ কেউ আবার রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত। সরকারের কোনো অনুদান এখানে নেই। ব্যক্তি সাহায্যের ওপরই এসব মাদ্রাসা পরিচালিত হয়। বর্তমানে নিবন্ধনকৃত কওমি মাদ্রাসার সংখ্যা ১৫ হাজার। কিন্তু অভিযোগ আছে, এ সংখ্যা ৬০ হাজারের কাছাকাছি। বেসরকারিভাবে ৬টি বোর্ড বা ‘বেফাকুল মালারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে এই কওমি মাদ্রাসাগুলো পরিচালিত হয়। এদের শিক্ষা কার্যক্রম ভারতের বিখ্যাত দেওবন্দের (দারুল উলুম দেওবন্দ) অনুসরণে পরিচালিত হয়। কওমি মাদ্রাসা আধুনিকীকরণ নিয়ে ২০০৬ সালেই একটি উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের ফলে সেই উদ্যোগ থেমে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০১২ সালে নতুন করে একটি কমিটি গঠন করা হয়। যতদূর জানা যায়, এই কমিটি ৬ ধাপে (প্রাইমারি, জুনিয়র সার্টিফিকেট, এসএসসি, এইচএসসি, অনার্স ও মাস্টার্স সমমান) কওমি মাদ্রাসার শিক্ষাব্যবস্থা সংস্কারের প্রস্তাব করেছিল। একইসঙ্গে এই শিক্ষাব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি, সমাজবিজ্ঞান, বিজ্ঞান, প্রযুক্তিবিদ্যা অন্তর্ভুক্ত করারও প্রস্তাব করা হয়েছিল। এখন দাওরায়ে হাদিস পর্যায়ে যারা অধ্যয়ন করেছেন, তাদের সাধারণ শিক্ষা, বিশেষ করে আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে ধারণা না থাকায় মাস্টার্সের স্বীকৃতি পেলেও তারা সমাজ জীবনে কতটুকু অবদান রাখতে পারবে,
এ প্রশ্ন থাকলোই। এমনিতেই দেশে উচ্চশিক্ষা নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ৩৭টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রায় একশ’টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রতিবছর হাজার হজার মাস্টার্স ডিগ্রিধারী বেরুচ্ছে। এর উপরে রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে সার্টিফিকেট পাওয়াটাই হল পড়াশোনার মূল উদ্দেশ্য। এখন এর সঙ্গে যুক্ত হল কওমি মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস। এর ফলে উচ্চশিক্ষায় সার্টিফিকেটের এক মহাবিস্ফোরণ ঘটবে! এরা সমাজ জীবনে, রাষ্ট্র কাঠামোয় কোনো অবদান রাখতে পারবে না। এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কোনো পরামর্শ নেয়া হয়নি। অথচ উচ্চশিক্ষা প্রসারে মঞ্জুরি কমিশনের একটি ভূমিকা রয়েছে। স্পষ্টতই কওমি শিক্ষার সঙ্গে সম্পর্কিত কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর তথা এদের নেতৃত্বদানকারী হেফাজতে ইসলামের সমর্থন নিশ্চিত করার জন্যই এই সিদ্ধান্তটি নেয়া হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষায় উচ্চশিক্ষাকে মাস্টার্সের সমমান দেয়ার যৌক্তিকতা আছে কিনা, সে ব্যাপারে শিক্ষাবিদদের মতামত নেয়া উচিত ছিল। রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে মাস্টার্স ডিগ্রির সমমান দেয়া আর যাই হোক, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে কোনো অবদান রাখবে না। বরং নানা জটিলতা তৈরি করবে। ইতিমধ্যে কওমি মাদ্রাসার সনদের মান বাস্তবায়ন কমিটির সভায় নতুন একটি শিক্ষা বোর্ড গঠন করা হয়েছে, যার নাম দেয়া হয়েছে আল হাইয়াতুল উলাইয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ। এ বোর্ডের অধীনেই নেয়া হবে পরীক্ষা। কওমি মাদ্রাসা সংশ্লিষ্ট বাকি ৬টি শিক্ষা বোর্ড নতুন বোর্ডের অধীনে থাকবে। কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী ১৫ মে থেকে ‘দাওরায়ে হাদিস’ অর্থাৎ মাস্টার্সের পরীক্ষা শুরু হবে। আমি বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখেছি সেখানে দাওরায়ে হাদিসের কোনো সিলেবাস নেই।
তবে অন্যত্র সীমিত পরিসরে সিলেবাস আছে, যেখানে বিস্তারিত কিছু বলা হয়নি। প্রশ্ন আরও আছে। কোনো বোর্ড এমএ ডিগ্রি দিতে পারে না। এ ক্ষেত্রে এমএ ডিগ্রি দিতে পারে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, যা ইতিমধ্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থাকে জড়িত করে এমএ পরীক্ষা নেয়া যেত। বোধকরি আল্লামা শফীরা এটি চাননি। তারা নিজেরা নিজেরা এমএ ডিগ্রি দেবেন। সেখানে কোন কোর্স থাকবে, পরীক্ষার সময় কতুটুকু হবে, ক’টি বিষয় পরীক্ষার আয়োজন করা হবে, এসবের সুনির্দিষ্ট কোনো ধারণা নেই। আমি অবাক হলাম, উচ্চশিক্ষার তদারককারী প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকেও দেখলাম না কোনো ভূমিকা পালন করতে। উচ্চশিক্ষা প্রসারে সরকার যেখানে আন্তরিক, সেখানে মঞ্জুরি কমিশনের ভূমিকা নেই। প্রতিষ্ঠানটি ধীরে ধীরে একটি কাগুজে সংগঠনে পরিণত হয়েছে। সরকার কওমি মাদ্রাসাকে আধুনিকীকরণ করতে চায়, এটি ভালো। কিন্তু এর শিক্ষাব্যবস্থাকে যদি ব্যক্তির হাতে ছেড়ে দেয়া হয়, তাহলে উচ্চশিক্ষায় বড় বিপর্যয় ঘটবে। এখনও সময় আছে। কওমি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণে আনা হোক। নিন্ম তথা মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা নবগঠিত বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে থাকতে পারে।
ড. তারেক শামসুর রেহমান : অধ্যাপক, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সাবেক সদস্য
tsrahmanbd@yahoo.com

শিক্ষার্থীদের নজরে রাখতে ৯ হাজার মাদ্রাসায় চিঠি

শিক্ষার্থীরা যাতে জঙ্গিবাদে জড়াতে না পারে সেদিকে নজর রাখতে সাড়ে ৯ হাজার মাদ্রাসায় চিঠি পাঠিয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড। মঙ্গলবার পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়, মাদ্রাসার পাশাপাশি এর আবাসিক ছাত্রাবাসেও জঙ্গি তৎপরতা চলছে কিনা সে বিষয়ে নিরীক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নির্দেশনা পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক একেএম ছায়েফউল্লা।
তিনি যুগান্তরকে বলেন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সারা দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী-অভিভাবক-শিক্ষক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়েছিল। জেলা প্রশাসক সম্মেলনে এ ধরনের সভা অব্যাহত রাখার ব্যাপারে পরামর্শ দেয়া হয়। পাশাপাশি এ ব্যাপারে কার্যক্রম পরিচালনার পরামর্শও ছিল। তারই অংশ হিসেবে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে। বোর্ডের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মো. মজিবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠির নির্দেশনার মধ্যে আরও আছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদবিরোধী আলোচনা অব্যাহত রাখা।

চবির পরীক্ষা বন্ধ করে দিল বহিষ্কৃত ছাত্র

পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমতি না দেয়ায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের পরীক্ষার হলে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে বহিষ্কৃত আবদুল্লাহ আল কায়সার শাকিল নামের এক শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সাংবাদিকতা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের ৪০১ নম্বর কোর্সের পরীক্ষা হওয়ার কথা।
কিন্তু সকাল থেকে লোকজন নিয়ে এসে পরীক্ষার হলে তালা দেয় শাকিল। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আলী আসগর চৌধুরী বলেন, শাকিল ছাত্রলীগের দু'গ্রুপের মারামারির কারণে দুই বছরের জন্য বহিষ্কার হয়েছেন। তাকে পরীক্ষায় অংশ নেয়ার অনুমতি দেয়ার সুযোগ নেই। প্রয়োজনে আমরা তালা ভেঙে নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা নেব।

কোরীয় নারী হত্যায় মানিকের যাবজ্জীবন

রাজধানীর গুলশানে কোরীয় নারী রো জং সিয়ং (৬৯) হত্যা মামলায় এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক আবদুর রহমান সরদার এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মানিক সরকার। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
মানিক সরকার নিহত রো জং সিয়ং ও তার স্বামীর পরিচালিত 'আরিয়ান কোরিয়ান' নামে রেস্তোরাঁর কর্মী ছিলেন। রায়ে বলা হয়েছে, নিহত নারীর মেয়ের খারাপ আচরণ, আসামিকে মারধরসহ তার বেতন-ভাতা ও অন্য সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। অবশ্য গ্রেফতারের পর মানিক সরকার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন। মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ৯ নভেম্বর কোরীয় নাগরিক রো জং সিয়ংকে ধারালো চাকু দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কোরিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ওই বছরের ১৭ নভেম্বর তিনি মারা যান। এ ঘটনায় নিহত নারীর স্বামী পার্ক জ্যাং সিয়ং বাদী হয়ে গুলশান থানায় একটি মামলা করেন। এই দম্পতি দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে গুলশানে রেস্তোরাঁটি পরিচালনা করে আসছিলেন। ঘটনা তদন্ত শেষে ২০১২ সালের ৩০ এপ্রিল আসামির বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়। ওই বছরের জুলাই মাসে আসামির বিরুদ্ধে বিচার শুরু হয়।

কেশবপুরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবক নিহত

যশোরের কেশবপুরে পুলিশের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে ইউনুস হোসেন নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোরে কেশবপুর উপজেলার চার রাস্তার মোড়ে এ বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। ইউনুস হোসেন (৪০) সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মনিপুর গ্রামের মকবুল হোসেনের ছেলে। কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রকিব জানান, কেশবপুরের দেউলি চার রাস্তার মোড়ে সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির গোপন সংবাদে পুলিশের একটি টহল দল অভিযানে যায়।
উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে ডাকাতেরা গুলি ছোড়ে। এ সময় পুলিশও পাল্টা গুলি চালালে এক পর্যায়ে ডাকাতেরা পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ইউনুস হোসেনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি শার্টারগান ও দুটি রামদা উদ্ধার করেছে এসআই রকিব।

রূপপুর প্রকল্পের স্ট্রাকচার হেলে পড়েছে

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকপ্লের নির্মাণাধীন একটি স্ট্রাকচার হেলে পড়েছে। বৃহস্পতিবার ভোরে লোহার স্ট্রাকচারটি পাশের ৩ নং ভবনের উপর হেলে পড়ে। তবে এতে কেউ হতাহত হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকল্পের এক শ্রমিক জানান, মাটি ঠিকমত বসেনি (পায়েলিং)।
এর ফলে বুধবার রাতের বৃষ্টিতে পিলারের নিচে মাটি ধসে যায়। এতে লোহার তৈরি পুরো স্ট্রাকচারটি কাত হয়ে পাশের ওয়ার্কশপের ছাদে পড়ে। তবে বৃহস্পতিবার ভোরে  ওয়ার্কশপ বন্ধ থাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানান তিনি। প্রকল্প কর্মকর্তা রুহুল আমিন জানান, সকাল থেকে হেলে পড়া স্ট্রাকচারটি অপসারণের কাজ চলছে।

সন্তানের প্রতি ভালোবাসা কী কখনও কমে?

সন্তানের প্রতি বাবা-মার ভালোবাসা কখনও কী কমে? আপনিও তো কারও বাবা-মা, আপনার দুটি সন্তান রয়েছে, বলুনতো কোন সন্তানটিকে বেশি ভলোবাসেন? বড়টিকে নাকি ছোট্ট সন্তানকে?
নিশ্চয় এমন উদ্ভট প্রশ্ন শুনে আপনি চিন্তায় পড়ে যাবেন! কিন্তু আপনি অবাক হলেও এটি সত্য, প্রায় সব বাবা-মা কখনও না কখনও এমন প্রশ্নের সম্মুখীন হন এবং নিজেদের অজান্তেই সন্তানদের প্রতি মাঝে মাঝে ভালোবাসার তারতম্য করে থাকেন!
এই যেমন: গত মঙ্গলবার ভারতের পুনের একটি মেয়ে সুইসাইড নোট লিখে আত্মহত্যা করেছে। সেখানে সে লিখেছে, বাবা-মা তাকে একদম পছন্দ করেন না। পরে বিষয়টি তদন্ত করে কর্মকর্তা বলেছেন, 'ওই শিশুটি মনে করেছে বাবা-মা তাকে উপেক্ষা করতেন এবং ছোট ভাইয়ের প্রতি তারা বেশি মনোযোগী ছিলেন। তার ব্যক্তিগত নোট থেকে এটাই প্রমাণ মেলে, যে সে তার বাবা-মায়ের দ্বারা অবহেলিত হয়েছিল।' খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার। বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ বাবা সন্তানদের সমান নজরে দেখেন ও ভালোবাসার চেষ্টা করে থাকেন এবং এটাই ন্যায্য। কিন্তু কখনও কখনও এটা সমানভাবে থাকে না, একটু এদিক-সেদিক হয়ে যায়।  আর মায়ের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ছোট সন্তানটিকে একটু বেশি সময় দিতে হয়। তার চাহিদা পূরণেও ব্যস্ত থাকেন তিনি। মা ছোটটির প্রতিটি বিষয়ে বেশি আকর্ষণ অনুভব করেন, সে সময় হয়তো ব্যস্ততার কারণে বড় সন্তানটির প্রতি খুব একটা নজর দেয়া হয় না।
এতে বড় সন্তানের মনে ক্ষেভের সৃষ্টি হতে পারে। আর এমন বিরক্তিকর পরিস্থিতির তখনি সৃষ্টি হয় যখন বাবা-মায়েরা তাদের দুটি সন্তানের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্কের তারতম্যটা বুঝতে ব্যর্থ হন। মনোবিজ্ঞানী, হিপনোথেরাপিস্ট অধ্যাপক ডা. অরুনা ব্রুটো বলেন, আমাদের সমাজে সব বিষয়ে বড় সন্তানটিকে বেশি চাপ দেয়া হয়। আমরা ধরেই নেই, বড় হওয়ায় তার বেশি দায়িত্ব নেয়া উচিত, আর ছোটটা তো শিশুই।  বাবা-মা সব সময় বড় সন্তানকে আপস করতে বলেন, ছোটটিকে কখনও এ ব্যাপারে চাপ দেয় না। এমন ধ্যান-ধারণা পরিবর্তন জরুরি। নইলে ভবিষ্যতে ভাইবোনদের মধ্যে দ্বন্দ্ব বাড়বে যা অপ্রিতীকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।

কলম্বিয়ায় বন্যায় ১৭ জনের প্রাণহানি

কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলে বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১৭ জন মারা গেছেন। বুধবার দেশটির দুর্যোগ প্রশমন কর্তৃপক্ষ একথা জানিয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা বলেন, মানিজালেস নগরীতে প্রবল বর্ষণে সৃষ্ট পানির তোড়ে ভেসে অন্তত সাতজন নিখোঁজ রয়েছেন। এতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চলতি মাসের গোড়ার দিকে দক্ষিণাঞ্চলীয় নগরী মোকোয়ায় ভূমিধসে প্রাণহানি ঘটে।৩১ মার্চ প্রবল বর্ষণে পার্বত্য এলাকার তিনটি নদীর পানি উপচে বন্যায় অন্তত ৩২৩ জন মারা যান। এদের মধ্যে শতাধিক শিশু রয়েছে।
মেয়র জোসে অক্টাভিয়ো কার্ডোনা স্থানীয় রেডিও স্টেশনগুলোকে বলেন, কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিপাতের পর নগর কর্তৃপক্ষ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। গতরাতও ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট জুয়ান ম্যানুয়েল সান্টোশ মোকোয়ার মতো দুর্গম এলাকাগুলোয় পরিদর্শন পরিকল্পনা স্থগিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই এই বিপর্যয় ঘটেছে।’ তিনি এই ধরনের বিপর্যয় এড়াতে সকলের প্রতি ‘সতর্ক থাকার’ আহ্বান জানিয়েছেন। জরুরি কর্মকর্তারা জানান, আটটি এলাকায় বন্যা ও ভূমিধস হয়েছে। একটি এলাকার বেশ কয়েকটি বাড়িঘর ভূমিধসে চাপা পড়েছে।

কোরীয় নাগরিক হত্যায় ১ জনের যাবজ্জীবন

রাজধানীর গুলশানে কোরীয় নাগরিক হত্যা মামলায় এক আসামির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার ৪ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হলেন মানিক সরকার। তিনি নিহত নারী ও তাঁর স্বামীর পরিচালিত আরিয়ান কোরিয়ান নামের রেস্তোরাঁর কর্মী ছিলেন।

যশোরে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত ১

যশোরের কেশবপুরে আজ বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ এক ব্যক্তি নিহত হন। নিহত ব্যক্তি ডাকাত বলে দাবী করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে উপজেলার চাররাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম ইউনুস হোসেন (৪০)। তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার মনিপুর গ্রামে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রকিব দাবি করেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কেশবপুরের দেউলি চাররাস্তার মোড়ে একদল ডাকাত সড়কে গাছ ফেলে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি টহল দল ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা গুলি ছুড়লে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে ডাকাত সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে একজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।

চাটখিলে ৪’শ পরিবারকে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান

নোয়াখালী জেলার চাটখিলের ৭ গ্রামের ৮.৭২৬ কিলোমিটারের মধ্যে ৪’শ পরিবারকে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান করা হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে ৯নং খিলপাড়া ইউনিয়নের বিনোদপুর মাদ্রাসা মাঠে বিদ্যুতের সংযোগ প্রদান অনুষ্ঠান স্থানীয় ইউপি আওয়ামীলীগ সভাপতি মীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে বিদ্যুৎ সংযোগের উদ্ভোধন করেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যাক্তিগত সহকারী জাহাঙ্গীর আলম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নোয়াখালী জেলার জিএম শংকর লাল দত্ত, ডিজিএম গোপাল চন্দ্র শিব, পল্লী বিদ্যুাতায়ন বোর্ডের জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন মুন্সী, চাটখিল পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ উল্যা পাটোয়ারী, নোয়াখালী জেলা পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মাকসুদুর রহমান শিপন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন, মানবাধিকারকর্মী মাহবুবুল হক প্রমূখ।

সেনবাগে ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার চেষ্টা

সেনবাগ উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা মাইন উদ্দিন প্রকাশ রিয়াদকে (৩০) বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে অস্ত্র ঠেকিয়ে এলোপাথাড়ী কিলঘুশি মেরে ও খুরদিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে অজ্ঞাত একদল মুখোশধারী সন্ত্রাসী। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাত ৮টার দিকে ছমির মুন্সির হাট বাজার সংলগ্ন ইয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (চোধুরী) স্কুলের মাঠে। রিয়াদ কাবিলপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ডাঃ আবুল কালাম আজাদের ছেলে। রিয়াদ জানায় বুধবার রাত ৮টার দিকে এক যুবক নিজেকে ছাত্রলীগ নেতা পরিচয় দিয়ে সে বিপদে পড়েছে বলে সাহায্য করার জন্য ইয়ারপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে আসার অনুরোধ করেন। রিয়াদ তার কথায় সাড়া দিয়ে বিদ্যালয়ের মাঠে পৌছা মাত্র ৫/৬ জনের মুখোশধারী একদল যুবক তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলে।
এরপর তাকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এলোপাথাড়ি কিলঘুশি মেরে ও খুর দিয়ে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে মারাত্বক আহত করে। এসময় তার চিৎকারে আশপাশ্চের লোকজন এগিয়ে এলে মুখোশধারী সন্ত্রাসীরা তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ছমির মুন্সির হাট সেবা হাসপাতালে এনে ভর্তি করান। পরে তাকে উন্নিত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে স্থান্তাতর করে। খবর পেয়ে আওযামীলীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা তাকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। এব্যাপারে যোগাযোগ করলে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুন অর রশিদ চৌধুরী বিষয়টি শুনেছেন বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মিদের নিশ্চিত করেন

সেনবাগের বিএনপি ও যুদলের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুদলের দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওযা, সংর্ঘষ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হামলা ভাংচুর এবং লুটপাটেরর ঘটনা ঘটেছে। এসময় সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে মোখলেসুর রহমান (৪৫) বাজারের দুই ব্যবসায়ী রাজু ও মিলনকে সোনাইমুড়ি হাসপাতালে এবং বাকিদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত চলে। স্থানীয় ১নং ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুর রহমান জানায়, গত ১৬ এপ্রিল রোববার সেনবাগের কেশারপাড় ইউপির স্থগিত কেন্দ্রের নির্বাচনের দিন কেশারপাড়ের কালারাইতা কেন্দ্রে গোলযোগ হলে পুলিশ গুলি চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে নেয়। এরপর পুলিশ ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ছাতাপাইয়া ইউনিয়ন যুবদল সেক্রটারী সুমনের নামে মামলা করে। এর আগে সুমনের বাড়িতে অসামাজিক কর্মকান্ড চলছে এ খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বেগমগঞ্জ ও সেনবাগ নির্বাহী অফিসারের অনুরোধে সেনবাগ থানা পুলিশ তার বাড়িতে অভিযান পরিচালনা করে। এসব ঘটনার জন্য সুমন আবদুর রহমান চেয়ারম্যানকে অভিযুক্ত করে। বুধবার রাতে সুমনের নেতৃত্বে একদল লোক আবদুর রহমান চেয়ারম্যান সমর্থকদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর এবং লুটপাট শুরু করলে শুরু হয় উভয়ের লোকজনের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। সন্ধ্যা ৭টা থেকে শুরু হওয়া ওই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া চলে রাত ৯টা পর্যন্ত । পরে সেনবাগ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে এবং মুসলধারে বৃষ্টি শুরু হলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। যোগাযোগ করলে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) হারুন অর রশিদ চৌধুরী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন-এঘটনায় কোন পক্ষই থানায় অভিযোগ দায়ের করেনি।

সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের প্রস্তুতির নির্দেশ চীনা প্রেসিডেন্টের

সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য তৈরি থাকার নির্দেশ দিলেন চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং। শুধু তাই নয়, যত তাড়তাড়ি সম্ভব অত্যাধুনিক যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করতেও তিনি পরামর্শ দিয়েছেন। সময়ের সঙ্গে দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে রণপ্রযুক্তি। আধুনিক যুদ্ধ কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে ইলেকট্রনিক, তথ্যপ্রযুক্তি ও মহাকাশ বিজ্ঞান। পাল্টে যাওয়া রণক্ষেত্রে সাফল্য পেতে হলে সড়গড় হতে হবে নানান খুঁটিনাটি বিষয়ে। সদ্যগঠিত ৮৪টি সেনা ইউনিটের প্রধানদের সে ব্যাপারে সচেতন হতে মঙ্গলবার নির্দেশ দিলেন প্রেসিডেন্ট জি জিনপিং, যিনি প্রায় ৪৩ কোটি সৈন্য বিশিষ্ট পিপল্‌স লিবারেশন আর্মির প্রধানও। অত্যাধুনিক যুদ্ধরীতির সঙ্গে পরিচিত হতে দীর্ঘ প্রশিক্ষণের উপরও জোর দিয়েছেন জিনপিং। মনে করা হচ্ছে, সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ায় শক্তিশালী রাডার বিশিষ্ট মার্কিন থাড (টার্মিনাল হাই অল্টিচ্যুড এরিয়া ডিফেন্স) মিসাইলের মোকাবিলা করতেই চীনের এই উদ্যোগ।
জানা গেছে, আমেরিকার অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে তৈরি থাড মিসাইলের রাডার প্রায় সমগ্র চীনের উপর নজরদারি করতে সক্ষম। শুধু তাই নয়, দক্ষিণ চীন সাগরে ভারত ও জাপানের মতো প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে চাপে রাখতেও আধুনিক যুদ্ধ কৌশল রপ্ত করার বিষয়ে জোর দিচ্ছে চীন। প্রশাসনিক সূত্রে কিছু জানানো না হলেও অভ্যন্তরীণ সূত্রে খবর, বিশ্বের বৃহত্তম সেনাবাহিনীর বহর কমাতে উদ্যোগী হয়েছে বেইজিং। জানা গেছে, ইতোমধ্যে প্রায় ৩ লাখ সৈন্যকে ছাঁটাই করা হয়েছে। এর পর বাহিনীর ভিতর থেকেই প্রচুর ঝাড়াই-বাছাইয়ের ফলে তৈরি করা হয়েছে ৮৪টি বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন বিশাল আকারের সেনা ইউনিট। গত ডিসেম্বর মাসে এক বৈঠকেও সেনাবাহিনীর পরিমাপ কমানোর কথা উল্লেখ করেছিলেন প্রেসিডেন্ট জিনপিং। তার দাবি, তুলনায় ছোট বহরের ফৌজ যুদ্ধক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর হবে। সেই বাহিনীকে অত্যাধুনিক রণরীতির পাঠ দিয়ে এবার অপরাজেয় করাই বেইজিংয়ের লক্ষ্য।

যুক্তরাষ্ট্র-উ. কোরিয়ার উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক, চীনের উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রকে সম্ভাব্য পারমাণবিক যুদ্ধের যে হুমকি দিয়েছে উত্তর কোরিয়া- তা নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে পিয়ং ইয়ংয়ের মিত্র বলে পরিচিত চীন। দেশটির পররাষ্ট্র দফতরের একজন মুখপাত্র বলেছেন উত্তেজনা আরো বৃদ্ধি করে এমন যে কোন ধরনের কর্মকাণ্ড বা কথাবার্তার বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে উত্তর কোরিয়ার কয়েকদিন ধরে চলা হুমকি পাল্টা হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে চীনের কাছ থেকে এমন মন্তব্য এলো। সম্প্রতি বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে উত্তর কোরিয়ার উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হ্যান সাং রিয়ল বলেছেন যুক্তরাষ্ট্র হামলা করবে এমন কোন আভাস পেলেই উত্তর কোরিয়া নিজেই পরমাণু হামলা চালাবে। উত্তর কোরিয়ার কর্মকর্তার এমন মন্তব্যে উত্তেজনা চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর শক্তির পরীক্ষা না নিতে উত্তর কোরিয়াকে সতর্ক করে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স।
এসব হুমকি পাল্টা হুমকি সম্পর্কে চীনের পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র লু কাং দেশটির হয়ে যে বার্তা দিচ্ছেন তা হলো উস্কানিমূলক কথাবার্তা দুই পক্ষেরই পরিহার করা উচিত। তিনি বলেছেন, বর্তমান কোরিয়ান উপদ্বীপ এলাকায় পরিস্থিতি এমনিতেই অত্যন্ত জটিল এবং স্পর্শকাতর। যেকোনো ধরনের বক্তব্য যা পরিস্থিতিকে আরো উস্কে দেবে তার বিরোধিতা করছে চীন, বলছিলেন মি লু কাং। তিনি আরো বলছেন, কোরীয় উপদ্বীপকে পরমাণু অস্ত্র মুক্ত করতে কাজ করে যাচ্ছে চীন। সব পক্ষকে এখানে নিজেদের সামলে কাজ করার পরামর্শ দিয়েছে চীন। রোববারই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে উত্তর কোরিয়া। শনি ও রোববার দফায় দফায় সামরিক বাহিনীর নানা ধরনের প্যারেড প্রদর্শনীর মাধ্যমে জানান দেয়ার চেষ্টা চলেছে যে তারাও হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত। বেইজিং থেকে বিবিসির সংবাদদাতা স্টিফেন ম্যকডনাল বলছেন, মিত্র দেশ উত্তর কোরিয়ার অবস্থানে বিশেষভাবে চীন হতাশ বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সূত্র : বিবিসি

নওয়াজ শরীফের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আজ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের ভাগ্য জানতে দেশটির সবাই এখন তাকিয়ে আছে দেশটির সুপ্রিম কোর্টের দিকে। আজই আদালতে নওয়াজ শরীফের বিদেশে ব্যবসার বৈধতা নিয়ে হওয়া একটি দুর্নীতির মামলার আদেশ দেয়ার কথা রয়েছে। আদালতের আদেশ বিপক্ষে গেলে তাকে ক্ষমতা থেকেও সরে দাঁড়াতে হতে পারে। পানামা পেপারস কেলেঙ্কারিতে তার তিন সন্তানের নাম বিদেশে থাকা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সাথে সম্পৃক্ত আছে বলে প্রকাশ পেলে এ নিয়ে দেশটিতে তীব্র বিতর্ক দেখা দেয়। যদিও নওয়াজ শরীফ ও তার পরিবার কোনো ধরণের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সরকারের দিক থেকে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, নওয়াজ শরীফ সব অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পাবেন। দেশটির বিরোধী নেতা ইমরান খান নওয়াজ শরীফের তীব্র সমালোচনা করে রাস্তায় বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছেন। গত বছর মে মাসে পানামা পেপার্স নামে পরিচিত ফাঁস হয়ে যাওয়া অফশোর অ্যাকাউন্টের তথ্যের একটি তালিকা অনলাইনে প্রকাশ করা হয়েছিলো। নিজেদের ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশে পর অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন আই সি আই জে বলেছিলো যে, এই ডেটাবেজে উল্লেখিত সবাই যে অবৈধ কাজ করেছে তা নয়, তবে এর মাধ্যমে অনেকে কর ফাঁকি বা আর্থিক তথ্য লুকানোর চেষ্টা করতে পারে। আইনি প্রতিষ্ঠান মোজাক ফনসেকার ফাঁস হয়ে যাওয়া নথি, পানামা পেপার্সের মাধ্যমে বিশ্বের অনেক রাজনীতিবিদ, সরকারী কর্মকর্তা, রাষ্ট্রপ্রধান থেকে শুরু করে চিত্রতারকা এবং তারকা খেলোয়াড়দেরও গোপন সম্পদের খবর ফাঁস হয়ে যায়। জার্মান একটি পত্রিকার কাছে 'জন ডো' নামে পরিচিত একটি সূত্র এই তথ্যগুলো ফাঁস করে দেয়। পরবর্তীতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল কনসোর্টিয়াম অফ ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট এই তথ্য প্রকাশ করে। তবে মোজাক ফনসেকা দাবি করছে, তারা বেআইনি কোন কাজ করেনি। সূত্র : বিবিসি

যেখানে মৃতদের সাথেই জীবিতদের বসবাস

পৃথিবীর অনেক সংস্কৃতি বা ধর্মেই মৃত্যুকে মনে করা হয় শুধুমাত্র শারীরিক বিনাশ। যা এই জগতের শেষ, আর অন্য আরেক জগতের শুরু। তবে ইন্দোনেশিয়ার একটি অঞ্চলে বিষয়টি একটু আলাদা। সেখানে একজনের মৃত্যু হলেও, তার শেষকৃত্য হতে অনেক সময় লেগে যায়। মৃতদের নিয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা ধরণের। একটি ভিডিও তে দেখা যাচ্ছে, বসার কক্ষে পরিবারের সদস্যরা বসে কফি খাচ্ছেন। সবাই খু্ব হাসিখুশি, আর এরই পাশের কক্ষের বিছানায় একজন শুয়ে আছেন। তিনি কোন নড়াচড়া করছেন না। তার ধুসর বর্ণের মুখে ছোট ছোট অনেক দাগ, যেন পোকা মাকড় কামড় দিয়েছে। শরীরে অনেক কাপড় পেঁচানো। বাড়ির ছোট মেয়ে মামাক লিসা বলছিলেন, "তার সাথে হৃদয়ের আবেগের খুব সম্পর্ক আছে। আমাদের সেই সম্পর্ক এখনো আছে।" অথচ এই ব্যক্তি মারা গেছেন ১২ বছর আগে। যদিও তার পরিবার মনে করে, তিনি এখনো জীবিত কিন্তু একটু অসুস্থ। এই মৃত ব্যক্তি তার পরিবারের প্রাত্যহিক জীবনযাত্রারই একটি অংশ। ইন্দোনেশিয়ার তোরাজন এলাকার পুরনো প্রথার এটিও একটি, যেখানে মৃতরা জীবিতদের সাথেই বসবাস করে। কেউ মারা যাওয়ার অনেক মাস পর. অনেক বছর পর শেষকৃত্য হয়। এ মধ্যবর্তী সময়ে নানা হারবাল ও রাসায়নিক দিয়ে মৃতদেহ সংরক্ষণ করে পরিবারের সাথেই রাখা হয়।
তাকে দিনে দুইবার খাবার দেয়া হয়, এমনটি টয়লেটের জন্যও রুমে এক কোণে একটি পাত্র রাখা হয়। তার কন্যা বলছিলেন, "এটা আমার দুঃখবোধ কাটাতে অনেক সাহায্য করছে। আমার বাবা যে মারা গেছেন সে কষ্টের সাথে অভ্যস্ত হতে আমি সময় পাচ্ছি।" যখন চূড়ান্ত ভাবে মৃতদের বিদায় জানানো হয় তখন অনুষ্ঠান হয় অত্যন্ত জাঁকজমকপূর্ণ। আত্মীয়স্বজনরা আসেন। অনেক টাকা পয়সাও খরচ করা হয়। আবার এ শেষকৃত্য কিন্তু চূড়ান্ত বিচ্ছেদ নয়। কয়েক বছর পর পর নানা উপলক্ষে কফিন খুলে মৃতদেহ বের করা হয়। বন্ধু আর আত্মীয়রা তাকে নানা খাবার দেন, পরিষ্কার করে একত্রে তার সাথে ছবিও তুলেন। সমাজবিজ্ঞানী আন্দি তান্দি লোলো, "সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে এটি জীবিত ও মৃতদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ রক্ষার মতো ব্যাপার।" তিন বছর আগে নিহত এক ব্যক্তির পুত্রবধূ বলছেন, যখন তাকে দেখতে পাই তখন মনে হয় তিনি আমাদের কত ভালোবাসতেন। তবে এ প্রাচীন প্রথাটি এখন ক্রমশ বিলুপ্তির পথে। সূত্র : বিবিসি

যুক্তরাষ্ট্রে পরমাণু হামলা চালাতে উ. কোরিয়ার রকেট তৈরি!

উত্তর কোরিয়া সম্পর্কে আগে যে ধারণা করা হতো তার চেয়ে অনেক বেশি পরমাণু বোমা দেশটির অস্ত্রভাণ্ডারে আছে। দেশটিতে অন্তত ৩০টি পরমাণু বোমা রয়েছে। এ ছাড়া, তিন বছরে এ সংখ্যা দ্বিগুণ করার মতো বোমা তৈরির প্রয়োজনীয় উপাদানও দেশটির কাছে আছে। ওয়াশিংটন ভিত্তিক সংস্থা ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি এসব তথ্য দিয়েছে। আর এতে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বোমার সংখ্যা নিয়ে আগে যে ধারণা করা হতো তা পুরোপুরি বদলে গেছে। দেশটি নতুন পরমাণু শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চলেছে। এ ছাড়া, পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে পরমাণু বোমা দিয়ে হামলার সক্ষমতা এখনই দেশটির আছে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। ১৯৯৯ সাল দেয়া হিসাবে আমেরিকা মনে করতো পিয়ংইয়ং’য়ের হাতে একটি বড়জোর দুটি পরমাণু বোমা রয়েছে।
২০২০ সালের মধ্যে দেশটির পরমাণু বোমার সংখ্যা বেড়ে ১০টি হতে পারে বলেও সে সময় ধারণা ব্যক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ইন্সটিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটির প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড অলব্রাইট আরো বলেন, প্লুটোনিয়াম এবং ইউরেনিয়াম উৎপাদন বাড়ানোর কারণে উত্তর কোরিয়ার পরমাণু বোমার সংখ্যা বেড়েছে। তিনি আরো বলেন, কাগজ কলমের হিসাবের ভিত্তিতে বলা যায় যে উপগ্রহ পাঠাতে যে রকেট ব্যবহার করা হয় তা দিয়ে আমেরিকায় পরমাণু হামলা চালাতে পারবে উত্তর কোরিয়া। অবশ্য এ জাতীয় হামলার কোনো কার্যকারিতা থাকবে না বলেও ধারণা ব্যক্ত করেন তিনি। অবশ্য তিনি বলেন, আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র বা আইসিবিএমের জন্য কার্যকর পরমাণু ওয়ারহেড উত্তর কোরিয়া তৈরি করতে পারবে কিনা তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। কিন্তু নোডোং ক্ষেপণাস্ত্রে বসানোর উপযুক্ত ক্ষুদ্র পরমাণু ওয়ারহেড উত্তর কোরিয়া তৈরি করেছে বলে জানান তিনি। এ ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে জাপান বা দক্ষিণ কোরিয়ায় হামলা চালানো সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। সূত্র : ওয়েবসাইট

মধ্যপ্রাচ্যের সব সমস্যার মুলেই ইরান : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র মনে করে মধ্যপ্রাচ্যের সব সমস্যার মুলেই ইরান এবং দেশটি মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করতে উস্কানি দিচ্ছে। আর ক্ষুন্ন করছে মার্কিন স্বার্থ। এমনকি সৌদি নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশন যে ইয়েমেনে দিনের পর দিন বিমান হামলা করে যাচ্ছে সেই ইয়েমেনের অস্থিতিশীলতার জন্যও ইরানকে দায়ী করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাট্টিস। ম্যাট্টিস সৌদি আরব সফরে গিয়ে এসব মন্তব্য করেছেন। ওই অঞ্চলে ইরানই সৌদি আরবের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী। অবশ্য এর কয়েক ঘণ্টা আগে ইরান ইস্যুতে মার্কিন কংগ্রেসকে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন।
এতে টিলারসন ইরানকে উস্কানি দেয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত করে বলেছেন মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে হেয় করছে দেশটি। টিলারসনের মতে, বাধা না দিলে ইরান হয়ে উঠতে পারে উত্তর কোরিয়ার মতো। ইতোমধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে ওবামা প্রশাসনের করা পরমাণু চুক্তি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তোলাটা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থ বিরোধী হয়েছে কিনা, তা খুঁটিয়ে দেখতে বলেছেন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র স্বীকার করছে যে, ২০১৫ সালের ওই চুক্তি ইরান পুরোপুরি মেনে চলেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের দিক থেকে এতসব কথাবার্তার কোনটিরই জবাব আসেনি এখনো ইরানের দিক থেকে।

হিজাব ছিঁড়ে ফেলা হলো মার্কিন মুসলিম কিশোরীর

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়ায় বিদ্বেষমূলক হামলার শিকার এক মুসলিম কিশোরী। অভিযোগ, এক ব্যক্তি তার পরনের হিজাব ছিঁড়ে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে সোমবার স্থানীয় সময়ে প্রায় পৌনে ১০টা নাগাদ। ১৪ বছরের ওই কিশোরী আটলান্টার ম্যাজিয়ানো লিটল ইতালির নিকটবর্তী পেরিমিটার মলের পার্কিং লটে কয়েকজন বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটছিলেন।
কিশোরীর অভিযোগ, এমন সময়ে এক অচেনা ব্যক্তি এসে তার হিজাব ছিঁড়ে দিয়ে তা ছিনিয়ে পালিয়ে যায়। সে আরো জানায়, পালানোর সময় চিৎকার করতে করতে তাকে উগ্রবাদী উল্লেখও করে ওই ব্যক্তি। কিশোরীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। ওই ব্যক্তির খোঁজ চলছে। তার খোঁজ দিতে পারলে এক হাজার মার্কিন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করেছে কাউন্সিল অফ আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস। সাম্প্রতিক অতীতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম মহিলাদের ওপর একাধিক বিদ্বেষমূলক হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ। সেই তালিকায় সর্বশেষ সংযোজন হলো এই ঘটনা।