Saturday, March 22, 2025
প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নিল সুদানের সেনাবাহিনী
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশকে বিভক্ত করার হুমকি দেওয়া প্রতিদ্বন্দ্বী সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে দুই বছরের পুরোনো সংঘাতের সবচেয়ে প্রতীকী সাফল্যের মধ্যে এটি একটি। দেশটিতে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ব্যাকফুটে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি তারা অগ্রগতি অর্জন করছে এবং আধা-সামরিক র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) কাছ থেকে দেশের কেন্দ্রস্থলের অঞ্চল পুনরুদ্ধার করেছে।
এদিকে আরএসএফ পশ্চিমে নিয়ন্ত্রণ একীভূত করেছে, যুদ্ধক্ষেত্রকে আরও শক্তিশালী করেছে এবং দেশকে কার্যত বিভক্তির দিকে নিয়ে গেছে। গোষ্ঠীটি তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় একটি সরকার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। যদিও এটি ব্যাপক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে না।
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা মধ্য খার্তুমের মন্ত্রণালয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোর নিয়ন্ত্রণও নিয়েছে। সামরিক সূত্র জানিয়েছে, আরএসএফ যোদ্ধারা প্রায় ৪০০ মিটার দূরে সরে গেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সশস্ত্র বাহিনীতে আধা-সামরিক বাহিনীর একীভূতকরণ নিয়ে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর, আরএসএফ দ্রুত খার্তুমের প্রাসাদটি এবং শহরের বাকি অংশ দখল করে নেয়।
সেনাবাহিনী প্রাসাদে সৈন্যদের উল্লাসের ভিডিও শেয়ার করেছে। এতে দেখা গেছে, কাচের জানালা ভেঙে গেছে এবং দেয়ালে গুলির চিহ্ন রয়েছে। তবে প্রাসাদ পুনরুদ্ধার এবং খার্তুমে সেনাবাহিনীর অগ্রগতি সম্পর্কে আরএসএফ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা দেশের পশ্চিমে অবস্থিত উত্তর দারফুরে সেনাবাহিনীর কাছ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি দখল করেছে। অনেক সুদানি সেনাবাহিনী প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার খবরকে স্বাগত জানিয়েছে।
৫৫ বছর বয়সী খার্তুমের বাসিন্দা মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রাসাদের মুক্তি আমার শোনা সেরা খবর। কারণ এর অর্থ হলো খার্তুমের বাকি অংশ সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আসার শুরু। আমরা আবার নিরাপদে থাকতে চাই এবং ভয় বা ক্ষুধা ছাড়াই বাঁচতে চাই।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংঘাত বিশ্বের বৃহত্তম মানবিক সংকটের দিকে পরিচালিত করেছে, বিভিন্ন স্থানে দুর্ভিক্ষ এবং ৫ কোটি মানুষের দেশজুড়ে রোগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সংঘাতে উভয়পক্ষের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, অন্যদিকে আরএসএফের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগও আনা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
![]() |
| প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে সেনাবাহিনী। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ফ্যাসিবাদ অনেক কলকব্জা রেখে গেছে : তথ্য উপদেষ্টা
শুক্রবার (২১ মার্চ) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এ পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টে উপদেষ্টা বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো ঢেলে সাজাতে আমরা গত কয়েকমাস কাজ করেছি। খুবই জটিল প্রক্রিয়া ছিল সব প্রতিষ্ঠানে আস্থা ও সক্রিয়তা ফেরত আনা। শক্তিশালী, জবাবদিহিমূলক এবং কার্যকর রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ছাড়া আমরা এগুতে পারব না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গুড পারফরম্যান্সের ভিত্তি হলো পুনর্গঠিত বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান।
তিনি লেখেন, সরকার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যকার অপরাধীদের শাস্তি, পদচ্যুতি ও বিচারের আওতায় এনেছে। তদন্ত সাপেক্ষে অন্যদেরও আনা হবে। এ ছাড়া সব প্রতিষ্ঠানকেই নিজেদের হাত পরিষ্কার করতে হবে। কিন্তু, কোনোভাবেই রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে জনগণকে দাঁড় করানো যাবে না।
মাহফুজ আলম আরও লিখেছেন, দেড় দশকের ফ্যাসিবাদ অনেক কলকব্জা রেখে গেছে। সেগুলো সংস্কার ও বদলানোর প্রক্রিয়া গণতান্ত্রিক ও নিয়মতান্ত্রিক হতে হবে। ঐক্য রিকারেন্ট হোক, ভায়োলেন্স না। স্থিতিশীল রাষ্ট্রে আমরা সংস্কার ও বিচারের কাজ আরও দ্রুততার সঙ্গে করতে পারব।
এদিকে শুক্রবার রাজধানীতে আয়োজিত এক আলোচনা ও ইফতার অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, আওয়ামী লীগকে বিদেশ থেকে আসা ‘প্রতিস্থাপিত শক্তি’। আওয়ামী লীগের ঘুড়ি আর বাংলাদেশে উড়তে দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, যখনই আওয়ামী লীগ সুযোগ পাবে, তখন অবশ্যই তা দেশের সাধারণ মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে যাবে। আমরা আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছি। আমাদের মনে রাখতে হবে যে আমরা যে জয় অর্জন করেছি, তা রাজনৈতিক ও ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয়েছে। যদি আমরা ঐক্য বজায় না রাখি এবং রাজনৈতিকভাবে লড়াই চালিয়ে না যাই, তাহলে আওয়ামী লীগ আবার ফিরে আসবে।
![]() |
| তথ্য উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় কেন আবার হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে ইসরায়েল
গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত মঙ্গলবার ইসরায়েলের চালানো হামলায় ৪০০ জনের বেশি গাজাবাসী নিহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে শিশুর সংখ্যা শতাধিক। সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে এটা ছিল ইসরায়েলের সবচেয়ে ভয়ানক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সামরিক পদক্ষেপ।
হামলার পাশাপাশি গাজাবাসীর ঘরবাড়ি ছাড়ার নির্দেশও নতুন করে জারি করেছে ইসরায়েল। ফলে গাজাজুড়ে হাজার হাজার মানুষ নতুন করে জোরপূর্বক স্থানচ্যুত ও বাস্তুচ্যুত হচ্ছে।
এমনকি ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’-এর মধ্যপন্থী সামরিক ভাষ্যকার আমোস হারেলও গত মঙ্গলবার থেকে গাজাবাসীর ওপর শুরু করা হামলাকে প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সরকারের স্বার্থে শুরু করা যুদ্ধ বলে মনে করেন।
এ হামলা ও হামলার ধরনের সঙ্গে ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সম্পর্ক আছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
হামলার সঙ্গে তিনটি বিষয়ের সম্পর্কে আছে বলে মনে হচ্ছে। এক. রাজনৈতিকভাবে নেতানিয়াহুর টিকে থাকা। দুই. সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তাঁর আধিপত্য বিস্তার। তিন. জনগণকে উত্তেজিত না করে মিত্রদের সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা।
সরকার টিকিয়ে রাখতে যুদ্ধ
চলতি মাসের শেষের দিকে নেতানিয়াহুকে বাজেট পাস করতে হবে। এটা করতে না পারলে তাঁর সরকারের পতন হবে এবং নতুন নির্বাচন দিতে হবে।
বাজেট যদি পাস করা যায়, তাহলে ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত নেতানিয়াহুর সরকার টিকে যাবে। তাই বাজেট পাস করতে পারাটা তাঁর সরকারের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
আগামী মাসে পার্লামেন্টে বাজেট পাস করতে পারবে না, এখন পর্যন্ত এমন স্পষ্ট কোনো ইঙ্গিত নেই। তবে নিজের জোট সরকারের শরিক ইউনাইটেড তোরাহ জুদায়িজম পার্টি নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন নেতানিয়াহু। আশকেনাজি ইহুদিদের নিয়ে গঠিত এ দলের অতিগোঁড়া সদস্যরা বাজেট পাসে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেন।
নেতানিয়াহুর জোট সরকার টিকে থাকার জন্য ইউনাইটেড তোরাহ জুদায়িজম পার্টির আটটি আসন বেশ দরকারি। দলটি এরই মধ্যে একটি বিল উত্থাপন করেছে, যেখানে অতিগোঁড়া তরুণদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে চাকরি করা থেকে অব্যাহতি দিতে বলা হয়েছে। নেতানিয়াহু সরকার বিলটি সমর্থন না করলে দলটি বাজেট পাসে বাগড়া দিতে পারে।
এ কারণে নেতানিয়াহুর সরকারকে শক্তিশালী করার দরকার পড়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে শোনা যাচ্ছে, ইসরায়েলের সাবেক জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির আবার নেতানিয়াহুর মন্ত্রিসভায় ফিরছেন। রাজনৈতিক দল জ্যুইশ পাওয়ারের এই নেতা গত জানুয়ারিতে যুদ্ধবিরতি অনুমোদনের পর পদত্যাগ করেছিলেন।
গত মঙ্গলবার গাজায় হামলা চালানোর কয়েক ঘণ্টা পর বেন-গভির ঘোষণা দেন, তাঁর দল আসলেই সরকারে ফিরতে যাচ্ছে। কারণ, যুদ্ধ পুনরায় শুরু করার তাঁদের যে দাবি ছিল, তা পূর্ণ হয়েছে।
এর অর্থ হলো এখন জুদায়িজম পার্টি বিপক্ষে ভোট দিলেও বাজেট পাস হবে। এটা নেতানিয়াহুর জন্য নগদ লাভ।
ট্রাম্প ফ্যাক্টর
গাজায় নতুন করে হত্যাযজ্ঞ শুরুর পেছনে ট্রাম্পেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করেছিলেন নেতানিয়াহু। সেখান থেকে ফেরার পর থেকে নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বিশ্ব দৃষ্টিভঙ্গি জোরেশোরে অনুসরণ করছে বলে মনে হচ্ছে, যেখানে আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি বা আইন তোয়াক্কা করার কোনো গরজ নেই।
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরার পর থেকে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টিটিউট থেকে বিরোধীদের ব্যাপক হারে ছাঁটাই করা শুরু করেছেন।
এরই মধ্যে সেনাবাহিনী ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘শিন বেত’-এর শীর্ষ পদে রদবদল করা হয়েছে। হারজি হালেভিকে বাদ দিয়ে ইয়াল জমিরকে নতুন সেনাপ্রধান করা হয়েছে। নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরের এক সপ্তাহের মাথায় তাঁর নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়।
জমির মার্চের শুরুতে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর কর্মকাণ্ড দেখে মনে হচ্ছে, তিনি সেনাবাহিনীতে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক দূত হিসেবে কাজ করছেন।
জমির এরই মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ড্যানিয়েল হ্যাগারিকে অপসারণ করেছেন। তিনি সরকারের কাজের সমালোচক ছিলেন। ইয়ানিভ আসোরকে গুরুত্বপূর্ণ সাউদার্ন কমান্ডের প্রধান করা হয়েছে। এই কমান্ডই গাজা যুদ্ধ দেখভাল করছে।
এর আগে ইয়ানিভ আসোর সেনাসদস্য বিভাগের প্রধান ছিলেন। এ দায়িত্ব পালনকালে তিনি নেতানিয়াহুকে অতিগোঁড়াদের সেনাবাহিনীতে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োগ (কন্সক্রিপশন) দেওয়া থেকে বিরত রেখেছিলেন।
ইতজিক কোহেনকে অপারেশন অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। গাজায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালানোর জন্য যাঁরা দায়ী, তিনি সেই শীর্ষ কর্মকর্তাদের একজন। সেনাবাহিনীতে এসব পরিবর্তন নেতানিয়াহুর পক্ষে যায়।
জমির এক সিনাগগে প্রার্থনায় যোগ দিয়ে বাইবেলে বর্ণিত শত্রু আমালেকীয়দের নির্মূল করার আহ্বান জানিয়েছেন। যুদ্ধের শুরুর দিকে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনিদের আমালেকীয়দের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেত নিয়ে সম্প্রতি কঠোর অবস্থান নিয়েছেন নেতানিয়াহু। তিনি সংস্থাটির প্রধান রোনেন বারকে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন। ঘটনাচক্রে তিনি এমন এক সময়ে রোনেন বারকে সরাতে চাইছেন, যখন কাতার থেকে অর্থ নেওয়ার সন্দেহে নেতানিয়াহুর কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত পরিচালনা করছিল শিন বেত।
শিন বেত নিয়ন্ত্রণে নিতে পারলে নেতানিয়াহুর হাতে বিপুল ক্ষমতা কুক্ষিগত হবে। এ গোয়েন্দা সংস্থার নিয়ন্ত্রণ হাতে এলে নেতানিয়াহু তাঁর দেশীয় বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে নির্মূল করতে পারবেন।
যুদ্ধবিরতি মেনে না চলার বিষয়েও নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্টের মনোভাব অনুসরণ করেছেন। ইসরায়েল-হামাসের মধ্যে গত জানুয়ারিতে হওয়া চুক্তিতে বলা হয়েছিল, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ কার্যকর হওয়ার ১৬ দিন পর দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। দ্বিতীয় ধাপে পৌঁছানো সম্ভব না হলেও যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকবে।
কিন্তু ট্রাম্পের পৃষ্ঠপোষকতা পেয়ে নেতানিয়াহু মনে করলেন, তিনি লিখিত চুক্তি অগ্রাহ্য করতে পারেন এবং সবচেয়ে নির্মম উপায়ে গাজায় হামলা চালাতে পারেন।
ইসরায়েলি জনগণের ভয়
গত মঙ্গলবার পুরো হামলা যুদ্ধবিমান দিয়ে চালানো হয়েছে। এতে স্থলবাহিনী অংশ নেয়নি। শুধু যুদ্ধবিমান থেকে বোমা হামলা চালানোর মধ্যেও ইসরায়েলের ঘরোয়া রাজনীতির চিত্র ফুটে উঠেছে।
যদিও নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যাওয়ার অনিচ্ছা এবং যুদ্ধ পুনরায় শুরুর বাসনা গোপন করেননি। পাশাপাশি তাঁর অতিডানপন্থী মিত্র বেন–গভির ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ গাজা উপত্যকা দখলে নেওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের সেখান থেকে বিতাড়নের দাবি জানিয়েছেন।
তারপরও গাজায় আবারও বড় ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনা নিয়ে নেতানিয়াহু শঙ্কিত। কারণ, তিনি সেনাবাহিনী ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা শিন বেতে যে রদবদল করেছেন এবং সব জিম্মিকে মুক্ত করা ও যুদ্ধ শেষ করার মতো একটি চুক্তি নিয়ে তিনি যে দোলাচলে রয়েছেন, তা জনগণের একটি বিরাট অংশকে ক্ষুব্ধ করতে পারে। তাঁরা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, এমন একটি সেনাবাহিনীতে কাজ না করতে জনগণের প্রতি খোলামেলা আহ্বান জানাতে পারে। সামরিক বাহিনীতে কাজ করতে চাওয়ার হার এরই মধ্যে প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে।
এ পরিস্থিতিতে পুরো গাজা বা অন্তত উপত্যকাটির উত্তরাঞ্চল দখল করতে গেলেও হাজার হাজার সেনা সমাবেশের প্রয়োজন হবে। কিন্তু এটা করতে গেলে নেতানিয়াহু সরাসরি বা অনানুষ্ঠানিকভাবে গণপ্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে পারেন।
সেনাসদস্য নিয়োগ দিতে গিয়ে গণপ্রত্যাখ্যানের মুখে পড়তে হলে তা সেনাবাহিনীর জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে গণ্য হবে। অথচ এই সেনাবাহিনীই এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি সমাজের অস্তিত্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদান বা বিল্ডিং ব্লক। সেনাবাহিনী ধাক্কা খেলে তা ইসরায়েলের বৈশ্বিক ভাবমূর্তিকে ক্ষুণ্ন করবে।
তাই এসব কিছু আমলে নিয়ে অন্তত এখন পর্যন্ত শুধু বিমান হামলার ওপর নির্ভর করাকে নিরাপদ মনে করছেন নেতানিয়াহু। আপাতত বোমা ফেলাটাই নেতানিয়াহুর জন্য রাজনৈতিকভাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক। কারণ, এতে সংরক্ষিত সেনা বা রিজার্ভিস্টদের যুদ্ধের মাঠে পাঠাতে হচ্ছে না বা সেনাসদস্যদের ঝুঁকিতে ফেলা হচ্ছে না।
অন্যদিকে নেতানিয়াহু এটাও জানেন, ফিলিস্তিনের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ হত্যার কারণে ইসরায়েলি সমাজে এরই মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে।
সুনির্দিষ্ট সামরিক উদ্দেশ্য নেই
সরকারকে আগামী নির্বাচন পর্যন্ত টিকিয়ে রাখতে নেতানিয়াহু উল্লিখিত সব সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে মনে হচ্ছে। কারণ, এসব হামলার সামরিক উদ্দেশ্য প্রায় অস্তিত্বহীন। এসব হামলার নেতানিয়াহুর একমাত্র সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্য হলো হামাসকে আরও চাপে রাখা, যাতে গোষ্ঠীটিকে এক ধাপের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে বাধ্য করা যায়। এতে যুদ্ধ বন্ধের কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়াই সব জিম্মিকে উদ্ধার করা যাবে।
এবারের বোমা হামলার পর দ্বিতীয় ধাপের চুক্তির কোনো প্রতিশ্রুতি ছাড়াই যদি হামাস কিছু জিম্মিকে মুক্তি দিতে রাজি হয়, তা নেতানিয়াহুর পক্ষে যাবে। তখন তিনি বলতে শুরু করবেন, সামরিক চাপ দিয়েই তাদের মুক্ত করা গেছে। নির্বাচনেও তিনি এর সুবিধা নিতে পারেন। এরই মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে তিনি এমনটি করেছেন।
কিন্তু সেটা তো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর পরিষ্কার কোনো লক্ষ্যবস্তু নয়। খোদ ইসরায়েলই বলছে, এবারের হামলায় হামাসের যেসব কর্মকর্তা মারা গেছেন, তাঁরা গোষ্ঠীটির গাজার বেসামরিক প্রশাসনের। এবারের হামলায় হামাসের সামরিক সক্ষমতার ক্ষতি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।
এসব কিছুর কারণে বলা যায়, গাজায় এবার ইসরায়েলে নতুন করে যে অভিযান শুরু করেছে, তার উদ্দেশ্য ঘরোয়া রাজনীতির স্বার্থসিদ্ধি। কারণ, এবারের হামলার মধ্য দিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াই গাজায় সন্ত্রাস ছড়ানো হচ্ছে।
অনুবাদ: মুহাম্মদ তাসনিম আলম
![]() |
| গাজায় ধ্বংসস্তূপে এক ফিলিস্তিনি শিশু। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে, ২০ মার্চ ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
![]() |
| ইসরায়েলি বিমান হামলার পর ধ্বংসস্তূপ খতিয়ে দেখছেন ফিলিস্তিনিরা। গাজা উপত্যকার খান ইউনিস, ২০ মার্চ ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আদালত যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিচারক জেমস বোসবার্গ কঠোর ভাষায় বলেছেন, ‘আদালতের নির্দেশ উপেক্ষা করে ট্রাম্প প্রশাসন কিছু ব্যক্তিকে দেশ থেকে বের করে দিয়েছে।’ আদালতের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার ওই অভিবাসীদের কেন এল সালভাদের পাঠানো হয়েছে, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে বিচার বিভাগের কাছ থেকে তার ব্যাখ্যা চেয়েছেন তিনি।
যেসব ব্যক্তিকে বের করে দেওয়া হয়েছে, তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অনিয়মিত যুদ্ধ’ চালাচ্ছে। এই অভিযোগে গত শনিবার (১৫ মার্চ) ট্রেন ডি আরাগুয়ার গ্যাংয়ের ২৩৮ এবং আন্তর্জাতিক গ্যাং গোষ্ঠী এমএস-১৩ এর ২৩ সদস্যকে কারাগারে রাখতে এল সালভাদরের পাঠায় ট্রাম্প প্রশাসন। তাদের কারাগারে রাখার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অর্থ পাবে মধ্য আমেরিকার দেশটি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রেন ডি আরাগুয়ার সদস্যদের দ্রুত দেশ থেকে বের করতে গত শুক্রবার (১৪ মার্চ) কয়েক শতকের পুরোনো ভিনদেশি শত্রু আইন বা এলিয়েন এনিমিস অ্যাক্ট ব্যবহারের নির্দেশ দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এটি যুদ্ধকালীন আইন হিসেবে পরিচিত।
পরদিন শনিবার ওয়াশিংটনের কেন্দ্রীয় সরকারের বিচারক জেমস বোসবার্গ ১৭৯৮ সালের ওই ভিনদেশি শত্রু আইনের ব্যবহার ১৪ দিন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তাঁর যুক্তি ছিল, এই আইনে অন্য দেশের দ্বারা সংঘটিত এমন ‘শত্রুতাপূর্ণ কর্মকাণ্ড’কে বোঝানো হয়েছে, যা ‘যুদ্ধের সমতুল্য’।
কিন্তু ওই দিনই অভিযুক্ত গ্যাং সদস্যদের কয়েকটি উড়োজাহাজে করে এল সালভাদরের পাঠিয়ে দেওয়া হয়। যাদের পাঠানো হয়েছে তাদের অনেকের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাদের কেবল ট্যাটু বা উলকি থাকার অপরাধেই যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে গত সোমবার জেমস বোসবার্গ বিচার বিভাগের আইনজীবীদের কাছে কিছু বিষয়ে তথ্য জানতে চান। তিনি তাঁদের প্রশ্ন করেন, গ্যাং সদস্যদের পাঠানো-সংক্রান্ত ট্রাম্পের ঘোষণাটি ঠিক কখন কার্যকর হয়েছিল এবং প্রত্যর্পণের ফ্লাইটগুলো এল সালভাদরের উদ্দেশ্যে কখন রওনা করেছিল?
জেমস বোসবার্গের প্রশ্নের জবাব দিয়ে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী (আইসিই) কর্মকর্তা রবার্ট সারনা স্থানীয় একটি আদালতকে জানান, শনিবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের ওয়েবসাইটে ট্রাম্পের নির্দেশ প্রকাশিত হওয়ার পর আটক ব্যক্তিদের বহনকারী তিনটি উড়োজাহাজ এল সালভাদরের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করে।
তবে আটক ব্যক্তিদের বহনকারী একটি উড়োজাহাজ বোসবার্গের রুলিংয়ের পর যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গিয়েছিল। শনিবার রাত ৭টা ২৫ মিনিটে বোসবার্গ দুই সপ্তাহের জন্য এসব গ্যাং সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিস্কার স্থগিত রাখতে বলেছিলেন। আদালতকে আইসিই কর্মকর্তা রবার্ট সারনা আরও বলেন, আটক ব্যক্তিদের শুধু এলিয়েন এনিমিস অ্যাক্টের অধীন পাঠানো হয়নি; বরং তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আলাদা বহিস্কারের নির্দেশ ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতিনিধিত্বকারী দেশটির বিচার বিভাগের আইনজীবীরা লিখিতভাবে জানিয়েছেন, বিচারকের লিখিত আদেশ প্রকাশিত হওয়ার আগেই ফ্লাইটগুলো যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে গিয়েছিল। তাঁদের যুক্তি, লিখিত আদেশ প্রকাশের আগে বিচারক আদালতে মৌখিকভাবে যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা ধর্তব্য নয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের আইনজীবীদের দাবি, আদালতের লিখিত আদেশ লঙ্ঘিত হয়নি। (কারণ, সংশ্লিষ্ট ফ্লাইটগুলো লিখিত আদেশের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের আকাশসীমা ছেড়ে গিয়েছিল। তাই বলা যায়, বিচারকের আদেশ জারি হওয়ার আগেই উড়োজাহাজের আরোহীদের ‘বহিষ্কার’ করা হয়েছিল।)
মঙ্গলবার সকালে ওই ঘটনায় বিচারকের অভিশংসন চেয়ে নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, তিনি একজন ‘বিঘ্ন ও উত্তেজনা সৃষ্টিকারী’ ব্যক্তি। ট্রাম্পের পোস্টে সরাসরি বোসবার্গের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
ট্রাম্পের পোস্টের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস এক বিবৃতিতে বোসবার্গের অভিশংসনের প্রস্তাব নিয়ে সতর্ক করে লিখেছেন, ‘দুই শতাব্দীর বেশি সময় ধরে এইটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে, বিচার বিভাগের সঙ্গে কোনো বিষয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দিলে অভিশংসন কোনো সমাধান নয়, (এ রকম কোনো দ্বন্দ্ব দেখা দিলে) স্বাভাবিক আপিল বিভাগ বিষয়টি পর্যালোচনা করবেন।’
প্রধান বিচারপতির তরফে বিবৃতিটি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। দেশটির ইতিহাসে প্রধান বিচারপতির এ ধরনের পদক্ষেপ দুর্লভ।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ‘বহিষ্কার’ নিয়ে বিচার বিভাগ থেকে নতুন করে ব্যাখ্যা চেয়েছেন জেমস বোসবার্গে। নতুন আদেশে তিনি বলেন, আইসিইর ভারপ্রাপ্ত মাঠ অফিসের পরিচালক প্রত্যর্পণের বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন নিজেদের কাজকে ‘রাষ্ট্রীয় গোপনীয়তা’ হিসেবে ন্যায্যতা দিতে চাইছে। আইসিইর এই ব্যাখ্যাকে ‘খুবই অপর্যাপ্ত’ বলে মন্তব্য করে বোসবার্গে বলেছেন, ‘সরকার আবার নিজেদের বাধ্যবাধকতা এড়াতে চাইছে’।
জেমস বোসবার্গে আরও বলেন, আইসিইর আঞ্চলিক অফিসের এই বিষয়ের ব্যাখ্যা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। কারণ, কেন্দ্রীয় আদালতের জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মন্ত্রিপরিষদ পর্যায়ের মর্যাদা থাকা দরকার।
তাঁর আদেশ কীভাবে লঙ্ঘিত হয়নি, তা আগামী মঙ্গলবারের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনকে জানাতে নির্দেশ দিয়েছেন জেমস বোসবার্গে।
এই পরিস্থিতিতে গতকাল বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টদের সুপ্রিম কোর্টকে এভাবে আক্রমণ করা অকল্পনীয়। নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। এই মহান লক্ষ্য ততক্ষণ পর্যন্ত অর্জন করা যাবে না, যতক্ষণ পর্যন্ত উগ্র ও অত্যন্ত পক্ষপাতদুষ্ট বিচারকেরা এই আচরণ করার সুযোগ পাবেন।’
বড় অক্ষরে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘খুব বেশি দেরি হওয়ার আগেই এখনই দেশব্যাপী ইনজেকশন [বিচারকদের ইচ্ছার বিস্তার] বন্ধ করুন।’
পোস্টে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি বিচারপতি রবার্টস এবং যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এই বিষাক্ত ও নজিরবিহীন পরিস্থিতির শিগগির সমাধান না করেন, তাহলে আমাদের দেশ খুব গুরুতর সমস্যায় পড়বে!’
![]() |
| যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যর্পণ করা ব্যক্তিদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে এল সালভাদরের পুলিশ। এল সালভাদরের সেন্ট লুইস তালপা শহরের একটি বিমানবন্দরে, ১৬ মার্চ ২০২৫ ছবি: রয়টার্স |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজায় নির্বিচার শিশু হত্যা, সালমাহর ঈদ আসবে না, হুরও আর হাঁটতে শিখবে না
সালমাহের ঈদ আর আসবে না। হুর আল–সালোউতের প্রথম হাঁটা, আধো আধো বুলিতে কথা শোনার অপেক্ষা শেষ হবে না কোনো দিন। ইসরায়েলের নির্মম হামলা মা-বাবার কোল থেকে কেড়ে নিয়েছে ফিলিস্তিনের গাজার এই শিশুদের। শুধু এই তিনজন নয়, ১৭ মাস ধরে চলা ইসরায়েলের নির্বিচার হামলায় ফিলিস্তিনের উপত্যকাটিতে প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ১৮ হাজার শিশু।
গাজায় গত ১৯ জানুয়ারি শুরু হয়েছিল যুদ্ধবিরতি। এরপর সেখানকার শিশুদের দুর্দশা কিছুটা কমেছিল। তবে গত মঙ্গলবার ভোররাতে (সাহ্রির আগে) গাজায় আবার নৃশংস হামলা শুরু করে ইসরায়েল। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এই হামলায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত ৫৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে শিশু ২০০। যদিও বার্তা সংস্থা এএফপি প্রথম দুই দিনে ৯৭০ জনের নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছিল।
নতুন করে হামলা শুরু করার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মঙ্গলবার বলেছিলেন, গাজায় নৃশংসতা ‘কেবল শুরু’ হয়েছে। বাস্তবেও তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। বিগত তিন দিনে নিহতের পাশাপাশি আহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪২ জন। সব আহত ব্যক্তিকে সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে গাজায় এখনো টিকে থাকা হাসপাতালগুলো। অনেকেই মারা যাচ্ছেন চিকিৎসার অভাবে।
গাজায় হাসপাতালগুলোর দুর্দশার এমনই এক চিত্র দেখা গেছে উপত্যাকটির উত্তরে ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতালে। গতকাল হাসপাতালের পরিচালক মারওয়ান আল-সুলতান আল-জাজিরাকে বলেন, সেখানে ওষুধ, অক্সিজেন, জ্বালানি ও অন্যান্য জরুরি পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার রাতে হাসপাতালটিতে আহত ৮২ জনকে আনা হয়। এ ছাড়া মৃত অবস্থায় আনা হয় ৪৩ জনকে। তবে ভেন্টিলেটরসহ জীবন বাঁচানোর জন্য জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জামের বেশির ভাগই নষ্ট। সেগুলো ব্যবহারের উপায় নেই।
গাজায় ইসরায়েলের নতুন করে এই হামলাকে ‘বর্বর ও বেআইনি’ বলেছে জাতিসংঘের ফিলিস্তিন মিশন। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, নতুন করে ইসরায়েলের এই হামলা বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জরুরিভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে। ইসরায়েলের যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও জাতিগত নিধনের বিরুদ্ধে ‘পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতা’ জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের গ্রহণযোগ্যতা যেটুকু আছে, তা-ও ক্ষুণ্ন করবে।
‘তারা চিকিৎসক ও শিক্ষক হতে চেয়েছিল’
নতুন করে ইসরায়েলের হামলা শুরুর দিন গত মঙ্গলবার তিন সন্তান—হাসান, মোহাম্মদ ও আজিজকে হারান গাজার বাসিন্দা কারাম তাফিক। তাদের বয়স যথাক্রমে ৯, ৮ ও ৫ বছর। কারাম যখন বিবিসিকে তিন সন্তানের কথা বলছিলেন, তখন তাঁর চোখ দিয়ে পানি ঝরছিল। তিনি বলেন, ‘তারা চারপাশে খেলাধুলা করে বেড়াত। আনন্দ করত। সবচেয়ে বড় কথা, তারা আমার টুকটুকে (তিন চাকার যান) করে ঘুরতে ভালোবাসত। আমার সন্তানেরা চিকিৎসক ও শিক্ষক হতে চেয়েছিল।’
গাজার এমনই আরেক অভাগা বাবা আলা আবু হিহাল। দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসে নাসের হাসপাতালে কাফনে মোড়া ছোট্ট সন্তান মোহাম্মদের মরদেহ হাতে নিয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে ছিলেন তিনি। কাফনের কাপড়ের ভেতরে নিষ্পাপ মোহাম্মদের চেহারা একঝলক দেখা যাচ্ছিল। পাশেই পড়ে ছিল আবু হিহালের স্ত্রীর মরদেহ। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘মাত্র দুই বছর আগে আমাদের বিয়ে হয়েছে। মারা যাওয়ার সময় তাঁর (স্ত্রী) গর্ভে সাত মাসের সন্তান ছিল।’
নাসের হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবক চিকিৎসক মরগান ম্যাকমোনাগলের সঙ্গে কথা হয় বিবিসির। মঙ্গলবার হামলার শুরু থেকে পরদিন মধ্যরাত পর্যন্ত টানা কাজ করেছেন তিনি। ম্যাকমোনাগলের হিসাবে, এই সময়টাতে হাসপাতালে যত হতাহত ফিলিস্তিনি এসেছেন, তাঁদের মধ্যে আনুমানিক ৪০ শতাংশই শিশু।
গাজায় এভাবে শিশু হত্যা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সরব হয়েছেন জাতিসংঘের কর্মকর্তারা। গত জানুয়ারিতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার এক সপ্তাহ পর জাতিসংঘের মানবাধিকার-প্রধান টম ফ্লেচার নিরাপত্তা পরিষদে বলেছিলেন, গাজায় একটি প্রজন্ম মানসিক আঘাতে জর্জরিত হয়ে পড়েছে। শিশুদের হত্যা করা হয়েছে। তাদের অনেকে অনাহারে কিংবা ঠান্ডায় জমে মারা গেছে। কিছু শিশু প্রথম শ্বাস নেওয়ার আগেই মারা গেছে।
অপুষ্টিতে ভুগছে শিশুরা
গাজায় ইসরায়েলের হামলা শুরু হয় ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে ঢুকে হামলা চালানোর পর শুরু হয় ইসরায়েলিদের হত্যাযজ্ঞ। সেদিন থেকে উপত্যকাটিতে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৪৯ হাজার ৬১৭ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য কনভারসেশনের তথ্যমতে, শিশুদের বেশির ভাগই নিহত হয়েছে ইসরায়েলের সরাসরি হামলায়।
কনভারসেশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামলা শুরুর পর থেকে গাজায় আনুমানিক ৮৫ হাজার টন বোমা ফেলা হয়েছে। এতে সরাসরি আঘাত পেয়ে, ভবনের ধ্বংসাবশেষের নিচে চাপা পড়ে, আগুন লেগে এবং বিষাক্ত গ্যাস নিশ্বাসের সঙ্গে গ্রহণ করে ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ড্রোন হামলা ও স্নাইপারের গুলিতে শিশুদের নিহত হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে।
১৯ জানুয়ারি যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর ২ মার্চ থেকে গাজায় ত্রাণ সরবরাহের পথ বন্ধ করে দেয় ইসরায়েল। এরপর ১৫ মার্চ এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের শিশু তহবিল–ইউনিসেফ জানায়, উত্তর গাজার দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ৩১ শতাংশ তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছে। সেখানে অপুষ্টির কারণে শিশুমৃত্যু ব্যাপকভাবে বেড়েছে।
এ ছাড়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় ব্যাপক হারে সংক্রামক রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ফ্রন্টিয়ার্স-এর গত বছরের এপ্রিলের তথ্য অনুযায়ী, গাজার ৯০ শতাংশের বেশি শিশু সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়েছে। শিশুমৃত্যুর আরেকটি বড় কারণ, শীতের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের বারবার বাস্তুচ্যুত হওয়া।
গত বছরের শেষ দিকে ওয়ার চাইল্ড অ্যালায়েন্স ও গাজাভিত্তিক কমিউনিটি ট্রেনিং সেন্টার ফর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের একটি প্রতিবেদনে গাজায় ইসরায়েলি আক্রমণের ফলে শিশুদের ওপর যে মারাত্মক মানসিক আঘাত নেমে এসেছে, সে বিষয়টি তুলে ধরা হয়। সংকটাপন্ন শিশুদের পরিচর্যাকারী পাঁচ শতাধিক ব্যক্তির ওপর সমীক্ষা চালিয়ে এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই পরিস্থিতিতে ৯৬ শতাংশ শিশু মনে করেছে, তাদের মৃত্যু অত্যাসন্ন।
গাজায় শিশুদের প্রাণহানি নিয়ে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনডব্লিউআরএর প্রধান ফিলিপ লাজারিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেছিলেন, এই যুদ্ধটা শিশুদের বিরুদ্ধে। এই যুদ্ধটা তাদের শৈশব ও ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে।
আবারও স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল
কয়েক মাসের আলোচনার পর মিসর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ১৯ জানুয়ারি গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। চুক্তি অনুযায়ী প্রথম ধাপের যুদ্ধবিরতি ১ মার্চ শেষ হয়েছে। এরপর আলোচনা করেও যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি ইসরায়েল ও হামাস। তবে ২ মার্চ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ সাময়িকভাবে বাড়ানোর বিষয়ে অনুমোদন দেয় ইসরায়েলের সরকার। সে অনুযায়ী পবিত্র রমজান ও ইহুদিদের ‘পাসওভার’ উৎসব (মিসরে ইহুদিদের দাসত্ব থেকে মুক্তি উদ্যাপন) উপলক্ষে আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চলার কথা ছিল।
সেই যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ করে আকাশপথে হামলা শুরুর পাশাপাশি বুধবার থেকে উত্তর গাজায় স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরায়েল। বিষয়টি নিশ্চিত করে গতকাল ইসরায়েলের মুখপাত্র অ্যাভিচে আদরিয়ে এক বিবৃতিতে বলেন, গাজার দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলকে যুক্ত করা সালাহউদ্দিন সড়ক দিয়ে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। সেখানে ‘সীমিত আকারে স্থল অভিযান’ শুরু করা হয়েছে।
উত্তর থেকে দক্ষিণে যেতে চাওয়া এই ফিলিস্তিনিরা মূলত ইসরায়েলের নতুন করে হামলার মুখে আবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন। মাস দুয়েক আগেই যুদ্ধবিরতির শুরুতে তাঁরা উত্তরে নিজেদের ঠিকানায় ফিরেছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানিয়েছেন, সালাহউদ্দিন সড়ক দিয়ে ফিলিস্তিনিরা গাড়ি নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁদের ওপর গুলি চালিয়েছেন ইসরায়েলি সেনারা।
এদিকে গতকাল দক্ষিণ গাজা থেকে ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে রকেট ছুড়েছে হামাস। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজা থেকে ইসরায়েলে গুশ দান ও হাশফেলা এলাকায় তিনটি রকেট ছোড়া হয়। এর মধ্যে একটি আকাশে থাকতেই ধ্বংস করা হয়েছে। আর দুটি রকেট উন্মুক্ত স্থানে পড়েছে।
শিশুদের রক্ষায় যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করতে হবে
ইসরায়েলের এই নৃশংসতা বন্ধে ‘নৈতিক’ ও ‘আইনগত’ দায়িত্ব পালনের জন্য বিশ্বসম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে গাজাবিষয়ক আরব-ইসলামিক এক্সট্রাঅর্ডিনারি সামিটের মন্ত্রিপর্যায়ের কমিটি। গতকাল এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে তারা বলেছে, বেসামরিক লোকজন বসবাস করেন এমন এলাকায় সরাসরি বোমা হামলা আঞ্চলিকভাবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার হুমকি বাড়াবে। আগ্রাসন বন্ধে বিশ্বসম্প্রদায়কে ইসরায়েলের ওপর চাপ দেওয়ার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
যুদ্ধ নতুন করে শুরু হওয়ায় গাজায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত শিশুরা আবার নতুন করে সহিংসতার মুখে পড়েছে বলে উল্লেখ করেছে ইউনিসেফ। এক বিবৃতিতে সংস্থাটির প্রধান ক্যাথরিন রাসেল বলেছেন, গাজার শিশুদের রক্ষার জন্য যুদ্ধবিরতি অবিলম্বে পুনর্বহাল করতে হবে।
![]() |
| নিহত ফিলিস্তিনিদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। গতকাল গাজার একটি হাসপাতালের সামনে। এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অনুশোচনা নেই কেন by মহিউদ্দিন আহমদ
সম্প্রতি এক ফেসবুক বন্ধুর একটা পোস্টে একটা তিতিরের সঙ্গে মাওলানা রুমির কথোপকথন পড়লাম। পাখিটি রুমিকে তিনটি পরামর্শ দিয়েছিল। শেষ পরামর্শটি ছিল: ‘সবাইকে উপদেশ দিতে যেয়ো না। শুধু তাদের উপদেশ দাও, যারা সেটা শুনবে, মনে রাখবে। মনে রেখো, কিছু কাপড় এত জীর্ণ হয়ে যায়, যা আর কখনো সেলাই করা যায় না।’ বাংলায় একটা প্রবচন আছে—কয়লার ময়লা যায় না ধুলে। স্কুলে আমাদের দিনিয়াত স্যার প্রায়ই এটা সুর করে বলতেন আর আমাদের ভালো হওয়ার উপদেশ দিতেন।
কেন জানি তিতিরের এই কথাগুলো পড়তে না পড়তেই চোখের সামনে আমাদের দেশের কিছু রাজনীতিবিদ ও রাজনৈতিক দলের চেহারা ভেসে উঠল। তাদের অনেককে দেখছি অনেক বছর ধরে। কাউকে কাউকে দেখছি তাদের রাজনৈতিক জীবনের জন্মক্ষণ থেকে। সারা দুনিয়ায় এত ওলট–পালট হলো, এত কিছু বদলে গেল, এমনকি আমাদের দেশের মানুষের মনও আর আগের মতো নেই, কিন্তু এসব রাজনীতিকের মধ্যে পরিবর্তনের কোনো ছোঁয়া লেগেছে বলে মনে হয় না। সেই একই রকম চিন্তা, কথা, আস্ফালন।
মানুষ যে কত সহজেই নিজের কথা থেকে সরে আসে, তা আমাদের বড় বড় নেতাকে দেখলেই বোঝা যায়। এ জন্য গবেষণা করার দরকার নেই। আমি কয়েকটি উদাহরণ দিচ্ছি।
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রিত্ব চাই না। আমি বাংলার মানুষের অধিকার চাই।’ পরে তিনি প্রধানমন্ত্রী হলেন। রাষ্ট্রপতি হলেন। সব দল নিষিদ্ধ করে বাকশাল নামে একটিমাত্র দল বানালেন, যার সর্বময় ক্ষমতা রাখলেন নিজের হাতে। নির্বাচনের মাধ্যমে নেতা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ তিনি রাখলেন না। একটা সহিংস অভ্যুত্থানের শর্ত তিনি নিজেই তৈরি করে দিলেন।
মনে আছে, ১৯৭৬ সালের ১ মে জেনারেল জিয়াউর রহমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মে দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে কমব্যাট পোশাক পরে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘আমি রাজনীতিবিদ নই। আমি একজন সৈনিক। আমি ব্যারাকে ফিরে যাব।’ তিনি ব্যারাকে ফিরে যাননি। সেনাবাহিনীতে চাকরি করা অবস্থায় তিনি একটা নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হলেন। বিএনপি নামে একটা দল বানালেন। তারপর নিজেই নিজেকে আহ্বায়ক করে ৭৬ সদস্যের একটি কমিটি ঘোষণা করলেন।
১৯৮৬ সালের কথা। স্বঘোষিত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলেন। খালেদা জিয়া আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পাঁচ দফা দাবির ভিত্তিতে এরশাদবিরোধী তুমুল আন্দোলন চলছে। উভয়েই ঘোষণা দিলেন, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন হতে হবে। ১৯ মার্চ শেখ হাসিনা চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে এক সমাবেশে হুংকার দিলেন, পাঁচ দফা এড়িয়ে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে যারা অংশ নেবে, তাদের জাতীয় বেইমান হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। ২২ মার্চ তিনি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এরাশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় খালেদা ও হাসিনা দুজনেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এরশাদের পতন হলে তাঁরা অনেকগুলো কাজ করবেন। তার মধ্যে কয়েকটি হলো: কালাকানুন বাতিল, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বেতার-টেলিভিশনের স্বায়ত্তশাসন, নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগকে আলাদা করা। ১৯৯১ সাল থেকে তাঁরা পালা করে দেশ শাসন করেছেন। তাঁরা অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছেন। অনেক রাস্তা, সেতু, ভবন তৈরি করেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এ কাজগুলো করার সময় পাননি।
টেলিভিশন নিয়ে তো কত কথা হলো—এরশাদ আমলে এটি ছিল ‘সাহেব-বিবি গোলামের বাক্স’। খালেদা জিয়ার আমলে এটি হলো ‘বিবি-গোলামের বাক্স’। হাসিনার আমলে এটাকে ব্যঙ্গ করে বলা হলো ‘বাজানের বাক্স’। টেলিভিশনের কপালে আর স্বায়ত্তশাসন জুটল না। পাবলিকের টাকায় মুফতে এ রকম একটা প্রচারযন্ত্র হাতের মুঠোয় পেলে কে সেটা ছাড়ে!
শেখ হাসিনা প্রায়ই বলতেন, তিনি সব হারিয়েছেন। তাঁর চাওয়া–পাওয়ার কিছু নেই। দেখা গেল, তিনি ১০ কাঠা জমির লোভও সামলাতে পারলেন না। একটা মানুষের কত প্রয়োজন!
অনুগতদের দিয়ে তিন তিনটা তামাশার নির্বাচন করিয়ে তিনি হয়ে গেলেন ‘গণতন্ত্রের মানসকন্যা’। দলদাসেরা তাঁকে ‘দেশরত্ন’ বলতে শুরু করল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে এক সমাবেশে কবি-কথাসাহিত্যিক সৈয়দ শামসুল হক তো মাইক্রোফোনে জাতির উদ্দেশে ঘোষণাই দিয়ে দিলেন, ‘এখন থেকে আপনারা সবাই তাঁকে দেশরত্ন বলবেন।’ তাঁকে নিয়ে গান বাঁধলেন জনপ্রিয় শিল্পী মমতাজ।
এসব দেখে-শুনে আমাদের ‘বুকটা ফাইট্টা যায়’। কী দেশে আমরা করি বাস। কেমন তার নেতা। দলদাসে দেশটা ভরে গেছে। ‘হবুচন্দ্র রাজার গবুচন্দ্র মন্ত্রী’দের একটাই ধ্যান ছিল—দলের জীবিত নেতার বন্দনা, দলের প্রয়াত নেতার ‘পূজা’, নানান অসিলায় তাঁর কবরে গিয়ে হুড়োহুড়ি করা।
তিতিরের পরামর্শের কথায় ফিরে আসি। এটি রূপক অর্থে আমাদের রাজনীতিতে এখনো প্রযোজ্য। রাজনৈতিক দলগুলো নিজেদের নেতার পরিবার ও একটি চক্রের বাইরে কারও কথা শুনতে চায় না। দলগুলো একেকটা সিন্ডিকেট হয়ে উঠেছে। এটাকেই ভবিতব্য ধরে দলে দলে লোক ভেড়ার পালের মতো তাদের আশপাশে জুটেছে। তারা জনগণের সেবার জন্য পাগল। ৫৩ বছর ধরে তারা শুধু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি বইয়ে দিয়েছে। আজ পর্যন্ত তারা কেউ বলেনি, তাদের কোনো ভুল হয়েছে। সুতরাং অনুতাপের তো প্রশ্নই ওঠে না।
সবাই বলছেন, সমাজের সব স্তরে ভয়াবহ রকমের দলীয়করণ হয়েছে। আমরা এটা থেকে মুক্তি চাই। আমরা দক্ষ প্রশাসন চাই। দলগুলো এ ব্যাপারে যেসব প্রতিশ্রুতি দেয়, তা সবই কাগুজে। তা না হলে তারা কেন সরকারি চাকরিতে থাকা চিকিৎসক, প্রকৌশলী, কৃষিবিদদের নিয়ে দলীয় ফোরাম করে? আর ওই কর্মকর্তারাই–বা কেন দলবাজি করেন? ধান্দা একটাই—‘আত্ম-উন্নয়ন’!
পুলিশের বিরুদ্ধে কত অভিযোগ। অথচ পুলিশ বিভাগ থেকেই একটা পুলিশ কমিশন করার দাবি উঠেছিল। রাজনৈতিক সরকারগুলো তাতে কান দেয়নি। তারা পুলিশ বাহিনীকে দলের লাঠিয়াল হিসেবে ব্যবহার করেছে। যে পুলিশ নাসিম আর মতিয়াকে পিটিয়েছে, সেই পুলিশই পিটিয়েছে খোকা আর জয়নালকে। এ থেকেও তারা শিক্ষা নেয় না।
দেশে এখন একটা বিশেষ পরিস্থিতি। নির্বাচন নিয়ে কথা হচ্ছে। কোনো কোনো দল তো নির্বাচনের জন্য অস্থির হয়ে উঠেছে। রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে কথা হচ্ছে। কেউ কেউ বলছেন, সংস্কার করবে নির্বাচিত সরকার। তাদের কি বিশ্বাস করা যায়?
দেশটা সত্যিই একটা ডিজিটাল যুগে ঢুকে গেছে। যতই লুকোছাপার চেষ্টা হোক না কেন, অনেক পুরোনো তথ্যই এখন হাতের নাগালে। কে কবে কখন কোথায় কী বলেছিলেন, তার অনেক কিছুই এখন জানা যায়। ফেসবুকে প্রায়ই এ রকম অডিও কিংবা ভিডিও দেখি।
প্রধান উপদেষ্টার কথাবার্তা নিয়ে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন। প্রশ্ন উঠেছে উপদেষ্টাদের যোগ্যতা নিয়ে। অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মতলব’ নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে কারও কারও মনে। অন্তর্বর্তী সরকার কী চায়, ঐকমত্য কমিশনের ‘ধান্দা’ কী, এসব নিয়ে টক শো তোলপাড় হচ্ছে। আমার এসবে মাথাব্যথা নেই। আমার চাওয়া একটাই, আমি রামরাজত্ব চাই না, খিলাফতও চাই না। ভারত, পাকিস্তান, ইরান আমার মডেল নয়।
আমি চাই একটা আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ, যে সমাজ হবে সৃজনশীল। আমাদের পাল্লা দিতে হবে ইউরোপের সঙ্গে, উত্তর আমেরিকার সঙ্গে, পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে। আমাদের এমন সমাজ গড়তে হবে, যে সমাজ দক্ষ কর্মজীবী ও সৃজনশীল নাগরিক তৈরি করবে; দলদাস, বাটপার, লুটেরা কিংবা গোঁয়ার-গোবিন্দ মব তৈরি করবে না।
* মহিউদ্দিন আহমদ লেখক ও গবেষক

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
রেকর্ড গতিতে গলছে হিমবাহ, কী বিপদ হতে পারে
জেনেভায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটির বিষয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়ার্ল্ড গ্লেসিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের পরিচালক মাইকেল জেম্প বলেন, ১৯৭৫ সাল থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিশ্বের হিমবাহগুলো থেকে ৯ হাজার গিগাটন পরিমাণ বরফ গলেছে। এ পরিমাণ বরফকে একসঙ্গে করলে জার্মানির আয়তনের সমান এবং ২৫ মিটার পুরুত্বের একটি বরফখণ্ড তৈরি করবে।
আর্কটিক থেকে আল্পস, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে তিব্বতীয় মালভূমি পর্যন্ত নাটকীয়ভাবে বরফ গলছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বরফ গলার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে এবং নির্ভরযোগ্য পানির উৎস কমে গিয়ে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক, পরিবেশগত এবং সামাজিক সমস্যা দেখা দেবে।
বিশ্বের প্রথম হিমবাহ দিবস উপলক্ষে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে ইউনেসকো। এতে বিশ্বজুড়ে হিমবাহগুলোর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেম্প বলেছেন, গত ছয় বছরের মধ্যে পাঁচ বছরই সবচেয়ে বেশি পরিমাণে হিমবাহ গলার ঘটনা ঘটেছে। শুধু ২০২৪ সালেই হিমবাহের ভর ৪৫০ গিগাটন কমেছে।
পার্বত্য হিমবাহগুলো দ্রুত গলার কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাচ্ছে। এতে লাখ লাখ মানুষ ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে পড়ছে।
পার্বত্য এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ১১০ কোটি মানুষের ওপর হিমবাহ গলার তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে।
গত বুধবার প্যারিসে ইউনেসকোর সদর দপ্তরের বাইরে রয়টার্সকে হিমবাহ বিশেষজ্ঞ এইদি সেভেস্ত্রে বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে আমরা যে পরিবর্তন দেখেছি তা আক্ষরিক অর্থে হৃদয়বিদারক। নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলে এসব ঘটনা আমাদের ধারণার চেয়েও অনেক দ্রুত ঘটছে।’
সেভেস্ত্রে উগান্ডার রোয়েনজোরি মাউন্টেনস এলাকা এবং পূর্ব আফ্রিকার ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক কঙ্গোতে তাঁর সাম্প্রতিক সফরের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এসব অঞ্চলে ২০৩০ সাল নাগাদ হিমবাহগুলো নাই হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউনেসকোর নতুন প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, হিমবাহ গলার কারণে পূর্ব আফ্রিকায় পানিকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সংঘাত বেড়েছে। আন্তর্জাতিকভাবে এসব ঘটনার প্রভাব সামান্য হলেও বিশ্বজুড়ে হিমবাহ গলে যাওয়ার এ প্রবণতা ক্রমেই জটিল প্রভাব ফেলছে।
২০০০ সাল থেকে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত পার্বত্য হিমবাহ গলার কারণে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৮ মিলিমিটার বেড়েছে। অর্থাৎ বছরে প্রায় ১ মিলিমিটার করে বেড়েছে। ওয়ার্ল্ড গ্লেসিয়ার মনিটরিং সার্ভিসের তথ্য বলছে, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা এক মিলিমিটার বাড়লে তিন লাখ মানুষ বার্ষিক বন্যার ঝুঁকিতে পড়ে।
![]() |
| জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহের বরফ গলার পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি: রয়টার্স ফাইল ছবি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
এনসিপির সংবাদ সম্মেলন: আওয়ামী লীগের অপরাধের বিচারে ধীরগতি নিন্দনীয়
রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন এই রাজনৈতিক দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কর্তৃক সংঘটিত পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা হত্যাকাণ্ড, আগ্রাসনবিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ড, গুম-ক্রসফায়ার, ভোট ডাকাতিসহ জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রশ্নে কার্যকর অগ্রগতি দৃশ্যমান হওয়ার আগে রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদ থেকে এ ধরনের বক্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।’
প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার কোনো পরিকল্পনা অন্তর্বর্তী সরকারের নেই বলে গত বৃহস্পতিবার ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রতিনিধিদলকে জানান প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
এনসিপির সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সাত মাস অতিবাহিত হলেও গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের খুনিদের বিচারে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক কমিশনের প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, জুলাই মাসে বাংলাদেশে সংঘটিত অপরাধ আন্তর্জাতিক অপরাধের শামিল। আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধের ব্যাপারে এত সুস্পষ্ট আন্তর্জাতিক বক্তব্য থাকার পরও বিচারিক প্রক্রিয়ার ধীরগতি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এনসিপি অবিলম্বে জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিচারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখতে চায়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মন্তব্য করেছেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। আমরা তাঁর এ বক্তব্যের নিন্দা জানাই।’
কৃত অপরাধের বিচার, দায় স্বীকার, অনুশোচনা, পাপমোচন ব্যতীত আওয়ামী লীগের দল হিসেবে ক্রিয়াশীল থাকার পক্ষে যেকোনো ধরনের তৎপরতা ফ্যাসিস্টদের পুনর্বাসনের শামিল বলে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়। আরও বলা হয়, এনসিপি জুলাই গণহত্যাসহ বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত অপরাপর গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নিশ্চয়তা চায়। বিচার চলাকালে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন বাতিল করতে হবে এবং এই মাফিয়া গোষ্ঠীর রাজনীতিতে ফেরার যেকোনো চেষ্টাকে এনসিপি প্রতিহত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করছে।
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক দল নয়; বরং এটি একটি ফ্যাসিবাদী দল। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সাংগঠনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণহত্যা চালিয়েছে। যার ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমল বাংলাদেশ থেকে উৎখাত হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগ এ মুহূর্তে গণতান্ত্রিক ফ্রেমওয়ার্কের বাইরে অবস্থান করছে।
লিখিত বক্তব্যের পর এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, একটি রাজনৈতিক দল নির্বাচন বা কার্যক্রম করতে পারবে কি পারবে না, এটি সম্পূর্ণই একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল সরকার, বিদ্যমান রাজনৈতিক দলগুলোর এবং জনগণের। সেখানে সেনাবাহিনী কিংবা রাষ্ট্রের এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য, পরিকল্পনা বা সিদ্ধান্ত উপস্থাপন করার এখতিয়ার নেই।
আওয়ামী লীগের মতো জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, তাঁরা অনেক বেশি উদ্বিগ্ন জুলাই গণহত্যার বিচার নিয়ে। তিনি বলেন, একাত্তরে সংঘটিত গণহত্যার বিচার নিয়ে এখনো প্রশ্ন আসছে। এটা পুরোনো প্রজন্মের দায় যে একাত্তরের পর এর গণহত্যার বিচারটা নিষ্পন্ন করা যায়নি, সমাধান করা যায়নি রাজনৈতিক প্রশ্নগুলো। সেটি যাতে আর পুনরাবৃত্তি না হয়, এ কারণেই আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে এনসিপি কঠোর এবং বিচারটা নিষ্পন্ন দেখতে চায়।
একাত্তর থেকে সব গণহত্যার বিচার চায় এনসিপি উল্লেখ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, তবে রাজনৈতিকভাবে এ মুহূর্তে বাংলাদেশে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কনসার্নের (উদ্বেগের) জায়গাটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ।
নির্বাচনের সময়ের বিষয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা যে সময়সীমা দিয়েছেন, তার মধ্যে ডিসেম্বরকেই এখন প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে আগামী বছরের জুন পর্যন্ত আরও একটা সময়সীমা দেওয়া আছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সেটাকে সমর্থন করছি। কিন্তু আমরা বলছি, এই সময়ের মধ্যেই বিচার এবং সংস্কারসহ আমরা গণপরিষদের যে দাবিটি জানিয়েছি, সেটি আসলে এই সময়ের মধ্যেই করা সম্ভব।’
‘বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, আরিফুল ইসলাম আদীব প্রমুখ।
আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার এবং নিবন্ধন বাতিলের দাবিতে সারা দেশে এনসিপির নেতৃত্বে ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম, সে স্বপ্নের পথে সবচেয়ে বড় অন্তরায় আওয়ামী লীগ।’
সেনানিবাসে বৈঠক প্রসঙ্গ- সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, সেটাকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মনে করছি: হাসনাত আবদুল্লাহ
জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, সেনানিবাসে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যে আলোচনা হয়েছে, সেটাকে তাঁরা রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ মনে করছেন । শুক্রবার রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।
এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে যে আলোচনাটি হয়েছে সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক। সেটি হচ্ছে আমরা মনে করছি, রাজনৈতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা।’ এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘রাজনীতি রাজনীতিবিদেরাই নির্ধারণ করবেন—রাজনীতির ঘটনাপ্রবাহ বা চলমান যা কিছুই, পরবর্তী রাজনীতি কোন দিকে যাবে, সেটি রাজনীতিবিদদের হাতেই থাকা উচিত। তো সে জায়গায় আমরা সন্দিহান বলেই গতকাল আমার স্ট্যাটাস দিতে হয়েছে।’
বৃহস্পতিবার রাতে ফেসবুকে যে স্ট্যাটাস দিয়েছেন, সেখানে সেনাবাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার সব কিছু বলা আছে বলে উল্লেখ করেন হাসনাত। ওই স্ট্যাটাসে হাসনাত আবদুল্লাহ লিখেছেন, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরীন শারমিন ও তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে। ১১ মার্চ সেনানিবাসে হাসনাত আবদুল্লাহসহ দুজনের কাছে এমন একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি লিখেছেন, ‘আমাদের প্রস্তাব দেওয়া হয়, আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদের বলা হয়, ইতিমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা নাকি ভালো।’
সেনানিবাসে কেন গিয়েছিলেন, সে প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আপনারা জানেন যে বর্তমানে ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দেওয়া হয়েছে সেনাবাহিনীকে। ল অ্যান্ড অর্ডার সিচুয়েশন (আইনশৃঙ্খল পরিস্থিতি) নিয়ে আমাদের অনেকের মনে প্রশ্ন রয়েছে। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলার জন্য আমাদের আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিছু দিন আগে আপনারা সেনাপ্রধানের একটি বক্তব্য দেখেছেন, যে বক্তব্যকে আমি ব্যক্তিগতভাবে বা আমরা অনেকেই, দেশের মধ্যে এটা নিয়ে কথা হয়েছে যে এটাকে রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে অসমীচীন হিসেবে ধরা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানকে যেভাবে অ্যাড্রেস করা হয়েছে, যে ইনক্লুসিভ নির্বাচনের ইঙ্গিত করা হয়েছে আওয়ামী লীগসহ তো সার্বিক বিষয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে, সে জন্য গিয়েছি।’
বর্তমানে নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুভব করছেন কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘দেখুন ৫ আগস্টের আগে ছাত্র–জনতাকে নিয়ে আমরা আন্দোলন করেছি। ফ্যাসিবাদবিরোধী একটা শক্তি ছিল, এজেন্সি ছিল। সরকারপক্ষ আমাদের বিরুদ্ধে ছিলে, তখন তো আমরা বারবার বলেছি, লড়াই চলমান, এখনো সে লড়াই অব্যাহত রয়েছে। যতক্ষণ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ঐক্যবদ্ধ রয়েছি, ততক্ষণ পর্যন্ত আমি কোনো নিরাপত্তার ঝুঁকি অনুভব করছি না।’
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবির বিষয়ে হাসনাত বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে আপনারা কোথাও দেখেছেন যে আওয়ামী লীগ অনুশোচনা ফিল করেছে? ওরা যে একটা গণহত্যা চালাইছে, এটা তো স্বীকারও করেনি। আমরা আমাদের জায়গা থেকে স্পষ্ট বলতে চাই, আওয়ামী লীগের আগে বিচার নিশ্চিত করতে হবে, তাকে দল হিসেবে বিচার নিশ্চিত করতে হবে। অপরাধ স্বীকার করতে হবে, তারপর অন্য কোনো আলোচনা হলে হতে পারে, এর আগে কোনো আলোচনা নয়।’
জাতীয় নাগরিক পার্টির এই নেতা আরও বলেন, ‘আমরা ৫ আগস্টের পরে বলেছি, আওয়ামী লীগের নাম, মার্কা ও আদর্শ—এই তিনটি হচ্ছে অপ্রাসঙ্গিক। এখানে যদি বিদেশি ষড়যন্ত্র অথবা দেশি ষড়যন্ত্র বা এজেন্সি থেকে কোনো অপচেষ্টা চালানো হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা ছাত্ররা কমিটেড (অঙ্গীকারাবদ্ধ), যারা নির্যাতিত–নিপীড়িত, হত্যার শিকার হয়েছেন, তাঁদের পরিবারের কাছে কমিটেড আওয়ামী লীগের কোনো রিফর্ম হতে দেওয়া যাবে না।’
![]() |
| সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আজ শুক্রবার রাতে রাজধানীর বাংলামোটরে রূপায়ণ টাওয়ারে। ছবি: তানভীর আহাম্মেদ |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
গাজার শিশুরা অভিশাপ দিচ্ছে
ইউনিসেফের বরাত দিয়ে অনলাইন আল জাজিরা বলছে, গত তিন দিনে ইসরাইলের বোমার আঘাতে ২০০-এর বেশি শিশু প্রাণ হারিয়েছেন। গাজায় নিযুক্ত ইউনিসেফের মুখপাত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এই সংখ্যা চূড়ান্ত নয়। কেননা, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা শিশুদের কোনো খোঁজ মিলছে না। উদ্ধারকারীরা নিশ্চিত নন চাপা পড়া শিশুরা বেঁচে আছে কিনা। এদিকে ভাগ্যক্রমে ২৫ দিন বয়সী এক শিশুকে উদ্ধারে সক্ষম হয়েছে উদ্ধারকারীরা। শিশুটির কান্নার আওয়াজ শুনে তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। প্যারামেডিকরা যখন শিশুটিকে পরীক্ষা করছিল, তখন সে থেমে থেমে নড়ে উঠছিল। মঙ্গলবার ইসরাইলের বিমান হামলায় শিশুটির বাবা-মাসহ পরিবারের সকলেই নিহত হয়েছেন। জন্মগ্রহণ করেই পৃথিবীতে এতিম হয়ে গেল শিশুটি। এ ছাড়া শিশুটি বেঁচে থাকবে কিনা তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কেননা, ইসরাইলি হামলা এখনো অব্যাহত রয়েছে। কে জানে হয়তোবা তেলআবিবের ছোড়া অন্য কোনো বোমার আঘাতে শিশুটির জীবন ছিন্নভিন্ন হবে। এই শিশুর নাম ইল্লা ওসামা আবু দাগ্গা। ২৫ দিন আগে গাজায় নড়বড়ে যুদ্ধবিরতির মধ্যে শিশুটি জন্ম নিয়েছে। ফিলিস্তিনিরা ধরে নিয়েছিলেন, যুদ্ধ শেষ। যদিও পনেরো মাসের যুদ্ধে পুরো উপত্যকাটি ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় উত্তর গাজায় আটকা পড়েছে লক্ষাধিক শিশু। তাদের জীবন মৃত্যুর ঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছে গাজায় কর্তব্যরত বৃটেনভিত্তিক শিশু বিষয়ক সংস্থা সেভ দ্য চিলড্রেন। সংস্থাটি জানিয়েছে, গত সপ্তাহে অতর্কিতভাবে ইসরাইলের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর লক্ষাধিক শিশু উত্তর গাজায় আটকা পড়েছে। জীবননাশের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে তারা। বিশেষ করে বেইত লাহিয়ায় ইসরাইলের পদাতিক বাহিনীর হামলা শুরু হওয়ার পর লক্ষাধিক শিশু জীবন হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছে। উত্তর গাজা পুরোপুরি অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরাইলি বাহিনী। ফলে আবারো ওই অঞ্চলে খাদ্য ও ওষুধসহ জীবন রক্ষাকারী সকল সহায়তা সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। সেখানে কর্তব্যরত মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজাবাসীর জন্য খাদ্য ও পানি সরবরাহ করতে পারছে না। ২রা মার্চ থেকে ইসরাইলি বাহিনী উপত্যকায় প্রবেশকারী সকল সহায়তা এবং বাণিজ্যিক পণ্য সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার পর বর্তমান পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে। সেভ দ্য চিলড্রেনের আঞ্চলিক পরিচালক আহমেদ আলদাউই বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে শিশুরা সকল বেসামরিক নাগরিকদের মতো বিশেষ সুরক্ষার অধিকারী। কিন্তু গত তিন দিনে গাজার শিশুরা যে নারকীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে তা দেখে যে কেউ বলবে তাদের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে। হামলার ৭২ ঘণ্টায় যে সংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন তার মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশই শিশু। আর ৩০ শতাংশ নারী।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিভাজনের পথ বেয়েই আওয়ামী লীগ আসবে: মাহফুজ আলম
শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি বলেন, এস্টাবলিশমেন্ট মাস্টারমাইন্ড বানালো। আবার নিজেরাই মাস্টারমাইন্ডের বিরুদ্ধে নেপথ্য শক্তি’র অন্ধভক্তদের লেলিয়ে দিল। ছাত্রদের মধ্যকার ক্রেডিটবাজির লড়াই কারা শুরু করিয়ে দিল? নেপথ্য শক্তির ন্যারেটিভের পেছনে ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট কি করছিল? বামপন্থিদের একাংশকে কারা প্রথমেই অভ্যুত্থানের শক্তি থেকে আলাদা করে ফেলল? বামপন্থিদের মুজিববাদী অংশ কিভাবে পরিপুষ্ট হলো?
তিনি লিখেছেন, প্রথম বিতর্ক হলো- সোনার বাংলা নিয়ে। সেখান থেকে কালচারাল ওয়ার শুরু। কখন, কাকে দিয়ে সে খেলা শুরু হলো? হিযবুত গালিটা দেওয়া হলো ছাত্রদের। অথচ ছাত্রদের হিযবুত বলে ন্যারেটিভ বানিয়ে আসল হিযবুতদের পতাকাবাজি করতে হেল্প করেছিল কারা?
তিনি লিখেছেন, এস্টাবলিশমেন্টের হাতে এক দশকে গজানো ‘তৌহিদী জনতা’ নামধারীদের প্রথম মিটিং হলো এসকেএস টাওয়ারে। পরে সারা বাংলাদেশে, জেলায় জেলায়। কারা ইন্ধন জোগাল তাদের। আর কার/কাদের বিরোধিতা করল, এখনো করে যাচ্ছে? ঢাকা শহরের স্কুল কলেজে র্যাডিকালাইজেশনের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হলো কাদের আয়োজনে? নেপথ্য শক্তির প্রোপাগান্ডু (স) এবং মিম পেজগুলো একের পর এক আক্রমণ করল অভ্যুত্থানের নেতাদের। অভ্যুত্থানের যে নেতারা শাপলা-শাহবাগের বাইনারি ভাঙতে চাইল, নতুন বন্দোবস্ত গড়তে চাইল- তাদের বিরুদ্ধে নেপথ্য শক্তি, ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিস্ট, নেপথ্য শক্তির প্রোপাগান্ডু (স), তৌহিদী জনতা নামধারীদের একসঙ্গে লেলিয়ে দিল কারা? এর বিপরীতে ছাত্রদের প্রতিক্রিয়া কিভাবে ছাত্রদের নিজেদের মধ্যে বিভাজন শতগুণ বাড়িয়ে দিল?
তথ্য উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, বামপন্থি-ডানপন্থি বিভাজনের জন্য বিভিন্ন মঞ্চ ও আন্দোলনের পেছন থেকে কলকাঠি নাড়ল কারা? সেসব মঞ্চের পেছনে নেপথ্য শক্তি কি করছিল? অর্থ ও জনবলের উৎস কারা ছিল? বামপন্থিদের একাংশ হরেদরে কেন এ সরকারের বিরোধী হয়ে উঠল এবং মুজিববাদীদের ক্রীড়ানকে পরিণত হলো? রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে ছাত্রদের নিয়ে টেনশন তৈরি করল কারা? কেন এক্স (সাবেক) কমিশনের এক সদস্য নেপথ্য শক্তির ইন্ধনে সমঝোতা করল? নেপথ্য শক্তিকে কিভাবে সাপোর্ট দেয়া হলো এডমিনে এবং ব্যবসায়ে, প্রকারাস্তরে যা ‘দেশপ্রেমিক’ নেপথ্য শক্তি আর জাতীয়’ শক্তির মধ্যে বিভাজন, সন্দেহ ও দূরত্ব তৈরি করল।
তিনি আরও লিখেছেন, জাতীয় শক্তিই বা কেন বারবার এলাইন করতে থাকল এস্টাবলিশমেন্টের সঙ্গে? কেন তারা ছাত্র-জনতার আবেগের বিরুদ্ধে যেতে চাইল? আর এ আলাইনমেন্টের সূত্রে জাতীয় শক্তি কেন ছাত্রদের ওপর আক্রমণ বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, ডিসেম্বর অনওয়ার্ড? অলিগার্কদের টাকা কিভাবে ভাগ করা হলো, এস্টাবলিশমেন্ট, ‘বড়’ নেপথ্যশক্তি আর জাতীয়’ শক্তির মধ্যে? কিভাবে টিকিয়ে রাখা হলো সামিটসহ অন্যান্য গ্র“পের বিজনেস ইন্টারেস্ট। কিভাবে ছাত্রদের একাংশকে টেনে নেয়া হলো সেসব আর্থিক লেনদেনে। যাতে পরবর্তীতে তাদের ব্লেকমেইল করা যায়? (ছাত্ররা এবং অন্যান্য দলের কর্মীরা বিভিন্ন অপরাধ করছে না, তা কিন্তু নয়!)
মাহফুজ আলম আরও লিখেছেন, লাকি কেন হঠাৎ সামনে আসল? শাহবাগ-শাপলার দ্বন্দ্ব কেন প্রকট হলো? সব বাহিনীর মোরাল কেন এখনো ভঙ্গুর? মিডিয়াগুলোর ন্যারেটিভ কেন এত এত সাজানো ও সময়োপযোগী হয়? মুজিববাদীরা কিভাবে রিওর্গানাইজড হলো মিডিয়া আর কালচারপাড়ায়?
তদুপরি, কোন কোন এডভাইজারের পক্ষ-বিপক্ষ কখন তৈরি করা হলো? কার কার পদত্যাগ চাওয়া হলো আর কাকে কাকে ইসলামবিদ্বেষী, নাস্তিক বানানো হলো? কেনই বা বানানো হলো? উত্তর হিসাবে বিশেষ কারও নাম গুরুত্বপূর্ণ না। আর, সবই অন্যরা করল, আমাদের কোনো দোষ নেই, তাও নয়। কিন্তু ষড়যন্ত্র হয়েছিল এবং এখনো চলমান! তবু, চলুন বিচার ও সংস্কারের পক্ষে কাজ করি। চলুন, শহিদ আহতদের স্পৃহা ও চৈতন্যের বাংলাদেশ তৈরি করতে আগুয়ান হই। এখনো সময় শেষ হয়নি! সবার জন্য শুধরাবার মতন সময় এখনো আছে! জুলাইয়ের মতো করে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও সুযোগ রয়েছে! চলুন, ছাত্ররা এক হোন/হই আবার। আমাদের বিরুদ্ধে, এ প্রজন্মের বিরুদ্ধে, ‘বাচ্চাকাচ্চা’দের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে। এটাই সত্য! আপনারা রুখে দাঁড়ান এবং জবাবদিহি ও সুবিচারের রাষ্ট্র গঠনে আবার ঐক্যবদ্ধ হোন। একমাত্র ছাত্র-জনতার জুলাই ঐক্যই পারবে আওয়ামী লীগের ফিরে আসাকে ঠেকিয়ে দিতে।
তিনি লিখেছেন, বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পুরাতন বন্দোবস্তের সব কলকব্জা বিকল করেই এগোতে হবে। নাহলে কিছুই দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না। জুলাই প্রজন্মের একাংশ এস্টাবলিশমেন্টের ফাঁদে পড়েছে, বিভিন্ন সেগমেন্টের ন্যায্য ক্ষোভকে একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে। আমাদের একে অপরের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে যাতে এস্টাবলিশমেন্ট অক্ষত থাকে। আর সেটা আছেও বটে! তাই, আমাদের প্রজন্মের সব আবেগকেই আওয়ামী লীগ প্রশ্নে, বিচারের প্রশ্নে, সংস্কারের প্রশ্নে নিবদ্ধ করা এবং এস্টাবলিশমেন্টের পালটা সেটেলমেন্ট গড়ার কাজে লাগানো উচিত। জুলাই প্রজন্ম জিন্দাবাদ! ছাত্র-জনতার জুলাই ঐক্য জিন্দাবাদ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ‘ভিসা সংকোচন নীতি’কে কাজে লাগাচ্ছে চীন
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস আগামী সপ্তাহে চীনে প্রথম সরকারি সফরে যাবেন। সেইসময়ে বাংলাদেশ ও চীন স্বাস্থ্য এবং চিকিৎসা খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্ব এশিয়া ডেস্কের প্রধান মোহাম্মদ নরে-আলম বলেন, ‘ইতিমধ্যেই চীনা কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশি রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দেয়ার জন্য কুনমিং-এ চারটি হাসপাতাল মনোনীত করেছে। ঢাকায় চীনের অর্থায়নে একটি বড় হাসপাতাল স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা চলছে।’
আগামী ২৬ থেকে ২৯ মার্চ ইউনূস তিন দিনের সফরে চীন যাবেন। ২৮ মার্চ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। দুই মাস আগে জানুয়ারিতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের প্রথম সরকারি সফরও ছিল চীনে।
বাংলাদেশের গণমাধ্যম জানিয়েছে, চীনা প্রতিপক্ষ ওয়াং ইয়ের সঙ্গে বৈঠকে হোসেন বেইজিংকে বাংলাদেশিদের চিকিৎসায় সহায়তা করতে বলেছেন। ১০ মার্চ বাংলাদেশ থেকে মেডিকেল ট্যুরিজমের জন্য একটি প্রতিনিধিদল চীনের কুনমিং শহরে যান। এর মধ্যে ছিলেন রোগী ও চিকিৎসকরাও। ঢাকা বিমানবন্দরে তাদের বিদায় জানান বাংলাদেশের কর্মকর্তারা। সেখানে ছিলেন ঢাকায় চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ইয়াও বলেন, ‘প্রয়োজনে একজন বন্ধুই আরেক বন্ধুর পাশে থাকে।’ তিনি আরও বলেন, ‘কুনমিংয়ের চারটি শীর্ষস্থানীয় সরকারি হাসপাতালকে বাংলাদেশ থেকে রোগীদের গ্রহণ করার জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। ঢাকা থেকে মাত্র আড়াই ঘণ্টার একটি ফ্লাইটেই সেই হাসপাতালে পৌঁছানো যাবে।’
সহযোগিতার বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য বেনারনিউজ ঢাকার চীনা দূতাবাসের সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করেছিল। কিন্তু তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব আসেনি।
চিকিৎসার জন্য বাংলাদেশিদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে যান। প্রধানত পূর্বাঞ্চলীয় শহর কলকাতায়। কারণ সেখানে সংস্কৃতি ও ভাষা বাংলাদেশের মতোই।
ভারতীয় পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২.১২ মিলিয়ন মানুষ ভারতে গিয়েছিলেন, যা মোট বার্ষিক পর্যটকের প্রায় ২০% ছিল। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে আড়াই লাখ বাংলাদেশি মেডিকেল ট্যুরিজমের জন্য ভারতে যান। কিন্তু গত বছর আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে অপসারিত হওয়ার পর প্রতিবেশী দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উল্লেখ করে ভারত সাময়িকভাবে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা প্রদান স্থগিত করে।’
ভারতীয় সংবাদপত্র দ্য হিন্দুর ৭ মার্চের প্রতিবেদন অনুসারে, যখন নয়াদিল্লি আবার ভিসা দেয়া শুরু করে, তখন এটি শুধুমাত্র সেইসব বাংলাদেশি রোগীদের জন্যই ইস্যু করা হয় যাদের খুব প্রয়োজন ছিল। প্রতিবেদন মোতাবেক, ভারত আগস্টের আগে বাংলাদেশিদের প্রতিদিন প্রায় ৮,০০০ ভিসা দিত, কিন্তু তারপর থেকে তা এক হাজারেরও কমে পৌঁছেছে। নয়াদিল্লির দাবি, ভিসা ইস্যু কমে যাওয়ার পেছনে রয়েছে কর্মীদের ঘাটতি।
তবে একটি সূত্র দ্য হিন্দুকে বলেছে, এটি আসলে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পরে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের অবনতির ফল। কারণ হাসিনা সরকার ভারতের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ছিল। সম্পর্কের অবনতির আরো একটি কারণ হলো নয়াদিল্লি ঢাকা থেকে পলাতক হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে। সেখান থেকে বসেই তিনি নানারকম উস্কানিমূলক বিবৃতি দিচ্ছেন। দ্বিতীয় বড় কারণ হল সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর থেকে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে হিন্দুদের বিরুদ্ধে অপরাধের বিষয়ে ভারতের একাধিক অভিযোগ। যদিও এই অভিযোগগুলো এবং প্রতিবেদনগুলো সম্পর্কে অনুসন্ধান করে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এবং সত্য অনুসন্ধানী সংস্থাগুলো দেখতে পেয়েছে এসব বেশিরভাগই ভুয়া।
ভিসা কমে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চেয়ে ঢাকায় ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে ই-মেইলের মাধ্যমে যোগাযোগ করলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পায়নি। চীনে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, ‘কুনমিংয়ে বাংলাদেশিদের জন্য হাসপাতাল নির্দিষ্ট করার উদ্দেশ্য হলো ভারতের ভিসা সংকোচনের পর স্বাস্থ্যখাতে যে সুযোগ তৈরি হয়েছে তা কাজে লাগানো।’
তিনি বলেন, ‘চীন তো আর বিনা পয়সায় আমাদের সেবা দেবে না। আবার আমাদেরও সেবা দরকার। এটি দুই দেশের জন্যই প্রয়োজন।’ বাংলাদেশের পর্যটন ও এভিয়েশন সেক্টরের একজন পর্যবেক্ষক ওয়াহিদুল আলম বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে রোগীদের আকৃষ্ট করার জন্য চীনের একটি সুপরিকল্পিত পরিকল্পনা রয়েছে। চীনা কর্তৃপক্ষ বর্তমানে মেডিকেল ভিসা দিতে সাত দিন সময় নেয়। তারা ইতিমধ্যে ঘোষণা করেছে যে চিকিৎসার জন্য ভিসা প্রক্রিয়াকরণের সময় আরও কমানো হবে। উপরন্তু, অনেক চীনা এয়ারলাইন্স কুনমিং-এ প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করে।
আলম বলেন, ‘চীনে চিকিৎসার খরচ ভারতের তুলনায় একটু বেশি। কিন্তু ব্যাংকক ও সিঙ্গাপুরের তুলনায় সস্তা। তবে তাদের পরিষেবা ভালো। চীনে চিকিৎসার ক্ষেত্রে একটি বাধা হলো ভাষার সমস্যা। এখন হাসপাতালগুলো চীনা ভাষা জানা বাঙালিদের নিয়োগ দিয়েছে।’
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মানিত ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ভারত চীনের চেয়ে সস্তায় চিকিৎসা পরিষেবা প্রদান করতে পারে। কিন্তু মানুষ চীনে যাবে, কারণ তাদের চিকিৎসার প্রয়োজন। যখন চাহিদা থাকবে, তখন সরবরাহও বাড়বে।’
তবে রহমান জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের দেশীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নতি করা উচিত। যদি আমরা আটটি শহরে আটটি বড় আধুনিক হাসপাতাল তৈরি করতে পারি, তাহলে মানুষ বিদেশে যাবে না এবং আমরা আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে পারব।’
সূত্র: বেনার নিউজ

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ঢাকার প্রস্তাব দ্বিধায় দিল্লি: আনন্দবাজারের প্রতিবেদন
২০শে মার্চ প্রকাশিত আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়। এতে আরো বলা হয়, সাউথ ব্লক সূত্রের বক্তব্য, বিষয়টি নিয়ে সরকারের নিজের মধ্যে দ্বিমত রয়েছে। বিদেশ মন্ত্রকের একটা বড় অংশ মনে করছে, আলোচনার প্রস্তাব একেবারে প্রত্যাখ্যান করা হলে সে দেশে ভারত-বিরোধিতা আরও বাড়তে পারে কি না— তা আগে খতিয়ে দেখা হোক। সংখ্যালঘুদের উপর নিপীড়ন কমাতে ইউনূসকে চাপ দেওয়া যেতে পারে এক টেবিলে মুখোমুখি বসে। চীন এবং পাকিস্তান যে ভাবে ভারত-বিরোধী প্রভাব তৈরি করতে ঢাকাকে ব্যবহার করছে, তাকেও প্রশমিত করা সম্ভব। পাশাপাশি ভারতের শীর্ষ গোয়েন্দা সংস্থার মনোভাব, বাংলাদেশ চাইল বলেই বসে যাওয়ার মতো কোনও কারণ ঘটেনি। তারা ভারতের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করছে নিয়মিত। সাউথ ব্লকের দেওয়া নাশকতা এবং সংখ্যালঘুদের প্রতি হিংসার কোনও তথ্যই মানতে চাইছে না। এখনও আলোচনার মতো পরিবেশ তৈরি হয়নি।
সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং জঙ্গিবাদের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থাগুলির প্রধান তুলসী গাবার্ড দিল্লিতে এসে যে ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, তাতে যথেষ্ট চাপে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার। উপমহাদেশে ভারতকে অস্বস্তিতে ফেলতে পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে দহরম- মহরম বাড়াচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার, ওয়াকিবহাল মহলের দাবি— যে সরকারের রাশ আসলে মৌলবাদী স্বাধীনতা-বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর হাতে। তুলসী গাবার্ড কড়া ভাষায় উদ্বেগ প্রকাশের পরে এ বার ভাবমূর্তি উদ্ধারে এই সরকার কিছু পদক্ষেপ করার কথা ভাবছে। কিছু জঙ্গিকে আটক করা এবং ভুয়া মামলায় কারাবন্দি বিপক্ষের কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে ঈদের আগে সরকার জামিনে মুক্তি দিতে পারে বলে খবর ঘুরছে ঢাকায়।
তুলসীর বাংলাদেশ নিয়ে সতর্কবার্তা উচ্চারণের পরে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ইউনূসের প্রেস উইং পাল্টা বিবৃতিতে তার একটা জবাব দেয়। ইউনূসের দফতর দাবি করে, সংবাদ মাধ্যমের একাংশের ভুল তথ্যের ভিত্তিতে আমেরিকার গোয়েন্দাপ্রধান সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে বাংলাদেশ সরকারকে দুষেছেন। তাঁর মন্তব্যে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। তবে ঢাকার বিবৃতিতে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি মিথ্যা প্রমাণ করতে যত শব্দ খরচ করা হয়েছে, সন্ত্রাসের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে ততটা হয়নি। আমেরিকার বিদেশ দফতরের সাংবাদিক বৈঠকে মুখপাত্র ট্যামি ব্রুস এ দিন এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা দেন— বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট তাঁদের উদ্দেশ্য নয়। শ্রীমতী ব্রুস বলেন, “আমরা বিশ্বের যে কোনও দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে হিংসা ও অত্যাচারের নিন্দা করি এবং বাংলাদেশে সকলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তবর্তী সরকার যে সব ব্যবস্থা নিয়েছেন তাকে সাধুবাদ জানাই। এটাই আমরা দেখছি। এটাই আমরা প্রত্যাশা করি এবং এটা চলবে বলে মনে করি।'
ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পরে বাংলাদেশে 'সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে কবর দিয়ে' আফগানিস্তানে তালিবানের ধাঁচে খিলাফত প্রতিষ্ঠার দাবিতে সরব হয়েছে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হিযবুত তাহরীর ও কয়েকটি মৌলবাদী সংগঠন। নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও পুলিশের সামনেই তারা ঢাকার রাস্তায় নিয়মিত সমাবেশ ও সাংবাদিক বৈঠক করছে। কোথাও কোথাও তাদের কর্মসূচিতে পুলিশি পাহারাও দেখা গিয়েছে। জামায়াতের আমির শফিকুর রহমানও সম্প্রতি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, তাঁদেরও আসল উদ্দেশ্য বাংলাদেশে ইসলামি শাসন চালু করা। তুলসী এই বিষয়টি উল্লেখ করে বলছেন, জঙ্গিদের এই খিলাফত প্রতিষ্ঠার বিষয়টি ভারত, বাংলাদেশ, সিরিয়া, আমেরিকা-সহ গোটা বিশ্বের কাছে একটা উদ্বেগের কারণ হয়েছে। তিনি বলেন, “ট্রাম্প প্রশাসন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে আপসহীন।” এর আগে গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকের পাশাপাশি মোদী-ইউনূস বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছিল ঢাকা। কিন্তু তা হয়নি। নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, নিউ ইয়র্কে একই সময়ে গেলেও মোদী সাধারণ পরিষদে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেননি, করেছিলেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মোদী গিয়েছিলেন। কোয়াড-এর শীর্ষ বৈঠকে। সেই সফরে ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকের সময় বার করা সম্ভব নয়। এর পরে জয়শঙ্কর বাংলাদেশের বিদেশ উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বিমস্টেকে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হোক বা না হোক, ইউনূস মঙ্গলবার বলেছেন- “কক্সবাজারে প্রস্তাবিত একটি বন্দর হলে ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলেও পণ্য পাঠানো হবে।' এত দিন উত্তরপূর্বাঞ্চলকে ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন করার হুঙ্কার দিয়েছে তাঁর কিছু উপদেষ্টা ও অনুগত ছাত্রনেতা। এই প্রথম সদর্থক কথা বললেন ইউনূস। তাঁর প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ দিন নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক খুবই ভাল চলছে।” তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের এই ৭ মাসে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বেড়েছে। তবে ভিসার বিষয়ে কিছু জটিলতা আছে। সে বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলতে পারবে। কিন্তু আমরা ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাই।” শফিকুল অবশ্য ২৬ মার্চ ইউনূসের চীন সফরের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়েই ভারতের বিষয়টি তোলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হাসনাতের পোস্ট নিয়ে তোলপাড়
এতে তিনি লিখেছেন, কিছুদিন আগে আমি আপনাদের বলেছিলাম যে, ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ নামে নতুন একটি ষড়যন্ত্র নিয়ে আসার পরিকল্পনা চলছে। এই পরিকল্পনা পুরোপুরি ভারতের। সাবের হোসেন চৌধুরী, শিরিন শারমিন, তাপসকে সামনে রেখে এই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে।
আমিসহ আরও দুইজনের কাছে ক্যান্টনমেন্ট থেকে এই পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হয় ১১ই মার্চ দুপুর ২:৩০এ। প্রস্তাব দেয়া হয় আসন সমঝোতার বিনিময়ে আমরা যেন এই প্রস্তাব মেনে নিই। আমাদের বলা হয়- ইতিমধ্যে একাধিক রাজনৈতিক দলকেও এই প্রস্তাব দেয়া হয়েছে- তারা শর্তসাপেক্ষে আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনে রাজি হয়েছে। একটি বিরোধী দল থাকার চেয়ে একটি দুর্বল আওয়ামী লীগসহ একাধিক বিরোধী দল থাকা নাকি ভালো। ফলশ্রুতিতে আপনি দেখবেন গত দুইদিন মিডিয়াতে আওয়ামী লীগের পক্ষে একাধিক রাজনীতিবিদ বয়ান দেয়া শুরু করেছে।
আমাদের আরও বলা হয়- রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ যাদের দিয়ে করা হবে, তারা এপ্রিল-মে থেকে শেখ পরিবারের অপরাধ স্বীকার করবে, হাসিনাকে অস্বীকার করবে এবং তারা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ করবে এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে জনগণের সামনে হাজির হবে।
আমাদের এই প্রস্তাব দেয়া হলে আমরা তৎক্ষণাৎ এর বিরোধিতা করি এবং জানাই যে, আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের পরিকল্পনা বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগের বিচার নিয়ে কাজ করুন।
উত্তরে আমাদের বলা হয়, আওয়ামী লীগকে ফিরতে কোনো ধরনের বাধা দিলে দেশে যে সংকট সৃষ্টি হবে, তার দায়ভার আমাদের নিতে হবে এবং ‘আওয়ামী লীগ মাস্ট কাম ব্যাক’।
আলোচনার একপর্যায়ে বলি- যেই দল এখনো ক্ষমা চায় নাই, অপরাধ স্বীকার করে নাই, সেই দলকে আপনারা কীভাবে ক্ষমা করে দিবেন! অপর পক্ষ থেকে রেগে গিয়ে উত্তর আসে, ‘ইউ পিপল নো নাথিং। ইউ ল্যাক উইজডোম অ্যান্ড এক্সপিরিয়েন্স। উই আর ইন দিজ সার্ভিস ফর এটলিস্ট ফোর্টি ইয়ার্স। তোমার বয়সের থেকে বেশি। তাছাড়া আওয়ামী লীগ ছাড়া ‘ইনক্লুসিভ’ ইলেকশন হবে না।’
উত্তরে বলি, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে কোন ইনক্লুসিভিটি হতে পারে না। আওয়ামী লীগকে ফেরাতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে ফেরাতে হবে। আওয়ামী লীগ ফেরানোর চেষ্টা করা হলে যে সংকট তৈরি হবে, তার দায়ভার আপনাদের নিতে হবে’।
পরে- মিটিং অসমাপ্ত রেখেই আমাদের চলে আসতে হয়।
জুলাই আন্দোলনের সময়ও আমাদের দিয়ে অনেক কিছু করানোর চেষ্টা করা হয়েছে। কখনো এজেন্সি কখনো বা ক্যান্টনমেন্ট থেকে নানা ধরনের প্রেসক্রিপশন গ্রহণ করতে চাপ দেয়া হয়েছে। আমরা ওসব চাপে নতি স্বীকার না করে আপনাদের তথা জনগণের ওপরেই আস্থা রেখেছি। আপনাদের সঙ্গে নিয়েই হাসিনার চূড়ান্ত পতন ঘটিয়েছি।
আজকেও ক্যান্টনমেন্টের চাপকে অস্বীকার করে আমি আবারো আপনাদের ওপরেই ভরসা রাখতে চাই। এ পোস্ট দেয়ার পর আমার কী হবে জানি না। নানামুখী প্রেশারে আমাকে হয়তো পড়তে হবে হয়তো বিপদেও পড়তে হতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে কোন ধরনের আপস করার সুযোগ নাই।
জুলাইয়ের দিনগুলোতে জনগণের স্রোতে ক্যান্টনমেন্ট আর এজেন্সির সকল প্রেসক্রিপশন আমরা উড়িয়ে দিয়েছিলাম। আজ আবারো যদি আপনাদের সমর্থন পাই, রাজপথে আপনাদের পাশে পাই তবে আবারো এই আওয়ামী লীগ পুনর্বাসনের ভারতীয় ষড়যন্ত্রও আমরা উড়িয়ে দিতে পারবো।
আসুন, সকল যদি কিন্তু পাশে রেখে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই। আওয়ামী লীগ রাজনীতি করতে পারলে জুলাই ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমাদের শরীরে এক বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত আমাদের শহীদদের রক্ত আমরা বৃথা হতে দিবো না। ৫ই আগস্টের পরের বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কামব্যাকের আর কোনো সুযোগ নাই বরং আওয়ামী লীগকে অবশ্যই নিষিদ্ধ হতেই হবে’।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সেই সময়টা ছিল রূপকথার গল্পের মতো by ইব্রাহীম ইশান

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়া যাবে না
তিনি বলেন, বর্তমান সংস্কার এবং নির্বাচনকে যেভাবে মুখোমুখি করে ফেলা হয়েছে, এটি নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যমূলক। যারা সংস্কার শেষ করার পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান করার কথা বলছেন, তাদের বলতে চাই- যেটি শেষ হয়ে যায় সেটি সংস্কার নয়। কারণ সংস্কার কখনো শেষ হয় না। সংস্কার একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। দেশের বর্তমান সংবিধান যেটিকে ইচ্ছামতো কাটাছেঁড়া করে পতিত পলাতক স্বৈরাচার তাদের দলীয় সংবিধানে পরিণত করে ফেলেছিল। বিএনপি মনে করে, গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে খেতাবি কিংবা পুঁথিগত সংস্কারের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার এবং আচরণের ব্যবহারিক প্রয়োগ। জনগণের গণতান্ত্রির চর্চার মধ্য দিয়েই কেবল সংস্কার প্রক্রিয়া টেকসই, সফল এবং কার্যকর হয়ে উঠতে পারে।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গণইস্যুকে মুখ্য ইস্যু বানাতে গিয়ে নিজেদের অজান্তেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী জাতীয় ঐক্যের সংশয় ও সন্দেহের জন্ম দেয়া হচ্ছে। আমি অন্তর্বর্তী সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আবারও বলতে চাই, সরকারের এমন কোনো পদক্ষেপ নেয়া উচিত হবে না, যাতে রাষ্ট্র এবং রাজনীতিতে পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা পুনর্বাসিত হওয়ার সুযোগ পায়। এমন পরিস্থিতিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার অর্থ সারা দেশে ঘাপটি মেরে থাকা পলাতক স্বৈরাচারের দোসরদের রাজনীতিতে পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া। সুতরাং সবার আগে প্রয়োজন জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান। কারণ নাগরিকরা রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতাশালী না হলে কোনো সংস্কারই কিন্তু টেকসই হবে না।
তিনি বলেন, ৫ই আগস্ট মাফিয়া সরকারের পতনের পর দীর্ঘ দেড় দশকে অন্ধকার থেকে বেরিয়ে এসে পুনরায় গণতান্ত্রিক, মানবিক বাংলাদেশ গড়ায় এক অপার সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়েছে আমাদের সামনে। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় রাজনীতিবিদ এবং রাজনীতি কর্মীদের পাশাপাশি দেশের বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ এবং পেশাজীবীদের দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। রাষ্ট্র এবং রাজনীতির স্বার্থেই পেশাজীবীদের সর্বোচ্চ দক্ষতা অর্জনে আরও বেশি মনোযোগী হওয়া অত্যন্ত জরুরি। পেশাজীবী মেধা ও অভিজ্ঞতা রাষ্ট্র উন্নয়ন পরিকল্পনায় কাজে লাগানোর সুযোগ অবশ্যই রয়েছে। বর্তমান রাজনৈতিক সাংগঠনিক কাঠামোতে পেশাজীবীদের অনেকের পক্ষেই নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি হিসেবে অবদান রাখার সুযোগ হয়তো সীমিত। সেজন্য রাষ্ট্র, সরকার ও রাজনীতির গুণগত পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিশিষ্টজন এবং পেশাজীবীদের মেধা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর জন্য বিএনপি সংবিধানে দ্বি-কক্ষবিশিষ্ট আইনসভা অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করেছে।
বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, একটি রাষ্ট্রে রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ এবং পেশাজীবীরা একে-অপরের পরিপূরক। রাষ্ট্রে সুশীল সমাজ এবং পেশাজীবীদের ভূমিকা দুর্বল থাকলে সুস্থ ও সবল রাজনীতি আশা করা যায় না, একইভাবে দেশের রাজনীতি রুগ্ণ হলে সুশীল সমাজ ও পেশাজীবীরা যথাযথ দায়িত্ব, কর্তব্য এবং ভূমিকা পালনে সক্ষম হন না। দীর্ঘ দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী শাসনকাল এরই সবচেয়ে বড় প্রমাণ। আমরা দেখেছি, পলাতক স্বৈরাচারের শাসনকালে একটি উল্লেখযোগ্য সুশীল ও পেশীজীবীদের অংশ, সেই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের সক্রিয় সহযোগী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিল।
তারেক রহমান বলেন, বিশ্বের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক বিধি ব্যবস্থায় শেষ পর্যন্ত রাজনীতিবিদদের হাতেই রাষ্ট্র পরিচালনার ভার বর্তায়। তবে রাজনীতিবিদদের সফলভাবে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, সুশীল সমাজ এবং পেশাজীবীদের ভূমিকা ও অবদান অনস্বীকার্য। রাষ্ট্র এবং রাজনীতির ভালো-মন্দের অনেক কিছু নির্ভর করে রাজনীতিবিদদের দেশপ্রেম এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় নীতির উপর। এক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং সমাজে বিশিষ্ট নাগরিক ও পেশাজীবীদের ভূমিকা যত বেশি কার্যকর থাকে, রাজনৈতিক সরকারও তত বেশি দায়িত্বশীল এবং শক্তিশালী হয়।
মির্জা ফখরুলের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজ, অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই সিকদার, যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমান, লাবিব গ্রুপের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আলমগীর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সদস্য ড. সুকোমল বড়ুয়া, সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন, কালের কণ্ঠ সম্পাদক কবি হাসান হাফিজ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, বিএফইউজে’র সাবেক মহাসচিব এমএ আজিজ, চিত্রনায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন প্রমুখ।
বিএনপি’র পক্ষে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ভাইস চেয়ারপারসন শামসুজ্জামান দুদু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিএনপি’র উদ্যোগে এই ইফতার মাহফিলে বিভিন্ন বিশিষ্ট নাগরিক, পেশাজীবী এবং বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে আসতে হলে আমাদের লাশের উপর দিয়ে আসতে হবে
সরজমিন দেখা যায়, বায়তুল মোকাররম মসজিদে প্রবেশের সময় ব্যাগ নিয়ে আসা মুসল্লিদের ব্যাগ তল্লাশি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় সেনাবাহিনী, সাদা পোশাকধারী গোয়েন্দা পুলিশ ও মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের সদস্যদেরও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। জুমার নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ শুরু হয়। এ সময় মুসল্লিরা ইসরাইল-বিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের হাতে ছিল বিভিন্ন স্লোগান সম্বলিত ব্যানার-ফেস্টুন। মিছিলকারীরা ইসরাইলকে নিষিদ্ধ এবং নেতানিয়াহু’র বিচার দাবি করেন।
এ সময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মামুনুল হক বলেন, ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধে আমরা জাতিসংঘের কাছ থেকে নিষেধাজ্ঞার দাবি জানাচ্ছি। এই যুদ্ধের দাবানল সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে, এর জন্য দায়ী হবে জাতিসংঘ। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমাদের দেশ থেকে মুজাহিদের দল গঠন করার উদ্যোগ নিন। তিনি বলেন, ভারতে মুসলমানদের রক্ত দিয়ে হলি খেলবার পাঁয়তারা হচ্ছে। ভারত এবং ইসরাইলের যৌথ প্রযোজনায় মুসলমানদের ওপর নিপীড়ন চালানো হচ্ছে। আওরঙ্গজেব সমাধি ভাঙার চক্রান্ত করা হচ্ছে। যদি ভাঙা হয় আমরা এ কার্যক্রমকে গাজওয়াতুল হিন্দের প্রতিধ্বনি হিসেবে বিবেচনা করবো। প্রয়োজনে বাংলার মুসলমানরা আওরঙ্গজেব অভিমুখে লংমার্চ করবে।
পাসপোর্টে এক্সেপ্ট ইসরাইল লেখা বহাল রাখার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা ভারতের প্রেসক্রিপশনে পাসপোর্ট থেকে এক্সেপ্ট ইসরাইল লেখা তুলে দিয়েছে। আমরা বর্তমান সরকারের প্রতি পাসপোর্টে এক্সেপ্ট ইসরাইল লেখা বহাল রাখার দাবি জানাচ্ছি। পিলখানা, শাপলা চত্ব্বর ও জুলাই অভ্যুত্থানের হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের উপস্থিতি এ দেশের মানুষ বরদাস্ত করবে না। মামুনুল হক বলেন, মিডিয়া ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের পূর্ব ধারণা ছিল, সরকার পতন হলে লাখ লাখ আওয়ামী লীগ নেতাকে হত্যা করা হবে কিন্তু তা হয়নি। এর সুযোগ নিয়ে তারা পুনর্গঠিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে আসতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার যেকোনো ষড়যন্ত্র হেফাজত ইসলাম রুখে দেবে।
সমাবেশে হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ফযলুর করিম কাসেমী বলেন, ফিলিস্তিনি মুসলমানদের ওপর যে নির্যাতন চালানো হয়েছে তাতে বাংলাদেশের মুসলমানদের রক্তে দাগ লেগেছে। জাতিসংঘ মুসলমানদের স্বার্থে অন্ধ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশে ইসরাইলি পণ্য বর্জন এবং প্রবেশ বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
হেফাজত ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, গণহত্যাকারী নেতানিয়াহুকে ফাঁসি দিতে হবে। ইসরাইলের অস্তিত্ব পৃথিবীতে রাখতে দেয়া যাবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রতি তিনি বলেন, আপনার সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ক খুব ভালো। আপনি রোহিঙ্গা মুসলমানদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করছেন, সেজন্য ধন্যবাদ জানাই। ইসরাইলের সঙ্গে বাংলাদেশের সকল কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে। ইসরাইল এবং ভারত মুসলিম নিধনের প্রতিযোগিতায় নেমেছে। তিনি বলেন, শাপলা চত্ব্বর, বিডিআর ও জুলাই বিপ্লবের গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশ নিষিদ্ধ করতে হবে। একই সমাবেশে হেফাজত ইসলামের ঢাকা মহানগরীর সভাপতি জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের পুনরুত্থান ও রাজনীতি করতে দেয়া হবে না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
কেন ইলন মাস্কের স্টারলিংকে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ ও ভারত?
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওয়াশিংটন ডিসিতে গিয়ে ইলন মাস্কের সঙ্গে আলাদা বৈঠক করেছিলেন। তারপর গত সপ্তাহে ভারতের দুই ইন্টারনেট ও টেলিকম জায়ান্ট- এয়ারটেল ও রিলায়েন্স জিও মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর ঘোষণা করেছে যে স্টারলিংকের সঙ্গে তাদের সমঝোতা চূড়ান্ত, যার মাধ্যমে ওই সংস্থাটি ভারতে তাদের পরিষেবা দিতে পারবে। ভারতে স্টারলিংক কবে আর কীভাবে চালু হবে তা নিয়ে এখনো অনেক অস্পষ্টতা রয়েছে, তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সবাই একমত যে, এদেশের কমিউনিকেশন খাতে সেটা একটা যুগান্তকারী ঘটনা হতে চলেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো প্রধানমন্ত্রী মোদি যেদিন আমেরিকায় ইলন মাস্কের সঙ্গে দেখা করেন (১৩ই ফেব্রুয়ারি), ঠিক সেদিনই বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও মাস্কের সঙ্গে টেলিফোনে দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা বলেন। বাংলাদেশে স্টারলিংক ‘লঞ্চ’ করার জন্য সেদিন মাস্ককে অনুরোধ জানিয়েছিলেন ড. ইউনূস, ক’দিন পরে তিনি চিঠি লিখে বাংলাদেশ সফরে আসার জন্যও ইলন মাস্ককে আমন্ত্রণ জানান। মাত্র ৯০ দিনের ভেতর বাংলাদেশে স্টারলিংকের যাত্রা শুরু করা সম্ভব বলেও ওই চিঠিতে উল্লেখ করেছিলেন তিনি। এরপর স্টারলিংকের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ সফর করেছে, সে দেশের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে গ্রাউন্ড আর্থ স্টেশন স্থাপন ও আরও নানা অবকাঠামোগত বিষয়ে স্টারলিংকের বোঝাপড়াও সম্পন্ন হয়েছে। সুতরাং বাংলাদেশ ও ভারত- দুই প্রতিবেশী দেশেই স্টারলিংকের পরিষেবা পাওয়াটা এখন নেহাত আর কিছু সময়ের অপেক্ষা বলেই ধরে নেয়া হচ্ছে, যদিও অতীত অভিজ্ঞতা বলে এই দুটো দেশেই বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে শেষ মুহূর্তেও নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হয়ে থাকে।
এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার অন্য একটি দেশে স্টারলিংক সার্ভিস কিন্তু ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে- আর সেই দেশটি হলো ভুটান। বস্তুত ২০২৪ সালের ডিসেম্বরেই ভুটানে স্টারলিংকের ইন্টারনেট প্ল্যান চালু হয়ে গিয়েছিল, তবে কোম্পানির পক্ষ থেকে তা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয় ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। এই অঞ্চলের দ্বিতীয় দেশ হিসেবে ভারত বা বাংলাদেশ- যেখানেই স্টারলিংক আগে চালু হোক, স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবার একটা চাহিদা যে এই দেশগুলোও অনুভব করছে সেই ইঙ্গিত কিন্তু স্পষ্ট। এমনকি গৃহযুদ্ধে দীর্ণ মিয়ানমারও চাইছে তাদের দেশে স্টারলিংক আসুক। এখন প্রশ্ন হলো, স্টারলিংক ভারত বা বাংলাদেশে এলে বাড়তি কী সুবিধা মিলবে? প্রযুক্তিগত সুবিধার বাইরেও কি স্টারলিংককে এনে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সুবিধা আশা করছে এই দেশগুলো? স্যাটেলাইটনির্ভর ইন্টারনেট পরিষেবায় অনুমতি দেয়ার মানে জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে আপস করা, এই ধরনের আশঙ্কাকেই বা কীভাবে ‘অ্যাড্রেস’ করা হবে? সবচেয়ে বড় কথা, এই পরিষেবার খরচ কি আদৌ সাধারণ মানুষের নাগালের ভেতর থাকবে? না কি শুধু ধনী কর্পোরেটরাই স্টারলিংক ‘অ্যাফোর্ড’ করতে পারবে? এই প্রতিবেদনে বিবিসি বাংলা উত্তর খুঁজেছে এই সব প্রশ্নেরই।
স্টারলিংক কী, এর বিশেষত্ব কোথায়?
স্টারলিংক হলো আসলে একটি স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা, যেটি অপারেট করে ইলন মাস্কের মালিকানাধীন এরোস্পেস কোম্পানি স্পেসএক্স। এই মুহূর্তে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়া-অস্ট্রেলিয়া-আফ্রিকা জুড়ে বিশ্বের শতাধিক দেশে স্টারলিংকের পরিষেবা পাওয়া যায়। গত বছরের জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, পৃথিবীকে ঘিরে বিভিন্ন কনস্টেলেশনে এই কোম্পানির প্রায় হাজার সাতেক ‘লো-আর্থ অরবিট’ (এলইও) স্যাটেলাইট বা কৃত্রিম উপগ্রহ আছে- যেগুলোর মাধ্যমে তারা ভূপৃষ্ঠে ইন্টারনেট পরিষেবা দিয়ে থাকে। ইলন মাস্ক দাবি করেছেন, মহাকাশে স্টারলিংকের এই ‘মেগাকনস্টেলেশন’ প্রতি পাঁচ বছর অন্তর অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে ঢেলে সাজানো হবে এবং সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা স্টারলিংক গ্রাহকরা তার সুবিধা পাবেন। সাবেকি ব্রডব্যান্ড সার্ভিস যেখানে ভূগর্ভস্থ কেবল বা টাওয়ারের ওপর নির্ভরশীল, স্টারলিংকের স্যাটেলাইটগুলো কিন্তু পৃথিবীর বুকে ছোট ছোট ‘ইউজার টার্মিনালে’র সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের মাধ্যমেই ইন্টারনেট পরিষেবা দিয়ে থাকে। যেহেতু এক্ষেত্রে টাওয়ার বসানোর বা মাটির নিচে কেবল পাতার কোনো ঝামেলা নেই, তাই দুর্গম প্রত্যন্ত প্রান্তরে বা গ্রামীণ এলাকাতেও খুব সহজে স্টারলিংকের পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। গ্রাহকের কাছে শুধু কোম্পানির ছোট ‘ইউজার টার্মিনাল’টি থাকলেই যথেষ্ট। অতি দুর্গম জায়গা থেকেও বেশ সহজে স্ট্রিমিং, ভিডিও কল, অনলাইন গেমিং বা রিমোট ওয়ার্কিং করা যায় বলেই স্টারলিংক দুনিয়া জুড়ে এত জনপ্রিয় হয়েছে। তবে বিশ্বে স্টারলিংক বৃহত্তম স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট প্রোভাইডার হলেও তারা একমাত্র নয়- ওয়ানওয়েব ইউটেলসেট, আমাজনের প্রজেক্ট কুইপার, ভায়াস্যাট কিংবা হিউজেসনেটের মতো আরও অনেক কোম্পানিই এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইন্টারনেট পরিষেবা দেয় বা দিতে চলেছে। ইউটেলসেটে আবার ভারতীয় কোম্পানি এয়ারটেলেরও বিপুল লগ্নি আছে, যদিও তারা এদিকে ভারতে স্টারলিংকের সঙ্গেও সমঝোতার কথা ঘোষণা করেছে। গত ১১ই মার্চ যখন এয়ারটেল স্টারলিংকের সঙ্গে তাদের অংশীদারিত্বের কথা ঘোষণা করেছিল, পর্যবেক্ষকরা সেটাকে ভারতের ডিজিটাল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে একটা ‘ক্যু’-র সঙ্গে তুলনা করেছিলেন। সুনীল ভারতী মিত্তালের কোম্পানি এয়ারটেল তখন প্রেস বিবৃতিতে জানিয়েছিল, সারা দেশ জুড়ে তাদের যে রিটেল স্টোরের (খুচরো দোকান) বিশাল নেটওয়ার্ক আছে, সেখান থেকেই স্টারলিংক তাদের নিজস্ব ডিভাইস বিপণন ও বিতরণ করতে পারবে। এর ফলে ভারতে স্টারলিংকের প্রাথমিক বিনিয়োগও অনেক কম করতে হবে। এই মুহূর্তে ভারতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের বাজারে সবচেয়ে বড় ‘প্লেয়ার’ হলো মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন রিলায়েন্স জিও- যাদের সারা দেশে ১ কোটি ৪০ লাখেরও বেশি ‘ক্যাবল-ওলা’ ইন্টারনেট গ্রাহক আছে। এয়ারটেল-স্টারলিংকের সমঝোতার ফলে জিও যখন বিপাকে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে, ঠিক তখনই মাত্র চব্বিশ ঘণ্টার ভেতর জিও প্ল্যাটফরমস লিমিটেডও ঘোষণা করে তারাও স্টারলিংকের সঙ্গে অনেকটা একই ধরনের পার্টনারশিপে যাচ্ছে। ফলে ভারতের প্রধান দুই কমিউনিকেশন জায়ান্ট- ভারতী এয়ারটেল ও রিলায়েন্স জিও- উভয় কোম্পানিই এখন ইলন মাস্কের স্টারলিংকের সঙ্গে বোঝাপড়া করে গ্রাহকদের স্যাটেলাইট-ভিত্তিক ইন্টারনেট পরিষেবা দেয়ার দিন গুনছে। তবে এই দুটো সমঝোতাই ভারতের রেগুলেটরি অথরিটির অনুমোদন সাপেক্ষে হবে বলে জানানো হয়েছে, অর্থাৎ সরকারের নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থার অনুমতি পাওয়ার পরই কেবল স্টারলিংক সে দেশে ব্যবসা করতে পারবে।
ভূরাজনৈতিক স্বার্থও জড়িত?
আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘ই-ইন্টারন্যাশনাল রিলেশনসে’ গত মাসে প্রকাশিত একটি নিবন্ধে গবেষক এমা গ্যাটি ও মার্ক লিন্ডার স্টারলিংককে এই সময়ের সবচেয়ে বড় ‘জিওপলিটিক্যাল ডিসরাপ্টর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ তারা বলছেন, বর্তমান ভূরাজনীতিতে এত বড় উথাল-পাথাল আর কোনো সংস্থাই ফেলতে পারেনি। আগামী দিনে স্টারলিংক জেন-থ্রি স্যাটেলাইটের সাহায্যে যখন ১ টেরাবিট-পার-সেকেন্ড (টিবিপিএস) গতিতে সারা দুনিয়ায় ইন্টারনেট দিতে পারবে- তখন পৃথিবীর প্রায় প্রতিটি দেশই ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বা অধিক ক্ষমতাশালীর ওপর নির্ভরশীল রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলেও এই গবেষকরা পূর্বাভাস দিয়েছেন। ইতালির উদাহরণ দিয়ে তারা বলছেন, এ বছরের গোড়ার দিকে যখন ব্লুমবার্গ খবর প্রকাশ করে ইতালি তাদের দেশে স্টারলিংকে ১৫০ কোটি ইউরো বিনিয়োগ করার কথা ভাবছে- তখন ইউরোপের মহাকাশ গবেষণা মহলে রীতিমতো ত্রাহি ত্রাহি রব পড়ে গিয়েছিল! ওই নিবন্ধে মন্তব্য করা হয়েছে, ইউরোপের নিজস্ব কানেক্টিভিটি প্রকল্প ‘আইরিস-টু’ যখন অনেক বাধা-বিপত্তির পর অবশেষে প্রায় শেষের পথে- তখন সেই ইউরোপেরই একটি বৃহৎ অর্থনীতি যদি সেটাকে ছেড়ে মার্কিন একটি বেসরকারি কোম্পানিতে আস্থা রাখে তখন তাদের প্রভাব প্রতিপত্তি কতোটা তা বুঝতে অসুবিধা হয় না! এদিকে গত মাসেও যখন ইউক্রেনের ‘রেয়ার আর্থ’ খনিজদ্রব্যে অধিকার পাওয়ার জন্য মার্কিন কর্মকর্তারা তাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালাচ্ছিলেন, তখন দরকষাকষির অংশ হিসেবে ইউক্রেন থেকে স্টারলিংক পরিষেবা প্রত্যাহার করার হুমকি দেয়া হয়েছিল বলে রয়টার্স জানিয়েছে। অথচ যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে অবকাঠামো এখন সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত-তাদেরই এখন স্টারলিংক সবচেয়ে বেশি দরকার! ফলে ইলন মাস্কের স্টারলিংককে যে গ্লোবাল জিওপলিটিক্সে একটি নতুন হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। এই পটভূমিতেই ভারত সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন, “সব দেখেশুনে মনে হচ্ছে ইলন মাস্কই হলেন আমেরিকার নতুন ‘ডিফেন্স কন্ট্রাক্টর’- বা প্রতিরক্ষা ঠিকাদার!” তিনি যুক্তি দিচ্ছেন, এতদিন আমেরিকার বিভিন্ন কোম্পানি সারা দুনিয়ায় অস্ত্রশস্ত্র, সাবমেরিন বা যুদ্ধজাহাজ বেচে তাদের ‘ক্লায়েন্ট স্টেট’ বানাতো- আর এখন ঠিক সেই কাজটাই করা হচ্ছে স্টারলিংক পরিষেবা বেচে। বস্তুত বিশ্বের এমন বহু দেশেই স্টারলিংক বড় বাজার তৈরি করতে পেরেছে, যেখানে ব্রডব্যান্ড কেবল বা টাওয়ার নেটওয়ার্ক যথেষ্ট ভালো- দুর্গম বা প্রত্যন্ত এলাকা ততটা নেই। ফলে আপাতদৃষ্টিতে স্টারলিংকের তেমন চাহিদা থাকার কারণ নেই, কিন্তু তবু সে সব দেশেও তাদের গ্রাহক বাড়ছে। যুক্তরাজ্য বা বৃটেন এর একটা বড় উদাহরণ, যা থেকে বোঝা যায় কোনো দেশে স্টারলিংকের প্রবেশ আসলে যতটা না ‘কানেক্টিভিটি’ সংক্রান্ত, তার চেয়ে অনেক বেশি ‘স্ট্র্যাটেজিক’ সিদ্ধান্ত। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে আমেরিকার নতুন প্রশাসনে ব্যক্তি ইলন মাস্কের সাংঘাতিক প্রভাব ও ক্ষমতা। নির্বাচনী প্রচারণার সময় থেকেই তিনি শুধু ডনাল্ড ট্রাম্পের ডান হাত নন, মি. ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে আসার পর থেকে ইলন মাস্কই প্রশাসনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাশালী ব্যক্তি। ওয়াশিংটনে ভারতের রাষ্ট্রদূত ছিলেন, এমন একজন সাবেক কূটনীতিবিদের কথায়, “ভারতই বলি বা বাংলাদেশ, কিংবা ধরা যাক থাইল্যান্ড- যারাই ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সুসম্পর্ক চাইবে তারা যে ইলন মাস্ককেও সন্তুষ্ট করতে চাইবেন এর মধ্যে তো কোনো রকেট সায়েন্স নেই!” ফলে এই সব দেশে স্টারলিংকের আসন্ন প্রবেশের নেপথ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করার তাগিদেরও ভূমিকা আছে বলেই অনেকে মনে করছেন। গত মাসে হোয়াইট হাউসের এক সংবাদ সম্মেলনে যখন ইলন মাস্ক ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক নিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জবাব দেন, “হ্যাঁ, ও (মাস্ক) বোধহয় ভারতে কী সব ব্যবসা-ট্যাবসা করতে চাইছে!” আবার বিবিসি বাংলার সঙ্গে সামপ্রতিক এক সাক্ষাৎকারে যখন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল নতুন মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টাতেই ইলন মাস্ককে আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে কিনা, তিনি কিন্তু সরাসরি সেটা মানতে চাননি। ওই সাক্ষাৎকারে মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “না, এটা মূলত ছিল স্টারলিংক নিয়ে- ব্যবসায়িক সম্পর্কের একটা বিষয় ছিল। সে বিষয়েই আমরা আলাপ করেছি, যে স্টারলিংকের কানেকশনটা আমরা নিতে চাই।”
জাতীয় নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে?
এয়ারটেল ও জিও’র সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণার পর ভারতে স্টারলিংক পরিষেবা পাওয়াটা এখন আর অল্প কিছু সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে ঘটনা হলো, বহু চেষ্টা করেও এতদিন কিন্তু স্টারলিংক ভারতে ব্যবসা করার অনুমোদন পায়নি। ভারতে একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্টারলিংক নিজেদের নথিভুক্ত করেছিল সেই ২০২১ সালের নভেম্বর মাসেই। এর কয়েকদিন পরেই কেন্দ্রীয় সরকার একটি বিবৃতি দিয়ে ঘোষণা করে, এই কোম্পানি কিন্তু এখনো ব্যবসা করার প্রয়োজনীয় লাইসেন্স পায়নি- কাজেই সাধারণ মানুষ এদের সঙ্গে কোনো চুক্তি না করলেই ভালো করবেন। বস্তুত স্টারলিংককে নিয়ে ভারতে যাবতীয় সন্দেহ বা অবিশ্বাসের মূলে আছে এই প্রশ্নটাই- এই স্যাটেলাইট-নির্ভর পরিষেবা জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলবে না তো? দিল্লিতে তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ওই বিশেষজ্ঞের কথায়, “ঠিক যে কারণে টিকটক-সহ অনেকগুলো চীনা অ্যাপকে ভারতে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, বলতে পারেন অনেকটা একই কারণে স্টারলিংককে এতদিন এ দেশে ঢুকতে দেয়া হয়নি।” এর মাঝে গত ডিসেম্বরেই ভারতের এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টোরেটের কর্মকর্তারা জানান, মাদকবিরোধী একটি অভিযানে গিয়ে তারা চোরাকারবারিদের কাছ থেকে স্টারলিংকের ডিভাইস উদ্ধার করেছেন। কয়েক সপ্তাহ পরেই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর থেকে খবর আসে, সেখানে চলমান গৃহযুদ্ধে বেশ কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠী পাচার করে আনা স্টারলিংক ডিভাইস ব্যবহার করছে। মণিপুরে উদ্ধার করা অস্ত্রশস্ত্রের যে ছবি ভারতের নিরাপত্তা বাহিনী প্রকাশ করেছিল, তাতে একটি স্টারলিংকের ডিভাইসও দেখা যায়। এক্স হ্যান্ডেলে সেই ছবির জবাব দিয়ে ইলন মাস্ক অতঃপর লেখেন, “এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ভারতের আকাশে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট বিম সুইচ অফ করা আছে।” তবে যেকোনো কারণেই হোক, স্টারলিংককে ঘিরে ভারতের সরকারি মহলে সন্দেহ ও সংশয় আপাতত অনেকটাই কেটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। “এর একটা কারণ হতে পারে স্টারলিংক ভারতে তাদের যন্ত্রপাতি কিন্তু নিজেরা বেচবে না, এগুলো বিলি করা হবে এয়ারটেল ও জিও’র মতো দুটো ভারতীয় কোম্পানির মাধ্যমে। ভারতে স্টারলিংকের নিজস্ব কোনো গ্রাহকও থাকবে না, এরা হবেন ওই দুটি কোম্পানির গ্রাহক।” “আমি অনুমান করছি স্টারলিংকের ডিভাইসে এখানে একটা কোনো বাড়তি সফটওয়্যার যোগ করা হবে, যাতে ডেটা মনিটরিং করার একটা সুযোগ থাকে। এটা যদিও সময়সাপেক্ষ প্রক্রিয়া, তবে হতেই পারে সেই কাজও অনেক দূর এগিয়ে গেছে”, বিবিসিকে বলছিলেন দিল্লির একজন নামি ইন্টারনেট প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ। প্রসঙ্গত, ভারতের প্রতিবেশী বাংলাদেশ কিন্তু সে দেশে স্টারলিংক আনার পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে বলছে- এর মাধ্যমে মুক্ত ইন্টারনেটের অধিকারই আরও জোরালো হবে। বাংলাদেশ সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম গত ২৫শে ফেব্রুয়ারি এক ফেসবুক পোস্টে দাবি করেন, ভবিষ্যতে সরকারগুলো যাতে কোনো অজুহাতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই স্টারলিংককে বাংলাদেশে ডাকা হয়েছে। তিনি আরও লেখেন, “বাংলাদেশে স্টারলিংকের আসার অর্থ হচ্ছে, ভবিষ্যতে এ দেশে কোনো সরকার ইন্টারনেট পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে পারবে না। অন্তত নতুন কোনো ইন্টারনেট বন্ধের চেষ্টার আঘাত বিপিও ফার্ম, কল সেন্টার ও ফ্রিল্যান্সারদের ওপর আসবে না।” তবে সমপ্রতি ইউক্রেনে আমেরিকার হুমকির মধ্যে এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে, একটা দেশে স্টারলিংকের থাকা-না থাকা শুধু সে দেশের সরকারের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে না- আমেরিকাও সেখানে অবধারিত প্রভাব খাটাতে চাইবে।
স্টারলিংক পরিষেবার খরচ কেমন পড়বে?
তবে যাবতীয় ভূরাজনৈতিক বা নিরাপত্তাগত কচকচির বাইরে গিয়ে ভারত বা বাংলাদেশের সাধারণ একজন গ্রাহক হয়তো সবার আগে জানতে চাইবেন, স্টারলিংক পরিষেবা নিতে চাইলে খরচ কতো হবে? সেটা কি আদৌ আমার বাজেটের নাগালে হবে? এক কথায় এর উত্তর দেয়া কঠিন- কারণ এই বাজারগুলোতে স্টারলিংকের ‘প্রাইস পয়েন্ট’ ঠিক কী হবে সেটা এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি, আর তা ছাড়া বিশ্বের এক একটা বাজারে তাদের পরিষেবার খরচও এক এক রকম। বিশ্বের যে একশ’টিরও বেশি দেশে স্টারলিংক এখন চালু আছে, সেখানে তাদের মান্থলি সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানগুলোর খরচ ১০ ডলার থেকে শুরু করে ৫০০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। আফ্রিকায় খরচ অনেক কম, ইউরোপের তুলনায় অনেক বেশি। তবে এটি আনলিমিটেড নয়। এর সঙ্গে এককালীন খরচ দিয়ে স্টারলিংকের হার্ডওয়্যারও (ডিভাইস) গ্রাহককে কিনতে হয়, যার খরচ ২৫০ ডলার থেকে ৩৮০ ডলারের মতো পড়ে। সেই জায়গায় তুলনা করলে দেখা যাবে ভারতের টেলিকম কোম্পানিগুলো অনেক সস্তায় ‘হোম ব্রডব্যান্ড’ প্ল্যান অফার করে থাকে, যার খরচ মাসে মাত্র ৫ ডলার (৪৫০ রুপি) বা ৭ ডলার (৬০০ রুপি) থেকে শুরু। হাইস্পিড প্রিমিয়াম প্ল্যানের খরচ অবশ্য চার বা পাঁচ হাজার রুপিও হতে পারে। তার ওপর স্টারলিংকের ডেটা ব্যবহারে একটা ঊর্ধ্বসীমা আছে, কিন্তু ভারতে রিলায়েন্স জিও বা এয়ারটেলের বেশির ভাগ প্ল্যানই ‘আনলিমিটেড’। ফলে ভারতের মতো একটি ‘প্রাইস-সেনসিটিভ’ বা দাম-সচেতন বাজারে সফল হতে গেলে স্টারলিংককে খুবই প্রতিযোগিতামূলক দামে প্ল্যান অফার করতে হবে। তবে এই বাজারে প্রবেশ করাটাই যদি তাদের মূল লক্ষ্য হয়, ব্যবসা বাড়ানো নয়- তাহলে অন্য কথা। যেমন আফ্রিকার যে ১৬টি দেশে এই মুহূর্তে স্টারলিংক চালু আছে, তার মধ্যে ৫টিতেই আবার তাদের মান্থলি সাবস্ক্রিপশনের খরচ সে দেশের প্রধান ফিক্সড ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারের তুলনায় কম। হিমালয়ের কোলে ভুটানে স্টারলিংক সদ্যই পরিষেবা চালু করেছে- সেখানে আবার রয়েছে তাদের দুটি প্ল্যান। ‘রেসিডেন্সিয়াল লাইট’ প্ল্যানের খরচ মাসে ৩০০০ ন্যু (৩০০০ রুপি), কিন্তু তাতে অফুরন্ত ডেটা ব্যবহারের সুযোগ নেই। ‘স্ট্যান্ডার্ড’ প্ল্যান নিলে আবার মাসে ৪২০০ ন্যু (৪২০০ রুপি) দিয়েই গ্রাহক আনলিমিটেড ইউসেজ পাবেন। সোজা কথায়, দামের ক্ষেত্রে স্টারলিংক এক এক দেশে পরিস্থিতি অনুযায়ী এক এক ধরনের মডেল ব্যবহার করে থাকে। ভারতে বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এদেশে স্টারলিংকের খরচ প্রতিষ্ঠিত টেলিকম জায়ান্টদের তুলনায় অনেকটাই বেশি হবে, স্টারলিংকের ডেটা স্পিডও কম থাকবে। অন্যভাবে বললে, এ দেশের দুর্গম ও ‘আন্ডারসার্ভড’ (যেখানে ক্যাবল বা টাওয়ার নেই) এলাকাগুলোতে পৌঁছানোই হবে স্টারলিংকের প্রধান লক্ষ্য- জিও বা এয়ারটেলের ব্রডব্যান্ড সার্ভিসকে তারা সেভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারবে না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
হামজার বাংলাদেশ দলে যোগ দেয়া নিয়ে বৃটেনে আলোড়ন
ইংলিশ দৈনিক দ্য সান হামজাকে নিয়ে বড় একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশে আসার পর জন্মভূমি সিলেটে তাকে অনাড়ম্বর আয়োজনে বরণ করে নেওয়া হয়। সারাদিন তাকে নিয়ে উচ্ছ্বাসের শেষ ছিল না মানুষের। হামজার ছোটবেলার ছবিসহ ওইদিনের কিছু ভিডিও ফেসবুকে আপলোড দেন হামজা। সেটাকে নিয়েই রিপোর্ট শুরু করে সান। তারা লিখেছে, ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের সাবেক ফুটবলার হামজা বাংলাদেশে তাকে স্বাগত জানানোর দারুণ একটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন। লেস্টার সিটির এই ডিফেন্ডার বর্তমানে শেফিল্ড ইউনাইটেডে ধারে খেলছেন। ২০১৮ ও ২০১৯ সালের মধ্যে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে ৭টি ম্যাচ খেলেছেন হামজা। বিশ্বসেরা ক্লাব বার্সেলোনাতে যোগ দেওয়ার কাছাকাছিও ছিলেন তিনি।
এরপর সান লেখে, যাই হোক ইংল্যান্ড দলে যোগ দেওয়ার রাস্তা ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছিল তার জন্য। পরে সে মায়ের দেশ বাংলাদেশকে বেছে নেয়। চৌধুরী যে কিনা বাংলাতেও কথা বলতে পারে, সে তার মা ও সৎ বাবার সঙ্গে সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বড় হয়েছে। ছোট থেকেই সে নিয়মিত বাংলাদেশে তার জন্মশহরে যাতায়াত করতো।
২০২৪ সালে সে বাংলাদেশের পাসপোর্ট পায় আর ওই বছরের ডিসেম্বরে ফিফা তাকে দেশটির হয়ে খেলার অনুমতি দেয়। ২০২১ সালে লেস্টারের হয়ে এফএ কাপ জয়ী হামজার প্রথম ডাক আসে ভারতের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কোয়ালিফায়ারের ম্যাচে। এই ম্যাচ খেলার জন্য বাংলাদেশে পৌঁছালে তাকে দারুণ অভ্যর্থনা দেওয়া হয়। এরপর সে তার পরিবার, ছোটবেলার ছবির সঙ্গে এবারের অভ্যর্থনার কিছু ভিডিও আপলোড করে।
সেখানে একজন কমেন্ট করেন, ‘প্রিয় হামজা, তুমি আমাদের আবার স্বপ্ন দেখা শেখাচ্ছো। আমি আশা করি তুমি সাফল্য বয়ে আনবে যার জন্য আমরা অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছি। একজন নেতা হও, যেটা আমরা চাই। এবং আমাদের সাফল্যে ভাসতে দাও। বাংলাদেশ তোমাকে ভালোবাসে।’
দ্য সান আরও লিখেছে, চৌধুর অলিভিয়া নামের এক ইংলিশ নারীকে বিয়ে করেছেন, তাদের ৩ সন্তান আছে। হামজা প্রথম বাংলাদেশি খেলোয়াড় হতে যাচ্ছেন যিনি কিনা ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ খেলেছেন। হামজার একটি কোট দিয়েছে সান, ‘বাংলাদেশ ছোটবেলায় আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে যেটা এখন আমি আমার বাচ্চাদের শেখাতে পারবো। এটা কৃতজ্ঞতা স্বীকার ও সবাইকে একভাবে ট্রিট করা। ইংল্যান্ড অবশ্যই আমার বাড়ি এবং বাংলাদেশও। নিজের শিকড়ে ফিরে যাওয়া ও নিজের দেশকে প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য সবকিছু। এটা আমাকে গর্বিত করে। ১৬ বছর পর্যন্ত প্রতি বছর আমি বাংলাদেশে যেতাম কখনও সেটা বছরে দুইবার। ওই বছরগুলোতে বাংলাদেশে পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণের সময় আমার প্রচুর স্মৃতি আছে।’

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1421)
-
▼
2025
(3281)
-
▼
March
(433)
-
▼
Mar 22
(19)
- প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের নিয়ন্ত্রণ নিল সুদানের সেনাবা...
- ফ্যাসিবাদ অনেক কলকব্জা রেখে গেছে : তথ্য উপদেষ্টা
- গাজায় কেন আবার হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে ইসরায়েল
- আদালত যেন তাঁর কাজে বাধা না দেন: ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
- গাজায় নির্বিচার শিশু হত্যা, সালমাহর ঈদ আসবে না, হু...
- রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অনুশোচনা নেই কেন by মহিউদ্দি...
- রেকর্ড গতিতে গলছে হিমবাহ, কী বিপদ হতে পারে
- এনসিপির সংবাদ সম্মেলন: আওয়ামী লীগের অপরাধের বিচারে...
- গাজার শিশুরা অভিশাপ দিচ্ছে
- বিভাজনের পথ বেয়েই আওয়ামী লীগ আসবে: মাহফুজ আলম
- বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ‘ভিসা সংকোচন নীতি’কে কাজে...
- ঢাকার প্রস্তাব দ্বিধায় দিল্লি: আনন্দবাজারের প্রতি...
- হাসনাতের পোস্ট নিয়ে তোলপাড়
- সেই সময়টা ছিল রূপকথার গল্পের মতো by ইব্রাহীম ইশান
- স্বৈরাচারের দোসরদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়া যাবে না
- আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে আসতে হলে আমাদের লাশের উপর দ...
- কেন ইলন মাস্কের স্টারলিংকে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ ...
- হামজার বাংলাদেশ দলে যোগ দেয়া নিয়ে বৃটেনে আলোড়ন
- জন কেনেডি হত্যাকাণ্ডে কি সিআইএ'র ভূমিকা ছিল? বিস্ফ...
-
▼
Mar 22
(19)
-
▼
March
(433)
- ► 2024 (2551)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...







