Sunday, November 18, 2018

রাষ্ট্র ভিন্নমতাবলম্বীদের সহ্য করতে পারছে না -আদিলুর রহমান

মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর সম্পাদক আদিলুর রহমান খান বলেছেন, ভিন্নমতাবলম্বীদের মানবাধিকারের ব্যাপারে যারা সোচ্চার এবং যারা দেশের অন্যায় ও অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেন রাষ্ট্র তাদের দমন করার  জন্য সচেষ্ট। এ ছাড়া তাদের সমর্থিত মিডিয়া এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবহার করে তাদের হেনস্তা করা হয় বলে তিনি মনে করেন। গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। আদিলুর রহমান বলেন, একটার পর একটা প্রক্রিয়া চলতেই থাকে। এ কারণে আমরা যে আশঙ্কাটা করেছিলাম- নির্বাচনকে সামনে রেখে ভিন্নমতাবলম্বী এবং যারা মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেন তাদের দমন-নিপীড়ন আরো বেড়ে যাবে। অধিকার-এর উপরে যেই ক্যাম্পেইন শুরু হয়েছে এটা সেই প্রক্রিয়ারই অংশ কিনা? তিনি বলেন, যখন জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলে বাংলাদেশ নির্বাচিত হওয়ার কথা বলেছে এবং তারা সেখানে বলেছে মানবাধিকার রক্ষা করবে ও মানবাধিকার কর্মীদের নিরাপত্তা দেবে- সেই অবস্থাতে আজকে যারা স্বাধীনভাবে কাজ করতে চায়, তাদের কাজ করতে দেয়া হবে কিনা।
তিনি শহিদুল আলমের প্রসঙ্গে বলেন, হাইকোর্ট ডিভিশনে তার জামিন হয়েছে কিন্তু সেটা চ্যালেঞ্জ করতে নাকি আপিল বিভাগে যাওয়া হবে। এ ছাড়া আরো একাধিক মানবাধিকার সংগঠক এবং সংগঠনের বিরুদ্ধে টার্গেট করা হচ্ছে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, যারা ভিন্নমতাবলম্বী তারা কি বাংলাদেশে কথা বলতে পারবেন না।
তারা কি আইনের শাসন পাওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবে। নাকি বাংলাদেশ মানবাধিকারশূন্য হয়ে যাবে। বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি উদ্বেগজনক জানিয়ে তিনি বলেন- এটা সকলেই বলছে শুধু আমরা অধিকার বলছি না। সামাজিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলো বলছে। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোও উদ্বেগ জানাচ্ছে।
তিনি বলেন, অধিকার-এর বিরুদ্ধে কয়েকটি গণমাধ্যম ভিত্তিহীন ও মনগড়া প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে- যার কোনো সত্যতা নেই। এ ছাড়া এসব গণমাধ্যমের একটি ছাড়া অন্যগুলো অধিকার-এর কারো মতামত না নিয়েই তা প্রকাশ করেছে। এসময় অধিকার-এর পরিচালক এএসএম নাসির উদ্দিন এলান অধিকার-এর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন। কয়েকটি গণমাধ্যমে অধিকার নিয়ে প্রকাশ করা প্রতিবেদন এবং অধিকার-এর বক্তব্য তুলে ধরেন। এসব প্রতিবেদনের প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, অধিকার এগুলোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। অধিকার এখনো প্রতিমাসে যে রিপোর্ট প্রকাশ করে তার তথ্যগুলো দৈনিক পত্রিকার প্রতিবেদন, মাঠ পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী মানবাধিকার কর্মীদের পাঠানো প্রতিবেদন এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের থেকে নেয়া তথ্য যাচাই-বাছাই এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমেই করা হয়।

‘বাবার আদর্শ থেকে দূরে আওয়ামী লীগ, তাই ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছি’ -রেজা কিবরিয়া

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামে যোগ দিয়েছেন। এ সময় তিনি কি কারণে বাবার রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগে না গিয়ে ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছেন তাও উল্লেখ করেছেন। আজ দুপুরে মতিঝিলে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেনের চেম্বারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ বিষয়টি তুলে ধরেন।
আওয়ামী লীগ ছেড়ে গণফোরামে যোগ দেয়ার বিষয়ে রেজা কিবরিয়া বলেন, বাবা শাহ এএমএস কিবরিয়ার আদর্শ থেকে আওয়ামী লীগ অনেকটাই দূরে সরে এসেছে। তাই ড. কামাল হোসেনের  নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্টে যুক্ত হয়েছি। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের স্বার্থে কাজ করতে চাই। এজন্য ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রেজা কিবরিয়া বলেন, আমি আমার আদর্শ থেকে এক চুলও পিছু হটিনি। দেশের মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষায়, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় ড. কামাল হোসেন যে ঐক্যের ডাক দিয়েছেন, আমি তাতে সাড়া দিয়েছি।
ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্ব ছাড়া বাংলাদেশকে ঠিক পথে ফিরিয়ে নেয়া সম্ভব নয় বলে মনে করেন সাবেক অর্থমন্ত্রীপুত্র রেজা। বলেন, একমাত্র ড. কামাল হোসেনই পারেন আমি যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি সেই স্বপ্নপূরণ করতে। বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নপূরণ করার মতো ড. কামাল ছাড়া কেউ নেই।
বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময়ে তার বাবা কিবরিয়া খুন হন, বিএনপি সেই হত্যার বিচার করেনি; তবু কেন বিএনপি জোটে যোগ দিচ্ছেন, এমন প্রশ্নে রেজা কিবরিয়া বলেন, আমি আমার বাবার হত্যার বিচার দাবি থেকে পিছিয়ে যাইনি। বাবার হত্যায় জড়িতদের কিংবা নেপথ্যে যারা ছিলেন তাদের সঙ্গেও আমার কোনো আপস নেই।
রেজা কিবরিয়া বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে আমার বাবা খুন হয়েছেন। বিএনপি বিচার করেনি। তারপর দুই বছর ক্ষমতায় ছিল বিশেষ সরকার, তারাও বিচার করতে পারল না। এরপর তো আওয়ামী লীগ টানা সাড়ে ৯ বছর ধরে ক্ষমতায়, তারা কেন কিবরিয়া হত্যার বিচার করল না- প্রশ্ন রাখেন রেজা কিবরিয়া।

জে-লো কাণ্ড!

আবার সেই জেনিফার লোপেজ। অভিনেত্রী, গায়িকা জেনিফার লোপেজ বেশি পরিচিত জে-লো নামে। বার বারই তিনি সংবাদ শিরোনামে উঠে আসছেন। বিশেষ করে তার শরীর প্রদর্শনের জন্য। বয়স তার ৪৯ হলেও শরীরকে তিনি মেলে ধরেন দর্শকদের সামনে। ‘বুটি বুটি’ গানে তিনি যেভাবে শরীরকে ব্যবহার করেছেন তা অবশ্যই শালীনতার মাত্রা অতিক্রম করে। ওই গানটির ভিডিও ভার্সন খুব কম মানুষই সন্তানদের সামনে দেখার সাহস দেখাতে পারেন। কারণ, এতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে যৌনতা।
ওই মিউজিক ভিডিওর প্রধান উপজীব্যই যৌনতা। এবার জেনিফার লোপেজ নতুন করে আবার শিরোনামে এসেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামিতে গিয়েছেন একটি নতুন গানের ভিডিও ধারণ করতে। সঙ্গে রয়েছেন তার ডিজে খালেদ। মিয়ামিতে জেনিফার লোপেজকে সাধারণ্যে দেখা গেছে যে পোশাকে তা নিয়েই চোখ টাটিয়ে উঠেছে মিডিয়ার লোকজনের। কারণ, তিনি ম্যাচিং কালারের একই কাপড় দিয়ে বানিয়েছেন ট্রাউজার। সেই ট্রাউজারটি পরেছেন নাভি থেকে অনেকটা নিচে। ফলে তার নি¤œাঙ্গে যে অন্তর্বাস পরা তার বেশির ভাগই বেরিয়ে এসেছে। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে সেই অন্তর্বাস। একেবারেই থং বা শুধু অন্তর্বাস পরলে তার অর্থ একরকম। আর এভাবে শালীন পোশাক পরে তার ভিতর দিয়ে অন্তর্বাস প্রদর্শন করার অর্থ অন্যরকম। এর মধ্যে যৌনতার সুড়সুড়ি দেয়া হয়। জেনিফার লোপেজকে ওই পোশাকে দেখা গেছে গায়ে একটি সাদা টি-শার্টের মতো শার্ট। নাভিমূল উন্মুক্ত। স্বর্ণালী চুলগুলো ছেড়ে দিয়েছেন শরীরের সামনের দিকে। কুচ পরোয়া নেহি- এমন একখানা ভাব নিয়ে তিনি হেঁটে চলেছেন। শরীরে পরেছেন রূপা ও স্বর্ণের গহনা। তার এমন পোশাকে তীব্র মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এর আগে তিনি ইনস্টাইল ম্যাগাজিনে প্রায় নগ্ন পোজ দেন। তা প্রকাশ হয় কয়েক সপ্তাহ আগে। তারপর এটাই দু’সন্তানের মা জেনিফার লোপেজের সর্বশেষ শরীর প্রদর্শনের ছবি।

হঠাৎ কবিতা খানমের সুর বদল by সিরাজুস সালেকিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার নিশ্চয়তা দেয়ার সুযোগ নেই- এমন মন্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। ক্ষমতাসীন দলের পক্ষ থেকে     সিইসিকে সংযতভাবে কথা বলার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। ওই সময় সিইসির পাশে ছিলেন না তার সহকর্মী চার নির্বাচন কমিশনারও। সিইসির ওই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম গণমাধ্যমকে বলেছিলেন, তারা শপথ নিয়েছেন সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্যই। সিইসির বক্তব্যের সঙ্গে তিনি নিজেও একমত নন। কিন্তু তিন মাসের ব্যবধানে অবস্থান বদলেছে কবিতা খানমের।
গত শুক্রবার প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সামনেই তিনি বলেছেন, বাংলাদেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। যদিও এই বক্তব্যের প্রেক্ষাপট তিনি ব্যাখ্যাও করেছেন। নির্বাচন ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কবিতা খানমের এমন বক্তব্য মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জন্য অজুহাত তৈরিতে সহায়ক হবে।
তাদেরকে এক প্রকার বার্তাই দেয়া হলো যে, নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনে সক্ষম নয়। একজন নির্বাচন কমিশনারের এমন বক্তব্য দেয়া নৈতিকতার পরিপন্থি। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তার উচিত পদ থেকে সরে যাওয়া। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, একজন নির্বাচন কমিশনার এটা কোনোভাবেই বলতে পারেন না।
এভাবে কথা বললে কমিশন বিশ্বাসযোগ্যতা হারাবে। নির্বাচন কমিশনের ত্রুটি থাকতে পারে। কিন্তু তারা এভাবে বললে অজুহাত দাঁড় করানো হবে। তারা কর্মকর্তাদের জন্য আগেই অজুহাত তৈরি করে রাখছে। সুষ্ঠু নির্বাচন করতে না পারলে তাদের উচিত ওই পদ থেকে সরে যাওয়া। নির্বাচন কমিশন এমন বক্তব্যের মাধ্যমে নিজেদের দুর্বলতা প্রকাশ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন বক্তব্যের কারণে প্রশ্ন জাগে, নির্বাচন কমিশন আসলেই ভালো নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত কি না। এগুলো নির্বাচন কমিশনের বেসামাল হওয়ার লক্ষণ কি না তা জানা দরকার। সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক এ বিষয়ে বলেন, এটা নৈতিকতার ব্যাপার। নির্বাচন কমিশনারদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্য। কেউ যদি মনে করে তার পক্ষে এটা সম্ভব না। নৈতিকভাবে দায়িত্ব পালনে তার থাকা তো উচিত না। দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোই তার জন্য নৈতিক কাজ হবে।
শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে একাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষে রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে এক ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার বেগম কবিতা খানম বলেন, বাংলাদেশে শতভাগ সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আমরা জনগণকে এমন কোনো নির্বাচন উপহার দিতে চাই না, যেন জনগণের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। কিন্তু হান্ড্রেড পারসেন্ট সুষ্ঠু নির্বাচন- এটা পৃথিবীর কোনো দেশেই হয় না। আমাদের দেশেও তা সম্ভব নয়। সুতরাং আমরা বলতে চাই, একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হবে, যেটা প্রশ্নের ঊর্ধ্বে থাকবে। সহাকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, দেশে নির্বাচনী হাওয়া বইছে। এই হাওয়া যেন কোনোভাবেই বৈরী না হয়, এই নির্দেশনা কমিশন থেকে থাকবে। আপনাদের সেটা প্রতিপালন করতে হবে। কমিশন চায় না নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হোক।
অন্যদিকে ‘জাতীয় নির্বাচনে অনিয়ম হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেয়ার সুযোগ নেই’- মন্তব্য করে গত আগস্ট মাসে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা। পাঁচ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওই সময় জাতীয় নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ আছে কি না এমন প্রশ্নে কেএম নূরুল হুদা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এ ধরনের নির্বাচনে অনিয়ম হয়েই থাকে। বড় বড় পাবলিক নির্বাচনে কিছু কিছু অনিয়ম হয়ে থাকে। আমরা সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও নিয়ে থাকি। বরিশালে বেশি অনিয়ম হয়েছে, সেখানে আমরা বাড়তি ব্যবস্থা নিয়েছি। নির্বাচনে অনিয়ম হলে যেভাবে নিয়ন্ত্রণ করা দরকার, সেভাবে আমরা নিয়ন্ত্রণ করব। সিইসির এই বক্তব্যের সঙ্গে বেগম কবিতা খানমসহ চার নির্বাচন কমিশনারই দ্বিমত করেছিলেন। তখন তারা বলেছিলেন, এটা ইসির অবস্থানও নয়।
ওই সময় কবিতা খানম সিইসির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলেছিলেন, সিইসির ওই বক্তব্যকে আমি সমর্থন করি না। আমি দ্বিমত পোষণ করি। কারণ, সুষ্ঠু নির্বাচন করার জন্যই তো আমরা শপথ নিয়েছি। সুতরাং আমি এটা কখনই সমর্থন করি না। এটা কমিশনের বক্তব্য বলেও আমি মনে করি না। সিইসির এমন বক্তব্য নির্বাচনে অনিয়মকারীদের উসকে দিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। সিইসির ওই বক্তব্য নিয়ে তার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের দূরত্বও সৃষ্টি হয়েছিল বলে শোনা যাচ্ছিল। তখন সিইসিকে সংযতভাবে কথা বলার পরামর্শও দিয়েছিলেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। অপরদিকে সিইসিকে অভয় দিয়ে দেশবাসীর ওপর আস্থা রাখতে বলেছিলেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টে: নির্বাচন করবেন হবিগঞ্জ-১ আসনে

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া তনয় ড. রেজা কিবরিয়া জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের হয়ে জাতীয় নির্বাচনে লড়বেন। ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনের গণফোরামে যোগ দিয়েছেন তিনি। গণফোরামের হয়ে হবিগঞ্জ-১ আসন থেকে মনোনয়নপত্রও নিয়েছেন। গতকাল বিষয়টি প্রকাশ হওয়ার পর নির্বাচনী এলাকায় চলছে নতুন আলোচনা। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় কাজ করা অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্টের হয়ে নির্বাচনে লড়ার বিষয়ে বলেন, আওয়ামী লীগ ১০ বছর ধরে যেভাবে দেশ পরিচালনা করছে, তার সঙ্গে তিনি একমত নন। তার আদর্শের সঙ্গে মিল নেই। নির্বাচনের ব্যাপারে ড. রেজা কিবরিয়া মানবজমিনকে বলেন, আমার বাবার স্বপ্ন ছিল নিজের এলাকা হবিগঞ্জ-১ থেকে নির্বাচন করার। তাই আমি আগামী নির্বাচনে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম থেকে এ আসনে নির্বাচন করবো- এটা নিশ্চিত।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের পর বিএনপি ২ বছর ক্ষমতায় ছিল। এসময় তারা ঠিকমতো তদন্ত করেনি।
কিন্তু আওয়ামী লীগ পরবর্তী ১০ বছর ক্ষমতায় থেকেও আমার বাবার হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে কিছুই করেনি। এলাকার বিরোধী দলের কিছু নেতাকর্মীকে তারা অভিযুক্ত করেছে। কিন্তু মূল মদতদাতা যারা গ্রেনেড সরবরাহ করেছে তাদেরকে চিহ্নিত করতে পারেনি। টাকার বিনিময়ে মূল মদতদাতারা তদন্তের বাইরে রয়ে গেছে। যারা প্রত্যক্ষদর্শী ছিল তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এখন জনগণই বিচার করবে কার উপর বেশি দায় পড়ে। আর বিএনপি এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে প্রমাণ ছাড়া আমি অবশ্যই তা বলতে পারি না। বাবার হত্যাকাণ্ডের পরও আমি বা আমার পরিবার কোনো দলকে দায়ী করে কোনো বক্তব্য দেইনি। আর আমার বাবা যে আওয়ামী লীগ করতেন বিগত ১০ বছর সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে এ দলে তেমন আদর্শ আমি খুঁজে পাইনি। বিএনপির সঙ্গে আদর্শিক কোনো মতবিরোধ হবে কিনা- এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি ড. কামাল হোসেনের পরামর্শ ও আদর্শ অনুসরণ করে চলবো।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও কিবরিয়া হত্যার দায়ে কারাবরণকারী হবিগঞ্জ পৌর মেয়র জিকে গউছ মানবজমিনকে বলেন, আমরা একাদশ জাতীয় নির্বাচনকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিবেচনা করছি। এ আন্দোলনে যারাই আমাদের সঙ্গে শরিক হবে তাদেরকে আমরা স্বাগত জানাই। আর এজন্য আমরা যেকোনো ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। তিনি বলেন, রেজা কিবরিয়া ঐক্যফ্রন্ট থেকে নির্বাচন করলে বিএনপি স্বাগত জানাবে। আর আমার বিশ্বাস তার মতো গুণী লোক নির্বাচন করলে এলাকার মানুষ অবশ্যই সঠিক মূল্যায়ন করবে। এক্ষেত্রে তার বিজয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী। এ ছাড়া কিবরিয়া হত্যা মামলায় আমাদেরকে রেজা কিবরিয়া বা তার পরিবার আসামি করেনি। তাদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ, তারা চার্জশিট গ্রহণ করেনি। তাদেরকে চার্জশিট মানতে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। তাদের সরাসরি অভিযোগ থাকলে আমরা আরো ভয়ানক নির্যাতনের শিকার হতাম। আমাদেরকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করতে মামলায় আসামি করে নির্যাতন করেছে জেলা আওয়ামী লীগের সেই বিতর্কিত নেতা। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করলে কিবরিয়া হত্যায় জড়িত নেপথ্য নায়কদের বের করে সঠিকভাবে বিচার করবে।
ড. রেজা কিবরিয়ার ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও গ্রেনেড হামলায় আহত অ্যাডভোকেট আবু জাহির বলেন, বিষয়টির ব্যাপারে আসলে আমি ভালো করে জানি না। আর আমি মনে করি এ ব্যাপারে এখনই কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কি ঘটে। এদিকে ড. রেজা কিবরিয়ার প্রার্থিতা ঘোষণায় হবিগঞ্জ-১ আসনে জটিল সমীকরণ দেখা দিয়েছে। এ আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন ৭ জন। মহাজোট প্রার্থী নিয়ে টেনশন থাকলেও ব্যতিক্রম ছিল বিএনপি। দলের একক প্রার্থী হিসেবে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী সদস্য ও সাবেক এমপি আলহাজ শেখ সুজাত মিয়া। হঠাৎ রেজা কিবরিয়াকে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ঘোষণায় সুজাত শিবিরে কিছুই হতাশা দেখা দিলেও বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন, কেন্দ্র থেকে দল এবং জোটের পক্ষে যে সিদ্ধান্ত আসবে তারা তা মেনে নেবেন। এদিকে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র শিকাগো রাজ্যের বিএনপি সভাপতি শাহ মোজাম্মেল নান্টু। এ ছাড়াও আরেক প্রবাসী (যুক্তরাজ্য) শেখ মহিউদ্দিন বিএনপির মনোনয়নপত্র নিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে একাধিকবার বিজয়ী হন তৃণমূল আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতা বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দেওয়ান ফরিদ গাজী। নবম জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী ফরিদ গাজী ২০১১ সালে মারা যান। ওই বছরই অনুষ্ঠিতব্য উপ-নির্বাচনে চমক দেখিয়ে বিজয়ী হন হবিগঞ্জ জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ শেখ সুজাত মিয়া। সামান্য ভোটে পরাজিত হন আওয়ামী লীগ মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী ডা. মুশফিক হোসেন চৌধুরী। দেশব্যাপী আলোচিত ওই উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কয়েক ডজন জাতীয় নেতা প্রচারণায় অংশ নেন। জাপা চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ দলের মহাসচিব রুহুল আমিন হাওলাদারকে সঙ্গে নিয়ে একাধিকবার লাঙ্গল প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন। এত কিছুর পরও জাপা মনোনীত প্রার্থী আবদুল মুনিম চৌধুরী বাবু নির্বাচনে হেরে যান।
আসন্ন নির্বাচনে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন, দেওয়ান ফরিদ গাজী তনয় শাহ নেওয়াজ মিলাদ গাজী, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আলমগীর চৌধুরী, কেন্দ্রীয় যুবলীগের নির্বাহী সদস্য আবদুুল মুকিত চৌধুরী, মহাজোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও হবিগঞ্জ জেলা জাপার সভাপতি শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক, কেন্দ্রীয় জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল মুনিম চৌধুরী বাবু।

নির্বাচন বর্জন নয়, কেন্দ্র পাহারা দিন -ড. কামাল হোসেন

সরকার ক্ষমতায় থেকে যত ধরনের ১০ নম্বরি করুক ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন বয়কট করবে না বলে মন্তব্য করেছেন গণফোরাম সভাপতি ও ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন। বলেছেন, একবার নির্বাচন বয়কট করে তার খেসারত দিতে হয়েছে, এবার আমরা বয়কট করবো না। গতকাল বিকালে রাজধানীর সুপ্রিম কোর্ট বার প্রাঙ্গণে জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্ট আয়োজিত আইনজীবী মহাসমাবেশ তিনি এসব কথা বলেন। কামাল হোসেন বলেন, আমরা ভোট করবো। ভোট কেন্দ্র পাহারা দিয়ে ভোট করবো। হাজারে হাজারে গিয়ে ভোট দেবো। তরুণ ভোটারদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, দুই কোটি তরুণ ভোটার যারা আছেন সকলে সংঘবদ্ধ হোন।
১৬ কোটি মানুষের অধিকার আমরা ফিরিয়ে দেবো।
ঐক্যফ্রন্টের এই প্রধান নেতা বলেন, এই দেশের মালিক জনগণ। তারা ভোটের মাধ্যমে দেশের শাসনক্ষমতা নির্ধারণ করবে। কিন্তু দেশের মানুষকে এই অধিকার থেকে বঞ্চিত করে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। তখন তারা কোর্টে দাঁড়িয়ে বলেছিলেন, আমরা পরিস্থিতির আলোকে এই নির্বাচন করছি। দ্রুত সময়ের মধ্যে আরেকটি নির্বাচন দেবো। এরপর ৫ বছর পেরিয়ে গেল। দ্রুত নির্বাচন করার অর্থ যে ৫ বছর তা আমরা জানতাম না। ডিকশনারিতে কি বাংলা ভাষায় নতুন করে দ্রুত মানে ৫ বছর যুক্ত হয়েছে? এ সময় মহাজোট সরকারকে ‘ভাঁওতাবাজির সরকার’ অ্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ভাঁওতাবাজির জন্য কোনো গোল্ড মেডেল হলে সেটা এই সরকারকে দেয়া উচিত। কারণ আওয়ামী লীগ সরকার ভাঁওতাবাজি করে ৫ বছর কাটিয়ে দিলো।
আমরা চেয়ে চেয়ে দেখলাম। আমার কাছে ভাবতেই অবাক লাগে কিভাবে ৫ বছর মেনে নিলাম। ড. কামাল বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের অপমান করেছে। তারা হয়তো মনে মনে বলে- শহীদরা ১৬ কোটি মানুষের হাতে ক্ষমতা দিয়ে গিয়েছিলে। এখন দেখো আমরা কিভাবে চালাচ্ছি। তিনি বলেন, সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা রায় দেয়ার পর সম্ভবত একজন মন্ত্রী বলেছিলেন- তোকে কে নিয়োগ দিয়েছে? একজন প্রধান বিচারপতিকে এভাবে কেউ বলতে পারে না। এটা নিয়ে এখনো মামলা হতে পারে। আপনারা কেউ এটা নিয়ে মামলা করেন। আমি লড়বো সেই কেইস। ড. কামাল বলেন, সরকার কথায় কথায় সংবিধান সংবিধান করে। সংবিধানের প্রথম লাইনে লেখা আছে সংবিধান। আমার মনে হয় সরকারের নেতা-মন্ত্রীরা এই লাইন ছাড়া আর কিছু পড়ে না। কারণ তারা সকাল থেকে শুরু করে পরদিন পর্যন্ত সংবিধান লঙ্ঘন করেন। এভাবে ৫ বছর সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন। তিনি বলেন, পৃথিবীতে প্রথম ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হয়েছেন। এটা সংবিধান সম্মত নয়। এরা লজ্জাহীন তাই নিজেদের এমপি পরিচয় দেন। এদের লজ্জাবোধ থাকা উচিত। কারণ মানুষের সন্তানদের লজ্জা থাকে।
আল্লাহর কাছে একটা দোয়া করবো। তাদের যেন একটু লজ্জাবোধ দেন। আদমের সন্তানদের পৃথিবীতে পাঠানোর পর যে কয়েকটি বোধ দেয়া হয় তার মধ্যে লজ্জাবোধ অন্যতম। এ সময় তিনি বর্তমান এমপিদের ব্যঙ্গ করে বলেন- এমপি মানে মনোনীত প্রতিনিধি। এটাকে এখন থেকে জিপি বলা উচিত। কারণ জিপি মানে হল ঘোষিত প্রতিনিধি। এমপি হিসেবে ঘোষণার গেজেট প্রকাশেরও সমালোচনা করেন ড. কামাল। তিনি বলেন, রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে এসব এমপিদের নামে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। গেজেটে কি কি ছাপা যায় তারও একটা আইন আছে। এই সম্পর্কে বললে হয়তো তারা বলবে আমরা কম জানি নাকি আইন। আমি বলবো- ভাই তোমরা কম জানো না। তবে একটু বেশিই জানো। সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব ও ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে বলেছিলেন সরকার বিভিন্নভাবে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করবে। কোনো ফাঁদে পা দেয়া যাবে না।
একটি জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। কারাগারে যাওয়ার পর তার সঙ্গে কয়েকবার দেখা করার সুযোগ হয়েছে আমার। জাতীয় ঐক্যে ড. কামাল হোসেন আসার পর তিনি বলেছেন- খালেদা জিয়ার পক্ষ থেকে যেন তাকে সালাম জানানো হয়। প্রত্যেকবার তিনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্য অটুট রাখতে হবে। ম্যাডামের কথায় আমরা সবার কাছে গিয়েছিলাম। বার বার গিয়েছি। সবাইকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। বৃহত্তর ঐক্যের লক্ষ্যে আমরা বি. চৌধুরীর কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের, আমরা তাকে বুঝাতে পারিনি। কিন্তু ড. কামাল হোসেন, আসম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না এসেছেন। বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, শুক্রবার গুলশানে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে সম্পাদকদের মতবিনিময়ে অনেকেই অনেক কথা বলেছেন। এর মধ্যে প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমানের একটি কথা আমার খুব ভালো লেগেছে।
তিনি বিখ্যাত একটি উক্তি উল্লেখ করে বলেন- ‘স্বাধীনতার সব অর্জন শেষ হয়ে গেছে। আবার নতুন করে গড়তে হবে।’ খালেদা জিয়ার কারাদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি খুব জোর গলায় বলতে পারি- সম্পূর্ণ সরকারি চাপের মুখে খালেদা জিয়াকে বেআইনিভাবে সাজা দেয়া হয়েছে। আমি আজ দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, এই ব্যবস্থার পরিবর্তন হতে হবে। বিচার বিচারের মতো হতে হবে। রাজনৈতিক বিবেচনায় যেন কোনো ব্যক্তির বিচার না করা হয় সেজন্য আইনজীবীদের এগিয়ে আসতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকারকে দানব আখ্যা দেয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে ফখরুল বলেন, এই শব্দটি শিখেছি সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার কাছ থেকে। তিনি এই সরকারকে দানব আখ্যা দিয়েছিলেন। এই দানবের বিরুদ্ধে আমাদের যুদ্ধ। এই যুদ্ধের মধ্য দিয়ে তাদের পরাজিত করতে হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাদের পরাজিত করতে হবে।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা বিচার বিভাগের দিকে তাকিয়ে থাকি। যখন সরকার দ্বারা আক্রান্ত হই তখন এই মহান ভবনে আসি একটু আশ্রয়ের আশায়। কিন্তু বিচার বিভাগে সেই আশ্রয়টুকুও আমাদের আজ নেই। বিএনপি মহাসচিব বলেন, উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে নিম্ন আদালতে গেলে সেখানে বিচার পাওয়া যায় না। আমাদের বহু নেতাকর্মী এই অবস্থার সম্মুখীন। এর পরিবর্তন আনতে হবে। মির্জা আলমগীর বলেন, আমি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বলতে চাই- দেশের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা এই বন্ধাত্বের যুগে সত্য কথা বলেছেন। যখন কেউ কোনো প্রতিবাদ করে না। সত্য বলে না। তখন এই মানুষটি দাঁড়িয়েছিলেন। একা প্রতিবাদ করেছিলেন। তিনি সত্য রায় দিয়েছিলেন, সত্য বলেছিলেন। এজন্য সরকার তাকে জোর জবরদস্তি করে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে। তিনি বলেন, আজকের এই আইনজীবী সমাবেশে কোনো আইনজীবী তাদের বক্তব্যে বিচারপতি সিনহার কথা উল্লেখ না করায় আমি মর্মাহত হয়েছি।
আমি আশা করেছিলাম আপনারা আজ তাকে স্মরণ করবেন। কিন্তু কেউ সেটি করলেন না। আমাদের সবার উচিত তাকে গভীর শ্রদ্ধা জানানো এবং তিনি যে কথাগুলো উচ্চারণ করে গেছেন সেগুলো বারবার বলা উচিত। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার জন্য সব আইনজীবীদের আন্দোলনে নামার আহ্বান জানিয়ে মির্জা আলমগীর বলেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে মানুষ আইনের শাসন থেকে বঞ্চিত হবে। এ সময় তিনি বলেন, আমরা এমন একটি রাষ্ট্রে বাস করছি যেখানে আইনজীবীরাও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছে। ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন আজ রংপুরের কারাগারে বন্দি। অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী রিমান্ডে। দুর্ভাগ্য আমাদের আজ আইনজীবীরাও মিথ্যা মামলায় কারাগারে রয়েছেন। সাম্প্রদায়িক শক্তিরা ঐক্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা আলমগীর বলেন, আমাদের এখানে ড. কামাল সাম্প্রদায়িক, আ স ম আবদুর রব সাম্প্রদায়িক, মাহমুদুর রহমান মান্না সাম্প্রদায়িক।
তাহলে আপনারা কি? প্রকৃতপক্ষে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে আপনারাই প্রশ্রয় দিয়েছেন। এখনো তাদের সঙ্গে আপনাদের বসবাস। এমনকি হেফাজতের সঙ্গে অনুষ্ঠান করে প্রধানমন্ত্রী কওমি জননী হয়ে গেছেন। এগুলো সবাই জানে। তিনি বলেন, আমাদের দেশের নির্বাচনের চিরাচরিত নিয়ম ভোটাররা ভোট দেয়ার পর কেন্দ্রে ভোট গণনা করে সেখানেই ফলাফল ঘোষণা করে পরে উপজেলায় নিয়ে যাওয়া হয়। শুনেছি এবার নাকি কেন্দ্রে ফলাফল ঘোষণা না করে নিয়ে যাওয়া হবে। নির্বাচন কমিশনকে সাবধান করে দিচ্ছি কেন্দ্র থেকে ফলাফল ঘোষণার সিদ্ধান্ত বাতিল করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। নির্বাচনে ইভিএমও চলবে না। কারণ ইভিএম এ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে চুরি করার সুযোগ রয়েছে। তাই এটা গ্রহণযোগ্য হবে না। এ সময় তিনি আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আসুন আমরা নির্বাচনের যুদ্ধে অবতীর্ণ হই।
সেই নির্বাচনী যুদ্ধে জয়ী হওয়াকে আন্দোলন হিসেবে নিতে হবে। বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে মানুষের স্বাধীনতা, মৌলিক অধিকার হারিয়ে গেছে। এই সরকারের পরিবর্তন প্রয়োজন। কারণ মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির প্রথম ও দ্বিতীয় দিনে লাখ লাখ লোক এসেছে। এটা দেখে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মওদুদ বলেন, বর্তমান নির্বাচন কমিশন আজ্ঞাবহ। আমরা ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে কমিশনে গিয়েছিলাম। সেখানে বলেছি- আপনারা আগে কেন এই নির্দেশনা দেননি। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বিক্রির সময় এমন শোডাউন করেছে। তাহলে শুধু বিএনপির সময় লোক সরানোর নির্দেশনা দেয়া হলো কেন? তিনি বলেন, আমাদের কার্যালয়ের সামনে পুলিশের গাড়িতে আগুন দিয়েছে তাদেরই লোক। ছাত্রলীগ-যুবলীগের হেলমেট পরা ছেলেরা এই কাজ করেছে।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জাতীয় আইনজীবী ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন- বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার, ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন, গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বিএনপি যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালসহ বিভিন্ন জেলা বারের নেতৃবৃন্দ। সমাবেশে খালেদা জিয়ার মুক্তি নিয়ে সংগীত পরিবেশন করেন- কণ্ঠশিল্পী ও বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক বেবী নাজনীন ও মহিলা আইনজীবীরা।

সংকটে বাংলাদেশের গণতন্ত্র

মোটরসাইকেলে করে একদল অস্ত্রধারী যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের ওপর হামলা চালাচ্ছে, এটি কোনো নিয়মিত ঘটনা নয়। কিন্তু গত গ্রীষ্মের এক রাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট এরকমই এক হামলার শিকার হন। রাজধানী ঢাকায় ৪ঠা আগস্ট তিনি এক নৈশভোজ থেকে বের হওয়ার সময় তার গাড়ি লক্ষ্য করে একটি মোটরসাইকেল থেকে ইট ছোড়া হয়। এতে তিনি অক্ষত থাকেন। তবে হামলার সঙ্গে জড়িত কারো নাম জানা যায়নি। ঘটনাটি বাংলাদেশের রাজনীতির উগ্র ও ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তাকেই তুলে ধরে। দুর্বল গণতন্ত্র ও উদার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠের দেশটি সম্প্রতি কয়েক বছরে একটি একদলীয় রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে গেছে।
বার্নিকাটের ওপর হামলার কিছুদিন পূর্বেই ঢাকায় নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছিল।
আন্দোলনের মাধ্যমে তারা সরকারের কাছে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি উত্থাপন করে। তাদের আন্দোলন ছিল একান্তই শান্তিপূর্ণ। কিন্তু এ আন্দোলন দমন করতে সরকার কঠিন পথ অবলম্বন করে। শাসক দল আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এ সময় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলা চালায় বলে সংবাদ প্রকাশ করে স্থানীয় গণমাধ্যমগুলো। এমনকি যে সাংবাদিকরা আন্দোলনের সংবাদ সংগ্রহ করছিল তারাও হামলার শিকার হন। কারো কারো ক্যামেরা ভেঙ্গে ফেলা হয়। সেসময়, আন্দোলন থামাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টহল দিয়েছে। আল-জাজিরার এক সাক্ষাৎকারে আন্দোলন দমনের নামে সরকারের কঠিন পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করায় খ্যাতিমান অধিকারকর্মী শহিদুল আলমকে তার বাসা থেকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, কারাগারে তাকে নির্যাতনও করা হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও তাকে কারাগারে রাখা হয়। সম্প্রতি বেশ কয়েকবার তার জামিন নামঞ্জুরের পর ১৫ই নভেম্বর আদালত তাকে জামিন প্রদান করে।
সমালোচকদের এভাবে কঠিন হস্তে দমন বাংলাদেশে এখন সাধারণ বিষয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে এসবের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে আইনের অজুহাত দেখানো হচ্ছে। গত মাসে সংসদে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাস করা হয়। এর মাধ্যমে সরকার ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। যেসব সাংবাদিকের লেখা সরকারের পছন্দ হয় না তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানহানি মামলা দেয়া হচ্ছে। এমনকি দেশের সর্বোচ্চ পদাধিকারীরাও ছাড় পাচ্ছেন না। গত নভেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের একটি সংশোধনী বাতিল করে দিয়েছে। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সরকার চাইলে খুব সহজেই বিচারপতি বরখাস্ত করতে পারত। তখন সংশোধনী বাতিল হওয়ায় আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতি ক্ষুব্ধ হয় সরকার এবং প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকেও হুমকি দেয়া হয়। সরকারের হুমকির মুখে দেশ ছেড়ে যুক্তরাষ্ট্রে আশ্রয় নেয়ার পর সরকার তাকে দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত করে। এসকে সিনহা এখন যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় চাইছেন।
যেকোনো মানদন্ডেই বাংলাদেশের গণতন্ত্রের বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ। সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় ১৮০ দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১৪৪তম। ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে গণতন্ত্রের মানদন্ডে ১৬৭টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৫তম থেকে ৯২তমতে পৌঁছেছে। এ বছরের মার্চে জার্মান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বেরটেলসম্যান স্টিফটুং জানায়, বাংলাদেশ এখন স্বৈরশাসনের অধীন ও এখানে এখন গণতন্ত্রের ন্যূনতম মানদ- পর্যন্ত মানা হচ্ছে না। বাংলাদেশ ক্রমশ একটি অগণতান্ত্রিক দেশে পরিণত হচ্ছে। যদিও ১৫ বছর সামরিক শাসনের মধ্যে থাকা দেশের কাছে স্বৈরশাসন নতুন কিছু নয়।
২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পুনরায় জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে। এই নির্বাচনকে কিছু বিদেশি পর্যবেক্ষক অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেন। এমনকি ইউরোপীয় ইউনিয়ন তাদের পর্যবেক্ষক দল পাঠাতেও অস্বীকৃতি জানায়। বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বে নির্বাচনের দাবিতে এ নির্বাচন বয়কট করে। এতে ৩০০ আসনের ১৫৩টি আসন থেকেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। গত চার বছর ধরে সরকার বিরোধীদলের সঙ্গে সেতু স্থাপনের পরিবর্তে উল্টো তাদেরকে গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামির বেশ কিছু নেতাকে আটক ও কারাদ- দেয়া হয়েছে। এর পেছনে ঢাকা সন্ত্রাস দমনের অজুহাত দাঁড় করিয়েছে। সরকারের দাবি জামায়াতে ইসলামির উগ্র গোষ্ঠীদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। গবেষকরা জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা চিহ্নিত করেছে।
ঘনিয়ে এসেছে জাতীয় নির্বাচন। বাংলাদেশের জন্য পরবর্তী কয়েক মাস সংকটপূর্ণ হতে চলেছে। গণতন্ত্রে বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে এখন একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। আরেকটি অগ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশকে একদলীয় রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করে তুলবে।
( দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্টে প্রকাশিত আতিফ জালাল আহমেদ ও মাইকেল কুগেলম্যানের লেখা থেকে)

বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিস রোগ বৃদ্ধি: করণীয় সম্পর্কে অভিমত

শিশুদের জন্য খেলার মাঠ নেই। শ্রেণিকক্ষ আর গৃহকোণে বন্দী তাদের শৈশব। খাদ্য হিসেবে তাদের বেশি বেশি দেয়া হচ্ছে দোকানের প্যাকেট খাবার, ফাস্টফুড বা কৃত্রিম পানীয়। আর এর ফলে শিশুদের মধ্যেও ডায়াবেটিস রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক অলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এ অভিমত প্রকাশ করেছেন।
তাদের অভিমত, বড়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে চলছে। এখনই তা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ভবিষ্যতে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। এ জন্য সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসতে হবে। একইসঙ্গে সর্বত্র সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
কয়েকজন বিশেষজ্ঞ শিশুদের বিনামূল্যে ইনসুলিন সরবরাহ এবং ইনসুলিন আমদানির ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহার করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
আলোচনা অনুষ্ঠানে ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. এ কে আজাদ খান বলেছেন, ডায়াবেটিস নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সবার আগে জীবনযাপনের ধরন পরিবর্তন করতে হবে। শারীরিক পরিশ্রম বাড়াতে হবে। নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রেখে সুস্থ-স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকা যায়। এ জন্য সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফ উদ্দীন বলেছেন, ডায়াবেটিস চিকিৎসা ব্যয়বহুল তাই এ ক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে সহযোগিতা প্রদান জরুরি।
অনুষ্ঠানে শিশুদের ডায়াবেটিস পরিস্থিতি নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাডাসের চেঞ্জিং ডায়াবেটিস ইন চিলড্রেন প্রোগ্রামের কো-অর্ডিনেটর ডা. বেদৌরা জাবীন। তিনি বলেন, বর্তমানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হচ্ছে। শিশুদের খেলাধুলা, খাওয়াদাওয়াসহ স্বাভাবিক জীবনযাপনে অনেক বেশি সচেতন হতে হবে।
তিনি আরও বলেন, টাইপ-১ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশু বা বড়দের নিয়ে পরিবারকে অনেক বেশি হয়রানিতে পড়তে হয়। কারণ টাইপ-১ আক্রান্ত শিশুদের ইনসুলিন নিতে হয়। শিশুরা স্কুলে গিয়ে ইনসুলিন নিতে পারে না। শিক্ষক বা সহপাঠীরা বিষয়টিকে সহজভাবে নিতে পারে না। পরিবার তাদের নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করে। আবার অর্থনৈতিক সমস্যার জন্য অনেকেরই চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হয়।
ওদিকে আন্তর্জাতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে বাংলাদেশে ডায়াবেটিসে ৩১ হাজার ৪৬০ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এই অসংক্রামক রোগে ২০৪০ সালে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৯ হাজার ৭৫০ হবে। অর্থাৎ মৃত্যু দ্বিগুণের বেশি হবে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক জনস্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সাময়িকী ল্যানসেট গত মাসে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে  বলেছে, মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে সপ্তম স্থানে আছে ডায়াবেটিস অন্য রোগগুলো হচ্ছে হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, ক্যানসার, দীর্ঘস্থায়ী বক্ষব্যাধি, নবজাতকের মৃত্যু ও নিম্ন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ। তবে বর্তমান হারে চললে ২০৪০ সালে ডায়াবেটিস চলে আসবে পঞ্চম স্থানে।
চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়াবেটিসের কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। ডায়াবেটিস দৃষ্টিপ্রতিবন্ধিতা, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোক, কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, দেশে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বাড়ছে।
অসংক্রামক রোগ নিয়ে সরকারের ২০০৬ সালের জরিপে (স্টেপস ২০০৬) বলা হয়েছিল, প্রাপ্তবয়স্কদের ৫ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। সরকার অতি সম্প্রতি এ বিষয়ে আরও একটি জরিপ (স্টেপস ২০১৮) শেষ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, প্রাপ্তবয়স্কদের ৬ দশমিক ৪ শতাংশ এই রোগে আক্রান্ত। অর্থাৎ ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে ৭৬ লাখের বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত। এ ছাড়া আরও কয়েক লাখ শিশু ডায়াবেটিসে (টাইপ-১) আক্রান্ত।
কোনো পরিবারে যদি সুষম খাদ্যাভ্যাস, সুশৃঙ্খল জীবনপ্রণালির চর্চা করা হয়- তবে সেই পরিবারের সদস্যরা ডায়াবেটিস নামের এই রোগ থেকে সুরক্ষা পেতে পারেন। সুষম খাদ্য বলতে আমরা বুঝি দৈনন্দিন খাবার তালিকায় ৫০-৬০ শতাংশ শর্করা, ২০ শতাংশ আমিষ ও ২০ শতাংশ চর্বি থাকা। অতিরিক্ত ক্যালরি যুক্ত খাবার যেমন: ফাস্টফুড, তেল–চর্বিসমৃদ্ধ খাবার, কোমল পানীয়, কৃত্রিম জুস, বেশি চিনি বা ক্রিমযুক্ত বেকারি এড়িয়ে চলা। বেশি করে শাকসবজি, ফলমূল, আঁশযুক্ত খাবার ও গোটা শস্যের তৈরি শ্বেতসার গ্রহণ করা।
চিকিৎসকরা বলছেন, কায়িক শ্রমের বেলায় পারিবারিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন সুস্থ জীবনযাপনে গুরুত্ব রাখে। পরিবারে বাবা ছেলেমেয়েদের নিয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা, তাদের সাইকেল কিনে দেয়া, বাজার করতে নিয়ে যাওয়া বা বাগানে কাজ করার মাধ্যমেও শারীরিক পরিশ্রম অভ্যাস করা যেতে পারে।

ভালো নেই হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল by মজিবুর রহমান

নন্দিত কথাসাহিত্যিক প্রয়াত হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ ভালো নেই। হুমায়ূনের নিজ গ্রাম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুরে তিন একরেরও বেশি জায়গা নিয়ে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যাপীঠের বয়স একযুগ পেরিয়ে গেলেও বিদ্যালয়টির প্রতি সরকারের সুদৃষ্টি পড়েনি। এতে অত্যন্ত দৈন্যদশার মধ্য দিয়ে চলছে বিদ্যাপীঠটি। দীর্ঘদিনেও বিদ্যালয়টি এমপিভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীরা খুবই কষ্টে জীবনযাপন করছেন।
এ ছাড়া ভেঙে পড়েছে বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত ব্যবস্থা। বিশেষ করে বিদ্যালয় ভবনের ছাদের ঢেউটিন ভেঙে ছিদ্র হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। তাই বর্ষাকালে বিঘ্নিত হয় পাঠদান কার্যক্রম।
হুমায়ূন আহমেদ বেঁচে থাকতে সরকারের অনেক উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে নানা রকম আশ্বাস দিলেও বর্তমানে আর বিদ্যালয়টির খোঁজ নেন না কেউই।
এদিকে, শত প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে যায়নি হুমায়ূনের রেখে যাওয়া স্বপ্নের স্কুলের কার্যক্রম। হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণের পর তার স্ত্রী মেহের আফরোজ শাওন বিদ্যালয়টি পরিচালনার হাল ধরেন এবং তিনি নিজেই বিদ্যালয় পরিচালনার যাবতীয় ব্যয় নির্বাহ করে যাচ্ছেন।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৬ সালে শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন বিশিষ্ট অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর (বর্তমানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী)। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর মেহের আফরোজ শাওনের করা নকশা অনুযায়ী শুরু হয় ভবন নির্মাণের কাজ।
দৃষ্টিনন্দন বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ শেষে ২০০৬ সালে মাত্র ৪৮ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শুরু হয় হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের স্কুল শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের পাঠদানের পথচলা।
বিদ্যালয় ভবনে রয়েছে মোট ১৪টি কক্ষ। এর মধ্যে ১২টি কক্ষে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। একটি কক্ষে রয়েছে হুমায়ূন আহমেদের পিতা ফয়জুর রহমান আহমেদ নামে বিশাল পাঠাগার। এ ছাড়া অন্য একটি কক্ষ অফিস রুম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩৪৯ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। আর তাদের পাঠদানের জন্য শিক্ষক রয়েছে ১৫ জন এবং কর্মচারী রয়েছে তিনজন।
বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান জানান, ২০১০ সালে আমি হুমায়ূন স্যারের হাত ধরে এ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি। স্যার বিদ্যালয়টি নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন। তিনি আমাদের বলতেন, ‘তোমরা দেখে নিও, এ বিদ্যালয় একদিন সারা দেশে হইচই ফেলে দেবে। শহরের শিক্ষার্থীরাও একদিন এ স্কুলে লেখাপড়া করতে ছুটে আসবে।’ কিন্তু এরই মাঝে স্যার না ফেরার দেশে চলে যান। আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি স্যারের সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য।
বিদ্যালয়ের ফলাফল সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকে শতভাগ ফলাফল অর্জন করে আসছে। ২০১৭ সালের জেএসসি পরীক্ষায় ৬৫ জন  শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয়। এদের মধ্যে জিপিএ-৫ অর্জন করে ৪০ জন। এ বছর (২০১৮) এসএসসি পরীক্ষায় ৬৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে সবাই উত্তীর্ণ হয় এবং জিপিএ-৫ অর্জন করে ৯ জন। ভালো ফলাফল করতে অভিজ্ঞ শিক্ষকের প্রয়োজন। সময়মত বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক চাকরি পেয়ে অন্যত্রে চলে যাচ্ছেন।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা সব সময়ই শতভাগ রেজাল্ট করে আসছি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও  আমাদের প্রতিষ্ঠান বারবার শ্রেষ্ঠ হয়েছে। কিন্তু বিদ্যালয়টি অদ্যাবধি এমপিওভুক্ত হচ্ছে না। বিদ্যালয়টির অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা জরুরি বলেও জানান তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ প্রতিবছর জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় সন্তোষজন ফলাফল করছে। বিদ্যালয়টি এমপিভুক্তির জন্য সব ধরনের কার্যক্রম করা হচ্ছে।

কৃষকের স্বপ্ন যাচ্ছে গরুর পেটে by এম ইদ্রিস আলী

ভালো নেই শ্রীমঙ্গলের আমনচাষিরা। আমনের ফসল ভালো হলেও অজ্ঞাত রোগে আক্রান্ত হয়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে ফসলের। তাই কৃষকের আশার মুখে পড়েছে হতাশার  ছাপ। কৃষি বিভাগের গাফিলাতি ও সঠিক সময়ে রোগ নির্ণয় করে পরামর্শ না পাওয়ায় অনেক কৃষকের আমন ধানের স্বপ্ন যাচ্ছে এখন গরুর পেটে।
গুটি স্বর্ণ, স্বর্ণমুসুরী, চিনিগুড়া, কালা বিরুন জাতের শত শত জমির ধান ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। যে সময় ধানের শীষ গাছে পরিপক্ষ হওয়ার কথা, সে মুহুর্তে গাছ কেটে বাজারে গবাদিপশুর খাদ্য হিসাবে বিক্রি করতে হচ্ছে কৃষকদের। আর কিছুদিন পরেই কৃষকের স্বপ্নের ফসল পাকা ধান ঘরে তোলার কথা ছিল। কিন্তু কৃষকের সেই আশা এখন বিষাদে পরিণত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঠিক পরামর্শ না পাওয়ার ফলে কৃষকদের এই ক্ষতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টায় গিয়ে দেখা যায় উপজেলার আশিদ্রোন খোশবাস এলাকার কৃষক মনফর মিয়া তারা জমিনে ধান গাছের আগাছা পরিষ্কার করছেন। এসময় তার ধান ক্ষেতের অবস্থা এ প্রতিবেদকে দেখিয়ে বলেন- ‘বেমারে ধান পইচ্চা একবারে শেষ। আর ঔষধের লাগি গেলে একটার লাগি গেলে আরেকটা দেয়। তারা কয় ওটা ভালা হটা ভালা। ওটায় কাজ করব। কিন্তু তারার কথায় ঔষধ আনিয়া আমরার কাজ অয় না। আমরার ধান মরিয়া ক্ষের অই যায়। আর লাল অইয়া ধান মাঝে মাঝে পইচ্চা ধানের অবস্থা শেষ’। তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষেত গৃহস্থি কইরা খাই। খাইলে কিতা অইব আমরার তো ক্ষেতে লাভবান না। ওই দেখইন ধান যে মরছে। প্রতি গোছার মাছে, একছা বের হয়। বারইয়া অখল গোছি গাইল্লা মাইরা জেগাত বই থাকে। বাড়য় না। তিনি বলেন-অখন ধান বাড় অইবার সময়। এখন তো বাড়ইতো নায়। এক ছা বাড় অইব। তিন গাছা ছোছা থাকব। আমরার বাঁচার তো উপায় নাই। এক গাছা বাড়য় তিনগাছা বাড়ায় না। ধানও বেমারে লাগাল পাইছে। ধানও খালি ছোছা। ছোছার মাঝে একছা ভালা অইলে নকছা ছোছা। তিনি বলেন-আমার ১০ কের জায়গা ক্ষেত আছে। এমলা আমার ৪ কের জাগাত। কৃষি অফিসারের লগে আমরার দেখা অয় কিন্তুক জমিনও এক দিনও আইছে না। না না কোনও পরামর্শ দিছে না’। মনফর মিয়া আরো বলেন,‘ আমি অনেক টাকা ঋণ করে ১২কেয়ার(৩০ শতাংশে এক কেয়ার) আমন ফসল করছি। সময় মত বিষ ও সার দিছি। তারপরও ৪ থেকে ৫ কেয়ার জমির ফসল লাল হয়ে পচে মরে যাচ্ছে’। চলতি শীত মৌসুমে এই ধান কাটার কথা ছিল ।
একই  গ্রামের কৃষক মো. মোস্তফা মিয়া জানান, ‘আমি ৬-৭ কেয়ার (প্রতি ৩০ শতাংশে এক কেয়ার) জমিতে আমন ফসল রোপন করি। এরই মধ্যে  আমার ৩-৪ কেয়ার জমিতে আমন ফসল ধান লাল হয়ে পচন ধরে মরে যাচ্ছে। এই ফসল আর হবে না। তাই এখন গরুকে কেটে খাওয়াচ্ছি। শ্রীমঙ্গল সদর ইউনিয়নের ভাড়াউড়া গ্রামের কৃষক ইউছুব মিয়া,ছদর মিয়া,রিয়াজ মিয়া বলেন, ‘আমাদের জমিতে ধানের থোড়ে দুধ শুকিয়ে শীষগুলো সাদা হয়ে যাচ্ছে। সেকারণে আমনের আশানুরূপ ফল পাব না’।
কৃষক আশিদ্রোন খোশবাস এলাকার কৃষক আব্দুল কাদির, ফারুক মিয়া, মনফর মিয়া. মোস্তফা মিয়ার সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, এবারে ফসলের ফলন দেখে প্রথমে বুকটা ভরে গেছিল। পরে ধানের পাতা লালচে হয়ে ধান গাছের গোছা আর বৃদ্ধি পাচ্ছে না। মাঝে মধ্যে ধানের থোড় বেরুচ্ছে। অজ্ঞাত রোগে কয়েকবার স্প্রে করেও ধানক্ষেত রক্ষা করতে পারি নাই। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারব না। এ চিত্র শুধু আশিদ্রোন ও পশ্চিম ভাড়াউড়া নয় এটি উপজেলার ভুনবীর ইউনিয়নের আলীসারকুল, লইয়ারকুল,ভুনবীর, কালাপুর ইউনিয়নের লামুয়া, সিন্দুর খান ইউনিয়নের লাহার পুর, ভূজপুরসহ মির্জাপুর ইউনিয়নের বেশ কিছু ফসলি জমিতে এ অবস্থা বিরাজ করছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি তার লিখিত বক্তব্য বলেন, ‘শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৫০৯৫ হেক্টর জমিতে রোপা আমন আবাদ হয়েছে। ফসলের সার্বিক অবস্থা ভালো। তবে ২-৩টি জমির প্লট কৃষকের সুষম সার ব্যবহার না করা এবং সময়মতো আগাছা পরিষ্কার না করায় ধান গাছ হালকা হলুদ হয়েছে। গত ২ দিনের বৃষ্টিতে এটা ৩-৪ দিনের ঠিক হয়ে যাবে। এছাড়া স্থানীয় জাতে বিজাত থাকায় কিছু ধান আগে ও কিছু ধান পরে বের হয়েছে’। তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ে আমার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়োজিত রয়েছে। তারা কৃষকদের মাঝে পরামর্শ অব্যাহত রেখেছে।

কিডনির বড় ক্ষতি হয় অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধে

মানব শরীরের অভ্যন্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব মতে, বিশ্বে প্রতিবছর কিডনি অকেজো হয়ে পঞ্চাশ লক্ষের বেশী মানুষ মারা যায়।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি রোগ প্রতিরোধ যোগ্য, তবে প্রয়োজন সচেতনতা। 
রাজধানীতে আয়োজিত 'কিডনি রোগ প্রতিরোধযোগ্য: প্রয়োজন সচেতনতা’ শীর্ষক  এক গোলটেবিল বৈঠকে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা এসব কথা বলেন। তারা আরও জানিয়েছেন, কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। চাহিদার তুলনায় চিকিৎসা ব্যবস্থাও সীমিত। তবে, কিডনি সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে তা চিকিৎসা করে নিরাময় করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলেছেন, অ্যান্টিবায়োটিক ও ব্যথানাশক ওষুধ সেবনে ৮০ ভাগ ক্ষেত্রে কিডনির ক্ষতি করে। সে জন্য বছরে দুইবার ইউরিন টেস্ট ও সিরাম ক্রিয়েটিনিন পরীক্ষা করে কিডনির কী অবস্থা তা জানা দরকার।
কিডনি ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও প্রখ্যাত কিডনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, অনেক ডাক্তার রোগীকে কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই প্রথমে অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যবস্থাপত্রে লিখে দেন। জ্বর হলে অ্যান্টিবায়োটিক দেন। এতে জ্বর ভালো হলেও রোগীর কিডনি যে বিকল হয়ে যায় সেটা বোঝে না। কিডনি রোগকে ‘নীরব ঘাতক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে হারুন অর রশীদ বলেন, ব্যথা হলে প্যারাসিটামল ওষুধ খেতে হবে। আর কোনো ব্যথানাশক ওষুধ নিরাপদ নয়।
অধ্যাপক ডা. এম এ রহমান বলেন, প্রচুর পানি পান করলে কিডনি সমস্যা হয় না। পিপাসা লাগলে পানি পান করতে হবে। এছাড়া প্রস্রাব ধরে রাখা যাবে না। তবে অ্যান্টিবায়োটিক খাবার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে।
অধ্যাপক ডা. এম এ সালাম বলেন, অনেক সময় ডায়রিয়া হলে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হয়। এতে ডায়রিয়া ভালো হয়ে যায়, কিন্তু কিডনি বিকল হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেক চিকিৎসক প্রস্রাবের জ্বালা-পোড়া হলেও অ্যান্টিবায়োটিক দেন।এভাবে অসতর্কভাবে অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের কারণে কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বিশিষ্ট ইউরোলজিস্ট অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলম বলেন, অনেক হার্বাল মেডিসিন কিডনি বিকল করে দেয়। এক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাঙ্গনের পাশে খোলা খাবার পরিহার করতে হবে। 
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, কিডনি রোগ শুরুতে ধরা পড়লে প্রতিরোধ করা সম্ভব। বছরে দুইবার ইউরিন টেস্ট করলেই বোঝা যায় কিডনি ঠিকঠাক চলছে কী না। আর এই ইউরিন টেস্ট গ্রামাঞ্চলে হেলথ কমিউনিটি ক্লিনিকেও করা যায়।
অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ ও মুহাম্মদ রফিকুল আলম