Saturday, May 12, 2018

জিন্নাহকে ‘মহাপুরুষ’ বললেন বিজেপি এমপি সাবিত্রী বাই, মিশ্র প্রতিক্রিয়া

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহকে ‘মহাপুরুষ’ বলে অভিহিত করেছেন বিজেপি এমপি সাবিত্রী বাই ফুলে। বিজেপি’র জিন্নাহবিরোধী অবস্থানের সম্পূর্ণ বিরোধী অবস্থানে গিয়ে সাবিত্রী বাই ফুলের এমন মন্তব্যে বিজেপি’র মধ্যে অস্বস্তি বেড়েছে। 
সাবিত্রী বাই ফুলে বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে যে সমস্ত মহাপুরুষের অবদান আছে,  জাত-পাত ব্যতিরেকে তাদেরকে শ্রদ্ধা করা উচিত। জিন্নাহর মতো মহাপুরুষের ছবি যেখানে প্রয়োজন সেখানে শ্রদ্ধাসহকারে বসাতে হবে। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় থেকেই জিন্নাহকে শ্রদ্ধা করা হচ্ছে। লোকসভাতেও ওর ছবি রয়েছে। শ্রদ্ধা সহকারে তার নাম নেয়া উচিত।’
ডা. মশিহুর রহমান
এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের কোলকাতার ‘মীযান’ পত্রিকার সম্পাদক ডা. মশিহুর রহমান আজ (শনিবার) রেডিও তেহরানকে বলেন, ‘সাবিত্রী দেবী জিন্নাহকে মহান মানুষ বলে অভিহিত করেছেন। এর আগেও বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদবানী জিন্নাহকে ‘সেক্যুলার’ বলে উল্লেখ করেছেন। এজন্য আরএসএস তার রাজনৈতিক জীবনকে ‘সাইলেন্ট’ করে দিয়েছে। বিজেপি নেতা যশোবন্ত সিংহ ‘জিন্নাহ: ইন্ডিয়া-পার্টিশন-ইন্ডিপেন্ডেন্স’ নামক যে বই লিখেছেন তাতেও জিন্নাহর ইতিবাচক দিক তুলে ধরেছেন। সেজন্য বিজেপি তার রাজনৈতিক জীবন একদম শেষ করে দিয়েছে। ওই কথাগুলোর মধ্যে যে সত্যতা নেই তা নয়। তাদের মতো জ্ঞানী মানুষরা যখন একথা বলেন, তার মধ্যে অবশ্যই বাস্তবতা আছে।’ডা. মশিহুর রহমান
ডা. মশিহুর রহমান বলেন, আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক উপ-রাষ্ট্রপতি ড. হামিদ আনসারিকে আজীবন সদস্যপদ দেয়ার অনুষ্ঠান পরিকল্পনাকে পণ্ড করতে সেখানে হিন্দু যুব বাহিনীর সদস্যরা আক্রমণ চালিয়েছিল। সেই ঘটনা থেকে দৃষ্টি ঘোরাতে জিন্নাহর ছবিকে ইস্যু করা হয়েছে। 
তিনি বলেন, ‘কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি রাজনৈতিক সুবিধা পেতে ওই ঘটনাকে ইস্যু হিসেবে তুলে ধরেছে। বিজেপি’র রাজনৈতিক শক্তির একটা পা হল মুসলিম বিরোধিতা। তারা মুসলিম বিরোধী ও মুসলিম বিদ্বেষী ইস্যুগুলো সবসময় সামনে নিয়ে এসে সামাজিক বিভাজন করে। মুসলিম বিরোধী ইস্যু না থাকলে আর একটি পায়ের উপর ভর করে তারা ভারতে রাজনৈতিক ফায়দা লাভ করতে পারবে না। এসব বিষয় তাদের চিরাচরিত এজেন্ডার মধ্যে আছে। এজন্য তারা বাবর মসজিদ ইস্যু, সংখ্যালঘু তোষণ ইস্যু তুলে ধরে। মুসলিম পার্সোনাল ল’কে তুলে দেয়ার জন্য আন্দোলন করে। এজনই মোদি ট্রিপল তালাকের বিষয় এনেছেন, সেরকম আজ জিন্নাহকে আনা হচ্ছে, টিপু সুলতান ইস্যু আছে। আগামীদিনে এধরণের আরো ইস্যু চলতে থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘এই যে মুসলিম বিরোধিতা ও উগ্র জাতীয়তাবাদের সংমিশ্রণ এজন্য যে যাতে করে তারা রাজনৈতিক ফায়দা লাভ করতে পারে এবং উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে  মেরুকরণের চিন্তাভাবনা। এটি আর এস এসের চিন্তাভাবনা এবং এ থেকে বিজেপি কখনো সরে  আসতে পারবে না। বিজেপি তার রাজনৈতিক স্বার্থে এটা করবেই। নেতিবাচক রাজনীতি তাদের করতেই হবে, অন্যথায় রাজনৈতিকভাবে তারা কখনো সফল হতে পারবে না।’ পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ
ভারতের আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ইউনিয়নের দফতরে থাকা মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ছবি অপসারণের দাবিতে আন্দোলন চালাচ্ছে হিন্দুত্ববাদীরা। ছাত্র  সংসদের আজীবন সদস্য হিসেবে ১৯৩৮ সাল থেকেই জিন্নাহর ছবি রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ‘হিন্দু যুব বাহিনী’র সদস্যরা তার ছবি অপসারণের দাবিতে মাঠে নামায় আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে সহিংসতা ছড়ায়।
আলীগড়ের বিজেপি এমপি সতীশ গৌতম সম্প্রতি আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলরকে চিঠি লিখে জানতে চেয়েছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন জিন্নাহর ছবি রাখা হবে? এরপরেই ওই ইস্যুতে হিন্দুত্ববাদীরা মাঠে নেমে আন্দোলন শুরু করেছে।
অন্যদিকে, বিজেপি’র এমপি শত্রুঘ্ন সিনহাও জিন্নাহ ইস্যুতে দলীয় অবস্থানের বিপরীতে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেছেন, আচমকা বিশ্ববিদ্যালয়য়ের নাম পরিবর্তন ও কিছু লোক ছবি অপসারণের দাবি করছেন। কিন্তু কেন অপসারণ করা হবে? এত বছর ধরে সেখানে ওই ছবি আছে এবং সবকিছু তো ঠিকঠাক চলছিল। বিজেপি’র এমপি শত্রুঘ্ন সিনহা
বিজেপি’র উদ্দেশ্যে উপদেশ দিয়ে শত্রুঘ্ন সিনহা বলেন, বিজেপি’র ওই ঘটনা সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা উচিত যাতে গো-রক্ষার নাম করে দেশের বিভিন্ন অংশে নিরীহ লোকেদের হত্যা করা হয়েছে।
অন্যদিকে, জিন্নাহ ইস্যুতে এবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়য়ের মুখপাত্র মুহাম্মদ ফয়সাল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে বলেছেন, ‘পাকিস্তান ও মুসলিমদের প্রতি ভারতের অসহিষ্ণুতা যে বাড়ছে, এটা তারই প্রমাণ।’
ফয়সালের বক্তব্য, পাকিস্তানে মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধীর ছবি বা ভাস্কর্য রাখা নিয়ে ইসলামাবাদে কখনো প্রতিকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। প্রসঙ্গত, ভারতের জাতির জনক হিসেবে গান্ধীজি ভারতে শ্রদ্ধার আসনে রয়েছেন।

ভাগ্য ফেরাবে ভুট্টা by রফিকুল ইসলাম

মাঠের পর মাঠ জমিতে সবুজ পাতার আড়ালে হাসছে হলুদ রঙের ভুট্টা। মাথায় লাল ফুল ও গায়ে হলুদ বর্ণের এসব ভুট্টা দোল খাচ্ছে বাতাসে। অনেক চাষির জমিতে ভুট্টা গাছে মোচা বাঁধতে শুরু করেছে। এতে চাষিরাও লাভের স্বপ্ন দেখছেন।
ফেনীর পরশুরাম উপজেলায় এবার প্রথমবারের মতো ভুট্টা চাষ করেছেন চাষিরা। উপজেলার মির্জানগর, চিথলিয়া ও বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের ৮ গ্রামে ৩৪ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান, চাষিদের ভুট্টা চাষে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এখানকার মাটি ভুট্টা চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। প্রথমবারের মতো ভুট্টার চাষ হওয়ায় ‘ভাগ্য ফেরার স্বপ্ন’ দেখছেন কৃষকরা।
ভুট্টা ক্ষেতভুট্টা ক্ষেত
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষদিকে উচ্চ ফলনশীল ইয়েন জাতের ভুট্টার বীজ রোপণ করেন চাষিরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে মে মাসের শেষদিকে ক্ষেত থেকে ভুট্টা ঘরে তোলা যাবে। রোপণের মাত্র ৪ মাসের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব বলে কৃষকরা ভুট্টা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’
বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের দক্ষিণ টেটেশ্বর গ্রামের ভুট্টাচাষী জালাল আহমেদ বলেন, ‘ভুট্টা চাষে সেচ কম লাগে। খরচ কম ও স্বল্প সময়ে এ ফসল হয়ে থাকে বলে ৮ বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। ফলনও ভালো হয়েছে।’
বাংলাদেশ মৃত্তিকা সম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) এক গবেষণায় দেখা গেছে, মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনিয়া নদী বিধৌত পরশুরামের অধিকাংশ মাটি বেলে-দোঁআশ প্রকৃতির, যা ভুট্টা-মাসকলাইসহ দানাদার ফসল চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা উত্তম মজুমদার জানান, চাষিদের ভুট্টা চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিসার সিরাজুল ইসলাম জানান, পানি সংকটের কারণে বোরো ফসল অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভুট্টা চাষে পানির তেমন প্রয়োজন হয় না। বোরো ফসলের বিকল্প হিসেবে এখানে ভুট্টা চাষের উজ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রিটেনে দুর্দশার মুখে হাজারো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী by মুনজের আহমদ চৌধুরী

নাফিস করিমের পরিবার (ছবি-ফিনান্সিয়াল টাইমস)
স্বপ্নের দেশ ব্রিটেনে স্বপ্নভঙ্গের যাতনা নিয়ে এখন কঠিন সময় পার করছেন বাংলাদেশ থেকে আসা শিক্ষার্থীরা। ব্রিটেনের স্টুডেন্ট ভিসার ক্ষেত্রে একসময় বাংলাদেশে প্রচলিত ছিল ‘আইলোরে লন্ডনের গাড়ি, পাসপোর্ট করো তাড়াতাড়ি।’ কিন্তু এখনকার বাস্তবতা এখন একেবারেই ভিন্ন। স্টুডেন্ট ভিসায় ব্রিটেনে আসা শিক্ষার্থীদের বেশিরভাগই এখন দেশটিতে বসবাসের বৈধতা হারিয়েছেন। কাজের অনুমতি না থাকায় পাচ্ছেন না চাকরি। জীবন কাটছে অনিশ্চয়তায়। লেখাপড়ার জন্য এদেশে এলেও মাঝপথে ভিসা জটিলতায় বন্ধ হয়ে যায় অনেকের লেখাপড়া। আর একদিকে যেমন কাজ করবার অনুমতি নেই, অন্যদিকে আদালতে মামলা চালাতে গিয়ে অনেকে হয়েছেন সর্বস্বান্ত।
জানা গেছে, ব্রিটেনের হোম অফিস ইংলিশ টেস্টে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে সাত হাজারের বেশি বিদেশি শিক্ষার্থীকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে। এদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীও রয়েছেন। হোম অফিসের এমন সিদ্বান্তের কারণে ভিসা হারিয়ে চাকরিচ্যুত অবস্থায় মানবেতর ও অনিশ্চিত দিন কাটাচ্ছেন এসব বিদেশি শিক্ষার্থীরা।
এ সপ্তাহে ফিনান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়, ব্রিটেনের স্বরাষ্ট্র দফতরের আনা অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইংরেজিতে অদক্ষ হাজারো বিদেশি শিক্ষার্থীকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। সাত হাজারেরও অধিক শিক্ষার্থীকে তাৎক্ষণিকভাবে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অভিযুক্ত ছাত্রছাত্রীদের আপিলের সুযোগই দেওয়া হয় নি।
 আমিন ও হোসাইন (ছবি-ফিনান্সিয়াল টাইমস)  আমিন ও হোসাইন (ছবি-ফিনান্সিয়াল টাইমস)
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শেখ আমিন (৩৩) জানান, তারা ব্রিটেনের অভিবাসন ট্রাইব্যুনালের নেওয়া সিদ্ধান্তটিকে সম্পূর্ণ অন্যায্য হিসাবে দেখছেন ।
আমিন জানান, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা গত বছর তাকে গ্রেফতার করেন। এরপর তাকে তিন দিন গেটউইক এয়ারপোর্টের কাছে ব্রুকহাউস রিমুভাল সেন্টারে রাখা হয়। পরে আমিন জামিনে মুক্তি পান।  তখন থেকে আমি আমার ওপর আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনগতভাবে লড়ে যাচ্ছি। এদেশে আমার এখন কাজ বা ব্যবসার অনুমতি নেই। ঘর ভাড়াও পাচ্ছি না এদেশে বসবাসের বৈধতা না থাকার কারণে। পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত ড্রাইভিং লাইসেন্সও কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাফিস করিম ও তার স্ত্রী ইরফানা করিম জানান, হোম অফিস নাফিসের ভিসা বাতিল করার পর তিনি ভিসা না থাকার কারনে চাকরি হারিয়েছেন। ইরফানা চাকরি হারিয়েছেন আরও একবছর আগে। এ দম্পতি এখন তাদের দুই শিশুপুত্র ইফরাজ ও ইহফামকে নিয়ে দুর্বিষহ দিন কাটাচ্ছেন। নাফিস জানান, ২০১৫ সালে ভিসা কেড়ে নেওয়া হয়। আগামী মাসে (জুনে) তার বসবাসের ফ্ল্যাটটি থেকেও তাকে উচ্ছেদের নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সরকারি ওই ঘোষণায় বলা হয়েছে, অধিকাংশ  শিক্ষার্থী তাদের পরিবর্তে অন্যদের পরীক্ষায় পাঠান।  জালিয়াতির মাধ্যমে তারা পার পেয়ে যাচ্ছে। যদিও প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে অনেক নির্দোষ শিক্ষার্থীরাও প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্পাত্র জানান, সরকারিভাবে পুরো ব্যাপারটি খতিয়ে দেখা হবে। এদিকে স্বরাষ্ট্র দফতর থেকেও এক রিপোর্টে জানানো হয়, পরীক্ষার্থীদের আবারো পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের মাধ্যমে মূল বিষয়টির সত্যতা যাচাই করা হবে।
ওয়াহিদ (ছবি-ফিনান্সিয়াল টাইমস) ওয়াহিদ (ছবি-ফিনান্সিয়াল টাইমস)
সিলেট থেকে আসা শিক্ষার্থী ওয়াহিদুর রহমান জানান, সরকারের উল্লিখিত নিয়মের কারণে তার মতো হাজারো অভিবাসীদের দেশে ফিরে যেতে হচ্ছে খালি হাতে। এখানে ব্রিটেনে অবস্থানরত অভিবাসী শিক্ষার্থীরা খণ্ডকালীন চাকরি থেকে শুরু করে সবকিছুতে সমস্যায় পতিত হচ্ছেন। ওয়াহিদ আরও  জানান, ভিসা বাতিল হবার পর বেঁচে থাকার জন্য এখন তাকে এখানে থাকা আত্মীয়-স্বজনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তার পড়াশোনাও বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।  
অভিবাসন বিষয়ক আইনজীবী মি. লুইস এই ঘটনার ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছেন, সরকারের নেওয়া সমগ্র ব্যাপারটি তার কাছে অদ্ভুত মনে হয়েছে, যা অভিবাসীদের জীবনযাত্রায় দারুণ অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
লন্ডনের ইস্ট হাম থেকে নির্বাচিত এমপি স্টিফেন টিমস বলেছেন, অনেক শিক্ষার্থীই এখানে সম্পূর্ণ নির্দোষ। কিন্তু তাদের সঙ্গে দুঃখজনক আচরণ করা হচ্ছে।
এ ইস্যুতে আদালতে যাওয়া বাংলাদেশি একজন শিক্ষার্থীর মামলার রায়ে ইমিগ্রেশন ট্রাইবুনালের একজন বিচারক  বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি হোম অফিসের আচরণ ক্ষমতার অপব্যাবহার এবং প্রক্রিয়াগতভাবে অসচ্ছ। 
হ্যামলেটস সলিসিটরস এর অন্যতম কর্ণধার সলিসিটর বিপ্লব কুমার পোদ্দার বৃহস্পতিবার (১০ মে) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘হোম অফিসের এমন অন্যায় আচরণের শিকার শিক্ষার্থীরা এখানে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। অনেককে আটক করে রিমুভ্যাল সেন্টারের মাধ্যমে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অনেকে জামিনে রয়েছেন।’

‘সত্য প্রকাশ’ করে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর টার্গেটে চার রোহিঙ্গা

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে মিয়ানমানের সেনা নিপীড়নের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আছেন জামালিদা বেগম
সদ্য মিয়ানমার সফরকারী জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে বিপাকে পড়েছেন রাখাইনে অবস্থানকারী চার রোহিঙ্গা। প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সেনাবাহিনী আগেই সেখানকার রোহিঙ্গাদের হুমকি দিয়েছিল, সফররত প্রতিনিধিদের কাছে যেন সরকার ও সেনাবিরোধী কোনও কথা না বলে রোহিঙ্গারা। নিষেধ উপেক্ষা করে সেনাবাহিনীর টার্গেটে পরিণত হওয়া চার রোহিঙ্গা এখন পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। মিয়ানমারের সেনা-গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনী তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে।
গত আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর রোহিঙ্গা বিরোধি পূর্ব পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ অভিযান জোরালো হওয়ার পর গত সপ্তাহে প্রথমবারের মতো সেখানে জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের ঢুকতে দেওয়া হয়। ১ মে নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতিনিধিরা দিনব্যাপী রাখাইন সফর করেন। জাতিগত নিধনের প্রত্যক্ষ আলামত পেতে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত গ্রামগুলোতে সফর করেন তারা। কথা বলতে চান সেখানকার মানুষের সঙ্গে।
স্থানীয় এক রোহিঙ্গা সাংবাদিক গার্ডিয়ানকে বলেছেন, নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের রাখাইন সফরের কয়েকদিন আগে মংডু শহর এলাকার আশেপাশের রোহিঙ্গাদের ওই প্রতিনিধের কাছে সরকার ও নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে কিছ না বলতে সতর্ক করে দেয় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। ওই সাংবাদিক বলেন, ‘‌এই সতর্কতা অমান্যকারীদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেয় কর্তৃপক্ষ।’ হুমকির পর বেশির ভাগ রোহিঙ্গা জাতিসংঘ প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানায়। তবে নলবোনিয়া গ্রামে তিন কিশোর ও এক মধ্যবয়সী নারী কর্তৃপক্ষের হুমকি উপেক্ষা করে নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেন।
গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিনিধি দলটি নলবোনিয়া ত্যাগ করার মিয়ানমারের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা সা রা পা এর এজেন্ট এবং বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যরা সেখানে পৌঁছায়। খুঁজতে সেই চার রোহিঙ্গাকে। স্থানীয়দের উদ্ধৃত করে গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এখন নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পালিয়ে বেড়াচ্ছে ওই তিন কিশোর ও এক মধ্যবয়সী নারী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রোহিঙ্গা নারী সাংবাদিকদের বলেছেন, জাতিসংঘের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন গোয়েন্দা এজেন্ট তাদের ভিডিও ধারণ করেন। তিনি বলেন,  সা রা পা এজেন্টরা সেই ভিডিও ক্লিপ গ্রাম প্রশাসক ও নলবোনিয়ার অন্য গ্রামবাসীদের দেখিয়ে চার রোহিঙ্গাকে খুঁজতে সহযোগিতা চেয়েছে। এটা পরিষ্কার যে সরকার বা নিরাপত্তা বাহিনীর ভয়েই তারা পালিয়ে গেছেন। আমরা জানি না এখনও তারা মিয়ানমারে আছে নাকি বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করছেন সৌদি আরবে থাকা রোহিঙ্গা অ্যাকটিভিস্ট কো কো লিন। তিনি গার্ডিয়ানকে বলেছেন, গ্রাম প্রশাসক এবং অন্যান্য গ্রামবাসী সেনা সদস্যদের বলেছেন, তারা ওই চার জনকে চেনেন না। তবে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাদের খোঁজে আশেপাশের গ্রামগুলোতেও তল্লাশি চালাচ্ছে। তিনি বলেন, সত্য বলার ফল ভোগ করছে তারা। অতীতেও এমন ঘটনা ঘটেছে। একই ধরনের ঘটনার কারণে রোহিঙ্গাদের সেনাবাহিনীর রোষানলে পড়তে হয়েছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিকদের সঙ্গে নির্যাতন ও সহিংসতা নিয়ে কথা বলা রোহিঙ্গা গ্রামবাসী মিয়ানমার বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে নুর জাহান ও জামালিদা বেগম নামে দুই বিধবা রোহিঙ্গা নারী সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। সাবেক জাতিসংঘ মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত কমিশনের কাছে স্বাক্ষ্য দেওয়া চার রোহিঙ্গা এখনও কারাগারে।

যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল ইরান

পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বিরোধী বিক্ষোভে শুক্রবার উত্তাল হয়ে উঠেছিল ইরান। কয়েক লাখ মানুষ সমবেত হয়েছিলেন রাজধানী তেহরানে। ওই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী পশ্চিমা অন্য দেশগুলোর ঘোর আপত্তি থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে তা থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন। চুক্তির অন্য শরীক দেশগুলো চুক্তিতে বহাল থাকার ঘোষণা দিয়েছেন। এমন প্রত্যয় ঘোষণা করেছে বৃটেন, ফ্রান্স, জার্মানি। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি সম্পাদন করেন। এ চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সমঝোতা বা বোঝাবুঝি পাকা করতে সহসাই কূটনৈতিক সফরে যাওয়ার কথা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর। অনলাইন আল জাজিরা এ খবর দিয়ে লিখেছে, শুক্রবার তেহরানে মানুষের ঢল নেমেছিল। এ সময় তাদের হাতে ছিল নানা রকম প্লাকার্ড। তাতে লেখা ছিলÑ যুক্তরাষ্ট্রের পতন হোক। ট্রাম্প আপনি কা-জ্ঞানহীনের মতো কথা বলছেন। কারণ, ডনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তিকে ভয়াবহ, এক পক্ষীয় ও পরাজয়মুলক বলে আখ্যায়িত করেছে। শুক্রবারের র‌্যালি থেকে স্লোগান দেয়া হয়Ñ যুক্তরাষ্ট্র নিপাত যাক। আমরা লড়াই করে মরবো। কিন্তু কোনো সমঝোতা মেনে নেবো না। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে সম্পাদিত ইরানের পারমাণবিক চুক্তিতে স্বাক্ষরকারীরা হলোÑ যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর উদ্দেশ্য ইরানের ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক অবরোধ শিথিল করা, যার বিনিময়ে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সম্ভাবনা বন্ধ বা স্থগিত বা সীমিত রাখে। কিন্তু গত মঙ্গলবার ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে তার দেশকে প্রত্যাহার করে নেন। পরে অবরোধ আরোপ করেন নতুন করে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তিনি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী অন্যদের সঙ্গে সমঝোতা শুরু করতে। একজন মুখপাত্র বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, আজ শনিবার থেকেই এ সফরে বের হওয়ার কথা রয়েছে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাভাদ জারিফের। এ সফরে তিনি প্রথমে যাবেন চীন ও রাশিয়া। এরপর মঙ্গলবার যাবেন ব্রাসেলস। সেখানে বৃটেন, ফ্রান্স ও জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে তার সাক্ষাত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান ফেডেরিকা মঘেরিনির। শুক্রবার তিনি নিশ্চিত করেছেন, তারা ইরানের সঙ্গে সম্পাদিত পারমাণবিক চুক্তি অটুট রাখতে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ফ্রান্স বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে যে শাস্তি দিচ্ছে তাতে ইউরোপীয় কোম্পানিগুলোর শত শত কোটি ডলার লোকসান হবে। তাই ইউরোপের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে সমৃদ্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে ফ্রান্সের। এ ছাড়া ইরানের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে জার্মানি ও ফ্রান্সের। একই রকম সম্পর্ক রয়েছে বৃটেনেরও। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো লি মাইরে বলেছেন, অবরোধ বিরোধী পদক্ষেপ কি কি হতে পারে তা ইউরোপীয় কমিশনের কাছে প্রস্তাব আকারে উত্থাপন করবে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো।  তিনি বলেন, বাইরে থেকে দেয়া অবরোধ কি আমরা মেনে নেবো? জবাব হলোÑ না। যুক্তরাষ্ট্রকে কি এই গ্রহের অর্থনীতির মোড়ল হিসেবে গ্রহণ করতে হবে? এরও উত্তর হলো- না। লা মাইরে বলেছেন, ইরানে এরই মধ্যে ব্যবসা করছে তাদের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে রয়েছে রেনল্ট, টোটাল, স্যানোফি, ড্যানওয়ান ও পিউগিওট।

কোরিয়া সংলাপে ইরান ইস্যু প্রভাব ফেলবে না: জন বোল্টন

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা
ইরানের সঙ্গে পরমাণু অস্ত্র চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে আসার সিদ্ধান্ত উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে চলমান পরমাণু অস্ত্র নিরস্ত্রীকরণ প্রচেষ্টায় কোনও বাধা হবে না বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনান্ড ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। তার দাবি এতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট এই খবর জানিয়েছে।
ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের মধ্যকার আসন্ন বৈঠকের আগে ইরানের সঙ্গে চুক্তি থেকে বের হয়ে আসায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সামনের চুক্তিতেও বিষয়টি প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিশ্বস্ত কেউ না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্ট জন বোল্টন বলেছেন, ইরান চুক্তি থেকে বের হয়ে আসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এতে সবাই বু্ঝে গেছে অসন্তোষজনক কোনও প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।
জন বোল্টন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার মতে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে প্রেসিডেন্টের আসল চুক্তি করতে চান।’ তিনি আরও বলেন, ‘ইরান চুক্তির মাধ্যমে খুব পরিষ্কার সংকেত দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্র কোনও অযোগ্য চুক্তি মেনে নেবে না। বোল্টন আরও বলেন,  ‘যেকোনও জাতি তাদের আগের ভুল সংশোধন করার অধিকার রাখে।’
ট্রাম্পের এই জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ইরাকে আগ্রাসনের মূল পরামর্শক ছিলেন। এমনকি উত্তর কোরিয়া ও ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানের ব্যাপারেও তিনি আগ্রহী। তবে চুক্তি থেকে সরে আসার পর ইরানের সঙ্গে কোনও ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাতিল করে দিয়েছেন তিনি।
রুশ আইনপ্রণেতা ইয়েভগেনি সেরেব্রিননিকোভকে উদ্ধৃত করে দেশটির বার্তা সংস্থা আরআইএ বলেছেন, ইরান চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বের হয়ে আসার ঘটনায় কোরিয়ান শান্তি প্রক্রিয়ায় সন্দেহ সৃষ্টি করবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নে রুশ দূত ভ্লাদিমির চিঝোভ বলেন, ইরান চুক্তি টিকিয়ে রাখতে তারা কাজ করে যাবেন।
ইরান ঘোষণার পরও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সমঝোতার প্রচেষ্টা চলার প্রমাণ দিতেই ট্রাম্পের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও কোরিয়া সফর করেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে কিমের বৈঠকের বিষয়টি সহজ করার লক্ষ্যেই তিনি সেখানে দেশটি সফর করেন।
বিষয়টি নিয়ে ট্রাম্প বলেছেন, পরিকল্পনা তৈরি করা হচ্ছে। সম্পর্ক গড়ে তোল হচ্ছে। আশা করছি, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সহায়তায় একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে সবার জন্য ব্যাপক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা অর্জিত হবে।

পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র কূটনৈতিক সঙ্কটে!

তবে কি কূটনৈতিক সঙ্কটের লড়াই শুরু হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যে! অনলাইন জি নিউজে প্রকাশিত একটি রিপোর্টের প্রেক্ষিতে এমন প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি কূটনীতিকদের সফর শুক্রবার থেকে সীমাবদ্ধ করেছে ওয়াশিংটন। এমন ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। এর জবাবে পাকিস্তানও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। তারাও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতিকদের সফরে সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে। পাকিস্তানের অনলাইন ডন নিউজ বলেছে, ইসলামাবাদ, লাহোর ও করাচিতে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব কূটনীতিক আছেন তাদের ওপর সীমাবদ্ধতা আরো করার পরিকল্পনা নিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে ফেডারেল এডমিনিস্টার্ড ট্রাইবাল এরিয়াস (এফএটিএ)-এর মতো উচ্চ নিরাপত্তা বিষয়ক এলাকায় তাদের সফরকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঝুঁকি রয়েছে। এ জন্য নিরাপত্তা দিতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এর আগে গত মাসেই রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছিল যে, ওয়াশিংটনে পাকিস্তানি দূতাবাস বা অন্যান্য শহরে কনসুলেটগুলোতে নিযুক্ত পাকিস্তানি কূটনীতিকদেরকে স্ব স্ব স্থান থেকে ৪০ কিলোমিটারের বেশি দূরে চলাচল করায় ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ দেয়া হতে পারে। নিউজার্সির ডেমোক্রেট কংগ্রেসম্যান ডনাল্ড নরক্রস বলেছেন, এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আলোচনা করা। এভাবে যদি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় তাহলে  তো আমরা আলোচনার পথ বন্ধ করে দিচ্ছি। আমার মনে হয় না এমনটা করা কোনো স্মার্ট কাজ হবে। বৃহস্পতিবার এ নিয়ে ভয়েস অব আমেরিকার সঙ্গে কথা বলেছেন পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত ইজাজ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, আমার মতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া ঠিক হবে না।

ইরান পরমাণু চুক্তি রক্ষায় মরিয়া ইউরোপীয়রা

ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়া যাওয়া ঠেকাতে চলছে নানামুখী প্রচেষ্টা। যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, আন্তর্জাতিকভাবে একটি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা বাস্তবায়নের বিষয়ে একমত হয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতি সম্পর্কিত প্রধান ফ্রেডরিকা মোঘেরিনি এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, ইউ ২০১৫ সালে হওয়া ইরান পরমাণু চুক্তি রক্ষায়  বদ্ধপরিকর।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে ইউরোপীয় ৪ টি দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সভা অনুষ্ঠিত হবে তার নেতৃত্বে।  পরমাণু চুক্তি রক্ষায় দেশগুলোর নেতৃবৃন্দ পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রেখেছেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও জার্মানির চ্যান্সেলর অ্যাঞ্জেলা মার্কেল ইরান পরমাণু চুক্তির বিষয়ে কথা বলেছেন শুক্রবার। তার দুজনই চুক্তিটি কার্যকর রাখার বিষয়ে একমত হয়েছেন। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ম্যাখোঁ এর আগে ট্রাম্পকেও  বোঝাবার চেষ্টা করেছিলেন। ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে সরে না আসার অনুরোধ জানাতে ম্যাখোঁ ও মার্কেলের যুক্তরাষ্ট্র সফরেকে নিউ ইয়র্ক টাইমস ‘তীর্থযাত্রা’ আখ্যা দিয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে কথা বলেছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মেও। ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত সমঝোতা রক্ষায় রাজি না হওয়াতে ডাউনিং স্ট্রিট থেকে বলা হয়েছে, ইরান পরমাণু চুক্তির পক্ষে  যুক্তরাজ্যের  অবস্থান সুদৃঢ়। ইউরোপীয় সহযোগীরাও চুক্তিটি কার্যকর রাখার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। তারা সবাই মনে করেন পরমাণু অস্ত্র উৎপাদন থেকে ইরানকে বিরত রাখার জন্য ওই চুক্তিটিরই প্রয়োজন।
তুরস্ক ইরান পরমাণু চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ না হলেও বিষয়টি নিয়ে এরদোয়ানের সঙ্গে কথা বলেছেন রাশিয়ার পুতিনে। চুক্তিটি কার্যকর রাখার জন্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী মোহাম্মাদ জাভেদ জারিফ শনিবার থেকে চীন, রাশিয়া ও বেলজিয়াম সফর শুরু করবেন।
ট্রাম্প ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে সরে আসার ঘোষণা দিলেও চুক্তির প্রতি এখনও নিজেদের দৃঢ় সমর্থনের কথা নিশ্চিত করেছে ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, রাশিয়া ও চীন। চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র আগামী আগস্ট ও নভেম্বরে ইরানের ওপর আবার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার সুযোগ পাবে।

কীটনাশকে নষ্ট ১২০ বিঘা জমির কলা

টাঙ্গাইলের মধুপুরে বিটল পোকা ও সিগাটোগা রোগের জন্য কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগে ১২০ বিঘা জমির কলা নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সুইট এগ্রোভেট লিমিটেডের ল্যামিরন ও সুইট স্টার নামের কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগে উপজেলার পীরগাছা গ্রামের মো. শামসুল আলমের বাগানের এসব কলা নষ্ট হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন শামসুল আলম।
সরজমিন ক্ষতিগ্রস্ত কলা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, হৃষ্টপুষ্ট কলা গাছে কলাগুলো ছোট হয়ে পড়ে যাচ্ছে। এলাকাবাসী জানান, শামসুল আলম মধুপুর উপজেলার সবচেয়ে বড় কলা চাষি। সে উপজেলার কালার পাহাড়ে (নয়নপুর) ২০ বিঘা, মুইনাটেকিতে (আঙ্গারিয়া) ৪০ বিঘা, চাঁদপুরে ২৮ বিঘা, বাঙালপাড়ায় ৩২ বিঘা জমি লিজ নিয়ে কলা চাষ করেছেন।
শামসুল আলম জানান, সুইট এগ্রোভেট লিমিটেডের ল্যামিরন ও সুইট স্টার নামের কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগের ফলে আমার ১২০ বিঘা জমির কলার মোচা ও কাঁদিগুলো অস্বাভাবিকভাবে নষ্ট হয়ে বেরোচ্ছে। বাগানের প্রায় সবগুলো কলার ছড়িই নষ্ট হয়ে গেছে। কলা বাগান নষ্ট হওয়ার ফলে আমি অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছি। সুইট এগ্রোভেট লিমিটেডের মাকেটিং অফিসার মো. আক্তারুজ্জামান জানান, শামসুল আলম সুইটের ২১০০ লিটার ল্যামিরন ও সুইট স্টার নিয়ে অন্য চাষিদের দিয়েছেন। কিন্তু তাদের কারো কোনো প্রকার ক্ষতি হয়নি শুধু তার বাগানেরই কলা নষ্ট হয়েছে, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয়। সুইট এগ্রোভেট লিমিটেডের রিজিয়নাল ম্যানেজার ইমরান আলী খান (রতন) জানান, শামসুল আলম শুধু সুইটের কীটনাশক প্রয়োগ করেনি অন্য কোম্পানিরও ওষুধ প্রয়োগ করেছেন। তাছাড়া তিনি আমাদের সুইট এগ্রোভেটের পরিবেশক ছিলেন, তার কাছে কোম্পানি ২৫ লাখ টাকা পান। ওই টাকা আত্মসাৎ করার জন্যই এমন অভিযোগ করেছেন। মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান জানান, অভিযোগ পেয়ে আমি কলাবাগান দেখতে গিয়েছিলাম। তবে, কেন কলাগুলো নষ্ট হয়েছে তা নির্ণয় করতে সময় লাগবে।

মমতার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ: আমাকে খুন করতে সুপারি দেওয়া হয়েছে

কলকাতার একটি টিভি চ্যানেলে এক সাক্ষাৎকারে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছেন, তাকে খুন করার জন্য সুপারি দেওয়া হয়েছে। তার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ প্রচারিত হওয়ার পর রাজ্যজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, খুনিরা ইতিমধ্যে আমার কালীঘাটের বাড়ির সামনে রেইকি করে গিয়েছে। ইতিমধ্যে এজন্য অগ্রিম অর্থ পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, একটি রাজনৈতিক দল তাকে খুনের চক্রান্ত করছে। প্রশাসনিক স্তরে রয়েছি বলে খবরটা পেয়েছি। পুলিশও বিষয়টা দেখছে। তিনি আরও  বলেছেন,  খুনের চক্রান্তে যারা লিপ্ত, তারা প্রথমে নানা কুৎসা আর অপপ্রচারে চরিত্র হনন করবে। তারপর খুন করিয়ে দেবে। দেখা যাবে, আবার তারাই মায়াকান্না কেঁদে মানুষের সহানুভূতি কাড়ার চেষ্টা চালাবে। মমতার দাবি, রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে অনেকে এসব চক্রান্ত করছে। খুনের চক্রান্তের বিষয়টি নজরে আসার পরে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেছেন, পুলিশ আমাকে বলছে, বাড়ি পরিবর্তন করুন, অন্য বাড়িতে থাকুন। কিন্তু আমি ভয় পাই না। এর আগেও আমাকে খুনের চেষ্টা হয়েছে। তখনও ভয় পাইনি, এখনও ভয় পাই না। আমি সাধারণ মানুষ হয়েই থাকতে চাই। সাধারণ মানুষের সঙ্গে থেকেই আজ এখানে পৌঁছেছি। যতদিন বাঁচব, তাঁদের সঙ্গেই থাকব। তাঁদের জন্য গলা উঁচিয়ে যাব। মানুষ আমার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে, আর আমি গাড়ির কাচ তুলে বেরিয়ে যাব, তা কখনও হবে না। মুখ্যমন্ত্রীর অবর্তমানে দলের কি হবে জানাতে গিয়ে মমতা বলেছেন,  আমার অবর্তমানে সরকার কে চালাবে, দল কে চালাবে, সব লিখে রেখে গিয়েছি। এমনিতেই আমাদের দলে প্রত্যেকের দায়িত্ব ভাগ করা আছে। সংগঠন, বিধানসভা, পুরসভা, সংসদ, মন্ত্রিসভা কোথায় কার কী দায়িত্ব, তা ভাগ করা রয়েছে।  আমি যৌথ পরিবারে বিশ্বাস করি। এখানে আমরা সবাই রাজা, আমাদেরই রাজার রাজত্বে।

ধানের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত কৃষক by মোশাহিদ আহমদ

ধানের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু কত বেড়েছে এ সমপর্কে ধারণা নেই দক্ষিণ সুনামগঞ্জের কৃষকদের। তবে, তাদের লোকসান হচ্ছে এটাই মূল কথা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এ বছর এক কিয়ার (৩০ শতাংশ) জমিতে ধান চাষ করতে ব্যয় হয়েছে ১২ হাজার ৫শ’ টাকা। এক বিঘা জমির বিচালির মূল্য দুই হাজার টাকা বাদ দিলে খরচ এসে দাঁড়ায় ১০ হাজার ৫শ’ টাকা। এক কিয়ার (৩০ শতাংশ) জমির গড় ফলন ২০ মণ হলে এক মণ ধানের উৎপাদন খরচ এসে দাঁড়ায় ৫২৫ টাকা। অথচ এখন বাজার মূল্য ৬৫০ থেকে ৭শ’ টাকার মধ্যে। অর্থাৎ প্রতিমণ ধান উৎপাদন করে কৃষকের ১২৫ থেকে ১৭৫ টাকা লাভ হচ্ছে। অথচ সরকার প্রতিমণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে ১ হাজার ৪০ টাকা। সরকার ঘোষিত মূল্য যদি ন্যায্যমূল্য হয় তাহলে প্রতিমণ ধানে কৃষকের লোকসান হচ্ছে ৩৯০ টাকা থেকে ৩৪০ টাকা। ধান চালের বাজার মন্দা দেখিয়ে ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কম মূল্যে ধান বিক্রি করতে বাধ্য করছে। সরকার ধানের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে, তা এক সময়ে কার্যকর হবে বা ওই মূল্য ছাড়িয়ে ১২শ’ টাকা মণ দরেও ধান বিক্রি হবে। ততদিনে কৃষকের গোলায় ধান থাকবে না। লাভের সবটুকু রস লুট করবে ব্যবসায়ীরা। সরকার ধান-চালের ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করেছে। তবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান না কিনে মিল মালিক বা ডিলার নিয়োগের মাধ্যমে ধান চাল কিনে থাকে। আর এ কারণে লোকসানের শিকার হয় কৃষক আর মুনাফা লুটে নেয় মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা। এভাবে লোকসান গুনে ধান চাষ করতে করতে একপর্যায়ে কৃষক দেউলিয়া হবে। তখন হয়তো ধান চাষে আগ্রহ হারাবে কৃষক। সরকার ধান-চালের যে মূল্য নির্ধারণ করেছে তা কৃষকের জন্য লাভজনক না হলেও এটি সহনশীল মাত্রার মূল্য বলে ধরে নিয়েছে কৃষক। তবে, মূল্য ঘোষণার পর থেকে যথাযথ কার্যকর হচ্ছে কি না তা তদারকি আবশ্যক।
উপজেলার ছয়হারা গ্রামের আলা উদ্দিন জানান,  চলতি বছর তিনি ছয় কিয়ার জমিতে ধান চাষ করেছেন। এর মধ্যে তিন কিয়ার তার নিজের বাকি তিন কিয়ার লিজ নেয়া। ধান চাষ করতে গিয়ে গত তিন মাসে সারের দোকানে বাকি হয়েছে ১৫ হাজার টাকা, এ সময় সংসার চালাতে দোকানে বাকি পড়েছে ১৩ হাজার টাকা। আবার কৃষি শ্রমিকের পারিশ্রমিক দিতে গিয়ে ধারও করেছেন পাঁচ হাজার টাকা। অর্থাৎ এই ৩৩ হাজার টাকা তাকে এখনই পরিশোধ করতে হবে। দেনা পরিশোধ করতে তাকে এখনই অর্ধেক ধান বিক্রি করতে হবে। বাকি অর্ধেক ধান দিয়ে আগামী চার মাস কিভাবে সংসার চালাবেন।
উপজেলার কৃষকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ধান চালের মূল্য নিয়ে সরকারের মাথাব্যথা নেই। তা থাকলে ব্যবসায়ীরা এভাবে কৃষকদের ঠকাতে পারত না। সরকার ধান-চালের বাজার নির্ধারণ করে দিয়েছে। সরকার ঘোষিত মূল্যে কৃষক তার ফসলের মূল্য পাচ্ছে কি না তা খতিয়ে দেখার দায়িত্ব বাজার মনিটরিং কর্মকর্তাদের। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তাদের উদাসীনতার কারণে কৃষকদের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত করছে ব্যবসায়ীরা।

ওয়াশিংটন থেকে দূতাবাস সরিয়ে ফেলুন: মুসলিম বিশ্বকে নাবি বেরি

লেবাননের সংসদ স্পিকার নাবি বেরি বলেছেন, আমেরিকার রাজধানী ওয়াশিংটন থেকে সব মুসলিম দেশের দূতাবাস সরিয়ে আনতে হবে। মুসলমানদের পবিত্র স্থান বায়তুল মুকাদ্দাস বা জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণার প্রতিবাদে এ পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার তেহরানে ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা বা ওআইসি'র আন্তঃসংসদীয় সম্মেলনে তিনি আরও বলেছেন, ইসরাইলের বিরুদ্ধে সব মুসলিম দেশকেই শক্ত অবস্থান নিতে হবে। যেসব মুসলিম দেশে ইসরাইলের দূতাবাস রয়েছে সেসব দেশের সরকারের উচিত ইসরাইলি দূতাবাস বন্ধ করে দেয়া। এছাড়া অসলো চুক্তিসহ ইসরাইলের সঙ্গে এ পর্যন্ত যত চুক্তি হয়েছে সেগুলো বাতিল করে দিতে হবে।
লেবাননের সংসদ স্পিকার আরও বলেন, দখলদার ইসরাইল গোটা ফিলিস্তিনকে একটি বিশাল জেলখানায় পরিণত করেছে। সম্মিলিতভাবে এই দখলদার শক্তিকে মোকাবিলা করতে হবে।
তেহরান সম্মেলনে আলজেরিয়ার সংসদ স্পিকার আলসাঈদ বুহজেহ বলেছেন, আমেরিকা সব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে করে চলেছে। মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে বায়তুল মুকাদ্দাসে সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জানান তিনি। আলসাঈদ আবুজেহ বলেন, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলবে না।

ইসরাইলের হুমকি মোকাবেলা করা হবে: লেবাননের তিন শীর্ষ নেতা

লেবানন-ইহুদিবাদী ইসরাইল সীমান্ত
লেবানন সীমান্তে ইহুদিবাদী ইসরাইলের দেওয়াল নির্মাণ ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির তিন শীর্ষ নেতা। মঙ্গলবার রাজধানী বৈরুতে প্রেসিডেন্ট মিশেল আউন, সংসদ স্পিকার নাবি বেরি ও প্রধানমন্ত্রী সা'দ হারিরি'র মধ্যে এক বৈঠকে শেষে এ ঘোষণা দেয়া হয়।
তারা এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরাইল দেওয়াল নির্মাণের মাধ্যমে লেবাননের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনী ও লেবাননের সেনাবাহিনী সীমান্তে যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরাইলের এ পদক্ষেপের মাধ্যমে তা বিনষ্ট হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
ভূমধ্যসাগরে লেবাননের একটি গ্যাসক্ষেত্রের মালিকানা নিয়ে ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে বৈরুতের টানাপড়েনের মধ্যে সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণের বিষয়টি নতুন করে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
গত বছর ভূমধ্যসাগরে লেবানন তার ১০টি গ্যাসব্লকের দু’টির উন্নয়নের জন্য আন্তর্জাতিক টেন্ডার আহ্বান করে। ডিসেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী সা’দ হারিরি’র সরকার তিনটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির সমন্বয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়ামকে ব্লক-৪ ও ব্লক-৯ উন্নয়নের দায়িত্ব দেয়।
লেবাননের ব্লক-৯ গ্যাসক্ষেত্রের ওপর মালিকানা দাবি করে ইহুদিবাদী যুদ্ধমন্ত্রী এভিগদোর লিবারম্যান বলেন, ব্লক-৯ ইসরাইলি ভূখণ্ডের অংশ এবং সেটির ব্যাপারে লেবাননের টেন্ডার ইস্যু করা ‘উসকানিমূলক’ পদক্ষেপ। ইসরাইলের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে লেবানন।
লেবাননের তিন নেতা এসব ইস্যুতে মতবিনিময়ের পর বলেছেন, তারা ইসরাইলি হুমকি মোকাবিলায় আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

মুসলমানদের অর্জন কাজে লাগিয়ে আজকের অবস্থায় এসেছে পাশ্চাত্য: সর্বোচ্চ নেতা

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেছেন, মুসলিম বিশ্বকে আবারও জ্ঞান-বিজ্ঞানের দিক থেকে শক্তিশালী হতে হবে যাতে শত্রুরা বিশেষকরে আমেরিকা মুসলিম দেশগুলোর করণীয় ঠিক করে দেয়ার সুযোগ না পায়। আজ (শনিবার) ইসলামি জ্ঞান-বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তিত্বরা সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে দেখা করতে গেলে তিনি এ কথা বলেন।
সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্বের জন্য যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাহলো ঐক্য ও সংহতি এবং বিজ্ঞানের সব অঙ্গনে সাফল্য ও অগ্রগতি। আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেন, বর্তমানে মুসলিম বিশ্বে জাগরণ সৃষ্টি হয়েছে এবং পাশ্চাত্যের বিরোধিতা সত্ত্বেও এ জাগরণ ইসলাম ধর্মের প্রতি আকর্ষণ বৃদ্ধি ও সুন্দর ভবিষ্যতের ক্ষেত্র সৃষ্টি করছে।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেন, বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়ার কারণেই মুসলিম বিশ্বের ওপর অন্যরা আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ পেয়েছে। তিনি বলেন, পাশ্চাত্য শত শত বছর ধরে বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে পিছিয়ে ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে তারা মুসলমানদের বৈজ্ঞানিক সাফল্যকে কাজে লাগিয়ে অর্থ-সম্পদ এবং বৈজ্ঞানিক, সামরিক, রাজনৈতিক ও প্রচারণাগত ক্ষেত্রে শক্তি বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এভাবেই পাশ্চাত্য ঔপনিবেশিক তৎপরতার মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বকে বর্তমান খারাপ অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ি বলেন, বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে উন্নয়ন ও অগ্রগতির মাধ্যমে বর্তমান এ পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে এবং মুসলিম বিশ্বকে আবারও মানব সভ্যতার সর্বোচ্চ শিখরে আরোহণ করতে হবে। তিনি বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞানে উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইরান আদর্শ সৃষ্টি করেছে এবং ইরানের এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে। পাশ্চাত্যের দেশগুলোর বিপরীতে ইসলামি ইরান নিজের বৈজ্ঞানিক সাফল্য ও অর্জন অন্য মুসলিমগুলোকে দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে সর্বোচ্চ নেতা জানান।

টানা বৃষ্টিতে পচে গেল সয়াবিন ক্ষেত

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরে পাকা সয়াবিনের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার সয়াবিন ক্ষেতে পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। সোনার ফসল ঘরে তুলতে না পারায় ঋণের টাকা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ও  হতাশ হয়ে পড়েছেন সয়াবিন চাষিরা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরো ক্ষতির পরিমাণ বাড়ার আশঙ্কা করছেন কৃষিবিভাগ জানা যায়, দেশের উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ ভাগ  উৎপাদিত হয় এ জেলায়।  সয়াবিন চাষের সঙ্গে জড়িত রয়েছে প্রায় ৭০ হাজার কৃষক। দীর্ঘ অপেক্ষা শেষে সপ্তাহ খানেক পর মাঠের সয়াবিন ঘরে তুলতে প্রস্তুতি নিচ্ছিল কৃষকরা। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুর-সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলার চরাঞ্চলের পাকা সয়াবিন ক্ষেত পানিতে ডুবে পচন ধরেছে। সয়াবিন পচা দুর্গন্ধে নষ্ট হচ্ছে পরিবেশ। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কিভাবে সামনের দিন কাটবে সে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সয়াবিন চাষিরা। ইতিমধ্যে প্রায় ৬শ’ হেক্টর সয়াবিন ক্ষেত পানিতে ডুবে পচে গেছে। যার বাজার মূল্যে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা। কিন্তু ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়ার আশঙ্কা করছেন জেলা কৃষি বিভাগ। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে জেলায় সয়াবিনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫০ হাজার ৫৭৫ হেক্টর। লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে ৪১ হাজার ২৭০ হেক্টর। গত বছরের তুলনায় ৯ হাজার হেক্টর কম। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ৭শ’ কোটি টাকা।  তোরাবগঞ্জ বাজারের সয়াবিন ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন চৌধুরী, মোসলেহ উদ্দিন, মোল্লারহাট বাজারের ব্যবসায়ী মনির হোসেন মোল্লাসহ কয়েকজন চাষি জানান, গত কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাকা সয়াবিন ক্ষেত পচে যাচ্ছে। ফসল তুলতে পারছে না চাষিরা। সয়াবিনের পচা দুর্গন্ধে বাসাবাড়ি ও রাস্তা দিয়ে চলাচল করা যাচ্ছে না। স্বপ্নের সয়াবিন ঘরে তুলতে না পারায় পরিবার পরিজন নিয়ে কিভাবে দিন কাটবে সে দুঃচিন্তায় আছে সয়াবিন চাষিরা। ঋণের টাকা নিয়ে দুঃচিন্তায় ও হতাশ হয়ে পড়েছেন তারা। গত বছরের টানা বৃষ্টির কারণেও লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে চাষিদের। তাদের অভিযোগ, খাল বিল সংস্কার না করায় বৃষ্টির পানি জমে তাদের অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে। গত তিন বছরের টানা লোকসানে আগামীতে ফসল ছেড়ে দেয়ার কথাও বলেন অনেকে।  লক্ষ্মীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বেলাল হোসেন খাঁন জানান, টানা বৃষ্টির কারণে ইতিমধ্যে প্রায় ৩৮ কোটি টাকার সয়াবিন নষ্ট হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে হিসেব করা হচ্ছে। এভাবে বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে আরো ক্ষতির পরিমাণ বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষি বিভাগ। তবে, ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকদের নানান পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে জানালেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।

দল ও জোট থেকে পদত্যাগ করলেন নাজিব

দলকে ভরাডুবি ঘটানোর পর মালয়েশিয়ায় ৬১ বছর ক্ষমতায় থাকা ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (ইউএমএনও) দলের প্রেসিডেন্ট পদ ত্যাগ করেছেন সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। একই বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা বারিশান ন্যাশনাল জোটের চেয়ারম্যান পদও ত্যাগ করেছেন তিনি। এ খবর দিয়েছে অনলাইন স্ট্রেইট টাইমস। এতে বলা হয়েছে, বুধবার অনুষ্ঠিত ১৪তম জাতীয় নির্বাচনে ভয়াবহ পরাজয় ঘটেছে তার। এরপর তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পরাজয়কে তিনি উপলব্ধি করতে পেরেছেন এবং নৈতিক দায়বোধ থেকে ওই দুটি পদ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নেন। বৃহস্পতিবার নতুন প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ শপথ না নেয়া পর্যন্ত এ পদে ছিলেন নাজিব রাজাক। আর এখন তার নামের আগে যুক্ত হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তার সঙ্গে দুর্নীতির ইঙ্গিত দিয়ে রিপোর্টে তাকে বিতর্কিত বা কনট্রোভার্সিয়াল প্রধানমন্ত্রী আখ্যায়িত করা হচ্ছে। তিনি দেশের বাইরে চলে যাওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আজ শনিবার তার একটি বেসরকারি বিমানে করে ইন্দোনেশিয়া যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। দেশের বাইরে যেতে পারবেন না তার স্ত্রীও। পরাজয় নিয়ে নাজিব রাজাক বলেছেন, নির্বাচনে ইউএমএনও এবং বিএন খুব বাজেভাবে পরাজিত হয়েছে। তাই ইউএমএনও দলের প্রেসিডেন্ট এবং বিএন জোটের চেয়ারম্যান পদ ত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। যেকোনো ব্যক্তি, যিনি একজন নেতা, তিনি যতি ব্যর্থ হন তাহলে ওই পরাজয় মেনে নেয়ার তার দায়িত্ব। আমি মুক্তমনে তা মেনে নিলাম।  অনেক কিছুকে দায়ী করা যায়। কিন্তু বাস্তবতা তা নয়। এটা রাজনীতির গেমের আরেক নাম। যা ঘটে গেছে তার জন্য আমরা দুঃখিত। আমরা একটি গণতান্ত্রিক দেশ। তাই মুক্তমনে সব মেনে নিচ্ছি। ১২ই মে শনিবার পুত্র ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ইউএমএনও দলের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেয়ায় বিএনের চেয়ারম্যান ও ইউএমএনও দলের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেবেন সাবেক উপ প্রধানমন্ত্রী আহমাদ জাহিদ হামিদি। অন্যদিকে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিশামুদ্দিন হোসেন ইউএমএনও দলের ডেপুটি প্রেসিডেন্ট এবং     বিএন জোটের ডেপুটি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। নতুন নেতৃত্বের প্রতি সমর্থন ও আস্থা রাখার জন্য ইউএমএনও এবং বিএন সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাজিব রাজাক। তাদেরকে তিনি বলেন, নতুন নেতৃত্বকে সমর্থন দিয়ে এটা নিশ্চিত করুন যে জোট যাতে যেকোনো রকম গুরুত্বর চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে উঠতে পারে। একই সময়ে তিনি ইউএমএনও এবং বিএনের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।

রিকশাচালকদের আয় কত? by পিয়াস সরকার

রাজধানীজুড়ে রিকশার বহর। রিকশার সংখ্যা কত? এর সংখ্যা বলা কঠিন। তবে এই রিকশাকে ঘিরে রাজধানীর লাখো পরিবারের স্বপ্ন। রিকশার প্যাডেলের ওপর তাদের আয়। আর  এ আয় দিয়ে চলে তাদের সংসার। খাওয়া, পড়ালেখা, চিকিৎসা সবই একটি রিকশাকে ঘিরে। প্রশ্ন জাগে, রাজধানী ঢাকায় রিকশাচালকের আয় কত? এ নিয়ে কথা হয় রিকশাচালকদের সঙ্গে। তাদের মুখেই ফুটে উঠেছে চিত্র। রিকশাচালক ইয়াকুব হোসেন। বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলায়। থাকেন আদাবরের গ্যারেজে। ঘড়িতে তখন রাত ১২টা। খাওয়া শেষে প্রস্তুতি নিচ্ছেন ঘুমানোর। গ্যারেজেই তাদের শোবার জায়গা। একটি স্যাঁতসেঁতে রুমে গাদাগাদি করে বিছানা করেছেন ৩৫ জন মানুষ। এতগুলো মানুষের জন্য রয়েছে মাত্র ২টা ফ্যান। লালমনিরহাট জেলার মমিনুল ইসলাম বলেন, ভাবতোচেন গরমত ঘুমাই ক্যামনে? সারা দিন যে পরিশ্রম হয় ফ্যান না তাকলেও ঘুম আইস্যে। আজিজুল ইসলাম, রোকন, কবিরুল ইসলাম জানান, ছারপোকা, তেলাপোকা, ইঁদুরের অত্যাচারে অতিষ্ঠ তারা। মশার জন্য মশারি থাকলেও ছারপোকা দমনে কোনো কিছুতেই কোনো কাজ হয় না।
ইয়াকুব হোসেন সকাল ৬টায় ঘুম থেকে ওঠেন। খাওয়া শেষে ৭টার দিকে বের হন রিকশা নিয়ে। উদ্দেশ্য অফিস, স্কুল, কলেজগামী যাত্রী নেয়া। দুপুর ২টা পর্যন্ত রিকশা চালিয়ে ফেরেন গ্যারেজে। গোসল খাওয়া শেষে আবার ৪টার দিকে বের হন রিকশা নিয়ে। ফেরেন রাত ১০টা ১১টার দিকে। আবারো গোসল শেষে খাওয়া দাওয়া, ঘুম। এভাবেই চলে ইয়াকুব আলীর জীবন। তিনি জানান, গ্রামে তার মা, বৌ ও দুই সন্তান আছে। মেয়ে রিক্তা পড়ে ক্লাস এইটে, ছোট ছেলে রবিন মাদরাসায়। সারা দিনে আয় হয় ৮শ’ থেকে হাজার টাকা। কোনো দিন বেশি- আবার ছুটির দিনে কম হয়। গ্যারেজে রিকশা ভাড়া দেয়া লাগে ১২০ টাকা। দিনে তিনবার খাওয়ার জন্য দিতে হয় ১২০ টাকা। অন্যান্য খরচ দিনে লাগে ১০০ টাকার মতো। দিন শেষে হাতে থাকে ৪ থেকে ৫শ’ টাকা। ঢাকায় তিনি রিকশা চালান মাস খানেকের মতো। তারপর আবার চলে যান গ্রামে। সেখানে করেন বর্গা চাষ। তিনি বলেন, এ্যামনে সংসার চলতোচে টানিটুনি। বয়স হওচে, জানো না কতদিন রিশকা চালবার পাইম। গ্রামোত একখ্যান দোকান দিবার ইচ্ছা আচে।
ইলিয়াস মোল্লার বাড়ি গাইবান্ধা জেলার ঢোলভাঙ্গায়। বয়স আনুমানিক ৫০। নদীভাঙনে বাড়ি জমিজমা হারিয়েছেন। নিরুপায় পরিবারটি এখন থাকেন মোহাম্মদপুর বেড়িবাঁধে। শরীর ছেড়ে দেয়ায় অন্য রিকশা চালকের তুলনায় ১৫০ থেকে ২০০ টাকা কম আয় হয় তার। স্ত্রী কাজ করেন মানুষের বাসায়, চার মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। কোনো রকম খেয়ে না খেয়ে চলছে তাদের পরিবার।
রিকশার শহর ঢাকা। এই তিন চাকার বাহন ২০১৫ সালে স্থান করে নিয়েছে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে। রাজধানীর ৪০ শতাংশ মানুষ চলাচল করে রিক্সায়। ১৮৬০ সালে মার্কিন নাগরিক জোনাথন স্কোবি জাপানে পালকির বিকল্প হিসেবে রিকশার প্রবর্তন করেন। জাপানি জিনরিকিশা থেকে এসেছে রিকশার নাম। জিন শব্দের অর্থ মানুষ, রিকি অর্থ শক্তি এবং শা অর্থ বাহন। ১৯০০ সালে মালপত্র পরিবহনের জন্য রিকশার প্রচলন ভারত উপমহাদেশে শুরু হলেও ১৯১৪ সালে প্রথম কলকাতায় যাত্রী পরিবহন শুরু হয়। ১৯১৯ সালে চট্টগ্রামে প্রথম রিকশা আসে। ঢাকায় রিকশা আসে নারায়ণগঞ্জ ও ময়মনসিংহের পাট ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে ১৯৪৪ সালে। শুরুতে রিকশা ছিল মাত্র ৩৭টি। এই শহরে বর্তমানে রিকশা চলে ৬ থেকে ৭ লাখ।
রিকশাচালক মিজানুর রহমান বলেন, আমরাতো মানুষ না, যে পারে সে আমাদের গায়ে হাত তোলে। কালকে একজন মোটরসাইকেলওয়ালার রিকশার সামনে হঠাৎ ব্রেক ধরে। কোনো কথা বলার আগেই চড় মেরে বসে। ওই সময় আমার কানে তালি লেগে যায়। মাথাঘুরে রাস্তার পাশে বসেছিলাম আধা ঘণ্টা।
রিকশাচালক ওমর বলেন, একদিন শিয়া মসজিদ পর্যন্ত রিকশা ঠিক করে ছিলেন একজন। কিন্তু সে যায় মোহাম্মদপুর হাউজিং সোসাইটিতে। অতিরিক্ত ভাড়া চাইলে গালাগালির সঙ্গে গায়ে হাত তুলে। একটা ঘুষি এসে লাগে ঠোটে। এত রক্ত বের হয়েছিল। বলতে বলতে অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন তিনি।
বৃষ্টি হলে ভাড়া বেশি, গরম হলে ভাড়া বেশি, ঈদে ভাড়া বেশি- এসব হচ্ছে রিকশাচালকদের প্রতিদিনের ঘটনা। এমন করে চলাচল করা যায় নাকি? তাদের বাড়তি ভাড়া দেব কোথা থেকে? বলেন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রোমানা রতি খান। শুধু দিনেই নয় রাতেও ঢাকার সড়কে চলে প্রচুর রিকশা। এসব রিকশা বের হয় রাত ১১টার দিকে আর চালানো শেষ করে সকাল ৭টার দিকে। গ্যারেজ ভাড়া দিতে হয় ১০০ টাকা। রিকশাচালক মিষ্টি বলেন, আমার চোখে সমস্যা, দিনের আলোতে সমস্যা হয় তাই রাতে রিকশা চালাই। রাতে চালানোর পরিশ্রম কম। যানজট থাকে না আরামে চালানো যায়। আবার দিনে যেখানে ভাড়া পাওয়া যায় ২০ টাকা রাতের ভাড়া ৩০ টাকা।
এসব রিকশা চালকরা কঠোর পরিশ্রম করে আয় করেন আবার চাইলেও করতে পারেন না সব সময় কাজ। পায়ের পেশিতে টান পড়ে তাদের। আবার রোদে পুড়তে হয়, বৃষ্টিতে ভিজতে হয়। তাই বিভিন্ন স্থান থেকে আসা এসব রিক্সাচালক অধিকাংশই ৪০-৫০ দিন কাজ করে চলে যান বাড়িতে। নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলার রিকশাচালক মালেক মিয়া বলেন, একবার আসি দুই মাসের মত থাকি। ১৮ হাজার ২০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি যাই। বাড়িতে ক্ষেত আছে চাষ করি। ঢাকায় রিকশা চালাতে আসি বছরে ৩ থেকে ৪ বার।
৭০ট াকা ভাড়া ঠিক করে ধানমন্ডি ২৭ থেকে রিং রোডে নিয়ে আসি। যাত্রী বলেন, একটু দাঁড়াও আমি ৫ মিনিটে আসতেছি। তোমার রিকশায় শ্যামলী যাব। এক ঘণ্টার উপরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, বাড়ির দারোয়ান বাড়িতেও ঢুকতে দেয় নাই। জানান, রিক্সা চালক মোখলেসুর রহমান। তিনি জানান, একবার রাত ৯টার দিকে অস্ত্র ঠেকিয়ে যাত্রীর মোবাইল, টাকা পয়সা নিয়ে যায়। আমার সারা দিনের কামাই ৭৮০ টাকাও নিয়ে যায়। পা ধরে বলেছিলাম, ২০০ টাকা দেন, গ্যারেজ ভাড়া দিব তাও দেয় নাই তারা।
শিক্ষার্থী অনামিকা প্রধান বলেন, একবার টাকা না নিয়ে বেরিয়েছিলাম হোস্টেল থেকে। পরীক্ষার তাড়া ছিল তাই আবার ফেরত আসতেও পারছিলাম না। রিকশাওয়ালা চাচাকে বললে বলেন, কোনো সমস্যা নাই মা। আবার কাল এই সময় আপনার হোস্টেলের সামনে দাঁড়াবো তখন একবারে দিয়েন। আমাকে অবাক করে যাবার সময় হাতে ১০০ টাকা ধরিয়ে দিয়ে বলেন, দুপুর হয়ে গেছে পরীক্ষা শেষে কিছু খাইয়েন আর বাকী টাকা দিয়ে যাওয়ার রিকশা ভাড়া দিয়েন। কিন্তু আর দেখা পাই নাই তার। প্রতিদিন তাকে খুঁজি।
আবার রিকশাচালক নিয়েই তার আছে ভিন্ন অভিজ্ঞতার গল্প। তিনি বলেন, বাজার করে রিকশায় ফিরে ব্যাগ নামাচ্ছিলাম। দুটা ব্যাগ ভেতরে নিতেই আরেকটি ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় রিকশাচালক।

যেভাবে কক্ষপথে যাবে লাল-সবুজের স্যাটেলাইট by কাজী সোহাগ

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা পরই বহু প্রতিক্ষার সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বাংলাদেশের দীর্ঘ দিনের লালিত স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আজ দিবাগত রাত ২টা১২ মিনিটে মহাকাশের পথে যাত্রা করবে লাল-সবুজের প্রথম স্যাটেলাইট- বঙ্গবন্ধু-১। যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি মহাকাশ অনুসন্ধান ও প্রযুক্তি কোম্পানি ‘স্পেসএক্স’ তাদের অত্যাধুনিক ফ্যালকন-৯ রকেটের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপন করবে। যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় কেনেডি স্পেস সেন্টারের কেইপ কেনাভেরাল লঞ্চপ্যাড থেকে ফ্যালকন-৯ বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটকে নিয়ে উড়াল দেবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট নির্মিত হয়েছে ফ্রান্সের তালেস এলিনিয়া স্পেস ফ্যাসিলিটিতে। নির্মাণ, পরীক্ষা, পর্যালোচনা ও হস্তান্তর শেষে বিশেষ কার্গো বিমানে করে সেটি কেইপ কেনাভেরালের লঞ্চ সাইটে পাঠানো হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ফ্যালকন-৯ রকেটে চারটি অংশ রয়েছে। ওপরের অংশে থাকবে স্যাটেলাইট, তারপর অ্যাডাপটর। এরপর স্টেজ-২ এবং সবচেয়ে নিচে থাকে স্টেজ-১। নির্ধারিত সময়ে রকেটটি সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই উৎক্ষেপণ করা হয়। এরপরই স্টেজ ওয়ান চালু হয়ে ওপরের দিকে উঠতে শুরু করবে রকেট। প্রচ- শক্তিতে ধাবিত হবে মহাকাশের দিকে। এ উৎক্ষেপণ দেখতে হলে আগ্রহীদের উৎক্ষেপণ স্থান থেকে তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থান নিতে হবে। সাত মিনিটের কম সময় দেখা যাবে। তার পরপরই উচ্চগতির রকেট চলে যাবে দৃষ্টিসীমার বাইরে। একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর রকেটের স্টেজ-১ খুলে নিচের দিকে নামতে থাকে। এরপর চালু হয় স্টেজ-২। পুনরায় ব্যবহারযোগ্য স্টেজ-১ পৃথিবীতে এলেও স্টেজ-২ একটি নির্দিষ্ট দূরত্ব পর্যন্ত স্যাটেলাইটকে নিয়ে গিয়ে মহাকাশেই থেকে যায়। দুটি ধাপে এই উৎক্ষেপণ প্রক্রিয়া শেষ হয় জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলেন, প্রথম ধাপটি হল লঞ্চ অ্যান্ড আরলি অরবিট ফেইজ (এলইওপি) এবং দ্বিতীয় ধাপ হচ্ছে স্যাটেলাইট ইন অরবিট। এলইওপি ধাপে ১০ দিন এবং পরের ধাপে ২০ দিন লাগবে।
উৎক্ষেপণ স্থান থেকে ৩৬ হাজার কিলোমিটার দূরে যাবে এই স্যাটেলাইট। ৩৫ হাজার ৭০০ কিলোমিটার যাওয়ার পর রকেটের স্টেজ-২ খুলে যাবে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় নির্মিত হয়েছে গ্রাউন্ড স্টেশন বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের জন্য গাজীপুর ও বেতবুনিয়ায় নির্মিত হয়েছে গ্রাউন্ড স্টেশন স্যাটেলাইট উম্মুক্ত হওয়ার পরপর এর নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি এবং কোরিয়ার তিনটি গ্রাউন্ড স্টেশনে চলে যাবে। এই তিন স্টেশন থেকে স্যাটেলাইটটিকে নিয়ন্ত্রণ করে এর নিজস্ব কক্ষপথে (১১৯.১ পূর্ব দ্রাঘিমাংশে অরবিটাল স্লট) স্থাপন করা হবে। স্যাটেলাইটটি পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২০ দিন লাগবে জানিয়ে তিনি আরো বলেন, স্যাটেলাইটটি সম্পূর্ণ চালু হওয়ার পর এর নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশের গ্রাউন্ড স্টেশনে হস্তান্তর করা হবে।

যৌন অপরাধের মহামারি জোরালো প্রতিবাদ নেই by মরিয়ম চম্পা

বাড়ছে ধর্ষণ। ধর্ষকের লোলুপ দৃষ্টি থেকে বাদ যাচ্ছে না শিশু-বৃদ্ধারাও। বিশ্লেষকরা মনে করছেন চরম নৈতিক অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার, বিচারহীনতার কারণেই ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে। একই সঙ্গে সমাজে জোরালো প্রতিবাদ না হওয়ায় এ ধরনের অপরাধ বেড়ে যাওয়ার কারণ।
২০১৭ সালে প্রতিদিন গড়ে তিনজনেরও বেশি ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। চলতি বছরেও এ ধারা অব্যাহত রয়েছে।
গত ৮ই এপ্রিল দিনাজপুরের বীরগঞ্জে মোবাইলফোনে পরিচয়ের পর বন্ধুত্বের ফাঁদে ফেলে এক কিশোরীকে ডেকে এনে দলবেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ৬ই এপ্রিল ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় স্বামীকে ঘরে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় মামলার পর দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৫ই এপ্রিল লক্ষ্মীপুরে ১৩ বছরের এক মাদ্‌রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। একই দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে এক প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্বপন নামের এক যুবককে আটক করে শাহ্‌বাগ থানা পুলিশ।
২রা এপ্রিল সাভারের ভাকুর্তার চাইরা গুদারাঘাট এলাকায় এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণ করে চার যুবক। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে আটক করেছে। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার ভজনপুর ডাঙ্গাপড়া এলাকার এক কিশোরীকে ৬ মাস ধরে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা। এ ঘটনায় ৩রা এপ্রিল কিশোরীর মা বাদী হয়ে ধর্ষকসহ চারজনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেছেন। ১লা এপ্রিল চট্টগ্রামের বাঁশখালী ইকোপার্কে এক স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। ধর্ষিতার চিৎকারে উপস্থিত পর্যটক ও বন কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় পুলিশ তিন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে। একইদিনে লক্ষ্মীপুরে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে এক শিক্ষককে আটক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ পরিসংখ্যান গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ নির্ভর। এর বাইরের চিত্র আরো ভয়াবহ।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) মানবাধিকার লঙ্ঘনের সংখ্যাগত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালের প্রথম তিন মাসে সারা দেশে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮৭ নারী। এর মধ্যে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৯ জনকে আর আত্মহত্যা করেছেন দু’জন। এছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে ২১ নারীর ওপর।
গত সাড়ে ৫ বছরে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) সারা দেশে ধর্ষণের যে চিত্র তুলে ধরেছে তা রীতিমতো ভয়াবহ। তাদের দেয়া পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত সাড়ে ৫ বছরে দেশে ৫ হাজার ২৪৮টি ধর্ষণ ও গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা (বিএমবিএস) বলছে, গত ৬ মাসে ১৪১ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ১৪ জনকে আর গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৪৩ নারী। সবচেয়ে বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ঢাকা জেলায়। ঢাকায় ২৫টি, চট্টগ্রামে এবং নারায়ণগঞ্জে ৯টি করে, খুলনায় ৬টি এবং যশোর ও সিলেটে ৫টি করে।
আসকের ভিন্ন এক পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালে সবচেয়ে বেশি ২০৫ নারী লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন। বাকি চার বছরের মধ্যে ২০১২ সালে ১৮৩ জন, ২০১৩ সালে ১২০, ২০১৪ সালে ১১৫, ২০১৬ সালে ১৩৮ এবং ২০১৭ সালে ১৫১ জন লাঞ্ছনার শিকার হন। ২০১৮ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে ১৯ নারী লাঞ্ছনার শিকার হন। এ ছাড়া যৌন হায়রানির কারণে এ পর্যন্ত ৪৬ জন মেয়ের স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে ৮৬ জন, ২০১৩ সালে ১৭৯, ২০১৪ সালে ১৯৯, ২০১৫ সালে ৫২১, ২০১৬ সালে ৪৪৬ এবং ২০১৭ তে ৫৯৩ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে। গত বছর প্রতি মাসে গড়ে ২৮ শিশুকে হত্যা এবং ৪৯ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়।
বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের পরিচালক আবদুস শহীদ মাহমুদ বলেন, ২০১৭ সালে ৫৯৩ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে যার মধ্যে ৭০ শিশু গণধর্ষিত হয়েছে। ৪৪ প্রতিবন্ধী বা বিশেষ শিশু ধর্ষিত হয়েছে। ২২ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং সাত জন ধর্ষণের অপমান সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করেছে। এ ছাড়াও ৭২ শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে। শুধুমাত্র ২০১৭ সালে ৫১ শিশু ইভটিজিং এবং ৯০ শিশু যৌন নিপীড়ন-হয়রানির শিকার হয়েছে। যার মধ্যে ২৫ শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছে। সেইসঙ্গে অব্যাহতভাবে বেড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতকালে বখাটেদের উৎপাত এবং পর্নোগ্রাফির শিকারের ঘটনা। ২০১৭ সালে বখাটেদের হাতে লাঞ্ছনা, মারধর এমনকি হামলায় জখম হয়েছে ৬২ শিশু এবং প্রতিবাদ বা প্রতিহত করতে গিয়ে বখাটেদের হামলায় আহত হয়েছে ৫০-এর বেশি অভিভাবক।
২০১৬ সালে ৩৫৮৯ শিশু বিভিন্ন ধরনের সহিংসতা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিল, যার মধ্যে ১৪৪১ শিশু অপমৃত্যু এবং ৬৮৬ শিশু যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিল। যেটা ২০১৭ সালে সামগ্রিকভাবে শিশু নির্যাতন-নিপীড়নের ঘটনা বেড়েছে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ, যার মধ্যে শিশু অপমৃত্যু এবং যৌন নির্যাতন বেড়েছে যথাক্রমে ১৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ এবং ৩০ দশমিক ৩২ শতাংশ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. গীতি আরা নাসরীন বলেন, নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, এর সংখ্যাগত ও মাত্রাগত পরিবর্তন হয়েছে। নারীকে আক্রমণের ধরন আরও হিংস্র হয়ে উঠেছে। ব্লেড দিয়ে পোশাক কেটে দেয়া বা গায়ে জ্বলন্ত সিগারেট ফেলে দেয়াসহ বিভিন্ন ভাবে তা প্রকাশ পাচ্ছে।
বাংলাদেশ হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী ও মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট এলিনা খান বলেন, ধর্ষণের যে প্রতিবাদ নেই এটা বলা যাবে না। প্রতিবাদ আছে। তবে সেটা কনটিনিউয়াস প্রসেসে না হওয়ায় খুব একটা জোরালো দেখায় না। কারণ ধর্ষণের ঘটনা ধারাবাহিকভাবে একটার পর একটা ঘটেই যাচ্ছে। প্রথম একটি ঘটনা নিয়ে যখন ভিক্টিম ও সাধারণ মানুষ ভয়েস রেইস করে তার রেস কাটতে না কাটতে আবার নতুন কোন ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে চাপ ও ক্ষোভ থাকলেও সেটা তারা অনুকূল পরিবেশের অভাবে প্রকাশ করতে পারে না। ফলে আন্দোলন, বিচার কার্যক্রম, গ্রেপ্তার, সবকিছুতেই ঢিলেঢালা ভাব দেখা যায় এবং ভিক্টিম সঠিক বিচার পায় না। কখনো কখনো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবে দোষীরা পার পেয়ে যায়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ধর্ষণের প্রতিবাদ হচ্ছে। তবে ধর্ষণটা হচ্ছে অনেকটা ক্ষমতাহীনদের উপর ক্ষমতাসীনদের শক্তি খাটানোর মতো। ধর্ষণ বন্ধে বিচারিক তদন্ত প্রক্রিয়ায় মধ্যে কোনো সমস্যা আছে কি না এবং ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে কেমন আইনি সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে। ধর্ষণের প্রতিবাদটা শুরুতে হলেও শেষ পর্যন্ত আর থাকে না। একটা পর্যায়ে গিয়ে থেমে যায়। এক্ষেত্রে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত প্রতিবাদ বা আন্দোলনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে।
বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা সোহেল বলেন, ধর্ষণের বিরুদ্ধে দেশের সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে যেভাবে আইন হয়েছে যে, শিশু ধর্ষণের একমাত্র শাস্তি হচ্ছে ধর্ষককে সঙ্গে সঙ্গে ফাঁসি দেয়া। একইভাবে বাংলাদেশেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট ব্লাস্ট-এ কর্মরত আইনজীবী শারমিন আক্তার বলেন, ধর্ষণের বিষয়ে কিছু কিছু ক্ষেত্রে প্রতিবাদ থাকলেও পাবলিকলি সেটা নেই। অনেকেই এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে চাইলেও সাহস পায় না। সাধারণ মেয়েরা রাস্তায় না নামলেও ইদানীং ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা সোচ্চার হয়ে উঠেছে। ধর্ষণ নামক ব্যাধি দূর করার জন্য সর্বপ্রথম যে বিষয়টা বেশি দরকার তা হলো পারিবারিক শিক্ষা। শিশু বয়স থেকেই যদি নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ তৈরি করতে পারিবারিক শিক্ষায় উদ্বদ্ধ করা হয় তাহলে হয়তো ধর্ষণ বহুলাংশে কমে আসবে।

ইতিহাসের সাক্ষী হতে নির্ঘুম রাত by কাজী সোহাগ

চূড়ান্ত ক্ষণগণনা প্রায় শেষের দিকে। এ সময় থমকে গেল সেকেন্ডের কাঁটা। রকেটের যাত্রা শুরু হওয়ার সময়েই তা বন্ধ হয়ে গেল। জানানো হলো, আপাতত উড়ছে না বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট। সামান্য কারিগরি সমস্যার কথা উল্লেখ করে বৃহস্পতিবার রাতে নির্ধারিত সময়ের এক মিনিট আগে স্থগিত করা হয় উৎক্ষেপণ। তবে শুক্রবার দিবাগত রাত বাংলাদেশ সময় ২টা ১৪ মিনিটে স্যাটেলাইটটি আবার উৎক্ষেপণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। স্পেসএক্স টুইট বার্তায় জানিয়েছে, শেষ মিনিটে কিছু কারিগরি সমস্যার কারণে উৎক্ষেপণ স্থগিত রাখা হয়েছে। রকেট ও স্যাটেলাইট ভালো অবস্থায় আছে। ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে নির্ঘুম রাত কেটেছে অনেকের। টেলিভিশন ও অনলাইনের লাইভে চোখ ছিলো সবার। প্রায় সব সংবাদ মাধ্যমের চোখও ছিলো স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দিকে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মুহূর্তটি বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ দেশের সব ক’টি বেসরকারি টেলিভিশন সরাসরি সমপ্রচার করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলো। দুর্লভ এ মুহূর্ত সরাসরি প্রচারের ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দেশের সব জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছিলো। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সও উৎক্ষেপণ মুহূর্তটি সরাসরি সমপ্রচার করার আগাম ঘোষণা দেয়। এদিকে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ নিয়ে সারা দেশের মানুষের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দৃশ্য দেখতে গভীর রাতে ঢাকার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা টেলিভিশনের বড় পর্দার সামনে ছিলেন। এমন দৃশ্য চট্টগ্রাম, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে দেখা গেছে। বাংলাদেশ থেকে ওই অনুষ্ঠান কাভার করতে যাওয়া কয়েক সাংবাদিক মানবজমিনকে জানিয়েছেন ঐতিহাসিক ওই মুহূর্তের সাক্ষী হতে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারে হাজির ছিলেন চার শতাধিক বাংলাদেশি।
তাদের কেউ যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী, আবার কেউ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গেছেন। তারা জানান, কেনেডি স্পেস সেন্টারের দু’টি স্থান থেকে দর্শনার্থীদের জন্য স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ সরাসরি দেখার ব্যবস্থা ছিল। একটি স্থান অ্যাপোলো বা স্যাটার্ন-৫ সেন্টার, উৎক্ষেপণস্থল থেকে যার দূরত্ব ৬ দশমিক ২৭ কিলোমিটার। এ ছাড়া কেনেডি স্পেস সেন্টারের মূল দর্শনার্থী ভবন (মেইন ভিজিটর কমপ্লেক্স) থেকেও স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দেখার ব্যবস্থা ছিল। উৎক্ষেপণস্থল থেকে এটির দূরত্ব ১২ কিলোমিটার। গণমাধ্যমকর্মীরা জানান, বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকালে বাংলাদেশের গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে যাওয়া হয় লঞ্চিং প্যাড, স্যাটেলাইট ও রকেট পরিদর্শনে। একই সময়ে লঞ্চিং প্যাড দেখতে আসেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়, তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদসহ বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। এদিকে, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ স্থগিত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। উৎক্ষেপণের মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করা খুবই সাধারণ বিষয় এবং এ নিয়ে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই বলে তিনি জানান ওই পোস্টে।
বাংলায় দেয়া পোস্টে সজীব ওয়াজেদ জয় লিখেছেন, উৎক্ষেপণের শেষ মুহূর্তগুলো কম্পিউটার দ্বারা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। হিসাবে যদি একটুও এদিক-সেদিক পাওয়া যায়, তাহলে কম্পিউটার উৎক্ষেপণ থেকে বিরত থাকে। আজ যেমন নির্ধারিত সময়ের ঠিক ৪২ সেকেন্ড আগে নিয়ন্ত্রণকারী কম্পিউটার উৎক্ষেপণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। স্পেসএক্স সবকিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে আগামীকাল (শুক্রবার) একই সময়ে আবারও আমাদের প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ বহনকারী রকেটটি উৎক্ষেপণের চেষ্টা চালাবে। যেহেতু এই ধরনের বিষয়ে কোনো ঝুঁকি নেয়া যায় না, সেহেতু উৎক্ষেপণের মোক্ষম সময়ের জন্য অপেক্ষা করা খুবই সাধারণ বিষয়, চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। তিনি এ নিয়ে ইংরেজিতেও পোস্ট দিয়েছেন। বিটিআরসি জানিয়েছে, সাধারণত স্যাটেলাইট মহাকাশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সব সময়ই একটি অতিরিক্ত দিন হাতে রাখা হয়। কারণ, প্রথম দিন কোনো সমস্যা হলে যাতে দ্বিতীয় দিনটি কাজে লাগানো যায়। আগে থেকেই স্পেসএক্স জানিয়ে রেখেছিল, দ্বিতীয় দিনটি (ব্যাকআপ ডে) শুক্রবার। এদিকে উৎক্ষেপণ স্থগিতের পর পরই সংবাদ সম্মেলন করেন বিটিআরসি চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদ।
তিনি বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে স্যাটেলাইট ও রকেট সবকিছু কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। এখানে মানুষের হাত দেয়ার কোনো উপায় নাই। কম্পিউটারেই বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সেই সিস্টেমের মধ্যেই হঠাৎ সামান্য ত্রুটি দেখা দেয়। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের দায়িত্বে থাকা স্পেসএক্স-এর বরাত দিয়ে জানানো হয়, ভালো খবর হলো- স্যাটেলাইটও ঠিক আছে, রকেটও ঠিক আছে, সেখানে কোনো সমস্যা নেই। তবে গ্রাউন্ড সিস্টেমে সামান্য একটু ত্রুটি দেখা গেছে। এ কারণে রিজার্ভ ডে শুক্রবার আবার তারা উৎক্ষেপণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উড়ানোর প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছিলো। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের মধ্যদিয়ে ৫৭তম দেশ হিসেবে স্যাটেলাইটের মালিক দেশগুলোর অভিজাত ক্লাবে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। স্পেসএক্সের যে মহাকাশযানে করে স্যাটেলাইটটি মহাকাশে যাবে, সেটি হলো ফ্যালকন ৯ ব্লক ৫। দু’টি পর্যায়ে এ উৎক্ষেপণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রথম পর্যায়টি সম্পন্ন হতে সময় লাগবে ১০ দিন এবং দ্বিতীয় পর্যায়ে লাগবে ২০ দিনের মতো। বিটিআরসি জানিয়েছে, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট ও টেলিযোগাযোগ সেবার সমপ্রসারণ করা সম্ভব হবে। দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ হবে। স্যাটেলাইটভিত্তিক টেলিভিশন সেবা ডিটিএইচ (ডিরেক্ট টু হোম) ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজেও এ স্যাটেলাইটকে কাজে লাগানো যাবে। মহাকাশে বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের অবস্থান হবে ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে। এই কক্ষপথ থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও সার্কভুক্ত সব দেশ, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মিয়ানমার, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তুর্কমিনস্তান ও কাজাখস্তানের কিছু অংশ এই স্যাটেলাইটের আওতায় আসবে। দেশের প্রথম এ স্যাটেলাইট তৈরিতে খরচ ধরা হয় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩১৫ কোটি টাকা বাংলাদেশ সরকার ও বাকি ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা ঋণ হিসেবে নেয়া হয়েছে। এ ঋণ দিয়েছে বহুজাতিক ব্যাংক এইচএসবিসি। তবে শেষ পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নে খরচ হয়েছে ২ হাজার ৭৬৫ কোটি টাকা।
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের মূল অবকাঠামো তৈরি করেছে ফ্রান্সের মহাকাশ সংস্থা থ্যালেস অ্যালেনিয়া স্পেস। স্যাটেলাইট তৈরির কাজ শেষে গত ৩০শে মার্চ এটি উৎক্ষেপণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাঠানো হয়। সেখানে আরেক মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের রকেটে করে স্যাটেলাইটটি শুক্রবার রাতে মহাকাশে যেতে পারে। স্যাটেলাইট তৈরি এবং ওড়ানোর কাজটি বিদেশে হলেও এটি নিয়ন্ত্রণ করা হবে বাংলাদেশ থেকেই। এজন্য গাজীপুরের জয়দেবপুরে তৈরি গ্রাউন্ড কনট্রোল স্টেশন (ভূমি থেকে নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা) স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রণের মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। আর বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হবে রাঙ্গামাটির বেতবুনিয়া গ্রাউন্ড স্টেশন। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার থাকবে, যার ২০টি বাংলাদেশের ব্যবহারের জন্য রাখা হবে এবং বাকিগুলো ভাড়া দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব হবে। এক্ষেত্রে নেপাল, মিয়ানমার ও ভুটানের কাছে স্যাটেলাইট সেবা দিয়ে প্রায় পাঁচ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

রাজকীয় ক্ষমা পাচ্ছেন আনোয়ার ইব্রাহীম

মালেশিয়ায় কারাবন্দি রাজনৈতিক নেতা আনোয়ার ইব্রাহীমের সাজা মওকুফ করতে সম্মত হয়েছেন দেশটির রাজা। শুক্রবার নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ এই ঘোষণা দেন। ধারণা করা হচ্ছে, মুক্তি পেলে আনোয়ার ইব্রাহীমের হাতে প্রধানমন্ত্রিত্বের দায়িত্ব দেবেন মাহাথির। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
খবরে বলা হয়, মালেশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদের ঐতিহাসিক বিজয়ের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ২০১৫ সালে আনোয়ার ইব্রাহিমকে উদ্দেশ্যমূলক একটি মামলায় কারাগারে পাঠান প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাক। সাজা শেষে এ বছরের জুনে তার মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে। কিন্তু মাহাথিরের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন ও নজিরবিহীনভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার ফলে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই মুক্তি পেতে যাচ্ছেন আনোয়ার।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে মাহাথির বলেন, বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সময় রাজা আভাস দিয়েছেন যে, আনোয়ার ইব্রাহীমের সাজা দ্রুতই মওকুফ করা হবে। আর রাজার পক্ষ থেকে ক্ষমা ঘোষণার অর্থ হলো, তিনি আবারো রাজনীতিতে অংশ নিতে পারবেন। রাজকীয় ক্ষমা না পেলে তাকে কমপক্ষে পাঁচ বছর রাজনীতিতে নিষিদ্ধ থাকতে হতো। মাহাথির বলেন, তার ক্ষমা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আমরা দ্রুতই শুরু করবো। ক্ষমার পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি মুক্তি পাবেন। এছাড়া, শনিবারের মধ্যে ১০ সদস্যের মন্ত্রিসভা চূড়ান্ত করা হবে বলে জানান মাহাথির।
উল্লেখ্য, আগের মেয়াদে মাহাথিরের উপপ্রধানমন্ত্রী ছিলেন আনোয়ার ইব্রাহীম। পরে তাদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দেয়। ১৯৯৮ সালে দুর্নীতি ও সমকামিতার অভিযোগে আনোয়ারকে জেলে প্রেরণ করেন মাহাথির। কিন্তু দুর্নীতিগ্রস্ত নাজিব রাজ্জাককে উৎখাত করতে আবারো মিত্রে পরিণত হন আনোয়ার ও মাহাথির। ঐতিহাসিক নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজ্জাককে পরাজিত করেন তারা। বৃহস্পতিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন মাহাথির। বন্দী অবস্থায় হাসপাতালের বেডে শুয়ে টেলিভিশনে মাহাথিরের শপথ গ্রহণের অনুষ্ঠান দেখেন আনোয়ার। রাজকীয় ক্ষমা পেলে তার হাতেই প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব অর্পণ করবেন প্রবীণ মাহাথির মোহাম্মদ।

দেশে দুই লাখ নার্সের ঘাটতি by ফরিদ উদ্দিন আহমেদ

আন্তর্জাতিক নার্স দিবস আজ। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে পালিত হচ্ছে। ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের জন্মদিন উদযাপন উপলক্ষে বহু দেশে দিনটি পালন করা হয়। আধুনিক নার্সিং সেবার সূচনা করেছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল। সেবা পরিদপ্তর কেন্দ্রীয়ভাবে দিবসটি পালন করবে। বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন এবং নার্সদের অন্যান্য সংগঠন শোভাযাত্রাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দিবসটিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকাল ১০টায় মুগদায় জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং আন্তর্জাতিক দিবসটির শুভ উদ্বোধন করবেন বলে নার্সেস নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘নার্সেস বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর-স্বাস্থ্য মানবিক অধিকার।’ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ নার্সের ঘাটতি রয়েছে।
দিবসটি সামনে রেখে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে নার্স হচ্ছে একক ও সর্ববৃহৎ পেশা। দক্ষ নার্সদের গুরুত্ব অপরিহার্য। নার্সদের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে সরকারকে জরুরি উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলেছে সংগঠনটি। সূত্র মতে, দেশে ২০১০ সালে প্রায় দুই হাজার জন নার্স, ২০১৩ সালে ৪১শ’ জন, এবং ২০১৬ সালে প্রায় ১০ হাজার নার্সকে সরকারি চাকরিতে নিয়োগ দেয়া হলেও এখনো রোগীর তুলনায় নার্সের সংখ্যা কম রয়েছে। আরো প্রায় ৫ হাজার সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগের কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। যে হারে দিন দিন রোগী বাড়ছে সে অনুযায়ী হাসপাতালগুলোতে নার্স নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ নার্সের ঘাটতি রয়েছে। স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সের আনুপাতিক হার হওয়ার কথা একজন চিকিৎসক থাকলে নার্স থাকবেন তিনজন। কিন্তু আমাদের দেশে চিকিৎসকের তুলনায় নার্সের সংখ্যা অনেক কম। তিনজন রোগীর বিপরীতে একজন নার্স থাকার কথা। সেখানে চিত্র উল্টো। কোনো কোনো হাসপাতালে ২০ জন রোগীর বিপরীতে নার্স মাত্র একজন। এ ছাড়া নার্সদের দক্ষ করে গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ প্রদান ব্যবস্থা খুবই নগণ্য। তাদের আবাসনের ব্যবস্থা, ট্রান্সপোর্ট সুবিধা, ভালো কাজের মূল্যায়ন ও মনিটরিংয়ের ভিত্তিতে অনিয়মের জন্য কোনো শান্তির ব্যবস্থা না থাকার কারণে রোগীরা তাদের কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। একই সঙ্গে নার্সরা তাদের এ পেশাকে সেবা নয় চাকরি হিসেবে গণ্য করছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, নার্স সংকট সমাধানে সরকার একযোগে যে নার্স নিয়োগ দিয়েছে তা অনেক প্রশংসনীয়। নার্সিং পেশা অনেক বড় মহৎ পেশা। তবে নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালনকারীরা এ পেশাকে সেবা নয়, ‘চাকরি’ হিসেবে গণ্য করছেন। এ সমস্যার উত্তরণে নার্সিং শিক্ষা কোর্সে বিহেভিআর চেঞ্জ কমিউনিকেশন (বিসিসি) বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা দরকার। কারণ, পেশাগত জীবনে দায়িত্ব ও যথোচিত আচার-আচরণ সম্পর্কেও শিক্ষাগ্রহণ করতে হবে নার্সদের।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র মতে, সারা দেশে সরকারি পর্যায়ে ৬০৩টি এবং বেসরকারি পর্যায়ে ৪ হাজার ২৮০টি হাসপাতাল রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৪৮ হাজার ৮৮১টি, বেসরকারি হাসপাতালে ৭৬ হাজার ৬২০টিসহ মোট এক লাখ ২৩ হাজার ৪৯১টি শয্যা রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিয়ে থাকেন শয্যার অতিরিক্ত রোগী। কিন্তু সেই তুলনায় দেশে পর্যাপ্তসংখ্যক নার্স নেই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রোগীদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রয়োজনের সময় নার্সদের ডেকেও সাড়া পাওয়া যায় না। অনেক সময় তারা গল্পগুজব নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। নিজেদের কাজ করতে ওয়ার্ডবয়-আয়াদের নির্দেশ দেয়া হয়। এ ছাড়া আরো নানা অভিযোগ রয়েছে এ মহৎ এই পেশায় নিযুক্ত অনেকের বিরুদ্ধে। তবে কিছু নার্স আছেন তাদের কাজ মহৎ ব্যক্তিদের মতোই। বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) ১৯৭৪ সাল থেকে বাংলাদেশে দিবসটি পালন করে আসছে। অতীতে ঢাকায় স্বল্প পরিসরে দিবসটি পালিত হলেও বর্তমানে সরকারি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ইনস্টিটিউশনে দিবসটি উদযাপন করছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ঢাকা নার্সিং কলেজের সঙ্গে প্রশংসা সমন্বয় করে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন (বিএনএ) সার্বিক সহযোগিতার দিবসটি পালনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আধুনিক নার্সিংয়ের প্রবর্তক ফ্লোরেন্স নাইটিংগেলের সেবাকর্মের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তারই জন্মদিন ১২ই মে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস পালন করা হয়। ১৮২০ সালের এই দিনে ইতালীর ফ্লোরেন্স শহরে সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন তিনি।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক বলেন, দেশে নার্সিংয়ে শিক্ষার্থীদের আচার-আচরণে পারিবারিক শিক্ষারও অভাব রয়েছে। নার্সিং পেশায় আসা উচিত সেবার লক্ষ্য নিয়ে। কিন্তু আমাদের দেশে যারা আসছেন, তারা চাকরির লক্ষ্য নিয়ে আসছেন। এ ছাড়া এখানে নার্সিং পেশাটি এখনো অনেক অবহেলিত। দক্ষতা ও জ্ঞানের অভাবও রয়েছে। এমনও দেখা গেছে, একজন নার্স একটি বিভাগে কিছু দিন কাজ করার পর যখন দক্ষ হয়ে ওঠেন, তখন তাকে অন্য কোনো বিভাগে সরিয়ে দেয়া হয়। প্রত্যাশিত সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে শুধু নার্সদের দোষ দিলেই হবে না। রোগী ও স্বজনদেরও দায়িত্ব আছে। কিন্তু তারা অনেক সময়ই নার্সদের তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেন। একজন নার্সের মেজাজ খারাপ থাকলে ভালো সেবা মিলবে না।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতাল শাখার সভাপতি মোহাম্মদ কামাল হোসেন পাটোয়ারী মানবজমিনকে বলেন, বাংলাদেশে এখনও নার্সের সংকট রয়েছে। চিকিৎসক অনুপাতে দেশে প্রায় দু’লাখ নার্সের সংকট রয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পদক মোহাম্মদ আসাদুজ্জানান জুয়েল বলেন, বাংলাদেশের নার্সদের উন্নয়নে সবচেয়ে বেশি আন্তরিক, নার্স দরদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী আজ জাতীয় নার্সিং উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান, মুগদা-এর শুভ উদ্বোধন করবেন। নেতৃবৃন্দ একই সঙ্গে নার্সদের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়েরও দাবি করেন।

খুলনায় গ্রেপ্তারে নাজেহাল বিএনপি by রোকনুজ্জামান পিয়াস

খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে পুলিশের গ্রেপ্তার অভিযানে নাজেহাল বিএনপি। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকে নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চলছে মহানগরী ও এর আশপাশের এলাকায়। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে তীব্রতা বাড়ছে অভিযানের। এসব অভিযানের বেশির ভাগই চালানো হচ্ছে রাতের বেলা। প্রতিরাতেই এক বা একাধিক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হচ্ছেন। বাদ যাচ্ছেন না নির্বাচনী এজেন্টও। ইতিমধ্যে গত এক সপ্তাহে বেশ কয়েকজন কাউন্সিলর প্রার্থীর এজেন্ট গ্রেপ্তার হয়েছেন। সন্ধ্যা নেমে আসলেই তাই আতঙ্ক দেখা দেয় দলীয় নেতাকর্মী, মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর কর্মী-সমর্থক এবং নির্বাচনী এজেন্টদের মাঝে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দিনের বেলায় প্রচারণায় ব্যস্ত থাকলেও গ্রেপ্তার এড়াতে রাতে আত্মগোপনে থাকছেন নেতাকর্মীরা। এই গ্রেপ্তার অভিযানের বিরুদ্ধে বরাবরই অভিযোগ করে আসছে খুলনা বিএনপিসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। বলছেন, গত একমাসে তাদের প্রায় আড়াই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এরমধ্যে গত ৪-৫ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী। পাশাপাশি বাড়িঘরে তাণ্ডব চালানোর অভিযোগও করছেন তারা। এ ব্যাপারে প্রতিদিনই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো প্রতিকার মিলছে না। এ বিষয়ে খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার ইউনুচ আলী বলেন, আমরা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা পুলিশ কমিশনারকে জানিয়ে দিয়েছি। আমরা বলেছি, ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ছাড়া যেন কাউকে গ্রেপ্তার করা না হয়। অহেতুক হয়রানি করার জন্য যেন কাউকে আটক করা না হয়। এভাবে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের যেন ছেড়ে দেয়া হয়। এখন আমরা দেখব পুলিশ কি ভূমিকা পালন করে। খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর দাবি করেছেন, যাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে তারা মাদকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি। তিনি বলেন, হয়রানি করার জন্য পুলিশ কাউকে আটক করছে না।
সূত্র জানিয়েছে, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। তবে, সে সময় অভিযান খুব বেশি জোরদার ছিল না। এরপর মনোনয়নপত্র দাখিলের পর গ্রেপ্তার অভিযান কিছুটা জোরদার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মনোনয়ন প্রত্যাহার, প্রতীক বরাদ্দ ও আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরুর পর অভিযানে আরো গতি আসে। আর নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে বর্তমানে প্রতিদিনই গ্রেপ্তার হচ্ছেন নেতাকর্মীরা। বিএনপি এই গ্রেপ্তারকে গণগ্রেপ্তার বলে আখ্যায়িত করছে। শুধু মহানগরই নয়, জেলা থেকে যেসব নেতাকর্মী শহরে এসে ধানের শীষের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে, নিজ নিজ থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ তাদেরকেও গ্রেপ্তার করেছে।
২২শে এপ্রিল থেকে উল্লেখযোগ্য যেসব নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন তাদের একটি তালিকা এই প্রতিবেদকের কাছে এসেছে। তবে, মহানগর বিএনপি বলছে, এই তালিকার বাইরেও তাদের অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন। এ ছাড়া মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পক্ষে প্রচারণার দায়ে অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তিকেও হুমকি-ধামকি ও মামলা-হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছেন।
২২শে এপ্রিল গ্রেপ্তার হন খুলনা মহানগর বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদ পারভেজ বাবু। ৩০শে এপ্রিল প্রচারণায় অংশ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নগরীর গল্লামারী থেকে ডিবির হাতে গ্রেপ্তার হন বাগেরহাট জেলা যুবদল সভাপতি মেহবুবুল হক কিশোর। ২রা মে রাতে নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার হন মহানগর বিএনপির প্রচার সম্পাদক ও সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ। একই রাতে গ্রেপ্তার হন মহানগর যুবদলের সভাপতি মাহবুব হাসান পিয়ারু, সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপি নেতা মো. অহেদুজ্জামান, দৌলতপুর থানা বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মিঠু, দৌলতপুর থানা যুবদল নেতা মো. ফারুক, সদর থানা শ্রমিক দল নেতা আবু তালেব, সদর থানা শ্রমিক দল নেতা ফারুক হোসেন, সদর থানা শ্রমিক দল নেতা গাউস হোসেন, লবনচরা থানা বিএনপি নেতা নাসির হোসেন, খালিশপুর থানার ১০নং ওয়ার্ড বাস্তুহারা ইউনিট বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা ভূট্টো, খালিশপুর থানা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সান্টু, খালিশপুর থানা যুবদল নেতা শুকুর আলী, খালিশপুর থানা বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম, খালিশপুর থানা যুবদল নেতা সুমন। ৮ই মে রাতে গ্রেপ্তার হন মহানগর বিএনপির সহ-ত্রাণ ও পুনর্বাসন সম্পাদক একরামুল কবির মিল্টন, সোনাডাঙ্গা থানার ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন টারজান, সদর থানার ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আলম হাওলাদার, দৌলতপুর থানা শ্রমিক দল নেতা লোকমান হোসেন।
৯ই মে দুপুরে গোয়েন্দা পুলিশ নিজ বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে মহানগর বিএনপির সহ-শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আবদুল আজিজ সুমনকে। একইদিন রাতে খালিশপুর থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মহানগর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুর রহমান রিপন, খালিশপুর থানার ১০নং ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জোহা জিহাদ, খালিশপুর থানার ৯নং ওয়ার্ডের বাস্তহারা ইউনিট বিএনপি নেতা ও মেয়র প্রার্থীর পোলিং এজেন্ট ইকবাল হোসেন, সদর থানার ২৯নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা কামরুল বিশ্বাস, সদর থানার ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা শুকুর আলী।
৩১নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন, খানজাহান আলী থানার ২নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা আলী আকবর, মুন্না ও শহিদুল ইসলাম, দৌলতপুর থানার ৩নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মো. ডালিম ও মো. মাসুদ। বৃহস্পতিবার দিনের বেলা গ্রেপ্তার হন সদর থানার ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম খোকন, ২৯নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মাহাদী হাসান সুমন, ২২নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সাহারুজ্জামান মুকুল, সোনাডাঙ্গা থানার ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা সাজ্জাদ আলী, সদর থানার ২৭নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা গোলাম মোস্তফা মোস্তফা, ৩০নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা শাহ আলম, ২৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা তানভীরুল আযম, সোনাডাঙ্গা থানা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম সাগর, ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আরিফ, ২৬নং ওয়ার্ড ছাত্রদল কর্মী শাকিল, ২০নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু ওয়ারা, ১৮নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা রিয়াজুল কবির, দৌলতপুর থানা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক জাহিদ হাসান খসরু, দৌলতপুর থানা যুবদল নেতা এসএম জসিম, খালিশপুর থানা ছাত্রদল নেতা মামুন পাটোয়ারী, ১৪নং ওয়ার্ড বিএনপি নেতা তৈয়ব আলী, ১০নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মোহাম্মদ আবদুল হাই কালু। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার কারণে রূপসা থানা থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন, জেলা বিএনপির ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক সাইফুল হাসান রবি, নৈহাটি ৫নং ওয়ার্ড বিএনপি সাধারণ সম্পাদক মুজিবর রহমান ঝলু, নৈহাটি ১নং ওয়ার্ড বিএনপি সহ-সভাপতি শামসুদ্দোহা জহর, নৈহাটি ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি মো. ইবাদুল, মাহবুবুল আলম মনা, জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা উল বারী লাভলু, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা তুহিন, আইচগাতি ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী আবদুর রহমান, নৈহাটি ইউনিয়ন বিএনপি কর্মী ফরহাদ, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জাহাঙ্গীর আহমেদ, বিএনপি নেতা আবদুল আজিজ, জাবুসা ওয়ার্ড বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক জিয়া সরদার। দিঘলিয়া থানায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, ইউপি সদস্য ও থানা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ মোহাম্মদ আলী মিন্টু, ইউপি সদস্য ও বারাকপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক কামাল হোসেন বিশ্বাস, ইউপি মেম্বার ও সাবেক যুবদল নেতা মো. জাকির শিকদার। ডুমুরিয়া থানায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, মাগুরঘোনা ইউপি বিএনপি সহ-সভাপতি সরদার আব্দুল মালেক, ইউপি সদস্য ও জেলা বিএনপির স্বনির্ভর বিষয়ক সম্পাদক বিএম হাবিবুর রহমান হবি, আটলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আবদুস সালাম মহলদার, ইউপি সদস্য ও শোভনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবদুল কাদের, সাবেক ইউপি সদস্য ও শোভনা ইউপির যুবদলের সাবেক সভাপতি শেখ আবদুর রশিদ, বিএনপি নেতা মহসিন।
দাকোপ থানায় গ্রেপ্তার হয়েছেন চালনা পৌর বিএনপির সভাপতি শেখ আবদুল মান্নান, থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক পাপ্পু সাহা, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ননী গোপাল। বটিয়াঘাটা থানা পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, জলমা ইউপি বিএনপির যুুগ্ম সম্পাদক বাদশা।
পাইকগাছায় থানায় গ্রেপ্তার হয়েছেন, ৬নং ওয়ার্ড কপিলমুনি বিএনপি সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হালিম, ৪নং ওয়ার্ড হরিঢালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি সাইফুল ইসলাম শফি, ১নং ওয়ার্ড রাঢ়ুলী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি পীর আলী, ৪নং ওয়ার্ড হরিঢালী ইউনিয়ন বিএনপি নেতা মো. নূর ইসলাম। কয়রা থানা পুলশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন থানা ছাত্রদল যুগ্ম আহ্বায়ক সম্পাদক মো. লিটন প্রমুখ।
খুলনা মহানগর বিএনপির অভিযোগ এর বাইরে আরো অনেক নেতাকর্মী গ্রেপ্তার হয়েছেন নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেয়ার কারণে। এ ব্যাপারে জেলা বিএনপি সভাপতি ও বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর নির্বাচন সমন্বয়ক শফিকুল ইসলাম মনা বলেন, গ্রেপ্তারের ভয়ে আমাদের অনেক নেতাকর্মী মাঠে নামতে পারছে না। এমনকি নির্বাচনী এজেন্টরাও ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন। তিনি বলেন, গত একমাসে খুলনার বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় আড়াইশ’ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। আর গত ৪-৫ দিনেই গ্রেপ্তার হয়েছেন শতাধিক নেতাকর্মী। মনা বলেন, প্রতিরাতেই থানা পুলিশ ও সাদা পোশাকের পুলিশ নেতাকর্মীদের বাড়িতে হানা দিচ্ছে। অনেক সময় তাদের না পেয়ে তাণ্ডব চালাচ্ছে, পরিবারের সদস্যদের নানারকম হুমকি-ধামকি দিচ্ছে। জেলা বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, এ ব্যাপারে আমরা প্রতিদিনই নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ দিচ্ছি, কিন্তু ফলাফল শূন্য।

সিলেটের ‘জাপটা সিন্ডিকেট’ by ওয়েছ খছরু

ওরা ৫ জন। চিহ্নিত ছিনতাইকারী। কয়েকদিন ধরে দাপিয়ে বেড়াচ্ছিল সিলেট নগর। প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিনটি ছিনতাই করে ওরা। সঙ্গে কালো পালসার মোটরসাইকেল। যেদিকে যায় জাপটে ধরে যাত্রীদের। ছিনিয়ে নেয় সর্বস্ব। ছিনতাইয়ের বেশ কয়েকটি অভিযোগ আসে সিলেট মহানগর পুলিশের কাছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা অভিযান শুরু করে। কিন্তু ছিনতাইকারীদের চিহ্নিত করা যাচ্ছে না। অপরদিকে ওই সিন্ডিকেটের ঝাপটাও বন্ধ হচ্ছে না। তাদের নিয়ে পুলিশের ঘুম হারাম। অবশেষে সিলেট মহানগর পুলিশের একটি টিম প্রযুক্তিগত ও গোয়েন্দা অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যে তারা নির্ণয় করে ৫ ছিনতাইকারীকে। তারা নতুন একটি গ্রুপ। এই গ্রুপের নেতৃত্বে রয়েছে কয়েকজন চিহ্নিত ছিনতাইকারী। পুলিশ তাদের শনাক্ত করার পর কয়েকটি গ্রুপ এক সঙ্গে অভিযান শুরু করে। বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত তারা অভিযান চালিয়ে ওই ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে। আর গ্রেপ্তার হওয়া ওই ছিনতাইকারীরা সাম্প্রতিক কয়েকটি ছিনতাইয়ের ঘটনার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। এদিকে- ৫ জনের ওই ছিনতাইকারী দল গ্রেপ্তার হওয়ার পর সিলেট নগরীতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত দুইদিন নগরের কোথাও কোনো ছিনতাইয়ের খবর পাওয়া যায়নি। সিলেট মহানগর পুলিশের এডিসি (মিডিয়া) আবদুল ওয়াহাব জানিয়েছেন- ওই ছিনতাই সিন্ডিকেটের সঙ্গে কারা কারা জড়িত সেটি পেয়েছি। জবানবন্দিতেও তাদের সহযোগীদের নাম বলেছে। পুলিশ তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে। তিনি বলেন- সিলেটে ছিনতাই রোধে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশে সব কর্মকর্তারা জিরো টলারেন্সে রয়েছে। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে যাতে ছিনতাই না বাড়ে পুলিশ সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। ৭ই মে বিকাল পৌনে ৪টায় সিলেট-কানাইঘাট সড়কের মুরাদপুর পয়েন্টের কাছাকাছি একটি ছিনতাই হয়। নগরীর লালাদিঘীরপাড়স্থ একটি ব্যাংকের শাখা থেকে এক লাখ ৯০ হাজার টাকা তুলে সিএনজি অটোরিকশাযোগে যাচ্ছিলেন ল্যান্স কর্পোরাল মো. ময়নুল ইসলাম (৩২)। ওই পয়েন্টের কাছে দুটি মোটরসাইকেলযোগে পাঁচ ছিনতাইকারী এসে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর ল্যান্স কর্পোরাল ময়নুল ইসলাম শাহপরান থানায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা দায়ের করেন। এরপর মাঠে নামে পুলিশ। শুরু হয় ছিনতাইকারীদের অবস্থান শনাক্ত করার মিশন। টানা দুইদিন চেষ্টার পর বৃহস্পতিবার ভোররাত পর্যন্ত পৃথক স্থান থেকে পাঁচ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে একটি কালো রঙের পালসার মোটরসাইকেল, একটি অ্যাপাচি ছাই কালারের মোটরসাইকেল, একটি ছোরা ও নগদ ২৭ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার চরশিহারী শাইল গ্রামের মৃত মো. আলীর ছেলে নাসির উদ্দিন (৩৫), তিনি কোম্পানিগঞ্জ থানার পূর্ব ইসলামপুরের নতুন জীবনপুরের রিয়াজ উদ্দিন ওরফে খোকার ছেলে শফিকুল ইসলাম ওরফে কালা শফিক ওরফে শফিক খন্দকার (৩৩), মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া থানার মনরাজ মাহমুদপুরের মৃত আজমান আহমদের ছেলে রাহেল আহমদ (২৭), সিলেট শাহপরান থানার খাদিমপাড়ার কল্লগ্রামের আবদুর রশীদের ছেলে মুক্তার হোসেন (৩৫) ও মেজরটিলা পশ্চিম ভাটপাড়ার হাবিবুর রহমান কালা মিয়ার ছেলে দিলোয়ার হোসেন আলম (৩৫)। নাসির উদ্দিনকে সিলেট শাহপরান থানাধীন খাদিমপাড়ার মাহমুদপুর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে সিলেটের গোলাপগঞ্জ থানা ও দক্ষিণ সুরমা থানায় দুটি মামলা রয়েছে। গোলাপগঞ্জ থানার মামলায় তিনি ১০ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত ও ৫ হাজার টাকা জরিমানায় দণ্ডিত। শফিকুল ইসলামকে সিলেট নগরীর বন্দরবাজার ফয়েজ বোর্ডিং থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি ও শাহপরান থানায় দুটি মামলা রয়েছে। রাহেল আহমদকে সিলেট বিমানবন্দর থানার লাখাউড়া থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা রয়েছে। মুক্তার হোসেনকেও ফয়েজ বোর্ডিং থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার বিরুদ্ধে শাহপরান থানা ও কোতোয়ালি থানায় দুটি মামলা রয়েছে। দিলোয়ার হোসেন আলমকে খাদিমপাড়া মাহমুদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে শাহপরান থানায় একটি মামলা রয়েছে। ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তার অভিযানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (অপরাধ, দক্ষিণ) জ্যোতির্ময় সরকার। সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন- ‘গোয়েন্দা তথ্যকে কাজে লাগিয়ে এই পাঁচ ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে তারা সঙ্গীদের নামও প্রকাশ করেছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশ ছিনতাইকারীদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাদের নাম প্রকাশ করছে না। তাদের গ্রেপ্তার করতে অভিযান চলছে।’