Monday, March 3, 2014

বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন- তাদেরও বলার কিছু থাকতে পারে by শান্ত নূরুননবী

বাংলাদেশে বহুল আলোচিত সামাজিক সমস্যার নাম বাল্যবিবাহ। নারী উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা বাল্যবিবাহকে নারীর ক্ষমতায়নের অন্যতম প্রধান বাধা হিসেবে বিবেচনা করেন। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল ও আইসিডিডিআরবি এ সম্পর্কে গত বছর যে জরিপ ফলাফল প্রকাশ করেছে, তাতে উঠে এসেছে ভয়াবহ চিত্র।

ঋতু বন্দনা- মধুমঙ্গলের কাহিনি by মাহবুব আলম

রাতের আকাশ থেকে হিমের প্রলেপ মাখা চাদরটা এখন উধাও। মাথার ওপরে ওল্টানো বাটির মতো ঝকঝকে বড় এক আকাশ। সেই আকাশ ভরা চাঁদ। কখনো বাঁকা কাস্তে চাঁদ, কখনো কামড়ে খাওয়া বিস্কুট। কখনো চাঁদ গোল সোনালি টোপাকুল। পূর্ণিমায় সেই চাঁদ খল খল হাসে। হাসি কিষান-কিষানির মুখেও।

বিশ্বায়নের কাল- অজ্ঞাতনামাদের ‘উদ্ধার’ করবে কে? by কামাল আহমেদ

বিশ্বপরিসরে মানবাধিকারকর্মীরা প্রায়ই ইংরেজিতে ডিহিউম্যানইজিং কথাটি ব্যবহার করে থাকেন। মানুষের মনুষ্যত্ব বা মানবিক বোধ নষ্ট কিংবা ভোঁতা করে দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর আচরণের বর্ণনায় এটি ব্যবহূত হয়ে থাকে। বাংলা একাডেমির অভিধান অনুসারে এর অর্থ হচ্ছে ‘অমানবিকীকরণ’।

জাতির এই অপচয় মেনে নেওয়া যায় না- শিক্ষার নামে বেকার তৈরি

শিক্ষার অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য মানবসম্পদের উন্নয়ন ও বিকাশ। কিন্তু বাংলাদেশে যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে, তা কোনোভাবেই সময়ের চাহিদা মেটাতে পারছে না, মননের তো নয়ই। প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা অগ্রগতির নির্দেশক না হয়ে সমাজের জন্য অনেকটা বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সন্ত্রাসবাদ- জামায়াতের ‘গৃহযুদ্ধ’ ও জাওয়াহিরির হুংকার by মইনুল ইসলাম

সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সংস্থা ‘জেইনস’-এর মার্কিন সহযোগী সংস্থা ‘আইএইচএস’ তাদের প্রকাশিত ‘গ্লোবাল টেররিজম অ্যান্ড ইনসারজেন্সি অ্যাটাকস ইনডেক্স’-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত বিশ্বের সন্ত্রাসী সংগঠনের শীর্ষ ১০টির তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে তৃতীয় বৃহত্তম সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

প্যারিসে বাংলা প্রেসক্লাব নির্বাচনে ফারুক সভাপতি, দেবেশ সম্পাদক by আনাস পাশা

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সাংবাদিকদের সংগঠন ফ্রান্স বাংলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন করা হয়েছে। ক্লাব সদস্যদের গোপন ব্যালট ভোটে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে সভাপতি পদে সাংবাদিক ফারুক নওয়াজ খান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিক দেবেশ বড়ুয়াকে নির্বাচিত করা হয়।

কলকাতায় যেখানে পাবেন আসল কাশ্মীরি শাল by ভাস্কর সরদার

শীত নিবারণে শালের জুড়ি নেই। আর সেটি যদি হয় কাশ্মীরি, তাহলে তো সোনায় সোহাগা। নারী-পুরুষ সবারই প্রিয় কাশ্মীরি শাল। সবাই চায় আসল কাশ্মীরি শাল কিনতে। কিন্তু, কোথায় পাবেন আসল কাশ্মীরি শাল!

এবার কানেই রাখা যাবে কম্পিউটার

ছোট্ট আকারের ব্যক্তিগত কম্পিউটার। আকার এতটাই ছোট যে কম্পিউটারটি যে কেউ কানে গয়নার মতো পরে থাকতে পারবেন। আর এটি নিয়ন্ত্রণ করাও খুব সহজ; কেবল চোখের পলক ফেলে বা জিব নাড়াচাড়ার মাধ্যমেই নানান কাজ করে ফেলা যাবে এই কম্পিউটারে।

জামায়াতের ‘গৃহযুদ্ধ’ ও জাওয়াহিরির হুংকার

রাজশাহীতে পুলিশের ওপর শিবিরের দলবদ্ধ আক্রমণ
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক সংস্থা ‘জেইনস’-এর মার্কিন সহযোগী সংস্থা ‘আইএইচএস’ তাদের প্রকাশিত ‘গ্লোবাল টেররিজম অ্যান্ড ইনসারজেন্সি অ্যাটাকস ইনডেক্স’-এর ভিত্তিতে নির্ধারিত বিশ্বের সন্ত্রাসী সংগঠনের শীর্ষ ১০টির তালিকায় জামায়াতে ইসলামীর ছাত্রসংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবিরকে তৃতীয় বৃহত্তম সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের পাকিস্তানি পূর্বসূরি ইসলামী ছাত্র সংঘের ঐতিহাসিক বিকাশের ধারা একই সঙ্গে বিবেচনা করলে সংগঠনটি এই ১০টি শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপের মধ্যে এক নম্বর উপাধিটাও পেতে পারত। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আলবদর ও রাজাকার বাহিনীতে রূপান্তরিত হয়ে ইসলামী ছাত্র সংঘের ক্যাডাররা পাকিস্তানি ঘাতক সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করার ফলেই লাখ লাখ বাঙালিকে হত্যায় সফল হয়েছিল তারা। পাকিস্তানি জেনারেল-কর্নেল-মেজর সাহেবরা তাঁদেরই লিখিত বিভিন্ন পুস্তকে এটা স্বীকার করেছেন। বঙ্গবন্ধুর শাসনামলে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্র সংঘ নিষিদ্ধ থাকলেও দালালদের ক্ষমা ঘোষণার সুযোগ নিয়ে তখনকার বিভিন্ন সরকারবিরোধী ছাত্রসংগঠনে ভিড়ে গিয়েছিল ইসলামী ছাত্র সংঘের ক্যাডাররা। তারা গোপনে ইসলামী ছাত্র সংঘের সাংগঠনিক কার্যক্রম পুরোপুরিই চালিয়ে গেছে। ১৯৭৬ সালে জিয়াউর রহমানের জারি করা রাজনৈতিক দলবিধির সুযোগ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী নতুন নামে ‘ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগে’ আত্মপ্রকাশ করে ১৯৭৭ সালে।
ওই দলের অঙ্গসংগঠন হিসেবে পুনরাবির্ভাব ঘটে ছাত্র সংঘের স্থলে নতুন নামধারী ইসলামী ছাত্রশিবিরের, যার প্রথম সভাপতি ছিলেন বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে বিচারাধীন আসামি মীর কাসেম আলী। ১৯৭৯ সালে জামায়াতে ইসলামী স্বনামে আসার কিছুদিনের মধ্যেই বাংলাদেশের রাজনীতির মাঠ থেকে চিরতরে গুটিয়ে নেওয়া হয় ইসলামিক ডেমোক্রেটিক লীগকে। আমরা অনেকেই হয়তো এখন ভুলে গেছি যে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ আল সৌদকে পুরো আরব উপদ্বীপের প্রধান শাসকের ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করেছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদীরা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন বিশ্বের প্রধান সাম্রাজ্যবাদী পরাশক্তিতে পরিণত হয়, তখন সৌদি আরবের শাসক পরিবারের ওপর একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে তদানীন্তন ভারতবর্ষে স্বাধীনতাসংগ্রাম জোরদার হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতেই ১৯৪১ সালে ব্রিটিশ শাসকদের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় ‘জামায়াতে ইসলামী হিন্দ’ প্রতিষ্ঠা করেন মাওলানা মওদুদী। তখনকার জনপ্রিয় পাকিস্তান প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নেন মাওলানা মওদুদী, পাকিস্তানকে নাম দেন ‘নাপাকিস্তান’। কিন্তু ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই পাকিস্তানে ঘাঁটি গাড়েন মওদুদী ও তাঁর দল জামায়াতে ইসলামী। ১৯৫৩ সালে জামায়াতে ইসলামীর ইন্ধনে কাদিয়ানিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত মারাত্মক দাঙ্গায় কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারালে মওদুদীসহ জামায়াতের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতার আদালতের বিচারে প্রাণদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তদানীন্তন সৌদি বাদশা ইবনে সৌদের প্রবল চাপে নতি স্বীকার করে পাকিস্তান সরকার তাদের ক্ষমা করে দিতে বাধ্য হয়। ষাটের দশকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে যে খাদ্যসাহায্য দিত, তার মূল্য থেকে যে অংশটি ‘কাউন্টার পার্ট ফান্ড’ হিসেবে স্থানীয় মুদ্রায় পরিশোধ করা হতো,
তার বিরাট একটা অংশ জামায়াতের জন্য বরাদ্দ করা হতো। ঠান্ডা যুদ্ধের ওই সময়টায় সোভিয়েত ইউনিয়ন ও চীনের সহায়তায় বিশ্বের দেশে দেশে সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম জোরদার হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে মার্কিন ভূরাজনৈতিক রণকৌশলে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে ধর্মীয় উন্মাদনাকে হাতিয়ার হিসেবে মার্কিন পৃষ্ঠপোষকতায় ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দলগুলোকে উৎসাহিত করার নীতি অগ্রাধিকার পেয়েছিল। মিসরের ইথওয়ানুল মুসলেমিন, ইন্দোনেশিয়ার জামাহ্ ইসলামিয়া, পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী তখন থেকেই মার্কিন আগ্রহে নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে যত্নবান হয়। ১৯৭৯ সালে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে স্বনামে কার্যক্রম জোরদার করার পর্যায়ে তার প্রধান আর্থিক পৃষ্ঠপোষকের ভূমিকায় ছিল সৌদি সরকার, মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ধনকুবেররা ও ক্রমবর্ধমান ইসলামি এনজিওগুলো। একই ধারাবাহিকতায় ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে ইসলামী ছাত্রশিবির ক্রমাগতভাবে শক্তি সঞ্চয় করতে শুরু করে। অন্যদিকে, স্বাধীনতা-উত্তর বাংলাদেশে ১৯৭২ সাল থেকে শুরু করে পুরো সত্তর দশক অগ্রগামী ছিল বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্রের স্লোগানধারী বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও মুজিববাদী ছাত্রলীগ। জিয়ার আমলে যুক্ত হয় বিএনপির ছাত্রসংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। ১৯৮০ সালের চাকসু নির্বাচনে ছাত্রলীগের উভয় গ্রুপে ভাঙনের ফলে ইসলামী ছাত্রশিবির সহসভাপতিসহ অধিকাংশ পদে জয়ী হয়। তখন থেকেই চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছাত্রশিবিরের সশস্ত্র ক্যাডারদের অভয়ারণ্য হয়ে ওঠে। ১৯৮২ সালে স্বৈরাচারী এরশাদ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মদদে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবির সারা দেশে দ্রুত শক্তি বাড়াতে সমর্থ হয় বলে অভিযোগ আছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান পরিচালিত আফগান যুদ্ধে বাংলাদেশ থেকে যে শত শত ‘মুজাহিদ’ পাঠানো হয়, তাতে এখানকার ধর্মীয় সংগঠনগুলোর সক্রিয় ভূমিকা ছিল। কক্সবাজার ও টেকনাফের রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরগুলোকেও জামায়াত-শিবির জঙ্গি প্রশিক্ষণের ক্যাম্প হিসেবে পুরো আশির দশকে ব্যবহার করেছে। যেহেতু সৌদি আরবের বিভিন্ন জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর প্রত্যক্ষ অর্থায়নে মুজাহিদ সংগ্রহের ওই কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল, তাই বাংলাদেশ সরকার জামায়াত-শিবিরের সেসব প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ১৯৮২ সালে এরশাদ বেসরকারি খাতে ব্যাংক প্রতিষ্ঠার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের একাধিক সংস্থার অর্থায়নে প্রতিষ্ঠা পায় ‘ইসলামী ব্যাংক, বাংলাদেশ’। বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক সর্ববৃহৎ ব্যাংকে পরিণত হয়েছে। গত ৩২ বছরে জামায়াত-শিবিরের অর্থনৈতিক সাম্রাজ্য বিস্তারের মূল চাবিকাঠি ধারণ করে রয়েছে ইসলামী ব্যাংক। মধ্যপ্রাচ্য থেকে এ দেশে আসা প্রবাসীদের রেমিট্যান্সের এক-তৃতীয়াংশেরও বেশি এককভাবে আসে এ ব্যাংকের মাধ্যমে। জামায়াত-শিবিরের নেতা-কর্মীরা যে নিয়মিত ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন, তার উৎস কোথায়, সেটিও খুঁজে বের করা জরুরি। ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করে—এটা আমি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি হিসেবে ১৯৮৬ সালের মাঝামাঝি জাতিকে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানিয়েছিলাম। তখন আওয়ামী লীগসহ দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো গুরুত্বপূর্ণ নেতাই আমার সে কথায় যথাযথ গুরুত্ব দেননি।
১৯৮৬ সালের ২৬ নভেম্বর এরশাদের ছাত্রসংগঠন জাতীয় ছাত্রসমাজের নেতা হামিদের হাতের কবজি কেটে নিয়ে ছুরির আগায় গেঁথে ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিজয় মিছিল করেছিল। এর ধারাবাহিকতায় ক্রমেই একটি ‘কিলিং স্কোয়াড’ হিসেবে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার অঙ্গনগুলো দখল করার অপারেশন চালিয়ে যাচ্ছে ইসলামী ছাত্রশিবির। এখন শুধু জামায়াতে ইসলামীর জন্য নয়, ১৯-দলীয় জোটের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্যও ইসলামী ছাত্রশিবির সংঘাতমূলক রাজনীতির মাঠে প্রধানতম শক্তির উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। ১৯৯১ সালে ইসলামী ছাত্রশিবির চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের তদানীন্তন উপাচার্যকে প্রথমে মাসাধিক কাল ক্যাম্পাসের ‘সাব-জেলে’ অবরুদ্ধ রাখার পরবর্তী পর্যায়ে ক্যাম্পাস থেকে সপরিবারে বিতাড়িত করে এক বছর বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরোপুরি অচল করে রেখেছিল বেগম খালেদা জিয়ার সরকার। কিন্তু ওই ঘটনা সম্ভব হয়েছিল ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর গোপন গাঁটছড়ার কারণে। ওই গাঁটছড়া ১৯৯৬ সালে কিছুটা ছিন্ন হয়েছিল জামায়াত এককভাবে নির্বাচনী রাজনীতিতে নিজেদের শক্তিমত্তা পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে। কিন্তু ১৯৯৬ সালে মাত্র তিনটি সংসদীয় আসনে জয়ী হয়েছিল তারা। এর মাধ্যমেই জামায়াত-শিবির পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছে, আরও বহুদিন বিএনপির কাঁধে সওয়ার হয়ে তাদের নির্বাচনে অবতীর্ণ হতে হবে। একই সঙ্গে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলগুলোতে তারা নিজেদের সমর্থক সংগ্রহ করে শক্ত ঘাঁটি গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়ে এগিয়ে চলেছে। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দেশের কিছু বাছাই করা অঞ্চলেই জামায়াত-শিবিরের তাণ্ডব ছিল সবচেয়ে বেশি। সেসব পকেটে তারা পুলিশ বাহিনীকে পর্যুদস্ত করতে সক্ষম হয়েছিল। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর কৌশলগত কারণেই জামায়াত-শিবির সাময়িকভাবে সংঘাত কমিয়ে সাংগঠনিক শক্তিকে পুনর্গঠিত করে নিচ্ছে।
পরবর্তী মানবতাবিরোধী অপরাধীর রায় যখন সুপ্রিম কোর্ট থেকে বেরোবে, তখন আবারও শুরু হবে তাদের সশস্ত্র তাণ্ডব। এর মধ্যে এসেছে আল-কায়েদা নেতা জাওয়াহিরির অডিওবার্তা। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, জামায়াত-শিবির একটি আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের বাংলাদেশি এজেন্সি। রসুনের কোয়া অনেক থাকলেও গোড়া থাকে একটাই। বাংলাদেশের অনেক সন্ত্রাসী গ্রুপের সূতিকাগার জামায়াত-শিবির। ওই গ্রুপগুলো জামায়াত-শিবিরের পকেট-সংগঠন। প্রয়োজনে এক পকেট থেকে বেরোবে জেএমবি-বাংলা ভাই, আরেক পকেট থেকে বেরোবে হুজি, লস্কর-ই-তাইয়েবা, হিজুবত তাহ্রীর কিংবা হিজবুত তওহীদ। তাই রসুনের কোয়া নিয়ে মাতামাতি করলে সন্ত্রাসের ‘মাদার অর্গানাইজেশন’ থেকে ফোকাসটা সরে যায়। আল-কায়েদার জাওয়াহিরির অডিও-বার্তা কোত্থেকে আপলোড করা হয়েছে, ওটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, ওই বার্তার ড্রাফট জামায়াত-শিবিরের ‘থিংক-ট্যাংক’ থেকেই গেছে বলে অনেকে মনে করেন। ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে জামায়াতের একাধিক নেতা গৃহযুদ্ধ শুরু করার ঘোষণা দিয়েই তাণ্ডবে নেমেছিলেন। ১৯৯১ সালে সরকারের তদানীন্তন স্বরাষ্ট্রসচিব লুতফুল্লাহিল মজিদ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্যদের সঙ্গে এক আনুষ্ঠানিক বৈঠকেই ঘোষণা করেছিলেন, জামায়াত-শিবির এ দেশের একটি ‘সিভিল আর্মি’। আর ২৩ বছরের ব্যবধানে তারা এখন রাষ্ট্রক্ষমতা দখলের সশস্ত্র যুদ্ধ শুরু করেছে। জাওয়াহিরির রণহুংকার সেই যুদ্ধেরই নতুন অধ্যায় শুরুর জানান দিচ্ছে মাত্র।
ড. মইনুল ইসলাম: অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সাবেক সভাপতি, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি।

মেধাবী ও রাজনীতি-সচেতন ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব দিন

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পক্ষে প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পক্ষে অবস্থান নিয়ে জাতীয় সংসদে বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর পাশাপাশি তিনি বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন। এর সমালোচনা করে সাজিদ লিখেছেন: কোথায় বিদ্যুতের দাম কমার কথা, তা না করে কীভাবে মানুষকে বিদ্যুৎ নেওয়া থেকে বঞ্চিত করা যায়, তার উপায় বের করছে সরকার। আসাদ: আপনি বাড়াবেন বিদ্যুতের দাম, বাড়িওয়ালা বাড়াবে ভাড়ার দাম। তরকারিওয়ালা, বাস—সবাই বাড়াবে। মাঝখান থেকে আমরা শেষ। এই বাংলাদেশে একটা জিনিসের দাম বাড়লে সব কেমনে যেন বেড়ে যায় আল্লাহ জানে। রাসেল আহমেদ: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দয়া করে আর বাড়াইয়েন না, তাহলে হারিকেনে ফিরে যেতে হবে...। আরমান: ছোটবেলায় অন্ধকার দেখলে ডরাইতাম। গত মাসে বিদ্যুতের বিল দেখার পর এখন আলো দেখলে ডর লাগে। এর পরও যদি দাম আবার বাড়ে, তাতে আমাদের মতো গরিবদের অন্ধকারই ভালো।
জেএমবি চালিত হচ্ছে কারাগার থেকেই
কারাগারে থাকা শীর্ষস্থানীয় নেতাদের নির্দেশনায় জেএমবি পুনরায় সংগঠিত ও সক্রিয় হয়েছে। এসব নেতা কারাগার থেকে নিয়মিত মুঠোফোন, চিঠিসহ নানা মাধ্যমে বাইরে থাকা জঙ্গিদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং দল পরিচালনা করছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় পাঠক দেবপ্রিয় দেব লিখেছেন: সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তাব্যক্তিদের অনেকবার বলতে শুনেছি, বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের শিখর নির্মূল বা দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে। সরকারের মুখপাত্ররা নানা সময়ে অভিযোগ করেছে, জঙ্গিবাদ বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে গড়ে উঠেছিল। তাহলে এখন আমরা এসব কী শুনছি? জঙ্গিবাদ দমনে সরকারের সফলতা কতটুকু. এই প্রশ্ন আমার মনে ঘুরপাক খাচ্ছে। মো. মোশারেফ হোসেন: কারাগারে বসে জঙ্গিরা মুঠোফোন ব্যবহার করে জঙ্গি তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে আর কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, কারা অভ্যন্তরে সিসি ক্যামেরা লাগানো আছে এবং জ্যামার চালু আছে। তাহলে কি সিসি ক্যামেরা কিংবা জ্যামার নিয়ন্ত্রণকারীদের সঙ্গে জঙ্গিদের সুসম্পর্ক আছে। সাইফুর সাহিন: যদি কারাগার থেকেই জেএমবির কার্যক্রম পরিচালিত হয়, তাহলে কারাগারের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অগোচরেই বিষয়টা ঘটছে, এ রকম ধারণা বোকারাও পোষণ করবে না। কারাগারের দায়িত্বে থাকা সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নজরদারির মধ্যে এনে জিজ্ঞাসাবাদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া এবং প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করার এখনই সময়। সিকদার দস্তগীর: আগেও বলেছি, আবারও বলছি, রাষ্ট্রের শাসনব্যবস্থায় দুর্বলতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব-কর্তব্যে অবহেলা বা গাফিলতি বহাল রেখে কোনো দিনই এসব সমস্যার সমাধান হবে না।
‘অছাত্রদের’ ছাত্রদল ব্যর্থ, পরিবর্তন চান খালেদা জিয়া
অছাত্রনেতাদের বাদ দিয়ে নিয়মিত ছাত্রদের ছাত্রদলের নেতৃত্বে আনতে চাইছেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। এ ব্যাপারে পাঠক কাজী এস আহমদ লিখেছেন: ছাত্রদলের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, দেরিতে হলেও সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করুন। সেই সঙ্গে মেধাবী এবং রাজনীতি-সচেতন ছাত্রদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিন। যাঁদের কাছে শিক্ষা থাকবে সবার ওপরে, ছাত্রলীগের মতো পেশিশক্তির ওপর ডক্টরেট করবে না এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সবার আগে থাকবে।
মো. সাইফুল আলম: আহা রে! যদি এমন হতো...পড়াশোনা ও জ্ঞান অর্জনের আন্দোলনে ছাত্রনেতারা আগে থাকবে! ‘যদি তাঁরা এমন বলতেন...পরীক্ষায় এ গ্রেড পাইলি না কেন? তোরা “অকৃতজ্ঞ” ও “ব্যর্থ”... বাপ-মা কত কষ্ট করে তোদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছে। কৃষক-শ্রমিক-মজুর তথা আপামর জনতার করের টাকায় তোরা পড়াশোনা করতে এসে ভালো গ্রেড পাবি না কেন? লাশ হবি কেন? তোরা অকৃতজ্ঞ, তোরা ব্যর্থ...।’ আমার মায়ের সন্তানেরা কেন আন্দোলনে আগে থাকবে? আপনি মা, আপনার ছেলে কোন আন্দোলনে আগে থেকেছিল? নাকি এ জন্য ছাত্রই বানাননি, ছাত্রনেতা বনে যাওয়ার ভয়ে...। সবুর: বাংলাদেশে ছাত্ররাজনীতির কোনো প্রয়োজন নেই। আইন করে সব ধরনের ছাত্ররাজনীতি বন্ধ করা উচিত। এম সাহিদুল খান: সব উদ্যোগই ভালো উদ্যোগ। কিন্তু বাস্তবায়নের বেলায় ‘আই এম সরি...।’
উচ্চশিক্ষিতদের প্রায় অর্ধেকই বেকার
কাজের বাজারের চাহিদার সঙ্গে শিক্ষাব্যবস্থা সংগতিপূর্ণ না হওয়ায় দেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। প্রতিবছরই উচ্চশিক্ষা নিয়ে শ্রমবাজারে আসা শিক্ষার্থীদের প্রায় অর্ধেক বেকার থাকছেন অথবা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছেন না। এ নিয়ে প্রতিক্রিয়ায় পাঠক নুরুর রহমান লিখেছেন: বাংলাদেশের ৪৭ শতাংশ স্নাতকই বেকার। ওঁদের কথা ভাবার সময় তথাকথিত স্বয়ংক্রিয়, তেজস্ক্রিয় বা নিষ্ক্রিয় কোনো রাজনৈতিক দলেরই নেই, ওরা আছে নিজেদের ক্ষমতার মোহে, শত শত তোরণের নিচ দিয়ে গিয়ে অর্থহীন কর্মসূচি জনগণের দিকে ছুড়ে মারার জন্য, আর মানুষকে বোকা বানিয়ে নিজেদের সম্পদের মাত্রা বাড়ানোর তালে। আবদুল্লাহ: হাজার বছরের ইতিহাসে দেখা যায়, যে জাতি আবিষ্কার করে সে জাতি এগিয়ে থাকে। আমাদের উন্নতির চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে। শুধু এক মোবাইল আবিষ্কার থেকেই পৃথিবীতে প্রায় ছয় কোটি লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। আমাদের দরকার আবিষ্কারক সরকার। রাকিব: মূল দায়ী অতিরিক্ত জনসংখ্যা। এমন না যে চাকরি খালি আছে, কিন্তু শিক্ষার মান খারাপ হওয়ায় চাকরি দেওয়া হচ্ছে না। চাকরিই খালি নেই। আমাদের কর্মসংস্থান নিয়ে চিন্তাভাবনা নতুন করে করা উচিত। পড়ালেখা করে একটা চাকরি—এ চিন্তা বাদ দিয়ে ব্যবসা বা অন্য কোনো উদ্যোগের ব্যাপারে আরও ভাবা উচিত। আনোয়ার হক: কারিগরি শিক্ষার দিকে আরও নজর দিতে হবে, যাতে বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে। এস এম কামরুল হাসান: মানুষ চাকরি পায় না, আবার সেখানেও সরকারি চাকরিতে ৫৬ শতাংশ কোটা! বিচিত্র নিয়ম আমাদের এই লুটেরাদের দেশে। কোটার বাইরে যে সব জায়গায় মেধার মূল্যায়ন হয়, তা-ও নয়, আছে দলবাজি, লবিং, ঘুষ দেওয়াসহ নানা রকম কর্মকাণ্ড।
ট্রাইব্যুনালের রায়ে বিস্মিত আইসিসি ও বিসিবি
বিপিএলের ফিক্সিংয়ের অভিযোগে বিসিবির শৃঙ্খলা কমিটি ১০ জনের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনলেও ট্রাইব্যুনাল ছয়জনকেই নির্দোষ বলে রায় দিয়েছেন। এ ব্যাপারে পাঠক নাবিল লিখেছেন: একটা আদর্শ পৃথিবীতে দোষ স্বীকারকারীদের শাস্তি হতো অনেক কম। তাদের ক্ষমা করা হতো। যেহেতু আমরা আদর্শ পৃথিবীতে বাস করি না, সুতরাং এ পৃথিবীতে দোষ স্বীকার করা ব্যক্তিরাই চরম বোকা। আশরাফুল, আপনি কি বুঝতে পারেননি এত দিনেও এ সত্য কথা? ভারতের ধোনি-শ্রীনিবাসন জুটির বিরুদ্ধে কত সন্দেহের তির, কিন্তু তাঁরা স্বীকার করেননি, তাঁরা কঠিন বাস্তবতাকে আগেই বুঝে ফেলেছেন। রফিকুল ইসলাম: আশরাফুল, তুমি আসলে সেরা। আশা রাখি তুমি একদিন ফিরবে। আমরা তোমার শুভ কামনা করি।

মঙ্গলের মালিক হতে প্লট কিনুন ৫ ডলারে!

আপনি কি মঙ্গলগ্রহে জমি কিনতে চান? তাহলে যোগাযোগ করুন মহাকাশ গবেষণায় বৃত্তিদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘উইঙ্গুর’ সঙ্গে। উইঙ্গু তাদের ওয়েবসাইটে মঙ্গলগ্রহে জমি কেনার সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করে রেখেছে। তবে জমিগুলো নিপাট সমতল ভূমি নয়। মঙ্গলে মহাশূন্য থেকে যে বৃত্তাকার খাদগুলো দেখা যায়- সেগুলোই শুধু আপনি কিনতে পারেন। এজন্যে আপনার মূল্য গুনতে হবে মাত্র ৫ মার্কিন ডলার (প্রায় ৩৯০ টাকা) থেকে ২৫০ মার্কিন ডলার (প্রায় সাড়ে ১৯ হাজার টাকা)। মূল্য পরিশোধের পর প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণাদির কাগজপত্র আপনার ঠিকানায় পৌঁছে যাবে। এভাবেই পৃথিবীর চেয়ে বড় এ লাল রঙের গ্রহটির গর্বিত মালিকদের একজন হতে পারেন। আপনার দেয়া অর্থ থেকে- মহাকাশ গবেষণাকেন্দ্রিক প্রকল্প নিয়ে যে সব বিজ্ঞানী, শিক্ষানবিশ মহাকাশ গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয় এবং অলাভজনক গবেষণা সংগঠনসমূহ কাজ করে চলেছে- তাদের বৃত্তি সহায়তা দেয়া হবে। এ ধরনের বৃত্তি প্রদানের জন্যে উইঙ্গু-ই বিশ্বে একমাত্র প্রতিষ্ঠান। যারা এখনও ভাবছেন সে ফ মজা করা হচ্ছে- পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে তাদের জন্যে বাড়তি আরেকটু তথ্য সংযোজন করতে হচ্ছে।
মঙ্গলে জমি কিনে ফেলে রাখার চেয়ে আপনি যদি সেখানে গিয়ে বসবাস শুরু করতে চান তার ব্যবস্থাও করা হবে। ব্যবস্থা করবে একটি ডাচ্ সংস্থা। এ পর্যন্ত মঙ্গলে মানববসতি স্থাপন নিয়ে যে রূপরেখা তৈরি হয়েছে সে অনুযায়ী-প্রথম ৪ সদস্যের একটি মহাকাশচারী দলকে মঙ্গলে জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ পাঠানো হবে ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে। এর প্রতি দু’বছর পর পর- নির্দিষ্টসংখ্যক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মঙ্গলের অধিবাসী হতে ইচ্ছুকদের গ্রহটিতে পাঠানো হবে। মঙ্গলে যেতে হলে ন্যূনতম বয়স হতে হবে ১৮ বছর এবং শরীর হতে হবে নীরোগ এবং মজবুত। বসতি দেখতে হবে অনেকটা এমন- তবে মঙ্গলে যাওয়ার পূর্বে নিশ্চিত করতে হবে এমন একটি চূড়ান্ত বুক ধড়াস শর্ত রয়েছে। সেটি হল যারা একবার যাবেন, তারা আর কখনও পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারবেন না। নেদারল্যান্ডের অলাভজনক প্রতিষ্ঠান ‘মার্স ওয়ান’ তাদের এ ‘মার্স কলোনি পাইওনিয়ার’ প্রকল্পের আনুমানিক ব্যয় ধরেছে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ

বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ
যুক্তরাজ্যে তৈরি করা হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ। বলা হচ্ছে ৩০০ ফুট দীর্ঘ এই বিমানপোতটি হেলিকপ্টার, এয়ারশিপ ও উড়োজাহাজ—এ তিনের সমন্বয়। এর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো একবার জ্বালানি ভরার পর এটি টানা তিন সপ্তাহ উড়তে সক্ষম। আগের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ ছিল এয়ারবাস কোম্পনির এ-৩৮০ এবং বোয়িং কোম্পানির ৭৪৭-৮। নতুন উড়োজাহাজটি এ দুটির চেয়ে প্রায় ৬০ ফুট বেশি দীর্ঘ। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে উড়োজাহাজটি পানিতেও অবতরণ করতে পারবে। এটি মূলত একটি শক্তিশালী পরিবহন বিমান। যুক্তরাজ্যভিত্তিক বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হাইব্রিড এয়ার ভেহিক্যালস লিমিটেড (এইচএভি) ৬০০ কোটি পাউন্ড ব্যয়ে নতুন উড়োজাহাজটি তৈরি করেছে। মূলত মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য এটি তৈরি করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ নতুন উড়োজাহাজটি দিয়ে প্রথম ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে।
পরে এটি আরও বড় আকারে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। তখন এটি ৩৯০ ফুট পর্যন্ত দীর্ঘ হতে পারে। আর প্রশস্ততা ও উচ্চতা হবে যথাক্রমে ১৯৬ ফুট ও ১১৫ ফুট। মালের পাশাপাশি ৫০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা রয়েছে বিশাল উড়োজাহাজটির। এটি ৫০ টন ওজনের জিনিসপত্র পরিবহনে সক্ষম হবে বলে মনে করছে এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এইচএভি। প্রতিষ্ঠানটি এ ধরনের এক হাজার উড়োজাহাজ তৈরি করার পরিকল্পনার কথা প্রকাশ করেছে। এইচএভির প্রধান নির্বাহী স্টিফেন ম্যাকগ্লেন দাবি করেন, তাঁরা বর্তমান বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হবে। তিনি বলেন, নতুন উড়োজাহাজটি তুলনামূলক কম কার্বন নিঃসরণ করবে, একবার জ্বালানি নিয়েই কয়েক দিন উড়তে পারবে এবং বিমানবন্দর ছাড়াই যেখানেই প্রয়োজন প্রায় সেখানেই হেলিকপ্টারের মতো অবতরণ করতে পারবে। ইনডিপেনডেন্ট ও টাইমস অব ইন্ডিয়া।

তৃণমূলের সঙ্গে জোটের জল্পনায় পানি ঢাললেন কংগ্রেস সভাপতি

অধীর চৌধুরী
ভারতের আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের জোট গড়ার সম্ভাবনা নিয়ে বেশি জল্পনা-কল্পনা চলছে। কিন্তু রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েই সেই সম্ভাবনায় পানি ঢেলে দিলেন অধীর চৌধুরী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জোটের কোনো সম্ভাবনা নেই। পশ্চিমবঙ্গে কংগ্রেস একা নির্বাচন করবে। নবনির্বাচিত রাজ্য কংগ্রেসের সভাপতি অধীর চৌধুরীকে গত শুক্রবার রাজধানী দিল্লিতে ডেকেছিলেন কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী। নেত্রীর ডাক পেয়েই দিল্লিতে ছুটে যান তিনি। এ ঘটনার পর কলকাতাজুড়ে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়, সোনিয়া গান্ধী আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে ফের তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করে নির্বাচনে লড়ার বার্তা দিতে পারেন। কারণ, তৃণমূলও জানে, এককভাবে তাদের পক্ষে পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাম দলের আসন শূন্য করা যাবে না। অনেক আসনেই বাম দল, তৃণমূল, কংগ্রেস ও বিজেপির প্রার্থীদের মধ্যে চতুর্মুখী লড়াই হবে। সে ক্ষেত্রে এককভাবে লড়তে গেলে বাড়তি সুবিধা পেতে পারে বাম দল।
তা ছাড়া এবার বিজেপিও অনেকটা সংগঠিত। তারাও তৃণমূল কংগ্রেসের একাংশের ভোটে ভাগ বসাতে পারে। পক্ষান্তরে কংগ্রেসেরও একা লড়ে দুটির বেশি আসনে জয় পাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। কাজেই তৃণমূলের সঙ্গে অতীতের মতো নির্বাচনী জোট গড়া হলে দুই দলই বাড়তি সুবিধা পাবে। রাজ্য কংগ্রেসের নতুন সভাপতি অধীর চৌধুরী বরাবরই তৃণমূলবিরোধী হিসেবে পরিচিত। সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে দেখা করে তিনি জোট সম্ভাবনার জল্পনায় পানি ঢেলে দেন। তিনি বলেন, ‘সোনিয়া গান্ধী জোট নিয়ে কোনো কথা বলেননি। জোটের কোনো সম্ভাবনা নেই। আমরা পশ্চিমবঙ্গের ৪২টি আসনেই লড়ছি।’ এরপর তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সভাপতি মুকুল রায়ও জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা বেশ ভালো আছি।

বিচারের মুখোমুখি গুয়ানতানামোর সাবেক বন্দী

মোয়াজ্জেম বেগ
কুখ্যাত গুয়ানতানামো বে কারাগারের সাবেক বন্দী মোয়াজ্জেম বেগ এবং ৪৪ বছর বয়সী নারী গেরি তাহারিকে সিরিয়ায় সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গতকাল শনিবার বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের ওয়েস্ট মিডল্যান্ডস পুলিশ এ খবর জানিয়েছে। পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক মোয়াজ্জেম বিদেশে সন্ত্রাসীদের প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বার্মিংহামের স্পার্কব্রুক এলাকার বাসিন্দা তাহারিও দেশের বাইরে সন্ত্রাসী তৎপরতার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ আনা হয়। ওয়েস্টমিনস্টার ম্যাজিস্ট্রেট কোর্ট আদালতে গতকাল ওই দুজনকে হাজির করা হয়।
দুজনকেই গত মঙ্গলবার গ্রেপ্তার করা হয়। ৪৫ বছর বয়সী মোয়াজ্জেম বেগকে কিউবায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত গুয়ানতানামো বে কারাগারে প্রায় তিন বছর আটক রাখা হয়। তিনি ২০০১ সালে সপরিবারে আফগানিস্তানে যান। পরের বছর আফগান যুদ্ধ শুরু হলে তিনি পাকিস্তানে চলে যান। ২০০২ সালের জানুয়ারিতে ইসলামাবাদ থেকে তাঁকে আটক করে আফগানিস্তানের বাগরাম কারাগারে প্রায় এক বছর আটক রাখার পর গুয়ানতানামো বেতে পাঠানো হয়। তিনি ২০০৫ সালের জানুয়ারিতে আরও তিন ব্রিটিশ নাগরিকের সঙ্গে মুক্তি পেয়ে যুক্তরাজ্যে ফিরে যান। মোয়াজ্জেমের বিরুদ্ধে আগে কখনো কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ আনা হয়নি। তিনি বর্তমানে একটি প্রচার অভিযানমূলক সংগঠনের (কেইজ) পরিচালক। কারাবন্দী ব্যক্তিদের পরিবারকে সহায়তা করে ওই সংগঠন। বিবিসি।

ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর অনুমতি রুশ পার্লামেন্টের

ইউক্রেনে রুশ সেনাবাহিনীকে কাজে লাগানোর জন্য প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক অনুরোধ অনুমোদন করেছে রুশ পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ। ক্রিমিয়ায় শান্তি ফিরিয়ে আনতে ওই অঞ্চলের নতুন প্রধানমন্ত্রী সের্গেই আকসিওনভের সাহায্যের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ অনুমোদন চান রুশ পুতিন। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবশ্য বলছে, এর অর্থ এই নয় যে ইউক্রেনে রুশ সেনা মোতায়েন আসন্ন। আর পুতিনের এ অতি আগ্রহকে সতর্ক করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ক্রিমিয়ায় ছয় হাজার সেনা মোতায়েন করেছে রাশিয়া। দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আইগোর তেনইয়ুখ অভিযোগ করে বলেন, ইউক্রেনের স্বায়ত্তশাসিত উপদ্বীপ ক্রিমিয়ায় রাশিয়ার ছয় হাজার সেনা ও ৩০টি সাঁজোয়া যান প্রবেশ করেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী গতকাল দেশটির পার্লামেন্টে জানান, ইউক্রেনের সম্মতি ছাড়াই বা সতর্কতা জারি না করেই শুক্রবার থেকে সেনা পাঠাতে শুরু করেছে রাশিয়া। রাশিয়ার সহযোগিতা চাইলেন ক্রিমিয়ার নেতা: ক্রিমিয়ায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বলে এ ক্ষেত্রে রাশিয়ার সহযোগিতা চেয়েছেন ওই অঞ্চলের মস্কোপন্থী নতুন প্রধানমন্ত্রী সের্গেই আকসিওনভ। তাঁর ওই অনুরোধে সঙ্গে সঙ্গে সাড়া দিয়ে মস্কোও জানিয়ে দিয়েছে, এ অনুরোধ ‘পাশ কাটিয়ে’ যাবেন না রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন। এদিকে রাশিয়াকে হুঁশিয়ার করে যুক্তরাষ্ট্র বলেছে,
ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালালে মস্কোকে এর মূল্য দিতে হবে। আর ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রুশ সাঁজোয়া যান ইউক্রেনের শহরগুলোতে চক্কর দেবে, এমনটি বরদাশত করা হবে না। গতকাল শনিবার এক বিবৃতিতে সের্গেই আকসিওনভ বলেন, ‘আমি পুতিনের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি, ক্রিমিয়ার শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা দিন।’ আকসিওনভ গত সপ্তাহে পার্লামেন্টের বিশেষ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। কিন্তু কিয়েভের অন্তর্বর্তী সরকার এখনো তাঁকে অনুমোদন দেয়নি। গত শুক্রবার ইউক্রেন অভিযোগ করেছিল, রাশিয়ার বাহিনী ক্রিমিয়ার দুটি বিমানবন্দর দখলে নিয়েছিল। এরপর ওই দিনই হোয়াইট হাউসে এক সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ইউক্রেনে যেকোনো ধরনের সামরিক অভিযান চালানো হলে মস্কোকে এর মূল্য দিতে হবে। মস্কোর প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে ওবামা আরও বলেন, ইউক্রেনে কোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন চালানো হলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে সঙ্গে নিয়ে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়াবে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে ইউক্রেন সরকারের অভিযোগ, কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌঘাঁটি থেকে ক্রিমিয়ায় শত শত সেনা চলাচল করছে। ওই সেনারা মস্কোপন্থী মিলিশিয়াদের সহযোগিতা দিচ্ছে। এএফপি, রয়টার্স ও বিবিসি।