Tuesday, November 25, 2025

সিএনএনের বিশ্লেষণ: হাসিনার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে বড় বাধা ভারত

একসময়কার ধর্মনিরপেক্ষ নেত্রী, এক বিপ্লবী নেতার কন্যা শেখ হাসিনা। পিতার নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পটভূমিতে ১৯৭০ এর দশকে যার রাজনৈতিক উত্থান হয়। পৌঁছান রাজনীতির শীর্ষে। এরপর ক্ষমতা থেকে অবিশ্বাস্যভাবে পতন হয় তার। স্বেচ্ছানির্বাসনে চলে যান ভারতে। শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এখন তা কার্যকর হতে পারে যদি নয়াদিল্লি তাকে ফেরত দেয়।

২০২৪ সালের ছাত্র বিক্ষোভে সহিংস দমন-পীড়ন চালানোয় ক্ষমতাচ্যুত এই নেত্রীকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। ওই বিক্ষোভে তার সরকারের পতন হয়। ক্রমেই কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠা ১৫ বছরের শাসনের পর তিনি গত বছরের আগস্টে ভারতে পালিয়ে যান এবং তার ঘনিষ্ঠ মিত্রদের অন্যতম একটি দেশের রাজধানীতে আশ্রয় নেন।

এখন তিনি দুই দেশের মধ্যে এক উত্তেজনাপূর্ণ অচলাবস্থার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছেন। ঢাকা তার অপরাধের জন্য বিচারের মুখোমুখি করতে তাকে প্রত্যর্পণের দাবি জানাচ্ছে। যদিও তিনি জোর দিয়ে বলছেন, তিনি এই অপরাধ করেননি।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোবাশ্বার হাসান বলেন, গণরোষ থেকে বাঁচতে তাকে দেশ ছেড়ে পালাতে হয়েছিল। তিনি ভারতে লুকিয়ে আছেন আর তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হলো। এটি সত্যিই এক ব্যতিক্রমী গল্প।

সহিংস অতীত

রাজনীতিতে শেখ হাসিনার যাত্রাপথ শেক্সপিয়রীয় আদলের এক গল্পের মতো- মর্মান্তিক ঘটনা, নির্বাসন ও ক্ষমতার আখ্যান, যা তার নিজ দেশের ইতিহাসের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত। বাংলাদেশের ক্যারিশম্যাটিক ‘জাতির পিতা’ শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা। সে হিসেবে তিনি পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশের স্বাধিকারের সংগ্রাম প্রত্যক্ষ করার মধ্য দিয়ে জীবনের শুরুতেই রাজনীতিতে প্রবেশ করেন। কিন্তু ১৯৭৫ সালের আগস্ট মাসের রক্তক্ষয়ী একটি রাতই সত্যিকার অর্থে তাকে এ পথে নিয়ে আসে।

এক নৃশংস সামরিক অভ্যুত্থানে সেনা কর্মকর্তারা ঢাকার বাসভবনে তার বাবা, মা ও তিন ভাইকে হত্যা করেন। ওই সময় শেখ হাসিনা ও তার বোন পশ্চিম জার্মানি সফরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। সেই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির পর ক্ষমতায় আসেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। তিনি ছিলেন শেখ হাসিনার ভবিষ্যতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী খালেদা জিয়ার স্বামী।

শেখ হাসিনার জীবন ওই এক রাতেই পাল্টে যায় এবং তিনি ছয় বছর ভারতে নির্বাসিত জীবন কাটাতে বাধ্য হন। এ সময়টি ভবিষ্যৎ এই নেত্রীর মনে ভারত রাষ্ট্রের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা গেঁথে দেয়। অবশেষে ১৯৮১ সালে যখন তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন, তখন দেশটি তার প্রতিষ্ঠাকালীন আদর্শ ধর্মনিরপেক্ষতার জন্য সোচ্চার ছিল। তবে তিনিও এমন এক রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন, যা নির্ধারিত হতে যাচ্ছিল বিয়োগান্ত ঘটনার মধ্যে নিপতিত হওয়া আরেক নারী দ্বারা- খালেদা জিয়া, যার স্বামীও পরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন।

বাধ্যতামূলক নির্বাসন থেকে ফিরে আসার দিনটির কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, যখন আমি বিমানবন্দরে নেমেছিলাম, তখন আমার কোনো আত্মীয়কে দেখিনি, কিন্তু লাখ লাখ মানুষের ভালোবাসা পেয়েছিলাম। সেটাই ছিল আমার একমাত্র শক্তি। এভাবেই শুরু হয়েছিল ‘বেগমদের লড়াইয়ের’ যুগ- দুই নারীর মধ্যে এক গভীর ব্যক্তিগত অথচ ধ্বংসাত্মক দ্বন্দ্ব, যার প্রভাব পরবর্তী ৩০ বছর ধরে বাংলাদেশকে গ্রাস করেছিল।

‘তাকে পালাতে হলো’

পিতার দল আওয়ামী লীগের হাল ধরে হাসিনা প্রতিকূল রাজনৈতিক পথে এক দীর্ঘ যাত্রা শুরু করেন। খালেদা জিয়ার সঙ্গে ক্রমবর্ধমান দ্বন্দ্বের মধ্যে তাকে গৃহবন্দিত্ব ও দমন-পীড়ন মোকাবিলা করতে হয়েছে। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা তার দলকে নির্বাচনী বিজয় এনে দেন এবং প্রথমবারের মতো প্রধানমন্ত্রী হন।

ক্ষমতায় এসে তার প্রথম কাজ ছিল ১৯৭৫ সালের অভ্যুত্থান এবং তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিচার শুরু করার ঘোষণা দেওয়া। যা ছিল অবশেষে ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রচেষ্টার সূচনা। ধর্মনিরপেক্ষ মুসলিম হিসেবে পরিচিত শেখ হাসিনা এক মেয়াদে দায়িত্ব পালন করার পর পরবর্তী নির্বাচনে খালেদা জিয়ার কাছে হেরে যান। কিন্তু ২০০৮ সালে তিনি যখন আবার ক্ষমতায় ফেরেন, তখন তাকে এক বদলে যাওয়া নেত্রী হিসেবে দেখা যায়- যিনি ছিলেন আরও দৃঢ়, কম আস্থাশীল এবং নিজের অবস্থান চিরস্থায়ীভাবে সুরক্ষিত করতে বদ্ধপরিকর।

পরবর্তী ১৫ বছর তিনি ক্রমেই কঠোরতার সঙ্গে বাংলাদেশ শাসন করেন এবং শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির যুগের সূচনা করেন। একই সময়ে তিনি ভারতকে গুরুত্বপূর্ণ সমর্থন দেন, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা চুক্তির মাধ্যমে নয়াদিল্লির হাতকে শক্তিশালী করেন, যা পাকিস্তান ও চীনের সঙ্গে বৈরিতা টেনে আনে। তবে বাংলাদেশের উন্নয়নের সাফল্যের জন্য চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো সতর্ক করেছিল যে তিনি ও তার সরকার একদলীয় ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। সমালোচকেরা রাজনৈতিক সহিংসতার বাড়বাড়ন্ত, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং গণমাধ্যম ও বিরোধী মতের ব্যক্তিত্বদের হয়রানির ক্রমবর্ধমান ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।

ভারতীয় সংবাদপত্র ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সম্প্রতি এক সম্পাদকীয়তে মন্তব্য করেছে, চাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেখ হাসিনা ভারতের ওপর কোনো প্রশ্ন ছাড়াই পূর্ণ সমর্থনের জন্য নির্ভর করতে পারতেন। তবে দেশের অভ্যন্তরে তার ভাবমূর্তিতে এক আগ্রাসী দমন-পীড়নের কালিমা লেগে যায়। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোবাশ্বার হাসান বলেন, ক্ষমতায় থাকার জন্য তিনি ব্যাপক রক্তপাত ঘটিয়েছেন।

ক্ষমতার ওপর শেখ হাসিনার নিয়ন্ত্রণ আপাতদৃষ্টে অটুট মনে হয়েছিল। জনসমর্থন রয়েছে, এমন বিক্ষোভ মোকাবিলা, গ্রেপ্তার ও হত্যাচেষ্টার মতো ঝড় সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি পারদর্শী প্রমাণিত হয়েছিলেন। কিন্তু গত বছর তরুণদের নেতৃত্বাধীন যে অভ্যুত্থান হয়েছিল, তা ছিল ভিন্ন। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবি নিয়ে শুরু হওয়া ছাত্র বিক্ষোভ দ্রুতই তার পদত্যাগের দাবিতে দেশব্যাপী এক গণ-আন্দোলনে রূপ নেয়। জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার এক নৃশংস দমন-পীড়ন চালায়, যাতে ১ হাজার ৪০০ জনের মতো মানুষ নিহত হন।

তবে এই রক্তপাত আন্দোলনকে দমন করতে পারেনি, বরং তা আন্দোলনকে আরও বেগবান করে তোলে, জনগণের ক্ষোভকে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত করে, যা শেষ পর্যন্ত তার সরকারকে উৎখাত করে।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানী মোবাশ্বার হাসান বলেন, তাকে পালাতে হয়েছিল। এটা নিজেই অপরাধের একটি স্বীকারোক্তি। জনগণ, বিভিন্ন বাহিনী- সবাই তার বিরুদ্ধে চলে গিয়েছিল। কারণ, তিনি সীমা অতিক্রম করেছিলেন। তিনি হত্যা করেছেন, তার নির্দেশে বহু মানুষ হত্যার শিকার হয়।

মৃত্যুদণ্ডের রায়

নয়াদিল্লিতে রাজনৈতিক শরণার্থী হিসেবে শেখ হাসিনার জীবন তার গল্পকে পূর্ণ চক্রে ফিরিয়ে এনেছে। প্রায় অর্ধশতাব্দী আগে তিনি যে নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছিলেন, সেই একই অবস্থায় তাকে ফিরিয়ে নিয়ে এসেছে এই শরণার্থী জীবন। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধাপরাধ আদালত- আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তার বিচার হয়েছে এবং তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এই ট্রাইব্যুনাল গঠনে একসময় তিনি নিজেই সহযোগিতা করেছিলেন। এ আদালতে হাসিনার বিরুদ্ধে মূলত বিক্ষোভ দমনে বিক্ষোভকারীদের হত্যায় উসকানি, বিক্ষোভকারীদের ফাঁসিতে ঝোলানোর নির্দেশ এবং বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র, ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়।

আদালত এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেন যে তিনি ছাত্র বিক্ষোভকারীদের হত্যার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা একেবারে সুস্পষ্ট। মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা হতেই আদালতকক্ষে করতালি দিয়ে স্বাগত জানানো হয়, কেউ কেউ আবার আবেগে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগী একজনের বাবা আবদুর রব রয়টার্সকে বলেন, এই রায় আমাদের মনে কিছুটা হলেও শান্তি এনেছে। কিন্তু তার গলায় জল্লাদের দড়ি দেখলেই আমরা পুরোপুরি সন্তুষ্ট হব। ভারতেও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিধান রয়েছে। দেশটি একটি নিরপেক্ষ অবস্থান গ্রহণ করে রায়ের বিষয়টি পর্যবেক্ষণের কথা জানায় এবং বাংলাদেশের সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকার অঙ্গীকার করেছে।

শেখ হাসিনার পরিবার তাকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য নয়াদিল্লির প্রশংসা করেছে। তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে বলেন, ভারত সব সময়ই ভালো বন্ধু ছিল। এই সংকটের মুহূর্তে ভারতই মূলত আমার মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে।

কী সিদ্ধান্ত নিতে পারে ভারত

এক দশকের বেশি সময় ধরে শেখ হাসিনা ছিলেন ভারতের সবচেয়ে অটল আঞ্চলিক মিত্রদের একজন। তার সরকার ভারতবিরোধী বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে দমনে সহায়ক ছিল, যারা বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার করত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এর আগে দুই দেশের বিস্তৃত সীমান্ত সুরক্ষিত রাখার জন্য শেখ হাসিনার প্রশংসা করেছিলেন। এখন তার সরকারের পতন হওয়ায় নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে কট্টর ইসলামপন্থী গোষ্ঠীগুলো আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশে কর্মরত ছিলেন এমন একজন ভারতীয় কূটনীতিক অনিল ত্রিগুণায়েত। তিনি বলেন, নয়াদিল্লি শেখ হাসিনাকে কারাজীবন বা মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে নিজ দেশে ফেরত পাঠাবে, সে বিষয়ে তার (অনিলের) যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। সাবেক এই নেত্রী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন। এটি ভারতকে এমন একটি সম্ভাব্য ভিত্তি তৈরি করার সুযোগ দিচ্ছে যে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

ভারতের প্রত্যর্পণ আইন, সেই সঙ্গে বাংলাদেশের সঙ্গে দেশটির প্রত্যর্পণ চুক্তিতেও রাজনৈতিক অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা এ ধরনের পরিস্থিতির জন্যই মূলত যুক্ত করা হয়েছে। এটি কোনো একটি দেশকে কারও অপরাধের ধরন রাজনৈতিক হলে তাকে প্রত্যর্পণের আবেদন প্রত্যাখ্যানের সুযোগ দিয়েছে।

অনিল ত্রিগুণায়েত বলেন, ভারতকে এটাকে রাজনৈতিক অপরাধ হিসেবে দেখতে হবে, মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে নয়, যে অপরাধে তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অবশ্য অনিল ত্রিগুণায়েত উল্লেখ করেন যে, শেখ হাসিনা এখনো সব আইনি প্রতিকার শেষ করেননি। তিনি রায়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টে আপিল করতে পারেন। এরপর হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই ভারতীয় কূটনীতিক বলেন, যেহেতু সব প্রতিকার শেষ হয়নি, তাই ভারত তাকে পাঠানোর জন্য তাড়াহুড়ো করবে না। যেদিন শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেওয়া হয়, ওই দিনই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিলম্ব না করে তাকে হস্তান্তর করার জন্য ভারতের প্রতি আহ্বান জানায়।

মন্ত্রণালয় বলেছে, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী এটি ভারতের দায়িত্ব। শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় বাংলাদেশে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের জন্য এক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করেছে।

mzamin

মামদানি কেন হাতে তিনটি আংটি পরেন? by মৃণাল সাহা

নিউইয়র্কের নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি বদলে দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দৃশ্যপট। ৩৪ বছর বয়সী মামদানি নির্বাচনী প্রচারণায় যতটা ‘ইনফরমাল’ ছিলেন, স্টাইলের দিক দিয়ে ছিলেন বেশ ‘ফরমাল’। ডিজে পার্টি থেকে শুরু করে মেয়র-ডিবেট, সব জায়গায়ই তাঁকে দেখা গেছে কোট-টাই-প্যান্টে। কিন্তু এর মাঝেই সাড়া ফেলেছে তাঁর হাতের আংটি। দুই হাতে তিনটি আংটি পরেন তিনি। কিন্তু কেন?

মামদানির ডান হাতে দেখা যায় দুটি আংটি, বাঁ হাতে একটি। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর পারিবারিক স্মৃতি। ২০১৩ সাল থেকে আংটি পরা শুরু করেন মামদানি। ডান হাতের তর্জনীতে যে আংটিটি পরেন, তা পেয়েছেন তাঁর দাদার কাছ থেকে।

২০০৭ সালে সিরিয়া থেকে আংটিটি কিনেছিলেন তাঁর দাদা। ২০১৩ সালে দাদার মৃত্যুর পর থেকে সেই আংটি পরেন মামদানি। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘এই আংটির সঙ্গে আমার দাদার দোয়া আছে। পরে থাকলে মনে হয় দাদা আমার আশপাশেই আছেন।’

মামদানির ডান হাতের অনামিকায় আছে দ্বিতীয় আংটিটি। তাঁর স্ত্রী রমা দুওয়াজির দেওয়া উপহার। অবশ্য যখন দিয়েছিলেন, তখনো স্ত্রী হয়ে ওঠেননি। তিউনিসিয়া ভ্রমণে গিয়ে মামদানির জন্য এই আংটি কিনে আনেন রমা। প্রেমিকা রমার দেওয়া আংটি তখন থেকেই মামদানির সঙ্গী।

বাঁ হাতের অনামিকায় থাকা তৃতীয় আংটিটি মামদানির বাগদানের আংটি। প্রায় চার বছর প্রেম করার পর, ২০২৫ সালের শুরুতে বিয়ে করেন জোহরান মামদানি ও রমা দুওয়াজি। মামদানির নির্বাচনী প্রচারণায় দারুণ ভূমিকা রেখেছেন আঁকিয়ে ও অ্যানিমেটর রমা।

সাধারণত নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রে পদপ্রার্থীদের অলংকার ব্যবহার করতে দেখা যায় না। কারণ, ছোট্ট একটি ‘খুঁত’ কমিয়ে দিতে পারে ভোটের সংখ্যা। সেদিক থেকে এবারের দুই মেয়র প্রার্থী—রিপাবলিকান পার্টির কার্টিস স্লিওয়া ও ডেমোক্রেটিক পার্টির জোহরান মামদানি ছিলেন একেবারেই আলাদা। দলীয় রঙের সঙ্গে মিলিয়ে স্লিওয়ার লাল টুপি বা ‘বেরে’ হয়ে উঠেছিল আইকনিক। অন্যদিকে মামদানির হাতে শোভা পেয়েছে তিনটি আংটি।

মামদানির হাতে অবশ্য আংটি ছিল চারটি। চতুর্থটি নিয়মিত পরতেন বাঁ হাতের কনিষ্ঠায়। সেই আংটির ডিজাইন করেছিলেন স্ত্রী রমা। কিন্তু সেটা আর আঙুলে আঁটছিল না বলে খুলে রেখেছেন মামদানি। ভেবেছিলেন, একটু বড় করে নেবেন। তার আগেই সেই আংটি হারিয়ে গেছে!

মামদানি বলেছিলেন, ‘আমরা প্রতিদিন সেই আংটি নিয়ে হাহুতাশ করি। আমার কাছে তিনটি আংটিই অনেক গুরুত্ব বহন করে। কারণ, তিনটি আংটিই আমার জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।’

মামদানির পরা তিনটি আংটিই রুপার তৈরি। এসব রাখার জন্য আলাদা কোনো বাক্স নেই। বরং প্রতিদিন ঘুমানোর আগে আংটি খুলে বিছানার পাশে ডেস্কে রেখে দেন। ঘুম থেকে উঠেই আবার পরেন। মেয়র হওয়ার পরও এসব আংটি খোলার কোনো ইচ্ছা নেই তাঁর। মামদানির ভাষায়, ‘আমি যেমন ছিলাম, আজীবন তেমনই থাকব। মেয়র হয়েছি বলে রাতারাতি বদলে যাব, এমনটা ভাবার কারণ নেই।’

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস

ডান হাতের তর্জনীতে যে আংটিটি পরেন, তা পেয়েছেন তাঁর দাদার কাছ থেকে
ডান হাতের তর্জনীতে যে আংটিটি পরেন, তা পেয়েছেন তাঁর দাদার কাছ থেকে। ছবি: এক্স থেকে

যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা ঘিরে মার্কিন সমর্থন হারানোর শঙ্কায় ইউক্রেন

ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের তৈরি শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব বক্তব্য থেকে একটি ইঙ্গিত ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে যুদ্ধ বন্ধের পরিকল্পনা যদি ইউক্রেন ও দেশটির ইউরোপীয় মিত্ররা মেনে না নেয়, তাহলে তাদের পরিত্যাগ করবে যুক্তরাষ্ট্র।

প্রায় চার বছর ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে সম্প্রতি ২৮ দফা ওই পরিকল্পনার বিষয়টি সামনে আসে। দফাগুলোর মধ্যে রয়েছে সংঘাত থামাতে ইউক্রেনকে নিজেদের পূর্বাঞ্চলের কিছু অঞ্চল রাশিয়ার কাছে ছেড়ে দিতে হবে। এ ছাড়া নিজেদের সামরিক বাহিনীর আকার কমাতে হবে কিয়েভকে। দেশটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তাও কমবে।

এই পরিকল্পনা নিয়ে গত শুক্রবার ট্রাম্প বলেছেন, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই পরিকল্পনা ‘মেনে নিতে হবে’। কারণ, তিনি আলাপ-আলোচনার মানসিকতায় এখন নেই। এই পরিকল্পনাই চূড়ান্ত নয়—এমনটা উল্লেখ করার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, পরিকল্পনা না মানলে জেলেনস্কিকে একাই লড়তে হবে।

বিষয়টি নিয়ে শুক্রবারই জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন জেলেনস্কি। সেখানে তিনি কঠিন এই বাস্তবতা স্বীকার করেন। একে উভয় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। এর এক দিকে রয়েছে মিত্র হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে হারানোর ঝুঁকি; অপর দিকে রাশিয়ার কাছে নতি স্বীকার করা। কারণ, ২৮ দফার অনেকগুলোই মস্কোর দাবির সঙ্গে মিলে যায়।

ইউক্রেন যদি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন হারায়, তাহলে এর পরিণতি হতে পারে গভীর। কারণ, দেশটিকে অস্ত্র ও গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহের মাধ্যমে বড় সহায়তা করে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এসব সহায়তা বন্ধ হলে সেনা ঘাটতি, নড়বড়ে অর্থনীতি এবং মনোবল কমে যাওয়া সামরিক বাহিনী নিয়ে আরও সংকটের মধ্যে পড়তে পারে কিয়েভ।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হলো, পরিকল্পনাটি নাকচ করা মানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের সম্পর্কে বিচ্ছেদ ঘটানো। এতে কিয়েভের ইউরোপীয় মিত্ররাও কৌশলগত সংকটে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে দেওয়া নিরাপত্তা নিশ্চয়তা থেকে সরে যেতে পারে। শুধু জেলেনস্কিকেই নয়, ইউরোপীয় মিত্রদেরও ওয়াশিংটন বলতে পারে—তোমরা নিজেদের দেখভাল নিজেরাই করো।

আলোচনায় ইউক্রেন-ইউরোপ

এমন পরিস্থিতিতে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পরিকল্পনা নিয়ে আজ রোববার জেনেভায় আলোচনায় বসার কথা ইউক্রেন ও দেশটির ইউরোপীয় মিত্রদের। এই আলোচনায় যোগ দিতে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জেনেভায় পৌঁছেছেন বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা।

পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘ইউক্রেনের জন্য সুবিধাজনক একটি চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করতে চূড়ান্ত খুঁটিনাটি বিষয়গুলোর সুরাহা করা হবে বলে আশা করছি আমরা।’ ট্রাম্প ও জেলেনস্কির দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘দুই প্রেসিডেন্ট একত্রে না বসা পর্যন্ত কোনো বিষয়েই ঐকমত্য হবে না।’

আজ সকালে জেনেভায় বৈঠক শুরুর আগে সমন্বয় সাধনের লক্ষ্যে একাধিক বৈঠকের কথা ছিল বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের আরেক কর্মকর্তা। তিনি বলেন, বিভিন্ন কাঠামোয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা হবে। এসব আলাপ গঠনমূলক ও ইতিবাচক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউরোপের খসড়া পরিকল্পনা

এসব বৈঠকে যোগ দিতে আজই ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জেনেভায় পৌঁছান। ইউক্রেনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেলেনস্কি। ই-৩ জোটের তিন সদস্য—ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদেরও বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে জেনেভায় যান ইতালির প্রতিনিধিরা।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পরিকল্পনাকে যুদ্ধ থামানোর একটি ভিত্তি বলে উল্লেখ করেছেন ইউরোপ ও পশ্চিমা নেতারা। তাঁরা বলছেন, এই পরিকল্পনা উন্নত করার জন্য আরও আলাপ-আলোচনার দরকার। এমন পরিস্থিতিতে জার্মান সরকারের একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনাকে ভিত্তি করে ইউরোপের তৈরি আরেকটি পরিকল্পনা ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এম৭৭৭ হোইৎজার কামান থেকে গোলা ছুড়ছেন ইউক্রেনের সেনারা
এম৭৭৭ হোইৎজার কামান থেকে গোলা ছুড়ছেন ইউক্রেনের সেনারা। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ইসরায়েল ৪৪ দিনে অন্তত ৫০০ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে, হত্যা করেছে কয়েক শ ফিলিস্তিনিকে

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত ৪৪ দিনে অন্তত ৪৯৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল। একের পর এক হামলা চালিয়ে হত্যা করেছে কয়েক শ ফিলিস্তিনিকে। গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর গত শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।

ইসরায়েলি এসব হামলায় শিশু, নারী ও বৃদ্ধসহ ৩৪২ জন নিহত হয়েছেন।

গতকাল দপ্তরটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী গুরুতর ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চুক্তির শর্ত লঙ্ঘনের মধ্য দিয়ে ইসরায়েল স্পষ্টভাবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন লঙ্ঘন করছে। শুধু গতকালই দেশটি ২৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। এদিন ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর হামলায় ২৪ ফিলিস্তিন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন ৮৭ জন। এসব লঙ্ঘনের মানবিক ও নিরাপত্তাজনিত পরিণতির জন্য ইসরায়েলই সম্পূর্ণ দায়ী।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর দাবি করেছে, গাজা ইসরায়েল-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় হামাসের এক যোদ্ধা ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালানোর পর ইসরায়েল পাল্টা অভিযান চালায়। এতে হামাসের পাঁচ শীর্ষ সদস্য নিহত হয়েছেন।

হামাস অবশ্য দাবি করেছে, ইসরায়েল যাঁদের নিহত হওয়ার কথা বলছে, তাঁদের নাম প্রকাশ করতে হবে। সংগঠনটির রাজনৈতিক ব্যুরোর জ্যেষ্ঠ সদস্য ইজ্জাত আল-রিশেক বলেন, ‘ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি এড়াতে নানা অজুহাত সৃষ্টি করছে এবং গণবিধ্বংসী যুদ্ধের দিকে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করছে।’ তিনি মধ্যস্থতাকারী ও মার্কিন প্রশাসনকে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার আহ্বান জানান।

গাজা নগরী থেকে আল-জাজিরার সাংবাদিক তারেক আবু আজজুম বলেন, যুদ্ধবিরতি শুধু নামেই আছে। কারণ, এর মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজাজুড়ে একাধিক বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে মানুষের নিরাপত্তাবোধ পুরোপুরি ভেঙে গেছে।

স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গাজার উত্তরে বহু পরিবার অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। কারণ, ইসরায়েলি সেনারা চুক্তি লঙ্ঘন করে গাজার গভীরে পর্যন্ত অবস্থান নিয়েছে।

অন্যদিকে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অনুমোদিত হলেও জরুরি খাদ্য, ত্রাণ ও চিকিৎসাসামগ্রী গাজায় প্রবেশে ইসরায়েল এখনো কঠোর বিধিনিষেধ বজায় রেখেছে।

যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় ধসে যাওয়া একটি ভবন
যুদ্ধবিরতির পরও ইসরায়েলি হামলায় ধসে যাওয়া একটি ভবন। ছবি: রয়টার্স

কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২০ বছরের যুদ্ধ জিতল তালেবান by শুভজিৎ বাগচী

২০২১ সালে বিশ বছরের যুদ্ধে জয়লাভের পর তালেবান আফগানিস্তানে সরকার গঠন করে। কেউ কেউ একে দ্বিতীয় তালেবানের শাসন নামে অভিহিত করছে। কেমন আছে ‘নতুন’ আফগানিস্তান তা দেশটিতে ঘুরে দেখেছেন প্রথম আলোর সাংবাদিক শুভজিৎ বাগচী। তিনি গত ৮ অক্টোবর ২০২৫ আফগানিস্তানে যান। ফিরেছেন ৫ নভেম্বর। আফগানিস্তান ঘুরে তাঁর লেখা প্রতিবেদন, সাক্ষাৎকার ও অভিজ্ঞতা ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে।

রাজধানী কাবুলের লাগোয়া লোগার প্রদেশের একেবারে কেন্দ্রে পুল-এ-আলম জেলার অবস্থান। এই জেলার কেন্দ্রে বড় গ্রামের নাম পোরাখ। গ্রামের উচ্চবিত্তদের অধিকাংশই আফগানিস্তানের প্রভাবশালী স্তানিকজাই গোষ্ঠীর সদস্য। স্তানিকজাইদের এক ছেলের বিবাহ ছিল ২৪ অক্টোবর।

খাওয়া-দাওয়া সেরে আমাকে নিয়ে গ্রাম ঘুরতে বেরোলেন এক প্রবীণ ইঞ্জিয়ার মহম্মদ তাহের স্তানিকজাই ও তাঁর এক ভাই সাদেক স্তানিকজাই। মহম্মদ তাহেরকে গ্রামে সবাই ইঞ্জিনিয়ার নামেই ডাকেন। তিনি কৃষি বিজ্ঞান পড়েছেন ভারতের দেরাদুনে। আর সাদেক দীর্ঘদিন গ্রেপ্তার হয়ে জেলে ছিলেন। সেটা নব্বইয়ের দশকে প্রেসিডেন্ট নাজিবুল্লার আমলে।

পোরাখের ছেলে-বুড়ো-বাচ্চারা ক্রিকেট খেলা ফেলে ঘুরতে লাগল আমাদের সঙ্গে। আফগানিস্তানের আর পাঁচটা গ্রামের সঙ্গে পোরাখের বিশেষ ফারাক নেই। শুষ্ক ও কঠিন মাটি, দেখে মনে হয় মরুভূমির অংশ, সামান্য দূরে পাহাড়। তার মাঝে বাংলাদেশের মতোই মাটি আর কাঠ দিয়ে বানানো বাড়ি, ফাঁকে ফাঁকে চাষের জমি। সেখানে মূলত ভুট্টা ও টমেটো দেখলাম।

কিছুক্ষণ ঘোরার পর এক বৃদ্ধ ইঞ্জিয়ার মহম্মদ তাহেরকে অনুরোধ করলেন গ্রামের কবরস্থানে আমায় নিয়ে যাওয়ার জন্য। বৃদ্ধের নাম রুহুউল্লাহ স্তানিকজাই। তিনি ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ তাহেরের সবচেয়ে ছোট ভাই।

দরিদ্র দেশের কবরও দরিদ্র, ঝোপঝাড়ে পূর্ণ, ওপরে ধুলার আস্তরণ, কবরঘেরা গ্রিলে ধরেছে মরচে। সবচেয়ে বড় কবরটির পাশে গিয়ে দাঁড়ালেন রুহুউল্লাহ। হাত রাখলেন কবরের নীলচে গ্রিলে। ফিসফিস করে নিজেই মনে হলো কিছু বললেন। কাঁধে রাখা কাপড়ের টুকরা চেপে ধরলেন চোখে, বুঝতে কিছু সময় লাগল যে তিনি কাঁদছেন। অঝোরে।

উৎসবের মেজাজ মুহূর্তে অন্তর্হিত হলো, একেবারে চুপ হয়ে গেলেন সবাই। বড় ভাই ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ তাহের আর পাড়ার ছেলেরা বৃদ্ধের অশ্রুর কারণ ব্যাখ্যা করলেন। রুহুউল্লাহর পুত্র ২০ বছরের হামদুল্লাহ ছিলেন একজন তালেবান মুজাহিদ। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক সামরিক যৌথ বাহিনীর বিমান হামলায় পাশের প্রদেশ ওয়ার্দাকের টাঙ্গি উপত্যকায় হামদুল্লাহ ও তাঁর সাত সঙ্গীর মৃত্যু হয়।

রুহুউল্লাহ তাঁর বাসায় নিয়ে গেলেন। বাদাম, চা, চকলেট দিলেন। তারপর তিনি ও তাঁর আরও দুই পুত্র আলমারির পেছন থেকে একটা বড়সড় ব্যানার বার করে মেলে ধরলেন দেয়ালে। ব্যানারের চারপাশে ইসলাম ধর্মের বিভিন্ন পবিত্র স্থানের ছবি আর মাঝে ফারসিতে লেখা ‘শহীদ নায়ক হামদুল্লাহ, আল্লাহ তোমার শাহাদাত কবুল করুন।’ গ্রামের মানুষ এবং মুজাহিদদের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে এই ব্যানার। আর কিছুই পাননি বৃদ্ধ রুহুউল্লাহ। ‘তবু বলব, ছেলের মৃত্যু বৃথা যায়নি। আমরা জয়লাভ তো করেছি’, রওনা দেওয়ার আগে হাত ধরে বললেন রুহুউল্লাহ।

‘আমরা জয়লাভ করেছি’

এটাই নতুন আফগানিস্তানের স্লোগান: ‘আমরা জয়লাভ করেছি।’ দ্বিতীয় তালেবানের শাসনের এটাই প্রধান সাফল্য—লাখো প্রাণের বিনিময়ে আফগানিস্তানের স্বাধীনতা। নানান প্রশ্ন আছে ও থাকবে এই স্বাধীনতা নিয়ে, কিন্তু দেশকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে যে মুজাহিদরা মুক্ত করেছেন, সেটা মানুষ, বিশেষত গ্রামের মানুষের পক্ষে ভোলা কঠিন। কারণ, প্রতি গ্রামেই রয়েছেন হামদুল্লাহরা। এ ছাড়া পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে একটা সামগ্রিক আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে আফগানিস্তানের ইসলামি আমিরাতের সরকার। অনেক ব্যর্থতার মধ্যে এটা একটা বড় সাফল্য, বলছিলেন ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ তাহের স্তানিকজাই।

ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ তাহের বললেন, ‘এই যে রাস্তাটা আপনি দেখছেন, এটার পশ্চিম প্রান্তে রয়েছে মহাসড়ক, যেটা লোগারের সঙ্গে কাবুলকে যুক্ত করেছে। আর পূর্ব দিকটা চলে গেছে গ্রামের ভেতরে। গ্রামের ভেতরে থাকত মুজাহিদরা, আর মহাসড়কের দিকে রিপাবলিকের বাহিনী।’

পশ্চিমের ফৌজ ও সরকার নিয়ন্ত্রিত আফগানিস্তানের সাবেক সরকারকে সাধারণভাবে ‘রিপাবলিকের সরকার’ বা ‘জামুরিয়াতের সরকার’ অর্থাৎ গণতন্ত্রের সরকার বলে চিহ্নিত করেন মানুষ।

ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ তাহের বললেন, ‘প্রায় প্রতি রাতেই গ্রামের ভেতরে ঢুকে আসতো রিপাবলিকের বাহিনী, আবার পাল্টা হামলা চালিয়ে কিছু পরে মুজাহিদরা তাদের মহাসড়কের দিকে ঠেলে দিত। এই যে রাস্তার ওপর দিয়ে এখন আপনি হাঁটছেন, এখানে ২০ বছর ধরে প্রায় প্রতি রাতে কার্যত একটা যুদ্ধ হতো। আর ভোরে একটা-দুটো লাশ পাওয়া যেত।’ রাতযুদ্ধের এই আতঙ্ক আর নেই।

এটা প্রায় গোটা আফগানিস্তানের চিত্র। নতুন সরকার আসার পর প্রায় পাঁচ বছর ধরে এই লড়াই ও মৃত্যু বন্ধ হওয়ার ফলে স্বাভাবিকভাবেই তালেবান ও মুজাহিদদের কাছে কৃতজ্ঞ সাধারণ মানুষ। ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ তাহের যে তালেবানের সব সিদ্ধান্ত সমর্থন করেন, তা নয়। কিন্তু গাড়িতে তুলে দেওয়ার সময় তিনি বললেন, ‘লড়াইটা এরা না করলে গ্রামাঞ্চলে হয়তো আমরা নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতাম।’ তিনি তাঁর পুত্র হাসমত স্তানিকজাইয়ের সামনেই বললেন এ কথা।

হাসমত রিপাবলিক সরকারের আমলে আফগান পুলিশের একজন মুখপাত্র ছিলেন, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা যৌথ বাহিনীর পক্ষে ছিলেন। কিন্তু তাঁর গ্রাম, তাঁর সম্প্রদায়, এমনকি তাঁর পিতাও মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণাধীন রিপাবলিক সরকারের পতনের প্রয়োজন ছিল। এটা যৌথ বাহিনীর হারের অন্যতম প্রধান কারণ।

যুদ্ধে কত মানুষের মৃত্যু

আফগানিস্তানে ২০ বছরের যুদ্ধে (২০০১-২১) কত মানুষ সরাসরি অর্থাৎ খাদ্য বা চিকিৎসার অভাবে মারা গেছেন, তার সঠিক হিসাব পাওয়া যায় না। কিন্তু মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হিসাব একটা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্রাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘কস্টস অব ওয়ার প্রজেক্ট’।

কস্টস অব ওয়ার প্রজেক্ট বলছে, আফগানিস্তানের যুদ্ধে সরাসরি আনুমানিক ১ লাখ ৭৬ হাজার জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ৪৬ হাজার ৩১৯ জন বেসামরিক মানুষ। সেনাবাহিনীর সদস্য ও পুলিশ ৬৯ হাজার ৯৫ জন এবং কমপক্ষে ৫২ হাজার ৮৯৩ বিদ্রোহী যোদ্ধা রয়েছেন। প্রকল্পের খুব অনির্দিষ্ট একটা ধারণা হলো যে ২০ বছরে ২ লাখ ৪১ হাজারের বেশি মানুষ যুদ্ধের প্রত্যক্ষ কারণে মারা গেছেন। কস্টস অব ওয়ারের ২০১৫ সালের আনুমানিক হিসাব জানাচ্ছে, ক্ষুধা এবং রোগের মতো পরোক্ষ কারণে আরও ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষ আফগানিস্তানে মারা গেছেন। অর্থাৎ একটা রক্ষণশীল হিসাব অনুযায়ী জনসংখ্যার ০.৪ থেকে ০.৬ শতাংশ মানুষ আফগানিস্তানে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছেন ২০ বছরের যুদ্ধে।

এক পরিবারে শহীদ ১৪ জন

লোগার থেকে ২৪ অক্টোবর কাবুল ফিরি। এর সপ্তাহ খানেক আগে কান্দাহার যাই। সেখানে পৌঁছেই হোটেলে আটকে পড়তে হলো। কান্দাহারের সঙ্গে পাকিস্তানের যে সীমান্ত, সেই স্পিন বোল্ডাকে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার কারণে। স্পিন বোল্ডাকে যাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম, কান্দাহারের তথ্য-সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রয়োজনীয় অনুমতি পাওয়া গেল না। কিছুটা মন খারাপ করেই কান্দাহারের দোকানবাজারে ঘোরাঘুরির সূত্রে আলাপ হলো বিচিত্র এক মানুষের সঙ্গে, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক জোওন ফয়েজি।

সব শহরেই এমন একজন থাকেন, যাঁর জ্ঞান নানা বিষয়ে, সাধারণভাবে তাঁরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সরকারবিরোধী হন। ফয়েজিও অনেকটা সে রকম। ইতিহাস, দর্শন, রাজনীতি থেকে ভূরাজনীতি—সবকিছু নিয়ে বিস্তর পড়াশোনা তাঁর। সঙ্গে একটি বেসরকারি স্কুলও চালান, যেখানে মেয়েরাও পড়তে আসে। আফগানিস্তানে ষষ্ঠ শ্রেণির পর মেয়েদের আর স্কুলে আসতে দেওয়া হয় না, মাদ্রাসা ছাড়া। সেখানে ফয়েজি ছেলে ও মেয়েদের বেসরকারি স্কুল চালান। স্বাভাবিকভাবেই সরকারের তাঁকে পছন্দ করার কোনো কারণ নেই, ফলে একবার দিন দশেকের জন্য গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তবে আবার নতুন তালেবানের সঙ্গে পুরোনো তালেবানের তফাত হলো, ফয়েজি সাহেব কিছুটা কাজকর্ম করতেও পারেন। আলাপের দ্বিতীয় দিনে তিনি নিয়ে গেলেন তাঁর এক পরিচিতের বাসায়, ধূলিধূসরিত মিরওয়েজ মহল্লায়।

বাড়ির প্রধান ফটকের কাছে এসে যে ব্যক্তি আমাদের স্বাগত জানালেন, দেখলাম তাঁর এক পায়ে কালো মোজা। তাঁর নাম ফিদা মহম্মদ। ভেতরে ঢুকে গালিচার ওপরে যখন পা খুললেন, তখন বুঝলাম পা কাঠের। কৃত্রিম পায়ে মোজা পরিয়ে রাখেন, যাতে ধুলাময়লা ঢুকে পা অকেজো না হয়ে যায়। আমাদের চা এবং চকলেট পরিবেশন করে বলতে শুরু করলেন পা হারানোর গল্প। সেটা ২০০৬ সালের ঘটনা।

বললেন, ‘আমরা ছিলাম পঞ্জয়াই জেলার তালুখান নামের এক জায়গার হাজিয়ানো-খলা নামে এক গ্রামে। আমাদের যেমন হয়…যৌথ কৃষক পরিবার, বাড়িতে ছিলেন ১৯ জন। আমরা গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, বসন্তের একেবারে শেষের দিক...।’

বাড়ির ভেতরে যাঁরা ঘুমাচ্ছিলেন, তাঁদের মধ্যে ছিলেন ফিদা মহম্মদ, পরিবারের অর্ধেক সদস্যই শুয়ে ছিলেন খোলা আকাশের নিচে, বাইরের উঠানে। রাত ১১টা নাগাদ বিমান হামলা শুরু হয়।

‘এই যে এক ছেলে, এর ডান পায়ে গুলি লাগে। কিন্তু বেঁচে যায়। তখন বয়স ছিল ২ মাস, এখন ১৯...’ পাশে বসা বড় ছেলেকে দেখিয়ে বললেন ফিদা। ‘আমার লাগে বাঁ পায়ে।’ পরে পাকিস্তানের কোয়েটায় অস্ত্রোপচার করে পা বাদ দিতে হয়।

‘ওই রাতে আমাদের পরিবারের কতজন যে গুলিবিদ্ধ হয়, তার হিসাব নেই। এখন আর সঠিকভাবে মনেও পড়ে না...,’ সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে কী যেন ভাবতে শুরু করলেন ফিদা মহম্মদ। তারপর বললেন, ‘সব মিলিয়ে ১৪ জন শহীদ হন। কেউ তখনই, কেউ আবার হাসপাতাল যাওয়ার পথে।’ এই ১৪ জনের মধ্যে ফিদা মহম্মদের নাবালক এক ছেলে ও মেয়েও রয়েছেন।

বিমান হামলা চলে ভোর চারটা পর্যন্ত। ওই রাতে যে হামলা শুরু হয় কান্দাহারে, তা ধারাবাহিকভাবে চলতে থাকে এরপরের প্রায় ১০ বছর। এর কারণ, মোল্লা ওমর এবং তালেবান নেতৃত্বের বড় অংশ কান্দাহার, হেলমান্দসহ দক্ষিণ আফগানিস্তানের পাকিস্তান সীমান্তবর্তী অঞ্চলে থাকত। কিন্তু এই ধারাবাহিক হামলায় একের পর এক গ্রাম, পরিবার, সংসার অকেজো হয়ে গেল, ফিদা মহম্মদের পায়ের মতোই। ইন্টারনেট ঘাঁটলে এখন শুধু দেখা যায় ‘ব্যাটল অব পঞ্জয়াই’, ‘ব্যাটল অব কান্দাহার’ প্রভৃতি। কত পরিবার যে ২০ বছরের যুদ্ধে ধ্বংস হয়ে গেছে, সেটা এখন আর আঁচ করা যায় না। দরিদ্র দেশে এর হিসাবও রাখেন না কেউ আর।

ফিদা মহম্মদের পরিবারও সম্পূর্ণ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে যায়। ১০ বছর পর ফিদা গ্রাম ছেড়ে শহরে এসে বাসা বাঁধেন, চাষবাস ছাড়তে বাধ্য হন। লোকের থেকে চেয়ে-চিনতে সংসার চালান। আফগানদের গভীর সম্প্রদায়ভিত্তিক জীবনের কারণে কোনো রকমে চালিয়েও নেন ফিদা মহম্মদ। আমাদের গাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দিতে মোজাওয়ালা পা হাঁটুর নিচে গলিয়ে নিলেন, অনেকটা পাজামা পরার মতো।

‘এ কারণে যখনই কেউ বলবেন যে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ আফগানিস্তানে আসতে চাইছে, তখনই তার বিরোধিতা হবে, তুমুল প্রতিবাদ হবে,’ ফেরার পথে গাড়ি চালাতে চালাতে বললেন জোওন ফয়েজি।

আপাতত জোটবদ্ধ তাঁরা

সেপ্টেম্বর মাসে এমন একটা ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বলেছিলেন তাঁদের ফেলে যাওয়া সমরাস্ত্রের দখল নিতে বাগরাম বিমানঘাঁটি নিয়ন্ত্রণে নেবেন।

রাতারাতি আফগানিস্তানে সব পক্ষ এবং সব সম্প্রদায়—পাঠান, হাজারা, তাজিক, উজবেক প্রভৃতি এক হয়ে এর বিরোধিতা করে। ইসলামি আমিরাতের সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে মস্কোতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের বিরোধিতা করে ভারত, পাকিস্তান, রাশিয়া, চীন।

ধারাবাহিকভাবে চালানো এই বোমা হামলা, গুম, খুন, রাতবিরেতে তুলে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা, যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর অফিসারদের প্রমাণিত মানসিক অবসাদ ও তার জেরে হঠাৎ তাঁদের গাড়ি বা বিমান নিয়ে বেরিয়ে গুলি চালিয়ে কয়েক ডজন মানুষকে হত্যা থেকে মুখোমুখি সংঘর্ষে গ্রামের পর গ্রামে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু বা পঙ্গু করে দেওয়ার ঘটনা আফগানিস্তানের সমাজকে জোটবদ্ধ করেছে, অন্তত আপাতত।

আফগানিস্তানে নানান সম্প্রদায় ও জাতির বসবাস। তাদের মধ্যে বিরোধ আছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে সংখ্যালঘুরা এক হয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঠানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধও করেছে—এটাই আফগানিস্তানের কয়েক শ বছরের ইতিহাস। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ২০ বছরের যুদ্ধ এদের এক জায়গায় নিয়ে এসেছে—তালেবানদের মধ্যে সার্বিকভাবে পাঠানবিরোধী সংখ্যালঘু হাজারাও আছেন, তাঁদের বড় অংশ শিয়া হওয়া সত্ত্বেও। প্রধান সংখ্যালঘু তাজিকরা তো আছেনই।

পশ্চিমের আক্রমণ ছাড়া এটা হতো না। আর এদের ইসলামের মাধ্যমে একটা সূত্রে বেঁধে ফেলার কৃতিত্ব নিঃসন্দেহে মোল্লা ওমরের নেতৃত্বাধীন তালেবানের।

তবে এই জয়ের আরও অনেক কারণ আছে—বিশেষত সামরিক স্তরে, যার ব্যাখ্যা দিলেন দুজন। তালেবানের এক ‘ফুট সোলজার’ বা মাঠপর্যায়ের সেনা আখতার জান আর ইউক্রেনের সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত যুদ্ধবিষয়ক সংবাদদাতা আসাদুল্লাহ নাদিম। তবে তাঁদের কথা পরের পর্বে।

পোরাখে গ্রামের বাড়িতে দুই ভাই, ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ তাহের স্তানিকজাই (বাঁয়ে) ও তাঁর ভাই সাদেক স্তানিকজাই
পোরাখে গ্রামের বাড়িতে দুই ভাই, ইঞ্জিনিয়ার মহম্মদ তাহের স্তানিকজাই (বাঁয়ে) ও তাঁর ভাই সাদেক স্তানিকজাই। ছবি: লেখকের তোলা

কুতুবদিয়াবাসী কবে অবহেলা ও বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে রক্ষা পাবে by আবদুল্লাহ নাজিম আল মামুন

সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার দেশের ১০টি অনুন্নত উপজেলাকে উন্নত করতে একটা বাজেট রেখেছে। সেই বাজেট ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু কক্সবাজার জেলার অনুন্নত সাগরদ্বীপ কুতুবদিয়া উপজেলাকে সেখানে বাদ দেওয়া হয়েছে।

‎কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত কুতুবদিয়া উপজেলাকে বলা হয় বাতিঘরের দ্বীপ। এখানে বসবাস করে দেড় লক্ষাধিক মানুষ। এই দ্বীপের বর্তমান আয়তন ১৮ মাইলের কম। একসময় এর আয়তন ছিল ১০০ বর্গমাইলের বেশি। বর্ষায় বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসে নদীভাঙনের কারণে দ্বীপটি এখন অস্তিত্বসংকটের মুখে পতিত হয়েছে। হয়নি কোনো উন্নয়ন।

৩৪ বছরেও কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ পায়নি দ্বীপটি। যুগের পর যুগ জিও ব্যাগ দিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করে বন্যা ও জলোচ্ছ্বাস ঠেকানো হয়েছে। কিন্তু এই জিও ব্যাগ সমুদ্রের বিশাল ঢেউ আর জোয়ারের ফলে ভেঙে গিয়ে কুতুবদিয়া দ্বীপ প্লাবিত হয়। যাতায়াতের মাধ্যমে কোনো নিরাপত্তা নেই। নেই ফেরি কিংবা যাত্রীবাহী লঞ্চ। মেডিকেলে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা নেই। রাস্তাঘাটের অবস্থা বেহাল।

‎অন্যদিকে পাশেই রয়েছে মাতারবাড়ী ও মহেশখালী। মাতারবাড়ীতে রয়েছে গভীর সমুদ্রবন্দর ও কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র। মহেশখালীর সঙ্গে কক্সবাজারে যাতায়াতের জন্য রয়েছে ফেরি। কিন্তু বিপুল খনিজ সম্পদের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়াকে সব সময় অবহেলার চোখে দেখেছেন সরকার এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো।

‎কুতুবদিয়ায় রয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস, যা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। রয়েছে গন্ধক ও চুনাপাথর, যা কুতুবদিয়ার ভূপৃষ্ঠের একটি গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। এ ছাড়া কুতুবদিয়ায় কালোবালির মতো খনিজ সম্পদ পাওয়া যায়। দ্বীপটি তেল, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের উৎস হিসেবে পরিচিত, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এ ছাড়া কুতুবদিয়া উপজেলা পর্যটনের অপার সম্ভাবনাময় একটি দ্বীপ। দ্বীপের পশ্চিমে ‘মায়া দ্বীপ’ নামের আরও একটি চর জেগে উঠছে। এই চরটিকে পর্যটনের জন্য পরিকল্পনা করা যেতে পারে। আর এখানে রয়েছে ঐতিহ্যবাহী বাতিঘর ও বাংলাদেশের প্রথম বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র। রয়েছে বিশাল এলাকাজুড়ে সমুদ্রসৈকত, যা উত্তর-দক্ষিণে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রায়।

‎যদি সরকার ও দেশি-বিদেশি ভ্রমণ-সংস্থাগুলো এগিয়ে আসে, তাহলে বাংলাদেশ পর্যটনশিল্পের জন্য দ্বীপটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

‎আর এখানকার মানুষের প্রধান পেশা সাগর থেকে মাছ আহরণ ও লবণ উৎপাদন করা। এখানকার লবণচাষিরা প্রতিবছর ৫৯০ একর জমিতে ২ লাখ ৪০ হাজার মেট্রিক টনের অধিক লবণ উৎপাদন করে থাকেন, যা দেশে লবণশিল্পের জন্য বিশাল অবদান।

এত কিছু থাকার পরও কুতুবদিয়া নিয়ে কোনো মহাপরিকল্পনা নেই। দ্বীপবাসীরা পায়নি কোনো টেকসই বেড়িবাঁধ। প্রতিবছর ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও জলোচ্ছ্বাসের মধ্য দিয়ে নানা ভোগান্তিতে বসবাস করতে হচ্ছে কুতুবদিয়াবাসীকে।

কোনো ইমার্জেন্সি রোগীকে মেডিকেলে নিয়ে গেলে সেখানেও উন্নত চিকিৎসা পাওয়া যায় না। মেডিকেলের কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম মেডিকেলে ইমার্জেন্সি রোগীকে রেফার করে দেন। এরপর রোগীকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার সময় আরেক সিন্ডিকেটের মুখে পড়তে হয়। কুতুবদিয়া-মগনামা চ্যানেলে কোনো ফেরি না থাকায় ডেনিসবোটের মালিকেরা ভাড়া বাড়িয়ে নেন। এভাবেই নানা ভোগান্তি ও সিন্ডিকেটের মধ্য দিয়ে কুতুবদিয়াবাসীকে পারাপার হতে হয় নিত্যদিন।

অন্তর্বর্তী সরকারকে এই দ্বীপ নিয়ে মহাপরিকল্পনা করতে হবে। এই দ্বীপের দেড় লক্ষাধিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য টেকসই বেড়িবাঁধ প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। কুতুবদিয়া-মগনামা চ্যানেলে ফেরি চালুর মধ্য দিয়ে যাতায়াতব্যবস্থায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

‎এ ছাড়া উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কুতুবদিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অক্সিজেন, অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম দিতে হবে। রাস্তাঘাট সংস্কার করতে হবে। তবেই কুতুবদিয়াবাসী অবহেলা ও বৈষম্যমূলক আচরণ থেকে রক্ষা পাবে।

* আবদুল্লাহ নাজিম আল মামুন
‎- কুতুবদিয়া দ্বীপ, কক্সবাজার

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-04-29%2Fbq3k7t3z%2FUntitled-1.jpg?rect=0%2C0%2C1592%2C1061&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার আলী আকবরডেইল ইউনিয়নের পশ্চিম পাশে শত কোটি টাকা খরচ করে ২০২৪ সালে নির্মাণ হয়েছিল ছয় কিলোমিটার বেড়িবাঁধ। এখন বাঁধের নড়বড়ে অবস্থা। ছবি: প্রথম আলো

‘নতুন কুঁড়ি’তে নৃত্যে দ্বিতীয় স্বাধিকা

বাংলাদেশ টেলিভিশন আয়োজিত শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক জাতীয় অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি-২০২৫’-এ নৃত্য বিভাগের সাধারণ নৃত্য শাখায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে নাজিফা হোসেন স্বাধিকা। সে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির নিয়মিত শিক্ষার্থী। প্রায় ১৮ হাজার প্রতিযোগীর মধ্যে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় সেরা পাঁচ প্রতিযোগীর মধ্যে। স্বাধিকা ঢাকা বিভাগীয় বাছাইয়ে সেরা হয়। এরপর সেরা-১০ বাছাইয়ে দ্বিতীয় স্থান লাভ করে। সেরা-১০ প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়ে সেরা-৫-এ স্থান করে নেয় উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাজিফা হোসেন স্বাধিকা।

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রতিযোগিতায় সারা দেশের হাজারো শিশু অংশ নেয়।
দেশের শিশু-কিশোরদের মেধা, প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশে সেই সুযোগ তৈরি করেছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক দিলারা বেগম। তার প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী স্বাধিকার এই বড় অর্জনে শিশু একাডেমি গর্বিত। তার আগামীর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য সকলের দোয়া প্রার্থনা করেছেন তিনি। নিয়মিত অনুশীলন, শৃঙ্খলা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বাধিকা নিজেকে শিশু-কিশোর নৃত্য প্রতিভাদের মধ্যে বিশেষভাবে আলাদা করে তুলেছে।

mzamin

কফিন থেকে ভেসে এল সাহায্যের আকুতি, দেখা গেল তিনি বেঁচে আছেন

৬৫ বছর বয়সী একজন নারী প্রায় দুই বছর শয্যাশায়ী ছিলেন। রোববার হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়েন। পরিবারের সদস্যরা ধরে নেন তিনি মারা গেছেন। পরে তাঁকে কফিনে ঢোকানো হয়। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য চার ঘণ্টা দূরত্বের একটি মন্দিরে নেওয়া হয়। সেখানে নেওয়ার পর কফিনের ভেতর থেকে শব্দ শোনা যায়। খুলে দেখা যায়, তিনি মারা যাননি। বেঁচে আছেন।

বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটেছে থাইল্যান্ডে। ওই নারীর নাম চনথিরোট। তিনি ফিটসানুলোক প্রদেশের বাসিন্দা। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য তাঁর কফিন আনা হয় ব্যাংককের কাছে একটি মন্দিরে। সেখানে বিনা মূল্যে দরিদ্রদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

কিন্তু সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কফিনের ভেতর থেকে ক্ষীণ শব্দ শোনা যায়। পরিবারের সদস্যরা কফিন খুলে বিস্মিত হয়ে যান। দেখেন ওই নারী থরথর করে কাঁপছেন আর মুখের সামনে থাকা মাছি তাড়াচ্ছেন। অবিশ্বাস্য দৃশ্যটি একটি ভিডিওতেও ধরা পড়েছে। ভিডিওতে হতবাক আত্মীয়দের ওই নারীকে ঘিরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

ওই নারীর ভাই মঙ্গকোল (৫৭) বলেন, তাঁরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগেই বোনের মৃত্যু-সম্পর্কিত কাগজপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। তবে বোনকে জীবিত দেখতে পেয়ে তিনি খুব খুশি হয়েছেন।

মন্দিরের কর্মী থম্মানুন কফিনটি প্রধান হলের দিকে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ ভেতর থেকে ক্ষীণকণ্ঠে সাহায্যের আকুতি শুনতে পান।

এরপর চনথিরোটকে চিকিৎসকদের কাছে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা বলেন, ওই নারীর নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যায়নি। তাঁর রক্তে শর্করার মাত্রা এতটাই কমে গিয়েছিল যে পরিবার তাঁকে মৃত ধরে নিয়েছিল।

সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কফিনের ভেতর থেকে নারীর ক্ষীণ শব্দ শোনা যায়
সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় কফিনের ভেতর থেকে নারীর ক্ষীণ শব্দ শোনা যায়। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া

৫ তারকা হোটেলে কেবিন ক্রু ধর্ষিত, পাইলটের বিরুদ্ধে মামলা

ব্যাঙ্গালোরে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে এক যুবতী কেবিন ক্রুকে ধর্ষণ করেছেন ৬০ বছর বয়সী এক পাইলট। এই অভিযোগে ওই পাইলটের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ধর্ষিত কেবিন ক্রু। এ খবর দিয়ে অনলাইন এনডিটিভি বলছে, একটি বেসরকারি এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ওই পাইলট। পুলিশ বলেছে, ঘটনাটি ঘটেছে ১৮ই নভেম্বর। অভিযুক্ত পাইলটের নাম রোহিত সারান। তিনি ওই দিন হায়দরাবাদের বেগমপেট এবং অন্ধ্রপ্রদেশের পুট্টাপার্থি থেকে একটি চার্টার্ড প্লেনে তার সহকর্মী ও অভিযোগকারিণীর সঙ্গে হোটেলে যান। দুই পাইলট ও ওই কেবিন ক্রু সদস্য পরের দিন ১৯শে নভেম্বর পুট্টাপার্থি ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। তাই তারা বিশ্রামের জন্য হোটেলে চেক-ইন করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে ওই নারী উল্লেখ করেন, রোহিত প্রথমে সিগারেট খাওয়ার অজুহাতে তাকে তার কক্ষের কাছে নিয়ে যান। এরপর জোর করে তাকে ঘরে ঢুকিয়ে ধর্ষণ করেন। ২০শে নভেম্বর বেগমপেটে ফিরে অভিযোগকারিণী সঙ্গে সঙ্গে এভিয়েশন প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনার কাছে বিষয়টি জানান এবং বেগমপেট থানায় একটি জিরো এফআইআর দায়ের করেন। পুলিশ জানিয়েছে, ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৩ নম্বর ধারায় (ধর্ষণের অপরাধ) মামলা করা হয়েছে। মামলাটি আরও তদন্তের জন্য ব্যাঙ্গালোর সিটির হালাসুরু থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

mzamin