Wednesday, September 22, 2010

পাবনা থেকে পঞ্চগড়: সোনার ছেলেদের নবশাসন by সোহরাব হাসান

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সহযোগী দুই সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের মহা গুণধর কর্মীরা কেন অফিস সহকারী ও কেরানির চাকরির জন্য এতটা মরিয়া হয়ে উঠেছেন, আমাদের বোধগম্য নয়। এ দুই সংগঠনের কর্মীরা পড়াশোনা করেন না বলে ‘সুনাম’ আছে। কিন্তু ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় নিবেদিত সরকারের সোনার ছেলেদের ডিজিটাল জ্ঞানবিরোধী এই কর্মযজ্ঞ দেশবাসীকে ভয়ানক শঙ্কায় ফেলেছে বললেও কম বলা হবে। বলিউড ছবির ভিলেনরা যেমনটি করে থাকে, ছাত্রলীগ-যুবলীগের ছেলেরা তার চেয়ে মোটেই কম যান না।
আমরা জানি, যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁদের দৃষ্টি বরাবর ওপরে থাকে। কিন্তু ছাত্রলীগ-যুবলীগের কর্মীরা তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর সামান্য চাকরির জন্য এতটা মরিয়া হয়ে উঠলেন কেন? এর বেশি যোগ্যতা কি তাঁদের নেই? তাঁরা যখন রাজনীতি করতে এসেছেন, তখন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, নিদেনপক্ষে প্রতিমন্ত্রীর খোয়াব তো দেখবেন। না হলে অন্তত বিদেশে বাংলাদেশ মিশনে প্রেস কাউন্সিলরের পদের জন্য আবদার করতে পারতেন। সেসব না করে একেবারে কেরানি-পিয়নের চাকরির জন্য এত ভাঙচুর, এত মারধর, এত হাঙ্গামা!
কাকতালীয় হলেও মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে পাবনা ও পঞ্চগড়ে প্রায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। পত্রিকার খবর অনুযায়ী, ‘পাবনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা গতকাল (শুক্রবার) জেলা প্রশাসনের তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী নিয়োগ পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাপক হামলা চালিয়েছেন। নিজেদের পছন্দের প্রার্থী নিয়োগের দাবিতে তাঁরা এ হামলা চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাঁরা দুটি কেন্দ্রে ভাঙচুর, লুটতরাজ, মারধর করেন এবং প্রশ্ন ও উত্তরপত্র পুড়িয়ে ফেলেন।’ (প্রথম আলো, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০)। এ হামলায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিজয় ভূষণ পালসহ ১৬ জন আহত হন। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা বিভাগীয় কমিশনার অফিসের একটি গাড়িসহ জেলা প্রশাসনের চারটি গাড়ি এবং পাবনা স্কুল ও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করেন। ছাত্র বা রাজনৈতিক কর্মীদের কাজ জনগণকে সুশিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা নয়।
এই সন্ত্রাসী ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে পুলিশ শনিবার রায়হান নামে যুবলীগের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে। দ্রুত বিচার আইনে মামলা হয়েছে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আহমেদ শরীফ ডব্লিউ, সাবেক সভাপতি মুস্তাফিজুর রহমান সুইটসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ৬৪ জন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। আর যায় কোথায়? পাবনার আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ জিহাদে নেমে পড়ল স্থানীয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে।
অন্যদিকে পঞ্চগড়ে পরীক্ষায় পছন্দের প্রার্থীরা পাস করতে না পারায় গত রোববার গভীর রাতে সিভিল সার্জনের অফিস ভাঙচুর করেন একদল সন্ত্রাসী। এ সময় তাঁরা সার্জনের সম্মেলনকক্ষে ঢুকে পরীক্ষার উত্তরপত্র ও ফলাফল শিট নিয়ে যান। এমনকি তাঁরা সিভিল সার্জন ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (সার্বিক) গাড়িও ভাঙচুর করেন। চতুর্থ শ্রেণীর পাঁচটি পদে ১৫ জনকে নিয়োগের লক্ষ্যে লিখিত পরীক্ষা নেওয়া হয়। রাত একটা ২০ মিনিটে লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হলে ২০-২৫ জন বিক্ষুব্ধ যুবক সন্ত্রাসী কায়দায় ভাঙচুর শুরু করেন। তাঁরা সিভিল সার্জনের অফিসের দরজা-জানালার কাচ, বেসিন, আসবাব ভাঙচুর করেন এবং নিয়োগ কমিটির সদস্যদের ওপর চড়াও হন।
এই হামলাকারীরাও স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মী বলে জানা গেছে। তাহলে বলতে হবে, তাঁদের নেটওয়ার্কটি বেশ শক্তিশালী।
সিভিল সার্জন মো. ইমান উদ্দিন বলেছেন, পরীক্ষার মাধ্যমে যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই করায় একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে ওই হামলা চালানো হয়। এই প্রভাবশালী মহল যে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী, তাতে সন্দেহ নেই। দীর্ঘদিন ধরেই পঞ্চগড়ে আওয়ামী নেতৃত্বে কোন্দল চলছে। সেখানকার যেকোনো নাগরিককে জিজ্ঞেস করলেই বলে দিতে পারবেন, এটি কাদের কাজ। আওয়ামী জমানায় অন্য দলের কার বাপের এমন বুকের পাটা আছে যে তারা মধ্যরাতে এই সশস্ত্র অভিযান চালাবে?
দুটি ঘটনার স্থান-কাল-পাত্র ভিন্ন হলেও কয়েকটি বিষয়ে আশ্চর্য মিল রয়েছে। দুটি স্থানেই যুবলীগ ও ছাত্রলীগের গুণধর কর্মীরা হামলা চালিয়েছেন পরীক্ষাকেন্দ্রে। অর্থাৎ পরীক্ষা বিষয়টিকে তাঁরা ভীষণ ভয় পান। পরীক্ষা মানে যোগ্যতা যাচাই, পরীক্ষা মানে গুণের বিচার, পরীক্ষা মানে ভালো ও মন্দের পার্থক্য করা। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সোনার ছেলেরা সেটি মেনে নেবেন কেন? তাঁরা দলের পরিক্ষীত সৈনিক, দেশপ্রেমিক নাগরিক। তাঁদের আবার পরীক্ষা দিতে হবে কেন? যেহেতু আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা আন্দোলন-সংগ্রাম করে ক্ষমতায় এসেছেন, সেহেতু সব পদে তাঁদেরই নিয়োগ দিতে হবে।
স্বাধীনতার পর বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের পরীক্ষায় নাকি এভাবে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা নিয়োগ আদায় করে নিয়েছিলেন। বিগত বিএনপি আমলে দলীয় প্রার্থীদের পাস করাতে বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁস করানো হয়েছিল। বিএনপি শাসন নেই, তবে তার সংস্কৃতি পুরো যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা আয়ত্তে নিয়ে এসেছেন। স্বাধীনতার পর তাঁরা বঙ্গবন্ধুকে ডুবিয়েছেন এবং এখন শেখ হাসিনাকেও ডোবাতে বসেছেন। আওয়ামী লীগের শত্রু আওয়ামী লীগই। মন্ত্রীরা বক্তৃতা-বিবৃতিতে প্রায়ই দেশবাসীকে বিরোধী দলের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সজাগ করেন, কিন্তু তাঁরা যদি দলের ভেতরের সোনার ছেলেদের প্রতি একটু নজর দিতেন, তাহলে দেশ তো বটেই, আওয়ামী লীগও রক্ষা পেত।
পঞ্চগড়ের ঘটনাটি ঘটেছে রোববার গভীর রাতে। এ কারণে গতকাল পর্যন্ত সেখানে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। কিন্তু পাবনায় পরীক্ষা ভণ্ডুল নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটে চলেছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। তাদের দাবি, জেলা প্রশাসক একজন মহা দুর্নীতিবাজ। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে এত দিন তাঁরা নিশ্চুপ ছিল কেন? পরীক্ষার হলে হামলার দায়ে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পরই তিনি দুর্নীতিবাজ হয়ে গেলেন? শুক্রবারের আগে কেন তারা এ দাবি করল না?
অগ্রজ সাংবাদিক আতাউস সামাদ পত্রিকান্তরে লিখেছেন, ‘অপরাধ করে অপরাধীই অভিযোগকারীকে আসামি করার পুরোনো কৌশলটি দেশজুড়ে আওয়ামী লীগপন্থীরা ইদানীং ব্যবহার করছে। এ ধরনের আচরণে দেশে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতি নেমে আসছে।’ (দৈনিক দেশ, ২০ সেপ্টেম্বর,২০১০)। সারা দেশে হচ্ছে কি না বলতে পারব না। তবে পাবনায় আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীরা মিলে সেই কৌশলই ব্যবহার করছেন। এখন তাঁরা জেলা প্রশাসক ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনেছেন। এতে কাজ না হলে সেই মোক্ষম দাওয়াই ব্যবহার করবেন। বলবেন, জেলা প্রশাসক ও তাঁর সহযোগীরা বিএনপি-জামায়াতের চর।
এত দিন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের টার্গেট ছিল বিরোধী দলের নেতা-কর্মী। এবার খোদ প্রশাসনের গায়ে হাত দিয়েছেন। এটি কিসের লক্ষণ? এর পরিণতির কথা কি একবারও তাঁরা ভেবে দেখেছেন? সোমবারের পত্রিকার খবর, ‘জেলা প্রশাসকসহ পাবনার প্রশাসনিক ক্যাডারের কর্মকর্তারা একযোগে বদলির আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ছাড়া তাঁরা একটি প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে জানানোর কথাও বলেছেন। প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আজ কর্মবিরতি ও কালো ব্যাজ ধারণেরও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’
আমরা কোথায় আছি? আক্রমণকারীরাই বিচারের দাবিতে শহর গরম করেছে। নিরীহ সরকারি কর্মকর্তারা কী করবেন? হয় বদলি হবেন, না হয় মুখ বুজে সব সহ্য করে ক্ষমতার পরিবর্তন পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন। পাবনার ঘটনাটি ছাত্রলীগ ও যুবলীগের মাস্তানির মধ্যে সীমিত থাকলে হয়তো সরকার মুখ রক্ষা করতে পারত। কিন্তু পাবনার আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ সবাই প্রশাসনের বিরুদ্ধে যেভাবে আস্ফাালন করছেন, তাতে প্রশ্ন জাগে, সেখানে আইনের শাসন বলতে কিছু আছে কি না? দলীয় নেতা-কর্মীদের ভয়ে সরকারি কর্মকর্তা, এমনকি জেলা প্রশাসক অফিসে যেতে ভয় পাচ্ছেন। এই ভয় সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে?
পাবনার সব সরকারি কর্মকর্তারা তো স্বেচ্ছায় গণবদলির আবেদন জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অতএব, বদলির দাবিতে আন্দোলন করার দরকার নেই। বরং ছাত্রলীগ ও যুবলীগ দাবি তুলতে পারত, পাবনার সব কর্মকর্তাকে সরিয়ে দিয়ে শূন্য পদগুলোতে তাদের নেতা-কর্মীদের নিয়োগ দিতে হবে। সরকার দুই বছর মেয়াদি একটি কর্মসৃজন কর্মসূচি নিয়েছে। এরই মধ্যে কুড়িগ্রাম ও বরগুনায় কয়েক হাজার বেকার যুবককে চাকরিও দেওয়া হয়েছে। সরকার এখন পাবনায় এ কর্মসূচি নিতে পারে এবং সেই চাকরির মেয়াদ হবে আমৃত্যু বা বংশপরম্পরায়। আওয়ামী লীগের কোনো নেতা মারা গেলে পদাধিকারবলে তাঁর ছেলে বা মেয়ে সে পদে অধিষ্ঠিত হবেন। সংসদের আগামী অধিবেশনে এ-সংক্রান্ত একটি বিলও আনা যেতে পারে। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে প্রশাসনের বিরোধ হবে না। সরকারের গোয়েন্দা কর্মকর্তাদেরও তটস্থ থাকতে হবে না, প্রশাসনে কখন কোন ফাঁকফোকর দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের চর ঢুকে পড়বে।
পঞ্চগড় ও পাবনার ঘটনা বিশ্লেষণ করলে আমরা কী দেখতে পাই? ছাত্রলীগ ও যুবলীগ যেভাবে চাইবে, সেভাবেই পরীক্ষা নিতে হবে। পরীক্ষায় কে কত নম্বর পেল, তা বিবেচনায় না এনে তাদের পছন্দসই প্রার্থীদের চাকরি দিতে হবে। প্রশাসন চলবে তাদের কথায়, তাদের মর্জিতে। না হলে ডিজিটাল বাংলাদেশ কেন?
প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সবাই এত দিন বলে আসছিলেন, সন্ত্রাসী যে দলেরই হোক, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু গত ২০ মাসেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর ফলটি হলো, সন্ত্রাসীরাই পাল্টা ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। পাবনায় ছাত্রলীগ ও যুবলীগ যা শুরু করেছে, সেটি সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে কী ভয়ংকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে, তা ভাবতেও গা শিউরে ওঠে। মানুষ তো ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শাসন চায় না। আইনের শাসন চায়।
পাদটিকা: প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে যোগ দিতে বাংলাদেশ থেকে ১০২ জন সফরসঙ্গী নিয়ে গেছেন। এ তালিকায় পাবনার আওয়ামী লীগদলীয় সাংসদ এবং ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কর্মীদের রাখলে নিশ্চয়ই তাঁরা অবদান রাখতে পারতেন। আগামী বিদেশ সফরে প্রধানমন্ত্রী পাবনার দলীয় নেতা-কর্মীদের বিষয়টি মনে রাখবেন আশা করি। কেননা, দেশের এই কীর্তিমানদের সেবা থেকে বিশ্ববাসীকে বঞ্চিত করা ঠিক হবে না।
সোহরাব হাসান: কবি, সাংবাদিক।
sohrab03@dhaka.net

নারী-নিরাপত্তার সেরা বর্ম কী by ডালিয়া দাশ

প্রথম আলোয় ৩ সেপ্টেম্বর আবুল মোমেনের ‘ব্যক্তিত্বই নারীর নিরাপত্তার সেরা বর্ম’ শীর্ষক লেখাটি পড়লাম। একজন নারী হিসেবে আমি এ লেখার জন্য তাঁকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কিন্তু তাঁর বক্তব্যের কয়েকটি দিক নিয়ে কিছু বলা জরুরি মনে করি।
পোশাক অথবা ধর্মের বর্ম দিয়ে কোনো সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। এ ক্ষেত্রে আফগানিস্তানের উদাহরণ প্রাসঙ্গিক হতে পারে। আমি নিজে যখন সেখানে আড়াই বছর ছিলাম, তখন বহু নারীর মুখেই শুনেছি (আমি পাশতু ও ফারসি—উভয় ভাষাই খানিকটা শিখেছিলাম) সেখানকার নারী নির্যাতনের কথা, পুরুষদের লোলুপতার কথা। সেখানে অনেক কিছুই গোপন থাকে—থাকতে দিতে হয়। মেয়েদের মনে করা হয় না যে তারা প্রতিবাদ করতে বা সোচ্চার হতে পারে। তালেবানি শাসনে নারীদের কিছুকালের জন্য অন্তঃপুরে চালান দেওয়া হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু সেই কারাগারে চিরদিন বন্দী করে রাখার দিন শেষ হয়ে গেছে বহু আগেই।
তানজানিয়ায় যখন মেয়েদের নিয়ে দেড় বছর কাজ করেছি, তখন সেখানে দেখেছি আফগানিস্তানের উল্টো চিত্র। সেখানে বোরকা পরা হয় না—মেয়েরা পরে পশ্চিমা আঁটোসাঁটো পোশাক। কিন্তু সেখানে নারীলোলুপ হিংস্র মানুষ দেখিনি, যারা নারীদের তথাকথিত উত্তেজক পোশাক দেখে তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কোনো ধর্ষণের খবর সেখানকার পত্রিকায় দেড় বছরের মধ্যে পড়িনি। পণপ্রথাও নেই যে স্বামী ও তাঁর আত্মীয়দের অত্যাচারে জর্জরিত হয়ে গায়ে কেরোসিন ঢেলে অথবা গলায় ফাঁস লাগিয়ে কোনো নারীর নির্যাতন থেকে রক্ষা পেতে হবে।
কিন্তু আমাদের দেশে জনপরিবহনে পর্যন্ত মেয়েদের জন্য সংরক্ষিত আসনে জায়গা পেতে ঝগড়া করতে হয়। মেয়েদের গা ঘেঁষে যেখানে বাসের কোনো কোনো হেলপার দাঁড়িয়ে থাকে, যাতে ওঠা-নামার সময়ে যেটুকু পারা যায় নারীদেহের স্পর্শ পাওয়া যায়। নৈতিক অবনতি এতটাই হয়েছে যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অনেক ছাত্রীর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলতে চান। ভয় দেখান—সে রকমের সম্পর্ক না থাকলে পরীক্ষায় ভালো নম্বর নাও উঠতে পারে। আবুল মোমেন লিখেছেন, কোনো সংঘাতের মধ্যে না গিয়ে সমাধান করতে পারলেই তা সর্বোত্তম সমাধান। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে সংঘাতে না যাওয়া ছাড়া মেয়েদের কোনো পথ থাকে না। আসলে অনেক শিক্ষকের তরফ থেকে যৌন হয়রানির ঘটনা শুরু হয় অনেক আগেই, তবে এখন কোনো কোনো ছাত্রী তা প্রকাশ এবং প্রতিবাদ করতে আরম্ভ করেছে। বইমেলা অথবা শপিং মলে যাওয়ার পথে অজান্তেই ছেলেদের অযাচিত হাতের স্পর্শে ঘৃণায় সংকুচিত হয় মেয়েরা। আবুল মোমেনের কথা মেনে নিলে বলতে হয়, পুরুষদের এই অবাঞ্ছিত হাত বাড়ানোর জন্যও দায়ী মেয়েদের ব্যক্তিত্বের অভাব।
আমাদের দেশের নারীদের অবস্থা কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া একই রকম। তথাকথিত সামাজিকীকরণের মাধ্যমে মেয়েদের যেটা প্রথমেই পরিবারের ভেতরে শেখানো হয়, তা হলো ‘লাজুক হওয়া’, ‘মেনে নেওয়া’, ‘মানিয়ে নেওয়া’, ‘জোরে কথা না বলা’, ‘উচ্চহাস্য না করা’ ইত্যাদি। আর বাইরে বের হলেই বলা হয়, মাথা নিচু করে রাস্তার এক পাশ দিয়ে চলতে, কেউ কোনো বাজে কথা বললে প্রতিবাদ না করে সেখান থেকে দ্রুত সরে যেতে। ছেলেবেলা থেকেই এ রকমের অনেক কিছু শেখানো হয় মেয়েদের। যাঁদের তথাকথিত ব্যক্তিত্ব গড়ে ওঠে, তাঁদেরও বেশির ভাগ রেহাই পান না বখাটেদের উৎপাত এবং অপমানজনক ব্যবহার থেকে। মেয়েরা এই অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারে, পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হলে। যত দিন সমাজে এ পরিবর্তন না আসে, তত দিন মেয়েদের দুর্ব্যবহারের শিকার হতেই হবে।
রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন তাঁর সময়ে অত্যন্ত আধুনিক ছিলেন, তা বলাই বাহুল্য। তবু তাঁরও ‘স্বামী’র নাম নিয়েই সমাজে বাস করতে হয়েছে, সমাজসেবায় নামতে হয়েছে। রোকেয়ার ১০০ বছর পরে অবস্থার যে খুব পরিবর্তন হয়েছে, তা নয়। এখনো স্বামীর নাম অপরিহার্য। পাসপোর্ট করতে গেলে বিবাহিতা নারীর স্বামীর অনুমতি লাগে। একজন অবিবাহিতা কর্মজীবী নারীর পক্ষে কোনো বাড়িভাড়া পাওয়া প্রায় অসম্ভব। নিদেনপক্ষে, মা অথবা ভাইদের হাজির করতে হয় সাক্ষীগোপাল হিসেবে। সমাজের বড় অংশই এখনো কোনো নারীকে প্রকৃত অর্থে একজন ব্যক্তি হিসেবে বিবেচনা করে না। এখনো তাঁর প্রধান পরিচয় তিনি মেয়েমানুষ।
এখনো মেয়েদের কেবল যে বাইরে গেলে উত্ত্যক্ত বা অপমানজনক ব্যবহার পেতে হয়, তা-ই নয়, বাড়িতেও অনেক সময় আত্মীয়-পরিজনের হাতে নিগৃহীত হতে হয়। এসব ক্ষেত্রে মেয়েরা মেনে নেয়, অথবা মেনে নিতে বাধ্য হয়। অপমান গায়ে লেগে থাকে না, কিন্তু মনে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে। নারীর মর্যাদা রক্ষায় নিজের শিক্ষা অথবা পরিবারের অন্য সদস্যদের একাডেমিক শিক্ষা আসলে যথেষ্ট নয়, সেই সঙ্গে প্রয়োজন পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার বদল। নারীকে কেবল নারী নয়, বরং একজন মানুষ হিসেবে মর্যাদা না দেওয়া পর্যন্ত নারীর সামাজিক ও পারিবারিক লাঞ্ছনার হাত থেকে রেহাই পাওয়া অসম্ভব।
নারীর ক্ষমতায়নের কথা এখন খুব চালু হয়েছে, কিন্তু আমার মনে হয়, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করার শুরুতেই কাজ করা দরকার পুরুষের মানসিকতা পরিবর্তনের। পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা কেবল পুরুষদের নয়, অনেক নারীরও থাকে। সে রকম নারীদেরও বেরিয়ে আসতে হবে সনাতন মূল্যবোধ থেকে।
আমরা কি এখনো সত্যিকার অর্থে একটি স্বাধীন, সুন্দর সমাজব্যবস্থা গড়ে তুলতে পেরেছি, যেখানে নারী-পুরুষ-শিশুনির্বিশেষে সবাই সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সব অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে পারি সত্যিকার মানুষ হিসেবে? যে দেশে একজন লেখিকাকে পালিয়ে যেতে হয় নিজের দেশ ছেড়ে, যে দেশে একজন কবিকে চাপাতির আঘাতে গুরুতরভাবে জখম হতে হয়, যে দেশে সাংবাদিককে খুন হতে হয় সত্যি কথা লেখার জন্য, যে দেশের নারীকে ইভ টিজিংয়ের বিরুদ্ধে সামনের সারিতে স্লোগান দিয়ে পরে নিজেরই বেছে নিতে হয় আত্মহত্যার পথ, সেখানে কীভাবে শুধু নারীর ব্যক্তিত্ব হতে পারে তাঁর নিরাপত্তার সেরা বর্ম?
ডালিয়া দাশ: উন্নয়নকর্মী।

প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কৌশল by ছিদ্দিকুর রহমান

প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি হওয়া বয়সী শিশুদের অধিকাংশই দরিদ্র, নিরক্ষর পরিবারের সন্তান। তাদের পারিবারিক পরিবেশ শিশু বিকাশের অনুকূলে নয়। তাই শিশুরা স্কুলে ভর্তি হওয়ার বয়স হলেও দৈহিক ও মানসিকভাবে ভর্তি হওয়ার পর্যায়ে পৌঁছায় না। ভাষা, চালচলন, সামাজিকতা, মনস্তাত্ত্বিক ইত্যাদি বিষয়ে শিশুর পারিবারিক ও বিদ্যালয়ের পরিবেশের মধ্যে বিরাট শূন্যতা বিরাজ করে। ফলে বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর নতুন পরিবেশের সঙ্গে শিশু খাপ খাওয়াতে পারে না; অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকের কথা বোঝে না। মা-বাবা ও পরিবারের অন্য সদস্য থেকে দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন থাকতে পারে না। সরাসরি ৬+ বছর বয়সে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়। এতে অনেকের লেখাপড়ার প্রতি অনীহা সৃষ্টি হয়। কেউ কেউ বিদ্যালয়ে আসতে চায় না। বিদ্যালয়ে এলেও হয় পড়া বোঝে না, না হয় লেখাপড়ায় মনোনিবেশ করতে পারে না। ফলে লেখাপড়ায় পিছিয়ে পড়ে এবং পরীক্ষায় ফেল করে। এ কারণে বহু শিশু বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে।
শিশুদের এসব সমস্যার কথা বিবেচনা করে জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০-এ ৫+ বয়সের শিশুদের জন্য এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা দেশব্যাপী চালু করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশে দীর্ঘমেয়াদি শিশুযত্ন বিকাশ ও শিক্ষা কার্যক্রম চালু আছে। বাংলাদেশে অর্থ ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার অভাবের কারণে এখনই সবার জন্য এ সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হচ্ছে না। এক বছর মেয়াদি প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে সম্প্রসারণ করে তা করা সম্ভব। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য তৈরি করবে। এখানে আনুষ্ঠানিক লেখাপড়ার চাপ থাকবে না। বর্তমানে চালু বেবি ক্লাস, কেজি ক্লাস বা ফোরকানিয়া মাদ্রাসার মতো জোর করে মুখস্থ করানো, বোঝা বোঝা বাড়ির কাজ বা ব্যাগভর্তি বইয়ের চাপ সহ্য করতে হবে না। আনন্দঘন পরিবেশে শিশুকে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগিকভাবে প্রাথমিক শিক্ষার উপযোগী করে তোলাই হবে এ কার্যক্রমের মুখ্য উদ্দেশ্য। দেশব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য যেসব নীতি ও কৌশল অবলম্বন করা প্রয়োজন, তার রূপরেখা নিম্নে উপস্থাপন করা হলো:
সারা দেশের ৫+ বয়সী সব শিশুর জন্য শিশু শিক্ষাকেন্দ্র চালু করা। কেন্দ্রের অবস্থান শিশুদের বাড়ির কাছাকাছি হবে। প্রতি উপজেলায় গড়ে ২০০ করে প্রায় এক লাখ কেন্দ্রে এ কার্যক্রম চালু করতে হবে।
প্রতি কেন্দ্রে শিশুর সংখ্যা কোনো অবস্থাতেই ২৫-এর বেশি হবে না।
প্রতি কেন্দ্রে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন করে শিশু শিক্ষা পরিচর্যাকারী (শিক্ষক) থাকবেন। পরিচর্যাকারী হবেন স্থানীয় নারী এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা হবে ন্যূনতম এসএসসি। পরিচর্যাকারীকে অবশ্যই শিশু শিক্ষা পরিচালনার ওপর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হতে হবে। কোনো অবস্থাতেই প্রশিক্ষণ ছাড়া কাউকে এ কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া যাবে না।
শিশু শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে স্থানীয় সরকার, অর্থাৎ ইউনিয়ন পরিষদের ওপর। ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক গঠিত ‘ইউনিয়ন শিক্ষা কমিটি’ ইউনিয়নভুক্ত কেন্দ্রগুলো পরিচালনায় দায়িত্ব পালন করবে। শিক্ষাকেন্দ্রের জন্য ঘর ও আসবাবের ব্যবস্থা করা, শিশুর ভর্তি ও নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা, শিক্ষা পরিচর্যাকারী (শিক্ষক) নিয়োগ এবং মাসিক বেতন প্রদান, কার্যক্রম তদারকি ও পরিবীক্ষণ ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বে থাকবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব হবে শিক্ষাক্রম নির্ধারণ, শিখনসামগ্রী (প্রচুর ছবিসংবলিত গল্প ও ছড়ার রঙিন বই এবং খেলাধুলা, গানবাজনা ও চারু-কারুকলার সামগ্রী) সরবরাহ করা এবং শিশু শিক্ষা পরিচর্যাকারীর প্রশিক্ষণ প্রদান। তা ছাড়া কেন্দ্রীয় সরকার ইউনিয়ন শিক্ষা কমিটির সদস্যদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে। কেন্দ্রীয় সরকার ইউনিয়ন পরিষদকে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বার্ষিক আর্থিক থোক বরাদ্দ দেবে। ইউনিয়ন পরিষদকে শিক্ষা কর আদায়ের আইনগত অধিকার দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা যায়।
শিশু শিক্ষাকেন্দ্র সকাল নয়টা থেকে দুপুর ১২টা এবং বেলা তিনটা থেকে পাঁচটা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকবে। শিশুরা সুবিধামতো সময়ে আসবে এবং দুই থেকে তিন ঘণ্টা অবস্থান করবে।
শিক্ষাপদ্ধতি হবে সম্পূর্ণ শিশুকেন্দ্রিক। বাংলা, গণিত, স্বাস্থ্য, পরিবেশ পরিচিতি ইত্যাদি আলাদা কোনো বিষয় থাকবে না। সমন্বিত পদ্ধতি (integrated method) অবলম্বনে কার্যক্রম পরিচালিত হবে। সুনির্দিষ্ট কোনো পাঠ্যপুস্তক বা প্রাইমার থাকবে না। কেন্দ্রে বেশিসংখ্যক ছবি, ছড়া, গল্পের রঙিন বই থাকবে। আঁকা ও হাতের কাজের জন্য চারু ও কারুকলা-সামগ্রী থাকবে। আর থাকবে খেলাধুলার প্রচুর সামগ্রী। ছড়াগান, গল্প বলা, সমবেত গান, নাচ, ছবি আঁকা, রং করা, হাতের কাজ করা, খেলাধুলা ও আনন্দ-উল্লাসের মাধ্যমে শিশুকে প্রাথমিক শিক্ষার জন্য তৈরি করা হবে। বাড়ির কাজ বলতে কিছুই থাকবে না।
শিশু শিক্ষাকেন্দ্র হবে শিশুর জন্য অত্যন্ত আকর্ষণীয় স্থান। এমন আনন্দঘন পরিবেশে কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যেন প্রতিটি শিশু কেন্দ্রে আসার জন্য উদগ্রীব থাকে। এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে, যেন শিশু সানন্দে প্রতি কাজে অংশ নেবে। শিশু শুনবে, নিজে বলবে, আঁকবে, খেলবে, নাচবে—এভাবে তার শিখন ও বিকাশ সম্পূর্ণ হবে।
গ্রামের বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রের দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের মাঝেমধ্যে কেন্দ্রে আসার জন্য আমন্ত্রণ করা যেতে পারে। যেমন—চারণকবি, বাউল বা পল্লি গায়ক এসে গান শোনাতে পারেন। বছরে দু-একবার বানরের নাচ, পুতুলনাচ বা অন্য কোনো খেলা দেখানোর ব্যবস্থা করা যায়।
শিক্ষাকেন্দ্রের ঘর বা কক্ষটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। প্রচুর আলো-বাতাসের ব্যবস্থা থাকবে। ঘরের মেঝে থাকবে শুকনো। ঘরের দেয়ালে শিশুদের আঁকা এবং সংগ্রহ করা সুন্দর সুন্দর ছবি ও চিত্র প্রদর্শন করা থাকবে। কিছুদিন পরপর এগুলো পরিবর্তন করতে হবে।
শিশু শিক্ষা পরিচর্যাকারী শিশুদের অভিভাবক, বিশেষ করে, মায়েদের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রাখবেন। শিশুর যত্ন, খাদ্য, পুষ্টি, নিরাপত্তা ইত্যাদি বিষয়ে মাঝেমধ্যে ‘মা সমাবেশ’ করে আলোচনার ব্যবস্থা করবেন। কোনো অবস্থাতেই কোনো শিশু সম্পর্কে অভিভাবকের কাছে কোনো প্রকার অভিযোগ করা যাবে না। তবে করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেওয়া যাবে।
শিশুর বিকাশ ও শিক্ষার সাফল্য শিক্ষা পরিচর্যাকারীর (শিক্ষক) আন্তরিকতা ও দক্ষতার ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে। এর জন্য প্রয়োজন ফলপ্রসূ প্রশিক্ষণ, সুযোগ-সুবিধা ও সামাজিক মর্যাদা। আজকের কোমলমতি শিশুদের যত্ন, পরিচর্যা ও ভালোবাসা দিয়ে বিকশিত করা গেলে তারা ভবিষ্যৎ জীবনে সুশিক্ষা লাভ করে নীতিবান, দক্ষ, জ্ঞানসমৃদ্ধ বাংলাদেশি হিসেবে গড়ে উঠবে।
ড. ছিদ্দিকুর রহমান: অধ্যাপক, আইইআর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। সদস্য, জাতীয় শিক্ষানীতি কমিটি-২০০৯।

সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশন -বিরোধী দলের অনুপস্থিতি অগ্রহণযোগ্য

কার্যকর সংসদের আশা যেন দুরাশাই রয়ে গেল। এক-এগারোর ঘটনার দুই বছর পর একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গঠিত সংসদও যে আগের মতোই চলবে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের সেই পুরোনো ধারাবাহিকতাই বজায় রয়েছে। গতকাল শুরু হওয়া নবম সংসদের ষষ্ঠ অধিবেশনে বিরোধী দল ছিল যথারীতি অনুপস্থিত। সাংসদ হিসেবে বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদে যাচ্ছেন না—এই দায় প্রধানত বিরোধী দলকেই নিতে হবে। সংসদে বিরোধী দলের এই অনুপস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তবে বিরোধী দলের সংসদে অনুপস্থিতির ব্যাপারে সরকারি দলও নিজেদের দায়মুক্ত ভাবতে পারে না। সরকারি দল সংসদে বিরোধী দলকে রাখতে পারছে না, এটাকে তাদের ব্যর্থতা হিসেবেই গণ্য করতে হবে।
যে দল সংসদে বিরোধী দলে থাকে, সেই দলের নেতা সংসদে উপস্থিত থাকেন কম—এই পুরোনো ঐতিহ্যও বর্তমান সংসদ বজায় রেখেছে। বর্তমান সংসদের ১৫৮ কার্যদিবসে সংসদে বিরোধী দলের নেতা উপস্থিত ছিলেন মাত্র পাঁচ দিন। বর্তমান বিরোধী দল বিএনপি সংসদের এই শরৎকালীন অধিবেশনে যোগ দেবে কি না, সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হবে আজ মঙ্গলবার, দলটির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে। সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়ার দিনটি অনেক আগেই নির্ধারিত ছিল। সংসদ বসার আগেই দলটির স্থায়ী কমিটি এ ব্যাপারে তাদের সিদ্ধান্ত জানাতে পারত। কিন্তু বিষয়টিকে তারা ঝুলিয়ে রাখল সংসদ অধিবেশন শুরু হওয়া পর্যন্ত। সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে দলটির মধ্যেও যে মতভেদ আছে, তা স্পষ্ট। প্রথম আলোর এক প্রতিবেদনের তথ্য ও পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী দলটির স্থায়ী কমিটির ১৮ জন সদস্যের মধ্যে সাংসদ আছেন মাত্র চারজন। স্থায়ী কমিটির যেসব সদস্য সাংসদ নন, তাঁরা সংসদে যাওয়ার ব্যাপারে অনাগ্রহী বলে জানা গেছে। এটাই যদি বাস্তবতা হয়, তবে বিষয়টি খুবই হতাশাজনক।
এটা ঠিক যে স্থায়ী কমিটি দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী কমিটি। কিন্তু সংসদে যাওয়া না-যাওয়ার সিদ্ধান্ত দলের সংসদীয় কমিটিতে নেওয়াই বাঞ্ছনীয়। কারণ, সাংসদেরা একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন এবং জনগণ ভোট দিয়ে সাংসদদের সংসদে পাঠিয়েছেন তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য। সাংসদদের তাই জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থাকা স্বাভাবিক। সংসদে যাওয়ার পক্ষে দলটির কয়েকজন সাংসদ বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন বলে জানা গেছে।
সংসদীয় গণতান্ত্রিকব্যবস্থায় সরকারি দলের কর্মকাণ্ড বা দেশ পরিচালনার ত্রুটি-বিচ্যুতির সমালোচনা করার জায়গা সংসদ এবং এই কাজটি সঠিকভাবে পালন করা বিরোধী দলের দায়িত্ব। সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করে রাজপথে আন্দোলন করার চেষ্টার চেয়ে সংসদে এসে মতামত তুলে ধরলে দেশবাসীর কাছে পৌঁছানো বরং অনেক সহজ হবে। আমরা আশা করব, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সংসদে যাওয়ার পক্ষে সিদ্ধান্ত নেবেন।
সরকারি দলের আচার-আচরণের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বিরোধী দলকে সংসদের আসনসংখ্যা দিয়ে বিবেচনা না করার মানসিকতার প্রতিফলন থাকতে হবে। বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সরকারি দল তা রক্ষা করেনি। এসব বিষয় অনাস্থা ও অবিশ্বাসের জন্ম দেয়, যা সরকারি দল এড়াতে পারত। সরকারি ও বিরোধী দলের আন্তরিক উদ্যোগ না থাকলে একটি কার্যকর সংসদের প্রত্যাশা দুরাশাই থেকে যাবে।

গিলানির বাসভবনের সামনে শরীরে আগুন দিয়ে আত্মাহুতি

পাকিস্তানের বন্যাদুর্গত এক ব্যক্তি মুলতানে প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রাজা গিলানির ব্যক্তিগত বাসভবনের সামনে শরীরে আগুন লাগিয়ে আত্মাহুতি দিয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত রোববার মুলতানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে আসেন মোহাম্মদ আকরাম নামের ওই ব্যক্তি। তিনি বাসভবনে প্রবেশ করতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে বাধা দেন। এ সময় তিনি নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে দিয়াশলাই দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর অবস্থায় তাঁকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল তাঁর মৃত্যু হয়।
পুলিশ ও আকরামের স্বজনেরা জানান, মুলতান থেকে ৯৩ মাইল পশ্চিমে জিওয়ান ওয়ালা গ্রামের বাসিন্দা তিনি। ভয়াবহ বন্যায় তাঁর বাড়ি ভেসে গেছে। চার ছেলেমেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তিনি খোলা আকাশের নিচে বাস করছিলেন। গত মে মাসে আকরাম চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে যান। চাকরির আশায় প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে প্রবেশ করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু নিরাপত্তাকর্মীরা বাধা দিলে তিনি সেখানেই গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। ওই সময় ইউসুফ রাজা গিলানি বাড়িতে ছিলেন না।

জাপানের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগ স্থগিত করেছে চীন

একটি ট্রলারের ক্যাপ্টেনকে আটকাদেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত রোববার জাপানের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ স্থগিত করেছে চীন সরকার। এর প্রতিক্রিয়ায় গতকাল সোমবার বিষয়টি নিয়ে চীনকে শান্তভাবে আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছে জাপান।
গত ৭ সেপ্টেম্বর পূর্ব চীন সাগরের একটি বিরোধপূর্ণ এলাকায় জাপানের নৌবাহিনী ক্যাপ্টেন ও ক্রুসহ চীনের ওই ট্রলারটি আটক করে। পরে ক্রুদের ও ট্রলারটি ছেড়ে দেওয়া হলেও ক্যাপ্টেনকে আটকে রাখা হয়। জাপানের আইন অনুযায়ী রোববার ওই ক্যাপ্টেনের আটকাদেশের মেয়াদ ১০ দিন বাড়ানো হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে এই পদক্ষেপ নিয়েছে বেইজিং।
জাপানের আদালতের নতুন আদেশ অনুযায়ী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চীনা ওই ক্যাপ্টেনকে আটকে রাখা হবে। তিনি ১০ সেপ্টেম্বর থেকে জাপানের একটি কারাগারে আটক আছেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মা ঝাওজু বলেন, ‘কোনো শর্ত ছাড়াই ওই ক্যাপ্টেনকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জাপানের কর্তৃপক্ষের প্রতি দাবি জানাচ্ছে চীন। এই আটকাদেশকে অবৈধ ও অকার্যকর বলে মনে করি আমরা।’
চীনা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেকটি বিবৃতিতে বলা হয়, চীন জাপানের সঙ্গে মন্ত্রী ও প্রাদেশিক পর্যায়ের লেনদেন স্থগিত করেছে। দুই দেশের মধ্যে বিমান চলাচল বাড়ানো নিয়ে বৈঠক স্থগিত ও কয়লা নিয়ে আলোচনাও বাতিল করেছে তারা।

বন্যায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অফিস-আদালত বন্ধ

তাইওয়ানে টাইফুন ফানাপি আঘাত হানার পর গতকাল সোমবার দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালত বন্ধ ছিল। ঝড়ের প্রভাবে বন্যায় বাড়িঘর প্লাবিত হওয়ায় দুর্গত লোকজনকে গতকাল সরিয়ে নেওয়া হয়।
গত রোববার টাইফুনটি প্রচণ্ড বেগে তাইওয়ানের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এতে দেশটির পূর্ব উপকূলে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে এবং দক্ষিণাঞ্চলে এক হাজার মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টিপাত হয়।
গতকাল সকালে টাইফুনটি চীনের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে ধেয়ে যায়। হংকংয়ের অভ্যন্তর ভাগের দিকেও এটি এগিয়ে যাচ্ছে।
টেলিভিশনে দেখা গেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগর কাওসিউংয়ের বন্যাকবলিত লোকজনকে উভচর যানে করে উদ্ধার হচ্ছে। সেনাবাহিনীর সঙ্গে স্থানীয় লোকজন এ উদ্ধার কাজে অংশ নেন।

ভারতজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা

ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় ঘোষণার দিনকে ঘিরে ভারতজুড়ে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। রায়ের ব্যাপারে সবার মধ্যে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে গোটা দেশে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও দেশবাসীর প্রতি শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
উগ্র হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভগবত ঘোষণা দিয়েছেন, এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষেৗ বেঞ্চের রায়ের ব্যাপারে তাঁরা গণতান্ত্রিক ও সংবিধানসম্মত আচরণ করবেন। মুসলিম ব্যক্তিগত আইন পর্ষদ ও বাবরি মসজিদ অ্যাকশন কমিটি দেশের মুসলমানদের প্রতি এক আবেদনে বলেছে, রায় যা-ই হোক না কেন, সবাইকে শান্তি বজায় রাখতে হবে। সুন্নি সেন্ট্রাল ওয়াক্ফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরাইব জিলানি বলেছেন, রায় যা-ই হোক মুসলমানেরা তা মেনে নেবে।
আগামী শুক্রবার এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিশেষ লক্ষেৗ বেঞ্চ অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় দেবেন। এ জন্য বিচারপতি এস ইউ খান, বিচারপতি ধরমবীর শর্মা ও বিচারপতি সুধীর আগরওয়ালের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে বিশেষ ডিভিশন বেঞ্চ। ইতিমধ্যে লক্ষেৗ হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চ এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। বিচারপতি ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের আইনজীবীদের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। ইতিমধ্যে লক্ষেৗ, অযোধ্যা, ফৈজাবাদ, বারানসি, মথুরায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত শনিবার থেকে ফৈজাবাদ ও অযোধ্যায় নিরাপত্তা বাহিনী ফ্লাগমার্চ শুরু করেছে।

কলকাতায় কড়া সতর্কতা
বাবরি মসজিদ ধ্বংস মামলার রায় ঘোষণা, কমনওয়েলথ গেমসে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ও গত রোববার নয়াদিল্লিতে বিদেশি পর্যটকদের ওপর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা শহরের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গত রোববার কলকাতা পুলিশ মহানগরের ৪৮টি থানাকে সতর্ক করে দিয়েছে। নিরাপত্তাব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার জাভেদ শামীম বলেছেন, আগে শহরে নয়টি কুইক রেসপন্স টিম ছিল। এখন তা বাড়ানো হয়েছে। শহরের সব শপিং মল, রেল, বাস, পাতালরেল স্টেশন, ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থান, বিমানবন্দর, বিনোদনকেন্দ্রসহ হোটেলপাড়ায় নিরাপত্তা ও পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য জরুরি সাহায্যের আবেদন মুনের

জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন বন্যাদুর্গত পাকিস্তানিদের জন্য জরুরি আন্তর্জাতিক সাহায্যের আহ্বান জানিয়েছেন। সংস্থাটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত এক বৈঠকের উদ্বোধনকালে গত রোববার তিনি এ আহ্বান জানান। নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনসহ প্রায় ২৫ জন শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। নেতারা বিপর্যস্ত পাকিস্তানের জন্য আরও সাহায্য চেয়েছেন। এর আগে জাতিসংঘ ২০০ কোটি ডলার সাহায্যের আহ্বান জানায়।
হিলারি ক্লিনটন বলেছেন, পাকিস্তানের জন্য ত্রাণসাহায্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে ৩৪ কোটি ৫০ লাখ ডলারের সহায়তা দিয়েছে। এসব অর্থ, জরুরি ত্রাণসাহায্য ও উদ্ধারকাজ বাবদ খরচ রয়েছে।
ব্রিটেনও দ্বিগুণ সাহায্য দেওয়ার ঘোষণা করেছে এবং তা হবে ২০ কোটি ডলার। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বলেছে, তারা দেবে ৩১ কোটি ৫০ লাখ ডলার। এদিকে ইরান বলেছে, পাকিস্তানের জন্য তারা ১০ কোটি ডলার বরাদ্দ করেছে। অপরদিকে চীনসহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ আর্থিক সাহায্য বাড়ানোর পাশাপাশি জরুরি খাদ্যসহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।

সুইডেনের নির্বাচনে ডানপন্থীদের উত্থানে সংকটের আশঙ্কা

সুইডেনে গত রোববারের পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডরিক রাইনফেল্ডের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট বিজয়ী হয়েছে। তবে এই জোট একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে। দেশটির নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থীরা এই প্রথম পার্লামেন্টে আসন পেতে যাচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, সরকার গঠনের ক্ষেত্রেও তারা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে ভবিষ্যতে সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।
রোববারের নির্বাচনে ৩৪৯ আসনের পার্লামেন্টে রাইনফেল্ডের নেতৃত্বাধীন মধ্য ডানপন্থী জোট ১৭২টি আসনে জয়ী হয়। ১৫৭টি আসনে জয়ী হয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের নেতৃত্বাধীন বামপন্থী জোট। তৃতীয় স্থানে রয়েছে গ্রিন পার্টি। তাদের রয়েছে ২৫টি আসন। আর কট্টর ডানপন্থী হিসেবে পরিচিত সুইডেন ডেমোক্র্যাটরা পেয়েছে ২০টি আসন। সরকার গঠনের জন্য রাইনফেল্ডের জোটের আরও তিনটি আসন দরকার।
প্রধানমন্ত্রী রাইনফেল্ড অবশ্য সুইডেন ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে জোট করার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। কিন্তু কাদের নিয়ে তিনি জোট গড়বেন, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ ব্যাপারে রাইনফেল্ড বলেছেন, সরকার গঠনের জন্য তিনি গ্রিন পার্টির সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করবেন। গ্রিন পার্টিও এ ব্যাপারে রাইনফেল্ডের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পর্যবেক্ষকেরা বলছেন, রাইনফেল্ড গ্রিন পার্টির সমর্থন আদায়ে ব্যর্থ হলে তিনি সম্ভবত একটি মাইনরিটি গভর্নমেন্ট বা সংখ্যালঘিষ্ঠের সরকারের নেতৃত্ব দেবেন।

মেক্সিকো উপসাগরে দুর্ঘটনাকবলিত তেলক্ষেত্রটি সম্পূর্ণ বন্ধ করা হয়েছে

মেক্সিকো উপসাগরে ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের (বিপি) নিয়ন্ত্রণাধীন তেলক্ষেত্রটিকে ‘মৃত’ তেলকূপ হিসেবে ঘোষণা করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। এই দুর্ঘটনা মোকাবিলা কার্যক্রমে মার্কিন সরকারের পক্ষে দায়িত্বে থাকা প্রধান কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত অ্যাডমিরাল থাড অ্যালেন গত রোববার এই ঘোষণা দেন।
থাড অ্যালেন বলেন, ‘তেলক্ষেত্রটিকে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়ার কাজ সফলভাবে শেষ হয়েছে। এর মাধ্যমে আমরা ঘোষণা করছি, ম্যাকোন্ডো টুফাইভটু তেলকূপটি এখন কার্যত মৃত। পরবর্তী আনুষঙ্গিক কাজ শেষ করার উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। এই তেলকূপটি এখন আর এ অঞ্চলের পরিবেশের জন্য কোনো হুমকি নয়।’ এই ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজারে বিপির শেয়ারের দাম বেড়ে যায়।
গত এপ্রিল মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের উপকূলে অবস্থিত ওই তেলক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তেল উত্তোলন পাইপে বড় ছিদ্র সৃষ্টি হয়। ছিদ্র দিয়ে তেল বেরিয়ে সাগরে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। দুর্ঘটনায় সেখানে কর্মরত ১১ জন শ্রমিক নিহত হন। পাঁচ মাসে প্রায় ৪৯ লাখ ব্যারেল তেল সাগরে ছড়িয়ে পড়ার পর বিপি এই তেলকূপটি পুরোপুরি বন্ধ করে দিল। বিশ্বে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার সবচেয়ে বড় ঘটনা এটি।
তেলকূপ বন্ধের প্রতিক্রিয়ায় এক বিবৃতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘বিপির তেল ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা মোকাবিলার মাধ্যমে আজ আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করলাম। বিপর্যয়কবলিত ওই উপকূলীয় অঞ্চলকে আবার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সেখানকার জনগণ, ব্যবসায়ী ও স্পর্শকাতর প্রতিবেশের জন্য কঠিন এই সময়ে আমার প্রশাসন সব সময় পাশে থাকবে।’
বিপির পক্ষ থেকেও উপকূলীয় এলাকায় এই দুর্যোগ কাটিয়ে ওঠার ব্যাপারে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিপির প্রধান নির্বাহী ল্যামার ম্যাককেই বলেন, এই দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধের চেষ্টা করা হবে।
সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ার কারণে সেখানকার মৎস্য ও পর্যটন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই দুর্ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন প্রশাসন গভীর সমুদ্রে তেল অনুসন্ধান কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। গত ১৫ জুলাই তেল বেরিয়ে আসা নিয়ন্ত্রণ করা হয়। বিপি তেল বেরিয়ে আসার ছিদ্রে ছিপি এঁটে দেয়। দুর্ঘটনার কারণে বিপির ওই সময়ে দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী টনি হেওয়ার্ডকে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়।
রোববার বিপির এক বিবৃতিতে জানানো হয়, দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কোম্পানিটি এ পর্যন্ত ৯৫০ কোটি ডলার খরচ করেছে। তেল ছড়িয়ে পড়া নিয়ন্ত্রণ, বিকল্প কূপ খনন, তেল বেরিয়ে আসা বন্ধে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার, উপকূলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোকে ক্ষতিপূরণ, ব্যক্তিপর্যায়ে ক্ষতিপূরণ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের খরচ মেটাতে এই কোম্পানির তহবিল থেকে এই অর্থ বেরিয়ে গেছে।
এই দুর্ঘটনার কারণে পুঁজিবাজারে বিপির সাত হাজার কোটি ডলারের লোকসান হয়।

সংঘাতপূর্ণ আফগান জেলা সাঙ্গিনের নিরাপত্তায় মার্কিনরা

সংঘাতপূর্ণ আফগানিস্তানের হেলমান্দ প্রদেশের সাঙ্গিন জেলার নিরাপত্তার দায়দায়িত্ব মার্কিন বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে ব্রিটিশ সেনাবাহিনী। এর মাধ্যমে চার বছর দায়িত্ব পালন শেষে নিজেদের ওই এলাকা থেকে গুটিয়ে নিল ব্রিটিশ সেনারা।
ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী লিয়াম ফক্স গত জুলাইয়ে মার্কিন বাহিনীর কাছে এই দায়িত্ব হস্তান্তরের ঘোষণা দিয়েছিলেন। ২০০৬ সাল থেকে ব্রিটিশ সেনারা সাঙ্গিনে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছিল।
লিয়াম ফক্স বলেন, ব্রিটিশ বাহিনী গত চার বছর সাঙ্গিনের দায়িত্ব পালন করেছে। কাজেই ব্রিটিশ সেনাদের তাদের অর্জনের জন্য গর্ব করা উচিত। হেলমান্দ প্রদেশ আফগানিস্তানের অন্যতম প্রধান সহিংসতাপূর্ণ এলাকা। তিনি বলেন, ‘যেসব সাহসী সেনা জীবন দিয়েছে, আমরা তাদের কখনো ভুলব না।’
লিয়াম ফক্স আরও বলেন, ব্রিটিশ সেনাদের পুনরায় হেলমান্দে মোতায়েন করা হবে। সেখানে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তাঁদের লড়াই অব্যাহত থাকবে। এ ছাড়া তাঁরা স্থিতিশীল আফগানিস্তান পুনর্গঠনে সহায়তা দিয়ে যাবেন।
হেলমান্দ প্রদেশের সাঙ্গিনে ব্রিটিশ বাহিনী সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনী হামলার পর থেকে ৩৩৭ জন ব্রিটিশ সেনা নিহত হয়। তাদের মধ্যে ১০০ জনই মারা যায় হেলমান্দে।
এদিকে এক বিবৃতিতে ন্যাটোর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সহায়তা বাহিনী (আইএসএএফ) গতকাল জানিয়েছে, সাঙ্গিন জেলার দায়দায়িত্ব মার্কিন বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করেছে ব্রিটিশ বাহিনী।

চাঁদ, শুক্র ও মঙ্গল গ্রহে নভোযান পাঠাবে চীন

মহাকাশ অভিযানের ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়েছে চীন। ২০১৫ সাল নাগাদ শুক্র গ্রহে একটি নভোযান পাঠাবে বলে আশা করছে তারা। পৃথিবীর উপগ্রহ চাঁদ ও মঙ্গল গ্রহেও প্রথমবারের মতো নভোযান পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়েছে দেশটি।
২০০৩ সালে ইয়াং লিউই চীনের প্রথম নভোচারী হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তাঁর উদ্ধৃতি দিয়ে চীনের পত্রিকা পিপলস ডেইলিতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১১ সালে চীন প্রথম মানববিহীন মহাশূন্য গবেষণাগার তিয়ানগং-১ পাঠাবে। এরপর তারা পাঠাবে প্রথম মানববিহীন মহাকাশযান শেনঝাউ-৮। ২০১২ সালে পাঠাবে মহাকাশযান শেনঝাউ-৯ ও ১০। এর মধ্যে প্রথমটিতে নভোচারী থাকবে, পরেরটিতে থাকবে না। ২০২০ সালে তারা পাঠাবে প্রথম মহাকাশকেন্দ্র, যার কক্ষপথে প্রদক্ষিণ করার ক্ষমতা থাকবে।
চীনের চন্দ্রাভিযান কর্মসূচির প্রধান কর্মকর্তা ইয়ে পেইজিয়ান বলেন, ২০২০ সাল নাগাদ চাঁদে নভোযান পাঠানোর আশা করছেন তাঁরা। ২০২৫ সালে নভোচারীসহ নভোযান পাঠানো হবে। ২০১৩ সালে মঙ্গল গ্রহে ও ২০১৫ সালে শুক্র গ্রহে নভোযান পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে চীনের চন্দ্রাভিযান কর্মসূচির প্রধান প্রকৌশলী উ ওয়েইরেন বলেন, চাঁদে নভোযান পাঠানোর বিষয়ে প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। বছর শেষ হওয়ার আগেই চাঁদ অভিমুখে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলকভাবে নভোযান পাঠানো হতে পারে।
মহাকাশ অভিযানের নামে চীন মহাশূন্যে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় নামছে কি না, এ ধরনের আশঙ্কার কথা বিশ্লেষকেরা নাকচ করে দিয়েছেন।

বিশ্ববাণিজ্যে ২০১১ সালের শুরু থেকেই ইনকোটার্মস কার্যকর

প্যারিসভিত্তিক দি ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স (আইসিসি) আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বাণিজ্যিক টার্ম—ইনকোটার্মস ২০১০ চালু করেছে। বিশ্বব্যাপী ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহূত এ বিধিটি আগামী ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
ইনকোটার্মসের বিধিগুলো পণ্য খালাসের ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েরই খরচ, ঝুঁকি ও দায়িত্বগুলো সুনির্দিষ্টকরণে এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে সহায়তা করে। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি) গতকাল সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
এতে জানানো হয়, আইসিসি ১৯৩৬ সালে প্রথম এ বিধিটি তৈরি করেছিল। সম্পূর্ণ নতুন ধারণায় প্রণীত এই বিধিটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। কারণ তখন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর খসড়া তৈরির কাজ সহজকরণ ও ব্যবসায়িক লেনদেনের ক্ষেত্রে আইনগত নিশ্চয়তা প্রদানে এটাই ছিল প্রথম বাস্তব পদক্ষেপ।
এ প্রসঙ্গে আইসিসির চেয়ারম্যান রজত গুপ্ত বলেন, আইসিসি এই ইনকোটার্মস বিধিগুলো প্রণয়নের আগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যেসব বিধি অনুসরণ করা হতো, সেখানে বিভিন্ন দেশের ব্যাখ্যার ভিন্নতার কারণে বিরোধ দেখা দিত এবং মামলা বেড়ে যেত।
রজত গুপ্ত আরও বলেন, ‘আজকের দিনে ইনকোটার্মস বিধিগুলোর বিভিন্ন টার্মস, যেমন—এক্স ওয়ার্কস (ইএক্সডব্লিউ), ফ্রি অন বোর্ড (এফওবি), কস্ট অ্যান্ড ফ্রেইট (সিএফআর), ইন্স্যুরেন্স অ্যান্ড ফ্রেইট (সিআইএফ) ইত্যাদি বিশ্বব্যাপী পণ্যসামগ্রী ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ক্রেতা-বিক্রেতার স্বীকৃত নির্ধারিত দায়িত্বেরই অংশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইনকোটার্মস ২০০০ সংশোধনের পর ইনকোটার্মস ২০১০ বিধিগুলো বিশ্ববাণিজ্যের উন্নয়নের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছিল।
এসব বিধির মধ্যে অন্যতম একটি হলো কার্গো নিরাপত্তার পরিবর্তনগুলো, যা কিনা ৯/১১-এর সময় থেকে অনেক দেশেরই ট্রান্সপোর্টেশন এজেন্ডার অগ্রভাগে আছে এবং বর্ধিত বাণিজ্যিক লেনদেনে ইলেকট্রনিক যোগাযোগের ব্যবহার ত্বরান্বিত করেছে।
এতে আরও জানানো হয়, সংশোধনের মাধ্যমে ইনকোটার্মসের বিধিগুলোর সংখ্যা ১৩ থেকে কমিয়ে ১১টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে। তবে এতে দুটো নতুন বিধিও সৃষ্টি করা হয়েছে—ডেলিভার্ড অ্যাট টার্মিনাল ও ডেলিভার্ড অ্যাট প্লেস। সর্বশেষ সংশোধনীতে ব্যবহারকারীদের জন্য ইনকোটার্মস বিধি সম্পর্কে সঠিক নির্দেশনা রয়েছে।

এনসিসি ব্যাংকের গুলশান শাখা নতুন ঠিকানায় স্থানান্তর

আধুনিক সেবা দেওয়ার মাধ্যমে গ্রাহকদের বর্ধিত ব্যাংকিং চাহিদা মেটাতে এনসিসি ব্যাংকের ঢাকার গুলশান শাখা ৫১ গুলশান এভিনিউতে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ব্যাংকের চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলী মন্টু প্রধান অতিথি হিসেবে গতকাল সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঠিকানায় শাখাটির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ নুরুল আমিন। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্যাংকের নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এস এম আবু মহসিন, পরিচালক সাংসদ নূরুল ইসলাম, তোফাজ্জল হোসেন, নূরুন নেওয়াজ সেলিম, মোহাম্মদ আল, হুমায়ুন কবীর ও উদ্যোক্তা আনোয়ার পাশা।
এ ছাড়া ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম হাফিজ আহমেদ ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে মোহাম্মদ সিদ্দিকসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

শর্তমুক্ত বিদেশি সাহায্যের জন্য কার্যকর উদ্যোগ দাবি

‘প্যারিস ঘোষণা’ ও ‘আক্রা কর্মপরিকল্পনা’র প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের যৌথ সহায়তা কৌশল (জেসিএস) প্রণীত হলেও এতে ঘোষণার মূলনীতি ও কর্মপরিকল্পনার দিকনির্দেশনা কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
আর তাই নাগরিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৃহত্তর আলোচনার ভিত্তিতে জেসিএসের ব্যাপক সংশোধন প্রয়োজন। শর্তমুক্ত বিদেশি সাহায্যের জন্য এটি হবে অন্যতম কার্যকর উদ্যোগ।
জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য (এমডিজি) ঘোষণার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বিশ্বনেতাদের শীর্ষ বৈঠক উপলক্ষে গতকাল সোমবার ঢাকায় এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলা হয়। শীর্ষ বৈঠকটি২০-২২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এইড অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি গ্রুপ (এএজি) এবং দ্য রিয়েলিটি অব এইডের যৌথ উদ্যোগে ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে ‘যৌথ সহায়তা কৌশলের আলোকে বৈদেশিক সাহায্য ও উন্নয়ন কার্যকারিতা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এএজির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানানো হয়েছে।
আলোচনা সভায় বক্তারা আরও বলেন, শুধু দাতা ও সরকারের মধ্যকার সমঝোতা নয়, বরং সরকার ও দাতাদের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কাজী খলীকুজ্জমান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অংশ নেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের যুগ্ম সচিব বিজন কুমার বৈশ্য, সাংসদ আনিসুল ইসলাম মণ্ডল, ডিএফআইডির ডেপুটি কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ডায়ানা ডালটন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাহায্য কার্যকারিতা-বিষয়ক অ্যাটাশে জুলিয়া জ্যাকবি, সাবেক অর্থসচিব সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী, নারীনেত্রী খুশী কবির, ডিএফআইডির সাহায্য কার্যকারিতা-বিষয়ক উপদেষ্টা বো সান্ডস্ট্রোম প্রমুখ।
সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন এএজির আহ্বায়ক আহমেদ স্বপন মাহমুদ ও কার্যকরী পরিষদের সদস্য অরূপ রাহী, সুপ্রর চেয়ারপারসন আবদুল আউয়াল ও পরিচালক উমা চৌধুরী, রিয়েলিটি অব এইডের প্রতিনিধি আভা ড্যানলগ প্রমুখ।
অংশগ্রহণকারীরা আলোচনায় বলেন, এক দশক আগেও বাংলাদেশের জাতীয় বাজেটের ৫০ শতাংশেরও বেশি আসত বৈদেশিক সাহায্য থেকে। বর্তমানে এটি জাতীয় আয়ের ২ শতাংশেরও কম। অথচ বৈদেশিক সাহায্যের শর্তের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অনেক ক্ষেত্রেই বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
বক্তারা নাগরিক সংগঠনগুলোর নিজেদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব আরোপ করেন। কারণ, নিজেদের মধ্যে জবাবদিহি এবং সাহায্য পর্যবেক্ষণে পর্যাপ্ত দক্ষতা না থাকায় বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ উন্নয়ন ও সাহায্যের কার্যকারিতা বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে পারে না।
সভায় ডিএফআইডির প্রতিনিধিরা বলেন, বাংলাদেশের দারিদ্র্য হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সরকার ও উন্নয়ন অংশীদারিদের মধ্যকার সম্পর্ক বৃদ্ধি করার উদ্দেশ্যেই যৌথ সহায়তা কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে। এটিকে যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য সরকার, দাতাগোষ্ঠী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক সংলাপের প্রয়োজন।
বক্তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করে বলেন, ভূমি সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দাতা কিংবা সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। দাতাদের প্রধান লক্ষ্য হলো, বাণিজ্যিক স্বার্থে কাজ করা। জাতীয় সংসদে ব্যবসায়ীদের প্রাধান্য থাকায় তাঁরা ব্যবসায়ীদের স্বার্থই দেখেন বলে মন্তব্য করেন অনেকে।

খুলনায় ১৪৩ ডিলারের লাইসেন্স বাতিল হচ্ছে

লাইসেন্স থাকার পরও দুই দফায় ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) থেকে পণ্য উত্তোলন করে খোলা বাজারে তা বিক্রি না করায় খুলনায় টিসিবির ১৪৩ জন ডিলারের লাইসেন্স বাতিল করা হচ্ছে। এসব ডিলারের তালিকা ইতিমধ্যে ঢাকায় টিসিবির সদর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে পণ্যসামগ্রী উত্তোলন ও খোলাবাজারে বিক্রি না করায় লাইসেন্স বাতিল হতে পারে, এমন আশঙ্কায় খুলনার অন্তত চার ডিলার আবেদন করে ইতিমধ্যে জামানতের অর্থ তুলে নিয়েছেন।
টিসিবি সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসের আগে খুলনা বিভাগের ১০টি জেলাসহ ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গোপালগঞ্জের জন্য ৩৪৩ জন ডিলার নিয়োগ দেয় টিসিবি।
কিন্তু প্রথম কিস্তিতে ১২৫ জন ডিলার এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ১৮ জন ডিলার সয়াবিন তেল, চিনি ও ছোলার কোনোটিই উত্তোলন করেননি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ডিলার জানিয়েছেন, টিসিবির পণ্যের মূল্য এবং বাজারের মূল্য প্রায় সমান হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে তাঁরা পণ্য উত্তোলন করেননি। তাঁরা জানিয়েছেন, খোলা বাজারের তুলনায় এবার টিসিবির পণ্যের মূল্য মাত্র এক-দুই টাকা কম, কোনো কোনো ক্ষেত্রে সমান। প্রতি কেজি বা লিটারে এক-দুই টাকা কমের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে টিসিবির পণ্য কিনতে ক্রেতারা তেমন আগ্রহ দেখাননি বলে তাঁরা টিসিবি পণ্য তোলেননি।
আবার ডিলার হওয়ার পর পণ্য নিতে গেলে তাঁদের দুই লাখ ৩৮ হাজার টাকা করে ব্যাংকে জমা দিতে হয়েছে। অনেক ডিলারের পক্ষে একসঙ্গে এত টাকা জমা দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তাঁরা পণ্য উত্তোলন করেননি।
এদিকে এবার প্রতিটি পণ্যের মোড়কের গায়ে টিসিবির হলোগ্রাম ব্যবহার করা হয়েছে। অতীতে এসব পণ্যের গায়ে হলোগ্রাম ব্যবহার না হওয়ায় টিসিবি থেকে পণ্য কেনার পর ডিলাররা তা গোপনে কালোবাজারে বিক্রি করে দিত। এবার সে সুযোগ মেলেনি।
এ ছাড়া ডিলারদের পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে টিসিবি থেকে নির্দিষ্ট দোকানঘর ব্যবহার করতে বলা হয়। কিন্তু নিয়োগ পাওয়া অনেক ডিলারের নির্দিষ্ট দোকানঘর নেই।
যোগাযোগ করা হলে টিসিবির খুলনা কার্যালয়ের প্রধান মো. রবিউল মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, খুলনায় লাইসেন্স বাতিলের তালিকায় ১৪৩ জন ডিলার রয়েছেন। তিনি আরও জানান, দুই কিস্তিতে পণ্য উত্তোলন না করলে বিনা নোটিশে ডিলারের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে ডিলাররা তাঁদের জামানতের ১৫ হাজার টাকাও ফেরত পাবেন না।

ছোটদের বড় কাণ্ড

ছোট দলের কাছে বড় দল হারলেই বলা হয় ‘অঘটন’। কিন্তু ঘটনাটা যদি নিয়মিতই ঘটে? বুঝে নিতে হবে, আলোর আড়ালে থাকা দলগুলো উঠে আসছে আপন মহিমায়। নতুন ফুটবল মৌসুমে এখনো পর্যন্ত ছোট দলগুলোর উঠে আসার ছবিটা খুবই স্পষ্ট।
চতুর্থ রাউন্ড শেষে বুন্দেসলিগার শীর্ষে অখ্যাত এফএসভি মেইঞ্জ। চার ম্যাচের চারটিতেই জিতেছে তারা। যার সর্বশেষ জয়টি আবার চ্যাম্পিয়নস লিগের দল ভের্ডার ব্রেমেনের বিপক্ষে।
জুভেন্টাস, এসি মিলান অনেক পেছনে। পয়েন্ট সমান ৭ হলেও গোল ব্যবধানে ইন্টার মিলানকে টপকে ইতালিয়ান সিরি ‘আ’র শীর্ষে সিরি ‘আ’তে নবাগত সেসেনা। বিস্ময়করভাবেই ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে সেন্ট এতিঁয়ে।
এতিঁয়েকে ঠিক এফএসভি মেইঞ্জ, সেসেনার সঙ্গে মেলানো উচিত নয়। এক সময় ফরাসি লিগের দোর্দণ্ড প্রতাপ ঠিল তাদের। টানা তিন মৌসুম লিগ শিরোপা জিতেছে সোনালি অতীতে। ১৯৮২ থেকে অতলযাত্রার শুরু। ক্রমেই যেন নিজেদের অচেনা করে ফেলেছিল ফ্রেঞ্চ ক্লাবটি।
স্প্যানিশ লিগে চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনাকে হারিয়ে চমক দিয়েছে নবাগত হারকিউলিস।

খেলোয়াড় চুক্তির নতুন নিয়ম প্রিমিয়ার লিগে

বিশাল অঙ্কের টাকা দিয়ে খেলোয়াড় কিনেও দেখা গেল প্রিমিয়ার লিগের বেশির ভাগ ম্যাচে সে খেলোয়াড়কে খেলানো গেল না। আবার মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ার পরও অনেক ক্রিকেটার প্রতিশ্রুত অর্থ পান না ক্লাব থেকে। দুই পক্ষের এই ক্ষতি ঠেকাতে প্রিমিয়ার লিগে এবার চালু হচ্ছে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির নিয়ম।
খেলোয়াড়, ক্লাব এবং বিসিবি বা সিসিডিএমের মধ্যে হবে এই চুক্তি। চুক্তি অনুযায়ী খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক হবে ম্যাচ ভিত্তিতে। অগ্রিম টাকা দিয়ে দেওয়া হলেও একজন খেলোয়াড় লিগে যে কয় ম্যাচ খেলতে পারবে না সেই কয় ম্যাচের টাকা বোর্ডের মাধ্যমে ফেরত পাবে তাঁর ক্লাব। বোর্ড সেই টাকা আদায় করবে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়ের কাছ থেকে। এ ব্যাপারে সিসিডিএমের প্রিমিয়ার লিগ সমন্বয়ক কাজী আইনুল ইসলাম বলেছেন, ‘অনেক খেলোয়াড় লিগের মাঝপথে জাতীয় দল বা অন্য কোনো দলে চলে যায় বলে প্রতিবছরই ক্লাবগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এই ক্ষতি এড়াতেই এই নিয়ম। এতে ক্লাবগুলো যেমন উপকৃত হবে, উপকৃত হবে খেলোয়াড়েরাও। অনেক সময় ক্লাবগুলো খেলোয়াড়দের ঠিকভাবে টাকা-পয়সা দেয় না। খেলোয়াড়েরা অভিযোগ করলে সিসিডিএম সে ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’ তবে আইনুল বলেছেন, কোনো খেলোয়াড় ইনজুরির কারণে ম্যাচ খেলতে না পারলে এ নিয়মের আওতায় পড়বে না।
জাতীয় দলের অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা নিয়মটাকে দেখছেন দুইভাবে, ‘এ রকমই যদি নিয়ম হয়, ক্রিকেটাররাও সেভাবেই চুক্তি করবে। বেশি টাকা চাইবে। তবে কিছু খেলোয়াড় তো ক্ষতিগ্রস্ত হবেই।’ আগামীবার থেকে প্রিমিয়ার লিগে খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিকের সীমা বেঁধে দেওয়া হতে পারেও বলে জানিয়েছেন লিগ সমন্বয়ক।

দক্ষিণ আফ্রিকার সমস্যা নেই

পাকিস্তানের বিপক্ষে যেভাবে একের পর এক অভিযোগ উঠছে, তাতে এ দলটির বিপক্ষে খেলার অনুপ্রেরণা পাওয়া আসলেই কঠিন। এর সঙ্গে তাদের বিপক্ষে খেললে আবার বিতর্কে জড়ানোর ভয়ও আছে। এসব বিবেচনাতেই কয়েকজন ‘সিনিয়র’ দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার নাকি পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এসব ক্রিকেটারের দাবিকে স্রেফ উড়িয়ে দিল ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা (সিএসএ)।
আগামী মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাকিস্তানের বিপক্ষে পাকিস্তানের ‘হোম’ সিরিজ খেলার কথা দক্ষিণ আফ্রিকার। সিএসএর নির্বাচক কমিটির আহ্বায়ক অ্যান্ড্রু হাডসন বলছেন, কোনো ক্রিকেটার পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে আপত্তি জানিয়েছেন বলে তাদের জানা নেই, ‘আমি কাউকে বলতে শুনিনি যে, সে খেলবে না। আমরা স্বাভাবিক নিয়মেই আগামী সপ্তাহে দল ঘোষণা করব।’
কিন্তু দল ঘোষণার পর সত্যিই যদি কোনো ক্রিকেটার পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে অস্বীকৃতি জানান? হাডসন বলছেন, তাঁদের হাসিমুখে বাদ দিয়েই দল গড়া হবে, ‘যদি কেউ খেলতে না চায়, তাহলে আমরা হাসিমুখেই তাকে বাদ দিয়ে দেব।’
সিনিয়র খেলোয়াড়দের মধ্যে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ক্রিকইনফোকে বলেছেন, আইসিসি বললে তাঁদের খেলতে আপত্তি নেই, ‘সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলতে তো কোনো আপত্তি নেই। হ্যাঁ, আইসিসিকে এসব (দুর্নীতি) সমূলে উৎপাটিত করতে হবে। তবে আমি শুনিনি যে কেউ বলেছে, তারা সফরে যাবে না। আইসিসি বা ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা যা বলে সেটা করতে আমার কোনো সমস্যা নেই।’

রুনির পাশে নেই কলিন

তাহলে শেন ওয়ার্ন, টাইগার উডসের মতোই পরিণতি হবে ওয়েইন রুনির! এখন পর্যন্ত রুনির বিবাহবিচ্ছেদের কোনো আশঙ্কার ইঙ্গিত কোথাও শোনা যায়নি। কিন্তু কলিন রুনির সঙ্গে যত দ্রুত সম্পর্কের পতন হচ্ছে, তাতে ‘বিচ্ছেদ’ ব্যাপারটা এখন কল্পনা করাই যায়।
সর্বশেষ রুনির একান্ত অনুরোধ উপেক্ষা করে কলিন ‘তীর্থে’ গেলেন! রুনি খুব করে চেয়েছিলেন, লিভারপুলের বিপক্ষে তাঁর ম্যাচের সময় ভিআইপি বক্সে বসা থাকুক স্ত্রী। এতে মানুষকে বোঝানো যাবে, তাঁদের মধ্যে সম্পর্ক ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু কলিন এ অনুরোধ রাখেননি। অসুস্থ বোনের জন্য প্রার্থনা করতে ওই দিনই রওনা হয়ে যান ফ্রান্সের এক ক্যাথলিক তীর্থে। সঙ্গে ছিল ১০ মাস বয়সী ছেলে কাই ও দুজন আত্মীয়।
ঝামেলার শুরু রুনি সম্পর্কে নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড-এ একটি খবর প্রকাশ হওয়ার পর থেকেই। খবরটা এ রকম, সন্তানসম্ভবা কলিনকে ঘরে রেখে রুনি এক দেহপসারিণীর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতেন। এই নিয়ে অনেক তোলপাড়ের পর মনে করা হচ্ছিল, পরিস্থিতি শান্ত হয়ে এসেছে। কিন্তু কলিনের সর্বশেষ ব্যবহারে বোঝা গেল ছাইয়ের নিচে আগুন জ্বলছে।
রুনি দম্পতির এক ঘনিষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, কলিনের পালিত বোন রোজি লিভারপুলে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। কলিন এই ছোট্ট বোনটিকে খুব ভালোবাসেন; তাঁর জন্য তীর্থযাত্রা তিনি করতেই পারেন। কিন্তু ওই সূত্রটিই বলছে, ঠিক লিভাপুলের বিপক্ষে ম্যাচের দিনই শহর ছাড়াটা হয়তো বর্তমান ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
কলিনের ওই বন্ধুটি বলছেন, ‘সে দেখিয়েছে, তার নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় আছে। ওয়েইনের ছায়া হয়ে যন্ত্রের মতো ঘুরে বেড়ানোই শুধু ওর কাজ নয়।’
এই কথাগুলো কি বিচ্ছেদের সুর শোনাচ্ছে না!

পাক সাবেকেরা এবার একজোট

প্রথমবারের মতো পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের পাশে একত্র হয়ে দাঁড়ালেন সাবেক পাক ক্রিকেটাররা! পাকিস্তানি খেলোয়াড়দের বিপক্ষে আইসিসি আরও এক দফা তদন্ত শুরু করায় পিসিবি যেমন চটেছে, তেমনই আইসিসির এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন রশিদ লতিফ, জহির আব্বাস, আবদুল কাদিররা।
লশিদ লতিফ তো আইসিসির এই পদক্ষেপকে রীতিমতো অপরাধ মনে করছেন। লতিফের কাছে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে আইসিসির দায়িত্ববোধ, ‘কেউ যদি আগে থেকেই একটা খুন হবে বলে কোনো খবর পায়, তাহলে সে তথ্য সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে কাজটা ঠেকানোর চেষ্টা করাটাই স্বাভাবিক। আইসিসি যদি ম্যাচের আগেই তথ্য পেয়ে থাকে সেটা অবশ্যই পাকিস্তানি ম্যানেজমেন্টকে জানানো উচিত ছিল।’
এটা না করে ম্যাচের পর আইসিসি যে তদন্ত শুরু করেছে, তাতে পাকিস্তানের মর্যাদা রক্ষা হয়নি বলেই দাবি তাঁর, ‘আইসিসি (টিকে) আছেই তার সদস্যদেশগুলোর কল্যাণে। একটা সদস্য বোর্ড হিসেবে পিসিবির ওখানে একটা মর্যাদা প্রাপ্য।’
লতিফের মতো প্রায় একই মনোভাব আরেক সাবেক অধিনায়ক জহির আব্বাসেরও। তিনি অবশ্য পুরো ব্যাপারটিকে ‘নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’ গ্রুপের (দ্য সান, নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড) একটি পাকিস্তানবিরোধী ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখতে চান, ‘আমার ধারণা, আইসিসি খুব তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পিসিবির অবশ্যই এসবের প্রতিবাদ করা উচিত। নতুন অভিযোগটা নিউজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড গ্রুপেরই আরেকটি পত্রিকা করেছে। ফলে আমি এটাকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখছি।’
এই ষড়যন্ত্র-তত্ত্বটি শুরু থেকেই পাকিস্তানে দারুণ জনপ্রিয়। রুপার্ট মারডকের নিউজ ইন্টারন্যাশনাল হঠাৎ কেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করবে, সে প্রশ্নের জবাব কারও কাছে নেই! কিন্তু সাবেক লেগ স্পিনার আবদুল কাদিরও বলছেন, পাকিস্তানকে লক্ষ্য বানিয়ে এসব করা হচ্ছে, ‘বর্তমান অভিযোগ লর্ডস-কেলেঙ্কারির অংশ হিসেবেই মনে হচ্ছে। কিছু লোক আছে, যারা পাকিস্তান দলকে লক্ষ্য করে এসব করছে। এসবের খুব কড়া প্রতিবাদ করা দরকার।’

পাকিস্তানের ইট, ইংল্যান্ডের পাটকেল

ইটের জবাব পাটকেলে নয়, রীতিমতো কামানের গোলা ছুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। ওভাল ওয়ানডে নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ফিক্সিংয়ের নতুন অভিযোগ ওঠার পর পিসিবি প্রধান ইজাজ বাট উল্টো ম্যাচ পাতানোর অভিযোগ তুলেছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে! বাটের দাবি, বিপুল অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ওই ম্যাচ হেরেছে ইংল্যান্ড। পাকিস্তান ও পাকিস্তান ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছেন যাঁরা, তাঁদের মুখোশ উন্মোচন করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন পিসিবির প্রধান। অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা জবাবে ইসিবি বাটের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
দিল্লিতে আইসিসি প্রধান শারদ পাওয়ারের সঙ্গে দেখা করে গত শনিবার দুবাই গেছেন বাট। সেখান থেকেই ক্রিকইনফো ও পাকিস্তানের টিভি চ্যানেলগুলোয় পাঠানো এক বিবৃতিতে বাট বলেছেন, ‘বাজিকরদের চক্রে পরিষ্কার শোনা যাচ্ছে, বিপুল অঙ্কের টাকা নিয়ে তৃতীয় ওয়ানডেতে ইচ্ছে করেই হেরেছে ইংল্যান্ড। সেদিন ইংল্যান্ডের ইনিংসটা যে হঠাৎ করেই হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ল, এতে তাই অবাক হওয়ার কিছু নেই।’ ২৪১ রান তাড়া করতে গিয়ে একসময় ইংল্যান্ডের রান ছিল ৫ উইকেটে ২০১। সেখান থেকে অলআউট হয়ে যায় তারা ২১৮ রানে। বাটের ইঙ্গিত সেদিকেই।
বাটের এই পাল্টা-আক্রমণ বিশ্ব মিডিয়ায় একটা বড় চমক। সংকটে পাকিস্তান ক্রিকেটের জন্য জোরালো ভূমিকা রাখতে না পারায় বাটের সমালোচনাই শুধু হচ্ছে কিছুদিন ধরে। সাবেকেরা তো বটেই, দুই দিন আগে পাকিস্তানের ক্রীড়ামন্ত্রীও ধুয়ে দিয়েছেন তাঁকে। সমালোচনায় ক্ষতবিক্ষত বাট এবার চরিত্রের উল্টো দিকও দেখালেন। শুধু ইংলিশ ক্রিকেটকে নয়, বাট তোপ দেগেছেন ব্রিটিশ মিডিয়ার দিকেও, ‘আমাদের বিশ্বাস, কোনো কোনো দেশের মিডিয়া ভীষণ পক্ষপাতদুষ্ট। তারা মোটেও ঠিক কাজটা করছে না।’
‘ইংলিশ ক্রিকেটারদের জড়িত থাকার প্রমাণ কী প্রমাণ তাঁর কাছে আছে’—সাংবাদিকদের এমন বাউন্সারের জবাবেও সপাটে হুক করেছেন বাট, ‘যারা আমার ক্রিকেটারদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে, আপনারা কি তাদের কাছে প্রমাণ চেয়েছিলেন? কী বলেছে তারা? প্রমাণ দিয়েছে? তারা যেমন বলেছে, তেমনি আমরাও বলছি, আমাদের কাছে ইতিবাচক প্রমাণ আছে।’ পাকিস্তানকে নিয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের হুমকিও দিয়েছেন বাট, ‘বাজিকর বা জুয়াড়িদের মুছে ফেলার জন্য যে, এখন যা হচ্ছে সবকিছুই পাকিস্তান ও পাকিস্তানের ক্রিকেটকে ধ্বংস করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ব্যাপারটা নিয়ে নিজেরাই তদন্ত করব। শিগগিরই ষড়যন্ত্রকারীদের নাম-পরিচয় ফাঁস করে দেব। আমাদের অধিকার আছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার।’
বাটের আকস্মিক আক্রমণে হকচকিত ইংল্যান্ড আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাতে সময় নিয়েছে প্রায় ২৪ ঘণ্টা। বাটের বক্তব্যের পর রোববার রাতেই সভায় বসেন ইসিবি চেয়ারম্যান জাইলস ক্লার্ক, প্রধান নির্বাহী ডেভিড কোলিয়ার, ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিউ মরিস, কোচ অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার ও অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউস। দলের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, ‘কোনো ইংলিশ ক্রিকেটার ম্যাচ পাতানোয় জড়িত, এমন অভিযোগ দল প্রত্যাখ্যান করছে এবং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা করছে। দেশের প্রতিনিধি হিসেবে ক্রিকেটাররা তাদের দায়িত্বের প্রতি সচেতন এবং কোনো ম্যাচেই শতভাগের কম দেয় না ও দেবে না।’ স্ট্রাউসের প্রতিক্রিয়া ছিল আরও কড়া, ‘বাটের বক্তব্যে আমরা বিস্মিত, হতাশ ও মর্মাহত। ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের সততা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় আমরা হতাশ। এমন ভ্রান্ত অভিযোগ আমরা প্রত্যাখ্যান করছি এবং আইনি ব্যবস্থা নিতে ইসিবির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করব।’
ক্ষুব্ধ ইংলিশ ক্রিকেটাররা সিরিজটা আর খেলতেই চাননি। কিন্তু ‘ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে’ খেলতে রাজি হয়েছেন। তবে দুই দলের সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছে। পাকিস্তানকে ‘হোম’ ভেন্যু সুবিধা দেওয়া ইসিবি এখন মুখোমুখি পিসিবির। পাকিস্তান-ইংল্যান্ড মাঠের লড়াই শেষ হওয়ার পথে, কিন্তু মাঠের বাইরের লড়াই বুঝি এই শুরু হলো!

হতাশা পেয়ে বসেছে মরিনহোকে

কোচ মরিনহোর জাদুকরি দক্ষতা সর্বজনবিদিত। পোর্তো, চেলসি, ইন্টার—যেখানেই গেছেন সাফল্যের সোনা ফলিয়েছেন। আর এ জন্যই তিনি ‘স্পেশাল ওয়ান’। অন্যে তো বটেই; মরিনহো নিজেও নিজেকে বিশ্বের অন্যতম সেরা কোচ মনে করেন।
গত মৌসুমে ইন্টারকে প্রথম ‘ট্রেবল’ উপহার দিয়েছেন। তারপরই সাফল্যতৃষ্ণা নিয়ে চলে এসেছেন রিয়াল মাদ্রিদে। উদ্দেশ্য, ট্রফির পর ট্রফি জিতিয়ে রিয়ালকে ফেরাবেন সুদিনে! খুব আগ্রহ নিয়েই কাজ শুরু করেছিলেন মরিনহো। কিন্তু মাত্র দুই মাস পরও যেন অস্বস্তি ঝেড়ে ফেলতে পারছেন না। মরিনহো কি তাহলে বুঝতে শুরু করেছেন রিয়াল মাদ্রিদ সত্যিই এক কঠিন জায়গা!
মরিনহোর নেতৃত্বে নতুন মৌসুমে ইতিবাচক শুরুই হয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ শুরু আয়াক্সের বিপক্ষে জয় দিয়ে। তিন ম্যাচে দুই জয়, এক ড্র, হার নেই—লা লিগার শুরুটাকেও বাঁকা চোখে দেখার উপায় নেই। এমন শুরুতে তৃপ্তি খোঁজাটা সাধারণ ব্যাপার। তবে ‘স্পেশাল ওয়ান’ রিয়ালের পারফরম্যান্সে হতাশ!
শনিবার রিয়াল সোসিয়েদাদের বিপক্ষে রিয়াল জিতেছে ২-১ গোলে। জয়ে খুশি। কিন্তু দলের পারফরম্যান্স হতাশ করেছে মরিনহোকে। সোসিয়েদাদ দ্বিতীয় গোল শোধ করে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছিল, এটা দেখে ডাগ-আউটে দাঁড়িয়ে হতাশায় পানির বোতল ছুড়ে ফেলেছেন মাটিতে। ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘প্রথমার্ধে সোসিয়েদাদ ছিল দুর্দান্ত। দ্বিতীয়ার্ধে রিয়াল মাদ্রিদ। কাজেই আমি বলব, ম্যাচে ড্রই হতো ন্যায্য ফল।’ তিন ম্যাচে পয়েন্ট হতে পারত ৯। কিন্তু প্রথম ম্যাচের ড্রতে ২ পয়েন্ট ছুটে যাওয়ায় রিয়ালের সংগ্রহ ৭, এটাও মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে মরিনহোর।
দলের পারফরম্যান্সে হতাশ। ক্ষুব্ধ লিগের সূচি নিয়ে। বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার পর শনিবারই কেন রিয়ালকে লিগ ম্যাচ খেলতে হবে? ‘বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা দল লিগ ম্যাচ খেলবে রোববারে। কিছুতেই শনিবার নয়’—এটুকু বলেই শেষ করেননি মরিনহো। লিগ কর্তৃপক্ষের দিকে ছুড়ে দিয়েছেন পক্ষপাতের প্রশ্নও, ‘কেন হারকিউলিস-ভ্যালেন্সিয়ার ম্যাচ শনিবারে হলো না?’ বুধবার চ্যাম্পিয়নস লিগ খেলা বার্সেলোনাও লিগ ম্যাচ খেলেছে রোববার।
দল প্রত্যাশামতো খেলতে পারছে না এটা একটা কারণ। রিয়ালের ওপর মরিনহোর চটে যাওয়ার আরেক কারণ, সুযোগ থাকা সত্ত্বেও মরিনহোকে পর্তুগালের খণ্ডকালীন দায়িত্ব নিতে অনুমতি দেয়নি রিয়াল। অক্টোবরের যে সময়টার জন্য মরিনহোকে চেয়েছিল পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন, তখন লিগ সাময়িক বন্ধ থাকায় রিয়ালে কোনো কাজ থাকবে না, মরিনহো থাকবেন ছুটিতে। রিয়ালের প্রতি মরিনহো ক্ষুব্ধ এ কারণেই, ‘আমি বুঝতেই পারছি না, রিয়াল কেন আমাকে পর্তুগালের কোচ হতে দিল না। যেহেতু ওই সময়টায় রিয়ালে আমার কিছুই করার থাকবে না। আমি মাদ্রিদ থেকে নয় দিনের ছুটি কাটাব, তখনই আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলো হবে।’
তবে মরিনহো এই বিষয়টি এখন ভুলে যেতে পারেন। কারণ চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করে গতকালই হয়তো পর্তুগালের কোচ শূন্যতা ঘুচিয়ে ফেলেছেন স্পোর্টিং লিসবনের সাবেক কোচ পাওলো বেন্তো। ক্ষোভ-হতাশা যা-ই থাক, এরই মধ্যে মরিনহোকে নিতে হচ্ছে প্রস্তুতি। আজ মঙ্গলবারই যে এসপানিওলের বিপক্ষে রিয়ালের ম্যাচ।

হঠাৎ জিয়নকাঠির ছোঁয়া

না, একদমই চলে না। অ্যালেক্স ফার্গুসনের এই চুক্তিটা একেবারেই বাজে—গত মৌসুমেও দিমিতার বারবেতভকে নিয়ে এমনই বলাবলি করছিল সবাই। এই ‘অচল’ ফুটবলারটিই হঠাৎ করে দুর্দান্ত হয়ে উঠলেন এ মৌসুমে। গত পরশু যেন একটু বেশিই সচল হলেন বুলগেরিয়ান স্ট্রাইকার। দারুণ এক হ্যাটট্রিক করে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিভারপুলের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জেতালেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডকে।
ফার্গুসন টটেনহাম হটস্পার থেকে বারবেতভকে ম্যানইউতে নিয়ে আসেন ২০০৮ সালে। বুলগেরিয়ান স্ট্রাইকারকে পেতে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড খরচ করেছিল ম্যানইউ। কিন্তু টটেনহামের পারফরম্যান্সটা ম্যানইউতে নিয়ে যেতে পারেননি বারবেতভ।
টটেনহামে ছিলেন প্রায় ৩ বছর। ১০২ ম্যাচে গোল করেছিলেন ৪৬টি। কিন্তু ম্যানইউতে বারবেতভকে পেয়ে বসে তীব্র গোল-খরা। ২০০৮-০৯ ও ২০০৯-১০—এই দুই মৌসুমে ৮৬টি ম্যাচ খেলে মাত্র ২৬ গোলই করেছেন তিনি। অন্য অনেকের মতো বারবেতভের পারফরম্যান্স দেখে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন ফার্গুসনও।
নতুন মৌসুমে এই বারবেতভই আবার হাসি ফোটালেন ফার্গুসনের মুখে। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো রিয়াল মাদ্রিদে যাওয়ার পর ম্যানইউকে টানছিলেন ওয়েইন রুনি, আন্তনিও ভ্যালেন্সিয়া আর নানি। রুনি অনেক দিন ধরেই তাঁর সেরা ফর্মে নেই। ভ্যালেন্সিয়া চোট নিয়ে মাঠের বাইরে। এ সময় কাউকে না-কাউকে জ্বলে ওঠার প্রয়োজনই ছিল। সেই জ্বলে ওঠার কাজটা করলেন বারবেতভ।
গত দুই মৌসুমের নিষ্প্রভতাকে ছাপিয়ে এ মৌসুমে ৬ ম্যাচ খেলেই করে ফেলেছেন ৭ গোল। অনেক দামে কেনা ‘জিনিস’ এমন কাজ করছে দেখে মহা খুশি ফার্গুসন। ম্যানইউ কোচ বলেছেন, ‘বড় একটা মৌসুমই ওর জন্য অপেক্ষা করছে।’
কোনো এক জিয়নকাঠির ছোঁয়ায় এভাবে জেগে উঠতে পেরে খুশি বারবেতভও। এ মৌসুমে যা হচ্ছে তা নিয়ে উচ্ছ্বসিত তিনি। তবে পরশুর ব্যাপারটা যেন তাঁর নিজের প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেছে। ম্যাচ শেষে বারবেতভ বললেন, ‘যেন একটা জাদুকরি দিন। আমার জন্য তো বিশেষ দিন। কারণ আমি হ্যাটট্রিক করেছি এবং আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বীকে হারিয়েছি।’
জিয়নকাঠির ছোঁয়া যেন লেগেছে চেলসিতেও। তবে চেলসির জিয়নকাঠি যেন তাদের ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। কী জাদু যে আছে তাঁর কাছে! আনচেলত্তির দল মাঠে নামলেই ৪টি-৫টি করে গোল করছে এই মৌসুমে। পরশু নবাগত ব্ল্যাকপুলকে হারাল ৪-০ গোলে।
৪ গোল করাটা যেন অভ্যাসেই পরিণত করে ফেলেছে আনচেলত্তির দল। পরশুর ম্যাচটির আগে চ্যাম্পিয়নস লিগে এমএসকে জিলিনাকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে ‘ব্লু’রা। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ৫ ম্যাচে পুরো ১৫ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে তো চেলসি আছেই, চারের চেয়ে বেশি গড়ে করেছে ২০ গোল।
পাঁচ ম্যাচ পর সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকার প্রথম ৫ জনের মধ্যে আছেন চেলসির ৩ জন। ৬ গোল করে বারবেতভের সঙ্গে যৌথভাবে শীর্ষে ফ্লোরেন্ত মালুদা। দিদিয়ের দ্রগবার ৫ গোল। এরপর আর্সেনালের ইংলিশ উইঙ্গার থিও ওয়ালকটের সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে আছেন ৪ গোল করা সলোমন কালু।
মালুদার কথা একটু আলাদা করেই বলতে হয়। একজন উইঙ্গার হিসেবে এত দিন গোল করানোর দিকেই বেশি খেয়াল ছিল তাঁর। এখনো সেটা আছে। তবে এবার গোল করাতেও সমান মনোযোগী ফরাসি উইঙ্গার। যেন বিশ্বকাপের লজ্জা ভুলতে চান চেলসিতে অসাধারণ খেলে। বিশ্বকাপে ফ্রান্সের আরেক ব্যর্থ ‘নায়ক’ আনেলকারও সাফল্যতৃষ্ণাটা চোখে পড়ছে। কিন্তু এই তৃষ্ণা বের করে আনছেন কে? কার্লো আনচেলত্তি।

যুবরাজকে সরিয়ে এলেন পূজারা

২০০৬-০৭ মৌসুমে ৫০ গড়ে ৬০০-এর বেশি রান করে প্রথম নজর কেড়েছিলেন। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে পরের তিনটি মৌসুমে রান করেছেন ৫৩.৩৫, ৬৫.৫৬ ও ৮২.৩৩ গড়ে। ঘরোয়া ক্রিকেটে তাঁর নাম হয়ে গেছে ‘রান মেশিন।’ এর পরও চেতেশ্বর পূজারা কেন জাতীয় দলে ডাক পাচ্ছেন না, অনেকের কাছেই ছিল বিস্ময়। গত শ্রীলঙ্কা সফরের দল ঘোষণার পর ভারতীয় ক্রিকেট একাডেমির সাবেক পরিচালক ডেভ হোয়াটমোর তো সরাসরিই বলেছিলেন, ‘ভেবে পাচ্ছি না, যুবরাজ আছে অথচ পূজারা কেন নেই!’
‘এ’ দলের হয়ে গত ইংল্যান্ড সফরে ডাবল সেঞ্চুরিটির পর আর উপেক্ষা করতে পারলেন না নির্বাচকের। পূজারা দলে ঢুকলেন সেই যুবরাজ সিংয়ের বদলেই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের ভারতীয় দলে ডাক পেয়েছেন সৌরাষ্ট্রের ২২ বছর বয়সী ডানহাতি ব্যাটসম্যান। চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন গৌতম গম্ভীর, জহির খান, শ্রীশান্ত ও হরভজন সিং। যুবরাজের সঙ্গে বাদ পড়েছেন পেসার অভিমন্যু মিঠুন। যাঁর বাদ পড়ার কথা শোনা যাচ্ছিল, সেই লেগ স্পিনার অমিত মিশ্র টিকে গেছেন। ১ অক্টোবর মোহালি টেস্ট দিয়ে শুরু দুই টেস্টের সিরিজ।
প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৪টি সেঞ্চুরি করেছেন পূজারা মাত্র ৪৯ ম্যাচে, গড় ৬০.৩৮। আছে একটি ট্রিপল সেঞ্চুরিও। ঘরোয়া ও ‘এ’ দলের হয়ে একদিনের ক্রিকেটেও গড় হূষ্টপুষ্ট, ৫৭.০৮। পূজারার বাবা অরবিন্দ ও চাচা বিপিনও রঞ্জি খেলেছেন সৌরাষ্ট্রের হয়ে। টেস্ট সিরিজের আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেও বোর্ড প্রেসিডেন্টের হয়ে খেলবেন পূজারা। এই ম্যাচে নেতৃত্ব দেবেন গম্ভীর, খেলবেন শ্রীশান্তও।
যুবরাজ অবশ্য নিজেকে দুর্ভাগ্য ভাবতে পারেন। সেই ২০০১ সালের পর প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দল থেকে বাদ পড়েছিলেন গত শ্রীলঙ্কা এশিয়া কাপে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৫২ ও ৫ রান করেছিলেন। জ্বরের কারণে পরের টেস্টটা খেলতে পারেননি, তাঁর জায়গায় সুযোগ পেয়ে অভিষেকেই সেঞ্চুরি করে ফেলেন সুরেশ রায়না। তাতেই কপাল পোড়ে যুবরাজের, পরের টেস্ট ফিট থাকার পরও বাইরে থাকতে হয়। এবার স্কোয়াডেই জায়গা হারালেন। যুবরাজ এখন ‘রেস্ট অব ইন্ডিয়া’কে নেতৃত্ব দেবেন মুম্বাইয়ের বিপক্ষে ইরানি ট্রফির ম্যাচে। টেস্ট সিরিজ যেদিন শুরু, সেদিনই শুরু এই ম্যাচ।

টেস্ট সিরিজের ভারতীয় দল
মহেন্দ্র সিং ধোনি (অধি.), বীরেন্দর শেবাগ, গৌতম গম্ভীর, রাহুল দ্রাবিড়, শচীন টেন্ডুলকার, ভিভিএস লক্ষ্মণ, সুরেশ রায়না, চেতেশ্বর পূজারা, মুরালি বিজয়, হরভজন সিং, জহির খান, ইশান্ত শর্মা, প্রজ্ঞান ওঝা, শ্রীশান্ত ও অমিত মিশ্র।

বার্সাকে জিতিয়ে বাইরে মেসি

দুই দিন আগে বার্সেলোনার সংসারে তাঁর ১০ বছর পূর্ণ হয়েছে। উপলক্ষটা স্মরণীয় করতে যা করার দরকার তা-ই করছিলেন লিওনেল মেসি। প্রথমার্ধটা জুড়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের রক্ষণভাগে ত্রাস ছড়িয়েছেন। চোখ জুড়ানো গোল করে ভিসেন্তে ক্যালদেরনে বার্সেলোনার দীর্ঘকালের খরা কাটানোর পথ তৈরি করে পরের গোলটি বানিয়ে দিয়েছেন। মেসি তো ম্যাচ শেষে করবেন উৎসব!
কিসের উৎসব! ম্যাচ শেষে ড্রেসিংরুমে শুয়ে কাতরাতে হলো আর্জেন্টাইন প্লে-মেকারকে। অ্যাটলেটিকোর বিপক্ষে মেসি ও পিকের গোলে ২-১-এ জেতা ম্যাচ শেষ হওয়ার মিনিট খানেক আগে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে হলো। অ্যাঙ্কেলে চোট পেয়ে মেসিকে এভাবে মাঠ ছাড়তে দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন কোচ পেপ গার্দিওলাও, হাড়-টাড় ভেঙে যায়নি তো!
শেষ পর্যন্ত গার্দিওলাই নিশ্চিত করেছেন, মেসির অ্যাঙ্কেল ভাঙেনি। তবে ক্লাবের চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, লিগামেন্ট ছিঁড়ে গেছে ফিফা বর্ষসেরা ফুটবলারের। এই চোট সামলে আবার মাঠে ফিরতে কমপক্ষে দুই সপ্তাহ লাগবে। ফলে লিগে স্পোর্টিং গিজন, রিয়াল মায়োর্কা ও অ্যাথলেটিক বিলবাও এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে রুবিন কাজানের বিপক্ষে ম্যাচে (অ্যাওয়ে) তাঁর খেলা হবে না। অবশ্য বার্সা চিকিৎসকেরা বলছেন, মেসির উন্নতি আশাতীতও হতে পারে।
এই মেসি-চোট পাওয়ার আগেই বার্সেলোনা অবশ্য মৌসুম শুরুর চোটটা ভালোমতোই সামলে উঠেছে। মৌসুমের শুরুতেই ফুটবল-বিশ্বকে হকচকিত করে দিয়ে ন্যু ক্যাম্পে হেরে বসেছিল নবাগত দল হারকিউলিসের বিপক্ষে। তারপর চ্যাম্পিয়নস লিগে গ্রিক দল প্যানাথিনাইকসকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে ক্ষততে কিছুটা প্রলেপ দিতে পেরেছিল। আর কাল পেপ গার্দিওলা পেলেন কোচিং ক্যারিয়ারের অধরা এক জয়।
অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের মাঠ ভিসেন্তে ক্যালদেরনে সর্বশেষ দুই সফর থেকেই হেরে ফিরেছিল বার্সা। গার্দিওলা বার্সাকে নিয়ে এক মৌসুমেই ছয়টাসহ আটটি ট্রফি জিতেছেন। কিন্তু এই ক্যালদেরন থেকে ম্যাচ জিতে ফেরার অভিজ্ঞতা তাঁর ছিল না। সেই অভিজ্ঞতাটা কাল তাঁকে উপহার দিলেন মেসি-পিকে।
ম্যাচের ১৩ মিনিটে পেদ্রোর কাছ থেকে বল পেয়ে বুটের পেছন দিক দিয়ে আলতো টোকায় আড়াআড়ি করে মেসি বল ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন জালে। ২৫ মিনিটে রাউল গার্সিয়া ম্যাচে সমতা ফিরিয়েছিলেন। সাত মিনিট পরই মেসির কর্নার থেকে আবার বার্সাকে এগিয়ে দেন পিকে।
ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে অ্যাটলেটিকো খেলায় ফেরার চেষ্টা করেছিল, জাভি-পেদ্রোও বার দুয়েক গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন; কিন্তু ঘটনাবিহীনই কাটল দ্বিতীয়ার্ধ। ঘটনাবিহীন! যে এক ঘটনা ঘটল, তাতেই বিমূঢ় বার্সেলোনা।
ম্যাচের শুরু থেকে বিপজ্জনক সব ট্যাকলের শিকার হতে থাকা মেসিকে কড়া চ্যালেঞ্জ করে ফেলে দেন অ্যাটলেটিকোর চেক ডিফেন্ডার টমাস উফালুসি। সঙ্গে সঙ্গে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে উফালুসিকে। আর স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়তে হয় মেসিকে।
মেসির এই ইনজুরি ছাপিয়ে গেছে ম্যাচের ফলাফলকেও। অ্যাটলেটিকো কোচ কিকে ফ্লোরেসও দেখতে গিয়েছিলেন মেসিকে, তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনাও করছেন। কিন্তু এসব ভদ্র কথায় মন ভিজছে না গার্দিওলার।
মেসি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণের শিকার হতে থাকায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন যে রেফারিরা তাঁকে ঠিকমতো সুরক্ষা দিচ্ছেন না, ‘টিভির ফুটেজেই সব বোঝা যাচ্ছে। দুনিয়ায় শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোরই সুরক্ষার দরকার আছে, ব্যাপারটা তা নয়। সব খেলোয়াড়কেই রেফারির সুরক্ষা দেওয়া উচিত।’
মেসির ওপর অ্যাটলেটিকো খেলোয়াড়দের আক্রমণে সবচেয়ে বেশি চটেছেন বার্সা ডিফেন্ডার পিকে। তিনি বলছেন, মেসিকে রীতিমতো ধাওয়া করে মারা হয়েছে, ‘আমার দুঃখই লাগছে। এখন মনে হচ্ছে, বিশ্ব ফুটবলে সবকিছুই বৈধ! মেসিকে রীতিমতো ধাওয়া করে মারা হয়েছে। এই মাপের একজন খেলোয়াড়কে আটকাতে ওরা সবকিছুই করেছে।’