Thursday, October 22, 2009

মিয়ানমারে বিডিআর-নাসাকা পতাকা বৈঠক শুরু

বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এবং মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী নাসাকার মধ্যে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠক আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টায় শুরু হয়েছে।
এর আগে সকাল সাড়ে নয়টায় বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল টেকনাফ নৌবন্দরের জেটিঘাট থেকে মিয়ানমারের উদ্দেশে রওনা হয়।
বৈঠকে ১১ সদস্যের বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন টেকনাফের ৪২ রাইফেলস ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মোজাম্মেল হোসেন ।
মোজাম্মেল হোসেন বলেন, বৈঠকে সীমান্তে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণ, বাংলাদেশে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে সীমান্তে সেনা সমাবেশ, মিয়ানমার কারাগারে আটক বাংলাদেশি জেলেদের মুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে।
আমাদের টেকনাফ প্রতিনিধি জানান, গতকাল রাত আটটার দিকে বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে মাছ ধরার সময় আটটি নৌকাসহ আট জেলেকে নিয়ে যায় নাসাকা বাহিনী। পরে আট জেলেকে ফেরত পাঠানো হলেও নৌকাগুলো দেয়নি। আজকের পতাকা বৈঠকে এ বিষয়েও জোরালো প্রতিবাদ জানানো হবে।

ভারতে দুটি যাত্রীবাহী ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত ১৫

ভারতের উত্তর প্রদেশের মথুরা রেলস্টেশনের কাছে আজ বুধবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে যাত্রীবাহী দুটি ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৫ জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ২৫ জন। আহত ব্যক্তিদের মথুরা ও বৃন্দাবন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
জানা গেছে, ভোর রাতে মথুরা স্টেশনের কাছে মেওয়ার এক্সপ্রেস ও গোয়া এক্সপ্রেসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে গোয়া এক্সপ্রেসের একটি সাধারণ যাত্রীবাহী বগি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। লাইনচু্যত হয় আরও দুটি বগি।
আগ্রা রেলওয়ে বিভাগের বিভাগীয় ম্যানেজার আর ডি ত্রিপাঠি বলেন, গোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক সংকেত অমান্য করে একই লাইনে ঢুকে পড়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
কেন্দ্রীয় সরকার নিহত ব্যক্তিদের পাঁচ লাখ ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের এক লাখ রুপি করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

ম্যাডোনার বিরুদ্ধে মামলা

পপতারকা ম্যাডোনার রেওয়াজে বিরক্ত হয়ে তাঁর এক প্রতিবেশী নিউইয়র্কের সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঠুকে দিয়েছেন।
কারেন জর্জ নামের ওই মামলাকারী অভিযোগপত্রে বলেছেন, ‘রেওয়াজের সময় ম্যাডোনা ও তাঁর আমন্ত্রিত অতিথিরা নাচ-গান করে হৈহুল্লোড়ে মেতে থাকেন। ম্যাডোনা উচ্চ আওয়াজে গানের রেওয়াজ করেন।’
ম্যানহাটনের ভবন ব্যবস্থাপনা কোম্পানির বিরুদ্ধেও মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কারেন জর্জ। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, বিরক্তের উদ্রেক করে ম্যাডোনার এমন কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে কোম্পানিটি। তবে এ ব্যাপারে ম্যাডোনা ও ভবন ব্যবস্থাপনা কোম্পানির মুখপাত্ররা কোনো মন্তব্য করেননি।
কারেন জর্জ বলেন, ম্যাডোনা রেওয়াজ করার সময় উচ্চ শব্দের কারণে তিনি ঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। কারণ বাদ্যযন্ত্রের প্রচণ্ড আওয়াজে তাঁর সমস্যা হয় এবং ভবনের দেয়ালে স্পন্দনের সৃষ্টি করে, যা তিনি সহ্য করতে পারেন না। তিনি জানান, ২০০৮ সালেও তিনি একবার অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

মৃতদেহ থেকে বিদ্যুত্ উত্পাদনের পরিকল্পনা তাইওয়ানের

মরদেহ পোড়ানোর চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়া প্রক্রিয়াজাত করার মাধ্যমে বিদ্যুত্ উত্পাদন করা হবে। আর সেই বিদ্যুত্ দিয়ে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা চালানোর পরিকল্পনা করছে তাইওয়ানের মরদেহ দাহকারী একটি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা এ কথা জানান। সমালোচকেরা বলছেন, এই পদক্ষেপ মৃতের শোকাহত আত্মীয়স্বজনের কাছে বেদনাদায়ক হতে পারে। এএফপি।
মরদেহ দাহকারী প্রতিষ্ঠান দি তাইপে মরচুয়ারি সার্ভিস অফিস এই প্রযুক্তির জন্য দুই লাখ ৪০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে। এই প্রযুক্তির সাহায্যে দাহকার্য থেকে উদ্ভূত ধোঁয়া প্রক্রিয়াজাত করে বিদ্যুতে রূপান্তর করা হবে।
রাজধানী তাইপের উপকণ্ঠে দি তাইপে মরচুয়ারি সার্ভিসের কার্যালয়ের তৃতীয় তলায় স্থাপিত নতুন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার জন্য এই প্রক্রিয়া থেকে উত্পাদিত বিদ্যুত্ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠান

দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট

প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদের জন্য শপথ নিলেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট সুসিলো বামবাং ইউধোইয়োনো। গত জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেন তিনি।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, দুর্নীতি দমনে ইউধোইয়োনোর সফলতা নির্বাচনে তাঁর জয়লাভে সহায়ক হয়েছে। তাঁর মেয়াদকালে দুর্নীতি দমন সংস্থা শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়।
তবে সংবাদ বিশ্লেষকেরা বলছেন, সুমাত্রায় গত সেপ্টেম্বরের ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর এবার তাঁকে সন্ত্রাসবাদ ও বেকারত্বের উচ্চহারসহ নানাবিধ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে ইন্দোনেশিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হলেও দেশটির লাখ লাখ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে।
জাকার্তার পার্লামেন্টে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শপথ নেন ইউধোইয়োনো। শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও পূর্ব তিমুরের নেতারা। শপথ অনুষ্ঠানটি টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে সংবিধান সমুন্নত রাখার শপথ নেন ইউধোইয়োনো। তিনি বলেন, ‘পরবর্তী পাঁচ বছরে আমাদের মূল কাজ হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তার উন্নতি করা এবং গণতন্ত্র ও আইনি কাঠামো শক্তিশালী করা।’
বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইউধোইয়োনোকে নতুন মন্ত্রিপরিষদে অবশ্যই পেশাদার রাজনীতিকের চেয়ে টেকনোক্র্যাট ও পেশাদারদের নিয়োগ করতে হবে।

হন্ডুরাসে সমঝোতা আলোচনায় অচলাবস্থা

হন্ডুরাসে রাজনৈতিক সংকট নিরসনে ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট ম্যানুয়েল জেলায়া ও অন্তর্বর্তী সরকারের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনা গতকাল মঙ্গলবার থমকে গেছে। জেলায়ার প্রতিনিধিদলের সদস্য ভিক্তর মেসা বলেন, আলোচনায় অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। কারণ, প্রেসিডেন্ট রবার্তো মিশেলেত্তির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের দেওয়া প্রস্তাব জেলায়ার জন্য ‘আপত্তিকর’। তবে আলোচনাটি এখনো ব্যর্থ ঘোষণা করা হয়নি। সংকট নিরসনে অরগানাইজেশন অব আমেরিকান স্টেটসের (ওএএস) হস্তক্ষেপ চেয়েছেন জেলায়া।
গত ২৮ জুন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে জেলায়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে নির্বাসনে পাঠায় হন্ডুরাসের সামরিক বাহিনী। ওই দিনই রবার্তো মিশেলেত্তির নেতৃত্বে সেখানে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হয়। তখন থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক সংকট চলছে। গত মাসে গোপনে দেশে ফিরে রাজধানী তেগুচিগালপার ব্রাজিল দূতাবাসে আশ্রয় নেন জেলায়া। এরপর সংকট সমাধানের জন্য দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা আলোচনা শুরু হয়।
ভিক্তর মেসা জানান, ওএএসের স্থায়ী পরিষদ আজ বুধবার ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসবে। এ অচলাবস্থা নিরসনে তারা হস্তক্ষেপ করবে বলে আশা করছেন তাঁরা। আগামী ২৯ নভেম্বর হন্ডুরাসে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। তবে দুই পক্ষই কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছানোর ব্যাপারে হতাশা জানিয়েছে। ব্রাজিল দূতাবাস থেকে জেলায়া বলেন, ‘আশা করছি, তারা (অন্তর্বর্তী সরকার) একটি গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব দেবে। সমঝোতার দরজা খোলা রয়েছে। তবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আমরা জানাতে চাই, (আলোচনায়) চতুরতার আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে মিশেলেত্তির সরকারের বক্তব্য হচ্ছে, জেলায়াকে ক্ষমতায় ফিরতে দেওয়া হবে কি না, তা হন্ডুরাসের আদালতের নির্ধারণ করা উচিত। আলোচনায় মিশেলেত্তির প্রতিনিধিদলের সদস্য ভিলমা মোরালেস বলেন, ‘সমস্যা সমাধানের জন্য আদালতকে কোনো নির্দেশনা দিইনি আমরা। তবে আইনি বিষয়গুলো নিয়ে ভাবতে হবে।’ জেলায়ার বিরুদ্ধে ১৮টি অভিযোগ রয়েছে। হন্ডুরাসের আদালত তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

পশ্চিমবঙ্গে থানায় মাওবাদীদের হামলা, নিহত ১

পশ্চিমবঙ্গের মেদিনীপুর জেলার সাঁকরাইল থানায় গতকাল মঙ্গলবার মাওবাদীরা হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নিহত হয়েছেন। মাওবাদীরা বিভিন্ন সময় পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালালেও থানায় আক্রমণ করল এই প্রথম।
গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মাওবাদীদের ৫০ জনের সশস্ত্র একটি দল অতর্কিতে হামলা চালায় সাঁকরাইল থানায়। উড়িষ্যা থেকে আসা এ দলটি স্থানীয় মাওবাদীদের সহযোগিতায় এই হামলা চালায়। এতে থানার দ্বিতীয় কর্মকর্তা দিবাকর ভট্টাচার্য নিহত হন। মাওবাদীরা থানার ওসি অতীন্দ্রনাথ দত্ত এবং এএসআই স্বপন রায়কে তুলে নিয়ে যায় মোটরসাইকেলে করে। তারা লুট করে নেয় থানার অস্ত্র।
থানা লুটপাট করে মাওবাদীরা পাশের একটি ব্যাংকে হামলা চালায়। সেখান থেকে তারা টাকা-পয়সা লুটপাট করে নেয়। এর পর আশপাশে থাকা জঙ্গলের দিকে চলে যায় মাওবাদীরা। কেউ যাতে ধাওয়া করতে না পারে, সে জন্য ফিরে যাওয়ার সময় তারা থানার সামনের রাস্তায় ভূমিমাইন ফেলে যায়।

সৌরজগতের বাইরে নতুন ৩২টি গ্রহ খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা

সৌরজগতের বাইরে নতুন ৩২টি গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন জ্যোতির্বিদেরা। গত সোমবার পর্তুগালের পর্তো শহরে এক সম্মেলনে এই আবিষ্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, নতুন সন্ধান পাওয়া এই গ্রহগুলোর বেশ কয়েকটির আকার পৃথিবীর চেয়ে কয়েক গুণ বড়।
হাই অ্যাকুরেসি র্যাডিকেল প্লানেট সার্চার (হার্পস) স্পেকট্রোগ্রাফ (বর্ণালী বীক্ষণযন্ত্র) ব্যবহার করে এসব গ্রহের সন্ধান পান বিজ্ঞানীরা। সৌরজগতের বাইরে কম ভরবিশিষ্ট গ্রহের সন্ধান পাওয়ার জন্য বিশ্বের সবচেয়ে সফল যন্ত্র এই হার্পস। ইউরোপিয়ান সাউদার্ন অবজারভেটরির (ইএসও) দূরবীক্ষণ যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে এই হার্পস স্পেকট্রোগ্রাফ। এটি চিলির লা সিলা এলাকায় অবস্থিত।
ইএসওর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নতুন এই গ্রহগুলোর সন্ধান পাওয়ার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত চার শতাধিক এক্সোপ্লানেটের (সৌরজগতের বাইরের গ্রহ) সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা। তাদের বেশিরভাগই বৃহস্পতি গ্রহের মতো বড় আকারের গ্যাসীয় গ্রহ, যেখানে প্রাণ ধারণের পরিবেশ নেই। তবে সুপার-আর্থ হিসেবে অভিহিত ২৮টি এক্সোপ্লানেটের আকার পৃথিবীর তুলনায় ২০ গুণ বড় বা এর কাছাকাছি। এগুলো সম্ভবত পাথুরে গ্রহ।
জ্যোতির্বিদ মাইকেল মেয়রের নেতৃত্বে জেনেভা মানমন্দিরের একদল বিজ্ঞানী হার্পস তৈরি করেন। এক বিবৃতিতে জেনেভা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও ওই দলের সদস্য স্টিফেন উড্রি বলেন, ‘আমরা পাঁচ বছরের প্রাথমিক কর্মসূচি শেষ করেছি। এটা আশাতীতভাবে সফল হয়েছে। তবে পৃথিবীর মতো কোনো গ্রহ আমরা খুঁজে পাইনি।’ ১৯৯৫ সালে প্রথম এক্সোপ্লানেটটির সন্ধান পাওয়া যায়। আর ২০০৪ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথম সুপার আর্থ খুঁজে পান।

বিমান থেকে লাফ দেবেন প্রতিবন্ধী নারী- বর্ণবাদবিরোধী লড়াই

যুক্তরাজ্যে ‘বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদ’-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তহবিল সংগ্রহের জন্য ১৪ হাজার ফুট উঁচু থেকে লাফ দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দুঃসাহসী এক নারী। প্রতিবন্ধী এই নারী হুইল চেয়ারে চলাফেরা করেন।
রুপি কাউর (২২) নামের এই মানবাধিকারকর্মীর অনুপ্রেরণা ভারতের অহিংস আন্দোলনের নেতা মহাত্মা গান্ধী। আগামী ৬ ডিসেম্বর ইংল্যান্ডের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় লেক জেলায় বিমান থেকে শূন্যে লাফ দেবেন রুপি কাউর। তিনি বলেন, ‘আপনি প্রতিবন্ধী, এর অর্থ এই নয় যে, আপনি ঝুঁকিপূর্ণ কোনো কাজে অংশ নিতে পারবেন না।’
ভারতীয় বংশোদ্ভূত হওয়ার কারণে গর্ববোধ করেন রুপি কাউর। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতক কাউর বলেন, এই কাজ থেকে অর্জিত অর্থ ব্রিটেনের এমন দুটি সুপরিচিত গ্রুপকে দেওয়া হবে, যাঁরা বর্ণবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রচারাভিযান চালিয়ে থাকেন। গ্রুপ দুটি হচ্ছে সার্চলাইট এবং হোপ নট হেট।
ব্রিটেনের বেশ কয়েকটি শহরে বর্ণবাদী ও অভিবাসনবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর সাম্প্রতিক সাম্প্রদায়িক সহিংস বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন রুপি কাউর।
ব্রিটেনের অভিবাসনবিরোধী দল ব্রিটিশ ন্যাশনাল পার্টির কড়া সমালোচক রুপি। তিনি বলেন, ‘আমি যখন প্রথম দলটির কথা শুনি, তখন ভেবেছিলাম, তাদের ভোট দেওয়ার মতো নির্বোধ কেউ নেই। কিন্তু দুঃখের বিষয় হচ্ছে, অনেক লোক আছেন, যাঁরা তাদের সমর্থন করেন।’

আবার টাইব্রেকার, আবার মোহামেডান by মাসুদ আলম

ফেডারেশন কাপের শিরোপা থেকে গেল নিজেদের
ঘরেই। আহ, কী আনন্দ মোহামেডান খেলোয়াড়দের!
টাইব্রেকারে আবার জিতল মোহামেডান! ভাগ্যের পরশ পেয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফেডারেশন কাপ হাতে তুলল সাদা-কালোরা! টাইব্রেকারে আবার হেরে ধূলিসাত্ হয়ে গেল ৮ বছর পর আবাহনীর ফেডারেশন কাপ জয়ের স্বপ্ন!
বিস্মিত না হয়ে উপায় নেই। একটা দল বারবার টাইব্রেকারে জিতলে আর অন্য দলটা বারবার হারলে মনে হতে পারে, টাইব্রেকার আসলে ভাগ্য পরীক্ষা-টরিক্ষা নয়। টাইব্রেকার মানে মোহামেডানের জয়। টাইব্রেকার মানে আবাহনীর হার। তবে একটা সংশোধনী দিতে হচ্ছে, এই ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে টাইব্রেকারে জিতেছে আবাহনী। ঘটনা হলো, এ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে মোহামেডানের কাছে টানা তিনবার টাইব্রেকারে হারল আকাশি-নীলেরা। সৌভাগ্য আর দুর্ভাগ্যের কী নিপুণ খেলা!
মোহামেডানের টাইব্রেকার ভাগ্যের ইতিবৃত্ত পরে বলা যাক, তার আগে জানিয়ে দিতে হচ্ছে—কাল বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে ফেডারেশন কাপের ফাইনালের নির্ধারিত সময় ছিল গোলশূন্য। অতিরিক্ত ৩০ মিনিটেও কোনো দল গোলের দেখা পায়নি। জয়ীকে খুঁজে নিতে টাইব্রেকার হলো, আর তাতে ৪-১ গোলে জিতে ফেডারেশন কাপের দশম শিরোপাটা নিয়ে গেল মোহামেডান। শিরোপাটা অবশ্য তাদের হাতেই ছিল, গতবারের চ্যাম্পিয়নরা সেটা শুধু ধরে রাখল এই যা!
আবাহনী-মোহামেডান ম্যাচের চিরন্তন উত্তেজনা ছিল এদিনও। আবাহনী গ্যালারি থেকে পানির বোতল ছুটল মাঠে। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলা ছিল উপভোগ্য। কিন্তু টাইব্রেকার শুরু হতেই নিস্তব্ধ আবাহনী গ্যালারি। দুই ঘানাইয়ান সামাদ আর শেরিফের নেওয়া প্রথম দুই শটে গোল হয়নি। নির্ভরযোগ্য স্টপার সামাদের শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দিয়েছেন মোহামেডানের নাইজেরিয়ান গোলরক্ষক পল। শেরিফ বল তুলে দিয়েছেন বারের ওপর দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে মাথা ঘুরে ওখানেই পড়ে যান এই স্ট্রাইকার। খানিক পরও তাঁর সাড়া না পেয়ে ডাকতে হয় স্ট্রেচার। পেনাল্টি মিস করে কোনো খেলোয়াড় স্ট্রেচারে শুয়ে মাঠ ছাড়ছেন, এই বিরল দৃশ্য দেখল হাজার তিরিশেক দর্শক। এটা হতেই পারে, খেলোয়াড়েরা তো আর আবেগের ঊর্ধ্বে নন!
প্রথম দুটি শটে গোল না হওয়া মানে প্রতিপক্ষের হাতের মুঠোতেই ম্যাচ তুলে দেওয়া। সেটাই হলো, তবে টাইব্রেকারে মোহামেডান খেলোয়াড়েরা স্নায়ুচাপটা ধরে রাখলেন দারুণ। আরিফ, এমেকা, ওয়ালি ফয়সাল গোল করার পর চতুর্থ শটটা নিলেন ম্যাচের প্রায় শেষ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার হাসান আল মামুন। তিনি গোল করার পর মোহামেডানের বিজয় উত্সব শুরু, যা থামিয়ে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে খেলোয়াড়দের আনতে কষ্টই হলো আয়োজকদের।
টাইব্রেকারে যাওয়ারই দরকার হতো না, যদি অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তে আবাহনীর বদলি স্ট্রাইকার এনামুল ফাঁকা পোস্টে লক্ষ্যভেদী হেড নিতে ব্যর্থ না হতেন। পোস্টে নয়, হেডটা তিনি করলেন মাটিতে! অবিশ্বাস্য!
শুরুর মিনিট দশেক পরই খেলাটা ধরে নেয় আবাহনী। মোহামেডানকে পাল্টা জবাব দিয়ে আক্রমণে গেছে তারা। কখনো কখনো প্রাধান্যও ছিল। তবে সমস্যা হচ্ছে, মোহামেডানের পোস্টে হাতে গোনা তিন-চারটির বেশি শট নিতে পারেনি আবাহনী। তার ওপর শেরিফের একটা হেড লাগে ক্রসবারে। আগের ম্যাচে দু গোল দেওয়া এনামুলকে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত বসিয়ে রেখে আদতে দলের জন্য লাভ কিছু হয়নি। ইব্রাহিম ফাইনাল পাস না দিতে পারলে আবাহনী প্রতিপক্ষের গোলমুখ খুলতে পারে না, বরাবরের মতো এদিনও তা দেখা গেছে। শুরুতে গোলরক্ষক বিপ্লবও ভুগছিলেন আস্থার অভাবে। এর ফলে দু-একবার তো গোল প্রায় হয়েই যাচ্ছিল!
মোহামেডান ফেবারিট ছিল ম্যাচে। কিন্তু যতটা গর্জেছে, ততটা বর্ষেনি মাঠে। মোহামেডানের মাঝমাঠকে তো প্রায়ই খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমেকা ১২০ মিনিট খেলে কটি বল ধরেছেন, গুনে বলে দেওয়া যায়। এমিলিও ছন্দে ছিলেন না। তবে বুকোলা বিপজ্জনকই ছিলেন। আবাহনীর চেয়ে মোহামেডান অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করেছে। আবাহনীর কৃতিত্ব—বুকোলাকে তারা গোল করতে দেয়নি।
গত ফেডারেশন কাপের ফাইনাল, তার আগে প্রদর্শনী সিরিজ, সর্বশেষ কাল আবার—এই হলো আবাহনীর বিপক্ষে মোহামেডানের টানা তিন টাইব্রেকার জয়। গত বছর সুপার কাপের সেমিফাইনালে আমিনুল-বীরত্ব, এই ফেডারেশন কাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পল-কৃতিত্বে আরেকটি টাইব্রেকার জয় ছিল মোহামেডানের। মোহামেডান বোধহয় এরপর টাইব্রেকারে ম্যাচ গড়ালে ভাগ্যের হাতে সব ছেড়ে দেবে না। ভাগ্য যেন তাদের সঙ্গেই থাকে!
মোহামেডান: পল, ওয়ালি ফয়সাল, আরিফ, মামুন মিয়া (হাসান আল মামুন), নাসির, আরমান আজিজ (শরীফ), মামুন, জাহিদ (কমল), এমেকা, এমিলি, বুকোলা।
আবাহনী: বিপ্লব, সিরাজী, সামাদ, রজনী, আতিকুর, মেহেদি (মতিউর মুন্না), প্রাণতোষ, শাহেদ, জাহেদ, শেরিফ, ইব্রাহিম (এনামুল)।
রেফারি: তৈয়ব হাসান।

আবাহনীর কাছে মোহামেডানের বিদায়

ক্রিকেটের চিত্রটা উল্টো: সেমিফাইনালে মোহামেডানকে হতাশ
করে জয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন আবাহনীর ব্যাটসম্যানরা
এর নামই কি অদৃষ্ট!
পুরো লিগে উত্তুঙ্গ আত্মবিশ্বাসী ছিল মোহামেডান। অন্য দলগুলোর কাছে অস্পর্শনীয়ই মনে হচ্ছিল তাদের। তামিম ইকবালও দুর্দমনীয়। অথচ আসল মঞ্চ, যেটা ফাইনালে ওঠার সিঁড়ি তো বটেই, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর বিপক্ষে মর্যাদার লড়াইয়ে শির উঁচিয়ে ধরার উপলক্ষও—মোহামেডান পারল না সেই স্নায়ুর লড়াইয়ে। তামিম ইকবালের ব্যাট কালও দুরন্ত হয়ে উঠেছিল। কিন্তু লিগে প্রথম খেলতে নামা সাকিব আল হাসানের দ্যুতি আর শেষ মুহূর্তে তামিমকে হারিয়ে যাকে বিকল্প ভেবে আঁকড়ে ধরেছিল আবাহনী, সেই ইমরুল কায়েসের ব্যাটের আলোয় কত না ম্লান হয়ে গেল সেটা!
তুমুল উত্তেজনার ম্যাচে শেষ ওভারে জয়ের জন্য ৫ রান দরকার ছিল আবাহনীর। সেমিফাইনালের চৌকাঠ পেরিয়েছে তারা মাত্র ২ বল বাকি থাকতে চার উইকেটের জয়ে। কিন্তু ক্লাব ক্রিকেটের এই দুই পরাশক্তির লড়াইয়ে যে জয়ের ধরনটা কখনোই বড় নয়, বড় জয়টাই।
নইলে এ ম্যাচে ‘আবাহনী কেন জিতল’ সেটার চেয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ‘মোহামেডান কেন হারল’ সে প্রশ্নই বড় হয়ে ওঠার কথা। মোহামেডানের জন্য বিজয়ীর হাসি হাসার সব রকম উপলক্ষই তৈরি ছিল। তামিমের ব্যাটে আবারও ঝড়—পাঁচ চার আর তিন ছক্কায় ২৬ বলে ৪৭। ৫২ বলে ৫১ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস শামসুর রহমানের। এরপর মাহমুদউল্লাহর ১১ বলে অপরাজিত ২৭ রানের ‘ফিনিশিং টাচ’—সব মিলিয়ে আবাহনীর সামনে ১৬৫ রানের টার্গেট খুব ছোট ছিল না। অথচ ব্যাটিংয়ের পর বল হাতে মাহমুদউল্লাহর ২৫ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার সাফল্যও বাধা হতে পারেনি আবাহনীর ফাইনালের পথে।
ব্যক্তিগত ৩ রানে ইমন আহমেদের বলে কপালে আঘাত পেয়ে মাঠ ছেড়ে যাওয়া ইমরুলই আবাহনীর জয়ের নায়ক। সাকিব আউট হওয়ার পর ফিরলেন কপালে তিনটি সেলাই নিয়ে, সঙ্গে বুকভরা আত্মবিশ্বাস। ম্যাচ শেষে সেটাই বললেন তিনি, ‘সকাল থেকেই আজ (গতকাল) আমরা আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। মনে হচ্ছিল হয়ে যাবে...। এরপর মোহামেডানের ব্যাটিং দেখার পর বুঝে গেলাম উইকেটটা খুব সহজ।’ মাহমুদউল্লাহর বলে ফয়সাল হোসেনের হাতে ডিপ মিড উইকেটে ধরা পড়ার আগে ৩৮ বলে ৪৬ রান ম্যান অব দ্য ম্যাচ ইমরুলের। আউট হয়েছেন দলকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে—আবাহনীর রান তখন ১৮.৩ ওভারে ১৫৩। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের প্রায় হাজার পনেরো দর্শকের বিনোদনের খোরাক হয়ে মাঝখানে আলো ছড়িয়েছে আবাহনী অধিনায়ক সাকিবের ব্যাটও। ১৫ বলে ২৮ রান করেছেন ১টি চার আর ৩টি ছক্কায়। এর মধ্যে পরপর দুটি ছক্কা নাবিল সামাদের বলে। আফতাব যে ওভারে দেলোয়ারের ক্যাচ হয়েছেন, তার আগে ওই ওভারেই অপর ছক্কাটি আছড়ে ফেলেছেন গ্যালারিতে।
ম্যাচ শেষে খালেদ মাসুদের অনুপস্থিতিতে মোহামেডানের অধিনায়কত্ব করা মোহাম্মদ আশরাফুল ব্যর্থতার দায় দিলেন বাজে বোলিংকে, ‘আমরা আজ ভালো বল করিনি। প্রতিটা ওভারেই এক-দুইটা বাজে বল ছিল।’ আর আবাহনী অধিনায়ক সাকিব? তখনো তার মধ্যে ছোট্ট একটা হতাশা। যে হতাশায় আউট হওয়ার পর ছুড়ে ফেলেছিলেন ব্যাট, ‘কী বলব? যে প্ল্যানটা সবাইকে আমি করে দিয়েছি, সেটা আমিই নষ্ট করে দিয়েছিলাম...।’ তবে অনেক দিন পর মাঠে নেমে জয় নিয়ে ফেরার আনন্দ তাতে কমছে না, ‘শুরুতে একটু নার্ভাস ছিলাম। পরে ঠিক হয়ে গেছে। এমন ম্যাচে জয় পাওয়া অনেক বড় ব্যাপার।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
মোহামেডান: ১৬৪/৪ (তামিম ৪৭, শামসুর ৫১, আফতাব ১৩, আশরাফুল ১৯, মাহমুদউল্লাহ ২৭*, মার্শাল ২*। রফিক ২/৩৬, মোক্তার ১/২৮)।
আবাহনী: ১৯.৪ ওভারে ১৬৬/৬ (ইমরুল ৪৬, রনি ১৯, মাহবুবুল ১৮, সাকিব ২৮, নাদিফ ২৩, নাসির ৯, মোক্তার ১*, সগীর ১২*। মাহমুদউল্লাহ ৪/২৫, আফতাব ১/১০, ইমন ১/২৯)।
ফল: আবাহনী ৪ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ইমরুল কায়েস (আবাহনী)।

ভাগ্যকেই দুষলেন অমলেশ

নূর হোসেন চত্বর থেকেই উত্তাপটা টের পাওয়া যাচ্ছিল। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ঢোকার পথে সেখান থেকেই শুরু টিকিট-বিক্রেতাদের মিছিল। দরকষাকষি করে তখনো সমর্থকেরা কিনে চলেছেন ফেডারেশন কাপের ফাইনালের টিকিট। কোটি টাকার সুপার কাপের ফাইনালের পর কাল আবারও বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে দর্শকারণ্য। গত সুপার কাপের ফাইনালের মতো উপচে পড়া ভিড় অবশ্য হয়নি, তার পরও হাজার তিরিশেক হয়েছে বলে ধারণা অনেকেরই।
ম্যাচ শেষেও মোহামেডান গ্যালারির আনন্দের ঢেউটা বাঁধভাঙাই থেকে গেল। সমর্থকদের হাতে ছোট ছোট সাদা-কালো পতাকা দুলল শেষ বাঁশি বাজার পরও। উন্মাতাল এক দঙ্গল সাদা-কালো জার্সিধারী সমর্থকের ক্লান্তিহীন নাচ-গান ছিল চোখে পড়ার মতো। ঢাকঢোল, ড্রাম আর ভেঁপুর শব্দে পুরোটা সময় মাতিয়ে রেখেছিল তারা।
আকাশি-নীল গ্যালারিতেও ছিল সমান আনন্দের রেশ। সেটা তারা ধরেও রেখেছিল ম্যাচের অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত। টাইব্রেকারে মামুনের বল আবাহনীর জালে জড়াতেই আবাহনী সমর্থকদের সব আনন্দ উধাও। সেখানে তখন শুধুই নিস্তব্ধতা। মোহামেডান গ্যালারিতে ফোটা পটকার শব্দ সেখানে শ্মশানের নীরবতাই নামিয়ে এনেছিল।
একদিকে অন্ধকার আকাশে আলোর নাচের সঙ্গে মাঠময় নেচে চললেন এমিলি, এমেকা, বুকোলা, হাসান আল মামুনরা। ডাগ-আউটে বসা বিপ্লব, রজনী, প্রাণতোষদের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না। আষাঢ়ে মেঘের মতো মুখ কালো করে জার্সিতে মুখ লুকোতে ব্যস্ত তাঁরা।
তবে স্নায়ুক্ষয়ী উত্তেজনার ম্যাচে টাইব্রেকারে হারটাকে সহজভাবেই নিলেন আবাহনী ম্যানেজার সত্যজিত্ দাস রুপু, ‘ফুটবল গোলের খেলা। জিততে হলে গোল করতে হবে। আমরা সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারিনি। তবে প্রথম ৭ মিনিট বাদ দিলে পুরো ম্যাচে আমাদের নিয়ন্ত্রণ ছিল। আর টাইব্রেক তো অ্যানিবডিজ গেম। এখানে যে কেউ জিততে পারে।’ কোচ অমলেশ সেন ভাগ্যকেই দুষলেন, ‘পুরো ম্যাচই আমরা ভালো খেলেছি। এনামুলের হেডটাতে গোল হতে পারত। কী বলব... দুর্ভাগ্য আমাদের।’
কিন্তু মোহামেডান কোচ মারুফুল হক ভাগ্য-টাগ্য বাদ দিয়ে এই জয়ের পুরো কৃতিত্ব দিলেন খেলোয়াড়দের, ‘আমাদের খুব ভালো লাগছে। এই ম্যাচে আমরাই ভালো খেলেছি। এমন বড় ম্যাচে জয়ের কৃতিত্ব দেব পুরো দলকেই।’ টাইব্রেকার পর্যন্তু ম্যাচ গড়ালেও খেলোয়াড়দের ওপর বাড়তি কোনো চাপ ছিল না বলেই মনে করেন মারুফুল, ‘টাইব্রেকারে ভালো করা পুরোটাই সাইকোলজিকাল ব্যাপার। আমি টাইব্রেকারের আগে ওদের নির্ভার থাকতে বলেছিলাম। চাপ নিতে নিষেধ করেছি।’ অধিনায়ক আরমান আজিজ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন তাঁরাই জিতবেন, ‘প্রথমার্ধে আমরাই ভালো খেলছিলাম। তবে গোলের সুযোগ না পেয়ে মানসিকভাবে একটু এলোমেলো হয়ে পড়ি। অবশ্য আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। কেন জানি মনে হচ্ছিল এই ম্যাচে জিতব। শেষ পর্যন্ত জিতেই মাঠ ছেড়েছি।’
জাতীয় দলের কোচ এডসন সিলভা ডিডোও এমন উত্তেজনার বারুদ ছড়ানো ম্যাচে খুশি, ‘আমি পুরো ম্যাচ দেখে খুশিই হয়েছি। তবে বড় দল বলেই হয়তো নির্ধারিত সময়ে দু দলই অতিরিক্ত সতর্কতার সঙ্গে খেলেছে।’