Tuesday, May 7, 2013

সুপ্রিম কোর্টের সবুজ সংকেত পেল সেই পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র

তীব্র প্রতিবাদ সত্ত্বেও ভারতের সুপ্রিম কোর্ট অবশেষে গতকাল সোমবার তামিলনাড়ুতে পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্র চালুর ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছেন। আদালত বলেছেন, জনগণের কল্যাণে পারমাণবিক বিদ্যুেকন্দ্রটি স্থাপন করা হয়েছে। রাশিয়ার তৈরি কুদানকুলাম কেন্দ্রটি ভারতের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুত্ প্রকল্প। দেশটির ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ ভারতে বিদ্যুত্-সংকট যেন নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বিচারপতি কে এস পানিকার রাধাকৃষ্ণ ও বিচারপতি দীপক মিশ্র এক যৌথ ঘোষণায় বলেন, ‘বৃহত্তর স্বার্থ ও অর্থনৈতিক প্রয়োজনীয়তার মাঝে ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।’ একই সঙ্গে আদালত সরকারকে পারমাণবিক কেন্দ্রটির ঝুঁকিপূর্ণ সরঞ্জামের কারণে নিরাপত্তা-পরিস্থিতি এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ওপর প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছেন। ১৯৮৮ সালে প্রথম তামিলনাড়ুর উপকূলীয় এলাকায় এই বিদ্যুেকন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়। ইতিমধ্যে কেন্দ্রটির দুটি চুল্লি চালুও করা হয়েছে। সম্পূর্ণ কেন্দ্রটি চালু করার কথা ছিল ২০১১ সালে। কিন্তু পরিবেশবাদী ও স্থানীয়দের তীব্র প্রতিবাদের মুখে তা পিছিয়ে যায়। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে কেন্দ্রটি স্থাপনের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে বেশ কয়েকবার আবেদন করেছেন পারমাণবিকবিরোধী কর্মীরা। তাঁরা বলেন, ভৌগোলিকভাবে একটি সংবেদনশীল এলাকায় কেন্দ্রটি স্থাপিত হয়েছে। এর ফলে জাপানের ফুকুশিমা দুর্যোগের মতো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, প্রাণহানি ঘটতে পারে হাজারো মানুষের।

নওয়াজ ও শাহবাজ অর্থ পাচারে জড়িত: মালিক

পাকিস্তানের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রেহমান মালিক বলেছেন, অর্থ পাচারে মুসলিম লিগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) নেতা নওয়াজ শরিফ ও তাঁর ভাই শাহবাজ শরিফের সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তাঁর দেওয়া তথ্য কেউ মিথ্যা প্রমাণ করতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন। গতকাল সোমবার নওয়াজ শরিফের শক্ত ঘাঁটি লাহোরে পাকিস্তান পিপলস পার্টির সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন মালিক। সম্মেলনে নওয়াজ ও শাহবাজ শরিফের তীব্র সমালোচনা করেন মালিক। তিনি বলেন, এই দুই নেতা অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত। তাঁরা এসব অবৈধ অর্থ সৌদি আরব ও লন্ডনে পাচার করেছেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দুর্নীতির নথিপত্র দেখান। ডন।

গাদ্দাফি আমলের নেতাদের নিষিদ্ধ করে আইন পাস

মুয়াম্মার গাদ্দাফি যুগের নেতা বা কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক পদে থাকা নিষিদ্ধ করে একটি আইন পাস করেছে লিবিয়ার পার্লামেন্ট। এই আইনের ফলে প্রধানমন্ত্রী আলী জিদানসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের অনেকেই পদ হারাতে পারেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলেছে, পদক্ষেপটি ঢালাওভাবে নেওয়া হয়েছে। আইনটির সমর্থনে গাদ্দাফিকে উত্খাতে লড়াই করা মিলিশিয়া বাহিনী বিচার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের এক সপ্তাহের মাথায় জেনারেল ন্যাশনাল কংগ্রেসে (জিএনসি) এ ভোটাভুটি অনুষ্ঠিত হলো। ওই মিলিশিয়ারা ঘোষণা দিয়েছিল, আইনটি পাস না হওয়া পর্যন্ত তারা ঘেরাও কর্মসূচি প্রত্যাহার করবে না। ২০০ আসনের পার্লামেন্টে ১৬৪ জন এমপি আইনটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন। বিপক্ষে দিয়েছেন মাত্র চারজন। আইনটি পাস হওয়ার জন্য দুই-তৃতীয়াংশ ও একটি ভোটই যথেষ্ট ছিল। এই আইন বাস্তবায়নে এখন একটি বিশেষ কমিশন গঠন করা হবে। নতুন আইনের আওতায় ১৯৬৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত সরকারের শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালনকারী কেউ সরকারি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। তবে এটা স্পষ্ট নয় যে, এই নিষেধাজ্ঞা কত দিন স্থায়ী হবে।  হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা সারাহ লিয়াহ হুইটসন এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘আইনটি খুব বেশি ভাসা ভাসা। গাদ্দাফির চার দশকের শাসনামলে কখনো কাজ করে থাকা যে কেউ হয়তো এর আওতায় পড়বেন।’ ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর সিরতে এক অভিযানে নিহত হন সাবেক একনায়ক গাদ্দাফি।

নব্য নািসর বিচার শুরু

জার্মানিতে জাতিগত বিদ্বেষজনিত হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে নব্য নািস গোষ্ঠীর এক নারী সদস্যের বিচার শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার মিউনিখের এক আদালতে তাঁর বিচার শুরু হয়। অভিযুক্ত বিয়াটে ঝিপা (৩৮) ন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট আন্ডারগ্রাউন্ড (এনএসইউ) নামে সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য। সংগঠনটি ২০০০ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ১০ জন মানুষকে হত্যা করে, যাদের অধিকাংশই তুর্কি বংশোদ্ভূত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঝিপার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে। ওই সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ কয়েক বছর ধরে ভুলক্রমে তুর্কি মাফিয়াদের দায়ী করে আসায় ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এ কেলেঙ্কারির জের ধরে জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সার্ভিসের প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। ঘটনাটি জার্মানির উগ্র ডানপন্থী অন্ধকার জগতের ওপর সবার মনোযোগ নিবদ্ধ করেছিল। ঝিপার সঙ্গে আরও চারজন পুরুষের বিরুদ্ধে এনএসইউকে সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অপেক্ষাকৃত হালকা অভিযোগ আনা হয়েছে। ঝিপার বিরুদ্ধে ডাকাতি, অগ্নিসংযোগ ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি আদালতে বলেন, ওই হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ছিল ভীতি ছড়িয়ে অভিবাসীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং তাঁদের জার্মানি ত্যাগে বাধ্য করা। ঝিপা আদালতে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

সিরিয়ায় বিদ্রোহীরা সারিন গ্যাস ব্যবহার করেছে!

সিরিয়ায় জাতিসংঘ তদন্ত দলের প্রধান কার্লা ডেল পোন্টে বলেছেন, দেশটির বিদ্রোহীরা বিষাক্ত রাসায়নিক গ্যাস সারিন ব্যবহার করেছে বলে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। তিনি বলেন, বিদ্রোহীরা এই বিষাক্ত গ্যাস ব্যবহার করছে বলে যে সন্দেহ দেখা দিয়েছিল, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, চিকিত্সক ও হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পর সে সন্দেহ আরও জোরালো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। সিরিয়ায় চলমান সহিংসতায় সরকার ও বিদ্রোহী উভয় পক্ষই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। তবে জাতিসংঘ তদন্তকারীরা বলছেন, সরকারের পক্ষ থেকে এমন অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। ডেল পোন্টে সুইস টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেন, ‘আমাদের তদন্তকারীরা সিরিয়ার পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আশ্রয় নেওয়া ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, চিকিত্সক ও হাসপাতালের কর্মীদের সাক্ষাত্কার নিচ্ছেন। তাঁদের গত সপ্তাহের প্রতিবেদন বিদ্রোহীদের সারিন গ্যাস ব্যবহারের বিষয়ে যে সন্দেহ রয়েছে, তাকে আরও জোরালো করেছে।’ সাবেক যুগোস্লাভিয়াবিষয়ক আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কৌঁসুলি ডেল পোন্টে জানান, সারিন গ্যাস ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরও সাক্ষ্য-প্রমাণ জোগাড় করা প্রয়োজন হবে। তবে কখন এবং কোথায় সারিন গ্যাস ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।সিরিয়ায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তের জন্য ২০১১ সালের আগস্টে ডেল পোন্টের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমিশন গঠন করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রে‘ঘরোয়া সন্ত্রাস’ আল-কায়েদারনবকৌশল

সন্ত্রাসী হামলা মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র তার প্রচেষ্টা জোরদার করার প্রেক্ষাপটে দেশটিতে হামলার কৌশলে পরিবর্তন এনেছে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদা। গোষ্ঠীটি মনে করে, সন্ত্রাসবিরোধী জোরালো পদক্ষেপের কারণে ৯/১১-এর মতো এখন সমন্বিত হামলা চালানো বেশ কঠিন। তাই নতুন কৌশলের অধীন এই গোষ্ঠীর নেতারা কয়েক বছর ধরেই তাঁদের অনুসারীদের যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে নিজ উদ্যোগে ও ছোট আকারে হামলায় অনুপ্রাণিত করছেন। হামলার প্রশিক্ষণের ধরনেও তাঁরা পরিবর্তন এনেছেন। আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখার প্রয়াত সদস্য সামির খান। তিনি একজন মার্কিন বংশোদ্ভূত নাগরিক। মৃত্যুর আগে তিনি তাঁর আধ্যাত্মিক নেতা আল-কায়েদার অন্যতম শীর্ষ নেতা আনওয়ার আল-আওলাকির সঙ্গে হামলায় অনুপ্রেরণা সৃষ্টিকারী একটি পত্রিকায় যৌথভাবে নিবন্ধ লিখে যান। এতে তিনি লেখেন, ‘পশ্চিমা দেশগুলো থেকে আসা সব ভাইবোনের প্রতি আমার পরামর্শ, আপনারা আমেরিকার পৃষ্ঠদেশে হামলার (কৌশলী হামলা) বিষয় বিবেচনা করুন।’ ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে মার্কিন ড্রোন হামলায় আল-কায়েদার সদস্য ও প্রভাবশালী আইনজীবী সামির খান নিহত হন। তিনি এক অনলাইন প্রকাশনায় লেখেন, ‘এ রকম হামলার প্রভাব হবে ব্যাপকতর। এ হামলা সব সময়ই শত্রুর জন্য বিব্রতকর। ব্যক্তি-উদ্যোগে পরিচালিত এমন হামলা প্রতিরোধ করা শত্রুর জন্য প্রায় অসম্ভব।’ মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, বোস্টন ম্যারাথনে ওই প্রকাশনা অনুসরণ করেই বোমা হামলা চালানো হয়েছে। হামলায় প্রাণহানি কম হলেও আহত ব্যক্তিদের সংখ্যা এবং সৃষ্ট আতঙ্ক বিবেচনায় এর প্রভাব ব্যাপক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দৃষ্টি আড়াল করে সহজেই কত শক্তিশালী হামলা চালানো সম্ভব, এটি তার এক দৃষ্টান্ত। এ ধরনের হামলার আগে ষড়যন্ত্রকারীকে শনাক্ত করা সম্ভব কি না, বোস্টন হামলার পর তা নিয়েও দেখা দিয়েছে বড় প্রশ্ন। বোস্টন হামলায় নিহত হয়েছেন তিনজন। ২০০১ সালের হামলায় (৯/১১) নিহত তিন হাজারের তুলনায় এ সংখ্যা নগণ্য। তবে সে তুলনায় এ হামলা গণমাধ্যমে মোটেও কম গুরুত্ব পায়নি। হামলার আশঙ্কা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন মার্কিন কর্মকর্তারাও। নিজস্ব স্টাইলে ওই হামলা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে গত মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেন, ‘আমরা এখন স্বপ্রণোদিত ব্যক্তিপর্যায়ের সন্ত্রাসীদের নিয়ে বিপদের সম্মুখীন। তারা এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে ঘাঁটি গেড়েছে।’ তিনি স্বীকার করেন, কোনো কোনো দিক থেকে এদের প্রতিরোধ করা অধিকতর জটিল। বিশ্লেষকেরা বলেন, বোস্টন হামলার সন্দেহভাজন সারনায়েভ সহোদর দৃশ্যত জঙ্গি হামলায় উত্সাহ এবং এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা বিদেশি কোনো প্রশিক্ষণ শিবির থেকে পাননি, বরং তাঁরা যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে অবস্থান করে এবং ইন্টারনেট থেকে এগুলো পেয়েছেন। হামলায় তাঁরা যে বোমা ব্যবহার করেছেন, তা-ও প্রচলিত কোনো বোমা নয়। রান্নাঘরের একটি প্রেশারকুকারকে সাধারণ বিস্ফোরক দিয়ে নিজেরাই এক শক্তিশালী বোমায় পরিণত করেছেন। বিস্ফোরণ ঘটাতেও ব্যবহার করেছেন সামান্য খেলনার রিমোট কন্ট্রোল যন্ত্রকে। লক্ষ্যস্থল হিসেবে বেছে নিয়েছেন উন্মুক্ত স্থানকে। কর্মকর্তারা জানান, এ হামলার মাত্র এক মাস আগে আল-কায়েদার ইয়েমেন শাখা অনলাইনে ‘নিঃসঙ্গ মুজাহিদের পকেটবুক’ শিরোনামে একটি সংকলন প্রকাশ করে। এতে নিজ উদ্যোগে হামলার কৌশল নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ও উঁচু মানের নকশাসংবলিত লেখা সরল ইংরেজিতে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। এসব লেখার অনেকগুলো হঠকারী মনে হলেও এতে বোমা তৈরির যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তা একেবারে নিখুঁত। মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সাবেক শীর্ষ ও কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সন্ত্রাস দমন কর্মকর্তা ফিলিপ মুড বলেন, সারনায়েভ সহোদরের সারল্যে তিনি দারুণ বিস্মিত। তাঁরা বোমা হামলার মুহূর্তে ছদ্মবেশ ধারণের প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করেননি। ‘ঘরোয়া স্টাইলে’ তাঁরা যে এ হামলা চালিয়েছেন, তা এতে পরিষ্কার।

বিরোধপূর্ণ সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু ভারত-চীনের

ভারত ও চীন গতকাল সোমবার হিমালয় এলাকার বিরোধপূর্ণ সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে। সম্প্রতি ওই সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিলে দুই দেশের সম্পর্ক হুমকিতে পড়ে। বিরোধনিষ্পত্তির মাধ্যমে সেনা প্রত্যাহার করা হচ্ছে বলে ভারতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তিন সপ্তাহের বেশি সময় আগে চীনের সেনারা সীমান্তের এমন একটি এলাকায় শিবির স্থাপন করে, যেটা নিজেদের বলে দাবি করে ভারত। এ নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ভারত ওই সীমান্ত এলাকায় শক্তি বৃদ্ধি করে। তবে সেখান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়ার ব্যাপারে উভয় পক্ষের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা একটি চুক্তিতে উপনীত হয়েছেন। ভারতের সেনাবাহিনীর একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত রোববার রাতে উভয় পক্ষের সীমান্ত কমান্ডারদের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে উভয় পক্ষ একটি চুক্তিতে উপনীত হয়। আমরা আমাদের সেনা প্রত্যাহার করে নেব। চীনও একই কাজ করবে।’ সেনাবাহিনীর আরেকটি সূত্র জানায়, বিরোধপূর্ণ ওই সীমান্তের প্রত্যন্ত লাদাখ এলাকা থেকে ৫০ জন চীনা সেনা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে এবং ভারতীয় একটি সামরিক বিমান ওঠানামার ক্ষেত্রের কাছ থেকে তাঁবু সরিয়ে নিয়েছে। এ ছাড়া ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্রও সেনা প্রত্যাহারের খবর নিশ্চিত করে জানিয়েছে, এ বিষয়ে পার্লামেন্টে একটি বিবৃতি দেওয়া হবে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ওই সীমান্তবিরোধের কোনো নিষ্পত্তি না হলে চলতি সপ্তাহের পূর্বঘোষিত বেইজিং সফর তিনি বাতিল করতে পারেন। তাঁর ওই মন্তব্যের পর সীমান্ত থেকে সেনা প্রত্যাহারের এই খবর এল। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র গতকাল নিশ্চিত করেছে, মন্ত্রী খুরশিদ ৯ মের ওই সফরে যাচ্ছেন এবং সেখানে তিনি ‘দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু ও উদ্বেগ’ নিয়ে চীনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন। এ ছাড়া চলতি মাসের শেষের দিকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কেকিয়াংয়ের নয়াদিল্লি সফরের কথা রয়েছে। সীমান্তবিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর সফর নিয়েও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। হিমালয় এলাকার সীমান্ত নিয়ে প্রতিবেশী দেশ দুটির মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিরোধ চলে আসছে। সীমান্ত নিয়ে ১৯৬২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত যুদ্ধও সংঘটিত হয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশ দুটির সম্পর্ক বেশ উষ্ণ হয়। কিন্তু লাদাখ এলাকার সীমান্ত নিয়ে সাম্প্রতিক ঘটনায় সম্পর্কে অবনতি ঘটার আশঙ্কা দেখা দেয়।

ওয়েবসাইটে রবীন্দ্র পাণ্ডুলিপি

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রায় সব পাণ্ডুলিপি এবার চলে এসেছে ওয়েবসাইটে। ওয়েবসাইটটি তৈরি করেছে কলকাতার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব কালচারাল টেক্সটস অ্যান্ড রেকর্ডস বিভাগ। নাম দেওয়া হয়েছে বিচিত্রা।গতকাল রোববার এই ওয়েবসাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি। এই ওয়েবসাইটে ৪৭ হাজার ৫২০ পাতার বাংলা ও ইংরেজি পাণ্ডুলিপির ছবি ও প্রতিলিপি রয়েছে।এই বিচিত্রা ইংরেজি ও বাংলা উভয় ভাষাতেই দেখা যাবে। এই ওয়েবসাইটে ক্লিক করলেই মিলবে রবীন্দ্র রচনাসম্ভার বিচিত্রা। ওয়েবসাইটের ঠিকানা হলো: http//bichitra.jdvu.ac.inওয়েবসাইটির উদ্বোধন করে প্রণব মুখার্জি বলেছেন, সমাজকে গভীরভাবে উপলব্ধি করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এর প্রকাশ ঘটিয়েছেন তাঁর সাহিত্যে। তিনি বাংলা ও ইংরেজি উভয় সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছেন নতুন নতুন ভাবনার মধ্য দিয়ে। রবীন্দ্র রচনাসম্ভারকে যেভাবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে আনা হয়েছে, তার জন্য যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়কে ধন্যবাদ জানান রাষ্ট্রপতি।:

ঐক্যের ডাক মালয়েশীয় প্রধানমন্ত্রীরাজাকের

জোটের বিজয়ের পর দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাক। রাজধানী কুয়ালালামপুরের জাতীয় প্রাসাদ ভবনে দেশটির রাজা গতকাল সোমবার এ শপথ পাঠ করান।তবে নির্বাচনে প্রতারণার অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছে বিরোধীরা।ফলাফল ঘোষণার পর তা মেনে নিয়ে দেশে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সহায়তার জন্য সব নাগরিকের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী রাজাক। তাঁর নেতৃত্বাধীন জোট ন্যাশনাল ফ্রন্ট (বিএন) ওই নির্বাচনে মোট ২২২টি আসনের মধ্যে ১৩৩টিতে জয়লাভ করে।বিরোধীদলীয় নেতা আনোয়ার ইব্রাহিম নির্বাচনে ‘ইতিহাসের নিকৃষ্টতম জালিয়াতি’ এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে প্রতিবাদ সমাবেশ আহ্বান করেছেন। তিনি এক বিবৃতিতে ওই নির্বাচনে ‘নজিরবিহীন প্রতারণার’ প্রতিবাদে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ইব্রাহিম। কুয়ালালামপুরের এক স্টেডিয়ামে আগামীকাল বুধবার তাঁর দলের সমাবেশ হওয়ার কথা রয়েছে।বিএন জোট ১৯৫৭ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই মালোয়েশিয়ার শাসনক্ষমতায় রয়েছে। তবে এবারের নির্বাচনে তারা সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হয়। চীনা বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠী বিএনকে বর্জনের ধারা অব্যাহত রেখেছে। বিজয়ের পরপরই রাজাক বলেন, সব মিলিয়ে নির্বাচনের ফলাফলে এক ধরনের বিভাজন স্পষ্ট হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন। নির্বাচনে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অন্তত এক কোটি। ভোট পড়েছে ৮০ শতাংশ। ক্ষমতাসীনরা ৪৮ শতাংশ ভোট পেয়ে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি।

হেলিকপ্টার

হেলিকপ্টারে ভ্রমণের যে কী সুখ, তা বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ না হলে উপভোগ করার সৌভাগ্য আমার মতো বিত্তহীনের হতো না। সে এক বিরল সৌভাগ্য! তবে এখনকার অনেক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতা যে ধরনের ফড়িংয়ের মতো হেলিকপ্টারে চড়েন, আমি চড়েছি তার চেয়ে অনেক বড় আকারের হেলিকপ্টারে। নেতা হিসেবে নয়, কর্মী হিসেবে। বুঝতে পারছি না, হেলিকপ্টারে চড়ার স্মৃতি এখন কেন হঠাৎ মনে পড়ছে। ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ মন্ত্রিসভার সহকর্মীদের নিয়ে কলকাতা থেকে ঢাকায় আসেন। এসে নতুন স্বাধীন দেশের সরকার পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যোগাযোগেরব্যবস্থা ছিল বির্পযস্ত। নদী ও সড়কপথে যাতায়াতে দীর্ঘ সময় লাগত। প্রত্যন্ত এলাকায় যাতায়াতের জন্য একমাত্র ভরসা ছিল হেলিকপ্টার। রুশ সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশকে ত্রাণকাজ পরিচালনার জন্য বেশ কয়েকটি ঢাউস আকারের হেলিকপ্টার দিয়েছিল। সেগুলোতে মালামাল পরিবহন করা যেত। যাত্রী গেলে যেতে পারত ২৫-৩০ জন। ষোলোই ডিসেম্বরের পরে পূর্বাণী হোটেলে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ উদ্যোগে খোলা হয়েছিল মিডিয়া সেল। সেখানে আমরা যারা যুক্ত ছিলাম, মন্ত্রীদের সফরসঙ্গী হয়েছি ডিসেম্বরের শেষ ও জানুয়ারির প্রথম দিকে। তাজউদ্দীন আহমদ ছিলেন স্নেহশীল পারিবারিক মানুষ। কখনো সৈয়দা জোহরা তাজউদ্দীনও সঙ্গে থাকতেন, তাঁর মেয়েদের কেউ, এমনকি বন্ধুবান্ধবের ছেলেমেয়েদের কেউ বা তাঁর সঙ্গে যেতেন। এর মধ্যে পাকিস্তানি কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধু এলেন। তিনি জেলায় জেলায় যেতেন হেলিকপ্টার বা সি-প্লেনে। সাড়ে তিনটি বছর তাঁদের সঙ্গে হেলিকপ্টার ও ক্ষুদ্রাকৃতি সি-প্লেনে ওড়ার সৌভাগ্য হয়েছে।  এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় জার্নি বাই হেলিকপ্টারের রোমাঞ্চকর অনুভূতি আলাদা। তখন নিজের মধ্যে কাজ করে একধরনের অহংকার। হেলিকপ্টার থেকে দেখা যায়, নিচে মানুষগুলো মাঠেঘাটে কাজ করছে ঘাম ঝরিয়ে। জেলেরা মাছ ধরছে নদী ও খালবিলে। ছেলেমেয়েরা মাঠে কোলাহল করে খেলছে। গ্রামের মেয়েরা নদীতে পানি আনতে যাচ্ছে কলসি কাঁখে। কেউ নিজের খেতের উৎপাদিত পণ্য মাথায় বয়ে নিয়ে যাচ্ছে গ্রামের হাটে। তাদের মাথার ওপর দিয়ে আমি যাচ্ছি উড়ে। সে কি কম আনন্দ ও আহ্লাদের কথা!
রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং খুব বড় নেতারাই হেলিকপ্টারে চড়েন, সাধারণ হতভাগ্যরা নয়। সব নেতার হেলিকপ্টারে যাতায়াতে সৌভাগ্য হয় না। বিশ্বের ইতিহাস সৃষ্টিকারী তিন নেতা হলেন মহাত্মা গান্ধী, ভি. আই. লেনিন এবং মাও ঝেদোঙ। তাঁরা যুগান্তকারী গণতান্ত্রিক ও বিপ্লবী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কোটি কোটি অনুসারীকে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় তাঁরা কেউই হেলিকপ্টারে এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় যাওয়ার সুযোগ পাননি। গান্ধীজি মাটির ওপর দিয়ে মানুষের সঙ্গে চলতেই পছন্দ করতেন। হেলিকপ্টারে চড়া তো দূরের কথা, মাটি থেকে এক ফুট উপরে ওড়ার প্রয়োজন তাঁর হয়নি। ধারে-কাছে হলে যেতেন হেঁটে। দূরে হলে যেকোনো ধরনের গাড়িতে, লঞ্চ, স্টিমার বা ট্রেনে। রেলগাড়িতে যেতেন তৃতীয় শ্রেণীতে। বিশাল সব গণ-আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন মওলানা ভাসানী। হেলিকপ্টারের প্রয়োজন হয়নি। পায়ে হেঁটেছেন। নৌকায় যাতায়াতের সুযোগ পেলে খুব খুশি হতেন। ট্রেনের প্রথম শ্রেণীতে খুব কমই যাতায়াত করেছেন। ইসলামি বিপ্লবের আইকন আয়াতুল্লাহ খোমেনিও হেলিকপ্টারে ঘুরে ইরানিদের নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পাননি। মাটিতে বসেই নেতৃত্ব দিয়েছেন। রেজা শাহ পাহলবির মতো পরাক্রান্ত শাসককে তাঁর রানিসহ দেশ থেকে তাড়িয়ে দেন। শাহকে বিতাড়িত করার পরই তিনি নিজে ফিরে আসেন স্বদেশে ফরাসি বিপ্লবীদের দেশ থেকে। ফরাসি বিপ্লবের দেশেই আবিষ্কৃত হয় হেলিকপ্টার প্রথম মহাযুদ্ধের পর। উদ্ভাবকদের সবাই ছিলেন নাসারা, কেউ বা ইহুদি, কেউ নাস্তিক। আমাদের দেশে এখন ট্যাক্সি-মাইক্রোবাসের মতো হেলিকপ্টারও ভাড়ায় পাওয়া যায়। তাই অনেকে বিয়েও করতে যান হেলিকপ্টারে চড়ে। বিপ্লব করতেও যান হেলিকপ্টারে। তবে হেলিকপ্টারের ভাড়াটা খুব বেশি। তাই মনে করি, অত ভাড়া দিয়ে আমাদের মতো মুসলমানদের নাসারাদের তৈরি হেলিকপ্টারে না চড়াই ভালো।

কোথাও কোনো সুসংবাদ নেই

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন ২৫২ রান করল আবদুর রাজ্জাকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সুবাদে, তখন মনে হচ্ছিল, জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওই ম্যাচে হয়তো আমরা জিতেই যাচ্ছি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটের হার। কোথাও কোনো সুসংবাদ নেই। কিন্তু এর চেয়েও অনেক বড় বড় দুঃসংবাদে আমাদের সংবাদমাধ্যমগুলো আকীর্ণ হয়ে আছে। সাভারে রানা প্লাজার ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েই চলেছে। আমরা সংখ্যা হিসাব করছি। কিন্তু মানুষ তো কোনো সংখ্যা নয়। প্রত্যেক মানুষই মানুষ। যে যায়, সে আর ফিরে আসে না। তার পরিবার-পরিজন বোঝে, স্বজন হারানোর বেদনা কাকে বলে। এই অবস্থায় আরও একটা মনুষ্য-সৃষ্ট দুর্যোগ। হেফাজতে ইসলাম ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি পালন করতে এসে আর ফিরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করল।তাদের নেতারা সব সময় বলে এসেছেন, তাঁদের কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ, তাঁরা কোনো রকমের বিশৃঙ্খলা বা জ্বালাও-পোড়াও নীতিতে বিশ্বাস করেন না। কিন্তু ৫ মে ২০১৩ দিনভর জ্বলল আগুন। স্থাপনা ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ—পরিস্থিতি হয়ে উঠল ভয়াল। হেফাজতের নেতারা বলে আসছেন, তাঁরা কাউকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য আন্দোলন করছেন না, কাউকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের জন্যও না। কিন্তু স্পষ্টতই দেখা গেল, তাঁরা সরকার উৎখাতের ঘোষণা দিলেন, তাঁরা বললেন, তাঁরা আর বাড়ি ফিরে যাবেন না, বিএনপিও ঘোষণা করল, হেফাজতের পাশে দাঁড়ান। হেফাজতের ১৩ দফা অরাজনৈতিক নয়, তাদের কর্মসূচিও অরাজনৈতিক নয়, কিন্তু তা কেবল সরকার উৎখাতের রাজনৈতিক কর্মসূচির রূপই পরিগ্রহ করল না, তা সহিংস কর্মসূচিতে পরিণত হলো। পরিস্থিতি ক্রমেই সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছিল, সরকার শক্তি প্রয়োগ করে হেফাজতের মতিঝিলের অবস্থান ভেঙে দিতে সমর্থ হলো। মহানগর পুলিশ সব ধরনের সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করায় বিএনপিও তাদের ৬ মের সমাবেশ বা অবস্থান কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিল। দেখা যাচ্ছে, কেউ কথা রাখেনি। হেফাজতের সঙ্গে সরকারের হয়তো একটা যোগাযোগ ছিল, যেটা হয়তো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরের ৫ মের উক্তিতেই বোধগম্য, তিনি বলছিলেন, ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ করছে জামায়াত-শিবির, এটা হেফাজতের কাজ নয়, তখনো হয়তো তিনি আশা করছিলেন, সন্ধ্যার দিকে হেফাজত তাদের কর্মসূচি শেষ করে বাড়ি ফিরে যাবে। তা হয়নি। হেফাজত কথা রাখেনি। হেফাজতের নেতারা টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়ে বলছিলেন, ঘেরাও কর্মসূচি সমাপ্ত করার জন্য তাঁদের একটা সমাবেশ বিকেলে হওয়া উচিত। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল, মতিঝিলের সমাবেশটা তাঁরা করতে চেয়েছিলেন সরকার পতনের আন্দোলনের অংশ হিসেবে, ৫ মের ঢাকা ঘেরাওয়ের সমাপ্তি টানার জন্য নয়। এখন দেখা যাচ্ছে, সবগুলো পক্ষই সমস্যা সমাধানের জন্য যতগুলো বিকল্প ছিল, তার মধ্যে সবচেয়ে খারাপটা বেছে নিয়েছে। ৪ এপ্রিলের মহাসমাবেশ থেকেই হেফাজতে ইসলাম ঘোষণা দিয়ে রেখেছে, তারা ৫ মে ঢাকা ঘেরাও করতে আসবে। এই এক মাসে বড় বড় আওয়াজ দেওয়া ছাড়া সরকার আর আওয়ামী জোট নেতারা আর কী করেছেন? আগেই বলেছি, হেফাজতের দাবিগুলো রাজনৈতিক, তাদের কর্মসূচিও রাজনৈতিক, রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানই কাম্য। রাজনৈতিক সমস্যাকে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হিসেবে দেখলে তা সমাধানের জন্য ভুল পথ অবলম্বন করতে প্ররোচিত করে। বোঝাই যাচ্ছে, বিএনপির সঙ্গে হেফাজতের একটা সমঝোতা হয়েছে, সরকার সেটা আগে থেকে টের পেল না? যদি শক্তি প্রয়োগই করতে হয়, সেটাও তো করা যেত আগে থেকে, ঢাকায় এতগুলো মানুষকে সমবেত হতে দিয়ে তারপর শক্তি প্রয়োগ করাটা কি সবচেয়ে খারাপ বিকল্পটাকেই বেছে নেওয়া নয়? সরকারের কাছে তথ্য থাকবে না? তারা জানবে না, হেফাজত কী করতে চাইছে, বিএনপি কী করতে চাইছে হেফাজতে ইসলাম কি বিএনপির ইচ্ছাপূরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহূত হলো না? তারা যা এত দিন ধরে বলে আসছে, তারা শান্তিকামী, তাদের সব কর্মসূচি হয় অহিংস, তাদের সেই কথারই বা মূল্য থাকল কোথায়? আর বিএনপির যেনতেন প্রকারে চাই ক্ষমতা। তারা নিজেরা বড় সমাবেশ করতে পারে না, বড় আন্দোলন করতে পারে না, হরতালে দেখা যায়, একটা ব্যানার যত বড়, তার পেছনে তাদের সংগঠন বা অঙ্গসংগঠনগুলোর এতজন কর্মীও জোটে না, যাতে ব্যানারটার পেছনে এক সারি লোক পাওয়া যায়। এই অবস্থায় বিএনপি একবার জামায়াতকে, একবার হেফাজতে ইসলামকে সরকার উৎখাতের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। বিএনপির নিজেদের কোনো রাজনৈতিক আদর্শ, নিজেদের কোনো রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচি আছে কি না, তা ভাবার সময় কই, আগে তো সরকারকে বিপদে ফেলো। জামায়াতে ইসলামীর জন্য এটা তো প্রায় মরণপণ লড়াই, তাদের শীর্ষ নেতাদের বিচার হচ্ছে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে, তারা যে করেই হোক, এই সরকারের শাসনের অবসান চায়। এই অবস্থায় সরকার ঘটনাটাকে এত দূর পর্যন্ত গড়াতে দিল এবং শেষ পর্যন্ত শক্তি প্রয়োগ করল। তার ফল কী হবে, তা দেখার জন্য আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো এর রেশ আমাদের বহু বছর ধরে টানতে হবে। আমরা সব পক্ষকেই বলব, শান্তির পথই শ্রেষ্ঠ পথ। আলাপ-আলোচনা-সমঝোতার মাধ্যমে রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানই কাম্য। গণতন্ত্রেরও কোনো বিকল্প নেই। এমন কোনো কর্মসূচি কোনো পক্ষেরই দেওয়া উচিত নয়, যা প্রাণহানি, সম্পদহানির কারণ হয়, যা দেশে শান্তিশৃঙ্খলার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে। এমন কোনো কর্মসূচি নেওয়া উচিত নয়, যাতে দেশে গণতন্ত্র ব্যাহত হয়। মতিঝিল থেকে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলনকারীদের বল প্রয়োগে সরিয়ে দিয়ে, বিএনপিকে ৬ মের সমাবেশ বা অবস্থান কর্মসূচি থেকে নিরত রেখে সরকার হয়তো ভাবতে পারে, একটা বড় বিপর্যয় তারা সামলাতে পারল। কিন্তু শক্তি প্রয়োগে বিক্ষুব্ধ মানুষকে বিতাড়িত করলেই কি বিক্ষোভের অবসান ঘটবে? যদি কোথাও ধোঁয়া দেখা যায়, তাহলে বুঝতে হবে আগুনও আছে। হেফাজতে ইসলাম কিংবা ডানপন্থী দলগুলো যখন এত মানুষের সমাবেশ করতে পারে, তখন বুঝতে হবে, সে শক্তি তারা এক দিনে অর্জন করেনি! ভয়াবহ অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, শিক্ষাব্যবস্থায় শ্রেণীভেদ থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি শক্তির প্রণোদনা—নানা রসায়ন কাজ করেছে বহু বছর ধরে। কওমি মাদ্রাসায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী। তাদের সমাজের বিভিন্ন পেশায় দক্ষতার সঙ্গে নিয়োজিত হওয়ার মতো শিক্ষা কি আমরা দিয়েছি? আজ তারা তাদের ভাগ যদি চাইতে আসে, তখন আমরা হঠাৎ তাকিয়ে দেখি, এরা কারা? এরা আমাদেরই ছেলেমেয়ে, যাদের মনের বেদনা আমরা কোনো দিনও বোঝার চেষ্টা করিনি। এর সঙ্গে আছে, সমাজে ও রাষ্ট্রে সর্বত্র দুর্নীতি, দলীয়করণ, দখলবাজি, অপশাসন, সন্ত্রাস। আছে বিচারহীনতা। আইনের শাসন না থাকা। সরকারি নেতারা অজনপ্রিয়। অনেকে এলাকায় যেতে পারেন না, এলাকাবাসীর সামনে মুখ দেখানোর মতো অবস্থা তাঁদের নেই। মানুষ যে ভোটের মাধ্যমে বিকল্প বেছে নেবে, সে আশাও খুব দেখা যায় না, ছিল একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, তাও উঠে গেছে। আর মানুষের সামনে খুব বিকল্পও কিছু নেই। সেই বিএনপি, সেই আওয়ামী লীগ। সেই চিরপুরাতন অগণতান্ত্রিক আচরণ। কেউ বা পদ্মা সেতু কেলেঙ্কারি করে, কেউ বা সিঙ্গাপুরে টাকা পাঠিয়ে কলঙ্কিত হয়। এত কিছুর মধ্যেও দেশের সাধারণ মানুষ দেশটাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা খেতে-খামারে, ব্যবসায়-বাণিজ্যে, দেশে-বিদেশে নিজের আয় উন্নতির জন্য মাথার ঘাম পায়ে ফেলে পরিশ্রম করছেন, তার মাধ্যমে দেশটাও বেশ এগিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু তাঁদের পথে বাধার বিন্ধ্যাচল হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আমাদের সংঘাতময় রাজনীতি। আমাদের রাজনীতিকে অবশ্যই উন্নয়নবান্ধব হতে হবে। প্রথম শর্ত হলো শান্তি। শান্তিশৃঙ্খলা না থাকলে কিছুই থাকে না। কিন্তু বল প্রয়োগ করে শান্তি অর্জিত হয় না। কৌশলী হতে হয়। উদার ও সহনশীল হতে হয়। গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে ধারণ করতে হয়। কথাগুলো অনেকটা সোনার পাথরবাটির মতো শোনাচ্ছে। জানি অরণ্যে রোদন করাই হচ্ছে। তবু বলার কথাটা বলে যেতেই হবে। রাজনৈতিক সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানই খুঁজে বের করতে হবে। আর তা করতে হবে রাজনৈতিক নেতৃত্বকেই। ৫ মের ঘটনা এত দূর পর্যন্ত ঘটতে পারল কেন, এটা অবশ্যই বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। আর এর পরিণতি কীভাবে আমাদের দেশ, রাষ্ট্র, রাজনীতি সামলাবে, তাও ভেবে দেখতে হবে। একটা সমাজে অনেক মত থাকবে, পথ থাকবে। বিভিন্ন আদর্শ থাকবে, বিভিন্ন জীবনাচরণ, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের মানুষ থাকবে। সবাইকে রাষ্ট্রে ও সমাজে তার  জায়গায় অন্যকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে থাকতে দিতে হবে। আমরা এক পক্ষ অন্য পক্ষের বিনাশ চাইছি। সেটা হয় না। হানাহানি সমস্যার সমাধান আনে না, সমস্যা বাড়ায়। আমাদের দুর্বল অর্থনীতির দেশে আমরা হানাহানির ধকল সামলাতে পারব না। আমাদেরকে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের একটা পথ বের করতে পারতেই হবে। কিন্তু যেকোনো প্রকারে ক্ষমতায় যাওয়া কিংবা ক্ষমতা স্থায়ী করার নেশায় উন্মত্ত রাজনীতির দাবানলে আর কত জীবনকে বলি হতে হবে, আমরা জানি না। আমরা খুব খারাপ একটা সময় অতিক্রম করছি। শান্তির ললিত বাণী ব্যর্থ পরিহাস হয়ে উঠেছে। আমাদের কোথাও কোনো সুসংবাদ নেই। আজ নেই, কিন্তু আগামীকাল সুসংবাদ পাব, এই আশাও নেই।

এবং সমাধান খুঁজতে হবে সংলাপের পথে

এখন প্রশ্ন হলো, এই সহিংসতা ও ধ্বংসযজ্ঞ থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কী? স্বাভাবিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজের বিবদমান পক্ষগুলোর মধ্যে যে ন্যূনতম কর্মসম্পর্ক থাকা অপরিহার্য, তা গড়ে তোলা যাবে কীভাবে? উত্তরটা আমাদের সবারই জানা: আলোচনায় বসতে হবে, কথা বলতে হবে। কিন্তু সরকারি দলকে এটা মনে রাখতে হবে, এবারের সংলাপে সরকারি দলের দায় স্মরণকালের অন্যান্য সংকটের চেয়ে অনেক বেশি। কারণ, তারা সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা করে একতরফা তত্ত্বাবধায়ক সরকার বিলুপ্ত করে দিয়ে এক গভীর সংকট ও শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। একথা সত্য যে, অব্যাহত আলোচনা ও চর্চার মাধ্যমেই গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়। অন্যান্য রাজনৈতিক দর্শন থেকে গণতন্ত্রের ফারাক হলো, এই ব্যবস্থায় সংলাপের অগ্রাধিকার রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে দীর্ঘদিন গণতান্ত্রিক কাঠামো বহাল থাকলেও সংলাপের অনুশীলন ও চর্চা তেমনটি হয়নি। বর্তমানে দেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে, তার মূলেও রয়েছে পারস্পরিক অনাস্থা ও সন্দেহ। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সেই সন্দেহ ও অবিশ্বাসের দেয়ালটি রাজনীতির ক্ষেত্র ছাড়িয়ে বিভিন্ন সামাজিক স্তরেও প্রসারিত হচ্ছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে আন্তসংযোগের অভাবই এর কারণ। আজ যদি সংসদীয় গণতন্ত্র কার্যকর থাকত, তাহলে হেফাজতে ইসলামের এ ধরনের অবরোধ চাপিয়ে দিতে পারত কি না, তা নিয়ে বেশ জোরালো প্রশ্ন তোলা চলে। এই অবস্থায় সব রাজনৈতিক পক্ষের উচিত, তাদের রাজনৈতিক মতপার্থক্যের বিষয়টি নিয়ে অবিলম্বে আলোচনায় বসা। কোনো কিছু গায়ের জোরে চাপিয়ে দেওয়ার ফল যে ভালো হয় না, নিকট-অতীতে তার বহু নজির আছে। সমাজে একজন লোকও যদি একটি মতের অনুসারী হন, তাঁর কথা শোনাই হলো গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত।
নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে যে পার্থক্য রয়েছে, আলোচনার মাধ্যমেই তার সমাধান হতে হবে। বিরোধীদলীয় নেতার ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম এবং তাকে দ্রুত নাকচ করার রাজনীতি দেশে শান্তি আনবে না। সরকারের উচিত এ মুহূর্তে আলোচনার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া। যতটুকু নমনীয়তা তারা এখন দেখিয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। অন্তর্বর্তীকালীন বা নির্বাচনকালীন সরকারের একটি রূপরেখা তাদের দিতে হবে। এই সরকারের প্রধান কে হবেন, সে বিষয়ে বিরোধী দলকেও সরকারি দলের মনোভাব মনে রেখেই সাড়া দিতে হবে। অপরাজনীতি সামলাতে হলে নির্বাচনকালীন সরকারের আশু ফয়সালা কাম্য।

প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ বন্ধ হোক

হেফাজতে ইসলামের অবরোধ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই দিনে ৪৯ ব্যক্তির প্রাণহানিসহ যে ব্যাপক নাশকতা ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা অনর্থক, অপ্রয়োজনীয় এবং সম্পূর্ণভাবে অগ্রহণযোগ্য। এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত। অকালে ঝরে যাওয়া প্রতিটি জীবনই মূল্যবান। আমরা প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করি। হেফাজতের ১৩ দফা যদিও যুক্তিসংগত নয় কিন্তু তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পারার ব্যর্থতা মূলত শাসনগত সংকটেরই প্রতিফলন। হেফাজতের তরফে যে ধরনের হিংসাশ্রয়ী তৎপরতা চলেছে, তা নজিরবিহীন। এতে ইসলামের অবমাননা ঘটেছে। রোববার দিনভর রাজধানীর মতিঝিল-পল্টন, গুলিস্তান-ফুলবাড়িয়া এলাকায় অবরোধকারীরা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও সহিংসতা চালান। অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগ করা হয়। মতিঝিল থেকে পল্টন পর্যন্ত ফুটপাতের সব দোকান পুড়িয়ে দেওয়ায় সেখানকার দরিদ্র ছোট ব্যবসায়ীরা আক্ষরিক অর্থেই সর্বস্বান্ত হয়েছেন। অবরোধকারীরা সড়কে অবরোধ সৃষ্টি করতে পল্টন-বিজয়নগরের সড়ক বিভাজকের অনেক গাছ কেটে ফেলেছেন। তাঁরা হামলা করেছেন সম্প্রচার ও মুদ্রণ সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিক ও ক্যামেরাম্যানদের ওপর। হেফাজতে ইসলামের প্রতিশ্রুতি ছিল, তাদের অবরোধ কর্মসূচি হবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ। কথা ছিল, কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা ছয়টায় তারা শাপলা চত্বর ত্যাগ করবে। কিন্তু সকাল থেকেই হেফাজতের কর্মীরা সহিংস আচরণ শুরু করেন। সন্ধ্যা ছয়টা পেরিয়ে গেলেও তাঁরা শাপলা চত্বরে অবস্থান অব্যাহত রাখেন। সরকারের একজন মন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে তাঁদের সন্ধ্যার মধ্যে চলে যাওয়ার আহ্বান জানান। কিন্তু তাঁরা তা অগ্রাহ্য করে তাঁদের দাবি না মানা পর্যন্ত ফিরে যাবেন না বলে ঘোষণা দেন। হেফাজতের আমির শাহ আহমদ শফী শাপলা চত্বরে যাওয়ার মাঝপথ থেকে রহস্যজনকভাবে ফিরে যান। অবরোধ কর্মসূচির ব্যাপারে সরকারকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাঁরা শাপলা চত্বরে থেকে যাওয়ার পাশাপাশি অভিযোগ করেন, তাঁদের কর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা দাবি করেন, কোনো সহিংসতা ও নাশকতার সঙ্গে হেফাজতের কর্মীদের কোনো সম্পর্ক নেই। সরকার ও হেফাজতের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের সুরাহা হতে পারে সহিংস ঘটনাবলির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে দোষী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার মাধ্যমে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি গুরুতর অভিযোগ এ রকম যে হেফাজতের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা ঢুকে নাশকতা ও সহিংসতা করেছেন। এটিও তদন্তের বিষয় ১৩ দফার মতো সংবেদনশীল দাবিদাওয়া দুই বড় দল, বিশেষ করে আওয়ামীলীগের পক্ষে কিছুতেই মানা সম্ভব নয়। অথচ সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে বিএনপি ঢাকাবাসীকে হেফাজতের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানায়। সার্বিকভাবে আমরা সমাজে দায়িত্বহীন আচরণের উদ্বাহু নৃত্য দেখছি। সাভারে মানবসৃষ্ট বিয়োগান্ত ঘটনায় সারা বিশ্ব যখন বাংলাদেশের দিকে নজর রাখছে, তখন একসঙ্গে অনেকগুলো দিকে ক্রমাগতভাবে মানবসৃষ্ট সহিংসতার খবর ছড়িয়ে পড়ছে। দৃশ্যত ন্যূনতম বলপ্রয়োগে হেফাজতকে সরাতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাই ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু তাতে ক্ষমতাসীন দলের আত্মতৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই।