Sunday, September 2, 2018

মানবপাচারের ১০৯ গডফাদার নজরদারিতে by শুভ্র দেব

অবৈধভাবে বিদেশে পাঠানোর সঙ্গে জড়িত শতাধিক গডফাদার সারা দেশে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। স্বল্প খরচে ইউরোপের দেশে যাওয়ার লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখন পর্যন্ত মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত অন্তত ১০৯ গডফাদারের তালিকা করেছে। তাদের রয়েছে দেশ-বিদেশে আলাদা আলাদা সিন্ডিকেট। বেশ কিছুদিন আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা থেকে ১০৯ জনের একটি তালিকা পাঠানো হয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটে (বিএফআইইউ)। এদের ব্যাংক হিসাব পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য। একই ব্যক্তির নামে রয়েছে একাধিক ব্যাংক হিসাব। কোনো কোনো অ্যাকাউন্টে আবার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে করা হয়েছে। বাস্তবে এসব হিসাবে যে লেনদেন হয়েছে সেটা প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের সঙ্গে কোনো মিল পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ গডফাদারদের নজরদারিতে রেখেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কম খরচে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ যেতে আগ্রহী এমন লোকদের মানব পাচারকারীরা টার্গেট করে। আগ্রহীদের সঙ্গে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা চুক্তি করা হয়। আর মধ্যপ্রাচ্য যেতে আগ্রহীদের কাছে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা নেয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় বেশিরভাগ সময় সমুদ্র পথ ব্যবহার করা হয়। আগ্রহীদের সুদান, মিশর, আলজেরিয়া, দুবাই, জর্ডান হয়ে লিবিয়ায় নিয়ে রাখা হয়। লিবিয়া থেকে তাদের ভূ-মধ্যসাগর দিয়ে ছোট-বড় নৌকা দিয়ে ইউরোপের দেশ ইতালি, গ্রিস, স্পেন পৌঁছানো হয়। আর যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ করানোর জন্য পেরু, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, থেকে গুয়েতেমালা, বেলিজসহ ক্যারিবীয় বিভিন্ন দ্বীপ ব্যবহার করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের হিসাব অনুযায়ী, গত ১০ বছরে এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি অবৈধভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ১৭ হাজার ২১৫ জন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেন। তাঁদের মধ্যে ১১ হাজার ৭১৫ জনের আবেদন বাতিল হয়েছে। অভিবাসী কর্মী উন্নয়ন প্রোগ্রাম (ওকাপ) বাংলাদেশ থেকে ইতালির অনিয়মিত অভিবাসন প্রক্রিয়ার ওপর সম্প্রতি এক গবেষণায় উল্লেখ করেছে, বাংলাদেশ থেকে ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে লিবিয়া হয়ে ইতালি যাওয়ার মাত্রা চরম আকার ধারণ করেছে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর তালিকায় ২০১৭ সালের প্রথম ভাগে অবস্থান করে।
চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত ইউরোপের দেশে পাড়ি জমানোর জন্য সে দেশের কোস্টগার্ডের হাতে আটক হয়েছেন অন্তত ২৮০ বাংলাদেশি। তারা এখনও লিবিয়ার কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। লিবিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের কার্যালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিষয়টি জানানো হয়েছে। এ নিয়ে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে। পুলিশের বিশেষ শাখা (এসবি) এসব বন্দীদের নাম ঠিকানা যাচাই-বাছাই করছে।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) মানবপাচার চক্রের এক গডফাদারকে আগস্ট মাসে আটক করেছিল। শিক্ষকতার আড়ালে সে গত এক দশক ধরে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত ছিল। তেজগাঁও কলেজের এই শিক্ষকের নাম মো. আছেম। সিআইডি বনানী থানার মানি লন্ডারিং মামলায় ১৪ই আগস্ট তাকে গ্রেপ্তার করেছিল। তিন দিন রিমান্ডে থাকার পর দ্বিতীয় দফায় রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত তাকে জামিন দেন। পরে অন্য একটি মামলায় ১৯শে আগস্ট সিআইডি আবারও তাকে কারওয়ান বাজার থেকে গ্রেপ্তার করে। ২০শে আগস্ট তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন করা হয়। কিন্তু আদালত তার রিমান্ড না-মঞ্জুর করে তাকে জামিন দেন। সিআইডি জানিয়েছে, আছেম শিক্ষকতার আড়ালে প্রায় এক দশক ধরে গড়ে তুলেছেন মানব পাচার চক্রের বড় এক সিন্ডিকেট। ২০০৯ সাল থেকে অবৈধভাবে সাগর পথে মানুষকে পাচার করে হাতিয়ে নিয়েছেন অন্তত শতকোটি টাকা। আছেমের বাবা আনোয়ার হোসেন ও তার বড় ভাই মোহাম্মদ খোবায়েদ দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়া অবস্থান করছেন। সেই সুবাদেই আছেম তার ছোট ভাই জাবেদকে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় মানবপাচারের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। আছেমের সহযোগীরা লোকজন সংগ্রহ করে টেকনাফ থেকে ট্রলারযোগে মিয়ানমার হয়ে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে নিয়ে আটকে রাখেন। থাইল্যান্ডের জঙ্গলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের আসল চেহারা ফুটে ওঠে। সেখানে তাদেরকে আটকে রেখে বেধড়ক পেটানো হয়। মৃত্যুর হুমকি দিয়ে দেশের স্বজনদের কাছে মোটা অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণ দিতে না চাইলে অত্যাচারের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। দেখানো হয় নানা রকম ভয়ভীতি। একপর্যায়ে স্বজনরা যখন আছেম ও তার সহযোগীদের কাছে টাকা পাঠায় তখন তাদের মালয়েশিয়া পাঠানো হয়। আর যারা টাকা দিতে ব্যর্থ হয় তাদেরকে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে মেরে ফেলা হয়। এমনকি যাদেরকে মালয়েশিয়া পাঠানো হতো তাদের কাছ থেকেও আদায় করা হতো আরও টাকা। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, আমরা আছেমকে গ্রেপ্তার করেছিলাম কিন্তু সে আদালত থেকে জামিন নিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে সারাদেশে মানবপাচারের সংক্রান্ত মামলা হয়েছে ৩৯টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭৮ জনকে। ফেব্রুয়ারি মাসে মামলা হয়েছে ৪০টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৯০ জনকে। মার্চ মাসে মামলা হয়েছে ৩৫টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৬৫ জনকে। এপ্রিল মাসে মামলা হয়েছে ৪৪টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৭০ জনকে। মে মাসে মামলা হয়েছে ৫৭টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে  ১৩৩ জন। জুন মাসে মামলা হয়েছে ৫২টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৩৫ জন ও জুলাই মাসে মামলা হয়েছে ৬০টি। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১১৫ জন।
শুধু দেশেই নয়, মানবপাচারে জড়িত অনেক চক্রের সদস্যরা বিদেশে গ্রেপ্তার হচ্ছেন। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে মালয়েশিয়ার শাহ আলমে মানবপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত ১টি বাংলাদেশি সিন্ডিকেটকে গ্রেপ্তার করেছে সে দেশের ইমিগ্রেশন পুলিশ। মালয়েশিয়ার মেঘা নামক স্থান থেকে আটক ওই ব্যক্তির নাম আব্দুর রউফ (৪৩)। একই সময় ওই এলাকার একটি বাসা থেকে ৫০ জন বাংলাদেশীকে আটক করা হয়। যারা অবৈধভাবে মালয়েশিয়া প্রবেশ করেছিলেন। মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন পুলিশের সূত্র মতে আব্দুর রউফ দীর্ঘ দিন ধরে বাংলাদেশ থেকে ইন্দোনেশিয়া হয়ে চোরাই পথে মানবপাচার করতেন। এক্ষেত্রে প্রতিজনের কাছ থেকে তিনি ৩-৪ লাখ টাকা নিতেন।
পুলিশ সদর দপ্তরের এ আইজি মো. সোহেল রানা মানবজমিনকে বলেন, মানব পাচারের একটা দৃশ্যমানতা রয়েছে। এ নিয়ে পুলিশের বিশেশায়িত টিম সিআইডি, গোয়েন্দা শাখাসহ আরো কয়েকটা টিম কাজ করছে। মনিটরিংয়ের পাশাপাশি পাচারকারীদের শনাক্ত করে নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। গ্রেপ্তার করে অনেককে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। তিনি বলেন, পুলিশের অর্গানাইজড ক্রাইম মানবপাচার রোধে সব সময় তৎপর আছে। আমরা দেশের ভেতরে এধরনের অপরাধে কাজ করতে পারি। কিন্তু এধরনের ঘটনায় অনেক সময় আন্তর্জাতিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা প্রয়োজন পড়ে।

ওয়াশিংটন বৈঠকে উঠতে পারে বার্নিকাটের গাড়িতে হামলার বিষয়টি by মিজানুর রহমান

মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটের গাড়িতে হামলার ঘটনা তদন্তে এখনো কোনো সুরাহা না হওয়ায় চলতি মাসের ওয়াশিংটন বৈঠকে বিষয়টি সামনে আসতে পারে- এমনটাই মনে করছেন ঢাকার কর্মকর্তারা। অবশ্য এ নিয়ে সরকারের তরফে জবাবের প্রস্তুতিও নেয়া হচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আগামী ১৩ই সেপ্টেম্বর ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ সরকারের কর্মকর্তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক রয়েছে। ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট-টিকফা’র আওতায় হবে সেই বৈঠক।
সেখানে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ইস্যুতে দুই দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় বিষয়ে বিস্তৃত আলোচনা হবে। ২০১৩ সলের ২৫শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বিষয়ে নিয়মিত আলোচনার জন্য টিকফা চুক্তি সই হয়। ওই চুক্তির আওতায় এটি চতুর্থ বৈঠক। আর ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে টিকফার এটি দ্বিতীয় পর্যালোচনা বৈঠক। আগের একাধিক বৈঠকে অংশ নেয়া সরকারি কর্মকর্তারা বলছেন, যদিও এটি বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও শ্রম খাত নিয়ে আলোচনার ফোরাম তথাপি তাতে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো বিশেষত বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিবেশ-পরিস্থিতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত প্রসঙ্গগুলো স্থান পায়। ঘটনা-দুর্ঘটনা তো আছেই, খোদ রাষ্ট্রদূতের গাড়িতে হামলার বিষয়টি তা-ও বৈঠকের এক দেড় মাস আগের ঘটনা, যা তদন্তাধীন সেটি আসবে না এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। আসন্ন বৈঠকে যোগদানের প্রস্তুতিতে থাকা সরকারি একজন কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন- আলোচনায় কী কী বিষয় আসতে পারে তা নিয়ে সম্ভাব্য একটি ছক তৈরি করা হয়। সেটি ধরে আমরা বরাবরই প্রস্তুতি নিই। তাছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাস বা মিশন থেকেও আমরা ইনপুট পাই। মিশন যেভাবে ধারণা দেয় সেভাবেই প্রস্তুতি সম্পন্ন হয় এবং বৈঠকের আগে মিশনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বৈঠক হয়। ওয়াশিংটন বৈঠকে বার্নিকাট প্রসঙ্গ আসতে পারে ধরেই আমরা জবাবের জন্য তৈরি হচ্ছি। যা ঘটনা আমরা তা-ই বলবো।
তদন্তের বিষয়ে আমরা নিয়মিতভাবে মার্কিন প্রশাসন ও দূতাবাসকে অবহিত করছি। ওয়াশিংটন বৈঠকে কথা উঠলে এ নিয়ে বিস্তারিত তথ্য হালনাগাদ করা হবে। ৪ঠা আগস্ট রাতের অনাকাঙ্ক্ষিত ওই ঘটনার সময় রাষ্ট্রদূতের প্রটেকশনে থাকা পুলিশ সদস্যরা যে ভূমিকা রেখেছিলেন তাতে দূতাবাস খুশি দাবি করে ওই কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বিবৃতিতে রাষ্ট্রদূতকে রক্ষায় প্রটেকশন পুলিশের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। ঘটনার ১২ দিন পর সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিয়ে হামলার নিন্দা জানানো হয়েছে। যদিও ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে স্টেট ডিপার্টমেন্টে ডেকে নিয়ে হামলা পরবর্তী সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাওয়ার পর ওই বিবৃতি আসে। ঢাকার কর্মকর্তারা বলেন, সরকারের তরফে ওয়াশিংটনকে অবহিতকরণ ছাড়াও হামলার তদন্তের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারও নিয়মিতভাবে খোঁজ-খবর রাখছে। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বাংলাদেশের আসন্ন বৈঠকে বার্নিকাটের গাড়িতে হামলার প্রসঙ্গ এলে সরকার কিভাবে বিষয়টিকে অ্যাড্রেস করবে বা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছে? জানতে চাইলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপি বলেন, আলাদা করে এটি অ্যাড্রেস করার কিছু নেই।
বাংলাদেশে থাকা সকল বিদেশির নিরাপত্তা বিধান করা আমাদের সরকারের দায়িত্ব। আন্তর্জাতিক কনভেনশন, আইন ও নীতি অনুযায়ী আমাদের এটি করতে হয়। আমরাও বিদেশে আমাদের কূটনীতিকদের সেফটি, সিকিউরিটির জন্য সেভাবেই বলি। বার্নিকাটের ওপর হামলার ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হামলার বিষয়ে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন। আমরা এ নিয়ে যা করছি সরাসরি মার্কিন দূতাবাস ও যুক্তরাষ্ট্র সরকারকে অবহিত করে রাখছি। উল্লেখ্য, গত বছর ঢাকায় টিকফা ফোরামের সর্বশেষ বৈঠকটি হয়েছিল। এতে নেতৃত্ব দিতে বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি মার্ক লিন্সকট। তার সঙ্গে ছিলেন স্টেট ডিপার্টমেন্টের ভারপ্রাপ্ত উপ-সহকারী মন্ত্রী শ্যন বি স্টেইন এবং ঢাকাস্থ মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটসহ ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল। ব্যতিক্রম বা আচমকা কিছু না ঘটলে এবারের বৈঠকে লিন্সকটই নেতৃত্ব দেবেন। ঢাকায় টিকফার তৃতীয় বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার চেয়েছিল বাংলাদেশ। ডব্লিউটিও’র নীতি অনুয়ায়ী স্বল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলো যে সুবিধা পায় কিংবা আফ্রিকার দেশগুলো যে সুবিধা পায় সেটিই চেয়েছিল বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সেবা খাতের প্রবেশাধিকার সহজীকরণের অনুরোধও ছিল। নার্স, মিডওয়াইফসহ অন্যান্য সেবা খাতে মোড-৪ এর আওতায় সেই সুবিধা চায় বাংলাদেশ। তবে স্থগিত থাকা জিএসপি সুবিধা পুনর্বহাল নিয়ে গেল বছর কোনো আলোচনাই করেনি ঢাকা।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য ও সেবার প্রবেশাধিকার সহজীকরণ ছাড়াও পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, টেকনোলজি ট্রান্সফার, ডিজিটাল ইকোনমি, ভৌত অবকাঠামো নির্মাণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে মার্কিন বিনিয়োগ বাড়ানোই ছিল বাংলাদেশের অগ্রাধিকার। এবারের বৈঠকে বিনিয়োগ ও মোড-৪ এর আওতায় দক্ষজনশক্তি রপ্তানীর বিষয়ে জোর থাকবে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এইচওয়ানবি ভিসাসহ স্কীল মাইগ্রেশনে যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভারতীয়দের এমন সুবিধা দিয়ে আসছে। বাংলাদেশীদের জন্য সুবিধাটি চালুর অনুরোধ জানানো হবে। তাছাড়া বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও তাগিদ থাকবে। গেল বছরে ঢাকার বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের তরফে বাংলাদেশে মার্কিন পণ্য প্রবেশে শুল্ক ও অশুল্ক বাধা নিরসন, ওষুধ আমদানি প্রক্রিয়া, মেধাস্বত্ব সংরক্ষণ, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও এনার্জি সেক্টরে বিনিয়োগ, চুক্তি অব্যাহত রাখা, সরকারি ক্রয়পদ্ধতি ও লেবার ইস্যুতে জোর ছিল। এবার তা-ই থাকছে বলে ধারণা মিলেছে। গত বছরের ন্যায় আসন্ন ওয়াশিংটন বৈঠকে বাণিজ্য সচিব শুভাশীষ বসু বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। সঙ্গে থাকছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন বিভাগ, সংস্থা ও ব্যুরোর সদস্যরা।

ইভিএমের বিরুদ্ধে একাট্টা সব বিরোধী দল by সিরাজুস সালেকিন

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের লক্ষ্যে ১৯৭২ সালের গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন করেছে নির্বাচন কমিশন। তফসিল ঘোষণার মাত্র দুই মাস আগে তড়িঘড়ি করে সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সন্দেহের চোখে দেখছে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল। নির্বাচনের অল্প সময় আগে নির্বাচন কমিশনের এমন উদ্যোগের পেছনে দুরভিসন্ধি দেখছেন কোনো কোনো দলের নেতারা। এ ছাড়া জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ সামনে রেখে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইসির ধারাবাহিক সংলাপেও অধিকাংশ দল ইভিএমের বিরুদ্ধে মত দেয়। ব্যাপক বিরোধিতা থাকায় নির্বাচন কমিশনও জানিয়েছিল ইভিএম নিয়ে তাদের প্রস্তুতি নেই। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে কী এমন পরিস্থিতি হলো যে ইভিএম নিয়ে ইসিকে ভাবতে হচ্ছে- এমন প্রশ্ন সামনে আনছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও তাদের জোট মিত্র ১৪ দলের শরিক ছাড়া অন্য সব বিরোধী দল ইভিএমের বিপক্ষে।
এমনকি সরকারের অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টিও ইসির এ উদ্যোগকে সন্দেহের চোখে দেখছে। গতকাল দলটির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ জানিয়েছেন বুধবার দলীয় সভা থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানানো হবে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, গত বছর নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে অংশীজনদের সংলাপে ইভিএম ব্যবহার না করার ব্যাপারে ব্যাপকহারে সুপারিশ এসেছে। ৩৯টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল সংলাপে অংশ নিয়েছিল। ২৩টি দল একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম নিয়ে নিজেদের মতামত জানিয়েছিল। এর মধ্যে বিএনপিসহ ১২টি দল ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে মত দেয়। পরবর্তীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা জানিয়েছিলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ইসির নেই। সিইসির এ বক্তব্যের পরও সিটি নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কারণে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। সম্প্রতি ইসি ইভিএম ব্যবহারে আইন সংশোধনের উদ্যোগ নিলে এ সন্দেহ সত্য প্রমাণিত হয়।
সরকারের বাইরে থাকা সকল রাজনৈতিক জোট সংসদের ভোটে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি সংসদে থাকা জাতীয় পার্টিও বর্তমান প্রেক্ষাপটে ইভিএম ব্যবহারের বিপক্ষে। গতকাল রাজধানীতে দলীয় এক অনুষ্ঠানে জাপার চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ বলেন, ইভিএমের ব্যাপারে জনমনে অনেক সন্দেহ রয়েছে। তাই এই ভোটিং পদ্ধতি চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। ইভিএম জনগণের ওপর চাপিয়ে দেয়া ঠিক হবে না। নির্বাচন কমিশনের ইভিএম নিয়ে তৎপরতা শুরুর পর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো তাদের কর্মসূচিতে ইভিএমের বিরোধিতা করে বক্তৃতা-বিবৃতি দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে গঠিত রাজনৈতিক জোট যুক্তফ্রন্টও ইভিএমের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তফ্রন্ট নেতারা। তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন ইভিএম কেনার ব্যাপারে তাড়াহুড়ো শুরু করেছে, এতে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্প ধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না এ আহ্বান জানান। যুক্তফ্রন্ট নেতারা বলেন, সমপ্রতি সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, ভারতে বিরোধী দল ইভিএমে ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আমেরিকা, হল্যান্ডসহ পৃথিবীর বহু দেশে ইভিএম ব্যবহার বাতিল করা হয়েছে। তারা আরো বলেন, ইভিএমে যান্ত্রিক দুর্বলতার সুযোগে ভোট নিয়ে অনায়াসে কারচুপি করা যায় বলেই বিভিন্ন দেশ এটা বাতিল করেছে। যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করে ইভিএম সংগ্রহ করা এবং নির্বাচনে তা ব্যবহার না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গত বুধবার রাজধানীতে এক সভায় বাম গণতান্ত্রিক জোটও ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে। জাতীয় নির্বাচনে ইসির ইভিএম ব্যবহারের তোড়জোড় নিয়ে জোটের সমন্বয়ক সাইফুল হক বলেন, যেখানে অধিকাংশ রাজনৈতিক দল ইভিএমের বিপক্ষে, সেখানে ইসির এ ধরনের পদক্ষেপ সন্দেহজনক। তিনি বলেন, মানুষের মনে এখন সন্দেহ জাগছে, সরকারি দলকে বাড়তি কোনো সুবিধা দিতে ডিজিটাল কারচুপির জন্য এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। জোটের পক্ষ থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতেও ইভিএমের বিরুদ্ধে জোটের অবস্থান জানানো হয়।
গতকাল বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশে দলটির নেতারা ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আওয়ামী লীগ যে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে তাদেরও বিশ্বাস করতে পারছে না। তাই ষড়যন্ত্রে ব্যর্থ হয়ে ইভিএমের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে চাইছে। কিন্তু সামনের দিনে আন্দোলনের যে সুনামি আসবে তাতে ইভিএমসহ আওয়ামী লীগ সরকার ভেসে যাবে। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করেছে নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন হারানো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাছুম গত বুধবার এক বিবৃতিতে বলেন, ইভিএম ব্যবস্থা অকার্যকর ও ত্রুটিপূর্ণ প্রমাণিত হওয়ায় বহু উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেই তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। ইভিএম ব্যবহারের অবাস্তব পরিকল্পনা গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। শুক্রবার ইভিএম পদ্ধতির সমালোচনা করে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেছেন, ইভিএম পদ্ধতির মাধ্যমে যে কেউ জালভোট দিতে পারে। এটা পরীক্ষিত। এই জিনিস ভালো না। এটা মানুষ চায় না। এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ আরো কয়েকটি ইসলামী দল ইভিএমের বিরোধিতা করে আসছে। গত বৃহস্পতিবার ইভিএমের বিধান যুক্ত করে আরপিও সংশোধনের বিরোধিতা করে কমিশন সভা থেকে ওয়াক আউট করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার। ইভিএমের বিরোধিতা করার অন্যতম কারণ হিসেবে তিনি রাজনৈতিক দলগুলোর অনীহার কথা উল্লেখ করে সভায় নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করেন। নোটে তিনি বলেছেন, সরকারি দলের পক্ষ থেকে ইভিএম ব্যবহারকে স্বাগত  জানানো হলেও প্রধান বিরোধী দলসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল এর বিরোধিতা করে আসছে। নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে দলগতভাবে সংলাপকালে ইভিএম সম্পর্কে সরকারি দল ও প্রধান বিরোধী দলের অবস্থান ছিল পরস্পর বিরোধী। এমতাবস্থায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর সমঝোতার ভিত্তিতে ইভিএম ব্যবহারের কোনো সম্ভাবনা নেই।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে অধিকতর আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন ছিল। তবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা জানিয়েছেন, ইভিএম নিয়ে ইসি প্রস্তুতি নিচ্ছে। ভোটগ্রহণের কাজে ব্যবহার হবে কিনা সে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ইসি সূত্রে জানা গেছে, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপের কোথাও ইভিএম ব্যবহারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ নেই। জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়ে মতামত নিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসার চিন্তা নেই ইসির। কমিশনের কোনো সভায় সংলাপে বসার বিষয়ে আলোচনাও হয়নি। তবে  সেপ্টেম্বরে কেন্দ্রীয়ভাবে রাজধানীতে ইভিএম  মেলার আয়োজন করছে কমিশন। ওই মেলায় রাজনৈতিক দলগুলোকে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। ওই মেলায় রাজনৈতিক দলগুলো চাইলে মতামত দিতে পারবে।

রাজধানীতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে ডেঙ্গু by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

রাজধানীতে ডেঙ্গু জ্বর ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নগরীর বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৩৭ জন। গত আগস্ট মাসেই গড়ে প্রতিদিন ৪৪ জন করে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সরকারি হিসাবে জানুয়ারি থেকে ৩০শে আগস্ট পর্যন্ত ২ হাজার ৬৩২ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে মারা গেছেন ১০ জন। এর মধ্যে আগস্ট মাসে ৩ জন, জুলাই মাসে ৪ জন এবং জুন মাসে ৩ জন মারা যান। বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ১৩২ জন। এর মধ্যে বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৩ জন এবং সরকারি হাসপাতালে ৫৯ জন। বেসরকারি হাসপাতালের মধ্যে ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ৩০ জন, ইবনে সিনায় ১৩ জন, স্কায়ার হাসপাতালে ১১জন, পুরান ঢাকার সালাউদ্দিন মেডিকেলে ৯ জন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (মিটফোর্ড) ২০ জন এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ন্যাশনাল ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
ডেঙ্গু জ্বরে আগস্ট মাসে ১৩২৭ জন, জুলাই মাসে ৮৮৫ জন এবং জুন মাসে ২৭৫ জন আক্রান্ত হয়েছেন। বর্ষা মৌসুম শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। রোগ তত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা মানবজমিনকে বলেন, এবার রাজধানীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে বেশি। এটা উদ্বেগের বিষয়। জুলাই-আগস্টে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। ডেঙ্গু জ্বরের রোগী বৃদ্ধিতে এ বছর গাইডলাইন পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি বলেন, এবার দশজন মারা গেছেন। তারা যখন হাসপাতালে এসেছেন, তখন আর করার কিছু ছিল না। পরিচালক পরামর্শ দিয়ে বলেন, জ্বর হলে চিকিৎসকের কাছে যাবেন। তিনি বলেন, এডিস মশার কামড়ে এবার বেশিরভাগ রোগীই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছেন। জ্বর চলে যাওয়ার পরও আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন জটিলতায় ভুগতে পারেন, সেটা মনে রাখতে হবে। বেশি বেশি পানি খেতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে।
এদিকে ডেঙ্গু বড় আতঙ্ক হয়ে দাঁড়ালেও প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেই দুই সিটি করপোরেশনের। নগরবাসীর অভিযোগ- ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে দুই সিটি করপোরেশনের জোর তৎপরতা থাকা দরকার। কিন্তু সে ধরনের কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিশেষজ্ঞদের মতে, ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে। আর এই মশা জন্ম নেয় স্বচ্ছ পানিতে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ার পর তিন থেকে ৫ দিনের মধ্যে নতুন মশা জন্ম নেয়। এসব মশা জন্ম থেকে সর্বোচ্চ ৫ সপ্তাহ বেঁচে থাকে। এর মধ্যে ২ সপ্তাহের বেশি কামড়াতে পারে না। আর কামড়ায় শুধু মেয়ে মশা। একটি মেয়ে মশা রক্ত খেতে পারলে তার ডিমগুলো পোক্ত হয় এবং নতুন করে বংশ বিস্তার করে। তারা আরো জানান, যেকোনো ভাবে কোথাও স্বচ্ছ পানি জমে থাকলে সেখানে ডেঙ্গুর বিস্তার হয়ে থাকে। তবে প্রতি বছর বর্ষার মৌসুমে এর প্রকোপ বাড়ে। এর অন্যতম কারণ- কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হলে ডেঙ্গু প্রজনন সুবিধা হয়। চলতি বছর থেমে থেমে কয়েকদিন পরপর বৃষ্টি হওয়ায় নগরীতে এডিস মশার প্রজনন বাড়ছে।
আর এ কারণেই এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। জুন-জুলাই-আগস্ট মাসে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব বাড়ে। বাড়ি বা বাড়ির আঙিনার কোথাও যেন পরিষ্কার পানি জমে না থাকে সে ব্যাপারে সচেতন ও সতর্ক দৃষ্টি রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্তদের সম্পূর্ণ ভালো না হওয়া পর্যন্ত বিশ্রামে থাকতে হবে। এ ছাড়া যথেষ্ট পরিমাণে পানি, শরবত ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে হবে। জ্বর কমানোর জন্য শুধু প্যারাসিটামল জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। তবে অ্যাসপিরিন বা ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ব্যথার ওষুধ খাওয়া যাবে না। এতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। ৪ থেকে ৫ দিন জ্বর থাকলে ঘরে বসে না থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ মানবজমিনকে বলেন, জুন থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বর হয়ে থাকে। এবার রোগী একটু বেশি আসছে। শীতের সময়ে কমে আসবে। তিনি বলেন, এই সময় জ্বর বা গায়ে ব্যথা হলে ডেঙ্গুর কথা মাথায় রাখতে হবে। সাধারণত ডেঙ্গু জ্বর তেমন মারাত্মক রোগ নয়। অধ্যাপক আবদুল্লাহ বলেন, সাধারণ ডেঙ্গু জ্বরের রোগীর যখন বাহ্যিক বা অভ্যন্তরীণ রক্তপাতের প্রমাণ (যেমন মাড়ি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ, মলের সঙ্গে রক্তক্ষরণ ইত্যাদি) মেলে তখন একে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার বলা হয়। অধিক রক্তক্ষরণের ফলে শরীরের জলীয় উপাদান কমে যায়। এতে রক্তচাপ কমে। এটাই ডেঙ্গু শক সিনড্রোম। ৪ থেকে ৫ দিন জ্বর থাকলে ঘরে বসে না থেকে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

সব স্বৈরাচারই নিজেকে গণতান্ত্রিক দাবি করে

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা বলেছেন, স্বৈরাচার বেশিদিন ক্ষমতায় টিকতে পারে না। এটা ঐতিহাসিক সত্য। আইয়ুব খান টিকেছিল ১০ বছর, এরশাদ আরো কম। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকেও সরে দাঁড়াতে হবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘গণতন্ত্র ন্যায় বিচার : প্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ও বিকল্প ধারা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।
অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, তবে আমরা এক স্বৈরাচারের পর আরেকটা নির্বাচিত স্বৈরাচার চাই না। যাতে জনগণের ক্ষমতা হরণ হয়। তাই আমরা ভারসাম্যের রাজনীতির কথা বলছি। জনগণকে নিয়ে ঐক্যের কথা বলছি। এতে আমরা মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের সঙ্গে নেবো না। স্বৈরাচারকেও মানবো না।
সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বদরুদ্দোজা চৌধুরী আরো বলেন, গণতন্ত্রের ভিত্তি হচ্ছে নির্বাচন। নিরপেক্ষ নির্বাচন দিতে হবে। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সংসদ ভেঙে দিতে হবে। তারা ক্ষমতায় থাকলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না। নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ হতে হবে। এখন আবার ইভিএমের নামে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। ইভিএমে দু’ধরনের ষড়যন্ত্র হতে পারে। প্রথমত, ভোট কারচুপি ও দ্বিতীয়ত, সবার মনোযোগ সেদিকে রেখে অন্য ষড়যন্ত্র করা। আর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে যদি শান্তি মিশনে আমাদের সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করা হয়, তাহলে দেশের নির্বাচনে কেন তাদেরকে রাখা হবে না। নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে। তাদেরকে মাঠে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, সংবাদপত্র ও টেলিভিশনকে নিরপেক্ষ রাখতে হবে। সব বন্দি সাংবাদিককে মুক্ত করে দিতে হবে। এখন সরকারবিরোধী কিছু বললেই বলা হয় বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। আমরা ষড়যন্ত্রের অংশীদার নই। স্বৈরাচারকে মেনে নেবো না। ষড়যন্ত্রের সরকারকে মেনে নেবো না। ষড়যন্ত্র বলে আমাদের দিকে যেন আর আঙ্গুল তোলা না হয়।
ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে স্বৈরাচারী সরকার উল্লেখ করে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেন, একটা মজার ব্যাপার হচ্ছে সব স্বৈরাচারই নিজেকে গণতান্ত্রিক বলে দাবি করে। আইয়ুব খান থেকে এরশাদ পর্যন্ত সবাই নিজেকে গণতান্ত্রিক দাবি করেছিল। সব সরকারই একই কথা বলে। বলে যে জনগণের জন্য বেহেশত বানিয়ে দিয়েছি। তাহলে কেন জনগণকে ভয়। আসলে সব করেও স্বৈরাচার পার পায়নি। তা আমি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারি।
তিনি বলেন, এই প্রজাতন্ত্রের মালিক জনগণ। উত্তরাধিকার সূত্রে কেউ না। এখনো নয়, ভবিষ্যতেও নয়। যে স্বপ্ন দেখে ১৯৭১ সালে লাখো লাখো মানুষ জীবন দিয়েছে তা ভুলতে দেয়া যাবে না। জনগণ হিসেবে রাষ্ট্রের মালিকানা নিতে গেলে ভোট দিতে হবে। ভোটের প্রক্রিয়াকেও পাহারা দিতে হবে।
তিনি আরো বলেন, অনেকে ক্ষমতায় চিরস্থায়ী হতে চায়। অনেককে তা বলতেও দেখেছি। কিন্তু তা তো হয় না। যারা দুই, তিন, চার নাম্বারি করেছে তারা ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে।
সম্প্রতি চলমান ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে তিনি বলেন, আমাদের এই দলগুলো বা ঐক্যপ্রক্রিয়া নিয়ে দ্বিমত বা অপপ্রচার করার সুযোগ নেই। সবাই তো সুষ্ঠু নির্বাচন চায়। কে চায় না বলুন। যে সুষ্ঠু নির্বাচন চায় না তাকে পাবনায় পাঠাতে হবে। সবার মধ্যে একটা ঐক্য তো হয়েই আছে। ঐক্যের মানে একদল নয়। ঐক্য হলো মৌলিক কথা নিয়ে একমত থাকা। ঐক্যের বিকল্প নেই। মাঠে নামতে হবে। মাঠে নেমেই মাঠ গরম করতে হবে তা মনে করি না। জনসভা করে মানুষকে যুক্তি দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরতে হবে বলে মত প্রকাশ করেন এই প্রবীণ আইনজ্ঞ।
সভাপতির বক্তব্যে জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, স্বৈরাচারের পতনের জন্য রক্ত দিতে হবে। জীবন দিতে হবে। ত্যাগ ছাড়া হবে না। আমরা রাস্তায় নামবো। মার্চ করবো। মার্চে বাধা আসলে লংমার্চ করবো। সমাবেশে বাধা দিলে মহাসমাবেশ করবো। মিছিলে বাধা দিলে বিক্ষোভ মিছিল হবে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের মধ্যে যে ঐক্য হয়েছে তাকে বৃহত্তর ঐক্যের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তাতে স্বৈরাচার ও স্বাধীনতাবিরোধীদের ছাড়া সবাইকে আহ্বান জানাই। বি. চৌধুরী, ড. কামাল বা মান্নার বাসায় গ্রেপ্তার করতে গেলে বা কোনো নেতাকর্মীর গায়ে হাত দেয়া হলে পরিণতি ভয়াবহ হবে।
নির্বাচন কমিশন সরকারের একটা টুলসে পরিণত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইন পাসের আগে ইভিএম কেনা হচ্ছে কেন। ম্যানুয়ালি না জিততে পারলে ইভিএমে জেতার জন্য। অস্ট্রেলিয়া, ইতালিতে ইভিএমের জালিয়াতি ধরা পড়েছে। এই আলোচনায় উপস্থিত আছেন এমন একজন নির্বাচন কমিশনে তা পরীক্ষা করে দেখেন। তিনি ৫ বার ৫ প্রতীকের ৫টা বোতামে চাপ দিলেও প্রতিবারই উঠে নৌকা। আওয়ামী লীগ সেভাবেই প্রয়োজনীয় আসনে জিততে চায়। এখন মডেল নির্বাচন করতে চায় সরকার। হেলমেটধারীদের দিয়ে বাক্স বদলের নির্বাচন। জেনেছি ৫০ হাজার আনসারকে নাকি সিল মারার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তিনি এই সরকারকে জনবিচ্ছিন্ন, সাম্প্রদায়িক ও অগণতান্ত্রিক উল্লেখ করে বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা বলে কীভাবে এত জুলুম-নির্যাতন চালানো হয়। এত ঘুষ খায়। একটা রাজনৈতিক দলের অঙ্গ সংগঠন (ছাত্রলীগ) কীভাবে গণভবনে সমাবেশ করে। তিনি একই সঙ্গে আন্দোলন ও নির্বাচনের প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
আলোচনায় অংশ নিয়ে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ন্যায় বিচার কী। বিচারই তো নেই। পুলিশ যে দুর্নীতিবাজ, তা স্বীকৃত। বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় মিথ্যুক কে? তা বললে এখন রাষ্ট্রদ্রোহী বানানো হবে। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার ইভিএম প্রত্যাখ্যান করেছেন। সরকার এখন ছলেবলে, কৌশলে ক্ষমতায় থাকতে চায়। ইভিএমে এক সঙ্গে টাকা ও ভোট লুটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তারা সব প্রতারণা করবে।
অনুষ্ঠানে জেএসডির পক্ষ থেকে ১০ দফা প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। জেএসডির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মোহাম্মদ স্বপনের সঞ্চালনায় গোলটেবিল আলোচনায় আরো বক্তব্য রাখেন, জেএসডির সহ-সভাপতি তানিয়া রব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজ মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মোশারফ হোসেন, বিকল্প ধারা সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শাহ আহমেদ বাদল, গণফোরামের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ, নাগরিক ঐক্যের নির্বাহী সদস্য মুমিনুল ইসলাম।

বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না -প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনোরকম বিশৃঙ্খলা সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের তাদের বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে এবং কোনোভাবেই কোনো ধরনের উচ্ছৃঙ্খলতা গ্রহণযোগ্য হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম মেনেই সবাইকে চলতে হবে। গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম রোকেয়া হলের ৭ই মার্চ ভবনের উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণের স্মরণে ঢাবি’র এই ছাত্রী হলের ভবনটির নামকরণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত। এসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের উপার্জনে চলবে তারও বিধান রয়েছে। কিন্তু আমাদের এখানকার যারা শিক্ষার্থী তাদের এটা ভাবা উচিত যে, পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে কম খরচে উচ্চশিক্ষা বাংলাদেশে দেয়া হয়ে থাকে। প্রায় শতভাগ খরচই কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া হচ্ছে। এটা পৃথিবীর কোনো দেশে রয়েছে বলে আমার জানা নেই। কাজেই এর মর্যাদাও শিক্ষার্থীদের দিতে হবে এবং বিশৃঙ্খলা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। সবাইকে একটা নিয়ম মেনে চলতে হবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতে হলে সেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়ম মেনে সেভাবেই আচরণ করতে হবে। এটাই জাতি আশা করে। শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাই সবদিক থেকে আমাদের ছেলেমেয়েদের জীবনমান উন্নত হোক, তারা দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাক। প্রজন্মের পর প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশকে গড়ে তুলে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। এছাড়া প্রো-ভিসি (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহম্মদ সামাদ, প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দীন, রোকেয়া হলের প্রাধ্যক্ষ ড. জিনাত হুদাও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, জাতীয় অধ্যাপকবৃন্দ, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নবনির্মিত ৭ই মার্চ ভবনের ফলক উন্মোচন করেন। তিনি ওই ভবনে রক্ষিত জাতির পিতার প্রতিকৃতি এবং ৭ই মার্চ জাদুঘরও পরিদর্শন করেন এবং রক্ষিত বইয়ে স্বাক্ষর করেন। প্রায় ৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এক হাজার ছাত্রীর আবাসন সুবিধা সংবলিত এই ভবনটিতে প্রশাসনিক এবং সার্ভিস ব্লক নামে আরো দুটি ব্লক রয়েছে। ৭ই মার্চ জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু এবং বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের দুর্লভ আলোকচিত্র এবং তথ্যাদি সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে সরকারের ব্যয়কে বিনিয়োগ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষায় যে খরচ আমরা করি সেটা ব্যয় নয়, আমার দৃষ্টিতে বিনিয়োগ। যা আমাদের দেশ ও জাতি গঠনে কাজে লাগবে এবং এ থেকে দেশের মানুষ উপকৃত হবে। সেক্ষেত্রে শিক্ষার্থী নিজেদের উপযুক্ত করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন ‘আর সেই শিক্ষাটা শুধু কেতাবী শিক্ষা নয়, জীবনমানের উন্নয়নের জন্য শিক্ষা দিতে হবে। আর শিক্ষার্থীরা যে শিক্ষাটা গ্রহণ করবে তার সুফল যেন আমাদের সাধারণ মানুষ পায় সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, আমাদের প্রতিটি শিক্ষার্থী ছেলেমেয়েকে এখন থেকেই শিক্ষা দেয়া উচিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে। এ ব্যাপারে সবাইকে দৃষ্টি দিতে হবে। যে জায়গাটায় থাকবো, তার রক্ষণাবেক্ষণ করা সবার দায়িত্ব। তিনি এ সময় বিদ্যুৎ, পানিসহ সরকারি সেবাসমূহের বিষয়ে সাশ্রয়ী হবার জন্যও সবাইকে পরামর্শ দেন। শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। সেভাবে আমরা শিক্ষাকেও বহুমুখী করার চেষ্টা করছি। সেক্ষেত্রে উচ্চ শিক্ষাকেও বেশি গুরুত্ব দিয়েছি। প্রাইমারি থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত বিনা বেতন পড়া ও বৃত্তির ব্যবস্থা করেছি। প্রথম শ্রেণি থেকে ডিগ্রি ও পিএইচডি পর্যন্ত ২ কোটি ৩ লাখ শিক্ষার্থীর মধ্যে বৃত্তি ও উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে।
প্রতিটা জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি। ঘরের ভাত খেয়ে আমাদের ছেলেমেয়েরা যেন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে পারে, সে সুযোগটা সৃষ্টি করে দেয়ার চেষ্টা করেছি। আমরা উচ্চ শিক্ষার প্রতি জোর দিচ্ছি। শিক্ষাকে বহুমুখী ও বিস্তৃত করার চেষ্টা করছি। যাতে আমাদের শিক্ষার্থীরা এখান থেকে শিক্ষা অর্জনের পর বিভিন্ন দেশে গিয়ে আরো উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। তিনি বলেন, এজন্য দেশে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজিটাল বিশ্ববিদ্যালয়, আরবি বিশ্ববিদ্যালয়, টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়, মেরিটাইম, ভেটেরিনারি অ্যান্ড এনিমেল সায়েন্সেস, ফ্যাশন ডিজাইন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা প্রথমবার ক্ষমতায় এসেই দেশের প্রথম মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করেছিলাম। এবার আরো দুটি করেছি রাজশাহী ও চট্টগ্রামে। সিলেটেও একটা করে দিচ্ছি। পর্যায়ক্রমে আমরা প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় করে দেব। তিনি বলেন, দেশে একটি মাত্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। এখন সরকারি-বেসরকারি খাতে অনেক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে পারিবারিক বন্ধন থাকার উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা এবং তিনি নিজে ছাড়াও তার ভাই শেখ কামাল ও পরিবারের অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েরই শিক্ষার্থী ছিলেন। যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মণি, শেখ ফজলুল করিম সেলিমও এই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়েছেন। কেবল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বা তার নিজের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে নয়, বাঙালি জাতির মুক্তির প্রতিটি সংগ্রামের সূতিকাগার হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বরাবর অগ্রাধিকার পাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ ও বাঙালি জাতির অর্জনে যত সংগ্রাম হয়েছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার সূতিকাগার হিসেবেই আন্দোলনের সূচনা করে এগিয়ে নিয়ে গেছে। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা আমাদের কাছে অন্যরকম।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের আমলে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এক হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ১০টি প্রকল্প নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে আটটির কাজ শেষ হয়েছে, চলছে আরো দুটির কাজ।
১৯৭১ ফুট আলপনা: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্যাম্পাসে আগমন উপলক্ষে ১৯৭১ ফুট দীর্ঘ ও ৭ ফুট চওড়া আলপনা আঁকেন বিশ্ববিদ্যাল?য়ের শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার বি?কেল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত এই আলপনা আঁকা হয়।  শত শত শিক্ষার্থী এতে অংশগ্রহণ করেন। ‘স?ম্মি?লিত সংসদের শিক্ষার্থী’ ব্যানারে এই আলপনা আঁকায় সহযোগিতা করেছে ছাত্রলীগ। আলপনা আঁকার বিষ?য়ে ছাত্রলী?গের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হু?সেইন বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের শিক্ষাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও একাডেমিক উন্নয়নে তার অবদান অসামান্য। তার অনন্য স্বীকৃতিস্বরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই আলপনা এঁকেছেন।

৯ মাসেও খোঁজ মেলেনি মারুফ জামানের by মারুফ কিবরিয়া

নয় মাস কেটে গেলেও কোনো খোঁজ মেলেনি সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ তোলার পরও তাকে খুঁজে বের করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মারুফ জামানের পরিবার জানায়, পুলিশ এসবি ডিবি এমনকি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিখোঁজের বিষয়ে জানানো হলেও এত দিনে তার হদিস পায়নি কেউ।
এ বিষয়ে গতকাল মারুফ জামানের মেয়ে সামিহা জামান মানবজমিনকে বলেন, ৯ মাস কেটে গেছে। আব্বুর কোনো খোঁজ মেলেনি। আমরা পরিবারের পক্ষ থেকে একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু কেউ কোনো খোঁজ দিতে পারেনি। আমরা এখনো জানি না, কারা কেন আমার আব্বুকে নিয়ে গেছে।
এর আগে গত ৪ঠা ডিসেম্বর দুপুরে বেলজিয়াম ফেরত ছোট মেয়ে সামিহা জামানকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে এগিয়ে আনতে গিয়ে আর ফেরেননি সাবেক এই রাষ্ট্রদূত। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় তিন যুবক তার ধানমন্ডির বাসায় এসে ল্যাপটপ, সিপিইউ, স্মার্টফোন নিয়ে যায়। পরিবারের বরাতে জানা গেছে, একটি ‘বেনামি’ ফোন মারুফ জামানের পরিচয় দিয়ে জানায় সন্ধ্যায় তিনজন লোক বাসায় গেলে তাদের যেন ল্যাপটপ, সিপিইউ আর স্মার্টফোন দিয়ে দেয়। ৪ঠা ডিসেম্বর বাবা মারুফ জামানকে ফোনে কল করে না পাওয়ায় চাচা রিফাতকে ফোন দিয়েছিলেন সামিহা জামান। তখন চাচাই সামিহা জামানকে বিমানবন্দর থেকে বাসায় নিয়ে ফেরেন। এরপর ৫ই ডিসেম্বর দুুপুরে ধানমন্ডি থানায় সামিহা জামান একটি সাধারণ ডায়েরি করেন (যার নং -২১৩)। ওই দিনই পুলিশ  রাজধানীর ৩০০ ফিট এলাকা থেকে মারুফ জামানের গাড়িটি উদ্ধার করে।
এ ঘটনার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো তদন্ত হচ্ছে না বলে অভিযোগ মারুফ জামানের পরিবারের। এদিকে সাবেক এ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা রয়েছে কি না জানতে চাইলে তার মেয়ে সামিহা জামান বলেন, আব্বুর সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা নেই। আব্বু তো বাসায়ই থাকতেন সবসময়। বাইরে কাজের মধ্যে শুধু টুকটাক ব্যাংকে যেতেন বা বাসার জরুরি কোনো কাজ থাকলে সেটা সেরে আসতেন। তাছাড়া আব্বুর বাইরে কোনো কাজ ছিল না। তাহলে শত্রুতা থাকার কথা নয়। আমার প্রশ্ন একটাই, এতদিন হয়ে গেল আব্বুর নিখোঁজের বিষয়ে কেউ কেন এগিয়ে আসছে না। আমাদের কেউ কোনো সাহায্য করছে না। কেউ সাহায্য করতে চায় না। আমার মনে হয় আব্বুকে সবাই ভুলে গেছে। বাবাকে ফেরত পাওয়ার আকুতি জানিয়ে সামিহা জামান আরো বলেন, আব্বুকে কারা কেন নিয়ে গেছে সেটা আমি জানতে চাই না। কিছুই চাই না। শুধু আব্বুকে ফেরত চাই। আমি চাই আমার বাবা ফিরে আসুক।
মারুফ জামানের নিখোঁজের তদন্তের বিষয়ে জানতে চাইলে ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল লতিফ মানবজমিনকে জানান, পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাকে খোঁজার জন্য যা যা করণীয় সবই করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি। ঘটনার পর পর মারুফ জামানের বাসা থেকে নেয়া সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছি। মারুফ জামানকে খুঁজছি। কিন্তু এখনো কোনো খোঁজ পাইনি। পরিবারের অভিযোগের ব্যাপারে ওসি বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। তার পরও তাকে খোঁজার ব্যাপারে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উল্লেখ্য, মারুফ জামান ১৯৭৭ সালে সেনাবাহিনীতে (ষষ্ঠ শর্ট কোর্স) ক্যাপ্টেন পদে যোগদান করেন। ১৯৮২ সালে সেনাবাহিনী থেকে আত্তীকরণ হয়ে পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দেন। এরপর যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশ হাইকমিশনে ফাস্ট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৭ সালে তিনি কাতারের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর থেকে ২০০৯ সালের ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ভিয়েতনামের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বে ছিলেন। এরপর দেশে ফিরে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব স্ট্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইএসএস) মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষ ২০১৩ সালে অতিরিক্ত সচিব পদে পদোন্নতি পেয়ে অবসরে যান।

বিএনপির দাবি সংবিধানসম্মত নয়: কাদের

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নির্বাচনের আগে সরকারের পদত্যাগ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির বিষয়ে বলেছেন, প্রথম বিষয়টি সংবিধানসম্মত নয়। আর দ্বিতীয় বিষয়টি আইনি বিষয়। তারা যদি মামলা মোকাবিলা করে আইনি প্রক্রিয়ায় বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনতে পারে, ওয়েলকাম। সরকার যদি বাধা দিতো, সরকার যদি বিচার বিভাগকে কোনো প্রকারে প্রভাবিত করতে চাইতো তাহলে বেগম জিয়া এতগুলো মামলা থেকে জামিন পেতো না।
প্রায় ৩০টি মামলায় তিনি জামিন  পেয়েছেন, সরকার যদি হস্তক্ষেপ করতো তাহলে কীভাবে এসব মামলা থেকে জামিন  পেলেন। শনিবার বিকালে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডি রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির সম্পাদকম-লীর জরুরি সভা  শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সেই মামলার জন্যও আপনারা আইনি লিগ্যাল ব্যাটলে যান।
আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি সরকারের পক্ষ থেকে মামলার ব্যাপারে বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়ে আমাদের পক্ষ থেকে লিগ্যাল ব্যাটলে কোনো প্রকার বাধা, কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ আমাদের পক্ষ থেকে হবে না। খালেদা জিয়াকে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে মুক্ত করা হবে বিএনপি  নেতাদের এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, সরকারের দশ বছর হয়ে গেল, এই দশ বছরে বারে বারে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, সবই সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক ছোটখাটো আন্দোলনের ডাক নয়, বেগম খালেদা জিয়াও সর্বাত্মক আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন এর সঙ্গে বাস্তবতা কতটুকু এটা আপনারা জানেন।
দশ বছরে একটা দিনও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো কোনো আন্দোলন বিএনপি নামক বিরোধী দল করতে পারেনি। আমরা চাপ অনুভব করেছি এমন কোনো আন্দোলন বিএনপি করতে পারেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এত ব্যর্থ অপজিশন, এত ব্যর্থ বিরোধী দল বাংলাদেশে আসেনি। এই ব্যর্থতার জন্য বিএনপির টপ টু বটম সকল নেতার পদত্যাগ করা উচিত। কাদের বলেন, ফখরুল ইসলাম, মওদুদ আহমদ, মোশাররফ, রাস্তায় দাঁড়িয়ে মাইক দিয়ে কয়েকজনকে নিয়ে আওয়াজ দিলেই কি সরকার হটে যাবে? এই সরকারের গণভিত খুবই শক্তিশালী, এই সরকারের গণভিত বাংলাদেশের মাটির অনেক গভীরে প্রথিত।
আমাদের শিকড় অনেক গভীরে, আমরা হঠাৎ করে এসে জনসমর্থনহীনভাবে সরকারে আসিনি। এটা যেন তারা ভুলে না যায়। জনগণের রায়ের ওপর আস্থা নেই বলে সরকার ইভিএমে নির্বাচন করার ষড়যন্ত্র করছেÑ বিএনপির এমন অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে কাদের বলেন, ইভিএম আমাদের নতুন  কোনো দাবি নয়। সারা দুনিয়ায় আধুনিক, স্বচ্ছ এবং স্বল্পসময়ে ভোট প্রদান, গণনা এবং ফলাফল।
ওবায়দুল কাদের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি আমরা নিতে শুরু করেছি। এ মাসেই আমাদের কার্যক্রম পুরোপুরি শুরু করবো। জোট নিয়েও আমরা পরোক্ষভাবে আলাপ-আলোচনা করেছি। যারা আমাদের এতদিনের শরিক তাদের বিষয় নিয়ে কথা বলেছি। অনেকে আসতে চাচ্ছে তাদের সঙ্গেও আমরা কথাবার্তা বলতে শুরু করেছি। তিনি বলেন, আমাদের  জোটে আলাপ-আলোচনা চলছে, এ মাসের শেষ দিকে ফাইনাল সেপ দেবো।
বেশিদূর গেলে অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত যেতে পারে। আমাদের জোটের জন্য ৬৫-৭৫ সিট ছেড়ে  দেয়ার চিন্তাভাবনা আছে। এখানেও কথা আছে এটা কোনো বাইন্ডিং বিষয় না। ভালো প্রার্থী হলে আমরা এক্সসেপ্ট করবো। উইনেবল প্রার্থীকে আমরা মনোনয়ন দেবো।
সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, ডা. দীপু মনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এনামুল হক শামীম, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, উপ-দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।