Friday, February 6, 2026

খাদ্যসংকটে ইসরায়েল, কর্মের ফল পাচ্ছেন নেতানিয়াহু by রঞ্জন সলোমন

ইসরায়েলের দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ শুধু সামরিক বা কূটনৈতিক পরিণতি তৈরি করেনি। এর ভেতরে–ভেতরে তৈরি হয়েছে আরেকটি গভীর সংকট, যা তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। সেটি হলো খাদ্যনিরাপত্তার সংকট।

ইসরায়েলের খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে উৎপাদিত বা ব্যবহৃত মোট খাদ্যের প্রায় ৩৯ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। এটি কেবল ব্যক্তিগত অপচয় নয়, একটি কাঠামোগত ব্যর্থতা।

শুধু ২০২৪ সালেই এই অপচয়ের কারণে ইসরায়েলের অর্থনীতিতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২৬ বিলিয়ন শেকেল, যা প্রায় ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।

এই বিপুল অপচয়ের বিপরীতে বাস্তব চিত্রটি আরও উদ্বেগজনক। বর্তমানে ইসরায়েলে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন; অর্থাৎ একদিকে খাবার ফেলে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক মানুষ নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার পাচ্ছেন না।

গত এক দশকে খাদ্যের অপচয়ের ফলে মোট ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১১ বিলিয়ন শেকেলের বেশি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পরিবারগুলোর জীবনমান, পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদও।

অর্থনীতির ভাষায় দেখলেও সংকটটি স্পষ্ট। শুধু ২০২৪ সালেই খাদ্য অপচয় ইসরায়েলের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশের সমান ক্ষতি করেছে। গড়ে প্রতিটি পরিবার বছরে প্রায় ২ হাজার ৯০০ ডলারের খাবার ফেলে দিয়েছে। এই পরিসংখ্যান দেখায়, একই অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ভেতরেই অদক্ষতা ও বৈষম্য পাশাপাশি টিকে আছে।

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা মানে শুধু না খেয়ে থাকা নয়। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য ও সমাজকল্যাণ সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, অপুষ্টি, মানসিক চাপজনিত অসুস্থতা এবং পরিবেশগত ক্ষতির কারণে প্রতিবছর অতিরিক্ত ২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে।

যুদ্ধ এই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। ব্যাপক সামরিক মোতায়েন এবং ফিলিস্তিনি ও বিদেশি শ্রমিকদের ওপর বিধিনিষেধের কারণে কৃষি খাতে শ্রমিকসংকট তৈরি হয়েছে। ফল ও সবজির চাষ ও সংগ্রহ ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে দাম বেড়েছে এবং কম আয়ের মানুষের জন্য তাজা খাবার আরও নাগালের বাইরে চলে গেছে।

এই যুদ্ধের আগেও ইসরায়েলে খাদ্যের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল প্রতিযোগিতা এবং সুরক্ষামূলক শুল্কব্যবস্থা এর পেছনে বড় কারণ। যুদ্ধ এই পুরোনো সমস্যাগুলোকে আরও প্রকট করেছে। ফলে দেশীয় খাদ্য উৎপাদন একদিকে নাজুক হয়ে পড়েছে, অন্যদিকে আরও ব্যয়বহুল হয়েছে।

যুদ্ধের সময় সামরিক ব্যয়ের দিকেই মূলত নজর গেছে। কিন্তু সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংকোচন তুলনামূলকভাবে কম আলোচিত। ২০২৩ সালের শেষ প্রান্তিকে ইসরায়েলের অর্থনীতি ২০ দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হয়, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় ত্রৈমাসিক পতন।

একই সময়ে সামরিক ব্যয় বেড়ে যায়। ২০২৩ সালের শেষে এই ব্যয় প্রায় ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুদ্ধজনিত মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৫৫ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। এই বোঝা ভবিষ্যতে সামাজিক খাতে ব্যয় করার সক্ষমতাকে সীমিত করে দেবে।

এর সামাজিক প্রভাব এখন স্পষ্ট। বিভিন্ন কল্যাণ সংস্থা ও নাগরিক সমাজের মূল্যায়ন অনুযায়ী, ইসরায়েলের এক–চতুর্থাংশের বেশি পরিবার এখন খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। আগে যা মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমিত ছিল, তা এখন শ্রমজীবী পরিবার, ভাতানির্ভর মানুষ এবং মূল্যস্ফীতি ও যুদ্ধজনিত অস্থিরতায় ক্ষতিগ্রস্ত মধ্যবিত্তের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়েছে।

এই সংকট আকস্মিক নয়, সাময়িকও নয়। এটি দীর্ঘদিনের সামরিকীকরণ ও যুদ্ধনীতির অভ্যন্তরীণ প্রতিক্রিয়া। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের এক মূল্যায়নে দেখা গেছে, সরকারি সহায়তা পাওয়া প্রায় ৬০ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর তাঁদের আর্থিক অবস্থা আরও খারাপ হয়েছে। একই সময়ে কম আয়ের পরিবারের খাদ্য ব্যয় প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

এই বাস্তবতায় খাদ্যনিরাপত্তাহীনতা আর একটি প্রান্তিক সামাজিক সমস্যা নয়, এটি একটি নীতিগত ফলাফল। স্থায়ী সংঘাতের পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের অগ্রাধিকার নতুনভাবে সাজানো হয়। প্রতিরক্ষা ব্যয়কে প্রশ্নাতীত ধরে নেওয়া হয়, আর সামাজিক সুরক্ষা ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে বা শর্তসাপেক্ষ হয়ে ওঠে। ক্ষুধাকে জাতীয় নিরাপত্তা নীতির অনিবার্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখানো হয়, রাজনৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে নয়।

ভৌগোলিক বাস্তবতাও সংকটকে বাড়িয়ে দিয়েছে। ইসরায়েলের প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষিজমি গাজা ও উত্তর সীমান্তের সংঘাতপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। এসব অঞ্চলে বহু খামার পরিত্যক্ত হয়েছে, ফসল তোলার চক্র ভেঙে পড়েছে এবং দীর্ঘদিনের উৎপাদনব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েলের কৃষি খাত দীর্ঘদিন ধরে বিদেশি ও অভিবাসী শ্রমিকের ওপর নির্ভরশীল ছিল। যুদ্ধ এই শ্রমশক্তিকে হঠাৎ কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে দেরিতে চাষ, কম ফলন ও বাড়তি খরচ অনিবার্য হয়ে ওঠে। ঘাটতি পূরণে আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, যা খাদ্যনিরাপত্তাকে বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতার সঙ্গে আরও বেশি জড়িয়ে দিয়েছে।

কম আয়ের মানুষের জন্য এর প্রভাব তাৎক্ষণিক। খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ক্রয়ক্ষমতা কমেছে, অথচ রাষ্ট্রীয় সহায়তা মূল্যস্ফীতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারেনি। ফলে যা তৈরি হয়েছে, তা গণক্ষুধা নয়, বরং স্থায়ী ও কাঠামোগত ক্ষুধা। একটি ক্ষুধা, যা প্রশাসনিকভাবে সামলানো হচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে সমাধান করা হচ্ছে না।

এখানেই ব্লোব্যাক ধারণাটি বিশ্লেষণমূলকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ব্লোব্যাক কোনো নৈতিক রায় নয়। এটি বাইরের নীতিগত সিদ্ধান্তের দেরিতে ফিরে আসা অভ্যন্তরীণ ফল। ইসরায়েলের ক্ষেত্রে দীর্ঘ যুদ্ধ ও অবরোধভিত্তিক কৌশল দেশের শ্রমবাজার, কল্যাণব্যবস্থা এবং পরিবারের টিকে থাকার বাস্তবতাকেই বদলে দিয়েছে।

একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলা দরকার, ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ খাদ্যসংকট আর গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয় এক নয়। ২০২৫ সালের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলো গাজাকে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষের মুখে থাকা অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যেখানে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ চরম অনাহারে ভুগছে।

গাজার সংকট অবরোধ, খাদ্যব্যবস্থার ধ্বংস এবং মানবিক সহায়তা বাধাগ্রস্ত হওয়ার সরাসরি ফল। ইসরায়েলের খাদ্যসংকট ভেতরের নীতিগত সিদ্ধান্তের পরিণতি। একটি যুদ্ধের হাতিয়ার, অন্যটি যুদ্ধ চালানোর ফল। এই দুই সংকটকে এক করে দেখলে দায়বদ্ধতা ঝাপসা হয়, ভোগান্তি স্পষ্ট হয় না।

ইসরায়েলি সরকারের প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত মূলত প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বল্পমেয়াদি। জরুরি অনুদান, সীমিত খাদ্যসহায়তা এবং অস্থায়ী ভর্তুকির মধ্যেই তা সীমাবদ্ধ। এগুলো সংকট সামলায়, কিন্তু তার মূল কারণগুলো মোকাবিলা করে না। সামরিক ব্যয়ের অগ্রাধিকার নিয়ে কোনো গভীর পুনর্বিবেচনা হয়নি। কৃষি খাতের শ্রমসংকট মোকাবিলায় কোনো সমন্বিত পরিকল্পনাও দেখা যায়নি। দীর্ঘ যুদ্ধ যে সামাজিক চুক্তিকে ক্ষয় করে, সেই স্বীকৃতিও অনুপস্থিত।

নাগরিকদের বলা হচ্ছে কষ্ট সহ্য করতে, এটিকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে দেখতে। আর কাঠামোগত ব্যর্থতা আড়াল করা হচ্ছে সহনশীলতার ভাষায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এতে রাষ্ট্রের গ্রহণযোগ্যতায় চাপ তৈরি হয়। একটি রাষ্ট্র যদি বিশ্বের অন্যতম উন্নত সামরিক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে পারে, কিন্তু তার এক–চতুর্থাংশ মানুষের জন্য সাশ্রয়ী খাদ্য নিশ্চিত করতে না পারে, তাহলে অগ্রাধিকারের ভারসাম্য নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

ইসরায়েলের এই খাদ্য সংকট কোনো ব্যতিক্রম নয়। এটি স্থায়ী সংঘাতের ওপর সমাজ গড়ে তোলার ঘরোয়া মূল্য। সামরিকীকরণ শুধু বাজেট গ্রাস করে না, সামাজিক সংহতি ও রাজনৈতিক জবাবদিহিকেও ক্ষয় করে। এটি কোনো নিয়তি নয়, কোনো নৈতিক প্রতিশোধও নয়। এটি রাজনৈতিক হিসাব। আজকের ইসরায়েলে ক্ষুধা সেই হিসাবেরই ফল।

* রঞ্জন সলোমন, গোয়াভিত্তিক রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও মানবাধিকারকর্মী
- মিডল ইস্ট মনিটর থেকে নেওয়া, ইংরেজিতে থেকে অনূদিত

ইসরায়েলের প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষিজমি গাজা ও উত্তর সীমান্তের সংঘাতপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত।
ইসরায়েলের প্রায় ৩০ শতাংশ কৃষিজমি গাজা ও উত্তর সীমান্তের সংঘাতপ্রবণ এলাকায় অবস্থিত। ছবি: রয়টার্স

আমরা এগোব আত্মবিশ্বাস নিয়ে by সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

চলে গেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক, কথাসাহিত্যিক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। অনুপ্রেরণার খোঁজে আমরা তাঁর দ্বারস্থ হতাম। করোনার ধাক্কায় পুরো পৃথিবী যখন বিপর্যস্ত, তখনও প্রথম আলোর অনুরোধে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে লিখেছিলেন তিনি। তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখাটি আবার প্রকাশ করা হলো।

কোভিড মহামারি আমাদের বিপর্যস্ত করেছে। অর্থনীতি থেকে নিয়ে জনজীবন, সবখানেই পড়েছে এর আঘাতের চিহ্ন। কিন্তু মহামারি অন্তে ঘুরে দাঁড়াতে অর্থনীতির খুব একটা সময় লাগবে না, সমাজজীবনও গতিশীল হতে শুরু করলে ক্ষতগুলো দ্রুতই সারবে। শুধু সময় লাগবে শিক্ষার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে। শুধু মহামারির কারণে যেসব ক্ষতি হলো—দেড়টা বছর হারিয়ে গেল, ডিজিটাল বৈষম্য প্রকট হলো, অসংখ্য শিক্ষার্থী ঝরে পড়ল, আরও বহু শিক্ষার্থী মানসিক অবসাদে ভুগল অথবা শিক্ষার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলল—তা নয়, এসবের বাইরেও এই সময়ের শিক্ষা যা দাবি করে, সেগুলো মেটানোতে আমাদের অপারগতাকে একই সঙ্গে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।

কাজটা কঠিন, কিন্তু অসম্ভব নয়। এ দেশের মানুষ সারা ইতিহাসজুড়ে দুর্যোগের সঙ্গে ঘর করেছে। প্রাকৃতিক হোক, মানুষের সৃষ্ট হোক—যেকোনো দুর্যোগের ঝাপটা কীভাবে সামাল দিতে হয়, মানুষ তা জানে। এ দেশের প্রকৃতিও জানে। ভয়ানক ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণের উপকূল ছিন্নভিন্ন হলো, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ চলল। দুই বছর পর দেখা গেল জীবন চলছে আগের মতোই। সুন্দরবন তার শক্তি নিয়ে ঘুরে দাঁড়াল। আরও যেন সুন্দর হলো।

ক্ষতি এবং ক্ষত অবশ্য ভুলে যাওয়ার নয়। চলে যাওয়া মানুষ ফিরে আসে না। কিন্তু তাদের জন্য শোকটা কোথায় যেন শক্তি জোগায়।

মহামারিও একদিন আমরা জয় করব। শিক্ষার ক্ষতিটা পুষিয়ে নেব। আগামীর জন্যও তৈরি হব। সবাই এই উঠে দাঁড়ানোতে শামিল হতে পারবে না, সে জন্য তাদের কথা ভেবেও আমাদের এগোতে হবে।

কীভাবে এগোব? এগোব আত্মবিশ্বাস নিয়ে, আন্তরিকতা নিয়ে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়কে সঙ্গে করে।

কোভিড মহামারি ব্যাপক হওয়ার সময় আমার মনে হয়েছিল, মানুষকে এই দুর্যোগ হয় আরও স্বার্থপর করবে—যেহেতু সবাই আপন প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়বে, প্রতিবেশীর দিকে নজর দেওয়া হবে না; অথবা মানুষ আরও মানবিক হবে। এখন দেখতে পাচ্ছি স্বার্থপরতাটা পশ্চিমেই বেশি দেখা গেছে। সেখানে যুক্তিতর্কও কুসংস্কার ও বিদ্বেষী রাজনীতির কাছে মার খাচ্ছে। সে তুলনায় স্বার্থপরতার প্রকাশ পুবে কম। আমরা যে খুব মানবিক হয়েছি তা নয়, কিন্তু ভয়ানক অমানবিকও হয়ে যাইনি। এটি আমাদের দীর্ঘদিনের সংস্কৃতি হতে দেয়নি। আমার ভরসার জায়গাটা এ দেশের তারুণ্য। তরুণেরা দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছে, বিপন্নদের সহায়তা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই তরুণ, অথবা কৈশোর-তারুণ্যে শিগগিরই বেড়ে ওঠার পথে। আত্মবিশ্বাসটা হবে সক্ষমতা নিয়ে। মাত্র কিছুদিন হলো স্কুল–কলেজ খুলেছে, সবাই এখনো যদিও ক্লাস শুরু করতে পারেনি। কিন্তু কজন শিক্ষক আমাকে বললেন, শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস উঁচু। শুধু শহর নয়, গ্রামেও। ১৯৭১ সালে সারা বছর পড়ালেখা হয়নি। স্বাধীনতার পর এক বছরে আমরা ক্ষতিটা কাটিয়ে উঠলাম। তার পেছনে ছিল আত্মবিশ্বাস—আমরা পারব।

আন্তরিকতার অর্থ খোলা মন নিয়ে কাজের সামনাসামনি হওয়া। নিজের প্রতি সৎ হওয়া। একজনের ঘাটতি আরেকজন মাপতে পারে না—সেটি দূর করতে সাহায্য যদিও করতে পারে। যদি আমরা নিজেদের সঙ্গে, একে অপরের সঙ্গে, শিক্ষকদের সঙ্গে আন্তরিক হই, তাহলে কোথায় ঘাটতি এবং কীভাবে সেগুলো মেটানো যায়, সেই ধারণাটা পরিষ্কার হবে। একজন আরেকজনকে করতে পারব।

যাঁদের সামর্থ্যের অভাব আছে, তাঁদের ডিজিটাল দুনিয়ায় পা রাখা বা চলাফেরাটা সম্ভব হয়নি। সেই বৈষম্য কীভাবে দূর করা যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। একজন যে কম্পিউটারে পারদর্শী, সে যদি বৈষম্যের শিকার বন্ধুকে সাহায্য করে, তাহলে শুধু বন্ধুটির যে উপকার হবে তা নয়, নিজেকে সে আরেকটু উঁচুতে তুলে নিতে পারবে। মনে রাখতে হবে, এই উঁচুতে না উঠতে পারলে পৃথিবীর মাপে আমরা পিছিয়ে থাকব।

ডিজিটাল জ্ঞানটা খুব জরুরি, কিন্তু ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ বা মোবাইলের ডেটা যেন আমরা ফেসবুক ঘুরে বেড়িয়ে বা গেম খেলে নষ্ট না করি। এ হবে ঘোরতর অপচয়, অন্যায়ও।

অধ্যবসায় আর পরিশ্রমের তো কোনো বিকল্প নেই। এখন তিন দিনের পড়া এক দিন পড়তে হবে। না, শুধু পরীক্ষা পাসের জন্য নয়। বরং নিজেকে গোটা পৃথিবীর সক্ষমদের কাতারে দাঁড় করানোর জন্য।

আমরা পারব। কষ্ট হবে, কিন্তু পারব। কেউ যখন ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা স্বপ্ন দেখে, তা বাস্তবে নামিয়ে আনতে একটা শক্তিও পায় নিজের মধ্যে। আমরা ক্লাসে ফিরে যাব এবং ভাবব—বা একটা বাস্তব স্বপ্ন দেখব—ভবিষ্যতের এ রকম কোনো মহা দুর্যোগে পথ দেখাবে বাংলাদেশ। দুর্যোগের রকম অনুযায়ী প্রতিরোধ তৈরি করে, বাস্তবায়ন করে দেখিয়ে, মেধার স্বাক্ষর রেখে, অধ্যবসায় এবং পরিশ্রমের প্রয়োগ ঘটিয়ে।

আমার শিক্ষকতাজীবন বাংলাদেশের প্রায় সমান বয়সী। আমি তরুণদের কাছে থেকে দেখেছি, এখনো দেখছি। আমি জানি তারা চাইলে অসাধ্যসাধন করতে পারে।

সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম
সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম

লিবিয়ায় বাড়ির ভেতরে কীভাবে খুন হলেন গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল–ইসলাম

প্রকাশ ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ লিবিয়ার প্রয়াত নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির সবচেয়ে প্রভাবশালী ছেলে সাইফ আল-ইসলামের ওপর চার বন্দুকধারী হামলা চালিয়ে তাঁকে হত্যা করেছেন। ৫৩ বছর বয়সী সাইফ রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৩৬ কিলোমিটার (৮৫ মাইল) দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে নিহত হন।

গাদ্দাফি পরিবারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র সৌদি আরবের মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম আল–আরাবিয়াকে জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হামলাকারীরা সাইফ আল-ইসলামের বাসভবনের বাগানে তাঁকে গুলি করে দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।

আল–আরাবিয়ার প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বন্দুকধারীরা হামলা চালানোর আগে গাদ্দাফির বাড়ির নিরাপত্তা ক্যামেরাগুলো অকেজো করে দিয়েছিলেন। তারপর বন্দুকধারীরা তাঁর মুখোমুখি হন এবং তাঁকে গুলি করেন। স্থানীয় সময় গভীর রাতে তিনি নিহত হন।

সাইফ আল–ইসলামের প্রাণহানির ঘটনায় এখনো বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি। তবে সাইফ আল-গাদ্দাফির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী একে একটি ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

সাইফ আল–ইসলামের রাজনৈতিক উপদেষ্টাদের একজন আবদুল্লাহ ওসমান ফেসবুকে এক পোস্টে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা আল্লাহর এবং তাঁর কাছেই ফিরে যাব। মুজাহিদ সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি আল্লাহর হেফাজতে আছেন।’

আবদুল্লাহ ওসমান ২০২০-২১ সালে রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন।

বাবা গাদ্দাফির শাসনামলে সাইফ

সাইফ আল-ইসলামের জীবন নাটকীয়তায় ভরা। বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির উত্তরসূরি ভাবা হতো তাঁকে। লিবিয়ার ক্ষমতা থেকে তাঁর বাবা উৎখাত হওয়ার পর এক দশকের বন্দিজীবন, প্রত্যন্ত এক পাহাড়ি শহরে অজ্ঞাতবাস, লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার চেষ্টা—যা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করেছিল।

কোনো আনুষ্ঠানিক পদ না থাকা সত্ত্বেও চার দশকের বেশি সময় লিবিয়া শাসন করা তাঁর বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পরে তাঁকেই দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি মনে করা হতো।

বাবা গাদ্দাফি ক্ষমতায় থাকাকালে সাইফ আল-ইসলাম লিবিয়ার রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণে ভূমিকা রাখতেন। গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক আলোচনা তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত হতো। তিনি লিবিয়ার গণবিধ্বংসী অস্ত্র ত্যাগের আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ১৯৮৮ সালে স্কটল্যান্ডের লকার্বিতে প্যান অ্যাম ফ্লাইট ১০৩ বোমা হামলায় নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিষয়েও তিনিই আলোচনা করেছিলেন।

লিবিয়াকে বিশ্ব থেকে একঘরে অবস্থা থেকে মুক্ত করতে সংকল্পবদ্ধ সাইফ আল-ইসলাম পশ্চিমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করেছিলেন। তিনি নিজেকে একজন সংস্কারক হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। সংবিধান প্রণয়ন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে অন্যদের প্রতি আহ্বান জানাতেন।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসে পড়াশোনা করা এবং ইংরেজিতে সাবলীল কথা বলতে পারায় অনেক দেশের সরকার তাঁকে লিবিয়ার গ্রহণযোগ্য এবং পশ্চিমাবান্ধব মুখ হিসেবে দেখত।

গাদ্দাফির পতন এবং সাইফের ফেরার চেষ্টা

২০১১ সালে যখন সাইফের বাবার দীর্ঘ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন তিনি তাঁর অনেক বন্ধুত্ব বিসর্জন দিয়ে পরিবার ও বংশের প্রতি অনুগত থাকাকেই বেছে নেন। বিদ্রোহীদের তিনি ‘ইঁদুর’ বলে সম্বোধন করেন এবং তাঁদের দমনে কঠোর অভিযানের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী হয়ে ওঠেন।

বিদ্রোহের সময় বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা লিবিয়াতেই লড়াই করব, লিবিয়াতেই মরব।’

বিদ্রোহীরা রাজধানী ত্রিপোলি দখল করার পর সাইফ আল-ইসলাম বেদুইন উপজাতির ছদ্মবেশে প্রতিবেশী দেশ নাইজারে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তার বাবাকে বিদ্রোহীরা খুঁজে বের করে গুলি করে হত্যার প্রায় এক মাস পর, ‘আবু বকর সাদিক ব্রিগেড’ নামের একটি মিলিশিয়া বাহিনী মরুভূমির রাস্তা থেকে তাঁকে বন্দী করে পশ্চিমের শহর জিনতানে নিয়ে যায়।

পরের ছয় বছর সাইফ আল–ইসলাম গাদ্দাফি জিনতানে বন্দী ছিলেন, যা তাঁর বাবা গাদ্দাফির আমলের বিলাসবহুল জীবন থেকে ছিল একেবারেই ভিন্ন। সে সময় তাঁর পোষা বাঘ ছিল, তিনি বাজপাখি দিয়ে শিকার করতেন এবং লন্ডন সফরের সময় যুক্তরাজ্যের উচ্চবিত্ত সমাজের সঙ্গে মেলামেশা করতেন।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জিনতানে সাইফের সঙ্গে দেখা করেছিল। সেই সময় তাঁর একটি দাঁত ভাঙা ছিল। সাইফ তাঁদের জানিয়েছিলেন, তিনি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন। তাঁকে কারো সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয় না।

যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৫ সালে ত্রিপোলির একটি আদালত সাইফ আল-ইসলামকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় দেন ।

পরে ২০১৭ সালে সাধারণ ক্ষমা আইনের আওতায় মিলিশিয়াদের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর প্রাণহানির আশঙ্কা থেকে জিনতানে কয়েক বছর আত্মগোপনে ছিলেন।

২০২১ সালে লিবিয়ার ঐতিহ্যবাহী পোশাক ও পাগড়ি পরে সাইফ আল–ইসলাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে লিবিয়ার দক্ষিণের শহর সাভায় নির্বাচনী কার্যালয়ে উপস্থিত হন।

আশা করা হয়েছিল, ২০১১ সালে ন্যাটোর সহায়তায় হওয়া যে বিদ্রোহ তাঁর বাবাকে ক্ষমতাচ্যুত এবং দেশকে অস্থিতিশীলতায় নিমজ্জিত করেছিল, সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি জনগণের সমর্থন আদায় করে নেবেন।

তবে সাইফের প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। তাঁর বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির শাসনামলে যাঁরা নির্যাতিত হয়েছিলেন, তাঁরা সাইফের প্রার্থিতার তীব্র বিরোধিতা করেন। ২০১১ সালের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো থেকে গড়ে ওঠা শক্তিশালী সশস্ত্র দলগুলোও তাঁর প্রার্থিতাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে।

২০২১ সালের শেষ দিকে নির্বাচনের নিয়মাবলি নিয়ে কোনো ঐকমত্য না হওয়ায় পুরো প্রক্রিয়া স্থবির হয়ে পড়েছিল। তখন সাইফ আল-ইসলামের প্রার্থিতা অন্যতম প্রধান বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০১৫ সালের দণ্ডাদেশের কারণে তাঁকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছিল।

সাইফ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার চেষ্টা করলে লিবিয়ার যোদ্ধারা আদালত ঘেরাও করে ফেলেন। এই ধারাবাহিক বিবাদ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনপ্রক্রিয়াকে পুরোপুরি ধসিয়ে দেয় এবং লিবিয়া আবার রাজনৈতিক অচলাবস্থায় ফিরে যায়।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-02-04%2Ffid7wnzr%2Fsaif-al-islam.jpg?rect=0%2C0%2C1266%2C844&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
সাইফ আল–ইসলাম ২০২১ সালের নভেম্বরে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে নির্বাচন কার্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন করেন। ফাইল ছবি–এএফপি

এপস্টেইন–কাণ্ডে কংগ্রেসের সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হলেন ক্লিনটন দম্পতি

প্রকাশ ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ঃ জেফরি এপস্টেইন–কাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের তদন্ত কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে রাজি হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন।

হাউস ওভারসাইট কমিটির সামনে হাজির হতে অস্বীকৃতি জানানোয় এ দম্পতির বিরুদ্ধে ‘কংগ্রেস অবমাননার’ অভিযোগে ভোটাভুটির মাত্র কয়েক দিন আগে এই সম্মতির কথা জানালেন তাঁরা।

২০১৯ সালে কারাগারে কুখ্যাত যৌন অপরাধী এপস্টেইনের মৃত্যু হয়। তাঁর সঙ্গে বিল ক্লিনটনের যোগাযোগ ছিল বলে আগেই জানা গেছে। তবে সাবেক এই প্রেসিডেন্ট বরাবর দাবি করেছেন, এপস্টেইনের কোনো অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছু জানতেন না এবং প্রায় দুই দশক আগে তাঁর সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন।

বিল ক্লিনটনের সাক্ষ্য কবে নেওয়া হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে সাক্ষ্য দিলে তিনি হবেন ১৯৮৩ সালে জেরাল্ড ফোর্ডের পর প্রথম কোনো সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট, যিনি কংগ্রেসীয় কমিটির সামনে হাজির হবেন।

রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত হাউস ওভারসাইট কমিটি গত মাসের শেষ দিকে ক্লিনটন দম্পতিকে ‘কংগ্রেস অবমাননার’ দায়ে অভিযুক্ত করার একটি প্রস্তাব অনুমোদন করে। এতে কয়েকজন ডেমোক্র্যাট সদস্যও সমর্থন দেন।

গতকাল সোমবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বিল ক্লিনটনের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ অ্যাঞ্জেল উরেনিয়া নিশ্চিত করেন, ক্লিনটন দম্পতি কমিটির সামনে হাজির হবেন। একই সঙ্গে তিনি কমিটির সমালোচনাও করেন। উরেনিয়া লেখেন, ‘তাঁরা সরল বিশ্বাসে আলোচনা করেছিলেন, কিন্তু আপনারা (কমিটি) করেননি।’

অ্যাঞ্জেল উরেনিয়া আরও লিখেছেন, ‘তাঁরা যা জানেন, তা শপথ করে আপনাদের আগেই জানিয়েছেন। কিন্তু আপনারা তাতে কান দিচ্ছেন না। এরপরও সাবেক প্রেসিডেন্ট ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেখানে (কমিটির সামনে) উপস্থিত হবেন। তাঁরা এমন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান, যা সবার জন্য প্রযোজ্য।’

ক্লিনটন দম্পতি জানান, তাঁরা ইতিপূর্বে কমিটির কাছে হলফনামা জমা দিয়েছেন এবং এপস্টেইন সম্পর্কে তাঁদের কাছে থাকা ‘সীমিত তথ্য’ সরবরাহ করেছেন।

ক্লিনটন দম্পতি তাঁদের বিরুদ্ধে জারি হওয়া আইনি সমন প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁদের মতে, এ সমন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে বিব্রত করার একটি চক্রান্ত ছাড়া আর কিছুই নয়। ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশেই এটি করা হয়েছে।

এপস্টেইনের নির্যাতনের শিকার কেউ কখনো বিলের বিরুদ্ধে কোনো অপকর্মের অভিযোগ করেননি। এ ছাড়া তিনি নিজেও এপস্টেইনের যৌন অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানতেন না বলে দাবি করে আসছিলেন।

এপস্টেইনের ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের লগবই থেকে জানা যায়, ২০০২ ও ২০০৩ সালে বিল ক্লিনটন চারটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ভ্রমণ করেছিলেন।

এপস্টেইনের অপরাধ কর্মকাণ্ডের তদন্তসংশ্লিষ্ট সব তথ্য প্রকাশের জন্য কংগ্রেসের পাস করা একটি আইনের আওতায় বিচার বিভাগ বেশ কিছু নথি প্রকাশ করেছে। সেসব নথির কিছু ছবিতে সাবেক এ প্রেসিডেন্টকে এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বাড়িতে দেখা গেছে।

একটি ছবিতে সাবেক প্রেসিডেন্টকে সুইমিং পুলে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, তিনি গরম পানির চৌবাচ্চায় মাথার নিচে দুই হাত দিয়ে শুয়ে আছেন।

ক্লিনটনের মুখপাত্র উরেনিয়া গত ডিসেম্বরে ছবিগুলো প্রকাশের সময় জানিয়েছিলেন, এগুলো কয়েক দশকের পুরোনো। এপস্টেইনের অপরাধের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আগেই বিল ক্লিনটন তাঁর সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন।

গত মাসে হাউস ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারকে লেখা একটি চিঠিতে ক্লিনটন দম্পতি এপস্টেইন তদন্ত পরিচালনার ধরন নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন।

চিঠিতে ক্লিনটন দম্পতি বলেন, ‘চেয়ারম্যান হিসেবে এপস্টেইন তদন্তে আপনি যে সিদ্ধান্ত ও অগ্রাধিকারগুলো ঠিক করেছেন, তা সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রকৃত তথ্য উদ্‌ঘাটনের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

চিঠিতে আরও লেখা হয়, ‘আপনি যা করছেন, তার অন্য কোনো গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা নেই। এটি দলীয় রাজনীতি ছাড়া আর কিছু নয়।’

চেয়ারম্যান কোমার এর আগে বলেছিলেন, ক্লিনটন দম্পতিকে তলব করার সিদ্ধান্তটি উভয় দলের (রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট) সম্মতিতে অনুমোদিত হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।’

কেন্টাকির এই রিপাবলিকান প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘আমরা কয়েক মাস ধরে ক্লিনটনের আইনি দলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। দিন ঠিক করে কমিটির সামনে হাজির হওয়ার জন্য তাঁদের বারবার সুযোগ দেওয়া হয়েছে; কিন্তু তাঁরা শুধু কালক্ষেপণ করেছেন।’
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও তাঁর স্ত্রী সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

সৌদি আরবে এরদোগান, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার

সৌদি আরব ও তুরস্ক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের সৌদি সফর শেষে প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, দুই দেশের এই সহযোগিতা পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করবে এবং বহুপক্ষীয় কাঠামোর মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। প্রতিরক্ষা খাতে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করা হয়। এ খবর দিয়েছে সৌদি গেজেট।

মঙ্গলবার রিয়াদের আল-ইয়ামামাহ প্রাসাদে সৌদি যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে বিস্তৃত বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট এরদোগান। বৈঠকে দুই নেতা ঐতিহাসিক সম্পর্ক পর্যালোচনা করেন এবং সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও গভীর করার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

যৌথ বিবৃতিতে অপরাধ দমন, চরমপন্থা ও সন্ত্রাসবাদ এবং এর অর্থায়ন প্রতিরোধ, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।
দুই দেশ অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্কের অগ্রগতির প্রশংসা করে এবং সৌদি ভিশন ২০৩০ ও ‘সেঞ্চুরি অব তুর্কিয়ে’ ভিশনের আওতায় বিনিয়োগ সুযোগ কাজে লাগানোর বিষয়ে একমত হয়। জিসিসি ও তুরস্কের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) চূড়ান্ত করার ওপরও জোর দেয়া হয়।

সৌদি পক্ষ তুরস্কে তাদের বিনিয়োগের প্রশংসা করে, বিশেষ করে আর্থিক খাত, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, রিয়েল এস্টেট ও উৎপাদন শিল্পে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে কার্যরত তুর্কি কোম্পানিগুলোর অবদানও স্বীকৃতি দেয়া হয়।
জ্বালানি খাতে দুই দেশ বৈশ্বিক তেলবাজারে সৌদি আরবের ভূমিকার প্রশংসা করে এবং তেল, পেট্রো কেমিক্যাল ও কৃষি পুষ্টি খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সম্মত হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিদ্যুৎ, ক্লিন হাইড্রোজেন উৎপাদন ও পরিবহন প্রযুক্তিতে যৌথ কাজের আগ্রহও প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের অনুসন্ধান ও প্রক্রিয়াজাতে সহযোগিতা জোরদারের কথা বলা হয়।

দুই দেশ গাজায় চলমান মানবিক সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং অবরোধ তুলে নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা প্রবেশের আহ্বান জানায়। ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয় এবং সিরিয়ায় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় নেয়া পদক্ষেপের প্রশংসা করা হয়।
সৌদি আরব ও তুরস্ক আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের অঙ্গীকার করে এবং আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় যৌথ উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেয়।

https://mzamin.com/uploads/news/main/201988_Kaium-9.webp

উড়িরচরে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে বিদেশি জাহাজ, ৩৩ বছর পর তোলা হচ্ছে by নুরুল আনোয়ার

প্রকাশ ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ঃ ফসলের মাঠে এক্সক্যাভেটর দিয়ে চলছে খনন। উৎসুক মানুষের ভিড় চারপাশে। ভিড় ঠেলে দেখা গেল, এরই মধ্যে খোঁড়া হয়েছে প্রায় ১৭ ফুট গভীর একটি গর্ত। এরপরও থেমে নেই গর্ত খোঁড়ার কাজ।

গত সোমবার এই চিত্র দেখা গেল সন্দ্বীপের বিচ্ছিন্ন ইউনিয়ন উড়িরচরের উত্তর-পশ্চিমে চর ন্যাংটা এলাকায়। খননের উদ্দেশ্য, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা একটি জাহাজ উদ্ধার। ৪ জানুয়ারি থেকে একাধিক এক্সক্যাভেটর দিয়ে চলছে খনন।

উড়িরচরের বাংলাবাজার থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরের কোস্টগার্ড কন্টিনজেন্টের পাশেই চলছে জাহাজ উদ্ধারের এই কাজ। ধানি জমি পার হয়ে সেখানে যেতেই চোখে পড়ে মাটি বোঝাই করে চলাচল করছে কয়েকটি ট্রাক। দুটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে প্রায় ৫০ ফুট চওড়া এবং ২০০ ফুট দীর্ঘ জায়গাজুড়ে গর্ত খোঁড়া হচ্ছে। ১৭ ফুট গভীর পর্যন্ত খোঁড়া হলেও জাহাজের মূল কাঠামোর দেখা এখনো মেলেনি।

নিলামের নথি ঘেঁটে জানা গেছে, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা জাহাজটির নাম এমভি টনি বেস্ট। লাইবেরিয়াভিত্তিক বেস্ট শিপিং করপোরেশনের মালিকানাধীন জাহাজটি ১৯৯৩ সালে এই এলাকার কাদায় আটকে পড়ে। পরে মাটির নিচে চাপা পড়ে যায়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া এবং একাধিকবার মালিকানা পরিবর্তনের পর জাহাজটি মাটির নিচ থেকে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাসিন্দারা জানান, জাহাজটি যখন আটকে পড়ে, তখন চারপাশে কেবল জলরাশি ছিল, আশপাশে ছিল না কোনো স্থায়ী বসতি। পরের তিন দশকে সেখানে চর জেগে ওঠে, যাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে বসতিও। শুরু হয় চরের জমি চাষাবাদ। একই সঙ্গে মাটির নিচে চাপা পড়তে শুরু করে জাহাজটি। একপর্যায়ে এটি পুরোপুরি অদৃশ্য হয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১০ বছর আগে চরটিতে চাষাবাদ শুরু হয়। মাটির নিচে চাপা পড়ায় জাহাজটির কথা এলাকার মানুষ প্রায় ভুলেই গিয়েছিল। হঠাৎ আবার খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হওয়ায় জাহাজটি নিয়ে বাসিন্দাদের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই।

জাহাজটির প্রত্যক্ষদর্শীদের একজন পাওয়া গেল এলাকায়। তাঁর নাম মুকবুল হোসেন (৭৫)। পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে উড়িরচরে মহিষবাথানের মালিক তিনি। তাই এলাকায় পরিচিত ‘মুকবুল বাতানি’ নামে। জানতে চাইলে মুকবুল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘জাহাজ আটকি যাইবের ঘটনা মনে আছে। কিন্তু কত দিন আগে, তা ঠিক করি বলতে পারব না। সে সময় লক্ষ্মী অলারা (চর লক্ষ্মীর বাসিন্দারা) জাহাজের দামি জিনিস খুলে লই গেছে। তারপর দিনে দিনে জাহাজটা মাটিচাপা পইড়তে থাকে।’

কতটা বড় এই জাহাজ

জাহাজটির নথিপত্র ঘেঁটে জানা গেল, পশ্চিম আফ্রিকার আটলান্টিক উপকূলবর্তী দেশ লাইবেরিয়ার পতাকাধারী এই জাহাজ পানিতে ভেসেছে প্রায় ২২ বছর। ১৯৭১ সালে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। ১৯৯৩ সালে এটি বাংলাদেশের নোয়াখালী উপকূলের কাছে আটকে পড়ে সমুদ্রযাত্রার সমাপ্তি টানে।

জাহাজটির বর্তমানে মালিকানায় রয়েছে মেসার্স রায়হান ট্রেডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৪৭০ ফুট আর প্রস্থ ৬৮ ফুটের মতো। এখন স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রির জন্য জাহাজটি তুলে আনার কাজ চলছে।

নিলাম, হাতবদল

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে প্রায় ৬০ কিলোমিটার দূরে জাহাজটি আটকে পড়ার পর শুরুতে উদ্ধারের চেষ্টা চালায় মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠান বেস্ট শিপিং করপোরেশন। তবে ব্যর্থ হয়ে জাহাজটি নিলামে (অকশন) দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের আদালতের শরণাপন্ন হয় প্রতিষ্ঠানটি। কাদায় আটকে পড়া জাহাজকে কেন্দ্র করে শুরু হয় দীর্ঘ আইনি লড়াই। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বেস্ট শিপিং করপোরেশন, জাহাজের স্থানীয় প্রতিনিধি, কর্মকর্তা ও ক্রু—সব পক্ষের স্বার্থ জড়িয়ে পড়ে মামলায়।

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের দেওয়ানি বিভাগের অ্যাডমিরালটি স্যুট (সমুদ্র বাণিজ্য-সংক্রান্ত মামলা) নম্বর ১৯/১৯৯৩ অনুযায়ী জাহাজটি নিলামে তোলা হয়। ১৯৯৫ সালের ১৫ মার্চ চট্টগ্রামের মুসলিম ট্রেডার্স নামে একটি প্রতিষ্ঠান ৫৪ লাখ টাকায় জাহাজটি নিলামে কিনে নেয়।

প্রতিষ্ঠানটি জাহাজের উপরিভাগের সামান্য কিছু অংশ কেটে নিলেও পুরো জাহাজ আর উদ্ধার করতে পারেনি। প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে কাজ থেমে যায়। পরে ৩০ লাখ টাকায় তারা জাহাজের স্বত্ব বিক্রি করে দেয় অন্য প্রতিষ্ঠানের কাছে। এরপর একের পর এক বদল হয় মালিকানা। তবে কেউ মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা জাহাজের বাকি অংশ আর উদ্ধার করতে পারেনি। এবারের চেষ্টার আগে সর্বশেষ ২০১০ সালে ঢাকার ইউছুফ আলী নামের এক ব্যক্তি জাহাজটি কিনে মাটির নিচ থেকে উদ্ধারের চেষ্টা চালান। তবে সেই চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।

আবার উদ্ধার চেষ্টা

জাহাজটির বর্তমান মালিক মেসার্স রায়হান ট্রেডার্সের কর্ণধার মো. জামাল উদ্দিন জানান, বেশ বড় জাহাজটি যেখানে চাপা পড়ে আছে এর ওপরের প্রায় ১০ একর জমি তিনি কিনে নিয়েছেন। এখন মাটি খুঁড়ে জাহাজটি উদ্ধারের চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে উদ্ধারের চেষ্টায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যন্ত্রপাতির সংকট।

জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিরামহীন কাজ চলছে। তবে ভারী যন্ত্রপাতি ছাড়া বেশি গভীরে যাওয়া সম্ভব নয়। এখন সেই যন্ত্রপাতির খোঁজ করছি। জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে।’

জাহাজটি উদ্ধারের জন্য নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধারে নামার আগে তাঁরা সেখানে বোরিং (মাটির গভীরে পাইপ প্রবেশ করিয়ে) করে জাহাজটির অবস্থান নিশ্চিত হয়েছেন। বোরিং কাজে যুক্ত নুরুল হুদা বলেন, ‘সর্বনিম্ন ৩২ ফুট আর সর্বোচ্চ ৫০ ফুট গভীরে জাহাজের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। মোটামুটি ৪০ ফুট গভীরে পৌঁছালে জাহাজটি দৃশ্যমান হবে।’

খোঁড়াখুঁড়ির জন্য রায়হান ট্রেডার্স জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের লিখিত অনুমতি নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার জামাল উদ্দিন। তিনি বলেন, মাটির এতটা গভীর থেকে জাহাজটি কেটে তুলে আনার কাজ হয়তো সহজ হবে না। এরপরও চেষ্টা চলছে।

জাহাজ তোলার খবর পেয়ে প্রতিদিনই ভিড় করছে মানুষ। কৌতূহলী মানুষের মুখে লেগে আছে জাহাজটি নিয়ে নানা আলাপ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এটি নিয়ে আলোচনায় মেতেছেন এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের কেউ জাহাজ তোলার খবরে বাহবা দিচ্ছেন, কেউ লিখেছেন, ‘জাহাজ তোলার নামে মাটির ব্যবসা চলছে।’

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2026-01-28%2Foya1n2rr%2FWhatsApp-Image-2026-01-28-at-14.45.38.jpeg?rect=0%2C0%2C1280%2C853&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকা জাহাজ উদ্ধারে চলছে খননকাজ। গত সোমবার চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের উড়িরচরে। ছবি: প্রথম আলো

যানজট, বিজ্ঞানের ‘বেগ-আবেগ’ এবং ‘সময়ের মূল্য’ by বিধান মিত্র

যাযাবর বা বিনয় মুখোপাধ্যায় রচিত ‘দৃষ্টিপাত’ গ্রন্থের স্মরণীয় উক্তি, ‘বিজ্ঞান দিয়েছে বেগ, কেড়ে নিয়েছে আবেগ।’ সার্বিক দিক বিবেচনায় যাযাবরের কথাটাকে অযথার্থ বলার উপায় নেই। তবে এটাও ঠিক, বর্তমান বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এ উক্তির সঙ্গে ভিন্নমত পোষণ করার অবকাশ আছে ঢের। কারণ, এ দেশে বিজ্ঞান কেবল বেগেরই জন্ম দেয় না, আবেগেরও জন্ম দেয়। আর আবেগের জন্মদাতা বিজ্ঞান আবেগকেই কেড়ে নেবে, এটা যৌক্তিক কথা হতে পারে না।

আমার বক্তব্যের সমর্থনে একাধিক উদাহরণ উপস্থাপন করা অনাবশ্যক মনে করি। হাঁড়ির চাল যথাযথ সেদ্ধ হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য যেমন এক-দুটি চাল টিপলেই চলে, তেমনি একদিনের ঘটনার আদ্যোপান্ত শুনলে বুদ্ধিমান পাঠকমাত্রই, প্রতিদিনকার চিত্রটি আঁচ করতে পারবেন।

তারিখ ও সময় ৩ নভেম্বর, দুপুর। মহাখালী থেকে বাসে চড়েছি, ময়মনসিংহের উদ্দেশে। টার্মিনাল থেকেই বাসের অবস্থা যেন ‘চলিতে চরণ চলে না’। বনানী পার হওয়ার পর, বাস থেকে ‘বিজ্ঞানের বেগ’ পুরোপুরি উধাও হয়ে গেল। ‘ইঞ্জিন বন্ধ’ করে দেওয়া বাসটিকে মনে হলো ‘সমাধিপ্রাপ্ত সাধক’, বিকারহীন, মৃতবৎ। বহুক্ষণ পর বাসের চেতনা ফিরে এল। শম্বুকগতিতে একটু এগোয় আবার থেমে যায়। টঙ্গী এসে অস্তগামী সূর্যের লাল আভা দেখতে পেলাম। সেই আভার স্নিগ্ধতা, কোমল রূপ চৈতন্যের সর্বাঙ্গে গভীর আবেগের শিহরণ জাগাল।

অনির্বচনীয় কবিত্বের দোলা অনুভব করলাম। ঘোরের ভেতরে ছাইপাশ কী যেন, হয়তো মহাকাব্য কিংবা নাটক রচনা করতে লাগলাম। সংলাপের অংশ হিসেবে সড়ক বিভাগের লোকজনকে যেই না ‘শ্বশুরপক্ষের আত্মীয়’ জ্ঞান করে দুটো শব্দ উচ্চারণ করলাম, অমনি বাসের চাকা সজোরে চলতে লাগল। প্রকৃতিস্থ হতে হতে ভাবলাম, বিজ্ঞান দিয়েছে যানজট, যানজট দিয়েছে নিশ্চলতা। নিশ্চলতা দিয়েছিল বাঁধভাঙা আবেগ। আর আবেগ থেকে জাত হয়েছিলÑকত কী সাহিত্যকর্ম। তাহলে এটা কী করে সত্য হিসেবে পরিগণিত হয় যে বিজ্ঞান কেবলই বেগের জন্ম দেয়, আবেগের নয়?

দুই.

গত কয়েক দশকে, আমাদের দেশ বেশ কটি ক্ষেত্রে অভাবনীয় উন্নতি সাধন করেছে। আমাদের গড় আয় এবং আয়ু—দুটোই বেড়েছে। শিক্ষা-স্বাস্থ্য-কৃষি-শিল্পকলা—সর্বত্রই লেগেছে অগ্রগতির ছোঁয়া। সব ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান এসেছে আশীর্বাদ হয়ে, কেবল একটা ক্ষেত্রে বিজ্ঞান চরম অভিশাপ হয়ে দেখা দিয়েছে। আমাদের সড়ক এবং রেল যোগাযোগ, আপাতদৃষ্টে মনে হতেই পারে, বিজ্ঞানের কল্যাণে এ প্রপঞ্চও সমৃদ্ধ হয়েছে। কিন্তু এখানে একটা ‘শুভংকরের ফাঁকি’ আছে; এ ফাঁকির স্বরূপ নির্ণয় করা সহজ, তবে এ থেকে মুক্তি পাওয়া বেশ কঠিন।

গত দশকের আগের দুই দশকের দিকে দৃষ্টি দেওয়া যাক। তখন সড়কপথে (বা রেল) দুই-আড়াই ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা-ময়মনসিংহ যাতায়াত করা যেত। অথচ বর্তমানে, চার লেনের সড়ক-সুবিধা এবং আধুনিক মডেলের দামি গাড়িতে চড়েও ওই দুই-আড়াই ঘণ্টার দূরত্ব, ঠিক কতক্ষণে অতিক্রম করা যাবে, এটা নিশ্চিত করে বলা যায় না। তিন তো নয়ই, চার-পাঁচ-ছয় ঘণ্টা, নাকি এর চেয়েও বেশি সময় রাস্তায় কাটাতে হবে,কেউ জানে না। সড়কপথের অবশ্য বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আছে। সড়ক হতে পারে ভাঙাচোরা, খানাখন্দে ভরা কিংবা যানজটে ‘স্বাভাবিক সত্তা’হীন। চাইলেই গাড়ির গতি বাড়ানোর উপায় নেই। কিন্তু রেলপথ, ওখানে তো এ-জাতীয় বাধাবিঘ্ন নেই। তাহলে রেল যাতায়াতে এত সমস্যা, বিপত্তি কেন? গন্তব্যে পৌঁছাতে কেন সেটা ঘড়ির কাঁটা মেনে চলে না? ছেড়ে দিতে হয় ভাগ্যের ওপরে?

অপ্রিয় হলেও এটাই সত্য যে আমাদের রেলব্যবস্থার প্রায় পুরোটাই ব্রিটিশ আমলে নির্মিত। সে সময়ে জনসংখ্যা ছিল অনেক কম, তাই সিঙ্গেল লাইনের রেলপথ দিয়ে কাজ চালাতে অসুবিধা হতো না। পরবর্তীকালে জনসংখ্যার বৃদ্ধির পাশাপাশি রেলযাত্রীর সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ পর্যায়ে সময়ের দাবি মেনে সারা দেশব্যাপী রেলের ডাবল লাইন নির্মাণ করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেটা তো দূরের কথাÑ‘সিঙ্গেল লাইন’ স্থাপনেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি।

যাত্রীচাহিদা পূরণের জন্যে পুরোনো লাইনের যথাযথ সংস্কার ছাড়াই দিন দিন কেবল রেলগাড়ির সংখ্যাই বাড়ানো হয়েছে, এতে নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ি কিংবা পেছনের দিক থেকে আসা দ্রুতগামী গাড়িকে পথ করে দেওয়ার জন্য অসংখ্য গাড়িকে কোনো নির্দিষ্ট স্টেশনে অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। বস্তুত রেলের ডাবল লাইন থাকলে প্রতিদিন সময়ের এই বিপুল অপচয় রোধ করা যেত। কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে মাঠপর্যায়ের বিদ্যমান অবস্থা—এ দুইয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য না থাকায় গোটা রেলব্যবস্থা মারাত্মক ঝুঁকির ভেতর দিয়ে দিন পার করছে। দুর্ঘটনা যেমন বেড়েছে, তেমনি বেড়েছে ‘শিডিউল বিপর্যয়’। একটা গাড়ি লেট করলে, যান্ত্রিক গোলযোগে পড়লে এর প্রভাব পড়ে ওই লাইনে চলাচলকারী প্রতিটি গাড়ির ওপরে। রেলের বর্তমান দুরবস্থায় মানুষের মনে ফিরে আসছে সেই পুরোনো প্রশ্ন, ‘১০টার ট্রেন কয়টায় আসবে?’

তিন.

বিজ্ঞানের বেগ-আবেগ, গতি-দুর্গতির প্রভাব এখন শুধু দূরপাল্লার দ্রুতযানের ওপরই নয়, এটা এখন সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়েছে নগর পরিবহনের বিভিন্ন যান, মফস্বল শহরের রিকশা, অটোরিকশা, সিএনজিচালিত গাড়ি, ঠেলাগাড়ির শরীরেও। বাসা থেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার দূরের অফিস ১৫-২০ বছর আগে রিকশা বা বাসে চড়ে যে দূরত্ব অতিক্রম করা যেত অনধিক ৩০ মিনিটের মধ্যে, এখন সেটা অতিক্রম করতে গিয়ে দ্বন্দ্ব ও সংশয়ে থাকতে হয়, না জানি কোথায় গিয়ে অনতিক্রম্য যানজটে পড়তে হয়? অফিসে ঠিক সময়ে পৌঁছাতে পারব তো? প্রতিদিন বাড়তি সময় নিয়ে বেরিয়েও আশ্বস্ত থাকা যায় না। আমাদের দেশে অনেক বিষয় নিয়েই তো পরিসংখ্যানিক কাজ করা হয়। যানজটে পড়ে প্রতিদিন কেবল ঢাকা শহরেই, কত কর্মঘণ্টা বিনষ্ট হচ্ছে, এ হিসাব বের করার কোনো উপায় নেই?

অপ্রশস্ত রাস্তায় অপরিমেয় যানবাহন চলাচল করলেÑযানজটের সৃষ্টি হবেই। কিন্তু এটাই কি শেষ কথা? এর আড়ালে, আর কোনো কথা নেই?আছে বৈকি; পথ চলাচলকারী যাত্রীমাত্রেরই বিশেষ প্রবণতা, ‘অন্যরা চুলোয় যাক, যেনতেন প্রকারে আমাকেই যেতে হবে আগে।’ ধরা যাক, বাঁ পাশের রাস্তা বরাবর পূর্বমুখী যানগুলো জটে আটকা পড়েছে। ডান পাশের রাস্তা প্রায় ফাঁকা,তাই পশ্চিমমুখী যানগুলো, স্বাভাবিক গতিতে চলাচল করতে পারছে। এ ক্ষেত্রে ‘আইনের প্রতি শ্রদ্ধাবর্জিত’ বাঁয়ের গাড়িচালকেরা সুযোগ পাওয়ামাত্রই ডানের রাস্তায় ঢুকে গিয়ে পূর্ব দিকে চলতে শুরু করেন।

এর ফলে ডান পাশের পশ্চিমমুখী গাড়ি চলাচল বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং একসময় দুই দিকের গাড়ি চলাচলই বন্ধ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে আইন অমান্যকারীরা যদি কঠিন শাস্তির মুখে পড়তেন, তাহলে এ প্রবণতা অবশ্যই হ্রাস পেত। কিন্তু এ দেশে কার অপরাধের জন্য কে কাকে শাস্তি দেবে? স্বাধীন দেশে সবাই স্বাধীন নাগরিক, চালক বা পথিক যেমন, তেমনি স্বাধীন ট্রাফিকের লোকজন এবং তাঁদের নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষও।

কথা হলো, দূরপাল্লার রাস্তাই হোক আর মফস্‌সলের সরু রাস্তাই হোক, প্রতিদিন জ্যামে আটকা পড়ে ‘দীর্ঘশ্বাস’ ফেলা, ‘আতঙ্কে ভোগা’, এটা কি আমাদের অনিবার্য নিয়তি? ‘সময়ের মূল্য’ শীর্ষক রচনাটি, শিশুশ্রেণিতে পাঠ্য, বড়দের সেটা না পড়লেও চলে, না বুঝলেও চলে; তা–ই নয় কি?

* বিধান মিত্র, অধ্যাপক, নেত্রকোনা সরকারি কলেজ, নেত্রকোনা।

যানজট আমাদের জীবনের প্রাত্যহিক অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছে
যানজট আমাদের জীবনের প্রাত্যহিক অনুসঙ্গ হয়ে উঠেছে। ছবি: সাবিনা ইয়াসমিন

মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছে ধাক্কা, ৩ বন্ধু নিহত

মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় একসঙ্গে তিন বন্ধু নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার যশলং এলাকার সিপাহিপাড়া-দিঘীরপাড় সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তিনজন হলেন তুর্জয় মাঝি (২৮), হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব (২৭) ও মো. সানিয়াত (২৯)। তাঁদের সবার বাড়ি টঙ্গিবাড়ী উপজেলার সোনারং টঙ্গিবাড়ী ইউনিয়নে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন বন্ধু মোটরসাইকেলে করে দিঘীরপাড়ের দিকে যাচ্ছিলেন। তাঁদের মোটরসাইকেলটি রাত ৯টার দিকে সিপাহিপাড়া-দিঘীরপাড় সড়কের যশলং এলাকায় এলে নিয়ন্ত্রণ হারায়। সে সময় মোটরসাইকেলটি সড়কের পাশের আমগাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব ও মো. সানিয়াত মারা যান। ঘটনাস্থল থেকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হলে সেখানে তুর্জয় মাঝি মারা যান।

টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে লাশগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে।

সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব, তুর্জয় মাঝি ও মো. সানিয়াত
সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হোসাইন মোহাম্মদ সাকিব, তুর্জয় মাঝি ও মো. সানিয়াত। ছবি: সংগৃহীত