Monday, August 3, 2026

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে জোহরান মামদানি

যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সমর্থক ও ডেমোক্র্যাট-ঘেঁষা ভোটারদের মধ্যে পরিচালিত সিএনএনের এক নতুন জনমত জরিপে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি দলটির সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা হিসেবে উঠে এসেছেন। জরিপে দেখা গেছে, জনপ্রিয়তার দিক থেকে তিনি শুধু দলের শীর্ষ নেতৃত্বকেই নয়, ডেমোক্র্যাটিক পার্টিকেও ছাড়িয়ে গেছেন।

জরিপ অনুযায়ী, জোহরান মামদানির নেট ফেভারেবিলিটি দাঁড়িয়েছে ৫৪ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ (এওসি), যার নেট জনপ্রিয়তা ৪৫ শতাংশ।

অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফ্রিজের নেট ফেভারেবিলিটি ২২ শতাংশ, আর সিনেটের সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমারের জনপ্রিয়তা নেমে এসেছে মাত্র ১ শতাংশে।

জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, ডেমোক্র্যাট ভোটাররা দলের দীর্ঘদিনের নেতৃত্বের তুলনায় নতুন প্রজন্মের নেতাদের প্রতি বেশি আস্থা প্রকাশ করছেন। বিশেষ করে মাত্র সাত মাস আগে নিউইয়র্কের মেয়রের দায়িত্ব নেওয়া জোহরান মামদানি অল্প সময়ের মধ্যেই দলের অভ্যন্তরে শক্তিশালী জনসমর্থন গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই জরিপ ডেমোক্র্যাটিক পার্টির নেতৃত্বের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। দলের তৃণমূল সমর্থকরা কাদের ওপর বেশি আস্থা রাখছেন, সে বিষয়ে বর্তমান নেতৃত্বকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে জোহরান মামদানি

সমুদ্রে ভেসে থেকে কীভাবে ৪০ ঘণ্টা বেঁচে ফিরলেন রাফি?

ভূমধ্যসাগরে একটি ভাসমান রিং আর ফ্লিপারের সাহায্যে টানা ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ভেসেছিলেন তিনি। মৃত্যুভয় তাকে গ্রাস করেছিল। কয়েকটি জাহাজ তার পাশ দিয়ে গেলেও কেউ তাকে উদ্ধার করেনি। ২৩ বছর বয়সী রাফি নাদি শেষ পর্যন্ত বেঁচে থাকলেন শুধুই আশা আর প্রার্থনার ওপর ভর করে। পাঁচ বছর আগে তিনি পরিবারকে সাহায্য করার জন্য মিশর ছাড়েন। এবার তিনি প্রাণপণে প্রার্থনা করেন যেন ইউরোপে পৌঁছাতে পারেন এবং জীবিত অবস্থায় আবারও মায়ের মুখ দেখতে পান। রাফি নাদি’র এই চিত্র তুলে ধরেছে লন্ডনের অনলাইন গার্ডিয়ান। এতে আরও বলা হয়, জুলাই মাসে তার উদ্ধার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনামে উঠে আসে। অতিরিক্ত রোদ আর লবণাক্ত পানিতে ঝলসে যাওয়া চামড়া, পানিশূন্যতা ও ভীষণ ক্লান্ত শরীর নিয়ে তাকে দেখা যায় এক নৌকার ডেকে লুটিয়ে পড়তে।

স্পেনের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে যাচ্ছিল একটি পরিবারের নৌকা। তারা তাকে দেখে প্রথমে তাকে টেনে তোলে। পরে স্পেনের সামুদ্রিক উদ্ধারকারী জাহাজ এসে তাকে মালাগার বন্দরে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে পুলিশ ও রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করে। এই ঘটনা আবারও দেখিয়ে দেয়, ইউরোপ সীমান্ত বন্ধ করতে থাকায় অভিবাসীরা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ পথ বেছে নিচ্ছে। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্যমতে, শুধু গত বছরই কমপক্ষে ৫৭২ জন মানুষ উত্তর আফ্রিকা থেকে স্পেনে পৌঁছাতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে। রাফি নাদি জানান, ১৭ জুলাই ২০২৫ রাতে মরক্কোর ফনিদেক উপকূল থেকে তিনি ও তার ১৭ বছর বয়সী এক বন্ধু সমুদ্রপথে সেউতা পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। পরিকল্পনা ছিল ৫-৬ ঘণ্টায় সেউতায় পৌঁছে যাবেন। কিন্তু ভোরে সূর্য ওঠার পরও তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এর আগে  রাফি নাদি চারবার সেউতার সীমান্ত প্রাচীর টপকাতে ব্যর্থ হন। তাই তারা বিকল্প পরিকল্পনা করেন- অল্প টাকায় ভাসমান রিং, ফ্লিপার আর ডাইভিং স্যুট কিনে নেন। দু’জনেই ভালো সাঁতার জানতেন। তাই পাচারকারীদের ৩-৪ হাজার ইউরো দেয়ার সামর্থ্য না থাকায় এই পথই তাদের কাছে ভরসা মনে হয়।

রাত ১২টার দিকে সেনাদের চোখ এড়িয়ে তারা পানিতে নামে। বলেন, আমরা সাঁতার কাটলাম, কাটলাম আর কাটলাম। কিন্তু পূর্বাভাসে শান্ত সমুদ্রের কথা বলা হলেও সেদিন ঢেউ খুব উঁচু ছিল। সকালে টানা আট ঘণ্টা সাঁতার কাটার পর ঢেউয়ের তোড়ে তার বন্ধুর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটে। রাফি নাদি বলেন, আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তখন চারপাশে শুধু পানি আর পানি। মৃত্যুভয়ে কাঁপছিলাম। ভেবেছিলাম হয়তো কোনো বোট আমাকে টেনে তুলবে। আমি আল্লাহকে ডাকছিলাম, যেন মায়ের কষ্ট না বাড়ে। অন্তত পাঁচটি জাহাজের কাছে সাহায্য চাইতে চেষ্টা করেন তিনি। বলেন, আমি হাত নেড়ে, চিৎকার করে বলেছি- ‘হেল্প, হেল্প’। একটি জাহাজ এতটাই কাছে এসেছিল যে লোকজন স্পষ্টই দেখতে পাচ্ছিল। কিন্তু কেউ সাড়া দেয়নি। জীবনের লড়াই চালিয়ে গেছেন তিনি শুধু ভেসে থাকার শক্তি জোগাড় করতে। দুই রাত আরও একটি দিন কেটে যাওয়ার পর দূরে একটি বোট দেখতে পান। তিনি মরিয়া হয়ে হাত নাড়তে থাকেন। অবশেষে নৌকার মানুষরা দূরবীন দিয়ে তাকে দেখে দড়ি ছুড়ে দেয়। রাফি আবেগভরা কণ্ঠে বলেন, আমি দড়িটা আঁকড়ে ধরি। তারা আমাকে ওপরে তোলে, খাবার, পানি ও পোশাক দেয়।

উদ্ধার মুহূর্তটি ভিডিওতে ধরা পড়ে। স্পেনের বেনালমাদেনা উপকূল থেকে প্রায় ১৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে, অর্থাৎ শুরুর স্থান থেকে প্রায় ১০০ কিমি দূরে তাকে পাওয়া যায়। রাফি নাদি বলেন, যদি ওই বোট আমাকে না তুলত, আমি হয়তো আর বাঁচতে পারতাম না। আরও খুশির খবর পান পরে- তার বন্ধু মালাগার কাছাকাছি সমুদ্রতটে নিরাপদে উদ্ধার হয়েছে। রাফি বলেন, আমি তার কণ্ঠ শুনে আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি।
দুই সপ্তাহ রেডক্রস শিবিরে থাকার পর তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কারণ স্পেন ও মিশরের মধ্যে ফেরত পাঠানোর কোনো চুক্তি নেই। আন্তর্জাতিক আইনে তিনি আশ্রয়ের আবেদন করতে পারবেন, যদিও মিশরীয় নাগরিক হিসেবে তার সুযোগ খুবই কম। এখন তার চিন্তা নতুন জীবনের। বলেন, ভাবছিলাম স্পেনে এসে সাথে সাথেই কাজ শুরু করব। কিন্তু আসলে কাগজপত্র ছাড়া এখানে খুব কঠিন। কোনো কাজ পেলেই করতে চাই।
সমুদ্রে ভেসে থাকার সেই ভয়ংকর অভিজ্ঞতা এখনো তাকে তাড়া করে। বলেন, প্রতিবার ভিডিওটা দেখি, আমি বাঁচতে পেরেছি ভেবে আনন্দ পাই। কিন্তু আমি চাই না আর কেউ আমার মতো অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাক।

mzamin