Tuesday, November 5, 2024
এনামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ মামলা দিয়েও কাজ হয় না by প্রতীক ওমর
রোববার সরজমিন ওসমানের পাড়া মাদ্রাসায় গিয়ে দেখা যায় পুরো প্রতিষ্ঠানে মাত্র একজন শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত। কোনো শ্রেণিতে ২ জন, কোনোটাতে ১ জন আবার কোনো শ্রেণিতে একজনও শিক্ষার্থী নেই। স্থানীয়রা জানায় এভাবেই অব্যবস্থাপনার মধ্যদিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছে মাদ্রাসাটি। প্রশাসনের লোকজন মাঝেমধ্যে এসে সুপারের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ করে চলে যান। অনিয়মের কোনো তদন্ত বা বিচার কখনোই হয় না।
পরিদর্শনকালে দেখা মেলে ওই মাদ্রাসার সাবেক সভাপতি আরিফ মোহাম্মদ দুলালের। তার কাছে মাদ্রাসা বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ধারাবাহিক দুর্নীতির ফিরিস্তি তুলে ধরেন। সাবেক একজন বিচারপতি মরহুম ফজলুর রহমান তার গ্রামে ১৯৯৫ সালে মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠাকালীন থেকেই এনামুল হক সুপার পদে আছেন। দুর্নীতি করে প্রথম বরখাস্ত হন ২০০০ সালে। এরপর দীর্ঘ সময়ের মধ্যে একই অপরাধে বহুবার বরখাস্ত হয়েছেন। এরপর তার বিরুদ্ধে থানা এবং আদালতে একাধিক মামলা চলমান আছে। চার্জ গঠন হয়েছে একটি মামলাতে।
দুলাল আরও জানান, মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা সাবেক বিচারপতি ফজলুর রহমান মারা যাওয়ার পর এনামুল কৌশলে দাতা সদস্য আরও ৩ জনকে মৃত দেখিয়ে একটি ভুয়া কমিটি গঠন করেন। তৎকালীন সভাপতি এডভোকেট শফিকুল ইসলামের স্বাক্ষর জালিয়াতি করে এনামুল তার বড় ভাই ওসমান গনিকে সভাপতি বানান। পরে ওই কমিটি নিয়ে নানাধরনের কথা ওঠে। অবশেষে সেই কমিটি জাল প্রমাণিত হয়। এমনকি পরে অবৈধ ওই কমিটির ৬ জন সদস্য বাদী হয়ে এনামুলের বিরুদ্ধে মামলাও করেন। একজন অভিভাবক সদস্য সাবিনা ওই মামলার মূলবাদী। ওই মামলায় তারা উল্লেখ করেন কমিটিতে তাদের না জানিয়ে নাম দেয়া হয়েছে। তারা কোনো রেজ্যুলেশনে স্বাক্ষর করেননি। পরে থানা মামলাটি তদন্ত করে এনামুলের অপরাধের প্রমাণ পায়। পরে বোর্ড ওই কমিটি অবৈধ উল্লেখ করে বাতিল করে দেয়।
পরে মাদ্রাসা চালানোর জন্য আরিফ মোহাম্মদ দুলালকে সভাপতি করে নতুন কমিটি হয়। ওই কমিটি বৈঠক করে দুর্নীতির অপরাধে এনামুলকে আবারো বরখাস্ত করে। তখন ভারপ্রাপ্ত সুপার হিসেবে আবুল কালাম আজাদকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে ওই ভারপ্রাপ্ত সুপারকেও এলামুল বাহিনী মারপিট করেছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে এবং তার কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয়েছে। এসব অভিযোগের আলোকে আবুল কালাম আজাদ একটি মামলা করেন। মামলার নম্বর ১১৭/২৩। মামলাটি চলমান রয়েছে।
এ ছাড়াও এনামুল বিভিন্ন সময়ে দপ্তরি, মালী, নৈশপ্রহরী এবং কম্পিউটার শিক্ষক নিয়োগ বাণিজ্যে এককভাবে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রামের বাড়ির পাশাপাশি মহিমাগঞ্জ বন্দরে ব্যয়বহুল একটি ৩ তলা বাড়িও করেছেন এনামুল।
কয়েক বছর আগে তৌহিদা নামের একজন দাখিল পরীক্ষার্থীকে দিয়ে অন্য একজন শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশনের আলোকে ছবি পাল্টিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করায়। দু’টি পরীক্ষা দেয়ার পর ওই শিক্ষার্থী বুঝতে পারে সে নিজের জন্য নয় অন্যের জন্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিয়েছে সুপার। পরে সে আর পরীক্ষা দেয়নি। বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য স্থানীয়ভাবে মিটমাট করেন চতুর ওই সুপার। তৌহিদার নিকট আত্মীয় মজনু মিয়া বিষয়টি বর্ণনা করেছেন।
এনামুলের এসব দুর্নীতি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন ওই মাদ্রাসার এবতেদায়ী শাখার শিক্ষক আমিনুল ইসলাম। তিনি মানবজমিনকে বলেন, সুপার এনামুল একটি কমিটি করে। ওই কমিটিতে আমাকে শিক্ষক প্রতিনিধি দেখানো হয়। কিন্তু আমি কিছুই জানি না। পরে ধরা পড়ার পর জানা গেল ওই কমিটি করা হয়েছিল জাল জালিয়াতির মাধ্যমে। তিনি আরও বলেন, ওই সুপার একান্ত নিজের ইচ্ছায় নিজের মতো করে বিভিন্ন সময় নিয়োগ দিয়ে বাণিজ্য করেছেন। তিনি স্বীকার করেন ওই মাদ্রাসায় এবতেদায়ী শাখায় শিক্ষার্থী নেই বললেই চলে।
কথা হয় সুপার এনামুলের সঙ্গে। তিনি মানবজমিনকে বলেন, শত্রুপক্ষ আমার বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে। আমি এসব অপরাধের সঙ্গে কখনোই জড়িত ছিলাম না। আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। বোর্ড তদন্ত করে আমাকে বেতন-ভাতা প্রদান করছে।
বিষয়গুলো নিয়ে সাঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মানবজমিনকে বলেন, এনামুল সুপারের বেতন চালু হয়েছে বোর্ডের পরিপত্রের আলোকে। এখানে আমার কোনো হাত ছিল না। বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে আমি সেই আলোকে কাজ করেছি। শিক্ষার্থী কমের বিষয়টি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দেয় নি। আপনার মাধ্যমে জানলাম, আমি খোঁজ নিবো।

Monday, September 9, 2024
‘আগে আওয়ামী লীগ খেয়েছে, এখন আমরা খাবো’ by প্রতীক ওমর
ঘটনার সূত্রপাত অন্যখানে। সাঘাটার ঘড়িদহ ইউনিয়নের বটতলা বাজারে অবস্থিত কমলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারটি গাছের টেন্ডার নিয়ে। ২ লাখ টাকার গাছ মাত্র ২৮ হাজার ১০০ টাকায় কায়দা করে কিনেছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শহিদুল ইসলাম বাদল।
বিষয়টি নিয়ে খোঁজ করতে প্রথমে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসাহাক আলীর সঙ্গে কথা হয়, তিনি টেন্ডার কমিটির সভাপতি হওয়া সত্ত্বেও সাফ জানিয়ে দিলেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। সব বন বিভাগ জানে। পরে বন বিভাগের কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, আমি শুধু দাম নির্ধারণ করেছি। অন্য কিছু জানি না। ধারাবাহিক খোঁজ নেয়ার জন্য সর্বোচ্চ দরপত্রদাতা হিসেবে বাদলের কাছে টেন্ডার প্রক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওপেন টেন্ডারে ২৮ হাজার ১০০ টাকায় আমি গাছগুলো পেয়েছি। এরপর কোনো কথা ছাড়াই উত্তেজিত হয়ে তিনি বলেন, রিপন এমপি’র দুর্নীতি নিয়ে তো কোনো দিন কথা বলেননি, আমরা ছোট ছোট জায়গায় সবে মাত্র হাত দিয়েছি সেখানেই আপনাদের চোখ পড়েছে। আওয়ামী লীগ সবকিছু লুটেপুটে খেয়েছে। এখন আমাদের সময় এসেছে খাওয়ার। এখন থেকে যেসব টেন্ডার হবে সব বিএনপি’র লোকজন নেবে। ৫ টাকার জিনিস ১ টাকায় নেবে। আমাদের দিকে নজর দিলে পরিণাম ভয়াবহ হবে। তিনি এ সময় বোনারপাড়ায় গেলে দেখে নেয়ার হুমকিও দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিএনপি এবং অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন, বাদল আওয়ামী লীগের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই উচ্ছৃঙ্খল হয়ে পড়ে। সবকিছু নিয়ন্ত্রণের জন্য সে মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে সাঘাটা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সেলিম আহম্মেদ তুলিপ মানবজমিনকে বলেন, উচ্ছৃঙ্খলা এড়াতে আমরা সাংগঠনিকভাবে ওয়ার্ড পর্যায়ে বৈঠক করে কর্মীদের সতর্ক করেছি। তারপরও আমাদের কাছে অনেক অভিযোগ আসছে। স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা কমিটি না থাকায় উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব শহিদুল ইসলাম বাদল অনেকটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সে আমাদের কারও কথা শোনে না। তবে বকে যাওয়া কিছু নেতার কথায় সে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তার ব্যাপারে আমরা ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে কথা বলে সাংগঠনিকভাবে সিদ্ধান্ত নেবো।

Wednesday, October 9, 2019
সাওতালরা যেন নিজ ভূমে পরবাসী by পিয়াস সরকার

২০১৬ সালের ৬ই নভেম্বর হামলা, অগ্নিসংযোগ করে বিতারিত করা হয় তাদের। শুধু তাই নয় হামলা-মামলায় জর্জরিত করে রাখা হয়েছে তাদের।
ফিরতে পারছেন না নিজের ভিটায়। পাশের গ্রামে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। সেখানেও হামলার শিকার হচ্ছেন।
বিজন ভারর্ডিক, বয়স প্রায় ৭০। এই মহিলা কান্না জড়িত কণ্ঠে জানান, ছোট বেলা থেকে যেখানে বড় হয়েছেন সেই বাড়িতে যেতে পারছেন না। এতো বছর পরেও প্রশাসনের কোন উদ্যোগ না নেয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।
একই এলাকার বাসিন্দা জয়ান হালদার বলেন, আমাদের কী অপরাধ? আমরা কেন বাড়ি ছাড়া? ভূমি দখলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ জড়িত তারপরেও কেন বিচার পাই না। যেখানে মাথা গুজে বেঁচে আছি, এখন সেখানেও শান্তি নেই। গ্রামে যেতে পারি না।
১৭ জুলাই বুধবার ভূমি পুরুদ্ধার ও বিচারের দাবিতে তারা স্মারক লিপি দিতে এসেছেন রংপুর পুলিশ কমিশনারের কাছে। এ সময় সাতটি দাবি উত্থাপন করেন তারা। এরমধ্যে অন্যতম তাদের ১৮৪৩ স্থান ফিরিয়ে দেয়া। মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচার অন্যতম।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ফিলিমন বাস্কে বলেন, আমরা কী এই দেশের মানুষ না? আমরা কী অন্য এলাকা থেকে এসেছি? তবে এই দেশের বাসিন্দা হয়ে কেন নিগ্রহের শিকার হতে হবে? কেন বিচার পাবো না। আজ আমরা কয়েক বছর ধরে মানবেতর জীবন যাপন করছি। আমাদের কী দেখার কেউ নেই?
তারা স্মারকলিপি পেশ করেন রংপুরের ডি আই জি দেবদাস ভট্টাচার্জর কাছে। তিনি বলেন, এই মামলার তদন্ত করছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেন্টিগেশন (পিবিআই)। আমার তাদের সঙ্গে কথা হয়েছে দ্রুত আপনারা এর সুফল পাবেন। আর আপনাদের নিরাপত্তা কোন ঝুকি নেই। এরপরেও সমস্যা হলে তাতক্ষনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Friday, September 27, 2019
কৃষকের গুপ্তধন 'বইকচু' by তোফায়েল হোসেন জাকির
![]() |
| বইকচু চাষি |



Tuesday, September 24, 2019
ঔষধি বৃক্ষ প্রেমিক শওকত মাস্টারের গল্প by সিদ্দিক আলম দয়াল

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের নাকাইহাট ইউনিয়নের শীতলগ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ডা. শওকত আলী। পেশায় হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক। বয়স ৯০ এর কাছাকাছি কিন্তু মানবসেবার কাছে বয়স পরাজিত করতে পারেনি তাকে। মানুষ ও গাছের প্রতি ভালোবাসা তার শৈশব থেকেই। তিন ছেলে, দুই মেয়ে ও স্ত্রীর সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক। তার কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন পরিবারের সবাই। ছেলে সোহাগ গর্ব করে বলেন, আমার বাবার মতো অনেক বাবা জন্ম হওয়া দরকার। তাহলে আমরা ওষুধি গাছের গুণাগুণ সম্পর্কে জানতে পারতাম। সারাদিন চিকিৎসা সেবার পাশাপাশি বসতবাড়ির আশপাশে ও পুকুরপাড়ে গড়ে তুলেছেন প্রায় ১ হাজার বিলুপ্ত প্রায় ও দুর্লভ প্রজাতির ওষুধি ও ফলদ গাছ। গ্রামের অন্যান্য এলাকায় এসব বিলুপ্ত প্রায় ও দুর্লভ গাছের চারা বিনামূল্য বিতরণ করে যাচ্ছেন তিনি। নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ডেকে এনে পরিচিত করে দেন এসব গাছের সঙ্গে জানিয়ে দেন বিভিন্ন গাছের গুণাগুণ। গাছের প্রতি এমন মমতার কারণে এলাকার মানুষ তার নাম দিয়েছে বৃক্ষ প্রেমিক শওকত আলী। তার এ গাছ প্রেমে খুশি এলাকার মানুষ।
এলাকাবাসী রুবেল চৌধুরী বলেন, আমরা তো শুধু ধান ও অন্যান্য ফসল চাষ করে নিজের স্বার্থ বড় করে দেখি। নিজের স্বার্থের জন্য জমিতে নানান ফসলের চাষ করে ভর বছরের খাবার যোগার করি। কিন্তু শওকত মাস্টার তা করেন না। শওকত মাস্টার ব্যতিক্রম। তিনি তার জমিতে শুধু ধান গমের আবাদ করেন না। মানুষের মঙ্গলের জন্য নিজের অনেক জমিতে লাগিয়েছেন বিরল প্রজাতির ওষুধি গাছ। মানুষ দেখতে আসেন তার গাছের বাগান। মানুষ গাছ দেখতে এলে তিনিও খুশি হন। নিজের গাছ দেখিয়ে বলেন আমরা বেঁচে আছি এই গাছের গুণেই। গাছ দিয়েই কত রকমের ওষুধ তৈরি হয়। সাহেব উদ্দিন মাস্টার বলেন, আমরা আমাদের স্বার্থটাই বড় করে দেখি। আর শওকত মাস্টার মানুষের কল্যাণে গাছের চারা বিতরণ করেন। পয়সা নেন না। গাছের যত্নের কথা বলে তার গুণাগুণ নিয়ে কথা বলেন। সবাই খুশি শওকত মাস্টারের এ কার্যক্রমে। তারা বলেন, মানুষ বিনামূল্যে গাছ পেয়ে থাকে তার কাছে। গাছের গুণাগুণ সর্ম্পকে তার কাছে জানতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ডা. শওকত আলী। গাছ নিয়ে গবেষণায় অন্যন্য অবদান রাখায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছ থেকে পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড। এ ছাড়াও জেলা ও উপজেলায় একাধিক পুরস্কার ও স্বীকৃতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও প্রাকৃতিক ওষুধ দিয়ে রোগ নিরাময় বাড়াতে তার এ প্রচেষ্টা বলে জানান তিনি।
ডা. শওকত আলীর এমন কার্যক্রমকে সাধুবাদ জানিয়ে সবাইকে তার মতো গাছ রক্ষায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক। সেই সঙ্গে শওকত আলীর গাছের সংগ্রহশালা বাড়াতে বিরল গাছের চারা, প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সহযোগিতার কথাও জানান তিনি।
Saturday, September 21, 2019
রুমা আপা আমার জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে by সিদ্দিক আলম দয়াল

এখন নেশার টানে ঘর ছাড়তে হয়। চাহিদাও বেড়েছে। বিকাল হলেই ডাক পড়ে এ ঘর ও ঘরে। ওরা ফুর্তি করে আর আমি টাকা নেই, নেশা করি।
গাইবান্ধা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার ও সাংবাদিকের কাছে এ কথাগুলো বলছিলেন (আদরী আকতার সপনা) নামের এক কিশোরী স্কুলছাত্রী। গাইবান্ধা সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউপির তালুকজামিরা গ্রামের সনজু মিস্ত্রির মেয়ে। ২ ভাই ২ বোনের মধ্যে সে বড়। বাবার টানাটানির সংসারে মোটামুটি চলে যাচ্ছিল। মেয়েকে নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখতেন তার মা শেফালী বেগম। স্কুলে পড়াশোনার জন্য সব কিনে দিতে হতো। বাবার মিস্ত্রির কাজের অর্থ থেকে পড়াশোনার খরচ যোগাড় হচ্ছিল। ২০১৫ সালে তালুক জামিলা স্কুল থেকে জেএসসি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে। কিশোরী বয়সেই বাবা-মা তাকে বিয়ে দেন পাশের গ্রামের ছেলে রেজাউল মিয়ার সঙ্গে। রেজাউল মিয়ার সঙ্গে কিশোরীর সংসার তখনো খুব বেশি জোড়া লাগেনি। খেলার বয়সের নাবালিকা তখনো বিয়ের বিষয়টি বুঝে উঠতে পারেনি। ট্রেনে স্বামীর সঙ্গে ঢাকা যাওয়ার সময় পরিচয় হয় রুমা নামের এক মেয়ের সঙ্গে। তার বাড়ি গাইবান্ধা শহরের ব্রিজ রোডে। রুমা তাকে তার বাড়িতে থাকতে দেন। বলেন, এখানে থেকে চাকরি খুঁজে নিও। তখনো এই কিশোরী বুঝতে পায়নি রুমার আসল উদ্দেশ্য। রুমা আস্তে আস্তে এই কিশোরীকে ইয়াবা সেবনে আগ্রহী করে। স্বামী রেজাউলকে বলেন আপনি কাজ খুঁজুন। তারপর হবে। দেখতে দেখতে যাত্রাবাড়ীর রুমার বাড়িতে ইয়াবায় আসক্ত করে ফেলেন ওই কিশোরীকে। বাধ্য করে তাকে খারাপ কাজ করতে। ততক্ষণে তার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ভণ্ডুল হয়ে যায়। স্বামী আর ফিরে আসেনি। নেশায় আসক্ত হয়ে কিশোরী গাইবান্ধায় চলে আসে। তারপর নিজের নেশার জন্য যোগাযোগ করেন গাইবান্ধার ইয়াবা বিক্রেতাদের সঙ্গে। হয়ে যান ইয়াবা কুইন। ইয়াবার টাকা যোগাড় করতে সে অসামাজিক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। পড়াশোনা ও বিয়ের কথা মাথা থেকে বাদ দিয়ে পা বাড়ান অপরাধ জগতের পথে। নিজেও আসক্ত হয়ে পড়েন এবং নিজেকে ইয়াবা বিক্রেতাদের কাছে তুলে দেন। বাদিয়াখালী, বোনারপাড়া, রিফায়েতপুর, গাইবান্ধা শহর এমনকি বগুড়ায় তার যোগাযোগ সৃষ্টি হয়। তাদের কথামতো ইয়াবা নিয়ে যায় দূর-দূরান্তে কাস্টমারদের কাছে। পাশাপাশি দেহ ব্যবসার রমরমা অবস্থা। ছোট বড়, নেতা, মেম্বর, চেয়ারম্যান বলে কথা নেই। তার কথা হলো টাকার দরকার। টাকা হলে খারাপ হতে দোষ নেই। যৌবন আর টাকা দিয়ে হাতের মুঠোয় নেন এলাকার মাস্তানদের। এলাকায় এই কিশোরীকে সবাই এক নামে চেনে। যৌবন ও জীবন নিয়ে তার কোনো ভাবনা নেই। সে কারণে দিনরাত ইয়াবা বিক্রি ও যৌনতা বিলিয়ে দিতে সে কোনো কুণ্ঠা বোধ করতো না। পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর ওই কিশোরী জানান, নেশার টাকা যোগাড় করতেই তাকে এ পথে নিয়ে এসেছে। আজ কখন রাত হয় কখন দিন হয় সে বুঝতে পারে না। তবে ডাক পড়লেই কিশোরী গিয়ে হাজির হয় নেশার টাকার জন্য। এ খবর জানাজানি হওয়ার পর তার বাবা সনজু মিস্ত্রি নির্বাক। তার মেয়ে এমন হতে পারে সে ভাবতে পারে না। তার মেয়েকে এ পথ থেকে ফিরিয়ে আনতে সবার প্রতি সহযোগিতার আহ্বান জানান।
কিশোরী সাংবাদিকের কাছে বলেন, কিছু বুঝে ওঠার আগেই আামি এখন ইয়াবা কুইন। ক’জন আছে আমার মতো? আমার এ জঘন্য পথ, পাপের পথে কেউ ইচ্ছে করে আসে না। আমাকে যারা সেই রুমা আপুরা আমাকে এ পথে ঠেলে দিয়েছে তাদের প্রতিরোধ করুন। না হলে আমার মতো অনেক কিশোরী মেয়ে আসল পথ হাড়িয়ে ফেলবে। কাল রাতে গাইবান্ধা থানার পুলিশ বাদিয়াখালী ও তালুক জামিরা থেকে অসামাজিক কাজে লিপ্ত থাকার সময় ওই কিশোরীসহ কয়েকজনেকে গ্রেপ্তার করার পর এ রহস্যময় তথ্য বেড়িয়ে আসে।
Friday, September 20, 2019
নিঃসঙ্গ একটি ব্রিজ by তোফায়েল হোসেন জাকির

উপজেলার খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়নে বুজরুক-পাকুরিয়ার গ্রামের সাদুল্লাপুর-ঠুটিয়াপকুর পাকা সড়ক ঘেঁষে স্থানীয় বেলাল হোসেনের বাড়ি থেকে এছাহাক আলীর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ১ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। যুগ যুগ ধরে এ রাস্তা দিয়েই এলাকার মানুষ চলাচল করতেন।
একপর্যায়ে রাস্তার আশপাশের কৃষি জমির পানি নিষ্কাশনের জন্য রাস্তার মাঝে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজটি নির্মাণ করে ‘এসডিএফ’ নামে একটি সংস্থা। ব্রিজটি নির্মাণের ১৫ বছর পার হলেও সংযোগ সড়কের মাটি ভরাট করা হয়নি এখনও।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণেই রাস্তাটির মাটি ভরাট করা হচ্ছে না। ফলে যাতায়াতে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। তারা প্রায় ১ কিলোমিটার পথ ঘুরে চলাচল করেন তারা।
স্থানীয় মোকছেদুর রহমান ও সেরাজুল ইসলাম বলেন, ব্রিজটির সংযোগ রাস্তায় মাটি ভরাট না করায় এ পথে চলাচল করতে পারছি না। এলাকার শত শত মানুষকে বিকল্প সড়ক ঘুরে চলাচল করতে হচ্ছে। ফলে আমরা দুর্ভোগে পড়েছি। রাস্তাটিতে মাটি ভরাট করা হলে মানুষের কষ্ট অনেকটাই লাঘব হবে। দুর্ভোগ লাঘবে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের কাছে দাবি জানিয়েও কোন লাভ হয়নি বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এসডিএফ-এর তৎকালীন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কমিটির সহ-সভাপতি আদেব আলী বলেন, ব্রিজটি নির্মাণের পর মাটি ভরাটের জন্য কোন বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।
খোর্দ্দকোমরপুর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান আরিফুল ইসলাম চৌধুরী শামীম বলেন, ওই রাস্তার ব্রিজটি অনেক উঁচু করে নির্মাণ করা হয়েছে। ব্রিজ নির্মাণের আগ থেকেই রাস্তাটি দিয়ে মানুষজনের চলাচল ছিল না। পাশের পাকা সড়ক দিয়েই চলাচল করেন এলাকাবাসী। ফলে এখানে রাস্তার কোন প্রয়োজনই হয় না। সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নবী নেওয়াজ জানান, বিষয়টি দেখে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
Wednesday, September 18, 2019
শাহীনুর বেগমের সংসার চলে তালের আঁটি বিক্রি করে by রফিকুল ইসলামা

প্রচুর চাহিদার কারণে তালের আঁটি বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার খোলাহাটি ইউনিয়নের আনালেড়তাড়ি গ্রামের দরিদ্র গৃহবধু শাহীনুর বেগম ও স্বামী ডিপটি মিয়া। গাইবান্ধা জেলা শহরের শিল্পকলা একাডেমি সংলগ্ন এলাকার পিকে বিশ্বাস রোডের পাশে প্রতিদিন শাহীনুর বেগম বিক্রি করেন এই তালের আঁটি।
শাহীনুর বেগম জানালেন, একটি তালে ১-৪টি আটি থাকে। আবার কোনো কোনো তালে একটি বা দুটি আঁটিও থাকে। প্রতিটি আঁটি ৫টাকা মূল্যে বিক্রি করা হয়। দা দিয়ে কেটে কেটে তাল থেকে আঁটি বের করে পলিথিনে ভরে গ্রাহককে দেই।
উল্লেখ্য, তালের আঁটির চাহিদা এতটাই বেশি যে, নারী-পুরুষ, ছেলে-মেয়ে, শিশু-বৃদ্ধ সবগ্রাহকরা একসাথে তাদের চাহিদা মোতাবেক তালের আঁটির জন্য দাঁড়িয়ে ভীড় করে তখন শাহীনুর বেগম ও স্বামী ডিপটি মিয়া দুজন গ্রাহকের চাহিদা পূরণ করতে দিশেহারা হয়ে পড়েন। শাহীনুর বেগমের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তার স্বামী ডিপটি মিয়া মূলত জেলার বাইরে থেকে তাল সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। কারণ গাইবান্ধা জেলায় তাল গাছের সংখ্যা খুব কম থাকায় জেলা থেকে চাহিদা মোতাবেক তাল সংগ্রহ করা সম্ভব হয় না। সেজন্য তাকে যেতে হয় নওগা জেলার সান্তাহার, নওগা, পত্নীতলা, বগুড়া জেলার সোনাতলাসহ বিভিন্ন জায়গায়। এই সমস্ত এলাকায় গিয়ে ডিপটি মিয়া ও তার সঙ্গের লোকজন ২শ’ থেকে ৩শ’ টাকা দরে একটি গাছ চুক্তি নেয়। পরে নিজেরাই গাছ থেকে তাল পেড়ে নিয়ে আসে। প্রতিটি গাছ থেকে তাল পাওয়া যায় প্রায় ৫শ’থেকে ১ হাজার টাকা। ছোট ছোট ট্রাকে করে সংগৃত তাল নিয়ে এসে তারা গাইবান্ধায় বেচাকেনা করে।
এই পরিবারটি তালের আঁটির ব্যবসার সাথে ৮ থেকে ১০ বছর যাবত। তালের মৌসুম শেষ হলে অন্য সময় তারা পেয়ারা, বড়ইসহ অন্যান্য ফল-মূল বিক্রি করেন। এছাড়া পাশেই ছোট একটি চায়ের দোকান দিয়ে চা বিক্রি করে সংসার চালান। তারা জানান, অন্যান্য ব্যবসার চাইতে তালের আঁটি বিক্রির ব্যবসাটাই লাভজনক।
Wednesday, May 29, 2019
‘১০৩ টাকায় পুলিশের চাকরি’
আজ মঙ্গলবার বিকেল সোয়া পাঁচটায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার দারিয়াপুর গরুর হাট চত্বরে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া এসব কথা বলেন। আসন্ন ঈদুল ফিতর উপলক্ষে এই সভার আয়োজন করা হয়।
আবদুল মান্নান বলেন, আগামী ২৯ জুন গাইবান্ধা পুলিশ লাইনস মাঠে কনস্টেবল পদে লোক নিয়োগ করা হবে। নিয়োগের সময় অনেকে প্রতারণার শিকার হন। তাঁরা পুলিশের চাকরির জন্য জমিজমা ও গরু-বাছুর বিক্রি করেন। চাকরির জন্য দালাল ধরেন। চাকরির জন্য দালালের বিষয়ে সাবধান করেন সুপার।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘চাকরি দেওয়ার কথা বলে দালালেরা আপনাদের জোর করলে তাদের পরিণতি হবে ডাকাত ও মাদক ব্যবসায়ীদের মতো। আপনারা এসব বিষয়ে পুলিশকে খবর দেবেন।’
এ সময় সুপার মান্নান সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘১০৩ টাকায় পুলিশে লোক নিয়োগের এই বার্তা আপনারা জেলার অন্যান্য এলাকায় পৌঁছে দেবেন। সরকারি বিধিবিধান অনুযায়ী লাইনে দাঁড়াবেন। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর যোগ্যতা অনুযায়ী পুলিশে চাকরি পাওয়া যাবে।’
আলোচনা সভাটি সঞ্চালনা করেন গাইবান্ধা সদর থানার ওসি খান মো. শাহরিয়ার। এর আগে পুলিশ সুপার নগদ অর্থ উত্তোলন ও পরিবহনে মানি এসকর্ট সেবার জন্য পুলিশের ফোন নম্বরসংবলিত একটি ফেস্টুন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেন।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘কয়েক দিন পরই ঈদ। ঈদ সামনে রেখে চুরি ছিনতাই বেড়ে যায়। নকল টাকার কারবারিরা তৎপর হয়ে ওঠে। তাদের কাছ থেকে আপনারা সাবধান থাকবেন। আপনাদের কোনো ভয় নেই। পুলিশ আপনাদের পাশে আছে, থাকবে। প্রয়োজনে ব্যবসায়ীদের টাকা-পয়সা বহনে পুলিশ নিরাপত্তা দেবে। পাঁচ হাজার টাকা বহন করতেই আপনারা প্রয়োজনে পুলিশকে ফোন করতে পারেন।’
উল্লেখ্য, পুলিশ কনস্টেবল পদে গাইবান্ধায় জেলায় ১৪৪ জন লোক নিয়োগ করা হবে।
![]() |
| আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণবিষয়ক এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখছেন গাইবান্ধার পুলিশ সুপার আবদুল মান্নান মিয়া। সদর উপজেলা, গাইবান্ধা, ২৮ মে। ছবি: প্রথম আলো |
Sunday, April 28, 2019
সোনিয়াদের যন্ত্রণার জীবন, চাপা কান্না by শাহাবুল শাহীন

২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল রানা প্লাজার ধস এ রকম হাজারো পরিবারের দুর্যোগের কারণ হয়ে আছে। সাভার বাসস্ট্যান্ডের আটতলা রানা প্লাজার ছয়টি তলাতেই ছিল পোশাক কারখানা। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সর্বশেষ হিসাবে ভবন ধসে প্রাণ গেছে ১ হাজার ১৩৮ জনের। আহত ১ হাজার ১৬৭ জন, যার মধ্যে ২৭ জন অঙ্গ হারিয়েছেন। নিখোঁজ আছেন ১৫৮ জন।
রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গাইবান্ধার। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে গাইবান্ধার ৪৯ জন। আর ১১ জন নিখোঁজ ও শতাধিক আহত হন।
অঙ্গ হারানো শ্রমিক সোনিয়া, লাভলী খাতুন, রিক্তা খাতুনদের জীবন কাটছে ধুঁকে ধুঁকে। তাঁদের কাছে আগের জীবনটা এখন স্বপ্নের মতো, অন্তত সেখানে প্রতিদিনের যন্ত্রণাগুলো ছিল না।
জেলার সাদুল্যাপুরের দক্ষিণ দামোদরপুরে কথা হয় সোনিয়ার সঙ্গে। অনেকটা কিশোর বয়সেই বিয়ে হয় ২০১১ সালে। ২০১৩ সালে স্বামীসহ রানা প্লাজার পোশাক কারখানায় কাজ নেন তিনি। চাকরির ২২ দিনের মাথায় ভবনটি ধসে পড়ে। স্বামী বাইরে থাকায় বেঁচে যান। ওই ঘটনার পর ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাওয়া ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থেকে প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার করে টাকা পাচ্ছেন। এই টাকাতেই চলছে সংসার ও চিকিৎসা। সোনিয়া বলেন, শীতকালটা প্রচণ্ড যন্ত্রণা নিয়ে হাজির হয়। ব্যথা করে, জ্বালা–যন্ত্রণা হয়। এ যন্ত্রণা অবর্ণনীয়। তখন প্রায়ই যেতে হয় চিকিৎসকের কাছে।
আক্ষেপ করে সোনিয়া বলেন, ‘এক জীবনে যাদের কারণে এত কষ্ট পাইলাম, সেই লোকগুলোর এখনো শাস্তি হইতে দেখলাম না। এইটাও অনেক বড় কষ্ট।’
স্বামী মিজানুর আর সাড়ে তিন বছরের সন্তান নিয়ে তবু সোনিয়ার সংসারটা কোনোমতে চলছে। কিন্তু একই উপজেলার চকগোবিন্দপুরের রিক্তা খাতুন হাতও হারিয়েছেন, স্বামীও তাঁকে ছেড়ে গেছেন। এখন ক্ষতিপূরণের ১২ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশে চলছে দুই সন্তান নিয়ে সংসার। আর কাটা হাতেও যন্ত্রণার শেষ নেই।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গার লাভলী খাতুন (৩৭) রানা প্লাজায় বাঁ পা হারিয়েছেন। এরপর থেকেই খুঁড়িয়ে চলছে জীবন। তিনি বলেন, ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ আর স্বামীর আয়ে সংসার চললেও যন্ত্রণাগুলো কমছে না। শীতকাল আসে খুবই কষ্ট নিয়ে। রানা প্লাজা ধসে দায়ী ব্যক্তিদের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লাভলীও।
সাদুল্যাপুরের নলডাঙ্গা গ্রামের বাঁ পা হারানো শিল্পী খাতুন জীবিকার তাগিদে আবারও ফিরেছেন সাভারে। তিনি কাজ করতে পারেন না, হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হয়। মুঠোফোনে শিল্পী বলেন, ‘হুইলচেয়ারে চলতে–ফিরতে হয়। এখনো ক্ষত জায়গায় জ্বালাপোড়া করে। খুবই কষ্ট করে বেঁচে আছি ছেলেমেয়ে দুইটার জন্য।’ এখন ১০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ এবং স্বামীর ও গরু পালনের আয়ে চলছে সংসার।
নিখোঁজ–নিহতদের পরিবারগুলোর হতাশা
১১ বছরের কামরুল মিয়া এখন মায়ের কথা তেমন বলতেই পারে না। তার মা কামনা খাতুনের (২২) লাশটাও পাওয়া যায়নি। সাদুল্যাপুরের দামোদরপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ভাঙ্গামোড় গ্রামের সোনা মিয়ার স্ত্রী কামনা। একই গ্রামের আবদুল বারীর মেয়ে বীথি খাতুনেরও (২১) লাশ পাওয়া যায়নি। দক্ষিণ ভাঙ্গামোড় গ্রামে কথা হয় সোনা মিয়া ও আবদুল বারীর সঙ্গে। তাঁরা জানান, কোনো ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি তাঁরা। আবদুল বারী বলেন, ‘ট্যাকা পাওয়া তো দূরের কতা। সরকার হামার ছোলটার খোঁজই দিব্যার পায় নাই।’
একই গ্রামের (ভাঙ্গামোড়) দিনমজুর ওয়াহেদ আলী রানা প্লাজা ধসের ১৬ দিন পরে ছেলে সবুজ মিয়ার (১৮) দেহাবশেষ পেয়েছিলেন। তাঁদের বাড়িতে কেউ গেলেই সবুজ মিয়ার মা মনজিলা বেগম এখনো ছেলেকে ফিরে চান। বাবা ওয়াহেদ আলী বলেন, প্রত্যেক নিহত শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের সরকার চাকরি দিতে চেয়েছিল। কিন্তু এখনো সে আশ্বাস পূরণ হয়নি। কষ্টে কাটছে তাঁদের দিন।
একই উপজেলার কিশমত হলদিয়া গ্রামের স্মৃতি রানীর (২৫) পরিবারের অবস্থাও করুণ। মা সন্ধ্যা রানী রীতিমতো খাবারের কষ্টে আছেন। তিনি বললেন, স্মৃতির টাকা দিয়ে সংসার চলত। তাঁর মৃত্যুর পর প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এখন সংসারে চরম টানাটানি।
নিহত স্মৃতির বড় বোন মাধবী রানী বলেন, ‘আমাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানের টাকার চেক দেওয়ার সময় বলা হয়েছিল, নিহত পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। কিন্তু ছয় বছর পেরিয়ে গেল, চাকরি দূরের কথা, কেউ খোঁজও নেয়নি।’
গত সোমবার বিকেলে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এ কে এম ইদ্রিস আলী ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিক পরিবারগুলোর বিষয়ে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, রানা প্লাজা ভবন ধসের ঘটনার পরপরই সরকারের পক্ষ থেকে হতাহতের পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এরপর তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।
Monday, February 4, 2019
আর কতদিন কাঁদবেন কান্দুরা বেওয়া

মোর একনা বেটা ছাওয়াল তামারও সংসার চলে না বাবা। বউ নিয়্যা বালুগাঁও কাম করে খায়। অসুক শরিল নিয়ে মুই আর ভিক্ষাও করতে পাম না। মোর একনা ভাতা কাট করি দেও বাহে। তোমার বেটা-বেটির জন্নে আল্লার কাছে দোয়া করিম।” এভাবেই বয়সের ভারে নুয়ে পড়া কান্দুরা বেওয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে এ প্রতিবেদকের কাছে আকুতি জানান একটা বয়স্ক কিংবা বিধবা ভাতা কার্ডের জন্য। গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার ৪নং জামালপুর ইউনিয়নের বুজরুক রসুলপুর গ্রামের (পিরোজপুর) মৃত মহির উদ্দিনের স্ত্রী এ হতদরিদ্র, বিধবা কান্দুরা বেওয়ার ভাগ্যে আজও জোটেনি বয়স্কভাতা কিংবা বিধবাভাতা কার্ড। ফলে নানা অভাব-অনটনের মধ্য দিয়েই খেয়ে না খেয়ে বেঁচে আছেন তিনি। শেষ বয়সে একটি ভাতা কার্ডের প্রত্যাশা করেন কান্দুরা বেওয়া। বৃদ্ধা এই কান্দুরা বেওয়ার এক সময়ে লাঠিতে ভর দিয়ে ভিক্ষা করে দিনাতিপাত করতো। এখন চোখেও দেখেন কম। এমনকি লাঠিতে ভর দিয়েও চলতে পারে না। দিন-রাত প্রায় বিছানায় তিনি শয্যাশয়ী। সম্প্রতি কান্দুরা বেওয়ার সারা শরীরে নানা অসুখে বাসা বেঁধেছে। ওষুধ কেনার সামর্থ্যও নেই। সেই সঙ্গে অর্থ সংকটে দু’বেলা দু’মুঠো অন্ন্ও জোটে না তার।
জাতীয় পরিচয়পত্র অনুযায়ী কান্দুরা বেওয়ার জন্ম তারিখ ১৯৪৮ সালের ১৪ই নভেম্বর। প্রায় ১৫ বছর আগেই স্বামী মহির উদ্দিরকে হারিয়ে বিধবা হয়েছেন। সেই থেকে ছেলে ও মেয়েদের নিয়ে নিরন্তর সংগ্রাম করে চলেছেন। যদিও মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন। আর একটিমাত্র ছেলে জেলার বাইরে দিনমজুরি করে যা রোজগার করে তা দিয়েই তাদের সংসার চলে না। তবে মৃত্যুর আগেই একটি ভাতা কার্ডের আকুতি জানান কান্দুরা বেওয়া। এদিকে কান্দুরা বেওয়ার অভিযোগ, বিধবা ও বয়স্কভাতা কার্ডের জন্য জামালপুর ইউনিয়র পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নিকট দু’বছর ধরে ঘুরেও কোনো কাজ হয়নি। তার অসহায়ত্বের কথা কেউ শোনে না বলে জানান তিনি। জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুজ্জামান মণ্ডল বলেন, বৃদ্ধা কান্দুরা বেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
Friday, June 1, 2018
টাকার অভাবে থেমে আছে বিরল রোগে আক্রান্ত জাকিরের চিকিৎসা

জাকিরের পরিবার জানায়, বিগত পাঁচ বছর আগে জাকিরের কাঁধে ছোট আকারের একটি টিউমার পান। পরে সেই টিউমারটি প্রতিনিয়ত বাড়তে থাকে তার শরীরে। কিন্তু টাকার অভাবে ভালো কোনো হাসপাতালে তার চিকিৎসা করাতে পারেনি অসহায় শিশুটির পরিবার। বাধ্য হয়ে হোমিও প্যাথিক ঔষধ খেয়ে দিন কাটিয়েছে জাকির। অন্যদিকে, জাকিরের শরীরে বেড়ে ওঠা টিউমারটি বিশাল আকার ধারণ করে প্রায় দশ কেজিতে রূপ নিয়েছে। পরে গত ২৪ মে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অর্থোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তাকে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে শরীরে ক্যানসারের সন্ধান পান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। পরে জাকিরকে দ্রুত ঢাকার ক্যানসার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করতে বলে রমেক কর্তৃপক্ষ। বুধবার সকালে অসুস্থ জাকিরকে ঢাকার মাহাখালী ক্যানসার গবেষণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে ক্যানসার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এদিকে, টাকার অভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ঔষধ কিনতে পারছেনা তার পরিবার। জাকিরের চিকিৎসার খরচ জোগাতে হিমসিম খাচ্ছেন তার বাবা। ছেলের চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। জাকিরের বাবা আ. মজিদ বলেন, আমি গরিব মানুষ ছেলের চিকিৎসার এতো খরচ কিভাবে চালাবো। মানুষের কাছে ধারদেনা করে ছেলেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছি। এখন দুশ্চিন্তায় আছি তার ঔষধ পত্র কিনবো কি দিয়ে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছেলেটার চিকিৎসার জন্য কেউ এগিয়ে আসেনি। চিকিৎসার অভাবে মারা যাচ্ছে সে। আপনারা আমার ছেলের জন্য কিছু একটা করেন। জাকিরের চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার অনুরোধ করেন তিনি। জাকিরকে সাহায্য পাঠাতে যোগাযোগ করুন- ০১৭৭০ ৯৯১৬৩৬ (বাবা) ও ০১৭৭৮ ৪৬৫৮২০ (ভাই) এই নাম্বারে।
Monday, May 28, 2018
সাদল্যাপুরে বর্ষালি ধান চাষাবাদে ঝুঁকেছে কৃষকরা by তোফায়েল হোসেন জাকির

উপজেলার বিশেষ করে উঁচু এলাকায় ইরি ধান কাটার সঙ্গে সঙ্গে বর্ষালি ধানের বীজ বপন করা হয়। প্রায় ১৫ দিনের মধ্যেই রোপণকৃত বীজ জমিতে রোপণ করার উপযোগী হয়ে যায়। ইরি/বোরো মৌসুমে ধান পাকার সময় এবং কাটার সময় কাল বৈশাখী ঝড়/বৃষ্টি ও বৈরি আবহাওয়ায় কৃষকরা নাকাল হয়ে পরলেও আবাদি জমি পতিত রাখতে নারাজ তারা। তাই পুরো বর্ষা নামার আগেই তড়িঘড়ি করে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। জমির আইল কাটা এবং জমিতে পাওয়ারটিলার দিয়ে চাষ করে রোপণের জন্য তৈরি কাজে চরম ব্যবস্থা হয়ে পড়েছেন। সদ্য ধান কাটা শেষ হতে না হতেই কৃষকরা লাভের আশায় ঝুঁকে পরেছেন বর্ষালি ধানের আবাদে।
উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের কৃষক সোলাইমান প্রধান জানান, এবারে বর্ষালি ধান আবাদের জন্য ইতোমধ্যে ২ বিঘা জমিতে চারা রোপণ করেছেন। তিনি আরও বলেন গত মওসুমেও বর্ষালি ধান চাষাবাদ করে ভাল ফলন পাওয়া গেছে। প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ থেকে মন হারে ধানের ফলন পাওয়া সম্ভম।
শ্রমিক আনোয়ারুল, ছায়েদ আলী ও ছাইদার রহমান জানান, আমরা শ্রম বিক্রি করে দিনাতিপাত করি। ইরি-বোরো ধান কাটার পর আমাদের দীর্ঘদিন বসে থাকতে হয়। এর ফলে অর্থ সংকটের শিকার হই। এখন ওই চিন্তা থেকে রেহাই পেয়েছি। কারণ-বোরো ধান কাটার পরই বর্ষালি ধান রোপন করছেন কৃষকরা। তাই এ চাষাবাদে আমার শ্রম বিক্রি করতে পারছি। এখন আর বসে থাকতে হয়না।
উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তাহের মিয়া জানান, বর্ষালি ধান রোপনে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। কৃষকরা ব্রি-৪৮ ও ৫৫ এবং কুদরত জাতের ধান রোপণ করা শুরু করেছেন। বিঘাপ্রতি ৪-৫ হাজার টাকা খরচ করে ১১০ দিনের মধ্যে এ ধান কর্তন করে আমন ধান চাষাবাদ করতে পারবেন।
সাদুল্যাপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার জোবায়দুর রহমান জানান, গত বর্ষালি মৌসুমে এই উপজেলায় মাত্র ৪৫ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন কৃষকরা। কৃষকরা ভাল ফলন পাওয়ায় এবারে ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বর্ষালি ধান আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০০ হেক্টর জমিতে ধান চারা রোপন করা হয়েছে। অবশিষ্ট জমিতে আগামী সপ্তাহের মধ্যে রোপন কাজ সম্পন্ন হতে পারে বলে জানান তিনি।
Tuesday, May 1, 2018
সাদুল্যাপুরের ৩৫ দুগ্ধ খামারির গল্প by তোফায়েল হোসেন জাকির

খামার করে তারা হয়েছেন স্বাবলম্বী। সাদুল্যাপুর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার পশ্চিম-উত্তরে শ্রীকলা নামের গ্রামটি।
শনিবার সকালে সরেজমিন ওই এলাকার দুগ্ধ খামারের গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, শ্রীকলা গ্রামটি আয়তনে ছোট। শিক্ষার হারও তুলনামূলকভাবে কম। খামারিদের আলাদা কোনো প্রশিক্ষণও নেই। সম্পূর্ণ নিজেদের উদ্যোগ ও মেধা খাটিয়েই গড়ে তুলেছে এসব দুগ্ধ খামার। ওই গ্রামের মৃত খয়রাজ্জামানের ছেলে আহসান হাবিব (৪০) নামে এক দুগ্ধ খামারি জানান, তার খামারে রয়েছে ১০টি উন্নত জাতের ফ্রিজিয়ান ও সাহিওয়াল গাভী। তার একাডেমিক কোনো খামারের প্রশিক্ষণ নেই। একটিমাত্র গাভীর বাচ্চা দিয়ে ১০ বছর আগে শুরু করেছিলেন। আজ তিনি অর্ধকোটি টাকার গাভীর মালিক। একইভাবে আবুল হোসেন (লাল মিয়া), মেনহাজ উদ্দিন, সলিম উদ্দিন, আবুল মিয়া, আবদুস ছামাদ, সাজু মিয়া, আবু তালেব, খয়রাজ্জামান, হেলেনা আফরোজ ও মেহেন্নেকা বেগমসহ আরও অনেকের খামারে ফ্রিজিয়ান, সাহিওয়াল, লালসিন্ধি ও জার্সি ফ্রিজিয়ান জাতের ২টি থেকে ১০টি করে দুগ্ধ উৎপাদনকারী গাভী রয়েছে। এর বাইরেও পুরো গ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে আরো অনেক খামার। তাই এই শ্রীকলা গ্রামটি দুগ্ধ খামারের গ্রাম হিসেবেই পরিচিতি লাভ করছে। খামারি আবুল হোসেন (লাল মিয়া) বলেন, গাভীর বয়সভেদে প্রত্যেকটি গাভীকে দৈনিক ১০০ থেকে ১৫০ টাকার খাদ্যে দিতে হয়। এর মধ্যে ক্যাটলফিড, ভুষি ও সবুজ ঘাস। এছাড়াও প্রতিদিন গাভীকে গোসল দিতে হয়। প্রতিটি গাভী গড়ে দৈনিক ২০ কেজি দুধ দেয়। আবুল মিয়া নামে এক খামারি জানান, মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে একটি বাছুর কিনে তার খামারের যাত্রা শুরু। এখন সে প্রায় ১৫ লক্ষাধিক টাকার মালিক। তবে দুধের বর্তমান বাজার খুবই কম। সাদুল্যাপুর ব্র্যাক চিলিং সেন্টারে ৩৭ দরে প্রতি কেজি দুধ বিক্রি করেন। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দুধ বেচার জায়গা নেই। এখন খামার ছেড়ে দিতে দিতে মন চায়।
খামারি মেনহাজ উদ্দিন জানান, বর্তমানে খামার করার পরিবেশ নেই। দুধের বাজার একেবারেই কম। দুধ নিয়ে বাজারে বিক্রি করতে গেলে ৩০-৩৫ টাকা কেজি বিক্রি করতে হয়। তাই তারা আশেপাশের চা দোকানগুলোতেই ৩৫-৪০ টাকা কেজি দরে দুধ বিক্রি করে থাকেন। দুগ্ধ খামারে গাভীর খাদ্য বিক্রেতা লাল মিয়া জানান, এসব খামারি ব্যাংক থেকে ঋণের সুবিধা পান না। যদি খামারিরা প্রশিক্ষণসহ সহজ শর্তে ব্যাংক থেকে ঋণের সুবিধা পেত তাহলে আরো তাড়াতাড়ি খামারগুলো বিস্তার লাভ করতো। জিও-এনজিওদের কাছে খামারিদের দাবি তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করা। এছাড়া ওই গ্রামে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা। এসবের ব্যবস্থা থাকলে এখানকার খামারিরা আরও স্বাবলম্বী হতে পারতো। তবে খামারিদের অভিযোগ, এ বিষয়ে সাদুল্যাপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা কোনো ভূমিকা পালন করেন না।
Saturday, April 28, 2018
ক্যানসার প্রতিরোধে দুলালী সুন্দরী by সিদ্দিক আলম দয়াল

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম জানান, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রামজীবন ইউনিয়নের সুবর্ণদহ গ্রাম। এই গ্রামের একজন নারী কৃষক দুলালী বেগম। তিনি দুই বছর আগে বোরো ধানের বীজ কিনতে যান দোকানে। প্যাকেটজাত বীজ কিনে বাড়িতে এসে দেখেন প্রায় দুই মুঠ বেগুনী রঙয়ের ধান বীজ। সেই থেকে দুলালী বেগম তিনি আর বসে ছিলেন না। অন্য ধানের পাশাপাশি দুই শতক জমিতে বেগুনী ধানের বীজ বপন করেন। কিছুদিন পর দেখতে পান তার জমি জুড়ে বেগুনী ধানের চারায় ছেয়ে গেছে। ওই বীজ দিয়ে গত বোরো মৌসুমে ধান চাষ করেন। তাতে প্রায় ৬ কেজি বেগুনী ধান হলেও তিনি সেটি ভাত হিসেবে ব্যবহার করেনি। এবছর বোরো মৌসুমে এই বীজ লাগান জমিতে। এবারো জমি জুড়ে সুন্দর বেগুনী রঙয়ের ধান হয়েছে। চারপাশে সবুজ বোরো ধানের মাঝে বেগুনী ধানের জমি সত্যি দেখার মতো। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো । ব্যতিক্রমী এই বেগুনী রঙয়ের ধান চাষ করে এলাকায় চমক সৃষ্টি করেছেন।
প্রতিদিন গাইবান্ধাসহ জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে এই ধান দেখতে আসেন কৃষকসহ অনেক নারী ও পুরুষ। অন্যান্য জাতের ধানের চেয়ে এই ধানের একটি কুশি থেকে ২৬ থেকে ২৯টি কুশি গজায়। তাই অন্য জাতের ধানের চেয়ে বেগুনী রঙয়ের এই ধানের ফলনও ভালো হয়। ইতিমধ্যে নতুন ধান চাষে আগ্রহী হয়ে অনেকেই বীজ সংগ্রহের জন্য দুলালী বেগমের কাছে ধর্ণা দিচ্ছেন।
দুলালী বেগম বলেন, গেল বছর ধানের চারা কিনতে গিয়ে আলাদা ধরনের দুই মুষ্ঠি ধানের বীজ পান। এই বীজ জমিতে লাগিয়ে চারা তৈরি করেন। ওই চারা দিয়ে এবছর তিনি আঠারো শতাংশ জমিতে এই ধান চাষ করেছেন। চারিদিকে সবুজ ধান আর তার মাঝখানে বেগুনী রঙয়ের নতুন জাতের ধান আলাদা আকর্ষণ সৃষ্টি করেছে এলাকায়। নতুন এই ধান দেখে কৃষি বিভাগ এগিয়ে আসেন দুলালীর পাশে। তারা মূল্যবান এই ধানের বীজ সংগ্রহ করে চাষিদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন।
সুন্দরগঞ্জে কৃষক হাবিবুর রহমান বলেন, সারাজীবন সবুজ গাছে সোনালী ধান দেখলাম। আর এখন দেখছি বেগুনী ধান। সত্যি আশ্চর্য্য। তিনি বলেন, আমরা আগে কখনো এই জাতের ধান দেখিনি। একজন নারী কৃষকের এই ধান চাষে আমরা গর্বিত। যে ধান চাষে খরচ কম ও ফলও ভালো হয়। আগামী দিনে আমরা এই ধান চাষ করতে চাই।
নারী কৃষক দুলালী বেগম বলেন, প্রথম আমি এই ধান চাষ করেছি। আমি চাই আমাদের দেখে সবাই এই ধান চাষ করবে। নতুন জাতের এই ধান দুলালী সুন্দরী নামে সারা দেশে পরিচিতি পাবে এটাই আমার আশা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, এই বেগুনী ধান এক সময় চীন দেশে চাষাবাদ হতো। ধনাঢ্য পরিবারের খাবার হিসেবে এ বেগুনী ধান চাষ হতো। তারা মনে করতেন বেগুনী ধানের চাল খেলে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা যায়। তিনি বলেন, এ বেগুনী ধান ক্যানসার, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। এই ধানের বীজ সংগ্রহ করে আমরা কৃষকদের মাঝে ছড়িয়ে দেবো।
Thursday, February 22, 2018
দুটি স্কুল পুড়িয়ে দিল দুর্বৃত্তরা

Wednesday, March 22, 2017
গাইবান্ধা-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে

BNM Special
BNM Archive
BNM Archive
- ▼ 2026 (2236)
- ► 2025 (3281)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (129)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...

