Thursday, October 30, 2025

বিদেশি মিডিয়াকে সাক্ষাৎকার: ক্ষমা চাইবেন না, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে গঠিত সরকারের অধীনে দেশে ফিরবেন না শেখ হাসিনা

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব পরিবারের ওপর নির্ভর করবে না। দলটিকে নির্বাচনে অংশ নেয়া নিষিদ্ধ করার পর, লাখ লাখ সমর্থক আগামী জাতীয় নির্বাচন বর্জন করবেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন দলটির নেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওদিকে লন্ডনের ইন্ডিপেন্ডেন্টকে আলাদাভাবে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি গত বছর ছাত্রদের নেতৃত্বে বিক্ষোভের সময় নিহতদের বিষয়ে ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, তার দলকে বাদ দিয়ে যে সরকার গঠিত হবে, এমন যে কোনো সরকারের অধীনে দেশে ফিরে আসবেন না। ভারতেই অবস্থান করবেন। গত বছর ৫ই আগস্ট পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেয়ার পর এবারই প্রথম বিদেশি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সাক্ষাৎকার দিলেন তিনি। তিনি পালিয়ে যাওয়ার পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশে নেতৃত্ব দিচ্ছে। হাসিনার অপসারণের পর থেকেই বাংলাদেশ শাসন করছেন তারা। আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা শুধু অন্যায় নয়, বরং সেলফ-ডিফিটিং। তিনি বলেন, পরবর্তী সরকারে অবশ্যই নির্বাচন-তাৎপর্য থাকা চাই। কোটি কোটি মানুষ আওয়ামী লীগের সমর্থক। তাই এ অবস্থায় তারা ভোটে যাবে না। কার্যকর রাজনৈতিক ব্যবস্থার জন্য কোটি কোটি মানুষকে নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করা যায় না।

রয়টার্স লিখেছে, বাংলাদেশে নিবন্ধিত ভোটারের সংখ্যা সাড়ে ১২ কোটি ছাড়িয়ে গেছে। রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দীর্ঘদিন ধরেই মূল দুই দল। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকেই বিজয়ী হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে নির্বাচন কমিশন মে মাসে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত করেছে। তার আগে ইউনূস সরকারের অধীনে জাতীয় নিরাপত্তা ও যুদ্ধাপরাধ তদন্তের জন্য ওই দলের সব কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ করা হয়।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা আমাদের সমর্থকদের অন্য কোনো দলকে সমর্থন করতে বলছি না। আমরা এখনও আশা করি, সাধারণ বিবেক জয়ের পথে ফিরে আসবে এবং আমাদের দল নিজে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে।

রয়টার্স লিখেছে- তিনি জানালেন না, নিজে কিংবা তার প্রতিনিধির মাধ্যমে তারা গোপনে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন কি না, যাতে আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারে। ইউনূস সরকারের মুখপাত্ররা এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্টের মধ্যে কমপক্ষে ১,৪০০ জন নিহত হয়েছেন, যা স্বাধীনতার পর থেকে দেশের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সহিংসতা ছিল। হাসিনা এই অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি নিজে প্রাণঘাতী বল প্রয়োগ বা অন্যান্য অভিযোগের অপরাধে অংশ নেননি। তিনি বলেছেন, তার দেশে ফেরা এখনো পরিকল্পনায় নেই।

তিনি জানিয়েছেন, দল ভবিষ্যতে- সরকারে হোক বা বিরোধীদলে হোক- ভূমিকা নেবে, এবং দলের নেতৃত্ব তার পরিবারের ওপর নির্ভরশীল হবে না। তিনি বলেন, এটা আমার বা আমার পরিবারের ব্যাপার নয়। বাংলাদেশের জন্য যে ভবিষ্যত আমরা সবাই চাই, সেজন্য সাংবিধানিক শাসন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসতেই হবে। কোনো এক ব্যক্তি বা পরিবার আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে না। তিনি বলেন, অবশ্যই আমি দেশে যেতে চাই, শুধু যদি সরকার বৈধ হয়, সংবিধান রক্ষা পায়, এবং আইন ও শৃঙ্খলা সত্যিকারভাবে বজায় থাকে।

আলাদাভাবে তিনি বৃটেনের দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্টকে গণআন্দোলনে নিহতদের জন্য ক্ষমা চাইতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট তার এই বক্তব্যই তাদের শিরোনাম করেছে। হাসিনা বলেন, গত বছরের রাস্তায় বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রাণঘাতী অভিযানের জন্য তিনি ক্ষমা চাইবেন না।

ইন্ডিপেন্ডেন্ট লিখেছে, ১৫ বছরেরও বেশি সময় ‘লৌহ মুষ্টিতে’ দেশ শাসন করা শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতের নির্বাসনে রয়েছেন। সাক্ষাৎকারে যখন তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, নিহত বিক্ষোভকারীদের পরিবারের কাছে তিনি ক্ষমা চাইবেন কি না? জবাবে হাসিনা বলেন, আমি আমাদের প্রতিটি সন্তান, ভাই, বোন ও বন্ধুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছি, যাদের আমরা জাতি হিসেবে হারিয়েছি। আমি তাদের প্রতি আমার সমবেদনা জানাতে থাকব। তবে হাসিনা দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন যে, তিনি কখনো পুলিশকে গুলি চালানোর নির্দেশ দেননি। বরং তার দাবি, ‘অনির্বাচিত’ অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে তার দল আওয়ামী লীগকে ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। হাসিনা গত বছরের আন্দোলনের সময় তার পদক্ষেপগুলোর সাফাই দিয়ে বলেন, তিনি কোনো হত্যাকাণ্ডের দায় ব্যক্তিগতভাবে নেন না। বরং তিনি ওই ঘটনাকে বলেন ‘একটি সহিংস বিদ্রোহ’। তার দাবি, বেশির ভাগ হতাহতের কারণ ছিল মাঠ পর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ‘শৃঙ্খলাভঙ্গ’ এবং তিনি বলেন, একজন নেতা হিসেবে আমি সার্বিকভাবে দায় স্বীকার করি। কিন্তু এই অভিযোগ যে আমি গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলাম- এটি সম্পূর্ণ ভুল। তিনি বলেন, তার সরকার প্রথম হত্যাকাণ্ডগুলোর তদন্তে একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করেছিল, যা পরে ক্ষমতা গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকার বন্ধ করে দেয়।

গত বছরের বাংলাদেশের বিক্ষোভ দমন বিশ্বকে নাড়া দিয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের উপ-আঞ্চলিক পরিচালক বাবুরাম পান্ট তখন বলেন, বিক্ষোভ দমনে নিহতের সংখ্যা যেভাবে বাড়ছে, তা বাংলাদেশ সরকারের প্রতিবাদ ও মতবিরোধের প্রতি সম্পূর্ণ অসহিষ্ণুতার নির্মম উদাহরণ। জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ভলকার তুর্ক মন্তব্য করেন, ছাত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয় ও অগ্রহণযোগ্য।  তবে হাসিনা ছাত্র আন্দোলনের সময় উল্লেখিত মৃতের সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, ১৪০০ নিহতের সংখ্যাটি সম্ভবত অতিরঞ্জিত। হাসিনা বলেন, সরকারের পদক্ষেপ তখন ছিল- ‘সৎ উদ্দেশ্যে নেয়া ব্যবস্থা, যাতে প্রাণহানি কমানো যায়, কারণ আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছিল।’

নিজের দেশত্যাগের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় হাসিনা বলেন, ‘আমি ৫ আগস্ট দেশ ছেড়েছিলাম বাধ্য হয়ে। দেশে থাকলে শুধু আমার নয়, আমার আশপাশের মানুষের জীবনও বিপন্ন হতো।’ দেশত্যাগ ও আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ার পরও হাসিনা বলেন, তিনি বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ‘শুধু মুক্ত, নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনই দেশকে সুস্থ করবে’।

ওদিকে ড. ইউনূস জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হবে। তবে আওয়ামী লীগ তাতে অংশ নিতে পারবে না।
নিজের উত্তরাধিকার প্রসঙ্গে হাসিনা বলেন, ‘আমি চাই মানুষ আমাকে সেই নেতা হিসেবে মনে রাখুক, যিনি ১৯৯০-এর দশকে সামরিক শাসনের পর দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে উত্তরণে সহায়তা করেছিলেন।’ তিনি বলেন, ‘এই অর্জনগুলো এখন উল্টে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।’

৩ দশক পর যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার নির্দেশ ট্রাম্পের

প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীকে ৩০ বছরের বেশি সময় পর আবার পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা শুরু করার নির্দেশ দিয়েছেন। তার দাবি, রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ প্রয়োজন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে তিনি এই নির্দেশ দিয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি। দক্ষিণ কোরিয়ায় শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের ঠিক আগে সামাজিক মাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, অন্যান্য দেশের পরীক্ষার কর্মসূচির কারণে আমি যুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছি আমাদের পারমাণবিক অস্ত্রও সমানভাবে পরীক্ষা শুরু করতে। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিশ্বের যেকোনো দেশের তুলনায় সবচেয়ে বেশি পারমাণবিক অস্ত্র আছে। রাশিয়া দ্বিতীয় স্থানে এবং চীন অনেক পিছিয়ে তৃতীয়। ১৯৯২ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র আর কোনো পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা চালায়নি। এর কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প রাশিয়াকে সমালোচনা করেন একটি পারমাণবিকচালিত ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার জন্য, যার পরিসীমা অসীম বলে জানা গেছে।

বুধবার রাতের পোস্টে ট্রাম্প পারমাণবিক অস্ত্রের ভয়াবহ বিধ্বংসী ক্ষমতা স্বীকার করে বলেন, তার কোনো বিকল্প ছিল না। প্রথম দফা দায়িত্বে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারকে আধুনিক ও শক্তিশালী করার কাজ শুরু করতে হয়েছিল। তিনি আরও লিখেছেন, চীনের পারমাণবিক কর্মসূচি আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ হতে পারে। ট্রাম্পের পোস্টে পরীক্ষার পদ্ধতি বা স্থান সম্পর্কে কোনো বিশদ তথ্য ছিল না। তবে তিনি জানান প্রক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হবে। এটি দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতির একটি বড় পরিবর্তন নির্দেশ করছে। ১৯৯২ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সর্বশেষ পারমাণবিক বোমা পরীক্ষা চালায়। সেটা শীতল যুদ্ধের অবসানের পর রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ. ডব্লিউ. বুশের জারি করা স্থগিতাদেশের আগে।

ট্রাম্পের পোস্টটি প্রকাশিত হয় চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দক্ষিণ কোরিয়ায় অবতরণের ঠিক আগে। এটি ছিল ২০১৯ সালের পর দুই নেতার প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। পোস্টটি ট্রাম্প লিখেছিলেন মারিন ওয়ান হেলিকপ্টারে চড়ে গিমহে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পথে যাওয়ার সময়। ১৯৯২ সালের যে শেষ পরীক্ষাটি করা হয়েছিল, তার কোডনাম ছিল ‘ডিভাইডার’, যা যুক্তরাষ্ট্রের ১০৫৪তম পারমাণবিক পরীক্ষা বলে জানায় লস আলামোস ন্যাশনাল ল্যাবরেটরি। তারা বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বোমা তৈরিতে মূল ভূমিকা রেখেছিল। নেভাডা টেস্ট সাইট, যা লাস ভেগাস থেকে প্রায় ১০৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত, এখনও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অধীনে রয়েছে। স্মিথসোনিয়ান ইনস্টিটিউশনের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল মিউজিয়াম অব নিউক্লিয়ার সায়েন্স অ্যান্ড হিস্ট্রি-এর তথ্যানুসারে, প্রয়োজন মনে হলে ওই স্থান আবারও পারমাণবিক পরীক্ষার জন্য অনুমোদিত হতে পারে।

mzamin

গাজা যুদ্ধের সংবাদে ‘পক্ষপাতিত্বের’ অভিযোগে ১৫০ লেখক নিউইয়র্ক টাইমস বর্জন করছেন

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাত এবং গাজায় যুদ্ধের সংবাদ পরিবেশনে ‘পক্ষপাতিত্ব’ করার অভিযোগ এনে নিউইয়র্ক টাইমস পত্রিকার মতামত বিভাগে আর লিখবেন না বলে ১৫০ জনের বেশি লেখক ও কলাম লেখক এক অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষর করেছেন।

ওই অঙ্গীকারপত্রে স্বাক্ষরকারীরা লিখেছেন, নিউইয়র্ক টাইমস যদি তাদের পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদ পরিবেশনের জন্য দায় স্বীকার না করে এবং গাজায় চালানো ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের সত্যিকারের ও নৈতিক প্রতিবেদন না দেয়, তাহলে কোনো ব্যক্তির লেখা নিবন্ধ সংবাদকক্ষ বা সম্পাদক পর্ষদের জন্য কোনো ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে কাজ করবে না। বরং তাদের এই অসদাচরণ চালিয়ে যাওয়ারই অনুমতি দেবে।

লেখকেরা আরও যোগ করেছেন, ‘আমরা কেবল আমাদের শ্রম প্রত্যাহারের মাধ্যমেই সেই প্রভাবশালী কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে একটি কার্যকর চ্যালেঞ্জ জানাতে পারি, যা টাইমস দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিথ্যাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য ব্যবহার করে আসছে।’

চিঠিতে রিমা হাসান, চেলসি ম্যানিং, রাশিদা তালিব, স্যালি রুনি, ইলিয়া সুলেইমান, গ্রেটা থুনবার্গ, ভিয়েট থান এনগুয়েন এবং ডেভ জিরিন-এর মতো কয়েক ডজন সুপরিচিত কর্মী, শিল্পী ও মার্কিন রাজনীতিবিদ স্বাক্ষর করেছেন।

চিঠিতে লেখকেরা আরও লিখেছেন, ‘ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ও লেখকদের প্রতি আমাদের কর্তব্য হলো, নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সহযোগিতা থেকে বিরত থাকা এবং তাদের ভুলগুলো স্বীকার করতে বাধ্য করা। যাতে গণহত্যা, নির্যাতন ও বাস্তুচ্যুতিকে তারা কখনো বৈধতা দিতে না পারে।’

নিউইয়র্ক টাইমস বর্জনে যোগ দেওয়া অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তির মধ্যে রয়েছেন ক্রিস হেজেস, মার্ক ল্যামন্ট হিল, নুরা ইরাকাত, বিজয় প্রশাদ, মারিয়াম কাবা, রবিন ডি জি কেলি, মোহাম্মদ আল-কুরদ, সুসান স্ট্রাইকার, জিয়া টোলেন্টিনো, ইভ এল ইউইং, ডিন স্পেড, নাইল ফোর্ট, সুসান আবুলহাওয়া এবং রশিদ খালিদি।

তিন দাবি

স্বাক্ষরকারীরা নিউইয়র্ক টাইমসের কাছে তিনটি দাবি জানিয়েছেন—

১. পত্রিকাটি যেন ‘ফিলিস্তিনবিরোধী পক্ষপাতিত্বের বিষয়ে পর্যালোচনা করে’ এবং ফিলিস্তিন কভারেজের জন্য নতুন সম্পাদকীয় মান তৈরি করে। স্বাক্ষরকারীরা নতুন সোর্সিং (উৎস যাচাই) ও রেফারেন্স পদ্ধতি, সেই সঙ্গে ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের বর্ণনা দিতে পত্রিকার ব্যবহৃত শব্দভান্ডারের জন্য একটি নতুন স্টাইল গাইড চেয়েছেন। চিঠিতে এমন সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করারও আহ্বান জানানো হয়েছে, যাঁরা ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন।

২. লেখকেরা নিউইয়র্ক টাইমসকে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ‘Screams Without Words’ (স্ক্রিমস উইদাউট ওয়ার্ডস) শিরোনামের একটি প্রবন্ধ প্রত্যাহার করতে বলেছেন। ওই প্রবন্ধে অভিযোগ করা হয়েছিল, হামাসের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলায় অংশ নেওয়া ফিলিস্তিনিরা ইসরায়েলি নারীদের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন করেছে।

লেখকেরা লিখেছেন, ওই প্রবন্ধটি মূলত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইসরায়েলি স্পেশাল ফোর্সের একজন প্যারামেডিকের সাক্ষ্যের ওপর নির্ভর করে লেখা হয়েছিল। অথচ প্রবন্ধটিতে যে কিবুৎসে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়, পরে সেখানকার একজন মুখপাত্র নিউইয়র্ক টাইমসের অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন।

তাঁরা আরও লিখেছেন, ওই প্রতিবেদনের লেখকদের মধ্যে একজন আনাত শোয়ার্টজকে পরে পত্রিকাটি তদন্তের আওতায় আনে। কারণ জানা যায়, তিনি গাজাকে ‘কসাইখানায়’ পরিণত করার আহ্বান জানানো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি পোস্টে লাইক দিয়েছিলেন।

প্রবন্ধটি প্রকাশিত হওয়ার আগে হামলায় নিহত কথিত যৌন নিপীড়নের শিকার মেয়েদের পরিবারের সদস্যরা বেশ কয়েকটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, যা গল্পের দাবিগুলোর সঙ্গে মেলেনি। তবে সেই সাক্ষাৎকারগুলোর কোনোটিই নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে ব্যবহার করা হয়নি।

৩. চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা নিউইয়র্ক টাইমসের সম্পাদকীয় বোর্ডকে ইসরায়েলের ওপর মার্কিন অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারির আহ্বান জানানোর দাবি করেছেন।

স্বাক্ষরকারীরা বলেছেন, তাঁদের দাবিগুলো ‘অসম্ভব বা অযৌক্তিক’ নয়। লেখকেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, পত্রিকাটি ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে এইডস সংকটের সময় তার স্টাইল গাইড হালনাগাদ করেছিল এবং ২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইরাকে হামলার পর ভুল সংবাদের জন্য ক্ষমাও চেয়েছিল।

লেখকেরা চিঠিতে আরও বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে নিউইয়র্ক টাইমসের চেয়ে বেশি প্রভাবশালী কোনো সংবাদপত্র নেই। পশ্চিমা বিশ্বের সংবাদকক্ষগুলোতে সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা এই পত্রিকার কভারেজ অনুসরণ করেন। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের “কাগজের দলিল” হিসেবে গণ্য করা হয়।’

স্বাক্ষরকারীরা আরও যোগ করেছেন, ‘ইসরায়েল গাজায় জাতিগত নিধনে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে নিউইয়র্ক টাইমস দখলদার বাহিনীর যুদ্ধাপরাধকে আড়াল করেছে, ন্যায্যতা দিয়েছে এবং সরাসরি অস্বীকার করেছে। এভাবে তারা ইসরায়েলি সরকার ও সামরিক বাহিনীর জন্য মাইক হিসেবে কাজ করার দশকব্যাপী অভ্যাস বজায় রেখেছে।’

নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে নিউইয়র্ক টাইমসের ভবন
নিউইয়র্কের ম্যানহাটানে নিউইয়র্ক টাইমসের ভবন। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ঢাকঢোল পিটিয়ে দিল্লিতে কৃত্রিম বৃষ্টি নামাতে পারল না বিজেপি সরকার

সাত মন তেল পুড়ল, কিন্তু রাধা নাচল না। ঢাকঢোল পিটিয়ে, ধুমধাম ও বিপুল খরচ করে অনেক আশা জাগিয়ে মেঘের মধ্যে রাসায়নিক ছড়িয়ে বৃষ্টি ঝরানোর চেষ্টা চালানো হলেও সব বিফলে গেল। বৃষ্টিস্নাত হলো না রাজধানী দিল্লি।

অথচ এ জন্য দিল্লির বিজেপি সরকার খরচ করল ৩ কোটি ২১ লাখ রুপি। কানপুর আইআইটি বলছে, বৃষ্টি হয়তো হয়নি, কিন্তু অনেক বৈজ্ঞানিক তথ্য তারা সংগ্রহ করতে পেরেছে।

কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরিয়ে রাজধানীর তীব্র দূষণের মাত্রা কমাতে ব্যর্থ হওয়ার পর সমালোচনার মুখে দাঁড়িয়েছে বিজেপি সরকার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে সাময়িক উপশমের পথে না হেঁটে সরকার বরং দূষণের উৎসে নজর দিক। যেসব কারণে প্রতিবছর হেমন্তের শুরু থেকে পুরো শীত মৌসুম দিল্লি বসবাসের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে, সেই কারণগুলো বন্ধ করা হোক। এভাবে কৃত্রিম বৃষ্টি ঝরিয়ে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা জলে ফেলার দরকার নেই।

দীপাবলির সময় বাজি পোড়ানো বন্ধ করতে পারেনি দিল্লির কোনো সরকারই। তবু আগের আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের একটা চেষ্টা ছিল। চেষ্টা ছিল পরিবেশ আন্দোলন কর্মীদেরও। নানাভাবে চেষ্টা হয়েছিল মামলা করে বাজি পোড়ানো বন্ধের। সেই প্রচেষ্টা জন্ম দিয়েছিল দূষণহীন বাজির। তৈরি হয়েছিল ‘গ্রিন ক্র্যাকার’। যদিও তার আড়ালে দেদার বিক্রি হয়ে এসেছে দূষণকারী বাজিও। ফলে দূষণ সৃষ্টি হয়েছে যথারীতি।

দিল্লিতে ক্ষমতাসীন হয়ে বিজেপি সরকার সেই প্রচেষ্টাতেও জল ঢেলেছে। হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো বাজি পোড়ানোর সঙ্গে সনাতন ধর্মকে জুড়ে প্রচার শুরু করে দেয়, যারা বাজি বন্ধের উদ্যোক্তা, তারা সনাতন ধর্মবিরোধী। সেই প্রচার প্রভাব ফেলেছিল কি না অন্য কথা, দেখা গেল সুপ্রিম কোর্টও পুরোপুরি বাজি নিষিদ্ধ করতে পারলেন না। ফলে প্রতিবছরের মতো এবারও দিল্লির আকাশ-বাতাস দীপাবলির পর ঢেকে গেল গভীর ধোঁয়ার আস্তরণে। দূষণ হয়ে দাঁড়াল মাত্রাছাড়া।

এই দূষণ থেকে নিস্তার পেতেই কৃত্রিম বৃষ্টির আয়োজন। এই উদ্যোগ আম আদমি সরকারও নেওয়ার কথা ভেবেছিল, কিন্তু রূপায়ণ করতে পারেনি। বিজেপি তা করে ফেলল। রাজ্য সরকার তিন কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ করে এই প্রকল্পে। দায়িত্ব দেওয়া হয় কানপুর আইআইটিকে।

গতকাল মঙ্গলবার কানপুর আইআইটি দুই দফায় কয়েকবার সেসনা বিমান নিয়ে উড়ে বেড়ায় দিল্লির আকাশে। মেঘের ভেতর জলকণা সৃষ্টি করতে উড়োজাহাজ থেকে মেঘের মধ্যে ঢালা হয় ড্রাই আইস, সিলভার আয়োডাইড, আয়োডাইজড লবণ ও রক সল্টের রাসায়নিক মিশ্রণ। সেই জলকণা বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়বে রাজধানীর আকাশ থেকে।

গতকাল সেই কাজেই নেমেছিল কানপুর আইআইটি। অথচ দিনভর প্রতীক্ষাই সার হলো। দিল্লিতে বৃষ্টির ছিটোফোঁটাও দেখা পাওয়া গেল না। দিল্লির উপকণ্ঠে উত্তর প্রদেশের নয়ডায় বৃষ্টি হয় শান্তিজল ছিটানোর মতো। পরিমাণ ০ দশমিক ১ মিলিলিটার।

আইআইটির বিশেষজ্ঞরা বলেছিলেন, এই ‘ক্লাউড সিডিং’, যা কিনা কৃত্রিম বৃষ্টির প্রক্রিয়া, তা শেষ হওয়ার ১৫ থেকে ৩০ মিনিটের মধ্যে বৃষ্টি হবে। কখনো কখনো ২ ঘণ্টা পরও হতে পারে। তবে বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতির জন্য বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ২০ শতাংশের বেশি থাকা দরকার।

তবে সারা দিন প্রতীক্ষার পরও বৃষ্টির দেখা কেন মিলল না, তার ব্যাখ্যায় কানপুর আইআইটির পরিচালক মনীন্দ্র আগরওয়াল এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, গতকাল দিল্লির বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ। অর্থাৎ খুবই সামান্য, তাই বৃষ্টি হয়নি।

মনীন্দ্র বলেন, আজও ওই প্রক্রিয়া চালানো হবে। তাঁদের প্রচেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ তা বলা যাবে না। তাঁরা এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে অনেক তথ্য সংগ্রহ করেছেন।

এই বিশেষজ্ঞ বলেন, তাঁদের পরীক্ষা একেবারেই যে ব্যর্থ, তা নয়। বৃষ্টি হয়নি ঠিকই, কিন্তু ১৫টি নিরীক্ষণ কেন্দ্রে দেখা গেছে, বাতাসে মিশে থাকা সুক্ষ্ম ধূলিকণা, যাকে পিএম ২ দশমিক ৫ বলা হয়, তার পরিমাণ ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে।

মনীন্দ্র আগরওয়াল ওই সাক্ষাৎকারে বলেন, দিল্লি দূষণের মোকাবিলার উত্তর কৃত্রিম বৃষ্টি হতে পারে না। এই ব্যবস্থা নিতান্তই সাময়িক। দিল্লিতে যে হারে দূষণ বেড়ে চলেছে, তা কমানোর একমাত্র উপায় দূষণের উৎস বন্ধ করা। একই কথা বলেছেন বিভিন্ন পরিবেশবিদ। ঘটনা হলো, কী করা দরকার, তা সবার জানা হলেও কেউই তা করতে পারছে না।

উত্তর প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চল, হরিয়ানা ও পাঞ্জাবের খেতগুলোতে ফসলের গোড়া জ্বালানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। দীপাবলিসহ বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, বিয়ে বাড়ি ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময় দেদার বাজি পোড়ানো বন্ধ করা যাচ্ছে না। নির্মাণকাজ থেকে ওড়া ধুলাবালু বাতাসে যাতে না ছড়ায়, সেই ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। কলকারখানার বর্জ্য যমুনায় ফেলা বন্ধ করা যাচ্ছে না।

চীন পৃথিবীর প্রথম দেশ, যেখানে ‘ক্লাউড সিডিং’ সফল হয়েছে। বেইজিংসহ শুষ্ক অঞ্চলগুলোতে তারা এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঘটাচ্ছে। চীন ছাড়াও সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবেও এই পদ্ধতিতে বৃষ্টি ঝরানো হয়েছে।

পাকিস্তানও লাহোরের মতো দূষণযুক্ত শহরে এই পদ্ধতিতে কিছুটা সাফল্য পেয়েছে। যদিও বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিতে ভুলছেন না, এটা সাময়িক উপায়। বড়জোর দুই–তিন দিন এর রেশ থাকে। তারপর যে অবস্থা ছিল, তেমনই হয়ে যায়। তা ছাড়া এই ব্যবস্থা খুবই ব্যয়সাপেক্ষ।

https://media.prothomalo.com/prothomalo-bangla%2F2025-10-28%2F4ekf20vs%2Fcloud.jpg?rect=63%2C0%2C1368%2C912&w=622&auto=format%2Ccompress&fmt=avif
ভারতের রাজধানী দিল্লির আকাশে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য মেঘ বুনতে উড্ডয়ন করছে একটি সেসনা বিমান। ২৮ অক্টোবর ২০২৫, কানপুর, উত্তর প্রদেশ। ছবি: এএনআই

যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ: গাজায় ইসরাইলের বিমান হামলা

গাজায় নতুন করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরাইল। তাদের অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে হামাস। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরের পর অব্যাহতভাবে গাজা, পশ্চিমতীরে ইসরাইল হামলা চালিয়ে আসছিল। এ খবর মিডিয়ায় প্রকাশ হয়েছে। ইসরাইল সে বিষয়ে কোনো কথা বলে না। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার হামাস যোদ্ধারা গাজায় অবস্থানরত ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়েছে এবং নিহত জিম্মিদের মৃতদেহ ফেরত দেয়ার চুক্তি ভঙ্গ করেছে। তবে ফিলিস্তিনি এই যোদ্ধাগোষ্ঠী জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনাদের ওপর ওই হামলার সঙ্গে তাদের যোদ্ধাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা এখনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অটল আছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার সিভিল ডিফেন্স সংস্থা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ইসরাইলি হামলায় কমপক্ষে ৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। গাজা সিটি, বেইত লাহিয়া, আল-বুরেইজ, নুসেইরাত ও খান ইউনুসে বাড়িঘর, স্কুল ও আবাসিক ভবনে হামলা করা হয়েছে। তবুও যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, তিনি মনে করেন যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলা হয়, তিনি সেনাবাহিনীকে ‘প্রবল আঘাত হানার’ নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এর কারণ বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়নি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী কাটজ বলেন, হামাস ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা চালিয়ে ‘চূড়ান্ত সীমা অতিক্রম করেছে’। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, হামাস এই আক্রমণ এবং জিম্মিদের মৃতদেহ ফেরত না দেয়ার চুক্তি ভঙ্গের জন্য বহু গুণ বেশি মূল্য দেবে। ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, হামাসের এই হামলা হয়েছে ‘ইয়েলো লাইন’-এর পূর্বদিকে, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী গাজায় ইসরাইলি নিয়ন্ত্রিত এলাকা হিসেবে চিহ্নিত।

ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে দক্ষিণ গাজার রাফায় ইসরাইলি সেনারা ট্যাংক-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র ও স্নাইপার হামলার মুখে পড়ে। একই সময়ে ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম ইসরাইলি কামান থেকে গোলাবর্ষণের খবর দেয়। সন্ধ্যায় ইসরাইলি বিমান হামলার পর গাজা সিটি ও খান ইউনুসসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রবল বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামাস-নিয়ন্ত্রিত সিভিল ডিফেন্স সংস্থার এক মুখপাত্র জানান, গাজা সিটির দক্ষিণাঞ্চলীয় সাবরা পাড়ায় আল-বান্না পরিবারের একটি বাড়িতে বোমা হামলায় তিন নারীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া হামলার একটি লক্ষ্যবস্তু ছিল পশ্চিম রিমাল এলাকার আল-শিফা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ। খান ইউনুসের আল-কাসসাম স্ট্রিটে একটি গাড়িতে হামলায় দুই শিশু ও এক নারীসহ আরও পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের যোদ্ধারা কোনো ইসরাইলি সেনার ওপর হামলা চালায়নি এবং ইসরাইলি হামলার তারা নিন্দা জানায়। তারা বলে, রাফায় গুলিবর্ষণের সঙ্গে হামাসের কোনো সম্পর্ক নেই এবং সংগঠনটি যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গাজা উপত্যকায় দখলদার (ইসরাইলি) সেনাবাহিনীর এই বর্বর বোমাবর্ষণ যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

হামাসের সামরিক শাখা জানায়, ইসরাইলের এই ‘লঙ্ঘনের’ কারণে তারা মঙ্গলবার পুনরুদ্ধার করা এক জিম্মির দেহ ফেরত দেয়ার প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সামনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনো টিকে আছে। এর মানে এই নয় যে, মাঝেমধ্যে ছোটখাটো সংঘর্ষ হবে না। তিনি আরও বলেন, আমরা জানি হামাস অথবা গাজার অন্য কেউ একজন ইসরাইলি সেনাকে আক্রমণ করেছে। আমরা আশা করি, ইসরাইল এর প্রতিক্রিয়া জানাবে। তবে প্রেসিডেন্টের শান্তি পরিকল্পনা এই ঘটনাতেও টিকে থাকবে।

এর আগে সোমবার রাতে হামাস এক কফিনে করে মানবদেহের কিছু অংশ ফেরত দেয়, যা ১৩ জন মৃত জিম্মির কারও নয় বলে দাবি করে ইসরাইল। এরপর নেতানিয়াহু বলেন, হামাসের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। নেতানিয়াহুর দপ্তর জানায়, ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে দেহাবশেষটি ২০২৩ সালের শেষ দিকে গাজায় উদ্ধার হওয়া ইসরাইলি জিম্মি ওফির জারফাতির, যা যুদ্ধবিরতি চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। ইসরাইলি সেনারা এক ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, সেখানে দেখা যায় হামাস যোদ্ধারা গাজা সিটির পূর্বাংশে এক স্থাপনা থেকে দেহাবশেষ সরিয়ে পাশেই কবর দিচ্ছে এবং পরে রেড ক্রস কর্মকর্তাদের ডেকে ভুয়া পুনরুদ্ধার নাটক সাজায়। হামাস এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে এবং বলেছে, ইসরাইল নতুন আগ্রাসনের অজুহাত তৈরি করতে চায়। পরে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটি (আইসিআরসি) এক বিবৃতিতে জানায়, তারা ঘটনাস্থলে গিয়েছিল হামাসের অনুরোধে এবং সদিচ্ছা থেকে। ঘটনাটির আগে কোনো মৃতদেহ সেখানে রাখা হয়েছিল- এ ব্যাপারে তাদের কোনো ধারণা নেই। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এমন ভুয়া পুনরুদ্ধার নাটক অগ্রহণযোগ্য, যখন এত কিছু এই চুক্তির ওপর নির্ভর করছে এবং অসংখ্য পরিবার এখনো তাদের প্রিয়জনের খবরের জন্য অপেক্ষা করছে।

যুক্তরাষ্ট্র, মিসর, কাতার ও তুরস্কের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নের অংশ। চুক্তি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে হামাস ৪৮ জন জীবিত ও মৃত জিম্মিকে ফেরত দেবে। ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত হামাস ২০ জীবিত ইসরাইলিকে মুক্তি দিয়েছে। বিনিময়ে ইসরাইল ২৫০ জন ফিলিস্তিনি বন্দি ও ১,৭১৮ জন গাজাবাসীকে মুক্তি দিয়েছে।

mzamin

ইস্তাম্বুলে পাকিস্তান-আফগান তালেবান শান্তি আলোচনা ব্যর্থ

ইস্তাম্বুলে চারদিনে পাকিস্তান-আফগানিস্তান আলোচনায় কোনো অগ্রগতি হয়নি। বুধবার সকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার। পাকিস্তানের দাবি তাদের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য বারবার প্রমাণসহ দাবি উপস্থাপন করা হলেও তালেবান কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি। তারার এক্সে লিখেছেন, এই সংলাপ কোনো কার্যকর সমাধান আনতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে কাবুল সরকারের কাছ থেকে এমন জঙ্গিদের বিরুদ্ধে সহযোগিতা চেয়ে আসছে, যারা পাকিস্তানকে টার্গেট করছে। কাবুলে তালেবান ক্ষমতা নেয়ার পর থেকেই পাকিস্তান বহুবার আফগান তালেবান শাসনব্যবস্থার সঙ্গে সীমান্ত পারাপার সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কথা বলেছে। বিশেষ করে ভারতীয় প্ররোচনায় পরিচালিত ‘ফিতনা আল খারেজ’ (টিটিপি) এবং ভারতের প্রক্সি ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ (বিএলএ) সন্ত্রাসীদের বিষয়ে।

তিনি অভিযোগ করেন, পাকিস্তানের পুনঃপুন আহ্বান সত্ত্বেও আফগান তালেবান তাদের দোহা চুক্তিতে করা প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তারার আরও বলেন, আফগান তালেবান সরকার এখনো প্রকাশ্যে পাকিস্তানবিরোধী সন্ত্রাসীদের সমর্থন দিচ্ছে, যার ফলে আমাদের সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
তিনি আফগান তালেবানকে অভিযুক্ত করে বলেন, তাদের কোনো দায়বদ্ধতা নেই আফগান জনগণের প্রতি। তারা যুদ্ধনির্ভর অর্থনীতির ওপর বেঁচে আছে এবং আফগান জনগণকে অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধে টেনে নিচ্ছে।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান সবসময়ই আফগানিস্তানের শান্তি ও সমৃদ্ধির পক্ষে ছিল এবং সে লক্ষ্যে অসংখ্যবার সংলাপে অংশ নিয়েছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আফগান তালেবান কখনো পাকিস্তানের ক্ষতি সম্পর্কে উদাসীনতা দূর করেনি। চার বছর ধরে প্রাণ ও সম্পদের বিপুল ক্ষতি সহ্য করার পর আমাদের ধৈর্য এখন শেষপ্রায়। তিনি আরও জানান, পাকিস্তান ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ কাতার ও তুরস্কের অনুরোধে দোহা এবং পরে ইস্তাম্বুল আলোচনায় অংশ নিয়েছিল শান্তিকে সুযোগ দিতে। তিনি কাতার, তুরস্ক ও অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা সন্ত্রাসবিরোধী সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়েছে।

ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত সপ্তাহব্যাপী বৈঠকে পাকিস্তানি প্রতিনিধিদল ও মধ্যস্থতাকারী তুরস্ক শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সীমান্ত পারাপার সন্ত্রাসবাদের সমাধান খুঁজতে চেষ্টা চালিয়েছে। কিন্তু আফগান প্রতিনিধিদল কাবুল থেকে বারবার নির্দেশ পেয়ে তাদের অবস্থান বদল করেছে, ফলে অগ্রগতি থমকে যায়।

mzamin