Tuesday, March 4, 2014

সহজিয়া কড়চা- পুলিশ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি by সৈয়দ আবুল মকসুদ

বঙ্গীয় সমাজে চিরকালই একজন নন্দ ঘোষের প্রয়োজন হয়। যত দোষ সব তার ঘাড়ে চাপিয়ে অন্যরা দাঁত বের করে হাসে। পুলিশ বেচারাকেই এখন আমাদের রাষ্ট্রে নন্দ ঘোষের ভূমিকায় অভিনয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে। পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যখন ছুটিতে বাড়ি গিয়ে আমগাছটির মালিকানা নিয়ে মারামারি করেন এবং তাঁর ভাইকে লাঠির বাড়ি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে মারেন অথবা গুলি করে খুলি উড়িয়ে দেন, তখন সেটা স্রেফ খুন।

দক্ষিণ এশিয়া- ভারতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রভাব by কুলদীপ নায়ার

আগামী মে মাসে ভারতের নাগরিকেরা পার্লামেন্টে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য আবার ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রতিনিধিদের মান প্রত্যাশার চেয়ে কম। তবে আমার ভরসা আছে, আগামী সংসদ তুলনামূলকভাবে উৎকৃষ্ট হবে, কারণ আম আদমি পার্টির আবির্ভাব দেশের রাজনীতির চালচিত্র বদলে দিয়েছে। এটি এখন আগের চেয়ে কিছুটা পরিষ্কার ও স্বচ্ছতাপূর্ণ।

শ্রদ্ধাঞ্জলি- রংগলাল সেন: কীর্তিময় জীবন by শিপ্রা সরকার

বাংলাদেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি, রাজনীতি ও সমাজ উন্নয়নের ধারায় বিশিষ্ট ও উজ্জ্বল নাম রংগলাল সেন (১৯৩৩-২০১৪)। দীর্ঘ ৮০ বছরের এক কীর্তিময় জীবন অতিবাহিত করে গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি পরলোকগমন করেন। একজন প্রগতিশীল মানুষ হিসেবে তিনি রেখে গেছেন অতুল কীর্তির স্বাক্ষর।

সন্ত্রাসের শাস্তি সাময়িক বহিষ্কার?- আবারও ছাত্রলীগ!

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পর এবার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংবাদের শিরোনামে এনেছে ছাত্রলীগ। বিশ্ববিদ্যালয়টিতে নতুন উপাচার্য নিযুক্ত হওয়ার দিনটিতেই ছাত্রলীগ নিজেদের মধ্যে হানাহানিতে লিপ্ত হওয়ার ঘটনাটি কৌতূহলজনক।

পুলিশ, রাষ্ট্র ও রাজনীতি

বঙ্গীয় সমাজে চিরকালই একজন নন্দ ঘোষের প্রয়োজন হয়। যত দোষ সব তার ঘাড়ে চাপিয়ে অন্যরা দাঁত বের করে হাসে। পুলিশ বেচারাকেই এখন আমাদের রাষ্ট্রে নন্দ ঘোষের ভূমিকায় অভিনয় করতে বাধ্য করা হচ্ছে। পুলিশের কোনো কর্মকর্তা যখন ছুটিতে বাড়ি গিয়ে আমগাছটির মালিকানা নিয়ে মারামারি করেন এবং তাঁর ভাইকে লাঠির বাড়ি দিয়ে মাথা ফাটিয়ে মারেন অথবা গুলি করে খুলি উড়িয়ে দেন, তখন সেটা স্রেফ খুন। ওই খুনের দায় গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপর বর্তায় না। কোনো দাঙ্গা-হাঙ্গামা থামাতে গিয়ে নিরুপায় হয়ে যখন পুলিশ গুলি ছোড়ে এবং তাতে কেউ মারা যায়, সেটা মার্ডার নয়। যদিও ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ পুলিশকেই নিন্দা করবে। কিন্তু কোনো অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনার পর শারীরিক নির্যাতন করায় যদি তার মৃত্যু হয়, সেটা নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু। তার দায়ে পুলিশকে অভিযুক্ত করতেই হবে। নিহত ব্যক্তি চোর-ডাকাত না হয়ে বিরোধী দলের বা কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের নেতা-কর্মী হলে অনুমান করা হবে সরকারের প্ররোচনাতেই বা নির্দেশেই ওই হত্যাকাণ্ড হয়েছে। ওটা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। ব্যক্তিগত শত্রুতাবশত খুন নয়। ওই খুনের দায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যের ওপরে নয়, গোটা পুলিশ বাহিনীর ওপর অর্থাৎ সরকারের ওপরই বর্তায়। কোনো সম্প্রদায় বা শ্রেণী সম্মিলিতভাবে অপরাধ করে না, অপরাধ করে মানুষ-ব্যক্তি। গত পাঁচ হাজার বছরে পৃথিবীতে যত হত্যাকাণ্ড ঘটেছে (যুদ্ধবিগ্রহ বাদে), তাতে শুধু দুর্বৃত্তরা নয়, সব পেশার মানুষই জড়িত ছিল। কবি-শিল্পী-সাহিত্যিক-দার্শনিক-সাংবাদিক থেকে ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, সরকারি কর্মকর্তা, ধর্মীয় নেতা, পুলিশ—সব পেশার মানুষই রয়েছে। কিন্তু কর্তব্যরত পুলিশ যখন তার হেফাজতে থাকা কোনো অভিযুক্ত বা অপরাধীকে সজ্ঞানে ও সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করে, সেটাই বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। যদিও বিচার করে শাস্তি দিলেও তার মৃত্যুদণ্ডই হতো। কিন্তু বিচার না করে হত্যা করলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তা জঘন্যতম অপরাধ।
তারপর তাকে ক্রসফায়ার, বন্দুকযুদ্ধ, এনকাউন্টার—যে নামই দেওয়া হোক। শুধু আমাদের এই গ্রহ নয়, সমস্ত সৌরজগতের তত্ত্বাবধায়ক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব দেশের ওপর নজর রাখে। ২৭ ফেব্রুয়ারি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১৩ প্রকাশ করেছেন। ‘মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রকে (আসক) উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের প্রথম নয় মাসে র‌্যাবসহ নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যের হাতে ১৪৬ জন নিহত হন। নিরাপত্তা বাহিনীর বিভিন্ন অভিযানে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে লোকজনের প্রাণহানির ঘটনাকে কখনো “ক্রসফায়ার”, কখনো “বন্দুকযুদ্ধ” কিংবা কখনো “মুখোমুখি সংঘর্ষ” হিসেবে সরকার অভিহিত করেছে। ২০১২ সালে নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে প্রায় ৭০ জন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। ‘মানবাধিকার সংগঠন অধিকারকে উদ্ধৃত করে মার্কিন প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৪ জন গুম হয়েছেন। ২০১২ সালে ওই সংখ্যা ছিল ২৪ জন। অন্যদিকে আসকের তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালে গুম হয়েছেন ৩৩ জন।’ [প্রথম আলো, ২৮. ২. ২০১৪] প্রতিবেদনের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, সরকারের অঙ্গীকার সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধ হয়নি। গত বছর বিচারবহির্ভূত হত্যার অভিযোগের ঘটনায় কারও বিরুদ্ধে ফৌজদারি শাস্তি দেওয়া হয়েছে কি না, এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। শুধু কয়েকটি ক্ষেত্রে ছিল প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। এসব অভিযোগের কারণে পৃথিবীতে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে পুলিশ ও র‌্যাবকেই বোঝানো হয়েছে। দুটি বাহিনীই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন। র‌্যাবের ক্রসফায়ার ও বন্দুকযুদ্ধের উপাখ্যানের আরম্ভ প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জোট সরকারের সময়। কয়েকজন অতি কুখ্যাত সন্ত্রাসীকে কথিত ‘ক্রসফায়ারে’ দেওয়ায় সাধারণ মানুষ আনন্দ প্রকাশ করে। কোথাও মিষ্টিমণ্ডাও বিতরিত হয়। কিন্তু ওই পৈশাচিক আনন্দ আমার ভালো লাগেনি। তাদের ধরে দ্রুত বিচারে সর্বোচ্চ শাস্তি দিলেই ভালো হতো। ‘ক্রসফায়ারের’ আমি আমার মতো করে প্রতিবাদ করি।
সংবিধান বুকে ঝুলিয়ে প্রেসক্লাবের সামনে ফুটপাতে অবস্থান নিয়ে সত্যাগ্রহ করি। আমার সেদিনের কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন সিপিবির সভাপতি মনজুরুল আহসান খানসহ অন্যান্য বাম দলের নেতা, গণফোরামের সভাপতি কামাল হোসেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল, বাম ছাত্র সংগঠন এবং ছাত্রলীগেরও কোনো কোনো নেতা। ভিড় জমে গেলে পুলিশ আমাকে জোর করে ফুটপাত থেকে উঠিয়ে দেয়। নেতাদের নিয়ে আমি প্রেসক্লাবের প্রাঙ্গণে ঢুকলে পুলিশ সেখানে ঢুকে বলে: এখানেও বসতে পারবেন না, ওপরের নির্দেশ। বললাম, আমি তো এই ক্লাবের পুরোনো সদস্যের একজন, আমি এখানে বসতে পারব না কেন? কর্তব্যরত সংবাদমাধ্যমের কর্মীরাও আমার পক্ষে অবস্থান নেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, আপনি ক্লাবে গিয়ে চা খেতে পারেন, কিন্তু ক্লাব কম্পাউন্ডে বসতে দেব না। সেদিন আন্তর্জাতিক মিডিয়া ঘটনাটিকে খুব গুরুত্ব দেয়, আমার কথাও শোনে, সরকারের কথাও শোনে, কিন্তু বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড থামে না। বড়ই দুঃখের ভেতর দিয়ে বাংলাদেশের জন্ম। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার নিয়েই বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা। পাকিস্তানিদের হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে ছিল বিশ্ববিবেক। অন্যদিকে ছিল তারা বাংলাদেশের মানুষের মুক্তির পক্ষে। আজ বাংলাদেশের পরিচিতি যদি হয় হত্যা-গুমের দেশ হিসেবে, তার চেয়ে বেদনার বিষয় আর কী হতে পারে? সমাজ থেকে দুষ্কৃতদের নির্মূল করার সঠিক পথ নয় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড। খালেদা-নিজামীদের জোট সরকারের জামানায় ইসলামি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর নেতা-কর্মীরা প্রায় জামাই-আদরেই ছিল। ধরপাকড় যেটুকু হয়েছে, তা অনেকটা অনিচ্ছা সত্ত্বেই করেছে সরকার। মহাজোট সরকার উগ্র ইসলামি গোষ্ঠীকে সাবলীলভাবে দমন করায় প্রগতিকামী শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি হয়ে থাকলেও পুলিশ,
র‌্যাব ও গোয়েন্দাদের ভূমিকা প্রশংসাযোগ্য। সংবাদপত্রের পাঠক ও অন্যান্য মিডিয়ার দর্শক-শ্রোতা মনে করছেন, এসব বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডে পুলিশের সংশ্লিষ্ট সদস্যরাই শুধু জড়িত। যাঁর যেদিন যেখানে ডিউটি ছিল, তাঁরাই ব্যক্তিগত আক্রোশ বা শত্রুতাবশত করছেন। দোষটা সোজা গিয়ে পড়ছে পুলিশ ও র‌্যাবের ওপর। যেন তাদের সঙ্গে বা তাদের ওপরে আর কেউ নেই, যারা ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও যে বিদ্যমান রাজনীতির বাইরে কোনো স্বাধীন সত্তা নন, সে কথা আমরা ভুলে যাই। অনেক বিভাগের কর্মকর্তারাই ঘুষ খান, দুর্নীতি করেন। কিন্তু শ্রেণী হিসেবে পুলিশ সম্পর্কে মানুষের একটি বদ্ধমূল নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। সেই ধারণা এখন থেকে নয়, বহুকাল থেকে। তবে ধারণাটি সম্পূর্ণ সঠিক নয়। আজও আমাদের পুলিশ বাহিনীতে বহু সদস্য আছেন, যাঁরা ন্যায়পরায়ণ ও সৎ জীবনযাপন করেন। যাঁরা মানুষের সঙ্গে, দুর্বলের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ একেবারেই সমর্থন করেন না। পুলিশ সম্পর্কে সাধারণ মানুষের প্রচলিত ধারণার সঙ্গে আমার ধারণার মিল নেই। নানা কারণে আমার এই পক্ষপাতিত্ব থাকতে পারে। আমার প্রপিতামহ উনিশ শতকে পুলিশে কাজ করেছেন। কিন্তু ভালো লাগেনি বলে একপর্যায়ে চাকরি ছেড়ে আধ্যাত্মিক জীবন বেছে নেন। আত্মীয়স্বজনের মধ্যে কেউ কেউ ছিলেন পুলিশ ও আবগারি বিভাগে। তাঁদের কেউ ছিলেন সৎ, কেউ অসৎ। মানুষ মিশ্র স্বভাবের প্রাণী, সবাই এক রকম হয় না। ছোটবেলায় আমি পুলিশের আইনকানুন প্রভৃতি সংক্রান্ত বইপত্র বাড়িতে দেখেছি। তবে তা থেকে নয়, অন্যভাবে আমি পুলিশকে জানি ভালো।
ছাত্রজীবনে অসচ্ছলতায় কেটেছে। যেসব পত্রপত্রিকা নিয়মিত টাকা দিত, সেগুলোতে লিখতাম। ষাটের দশকের মাঝামাঝি নাগাদ আমি অনেক দিন পুলিশের পত্রিকা ডিটেকটিভ-এ কবিতা, ছোটগল্প, প্রবন্ধ লিখেছি। উন্নত মানের মাসিক পত্রিকা ছিল। খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকেরা লিখতেন। প্রধান সম্পাদক ও সম্পাদক ছিলেন সৈয়দ আমজাদ আলী ও আহসানউল্লাহ, যিনি স্বাধীনতার পরে সাধারণ বীমা করপোরেশনে বড় কর্মকর্তা হয়েছিলেন। বয়সের ব্যবধান থাকা সত্ত্বেও আমার সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব হয়েছিল। অনেক নামী পত্রিকায় একটি গল্পের বা প্রবন্ধের জন্য ১০-১৫ টাকা পেলে ডিটেকটিভ দিত ৩০ টাকা। পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মিশে দেখেছি, তাঁদের অনেকের পড়াশোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অধ্যাপকের চেয়ে বেশি। স্বাধীনতার আগে পুলিশের পাঠাগার ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। আমি ব্যবহার করেছি। পুলিশ সম্পর্কে বলতে গিয়ে আত্মপ্রসঙ্গে আর একটু বলতে হয়। সত্তরের দশকের শেষ থেকে ইরাকে মার্কিন আগ্রাসন পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর আমি প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার কাজী আনোয়ার-উল হক সাহেবের বাড়িতে তাঁর সঙ্গে আড্ডা দিতাম। তিনি ছিলেন ১৯৩১-৩২ সালের ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিসের (আইপিএস) সদস্য। পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারে এবং বাংলাদেশেও মন্ত্রী ছিলেন। তখন তাঁর ৮০-৯০ বছর বয়স। তাঁর এককালের সহকর্মী জনাব হাফিজউদ্দিন, জনাব মহিউদ্দিনসহ অন্তত ১০-১২ জন সাবেক আইজি তাঁর বাসভবনে হপ্তায় হপ্তায় মিলিত হতেন। তাঁরা প্রত্যেকেই ছিলেন উচ্চশিক্ষিত ও অত্যন্ত বিদগ্ধ। মানুষ হিসেবেও অসামান্য। ওই অতিবৃদ্ধদের বৈঠকে আমি ছিলাম একমাত্র অর্বাচীন শ্রোতা।
শিল্প-সাহিত্য-ইতিহাস থেকে হেগেল, শোপেনহাওয়ার, মিল, রাসেলের দর্শন নিয়েও আলোচনা হতো। কাজী আনোয়ার-উল হকের সমৃদ্ধ ব্যক্তিগত পাঠাগার ছিল। সেখানে আমি পড়াশোনা করতাম এবং তাঁর দুর্লভ বই ধার নিতাম। তাঁকে ধার দিতামও। তিনি ছিলেন অসামান্য পাঠক। তিনি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির প্রথম দিকের ছাত্র। বুদ্ধদেব বসু, অর্থনীতিবিদ ভবতোষ দত্ত প্রমুখ ছিলেন তাঁর স্কুলের সহপাঠী। তাঁর থেকে নাম-ঠিকানা নিয়ে আমি কলকাতায় গিয়ে তাঁর সহপাঠী, যাঁরা পরবর্তী সময়ে সরকারের উঁচু পদে দায়িত্ব পালন করেছেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছি। একবার মহিউদ্দিন আহমদ (পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব) ও আমি ভবতোষ দত্তের প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করি। তিনি বলেন, সেকালে স্কুলে অনেক ছাত্র ধুতি পরে আসত, আনোয়ার হাফপ্যান্ট পরে ওয়েল-ড্রেসড হয়ে আসত। এখন কি আনোয়ার খুব জরাগ্রস্ত হয়ে গেছে? তিনি ছিলেন আবদুল্লাহ উপন্যাসের লেখক কাজী ইমদাদুল হকের ছেলে। সেকালের আইজিদের কাছে পুলিশের সম্পর্কে অনেক শুনেছি। উন্নত দেশের পুলিশের যে সুযোগ-সুবিধা, আমাদের পুলিশ তা থেকে বঞ্চিত। তাদের দুর্নীতি ও নিষ্ঠুরতা মানুষের চোখে পড়ে, কিন্তু অপরাধ উদ্ঘাটন করে যারা, সেই পুলিশ ও গোয়েন্দাদের মেধা চোখে পড়ে না। আমি বহু বছর আগে গবেষণার কাজে পঞ্চাশ ও ষাটের দশকের স্পেশাল ব্রাঞ্চের কয়েকজন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলি সেকালের জাতীয়তাবাদী নেতাদের সম্পর্কে জানতে। লক্ষ করেছি তাঁদের অসামান্য দেশপ্রেম। তার প্রমাণ পঁচিশে মার্চ রাতে রাজারবাগসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ সদস্যরা বিদ্রোহ করেন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শহীদ হন অগণিত।
শেষ অংশ আগামীকাল
সৈয়দ আবুল মকসুুদ: গবেষক, প্রাবন্ধিক ও কলাম লেখক।

রাজধানীর রাস্তাগুলো যেন পরিত্যক্ত সম্পত্তি by মোর্শেদ নোমান

‘তিন বছর যাবত্ রাস্তাগুলো মেরামতে ঢাকা সিটি করপোরেশনের কোনো উদ্যোগ নেই। গ্রামের এবড়োখেবড়ো রাস্তাগুলোও এর চেয়ে ভালো। এখানকার রাস্তাগুলো অনেকটাই পরিত্যক্ত সম্পত্তির মতো পড়ে আছে।’ রাজধানীর গুলশান এলাকার ২২ নম্বর সড়কে এভাবেই নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন ব্যবসায়ী এম এ মোহাইমিন সালেহ।

ভারতে সশস্ত্র বাহিনীর প্রভাব

আগামী মে মাসে ভারতের নাগরিকেরা পার্লামেন্টে তাঁদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার জন্য আবার ভোটের লাইনে দাঁড়াবেন। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রতিনিধিদের মান প্রত্যাশার চেয়ে কম। তবে আমার ভরসা আছে, আগামী সংসদ তুলনামূলকভাবে উৎকৃষ্ট হবে, কারণ আম আদমি পার্টির আবির্ভাব দেশের রাজনীতির চালচিত্র বদলে দিয়েছে। এটি এখন আগের চেয়ে কিছুটা পরিষ্কার ও স্বচ্ছতাপূর্ণ। আরেকটি লোকসভা (ধারাক্রম অনুযায়ী ১৫তম) তার পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করল। বিদায়ী সংসদের কার্যক্রম সত্যিই ছিল চরম তিক্ততা আর হট্টগোলে ভরা। এটি একটি দুঃখের বিষয় যে, গণতান্ত্রিকব্যবস্থাকে প্রতিনিধিত্বকারী এ প্রতিষ্ঠান, অর্থাৎ জাতীয় পার্লামেন্ট, এশিয়ার অনেক দেশেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। তার পরও সশস্ত্র বাহিনীর ক্রমবর্ধমান প্রভাবের বিষয়টি আমার পছন্দ নয়। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি যথার্থই বলেছেন, ভারতে কখনোই সেনা অভ্যুত্থান হতে পারে না। ১৯৪৭ সালের আগস্ট মাসে স্বাধীনতা লাভের পর সংসদীয় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বেছে নেওয়ার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু একই রকম মনোভাব ব্যক্ত করেছিলেন। তাঁর যুক্তি ছিল, ভারত দেশ হিসেবে বেশি রকম বড় আর এখানে রয়েছে বহুসংখ্যক বর্ণ, সম্প্রদায় ও ধর্মের উপস্থিতি। তবে আমার উদ্বেগটা হচ্ছে প্রশাসনের বিভিন্ন বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে মতামত দেওয়ার যে সুযোগ দেওয়া শুরু হয়েছে, তা নিয়ে। সিয়াচেন হিমবাহে সেনা মোতায়েনের বিষয়টিই ধরা যাক।
এর কোনো কৌশলগত গুরুত্ব নেই—বেশ কয়েকজন সাবেক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা এ কথা বলার পরও কি তা করার দরকার ছিল? যদি তার বিপরীতটাও ঠিক হয়, ভারত ও পাকিস্তানের দুই পররাষ্ট্রসচিব একটি মতৈক্যে পৌঁছার পর আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর উচিত ছিল ওই সিদ্ধান্তের আলোকে কাজ করা। কিন্তু তাঁরা বরং এটিকে স্থবির করে দিলেন। দুর্গম ওই ভূখণ্ডকে ‘নো ম্যানস ল্যান্ড’ হিসেবে রেখে দেওয়ার বদলে সেখানে উভয় দেশ সেনা মোতায়েন করেছে। সেখানে নিয়মিতভাবে ঘটছে প্রাণহানি। আরেকটি উদাহরণ হতে পারে আর্মড ফোর্সেস (স্পেশাল পাওয়ার্স) অ্যাক্ট (এএফএসপিএ)। এই বিশেষ ক্ষমতা আইনের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে সন্দেহবশত একজন ব্যক্তিকে আটক, এমনকি হত্যা করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সেনাবাহিনীকে কোনো আইনগত ব্যবস্থার সম্মুখীন হতে হবে না। উত্তর-পূর্ব ভারতে বহুদিন ধরে এটি বহাল আছে। সরকারের নিযুক্ত একটি কমিটি ‘অপ্রয়োজনীয়’ বলে অভিমত দিয়ে এটি প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীরই জয় হয়েছে, যার ফলে এএফএসপিএ এখনো বহাল আছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ তাঁর রাজ্যকে ওই আইনের আওতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেছেন। এমনকি প্রকাশ্যেও এ বিষয়ে কেন্দ্রের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সরকার তাঁর আরজিতে সাড়া দিচ্ছে না, কারণ সশস্ত্র বাহিনী চায় এএফএসপিএ বহাল থাকুক। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে রাজবন্দীদের মুক্তি দেওয়ার মতো সাধারণ ছাড় পর্যন্ত দিতে রাজি হয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। তুলনামূলকভাবে সাম্প্রতিক বিষয় হচ্ছে জম্মু ও কাশ্মীরের পাথরিবালের ‘এনকাউন্টার’ (বন্দুকযুদ্ধ) নিয়ে তদন্তের ঘটনা। সেনাবাহিনী বলছে, তারা সেখানে পাঁচজন ‘সন্ত্রাসবাদীকে’ হত্যা করেছে।
তবে স্থানীয় গ্রামবাসী বলছেন, নিহতরা ছিল সাধারণ নিরপরাধ মানুষ। কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিবিআই) বিষয়টি তদন্ত করে সুপ্রিম কোর্টের কাছে এর প্রতিবেদন দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, ওই পাঁচ ব্যক্তিকে হত্যা করে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা বন্দুকযুদ্ধের কাহিনি সাজানো হয়েছে। কুপওয়ারার ডেপুটি কমিশনার এস এম ইয়াসিন তাঁর ২৩ বছরের নীরবতা ভেঙে সম্প্রতি বলেন, ১৯৯১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কোনাম পশপোরা এলাকায় সংঘটিত কথিত গণধর্ষণের বিষয়ে প্রতিবেদনের ভাষ্য বদলে দেওয়ার জন্য তাঁকে হুমকি ও পদোন্নতির প্রস্তাব—দুই-ই দেওয়া হয়েছিল। এটা সত্যিই অদ্ভুত যে সেনাবাহিনী সে রকম ঘটনা আদৌ ঘটেনি বলেই দাবি করে। শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা এভাবে নিজেদের নির্দোষ বলে ঘোষণা করায় জম্মু ও কাশ্মীরের জনগণের মধ্যে বিচ্ছিন্নতার বোধ আর ক্ষোভ কেবল বেড়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত, সুপ্রিম কোর্টের একজন বিচারকের নেতৃত্বে ভুয়া বলে সন্দেহ হওয়া বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাগুলোর তদন্ত করা। এদিকে পাথরিবাল এনকাউন্টারের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ২০১২ সালের জানুয়ারিতে সম্ভাব্য এক অভ্যুত্থানের খবর প্রকাশ পায়। দুটি সেনা ইউনিট (একটি সাঁজোয়া ব্যাটালিয়ন) আগ্রা থেকে দিল্লি অভিমুখে অগ্রসর হয়। রাজধানীর সীমানার মধ্যে কোনো ধরনের সেনা চলাচলের জন্য পূর্বানুমতির বিধান রয়েছে। কিন্তু সেনা ইউনিট দুটি অনুমতি ছাড়াই অগ্রসর হয়। প্রতিরক্ষাসচিব মিলিটারি অপারেশনসের মহাপরিচালক (ডিজিএমও) লে. জেনারেল এ কে চৌধুরীকে মধ্যরাতে তলব করে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের ক্ষোভ ও উদ্বেগের বিষয়টি প্রকাশ করার পরই কেবল সেনা ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
তখন একটি দৈনিক পত্রিকা খবরটি প্রকাশ করলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী এ কে অ্যান্টনি তা ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছিলেন। কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা একই প্রতিক্রিয়া দেন। কিন্তু লে জেনারেল এ কে চৌধুরী অবসর গ্রহণের পর খবরটির সত্যতা নিশ্চিত করেন। আরও চমকে দেওয়ার মতো খবর দিয়েছেন বিমানবাহিনীর তখনকার প্রধান এন এ কে ব্রাউন। তিনি বলেছেন, দিল্লির কাছে অবস্থিত হিন্দন বিমানঘাঁটিতে সি ১৩০ বিমানে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করতে ছত্রীসেনাদের তৈরি করা হচ্ছিল। এর পরও প্রতিরক্ষামন্ত্রী বলেন, এটি ছিল ‘নিয়মিত প্রশিক্ষণ মহড়া’। ডিজিএমও-কে সচিবের মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দেওয়ার পর সেনারা সত্যিই আগ্রা ফিরে যাচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে সরকারের তরফ থেকে একটি হেলিকপ্টার পাঠানো হয়। এতে স্পষ্ট হয়ে যায়, এর পেছনে নিছক সেনা মোতায়েনের চেয়েও বড় কিছু আছে। ওই দিনটিতেই তখনকার সেনাপ্রধান ভি কে সিং তাঁর জন্মতারিখ নিয়ে মামলায় সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন। এ কারণেই সরকার সেনা ইউনিটের চলাচলের বিষয়টিকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখেছিল। ওই ‘নিয়মিত মহড়ার’ প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে অবসরপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তাদের দিয়ে বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রবল অস্বীকৃতির পরও একে অস্বীকারের পর্যায়ে ফেলে রাখা যায় না।
আর বেসামরিক বিষয়ে সশস্ত্র বাহিনীকে সীমিত পরিসরেও কথা বলার সুযোগ দেওয়া শুভ লক্ষণ নয়। ভারতের সশস্ত্র বাহিনী বরাবর রাজনীতি থেকে দূরে থেকেছে, যা তাদের পেশাগত প্রশিক্ষণ ও অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধার নিদর্শন; যেখানে কিনা পাকিস্তান ও বাংলাদেশ অতীতে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। উপমহাদেশের এ দেশ দুটির সেনাবাহিনীও ভারতের মতো একই প্রশিক্ষণ পেয়েছে। তার পরও তারা নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করেছে। সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে গেলেও সেখানে তাদের ভূমিকাকে খাটো করে দেখার অবকাশ নেই। ভারতের সেনাবাহিনী একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় তাদের নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে সচেতন এবং তা মেনে চলে। তবু আমি যে দৃষ্টান্তগুলোর উল্লেখ করলাম, সেগুলোকে গুরুতর সতর্কবাণী হিসেবে নেওয়া উচিত। ভারতের মাটিতে গণতন্ত্রের চেতনা দৃঢ়ভাবে প্রোথিত হলেও একে অবধারিত বলে ধরে নেওয়া যাবে না। কোনো সেনা কর্মকর্তার উচ্চাভিলাষের ক্ষুদ্র নজিরও সবিস্তারে তদন্ত করে দেখতে হবে। সশস্ত্র বাহিনীর কাজ হচ্ছে দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা। আর তাদের কাজে লাগানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার নির্বাচিত সরকারের। এটা একেবারেই মৌলিক বিষয় এবং একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোতে এ নিয়ে কোনো আপস করা চলবে না।

অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়- কর্তৃত্ব ফিরে পেলেন আনোয়ারা বেগম by সোলায়মান তুষার

অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানা ও কর্তৃত্ব নিয়ে চলা দ্বন্দ্বের মধ্যে ইসরাফিল আলম এমপিকে বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। সভাপতি করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাতা ও ভিসি অধ্যাপক আনোয়ারা বেগমকে।

পথশিশুদের সঙ্গে আনন্দঘন একদিন

‘কতদিন গোশত দিয়া খাই না। অনেক দিন পর পেটটা ভইরা খাইছি। অনেক ভাল লাগছে।’  কথাগুলো বলছিল সুবিধাবঞ্চিত শিশু ফিরোজ। ১২ বছর বয়সী ফিরোজকে ডিপজল নামেই চেনে তার পরিচিতরা। মা-বাবা নেই। রাত্রি যাপন করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর, আদাবরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায়।

নারীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেড়েছে by উৎপল রায়

গৃহবধূ বিউটি বেগম (২৫)। ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার পিরোজপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের কন্যা। একই উপজেলার আমবাগান গ্রামের মিঠু মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয় ২০১০ সালে। দু’বছর পর বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে।

বিশ্বের তৃতীয় ‘বিপজ্জনক’ রাষ্ট্র ভারত

আফগানিস্তান বা সিরিয়ায় বোমা হামলায় আপনার মৃত্যুর আশঙ্কা যতোটা বেশি, ভারতে সে আশঙ্কাটা আরও অনেক বেশি। নতুন এক পরিসংখ্যানে উঠে আসা তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের তৃতীয় বিপজ্জনক রাষ্ট্র ভারত। বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক রাষ্ট্রের তালিকায় ইরাক ও পাকিস্তানের পরই রয়েছে ভারতের নাম।

যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউক্রেন

ক্রিমিয়ার পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে গতকাল
সশস্ত্র ব্যক্তিরা অবস্থান নেয়। রয়টার্স
রাশিয়ার সশস্ত্র বাহিনী গত শনিবার ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপের দখল নিয়েছে। ইউক্রেনে সামরিক হস্তক্ষেপ চালাতে রুশ পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্টকে কর্তৃত্ব দেওয়ায় সেখানে সেনা মোতায়েন বাড়াচ্ছে মস্কো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। তলব করা হয়েছে দেশটির রিজার্ভ সেনাসদস্যদের। এদিকে ইউক্রেনের নবনিযুক্ত নৌবাহিনীর প্রধান ডেনিস বেরেজভস্কি সপক্ষ ত্যাগ করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা রাশিয়ার সিদ্ধান্তকে ‘ইউক্রেনের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন’ বলে মন্তব্য করেছেন। রাশিয়া ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী আরসেনিয়ে ইয়াৎসেনিউক। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দেশের নিরাপত্তা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সহায়তা চাওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে জরুরি বৈঠক ডেকেছে ন্যাটো। ন্যাটোর মহাসচিব অ্যান্ডেস ফগ রাসমুসেন বলেছেন, ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার তৎপরতা ইউরোপের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এর আগে গত শনিবার ক্রিমিয়ার রুশপন্থী প্রধানমন্ত্রী সের্গেই আকসাইনভ রাশিয়ার সহায়তা চেয়ে পুতিনের কাছে আবেদন করেন। এরপরই রুশ পার্লামেন্ট প্রেসিডেন্ট পুতিনকে ইউক্রেনের ক্রিমিয়ার পাশাপাশি অন্যান্য অঞ্চলে থাকা রুশ নাগরিক ও সেনাসদস্যদের স্বার্থ রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমতি দেয়। এ অনুমোদনের আওতায় পুতিন ইউক্রেনে রুশ বাহিনী পাঠাতে পারবেন। ‘দেশটিতে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে না আসা পর্যন্ত’ পুতিন এ ক্ষমতার প্রয়োগ করতে পারবেন। নৌবাহিনী প্রধানের সপক্ষ ত্যাগ: ইউক্রেনের নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান ডেনিস বেরেজভস্কি সপক্ষ ত্যাগ করেছেন। তিনি গতকাল ক্রিমিয়ার রুশপন্থী কর্তৃপক্ষের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করে শপথ গ্রহণ করেন। বেরেজভস্কি গতকাল এক টেলিভিশন বিবৃতিতে বলেন, ‘আমি স্বায়ত্তশাসিত ক্রিমিয়া প্রজাতন্ত্রের বাহিনী প্রধানের নির্দেশ পালনে শপথ নিচ্ছি।’ এর মাত্র এক দিন আগে ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট বেরেজভস্কিকে দেশটির নৌবাহিনী প্রধান পদে নিয়োগ দিয়েছিলেন। ক্রিমিয়ার পরিস্থিতি: ক্রিমিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে শনিবার রুশ সেনাদের অবস্থান ছিল লক্ষণীয়। তারা স্থানীয় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পাশাপাশি প্রধান বিমানবন্দর বন্ধ করে দিয়েছে। অবশ্য এসব সেনার পরিচয়সূচক চিহ্ন এবং সাঁজোয়া যান নেই।
ক্রিমিয়ার রাজধানী সিমফারপুলে শনিবার ভারী অস্ত্রসজ্জিত অসংখ্য সেনাসদস্যকে দেখা গেছে, যাঁরা সবুজ রঙের ক্যামোফ্লেজ উর্দি পরে ছিলেন। তাঁরা রুশ ভাষায় কথা বলছিলেন। তবে বালাকভা এলাকায় সীমান্তচৌকি অভিমুখী রাস্তায় বিশাল সেনাবহরের গাড়িগুলোতে রাশিয়ার নম্বরপ্লেট ছিল। মস্কোর পদক্ষেপ যুদ্ধের শুরু: ক্রিমিয়ায় রুশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে ইউক্রেনের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ইয়াৎসেনিউক বলেন, রাশিয়ার পদক্ষেপ ‘উসকানিমূলক’। তিনি অবিলম্বে সব রুশ সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, মস্কোর এ সামরিক পদক্ষেপ ‘যুদ্ধের শুরু এবং সম্পর্কের শেষ’। রিজার্ভ সেনাদের তলব: ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান আন্দ্রে পারুবি গতকাল বলেন, দেশটির রিজার্ভ সেনাদের তলব করা হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে ‘যুদ্ধের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ অবস্থায় রাখা হয়েছে। ওবামা-পুতিন ফোনালাপ: ইউক্রেন-সংকট নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা ও রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন গত শনিবার টেলিফোনে কথা বলেন। ৯০ মিনিটের আলাপকালে ওবামা বলেন, ইউক্রেনে সেনাদল পাঠিয়ে রাশিয়া আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করেছে। ক্রিমিয়া থেকে রুশ সেনাদের ঘাঁটিতে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। জবাবে পুতিন বলেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার স্বার্থ এবং রুশভাষীদের রক্ষা করার অধিকার মস্কোর রয়েছে। ন্যাটোর বৈঠক: ন্যাটোর ২৮ জন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে গতকাল বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে জরুরি বৈঠকে বসেন সংস্থাটির প্রধান অ্যান্ডারস ফগ রামুসেন। বৈঠক শুরুর আগে তিনি মন্তব্য করেন, মস্কোর তৎপরতায় ‘ইউরোপের শান্তি ও নিরাপত্তা’ হুমকির মুখে পড়ছে। রাশিয়াকে অবশ্যই তার সামরিক কর্মকাণ্ড ও হুমকি দেওয়া বন্ধ করতে হবে। রাশিয়ার চাপে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ গত নভেম্বরে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে একটি চুক্তি স্বাক্ষরে অস্বীকৃতি জানালে কিয়েভে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে তা ইয়ানুকোভিচবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। গণবিক্ষোভের মুখে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি তিনি কিয়েভ ছেড়ে রাশিয়ায় পালান। এএফপি, বিবিসি ও নিউইয়র্ক টাইমস।

কঠিন পরীক্ষায় বারাক ওবামা

বারাক ওবামা
ওয়াশিংটনের কড়া হুঁশিয়ারি উপেক্ষা করে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চলে রাশিয়া গত শনিবার সামরিক হস্তক্ষেপ জোরদার করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক চরম পরীক্ষার মুখোমুখি। সেটি হচ্ছে, মস্কোকে থামানোর মতো শক্তি বা ইচ্ছা ওয়াশিংটনের সত্যিই আছে কি না। ওবামা শুরু থেকেই বৈশ্বিক সংকটে জড়িয়ে পড়া থেকে বিরত থেকে অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলোর ওপরই বেশি নজর দিয়েছেন। তবে বর্তমানে তিনি এমন এক পূর্ব-পশ্চিম বিরোধের মুখোমুখি, যেটিকে স্নায়ুযুদ্ধের পর সবচেয়ে বিপজ্জনক বিরোধ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা মাসের পর মাস ধরে বলে আসছেন, তাঁরা ইউক্রেনের রাজনৈতিক সংকটকে ওয়াশিংটন-মস্কো রশি টানাটানির দিকে নিয়ে যেতে চান না। তবে গণবিক্ষোভের জের ধরে ইউক্রেনের রুশপন্থী প্রেসিডেন্ট ভিক্তর ইয়ানুকোভিচ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক সপ্তাহ পর শনিবার সেই অবস্থানে আর অটল থাকতে পারেননি মার্কিন কর্মকর্তারা। ইউক্রেন নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের খোলাখুলি পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব জবাব দিতে ওবামার বিদেশনীতিবিষয়ক কর্মকর্তারা মোটেই দেরি করেননি।
পুতিনের পার্লামেন্ট এরই মধ্যে ইউক্রেনে হস্তক্ষেপ করতে তাঁকে কর্তৃত্ব দিয়েছে। শনিবার ওবামা-পুতিন ফোনালাপ বেশ উত্তপ্ত ছিল বলেই মনে হয়েছে। এর আগে ওবামা গত শুক্রবার হুমকি দিয়েছিলেন, ইউক্রেনে শক্তি প্রয়োগ করলে, তার জন্য ‘মূল্য’ দিতে হবে। তবে এসব হুমকির কোনো তোয়াক্কাই করছেন না পুতিন। ক্রিমিয়াই হচ্ছে ইউক্রেনের একমাত্র অঞ্চল, যেখানে নৃতাত্ত্বিক রুশ জনগোষ্ঠী সংখ্যাগুরু। রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ কৃষ্ণসাগর নৌবহরের সদর দপ্তর সেখানেই অবস্থিত। ওবামার কট্টর সমালোচক মার্কিন সিনেটর জন ম্যাককেইন বলেন, ‘আসল বিষয় হচ্ছে, বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্র দুর্বল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা পুতিনকে উৎসাহিত করেছে।’ মস্কোকে পিছু হটাতে ওবামা প্রশাসনের হাতে গোনা কয়েকটি বিকল্প রয়েছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে, বর্তমান অবস্থানে অনড় থাকলে মস্কোকে অনেক কিছুই হারাতে হতে পারে। এ ছাড়া আগামী জুনে অনুষ্ঠেয় জি-৮ সম্মেলন বর্জন এবং ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে রাশিয়ার দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা। তবে সামরিক ব্যবস্থার দিকে যুক্তরাষ্ট্র যাবে না বলেই ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক অবস্থানে পরিবর্তন আসেনি। কূটনৈতিক বিকল্পের ওপরই নজর দিচ্ছে তারা।

অস্ত্রবিরতি ঘোষণার পর সামরিক হামলা

পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এক মাসের জন্য অস্ত্রবিরতি ঘোষণার একদিন পর গতকাল রোববার খাইবারের বারা এলাকায় হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। জঙ্গি নেতা মোল্লা তামানচের গোপন আস্তানায় চালানো এ হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছে। সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা আবার শুরুর লক্ষ্যে টিটিপি গত শনিবার এই ঘোষণা দেয়। তামানচের নেতৃত্বে গত শনিবার পোলিও টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে জড়িত কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর ভয়াবহ হামলায় ১২ জন নিহত হয়। গত মাসে পাকিস্তান সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর সেনাবাহিনী তালেবানদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর গুঞ্জনের মধ্যেই এই ঘোষণা এল। পাকিস্তানের জঙ্গি সংগঠনগুলো মনে করে, পোলিও কর্মসূচির আড়ালে দেশটিতে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আবার পোলিওতে ব্যবহূত ওষুধের কারণে মানুষ সন্তান জন্মদানের ক্ষমতা হারায় বলে পাকিস্তানিদের মধ্যে একটি ধারণা প্রচলিত। পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সরকার কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করবে না। এ ধরনের যেকোনো তৎপরতার জবাব দেওয়া হবে।
শনিবার হামলার কয়েক ঘণ্টা পর টিটিপি এক মাসের অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয় এবং অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনকেও অস্ত্রবিরতি মেনে চলার আহ্বান জানায়। তালেবানের সঙ্গে সরকারের শান্তি আলোচনা গত মাসে শুরু হলেও সাফল্যের মুখ দেখেনি। কারণ, জঙ্গিদের কাছে আটক ২৩ জন সেনাকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার পর সেনাবাহিনী পাকিস্তানের গোলযোগপূর্ণ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে জঙ্গিদের গোপন আস্তানায় বিমান হামলা শুরু করে। টিটিপির মুখপাত্র শহীদুল্লাহ শহীদ বলেন, সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তালেবান ওই অস্ত্রবিরতির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আলোচনায় অংশ নেওয়া সরকারি প্রতিনিধিদলের এক সদস্য বলেন, তালেবান ও অন্য জঙ্গিরা অস্ত্রবিরতির প্রতি সম্মান দেখালে আলোচনা আবার শুরু করতে তাঁদের কোনো সমস্যা নেই। তবে পাকিস্তানের অনেকেই টিটিপির ওই অস্ত্রবিরতির ঘোষণাকে সন্দেহের চোখে দেখছে। কারণ, সমমনা অন্য জঙ্গিদের ওপর সংগঠনটির কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই এ ধরনের অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করা হলেও তা পাকিস্তানজুড়ে বাস্তবায়নের সুযোগ সীমিত। রয়টার্স ও বিবিসি।