Saturday, December 7, 2024
দামেস্কের ২০ কিলোমিটার দূরত্বে বিদ্রোহীরা
আজ শনিবার সরকারের নিয়ন্ত্রণ থেকে দারা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর দামেস্ক থেকে তাদের দূরুত্ব দাঁড়িয়েছে মাত্র ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল)।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রধান রামি আবদেল রহমান বলেন, স্থানীয় বিদ্রোহী যোদ্ধারা এখন দারা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সিরিয়ার উত্তর–পশ্চিমে বিদ্রোহী জোটের নেতৃত্ব দেওয়া কমান্ডার আবদেল ঘানি বলেন, ‘রাজধানী দামেস্কের দক্ষিণ প্রবেশপথ থেকে আমরা ২০ কিলোমিটারের কম দূরত্বে রয়েছি।’ এর আগে গতকাল ইসরায়েলে সীমান্তের কাছে কুইনেত্রা শহরটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বিদ্রোহীরা। সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ওই এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছে।
গত ২৭ নভেম্বর হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সরকারি বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলা শুরু করে। আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন থেকে বের হয়ে এইচটিএস গঠিত হয়। এইচটিএসের নেতৃত্বে ঘটনার আকস্মিকতায় দৃশ্যত অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে সরকারি বাহিনী। বিদ্রোহীরা সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখল করে নেয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার মধ্যাঞ্চলীয় হামা শহর থেকে পিছু হটে সরকারি বাহিনী। এর পর থেকে একে একে অন্য শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে আসাদের সরকারি বাহিনী। এর আগে যুদ্ধে বাশার আল-আসাদের বাহিনী এত অল্প সময়ের মধ্যে এত গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি।
এইচটিএস নেতা আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি বলেছেন, কর্তৃত্ববাদী প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদকে উৎখাত করাই তাঁদের চূড়ান্ত লক্ষ্য।
এদিকে মিত্রদেশ সিরিয়ায় অবস্থানরত কমান্ডারসহ সেনাসদস্যদের গত শুক্রবার সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছে ইরান। এমন এক সময় তেহরানের সেনা সরিয়ে নেওয়ার এ খবর জানা গেল, যখন সিরীয় প্রেসিডেন্ট বাশার আল–আসাদের বাহিনীকে হটিয়ে একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছে বিদ্রোহীরা।
ইরানের এ পদক্ষেপ বাশার আল–আসাদের জন্য তেহরানের নীতিতে উল্লেখযোগ্য বাঁকবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কেননা, সিরিয়ায় আসাদ সরকারের অন্যতম মিত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় ইরানকে। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা সিরীয় গৃহযুদ্ধে আসাদের পাশে দাঁড়িয়েছে তেহরান।
রাশিয়ার পাশাপাশি ইরানও বাশার আল–আসাদের সিরীয় সরকারের অন্যতম শক্তিশালী সমর্থক, ঘনিষ্ঠ মিত্র। ইরান সিরিয়ায় থাকা সামরিক ঘাঁটিগুলোয় নিজেদের কমান্ডার ও উপদেষ্টা পাঠিয়ে আসাদ সরকারকে সমর্থন জুগিয়ে আসছে। এমনকি সিরিয়ায় সরকারপন্থী মিলিশিয়াদের সমর্থন দেয় ইরান।
বিদ্রোহীদের দ্রুতগতিতে দামেস্কের দিকে এগিয়ে আসার মধ্যেই সরকারি বাহিনী প্রেসিডেন্ট বাশারের ক্ষমতা টেকাতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। সরকারি বাহিনী হোমস শহরটির প্রতিরক্ষা জোরদারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সামরিক সূত্রগুলো বলছে, বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হচ্ছে।
এদিকে বিদ্রোহীরা দেশটির দক্ষিণ–পশ্চিমে নিয়ন্ত্রণ জোরদার করেছে। তারা দামেস্ক ও জর্ডানের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সরকারি বাহিনী তাদের ক্ষয়ক্ষতি উল্লেখ না করে নতুন অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছে।
এদিকে সিরিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে গতকাল ইরান, রাশিয়া, তুরস্কের আলোচনায় বসার কথা। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, এ নিয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দোহার বৈঠকে সিরিয়ার আঞ্চলিক অখণ্ডতা রাখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
![]() |
| সিরিয়ার হামা শহরের সড়কে গাড়িবহরে বিদ্রোহীরা। ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
‘জুয়া ও কোটিপতির’ গ্রাম নিয়ে পাওয়া গেল ভয়ানক তথ্য by খান মাহমুদ আল রাফি
কোমরপুর গ্রামের আনসার মন্ডলের ছেলে ময়নদ্দিন ময়না কোনো বড় ব্যবসায়ী নন। তিনি মহাজনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং মহাজনপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য। পাশাপাশি ব্র্যাক ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ব্যবসা করেন। কিন্তু এই এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আড়ালে পরিচালনা করে আসছেন অনলাইন জুয়া। অল্প দিনেই তার হাতে আসে আলাদিনের চেরাগ। এলাকায় অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ এসব আয়ের বৈধতা দিতেই ময়না এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবসা শুরু করেন।
গত ৫ আগস্টের পর আওয়ামীপন্থি সব নেতাকর্মী পালালেও ময়না প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। সমাজের বিভিন্ন বিচার-সালিশ করছেন। তার ভাই মশিউর রহমান মহাজনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং মুজিবনগর ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর জনপ্রিয় পত্রিকা ও অনলাইন কালবেলায় ‘অনলাইন জুয়া যেন এক গোলকধাঁধা, ‘ম্যাকানিজম’ বিদেশে বসেই’ শিরোনামে এক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। সেই প্রতিবেদনের সূত্র ধরেই অনুসন্ধানে নামে কালবেলা। তাতেই বেরিয়ে আসে ‘জুয়া ও কোটিপতি’ খ্যাত গ্রাম নিয়ে ভয়ংকর সব তথ্য। সে গ্রামে জুয়ার ব্যবসা চালানোর অন্যতম হোতা ময়নদ্দিন ময়নার বিরুদ্ধে জানা গেল এসব তথ্য।
একই গ্রামের বাসিন্দা মো. শামীম রেজা। তার পৈতৃক বাড়িটি সংস্কারের পাশাপাশি কয়েকতলা বিশিষ্ট নতুন দুটি বাড়ির মালিক তিনি। বর্তমানে শামীম যে বাড়িতে বসবাস করেন, সেই বাড়ির পাইলিংয়ে তিনি খরচ করেছেন দুই কোটি টাকার বেশি। বাড়িটির নিচে দুই তলা আন্ডারগ্রাউন্ডসহ ওপরে রয়েছে তিন তলা। তার বাড়ির পাশে রয়েছে একটি আম-বাগান। এখন সেই বাগানের অর্ধেকও কিনে নিয়েছেন তিনি।
তারও বিষয়েও অনুসন্ধানে নামে কালবেলা। জানা যায়, মো. শামীম রেজার বাবা সাহজুল সর্দার ওরফে বিলু সর্দার ২০১৬ সালে একটি চালকল স্থাপন করেন। বাবার সঙ্গে চালকলের দেখাশোনা শুরু করেন শামীম। তিন বছর পর তার এক চাচাতো ভাই রাজুর সহায়তা ও জামান মাস্টার নামে এক ব্যবসায়ীর মাধ্যমে অনলাইন জুয়া পরিচালনার একটি ‘ওয়ান এক্স বেট মাস্টার’ চ্যানেল সংগ্রহ করেন তিনি। এর মাধ্যমে শুরু করেন অবৈধ আয়। এসব টাকা পাচারের জন্য জামান মাস্টারের ডাচ-বাংলার এজেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেলকে ব্যবহার শুরু করেন শামীম। এক বছরের মধ্যে শামীম আরও দুটি মেল বেট চ্যানেলের মালিক বনে যান। এর প্রায় ছয় মাস পর রাশিয়া থেকে পরিচালিত লাইন বেটের সহকারী কান্ট্রি ম্যানেজার নিযুক্ত হন তিনি। এতে তারও হাতে চলে আসে আলাদিনের চেরাগ।
অবৈধ এই অনলাইন জুয়া পরিচালনার জন্য শামীম গড়ে তোলেন নিজস্ব বাহিনী। সাহেবপুর গ্রামের রতনকে ব্যক্তিগত ম্যানেজার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় কয়েকজনের মাধ্যমে অনলাইন জুয়ার চ্যানেল চালানো শুরু করেন শামীম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোমরপুর গ্রামে যখন প্রথম হার্ডওয়্যারের ব্যবসা শুরু করেন শামীম, তখন প্রায় দুই কোটি টাকার মালামাল কেনেন তিনি। অল্প সময়ের মধ্যে কোমলপুর গ্রামেই ২৫ বিঘা জমি কিনেছেন তিনি। এ ছাড়া সাহেবপুর গ্রামে তার শ্বশুর ও স্ত্রীর নামে অনেক জমি কিনেছেন বলে অভিযোগ পেলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সূত্রটি জানায়, বর্তমানে শামীমের মোট চ্যানেল সংখ্যা ১৪।
নিরাপত্তাজনিত কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোমরপুর গ্রামের কয়েকজন এই প্রতিবেদককে বলেন, টাকার গরমে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও নারী কেলেঙ্কারিতেও জড়িয়ে পড়েছেন শামীম। কিছুদিন আগে তারই এক অনলাইন জুয়া চ্যানেলের পার্টনারকে অস্ত্র মামলায় ফাঁসিয়ে তার টাকা ও চ্যানেল আত্মসাৎ করে নেন বলেও জানান তারা।
শামীম-ময়না চার্জশিটভুক্ত আসামি
ময়না ও শামীম দুজনই অনলাইন জুয়ার এজেন্ট চ্যানেল পরিচালনা ও সাইবার ক্রাইমের দায়ে বিচারাধীন একটি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। ২০২২ সালের ২৫ আগস্ট তাদের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মুজিবনগর থানায় মামলা করে পুলিশ। এ ছাড়া ঢাকার সিআইডিতে দুজনের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি করে মামলা রয়েছে। আর শামীম রেজা ওরফে শামীমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ব্যাংক ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সের চিঠির প্রেক্ষিতে মানি লন্ডারিংয়ের অনুসন্ধান চলমান বলে নিশ্চিত করেছে মালিবাগ সিআইডি হেডকোয়ার্টারের একটি সূত্র।
তবে মেহেরপুরে তিনবার অভিযান চালিয়েও শামীম রেজা ওরফে শামীমকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি সিআইডি। আওয়ামী লীগ নেতা আমাম হোসেন মিলুর ছত্রচ্ছায়ায় থেকে প্রতিবারই বেঁচে যান শামীম। ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরপরই খোলস পাল্টে ভিন্নমতের শীর্ষ এক রাজনৈতিক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় চলে আসেন।
সিআইডি সূত্রে আরও জানা গেছে, একই ইউনিয়নের সাহেবপুর গ্রামের রতন ও শাহীন ঢাকায় বসে শামীম ও ময়নার অনলাইন জুয়ার কয়েকটি চ্যানেল পরিচালনা করছেন। সম্প্রতি ঢাকায় সিআইডির অভিযানে শামীমের দুটি চ্যানেল ধরা পড়েছে। তিনি রোজ ফ্যাশনের মাসুদের সঙ্গে যৌথভাবে চালাতেন চ্যানেল দুটি। ঢাকায় থেকে চ্যানেল দুটি চালাতেন সুমন ও শামীমের চাচাতো ভাই সাদ্দাম। এ সময় সিআইডির জালে সুমন ধরা পড়লেও গ্রেপ্তারের হাত থেকে বেঁচে যান সাদ্দাম ও শামীম। চ্যানেল দুটি উদ্ধারের পর সিআইডির পক্ষ থেকে যে মামলা করা হয়, তাতে এক নম্বর আসামি সাদ্দাম ও দুই নম্বর আসামি শামীম আর তিন নম্বর আসামি সুমন।
জেলায় জোর গুঞ্জন আছে, বিগত দিনে ময়না ও শামীম আওয়ামী লীগ নেতা আমাম হোসেন মিলু ও সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের স্ত্রী সৈয়দা মোনালিসার ছত্রচ্ছয়ায় থেকে অনলাইন জুয়ার সাম্রাজ্য চালিয়েছেন। কিন্তু গত ৫ আগস্টের পর খোলস পাল্টে ভিন্ন দলের নেতার আশ্রয়ে ঠাঁই নিয়েছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, শামীম রেজা করোনার প্রথম দিকে ওয়ান এক্স বেটে কাজ করলেও পরে রাশিয়ান লাইনবেট কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করে একাই শুরু করেন অনলাইন জুয়ার ব্যবসা। কয়েকটি এজেন্ট চ্যানেল নিয়ে কাজে লাগান নিজ গ্রামের বেশ কয়েকজন যুবককে। তার এজেন্ট হিসেবে কাজ করে ইতোমধ্যে পুলিশের কাছে আটক হয়েছে নিমাই হালদার, প্রসেনজিৎ হালদার, সুমন আলী ও সুমন নামের চার যুবক। নিমাই হালদার, সুমন আলী ও সুমন শামীম রেজার হয়ে কাজ করেন বলে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন।
কয়েকজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শামীম রেজার এজেন্ট হয়ে কাজ করেন তার ছোট ভাই সোহাগ রানা, নিমাই হালদারের চাচাতো ভাই দিলিপ হালদার, কোমরপুর গ্রামের আজিবার আলীর ছেলে শিপলু রানা, কুদ্দুস আলীর ছেলে আকাশ আলী।
একাধিক সূত্র কালবেলাকে জানিয়েছে, ময়নদ্দিন ময়না ও শামীম রেজা দেশের বাইরে সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে স্বজনদের মাধ্যমে স্বর্ণের ব্যবসাও পরিচালনা করছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কিন্তু তারা অবৈধভাবে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট হিসেবে উপার্জিত অর্থ দিয়ে সবাইকে ম্যানেজ করে চলছেন।
অভিযোগ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ময়নদ্দিন ময়না ও শামীম রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করে কালবেলা। কিন্তু পরপর দুদিন কোমরপুর গ্রামে গিয়েও তাদের দেখা পাওয়া যায়নি। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ পাওয়া যায়।
অনেক চেষ্টার পর ময়নদ্দিন ময়না কালবেলাকে বলেন, আমাম হোসেন মিলু ও সাবেক জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন শত্রুতামূলকভাবে আমাকে অনলাইন জুয়ার মামলায় ফাঁসিয়েছেন। মামলায় আমার নাম না থাকলেও আমাকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন আর সেই মামলার ১৬৪ ধারার জবানবন্দিতে থাকা ছাত্রলীগ নেতা হেলালের নাম বাদ দিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে আমি অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম শাহিনের মাধ্যমে ফরহাদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে গেলে তিনি আমাকে বলেন, তুমি মিলুর সঙ্গে ঝামেলা মিটিয়ে ফেলো। এ সময় ময়নদ্দিন সাক্ষী হিসেবে যতারপুর ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সেলিম রেজা ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেলাল হোসেনকে হাজির করেন। তারা তখন বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে মিলুর ভাই শিলু হেরে গেলে প্রতিহিংসমূলকভাবে ময়নদ্দিন ময়নাকে অনলাইন জুয়ার মামলায় ফাঁসানো হয়।
কিন্তু অল্প সময়ে এত সম্পদ কীভাবে হলো, এ নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এজেন্ট ব্যাংকিং আমার বোনের নামে আর মেহেরপুর শহরের বাড়িটি আমার প্রবাসী ছোট ভাইয়ের নামে। এ সময় রাজপ্রাসাদের মতো বাড়ির নির্মাণ খরচ ও দেশের বাইরে স্বর্ণের ব্যবসার কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, দেশে প্রথম অনলাইন জুয়া-সংক্রান্ত মামলার প্রধান আসামি বদুরুদ্দোজা রয়েলকে আটক করা হয়। পরে তার স্বীকারোক্তিতে ময়নদ্দিন ময়না ও শামীম রেজাসহ আরও ১৫ জনকে আসামি করে পুলিশ। শামীম রেজা ও ময়নদ্দিন ময়না সেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
জানতে চাইলে মেহেরপুর জেলা বিএনপি ও যুবদলের একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা এই মুহূর্তে কোনো বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়া থেকে তাদের বিরত থাকার কথা জানান।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন ইউনিটের সদস্য উপপরিদর্শক (এসআই) মনির হোসেন কালবেলাকে বলেন, ‘আমরা মেহেরপুর থেকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্সে দুই দফায় মোট ১৪ জনের নাম পাঠিয়েছি। অনলাইন ক্যাসিনোর মাধ্যমে অর্থ পাচারসহ অবৈধ পন্থায় সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধানের জন্যই নামগুলো দিয়ে চিঠি দিয়েছি। তদন্তের স্বার্থে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া আমি নামগুলো জানাতে পারব না।’
সাইবার আইন জটিলতায় অধরা দুজন
মেহেরপুরের পুলিশ সুপার মাকসুদা আক্তার খানম কালবেলাকে বলেন, ‘মানি লন্ডারিং একটি অর্গানাইজ ক্রাইম। এটা তদন্ত করে সিআইডি। এতে আমাদের মামলাগুলো তদন্তের গতি কমার কোনো বিষয় বা সুযোগ নেই। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন অনলাইন জুয়ার অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা বা মামলা নেওয়া যেত। কিন্তু ২০২৩ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত করে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন হলে মামলার ধারা ‘আমলযোগ্য নয়’ করা হয়। ফলে অনলাইন জুয়ার আসামিদের গ্রেপ্তার বা তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি মামলা নেওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়।’
যা বলছেন সচেতন মহল মেহেরপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য অ্যাডভোকেট সেলিম রেজা কল্লোল কালবেলাকে বলেন, ‘মুজিবনগর উপজেলার কোমরপুর কোটিপতিদের গ্রাম বলে খ্যাত। এই এক গ্রামেই রয়েছে ১০টি এজেন্ট ব্যাংকিং শাখা। এসব এজেন্ট ব্যাংকের বার্ষিক টার্নওভার অনেক ব্যাংকের প্রধান শাখার চেয়েও বেশি। অর্থ উপার্জন দোষের কিছু নয়। তবে সেটা হওয়া উচিত ধর্মীয় মূল্যবোধ ও রাষ্ট্রীয় আইনের প্রতি সম্মান ও আনুগত্য রেখে।’
সিপিবি নেতা অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান বলেন, ‘শুধু কোমরপুর গ্রাম নয়, এসব অপরাধ এখন দেশব্যাপী। আর্থিক লোভে পড়ে আইনবিরোধী এই কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে যুবসমাজ। হয়তো তারা এলাকার কারও ক্ষতি করছে না। কিন্তু এটা অপরাধ, আইন পরিপন্থী কাজ। এখন জুয়া খেলে কিশোররাও কোটিপতি হয়ে উঠছে। এটা দৃষ্টিকটু। কথিত আছে, এই গ্রামের অর্ধশত যুবক রাশিয়ায় বসে বাংলাদেশের অনলাইন জুয়াড়ি ও অনলাইন ক্যাসিনো এজেন্টের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে। বিষয়গুলো প্রশাসনের খতিয়ে দেখা জরুরি।’
![]() |
| ময়নদ্দিন ময়না (বাঁয়ে) ও শামীম রেজা। ছবি : কালবেলা |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণে যেতে কত টাকা লাগে
আমার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ঢাকায়। স্কুল ও কলেজে পড়ার সময় স্কাউটের সঙ্গে যুক্ত ছিলাম। তখন থেকেই ঘোরাঘুরির শখ। ২০০৫ সালে ঢাকা সিটি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করে যুক্তরাজ্যে পড়তে আসি। এখানে আসার পর ঘোরার শখ আরও ডালপালা মেলল। একে একে ছয়টি মহাদেশের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়িয়েছি। ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড থেকে স্নাতক করার পর শুরু হয় কর্মজীবন। এরপর ঘোরাঘুরি একটু কমে এলেও ছুটিছাটায় কোথাও না কোথাও বেরিয়ে পড়ি।
অ্যান্টার্কটিকায় যাওয়ার স্বপ্ন পুষেছি অনেক দিন। এবার সেই স্বপ্ন সত্যি হয়ে ধরা দিল। মাস পাঁচেক আগে অ্যান্টার্কটিকার প্যাকেজ বুকিং দিই। অ্যান্টার্কটিকাগামী জাহাজের কোন কেবিনে আপনি যাচ্ছেন, তার ওপর নির্ভর করে প্যাকেজ ফি। সাধারণত সাড়ে ছয় হাজার ডলার থেকে শুরু হয় এসব প্যাকেজ। সুলভ প্যাকেজে এক কেবিনে চারজন থাকতে হয়। আমি দুজনের উইন্ডো ভিউ কেবিন নিয়েছিলাম। ১৩ দিনের প্যাকেজটি নিতে আট হাজার ডলার (প্রায় ১০ লাখ টাকা) লেগেছে। তবে ঘাঁটাঘাঁটি করলে আরও কম টাকাতেও এসব প্যাকেজ নেওয়া যায়।
জাহাজের প্যাকেজের সঙ্গে যুক্ত হয় বিমানভাড়া (আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েনস এইরেস এবং সেখান থেকে উসুয়াইয়ায় যাওয়া–আসা), হোটেলে থাকা–খাওয়া ও আনুষঙ্গিক জিনিসপত্র কেনার খরচ। যা আমার ক্ষেত্রে লেগেছে প্রায় ২ হাজার ৫০০ ডলার (প্রায় ৩ লাখ টাকা)।
বাংলাদেশ থেকে অ্যান্টার্কটিকা অভিযানে যেতে চাইলে অন্তত ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা খরচ হবে।
স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে আমার লন্ডনের জীবন। তাদের রেখেই ২৮ অক্টোবর আর্জেন্টিনায় পৌঁছাই। নভেম্বরের প্রথম দিন আর্জেন্টিনার সর্ব দক্ষিণের শহর উসুয়াইয়ার বন্দর থেকে জাহাজে চেপে বসি। সেই একই বন্দরে ১৩ নভেম্বর শেষ হয় আমাদের অভিযাত্রা। জাহাজে আমরা ১০০ জন অভিযাত্রী ছিলাম। আমার কেবিনমেট ছিলেন সিঙ্গাপুরের এক নাগরিক। অ্যান্টার্কটিকার দিনগুলোতে বরফে ঢাকা মহাদেশের নানা প্রান্ত ঘুরে দেখেছি। দূরতম অঞ্চলটিতে নানা রোমাঞ্চকর পর্বে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি সেখানকার প্রকৃতি ও প্রাণীর ছবি তুলেছি।
![]() |
| অ্যান্টার্কটিকায় যুক্তরাজ্যপ্রবাসী বাংলাদেশি জহির ইসলাম। ছবি: জহির ইসলামের সৌজন্যে |
![]() |
| অ্যান্টার্কটিকার ডিসেপশন দ্বীপ। ছবি: জহির ইসলামের সৌজন্যে |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়া সীমান্তে সেনা জড়ো করল ইরাক, অনুমতি পেলেই হামলা
সিরীয় সেনারা প্রতিরোধ তো দূরের কথা, অনেকটা প্রাণ নিয়ে পালিয়েছে বলা যায়। সিরিয়ায় অবস্থানরত রুশ সেনারাও তেমন কিছু করতে পারছে না। এরই মধ্যে আলোপ্পো ও হামা শহর দখল নিয়ে এবার ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী হোমস শহরের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বিদ্রোহীরা ।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যম বলছে, যে কোনো সময় পতন ঘটতে পারে হোমস শহরেরও। এমন পরিস্থিতিতে কী করা উচিত তা বুঝতে পাচ্ছে না রাশিয়া, ইরান, তুরস্ক বা ইরাক। তবে প্রতিবেশী দেশ হওয়ায় ইরাকি কর্মকর্তারা বেশি ভয়ে আছেন। বিশেষ করে, বিদ্রোহীদের নজর সিরিয়ার পর, ইরাকের দিকেও পড়তে পারে এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরাক।
ধারণা করা হচ্ছে, সিরিয়ায় সেনা পাঠিয়ে অভিযান চালাতে পারে ইরাক। অবশ্য এ নিয়ে ইরাকি কর্মকর্তাদের মধ্যে দোটানা শুরু হয়েছে। সুন্নি বিদ্রোহীদের এই জোটের সঙ্গে আল কায়েদার সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই শিয়া-অধ্যুষিত ইরাক ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না।
বিশেষ করে ২০০৩ সালে সিরিয়াভিত্তিক সুন্নি যোদ্ধারা ইরাক ঢুকে রীতিমতো তাণ্ডব চালায়। তখন মার্কিন অভিযানে সাদ্দাম সরকারের পতন হলে ইরাক পুরোপুরি অরাজক পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। আর এই অরাজকতার পেছনে রয়েছে সুন্নি যোদ্ধারা। মার্কিন হামলার ১০ বছর পর ২০১৩ সালে দায়েশের সঙ্গে মিলে সুন্নি যোদ্ধারা ইরাকের এক-তৃতীয়াংশ অঞ্চল দখল করে নেয়। এবারও তেমন কিছু ঘটতে পারে এমন বিশ্বাস ইরাকের শাসকগোষ্ঠীর। যদিও সিরিয়ার বিদ্রোহীরা জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো পরিকল্পনা নেই তাদের।
তবে বিদ্রোহীদের এমন আশ্বাসে বিশ্বাস নেই ইরাকি কর্মকর্তাদের। তাই সিরিয়া সীমান্তে সেনা মোতায়েন করেছে তারা। পাশাপাশি পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেসের হাজার হাজার যোদ্ধাদের জড়ো করেছে তারা। এই গ্রুপটি এর আগে সিরিয়ার যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।
ইরাকের আপাতত লক্ষ্য নিজেদের পশ্চিমাঞ্চলীয় সীমানার সুরক্ষা নিশ্চিত করা। কিন্তু সেই সমীকরণ যে কোনো সময় বদলে যেতে পারে। যদি হোমস শহর বা আসাদের পতন ঘটে এমনকি শিয়াদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা ঘটে, তাহলে সিরিয়ায় ঢুকে পড়বে ইরাকি বাহিনী।
ইরাক সরকার বলছে, তারা সিরিয়ায় সামরিক হস্তক্ষেপ করবে না। তবে ইরাক হচ্ছে বাগদাদের জন্য লাল রেখা। এরই মধ্যে রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শত শত ইরাকি যোদ্ধা সিরিয়া ঢুকে পড়েছে। তারা ইরাকি ও দেশটিতে থাকা লেবাননের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের সঙ্গে মিলে আসাদ বাহিনীর হয়ে লড়বে।
কিন্তু ইরাক থেকে এখনও গণহারে যোদ্ধাদের প্রবেশের কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও জানিয়েছে গণমাধ্যমগুলো। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ শিয়া আল সুদানিও আঞ্চলিক এই সংঘাতের চক্রে পড়তে চাইছেন না বলে মনে করা হচ্ছে।
![]() |
| সীমান্ত এলাকায় ইরাকের নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
স্পেনের সামান্য এক পদক্ষেপেই ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল
এক সময় মুসলিম শাসনের স্বর্ণযুগ রচিত হয়েছে এই স্পেনেই। সেই স্পেন এবার ফিলিস্তিনিদের রক্ষায় সোচ্চার হয়েছে। গত মে মাসে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবেও স্বীকৃতি দেয় দেশটি। তবে এবার এমন এক পদক্ষেপ নিয়েছে স্পেন, তাতে আর মাথা ঠান্ডা থাকেনি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল কারোরই। বলা হচ্ছে, অস্ত্র নিয়ে ইসরায়েলগামী জাহাজকে নিজেদের বন্দরে ভিড়তেই দেয়নি স্পেন।
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক কমিশন বলছে, এ ধরনের তিনটি ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনার শিকার জাহাজগুলোর মধ্যে দুটি মার্কিন পতাকাবাহী ছিল। বৃহস্পতিবার ফেডারেল রেজিস্ট্রারে একটি নোটিশ বলা হয়, কমিশন উদ্বিগ্ন যে কিছু জাহাজে প্রবেশে বাধা দেওয়ার এই আপাত নীতি বৈদেশিক বাণিজ্যে শিপিংয়ের জন্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করবে।
এখন অভিযোগ প্রমাণিত হলে শত শত কোটি টাকার জরিমানা হতে পারে স্পেনের। জেরুজালেম পোস্ট এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সমুদ্রযাত্রাপ্রতি সর্বোচ্চ ২৩ লাখ ডলার জরিমানা হতে পারে। এ ছাড়া স্পেনের জাহাজকেও মার্কিন বন্দরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হতে পারে। ওই জাহাজগুলো স্পেনের বন্দরে ভিড়তে না দেওয়ার খবর গেল ১৯ নভেম্বর জানতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক কমিশন।
একই মাসে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে জানায়, ওই জাহাজে অস্ত্র থাকার কথা অস্বীকার করে শিপিং প্রতিষ্ঠান মায়েরস্ক। এর আগে গেল মে মাসে আরেকটি জাহাজ নিজেদের বন্দরে ভিড়তে দেয়নি স্পেন। এ নিয়ে স্পেনের কর্তৃপক্ষ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। তবে গেল মে মাসে ডেনমার্কের পতাকাবাহী একটি জাহাজ নিজেদের বন্দরে ভিড়তে না দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে।
স্পেনের পরিবহনমন্ত্রী তখন জানিয়েছিলেন, ওই জাহাজ করেও ইসরায়েলের জন্য অস্ত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তখন তিনি বলেছিলেন, মধ্যপ্রাচ্যে কোনো অস্ত্র যাওয়ার পেছনে আমরা আর কোনো ভূমিকা রাখতে চাই না। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি দরকার। এ কারণেই ইসরায়েলে অস্ত্র বহনকারী যে কোনও নৌযান, যেগুলো স্পেনের বন্দরে ভিড়তে চায়, সেগুলোকে প্রত্যাখ্যানের জন্য একটি নীতি চালু করা হবে।
মিশর ও তুরস্কের মতো মুসলিম দেশগুলো এখনও ইসরায়েলি জাহাজ বা ইসরায়েলগামী অন্য দেশের অস্ত্রবাহী জাহাজকে নিজ নিজ বন্দরে ভিড়তে দিচ্ছে। এ নিয়ে দেশগুলোর জনগণের মাঝে ক্ষোভ থাকলেও তা আমলে নিচ্ছে না কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মুসলিম প্রধান দেশ না হয়েও স্পেনের এমন জোরালো পদক্ষেপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের জন্য বড় ধাক্কা।
![]() |
| স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সিরিয়ার বিদ্রোহী নেতা জোলানির একাল-সেকাল
বিদ্রোহীদের আকস্মিক অগ্রযাত্রায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তাঁর প্রধান মিত্র রাশিয়া ও ইরান বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কারণ, ২০১১ সালে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধ রাশিয়া ও ইরানের সহায়তায় গত কয়েক বছরে বেশ নিয়ন্ত্রণে চলে এসেছিল। এখন তা ঝড়ের গতিতে তছনছ হতে শুরু করেছে।
এবার বিদ্রোহীদের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিদ্রোহী গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শামের (এইচটিএস) প্রধান আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। ছোট ছোট আরও কিছু বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিয়ে তিনি জোট করেছেন। তবে এইচটিএস-ই সবচেয়ে দুর্ধর্ষ বিদ্রোহী গোষ্ঠী। তাই জোলানিকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এ বিদ্রোহী নেতার একাল-সেকাল এখানে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো।
বর্তমান
এইচটিএসের প্রতিষ্ঠাতা জোলানি প্রায় এক দশক আগে থেকে সিরিয়ার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন। অন্য গোষ্ঠীগুলো আশপাশের কয়েকটি দেশে অভিযান অব্যাহত রাখলেও তিনি নিজেকে এ ধরনের কাজ থেকে গুটিয়ে নেন। এই সবকিছুর বদলে তিনি সিরিয়ায় একটি ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র’ প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দেন।
২০১৬ সাল থেকে জোলানি ও তাঁর গোষ্ঠী এইচটিএস বাশার সরকার থেকে স্বাধীন করা সিরিয়ার ভূখণ্ডে নিজেকে বিশ্বযোগ্য তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন।
এইচটিএস ২০১৭ সালে সিরিয়ান স্যালভেশন গভর্নমেন্ট প্রতিষ্ঠা করে। এর মাধ্যমে তারা দেশটির ইদলিবে প্রশাসন পরিচালনা করছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সেখানকার বেসামরিক প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য খাত, বিচার বিভাগ, অবকাঠামো, অর্থ খাত ও অনুদান বিতরণসহ নানা কাজ পরিচালনা করছে।
তবে এইচটিএস চরমপন্থী গোষ্ঠী হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। অধিকারকর্মী, সংবাদ প্রতিবেদন ও স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, তারা কঠোর হাতে শাসন করে, বিরোধীদের সহ্য করে না।
স্বাধীন সাংবাদিকতা-বিষয়ক সংগঠন সিরিয়া ডিরেক্টের মতে, অধিকারকর্মীদের গুম হওয়ার পেছনে এইচটিএসের হাত রয়েছে। তারা বিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর গোলাবারুদ নিক্ষেপ করেছে।
অতীত
আবু মোহাম্মদ আল-জোলানির আসল নাম আহমেদ হুসাইন আল-শারা। ১৯৮২ সালে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে জন্মগ্রহণ করেন। তখন তাঁর বাবা সেখানে পেট্রোলিয়াম প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন। ১৯৮৯ সালে তাঁর পরিবার সিরিয়ায় ফিরে আসে। দামেস্কের অদূরে বসতি স্থাপন করে।
দামেস্কে থাকাকালে জোলানি কী করতেন, তা জানা যায় না। ২০০৩ সালে সিরিয়া থেকে ইরাকে এসে তিনি আল-কায়েদায় যোগ দেন। এই বছরই যুক্তরাষ্ট্র ইরাকে হামলা চালায়। তিনি সেখানে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী প্রতিরোধ আন্দোলনে যোগ দেন। তখন থেকে তাঁর নাম ছড়িয়ে পড়ে।
২০০৬ সালে জোলানি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাদের হাতে গ্রেপ্তার হন। পাঁচ বছর আটক থাকেন। অর্থাৎ ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় তিনি ছাড়া পান। এরপর তাঁর নেতৃত্বে সিরিয়ায় আল-কায়েদার শাখা প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা আল-নুসরা ফ্রন্ট নামে পরিচিত। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি সিরিয়ার বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে, বিশেষত ইদলিবে শক্তিশালী হতে থাকে।
প্রথম দিকের কয়েক বছর জোলানি আবু বকর আল-বাগদাদির সঙ্গে কাজ করেন। বাগদাদি ছিলেন ইরাকের ইসলামিক স্টেটের (আইএস) প্রধান। এই সশস্ত্র গোষ্ঠীটি পরে আইএসআইএল (আইএসআইএস) নাম ধারণ করে।
২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে বাগদাদি আকস্মিকভাবে আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দেন। সিরিয়ায় নিজেদের তৎপরতা বৃদ্ধিতে কাজ শুরু করেন। একটা পর্যায়ে আইএসআইএল আল-নুসরা ফ্রন্টকে বেশ ভালোভাবে নিজেদের সঙ্গে একীভূত করে ফেলে। তখনই আইএসআইএলের জন্ম হয়।
জোলানি এ পরিবর্তন প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি আল-কায়েদার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন।
এ অবস্থায় ২০১৪ সালে আল–জাজিরাকে প্রথমবারের মতো টেলিভিশন সাক্ষাৎকার দেন জোলানি। এতে তিনি বলেছিলেন, তাঁর গোষ্ঠী ‘ইসলামিক আইনের’ যে ব্যাখ্যা দেবে, সিরিয়া সেই অনুযায়ী শাসিত হবে।
তবে কয়েক বছর পর জোলানির মধ্যে পরিবর্তন আসে। তিনি আল-কায়েদার মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোয় ‘বিশ্বব্যাপী খেলাফত’ প্রতিষ্ঠার প্রকল্প থেকে সরে আসেন। এমন কিছুর পরিবর্তে সিরিয়া সীমান্তের ভেতরে নিজের গোষ্ঠীর তৎপরতা সীমাবদ্ধ করেন জোলানি।
জোলানির এ পরিবর্তনকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশ্লেষকেরা। তাঁরা মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে জোলানির গোষ্ঠীটি বহুজাতিক বা আন্তদেশীয় গোষ্ঠীর বদলে একটি জাতীয় গোষ্ঠী হিসেবে আবির্ভূত হয়।
২০১৬ সালের জুলাইয়ে বাশার সরকার আলেপ্পোর নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো ইদলিবের দিকে চলে যায়। সিরিয়ার এ অঞ্চলটি এখনো বিদ্রোহীদের দখলে রয়েছে। ওই সময়টাতে জোলানি আল-নুসরা ফ্রন্টের নাম পরিবর্তন করে জাভাত ফাতেহ আল-শাম রাখেন।
২০১৭ সালের শুরুর দিকে আলেপ্পো থেকে হাজার হাজার যোদ্ধা ইদলিবে পালিয়ে আসেন। এ সময়ে বিদ্রোহীদের ছোট ছোট অনেক গোষ্ঠী ও নিজের জাভাত ফাতেহ আল-শাম নিয়ে এইচটিএস গঠন করেন জোলানি।
ওয়াশিংটনভিত্তিক থিঙ্কট্যাংক সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) মতে, এইচটিএসের ঘোষিত লক্ষ্য হলো, বাশারের স্বৈরাচারী শাসন থেকে সিরিয়াকে মুক্ত করা। দেশটিতে ‘ইরানের সব সশস্ত্র গোষ্ঠীকে বিতাড়িত করা’। নিজেদের দেওয়া ‘ইসলামি আইনের’ ব্যাখ্যা অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা।
ভবিষ্যৎ
আলেপ্পোর পর হামা শহর দখলে নেওয়ার পর বিদ্রোহীরা এখন আরও দক্ষিণে, তথা রাজধানী দামেস্কের দিকে অগ্রসর হচ্ছেন। উদ্ভূত এই নতুন পরিস্থিতিতে জোলানি সিরিয়ার সংখ্যালঘুদের নিয়ে নিজের দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন এনেছেন। তিনি এখন তাঁদের সিরিয়ায় রাখার পক্ষে।
আলেপ্পো দখলের পর এইচটিএস ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের সুরক্ষার নিশ্চয়তা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন।
সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীদের বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হাসান বলেন, জোলানি এইচটিএসকে সিরিয়ার বিশ্বাসযোগ্য শাসক হিসেবে পরিচিত করাতে চায়। পাশাপাশি গোষ্ঠীটি নিজেদের বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রমের সম্ভাব্য অংশীদার করতে চায়।
সিএসআইএসের তথ্যমতে, ইদলিবে জোলানি এরই মধ্যে অন্যান্য সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হারাকাত নুর আল-দিন আল-জিনকি, লিওয়া আল-হক এবং জায়েশ আল-সুন্নার সঙ্গে অংশীদারি গড়ার চেষ্টা চালিয়েছেন। আগের মিত্র হুররাস আল-দিনের মতো সিরিয়ার নতুন আল-কায়েদার শাখার সঙ্গে সম্পর্ক এড়াতেই তিনি অন্য বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে অংশীদারি গড়ে তুলতে চেষ্টা করছেন।
জাতিসংঘ, তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এইচটিএসকে বর্তমানে ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠন মনে করে।
জোলানি তাঁর গোষ্ঠীকে এখনো সন্ত্রাসী বলাটা অন্যায্য বলে মনে করেন। কারণ, তাঁরা আগের সম্পৃক্ততা পরিত্যাগ করে নিজেদের জাতীয় বিষয়ে কেন্দ্রীভূত করেছে।
জোলানি সিরিয়ায় কী করতে চান, সেটা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তবে এই সবকিছু ছাড়িয়ে সিরিয়ার সবচেয়ে বড় সশস্ত্র গোষ্ঠী হিসেবে এইচটিএস এরই মধ্যে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আলোচিত হচ্ছে। এ গোষ্ঠীটির প্রভাব সুদূরপ্রসারী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
![]() |
| নুসরা ফ্রন্টের নেতা হিসেবে সিরিয়ার কোনো এক অজ্ঞাত স্থান থেকে কথা বলছেন আবু মোহাম্মদ আল-জোলানি। ২০১৬ সালের একটি ভিডিও থেকে নেওয়া। ছবি: রয়টার্স |
![]() |
| বিদ্রোহীরা দখলে নেওয়ার পর সিরিয়ার হামা প্রশাসনিক অঞ্চল ত্যাগ করছেন মানুষ। ৫ ডিসেম্বর ২০২৪ ছবি: এএফপি |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনায় আলোচনার আহ্বান মমতার, শান্তিরক্ষী মোতায়েনের বিষয়ে দিলেন ব্যাখ্যা
সাক্ষাৎকারে মমতা বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সমস্যা নিজেরা-নিজেরা বসে দেখে নিন। এ জন্য আন্তর্জাতিকভাবে অনেক ফোরাম আছে। কিন্তু নেগোশিয়েশন বন্ধ করে দেয়া ঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, দুই দেশ একে অপরের সঙ্গে কথা বলে আমার মনে হয় অস্থিরতা কাটিয়ে একটা সুস্থির পরিস্থিতির মধ্যে আসুক। এটা আমার এক নম্বর পয়েন্ট।
দ্বিতীয় পয়েন্ট হলো- (ভারতের) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পার্লামেন্ট অধিবেশনে স্টেটমেন্ট দিতে হবে। ব্যাখ্যা করতে হবে বাংলাদেশের সর্বশেষ পরিস্থিতি। এটা করতে হবে আমাদের সকলের জানার জন্য। বাংলার জানার জন্য। আগে নিয়ম ছিল পার্লামেন্ট চলাকালে যদি কোথাও কোনো ঘটনা ঘটতো, এমনকি প্রধানমন্ত্রীরা বিদেশেও (যদি) যেতেন- তারা এসে পার্লামেন্টে একটা স্টেটমেন্ট দিতেন। (অথচ) এতদিন ধরে পার্লামেন্ট চলছে আমরা এটার ওপর কোনো স্টেটমেন্ট দিতে দেখলাম না। বিস্তারিত জানানো উচিত ছিল। তাহলে আমরা (বিষয়টি বিস্তারিত) জানতে পারতাম।
মমতা বলেন- তৃতীয়ত, আমি কেন শান্তিরক্ষীর কথা বলেছি। আমি বলেছি এই কারণে যে, যখনই কোনো দেশে কোনো অস্থিরতা হয় বা শান্তি বিঘ্নিত হয়, তখন জাতিসংঘের নিজস্ব একটা শান্তিরক্ষী বাহিনী থাকে, যে ফোর্সে থাকে সারা পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের লোক। তাদের বলা হয় শান্তিরক্ষী বাহিনী। শ্রীলংকাতেও যখন গণ্ডগোল হয়েছিল, তখন শান্তিরক্ষী বাহিনী এসেছে। কাজেই ভারতের সঙ্গে একান্তই যদি (বাংলাদেশের) সম্পর্কের খুব অবনতি হয়ে থাকে, তাহলে ভারত সেক্ষেত্রে জাতিসংঘকে বলতে পারে যে- তোমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী পাঠাও। অন্তত মানুষ যাতে নিরাপত্তা পায়। সেটা দেখা উচিত। কারণ আপনাদেরকে মনে রাখতে হবে যে- সব বাংলাদেশি ওপার বাংলার, তা নয়। একীভূত ভারতে ইন্ডিয়া একটাই ছিল। পাকিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত- একটাই ছিল। দেশভাগের পর বাংলাদেশ আলাদা রাষ্ট্র হয়ে গেল। পাকিস্তান আলাদা রাষ্ট্র হয়ে গেল। ভারতবর্ষ আলাদা রাষ্ট্র হয়ে গেল। কিন্তু আপনারাতো জানেন, অনেক বাবা আছেন, তার বাড়ি ওখানে। আবার বিয়ে করেছেন এখানে। অনেক ছেলেরা আছে- ওখানে ছেলে থাকে, এখানে মেয়ে থাকে- তার সঙ্গে বিয়ে হয়েছে। এগুলো একটা বড় সমস্যা। খেলাধুলা থেকে শুরু করে সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান থেকে শুরু করে সবকিছু। কিন্তু মনে রাখবেন, যেহেতু বাংলাদেশের ভাষাটা আর আমাদের ভাষাটা এক। সংস্কৃতি এক এবং ওখানে অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা ব্যবসা করেন- এপার বাংলা থেকে ওপার বাংলা। আবার ওপার বাংলা থেকে এপার বাংলা। অবশ্যই ভূরাজনৈতিক সীমারেখা আছে। কিন্তু আমাদের হৃদয়ের কোনো বাউন্ডারি নেই। আমাদের মনটা কিন্তু একেবারে খোলা এবং উন্মুক্ত। আমরা সবাই-সবাইকে খুব ভালোবাসি। কাজেই আমি চাই যে, আমাদের রাজনৈতিক মতামত যা-ই থাকুক না কেন রাজনৈতিক প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা- যার প্রতি যা-ই থাকুক না কেন, অন্তত বাংলাদেশও ভালো থাক। ভারতও ভালো থাক। আমাদের বর্ডার আছে নেপালের সঙ্গে। নেপালও ভালো থাক। নেপাল, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা এমনকি বাংলাদেশের পাশে আছে মিয়ানমার। বেঙ্গলটা হলো উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় গেটওয়ে এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার গেটওয়ে। বাংলা হচ্ছে বিহার, ঝাড়খণ্ড, ওড়ির সীমান্ত।
প্রশ্নকর্তা জানতে চান- শ্রীলংকার সঙ্গে ভারতের মিত্রতা কমে গেছে, নেপাল হাত থেকে বেরিয়ে গেছে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার পড়শি, ভুটানও। এক্ষেত্রে পররাষ্ট্র নীতিতে কোনো সমস্যা দেখছেন কিনা? তার এ প্রশ্নের জবাবে মমতা বলেন, আমার মনে অনেক কথা থাকলেও এটা পাবলিকলি বলবো না। কারণ, আমার দেশ- আমারই দেশ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরের খেতাব এখন আবুধাবির
সম্প্রতি প্যারিসে ইউনেস্কোর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত চলতি বছরের প্রিক্স ভার্সাইলেস ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড বিতরণী অনুষ্ঠানে ৪০০-এর বেশি প্রতিদ্বন্দ্বীকে পেছনে ফেলে শীর্ষস্থান দখল করে এ বিমানবন্দর।
বিমানবন্দরটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত জাতির জনক শেখ জায়েদ বিন সুলতান আল নাহিয়ানের সম্মানে নামকরণ করা হয়। এই দৌড়ে মেক্সিকোর জুম্পাঙ্গোতে ফিলিপ অ্যাঞ্জেলেস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
র্যাঙ্কিংয়ে শীর্ষে থাকা অন্য বিমানবন্দরগুলো হলো- চাঙ্গি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনাল-২ এবং ব্যাঙ্ককের সুবর্ণভূমি বিমানবন্দর, বোস্টনের লগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট টার্মিনাল-ই এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দ্বিতীয় ব্যস্ততম বিমানবন্দর হিসেবে জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ২০২৩ সালে প্রায় ১ কোটি ৩৭ লাখ যাত্রী পরিসেবা দিয়েছে। বিমানবন্দরটি দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং কাতারের আঞ্চলিক প্রতিযোগী হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক নোড।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজের প্রধান কেন্দ্র হলো জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে কোম্পানিটি ৮৭ লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে।
আবুধাবি বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এলেনা সোর্লিনির মতে, যাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি থেকে আবুধাবির পর্যটন ও ভবিষ্যৎ বাণিজ্য সম্ভাবনা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাচ্ছে।
![]() |
জায়েদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
যে কারণে বিমান যাত্রীদের প্যারাসুট দেওয়া হয় না
১. অধিকাংশ যাত্রীবাহী বিমান প্রায় ৩৫০০০ ফুট উচ্চতা দিয়ে উড়ে। এই উচ্চতা প্যারাসুট দিয়ে স্কাইড্রাইভ করার উচ্চতার থেকে অনেক বেশি। এত উচ্চতায় বায়ুর চাপ অনেক কম থাকে। কম বায়ু চাপের কারণে বিমান থেকে লাফ দেওয়ার পর প্যারাসুট খুলবে না। এটি না খুললে সব আয়োজন বৃথা।
২. প্রতিটি প্যারাসুট ওজনে কমপক্ষে ২২ থেকে ৩০ কেজি। এক্ষেত্রে একটি বিমানের যাত্রীর আসন সংখ্যা ১০০ হলে, প্যারাস্যুটসহ তাদের গড় ওজন হবে ৭৫ কেজির বেশি।
প্যারাসুট নিলে মাথাপিছু ওজন গড়ে ২৫ কেজি বৃদ্ধি পাবে। এই অতিরিক্ত ওজন বহন করার জন্য বিমানের আকৃতি বৃদ্ধি পাবে এবং এই বিশাল আকৃতির বিমানকে উড়ানো বেশ মুশকিল হবে। বেশি ওজন বহন করার জন্য বড় আকৃতির বিমানকে উড়াতে প্রচুর জ্বালানি খরচ হবে। এতে যাত্রীদের ভাড়া ৫০% বৃদ্ধি পাবে।
৩. একটি প্যারাসুটের দাম সর্বনিম্ন ৪০,০০০ টাকা হলে, ১০০ যাত্রীর জন্য প্যারাসুটের ব্যবস্থা করতে বিমান কোম্পানিকে প্রচুর টাকা খরচ করতে হবে। এই বিশাল অঙ্কের টাকা বিমান কোম্পানি যাত্রীর ভাড়ার সঙ্গে যুক্ত করলে ভাড়ার পরিমাণ দিগুণ হয়ে যাবে। এত ভাড়া দিয়ে বিমান ভ্রমণ করা সবার পক্ষে সম্ভব হবে না।
৪. ভালোভাবে প্যারাসুট ব্যবহার করা শিখতে যাত্রীদের প্রত্যেককে একজন ইন্সট্রাকটরের কাছে প্রশিক্ষণ নিতে হবে। কমপক্ষে ৫ ঘণ্টা করে ৩ দিন প্রশিক্ষণ নিলে মোটামুটি প্যারাসুট চালনা শিখতে পারবেন তারা। কিন্তু সমস্যা হলো সবার জন্যে প্যারাসুট চালনা শেখার মতো প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নেই, সব যাত্রীর ফিটনেস এক না এবং সবার পক্ষে টাকা খরচ করে প্রশিক্ষণ নেওয়াও সম্ভব না।
৫. ৩৫০০০ ফুট উচু দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যাত্রীরা যদি প্যারাসুট নিয়ে লাফ দেন, তাহলে প্যারাসুটের সুবিধা পেলেও কম বায়ুচাপ ও স্বল্প অক্সিজেনের কারণে প্রায় সঙ্গে সঙ্গে তারা মারা যেতে পারেন। কারণ এই উচ্চতায় যদি ফুসফুসে বাতাস ভরে রাখার জন্য দম বন্ধ করে থাকেন তাহলে আপনার ফুসফুস ফেটে যাবে।
আবার কম অক্সিজেন ঘনত্বের কারণে এত উচ্চতায় জ্ঞান হারিয়ে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন যাত্রীরা। এসব কারণে বিমানে প্যারাসুট থাকলেও তা ব্যবহার করার সুযোগ নেই। তাই বিমানে প্যারাসুট থাকে না।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ট্রাম্পের হিন্দু গোয়েন্দাপ্রধান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, কর্মকর্তারা চিঠিতে তুলসীর ব্যাপারে অসন্তোষ জানিয়ে বলেন, সাবেক এই প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ও হাওয়াইয়ের প্রতিনিধি পরিষদ সদস্যের গোয়েন্দা খাতে অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পুরোদস্তুর সামরিক অভিযান শুরু করা নিয়ে প্রচলিত ষড়যন্ত্র তত্ত্বগুলো তিনি ধারণ করেন বলে রয়েছে অভিযোগ। এ ছাড়া ২০১৭ সালে দামেস্কে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সঙ্গে বৈঠক করার পর নিজেকে রুশ ও সিরীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করে রেখেছেন তিনি।
মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের বর্তমান সংখ্যাগরিষ্ঠ ডেমোক্রেটিক দলের নেতা চাক শুমার এবং আগামী সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকান পার্টির নেতা জন থুনকে সম্বোধন করে এ চিঠি লেখা হয়েছে। চিঠিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েন্ডি শেরম্যান, ন্যাটোর সাবেক উপমহাসচিব রোজ গটেমোলার ও সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অ্যান্থনি লেক। আছেন বেশ কয়েকজন সাবেক রাষ্ট্রদূত, গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তা এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাগুলো সংশ্লিষ্ট অন্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
চিঠিতে ওই কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা সিনেটের প্রতি ‘যথাযথ তদন্ত, শুনানি ও নিয়মিত আদেশ অনুসরণ করাসহ তার সাংবিধানিক পরামর্শ এবং সম্মতিসূচক ভূমিকার পূর্ণ ব্যবহার করার’ অনুরোধ জানান। এ ছাড়া সিনেট কমিটির প্রতি এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ‘সহজলভ্য সব তথ্য’ বিবেচনা করার আহ্বান জানান তারা, যাতে ‘মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রগুলো ও পদ্ধতির সুরক্ষায়’ গ্যাবার্ডের দক্ষতা-যোগ্যতা পর্যালোচনা করা যায়।
ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতি ও গোয়েন্দা কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত অনেকে গ্যাবার্ডকে একজন বিপজ্জনক ব্যক্তি হিসেবে মনে করেন। চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পর তুলসীর অনলাইন পোস্টগুলোতে বলা হয়, ‘ইউক্রেনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়ন করা ল্যাবগুলো জৈব অস্ত্র তৈরি করছে এবং ন্যাটোর সঙ্গে ইউক্রেনের সংশ্লিষ্টতা রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের জন্য এক হুমকি।’ এছাড়াও সিরিয়ায় বেসামরিক লোকজনের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট আসাদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা নিয়ে গ্যাবার্ডের সন্দেহ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, তুলসী গ্যাবার্ড একসময় ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সদস্য। রাজনীতি করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির হয়ে। পরে রিপাবলিকান পার্টিতে যোগ দেন। পূর্বে তুলসীর গোয়েন্দাগিরি বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা নেই। তবে দুই দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন বাহিনীতে একজন সেনাসদস্য হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
![]() |
| ট্রাম্প প্রশাসনের জাতীয় গোয়েন্দাপ্রধান পদে মনোনয়ন পেয়েছেন তুলসী গ্যাবার্ড। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ইমরানের বিরুদ্ধে এবার সেনাবাহিনীর ওপর সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগ গঠন
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে পিটিআই বলেছে, এই অভিযোগ উপযুক্ত আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে তাদের আইনজীবীরা সক্ষম বলে তাদের বিশ্বাস, এবং আশা করি ন্যায় বিচার পাওয়া যাবে। পাকিস্তান তেহরিকে ইনসাফ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান ২০১৮ সাল থেকে ২০২২ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সংসদে বিরোধীদলের আনা এক অনাস্থা প্রস্তাবে ক্ষমতাচ্যুত হবার পর থেকে তিনি কয়েক ডজন মামলা এবং তদন্তের বেড়াজালে আটকে আছেন। তিনি বলেন যে, তার বিরুদ্ধে আনা মামলা সব বানোয়াট, এবং এগুলো পাকিস্তানের ক্ষমতাবান সামরিক বাহিনীর আদেশে আনা হয়েছে যাতে তিনি রাজনীতিতে ফিরতে না পারেন। সরকার তার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সাবেক এই ক্রিকেট তারকাকে ২০২৩ সালের অগাস্ট মাসে একটি দুর্নীতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত এবং গ্রেপ্তার করা হয়। খান এই মামলাকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য-প্রণোদিত বলে অভিহিত করেন।
পরবর্তীতে, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের আগে খান আরও কয়েকটি মামলায় দোষী সাব্যস্ত এবং একাধিক অভিযোগে দণ্ডিত হন। আপিল আদালত সকল রায় এবং সাজা প্রমাণের অভাব এবং মামলায় স্বচ্ছতার অভাবে বাতিল বা স্থগিত করেছে। কিন্তু যখনই কোন আদালত জামিনে তার মুক্তির আদেশ দেয়, কর্তৃপক্ষ প্রতিবার নতুন অভিযোগ গঠন করে তার কারামুক্তি আটকে দিয়েছে। গত মাসে, পুলিশ ফেডারেল হাই কোর্টকে জানায় যে, শুধু ইসলামাবাদেই খানের বিরুদ্ধে ৭০টির বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বছর ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনের আগে কিছু বিতর্কিত নিয়ম ব্যবহার করে পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশন পিটিআই-এর অংশগ্রহণ আটকে দেয়। খানের মনোনীত প্রার্থীরা অবশেষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে বাধ্য হয়। ইমরান খানের ব্যাপক জনপ্রিয়তার কারণে তারা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন লাভ করে। কিন্তু তাদের মোট আসন সংখ্যা সরকার গঠন করার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যায় পৌঁছাতে পারেনি। পিটিআই বার বার, তাদের ভাষায়, ‘আইন-বহির্ভূত’ আটকাবস্থা থেকে খানের মুক্তির দাবীতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ করেছে। তারা প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের জোট সরকারের পদত্যাগেরও আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, শরিফের সরকার পিটিআই-এর ‘ম্যান্ডেট চুরি’ করে একটি জালিয়াতির নির্বাচনের ফসল।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ভুয়া খবরের ছড়াছড়ি: রিউমার স্ক্যানারের রিপোর্ট
এই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা বাংলাদেশের সীমানা ছাড়িয়ে ভারতেও ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে বাংলাদেশের বিষয় নিয়ে ছড়ানো হচ্ছে একের পর এক গুজব। রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে, রাষ্ট্র ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর ১২ আগস্ট থেকে ০৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত অন্তত ১৩টি ভুয়া খবর পাওয়া গেছে। এমন ভুয়া খবর প্রচারের তালিকায় ভারতের অন্তত ৪৯টি গণমাধ্যমের নাম উঠে এসেছে। এর মধ্যে রিপাবলিক বাংলা সর্বাধিক ৫টি গুজব প্রচার করেছে। পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস, জি নিউজ এবং লাইভ মিন্ট, যারা প্রত্যেকে অন্তত ৩টি করে গুজব প্রকাশ করেছে। এছাড়া, রিপাবলিক, ইন্ডিয়া টুডে, এবিপি আনন্দ এবং আজতক অন্তত ২টি করে গুজব প্রচার করেছে।
বাকি ৪১টি গণমাধ্যম অন্তত একটি করে গুজব প্রচার করেছে। সম্পূর্ণ তালিকা দেখুন এখানে।
এসব গুজবের মধ্যে ছিল: শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর তার নামে ভুয়া খোলা চিঠি, মুসলিম ব্যক্তির নিখোঁজ পুত্রের সন্ধানে মানববন্ধন করার ভিডিওকে হিন্দু ব্যক্তির দাবিতে প্রচার, ড. মুহাম্মদ ইউনূস আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার ভুয়া খবর, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ভিত্তিহীন দাবি, ট্রাম্পের বিজয়ের পর ড. ইউনূস ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার ভুয়া দাবি, পাকিস্তানি জাহাজের মাধ্যমে অস্ত্র আনার মিথ্যা দাবি, নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবী হিসেবে প্রচার, বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ হওয়া গুজব, বাংলাদেশে মুসলিমদের হামলায় হিন্দু মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের দাবিতে ভারতের প্রতিমা বিসর্জনের ভিডিও প্রচার, শ্যামলী পরিবহনের বাসে হামলার মিথ্যা তথ্য চিন্ময় কৃষ্ণের আইনজীবীর ওপর হামলার ভুয়া দাবি এবং বাংলাদেশে জঙ্গি হামলা হতে পারে জানিয়ে যুক্তরাজ্য ভ্রমণ সতর্কতা জারির বিভ্রান্তিকর খবর।
৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে আশ্রয় নেওয়ার পর শেখ হাসিনা দিল্লি থেকে জনগণের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি দিয়েছেন এবং ওই চিঠিতে তার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছেন দাবিতে ভারতীয় গণমাধ্যমে একটি তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। তবে জানা যায়, শেখ হাসিনা এমন কোনো চিঠি দেননি। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে উঠে আসে, এই চিঠিটি প্রথমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে এবং পরবর্তীতে ভারতের আগরতলা ভিত্তিক দৈনিক ‘ত্রিপুরা ভবিষ্যত’ পত্রিকার প্রিন্ট সংস্করণে তারিখসহ প্রকাশিত হয়। এরপর, ওই পত্রিকার স্ক্রিনশটটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে শেয়ার হতে থাকে এবং পরবর্তীতে ভারতের ও বাংলাদেশের কয়েকটি গণমাধ্যমেও এটি প্রচারিত হয়।
৫ আগস্টের পর ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে দাবি করা হয়, একজন হিন্দু ব্যক্তি তার নিখোঁজ পুত্রের সন্ধান দাবিতে মানববন্ধন করছেন। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই ব্যক্তি আসলে মুসলিম এবং তার নাম বাবুল হাওলাদার। ২০১৩ সালে নিখোঁজ হওয়া ছেলের সন্ধানে মানববন্ধন করেছিলেন তিনি।
শেখ হাসিনা ক্ষমতা হারানোর পর ৮ আগস্ট ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন হয়। ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস অসুস্থ হয়ে আইসিইউতে ভর্তি হয়েছেন। এ দাবির সঙ্গে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তির ছবিও প্রকাশিত হয়। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, ছবিটি ড. ইউনূসের নয়। ছবিটি সাম্প্রতিক সময়ের কিংবা বাংলাদেশেরও কোনো ছবি নয়। প্রকৃতপক্ষে, ড. ইউনূস সুস্থ রয়েছেন।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে বেশ কিছু নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে ভারতীয় গণমাধ্যম। তবে, রিউমর স্ক্যানার টিমের অনুসন্ধানে এই দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। কোনো প্রকার নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ ছাড়া ভারতীয় গণমাধ্যমে এই মিথ্যা দাবি প্রচারিত হয়।
৫ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হন। ট্রাম্পের বিজয়ের পর, ভারতীয় গণমাধ্যমে একটি দাবি ছড়িয়ে পড়ে যে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস ফ্রান্সে পালিয়ে গেছেন। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দাবি মিথ্যা। পালানোর প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত বিমানের ছবিটি ৮ আগস্ট ড. ইউনূসের ফ্রান্স থেকে বাংলাদেশে ফেরার সময়ের।
স্বাধীনতার পর গত ১৩ নভেম্বর প্রথমবারের মতো সরাসরি পাকিস্তানের করাচি থেকে কনটেইনার বহনকারী একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙর করে। এ নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানের ‘সোয়াত’ নামের যে সামরিক জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ নিয়ে এসেছিল, সেই জাহাজ আবারও চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছেছে। আরও দাবি করা হয়, ওই জাহাজে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে অস্ত্র আনা হচ্ছে। তবে, রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে এসব দাবির কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। জাহাজটির নাম ‘এমভি ইউয়ান জিয়ান ফা ঝং’, এটি একটি বাণিজ্যিক জাহাজ এবং এর মাধ্যমে শিল্পের কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য আনা হয়েছে।
২৫ নভেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ। পরদিন ২৬ নভেম্বর তাকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে জামিন নামঞ্জুর করা হয়। এর পর আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে, চিন্ময়কে প্রিজন ভ্যানে তুলে কারাগারে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। এসময় তার অনুসারীরা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ ও বিজিবি লাঠিপেটা এবং সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। সংঘর্ষের মধ্যে চট্টগ্রাম জেলা আদালতের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। ভারতীয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয় যে, সাইফুল ইসলাম চিন্ময়ের আইনজীবী হওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু এই দাবি সঠিক নয়। চিন্ময়ের আইনজীবী শুভাশীষ শর্মা, সাইফুল ইসলাম নয়।
ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, বাংলাদেশে ভারতীয় স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ করা হয়েছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে চ্যানেলগুলো এখনও সচল থাকতে দেখা যায়। একই সঙ্গে, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং ক্যাবল অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ বিষয়টি গুজব বলে রিউমর স্ক্যানারকে নিশ্চিত করে।
ভারতীয় কতিপয় গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তায় চিকেন নেকের কাছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানঘাঁটি নির্মাণ করবে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দাবি পুরোপুরি মিথ্যা। লালমনিরহাটের বিমানবন্দর দীর্ঘ ছয় দশক ধরে বন্ধ রয়েছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে এর কার্যক্রম পুনরায় চালুর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
সম্প্রতি, বাংলাদেশে মুসলিমদের দ্বারা হিন্দু মন্দিরে হামলা করে প্রতিমা ভাঙচুরের অভিযোগে একটি ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ে। এই দাবি ভারতের কিছু গণমাধ্যমেও প্রচারিত হয়। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, ভিডিওটি বাংলাদেশে নয়, বরং ভারতের পূর্ব বর্ধমান জেলার খণ্ডঘোষ সুলতানপুর গ্রামে প্রতিমা বিসর্জনের দৃশ্য। ভিডিওটি বাংলাদেশের হিন্দু মন্দিরে হামলার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়।
বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা রুটে শ্যামলী পরিবহনের একটি বাসের সাথে বাংলাদেশি ট্রাকের সংঘর্ষ ঘটানোর দাবিতে ভারতের কিছু গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচারিত হয়। আরও দাবি করা হয়, শ্যামলী পরিবহনের বাসে থাকা ভারতীয় যাত্রীদের স্থানীয়রা প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ভারতবিরোধী স্লোগান দেয়। তবে, রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, এই দাবিগুলোর কোনো সত্যতা নেই। ইচ্ছাকৃতভাবে নয়, দুর্ঘটনাটি মূলত ওভারটেকিংয়ের কারণে ঘটেছিল।
চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির ছবি নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়। দাবি করা হয়, ওই ব্যক্তি রমেন রায়, যিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী। আরও বলা হয়, মুসলিমরা তার বাড়ি ভাঙচুর করে এবং হামলা চালিয়ে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করেছে। তবে রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা গেছে, রমেন রায় চিন্ময় দাসের আইনজীবী নন এবং তার মামলার সঙ্গেও কোনো সম্পর্ক নেই। প্রকৃতপক্ষে, ২৫ নভেম্বর শাহবাগে চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তার বিরোধী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কর্মসূচিতে দুর্বৃত্তদের হামলায় রমেন রায় আহত হন। তবে তার বাড়ি ভাঙচুরের খবর বা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বাংলাদেশে যেকোনো সময় জঙ্গি হামলা হতে পারে জানিয়ে যুক্তরাজ্য ভ্রমণ সতর্কতা দিয়েছে দাবিতে একটি তথ্য ভারতীয় কিছু গণমাধ্যম প্রচারিত হয়েছে। তবে যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ সতর্কতা কেবলমাত্র বাংলাদেশে নয় বরং ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জার্মানি, স্পেন, শ্রীলঙ্কা, ফ্রান্সসহ বিশ্বের অনেক দেশের ক্ষেত্রেই একই ভ্রমণ সতর্কতা অনেকদিন ধরেই জারি করে রেখেছে যুক্তরাজ্য। তাই, এককভাবে বাংলাদেশকে নিয়ে প্রচারণা বিভ্রান্তিকর। তাছাড়া, যুক্তরাজ্য সাধারণত কোনো অঞ্চলে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করলে তা সবার জন্য প্রযোজ্য হয়। এবার সহিংসতার কারণে বিশেষভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে সতর্কতা জারি করা হলেও দেশের অন্য জেলাগুলোতে এ ধরনের বিশেষ কোনো সতর্কতা আরোপ করা হয়নি। পাশাপাশি, যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ সতর্কতা অনুযায়ী, বাংলাদেশের চেয়ে ভারত, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তানের মতো দেশে জঙ্গি হামলার সম্ভাবনা বেশি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতকে টার্গেট করছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট, অভিযোগ বিজেপির
এতে বলা হয়, মোদি সরকার আসার আগ থেকেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লির যে সম্পর্ক গড়ে উঠেছে সেদিক থেকে বিজেপির অভিযোগটি বেশ আশ্চর্যজনকই বটে। কেননা দুই দেশের মধ্যে কিছু মতানৈক্য থাকলেও উভয়ই নিজেদের সম্পর্ক জোরালো করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসছে। বৃহস্পতিবার ভারতের ক্ষমতাসীন দলটি অভিযোগ তুলেছে যে, মোদি এবং তার ঘনিষ্ঠ আদানি গ্রুপকে দুর্বল করতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের সংগঠন অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের (ওসিসিআরপি) প্রতিবেদন ব্যবহার করছে গান্ধীর কংগ্রেস পার্টি। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে এসব প্রতিবেদন কেবল মোদি এবং আদানি গ্রুপকেই নিশানা করেছে। গত মাসে আদানি গ্রুপ এবং তার ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ২৬৫ বিলিয়ন ডলারের ঘুষকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছে নিউইয়র্কের একটি আদালত।
এরপর তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে। যদিও অভিযোগটি ‘ভিত্তিহীন’ বলে নাকচ করেছে আদানি গ্রুপ। এর আগে ওসিসিআরপি জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় মদদে ভারতীয় হ্যাকাররা ইসরাইলি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে সরকারবিরোধীদের টার্গেট করেছে। যদিও এসব অভিযোগ নাকচ করেছে দেশটির সরকার। এর আগেও মোদির সমালোচনার জন্য রাহুল, ওসিসিআরপি এবং যুক্তরাষ্ট্রের ৯২ বছর বয়সী বিলিয়নিয়ার জর্জ সোরোসকে দায়ী করেছিল বিজেপি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ফরাসি গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে বিজিপি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এবং সোরসের মতো ডিপ স্টেট ব্যক্তিদের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা পাচ্ছে ওসিসিআরপি। এর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে টার্গেট করে ভারতকে অস্থিতিশীল করা ডিপ মার্কিন ডিপ স্টেটের একটি স্পষ্ট উদ্দেশ্য বলেও এক্সের একাধিক পোস্টে দাবি করেছে বিজেপি। এক্সের পোস্টে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ওসিসিআরপিকে কাজে লাগিয়ে নিজেদের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে সবসময়ই তৎপর যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেট উপাদানগুলো।
বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব অভিযোগের পুনরাবৃত্তি করেছে বিজেপির জাতীয় মুখপাত্র এবং সংসদ সদস্য সম্বিত পাত্র। ফ্রান্সের একটি গণমাধ্যম প্রতিবেদনে জানিয়েছে ওসিসিআরপি’র অর্থায়নের ৫০ ভাগের জোগান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রদপ্তর। পাত্র বলেছেন, ডিপ স্টেটের অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়নে মিডিয়া টুল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ওসিসিআরপি। এ বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, ইউএসএইড, সোরোস এবং কংগ্রেস পার্টি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। বিজেপির অভিযোগ নিয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে এক বিবৃতিতে ওসিসিআরপি বিজেপির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা বলেছে, মার্কিন সরকার কিছু অর্থায়ন করলেও তাদের সম্পাদকীয় নীতি ও প্রতিবেদনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাব নেই। সম্প্রতি গৌতম আদানির বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযোগের জেরে বিপাকে পড়েছে ভারত সরকার। কংগ্রেসের নেতাদের অভিযোগ হচ্ছে সবসময়ই আদানিকে রক্ষা করে এসেছে মোদি ও তার দল। গত সপ্তাহে এ বেশ কয়েকবার সংসদীয় অধিবেশন স্থগিত করেছে ভারতের পার্লামেন্ট।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
সংকটের মধ্যেও স্বস্তি পোশাকশিল্পে
বাংলাদেশ থেকে শুধু নভেম্বর মাসে ৩৩০ কোটি ৬১ ডলারের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। এই রপ্তানি গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ৪৭ কোটি ডলার বেশি। আগের বছরের নভেম্বর মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়ে ছিল ২৮৪ কোটি ৪০ ডলার। মাস হিসাবে চলতি বছরের নভেম্বরে এই রপ্তানি বেড়েছে ১৬.২৫ শতাংশ। তৈরি পোশাক ছাড়া অন্য খাতের রপ্তানিও গত নভেম্বরে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সামগ্রিক পণ্য রপ্তানি ইতিবাচক ধারায় রয়েছে।
ইপিবি’র প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত পাঁচ মাসে সামগ্রিক পণ্য রপ্তানির ৮১ শতাংশ তৈরি পোশাক খাত থেকে এসেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ১ হাজার ৬১১ কোটি ৭১ লাখ ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৪৩৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার। এক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে রপ্তানি বেড়েছে বেড়েছে ১২.৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু নভেম্বরেই ১৭৪ কোটি ডলারের নিট পোশাক রপ্তানি হয়। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১৩ শতাংশ। অন্যদিকে গত মাসে ওভেন পোশাক রপ্তানি হয়েছে ১৫৭ কোটি ডলারের। এক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি ২০ শতাংশ।
ইপিবি বলছে, গত পাঁচ মাসে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি আয় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। দেশটিতে রপ্তানি হয়েছে ৩৫৭ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পণ্য। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা জার্মানিতে রপ্তানি হয়েছে ২১০ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের পণ্য। এরপর রয়েছে যুক্তরাজ্য, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ইত্যাদি দেশ।
জানা গেছে, দেশের তৈরি পোশাক খাতে ন্যূনতম মজুরির দাবিতে চলেছে অস্থিরতা। এখনো এই অস্থিরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। বিভিন্ন দাবিতে এখন ঢাকা, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরে চলছে শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতি। এসব সমস্যার পরও রপ্তানির ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে পোশাক খাত।
পোশাক শিল্পমালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ গত ১৯শে অক্টোবর সংবাদ সম্মেলন করে জানায়, ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর পোশাক শিল্পে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অন্তত ৪০ কোটি ডলারের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
ইপিবি’র ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, জুলাই-আগস্টে ব্যবসা-বাণিজ্যে চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য এখন অনেকটাই ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পণ্য রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, পণ্য বহুমুখীকরণ নিয়ে কাজ হচ্ছে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। নীতি সহায়তা ও ব্যবসার কিছু ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে বিভিন্ন খাতের রপ্তানি বাড়ানোর সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগাতে পারছে না বাংলাদেশ। তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ভালো করছে। এ নিয়ে তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের সময় কারখানায় গ্যাস-বিদ্যুতের সংকটের মধ্যেও শ্রমিক-মালিকরা উৎপাদন চালু রেখেছেন। মূলত তাদের কঠোর পরিশ্রমে রপ্তানিতে ভালো ফল এসেছে। তা ছাড়া এখন রপ্তানির ‘পিক সিজন’। সামনে খ্রিষ্টানদের বড়দিনসহ বিভিন্ন উৎসব রয়েছে। এ ছাড়া বিগত সময়ের ক্রয়াদেশগুলোও এ সময় সম্পন্ন হয়েছে। এ সব কারণে রপ্তানি বেড়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটছে। শিল্প এলাকায় যৌথবাহিনী মোতায়েন থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এসব উদ্যোগ রপ্তানিতে ইতিবাচক প্রভাব রেখেছে। যদিও কয়েকটি কারখানায় শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধিসহ নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে আন্দোলন হয়েছে।
নিট পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আমাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এরপরও রপ্তানি আয় বাড়ায় আমরা খুশি। তবে আমাদের অর্ডার কিন্তু কমছে। জানি না আগামী মাসগুলোতে কী হবে। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিরতার মধ্য দিয়ে গেছে। আমাদের হিসাবে জুলাই মাসের মধ্যে এক সপ্তাহেই পোশাক শিল্পে ক্ষতি হয়েছে ১ বিলিয়ন ডলারের উপরে। আর ব্যাংক বন্ধ থাকায় তো রপ্তানির উপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এই অস্থিরতা-অনিশ্চয়তা না থাকলে আমাদের রপ্তানি আরও বাড়তো।
রিজার্ভ বাড়ছে: রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স বাড়ায় রিজার্ভও বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই-নভেম্বর) ১লা হাজার ১১৩ কোটি ৭৩ লাখ (১১.১৪ বিলিয়ন) ডলার রেমিটেন্স এসেছে দেশে, যা গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ২৬.৪৪ শতাংশ বেশি। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ (ব্যালেন্স অব পেমেন্ট অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন) হিসাবে বাংলাদেশের রিজার্ভ ছিল ১৮.৭৩ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্রস’ হিসাবে ছিল ২৪.৪৫ বিলিয়ন ডলার। এক সপ্তাহ আগে ২০শে নভেম্বর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ১৮.৫০ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্রস’ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ২৪.২৭ বিলিয়ন ডলার। দুই সপ্তাহ আগে ১৪ই নভেম্বর বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ ছিল ১৮.৪৪ বিলিয়ন ডলার। ‘গ্রস’ হিসাবে ছিল ২৪.১৭ বিলিয়ন ডলার। এ হিসাবে দেখা যাচ্ছে, সপ্তাহের ব্যবধানে বিপিএম-৬ হিসাবে রিজার্ভ বেড়েছে ২৩ কোটি ডলার। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে বেড়েছে ৩০ কোটি ডলার।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
দেশের স্বার্থে অটুট থাকুক জাতীয় ঐক্য by সাইফুল ইসলাম
মমতার এই বক্তব্যকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের ওপর হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছে অন্তর্বর্তী সরকার ও বিএনপিসহ বাংলাদেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। অনেকে মনে করছেন, ভারত সরকার তাদের আস্থাভাজন মিত্র শেখ হাসিনার পতন মেনে নিতে না পেরেই এমন আচরণ করছে।
ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তার ঘিরে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের হত্যাকাণ্ডে পুরো দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ। অনেকেরই আশঙ্কা ছিল এই ঘটনার জেরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ অসম্ভব বিচক্ষণতা ও ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাতে জড়ায়নি। বিএনপিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অভিযোগ, স্বার্থান্ধ মহলের প্ররোচনায় ইসকন ইস্যুতে দেশে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগাতে পরিকল্পিতভাবে আইনজীবী সাইফুলকে হত্যা করা হয়েছে।
অনেকে মনে করেন, নানা চেষ্টা করেও দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পেরে ভারতের উগ্রবাদীরা আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলা চালিয়েছে। কিন্তু এ ঘটনার পরেও বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশ।
কোনো সংঘাতে না জড়িয়ে বাংলাদেশ মিশনে হামলার পর দেশের রাজনৈতিক দল ও বিভিন্ন শ্রেণি- পেশার মানুষ রাজপথে নেমে শান্তিপূর্ণ উপায়ে প্রতিবাদ জানায়। খোদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সনাতন ধর্মের শিক্ষার্থীরাও হামলার প্রতিবাদে রাজপথে মিছিল করেছে। সনাতন ধর্মের কয়েকজন নেতাও প্রকাশ্যে হামলার প্রতিবাদ জানায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায় সর্বস্তরের মানুষের নিন্দার ঝড়। সবমিলিয়ে বাংলাদেশ স্পষ্ট বার্তা দেয়, এদেশে ধর্মের নামে কোনো বিভাজন করা যাবে না। কারও পাতা ফাঁদে আর পা দিবে না প্রিয় জন্মভূমি।
সামগ্রিক পরিস্থিতিতে ভারতের অপপ্রচার ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ার ডাক দেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। তার ডাকে সাড়া দেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের নেতারা। বুধবার ও বৃহস্পতিবার পর পর দুইদিন বৈঠক করেন তারা। এতে সবাই একমত হন যে দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, অস্তিত্ব ও মর্যাদার প্রশ্নে কারও কাছে মাথা নত করবে না বাংলাদেশ। সেইসঙ্গে ভারতের অপপ্রচার ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে অটুট রাখা হবে জাতীয় ঐক্য।
দেশের সংকটে সব মত ও পথের মানুষের ঐক্যের বার্তা জাতির মনে নতুন আশার আলো সঞ্চারিত করেছে। নিকট অতীতে এদেশে জাতীয় ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য তৈরি হওয়ার নজির খুব একটা নেই। বরং ক্ষুদ্র স্বার্থে বিভাজনের কারণে স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি বাংলাদেশ।
৫ই আগস্টের গণবিপ্লবের আগে নির্বিচারে শিক্ষার্থী হত্যার প্রতিবাদে আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল এক কাতারে শামিল হয়। কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন শিক্ষার্থীরা শুরু করলেও ঘটনার পরম্পরায় পরবর্তীতে সরকার পতনের একদফা দাবিতে দলমত নির্বিশেষে সবাই এক হয়ে রাজপথে নামেন। যার কারণেই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকারের পতন হয়। জুলাই বিপ্লবে পটপরিবর্তনের পর জনমনে আশা তৈরি হয়েছিল হয়তো জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নেয়া হবে। বদল হবে মানুষের ভাগ্য। কিন্তু নানা স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এতে কিছুটা হতাশা নেমে আসে মানুষের মনে। ভারত ইস্যুতে আবারো সব মত, পথ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মেলবন্ধন অন্যরকম দৃশ্যপটের অবতারণা করেছে। রাজনীতি বিশ্লেষকরা মনে করেন, জাতির সংকটের সময় যে ঐক্য তৈরি হয়েছে তা ধরে রাখতে পারলে আগামীর বাংলাদেশ হবে সব মানুষের জন্য নিরাপদ। এই ঐক্যের স্পিরিট ধারণ করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত সরকার গঠন করতে উদ্যোগ নিতে হবে অন্তর্বর্তী সরকারকে। নতুন সরকার একটি ইনক্লুসিভ সমাজ বিনির্মাণে উদ্যোগ নিলে সব ধর্মের মানুষই সমান অধিকার নিয়ে বাস করতে পারবে।
ভারতের আগ্রাসী নীতির পরেও বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। ডক্টর ইউনূসের সঙ্গে দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকেও এই কথা উঠে এসেছে। তবে সবার একটাই চাওয়া ভারত সরকারও আমাদের সম্পর্কের মূল্যায়ন করতে হবে। একপাক্ষিক প্রেম যেমন টেকসই হয় না তেমনি কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও দুই পক্ষ সমান আন্তরিকতা না হলে সম্পর্ক সম্মানজনক হয় না। কেউ কেউ ভাবতে পারেন ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের যবনিকাপাত হলে শুধু বাংলাদেশরই ক্ষতি হবে, বিষয়টা মোটেও সঠিক নয়।
কমবেশি ভারতও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রায় ১৪ লাখ মানুষ দেশটিতে ভ্রমণ করেছে। এরমধ্যে শুধু মেডিকেল ভিসায় ভারতে ভ্রমণ করা লোকের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার লাখ। এ পরিসংখ্যান থেকে সহজেই অনুমেয় ভারত বাংলাদেশের সম্পর্ক ছিন্ন হলে ভারত বিপুল পরিমাণ রেমিট্যান্স হারাবে। তাছাড়া বিপুলসংখ্যক ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে চাকরি ও ব্যবসা করে নিজ দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। বাণিজ্যের ক্ষেত্রে পিয়াজ, রসুন, ডাল, তুলা, শস্যবীজসহ নানা নিত্যপণ্য ভারত থেকে আমদানি করে বাংলাদেশ। ভারত আমাদেরকে এসব পণ্য কিন্তু দয়া দাক্ষিণ্য করে দিচ্ছে না, তাদের রপ্তানির অংশ এটি। ভারত আমাদের এসব পণ্য না দিলে আমরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবো তেমনি ভারতের কৃষক ও ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়বে। ভারত যত সহজে ও কম খরচে আমাদের দেশে পণ্য রপ্তানি করতে পারে অন্য দেশে রপ্তানি করা কিন্তু এতটা সহজ নয়। তাই দুই দেশের মানুষের জন্যই পারস্পরিক সম্মানজনক সম্পর্ক দরকার।
ভারত যেহেতু বড় রাষ্ট্র, সম্মানজনক ও সমতাভিত্তিক সম্পর্কের ক্ষেত্র তৈরি করতে তাদের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। কথায় কথায় সীমান্তে পাখির মতো মানুষ হত্যা বন্ধ করতে হবে, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যাসহ অভিন্ন ৫৪টি নদীর পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ইস্যুতে দাদাগিরি মনোভাব থেকে বের হয়ে এসে সহযোগিতামূলক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে হবে। ছোট দেশ বলেই তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য ও অবহেলা না করে স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রাপ্য মর্যাদা দিতে হবে। ভারতের মনে রাখা উচিত তাদের অতিরিক্ত খবরদারির কারণে প্রতিবেশী কোনো দেশের সঙ্গেই সম্পর্ক ভালো নেই দেশটির। এমনকি বিশ্বের একমাত্র হিন্দু রাষ্ট্র নেপালের সঙ্গেও সুসম্পর্ক নেই ভারতের। চলমান সংকটে বাংলাদেশেরও উচিত হবে অসীম ধৈর্য ও বিচক্ষণতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা। ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেয়া। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষ করে জাতিসংঘের সহযোগিতাও চাওয়া দরকার। বাংলাদেশের মানুষ ইতিমধ্যেই বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছে, সামনে আরও সতর্ক থাকতে হবে। অহেতুক ভারতের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কীভাবে ভারত নির্ভরতা কমানো যায় তা ভাবতে হবে। কৃষি ক্ষেত্রে আরও স্বাবলম্বী হতে হবে।
সর্বোপরি এদেশের আলো বাতাসের ওপর আমাদের যে ঋণ, সে ঋণের দায়বদ্ধতা থেকেই সবার আগে দেশের স্বার্থ দেখতে হবে। মায়ের মতোই ভালোবাসতে হবে প্রিয় জন্মভূমিকে। নিজের স্বার্থেই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। মনে রাখতে হবে নগর পুড়লে দেবালয়ও রক্ষা পায় না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি স্বার্থান্বেষী মহলের দাবার ঘুঁটি না হলে পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
বাড়িছাড়া বৃদ্ধ মা-বাবা
এভাবেই নির্যাতনের বর্ণনা দিচ্ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরের কোড্ডা গ্রামের হোসেন মিয়া (৮৫)। নিজের ছেলের হাতে নির্যাতিত হয়ে গত প্রায় ৩ মাস ধরে বাড়িছাড়া তিনি। তার স্ত্রী আয়েশা বেগমও (৬৫) মারধরের শিকার হয়েছেন ছেলে আর ছেলের বউয়ের হাতে। তাদের ঘরে তালা দেয়ায় বাড়ি যেতে পারছেন না। থাকছেন অন্যত্র আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে। ছেলে রাশেদ মিয়া আর তার স্ত্রীর দখলে এখন ওই বৃদ্ধের ঘরবাড়ি।
গত ১৭ই অক্টোবর জেলার পুলিশ সুপারের কাছে বাড়িতে ফেরার আবেদন করেন হোসেন মিয়ার স্ত্রী আয়েশা বেগম। ওই আবেদনে এলাকার উচ্ছৃঙ্খল লোকদের নিয়ে তাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন করার অভিযোগ করা হয় রাশেদের বিরুদ্ধে। এর আগে ওই ছেলের বিরুদ্ধে আয়েশা বেগম সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা করেন। এই মামলায় গত ৩০শে সেপ্টেম্বর জেলে যায় রাশেদ। ওইদিনই রাশেদের স্ত্রীর ভাই পাশ্বর্বর্তী ঘাটিয়ারা গ্রামের রায়হান মোল্লা কোড্ডা গ্রামের ফিরোজ মিয়া, নিয়ামত উল্লাহ, দুল্লুক মিয়া, সোহাগ মিয়া, রেজ্জেক মিয়া, সাচ্চু মিয়া, মনির মিয়া, রহমত আলী, মিরাজ মিয়া, বিশাল, রোকসানা বেগমসহ আরও কয়েকজন বৃদ্ধ আয়েশা বেগম ও তার স্বামীকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। বাড়ি ফিরলে প্রাণে মারা হতে পারে, এই আশঙ্কা তাদের। হোসেন মিয়া জানান, তার সম্পত্তির ৩ ভাগের মধ্যে ২ ভাগই বড় ছেলে রাশেদকে লিখে দিয়েছেন। সম্পদ পেতে সে অত্যাচার করতো। জমি লিখে দেয়ার পাশাপাশি তখন তাকে একটি ঘরও দেয়া হয়। বিদেশ থেকে সে যে স্বর্ণালংকার এনেছিল তাও নিয়ে গেছে। এরপর শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে ঘর উঠিয়ে বসবাস করতে থাকে। এখন আবার বাড়িতে ফিরে এসে বাড়ির ভাগ চায়। বাদবাকি সম্পত্তি আমি আমার স্ত্রী, বাকি ৫ সন্তানের নামে লিখে দেই। ভাগে ১০/১১শতক করে পেয়েছে তারা। এ কারণেই আমাকে অত্যাচার করছে।
রাশেদের ছোট ভাই মালয়েশিয়া প্রবাসী এরশাদ মিয়া জানান, পিতার নামে থাকা জমিজমার জম্যে ৪১ শতাংশ জায়গা ২০০৮ সালে তার বড় ভাই রাশেদ মিয়ার নামে লিখে দিয়েছেন তার পিতা। এরপর এ বছরের মার্চে বাকি ৬১ শতাংশ ৭৫ পয়েন্ট জায়গা তার মা ও ৫ ভাইবোনের নামে লিখে দেন। এরমধ্যে বাড়ির জায়গাও রয়েছে। মালয়েশিয়া থেকে ৫ মাস আগে দেশে এসেও ৩ মাস ধরে বাড়িতে উঠতে পারছেন না বলে জানান।
গত ৫ই ডিসেম্বর কোড্ডা গ্রামের দক্ষিণপাড়ায় গিয়ে হোসেন মিয়ার বসতঘর তালাবদ্ধ দেখা গেছে। বাড়িতে রাশেদের স্ত্রী রোকসানা রয়েছে। রোকসানা বেগমের দাবি সব সম্পদ তার স্বামীর। তবে দলিল রাশেদের বাপ-মার নামে। চুরি করে সে অন্য ছেলেদের নামে দলিল করে দিয়েছে। রোকসানা তার ঘরবাড়ি কুপানোর এবং ছেলেমেয়েদের মারধোর করার উল্টো অভিযোগ করেন।
এ ঘটনায় গ্রামের দক্ষিণপাড়ার সর্দার-মাতব্বররা রাশেদের পক্ষ নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। মাঞ্জু খলিফা নামের তাদের এক প্রতিবেশী বলেন, বাপই ছেলেরে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরিয়ে এনে বাড়িতে থাকতে দেন। বাকি ৩ ছেলের নামে সম্পত্তি দলিল করে দেয়া, পরে বাবার বড় ছেলের জেলে যাওয়া নিয়ে মারামারি। পুলিশ তাদের বাড়িতে দিয়ে গেছে। ঘরের তালা খুলে দিয়ে বলেছেন আপনাদের সঙ্গে অন্য কেউ মারামারি করলে আমাদের জানাবেন। তবে কেন তারা বাড়িতে থাকতে পারছে না, তা বলতে পারবো না। সদর মডেল থানার ওসি মোজাফফর হোসেন জানান, আমার জানামতে এরকম দুটো ঘটনা আছে। বাসায় উঠিয়ে দিয়ে আসার পর পরবর্তী কোন ঘটনা ঘটে থাকলে তা আমাদের জানা নেই। জানতে পারলে পরবর্তীতে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
ভারতে হিন্দু প্রতিবেশীর তোপের মুখে বাড়ি ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন মুসলিম দম্পতি

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
নীল তিমিরা কেন আত্মহত্যা করে?
তিমিকে সাধারণত বলা হয়ে থাকে সমুদ্রের দানব। এই বিশাল দেহের প্রাণীটি পরিচিত মায়াময় প্রাণী হিসেবেও। এরা কেবল এদের বুদ্ধিমত্তা নয়, বরং পরিচিত এদের একে অপরের প্রতি মমতা, শোকের বহিঃপ্রকাশের জন্য। পরিবারের জন্য শেষ চেষ্টা করতে এদের যে লড়াই, তা জানলে যে কারোরই হৃদয় ছুঁয়ে যাবে।
নিজের পরিবারকে বাঁচানোর জন্য লড়াই করলেও এরা নিজেকে এক সময় মৃত্যুর দিকে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পৃথিবীর সাথে সকল মায়া এরা স্বেচ্ছায় পরিসমাপ্তি মেনে নেয়। আর তাই অনেকের মনে কৌতূহল তৈরি হতে পারে, কেন তারা স্বেচ্ছায় মৃত্যুর দিকে পা বাড়ায়?
বিভিন্ন কারণে এরা নিজেদের মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নেয়, এরমধ্যে একটি কারণ হলো, বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা অসুস্থ হয়ে যাওয়া। নিজের সময় ঘনিয়ে আসছে, এমনটা অনুভূত হলে এরা পানির একেবারে পানির গভীরে চলে যায়। এ সময় তাদের শক্তি ফুরিয়ে আসে, যার কারণে এরা শিকার করতে পারে না। এক সময় এরা নিস্তেজ হয়ে পড়তে শুরু করে।
এরপরই নিজেকে সমুদ্রের গভীরে নিজেকে সঁপে দিতে প্রস্তুত হতে থাকে এই নীল তিমি। কিন্তু পরিবারের অন্য সদস্যরা এ সময় চেষ্টা করে তাদের পাশে থাকার। এমনকি তাদের বাঁচানোর শেষ চেষ্টাটুকু চালিয়ে যায়। বিভিন্ন বিজ্ঞানীদের মতে, যখনই এই নীল তিমিগুলো শিকার করতে অক্ষম হয়ে পড়ে তখন থেকেই মূলত এদের অন্তিমকাল ধরা হয়।
এ সময়ই তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে সম্পর্ক গভীর হতে থাকে। কিন্তু পরিশেষে জীবনের কাছে হার মানতে বাধ্য হয় এই প্রাণীটি। ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে থাকে এবং একসময় গভীর সমুদ্রে তলিয়ে যেতে শুরু করে। মৃত্যুর পরই তাদের জীবনের পরিসমাপ্তি না। এরা মারা গেলে নিজেকে বিলিয়ে দেয় অন্যান্য প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য।
তিমি মারা গেলে এদের দেহ সমুদ্রের নিচে চলে যায়। তখন অন্যান্য প্রাণী একে ধীরে ধীরে খেয়ে ফেলে। ফলে সমুদ্রের নিচে থাকা এসব প্রাণীর বেঁচে থাকার মাধ্যম হিসেবে তৈরী হয় তিমির এই মৃতদেহ। আর এভাবেই মৃত্যুর পরও এরা নিজেকে বিলিয়ে দিতে থাকে।
![]() |
| সমুদ্রসৈকতে মৃত তিমি। ছবি : সংগৃহীত |
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
মধুচন্দ্রিমার জন্য অদ্ভুত যত হোটেল
অদ্ভুত এই পৃথিবীতে ভিন্ন চিন্তাধারার হাজারো মানুষ তাদের নিজস্ব ভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে জীবনযাপন করে। কখনো কখনো কিছু মানুষের চিন্তাধারা ও কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের চোখে উদ্ভট লাগে! সেই চিন্তা থেকেই বানানো হয়েছে ভিন্নধর্মী এসব হোটেল। যার শীর্ষে রয়েছে-
হোটেল কভেভরেবি জর্জিয়া অনেকেই এটিকে মাটির কলসি ভেবে ভুল করবেন। হোটলটি দেখতে একদম মাটির কলসির মতো। বাইরে থেকে দেখতে এটি নরমাল মনে হলেও ভেতরের দৃশ্য কোনো ফাইভ স্টার হোটেলের চেয়ে কম নয়। হোটেলটি জর্জিয়ার তেলাভিতে অবস্থিত। ২০২৩ সাল হোটেল শুরু হলেও ইতোমধ্যে এইটি অনন্য স্থান দখল করেছে শুধু তার বাহ্যিক অবকাঠামোর জন্য। হোটেলটিতে ২০টি কলস এবং ১৭টি নরমাল অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে। প্রতিটি কলসি এক একটি ছোট ঘর। যেখানে সব ধরনের সুযোগ সুবিধা রয়েছে। এখানে একদিনের জন্য আপনাকে দিতে হবে প্রায় ১৫ হাজার টাকা। আপনি যদি মধুচন্দ্রিমার জন্য একটি শান্ত- মনোরম পরিবেশ ও নির্জন জায়গা চান তবে এটা উপযুক্ত স্থান।
হোটেল ভি-৮, জার্মানি বিশ্বজুড়ে গাড়িপ্রেমীদের জন্য এই হোটেলটি এক আদর্শ জায়গা। জার্মানিতে অবস্থিত এই হোটেলটি দেখে চমকে উঠতে বাধ্য হবেন আপনি। এই হোটেলের প্রত্যেকটি রুম বিশ্বের বিভিন্ন নামিদামি ব্র্যান্ডের কারের আদলে ডিজাইন করা হয়েছে। এমনকি এই হোটেলের বিছানা ও আসবাবপত্রগুলোও কারের আদলে বিশেষভাবে ডিজাইন করা।
জাপানের ক্যাপসুলভ ভ্যালু কান্ডা জাপানে অবস্থিত ক্যাপস্যুলভ ভ্যালু কান্ডা নিজেই এক আশ্চর্য। এই হোটেলে রাত্রিযাপনের জন্য আপনার জন্য বরাদ্ধ থাকবে ৭ থেকে ৮ ফুট সাইজের একটি ক্যাপসুল রুম। গোটা জাপানজুড়ে এরকম আরও বেশ কয়েকটি ক্যাপসুল হোটেল রয়েছে। একেকটি ক্যাপসুল হোটেলে প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০টি ক্যাপসুল রুম থাকে। এই হোটেলে প্রত্যেক ফ্লোরে আলাদা করে ওয়াশরুম রয়েছে এবং পর্যটকদের জিনিসপত্র রাখার জন্য প্রথম ফ্লোরে আছে একটি লকার। এই ছোট্ট ক্যাপসুল রুমের মধ্যেই টিভি, রেডিও, ওয়াফাই, এসি সহ আদর্শ হোটেলরুমের মতো মোটামুটি প্রায় সব সুবিধাই বিদ্যমান।
ফিজির পোসাইডোন আন্ডার-সি রিসোর্ট ফিজিতে অবস্থিত এই হোটেলটি সমুদ্রের তলদেশে বানানো একটি ফাইভ স্টার মানের হোটেল। পোসাইডোন আন্ডার-সি রিসোর্ট সমুদ্রের তলদেশে বানানো পৃথিবীর সর্বপ্রথম একমাত্র ফাইভ স্টার মানের হোটেল। এই হোটেলটি বিয়ে, জন্মদিনসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য ভাড়া দেওয়া হয়ে থাকে। আপনি যদি সমুদ্রের নিচে প্রিয়জনের সাথে একটু ভালো সময় কাটানোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে থাকেন তাহলে এই হোটেলটি হবে আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ গন্তব্য।
সুইডেনের জুক্কাসজার্ভি আইস হোটেল সুইডেনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় স্থানগুলোর একটি হলো জুক্কাসজার্ভির এই আইস হোটেল। এটি ১৯৯০ সাল থেকে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছিল। স্থানীয় একটি লেকের জমে থাকা বরফ কেটে নান্দনিক ডিজাইনে বানানো এই হোটেলটি পৃথিবীজুড়ে এক আশ্চর্যের নাম। এই হোটেলের প্রত্যেকটি জিনিস বরফের তৈরি। এখানে ৫০টির উপরে রুম এবং ভোজনবিলাসীদের জন্য একটি রেস্টুরেন্টও আছে। জুক্কাসজার্ভি আইস হোটেল পৃথিবীর সর্বপ্রথম সম্পূর্ণ বরফের তৈরি হোটেল। এই হোটেলের তাপমাত্রা সবসময় মাইনাস ৫ ডিগ্রির আশপাশে থাকে।
পেরুর ন্যাচুরা ভাইভ স্কাইলজ খাড়া পাহাড়ের ঢালে ঝুলে থাকা এই হোটেলটি পেরুতে অবস্থিত। এই হোটেলের প্রত্যেকটি কামড়া বৈজ্ঞানিক উপায়ে পাহাড়ের ঢালে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। এই হোটেলে যেতে হলে আপনাকে অবশ্যই গোটা পাহাড় চড়ে তারপর যেতে হবে। অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য এই হোটেলটি হতে পারে একটি আদর্শ জায়গা। ভেবে দেখুন, পাহাড়ের গা ঘেষে শূন্যে ঝুলে থেকে সন্ধ্যার সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে আপনি কফির কাপে চুমুক দিচ্ছেন। প্রিয় মানুষের সাথে সময় কাটাচ্ছেন। এরচেয়ে রোমাঞ্চকর অনুভূতি আর কী হতে পারে!

About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
১০ সংস্কার কমিশনের কাছে প্রবীণের ১০ দাবি by হাসান আলী
১. সংবিধান সংস্কার কমিশন: সংবিধানের ১৫ অনুচ্ছেদের ঘ ধারা সুনির্দিষ্ট করে, ‘অসহায়, দুস্থ প্রবীণদের ভরণপোষণ, চিকিৎসাসেবা, চলাচল, নিরাপত্তা, ভাতা, বিনোদনের দায়িত্ব রাষ্ট্র গ্রহণ করবে।’ এই কথাটি সংযুক্ত করতে হবে।
২. নির্বাচন সংস্কার কমিশন-অতি প্রবীণ, চলাচলে অক্ষম, ক্ষীণ দৃষ্টিসম্পন্ন কিংবা প্রতিবন্ধী প্রবীণদের পক্ষে ভোটকেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়িয়ে ভোট প্রদান করা সম্ভব হয় না। এ ধরনের প্রবীণদের কেন্দ্রভিত্তিক তালিকা প্রণয়ন করতে হবে। ভোটগ্রহণের আগের দিন নির্বাচন কর্মকর্তারা প্রবীণদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট সংগ্রহ করে আনবেন। ভোট মানুষের মৌলিক অধিকার। প্রবীণের এই অধিকার অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
৩. বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন- বিশেষ করে আদালতে বিচার প্রার্থী হন দুর্বল শ্রেণির মানুষ।। আর প্রবীণরা সেই দুর্বল শ্রেণিরই দুর্বল অংশ। মামলার তদন্তের সময় প্রবীণ ব্যক্তিকে হেনস্তা করা বন্ধ করতে হবে। প্রতি তারিখে হাজির হওয়ার বাধ্যবাধকতা শিথিল করতে হবে। দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত জামিনে থাকার সুযোগ রাখতে হবে। জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা হলে প্রবীণ ব্যক্তিকে ওষুধপত্র, খাবার দাবার, কাপড় চোপড়, থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। ঘন ঘন তারিখ ফেলে আর্থিক ও মানসিক হয়রানি করা থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রবীণ ব্যক্তি চাইলে নিজেই মামলার শুনানি করতে দিতে হবে। আদালতে বিচার চলাকালীন সময়ে প্রবীণদের বসার ব্যবস্থা করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে মামলার শুনানি করে রায় দিতে হবে। প্রবীণের জানমাল রক্ষায় মামলা দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে। প্রবীণ যদি স্মৃতিশক্তি হারায়, দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়, নিজের ভালো-মন্দ বুঝতে না পারে, ক্ষতিকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে, অচেতন অবস্থায় চিকিৎসা গ্রহণ করে সেসব ক্ষেত্রে আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কল্যাণে অভিভাবকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে নির্দেশনা দিতে পারেন।
৪. পুলিশ সংস্কার কমিশন- দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন এই কথাটি পুলিশকে মনে-প্রাণে বিশ্বাস করতে হবে। প্রবীণের জানমাল, সহায়-সম্পদ রক্ষার আবেদন নিয়ে পুলিশের কাছে হাজির হলে কিংবা ফোনে সাহায্য প্রার্থী হলে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রবীণকে সহযোগিতা ও সমর্থন করবে। প্রবীণ ব্যক্তিকে যেকোনো ধরনের বিপদ থেকে উদ্ধার করতে পুলিশ বাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা দিবে। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুলিশ প্রবীণদের গ্রেপ্তার, হয়রানি, হেনস্তা করবে না। প্রয়োজনে উপযুক্ত জামিনদারের জিম্মায় দিতে হবে। প্রবীণ ব্যক্তি দ্রুততম সময়ের মধ্যে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পুলিশের সেবা লাভের অধিকারী হবেন।
৫. জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন- সরকারের পক্ষে জনসাধারণের চাহিদা মোতাবেক সেবা প্রদান, সরকারের নীতিনির্ধারণ ও বাস্তবায়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করা জনপ্রশাসনের মূল কাজ। প্রবীণ জনগোষ্ঠীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলায় জনপ্রশাসন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিবে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় সকল অনুষ্ঠানে প্রবীণদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে বসবার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় প্রবীণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। সকল উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রবীণবান্ধব করে বাস্তবায়ন করতে হবে।
৬. স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্কার কমিশন- প্রত্যেক প্রবীণকে স্বাস্থ্য বীমার আওতায় আনতে হবে; যাতে করে প্রবীণরা তাদের পছন্দমতো হাসপাতালে মানসম্মত চিকিৎসা সেবা পায়। দুস্থ অসহায় প্রবীণদের বিনামূল্যে মানসম্মত চিকিৎসা এবং সাশ্রয়ী মূল্যে ওষুধ পাবার সুযোগ রাখতে হবে। প্রতিটি বিভাগে ৫০০ শয্যার জেরিয়েট্রিক হাসপাতাল নির্মাণ করতে হবে। ইপিআইয়ের আওতায় বিনামূল্যে নিউমোনিয়ার ভ্যাকসিন দিতে হবে।
৭. দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন- দুর্নীতি দমন কমিশনের জন্য আইন প্রণয়ন এবং কর্মচারী পরিবর্তন যথেষ্ট নয়। প্রত্যেক মানুষের আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের অসংগতি, স্থাবর, অস্থাবর সম্পত্তি অর্জনে বৈধ আয়ের উৎস নিশ্চিত করা দরকার। প্রত্যেক ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলায় দুর্নীতি দমন বিরোধী কমিটিতে প্রবীণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
৮. গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন- প্রবীণের চোখের পানি, দুঃখ- দুর্দশা, নিপীড়ন-নির্যাতন, বৃদ্ধাশ্রম, অসহায়ত্ব, নিঃসঙ্গতা গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করে। অনেক সময় এসব নেতিবাচক সংবাদ প্রবীণদের মধ্যে আতঙ্ক, আস্থাহীনতা তৈরি হয়। প্রবীণরা জ্ঞান বিজ্ঞান চর্চায়, গবেষণাধর্মী ও সৃষ্টিশীল কাজে, রাষ্ট্র পরিচালনায়, শিক্ষা, আইন, চিকিৎসা পেশায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলছেন। প্রবীণদের এসব ইতিবাচক সংবাদ অন্যদের মধ্যে সাহস শক্তি মনোবল বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে প্রবীণরা কারও করুণা, দয়া, কৃপার পাত্র নয়। তাদেরকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করতে হবে।
৯. শ্রমিক সংস্কার কমিশন- শুধুমাত্র বয়সের কারণে কোনো শ্রমিককে কর্মে নিয়োগ বন্ধ করা কিংবা কর্ম থেকে বাদ দেয়া যাবে না। ৬০ বছর অতিক্রম করা একজন মানুষ যদি শারীরিক ও মানসিক ভাবে সক্ষম থাকলে তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো যাবে না। আর যদি অবসরে দিতেই হয়; তবে সবাইকে একই বয়সে অবসর বাধ্যতামূলক করতে হবে।
১০. নারী সংস্কার কমিশন- অধিকাংশ নারী গৃহবধূ হিসেবে স্বামীর সংসারে পুরো জীবন কাটিয়ে দেন। কোনো কারণে নারী তালাকপ্রাপ্ত হলে অথবা আলাদা বসবাসে বাধ্য হলে দেনমোহর, খোরপোশ পাওয়া যায় মাত্র। প্রবীণ নারীকে স্বামীর সংসারে অর্জিত সকল সহায়- সম্পদের সমান ভাগীদার করতে হবে। নারী দীর্ঘায়ু হওয়ার কারণে প্রবীণ বয়সে অনেক নারীকে বৈধব্য বরণ করতে হয়। তাদেরকে ছেলেমেয়ে, আত্মীয়-স্বজনের দয়া ও করুণার উপর জীবন নির্বাহ করতে হয়। অসহায় দুস্থ প্রবীণ নারীর ভরণ পোষণ, চিকিৎসাসেবা, নিরাপত্তা রাষ্ট্রকে বহন করতে হবে। উত্তরাধিকারের প্রশ্নে নারী সমান মালিকানা দাবি করলে রাষ্ট্র সমর্থন ও সহযোগিতা করবে।
About: বাংলা খবর
a Bengali Online News Magazine by Selected News Article Combination.... একটি বাংলা নিউজ আর্টিকলের আর্কাইভ তৈরীর চেষ্টায় আমাদের এই প্রচেষ্টা, বাছাইকৃত বাংলা নিউজ আর্টিকলের সমন্বয়ে একটি অনলাইন নিউজ ম্যাগাজিন! e-Blog ই-ব্লগ এর নিউজ বা আর্টিকল অনলাইন Sources থেকে সংগ্রহ করে Google Blogger এর Blogspotএ জমা করা একটি সামগ্রিক সংগ্রহশালা বা আর্কাইভ। এটি অনলাইন Sources এর উপর নির্ভরশীল
You may also like...
eCoxs Special
BNM Archive
- ► 2026 (1402)
- ► 2025 (3281)
-
▼
2024
(2551)
-
▼
December
(237)
-
▼
Dec 07
(20)
- দামেস্কের ২০ কিলোমিটার দূরত্বে বিদ্রোহীরা
- ‘জুয়া ও কোটিপতির’ গ্রাম নিয়ে পাওয়া গেল ভয়ানক তথ্য ...
- অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণে যেতে কত টাকা লাগে
- সিরিয়া সীমান্তে সেনা জড়ো করল ইরাক, অনুমতি পেলেই হামলা
- স্পেনের সামান্য এক পদক্ষেপেই ক্ষুব্ধ যুক্তরাষ্ট্র-...
- সিরিয়ার বিদ্রোহী নেতা জোলানির একাল-সেকাল
- বাংলাদেশ-ভারত উত্তেজনায় আলোচনার আহ্বান মমতার, শান্...
- বিশ্বের দৃষ্টিনন্দন বিমানবন্দরের খেতাব এখন আবুধাবির
- যে কারণে বিমান যাত্রীদের প্যারাসুট দেওয়া হয় না
- ট্রাম্পের হিন্দু গোয়েন্দাপ্রধান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে ...
- ইমরানের বিরুদ্ধে এবার সেনাবাহিনীর ওপর সহিংসতা উস্ক...
- ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে ভুয়া খবরের ছড়াছ...
- ভারতকে টার্গেট করছে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট, অভ...
- সংকটের মধ্যেও স্বস্তি পোশাকশিল্পে
- দেশের স্বার্থে অটুট থাকুক জাতীয় ঐক্য by সাইফুল ইসলাম
- বাড়িছাড়া বৃদ্ধ মা-বাবা
- ভারতে হিন্দু প্রতিবেশীর তোপের মুখে বাড়ি ছাড়তে বাধ্...
- নীল তিমিরা কেন আত্মহত্যা করে?
- মধুচন্দ্রিমার জন্য অদ্ভুত যত হোটেল
- ১০ সংস্কার কমিশনের কাছে প্রবীণের ১০ দাবি by হাসান আলী
-
▼
Dec 07
(20)
-
▼
December
(237)
- ► 2021 (128)
- ► 2020 (416)
- ► 2019 (6282)
- ► 2018 (7025)
- ► 2017 (8870)
- ► 2016 (3416)
- ► 2015 (11541)
- ► 2014 (9799)
- ► 2013 (14877)
- ► 2012 (33842)
- ► 2011 (13932)
- ► 2010 (9402)
Recent Posts
Popular Posts
-
শিশুদের বার্নআউট হওয়ার লক্ষণ অনেকেরই চোখ এড়িয়ে যায়। কারণ, বড়দের তুলনায় তাদের চাপকে অনেকেই হালকা মনে করেন। এ ছাড়া অনেকে ভাবেন, শিক্ষাজীবন হলো...
-
কিডনির রোগকে বলা হয় ‘নীরব ঘাতক’। কারণ, অনেক সময় কোনো লক্ষণ ছাড়াই এটি ধীরে ধীরে শরীরকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। অথচ সামান্য সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা এ...
-
প্লেবয় ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে নিজেকে নগ্নভাবে মেলে ধরে ব্যাপকভাবে সমালোচনায় আসা শার্লিন চোপড়া এবার ভারতীয় চলচ্চিত্রে নগ্নতার বৈধতা চাই...
-
ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নগ্নতার মাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় রয়েছেন ভারতীয় মডেল-অভিনেত্রী পুণম পা-ে। ‘ভারত বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হলে নগ্ন হয়ে...
-
‘সেক্স’ ছাড়া এক ঘণ্টার বেশি এক মুহূর্ত থাকতে পারেননা অভিনেত্রী ভূমি পাড়নেকার৷ না, কমেন্ট টা কিন্তু তিনি নিজে করেননি৷ করেছেন তাঁর সহ অভ...
-
প্রতীকি ছবি এখনও কুমারী থাকা ১৬ কলেজছাত্রীকে বৃত্তি দিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মেয়র। এর মাধ্যমে অন্যদের কুমারিত্ব ধরে রাখার জন্য উৎসা...
-
C onservative groups responding to Occupy Wall Street argue that hard work, not protests, will bring people out of poverty. Is that tr...
-
নাইওর-ফিরতি কনের মতো মন খারাপ করা বিকেলে টুকু বৈদ্যবাড়ি পৌঁছায়—সে আর তার স্বামী। সকালেই যাত্রা করেছিল তারা। দুপুরে দাওয়াত ছিল আমির হোসে...
-
বয়স তখন সবে ৭ বছর। তখনও সাবালিকা হতে অনেক দেরি। তবে সেই শিশু বয়সেই পরিচয় ঘটে জীবনের এক ভয়ঙ্কর দুর্বিসহ ঘটনার সঙ্গে। ৩২ বছর ধরে বুকের এক...
-
বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোয় ছাত্র সংসদের নিয়মিত নির্বাচন হলে দেশে নেতৃত্বের দেউলিয়াপনা সৃষ্টি হতো না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট...










